(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: -)
الشاهد الشعري في تفسير القرآن الكريم أهميته، وأثره، ومناهج المفسرين في الاستشهاد به   (عبد الرحمن بن معاضة الشهري)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الشاهد الشعري في تفسير القرآن الكريم أهميته، وأثره، ومناهج المفسرين في الاستشهاد به

المؤلف: د. عبد الرحمن بن معاضة الشهري

الناشر: مكتبة دار المنهاج للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1431 هـ

عدد الصفحات: 954

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 رجب 1440

পবিত্র কুরআনের তাফসীরে কাব্যিক প্রমাণ: এর গুরুত্ব, প্রভাব এবং তা উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে মুফাসসিরদের কর্মপন্থা   (আবদুর রহমান বিন মা'আদাহ আল-শেহরি)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান এবং তাফসীরের মূলনীতি


বই: পবিত্র কুরআনের তাফসীরে কাব্যিক প্রমাণ: এর গুরুত্ব, প্রভাব, এবং তা উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে মুফাসসিরদের কর্মপন্থা

লেখক: ড. আবদুর রহমান বিন মা'আদাহ আল-শেহরি

প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল মিনহাজ প্রকাশনা ও বিতরণ, রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩১ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৬ রজব ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ১)
الشاهد الشعري

في تفسير القرآن الكريم

أهميته، وأثره، ومناهج المفسرين في الاستشهاد به

تأليف

د. عبد الرحمن بن معاضة الشهري

الأستاذ المشارك بجامعة الملك سعود

مكتبة دار المنهاج

للنشر والتوزيع بالرياض
কাব্যিক সাক্ষ্য

পবিত্র কুরআন তাফসীরে

এর গুরুত্ব, প্রভাব এবং এর দ্বারা দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে মুফাসসিরগণের কর্মপন্থা

রচনায়

ড. আব্দুর রহমান বিন মাআযা আশ-শেহরী

কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক

মাকতাবাতু দারিল মিনহাজ

প্রকাশনা ও বিতরণে, রিয়াদ
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ২)
أصل هذا البحث رسالة دكتوراه نوقشت يوم 15/ 8 / 1426 هـ.

بكلية أصول الدين بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية،

ومنحت اللجنة البحث تقدير ممتاز مع مرتبة الشرف الأولى

لجنة المناقشة:

أ. د. محمد بن عبد الرحمن بن صالح الشايع مقررًا

الأستاذ بقسم القرآن وعلومه والمشرف الرئيس على الرسالة

أ. د. تركي بن سهو بن نزال العتيبي عضوًا

الأستاذ بقسم النحو والصرف وعميد البحث العلمي بالجامعة والمشرف المساعد على الرسالة

أ. د. زاهر بن عواض الألمعي عضوًا

الأستاذ بقسم القرآن وعلومه

أ. د. فهد بن عبد الرحمن الرومي عضوًا

الأستاذ بقسم الدراسات القرآنية بكلية المعلمين بالرياض

أ. د. محمد عبدو فلفل عضوًا

الأستاذ المشارك بقسم النحو والصرف بكلية اللغة العربية

بجامعة الإمام
এই গবেষণার মূল হলো একটি পিএইচডি অভিসন্দর্ভ, যা ১৫/০৮/১৪২৬ হিজরি তারিখে আলোচিত হয়েছে।

ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুল আদ-দীন অনুষদে,

এবং কমিটি এই গবেষণাকে প্রথম শ্রেণির সম্মানসহ 'মুমতাজ' (চমৎকার) মান প্রদান করেছে।

আলোচনা কমিটি:

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন সালেহ আল-শায়া, সমন্বয়ক

কুরআন ও উলূমুল কুরআন বিভাগের অধ্যাপক এবং অভিসন্দর্ভের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক

প্রফেসর ড. তুর্কি বিন সাহু বিন নাজ্জাল আল-উতাইবি, সদস্য

নাহু ও সরফ বিভাগের অধ্যাপক, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদের ডিন এবং অভিসন্দর্ভের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক

প্রফেসর ড. জাহির বিন আওয়াদ আল-আলমায়ি, সদস্য

কুরআন ও উলূমুল কুরআন বিভাগের অধ্যাপক

প্রফেসর ড. ফাহাদ বিন আব্দুর রহমান আল-রুমি, সদস্য

রিয়াদের টিচার্স কলেজের কুরআনীয় অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আব্দু ফিলফিল, সদস্য

ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা অনুষদের নাহু ও সরফ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ে
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ৩)
الشاهد الشعري

في تفسير القرآن الكريم
কাব্যিক সাক্ষ্য

কুরআনুল কারীমের তাফসীরে
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ৪)
جميع الحقوق محفوظة لدار المنهاج بالرياض

الطبعة الأولى

ذو القعدة - 1431 هـ

مكتبة دار المنهاج

للنشر والتوزيع

المملكة العربية السعودية - الرياض
রিয়াদের দারুল মিনহাজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

জিলকদ - ১৪৩১ হিজরী

মাকতাবাতু দারিল মিনহাজ

প্রকাশনা ও বিতরণের জন্য

সৌদি আরব রাজ্য - রিয়াদ
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مُقدِّمة

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وأصحابه وأتباعه إلى يوم الدين، أما بعد:

فإِنَّ القرآن الكريم بنصِّهِ المُوثَّقِ، وقراءاتهِ المَحفوظةِ، يُعَدُّ المصدرَ الأولَ لدراسةِ اللغةِ بفروعها؛ وذلك لأنَّ اللغة إذا وردت في القرآن فهي أفصحُ مِمَّا في غير القرآن، غيرَ أَنَّ المُفسِّرينَ رجعوا كثيرًا إلى لغة العرب من شعرٍ ونثرٍ لبيانِ معاني القرآن الكريم، لأَنَّها مِنْ أَهمِّ مصادر التفسيرِ بالرأَي وأَوسَعِها، والمفسرون يشترطون في تلك اللغة التي يُفسَّرُ بِها القرآنُ الاستفاضةَ والشهرةَ؛ لأَنَّ كتابَ الله جلَّ ثناؤه نزلَ بأفصحِ لغات العربِ، وغير جائزٍ توجيهُ شيءٍ منهُ إلى الشاذِّ مِن لغاتِها، ولَهُ في الأفصحِ الأشهرِ معنىً مفهومٌ، ووجهٌ معروفٌ.

ولم تكن تلك اللغةُ المستفيضةُ المشتهرةُ المعروفةُ المَحفوظة سوى اللغة التي عُرفت بتتبعِ شِعْرِ العَربِ، الذي لا يزالُ مَحفوظًا مرويًّا، وهو ديوانُ مفاخرِ العرب، وسجلُّ علومِها وعاداتِها، ولم يكن للعربِ قبلَ الإسلام عِلمٌ أَصحَّ منه، وكان المفسرون من الصحابة ومَنْ بَعدَهم يرجعون في فهم بعض حروف القرآن إلى ذلك الشعر الثابت ليتبينوا منه ما خفي عليهم منها، ولم يكن حرصُ المفسرين على الشِّعر الجاهلي وما
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:

প্রকৃতপক্ষে আল-কুরআনুল কারীম তার সুপ্রমাণিত পাঠ্য এবং সংরক্ষিত কিরাআতসমূহের মাধ্যমে ভাষাশিক্ষার সকল শাখার প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত। কারণ কোনো ভাষা যখন কুরআনে বর্ণিত হয়, তখন তা কুরআন বহির্ভূত ব্যবহারের চেয়ে অধিক সাবলীল ও প্রাঞ্জল হয়। তবে মুফাসসিরগণ আল-কুরআনের অর্থসমূহ স্পষ্ট করার জন্য আরবের ভাষা—কবিতা ও গদ্যের দিকে প্রচুর প্রত্যাবর্তন করেছেন; কারণ এটি যুক্তিনির্ভর তাফসীরের (তাফসীর বির-রায়) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তৃত উৎস। মুফাসসিরগণ কুরআনের ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত সেই ভাষার ক্ষেত্রে এর ব্যাপক ব্যবহার ও প্রসিদ্ধির শর্তারোপ করেন। কেননা আল্লাহর কিতাব—তাঁর প্রশংসা সুউচ্চ হোক—আরবদের সবচেয়ে সাবলীল ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর কোনো কিছুকে ভাষার বিরল বা অখ্যাত কোনো রূপের দিকে ধাবিত করা বৈধ নয়, যদি সবচেয়ে সাবলীল ও প্রসিদ্ধ রূপের মধ্যে এর কোনো বোধগম্য অর্থ ও পরিচিত রূপ বিদ্যমান থাকে।

আর এই ব্যাপক প্রচলিত, প্রসিদ্ধ, পরিচিত ও সংরক্ষিত ভাষাটি মূলত সেই ভাষা যা আরবদের কবিতার অনুসরণের মাধ্যমে জানা গেছে; যা আজ অবধি সংরক্ষিত ও বর্ণিত হয়ে আসছে। এটি হলো আরবদের গৌরবগাঁথার সংকলন এবং তাদের জ্ঞান ও ঐতিহ্যের নথিপত্র। ইসলামের পূর্বে আরবদের কাছে এর চেয়ে বিশুদ্ধ কোনো জ্ঞান ছিল না। সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী মুফাসসিরগণ কুরআনের কিছু শব্দের অর্থ বোঝার জন্য সেই সুপ্রতিষ্ঠিত কবিতার শরণাপন্ন হতেন, যাতে তাঁরা সেগুলোর অস্পষ্ট অর্থগুলো অনুধাবন করতে পারেন। জাহেলী কবিতা এবং অন্যান্য যা কিছুর প্রতি মুফাসসিরদের এই গভীর আগ্রহ ছিল তা...
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ৬)
بعده من شعر الاحتجاج ليتفقَّهوا فيه لذاته، وإِنَّما ليَفقَهوا به القرآن والسنَّة قبل ذلك، وكان بعض العلماء مشهورًا بحفظ شواهد الشعر للاستشهاد بها على تفسير القرآن خاصةً.

وقد كان العلماء في استشهادهم بالشعر في تفسير القرآن مدفوعين إلى ذلك بتوجيهٍ من القرآن الكريم ذاته، وذلك لِمَا كرَّرَ من ذكرِ اللسانِ العربيِّ المبين، واللسانُ العربي هو الشعرُ وكُلُّ ما نَطق به أصحابُ السَّليقةِ في حَواضرِهم وبوادِيهم، وحفظُ القُرآنِ يقتضي حفظَ اللسانِ الذي نَزَلَ بهِ القرآنُ. والله سبحانَهُ لَمَّا وَصَفَ كتابه بأنَّهُ نَزَلَ {بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ (195)} [الشعراء: 195]، لم يكن هذا الوصفُ مَدحًا للقُرآنِ؛ لأَنَّهُ لا يُمدَحُ بأفضلَ مِن أَنَّهُ كلامُ الله، وإِنَّما هو مَدحٌ لهذا اللسانِ العربيِّ، المُتمثِّلِ - في غالبه - في كُلِّ ما نطقَ بهَ أصحابُ السليقةِ من شِعرٍ، وفي القليل منه فيما حُفِظَ مِن نَثر العرب.

ولِما لاعتماد الشواهد الشعرية في كتب التفسير وكتب معاني القرآن وغريبه من أهمية في التفسير اللغوي رغبتُ في دراسة هذا الموضوع بعنوان: «الشاهد الشعري في تفسير القرآن الكريم» من حيث أهميتهُ، ومناهج المفسرين في الاستشهاد به، وأثرهُ في التفسير، ليكون موضوعًا لرسالة الدكتوراه في تخصص التفسير وعلوم القرآن.

• أهمية الموضوع وأسباب اختياره:

1 - كثرة الشواهد الشعرية في كتب التفسير، ومعاني القرآن، وغريبه، مما جعلها تُشَكِّلُ ظاهرةً لا يُمكنُ إغفالُ دراستها، بوصفها الشاهد اللغويَّ الذي يورده المفسرون كلما احتاجوا إلى ذلك في التفسير اللغوي، مع اختلاف مناهجهم في ذلك.

2 - أنَّ الشاهد الشعريَّ قد وُظِّفَ في مجالاتِ المعرفة المختلفة من لغةٍ
এর পরবর্তী দলিলযোগ্য কবিতা থেকে জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্য কেবল কবিতার খাতিরে নয়, বরং তার চেয়ে আগে যাতে তারা এর মাধ্যমে কুরআন ও সুন্নাহর গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে। কোনো কোনো আলেম বিশেষ করে কুরআনের তাফসিরের সপক্ষে দলিল পেশ করার লক্ষ্যে কাব্যিক সাক্ষ্যসমূহ মুখস্থ রাখার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।

কুরআনের তাফসিরে কবিতা দ্বারা দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে আলেমগণ স্বয়ং কুরআনুল কারীমের দিকনির্দেশনা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। আর তা এই কারণে যে, কুরআন বারবার 'স্পষ্ট আরবি ভাষা'র কথা উল্লেখ করেছে। আর আরবি ভাষা হলো কবিতা এবং সহজাত ভাষাজ্ঞানের অধিকারীদের তাদের জনপদ ও মরু অঞ্চলে উচ্চারিত যাবতীয় বাণী। কুরআন হিফজ করার দাবি হলো সেই ভাষাটি সংরক্ষণ করা যে ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যখন তাঁর কিতাবকে বর্ণনা করেছেন যে এটি "স্পষ্ট আরবি ভাষায়" [আশ-শুয়ারা: ১৯৫] অবতীর্ণ হয়েছে, তখন এই বর্ণনাটি কেবল কুরআনের প্রশংসা করার জন্য ছিল না; কারণ আল্লাহর কালাম হওয়ার চেয়ে বড় কোনো প্রশংসা আর হতে পারে না। বরং এটি ছিল সেই আরবি ভাষার প্রশংসা, যা প্রধানত সহজাত আরবদের উচ্চারিত কবিতার মাধ্যমে এবং সামান্য অংশ আরবদের সংরক্ষিত গদ্যের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।

তাফসিরের কিতাবসমূহ, 'মাআনিল কুরআন' এবং 'গারিবুল কুরআন' বিষয়ক গ্রন্থাবলিতে ভাষাগত তাফসিরের ক্ষেত্রে কাব্যিক সাক্ষ্য বা উদাহরণের ওপর নির্ভর করার যে গুরুত্ব রয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি এই বিষয়টি নিয়ে অধ্যয়ন করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। যার শিরোনাম: «কুরআনুল কারীমের তাফসিরে কাব্যিক সাক্ষ্য», এর গুরুত্ব, দলিল হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে মুফাসসিরদের কর্মপন্থা এবং তাফসিরের ক্ষেত্রে এর প্রভাবের দিক থেকে; যাতে এটি তাফসির ও উলূমুল কুরআন বিষয়ে পিএইচডি গবেষণার একটি বিষয় হতে পারে।

• বিষয়ের গুরুত্ব এবং এটি নির্বাচনের কারণসমূহ:

১ - তাফসিরের কিতাবসমূহ, মাআনিল কুরআন এবং গারিবুল কুরআনে কাব্যিক সাক্ষ্যের প্রাচুর্য; যা এটিকে একটি বিশেষ রূপ দান করেছে যার অধ্যয়ন উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। কেননা মুফাসসিরগণ যখনই ভাষাগত তাফসিরের প্রয়োজন বোধ করেছেন, তখনই একে ভাষাগত দলিল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যদিও এ ক্ষেত্রে তাদের কর্মপন্থা ভিন্ন ভিন্ন ছিল।

২ - কাব্যিক সাক্ষ্যকে ভাষার মতো জ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ৭)
ونحوٍ (1) وتفسيرٍ وقراءات وصرفٍ وتاريخ وبلدان، غير أَنَّ توظيفهُ في تفسير القرآن الكريم، وكتبه، وكتب الدراسات القرآنية عامةً لم يَحظَ - فيما أعلم - بدراسةٍ مفصلةٍ، تستقري مُفرداتِه، والجهود التي بذلت من قبل المفسرين في جَمعِه وترتيبه، ومناهجهم في ذلك، بطريقة وصفيَّة تَحليليةٍ، تَجمع إلى الاستقراء المتتبع، دِقَّةَ التحليل والوصف المطابق لمثل تلك المناهج.

2 - حاجة الموضوع في كتب التفسير إلى دراسةٍ تأصيليةٍ، تكشف عن مناهج المفسرين في الاستشهاد بالشعر، وأثر الشاهد الشعري في التفسير، والأسباب التي جعلت العلماء يُعْنَون بالشِّعر، ومعرفة ضوابط التعامل مع الشواهد الشعرية في تفسير القرآن الكريم.

• الدراسات السابقة: هناك بعض الدراسات السابقة، منها:

--------------------------------------------

(1) أكثر من عُنِي بالشواهدِ الشعريةِ وشَرْحِها هم النحويون، ومنذ صنَّفَ سيبويه كتابَهُ واستشهد فيه بِما يزيد عن 1050 شاهدًا شعريًا اشتغلَ مَن بعده بحفظ هذه الشواهد ونسبتها لقائليها وشرحها. ومن تلك المصنفات:

1 - شرح أبيات سيبويه لأبي جعفر النحاس (ت 338 هـ).

2 - شرح أبيات سيبويه لابن السيرافي (ت 385 هـ).

3 - تحصيل عين الذهب للأَعْلَم الشَّنْتَمَريِّ (ت 476 هـ).

4 - شرح أبيات سيبويه والمفصل لعفيف الدين الكوفي، فرغ منه عام 969 هـ.

5 - ومن آخرها دراسة تأصيلية بعنوان «شواهد الشعر في كتاب سيبويه» للدكتور خالد عبدالكريم جمعة.

وأبرز من عني بشرح شواهد النحو واللغة من المتأخرين هو العلامة اللغوي عبدالقادر بن عمر البغدادي (ت 1093 هـ) فقد صنف في شرح الشواهد الشعرية في كتب النحو والصرف كتبًا هي «خزانة الأدب» وهو أوسعها، شرح فيه شواهدَ شرحِ الرَّضيِّ على الكافيةِ في النحو، وكتاب «شرح أبيات مغني اللبيب»، وكتاب «شرح شواهد الشافية» للرضي في الصَّرفِ، و «شرح شواهد التحفة الوردية» في النحو، وغيرها وكلها مطبوعة. انظر: الشاهد وأصول النحو في كتاب سيبويه لخديجة الحديثي 23 - 25
এবং ব্যাকরণ (১), তাফসীর, কিরাত, শব্দতত্ত্ব (সরফ), ইতিহাস ও দেশ-বিদেশের বর্ণনার ক্ষেত্রে। তবে আল-কুরআনুল কারীমের তাফসীর, এর গ্রন্থাবলী এবং সাধারণ কুরআন বিষয়ক গবেষণামূলক গ্রন্থগুলোতে এর প্রয়োগের বিষয়টি - আমার জানামতে - কোনো বিস্তারিত গবেষণার মর্যাদা পায়নি, যা এর উপাদানগুলোকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করবে। একইভাবে মুফাসসিরগণ এটি সংগ্রহ ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে যে প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন এবং এই ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসৃত পদ্ধতিসমূহকে একটি বর্ণনামূলক-বিশ্লেষণাত্মক উপায়ে উপস্থাপন করবে, যা গভীর অনুসন্ধানের পাশাপাশি যথাযথ বিশ্লেষণ এবং অনুরূপ পদ্ধতিগুলোর সঠিক বর্ণনার সমন্বয় ঘটাবে।

২ - তাফসীর গ্রন্থসমূহে এই বিষয়টি নিয়ে একটি মৌলিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যা কবিতা দ্বারা দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে মুফাসসিরগণের পদ্ধতিগুলো উন্মোচন করবে, এবং তাফসীরের ক্ষেত্রে কাব্যিক দলিলের প্রভাব, আলেমগণ কর্তৃক কবিতার প্রতি গুরুত্বারোপ করার কারণসমূহ এবং আল-কুরআনুল কারীমের তাফসীরে কাব্যিক দলিলের ব্যবহারের নীতিমালাসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান করবে।

• পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ: এখানে কিছু পূর্ববর্তী গবেষণা রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

--------------------------------------------

(১) কাব্যিক দলিলসমূহ ও সেগুলোর ব্যাখ্যার প্রতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন ব্যাকরণবিদগণ। সিবওয়াইহ যখন থেকে তাঁর কিতাব সংকলন করেছেন এবং তাতে ১০৫০-এরও বেশি কাব্যিক দলিল পেশ করেছেন, তারপর থেকে তাঁর পরবর্তীগণ এই দলিলগুলো সংরক্ষণ করা, সেগুলোকে তাদের রচয়িতাদের দিকে সম্বন্ধ করা এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা করার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। এই জাতীয় সংকলনগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - আবু জাফর আন-নাহহাস (মৃ. ৩৩৮ হি.) রচিত ‘শারহু আবয়াতি সিবওয়াইহ’।

২ - ইবনে আস-সিরাফী (মৃ. ৩৮৫ হি.) রচিত ‘শারহু আবয়াতি সিবওয়াইহ’।

৩ - আল-আ’লাম আশ-শাতামারী (মৃ. ৪৭৬ হি.) রচিত ‘তাহসিলু আইনিল জাহাব’।

৪ - আফীফুদ্দীন আল-কুফী রচিত ‘শারহু আবয়াতি সিবওয়াইহ ওয়াল মুফাসসাল’, যা তিনি ৯৬৯ হিজরীতে সমাপ্ত করেন।

৫ - আর এই বিষয়ে সর্বশেষ কাজগুলোর মধ্যে একটি মৌলিক গবেষণা হলো ড. খালিদ আব্দুল কারীম জুমুআ রচিত ‘শাওয়াহিদুশ শি’রি ফী কিতাবি সিবওয়াইহ’।

পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে ব্যাকরণ ও ভাষার দলিলসমূহ ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে যিনি সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন তিনি হলেন ভাষাবিদ আল্লামা আব্দুল কাদির বিন উমর আল-বাগদাদী (মৃ. ১০৯৩ হি.)। তিনি ব্যাকরণ ও শব্দতত্ত্বের কিতাবসমূহের কাব্যিক দলিলগুলোর ব্যাখ্যায় বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে ‘খিজানাতুল আদাব’ অন্যতম এবং এটিই সবচেয়ে বিস্তৃত। এতে তিনি ব্যাকরণের ওপর ইমাম আর-রাযীর লেখা ‘আল-কাফিয়া’র ব্যাখ্যার দলিলগুলো ব্যাখ্যা করেছেন। এছাড়াও রয়েছে ‘শারহু আবয়াতি মুগনিল লাবীব’, শব্দতত্ত্বের ওপর আর-রাযীর ‘আশ-শাফিয়া’র দলিলের ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘শারহু শাওয়াহিদিশ শাফিয়া’, ব্যাকরণ বিষয়ক ‘শারহু শাওয়াহিদিত তুহফাতিল ওয়ার্দিয়্যাহ’ এবং আরও অন্যান্য গ্রন্থ; যার সবগুলোই মুদ্রিত। দেখুন: খাদীজাহ আল-হাদীসী রচিত ‘আশ-শাহিদ ওয়া উসুলুন নাহউ ফী কিতাবি সিবওয়াইহ’, পৃষ্ঠা: ২৩ - ২৫।
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ৮)
أولًا: رسالة ماجستير بعنوان «جهود الطبري في دراسة الشواهد الشعرية ـ في جامع البيان عن تأويل آي القرآن» تقدم بها الباحث محمد المالكي، إلى كلية الآداب بظهر المهراز بالمغرب، طبعت في مطبعة المعارف الجديدة بالدار البيضاء عام 1994 م، وهي دراسة أدبية للشواهد الشعرية في تفسير الطبري، تعرَّضت لجهود الطبري من الناحية الأدبية واللغوية في تفسيره.

ثانيًا: كتاب «شواهد أبي حيان في تفسيره» للدكتور صبري إبراهيم السيد، وهو دراسةٌ نحوية لمنهج أبي حيان في تفسيره من خلال الشواهد الشعرية، وقد طُبع الكتاب بدار المعرفة الجامعية بالاسكندرية عام 1409 هـ.

ثالثًا: كتاب «الشواهد الشعرية في تفسير القرطبي» للأستاذ الدكتور عبدالعال سالم مكرم، وهو ليس دراسة تأصيليةً للموضوع، وإِنَّما هو جَمع للشواهد الشعرية التي وردت في تفسير القرطبي، وتَخريج لها، مع بيان مواضع الاستشهاد في هذه الشواهد. وقد نشرته دار عالم الكتب في طبعته الأولى عام 1418 هـ.

رابعًا: رسالة دكتوراه بعنوان «التفسير اللغوي للقرآن الكريم» للدكتور مساعد بن سليمان الطيار، تقدم بِها لقسم القرآن بكلية أصول الدين بالرياض عام 1421 هـ، ونشرت عن دار ابن الجوزي عام 1422 هـ. وقد أشار فيها للشاهد الشعري وأهميته في عِدَّةِ مواضعٍ، ونَبَّهَ إلى أَهمية بَحث هذا الموضوع بحثًا مستقلًا.

ونظرًا لطبيعة هذه الدراسة، وقصر المدة المقررة، وكثرة الشواهد الشعرية في كتب التفسير فقد قصرتُ دراستي هذه على عددٍ من كتب التفسير وكتبِ غريب القرآن ومعانيه، هي العُمدةُ في هذا الباب، وإِنْ كان غَيْرُها جديرًا بالدراسة، إِلا أَنَّها لا تكاد شواهدها تَخرجُ عما في هذه الكتب، وهذه الكتب هي:
প্রথমত: 'তাবারির প্রচেষ্টা কাব্যিক উদ্ধৃতি অধ্যয়নে — জামিউল বায়ান আন তাবিলি আয়িল কুরআন-এ' শীর্ষক একটি মাস্টার্স থিসিস, যা গবেষক মুহাম্মদ আল-মালিকি মরক্কোর জহরুল মেহরাজ সাহিত্য অনুষদে পেশ করেছেন। এটি ১৯৯৪ সালে কাসাব্লাঙ্কার মাতবাআতুল মাআরিফ আল-জাদিদাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এটি তাবারির তাফসিরে ব্যবহৃত কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহের একটি সাহিত্যিক গবেষণা, যা তাঁর তাফসিরে সাহিত্যিক ও ভাষাগত দিক থেকে তাবারির প্রচেষ্টাসমূহ তুলে ধরেছে।

দ্বিতীয়ত: ডক্টর সাবরি ইব্রাহিম আস-সাইয়িদের রচিত 'তাফসিরে আবু হাইয়ানের কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহ' নামক গ্রন্থ। এটি কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহের মাধ্যমে আবু হাইয়ানের তাফসিরের মানহাজ বা পদ্ধতির একটি ব্যাকরণিক গবেষণা। গ্রন্থটি ১৪০৯ হিজরিতে আলেকজান্দ্রিয়ার দারুল মাআরিফ আল-জামিইয়াহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

তৃতীয়ত: অধ্যাপক ডক্টর আব্দুল আল-সালিম মাকরাম রচিত 'তাফসিরে কুরতুবির কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহ' নামক গ্রন্থ। এটি বিষয়টির ওপর কোনো মৌলিক গবেষণা নয়, বরং তাফসিরে কুরতুবিতে আসা কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহের একটি সংকলন এবং সেগুলোর উৎস নির্ণয়, সাথে এই উদ্ধৃতিগুলোর প্রয়োগস্থলও এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ১৪১৮ হিজরিতে দারু আলমিল কুতুব থেকে প্রথম সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে।

চতুর্থত: ডক্টর মুসাঈদ বিন সুলাইমান আত-তাইয়ারের 'আল-কুরআনুল কারিমের ভাষাগত তাফসির' শীর্ষক পিএইচডি থিসিস, যা তিনি ১৪২১ হিজরিতে রিয়াদের উসুলুদ্দিন অনুষদের কুরআন বিভাগে পেশ করেছেন এবং ১৪২২ হিজরিতে দারু ইবনিল জাওজি থেকে এটি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি সেখানে বেশ কয়েকটি স্থানে কাব্যিক উদ্ধৃতি এবং এর গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন এবং এই বিষয়টি নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে গবেষণার গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এই গবেষণার প্রকৃতি, নির্ধারিত সময়ের স্বল্পতা এবং তাফসির গ্রন্থসমূহে কাব্যিক উদ্ধৃতির প্রাচুর্যের কারণে আমি আমার এই অধ্যয়নকে কতিপয় তাফসির গ্রন্থ এবং গরিবুল কুরআন ও মাআনিল কুরআন বিষয়ক গ্রন্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি, যা এই অধ্যায়ে মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য। যদিও অন্যান্য গ্রন্থগুলোও গবেষণার যোগ্য, তবে সেগুলোর কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহ সাধারণত এই গ্রন্থসমূহে যা আছে তার বাইরে নয়। আর সেই গ্রন্থগুলো হলো:
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ৯)
أولًا: «جامع البيان في تأويل آي القرآن» للإمام محمد بن جرير الطبري (ت 310 هـ) رحمه الله، حيث اشتمل على أكثر من ألفين ومائتي شاهدٍ شعري، وكان لابن جرير سبقٌ في العناية بالشواهد الشعرية أتى البحث على بيانه وإيضاحه. وقد اعتمدت في هذا البحث طبعتين لهذا التفسير، الأولى التي حققها العالمان الجليلان أحمد محمد شاكر، ومحمود محمد شاكر، ومُعظَمُ العملِ فيها لِمَحمود رَحِمهما الله، وأشير إليها في البحث بـ «تفسير الطبري (شاكر)»، وطبعتها دارُ المعارف بالقاهرة وينتهي الجزء السادس عشر منها بتفسير الآية السابعة والعشرين من سورة إبراهيم، والطبعة الثانية التي حققها معالي الدكتور عبدالله بن عبدالمُحسن التركي بالتعاون مع مركز البحوث والدراسات العربية والإسلامية بدار هجر، وأشير إليها في البحث بـ «تفسير الطبري (هجر)».

ثانيًا: تفسير «الكشاف» للزمخشري (ت 538 هـ)، وهذا التفسير قد عُنِيَ بالجانب البلاغي وكان له منهجه الخاص في الاستشهاد بالشعر في التفسير، كان مرحلةً جديدةً في فتح الباب للاستشهادِ بشعرِ المُحدَثين من الشعراء، وتَجويزِ ذلك، وسيأتي بسط المسألة.

ثالثًا: «المُحرر الوجيز في تفسير الكتاب العزيز» للقاضي عبدالحق ابن عطية الأندلسي (ت 542 هـ)، وقد اشتمل على ما يزيد عن ألفٍ وتسعمائةِ شاهد شعري، وهو من التفاسير الأصيلة المتقدمة، وكان له عناية بالشاهد الشعري في تفسيره. وقد اعتمدت في البحث على طبعتين، الأولى التي حققها المجلس العلمي بفاس بالمغرب، وصدرت في ستة عشر جزءًا، وعند الإشارة إليها أكتفي بعبارة «المحرر الوجيز». والطبعة الثانية التي حققها السيد عبدالعال السيد إبراهيم وآخرين، وطبعتها وزارة الأوقاف القطرية، وقد أشرت إليها في البحث بـ «المحرر الوجيز (قطر)».

رابعًا: «الجامع لأحكام القرآن» للإمام القرطبي (ت 671 هـ)، فقد
প্রথমত: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত-তাবারী (মৃত্যু ৩১০ হিজরি) রহিমাহুল্লাহ-এর ‘জামি আল-বায়ান ফী তাউইল আয়িল কুরআন’, যা দুই হাজার দুইশরও বেশি কাব্যিক উদ্ধৃতি সমৃদ্ধ। কাব্যিক উদ্ধৃতির প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়ার ক্ষেত্রে ইবনে জারীর অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, যা বর্তমান গবেষণায় বিশ্লেষণ ও স্পষ্ট করা হয়েছে। আমি এই গবেষণায় এই তাফসীরের দুটি সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি: প্রথমটি যা দুই মহান আলেম আহমদ মুহাম্মদ শাকির এবং মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির সম্পাদনা করেছেন এবং এর অধিকাংশ কাজই মাহমুদ (রহিমাহুমাল্লাহ) সম্পন্ন করেছেন। এই গবেষণায় আমি একে ‘তাফসীরে তাবারী (শাকির)’ হিসেবে উল্লেখ করেছি। এটি কায়রোর দারুল মাআরিফ থেকে প্রকাশিত এবং এর ষোড়শ খণ্ডটি সূরা ইব্রাহিমের সাতাশ নম্বর আয়াতের তাফসীর দ্বারা সমাপ্ত হয়েছে। দ্বিতীয় সংস্করণটি ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কী কর্তৃক দারুল হাজার-এর আরব ও ইসলামি গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্রের সহযোগিতায় সম্পাদিত হয়েছে। গবেষণায় আমি এটিকে ‘তাফসীরে তাবারী (হাজর)’ হিসেবে উল্লেখ করেছি।

দ্বিতীয়ত: আজ-জামাখশারী (মৃত্যু ৫৩৮ হিজরি)-এর তাফসীর ‘আল-কাশশাফ’। এই তাফসীরটি আলঙ্কারিক দিকের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে এবং তাফসীরে কাব্যিক উদ্ধৃতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। এটি পরবর্তী যুগের (মুহদাসীন) কবিদের কবিতা উদ্ধৃতি হিসেবে গ্রহণের পথ উন্মোচন এবং তার বৈধতা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্যায় ছিল, যার বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।

তৃতীয়ত: কাযী আব্দুল হক ইবনে আতিয়্যাহ আল-আন্দালুসী (মৃত্যু ৫৪২ হিজরি)-এর ‘আল-মুহাররার আল-ওয়াজিজ ফী তাফসীরিল কিতাবিল আযীয’। এটি এক হাজার নয়শরও বেশি কাব্যিক উদ্ধৃতি ধারণ করে। এটি প্রাচীনতম মৌলিক তাফসীরগুলোর একটি এবং এর রচয়িতা নিজ তাফসীরে কাব্যিক উদ্ধৃতির প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন। আমি এই গবেষণায় দুটি সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি: প্রথমটি যা মরক্কোর ফাস-এর আল-মাজলিস আল-ইলমী দ্বারা সম্পাদিত এবং ষোলটি খণ্ডে প্রকাশিত। এর উদ্ধৃতির সময় আমি কেবল ‘আল-মুহাররার আল-ওয়াজিজ’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছি। দ্বিতীয় সংস্করণটি যা আস-সায়্যিদ আব্দুল আল আস-সায়্যিদ ইব্রাহিম এবং অন্যান্যরা সম্পাদনা করেছেন এবং কাতারের আওকাফ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছে। আমি এই গবেষণায় একে ‘আল-মুহাররার আল-ওয়াজিজ (কাতার)’ হিসেবে উল্লেখ করেছি।

চতুর্থত: ইমাম আল-কুরতুবী (মৃত্যু ৬৭১ হিজরি)-এর ‘আল-জামি’ লি-আহকামিল কুরআন’, তিনি...
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ১০)
قارب عدد شواهده من الشعر خَمسة الآف شاهد، شَملت شواهد اللغة والغريب، والنحو والقراءات والبلاغة والأدب والتاريخ، وهو أوسع كتب التفسير التي درستها إيرادًا للشعر لتأخره واطلاعه على شواهد المتقدمين. وقد اعتمدت في هذا الكتاب على طبعة دار الكتب المصرية الأولى عد الجزء الأول والثالث من الطبعة الثالثة.

خامسًا: «مجاز القرآن» لأبي عبيدة مَعْمَر بن المُثَنَّى البَصري (ت 210 هـ)، حيث زادت شواهده عن تسعمائةٍ وخَمسين شاهدًا، ويُعدُّ عُمدةً ومصدرًا أصيلًا في شواهد الشعر عند المفسرين وغيرهم، وقد عُنِي العلماءُ بشواهدهِ وشَرحُوها.

سادسًا: «معاني القرآن» ليحيى بن زكريا الفراء الكوفي (ت 207 هـ)، وهو كسابقه من أهم الكتب التي عنيت بالشاهد الشعري في تفسير أساليب القرآن، وفهم معانيه.

سابعًا: «تفسير غريب القرآن»، و «تأويل مشكل القرآن» كلاهما لابن قتيبة (ت 276 هـ)، لوفرة شواهدِهِما، وتقدم وفاة مؤلفهما، واعتماد من جاء بعده من المفسرين على كتبه.

كما رجعت إلى غير هذه المصادر من كتب التفسير والغريب والمعاني واللغة والنحو وشروح الشواهد والشعر الجاهلي حسب الحاجة، في بعض المسائل لحاجة البحث إلى ذلك، ورغبة في اكتمال الصورة.

• منهج البحث:

انتفعتُ في بَحثي بالمنهجِ الوصفيِّ والتحليليِّ معًا في البحث العلمي، مع اللجوءِ للإحصاءِ رغبةً في الحصولِ على نتائجَ دقيقةٍ بقدر الطاقة، خاصةً في دراسة الشعراءِ الذين اعتمدَ عليهم المفسرون في الاستشهاد، والقبائل التي ينتمي إليها شعراءُ الاحتجاجِ، والنسب الإحصائية ذات الدلالة، كما استفدت من المنهج التاريخي في بعض
এর কাব্যিক উদাহরণের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ভাষা, দুর্লভ শব্দ, ব্যাকরণ, কিরাত, অলঙ্কারশাস্ত্র, সাহিত্য ও ইতিহাসের উদাহরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরবর্তী সময়ের হওয়ার কারণে এবং পূর্ববর্তী আলেমদের উদাহরণের প্রতি সম্যক অবহিত হওয়ার ফলে এটি আমার অধ্যয়ন করা তাফসির গ্রন্থগুলোর মধ্যে কাব্যের উদ্ধৃতি প্রদানের দিক থেকে সর্বাধিক বিস্তৃত গ্রন্থ। আমি এই বইটিতে দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-এর প্রথম মুদ্রণের ওপর নির্ভর করেছি, কেবল প্রথম ও তৃতীয় খণ্ড ব্যতীত যা তৃতীয় মুদ্রণ থেকে নেওয়া হয়েছে।

পঞ্চম: আবু উবাইদাহ মা’মার বিন আল-মুসান্না আল-বাসরি (মৃত্যু ২১০ হি.) বিরচিত «মাজাজুল কুরআন», যার কাব্যিক উদাহরণের সংখ্যা নয়শত পঞ্চাশের অধিক। এটি মুফাসসিরগণ এবং অন্যান্যদের নিকট কাব্যিক উদাহরণের ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি ও মূল উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। আলেমগণ এর উদাহরণগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

ষষ্ঠ: ইয়াহইয়া বিন জাকারিয়া আল-ফাররা আল-কুফি (মৃত্যু ২০৭ হি.) বিরচিত «মা’আনিল কুরআন», যা পূর্ববর্তীটির ন্যায় কুরআনের রীতি ব্যাখ্যা এবং এর অর্থ অনুধাবনের ক্ষেত্রে কাব্যিক উদাহরণের প্রতি গুরুত্বারোপকারী অন্যতম প্রধান একটি গ্রন্থ।

সপ্তম: ইবনে কুতাইবাহ (মৃত্যু ২৭৬ হি.) বিরচিত «তাফসিরু গারিবিল কুরআন» এবং «তা’উইলু মুশকিলিল কুরআন»; এগুলোর উদাহরণের প্রাচুর্য, লেখকের প্রাচীনকাল এবং পরবর্তী মুফাসসিরদের তাঁর গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে এগুলো গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়াও গবেষণার প্রয়োজনে কিছু মাসআলায় এবং বিষয়বস্তুর পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রদানের লক্ষে আমি প্রয়োজনানুসারে তাফসির, গারিব, মা’আনি, ভাষা, ব্যাকরণ, উদাহরণের ব্যাখ্যা এবং জাহেলি কাব্যের অন্যান্য উৎসের দিকেও প্রত্যাবর্তন করেছি।

• গবেষণা পদ্ধতি:

আমি আমার গবেষণায় বৈজ্ঞানিক গবেষণার বর্ণনামূলক ও বিশ্লেষণাত্মক উভয় পদ্ধতিই ব্যবহার করেছি। পাশাপাশি সাধ্যানুযায়ী সঠিক ফলাফল লাভের উদ্দেশ্যে পরিসংখ্যানের সাহায্য নিয়েছি, বিশেষ করে ঐ সকল কবিদের অধ্যয়নের ক্ষেত্রে যাদের ওপর মুফাসসিরগণ প্রমাণের জন্য নির্ভর করেছেন, এবং যে সকল গোত্রের সাথে এই সকল কবিরা সম্পর্কিত ছিলেন, এবং তাৎপর্যপূর্ণ পরিসংখ্যানগত অনুপাতের ক্ষেত্রে। এছাড়াও আমি কিছু ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক পদ্ধতি থেকেও উপকৃত হয়েছি...
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ১১)
المسائل التي تطلبت ذلك، فكان المنهجُ التوفيقيُّ الذي يَجمعُ بين مناهجِ البحث العلميِّ المتبعةِ في الدراسات العلميَّةِ المعاصرة هو المنهجَ الذي سِرتُ عليهِ في هذا البحث، وسلكت في كتابة البحث المنهج الآتي:

- وضعت الآيات بين قوسين للآيات القرآنية هكذا {}.

- عزوت الآيات إلى سورها من القرآن الكريم، وذلك بكتابة اسم السورة ورقم الآية بعدها مباشرة في الحاشية.

- خرَّجت الأحاديث والآثار التي وردت في البحث من مصادرها المعتمدة من كتب السنة النبوية، فإن كان الحديث أو الأثر مخرجًا في الصحيحين أو أحدهما اكتفيت بذلك وإلا خرجته من الكتب والمصادر الأخرى ونقلت حكم أهل الحديث عليه.

- جَمعت الأقوال والمسائل التي تتعلق بموضوع البحث من الكتب الأساسية في البحث في بطاقات، وقد زاد عدد هذه البطاقات عن عشرة الآف بطاقة، ثم رتبت هذه البطاقات بحسب موضوعاتها، ووضعتها في مكانها من البحث، ثُمَّ جَمعتُ كل ما استطعت الوصول إليه من معلومات متعلقة بالبحث في كتب التفسير الأخرى، وكتب علوم القرآن، واللغة، والنقد الأدبي، وشروح الشعر الجاهلي، وغيرها، وأخذ مني ذلك وقتًا طويلًا، ولم أكتب خلال ذلك شيئًا في الموضوع غير ما دونته في تلك البطاقات، وكنت كلما أعدت قراءة هذه البطاقات بدا لي جانب من البحث واتضح، فأضطر إلى إعادة قراءة ما كنت كتبته مرات أخرى، ولم أبدأ في الكتابة إلا بعد أن اتضح لي الموضوع اتضاحًا كاملًا، وأرجو أن لا يكون نَدَّ عني شيءٌ ذو بالٍ إِنْ شاء الله، ثُمَّ شَرَعتُ في الكتابة بعد ذلك مُسترشدًا بتوجيهات المشرفَين الكريِمَين وفقهما الله.

- اعتمدت على المصادر الأصلية في كل مسألةٍ بِحسبها، ما استطعت، فإن لم أجد لجأت إلى المصادر المتأخرة عنها.
যেসকল বিষয়ের কারণে এটি আবশ্যক হয়েছে, সমসাময়িক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অনুসৃত গবেষণার পদ্ধতিগুলোর সমন্বয়কারী সমন্বয়ধর্মী পদ্ধতিই হলো সেই পদ্ধতি যা আমি এই গবেষণায় অনুসরণ করেছি। আমি এই গবেষণাটি লেখার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করেছি:

- আমি কুরআনের আয়াতগুলোকে এই ধরণের বন্ধনীর {} মধ্যে রেখেছি।

- আমি পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরার অন্তর্ভুক্ত করেছি; আর তা হলো টীকায় সরাসরি সূরার নাম এবং তারপরে আয়াত নম্বর লিখে।

- গবেষণায় বর্ণিত হাদীস ও আছারসমূহ সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে তাদের নির্ভরযোগ্য উৎস অনুযায়ী চয়ন (তাখরিজ) করেছি। হাদীস বা আছারটি যদি সহীহাইনের বা তার যেকোনো একটিতে বর্ণিত থাকে, তবে আমি তাতেই যথেষ্ট হয়েছি; অন্যথায় আমি অন্যান্য কিতাব ও উৎসসমূহ থেকে তা বের করেছি এবং এর ওপর হাদীস বিশারদদের সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেছি।

- আমি গবেষণার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট উক্তি ও মাসআলাসমূহ মূল উৎসগ্রন্থগুলো থেকে কার্ডে সংগ্রহ করেছি। এই কার্ডগুলোর সংখ্যা দশ হাজারেরও বেশি হয়েছে। এরপর আমি এই কার্ডগুলোকে তাদের বিষয়বস্তু অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি এবং গবেষণার যথাযথ স্থানে স্থাপন করেছি। অতঃপর আমি গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য যা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে তা অন্যান্য তাফসীর গ্রন্থ, উলুমুল কুরআন, ভাষা, সাহিত্য সমালোচনা, জাহেলি কবিতার ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করেছি। এতে আমার দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়েছে। এই সময়ে আমি উক্ত কার্ডগুলোতে যা লিপিবদ্ধ করেছি তা ছাড়া এই বিষয়ে কিছুই লিখিনি। যখনই আমি এই কার্ডগুলো পুনরায় পড়তাম, গবেষণার একটি দিক আমার কাছে প্রকাশিত ও স্পষ্ট হতো, তখন আমি যা লিখেছিলাম তা পুনরায় পড়তে বাধ্য হতাম। বিষয়টি আমার কাছে সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট হওয়ার আগে আমি লেখা শুরু করিনি। আমি আশা করি ইনশাআল্লাহ কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই আমার এড়িয়ে যায়নি। এরপর আমি সম্মানিত দুই তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশনায় লেখা শুরু করি, আল্লাহ তাঁদের তাওফিক দান করুন।

- আমি প্রতিটি মাসআলায় সাধ্যমতো তার মূল উৎসের ওপর নির্ভর করেছি। যদি তা না পেয়েছি, তবে আমি পরবর্তীকালের উৎসগুলোর আশ্রয় নিয়েছি।
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ১২)
- عند الإحالة إلى المرجع أو المصدر في أول موضع أكتفي بذكر عنوان الكتاب إن كان مشهورًا ولا أذكر اسم المؤلف إلا عند الاشتباه، ثُمَّ أُتبعهُ بالجزء والصفحة، وأذكر تفصيلًا كاملًا عن المرجع في ثَبت المراجع والمصادر في نِهاية البحث.

- نسبت الشواهد الشعرية الواردة في البحث إلى قائليها، إلا ما لم يعرف له قائل، فأكتفي بكتابة: لم أعثر عليه، أو لم أجده، وقد اعتمدت الإحالة إلى ديوان الشاعر الأصلي، أو المجموع، وإلا أحلت إلى المراجع الأدبية المعتمدة التي ذكرت الشاهد، وربما لا أجد من نسب الشاهد قبل المرجع الذي أنقل منه، فأحيل إلى مراجع متأخرة لمن أراد مصدرًا آخر، لا لتوثيقه.

- ما أنقله بنصه فإني أضعه بين قوسين مزدوجين هكذا «»، وما نقلته بمعناه أكتفي بالإشارة إليه في الحاشية بعد عبارة (انظر: ).

- عرَّفتُ بالأعلام غير المشهورين في الرسالةِ بإيجازٍ، وأحلت إلى مرجع أو مرجعين للاستزادة، وأَتبعتُ اسمَ العَلَمِ في المَتْنِ بذكرِ سنةِ وفاتهِ إِنْ رأيتُ حاجةً لذلك في فهم المسألةِ وتسلسلها التاريخي، وأما الشعراءُ فأَحَلْتُ إلى تَرجَمتِهم في طبقات الشعراء لابن سلَّام، والشعر والشعراء لابن قتيبة، لكونِهما مِنْ أوثقِ المصادر المتقدمة في ترجَمة الشعراء، فإن لم أجد الشاعرَ فيهما، أو في أحدهما أَحلتُ إلى مصادر أخرى.

- لا أطيل في مناقشة الأمثلة التي أوردها بتحقيق المسائل التي اشتملت عليها مما لا علاقة له بالشاهد الشعري؛ لأن الغرض التمثيل، ورغبة في تركيز البحث في موضوع الشاهد الشعري، دون الاستطراد إلى مسائل أخرى بُحِثَتْ بَحثًا مُستقلًا في دراسات مطبوعة، وأكتفي بالإحالة إلى مواضع بحث هذه المسائل.
তথ্যসূত্র বা উৎসের প্রথম উল্লেখের ক্ষেত্রে, বইটি প্রসিদ্ধ হলে আমি কেবল বইয়ের শিরোনাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি এবং কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ না থাকলে লেখকের নাম উল্লেখ করিনি। এরপর খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি এবং গবেষণার শেষে তথ্যসূত্র ও উৎসের তালিকায় রেফারেন্স সম্পর্কে পূর্ণ বিবরণ প্রদান করেছি।

গবেষণায় উল্লেখিত কাব্যিক উদ্ধৃতিগুলো তাদের রচয়িতাদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছি। তবে যাদের রচয়িতা জানা যায়নি, তাদের ক্ষেত্রে কেবল ‘আমি এটি খুঁজে পাইনি’ বা ‘আমি এটি লাভ করিনি’ লেখাই যথেষ্ট মনে করেছি। আমি কবির মূল কাব্যগ্রন্থ বা সংকলনের উদ্ধৃতি দেওয়ার ওপর নির্ভর করেছি। অন্যথায়, সেই নির্ভরযোগ্য সাহিত্যিক উৎসগুলোর উদ্ধৃতি দিয়েছি যেখানে উদ্ধৃতিটি বর্ণিত হয়েছে। অনেক সময় হয়তো আমি যে উৎস থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি তার পূর্ববর্তী কেউ এটিকে কারও দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেননি; সেক্ষেত্রে যারা অন্য কোনো উৎস তালাশ করছেন তাদের জন্য পরবর্তীকালীন উৎসগুলোর উদ্ধৃতি দিয়েছি, সেটিকে প্রামাণ্য সাব্যস্ত করার জন্য নয়।

যা আমি হুবহু উদ্ধৃত করেছি তা এই রূপ ডবল ব্র্যাকেটের « » মধ্যে রেখেছি। আর যা আমি মর্মার্থ অনুযায়ী বর্ণনা করেছি, পাদটীকায় ‘দেখুন:’ কথাটির পর সেদিকে ইঙ্গিত করাই যথেষ্ট মনে করেছি।

এই গবেষণাপত্রে অপরিচিত ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় প্রদান করেছি এবং অধিকতর জানার জন্য এক বা একাধিক তথ্যসূত্রের উল্লেখ করেছি। মূল পাঠে কোনো ব্যক্তির নামের সাথে তার মৃত্যুসাল উল্লেখ করেছি, যদি বিষয়টি বুঝতে এবং তার ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রয়োজন মনে হয়। আর কবিদের ক্ষেত্রে তাদের জীবনীর জন্য ইবনে সাল্লামের ‘তাবাকাতুশ শুয়ারা’ এবং ইবনে কুতায়বার ‘আশ-শি'রু ওয়াশ-শুয়ারা’ গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়েছি; কারণ কবিদের জীবনীর ক্ষেত্রে এ দুটি প্রাচীনতম ও নির্ভরযোগ্য উৎস। যদি উক্ত দুটি গ্রন্থে বা এদের কোনো একটিতে কোনো কবিকে না পাই, তবে অন্য উৎসের উদ্ধৃতি দিয়েছি।

আমি উদ্ধৃত উদাহরণগুলোর অন্তর্ভুক্ত এমন সব মাসআলা যাচাই করার ক্ষেত্রে দীর্ঘ আলোচনা করিনি যেগুলোর সাথে কাব্যিক উদ্ধৃতির কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ এখানে উদ্দেশ্য হলো দৃষ্টান্ত পেশ করা এবং মুদ্রিত গবেষণায় স্বতন্ত্রভাবে আলোচিত বিষয়গুলোর পুনাবৃত্তি এড়িয়ে গবেষণাকে কাব্যিক উদ্ধৃতির বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত রাখা। আমি কেবল সেসব মাসআলা আলোচনার স্থানগুলোর উদ্ধৃতি দেওয়াই যথেষ্ট মনে করেছি।
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ১৩)
- رُبَّما طال القول في بعض مباحث الرسالة، وذلك حين تكون القضية مِمَّا له صلة بجوهر موضوع الرسالة ولا سيما المباحث التمهيدية، فإنَّ الإيجاز يُذهبَ الوضوح المقنع، وقد حرصت على التوسط دون الإطالة.

- اقتضت طبيعة موضوع الرسالة، وطبيعة الخطة التي التزمتها في البحث تكرار بعض الشواهد، والتقريرات في مواضع متفرقة من الدراسة، ولم يكن بوسعي العدول عن ذلك، مع حرصي على التقليل من ذلك، وجعله في أضيق الحدود، وإن كان المثال المكرر صالحًا للموضعين معًا.

- لعلَّ من المفيد أن أذكر أنني حين بدأت في دراسة الشاهد الشعري في كتب التفسير لم يكن يدفعني إلا الموضوع نفسه، ولم يكن نصب عيني غاية بذاتها أتوخاها وأرمي إلى إقامة الدليل عليها، غير الغاية المُجرَّدة التي سينتهي إليها البحث الموضوعي وحده، فقد لحظت هذه الظاهرة في كتب التفسير فأردت أن أتتبعها لأرى هل لها من أثر في التفسير أم لا، ولذا فلم يكن من المُحبِط لي أَنَّنِي لم أجد في بعض المباحث أَثرًا كبيرًا للشاهد الشعري في كتب التفسير، بل اعتبرت ذلك نتيجةً مهمةً من نتائج البحث العلمي التي يرمي إليها، فقد يقرأ الباحث كتابًا يستغرق منه الوقت الطويل ثُمَّ لا يَخرجُ منه بشيء يفيده في بحثه.

• خطة البحث:

قَسَّمتُ خطةَ البحث بعدَ هذه المقدمةِ التي بينت فيها أهمية الموضوع وأسباب اختياره، ومنهج البحث، إلى تَمهيدٍ، وبابَيْن وخاتِمة.

أما التمهيد فهو مدخلٌ عَرَّفتُ فيه الشِّعرَ في اللغة والاصطلاح ثمَّ تَحدثتُ حديثًا مُختصرًا عن نشأة الشعر العربي والأقوال التي قيلت في ذلك، ثم تطرقت بعد ذلك إلى الأثر الذي أحدثه الإسلام في الشعر، ثُمَّ
গবেষণাপত্রের কোনো কোনো আলোচনায় কথা কিছুটা দীর্ঘ হয়েছে, বিশেষ করে যখন বিষয়টি গবেষণাপত্রের মূল বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত ছিল, বিশেষ করে প্রারম্ভিক আলোচনাগুলোতে। কারণ, সংক্ষিপ্ততা অনেক সময় সন্তোষজনক স্পষ্টতাকে নষ্ট করে দেয়। আমি দীর্ঘ না করে মধ্যমপন্থা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি।

গবেষণাপত্রের বিষয়ের প্রকৃতি এবং গবেষণায় আমি যে পরিকল্পনা অনুসরণ করেছি, তার কারণে অধ্যয়নের বিভিন্ন স্থানে কিছু কিছু কাব্যিক সাক্ষ্য এবং বর্ণনার পুনরাবৃত্তি প্রয়োজন হয়েছে। এই পদ্ধতি পরিহার করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না, তবে আমি তা যথাসম্ভব কমিয়ে সীমিত পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি, যদিও পুনরাবৃত্ত উদাহরণটি উভয় স্থানের জন্যই উপযুক্ত ছিল।

সম্ভবত এটি উল্লেখ করা উপকারী হবে যে, তাফসির গ্রন্থসমূহে কাব্যিক সাক্ষ্য (শাহিদ) বিষয়ক অধ্যয়ন যখন শুরু করি, তখন কেবল বিষয়টির প্রতি আগ্রহই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিল। আমার সামনে এমন কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না যা প্রমাণের জন্য আমি সচেষ্ট ছিলাম; বরং বস্তুনিষ্ঠ গবেষণার মাধ্যমে যে স্বতন্ত্র ফলাফল উঠে আসবে সেটুকুই ছিল লক্ষ্য। আমি তাফসির গ্রন্থগুলোতে এই বিষয়টি লক্ষ্য করি এবং এটি অনুসন্ধান করতে চাই যে, তাফসিরের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব আছে কি না। তাই কিছু কিছু আলোচনায় তাফসির গ্রন্থে কাব্যিক সাক্ষ্যের বড় কোনো প্রভাব খুঁজে না পাওয়া আমার জন্য হতাশাজনক ছিল না; বরং আমি বিষয়টিকে বৈজ্ঞানিক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করেছি। কেননা, একজন গবেষক অনেক সময় কোনো একটি কিতাব পাঠ করতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন, অথচ পরিশেষে তার গবেষণার জন্য উপকারী তেমন কিছুই পান না।

• গবেষণার পরিকল্পনা:

এই ভূমিকার পর—যাতে আমি বিষয়টির গুরুত্ব, নির্বাচনের কারণ এবং গবেষণা পদ্ধতি বর্ণনা করেছি—আমি গবেষণার পরিকল্পনাকে একটি উপক্রমণিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি।

উপক্রমণিকাটি হলো একটি প্রবেশিকা, যেখানে আমি আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে কবিতার সংজ্ঞা প্রদান করেছি। এরপর আরবি কবিতার উদ্ভব এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন মতামতের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছি। অতঃপর কবিতায় ইসলামের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেছি, এরপর...
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ১৪)
ختمتُ التمهيدَ ببيان الحكم الشرعي الفقهيِّ في الشِّعرِ، وحكم الاستشهادِ به في تفسير القرآن الكريم وضوابط ذلك. وكانت بقيةُ تفاصيلِ الخطةِ على النحو الآتي:

الباب الأول: الشعر وموقف علماء السلف من الاستشهاد به في تفسير القرآن الكريم. اشتمل على فصلين:

الفصل الأول: الشاهد الشعري، فيه سبعة مباحث:

المبحث الأول: تعريف الشاهد الشعري.

المبحث الثاني: أنواع الشواهد الشعرية.

المبحث الثالث: الشاهدُ الشعري المُحْتَجُّ به.

المبحث الرابع: عيوب الشاهد الشعري.

المبحث الخامس: مصادر الشعر المُحتج به.

المبحث السادس: صلة الشاهد الشعري بالتفسير اللغوي.

المبحث السابع: الرد على التشكيك في الشعر الجاهلي، وخطره على تفسير القرآن.

الفصل الثاني: الاستشهاد بالشعر في التفسير وموقف السلف منه، فيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: منهج الصحابة في الاستشهاد بالشعر في التفسير.

المبحث الثاني: تحقيق مسائل نافع بن الأزرق من حيث ثبوتها وحجيتها.

المبحث الثالث: منهج التابعين وأتباعهم في الاستشهاد بالشعر في التفسير.

الباب الثاني: مناهج المفسرين في الاستشهاد بالشعر وأثر الشاهد الشعري في التفسير. يشتمل على ثلاثة فصول:
আমি কবিতার বিষয়ে শরয়ি ফিকহি বিধান এবং কুরআনুল কারিমের তাফসিরের ক্ষেত্রে কবিতার মাধ্যমে দলীল প্রদানের বিধান ও এর শর্তাবলি বর্ণনার মাধ্যমে উপক্রমণিকা সমাপ্ত করেছি। পরিকল্পনার বাকি বিবরণ নিম্নরূপ:

প্রথম অধ্যায়: কবিতা এবং কুরআনুল কারিমের তাফসিরে কবিতার মাধ্যমে দলীল প্রদানের ক্ষেত্রে সালাফী আলেমদের অবস্থান। এটি দুটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কাব্যিক প্রমাণ, এতে সাতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: কাব্যিক প্রমাণের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কাব্যিক প্রমাণের প্রকারভেদ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য কাব্যিক প্রমাণ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: কাব্যিক প্রমাণের ত্রুটিসমূহ।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: দলীলযোগ্য কবিতার উৎসসমূহ।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: ভাষাগত তাফসিরের সাথে কাব্যিক প্রমাণের সম্পর্ক।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: জাহেলি কবিতা নিয়ে সন্দেহের নিরসন এবং কুরআনের তাফসিরের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাফসিরের ক্ষেত্রে কবিতার মাধ্যমে দলীল প্রদান এবং এ বিষয়ে সালাফদের অবস্থান, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাফসিরের ক্ষেত্রে কবিতার মাধ্যমে দলীল প্রদানের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের পদ্ধতি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নাফে ইবনুল আজরাকের মাসআলাসমূহের নির্ভুলতা ও দলীলযোগ্যতা যাচাই।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাফসিরের ক্ষেত্রে কবিতার মাধ্যমে দলীল প্রদানের ক্ষেত্রে তাবেয়ীন ও তাদের অনুসারীদের পদ্ধতি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: কবিতার মাধ্যমে দলীল প্রদানের ক্ষেত্রে মুফাসসিরগণের পদ্ধতি এবং তাফসিরের ওপর কাব্যিক প্রমাণের প্রভাব। এটি তিনটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الأول: مناهج المفسرين في الاستشهاد بالشعر، فيه خمسة مباحث:

المبحث الأول: منهجهم في إيراد الشاهد الشعري.

المبحث الثاني: مدى اعتمادهم على الشاهد الشعري في التفسير.

المبحث الثالث: منهجهم في شرح الشاهد الشعري ودلالته على المعنى المراد.

المبحث الرابع: منهجهم في توثيق الشاهد الشعري.

المبحث الخامس: أغراض إيراد الشاهد الشعري عند المفسرين.

الفصل الثاني: مناهج أصحاب كتب معاني القرآن وغريب القرآن في الاستشهاد بالشعر، فيه سبعة مباحث:

المبحث الأول: المقصود بأصحاب كتب المعاني وأصحاب كتب الغريب.

المبحث الثاني: الفرق بين كتب المعاني وكتب الغريب.

المبحث الثالث: منهجهم في إيراد الشاهد الشعري.

المبحث الرابع: مدى الاعتماد على الشاهد الشعري عندهم.

المبحث الخامس: منهجهم في توثيق الشاهد الشعري.

المبحث السادس: الفرق بين مناهج أصحاب هذه الكتب والمفسرين في توظيف الشاهد الشعري.

المبحث السابع: أغراض إيراد الشاهد الشعري عندهم.

الفصل الثالث: أثر الشاهد الشعري في تفسير القرآن، فيه أحد عشر مبحثًا:
প্রথম অধ্যায়: কবিতাকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করার ক্ষেত্রে মুফাসসিরদের পদ্ধতিসমূহ, এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কাব্যিক প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদ্ধতি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাফসীরের ক্ষেত্রে কাব্যিক প্রমাণের ওপর তাঁদের নির্ভরতার মাত্রা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কাব্যিক প্রমাণের ব্যাখ্যা এবং উদ্দিষ্ট অর্থের ওপর এর নির্দেশক হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের পদ্ধতি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কাব্যিক প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের পদ্ধতি।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মুফাসসিরদের নিকট কাব্যিক প্রমাণ উপস্থাপনের উদ্দেশ্যসমূহ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: কবিতাকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করার ক্ষেত্রে 'মা'আনিল কুরআন' ও 'গারিবুল কুরআন' বিষয়ক গ্রন্থকারদের পদ্ধতিসমূহ, এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: 'মা'আনি' গ্রন্থের রচয়িতা এবং 'গারিব' গ্রন্থের রচয়িতাদের দ্বারা যা উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: 'মা'আনি' ও 'গারিব' গ্রন্থসমূহের মধ্যকার পার্থক্য।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কাব্যিক প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদ্ধতি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁদের নিকট কাব্যিক প্রমাণের ওপর নির্ভরতার মাত্রা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: কাব্যিক প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের পদ্ধতি।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কাব্যিক প্রমাণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই সকল গ্রন্থের রচয়িতা এবং মুফাসসিরদের পদ্ধতির মধ্যকার পার্থক্য।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁদের নিকট কাব্যিক প্রমাণ উপস্থাপনের উদ্দেশ্যসমূহ।

তৃতীয় অধ্যায়: কুরআন তাফসীরে কাব্যিক প্রমাণের প্রভাব, এতে এগারোটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الأول: أثره في إيضاح المعنى.

المبحث الثاني: أثره في توجيه القراءات.

المبحث الثالث: أثره في الجانب العَقَديِّ عند المفسرين.

المبحث الرابع: أثره في الجانب الفقهي.

المبحث الخامس: أثره في الترجيح بين الأقوال.

المبحث السادس: أثره في بيان الأساليب القرآنية.

المبحث السابع: أثره في نسبة اللغات للقبائل.

المبحث الثامن: أثره في الحكم بعربية بعض الألفاظ وفصاحتها.

المبحث التاسع: أثره في بيان الأحوال التي نزلت فيها الآيات.

المبحث العاشر: أثره في معرفة الأماكن.

المبحث الحادي عشر: صلة الشعر الجاهلي بإعجاز القرآن الكريم.

الخاتِمة، لخصت فيها أهمَّ نتائج البحث.

الفهارس، اشتملت على الفهارس الآتية:

ثبت المصادر والمراجع.

فهرس الموضوعات.

* * *

وبعدُ، فهذا جهد علمي متواضع، في موضوعٍ فيه قدرٌ من الصعوبةِ لاتصاله بعِلمين من أكبَرِ علومِ الإسلام، وهُما التفسير والعربية، وقد عانيت في بداية البحث من الغموض الشديد الذي أحاط بي، ثُمَّ ما لبث أَنْ تَبدَّدَ شيئًا فشيئًا، بفضل الله سبحانه وتعالى ثُمَّ بتوجيهاتِ المُشرِفَين على هذا
প্রথম পরিচ্ছেদ: অর্থ স্পষ্টীকরণে এর প্রভাব।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিরাতসমূহের দিকনির্দেশনায় এর প্রভাব।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুফাসসিরগণের নিকট আকিদাগত দিক থেকে এর প্রভাব।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ফিকহী দিক থেকে এর প্রভাব।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বিভিন্ন মতামতের মধ্যে প্রাধান্য (তারজিহ) নির্ধারণে এর প্রভাব।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কুরআনী শৈলী বর্ণনায় এর প্রভাব।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: বিভিন্ন গোত্রের সাথে ভাষাসমূহকে সম্পর্কিত করার ক্ষেত্রে এর প্রভাব।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: কতিপয় শব্দের আরবি রূপ ও প্রাঞ্জলতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রে এর প্রভাব।

নবম পরিচ্ছেদ: আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনায় এর প্রভাব।

দশম পরিচ্ছেদ: স্থানসমূহ পরিচিতির ক্ষেত্রে এর প্রভাব।

একাদশ পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের মুজিযার সাথে জাহেলি কবিতার সম্পর্ক।

উপসংহার, এতে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরেছি।

নির্ঘণ্টসমূহ, এতে নিম্নোক্ত সূচিপত্রগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

উৎস ও তথ্যসূত্র তালিকা।

বিষয়সূচি।

* * *

অতঃপর, এটি একটি বিনম্র জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রচেষ্টা এমন একটি বিষয়ের ওপর যাতে কিছুটা কাঠিন্য রয়েছে, যেহেতু এটি ইসলামের সুমহান দুটি শাখা—তাফসীর ও আরবি ভাষার সাথে সম্পর্কিত। গবেষণার শুরুতে আমি তীব্র অস্পষ্টতার সম্মুখীন হয়েছিলাম যা আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অনুগ্রহে এবং পরবর্তীতে এই গবেষণার তত্ত্বাবধায়কদ্বয়ের নির্দেশনায় তা ধীরে ধীরে দূরীভূত হতে থাকে।
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ১৭)
البحث وفقهما الله؛ وذلك لكثرة المسائل التي ينبغي التطرق لها، ودراستها في عدد كبير من المصادر، وتفرقِ جُزئياتِها في كتب كثيرة متباعدة.

وإِنَّ ما تضمنه هذا البحث، من الجديد في تفسير ظواهر الاستشهاد بالشاهد الشعري في كتب التفسير وتاريخها، والمناهج التي اتبعت في ذلك، والأثر الذي تركته في كتب التفسير، إِنَّما هو حصيلة ما تيسر من معلومات في كتب محددةٍ من كتب التفسير وغريب القرآن ومعانيه، أرجو أن تكون صحيحةً في أكثرها، إلا أَنَّها ليست آخر ما يُمكن قوله في هذا الموضوع، بل هي - كما أرجو لها - فاتحة منهج صحيح - إن شاء الله - في دراسة هذا الأمر في بقية كتب التفسير، ولذا فإني مدين سلفًا لكل من يصحح رأيًا في هذا البحث، أو يقوم خطأ، أو يوضح غامضًا، فإن الأمر يتعلق بكتاب الله العزيز، وإذا كان هذا مطلبًا في سائر البحوث، فإنه في بحث يتصل بالقرآن وتفسيره أولى.

وأخيرًا فإنِّي أشكرُ اللهَ سبحانه وتعالى الذي أَعانَ ووفَّقَ لإتمامِ هذا البحث على هذا الوجه، وأسأل الله أنْ ينفعَ بِه، وأَن يَجزي كُلَّ مَنْ أسدى إليَّ عَونًا لإنجازهِ خَيْرَ الجزاء في الدنيا والآخرة.

وأخص بالشكر والتقدير والدعاء الأستاذين الكريِمين المشرفَيْنِ على هذا البحث وهُما أستاذي الكريم الأستاذ الدكتور محمد بن عبدالرحمن الشايع الأستاذ بقسم القرآن وعلومه بالكلية المشرف على هذه الرسالة، والأستاذ الكريم الدكتور تركي بن سهو العتيبي عميد البحث العلمي بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، والأستاذ بقسم النحو والصرف وفقهِ اللغة بكلية اللغة العربية المشرف المساعد، اللذين لم يبخلا عليَّ بأَيِّ توجيهٍ وتعليمٍ وتقويمٍ طيلةَ إعدادي لهذا البحثِ، وأسأل الله أن
গবেষণা এবং আল্লাহ তাদের উভয়কে তাওফিক দান করুন; এর কারণ হলো এমন বহু প্রসঙ্গের আধিক্য যা আলোচনা করা এবং বহু সংখ্যক উৎস থেকে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন, আর এর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশগুলো অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন কিতাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

তাফসিরের কিতাবসমূহে কাব্যিক নিদর্শনের (শাহিদে শে’রি) মাধ্যমে দলিল প্রদানের বিষয়টির ব্যাখ্যায় যে নতুনত্ব এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, এর ইতিহাস, এতে অনুসৃত পদ্ধতিসমূহ এবং তাফসিরের কিতাবসমূহে এর যে প্রভাব রয়েছে, তা মূলত নির্দিষ্ট কিছু তাফসির গ্রন্থ, গরিবুল কুরআন ও মা’আনিল কুরআনের কিতাব থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ফসল। আমি আশা করি এর অধিকাংশ সঠিক হবে, তবে এই বিষয়ে এটিই শেষ কথা নয়; বরং আমি আশা করি—ইনশাআল্লাহ—এটি তাফসিরের অবশিষ্ট কিতাবসমূহে এই বিষয়টি অধ্যয়নের ক্ষেত্রে একটি সঠিক পদ্ধতির সূচনা হবে। তাই এই গবেষণার কোনো মতামত সংশোধনকারী, ভুল সংশোধনকারী বা কোনো অস্পষ্ট বিষয় পরিষ্কারকারী প্রত্যেকের কাছে আমি আগে থেকেই ঋণী; কারণ বিষয়টি মহান আল্লাহর কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর অন্যান্য গবেষণার ক্ষেত্রে যদি এটি একটি প্রয়োজনীয় দাবি হয়, তবে কুরআন ও তার তাফসির সংশ্লিষ্ট গবেষণায় তা আরও বেশি অগ্রগণ্য।

পরিশেষে, আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছি যিনি আমাকে এই গবেষণাটি এইভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য ও তাওফিক দান করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যাতে তিনি এর দ্বারা উপকার সাধন করেন এবং যারা আমাকে এটি সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রত্যেককে ইহকাল ও পরকালে উত্তম প্রতিদান দান করেন।

বিশেষভাবে আমি এই গবেষণার দুই সম্মানিত তত্ত্বাবধায়ককে ধন্যবাদ, শ্রদ্ধা ও দোয়া জানাচ্ছি; তারা হলেন আমার সম্মানিত শিক্ষক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আশ-শায়িয়া, অত্র কলেজের কুরআন ও উলুমুল কুরআন বিভাগের প্রফেসর এবং এই থিসিসের তত্ত্বাবধায়ক; এবং সম্মানিত প্রফেসর ড. তুর্কি বিন সাহু আল-উতাইবি, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদের ডিন এবং অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ কলেজের নাহু, সরফ ও ভাষাতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ও সহকারী তত্ত্বাবধায়ক। এই গবেষণা প্রস্তুতির পুরোটা সময় তারা আমাকে যে কোনো নির্দেশনা, শিক্ষা ও সংশোধনের বিষয়ে কোনো কার্পণ্য করেননি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন...
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ১৮)
يجعلَ ما قَدَّماهُ في موازين حسناتهما، وأن يكتب لهما أجزل الأجر والثواب.

كما أشكر أصحاب الفضيلة الذين تفضلوا بقبول قراءة هذا البحث وتقويِمِه، سائلًا الله تعالى أن يكتب لهم الأجر والثواب على حسن صنيعهم.

وأختم بشكر شقيقي الدكتور زاهر بن معاضة الشهري الذي كان لي خير أخ ومعين طيلة إعداد هذه الرسالة بدعمه المتواصل، وتشجيعه المستمر، فشكر الله له، وجزاه عني خيرًا.

والله الموفق، وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا ونبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين …

المؤلف

15/ 8/ 1426 هـ

amshehri@gmail.com

* * *
আল্লাহ যেন তাদের এই অবদানকে তাদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন এবং তাদের জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান ও সওয়াব লিপিবদ্ধ করেন।

সেই সাথে আমি ঐ সকল সম্মানিত মহোদয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা অনুগ্রহপূর্বক এই গবেষণাটি পাঠ ও মূল্যায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন; আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁদের এই উত্তম কাজের জন্য সওয়াব ও প্রতিদান দান করেন।

আমি আমার সহোদর ডক্টর জহির বিন মুয়াজাহ আশ-শেহরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেষ করছি, যিনি এই অভিসন্দর্ভটি প্রস্তুতির পুরো সময় জুড়ে নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন ও অবিরাম উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে আমার জন্য সর্বোত্তম ভাই ও সাহায্যকারী হিসেবে পাশে ছিলেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং আমার পক্ষ থেকে তাঁকে কল্যাণে ভূষিত করুন।

আল্লাহই তাওফীকদাতা। আর আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক ...

লেখক

১৫/ ০৮/ ১৪২৬ হিজরি

amshehri@gmail.com

* * *
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌التَمهيد

‌‌تعريف الشِّعرِ في اللغة.

الشِّعْرُ في اللغةِ مأخوذٌ من قولهم: شَعَرْتُ بالشيءِ إذا علمتُهُ وفطنتُ لهُ، فاشتقاق لفظة الشِّعْرِ من العلم والإدراك والفطنة. ومنه قولهم: ليت شِعري، أي علمي (1). وفي القرآن الكريم: {وَمَا يُشْعِرُكُمْ أَنَّهَا إِذَا جَاءَتْ لَا يُؤْمِنُونَ} [الأنعام: 109] (2)، أي: وما يُدريكم (3). وقوله تعالى: {وَمَا يَشْعُرُونَ} [البقرة: 9] (4) أي: لا يعلمون، ولا يدرون. (5) وسُمِّي الشاعرُ بذلك لفطنته لِما لا يَفطنُ له غيره من الناس لدقةِ حسِّهِ، ورهافة خاطره (6).

والشعرُ لغةً يشملُ كلَّ علمٍ، ولكنَّه غَلَبَ على منظومِ القول لشرفهِ بالوزن والقافية، وكونه قريضًا محدودًا بعلاماتٍ لا يُجاوزُها (7).

 

‌‌تعريف الشعر في الاصطلاح.

عُرِّفَ بتعريفات (8) من أمثلها أنه الكلام الموزون المُقَفَّى المقصودُ

--------------------------------------------

(1) انظر: تهذيب اللغة 1/ 420، مقاييس اللغة 3/ 194، الصحاح 2/ 699، لسان العرب 7/ 132 (شعر)

(2) الأنعام 109

(3) تفسير الطبري (هجر) 9/ 484.

(4) البقرة 9.

(5) تفسير الطبري (شاكر) 1/ 277، 291، مقاييس اللغة 3/ 193، الصحاح 2/ 698، لسان العرب 7/ 133 (شعر)، القاموس المحيط 533.

(6) انظر: تهذيب اللغة 1/ 420 لسان العرب 7/ 132 (شعر).

(7) انظر: المصادر السابقة.

(8) نقد الشعر 3، 7، العمدة في محاسن الشعر ونقده 1/ 193، مقدمة ابن خلدون 647، أبجد العلوم 425.
ভূমিকা

আভিধানিক অর্থে কবিতার সংজ্ঞা.

আভিধানিক অর্থে 'শির' (কবিতা) শব্দটি আরবদের এই উক্তি থেকে গৃহীত হয়েছে: "আমি বিষয়টি অনুভব করেছি" অর্থাৎ যখন আমি তা জেনেছি এবং তা উপলব্ধি করেছি। সুতরাং 'শির' বা কবিতা শব্দের উৎপত্তি জ্ঞান, বোধ এবং বিচক্ষণতা থেকে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তাদের এই উক্তি: "আহা, আমি যদি জানতাম", অর্থাৎ আমার জ্ঞান (১)। পবিত্র কুরআনে এসেছে: "আর কিসে তোমাদেরকে জানাবে যে, যখন তা আসবে তখন তারা ঈমান আনবে না?" [আল-আনআম: ১০৯] (২), অর্থাৎ: কিসে তোমাদেরকে অবহিত করবে (৩)। মহান আল্লাহর বাণী: "অথচ তারা উপলব্ধি করে না" [আল-বাকারা: ৯] (৪), অর্থাৎ: তারা জানে না এবং তারা বোঝে না (৫)। কবিকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ তার প্রখর সংবেদনশীলতা এবং সূক্ষ্ম চিন্তাশক্তির কারণে তিনি এমন সব বিষয়ে বিচক্ষণতা রাখেন যা অন্য সাধারণ মানুষ পারে না (৬)।

আভিধানিক দিক থেকে কবিতা প্রতিটি জ্ঞানকেই অন্তর্ভুক্ত করে, তবে ছন্দ ও অন্ত্যমিলের আভিজাত্যের কারণে এবং এটি একটি নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ পদ্য হওয়ার কারণে 'মনজুম' বা ছন্দোবদ্ধ বাক্যের ক্ষেত্রে এটি প্রাধান্য লাভ করেছে (৭)।

 

পারিভাষিক অর্থে কবিতার সংজ্ঞা.

কবিতাকে বিভিন্ন সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে (৮), যার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উপযোগী সংজ্ঞা হলো— এটি এমন এক উদ্দেশ্যমূলক কথা যা ছন্দোবদ্ধ ও অন্ত্যমিলযুক্ত।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাহযীবুল লুগাহ ১/৪২০, মাকায়িসুল লুগাহ ৩/১৯৪, আস-সিহাহ ২/৬৯৯, লিসানুল আরব ৭/১৩২ (শা-আ-রা)।

(২) আল-আনআম ১০৯।

(৩) তাফসীরে তাবারী (হাজর প্রকাশনী) ৯/৪৮৪।

(৪) আল-বাকারা ৯।

(৫) তাফসীরে তাবারী (শাকের প্রকাশনী) ১/২৭৭, ২৯১, মাকায়িসুল লুগাহ ৩/১৯৩, আস-সিহাহ ২/৬৯৮, লিসানুল আরব ৭/১৩৩ (শা-আ-রা), আল-কামুসুল মুহীত ৫৩৩।

(৬) দেখুন: তাহযীবুল লুগাহ ১/৪২০, লিসানুল আরব ৭/১৩২ (শা-আ-রা)।

(৭) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎসসমূহ।

(৮) নাকদুশ শির ৩, ৭, আল-উমদাহ ফী মাহাসিনিশ শির ওয়া নাকদিহি ১/১৯৩, মুকাদ্দিমাহ ইবনে খালদুন ৬৪৭, আবজাদুল উলূম ৪২৫।
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ২০)
الذي يُصوِّرُ العاطفة (1).

(فالكلامُ) جنسٌ يدخل فيه كلُّ كلامٍ، من الشعر وغيره.

و(الوزنُ) يُخرِجُ ما ليس موزونًا من الكلام. والمراد بالوزن ما كان على بُحورِ الشعر العربي التي استخرجها الخليل بن أَحْمد (2) من شعر العرب وهي خَمسة عشر بحرًا، تدارك الأخفش (3) على الخليل واحدًا هو البحر السادس عشر وسَمَّاهُ المتدارك (4).

و(المقفَّى) هو انتظام الشعر في قافية واحدة، وهي «الساكنان آخر البيت وما بينهما من الحروف المتحركة - إن وجدت - مع المتحرك الذي قبل الساكن الأول» (5). مثال ذلك، قول امرئ القيس (6):

قِفَا نَبْكِ من ذكرى حَبيبٍ ومَنْزِلِ … بِسِقْطِ اللِّوى بينَ الدخولِ فَحَوْمَلِ (7)

فالقافية هي كلمة «حَوْمَلِ». حيث يشكل حرف الواو أقرب حرف ساكن لآخر حرف في البيت، مع ما قبله وهو حرف الحاء هنا.

--------------------------------------------

(1) انظر: أصول النقد الأدبي لأحمد الشايب 298.

(2) هو أبو عبدالرحمن الخليل بن أحمد بن عبدالرحمن الفراهيدي الأزدي البصري، (100 - 170 هـ)، له كتاب العين، والعروض، وغيرها، اخترع علم العروض، والمعجم، وهو أستاذ سيبويه في النحو رحمهما الله. انظر: أخبار النحويين البصريين 54، إنباه الرواة 1/ 376.

(3) هو أبو الحسن سعيد بن مسعدة أوسط ثلاثة كلهم اشتهر بالأخفش، وإذا أطلق الأخفش دون وصف فهو المراد، روى كتاب سيبويه ونشره بين الناس، له كتاب معاني القرآن وغيره، وهو بصري المذهب في النحو. مات قبل سنة 215 هـ. انظر: إنباه الرواة 2/ 36، وبغية الوعاة 1/ 590.

(4) المعجم المفصل في علم العروض 347.

(5) العيون في القوافي 238، والعروض والقافية لأمين سالم 121.

(6) هو امرؤ القيس بن حجر بن الحارث، يلقب بذي القروح، وهو أشهر شعراء الجاهلية، وأجودهم شعرًا، مات مسمومًا عام 540 م. ومن أكثر من احتج المفسرون بشعره. انظر: طبقات فحول الشعراء 1/ 51، الشعر والشعراء 1/ 105.

(7) انظر: ديوانه 52.
যা আবেগকে চিত্রিত করে (১)।

(অতঃপর কালাম বা বাক্য) হলো এমন একটি সাধারণ শ্রেণি যার অন্তর্ভুক্ত কবিতা এবং কবিতা ব্যতিরেকে অন্য সকল প্রকার কথাবার্তা।

এবং (ছন্দ বা ওজন) কথাবার্তার মধ্য থেকে ছন্দহীন বিষয়গুলোকে পৃথক করে দেয়। ছন্দ বলতে এখানে উদ্দেশ্য হলো আরবি কবিতার সেই সকল ছন্দ-মাত্রা (বুহুর) যা খলিল ইবনে আহমাদ (২) আরবদের কবিতা থেকে উদ্ভাবন করেছেন; আর তা হলো পনেরোটি ছন্দ। পরবর্তীতে আল-আখফাশ (৩) খলিলের উদ্ভাবিত ছন্দের ওপর আরও একটি ছন্দ সংযোজন করেছেন যা ষোড়শতম ছন্দ এবং তিনি এর নামকরণ করেছেন 'আল-মুতাদারিক' (৪)।

এবং (অন্ত্যমিলযুক্ত) হলো কবিতাকে একটি নির্দিষ্ট অন্ত্যমিলে সুবিন্যস্ত করা। আর তা হলো: «চরণের শেষ দুটি সাকিন বর্ণ এবং তাদের মধ্যবর্তী হরকতবিশিষ্ট বর্ণসমূহ -যদি থাকে- এবং প্রথম সাকিন বর্ণটির ঠিক পূর্বের হরকতবিশিষ্ট বর্ণটি» (৫)। উদাহরণস্বরূপ, ইমরাউল কায়েসের (৬) এই উক্তিটি:

থামো (হে বন্ধুদ্বয়), এসো আমরা প্রিয়া ও তার বাসস্থানের স্মরণে ক্রন্দন করি … যা দাখুল ও হাওমালের মধ্যবর্তী বালিয়াড়ির প্রান্তে অবস্থিত (৭)

এখানে 'কাফিয়া' বা অন্ত্যমিল হলো «হাওমালি» শব্দটি। কারণ এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি চরণের শেষ বর্ণের নিকটতম সাকিন হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণটি এখানে হলো 'হা' বর্ণটি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আহমাদ আশ-শায়েব রচিত উসুলুন নাকদিল আদাবি ২৯৮।

(২) তিনি হলেন আবু আব্দুর রহমান খলিল ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-ফরাহিদি আল-আযদি আল-বাসরি (১০০ - ১৭০ হিজরি)। তার 'আল-আইন', 'আল-আরুয' সহ আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ইলমে আরুয (ছন্দতত্ত্ব) এবং অভিধান শাস্ত্রের উদ্ভাবক। তিনি নাহু শাস্ত্রে সিবওয়াইহের উস্তাদ ছিলেন, আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর রহম করুন। দেখুন: আখবারুন নাহুয়্যিনাল বাসরিয়্যিন ৫৪, ইনবাহুর রুওয়াত ১/৩৭৬।

(৩) তিনি হলেন আবু হাসান সাঈদ ইবনে মাসআদাহ; আল-আখফাশ উপনামে পরিচিত তিনজনের মধ্যে তিনি মধ্যবর্তী জন। যখন কোনো বিশেষণ ছাড়াই কেবল আল-আখফাশ বলা হয়, তখন তাকেই বোঝানো হয়। তিনি সিবওয়াইহের কিতাব বর্ণনা করেছেন এবং তা মানুষের মাঝে প্রচার করেছেন। তার 'মাআনিল কুরআন' সহ আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে এবং তিনি নাহু শাস্ত্রে বসরি মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন। তিনি ২১৫ হিজরির পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: ইনবাহুর রুওয়াত ২/৩৬, এবং বুগয়াতুল উওয়াত ১/৫৯০।

(৪) আল-মুজামুল মুফাসসাল ফি ইলমিল আরুয ৩৪৭।

(৫) আল-উয়ুন ফিল কাওয়াফি ২৩৮, এবং আমিন সালিমের আল-আরুয ওয়াল কাফিয়া ১২১।

(৬) তিনি হলেন ইমরাউল কায়েস ইবনে হুজর ইবনে আল-হারিস, তাকে 'যুল কুরুহ' উপাধি দেওয়া হয়। তিনি জাহেলি যুগের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং শ্রেষ্ঠ কবি। ৫৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি বিষপ্রয়োগে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সেই সব কবিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের কবিতার মাধ্যমে মুফাসসিরগণ সবচেয়ে বেশি দলিল পেশ করে থাকেন। দেখুন: তাবাকাতু ফুহুলিশ শুআরা ১/৫১, আশ-শিরু ওয়াশ শুআরা ১/১০৫।

(৭) দেখুন: তার দিওয়ান ৫২।
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ২১)
و (المقصود) يخرج الكلام الموزون الذي لم يقصد به الشعر، كبعض الآيات التي جاءت على بعض الأوزان العروضية كقوله تعالى: {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} [آل عمران: 92] (1)، وقوله تعالى: {الَّذِي أَنْقَضَ ظَهْرَكَ (3) وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ (4)} [الشرح: 3، 4] (2) فإنه كلام موزون مقفى لكنه ليس بشعر لعدم القصد إلى الشعر فيه على اصطلاح الشعراء (3).

ويخرج كذلك كلام النبي صلى الله عليه وسلم الموزون لعدم القصد إلى الشعر كذلك، وهكذا كلام غيره.

ولذلك نصَّ التهانوي (4) على ذلك فعرَّف الشعرَ بأَنَّه «الكلام الموزون المقفى الذي قصد إلى وزنه وتقفيته قصدًا أوليًا» (5)، فالمعنى عند الشاعر تابعٌ للوزن غالبًا، بِخلافِ غيره، فإِنَّ المعنى هو الأصلُ، والوزنُ يأتي عَرَضًا غَيْرَ مقصود.

وتقييدُ الشعر بأَنَّهُ يُصوِّرُ العاطفة يُخرجُ النَّظمَ الذي لا يُصوِّرُ العاطفةَ، وإِنَّما يكونُ مقصورًا على نظمِ مسائل العلومِ (6).

 

‌‌نشأة الشعر:

لم تكن الجاهليةُ التي سبقت الإسلام مباشرة البدايةَ الأولى لتاريخِ العرب عند كثير من الباحثين، فقد سبقتها جاهلية أو جاهليات قديمةٌ سَمَّاها الله {الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى} [الأحزاب: 33] (7)، وليس هناك تَحديدٌ لزمن تلك الجاهلية أو الجاهليات، وإِنْ كان المفسرون ذهبوا في تَحديدِ زمنها

--------------------------------------------

(1) آل عمران 92

(2) الشرح 3 - 4

(3) انظر: البرهان في علوم القرآن 2/ 242 وما بعدها.

(4) هو محمد بن علي بن محمد الفاروقي، التهانوي. من علماء الهند، كان حيًا عام 1158 هـ. لغوي، مشارك في بعض العلوم. له كتاب كشاف اصطلاحات الفنون. انظر: الأعلام 7/ 188، معجم المؤلفين 3/ 537.

(5) كشاف اصطلاحات الفنون 1030.

(6) مثل ألفية ابن مالك في النحو، وألفية العراقي في الحديث، والشاطبية في القراءات وغيرها.

(7) الأحزاب 33.
এবং (উদ্দেশ্য) শব্দটির মাধ্যমে এমন ছন্দোবদ্ধ কথাগুলো বাদ হয়ে যায় যার দ্বারা কাব্য উদ্দেশ্য ছিল না, যেমন কিছু আয়াত যা নির্দিষ্ট কিছু কাব্যিক ছন্দের সাথে মিলে গেছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা যা ভালোবাসো তা থেকে ব্যয় করো} [আলে ইমরান: ৯২] (১), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যা তোমার পিঠ নুইয়ে দিয়েছিল (৩) এবং আমি তোমার খ্যাতিকে উচ্চ মর্যাদা দান করেছি (৪)} [আশ-শারহ: ৩, ৪] (২)। কেননা এগুলো ছন্দোবদ্ধ এবং অন্ত্যমিলযুক্ত বাক্য হওয়া সত্ত্বেও কাব্য নয়, কারণ কবিদের পরিভাষা অনুযায়ী এতে কাব্য রচনার উদ্দেশ্য ছিল না (৩)।

অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছন্দোবদ্ধ কথাগুলোও বাদ যাবে, কারণ তাতেও কাব্য রচনার উদ্দেশ্য ছিল না; এবং অন্যদের কথার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

এই কারণেই আত-তহানভী (৪) বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং কবিতার সংজ্ঞা এভাবে দিয়েছেন যে, তা হলো: «এমন ছন্দোবদ্ধ ও অন্ত্যমিলযুক্ত বাক্য যার ছন্দ ও অন্ত্যমিল প্রাথমিকভাবেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে» (৫)। সুতরাং কবির নিকট অর্থ সাধারণত ছন্দের অনুগামী হয়, কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন; সেখানে অর্থই মূল এবং ছন্দ অনিচ্ছাকৃতভাবে ও আনুষঙ্গিকভাবে চলে আসে।

আর কাব্যকে "আবেগ চিত্রায়িত করার" সাথে সীমাবদ্ধ করা এমন পদ্যসমূহকে (নাযম) বাদ দেয় যা আবেগ চিত্রায়িত করে না, বরং তা কেবল ইলমী বা বৈজ্ঞানিক মাসয়ালাসমূহ ছন্দবদ্ধ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে (৬)।

 

‌‌কবিতার উদ্ভব:

অনেক গবেষকের মতে ইসলামের অব্যবহিত পূর্ববর্তী জাহিলিয়াতই আরব ইতিহাসের প্রথম সূচনা ছিল না। বরং এর পূর্বেও প্রাচীন জাহিলিয়াত বা অনেকগুলো জাহিলিয়াত অতিবাহিত হয়েছে, যাকে আল্লাহ {পূর্ববর্তী জাহিলিয়াত} [আল-আহযাব: ৩৩] (৭) নামে অভিহিত করেছেন। সেই জাহিলিয়াত বা জাহিলিয়াতসমূহের সময়কাল নির্ধারণের কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা নেই, যদিও মুফাসসিরগণ এর সময়কাল নির্ধারণে বিভিন্ন মত ব্যক্ত করেছেন...

--------------------------------------------

(১) আলে ইমরান ৯২

(২) আশ-শারহ ৩ - ৪

(৩) দেখুন: আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন ২/২৪২ এবং পরবর্তী অংশ।

(৪) তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ আল-ফারুকী, আত-তহানভী। ভারতের অন্যতম আলেম, তিনি ১১৫৮ হিজরী সালে জীবিত ছিলেন। তিনি একজন ভাষাবিদ এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তার রচিত গ্রন্থ হলো 'কাশশাফু ইস্তিলাইহাতিল ফুনুন'। দেখুন: আল-আলাম ৭/১৮৮, মুজামুল মুআল্লিফীন ৩/৫৩৭।

(৫) কাশশাফু ইস্তিলাইহাতিল ফুনুন ১০৩০।

(৬) যেমন নাহু শাস্ত্রে ইবন মালিকের আলফিয়্যাহ, হাদীস শাস্ত্রে আল-ইরাকীর আলফিয়্যাহ, ক্বিরাআত শাস্ত্রে আশ-শাতিবিয়্যাহ এবং অন্যান্য।

(৭) আল-আহযাব ৩৩।
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ২২)
مذاهبَ كثيرةٍ (1). ومع الخلاف في تحديد زمنها، فظاهر الآيات يدل على أَنَّها ليست القرون القليلة التي سبقت الإسلام؛ لأَنَّ الله وصفها بالجاهلية الأولى، والله قد ذكر الجاهلية دون وصف في ثلاث آيات، وهي قوله تعالى: {يَظُنُّونَ بِاللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ ظَنَّ الْجَاهِلِيَّةِ} [آل عمران: 154] (2)، وقوله تعالى: {أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ (50)} [المائدة: 50] (3)، وقوله تعالى: {إِذْ جَعَلَ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي قُلُوبِهِمُ الْحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ} [الفتح: 26] (4)، فيستدل من ذلك ومن سياق هذه الآيات أَنَّ المقصود بالجاهلية الأخرى الجاهلية القريبة من الإسلام.

ووصفُ الزَّمنِ بالجاهلية بِهذا المعنى من الألفاظِ الإسلامية الحادثة التي طرأت بعد الإسلام للدلالة على زمن الشرك قبل الإسلام. قال الطاهر بن عاشور (5): «وأحسبُ أَنَّ لفظَ الجاهليةِ من مبتكراتِ القرآن، وصفَ به أهلَ الشركِ تَنفِيْرًا من الجهل، وترغيبًا في العلم، ولذلك يذكرهُ القرآنُ في مقاماتِ الذمِّ … وقالوا: شعر الجاهلية، وأيَّامُ الجاهلية، ولم يُسْمَعْ ذلكَ كُلُّه إلَّا بعد نزولِ القرآن وفي كلام المسلمين» (6).

والقبائل العربية التي عاشت في الجزيرة امتدادٌ تاريخي لقبائل سبقتها، ذُكِرت في القرآن الكريمِ كعاد وثَمود، وذكرهم المؤرخون مثل قبائل طَسْم (7)

--------------------------------------------

(1) قيل: كانت بيْن آدم ونوح وقُدِّرت بثمانِمائة سنة، وقيل: كانت بيْن نوح وإدريس وقدرت بألف سنة، وقيل: كانت بيْن عيسى ومحمد عليهما الصلاة والسلام، وكلُّ ذلك من باب الظن. انظر: تفسير الطبري (هجر) 19/ 97 - 100.

(2) آل عمران 154.

(3) المائدة 50.

(4) الفتح 26.

(5) هو الشيخ محمد الطاهر بن عاشور التونسي (1296 - 1393 هـ)، مُفسِّرٌ نَحويٌّ فقيهٌ، من كبار العلماء المسلمين المتأخرين، تتسم مصنفاته بالعمق والتحرير، شيخ جامع الزيتونة، ورئيس المفتين المالكية منذ عام 1932 م، من أهم مصنفاته تفسيره (التحرير والتنوير). انظر: الأعلام 6/ 174، معجم المفسرين 2/ 541.

(6) التحرير والتنوير 4/ 136.

(7) قبيلة من العرب العاربة البائدة، كانت مساكنهم اليمامة والبحرين. انظر: معجم قبائل العرب لكحالة 1/ 172.
অনেক মত রয়েছে (১)। এর সময়কাল নির্ধারণ নিয়ে মতভেদ থাকলেও আয়াতসমূহের বাহ্যিক অর্থ এটাই নির্দেশ করে যে, এটি ইসলামের পূর্ববর্তী সামান্য কয়েক শতাব্দী নয়; কারণ আল্লাহ একে 'প্রথম জাহেলিয়াত' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তিনটি আয়াতে কোনো বিশেষণ ছাড়াই জাহেলিয়াতের উল্লেখ করেছেন, যা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তারা আল্লাহর প্রতি জাহেলিয়াতের ন্যায় অসত্য ধারণা পোষণ করছিল} [আল-ইমরান: ১৫৪] (২), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তবে কি তারা জাহেলিয়াতের বিচার কামনা করে? আর দৃঢ় বিশ্বাসী কওমের জন্য ফয়সালা প্রদানে আল্লাহর চেয়ে উত্তম আর কে হতে পারে?} [আল-মায়েদাহ: ৫০] (৩), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যখন কাফেররা তাদের অন্তরে জাহেলিয়াতের গোঁড়ামি ও জেদ সৃষ্টি করেছিল} [আল-ফাতহ: ২৬] (৪)। এখান থেকে এবং এই আয়াতসমূহের প্রেক্ষাপট থেকে এই প্রমাণ পাওয়া যায় যে, অন্য জাহেলিয়াত বলতে ইসলামের নিকটবর্তী সময়ের জাহেলিয়াতকে বোঝানো হয়েছে।

আর এই অর্থে সময়কে জাহেলিয়াত হিসেবে বর্ণনা করা হলো ইসলামের পর উদ্ভাবিত একটি ইসলামি পরিভাষা, যা ইসলামের আগের শিরকের সময়কালকে বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। তাহির ইবনে আশুর (৫) বলেছেন: «আমি মনে করি জাহেলিয়াত শব্দটি কুরআনের নব উদ্ভাবিত পরিভাষাগুলোর একটি, যার মাধ্যমে শিরককারীদের মূর্খতার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টির জন্য এবং জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করার জন্য এই বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে। এজন্যই কুরআন নিন্দার স্থানগুলোতে এটি উল্লেখ করেছে … আর তারা (আরবগণ) বলে: জাহেলি যুগের কবিতা, জাহেলিয়াতের দিনসমূহ (যুদ্ধসমূহ); অথচ কুরআন নাজিল হওয়ার পর এবং মুসলমানদের কথাবার্তার আগে এসবের কোনোটিই শোনা যায়নি» (৬)।

আর আরব উপদ্বীপে বসবাসকারী আরব গোত্রসমূহ হলো তাদের পূর্ববর্তী গোত্রগুলোরই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা, যাদের কথা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে যেমন আদ ও সামুদ, এবং ঐতিহাসিকগণ তাদের কথা উল্লেখ করেছেন যেমন তাসম গোত্র (৭)

--------------------------------------------

(১) বলা হয়েছে: এটি আদম ও নূহের মধ্যবর্তী সময়ে ছিল এবং এর পরিমাণ আটশ বছর ধরা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: এটি নূহ ও ইদ্রিসের মধ্যবর্তী সময়ে ছিল এবং এর পরিমাণ এক হাজার বছর ধরা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: এটি ঈসা ও মুহাম্মদ (তাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর মধ্যবর্তী সময়ে ছিল। এর সবই ধারণাপ্রসূত। দেখুন: তাফসিরে তাবারি (হাজর সংস্করণ) ১৯/ ৯৭ - ১০০।

(২) আল-ইমরান ১৫৪।

(৩) আল-মায়েদাহ ৫০।

(৪) আল-ফাতহ ২৬।

(৫) তিনি হলেন শায়খ মুহাম্মদ তাহির ইবনে আশুর তিউনিসি (১২৯৬ - ১৩৯৩ হিজরি), একজন মুফাসসির, ব্যাকরণবিদ ও ফকিহ। তিনি পরবর্তী যুগের অন্যতম বড় মুসলিম আলেমদের একজন। তাঁর রচনাবলি গভীরতা ও সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণে সমৃদ্ধ। তিনি জামে যায়তুনা-র প্রধান এবং ১৯৩২ সাল থেকে মালিকি মাযহাবের প্রধান মুফতি ছিলেন। তাঁর অন্যতম প্রধান রচনা হলো তাঁর তাফসির (আত-তাহরির ওয়াত-তানভির)। দেখুন: আল-আলাম ৬/ ১৭৪, মু'জামুল মুফাসসিরিন ২/ ৫৪১।

(৬) আত-তাহরির ওয়াত-তানভির ৪/ ১৩৬।

(৭) বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাচীন খাঁটি আরবদের একটি গোত্র, যাদের বাসস্থান ছিল ইয়ামামা ও বাহরাইন। দেখুন: কাহ্হালার মু'জামু কাবাইলিল আরব ১/ ১৭২।
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ২৩)
وجَدِيس (1). ووصفهم بالعَربِ البائدةِ، لا يعني الفناء الكاملَ للأفراد، وإِنَّما يعني زوال كيان القبيلة واندثار اسْمها، مع بقاء آحادِ أو {وَعَادًا وَثَمُودَ وَأَصْحَابَ الرَّسِّ وَقُرُونًا بَيْنَ ذَلِكَ كَثِيرًا (38)} [الفرقان: 38] مَجموعات دخلت في القبائل الأخرى الباقية.

والله عز وجل وصف عادًا بـ {الْأُولَى} في آيةٍ واحدةٍ في سورة النجم فقال: {وَأَنَّهُ أَهْلَكَ عَادًا الْأُولَى (50)} [النجم: 50] (2)، وذكرها في ثلاث وعشرين سورة أخرى دون وصف (3). وأشار سبحانه وتعالى إلى قبائل أخرى غيرها فقال: {وَعَادًا وَثَمُودَ وَأَصْحَابَ الرَّسِّ وَقُرُونًا بَيْنَ ذَلِكَ كَثِيرًا (38)} [الفرقان: 38] (4).

وهذه القبائلُ سكنت جزيرةَ العرب، فقد أخبر الله تعالى عن موطن قوم هود عليه السلام فقال: {وَاذْكُرْ أَخَا عَادٍ إِذْ أَنْذَرَ قَوْمَهُ بِالْأَحْقَافِ} [الأحقاف: 21] (5)، وأشار إلى قوم صالح عليه السلام، وهم ثَمود، الذين يَقطنون الحِجْرَ (6)، فسمَّاهم الله أصحابَ الحِجْرِ في قوله: {وَلَقَدْ كَذَّبَ أَصْحَابُ الْحِجْرِ الْمُرْسَلِينَ (80)} [الحجر: 80] (7)، وسُمِّيت سورتان في القرآن الكريمِ بالحِجْرِ والأحقافِ (8) إشارةً إلى هذين الموضعين. وقال تعالى: {إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ (96)} [آل عمران: 96] (9). وذكرت كتب التاريخ أَنَّ طَسْمًا وجَديسًا وسواهُما كانت في اليمامةِ وفي مواضعَ أُخرى من الجزيرة (10).

--------------------------------------------

(1) قبيلة من قبائل العرب العاربة البائدة، كانت مساكنهم باليمامة مجاورين لِطَسْم. انظر: الاشتقاق 524، المفصل في تاريخ العرب لجواد علي 1/ 294.

(2) النجم 50.

(3) انظر: المعجم المفهرس لألفاظ القرآن الكريم لعبدالباقي 626 - 627.

(4) الفرقان 38.

(5) الأحقاف 21.

(6) تقع الحجر بوادي القرى بين المدينة والشام كما في معجم البلدان 2/ 255، وهي اليوم وادٍ شَمال مدينة العُلا، وليست هي مدائن صالح، وإنما هي من مساكن ثمودَ قومِ صالح عليه السلام، كتب حمد الجاسر بحثًا بعنوان «ليس الحِجْرُ مدائنَ صالح».بمجلة العرب 13/ 3 - 5 وضح فيه موقع الحجر، وأنه واد لا يزال يعرف باسمه هذا إلى اليوم. انظر: معجم الأمكنة الوارد ذكرها في القرآن الكريم لسعد بن جنيدل 115 - 126.

(7) الحجر 80.

(8) تقع الأحقاف بين عُمَان وحضرموت من أرض اليمن، كما في معجم البلدان 1/ 142، وتعرف الآن بالربع الخالي، جنوب شرق جزيرة العرب. انظر: معجم الأمكنة الوارد ذكرها في القرآن الكريم 12.

(9) آل عمران 96.

(10) انظر: المفصل في تاريخ العرب لجواد علي 1/ 294 وما بعدها.
এবং জাদিস (১)। তাদেরকে বিলুপ্ত আরব হিসেবে বর্ণনা করার অর্থ ব্যক্তিদের পূর্ণ বিনাশ নয়, বরং এর অর্থ হলো গোত্রীয় কাঠামোর বিলুপ্তি ও তাদের নামের অবসান, যদিও ব্যক্তিপর্যায় বা {আর আদ, সামুদ, আসহাবে রাস এবং এর মধ্যবর্তী বহু প্রজন্মকে (৩৮)} [আল-ফুরকান: ৩৮] এমন কিছু দল অবশিষ্ট ছিল যারা অন্যান্য বিদ্যমান গোত্রসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল।

আর আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা সূরা আন-নাজমের একটি আয়াতে আদ গোত্রকে ‘প্রথম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: {আর তিনি ধ্বংস করেছেন প্রথম আদকে (৫০)} [আন-নাজম: ৫০] (২), এবং অন্য তেইশটি সূরায় কোনো বিশেষণ ছাড়াই তাদের কথা উল্লেখ করেছেন (৩)। আর তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা তারা ব্যতীত অন্য গোত্রসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: {আর আদ, সামুদ, আসহাবে রাস এবং এর মধ্যবর্তী বহু প্রজন্মকে (৩৮)} [আল-ফুরকান: ৩৮] (৪)।

এই গোত্রগুলো আরব উপদ্বীপে বসবাস করত। আল্লাহ তাআলা হুদ আলাইহিস সালামের কওমের আবাসস্থল সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {আর স্মরণ কর আদের ভাইয়ের কথা, যখন তিনি আহকাফে স্বীয় সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিলেন} [আল-আহকাফ: ২১] (৫), এবং তিনি সালেহ আলাইহিস সালামের কওম সামুদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যারা হিজরে বসবাস করত (৬), ফলে আল্লাহ তাদেরকে হিজরবাসী হিসেবে নামকরণ করেছেন তাঁর এই বাণীতে: {নিশ্চয়ই হিজরবাসীরা রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল (৮০)} [আল-হিজর: ৮০] (৭), এবং কুরআন মাজীদে দুটি সূরার নামকরণ করা হয়েছে আল-হিজর ও আল-আহকাফ (৮) যা এই দুটি স্থানের প্রতি ইঙ্গিতস্বরূপ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই মানুষের জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি স্থাপন করা হয়েছিল তা হলো সেই ঘর যা মক্কায় অবস্থিত, বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়াতস্বরূপ (৯৬)} [আল ইমরান: ৯৬] (৯)। ইতিহাসগ্রন্থসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাসম, জাদিস এবং অন্যান্যেরা ইয়ামামা এবং উপদ্বীপের অন্যান্য স্থানে ছিল (১০)।

--------------------------------------------

(১) বিলুপ্ত বিশুদ্ধ আরব গোত্রসমূহের একটি গোত্র, তাদের আবাসস্থল ছিল ইয়ামামায় যা তাসম গোত্রের পাশেই অবস্থিত। দেখুন: আল-ইশতিকাক ৫২৪, জাওয়াদ আলীর আল-মুফাসসাল ফি তারিখিল আরব ১/ ২৯৪।

(২) আন-নাজম ৫০।

(৩) দেখুন: আব্দুল বাকী রচিত আল-মুজাম আল-মুফাহরাস লি আলফাজিল কুরআনিল কারীম ৬২৬ - ৬২৭।

(৪) আল-ফুরকান ৩৮।

(৫) আল-আহকাফ ২১।

(৬) হিজর মদিনা ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী ওয়াদিউল কুরায় অবস্থিত যেমনটি মুজামুল বুলদান ২/ ২৫৫-এ রয়েছে, এবং তা আজ আল-উলা শহরের উত্তরে একটি উপত্যকা। এটি মাদায়িনে সালেহ নয়, বরং এটি সালেহ আলাইহিস সালামের কওম সামুদের আবাসস্থলসমূহের একটি। হামাদ আল-জাসির ‘হিজর মাদায়িনে সালেহ নয়’ শিরোনামে একটি গবেষণা নিবন্ধ মাজাল্লাতুল আরব ১৩/ ৩-৫ এ লিখেছেন যেখানে তিনি হিজরের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন যে, এটি এমন একটি উপত্যকা যা আজও এই নামেই পরিচিত। দেখুন: সাদ বিন জুনাইদিল রচিত মুজামুল আমকিনাহ আল-ওয়ারিদ জিকরুহা ফিল কুরআনিল কারীম ১১৫-১২৬।

(৭) আল-হিজর ৮০।

(৮) আহকাফ ইয়েমেনের ওমান ও হাজরামাউতের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত, যেমনটি মুজামুল বুলদান ১/ ১৪২-এ রয়েছে, এবং বর্তমানে তা আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রুবউল খালি নামে পরিচিত। দেখুন: মুজামুল আমকিনাহ আল-ওয়ারিদ জিকরুহা ফিল কুরআনিল কারীম ১২।

(৯) আল ইমরান ৯৬।

(১০) দেখুন: জাওয়াদ আলীর আল-মুফাসসাল ফি তারিখিল আরব ১/ ২৯৪ এবং পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ২৪)
إِنَّ عرب الجاهلية الأخيرة هم امتداد لمن سبقهم، ومرحلة حديثة من مراحلهم، والقبائل العربية القديمة كانت لها لغتها أو لغاتها ولهجاتها التي لا يعرفُ الكثير عنها، وتلك اللغة تدرجت في مراحل حتى وصلت إلى المرحلة الأخيرة من اللغة العربية التي نُظِمت بِها قصائدُ الشعر الجاهلي، ثُمَّ نزل بِها القرآن الكريم. ولذلك فالعرب قَديِمو الوجود في الجزيرة العربية، وقد سبقوا عرب الجاهليةِ الأَخيرةِ بقرون لا يعرفُ عددُها.

فالبحث في نشأة الشعر العربي أو أوليته - كالبحث في نشأة العرب أنفسهم، ولغتهم العربية - يعتمد على الظنِّ والتقريبِ، والأدلة الظنيَّة، ولا يوجد لِمَن كتب في هذا الأمر دليلٌ قاطعٌ يُحدِّدُ أولية الشعر العربي، والسبب أَنَّ البحث في أوليات الأمور يَحتاجُ إلى نصوصٍ موثقةٍ يعتمدُ عليها الباحث، ويُمحِّصها، ويُفاضل بينها، ويستخلص منها نتائجهُ، وإذا لم تتوفر هذه النصوص والأدلة - وهو الحاصل في هذه القضية - فإِنَّ البحث يصبح نوعًا من التيه. أَضِفْ إلى ذلك أَنَّ أكثرَ من عُنِيَ بالآثارِ، وقراءة النقوش هم من المستشرقينَ الغربيين، وهم مَحلُّ شَكٍّ كبيرٍ في البحث في تاريخ العرب، حيث يَحرصُ أغلبهم على طمس فضائل العرب، وإنكار تاريخهم وحضارتهم، لا نطلاقهم في بُحوثِهم تلك من منطلقاتٍ عَقَديَّةٍ معاديةٍ للعَربِ (1).

والذين حاولوا معرفة أولية الشعر الجاهلي ربطوه بِحَربِ البَسُوسِ (2)

--------------------------------------------

(1) انظر: فصول في فقه العربية لرمضان عبد التواب 25، آلهة مصر الفرعونية لعلي فهمي خشيم، المقدمة.

(2) البَسُوسُ بنت منقذ التميمية، أثار قتلُ كليبٍ ناقةَ جارِها الجَرميِّ جَسَّاسَ بنَ مُرَّةَ فقَتَلَ كليبًا، فاستعرت الحربُ لهذا أربعين سنة، وهي من أشهر حروبِ العربِ، سُمّيت بحربِ البَسوسِ نسبةً لهذه المرأة، حتى ضُرِبَ بشؤمِها المثَلُ فقيلَ: أشأم من البسوس. انظر: ثِمار القلوب للثعالبي 307.
শেষ জাহেলিয়াত যুগের আরবরা তাদের পূর্বসূরিদেরই একটি সম্প্রসারণ এবং তাদের বিকাশের একটি আধুনিক পর্যায়। প্রাচীন আরব গোত্রগুলোর নিজস্ব ভাষা বা ভাষাসমূহ এবং উপভাষা ছিল যা সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। সেই ভাষা বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে বিবর্তিত হয়ে আরবি ভাষার শেষ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে, যে ভাষায় জাহেলি যুগের কবিতাগুলো রচিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব, আরব উপদ্বীপে আরবদের উপস্থিতি অত্যন্ত প্রাচীন এবং তারা শেষ জাহেলিয়াত যুগের আরবদের বহু শতাব্দী পূর্ব থেকে সেখানে বসবাস করে আসছে যার সংখ্যা অজানাই।

সুতরাং আরবি কবিতার উৎপত্তি বা এর আদি রূপ সম্পর্কে গবেষণা—ঠিক যেমন আরবদের নিজস্ব উৎপত্তি এবং তাদের আরবি ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে গবেষণার মতো—ধারণা, অনুমান এবং আনুমানিক প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল। যারা এ বিষয়ে লিখেছেন, তাদের কাছে আরবি কবিতার আদি রূপ নির্ধারণ করার মতো কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই। এর কারণ হলো, যেকোনো বিষয়ের আদি উৎস অনুসন্ধানের জন্য নির্ভরযোগ্য এবং প্রমাণিত পাঠ্যের প্রয়োজন হয়, যার ওপর গবেষক নির্ভর করতে পারেন, তা যাচাই-বাছাই করতে পারেন, সেগুলোর মধ্যে তুলনা করতে পারেন এবং তা থেকে ফলাফল বের করতে পারেন। যখন এই পাঠ্য বা প্রমাণগুলো পাওয়া যায় না—যেমনটি বর্তমান ক্ষেত্রে ঘটেছে—তখন গবেষণা এক প্রকার গোলকধাঁধায় পরিণত হয়। এর সাথে যোগ করা প্রয়োজন যে, প্রত্নতত্ত্ব এবং শিলালিপি পাঠের ক্ষেত্রে যারা সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন তারা হলেন পশ্চিমা প্রাচ্যবিদগণ। আরবদের ইতিহাস গবেষণার ক্ষেত্রে তারা গভীর সন্দেহের পাত্র, কারণ তাদের অধিকাংশই আরবদের গুণাবলি মুছে ফেলার এবং তাদের ইতিহাস ও সভ্যতা অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। এর কারণ হলো, তারা তাদের এই গবেষণাগুলো আরব-বিরোধী মতাদর্শগত অবস্থান থেকে পরিচালনা করেন (১)।

আর যারা জাহেলি কবিতার আদি রূপ জানার চেষ্টা করেছেন, তারা একে বাসুসের যুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন (২)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: রমজান আবদুত তাওয়াব রচিত 'ফুসুলুন ফি ফিকহিল আরাবিয়্যাহ', পৃষ্ঠা ২৫; আলি ফাহমি খাশিম রচিত 'আলিহাতু মিসরাল ফিরআউনিয়্যাহ', ভূমিকা।

(২) বাসুস বিনতে মুনকিজ আত-তামিমিয়া। কুলাইব কর্তৃক তার প্রতিবেশী জারমির একটি উট হত্যা করার কারণে জাসসাস বিন মুররা ক্ষুব্ধ হয়ে কুলাইবকে হত্যা করেন। ফলে এর কারণে দীর্ঘ চল্লিশ বছর ব্যাপী যুদ্ধ প্রজ্জ্বলিত হয়। এটি আরবদের অন্যতম বিখ্যাত যুদ্ধ, যা এই মহিলার নামানুসারে 'বাসুসের যুদ্ধ' নামে পরিচিত। এমনকি তার অলক্ষণীয় হওয়ার কারণে প্রবাদ তৈরি হয়েছে: "বাসুসের চেয়েও বেশি অলুক্ষুণে"। দেখুন: আস-সাআলাবি রচিত 'সিমারুল কুলুব', পৃষ্ঠা ৩০৭।
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ২৫)
التي دارت رحاها بَين بكرٍ (1) وتغلبَ (2) منذ أوائل القرن الخامس الميلادي، حيث ترجعُ إليها أقدمُ مجموعة من الشعر العربي التي تستند إلى مصادر صحيحة نسبيًا، لشعراء مشهورين في تاريخ العرب الأدبي، ومن هؤلاء الشعراء المهلهل بن ربيعة (530 م) (3)،

والمرقش … الأكبر (552 م) (4)، والمرقش الأصغر (5)، وسعد بن مالك البكري (530 م) (6)، والحارث بن عُباد البكري (550 م) (7)، وغيرهم (8). وأما قبل هذا التاريخ

--------------------------------------------

(1) قبيلة بكر بن وائل من العدنانية، قبيلة عظيمةٌ مُحاربةٌ، فيها الشهرة والعدد. منها يشكر بن بكر، وبنو عُكابة ابن صعب بن علي بن بكر، وبنو حنيفة، وبنو عجل، وقد استشهد المفسرون بعدد كبير من شعرها كما سيأتي في البحث، وكانت ديارهم من اليمامة إلى البحرين، إلى سيف كاظمة-الكويت حاليًا-فأطراف العراق، ثم تنقلت بعد ذلك حتى بلغت حدود تركيا. انظر: نهاية الأرب 2/ 330، معجم قبائل العرب 1/ 93 - 98.

(2) قبيلة تغلب بن وائل العدنانية، قبيلة عظيمة، خاضت كثيرًا من الحروب مع بكر وغيرها، سكنت الجزيرة الفراتية بديار ربيعة، وأشهر شعرائها الذين احتج المفسرون بشعرهم الأخطل التغلبي. انظر: معجم قبائل العرب 1/ 120 - 123.

(3) مختلف في اسمه فقيل عدي بن بن ربيعة من بني جشم بن بكر من تغلب، قيل هو أول من قصد القصيد، وهو خال امرئ القيس، وجد عمرو بن كلثوم لأمه، قاد تغلب في حرب البسوس بعد مقتل أخيه كليب، توفي سنة 530 م تقريبًا. انظر: معجم الشعراء للمرزباني 79، الشعر والشعراء 1/ 297.

(4) هو عمرو بن سعد بن مالك، شاعر جاهلي قديم، كان يعرف الكتابة لأن أباه دفعه إلى نصراني من أهل الحيرة فعلمه، مات تقريبًا عام 552 م. انظر: معجم الشعراء 124، الشعر والشعراء 1/ 210.

(5) هو ربيعة بن سفيان بن سعد، وهو ابن أخي المرقش الأكبر، عم طرفة بن العبد البكري، وهو أشعر المرقشين، وأطولهما عمرًا. انظر: معجم الشعراء 4 - 5، المفضليات 241.

(6) هو سعد بن مالك بن ضبيعة البكري، أحد سادات بكر بن وائل وفرسانها، من المقلين، قتل في الحروب بين بكر وتغلب حوالي سنة 530 م. انظر: خزانة الأدب 1/ 250.

(7) هو الحارث بن عُبَاد بن ضبيعة البكري، وهو ابن عم سعد بن مالك، وكان الحارث من سادات ربيعة المعدودين، وله القصيدة اللامية المشهورة، مات حوالي 550 م. انظر: الأغاني 5/ 46، خزانة الأدب 2/ 225.

(8) كل هؤلاء وردت لهم شواهد شعرية قليلة في كتب التفسير.
যা পঞ্চম খ্রিষ্টীয় শতাব্দীর শুরু থেকে বকর (১) এবং তাগলিব (২) গোত্রের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল, যেখান থেকে আরবি কবিতার প্রাচীনতম সংকলন পাওয়া যায় যা তুলনামূলকভাবে সঠিক উৎসের ওপর ভিত্তি করে রচিত এবং যা আরবি সাহিত্য ইতিহাসের বিখ্যাত কবিদের দ্বারা রচিত। এই কবিদের মধ্যে রয়েছেন মুহালহিল বিন রাবিয়া (৫৩০ খ্রিষ্টাব্দ) (৩),

আল-মুরাক্কিশ … আল-আকবার (৫৫২ খ্রিষ্টাব্দ) (৪), আল-মুরাক্কিশ আল-আসগর (৫), সা'দ বিন মালিক আল-বাকরি (৫৩০ খ্রিষ্টাব্দ) (৬), আল-হারিস বিন উবাদ আল-বাকরি (৫৫০ খ্রিষ্টাব্দ) (৭) এবং অন্যান্যরা (৮)। আর এই তারিখের আগে

--------------------------------------------

(১) বকর বিন ওয়াইল গোত্র আদনানি বংশোদ্ভূত, এটি একটি বিশাল যোদ্ধা গোত্র, যা খ্যাতি এবং লোকসংখ্যার জন্য পরিচিত। এদের মধ্যে রয়েছে ইয়াশকুর বিন বকর, বানু উকাবা ইবনে সা'ব বিন আলি বিন বকর, বানু হানিফা এবং বানু ইজল। মুফাসসিরগণ তাদের কবিতার একটি বড় অংশ থেকে প্রমাণ বা দলিল উপস্থাপন করেছেন যেমনটি সামনে গবেষণায় আসবে। তাদের আবাসস্থল ছিল ইয়ামামা থেকে বাহরাইন, সাইফ কাজিমা (বর্তমানে কুয়েত) থেকে ইরাকের প্রান্তভাগ পর্যন্ত। পরবর্তীতে তারা স্থানান্তরিত হয়ে তুরস্কের সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যায়। দেখুন: নিহায়াতুল আরাব ২/৩৩০, মু'জামু কাবাইলিল আরব ১/৯৩-৯৮।

(২) তাগলিব বিন ওয়াইল আদনানি গোত্র, একটি বিশাল গোত্র, যারা বকর এবং অন্যদের সাথে অনেক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। তারা রাবিয়া অঞ্চলে জাজিরা আল-ফুরাতিয়ায় বাস করত। তাদের সবচেয়ে বিখ্যাত কবিদের মধ্যে যার কবিতা মুফাসসিরগণ দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন তিনি হলেন আল-আখতাল আত-তাগলিবি। দেখুন: মু'জামু কাবাইলিল আরব ১/১২০-১২৩।

(৩) তার নাম নিয়ে মতভেদ আছে, বলা হয় আদি বিন রাবিয়া, যিনি তাগলিবের বনু জুশাম বিন বকর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। বলা হয় তিনিই প্রথম কাসিদা রচনা করেছিলেন। তিনি ইমরুল কায়েসের মামা এবং আমর বিন কুলসুমের মাতামহ। তার ভাই কুলাইব নিহত হওয়ার পর তিনি বাসুস যুদ্ধে তাগলিবের নেতৃত্ব দেন। তিনি আনুমানিক ৫৩০ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: মু'জামুশ শুয়ারা লিল মারযুবানি ৭৯, আশ-শি'রু ওয়াশ-শুয়ারা ১/২৯৭।

(৪) তিনি হলেন আমর বিন সা'দ বিন মালিক, একজন প্রাচীন জাহিলি কবি। তিনি লিখতে জানতেন কারণ তার পিতা তাকে হিরার একজন খ্রিষ্টানের কাছে পাঠিয়েছিলেন যিনি তাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি আনুমানিক ৫৫২ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: মু'জামুশ শুয়ারা ১২৪, আশ-শি'রু ওয়াশ-শুয়ারা ১/২১০।

(৫) তিনি হলেন রাবিয়া বিন সুফিয়ান বিন সা'দ, যিনি মুরাক্কিশ আল-আকবারের ভ্রাতুষ্পুত্র এবং তারাফা বিন আল-আবদ আল-বাকরির চাচা। তিনি দুই মুরাক্কিশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি এবং দীর্ঘায়ু ছিলেন। দেখুন: মু'জামুশ শুয়ারা ৪-৫, আল-মুফাদ্দালিয়্যাত ২৪১।

(৬) তিনি হলেন সা'দ বিন মালিক বিন দায়বি'আ আল-বাকরি, বকর বিন ওয়াইলের অন্যতম নেতা এবং বীর যোদ্ধা। তার কবিতার সংখ্যা কম। বকর ও তাগলিবের মধ্যকার যুদ্ধে আনুমানিক ৫৩০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নিহত হন। দেখুন: খিযানাতুল আদাব ১/২৫০।

(৭) তিনি হলেন আল-হারিস বিন উবাদ বিন দায়বি'আ আল-বাকরি, যিনি সা'দ বিন মালিকের চাচাতো ভাই। হারিস রাবিয়া গোত্রের গণ্যমান্য নেতাদের একজন ছিলেন এবং তার বিখ্যাত 'লামিয়া' কাসিদা রয়েছে। তিনি আনুমানিক ৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-আগানি ৫/৪৬, খিযানাতুল আদাব ২/২২৫।

(৮) এই সকল কবির কিছু সংখ্যক কাব্যিক প্রমাণ তাফসিরের গ্রন্থগুলোতে উদ্ধৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ২৬)
فإنه من الصعوبة تحديد تاريخ دقيق للزمن الذي بدأَ فيه العربُ بقول الشعر؛ لأن الأدلة لا تساعد على الجزم برأيٍ قاطع، ولم يعثر العلماءُ على شعرٍ مُدوَّنٍ بقلمٍ جاهليٍّ، وكل ما يُعرفُ عن هذا الشعرِ مستمدٌّ من مواردَ إسلامية، أَخَذتْ من أفواه الرواة، وكل المحاولات التي بذلت في ذلك من باب المقاربة لا القطع.

يقول الرافعي (1): «وقد تصفحنا التواريخ العربية، وأرجعنا ما نقلوه عن أهل الرواية - وهم مصدر آداب الجاهلية وأخبارها - فرأينا أن ما كتبوه من ذلك إذا صلحَ أَن يُنقل، فهو لا يصلحُ أَنْ يُعقَل» (2). وهذه من أكبر المشكلات التي تواجه الباحث في الشعر الجاهلي، لأَنَّ ما وصل من شعر الجاهلية منسوبًا لشعراء معروفين كأصحاب المُعلَّقاتِ يُعدُّ شعرًا متكاملَ النضجِ، تامَّ البناءِ، ولا بد أَن يكون قد سُبِقَ بمرحلةٍ بدأ فيها الشعرُ بدايةً ضعيفةً، ثُمَّ تكاملَ وقوي نسجهُ بعد ذلك، حتى استتمَّ على هيئته القائمة.

ولذلك فقد اختلف الباحثون في تحديد تاريخ بداية الشعر الجاهلي تحديدًا دقيقًا، فمنهم من ذهب بعيدًا في أعماق التاريخ وزعم أنَّ الشعر العربيَّ سبق الإسلام بألفي سنة (3)، وبعضهم ذهب إلى أَنَّهُ سبقهُ بألفِ سنة (4)، وبعضهم ذهب إلى أَنَّه سبقه بأكثر من سبعة قرونٍ، وحدد تلك البداية بِحادثةِ سيلِ العَرِمِ، وتَفرُّقِ أبناءِ سبأ (5) اليمنيين في الجزيرة

--------------------------------------------

(1) مصطفى بن صادق بن عبدالرزاق الرافعي ولد سنة 1298 هـ وتوفي سنة 1356 هـ أديب مصري كبير نثره في الذروة، وشعره دون ذلك. انظر: حياة الرافعي لمحمد سعيد العريان فكله عنه، والأعلام 7/ 235.

(2) تاريخ آداب العرب 1/ 306.

(3) انظر: تاريخ الأدب العربي لعمر فروخ 2/ 73.

(4) الصورة في الشعر العربي لحسن البطل 34.

(5) قبيلة سبأ تنتسب لسبأ بن يشجب بن يعرب بن قحطان، ذكرهم الله في القرآن، وإرساله عليهم سيل العرم العظيم الذي تفرقوا بعده في أنحاء جزيرة العرب =
আরবদের কাব্যচর্চা শুরুর সঠিক সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন; কারণ বিদ্যমান প্রমাণাদি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করে না। পণ্ডিতগণ জাহেলি যুগের নিজস্ব কলমে লিখিত কোনো কবিতা খুঁজে পাননি। এই কবিতা সম্পর্কে যা কিছু জানা যায়, তার সবই ইসলামি উৎসসমূহ থেকে প্রাপ্ত, যা বর্ণনাকারীদের মুখ থেকে গৃহীত হয়েছে। এই বিষয়ে যা কিছু প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, তা কেবল অনুমানের অন্তর্ভুক্ত, সুনিশ্চিত বিষয় নয়।

আল-রাফেয়ি (১) বলেন: "আমরা আরবের ইতিহাসসমূহ পর্যালোচনা করেছি এবং বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে—যারা জাহেলি সাহিত্য ও সংবাদগুলোর মূল উৎস—তা পরীক্ষা করে দেখেছি। আমরা দেখতে পেয়েছি যে, তারা যা কিছু লিখেছে তা যদি বর্ণনার জন্য উপযুক্তও হয়, তবে তা যুক্তির মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়ার মতো নয়" (২)। জাহেলি কবিতার গবেষকদের সামনে এটি একটি অন্যতম বড় সমস্যা; কারণ মুয়াল্লাকার কবিদের ন্যায় সুপরিচিত কবিদের নামে জাহেলি কবিতার যে অংশ আমাদের কাছে পৌঁছেছে, তা অত্যন্ত পরিপক্ক এবং সুগঠিত। অবশ্যই এর পূর্বে এমন একটি পর্যায় অতিবাহিত হয়েছে যেখানে কবিতার সূচনা ছিল অত্যন্ত দুর্বল, এরপর এটি পর্যায়ক্রমে পূর্ণতা লাভ করেছে এবং এর বুনন সুদৃঢ় হয়েছে, অবশেষে বর্তমান রূপে স্থির হয়েছে।

এ কারণে গবেষকগণ জাহেলি কবিতার সূচনাকাল নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ ইতিহাসের অনেক গভীরে গিয়ে দাবি করেছেন যে, আরবি কবিতা ইসলামের দুই হাজার বছর পূর্বে শুরু হয়েছে (৩), কেউ কেউ মনে করেন এটি এক হাজার বছর পূর্বে শুরু হয়েছে (৪), আবার কেউ কেউ একে সাত শতাব্দীরও বেশি সময় পূর্বে নির্ধারণ করেছেন এবং সেই সূচনালগ্নকে সায়লুল আরিমের (বন্যার) ঘটনা এবং জাজিরাতুল আরবে ইয়েমেনের সাবা বংশীয়দের (৫) ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মোস্তফা বিন সাদেক বিন আব্দুল রাজ্জাক আল-রাফেয়ি, জন্ম ১২৯৮ হিজরি এবং মৃত্যু ১৩৫৬ হিজরি। তিনি একজন প্রখ্যাত মিশরীয় সাহিত্যিক, যাঁর গদ্য অনন্য উচ্চতায় আসীন, যদিও তাঁর কবিতা সে পর্যায়ের নয়। দেখুন: মুহাম্মদ সাঈদ আল-আরিয়ান রচিত 'হায়াতে রাফেয়ি', যাতে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত রয়েছে এবং আল-আ'লাম ৭/২৩৫।

(২) তারিখু আদাবিল আরাব ১/৩০৬।

(৩) দেখুন: উমর ফাররুখ রচিত 'তারিখুল আদাবিল আরাবি' ২/৭৩।

(৪) হাসান আল-বাতাল রচিত 'আস-সুরাহ ফিশ-শি'রিল আরাবি' ৩৪।

(৫) সাবা গোত্রটি সাবা বিন ইয়াশজুব বিন ইয়ারুব বিন কাহরানের বংশধর। আল্লাহ তাআলা কুরআনে তাদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাদের উপর সায়লুল আরিম নামক এক ভয়াবহ বন্যা পাঠানোর কথা বলেছেন, যার পরে তারা আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল। =
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ২৭)
العربية (1). ومنهم من ذهب به إلى القرن الثالث الميلادي (2).

وجُلُّ مَن كتب في نشأةِ الشعر العربيِّ يدور حولَ ما قاله الجاحظ (255 هـ) (3): «وأَمَّا الشعرُ فحديث الميلادِ، صغيرُ السَّنِّ، أَولُ من نَهَجَ سبيلَه، وسهَّلَ الطريقَ إليه امرؤ القيس بن حُجْر، ومهلهل بن ربيعة. وكتبُ أرسطا طاليس (4)، ومعلمه أفلاطون (5)، ثم بطليموس (6)، وديمقراطس (7)، وفلان وفلان، قبل بدء الشعر بالدهور قبل الدهور، والأحقاب قبل الأحقاب … فإذا استظهرنا الشِّعرَ، وجدنا له إلى أن جاء الله بالإسلام خمسين ومائة عام، وإذا استظهرنا بغاية الاستظهار فمائتي عام» (8). وقد شرح محقق الكتاب معنى كلام الجاحظ هذا (9)،

وشرحه غيره محاولًا الوصول إلى الطريقة التي قدَّر الجاحظُ بِها عُمُرَ الشعرِ الجاهلي، وتوصل إلى أن مقالة الجاحظ «أَنَّ الشعرَ حديثُ

--------------------------------------------

= وخارجها. انظر: معجم قبائل العرب 2/ 498.

(1) الأسس المبتكرة لدراسة الأدب الجاهلي لعبدالعزيز المزروع 116.

(2) الشعراء الجاهليون الأوائل للدكتور عادل الفريجات 9.

(3) هو أبو عثمان عمرو بن بحر الجاحظ، سمي بذلك لجحوظ عينيه وبروزهما، أديب من كبار الأدباء، يذهب مذهب المعتزلة في الاعتقاد، ومصنفاته في الذروة كالبيان والتبيين، والحيوان وهي تعين مدمن النظر فيها على البيان والفصاحة. توفي سنة 255 هـ. انظر: معجم الأدباء 4/ 472.

(4) هو الفيلسوف اليوناني الشهير، توفي سنة 322 ق. م، له مؤلفات شهيرة من أهمها هنا كتابه عن الشعر، والمقولات، والخطابة وغيرها. انظر: كتاب (أرسطو طاليس: فن الشعر) لعبدالرحمن بدوي 85.

(5) فيلسوف يوناني، يعتبر المعلم الأول عند الفلاسفة، ومن أشهر تلاميذه أرسطو. انظر: قصة الفلسفة لديورانت 5 - 9.

(6) هو فلكي جغرافي يوناني شهير، عاش ما بين (90 - 168 م)، ولد في مصر، ونشأ في الاسكندرية. من أشهر مؤلفاته المجسطي في علم الفلك. انظر: الفهرست 329، طبقات الأمم للأندلسي 29.

(7) من كبار فلاسفة اليونان. انظر: قصة الفلسفة لديورانت 245.

(8) الحيوان 1/ 74.

(9) انظر الاستدراك والتذييل رقم 1 في الحيوان 1/ 427 للمحقق عبدالسلام هارون.
আরবি (১)। আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছেন (২)।

আরবি কবিতার উৎপত্তি সম্পর্কে যারা লিখেছেন তাদের অধিকাংশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আল-জাহিজ (২৫৫ হিজরি) যা বলেছেন (৩): "আর কবিতার জন্ম সাম্প্রতিক, এর বয়স অল্প; ইমরুল কায়েস ইবনে হুজর এবং মুহালহিল ইবনে রাবিআ প্রথম এর পথ তৈরি করেছেন এবং এর পথ সুগম করেছেন। আর এরিস্টটলের (৪) বইসমূহ, এবং তাঁর শিক্ষক প্লেটো (৫), এরপর টলেমি (৬), ডেমোক্রিটাস (৭) এবং অমুক অমুকের বইসমূহ কবিতা শুরুর বহু যুগ এবং বহু কাল পূর্ব থেকেই বিদ্যমান … অতএব আমরা যদি কবিতা পর্যবেক্ষণ করি, তবে আল্লাহ ইসলাম নিয়ে আসার পূর্ব পর্যন্ত এর বয়স একশত পঞ্চাশ বছর পাই, আর যদি আমরা অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি তবে তা দুইশত বছর।" (৮)। এই গ্রন্থের মুহাক্কিক (সম্পাদক) আল-জাহিজের এই কথার অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন (৯),

এবং অন্যরাও এটি ব্যাখ্যা করেছেন, সেই পদ্ধতিটি বোঝার চেষ্টা করে যার মাধ্যমে আল-জাহিজ জাহিলি কবিতার বয়স নির্ধারণ করেছেন; এবং তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে আল-জাহিজের বক্তব্য হলো "কবিতা নতুন

--------------------------------------------

= এবং এর বাইরে। দেখুন: মুজামু কাবাইলিল আরব ২/ ৪৯৮।

(১) আল-উসুসুল মুবতাকারাহ লি-দিরাসাতিল আদাবিল জাহিলি, আব্দুল আজিজ আল-মাযরূ রচিত, পৃষ্ঠা ১১৬।

(২) আশ-শুআরাউল জাহিলিয়্যুনাল আওয়াইল, ডক্টর আদিল আল-ফুরাইজাত রচিত, পৃষ্ঠা ৯।

(৩) তিনি হলেন আবু উসমান আমর ইবনে বাহর আল-জাহিজ; তাঁর চোখ দু’টি কোটর থেকে বেরিয়ে আসার কারণে তাঁকে এই নামে ডাকা হয়। তিনি বড় মাপের সাহিত্যিকদের অন্যতম ছিলেন। আকিদার ক্ষেত্রে তিনি মুতাজিলা মতবাদ অনুসরণ করতেন। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ উৎকর্ষের শীর্ষে, যেমন 'আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন' এবং 'আল-হায়াওয়ান'। এ গ্রন্থগুলো নিবিড় পাঠকারীর বাগ্মিতা ও সাবলীলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তিনি ২৫৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: মুজামুল উদাবা ৪/ ৪৭২।

(৪) তিনি হলেন বিখ্যাত গ্রীক দার্শনিক, খ্রিস্টপূর্ব ৩২২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বিখ্যাত অনেকগুলো গ্রন্থ রয়েছে, এর মধ্যে বর্তমানে আলোচ্য বিষয় হিসেবে কবিতা (পোয়েটিকস), মাকুলাত (ক্যাটাগরিস), বালাগাত (রেটোরিক) ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ। দেখুন: আবদুর রহমান বাদাবীর রচিত 'আরিসতু তালিস: ফাননুশ শির' পৃষ্ঠা ৮৫।

(৫) একজন গ্রীক দার্শনিক, যাকে দার্শনিকদের প্রথম শিক্ষক হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং এরিস্টটল তাঁর অন্যতম বিখ্যাত ছাত্র। দেখুন: ডুরান্ট রচিত 'কিসসাতুল ফালসাফাহ' পৃষ্ঠা ৫ - ৯।

(৬) তিনি একজন বিখ্যাত গ্রীক জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ভূগোলবিদ, যিনি (৯০ - ১৬৮ খ্রিষ্টাব্দ) এর মধ্যে জীবিত ছিলেন। তিনি মিশরে জন্মগ্রহণ করেন এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় বেড়ে ওঠেন। তাঁর অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ হলো জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক 'আল-মাজিসতি'। দেখুন: আল-ফিহরিস্ত ৩২৯, আন্দালুসীর তবাকাতুল উমাম ২৯।

(৭) গ্রীক দার্শনিকদের অন্যতম বড় একজন। দেখুন: ডুরান্ট রচিত 'কিসসাতুল ফালসাফাহ' পৃষ্ঠা ২৪৫।

(৮) আল-হায়াওয়ান ১/ ৭৪।

(৯) মুহাক্কিক আবদুস সালাম হারুনের সম্পাদিত 'আল-হায়াওয়ান' ১/ ৪২৭-এ ইস্তিদরাক ও তাযয়িল (পরিশিষ্ট) ১ নং দেখুন।
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ২৮)
الميلاد، صغيْرُ السِّنِّ» قضيةٌ باطلةٌ، لا برهان عليها، وليس لها دليل، وأَنَّ غاية ما يبقى من استظهار الجاحظ هذا هو أَنَّ شعر مهلهل، وابن اخته امرئ القيس مِن أقدمِ ما بقي من شعر الجاهلية (1). ويقول الجاحظ في موضع آخر من كتابه: «وقد قيلَ: الشعرُ قبل الإسلام في مقدارٍ أطولَ مِمَّا بيننا اليوم وبين أول الإسلام» (2)، والجاحظ قد توفي سنة 255 هـ.

والجاحظ وغيره من العلماء الذين قالوا بمدة مائة وخمسين سنة تقريبًا أو أكثر للشعر الجاهلي لم يبعدوا عن الصواب إذا فُرِضَ أَنَّهم إِنَّما أرادوا بذلك ما وصل من الأشعارِ القديمةِ الموثوق بِها، بِحيثُ لا يَرتابُ الرواة الثقاتُ في صحة هذه الأشعار ونسبتها لأولئك الشعراء، وأما عُمْرُ الشعر نفسه فهو أقدم من ذلك بكثير، ولا يستطيع أحدٌ أن يزعم معرفة ذلك التاريخ بدقة، فالأبيات المفردة، والمقطعات عمرها أطول من ذلك بكثير، ولم يقف أحد على أولها، ولذلك يقول السيوطي (3): «وقال عُمَرُ بنُ شَبَّةَ (4) في «طبقات الشعراء»: للشعرِ والشعراءِ أَوَّلٌ لا يُوقَفُ عليه، وقد اختلف في ذلك العلماءُ، وادَّعت القبائلُ كلُّ قبيلةٍ لشاعرها أَنَّهُ الأولُ، ولم يدَّعوا ذلك لقائل البيتين والثلاثة؛ لأَنَّهم لا يُسمُّون ذلك شعرًا، فادعت اليمانيةُ لامرئ القيس، وبنو أسد لعَبيدِ بن الأبرص (5)،

--------------------------------------------

(1) قضية الشعر الجاهلي في كتاب ابن سلام لمحمود محمد شاكر 14.

(2) الحيوان 6/ 277.

(3) هو جلال الدين أبو بكر عبدالرحمن السيوطي، (849 - 911 هـ) من العلماء المشاركين في عدد من العلوم، المكثرين من التصنيف، من كتبه الدر المنثور في التفسير، والمزهر، والإتقان في علوم القرآن وغيرها. انظر: حسن المحاضرة 1/ 188، البدر الطالع 1/ 328، معجم المفسرين 1/ 264.

(4) هو عُمَرُ بن شَبَّةَ بن عبيدة البصري، من رواة الأخبار الكبار، توفي سنة 262 هـ وقد بلغ التسعين. له من التصانيف كتاب الشعر والشعراء، وكتاب أشعار الشراة، وغيرها. انظر: معجم الأدباء 16/ 60.

(5) هو عَبِيدُ بنُ الأبرصِ بن حَنتَم، شاعرُ بني أسد، عدَّه ابن سلَاّم من الطبقة الرابعة من شعراء الجاهلية، توفي سنة 600 م تقريبًا وشعره المحفوظ قليل، مع تقديمه، مما يدل =
...জন্ম, অল্প বয়স" বিষয়টি বাতিল, এর কোনো প্রমাণ নেই এবং এর স্বপক্ষে কোনো দলিলও নেই। আল-জাহিজের এই পর্যবেক্ষণের চূড়ান্ত সারকথা হলো, মুহালহিল এবং তার ভাগ্নে ইমরাউল কায়েসের কবিতা হলো জাহেলি যুগের কবিতার অবশিষ্ট প্রাচীনতম নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত (১)। এবং আল-জাহিজ তার কিতাবের অন্য এক স্থানে বলেছেন: "বলা হয়ে থাকে: ইসলামের পূর্ববর্তী কবিতার সময়কাল আমাদের বর্তমান সময় এবং ইসলামের শুরুর মধ্যবর্তী সময়ের চেয়েও দীর্ঘ" (২)। আর আল-জাহিজ ২৫৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

আল-জাহিজ এবং অন্যান্য যে সকল আলেম জাহেলি কবিতার জন্য আনুমানিক একশত পঞ্চাশ বছর বা তার কিছু বেশি সময়কাল নির্ধারণ করেছেন, তারা সত্য থেকে দূরে সরে যাননি যদি ধরে নেওয়া হয় যে, তারা এর দ্বারা কেবল সেই সব নির্ভরযোগ্য প্রাচীন কবিতা উদ্দেশ্য নিয়েছেন যা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে; যাতে করে বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীগণ এই কবিতাগুলোর বিশুদ্ধতা এবং ঐ সকল কবিদের সাথে এদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সন্দেহ পোষণ না করেন। কিন্তু স্বয়ং কবিতার বয়স তার চেয়েও অনেক প্রাচীন। কেউই সেই ইতিহাস সুনির্দিষ্টভাবে জানার দাবি করতে পারে না। কেননা একক পঙ্ক্তি এবং খণ্ড কবিতাগুলোর বয়স তার চেয়েও অনেক বেশি দীর্ঘ এবং কেউই এর শুরুর সন্ধান পায়নি। আর এই কারণেই সুয়ূতী (৩) বলেন: "উমর বিন শাব্বাহ (৪) ‘তাবাকাতুশ শুয়ারা’ গ্রন্থে বলেছেন: কবিতা ও কবিদের এমন এক সূচনা রয়েছে যা উদঘাটন করা যায় না। এ বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। প্রত্যেক গোত্রই তাদের কবিকে প্রথম বলে দাবি করেছে। তবে তারা দুই বা তিন পঙ্ক্তির রচয়িতার ক্ষেত্রে এই দাবি করেনি; কারণ তারা ইহাকে ‘কবিতা’ নামে অভিহিত করত না। ফলে ইয়ামানিরা ইমরাউল কায়েসের ব্যাপারে এবং বনু আসাদ আবিদ ইবনুল আবরাসের (৫) ব্যাপারে এই দাবি করেছে...

--------------------------------------------

(১) মাহমুদ মুহাম্মদ শাকের রচিত 'ইবনু সালামের কিতাবে জাহেলি কবিতার সমস্যা', পৃষ্ঠা ১৪।

(২) আল-হায়াওয়ান ৬/২৭৭।

(৩) তিনি হলেন জালালুদ্দীন আবু বকর আব্দুর রহমান আস-সুয়ূতী (৮৪৯ - ৯১১ হি.), তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা আলেমদের অন্যতম। তাঁর লিখিত কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে তাফসীরের ক্ষেত্রে আদ-দুররুল মানসুর, আল-মুযহির এবং উলূমুল কুরআনের ক্ষেত্রে আল-ইতকান ইত্যাদি। দেখুন: হুসনুল মুহাদারা ১/১৮৮, আল-বাদরুত তালি ১/৩২৮, মুজামুল মুফাসসিরীন ১/২৬৪।

(৪) তিনি হলেন উমর বিন শাব্বাহ বিন উবাইদাহ আল-বসরী, ইতিহাসের একজন বড় বর্ণনাকারী। তিনি ২৬২ হিজরি সনে নব্বই বছর বয়সে পদার্পণ করে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে কিতাবুশ শি’র ওয়াশ শুয়ারা, কিতাবু আশআরিশ শারাহ ইত্যাদি। দেখুন: মুজামুল উদাবা ১৬/৬০।

(৫) তিনি হলেন আবিদ ইবনুল আবরাস বিন হানতাম, বনু আসাদ গোত্রের কবি। ইবনু সালাম তাঁকে জাহেলি যুগের কবিদের চতুর্থ স্তরের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি আনুমানিক ৬০০ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সংরক্ষিত কবিতার পরিমাণ কম হওয়া সত্ত্বেও এর মর্যাদা অগ্রগণ্য, যা থেকে প্রমাণিত হয় =
(খণ্ড: ১) আশ-শাহিদুশ শিয়রী ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম আহাম্মিয়্যাতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন ফীল ইসতিশহাদি বিহি (পৃষ্ঠা: ২৯)
وتغلبُ لمهلهل، وبكر لعمرو بن قميئة (1) والمرقش الأكبر، وإياد لأبي دؤاد (2).

قال - أي عمر بن شبَّة: وزعم بعضهم أَنَّ الأفوهَ الأوديَّ (3) أقدمُ من هؤلاءِ، وأَنَّهُ أَولُ من قَصَّدَ القصيدَ، قال: وهؤلاءِ النَّفَرُ المُدَّعى لهم التقدمُ في الشعرِ مُتقاربون، لعلَّ أقدمهم لا يسبقُ الهجرةَ بِمائةِ سنةٍ أو نحوها» (4).

وأكثر العلماء يَخصُّون المهلهل بن ربيعة بفضل ريادةِ الشعراء أصحاب القصيد، إذ يقول ابن سلام (5): «وكان أول من قَصَّدَ القصائد، وذَكَر الوقائع المهلهل بن ربيعة» (6). ويقول الأصمعي (7): «أول من تُروى له كلمة تبلغ ثلاثين بيتًا من الشعر مهلهل، ثم ذؤيب بن كعب بن عمرو بن تَميم (8)، ثُم

--------------------------------------------

= على ذهاب كثير من شعر الجاهلية .. انظر: الشعر والشعراء 1/ 267، الأغاني 19/ 84.

(1) هو عمرو بن قميئة بن سعد بن مالك البكري، شاعر جاهلي قديم، عده ابن سلام من الطبقة الثامنة من الجاهليين، لم تعرف سنة وفاته. انظر: الشعر والشعراء 1/ 376.

(2) هو جارية بن الحجاج الإيادي، توفي سنة 540 م أو 550 م، شاعر قديم، وقد أهملت العرب رواية شعره لأن ألفاظه ليست بنجدية. انظر: الأصمعيات 185.

(3) هو أبو ربيعة صلاءة بن عمرو بن مالك من مذحج، شاعر جاهلي قديم، كان سيد قومه وحكيمهم، توفي أيام عمرو بن هند سنة 50 قبل الهجرة. لقب بالأفوه لغلظ شفتيه، وظهور أسنانه. انظر: الشعر والشعراء 1/ 223، ديوانه (ضمن الطرائف الأدبية) للميمني 3.

(4) المزهر 2/ 477.

(5) هو محمد بن سلام الجُمَحيُّ البصري، المتوفى سنة 231 هـ، من أعلم الناس وأوثقهم بالشعراء وطبقاتهم، وله كتاب طبقات فحول الشعراء. انظر: معجم الأدباء 18/ 204.

(6) طبقات فحول الشعراء 1/ 39.

(7) هو عبدالملك بن قريب الأصمعي الباهلي، من أوثق رواة الشعر والأخبار والغريب، أخذ عن أبي عمرو بن العلاء، وتوفي سنة 216 هـ. وله الأصمعيات وهي مختارات من الشعر. انظر: مقدمة تحقيق الأصمعيات 11.

(8) شاعر جاهلي قديم من تميم، قبل امرئ القيس بثلاثين سنة، وبعد المهلهل في تقصيد القصيد. انظر: الاشتقاق 201 - 202.
তগলিব (গোত্র) মুহালহিলের জন্য, বকর (গোত্র) আমর ইবনে কামিআহ (১) ও মুরক্কিশ আল-আকবরের জন্য, এবং ইয়াদ (গোত্র) আবু দুয়াদের (২) জন্য।

উমর ইবনে শাব্বাহ বলেন: কেউ কেউ দাবি করেছেন যে আল-আফওয়াহ আল-আউদি (৩) তাদের চেয়েও প্রাচীন ছিলেন এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি কাসিদা রচনা করেছিলেন। তিনি বলেন: এই ব্যক্তিবর্গ যাদের কবিতার ক্ষেত্রে অগ্রবর্তী হওয়ার দাবি করা হয়, তারা পরস্পর সমসাময়িক; সম্ভবত তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনজন হিজরতের একশ বছর বা তার কাছাকাছি সময়ের আগে নন (৪)।

অধিকাংশ আলেম মুহালহিল ইবনে রাবিয়াকে কাসিদা রচয়িতা কবিদের অগ্রপথিক হওয়ার মর্যাদা দিয়ে থাকেন। যেমন ইবনে সাল্লাম (৫) বলেন: «মুহালহিল ইবনে রাবিয়া ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি কাসিদা রচনা করেছেন এবং যুদ্ধ-বিগ্রহের কথা বর্ণনা করেছেন» (৬)। আসমায়ি (৭) বলেন: «যাঁর কাছ থেকে প্রথম ত্রিশ পংক্তি বিশিষ্ট কবিতা বর্ণিত হয়েছে তিনি হলেন মুহালহিল, তারপর জুআইব ইবনে কাব ইবনে আমর ইবনে তামিমি (৮), তারপর...»

--------------------------------------------

= জাহেলি যুগের অনেক কবিতা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে .. দেখুন: আশ-শি'রু ওয়াশ-শুআরা ১/২৬৭, আল-আগানি ১৯/৮৪।

(১) তিনি হলেন আমর ইবনে কামিআহ ইবনে সাদ ইবনে মালিক আল-বাকরি, একজন প্রাচীন জাহিলি কবি। ইবনে সাল্লাম তাকে জাহেলি কবিদের অষ্টম স্তরের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তার মৃত্যুর সাল জানা নেই। দেখুন: আশ-শি'রু ওয়াশ-শুআরা ১/৩৭৬।

(২) তিনি হলেন জারিয়া ইবনুল হাজ্জাজ আল-ইয়াদি, ৫৪০ বা ৫৫০ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি একজন প্রাচীন কবি। আরবরা তার কবিতার বর্ণনা বর্জন করেছে কারণ তার শব্দগুলো নাজদি শৈলীর নয়। দেখুন: আল-আসমায়িয়্যাত ১৮৫।

(৩) তিনি হলেন আবু রাবিয়া সিলাআহ ইবনে আমর ইবনে মালিক, মাজহিজ গোত্রের। তিনি প্রাচীন জাহিলি কবি, তার কওমের নেতা ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি ছিলেন। তিনি হিজরতের ৫০ বছর পূর্বে আমর ইবনে হিন্দের আমলে মৃত্যুবরণ করেন। তার ঠোঁট মোটা হওয়ার কারণে এবং দাঁত প্রকাশমান হওয়ার কারণে তাকে 'আল-আফওয়াহ' উপাধি দেওয়া হয়। দেখুন: আশ-শি'রু ওয়াশ-শুআরা ১/২২৩, আল-মায়মানি সম্পাদিত তার দিওয়ান (তরাইফ আল-আদাবিয়্যাহ-র অন্তর্ভুক্ত) ৩।

(৪) আল-মুযহির ২/৪৭৭।

(৫) তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে সাল্লাম আল-জুমাহি আল-বাসরি, মৃত্যু ২৩১ হিজরি। তিনি কবিদের ও তাদের স্তরের ব্যাপারে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্যতম। তার রচিত 'তাবাকাতু ফুহুলিশ শুআরা' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে। দেখুন: মু'জামুল উদাবা ১৮/২০৪।

(৬) তাবাকাতু ফুহুলিশ শুআরা ১/৩৯।

(৭) তিনি হলেন আব্দুল মালিক ইবনে কুরাইব আল-আসমায়ি আল-বাহিলি। তিনি কবিতা, সংবাদ এবং দুর্লভ শব্দাবলির বর্ণনাকারীদের মধ্যে অন্যতম নির্ভরযোগ্য। তিনি আবু আমর ইবনুল আলা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং ২১৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তার 'আল-আসমায়িয়্যাত' নামক কবিতার একটি সংকলন রয়েছে। দেখুন: আল-আসমায়িয়্যাত গ্রন্থের তাহকিকের ভূমিকা ১১।

(৮) তামিমি গোত্রের একজন প্রাচীন জাহিলি কবি। তিনি ইমরুল কায়েসের ত্রিশ বছর পূর্বে ছিলেন এবং কাসিদা রচনার ক্ষেত্রে মুহালহিলের পরবর্তী স্তরের। দেখুন: আল-ইশতিকাক ২০১-২০২।