(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: -)
ثلاث صلوات عظيمة مهجورة فأحيها يا عبد الله   (عدنان العرعور)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: ثلاث صلوات عظيمة مهجورة فأحيها يا عبد الله

المؤلف: عدنان بن محمد آل عرعور

الناشر: دار الراية للنشر والتوزيع

الطبعة: الثانية، 1412 هـ - 1991 م

عدد الصفحات: 137

تنبيه: النسخة الإلكترونية أحدث من المطبوع، وقد نبهنا على ما وقفنا عليه من فروق

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 3 رجب 1440

তিনটি মহান পরিত্যক্ত সালাত; হে আল্লাহর বান্দা, আপনি তা পুনরুজ্জীবিত করুন   (আদনান আল-আরউর)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


কিতাব: তিনটি মহান পরিত্যক্ত সালাত; হে আল্লাহর বান্দা, আপনি তা পুনরুজ্জীবিত করুন

গ্রন্থকার: আদনান বিন মুহাম্মাদ আল-আরউর

প্রকাশক: দারুর রায়াহ লিন-নাশরি ওয়াত-তাউজি

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১২ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৭

সতর্কতা: ইলেকট্রনিক সংস্করণটি মুদ্রিত কপির চেয়ে নতুনতর, এবং আমরা যেসব পার্থক্যের সম্মুখীন হয়েছি সে সম্পর্কে এখানে অবগত করেছি

[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ করা হয়েছে]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৩ রজব ১৪৪০

(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১)
ثلاث صلوات مهجورة

 

عدنان بن محمد آل عرعور
তিনটি পরিত্যক্ত সালাত

 

আদনান বিন মুহাম্মদ আল-আর'উর
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌[مقدمة الطبعة الثالثة

الحمد لله، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم أما بعد:

فقد مضى على انتشار الكتاب أكثر من عقد من الزمن، لم نتلقَّ فيه ردّاً علمياً، سوى أني سمعت بعضهم يُسأل في الإذاعة عن حكم صلاة التسابيح فقال: ((هذه موضوعة، والدليل على ذلك: أنها مهجورة، ولو كانت سنة لما هجرت))! !

قلت: لو صدر هذا الكلام من عامِّيِّ لكان مقبوحاً، فكيف إذا صدر ممن تنصب للفتوى! ! ؟ وقباحة الأمر أن يجعل الهجران دليلاً على البطلان، فهل هذا هو الدليل عنده .. ؟ ! وهل هذا جهل بمعنى ((الدليل)) … ؟ ! أم زفرة متعصب، أم نفثة مقلد؟ !

أليس هذا هو بعينه دليل المبتدعة الذين إذا قيل لهم: هذه سنة، قالوا: لا أحد يفعلها، وإذا قيل لهم: هذه بدعة، قالوا: كل الناس يفعلونها .. ؟ ! ومتى كان هجران الشيء أو فعله دليلاً على مشروعيته أو بدعيته؟

فكم سنة صحيحة هجرت، وكم من بدعة مقبوحة انتشرت، فهل كان الهجران دليلاً على بطلان السنن الصحيحة؟ وهل كان انتشار البدعة دليلاً على مشروعيتها! ؟

ففي أثر ابن مسعود: ((كيف أنتم إذا لبستكم فتنة، يهرم فيها الكبير، ويربو فيها الصغير، إذا ترك منها شيء قيل تركت السنة، قالوا: ومتى ذلك؟ قال: إذا ذهب علماؤكم، وكثر جهلاؤكم، وكثر قراؤكم، وقلت فقهاؤكم، وكثرت أمراؤكم، وقلت أمناؤكم، والتمست الدنيا بعمل الآخرة، وتفقه لغير الدين)) (1)

وقال ابن عباس: ((ما من بدعة تحيى إلا وسنة تموت)). (2)

واعلم أن سرَّ هذا الانحراف، هو فقدان التأصيل، ومنه فقدان معرفة ((الدليل))، وعدم التزامه، وتقديم الهوى والتقليد عليه. (3)

هذا هو أحد أسرار الانحراف، ويضاف إليه في هذه المسألة، جهلٌ بعلم الحديث تصحيحاً وتضعيفاً، الأمر الذي دفعه إلى إلقاء الكلام على عواهنه.

وإذا كان هذا هو منهج المفتي المربي! ! فما حال المتربين والمستفتين .. ؟ ؟ وفاقد الشيء لا يعطيه … أعان الله أمة هؤلاء مفتوها، لا يفقهون معنى الدليل، ولا يلتزمون بمقتضاه.

وإن كنت تعجب من هذا فأعجب منه أن هؤلاء الذين فقدوا معنى الدليل، من الذين يرون أن الهجران دليل على البطلان، يرون كذلك أن من الأدلة على انحراف الناس، اتخاذهم حرفة يتكسبون بها رزقهم بعد فضل الله، يرون أن هذا دليل على جهلهم وابتداعهم، وما علم هؤلاء المساكين: أن دليلهم هذا هو دليل على جهلهم هم، بل دليل على كبْرهم، فمن ازدرى الناس بحرفهم كان متكبراً، كما بين ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم بقوله: (الكبر غمط الناس وبطر الحق) (أخرجه مسلم)

ثم .. أما علموا أن الأنبياء كانوا أصحاب حرف، وأنهم كانوا يرعون الأغنام، وأن منهم الحداد والنجار؟ ! فانظر كيف اجتمع الجهل المركب: جهل بمعنى الدليل، وجهل بالسنة وسيرة الأنبياء، وفوق ذلك كبر يظهر جلياً بالسخرية من المسلم لمهنته، ورد للحق الذي معه، لأنه ليس من قبيلته أو من بلده؟ ؟ ! فقاتل الله العصبية، وقاتل الله الجاهلية، كم أعمت أبصاراً، وأضلت أقواما .. ولا عجب من ذلك فقد قيل:

من فقد الدليل ضل السبيل ..

هذا وقد أعدت طباعته بعد أن نفدت الطبعة الثانية، سائلاً المولى عز وجل أن يسدد أقوالنا، وأن يصلح أعمالنا، وأن يتقبله منا إنه سميع مجيب .. والحمد لله رب العالمين.

 

عدنان بن محمد العرعور

شعبان 1422] [*]

--------------------------------------------

(1) أخرجه الدارمي (185، 186) واللالكائي في اعتقاد أهل السنة (123) ونعيم بن حماد في الفتن (51) وصححه شيخنا الألباني في (قيام رمضان).

(2) عزاه في (الاعتصام) للطبراني وهو عنده برقم (1100) بلفظ مقارب.

(3) قال الإمام الشافعي (وإذا ثبت عن رسول الله الشيء فهو اللازم لجميع من عرفه، لا يقويه ولا يوهنه شيء غيره، بل الفرض الذي على الناس اتباعه) أي الهجران لا يضعف سنة، والعمل يقويها. الرسالة بشرح أحمد شاكر (330)

 

[*] قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: هذا من زيادات النسخة الإلكترونية، وليس في المطبوع
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌[তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর:

কিতাবটি প্রকাশের পর এক দশকেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে, এর মধ্যে আমরা কোনো ইলমি প্রতিবাদ পাইনি। তবে আমি শুনেছি যে, রেডিওতে কাউকে সালাতুত তাসবিহ-এর বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: "এটি জাল (موضوعة), আর এর দলিল হলো: এটি পরিত্যক্ত; যদি এটি সুন্নাহ (سنة) হতো তবে এটি পরিত্যক্ত হতো না!"

আমি বলি: যদি এই কথা কোনো সাধারণ মানুষের মুখ থেকে নির্গত হতো তবে তা হতো অত্যন্ত জঘন্য, তাহলে কী অবস্থা হবে যখন তা ফতোয়ার আসনে আসীন কারো পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়!! এই বিষয়ের জঘন্যতা হলো—পরিত্যাগকে বাতিল হওয়ার দলিল হিসেবে গণ্য করা। তার কাছে কি এটাই দলিল...? এটি কি 'দলিল'-এর অর্থ সম্পর্কে মূর্খতা... নাকি কোনো গোঁড়ামির নিশ্বাস, অথবা কোনো অন্ধ অনুসারীর ফুঁৎকার?

এটি কি হুবহু বিদআতীদের (مبتدعة) সেই দলিল নয়, যাদের যখন বলা হয়: "এটি সুন্নাহ (سنة)", তখন তারা বলে: "কেউ তো এটি আমল করে না"; আর যখন তাদের বলা হয়: "এটি বিদআত (بدعة)", তখন তারা বলে: "সব মানুষই তো এটি করছে"...? কোনো বিষয় বর্জন করা বা আমল করা কখন থেকে এর শরয়ি বৈধতা বা বিদআত (بدعية) হওয়ার দলিল হয়ে গেল?

কত সহিহ (صحيحة) সুন্নাহ (سنة) পরিত্যক্ত হয়েছে, আর কত জঘন্য বিদআত (بدعة) ছড়িয়ে পড়েছে। তবে কি বর্জন করা সহিহ (صحيحة) সুন্নাহগুলোর বাতিল হওয়ার দলিল ছিল? আর বিদআতের (بدعة) বিস্তার কি এর শরয়ি বৈধতার দলিল ছিল?

ইবনে মাসউদ (রা.)-এর আসার (أثر)-এ বর্ণিত আছে: "তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন তোমাদের একটি ফিতনা (فتنة) আচ্ছন্ন করবে, যাতে বৃদ্ধরা জরাজীর্ণ হয়ে পড়বে এবং শিশুরা বেড়ে উঠবে; যখন এর কোনো কিছু ত্যাগ করা হবে, তখন বলা হবে সুন্নাহ (السنة) ত্যাগ করা হয়েছে। তারা জিজ্ঞাসা করলেন: তা কখন হবে? তিনি বললেন: যখন তোমাদের ওলামায়ে কেরাম চলে যাবেন, মূর্খদের আধিক্য ঘটবে, ক্বারী বা পাঠকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে কিন্তু ফকিহ বা বিজ্ঞ ফকীহদের সংখ্যা কমে যাবে, আমীরদের সংখ্যা বেড়ে যাবে কিন্তু বিশ্বস্তদের সংখ্যা কমে যাবে এবং আখেরাতের আমল দিয়ে দুনিয়া অন্বেষণ করা হবে, আর দ্বীন ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করা হবে।" (১)

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন: "যখনই কোনো বিদআত (بدعة) জীবিত করা হয়, তখনই একটি সুন্নাহ (سنة) মারা যায়।" (২)

জেনে রাখুন যে, এই বিচ্যুতি বা ইনহিরাফের মূল রহস্য হলো মৌলিক উসূল বা তাত্ত্বিক ভিত্তির অভাব, যার অন্যতম হলো 'দলিল' চেনার অভাব, দলিলের অনুসরণ না করা এবং এর ওপর প্রবৃত্তি ও অন্ধ অনুকরণকে প্রাধান্য দেওয়া। (৩)

বিচ্যুতির অন্যতম রহস্য এটিই; এর সাথে এই মাসআলায় যুক্ত হয়েছে হাদিস সহিহ (تصحيح) ও দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্তকরণ বিষয়ক ইলমের অজ্ঞতা, যা তাকে যা খুশি তাই বলতে প্ররোচিত করেছে।

যদি একজন পথপ্রদর্শক মুফতির মানহাজ বা পদ্ধতি এমন হয়, তবে যারা তার কাছে শিক্ষা গ্রহণ করছে বা ফতোয়া চাচ্ছে তাদের অবস্থা কী হবে? যার নিজের কাছে কিছু নেই সে অন্যকে কী দেবে... আল্লাহ সেই উম্মতকে সাহায্য করুন যাদের মুফতিরা এমন, যারা দলিলের অর্থ বোঝেন না এবং এর দাবিও মেনে চলেন না।

আপনি যদি এটি দেখে আশ্চর্যান্বিত হন, তবে তার চেয়েও বেশি আশ্চর্যান্বিত হবেন এটা দেখে যে—যারা দলিলের অর্থ হারিয়ে ফেলেছে এবং বর্জনকে বাতিল হওয়ার দলিল মনে করে—তারা মানুষের জীবিকার জন্য পেশা গ্রহণ করাকেও তাদের বিচ্যুতি বা ইনহিরাফের দলিল মনে করে। তারা মনে করে যে, এটি তাদের মূর্খতা ও বিদআতের (ابتداع) দলিল। অথচ এই বেচারাগুলো জানে না যে, তাদের এই দলিলটি মূলত তাদের নিজেদেরই মূর্খতার প্রমাণ, বরং এটি তাদের অহংকারের প্রমাণ। কারণ যে ব্যক্তি মানুষের পেশার কারণে তাদের তুচ্ছজ্ঞান করে সে অহংকারী, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন: "অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।" (মুসলিম বর্ণনা করেছেন)

অতঃপর... তারা কি জানে না যে নবীগণ বিভিন্ন পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন এবং তারা ছাগল চরাতেন? তাঁদের মধ্যে কেউ কামার ছিলেন আবার কেউ ছুতার বা কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। তাহলে দেখুন কীভাবে এখানে অজ্ঞতার সমন্বয় ঘটেছে: দলিলের অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞতা, সুন্নাহ (السنة) ও নবীগণের জীবনী সম্পর্কে অজ্ঞতা, আর এর ওপর যুক্ত হয়েছে অহংকার—যা একজন মুসলিমের পেশা নিয়ে উপহাস করা এবং তার কাছে থাকা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যেহেতু সে তার গোত্রের বা দেশের নয়? আল্লাহ এই গোঁড়ামি ও জাহেলিয়াতকে ধ্বংস করুন, যা কত চোখকে অন্ধ করেছে এবং কত জাতিকে পথভ্রষ্ট করেছে... এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ বলা হয়ে থাকে:

যে দলিল হারায়, সে সঠিক পথ হারায়...

দ্বিতীয় সংস্করণ শেষ হওয়ার পর আমি এটি পুনরায় মুদ্রণ করেছি। মহান রবের কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের কথাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, আমাদের কর্মসমূহ সংশোধন করেন এবং আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী। আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

আদনান বিন মুহাম্মদ আল-আর'উর

শাবান ১৪২২] [*]

--------------------------------------------

(১) দারেমি (১৮৫, ১৮৬), লালকাঈ 'ইতিকাদ আহলিস সুন্নাহ' (১২৩) এবং নুয়াইম বিন হাম্মাদ 'আল-ফিতান' (৫১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের শায়খ আলবানি 'কিয়ামু রামাদান'-এ একে সহিহ (صححه) বলেছেন।

(২) শাতবি 'আল-ইতিসাম'-এ তাবারানির দিকে নিসবত করেছেন এবং এটি তাঁর কাছে ১১০০ নম্বর হাদিসে প্রায় কাছাকাছি শব্দে বর্ণিত হয়েছে।

(৩) ইমাম শাফেয়ী বলেন: "যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো কিছু সাব্যস্ত হয়, তখন তা সকলের জন্য আবশ্যকীয় যারা তা জানতে পেরেছে। অন্য কোনো কিছু একে শক্তিশালী বা দুর্বল (يوهنه) করতে পারে না; বরং মানুষের ওপর এটি অনুসরণ করাই ফরজ।" অর্থাৎ: বর্জন করা কোনো সুন্নাহকে দুর্বল (يضعف) করে না, আর আমল করা একে শক্তিশালী করে। আর-রিসালাহ, আহমাদ শাকেরের ব্যাখ্যাসহ (৩৩০)

 

[*] শামেলার জন্য কিতাব প্রস্তুতকারী বলেছেন: এটি ইলেকট্রনিক সংস্করণের অতিরিক্ত অংশ, যা মুদ্রিত কপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة الطبعة الثانية

الحمد لله تعالى، والصلاة والسلام على رسوله الكريم.

أما بعد:

جلست في غرفة الانتظار بعيادة أحد الأطباء، فلفت نظري وجود كتاب ((ثلاث صلوات مهجورة)) بين مجموعة من الكتب، قد عرضت للمطالعة، وقد كتب أحدهم على غلاف الكتاب: ((لا يُلتفت إلى ما في هذا الكتاب من أن صلاة التسبيح صحيحة، فقد أفتى فلان وفلان بأنها صلاة غير صحيحة)).

فتعجبت مما وصل إليه حال المسلمين من ردّ البحث العلمي المبني على الأدلة، بقول فلان! أو بفتوى فلان! مخالفين بذلك الحق الذي أمرنا به ديننا الحنيف، من اتباع الدليل، وطلب البرهان وذلك واضح جلي في مثل قوله تعالى {اتبعوا ما أنزل إليكم من ربكم ولا تتبعوا من دونه أولياء قليلاً ما تذكرون} (1) وقوله: {قل هاتوا برهانكم إن كنتم صادقين} (2)

واضطرّرت - ساعتئذ - أن أعلق على كتابة الأخ: بأن ديننا دين دليل .. لا دين: قال ((فلان))، وأفتى ((فلان))! ومن كان عنده ردّ علمي فليتفضل.

وكذلك لما خرج الكتاب أول ما خرج، انهالت العتابات، وقذفت الاستنكارات لتصحيحنا حديث صلاة التسبيح .. ! ! دفعهم إلى ذلك،

--------------------------------------------

(1) الأعراف آية 3.

(2) البقرة آية 111.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

যাবতীয় প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সম্মানিত রাসূলের ওপর।

অতঃপর:

এক চিকিৎসকের ক্লিনিকের প্রতীক্ষালয়ে আমি বসেছিলাম। সেখানে পাঠের জন্য প্রদর্শিত একগুচ্ছ বইয়ের মাঝে 'তিনটি পরিত্যক্ত সালাত' নামক একটি বই আমার নজরে এল। কেউ একজন বইটির প্রচ্ছদে লিখে রেখেছিল: "এই বইটিতে সালাতুত তাসবীহকে সহিহ (صحيحة) বলা হয়েছে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করবেন না; কারণ অমুক ও অমুক ব্যক্তি ফতোয়া দিয়েছেন যে এটি একটি অশুদ্ধ (غير صحيحة) সালাত।"

প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে রচিত একটি ইলমি গবেষণাকে অমুকের কথা বা অমুকের ফতোয়ার মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করার মতো মুসলিমদের বর্তমান অবস্থা দেখে আমি বিস্মিত হলাম। অথচ তারা সত্যের বিপরীত পথ অবলম্বন করছে, যে সত্যের আদেশ আমাদের সুমহান দ্বীন আমাদের দিয়েছে—আর তা হলো দলিলের অনুসরণ এবং প্রমাণ অন্বেষণ করা। এটি মহান আল্লাহর বাণীর মতোই সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল: {তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না, তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করো} (১) এবং তাঁর বাণী: {তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের দলিল নিয়ে এসো} (২)

তখন আমি ঐ ভাইয়ের লেখার নিচে মন্তব্য করতে বাধ্য হলাম যে: আমাদের দ্বীন হলো দলিলের দ্বীন... 'অমুক বলেছেন' বা 'অমুক ফতোয়া দিয়েছেন'—এরকম কোনো দ্বীন নয়! যার কাছে কোনো ইলমি জবাব আছে, সে যেন তা উপস্থাপন করে।

অনুরূপভাবে, যখন বইটি প্রথম প্রকাশিত হলো, তখন আমাদের সালাতুত তাসবীহ সংক্রান্ত হাদিসকে সহিহ (تصحيح) সাব্যস্ত করার কারণে প্রচুর তিরস্কার ও নিন্দা বর্ষিত হতে লাগল! যা তাদের এমনটি করতে প্ররোচিত করেছিল তা হলো,

--------------------------------------------

(১) আল-আরাফ, আয়াত ৩।

(২) আল-বাকারাহ, আয়াত ১১১।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২)
ما هو مشاع من بطلان هذه الصلاة، لفتوى بعض الأفاضل في ذلك، مقلدين بذلك بعض العلماء الذين قالوا ببدعيتها … ! !

وكانت حجة المنكرين … ((الرجال))، وكان بعض إخواننا يطلبون منهم رداً علميا حديثياً، قائلين لهم: إن عندنا من الرجال الذين صححوا حديث صلاة التسبيح ما هم أعلم بحديث النبي صلى الله عليه وسلم صحيحه وسقيمه من الذين ضعفوها، وإذ قابلنا الرجال بالرجال … سقطت الحجة عند الجميع، وعلى المنكرين - حينئذ - أن يردوا رداً علمياً مبنيّا على الأدلة والبراهين، ولما مضى على الكتاب سنوات، ونفدت الطبعة، ولم نتلقَّ أي رد علمي على الإطلاق، أعدنا طباعته، دون تغيير فيه يذكر، غير تصحيح الأخطاء المطبعية الكثيرة التي وقعت في الطبعة الأولى.

والله أسأل أن ينفع به، وأن يجعله خالصاً لوجهه، وأن يرينا الحق حقاً ويرزقنا اتباعه، وأن يرينا الباطل باطلاً، ويرزقنا اجتنابه.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

كتبه:

عدنان العرعور

صفر 1414 هـ
এই সালাত বাতিল হওয়ার যে বিষয়টি প্রচলিত রয়েছে, তা মূলত কিছু গুণী ব্যক্তির ফতোয়ার কারণে, যারা এক্ষেত্রে এমন কিছু আলেমকে অন্ধ অনুসরণ করেছেন যারা একে বিদআত (بدعة) বলেছেন … ! !

অস্বীকারকারীদের দলিল ছিল … ((বর্ণনাকারী (رجال) বৃন্দ))। আমাদের কিছু দ্বীনি ভাই তাদের কাছে ইলমি ও হাদিসতাত্ত্বিক জবাব চেয়েছিলেন এই বলে যে: আমাদের কাছে এমন সব ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যারা সালাতুত তাসবিহর হাদিসকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন এবং তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের বিশুদ্ধ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) দিকগুলো সম্পর্কে তাদের চেয়ে অনেক বেশি প্রাজ্ঞ যারা একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন। আর যখন আমরা এক পক্ষের বর্ণনাকারীদের বিপরীতে অন্য পক্ষের বর্ণনাকারীদের (رجال) তুলনা করি … তখন সবার কাছেই দলিল অসার হয়ে যায়। এমতাবস্থায় অস্বীকারকারীদের উচিত দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে একটি ইলমি জবাব দেওয়া। যেহেতু কিতাবটি প্রকাশের পর বহু বছর অতিক্রান্ত হয়েছে এবং এর মুদ্রণ শেষ হয়ে গিয়েছিল, অথচ আমরা কোনো ইলমি জবাবই পাইনি, তাই আমরা এটি পুনরায় মুদ্রণ করেছি। প্রথম সংস্করণে থাকা প্রচুর মুদ্রণজনিত ভুল সংশোধন ছাড়া এতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন, একে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, আমাদের সত্যকে সত্য হিসেবে দেখান ও তার অনুসরণের তাওফিক দান করেন এবং বাতিলকে বাতিল হিসেবে দেখান ও তা বর্জনের তাওফিক দান করেন।

আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

লিখেছেন:

আদনান আল-আরুর

সফর ১৪১৪ হিজরি
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمة

الحمد لله الذي شرع لعباده ما ينفعهم، في دينهم ودنياهم وآخرتهم، وأشهد أن لا إله إلا الذي له الخلق والأمر، والصلاة والسلام على معلم الناس الخير، ومرشدهم إلى طريق البر … فما ترك أمراً يقربهم إلى الله تعالى إلا أرشدهم إليه، ولا أمرًا يبعدهم عن الله تعالى إلا حذرهم منه.

أما بعد:

فبين يديك - أخي المسلم - بيان ثلاث صلوات عظيمات مباركات، قد هجرها المسلمون إلا من رحم الله تعالى.

أما الأولى: فهي صلاة الاستخارة .. التي يستخير فيها العبد ربه، ويستشير خالقه، ويحقق بها العبد لله تعالى عبوديته .. وينبئ عن صدق يقينه، وثقته بربه.

فيا لها من صلاة روحية عظيمة، تهب للمسلم الطمأنينة، وتزيده إيماناً مع إيمانه، بحكمة الله البالغة، وشريعته الباهرة، فضلاً عن منحها الاستقرار، والرضى والتسليم بقضاء الجبار، فما أعظمها من صلاة .. وما أجلّها من عبادة.

وأما الثانية: فهي صلاة التوبة .. التي يمحو الله بها الخطايا، ويكفر بها الذنوب .. ومن منا لا يذنب؟ ومن منا لا يخطئ؟

وصدق رسول الله صلى الله عليه وسلم ((كل بني آدم خطاء، وخير الخطائين التوابون)) (1).

فبهذه الصلاة المباركة، تظهر العبودية الحقة لله تعالى، وإيمان العبد بربه، وأن مصيره بيده سبحانه، ويظهر فيها خوف العبد من عذاب ربه، وطمعه في غفرانه وجنته.

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد (13072) والترمذي (2499) وابن ماجه (4251) والحاكم (4/ 272) عن أنس موفوعاً وقال هذا حديث صحيح الإسناد وصححه شيخنا في صحيح الجامع.
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের জন্য তাদের দ্বীন, দুনিয়া এবং আখিরাতে যা কিছু তাদের উপকারে আসে তা বিধিবদ্ধ করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, সৃষ্টিজগত এবং এর ওপর কর্তৃত্ব কেবল তাঁরই। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মানুষের কল্যাণের শিক্ষক এবং সৎপথের দিশারীর ওপর … তিনি এমন কোনো বিষয় বাকি রাখেননি যা মানুষকে মহান আল্লাহর নিকটবর্তী করে কিন্তু তিনি তার পথ দেখাননি; আবার এমন কোনো বিষয়ও ছেড়ে দেননি যা মানুষকে মহান আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় কিন্তু তিনি সে বিষয়ে সতর্ক করেননি।

অতঃপর:

হে আমার মুসলিম ভাই! আপনার সম্মুখে তিনটি মহান ও বরকতময় সালাতের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে, যা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ ব্যতীত অধিকাংশ মুসলিমই আজ বর্জন করেছে।

প্রথমটি হলো: ইস্তিখারার সালাত... যাতে বান্দা তার রবের নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করে, তার স্রষ্টার পরামর্শ গ্রহণ করে এবং এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর প্রতি তার দাসত্ব সাব্যস্ত করে... এটি তার একীনের সত্যতা এবং রবের প্রতি আস্থার প্রমাণ বহন করে।

এটি কতই না মহান এক আধ্যাত্মিক সালাত, যা মুসলিমকে প্রশান্তি দান করে এবং আল্লাহর সুগভীর প্রজ্ঞা ও বিস্ময়কর শরীয়তের প্রতি তার ঈমান বৃদ্ধি করে। অধিকন্তু এটি বান্দাকে চিত্তের স্থিরতা, সন্তুষ্টি এবং মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর ফয়সালার প্রতি আত্মসমর্পণের শক্তি যোগায়। এটি কতই না মহান সালাত এবং কতই না মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত!

আর দ্বিতীয়টি হলো: তাওবার সালাত... যার মাধ্যমে আল্লাহ পাপসমূহ মুছে দেন এবং গুনাহসমূহ মোচন করেন। আমাদের মাঝে এমন কে আছে যে গুনাহ করে না? আর আমাদের মাঝে এমন কে আছে যে ভুল করে না?

রাসূলুল্লাহ ﷺ সত্যই বলেছেন: ((প্রত্যেক আদম সন্তানই ভুলকারী, আর ভুলকারীদের মধ্যে তারাই সর্বোত্তম যারা তওবা করে)) (১)।

এই বরকতময় সালাতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর প্রতি বান্দার যথার্থ দাসত্ব এবং রবের প্রতি তার ঈমান প্রকাশ পায়; আর ফুটে ওঠে যে তার চূড়ান্ত পরিণতি কেবল আল্লাহর হাতেই। এতে রবের আযাবের প্রতি বান্দার ভয় এবং তাঁর ক্ষমা ও জান্নাতের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা পরিলক্ষিত হয়।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ (১৩০৭২), তিরমিযী (২৪৯৯), ইবনে মাজাহ (৪২৫১) এবং হাকীম (৪/২৭২); আনাস (রা.) থেকে মারফু (مرفوعًا) হিসেবে বর্ণিত। তিনি (হাকীম) বলেছেন: "এটি একটি বিশুদ্ধ সনদ (صحيح الإسناد) বিশিষ্ট হাদিস" এবং আমাদের শাইখ একে সহীহুল জামি' গ্রন্থে বিশুদ্ধ (صححه) বলে গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
فلو لم يكن في هذا الصلاة إلا إظهار الذل، والاعتراف بالذنب، والإنابة إلى الرب، لكفى بها خيرا عظيماً، وتوفيقاً كبيراً، فسارع إليها - يا عبد الله - تكن من المفلحين إن شاء الله تعالى.

وأما الثالثة: فهي صلاة التسابيح .. وإن شئت فسمها صلاة الغفران .. وإن شئت فسمها صلاة التكفير .. أو صلاة التوبة، أو صلاة الإنابة.

ففيها كل هذه المعاني السامية، والثمار اليانعة، فسارع إلى قطافها، فقد أصبحت في زماننا هذا نسياً منسياً، وصلاة مهجورة .. !

فاغتنم شبابك قبل هرمك .. وصحتك قبل مرضك .. وفراغك قبل شغلك .. وقدرتك على العبادة قبل العجز .. وقبل أن تندم يوم لا ينفع الندم.

هذا؛ ولم أشأ أن تكون رسالة جامعية مفصلة، أتتبع فيها مذاهب الفقهاء، واختلاف العلماء، إنما أردت أن تكون ميسورة بين يدي كل مسلم، بعيدة عن التحقيقات الحديثية المطولة، والتفريعات الفقهية المستفيضة، والتخريجات المفصلة، إلا ما كان منه ضرورياً، كالتفصيل في طرق أسانيد حديث صلاة التسبيح، للاختلاف الواقع فيها، ومع ذلك لم أتتبع الطرق كافة، إذ الغاية الوصول إلى صحة الحديث من أقرب الطرق، وتقرير الحكم بأسهلها، كيما تكون رسالة سهلة لدى جمهور المسلمين، مفهومة لدى عامتهم، تجيب عن أسئلتهم، وتحل إشكالاتهم.

ولذلك رتبت أبوابها ترتيباً يناسب عموم المسلمين، فموضوعها يخص كل مسلم - متعلم وغير متعلم - فهي صلوات تجمع خير الدنيا والآخرة،
যদি এই সালাতে কেবল হীনতা প্রকাশ, পাপের স্বীকৃতি এবং রবের প্রতি অনুরাগী হওয়ার ব্যাকুলতা ছাড়া আর কিছুই না থাকত, তবে এটি মহান কল্যাণ এবং বিশাল তাওফীক হিসেবে যথেষ্ট হতো। অতএব হে আল্লাহর বান্দা, আপনি এর দিকে দ্রুত ধাবিত হোন, ইনশাআল্লাহ আপনি সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

আর তৃতীয়টি হলো: সালাতুত তাসবীহ... আপনি চাইলে একে ক্ষমা প্রার্থনার সালাত বলতে পারেন... চাইলে একে পাপ মোচনের সালাত বলতে পারেন... অথবা তাওবার সালাত কিংবা রবের দিকে প্রত্যাবর্তনের সালাতও বলতে পারেন।

এতে রয়েছে সেই সকল সুউচ্চ অর্থ এবং পরিপক্ক ফল। সুতরাং তা আহরণে সচেষ্ট হোন, কেননা আমাদের এই যুগে এটি সম্পূর্ণ বিস্মৃত এবং একটি পরিত্যক্ত সালাতে পরিণত হয়েছে...!

সুতরাং বার্ধক্যের পূর্বে আপনার যৌবনকে কাজে লাগান... অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতাকে... ব্যস্ততার পূর্বে অবসরকে... এবং অক্ষমতার পূর্বে ইবাদতের সামর্থ্যকে; সেই দিন অনুশোচনা করার পূর্বেই যেদিন অনুশোচনা কোনো কাজে আসবে না।

আমি চাইনি এটি কোনো বিস্তারিত প্রাতিষ্ঠানিক অভিসন্দর্ভ হোক, যেখানে আমি ফকীহগণের মাযহাব এবং আলেমদের মতপার্থক্য অনুসন্ধান করব। বরং আমি চেয়েছি এটি প্রত্যেক মুসলমানের নিকট সহজলভ্য হোক, যা হাদিস বিষয়ক দীর্ঘ তাত্ত্বিক গবেষণা (تحقيق), ফিকহী শাখা-প্রশাখার বিস্তারিত আলোচনা এবং হাদিসের উৎস নির্ণয় ও প্রামাণিকরণ (تخريج) সংক্রান্ত দীর্ঘ বর্ণনা হতে মুক্ত থাকবে; কেবল যতটুকু অপরিহার্য ততটুকু ব্যতীত। যেমন সালাতুত তাসবীহ-এর হাদিসের বর্ণনাসূত্রসমূহ (أسانيد)-এর বিন্যাসের বিস্তারিত আলোচনা, যেহেতু এতে মতপার্থক্য বিদ্যমান। তা সত্ত্বেও আমি সকল সূত্র অনুসন্ধান করিনি, কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো নিকটতম উপায়ে হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) পর্যন্ত পৌঁছানো এবং সহজতম পদ্ধতিতে বিধান (حكم) নির্ধারণ করা, যাতে এই পুস্তিকাটি সাধারণ মুসলিম জনগণের কাছে সহজ এবং সর্বসাধারণের নিকট বোধগম্য হয়, যা তাদের প্রশ্নের উত্তর দেবে এবং তাদের জটিলতাসমূহ নিরসন করবে।

এই কারণে আমি এর অধ্যায়গুলোকে এমনভাবে বিন্যস্ত করেছি যা সাধারণ মুসলমানদের জন্য উপযোগী। কারণ এর বিষয়টি প্রত্যেক মুসলমানের সাথে সংশ্লিষ্ট—চাই তিনি শিক্ষিত হোন বা অশিক্ষিত। কেননা এই সালাতগুলো দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণকে একত্রিত করে।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
فمن منا يستغني عن استخارة ربه؟ ومن منا لا يحتاج إلى توبة من ذنبه؟

هذا؛ والله أسأل أن يجعلنا وإياكم من المستخيرين حقًا، والتائبين صدقًا، والمسبحين حمدًا، والموفقين عملاً وقبولاً، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

 

كتبه … عدنان العرعور … رمضان 1410 هـ
আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে তার প্রতিপালকের নিকট ইস্তিখারা করা থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে? আর আমাদের মধ্যে কে আছে যার স্বীয় পাপ থেকে তওবা করার প্রয়োজন নেই?

পরিশেষে; আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এবং আপনাদেরকে প্রকৃত ইস্তিখারাকারী, সত্যনিষ্ঠ তওবাকারী, প্রশংসার সাথে তাসবিহ পাঠকারী এবং আমল ও কবুলিয়তের তাওফিকপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আল্লাহ আমাদের নবি মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবিদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

 

এটি লিখেছেন … আদনান আল-আরুর … রমজান ১৪১০ হিজরি
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الصلاة الأولى

صلاة الاستخارة

عن سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

((من سعادة المرء: استخارته ربه، ورضاه بما قدر، ومن شقاوة المرء تركه الاستخارة، وسخطه بعد القضاء)) (1).

--------------------------------------------

(1) قلت: الحديث حسن لغيره، ويأتي تخريجه وبيان صحته.
প্রথম সালাত

সালাতুল ইস্তিখারা

সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

((মানুষের সৌভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো: তার রবের নিকট ইস্তিখারা করা এবং তার জন্য যা নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে সন্তুষ্ট থাকা; আর মানুষের দুর্ভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো: ইস্তিখারা বর্জন করা এবং ফয়সালার পর তাতে অসন্তুষ্ট হওয়া)) (১)।

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: হাদিসটি অন্যান্য সূত্রের কারণে হাসান (حسن لغيره), সামনে এর সূত্রনির্দেশ (تخريج) এবং বিশুদ্ধতা (صحة) বর্ণনা করা হবে।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌[بين يدي الاستخارة] [*]

يتعرض المرء في حياته لكثير من الأمور الغيبية النتائج، ويَقْدُم على أمور مجهولة العواقب .. لا يدري خيرها من شرها .. ولا نفعها من ضرها.

ويصاب بالتردد: أيقدم على هذه العمل .. أم لا .. ؟ أيخطب هذه الفتاة .. أم تلك .. ؟ أيشارك هذا الرجل أم ذاك .. ؟ أيطلق زوجته أم يبقيها عنده .. ؟ أيدرس هنا أم هناك .. ؟ أيسافر .. أم لا .. ؟ .

ماذا يعمل .. ؟ وماذا يذر .. ؟ أين الخير .. ؟ يسأل القريب والبعيد .. والصغير والكبير .. والعالم والجاهل .. لعلهم ينصحونه .. وإلى الخير والصواب يرشدونه.

ويعيش حالة من الصراع الترددي .. والقلق النفسي .. وكثيرًا ما يصيبه الهم، ويغشاه الغم، فتشل حركته .. ويعطل تفكيره .. فلا يدري ماذا يفعل، ولا يدري ماذا يذر، حتى يقع أسير الخوف والتردد .. وسجين القلق والحيرة، وحبيس الغيب والمجهول .. لهذا كله شرع الله صلاة الاستخارة علاجاً لتردده .. وحلاً لمشكلته حتى ينقلب التردد ثباتاً، والهم فرجاً، والشك يقيناً، والقلق اطمئناناً .. لِمَ لا .. ؟ وقد استخار العبد ربه الذي يعلم السر وأخفى، ويعلم ما يضره وما ينفعه، وهو القادر على أن يصرف عنه كل سوء .. ويجلب له كل نفع.

{قل اللهم مالك الملك تؤتي الملك من تشاء وتنزع الملك ممن تشاء وتعز من تشاء وتذل من تشاء بيدك الخير إنك على كل شئ قدير} (1).

فحين تستقر هذه المعاني في نفس المستخير الصادق، يصبح مطمئن النفس، هادئ البال، لما سيكون من أمره.

{قل لا أملك لنفسي ضراً ولا نفعاً إلا ما شاء الله ولو كنت أعلم الغيب لاستكثرت من الخير وما مسني السوء} (2).

وحين يطمئن بهذا قلبه، يبيت راضياً بما قدر له، ولو كان ظاهر المقدر شراً، ووقع مخالفاً لرغبته، فالمرء لا يعلم حقيقة الأشياء كما يعلمها الله، ولا يدرك كنه الأمور على ما أرادها الله، ولا يعقل تأويل الحوادث وحقيقة نتائجها.

قال تعالى: {والله يعلم وأنتم لا تعلمون} (3) وقال {يعلمون ظاهراً من الحياة الدنيا} (4).

وها هنا تظهر حقيقة الايمان بأن الله لا يُقدِّر للعبد المؤمن إلا الخير ولا يريد

--------------------------------------------

(1) آل عمران (26).

(2) الأعراف (188).

(3) البقرة (216).

(4) الروم (7).

 

[*] قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: هذا من زيادات النسخة الإلكترونية، وليس في المطبوع
‌[ইস্তিখারার প্রারম্ভে] [*]

একজন মানুষ তার জীবনে এমন অনেক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় যার ফলাফল অজানার অন্তরালে থাকে। সে এমন সব কাজে অগ্রসর হয় যার পরিণতি অজ্ঞাত; সে জানে না তাতে কল্যাণ নিহিত আছে নাকি অকল্যাণ, কিংবা তা কি তার জন্য উপকারী হবে নাকি ক্ষতিকর।

ফলে সে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আক্রান্ত হয়: সে কি এই কাজটি করবে... নাকি করবে না? সে কি এই মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে... নাকি অন্য কাউকে? সে কি এই ব্যক্তির সাথে অংশীদারিত্ব করবে... নাকি ওই ব্যক্তির সাথে? সে কি তার স্ত্রীকে তালাক দেবে... নাকি তাকে নিজের কাছে রাখবে? সে কি এখানে পড়াশোনা করবে... নাকি ওখানে? সে কি সফরে যাবে... নাকি যাবে না? .

সে কী করবে... আর কী বর্জন করবে? কল্যাণ কোথায়? সে আত্মীয়-অনাত্মীয়, ছোট-বড়, আলেম ও সাধারণ মানুষ—সবাইকে জিজ্ঞাসা করে, এই আশায় যে তারা হয়তো তাকে উপদেশ দেবে এবং তাকে কল্যাণ ও সঠিক পথের দিশা দেখাবে।

সে এক মানসিক দ্বন্দ্ব ও অস্থিরতার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করে। প্রায়শই সে দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, ফলে তার কর্মতৎপরতা স্থবির হয়ে যায় এবং চিন্তাচেতনা অচল হয়ে পড়ে। সে বুঝতে পারে না কী করবে আর কী ছাড়বে; শেষ পর্যন্ত সে ভয় ও দ্বিধার শিকল এবং অস্থিরতা ও বিভ্রান্তির কারাগারে বন্দী হয়ে পড়ে, যেন অজানার গোলকধাঁধায় আটকে গেছে। এই সব কারণেই আল্লাহ তাআলা তার এই দ্বিধাদ্বন্দ্বের নিরাময় এবং সমস্যার সমাধান হিসেবে ইস্তিখারার নামাজ বিধিবদ্ধ করেছেন। যাতে এই দ্বিধা স্থিরতায়, দুশ্চিন্তা স্বস্তিতে, সন্দেহ দৃঢ় বিশ্বাসে এবং অস্থিরতা প্রশান্তিতে রূপান্তরিত হয়। কেনই বা হবে না? বান্দা তো তার রবের কাছেই কল্যাণ প্রার্থনা করছে, যিনি সকল গোপন ও অতি গোপন বিষয়ে পরিজ্ঞাত, আর যিনি জানেন কিসে বান্দার ক্ষতি আর কিসে তার উপকার। তিনি তো তার কাছ থেকে সকল অনিষ্ট দূর করতে এবং তার জন্য সকল কল্যাণ বয়ে আনতে সক্ষম।

{বলুন, হে আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করো এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করো আর যাকে ইচ্ছা অপমানিত করো। তোমার হাতেই সকল কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশালী} (১)।

যখন এই অর্থগুলো একজন সত্যনিষ্ঠ ইস্তিখারাকারীর অন্তরে প্রোথিত হয়, তখন সে তার ভবিষ্যতের ব্যাপারে মানসিকভাবে শান্ত ও স্বস্তিবোধ করে।

{বলুন, আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া আমার নিজের কোনো লাভ বা ক্ষতি করার ক্ষমতা আমার নেই। আমি যদি অদৃশ্যের খবর জানতাম, তবে আমি অনেক কল্যাণ অর্জন করে নিতাম এবং কোনো অমঙ্গল আমাকে স্পর্শ করত না} (২)।

যখন তার অন্তর এতে প্রশান্ত হয়, তখন সে তার ভাগ্যে নির্ধারিত ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকে, যদিও বাহ্যিকভাবে তা অকল্যাণকর মনে হয় কিংবা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঘটে। কেননা মানুষ বস্তুর প্রকৃত রূপ সেভাবে জানে না যেভাবে আল্লাহ জানেন এবং আল্লাহ যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে কোনো বিষয়ের সারমর্ম উপলব্ধি করতে পারে না; তেমনি সে ঘটনাপ্রবাহের ব্যাখ্যা ও এর ফলাফলের প্রকৃত রূপ অনুধাবন করতে অক্ষম।

মহান আল্লাহ বলেন: {আর আল্লাহ জানেন কিন্তু তোমরা জানো না} (৩) এবং তিনি আরও বলেন: {তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিকটা জানে} (৪)।

আর এখানেই ঈমানের সেই প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায় যে, আল্লাহ মুমিন বান্দার জন্য কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছু নির্ধারণ করেন না এবং চান না...

--------------------------------------------

(১) আল-ইমরান (২৬)।

(২) আল-আরাফ (১৮৮)।

(৩) আল-বাকারা (২১৬)।

(৪) আর-রুম (৭)।

 

[*] শামেলার জন্য গ্রন্থ প্রস্তুতকারী বলেছেন: এটি ইলেকট্রনিক সংস্করণের অতিরিক্ত অংশ, মুদ্রিত কপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
له إلا الخير.

فحري بالمرء العاقل أن يسارع إلى استخارة ربه، وأن لا يغادر أمراً إلا بعد سؤال خالقه.
তার জন্য কল্যাণ ব্যতীত আর কিছুই নেই।

সুতরাং একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য এটিই সমীচীন যে, সে তার প্রতিপালকের নিকট কল্যাণ প্রার্থনার (استخارة) জন্য ত্বরান্বিত হবে এবং তার স্রষ্টার নিকট নিবেদন করা ব্যতীত কোনো বিষয়ই আরম্ভ করবে না।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌كيف تكون الاستخارة الشرعية؟

أو كيف يستخير العبد ربه
؟

لما كان العبد ضعيفاً في تصوره، جهولاً في غيبه، متردداً في تصرفاته، شرع الله له إذا عَرض له عارض، أو عُرض عليه عمل، أو همَّ بأمر أن يستخير ربه ويشاور فيه خالقه، فهو سبحانه أعلم بحقائق الأمور ونتائجها، ونافعها من ضارها، وخيرها من شرها، في الدنيا والآخرة، وهو أعلم بالغيب.

{وعنده مفاتح الغيب لا يعلمها إلا هو، ويعلم ما في البر والبحر، وما تسقط من ورقة إلا يعلمها، ولا حبة في ظلمات الأرض ولا رطب ولا يابس إلا في كتاب مبين} [الأنعام 59] سبحانه هو العليم بما يصلح العباد، وهو الخبير بما ينفع البلاد، وهو اللطيف الخبير .. وهو على كل شيء قدير {ألا يعلم من خلق وهو اللطيف الخبير} [الملك 14]

اعلم - رحمني الله وإياك - أن العبد إذا همَّ بأمر، أو عزم على مسألة، أو خطر بباله قضية فأحب فعلها، أو عُرض عليه عمل، فعليه أن يستخير ربه، قبل البدء به وذلك على النحو التالي:

أولاً: أن يأتي بشروط صلاة النافلة، وهي شروط الصلاة ما عدا دخول الوقت.

ثانياً: يصلي ركعتين نافلة، بنية الاستخارة، ولا يتلفظ بشيء غير التكبير، لأن النية محلها القلب، والتلفظ فيها أمر محدث، لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا صحابته، ولا أحد من الأئمة المعتبرين.

ثم يقبل على الله تعالى بقلبه - في صلاته - خاشعاً، متضرعاً.
শরয়ী ইস্তিখারা কীভাবে করতে হয়? অথবা একজন বান্দা কীভাবে তার রবের নিকট ইস্তিখারা করবে?

যেহেতু বান্দা তার ধারণায় দুর্বল, অদৃশ্যের বিষয়ে অজ্ঞ এবং নিজ কর্মতৎপরতায় দ্বিধাগ্রস্ত, তাই আল্লাহ তার জন্য শরিয়তসম্মত করেছেন যে, যখনই তার সামনে কোনো পরিস্থিতির উদয় হয়, অথবা কোনো কাজ উপস্থাপিত হয়, কিংবা কোনো বিষয়ে সে সংকল্প করে, তখন সে যেন তার রবের কাছে ইস্তিখারা করে এবং এ ব্যাপারে তার স্রষ্টার পরামর্শ গ্রহণ করে। মহান আল্লাহ সকল বিষয়ের হাকিকত ও ফলাফল এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তার উপকার-অপকার ও ভালো-মন্দ সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন; তিনিই অদৃশ্যের বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।

{আর তাঁর কাছেই অদৃশ্যের চাবিকাঠি রয়েছে, তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না। স্থল ও সমুদ্রে যা কিছু আছে তা তিনিই জানেন। তাঁর অজ্ঞাতসারে (গাছের) একটি পাতাও ঝরে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোনো শস্যকণা কিংবা কোনো রসযুক্ত বা শুষ্ক বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই।} [আল-আন'আম: ৫৯]। তিনি পবিত্র, বান্দাদের জন্য যা সংশোধনমূলক তা তিনি ভালো জানেন। দেশ ও জাতির জন্য যা উপকারী তিনি সে বিষয়ে খবর রাখেন। তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী, সর্বজ্ঞ এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। {যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।} [আল-মুলক: ১৪]

জেনে রাখুন—আল্লাহ আমার ও আপনার ওপর রহম করুন—বান্দা যখন কোনো কাজের সংকল্প করে, অথবা কোনো বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়, অথবা তার মনে কোনো বিষয়ের উদয় হয় যা সে করতে পছন্দ করে, কিংবা তার কাছে কোনো কাজ পেশ করা হয়, তবে তা শুরু করার আগে তার উচিত রবের কাছে ইস্তিখারা করা। আর তা নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে:

প্রথমত: নফল (نافلة) সালাতের শর্তাবলি পূরণ করা; আর তা হলো সালাতের সময় হওয়া ব্যতীত নামাজের অন্যান্য সকল শর্ত।

দ্বিতীয়ত: ইস্তিখারার নিয়তে দুই রাকাত নফল (نافلة) সালাত আদায় করবে। তাকবীর ছাড়া মুখে অন্য কিছু উচ্চারণ করবে না, কারণ নিয়তের স্থান হলো অন্তর। আর নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা একটি নব উদ্ভাবিত (محدث) বিষয়, যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ কিংবা গ্রহণযোগ্য ইমামগণের কেউ করেননি।

এরপর সালাতের মধ্যে অত্যন্ত বিনীত ও রোনাজারি অবস্থায় নিজ অন্তরের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করবে।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ثالثاً: يدعو بدعاء الاستخارة، وذلك بعد الانتهاء من الصلاة، وهو: ((اللهم إني أستخيرك بعلمك، وأستقدرك بقدرتك، وأسألك من فضلك العظيم، فإنك تقدر ولا أقدر، وتعلم ولا أعلم، وأنت علَاّم الغيوب.

اللهم إن كنت تعلم أن هذا الأمر [ثم يسميه] (1) خير لي في ديني، ومعاشي، وعاقبة أمري، عاجله وآجله، (2) فاقدره لي ويسّره لي، ثم بارك لي فيه.

وإن كنت تعلم أن هذا الأمر [يذكر الأمر ويسميه] شرٌ لي في ديني ومعاشي وعاقبة أمري، عاجله وآجله، فاصرفه عني، واصرفني عنه، واقدر لي الخير حيث كان ثم رضني به)).

رابعاً: يجب أن تكون ثقته بالله كبيرة، وتوكله عليه صادقاً، موقنًا بالهداية، منتظرًا الإجابة، غير مستعجل لها.

خامساً: أن يكون متجنبًا موانع استجابة الدعاء جميعها.

 

‌‌هل للاستجابة موانع .. وما هي؟

نعم؛ إن لاستجابة الله عز وجل موانع، إذا ما حصلت، كانت حائلاً دون استجابة دعاء العبد، وتلبية طلبه.

والاستخارة دعاء، فعلى المسلم تحقيق شروط الدعاء، والالتزام بآدابه، واجتناب موانع استجابته، كي يستجاب له في استخارته، وتقضى له حاجته.

واعلم أن كثيراً من الناس يدعون فلا يستجاب لهم، وذلك لإخلالهم بالشروط، أو فعلهم بعض الموانع التي تحول دون الاستجابة.

ومن موانع استجابة الدعاء فيما يخص الاستخارة ما يلي:

--------------------------------------------

(1) أن يذكر ما يريد.

(2) تم ضم هذه الزيادة التي أوردها الراوي على الشك، كذا فعل شيخ الإسلام في ((الكلم الطيب)) قال شيخنا: ((ليكون الداعي على يقين أنه أتى باللفظ النبوي لم يفته منه شيء)) وكذا رجح ابن عابدين في ((حاشيته)) (2/ 26).
তৃতীয়ত: তিনি ইস্তিখারার দোয়া করবেন, আর তা সালাত শেষ করার পর পাঠ করতে হয়, যা হলো: ((হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার কুদরতের মাধ্যমে আপনার নিকট শক্তি প্রার্থনা করছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহের প্রার্থনা করছি। কেননা আপনি সক্ষম, আমি সক্ষম নই; আপনি জানেন, আমি জানি না। আর আপনিই অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত।

হে আল্লাহ! যদি আপনি জানেন যে, এই বিষয়টি [এরপর বিষয়টির নাম উল্লেখ করবেন] (১) আমার দ্বীন, আমার জীবন এবং আমার কর্মের পরিণামের ক্ষেত্রে—ইহলৌকিক ও পারলৌকিক—কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করে দিন এবং তা আমার জন্য সহজ করে দিন। অতঃপর তাতে আমার জন্য বরকত দান করুন।

আর যদি আপনি জানেন যে, এই বিষয়টি [বিষয়টি উল্লেখ ও নামকরণ করবেন] আমার দ্বীন, আমার জীবন এবং আমার কর্মের পরিণামের ক্ষেত্রে—ইহলৌকিক ও পারলৌকিক—অকল্যাণকর, তবে তা আমার থেকে ফিরিয়ে নিন এবং আমাকেও তা থেকে ফিরিয়ে রাখুন। আর আমার জন্য কল্যাণ যেখানেই থাকুক না কেন তা নির্ধারিত করে দিন, অতঃপর আমাকে তাতেই সন্তুষ্ট রাখুন))।

চতুর্থত: আল্লাহর প্রতি তার আস্থা হতে হবে সুদৃঢ়, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল হতে হবে সত্যনিষ্ঠ, হেদায়েত প্রাপ্তির ব্যাপারে তিনি হবেন নিশ্চিত এবং সাড়াদানের প্রতীক্ষায় থাকবেন, তাড়াহুড়ো করবেন না।

পঞ্চমত: দোয়া কবুলের সকল প্রতিবন্ধকতা থেকে নিজেকে দূরে রাখা।

 

‌‌সাড়াদানের কি কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে? আর সেগুলো কী কী?

হ্যাঁ; নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সাড়াদানের কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যা সংঘটিত হলে বান্দার দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে এবং তার প্রার্থনা মঞ্জুর হওয়ার পথে তা অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

আর ইস্তিখারা হলো একটি দোয়া, তাই মুসলিম ব্যক্তির কর্তব্য হলো দোয়ার শর্তসমূহ পূরণ করা, এর আদবসমূহ মেনে চলা এবং সাড়াদানের প্রতিবন্ধকতাগুলো পরিহার করা, যাতে তার ইস্তিখারা কবুল হয় এবং তার হাজত পূরণ করা হয়।

জেনে রাখুন যে, অনেক মানুষ দোয়া করে কিন্তু তাদের দোয়া কবুল হয় না; আর এটি হয় শর্তাবলীতে তাদের ত্রুটির কারণে অথবা এমন কিছু প্রতিবন্ধকতা লিপ্ত হওয়ার কারণে যা সাড়াদানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

ইস্তিখারার সাড়াদানের প্রতিবন্ধকতাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

--------------------------------------------

(১) তিনি যা চান তা উল্লেখ করবেন।

(২) বর্ণনাকারী (الراوي) সন্দেহের বশবর্তী হয়ে যে অতিরিক্ত অংশটি বর্ণনা করেছেন তা এখানে সংযুক্ত করা হয়েছে; শাইখুল ইসলাম 'আল-কালিমুত তাইয়্যিব' গ্রন্থে এমনটিই করেছেন। আমাদের শাইখ বলেন: "যাতে দোয়াকারী এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন যে, তিনি নববী শব্দাবলি পূর্ণাঙ্গভাবে পাঠ করেছেন এবং তার কোনো অংশই বাদ পড়েনি।" অনুরূপভাবে ইবনে আবিদীন তার 'হাশিয়া' (২/২৬) গ্রন্থে একেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
1 ـ أن يكون في كسب الرجل حرام، من اغتصاب حق أو تعامل بالربا، أو أكل أموال الناس بالباطل، أو ظلم، أو غش، أوعدم وفاء بالعقود التجارية، والصناعية، أو غير ذلك، فيدخل عليه المال الحرام، فيأكل منه، ويشرب منه، ويلبس منه، فلا يستجيب الله له.

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((أيهَا الناسُ! إن الله طيبٌ لا يقبلُ إلا طيبًا، وإن الله أمر المؤمنين بما أمرَ به المرسلين، فقال: {يا أيهَا الرسل كلوا منَ الطيِّبات واعمَلُوا صالحًا إنِّي بما تعملون عليم} [المؤمنون 51] وقال {يا أيهَا الذينَ آمنُوا كلوا منْ طيِّبات ما رزقناكُمْ} [البقرة 172] ثمَّ ذكرَ الرجل يطيلُ السفر، أشعث أغبر، يمد يديه إلى السماء، يا رب! يا رب! ومطعمه حرام، ومشربه حرام، وملبسه حرام، وغذي بالحرام، فأنى يستجابُ لذلك؟ )) (1).

2 ـ أن تكون الاستخارة والدعاء في إثم أو ظلم، فإن كانت في مثل ذلك فلا يستجاب له، كأن يستخير في أمر يكون فيه أذية مسلم، أو سببًا في ظلم مؤمن.

عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:

((ما على الأرض مسلم يدعو بدعوة إلا آتاه الله إياها، أو صرف عنه من السوء مثلها، ما لم يدع بإثم، أو قطيعة رحم)) فقال رجل من القوم: إذن نكثر؛ قال: ((الله أكثر)) (2).

أي: الله أكثر استجابة وعطاء من العبد مهما دعا وطلب.

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم (1015) وغيره.

(2) رواه الترمذي رقم (3568) وحسنه ووافقه شيخنا العلامة الألباني في صحيح الجامع.
১. কোনো ব্যক্তির উপার্জনে হারাম থাকা; যেমন—কারো অধিকার জবরদখল করা, সুদি কারবার করা, অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করা, জুলুম করা, প্রতারণা করা অথবা বাণিজ্যিক ও শিল্প চুক্তিসমূহ পূরণ না করা কিংবা এই জাতীয় অন্য কিছু। এর ফলে তার নিকট হারাম অর্থ প্রবেশ করে, যা থেকে সে আহার করে, পান করে এবং পরিধান করে। ফলে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন না।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ মুমিনদেরকে সেই নির্দেশই দিয়েছেন যা তিনি রাসূলদেরকে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন: {হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং সৎকাজ করো। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আমি অবগত} [আল-মুমিনুন: ৫১] এবং তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ! আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার করো} [আল-বাকারা: ১৭২]। এরপর তিনি এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে দীর্ঘ সফর করে, যার চুল উস্কোখুস্কো এবং দেহ ধূলিমলিন। সে আকাশের দিকে হাত প্রসারিত করে ডাকছে: হে আমার রব! হে আমার রব! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম এবং সে হারাম দ্বারা পুষ্ট হয়েছে। এমতাবস্থায় কীভাবে তার দোয়া কবুল হবে?" (১)।

২. ইসতিখারা এবং দোয়া কোনো পাপ বা অন্যায়ের জন্য হওয়া। যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে তা কবুল করা হয় না। যেমন—এমন কোনো বিষয়ে ইসতিখারা করা যাতে কোনো মুসলিমকে কষ্ট দেওয়ার বিষয় থাকে অথবা কোনো মুমিনের প্রতি জুলুমের কারণ হয়।

উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"পৃথিবীতে এমন কোনো মুসলিম নেই যে আল্লাহর নিকট কোনো দোয়া করে আর আল্লাহ তাকে তা দান করেন না অথবা তার বিনিময়ে তার থেকে কোনো সমপরিমাণ অমঙ্গল দূর করেন না; যতক্ষণ না সে কোনো পাপ অথবা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার দোয়া করে।" তখন কওমের এক ব্যক্তি বলল: "তাহলে আমরা অধিক পরিমাণে দোয়া করব।" তিনি বললেন: "আল্লাহর দান তার চেয়েও অধিক" (২)।

অর্থাৎ: বান্দা যত বেশিই দোয়া এবং প্রার্থনা করুক না কেন, আল্লাহ তার চেয়েও অধিক কবুলকারী ও দানকারী।

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম (১০১৫) এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি তিরমিযী নম্বর (৩৫৬৮) বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান (حسن) বলেছেন। আমাদের শায়খ আল্লামা আলবানী সহীহুল জামি গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
3 ـ ترك الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر:

من موانع استجابة الدعاء، هجر المسلم نصيحةَ إخوانه المسلمين، فلا يأمر بمعروف ولا ينهى عن منكر!

وكيما يستجيب الله الدعاء، ينبغي على المسلم أن يكون مستقيم الحال، صادق المآل، يأمر بالمعروف، وينهى عن المنكر.

والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، أوسع من أن تكون له هيئة مختصة به، أو جماعة تقوم به، بل هو من واجبات كل مسلم في بيته وأهله، وفي ماله وإخوانه، وفي من حوله، بشرط العلم والاستطاعة والحكمة، وعدم جر مفسدة أكبر مما ينهى عنه.

عن حذيفة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:

((والذي نفسي بيده، لتأمرن بالمعروف، ولتنهون عن المنكر، أو ليوشكنَّ الله أن يبعثَ عليكم عقابًا منه، ثم تدعونه فلا يستجاب لكم)) (1).

4 ـ أن يعتدي في دعائه، كأن يرفع صوته، أو يحدث فيه بدعة، أو يشرك في دعائه أحدًا من خلقه، أو يصرف قلبه تلقاء أحد من عبيده.

قال تعالى: {ادعوا ربكم تضرعًا وخفية، إنه لا يحب المعتدين} [الأعراف: 55]

فمن اعتدى لم يحبه الله ولا يستجيب الله لمن لا يحب.

وقال صلى الله عليه وسلم: ((سيكون قوم يعتدون في الدعاء)) (2).

5 ـ أن يكون الداعي غافلاً عن الله، معرضًا عن دينه، ناسيًا أوامره، مرتكبًا نواهيه.

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد (5/ 338) والترمذي رقم (2169) وحسنه وكذلك العلامة الألباني في صحيح الجامع.

(2) رواه أحمد (1/ 172، 183) وأبو داود (1480) وحسنه شيخنا في صحيح الجامع.
৩ ـ সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ বর্জন করা:

দোয়া কবুল হওয়ার পথে অন্যতম অন্তরায় হলো, একজন মুসলমানের তার মুসলিম ভাইদের নসিহত বা উপদেশ দেওয়া বর্জন করা; ফলে সে সৎ কাজের আদেশ দেয় না এবং অসৎ কাজে নিষেধও করে না!

আর আল্লাহ যাতে দোয়া কবুল করেন সেজন্য একজন মুসলমানের উচিত নিজের অবস্থা সুদৃঢ় রাখা, ভবিষ্যৎ পরিণতির ব্যাপারে সত্যনিষ্ঠ হওয়া এবং সৎ কাজের আদেশ দেওয়া ও অসৎ কাজে নিষেধ করা।

সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা কোনো বিশেষ দলের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার চেয়ে আরও ব্যাপক; বরং এটি প্রতিটি মুসলমানের ওপর তার ঘরে, পরিবারে, সম্পদে, ভাইদের মাঝে এবং তার চারপাশের মানুষের ক্ষেত্রে এক অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। তবে তা অবশ্যই ইলম (জ্ঞান), সক্ষমতা ও হিকমতের (প্রজ্ঞা) শর্তসাপেক্ষে হতে হবে, এবং এমনভাবে হতে হবে যেন তা কোনো বড় ফিতনা বা অনিষ্ট ডেকে না আনে।

হযরত হুযাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন:

“সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজে নিষেধ করবে, নতুবা শীঘ্রই আল্লাহ তোমাদের ওপর তাঁর পক্ষ থেকে আযাব প্রেরণ করবেন; এরপর তোমরা তাঁর কাছে দোয়া করবে, কিন্তু তোমাদের দোয়া আর কবুল করা হবে না।” (১)।

৪ ـ দোয়ার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করা; যেমন উচ্চস্বরে দোয়া করা, দোয়ার মধ্যে বিদআতের প্রবর্তন করা, দোয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর সৃষ্টির কাউকে অংশীদার করা কিংবা আপন অন্তরকে আল্লাহর কোনো বান্দার দিকে নিবদ্ধ করা।

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ডাকো বিনীতভাবে এবং গোপনে; নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না} [সূরা আল-আরাফ: ৫৫]

সুতরাং যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন না; আর আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন না তার দোয়া কবুল করেন না।

নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “শীঘ্রই এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা দোয়ার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করবে।” (২)।

৫ ـ দোয়াকারী আল্লাহ সম্পর্কে গাফেল হওয়া, তাঁর দ্বীন থেকে বিমুখ থাকা, তাঁর আদেশসমূহ ভুলে যাওয়া এবং তাঁর নিষেধসমূহ লঙ্ঘন করা।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ (৫/ ৩৩৮) এবং তিরমিযী, হাদিস নং (২১৬৯) এবং তিনি এটিকে হাসান (حسن) বলেছেন; একইভাবে আল্লামা আলবানীও সহীহ আল-জামি গ্রন্থে একে হাসান (حسن) বলে গণ্য করেছেন।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ (১/ ১৭২, ১৮৩) এবং আবু দাউদ (১৪৮০) এবং আমাদের শায়খ সহীহ আল-জামি গ্রন্থে একে হাসান (حسن) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
حتى إذا ما أصيب بالضراء، وكان من قبل يعصي الله في الرخاء، قال: يا رب يا رب .. فأنى يستجاب له.

ومن نسي الله في الرخاء، نسيه الله في الشدة .. والجزاء من جنس العمل .. ولا يظلم ربك أحدًا.

قال صلى الله عليه وسلم: ((من سره أن يستجيب الله له عند الشدائد والكرب، فليكثر الدعاء في الرخاء)) (1).

وقال صلى الله عليه وسلم: ((ادعوا الله وأنتم موقنون بالإجابة، واعلموا أن الله لا يستجيب دعاءً من قلب غافل لاهٍ)) (1).

6 ـ مخالفته لبعض الأحكام الشرعية، ومنها:

1 ـ سكوته عن سوء خلق زوجته، وعدم تطليقها.

2 ـ إقراضه مالاً دون إشهاد، إلا لمن غلب على الظن أنهم من أهل الوفاء.

3 ـ دفْعه مالاً للسفهاء، ولو كانوا أولاده أو إخوانه.

قال صلى الله عليه وسلم: ((ثلاثة يدعون الله عز وجل فلا يستجاب لهم: رجلٌ كانت تحته امرأة سيئة الخلق فلم يطلقها، ورجل كان له على رجل مال فلم يشهد عليه، ورجل آتى سفيهًا ماله، والله تعالى يقول: ولا تؤتوا السفهاء أموالكم)) (2).

--------------------------------------------

(1) رواهما الترمذي (3479، 3382) والحاكم (1997، 1817) وحسنهما شيخنا الألباني عن أبي هريرة في صحيح الجامع.

(2) رواه الحاكم (3181) وصححه ووافقه الذهبي والبيهقي في الكبرى 10/ 146 وغيرهما عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه وصححه شيخنا العلامة الألباني في السلسلة (1805)

[ذهب بعض أهل العلم إلى أن لفظ الحديث وإن كان عاماً في عدم الاستجابة إلا أن مقصوده الخصوص. أي: لا يستجيب الله لمن يدعو على هؤلاء الثلاثة لاأن لايستجيب له بالكلية، وذلك عقوبة لتفريطه في هذه الأمور … والله أعلم.] قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: ما بين المعكوفين من زيادات النسخة الإلكترونية، وليس في المطبوع
এমনকি যখন সে দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়, অথচ ইতিপূর্বে সচ্ছলতার সময় সে আল্লাহর অবাধ্যতা করত, তখন সে বলে: হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রতিপালক! এমতাবস্থায় তার দোয়া কীভাবে কবুল করা হবে?

আর যে ব্যক্তি সচ্ছলতার সময় আল্লাহকে ভুলে যায়, আল্লাহ তাকে কঠিন বিপদের সময় ভুলে যান (রহমত থেকে বঞ্চিত করেন)। আর প্রতিদান তো আমল অনুযায়ীই হয়ে থাকে। আপনার প্রতিপালক কারো প্রতি জুলুম করেন না।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি চায় যে, কঠিন বিপদ ও সংকটের সময় আল্লাহ তার প্রার্থনা কবুল করুন, সে যেন সচ্ছলতার সময় বেশি বেশি দোয়া করে।" (১)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: "তোমরা কবুল হওয়ার সুনিশ্চিত বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহ কোনো উদাসীন ও অমনোযোগী অন্তরের দোয়া কবুল করেন না।" (১)

৬- শরীয়তের কিছু বিধানের অবমাননা বা বিরোধিতা করা, যার মধ্যে রয়েছে:

১- নিজের স্ত্রীর দুশ্চরিত্রের ব্যাপারে নীরব থাকা এবং তাকে তালাক না দেওয়া।

২- কোনো সাক্ষী রাখা ছাড়াই ঋণ প্রদান করা, তবে যাদের ব্যাপারে প্রবল ধারণা থাকে যে তারা বিশ্বস্ত (ঋণ পরিশোধকারী), তাদের বিষয়টি ভিন্ন।

৩- নির্বোধদের হাতে সম্পদ তুলে দেওয়া, যদিও তারা তার সন্তান বা ভাই হয়।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তিন প্রকার ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দোয়া করে কিন্তু তাদের দোয়া কবুল করা হয় না: এমন ব্যক্তি যার অধীনে একজন দুশ্চরিত্রা নারী রয়েছে অথচ সে তাকে তালাক দেয় না; এমন ব্যক্তি যে কাউকে ঋণ দিয়েছে কিন্তু তার ওপর কোনো সাক্ষী রাখেনি; এবং এমন ব্যক্তি যে কোনো নির্বোধকে সম্পদ দান করেছে। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন: 'তোমরা নির্বোধদের হাতে তোমাদের সম্পদ তুলে দিও না'।" (২)

--------------------------------------------

(১) ইমাম তিরমিজি (৩৪৭৯, ৩৩৮২) ও হাকিম (১৯৯৭, ১৮১৭) এটি বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের শায়খ আলবানী আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত এই হাদিসগুলোকে হাসান (حسن) বলেছেন সহিহ আল-জামি গ্রন্থে।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন হাকিম (৩১৮১) এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। ইমাম দাহাবি এবং বায়হাকি সুনানুল কুবরা ১০/১৪৬ গ্রন্থে ও অন্যান্যরা আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) হতে বর্ণিত এই বর্ণনায় তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। আমাদের শায়খ আল্লামা আলবানী আস-সিলসিলাহ (১৮০৫) গ্রন্থে একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

[কিছু আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, হাদিসের শব্দগুলো দোয়া কবুল না হওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মনে হলেও এর উদ্দেশ্য বিশেষ বা সুনির্দিষ্ট। অর্থাৎ, আল্লাহ ওই ব্যক্তির দোয়া কবুল করবেন না যখন সে এই তিন শ্রেণির ব্যক্তির বিরুদ্ধে বদদোয়া করবে; তার অর্থ এটি নয় যে সামগ্রিকভাবে তার কোনো দোয়াই কবুল হবে না। আর এটি করা হবে এই বিষয়গুলোতে তার অবহেলার দণ্ডস্বরূপ ... আল্লাহই ভালো জানেন।] শামিলা লাইব্রেরির জন্য গ্রন্থটির প্রস্তুতকারক বলেন: তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটি ইলেকট্রনিক সংস্করণের সংযোজন, যা মুদ্রিত কপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌هل من أسباب يفعلها العبد، تكون سبباً في قبول استخارته

لما أشبهت الاستخارة الدعاء، بل هي دعاء على صورة مخصوصة، كان الراجح أن ما يرتجى فيه قبول الدعاء، هو ما يرتجى بسببه قبول الاستخارة.

ويرتجى قبول الدعاء بما يلي:

أولاً: أن يكون المسلم موقنًا بالإجابة، واثقًا بالله تعالى، صادقًا في دعائه.

وقد مر معنا قوله صلى الله عليه وسلم:

((ادعوا الله وأنتم موقنون بالإجابة .. )) الحديث. فلا يستجيب الله لمن لا يوقن بالاستجابة ولا يثق بمن يناجيه، ولا يتوكل على من يلبي طلبه، ويقضي له حاجته.

ثانيا: أن يدعو مخلصًا لله وحده، لا يشرك معه في دعائه أحدًا.

فمن دعا مع الله عز وجل أحدًا، أو أشركه بقول أو عمل، فقد بطل دعاؤه، وفسد عمله.

قال تعالى:

{وأنَّ المساجدَ لله فلا تدعوا معَ الله أحدًا} [الجن، 18].

وقال تعالى:

{وادعوهُ مخلصينَ له الدينَ} [الأعراف، 29].

وقال تعالى:

{قل إنما أدعو ربي ولا أشركُ بهِ أحدًا} [الجن، 20].

فلا يحل لمسلم أن يعلق قلبه - مجرد التعليق - بأحد غير خالقه، ومدبر شئونه، فهو الوحيد القادر على إنفاذ ما يريد، فلا راد لقدره، ولا مانع
বান্দার এমন কি কোনো আমল আছে, যা তার ইস্তিখারা কবুল হওয়ার কারণ হবে?

যেহেতু ইস্তিখারা দোয়ার সদৃশ, বরং এটি একটি বিশেষ পদ্ধতির দোয়া, তাই অধিকতর সঠিক (الراجح) মতানুসারে দোয়ার কবুলিয়াত লাভের জন্য যা প্রত্যাশা করা হয়, ইস্তিখারা কবুল হওয়ার জন্যও মূলত সেগুলোই প্রত্যাশিত কারণ।

আর নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে দোয়া কবুল হওয়ার আশা করা যায়:

প্রথমত: মুসলিম ব্যক্তিকে কবুল হওয়ার ব্যাপারে সুনিশ্চিত হতে হবে, মহান আল্লাহর ওপর আস্থাশীল হতে হবে এবং তার দোয়ায় সত্যবাদী হতে হবে।

আমাদের সামনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী অতিক্রান্ত হয়েছে:

((তোমরা আল্লাহর কাছে এমনভাবে দোয়া করো যেন তোমরা কবুল হওয়ার ব্যাপারে সুনিশ্চিত...)) হাদিস। সুতরাং আল্লাহ সেই ব্যক্তির দোয়া কবুল করেন না, যে কবুল হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত নয় এবং যার কাছে সে আরজি পেশ করছে তার ওপর আস্থাশীল নয়, আর যে ব্যক্তি তার প্রার্থনা কবুল করেন ও প্রয়োজন পূরণ করেন তাঁর ওপর ভরসা করে না।

দ্বিতীয়ত: কেবল আল্লাহর জন্যই একনিষ্ঠভাবে দোয়া করা, তাঁর সাথে দোয়ায় অন্য কাউকে শরিক না করা।

সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে আহ্বান করবে অথবা কথায় বা কাজে কাউকে শরিক করবে, তার দোয়া বাতিল হয়ে যাবে এবং তার আমল নষ্ট হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

{আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না} [আল-জিন, ১৮]।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:

{আর তোমরা তাঁরই আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁকে ডাকো} [আল-আরাফ, ২৯]।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:

{বলুন, আমি তো কেবল আমার পালনকর্তাকেই ডাকি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করি না} [আল-জিন, ২০]।

সুতরাং কোনো মুসলিমের জন্য তার স্রষ্টা ও তার সকল বিষয়ের ব্যবস্থাপক ছাড়া অন্য কারো সাথে তার অন্তরকে সম্পৃক্ত করা—সামান্যতম সম্পৃক্ত করাও—বৈধ নয়। কেননা তিনিই একমাত্র সত্তা যিনি যা ইচ্ছা তা কার্যকর করতে সক্ষম; তাঁর ফয়সালা কেউ রদ করার নেই এবং কেউ তা প্রতিরোধ করার নেই।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
لقضائه، إن كان خيرًا، أو كان سوءًا.

{قل من ذا الذي يعصمكم من الله إن أراد بكم سوءًا أو أراد بكم رحمة .. } [الأحزاب 17].

فلا يدع معه أحدًا، كائنًا من كان، ولا يشرَك معه رسول أو إمام، ولا شيخ أو ولي، ولا عظيم أو كبير، بل يوجه العبد وجهه وقلبه ودعاءه كله لله وحده.

قال صلى الله عليه وسلم: ((وإذا سألتَ فاسأل الله)) (1) الحديث.

فما خلقنا الله تعالى إلا لعبادته، وما أوجَدنا إلا لسؤاله.

{وما خلقت الجن والإنس إلا ليعبدون} [الذاريات، 65].

والدعاء والسؤال هما: العبادة.

قال صلى الله عليه وسلم: ((الدعاء هو العبادة)) (2).

وما ابتلانا الله إلا للتضرع إليه.

قال تعالى:

{فلولا إذ جاءهم بأسنا تضرعوا ولكن قست قلوبهم وزين لهم الشيطان ما كانوا يعملون} [الأنعام، 43].

ثالثا: أن يكون منيبًا إلى الله، تائبًا إليه، متذللاً بين يديه، خائفًا متضرعًا.

{إن الله يحب التوابين ويحب المتطهرين} [البقرة، 222].

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد (2763) والترمذي (2516) وقال حسن صحيح، والحاكم (3/ 623، 624) عن ابن عباس وصححه ووافقه الذهبي وأقرهما شيخنا العلامة الألباني في صحيح الجامع.

(2) رواه أبو داود (1479) والترمذي (2969) عن النعمان بن بشير رضي الله عنه وقال حسن صحيح، وأقره شيخنا الألباني في صحيح الجامع.
তাঁর ফয়সালার প্রতি, তা কল্যাণকর হোক বা অকল্যাণকর হোক।

{বলুন, কে তোমাদেরকে আল্লাহ থেকে রক্ষা করবে যদি তিনি তোমাদের অনিষ্ট করতে চান অথবা তোমাদের প্রতি করুণা করতে চান?} [আল-আহযাব: ১৭]।

সুতরাং সে যেন তাঁর সাথে আর কাউকে না ডাকে, সে যেই হোক না কেন; আর তাঁর সাথে কোনো রাসূল বা ইমাম, কোনো শাইখ বা অলি, কোনো মহান ব্যক্তি বা বড় কাউকে শরিক না করে। বরং বান্দা তার চেহারা, তার অন্তর এবং তার সকল প্রার্থনা কেবল আল্লাহর দিকেই নিবদ্ধ করবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আর যখন তুমি প্রার্থনা করবে, তখন আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করো” (১) হাদিস।

মহান আল্লাহ আমাদের কেবল তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন এবং কেবল তাঁর কাছে চাওয়ার জন্যই অস্তিত্ব দান করেছেন।

{আমি জিন ও মানব জাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি} [আয-যারিয়াত: ৬৫]।

আর দোয়া ও প্রার্থনা হলো: ইবাদত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দোয়াই হলো ইবাদত” (২)।

আর আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা করেন কেবল তাঁরই কাছে বিনীত হওয়ার জন্য।

মহান আল্লাহ বলেন:

{অতঃপর তাদের কাছে যখন আমার আজাব আসলো, তখন কেন তারা বিনীত হলো না? বরং তাদের অন্তরসমূহ কঠোর হয়ে গিয়েছিল এবং শয়তান তাদের কাজগুলোকে তাদের সামনে সুশোভিত করে তুলেছিল} [আল-আনআম: ৪৩]।

তৃতীয়ত: আল্লাহর অভিমুখী হওয়া, তাঁর নিকট তওবাকারী হওয়া, তাঁর সমীপে বিনম্র হওয়া এবং ভীত ও বিনীত হওয়া।

{নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন} [আল-বাকারাহ: ২২২]।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (২৭৬৩) ও তিরমিজি (২৫১৬) এবং তিনি একে হাসান সহিহ (حسن صحيح) বলেছেন, আর হাকিম (৩/৬২৩, ৬২৪) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করে একে সহিহ (صححه) বলেছেন এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন; আর আমাদের শাইখ আল্লামা আলবানি সহিহ আল-জামি গ্রন্থে তাঁদের উভয়কে সমর্থন করেছেন।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (১৪৭৯) ও তিরমিজি (২৯৬৯) নুমান ইবনে বশির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এবং তিনি একে হাসান সহিহ (حسن صحيح) বলেছেন, আর আমাদের শাইখ আলবানি সহিহ আল-জামি গ্রন্থে এটি সমর্থন করেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال تعالى:

{ادعوا ربكم تضرعًا وخفية إنه لا يحب المعتدين} [الأعراف، 55].

رابعا: أن يكون راضيًا بقضاء الله وقدره، قبل وقوعه، وبعد وقوعه، كيفما وقع، وعلى أي صورة قُضي.

وأن يعتقد أن الأمر ما قدر له إلا لخير يعلمه الله، وما صرف عنه إلا لخير يعلمه الله.

[قال صلى الله عليه وسلم: (عجباً لأمر المؤمن إن أمره كله خير، وليس ذلك لأحد إلا المؤمن، إن أصابته سراء شكر فكان خيراً له، وإن أصابته ضراء صبر فكان خيراً له) (1).] [*]

 

‌‌هل لكم أن تضربوا مثلاً في صفة الدعاء كيف تكون؟

نضرب مثلاً لرجل أراد أن يخطب فتاة ..

يصلي ركعتين، بنية الاستخارة، ثم يدعو بهذا الدعاء:

((اللهم إني أستخيرك بعلمك، وأستقدرك بقدرتك، وأسألك من فضلك العظيم، فإنك تقدر ولا أقدر، وتعلم ولا أعلم، وأنت علام الغيوب.

اللهم إن كنت تعلم: أن زواجي من فلانة بنت فلان، خير لي في ديني، ومعاشي، وعاقبة أمري عاجله وآجله، فاقدره لي، ويسره لي، ثم بارك لي فيه.

وإن كنت تعلم أن زواجي من فلانة بنت فلان، شر لي في ديني، ومعاشي، وعاقبة أمري عاجله وآجله، فاصرفه عني، واصرفني عنه، واقدر لي الخير حيث كان، ثم رضني به)).

 

‌‌ما الدليل عليها؟

لا يحل لمسلم أن يفعل أي عبادة كانت، مهما صغرت في عينه أو كبرت، وظن أن بها خيرًا، إلا أن تكون تلك العبادة مشروعة، وقد فعلها رسول

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم (2999) وأحمد (4/ 333)، (6/ 16) وغيرهما عن صهيب رضي الله عنه ..

[*] قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: هذا من زيادات النسخة الإلكترونية، وليس في المطبوع
এবং মহান আল্লাহ বলেন:

{তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ডাকো বিনীতভাবে এবং গোপনে; নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না} [আরাফ, ৫৫]।

চতুর্থত: আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের ওপর সন্তুষ্ট থাকা—তা ঘটার আগে এবং তা ঘটার পরে, যেভাবে ঘটুক না কেন এবং যেভাবেই ফয়সালা হোক না কেন।

এবং এই বিশ্বাস রাখা যে, তার জন্য যা নির্ধারিত হয়েছে তা কেবল এমন কল্যাণের জন্যই যা আল্লাহ অবগত আছেন, আর যা তার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তা কেবল এমন কল্যাণের জন্যই যা আল্লাহ অবগত আছেন।

[রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিনের বিষয়টি বিস্ময়কর, নিশ্চয়ই তার প্রতিটি বিষয়ই কল্যাণকর; আর এটি মুমিন ব্যতীত অন্য কারো জন্য নয়। যদি সে সুখ লাভ করে তবে শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণকর হয়; আর যদি সে দুঃখ-কষ্টে পতিত হয় তবে সবর করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণকর হয়" (১)।] [*]

 

‌‌দোয়ার স্বরূপ কেমন হবে সে বিষয়ে আপনারা কি কোনো উদাহরণ দিতে পারেন?

আমরা এমন এক ব্যক্তির উদাহরণ দিচ্ছি যে কোনো মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে চায়...

সে ইস্তিখারার নিয়তে দুই রাকাত নামাজ পড়বে, অতঃপর এই দোয়াটি করবে:

((হে আল্লাহ, আমি আপনার ইলমের মাধ্যমে আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার কুদরতের মাধ্যমে আপনার নিকট সামর্থ্য প্রার্থনা করছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। কেননা আপনি সক্ষম, আমি অক্ষম; আপনি জানেন, আমি জানি না; আর আপনিই অদৃশ্য বিষয়াবলি সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।

হে আল্লাহ, যদি আপনি জানেন যে অমুকের কন্যা অমুকের সাথে আমার বিবাহ আমার দ্বীন, আমার জীবন এবং আমার কর্মের পরিণামের ক্ষেত্রে—তা ইহকাল হোক বা পরকাল—কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করে দিন, তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং তাতে আমার জন্য বরকত দান করুন।

আর যদি আপনি জানেন যে অমুকের কন্যা অমুকের সাথে আমার বিবাহ আমার দ্বীন, আমার জীবন এবং আমার কর্মের পরিণামের ক্ষেত্রে—তা ইহকাল হোক বা পরকাল—অকল্যাণকর, তবে তা আমার থেকে সরিয়ে নিন এবং আমাকেও তা থেকে সরিয়ে রাখুন; আর আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করুন যেখানেই তা থাকুক না কেন, অতঃপর আমাকে তার ওপর সন্তুষ্ট রাখুন))।

 

‌‌এর দলিল কী?

কোনো মুসলিমের জন্য কোনো ইবাদত করা বৈধ নয়, চাই তা তার দৃষ্টিতে ছোট হোক বা বড় এবং সে তাতে কল্যাণ রয়েছে বলে ধারণা করুক না কেন, যতক্ষণ না সেই ইবাদতটি বিধিসম্মত হয় এবং রাসূল তা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন মুসলিম (২৯৯৯) ও আহমাদ (৪/৩৩৩), (৬/১৬) এবং অন্যান্যেরা সুহাইব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে...

[*] কিতাব প্রস্তুতকারক বলেছেন: এটি ইলেকট্রনিক সংস্করণের অতিরিক্ত অংশ, যা মুদ্রিত কপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الله صلى الله عليه وسلم أو أمر بها، أو فعلها أصحابه رضوان الله تعالى عليهم، وما عدا ذلك فهي بدعة، وكل بدعة ضلالة.

قال صلى الله عليه وسلم: ((من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد)) (1).

 

وأما دليل مشروعيتها: فما رواه البخاري في صحيحه قال، حدثنا مطرف بن عبد الله أبو مصعب حدثنا عبد الرحمن بن أبي الموال عن محمد بن المنكدر ((عن جابر رضي الله عنه قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يعلمنا الاستخارة في الأمور كلها كالسورة من القرآن يقول: إذا هم أحدكم بالأمر فليركع ركعتين من غير الفريضة ثم ليقل: اللهم إني أستخيرك بعلمك، وأستقدرك بقدرتك، وأسألك من فضلك العظيم، فإنك تقدر ولا أقدر، وتعلم ولا أعلم، وأنت علام الغيوب، اللهم إن كنت تعلم أن هذا الأمر خير لي في ديني ومعاشي وعاقبة أمري - أو قال: في عاجل أمري وآجله - فاقدره لي ويسره لي ثم بارك لي فيه، وإن كنت تعلم أن هذا الأمر شر لي في ديني ومعاشي وعاقبة أمري - أو قال في عاجل أمري وآجله - فاصرفه عني واصرفني عنه، واقدر لي الخير حيث كان ثم رضّني به. ويسمي حاجته)) (2). ما‌‌ معنى الاستخارة؟

المعنى اللغوي:

استخار: طلب الإرشاد إلى الخير.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (2550) ومسلم (1718) عن عائشة رضي الله عنها.

(2) رواه أحمد (3/ 344) والبخاري (2/ 51) وأبو داود (1482) والنسائي (3253) والترمذي (480) وابن ماجه (1383) هذا وقد أخرت ذكر الدليل عن الكيفية، تسهيلاً للمسلم الذي يريد الاستخارة فقط دون الدخول في التفاصيل.
...আল্লাহর রাসূল (সা.) অথবা তিনি যা নির্দেশ দিয়েছেন, কিংবা তাঁর সাহাবীগণ (রাযি.) যা সম্পাদন করেছেন; এছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা নব-উদ্ভাবন (بدعة), এবং প্রতিটি নব-উদ্ভাবনই (بدعة) পথভ্রষ্টতা (ضلالة)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের ব্যাপারে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)" (১)।

 

আর এর শরয়ী বিধানের প্রমাণ হলো: যা বুখারী তাঁর সহীহ-এ বর্ণনা করেছেন (رواه), তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ আবু মুসআব বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে আবিল মাওয়াল বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে (عن), তিনি জাবির (রাযি.) থেকে (عن) বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "নবী (সা.) আমাদের কুরআনের সূরার ন্যায় প্রতিটি বিষয়েই ইস্তিখারাহ করার শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন: যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজের সংকল্প করে, সে যেন ফরয (فريضة) সালাত ছাড়া দুই রাকআত সালাত আদায় করে, তারপর বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার ইলমের সাহায্যে আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং আপনার কুদরতের সাহায্যে আপনার নিকট সামর্থ্য প্রার্থনা করছি, এবং আমি আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। কেননা আপনি সামর্থ্য রাখেন আর আমি সামর্থ্য রাখি না, আপনি জানেন আর আমি জানি না, এবং আপনিই অদৃশ্য বিষয়সমূহের মহাজ্ঞানী। হে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে এই বিষয়টি আমার দ্বীন, আমার জীবন ও আমার কর্মের পরিণতির জন্য—অথবা তিনি বলেন: আমার ইহকাল ও পরকালের জন্য—কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করে দিন এবং তা আমার জন্য সহজ করে দিন, অতঃপর তাতে আমাকে বরকত দান করুন। আর যদি আপনি জানেন যে এই বিষয়টি আমার দ্বীন, আমার জীবন ও আমার কর্মের পরিণতির জন্য—অথবা তিনি বলেন: আমার ইহকাল ও পরকালের জন্য—অকল্যাণকর, তবে তা আমার থেকে ফিরিয়ে নিন এবং আমাকেও তা থেকে ফিরিয়ে রাখুন। আর আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারিত করুন যেখানেই তা থাকুক, অতঃপর আমাকে তার প্রতি সন্তুষ্ট করে দিন। (অতঃপর সে তার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবে)" (২)। ইস্তিখারাহ-এর অর্থ কী?

আভিধানিক অর্থ:

ইস্তিখারাহ: কল্যাণের জন্য দিকনির্দেশনা প্রার্থনা করা।

--------------------------------------------

(১) বর্ণনা করেছেন (رواه) বুখারী (২৫৫০) ও মুসলিম (১৭১৮) আয়েশা (রাযি.) থেকে।

(২) বর্ণনা করেছেন (رواه) আহমদ (৩/৩৪৪), বুখারী (২/৫১), আবু দাউদ (১৪৮২), নাসায়ী (৩২৫৩), তিরমিযী (৪৮০) এবং ইবনে মাজাহ (১৩৮৩)। এখানে আমি বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে কেবল ইস্তিখারার পদ্ধতি জানতে ইচ্ছুক মুসলিমদের সুবিধার্থে নিয়ম বর্ণনার পরে দলীলটি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
خار الأمرُ: صار فيه خيرًا (1).

وخرتُ الأمرَ: انتقيته لما فيه من الخير.

وعندي: أن ((اختار)) بمعنى: انتقى، غير أن ((اختار)) لا تستعمل إلا في الخير ((وانتقى)) تستعمل في الخير وفي غيره.

قال تعالى:

{وربك يخلق ما يشاء ويختار} [القصص: 68]

وقوله صلى الله عليه وسلم في حديث الإسراء:

((فاخترت اللبن)) (2) بدل الخمر.

وقوله صلى الله عليه وسلم:

((المدينة كالكير تنقي خبيثها [ويَنْصع طيبها)) قال في النهاية (5/ 111): ((الرواية المشهورة بالفاء وقد جاء في رواية بالقاف (3) فإن كانت مخففة … أي تستخرج خبثها، وإن كانت مشددة فهو من التنقية، وهو إفراد الجيد من الرديء)) اهـ] [*]

واستخرت: طلبت الأمر الذي فيه خير، أو طلبت انتقاء الأمر الخير.

واستخار الرجل الله تعالى: طلب منه الإرشاد والهداية إلى الخير، أو اختيار ما فيه خير له.

والاستخارة: اسم لهذا الطلب أو الفعل.

والاستخارة الشرعية: أن يستخير العبد ربه، على ما وصف له رسول الله صلى الله عليه وسلم، من صلاة ركعتين من غير الفريضة، ثم دعاء مخصوص بعدهما، لفعل أمر مباح، أو تركه، أو في الواجب والمستحب المخيّر.

 

‌‌من معاني هذا الدعاء العظيم

قول جابر بن عبد الله: ((كان النبي صلى الله عليه وسلم يعلمنا الاستخارة في الأمور كلها)): يأتي شرحه في باب ما هي الأمور التي يستخار فيها؟

قوله: ((كالسورة من القرآن)): أي يعلمهم حفظ دعاء الاستخارة وإتقانه، كما كان يعلمهم سور القرآن وآياته وإتقانها (4).

--------------------------------------------

(1) القاموس المحيط: لسان العرب.

(2) رواه مسلم (162، 164) وابن خزيمة (301) وغيرهما عن مالك بن صعصعة رضي الله عنه.

(3) أما الرواية المشهورة بالفاء فقد رواها البخاري (1784، 6790) ومسلم (1383) عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه وأما رواية القاف التي ذكرنا فقد رواها المفضل الجندي في (فضائل المدنية) (23) حدثنا ابن أبي عمر وسعيد قالا ثنا سفيان عن محمد بن المنكدر عن جابر ورواية البخاري: حدثنا أبو نعيم حدثنا سفيان عن محمد بن المنكدر عن جابر وابن أبي عمر هو شيخ مسلم وقد رواه مسلم عنه حدثنا سفيان بإسناده عن أبي هريرة ورواه من طريق أخرى عن مالك عن سفيان عن محمد بن المنكدر عن جابر وكلها بالفاء.

(4) يراجع بهجة النفوس (2/ 87).

[*] قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: هذا من زيادات النسخة الإلكترونية، وليس في المطبوع
খরা আল-আমরু (خار الأمرُ) অর্থ: তাতে কল্যাণ সাধিত হওয়া (১)।

আর 'খুরতু আল-আমরা' (خرتُ الأمرَ) অর্থ: কল্যাণের দিকটি বিবেচনা করে আমি বিষয়টি নির্বাচন করেছি।

আমার মতে: 'ইখতিয়ার' (اختار) শব্দটি 'ইনতিকা' (انتقى) বা নির্বাচনের অর্থেই ব্যবহৃত হয়; তবে পার্থক্য হলো, 'ইখতিয়ার' (اختار) শব্দটি কেবল কল্যাণের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, আর 'ইনতিকা' (انتقى) শব্দটি কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

{আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন (يختار)} [কাসাস: ৬৮]

এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী মিরাজের হাদিসে এসেছে:

((অতঃপর আমি মদের পরিবর্তে দুধ নির্বাচন (فاخترت) করলাম)) (২)।

এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী:

((মদিনা হলো হাপরের মতো, যা তার আবর্জনা দূর করে [এবং তার পবিত্রতাকে পরিচ্ছন্ন করে]))। আন-নিহায়া (৫/১১১) গ্রন্থে বলা হয়েছে: ((বিখ্যাত বর্ণনা (رواية) টি 'ফা' (الفاء) সহযোগে, তবে 'ক্বাফ' (القاف) সহযোগে একটি বর্ণনা (رواية) এসেছে (৩); সুতরাং যদি তা 'তাখফিফ' বা হালকা উচ্চারণে হয়... তবে অর্থ হবে আবর্জনা বের করে দেওয়া, আর যদি তা 'তাশদিদ' বা দ্বিত্ব উচ্চারণে হয়, তবে তা 'তানকিয়াহ' (تنقية) থেকে আগত, যার অর্থ হলো মন্দ থেকে ভালোকে পৃথক করা))। [উদ্ধৃতি সমাপ্ত]

আর 'ইস্তাখারতু' (استخرت) অর্থ: আমি এমন বিষয় প্রার্থনা করেছি যাতে কল্যাণ রয়েছে, অথবা আমি কল্যাণকর বিষয়টি নির্বাচনের আবেদন করেছি।

কোনো ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করল অর্থ হলো: সে তাঁর কাছে কল্যাণের দিকে দিকনির্দেশনা ও হিদায়াত প্রার্থনা করল, অথবা যা তার জন্য কল্যাণকর তা নির্বাচনের আবেদন করল।

আর ইস্তিখারা (الاستخارة): হলো এই প্রার্থনা বা কাজের নাম।

শরয়ী ইস্তিখারা: হলো বান্দা তার রবের কাছে সেই পদ্ধতিতে কল্যাণ প্রার্থনা করা, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) বর্ণনা করেছেন; অর্থাৎ ফরজ নামাজ ব্যতীত দুই রাকাত নামাজ আদায় করা, অতঃপর কোনো বৈধ কাজ করা বা বর্জনের ক্ষেত্রে, অথবা ঐচ্ছিক ওয়াজিব ও মুস্তাহাব বিষয়ের ক্ষেত্রে নামাজের পর বিশেষ দোয়া পাঠ করা।

 

‌এই মহান দোয়ার কিছু তাৎপর্য

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)-এর উক্তি: ((নবী (সা.) আমাদের সকল বিষয়ে ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন)): এর ব্যাখ্যা 'কোন কোন বিষয়ে ইস্তিখারা করতে হয়?' পরিচ্ছেদে আসবে।

তাঁর উক্তি: ((কুরআনের সূরার মতো)): অর্থাৎ তিনি তাদের ইস্তিখারার দোয়া মুখস্থ করা এবং তা নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করার শিক্ষা দিতেন, যেভাবে তিনি তাদের কুরআনের সূরা ও আয়াতসমূহ এবং তা নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করা শিক্ষা দিতেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-কামুসুল মুহিত; লিসানুল আরব।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (১৬২, ১৬৪) এবং ইবনে খুজাইমা (৩০১) ও অন্যান্যরা মালিক ইবনে সা'সাআ (রা.) থেকে।

(৩) প্রসিদ্ধ (مشهور) বর্ণনা (رواية) টি 'ফা' সহযোগে; যা বর্ণনা করেছেন বুখারি (১৭৮৪, ৬৭৯০) এবং মুসলিম (১৩৮৩) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে। আর 'ক্বাফ' সহযোগে যে বর্ণনা (رواية) টির কথা আমরা উল্লেখ করেছি, তা আল-মুফাদদাল আল-জুন্দি তার 'ফাদায়িলুল মদিনা' (২৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি ওমর ও সাঈদ, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির থেকে। বুখারির বর্ণনা হলো: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির থেকে। ইবনে আবি ওমর হলেন মুসলিমের উস্তাদ এবং মুসলিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তাঁর সনদ (إسناد) অনুযায়ী আবু হুরায়রা থেকে। এবং অন্য সূত্রে এটি মালিক থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং এ সবগুলিই 'ফা' সহযোগে।

(৪) দ্রষ্টব্য: বাহজাতুন নুফুস (২/৮৭)।

[*] শামেলার পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতকারক বলেন: এটি ইলেকট্রনিক সংস্করণের অতিরিক্ত অংশ, মূল মুদ্রিত কপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ويؤيد هذا المعنى؛ ما ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم في تعليمه دعاء النوم، وأمره بالالتزام بنص الدعاء، ويأتي تفصيل الجواب في باب هل يلتزم بالدعاء.

قوله: ((إذا هم أحدكم بالأمر)): أي إذا خطر الأمر بباله، ثم عزم عليه، أو إذا عُرض عليه، ثم نوى فعله، أو عرض له عارض لا يدري مخرجه.

قوله: ((اللهم إني أستخيرك بعلمك)):

أي أطلب إليك أن تختار لي ما هو خير لي.

وأستعين على حاجتي هذه، وأتوسل إليك بعلمك، الذي لا يعزب عنه شيء في الأرض ولا في السماء.

والاستعانة بعلم الله الذي هو صفة من صفاته سبحانه، والتوسل إليه بها، من أنسب الاستعانة وأجلها في هذا المقام، لأن حاجة المستخير متعلقة بالغيب، والغيب من علم الله، لذا كانت صفة علم الله الذي وسع كل شيء، وأحاط بكل شيء، هي الصفة المناسبة للاستعانة بها، والتوسل إلى الله تعالى بها.

قوله: ((وأستقدرك بقدرتك)):

أي: أطلب منك العون على ما تقدره لي، وأتوسل إليك بقدرتك، وما يقال في التوسل بصفة العلم، يقال هنا بصفة القدرة .. فإن أمر الله وفعله سبحانه لا يكون إلا بعلم وقدرة، ولذلك ناسب بعد توسله إليه بالعلم، أن يتوسل إليه بالقدرة.

والاستقدار بالقدرة، والاستخارة بالعلم، يتضمن الاستعانة والتوسل وهما من أجل أنواع الاستعانة والتوسل المشروعين، والله أعلم.

قوله: ((وأسألك من فضلك العظيم)):

بعد أن استشفع بصفة العلم، وتوسل إليه بصفة القدرة، ناسب أن يسأله من فضله الذي لا ينفد، وكرمه الذي لا يحجب.

أي أنت الذي يعلم ما غاب من الخير والشر، وأنا جاهل ذلك لا أعلمه، فاختر لي الخير بعلمك، ويسره لي بقدرتك، وبارك لي فيه بفضلك.

فلا أحد يعلم الغيب غيره، إلا بإذن منه سبحانه.

والإذن إذنان:

إذن عن طريق الوحي والكلام، وهو خاص بالرسل والأنبياء.

قال تعالى: {عالم الغيب فلا يظهر على غيبه أحدًا إلا من ارتضى من رسول فإنه
এই অর্থটিকে সমর্থন করে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ঘুমের দুআ শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি দুআর মূল শব্দের ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এর বিস্তারিত উত্তর 'দুআর শব্দের ওপর কি অবিচল থাকতে হবে' নামক অধ্যায়ে আসবে।

তাঁর বাণী: "যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজের সংকল্প করে": অর্থাৎ যখন কোনো বিষয় তার মনে উদিত হয়, অতঃপর সেটির প্রতি দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করে; অথবা যখন তার সামনে কোনো বিষয় উপস্থাপিত হয়, এরপর সে সেটি করার নিয়ত করে; অথবা যখন তার সামনে এমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হয় যেটির উত্তরণের পথ সে জানে না।

তাঁর বাণী: "হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি":

অর্থাৎ আমি আপনার নিকট আবেদন করছি যেন আপনি আমার জন্য তা-ই নির্বাচন করেন যা আমার জন্য কল্যাণকর।

এবং আমি আমার এই প্রয়োজনে আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং আপনার সেই জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার নিকট উসিলা পেশ করছি, আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই যা থেকে অগোচর থাকে না।

আল্লাহর জ্ঞানের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা—যা তাঁর গুণাবলির একটি গুণ—এবং এর মাধ্যমে তাঁর নিকট উসিলা তালাশ করা এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ ও মহান একটি পন্থা। কারণ কল্যাণ প্রার্থনাকারীর প্রয়োজনটি অদৃশ্যের সাথে সম্পৃক্ত, আর অদৃশ্য হলো আল্লাহর জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। তাই আল্লাহর জ্ঞানের গুণ—যা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং সবকিছুর ওপর ব্যপ্ত—সেটিই এখানে সাহায্য প্রার্থনা ও আল্লাহর নিকট উসিলা ধরার জন্য সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত গুণ।

তাঁর বাণী: "এবং আমি আপনার কুদরতের মাধ্যমে আপনার নিকট সামর্থ্য প্রার্থনা করছি":

অর্থাৎ আপনি আমার জন্য যা নির্ধারণ করেন তাতে আমি আপনার নিকট সাহায্য চাইছি এবং আপনার কুদরতের মাধ্যমে আপনার নিকট উসিলা পেশ করছি। জ্ঞানের গুণের মাধ্যমে উসিলা ধরার বিষয়ে যা বলা হয়েছে, কুদরত বা ক্ষমতার গুণের ক্ষেত্রেও তাই প্রযোজ্য। কেননা মহান আল্লাহর নির্দেশ ও কাজ জ্ঞান এবং ক্ষমতা ব্যতীত সম্পন্ন হয় না। আর একারণেই জ্ঞানের উসিলা দেওয়ার পর কুদরত বা ক্ষমতার উসিলা প্রদান করা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে।

কুদরতের মাধ্যমে সামর্থ্য প্রার্থনা করা এবং ইলমের মাধ্যমে কল্যাণ প্রার্থনা করার মধ্যে সাহায্য প্রার্থনা ও উসিলা তালাশ করার বিষয়টি নিহিত রয়েছে, আর এ দুটি হলো বৈধ উসিলা ও সাহায্য প্রার্থনার সর্বোত্তম প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

তাঁর বাণী: "এবং আমি আপনার মহান অনুগ্রহ হতে আপনার নিকট প্রার্থনা করছি":

জ্ঞানের গুণের মাধ্যমে সুপারিশ বা মাধ্যম পেশ করার পর এবং ক্ষমতার গুণের মাধ্যমে উসিলা ধরার পর, তাঁর সেই অনুগ্রহের নিকট প্রার্থনা করা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে যা কখনো শেষ হয় না এবং তাঁর সেই মহানুভবতার নিকট যা কখনো রুদ্ধ হয় না।

অর্থাৎ আপনিই সেই সত্তা যিনি অদৃশ্যের ভালো ও মন্দ সম্পর্কে জানেন, আর আমি সে বিষয়ে অজ্ঞ, আমি তা জানি না। সুতরাং আপনি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আমার জন্য কল্যাণটি নির্বাচন করে দিন, আপনার কুদরতের মাধ্যমে তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং আপনার অনুগ্রহের মাধ্যমে তাতে আমার জন্য বরকত দান করুন।

কেননা মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ অদৃশ্য সম্পর্কে জানে না, তবে তাঁর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অনুমতি ব্যতীত।

আর এই অনুমতি দুই প্রকার:

ওহী এবং কালাম বা বাণীর মাধ্যমে প্রাপ্ত অনুমতি, যা কেবল রাসূল ও নবীদের জন্য নির্দিষ্ট।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো নিকট প্রকাশ করেন না, তবে তাঁর মনোনীত কোনো রাসূল ব্যতীত, নিশ্চয়ই তিনি..."
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
يسلك من بين يديه ومن خلفه رصدا} [الجن 26 - 27].

وإذن من الله لمعرفة الغيب، بإدراك السنن الكونية، واكتشاف الحقائق العلمية.

وما عرفه البشر وسيعرفه، مؤمنهم وكافرهم، من الأمور التي كانت غيبًا من قبل، كاكتشاف الكهرباء، ومعرفة الذكر والأنثى في بطن أمه، وغير ذلك مما يعتمد على العلم لا على الخرافة والدجل، فهو من هذا الباب، باب الغيب المؤقت الذي أناطه الله بأسباب، فهو يغيب بغياب أسبابه، ويظهر بظهورها، وليس من الغيب الذي لا يعلمه إلا الله، ولم يأذن باكتشافه ومعرفته.

قوله: ((اللهم إن كنت تعلم أن هذا الأمر خير لي في ديني ومعاشي وعاقبة أمري فاقدره لي ويسره لي … .. وإن كنت تعلم … .. ))

[وبعد أن تم التمهيد للدعاء، بمنتهى الحكمة، وحصلت التوطئة للطلب بالتوسل المشروع، شرع السائل بطلب مقصوده .. ولما كان ذلك متعلقاً بعلم الله لا بعلمه، وباختيار الله لا باختياره، علق السائل الأمر بالله

أي: لما كنتَ أنت الذي يعلم عواقب الأمور، خيرها من شرها، فقد فوضت الأمر إليك، لتختار لي ما هو خير، وتصرف عني ما هو شر.

ثم لما كان يُخشى من عوائق تعيق هذا الأمر، ولا يزيلها إلا بالله، بادر بسؤاله التيسير، فقال: فاقدره لي ويسره لي.] [*]

فجماع مقام الاستخارة منوطٌ بثلاثة:

- علم الله، لمعرفة ما هو خير.

- تقدير هذا الخير، وقضاؤه الذي يحتاج إلى قدرة.

- فضل الله الذي لا ينفد، وكرمه الذي لا يرد.

لذا كان من التوفيق العظيم، والحكمة البالغة، أن يجمع بين هذه الثلاثة في دعائه.

فيستفتح دعاءه متوسلاً إلى الله بعلمه، مستعينًا به على اختيار الخير له، ثم أتبع ذلك بما يحتاج إليه بعد الاختيار، من القدرة على الفعل، والإعانة على العمل، لذا استغاث بقدرة الله، وتوسل إليه بهذه الصفة العلية.

ثم ختم ذلك بسؤال الله من فضله وكرمه، كيما يبارك له في المختار، وينفعه به.

وفي هذا تحقيق للتوحيد، بسؤاله بصفاته سبحانه {ولله الأسماء الحسنى فادعوه بها} [الأعراف 180]

قوله: ((فإنك تقدر ولا أقدر وتعلم ولا أعلم وأنت علام الغيوب))

هذا إقرار بصفات عظيمة من صفات الله، وبوء بعجز العبد في مقابلها، وفي هذا تحقيق للتوحيد، واستعطاف الضعيف القويَّ، واسترشادُ الجاهلِ العليمَ.

وفي هذا غاية الأدب بالاعتراف بضعف العبد {يا أيها الناس أنتم الفقراء إلى الله والله هو الغني الحميد} [فاطر 15]، وإقرار بكمال العرفان بفضله وكرمه {واسألوا الله من فضله} [النساء 32].

فإن من أدب الدعاء، أن يحقق العبد العبودية فيه، وأن يقر بذلك في نفسه، وينطق بلسانه، بعلم الله الواسع، وقدرته العظيمة، وأنهما صفتان عظيمتان من صفات الرحمن.

وإن من كمال العبودية، أن يتبع ذلك

--------------------------------------------

[*] قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: هذا من زيادات النسخة الإلكترونية، وليس في المطبوع
}তার সামনে ও পিছনে প্রহরী নিযুক্ত করেন।} [জিন ২৬ - ২৭]।

এবং এটি মহাজাগতিক নিয়মাবলী অনুধাবন ও বৈজ্ঞানিক সত্য উন্মোচনের মাধ্যমে অদৃশ্যের জ্ঞান অর্জনের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অনুমতি।

মানুষ যা কিছু জেনেছে এবং ভবিষ্যতে জানবে—তা মুমিন হোক বা কাফির—এমন বিষয়াবলি যা পূর্বে অদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেমন বিদ্যুতের আবিষ্কার, মাতৃগর্ভে সন্তান ছেলে না কি মেয়ে তা জানা এবং অন্যান্য বিষয় যা কুসংস্কার বা জাদুটোনার পরিবর্তে বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এগুলো এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ সাময়িক অদৃশ্য (الغيب المؤقت) যা আল্লাহ তাআলা কার্যকারণের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। সুতরাং এটি কারণের অনুপস্থিতিতে অদৃশ্য থাকে এবং কারণের উপস্থিতিতে দৃশ্যমান হয়। এটি সেই অদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত নয় যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না এবং যার উন্মোচন বা জ্ঞানের অনুমতি তিনি দেননি।

তাঁর বাণী: ((হে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে এই বিষয়টি আমার দ্বীন, জীবন ও পরকালের কল্যাণের জন্য উত্তম, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করুন এবং সহজ করে দিন … .. আর যদি আপনি জানেন … .. ))

[অত্যন্ত প্রজ্ঞার সাথে দোয়ার ভূমিকা সম্পন্ন করার পর এবং শরয়ি উসিলা (التوسل المشروع) অবলম্বনের মাধ্যমে আবেদনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির পর, প্রার্থনাকারী তার মূল উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে শুরু করেন... যেহেতু বিষয়টি মানুষের জ্ঞানের পরিবর্তে আল্লাহর জ্ঞানের সাথে এবং মানুষের পছন্দের পরিবর্তে আল্লাহর পছন্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই প্রার্থনাকারী বিষয়টি আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করেন।

অর্থাৎ: যেহেতু আপনিই সেই সত্তা যিনি বিষয়াবলির পরিণাম—তার ভালো ও মন্দ সম্পর্কে জানেন, তাই আমি বিষয়টি আপনার নিকট সমর্পণ করলাম, যাতে আপনি আমার জন্য যা কল্যাণকর তা চয়ন করেন এবং যা অকল্যাণকর তা আমার থেকে সরিয়ে দেন।

এরপর যেহেতু এমন সব প্রতিবন্ধকতার আশঙ্কা ছিল যা এই কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং যা আল্লাহ ছাড়া কেউ দূর করতে পারে না, তাই তিনি দ্রুত সহজীকরণের প্রার্থনা করে বললেন: তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করুন এবং সহজ করে দিন।] [*]

ইস্তিখারার (الاستخارة) সারবত্তা তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল:

- আল্লাহর জ্ঞান, যা দ্বারা কল্যাণ সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়।

- এই কল্যাণের নির্ধারণ এবং ফয়সালা, যার জন্য সক্ষমতা (قدرة) প্রয়োজন।

- আল্লাহর অনুগ্রহ যা অফুরন্ত এবং তাঁর মহানুভবতা যা কখনো বিফল হয় না।

তাই দোয়ার মধ্যে এই তিনটির সমন্বয় ঘটানো মহান তাওফিক এবং সুগভীর প্রজ্ঞার পরিচায়ক।

তিনি আল্লাহর জ্ঞানের উসিলা দিয়ে দোয়া শুরু করেন, নিজের জন্য কল্যাণকর বিষয়টি বেছে নিতে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করেন। এরপর পছন্দের পর যা প্রয়োজন—অর্থাৎ কাজটির সামর্থ্য ও সাহায্য—তার আবেদন করেন। এই কারণে তিনি আল্লাহর সক্ষমতার (قدرة) নিকট ফরিয়াদ জানান এবং এই মহান সিফাত বা গুণের মাধ্যমে তাঁর নিকট উসিলা পেশ করেন।

পরিশেষে তিনি আল্লাহর অনুগ্রহ ও মহানুভবতার প্রার্থনা করে দোয়া শেষ করেন, যাতে আল্লাহ তাআলা মনোনীত বিষয়টিতে বরকত দান করেন এবং তাকে এর দ্বারা উপকৃত করেন।

এতে মহান আল্লাহর গুণাবলির মাধ্যমে প্রার্থনার দ্বারা একত্ববাদের (التوحيد) বাস্তবায়ন ঘটে {আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, অতএব তোমরা তাঁকে সেই নামেই ডাকো} [আরাফ ১৮০]

তাঁর বাণী: ((নিশ্চয়ই আপনি সক্ষম, আমি সক্ষম নই; আপনি জানেন, আমি জানি না; এবং আপনিই অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা (علام الغيوب)))

এটি আল্লাহর মহান গুণাবলির স্বীকৃতি এবং তার বিপরীতে বান্দার অক্ষমতার স্বীকারোক্তি। এর মধ্যে একত্ববাদের (التوحيد) বাস্তবায়ন, সবলের নিকট দুর্বলের বিনয় এবং মহাজ্ঞানীর নিকট অজ্ঞের পথপ্রদর্শন প্রার্থনা নিহিত রয়েছে।

এতে বান্দার দুর্বলতা স্বীকার করার মাধ্যমে শিষ্টাচারের (أدب) চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শিত হয়েছে {হে মানুষ, তোমরা আল্লাহর মুখাপেক্ষী; আর আল্লাহ তো অভাবমুক্ত, প্রশংসিত} [ফাতির ১৫], এবং তাঁর অনুগ্রহ ও মহানুভবতার প্রতি পূর্ণ স্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে {আর তোমরা আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো} [নিসা ৩২]।

কেননা দোয়ার একটি আদব (أدب) হলো—বান্দা তার মধ্যে নিজের দাসত্বকে (العبودية) মূর্ত করে তুলবে, নিজের অন্তরে তা স্বীকার করবে এবং মুখে আল্লাহর সুপ্রশস্ত জ্ঞান ও মহান সক্ষমতার কথা উচ্চারণ করবে। আর এই দুটি হলো দয়াময় রহমানের দুটি মহান গুণ।

আর দাসত্বের (العبودية) পূর্ণতা হলো, এর অনুগামী হওয়া...

--------------------------------------------

[*] শামিলা সফটওয়্যারের জন্য গ্রন্থটির প্রস্তুতকারক বলেছেন: এটি ইলেকট্রনিক সংস্করণের অতিরিক্ত অংশ, মূল মুদ্রিত কপিতে এটি নেই।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
اعتراف العبد بالعجز والجهل، وأنه لا غنى له عن ربه، لذلك قال:

((فإنك تقدر ولا أقدر، وتعلم ولا أعلم)).

قوله: ((وأنت علام الغيوب)).

ثم لما كان العبد قصير النظر، مضطرب الأحوال، لا يرضى بما قُسم له، ولا يقتنع بما قدر له، كان من المناسب جدًا أن يختم دعاءه بطلب الرضى بما سيقدر له، فهبة الرضى من أعظم الهبات، لأن فيها اطمئناناً للقلب، ورضىً عن الرب.

[إزالة إشكال:

وقد يشكل على بعضهم قوله: (إن كنت تعلم) إذ كيف يقول العبد لله: إن كنت تعلم، وهو يعتقد أن الله يعلم.

قلت: لا إشكال في ذلك: إذ ليس لها مفهوم أن الله لا يعلم، وليس من مقتضى قوله: إن كنت تعلم، أي: وإن كنت لا تعلم.

وإنما هذا تعليق بما يعلم الله من خير في الأمر فييسره، وما يعلم من شر في الأمر فيصرفه، وعلى هذا فليس الأمر معلقاً بعلم الله وعدمه، وإنما هو معلق بعلم الله بخير الأمر، أو بعلم الله بشره ..

فالمقصود: تعليق الأمر بعلم الله بالخير المقابل لعلم الله بالشر، وليس المقصود تعليق الأمر بعلم الله أو عدمه، وهذا النوع من التعليق يحتاج إلى مثل هذا الأسلوب من التعبير، فتنبه.

مثاله: أن يسأل عاملٌ ربَّ عملٍ خبيرٍ صادقٍ عن أمر دنيوي، فيقول له: إن كنت تعلم أن في عملي هذا ربحاً فادفعني إليه، وإن كنت تعلم أن فيه خسارة لي فلا تجعلني عاملاً فيه، أو كمن يقول للطبيب: إن كنت تعلم أن هذا الدواء خير لي من ذاك فالأمر مفوض إليك.

فهذا كله من باب واحد، وهو تعليق الأمر بعلم المسئول بخير الأمر أو شره، لا بعلم المسئول أو عدم العلم.

حقاً إنه دعاء عظيم: ] [*]

مما سبق يتبين: أن هذا دعاء عظيم، حوى أمورًا جليلة، ودقائق لطيفة، وفوائد ظاهرة وخفية.

ففيه الإقرار بتوحيد ربوبيته، والخضوع لألوهيته، والإيمان بأسمائه وصفاته ودعائه بها، وفي ذلك أداء العبد لعبوديته، من توكل واستعانة، وسؤال واستغاثة، بعلمه وفضله، وقدرته وكرمه، ثم طلب منح الرضى والقناعة، فمن رضي عن ربه ورضي عنه ربه، فقد نال المفازة، وجاوز السور والقنطرة.

ولو لم يكن من الاستخارة إلا تحقيق ما في هذا الدعاء العظيم، من المعاني العظيمة، لكفى بها خيراً عظيمًا، فكيف إذا زاد على ذلك رضىً قلبياً؟ ! فسبحان من شرع لعباده خيري الدنيا والآخرة.

 

‌‌ما هي الأمور التي يستخار فيها؟

الأمور التي تعرض للعبد، تدور مع الأحكام الخمسة:

الواجب والمستحب والمباح والمكروه والمحرم.

فالواجب والمستحب والمكروه والمحرم، لا يستخار في أصل فعلها أو تركها.

لأن الواجب: واجب الفعل، محرم الترك، سواء استخار العبد أم لم يستخر.

--------------------------------------------

[*] قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: هذا من زيادات النسخة الإلكترونية، وليس في المطبوع
দাসের নিজের অক্ষমতা ও অজ্ঞতা স্বীকার করা এবং তার রবের প্রতি একান্ত মুখাপেক্ষী হওয়া; তাই তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বলেছেন:

"কেননা আপনি সক্ষম আর আমি অক্ষম, আপনি জানেন আর আমি জানি না।"

তাঁর বাণী: "আর আপনিই অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা।"

অতঃপর বান্দা যেহেতু স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন ও সদা অস্থিরচিত্ত, যা তার জন্য বন্টন করা হয়েছে তাতে সে সর্বদা সন্তুষ্ট হতে পারে না এবং তার তকদিরে যা নির্ধারিত হয়েছে তাতে তৃপ্ত হয় না, তাই এটি অত্যন্ত সমীচীন যে, সে তার দুআটি ভবিষ্যতে তার জন্য যা নির্ধারিত হবে তাতে সন্তুষ্টি প্রার্থনার মাধ্যমে শেষ করবে। কেননা সন্তুষ্টির দান হলো মহানতম দানসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এতে হৃদয়ের প্রশান্তি এবং রবের প্রতি সন্তুষ্টি নিহিত থাকে।

[সংশয় নিরসন:

কারও কারও মনে তাঁর এই কথাটি নিয়ে সংশয় জাগতে পারে: ‘যদি আপনি জানেন’ (إن كنت تعلم); কারণ বান্দা কীভাবে আল্লাহকে বলবে ‘যদি আপনি জানেন’, অথচ সে এ বিশ্বাস রাখে যে আল্লাহ সবকিছুই জানেন।

আমি বলব: এতে কোনো সংশয় নেই। কারণ এর অর্থ এমন নয় যে আল্লাহ জানেন না। আর ‘যদি আপনি জানেন’—এর অর্থ এমনটি হওয়া আবশ্যক নয় যে ‘আর যদি আপনি না জানেন’।

বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বিষয়ের কল্যাণ সম্পর্কে জানার সাথে ওই বিষয়টিকে সহজ করে দেওয়ার একটি সম্পৃক্ততা মাত্র; আর কোনো বিষয়ের অকল্যাণ সম্পর্কে আল্লাহর জানার সাথে ওই বিষয়টি সরিয়ে দেওয়ার সম্পৃক্ততা। সুতরাং, বিষয়টি আল্লাহর জানা বা না জানার সাথে ঝুলন্ত নয়, বরং বিষয়টি আল্লাহর নিকট ওই কাজের কল্যাণ সম্পর্কে জানা অথবা ওই কাজের অকল্যাণ সম্পর্কে জানার সাথে সম্পৃক্ত।

মূল উদ্দেশ্য হলো: কাজের অকল্যাণ সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞানের বিপরীতে ওই কাজের কল্যাণ সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞানের সাথে বিষয়টি সম্পৃক্ত করা। আল্লাহর জানা বা না জানার সাথে বিষয়টিকে সম্পৃক্ত করা উদ্দেশ্য নয়। এ জাতীয় বর্ণনার ক্ষেত্রে এই বিশেষ প্রকাশভঙ্গিটি প্রয়োজন হয়, তাই এ বিষয়ে সজাগ থাকা প্রয়োজন।

উদাহরণস্বরূপ: কোনো শ্রমিক যদি কোনো পার্থিব বিষয়ে একজন বিজ্ঞ ও সৎ মালিকের নিকট জিজ্ঞাসা করে এবং বলে: ‘যদি আপনি জানেন যে এই কাজে আমার লাভ হবে তবে আমাকে এতে নিযুক্ত করুন, আর যদি আপনি জানেন যে এতে আমার ক্ষতি হবে তবে আমাকে এতে কাজ করার সুযোগ দেবেন না।’ অথবা যেমন কেউ কোনো চিকিৎসককে বলে: ‘যদি আপনি জানেন যে এই ঔষধটি অন্যটির তুলনায় আমার জন্য ভালো, তবে বিষয়টি আপনার ওপর ন্যস্ত।’

এগুলো সবই একই পর্যায়ভুক্ত; অর্থাৎ কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিকট কোনো বিষয়ের ভালো বা মন্দ দিকটি জানার ওপর বিষয়টি ন্যস্ত করা হয়েছে, তার সার্বিক জানা বা না জানার ওপর নয়।

প্রকৃতপক্ষে এটি এক মহান দুআ: ] [*]

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে: এটি একটি মহান দুআ, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ, সূক্ষ্ম তত্ত্ব এবং প্রকাশ্য ও গোপন বহু ফায়দা ধারণ করে।

এতে রয়েছে আল্লাহর প্রতিপালন সংক্রান্ত একত্ববাদের (রুবুবিয়্যাত) স্বীকৃতি, তাঁর উপাস্য হওয়ার (উলুহিয়্যাত) প্রতি বশ্যতা এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির প্রতি ঈমান ও সেসবের মাধ্যমে তাঁর নিকট প্রার্থনা করা। এর মাধ্যমে বান্দা তার দাসত্ব পূর্ণ করে—তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা), সাহায্য প্রার্থনা, আরজি পেশ এবং ফরিয়াদ জানানোর মাধ্যমে তাঁর জ্ঞান, অনুগ্রহ, ক্ষমতা ও দাক্ষিণ্যের নিকট। অতঃপর সন্তুষ্টি ও তুষ্টি লাভের প্রার্থনা। যে ব্যক্তি তার রবের প্রতি সন্তুষ্ট হলো এবং তার রবও তার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, সে-ই প্রকৃত সফলতা অর্জন করল এবং সমস্ত বাধা ও সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে গেল।

যদি ইস্তিখারা থেকে এই মহান দুআর অন্তর্ভুক্ত সুউচ্চ অর্থসমূহ বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো প্রাপ্তি নাও থাকত, তবুও এটি এক মহান কল্যাণ হিসেবে যথেষ্ট ছিল। তবে কেমন হবে যদি এর সাথে হৃদয়ের সন্তুষ্টিও যুক্ত হয়?! পবিত্র সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ বিধিবদ্ধ করেছেন।

 

কোন কোন বিষয়ে ইস্তিখারা করতে হয়?

বান্দার সামনে যেসব বিষয় আসে, সেগুলো পাঁচটি বিধানের আবর্তে ঘোরে:

ওয়াজিব (واجب), মুস্তাহাব (مستحب), মুবাহ (مباح), মাকরুহ (مكروه) এবং হারাম (محرم)।

সুতরাং ওয়াজিব (واجب), মুস্তাহাব (مستحب), মাকরুহ (مكروه) এবং হারাম (محرم) বিষয়গুলোর মূল করণীয় বা বর্জনীয় হওয়ার ক্ষেত্রে ইস্তিখারা করা যাবে না।

কারণ ওয়াজিব (واجب) হলো যা করা আবশ্যক এবং বর্জন করা হারাম (محرم), চাই বান্দা ইস্তিখারা করুক বা না করুক।

--------------------------------------------

[*] শামিলা সংস্করণের সম্পাদক বলেছেন: এটি ডিজিটাল সংস্করণের সংযোজন, মূল মুদ্রিত কপিতে এটি নেই।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
والمحرم: محرم الفعل، واجب الترك، سواء استخار العبد، أم لم يستخر، فلا يستخار في صلاة ولا حج ولا شرب خمر ولا في فعل أي معصية أو تركها.

أما المباح، فهو الذي يستخار فيه: كالأعمال الدنيوية، والسفر، والأمور المجهولة النتائج، والوسائل، والأمكنة، والأزمنة المخير فيها، والشركات، والتجارات، والزواج، وما شابه ذلك.

وكذلك يستخار في وسائل الواجب والمستحب وفي نوعها المخير فيه.

فطلب العلم مستحب، وبعضه واجب، فيستخار في النوع والوقت والمكان.

لأن العبد مخير في المكان، فيستخير فيه، ومخير في الجهة، فيستخير فيها، ومخير في المدرسة والجامعة، فيستخير في ذلك وهكذا.

ولا يستخار في طلب العلم الشرعي نفسه.

وأما طلب العلم الدنيوي فمستحب، لكن العبد مخير بين تلك العلوم، فيستخير في نوع العلم، لا في أصله.

والحج واجب، فيستخار في الرفقة، وفي وسيلة الوصول، وفي زمن الانطلاق.

والجهاد واجب، ولكن يستخار في الزمن، والخطة، والمكان، والجهة، وتعيين الأمير، وتنظيم الجيش.

والزواج واجب، لكن الرجل مخير في النساء، والمرأة مخيرة في الرجال، فيستخير الرجل في عين المرأة، والمرأة تستخير في عين الرجل، لا في أصل الزواج وهكذا.

كما يستخار عند تعارض واجبين، أو تعارض مستحبين، أيهما يفعل، أو أيهما يقدم، أو يؤخر ..
হারাম (المحرم) হলো: যা সম্পাদন করা নিষিদ্ধ এবং বর্জন করা ওয়াজিব (واجب); বান্দা ইস্তিখারা করুক বা না করুক। সুতরাং সালাত, হজ, মদ্যপান কিংবা কোনো পাপকাজ করা বা তা বর্জন করার ক্ষেত্রে ইস্তিখারা করা যাবে না।

আর মুবাহ (المباح) হলো সেই বিষয় যাতে ইস্তিখারা করা হয়: যেমন পার্থিব কার্যাবলি, সফর, অনিশ্চিত ফলাফলের বিষয়াদি, মাধ্যমসমূহ, স্থান এবং সময় যেগুলোতে পছন্দের স্বাধীনতা রয়েছে, অংশীদারিত্ব, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিবাহ এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ।

অনুরূপভাবে ওয়াজিব (الواجب) ও মুস্তাহাব (المستحب) আমলের মাধ্যমসমূহের ক্ষেত্রে এবং এর যে সকল প্রকারভেদে পছন্দের স্বাধীনতা রয়েছে, তাতে ইস্তিখারা করা যাবে।

কেননা জ্ঞান অর্জন করা মুস্তাহাব (مستحب), আর এর কিছু অংশ ওয়াজিব (واجب); তাই এর প্রকারভেদ, সময় এবং স্থানের ব্যাপারে ইস্তিখারা করা যাবে।

যেহেতু স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে বান্দার স্বাধীনতা রয়েছে, তাই সে তাতে ইস্তিখারা করবে। তেমনিভাবে দিকের ক্ষেত্রে, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও তার স্বাধীনতা রয়েছে, তাই সে এসব বিষয়ে ইস্তিখারা করবে—এবং এভাবেই অন্যান্য বিষয়।

তবে খোদ শরয়ি ইলম বা ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে কোনো ইস্তিখারা নেই।

আর পার্থিব জ্ঞান অর্জন করা মুস্তাহাব (مستحب), তবে বান্দা যেহেতু এসকল বিষয়ের মধ্যে পছন্দের অধিকার রাখে, তাই সে জ্ঞানের প্রকারের ক্ষেত্রে ইস্তিখারা করবে, এর মূলের (অর্জনের) ব্যাপারে নয়।

আর হজ করা ওয়াজিব (واجب), তাই সফরসঙ্গী, যাতায়াতের মাধ্যম এবং যাত্রার সময়ের ব্যাপারে ইস্তিখারা করা যাবে।

জিহাদ ওয়াজিব (واجب), তবে সময়, পরিকল্পনা, স্থান, দিক, আমির নির্ধারণ এবং বাহিনী বিন্যাসের ক্ষেত্রে ইস্তিখারা করা যাবে।

বিবাহ করা ওয়াজিব (واجب), কিন্তু পুরুষ নারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এবং নারী পুরুষ নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীন, তাই পুরুষ নির্দিষ্ট নারীর ব্যাপারে এবং নারী নির্দিষ্ট পুরুষের ব্যাপারে ইস্তিখারা করবে, বিবাহের মূল বিধানের ব্যাপারে নয়—এবং এভাবেই অন্যান্য বিষয়।

তেমনিভাবে ইস্তিখারা করা যাবে যখন দুটি ওয়াজিব (واجب) কিংবা দুটি মুস্তাহাব (مستحب) আমলের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় যে, কোনটি সে পালন করবে অথবা কোনটিকে অগ্রগণ্য করবে বা পিছিয়ে দেবে।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ومثال تعارض الواجبين: كالزواج والحج، لمن لا يملك سوى ما يكفي أحدهما.

ومثال تعارض المستحبين: كتعارض جهاد كفاية مع طلب علم كفائي، أو مع حج تطوع، ويستخير في نوع الصدقة، أيضعها في بئر أو وقف مستثمر وما شابه ذلك.

وقد تكون الاستخارة في مستحب فيه احتمال وقوع مفسدة، كالتبرع بالدم وما شابه ذلك.

والخلاصة: أن الاستخارة تكون في كل أمر مباح، وتكون في الواجب والمستحب المخير، لاختيار الزمان، أو المكان، أو الوقت، أو العين، وفي الوسائل، وعند تعارض مستحبين، أو واجبين.

وبهذا يتضح قول جابر رضي الله عنه:

((كان يعلمنا الاستخارة في الأمور كلها)).

قال ابن أبي جمرة: هو عام أريد به الخصوص، فإن الواجب والمستحب لا يستخار في فعلهما، والحرام والمكروه لا يستخار في تركهما، فانحصر الأمر في المباح، وفي المستحب إذا تعارض فيه أمران، أيهما يبدأ به ويقتصر عليه … )).

قال العسقلاني معقبًا: ((وتدخل الاستخارة فيما عدا ذلك في الواجب والمستحب المخير، وفيما كان زمنه موسعًا، ويتناول العموم العظيم من الأمور، والحقير، فرب حقير يترتب عليه الأمر العظيم)) (1).

وتكون في جميع هذه الأمور، سواء كان مترددًا فيها أو غير متردد، إذ غاية الاستخارة طلب التوفيق لا مجرد قطع التردد، والعزم على الأمر لا ينافي الاستخارة (2)

 

‌‌هل تكون الاستخارة في الأمور المعروفة النتائج؟

نعم تكون في الأمور الدنيوية المعروفة النتائج،

--------------------------------------------

(1) الفتح (11/ 184).

(2) بعد كتابة ما تقدم، بلغني أن بعض أهل العلم من الفضلاء يقول: إن العازم على الأمر غير المتردد فيه لا يستخير، فلما كلمته في ذلك في محاورة هادئة هادفة، أقر بما قررناه، فلله الحمد والمنة.
দুটি ওয়াজিব (واجب) কাজের মধ্যে বিরোধের উদাহরণ: যেমন বিয়ে এবং হজ, যার নিকট এমন সম্পদ রয়েছে যা কেবল দুটির যেকোনো একটির জন্য যথেষ্ট।

দুটি মুস্তাহাব (مستحب) কাজের মধ্যে বিরোধের উদাহরণ: যেমন ফরজে কিফায়া পর্যায়ের জিহাদ (جهاد كفاية)-এর সাথে ফরজে কিফায়া পর্যায়ের ইলম অন্বেষণের (طلب علم كفائي) বিরোধ, অথবা নফল (تطوع) হজের সাথে বিরোধ। আর তিনি সদকার প্রকারভেদে ইস্তিখারা করবেন যে, সেটি কি কূয়ায় দিবেন নাকি কোনো বিনিয়োগকৃত ওয়াকফ (وقف) বা অনুরূপ কোনো খাতে ব্যয় করবেন।

কখনো কখনো এমন মুস্তাহাব (مستحب) কাজের ক্ষেত্রেও ইস্তিখারা হতে পারে যাতে কোনো ক্ষতির (مفسدة) সম্ভাবনা রয়েছে, যেমন রক্তদান বা অনুরূপ বিষয়।

সারসংক্ষেপ হলো: ইস্তিখারা প্রতিটি মুবাহ (مباح) বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এছাড়া সময়, স্থান, মুহূর্ত বা নির্দিষ্ট বস্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে, এবং উপায়-উপকরণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে এবং দুটি মুস্তাহাব (مستحب) বা দুটি ওয়াজিব (واجب) কাজের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে ঐচ্ছিক ওয়াজিব (واجب مخير) ও মুস্তাহাব (مستحب) কাজের ক্ষেত্রেও ইস্তিখারা করা যায়।

এর মাধ্যমেই জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই উক্তির মর্ম স্পষ্ট হয়:

((তিনি আমাদের সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন))।

ইবনে আবি জামরাহ বলেন: এটি একটি সাধারণ (عام) শব্দ যা দ্বারা বিশেষ (خصوص) অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। কেননা ওয়াজিব (واجب) এবং মুস্তাহাব (مستحب) কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে কোনো ইস্তিখারা নেই এবং হারাম (حرام) ও মাকরূহ (مكروه) কাজ বর্জনের ক্ষেত্রেও কোনো ইস্তিখারা নেই। সুতরাং বিষয়টি মুবাহ (مباح) কার্যাবলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেল, আর ঐ মুস্তাহাব (مستحب) কাজের ক্ষেত্রে যখন দুটি বিষয়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় যে, কোনটি আগে শুরু করবে এবং কোনটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে … ))।

আসকালানী এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: ((ইস্তিখারা এছাড়া ঐচ্ছিক ওয়াজিব (واجب مخير) ও মুস্তাহাব (مستحب) কাজের ক্ষেত্রেও অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এমন কাজের ক্ষেত্রেও যার সময় প্রশস্ত। এটি বড় ও ছোট সব ধরণের বিষয়কেই শামিল করে, কারণ অনেক ছোট বিষয়ের ওপরও বড় কোনো বিষয় নির্ভরশীল হতে পারে)) (১)।

এই সকল বিষয়ে ইস্তিখারা হতে পারে, চাই তাতে দ্বিধাবোধ থাকুক বা না থাকুক। কারণ ইস্তিখারার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক (توفيق) বা কল্যাণ প্রার্থনা করা, নিছক দ্বিধা দূর করা নয়। আর কোনো কাজের ব্যাপারে সংকল্প করা ইস্তিখারার সাথে সাংঘর্ষিক নয় (২)

 

‌‌ফলাফল জানা আছে এমন বিষয়গুলোতেও কি ইস্তিখারা করা যাবে?

হ্যাঁ, দুনিয়াবী এমন সব বিষয়ে ইস্তিখারা করা যাবে যার ফলাফল জানা বা সুনিশ্চিত,

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতহ (১১/ ১৮৪)।

(২) উপরোক্ত কথাগুলো লেখার পর আমি জানতে পারলাম যে, কোনো কোনো সম্মানিত আলেম বলেন: যে ব্যক্তি কোনো কাজের সংকল্প করে ফেলেছেন এবং তাতে কোনো দ্বিধা নেই, তিনি ইস্তিখারা করবেন না। অতঃপর যখন আমি তাঁর সাথে এ বিষয়ে একটি শান্ত ও উদ্দেশ্যমূলক আলোচনায় কথা বললাম, তখন তিনি আমাদের প্রতিষ্ঠিত করা বিষয়টি মেনে নিলেন। সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
لأن معرفة حقائق النتائج، لا يعلمها إلا الله تعالى.

فمهما ظن العبد مِن ظن، فليس كل أمر ظاهره خير، هو في حقيقته خير، وليس كل أمر ظاهره شر، هو في حقيقته شر.

فكم من أمر ظن صاحبه أن فيه خيرًا عظيمًا، فكان فيه هلاكه، وكم من أمر ظن صاحبه أن فيه شرًّا، فكان فيه نجاته، وحسبنا قول الله تعالى:

{وعسى أن تكرهوا شيئًا وهو خيرٌ لكم، وعسى أن تحبوا شيئًا وهو شر لَّكم والله يعلم وأنتم لا تعلمون} [البقرة 216].

قال ابن القيم في ((الفوائد - 247)):

ومن أسرار هذه الآية أنها تقتضي من العبد التفويض إلى من يعلم عواقب الأمور، والرضا بما يختاره له ويقضيه له، لما يرجو فيه من حسن العاقبة.

ومنها: أنه لا يقترح على ربه ولا يختار عليه ولا يسأله ما ليس له به علم، فلعلَّ مضرَّته وهلاكه فيه وهو لا يعلم، فلا يختار على ربه شيئًا بل يسأله حسن الاختيار له، وأن يرضّيه بما يختاره فلا أنفع له من ذلك)).

 

‌‌ما هي الفائدة أو الحكمة أو الجدوى من الاستخارة؟

للاستخارة فوائد عظيمة، ومنافع جمة، هي أعظم من استجابة دعائها، وتلبية طلب صاحبها.

أولى هذه الفوائد:

تحقيق معنى العبادة لله عز وجل، المتضمن الخضوع له، وإظهار الضعف والذل بين يديه، والحاجة واللجوء إليه، واستعطافه، وطلب الخيرة منه، ولو لم يكن فيها إلا هذا .. لكفى بها خيرًا عظيمًا.
কেননা ফলাফলের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে জ্ঞান মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানেন না।

বান্দা যা-ই ধারণা করুক না কেন, বাহ্যিকভাবে কল্যাণকর মনে হওয়া প্রতিটি বিষয়ই যে বাস্তবে কল্যাণকর হবে এমনটি নয়; আবার বাহ্যিকভাবে অকল্যাণকর মনে হওয়া প্রতিটি বিষয়ই যে বাস্তবে অকল্যাণকর হবে তাও নয়।

কত বিষয় এমন রয়েছে যাকে কোনো ব্যক্তি প্রভূত কল্যাণকর মনে করেছিল, অথচ তাতে তার ধ্বংস নিহিত ছিল; আবার কত বিষয় এমন রয়েছে যাকে ব্যক্তি অমঙ্গলজনক মনে করেছিল, অথচ তাতেই ছিল তার মুক্তি। আমাদের জন্য মহান আল্লাহর এই বাণীই যথেষ্ট:

{হয়তো তোমরা কোনো বিষয় অপছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং হয়তো তোমরা কোনো বিষয় পছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর; আর আল্লাহ জানেন কিন্তু তোমরা জানো না} [আল-বাকারাহ ২১৬]।

ইবনুল কাইয়্যিম আল-ফাওয়াইদ (পৃষ্ঠা- ২৪৭)-এ বলেছেন:

এই আয়াতের নিগূঢ় রহস্যের মধ্যে অন্যতম হলো যে, এটি বান্দার নিকট থেকে এমন সত্তার কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়ার দাবি রাখে যিনি বিষয়াবলির পরিণাম সম্পর্কে সম্যক অবগত, এবং তাঁর নির্বাচিত ও নির্ধারিত বিষয়ের ওপর সন্তুষ্ট থাকার দাবি রাখে, যাতে এর মাধ্যমে উত্তম পরিণাম লাভ করা যায়।

আরেকটি দিক হলো: বান্দা যেন তার রবের ওপর নিজের কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দেয়, তাঁর ওপর নিজের পছন্দকে অগ্রাধিকার না দেয় এবং এমন কিছু প্রার্থনা না করে যার পরিণতি সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান নেই। কেননা হতে পারে তাতে তার ক্ষতি বা ধ্বংস নিহিত রয়েছে অথচ সে তা জানে না। সুতরাং সে যেন তার রবের সামনে নিজের পছন্দকে প্রাধান্য না দেয়, বরং তার জন্য যা কল্যাণকর তা নির্বাচনের জন্য রবের নিকট প্রার্থনা করে এবং তিনি যা নির্বাচন করেন তার ওপর যেন তাকে সন্তুষ্ট রাখা হয়; কেননা এর চেয়ে বেশি উপকারী আর কিছু হতে পারে না।

 

‌ইস্তিখারার উপকারিতা, প্রজ্ঞা কিংবা সার্থকতা কী?

ইস্তিখারার রয়েছে সুমহান ফায়দা এবং বহুবিধ কল্যাণ, যা দুআ কবুল হওয়া বা আবেদনকারীর প্রার্থনা মঞ্জুর হওয়ার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

এই উপকারিতাগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো:

মহান আল্লাহর ইবাদতের প্রকৃত অর্থ বাস্তবায়িত হওয়া, যার অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর সামনে পূর্ণ আনুগত্য ও মস্তক অবনত করা, নিজের দুর্বলতা ও দীনতা প্রকাশ করা, তাঁর মুখাপেক্ষী হওয়া, তাঁর আশ্রয় গ্রহণ করা, তাঁর করুণা ভিক্ষা করা এবং তাঁর নিকট হতে সর্বোত্তমটি নির্বাচনের প্রার্থনা করা; যদি এতে আর কিছু নাও থাকতো, তবে এটিই এক মহান কল্যাণ হিসেবে যথেষ্ট হতো।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وفي هذا تحقيق لتوحيد الألوهية، الذي هو ركن من أركان التوحيد، وشرط من شروط الإيمان.

{وما خلقت الجن والإنس إلا ليعبدون} [الذاريات 56].

فقد كان أهل الجاهلية، يستقسمون (أي يستخيرون) بالأزلام، فيقعون في الابتداع والشرك فكان هذا الدعاء رداً على المشركين، وتعويضاً للمؤمنين عن أفعال المشركين، بدعاء كله توحيد وعبودية وطلب ممن بيده المطلوب، وافتقار لمغنٍ رحيم .. وسؤال لمعطٍ كريم، بيده خزائن السماوات والأرض، فشتان بين استخارة المشركين بأعواد أو لأحجار، وبين استخارة القدير العليم المنان، فسبحان من أبدل بالشرك توحيداً، وبالابتداع اتباعاً، وبالعصيان طاعة، وبالتردد والقلق .. اطمئناناً وسكينة، ولا ينال هذا إلا المتبعون الصادقون.

الفائدة الثانية: تحقيق معنى الإيمان، بأن الله بيده مقاليد الأمور، ويعلم غيب السموات والأرض، ويحب لعبده الخير، ويختار له ما ينفعه، وفي هذا تحقيق لتوحيد الربوبية، والأسماء والصفات.

قال تعالى:

{وربك يخلق ما يشاء ويختار} [القصص 68].

وقال تعالى:

{وعنده مفاتح الغيب لا يعلمها إلا هو ويعلم ما في البر والبحر وما تسقط من ورقة إلا يعلمها ولا حبة في ظلمات الأرض ولا رطب ولا يابس إلا في كتاب مبين} [الأنعام 59].

قال ابن القيم رحمه الله: ((فتضمن هذا الدعاء، الإقرار بوجوده سبحانه، والإقرار بربوبيته، وتفويض الأمر إليه والاستعانة به، والتوكل عليه، والخروج من عهدة نفسه، والتبري من الحول والقوة إلا به، واعتراف العبد بعجزه عن علمه بمصلحة نفسه، وقدرته عليها، وإرادته لها، وأن ذلك كله بيد وليه وفاطره، وإلهه الحق)) (1).

الفائدة الثالثة: الثقة بالله، والرضى بقضائه بعد الاستخارة وقبلها، والتوكل عليه، وتفويض الأمر إليه، بدل الحيرة والتردد، والقلق الذي يضعف النفس، وينهك البدن، ويولد الهموم،

--------------------------------------------

(1) زاد المعاد (2/ 442).
এর মাধ্যমে তাওহীদুল উলুহিয়্যাহর বাস্তবায়ন সাধিত হয়েছে, যা তাওহীদের অন্যতম রুকন এবং ঈমানের অন্যতম শর্ত।

“আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।” [আয-যারিয়াত ৫৬]।

জাহেলিয়াত যুগের লোকেরা তীরের মাধ্যমে ভাগ্য নির্ধারণ (অর্থাৎ তারা ইস্তিখারা করত) করত, ফলে তারা উদ্ভাবন (ابتداع) এবং শিরকের মধ্যে নিপতিত হতো। তাই এই দোয়াটি ছিল মুশরিকদের খণ্ডনস্বরূপ এবং মুশরিকদের কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে মুমিনদের জন্য এক চমৎকার বিকল্প। এই দোয়াটি পূর্ণ তাওহীদ, দাসত্ব এবং এমন এক সত্তার কাছে যাঞ্চা করা যার হাতে সকল উদ্দেশ্য নিহিত। এটি এক দয়ালু অভাবমোচনকারীর প্রতি মুখাপেক্ষিতা এবং এক মহান দাতার কাছে প্রার্থনা, যাঁর হাতে আসমান ও জমিনের ভাণ্ডারসমূহ। সুতরাং কাঠ বা পাথরের মাধ্যমে মুশরিকদের ইস্তিখারা এবং সর্বশক্তিমান সর্বজ্ঞ পরম দাতার নিকট ইস্তিখারার মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। কতই না পবিত্র সেই সত্তা, যিনি শিরকের পরিবর্তে তাওহীদ, উদ্ভাবনের (ابتداع) পরিবর্তে অনুসরণ (اتباع), নাফরমানির পরিবর্তে আনুগত্য এবং দ্বিধা ও অস্থিরতার পরিবর্তে প্রশান্তি ও স্থৈর্য দান করেছেন। আর এটি কেবল সত্যনিষ্ঠ অনুসারীরাই লাভ করতে পারে।

দ্বিতীয় ফায়দা: ঈমানের প্রকৃত অর্থ বাস্তবায়ন করা যে, আল্লাহর হাতেই সকল বিষয়ের চাবিকাঠি, তিনি আসমান ও জমিনের অদৃশ্যের খবর জানেন, তিনি তাঁর বান্দার জন্য কল্যাণ পছন্দ করেন এবং তার জন্য যা উপকারী তা নির্বাচন করেন। এতে তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ এবং আসমা ওয়া সিফাতের (নাম ও গুণাবলি) বাস্তবায়ন নিহিত রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং পছন্দ করেন।” [আল-কাসাস ৬৮]।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:

“তাঁর কাছেই অদৃশ্যের চাবিকাঠি রয়েছে, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তা জানে না। স্থলে ও জলে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও ঝরে না এবং মাটির অন্ধকারে এমন কোনো শস্যকণাও নেই, আর কোনো রসযুক্ত বা শুষ্ক বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।” [আল-আনআম ৫৯]।

ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “এই দোয়াটি আল্লাহর অস্তিত্বের স্বীকৃতি, তাঁর রুবুবিয়্যাহর (প্রভুত্ব) স্বীকৃতি, তাঁর কাছে বিষয় সোপর্দ করা, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করা, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করা, নিজের আমিত্ব থেকে বেরিয়ে আসা এবং তাঁর সাহায্য ব্যতীত নিজের কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই বলে ঘোষণা করাকে অন্তর্ভুক্ত করে। সেই সাথে বান্দার পক্ষ থেকে নিজের কল্যাণ সম্পর্কে জ্ঞান, ক্ষমতা ও ইচ্ছার ক্ষেত্রে নিজের অক্ষমতার স্বীকারোক্তি এবং এ কথা স্বীকার করা যে, এই সব কিছুই তার অভিভাবক, স্রষ্টা এবং প্রকৃত মাবুদের হাতে নিহিত।” (১)।

তৃতীয় ফায়দা: আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা এবং ইস্তিখারার আগে ও পরে তাঁর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করা এবং বিভ্রান্তি, দ্বিধা ও অস্থিরতার পরিবর্তে তাঁর কাছে বিষয় সোপর্দ করা—যা নফসকে দুর্বল করে, শরীরকে ক্লান্ত করে এবং দুশ্চিন্তা তৈরি করে।

--------------------------------------------

(১) যাদুল মাআদ (২/ ৪৪২)।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
[والاطمئنان للنتائج كيف ما كانت، الأمر الذي يقوي النفس، ويطرد الهم، فتنشرح النفوس ويطمئن القلب، وهو مطلب من المطالب العظيمة.] [*]

قال ابن القيم في الفوائد (247):

((إذا فوّض [أمره] إلى ربه ورضي بما يختاره له، أمدَّه فيما يختاره له بالقوة عليه والعزيمة والصبر، وصرف عنه الآفات، التي هي عرضة اختيار العبد لنفسه، وأراه من حسن عواقب اختياره له ما لم يكن ليصل إلى بعضه، بما يختاره هو لنفسه.

ومنها: أنه يريحه من الأفكار المتعبة في أنواع الاختيارات، ويفرغ قلبه من التقديرات والتدبيرات التي يصعد منها في عقبة وينزل في أخرى، ومع هذا فلا خروج له عما قدر عليه، فلو رضي باختيار الله، أصابه القدر، وهو محمود مشكور ملطوف به فيه، وإلا جرى عليه القدر)).

ففي الاطمئنان والرضى بقضاء الله تعالى، تحقيق عظيم لركن من أركان الإيمان، وأجر عظيم عند الديان، عدا عن أن فيه جلاء للهموم، واطمئناناً للقلوب، وهدوءاً للنفوس.

ومن رزق الاطمئنان، والرضى بقضاء الله وقدره، فقد رزق خيراً كثيراً، وما يشعر بهذا إلا المؤمنون الموقنون.

ولما وثقت أم موسى بالله عز وجل، واطمأنت بقدره، ألقت فلذة كبدها، وسواد عينها في اليم، تتلاطمه الأمواج، ويسوقه الماء إلى أمر يظن الرائي أن لا رؤية له بعد هذا .. فهو أمر يفطّر الأكباد، ويمزق المهج، ويحرق النفوس .. أن تلقي أمٌّ ولدَها - فيما يظهر - إلى التهلكة، ولما أيقن إبراهيم وزوجه هاجر بالله، ورضيا بقضائه، تركها وابنهما وحدهما في الفلاة، لا طعام ولا ماء ولا شجر يستظلانه، وهذه أفعال تحرق النفوس، وتقطع القلوب .. لا يفعلها إلا من اطمأن قلبه بالإيمان ورضي بقضاء الرحمن، ووثق بالله العظيم، والتوكل عليه، ومن ذاق طعم الرضى بقضاء الله وقدره أيًا كان، وكيف كان، استأنس بالمصيبة وصبر عليها، واستوحش القلق والحيرة وأعرض عنهما.

الفائدة الرابعة: توفيق الله لعبده المستخير:

إذا ما قدر الله للعبد المستخير التوفيق، ففي ذلك نعمتان:

--------------------------------------------

[*] قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: هذا من زيادات النسخة الإلكترونية، وليس في المطبوع
[ফলাফল যা-ই হোক না কেন তাতে প্রশান্ত থাকা, যা আত্মাকে শক্তিশালী করে এবং দুশ্চিন্তাকে দূর করে, ফলে মন প্রফুল্ল হয় এবং অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। আর এটি একটি মহান লক্ষ্য।] [*]

ইবনুল কাইয়্যিম 'আল-ফাওয়াইদ' (২৪৭) গ্রন্থে বলেছেন:

((যখন কোনো ব্যক্তি তার [বিষয়াদি] তার রবের নিকট সমর্পণ করে এবং তিনি তার জন্য যা পছন্দ করেন তাতে সন্তুষ্ট থাকে, তখন আল্লাহ তাকে সেই পছন্দের ওপর শক্তি, সংকল্প ও ধৈর্য দান করেন এবং তার থেকে এমন সব বিপদ-আপদ দূর করে দেন যা বান্দার নিজ পছন্দ অনুযায়ী চলার ক্ষেত্রে হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আর আল্লাহ তাকে তাঁর পছন্দের এমন সব কল্যাণকর পরিণতি দেখান, যার কিয়দংশেও সে তার নিজ পছন্দের মাধ্যমে পৌঁছাতে পারত না।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: এটি তাকে বিভিন্ন প্রকার পছন্দের ক্লান্তিকর চিন্তা থেকে মুক্তি দেয় এবং তার অন্তরকে সেই সব পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা থেকে মুক্ত করে যা তাকে এক ধাপের প্রতিকূলতা থেকে অন্য ধাপে নিয়ে যাওয়ার মতো পরিশ্রান্ত করে। এতদসত্ত্বেও, তার জন্য যা নির্ধারিত হয়েছে তার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং সে যদি আল্লাহর পছন্দে সন্তুষ্ট থাকে, তবে তাকদির তার ওপর কার্যকর হবে এমতাবস্থায় যে সে প্রশংসিত, কৃতজ্ঞ এবং আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে; অন্যথায় তার ওপর তাকদির কার্যকর হবে (কিন্তু সে এসব থেকে বঞ্চিত হবে))।

সুতরাং আল্লাহর ফয়সালার ওপর প্রশান্ত ও সন্তুষ্ট থাকার মধ্যে ঈমানের অন্যতম একটি রুকনের এক মহান বাস্তবায়ন নিহিত রয়েছে এবং মহান বিচারক আল্লাহর নিকট রয়েছে এর বিশাল প্রতিদান। এছাড়া এতে রয়েছে দুশ্চিন্তার অবসান, অন্তরের প্রশান্তি এবং আত্মার স্থিরতা।

আর যাকে প্রশান্তি এবং আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের ওপর সন্তুষ্টির নেয়ামত দেওয়া হয়েছে, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে। দৃঢ় বিশ্বাসী মুমিনগণ ব্যতীত অন্য কেউ এটি অনুভব করতে পারে না।

মূসা (আ.)-এর জননী যখন মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করলেন এবং তাঁর তাকদিরের ওপর আশ্বস্ত হলেন, তখন তিনি তাঁর কলিজার টুকরো ও চোখের মণি সন্তানকে নদীতে নিক্ষেপ করলেন, যেখানে ঢেউ তাকে আছড়ে ফেলছিল এবং পানি তাকে এমন এক পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল যা দেখে একজন দর্শক মনে করবে যে এরপর তাকে আর দেখা যাবে না। এটি এমন এক বিষয় যা কলিজাকে বিদীর্ণ করে, প্রাণকে ছিন্নভিন্ন করে এবং আত্মাকে দগ্ধ করে—যেখানে একজন মা তার সন্তানকে দৃশ্যত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। আর ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর স্ত্রী হাজেরা যখন আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করলেন এবং তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট হলেন, তখন তিনি তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে এক নির্জন প্রান্তরে একা রেখে আসলেন, যেখানে কোনো খাবার নেই, পানি নেই এবং ছায়া নেওয়ার মতো কোনো গাছও ছিল না। এ সব কর্মকাণ্ড আত্মাকে দগ্ধকারী এবং অন্তরকে বিদীর্ণকারী। কেবল সেই ব্যক্তিই এটি করতে পারে যার অন্তর ঈমানের দ্বারা প্রশান্ত হয়েছে, যিনি দয়াময় আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও ভরসা রেখেছেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের ওপর সন্তুষ্টির স্বাদ আস্বাদন করেছে, তা যেমনই হোক বা যেভাবেই আসুক, সে বিপদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং তাতে ধৈর্য ধারণ করে, আর উদ্বেগ ও বিভ্রান্তিকে ভয়ংকর মনে করে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

চতুর্থ উপকারিতা: ইস্তিখারাকারী বান্দার প্রতি আল্লাহর তাওফিক:

যদি আল্লাহ ইস্তিখারাকারী বান্দার জন্য তাওফিক বা সফলতাকে নির্ধারণ করেন, তবে তাতে দুটি নেয়ামত রয়েছে:

--------------------------------------------

[*] শামিলা লাইব্রেরির জন্য প্রস্তুতকারী বলেছেন: এটি ইলেকট্রনিক সংস্করণের সংযোজন, এটি মুদ্রিত কপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) সালাসু সালাওয়াতিন আজিমাতিন মাহজুরাতিন ফাআহযিহা ইয়া আবদাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الأولى: استجابة الله دعاء عبده، وفي هذا خير عظيم، ودليل على ما عند العبد من صلاح، إن لم يكن استدراجًا.

الثانية: توفيق الله لعبده في الأمر المستخار فيه، واختيار الخير له، وتوجيهه وإرشاده إليه، بدل ضياعه وضلاله عنه.

 

‌‌ماذا يفعل العبد بعد الاستخارة؟

أو كيف يعرف نتيجة الاستخارة
؟

بعد أن يستخير المستخير الاستخارة الشرعية، ما عليه إلا أن يعزم على أي أمر يراه، بعد أن يتوكل على الله حق توكله.

{ومن يتوكل على الله فهو حسبه} [الطلاق 3].

{فإذا عزمت فتوكل على الله إن الله يحب المتوكلين} [آل عمران 159].

وأن لا يغفل عن الإخلاص في النية، والصدق مع الله في العمل المستخار فيه.

{فإذا عزم الأمر فلو صدقوا الله لكان خيرًا لهم} [محمد 21].

فإذا تحقق ذلك فليفعل ما بدا له، من غير تردد ولا أسف، ولا تلكؤ ولا وجل، سواء انشرح صدره أم لم ينشرح، وسواء كان هذا الانشراح قبل الاستخارة أو بعدها، لأن الأمر لا يتعلق بانشراح الصدر وعدمه، وإنما يتعلق بتيسير الله عز وجل وتوفيقه وتقديره.

فربما انشرح صدره للأمر، والله لا يريده له، فلا ييسره، ولو أقدم عليه.

وربما لم ينشرح صدره للأمر، وأراده الله له، فيقدره وييسره له.

فمناط المسألة أمران:
প্রথমত: বান্দার দোয়ায় আল্লাহর সাড়া প্রদান; এতে রয়েছে মহা কল্যাণ এবং এটি বান্দার নেককার হওয়ার প্রমাণ, যদি না তা ইস্তিদরাজ (ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া) হয়ে থাকে।

দ্বিতীয়ত: যে বিষয়ে ইস্তিখারা করা হয়েছে তাতে বান্দাকে আল্লাহর তাওফিক দান করা, তার জন্য কল্যাণকে মনোনীত করা এবং পথভ্রষ্টতা ও বিভ্রান্তির পরিবর্তে তাকে সঠিক দিশা ও পথপ্রদর্শন করা।

 

‌‌ইস্তিখারার পর বান্দা কী করবে?

অথবা ইস্তিখারার ফলাফল কীভাবে জানবে
?

কোনো ব্যক্তি শরয়ি পদ্ধতিতে ইস্তিখারা করার পর, আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে তাওয়াক্কুল (ভরসা) করে তার কাছে যা সমীচীন মনে হয় তা করার দৃঢ় সংকল্প করবে।

{আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তবে তিনিই তার জন্য যথেষ্ট} [আত-তালাক ৩]।

{অতঃপর যখন তুমি দৃঢ় সংকল্প করবে, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ভরসাকারীদের ভালোবাসেন} [আলে ইমরান ১৫৯]।

আর নিয়তের ইখলাস (একনিষ্ঠতা) এবং যে বিষয়ে ইস্তিখারা করা হয়েছে সে কাজে আল্লাহর প্রতি সত্যবাদিতার ব্যাপারে যেন সে গাফেল না হয়।

{অতঃপর যখন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে যায়, তখন তারা যদি আল্লাহর প্রতি সত্যবাদী হতো, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো} [মুহাম্মদ ২১]।

যখন এগুলোর বাস্তবায়ন ঘটবে, তখন কোনো দ্বিধা, অনুশোচনা, বিলম্ব বা শঙ্কা ছাড়াই তার কাছে যা সঠিক মনে হয় সে অনুযায়ী কাজ করবে; চাই তার বক্ষ প্রশস্ত (মানসিক প্রশান্তি) হোক বা না হোক, আর সেই বক্ষ প্রশস্তি ইস্তিখারার আগে আসুক বা পরে। কারণ বিষয়টি বক্ষ প্রশস্তি বা তার অভাবের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং তা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সহজীকরণ, তাওফিক এবং তাকদিরের সাথে সংশ্লিষ্ট।

কেননা অনেক সময় কোনো বিষয়ের প্রতি মন সায় দেয়, অথচ আল্লাহ সেটি তার জন্য চান না; ফলে সে তাতে অগ্রসর হলেও তিনি তা সহজ করে দেন না।

আবার কখনো কোনো বিষয়ের প্রতি মন সায় দেয় না, অথচ আল্লাহ সেটি তার জন্য চান; ফলে তিনি তা তার জন্য অবধারিত করেন এবং সহজ করে দেন।

সুতরাং এই মাসআলার মূল ভিত্তি হলো দুটি বিষয়: