(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: -)
ديوان ابن أبي حصينة   (ابن أبي حصينة)

القسم: الشعر ودواوينه


الكتاب: ديوان ابن أبي حصينة:

الأمير أبي الفتح، الحسن بن عبد الله، المشهور بابن أبي حصينة، السلمي المَعرّي [ت 457 هـ]

سمعه وشرَحَه: أبو العلاء المعري [ت 449 هـ، واقتصرَتْ هذه النسخة الإلكترونية على متن الديوان فقط، وهو الجزء الأول من المطبوع]

حققه: محمد أسعد طلس [ت 1379 هـ]

الناشر: المجمع العلمي العربي بدمشق

الطبعة: الأولى، بالمطبعة الهاشمية بدمشق، سنة 1375 هـ - 1956 م

ثم أعادتْ نشْره (تصويرا): دار صادر بيروت في طبعة (ثانية) سنة 1419 هـ - 1999 م، مع نقل فهارس الجزء الأول إلى آخر الجزء الثاني

عدد الأجزاء: 2

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 رجب 1440

ইবনে আবি হাসিনার দিওয়ান   (ইবনে আবি হাসিনা)

বিভাগ: কবিতা ও কাব্যগ্রন্থ


গ্রন্থ: ইবনে আবি হাসিনার দিওয়ান:

আমির আবু আল-ফাতহ, আল-হাসান ইবনে আবদুল্লাহ, যিনি ইবনে আবি হাসিনা নামে পরিচিত, আল-সুলামি আল-মাআররি [মৃত্যু ৪৫৭ হিজরি]

এটি শ্রবণ করেছেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন: আবুল আলা আল-মাআররি [মৃত্যু ৪৪৯ হিজরি, এই ইলেকট্রনিক সংস্করণটি শুধুমাত্র দিওয়ানের মূল পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, যা মুদ্রিত কপির প্রথম খণ্ড]

সম্পাদনা করেছেন: মুহাম্মদ আসআদ তলাস [মৃত্যু ১৩৭৯ হিজরি]

প্রকাশক: আল-মাজমা আল-ইলমি আল-আরাবি, দামেস্ক

সংস্করণ: প্রথম, হাশেমিয়া প্রেস দামেস্ক, ১৩৭৫ হিজরি - ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ

অতঃপর এটি পুনরায় প্রকাশ করেছে (ফটোকপি আকারে): দার সাদির বৈরুত (দ্বিতীয়) সংস্করণে, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে, যেখানে প্রথম খণ্ডের নির্ঘণ্টসমূহ দ্বিতীয় খণ্ডের শেষে স্থানান্তর করা হয়েছে

খণ্ড সংখ্যা: ২

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নাসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (সুলাইমান আল-রাজিহি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ রজব ১৪৪০

(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌‌‌ديوان

ابن أبي حصينة
কাব্যসংগ্রহ

ইবনে আবি হাসিনা
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

قال الشيخ الأجل الأوحد أبو العلاء أحمد بن عبد الله بن سليمان التنوخي رحمه الله تعالى:

الدهر مديد طويل، يجوز أن يحدث في آخره، كما حدث في أوله؛ لأن الله سبحانه قدير على الممتنعات، كل ما حكم به فهو آت، تقدَّست أسماؤه، وجلت نعماؤه، ولا يمتنع أن ينشئ في هذا العصر من الشعراء من هو لاحق بالمتقدمين، وشبيه من سلف من الفحول الأولين.

وكان مولاي الأمير الجليل أبو الفتح الحسن بن عبد الله بن أبي حُصينة سألني أن أسمع شعره فقرئ علي ما أنشاه من أنواع القريض، فوجدت لفظه غير مريض، ومعانيه صحاحًا مخترعة، وأغراضه بعيدة مبتدعة، وهو وإن كان متأخرًا في الزمان، فكأنه من فرط عهد النعمان، ومن سمع كلامه علم أنه لم يغير شهادة، ولا حُرِمَ في إبداع الكلم سيادة؛

والحمد لله الذي خصَّ بمدائحه السيد الأجل تاج الأمراء، فخر الملك، أعز الله نصره، وأعلى ذكره، وقد جمع الله الألسن على مدائحه بكل لسان يبلغ مجهود الإنسان؛ فعييٌّ يقدر على كلام قليل، وبليغ يصل إلى المقال الجليل، وثالث لا يقتصر على النية، ويأمل بها بلوغ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

মহান অদ্বিতীয় শায়খ আবু আল-আলা আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সুলায়মান আত-তানুখি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন:

কাল মহাব্যাপ্ত ও দীর্ঘ। এর শুরুতে যা ঘটেছে, তার শেষেও তেমন ঘটা সম্ভব; কেননা মহিমান্বিত আল্লাহ অসম্ভব সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। তিনি যা ফয়সালা করেছেন তা আসবেই। তাঁর নামসমূহ পবিত্র এবং তাঁর নেয়ামতসমূহ মহান। এই যুগে এমন কবিদের সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব নয় যারা পূর্ববর্তীদের সমকক্ষ হবে এবং বিগত প্রথম সারির শ্রেষ্ঠ কবিদের সদৃশ হবে।

আমার মুনিব মহান আমির আবুল ফাতহ আল-হাসান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি হুসাইনা আমাকে তাঁর কবিতা শোনার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। অতঃপর তাঁর রচিত বিভিন্ন প্রকারের পদ্য আমার সামনে পাঠ করা হলো। আমি তাঁর শব্দ চয়নকে ত্রুটিমুক্ত পেলাম, তাঁর ভাবসমূহকে বিশুদ্ধ ও মৌলিক এবং তাঁর লক্ষ্যসমূহকে সুদূরপ্রসারী ও অভিনব হিসেবে পেলাম। যদিও তিনি সময়ের বিচারে পরবর্তীকালের, তবুও তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব যেন নু’মানের যুগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যে ব্যক্তি তাঁর কথা শুনবে সে জানতে পারবে যে, তিনি সত্য থেকে বিচ্যুত হননি এবং বাক্যের সৃজনশীলতায় শ্রেষ্ঠত্ব লাভে বঞ্চিত হননি;

আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমিরদের মুকুট এবং রাজত্বের গৌরব মহান সরদারের প্রশংসাকে বিশিষ্টতা দান করেছেন; আল্লাহ তাঁর বিজয়কে শক্তিশালী করুন এবং তাঁর আলোচনাকে সমুন্নত করুন। আল্লাহ তাঁর প্রশংসায় মানুষের সাধ্য অনুযায়ী সকল ভাষাকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন; ফলে স্বল্পভাষী ব্যক্তিও যৎসামান্য বলতে সক্ষম হয় এবং বাগ্মী ব্যক্তি সুমহান বাক্যে পৌঁছাতে পারে, আর তৃতীয় এক ব্যক্তি কেবল নিয়তের ওপর ক্ষান্ত থাকে না এবং এর মাধ্যমে সফলতায় পৌঁছানোর আশা রাখে
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
الأمنية. وزالت العرب في قديم الزمان تفتخر بالشعر وتجله ويعظمه مُكثر الحي ومُقله؛ وإنما عرضت الملوك أموالها للأعطية، راغبة في ثناء باقٍ، واستبعاد من لا يجنح إلى الإباق، ويتفق في الزمان الواحد شعراء كثيرة، لا يحمد منهم إلى قول الرجل أو الرجلين. وقد كان علي بن عبد الله بن أحمد أقام سوقًا للشعراء وتفرد بتقريبهم دون الأمراء فرحل إليه قريبُهم والبَعيدُ، والتُمس عنده النوالُ الرَّغيبُ لا الزَّهيدُ، فما اشْتَهَر منهم إلَّا نفرٌ قليلٌ؛ منهم أحمدُ بن الحسين المتنبي، وأحمدُ بن محمد النامي، والحارث بنُ سعيد المعروفُ بأبي فراس، ورجلٌ يُعرف بابن كاتب البكتمري وهو أقلُّهم حَظًّا في سير القصيد.

ولما كان السيدُ الأجلُّ تاج الأمراء فخرُ الملك مُبَرِّزا في الفَهْم خالص الغَريزةِ من التُّهم، يَعرِفُ عُقُودَ الكَلِم مَعْرِفَةَ الصَّيْرِفي قَيَّض الله سبحانه لَهُ من يَشفي
আকাঙ্ক্ষা। প্রাচীনকালে আরবরা কবিতার দ্বারা গর্ববোধ করত এবং একে মহিমান্বিত করত; গোত্রের বিত্তবান ও দরিদ্র উভয় শ্রেণিই একে সম্মান প্রদর্শন করত। রাজন্যবর্গ তাদের ধন-সম্পদ বিলিয়ে দিতেন চিরস্থায়ী প্রশংসার আশায় এবং এমন ব্যক্তিদের অনুগত রাখতে যারা দলত্যাগ করতে চায় না। এক যুগে অনেক কবির সমাবেশ ঘটলেও কেবল এক বা দুইজনের কাব্যই প্রশংসিত হয়। আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ কবিদের জন্য এক মিলনমেলা স্থাপন করেছিলেন এবং অন্যান্য শাহজাদাদের তুলনায় তিনি তাঁদের সান্নিধ্য দানে অনন্য ছিলেন। ফলে তাঁর নিকট নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকল কবিই ছুটে আসতেন এবং তাঁর কাছে অতি সামান্য নয় বরং প্রচুর উপঢৌকনের আশা করা হতো। তাঁদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকই খ্যাতি অর্জন করেছিলেন; যেমন আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-মুতানাব্বি, আহমদ বিন মুহাম্মদ আন-নামি, হারিস বিন সাঈদ—যিনি আবু ফরাস নামে পরিচিত—এবং জনৈক ব্যক্তি যিনি ইবনে কাতিব আল-বুকতামারি নামে পরিচিত, কবিতা প্রচারের ক্ষেত্রে যিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে কম সৌভাগ্যবান।

অতঃপর পরম শ্রদ্ধেয় নেতা, আমিরদের শিরোমণি ও সালতানাতের গৌরব (ফাখরুল মুলক) যখন প্রজ্ঞায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করলেন এবং তাঁর স্বভাবজাত প্রতিভা সকল কালিমা থেকে মুক্ত হলো, আর তিনি শব্দের বিন্যাসকে একজন দক্ষ মুদ্রা-পরীক্ষকের ন্যায় চিনতে পারতেন, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর জন্য এমন একজনকে নির্ধারিত করলেন যিনি আরোগ্য দান করেন...
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
الغُلة، ويُخلص مدى الدهر الخُلَّة، فحديثه يَعْبُرُ عَلَى الدُّهور إلى أن يؤذن بنفخ الصُّور، وقد قال القائل:

يَمُوتُ رَدِيءُ الشِّعْر مِنْ قَبْل أَهْلِهِ … وَجَيِّدُهُ حيٌّ وَإِنْ مَاتَ قَائِلُهُ

قال الأمير الجليل أبو الفتح الحسنُ بنُ عبد الله بن أحمد بن أبي حصينة السُّلمي أيَّد الله عزَّه، يمدح الأمير الجليل، الأعز، تاج الأمراء فخر الملك، سيف الخلافة، وعضدها، شرف المعالي، بهاء الدولة العلوية، وزعيم جيوشها المستنصرية، علم الدين، ذا الفخرين، مصطفى أمير المؤمنين، أبا العلوان ثمال بن الأمير الأجل، أسد الدولة، ومقدمها، وناصحها، أبي علي صالح بن مرداس السلمي رضي الله عنه وأرضاه، وجعل الجنة منقلَبَه ومثواه؛ وأُنْشِدَت بالرافقة سنة ثلاث وثلاثين وأربعمائة للهجرة:
তৃষ্ণা নিবারণ করে এবং চিরকালের তরে বন্ধুত্বকে খাঁটি করে তোলে। সুতরাং তার আলোচনা যুগ-যুগান্তর অতিক্রম করে চলবে যতক্ষণ না শিঙায় ফুঁক দেওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়। জনৈক কবি বলেছেন:

নিকৃষ্ট কবিতা তার রচয়িতার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করে ... আর উৎকৃষ্ট কবিতা চিরঞ্জীব থাকে, যদিও তার রচয়িতা মারা যায়।

মহামান্য আমির আবুল ফাতহ আল-হাসান ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন আবি হাসিনা আস-সুলামী (আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন) মহান ও পরম প্রিয় আমির, আমিরদের মুকুট, রাজ্যের গৌরব, খিলাফতের তরবারি ও তার বাহু, উচ্চমর্যাদার শরাফত, আলাউয়ী রাষ্ট্রের সৌন্দর্য ও তার মুসতানসিরিয়া বাহিনীর নেতা, দ্বীনের আলোকবর্তিকা, দ্বৈত সম্মানের অধিকারী, আমিরুল মুমিনীনের মনোনীত ব্যক্তি, আবুল আলওয়ান সুমাল ইবন আল-আমির আল-আজাল, রাষ্ট্রের সিংহ, তার অগ্রসেনানী ও হিতাকাঙ্ক্ষী, আবু আলী সালিহ ইবন মিরদাস আস-সুলামী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন এবং জান্নাতকে তাঁর প্রত্যাবর্তনস্থল ও আবাসস্থল করুন)-এর প্রশংসা করে বলেছেন; এটি হিজরি চারশত তেত্রিশ সালে রাফিকায় আবৃত্তি করা হয়েছিল:
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
هَل بَعدَ شَيبكَ مِن عُذرٍ لِمُعتَذِرِ … فَازجُر عَنِ الغَيِّ قَلباً غَيرَ مُنزَجِرِ

ما أَنتَ وَالبِيضُ في شِعرٍ تَفُوهُ بِهِ … بَعدَ البَياضِ الَّذي قَد لاحَ في الشَعَرِ

فَلا تَكُن مِن ظَعينِ الجِزعِ ذا جَزَعٍ … وَلا بِمَن حَلَّ وَادي السِدرِ ذا سَدَرِ

وَاردع فُؤادكَ عَن وَجدٍ يُخامِرُهُ … إِذا نَزَلنَ ذَواتُ الخُمرِ بِالخَمَر

فَالراجِحُ اللُبِّ يَأبى أَن يُحَمِّلَهُ … وِزراً هَوى الرُجَّحِ الأَكفالِ وَالأُزُرِ

أَو يَطَّبِيهِ وَشملُ الحَيِّ مُنشَعِبٌ … رَبعٌ بِشِعبِ يَعارٍ دارِسُ الأُثَرِ

قَد كانَ مَأوى ظِباءِ الأُنسِ فَاتَّخَذَت … عُفرُ الظِباءِ بِهِ مَأوى مِنَ العَفَرِ

فَلَيسَ يَبرَحُ مُحتَلاً بِدِمنتِهِ … سِربٌ مِن الغِيدِ أَو سِربٌ مِنَ البَقَرِ

فَكُلُّ جازِئَةٍ مِنهُنَّ جاثِمَةٌ … بِحَيثُ كانَ ذَواتُ الدَلِّ وَالخَفَرِ

جِنسانِ ما أَشتَبها إِلّا لِأَنَّهُما … نَوافِرٌ قَلَّما يَألفَن بِالنَفَرِ

يا ظَبيَةً لا تَبيتُ اللَيلَ ساهِرَةً … هَلا رَثَيتِ لِمَوقُوفٍ عَلى السَهَرِ

أَورَدتِهِ بِالمُنى وِرداً عَلى ظَمَإٍ … وَما شَفَيتِ غَليلَ الصَدرِ في الصَدَرِ
বার্ধক্যের শুভ্রতা আসার পর কি ওজরদাতার কোনো ওজর থাকতে পারে? … সুতরাং পাপাচার থেকে এমন অন্তরকে নিবৃত্ত করো যা নিবৃত্ত হতে চায় না।

তোমার চুলে শুভ্রতা প্রকাশ পাওয়ার পর … তোমার মুখে উচ্চারিত কবিতায় সুন্দরী রমণীদের সাথে তোমার কী সম্পর্ক?

উপত্যকা ছেড়ে চলে যাওয়া কাফেলার বিরহে তুমি ব্যাকুল হয়ো না … আর সিদর উপত্যকায় যারা বসতি স্থাপন করেছে তাদের মোহে বিভ্রান্ত হয়ো না।

তোমার অন্তরকে সেই প্রেমাবেগ থেকে বিরত রাখো যা তাকে আচ্ছন্ন করে … যখন ওড়না পরিহিতারা খামার নামক স্থানে অবতরণ করে।

প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি সেই পাপের বোঝা বহন করতে অস্বীকার করে … যা স্থূলদেহা ও কটিবাস পরিহিতা রমণীদের প্রতি আসক্তি থেকে উৎপন্ন হয়।

অথবা তা তাকে প্রলুব্ধ করে যখন গোত্রের ঐক্য ছিন্নভিন্ন … ইয়ার উপত্যকার বসতিটির চিহ্ন এখন বিলীন প্রায়।

এটি ছিল প্রিয়তমা রমণীদের আবাসস্থল, অতঃপর সেখানে … ধূলিधূসর বন্য হরিণীরা ধুলোবালি থেকে বাঁচার আশ্রয় নিয়েছে।

এর ধ্বংসাবশেষে সর্বদা হয় লাবণ্যময়ী তরুণীদের দল … অথবা বন্য হরিণীদের পাল বিচরণ করে।

তাদের মধ্যে প্রতিটি তৃপ্ত হরিণী সেখানেই শায়িত থাকে … যেখানে একদা লাজুক ও কমনীয় রমণীরা অবস্থান করত।

এই দুই শ্রেণী কেবল এই কারণেই সদৃশ যে … তারা উভয়েই মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে চলে এবং কদাচিৎ মানুষের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে।

হে হরিণী! তুমি তো সারা রাত জেগে কাটাও না … তুমি কি সেই ব্যক্তির প্রতি করুণা করবে না যাকে বিনিদ্র রজনী যাপন করতে বাধ্য করা হয়েছে?

তৃষ্ণার্ত অবস্থায় তুমি তাকে কামনার সোপানে পানির ঘাটে নিয়ে গিয়েছিলে … কিন্তু প্রত্যাবর্তনের সময় তার অন্তরের দহন নিবারণ করোনি।

(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
لَقَد بَخِلتِ وَفَضلُ البُخلِ مَكرُمَةٌ … مِنَ الأُناثِ كَفَضلِ الجُودِ في الذَكَرِ

لا حَبَّذا صَفَرٌ شَهراً فَقَد صَفِرَت … يَدايَ مِن زَورَةِ الأَحبابِ في صَفَرِ

كَأَنَّ أَعشارَ قَلبي يَومَ بَينِهِمِ … تُذكى بِزِندَين مِن مَرخٍ وَمِن عُشَر

يا سَاكِنينَ بِحَيثُ الخَبتُ مِن هَجَرٍ … أَطَلتُمُ الهَجرَ مُذ صِرتُم إِلى هَجَرِ

عُودوا غِضاباً وَلا تَنأى دِيارُكُم … فَقِلَّةُ الماءِ تُرضي الكُدرَ بِالكَدِرِ

يا دَهرُ لا تَستَقِل جُرماً بِنَأيِهِمِ … فَإِنَّ جُرمَكَ جُرمٌ غَيرُ مُغتَفَرِ

ما لُمتُ غَيرَكَ في تَغييرِ وُدِّهِمِ … لِأَنَّ صَرفَكَ مَجبُولٌ عَلى الغِيَرِ

سَحَبتُ بُردَيكَ في غَيٍّ وَفي رَشَدٍ … وَذُقتُ طَعمَيكَ مِن حُلوٍ وَمِن صَبِرِ

فَما حَمَدتُكَ في بُؤسي وَلا رَغَدي … وَلا شَكَرتُكَ في نَفعي وَلا ضَرَري

لَكِنَّ شُكري لِمَن لَولا مَكارِمُهُ … لَكُنتَ فَلَّلت مِن نابي وَمن ظُفُري

فَتّىً يَعَمُّ جَميعَ الخَلقِ نائِلُهُ … كَما تَعُمُّ السَماءُ الأَرضَ بِالمَطَرِ

يُنبيكَ بِالبِشرِ عَن بُشرى مُؤَمَّلَةٍ … فَالبِشرُ أَحسَنُ ما في أَوجُهِ البَشَرِ
নিশ্চয়ই তুমি কার্পণ্য করেছ, আর নারীদের ক্ষেত্রে কার্পণ্যের গুণটি একটি মর্যাদা … যেমন পুরুষদের ক্ষেত্রে বদান্যতার গুণটি মর্যাদাকর।

সফর মাসটি কতই না মন্দ, কারণ সফর মাসে … প্রিয়জনদের সাক্ষাৎ থেকে আমার হাত শূন্য হয়ে পড়েছে।

তাদের বিচ্ছেদের দিন মনে হচ্ছিল যেন আমার হৃদয়ের তন্তুসমূহ … মারখ ও উশার বৃক্ষের দুটি কাষ্ঠখণ্ড দ্বারা প্রজ্বলিত হচ্ছে।

হে হাজার নামক মরুপ্রান্তরের অধিবাসীগণ! … যখন থেকে তোমরা হাজারে গিয়েছ, তখন থেকে তোমরা বিচ্ছেদকে দীর্ঘায়িত করেছ।

তোমরা রাগান্বিত হয়ে হলেও ফিরে এসো এবং তোমাদের গৃহ যেন দূরবর্তী না হয় … কেননা পানির স্বল্পতা কাতা পাখিকে ঘোলা পানিতেও সন্তুষ্ট করে দেয়।

হে কাল! তাদের দূরত্বের কারণে তোমার অপরাধকে তুচ্ছ মনে করো না … কারণ তোমার এই অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য।

তাদের ভালোবাসার পরিবর্তনের জন্য আমি তুমি ছাড়া আর কাউকে তিরস্কার করিনি … কারণ তোমার পরিবর্তনশীলতা পরিবর্তনের স্বভাবের ওপরই সৃষ্টি করা হয়েছে।

পথভ্রষ্টতা ও সঠিক পথ উভয় অবস্থায় আমি তোমার চাদর টেনেছি … এবং আমি তোমার মিষ্টতা ও তিক্ততা—উভয় স্বাদেরই আস্বাদন করেছি।

তাই আমি আমার দুর্দশা কিংবা সচ্ছলতায় তোমার প্রশংসা করিনি … আর আমার উপকার কিংবা অপকারে তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিনি।

বরং আমার কৃতজ্ঞতা সেই সত্তার প্রতি, যাঁর অনুগ্রহ না থাকলে … তুমি আমার দন্ত ও নখ ভোঁতা করে দিতে।

তিনি এমন এক মহানুভব ব্যক্তি যাঁর দান-দক্ষিণা সকল সৃষ্টিকে পরিব্যাপ্ত করে … যেমন আকাশ বৃষ্টির মাধ্যমে জমিনকে পরিব্যাপ্ত করে।

তিনি হাসোজ্জ্বল চেহারার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুসংবাদের খবর দেন … কেননা মানুষের চেহারায় হাস্যোজ্জ্বলতাই হলো সর্বোত্তম সৌন্দর্য।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
يَعلَو الأَسِرَّةَ مِنهُ بَدرُ مَملَكَةٍ … أَبهى مِنَ البَدرِ لا يُعطي سِوى البِدَرِ

حَجِّي إِلَيهِ وَتَطوافي بِحَضرَتَهِ … نَظيرُ حَجِّي وَتَطوافي وَمُعتَمَرِي

حَتّى إِذا ما اِستَلَمنا ظَهرَ رَاحَتِهِ … قامَت مَقامَ اِستِلامِ الرُكنِ وَالحَجَرِ

زُرهُ نَزُر مِن أَبي العُلوانِ خَيرَ فَتىً … يُزارُ مِن وُلْدِ قَحطانٍ وَمِن مُضَرِ

وَالقَ المُعِزَّ بنَ فَخرِ المُلكِ تَلقَ فَتىً … يُحَقِّقُ الخُبرُ عَنهُ صِحَّةَ الخَبَرِ

حَكى أَباهُ فَقالَ الناسُ كُلُّهُمُ … مِن أَطيَب العُودِ يُجنى أَطيَبُ الثَمَرِ

بَنى مِنَ الفَخرِ ما لَم يَبنِهِ أَحَدٌ … إِلّا الطَراخينُ مِن أَجدادِهِ الغُرَرِ

ماتُوا وَعاشُوا بِحُسنِ الذِكرِ بَعدَهُمُ … وَالذكرُ يَحيى بِهِ الأَمواتُ في الحُفَرِ

لا يُصبِحُونَ حَليبَ الدَرِّ ضَيفَهُمُ … أَو يُمزَجَ الدَرُّ لِلضِيفانِ بِالدُرَرِ

سُودُ المَرائِرِ لا يُفشَونَ يَومَ وَغىً … إِلّا عَلى لَحِقِ الآطالِ كَالمِرَرِ

هُمُ اللُيوثُ وَلَكن لا تَرى لَهُمُ … مِثلَ الليوثِ أَظافيراً سِوى الظَفَرِ
সিংহাসনসমূহের উপরে আরোহণ করেন এক রাজকীয় পূর্ণিমার চাঁদ … যা চাঁদের চেয়েও উজ্জ্বল, যিনি মুদ্রার থলি ছাড়া আর কিছুই দান করেন না।

তাঁর নিকট আমার হজ্জ এবং তাঁর সান্নিধ্যে আমার তাওয়াফ … আমার হজ্জ, তাওয়াফ এবং উমরার সমতুল্য।

এমনকি যখন আমরা তাঁর হাতের পিঠ স্পর্শ করি … তখন তা রুকন এবং হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার স্থলাভিষিক্ত হয়।

আপনি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করুন, আমরা আবু আল-উলওয়ানের মাঝে এমন এক শ্রেষ্ঠ যুবককে পাব … কাহতান এবং মুদার বংশের লোকরা যাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে।

আর ফখরুল মুলকের পুত্র মুইয-এর সাথে দেখা করুন, আপনি এমন এক যুবককে পাবেন … যাঁর সম্পর্কে অর্জিত অভিজ্ঞতা তাঁর সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে।

তিনি তাঁর পিতার সদৃশ হয়েছেন, ফলে সকল মানুষ বলেছে … উত্তম কাষ্ঠ থেকেই উত্তম ফল আহরণ করা হয়।

তিনি গৌরবের এমন ইমারত নির্মাণ করেছেন যা কেউ নির্মাণ করেনি … তাঁর অত্যুজ্জ্বল পূর্বপুরুষদের মধ্য হতে ‘তরাখীন’গণ ব্যতীত।

তাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁদের সুখ্যাতির মাধ্যমে জীবিত রয়েছেন … আর সুখ্যাতির মাধ্যমেই কবরের মৃতরা জীবিত হয়ে ওঠে।

তাঁরা তাঁদের মেহমানদের ভোরে কেবল দুগ্ধ পান করান না … যতক্ষণ না মেহমানদের জন্য দুগ্ধের সাথে মুক্তা মিশ্রিত করা হয়।

তাঁরা সুদৃঢ় সংকল্পের অধিকারী, যুদ্ধের দিনে তাঁদের দেখা যায় না … কেবল রশির ন্যায় কৃশকায় দ্রুতগামী ঘোড়ার পিঠ ব্যতীত।

তাঁরা সিংহসদৃশ বীর, কিন্তু সিংহের ন্যায় তাঁদের কোন নখ আপনি দেখবেন না … বিজয় ব্যতীত।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
أَو مُرهَفاتٌ إِذا هَزوا مَضارِبَها … هَزُوا بِهِنَّ قُلُوبَ البَدوِ وَالحَضَرِ

وَذُبَّلٌ مِن رِماحِ الخَطِّ حامِلَة … مِنَ الأَسِنَّةِ نيراناً بِلا شَرَرِ

إِذا هَوَوا في مُتونِ الدارِعينَ بِها … حَسِبتَهُم غَمَسوا الأَشطانَ في الغُدُرِ

مِن كُلِّ مَن تُرِك الذِكرُ الجَميلُ لَهُ … مُخَلَّداً في غِرارِ الصارِمِ الذَكَرِ

رُوحي الفِداءُ لَهُم قَوماً تُرابُهُمُ … عَلَيَّ أَكرَمُ مِن سَمعِي وَمِن بَصَرِي

ذَمَمتُ شَرخَ شَبابي عِندَ غَيرِهِمِ … وَعُدتُ أَحمَدُ طِيبَ العَيشِ في الكِبَرِ

يا ابنَ السَمادِعَةِ الشُمسِ الَّذينَ هُم … في كُلِّ وِزرٍ لَنا أَحمى مِنَ الوَزَرِ

غالَيتُ في الحَمدِ حَتّى صِرتَ مُشتَرِياً … مِنَ القَريضِ سُطُورَ الحِبرِ بِالحَبَرِ

لا خَلقَ أَكرَمُ عَفواً مِنكَ عَن زَلَلٍ … وَلا أَعَفُّ عَنِ الفَحشاءِ وَالنُكُرِ

تَبيعُ نَفسَكَ في كَسبِ النَفيسِ بِها … إِنَّ الخَطيرَ لَمِقدامٌ عَلى الخَطَرِ

لَو كُنتَ في الزَمَنِ الماضي لَما تَرَكُوا … ذِكراً يُسَيَّرُ إِلّا عَنكَ في السِيَرِ

يا مَن تَأَلَّمَ قَلبي مِن تَأَلُّمِهِ … فَباتَ في غَمَراتِ الهَمِّ وَالفِكَرِ

شَكَوتَ فَاِشتَكَتِ الدُنيا وَلا عَجَباً … إِنَّ الكُسُوفَ لَمَحتُومٌ عَلى القَمَرِ
অথবা তীক্ষ্ণ তরবারি, যখন তারা সেগুলোর ধারালো অংশ দুলিয়ে দেয় … তখন তারা তার মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের মানুষের অন্তরে কম্পন সৃষ্টি করে।

আর খাত্তি বর্শাসমূহ যা অত্যন্ত ক্ষিপ্র ও ঋজু, বহন করছে … বর্শার ফলক থেকে স্ফুলিঙ্গহীন অগ্নি।

যখন তারা সেগুলোর মাধ্যমে বর্মধারীদের পিঠের ওপর আঘাত হানে … তখন তোমার মনে হবে যেন তারা গভীর জলাশয়ে বালতি নামানোর দীর্ঘ রশি নিমজ্জিত করছে।

এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যার সুন্দর প্রশংসা অবশিষ্ট রয়ে গেছে … তীক্ষ্ণ ও মজবুত তরবারির ধারের মাঝে চিরস্থায়ী হয়ে।

আমার প্রাণ তাদের জন্য উৎসর্গ হোক এমন এক জাতি, যাদের ধূলিকণা … আমার কাছে আমার শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির চেয়েও অধিক সম্মানিত।

আমি অন্যদের সান্নিধ্যে কাটানো আমার যৌবনের শুরুর সময়ের নিন্দা করেছি … আর আপনার নিকট এসে বার্ধক্যে সুন্দর জীবনের প্রশংসা করতে ফিরে এসেছি।

হে মহান ও জ্যোতির্ময় নেতাদের বংশধর, যারা … আমাদের প্রতিটি বিপদে পাহাড়ের আশ্রয়ের চেয়েও অধিক সুরক্ষা প্রদানকারী।

আমি আপনার প্রশংসায় এতোটাই উচ্চসিত হয়েছি যে, আপনি কবিতার কালির পঙ্ক্তিগুলো … আনন্দের (বা মূল্যবান উপঢৌকনের) বিনিময়ে ক্রয়কারীতে পরিণত হয়েছেন।

কোনো সৃষ্টিই বিচ্যুতি মার্জনার ক্ষেত্রে আপনার চেয়ে অধিক উদার নয় … এবং অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে আপনার চেয়ে অধিক পবিত্র কেউ নেই।

আপনি মূল্যবান বিষয় অর্জনের তামান্নায় নিজের প্রাণকে বিলিয়ে দেন … নিশ্চয়ই মহান ব্যক্তি বিপদের মুখে চরম সাহসী হয়ে থাকেন।

আপনি যদি অতীত যুগে বিদ্যমান থাকতেন, তবে তারা … ইতিহাসে আপনার আলোচনা ছাড়া অন্য কারও আলোচনা অবশিষ্ট রাখত না।

হে সেই সত্তা, যার ব্যথায় আমার হৃদয় ব্যথিত হয় … ফলে তা চরম দুশ্চিন্তা ও ভাবনার সাগরে নিমজ্জিত হয়ে রাত অতিবাহিত করে।

আপনি ব্যথিত হলেন তাই পুরো দুনিয়া ব্যথিত হলো, আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই … কারণ চাঁদের ভাগ্যে তো গ্রহণ লাগা অবধারিত।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
فَاِسلَم رَفيعَ بِناءٍ المَجدِ شاهِقَهُ … وَعِش طَويلَ رِداءِ العِزِّ وَالعُمُرِ

وَلا سَلَكت طَريقاً غَيرَ مُتَّسِعٍ … وَلا هَمَمتَ بِأَمرٍ غَيرَ مُتَدِرِ

وقال أيضًا يمدحه وأنشدها بالرافقة في سنة ثلاث وثلاثين وأربعمائة:

لِأَيَّةِ حالٍ حُكِّموا فيكَ فَاشتَطُوا … وَما ذاكَ إِلّا حينَ عَمَّمَكَ الوَخطُ

فَهَلّا وَأَيّامُ الشَبيبَةِ ثابِتٌ … بِفَودَيكَ في رَيعانِها الحالِكُ السَبطُ

وَإِذ أَنتَ في ضافٍ مِنَ العَيشِ لَم يَرُع … فُؤادَكَ لا نَأيٌ مُشِتُّ وَلا شَحطُ

وَسَلمى كَشاةِ الرَيمِ تَرنُو بِطَرفِها … إِلَيكَ كَما تَرنُو وَتَعطُو كَما تَعطُو

قَلِيلَةُ تَجوالِ الدَماليج وَالبُرى … إِذا جالَ في مَيدانِ لَبَّتِها السِمطُ

مِنَ الآنِساتِ اللابِساتِ مَلابِساً … مِنَ الصَونِ لَم يُدنَس لَها بِالخَنا مرطُ

شَرَطتُ عَلَيهِنَّ الوَفاءَ فَمُذ بَدا … بَياضُ عِذاري لِلعَذارى مَضى الشَرطُ

وَكَيفَ وَقَد جُزتَ الثَلاثينَ حِجَّةً … يُرى لَكَ حَظٌّ في هَواهُنَّ أَو قِسطُ

كَأَنَّ الفَتى يَرقى مِنَ العُمرِ سُلَّماً … إِلى أَن يَجُوزُ الأَربَعينَ فَيَنحَطُّ

فَلا يُبعِدِ اللَهُ المَشيبَ فَإِنَّهُ … مَطيّةُ حُكمٍ في الخِطيئَةِ لا يَخطُو
সুতরাং আপনি গৌরবের সুউচ্চ ও আকাশচুম্বী প্রাসাদের নির্মাতা হিসেবে নিরাপদ থাকুন … এবং সম্মান ও দীর্ঘ জীবনের চাদর পরিহিত অবস্থায় বেঁচে থাকুন।

আপনি যেন কখনো সংকীর্ণ পথে না চলেন … এবং আপনি যেন এমন কোনো বিষয়ের সংকল্প না করেন যা ফলপ্রসূ নয়।

তিনি তাঁর প্রশংসা করে আরও বলেছেন এবং এটি ৪৩৩ হিজরি সনে রাফিকাহ নামক স্থানে আবৃত্তি করেছেন:

কোন কারণে তারা আপনার ওপর কর্তৃত্বশীল হয়ে সীমালঙ্ঘন করল? … তা কেবল তখনই হয়েছে যখন আপনার চুলে বার্ধক্যের শুভ্রতা ছেয়ে গেছে।

কেন এমনটি হলো না যখন যৌবনের দিনগুলো আপনার ললাটের দুই পার্শ্বে … তার পূর্ণ যৌবনে মিশমিশে কালো ও মসৃণ অবস্থায় স্থির ছিল?

যখন আপনি প্রাচুর্যময় জীবনের মধ্যে ছিলেন, কোনো বিচ্ছেদকারী দূরত্ব … কিংবা সুদূর প্রবাস আপনার হৃদয়কে ভীত করেনি।

এবং সালমা সেই শ্বেত হরিণীর ন্যায় যে তার আঁখি দিয়ে আপনার দিকে তাকিয়ে থাকে … যেভাবে সে তাকায় এবং গ্রীবা বাড়িয়ে দেয় যেভাবে সে দেয়।

যার হাতের কঙ্কণ ও পায়ের মল খুব সামান্যই স্থানচ্যুত হয় … যখন তার কণ্ঠহার বক্ষদেশের ময়দানে দুলতে থাকে।

সে সেই সব পর্দানশীন নারীদের অন্তর্ভুক্ত যারা আব্রুর পোশাক পরিহিতা … অশ্লীলতার মাধ্যমে যাদের চাদর কখনো কলঙ্কিত হয়নি।

আমি তাদের ওপর বিশ্বস্ততার শর্তারোপ করেছিলাম, কিন্তু যখনই তরুণীদের সামনে … আমার গালের পাশে শুভ্রতা প্রকাশ পেল, অমনি সেই শর্ত বিলীন হয়ে গেল।

আর তা হবেই না কেন, যখন আপনি ত্রিশ বছর পার করে ফেলেছেন? … এখন তাদের প্রেমে আপনার কোনো ভাগ্য বা অংশ কি অবশিষ্ট থাকতে পারে?

যুবক যেন বয়সের এক সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকে … যতক্ষণ না সে চল্লিশ অতিক্রম করে, অতঃপর সে নিচে নামতে শুরু করে।

আল্লাহ যেন বার্ধক্যকে দূরে না রাখেন, কেননা এটি … প্রজ্ঞার এমন এক সওয়ারি যা পাপের পথে কদম বাড়ায় না।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
فَدَع ذا وَلَكِن رُبَّ لَيلٍ عَسَفتَهُ … بِرَكبٍ كَأَنَّ العَيسَ مِن تَحتِهِم مُقطُ

وَجُبتَ بِهِم أَجوازَ كُلِّ تَنُوفَةٍ … لِكُدرِ القَطا حَولَ الثَمادِ بِها لَغطُ

كَأَنَّ عَزيفَ الجِنِّ في فَلَواتِها … دُفُوفٌ تَغَنَّت لِلنَدامى بِها الزُطُّ

يَحارُ دَليلُ القَومِ فيها إِذا طَفا … بِها الآلُ وَاُغبَرَّت دَيامِيمُها المُلطُ

وَطارَ سَفا البُهمى بشها فَكَأَنَّهُ … إِذا عَصَفَت ريحُ الجَنوبِ لِحىً سُنطُ

تَنائِفُ لِلظُلمانِ فيها مَعَ الضُحى … عَرارٌ وَلِلأَنضاءِ في جَوزِها خَبطُ

إِذا ما قَطَعنا حِقفَ رَملٍ بَدا لَنا … عَلى إِثرِهِ حِقفٌ مِنَ الرَملِ أَو سِقطُ

وَصَحبي نَشاوي مِن نُعاسٍ كَأَنَّما … تَميلُ بِهِم صِرفٌ مِنَ الراحِ إِسفِنطُ

عَلى كُلِّ مَوّارِ الوَضينِ كَأَنَّهُ … مَرِيرَةُ قِدٍّ لا يَبينُ لَهُ وَسطُ

بَراهُ البُرى حَتّى تَحَيَّرَ نِحضُهُ … وَسالَت نَجيعاً مِن تَأَكُّلِها الإِبطُ
এটা ছেড়ে দাও, তবে কত রাতই না তুমি কষ্ট করে পাড়ি দিয়েছ … এমন এক কাফেলার সাথে, যাদের নিচের সাদা উটগুলো যেন ক্লান্তিতে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে আছে।

তুমি তাদের নিয়ে প্রতিটি বিশাল মরুভূমির মধ্যভাগ অতিক্রম করেছ … যেখানে অগভীর জলাশয়ের চারপাশে মেটে রঙের কাতা পাখির কলরব শোনা যায়।

তার জনমানবহীন প্রান্তরে জিনের শিস দেওয়ার শব্দ যেন … সেই দফ যা জুত জাতি তাদের মদ্যপানের সাথীদের জন্য গেয়ে শোনায়।

কাফেলার পথপ্রদর্শক সেখানে দিশেহারা হয়ে পড়ে, যখন … সেখানে মরীচিকা ভেসে ওঠে এবং তার মসৃণ জলহীন প্রান্তরগুলো ধূলিময় হয়ে যায়।

আর তাতে বুহমা ঘাসের শুয়া উড়তে থাকে, ফলে যখন … দক্ষিণা বাতাস প্রবল বেগে বয়, তখন সেগুলো যেন পাতলা ও বিরল দাড়ি।

এমন বিশাল প্রান্তর যেখানে পূর্বাহ্নে উটপাখিদের জন্য … সুগন্ধি ঘাস রয়েছে, আর এর মধ্যভাগে ক্লান্ত উটগুলো অসংলগ্নভাবে পথ চলে।

যখনই আমরা বালুর কোনো উঁচু ঢিবি অতিক্রম করি, তখনই আমাদের সামনে … তার পরপরই বালুর অন্য এক উঁচু ঢিবি বা ঢাল দৃশ্যমান হয়।

আমার সঙ্গীরা ঘুমের ঘোরে এমন মাতাল ছিল যে, মনে হচ্ছিল … উৎকৃষ্ট খাঁটি মদ তাদের এপাশ-ওপাশ টলিয়ে দিচ্ছে।

এমন প্রতিটি উটের ওপর (আমরা সওয়ার ছিলাম) যার পেটের পেটি দোদুল্যমান, সেটি যেন … চামড়ার পাকানো শক্ত রশি, যার মধ্যভাগ স্পষ্ট নয়।

দীর্ঘ পথযাত্রা তাকে এমনভাবে কৃশ করে দিয়েছে যে তার মাংস নিঃশেষ হয়ে গেছে … আর ঘর্ষণের ফলে বগল থেকে গাঢ় রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
أَقُولُ لَهُم وَاللَيلُ مُعتَكِرُ الدُجى … وَحُدبُ المَطايا تَحتَهُم حُدُبٌ تَمطُو

وَقَد لاحَ لِلرَكب الصَباح كَأَنَّما … بَدا مِن جَلابِيبِ الدُجى لِمَمٌ شُمطُ

وَنَجمُ الثُرَيّا في السَماءِ كَأَنَّهُ … صَنوبَرَةٌ مِن ناصِعِ الدُرِّ أَو قِرطُ

أَقيمُوا صُدُورَ العيسِ نَحوَ ابنِ صالِحِ … فَما بَعدَهُ لِلعَيسِ رَفعٌ وَلا حَطُّ

وَدُونَكُمُ البَحرُ الَّذي لا يُرى لَهُ … إِذا ما طَمى عَبرٌ قَريبٌ وَلا شَطُّ

تُمَزَّقُ بِالتَقبِيلِ وَاللَثمِ سَبطَةٌ … فَتَبلى وَما تَبلى مِنَ القِدَمِ السُبطِ

حَليمٌ عَلى الذَنبِ العَظيمِ وَإِنَّهُ … لَفَظٌّ عَلى أَعدائِهِ في الوَغى سَلطَ

أَبادَ سُيوفَ الهِندِ بِالضَربِ في الصِبا … وَأَفنى بِطُولِ الطَعنِ ما أَنبَتَ الخَطُّ

عَجِبنا لَهُ أَن تَقبِضَ السَيف كَفُّهُ … وَأَكثَرُ شَيءٍ عُوِّدَت كَفُّهُ البَسطُ

إِذا صُغتَ مَدحاً فيهِ لَم أَخشَ قائِلاً … يَقُولُ فُلانٌ في الَّذي قالَ يَشتَطُّ

فَتى كَرَمٍ مِن خَيرِ رَهطٍ وَمَعشَرٍ … مَرادِسَةٍ يا حَبَّذا ذَلِكَ الرَهطُ

إِذا سُئِلُوا أَنطَوا جَزيلاً مُوَسَّعاً … وَكَم مَعشَرٍ سِيلُوا نَوالاً فَلَم يُنطُوا
আমি তাদের বলি যখন রাত ছিল নিবিড় অন্ধকারে আচ্ছন্ন … আর তাদের নিচে সোয়ারী উটগুলোর কুঁজগুলো ছিল দীর্ঘ ও প্রসারিত।

কাফেলার কাছে সকাল প্রতিভাত হলো এমনভাবে যেন … অন্ধকারের চাদর ফুঁড়ে সাদা-কালো চুলের উঁকিঝুঁকি।

আর আকাশে সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জ যেন … খাঁটি মুক্তার তৈরি কোনো পাইন ফল অথবা কানের দুল।

তোমরা লালচে-সাদা উটগুলোর বুক ইবনে সালিহ-এর দিকে ঘুরিয়ে দাও … কেননা তাঁর কাছে পৌঁছানোর পর উটগুলোর আর কোনো পথচলা বা যাত্রা নেই।

তোমাদের সম্মুখে সেই সমুদ্র বিদ্যমান, যার কোনো … নিকটবর্তী কূল বা তটরেখা দেখা যায় না যখন তা উথলে ওঠে।

অতিরিক্ত চুম্বন ও পরশে সূক্ষ্ম বস্ত্র ছিঁড়ে যায় … ফলে তা জরাজীর্ণ হয়, কিন্তু প্রাচীন আভিজাত্য কখনো জরাজীর্ণ হয় না।

তিনি গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেও সহনশীল, কিন্তু তিনি … রণক্ষেত্রে শত্রুদের ওপর অত্যন্ত কঠোর ও পরাক্রমশালী।

তিনি কৈশোরেই প্রচণ্ড আঘাতে ভারতের তলোয়ারগুলো চূর্ণ করেছেন … আর বর্শার দীর্ঘ বিদ্ধকরণের মাধ্যমে খাত্ত অঞ্চলের উৎপাদিত উপকরণ নিঃশেষ করেছেন।

আমরা বিস্ময় বোধ করি যে তাঁর হাত তলোয়ার ধারণ করে … অথচ তাঁর হাত সবচেয়ে বেশি অভ্যস্ত হলো দানশীলতায় উন্মুক্ত থাকতে।

যখন আমি তাঁর প্রশংসায় কাব্য গাঁথি, তখন আমি কোনো সমালোচকের পরোয়া করি না … যে বলবে অমুক ব্যক্তি তার উক্তিতে সীমা লঙ্ঘন করেছে।

তিনি এক মহৎ যুবক, সর্বোত্তম বংশ ও গোত্রের সন্তান … মারাদিসা গোত্রের, আহা! কতই না চমৎকার সেই বংশটি।

যখন তাঁদের কাছে প্রার্থনা করা হয়, তাঁরা অঢেল ও প্রশস্তভাবে দান করেন … অথচ কত গোষ্ঠী রয়েছে যাদের কাছে অনুগ্রহ চাওয়া হলে তারা কিছুই দেয় না।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
لَيُوثٌ وَما جارُ اللُيُوثِ بِآمِنٍ … وَهَذِي لُيُوثٌ لَم يُرَع جارُها قَطُّ

إِذا ما سَطا خَطبٌ سَطَونا بِبَأسِهِم … عَلى ذَلِكَ الخَطبِ المُلِمِّ الَّذي يَسطُو

بَنى لَهُمُ بَيتاً مِنَ العِزِّ باذِخاً … ثِمالٌ فَما انحَطَّ البِناءُ وَلا انحَطُّوا

فَتىً رَبَطتَني في ذُراهُ مَواهِبٌ … رَبَطت عَلَيها الحَمدَ فَاستَحكَمَ الرَبطُ

وَحَبَّرت فيهِ كُلَّ عَذراءَ زانَها … مَديحُ أَبي العُلوانِ لا الشَكلُ وَالنَقطُ

وَعَدَّدتُ لِلأَعداءِ فيها قَواتِلاً … إِذا نَفَثَت بِالسَمِّ أَصلالُها الرُقطُ

فَعِش عُمرَها لا عُمرَ خَطّي فَإِنَّها … سَتَبقى وَيَبلى كاتِبُ الخَطِّ وَالخَطُّ

وقال (يمدحه وقد أمره أن يوازن قصيدة أبي نواس التي ألوها:

وبلدة فيها زور):

وأنفذها إليه من الرحبة سنة أربع وثلاثين وأربعمائة:

وقال أيضاً:

مجزوء الرجز

سَقى مَحَلاً قَد دَثر … بَينَ زَرُودٍ وَهَجَر
তারা সিংহের মতো, আর সিংহের প্রতিবেশীরা নিরাপদ নয় … কিন্তু এরা এমন সিংহ যাদের প্রতিবেশীরা কখনো ভীত হয়নি।

যখন কোনো বিপদ আঘাত হানে, আমরা তাদের বীরত্ব দিয়ে সেই আক্রমণকারী ও আসন্ন বিপদের উপর আঘাত হানি। … সেই বিপদ যা চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে।

তিনি তাদের জন্য সম্মানের এক সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করেছেন যা একটি আশ্রয়স্থল, ফলে সেই নির্মাণ কখনো অবনমিত হয়নি এবং তারাও কখনো মর্যাদা হারায়নি। …

তিনি এমন এক যুবক যার উচ্চতায় অনেক দান আমাকে আবদ্ধ করেছে, … আর আমি সেই দানের উপর প্রশংসাকে গেঁথে দিয়েছি, ফলে সেই বন্ধন সুদৃঢ় হয়েছে।

আমি তার প্রশংসায় এমন সব অপূর্ব কাব্য অলংকৃত করেছি যা আবু আলওয়ানের প্রশংসায় শোভিত হয়েছে, … লেখার বাহ্যিক রূপ বা নুকতা দ্বারা নয়।

আমি এতে শত্রুদের জন্য এমন সব প্রাণঘাতী বিষয় প্রস্তুত করেছি, … যখন তার চিত্রবিচিত্র বিষধর সর্পগুলো বিষ উদ্গীরণ করে।

সুতরাং আপনি এই কবিতার আয়ু নিয়ে বেঁচে থাকুন, আমার হস্তলিপির আয়ু নিয়ে নয়; কারণ … এটি চিরকাল টিকে থাকবে, অথচ লেখক এবং তার হাতের লেখা একসময় বিলীন হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেছেন (তাঁর প্রশংসা করে, যখন তিনি তাঁকে আবু নুওয়াসের কাসিদার ছন্দে একটি কাসিদা রচনা করতে আদেশ করেছিলেন, যার শুরুতে ছিল:

এমন এক জনপদ যেখানে বক্রতা রয়েছে):

আর তিনি তা রাহবা থেকে চারশত চৌত্রিশ হিজরি সনে তাঁর নিকট প্রেরণ করেছিলেন:

তিনি আরও বলেছেন:

রাজায ছন্দের সংক্ষিপ্ত রূপ (মাজযু উর রাজায)

তিনি এমন এক জনপদকে সিক্ত করেছেন যা বিলীন হয়ে গেছে … যা যারুদ এবং হাজারের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
أَو طَفُ وَسْمِيّ البُكر … كَأَنَّهُ إِذا اِنعَصَر

مِنَ الحَبِيِّ أَو قَطَر … ما دَقَّ مِن روسِ الإِبَر

هَبَّت لَهُ مَعَ السَمَر … صِرُّ شِمالٌ فَاِنتَشَر

ثُمَّ تَلالا وَهَدَر … هَدرَ خَطاطيفِ البكَر

بِكُلِّ مَشزُورٍ مُمَر … في كَفِّ أَلوى ذي أَشَر

حَزَوّرٍ حينَ جَفَر … يَنثِرُهُ إِذا اِنتَثَر

فَيَقدَحُ القَفوُ الشَرَر … قَدحَكَ بِالمرخِ العُشُر

لَدى القَليبِ المُحتَفَر … نَوَّخَ حَولَيهِ العَكَر

غِبَّ رَبيعٍ وَصَفَر … يَنفِضُ أَهدابَ الوَبَر

عَنِ الهَوادي وَالسُرُر … فَهُنَّ أَمثالُ الزُبُر
অথবা ভোরে বর্ষিত প্রথম বৃষ্টির প্লাবন … মনে হয় যেন তা যখন নিংড়ানো হয়

পুঞ্জীভূত মেঘ থেকে অথবা তা যখন ঝরে পড়ে … সূঁচের অগ্রভাগের মতো সূক্ষ্ম ফোঁটায়

রাতের আলাপচারিতার সময় তার অনুকূলে বয়ে আনল … উত্তরের এক কনকনে হাওয়া, যা তাকে ছড়িয়ে দিল

অতঃপর তা চমকাতে লাগল এবং মেঘের গর্জন তুলল … যেমন কুয়োর কপিকলের রশিগুলো ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দে গর্জন করে

প্রতিটি সুদৃঢ়ভাবে পাকানো শক্ত রশির সাহায্যে … কোনো এক শক্তিশালী তেজী ব্যক্তির হাতের মুঠোয়

সেই যুবক যখন পূর্ণ যৌবনদীপ্ত হয়ে ওঠে … যখন সে তা ছড়িয়ে দেয় তখন তা ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়

তখন এর পশ্চাৎভাগ থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বিচ্ছুরিত হয় … যেভাবে তুমি মারখ ও উশার কাষ্ঠখণ্ড ঘর্ষণ করে আগুন জ্বালাও

খননকৃত সেই কূপের সন্নিকটে … যার চারপাশে উটের বিশাল পালকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে

বসন্ত ও সফর মাসের বৃষ্টির শেষে … সে তার গায়ের লোম থেকে পানি ঝেড়ে ফেলছে

তার ঘাড় ও পিঠের উপরিভাগ থেকে … ফলে সেগুলো যেন উজ্জ্বল কালিতে লেখা পাণ্ডুলিপির মতো প্রতীয়মান হচ্ছে
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
هِيمٌ يُقَلِّبنَ النَظَر … إِلى حِياضٍ وَجُرَر

يَسنى لَها عَذبٌ خَصِر … حَتّى إِذا الماءُ اِحتُكِر

أَورَدَها ثُمَّ صَدَر … يُرى عَلى وَجهِ العفَر

مِن وَبلِهِ إِذا اِنحَدَر … إِمّا غَديرٌ أَو نَهَر

أَوِ الثَمادُ في النُقَر … أَمثالُ أَحداقِ البَقَر

كَأَنَّما ذاكَ المَطَر … لَمّا اِستَهَلَّ وَاِنهَمَر

يَدُ المُعزِّ المُشتَهر … رَبيعِ قَيسٍ وَمُضَر

بَل هُوَ أَندى وَأَدَرّ … وَمَهمَهٍ جَمِّ الخَطَر

ما فيهِ لِلأَنسِ أَثَر … ظَليمُهُ تَحتَ الخَمَر

يَحضُنُ دُرماً كَالأُكَر … كَأَنَّهُ إِذا وَكَر
তৃষ্ণার্ত উষ্ট্রসমূহ যারা তাদের দৃষ্টি ঘোরাচ্ছে … হাউজ ও পাথুরে জলাধারের দিকে

তাদের জন্য নির্মল ও শীতল সুপেয় পানি উজ্জ্বল দেখাচ্ছে … যতক্ষণ না পানিকে জমা করা হয়

তিনি সেগুলোকে পানির ঘাটে নিয়ে গেলেন অতঃপর ফিরিয়ে আনলেন … যা ধূলিময় প্রান্তরের ওপর দৃষ্টিগোচর হয়

তার প্রবল বর্ষণ হতে যখন তা বর্ষিত হয় … তা হয় কোনো জলাশয় অথবা নদী

অথবা গর্তের মধ্যে জমে থাকা স্বল্প পানি … যা গাভীর চক্ষুতরকার মতো

মনে হয় যেন সেই বৃষ্টি … যখন তা শব্দ করে প্রবলবেগে ঝরতে শুরু করল

সুখ্যাত আল-মুয়িজের হাত … কায়স ও মুদার গোত্রের জন্য বসন্তস্বরূপ

বরং তিনি অধিকতর দানশীল ও প্রাচুর্যময় … এবং এমন এক বিস্তীর্ণ প্রান্তর যা অত্যন্ত বিপজ্জনক

তাতে মানুষের কোনো চিহ্ন নেই … যার পুরুষ উটপাখিগুলো ঝোপঝাড়ের নিচে আশ্রয় নেয়

সে বলের মতো মসৃণ ডিমগুলোকে তা দেয় … যেন সে যখন তার নীড়ে অবস্থান করে।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
شَيخٌ حَبا مِنَ الكِبَر … أَو قَسُّ دَيرٍ قَد نَشَر

مَسابِجاً مِنَ الشَعر … حَتّى إِذا جاعَ اِبتَكَر

إِلى هَبيدٍ في عُجَر … مُفَوَّفاتِ كَالحَبَر

يَقتاتُ مِنها ما اِنتَثَر … بَينَ السَفيرِ وَالشَجَر

قَفرٌ تَعَدَّيتُ الغَرَر … فيهِ بِحُدبٍ كَالمِرَر

أَشباهُ ما فَوقَ النُخُر … قَد ذُبنَ مِن فَرطِ السَفَر

إِلى فَتىً سادَ البَشَر … وَساءَ مُذ شَبَّ وَسَرّ

إِمّا بِنَفعٍ أَو بِضُرّ … كَالسَيفِ لانَ وَبَتَر

أَفَخرِ مَخلوقٍ فَخَر … مِن نَفَرٍ خَيرِ نَفَر

جَمالِ بَدوٍ وَحَضَر … أَهلِ عُمودٍ وَمَدَر

زُرهُ تَزُر نِعمَ الوَزَر … وَعُذ بِهِ مِنَ الغِيَر

تَعُذ بِخَرقٍ لَو نَظَر … إِلى فَقيرٍ ما اِفتَقَر
বার্ধক্যের ভারে হামাগুড়ি দেওয়া এক বৃদ্ধ … অথবা কোনো গির্জার পাদ্রি, যে ছড়িয়ে দিয়েছে

পশমের তৈরি লম্বা আলখাল্লা … অবশেষে যখন সে ক্ষুধার্ত হলো, তখন সে ভোরে বের হলো

গিট দেওয়া থলিতে রাখা ‘হাবীদ’-এর সন্ধানে … যা চিত্রিত ইয়ামেনি চাদরের মতো ডোরাকাটা

সে সেখান থেকে যা ঝরে পড়েছে তা দিয়ে জীবনধারণ করে … ঝরা পাতা ও বৃক্ষরাজির মাঝখানে

এক নির্জন প্রান্তর, যেখানে আমি বিপদের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি দিয়েছি … তাতে শক্ত পাকানো রশির মতো কুঁজো পিঠের উটের পিঠে চড়ে

যেগুলো দেখতে যেন নাসিকার উপরিভাগের হাড়ের মতো … দীর্ঘ সফরের ক্লান্তিতে সেগুলো শুকিয়ে রোগা হয়ে গেছে

এমন এক যুবকের পানে, যে মানবজাতির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে … এবং যে যৌবনকাল থেকেই কখনও কঠোর হয়েছে, কখনও বা আনন্দ দিয়েছে

হয় উপকার দিয়ে, না হয় ক্ষতি দিয়ে … ঠিক তলোয়ারের মতো, যা নমনীয় আবার কর্তনকারীও

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম গর্বিত সত্তার কাছে … এমন এক দল থেকে যে দলটি সর্বোত্তম দল

মরুবাসী ও নগরবাসী উভয়েরই সৌন্দর্য … যারা তাবুর খুঁটিধারী ও মাটির গৃহের অধিকারী

তার সাক্ষাতে যাও, তুমি এক উত্তম আশ্রয়দাতার সাক্ষাত পাবে … এবং কালের পরিবর্তন থেকে তার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করো

তুমি এমন এক উদারচেতা ব্যক্তির আশ্রয় গ্রহণ করো, যিনি যদি তাকান … কোনো দরিদ্রের দিকে, তবে সে আর অভাবগ্রস্ত থাকে না
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
يُعطى اللُهى بِلا ضَجَر … كَأَنَّما عادى البِدَر

فَلَم يَدَع وَلَم يَذَر … وَلا اِقتَنى وَلا ادَّخَر

شَيئاً سِوى حُسنِ الخَبَر … ذاكَ وَشُكرِ مَن شَكَر

يا اِبنَ الطَراخينِ الغُرَر … وَالطاعِنينَ لِلثُغُر

وَالتارِكينَ في الحُفَر … مَنافِباً مِلءَ السِيَر

وَصلُكَ فَضلٌ قَد بَهَر … شِعري وَشِعرَ مَن شَعَر

فَلَو سَكَتنا لَم تُضَر … وَالصُبحَ يُغنيهِ النَظَر

عَن شاهِدٍ إِذا اِنفَجَر … يا مَن بِهِ شِعري اِفتَخَر

عِش أَبَدَاً حِلفَ الظَفَر … وَاسعَد بِأَعيادٍ أُخَر

وَاعذُر وَلِيّاً ما حَضَر … فَلَو مَشى عَلى البَصَر

نَحوَكَ لَم يَشكُ الضَرَر … وَأَنتَ أَولى مَن عَذَر

وَاصبِغ لَها بِيضاً غُرَر … مَنحوتَةً تَحتَ الحَجَر
তিনি বিরক্তিহীনভাবে দান-সামগ্রী প্রদান করেন … যেন তিনি পূর্ণিমার চাঁদের সাথে প্রতিযোগিতা করছেন।

তিনি কিছুই বাকি রাখেননি এবং কিছুই পরিত্যাগ করেননি … আর তিনি কোনো সম্পদ সঞ্চয় বা জমা করে রাখেননি।

উত্তম সুখ্যাতি ব্যতীত অন্য কিছু নয় … সেটি এবং কৃতজ্ঞ ব্যক্তিদের কৃতজ্ঞতা।

হে অভিজাত নেতৃবর্গের সন্তান … এবং যারা রণক্ষেত্রে শত্রুর মর্মস্থল বিদীর্ণকারী।

এবং যারা কবরের গর্তে রেখে যায় … এমন সব শ্রেষ্ঠত্ব যা জীবন ইতিহাসকে পূর্ণ করে দেয়।

আপনার সান্নিধ্য এমন এক বিস্ময়কর অনুগ্রহ যা বিমোহিত করেছে … আমার কাব্যকে এবং সকল কবির কাব্যকে।

যদি আমরা নীরব থাকতাম তবুও আপনার কোনো ক্ষতি হতো না … কারণ প্রভাত স্পষ্ট হওয়ার জন্য দৃষ্টিই যথেষ্ট।

যখন তা প্রস্ফুটিত হয় তখন কোনো সাক্ষীর প্রয়োজন হয় না … হে সেই সত্তা, যাঁর কারণে আমার কাব্য গর্ববোধ করে।

বিজয়ের চিরসাথী হয়ে বেঁচে থাকুন … এবং অনাগত ঈদগুলোতে আনন্দিত থাকুন।

আর সেই অনুরাগী বন্ধুকে ক্ষমা করুন যে উপস্থিত হতে পারেনি … কেননা সে যদি চোখের মণির ওপর দিয়ে হেঁটেও।

আপনার দিকে আসত তবুও সে কষ্টের কোনো অভিযোগ করত না … আর ক্ষমা করার বিষয়ে আপনিই সর্বাধিক যোগ্য।

আর তার জন্য এমন উজ্জ্বল ও শ্রেষ্ঠ নিদর্শনাদি অঙ্কন করুন … যা পাথরের গায়ে খোদাইকৃত অক্ষরের ন্যায় অক্ষয় হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
بِناتِ لَيلٍ وَسَهَر … قَوَّمتُهُنَّ مِن صَعَر

وَمِن سِنادٍ يُعتَبَر … فَهُنَّ أَمثالُ الدُرَر

غاصَت عَلَيهِنَّ الفِكَر … في لُجِّ بَحرٍ قَد زَخَر

مَدائِحاً لَم تُستَعَر … وَلَم يَقَع فيها الحَصَر

صافِيَةً مِن الكَدَر … تُنسيكَ في دَهرٍ غَبَر

مَدحَ القُطاميّ زُفَر … وَبَلدَةً فيها زَوَر

وقال يمدحه — رحمهما الله تعالى — في سنة ثلاث عشرة وأربعمائة:

سَأَلنا الرَبعَ لَو فَهِمَ السُؤالا … مَتى عَهِدَ الغَزالَةَ وَالغَزالا

وَما نَعني الظِباءَ لَهُ وَلَكِن … عَنَينا شَمسَ رامَةَ وَالهِلالا

هِلالٌ مِن هِلالٍ غَيَّبَتهُ … جِمالٌ أُوقِرَت مِنهُ جَمالا
রজনীর দুহিতা ও বিনিদ্রার ফসল … আমি সেগুলোকে বক্রতা থেকে মুক্ত করে ঋজু করেছি।

ওজন ও অন্ত্যমিলের ত্রুটি থেকে মুক্ত করেছি … ফলে সেগুলো এখন মুক্তাসদৃশ।

গভীর চিন্তাসমূহ এগুলোর সন্ধানে ডুব দিয়েছে … এক উত্তাল সমুদ্রের অতল গহ্বরে।

এমন সব প্রশংসাগীতি যা ধার করা হয়নি … এবং যাতে কোনো জড়তা বা অক্ষমতা স্থান পায়নি।

আবিলতা থেকে মুক্ত ও স্বচ্ছ … যা আপনাকে ভুলিয়ে দেবে বিগত সময়ের—

যুফারের প্রতি আল-কুতামির প্রশংসা … এবং সেই জনপদ যাতে বিচ্যুতি রয়েছে।

এবং তিনি চারশত তেরো হিজরি সনে তাঁর প্রশংসা করে বলেন — মহান আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন — :

আমরা সেই প্রাচীন বসতিকে জিজ্ঞাসা করলাম, যদি সে প্রশ্নটি বুঝতে পারত … কবে সে সূর্য ও হরিণীর সাক্ষাৎ পেয়েছিল?

আমরা এর দ্বারা প্রকৃত হরিণ বোঝাতে চাইনি, বরং … আমরা বুঝিয়েছি রামাহ্‌ অঞ্চলের সূর্য ও নবচন্দ্রতুল্য প্রিয়জনকে।

এক উচ্চবংশের নবচন্দ্র, যাকে আড়াল করে নিয়ে গেছে … সেই উষ্ট্রবাহিনী যা সৌন্দর্যের ভারে পূর্ণ ছিল।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
كَساهُ اللَيلُ فَرعاً وَالثُرَيّا … سِخاباً وَالرُدَينيُّ اِعتِدالا

كَأَنَّ الدِعصَ يَحمِلُ منه غُصناً … إِذا هَبَّت بِهِ النَكباءُ مالا

يَرى وَصلي بِنائِلِهِ حَراماً … وَقَتلي في مَحَبَّتِهِ حَلالا

تَنَقّى الضالَ وَالعُبرِيَّ داراً … سَقاهُ اللَهُ عُبرِياً وَضالا

وَجَرَّ عَلى شِمالِ الرِيحِ رُدناً … فَطَيَّبَ رِيحُهُ الريحَ الشَمالا

لَقَد طَرَقَ الخَيالُ فَهاجَ شَوقاً … فَدَت رُوحي خَيالَكُم خَيالا

تَعَلَّمَ مِنكُمُ طُولَ التَجافي … وَصارَ يَغِبُّ مِثلَكُمُ الوِصالا

خَليليَّ انظُرا لَمَعانَ بَرقٍ … كَأَنَّ عَلى الرُبا مِنهُ ذُبالا

تَأَلَّقَ مِن دُوَينِ حَزيزِ خَبتٍ … فَأَذكَرَني بِهِ الحَيَّ الحَلالا
রাত্রি তাকে চুলের গুচ্ছ এবং সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জ দ্বারা আবৃত করেছে … এক কণ্ঠহার হিসেবে, এবং রুদায়নী বর্শার ন্যায় ঋজুতা দান করেছে।

যেন বালিয়াড়ি তার মধ্য হতে একটি শাখা ধারণ করছে … যখন প্রবল বাতাস তাতে প্রবাহিত হয়, তখন তা হেলে পড়ে।

সে আমার প্রতি স্বীয় অনুগ্রহের মাধ্যমে মিলনকে হারাম মনে করে … আর তার প্রেমে আমাকে হত্যা করাকে সে হালাল জ্ঞান করে।

সে বসবাসের আবাস হিসেবে লোটাস ও বদরী বৃক্ষ চয়ন করেছে … আল্লাহ সেই বদরী ও লোটাস বৃক্ষসমূহকে সিক্ত করুন।

সে উত্তুরে হাওয়ার ওপর দিয়ে নিজের আঁচল টেনে নিয়ে গেল … ফলে তার দেহের সুবাস সেই উত্তুরে হাওয়াকেও সুগন্ধিময় করে দিল।

নিশীথে কল্পনার উদয় হল এবং তা বিরহ-ব্যথাকে জাগ্রত করল … তোমাদের সেই ছায়ারূপী কল্পনার তরে আমার প্রাণ উৎসর্গিত হোক।

এটি তোমাদের নিকট থেকে দীর্ঘ বিমুখতা শিখেছে … আর তোমাদের মতোই এটি এখন মিলনের ক্ষেত্রে অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

হে আমার দুই বন্ধু! বিদ্যুতের চমক লক্ষ্য করো … যেন পাহাড়ের টিলাগুলোর ওপর সলিতা প্রজ্বলিত হচ্ছে।

এটি খব্ত নামক প্রান্তরের কঙ্করময় ভূমির নিকট হতে উদ্ভাসিত হয়েছে … যা আমাকে সেই বসতি ও তথাকার বাসিন্দাদের কথা স্মরণ করিয়ে দিল।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
إِذا نَزَلُوا حِبالَ الرَملِ قُلنا … سَقى دَرُّ الحَيا تِلكَ الحِبالا

بِحَيثُ يَسيلُ مَدفَعُ كُلِّ وَادٍ … فَرَوى سَيلُهُ ذاكَ السِيالا

وَتُمرِعُ غِبَّهُ قُلَلُ الرَوابي … فَيَكتَهِلُ النَباتُ بِها اِكتِهالا

إِذا هَبَّت رِياحُ الصَيفِ باتَت … تُفَوِّقُ مِن سَفا البُهمى نِبالا

وَمائِرَةِ الأَزِمَّةِ مُبرَياتٍ … كَأَنَّ عَلى غَوارِبِها صِلالا

شَربنَ الخِمسَ بَعدَ الخِمسِ حَتّى … ظَمِئنَ فَكِدنَ يَشرَبنَ العُلالا

كَأَنَّ الكُدرَ باتَت حَيثُ باتَت … تُلَبِّدُ في مَبارِكِها الرِمالا

شَكَت فَرطَ الكَلال فَقُلتُ أُميِّ … ثِمالاً تَحمَدي هَذا الكَلالا

وَحُطّي الرَحلَ عَنكِ بِخَيرِ أَرضٍ … يَحُطُّ المُعتَفونَ بِها الرَحالا

لَدى مَلِكٍ إِذا أَعطى العَطايا … حَقَرنا عِندَها السُحُبَ الثِقالا
যখন তারা বালিয়াড়িতে অবতরণ করল, আমরা বললাম … বৃষ্টির অঝোর ধারা সিক্ত করুক সেই বালিয়াড়িগুলোকে।

যেখানে প্রতিটি উপত্যকার মোহনা দিয়ে জলধারা প্রবাহিত হয় … এবং তার প্লাবন সিক্ত করে সেই সিয়াল বৃক্ষকে।

আর বৃষ্টির পর টিলাগুলোর চূড়া উর্বর হয়ে ওঠে … ফলে সেখানকার উদ্ভিদরাজি পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়।

যখন গ্রীষ্মের বাতাস প্রবাহিত হয়, তখন তা সারারাত … বুহমা ঘাসের শুঙ্গ থেকে তীরের মতো আঘাত হানে।

আর সেই দ্রুতগামী উষ্ট্রীগুলো যাদের লাগাম স্পন্দিত হয় … যেন তাদের কুঁজের ওপর বিষধর সর্প অবস্থান করছে।

তারা প্রতি পঞ্চম দিনে পানি পান করল, অবশেষে … তারা পুনরায় তৃষ্ণার্ত হয়ে দ্বিতীয়বার পানের উপক্রম করল।

যেন ধূসর বর্ণের বন্য গাধাগুলো যেখানে রাত কাটিয়েছে … সেখানে তাদের বিশ্রামের স্থানে বালু জমাট বেঁধে আছে।

সে (উষ্ট্রী) চরম ক্লান্তির অভিযোগ করল, তখন আমি বললাম: এমন এক আশ্রয়ের দিকে লক্ষ্য করো … যার বদৌলতে তুমি এই ক্লান্তির প্রশংসা করবে।

আর তুমি তোমার সওয়ারি নামিয়ে দাও সর্বোত্তম ভূমিতে … যেখানে সাহায্যপ্রার্থীরা তাদের পাথেয় ও সওয়ারি নামিয়ে থাকে।

এমন এক বাদশাহর সান্নিধ্যে যিনি যখন দান করেন … তখন তার দানের তুলনায় আমরা জলভারাক্রান্ত ভারী মেঘমালাকেও তুচ্ছ জ্ঞান করি।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
أَنالَ فَنالَ غايَةَ كُلِّ حَمدٍ … وَكَم مَن لا يَنالُ وَقَد أَنالا

كَريمُ الخِيَمِ تَصحَبُهُ طَويلاً … فَتَصحَبُ خَيرَ مَن صَحِبَ الرِجالا

إِذا كَشَّفتَ عَنهُ وَجَدتَ فيهِ … خِلالاً لا تَرى فيها اِختِلالا

أَبادَ المالَ حَتّى لَيسَ تُلفي … لَهُ إِلّا جَميلَ الذِكرِ مالا

إِذا ما أَمحَلَت أَرضٌ لِقَومٍ … وَلَم يَجِدوا الحَيا نَجَعوا ثِمالا

فَتىً سَمحُ اليَدَينِ إِذا أَراقَت … سِجالاً كَفُّهُ مَلَأت سِجالا

إِذا عِفنا مَوارِدَ كُلِّ بَحرٍ … شَرَعنا بَحرَهُ العَذبَ الزُلالا

وَأَصدَرنا الرَكائِبَ حامِداتٍ … إِلَيهِ النَصَّ وَالرَكبَ العِجالا
তিনি দান করেছেন এবং সকল প্রশংসার চরম শিখরে পৌঁছেছেন … আর কতজনই তো আছে যারা দান করার পরও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না।

তিনি মহৎ চরিত্রের অধিকারী, দীর্ঘকাল তাঁর সাহচর্যে থাকলে … তুমি পুরুষদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তির সঙ্গই লাভ করবে।

তুমি যখন তাঁর স্বরূপ উন্মোচন করবে, তখন তাঁর মাঝে এমন সব গুণাবলী পাবে … যেগুলোতে তুমি কোনো ত্রুটি দেখতে পাবে না।

তিনি সম্পদ নিঃশেষ করে দিয়েছেন, ফলে তাঁর কাছে কোনো সম্পদই অবশিষ্ট নেই … তাঁর সুখ্যাতি ব্যতিরেকে, যা এখন তাঁর একমাত্র সম্পদ।

যখন কোনো জাতির ভূমি দুর্ভিক্ষকবলিত হয় … আর তারা বৃষ্টির দেখা পায় না, তখন তারা তাঁর আশ্রয়ে পরিতৃপ্ত হয়।

তিনি এমন এক উদার দুই হাতের যুবক যে, যখন তাঁর হাতের তালু … করুণার বারিধারা বর্ষণ করে, তখন তা পাত্রগুলোকে পূর্ণ করে দেয়।

যখন আমরা অন্য সকল সমুদ্রের ঘাটে যাওয়া পরিহার করি … তখন আমরা তাঁর মিষ্ট ও স্বচ্ছ সুপেয় সমুদ্রে প্রবেশ করি।

আমরা আমাদের আরোহী দলগুলোকে প্রশংসারত অবস্থায় ফিরিয়ে আনি … তাঁর পানে অত্যন্ত দ্রুতবেগে ধাবিত করার পর।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
مُحَمَّلَةً ثَناً لَو حُمِّلَتهُ … جِبالُ تِهامَةٍ أَوهى الجِبالا

إِذا صُفَّ المُلوكُ غَدا يَميناً … لِكُلِّ فَضيلَةٍ وَغَدَوا شِمالا

مِنَ القَومِ الَّذينَ إِذا أَنالوا … نَوالاً عَلَّموا الناسَ النَوالا

طِوالٌ يَحمِلونَ إِلى الأَعادي … طِوالاً تَحمِلُ الأَسَلَ الطِوالا

عَلى قُبِّ الأَياطِلِ حامِلاتٍ … بِحَيثُ يُضيِّقُ الخَوفُ المَجالا

إِذا خاضُوا النَجيعَ بِها ثَنَوها … بِشُهبٍ في سَنابِكَها تَلالا

كَأَنَّ أَهِلَّةَ الظَلماءِ صيغَت … لِأَيديها وَأَرجُلِها نِعالا

مَعَوَّدَةٌ بِهِم خَوضَ المَنايا … فَقَد عَرَفَت كَما عَرَفُوا القِتالا

إِذا فَكَّرتُ في الدُنيا وَفيهِم … وَجَدتُ مُلوكَها لَهُمُ عِيالا

وقال يمدحه ويهنيه بعيد النحر وأنفذها إليه من معرة النعمان سنة أربع وثلاثين وأربعمائة:

قَد كُنتَ لَستَ بِناطِقٍ فَتَكَلَّمِ … إِنَّ الكَلامَ عَلَيكَ غَيرُ مَحرَّمِ
প্রশংসার ভারে ভারাক্রান্ত, যা যদি … তিহামার পাহাড়সমূহ বহন করত তবে তা পাহাড়গুলোর মধ্যে সুদৃঢ়তম পাহাড়কেও দুর্বল করে দিত।

যখন রাজন্যবর্গ সারিবদ্ধ হয় তখন সে প্রতিটি শ্রেষ্ঠত্বের জন্য … ডান হস্ত স্বরূপ হয় এবং তারা বাম হস্ত সদৃশ হয়ে যায়।

তিনি এমন এক কওমের অন্তর্ভুক্ত যারা যখন কোনো … দান প্রদান করে তখন তারা মানুষকে দানশীলতা শিক্ষা দেয়।

দীর্ঘদেহী পুরুষগণ শত্রুদের অভিমুখে … দীর্ঘকায় ঘোড়া নিয়ে যায় যা দীর্ঘ বর্শা বহন করে।

কৃশকায় পার্শ্বদেশবিশিষ্ট ঘোড়াগুলোর পিঠে সওয়ার হয়ে এমন স্থানে … (তারা উপনীত হয়) যেখানে ভীতি বিচরণ ক্ষেত্রকে সংকুচিত করে ফেলে।

যখন তারা এগুলোর মাধ্যমে গাঢ় রক্তে অবগাহন করে তখন তারা … এমন উজ্জ্বল শুভ্র ঘোড়াগুলোর সাথে ফিরে আসে যাদের খুরে চমক থাকে।

মনে হয় যেন অন্ধকারের অর্ধচন্দ্রসমূহকে তাদের … হাত ও পায়ের নাল হিসেবে ঢালাই করা হয়েছে।

এগুলো তাদের সাথে মৃত্যুর সমুদ্রে অবগাহন করতে অভ্যস্ত … তাই তারা যুদ্ধকে চিনেছে ঠিক যেমন তারা (যোদ্ধারা) যুদ্ধকে চিনেছে।

যখন আমি দুনিয়া এবং তাদের সম্পর্কে চিন্তা করি … তখন আমি দুনিয়ার রাজাদের তাদের ওপর নির্ভরশীল দেখতে পাই।

তিনি তাঁর প্রশংসা করে এবং ঈদুল আযহা উপলক্ষে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিলেন এবং এটি চারশত চৌত্রিশ হিজরিতে মাররাতুন নুমান থেকে তাঁর কাছে প্রেরণ করেছিলেন:

আপনি ইতিপূর্বে বাকশক্তিহীন ছিলেন না, সুতরাং কথা বলুন … নিশ্চয়ই আপনার জন্য কথা বলা নিষিদ্ধ নয়।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
لَم يَبقَ شَيءٌ غَيرُ شُكرِ صَنائِعٍ … عَظُمَت وَجَلَّت لِلأَجَلِّ الأَعظَمِ

وَإِذا الفَتى ظَفِرَت يَداهُ بِنِعمَةٍ … فَدَوامُها بِدَوامِ شُكرِ المُنعِمِ

مَلِكٌ بَنى عِزّي وَأَسبَغَ نِعمَتي … وَأَجَلَّ مَنزِلَتي وَأَزهَفَ أَسهُمي

وَاِختَصَّني بِصَنايعٍ مَشهورَةٍ … شُكِرَت لَهُ في المَحلِ شُكرَ المُرزِمِ

خُتِمَ الكِرامُ بِهِ وَتَمَّمَ فَضلُهُ … نُقصانَ كُلِّ فَضيلَةٍ لَم تتمِمِ

وَتَمَهَّدَت سُبُلُ البِلادِ وَفُوجِئَت … مِنهُ الأَعادي بِالنآدِ الصَيلَمِ

وَتَجَمَّلَت حَلَبٌ وَأَصبَحَ أَهلُها … في مِثلِ باكِرَةِ الرَبيعِ المُرهمِ

وَتَهَدَّلَت تِلكَ الغُصونُ وَأَشرَقَت … بِأَغَرَّ مِثلِ البَدرِ غَيرَ مُذَمَّمِ

خَضَعَت لَهُ صِيدُ المُلوكِ وَأَذعَنَت … بِالخَوفِ مِن وَلَدِ الهِزَبرِ الضَيغَمِ

وَتَهَيَّبَت مَلِكاً يَعِزُّ نَزيلُهُ … في ظِلِّهِ المَمدودِ عِزَّ الأَعصَمِ
সেই মহান ও মহিমান্বিত অনুগ্রহসমূহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই … যা সর্বাপেক্ষা মহান সত্তার প্রতি নিবেদিত।

যখন কোনো যুবক কোনো নেয়ামত লাভে ধন্য হয় … তখন সেই নেয়ামতদাতার প্রতি কৃতজ্ঞতার নিরবচ্ছিন্নতার মাধ্যমেই তার স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়।

তিনি এমন এক বাদশাহ যিনি আমার সম্মান নির্মাণ করেছেন ও আমার প্রতি নেয়ামত পূর্ণ করেছেন … আমার মর্যাদাকে উচ্চ করেছেন এবং আমার লক্ষ্যসমূহকে শাণিত করেছেন।

তিনি আমাকে বিশেষ ও প্রসিদ্ধ অনুগ্রহ দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন … যার জন্য যথাস্থানে তাঁর প্রতি উচ্চরবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়েছে।

তাঁর মাধ্যমেই মহান ব্যক্তিদের ধারা সমাপ্ত হয়েছে এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব পূর্ণতা দান করেছে … প্রতিটি গুণের অপূর্ণতাকে যা পূর্বে পূর্ণতা পায়নি।

দেশের পথসমূহ সুগম হয়েছে এবং শত্রুরা … তাঁর পক্ষ থেকে আসা চরম ও বিধ্বংসী বিপদের দ্বারা আকস্মিকভাবে আক্রান্ত হয়েছে।

হালব শহর সুশোভিত হয়েছে এবং তার অধিবাসীরা পরিণত হয়েছে … বসন্তের প্রথম বারিধারাস্নাত প্রভাতের ন্যায় সজীবতায়।

সেই বৃক্ষশাখাগুলো নুয়ে পড়েছে এবং তা উদ্ভাসিত হয়েছে … পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় এক অনিন্দ্য সুন্দর ও অনিন্দিত জ্যোতির মাধ্যমে।

প্রতাপশালী রাজন্যবর্গ তাঁর সমীপে মস্তক অবনত করেছে এবং আনুগত্য স্বীকার করেছে … সেই পরাক্রমশালী সিংহের শাবকের ভয়ে।

তাঁরা এমন এক বাদশাহর ভয়ে প্রকম্পিত যাঁর আশ্রিত ব্যক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী হয় … তাঁর প্রসারিত ছায়াতলে এক অপরাজেয় সম্মানের আশ্রয়ে।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ماضي الجَنانِ إِذا تَقَلَّدَ مِخذَماً … أَلقى النِجادَ عَلى نَظيرِ المِخذَمِ

جَلدٌ عَلى نُوبَ الزَمانِ كَأَنَّما … رِيحٌ تَهُبُّ عَلى هِضابِ يَلَملَمِ

يَلقى العَرَمرَمَ وَحدَهُ فَكَأَنَّما … يَلتَفُّ مِنهُ عَرَمرَمٌ بِعَرَمرَمِ

سَمحُ اليَدَينِ يُلامُ في سَرَفِ النَدى … فَيَزيدُهُ سَرَفاً مَلامُ اللَوَمِ

أَفنى الكُنوزَ فَلَيسَ يَبرَحُ مُعدِماً … مِمّا تَسُدُّ يَداهُ خَلَّةَ مُعدِمِ

كَرَماً مَحا ذِكرَ الكِرامِ وَوَصفَهُم … حَتّى كَأَنَّ كَريمَهُم لَم يُكرِمِ

يا مَن بِهِ حَسُنَ الزَمانُ وَأَهلُهُ … حُسنَ الظَلامِ بِنِّيراتِ الأَنجُمِ

فَرَطَ الكِرامُ وَجِئتَ أَنتَ مُؤَخَّراً … فَأَخَذتَ شَأوَ الفارِطِ المُتَقَدِّمِ

بِمَكارِمٍ دَرَسَت مَكارِمَ حاتَمٍ … وَمَحَت حَديثَ رَبيعَةَ بنِ مُكَدَّمِ

فَمُقَدَّمٌ في الفَضلِ مِثلُ مُؤَخَّرٍ … وَمُؤَخَّرٌ في الفَضلِ مِثلُ مُقَدَّمِ

يابانياً بِالمَشرَفِيَّةِ وَالقَنا … بَيتاً مِنَ العَلياءِ غَيرَ مُهَدَّمِ
তিনি অটল হৃদয়ের অধিকারী যখন ধারালো তলোয়ার ধারণ করেন … তিনি সেই ধারালো তলোয়ারের ন্যায় ব্যক্তির কাঁধেই তলোয়ারের বেল্ট অর্পণ করেন।

কালের বিপর্যয়ে তিনি অত্যন্ত দৃঢ় ও শক্তিশালী, যেন … ইয়াল্লামলাম পাহাড়ের চূড়ায় প্রবহমান প্রবল বায়ু।

তিনি একাকী বিশাল এক বাহিনীর মোকাবিলা করেন, তখন মনে হয় … যেন এক বিশাল বাহিনী অন্য এক বিশাল বাহিনীর সাথে সংঘাত করছে।

তিনি মুক্ত হস্তের অধিকারী, যাঁকে অতিরিক্ত বদান্যতার জন্য তিরস্কার করা হয় … কিন্তু নিন্দুকের নিন্দা তাঁর সেই দানশীলতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

তিনি ধনভাণ্ডার নিঃশেষ করেছেন, তাই তিনি রিক্তহস্তই রয়ে গেছেন … কারণ তাঁর হস্তদ্বয় অভাবী ব্যক্তির অভাব পূরণ করে চলেছে।

তাঁর মহানুভবতা অন্যান্য উদার ব্যক্তিদের নাম ও গুণগান মুছে দিয়েছে … এমনকি মনে হয় যেন তাদের মধ্যকার দানশীল ব্যক্তিরা কখনো দানই করেননি।

হে সেই মহান ব্যক্তি, যাঁর দ্বারা কাল ও কালের মানুষ সুশোভিত হয়েছে … যেমন নক্ষত্ররাজি দ্বারা অন্ধকারের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।

দানশীল ব্যক্তিগণ অগ্রগামী হয়েছিলেন এবং আপনি পরে এসেছেন … তবুও আপনি সেই পূর্ববর্তীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও লক্ষ্য অর্জন করেছেন।

এমন সব মহৎ গুণের মাধ্যমে যা হাতিম তাঈ-এর মহত্ত্বকে ম্লান করে দিয়েছে … এবং রবীআহ বিন মুকাদ্দামের বীরত্বগাথা মুছে ফেলেছে।

ফলে শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে অগ্রবর্তী ব্যক্তি পশ্চাদবর্তীর মতো … এবং পশ্চাদবর্তী ব্যক্তি অগ্রবর্তীর মতো হয়ে গেছে।

হে মাশরাফী তলোয়ার ও বর্শার সাহায্যে নির্মাতা … সুউচ্চ মর্যাদার এক অটুট ও অবিনশ্বর গৃহ।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
كَثَّرتَ حُسّادي لَدَيكَ فَزِدُهُمُ … حَسَداً وَأَولَيتَ الجَميلَ فَتَمِّمِ

وَاعذُر بِفَضلِكَ غائِباً عَن خِدمَةٍ … فَأَنا المُحِبُّ خَدَمتُ أَو لَم أَخدِمِ

أُثني عَلَيكَ مُحَدِّثاً في مَجلِسٍ … أَو خاطِباً بِقَصيدَةٍ في مَوسِمِ

فَيَظَلُّ شُكري مُنجِداً مَع مُنجِدِ … في الخافِقَينِ وَمُتهِماً مَع مُتهِمِ

كَالرَوضَةِ الغَنّاءِ باتَ نَسيمُها … مُتَضَوِّعاً غِبَّ الرَبابَ المُحشِمِ

وَعِصابَةٍ قَطَعوا إِلَيكَ مِنَ الفَلا … غُبرَ المَعالِمِ مَعلَماً عَن مَعلَمِ

بِنَجائِبٍ جَدَلَ الوَجيفُ مُتونَها … في البيدِ مِن نَسلِ الجَديلِ وَشَدقَمِ

جَنَبوا الجِيادَ إِلى المَطيِّ فَسَطَّروا … في البيدِ سَطراً مِن حُروفِ المُعجَمِ

فَتَرى بِها عَيناً بِوَطأَةِ حافِرٍ … وَتَرى بِها هاءً بِوَطأَةِ مَنسِمِ

أَمِنُوا بِطَلعَتِكَ الضَلالَ وَأَمَّمُوا … فَوقَ الأَسِرَّةِ مِنكَ خَيرَ مُؤَمَّمِ

وَمَضَوا وَقَد أَصدَرتَهُم عَن مَورِدٍ … جَمِّ الوُرودِ وَبَحرِ جُودٍ مُفعَمِ
আপনি আপনার নিকট আমার প্রতি ঈর্ষান্বিতদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন, সুতরাং তাদের ঈর্ষা আরও বাড়িয়ে দিন; এবং আপনি যে অনুগ্রহ শুরু করেছেন, তা পূর্ণ করুন।

আপনার অনুগ্রহে এমন একজনকে মার্জনা করুন যে খেদমতে অনুপস্থিত রয়েছে; কারণ আমি সেই প্রেমিক যে আপনার খেদমত করি বা না করি (সর্বদাই আপনার অনুরাগী)।

আমি মজলিসে আলোচনারত অবস্থায় আপনার প্রশংসা করি, অথবা কোনো উৎসবের মৌসুমে কবিতার মাধ্যমে ভাষণ দানকালে।

ফলে আমার কৃতজ্ঞতা উভয় দিগন্তে উচ্চভূমিতে আরোহণকারীর সাথে এবং নিম্নভূমিতে অবতরণকারীর সাথে (সর্বত্র) প্রবহমান থাকে।

সেই ঘন উদ্যানের ন্যায় যার সুশীতল বাতাস বর্ষণকারী মেঘের বর্ষণের পর সুগন্ধি ছড়িয়ে রাত অতিবাহিত করে।

এবং একদল যাত্রী যারা আপনার উদ্দেশ্যে মরুভূমি পাড়ি দিয়েছে, যার ধূলিমলিন পথচিহ্নগুলো তারা এক নিদর্শন থেকে অন্য নিদর্শনে অতিক্রম করেছে।

এমন সব ক্ষিপ্রগামী উটের পিঠে চড়ে যাদের পিঠ মরুভূমিতে দ্রুত গতির কারণে মজবুত হয়েছে, যারা জাদীল ও শাদাকাম বংশের শ্রেষ্ঠজাত উট।

তারা সওয়ারি উটের পাশে পাশে ঘোড়াগুলোকে চালিয়ে নিয়েছে; ফলে তারা মরুভূমির বুকে বর্ণমালার অক্ষরের মতো সারি তৈরি করেছে।

সেখানে আপনি ঘোড়ার খুরের ছাপে ‘আইন’ অক্ষর দেখতে পাবেন এবং উটের পায়ের অগ্রভাগের চাপে ‘হা’ অক্ষর দেখতে পাবেন।

আপনার আবির্ভাবে তারা পথভ্রষ্টতা থেকে নিরাপদ হয়েছে এবং তারা আপনার নিকট সিংহাসনসমূহের উপর উপবিষ্ট সর্বোত্তম লক্ষ্যস্থলের দিকে ধাবিত হয়েছে।

তারা প্রস্থান করেছে এমন অবস্থায় যে আপনি তাদের প্রাচুর্যময় প্রস্রবণ এবং দানশীলতার এক কানায় কানায় পূর্ণ সমুদ্র থেকে তৃপ্ত করে বিদায় দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
قَد غَرَّمُوكَ وَغَنَّمُوكَ مَحامِداً … تَبقى فَفُزتَ بِمَغنَمٍ عَن مَغرَمِ

يا مَن إِذا وَقَفَ المُلوكُ بِبابِهِ … سَجَدوا وَخَرَّ مُتَوَّج لِمُعَمَّمِ

العِيدُ أَنتَ وَأَنتَ أَدوَمُ بَهجَةً … مِنهُ فَبُورِكَ مِنكُما في الأَدوَمِ

وَالعيدُ يُعدِمُ حُجَّةً وَبِواجِبٍ … أَن يُحمَدَ العِيدُ الَّذي لَم يُعدَمِ

فَاِسعَد بِهِ واسلَم لِحِفظِ مَعاقِلٍ … لَولا بَقاؤُكَ سالِماً لَم تَسلَمِ

وقال يمدحه أيضًا ويذكر ما وصل إليه من تشريف الحضرة الطاهرة أعزَّ الله سلطانها في سنة أربع وثلاثين وأربعمائة:

وقال أيضاً:

الطويل

رُبوعٌ لَكُم بِالأَجرِ عَينٌ وَأَطلالُ … سَقاهُنَّ مُنهَلُّ الشآبيبِ هَطّالُ

بِحَيثُ يَبيتُ الطَلحُ وَالضالُ مِنكُمُ … قَريباً بِنَفسي ذَلِكَ الطَلحُ وَالضالُ

مَنازِلُ آجالٍ مِنَ العيسِ لَم يَطُل … لَهُنَّ وَلا لِلعيسِ فيهِنَّ آجالُ
তারা আপনাকে ঋণী করেছে এবং প্রশংসার গনীমত দান করেছে যা চিরস্থায়ী হবে, ফলে আপনি ঋণের বিনিময়ে এক মহা গনীমত জয় করেছেন।

হে সেই সত্তা, যাঁর দরবারে রাজন্যবর্গ দণ্ডায়মান হলে সিজদাবনত হয়, এবং মুকুটধারী সম্রাট পাগড়ি পরিহিত ব্যক্তির সম্মুখে লুটিয়ে পড়ে।

আপনিই ঈদ, এবং আপনি ঈদের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী আনন্দের আঁধার, অতএব আপনাদের উভয়ের মধ্যে যিনি অধিক দীর্ঘস্থায়ী তাঁর মাঝে বরকত দান করা হোক।

পার্থিব ঈদ বিলুপ্ত হওয়ার প্রমাণ রাখে, আর সেই ঈদেরই প্রশংসা করা আবশ্যক যা কখনো বিলুপ্ত হয় না।

সুতরাং এটি নিয়ে আনন্দিত হোন এবং দুর্গসমূহ রক্ষার জন্য নিরাপদ থাকুন; যদি আপনি নিরাপদে বেঁচে না থাকতেন তবে সেগুলোও নিরাপদ থাকত না।

তিনি আরও তাঁর প্রশংসা করে বলেন এবং পবিত্র দরবার (আল্লাহ তার রাজত্বকে শক্তিশালী করুন) হতে প্রাপ্ত সম্মাননার কথা উল্লেখ করেন চারশত চৌত্রিশ হিজরি সনে:

তিনি আরও বলেন:

আত-তাবিল (দীর্ঘ ছন্দ)

আজরে তোমাদের আবাসভূমি, প্রস্রবণ ও ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যাকে মুষলধারে বর্ষিত মেঘমালা সিক্ত করেছে।

সেখানে তোমাদের সান্নিধ্যে তালহ ও দাল বৃক্ষ রাত কাটায়; আমার প্রাণ সেই তালহ ও দাল বৃক্ষের জন্য উৎসর্গিত হোক।

এগুলো শ্বেত উষ্ট্রীর জন্য মৃত্যুর মনজিলসমূহ, যেখানে না তাদের আয়ু দীর্ঘ হয়েছিল, আর না উষ্ট্রীগুলোর সেখানে কোনো নির্ধারিত আয়ু ছিল।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
لَقَد أَنهَجَت بَعدي كَما أَنهَجَ الصِبا … فَهُنَّ وَأَيّامُ الشَبيبَةِ أَسمالُ

أَيا رَبعُ أَضناكَ البِلى وَلِيَ الهَوى … فَما لَكَ إِبلالٌ وَلا لِيَ إِبلالُ

وَقَفنا وَأَوقَفنا الدُموعُ حَبيسَةً … عَلَيكَ وَإِنّا بِالدُموعِ لَبُخّالُ

سَقَتكَ العِهادُ الغُرُّ هَل أَنتَ مُخبِرٌ … عَنِ الحَيِّ إِنّي عَنهُمُ لَكَ سَآلُ

أَمُزمِعَةٌ بِالبَينِ قَتلي تَرَفَّقي … فَفي الرِفقِ إِحسانٌ لَدَيكِ وَإِجمالُ

سَلَبتِ الدُجى ما فيهِ حَتّى نُجُومُهُ … لِنَحرِكِ عِقدٌ وَالأَهِلَّةُ أَحجالُ

تَفاءَلَتُ في وادي الأَراكِ لَعَلَّني … أَراكِ فَلَم يَصدُق بِرُؤيَتِكَ الفالُ

أَحِنُّ إِلى أَهلِ الحِجازِ وَدُونَهُم … مَفاوِزُ فيها لِلتَعامُلِ إِعمالُ

وَأَنظُرُ خَفقَ الآلِ مِن نَحوِ أَرضِكُم … فَيَخفِقُ قَلبي كُلَّما خَفَقَ الآلُ

وَإِنّي لَمُشتاقٌ وَعِندي صَنيعَةٌ … تَغُلُّ رِكابي وَالصَنائِعُ أَغلالُ

لَدى مَلِكٍ أَنسى الأَحِبَّةَ حُبُّهُ … فَأَصبَحَ لي عَنهُم بِنُعماهُ إِشغالُ
নিশ্চয় তা আমার পর জীর্ণ হয়ে গেছে যেমন যৌবন জীর্ণ হয় … ফলে সেগুলো এবং যৌবনের দিনগুলো যেন জীর্ণ বস্ত্র।

হে আবাসস্থল! ধ্বংস তোমাকে জীর্ণ করেছে আর অনুরাগ আমাকে … সুতরাং তোমারও কোনো আরোগ্য নেই এবং আমারও কোনো আরোগ্য নেই।

আমরা দাঁড়িয়েছি এবং অশ্রুকে রুদ্ধ করে রেখেছি … তোমার তরে, যদিও আমরা অশ্রুর ব্যাপারে অত্যন্ত কৃপণ।

শুভ্র সতেজ বৃষ্টি তোমাকে সিক্ত করুক, তুমি কি সংবাদ দেবে … সেই জনপদ সম্পর্কে? কারণ আমি তাদের সম্পর্কে তোমার কাছে অতিশয় জিজ্ঞাসু।

বিচ্ছেদের মাধ্যমে তুমি কি আমায় হত্যার সংকল্প করেছ? দয়া করে কোমল হও … কেননা তোমার পক্ষ থেকে কোমলতার মাঝেই রয়েছে সদাচরণ ও সৌন্দর্য।

তুমি অন্ধকার রাতের যা কিছু আছে সব ছিনিয়ে নিয়েছ, এমনকি তার নক্ষত্রগুলোও … তোমার কণ্ঠের হার হিসেবে, আর নতুন চাঁদগুলো যেন নূপুর।

আমি আরাক উপত্যকায় শুভ লক্ষণ তালাশ করেছিলাম এই আশায় যে … তোমাকে দেখব, কিন্তু তোমাকে দেখার ক্ষেত্রে সেই শুভ লক্ষণ সত্য হয়নি।

আমি হিজাযবাসীদের জন্য ব্যাকুল হই, অথচ তাদের মাঝে রয়েছে … এমন মরুপ্রান্তর যেখানে পাড়ি দিতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

আমি তোমাদের ভূমির দিক থেকে মরিচিকার ঝিলিক প্রত্যক্ষ করি … ফলে যখনই মরিচিকা ঝিলিক দেয়, আমার হৃদয়ও স্পন্দিত হয়।

আমি নিশ্চয়ই ব্যাকুল, অথচ আমার নিকট রয়েছে এমন এক অনুগ্রহ … যা আমার বাহনকে আটকে রেখেছে, আর অনুগ্রহ তো শৃঙ্খল স্বরূপ।

এমন এক বাদশাহর সান্নিধ্যে (আছি), যাঁর ভালোবাসা আমাকে প্রিয়জনদের ভুলিয়ে দিয়েছে … ফলে তাঁর নেয়ামতের আধিক্যে তাদের থেকে আমার বিমুখতা তৈরি হয়েছে।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
كَريمٌ أَقَلُّ الكَسبِ في أَرضِهِ الغِنى … وَأَيسَرُ شَيءٍ في مَواهِبِهِ المالُ

مَناقِبُهُ مِثلُ النُجومُ زَواهِرٌ … وَأَفعالُهُ عِندَ الأَماثِلِ أَمثالُ

إِذا نَزَلَ الأَضيافُ أَو نُوزِلَ القَنا … تَساوى نَزيلٌ في ذُراهُ وَنَزّالُ

لَهُ صارِمٌ دَلَّت فُلولٌ بِحَدِّهِ … عَلى أَنَّهُ لِلجَيشِ بِالجَيشِ فَلّالُ

إِذا سَلَّهُ في مَعرَكٍ مِن قِرابِهِ … تَشابَهَ مَسلولٌ هُناكَ وَسَلّالُ

وَما السَيفُ إِلّا دُونَهُ وَهُوَ بِالنَدى … لِراجِيهِ مُحيٍّ وَالمُهَنَّد قَتّالُ

أَبا صالِحٍ حُزتَ المَكارِمَ وَالتَقَت … إِلى الفَخرِ أَعمامٌ عَلَيكَ وَأَخوالُ

لِيَهنِكِ تَشريفُ الإِمامِ بِسُبَّقٍ … مِنَ الخَيلِ في قانٍ مِنَ التِبرِ تَختالُ

خَبَطنَ إِلَيكَ اللَيلَ حَتّى تَكَلَّلَت … لَهُنَّ هَوادٍ بِالنُجومِ وَأَكفالُ

كُسينَ أَجَلَّ العَبقَريّ أَجِلَّةً … تَدُلُّ وَتُنبي أَنَّ ذَلِكَ إِجلالُ

هِيَ القُبُّ بارَتها قِبابٌ كَأَنَّها … عَلى حُتُفِ الأَحمالِ في العَينِ أَجمالُ

وَأَعلامُ عِزٍّ أَعلَمَت كُلَّ حاسِدٍ … بِأَنَّكَ لا يَعدُوكَ سَعدٌ وَإِقبالُ
তিনি অতি মহানুভব, তাঁর ভূমিতে উপার্জনের সামান্যতম অংশই হলো প্রাচুর্য … আর তাঁর দানসমূহের মধ্যে তুচ্ছতম বিষয় হলো অর্থ-সম্পদ।

তাঁর গুণাবলি উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির মতো প্রদীপ্ত … আর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিকট তাঁর কর্মসমূহ হলো দৃষ্টান্তস্বরূপ।

যখন মেহমানরা অবতরণ করে অথবা যখন বর্শা দ্বারা আক্রমণ করা হয় … তখন তাঁর আশ্রয়ে আগমনকারী এবং যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া বীর সমান হয়ে যায়।

তাঁর নিকট রয়েছে এক তীক্ষ্ণ তরবারি, যার ধারের খাঁজগুলো প্রমাণ করে … যে তিনি সৈন্যবাহিনীর মাধ্যমেই সৈন্যবাহিনীকে ধ্বংসকারী।

তিনি যখন রণক্ষেত্রে কোষ থেকে তা উন্মুক্ত করেন … তখন কোষমুক্ত তরবারি এবং তা উন্মুক্তকারী উভয়েই সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তরবারি তো তাঁর তুলনায় তুচ্ছ; তিনি তাঁর দানের মাধ্যমে … প্রত্যাশাকারীদের জীবন দান করেন, অথচ হিন্দুস্তানি তরবারি হলো সংহারক।

হে আবু সলিহ, আপনি সকল মহৎ গুণাবলি অর্জন করেছেন এবং আপনার জন্য … আপনার পৈতৃক ও মাতৃক উভয় বংশের পিতৃব্য ও মাতুলগণ গৌরবে একত্রিত হয়েছেন।

ইমামের পক্ষ থেকে বিজয়ী ঘোড়াগুলোর মাধ্যমে আপনার এই সম্মাননা প্রাপ্তি কল্যাণময় হোক … যা খাঁটি স্বর্ণের আবরণে গর্বভরে পদচারণা করে।

সেগুলো রাতের আঁধারে আপনার দিকে ছুটে চলেছে, অবশেষে … তাদের মস্তক ও পশ্চাদ্দেশ নক্ষত্ররাজি দ্বারা মুকুটের মতো সুশোভিত হয়েছে।

সেগুলোকে সর্বোত্তম কারুকার্যখচিত বস্ত্রে আচ্ছাদিত করা হয়েছে … যা প্রমাণ দেয় এবং সংবাদ প্রদান করে যে, নিশ্চয় এটি এক বিশাল সম্মান।

এগুলো হলো কৃশোদর অশ্ব, যেগুলোর সাথে পালকির প্রতিযোগিতা চলে … মনে হয় যেন সেগুলো দৃষ্টির সামনে বোঝার ভারে নুয়ে পড়া উট।

আর সম্মানের ঝাণ্ডাসমূহ প্রত্যেক ঈর্ষান্বিত ব্যক্তিকে জানিয়ে দিয়েছে … যে সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি আপনাকে কদাপি ছেড়ে যাবে না।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَمِن خالِصِ العِقيانِ ثَوبٌ لَبِستَهُ … تُجَرُّ لَهُ فَوقَ المَجَرَّةِ أَذيالُ

كَأَنَّكَ لَم تَقنَع بِسِربالِ غازِلٍ … فَوافاكَ مِن نُورِ الغَزالَةِ سِربالُ

وَقُلِّدَت عَضباً مُذ حَمَلتَ نِجادَهُ … تُحَمِّلُ عَنكَ الدَهرُ ما أَنتَ حَمّالُ

لَقَد فازَ مَسعى صالِح بِنِ مُحَمَّدٍ … وَفازَت ظُنونٌ صادِقاتٌ وَآمالُ

يَرى ما يُرى في الغَيبِ حَتّى كَأَنَّهُ … عَلى كُلِّ شَيءٍ في ضَميرِكَ نَزّالُ

صَفا لَكُمُ صَفوَ الغَمامِ وَأَخلَصَت … سَرائِرُهُ إِنَّ السَرائِرَ أَعمالُ

لَقَد عَزَّ قَومٌ شايَعوكَ وَحُصِّنَت … ثُغورٌ عَلَيها مِن سُيُوفِكَ أَقفالُ

فَلا يَجزَعِ الإِرلامُ ما دُمتَ سالِماً … فَقَد عَزَّ غَيلٌ فيهِ مِثلُكَ رِئبالُ

وَمِن دُونِ هَذا الشامِ أَنتَ وَفِتيَةٌ … مَرادِسَةٌ شَمُّ العَرانينِ أَبطالُ

إِذا أَشرَعوا زُرقَ الأَسِنَّةِ حَرَّموا … مَوارِدَهُم وَالماءُ أَزرَقُ سَلسالُ
এবং খাঁটি স্বর্ণের তৈরি এক পোশাক যা আপনি পরিধান করেছেন … যার প্রান্তদেশ ছায়াপথের উপর দিয়ে টেনে নেওয়া হয়।

মনে হয় যেন আপনি কোনো সাধারণ তাঁতীর বোনা পোশাকে সন্তুষ্ট ছিলেন না … তাই সূর্যের আলো থেকে আপনার কাছে একটি পোশাক এসে পৌঁছেছে।

এবং যখন থেকে আপনি তলোয়ারের কোমরবন্ধ ধারণ করেছেন, তখন থেকে আপনাকে এক ধারালো তলোয়ারে ভূষিত করা হয়েছে … কাল আপনার পক্ষ থেকে সেই ভার বহন করে যা আপনি বহন করে থাকেন।

নিশ্চয়ই সালেহ বিন মুহাম্মাদের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে … এবং সত্য ধারণা ও আশাসমূহও সফল হয়েছে।

তিনি অদৃশ্যের বিষয়াবলী এমনভাবে দেখেন যেন … তিনি আপনার অন্তরের প্রতিটি বিষয়ের ওপর অবতরণকারী।

মেঘের নির্মলতার ন্যায় তিনি আপনাদের প্রতি নির্মল হয়েছেন এবং তাঁর অন্তঃকরণ বিশুদ্ধ হয়েছে … নিশ্চয়ই গোপন বিষয়সমূহ আমল স্বরূপ।

সেই জাতি পরাক্রমশালী হয়েছে যারা আপনার অনুসরণ করেছে এবং সেই সীমান্তসমূহ সুরক্ষিত হয়েছে … যার ওপর আপনার তলোয়ারসমূহ থেকে তালা লাগানো হয়েছে।

সুতরাং যতক্ষণ আপনি নিরাপদ আছেন ততক্ষণ ইসলাম যেন বিচলিত না হয় … কেননা এমন অরণ্য শক্তিশালী হয়েছে যেখানে আপনার মতো সিংহ বিদ্যমান।

এবং এই সিরিয়ার সম্মুখে রয়েছেন আপনি ও একদল যুবক … যারা মিরদাসি বংশীয়, সুউচ্চ নাসিকাধারী বীর।

যখন তারা নীল বর্ণের বর্শাফলক তাক করে, তখন তারা তাদের পানীয়স্থলে অন্যের আগমন নিষিদ্ধ করে দেয় … যদিও পানি নীল ও স্বচ্ছ প্রবহমান।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু ইবনি আবি হাসিনাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
أَولوا الحِلمِ إِلّا في الكَريهَةِ إِنَّهُم … إِذا شَهِدوا يَومَ الكَريهَةِ جُهّالُ

أَنالُوا فَنالوا مُنتَهى الحَمدِ إِنَّني … رَأَيتُ رِجالاً قَد أَنالوا فَما نالوا

وَما الناسُ عِندَ الناسِ إِلّا مَعاشِرٌ … إِذا وُزِنُوا بِالناسِ كُلِّهِم مالُوا

بُحُورٌ بُدُورٌ وَالدُسُوتُ مَطالِعٌ … غُيُوثٌ لُيوثٌ وَالذَوابِلُ أَغيالُ

إِذا لَمَسوا شَطراً مِنَ الأَرضِ لَمسَةً … بِأَيمانِهِم لَم يُفسِدِ الأَرضَ إِمحالُ

وقال يمدحه وأنفذها إليه من دمشق لما فتح القلعة وسبر ما كان فيها من الأموال إلى الحضرة الطاهرة أعز الله نصرها وذلك في شهر ربيع الأول سنة 434:

لِسَيفكَ بَعدَ اللَهِ قَد وَجَبَ الحَمدُ … فَيا لَيتَ جَفني ما حَييتُ لَهُ غِمدُ

تَقاضَيتَ دَيناً مِن عِداكَ بِحَدِّهِ … وَيا رُبَّ حَدٍّ في التَقاضي بِهِ حَدُّ

وَما زِلتَ وَرّاداً لِكُلِّ كَريهَةٍ … يَهابُ الرَدى مِن دُونِها الأَسَدُ الوردُ

إِلى أَن جَنَيتَ العِزَّ مِن كُلِّ مُجتَنى … يَعزُّ عَلى مَن لا يُساعِدُهُ السَعدُ
তারা সহনশীলতার অধিকারী, তবে যুদ্ধক্ষেত্রে ভিন্ন; কেননা তারা যখন যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হয়, তখন তারা নির্ভীক ও প্রচণ্ড রূপ ধারণ করে … ইঁহারা যুদ্ধের দিনে অত্যন্ত দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠেন।

তাঁরা দান করেছেন এবং প্রশংসার চরম শিখরে পৌঁছেছেন; আমি এমন অনেক লোক দেখেছি যারা দান করেছে ঠিকই, কিন্তু সেই সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করতে পারেনি …

মানুষের কাছে মানুষ তো কেবল এক একটি দল মাত্র; তবে যখন তাদের সকলকে সকল মানুষের সাথে তুলনা করা হয়, তখন পাল্লা তাদের দিকেই ঝুঁকে পড়ে …

তাঁরা যেন দানশীলতার সমুদ্র ও পূর্ণিমার চাঁদ, আর সিংহাসনসমূহ তাঁদের উদয়স্থল; তাঁরা করুণার বৃষ্টি ও বীরত্বের সিংহ, আর তাঁদের বর্শাগুলো যেন গহন অরণ্য …

তাঁরা যখন তাঁদের ডান হাত দিয়ে জমিনের কোনো অংশ সামান্য স্পর্শ করেন, তখন কোনো খরা সেই ভূমিকে আর বিনষ্ট করতে পারে না …

এবং তিনি তাঁর প্রশংসা করে এই কবিতাটি বলেন এবং ৪৩৪ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে দুর্গ বিজয় ও সেখানে বিদ্যমান সম্পদের হিসাব গ্রহণের পর দামেস্ক থেকে পবিত্র দরবারে—আল্লাহ যেন তাঁর বিজয়কে শক্তিশালী করেন—এটি প্রেরণ করেন:

আল্লাহর পর আপনার তরবারির জন্য প্রশংসা করা এখন আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে; আফসোস, আমি যদি বেঁচে থাকা পর্যন্ত আমার চোখের পাতাকে সেটির খাপ বানিয়ে দিতে পারতাম …

আপনি আপনার তরবারির ধার দিয়ে শত্রুদের নিকট থেকে পাওনা আদায় করেছেন; আর পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে তরবারির এই ধারই তো চূড়ান্ত ফয়সালা …

আপনি সর্বদা প্রতিটি ভয়াবহ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, যাকে স্বয়ং মৃত্যুও ভয় পায়—এমনকি হিংস্র সিংহও যার সম্মুখে ভীত হয়ে পড়ে …

শেষ পর্যন্ত আপনি প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে সেই সম্মান ও মর্যাদা অর্জন করেছেন, যা লাভ করা এমন ব্যক্তির জন্য কঠিন যার সৌভাগ্য সহায় হয় না …