(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: -)
مثارات الغلط في الأدلة   (الشريف التلمساني)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: كتاب مثارات الغلط في الأدلة (مطبوع مع: مفتاح الوصول إلى بناء الفروع على الأصول)

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن أحمد الحسني التلمساني (ت 771)

المحقق: محمد علي فركوس

الناشر: المكتبة المكية - مكة المكرمة، مؤسسة الريان - بيروت (لبنان)

الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1998 م

عدد الصفحات: 32

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 3 رجب 1440

মাসারাতুল গালাত ফিল আদিল্লাহ (দলীলের ভুলভ্রান্তির উৎসসমূহ)   (আশ-শরীফ আত-তিলিমসানি)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


কিতাব: কিতাব মাসারাতুল গালাত ফিল আদিল্লাহ (মুদ্রিত হয়েছে: মিফতাহুল উসুল ইলা বিনাউল ফুরু আলাল উসুলের সাথে)

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-হাসানি আত-তিলিমসানি (মৃত্যু ৭৭১ হিজরি)

মুহাক্কিক (গবেষক): মুহাম্মদ আলি ফারকুস

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল মাক্কিয়া - মক্কা আল-মুকাররামা، মুয়াসসাসাতুর রায়য়ান - বৈরুত (লেবানন)

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নাসসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৩ রজব ১৪৪০

(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৫৯)
كتاب مثارات الغلط في الأدلة
দলিলসমূহের ক্ষেত্রে ভুলের উৎসসমূহ সংক্রান্ত কিতাব
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৬১)
بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليما.

قال شيخنا الإمام العالم العلامة، فريد عصره، وسيد أهل دهره، جامع أشتات العلوم ومحققها: السيد أبو عبد الله [محمد] بن العدل أبي العباس أحمد بن علي الحسني النسب التلمساني الدار، المعروف بالشريف فيها رحمه الله وعفا عنه بمنه وكرمه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আমাদের শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম ও আল্লামা, নিজ যুগের অদ্বিতীয় এবং সমকালের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, বিবিধ জ্ঞানসমষ্টির সংগ্রাহক ও সেগুলোর সূক্ষ্ম গবেষক (محقق) বলেছেন: আস-সৈয়দ আবু আবদুল্লাহ [মুহাম্মাদ] ইবনে আল-আদল আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আলী, বংশগতভাবে আল-হাসানি এবং আবাসস্থলে আত-তিলিমসানি, যিনি সেখানে 'শরীফ' নামে সুপরিচিত ছিলেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় তাঁকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৬৩)
‌‌الباب الأول:

‌‌القسم الأول: الغلط في اللفظ المفرد

الحمد لله رب العالمين، سألت - وفقنا الله وإياكم - عن مثارات الغلط في الأدلة، ورغبت منا حصرها بالوجه الصناعي، وتمثيلها بالمثل العقلية والفقهية، فأجبتك إلى ذلك مستعينا بالله ومتوكلا عليه، وأقول - والله الموفق -:

الغلط في البرهان وغيره من سائر الأدلة والحجاج، إما أن [يكون] من جهة اللفظ، وإما أن يكون من جهة المعنى.

أما الذي من جهة اللفظ، فاعلم - وفقك الله -: أن اللفظ إذا طابق المعنى مطابقة تامة بحيث لا يحتمل اللفظ في الدلالة غير المعنى المقصود لم يقع غلط بسبب اللفظ البتة، وإذا ثبت أنه لابد من احتمال في اللفظ، فذلك الاحتمال إما أن يكون في اللفظ بعد تحقق كونه مفردا أو بعد تحقق كونه مركبًا، أو يكون لدورانه وتردده بين الإفراد والتركيب.

أما إن كان بعد تحقق كونه مفردا، فذلك إما أن يكون الاشتراك في جوهر اللفظ ومادته بأي نوع من أنواع الاشتراك - اعني في الوضع - أو
প্রথম অধ্যায়:

প্রথম পরিচ্ছেদ: একক শব্দের (مفرد) ভুলভ্রান্তি

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আপনি - আল্লাহ আমাদের এবং আপনাকে তাওফিক দান করুন - দলিলের ভুলভ্রান্তির উৎসসমূহ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন এবং আমাদের নিকট তা পদ্ধতিগত উপায়ে (بالوجه الصناعي) সীমাবদ্ধ করার এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও ফিকহী উদাহরণের মাধ্যমে উপস্থাপন করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে এবং তাঁর ওপর ভরসা করে আপনার সেই জিজ্ঞাসার উত্তর দিচ্ছি। আমি বলছি - আর আল্লাহই তাওফিকদাতা:

প্রমাণ (برهان) এবং অন্যান্য সকল দলিল ও যুক্তিতর্কের ভুলভ্রান্তি হয় শব্দের (لفظ) দিক থেকে হবে, নতুবা অর্থের (معنى) দিক থেকে হবে।

শব্দের (لفظ) দিকের ভুল সম্পর্কে - আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন - জেনে রাখুন: যখন শব্দ (لفظ) অর্থের (معنى) সাথে এমনভাবে পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যে, শব্দটি উদ্দিষ্ট অর্থ ব্যতীত অন্য কোনো অর্থের সম্ভাবনা (احتمال) রাখে না, তখন শব্দের কারণে বিন্দুমাত্র ভুল সংঘটিত হয় না। আর যখন এটি সাব্যস্ত হয় যে শব্দের মধ্যে অবশ্যই সম্ভাব্যতা (احتمال) থাকবে, তখন সেই সম্ভাবনা হয় শব্দটির একক শব্দ (مفرد) হওয়া নিশ্চিত হওয়ার পর হবে, অথবা যৌগিক (مركب) হওয়া নিশ্চিত হওয়ার পর হবে, অথবা একক (مفرد) ও যৌগিকের (مركب) মধ্যে শব্দটির আবর্তন ও দোদুল্যমানতার কারণে হবে।

যদি শব্দটির একক (مفرد) হওয়া নিশ্চিত হওয়ার পর ভুল হয়, তবে তা শব্দের মূল উপাদান ও সারবত্তার মধ্যে যেকোনো প্রকারের অংশীদারিত্বের (اشتراك) কারণে হবে - আমি আভিধানিক বিন্যাসের (وضع) কথা বোঝাচ্ছি - অথবা
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৬৪)
بكون حقيقة في أحد المعنيين مجازًا في الآخر، أو منقولا، أو نحو ذلك، أو يكون في هيئة اللفظ وصورته دون مادته، أو يكون لأمر خارج عن اللفظ عارض له ولاحق من لواحقه.

أما الاشتراك في جوهر اللفظ فذلك مثار الغلط، ومثاله في العقليات قول السفسطائي: واجب الوجود، إما أن يكون ممكنا أن يكون أو غير ممكن أن يكون، وكل ممكن أن يكون ممكن ألا يكون، فإن لم يكن ممكنا أن يكون فهو ممتنع أن يكون فواجب الوجود ممتنع أن يكون هذا خلف، [وإن كان ممكنا أن يكون، ممكن أن يكون واجب الوجود، ممكن ألا يكون كذا خلف].

ومثال الغلط فيه ان لفظ الممكن مشترك بين الممكن العام الذي معناه لا يمتنع والممكن الخاص الذي معناه جواز الوجود والعدم، فالممكن الذي هو حد وسط في القياس المذكور، إن كان] معناه الممكن العام منعنا قوله: فكل ممكن أن يكون، ممكن ألا يكون، وإن كان معناه الممكن الخاص منعنا قوله: إن لم يكن ممكنا أن يكون، فهو ممتنع أن يكون فلا ينفع عن أحد المعنيين إلا أن يختلف المراد بلفظ الممكن، ـ وحينئذ لا يتحد الوسط.
হয় একটি অর্থে প্রকৃত (حقيقة) এবং অন্যটিতে রূপক (مجاز), অথবা পারিভাষিক (منقول), বা এই জাতীয় কিছু হওয়ার মাধ্যমে; অথবা এটি শব্দের গঠন ও অবয়বে হতে পারে, তার মূল উপাদানে নয়; অথবা শব্দের বহির্ভূত কোনো বিষয়ের কারণে হতে পারে যা তার ওপর আপতিত হয় বা তার অনুবর্তী হয়।

পক্ষান্তরে শব্দের মূল সত্তার মাঝে দ্ব্যর্থবোধকতা (الاشتراك) হলো বিভ্রান্তির উৎস। বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে এর উদাহরণ হলো সফিস্টদের বক্তব্য: 'ওয়াজিবুল ওজুদ' (অনিবার্য অস্তিত্ব), হয় অস্তিত্বশীল হওয়া সম্ভব (ممكن) অথবা অস্তিত্বশীল হওয়া সম্ভব (ممكن) নয়; আর যা কিছু অস্তিত্বশীল হওয়া সম্ভব (ممكن), তা অস্তিত্বহীন হওয়াও সম্ভব (ممكن)। সুতরাং যদি তা অস্তিত্বশীল হওয়া সম্ভব (ممكن) না হয়, তবে তা অস্তিত্বহীন হওয়া অনিবার্য বা অসম্ভব (ممتنع); ফলে 'ওয়াজিবুল ওজুদ' অসম্ভব (ممتنع) হয়ে দাঁড়াবে—যা একটি স্ববিরোধী ফলাফল। [আর যদি তা অস্তিত্বশীল হওয়া সম্ভব (ممكن) হয়, অর্থাৎ 'ওয়াজিবুল ওজুদ' হওয়া সম্ভব (ممكن) হয়, তবে তা অস্তিত্বহীন হওয়াও সম্ভব (ممكن)—এটিও তদ্রূপ একটি স্ববিরোধী ফলাফল]।

এক্ষেত্রে ভুলের উদাহরণ হলো, 'মুমকিন' (ممكن) শব্দটি 'সাধারণ সম্ভব' (الممكن العام) যার অর্থ যা অসম্ভব নয়, এবং 'বিশেষ সম্ভব' (الممكن الخاص) যার অর্থ অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব উভয়ই হওয়ার বৈধতা—এই দুইয়ের মধ্যে দ্ব্যর্থবোধক (مشترك)। সুতরাং উল্লিখিত যুক্তিতে (قياس) 'মুমকিন' শব্দটি যা মধ্যপদ (حد وسط) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তার অর্থ যদি 'সাধারণ সম্ভব' (الممكن العام) হয়, তবে আমরা তার এই উক্তিটি প্রত্যাখ্যান করব যে: "যা কিছু অস্তিত্বশীল হওয়া সম্ভব, তা অস্তিত্বহীন হওয়াও সম্ভব।" আর যদি এর অর্থ 'বিশেষ সম্ভব' (الممكن الخاص) হয়, তবে আমরা তার এই উক্তিটি প্রত্যাখ্যান করব যে: "যদি তা অস্তিত্বশীল হওয়া সম্ভব না হয়, তবে তা অসম্ভব।" সুতরাং কোনো একটি নির্দিষ্ট অর্থ গ্রহণ করা ব্যতীত এটি ফলপ্রসূ হবে না, যতক্ষণ না 'মুমকিন' শব্দের উদ্দেশ্য ভিন্ন হয়—আর সেক্ষেত্রে মধ্যপদ (الوسط) অভিন্ন থাকে না।
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৬৫)
مثاله في الفقهيات: قول من يرى أن الزنا يوجب حرمة المصاهرة فيمن وطأها الأب بزنا: إنها تحرم على الابن لقوله تعالى: ولا تنكحوا ما نكح ءاباؤكم من النساء. فيقول في المزني بها: إنها منكوحة الأب، وكل منكوحة الأب تحرم على الابن فهذه تحرم على الابن، فيقول من يبيح ذلك: لفظ النكاح مشترك بين الوطء والعقد، فإن كان المراد بالمنكوحة في الحد الوسط المعقود عليها كذبت الصغرى، وإن كان المراد الموطوءة كذبت الكبرى، لأن لفظ النكاح في القرآن محمول على العقد وإن اختلف المراد فيهما لم يتحد الوسط.

ومثل ذلك القرء في قوله تعالى: {والمطلقات يتربصن بأنفسهن ثلاثة قروء} فإن لفظ القرء مشترك بين الطهر والحيض وكذلك الشفق في الحديث: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم العشاء بعد الشفق، فإنه مشترك بين
ফকিহী মাসআলাসমূহে এর উদাহরণ হলো: যারা মনে করেন যে জিনা বৈবাহিক সম্পর্কজনিত হারাম (حرمة المصاهرة) সাব্যস্ত করে—অর্থাৎ বাবা যদি কোনো নারীর সাথে জিনা করে, তবে সে পুত্রের জন্য হারাম হয়ে যাবে। এর সপক্ষে তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর দলিল পেশ করেন: "তোমাদের পিতারা নারীদের মধ্যে যাদের বিয়ে করেছে, তোমরা তাদের বিয়ে করো না।" তারা জিনার শিকার হওয়া নারী সম্পর্কে বলেন: সে হলো পিতার পরিগৃহীতা (منكوحة), আর পিতার সকল পরিগৃহীতা (منكوحة) পুত্রের জন্য হারাম; সুতরাং এই নারীও পুত্রের জন্য হারাম। পক্ষান্তরে যারা একে বৈধ মনে করেন তারা বলেন: 'নিকাহ' শব্দটি সঙ্গম এবং বিবাহচুক্তি (عقد) উভয়ের মধ্যে ব্যবহৃত একটি দ্ব্যর্থবোধক (مشترك) শব্দ। যদি মধ্যপদে (الحد الوسط) 'মানকুহা' দ্বারা বিবাহচুক্তি সম্পন্নকারিনী উদ্দেশ্য হয়, তবে ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞাটি (الصغرى) অসত্য প্রমাণিত হয়। আর যদি সঙ্গমকৃত নারী উদ্দেশ্য হয়, তবে বৃহত্তর প্রতিজ্ঞাটি (الكبرى) অসত্য প্রমাণিত হয়; কারণ কুরআনে 'নিকাহ' শব্দটি বিবাহচুক্তি (عقد) অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আর যদি উভয় ক্ষেত্রে অর্থের ভিন্নতা থাকে, তবে মধ্যপদটি (الوسط) অভিন্ন থাকে না।

অনুরূপ উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন 'কুরু' (قروء) পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে।" এখানে 'কুরু' (قرء) শব্দটি পবিত্রতা ও ঋতুস্রাব (حيض) উভয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত একটি দ্ব্যর্থবোধক (مشترك) শব্দ। অনুরূপভাবে হাদিসে বর্ণিত 'শাফাক' (الشفق) শব্দটি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাফাক (الشفق) এর পর এশার নামাজ আদায় করতেন; কারণ এটি একটি দ্ব্যর্থবোধক (مشترك) শব্দ যা...
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৬৬)
البياض والحمرة وكذلك الإغلاق في قوله صلى الله عليه وسلم: لا طلاق في إغلاق، فإنه مشترك بين الإكراه والجنون ويمكنك بسط الأمثلة الخلافية في هذا الألفاظ الثلاثة.

وأما الاشتراك في هيئة اللفظ وصورته فهو من مثارات الغلط ومثاله: قوله تعالى: {لا تضار والدة بولدها} ذلك أن أهل العلم اختلفوا: هل إرضاع الأم ولدها حق لها، فليس للأب أن ينقله إلى غيرها من دون رضاها، أو حق عليها، فللأب أن يجبرها على ذلك، وليس لها أن تمتنع، وكل ذلك بناء على أن صيغة الفعل مشتركة بين الفعل المضارع المبني للفاعل وبين الفعل المبني للمفعول النائب عنه، فإذا استدل أحد الفريقين بالاية على مذهبه، فللفريق الآخر أن يعترض عليه بالاشتراك في الصيغة.

وأما المادة فللاشتراك، فيها ومثال لذلك قوله تعالى: {ولا يضار كاتب ولا شهيد} قال ابن عباس وعطاء: معناه لا يمتنع كاتب من الكتب ولا شهيد من الشهادة إذا دعي إلى ذلك، فالفعل عندهما مبني
শুভ্রতা ও লাল আভা এবং অনুরূপভাবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "অবরুদ্ধাবস্থায় (إغلاق) কোনো তালাক নেই" এর মধ্যে 'ইগলাক' শব্দটি; কেননা এটি জবরদস্তি (إكراه) এবং উন্মাদনা (جنون)-এর মধ্যে যুগ্ম অর্থবোধক (مشترك)। আপনি এই তিনটি শব্দের ক্ষেত্রে মতভেদপূর্ণ উদাহরণগুলো বিস্তারিত আলোচনা করতে পারেন।

আর শব্দের রূপ ও কাঠামোর মধ্যে যুগ্ম অর্থবোধকতা (الاشتراك) বিভ্রান্তি সৃষ্টির অন্যতম কারণ। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {কোনো মাতাকে তার সন্তানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে না}। বিষয়টি হলো জ্ঞানীবৃন্দ (উলামা) মতভেদ করেছেন: মায়ের জন্য তার সন্তানকে দুধ পান করানো কি তার একটি অধিকার—ফলে পিতার জন্য তার অনুমতি ব্যতীত তা অন্য কোনো ধাত্রীর কাছে স্থানান্তরিত করা বৈধ নয়; নাকি এটি তার ওপর একটি অর্পিত দায়িত্ব—ফলে পিতা তাকে এতে বাধ্য করতে পারেন এবং তার তা থেকে বিরত থাকার সুযোগ নেই? এই সবকিছুর ভিত্তি হলো, এই ক্রিয়ার রূপটি (صيغة) কর্তৃবাচ্যের বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (الفعل المضارع المبني للفاعل) এবং কর্মবাচ্যের ক্রিয়া (الفعل المبني للمفعول النائب عنه)-এর মধ্যে যুগ্ম অর্থবোধক (مشتركة)। সুতরাং, যদি কোনো পক্ষ তাদের নিজস্ব মাজহাবের সপক্ষে এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করে, তবে অপর পক্ষ শব্দরূপের এই যুগ্ম অর্থবোধকতার (الاشتراك في الصيغة) ভিত্তিতে আপত্তি উত্থাপন করতে পারে।

আর মূল উপাদানের (المادة) ক্ষেত্রেও যুগ্ম অর্থবোধকতা (الاشتراك) বিদ্যমান। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর কোনো লেখক বা সাক্ষীকে যেন ক্ষতিগ্রস্ত করা না হয়}। ইবনে আব্বাস ও আতা বলেন: এর অর্থ হলো যখন কোনো লেখককে লেখার জন্য বা কোনো সাক্ষীকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়, তখন তারা যেন তা অস্বীকার না করে। তাঁদের মতে, ক্রিয়াটি...
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৬৭)
للفاعل، وقال عكرمة وجماعة: معناه أن الداعي لا يضر بهما في وقت شغل أو عذر، فالبناء - عندهم - للمفعول النائب عن الفاعل، فأي الفريقين احتج بالاية على مذهبه فللفريق الآخر أن يقدح في احتجاجه بالاشتراك في الصيغة.

وأما الاشتراك من جهة الامور الخارجة اللاحقة للفظ، فإما أن تكون من اللواحق النطقية أو من اللواحق الخطية.

فأما اللواحق النطقية، فمثل: لام التعريف، بين العهد والجنس، ومثل: ياء التصغير بين التحقير والتعظيم، ومثل تاء التأنيث بين التأنيث اللفظي والمعنوي.

ومثال ذلك: أن يستدل من يرى: أن لا عبرة بالمخالطة إلا بتغيير
কর্তৃবাচ্যের (للفاعل) জন্য। ইকরিমা এবং একদল (جماعة) আলেম বলেছেন: এর অর্থ হলো, আহ্বানকারী যেন ব্যস্ততা বা ওজরের সময় তাদের কোনো ক্ষতি না করে। সুতরাং তাদের মতে, শব্দের গঠনটি কর্মবাচ্যের (للمفعول), যা কর্তার স্থলাভিষিক্ত হয়। অতএব, দুই পক্ষের মধ্যে যে পক্ষই এই আয়াত দিয়ে নিজ মাযহাবের সপক্ষে দলিল পেশ করুক না কেন, অপর পক্ষ শব্দরূপের দ্ব্যর্থবোধকতার (الاشتراك) কারণে সেই দলিল খণ্ডন করার সুযোগ পাবে।

আর শব্দের সাথে যুক্ত বাহ্যিক বিষয়াবলির প্রেক্ষিতে দ্ব্যর্থবোধকতা (الاشتراك) হয় উচ্চারণগত অনুষঙ্গ থেকে হবে, নয়তো তা লিখনশৈলীগত অনুষঙ্গ থেকে হবে।

উচ্চারণগত অনুষঙ্গের উদাহরণ হলো: নির্দিষ্টতাবাচক লাম (لام التعريف), যা নির্দিষ্টতা (العهد) এবং সাধারণ শ্রেণি (الجنس)-এর মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে। তেমনিভাবে ক্ষুদ্রতাবাচক ইয়া (ياء التصغير), যা তুচ্ছতা (التحقير) এবং মহত্ত্ব (التعظيم)-এর মধ্যে ব্যবহৃত হয়। আরও উদাহরণ হলো স্ত্রীলিঙ্গবাচক তা (تاء التأنيث), যা শব্দগত স্ত্রীলিঙ্গ (التأنيث اللفظي) এবং অর্থগত স্ত্রীলিঙ্গের (التأنيث المعنوي) মধ্যে দ্বিধা তৈরি করে।

এর উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির দলিল পেশ করা যে মনে করে: পরিবর্তন ব্যতীত শুধু মিশ্রণের (المخالطة) কোনো গুরুত্ব নেই।
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৬৮)
الماء لقوله صلى الله عليه وسلم: {خلق الله الماء طهورا لا ينجسه إلا ما غير لونه او طعمه أو ريحه} فيقول الخصم: الالف واللام، هنا للعهد، لأنه وارد على سبب معين وهو بئر بضاعة، فاسم الماء لا اشتراك فيه، وإنما الاشتراك في لاحق من لواحقه، وهي لام التعريف وكذلك قوله صلى الله عليه وسلم: أفطر الحاجم والمحجوم، لما مر بهما.

وأما اللواحق الخطية، فمثل النقط والتشكيل، ومثاله: استدلال من منع طعام وعرض بطعام، أو بيع نقد وعرض بنقد، بحديث فضالة بن
পানি প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: {আল্লাহ পানিকে পবিত্র (طهورا) হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, কোনো কিছুই একে অপবিত্র (نجس) করতে পারে না যদি না তা পানির রঙ, স্বাদ অথবা গন্ধ পরিবর্তন করে দেয়।} এমতাবস্থায় প্রতিপক্ষ বলতে পারেন: এখানে ‘আলিফ’ এবং ‘লাম’ (আল) নির্দিষ্টকরণের (للعهد) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, কারণ এটি একটি বিশেষ প্রেক্ষাপট তথা ‘বি’রে বুদাআহ’ (বুদাআহ কূপ) প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং ‘পানি’ (আল-মা) শব্দটির মধ্যে কোনো দ্ব্যর্থবোধকতা (اشتراك) নেই, বরং দ্ব্যর্থবোধকতা রয়েছে এর সাথে যুক্ত পরবর্তী একটি উপাদানে, আর তা হলো নির্দিষ্টকারী ‘লাম’ (لام التعريف)। অনুরূপভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: {শিঙা দানকারী এবং গ্রহণকারী উভয়ের রোজা ভঙ্গ হয়েছে}, যখন তিনি তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।

আর লৈখিক অনুষঙ্গসমূহের (اللواحق الخطية) ক্ষেত্রে নুকতা (النقط) এবং হরকত বা স্বরচিহ্নের (التشكيل) উদাহরণ দেওয়া যায়। যেমন: যারা খাদ্যের বিনিময়ে খাদ্য ও পণ্য (عرض) অথবা মুদ্রার (نقد) বিনিময়ে মুদ্রা ও পণ্যের লেনদেন নিষিদ্ধ করেছেন, ফাদালাহ ইবনে... বর্ণিত হাদিস দ্বারা তাদের দলিল পেশ করা।
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৬৯)
عبيد: أن رجلا سأل النبي صلى الله عليه وسلم فقال: إني ابتعت قلادة فيها خرز وذهب بذهب، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: لا، حتى تفصل. [بالصاد المهملة] فيقول المخالف: إنما هو حتى تفضل [بالصاد المعجمة] ومعناه: حتى يتبين الفضل في الذهب الثمن ليجعل ذلك ثمن العرض الذي هو الخرز.

ومثال التشكيل: استدلال من يمنع بيع الحنطة في السنبل، بما روي أن النبي صلى الله عليه وسلم: نهى عن بيع الحب حتى يفرك، مبنيا للمفعول، فيقول المخالف: إنما هو: حتى يفرك، مبنيا للفاعل، ومعناه حتى يصير فريكا.

ومن ذلك: استدلال من يرى أن الأمة تصير فراشًا بالوطء، فيلحق الولد بالسيد، وإن لم يستلحقه بحديث عبد الله بن زمعه وسعد بن أبي وقاص إذ اختصما إلي النبي صلى الله عليه وسلم فقال عبد: يا رسول الله هو أخي وابن وليدة أبي ولد على فراشه، وقال سعد: يا رسول الله هو ان أخي عتبة قد كان عهد إلي فيه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لعبد الله بن زمعه: هو
উবাইদ (বর্ণনা করেন): এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করে বললেন: আমি পুতি ও স্বর্ণখচিত একটি হার স্বর্ণের বিনিময়ে ক্রয় করেছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: না, যতক্ষণ না তা পৃথক (تفصل) [সাদ (ص) অক্ষর দিয়ে] করা হয়। তখন (মতের) বিরোধীপক্ষ বলে: এটি মূলত ‘ততক্ষণ পর্যন্ত না অতিরিক্ত (تفضل) [দাদ (ض) অক্ষর দিয়ে] হয়’ এবং এর অর্থ হলো: মূল্যের স্বর্ণের মধ্যে অতিরিক্ত অংশটি স্পষ্ট হওয়া, যাতে সেই অতিরিক্ত অংশটিকে পণ্যের—যা হলো পুঁতি—মূল্য হিসেবে ধরা যায়।

এবং হরকত বা স্বরচিহ্নগত (التشكيل) উদাহরণের ক্ষেত্রে: যারা শীষের ভেতর থাকা অবস্থায় গম বিক্রি নিষিদ্ধ মনে করেন, তাদের দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: তিনি শস্য দানা মাড়াই করা পর্যন্ত বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন; যেখানে শব্দটি কর্মবাচ্য (مبنيا للمفعول) হিসেবে পঠিত। কিন্তু বিরোধীপক্ষ বলে: শব্দটি মূলত কর্তৃবাচ্য (مبنيا للفاعل) হিসেবে হবে, যার অর্থ হলো যতক্ষণ না তা মাড়াইযোগ্য শস্যে পরিণত হয়।

অনুরূপভাবে: সেই ব্যক্তির দলিল যে মনে করে সহবাসের মাধ্যমে দাসী শয্যাসঙ্গিনী হিসেবে নির্ধারিত হয়ে যায়, ফলে সন্তান মনিবের সাথে সম্পৃক্ত হবে যদিও তিনি তাকে নিজের বলে দাবি না করেন। এটি আব্দুল্লাহ ইবনে জামআ এবং সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর হাদিসের মাধ্যমে সাব্যস্ত, যখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিবাদে লিপ্ত হয়েছিলেন। আব্দুল্লাহ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর পুত্র, যে তার বিছানায় জন্মগ্রহণ করেছে। আর সাদ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, সে আমার ভাই উতবার পুত্র, সে আমাকে এ ব্যাপারে অসিয়ত করে গিয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনে জামআকে বললেন: সে (তোমার ভাই)...
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৭০)
لك يا عبد بن زمعة، الولد للفراش وللعاهر الحجر، واحتجبي منه يا سودة، فقضى به لابن زمعة، فيقول من لا يرى ذلك: الرواية هو لك عبدٌ بالتنوين، وابن زمعة منادى مضاف، ولذلك أمر سودة بالاحتجاب منه ولو ألحقه بزمعة لما أمرها بالاحتجاب من اخيها.

فهذه الوجوه كلها مثارات الأغاليط اللفظية في اللفظ المفرد.
হে আবদ বিন জামআ, এটি তোমার; সন্তান যার বিছানা তার, আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর। আর হে সাওদা, তুমি তার থেকে পর্দা করো। অতঃপর তিনি ইবনে জামআ-র পক্ষে ফয়সালা প্রদান করলেন। যারা এই মত পোষণ করেন না তারা বলেন: বর্ণনাটি (رواية) হলো— 'এটি তোমার হে আবদ' (لك عبدٌ), যেখানে 'আবদ' শব্দটি তানভীনযুক্ত এবং 'ইবনে জামআ' হলো সম্বোধনকৃত সমাসবদ্ধ পদ (منادى مضاف)। আর এই কারণেই তিনি সাওদাকে তার থেকে পর্দা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন; যদি তিনি তাকে জামআ-র বংশজাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতেন, তবে তিনি তাকে তার নিজের ভাই থেকে পর্দা করার নির্দেশ দিতেন না।

মূলত একক শব্দের ক্ষেত্রে শব্দগত ভুলভ্রান্তি সৃষ্টির এই হলো নানাবিধ দিক।
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৭১)
‌‌القسم الثاني: الغلط في اللفظ المركب

اشتراك التأليف

وأما الاشتراك الذي هو في اللفظ المركب بعد تحقق تركيبه فهو مثار الغلط، ويسمى اشتراك التأليف، ومثاله في العقليات: العالم إما أن يكون ممكنا أن يكون في الأزل، أو لا يكون ممكنا أن يكون في الأزل، فإن كان ممكنا أن يكون في الأزل أمكن أن يكون قديما وهو محال، وإن لم يكن ممكنا [أن يكون] في الأزل، فلإمكان كونه بداية، ويلزم انقلابه من الامتناع الذاتي إلى الإمكان الذاتي، وهو محال، ومثال الغلط فيه أن قولنا في الأزل، إما أن يتعلق بقولنا: ممكنا، أو بقولنا: يكون والتركيب صالح بالمعنيين، فإن كان متعلقا بـ يكون، اخترنا القسم الثاني، وهو أن العالم ليس بممكن أن يكون في الأزل، وحينئذ لا يلزم أن يكون لإمكان كونه بداية وإن تعلق بقولنا: ممكنا اخترنا القسم الأول، وحينئذ لا يلزم إمكان كونه قديما.

ومثاله في الفقهيات: قوله تعالى: {إلا الذين تابوا} فإنه يحتمل أن يكون استثناء من جميع الجمل المتقدمة، ويلزم جواز قبول شهادة القاذف
দ্বিতীয় বিভাগ: যৌগিক শব্দের ক্ষেত্রে ভ্রান্তি

বিন্যাসের দ্ব্যর্থতা

আর যে দ্ব্যর্থতা বা অস্পষ্টতা শব্দবিন্যাস সুসংগঠিত হওয়ার পর যৌগিক শব্দের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়, তা-ই ভ্রান্তির উৎস এবং একে বিন্যাসের দ্ব্যর্থতা বলা হয়। বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে এর উদাহরণ হলো: মহাবিশ্ব হয় অনাদিকাল থেকে বিদ্যমান থাকা সম্ভব হতে পারে, অথবা অনাদিকাল থেকে বিদ্যমান থাকা সম্ভব নাও হতে পারে। যদি অনাদিকালে থাকা সম্ভব হয়, তবে তা অনাদি হওয়া সম্ভব হতে পারে, যা অসম্ভব। আর যদি অনাদিকালে [থাকা] সম্ভব না হয়, তবে এর অস্তিত্বের একটি সূচনা থাকা সম্ভব হয় এবং এর ফলে এটি স্বকীয় অসম্ভাব্যতা থেকে স্বকীয় সম্ভাব্যতাতে রূপান্তরিত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা অসম্ভব। আর এতে ভ্রান্তির কারণ হলো আমাদের এই উক্তি 'অনাদিকাল থেকে'; এটি হয় 'সম্ভব' শব্দের সাথে সম্পর্কিত হবে, অথবা 'হওয়া' ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত হবে। আর শব্দবিন্যাসটি উভয় অর্থ বহন করারই যোগ্যতা রাখে। যদি এটি 'হওয়া' ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত হয়, তবে আমরা দ্বিতীয় পক্ষটি গ্রহণ করব যে, মহাবিশ্ব অনাদিকালে থাকা সম্ভব নয়; আর সেক্ষেত্রে এর অস্তিত্বের সূচনা থাকা অনিবার্য হয় না। আর যদি তা 'সম্ভব' শব্দের সাথে সম্পর্কিত হয়, তবে আমরা প্রথম পক্ষটি বেছে নেব এবং এমতাবস্থায় এর অনাদি হওয়া সম্ভব হওয়া আবশ্যক হয় না।

ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো: মহান আল্লাহর বাণী: {তবে তারা ব্যতীত যারা তওবা করেছে}; এখানে সম্ভাবনা রয়েছে যে, এটি পূর্ববর্তী সকল বাক্যের ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে, যার ফলে অপবাদ দানকারীর সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণ করা বৈধ হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৭২)
بعد توبته، وأن يكون استثناء من الجملة الأخيرة فقط، فلا تقبل شهادة القاذف بعد توبته، والتركيب صالح للمعنيين، فمن احتج من الفريقين على مذهبه، فللآخر القدح في استدلاله باشتراك التأليف.

ومثاله في علم الأصول: قول من منع التكليف بالمشروط عند عدم شرطه الشرعي، وتفرض في تكليف الكفار بالفروع، لو أمكن التكليف بفعل المشروط قبل حصول شرطه الشرعي لم يكن الشرط شرطا، والثاني باطل بالإجماع، فيقول الخصم: قولكم قبل شرطه، إما أن يتعقل بفعل المشروط أو بالتكليف، فإن كان الأول سلمناه، ولا يمس محل النزاع لأنا لا ندعيه وإن كان الثاني منعنا الملازمة، والتركيب صالح للمعنيين.
তাঁর তাওবার পর, এবং এই ব্যতিক্রমটি যেন কেবল শেষ বাক্যের সাথেই সংশ্লিষ্ট হয়; ফলে অপবাদ প্রদানকারীর (قاذف) সাক্ষ্য তাঁর তাওবার পরেও কবুল করা হবে না। এই গঠনটি উভয় অর্থের জন্যই উপযোগী। সুতরাং উভয় পক্ষের মধ্যে যারা নিজেদের মতাদর্শের পক্ষে এর মাধ্যমে দলিল পেশ করবেন, অপর পক্ষ রচনার দ্ব্যর্থবোধকতার (اشتراك التأليف) কারণে তাদের সেই দলিলের বিরোধিতা করার সুযোগ পাবে।

উসুলশাস্ত্রে (علم الأصول) এর উদাহরণ হলো: যারা শারয়ী শর্তের অনুপস্থিতিতে শর্তযুক্ত কোনো কাজের দায়িত্বারোপ (تكليف) করা নিষিদ্ধ মনে করেন তাদের বক্তব্য। এটি কাফিরদের ওপর শাখা-বিধানসমূহের (فروع) বিধান পালনের বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে কল্পনা করা হয়। যদি শারয়ী শর্ত অর্জিত হওয়ার পূর্বেই শর্তযুক্ত কাজটির দায়িত্বারোপ (تكليف) করা সম্ভব হতো, তবে শর্তটি আর শর্ত হিসেবে থাকত না। আর দ্বিতীয় বিষয়টি সর্বসম্মতিক্রমে (إجماع) বাতিল। এমতাবস্থায় প্রতিপক্ষ বলবে: আপনাদের বক্তব্য 'তার শর্তের পূর্বে'—এটি হয় শর্তযুক্ত কাজটির সম্পাদন দ্বারা বোঝা যাবে অথবা দায়িত্বারোপ (تكليف) দ্বারা। যদি প্রথমটি হয়, তবে আমরা তা মেনে নিচ্ছি; তবে এটি বিবাদের মূল বিষয়কে স্পর্শ করে না, কারণ আমরা তা দাবি করি না। আর যদি দ্বিতীয়টি হয়, তবে আমরা এর অপরিহার্যতা (ملازمة) অস্বীকার করছি। এই বাক্য গঠনটি উভয় অর্থের জন্যই প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৭৩)
‌‌القسم الثالث: الغلط في اللفظ بسبب تردده بين الإفراد والتركيب

وأما الاشتراك في اللفظ بسبب تردده بين الإفراد والتركيب - وهو القسم الثالث - فإما أن يكون أخذ مركبا وهو مفرد، أو بالعكس، فإن كان الأول فيسمى‌‌ تركيب المفصل، وهو مثار الغلط.

ومثاله في العقليات: قول من يرى أن الأرض أبرد من الماء، لأن التراب يابس مفرط، ثم يفرد المفرط بالحمل ويضم إليه، أن التراب بارد، ثم يجمعهما فيقول: التراب بارد مفرط فقد ركب في نتيجته ما هو مفصل.

ومثاله في الفقهيات: استدلال من يرى أن المسح على العمامة، أو مسح الناصية وحدها لا يجزي بحديث مسلم: انه صلى الله عليه وسلم مسح بناصيته وعلى العمامة، قال عياض: وأجزأ أحدهما لما ضم إليه الآخر،
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শব্দ একক (إفراد) নাকি যৌগিক (تركيب) হওয়ার দোলাচলের কারণে শব্দগত ভ্রান্তি (غلط)

আর শব্দগত অস্পষ্টতা (اشتراك) যা তার একক অবস্থা (إفراد) এবং যৌগিক অবস্থার (تركيب) মাঝে আবর্তিত হওয়ার কারণে ঘটে থাকে—আর এটি হলো তৃতীয় পরিচ্ছেদ—তা হয় কোনো একক (مفرد) বিষয়কে যৌগিক (مركب) হিসেবে গ্রহণ করার মাধ্যমে, অথবা এর বিপরীতে। যদি প্রথমটি হয়, তবে তাকে পৃথক বিষয়ের সংমিশ্রণ (تركيب المفصل) বলা হয়, যা ভ্রান্তির উৎস।

যৌক্তিক বিষয়সমূহের (عقليات) ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো: সেই ব্যক্তির বক্তব্য যে মনে করে মাটি পানির চেয়ে অধিক শীতল; কারণ মাটি হলো অত্যধিক (مفرط) শুষ্ক, এরপর সে ‘অত্যধিক’ (مفرط) শব্দটিকে গুণের বিচারে পৃথকভাবে গ্রহণ করে এবং এর সাথে যুক্ত করে যে ‘মাটি শীতল’, অতঃপর সে উভয়কে একত্রিত করে বলে: ‘মাটি অত্যধিক শীতল’। এভাবে সে তার সিদ্ধান্তে এমন বিষয়কে যৌগিক (تركيب) রূপ দিয়েছে যা প্রকৃতপক্ষে পৃথক (مفصل) ছিল।

ফিকহ শাস্ত্রের বিষয়সমূহের (فقهيات) ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো: সেই ব্যক্তির দলিল পেশ করা যে মনে করে পাগড়ির ওপর মাসাহ করা অথবা কেবল কপালের সম্মুখভাগের (ناصية) মাসাহ করা যথেষ্ট নয়। সে মুসলিম-এর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করে যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কপালের সম্মুখভাগে (ناصية) এবং পাগড়ির ওপর মাসাহ করেছেন। ইমাম ইয়াজ বলেন: একটির সাথে যখন অপরটি যুক্ত করা হয়েছে, তখন যে কোনো একটি আদায় করাই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৭৪)
فيقول الخصم: أنت ركبت ما هو مفصل، وذلك أنه صلى الله عليه وسلم مسح على العمامة، في وضوئه مرة، ومسح بناصيته مرة.

 

وإن كان الثاني - وهو أن يأخذ ما هو مركب فيفصله - فيسمى‌‌ تفصيل المركب.

ومثاله في العقليات: الجسم مادة وصورة، والمادة منفعلة فقط، فالجسم منفعل فقط، والغلط فيه كونه أخذ المادة محمولا وفصله، وإنما هو جزء محمول.

ومثاله في الفقهيات: قوله صلى الله عليه وسلم في النبيذ: تمرة طيبة وماء طهور. فيفصله من يحتج على جواز الوضوء بالنبيذ، فيقول: النبيذ ماء طهور، والماء الطهور يتوضأ به، فالنبيذ يتوضأ به، فيفصل ما هو مركب بل الصحيح أن النبيذ مجموع من الماء والتمرة، وإنما ذلك كقولنا: الطين ماء وتراب.

فهذه مثارات الغلط اللفظي وهي ستة لا أزيد منها: اشتراك الجوهر، واشتراك الصيغة واشتراك اللواحق، واشتراك التأليف وتركيب المفصل، وتفصيل المركب.
বিপক্ষ বলবে: আপনি এমন কিছুকে একত্রিত করেছেন যা মূলত পৃথক (مفصل); আর তা হলো, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওযুর সময় একবার পাগড়ির ওপর মাসেহ করেছেন এবং একবার কপালের উপরিভাগের চুলে মাসেহ করেছেন।

 

আর যদি বিষয়টি দ্বিতীয় প্রকারের হয়—যা মূলত সম্মিলিত বিষয়কে গ্রহণ করে পৃথক করা—তবে তাকে যৌগিকের পৃথকীকরণ (تفصيل المركب) বলা হয়।

যৌক্তিক বিষয়সমূহে এর উদাহরণ হলো: শরীর হলো উপাদান ও রূপের সমষ্টি, আর উপাদান কেবল একটি প্রভাবিত সত্তা, সুতরাং শরীর কেবল প্রভাবিতই হবে। এখানে ভ্রান্তিটি হলো তিনি উপাদানকে একটি বিধেয় হিসেবে গ্রহণ করে পৃথক করেছেন, অথচ তা কেবল বিধেয়ের একটি অংশ মাত্র।

ফিকহ শাস্ত্রীয় মাসআলায় এর উদাহরণ হলো: নাবীজ সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "একটি উত্তম খেজুর এবং পবিত্রকারী পানি (ماء طهور)"। যারা নাবীজ দ্বারা ওযু বৈধ হওয়ার পক্ষে যুক্তি প্রদান করেন তারা একে পৃথক করে ফেলেন এবং বলেন: "নাবীজ হলো পবিত্রকারী পানি (ماء طهور), আর পবিত্রকারী পানি (ماء طهور) দ্বারা ওযু করা যায়, সুতরাং নাবীজ দ্বারা ওযু করা যায়।" এভাবে তিনি একটি সম্মিলিত বিষয়কে পৃথক করেন; অথচ বিশুদ্ধ (صحيح) কথা হলো যে, নাবীজ হলো পানি ও খেজুরের সমষ্টি, আর বিষয়টি আমাদের এই কথার মতো: "কাদা হলো পানি ও মাটির সমষ্টি।"

এগুলোই হলো শব্দগত ভ্রান্তির উৎসসমূহ এবং তা ছয়টি, এর অতিরিক্ত নয়: মূল সত্তার দ্ব্যর্থকতা (اشتراك الجوهر), শব্দকাঠামোর দ্ব্যর্থকতা (اشتراك الصيغة), অনুষঙ্গসমূহের দ্ব্যর্থকতা (اشتراك اللواحق), বিন্যাসের দ্ব্যর্থকতা (اشتراك التأليف), পৃথক বিষয়কে একত্র করা (تركيب المفصل) এবং সম্মিলিত বিষয়কে পৃথক করা (تفصيل المركب)।
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৭৫)
‌‌الباب الثاني: الغلط المعنوي

‌‌القسم الأول: مثارات الغلط من جهة المعنى.

‌‌أولا: مثارات الغلط في التأليف الجزئي.

وأما مثارات الغلط الذي من جهة المعنى، فنقول فيه: إن كان دليل وحجة فهو ذو مادة وصورة.

وأما مادته: فالقريبة القدمات، والبعيدة أجزاؤها وهي الحدود.

وأما صورته: فالتأليف القياسي، فإن سلكنا في هذا التعليم أحد طريقيه - وهو طريق التركيب - فينبغي أن نبدأ أولا بأجزاء القضية، ثم تأليف الأول وهو التأليف الجزئي، ثم بالتأليف الثاني وهو التأليف القياسي فنقول: جزء القضية سواء كان موضوعا أو محمولا لا يخلو: إما أن يكون كثيرا من كل وجه، أو واحدا من وجه، ويندرج في هذا القسم ما هو واحد من كل وجه.

- أما القسم الأول - وهو الكثير من كل وجه -[فهذا لا سبيل معه
দ্বিতীয় অধ্যায়: অর্থগত ভুল (الغلط المعنوي)

প্রথম পরিচ্ছেদ: অর্থগত দিক থেকে ভুলের উৎসসমূহ (مثارات الغلط من جهة المعنى).

প্রথমত: আংশিক বিন্যাসের ক্ষেত্রে ভুলের উৎসসমূহ (مثارات الغلط في التأليف الجزئي).

আর অর্থগত দিক থেকে ভুলের উৎসসমূহের ব্যাপারে আমরা বলি: যদি তা কোনো দলিল (دليل) ও প্রমাণ (حجة) হয়, তবে তা উপাদান (مادة) ও কাঠামো (صورة) বিশিষ্ট হয়।

আর এর উপাদান (مادة) প্রসঙ্গে: নিকটবর্তী উপাদান হলো মুখবন্ধসমূহ (المقدمات), এবং দূরবর্তী উপাদান হলো এর অংশসমূহ অর্থাৎ সংজ্ঞার্থসমূহ (الحدود)।

আর এর কাঠামো (صورة) প্রসঙ্গে: তা হলো যৌক্তিক বিন্যাস (التأليف القياسي)। যদি আমরা এই শিক্ষাদানে এর দুটি পদ্ধতির একটি—অর্থাৎ সংশ্লেষণ পদ্ধতি (طريق التركيب)—অনুসরণ করি, তবে আমাদের উচিত প্রথমে বচনের অংশসমূহ (أجزاء القضية) দিয়ে শুরু করা, তারপর প্রথম বিন্যাস যা আংশিক বিন্যাস (التأليف الجزئي), এরপর দ্বিতীয় বিন্যাস যা যৌক্তিক বিন্যাস (التأليف القياسي)। আমরা বলি: বচনের অংশ—তা উদ্দেশ্য (موضوع) হোক বা বিধেয় (محمول)—তা দুই অবস্থার বাইরে নয়: হয় তা সব দিক থেকে বহু হবে, অথবা কোনো এক দিক থেকে এক হবে; আর যা সব দিক থেকে এক, তা-ও এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয়।

- আর প্রথম প্রকার সম্পর্কে - যা সব দিক থেকে বহু - [এর সাথে কোনো উপায় নেই
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৭৬)
إلى اتحاد القضية، لأنه لابد من النسبة الحكمية بين الجزء الأخير وبين كل واحد من أجزاء الطرف الآخر، فهي ذات نسبتين حكميتين]، والنسبة الحكمية هي الصورة للقضية، فيؤدي إلى أن تكون القضية الواحدة ذات صورتين وهو محال، فإذا أخذت القضية المشتملة على هذا الفرض واحدة، فهو مثار الغلط، ويسمى بجمع المسائل في مسألة واحدة، فقد تصدق إحدى النسبتين وتكذب الأخرى، وقد يكذب في هذا التركيب طرق التقابل.

ومثاله في العقليات قول القائل: المادة والصورة، إما أن يكون في الجسم مبدأ الفعل أو مبدأ الانفعال والتحقيق فيه التفصيل، اعني أن المادة مبدأ الانفعال، والصورة مبدأ الفعل، وقد يكون التعدد من جهة المحمول لقول القائل: الجسم إما أن يفعل وينفعل بمادته، أو لا يفعل وينفعل بمادته، والحق أنه ينفعل ولا يفعل بها.

ومثاله في الفقهيات: قول القائل: الوضوء والتيمم إما أن يرفعا الحدث أو لا يرفعاه، والحق التفصيل، وهو أن الوضوء يرفعه، والتيمم لا يرفعه وكذلك إذا كان التعدد من جهة المحمول كقول القائل: بيع الرجل على بيع أخيه، أو نكاحه على نكاح أخيه أيهما اخذنا مفردًا، إما أن يحل ويصح، او لا يحل ولا يصح والتحقيق التفصيل وهو أنه لا يحل ويصح.

وأما القسم الثاني: أن يكون كل واحد من طرفي القضية متحدا بوجه ما، فإما أن تشتمل القضية الحتملين المستحقين الوضع والحمل أو لا
...বিষয়ের ঐক্যের দিকে, কারণ শেষ অংশ এবং অপর প্রান্তের প্রতিটি অংশের মধ্যে একটি বিধানিক সম্বন্ধ থাকা আবশ্যক। ফলে এটি দুটি বিধানিক সম্বন্ধ বিশিষ্ট হয়]; আর বিধানিক সম্বন্ধ হলো বিষয়ের অবয়ব। এর ফলে একটি বিষয় দুটি অবয়ব বিশিষ্ট হয়ে পড়ে যা অসম্ভব। সুতরাং যখন এই অনুমানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়টিকে এক হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তখন তা ভুলের উদ্রেক করে এবং একে 'একাধিক মাসআলাকে একটি মাসআলায় অন্তর্ভুক্ত করা' বলা হয়। অনেক সময় একটি সম্বন্ধ সত্য এবং অপরটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, এবং এই বিন্যাসে বৈপরীত্যের পদ্ধতিগুলো ভুল হতে পারে।

যৌক্তিক বিষয়ের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো কারও উক্তি: 'উপাদান ও রূপ—দেহে হয় সক্রিয়তার উৎস অথবা প্রতিক্রিয়ার উৎস হবে।' এক্ষেত্রে সঠিক হলো বিস্তারিত বিশ্লেষণ, অর্থাৎ উপাদান হলো প্রতিক্রিয়ার উৎস এবং রূপ হলো সক্রিয়তার উৎস। কখনও কখনও বিধেয়-এর দিক থেকেও সংখ্যাধিক্য হতে পারে; যেমন কারও উক্তি: 'দেহ হয়তো তার উপাদানের মাধ্যমে সক্রিয় ও প্রতিক্রিয়াশীল হয়, অথবা তার উপাদানের মাধ্যমে সক্রিয় ও প্রতিক্রিয়াশীল হয় না।' অথচ সত্য হলো যে, এটি প্রতিক্রিয়াশীল হয় কিন্তু তার মাধ্যমে সক্রিয় হয় না।

ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ: কারও উক্তি: 'অজু ও তায়াম্মুম হয় নাপাকি দূর করবে অথবা করবে না।' অথচ সঠিক হলো বিস্তারিত বিশ্লেষণ, আর তা হলো—অজু নাপাকি দূর করে কিন্তু তায়াম্মুম তা দূর করে না। একইভাবে যখন বিধেয়-এর দিক থেকে সংখ্যাধিক্য ঘটে, যেমন কারও উক্তি: 'অন্যের কেনাবেচার ওপর কেনাবেচা করা অথবা অন্যের বিয়ের প্রস্তাবের ওপর বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া—আমরা এর যে কোনোটিকে পৃথকভাবে গ্রহণ করি না কেন, তা হয় হালাল ও সহিহ (يصح) হবে, অথবা হালাল ও সহিহ (يصح) হবে না।' এক্ষেত্রে সঠিক হলো বিস্তারিত বিশ্লেষণ, আর তা হলো—এটি হালাল নয় কিন্তু সহিহ (يصح)।

আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: বিষয়ের উভয় প্রান্তের প্রতিটি কোনো না কোনোভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। এমতাবস্থায় বিষয়টি কি স্থাপন ও বহন করার যোগ্য দুটি সম্ভাবনাকে অন্তর্ভুক্ত করে নাকি করে না?
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৭৭)
تشتمل، فإن لم تشتمل فلابد أن يكون الجزء المأخوذ بدلا عن الفائت ملابسا للجزء الفائت بوجه من وجود الملابسة، أعني أن تكون عارضا له، أو معروضا أو مقارنا في موضوع، أو محل، أو زمان، أو مكان أو نحو ذلك في الوجوه ليمكن أخذ أحدهما كأنه الآخر، وذلك مثار الغلط، ويسمى أخذ ما بالعرض مكان ما بالذات.

ومثاله في العقليات: قول القائل: الجسم متصل، والمتصل لا تبقي ذاته عند طريان الانفصال فالجسم لا يبقي ذاته عند طريان الانفصال، فيقول: [الآخر: المتصل إنما يحتمل بالذات على الجسم التعليمي الذي هو النوع من الكم.

وأما الجسم الطبيعي الذي هو الجوهر]، فإنما يحمل عليه المتصل بالعرض.

ومثاله في صرف المحمول: قولهم: السقمونيا، مبردة، وإنما هي بالذات مسهلة للصفراء، وعند ذلك يعرض للجسم البرد، فيحمل ذلك على السقمونيا بالعرض.

ومثاله في الفقهيات: قول القائل: نكاح الأمة اختيارًا حرام، لأنه
অন্তর্ভুক্ত থাকে, আর যদি অন্তর্ভুক্ত না থাকে তবে বিলুপ্ত অংশের পরিবর্তে গৃহীত অংশটি অবশ্যই কোনোভাবে বিলুপ্ত অংশের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে হবে, অর্থাৎ এটি তার জন্য কোনো আকস্মিক গুণ (عارض), অথবা গুণের আধার (معروض), অথবা বিষয়, আধার, সময় বা স্থান বা অনুরূপ কোনো দিক থেকে সংশ্লিষ্ট হতে হবে যেন একটিকে অন্যটির স্থলে গ্রহণ করা সম্ভব হয়। আর এটাই হলো ভুলের উৎস, যাকে বলা হয় স্বকীয় বা সারগত বিষয়ের (بالذات) স্থলে আকস্মিক বিষয়কে (بالعرض) গ্রহণ করা।

বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের (العقليات) ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো: কোনো প্রবক্তার এই উক্তি: শরীর অবিচ্ছিন্ন, আর যা অবিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্নতা আপতিত হওয়ার সময় তার সত্তা অবশিষ্ট থাকে না, সুতরাং বিচ্ছিন্নতা আপতিত হওয়ার সময় শরীরের সত্তা অবশিষ্ট থাকে না। তখন [অন্যজন বলবে: অবিচ্ছিন্নতা মূলত সারগতভাবে (بالذات) কেবল সেই শিক্ষাগত শরীরের (الجسم التعليمي) ওপর প্রযোজ্য হয় যা পরিমাণের (الكم) একটি প্রকার।

আর প্রাকৃতিক শরীর (الجسم الطبيعي) যা হলো মূলত সারবস্তু (الجوهر)] , তার ওপর অবিচ্ছিন্ন হওয়া বিষয়টি কেবল আকস্মিকভাবে (بالعرض) প্রযোজ্য হয়।

বিধেয় প্রয়োগের (صرف المحمول) ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো: তাদের এই উক্তি: সাকমুনিয়া শীতলকারক; অথচ এটি মূলত সারগতভাবে (بالذات) পিত্ত নিঃসরণকারী, আর তখন শরীরে শীতলতা আপতিত হয়, ফলে সাকমুনিয়ার ওপর শীতল হওয়ার বিষয়টি আকস্মিকভাবে (بالعرض) প্রয়োগ করা হয়।

ফقهি বিষয়ের (الفقهيات) উদাহরণ হলো: কোনো প্রবক্তার এই উক্তি: স্বেচ্ছায় দাসীকে বিবাহ করা হারাম, কারণ এটি
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৭৮)
سبب في إرقاق الولد، وما يكون سببًا في إرقاق الولد حرام، فنكاح الأمة حرام، فيقول: الخصم: [إنما تحمل] السببية بالذات على إرقاق الأم، فإنها السبب في إرقاق الولد، لكن لما قارنه النكاح حمل عليه بالعرض.

ومثاله من جهة المحمول: قول القائل: الماء مطهر للجسد إذا أصابته النجاسة، فيقول الخصم، إنما الماء مزيل للنجاسة، فإذا زالت النجاسة بماء فالمحل طاهر بالأصالة، فلما قارنت هذه الطهارة المتجددة لإزالة النجاسة حملت على الماء بالعرض.

ومن أمثال الموضوع - أيضا -: قول القائل: الصلاة في الدار المغصوبة معصية، والمعصية لا تقع امتثالا للأمر، وما لا يقع امتثالا للأمر فلا يجزيء عن المأمور به، فيقول المخالف: المعصية ثابتة بالذات للغصب لا للصلاة، لكنها لما اقترنا حملت المعصية عليها بالعرض. هذا كله إذا أخذ في القضية ما لا يستحق الوضع، أو الحمل بدلا عما يستحقه.

 

فأما إن اشتملت القضية على جزئين، فإما أن يشترط فيهما شرط في الوضع أو الحمل أو لا يشترط فإن لم يشترط فلا غلط وإن اشترط وذكر ذلك في القضية فلا غلط من هذا الوجه، وإن لم يذكر فهو مثا الغلط، ويسمى‌‌ الإطلاق في موضع التقييد، فقد يكون من جهة الموضوع، وقد يكون من جهة المحمول. ومثاله من جهة الموضوع في العقليات: قول القائل: كل جسم فيه
সন্তানকে দাসে পরিণত করার কারণ, এবং যা সন্তানকে দাসে পরিণত করার কারণ হয় তা নিষিদ্ধ (حرام), ফলে দাসীকে বিবাহ করাও নিষিদ্ধ (حرام)। এমতাবস্থায় প্রতিপক্ষ (الخصم) বলেন: মূলত দাসত্ব সৃষ্টির কারণটি সরাসরি মায়ের দাসত্বের ওপরই বর্তায়, কেননা সেটিই সন্তানকে দাসে পরিণত করার প্রকৃত কারণ; কিন্তু যখন বিবাহের সাথে এর সংশ্লেষ ঘটে, তখন আনুষঙ্গিকভাবে (بالعرض) বিবাহের ওপর তা আরোপ করা হয়।

বিধেয় বা প্রেডিকেটের (المحمول) দিক থেকে এর উদাহরণ হলো: প্রবক্তার এই উক্তি যে, পানি শরীরের জন্য পবিত্রকারী (مطهر) যখন তাতে অপবিত্রতা (النجاسة) লাগে। তখন প্রতিপক্ষ বলেন, পানি মূলত অপবিত্রতা দূরকারী মাত্র। সুতরাং যখন পানির মাধ্যমে অপবিত্রতা দূর হয়ে যায়, তখন সেই স্থানটি মৌলিকভাবেই পবিত্র (طاهر) থাকে। কিন্তু যখন এই নবসৃষ্ট পবিত্রতা অপবিত্রতা দূরীকরণের সাথে মিলে যায়, তখন তা আনুষঙ্গিকভাবে (بالعرض) পানির ওপর আরোপ করা হয়।

উদ্দেশ্য বা সাবজেক্টের (الموضوع) উদাহরণের মধ্যে এটিও অন্তর্ভুক্ত: প্রবক্তার এই উক্তি যে, জবরদখলকৃত বাড়িতে সালাত আদায় করা একটি গুনাহ বা অবাধ্যতা (معصية), আর গুনাহ বা অবাধ্যতা কখনো আদেশের আনুগত্য (امتثالا للأمر) হিসেবে গণ্য হয় না। আর যা আদেশের আনুগত্য হিসেবে সম্পাদিত হয় না, তা আদিষ্ট বিষয়ের পক্ষ থেকে যথেষ্ট (يجزيء) হয় না। তখন ভিন্নমত পোষণকারী বলেন: গুনাহ বা অবাধ্যতা মূলত জবরদখলের কারণে সাব্যস্ত হয়েছে, সালাতের কারণে নয়। কিন্তু যখন এই দুটি বিষয় একত্রিত হয়েছে, তখন আনুষঙ্গিকভাবে (بالعرض) সালাতের ওপর অবাধ্যতা আরোপ করা হয়েছে। এই সব কিছুই ঘটে তখন, যখন কোনো যুক্তিবাক্যে (القضية) এমন কিছুকে উদ্দেশ্য (الوضع) বা বিধেয় (الحمل) হিসেবে গ্রহণ করা হয় যা আসলে তার উপযুক্ত নয়।

 

আর যদি যুক্তিবাক্যটি (القضية) দুটি অংশ নিয়ে গঠিত হয়, তবে সে দুটির উদ্দেশ্য বা বিধেয় হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শর্ত থাকতে পারে অথবা না-ও থাকতে পারে। যদি কোনো শর্ত না থাকে তবে তাতে কোনো ভুল নেই। আর যদি শর্ত থাকে এবং যুক্তিবাক্যে (القضية) তা উল্লেখ করা হয়, তবে এই দিক থেকে কোনো ভুল হবে না। কিন্তু যদি তা উল্লেখ করা না হয়, তবে সেটি ভুলের উদাহরণ এবং একে নির্দিষ্টকরণের স্থলে নিরঙ্কুশ প্রয়োগ (الإطلاق في موضع التقييد) বলা হয়। এটি কখনো উদ্দেশ্যের (الموضوع) দিক থেকে হতে পারে, আবার কখনো বিধেয়ের (المحمول) দিক থেকে হতে পারে। বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যের (الموضوع) দিক থেকে এর উদাহরণ হলো: প্রবক্তার এই উক্তি যে, প্রতিটি শরীর যাতে...
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৭৯)
ميل طبيعي إلى حيزه الطبيعي، وكل ما فيه ميل طبيعي إلى حيزه الطبيعي فهو متحرك حركة طبيعية أو مقسور عنها، فكل جسم فهو متحرك حركة طبيعية أو مقسور عنها، فيقول: الخصم: الميل الطبيعي إنما يحصل للجسم الخارج عن حيزه الطبيعي، فأما وهو فيه فلا ميل له، فقد أطلقت ما يجب تقييده.

ومثاله في الفقهيات: قول القائل: المديان مالك لنصاب حال عليه الحول، وكل مالك لنصاب حال عليه الحول فعليه زكاة نصابه، فالمديان عليه زكاة نصابه فيقول الخصم: موضوع الكبرى لا يصدق عليه [محمولها إلا] مقيدا بالملك التام، ولذلك لا تجب الزكاة على العبد وإن كان مالكًا [للنصاب، فأنت] قد أطلقت ما يجب تقييده.

ومثاله من جهة المحمول في العقليات: [قول من يرى] أن الإنسان إنما يدرك المعقولات بقوة تتعلق بها لا بانطباع المعقولات في جوهر، وكل إنسان ذو وضع محسوس، وكل ذي محسوس لا يعقل المعقولات المجردة عن الأوضاع، فكل إنسان لا يعقل المعقولات
প্রাকৃতিক অবস্থানের প্রতি স্বাভাবিক প্রবণতা; আর যার মধ্যে তার প্রাকৃতিক অবস্থানের প্রতি স্বাভাবিক ঝোঁক বিদ্যমান, তা হয় স্বাভাবিক গতিতে গতিশীল অথবা তা থেকে বিচ্যুত (বলপ্রয়োগকৃত)। সুতরাং প্রতিটি দেহই হয় স্বাভাবিক গতিতে গতিশীল অথবা তা থেকে বিচ্যুত। এমতাবস্থায় প্রতিপক্ষ বলে: স্বাভাবিক প্রবণতা কেবল তখনই ঘটে যখন বস্তুটি তার প্রাকৃতিক অবস্থানের বাইরে থাকে। কিন্তু যখন তা স্বস্থানে থাকে, তখন তার কোনো প্রবণতা থাকে না। সুতরাং আপনি এমন বিষয়কে সাধারণ (مطلق) হিসেবে ব্যক্ত করেছেন যাকে নির্দিষ্ট (مقيد) করা আবশ্যক ছিল।

ফিকহশাস্ত্রীয় বিষয়ে এর উদাহরণ হলো: কোনো প্রবক্তার বক্তব্য: ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি এমন নিসাবের মালিক যার ওপর এক বছর অতিবাহিত হয়েছে। আর প্রত্যেক নিসাবের মালিক—যার ওপর এক বছর অতিবাহিত হয়েছে—তার ওপর উক্ত নিসাবের জাকাত প্রদান করা আবশ্যক। অতএব, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ওপর তার নিসাবের জাকাত ওয়াজিব। তখন প্রতিপক্ষ বলে: প্রধান প্রতিজ্ঞার বিষয়বস্তু তার বিধেয়ের ওপর কেবল তখনই সত্য হবে যখন তা পূর্ণ মালিকানার শর্তে নির্দিষ্ট (مقيد) থাকবে। এই কারণেই দাসের ওপর জাকাত ওয়াজিব হয় না, যদিও সে নিসাবের মালিক হয়; সুতরাং আপনি এমন বিষয়কে সাধারণ (مطلق) হিসেবে ব্যক্ত করেছেন যাকে নির্দিষ্ট (مقيد) করা আবশ্যক ছিল।

বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে বিধেয়ের দিক থেকে উদাহরণ হলো: [এমন ব্যক্তির মত যে মনে করে] মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ কেবল এমন এক শক্তির মাধ্যমে উপলব্ধি করে যা তার সাথে সংশ্লিষ্ট, সারবস্তুর মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহের ছাপ পড়ার মাধ্যমে নয়। আর প্রত্যেক মানুষই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কাঠামোর অধিকারী। আর প্রতিটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কাঠামোর অধিকারী সত্তা অবস্থান-বিমুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ অনুধাবন করতে পারে না। অতএব, কোনো মানুষই বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ অনুধাবন করতে পারে না।
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৮০)
المجردة عن الأوضاع، فيقول: الخصم: أنت قد أطلقت المحمول، وإنما الصادق أن كل ذي وضع لا يقبل المعقولات من حيث هو ذو وضع، ولا يلزم من ذلك ألا يقبلها مطلقا، فالإنسان من جهة مادته ذو وضع لا يقبل المعقولات من جهة جسميته ومادته، ولا يلزم ألا يقبلها من حيث صورته وهي النفس الناطقة التي لا وضع لها.

ومثاله في الفقهيات: قول من يرى الصلاة على جلد الميتة المدبوغ طاهر، وكل طاهر تجوز الصلاة عليه، فجلد الميتة تجوز الصلاة عليه.

فيقول الخصم: أنت قد أطلقت ما يجب تقييده، وهو أن جلد الميتة طاهر طهارة مقيدة باستعماله في اليابسات، والماء وحده لا مطلقا.

فإن كانت القضية مشتملة على الجزئين المستحقين للوضع والحمل بشرطهما فلا غلط يلحقه من جهة أجزاء القضية، لكن إما أن تكون هيئة القضية مأخوذة كما يجب أعني أن يكون ما يستحق الوضع موضوعا، وما يستحق الحمل محمولا أو لا تكون الهيئة مأخوذة كما يجب، وذلك بأن يعكس الترتيب في التركيب، فإن كان الأول فلا غلط من جهة
অবস্থান থেকে মুক্ত, সুতরাং প্রতিপক্ষ বলে: আপনি বিধেয়কে (المحمول) শর্তহীন বা সাধারণ রেখেছেন। বরং সত্য হলো এই যে, প্রতিটি অবস্থানবিশিষ্ট (ذو وضع) সত্তা তার অবস্থানগত দিক থেকে বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয়সমূহকে (المعقولات) গ্রহণ করে না। এর দ্বারা এটা আবশ্যক হয় না যে, সে এগুলোকে নিরঙ্কুশভাবে (مطلقا) গ্রহণ করবে না। মানুষ তার জড় পদার্থের দিক থেকে অবস্থানবিশিষ্ট, তাই সে তার দৈহিক ও জড় সত্তার দিক থেকে বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয়সমূহকে গ্রহণ করে না। তবে এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে, সে এগুলোকে তার রূপের দিক থেকে গ্রহণ করবে না, আর তা হলো বাকশক্তি সম্পন্ন আত্মা (النفس الناطقة) যার কোনো ভৌগোলিক বা দৈহিক অবস্থান নেই।

ফিকহশাস্ত্রীয় বিষয়ে এর উদাহরণ হলো: ওই ব্যক্তির বক্তব্য যে মনে করে মৃত পশুর প্রক্রিয়াজাত চামড়া পবিত্র (طاهر), আর প্রত্যেক পবিত্র (طاهر) বস্তুর ওপর নামাজ পড়া জায়েজ (تجوز); সুতরাং মৃত পশুর চামড়ার ওপর নামাজ পড়া জায়েজ।

তখন প্রতিপক্ষ বলে: আপনি এমন বিষয়কে সাধারণ বা নিরঙ্কুশ করেছেন যাকে নির্দিষ্ট করা (تقييده) আবশ্যক ছিল। আর তা হলো, মৃত পশুর চামড়া পবিত্র হওয়ার বিষয়টি শুকনো জিনিসের ব্যবহার ও কেবল পানির ব্যবহারের সাথে নির্দিষ্ট বা শর্তযুক্ত (مقيدة), এটি সাধারণ (مطلقا) নয়।

যদি বচনটি (القضية) তার শর্তানুযায়ী উদ্দেশ্য (الوضع) ও বিধেয় (الحمل) হওয়ার যোগ্য দুটি অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে বচনের (القضية) অংশসমূহের দিক থেকে কোনো ভুল তাতে প্রকাশ পাবে না। তবে হয় বচনটির কাঠামো যথাযথভাবে গৃহীত হবে—অর্থাৎ যা উদ্দেশ্য হওয়ার যোগ্য তা উদ্দেশ্য (موضوعا) হিসেবে থাকবে এবং যা বিধেয় হওয়ার যোগ্য তা বিধেয় (محمولا) হিসেবে থাকবে—অথবা কাঠামোটি যথাযথভাবে গৃহীত হবে না, আর তা হলো বিন্যাসে ক্রম পরিবর্তন করার মাধ্যমে। যদি প্রথমটি হয়, তবে সেক্ষেত্রে কোনো ভুল নেই...
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৮১)
القضية، وإن كان الثاني هو مثار الغلط، ويسمى {إيهام العكس} وأخذ اللازم وأخذ اللاحق.

ومثاله في العقليات: قول من يرى أن هيولا الجسم هي مكانة، فإن الهيولا قابل لتعاقب الأجسام عليه، وكل قابل لتعاقب الأجسام عليه فهو مكان، فالهيولا مكان، والغلط في الكبرى فإن الحق العكس، وهو أن المكان قابل لتعاقب الأجسام عليه، وذلك لا ينعكس كليا.

ومثاله في الفقهيات: قول من يرى أن العارية في ضمان المستعير مطلقا، إن المستعير له الخراج في زمن العارية وكل من له الخراج فعليه الضمان لقوله صلى الله عليه وسلم: الخراج بالضمان، فينتج أن المستعير عليه الضمان.

فيقول الخصم: الصحيح الذي يقتضيه الحديث أن من عليه الضمان فله الخراج، وهي قضية كلية موجبة لا تنعكس على نفسها.

فإن كانت القضية مشتملة على الجزئين كما يجب، وعلى الهيئة كما يجب، نظرنا بالنسبة الحكمية، فإن كانت مأخوذة كما يجب كيفا وجهة،
বিষয়টি হলো, যদিও দ্বিতীয়টি ভুলের উৎস, যাকে বলা হয় {বিপরীতের বিভ্রম (إيهام العكس)}, আবশ্যিক বিষয় গ্রহণ (أخذ اللازم) এবং অনুগামী বিষয় গ্রহণ (أخذ اللاحق)।

বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের (العقليات) ক্ষেত্রে এর উদাহরণ: যারা মনে করেন দেহের আদি উপাদান (هيولا) হলো তার স্থান (مكان), কারণ আদি উপাদান (هيولا) দেহের পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের (تعاقব الأجسام) ক্ষেত্র হয়ে থাকে। আর যা-ই দেহের পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের ক্ষেত্র হয়, তা-ই স্থান। সুতরাং আদি উপাদান হলো স্থান। এখানে ভুলটি ঘটেছে প্রধান যুক্তিবাক্যে (الكبرى), কারণ প্রকৃত সত্য হলো এর বিপরীত; অর্থাৎ স্থান হলো দেহের পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের ক্ষেত্র, আর এটি সার্বিকভাবে বিপরীতযোগ্য নয় (لا ينعكس كليا)।

ফিকহশাস্ত্রীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ: যারা মনে করেন ধার করা বস্তু (العارية) নিঃশর্তভাবে ঋণগ্রহীতার (المستعير) জিম্মায় থাকবে, তাদের যুক্তি হলো ঋণগ্রহীতা ধার করার সময়কালে তার সুফল (الخراج) ভোগ করে। আর যার জন্য সুফল (الخراج) নির্ধারিত, তার ওপরই জিম্মাদারি (الضمان) বর্তায়; কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "সুফল লাভের অধিকার জিম্মাদারির (الضمان) বিনিময়ে"। এর ফলে এই সিদ্ধান্ত আসে যে, ঋণগ্রহীতার ওপর জিম্মাদারি (الضمان) বর্তাবে।

তখন প্রতিপক্ষ বলেন: হাদিসের দাবি অনুযায়ী সঠিক বিষয়টি হলো, যার ওপর জিম্মাদারি (الضمان) বর্তায়, সেই সুফল (الخراج) প্রাপ্ত হয়। এটি একটি সার্বিক ইতিবাচক প্রতিজ্ঞা (قضية كلية موجبة), যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিপরীতমুখী হয় না।

যদি প্রতিজ্ঞাটি (القضية) যথাযথভাবে উভয় অংশ এবং সঠিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়, তবে আমরা বিচারিক সম্পর্কের (النسبة الحكمية) দিকে লক্ষ্য করব; যদি তা গুণ (كيفا) ও প্রকৃতি (جهة) অনুযায়ী যথাযথভাবে গৃহীত হয়,
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৮২)
فلا غلط في القضية، وإن لم توجد كما يجب فهو مثار الغلط، ويسمى {سوء اعتبار الحمل}، ويقال له أيضًا: إعقال توابع الحمل.

ومثاله: قول القائل: لو كان الجسم منقسمًا إلى ما لا نهاية له، لكان مركبًا مما لا نهاية له، والتالي باطل، فالمقدم مثله.

فيقول الخصم، إنما تصح الملازمة إذا كان المقدم قضية فعلية، والصحيح فيها الإمكان لا الفعل.

ومثاله في الفقهيات: قول القائل: نكاح الأمة مرق للولد، وكل مرق للولد حرام، فنكاح الأمة حرام.

فيقول الخصم: الصغرى ممكنة لا مطلقة، فالموضوع في الكبرى إن أخذ ممكنا منعناها، وإن أخذ بالفعل لم يتحد الوسط ولو سلم إنتاجه، فالنتيجة ممكنة، وذلك لا ننكره.

ومثاله أيضا: نكاح المريض مبطل حق الورثة، وكل ما هو مبطل لحق الورثة ممنوع، فنكاح المريض ممنوع.

فيقول المخالف - كما تقدم -.

فهذه جملة مثارات الغلط في القضية الواحدة، وهو التأليف الجزئي وهو التأليف الأول في القياس.

 

‌‌ثانيا: مثارات الغلط في التأليف القياسي.
সুতরাং বিষয়টি নির্ভুল, আর যদি তা যথাযথভাবে বিদ্যমান না থাকে তবে তা ভুলের কারণ হিসেবে গণ্য হয়, এবং একে 'প্রেডিকেটের ভুল বিবেচনা' (سوء اعتبار الحمل) বলা হয়। একে 'প্রেডিকেটের অনুগামী বিষয়গুলোকে অবরুদ্ধ করা' (إعقال توابع الحمل)-ও বলা হয়ে থাকে।

এর উদাহরণ হলো যেমন কোনো বক্তার উক্তি: যদি কোনো বস্তু অসীম পর্যন্ত বিভাজ্য হতো, তবে তা অসীম উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হতো। কিন্তু পরবর্তী অংশটি (التالي) অসার (باطل), সুতরাং পূর্ববর্তী অংশটিও (المقدم) তদ্রূপ।

তখন প্রতিপক্ষ বলে, এই অপরিহার্যতা (الملازمة) তখনই সঠিক হবে যখন পূর্ববর্তী অংশটি (المقدم) একটি বাস্তব প্রস্তাবনা (قضية فعلية) হবে। অথচ এক্ষেত্রে সঠিক বিষয় হলো সম্ভাবনা (الإمكان), বাস্তবতা (الفعل) নয়।

ফিকহ শাস্ত্রের বিষয়গুলোতে এর উদাহরণ হলো কারো এই উক্তি: দাসীকে বিবাহ করা সন্তানের দাসত্বের কারণ, আর যা কিছুই সন্তানের দাসত্বের কারণ হয় তা নিষিদ্ধ (حرام), সুতরাং দাসীকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ (حرام)।

তখন প্রতিপক্ষ বলে: ক্ষুদ্রতর হেতুবাক্যটি (الصغرى) সম্ভাব্য (ممكنة), নিরঙ্কুশ (مطلقة) নয়। সুতরাং বৃহত্তর হেতুবাক্যের (الكبرى) উদ্দেশ্যটি (الموضوع) যদি সম্ভাব্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় তবে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করব। আর যদি বাস্তব হিসেবে গ্রহণ করা হয় তবে মধ্যপদটি (الوسط) অভিন্ন থাকবে না, এমনকি যদি এর ফলাফল প্রদান মেনেও নেওয়া হয়, তবুও সিদ্ধান্তটি (النتيجة) হবে কেবল সম্ভাব্য (ممكنة), যা আমরা অস্বীকার করি না।

এর আরও একটি উদাহরণ হলো: অসুস্থ ব্যক্তির বিবাহ উত্তরাধিকারীদের অধিকার ক্ষুণ্নকারী, আর যা কিছুই উত্তরাধিকারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে তা নিষিদ্ধ (ممنوع), সুতরাং অসুস্থ ব্যক্তির বিবাহ নিষিদ্ধ (ممنوع)।

তখন ভিন্নমত পোষণকারী ব্যক্তি অনুরূপ যুক্তি প্রদান করেন—যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

এগুলো হলো একক প্রস্তাবনার (القضية) ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার কারণসমূহের সমষ্টি, যা একটি আংশিক বিন্যাস এবং এটি অনুমান বা কিয়াসের (القياس) ক্ষেত্রে প্রথম বিন্যাস।

 

‌দ্বিতীয়ত: কিয়াসি বা অনুমানলব্ধ বিন্যাসের (التأليف القياسي) ক্ষেত্রে ভুলের কারণসমূহ।
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৮৩)
وأما التأليف الثاني: وهو التأليف القياسي، فإما أن تكون صورته صورة استقامة أو صورة خلف، فإن كانت صورة استقامة فيسمى القياس المستقيم، فإما أن يكون بنه وبين المطرب اتصال علمي، أعني أن يكون بحيث يستلزم من وضع مقدمات المطلوب]، أو لا يكون بينهما اتصال علميي، فإن لم يكن فهو مثال الغلط، ويسمى‌‌ وضع ما ليس بعلة علة. وذلك يشتمل قسمين:

أحدهما: ألا يكون التأليف منتجا، وذلك احتمال شرط من شروط الإنتاج، ومثاله في العقليات: قول القائل: المكان تتعاقب عليه الأجسام، والهيولا يتعاقب عليه الأجسام، فالمكان هيولا فإن هذا من الشكل الثاني من موجبتين، قد علم أن من شرط إنتاجه اختلاف المقدمتين في الكيف.

ومثاله في الفقهيات: قول القائل: الوتر يصلي على الراحلة، والنفل يصلي على الراحلة، فالوتر نفل، فإن كانت المقدمات كاذبة مع فساد الصورة فيسمى عندهم القياس الوخيم.

 

‌‌القسم الثاني: أن يكون التأليف منتجا، لأنه ينتج غير المطلوب.

ومثاله في العقليات: قول برمنيدس، كل ما سوى الوجود فهو لا
আর দ্বিতীয় বিন্যাসটি হলো: যৌক্তিক অনুমান ভিত্তিক বিন্যাস (التأليف القياسي), এর গঠন হয় সরাসরি হতে পারে অথবা বিপরীত হতে পারে। যদি এর গঠন সরাসরি হয় তবে তাকে সরল অনুমান (القياس المستقيم) বলা হয়। অতঃপর এর এবং উদ্দিষ্ট বিষয়ের মাঝে হয় জ্ঞানতাত্ত্বিক যোগসূত্র থাকবে—অর্থাৎ এমন হবে যা উদ্দিষ্ট বিষয়ের প্রস্তাবনাগুলো (مقدمات) উপস্থাপনের মাধ্যমেই ফলাফলকে অনিবার্য করে তোলে—অথবা তাদের মধ্যে কোনো জ্ঞানতাত্ত্বিক যোগসূত্র থাকবে না। যদি কোনো যোগসূত্র না থাকে তবে সেটি হবে ভ্রান্তির উদাহরণ, এবং একে বলা হয়: যা কারণ (علة) নয় তাকে কারণ (علة) হিসেবে সাব্যস্ত করা। এটি দুটি প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথমটি: বিন্যাসটি ফলাফলদায়ক (منتجا) না হওয়া, আর এটি ফলাফল লাভের শর্তাবলীর (شروط الإنتاج) মধ্য হতে কোনো একটি শর্তের অনুপস্থিতির সম্ভাবনা রাখে। বুদ্ধিভিত্তিক বিষয়ে এর উদাহরণ হলো: কোনো বক্তার এই কথা: "স্থান এমন কিছু যার ওপর বস্তুসমূহ পর্যায়ক্রমে আসে, এবং হায়ুলা (الهيولا) এমন কিছু যার ওপর বস্তুসমূহ পর্যায়ক্রমে আসে, সুতরাং স্থানই হলো হায়ুলা।" এটি মূলত দুটি ইতিবাচক প্রস্তাবনা দ্বারা গঠিত দ্বিতীয় রূপ (الشكل الثاني), অথচ এটি জানা কথা যে, এর ফলাফল প্রদানের শর্ত হলো গুণগত দিক থেকে প্রস্তাবনা (المقدمتين) দুটির মধ্যে ভিন্নতা থাকা।

ফিকহশাস্ত্রীয় বিষয়ে এর উদাহরণ হলো: কোনো বক্তার কথা: "বিতর সালাত সওয়ারির ওপর আদায় করা হয়, এবং নফল সালাত সওয়ারির ওপর আদায় করা হয়, সুতরাং বিতর হলো নফল।" আর যদি প্রস্তাবনাগুলো (المقدمات) মিথ্যা হওয়ার সাথে সাথে এর গঠনও ত্রুটিপূর্ণ হয়, তবে তাদের নিকট একে ক্ষতিকর অনুমান (القياس الوخيم) বলা হয়।

 

‌‌দ্বিতীয় প্রকার: বিন্যাসটি ফলাফলদায়ক (منتجا) হওয়া, কারণ এটি উদ্দিষ্ট বিষয়ের বাইরের কোনো ফলাফল প্রদান করে।

বুদ্ধিভিত্তিক বিষয়ে এর উদাহরণ হলো: পারমেনাইডসের উক্তি, "অস্তিত্ব ব্যতীত যা কিছু আছে তা অস্তিত্বহীন (না)।"
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৮৪)
موجود، وما هو لا موجود فليس بشيء، فالموجود واحد، فإن هذا إنما ينتج: إنما سوى الموجود فليس بشيء، لأن الموجود واحد.

ومثاله في الفقهيات: قول القائل: النكاح أو البيع وقت النداء إلى الجمعة فاسد، لأنه شاغل عن الجمعة، وكل شاغل عن الجمعة فهو حرام، فالبيع أو النكاح فاسد.

فيقول الخصم: هذا منتج: إنه حرام لا أنه فاسد، وكونه حرامًا، ليس هو كونه فاسدًا ولا يستلزمه، ألا ترى أن بيع المصراة حرام، وإن وقع صح، ولذلك جعل النبي صلى الله عليه وسلم الخيار فيه للمبتاع ولم يفسخه، فقد أنتج الدليل غير المطلوب.

وأما إن كان بين التأليف والمطلوب اتصال علمي، فإما أن تكون المقدمات أعرف من المطلوب أو لا تكون.

 

فإن كان الأول فلا خلل ولا غلط، وإن كان الثاني هو مثار الغلط، ويسمى‌‌ المصادرة على المطلوب الأول، وهي ثلاثة أنواع:

‌‌النوع الأول: أن يؤخذ المطلوب بعينه مقدمة في الدليل.
অস্তিত্বশীল (موجود), আর যা অস্তিত্বশীল নয় তা কোনো কিছুই নয়, সুতরাং অস্তিত্বশীল (موجود) এক। এটি কেবল এই সিদ্ধান্তই দেয় যে: অস্তিত্বশীল (موجود) ব্যতীত যা আছে তা কিছুই নয়, কারণ অস্তিত্বশীল (موجود) এক।

ফিকহশাস্ত্রীয় মাসআলায় এর উদাহরণ হলো: কোনো বক্তার উক্তি যে—জুমার আজানের সময় নিকাহ বা ক্রয়-বিক্রয় বাতিল (فاسد), কারণ তা জুমার সালাত থেকে বিমুখকারী; আর জুমার সালাত থেকে বিমুখকারী প্রতিটি বিষয়ই নিষিদ্ধ (حرام), সুতরাং ক্রয়-বিক্রয় বা নিকাহ বাতিল (فاسد)।

তখন প্রতিপক্ষ বলে: এটি এই ফলাফল প্রদান করে যে বিষয়টি নিষিদ্ধ (حرام), এটি যে বাতিল (فاسد) তা প্রমাণ করে না। আর কোনো বিষয় নিষিদ্ধ (حرام) হওয়া মানেই তা বাতিল (فاسد) হওয়া নয় এবং তা বাতিল হওয়াকে আবশ্যকও করে না। আপনি কি দেখেন না যে, পশুর ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা অবস্থায় বিক্রয় (বায়উল মুসাররাহ) নিষিদ্ধ (حرام), কিন্তু তা সংঘটিত হলে সহিহ (صح) বা বৈধ হয়ে যায়; এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে ক্রেতার জন্য নির্বাচনের অধিকার (خيار) সাব্যস্ত করেছেন এবং একে বাতিল বা অকার্যকর করে দেননি। ফলে দলিলটি কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের বাইরে ভিন্ন ফলাফল প্রদান করেছে।

আর যদি যুক্তিকাঠামো ও কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের মধ্যে জ্ঞানতাত্ত্বিক যোগসূত্র থাকে, তবে হয় প্রাঙ্গণসমূহ (المقدمات) কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের চেয়ে অধিক স্পষ্ট হবে, নতুবা হবে না।

 

যদি প্রথমটি হয় তবে তাতে কোনো বিচ্যুতি বা ভুল নেই। আর যদি দ্বিতীয়টি হয় তবে সেটিই ভুলের উৎস, যাকে ‌‌মূল দাবির পুনরুক্তি (المصادرة على المطلوب الأول) বলা হয়; আর এটি তিন প্রকার:

‌‌প্রথম প্রকার: স্বয়ং কাঙ্ক্ষিত বিষয়টিকে দলিলের মধ্যে ভূমিকা (مقدمة) হিসেবে গ্রহণ করা।
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৮৫)
ومثاله في العقليات: قول القائل: العلم لا يحد لأنه ضروري [فإنه لا يحد بنفسه لاستحالة ذلك، ولا بغيره لأن غير العلم لا يعرف إلا بالعلم] فهذا أخذ المطلوب مقدمة دليله بعينه.

ومثاله في الفقهيات: قول القائل: المكره لا يلزمه الطلاق، لأن المكره مغلق عليه، والمغلق عليه لا يلزمه الطلاق، فالمكره لا يلزمه الطلاق.

أما الصغرى فلأن الإكراه، والإغلاق لفظان مترادفان عند أرباب اللغة، وأما الكبرى فلقوله صلى الله عليه وسلم: لا طلاق في إغلاق.

فيقول الخصم: الكبرى التي أخذتها في هذا القياس هي عين المطلوب.

ومن ذلك قول القائل في بيان أن النوم حدث يوجب الوضوء، قال الله تعالى: {إذا قمتم إلى الصلاة فاغسلوا} الاية، ومن المعلوم أن الاية لا تؤخذ بظاهرها وإلا لزم الوضوء كل قائم متطهرا أو غير متطهر، فإذا لابد من إضمار في الاية، فإما إن تضمر من الأحداث ما ذكر في
যৌক্তিক বিষয়ের উদাহরণ: কোনো বক্তার উক্তি: জ্ঞানকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না কারণ তা স্বতঃসিদ্ধ (ضروري) [কেননা তা নিজের দ্বারা সংজ্ঞায়িত হওয়া অসম্ভব বলে তা সংজ্ঞায়িত হয় না, আর অন্য কিছুর দ্বারাও নয় কারণ জ্ঞান ব্যতীত অন্য কিছু জ্ঞান দ্বারাই পরিচিত হয়]। সুতরাং এটি দাবিকৃত বিষয়টিকেই প্রমাণের ভূমিকা হিসেবে গ্রহণ করার নামান্তর।

ফিকহী বিষয়ের উদাহরণ: কোনো বক্তার উক্তি: বাধ্যকৃত ব্যক্তির (المكره) তালাক কার্যকর হয় না, কারণ বাধ্যকৃত ব্যক্তি অবরুদ্ধ (مغلق عليه), আর অবরুদ্ধ ব্যক্তির তালাক কার্যকর হয় না, সুতরাং বাধ্যকৃত ব্যক্তির তালাক কার্যকর হবে না।

ক্ষুদ্রতর বাক্য (الصغرى) সম্পর্কে যুক্তি হলো—ভাষাবিদদের নিকট জবরদস্তি (الإكراه) এবং অবরুদ্ধকরণ (الإغلاق) শব্দ দুটি সমার্থক (مترادفان)। আর বৃহত্তর বাক্য (الكبرى) সম্পর্কে যুক্তি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "অবরুদ্ধ অবস্থায় কোনো তালাক নেই।"

তখন প্রতিপক্ষ বলে: এই কিয়াসে (قياس) আপনি যে বৃহত্তর বাক্যটি (الكبرى) গ্রহণ করেছেন, তা মূলত মূল দাবিকৃত বিষয়টিই।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো ঘুম যে ওজু আবশ্যককারী একটি অপবিত্রতা (حدث) তা বর্ণনায় কোনো বক্তার উক্তি। মহান আল্লাহ বলেন: {যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন ধৌত করো...} আয়াত। এটি সুবিদিত যে, আয়াতটি তার বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) অনুযায়ী গ্রহণ করা যায় না, অন্যথায় প্রত্যেক দণ্ডায়মান ব্যক্তির জন্যই ওজু আবশ্যক হয়ে যেত, সে পবিত্র থাকুক বা অপবিত্র। সুতরাং আয়াতে অবশ্যই কোনো কিছু উহ্য (إضمار) রাখতে হবে। ফলে বর্ণিত অপবিত্রতাসমূহের (الأحداث) মধ্য থেকে হয় এমন কিছু উহ্য ধরতে হবে যা...
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৮৬)
الآية، أو لم يذكر، ومن المعلوم أنه لا يصح إضمار ما ذكر لما يلزم في ذلك من التكرار، فتعين أن المضمر ما لم يذكر، ولم يبق مما لم يذكر إلا النوم، فكأنه قال: إذا قمتم من النوم، فدل أن النوم حدث يوجب الوضوء.

فيقول الخصم: إنما يتعين إضمار النوم بعد تسليم أنه حدث، فهذه مصادرة.

 

‌‌النوع الثاني: أن يكون المطلوب مساويًا لمقدمة الدليل في الخفاء والمعرفة كأخذ أحد المتضايفين في بيان الآخر.

ومثاله في العقليات: قول القائل: الشمس فوق الزهرة في وضع الأفلاك وهيئتها، والدليل على ذلك: أن الزهرة كاسفة للشمس، والكاسف تحت المكسوف، فالزهرة تحت الشمس، وكلما كانت الزهرة تحت الشمس، كانت الشمس فوقها، والشمس فوق الزهرة

فيقول الخصم: هذه مصادرة، فإن كون الزهرة تحت الشمس، وكون الشمس فوقها، قضيتان متساويتان في الخفاء.

ومثاله في الفقهيات: قول القائل: النكاح أفضل من التخلي لنوافل العبادات، لأنه كلما كانت مصالح التخلي قاصرة عن مصالح النكاح كان التخلي دون النكاح، لكن المقدم حق [فالثاني حق]، ثم نقول: كلما كان التخلي دون النكاح كان النكاح فوق التخلي، لكن المقدم حق،
আয়াতটি, অথবা এটি উল্লেখিত হয়নি। এটা সুবিদিত যে, যা উল্লেখ করা হয়েছে তাকে উহ্য (إضمار) রাখা সঠিক নয়, কারণ এতে পুনরাবৃত্তি আবশ্যক হয়। সুতরাং যা উল্লেখ করা হয়নি তাকেই উহ্য (إضمار) ধরা নির্ধারিত হলো। আর অনুল্লিখিত বিষয়গুলোর মধ্যে কেবল ঘুমই অবশিষ্ট থাকে। ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যেন তিনি বলেছেন: "যখন তোমরা ঘুম থেকে উঠবে"। এতে প্রমাণিত হয় যে, ঘুম একটি অপবিত্রতা (حدث) যা অজু ওয়াজিব করে।

তখন প্রতিপক্ষ বলে: ঘুমকে উহ্য (إضمار) হিসেবে সাব্যস্ত করা কেবল তখনই সম্ভব যখন একে অপবিত্রতা (حدث) হিসেবে মেনে নেওয়া হয়; আর এটি একটি চক্রক যুক্তি (مصادرة)।

 

‌‌দ্বিতীয় প্রকার: কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি অস্পষ্টতা ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রমাণের ভূমিকার সমান হওয়া, যেমন একে অপরের পরিপূরক বা আপেক্ষিক বিষয়দ্বয়ের একটিকে অন্যটির ব্যাখ্যায় গ্রহণ করা।

বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে এর উদাহরণ হলো: কোনো বক্তার উক্তি: নক্ষত্ররাজির অবস্থান ও বিন্যাসে সূর্য শুক্র গ্রহের উপরে অবস্থিত। এর দলিল হলো: শুক্র সূর্যের গ্রহণ ঘটায়, আর গ্রহণকারী (আড়ালকারী) সর্বদা গ্রহণকৃত বস্তুর নিচে থাকে। সুতরাং শুক্র সূর্যের নিচে। আর যখনই শুক্র সূর্যের নিচে হবে, সূর্য তার উপরে হবে; অতএব সূর্য শুক্রের উপরে।

তখন প্রতিপক্ষ বলবে: এটি একটি চক্রক যুক্তি (مصادرة), কারণ শুক্র সূর্যের নিচে হওয়া এবং সূর্য তার উপরে হওয়া—এই উভয় প্রস্তাবনাই অস্পষ্টতার দিক থেকে সমান।

ফিকহ সংক্রান্ত বিষয়ে এর উদাহরণ হলো: কোনো বক্তার উক্তি: নফল ইবাদতের জন্য নির্জনতা অবলম্বনের চেয়ে বিবাহ অধিক উত্তম। কারণ যখনই নির্জনতা অবলম্বনের কল্যাণসমূহ বিবাহের কল্যাণের চেয়ে কম হবে, তখন নির্জনতা অবলম্বন বিবাহের চেয়ে নিম্নতর সাব্যস্ত হবে; আর যেহেতু প্রথম বিষয়টি সত্য [তাই দ্বিতীয়টিও সত্য]। অতঃপর আমরা বলি: যখনই নির্জনতা অবলম্বন বিবাহের চেয়ে নিম্নতর হবে, তখন বিবাহ নির্জনতা অবলম্বনের চেয়ে উচ্চতর হবে; আর যেহেতু প্রথম বিষয়টি সত্য।
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৮৭)
فالثاني حق، ومن المعلوم ان كون التخلي دون النكاح، وكون النكاح فوق التخلي سيان في الخفاء والظهور.

 

‌‌النوع الثالث: أن يكون المطلوب، أخفي من المقدمة المذكورة في الدليل.

ومثاله: في العقليات قول القائل: لو كان الجسم مؤلفا من أجزاء لا تتجزأ لكانت مسافة الحركة مؤلفة منها، فكان الزمان المساوي للحركة مؤلفا من أنات بالفعل فيلزم تتالي الأنات وتتالي الأنات محال.

فيقول الخصم: إنما يستحيل تتالي الأنات، ويعرف ذلك باستحالة تألف الجسم من أجزاء لا تتجزأ، فاستحالة الأنات أخفي من المطلوب.

ومثاهل في الفهيات: قول القائل: لو صح نكاح الخيار لما فسخ إذا وقع، لكنه يفسخ إذا وقع فهو ليس بصحيح.

فيقول الخصم: إنما يعلم أنه يفسخ بعد العلم بعدم صحته، فكيف يؤخذ في بيانه.

ومنه قوله في المدونة في نكاح الخيار: إنه لا يصح، لأنهما لو ماتا لم يتوارثا.

ومما ينبغي أن يتفطن له في هذا الباب، أن يكون النص قد وجد في أحد المتضائفين، ويكون المطلوب قد ترجح بالمضائف الآخر، فيذكر
দ্বিতীয়টি সত্য, এবং এটি সুবিদিত যে, বিবাহ বর্জন (التخلي) বিবাহের চেয়ে নিম্নতর হওয়া এবং বিবাহ বিবাহ বর্জনের চেয়ে ঊর্ধ্বে হওয়া অস্পষ্টতা ও স্পষ্টতার দিক থেকে সমান।

 

‌‌তৃতীয় প্রকার: উদ্দিষ্ট বিষয়টি (المطلوب) দলিলে উল্লিখিত ভূমিকা (المقدمة) অপেক্ষা অধিক অস্পষ্ট হওয়া.

বুদ্ধিবৃত্তিক (العقليات) বিষয়ের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো কোনো বক্তার উক্তি: যদি দেহ অবিভাজ্য অংশ দ্বারা গঠিত হতো, তবে গতির দূরত্বও তা দিয়েই গঠিত হতো। ফলে গতির সমান্তরাল সময়ও প্রকৃতপক্ষে অনেকগুলো মুহূর্তের (أنات) সমষ্টি হতো, যার অনিবার্য পরিণতি হলো মুহূর্তগুলোর পর্যায়ক্রমিক ধারাবাহিকতা, আর মুহূর্তগুলোর পর্যায়ক্রমিক ধারাবাহিকতা অসম্ভব (محال)।

তখন প্রতিপক্ষ বলে: মুহূর্তগুলোর ধারাবাহিকতা তো অসম্ভব (محال), আর তা জানা যায় অবিভাজ্য অংশ দ্বারা দেহ গঠিত হওয়া অসম্ভব হওয়ার মাধ্যমে। সুতরাং মুহূর্তগুলোর অসম্ভবতা উদ্দিষ্ট বিষয়ের (المطلوب) চেয়েও অধিক অস্পষ্ট।

ফিকহী (الفقهيات) মাসআলার ক্ষেত্রে এর উদাহরণ: কোনো বক্তার উক্তি: যদি এখতিয়ারযুক্ত বিবাহ (نكاح الخيار) সহিহ (صحيহ) হতো, তবে তা সম্পন্ন হওয়ার পর বাতিল (فسخ) হতো না। কিন্তু এটি সম্পন্ন হওয়ার পর বাতিল (فسخ) হয়ে যায়, তাই এটি সহিহ (صحيহ) নয়।

তখন প্রতিপক্ষ বলে: এটি বাতিল (فسخ) হওয়ার বিষয়টি তো এর সহিহ (صحيহ) না হওয়া সম্পর্কে জানার মাধ্যমেই জানা যায়, সুতরাং একে প্রমাণের ভিত্তি হিসেবে কীভাবে গ্রহণ করা যায়?

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আল-মুদাওওয়ানাহ গ্রন্থে এখতিয়ারযুক্ত বিবাহ (نكاح الخيار) সম্পর্কে তার উক্তি: এটি সহিহ (صحيহ) নয়, কারণ তারা উভয়ই মারা গেলে একে অপরের উত্তরাধিকারী হবে না।

এই অধ্যায়ে যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখা উচিত তা হলো, নস (النص) পরস্পর সম্পৃক্ত দুটি বিষয়ের (المتضائفين) একটির ক্ষেত্রে বিদ্যমান থাকে এবং উদ্দিষ্ট বিষয়টি (المطلوب) অন্য সম্পৃক্তটির মাধ্যমে প্রাধান্য পায়, অতঃপর তা উল্লেখ করা হয়।
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৮৮)
المستدل لزوم أحد المتضائفين للآخر تنبيها، لا أنه مقدمة أجلي من المطلوب.

ومثاله: قول القائل: بنت الزنا حرام على الزاني، لأن بنت الزنا بنت للزاني، فكانت حرامًا، لقوله تعالى: {وبناتكم} ثم بين أن بنت الزنا بنت للزاني، بأن الزاني [أب لها]، ويستدل بحديث جريح حين قال للولد: من أبوك يا بوس، ؟ فقال: فلان الراعي، فدل الحديث على أن الزاني يسمى ابا، وإذا كان الزاني، ابا لبنت الزنا كانت بنت الزنا بنتا للزاني، وهو المطلوب، فمثل هذا لا ينبغي أن يعد مصادرة.

هذا كله إذا كان التأليف القياسي تأليف استقامة.

أما إذا كان التأليف تأليف خلف، وهو أن تثبت المطلوب باستلزام نقيضه الكاذب، والمحال فحكمه حكم [القياس
দলিলদাতা দুই পরস্পর সম্পর্কযুক্ত বিষয়ের একটির জন্য অন্যটির আবশ্যকতাকে সতর্কীকরণ (تنبيها) হিসেবে উল্লেখ করেছেন, বিষয়টি এমন নয় যে এটি প্রতিপাদ্য বিষয়ের চেয়ে অধিক স্পষ্ট কোনো ভূমিকা (مقدمة)।

এর উদাহরণ হলো বক্তার এই উক্তি: ব্যভিচারজাত কন্যা ব্যভিচারীর জন্য হারাম, কারণ সে উক্ত ব্যভিচারীরই কন্যা; আর মহান আল্লাহর বাণী— {এবং তোমাদের কন্যারা...} এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে সে হারাম। এরপর তিনি স্পষ্ট করেন যে, ব্যভিচারজাত কন্যা ব্যভিচারীরই কন্যা, যেহেতু ব্যভিচারী তার [পিতা]। তিনি এ ক্ষেত্রে জুরাইজের হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন যখন তিনি শিশুটিকে বলেছিলেন: ‘হে শিশু, তোমার পিতা কে?’ সে বলেছিল: ‘অমুক রাখাল’। এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, ব্যভিচারীকে ‘পিতা’ হিসেবে অভিহিত করা যায়। আর যখন ব্যভিচারী ব্যভিচারজাত কন্যার পিতা হবে, তখন উক্ত কন্যাও ব্যভিচারীর কন্যা হিসেবে গণ্য হবে—আর এটিই ছিল অন্বেষিত বিষয়। এই জাতীয় বিষয়কে চক্রক যুক্তি (مصادرة) হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।

এ সব কিছুই তখন প্রযোজ্য হবে যখন যৌক্তিক বিন্যাসটি সরল বিন্যাস (تأليف استقامة) হয়।

কিন্তু যদি বিন্যাসটি বৈপরীত্যমূলক বিন্যাস (تأليف خلف) হয়—আর তা হলো কাঙ্ক্ষিত বিষয়টিকে তার মিথ্যা ও অসম্ভব বিপরীত বিষয়ের আবশ্যকতা দ্বারা প্রমাণ করা—তবে এর বিধান কিয়াসের (القياس) বিধানের মতোই।
(খণ্ড: ১) মাসারাতুল গালাতি ফিল আদিল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭৮৯)
المستقيم] في جميع ما تقدم من مثارات الغلط، والمحال الذي ينتجه قياس الخلف بمثابة المطلوب في القياس المستقيم، فيتحرز فيه من المصادرة، ووضع ما ليس بعلة علة، وإنما يزيد قياس الخلف على القياس المستقيم بمثار واحد في مثارات الغلط وهو إهمال المتقابلات، وذلك أن قياس الخلف هو أن تثبت المطلوب بإبطال نقيضه، فإن أخذ فيه غير النقيضين فلا خلل فيه، وإلا فهو مثار الغلط.

ومثاله في العقليات: قول القائل: التعين امر عدمي، لأنه لو كان أمرًا ثبوتيا لكان له تعين آخر، وهو وجودي فيكون له تعين آخر، ويتسلسل.

فيقول الخصم: إنما يتم ذلك لو كان هذا المحال لازمًا لنقيض مطلوبك، وإنما مطلوبك أن كل تعين أمر عدمي، فنقيضها جزئية لا كلية، وإنما يلزم المحال إذا أخذت كلية.

ومثاله في الفقهيات: قول القائل: اقتناء أواني الذهب مباح، لأنه لو كان حراما لحرم بيعها ولما صح.

فيقول المخالف: إنما نقيض كونه مباحًا ألا يكون مباحًا لا أنه حرام.

فهذه مثارات الغلط المعنوية، وهي على ما ذكرته ثمانية: خمس تتعلق بالقضية، وثلاث تتعلق بالقياس.

أما التي تتعلق بالقضية: فجمع المسائل في مسألة، و"أخذ ما
[সরাসরি যুক্তি (المستقيم)] ভুলের পূর্বোক্ত সকল উৎসের ক্ষেত্রে, এবং 'বিপরীত যুক্তি' (قياس الخلف) থেকে উদ্ভূত অসম্ভব (المحال) বিষয়টি 'সরাসরি যুক্তি' (القياس المستقيم)-তে অভীষ্ট লক্ষ্য (المطلوب) এর সমতুল্য। সুতরাং এতে 'চক্রক যুক্তি' (المصادرة) এবং 'যা কারণ নয় তাকে কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করা' (وضع ما ليس بعلة علة) থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। তবে 'বিপরীত যুক্তি' (قياس الخلف) 'সরাসরি যুক্তি' (القياس المستقيم)-র তুলনায় ভুলের একটি অতিরিক্ত উৎসের অধিকারী, আর তা হলো 'বিপরীত বিষয়সমূহের অবহেলা' (إهمال المتقابلات)। তা এজন্য যে, 'বিপরীত যুক্তি' (قيাস الخلف) হলো স্বীয় অভীষ্ট লক্ষ্যকে তার 'বিপরীত' (نقيض)-কে বাতিল করার মাধ্যমে প্রমাণ করা। যদি এতে 'বিপরীত বিষয়দ্বয়' (النقيضين) ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করা হয় তবে তাতে কোনো ত্রুটি নেই, অন্যথায় এটি ভুলের একটি উৎস।

বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের (العقليات) ক্ষেত্রে এর উদাহরণ: কোনো বক্তার উক্তি: নির্ধারণ (التعين) একটি অভাবাত্মক বিষয় (أمر عدمي), কারণ এটি যদি একটি অস্তিত্বশীল বিষয় (أمر ثبوتي) হতো, তবে তার জন্য অন্য একটি নির্ধারণ থাকত, যা অস্তিত্বশীল হতো এবং এর ফলে আরেকটি নির্ধারণ লাগত; এভাবে বিষয়টি অবিরাম পরম্পরার (يتسلسل) দিকে ধাবিত হতো।

তখন প্রতিপক্ষ বলবে: এটি কেবল তখনই পূর্ণতা পেত যদি এই অসম্ভব (المحال) বিষয়টি আপনার অভীষ্ট লক্ষ্যের 'বিপরীতের' (نقيض) জন্য অনিবার্য হতো। অথচ আপনার অভীষ্ট লক্ষ্য হলো যে প্রতিটি নির্ধারণ একটি অভাবাত্মক বিষয়, সুতরাং এর 'বিপরীত' (نقيض) হলো আংশিক (جزئية), সামগ্রিক (كلية) নয়। আর অসম্ভব (المحال) বিষয়টি কেবল তখনই অনিবার্য হয় যখন সামগ্রিক (كلية) বিষয় গ্রহণ করা হয়।

ফিকহশাস্ত্রীয় বিষয়ের (الفقهيات) ক্ষেত্রে এর উদাহরণ: কোনো বক্তার উক্তি: স্বর্ণের পাত্র রাখা বৈধ (مباح), কারণ এটি যদি হারাম (حرام) হতো তবে তার ক্রয়-বিক্রয়ও হারাম হতো এবং তা শুদ্ধ হতো না।

তখন বিপক্ষ বলবে: কোনো বিষয় বৈধ (مباح) হওয়ার 'বিপরীত' (نقيض) হলো তা বৈধ না হওয়া, এটি হারাম (حرام) হওয়া নয়।

এগুলো হলো ভুলের অর্থগত উৎসসমূহ, আর আমি যা উল্লেখ করেছি সে অনুযায়ী এগুলো আটটি: পাঁচটি প্রতিজ্ঞা (القضية)-র সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তিনটি যুক্তি (القياس)-র সাথে সংশ্লিষ্ট।

আর যেগুলো প্রতিজ্ঞা (القضية)-র সাথে সংশ্লিষ্ট সেগুলো হলো: একাধিক মাসআলাকে একটি মাসআলায় একত্র করা এবং "যা গ্রহণ করা" (أخذ ما)...