(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: -)
الأربعون النووية مع زيادات ابن رجب القسم: كتب السنة
الكتاب: الأربعون النووية (مع زيادات ابن رجب رحمهما الله)
المؤلف: محيي الدين النووي (631 - 676 هـ) وابن رجب الحنبلي (736 - 795 هـ)
المحقق: الشربيني بن فايق الشربيني
راجعها وقدم لها: مصطفى بن العدوي
عدد الصفحات: 67
[الكتاب مرقم آليا، وهو غير مطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 رجب 1440
ইবন রজব-এর সংযোজনীসহ আল-আরবাঊন আন-নাওয়াবিয়্যাহ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-আরবাঊন আন-নাওয়াবিয়্যাহ (ইবন রজব-এর সংযোজনীসহ, আল্লাহ উভয়ের প্রতি রহম করুন)
লেখক: মুহিউদ্দীন আন-নাওয়াবী (৬৩১ - ৬৭৬ হিজরি) এবং ইবন রজব আল-হাম্বলী (৭৩৬ - ৭৯৫ হিজরি)
মুহাক্কিক: আশ-শারবীনী বিন ফায়িক আশ-শারবীনী
পর্যালোচনা ও ভূমিকা প্রদান: মুস্তফা বিন আল-আদাভী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭
[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে এবং এটি মুদ্রিত নয়]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ রজব ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ১)
الأربعون النووية
للإمام محي الدين النووي
(631 - 676 هـ)
مع زيادات الحافظ ابن رجب الحنبلي
(736 - 795 هـ)
تحقيق
الشربيني بن فايق الشربيني
راجعها وقدم لها فضيلة الشيخ
مصطفى بن العدوي
حفظه الله
আল-আরবাউন আন-নাওয়াবিয়্যাহ
ইমাম মুহিউদ্দীন আন-নাওয়াবীর রচিত
(৬৩১ - ৬৭৬ হিজরি)
হাফেজ ইবনে রজব আল-হাম্বলীর বর্ধিত অংশসহ
(৭৩৬ - ৭৯৫ হিজরি)
তাহকীক ও সম্পাদনা
আশ-শারবীনী বিন ফায়েক আশ-শারবীনী
পর্যালোচনা ও ভূমিকা প্রদান করেছেন ফযীলাতুশ শায়খ
মোস্তফা বিন আল-আদাবী
আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله
وبعد:
فهذا الكتاب النافع المفيد، كتاب "الأربعين النووية" للإمام النووي رحمه الله، ومعها زيادات الحافظ ابن رجب رحمه الله، قام بتخريج أحاديثه والحكم عليها، أخي في الله (الشربيني بن فايق الشربيني) حفظه الله، وبذا استزاد نفع الكتاب وازدادت الفوائد منه، وقد نظرت في عمل أخي حفظه الله فألفيته نافعًا موفقًا، ولله الحمد.
فالله أسأل أن يزيده توفيقًا وسدادًا ومواصلةً لطلب العلم الشرعي والدعوة إلى الله.
وصل اللهم على بينا محمد وسلم
والحمد لله رب العالمين
كتبه
أبوعبد الله مصطفى بن العدوي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর।
অতঃপর:
এই উপকারী ও ফলপ্রসূ গ্রন্থটি হলো ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘আল-আরবাউন আন-নববীয়্যাহ’, যার সাথে হাফেজ ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সংযোজনসমূহ যুক্ত রয়েছে। এর হাদিসগুলোর তাখরিজ ও হুকুম বর্ণনা করেছেন আল্লাহর পথে আমার ভাই আশ-শারবিনি বিন ফায়েক আশ-শারবিনি (হাফিজাহুল্লাহ)। এর মাধ্যমে কিতাবটির উপকারিতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর থেকে প্রাপ্ত সুবিধাসমূহও অনেক গুণ বেড়ে গিয়েছে। আমি আমার ভাইয়ের (হাফিজাহুল্লাহ) এই কাজটির প্রতি দৃষ্টিপাত করেছি এবং একে অত্যন্ত উপকারী ও সঠিক হিসেবে পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে আরও তাওফিক, সঠিক পথনির্দেশ এবং শরয়ী জ্ঞান অর্জন ও আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজে অবিচল থাকার সক্ষমতা দান করেন।
হে আল্লাহ, আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
এবং সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের পালনকর্তা আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন
আবু আব্দুল্লাহ মুস্তফা বিন আল-আদাউই
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة المحققالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسولنا الأمين، وعلى آله وصحبه أجمعين.
أما بعد:
فإن كتاب الأربعين للإمام النووي رحمه الله كتابٌ عظيمٌ، نفع الله به العباد في مشارق الأرض ومغاربها، وقد زاد الكتاب نفعًا بما زاده الحافظ ابن رجب الحنبلي رحمه الله، من تتمة لهذه الأحاديث، وكان من فضل الله عليا أن يسَّر لي الاطلاع على هذا الكتاب فوجدت أنه على ما فيه من خير إلا أنه قد حوى بعضًا من الأحاديث الضعيفة، فاستعنت بالله تعالى وشرعت في الحكم على هذه الأحاديث صحةً وضعفًا مع ذكر سبب الضعفِ مختصرًا، ثم عرضت هذه الأحاديث على فضيلة الشيخ مصطفى بن العدوي - حفظه الله - لتتم الفائدة.
والله أرجو أن ينفع به العباد، وأن يرزقنا الإخلاص والقبول.
وصل اللهم على نبينا محمد وسلم تسليمًا كثيرًا
والحمد لله رب العالمين
وكتبه
الشربيني بن فايق الشربيني
بسم الله الرحمن الرحيم
গবেষক ও সম্পাদকের ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের বিশ্বস্ত রাসূলের ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাথীদের ওপর।
অতঃপর:
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘আরবাঈন’ (চল্লিশ হাদীস) গ্রন্থটি একটি সুমহান কিতাব, যার মাধ্যমে আল্লাহ পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের বান্দাদের উপকৃত করেছেন। হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলী (রাহিমাহুল্লাহ) এই হাদীসগুলোর যে পরিশিষ্ট বৃদ্ধি করেছেন, তার মাধ্যমে কিতাবটির উপকারিতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি আমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ছিল যে, তিনি আমাকে এই কিতাবটি দেখার তাওফীক দিয়েছেন। আমি দেখলাম যে, এতে বিদ্যমান প্রভূত কল্যাণ সত্ত্বেও কিছু যঈফ (দুর্বল) হাদীস এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাই আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করলাম এবং হাদীসগুলোর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা নিরূপণের কাজ শুরু করলাম এবং সংক্ষেপে দুর্বলতার কারণ উল্লেখ করলাম। অতঃপর ফায়দা পূর্ণ করার লক্ষ্যে আমি এই হাদীসগুলো ফযীলাতুশ শাইখ মুস্তফা বিন আল-আদাবী (হাফিযাহুল্লাহ)-এর নিকট পেশ করলাম।
আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে বান্দাদের উপকৃত করবেন এবং আমাদের ইখলাস ও কবুলিয়াত দান করবেন।
হে আল্লাহ, আপনি আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর অনেক অনেক সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
এবং সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন
আশ-শারবীনী বিন ফায়েক আশ-শারবীনী
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ৪)
[خطبة الإمام النووي]الْحَمْدُ للَّهِ رَبِّ العَالمِينَ، قيومِ السَّماوَاتِ وَالأَرَضِينَ، مُدبِّرِ الخَلائِقِ أَجْمَعِينَ، بَاعِثِ الرُّسُلِ صَلَوَاتُهُ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِم إلَى الْمُكَلَّفِينَ؛ لِهِدَايَتِهمْ وَبيَانِ شرَائِعِ الدِّينِ، بالدَّلَائلِ الْقَطْعِيَّةِ وَوَاضِحَاتِ الْبَرَاهِينِ، أَحْمَدُهُ عَلَى جَمِيعِ نِعَمِهِ، وَأَسْأَلُهُ الْمَزِيدَ مِنْ فَضْلِهِ وَكَرَمِهِ.
وَأَشْهدُ أَنْ لَا إلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ، الْكَرِيمُ الْغَفَّارُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَحَبِيبُهُ وَخَلِيلُهُ، أَفْضَلُ المَخْلُوقِينَ، المُكَرَّمُ بالْقرآنِ الْعَزِيزِ الْمُعجِزَةِ الْمُسْتَمِرَّةِ عَلَى تَعَاقُبِ السِّنِينَ، وَبِالسُّنَنِ الْمُستَنِيرَةِ لِلْمُسْترشِدِينَ، الْمَخْصُوصُ بجَوَامِعِ الْكَلِمِ وَسَمَاحَةِ الدِّينِ، صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ وَعَلَى سَائرِ النَّبِيِّينَ وَالْمُرسَلِينَ، وَآلِ كُلٍّ وَسَائِرِ الصَّالِحِينَ.
أَمَّا بَعْدُ:
فَقَدْ رَوَيْنَا عَنْ عَليِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، وَأَبِي الدَّرْدَاءِ، وَابْنِ عُمَرَ، وَابْنِ عَبَّاسٍ، وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنهم مِنْ طُرُقٍ كَثِيرَاتٍ بِرِوَايَاتٍ مُتنَوِّعَاتٍ: أَنَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ حَفِظَ عَلَى أُمَّتِي أَرْبَعِينَ حَدِيثًا مِنْ أَمْرِ دِينِهَا بَعَثَهُ اللهُ تَعَالَى فَقِيهًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي زُمْرَةِ الْفُقَهَاءِ وَالْعُلَمَاءِ».
وَفِي رِوَايَةٍ: «بَعَثَهُ الله تَعَالى فَقِيهًا عَالِمًا».
وَفِي رِوَايَةِ أبي الدرداء: «وَكُنْتُ لَهُ يَوْمَ القِيَامَةِ شَافِعًا وَشهِيدًا».
وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ عُمَرَ: «كُتِبَ فِي زُمْرَةِ الْعُلَمَاءِ ، وَحُشِرَ فِي زُمْرَةِ الشُّهَدَاءِ». وَاتَّفَقَ الْحُفَّاظُ عَلَى أَنَّهُ حّدِيثٌ ضَعِيفٌ وَإِنْ كَثُرَتْ طُرُقُهُ (1).
وَقَدْ صَنَّفَ الْعُلَمَاءُ رضي الله عنهم فِي هَذَا الْبَابِ مَا لَا يُحْصَى مِنَ الْمُصَنَّفَاتِ، فَأَوَّلُ مَنْ عَلِمْتُهُ صَنَّفَ فِيهِ: عَبْدُ اللَّهِ بنُ المُبَارَكِ، ثُمَّ مُحَمَّد بْنُ أَسْلَمَ الطُّوسِيُّ الْعَالِمُ الْرَّبَّانِيُّ، ثُمَّ الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ النَّسَوِيُّ، وَأَبُو بَكْرٍ الآجُرِّيُّ، وَأَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إبْرَاهِيمَ الأَصْفَهَانِيُّ، وَالدَّارَقُطْنِيُّ، وَالْحَاكِمُ، وَأَبُو نُعَيْمٍ، وَأَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ، وَأَبُو سَعِيدٍ الْمَالِينِيُّ، وَأَبُو عُثْمَانَ الصَّابُوييُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنْ مُحَمَّدٍ الأَنْصَارِيُّ، وَأَبُو بَكْرٍ الْبَيْهَقِيُّ، وَخَلَائِقُ لَا يُحْصَونَ مِنَ الْمُتَقَدِّمِينَ وَالْمُتأَخِّرِينَ.
وَقَدِ اسْتَخَرْتُ اللَّهَ تَعَالَى فِي جَمْعِ أَرْبَعِينَ حَدِيثًا؛ اقْتِدَاءً بِهَؤُلَاءِ الأَئِمَّةِ الأَعْلَامِ، وَحُفَّاظِ الإِسْلَامِ، وَقَدِ اتَّفَقَ العُلَمَاءُ عَلَى جَوَازِ الْعَمَلِ بالْحَدِيثِ الضَّعِيفِ فِي فَضَائِلِ الأَعْمَالِ (2) (3)، وَمَعَ هَذَا فَلَيْسَ اعْتِمَادِي عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ، بَلْ عَلَى قَوْلهِ صلى الله عليه وسلم فِي الأَحَادِيثِ الصَّحِيحَةِ: «لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الغَائِبَ» (4)،
وَقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مَقَالَتِيَ فَوَعَاهَا، فَأَدَّاهَا كَمَا سَمِعَهَا» (5).
ثُمَّ مِنَ الْعُلَمَاءِ مَنْ جَمَعَ الأَرْبَعِين في أُصُولِ الدِّينِ، وَبَعْضُهُمْ فِي الْفُرُوعِ، وَبَعْضُهُمْ فِي الْجِهَادِ، وَبَعْضُهُمْ فِي الزُّهْدِ، وَبَعْضُهُمْ فِي الآدَابِ، وَبَعْضُهُمْ فِي الْخُطَبِ، وَكُلُّهَا مَقَاصِدُ صَالِحَةٌ رَضِيَ اللَّهُ عَنْ قَاصِدِيهَا.
وَقَدْ رَأَيْتُ جَمْعَ أَرْبَعِينَ أَهَمَّ مِنْ هَذَا كُلِّهِ؛ وَهِيَ أَرْبَعُونَ حَدِيثًا مُشْتَمِلَةً عَلَى جَمِيعِ ذَلِكَ، وَكُلُّ حَدِيثٍ مِنْهَا قَاعِدَةٌ عَظِيمَةٌ مِنْ قَوَاعِدِ الدِّينِ، وَقَدْ وَصَفَهُ الْعُلَمَاءُ بأَنَّ مَدَارَ الإِسْلَامِ عَلَيْهِ أَوْ هُوَ نِصْفُ الإِسْلَامِ أَوْ ثُلُثُهُ أَوْ نَحْوُ ذَلِكَ.
ثُمَّ أَلْتَزِمُ فِي هَذَهِ الأَرْبَعِينَ أَنْ تَكُونَ صَحِيحَةً وَمُعْظَمُهَا فِي "صَحِيحَي الْبُخَارِي وَمُسْلِمٍ"، وَأَذْكُرُهَا مَحْذُوفَةَ الأَسَانِيدِ؛ لِيَسْهُلَ حِفْظُهَا وَيَعُمَّ الانْتِفَاعُ بِهَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى، ثُمَّ أتبِعُهَا بِبَابٍ فِي ضَبْطِ خَفِيِّ أَلْفَاظِهَا.
وَيَنْبَغِي لِكُلِّ رَاغِبٍ فِي الآخِرَةِ أَنْ يَعْرِفَ هَذِهِ الأَحَادِيثَ؛ لِمَا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ مِنَ الْمُهِمَّاتِ، وَاحْتَوَتْ عَلَيْهِ مِنَ التَّنْبِيهِ عَلَى جَمِيعِ الطَّاعَاتِ، وَذَلِكَ ظَاهِرٌ لِمَنْ تَدَبَّرَهُ.
وَعَلَى اللَّهِ اعْتِمَادِي، وَإِلَيْهِ تَفْوِيضِي وَاسْتِنَادِي، وَلَهُ الْحَمْدُ وَالنِّعْمَةُ (6)، وَبِهِ التَّوْفِيقُ وَالْعِصْمَةُ.
بسم الله الرحمن الرحيم
--------------------------------------------
[ইমাম নববীর খুতবা]সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক, আসমানসমূহ ও জমিনসমূহের পরিচালক, সকল সৃষ্টির ব্যবস্থাপক, দায়বদ্ধ বান্দাদের হেদায়েত ও দ্বীনের বিধানসমূহ বর্ণনার জন্য সুনিশ্চিত দলীল ও সুস্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে তাঁদের নিকট রাসূলগণকে প্রেরণকারী; তাঁদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি তাঁর সকল নেয়ামতের জন্য এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণার প্রবৃদ্ধি প্রার্থনা করছি।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক, মহাপরাক্রমশালী, মহদান্য, পরম ক্ষমাশীল। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর প্রিয় এবং বন্ধু (খলীল)। তিনি সকল সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, যাঁকে সম্মানিত করা হয়েছে মহাগ্রন্থ কুরআনের মাধ্যমে—যা কালপরিক্রমায় এক চিরস্থায়ী মোজেজা—এবং পথপ্রত্যাশীদের জন্য আলোকোজ্জ্বল সুন্নাহর মাধ্যমে। যাঁকে দান করা হয়েছে ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্য (জাওয়ামিউল কালিম) এবং দ্বীনের সহজতা ও উদারতা। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং অন্য সকল নবী ও রাসূলের ওপর, আর তাঁদের প্রত্যেকের পরিবার ও সকল নেককার বান্দার ওপর।
অতঃপর:
আমরা আলী ইবনে আবু তালিব, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, মুআজ ইবনে জাবাল, আবুদ্দারদা, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস, আনাস ইবনে মালিক, আবু হুরায়রা এবং আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বহু সূত্রে ও বিবিধ বর্ণনায় বর্ণনা করেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের জন্য দ্বীনি বিষয়ে যে ব্যক্তি চল্লিশটি হাদিস মুখস্থ রাখবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে ফকিহ হিসেবে ফকিহ ও আলেমদের দলের অন্তর্ভুক্ত করে পুনরুত্থিত করবেন।"
অন্য বর্ণনায় আছে: "আল্লাহ তাআলা তাকে ফকিহ ও আলেম হিসেবে পুনরুত্থিত করবেন।"
আবুদ্দারদার বর্ণনায় আছে: "কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সুপারিশকারী ও সাক্ষী হব।"
ইবনে উমরের বর্ণনায় আছে: "তাকে আলেমদের দলের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে এবং শহীদদের দলের সাথে হাশর করা হবে।" হাদিস বিশারদগণ একমত হয়েছেন যে, এটি একটি দুর্বল (যয়িফ) হাদিস, যদিও এর বর্ণনাসূত্র অনেক। (১)
আলেমগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই বিষয়ে অগণিত গ্রন্থ রচনা করেছেন। আমার জানামতে এ বিষয়ে সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, অতঃপর রব্বানি আলেম মুহাম্মদ ইবনে আসলাম আত-তুসী, অতঃপর হাসান ইবনে সুফিয়ান আন-নাসায়ী, আবু বকর আল-আজুর্রী, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-আসফাহানী, আদ-দারাকুতনি, আল-হাকিম, আবু নুআইম, আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী, আবু সাঈদ আল-মালিনী, আবু উসমান আস-সাবুনী, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারী, আবু বকর আল-বায়হাকী এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যুগের অসংখ্য মানুষ।
আমি এই সকল মহান ইমাম ও ইসলামের হাফেজদের অনুসরণ করে চল্লিশটি হাদিস সংকলনের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি। ফাজায়েলে আমলের (আমলের ফজিলত) ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসের ওপর আমল করার বৈধতার ব্যাপারে আলেমগণ একমত হয়েছেন (২) (৩)। তা সত্ত্বেও আমার নির্ভরতা এই হাদিসটির ওপর নয়; বরং সহিহ হাদিসসমূহে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর ওপর: "তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছ, তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেয়।" (৪)
এবং তাঁর এই বাণীর ওপর: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমার কথা শুনেছে, তা মুখস্থ রেখেছে এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা পৌঁছে দিয়েছে।" (৫)
অতঃপর আলেমদের মধ্যে কেউ দ্বীনের মূলনীতি (আকিদা) বিষয়ে চল্লিশ হাদিস সংকলন করেছেন, কেউ শাখা-প্রশাখা (ফিকহ) বিষয়ে, কেউ জিহাদ বিষয়ে, কেউ দুনিয়াবিমুখতা (যুহদ) বিষয়ে, কেউ শিষ্টাচার (আদব) বিষয়ে, আবার কেউ খুতবা বিষয়ে। এ সবই নেক উদ্দেশ্য, আল্লাহ এই উদ্দেশ্য পোষণকারীদের ওপর সন্তুষ্ট হোন।
আমি এমন চল্লিশটি হাদিস সংকলন করাকে এ সবকিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি, যা এই সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর প্রতিটি হাদিসই দ্বীনের এক একটি মহান মূলনীতি। আলেমগণ এগুলিকে এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যে, ইসলামের আবর্তন এগুলোর ওপরই, অথবা এগুলো ইসলামের অর্ধেক, অথবা এক-তৃতীয়াংশ বা এই জাতীয়।
অতঃপর আমি এই চল্লিশ হাদিসের ক্ষেত্রে কেবল সহিহ হাদিস চয়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যার অধিকাংশই "সহিহ বুখারি" ও "সহিহ মুসলিম"-এর অন্তর্ভুক্ত। আমি এগুলো সনদ বা বর্ণনাসূত্র বাদ দিয়ে উল্লেখ করব যাতে তা মুখস্থ করা সহজ হয় এবং ইনশাআল্লাহ এর উপকারিতা যেন ব্যাপক হয়। এরপর আমি এর কঠিন শব্দগুলোর ব্যাখ্যার জন্য একটি অধ্যায় যুক্ত করব।
পরকালপ্রত্যাশী প্রত্যেকের জন্য এই হাদিসগুলো জানা উচিত; কারণ এগুলোর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এটি সকল প্রকার আনুগত্যের প্রতি সতর্কবার্তাকে শামিল করে। যারা চিন্তা করবে তাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট।
আল্লাহর ওপরই আমার ভরসা, তাঁর কাছেই আমার সমর্পণ ও আশ্রয়। সকল প্রশংসা ও নেয়ামত তাঁরই (৬), তাঁর মাধ্যমেই তাওফিক ও সুরক্ষা লাভ হয়।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
الحديث الأول: [الأعمال بالنيات] (1)
عَنْ أمير المؤمنين أبي حفص عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ» رَوَاهُ إِمَامَا الْمُحَدِّثينَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إسْمَاعِيلَ بْنِ إبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ بَرْدِزْبَهْ الْبُخَارِيُّ، وَأَبُو الْحُسَيْنِ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ بْنِ مُسلِمٍ الْقُشَيْرِيُّ النَّيْسَابُورِي رضي الله عنهما فِي "صَحِيحَيْهِمَا" اللَّذَيْنِ هُمَا أَصَحُّ الْكُتُبِ الْمُصَنَّفَةِ (2).
--------------------------------------------
প্রথম হাদিস: [নিয়ত অনুযায়ী আমল] (১)
আমিরুল মুমিনীন আবু হাফস উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া হাসিল করার জন্য কিংবা কোনো মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে» হাদিসটি বর্ণনা করেছেন মুহাদ্দিসগণের দুই ইমাম—আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুগিরা ইবনে বারদিজবাহ আল-বুখারি এবং আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরি আন-নাইসাবুরি রাদিয়াল্লাহু আনহুমা, তাঁদের সংকলিত দুই "সহিহ" গ্রন্থে, যা সংকলিত কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ৬)
الحديث الثاني: [مراتب الدين: الإسلام والإيمان والإحسان]عَنْ عُمَرَ رضي الله عنه أيضًا، قَالَ: «بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ، إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ، شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ، لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ، وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ، حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ، وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ، وَقَالَ يَا مُحَمَّدُ، أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِسْلَامِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " الْإِسْلَامُ: أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ". قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ. قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيمَانِ. قَالَ: " أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ ". قَالَ: صَدَقْتَ. قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِحْسَانِ، قَالَ: " أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ، فَإِنَّهُ يَرَاكَ ". قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ؟ . قَالَ: " مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ ". قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَتِهَا؟ . قَالَ: " أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا،
وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ "، قال ثُمَّ انْطَلَقَ، فَلَبِثْتُ مَلِيًّا، ثُمَّ قَالَ لِي: " يَا عُمَرُ، أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟ . قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: فإنهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ (1).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় হাদিস: [দীনের স্তরসমূহ: ইসলাম, ঈমান ও ইহসান]উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন: "একদিন আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম, তখন আমাদের সামনে অত্যন্ত সাদা পোশাকধারী এবং কুচকুচে কালো চুলের এক ব্যক্তি উপস্থিত হলেন। তাঁর মধ্যে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের কেউ তাঁকে চিনতও না। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে গিয়ে বসলেন। তিনি তাঁর দুই হাঁটু নবীজির দুই হাঁটুর সাথে মিলিয়ে দিলেন এবং নিজের দুই হাতের তালু নিজের দুই উরুর উপর রাখলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'ইসলাম হলো এই যে—তুমি সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমজানের রোজা রাখবে এবং সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহর হজ পালন করবে।' তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। উমর (রা.) বলেন: আমরা তাঁর বিষয়ে আশ্চর্য হলাম যে, তিনি নিজেই তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তাঁর উত্তর সত্যায়ন করছেন। তিনি বললেন: এবার আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: 'ঈমান হলো—তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি।' তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: 'ইহসান হলো এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যেন তুমি তাঁকে দেখছো, আর তুমি যদি তাঁকে না-ও দেখো, তবে তিনি নিশ্চয়ই তোমাকে দেখছেন।' তিনি বললেন: আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: 'যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চেয়ে বেশি অবগত নন।' তিনি বললেন: তবে এর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে আমাকে বলুন। তিনি বললেন: 'তা হলো—দাসী তার মালিককে জন্ম দেবে,
এবং তুমি দেখবে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন ও দরিদ্র মেষপালকরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে।' উমর (রা.) বলেন: এরপর সেই ব্যক্তি চলে গেলেন। আমি দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলাম। অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ) আমাকে বললেন: 'হে উমর! তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন?' আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: 'তিনি ছিলেন জিবরীল; তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দীন শিক্ষা দিতে তোমাদের নিকট এসেছিলেন'।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
الحديث الثالث: [أركانُ الإسلام]عَنْ أبي عبد الرحمن عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنهما قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَحَجِّ الْبَيْتِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ»، رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ (1).
--------------------------------------------
তৃতীয় হাদীস: [ইসলামের রুকনসমূহ]আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর স্থাপিত: এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, আল্লাহর ঘরের হজ সম্পাদন করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা।», এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ও মুসলিম (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
الحديث الرابع: [مراحل خلق الإنسان ، وتقديرُ رزقهِ وأجلهِ وعملهِ]عَنْ أبي عبد الرحمن عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ الصَّادِقُ الْمَصْدُوقُ: «إِنَّ أَحَدَكُمْ يُجْمَعُ خَلْقُهُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا، ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ إِلَيْهِ الْمَلَكَ، فَيَنْفُخُ فِيهِ الرُّوحَ وَيُؤْمَرُ بِأَرْبَعِ كَلِمَاتٍ: بِكَتْبِ رِزْقِهِ وَأَجَلِهِ وَعَمَلِهِ وَشَقِيٌّ أَوْ سَعِيدٌ، فَوَاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ غَيْرُهُ إِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلَّا ذِرَاعٌ، فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ فَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ فَيُدْخُلُهَا، وَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلَّا ذِرَاعٌ، فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ فَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيَدْخُلُهَا» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ ، وَمُسْلِمٌ (1).
--------------------------------------------
চতুর্থ হাদিস: [মানুষ সৃষ্টির পর্যায়সমূহ এবং তার রিজিক, আয়ু ও আমল নির্ধারণ]আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—আর তিনি সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃত: "নিশ্চয়ই তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন পর্যন্ত জমা থাকে, এরপর তা অনুরূপ সময়ের জন্য রক্তপিণ্ডে পরিণত হয়, এরপর তা অনুরূপ সময়ের জন্য মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়। এরপর আল্লাহ তার কাছে একজন ফেরেশতা পাঠান, যিনি তাতে রুহ ফুঁকে দেন এবং তাকে চারটি বিষয় লিখে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়: তার রিজিক, তার আয়ু, তার আমল এবং সে কি দুর্ভাগা নাকি সৌভাগ্যবান। আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, তোমাদের কেউ জান্নাতিদের মতো আমল করতে থাকে এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাতের ব্যবধান থাকে, তখন তাকদির তার ওপর জয়ী হয় এবং সে জাহান্নামিদের মতো আমল করে ফলে তাতে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের মধ্যে কেউ জাহান্নামিদের মতো আমল করতে থাকে এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক হাতের ব্যবধান থাকে, তখন তাকদির তার ওপর জয়ী হয় এবং সে জান্নাতিদের মতো আমল করে ফলে তাতে প্রবেশ করে।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
الحديث الخامس: [إنكارُ البدع المذمومة]عَنْ أم المؤمنين أم عبد الله عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ» (1) رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ، وَمُسْلِمٌ.
وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: «مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ» (2).
--------------------------------------------
পঞ্চম হাদিস: [নিন্দনীয় বিদআত প্রত্যাখ্যান]উম্মুল মুমিনীন উম্মে আবদুল্লাহ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমাদের এই (দ্বীনের) বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত» (১) এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
এবং মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে: «যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যা আমাদের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত» (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ১০)
الحديث السادس: [الابتعادُ عن الشبهات]عَنِ أبي عبد الله النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ رضي الله عنهما قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ الْحَلَالَ بَيِّنٌ وَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ، لَا يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ، فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ، كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى يُوشِكُ أَنْ يَرْتَعَ فِيهِ، أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمَى، أَلَا وَإِنَّ حِمَى اللَّهِ مَحَارِمُهُ، أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ ، وَمُسْلِمٌ (1).
--------------------------------------------
ষষ্ঠ হাদিস: [সন্দেহজনক বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকা]আবু আবদুল্লাহ নুমান ইবনে বশির রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর এ দুইয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়, যা অনেক মানুষ জানে না। সুতরাং যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকল, সে নিজের দ্বীন ও সম্মানকে পবিত্র রাখল। আর যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয়ে লিপ্ত হলো, সে হারামে লিপ্ত হলো। তার উদাহরণ সেই রাখালের মতো, যে সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে পশু চরায়, অচিরেই সেখানে তার পশুর ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। জেনে রেখো, প্রত্যেক রাজারই একটি সংরক্ষিত চারণভূমি থাকে। সাবধান! আল্লাহর সংরক্ষিত চারণভূমি হলো তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ। জেনে রেখো, শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে, যদি তা সংশোধিত হয়, তবে পুরো শরীরই সংশোধিত হয়; আর যদি তা নষ্ট হয়ে যায়, তবে পুরো শরীরই নষ্ট হয়ে যায়। সাবধান! সেটি হলো কলব (অন্তর)।» এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
الحديث السابع: [النصيحةُ عمادُ الدين]عَنْ أبي رُقيةَ تَمِيمٍ بن أوسٍ الدَّارِيِّ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الدِّينُ النَّصِيحَةُ» قُلْنَا: لِمَنْ؟ قَالَ: «لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ (1).
--------------------------------------------
সপ্তম হাদিস: [নসিহতই দীনের মূল ভিত্তি]আবু রুকাইয়্যাহ তামীম ইবনে আওস আদ-দারি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «দীন হলো নসিহত (বা কল্যাণকামিতা)» আমরা বললাম: কার জন্য? তিনি বললেন: «আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিমদের নেতৃবৃন্দের জন্য এবং তাদের সাধারণ জনগণের জন্য» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
الحديث الثامن: [حُرمَة دم المسلم ومالهِ]عَنِ عبد الله بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ، عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ، إِلَّا بِحَقِّ الْإِسْلَامِ، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ ، وَمُسْلِمٌ (1).
--------------------------------------------
অষ্টম হাদিস: [মুসলিমের রক্ত ও সম্পদের পবিত্রতা]আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। সুতরাং যখন তারা তা করবে, তখন তারা আমার হাত থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, ইসলামের হক ব্যতীত; আর তাদের হিসাবের দায়িত্ব মহান আল্লাহর ওপর ন্যস্ত।’ এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الحديث التاسع: [النهيُ عن كثرة السُّؤالِ والتنطع]عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عبد الرحمن بن صخر رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَا نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ، فَاجْتَنِبُوهُ، وَمَا أَمَرْتُكُمْ بِهِ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ، فَإِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ كَثْرَةُ مَسَائِلِهِمْ وَاخْتِلَافُهُمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ ، وَمُسْلِمٌ (1).
--------------------------------------------
নবম হাদীস: [অধিক প্রশ্ন করা এবং কঠোরতা প্রদর্শন হতে নিষেধ]আবু হুরায়রা আবদুর রহমান ইবনে সাখর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «আমি তোমাদেরকে যা কিছু নিষেধ করেছি তা থেকে দূরে থাকো, আর যা কিছু আদেশ করেছি তা তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী পালন করো। নিশ্চয় তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের নবীদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে।» এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الحديث العاشر: [الحلال سببٌ لإجابة الدُّعاء ، وأكلُ الحرام يمنعها]عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ، فَقَالَ تعالى: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا} [المؤمنون: 51]، وَقَالَ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} [البقرة: 172]، ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ: أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ: يَا رَبِّ يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ؟ » رَوَاهُ مُسْلِمٌ (1).
--------------------------------------------
দশম হাদিস: [হালাল দোআ কবুলের কারণ, আর হারাম আহার তা প্রতিরোধ করে]আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ মুমিনদেরকে সেই নির্দেশই দিয়েছেন যা তিনি রাসূলগণকে দিয়েছিলেন। সুতরাং মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তুসমূহ হতে আহার করো এবং সৎকাজ করো} [মুমিনুন: ৫১]। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে আমি যে রিযিক দান করেছি তা থেকে পবিত্র বস্তুসমূহ আহার করো} [বাকারা: ১৭২]। অতঃপর তিনি এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দীর্ঘ সফর করে, যার চুলগুলো এলোমেলো ও ধুলোবালিমাখা, সে আকাশের দিকে নিজের দুই হাত বাড়িয়ে দেয় এবং বলে: হে আমার রব! হে আমার রব! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম এবং সে হারামের মাধ্যমেই পুষ্ট হয়েছে; এমতাবস্থায় কীভাবে তার দোআ কবুল হবে?» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الحديث الحادي عشر: [مِنَ الوَرَع توقِّي الشُّبَه]عَنِ أبي محمد الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ بن أبي طالب سِبْطِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَيْحَانَتِهِ رضي الله عنهما قَالَ: «حَفِظْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ، والنَّسَائِيُّ، وقال التِّرمذِيُّ: حديثٌ حسنٌ صحيحٌ (1).
--------------------------------------------
একাদশ হাদিস: [তাকওয়ার অংশ হলো সন্দেহযুক্ত বিষয় বর্জন করা]আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)—যিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দৌহিত্র এবং তাঁর অত্যন্ত প্রিয়জন—থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এটি মুখস্থ করেছি: "যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে তা বর্জন করো এবং যাতে তোমার কোনো সন্দেহ নেই তা গ্রহণ করো।"» এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজি ও নাসাঈ। ইমাম তিরমিজি বলেছেন: হাদিসটি হাসান সহিহ (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الحديث الثّاني عشر: [تَركُ ما لا يَعني ، والاشتِغالُ بما يُفيد]عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ» حديثٌ حسنٌ، رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَغَيْرُهُ (1).
--------------------------------------------
দ্বাদশ হাদীস: [অনর্থক বিষয় ত্যাগ করা এবং উপকারী বিষয়ে ব্যস্ত হওয়া]আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কোনো ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্যের অন্যতম দিক হলো তার জন্য যা জরুরি নয় তা ত্যাগ করা।” এটি একটি হাসান হাদীস, যা তিরমিযী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الحديث الثالث عشر: [من علامات كمال الإيمان حُبُّك الخير للمُسلمين]عَنْ أبي حمزة أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، خادمِ رسول الله صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ ،وَمُسْلِمٌ (1).
--------------------------------------------
ত্রয়োদশ হাদীস: [ঈমানের পূর্ণতার অন্যতম লক্ষণ হলো মুসলিমদের জন্য কল্যাণ ভালোবাসা]আবু হামযা আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খাদেম ছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الحديث الرابع عشر: [حرمة دم المُسلم .. ومتى تهدر]عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بِإِحْدَى ثَلَاثٍ: الثَّيِّبُ الزَّانِي، وَالنَّفْسُ بِالنَّفْسِ، وَالتَّارِكُ لِدِينِهِ الْمُفَارِقُ لِلْجَمَاعَةِ» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ، وَمُسْلِمٌ (1).
--------------------------------------------
চতুর্দশ হাদিস: [মুসলিমের রক্তের পবিত্রতা .. এবং কখন তা বৈধ হয়]আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তিনটি কারণের একটি ছাড়া কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্ত (ঝরানো) হালাল নয়: বিবাহিত ব্যভিচারী, প্রাণের বদলে প্রাণ এবং যে ব্যক্তি নিজের দ্বীন পরিত্যাগ করে জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে» এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ও মুসলিম (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الحديث الخامس عشر: [التكلم بالخير ، وإكرام الجار الضيف]عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، فَلْيُكْرِمْ جَارَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ (1).
--------------------------------------------
পঞ্চদশ হাদিস: [উত্তম কথা বলা, এবং প্রতিবেশী ও মেহমানের সম্মান করা]আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে; এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীর সম্মান করে; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানের সম্মান করে।" ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ২০)
الحديث السادس عشر: [النهيُ عن الغضب]عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْصِنِي، قَالَ: «لَا تَغْضَب فَرَدَّدَ مِرَارًا قَالَ: لَا تَغْضَبْ» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ (1).
--------------------------------------------
ষোড়শ হাদিস: [রাগ করা হতে নিষেধ]আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন, "আমাকে উপদেশ দিন।" তিনি বললেন, "তুমি রাগ করো না।" লোকটি কয়েকবার একই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন, আর তিনি [প্রতিবারই] বললেন, "তুমি রাগ করো না।" এটি ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ২১)
الحديث السّابع عشر: [الأمر بالإحسانِ ، والرِّفقُ بالحيَوان]عَنْ أَبِي يَعْلَى شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ رضي الله عنه، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ، فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ، وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذِّبْحَةَ، وَلْيُحِدَّ أَحَدُكُمْ شَفْرَتَهُ، وَلْيُرِحْ ذَبِيحَتَهُ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ (1).
--------------------------------------------
সপ্তদশ হাদিস: [ইহসান বা সদাচরণের নির্দেশ এবং পশুর প্রতি দয়া]আবু ইয়ালা শাদ্দাদ ইবনে আউস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের ওপর ইহসান (উত্তম আচরণ) করাকে অবধারিত করেছেন। সুতরাং যখন তোমরা হত্যা করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে হত্যা করো; এবং যখন তোমরা যবেহ করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে যবেহ করো। তোমাদের প্রত্যেকে যেন তার ছুরি ধারালো করে নেয় এবং তার জবেহকৃত পশুকে আরাম দেয়।» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ২২)
الحديث الثامن عشر: [حُسْنُ الخُلُق]عَنْ أَبِي ذَرٍّ جُندُبِ بن جُنادةَ وَأبي عبد الرحمنِ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رضي الله عنهما، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنْتَ، وَأَتْبِعِ السَّيِّئَةَ الْحَسَنَةَ تَمْحُهَا، وَخَالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنٍ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وقال: حديثٌ حسنٌ ، وفي بعضِ النُّسخِ: حسنٌ صحيح (1).
--------------------------------------------
আঠারোতম হাদিস: [উত্তম চরিত্র]আবু যর জুনদুব বিন জুনাদাহ এবং আবু আব্দুর রহমান মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো, আর মন্দ কাজের পরপরই ভালো কাজ করো, যা তাকে (মন্দকে) মিটিয়ে দেবে; এবং মানুষের সাথে উত্তম আচরণের মাধ্যমে মেলামেশা করো।" ইমাম তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি একটি হাসান (উত্তম) হাদিস। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে একে 'হাসান সহিহ' বলা হয়েছে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الحديث التاسع عشر: [نصيحةٌ نبويةٌ لترسيخ العقيدة الإسلامية]عَنْ أبي العباس عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: كُنْتُ خَلْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي: ((يَا غُلَامُ إِنِّي أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ: احْفَظِ اللَّهَ يَحْفَظْكَ، احْفَظِ اللَّهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ، إِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ الله، وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ، وَاعْلَمْ أَنَّ الْأُمَّةَ لَوِ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ، لَمْ يَنْفَعُوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ لَكَ، وَإِنِ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ، لَمْ يَضُرُّوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيْكَ، رُفِعَتِ الْأَقْلَامُ وَجَفَّتِ الصُّحُفُ)) رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وقال: حَدِيثٌ حَسَنٌ صحيحٌ (1).
وَفِي رِوَايَةِ غَيْرِ التِّرْمِذِيِّ (2): «احْفَظِ اللَّهَ تَجِدْهُ أَمَامَكَ تَعَرَّفْ إِلَى اللَّهِ فِي الرَّخَاءِ يَعْرِفْكَ فِي الشِّدَّةِ، وَاعْلَمْ أَنَّ مَا أَخْطَأَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَكَ، وَمَا أَصَابَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُخْطِئَكَ، وَاعْلَمْ أَنَّ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ، وَأَنَّ الْفَرَجَ مَعَ الْكَرْبِ، وَأَنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا».
--------------------------------------------
উনবিংশতম হাদীস: [ইসলামী আকীদাহ সুদৃঢ় করার ব্যাপারে নববী উপদেশ]আবুল আব্বাস আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পিছনে বসা ছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: “হে যুবক! আমি তোমাকে কয়েকটি কথা শিক্ষা দিচ্ছি: তুমি আল্লাহর বিধানসমূহের হিফাযত করো, আল্লাহ তোমাকে হিফাযত করবেন। তুমি আল্লাহর বিধানসমূহের হিফাযত করো, তবে তুমি তাঁকে তোমার সামনেই পাবে। যখন তুমি কিছু চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাও। আর যখন সাহায্যের প্রার্থনা করবে, তখন আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করো। জেনে রেখো, সমস্ত উম্মত যদি তোমার কোনো উপকার করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে তারা তোমার ততটুকুই উপকার করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আর তারা যদি তোমার কোনো ক্ষতি করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে তারা তোমার ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার বিপরীতে লিখে রেখেছেন। কলমসমূহ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পৃষ্ঠাগুলো শুকিয়ে গেছে।” এটি ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি হাসান সহীহ হাদীস (১)।
তিরমিযী ব্যতীত অন্য বর্ণনায় এসেছে (২): “তুমি আল্লাহর বিধানসমূহের হিফাযত করো, তবে তুমি তাঁকে তোমার সামনেই পাবে। তুমি স্বচ্ছলতার সময় আল্লাহকে স্মরণ করো (তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে), তবে তিনি তোমার কঠিন সময়ে তোমাকে স্মরণ করবেন (সহায়তা করবেন)। আর জেনে রেখো, তোমার নিকট যা পৌঁছায়নি, তা তোমার নিকট পৌঁছানোর ছিল না। আর যা তোমার নিকট পৌঁছেছে, তা তোমার থেকে বিচ্যুত হওয়ার ছিল না। আরও জেনে রেখো যে, ধৈর্যের সাথেই বিজয় আসে, বিপদের সাথেই মুক্তি আসে এবং কষ্টের সাথেই স্বস্তি আসে।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الحديث العشرون: [الحياءُ من الإيمان]عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ عقبة بن عمرو الأنصاري الْبَدْرِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلَامِ النُّبُوَّةِ الْأُولَى: إِذَا لَمْ تَسْتَحْيِ، فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ (1).
--------------------------------------------
বিশতম হাদিস: [লজ্জাশীলতা ঈমানের অংশ]আবু মাসউদ উকবাহ ইবনে আমর আল-আনসারী আল-বদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই পূর্ববর্তী নবুওয়াতের বাণীসমূহ হতে মানুষ যা লাভ করেছে তার মধ্যে একটি হলো: যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তবে তুমি যা ইচ্ছা তা-ই করো» এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الحديث الحادي والعشرون: [الاستقامة لُبُّ الإسلام]عَنْ أَبِي عَمْرٍو – وَقِيلَ أَبِي عَمْرَةَ - سُفْيَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الثقفي رضي الله عنه، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قُلْ لِي فِي الْإِسْلَامِ قَوْلًا لَا أَسْأَلُ عَنْهُ أَحَدًا غَيْرَكَ، قَالَ: ((قُلْ آمَنْتُ بِاللَّهِ، ثُمَّ اسْتَقِمْ)) رَوَاهُ مُسْلِمٌ (1).
--------------------------------------------
একবিংশ হাদীস: [অবিচলতা ইসলামের মূলকথা]আবু আমর—কারো মতে আবু আমরাহ—সুফিয়ান ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাকাফী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আরজ করলাম: “হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে এমন একটি কথা বলুন, যা আপনার পর আর কারো কাছে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন না হয়।” তিনি বললেন: “বলো: আমি আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি, অতঃপর অবিচল থাকো।” ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الحديث الثاني والعشرون: [دخولُ الجنّة بفعلِ المأموراتِ وتركِ المنهّيات]عَنْ أبي عبد الله جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأنصاري رضي الله عنهما: أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: أَرَأَيْتَ إِذَا صَلَّيْتُ الْمَكْتُوبَاتِ، وَصُمْتُ رَمَضَانَ، وَأَحْلَلْتُ الْحَلَالَ، وَحَرَّمْتُ الْحَرَامَ، وَلَمْ أَزِدْ عَلَى ذَلِكَ شَيْئًا، أَأَدْخُلُ الْجَنَّةَ؟ قَالَ: ((نَعَمْ)) رَوَاهُ مُسْلِمٌ (1).
ومعنى حرمت الحرام: [أي] اجتنبته،
ومعنى أحللت الحلال: [أي] فعلته معتقداً حله، والله أعلم.
--------------------------------------------
দ্বাবিংশতম হাদিস: [আদিষ্ট বিষয়সমূহ পালন এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জনের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ]আবু আব্দুল্লাহ জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত: এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞাসা করে বললেন: "আপনার কী অভিমত, যদি আমি ফরয সালাতগুলো আদায় করি, রমযানের সিয়াম পালন করি, হালালকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করি এবং হারামকে হারাম হিসেবে বর্জন করি এবং এর অতিরিক্ত আর কিছু না করি, তবে কি আমি জান্নাতে প্রবেশ করব?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
এবং 'হারামকে হারাম করেছি' এর অর্থ হলো: [অর্থাৎ] আমি তা বর্জন করেছি,
এবং 'হালালকে হালাল করেছি' এর অর্থ হলো: [অর্থাৎ] আমি তা হালাল বিশ্বাস করে সম্পাদন করেছি, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الحديث الثالث والعشرون: [مِن جوامع الخير]عَنْ أَبِي مَالِكٍ الحارثِ بن عاصم الْأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَأُ الْمِيزَانَ،
وَسُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَآنِ أَوْ تَمْلَأُ مَا بَيْنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، وَالصَّلَاةُ نُورٌ، وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ، وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ، وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ، كُلُّ النَّاسِ يَغْدُو، فَبَائِعٌ نَفْسَهُ، فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا)) رَوَاهُ مُسْلِمٌ (1).
--------------------------------------------
তেইশতম হাদীস: [কল্যাণের ব্যাপক সংকলনসমূহ হতে]আবু মালেক আল-হারিস ইবনে আসিম আল-আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক, এবং ‘আলহামদুলিল্লাহ’ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) মীযানকে (আমলের পাল্লাকে) পূর্ণ করে দেয়,
আর ‘সুবহানাল্লাহ’ (আল্লাহ অতি পবিত্র) ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থানকে পূর্ণ করে দেয়, সালাত হলো নূর (আলো), সদকা হলো প্রমাণ, ধৈর্য হলো জ্যোতি, এবং কুরআন তোমার স্বপক্ষে অথবা বিপক্ষে দলীল স্বরূপ। প্রত্যেক মানুষ সকালে উঠে নিজেকে কেনা-বেচায় নিযুক্ত করে; ফলে সে নিজেকে (শাস্তি থেকে) মুক্ত করে অথবা নিজেকে ধ্বংস করে।)) এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الحديث الرابع والعشرون: [آلاءُ الله تعالى وفضلُه على عباده]عَنْ أَبِي ذَرٍّ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيمَا يَرْوِي عَنْ رَبِّهِ عز وجل أَنَّهُ قَالَ: «يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِي وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا فَلَا تَظَالَمُوا، يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ ضَالٌّ إِلَّا مَنْ هَدَيْتُهُ فَاسْتَهْدُونِي أَهْدِكُمْ، يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ جَائِعٌ إِلَّا مَنْ أَطْعَمْتُهُ فَاسْتَطْعِمُونِي أُطْعِمْكُمْ، يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ عَارٍ إِلَّا مَنْ كَسَوْتُهُ فَاسْتَكْسُونِي أَكْسُكُمْ، يَا عِبَادِي إِنَّكُمْ تُخْطِئُونَ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَأَنَا أَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا فَاسْتَغْفِرُونِي أَغْفِرْ لَكُمْ، يَا عِبَادِي إِنَّكُمْ لَنْ تَبْلُغُوا ضَرِّي فَتَضُرُّونِي وَلَنْ تَبْلُغُوا نَفْعِي فَتَنْفَعُونِي، يَا عِبَادِي لَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجِنَّكُمْ كَانُوا عَلَى أَتْقَى قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ مِنْكُمْ مَا زَادَ ذَلِكَ فِي مُلْكِي شَيْئًا، يَا عِبَادِي لَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجِنَّكُمْ كَانُوا عَلَى أَفْجَرِ قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ مَا نَقَصَ ذَلِكَ مِنْ مُلْكِي شَيْئًا، يَا عِبَادِي لَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجِنَّكُمْ قَامُوا فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ فَسَأَلُونِي فَأَعْطَيْتُ كُلَّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ مَسْأَلَتَهُ مَا نَقَصَ ذَلِكَ مِمَّا عِنْدِي إِلَّا كَمَا يَنْقُصُ الْمِخْيَطُ إِذَا دَخَلَ الْبَحْرَ، يَا عِبَادِي إِنَّمَا هِيَ أَعْمَالُكُمْ أُحْصِيهَا لَكُمْ ثُمَّ أُوَفِّيكُمْ إِيَّاهَا، فَمَنْ وَجَدَ خَيْرًا فَلْيَحْمَدِ اللَّهَ وَمَنْ وَجَدَ غَيْرَ ذَلِكَ فَلَا يَلُومَنَّ إِلَّا نَفْسَهُ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ (1).
--------------------------------------------
চব্বিশতম হাদিস: [আল্লাহ তাআলার নিআমতসমূহ এবং তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ]আবু যর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মহামহিম রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: «হে আমার বান্দাগণ! নিশ্চয়ই আমি নিজের ওপর জুলুমকে হারাম করেছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম করে দিয়েছি, সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না। হে আমার বান্দাগণ! আমি যাকে হেদায়েত দান করেছি সে ছাড়া তোমরা সকলেই পথভ্রষ্ট, সুতরাং তোমরা আমার কাছে হেদায়েত প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের হেদায়েত দান করব। হে আমার বান্দাগণ! আমি যাকে অন্ন দান করেছি সে ছাড়া তোমরা সকলেই ক্ষুধার্ত, সুতরাং তোমরা আমার কাছে অন্ন প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের অন্ন দান করব। হে আমার বান্দাগণ! আমি যাকে বস্ত্র পরিধান করিয়েছি সে ছাড়া তোমরা সকলেই বস্ত্রহীন, সুতরাং তোমরা আমার কাছে বস্ত্র প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের বস্ত্র পরিধান করাব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা দিবা-রাত্রি অপরাধ করে থাকো এবং আমি সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিই, সুতরাং তোমরা আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা কখনোই আমার কোনো ক্ষতি করার সামর্থ্য রাখো না যে আমার ক্ষতি করবে, আর না তোমরা আমার কোনো উপকার করার সামর্থ্য রাখো না যে আমার উপকার করবে। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল মানুষ ও জিন তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরহেযগার ব্যক্তির হৃদয়ের মতো হয়ে যায়, তবে তা আমার রাজত্বে সামান্যতম বৃদ্ধি ঘটাবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল মানুষ ও জিন তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাপাসক্ত ব্যক্তির হৃদয়ের মতো হয়ে যায়, তবে তা আমার রাজত্ব হতে সামান্যতম ঘাটতি ঘটাবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল মানুষ ও জিন কোনো এক ময়দানে দণ্ডায়মান হয়ে আমার কাছে প্রার্থনা করে এবং আমি তাদের প্রত্যেকের চাওয়া অনুযায়ী দান করি, তবে তা আমার কাছে যা আছে তাতে ততটুকুই কমাবে যতটুকু সমুদ্রের ভেতর একটি সূচ প্রবেশ করালে (তা থেকে পানি) কমিয়ে থাকে। হে আমার বান্দাগণ! এগুলো কেবল তোমাদেরই আমল, যা আমি তোমাদের জন্য সংরক্ষণ করে রাখি এবং পরে তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদের প্রদান করব। সুতরাং যে ব্যক্তি কল্যাণ লাভ করে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে, আর যে ব্যক্তি এর ভিন্ন কিছু লাভ করে সে যেন নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে তিরস্কার না করে।» মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনান নাবাবিয়্যাহ মাআ যিয়াদাত ইবনু রাজাব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الحديث الخامس والعشرون: [التنافسُ في الخير ، وفضلُ الذِّكر]عَنْ أَبِي ذَرٍّ رضي الله عنه أَيْضًا «أَنَّ نَاسًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالُوا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثُورِ بِالْأُجُورِ، يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي، وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ، وَيَتَصَدَّقُونَ بِفُضُولِ أَمْوَالِهِمْ، قَالَ: ((أَوَلَيَسَ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ مَا تَصَّدَّقُونَ؟ إِنَّ بِكُلِّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقَةً، وَكُلِّ تَكْبِيرَةٍ صَدَقَةً، وَكُلِّ تَحْمِيدَةٍ صَدَقَةً، وَكُلِّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةً، وَأَمْرٌ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ، وَنَهْيٌ عَنْ مُنْكَرٍ صَدَقَةٌ، وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ)) قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَأْتِي أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُونُ لَهُ فِيهَا أَجْرٌ؟ قَالَ: ((أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي حَرَامٍ، أَكَانَ عَلَيْهِ وِزْرٌ؟ فَكَذَلِكَ إِذَا وَضَعَهَا فِي الْحَلَالِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ)) رَوَاهُ مُسْلِمٌ (1).
--------------------------------------------
পঁচিশতম হাদিস: [কল্যাণের কাজে প্রতিযোগিতা এবং যিকিরের মর্যাদা]আবু যর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আরও বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে একদল লোক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! ধনীরা তো সমস্ত সওয়াব ও প্রতিদান নিয়ে গেল। তারা নামায পড়ে যেমন আমরা নামায পড়ি, তারা রোযা রাখে যেমন আমরা রোযা রাখি এবং তারা তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদ থেকে সদকা করে।" তিনি বললেন: "আল্লাহ কি তোমাদের জন্য এমন কিছু নির্ধারণ করেননি যা তোমরা সদকা করতে পারো? নিশ্চয়ই প্রতিটি তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ বলা) একটি সদকা, প্রতিটি তাকবীর (আল্লাহু আকবার বলা) একটি সদকা, প্রতিটি তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ বলা) একটি সদকা, প্রতিটি তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা) একটি সদকা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া একটি সদকা, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা একটি সদকা এবং তোমাদের প্রত্যেকের দাম্পত্য মিলনেও রয়েছে সদকা।" তারা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ কি তার যৌন কামনা পূরণ করবে এবং তাতেও কি তার জন্য সওয়াব হবে?" তিনি বললেন: "তোমরা কি মনে করো যদি সে তা হারাম উপায়ে পূর্ণ করত, তবে কি তার ওপর গুনাহ হতো না? তদ্রূপ সে যখন তা হালাল উপায়ে সম্পন্ন করে, তখন তার জন্য সওয়াব রয়েছে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------