(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: -)
الجامع الصحيح مما ليس في الصحيحين القسم: كتب السنة
الكتاب: الجامع الصحيح مما ليس في الصحيحين
المؤلف: أبو عبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي (ت 1422 هـ)
الناشر: دار الآثار للنشر والتوزيع، صنعاء - اليمن
الطبعة: الرابعة، 1434 هـ - 2013 م
تتميز هذه الطبعة: بزيادة أكثر من ثمانين حديثًا على الطبعة السابقة، والتنبيه على الأحاديث التي تراجع عنها الشيخ رحمه الله
عدد الأجزاء: 6
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 رجب 1440
আল-জামি আস-সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস-সাহীহাইন বিভাগ: হাদিস শাস্ত্রের গ্রন্থাবলি
গ্রন্থ: আল-জামি আস-সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস-সাহীহাইন
লেখক: আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিঈ (মৃত্যু ১৪২২ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল আসার পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, সানা - ইয়েমেন
সংস্করণ: চতুর্থ, ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ
এই সংস্করণের বৈশিষ্ট্য: পূর্ববর্তী সংস্করণের তুলনায় আশিটিরও বেশি হাদিস সংযোজন এবং শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) যে হাদিসগুলো থেকে প্রত্যাবর্তন করেছেন সেগুলোর ব্যাপারে সতর্কতা প্রদান
খণ্ড সংখ্যা: ৬
শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণ: রাবিতাতুন নুসসাখ (অনুলিপিকারক সংঘ), বাস্তবায়নে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আবদুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দাহইয়ান চ্যারিটেবল এন্ডোমেন্ট)
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ রজব ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ১)
الجامع الصحيح مما ليس في الصحيحين
تأليف أبي عبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي
المتوفى سنة 1422 رحمه الله تعالى
طبعة جديدة منقحة ومفهرسة ومزيدة بزيادات تنشر لأول مرة مع تنبيهات على الأحاديث التي تراجع عنها الشيخ رحمه الله
الجزء الأول
العلم - الإيمان - الطهارة
دار الآثار للنشر والتوزيع
সহিহাইন-এর বহির্ভূত সহিহ হাদিসসমূহের সংকলন (আল-জামি আস-সহিহ)
রচনা: আবু আব্দুর রহমান মুকবিল ইবনে হাদি আল-ওয়াদিঈ
মৃত্যু: ১৪২২ হিজরি, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন
নতুন সংস্করণ: পরিমার্জিত, সূচিপত্র সংবলিত এবং প্রথমবারের মতো প্রকাশিত বর্ধিত তথ্যাদিসহ; সাথে শায়খ (রহ.) যেসকল হাদিস থেকে পরবর্তীতে ফিরে এসেছিলেন তার ওপর সতর্কবার্তা সংযোজিত হয়েছে
প্রথম খণ্ড
ইলম (জ্ঞান) - ঈমান (বিশ্বাস) - তাহারাত (পবিত্রতা)
দারুল আসার প্রকাশনা ও বিতরণী
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ৩)
الجامع الصحيح مما ليس في الصحيحين
সহীহাইন-এর বহির্ভূত সহীহ হাদীসসমূহের সংকলন
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ৪)
حقوق الطبع محفوظة لـ دار الآثار
الطبعة الرابعة
1434 هـ - 2013 م
رقم الإيداع 20/ 2006
عنوان صفحات الشيخ:
أبي عبد الرحمن الرحيم مقبل بن هادي الوادعي رحمه الله
www.muqbel.net
دار الآثار للنشر والتوزيع
www.dar-alathar.com
اليمن: صنعاء - شارع تعز - حي شميلة - مقابل جامع الخير - ص. ب 17190 فاكس 603256
(9671+) هاتف: الإدارة 613365 المكتبة 633717 بريد إلكتروني info@dar-alathar.com
* فرع عدن: كريتر - بجوار مسجد أبان -هاتف 266986
* فرع المكلا: الشرج - أسفل المسجد الجامع من جهة القبلة - هاتف 307112
* فرع دماج: دار الحديث - مقابل مسجد أهل السنة هاتف 519321
* فرع معبر: دار الحديث - جوار مسجد النور - هاتف 430506
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - দারুল আসার
চতুর্থ সংস্করণ
১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ
আমানত নম্বর ২০/ ২০০৬
শাইখের ওয়েবপেজ সমূহের ঠিকানা:
আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিয়ি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)
www.muqbel.net
দারুল আসার প্রকাশনী ও পরিবেশনী
www.dar-alathar.com
ইয়েমেন: সানা - তায়িজ রোড - শুমাইলা এলাকা - জামে আল-খাইর মসজিদের বিপরীতে - পি.ও. বক্স ১৭১৯০, ফ্যাক্স: ৬০৩২৫৬
(+৯৬৭১) ফোন: প্রশাসন ৬১৩৩৬৫, লাইব্রেরি ৬৩৩৭১৭, ইমেইল info@dar-alathar.com
* এডেন শাখা: ক্রেটার - আবান মসজিদের পাশে - ফোন ২৬৬৯৮৬
* মুকাল্লা শাখা: আশ-শারজ - কিবলার দিক থেকে জামে মসজিদের নিচে - ফোন ৩০৭১১২
* দাম্মাজ শাখা: দারুল হাদিস - আহলে সুন্নাহ মসজিদের বিপরীতে - ফোন ৫১৯৩২১
* মাবার শাখা: দারুল হাদিস - আন-নূর মসজিদের পাশে - ফোন ৪৩০৫০৬
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ৫)
الجامع الصحيح مما ليس في الصحيحين
تأليف أبي عبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي
المتوفى سنة 1422 رحمه الله تعالى
طبعة جديدة منقحة ومفهرسة ومزيدة بزيادات تنشر لأول مرة مع تنبيهات على الأحاديث التي تراجع عنها الشيخ رحمه الله
الجزء الأول
العلم - الإيمان - الطهارة
دار الآثار للنشر والتوزيع
সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) বহির্ভূত সহিহ হাদিসসমূহের পূর্ণাঙ্গ সংকলন
গ্রন্থনায়: আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিঈ
মৃত্যু: ১৪২২ হিজরি, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন
নতুন পরিমার্জিত ও নির্ঘণ্ট সংবলিত সংস্করণ; এতে প্রথমবারের মতো কিছু বিষয় সংযোজন করা হয়েছে এবং শায়খ (রহ.) যেসব হাদিসের ব্যাপারে পরবর্তীতে নিজের মত পরিবর্তন করেছেন সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে
প্রথম খণ্ড
ইলম (জ্ঞান) - ঈমান (বিশ্বাস) - তাহারাত (পবিত্রতা)
দারুল আসার প্রকাশনী ও পরিবেশনী
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ৬)
الرموز المستعملة في هذه الطبعة:
رموز المتن:
842 * حديث من زيادات الطبعة الجديدة من "الصحيح المسند".
842 * حديث تراجع الشيخ رحمه الله عن تصحيحه.
* متابعة للحديث السابق.
* متابعة للحديث السابق.
رموز الحواشي:
حديث من زوائد الطبعة الجديدة من "الصحيح المسند".
(الصحيح المسند) تتلو حاشية: الحاشية منقولة من نسخة الشيخ الخاصة من كتاب "الصحيح المسند".
এই সংস্করণে ব্যবহৃত প্রতীকসমূহ:
মূল পাঠের (মতন) প্রতীকসমূহ:
৮৪২ * ‘আস-সহীহ আল-মুসনাদ’-এর নতুন সংস্করণের অতিরিক্ত অংশ থেকে সংগৃহীত হাদিস।
৮৪২ * যে হাদিসটিকে বিশুদ্ধ (সহীহ) বলার সিদ্ধান্ত থেকে শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) পরবর্তীতে সরে এসেছেন।
* পূর্ববর্তী হাদিসের মুতাবাহ (সহায়ক বর্ণনা)।
* পূর্ববর্তী হাদিসের মুতাবাহ (সহায়ক বর্ণনা)।
টীকা বা হাশিয়ার প্রতীকসমূহ:
‘আস-সহীহ আল-মুসনাদ’-এর নতুন সংস্করণের অতিরিক্ত অংশ থেকে সংগৃহীত হাদিস।
(আস-সহীহ আল-মুসনাদ) কোনো টীকা অনুসরণ করলে: এই টীকাটি ‘আস-সহীহ আল-মুসনাদ’ গ্রন্থের শায়খের নিজস্ব কপি থেকে সংকলিত।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الناشر للطبعة الجديدةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين وعلى آله وصحبه أجمعين.
أما بعد:
فها نحن نخرج للقراء الكرام كتابا من أنفس كتب الشيخ العلامة المجدد أبي عبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي رحمه الله، الموسوم بـ "الجامع الصحيح ما ليس في الصحيحين" وقد كان للشيخ رحمه الله معنا حديثٌ حول هذه الطبعة الجديدة في أثناء رحلته العلاجية التي انتهت بوفاته رحمه الله، وقد تكلمنا معه حول الأحاديث التي تراجع عن تصحيحها وأوردها في كتابه "أحاديث معلة ظاهرها الصحة" (1) فأمر الشيخ رحمه الله بإبقائها في مكانها مع التعليق عليها والإحالة إلى كتابه "أحاديث معلة"، وبعد وفاة الشيخ رحمه الله، استلمنا نسخته الخاصة من "الصحيح المسند مما ليس في الصحيحين" الذي هو أصل هذا الكتاب مرتبًا على المسانيد، وكانت عناية الشيخ رحمه الله به أكثر؛ فقد حذف جملة من
--------------------------------------------
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
নতুন সংস্করণের প্রকাশকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূলের প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
অতঃপর:
আমরা এখন সম্মানিত পাঠকদের নিকট শায়খ আল্লামা মুজাদ্দিদ আবু আবদির রহমান মুকবিল ইবনে হাদি আল-ওয়াদিয়ি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিতাব প্রকাশ করছি, যার শিরোনাম "আল-জামি আস-সহিহ মা লাইসা ফিস-সহিহাইন" (সহিহাইন-এর বহির্ভূত সহিহ হাদিসসমূহের সংকলন)। এই নতুন সংস্করণটি নিয়ে শায়খের (রাহিমাহুল্লাহ) সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছিল তাঁর চিকিৎসাকালীন সফরের সময়, যে সফরটি তাঁর ইন্তেকালের (রাহিমাহুল্লাহ) মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। আমরা তাঁর সাথে এমন কিছু হাদিস নিয়ে কথা বলেছিলাম যেগুলোর সহিহ হওয়ার মত থেকে তিনি প্রত্যাবর্তন করেছিলেন এবং তা তাঁর "আহাদিসু মুয়াল্লাতুন যাহিরুহাস সিহহা" (১) নামক কিতাবে উল্লেখ করেছিলেন। তখন শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, হাদিসগুলোকে যেন নিজ নিজ স্থানেই বহাল রাখা হয় এবং সাথে টীকা যুক্ত করে তাঁর গ্রন্থ "আহাদিসু মুয়াল্লা"-এর উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়। শায়খের (রাহিমাহুল্লাহ) ইন্তেকালের পর, আমরা তাঁর ব্যক্তিগত পাণ্ডুলিপি "আস-সহিহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস-সহিহাইন" হাতে পাই, যা মূলত মুসনাদ বিন্যাসে রচিত এই গ্রন্থটির মূল উৎস ছিল এবং এর প্রতি শায়খের বিশেষ যত্ন ছিল। তিনি এর থেকে একগুচ্ছ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ৬)
الأحاديث (1) وعلق عليها بتعليقات تبين سبب الحذف، ولكن هذه التعليقات لم تطبع مع الطبعة الجديدة من "الصحيح المسند" لكونها على الأحاديث المحذوفة، فرأينا للفائدة إثبات تلك التعليقات على تلك الأحاديث في هذه الطبعة من "الجامع الصحيح"؛ وتعقبها بعبارة (الصحيح المسند)، ثم نتلوها بذكر رقم الحديث في الطبعة الثالثة من كتاب "أحاديث معلة"، وأما إذا لم يكن الحديث مما علق عليه الشيخ في نسخته من "الصحيح المسند" نكتفي بذكر رقه في أحاديث معلة.
وميزنا الأحاديث التي تراجع عنها الشيخ كمال، بعلامة تعجب (! ) تتلو رقم الحديث للتنبيه على أنه مما تراجع عنه الشيخ رحمه الله (2).
ثم إن الشيخ رحمه الله، قد زاد في كتابه "الصحيح المسند" أكثر من ثمانين حديثا، فحتى لا تفوت هذه الأحاديث على من يطالع "الجامع الصحيح" ألحقناها بحاشية هذه الطبعة، وعهدنا إلى الشيخة الفاضلة أم عبد الله بنت الشيخ مقبل الوادعية بترتيبها في أبوابها اللائقة بها، وقام الشيخ عبدالرحمن بن مرعي العدني بمراجعة الترتيب والزيادة عليه في بعض المواضع، وميزنا هذه الأحاديث بنجمة (*) تتلو الرقم وبخط مستطيل أحمر في الحاشية.
--------------------------------------------
উক্ত হাদীসসমূহের (১) ওপর তিনি কিছু টীকা প্রদান করেছেন যা সেগুলো বিলুপ্ত করার কারণ স্পষ্ট করে। কিন্তু এই টীকাগুলো ‘আস-সহীহুল মুসনাদ’-এর নতুন সংস্করণের সাথে মুদ্রিত হয়নি, কারণ সেগুলো ছিল বিলুপ্তকৃত হাদীসসমূহের ওপর। তাই পাঠকদের উপকারের কথা বিবেচনা করে আমরা ‘আল-জামি’উস সহীহ’-এর এই সংস্করণে উক্ত হাদীসগুলোর ওপর সেই টীকাগুলো বহাল রাখা সমীচীন মনে করেছি; এবং এরপর আমরা ‘আস-সহীহুল মুসনাদ’ কথাটি উল্লেখ করেছি। অতঃপর আমরা ‘আহাদীসু মু’আল্লাহ’ গ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণে হাদীসটির নম্বর উল্লেখ করেছি। আর যদি হাদীসটি এমন হয় যার ওপর শায়খ তাঁর ‘আস-সহীহুল মুসনাদ’-এর কপিতে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে আমরা কেবল ‘আহাদীসু মু’আল্লাহ’-এর হাদীস নম্বর উল্লেখ করার ওপরই ক্ষান্ত হয়েছি।
আর শায়খ যে হাদীসগুলো থেকে প্রত্যাবর্তন করেছেন, সেগুলোকে আমরা হাদীস নম্বরের পরে একটি বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!) দ্বারা চিহ্নিত করেছি, যাতে শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) যে এগুলো থেকে প্রত্যাবর্তন করেছেন সে বিষয়ে সতর্ক হওয়া যায় (২)।
তদুপরি শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আস-সহীহুল মুসনাদ’ গ্রন্থে আশিটিরও অধিক হাদীস বৃদ্ধি করেছেন। তাই ‘আল-জামি’উস সহীহ’ পাঠকারীগণ যাতে এই হাদীসগুলো থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য আমরা এই সংস্করণের টীকায় সেগুলো যুক্ত করে দিয়েছি। এ হাদীসগুলোকে স্ব স্ব উপযুক্ত অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করার দায়িত্ব আমরা বিদুষী শায়খা উম্মু আব্দুল্লাহ বিনতে শায়খ মুকবিল আল-ওয়াদি’য়্যাহকে অর্পণ করেছি এবং শায়খ আব্দুর রহমান বিন মার’ঈ আল-আদানী বিন্যাসটি পর্যালোচনা করেছেন এবং কিছু স্থানে পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করেছেন। এই হাদীসগুলোকে আমরা হাদীস নম্বরের পরে একটি তারকা চিহ্ন (*) এবং টীকায় লাল আয়তাকার রেখা দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ৭)
هذا وقد قمنا بطباعة هذا الكتاب عن النسخة المكتوبة بالآلة الكاتبة التي رتبها الشيخ رحمه الله وبوب عليها بخطه، وتلافينا بذلك كثيرا من الأخطاء الطباعية والسقوطات الواقعة في طبعة دار الحرمين.
ورقمنا الأحاديث ترقيما تسلسليا، وأغفلنا المتابعات من الترقيم واكتفينا بتمييزها بنجمة هكذا (* أو *)، ورقنا أيضا الأبواب ترقيما تسلسليا مستقلا لكل كتاب.
وألحقنا الكتاب بفهرس آيات وأحاديث ورجال.
نسأل الله العلي الكبير أن يوفقنا في إخراج ما بقي من ميراث الشيخ رحمه الله على أكمل وجه كما كان يحب شيخنا رحمه الله، وأن يعيذنا من فتنة المحيا والممات؛ إنه ولي ذلك والقادر عليه.
الناشر
سعيد بن عمر حبيشان
আমরা এই কিতাবটি সেই টাইপরাইটারে লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে মুদ্রণ করেছি যা শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বিন্যস্ত করেছেন এবং নিজ হাতে এর পরিচ্ছেদসমূহ বিন্যাস করেছেন। এর মাধ্যমে আমরা দারুল হারামাইন সংস্করণে বিদ্যমান বহু মুদ্রণজনিত ত্রুটি ও বিচ্যুতি সংশোধন করতে সক্ষম হয়েছি।
আমরা হাদিসসমূহ ধারাবাহিকভাবে নম্বর প্রদান করেছি এবং ‘মুতাবায়াত’ (সমর্থক বর্ণনা) গুলোকে ধারাবাহিক নাম্বারিংয়ের বাইরে রেখে কেবল তারকা চিহ্ন (* অথবা *) দিয়ে চিহ্নিত করার ওপর যথেষ্ট করেছি। এ ছাড়া প্রতিটি কিতাবের জন্য স্বতন্ত্রভাবে পরিচ্ছেদসমূহকেও ধারাবাহিকভাবে নম্বর প্রদান করেছি।
আমরা কিতাবটির শেষে আয়াত, হাদিস এবং বর্ণনাকারীদের নির্ঘণ্ট সংযোজন করেছি।
আমরা সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন শায়খ (রহিমাহুল্লাহ)-এর অবশিষ্ট জ্ঞানতাত্ত্বিক উত্তরাধিকারকে সর্বোত্তম পন্থায় প্রকাশের তাওফিক দান করেন, যেভাবে আমাদের শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) পছন্দ করতেন। আর তিনি যেন আমাদের জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে রক্ষা করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।
প্রকাশক
সাঈদ বিন উমর হুবাইশান
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةالحمد لله رب العالمين، وصلى الله على نبينا محمد الصادق الأمين، وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيرا.
أما بعد:
فإني أحمد الله الذي يسَّر لي سبل العلم، وحبب إلي كتب السنة المطهرة التي من تمسك بها نجا، ومن أعرض عنها تخبط وغوي.
وإني أحمد الله سبحانه وتعالى على ما يسر لي من الدعوة إلى السنة النبوية بالقلم واللسان، في زمن تكالب المبتدعة وأعداء الإسلام على أهل السنة ورموهم عن قوس واحد، فحفظهم الله من كيد الأعداء، وجعل لهم فرجا ومخرجا، ورد الله الذين كفروا بغيظهم لم ينالوا خيرا.
وإن دعوة أهل السنة باليمن تعتبر آيةً من آيات الله، إذ ليس لها نصير ولا معين إلا الله سبحانه وتعالى.
في ذلك الجو المظلم المملوء بالأحزان والمكدرات والقلاقل والزلازل والمحن والفتن، يسر الله -ولله الحمد- تأليف مجموعة من الكتب الطيبة، أرجو أن ينفع الله بها الإسلام والمسلمين.
وإني أحمد الله، فقد رأيت نفع ما خرج منها، وهذا هو الذي يهوِّن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকাসকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর সালাত ও অগণিত সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর:
আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি আমার জন্য জ্ঞানের পথসমূহ সহজ করে দিয়েছেন এবং পবিত্র সুন্নাহর গ্রন্থসমূহকে আমার নিকট প্রিয় করে দিয়েছেন; যে ব্যক্তি তা আঁকড়ে ধরবে সে মুক্তি পাবে, আর যে তা থেকে বিমুখ হবে সে লক্ষ্যচ্যুত ও বিভ্রান্ত হবে।
আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রশংসা করছি যে, তিনি লেখনী ও বক্তৃতার মাধ্যমে আমাকে নববী সুন্নাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার তাওফিক দান করেছেন এমন এক সময়ে, যখন বিদআতি ও ইসলামের শত্রুরা আহলে সুন্নাহর ওপর চড়াও হয়েছে এবং সম্মিলিতভাবে আক্রমণ চালিয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাঁদেরকে শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাযত করেছেন এবং তাঁদের জন্য মুক্তি ও নিষ্কৃতির পথ তৈরি করে দিয়েছেন; আর আল্লাহ কাফেরদেরকে তাদের ক্রোধসহ ফিরিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনো কল্যাণ লাভ করতে পারেনি।
আর ইয়েমেনে আহলে সুন্নাহর দাওয়াত আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি অন্যতম নিদর্শন হিসেবে গণ্য, কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত এর কোনো সাহায্যকারী বা সহায় নেই।
শোক, অশান্তি, অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা, পরীক্ষা ও ফিতনায় পরিপূর্ণ সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতির মাঝে আল্লাহ তাআলা—সকল প্রশংসা আল্লাহরই—একগুচ্ছ উত্তম কিতাব রচনার পথ সুগম করে দিয়েছেন, আমি আশা করি আল্লাহ এর দ্বারা ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করবেন।
আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি, কেননা আমি এর মধ্য থেকে যা প্রকাশিত হয়েছে তার উপকারিতা প্রত্যক্ষ করেছি, আর এটিই সেই বিষয় যা সহজ করে দেয়...
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ১০)
علينا المصائب، بل يجعلنا لا نأبه لها، ولا نستكين لها، وكان من بين هذه الكتب "الصحيح المسند مما ليس في الصحيحين"، وقد أرسل للطبع (1) والحمد لله، وبعد أن أُرسِلَ للطبع رأيت أن أخرجه على الأبواب الفقهية، فربما لا يستفيد من "الصحيح المسند مما ليس في الصحيحين" إلا المتخصصون في علم الحديث، وأما المرتب الذي هو على الأبواب الفقهية، فيستفيد منه -إن شاء الله - المتخصص في علم الحديث وغيره، وابتدأته: بكتاب العلم، اقتداء بالقرآن الكريم، فإن أولَ ما نزل منه: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} (2). هذا وقد اقتديت في التراجم بإمام هذه الصنعة، وهو الإمام البخاري، فربما أطلق الترجمة، والحديث الذي بين يدي خاصٌّ، وربما أخصص الحديث العام بترجمة خاصة، وذلك في الحالتين إشارة إلى أدلة أخرى، ليست على شرط الكتاب، إما آية قرآنية، أو حديث نبوي في "الصحيحين"، أو أحدهما، أو حديث حسن لغيره.
وكذا كررتُ الحديث ما وجدت إلى ذلك سبيلا، اقتداءً بإمام الصنعة الإمام البخاري رحمه الله، وإن كان رحمه الله لا يكرِّر في الغالب إلا لنكتةٍ إسنادية، أو متنيةٍ، وقد كنت وعدتُ في مقدمة "الصحيح المسند
--------------------------------------------
আমাদের ওপর আপদ-বিপদসমূহ, বরং এটি আমাদেরকে সেগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপহীন করে তোলে এবং সেগুলোর সামনে নতিস্বীকার না করতে শেখায়। এই বইগুলোর মধ্যে একটি ছিল "আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস-সহীহাইন" (সহীহাইন-এর বাইরে থাকা সহীহ মুসনাদ হাদীসসমূহ), যা ইতিপূর্বেই মুদ্রণের জন্য পাঠানো হয়েছে (১) এবং আল্লাহরই সকল প্রশংসা। মুদ্রণের জন্য পাঠানোর পর আমার মনে হলো যে, আমি এটি ফিকহী পরিচ্ছেদ অনুযায়ী বিন্যস্ত করে প্রকাশ করি। কারণ, বিশেষজ্ঞ মুহাদ্দিসগণ ব্যতীত হয়তো অন্য কেউ "আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস-সহীহাইন" থেকে তেমন উপকৃত হতে পারবেন না। পক্ষান্তরে, যা ফিকহী পরিচ্ছেদ অনুযায়ী সাজানো হয়েছে, তা থেকে ইনশাআল্লাহ হাদীস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য পাঠক—উভয়েই উপকৃত হতে পারবেন। পবিত্র কুরআনের অনুসরণ করে আমি এটি 'ইলম' (জ্ঞান) অধ্যায় দিয়ে শুরু করেছি। কেননা কুরআনের সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো: {পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন} (২)। পরিচ্ছেদ নির্ধারণ বা শিরোনাম প্রদানের ক্ষেত্রে আমি এই শিল্পের ইমাম, অর্থাৎ ইমাম বুখারীর অনুসরণ করেছি। কখনো আমি শিরোনামটি সাধারণ রেখেছি অথচ হাদীসটি বিশেষ বিষয়ের, আবার কখনো সাধারণ হাদীসকে বিশেষ শিরোনামের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করেছি। এই উভয় ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্য হলো এমন সব দলীল বা প্রমাণের দিকে ইঙ্গিত করা যা এই গ্রন্থের শর্তানুযায়ী নয়—চাই তা কুরআনের কোনো আয়াত হোক, কিংবা 'সহীহাইন'-এর কোনো হাদীস হোক, অথবা কোনো 'হাসান লি-গাইরিহি' পর্যায়ের হাদীস হোক।
একইভাবে, সুযোগ পেলেই আমি এই শিল্পের ইমাম, ইমাম বুখারী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর অনুকরণে হাদীস পুনরাবৃত্তি করেছি; যদিও তিনি সাধারণত সনদ (সূত্র) বা মতনের (মূল পাঠ) কোনো সূক্ষ্ম বিশেষত্ব বোঝানোর উদ্দেশ্য ছাড়া হাদীস পুনরাবৃত্তি করতেন না। আমি "আস-সহীহুল মুসনাদ"-এর ভূমিকায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ১১)
مما ليس في الصحيحين" أني سأحلي الكتاب بعض الآيات القرآنية، ثم عزمت على وضع كتاب التفسير، فأرجو أن يكون مغنيا عن هذا، والله المستعان.
هذا وقد ذكرتُ بعض اصطلاحاتي في مقدمة "الصحيح المسند مما ليس في الصحيحين"، فرأيت الاكتفاءَ بما ذكرتُ هنالك خشية التكرار والإطالة، فمن أحب الوقوف عليها، وقف عليها هنالك.
هذا وإني أرجو الله أن يوفق إخواني الباحثين بموافاتي بما وقع في هذا المؤلف من أخطاء سواء استدركت حديثًا وهو في "الصحيحين"، أم ذكرت حديثا وهو معلٌّ أو شاذ، أم تركت حديثًا صحيحا كان يلزمني إخراجه.
وقد ذكرتُ بعض أعذاري في ذلك في مقدمة "الصحيح المسند مما ليس في الصحيحين".
على أنني لا أزال - إن شاء الله - مستمرًا في هذا البحث القيم إلى أن يتوفاني الله (1)، وبعد ذلك من أحب أن يستدرك فليفعل، وجزاه الله خيرا.
هذا وإني أشكر الذي وفقني لإخراجِ هذا السِّفر المبارك، ثم أشكر
--------------------------------------------
...যা সহিহাইন-এর (বুখারি ও মুসলিম) অন্তর্ভুক্ত নয়," আমি সংকল্প করেছিলাম যে গ্রন্থটিকে কিছু কুরআনি আয়াত দ্বারা সুশোভিত করব, কিন্তু পরবর্তীতে আমি একটি স্বতন্ত্র তাফসির গ্রন্থ রচনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। তাই আমি আশা করি সেটিই এর অভাব পূরণ করবে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
তদুপরি, আমি আমার ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর কিছু অংশ "আস-সহিহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহিহাইন"-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছি। তাই পুনরাবৃত্তি ও দীর্ঘায়নের ভয়ে সেখানে যা উল্লেখ করেছি তাতেই সন্তুষ্ট থাকা শ্রেয় মনে করছি। সুতরাং কেউ যদি সেগুলো সম্পর্কে অবহিত হতে চান, তবে তিনি যেন তা সেখান থেকেই দেখে নেন।
এখন আমি আল্লাহর নিকট এই প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমার গবেষক ভাইদের এই তাওফিক দান করেন যে, তারা আমাকে এই গ্রন্থে সংঘটিত ভুলত্রুটি সম্পর্কে অবহিত করবেন—চাই আমি এমন কোনো হাদিস অতিরিক্ত উল্লেখ করে থাকি যা ইতিমধ্যেই 'সহিহাইন'-এ বিদ্যমান রয়েছে, অথবা এমন কোনো হাদিস উল্লেখ করে থাকি যা ত্রুটিযুক্ত (মু'আল্লাল) বা শায (অসঙ্গত), কিংবা আমি এমন কোনো সহিহ হাদিস বর্জন করেছি যা অন্তর্ভুক্ত করা আমার জন্য আবশ্যক ছিল।
আর এই বিষয়ে আমি আমার কিছু ওজর বা কৈফিয়ত "আস-সহিহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহিহাইন"-এর ভূমিকায় বর্ণনা করেছি।
ইনশাআল্লাহ, মৃত্যু পর্যন্ত আমি এই মূল্যবান গবেষণা কাজ অব্যাহত রাখব (১)। এরপর যদি কেউ এতে সংশোধনী বা সংযোজন করতে চান, তবে তিনি তা করতে পারেন; আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
পরিশেষে আমি তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি যিনি আমাকে এই বরকতময় গ্রন্থটি সমাপ্ত করার তাওফিক দান করেছেন, অতঃপর আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ১২)
لإخواني في الله الذين ساعدوني على إخراجه، منهم الأخ: أبو حفص سامي المصري، والأخ: أحمد بن سالم الزبيدي، والأخ: عثمان أبو عبد الله العتمي، والأخ: أبو شيبة رضا المصري، الذين ساعدوني في ترتيب التفسير، وكذا أشكر للأخوين اللذين كتبا البحث على الآلة الكاتبة، وهما: الولد حسين بن محمد مناع، والأخ: محمد بن ناجي العودي.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه.
أبو عبد الرحمن المقبل بن هادي الوادِعي
আল্লাহর পথে আমার সেই সকল ভাইদের প্রতি, যারা এটি প্রকাশে আমাকে সাহায্য করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ভাই আবু হাফস সামি আল-মিসরি, ভাই আহমাদ বিন সালিম আজ-জুবাইদি, ভাই উসমান আবু আব্দুল্লাহ আল-আতমি এবং ভাই আবু শাইবা রিদা আল-মিসরি, যাঁরা এই তাফসির বিন্যস্ত করার কাজে আমাকে সহায়তা করেছেন। পাশাপাশি আমি সেই দুই ভাইকেও ধন্যবাদ জানাই যাঁরা টাইপরাইটারে এই গবেষণাপত্রটি লিপিবদ্ধ করেছেন, তাঁরা হলেন: স্নেহের হুসাইন বিন মুহাম্মাদ মান্না এবং ভাই মুহাম্মাদ বিন নাজি আল-উদি।
এবং আমাদের শেষ নিবেদন এই যে, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
আবু আব্দুর রহমান আল-মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিয়ি
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
1 - كتاب العلم
১ - জ্ঞান অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
1 - فضل أهل العلم1 - وقال الإمام أحمد رحمه الله (ج 5 ص 34): حدثنا يحيى بن سعيد عن شعبة قال حدثني معاوية بن قرة عن أبيه: عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال "إذا فسد أهل الشام فلا خير فيكم ولن تزال طائفة من أمتي منصورين لا يضرهم من خذلهم حتى تقوم الساعة".
هذا حديث صحيحٌ. وقد أخرجه الترمذي.
وقال الإمام أحمد رحمه الله (ج 5 ص 35): ثنا يزيد، أنا شعبة به.
* وقال أبو بكر بن أبي شيبة رحمه الله (ج 12 ص 191): حدثنا يزيد بن هارون، عن شعبة، عن معاوية بن قرة، عن أبيه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: "إذا فسد أهل الشام فلا خير فيكم".
والطائفة المنصورة قد قال البخاري رحمه الله: إنهم أهل العلم. وقال الإمام أحمد: إن لم يكونوا أهل الحديث فلا أدري من هم.
والحديث وإن لم يكن نصًّا على ما قاله الإمام البخاري والإمام أحمد؛ فإن أهل الحديث داخلون دخولا أوليا، لثباتهم على الحق وخدمتهم الإسلام والذب عنه، فجزاهم الله عن الإسلام والمسلمين خيرا.
2 - وقال الإمام أحمد رحمه الله (ج 5 ص 183): حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ مِنْ وَلَدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ أَبِيهِ: أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ خَرَجَ مِنْ عِنْدِ مَرْوَانَ نَحْوًا مِنْ نِصْفِ النَّهَارِ فَقُلْنَا مَا بَعَثَ إِلَيْهِ السَّاعَةَ إِلَّا لِشَيْءٍ سَأَلَهُ عَنْهُ فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ: أَجَلْ سَأَلَنَا عَنْ أَشْيَاءَ
১ - ইলমের অধিকারীদের মর্যাদা১ - ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৪): ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বা থেকে, তিনি বলেন, মুআবিয়া ইবনে কুররাহ আমার কাছে তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, "যখন শাম অঞ্চলের অধিবাসীরা কলুষিত হয়ে যাবে, তখন তোমাদের মধ্যে আর কোনো কল্যাণ অবশিষ্ট থাকবে না। তবে আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত থাকবে; যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চাইবে, কিয়ামত পর্যন্ত তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।"
এটি একটি সহীহ হাদিস। ইমাম তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৫): ইয়াযীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—একই সূত্রের বরাতে।
* এবং আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ১৯১): ইয়াযীদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বা থেকে, তিনি মুআবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যখন শাম অঞ্চলের অধিবাসীরা কলুষিত হয়ে যাবে, তখন তোমাদের মাঝে আর কোনো কল্যাণ থাকবে না।"
আর সাহায্যপ্রাপ্ত দল সম্পর্কে ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: তারা হলেন ইলমের অধিকারীগণ (আলিমগণ)। ইমাম আহমাদ বলেছেন: তারা যদি আহলুল হাদিস না হন, তবে তারা কারা তা আমি জানি না।
হাদিসটি যদিও ইমাম বুখারী এবং ইমাম আহমাদ যা বলেছেন তার ওপর সরাসরি সুস্পষ্ট নস (প্রমাণ) নয়; তবুও হকের ওপর অটল থাকা, ইসলামের সেবা এবং একে রক্ষা করার ক্ষেত্রে নিজেদের আত্মনিয়োগের কারণে আহলুল হাদিসগণ এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সর্বাগ্রগণ্য। আল্লাহ তাদের ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
২ - এবং ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৮৩): ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর উমর ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে আবান ইবনে উসমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন: যায়িদ ইবনে সাবিত দুপুরের মাঝামাঝি সময়ে মারওয়ানের নিকট থেকে বের হলেন। আমরা বললাম, নিশ্চয়ই এই সময়ে মারওয়ান তাঁকে বিশেষ কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসার জন্যই ডেকেছেন। আমি তাঁর কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি আমাদের কাছে কিছু বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ «نَضَّرَ اللهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ غَيْرَهُ فَإِنَّهُ رُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيهٍ وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ ثَلَاثُ خِصَالٍ لَا يَغِلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ مُسْلِمٍ أَبَدًا إِخْلَاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ وَمُنَاصَحَةُ وُلَاةِ الْأَمْرِ وَلُزُومُ الْجَمَاعَةِ فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيطُ مِنْ وَرَائِهِمْ» وَقَالَ «مَنْ كَانَ هَمُّهُ الْآخِرَةَ جَمَعَ اللهُ شَمْلَهُ وَجَعَلَ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ وَمَنْ كَانَتْ نِيَّتُهُ الدُّنْيَا فَرَّقَ اللهُ عَلَيْهِ ضَيْعَتَهُ وَجَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَلَمْ يَأْتِهِ مِنْ الدُّنْيَا إِلَّا مَا كُتِبَ لَهُ» وَسَأَلَنَا عَنْ الصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَهِيَ الظُّهْرُ.
هذا حديث صحيحٌ، ورجاله ثقات.
وأما الصلاة الوسطى فالصحيح أنها العصر.
3 - قال الإمام أحمد رحمه الله (8257): حدثنا أبو عبد الرحمن حدثنا سعيد حدثنا محمد بن عجلان عن القعقاع عن أبي صالح عن أبي هريرة: عن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم أنه قال «لا يزال لهذا الأمر -أو على هذا الأمر- عصابة على الحق ولا يضرهم خلاف من خالفهم حتى يأتيهم أمر الله».
هذا حديث حسنٌ.
وسعيد هو ابن أبي أيوب، وأبو عبد الرحمن هو عبد الله بن يزيد المقرئ.
وقال الإمام أحمد رحمه الله (8465): ثنا يونس، ثنا ليث، عن محمد وهو ابن عجلان
… به.
আমি এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম হতে শুনেছি। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনল, অতঃপর তা মুখস্থ করল এবং অন্যের কাছে পৌঁছে দিল। কেননা অনেক ফিকহ (তত্ত্ব) বহনকারী নিজে ফকীহ (গভীর প্রজ্ঞাবান) নয়, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক ফকীহ। তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যাতে কোনো মুসলিমের অন্তর কখনো বিদ্বেষ পোষণ করে না: আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা, মুসলিম শাসকদের কল্যাণ কামনা করা এবং মুসলিম জামাআতকে আঁকড়ে থাকা। কেননা তাদের দোয়া তাদের পেছনের ব্যক্তিদেরও পরিবেষ্টন করে রাখে।” এবং তিনি বলেছেন, “যার চিন্তার মূল বিষয় হবে আখিরাত, আল্লাহ তার সকল কাজ গুছিয়ে দেন, তার অন্তরে অভাবহীনতা দান করেন এবং দুনিয়া তার কাছে বাধ্য হয়ে উপস্থিত হয়। আর যার নিয়ত হবে দুনিয়া লাভ করা, আল্লাহ তার বিষয়সমূহকে এলোমেলো করে দেন, তার চোখের সামনে দারিদ্র্য স্থাপন করেন এবং দুনিয়া থেকে তার ভাগ্যে যা নির্ধারিত আছে তার বেশি কিছু সে পায় না।” আর তিনি আমাদের মধ্যবর্তী সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যা ছিল যোহর।
এটি একটি সহিহ হাদিস এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
আর মধ্যবর্তী সালাতের ব্যাপারে সঠিক মত হলো, এটি আসর সালাত।
৩ - ইমাম আহমাদ রহি মাহুল্লাহ (৮২৫৭) বলেছেন: আমাদের নিকট আবু আবদুর রহমান হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি কা‘কা‘ থেকে, তিনি আবু সলিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, “এই দ্বীনের ওপর—বা এই বিষয়ের ওপর—সর্বদা একটি দল হকের ওপর অটল থাকবে; আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) না আসা পর্যন্ত বিরোধিতাকারীদের বিরোধিতা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।”
এটি একটি হাসান হাদিস।
এখানে সাঈদ হলেন ইবনে আবি আইয়ুব এবং আবু আবদুর রহমান হলেন আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদ আল-মুকরি।
এবং ইমাম আহমাদ রহি মাহুল্লাহ (৮৪৬৫) বলেছেন: আমাদের নিকট ইউনুস হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি লাইস থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে... পূর্বোক্ত সূত্রের মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقال الإمام أحمد رحمه الله (ج 2 ص 379): ح حدثنا قتيبة، حدثنا ليث، عن ابن عجلان
… به.
وأخرجه البزار كما في "كشف الأستار" (ج 4 ص 111).
4 - قال أبو داود رحمه الله (ج 7 ص 162): حدثنا موسى بن إسماعيل أخبرنا حماد عن قتادة عن مطرف عن عمران بن حصين قال: قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم «لا تزال طائفة من أمتي يقاتلون على الحق ظاهرين على من ناوأهم حتى يقاتل آخرهم المسيح الدجال».
هذا حديث صحيحٌ على شرط مسلم.
الحديث رواه الإمام أحمد (ج 4 ص 429) فقال: ثنا بَهْزٌ، ثنا حماد بن سلمة، عن قتادة به.
5 - قال الإمام الترمذي رحمه الله (ج 9 ص 517): حدثنا ابن أبي عمر أخبرنا سفيان عن عاصم بن أبي النجود عن زر بن حبيش قال: أتيت صفوان بن عسال المرادي أسأله عن المسح على الخفين فقال: ما جاء بك يا زر؟ فقلت ابتغاء العلم فقال إن الملائكة لتضع أجنحتها لطالب العلم رضًا بما يطلب فقلت إنه حك في صدري المسح على الخفين بعد الغائط والبول وكنتَ امرأً من أصحاب النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم فجئت أسألك هل سمعته يذكر في ذلك شيئًا قال نعم كان يأمرنا إذا كنا سفرًا أو مسافرين أن لا ننزع خفافنا ثلاثة أيام ولياليهن إلا من جنابة لكن من غائط وبول ونوم فقلت هل سمعته يذكر في الهوى شيئًا؟ قال نعم كنا مع رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم في سفر فبينا نحن عنده إذ ناداه أعرابي بصوت له جهوري يا محمد فأجابه رسول الله
এবং ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৭৯): হা, কুতাইবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনু আজলান থেকে
… এর মাধ্যমে।
এবং আল-বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি "কাশফুল আসতার" গ্রন্থে (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১১১) রয়েছে।
৪ - আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৬২): মূসা ইবনু ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি মুতাররিফ থেকে, তিনি ইমরান ইবনু হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর লড়াই করতে থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তাদের ওপর তারা বিজয়ী থাকবে, এমনকি তাদের শেষ দলটি মাসীহ আদ-দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।»
এই হাদীসটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
হাদীসটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪২৯), তিনি বলেন: বাহয আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনু সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে উক্ত সনদে।
৫ - ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৫১৭): ইবনু আবী উমার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসিম ইবনু আবিন নাজুদ থেকে, তিনি যির ইবনু হুবাইশ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি সাফওয়ান ইবনু আসসাল আল-মুরাদী-এর নিকট আসলাম তাকে মোজার ওপর মাসেহ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে। তিনি বললেন: হে যির, তোমাকে কিসে এনেছে? আমি বললাম: ইলম অন্বেষণ। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেন সে যা অন্বেষণ করছে তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে। আমি বললাম: পায়খানা ও প্রস্রাবের পর মোজার ওপর মাসেহ করার বিষয়টি আমার মনে খটকা সৃষ্টি করেছে, আর আপনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের একজন ব্যক্তি। তাই আমি আপনার কাছে জিজ্ঞাসা করতে এসেছি যে, আপনি কি তাঁকে এ বিষয়ে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি আমাদের নির্দেশ দিতেন যখন আমরা সফরে বা মুসাফির অবস্থায় থাকতাম যেন আমরা তিন দিন ও তিন রাত আমাদের মোজা না খুলি জানাবাত (অপবিত্রতা) ব্যতীত; তবে পায়খানা, প্রস্রাব এবং ঘুমের কারণে (খুলতে হবে না)। আমি বললাম: আপনি কি তাঁকে ভালোবাসা (আল-হাওয়া) সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। এমতাবস্থায় আমরা তাঁর নিকট ছিলাম, হঠাৎ এক গ্রাম্য ব্যক্তি তার উচ্চস্বরে তাঁকে ডেকে উঠল: হে মুহাম্মাদ! তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাকে উত্তর দিলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
صلى الله عليه وعلى آله وسلم نحوًا من صوته «هاؤم» فقلنا له اغضض من صوتك فإنك عند النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم وقد نهيت عن هذا فقال والله لا أغضض قال الأعرابي المرء يحب القوم ولما يلحق بهم قال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم «المرء مع من أحب يوم القيامة» فما زال يحدثنا حتى ذكر بابًا من قبل المغرب مسيرة عرضه أو يسير الراكب في عرضه أربعين أو سبعين عامًا -قال سفيان: قبل الشام- خلقه الله يوم خلق السموات والأرض مفتوحًا -يعني للتوبة- لا يغلق حتى تطلع الشمس منه.
هذا حديث حسن صحيح.
قال أبو عبد الرحمن: هو حديث حسنٌ.
الحديث أخرج النسائي (ج 1 ص 83) ما يتعلق بالمسح بالخفين.
وابن ماجه (ج 2 ص 1353) ما يتعلق بالتوبة.
* وقال الإمام أحمد رحمه الله (ج 4 ص 239): حدثنا عفان حدثنا حماد بن سلمة أخبرنا عاصم بن بهدلة عن زر بن حبيش قال: غدوت على صفوان بن عسال المرادي أسأله عن المسح على الخفين فقال: ما جاء بك قلت ابتغاء العلم قال ألا أبشرك ورفع الحديث إلى رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال «إن الملائكة لتضع أجنحتها لطالب العلم رضًا بما يطلب
… » فذكر الحديث.
* وقال (ص 240): حدثنا يونس حدثنا حماد يعني ابن سلمة عن عاصم عن زر عن صفوان بن عسال: أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال «إن الملائكة لتضع أجنحتها لطالب العلم رضًا بما طلب».
هذا حديث حسنٌ.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কণ্ঠস্বরের ন্যায় উচ্চৈঃস্বরে বললেন, "এদিকে এসো।" আমরা তাকে বললাম, "তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো, কেননা তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের উপস্থিতিতে আছ এবং তোমাকে এরূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে।" সে বলল, "আল্লাহর শপথ, আমি কণ্ঠস্বর নিচু করব না।" সেই মরুবাসী ব্যক্তিটি বলল, "একজন মানুষ কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসে অথচ সে এখনো তাদের সাথে মিলিত হতে পারেনি।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "কিয়ামতের দিন মানুষ তারই সাথে থাকবে যাকে সে ভালোবাসে।" তিনি আমাদের সাথে কথা বলা চালিয়ে গেলেন, অবশেষে তিনি পশ্চিম দিকের একটি দরজার কথা উল্লেখ করলেন যার প্রশস্ততা একজন আরোহীর চল্লিশ অথবা সত্তর বছরের পথ—সুফিয়ান বলেন: এটি সিরিয়ার দিকে অবস্থিত—আল্লাহ তাআলা আসমান ও জমিন সৃষ্টির দিন থেকেই একে উন্মুক্ত করে সৃষ্টি করেছেন—অর্থাৎ তাওবার জন্য—যতক্ষণ না সূর্য সেখান দিয়ে উদিত হবে ততক্ষণ তা বন্ধ হবে না।
এই হাদিসটি হাসান সহীহ।
আবু আবদুর রহমান বলেন: এটি একটি হাসান হাদিস।
ইমাম নাসাঈ (১ম খণ্ড, ৮৩ পৃষ্ঠা) মোজার উপর মাসেহ সংক্রান্ত অংশটি এবং ইবনে মাজাহ (২য় খণ্ড, ১৩৫৩ পৃষ্ঠা) তাওবা সংক্রান্ত অংশটি বর্ণনা করেছেন।
* ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন (৪র্থ খণ্ড, ২৩৯ পৃষ্ঠা): আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসিম বিন বাহদালাহ জির ইবনে হুবাইশ থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি সাফওয়ান ইবনে আসসাল আল-মুরাদী-এর নিকট গেলাম মোজার উপর মাসেহ করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে। তিনি বললেন: "তোমাকে কিসে নিয়ে এসেছে?" আমি বললাম: "জ্ঞান অন্বেষণের প্রয়োজনে।" তিনি বললেন: "আমি কি তোমাকে সুসংবাদ দেব না?" এবং তিনি হাদিসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের উদ্ধৃতিতে বর্ণনা করলেন। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়
… " অতঃপর তিনি হাদিসটি বর্ণনা করেন।
* তিনি আরও বলেন (২৪০ পৃষ্ঠা): ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ অর্থাৎ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট আসিম থেকে, তিনি জির থেকে এবং তিনি সাফওয়ান ইবনে আসসাল থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর কার্যে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়।"
এই হাদিসটি হাসান।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
2 - فضل الفقه في الدين6 - قال الإمام أحمد رحمه الله (ج 3 ص 383): حدثنا روح حدثنا ابن جريج أخبرني أبو الزبير أنه سمع جابر بن عبد الله يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول «خيار الناس في الجاهلية خيارهم في الإسلام إذا فقهوا».
* وقال رحمه الله (ج 3 ص 367): حدثنا أبو أحمد حدثنا سفيان عن أبي الزبير عن جابر: عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: «الناس معادن فخيارهم في الجاهلية خيارهم في الإسلام إذا فقهوا».
هذا حديث حسنٌ على شرط مسلم.
7 - قال الإمام أحمد رحمه الله (ج 2 ص 481): حدثنا وكيع قال حدثنا حماد بن سلمة عن محمد بن زياد عن أبي هريرة: عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال «خيركم في الإسلام أحاسنكم أخلاقًا إذا فقهوا».
هذا حديث صحيحٌ، رجاله رجال الصحيح.
* وقال رحمه الله: حدثنا وكيع حدثنا حماد بن سلمة عن محمد بن زياد عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم «خيركم إسلامًا أحاسنكم أخلاقًا إذا فقهوا».
الحديث أخرجه البخاري في "الأدب المفرد" (ص 107).
8 - قال الإمام أحمد رحمه الله (ج 4 ص 95): حدثنا ابن نمير ويعلى قالا حدثنا عثمان بن حكيم.
২ - দ্বীনের গভীর জ্ঞান বা ফিকহ অর্জনের মর্যাদা৬ - ইমাম আহমাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন (৩য় খণ্ড, ৩৮৩ পৃষ্ঠা): আমাদের নিকট রাওহ্ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবনে জুরাইজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে আবু যুবাইর সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, "জাহেলি যুগে যারা মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিল, তারা ইসলামের যুগেও শ্রেষ্ঠ যদি তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করে।"
* তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি আরও বলেন (৩য় খণ্ড, ৩৬৭ পৃষ্ঠা): আমাদের নিকট আবু আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "মানুষ হচ্ছে খনিসমূহের মতো; সুতরাং তাদের মধ্যে যারা জাহেলি যুগে শ্রেষ্ঠ ছিল, তারা ইসলামের যুগেও শ্রেষ্ঠ যদি তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করে।"
এই হাদিসটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী হাসান।
৭ - ইমাম আহমাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন (২য় খণ্ড, ৪৮১ পৃষ্ঠা): আমাদের নিকট অকী' বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে ইসলামে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে চরিত্রে সবচেয়ে সুন্দর, যদি তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করে।"
এই হাদিসটি সহিহ, এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারী।
* তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: আমাদের নিকট অকী' বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "ইসলামের দিক থেকে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে চরিত্রে সবচেয়ে সুন্দর, যখন তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করে।"
হাদিসটি ইমাম বুখারী তাঁর "আল-আদাবুল মুফরাদ" (পৃষ্ঠা ১০৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
৮ - ইমাম আহমাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন (৪র্থ খণ্ড, ৯৫ পৃষ্ঠা): আমাদের নিকট ইবনে নুমাইর ও ইয়ালা বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন আমাদের নিকট উসমান ইবনে হাকিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ২০)
وأبو بدر عن عثمان بن حكيم عن محمد بن كعب القرظي عن معاوية -قال يعلى في حديثه: سمعت معاوية- قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول على هذه الأعواد «اللهم لا مانع لما أعطيت ولا معطي لما منعت من يرد الله به خيرًا يفقهه في الدين».
هذا حديث صحيحٌ، وآخره متفق عليه.
وأبو بدر هو شجاع بن الوليد.
9 - قال الإمام الترمذي رحمه الله (ج 7 ص 404): حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ أخبرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ أخبرَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ «مَنْ يُرِدْ اللهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ».
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
قال أبو عبد الرحمن: هو صحيحٌ على شرط الشَّيخين.
والحديث أخرجه الإمام أحمد رحمه الله (ج 1 ص 306) فقال: ثنا سليمان، أنا إسماعيل به.
وسليمان هو ابن داود الهاشمي، وإسماعيل هو ابن جعفر.
وأخرجه الدارمي (ج 2 ص 385) فقال رحمه الله: أخبرنا سعيد بن سليمان، عن إسماعيل بن جعفر به.
3 - رب حامل فقه ليس بفقيه10 - قال أبو داود رحمه الله (ج 10 ص 94): حدثنا مسدد أخبرنا يحيى عن شعبة حدثني عمر بن سليمان من ولد عمر بن الخطاب
এবং আবু বদর উসমান ইবনে হাকিম থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে কাব আল-কুরাযী থেকে, তিনি মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন—ইয়ালা তার বর্ণিত হাদিসে বলেছেন: আমি মুয়াবিয়াকে বলতে শুনেছি—তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে এই কাঠের মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, “হে আল্লাহ! আপনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা দান করার কেউ নেই। আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন।”
এটি একটি সহিহ হাদিস, এবং এর শেষাংশ মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)।
আর আবু বদর হলেন শুজা ইবনুল ওয়ালিদ।
৯ - ইমাম তিরমিযী রাহিমাহুল্লাহ বলেন (৭ম খণ্ড, ৪০৪ পৃষ্ঠা): আলী ইবনে হুজর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে আবি হিন্দ তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফেকহ) দান করেন।”
এই হাদিসটি হাসান সহিহ।
আবু আব্দুর রহমান বলেন: এটি শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী সহিহ।
ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহও হাদিসটি বর্ণনা করেছেন (১ম খণ্ড, ৩০৬ পৃষ্ঠা); তিনি বলেন: সুলাইমান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল এটি আমাদের অবহিত করেছেন।
আর সুলাইমান হলেন ইবনে দাউদ আল-হাশেমী এবং ইসমাঈল হলেন ইবনে জাফর।
দারেমীও এটি বর্ণনা করেছেন (২য় খণ্ড, ৩৮৫ পৃষ্ঠা); তিনি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: সাঈদ ইবনে সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল ইবনে জাফর থেকে।
৩ - অনেক জ্ঞানের বাহক নিজে সমঝদার (ফকিহ) নন১০ - আবু দাউদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন (১০ম খণ্ড, ৯৪ পৃষ্ঠা): মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া শুবা থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর বংশধর উমর ইবনে সুলাইমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ২১)
عن عبد الرحمن بن أبان عن أبيه عن زيد بن ثابت قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول «نضر الله امرأً سمع منا حديثًا فحفظه حتى يبلغه فرب حامل فقه إلى من هو أفقه منه ورب حامل فقه ليس بفقيه».
هذا حديث صحيحٌ، ورجاله ثقات.
الحديث أخرجه الترمذي (ج 7 ص 415) وقال: حديث زيد بن ثابت حديث حسن.
4 - فضل الدعوة إلى العلم النافع11 - قال الإمام أبو عبد الله بن ماجه (ج 1 ص 74): حدثنا عبد الوارث بن عبد الصمد بن عبد الوارث حدثني أبي عن جدي (1) عن أيوب عن محمد بن سيرين عن أبي هريرة قال: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم فحث عليه فقال رجل عندي كذا وكذا قال فما بقي في المجلس رجل إلا تصدق عليه بما قل أو كثر فقال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم «من استَن خيرًا فاستُن به كان له أجره كاملًا ومن أجور من استَن به ولا ينقص من أجورهم شيئًا ومن استَن سنة سيئة فاستُن به فعليه وزره كاملًا ومن أوزار الذي استَن به ولا ينقص من أوزارهم شيئًا».
هذا حديث حسنٌ على شرط مسلم.
الحديث أخرجه الإمام أحمد رحمه الله (ج 2 ص 520) فقال: ثنا عبد الصمد به.
وهو بسند الإمام أحمد على شرط الشَّيخين.
--------------------------------------------
আবদুর রহমান ইবনে আবান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি যায়িদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো হাদিস শুনল, অতঃপর তা মুখস্থ রাখল যতক্ষণ না সে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়। কেননা অনেক ফিকহ (জ্ঞানের কথা) বহনকারী এমন আছে, যে তা নিজের চেয়ে অধিকতর ফকিহ (তত্ত্বজ্ঞানী) ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়; আবার অনেক ফিকহ বহনকারী নিজে ফকিহ নয়।"
এই হাদিসটি সহিহ, এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
হাদিসটি তিরমিজি (খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৪১৫) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: যায়িদ ইবনে সাবিতের হাদিসটি হাসান।
৪ - উপকারী ইলমের দিকে দাওয়াত প্রদানের ফজিলত১১ - ইমাম আবু আবদুল্লাহ ইবনে মাজাহ (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭৪) বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়ারিস ইবনে আবদুস সামাদ ইবনে আবদুল ওয়ারিস, তিনি বলেন: আমার নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন তাঁর দাদা (১) থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসল, অতঃপর তিনি (নবী) তার জন্য (সাহায্যের) উৎসাহ প্রদান করলেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, আমার কাছে অমুক অমুক জিনিস আছে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর মজলিসে এমন কোনো লোক বাকি থাকল না যে তার জন্য কম-বেশি সদকা করেনি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "যে ব্যক্তি কোনো ভালো রীতির সূচনা করল এবং তার অনুসরণ করা হলো, তবে তার জন্য রয়েছে এর পূর্ণ সওয়াব এবং যারা তার অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবের একটি অংশ, অথচ তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ রীতির সূচনা করল এবং তার অনুসরণ করা হলো, তবে তার ওপর এর পূর্ণ গুনাহ আপতিত হবে এবং যারা তার অনুসরণ করেছে তাদের গুনাহের একটি অংশও তার ওপর বর্তাবে, অথচ তাদের গুনাহ থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।"
এই হাদিসটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী হাসান।
হাদিসটি ইমাম আহমাদ (রহ.) (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫২০) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আমাদের নিকট আবদুস সামাদ এটি বর্ণনা করেছেন।
এবং ইমাম আহমাদের এই সনদটি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ২২)
5 - تبليغ العلم12 - قال الإمام أحمد رحمه الله (ج 5 ص 366): حدثنا محمد بن جعفر حدثنا شعبة عن عمرو بن مرة عن عبد الله بن الحارث عن زهير بن الأقمر قال: بينما الحسن بن علي يخطب بعدما قتل علي رضي الله عنه إذ قام رجل من الأزد آدم طوال فقال: لقد رأيت رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم واضعه في حبوته يقول «من أحبني فليحبه فليبلغ الشاهد الغائب» ولولا عزمة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم ما حدثتكم.
هذا حديث صحيحٌ. عبد الله بن الحارث هو الزُّبَيْدي، وزهير بن الأقمر هو أبو كثير، له ترجمة في "تهذيب التهذيب" في الكنى، وثَّقه النسائي.
الحديث أخرجه البخاري في "خلق أفعال العباد" (ص 131).
13 - قال الإمام أحمد رحمه الله (ج 4 ص 305): حدثنا يحيى بن زكريا بن أبي زائدة حدثني أبو مالك الأشجعي حدثني نبيط بن شريط قال: إني لرديف أبي في حجة الوداع إذ تكلم النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم فقمت على عجز الراحلة فوضعت يدي على عاتق أبي فسمعته يقول «أي يوم أحرم؟ » قالوا هذا اليوم قال «فأي بلد أحرم؟ » قالوا هذا البلد قال «فأي شهر أحرم؟ » قالوا هذا الشهر قال «فإن دماءكم وأموالكم عليكم حرام كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا في بلدكم هذا هل بلغت؟ » قالوا نعم قال «اللهم اشهد اللهم اشهد».
هذا حديث صحيحٌ.
৫ - ইলম প্রচার করা১২ - ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন (৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৬): মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি শু'বা থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে, তিনি যুহাইর ইবনুল আকমার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হওয়ার পর হাসান ইবনে আলী যখন খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন আযদ গোত্রের এক দীর্ঘদেহী শ্যামবর্ণের লোক দাঁড়িয়ে বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-কে দেখেছি, তিনি তাঁকে (হাসানকে) নিজের কোলে বসিয়ে বলছিলেন, «যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসে সে যেন তাকেও ভালোবাসে। আর উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে এ সংবাদ পৌঁছে দেয়।» যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর কঠোর নির্দেশ না থাকত, তবে আমি তোমাদের কাছে এ হাদীস বর্ণনা করতাম না।
এটি একটি সহীহ হাদীস। আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস হলেন আয-যুবাইদী এবং যুহাইর ইবনুল আকমার হলেন আবু কাসীর; 'তাহযীবুত তাহযীব' গ্রন্থের উপনাম (কুনিয়া) অধ্যায়ে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে এবং ইমাম নাসাঈ তাঁকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেছেন।
হাদীসটি ইমাম বুখারী 'খালকু আফ'আলিল ইবাদ' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৩১) বর্ণনা করেছেন।
১৩ - ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন (৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩০৫): ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া ইবনে আবি যায়িদাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু মালিক আল-আশজাঈ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, নুবাইত ইবনে শারীত আমাকে বলেছেন: বিদায় হজ্জের সময় আমি আমার পিতার পেছনে সওয়ারিতে বসা ছিলাম। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন আমি সওয়ারির পেছনের অংশে দাঁড়ালাম এবং আমার হাত পিতার কাঁধের ওপর রাখলাম। তখন আমি তাঁকে বলতে শুনলাম, «কোন দিনটি অধিক পবিত্র?» তারা বললেন, 'এই দিনটি'। তিনি বললেন, «কোন শহরটি অধিক পবিত্র?» তারা বললেন, 'এই শহরটি'। তিনি বললেন, «কোন মাসটি অধিক পবিত্র?» তারা বললেন, 'এই মাসটি'। তিনি বললেন, «নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত এবং তোমাদের সম্পদ তোমাদের ওপর হারাম (পবিত্র), যেমন পবিত্র তোমাদের আজকের এই দিনটি, তোমাদের এই মাসটি এবং তোমাদের এই শহরটি। আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?» তারা বললেন, 'হ্যাঁ'। তিনি বললেন, «হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন! হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন!»
এটি একটি সহীহ হাদীস।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد أخرجه النسائي في "الكبرى" عن أيوب بن محمد الوزان، عن مروان بن معاوية الفزاري، عن أبي مالك الأشجعي، قال: حدثنا نبيط بن شريط
… فذكره. اهـ من "تحفة الأشراف".
14 - قال الإمام أحمد رحمه الله (ج 5 ص 411): حدثنا إسماعيل حدثنا سعيد الجريري عن أبي نضرة: حدثني من سمع خطبة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم في وسط أيام التشريق فقال «يا أيها الناس ألا إن ربكم واحد وإن أباكم واحد ألا لا فضل لعربي على أعجمي ولا لعجمي على عربي ولا لأحمر على أسود ولا أسود على أحمر إلا بالتقوى أبلغت؟ » قالوا بلغ رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم ثم قال «أي يوم هذا؟ » قالوا يوم حرام ثم قال «أي شهر هذا؟ » قالوا شهر حرام قال ثم قال «أي بلد هذا؟ » قالوا بلد حرام قال «فإن الله قد حرم بينكم دماءكم وأموالكم -قال ولا أدري قال: أو أعراضكم أم لا- كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا في بلدكم هذا أبلغت؟ » قالوا بلغ رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال «ليبلغ الشاهد الغائب».
هذا حديث صحيحٌ.
6 - إرسال العالم من يبلغ عنه15 - قال الإمام أبو بكر ابن أبي شيبة رحمه الله (ج 3 ص 54): حدثنا ابن فضيل، عن حصين، عن الشعبي، عن محمد بن صيفي، قال: قال لنا رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يوم عاشوراء: «منكم أحد طعم اليوم؟ » فقلنا: منا
ইমাম নাসায়ী এটি ‘আল-কুবরা’ গ্রন্থে আইয়ুব ইবনে মুহাম্মাদ আল-ওয়াজ্জান থেকে, তিনি মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া আল-ফাজারি থেকে, তিনি আবু মালিক আল-আশজায়ী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নুবাইত ইবনে শারীত আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন
… এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। ‘তুহফাতুল আশরাফ’ থেকে সমাপ্ত।
১৪ - ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪১১): ইসমাঈল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সাঈদ আল-জুরাইরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু নাদরাহ থেকে; তিনি বলেন: আমাকে এমন এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যিনি আইয়ামে তাশরীকের মধ্যবর্তী সময়ে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম)-এর খুতবা শুনেছেন। তিনি বললেন, “হে লোকসকল! জেনে রেখো, তোমাদের রব একজন এবং তোমাদের পিতাও একজন। মনে রেখো, তাকওয়া (আল্লাহভীতি) ব্যতীত কোনো আরবের ওপর কোনো অনারবের এবং কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; আর কোনো লালের ওপর কালোর কিংবা কালোর ওপর লালের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?” তারা বলল, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম) পৌঁছে দিয়েছেন। এরপর তিনি বললেন, “এটি কোন দিন?” তারা বলল, পবিত্র দিন। এরপর তিনি বললেন, “এটি কোন মাস?” তারা বলল, পবিত্র মাস। তিনি বললেন, “এটি কোন শহর?” তারা বলল, পবিত্র শহর। তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের রক্ত এবং তোমাদের সম্পদ—বর্ণনাকারী বলেন: আমি জানি না তিনি ‘তোমাদের সম্মান’ কথাটি বলেছেন কি না—তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম (পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয়) করেছেন, যেমন হারাম তোমাদের আজকের এই দিন, তোমাদের এই মাস এবং তোমাদের এই শহর। আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?” তারা বলল, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম) পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বললেন, “উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়।”
এই হাদিসটি সহিহ।
৬ - আলেম কর্তৃক তার পক্ষ থেকে প্রচার করার জন্য কাউকে পাঠানো১৫ - ইমাম আবু বকর ইবনে আবি শায়বা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৫৪): ইবনে ফুদাইল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হুসাইন থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সাইফি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম) আশুরার দিনে আমাদের বললেন: “তোমাদের মধ্যে কেউ কি আজ কিছু আহার করেছে?” আমরা বললাম: আমাদের মধ্যে কেউ...
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
من طعم، ومنا من لم يطعم. قال: فقال: "أتموا بقية يومكم، من كان طعم ومن لم يطعم، وأرسلوا إلى أهل العروض فليتموا بقية يومهم"، يعني أهل العروض من حول المدينة.
الحديث أخرجه الإمام أحمد رحمه الله (ج 4 ص 388) فقال: ثنا هُشَيْمٌ، أنا حصين به.
وأخرجه النسائي (ج 4 ص 192) فقال رحمه الله: أخبرنا عبدالله بن أحمد بن عبد الله بن يونس أبو حصين، قال: حدثنا عبثر، قال: حدثنا حصين به.
وأخرجه ابن ماجه (ج 1 ص 552) من طريق أبي بكر بن أبي شيبة بسنده المتقدم.
هذا حديث صحيحٌ.
7 - تبليغ العلم وإن كان فيه مشقة16 - قال البخاري رحمه الله في "خلق أفعال العباد" (ص 99): وحدثنا علي، حدثنا سفيان، حدثنا أبو الزعراء، سمعه من عمه أبي الأحوص، عن أبيه، قال: أتيت النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم فصعد في النظر وصوب، قلت: إلام تدعو؟ وعم تنهى؟ قال: «لا شيء، إلا الله والرحم»، قال: «أتتني رسالة من ربي، فضقت بها ذرعًا ورويت (1) أن الناس سيكذبونني، فقيل لي: لتفعلن أو ليفعلن بك».
هذا حديث صحيحٌ. وعلي هو ابن المديني، وسفيان هو ابن عيينة،
--------------------------------------------
আমাদের মধ্যে কেউ আহার করেছিলেন এবং কেউ আহার করেননি। তিনি (রাবী) বলেন: অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: "তোমরা তোমাদের দিনের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করো (রোজা রাখো), যে আহার করেছ সেও এবং যে আহার করোনি সেও। আর তোমরা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অধিবাসীদের নিকট সংবাদ পাঠিয়ে দাও, তারাও যেন তাদের দিনের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করে।" এখানে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অধিবাসী বলতে মদিনার চারপাশের জনপদকে বোঝানো হয়েছে।
হাদিসটি ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৮৮), তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন আমাদের নিকট এই সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন।
এবং এটি আন-নাসায়ী (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৯২) বর্ণনা করেছেন, তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস আবু হুসাইন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবসার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুসাইন বর্ণনা করেছেন এই সূত্রে।
আর ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৫২) আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ-এর সূত্রে, তার পূর্বোক্ত সনদ অনুযায়ী।
এটি একটি সহিহ হাদিস।
৭ - জ্ঞান প্রচার করা, যদিও তাতে কষ্ট থাকে১৬ - ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর "খালকু আফ'আলিল ইবাদ" গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৯৯) বলেন: আমাদের নিকট আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুয যা'রা বর্ণনা করেছেন, তিনি তা শ্রবণ করেছেন তাঁর চাচা আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি আমার দিকে দৃষ্টি উঁচু ও নিচু করে তাকালেন। আমি বললাম: আপনি কিসের দিকে আহ্বান করেন? এবং কী থেকে নিষেধ করেন? তিনি বললেন: "অন্য কিছুর প্রতি নয়, কেবল আল্লাহ (এর ইবাদত) এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার প্রতি।" তিনি আরও বললেন: "আমার রবের পক্ষ থেকে আমার কাছে এক বার্তা এসেছে, যাতে আমি কিছুটা সংকীর্ণতা বোধ করলাম এবং মনে করলাম (১) যে মানুষ আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে। তখন আমাকে বলা হলো: অবশ্যই আপনাকে তা করতে হবে, নতুবা আপনার সাথে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এটি একটি সহিহ হাদিস। আর এখানে 'আলী' হলেন ইবনে আল-মাদিনী এবং 'সুফিয়ান' হলেন ইবনে উয়াইনাহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وأبو الزعراء هو عمرو بن عمرو بن مالك الجشمي، وعمه أبو الأحوص هو عوف بن مالك بن نَضْلَةَ، وصحابي الحديث مالك بن نضلة والد أبي الأحوص.
8 - العالم أحق بالصف الأول في الصلاة17 - قال الإمام النسائي رحمه الله (ج 2 ص 88): أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُقَدَّمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، عَنْ قَيْسِ بنِ عُبَادٍ، قَالَ: بَيْنَا أَنَا فِي الْمَسْجِدِ فِي الصَّفِّ الْمُقَدَّمِ، فَجَبَذَنِي رَجُلٌ مِنْ خَلْفِي جَبْذَةً فَنَحَّانِي وَقَامَ مَقَامِي، فَوَاللهِ مَا عَقَلْتُ صَلَاتِي، فَلَمَّا انْصَرَفَ فَإِذَا هُوَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ، فَقَالَ: يَا فَتَى، لَا يَسُؤْكَ اللهُ إِنَّ هَذَا عَهْدٌ مِنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ إِلَيْنَا أَنْ نَلِيَهُ، ثُمَّ اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ، فَقَالَ: «هَلَكَ أَهْلُ الْعُقَدِ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ» ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ: «وَاللهِ مَا عَلَيْهِمْ آسَى وَلَكِنْ آسَى عَلَى مَنْ أَضَلُّوا». قُلْتُ: يَا أَبَا يَعْقُوبَ، مَا يَعْنِي بِأَهْلِ الْعُقَدِ؟ قَالَ الْأُمَرَاءُ.
هذا حديث صحيحٌ، رجاله رجال الصحيح، إلا محمد بن عمر المقدمي وهو ثقة.
9 - كتابة العلم18 - قال أبو داود رحمه الله (ج 10 ص 79): حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَا أخبرَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ الْأَخْنَسِ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي مُغِيثٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ عَنْ عَبْدِ اللهِ
এবং আবুয যার'আ হলেন আমর ইবন আমর ইবন মালিক আল-জুশামি, আর তাঁর চাচা আবুল আহওয়াস হলেন আউফ ইবন মালিক ইবন নাদলাহ, আর হাদিসের সাহাবি হলেন মালিক ইবন নাদলাহ, যিনি আবুল আহওয়াসের পিতা।
৮ - আলেম ব্যক্তিই সালাতে প্রথম কাতারের জন্য অধিক হকদার১৭ - ইমাম নাসায়ি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৮): মুহাম্মদ ইবন উমর ইবন আলি ইবন মুকাদ্দাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইউসুফ ইবন ইয়াকুব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আত-তায়মি আবু মিজলায থেকে এবং তিনি কায়স ইবন উবাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদা আমি মসজিদে প্রথম কাতারে ছিলাম, তখন পেছন থেকে এক ব্যক্তি আমাকে সজোরে টেনে সরিয়ে দিলেন এবং আমার স্থানে দাঁড়িয়ে গেলেন। আল্লাহর কসম! আমি আমার সালাতে আর মনোযোগ দিতে পারছিলাম না। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, দেখা গেল তিনি হলেন উবাই ইবন কাব। তিনি বললেন: হে যুবক! আল্লাহ তোমার অমঙ্গল না করুন। নিশ্চয়ই এটি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি একটি নির্দেশনা যে, আমরা যেন তাঁর নিকটবর্তী দাঁড়াই। এরপর তিনি কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে তিনবার বললেন: ‘কাবার রবের কসম! ক্ষমতাশালী বা চক্রান্তকারীরা ধ্বংস হয়েছে’। অতঃপর তিনি বললেন: ‘আল্লাহর কসম! আমি তাদের জন্য আফসোস করি না, বরং আফসোস করি তাদের জন্য যাদেরকে তারা পথভ্রষ্ট করেছে’। আমি বললাম: হে আবু ইয়াকুব! ‘আহলুল উকাদ’ দ্বারা তিনি কী বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন: শাসকগোষ্ঠী।
এটি একটি সহিহ হাদিস, এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তবে মুহাম্মদ ইবন উমর আল-মুকাদ্দামি ব্যতীত, আর তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)।
৯ - ইলম লিপিবদ্ধ করা১৮ - আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৭৯): মুসাদ্দাদ এবং আবু বকর ইবন আবি শায়বাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের উবাইদুল্লাহ ইবনুল আখ নাস থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ওয়ালিদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবি মুগিস থেকে, তিনি ইউসুফ ইবন মাহাক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে...
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بْنِ عَمْرٍو قَالَ: كُنْتُ أَكْتُبُ كُلَّ شَيْءٍ أَسْمَعُهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ أُرِيدُ حِفْظَهُ فَنَهَتْنِي قُرَيْشٌ وَقَالُوا أَتَكْتُبُ كُلَّ شَيْءٍ تَسْمَعُهُ وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ بَشَرٌ يَتَكَلَّمُ فِي الْغَضَبِ وَالرِّضَا فَأَمْسَكْتُ عَنْ الْكِتَابِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ فَأَوْمَأَ بِأُصْبُعِهِ إِلَى فِيهِ فَقَالَ «اكْتُبْ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا يَخْرُجُ مِنْهُ إِلَّا حَقٌّ».
هذا حديث صحيحٌ، رجاله رجال الصحيح، إلا الوليد بن عبد الله، وقد وثَّقه ابن معين.
الحديث أخرجه الإمام أحمد رحمه الله (ج 2 ص 162) فقال: ثنا يحيى بن سعيد، عن عبيد الله بن الأخنس به. و (ص 192) بذلك السند.
وأخرجه الدارمي (ج 1 ص 136) فقال رحمه الله: أخبرنا مسدد، حدثنا يحيى، عن عبيد الله بن الأخنس به.
19 - قال الإمام أبو يعلى رحمه الله (ج 3 ص 156): حدثنا إبراهيم بن الحجاج حدثنا عبد الواحد بن زياد حدثنا عاصم بن كليب يعني (1) عن الفلتان بن عاصم قال: كنا عند النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم فأنزل عليه، وكان إذا أنزل عليه دام بصره، مفتوحة عيناه، وفرغ سمعه وقلبه لما يأتيه من الله، قال: فكنا نعرف ذلك منه، فقال للكاتب: «اكتب: {لا يستوي القاعدون من المؤمنين والمجاهدون في سبيل الله} (2)» قال: فقام الأعمى فقال: يا رسول الله ما ذنبنا؟ فأنزل الله، فقلنا للأعمى: إنه ينزل على
--------------------------------------------
ইবনে আমর বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) থেকে যা কিছু শুনতাম তা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে লিখে রাখতাম। তখন কুরাইশরা আমাকে তা করতে নিষেধ করল এবং বলল, "রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) একজন মানুষ হওয়া সত্ত্বেও এবং রাগ ও সন্তুষ্টির অবস্থায় কথা বলা সত্ত্বেও কি আপনি তাঁর থেকে যা শোনেন তার সবকিছুই লিখবেন?" তখন আমি লেখা বন্ধ করে দিলাম এবং বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক)-কে জানালাম। তিনি তাঁর আঙুল দিয়ে নিজের মুখের দিকে ইশারা করলেন এবং বললেন: "তুমি লেখো, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এখান থেকে সত্য ছাড়া আর কিছুই বের হয় না।"
এটি একটি সহীহ হাদীস, এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, শুধু ওয়ালিদ বিন আব্দুল্লাহ ব্যতীত, যাকে ইবনে মাঈন নির্ভরযোগ্য হিসেবে সত্যায়ন করেছেন।
হাদীসটি ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বর্ণনা করেছেন (২য় খণ্ড, ১৬২ পৃষ্ঠা)। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন আখনাশ থেকে এই সনদে। এবং (১৯২ পৃষ্ঠায়) একই সনদে এটি বর্ণিত হয়েছে।
আর দারেমী এটি বর্ণনা করেছেন (১ম খণ্ড, ১৩৬ পৃষ্ঠা)। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসাদ্দাদ, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন আখনাশ থেকে এই সনদে।
১৯ - ইমাম আবু ইয়ালা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন (৩য় খণ্ড, ১৫৬ পৃষ্ঠা): আমাদের নিকট ইব্রাহিম বিন হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল ওয়াহিদ বিন যিয়াদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আসিম বিন কুলাইব—অর্থাৎ (১)—ফালতান বিন আসিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক)-এর নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হলো। যখন তাঁর ওপর ওহী নাযিল হতো, তখন তাঁর দৃষ্টি স্থির হয়ে যেত, চোখ দুটো খোলা থাকত এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যা আসত তার জন্য তাঁর শ্রবণ ও হৃদয় একাগ্র হয়ে যেত। তিনি বলেন: আমরা তাঁর এই অবস্থা দেখে তা বুঝতে পারতাম। তখন তিনি লেখককে বললেন: "লেখো: {মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে এবং যারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে তারা সমান নয়} (২)"। তিনি বলেন: তখন এক অন্ধ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের অপরাধ কী? তখন আল্লাহ নাযিল করলেন... আমরা অন্ধ ব্যক্তিকে বললাম: তাঁর ওপর ওহী নাযিল হচ্ছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم. فخاف أن يكون ينزل عليه شيء من أمره، فبقي قائمًا يقول: أعوذ بغضب رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم. قال: فقال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم للكاتب: «اكتب: {غير أولي الضرر}».
هذا حديث حسنٌ.
الحديث أخرجه البزار (ج 3 ص 45) فقال رحمه الله: حدثنا أبو كامل، ثنا عبد الواحد [ص: 130] بن زياد، ثنا عاصم بن كليب، عن أبيه، عن الفلتان، يروى بإسناد أحسن من هذا.
وأخرجه ابن حبان رحمه الله كما في "الموارد" (ص 429) فقال رحمه الله: أخبرنا أحمد بن علي بن المثنى، حدثنا إبراهيم بن الحجاج السَّامِيُّ، حدثنا عبد الواحد بن زياد، حدثنا عاصم بن كليب، حدثني أبي، عن خالي الفلتان
… فذكره.
وأخرجه الطبراني (ج 8 ص 334).
10 - العمل بالمكاتبة إذا عرف الخط20 - قال الإمام أحمد رحمه الله (ج 5 ص 182): حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ قَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ «تُحْسِنُ السُّرْيَانِيَّةَ؟ إِنَّهَا تَأْتِينِي كُتُبٌ» قَالَ قُلْتُ لَا قَالَ «فَتَعَلَّمْهَا» فَتَعَلَّمْتُهَا فِي سَبْعَةَ عَشَرَ يَوْمًا.
هذا حديث صحيحٌ.
* وقد أخرجه أبو داود رحمه الله في "سننه" (ج 10 ص 78): حدثنا أحمد بن يونس حدثنا ابن أبي الزناد عن أبيه عن خارجة يعني ابن
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)। তিনি আশঙ্কা করলেন যে তাঁর বিষয়ে কোনো কিছু অবতীর্ণ হচ্ছে, তাই তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন এবং বলতে লাগলেন: 'আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ক্রোধ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।' বর্ণনাকারী বলেন: তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) লেখককে বললেন: «লেখো: {অক্ষম ব্যক্তিগণ ব্যতীত}»।
এটি একটি হাসান হাদিস।
হাদিসটি আল-বাযযার বর্ণনা করেছেন (৩য় খণ্ড, ৪৫ পৃষ্ঠা); তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমাদের কাছে আবু কামিল বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আব্দুল ওয়াহিদ [পৃষ্ঠা: ১৩০] ইবনে যিয়াদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আসিম ইবনে কুলাইব বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি ফালতান থেকে বর্ণনা করেছেন; এটি এর চেয়েও উত্তম সনদে বর্ণিত হয়েছে।
ইবনে হিব্বান (রহিমাহুল্লাহ) এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি 'আল-মাওয়ারিদ' (পৃষ্ঠা: ৪২৯) গ্রন্থে রয়েছে; তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল মুসান্না, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনুল হাজ্জাজ আস-সামি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আসিম ইবনে কুলাইব, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আমার মামা ফালতান থেকে... অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।
এবং তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন (৮ম খণ্ড, ৩৩৪ পৃষ্ঠা)।
১০ - হস্তাক্ষর চেনা গেলে পত্রালাপের ওপর আমল করা২০ - ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৫ম খণ্ড, ১৮২ পৃষ্ঠা): আমাদের কাছে জারির বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ থেকে, তিনি সাবিত ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি বলেন, যায়িদ ইবনে সাবিত বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: «তুমি কি সিরীয় ভাষা ভালো জানো? আমার কাছে অনেক চিঠিপত্র আসে»। তিনি বলেন, আমি বললাম: না। তিনি বললেন: «তাহলে তা শিখে নাও»। অতঃপর আমি সতেরো দিনে তা শিখে নিলাম।
এটি একটি সহিহ হাদিস।
* এবং আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর "সুনান" গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (১০ম খণ্ড, ৭৮ পৃষ্ঠা): আমাদের কাছে আহমাদ ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইবনে আবিয যিনাদ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি খারিজাহ অর্থাৎ ইবনে...
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
زيد بن ثابت قال قال زيد بن ثابت: أمرني رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فتعلمت له كتاب يهود وقال «إني والله ما آمن يهود على كتابي» فتعلمته فلم يمر بي إلا نصف شهر حتى حذقته فكنت أكتب له إذا كتب وأقرأ له إذا كتب إليه.
وأخرجه الترمذي (ج 7 ص 497) فقال: حدثنا علي بن حُجْرٍ، أخبرنا عبد الرحمن ابن أبي الزناد به. ثم قال: هذا حديث حسن صحيح.
وقال الإمام أحمد رحمه الله (ج 5 ص 186): حدثنا سليمان بن داود، حدثنا عبد الرحمن، عن أبي الزناد، عن الأعرج، عن خارجة بن زيد به. فزاد فيه: الأعرج وسليمان بن داود الطيالسي، وعبد الرحمن هو ابن أبي الزناد، ثم قال الإمام أحمد بعده: حدثنا سُرَيْجُ بن النعمان، حدثنا ابن أبي الزناد، عن أبيه، عن خارجة بن زيد، عن زيد بن ثابت، قال: أتى رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم مَقْدِمَهُ المدينة
… فذكر نحوه.
21 - قال أبو داود رحمه الله (ج 8 ص 222): حدثنا مسلم بن إبراهيم حدثنا قرة قال سمعت يزيد بن عبد الله قال: كنا بالمربد فجاء رجل أشعث الرأس بيده قطعة أديم أحمر فقلنا كأنك من أهل البادية قال أجل قلنا ناولنا هذه القطعة الأديم التي في يدك فناولناها فقرأنا فإذا فيها «من محمد رسول الله إلى بني زهير بن أقيش إنكم إن شهدتم أن لا إله إلا الله وأن محمدًا رسول الله وأقمتم الصلاة وآتيتم الزكاة وأديتم الخمس من المغنم وسهم النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم وسهم الصفي أنتم آمنون بأمان الله ورسوله» فقلنا من كتب لك هذا الكتاب؟ قال: رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
জায়েদ বিন সাবিত বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে নির্দেশ দিলেন, ফলে আমি তাঁর জন্য ইহুদিদের লিখনপদ্ধতি শিখে নিলাম। তিনি বললেন, “আল্লাহর কসম, আমি আমার চিঠিপত্রের বিষয়ে ইহুদিদের ওপর আস্থা রাখতে পারি না।” এরপর আমি তা শিখে নিলাম। মাত্র অর্ধমাস পার হওয়ার আগেই আমি তাতে পারদর্শী হয়ে উঠলাম। ফলে তিনি যখন কাউকে লিখতেন তখন আমি তাঁর হয়ে লিখে দিতাম, আর যখন তাঁর নিকট কেউ লিখে পাঠাত তখন আমি তা তাঁকে পড়ে শোনাতাম।
ইমাম তিরমিজি এটি উদ্ধৃত করেছেন (৭ম খণ্ড, ৪৯৭ পৃষ্ঠা) এবং বলেছেন: আলী বিন হুজর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে আবিয যিনাদ আমাদের তা জানিয়েছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: এটি একটি হাসান সহিহ হাদিস।
ইমাম আহমদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৫ম খণ্ড, ১৮৬ পৃষ্ঠা): সুলাইমান বিন দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আ’রাজ থেকে, তিনি খারিজা বিন জায়েদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এতে আ’রাজ এবং সুলাইমান বিন দাউদ আত-তায়ালিসি অতিরিক্ত যুক্ত হয়েছেন, আর আবদুর রহমান হলেন ইবনে আবিয যিনাদ। অতঃপর ইমাম আহমদ এর পরে বলেছেন: সুরাইজ বিন নু’মান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবিয যিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি খারিজা বিন জায়েদ থেকে, তিনি জায়েদ বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় আগমনের পর তাঁর নিকট আসা হলো
… অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন।
২১ - আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৮ম খণ্ড, ২২২ পৃষ্ঠা): মুসলিম বিন ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কুররাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াজিদ বিন আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা মিরবাদ নামক স্থানে ছিলাম। তখন উষ্কখুষ্ক চুলের এক ব্যক্তি হাতে এক টুকরো লাল চামড়া নিয়ে এলো। আমরা বললাম: আপনাকে দেখে মরুচারী বেদুইন মনে হচ্ছে। সে বলল: হ্যাঁ। আমরা বললাম: আপনার হাতের এই চামড়ার টুকরোটি আমাদের দিন। সে সেটি আমাদের দিল এবং আমরা তা পড়লাম। তাতে লেখা ছিল: “আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে বনী জুহাইর বিন উকাইশ-এর প্রতি। তোমরা যদি এই সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর যদি তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং গনিমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্ধারিত অংশ এবং ‘সাফি’ (নেতার জন্য সংরক্ষিত বিশেষ অংশ) প্রদান করো, তবে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিরাপত্তায় নিরাপদ।” আমরা জিজ্ঞেস করলাম: আপনার জন্য এই লিপিটি কে লিখে দিয়েছেন? সে বলল: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উস সহীহ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
هذا حديث صحيحٌ على شرط الشَّيخين. وقرة هو ابن خالد، ويزيد بن عبد الله هو ابن الشِّخِّير.
* وقال الإمام عبد الرزاق رحمه الله (ج 4 ص 300): أخبرنا معمر عن سعيد الجريري عن أبي العلاء بن عبد الله بن الشخير قال: جاءنا أعرابي ونحن بالمربد فقال: هل فيكم قارئ يقرأ هذه الرقعة قلنا كلنا نقرأ قال فاقرءوها لي قال هذا كتاب كتبه لي محمد رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم لبني زهير بن أقيش -حي من عكل- «أنكم إن شهدتم لا إله إلا الله وأن محمدًا رسول الله وأقمتم الصلاة وآتيتم الزكاة وأخرجتم الخمس من الغنيمة وسهم النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم وصفيه فإنكم آمنون بأمان الله» قال قلنا إن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم كتب لكم هذا الكتاب قال نعم أتروني أكذب على رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم وغضب فضرب بيده على الكتاب فأخذه قال فأتبعناه فقلنا حدثنا يا أبا عبد الله (1) عن شيء سمعته من رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال سمعته يقول «إن مما يذهب كثيرًا من وحر الصدر صوم شهر الصبر وصوم ثلاثة أيام من كل شهر».
هذا حديث صحيحٌ. والجريري هو سعيد بن إياس، مختلط، ولكن معمرًا روى عنه قبل الاختلاط، كما في "الكواكب النيرات". ثم إنه قد توبع؛ قال الإمام أبو بكر بن أبي شيبة رحمه الله (ج 14 ص 342): حدثنا وكيع، عن قُرَّة بن خالد السدوسي، عن يزيد بن عبد الله بن الشخير
… به.
--------------------------------------------
এটি শাইখায়নের (বুখারী ও মুসলিম) শর্তানুসারে একটি সহীহ হাদীস। আর কুররাহ হলেন ইবনে খালিদ এবং ইয়াযীদ ইবনে আব্দুল্লাহ হলেন ইবনে আশ-শিখখীর।
* এবং ইমাম আব্দুর রাযযাক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৪র্থ খণ্ড, ৩০০ পৃষ্ঠা): মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ আল-জুরায়রী থেকে, তিনি আবুল আলা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আশ-শিখখীর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা মিরবাদ নামক স্থানে থাকাকালীন এক বেদুইন আমাদের কাছে আসলেন এবং বললেন: "আপনাদের মধ্যে কি এমন কোনো পাঠক আছেন যিনি এই চিরকুটটি পড়তে পারেন?" আমরা বললাম: "আমরা সবাই পড়তে পারি।" তিনি বললেন: "তাহলে এটি আমার জন্য পড়ুন।" তিনি বললেন: "এটি একটি পত্র যা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) বনু যুহায়ের ইবনে উকাইশ —যা আকল গোত্রের একটি শাখা— তাদের জন্য লিখে দিয়েছিলেন: «নিশ্চয়ই তোমরা যদি এই সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর যদি তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো, গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্ধারিত অংশ ও তাঁর নির্বাচিত অংশ প্রদান করো, তবে তোমরা আল্লাহর নিরাপত্তায় নিরাপদ থাকবে»।" বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) কি আপনাদের জন্য এই পত্রটি লিখেছিলেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তোমরা কি মনে করো যে আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করছি?" এরপর তিনি রাগান্বিত হলেন এবং নিজের হাত দিয়ে পত্রটি আঘাত করে তা নিয়ে নিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তাঁর অনুসরণ করলাম এবং বললাম: "হে আবু আব্দুল্লাহ (১), আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা শুনেছেন তা আমাদের কাছে বর্ণনা করুন।" তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয় সবরের মাসের (রমজান) রোজা এবং প্রতি মাসের তিন দিনের রোজা অন্তরের অধিকাংশ কলুষতা ও হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেয়»।
এটি একটি সহীহ হাদীস। আর আল-জুরায়রী হলেন সাঈদ ইবনে ইয়াস, যিনি শেষ বয়সে স্মৃতিভ্রমের (ইখতিলাত) শিকার হয়েছিলেন, কিন্তু মা'মার তাঁর থেকে তাঁর স্মৃতিভ্রমের পূর্বেই বর্ণনা করেছেন, যেমনটি "আল-কাওয়াকিব আন-নাইয়েরাত" গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। অধিকন্তু, এর সমর্থনকারী বর্ণনা (তাবি') রয়েছে; ইমাম আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (১৪শ খণ্ড, ৩৪২ পৃষ্ঠা): ওয়াকী' আমাদের বর্ণনা করেছেন কুররাহ ইবনে খালিদ আস-সাদুসী থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আশ-শিখখীর থেকে
... একই সনদে।
--------------------------------------------