(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: -)
التفسير بالبيان المتصل في القرآن الكريم القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: التفسير بالبيان المتصل في القرآن الكريم
إعداد: بسمة بنت عبد الله بن حمد الكنهل
رسالة :ماجستير- جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، المملكة العربية السعودية - كلية أصول الدين - قسم القرآن وعلومه
إشراف: أ. د. يوسف بن عبد العزيز الشبل
العام الجامعي: 1438 - 1439 هـ
عدد الصفحات: 176
تاريخ النشر بالشاملة: 6 رجب 1440
কুরআনুল কারীমে সংযুক্ত বর্ণনার মাধ্যমে তাফসির বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলুত তাফসির
গ্রন্থ: কুরআনুল কারীমে সংযুক্ত বর্ণনার মাধ্যমে তাফসির
প্রস্তুতি: বাসমা বিনতে আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-কানহাল
থিসিস :মাস্টার্স- ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব রাজ্য - উসূলুদ্দীন অনুষদ - কুরআন ও উলূমুল কুরআন বিভাগ
তত্ত্বাবধান: প্রফেসর ডক্টর ইউসুফ বিন আব্দুল আজিজ আশ-শিবল
শিক্ষাবর্ষ: ১৪৩৮ - ১৪৩৯ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৬
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ রজব ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: -)
التفسير بالبيان المتصل في القرآن الكريم
«دراسة نظرية تأصيلية»
بحث تكميلي لنيل درجة الماجستير في القرآن وعلومه
إعداد
بسمة بنت عبد الله بن حمد الكنهل
إشراف
أ. د. يوسف بن عبد العزيز الشبل
الأستاذ بقسم القرآن وعلومه
পবিত্র কুরআনে সংযুক্ত (متصل) বর্ণনার মাধ্যমে তাফসির
«একটি তাত্ত্বিক ও মৌলিক গবেষণা»
কুরআন ও উলুমুল কুরআন বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের লক্ষে একটি সম্পূরক গবেষণা
প্রস্তুতকারক
বাসমা বিনতে আবদুল্লাহ বিন হামাদ আল-কানহাল
তত্ত্বাবধানে
প্রফেসর ড. ইউসুফ বিন আবদুল আজিজ আল-শিবল
কুরআন ও উলুমুল কুরআন বিভাগের অধ্যাপক
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمة
الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له، ونصلِّي على من أرسله الله رحمةً للعالمين، نبينا محمد صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم، وبعد:
فقد أنزل الله عز وجل القرآن الكريم حياةً للقلوب والأرواح، وفرض تدبُّره فقال: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ (29)} [سورة ص: 29].
والتدبّر المطلوب يكون بإمعان النَّظر والتفكر في الآيات، والربطِ بينها للوصول إلى معرفة المراد منها، ومن ثَمَّ ينتج العمل بها.
وقد جعل الله في القرآن الكريم علم الأوَّلين والآخِرين، يناله من رُزق فهمه والوقوف على معانيه، لذا أفنى العلماء أعمارهم في تفسيره وبيان أحكامه وحكمه، وسلكوا لذلك طرقًا أحسنها: تفسير القرآن بالقرآن نفسِه، فأفاضوا في بيان تفسير القرآن بالقرآن، وصنَّفوا فيه كثيرًا من المصنفات، ولعل الاهتمام الذي حظي به هذا النوع من التفسير كان منصبًا على ما كان بيانه خفيًا، أو واضحًا منفصلًا، ومعلومٌ أن من التفسير ما يكون بيانه واضحًا متصلًا، وأحسب هذا النوعَ لم يلق حظًا كافيًا من الدِّراسة والتَّنظير في كتب أهل العلم؛ لجلائه ووضوحه، غير أنِّي رأيت أهمية تناول هذا الموضوع بالتأصيل والتَّقعيد للحاجة إليه، لاسيما مع تنوُّع مشارب أهل التفسير، ودخول أهل البدع والأهواء فيه، إذ لم يألُوا جهدًا في استغلال الآيات وتطويعها لخدمة مذاهبهم، ومن ذلك استغلالهم لهذا النَّوع من التفسير.
ومن هنا جاءت فكرة هذا البحث الذي جعلت عنوانه: (التفسير بالبيان المتَّصل -دراسة نظرية تأصيلية-)، بهدف بيان المراد منه، وأصول هذا النوع من التفسير، وأهميته، والضوابط التي تحكمه، والتنبيه لما يرد فيه من لبس وخطأ وانحراف.
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট হিদায়াত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমরা দরুদ পাঠ করছি তাঁর প্রতি যাঁকে আল্লাহ বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন—আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা পবিত্র কুরআনকে অন্তর ও আত্মার জীবন হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন এবং এর ওপর গভীর চিন্তা-ভাবনা করাকে আবশ্যক করেছেন। তিনি বলেছেন: "এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন উপদেশ গ্রহণ করে।" [সূরা সাদ: ২৯]।
আর কাঙ্ক্ষিত গভীর চিন্তা-ভাবনা হলো আয়াতসমূহের প্রতি নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিন্তা-ফিকির করা এবং সেগুলোর মাঝে যোগসূত্র স্থাপন করা, যাতে তার উদ্দেশ্য অনুধাবন করা যায় এবং পরবর্তীতে সে অনুযায়ী আমল করা সম্ভব হয়।
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জ্ঞান নিহিত রেখেছেন, যা ঐ ব্যক্তিই লাভ করতে পারে যাকে এর উপলব্ধি এবং এর অর্থ অনুধাবনের তাওফিক দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই উলামায়ে কিরাম তাঁদের সমগ্র জীবন এর তাফসির এবং এর বিধানাবলি (أحكام) ও হিকমত বর্ণনায় ব্যয় করেছেন। এ উদ্দেশ্যে তাঁরা বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন যার মধ্যে সর্বোত্তম হলো: কুরআনের তাফসির কুরআনের মাধ্যমেই করা। তাঁরা কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসির বর্ণনায় সবিস্তারে আলোচনা করেছেন এবং এ বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। সম্ভবত এই প্রকারের তাফসির যে গুরুত্ব লাভ করেছে তা মূলত সেই বিষয়ের ওপর নিবদ্ধ ছিল যা অস্পষ্ট ছিল অথবা যা স্পষ্টভাবে কিন্তু বিচ্ছিন্ন (منفصل) ভাবে বর্ণিত হয়েছিল। এটি সর্বজনবিদিত যে, তাফসিরের এমন কিছু অংশ আছে যার বর্ণনা সুস্পষ্ট এবং সংযুক্ত (متصل)। আমার মতে, এ বিষয়টি অতি স্পষ্ট হওয়ার কারণে জ্ঞানতাপসগণের কিতাবসমূহে এটি পর্যাপ্ত গবেষণা ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের (تنظير) সুযোগ পায়নি। তা সত্ত্বেও, আমি এই বিষয়টি নিয়ে মৌলিক ভিত্তি ও মূলনীতি (أصول) নির্ধারণের গুরুত্ব অনুভব করেছি; বিশেষ করে মুফাসসিরগণের চিন্তাধারার ভিন্নতা এবং এতে বিদআত ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের (أهل البدع والأهواء) অনুপ্রবেশের কারণে। কেননা তাঁরা নিজেদের মতবাদ প্রচারের স্বার্থে আয়াতগুলোকে ব্যবহার ও অপব্যাখ্যা করতে কোনো ত্রুটি করেননি, যার মধ্যে তাফসিরের এই বিশেষ দিকটিকে ব্যবহার করাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এখান থেকেই এই গবেষণার ধারণাটি এসেছে যার শিরোনাম আমি নির্ধারণ করেছি: (সংযুক্ত বর্ণনার মাধ্যমে তাফসির: একটি তাত্ত্বিক ও মৌলিক গবেষণা), যার উদ্দেশ্য হলো এর মর্মার্থ বর্ণনা করা, এই প্রকারের তাফসিরের মূলনীতি (أصول), এর গুরুত্ব ও একে নিয়ন্ত্রণকারী নীতিমালাসমূহ স্পষ্ট করা এবং এতে যে ধরনের অস্পষ্টতা, ভুল ও বিচ্যুতি ঘটে থাকে সে বিষয়ে সতর্ক করা।
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২)
أهمية الموضوع وأسباب اختياره:1. التَّنظير لجانب من أهم جوانب التفسير بالقرآن.
2. حماية جناب القرآن الكريم بتسليط الضَّوء على بعض أسباب الخطأ في تفسيره.
3. إظهار التَّكامل بين هذا النوع من التفسير، وبعض أبواب علوم القرآن.
أهداف البحث:1. إبراز عناية الرسول صلى الله عليه وسلم، وصحابته رضوان الله عليهم، بهذا النوع من التفسير، من خلال تطبيقهم له.
2. استنتاج العلاقة بين التفسير بالبيان المتَّصل، وبعض علوم القرآن.
3. بيان أثر الخطأ في التفسير بالبيان المتَّصل، من خلال دراسة بعض النماذج.
4. إبراز تنوُّع أسلوب القرآن في البيان بالمتَّصل، بالوقوف على أهم طرق البيان المتَّصل.
حدود البحث:1 - الاعتماد على كتب التفسير، وأصوله لأهل السنة والجماعة، وكتب علوم القرآن في جمع ما تناثر من جوانب هذا الموضوع؛ لأخرج بدراسةٍ نظريةٍ مترابطة من خلال أقوال العلماء المعتبرين، بعد نظمها في سلك واحد.
2 - حصر أنواع، وطرق البيان المتَّصل في القرآن الكريم، مع عرض نماذج تطبيقيةٍ لكلٍ منها، بالاعتماد على كتب التفسير بالمأثور، وعلوم القرآن، ولا أخرج عنها إلا في حدود الحاجة.
الدراسات السابقة:بعد البحث والاطلاع على فهارس الرسائل العلمية والدراسات التَّفسيرية، والبحث في مظانها بالرجوع إلى مراكز البحوث المتخصِّصة وسؤال أهل الخبرة
বিষয়ের গুরুত্ব এবং এটি নির্বাচনের কারণসমূহ:1. কুরআন দ্বারা কুরআনের তাফসিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দিকের তাত্ত্বিক রূপরেখা প্রণয়ন।
2. পবিত্র কুরআনের তাফসিরের ক্ষেত্রে ভুলের কিছু কারণের ওপর আলোকপাত করার মাধ্যমে এর পবিত্র মর্যাদা রক্ষা করা।
3. এই ধরণের তাফসির এবং উলুমুল কুরআনের কিছু বিষয়ের মধ্যে পারস্পরিক পরিপূরকতা ফুটিয়ে তোলা।
গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ:1. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই ধরণের তাফসিরের প্রয়োগের মাধ্যমে এর প্রতি যে গুরুত্বারোপ করেছেন তা সুস্পষ্ট করা।
2. সংযুক্ত বর্ণনার মাধ্যমে তাফসির (التفسير بالبيان المتصل) এবং উলুমুল কুরআনের কিছু বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করা।
3. কিছু নমুনা পর্যালোচনার মাধ্যমে সংযুক্ত বর্ণনার মাধ্যমে তাফসিরে (التفسير بالبيان المتصل) ভুলের প্রভাব বর্ণনা করা।
4. সংযুক্ত বর্ণনার প্রধান পদ্ধতিগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের এই শৈল্পিক বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলা।
গবেষণার পরিধি:1 - এই বিষয়ের বিক্ষিপ্ত দিকগুলোকে একত্রিত করার জন্য আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের তাফসির ও এর উসুল (أصوله) এবং উলুমুল কুরআনের গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করা; যাতে নির্ভরযোগ্য (المعتبرين) আলিমগণের বক্তব্যের আলোকে একটি সুসংগত তাত্ত্বিক গবেষণা উপস্থাপন করা যায়।
2 - পবিত্র কুরআনে সংযুক্ত বর্ণনার (البيان المتصل) প্রকার ও পদ্ধতিসমূহ সীমাবদ্ধ রাখা এবং সূত্রনির্ভর তাফসির (التفسير بالمأثور) ও উলুমুল কুরআনের গ্রন্থসমূহের ওপর ভিত্তি করে সেগুলোর ব্যবহারিক নমুনা উপস্থাপন করা; এর বাইরে আমি কেবল প্রয়োজন সাপেক্ষে আলোচনা করব।
পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:একাডেমিক থিসিস এবং তাফসির বিষয়ক গবেষণার নির্ঘণ্টসমূহ অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণের পর, বিশেষায়িত গবেষণা কেন্দ্রসমূহে সংশ্লিষ্ট উৎসসমূহ তালাশ করে এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩)
والاختصاص لم أجد من تعرض لبحث هذا الموضوع سوى دراستين وهما:
أولا: (ما اتصل به بيانه من القرآن الكريم)، للدكتور: ملفي الصاعدي - الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة (بحث محكم، منشور في المجلة الإسلامية):
-البحث عبارة عن دراسةٍ تطبيقيةٍ، صدر منه الجزء الأول إلى سورة النحل، ويقع في مائة وثمان عشرة صفحة، وقد استقصى فيه الباحث خمسةً وثمانين موضعا.
-بيَّن الباحث في مقدمته أن عمله في البحث حصر الآيات، وما ورد في تفسيرها من كتب التفسير، وقد التزم بذلك فلم يتطرق لما سواه من النواحي النظرية.
ودراستي تفترق عنها حيث إنها نظرية تأصيلية، فالباحث لم يتطرق للجانب النظري في بحثه، فلم يذكر أنواعه، ولم يذكر تصنيفًا لأوجه البيان المتَّصل، ولم يتطرق إلى أثر الخطأ فيه، ولا لعلاقته بعلوم القرآن الأخرى مما حوته هذه الدراسة.
ثانيا: (المجمل والمبين)، للباحث: عمر يوسف حمزة (رسالة ماجستير في الكتاب والسنة -جامعة أم القرى):
- تناول الباحث (البيان المتَّصل) كنوعٍ من بيان المجمل -لم يتطرق لما سواه من طرق البيان- وقد أفرد له فصلًا تطبيقيًا في بحثه (ذكر بعض الآيات، وتناولها بالتفسير والبيان).
-لم يتطرق الباحث للجانب النظري في بحثه، فلم يذكر أنواعه، ولم يذكر تصنيفًا لأوجه البيان المتَّصل، ولم يتطرق إلى أثر الخطأ فيه، ولا لعلاقته بعلوم القرآن الأخرى.
الجديد في البحث:1 - هذا البحث دراسةٌ نظريةٌ تأصيلية، جمعتُ فيها أنواع البيان بالمتَّصل، من خلال استقراءٍ مسبق لمكامن وروده في القرآن الكريم، ثم صنَّفتها، واجتهدت في حصر كل ما يدخل فيه من طرق البيان، ووضَّحتها بتطبيقها على آيات مختارة، وأبرزتُ أسباب الخطأ في هذا النوع من التَّفسير، والآثار المترتبة عليه.
2 - تناولتُ البيان بشكل عام، ولم أقتصر على بيان المجمل.
এই বিষয়ের বিশেষত্বের ক্ষেত্রে, আমি কেবল দুটি অধ্যয়ন পেয়েছি যারা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন, সেগুলো হলো:
প্রথমত: (মা ইত্তাসালা বিহি বায়ানুহু মিনাল কুরআনিল কারীম - কুরআনের সেই অংশ যার বর্ণনা তার সাথেই যুক্ত), ডক্টর মালফি আস-সাঈদী কর্তৃক - মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (একটি পিয়ার-রিভিউড গবেষণা, যা 'মাজাল্লাহ ইসলামিয়্যাহ'-তে প্রকাশিত):
-এই গবেষণাটি একটি প্রয়োগিক অধ্যয়ন, যার প্রথম অংশ সূরা আন-নাহল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে। এটি ১১৮ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট এবং এতে গবেষক ৮৫টি স্থান অনুসন্ধান করেছেন।
-গবেষক তার ভূমিকায় স্পষ্ট করেছেন যে, তার গবেষণার কাজ হলো আয়াতসমূহকে সীমাবদ্ধ করা এবং তাফসির গ্রন্থসমূহ থেকে সেগুলোর ব্যাখ্যায় যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করা। তিনি এতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন এবং কোনো তাত্ত্বিক দিক নিয়ে আলোচনা করেননি।
আমার অধ্যয়নটি এটি থেকে আলাদা, কারণ এটি একটি মৌলিক তাত্ত্বিক (تأصيلية) গবেষণা। উক্ত গবেষক তার গবেষণায় তাত্ত্বিক দিকটি স্পর্শ করেননি, তাই তিনি এর প্রকারভেদ উল্লেখ করেননি, 'সংযুক্ত বর্ণনা' (البيان المتصل)-এর দিকগুলোর কোনো শ্রেণিবিন্যাস করেননি এবং এতে ভুলের প্রভাব বা উলুমুল কুরআনের অন্যান্য শাখার সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেননি, যা এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: (আল-মুজমাল ওয়াল মুবাইয়্যান - সংক্ষিপ্ত ও বিশদ), গবেষক উমর ইউসুফ হামজা কর্তৃক (কিতাব ও সুন্নাহর ওপর মাস্টার্স থিসিস - উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়):
-গবেষক 'সংযুক্ত বর্ণনা' (البيان المتصل)-কে 'সংক্ষিপ্তের বর্ণনা' (بيان المجمل)-এর একটি প্রকার হিসেবে আলোচনা করেছেন -তিনি বর্ণনার অন্য কোনো পদ্ধতি আলোচনা করেননি- এবং তিনি তার গবেষণায় এর জন্য একটি প্রয়োগিক অধ্যায় নির্দিষ্ট করেছেন (যেখানে কিছু আয়াত উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা ও বর্ণনা প্রদান করেছেন)।
-গবেষক তার গবেষণায় তাত্ত্বিক দিকটি নিয়ে আলোচনা করেননি, তাই তিনি এর প্রকারভেদ উল্লেখ করেননি, 'সংযুক্ত বর্ণনা' (البيان المتصل)-এর দিকগুলোর শ্রেণিবিন্যাস করেননি এবং এতে ভুলের প্রভাব বা উলুমুল কুরআনের অন্যান্য শাখার সাথে এর সম্পর্কের বিষয়ে কোনো আলোচনা করেননি।
গবেষণার নতুনত্ব:1 - এই গবেষণাটি একটি মৌলিক তাত্ত্বিক (تأصيلية) অধ্যয়ন, যেখানে আমি পবিত্র কুরআনে 'সংযুক্ত বর্ণনা' (البيان المتصل) যেখানে যেখানে এসেছে তা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে এর প্রকারভেদগুলো সংকলন করেছি। অতঃপর আমি সেগুলোকে শ্রেণিবিন্যাস করেছি এবং বর্ণনার যেসব পদ্ধতি এর অন্তর্ভুক্ত হয় তা সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করেছি। বাছাইকৃত আয়াতসমূহের ওপর প্রয়োগের মাধ্যমে আমি সেগুলো স্পষ্ট করেছি এবং এই ধরনের তাফসিরের ক্ষেত্রে ভুলের কারণসমূহ ও তার প্রভাবগুলো ফুটিয়ে তুলেছি।
2 - আমি সাধারণভাবে 'বর্ণনা' (البيان) নিয়ে আলোচনা করেছি এবং কেবল 'সংক্ষিপ্তের বর্ণনা' (بيان المجمل)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিনি।
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৪)
خطة البحث:اقتضت طبيعة البحث أن أقسمه إلى: مقدمة وتمهيد وثلاثة فصول، وخاتمة، وفهارس، على النحو التالي:
المقدمة: وفيها:
أهمية الموضوع، وأسباب اختياره، وأهداف البحث، والدراسات السابقة، وخطة البحث، ومنهجه.
التمهيد: تفسير القرآن بالقرآن مفهومه، وأنواعه.
الفصل الأول: التفسير بالبيان المتَّصل، التعريف به، وأهميته، وفيه مبحثان:
المبحث الأول: تعريف التفسير بالبيان المتَّصل، وعلاقته بالسياق، وفيه خمسة مطالب:
المطلب الأول: تعريف التفسير لغةً واصطلاحًا.
المطلب الثاني: تعريف البيان لغةً واصطلاحًا.
المطلب الثالث: تعريف المتَّصل لغةً واصطلاحًا.
المطلب الرابع: تعريف التَّفسير بالبيان المتَّصل.
المطلب الخامس: علاقة (التَّفسير بالبيان المتَّصل) بالسِّياق.
المبحث الثاني: أهمية التَّفسير بالبيان المتَّصل، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: إعمال الرسول صلى الله عليه وسلم، وسلف الأمة التفسير بالبيان المتَّصل.
المطلب الثاني: علاقة (التفسير بالبيان المتَّصل) بعلوم القرآن الأخرى.
الفصل الثاني: أنواع البيان المتَّصل، وطرق وروده في القرآن الكريم، وفيه مبحثان:
المبحث الأول: أنواع الاتِّصال في القرآن الكريم، وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: الاتِّصال في الآية نفسها.
المطلب الثاني: الاتِّصال بين آياتٍ متتالية.
المطلب الثالث: شبه الاتِّصال.
المبحث الثاني: طرق ورود البيان المتَّصل في القرآن الكريم، وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: بيان المجمل.
গবেষণার পরিকল্পনা:গবেষণার প্রকৃতি অনুযায়ী আমি একে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, তিনটি অধ্যায়, একটি উপসংহার এবং নির্ঘণ্টের সমন্বয়ে নিম্নরূপে বিন্যস্ত করেছি:
ভূমিকা: এতে রয়েছে:
বিষয়ের গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণসমূহ, গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ, পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ, গবেষণার পরিকল্পনা এবং গবেষণা পদ্ধতি।
উপক্রমণিকা: কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসির: এর ধারণা ও প্রকারভেদ।
প্রথম অধ্যায়: অবিচ্ছিন্ন বর্ণনার (البيان المتصل) মাধ্যমে তাফসির—এর পরিচিতি ও গুরুত্ব; এতে দুইটি পরিচ্ছেদ (مبحثان) রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): অবিচ্ছিন্ন বর্ণনার (البيان المتصل) মাধ্যমে তাফসিরের সংজ্ঞা এবং প্রেক্ষাপটের (سياق) সাথে এর সম্পর্ক; এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ (مطالب) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): তাফসিরের আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاحًا) সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثاني): বর্ণনার (البيان) আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاحًا) সংজ্ঞা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثالث): অবিচ্ছিন্নের (المتصل) আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاحًا) সংজ্ঞা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ (المطلب الرابع): অবিচ্ছিন্ন বর্ণনার (البيان المتصل) মাধ্যমে তাফসিরের সংজ্ঞা।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ (المطلب الخامس): প্রেক্ষাপটের (سياق) সাথে ‘অবিচ্ছিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে তাফসিরের’ সম্পর্ক।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): অবিচ্ছিন্ন বর্ণনার (البيان المتصل) মাধ্যমে তাফসিরের গুরুত্ব; এতে দুইটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): রাসূলুল্লাহ সালллаল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উম্মতের সালাফগণের মাধ্যমে অবিচ্ছিন্ন বর্ণনার (البيان المتصل) প্রয়োগ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثاني): উলূমুল কুরআনের অন্যান্য বিষয়ের সাথে ‘অবিচ্ছিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে তাফসিরের’ সম্পর্ক।
দ্বিতীয় অধ্যায়: অবিচ্ছিন্ন বর্ণনার (البيان المتصل) প্রকারভেদ এবং পবিত্র কুরআনে এটি আসার পদ্ধতিসমূহ; এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): পবিত্র কুরআনে অবিচ্ছিন্নতার (الاتصال) প্রকারভেদ; এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): একই আয়াতের মধ্যকার অবিচ্ছিন্নতা (الاتصال)।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثاني): ধারাবাহিক আয়াতসমূহের মধ্যকার অবিচ্ছিন্নতা (الاتصال)।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثالث): সদৃশ অবিচ্ছিন্নতা (شبه الاتصال)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): পবিত্র কুরআনে অবিচ্ছিন্ন বর্ণনা (البيان المتصل) আসার পদ্ধতিসমূহ; এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): সংক্ষিপ্তের (المجمل) ব্যাখ্যা।
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৫)
المطلب الثاني: تخصيص العام.
المطلب الثالث: تقييد المطلق.
الفصل الثالث: ضوابط التفسير بالبيان المتَّصل، وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: ضوابط التفسير بالبيان المتَّصل، وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: لزوم التَّفصيل في قبول التفسير بالبيان المتَّصل.
المطلب الثاني: ترك العدول عن ظاهر القرآن، إلا بدليلٍ يجب الرجوع إليه.
المطلب الثالث: وصل معاني الكلام بعضه ببعض أولى ما وُجد إلى ذلك سبيل.
المبحث الثاني: أسباب الخطأ في التَّفسير بالبيان المتَّصل، وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: مخالفة طرق التفسير المعتمدة.
المطلب الثاني: تقديم مقرراتٍ سابقة.
المطلب الثالث: الجهل بالتفسير اللغوي.
المبحث الثالث: أثر الخطأ في التفسير بالبيان المتَّصل، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: الانحراف العقدي.
المطلب الثاني: التشكيك في الأحكام الشرعية.
الخاتمة.
فهارس البحث: وتتضمن الفهارس التالية:
فهرس الآيات الكريمة.
فهرس الأحاديث.
فهرس الآثار.
فهرس الأعلام.
فهرس الفرق.
ثبت المصادر والمراجع.
فهرس الموضوعات.
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সাধারণ (عام) হুকুমকে বিশেষীকরণ (تخصيص)।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: শর্তহীন (مطلق) বিষয়কে শর্তযুক্তকরণ (تقييد)।
তৃতীয় অধ্যায়: সংযুক্ত বর্ণনা (البيان المتصل) দ্বারা তাফসিরের নীতিমালা, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সংযুক্ত বর্ণনা (البيان المتصل) দ্বারা তাফসিরের নীতিমালা, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: সংযুক্ত বর্ণনা (البيান المتصل) দ্বারা তাফসির গ্রহণের ক্ষেত্রে বিস্তারিত বিশ্লেষণের আবশ্যকতা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কুরআনের বাহ্যিক (ظاهر) অর্থ বর্জন না করা, তবে এমন দলীল পাওয়া গেলে ভিন্ন কথা যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা ওয়াজিব।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বক্তব্যের অর্থসমূহকে একটির সাথে অন্যটি সংযুক্ত করা অধিক উত্তম, যতক্ষণ তা করার সুযোগ থাকে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সংযুক্ত বর্ণনা (البيان المتصل) দ্বারা তাফসিরের ক্ষেত্রে ভুলের কারণসমূহ, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাফসিরের নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিসমূহের বিরোধিতা করা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্তসমূহকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ভাষাগত তাফসির সম্পর্কে অজ্ঞতা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সংযুক্ত বর্ণনা (البيان المتصل) দ্বারা তাফসিরের ক্ষেত্রে ভুলের প্রভাব, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: আকিদাগত বিচ্যুতি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শরয়ি বিধানসমূহ নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করা।
উপসংহার।
গবেষণার নির্ঘণ্টসমূহ: এতে নিম্নোক্ত নির্ঘণ্টসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
পবিত্র আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।
হাদিসসমূহের নির্ঘণ্ট।
আসার (آثار)-এর নির্ঘণ্ট।
ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।
উপদলসমূহের নির্ঘণ্ট।
উৎস ও তথ্যসূত্রের তালিকা।
সূচিপত্র।
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৬)
منهج البحث:سلكتُ في بحثي المنهج الوصفيَّ الاستقرائيَّ (1) على النحو التالي:
1) عند الشروع في ذكر طرق البيان المتَّصل في القرآن الكريم، بدأتُ بمقدمة لهذا الأسلوب القرآني، بالرجوع لكتب التفسير وعلوم القرآن، ثم ذكرتُ الآيات المختارة على النحو التالي:
- رتبتُ الآيات بحسب ترتيب المصحف.
- حددتُ المبيَّن، والبيان المتَّصل (المبيِّن).
- ذكرتُ تفسير الآية من خلال كتب التفسير بالمأثور.
- ذكرتُ اللّطائف التفسيرية والبلاغية الواردة في كتب التفسير وعلوم القرآن، بحسب ما يتيسر لي من ذلك.
2) قمتُ بجمع وصياغة ما يتبين لي تعلقه بضوابط التفسير بالبيان المتَّصل، أو بأسباب الخطأ فيه، من خلال أقوال العلماء في كتب التفسير، وأصوله، وعلوم القرآن.
3) لتوضيح أثر الخطأ في هذا النوع من التفسير، انتقيتُ نماذج من التفسير الخاطئ لآياتٍ مختارة، وعرضتُها على النحو التالي:
- رتبتُ الآيات بحسب ترتيب المصحف.
- ذكرتُ لكل نموذج عنوانًا مناسبًا بحسب موضوعها.
- ذكرتُ الآية، متبوعةً بالتفسير الخاطئ من مظانِّه.
- عقبتُ ببيان الصَّواب في هذه الدراسة.
4) كتبتُ الآيات القرآنية وفق الرسم العثماني، على رواية حفص عن عاصم، ورقمت الآيات بالعد الكوفي، وعزوتها إلى السورة الواردة فيها.
--------------------------------------------
গবেষণার পদ্ধতি:আমি আমার গবেষণায় বর্ণনামূলক ও আরোহী (المنهج الوصفي الاستقرائي) পদ্ধতি (১) নিম্নোক্ত উপায়ে অনুসরণ করেছি:
১) পবিত্র কুরআনের 'নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা' (البيان المتصل) পদ্ধতিসমূহ উল্লেখ করার শুরুতে, আমি তাফসির ও উলূমুল কুরআন বিষয়ক গ্রন্থাবলির সহায়তায় এই কুরআনিক শৈলীর ওপর একটি ভূমিকা প্রদান করেছি, অতঃপর নির্বাচিত আয়াতসমূহ নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে উল্লেখ করেছি:
- আমি আয়াতসমূহকে মুসহাফের বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছি।
- আমি অস্পষ্ট বিষয় (المبيَّن) এবং এর নিরবচ্ছিন্ন স্পষ্টকারী (البيان المتصل/المبيِّن) অংশকে চিহ্নিত করেছি।
- আমি বর্ণনাভিত্তিক তাফসির (التفسير بالمأثور) গ্রন্থাবলির আলোকে আয়াতের ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছি।
- তাফসির ও উলূমুল কুরআনের কিতাবসমূহে বর্ণিত তাফসির সংক্রান্ত এবং আলঙ্কারিক সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ (اللّطائف التفسيرية والبلاغية) যতটুকু সম্ভব উল্লেখ করেছি।
২) তাফসির, উসূলে তাফসির এবং উলূমুল কুরআনের কিতাবসমূহে বর্ণিত আলেমদের বক্তব্যের আলোকে 'নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে তাফসির' (التفسير بالبيান المتَّصل) করার নীতিমালা অথবা এতে ভুল হওয়ার কারণসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আমি সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করেছি।
৩) এই ধরণের তাফসিরে ভুলের প্রভাব স্পষ্ট করার জন্য আমি নির্বাচিত কিছু আয়াতের ভুল তাফসিরের কিছু নমুনা গ্রহণ করেছি এবং তা নিম্নোক্তভাবে উপস্থাপন করেছি:
- আমি আয়াতসমূহকে মুসহাফের বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছি।
- বিষয়বস্তু অনুযায়ী প্রতিটি নমুনার জন্য একটি উপযুক্ত শিরোনাম উল্লেখ করেছি।
- প্রথমে আয়াতটি উল্লেখ করেছি এবং এরপর সেই আয়াতের প্রচলিত ভুল তাফসিরটি তার উৎস হতে উদ্ধৃত করেছি।
- পরিশেষে এই গবেষণার আলোকে সঠিক বিষয়টি বর্ণনা করেছি।
৪) আমি কুরআনের আয়াতসমূহ আসেমের সূত্রে হাফসের বর্ণনা (رواية حفص عن عاصم) অনুযায়ী উসমানি লিপিতে (الرسم العثماني) লিখেছি এবং কুফি গণনা (العد الكوفي) পদ্ধতিতে আয়াত নম্বর প্রদান করেছি, আর আয়াতটি কোন সূরার অন্তর্ভুক্ত তাও নির্দেশ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৭)
5) خرّجتُ الأحاديث النبوية الشريفة الواردة في البحث من مصادرها الأصلية، فإن كانت في الصحيحين أو أحدهما اكتفيتُ بذلك، وإن كانت في غيرهما عزوتُها إلى مصدرها مع ذكر قول المحدِّثين فيها وحكمهم عليها.
وأما الآثار الواردة عن الصحابة والتابعين فاكتفيتُ بعزوها إلى مصادرها الأصلية.
6) لم أستشهد بالأحاديث الموضوعة أو الضعيفة التي أجمع العلماء على وصفها بذلك.
7) نسبتُ الأقوال إلى قائليها، وعزوتُها إلى موضعها مكتفيةً باسم الكتاب وجزئه وصفحته، وعدم النقل بالواسطة إلا إذا تعذر الوصول إلى أصل المصدر.
8) أعزو إلى المصدر في حال النَّقل منه بالنَّص، بذكر اسمه والجزء والصفحة، وفي حال النقل بالمعنى أُصدِّر ذلك بكلمة: (يُنظر).
9) نسبتُ الأبيات الشعرية إلى قائلها، مع عزوها إلى مصادرها، متَّبعةً المنهج الآتي:
- إن كان لصاحب الشِّعر ديوانٌ وثقت شعره من ديوانه.
- إن لم يكن له ديوان وثقتُ مما تيسر من دواوين الأدب وكتب اللُّغة العربية.
10) عرَّفتُ تعريفًا موجزًا في الحاشية بغير المشهور من الأعلام، والفرق، التي يرد ذكرها في متن البحث في أوَّل موضع، علمًا أن الشهرة أمرٌ نسبيٌ تختلف فيه وجهة نظر الباحثين.
11) ضبطتُ بالشكل ما يُظَنُ التباسه، وأوضحتُ الغريب من الألفاظ والمصطلحات من خلال المعاجم اللُّغوية والتخصُّصِية.
12) طبَّقتُ قواعد البحث العلمي، واللُّغوي، والرسم الإملائي، وعلامات الترقيم.
صعوبات البحث:
1 - تَفَرُّع مادة هذا البحث واتِّساع دائرته؛ لارتباطه بعلومٍ شتى، كأصول الفقه، والعقيدة، والنحو والبلاغة، والتفسير، وأنواعٍ عدَّة من علوم القرآن، كالمناسبات، والنزول، والوقف والابتداء.
৫) আমি গবেষণায় উল্লিখিত নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিত হাদিসগুলোকে তাদের মূল উৎস থেকে চয়ন (تخريج) করেছি। যদি সেগুলো সহিহাইন বা তাদের কোনো একটিতে থাকে তবে আমি তাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছি, আর যদি অন্য কোনো গ্রন্থে থাকে তবে আমি মুহাদ্দিসগণের বক্তব্য ও সেগুলোর ওপর তাদের হুকুম (حكم) উল্লেখসহ মূল উৎসের বরাত দিয়েছি।
আর সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণ থেকে বর্ণিত আছার (آثار) গুলোর ক্ষেত্রে আমি কেবল মূল উৎসসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি।
৬) আমি এমন কোনো বানোয়াট (موضوعة) বা দুর্বল (ضعيفة) হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করিনি যেগুলোর ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
৭) আমি প্রতিটি বক্তব্যকে তার প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধিত করেছি এবং গ্রন্থের নাম, খণ্ড ও পৃষ্ঠা উল্লেখ করে তার সঠিক স্থানের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি। মূল উৎসে পৌঁছানো অসম্ভব না হলে আমি কোনো মধ্যস্থতাকারী মাধ্যম থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করিনি।
৮) শব্দে শব্দে (হুবহু) উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে আমি গ্রন্থের নাম, খণ্ড ও পৃষ্ঠা উল্লেখ করে উৎসের বরাত দিয়েছি; আর ভাবার্থ (মর্ম) উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে 'দ্রষ্টব্য' (يُنظر) শব্দটি দ্বারা তা শুরু করেছি।
৯) আমি কাব্যিক পঙ্ক্তিগুলোকে তাদের রচয়িতাদের দিকে নিসবত করেছি এবং সেগুলোকে তাদের উৎসের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছি, এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে:
- যদি কবির নিজস্ব কাব্যগ্রন্থ (দীওয়ান) থাকে, তবে সেখান থেকেই তার কবিতা যাচাই করেছি।
- যদি তার কোনো কাব্যগ্রন্থ না থাকে, তবে সাহিত্য ও আরবি ভাষার সহজলভ্য গ্রন্থসমূহ থেকে তা যাচাই করেছি।
১০) গবেষণার মূল পাঠে (متن) প্রথমবারের মতো উল্লিখিত স্বল্প পরিচিত ব্যক্তিবর্গ ও ফেরকাগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় পাদটীকায় প্রদান করেছি। উল্লেখ্য যে, খ্যাতি একটি আপেক্ষিক বিষয় যা গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
১১) যে শব্দগুলোর ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির আশঙ্কা রয়েছে সেগুলোকে হরকত দিয়েছি এবং অভিধান ও বিশেষায়িত গ্রন্থসমূহের সাহায্যে দুর্লভ (غريب) শব্দ ও পরিভাষাগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।
১২) আমি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি, ভাষাগত নিয়ম, বানানরীতি এবং যতিচিহ্নের নিয়মাবলি প্রয়োগ করেছি।
গবেষণার প্রতিকূলতাসমূহ:
1 - এই গবেষণার বিষয়বস্তুর শাখা-প্রশাখা এবং এর পরিধির বিশালতা; কারণ এটি উসুলুল ফিকহ, আকাইদ, নাহু ও বালাগাত, তাফসির এবং উলুমুল কুরআনের বিভিন্ন প্রকারের সাথে সম্পৃক্ত, যেমন: মুনাসাবাত (পারস্পরিক যোগসূত্র), নুজুল (অবতরণ), এবং ওয়াকফ ও ইবতিদা।
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৮)
2 - انتقاء النَّماذج المناسبة التي تبيِّن الخطأ في التفسير، من مظانّها؛ وذلك للُطف الموضوع ودقته.
3 - كون البحث دراسة تأصيلية، احتجتُ معه إلى بذل مجهودٍ أكبر في الجمع والتقعيد.
وفي الختام أشكر الله تعالى وأحمده حمدًا كثيرًا طيّبًا مباركًا فيه، على ما منّ عليّ به من إتمام هذا البحث، وأثّني بالشكر لوالديّ الفاضلين على جميل إحسانهما، وصادق دعواتهما، فمتعهما الله بالصحة والعافية وأطال في أعمارهما على طاعته، وجزاهما عنّي خير ماجزى والدًا عن ولده.
وأخص بوافر الشّكر والامتنان شيخي ومشرفي الفاضل الأستاذ الدكتور: "يوسف بن عبد العزيز الشبل " الأستاذ بقسم القرآن وعلومه، الذي أمدّني بالتوجيه والإرشاد، والتدقيق والتصويب في كل مرحلة من مراحل البحث؛ فشكر الله له، وجعله في موازين حسناته، وأمدّ في عمره على طاعته، وبارك له في علمه ووقته وولده.
ولا أنسى أن أشكر مرشدتي في الخطة الدكتور: نادية بنت إبراهيم النفيسة على ما بذلت من وقت وجهد خلال إعداد الخطة، فجزاها الله عني خيراً.
وأشكر أعضاء لجنة المناقشة على تفضّلهم بقبول مناقشة البحث، وقراءة البحث وتصويبه، فجزاهم الله عنّي خيرًا.
والشّكر موصولٌ لجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، وأخصّ بذلك كلية أصول الدين ممثلة في عميدها ووكلائها، وقسم القرآن وعلومه ممثلًا برئيس القسم ووكيله، ومشايخي الكرام في القسم.
وأتقدم بالشكر والامتنان لكلّ من أعانني في هذا البحث بدعوة أو معلومة أو توجيه، فأسأل الله أن يجزيهم خير ما يجزي عباده الصالحين.
وآخر دعواي أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلّم.
2 - তাফসিরের ভুলগুলো স্পষ্ট করে এমন উপযুক্ত নমুনাগুলো তাদের মূল উৎসসমূহ থেকে নির্বাচন করা; আর এটি করা হয়েছে বিষয়বস্তুর গাম্ভীর্য ও সূক্ষ্মতার কারণে।
3 - গবেষণাটি একটি মৌলিক (تأصيلية) অধ্যয়ন হওয়ার কারণে, তথ্য সংগ্রহ ও মূলনীতি নির্ধারণে (تقعيد) আমাকে অধিকতর প্রচেষ্টা ব্যয় করতে হয়েছে।
পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি এবং তাঁর অনেক অনেক পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা করছি, কারণ তিনি আমাকে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেছেন। অতঃপর আমি আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতাকে তাঁদের অসামান্য অবদান এবং অকৃত্রিম দোয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি; আল্লাহ তাঁদেরকে সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দান করুন, তাঁর আনুগত্যের ওপর তাঁদের দীর্ঘায়ু দান করুন এবং আমার পক্ষ থেকে তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন, যা একজন পিতা-মাতাকে তাঁদের সন্তানের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়।
আমি বিশেষভাবে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার সম্মানিত উস্তাদ ও তত্ত্বাবধায়ক প্রফেসর ডক্টর ইউসুফ বিন আব্দুল আজিজ আশ-শিবল-এর প্রতি—যিনি কুরআন ও উলুমুল কুরআন বিভাগের অধ্যাপক—যিনি গবেষণার প্রতিটি পর্যায়ে আমাকে দিকনির্দেশনা, পরামর্শ, সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ এবং সংশোধনের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন, এটিকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় ভারী করে দিন, তাঁর আনুগত্যের ওপর তাঁর হায়াত বাড়িয়ে দিন এবং তাঁর জ্ঞান, সময় ও সন্তানে বরকত দান করুন।
গবেষণার পরিকল্পনা তৈরির সময় আমার পরামর্শদাত্রী ডক্টর নাদিয়া বিনতে ইব্রাহিম আন-নাফিসাহ যে সময় ও শ্রম দিয়েছেন, সেজন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে আমি ভুলছি না; আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দিন।
আমি বিচারক মণ্ডলীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই এই গবেষণাটির মূল্যায়নে রাজি হওয়ার জন্য এবং এটি আদ্যোপান্ত পাঠ করে সংশোধন করে দেওয়ার জন্য। আল্লাহ তাঁদেরকেও আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দিন।
কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে, বিশেষভাবে উসুলুদ দ্বীন অনুষদকে—যাহার প্রতিনিধিত্ব করছেন এর ডিন ও ডেপুটি ডিনগণ এবং কুরআন ও উলুমুল কুরআন বিভাগকে—যাহার প্রতিনিধিত্ব করছেন এর বিভাগীয় প্রধান ও উপ-প্রধান এবং অত্র বিভাগের আমার সকল শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের।
আমি সেই সকল ব্যক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্য্যবাদ প্রকাশ করছি যারা আমাকে দোয়া, তথ্য বা দিকনির্দেশনা দিয়ে এই গবেষণায় সাহায্য করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁদেরকে তাঁর নেক বান্দাদের অনুরূপ সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।
আমার সর্বশেষ আহ্বান এই যে, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীদের ওপর।
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৯)
تمهيد
تفسير القرآن بالقرآن من أهم طرق التفسير المأثور للقرآن الكريم، استخدمه الرسول صلى الله عليه وسلم، والصحابة من بعده، واعتنى به سلف الأمة، والمفسّرون، الذين ساروا على نهجهم، من المتقدمين والمتأخرين.
أولا: مفهوم تفسير القرآن بالقرآن
المعنى الإفرادي:
تعريف التفسير:
التفسير لغة: الكشف، والإبانة، والإيضاح، وإظهار المعنى. (1)
التفسير اصطلاحا: "بيان معاني القرآن الكريم" (2).
تعريف القرآن:
القرآن لغة: مصدر مرادف للقراءة، ومنه قوله تعالى: {إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ} (3)، ثم نُقل من هذا المعنى المصدريّ، وجُعل اسمًا للكلام المعجِز المنزَّل على النبي صلى الله عليه وسلم من باب إطلاق المصدر على مفعوله. (4)
القرآن اصطلاحا: "كلام الله المنزَّل على نبيه محمد صلى الله عليه وسلم المتعبَّد بتلاوته" (5).
--------------------------------------------
ভূমিকা
কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসির হলো পবিত্র কুরআনের পরম্পরাগত (المأثور) তাফসিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরবর্তী সাহাবীগণ এটি ব্যবহার করেছেন। উম্মতের পূর্বসূরি (سلف) এবং তাঁদের পথ অনুসরণকারী পূর্ববর্তী (المتقدمين) ও পরবর্তী (المتأخرين) তাফসিরকারকগণ (المفسرون) এর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
প্রথমত: কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসিরের ধারণা
একক শব্দের অর্থ:
তাফসিরের সংজ্ঞা:
আভিধানিক অর্থে (لغة): উন্মোচন করা, ব্যক্ত করা, স্পষ্ট করা এবং অর্থের প্রকাশ ঘটানো। (১)
পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحا): "পবিত্র কুরআনের অর্থসমূহ বর্ণনা করা" (২)।
কুরআনের সংজ্ঞা:
আভিধানিক অর্থে (لغة): পাঠ করার সমার্থক একটি ক্রিয়ামূল (مصدر), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় এর সংরক্ষণ ও পাঠ করার দায়িত্ব আমারই} (৩)। এরপর এই ক্রিয়ামূলজাত অর্থ থেকে সরিয়ে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ অলৌকিক বাণীর নাম হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে; এটি ক্রিয়ামূলকে (مصدر) কর্ম (مفعول) অর্থে ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত। (৪)
পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحا): "আল্লাহর সেই বাণী যা তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ এবং যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১০)
تفسير القرآن بالقرآن بمعناه المركب: "بيان معاني القرآن بالقرآن" (1).
ثانيا: أنواع تفسير القرآن بالقرآن:
ذكر الشنقيطي (2) في كتابه (أضواء البيان) أنواعًا من تفسير القرآن بالقرآن، ومن أبرزها ما يأتي:
1 - بيان المجمل.
2 - تقييد المطلق.
3 - تخصيص العام.
4 - تفسير لفظةٍ بلفظة.
5 - تفسير معنىً بمعنى.
6 - تفسير أسلوبٍ في آية بأسلوبٍ في آية أخرى (3).
1 - بيان الإجمال:
كقوله تعالى: {فَتَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ (37)} (4)، فقوله تعالى: {كَلِمَاتٍ} مجملة، وبيَّنها الله ̧ بقوله: {قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا
--------------------------------------------
কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসিরের যৌগিক অর্থ হলো: "কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের অর্থসমূহ স্পষ্ট করা" (১)।
দ্বিতীয়ত: কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসিরের প্রকারভেদ:
আশ-শানকীতি (২) তার (আদওয়াউল বায়ান) গ্রন্থে কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসিরের কিছু প্রকার উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিম্নরূপ:
১ - সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্টের ব্যাখ্যা (بيان المجمل)।
২ - শর্তহীনকে শর্তযুক্তকরণ (تقييد المطلق)।
৩ - ব্যাপককে সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص العام)।
৪ - এক শব্দ দ্বারা অন্য শব্দের ব্যাখ্যা।
৫ - এক অর্থ দ্বারা অন্য অর্থের ব্যাখ্যা।
৬ - এক আয়াতের শৈলী দ্বারা অন্য আয়াতের শৈলীর ব্যাখ্যা (৩)।
১ - অস্পষ্টতার ব্যাখ্যা (بيان الإجمال):
যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর আদম তার রবের পক্ষ হতে কিছু বাণী লাভ করলেন, ফলে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয় তিনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু (৩৭)} (৪), এখানে আল্লাহর বাণী: {বাণীসমূহ} হলো অস্পষ্ট (مجمل), এবং আল্লাহ তা স্পষ্ট করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {তারা উভয়ে বলল, হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আর আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১১)
لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ (23)} (1) (2).
2 - تقييد المطلق:
كقوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَنْ تُقْبَلَ تَوْبَتُهُمْ} (3)، قيل: توبتهم عند الموت (4).
وهذا التفسير يشهد له قوله تعالى: {وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ} (5)، فالإطلاق الذي في الآية الأولى قُيِّد في الآية الثانية (6).
3 - تخصيص العام:
كقوله تعالى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ} (7).
فهذا حكمٌ عامٌ في جميع المطلقات، ثم أتى ما يخصِّص من هذا العام الحوامل، وهو قوله تعالى: {وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ} (8)، فخصّ من عموم المطلقات أولات الأحمال (9).
4 - تفسير لفظة بلفظة:
كقوله تعالى في شأن قوم لوط: {وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ مَنْضُودٍ (82)} (10)،
--------------------------------------------
{...অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব (২৩)} (১) (২)।
২ - নিঃশর্তকে শর্তযুক্ত করা (تقييد المطلق):
যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় যারা ঈমান আনার পর কুফরি করেছে, তারপর তারা কুফরিতে বৃদ্ধি পেয়েছে, তাদের তওবা কখনোই কবুল করা হবে না} (৩), বলা হয়েছে: তাদের তওবা মৃত্যুর সময়ের (৪)।
এই ব্যাখ্যার সপক্ষে মহান আল্লাহর এই বাণীটি সাক্ষ্য দেয়: {আর তওবা তাদের জন্য নয়, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, অবশেষে যখন তাদের কারো নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন সে বলে, আমি এখন তওবা করছি; আর তাদের জন্যও নয়, যারা কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে} (৫), সুতরাং প্রথম আয়াতের নিঃশর্ত (إطلاق) বিষয়টি দ্বিতীয় আয়াতে শর্তযুক্ত (قيد) করা হয়েছে (৬)।
৩ - সাধারণকে বিশেষায়িত করা (تخصيص العام):
যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদের অপেক্ষায় রাখবে} (৭)।
এটি সকল তালাকপ্রাপ্তা নারীর ক্ষেত্রে একটি সাধারণ (عام) বিধান, এরপর এই সাধারণ (عام) বিধান থেকে গর্ভবতী নারীদের বিশেষায়িত (يخصص) করার জন্য মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হয়েছে: {আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল হলো সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত} (৮), এভাবে তালাকপ্রাপ্তাদের সাধারণ (عموم) বিধান থেকে গর্ভবতীদের বিশেষায়িত (خص) করা হয়েছে (৯)।
৪ - একটি শব্দকে অন্য শব্দ দ্বারা ব্যাখ্যা করা:
যেমন কওমে লুত সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি তাদের ওপর স্তরে স্তরে সাজানো পোড়া মাটির পাথর বর্ষণ করলাম (৮২)} (১০),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقال في موضعٍ آخر: {لِنُرْسِلَ عَلَيْهِمْ حِجَارَةً مِنْ طِينٍ (33)} (1) (2).
5 - تفسير معنى بمعنى:
كتفسير قوله تعالى: {يَوْمَئِذٍ يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَعَصَوُا الرَّسُولَ لَوْ تُسَوَّى بِهِمُ الْأَرْضُ} (3)، بقوله تعالى: {وَيَقُولُ الْكَافِرُ يَالَيْتَنِي كُنْتُ تُرَابًا (40)} (4) (5).
6 - تفسير أسلوب قرآني في آية بآية أخرى:
كقوله تعالى: {وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَقُولُوا حِطَّةٌ نَغْفِرْ لَكُمْ خَطَايَاكُمْ وَسَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ (58)} (6)، أي: دخولنا ذلك سجدًا حطةٌ لذنوبنا، فهو مثل قوله تعالى: {وَإِذْ قَالَتْ أُمَّةٌ مِنْهُمْ لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا اللَّهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا قَالُوا مَعْذِرَةً إِلَى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ (164)} (7)، أي: موعظتنا إيّاهم معذرةً إلى ربكم، فالأسلوب في الآيتين متشابه في قوله: {حِطَّةٌ}، و {مَعْذِرَةً} (8).
وقد فصَّل العلماء في بيان تفسير القرآن بالقرآن بشكلٍ عام، لا سيما ما كان تفسيره منفصلًا عنه في موضع آخر من القرآن الكريم، وقد خصّصتُ هذا البحث فيما جاء من تفسير القرآن بالقرآن متصلًا به.
--------------------------------------------
তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: {যাতে আমি তাদের ওপর কাদা-মাটির পাথর বর্ষণ করি (৩৩)} (১) (২)।
৫ - অর্থের দ্বারা অর্থের ব্যাখ্যা:
যেমন আল্লাহ তাআলার বাণীর ব্যাখ্যা: {সেদিন যারা কুফরি করেছিল এবং রাসূলের অবাধ্য হয়েছিল তারা কামনা করবে যে, যদি তাদের নিয়ে জমিন সমান করে দেওয়া হতো} (৩), আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে: {এবং কাফির বলবে: হায়! আমি যদি মাটি হতাম (৪০)} (৪) (৫)।
৬ - এক আয়াতের মাধ্যমে অন্য আয়াতের কুরআনিক শৈলীর ব্যাখ্যা:
যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর অবনত মস্তকে দরজায় প্রবেশ করো এবং বলো: ‘হিত্তাহ’ (আমাদের ক্ষমা করুন), আমি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেব এবং সৎকর্মশীলদের নেকি বৃদ্ধি করব (৫৮)} (৬), অর্থাৎ: আমাদের অবনত মস্তকে প্রবেশ করা হলো আমাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা স্বরূপ; আর এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মতো: {আর যখন তাদের এক দল বলল, তোমরা কেন এমন কওমকে সদুপদেশ দিচ্ছ যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করে দেবেন অথবা কঠোর শাস্তি দেবেন? তারা বলল, তোমাদের রবের কাছে ওজর পেশ করার জন্য এবং যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে (১৬৪)} (৭), অর্থাৎ: তাদের প্রতি আমাদের উপদেশ দান হলো তোমাদের রবের কাছে ওজর পেশ স্বরূপ। সুতরাং উভয় আয়াতের শৈলী ‘হিত্তাহ’ এবং ‘মা‘জিরাহ’ শব্দের ব্যবহারে সাদৃশ্যপূর্ণ (৮)।
আলেমগণ সাধারণভাবে কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসির বর্ণনার ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, বিশেষ করে যার ব্যাখ্যা পবিত্র কুরআনের অন্য কোনো স্থানে বিচ্ছিন্ন (منفصل) অবস্থায় রয়েছে। আর আমি এই গবেষণাটিকে পবিত্র কুরআনের ওই সকল অংশের জন্য নির্দিষ্ট করেছি যেখানে কুরআনের তাফসির এর সাথে সংযুক্ত (متصل) অবস্থায় এসেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الأولالتفسير بالبيان المتّصل: التعريف به وأهميتهوفيه مبحثان:
المبحث الأول: تعريف التفسير بالبيان المتَّصل وعلاقته بالسِّياق.
المبحث الثاني: أهمية التفسير بالبيان المتَّصل.
প্রথম পরিচ্ছেদঅবিচ্ছিন্ন বর্ণনার (البيان المتصل) মাধ্যমে তাফসির (التفسير): এর সংজ্ঞা ও গুরুত্বএতে দুটি অনুচ্ছেদ (مبحثان) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: অবিচ্ছিন্ন বর্ণনার (البيان المتصل) মাধ্যমে তাফসিরের (التفسير) সংজ্ঞা এবং প্রেক্ষাপটের (السياق) সাথে এর সম্পর্ক।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অবিচ্ছিন্ন বর্ণনার (البيان المتصل) মাধ্যমে তাফসিরের (التفسير) গুরুত্ব।
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الأولتعريف التفسير بالبيان المتّصل، وعلاقته بالسّياقوفيه خمسة مطالب:المطلب الأول: تعريف التفسير لغة واصطلاحا.
المطلب الثاني: تعريف البيان لغة واصطلاحا.
المطلب الثالث: تعريف المتَّصل لغة واصطلاحا.
المطلب الرابع: تعريف "التفسير بالبيان المتَّصل".
المطلب الخامس: علاقة (التفسير بالبيان المتَّصل) بالسِّياق.
প্রথম পরিচ্ছেদসংশ্লিষ্ট (متصل) বর্ণনার মাধ্যমে তাফসিরের সংজ্ঞা এবং প্রসঙ্গের সাথে এর সম্পর্কএতে পাঁচটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে তাফসিরের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে বয়ান বা বর্ণনার সংজ্ঞা।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে নিরবচ্ছিন্ন বা সংশ্লিষ্ট (متصل)-এর সংজ্ঞা।
চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: "সংশ্লিষ্ট (متصل) বর্ণনার মাধ্যমে তাফসির"-এর সংজ্ঞা।
পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ: প্রসঙ্গের সাথে (সংশ্লিষ্ট (متصل) বর্ণনার মাধ্যমে তাফসির)-এর সম্পর্ক।
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المطلب الأولتعريف "التفسير" لغة واصطلاحاأولا: "التفسير" لغة:
يعود المعنى اللغوي للتفسير إلى الكشف، والإبانة، والإيضاح، وإظهار المعنى (1).
قال تعالى: {وَلَا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا (33)} (2).
قال الأزهري (3): الفَسرُ: كَشفُ المغطَّى (4).
قال ابن فارس (5): (فسر) الفاء والسين والراء كلمة واحدة تدل على بيان شيءٍ وإيضاحه، ومن ذلك الفَسْر، يقال: فسَّرتُ الشيء وفَسَرتُه. والفَسْرُ والتَّفْسِرَة: نظر الطبيب إلى الماء، وحكمه فيه (6).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদআভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে "তাফসির"-এর সংজ্ঞাপ্রথমত: আভিধানিক অর্থে "তাফসির":
তাফসিরের আভিধানিক অর্থ হলো উন্মোচন করা, ব্যক্ত করা, স্পষ্টীকরণ এবং অর্থের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো (১)।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা আপনার কাছে এমন কোনো সমস্যাই নিয়ে আসে না, যার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি আপনাকে দান করি না (৩৩)} (২)।
আল-আযহারী (৩) বলেন: আল-ফাসর অর্থ হলো আবৃত বিষয়কে উন্মোচন করা (৪)।
ইবন ফারিস (৫) বলেন: (ফাসর) 'ফা', 'সিন' এবং 'রা'—এই বর্ণ তিনটি একটিই মূল অর্থ প্রদান করে, যা কোনো বিষয়ের বর্ণনা ও স্পষ্টীকরণ নির্দেশ করে। এ থেকেই আল-ফাসর শব্দটি এসেছে; বলা হয়ে থাকে: আমি বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছি। আর আল-ফাসর ও আত-তাফসিরাহ বলতে চিকিৎসকের পানি (মূত্র) পরীক্ষা এবং সে বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত প্রদানকেও বোঝানো হয় (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قال ابن منظور (1): " الفَسْرُ بمعنى: البيان، وفَسَر الشيء يفسِره (بالكسر)، ويفسُره (بالضم) فسرًا، وفَسَّره: أبانه، والتّفسِير مثله، والفَسْر: كشف المغطى، والتّفسِير: كشف المراد عن اللّفظ المشكِل" (2).
قال الخليل (3): "التفسير: هو بيانٌ وتفصيلٌ للكِتاب، وفَسَره يفسِره فسرًا، وفسَّره تفسيرًا" (4).
ثانيا: "التفسير" اصطلاحا:
عرَّفه العلماء بعدة تعريفات، نورد أبرزها:
عرَّفه الزركشي (5) بقوله: " علمٌ يُعرف به فهم كتاب الله المنَزَّل على نبيه محمد ‘، وبيان معانيه، واستخراج أحكامه وحِكَمه" (6).
--------------------------------------------
ইবনে মানজুর (১) বলেন: " 'ফাসর' এর অর্থ হলো: স্পষ্টীকরণ; কোনো বিষয় ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে বলা হয় 'ফাসারা ইয়াফসিরু' (জের যোগে) এবং 'ইয়াফসুরু' (পেশ যোগে), যার ধাতু হলো 'ফাসর'। আর 'ফাসসারা' অর্থ: সেটিকে ব্যক্ত করল। 'আত-তাফসির' শব্দটিও একই অর্থ বহন করে। 'ফাসর' হলো আবৃত বিষয় উন্মোচন করা, আর 'তাফসির' হলো জটিল শব্দের মাধ্যমে উদ্দিষ্ট মর্ম উন্মোচন করা" (২)।
আল-খলিল (৩) বলেন: "তাফসির হলো কিতাবের বর্ণনা ও বিশদ ব্যাখ্যা। আর ফাসারা-ইয়াফসিরু-ফাসরান এবং ফাসসারা-তাফসিরান (শব্দগুলো একইভাবে ব্যবহৃত হয়)" (৪)।
দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক অর্থে "তাফসির":
ওলামায়ে কেরাম একে বেশ কয়েকটি সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করেছেন, আমরা তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো উল্লেখ করছি:
আল-যারকাশি (৫) একে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেন: "এটি এমন এক জ্ঞান, যার মাধ্যমে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর কিতাবের মর্ম উপলব্ধি করা যায়, এর অর্থসমূহ স্পষ্ট করা যায় এবং এর বিধিবিধান ও হিকমতসমূহ আহরণ করা যায়" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وعرَّفه الكافِيَجي (1)، فقال: "هو كشف معاني القرآن، وبيان المراد" (2).
وعرَّفه الزُّرقاني (3) بقوله: " علمٌ يُبحث فيه عن القرآن الكريم من حيث دلالته على مراد الله تعالى بقدر الطَّاقة البشرية" (4).
وعرَّفه ابن عثيمين (5) بأنه: "بيان معاني القرآن الكريم" (6).
التعريف المختار: تعريف ابن عثيمين (7).
سبب الاختيار: أنه من أجمع تلك التعاريف، وأخصرها، ولموافقته المعنى اللغوي الذي يدور حول البيان وإيضاح المعنى، وفيه تمييز للتفسير عن بقية العلوم المتعلقة به كعلم النحو، والبلاغة، والفقه
… وغيرها من العلوم التي يتوسع فيها البعض، فتخرج بالتفسير عن دائرة البيان.
--------------------------------------------
আল-কাফিয়াজি (১) এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, তিনি বলেন: "এটি হলো কুরআনের অর্থ উন্মোচন করা এবং এর মর্মার্থের বর্ণনা" (২)।
আজ-যুরকানি (৩) এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "এটি এমন একটি শাস্ত্র যাতে মানুষের সাধ্য অনুযায়ী মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের নির্দেশনার দিক থেকে আলোচনা করা হয়" (৪)।
ইবনে উসাইমিন (৫) একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "পবিত্র কুরআনের অর্থসমূহের বর্ণনা" (৬)।
পছন্দনীয় সংজ্ঞা: ইবনে উসাইমিনের সংজ্ঞা (৭)।
নির্বাচনের কারণ: এটি উক্ত সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যাপক এবং সংক্ষিপ্ত। তাছাড়া এটি এর আভিধানিক অর্থের সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ যা মূলত বর্ণনা এবং অর্থ স্পষ্ট করার সাথে সংশ্লিষ্ট। এতে তাফসিরকে এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শাস্ত্র যেমন নাহু, বালাগাত এবং ফিকহ
… এবং অন্যান্য শাস্ত্র থেকে পৃথক করা হয়েছে যেগুলোতে কেউ কেউ অতি বিস্তার ঘটিয়ে থাকেন, যার ফলে তাফসির বর্ণনার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المطلب الثانيتعريف "البيان" لغة واصطلاحاأولا: "البيان" لغة:
الْبَيَانُ اسم مصدَرِ من الفعل (بَيَّنَ) تدور معانيه حول:
"الإبانة، والفصاحة، والإيضاح، والكشف عن المشكل" (1).
قال تعالى: {الر تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ (1)} (2).
قال ابن فارس: "بان الشيء وأبان إذا اتضح وانكشف. وفلان أبينُ من فلان، أي أوضحُ كلامًا منه" (3).
قال ابن منظور: البيان إظهار المقصود بأبلغ لفظٍ، وهو من الفهم وذكاء القلب مع اللَّسَن (4)، وأصله الكشف والظهور. (5).
والبيان: ما يتبيَّن به الشيء من الدلالة وغيرها، وبَان الشيء بيانًا: اتّضح فهو بيِّن، والجمع أَبْيِنَاء، مثل: هيِّن وأَهْيِنَاء. وكذلك أبان الشَّيءَ فهو مبِين، وتَبَيَّن الشيءُ: وَضَح وظَهَر، والتَّبيِين: الإيضاح والوضوح (6).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ"আল-বায়ান" (البيان)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞাপ্রথমত: আভিধানিক অর্থে "আল-বায়ান":
"আল-বায়ান" (البيان) শব্দটি "বায়্যানা" (بيَّن) ক্রিয়া থেকে আগত একটি মাসদার-সদৃশ বিশেষ্য (اسم مصدر), যার অর্থসমূহ নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়:
"স্পষ্টকরণ (إبانة), প্রাঞ্জলতা (فصاحة), ব্যাখ্যা প্রদান (إيضاح) এবং অস্পষ্টতা নিরসন করা" (১)।
মহান আল্লাহ বলেন: "আলিফ, লাম, রা; এগুলো সুস্পষ্ট (مبين) কিতাবের আয়াত" (২)।
ইবনে ফারিস বলেন: "কোনো বিষয় 'বানা' এবং 'আবানা' বলা হয় যখন তা সুস্পষ্ট ও উন্মোচিত হয়। অমুক ব্যক্তি অমুকের চেয়ে 'আবয়ান' (أبين), অর্থাৎ সে তার চেয়ে অধিক স্পষ্টভাষী" (৩)।
ইবনে মানযুর বলেন: বায়ান (البيان) হলো অত্যন্ত প্রাঞ্জল শব্দের মাধ্যমে উদ্দেশ্যকে প্রকাশ করা। এটি প্রজ্ঞা ও হৃদয়ের তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার সাথে বাকপটুতার সংমিশ্রণ (৪), যার মূল অর্থ হলো উন্মোচন ও প্রকাশ পাওয়া (৫)।
আর বায়ান (البيান) হলো: যার মাধ্যমে দলিল বা অন্য কোনো কিছুর দ্বারা কোনো বিষয় সুস্পষ্ট হয়। কোনো বিষয় 'বানা বায়ানান' হওয়ার অর্থ হলো তা সুস্পষ্ট হয়েছে, সুতরাং তা সুস্পষ্ট (بيِّن)। এর বহুবচন হলো 'আবয়িনা' (أَبْيِنَاء), যেমন: 'হাইয়িন' ও 'আহয়িনা'। অনুরূপভাবে কোনো কিছুকে স্পষ্ট করা হলে তাকে 'মুবীন' (مبين) বলা হয়। আর 'তাবাইয়ানা' অর্থ হলো স্পষ্ট ও প্রকট হওয়া এবং 'তাবয়ীন' (التبيين) অর্থ হলো স্পষ্ট করা বা স্পষ্ট হওয়া (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والْمُبَيِّن في اللغة: الْمُظْهِرُ، من (بان)، إذا ظهر، يقال: "بيَّن فلان كذا"، إذا أظهره، وأَوضَحَ معناه (1).
ثانيا: "البيان" اصطلاحًا:
عند البلاغيين:
عرَّفه الجُرجاني (2) بأنه: " النطق الفصيح المعرب، أي المُظهِر عمَّا في الضمير" (3).
وقال: هو "إظهار المعنى وإيضاح ما كان مستورًا قبله" (4).
وعرَّفه السُّيوطي (5) بقوله: "إخراج الشَّيء عن حيرة الإشكال إلى فضاء الوضوح" (6).
--------------------------------------------
শাব্দিক অর্থে মুবায়্যিন (المبين) হলো: প্রকাশকারী; এটি 'বানা' থেকে উদ্গত, যার অর্থ প্রকাশ পাওয়া। বলা হয়ে থাকে: "অমুক ব্যক্তি বিষয়টি বর্ণনা (বিয়ান) করেছেন", যখন তিনি তা প্রকাশ করেন এবং এর অর্থ স্পষ্ট করে দেন (১)।
দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক অর্থে "বিয়ান" (البيان):
অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের নিকট:
জুরজানি (২) এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: "এটি হলো প্রাঞ্জল ও পরিস্ফুট উচ্চারণ, যা মনের অব্যক্ত বিষয়কে প্রকাশ করে" (৩)।
তিনি আরও বলেন: এটি হলো "অর্থের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো এবং যা পূর্বে অস্পষ্ট ছিল তা স্পষ্ট করা" (৪)।
সুয়ূতী (৫) এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: "কোনো বিষয়কে অস্পষ্টতার সংশয় থেকে স্পষ্টতার উন্মুক্ত পরিসরে বের করে আনা" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২০)
وعند الأصوليين:
عرَّفه الرازي (1) بقوله: " هو الذي دل على المراد بخطاب لا يستقل بنفسه في الدلالة على المراد (2) ".
ويطلق الفعل (بَيَّنَ) ويراد به (التَّبْيِين) (3)، ولعل هذا التعريف هو الأقرب للمقصود، لمناسبته الدراسة القرآنية.
--------------------------------------------
উসুলবিদদের (الأصوليين) মতে:
রাযী (১) একে সংজ্ঞায়িত করেছেন তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে: "এটি হলো তা, যা এমন কোনো সম্বোধনের মাধ্যমে উদ্দিষ্ট অর্থের প্রতি নির্দেশ করে, যা নির্দেশ প্রদানের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় (২)।"
'বাইয়ানা' (بَيَّنَ) ক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা 'স্পষ্টিকরণ' (التبيين) উদ্দেশ্য নেওয়া হয় (৩); সম্ভবত এই সংজ্ঞাটিই এখানে উদ্দিষ্ট বিষয়ের অধিকতর নিকটবর্তী, যেহেতু এটি কুরআন সংশ্লিষ্ট অধ্যয়নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২১)
المطلب الثالثتعريف "المتَّصل" لغة واصطلاحا"المتَّصِل" لغة:
تدور معانيه حول معنى التَّعلق، والاتِّحاد، والتَّرابط، والالتِئام (1).
قال ابن فارس: " (وصل) الواو والصاد واللام، أصلٌ واحدٌ يدل على ضم شيءٍ إلى شيءٍ حتى يعلقه. ووصلته به وصلًا، والوَصْل: ضد الهجران، ومَوصِلُ البعير: ما بين عجزه وفخذه، والواصلة في الحديث (2): التي تصل شعرها بشعرٍ آخر زورًا، ويقول: "وَصَلتُ الشيء وَصْلًا"، والموصول به: (وِصل)، بكسر الواو". (3).
قال الجوهري (4): "وَصَل بمعنى اتَّصَل. و (بينهما وُصْلَةٌ)، أي اتِّصالٌ وذريعة. و (التَواصُلُ): ضد التَّصارم". (5).
قال الأصفهاني (6): "الاتِّصال: اتّحادُ الأشياء بعضها ببعض كاتحاد طرفي الدائرة،
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ“নিরবচ্ছিন্ন (المتصل)” এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞাআভিধানিক অর্থে “নিরবচ্ছিন্ন (المتصل)”:
এর অর্থসমূহ সংশ্লিষ্টতা, একীভূত হওয়া, আন্তঃসম্পর্ক এবং মিলে যাওয়ার অর্থকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় (১)।
ইবন ফারেস বলেন: “(وصل) ওয়াও, সোয়াদ এবং লাম—এটি এমন একটি মূলশব্দ যা একটি বস্তুকে অপর একটি বস্তুর সাথে মেলানো নির্দেশ করে যাতে তা একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়। আমি একে অপরের সাথে যুক্ত করেছি। আর ‘সংযুক্তি (الوصل)’ হলো ‘বিচ্ছিন্নতা (الهجران)’ এর বিপরীত। উটের মিলনস্থল হলো তার নিতম্ব ও ঊরুর মধ্যবর্তী স্থান। হাদিসে ‘পরচুলা সংযোগকারী (الواصلة)’ (২) বলতে সেই নারীকে বোঝানো হয়েছে যে প্রতারণামূলকভাবে নিজের চুলের সাথে অন্য চুল জুড়ে দেয়। তিনি আরও বলেন: ‘আমি বস্তুটিকে যুক্ত করেছি’, আর যার মাধ্যমে যুক্ত করা হয় তাকে ‘উইসল (وِصل)’ বলা হয়—ওয়াও অক্ষরে কাসরা (জের) যোগে (৩)।”
আল-জাওহারী (৪) বলেন: “ওয়াসাল (وصل) অর্থ নিরবচ্ছিন্ন হওয়া (اتصل)। ‘তাদের উভয়ের মধ্যে সংযোগ (وصلة) রয়েছে’ অর্থাৎ তাদের মাঝে যোগসূত্র ও মাধ্যম রয়েছে। আর ‘পারস্পরিক যোগাযোগ (التواصل)’ হলো ‘বিচ্ছিন্নতা (التصارم)’ এর বিপরীত (৫)।”
আল-আাসফাহানি (৬) বলেন: “নিরবচ্ছিন্ন হওয়া (الاتصال) বলতে বুঝায় বস্তুসমূহের একে অপরের সাথে একীভূত হওয়া, যেমন বৃত্তের দুই প্রান্তের একীভূত হওয়া,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২২)
ويضاد الانفصال، ويستعمل الوصل في الأعيان، وفي المعاني" (1).
قال الله تعالى: {وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَنْ يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ أُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ (27)} (2) ..
قال الفيروز آبادي (3): "وصَلَ الشيءَ بالشيءِ وَصْلاً وصلَةً (بكسرالصاد، وضمها)، ووَصَّلَهُ: لَأَمَهُ، وأوْصَلَهُ واتَّصَلَ: لم يَنْقَطِعْ" (4).
ثانيا: تعريف "المتَّصِل" اصطلاحا:
عُرِّف مصطلح (الوصل) في علومٍ عدة، وأول ظهوره كان في علم القراءات مرتبطًا بعلم الوقف والابتداء، ثم انتقل منه إلى علم النحو وعلم البلاغة (5).
ونورد فيما يلي تعريف الوصل في كل علم من تلك العلوم، من ثنايا كلام العلماء والباحثين في هذا المجال، وهي كالتالي:
الوصل في علم القراءات:
دراسة الإجراءات الصوتية، والتَّحولات التي تحدث عند وصل الكلام ببعضه
--------------------------------------------
এটি বিচ্ছিন্নতার (الانفصال) বিপরীত, এবং 'সংযোগ' (الوصل) শব্দটি বস্তুগত এবং ভাবগত উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়" (১)।
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর তারা বিচ্ছিন্ন করে সেই সম্পর্ককে, যা আল্লাহ সংযুক্ত (يُوصَلَ) রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করে; তারাই ক্ষতিগ্রস্ত (২৭)} (২) ..
আল-ফিরোজাবাদি (৩) বলেন: "এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে যুক্ত করার নাম হলো 'ওয়াসল' (وَصْلاً) বা 'সিলাহ' (وصلَةً) [সোয়াদ বর্ণে কাসরা বা যম্মাহ যোগে], আর একে সংযুক্ত করা বলতে জোড়া লাগানো বোঝায়; এবং 'ইত্তাসাল' (اتَّصَلَ) অর্থ হলো নিরবচ্ছিন্ন (لم يَنْقَطِعْ) হওয়া" (৪)।
দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক অর্থে "সংযুক্ত (المتَّصِل)"-এর সংজ্ঞা:
'সংযোগ' (الوصل) পরিভাষাটি একাধিক শাস্ত্রে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল কিরাতশাস্ত্রে (ইলমুল কিরাত), যা 'ওয়াকফ' (থামা) ও 'ইবতিদা' (শুরু করা) বিষয়ক জ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল; পরবর্তীতে এটি ব্যাকরণশাস্ত্র (ইলমুন নাহু) ও অলঙ্কারশাস্ত্রে (ইলমুল বালাগাহ) স্থানান্তরিত হয় (৫)।
নিম্নে আমরা এই শাস্ত্রসমূহের প্রত্যেকটিতে 'ওয়াসল' বা সংযোগের সংজ্ঞা উল্লেখ করছি, যা এই বিষয়ের আলেম ও গবেষকদের বক্তব্যের নির্যাস থেকে সংগৃহীত। সেগুলো নিম্নরূপ:
কিরাতশাস্ত্রে সংযোগ (الوصل):
এটি হলো ধ্বনিগত প্রক্রিয়া এবং শব্দের সাথে শব্দের সংযোগের সময় সংঘটিত পরিবর্তনসমূহের পর্যালোচনা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
دون توقف، والسكتات في مقاطع الكلمة الواحدة (1).
الوصل في علم النحو:
هو الاتِّصال في البناء التركيبي مما تقتضيه بُنية التلازم اللفظي والمعنوي، نحو الاتصال بين جملة المبتدأ والخبر، والمعطوف والمعطوف عليه، والحال وصاحب الحال، والصفة والموصوف
… (2).
الوصل في علم البلاغة:
عطف بعض الجمل على البعض (3)، وقيل: عطف جملة على أخرى بالواو. (4)
ولعل أنسب ما وقفت عليه من التعريفات لهذا المقام هو تعريف السُّيوطي للمتَّصل بقوله: "هو مالم يستقل بنفسه" (5).
--------------------------------------------
বিরতিহীনভাবে, এবং একটি শব্দের বিভিন্ন অংশের মধ্যবর্তী বিরামসমূহ (১)।
নাহু শাস্ত্রে 'আল-ওয়াসল' (সংযোজন):
এটি হলো বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে এমন এক সংযোগ যা শাব্দিক ও অর্থগত অবিচ্ছেদ্য কাঠামোর দাবি রাখে। যেমন: মুবতাদা ও খবরের মধ্যকার সংযোগ, মা’তুফ ও মা’তুফ আলাইহির মধ্যকার সংযোগ, হাল ও সাহিবুল হালের মধ্যকার সংযোগ এবং সিফাত ও মাওসুফের মধ্যকার সংযোগ... (২)।
বালাগাত শাস্ত্রে 'আল-ওয়াসল' (সংযোজন):
এক বাক্যের সাথে অন্য বাক্যের সংযোজন (৩), এবং বলা হয়েছে: 'ওয়াও' অব্যয়ের মাধ্যমে এক বাক্যকে অপর বাক্যের সাথে যুক্ত করা। (৪)
এই প্রসঙ্গের জন্য আমি যেসকল সংজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছি তার মধ্যে সম্ভবত সবচাইতে উপযোগী হলো নিরবিচ্ছিন্ন (متصل) সম্পর্কে সুয়ূতীর সংজ্ঞা; যেখানে তিনি বলেছেন: "তা হলো এমন বিষয় যা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المطلب الرابعتعريف "التفسير بالبيان المتَّصل"
قبل البدء في التعريف المركب لـ"التفسير بالبيان المتصل " يحسن بنا أن نبدأ بالتعريف لـ "البيان المتَّصل" كمركبٍ إضافي.
أولا: "البيان المتّصل" بمعناه المركب:
من خلال ما سبق من تعريفاتٍ إفراديةٍ لكل من: "التَّفسير"، و"البيان"، و"الْمُتَّصل"، يمكن القول بأن تعريف البيان المتَّصل هو:
"ما يلحق بالآية أو بجزء منها، ويرتبط بها بوجه من الوجوه".
ثانيا: "التفسير بالبيان المتّصل "بمعناه المركب:
لم أقف على أحد من علماء التفسير، وأصوله قد اعتمد "التفسير بالبيان المتّصل" كمصطلح، وإن كان هذا النوع حاضرًا في مؤلفاتهم، لاسيما عند تفسير القرآن بالقرآن، أو الإشارة إليه كأصل من أصول التفسير المعتمدة، وقد ارتضيت تسمية هذا النوع من التفسير بـ"البيان المتَّصل"؛ ليتميز بذلك عن دلالة السِّياق (1)، وعن اللَّحاق (2) المطلق.
ويمكن تعريف "التفسير بالبيان المتّصل" بأنه:
"الكشف عما يراد فهمه من الآيات أو أجزائها، بالاستعانة بما اتَّصل من لاحقها الذي يرتبط بها بوجه من الوجوه".
--------------------------------------------
চতুর্থ অনুচ্ছেদ"সংযুক্ত (متصل) বর্ণনা দ্বারা তাফসির"-এর সংজ্ঞা"সংযুক্ত (متصل) বর্ণনা দ্বারা তাফসির"-এর যৌগিক সংজ্ঞা শুরু করার পূর্বে, সম্বন্ধযুক্ত শব্দসমষ্টি হিসেবে "সংযুক্ত (متصل) বর্ণনা"-এর সংজ্ঞা প্রদান করা আমাদের জন্য সমীচীন হবে।
প্রথমত: যৌগিক অর্থে "সংযুক্ত (متصل) বর্ণনা":
তাফসির, বর্ণনা এবং "সংযুক্ত (متصل)"-এর পূর্বোক্ত স্বতন্ত্র সংজ্ঞাসমূহের আলোকে বলা যেতে পারে যে, সংযুক্ত (متصل) বর্ণনার সংজ্ঞা হলো:
"যা কোনো আয়াতের সাথে বা আয়াতের কোনো অংশের সাথে যুক্ত হয় এবং কোনো না কোনোভাবে তার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে।"
দ্বিতীয়ত: যৌগিক অর্থে "সংযুক্ত (متصل) বর্ণনা দ্বারা তাফসির":
আমি তাফসির ও উসুলুত তাফসিরের আলেমদের মধ্যে এমন কাউকে পাইনি যিনি "সংযুক্ত (متصل) বর্ণনা দ্বারা তাফসির"-কে একটি পারিভাষিক শব্দ হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যদিও এই প্রকারটি তাঁদের গ্রন্থাবলীতে বিদ্যমান রয়েছে, বিশেষ করে কুরআনের সাহায্যে কুরআনের তাফসির করার ক্ষেত্রে অথবা একে তাফসিরের একটি স্বীকৃত মূলনীতি হিসেবে নির্দেশ করার ক্ষেত্রে। আমি তাফসিরের এই প্রকারটিকে "সংযুক্ত (متصل) বর্ণনা" নামে অভিহিত করা পছন্দ করেছি; যাতে একে প্রসঙ্গের নির্দেশনা (১) এবং সাধারণ পরবর্তী অংশ (২) থেকে পৃথক করা যায়।
"সংযুক্ত (متصل) বর্ণনা দ্বারা তাফসির"-এর সংজ্ঞা এভাবে প্রদান করা সম্ভব:
"আয়াত বা আয়াতের অংশবিশেষ থেকে যা উদ্দেশ্য তা বুঝতে এমন পরবর্তী সংযুক্ত বিষয়ের সহায়তা গ্রহণ করা, যা কোনো না কোনোভাবে তার সাথে সংশ্লিষ্ট।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
شرح التعريف وإخراج المحترزات:
(الكشف): تفيد أن هذا البيان المتَّصِل أظهر أمرًا كان مستورًا بشكلٍ كليٍّ أو جزئي.
(الآيات أو أجزائها): لا يلزم منه أن يكون البيان المتَّصل في آية مستقلة، بل قد يكون لاحقًا به في نفس الآية.
(لاحقها): يخرج به (السِّباق)، وهو ما كان قبل الآية متَّصلا بها، وسيأتي بيانه في المطلب التالي.
(الذي يرتبط): أي أن البيان المتَّصل مفتقرٌ إلى ما قبله، فلا يكتمل فهمه إلا بالنظر فيما قبله.
(بوجهٍ من الوجوه): يقصد به تعدد طرق وروده في القرآن الكريم، وسيأتي بيان تلك الطرق في الفصل الثاني من البحث.
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা ও বর্জনীয় বিষয়সমূহের অপনোদন:
(উন্মোচন (الكشف)): এটি নির্দেশ করে যে, এই সংযুক্ত বর্ণনাটি এমন কোনো বিষয়কে প্রকাশ করে যা সামগ্রিক বা আংশিকভাবে গোপন ছিল।
(আয়াতসমূহ বা আয়াতের অংশবিশেষ (الآيات أو أجزائها)): এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে সংযুক্ত বর্ণনাটি একটি স্বতন্ত্র আয়াতে হতে হবে, বরং তা একই আয়াতের পরবর্তী অংশ হিসেবেও থাকতে পারে।
(পরবর্তী অংশ (لاحقها)): এর দ্বারা (পূর্ববর্তী অংশ (السباق)) বাদ পড়ে যায়, যা আয়াতের পূর্বে তার সাথে সংযুক্ত থাকে; এর বর্ণনা পরবর্তী পরিচ্ছেদে আসবে।
(যা সংশ্লিষ্ট (الذي يرتبط)): অর্থাৎ সংযুক্ত বর্ণনাটি তার পূর্ববর্তী অংশের মুখাপেক্ষী, তাই পূর্ববর্তী অংশের প্রতি লক্ষ না করলে এর অনুধাবন পূর্ণতা পায় না।
(কোনো না কোনো পন্থায় (بوجهٍ من الوجوه)): এর দ্বারা পবিত্র কুরআনে এর উপস্থাপনার বিভিন্ন পদ্ধতিসমূহকে বোঝানো হয়েছে, আর গবেষণার দ্বিতীয় অধ্যায়ে সেই পদ্ধতিসমূহের বর্ণনা আসবে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المطلب الخامسعلاقة (التفسير بالبيان المتَّصل) بالسِّياقاستخدم العلماء السِّياق في مؤلفاتهم منذ القدم، غير أنه لم يعرف كمصطلح إلا في وقت متأخر، وممن أشار إليه من المتقدمين الإمام الشافعي في كتابه "الرسالة"، حيث عقد بابا سماه " الصّنف الذي يبيِّن سياقه معناه" (1).
ويجدر بنا بدايةً التعرف على معنى السِّياق من خلال النّظر في استخدامات المفسّرين له في كتبهم، ثم النّظر في التعاريف التي وضعها العلماء له.
أولا: استخدامات السِّياق في كتب التفسير:
عبَّر المفسرون عن السِّياق بتعابيرَ متنوعةٍ، منها (2):
1 - ما قبل الكلام وما بعده، ومنه قول أبي حيان (3) عند تفسير قوله تعالى: {وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى وَاتَّقُونِ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ} (4).
قال: " .. فعلى ما روي من سبب نزول هذه الآية يكون أمرًا بالتزود في الأسفار الدنيوية، والذي يدل عليه سياق ما قبل هذا الأمر وما بعده، أن يكون الأمر بالتزود هنا بالنسبة إلى تحصيل الأعمال الصالحة التي تكون له كالزَّاد إلى سفره للآخرة، ألا ترى
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদপ্রসঙ্গের (السِّياق) সাথে (সংযুক্ত বর্ণনার মাধ্যমে তাফসিরের) সম্পর্কআলিমগণ প্রাচীনকাল থেকেই তাঁদের গ্রন্থাবলীতে প্রসঙ্গের (السِّياق) ব্যবহার করে আসছেন, তবে এটি একটি পরিভাষা (مصطلح) হিসেবে অনেক পরে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রাচীনদের মধ্যে ইমাম শাফেয়ী তাঁর "আর-রিসালা" গ্রন্থে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে তিনি একটি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন যার শিরোনাম দিয়েছেন: "এমন এক প্রকার যার অর্থ তার প্রসঙ্গ (سياق) দ্বারা স্পষ্ট হয়" (১)।
শুরুতে আমাদের জন্য মুফাসসিরদের (مفسرين) গ্রন্থে প্রসঙ্গের (السِّياق) ব্যবহার এবং এরপর আলিমগণ কর্তৃক প্রদত্ত সংজ্ঞাসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে এর অর্থ জেনে নেওয়া সমীচীন হবে।
প্রথমত: তাফসিরের কিতাবসমূহে প্রসঙ্গের (السِّياق) ব্যবহার:
মুফাসসিরগণ (مفسرون) বিভিন্ন অভিব্যক্তির মাধ্যমে প্রসঙ্গকে (السِّياق) ব্যক্ত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে (২):
১ - বক্তব্যের পূর্বাপর অংশ। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো, আর নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া। হে বুদ্ধিমানগণ! তোমরা আমাকে ভয় করো} (৪)-এর তাফসিরকালে আবু হাইয়্যান (৩) এর উক্তি।
তিনি বলেন: "..এই আয়াতের শানে নুযুল (سبب نزول) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, সেই অনুযায়ী এটি পার্থিব সফরের জন্য পাথেয় সংগ্রহের নির্দেশ। কিন্তু এর পূর্বাপর প্রসঙ্গের (سياق) ইঙ্গিত হলো, এখানে পাথেয় সংগ্রহের নির্দেশটি মূলত নেক আমল অর্জনের ক্ষেত্রে, যা তার পরকালীন সফরের পাথেয় স্বরূপ। আপনি কি লক্ষ্য করেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أن قبله: {وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّهُ}، ومعناه الحث والتَّحريض على فعل الخير الذي يترتب عليه الجزاء في الآخرة، وبعده: {فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى}، والتَّقوى في عُرف الشَّرع والقرآن، عبارةٌ عما يُتقى به النار! ! " (1).
2 - سابِق الكلام ولاحقه، ومنه قول البقاعي (2) عند قوله تعالى: {وَأَصْبَحَ فُؤَادُ أُمِّ مُوسَى فَارِغًا إِنْ كَادَتْ لَتُبْدِي بِهِ لَوْلَا أَنْ رَبَطْنَا عَلَى قَلْبِهَا لِتَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ} (3) قال: "أي لأبدت به"، وقال: "وأما ما ورد عن السلف مما يعارض ذلك فلم يصح منه شيء عن أحد منهم مع أن الأقوال التي رُويت عنهم إذا جمعت تناقضت فتكاذبت، ولا يساعد على شيءٍ منها كلام العرب لأنهم قدروا جواب (لولا) المحذوف بما لا دليل عليه من سابق الكلام ولا لاحقه" (4).
3 - قد يجعل بعضهم السِّياق مقابل للسِّباق في بعض المواضع، ومنه قول ابن عاشور (5) عند قوله تعالى: {يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ
--------------------------------------------
এর পূর্বে রয়েছে: {তোমরা যে কোনো ভালো কাজ করো না কেন, আল্লাহ তা জানেন}, এর অর্থ হলো সেই ভালো কাজ করার প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করা যার প্রতিদান পরকালে পাওয়া যাবে। আর এর পরে রয়েছে: {নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া}। শরয়ি পরিভাষায় এবং কুরআনের প্রয়োগে 'তাকওয়া' হলো এমন বিষয় যা দ্বারা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়!" (১)।
২ - বক্তব্যের পূর্বাপর এবং অনুষঙ্গ। এর উদাহরণ হলো আল-বিকায়ি-এর (২) উক্তি যা মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রেক্ষিতে: {মুসার মায়ের অন্তর শূন্য হয়ে পড়ল; যদি আমি তাঁর অন্তরকে সুদৃঢ় না করতাম, যাতে তিনি বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত থাকেন, তবে তিনি তো তা প্রকাশ করেই দিতেন} (৩)। তিনি বলেন: "অর্থাৎ তিনি তা প্রকাশ করে দিতেন"। তিনি আরও বলেন: "সালাফদের থেকে এর বিপরীতে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তার কোনোটিই কারো পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) প্রমাণিত হয়নি। তদুপরি, তাঁদের থেকে বর্ণিত উক্তিগুলো যখন একত্রিত করা হয়, তখন সেগুলো পরস্পরবিরোধী হওয়ার কারণে বাতিল হয়ে যায়। আর আরবি ভাষা এগুলোর কোনোটিকেই সমর্থন করে না; কারণ তাঁরা ‘লাওলা’ (لولا)-এর বিলুপ্ত উত্তরকে (জাওয়াব) এমন কিছু দ্বারা নির্ধারণ করেছেন যার সপক্ষে বক্তব্যের পূর্বাপর কোনো প্রমাণ নেই" (৪)।
৩ - কেউ কেউ কোনো কোনো স্থানে ‘সিয়াক’ (Siyāq)-কে ‘সিবাক’ (Sibāq)-এর বিপরীতে ব্যবহার করে থাকেন। এর উদাহরণ হলো ইবনে আশুর-এর (৫) উক্তি যা মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রেক্ষিতে: {হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক সিজদাহর সময় তোমাদের সুন্দর পোশাক পরিধান করো এবং খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না; নিশ্চয়ই তিনি...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাফসীরু বিল বায়ানিল মুত্তাসিলি ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ} (1) قال: " فالأمر في قوله: {خُذُوا زِينَتَكُمْ} للوجوب، وفي قوله: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا} للإباحة لبني آدم الماضين والحاضرين
… فقد ظهر من السِّياق والسِّباق في هذه الآيات أن كشف العورة من الفواحش، فلا جرم يكون اللّباس في الحج منه واجب، وهو ما يستر العورة، وما زاد على ذلك مباحٌ مأذونٌ فيه، إبطالًا لتحريمه، وأما الأمر بالأكل والشرب فهو للإباحة إبطالًا للتحريم، وليس يجب على أحد أكل اللّحم والدّسم." (2).
ثانيا: تعريف السِّياق:
قال البركتي (3): "سياق الكلام: أسلوبه الذي يجري عليه.
وقولهم وقعت هذه العبارة في سياق الكلام، أي مدرجة فيه (4) ".
وعُرِّف السِّياق بأنه: "تتابع المفردات والجمل والتراكيب المترابطة لأداء المعنى". (5)
والسِّياق القرآني: "تتابع المفردات والجمل والتراكيب القرآنية المترابطة لأداء المعنى". (6)
--------------------------------------------
তিনি বলেন: "সুতরাং 'তোমাদের সৌন্দর্য গ্রহণ করো' এই বাণীতে নির্দেশটি হলো আবশ্যকতা (وجوب)-এর জন্য, এবং 'তোমরা পানাহার করো' বাণীতে নির্দেশটি হলো অতীত ও বর্তমানের সকল আদম সন্তানের জন্য বৈধতা (إباحة)-এর জন্য
… মূলত এই আয়াতসমূহের পূর্বাপর ও প্রাসঙ্গিকতা (السياق والسباق) থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, সতর উন্মুক্ত করা অশ্লীলতা (فواحش)-এর অন্তর্ভুক্ত। অতএব হজের সময় পোশাক পরিধান করা আবশ্যক (واجب), আর তা হলো যা সতর আবৃত করে। এর অতিরিক্ত যা রয়েছে তা বৈধ (مباح) ও অনুমোদিত, যা সেটির নিষিদ্ধকরণ (تحريم)-কে রহিত করার জন্য। আর পানাহারের নির্দেশটি হলো বৈধতা (إباحة)-এর জন্য যাতে নিষিদ্ধকরণ (تحريم) রহিত হয়। কারো জন্য গোশত বা চর্বি খাওয়া আবশ্যক (واجب) নয়।" (২)।
দ্বিতীয়ত: সিয়াক (প্রাসঙ্গিকতা/সন্দর্ভ)-এর সংজ্ঞা:
বারকাতি (৩) বলেছেন: "কালামের সিয়াক: এটি হলো সেই শৈলী যার ওপর ভিত্তি করে বাক্য পরিচালিত হয়।
আর তাঁদের বক্তব্য—এই বাক্যটি কালামের সিয়াকে বা প্রাসঙ্গিকতায় এসেছে, অর্থাৎ এটি তার অন্তর্ভুক্ত (৪)।"
সিয়াক (سياق)-এর সংজ্ঞা এভাবে দেওয়া হয়েছে যে: "অর্থ প্রকাশের জন্য পরস্পর সম্পর্কযুক্ত শব্দ, বাক্য ও গঠনরীতির ধারাবাহিকতা।" (৫)
কুরআনিক সিয়াক (السياق القرآني): "অর্থ প্রকাশের জন্য কুরআনের পরস্পর সম্পর্কযুক্ত শব্দ, বাক্য ও গঠনরীতির ধারাবাহিকতা।" (৬)
--------------------------------------------