(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: -)
نقد الصحابة والتابعين للتفسير القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: نقد الصحابة والتابعين للتفسير
إعداد: عبد السلام بن صالح بن سليمان الجار الله
رسالة: دكتوراه - جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية - كلية أصول الدين - قسم القرآن وعلومه
إشراف: فضيلة الأستاذ الدكتور/ زاهر بن عواض الألمعي
العام الجامعي: 1427 - 1428 هـ
عدد الصفحات: 776
تاريخ النشر بالشاملة: 6 رجب 1440
তফসীর বিষয়ে সাহাবী ও তাবিঈগণের সমালোচনা বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলে তফসীর
বই: তফসীর বিষয়ে সাহাবী ও তাবিঈগণের সমালোচনা
প্রস্তুতকারী: আব্দুস সালাম বিন সালেহ বিন সুলাইমান আল-জারুল্লাহ
গবেষণাপত্র: ডক্টরেট - ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় - উসূলুদ্দীন অনুষদ - কুরআন ও তৎসংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান বিভাগ
তত্ত্বাবধানে: শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ডক্টর/ যাহের বিন আওয়ায আল-আলমায়ী
শিক্ষাবর্ষ: ১৪২৭ - ১৪২৮ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৭৬
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ রজব ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১)
وزارة التعليم العالي
جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
كلية أصول الدين
قسم القرآن وعلومه
نَقْدُ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِيْنَ للتَّفْسِيْرِ
دراسة نظرية تطبيقية
رسالة أعدها لنيل درجة الدكتوراه الطالب:
عبد السلام بن صالح بن سليمان الجار الله
إشراف
فضيلة الأستاذ الدكتور/ زاهر بن عواض الألمعي
الأستاذ بقسم القرآن وعلومه
الجزء الأول
العام الجامعي
1427/ 1428
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
উসুলুদ্দিন অনুষদ
কুরআন ও কুরআন বিজ্ঞান বিভাগ
তাফসিরের ক্ষেত্রে সাহাবী ও তাবিঈগণের পর্যালোচনা
একটি তাত্ত্বিক ও প্রয়োগিক গবেষণা
পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য ছাত্র কর্তৃক প্রস্তুতকৃত অভিসন্দর্ভ:
আবদুস সালাম বিন সলিহ বিন সুলাইমান আল-জারুল্লাহ
তত্ত্বাবধানে
প্রখ্যাত প্রফেসর ডক্টর জহির বিন আওয়াদ আল-আলমায়ী
প্রফেসর, কুরআন ও কুরআন বিজ্ঞান বিভাগ
প্রথম খণ্ড
শিক্ষাবর্ষ
১৪২৭/ ১৪২৮
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةالحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين، وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:
فإن الغاية التي من أجلها أُنزل القرآن الكريم، وأُمر الناس باتباعه والإيمان به، هي الاهتداء بهديه، ولا سبيل إلى تحقيق هذه الغاية إلا بتدبر القرآن، وفهم معانيه، فهما الطريق إلى الاهتداء بالقرآن، ومعرفة حلاله وحرامه، وهما السبيل إلى الاتعاظ بمواعظه وزواجره، وقصصه وأمثاله
…ولما كان الأمر كذلك اهتم المسلمون - خاصة العلماء - بتفسير القرآن الكريم، واجتهدوا في كشف معانيه، مشافهةً ومدارسةً؛ وكتابةً وتأليفاً.
والناس متفاوتون في فهم القرآن الكريم؛ نظراً لاختلاف مداركهم وأفهامهم، وتفاوت منازلهم في الإلمام بالعلوم واكتسابها، وتباين أهدافهم وتوجهاتهم، وبسبب ذلك حاد بعض الناس عن فهم القرآن، والتبس عليهم تفسيره، فظهرت بعض المناهج المنحرفة، والأقوال المنكرة، فتصدى لها العلماء والمفسرون وانبروا لنقدها والتحذير منها على حسب درجتها في الخطأ، كل ذلك
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু এবং বিচার দিবসের মালিক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
নিশ্চয়ই যে মহান উদ্দেশ্যে কুরআন কারীম অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং মানুষকে এর অনুসরণ ও এর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা হলো এর মাধ্যমে হেদায়েত লাভ করা। আর এই উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য কুরআনের গভীর চিন্তা-গবেষণা (তদাব্বুর) এবং এর অর্থ অনুধাবন করা ব্যতীত অন্য কোনো পথ নেই। কারণ এই দুটিই হলো কুরআনের হেদায়েত লাভ এবং এর হালাল ও হারাম জানার মাধ্যম। আর এ দুটিই হলো কুরআনের নসিহত, সতর্কবাণী, কাহিনী ও দৃষ্টান্তসমূহ থেকে শিক্ষা গ্রহণের উপায়
…আর বিষয়টি যেহেতু এই রূপ, তাই মুসলিমগণ—বিশেষ করে আলেম সমাজ—কুরআন কারীমের তাফসীরের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এর অর্থসমূহ উন্মোচনে মৌখিক আলোচনা, শিক্ষাদান, লেখনী ও গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে কঠোর শ্রম দিয়েছেন।
কুরআন কারীম বোঝার ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে তারতম্য রয়েছে; তাদের মেধা ও অনুধাবন ক্ষমতার ভিন্নতা, জ্ঞান অর্জন ও তা আয়ত্ত করার স্তরের পার্থক্য এবং তাদের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গির বৈচিত্র্যের কারণে। আর এই কারণেই কিছু মানুষ কুরআন বোঝার ক্ষেত্রে বিচ্যুত হয়েছে এবং এর তাফসীর তাদের কাছে সংশয়পূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে কিছু বিভ্রান্ত মানহাজ (পদ্ধতি) ও আপত্তিকর মতামতের উদ্ভব হয়েছে। তখন ওলামায়ে কেরাম ও মুফাসসিরগণ সেগুলোর মোকাবিলায় দাঁড়িয়েছেন এবং সেগুলোর ভুলের মাত্রা অনুযায়ী সেগুলোর সমালোচনা ও সতর্কীকরণে সচেষ্ট হয়েছেন। এই সব কিছুই
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ৩)
دفاعًا عن القرآن، وذوداً عن حياضه، وحماية له من تحريف الغالين، وتأويل الجاهلين، وانتحال المبطلين.
وقد تزامن الدفاع عن القرآن وتفسيره مع الدفاع عن السنة النبوية، فكما انبرى المحدثون للدفاع عن السنة، واجتهدوا في حمايتها، انبرى المفسرون للدفاع عن تفسير القرآن الكريم.
إلا أن المحدثين في دفاعهم عن السنة اهتموا بدرجة أكبر بنقد الأحاديث من حيث بيان الصحيح من الضعيف، وتتبع رجال الإسناد والكشف عن أحوالهم تعديلاً وتجريحاً.
ولأن صحة القرآن الكريم والقطع بثبوته قضية محسومة بإجماع الأمة على تواتر ما بين دفتي المصحف، فقد اهتم العلماء والمفسرون بتفسير القرآن وتأويله، فنظروا في المناهج والكتب، والمرويات والأقوال، ونقدوا ما يحتاج إلى نقد؛ انطلاقاً من قواعد مقررة في هذا العلم.
وترجع جذور نقد التفسير إلى زمن النبوة، فقد أنكر النبي صلى الله عليه وسلم على بعض الصحابة فهمهم الخاطئ لبعض الآيات، وبعد عصره صلى الله عليه وسلم قام الصحابة والتابعون رضي الله عنهم بجهد واضح في نقد التفسير بحسب ما جد في عصرهم.
وبعد عصرهم ازداد الخلاف، وكثرت البدع، فزاد تبعاً لذلك الانحراف في فهم القرآن، والخطأ في تفسيره، فاتسعت دائرة النقد وتعددت مجالاته وأساليبه، وكلما كثر الخطأ والانحراف في التفسير اتسع النقد وتشعبت فروعه، وتنوعت طرقه وأساليبه.
কুরআনের প্রতিরক্ষা হিসেবে, এর পবিত্র সীমানা সুরক্ষায়, এবং চরমপন্থীদের বিকৃতি, মূর্খদের অপব্যাখ্যা ও বাতিলপন্থীদের মিথ্যারোপ থেকে একে রক্ষা করতে।
কুরআন এবং এর তাফসিরের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম নববী সুন্নাহর প্রতিরক্ষার সাথেই সমসাময়িকভাবে শুরু হয়েছিল। যেভাবে মুহাদ্দিসগণ সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় এগিয়ে এসেছিলেন এবং তা সংরক্ষণে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন, তেমনি মুফাসসিরগণও কুরআনুল কারিমের তাফসিরের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে এসেছিলেন।
তবে মুহাদ্দিসগণ সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় হাদিসের শুদ্ধাশুদ্ধি তথা সহিহ ও যয়িফ নির্ণয় এবং সনদের রাবিদের অনুসন্ধান ও জারহ-তাদিলের মাধ্যমে তাঁদের অবস্থা উন্মোচনের ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
যেহেতু কুরআনুল কারিমের বিশুদ্ধতা এবং এর অকাট্য প্রামাণিকতা মুসহাফের দুই মলাটের মধ্যবর্তী অংশের নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার ওপর উম্মাহর ঐকমত্যের মাধ্যমে একটি মীমাংসিত বিষয়, তাই ওলামায়ে কিরাম ও মুফাসসিরগণ কুরআনের তাফসির ও ব্যাখ্যার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁরা বিভিন্ন পদ্ধতি, গ্রন্থ, বর্ণনা ও উক্তিগুলো পর্যালোচনা করেছেন এবং এই শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠিত মূলনীতিসমূহের আলোকে যা কিছু সমালোচনার দাবি রাখে তা সমালোচনা করেছেন।
তাফসির সমালোচনার শিকড় নবুওয়াতের যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত। কেননা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু আয়াতের ব্যাপারে কোনো কোনো সাহাবীর ভুল বুঝাবুঝির প্রতিবাদ করেছিলেন। তাঁর যুগের পর সাহাবী ও তাবিঈগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁদের যুগে উদ্ভূত পরিস্থিতির আলোকে তাফসির পর্যালোচনায় সুস্পষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তাঁদের যুগের পর মতপার্থক্য বৃদ্ধি পায় এবং বিদআতের প্রসার ঘটে, ফলে এর অনুবর্তী হিসেবে কুরআনের মর্মার্থ অনুধাবনে বিচ্যুতি এবং এর তাফসিরের ক্ষেত্রে ভুলভ্রান্তিও বেড়ে যায়। এর ফলে সমালোচনার পরিধি বিস্তৃত হয় এবং এর ক্ষেত্র ও পদ্ধতি বহুমুখী হয়ে ওঠে। তাফসিরে ভুল ও বিচ্যুতি যত বেড়েছে, সমালোচনার পরিধিও তত বিস্তৃত হয়েছে এবং এর শাখা-প্রশাখা ও পদ্ধতিসমূহ বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে।
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ৪)
ولم تكن الدراسات المعاصرة بمعزل عن تناول هذا المجال، فقد اهتم كثير من الباحثين بنقد التفسير، وأخذ حيزاً كبيراً من مؤلفاتهم، وأفردوا فيه الكتب: إما نقداً لمنهج، أو مفسر، أو كتاب، أو مرويات وأقوال، حتى أصبح بعض الباحثين يتتبع جزئية من جزئيات التفسير ويقوم بنقدها.
غير أن هذه الدراسات كلها - قديمها وحديثها - اهتمت بالجانب العملي في النقد على اختلاف أنواعه ومجالاته، بمعنى أن العلماء قاموا بانتقاد ما يعتقدون خطأه في التفسير (1).
ومن هنا برزت فكرة البحث، فالنقد بمجاله العملي بحاجة إلى دراسة تأصيلية تتناوله بوصفه ظاهرة، وتُعنى بالحديث عن نشأته ودواعيه، وبيان مجالاته وأسسه، وأثره على المفسرين، وطريقة تناولهم له، وبخاصة إذا علمنا أن أحداً لم يقم بدراسته على هذا الوجه، وغاية ما قام به بعضهم هو الجانب العملي فقط.
--------------------------------------------
সমকালীন অধ্যয়নসমূহ এই ক্ষেত্রটি আলোচনার বাইরে ছিল না। বহু গবেষক তাফসিরের সমালোচনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এটি তাঁদের রচনার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। তাঁরা এই বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন: হয় কোনো পদ্ধতি, অথবা কোনো মুফাসসির, অথবা কোনো কিতাব, কিংবা কোনো বর্ণনা ও বক্তব্যের সমালোচনা হিসেবে। এমনকি কোনো কোনো গবেষক তাফসিরের সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর বিষয়গুলো অনুসরণ করে সেগুলোর সমালোচনা করছেন।
তবে এই সকল অধ্যয়ন—চাই তা প্রাচীন হোক বা আধুনিক—সমালোচনার ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক দিকের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এর বিভিন্ন ধরণ ও ক্ষেত্রে। এর অর্থ হলো, উলামায়ে কেরাম তাফসিরের মধ্যে যা ভুল বলে মনে করেছেন, তার সমালোচনা করেছেন (১)।
এখান থেকেই এই গবেষণার ধারণাটি উদ্ভূত হয়েছে। কারণ, সমালোচনার এই ব্যবহারিক ক্ষেত্রটির একটি তাত্ত্বিক অধ্যয়নের প্রয়োজন রয়েছে, যা একে একটি স্বতন্ত্র প্রপঞ্চ হিসেবে বিবেচনা করবে। এটি এর উদ্ভব ও কারণ সম্পর্কে আলোচনা করবে এবং এর ক্ষেত্র, ভিত্তি, মুফাসসিরদের ওপর এর প্রভাব ও তাঁদের এটি গ্রহণ করার পদ্ধতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে। বিশেষ করে যখন আমরা জানি যে, এই আঙ্গিকে এখন পর্যন্ত কেউ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেনি এবং এ যাবৎ যা কিছু কাজ হয়েছে তার সর্বোচ্চ সীমা ছিল কেবল ব্যবহারিক দিকটিই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ৫)
ودراسة منهج المفسرين في نقد التفسير بوجه عام دون تحديد ذلك بزمن أو فئة مما لا يمكن الإلمام به في رسالة واحدة، لذا رأيت الاقتصار على عصر الصحابة والتابعين رضي الله عنهم، وقد سميت هذا الموضوع:
نقد الصحابة والتابعين للتفسير، دراسة نظرية تطبيقية
أهمية الموضوع وأسباب اختياره:
أولاً: أن العناية بنقد التفسير، والنظر في مناهجه ورجاله وكتبه، ومروياته وأقواله؛ لمعرفة الصحيح والضعيف مهم في الدفاع عن كتاب الله، وله أثر على القارئ في طمأنينته وثقته بالآراء الصحيحة، فإن الشخص قد يعرف الرأي الراجح في معنى الآية، لكنه يسمع بآراء أخرى مرجوحة أو مردودة، فإذا لم تنتقد بقيت عالقةً بذهنه، وربما أصبحت حجر عثرة في طريق معرفة الصحيح، أما إذا انتقدت وتبين ضعفها، كان ذلك أدعى لنفرته منها، ورجوعه إلى الآراء الصحيحة.
ثانياً: أهمية دراسة ظاهرة النقد عند المفسرين وتأصيلها، وبيان أهدافها ومجالاتها وأسسها، والنظر والتأمل في جهود المفسرين، وطريقتهم في نقد المناهج والرجال والمرويات والأقوال.
وإذا وجب على المفسرين العناية بمعرفة صحيح المناهج والمرويات والأقوال، وكيفية الوصول إليها، وطرق الترجيح وقواعده، فإنه يجب عليهم
সাধারণভাবে কোনো নির্দিষ্ট সময়কাল বা গোষ্ঠীর সীমাবদ্ধতা ব্যতিরেকে তাফসীর পর্যালোচনায় মুফাসসিরগণের কর্মপন্থা বা মানহাজ অধ্যয়ন করা এমন একটি বিষয় যা একটি মাত্র গবেষণাপত্রে আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। তাই আমি সাহাবী ও তাবিঈগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যুগের মধ্যে বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ রাখা সমীচীন মনে করেছি। আর আমি এই বিষয়ের নামকরণ করেছি:
তাফসীর পর্যালোচনায় সাহাবী ও তাবিঈগণ: একটি তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক গবেষণা
বিষয়ের গুরুত্ব ও এটি নির্বাচনের কারণসমূহ:
প্রথমত: তাফসীর পর্যালোচনার প্রতি গুরুত্বারোপ করা, এবং এর মানহাজ, বর্ণনাকারী, গ্রন্থসমূহ, বর্ণনা ও বক্তব্যসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করা; যাতে সঠিক ও দুর্বল (সহীহ ও যয়ীফ) বর্ণনা নির্ণয় করা যায়—এটি আল্লাহর কিতাবকে রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পাঠকের মনে প্রশান্তি এবং সঠিক মতামতের প্রতি আস্থার সঞ্চার করে। কেননা একজন ব্যক্তি কোনো আয়াতের অর্থের ক্ষেত্রে সঠিক ও অগ্রগণ্য (রাজীহ্) মতটি জানতে পারলেও অনেক সময় সে অন্যান্য গুরুত্বহীন (মারজুহ্) বা প্রত্যাখ্যাত মতগুলোও শুনতে পায়। সুতরাং যদি সেগুলোর সমালোচনা বা বিশ্লেষণ করা না হয়, তবে তা তার স্মৃতিতে গেঁথে থাকে এবং সঠিক বিষয়টি জানার পথে সম্ভবত অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু যখন সেগুলোর পর্যালোচনা করা হয় এবং সেগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন তা সেই ভুল মতগুলো থেকে বিমুখ হওয়ার এবং সঠিক মতের দিকে প্রত্যাবর্তন করার অধিকতর সহায়ক হয়।
দ্বিতীয়ত: মুফাসসিরগণের পর্যালোচনা পদ্ধতির অধ্যয়ন ও এর তাত্ত্বিক রূপরেখা প্রদানের গুরুত্ব, এবং এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, ক্ষেত্র ও ভিত্তিগুলো স্পষ্ট করা; এছাড়া মুফাসসিরগণের প্রচেষ্টা এবং মানহাজ, বর্ণনাকারী, বর্ণনা ও বক্তব্য পর্যালোচনায় তাঁদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করা।
আর মুফাসসিরগণের জন্য যদি সঠিক মানহাজ, বর্ণনা ও বক্তব্যসমূহ জানা এবং সেগুলো অর্জনের উপায় ও প্রধান্য দেওয়ার (তারজীহ্) পদ্ধতি ও নিয়মাবলি সম্পর্কে সচেতন থাকা আবশ্যক হয়, তবে তাঁদের জন্য এটিও আবশ্যক যে—
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ৬)
معرفة الضعيف ومنشأه، والمنهج السليم في نقده، بل معرفة هذا لا تقل أهمية عن معرفة ذاك.
ومما يؤكد أهمية هذه الدراسة أنها تبرز مكانة المفسرين في النقد، وعلو كعبهم فيه، كما تعطي تصوراً مشرقاً عنهم، لا كما يظن بعض الناس من أنهم مجرد نقلةٍ للأخبار والمرويات والأقوال دون نظر ولا تدقيق.
ثالثاً: حظيت بعض ظواهر التفسير بالدراسة والتحليل والتأصيل، كظاهرة الاختلاف والترجيح، على حين لم يقم أحد بدراسة ظاهرة النقد وتأصيلها، فأصبح من المهم تسليط الضوء عليها.
رابعاً: أن هذه الدراسة تغطي جانباً مهماً من مناهج المفسرين في تعاملهم مع التفسير بمجالاته المختلفة، فهي تعطي القارئ تصوراً عاماً عن نقد التفسير: دواعيه ومجالاته وأثره، وقواعده التي ينطلق منها، ومدى اهتمام المفسرين وعنايتهم به.
خامساً: أما الاقتصار على عصر الصحابة والتابعين فلأنهم الأصل، ومن جاء بعدهم فعنهم يأخذ، ومن معينهم ينهل، وهم يمثلون المنهج الصحيح للنقد، فالنقد يتأثر عادة بما يحمله الناقد من أفكار ومبادئ، فهو يختلف باختلاف المشرب والهدف، وكما مارسه أهل السنة، مارسه أهل البدع، ولكلٍّ توجهاته ومنطلقاته النقدية، فالحاجة ماسة إلى إبراز نقد يمثل المنهج الصحيح.
وأما إدراج التابعين مع الصحابة رضي الله عنهم فلما بينهم من التشابه والتقارب في كثير
দুর্বল বর্ণনা এবং এর উৎস সম্পর্কে জানা এবং এর সমালোচনায় সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান; বরং এটি জানা ঐটি (সহীহ) জানার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
এই গবেষণার গুরুত্ব যা ফুটিয়ে তোলে তা হলো এটি সমালোচনার ক্ষেত্রে মুফাসসিরদের মর্যাদা এবং তাঁদের সুউচ্চ অবস্থানকে প্রকাশ করে। পাশাপাশি এটি তাঁদের সম্পর্কে একটি উজ্জ্বল ধারণা প্রদান করে, যা কিছু মানুষের ধারণার মতো নয় যে তাঁরা কোনো প্রকার চিন্তা-গবেষণা বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই কেবল সংবাদ, বর্ণনা এবং উক্তি স্থানান্তরকারী।
তৃতীয়ত: তাফসিরের কিছু ধারা অধ্যয়ন, বিশ্লেষণ এবং মূলনীতি নির্ধারণের সুযোগ লাভ করেছে, যেমন মতপার্থক্য এবং প্রাধান্য প্রদানের বিষয়টি। অথচ কেউ সমালোচনার ধারা ও এর মূলনীতি নির্ধারণ নিয়ে কোনো গবেষণা করেনি, ফলে এর ওপর আলোকপাত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
চতুর্থত: এই গবেষণাটি মুফাসসিরগণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাফসিরের সাথে তাঁদের আচরণের পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে অন্তর্ভুক্ত করে, এটি পাঠককে তাফসিরের সমালোচনা: এর কারণ, ক্ষেত্র, প্রভাব, এর উৎসগত নিয়মাবলি এবং মুফাসসিরদের এ বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব ও মনোযোগের মাত্রা সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা দেয়।
পঞ্চমত: সাহাবী এবং তাবিঈগণের যুগের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার কারণ হলো তাঁরাই মূল ভিত্তি, আর যারা তাঁদের পরে এসেছেন তাঁরা তাঁদের থেকেই গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের ঝর্ণাধারা থেকেই পান করেছেন। তাঁরাই সমালোচনার সঠিক পদ্ধতির প্রতিনিধিত্ব করেন। কেননা সমালোচনা সাধারণত সমালোচকের চিন্তা-চেতনা ও মূলনীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়। এটি চিন্তাধারা ও লক্ষ্যের ভিন্নতায় ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যেভাবে আহলে সুন্নাত এটি চর্চা করেছেন, তেমনি বিদআতিরাও তা চর্চা করেছে। প্রত্যেকেরই নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও সমালোচনামূলক ভিত্তি রয়েছে। তাই সঠিক পদ্ধতির প্রতিনিধিত্ব করে এমন একটি সমালোচনাকে ফুটিয়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
আর সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সাথে তাবিঈগণকে অন্তর্ভুক্ত করার কারণ হলো অনেক বিষয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে বিদ্যমান সাদৃশ্য ও নিকটবর্তিতা।
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ৭)
من الأمور، فالأصول واحدة، والأهداف والمناهج مشتركة، والصحابة أساتذة التابعين، ومنهم أخذ التابعون التفسير وتلقوا أصوله.
ومهما قيل في الفروق بين الصحابة والتابعين في التفسير فإنها لا تعدو فروقاً يسيرة إذا قورنت بالفروق التي حدثت بعدهم، حين اتسع الخرق، وفشت البدع، وتفرقت بالناس الآراء والأهواء.
وفي الجملة فمدرسة الصحابة والتابعين رضي الله عنهم تُعد واحدة بالنسبة للعصور اللاحقة.
বিভিন্ন বিষয়ের ক্ষেত্রে মূলনীতিসমূহ অভিন্ন এবং লক্ষ্য ও কর্মপদ্ধতিও অভিন্ন; সাহাবীগণ হলেন তাবেঈগণের শিক্ষক এবং তাঁদের নিকট থেকেই তাবেঈগণ তাফসির গ্রহণ করেছেন ও এর মূলনীতিসমূহ আয়ত্ত করেছেন।
তাফসিরের ক্ষেত্রে সাহাবী ও তাবেঈগণের মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে যা-ই বলা হোক না কেন, তা পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট পার্থক্যের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য; যখন ফাটল আরও প্রশস্ত হয়েছিল, বিদআত ছড়িয়ে পড়েছিল এবং মানুষের মাঝে নানা মত ও খেয়ালখুশি বিভেদ সৃষ্টি করেছিল।
সারকথা হলো, পরবর্তী যুগগুলোর তুলনায় সাহাবী ও তাবেঈগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ধারাটি অভিন্ন হিসেবেই গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ৮)
خطة البحثيشتمل البحث على الآتي:
1 - المقدمة.
2 - التمهيد.
ويتضمن ما يلي:
أولاً: التعريف بالموضوع.
ثانيًا: النقد النبوي للتفسير وأثره على الصحابة.
3 - أبواب الرسالة، وهي:
الباب الأول: جهود الصحابة والتابعين في دفع الخطأ في التفسير قبل وقوعه.
وفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأول: تغليظ الخطأ في التفسير وبيان خطره.
الفصل الثاني: الاهتمام بالتفسير الصحيح، والحث على ما يعين على فهم القرآن الكريم.
الفصل الثالث: الاختلاف في تفسير الصحابة والتابعين.
গবেষণার রূপরেখাগবেষণায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
১ - ভূমিকা।
২ - উপক্রমণিকা।
এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ধারণ করে:
প্রথমত: বিষয়ের পরিচয়।
দ্বিতীয়ত: তাফসীরের ক্ষেত্রে নববী সমালোচনা এবং সাহাবীদের ওপর এর প্রভাব।
৩ - অভিসন্দর্ভের মূল পরিচ্ছেদসমূহ, যা হলো:
প্রথম খণ্ড: তাফসীরের ক্ষেত্রে ভুল সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই তা রোধে সাহাবী ও তাবিঈগণের প্রচেষ্টা।
এতে তিনটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: তাফসীরের ভুলের ভয়াবহতা এবং এর বিপদের বর্ণনা।
দ্বিতীয় অধ্যায়: সঠিক তাফসীরের প্রতি গুরুত্বারোপ এবং কুরআনুল কারীম বুঝার ক্ষেত্রে সহায়ক বিষয়গুলোর প্রতি উৎসাহ প্রদান।
তৃতীয় অধ্যায়: সাহাবী ও তাবিঈগণের তাফসীরের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য।
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ৯)
الباب الثاني: دواعي نقد الصحابة والتابعين للتفسير وأساليبه ومميزاته:
وفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأول: دواعي النقد عند الصحابة والتابعين.
الفصل الثاني: أساليب الصحابة والتابعين في نقد التفسير.
الفصل الثالث: مميزات نقد الصحابة والتابعين للتفسير.
وفيه مبحثان:
المبحث الأول: مميزات نقد الصحابة والتابعين للتفسير.
المبحث الثاني: أبرز نقاد الصحابة والتابعين.
الباب الثالث: مجالات نقد التفسير عند الصحابة والتابعين:
وفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأول: نقد طرق التفسير ومناهجه.
الفصل الثاني: نقد رجال التفسير.
الفصل الثالث: نقد الأقوال.
الباب الرابع: أسس نقد التفسير عند الصحابة والتابعين وأثره:
দ্বিতীয় অধ্যায়: সাহাবী ও তাবিঈগণের তাফসীর পর্যালোচনার কারণসমূহ, তার পদ্ধতিসমূহ এবং বৈশিষ্ট্যসমূহ:
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাহাবী ও তাবিঈগণের নিকট পর্যালোচনার কারণসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাফসীর পর্যালোচনায় সাহাবী ও তাবিঈগণের পদ্ধতিসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবী ও তাবিঈগণের তাফসীর পর্যালোচনার বৈশিষ্ট্যসমূহ।
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: সাহাবী ও তাবিঈগণের তাফসীর পর্যালোচনার বৈশিষ্ট্যসমূহ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সাহাবী ও তাবিঈগণের মধ্যে বিশিষ্ট সমালোচকবৃন্দ।
তৃতীয় অধ্যায়: সাহাবী ও তাবিঈগণের তাফসীর পর্যালোচনার ক্ষেত্রসমূহ:
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাফসীরের পদ্ধতি ও মানহাজসমূহের পর্যালোচনা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাফসীর শাস্ত্রের ব্যক্তিবর্গের পর্যালোচনা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অভিমতসমূহের পর্যালোচনা।
চতুর্থ অধ্যায়: সাহাবী ও tাবিঈগণের তাফসীর পর্যালোচনার মূলভিত্তি এবং এর প্রভাব:
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১০)
وفيه فصلان:
الفصل الأول: أسس نقد التفسير عند الصحابة والتابعين:
وفيه مبحثان:
المبحث الأول: الأسس المتعلقة بالرواية.
المبحث الثاني: الأسس المتعلقة بالدراية.
الفصل الثاني: أثر نقد الصحابة والتابعين للتفسير.
4 - الخاتمة: وفيها أهم نتائج البحث وتوصياته.
5 - الفهارس وتشمل: فهرس الآيات، وفهرس الأحاديث، وفهرس الآثار، وفهرس الشعر، وفهرس تراجم الأعلام، وثبت المصادر والمراجع، وفهرس الموضوعات.
منهج البحث:
أولاً: كتابة الآيات بالرسم العثماني، وعزوها بذكر اسم السورة، ورقم الآية.
ثانياً: تخريج الأحاديث تخريجاً علمياً، وعزوها إلى مصادرها الأصلية، فإن
এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাহাবী ও তাবিঈগণের নিকট তাফসীর পর্যালোচনার মূলনীতিসমূহ:
এতে দুইটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: বর্ণনা সম্পর্কিত মূলনীতিসমূহ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বিচারবুদ্ধি ও অনুধাবন সম্পর্কিত মূলনীতিসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাফসীর পর্যালোচনায় সাহাবী ও তাবিঈগণের প্রভাব।
৪ - উপসংহার: এতে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও সুপারিশসমূহ রয়েছে।
৫ - নির্ঘণ্টসমূহ, যা অন্তর্ভুক্ত করে: আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট, হাদীসসমূহের নির্ঘণ্ট, আছারসমূহের (পূর্বসূরীদের বাণী) নির্ঘণ্ট, কবিতার নির্ঘণ্ট, ব্যক্তিবর্গের জীবনীর নির্ঘণ্ট, তথ্যসূত্র ও সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি এবং বিষয়সূচি।
গবেষণার পদ্ধতি:
প্রথমত: উসমানি লিপিতে আয়াতসমূহ লিখন এবং সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখের মাধ্যমে সেগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান।
দ্বিতীয়ত: হাদীসসমূহের তখরীজ (উৎস নির্ণয়) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে করা এবং সেগুলোকে মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা, কেননা
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১১)
كان الحديث في الصحيحين اكتفيت بهما أو بأحدهما، وإن كان في غيرهما اجتهدت في ذكر من خرجه من أصحاب الدواوين، ناقلاً كلام العلماء فيه تصحيحاً أو تضعيفاً.
ثالثاً: عزو الآثار الواردة عن الصحابة والتابعين رضي الله عنهم إلى مصادرها الأصلية التي تروي بالإسناد، أو التي تحيل إلى الكتب المسندة، ولم يفتني من ذلك إلا القليل ولله الحمد.
رابعاً: فيما يتصل بالاستشهاد بأقوال الصحابة والتابعين استشهدت بكل نقد لمنهج أو مفسر، أو قول، أو عمل مبني على تأول آية وفهمها، وذكرت كل نقد لتفسير سواء تبنى هذا التفسير أحد من الناس، أو أُورد على سبيل الاستشكال؛ لأنه - والحالة هذه - يعد فهماً للنص القرآني، وقد يوجد من يتبناه.
ولم اقتصر في نقل الشواهد والأمثلة عن الصحابة والتابعين على المشهورين بتفسير القرآن، وإنما نقلت عن كل من عرف بالعلم، ونقل عنه العلماء في مصنفاتهم، وإن كان أغلب الشواهد لمن اشتهر بالتفسير منهم.
ولم اقتصر أيضاً في نقل الشواهد على كتب التفسير فقط؛ نظراً لسعة الموضوع وتشعب أطرافه، وتعلق بعض مواضيعه بعلوم أخرى كالعقيدة وعلم الرجال؛ لذا رجعت إليها في مظانها.
وقد أحتاج لتكرار شاهد واحد في أكثر من موطن؛ نظراً لتعلقه بقضايا عدة، فالشاهد الواحد قد يفيد أسلوباً نقدياً، ويكون في نقد منهج، ويحوي بين
যদি হাদিসটি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ থাকে, তবে আমি সেই দুটি বা যেকোনো একটির মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছি। আর যদি তা অন্য কোনো গ্রন্থে থাকে, তবে আমি তা সংকলনকারী মূল কিতাবসমূহের প্রণেতাদের নাম উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি এবং সেই হাদিসের বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি।
তৃতীয়ত: সাহাবী এবং তাবেয়ীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত আসারসমূহকে তাদের মূল উৎসের দিকে সম্পৃক্ত করা, যা সনদের সাথে বর্ণিত হয়েছে অথবা যা সনদভিত্তিক গ্রন্থসমূহের দিকে নির্দেশ করে। আল্লাহর প্রশংসায়, এ ক্ষেত্রে খুব সামান্য বিষয়ই আমার অগোচরে রয়ে গেছে।
চতুর্থত: সাহাবী এবং তাবেয়ীগণের উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে, আমি কোনো পদ্ধতি (মানহাজ), মুফাসসির, বক্তব্য বা কোনো আয়াতের ব্যাখ্যা ও উপলব্ধির ওপর ভিত্তি করে কৃত কোনো আমলের সকল সমালোচনা উদ্ধৃত করেছি। আমি তাফসিরের প্রতিটি সমালোচনা উল্লেখ করেছি, চাই সেই তাফসিরটি কেউ গ্রহণ করে থাকুক বা সেটি কেবল সংশয় নিরসনের উদ্দেশ্যে উত্থাপিত হোক; কেননা এমতাবস্থায় এটি কুরআনের পাঠের একটি উপলব্ধি হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এমন কেউ থাকতে পারে যে এই মতটি গ্রহণ করে।
সাহাবী এবং তাবেয়ীগণ থেকে উদাহরণ ও প্রমাণাদি উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে আমি কেবল কুরআন তাফসিরের জন্য প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকিনি; বরং ইলমের জন্য সুপরিচিত এমন প্রত্যেকের থেকেই বর্ণনা করেছি যাদের কথা আলেমগণ তাদের রচনাবলীতে উদ্ধৃত করেছেন, যদিও অধিকাংশ প্রমাণাদি তাদের থেকেই সংগৃহীত যারা তাফসিরের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ছিলেন।
বিষয়ের ব্যাপকতা ও এর বিভিন্ন দিকের বিস্তৃতি এবং আকিদাহ ও ইলমুর রিজালের মতো অন্যান্য শাস্ত্রের সাথে এর কিছু বিষয়ের সম্পৃক্ততার কারণে আমি কেবল তাফসিরের কিতাবসমূহ থেকে প্রমাণ গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিনি; বরং আমি সেই শাস্ত্রের সংশ্লিষ্ট মূল গ্রন্থসমূহেরও শরণাপন্ন হয়েছি।
অনেক ক্ষেত্রে একাধিক বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে আমাকে একটি প্রমাণই একাধিক স্থানে পুনরাবৃত্তি করতে হয়েছে। কারণ একটি একক প্রমাণ একই সাথে কোনো সমালোচনামূলক পদ্ধতি নির্দেশ করতে পারে, আবার কোনো মানহাজের সমালোচনার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এবং এর মধ্যে নিহিত থাকতে পারে...
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১২)
ثناياه دليلاً نقدياً، وهكذا.
ونظراً لطبيعة البحث وعنايته بالتطبيق فقد عُنيت بإيراد الشواهد والأمثلة التوضيحية؛ لما لها من أثر واضح في بيان المسائل.
خامساً: التعريف المختصر بالأعلام غير المشهورين الوارد ذكرهم في متن الرسالة.
سادساً: التعريف بغريب الفرق والأماكن والألفاظ.
ولم يخل البحث من معوقات كان أبرزها جمع مادته العلمية المتناثرة التي لا يحويها مكان خاص، وكثير منها موجود في غير كتب التفسير، وقد اضطرني تفرق المادة العلمية في المصنفات إلى قراءة كتب كاملة قبل أن أبدأ، فقرأت جامع البيان والدر المنثور، وتفسير عبد الرزاق، وكتاب التفسير من فتح الباري، ثم قرأت فيما بعدُ تفسير ابن أبي حاتم، ومواطن كثيرة من كتب السنة والعقيدة والتراجم وغيرها.
والحمد لله أولاً وآخراً، باطناً وظاهراً، فلولا عونه وتوفيقه ما استطعت إنجاز البحث وتجاوز تلك العقبات، ثم لفضيلة المشرف على البحث الأستاذ الدكتور: زاهر بن عواض الألمعي جميل شكري وتقديري، فإنه ما فتئ يحوطني بنصحه وتوجيهه؛ أسأل الله أن يبارك له في عمره وعمله.
كما أتوجه بالشكر لجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، ممثلة بكلية
এর অন্তরালে একটি সমালোচনামূলক দলিল হিসেবে, এবং এভাবেই।
গবেষণার প্রকৃতি এবং এর প্রায়োগিক দিকের প্রতি গুরুত্বারোপের কারণে, আমি বিভিন্ন দলিল-প্রমাণ ও ব্যাখ্যামূলক উদাহরণ উপস্থাপনের প্রতি যত্নশীল হয়েছি; কারণ বিষয়গুলো স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে এগুলোর সুস্পষ্ট প্রভাব রয়েছে।
পঞ্চম: গবেষণাপত্রের মূল পাঠ্যে উল্লিখিত অখ্যাত ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত পরিচয় প্রদান।
ষষ্ঠ: অপরিচিত দল, স্থান এবং শব্দাবলির পরিচয় প্রদান।
এই গবেষণাটি প্রতিবন্ধকতা মুক্ত ছিল না, যার মধ্যে প্রধান ছিল এর বিক্ষিপ্ত তাত্ত্বিক উপাদানগুলো সংগ্রহ করা, যা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত নেই। এর অনেক উপাদানই তাফসিরের গ্রন্থসমূহ ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থে বিদ্যমান। বিভিন্ন সংকলনে তাত্ত্বিক বিষয়গুলোর এই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অবস্থা আমাকে কাজ শুরু করার আগেই পূর্ণাঙ্গ কিছু কিতাব অধ্যয়ন করতে বাধ্য করেছে। ফলে আমি জামিউল বায়ান, আদ-দুররুল মানসুর, তাফসিরে আবদুর রাজ্জাক এবং ফাতহুল বারীর কিতাবুত তাফসির পড়েছি। পরবর্তীতে আমি তাফসিরে ইবনে আবি হাতিম এবং সুন্নাহ, আক্বিদা, জীবনীগ্রন্থ ও অন্যান্য বিষয়ের বহু কিতাবের সংশ্লিষ্ট অংশসমূহ অধ্যয়ন করেছি।
আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে ও অন্তে, গোপনে ও প্রকাশ্যে। তাঁর সাহায্য ও তাওফিক না থাকলে আমি এই গবেষণা সম্পন্ন করতে এবং সেইসব বাধা অতিক্রম করতে পারতাম না। এরপর গবেষণার সম্মানিত তত্ত্বাবধায়ক প্রফেসর ডক্টর জাহির বিন আওয়াদ আল-লামায়ীর প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি; তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে আমাকে তাঁর উপদেশ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে আগলে রেখেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর হায়াত ও আমলে বরকত দান করেন।
এছাড়াও আমি ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যার প্রতিনিধিত্ব করছে অনুষদ...
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أصول الدين، وقسم القرآن وعلومه على تفضلهم بقبولي للدراسة في برنامج الدكتوراه.
وأشكر كل من أعانني على إتمام البحث برأي أو تسديد.
وقد بذلت في هذا البحث ما استطيع، فما فيه من صواب فهو بتوفيق الله عز وجل، وما فيه من خلل ونقص فمن نفسي والشيطان، واستغفر الله من خللي وتقصيري.
وأسأل الله أن يمنَّ علي ومن قرأ هذا البحث بالعلم النافع والعمل الصالح، إنه ولي ذلك والقادر عليه، والحمد لله رب العالمين.
উসূলে দীন এবং কুরআন ও উলূমুল কুরআন বিভাগকে আমাকে পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়নের জন্য গ্রহণ করার মহানুভবতার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আর আমি এমন প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাই যারা পরামর্শ বা দিকনির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে এই গবেষণা সম্পন্ন করতে আমাকে সাহায্য করেছেন।
আমি এই গবেষণায় আমার সাধ্যমতো প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি; এতে যা কিছু সঠিক আছে তা মহান আল্লাহর তাওফীক বা অনুগ্রহে, আর যা কিছু বিচ্যুতি ও অসম্পূর্ণতা রয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর আমি আমার বিচ্যুতি ও ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাকে এবং যারা এই গবেষণাটি পাঠ করবেন তাদের প্রত্যেককে উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ সক্ষম। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
التمهيدوفيه:
أولاً: التعريف بالموضوع.
ثانياً: النقد النبوي للتفسير وأثره على الصحابة.
ভূমিকাএতে রয়েছে:
প্রথমত: বিষয় পরিচিতি।
দ্বিতীয়ত: তাফসীরের ক্ষেত্রে নববী সমালোচনা এবং সাহাবায়ে কেরামের ওপর এর প্রভাব।
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أولاًالتعريف بالموضوع
1 - تعريف النقد:يأتي النقد في لغة العرب على ثلاثة معان:
أ- بمعنى: تمييز الشيء والكشف عنه واختباره، ومن ذلك نقدُ الدراهم؛ إذا كُشف عن حالها؛ ليعلم رديئها من جيدها (1).
ويقال: هو ينقد إلى الشيء بعينه؛ إذا أدام النظر إليه باختلاس حتى لا يفطن
… له، فكأنه يحاول الكشف عما ينظر إليه والتحقق من حاله (2).
ونقد الكلام: تمييز جيده من رديئه، وصحيحه من فاسده (3).
--------------------------------------------
প্রথমতবিষয়বস্তুর পরিচিতি
১ - নকদ-এর সংজ্ঞা:আরবি ভাষায় ‘নকদ’ শব্দটি তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
ক- কোনো বস্তুকে পৃথক করা, তা উন্মোচিত করা এবং পরীক্ষা করা অর্থে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো দিরহামের ‘নকদ’ (পরখ করা); যখন সেটির অবস্থা উন্মোচিত করা হয়, যাতে সেটির মন্দ অংশ থেকে ভালো অংশকে আলাদা করে জানা যায় (১)।
বলা হয়ে থাকে: ‘সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বস্তুটিকে পরখ করছে’; যখন সে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সেটির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে যাতে কেউ বুঝতে না পারে
…, যেন সে যা দেখছে তা উন্মোচন করার এবং সেটির অবস্থা যাচাই করার চেষ্টা করছে (২)।
এবং কথার ‘নকদ’ (সমালোচনা) হলো: তার উত্তম অংশকে মন্দ থেকে এবং সঠিক অংশকে ত্রুটিপূর্ণ থেকে পৃথক করা (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ب - ويأتي صفةً للشيء الجيد المستحسن، يقال: درهم نقد؛ إذا كان جيداً (1).
ج - ويأتي النقد صفةً لما يعاب ويستكره: فالنقد من الناس سفلتهم، و"نَقَد" بالتحريك يطلق على غنم صغار الأرجل قباح الوجوه.
ويسمى التكسر في الضرس، وتآكل الحافر وتقشره، وعيب الناس وذمهم نقداً (2)، وفي الأثر: » إن نقدت الناس نقدوك «(3) أي: إن عبتهم واغتبتهم قابلوك بمثله (4).
والنقد في الاصطلاح يشمل المعاني الثلاثة، فهو عملية مشتركة تبدأ بالنظر والتمييز، وتنتهي ببيان الجيد من الرديء، والصحيح من الفاسد، وهو مستعمل في أكثر العلوم بهذا المعنى (5).
وحديثنا عن النقد يتناوله بمعانيه الثلاثة، أما المعنى الأول فيرد في الكلام عما تمتع به الصحابة والتابعون رضي الله عنهم من النظر الصائب، والتمييز الدقيق في مجالات التفسير المختلفة، وأما المعنى الثاني فيرد في ذكر جهودهم في دفع الخطأ في فهم
--------------------------------------------
খ - এটি কোনো ভালো এবং পছন্দনীয় জিনিসের বৈশিষ্ট্য হিসেবে আসে; বলা হয়: দিরহামুন নাকদ; যখন তা গুণগতভাবে উন্নত হয় (১)।
গ - 'নাকদ' শব্দটি দোষারোপযোগ্য ও অপছন্দনীয় বিষয়ের বৈশিষ্ট্য হিসেবেও আসে। মানুষের ক্ষেত্রে 'নাকদ' বলতে তাদের মধ্য থেকে নিচু স্তরের লোকদের বোঝায়। আর 'নাকাদ' (হরকতসহ) শব্দটি ছোট পা ও কদাকার মুখমণ্ডলবিশিষ্ট বকরি বা ছাগলের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
দাঁত ভেঙে যাওয়া, খুর ক্ষয়ে যাওয়া ও ছাল উঠে যাওয়া এবং মানুষের দোষ বর্ণনা করা ও তাদের নিন্দা করাকেও 'নাকদ' বলা হয় (২)। একটি বর্ণনায় (আসার) এসেছে: "যদি তুমি মানুষের সমালোচনা করো, তবে তারা তোমার সমালোচনা করবে" (৩); অর্থাৎ: যদি তুমি তাদের দোষ ধরো এবং তাদের গিবত (পরনিন্দা) করো, তবে তারাও তোমার সাথে অনুরূপ আচরণ করবে (৪)।
পারিভাষিক অর্থে 'নাকদ' বা সমালোচনা এই তিনটি অর্থকেই অন্তর্ভুক্ত করে। এটি একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া যা পর্যবেক্ষণ ও পার্থকীকরণের মাধ্যমে শুরু হয় এবং মন্দের মধ্য থেকে ভালোকে এবং অশুদ্ধের মধ্য থেকে শুদ্ধকে স্পষ্ট করার মাধ্যমে শেষ হয়। অধিকাংশ জ্ঞানে এই অর্থেই শব্দটি ব্যবহৃত হয় (৫)।
আমাদের আলোচনায় 'নাকদ' বা সমালোচনা এর তিনটি অর্থকেই ধারণ করে। প্রথম অর্থটি সাহাবী ও তাবিঈগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাফসীরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধির অধিকারী ছিলেন, সেই বর্ণনায় আসবে। আর দ্বিতীয় অর্থটি আসবে কুরআনের অর্থ উপলব্ধিতে ভুল নিরসনে তাঁদের প্রচেষ্টার বর্ণনায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
القرآن الكريم، واهتمامهم بالتفسير الصحيح وعنايتهم بالقواعد التي تعين على فهم كتاب الله، وإشادتهم بأئمة التفسير، وسيأتي الحديث عن ذلك كله في الباب الأول إن شاء الله تعالى، وأما النقد بمعناه الثالث فهناك حديث مستفيض عما عابه الصحابة والتابعون وذموه في التفسير من المناهج والرجال والمرويات والأقوال.
وعليه نستطيع تعريف نقد التفسير بأنه: تمييز التفسير بمجالاته المختلفة؛ مناهج ورجال، ومرويات وأقوال، وبيان الصحيح من الضعيف.
2 - تعريف الصحابي:لفظ الصحابي من حيث الوضع اللغوي مشتق من الصحبة (1)، والمراد صحبة النبي صلى الله عليه وسلم، وهناك مسائل عديدة متعلقة بمن يصح إطلاق اسم الصحابي عليه، وقد أكثر العلماء الحديث عنها؛ مثل: صحة إطلاقه على من رأى النبي صلى الله عليه وسلم وهو دون التمييز، أو رآه حال كفره ثم أسلم بعد وفاته، أو رآه بعد وفاته، ومثل دخول الملائكة والجن في مسمى الصحابة (2).
غير أن القضية التي اهتم بها العلماء، وأخذت قدراً كبيراً من حديثهم واختلافهم هي المقدار الزمني للصحبة ليصح إطلاق اسم الصحابي على من رأى
--------------------------------------------
পবিত্র কুরআন, এবং সঠিক তাফসীরের প্রতি তাঁদের আগ্রহ ও আল্লাহর কিতাব অনুধাবনে সহায়ক নীতিমালাসমূহের প্রতি তাঁদের যত্ন, এবং তাফসীরের ইমামগণের প্রতি তাঁদের প্রশংসা; এই সবই ইনশাআল্লাহ তাআলা প্রথম অধ্যায়ে আলোচিত হবে। আর তৃতীয় অর্থে সমালোচনা বলতে সাহাবী ও তাবিঈগণ তাফসীরের যে সকল পদ্ধতি, বর্ণনাকারী, বর্ণনা ও মতামতের ত্রুটি বর্ণনা করেছেন এবং যেগুলোর নিন্দা করেছেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
এর ওপর ভিত্তি করে আমরা তাফসীর-সমালোচনার সংজ্ঞা এভাবে দিতে পারি যে: তাফসীরকে তার বিভিন্ন ক্ষেত্র যথা—পদ্ধতি, বর্ণনাকারী, বর্ণনা ও মতামত অনুযায়ী পৃথক করা এবং সঠিক থেকে দুর্বলকে স্পষ্ট করা।
২ - সাহাবীর সংজ্ঞা:ভাষাগত ব্যবহারের দিক থেকে 'সাহাবী' শব্দটি 'সুহবত' (সাহচর্য) থেকে উদ্ভূত (১), আর এখানে উদ্দেশ্য হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য। কাকে সাহাবী বলা শুদ্ধ হবে—এ বিষয়ে অনেক মাসআলা রয়েছে এবং ওলামায়ে কেরাম এ নিয়ে প্রচুর আলোচনা করেছেন। যেমন: যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন অবস্থায় দেখেছেন যখন তিনি ভালো-মন্দের পার্থক্য করার বয়সে পৌঁছাননি, অথবা কুফর অবস্থায় তাঁকে দেখেছেন কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন, কিংবা তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁকে দেখেছেন—তাঁদের ক্ষেত্রে এ শব্দের প্রয়োগ শুদ্ধ হওয়া; এবং সাহাবী নামের অন্তর্ভুক্ত ফেরেশতা ও জিনদের বিষয়াবলী (২)।
তবে যে বিষয়টি ওলামায়ে কেরাম অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং যা তাঁদের আলোচনা ও মতপার্থক্যের বড় একটি অংশ দখল করে আছে, তা হলো—যিনি দেখেছেন তাঁকে সাহাবী বলার জন্য সাহচর্যের কতটুকু সময়সীমা থাকা আবশ্যক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
النبي صلى الله عليه وسلم.
فمذهب جمهور العلماء والمحدثين الاكتفاء بالقدر اليسير من الصحبة ، وعدم اشتراط طولها.
يقول ابن كثير (1): » الصحابي من رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم في حال إسلام الراوي وإن لم تطل صحبته له، وإن لم يرو عنه شيئاً ، هذا قول جمهور العلماء خلفاً وسلفاً» (2).
وذكر بعض العلماء أن هذا المذهب طريقة أهل الحديث (3).
والتعبير بالرؤية قد يفهم منه إخراج من لا يستطيع رؤية النبي صلى الله عليه وسلم كالأعمى؛ لذا عبر بعض العلماء عن الرؤية باللقاء ، فعَرَّفَ الصحابي بأنه من لقي النبي صلى الله عليه وسلم (4).
وذهب بعض الأصوليين إلى اشتراط طول الصحبة لصحة إطلاق اسم الصحابي على من رأى النبي صلى الله عليه وسلم، فمجرد الرؤية واللقاء ليس كافياً في نظرهم ، وإن
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
অধিকাংশ আলিম ও মুহাদ্দিসগণের মাযহাব বা অভিমত হলো সাহচর্যের সামান্যতম সময়কেও যথেষ্ট মনে করা এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়াকে শর্ত না করা।
ইবনে কাসীর (১) বলেন: » সাহাবী তিনি, যিনি বর্ণনাকারীর ইসলাম গ্রহণ অবস্থায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন, যদিও তাঁর সাথে সাহচর্য দীর্ঘ না হয় এবং যদিও তিনি তাঁর থেকে কোনো কিছু বর্ণনা না করেন। এটিই পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জমহুর (অধিকাংশ) আলিমদের অভিমত« (২)।
কোনো কোনো আলিম উল্লেখ করেছেন যে, এই মাযহাবটি হলো আহলুল হাদীসগণের পদ্ধতি (৩)।
'দর্শন' বা দেখার বিষয়টি ব্যবহার করার ফলে এমন ব্যক্তি বাদ পড়ে যেতে পারেন বলে মনে হতে পারে যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখার সক্ষমতা রাখতেন না, যেমন অন্ধ ব্যক্তি; তাই কোনো কোনো আলিম দেখার পরিবর্তে 'সাক্ষাৎ' শব্দ ব্যবহার করেছেন। ফলে তাঁরা সাহাবীর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে—যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন (৪)।
পক্ষান্তরে কোনো কোনো উসুলবিদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন এমন ব্যক্তির ওপর 'সাহাবী' নাম প্রয়োগ করার বৈধতার জন্য সাহচর্যের দীর্ঘতাকে শর্ত করেছেন। তাঁদের দৃষ্টিতে কেবল দেখা বা সাক্ষাৎ করা যথেষ্ট নয়, যদিও
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كان صحيحاً من حيث الاستعمال اللغوي ، فيطلق على من صحب شخصاً ولو ساعة.
ويضيف هؤلاء أن العرف قيد الوضع اللغوي، فلا يطلق اسم الصحابي إلا على من كثرت صحبته للنبي صلى الله عليه وسلم، واختص به اختصاص الصاحب بالمصحوب لا على من لقيه ساعة (1).
والمذهب الأول هو الراجح ، وعليه العمل عند المحدثين والأصوليين (2) ، واستدل ابن كثير لرجحانه بقول النبي صلى الله عليه وسلم: » يأتي على الناس زمان ، يغزو فئام من الناس ، فيقال لهم: فيكم من رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فيقولون: نعم ، فيفتح لهم، ثم يغزو فئام من الناس ، فيقال لهم: فيكم من رأى من صحب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ ، فيقولون: نعم ، فيفتح لهم، ثم يغزو فئام من الناس ، فيقال لهم: هل فيكم من رأى من صحب من صحب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ ، فيقولون: نعم ، فيفتح لهم «(3).
--------------------------------------------
ভাষাগত ব্যবহারের দিক থেকে এটি সঠিক ছিল, তাই এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এটি প্রয়োগ করা হয় যে কোনো ব্যক্তির সাথে সামান্য সময়ও (এমনকি এক ঘণ্টা) অতিবাহিত করেছে।
তারা আরও যোগ করেন যে, প্রচলন (উর্ফ) ভাষাগত ভিত্তিকে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। ফলে 'সাহাবী' নামটি কেবল তাঁর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে যাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দীর্ঘ সাহচর্য ছিল এবং যাঁর সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর, এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে নয় যিনি তাঁর সাথে মাত্র সামান্য সময় (এক ঘণ্টা) সাক্ষাৎ করেছেন (১)।
আর প্রথম মতটিই অগ্রগণ্য এবং মুহাদ্দিস ও উসুলবিদগণের নিকট এটিই অনুসৃত (২)। ইবনে কাসীর এই মতের শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "মানুষের নিকট এমন এক সময় আসবে যখন একদল লোক যুদ্ধে লিপ্ত হবে। তখন তাদের জিজ্ঞেস করা হবে: তোমাদের মাঝে কি এমন কেউ আছে যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন? তারা বলবে: হ্যাঁ। তখন তাদের বিজয় দান করা হবে। এরপর আরেক দল লোক যুদ্ধে লিপ্ত হবে। তখন তাদের জিজ্ঞেস করা হবে: তোমাদের মাঝে কি এমন কেউ আছে যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সাহচর্য পেয়েছেন? তারা বলবে: হ্যাঁ। তখন তাদের বিজয় দান করা হবে। এরপর আরও একদল লোক যুদ্ধে লিপ্ত হবে। তখন তাদের জিজ্ঞেস করা হবে: তোমাদের মাঝে কি এমন কেউ আছে যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সাহচর্য পেয়েছেন এমন ব্যক্তির সাহচর্য পেয়েছেন? তারা বলবে: হ্যাঁ। তখন তাদের বিজয় দান করা হবে" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২০)
فدل الحديث على» أن مجرد الرؤية كاف في إطلاق الصحبة ، لشرف رسول الله صلى الله عليه وسلم وجلالة قدره وقدر من رآه من المسلمين «(1).
وأما ما ذكره أصحاب الرأي الثاني من اشتراط طول الصحبة فله تأثير في الفضل ، فإن الصحابة متفاوتون في الفضيلة بحسب قربهم من النبي صلى الله عليه وسلم ، وملازمتهم له ، وتقدم إسلامهم ونحو ذلك.
وقد اتفق العلماء على أن من ثبتت صحبته للنبي صلى الله عليه وسلم فقد ثبتت عدالته وثقته ، وليس بحاجة إلى تعديل أحد (2).
3 - تعريف التابعي:الاختلاف في تعريف التابعي قريب من الاختلاف في تعريف الصحابي ،
--------------------------------------------
হাদিসটি এ কথার প্রমাণ বহন করে যে, কেবল দর্শনই 'সাহাবী' অভিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথেষ্ট; যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মান ও তাঁর সুমহান মর্যাদা এবং তাঁকে দর্শনকারী মুসলমানদের উচ্চ মর্যাদার কারণে।(১)
আর দ্বিতীয় মতাবলম্বীরা দীর্ঘ সাহচর্যের যে শর্তারোপ করেছেন, তার প্রভাব কেবল শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নৈকট্য লাভ, তাঁর সাথে সার্বক্ষণিক অবস্থান, ইসলাম গ্রহণে অগ্রগণ্যতা এবং এ জাতীয় বিষয়ের ভিত্তিতে সাহাবীগণের পারস্পরিক মর্যাদায় তারতম্য রয়েছে।
আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্য প্রমাণিত হয়েছে, তার ন্যায়পরায়ণতা এবং নির্ভরযোগ্যতাও প্রমাণিত হয়েছে; তিনি অন্য কারো কর্তৃক সত্যায়নের মুখাপেক্ষী নন (২)।
৩ - তাবেঈর সংজ্ঞা:তাবেঈর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে বিদ্যমান মতভেদ সাহাবীর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে থাকা মতভেদের কাছাকাছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২১)
فكما اُختلف في القدر الزمني الذي يصح به إطلاق اسم الصحابي على من رأى النبي صلى الله عليه وسلم، اختلف في التابعي ، فذهب بعض من لم يشترط طول الصحبة في الصحابي إلى اشتراطها في التابعي ، فلم يكتف بمجرد رؤيته الصحابي ، والفرق بين الصحابي والتابعي شرف رؤية النبي صلى الله عليه وسلم وعظمها، ولأن الاجتماع به يؤثر في النور القلبي أضعاف ما يؤثره الاجتماع الطويل بالصحابي وغيره من الأخيار (1).
ومذهب جمهور العلماء عدم اشتراط طول صحبة التابعي للصحابي ، وإنما مجرد لقائه به كاف في إطلاق اسم التابعي عليه (2).
وهذا الرأي هو الراجح وعليه عمل أئمة المحدثين كالإمام مسلم ، وأبي حاتم بن حبان (3)
، وأبي عبد الله الحاكم (4) وغيرهم، فإنهم ذكروا في طبقات التابعين
--------------------------------------------
যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন এমন ব্যক্তির ওপর সাহাবী নাম প্রয়োগ করা সঠিক হওয়ার জন্য সময়ের যে পরিমাণের ব্যাপারে মতভেদ করা হয়েছে, ঠিক তেমনি তাবিঈর ব্যাপারেও মতভেদ করা হয়েছে। যারা সাহাবীর ক্ষেত্রে দীর্ঘ সাহচর্যকে শর্ত করেননি, তাদের কেউ কেউ তাবিঈর ক্ষেত্রে তা শর্ত করার মত পোষণ করেছেন। তাই তারা সাহাবীর সাথে কেবল দেখাকেই যথেষ্ট মনে করেননি। আর সাহাবী ও তাবিঈর মধ্যে পার্থক্য হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখার গৌরব ও তার মহত্ত্ব; কারণ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ অন্তরের নূরের ওপর যে প্রভাব ফেলে তা সাহাবী বা অন্যান্য নেককারদের সাথে দীর্ঘ সাহচর্যের প্রভাবের চেয়ে বহুগুণ বেশি (১)।
জমহুর উলামায়ে কেরামের মত হলো তাবিঈর জন্য সাহাবীর দীর্ঘ সাহচর্য শর্ত নয়, বরং তাঁর সাথে কেবল সাক্ষাৎই তাকে তাবিঈ বলার জন্য যথেষ্ট (২)।
এই মতটিই অগ্রগণ্য এবং এর ওপরই ইমাম মুসলিম ও আবু হাতিম বিন হিব্বানের (৩) মতো মুহাদ্দিসগণের আমল রয়েছে,
এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম (৪) ও অন্যান্যরা; তারা তাবিঈদের স্তরসমূহের বর্ণনায় এটি উল্লেখ করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২২)
من رأى صحابياً ولم يثبت سماعه منه كالأعمش (1)؛ فإنه رأى أنس بن مالك رضي الله عنه ولم يثبت سماعه منه (2).
والتابعون في صحبتهم للصحابة طبقات، وقد جعلهم ابن حجر (3) أربع طبقات:
الأولى: طبقة كبار التابعين، كسعيد بن المسيب (4).
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি কোনো সাহাবীকে দেখেছেন কিন্তু তাঁর থেকে শ্রবণ (হাদীস শোনা) প্রমাণিত নয়, যেমন আল-আ'মাশ (১); কেননা তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখেছেন কিন্তু তাঁর থেকে তাঁর শ্রবণ প্রমাণিত হয়নি (২)।
সাহাবীদের সান্নিধ্যের বিচারে তাবিঈগণ বিভিন্ন স্তরের, এবং ইবনু হাজার (৩) তাঁদেরকে চারটি স্তরে বিন্যস্ত করেছেন:
প্রথম: প্রবীণ তাবিঈদের স্তর, যেমন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الثانية: الطبقة الوسطى منهم، كالحسن (1)
وابن سيرين (2).
الثالثة: طبقة تليها جل روايتها عن كبار التابعين، كالزهري (3)
… وقتادة (4).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: তাদের মধ্যবর্তী স্তর, যেমন আল-হাসান (১)
এবং ইবনে সিরিন (২)।
তৃতীয়: পরবর্তী একটি স্তর যাদের বর্ণনার অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ তাবেয়ীদের থেকে গৃহীত, যেমন আজ-জুহরি (৩)
… এবং কাতাদাহ (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الرابعة: الطبقة الصغرى منهم، وهم الذين رأوا الواحد والاثنين ، ولم يثبت لبعضهم سماع من الصحابة، كالأعمش (1).
4 - تعريف التفسير:يرجع مصطلح التفسير في أصله اللغوي إلى ثلاثة أحرف: " الفاء"، و"السين" ، و" الراء ".
وهل أصل التفسير مادة " فسر" ، أو" سفر"؟ ، ذكر الزركشي (2) في "البرهان" (3) قولان في ذلك ، والذي وقفت عليه في المعاجم اللغوية ذكر التفسير في مادة " فسر "، ولم أجد من ذكره في مادة " سفر" ، والتفسير بعد حذف الحروف الزوائد يرجع إلى فسر (4).
وبكل حال فالكلمتان فسر وسفر ترجعان إلى معنى واحد ، وهو الكشف
--------------------------------------------
চতুর্থ: তাঁদের মধ্য থেকে কনিষ্ঠ স্তর, আর তাঁরা হলেন সেই সব ব্যক্তি যাঁরা এক বা দুইজন সাহাবীকে দেখেছেন, এবং তাঁদের কারো কারো পক্ষ থেকে সাহাবায়ে কিরাম থেকে সরাসরি শ্রবণ করা সাব্যস্ত হয়নি, যেমন আল-আ’মাশ (১)।
৪ - তাফসীরের সংজ্ঞা:তাফসীর পরিভাষাটি এর আভিধানিক মূলে তিনটি বর্ণের দিকে ফিরে যায়: "ফা", "সিন" এবং "রা"।
তাফসীরের মূল কি ‘ফ-স-র’ ধাতু নাকি ‘স-ফ-র’ ধাতু? আয-যারকাশী (২) তাঁর "আল-বুরহান" (৩) গ্রন্থে এ বিষয়ে দুটি মত উল্লেখ করেছেন। তবে আমি ভাষাভিধানগুলোতে যা পেয়েছি তা হলো, সেখানে তাফসীরকে ‘ফ-স-র’ ধাতুর অধীনে উল্লেখ করা হয়েছে, এবং আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এটিকে ‘স-ফ-র’ ধাতুর অধীনে উল্লেখ করেছেন। অতিরিক্ত বর্ণসমূহ বিলুপ্ত করার পর তাফসীর শব্দটির মূল ‘ফ-স-র’ (৪) এর দিকেই ফিরে যায়।
যাই হোক, ফাসর এবং সাফর শব্দ দুটি একটি অর্থেই ব্যবহৃত হয়, আর তা হলো উম্মোচন বা প্রকাশ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والبيان والإيضاح (1).
جاء في كتاب "العين":
«الفَسْرُ: التفسير ، وهو بيان وتفصيل الكتاب ، وفَسَرَه يفسره فسراً ، وفسَّره تفسيراً ، والتفسرة: اسم للبول الذي ينظر فيه الأطباء؛ يستدل به على مرض البدن ، وكل شيء يعرف به تفسير الشيء فهو التفسرة» (2).
وفي "تهذيب اللغة ": «وقوله: {وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا} (3) الفسر: كشف المغطى ، وقال بعضهم: التفسير: كشف المراد عن اللفظ المشكل» (4).
ويقال: فسرت الحديث أفسره فسراً؛ إذا بينته وأوضحته ، وفسرته تفسيراً كذلك (5).
ومن شواهد "سفر" قولهم: سفرت المرأة عن وجهها؛ إذا كشفته ، وأسفر الصبح؛ إذا بان وانكشف الظلام ، وسمي السفر بذلك؛ لأن المسافر ينكشف عن
--------------------------------------------
এবং বর্ণনা ও স্পষ্টীকরণ (১)।
“কিতাবুল আইন”-এ এসেছে:
«ফাসর: এটি হলো তাফসির বা ব্যাখ্যা, আর তা হলো কিতাবের বর্ণনা ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ। সে এটি ব্যাখ্যা করেছে বা বর্ণনা করেছে, এবং একইভাবে সে এর তাফসির করেছে। আর “তাফসিরাহ” হলো সেই প্রস্রাবের নাম যা চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণ করেন; যার মাধ্যমে শরীরের রোগ নির্ণয় করা হয়। আর যার মাধ্যমে কোনো বিষয়ের ব্যাখ্যা জানা যায়, তাকেই তাফসিরাহ বলা হয়» (২)।
এবং “তাহজিবুল লুগাহ”-এ এসেছে: «আর মহান আল্লাহর বাণী: {এবং উত্তম ব্যাখ্যা} (৩)। ফাসর: আবৃত বিষয়কে উন্মোচন করা। কেউ কেউ বলেছেন: তাফসির হলো অস্পষ্ট শব্দ থেকে উদ্দিষ্ট অর্থকে উন্মোচন করা» (৪)।
আর বলা হয়: আমি হাদিসটির ফাসর করেছি, যখন আমি তা বর্ণনা ও স্পষ্ট করি; এবং একইভাবে আমি এর তাফসির করেছি (৫)।
আর “সাফার” (উন্মোচন) শব্দের ব্যবহারিক প্রমাণসমূহের মধ্যে রয়েছে তাদের কথা: নারী তার চেহারা উন্মোচন করেছে; যখন সে তা থেকে পর্দা সরিয়েছে। আর সকাল উদ্ভাসিত হয়েছে; যখন তা প্রকাশিত হয়েছে এবং অন্ধকার দূরীভূত হয়েছে। আর সফরকে (ভ্রমণ) এই নামে নামকরণ করা হয়েছে; কারণ মুসাফির (ভ্রমণকারী) নিজের অবস্থান থেকে উন্মোচিত হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مكانه (1).
* وأما المعنى الاصطلاحي للتفسير فهو مأخوذ من المعنى اللغوي من جهة كونه بياناً وكشفاً لمراد الله تعالى من كلامه ، وعلى هذا تدور تعريفات العلماء للتفسير، لكن يزيد بعضهم قيوداً وأوصافاً قد تخدم التفسير، ولها أثر - ولو يسير- في بيان القرآن ، فيذكر مثلاً في التعريف: أسباب النزول ، والناسخ والمنسوخ، والعام والخاص ، والمطلق والمقيد، ونحو ذلك:
كقول الزركشي: «هو علم نزول الآية وسورتها، وأقاصيصها والإشارات النازلة فيها ، ثم ترتيب مكيها ومدنيها ، ومحكمها ومتشابهها ، وناسخها ومنسوخها، وخاصها وعامها، ومطلقها ومقيدها، ومجملها ومفسرها» (2).
وقد يذكر بعض العلماء ما ليس له أثر في بيان القرآن كقول أبي حيان (3): «التفسير: علم يبحث فيه عن كيفية النطق بألفاظ القرآن، ومدلولاتها وأحكامها
--------------------------------------------
তার স্থান (১)।
* আর তাফসিরের পারিভাষিক অর্থের বিষয়টি এর আভিধানিক অর্থ থেকেই গৃহীত হয়েছে, যেহেতু এটি আল্লাহর কালাম থেকে তাঁর উদ্দেশ্য বর্ণনা করা ও তা উন্মোচন করার নাম। আর এর ওপরই তাফসিরের ক্ষেত্রে আলেমগণের সংজ্ঞাসমূহ আবর্তিত হয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এমন কিছু শর্ত ও বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধি করেছেন যা তাফসিরের জন্য সহায়ক হতে পারে এবং কুরআনের বর্ণনায় সেগুলোর প্রভাব রয়েছে—তা সামান্য হলেও। উদাহরণস্বরূপ সংজ্ঞার মধ্যে তাঁরা উল্লেখ করেন: আসবাবুন নুযুল (নাজিলের প্রেক্ষাপট), নাসিখ ও মানসুখ (রহিতকারী ও রহিত), আম ও খাস (সাধারণ ও বিশেষ), মুতলাক ও মুকাইয়াদ (শর্তহীন ও শর্তযুক্ত) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো:
যেমন যারকাশির উক্তি: "এটি এমন এক বিদ্যা যা আয়াতের নাজিল হওয়া এবং তার সুরা, তার কাহিনীসমূহ এবং তাতে অবতীর্ণ ইঙ্গিতসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করে। এরপর মাক্কি ও মাদানি বিন্যাস, মুহকাম ও মুতাশাবিহ, নাসিখ ও মানসুখ, খাস ও আম, মুতলাক ও মুকাইয়াদ এবং মুজমাল ও মুফাসসার সম্পর্কে আলোচনা করে" (২)।
আবার কোনো কোনো আলেম এমন কিছু বিষয়ও উল্লেখ করেছেন যার কুরআনের বর্ণনায় কোনো প্রভাব নেই, যেমন আবু হাইয়ানের উক্তি (৩): "তাফসির হলো এমন এক বিদ্যা যাতে কুরআনের শব্দাবলির উচ্চারণের পদ্ধতি, সেগুলোর অর্থ এবং বিধানাবলি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الإفرادية والتركيبية، ومعانيها التي تحمل عليها حالة التركيب، وتتمات ذلك» (1).
وذكر أن المراد بكيفية النطق بألفاظ القرآن: علم القراءات.
والأولى في التعريفات الاختصار وأن تكون جامعة لحدود المعرَّف ، ومن أحسنها: تعريف الكافيجي (2) لولا أن فيه تكراراً، فإنه قال: «وأما التفسير في العرف فهو: كشف معاني القرآن وبيان المراد» (3)، وبيان المراد داخل في كشف معاني القرآن.
وعرف ابن عثيمين (4) التفسير بتعريف قريب منه، فقال: «بيان معاني القرآن الكريم» (5).
--------------------------------------------
একক ও যৌগিক অবস্থা এবং যৌগিক অবস্থায় এর যে অর্থসমূহ প্রকাশ পায় এবং এর পরিশিষ্টসমূহ» (১)।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনের শব্দাবলি উচ্চারণের পদ্ধতি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কিরাত শাস্ত্র (ইলমুল কিরাত)।
সংজ্ঞার ক্ষেত্রে সংক্ষেপণ এবং সংজ্ঞায়িত বিষয়ের সমস্ত দিক অন্তর্ভুক্ত হওয়াই শ্রেয়। এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো: আল-কাফিয়াজির (২) প্রদানকৃত সংজ্ঞা, যদি তাতে পুনরাবৃত্তি না থাকত। তিনি বলেছেন: «আর পারিভাষিক অর্থে তাফসির হলো: কুরআনের অর্থসমূহ উন্মোচন করা এবং উদ্দেশ্য বর্ণনা করা» (৩), অথচ উদ্দেশ্য বর্ণনা করা কুরআনের অর্থ উন্মোচনের অন্তর্ভুক্ত।
ইবনে উসাইমিন (৪) এর কাছাকাছি একটি সংজ্ঞার মাধ্যমে তাফসিরের সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: «কুরআনুল কারীমের অর্থসমূহের বর্ণনা» (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأما ما يذكره المفسرون في كتبهم من معاني بعض المفردات التي لا يؤثر بيانها في المعنى التركيبي للآية، فالقارئ يفهم المراد من الآية دون الحاجة إلى معرفة حقيقة تلك المفردات، وتفسير هذه الأمور يعد بياناً لها، لكنَّ الاختلاف وقع في فائدة البحث في معناها بالنسبة للمفسر، ومن أمثلته ما وقع لعمر رضي الله عنه عندما أراد معرفة معنى الأب ثم عدل عن ذلك، وعده من التكلف؛ لأن معرفة المعنى التركيبي للآية مفهوم دون الوقوف على حقيقة الأب.
ومن أمثلته تفسير المبهمات في القرآن، فتفسيرها يعد بياناً لها، ولا يمكن إخراجها من البيان، فإذا قلنا إن المراد بضمير التثنية في قول الله تعالى: {إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا وَإِنْ تَظَاهَرَا عَلَيْهِ} (1) عائشة وحفصة رضي الله عنهما (2) فإنه يعد بياناً للآية، لكن جهلنا باسميهما لا يؤثر في فهم المراد من الآية، وسيأتي تفصيل أكثر عن هذه القضية، وتوجيه كلام عمر رضي الله عنه عند الحديث عن نقد التكلف في التفسير.
والمعيب حقاً أن تكون هذه المعاني التي لا تؤثر في بيان المعنى العام للآية هي ما يشغل المفسر ويصرفه عن البحث عن الفوائد والأحكام والعبر والهدايات التي
--------------------------------------------
আর মুফাসসিরগণ তাঁদের গ্রন্থসমূহে কিছু শব্দের যে অর্থ বর্ণনা করেন যার ব্যাখ্যা আয়াতের বাক্যগত অর্থের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না, পাঠক সেসব শব্দের প্রকৃত তাৎপর্য জানা ছাড়াই আয়াতের উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন। এই বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদানকে সেগুলোর বর্ণনা হিসেবেই গণ্য করা হয়। তবে মুফাসসিরের ক্ষেত্রে এগুলোর অর্থের ওপর গবেষণার উপযোগিতার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। এর একটি উদাহরণ হলো উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল, যখন তিনি ‘আল-আব্ব’ শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছিলেন, অতঃপর তিনি তা থেকে বিরত থাকেন এবং একে তাকাল্লুফ (অহেতুক কৃত্রিমতা) হিসেবে গণ্য করেন; কেননা ‘আল-আব্ব’-এর প্রকৃত স্বরূপ অবগত হওয়া ছাড়াও আয়াতের বাক্যগত অর্থ বোধগম্য।
এর আরেকটি উদাহরণ হলো কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়াদির (মুবহামাত) ব্যাখ্যা। সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদানকে সেগুলোর বর্ণনা হিসেবেই গণ্য করা হয় এবং বর্ণনা থেকে একে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা উভয়ে যদি আল্লাহর কাছে তাওবা করো, তবে তোমাদের হৃদয় তো বিচ্যুত হয়েছেই; আর যদি তোমরা তাঁর বিরুদ্ধে একে অপরের সহায়তা করো} —এখানে দ্বিবচন সর্বনাম দ্বারা যদি আয়েশা ও হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বোঝানো হয়, তবে তা আয়াতের একটি বর্ণনা হিসেবেই গণ্য হবে। কিন্তু তাঁদের নাম আমাদের জানা না থাকলেও আয়াতের উদ্দেশ্য বোঝার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা এবং তাফসিরের ক্ষেত্রে তাকাল্লুফের সমালোচনার আলোচনায় উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বক্তব্যের ব্যাখ্যা সামনে আসবে।
প্রকৃতপক্ষে দোষণীয় বিষয় হলো, আয়াতের সাধারণ অর্থ বর্ণনায় প্রভাব ফেলে না এমন অর্থগুলোই মুফাসসিরকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলা এবং তাঁকে আয়াতের উপকারিতা, বিধান, শিক্ষা ও হেদায়েত অনুসন্ধান থেকে বিমুখ রাখা যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাকদুস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন লিত-তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
من أجلها نزل القرآن، وأحياناً لا تجد في بعض التفاسير سوى البحث عن هذه المعاني الفرعية، ويعظم الخطأ عندما يكون البحث في معاني تلك الأشياء غير ذي جدوى لعدم إمكانية الترجيح بين الأقوال في تفسيرها، وكونها متلقاة من الأخبار والروايات الإسرائيلية.
وهناك أشياء يذكرها المفسرون وهي ليست من بيان القرآن في شيء، مثل فضائل السور والآيات، وكذا ما أشار إليه أبو حيان في تعريف التفسير وأنه يشمل كيفية النطق بألفاظ القرآن كالإمالة والمدود ونحوهما.
যার উদ্দেশ্যে কুরআন নাযিল হয়েছে, অথচ মাঝে মাঝে কিছু তাফসীরে কেবল এই সকল আনুষঙ্গিক অর্থেরই অনুসন্ধান লক্ষ্য করা যায়। আর এই ভুলটি তখন প্রকট আকার ধারণ করে, যখন এই বিষয়গুলোর অর্থের ব্যাপারে অনুসন্ধানের কোনো উপযোগিতা থাকে না। এর কারণ হলো সেগুলোর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মতের মধ্যে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ থাকে না এবং সেগুলো ইসরাঈলি বর্ণনা ও তথ্যাদির ওপর ভিত্তি করে গ্রহণ করা হয়েছে।
এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেন, অথচ সেগুলো কুরআনের ব্যাখ্যার সাথে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নয়; যেমন সূরার ফজিলত ও আয়াতের মাহাত্ম্যসমূহ। অনুরূপভাবে আবু হাইয়ান তাফসীরের সংজ্ঞায় যা নির্দেশ করেছেন যে, এটি কুরআনের শব্দমালার উচ্চারণ পদ্ধতি—যেমন ইমালাহ, মাদ্দ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে।