(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: -)
قالوا عن القرآن القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: قالوا عن القرآن
المؤلف: عماد الدين خليل
[الكتاب مرقم آليا]
عدد الصفحات: 38
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কুরআন সম্পর্কে তাঁরা যা বলেছেন বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান (علوم القرآن) ও তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)
গ্রন্থ: কুরআন সম্পর্কে তাঁরা যা বলেছেন
লেখক: ইমাদ উদ্দিন খলিল
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
الكتاب:
قالوا عن القرآنالمؤلف: د. عماد الدين خليل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
গ্রন্থ:
কুরআন সম্পর্কে তারা যা বলেছেনলেখক: ড. ইমাদ আল-দীন খলীল
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২)
خليل أحمد: (1)
"يرتبط هذا النبى صلى الله عليه وسلم بإعجاز أبد الدهر بما يخبرنا به المسيح عليه السلام في قوله عنه: (ويخبركم بامور آتية) ، هذا الإعجاز هو القرآن الكريم معجزة الرسول الباقية ما بقى الزمان. فالقرآن الكريم يسبق العلم الحديث في كل مناحيه: من طب، وفلك، وجغرافيا، وجيولوجيا، وقانون، واجتماع، وتاريخ.. ففي ايامنا هذه استطاع العلم ان يرى ما سبق اليه القرآن بالبيان والتعريف
… " (2) "اعتقد يقيناً انى لو كنت انساناً وجودياً
… لا يؤمن برسالة من الرسالات السماوية وجاءنى نفر من الناس وحدثنى بما سبق به القرآن العلم الحديث - في كل مناحيه - لآمنت برب العزة والجبروت، خالق السماوات والارض ولن اشرك به احداً
… " (3) "في هذا الظلام الدامس - ايها المسيحي - ينزل القرآن الكريم على رسول الله ليكشف لك عن الله عز وجل
… " (4) "للمسلم ان يعتزّ بقرآنه، فهو كالماء فيه حياة لكل من نهل منه" (5)
--------------------------------------------
খলিল আহমদ: (১)
"এই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহাকালের এক চিরন্তন অলৌকিকত্বের সাথে সম্পৃক্ত, যা সম্পর্কে মসীহ (আলাইহিস সালাম) তাঁর বর্ণনায় বলেছেন: (তিনি তোমাদের আগত বিষয়সমূহ সম্পর্কে সংবাদ দেবেন)। এই অলৌকিকত্ব হলো পবিত্র কুরআন, যা সময়ের প্রবাহমানতায় রাসুলের চিরস্থায়ী মুজিজা। পবিত্র কুরআন আধুনিক বিজ্ঞানকে এর সকল ক্ষেত্রে ছাড়িয়ে গেছে: চিকিৎসা বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভূগোল, ভূতত্ত্ব, আইন, সমাজবিজ্ঞান এবং ইতিহাস... বর্তমান যুগে বিজ্ঞান কেবল তা-ই প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম হয়েছে, যা কুরআন ইতিপূর্বেই বর্ণনা ও সংজ্ঞায়নের মাধ্যমে সুস্পষ্ট করেছে
… " (২) "আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আমি যদি একজন অস্তিত্ববাদী মানুষ হতাম
… যে আসমানী রিসালাতসমূহের কোনোটিতেই বিশ্বাস করে না, আর যদি একদল লোক আমার কাছে এসে আধুনিক বিজ্ঞানের সকল ক্ষেত্রে কুরআনের এই অগ্রগামিতা সম্পর্কে আমাকে অবহিত করত—তবে আমি অবশ্যই আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী রবের প্রতি ঈমান আনতাম এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করতাম না
… " (৩) "এই ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে—হে খ্রিস্টান—রাসুলুল্লাহর ওপর পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে তোমার কাছে মহান আল্লাহকে উন্মোচিত করার জন্য
… " (৪) "একজন মুসলিমের জন্য তার কুরআন নিয়ে গর্ব করা সংগত, কারণ এটি পানির মতো; যাতে জীবন রয়েছে সেই ব্যক্তির জন্য যে তা থেকে পান করে।" (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩)
ارنولد: (1)
"..اننا نجد حتى من بين المسيحيين مثل الفار A"va" الاسبانى الذى عُرف بتعصبه على الاسلام، يقرر ان القرآن قد صيغ في مثل هذا الاسلوب البليغ الجميل، حتى أن المسيحيين لم يسعهم الا قراءته والاعجاب به.." (2)
--------------------------------------------
আর্নল্ড: (১)
"..আমরা এমনকি খ্রিস্টানদের মধ্যেও স্প্যানিশ আলভার (A"va") এর মতো ব্যক্তিত্বকে পাই, যিনি ইসলামের প্রতি তাঁর কট্টর বিদ্বেষের জন্য পরিচিত ছিলেন; তিনি স্বীকার করেছেন যে, কুরআন এমন এক অলঙ্কারপূর্ণ (بليغ) ও চমৎকার শৈলীতে রচিত হয়েছে যে, খ্রিস্টানরা তা পাঠ না করে এবং এর প্রশংসা না করে পারেনি.." (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৪)
ايرفنج (1)
"كانت التوراة في يوم ما هي مرشد الإنسان واساس سلوكه. حتى إذا ظهر المسيح عليه السلام اتبع المسيحيون تعاليم الإنجيل، ثم حلّ القرآن مكانهما، فقد كان القرآن اكثر شمولاً وتفصيلاً من الكتابين السابقين، كما صحح القرآن ما قد ادخل على هذين الكتابين من تغيير وتبديل. حوى القرآن كل شئ، وحوى جميع القوانين، إذ انه خاتم الكتب السماوية.." (2) "يدعو القرآن إلى الرحمة والصفاء والى مذاهب اخلاقية سامية" (3)
--------------------------------------------
আরভিং (১)
"একদা তাওরাত ছিল মানুষের পথপ্রদর্শক এবং তাদের আচরণের ভিত্তি। অতঃপর যখন মাসীহ (আলাইহিস সালাম) আবির্ভূত হলেন, তখন খ্রিস্টানরা ইঞ্জিলের শিক্ষা অনুসরণ করতে শুরু করল। এরপর কুরআন সেই দুই কিতাবের স্থলাভিষিক্ত হলো; কারণ কুরআন ছিল পূর্ববর্তী কিতাবদ্বয়ের তুলনায় অধিক ব্যাপক ও বিস্তারিত। এছাড়া কুরআন সেই কিতাবদ্বয়ের মধ্যে প্রবেশ করানো পরিবর্তন ও বিকৃতিগুলোকে সংশোধন করে দিয়েছে। কুরআনে সবকিছু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এটি সমস্ত আইনের আধার, কেননা এটি আসমানী কিতাবসমূহের সর্বশেষ (خاتم الكتب السماوية)।।" (২) "কুরআন করুণা, পবিত্রতা এবং উচ্চতর নৈতিক আদর্শের দিকে আহ্বান জানায়।" (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৫)
بروز (1)
"إنه ليس هناك شئ، لا دينى في تزايد سيطرة الإنسان على القوى الطبيعية، هناك آية في القرآن يمكن ان يستنتج منها انه لعل من اهداف خلق المجموعة الشمسية لفت نظر الإنسان لكي يدرس علم الفلك ويستخدمه في حياته: "هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاء وَالْقَمَرَ نُورًا وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُواْ عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ مَا خَلَقَ اللهُ ذَلِكَ إِلَاّ بِالْحَقِّ يُفَصِّلُ الآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ) (يونس/5) وكثيراً ما يشير القرآن إلى اخضاع الطبيعة للانسان باعتباره إحدى الايات التى تبعث على الشكر والايمان: (وَالَّذِي خَلَقَ الْأَزْوَاجَ كُلَّهَا وَجَعَلَ لَكُم مِّنَ الْفُلْكِ وَالْأَنْعَامِ مَا تَرْكَبُونَ* لِتَسْتَوُوا عَلَى ظُهُورِهِ ثُمَّ تَذْكُرُوا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ إِذَا اسْتَوَيْتُمْ عَلَيْهِ وَتَقُولُوا سُبْحانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ" (الزخرف/13) ويذكر القرآن -لا تسخير الحيوان واستخدامه فحسب- ولكن يذكر السفن ايضاً.. فاذا كان الجمل والسفينة من نعم الله العظيمة، أفلا يصدق هذا اكثر على سكة الحديد والسيارة والطائرة؟ " (2) ".. ان اعظم نتائج العلم يمكن ان تستخدم في اغراض هدمية او بنائية. وربما كان هذا هو المقصود بما ورد في القرآن خاصاً باستخدام الحديد: وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ" (الحديد/25) . واظهر مثال من هذا الآن بالضرورة هو استخدام النشاط الذرى -الذى نشطت بحوثه- لضرورة حربية.." (3)
--------------------------------------------
বারোজ (১)
"প্রাকৃতিক শক্তির ওপর মানুষের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের মাঝে ধর্মহীন বা অধার্মিকতার কিছুই নেই। কুরআনে এমন একটি আয়াত রয়েছে যা থেকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব যে, সম্ভবত সৌরজগত সৃষ্টির অন্যতম লক্ষ্য ছিল জ্যোতির্বিজ্ঞান অধ্যয়নের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা, যাতে সে তা অধ্যয়ন করে এবং নিজ জীবনে ব্যবহার করে: 'তিনিই সেই সত্তা, যিনি সূর্যকে তেজস্কর ও চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং তার জন্য মনজিলসমূহ (গন্তব্য) নির্ধারণ করেছেন, যাতে তোমরা বছরের গণনা ও হিসাব জানতে পার। আল্লাহ এসব কেবল সত্যের সঙ্গেই সৃষ্টি করেছেন। তিনি জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন।' (ইউনুস/৫)। কুরআন প্রায়শই প্রকৃতির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ বা আধিপত্যকে আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করে যা কৃতজ্ঞতা ও ঈমান জাগ্রত করে: 'এবং যিনি সমস্ত জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তু প্রস্তুত করেছেন যার ওপর তোমরা আরোহণ করো। যাতে তোমরা তাদের পিঠের ওপর স্থিত হও, অতঃপর যখন তোমরা তার ওপর আরোহণ করবে তখন তোমাদের রবের নেয়ামত স্মরণ করো এবং বলো: পবিত্র সেই সত্তা যিনি এদের আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, অথচ আমরা এদের বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না।' (আয-যুখরুফ/১৩)। কুরআন কেবল পশুর বশীকরণ ও ব্যবহারের কথাই উল্লেখ করে না, বরং জাহাজের কথাও উল্লেখ করে... অতএব উট ও জাহাজ যদি আল্লাহর মহান নেয়ামত হয়, তবে রেলপথ, গাড়ি এবং উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে এটি কি আরও বেশি সত্য নয়?" (২) "...বিজ্ঞানের মহত্তম ফলাফলগুলো ধ্বংসাত্মক অথবা গঠনমূলক উভয় উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হতে পারে। লোহার ব্যবহার সম্পর্কে কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে সম্ভবত সেটিই এখানে নির্দেশ করা হয়েছে: 'এবং আমি লোহা অবতীর্ণ করেছি যাতে রয়েছে প্রচণ্ড রণশক্তি এবং মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ, আর যাতে আল্লাহ জেনে নিতে পারেন কে অদৃশ্যে তাঁকে ও তাঁর রাসূলগণকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী।' (আল-হাদীদ/২৫)। বর্তমানে এর সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হলো পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার - যার গবেষণা ত্বরান্বিত হয়েছে - যুদ্ধের প্রয়োজনে..." (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৬)
بلاشير (1)
".. ان الفضل بعد الله يعود إلى الخليفة عثمان بن عفان (رضى الله عنه) لإسهامه قبل سنة 655هـ في ابعاد المخاطر الناشئة عن وجود نسخ عديدة من القرآن، واليه وحده يدين المسلمون بفضل تثبيت نص كتابهم المنزل، على مدى الاجيال القادمة". (2)
"لاجرم في انه إذا كان ثمة شئ تعجز الترجمة عن ادائه فانما هو الاعجاز البيانى واللفظي والجرس الايقاعي في الايات المنزلة في ذلك العهد.. ان خصوم محمد عليه الصلاة والسلام قد اخطأوا عندما لم يشاءوا ان يروا في هذا إلاّ اغاني سحرية وتعويذية، وبالرغم من اننا على علم - استقرائياً فقط - بتنبؤات الكهان، فمن الجائز لنا الاعتقاد مع ذلك بخطل هذا الحكم وتهافته، فان للايات التى اعاد الرسول عليه الصلاة والسلام ذكرها في هذه السور اندفاعاً وألَقاً وجلالةً تخلّف وراءها بعيداً اقوال فصحاء البشر كما يمكن استحضارها من خلال النصوص الموضوعة التي وصلتنا". (3)
".. ان القرآن ليس معجزة بمحتواه وتعليمه فقط، انه ايضاً ويمكنه ان يكون قبل اى شئ آخر تحفة ادبية رائعة تسمو على جميع ما اقرّته الانسانية وبجّلته من التحف.. ان الخليفة المقبل عمر بن الخطاب (رضى الله عنه) المعارض الفظ في البداية للدين الجديد، قد غدا من اشد المتحمسين لنصرة الدين عقب سماعه لمقطع من القرآن. وسنورد الحديث فيما بعد عن مقدار الافتتان الشفهي بالنص القرآني بعد ان رتّله المؤمنون" (4) ".. الاعجاز هو المعجزة المصدقة لدعوة محمد صلى الله عليه وسلم الذي لم يرتفع في احاديثه الدنيوية إلى مستوى الجلال القرآني.." (5) ".. في جميع المجالات التى اطللنا عليها من علم قواعد اللغة والمعجمية وعلم البيان، اثارت الواقعة القرآنية وغذت نشاطات علمية هي اقرب إلى حالة حضارية منها إلى المتطلبات التى فرضها إخراج الشريعة الاسلامية. وهناك مجالات اخرى تدخل فيها (الواقعة القرآنية) كعامل اساسى.. ولا تكون فاعليتها هنا فاعلية عنصر منبه فقط، بل فاعلية عنصر مبدع تتوطد قوته بنوعيته الذاتية.." (6)
--------------------------------------------
ব্লাশিয়ার (১)
".. আল্লাহর পর খলিফা উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর অবদান অনস্বীকার্য। কারণ তিনি ৬৫৫ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে কুরআনের বহুবিধ পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান থাকার ফলে উদ্ভূত ঝুঁকিগুলো দূর করতে ভূমিকা রেখেছিলেন। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তাদের অবতীর্ণ কিতাবের পাঠ সুসংহত করার ক্ষেত্রে মুসলমানরা এককভাবে তাঁরই কাছে ঋণী।" (২)
"নিঃসন্দেহে যদি এমন কিছু থেকে থাকে যা অনুবাদ প্রকাশ করতে অক্ষম, তবে তা হলো সেই যুগে অবতীর্ণ আয়াতসমূহের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ও শব্দগত অলৌকিকত্ব এবং ছন্দময় সুর। মুহাম্মাদ (সা.)-এর বিরোধীরা ভুল করেছিল যখন তারা এর মধ্যে কেবল জাদুকরী ও মন্ত্রপূত গান দেখতে চেয়েছিল। যদিও আমরা কেবল আরোহী পদ্ধতিতে (Inductively) গণকদের ভবিষ্যদ্বাণী সম্পর্কে অবগত, তবুও এই বিচারের অসারতা ও অন্তঃসারশূন্যতায় বিশ্বাস করার সুযোগ আমাদের রয়েছে। কেননা রাসুল (সা.) এই সূরাগুলোতে যেসব আয়াত পুনরায় উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর গতিশীলতা, উজ্জ্বলতা ও গাম্ভীর্য মানুষের বাগ্মিতাকে বহুদূরে ফেলে দেয়, যা আমাদের কাছে পৌঁছানো বানোয়াট (موضوع) বর্ণনাগুলোর মাধ্যমেও অনুভব করা সম্ভব।" (৩)
".. কুরআন কেবল এর বিষয়বস্তু এবং শিক্ষার কারণেই অলৌকিক নয়; এটি সর্বোপরি একটি চমৎকার সাহিত্যকর্মও হতে পারে যা মানবতার স্বীকৃত ও সম্মানিত সকল শিল্পকর্মকে ছাড়িয়ে যায়। পরবর্তী খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.), যিনি শুরুতে নতুন এই দ্বীনের কঠোর বিরোধী ছিলেন, কুরআনের একটি অংশ শোনার পর দ্বীনের বিজয়ে অন্যতম প্রধান উৎসাহীতে পরিণত হন। মুমিনদের তিলাওয়াতের পর কুরআনের পাঠের মৌখিক মুগ্ধতা সম্পর্কে আমরা পরবর্তীতে হাদিস উল্লেখ করব।" (৪) ".. অলৌকিকত্ব হলো মুহাম্মাদ (সা.)-এর দাওয়াতের সত্যতার প্রমাণকারী মুজিজা, যিনি তাঁর দুনিয়াবি কথাবার্তায় (হাদিসসমূহে) কুরআনের গাম্ভীর্যের সমপর্যায়ে উন্নীত হননি.." (৫) ".. আমরা ব্যাকরণ, অভিধানতত্ত্ব এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের যেসব ক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ করেছি, সেগুলোতে কুরআনিক বাস্তবতা এমন এক বৈজ্ঞানিক তৎপরতাকে অনুপ্রাণিত ও পুষ্ট করেছে যা ইসলামী শরিয়ত প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার চেয়ে বরং একটি সভ্যতাগত অবস্থানের অধিক নিকটবর্তী। আরও কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে (কুরআনিক বাস্তবতা) একটি মৌলিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। সেখানে এর কার্যকারিতা কেবল একটি উদ্দীপক উপাদান হিসেবে নয়, বরং একটি সৃজনশীল উপাদান হিসেবে যা নিজস্ব গুণগত বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়।" (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৭)
بوازار (1)
"لابدّ عند تعريف النصّ القدسى في الاسلام من ذكر عنصرين، الاول انه كتاب منزل ازلي غير مخلوق، والثاني انه (قرآن) اي كلام حي في قلب الجماعة.. وهو بين الله والانسانية (الوسيط) الذى يجعل اي تنظيم كهنوتى غير ذي جدوى، لانه مرضيّ به مرجعاً اصلياً، وينبوع إلهام اساسي.. ومازال حتى ايامنا هذه نموذجاً رفيعاً للادب العربى تستحيل محاكاته. انه لا يمثل النموذج المحتذى للعمل الادبي الأمثل وحسب، بل يمثل كذلك مصدر الادب العربي والاسلامي الذي ابدعه، لأن الدين أوحى به هو في اساس عدد كبير من المناهج الفكرية التي سوف يشتهر بها الكتاب.." (2)
"لقد اثبت التنزيل برفضه الفصل بين الروحي والزمني انه دين ونظام اجتماعي.. ومن البديهي ان التنزيل والسبيل الذي ظن امكان استخدامه فيه قد طبعا المجتمع بعمق.." (3)
".. ان القرآن لم يقدّر قط لإصلاح اخلاق عرب الجاهلية، انه على العكس يحمل الشريعة الخالدة والكاملة والمطابقة للحقائق البشرية، والحاجات الاجتماعية في كل الازمنة" (4)
".. يخلق الروح القرآني مناخ عيش ينتهي به الامر إلى مناغمة التعبيرات الذهنية والمساواة بين العقليات والنظم الاجتماعية بأكثر مما تفترض التصريفات السياسية والطوابع الايديولوجية التي تسند إلى الدول. ولا يكفي قط ما يتردد عن درجة تأثير القرآن الكبرى في (الذهنية الاسلامية) المعاصرة، فهو ما يزال مصدر الالهام الفردى والجماعي الرئيسى، كما انه ملجأ المسلمين وملاذهم الاخير" (5) ".. ان الادوات التى يوفرها التنزيل القرآني قادرة ولا ريب على بناء مجتمع حديث.." (6)
--------------------------------------------
বোয়াজার (১)
"ইসলামে পবিত্র গ্রন্থের (Text) সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে দুটি উপাদানের উল্লেখ আবশ্যক; প্রথমটি হলো এটি একটি অবতীর্ণ (منزل), অনাদি (أزلي) এবং অসৃষ্ট (غير مخلوق) কিতাব। দ্বিতীয়টি হলো এটি কুরআন অর্থাৎ উম্মাহর হৃদয়ে এক জীবন্ত বাণী... এটি আল্লাহ ও মানবতার মাঝে এমন এক মধ্যস্থতাকারী (الوسيط) যা যেকোনো পুরোহিততান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নিরর্থক করে তোলে; কারণ একে মূল উৎস এবং অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে... এটি বর্তমানকাল পর্যন্ত আরবি সাহিত্যের এক সুউচ্চ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত যা অনুকরণ করা অসম্ভব। এটি কেবল একটি আদর্শ সাহিত্যকর্মের নমুনাই উপস্থাপন করে না, বরং এটি সেই আরবি ও ইসলামী সাহিত্যের উৎস যা একে সৃষ্টি করেছে। কারণ এর মাধ্যমে যে ধর্মটি ওহী হিসেবে প্রেরিত হয়েছে, তা-ই মূলত অসংখ্য বুদ্ধিবৃত্তিক পদ্ধতির ভিত্তি যার মাধ্যমে লেখকগণ প্রসিদ্ধি লাভ করবেন..." (২)
"ওহী (التنزيل) আধ্যাত্মিক ও জাগতিক বিষয়ের মধ্যে বিভাজনকে অস্বীকার করার মাধ্যমে এটি প্রমাণ করেছে যে, এটি একটি ধর্ম এবং সামাজিক ব্যবস্থা... এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, ওহী (التنزيل) এবং একে প্রয়োগ করার যে পন্থা তা সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে..." (৩)
"...কুরআন কখনো কেবল জাহেলিয়াতের (الجاهلية) আরবদের চরিত্র সংশোধনের জন্য অবতীর্ণ হয়নি; বরং এটি একটি শাশ্বত ও পূর্ণাঙ্গ শরীয়াহ (الشريعة) ধারণ করে, যা সকল যুগের মানবিক বাস্তবতা ও সামাজিক প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।" (৪)
"...কুরআনী চেতনা এমন এক জীবন-পরিবেশ তৈরি করে যা শেষ পর্যন্ত মানসিক বহিঃপ্রকাশের সমন্বয় ঘটায় এবং রাষ্ট্রগুলোর ওপর আরোপিত রাজনৈতিক বিন্যাস বা আদর্শিক কাঠামোর চেয়েও অধিকতর সফলভাবে জনমানস ও সামাজিক ব্যবস্থার মাঝে সমতা বিধান করে। সমসাময়িক ইসলামী মনস্তত্ত্বে কুরআনের সুগভীর প্রভাব নিয়ে যা কিছু প্রচলিত আছে তা যথেষ্ট নয়; কারণ এটি আজও ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস এবং মুসলমানদের শেষ আশ্রয়স্থল ও নিরাপদ নিকেতন।" (৫) "...কুরআনী ওহী (التنزيل) যেসব উপকরণ সরবরাহ করে তা নিঃসন্দেহে একটি আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে সক্ষম..." (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৮)
بوتر (1)
".. عندما اكملت القرآن الكريم غمرني شعور بان هذا الحق الذي يشتمل على الاجابات الشافية حول مسائل الخلق وغيرها. وانه يقدم لنا الاحداث بطريقة منطقية نجدها متناقضة مع بعضها في غيره من الكتب الدينية. اما القرآن فيتحدث عنها في نسق رائع واسلوب قاطع لا يدع مجالاً للشك بان هذه هى الحقيقة وان هذا الكلام هو من عند الله لا محالة" (2)
".. ان المضمون الالهي للقرآن الكريم هو المسئول عن النهوض بالانسان وهدايته إلى معرفة الخلق، هذه المعرفة التي تنطبق على كل عصر.." (3)
".. كيف استطاع محمد صلى الله عليه وسلم الرجل الامي الذي نشأ في بيئة جاهلية ان يعرف معجزات الكون التي وصفها القرآن الكريم، والتي لا يزال العلم الحديث حتى يومنا هذا يسعى لاكتشافها؟ لابدّ إذن ان يكون هذا الكلام هو كلام الله عز وجل" (4)
--------------------------------------------
পটার (১)
".. যখন আমি আল-কুরআনুল কারীম সম্পন্ন করলাম, তখন আমি এমন এক গভীর অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হলাম যে, এটিই সেই সত্য যা সৃষ্টিতত্ত্ব এবং অন্যান্য বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর প্রদান করে। এটি আমাদের সামনে ঘটনাবলিকে এমন যৌক্তিক পদ্ধতিতে উপস্থাপন করে যা আমরা অন্যান্য ধর্মীয় কিতাবে পারস্পরিক বৈপরীত্যপূর্ণ হিসেবে দেখতে পাই। পক্ষান্তরে কুরআন তা চমৎকার বিন্যাস এবং সুনিশ্চিত (قاطع) শৈলীতে বর্ণনা করে, যা এই সত্যের ব্যাপারে সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখে না যে, এটিই পরম বাস্তবতা এবং এই বাণী নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" (২)
".. আল-কুরআনুল কারীমের খোদায়ী বিষয়বস্তুই মানুষের জাগরণ এবং তাকে সৃষ্টির পরিচয় অনুধাবনে পথপ্রদর্শনের মূল নিয়ামক; আর এই জ্ঞান প্রতিটি যুগের জন্যই সমভাবে প্রযোজ্য।" (৩)
".. মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যিনি একজন নিরক্ষর মানুষ হিসেবে জাহেলী পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন, তিনি কীভাবে মহাবিশ্বের সেই অলৌকিক নিদর্শনগুলো জানতে সক্ষম হলেন যা আল-কুরআনুল কারীম বর্ণনা করেছে এবং আধুনিক বিজ্ঞান আজও যা আবিষ্কারের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে? অতএব, অবশ্যই এই বাণী মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কালাম।" (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৯)
بوكاي (1)
"لقد قمت اولاً بدراسة القرآن الكريم، وذلك دون اي فكر مسبق وبموضوعية تامة باحثاً عن درجة اتفاق نصّ القرآن ومعطيات العلم الحديث. وكيف اعرف، قبل هذه الدراسة، وعن طريق الترجمات، ان القرآن يذكر انواعاً كثيرة من الظاهرات الطبيعية ولكن معرفتي كانت وجيزة. وبفضل الدراسة الواعية للنصّ العربي استطعت ان احقق قائمة ادركت بعد الانتهاء منها ان القرآن لا يحتوى على اية مقولة قابلة للنقد من وجهة نظر العلم في العصر الحديث. وبنفس الموضوعية قمت بنفس الفحص على العهد القديم والاناجيل. اما بالنسبة للعهد القديم فلم تكن هناك حاجة للذهاب إلى ابعد من الكتاب الاول، اي سفر التكوين، فقد وجدت مقولات لا يمكن التوفيق بينها وبين اكثر معطيات العلم رسوخاً في عصرنا. واما بالنسبة للاناجيل
… فاننا نجد نص انجيل متي يناقض بشكل جلي انجيل لوقا " وان هذا الاخير يقدم لنا صراحة امراً لا يتفق مع المعارف الحديثة الخاصة بقدم الإنسان على الارض." (2)
"لقد اثارت الجوانب العلمية التي يختص بها القرآن دهشتى العميقة في البداية. فلم اكن اعتقد قط بامكان اكتشاف عدد كبير إلى هذا الحدّ من الدعاوى الخاصة بموضوعات شديدة التنوع ومطابقته تماماً للمعارف العلمية الحديثة، ذلك في نص كتب منذ اكثر من ثلاثة عشر قرناً. في البداية لم يكن لي اي ايمان بالاسلام. وقد طرقت دراسة هذه النصوص بروح متحررة من كل حكم مسبق وبموضوعية تامة.." (3)
".. تناولت القرآن منتبها بشكل خاص إلى الوصف الذي يعطيه عن حشد كبير من الظاهرات الطبيعية. لقد اذهلتني دقة بعض التفاصيل الخاصة بهذه الظاهرات وهي تفاصيل لا يمكن ان تدرك الا في النص الاصلي. اذهلتني مطابقتها للمفاهيم التي نملكها اليوم عن نفس هذه الظاهرات والتي لم يكن ممكنا لاي انسان في عصر محمد صلى الله عليه وسلم ان يكون عنها ادنى فكرة.." (4)
".. كيف يمكن لانسان - كان في بداية امره اميّاً -.. ان يصرح بحقائق ذات طابع علمي لم يكن في مقدور اي انسان في ذلك العصر ان يكونها، وذلك دون ان يكشف تصريحه عن اقل خطأ من هذه الوجهة؟ " (5)
--------------------------------------------
বুকাই (১)
"আমি প্রথমে পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন করেছি, এবং তা কোনো পূর্বধারণা ছাড়াই এবং সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠভাবে, যেখানে আমি কুরআনের পাঠ ও আধুনিক বিজ্ঞানের তথ্যের মধ্যে সংগতির মাত্রা অনুসন্ধান করেছি। এই অধ্যয়নের পূর্বে অনুবাদের মাধ্যমে আমি কীভাবে জানতাম যে কুরআন নানা ধরণের প্রাকৃতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে? তবে আমার জ্ঞান ছিল সংক্ষিপ্ত। আরবি পাঠের সচেতন অধ্যয়নের বদৌলতে আমি এমন একটি তালিকা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি যা সম্পন্ন করার পর আমি উপলব্ধি করেছি যে, কুরআন আধুনিক যুগের বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনাযোগ্য কোনো বক্তব্য ধারণ করে না। একই বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে আমি ওল্ড টেস্টামেন্ট এবং ইঞ্জিলসমূহের ওপর একই পরীক্ষা চালিয়েছি। ওল্ড টেস্টামেন্টের ক্ষেত্রে প্রথম গ্রন্থ অর্থাৎ ‘আদিপুস্তক’-এর চেয়ে গভীরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি; কারণ আমি এমন সব বক্তব্য পেয়েছি যার সাথে আমাদের যুগের বিজ্ঞানের সবচেয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত তথ্যের কোনোভাবেই সমন্বয় করা সম্ভব নয়। আর ইঞ্জিলের ক্ষেত্রে
… আমরা দেখি যে মথির ইঞ্জিলের পাঠ লূকের ইঞ্জিলের সাথে স্পষ্টভাবে বৈপরীত্য প্রকাশ করে। আর লূকের ইঞ্জিল আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে এমন বিষয় উপস্থাপন করে যা পৃথিবীতে মানুষের প্রাচীনত্ব বিষয়ক আধুনিক জ্ঞানের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।" (২)
"কুরআনের বিশেষত্ব সম্পন্ন বৈজ্ঞানিক দিকগুলো শুরুতে আমাকে গভীরভাবে বিস্মিত করেছিল। আমি কখনোই বিশ্বাস করিনি যে, তেরো শতাব্দীরও বেশি সময় আগে লিখিত একটি গ্রন্থে এত বিপুল সংখ্যক এবং অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় বিষয়ের ওপর এমন সব দাবি উন্মোচন করা সম্ভব হবে যা আধুনিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। শুরুতে ইসলামের প্রতি আমার কোনো বিশ্বাস ছিল না। আমি সকল প্রকার পূর্বধারণা থেকে মুক্ত হয়ে এবং সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠতার সাথে এই পাঠ্যসমূহ নিয়ে কাজ শুরু করি।" (৩)
"...আমি কুরআনের প্রতি মনোনিবেশ করেছিলাম বিশেষভাবে সেই বর্ণনার প্রতি, যা এটি বিপুল সংখ্যক প্রাকৃতিক ঘটনার ব্যাপারে প্রদান করে। এই ঘটনাগুলোর কিছু খুঁটিনাটি বিষয়ের নির্ভুলতা আমাকে আশ্চর্যান্বিত করেছে যা কেবল মূল পাঠের মাধ্যমেই উপলব্ধি করা সম্ভব। বর্তমানকালে এই একই ঘটনাগুলো সম্পর্কে আমাদের যে ধারণা রয়েছে, তার সাথে কুরআনের বর্ণনার মিল দেখে আমি বিস্ময় প্রকাশ করছি, যে সম্পর্কে মুহাম্মাদ (সা.)-এর যুগে কোনো মানুষের পক্ষে সামান্যতম ধারণাও রাখা সম্ভব ছিল না।" (৪)
"...কীভাবে একজন মানুষ—যিনি তাঁর জীবনের শুরুতে নিরক্ষর (أمي) ছিলেন—এমন সব বৈজ্ঞানিক প্রকৃতির সত্য ঘোষণা করতে পারেন যা সেই যুগের কোনো মানুষের পক্ষেই অনুধাবন করা সম্ভব ছিল না, অথচ তাঁর সেই ঘোষণার মধ্যে এই দৃষ্টিকোণ থেকে সামান্যতম ভুলও প্রকাশ পায় না?" (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১০)
بيكارد (1)
".. ابتعت نسخة من ترجمة سافاري الفرنسية لمعاني القرآن وهي أغلى ما املك. فلقيت من مطالعتها اعظم متعة وابتهجت بها كثيراً حتى غدوت وكأن شعاع الحقيقة الخالد قد اشرق علي بنوره المبارك" (2)
--------------------------------------------
পিকার্ড (১)
"...আমি কুরআনের অর্থসমূহের সাভারি-কৃত ফরাসি অনুবাদের একটি কপি ক্রয় করেছিলাম এবং এটি আমার নিকট থাকা সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এটি পাঠ করে আমি পরম আনন্দ লাভ করেছি এবং এতে আমি এতটাই উল্লসিত হয়েছিলাম যে, মনে হচ্ছিল যেন শাশ্বত সত্যের আলোকচ্ছটা তার বরকতময় নূর নিয়ে আমার ওপর উদ্ভাসিত হয়েছে।" (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১১)
حتي (1)
"ان الاسلوب القرآني مختلف عن غيره، ثم انه لا يقبل المقارنة باسلوب آخر، ولا يمكن ان يقلّد. وهذا في اساسه، هو إعجاز القرآن.. فمن جميع المعجزات كان القرآن المعجزة الكبرى" (2)
".. ان إعجاز القرآن لم يحل دون ان يكون اثره ظاهراً على الادب العربي. اما إذا نحن نظرنا إلى النسخة التي نقلت في عهد الملك جيمس من التوراة والانجيل وجدنا ان الاثر الذي تركته على اللغة الانكيزية ضئيل، بالاضافة إلى الاثر الذي تركه القرآن على اللغة العربية. ان القرآن هو الذي حفظ اللغة العربية وصانها من ان تتمزق لهجمات" (3)
--------------------------------------------
হিত্তি (১)
"নিশ্চয়ই কুরআনের শৈলী অন্য সব কিছু থেকে ভিন্ন, তদুপরি এটি অন্য কোনো শৈলীর সাথে তুলনাযোগ্য নয় এবং এর অনুকরণ করাও সম্ভব নয়। মূলত এটিই কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز).. আর সকল অলৌকিক নিদর্শনের (معجزات) মধ্যে কুরআনই ছিল শ্রেষ্ঠ মুজিজা (المعجزة الكبرى)" (২)
"...কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) আরবি সাহিত্যের ওপর এর প্রভাব স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হওয়ার পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। পক্ষান্তরে, আমরা যদি রাজা জেমসের শাসনামলে অনূদিত তওরাত ও ইঞ্জিলের সংস্করণের দিকে লক্ষ করি, তবে দেখতে পাই যে, ইংরেজি ভাষার ওপর তার প্রভাব ছিল যৎসামান্য; যেখানে আরবি ভাষার ওপর কুরআনের প্রভাব অপরিসীম। মূলত কুরআনই আরবি ভাষাকে রক্ষা করেছে এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও আক্রমণ থেকে একে ছিন্নভিন্ন হওয়া থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে।" (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১২)
حنا (1)
"انه لابدّ من الاقرار بان القرآن، فضلاً عن كونه كتاب دين وتشريع، فهو ايضاً كتاب لغة عربية فصحى. وللغة القرآن الفضل الكبير في ازدهار اللغة، ولطالما يعود اليه ائمة اللغة، في بلاغة الكلمة وبيانها، سواء كان هؤلاء الائمة مسلمين ام مسيحيين. واذا كان المسلمون يعتبرون ان صوابية لغة القرآن هي نتيجة محتومة لكون القرآن منزلاً ولا تحتمل التخطئة، فالمسيحيون يعترفون ايضاً بهذه الصوابية، بقطع النظر عن كونه منزلاً او موضوعاً، ويرجعون اليه للاستشهاد بلغته الصحيحة، كلما استعصى عليهم امر من امور اللغة" (2)
--------------------------------------------
হানা (১)
"এটি অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, কুরআন ধর্ম ও শরয়ি বিধানের গ্রন্থ হওয়ার পাশাপাশি এটি একটি উচ্চাঙ্গের বিশুদ্ধ আরবি ভাষারও গ্রন্থ। আরবি ভাষার সমৃদ্ধিতে কুরআনের ভাষার বিরাট অবদান রয়েছে। ভাষাবিদগণ শব্দের অলংকার ও প্রাঞ্জলতার ক্ষেত্রে সর্বদা এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করেন, চাই সেই ইমামগণ মুসলিম হোন কিংবা খ্রিষ্টান। আর মুসলিমরা যদি মনে করেন যে, কুরআনের ভাষার নির্ভুলতা একটি অনিবার্য ফলাফল যেহেতু কুরআন অবতীর্ণ এবং তা ভুল হওয়ার কোনো অবকাশ রাখে না, তবে খ্রিষ্টানরাও এই নির্ভুলতাকে স্বীকার করেন—তা অবতীর্ণ হোক কিংবা মানুষের তৈরি (موضوع) হোক সেই প্রসঙ্গের ঊর্ধ্বে থেকে। যখনই ভাষার কোনো বিষয় তাদের কাছে দুরূহ হয়ে পড়ে, তখনই তারা এর সঠিক (صحيح) ভাষার উদ্ধৃতি গ্রহণের জন্য এর দিকে ফিরে আসেন।" (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
داود (1)
".. تناولت نسخة من ترجمة معانى القرآن الكريم باللغة الانجيليزية، لاني عرفت ان هذ هو الكتاب المقدس عند المسلمين، فشرعت في قراءته وتدبر معانيه، لقد استقطب جل اهتمامي، وكم كانت دهشتى عظيمة حين وجدت الاجابة المقنعة عن سؤالي المحير: الهدف من الخلق في الصفحات الاولى من القرآن الكريم.. لقد قرأت الايات (30 - 39) من سورة البقرة.. وهي آيات توضح الحقيقة بجلاء لكل دارس منصف، ان هذه الايات تخبرنا بكل وضوح وجلاء وبطريقة مقنعة عن قصة الخلق.." (2)
".. ان دراستى للقرآن الكريم وضحت امام ناظري العديد من الاشكالات الفكرية، وصححت الكثير من التناقضات التي طالعتها في الكتب السماوية السابقة" (3)
--------------------------------------------
দাউদ (১)
"...আমি পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের একটি ইংরেজি অনুবাদের কপি হাতে নিলাম, কারণ আমি জানতাম এটিই মুসলমানদের নিকট পবিত্র গ্রন্থ। এরপর আমি এটি পাঠ করতে এবং এর অর্থ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে শুরু করলাম। এটি আমার প্রায় সমস্ত মনোযোগ কেড়ে নিল। যখন আমি আমার বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন—সৃষ্টির উদ্দেশ্য—এর একটি সন্তোষজনক উত্তর পবিত্র কুরআনের প্রথম পৃষ্ঠাগুলোতেই খুঁজে পেলাম, তখন আমার বিস্ময়ের সীমা রইল না। আমি সূরা আল-বাকারার ৩০-৩৯ নম্বর আয়াতগুলো পাঠ করলাম। এই আয়াতগুলো একজন ন্যায়নিষ্ঠ শিক্ষার্থীর নিকট সত্যকে সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। এই আয়াতগুলো অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সাবলীলভাবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে আমাদের সৃষ্টির কাহিনী সম্পর্কে অবহিত করে।" (২)
"...পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন আমার দৃষ্টির সামনে বহু বুদ্ধিবৃত্তিক জটিলতাকে স্পষ্ট করে দিয়েছে এবং পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহে আমি যে সমস্ত বৈপরীত্য লক্ষ্য করেছিলাম, তার অনেকগুলোই সংশোধন করে দিয়েছে।" (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
درمنغم (1)
"للمسيح عليه السلام في القرآن مقام عالٍ، فولادته لم تكن عادية كولادة بقية الناس، وهو رسول الله الذي خاطب الله جهراً عن مقاصده وحدث عن ذلك اول شخص كلمه، وهو كلمة الله الناطقة من غير اقتصار على الوحي وحده.. والقرآن يقصد النصرانية الصحيحة حينما يقول: ان عيسى عليه السلام كلمة الله، او روح الله، ألقاها إلى مريم وانه من البشر.. وهو يذمّ مذهب القائلين بالوهية المسيح عليه السلام ومذهب تقديم الخبز إلى مريم عبادةً ثم اكله وما إلى ذلك من مذاهب الالحاد النصرانية، لا النصرانية الصحيحة، ولا يسع النصراني الا ان يرضى بمهاجمة القرآن للثالوث المؤلف من الله وعيسى ومريم" (2)
"سيكون القرآن حافزاً للجهاد يردده المؤمنون كما يردد غيرهم اناشيد الحرب، محرضاً على القتال جامعاً لشؤونه، محركاً لفاتري الهمم، فاضحاً للمخلّفين مخزياً للمنافقين، واعداً الشهداء بجنات عدن" (3)
"كان محمد صلى الله عليه وسلم يعد نفسه وسيلة لتبليغ الوحي، وكان مبلغ حرصه ان يكون اميناً مصغياً او سجلاً صادقاً او حاكياً معصوماً لما يسمعه من كلام الظل الساطع والصوت الصامت للكلام القديم على شكل دنيوي، لكلام الله الذي هو امّ الكتاب، للكلام الذي تحفظه ملائكة كرام في السماء السابعة. ولا بد لكل نبى من دليل على رسالته، ولابد له من معجزة يتحدى بها.. والقرآن هو معجزة محمد صلى الله عليه وسلم الوحيدة، فاسلوبه المعجز وقوة ابحاثه لا تزال.. إلى يومنا يثيران ساكن من يتلونه، ولو لم يكونوا من الاتقياء العابدين، وكان محمد صلى الله عليه وسلم يتحدى الانس والجن بان يأتوا بمثله، وكان هذا التحدى اقوم دليل لمحمد على صدق رسالته.. ولا ريب ان في كل آية منه، ولو اشارت إلى ادق حادثة في حياته الخاصة، تأتيه بما يهزّ الروح بأسرها من المعجزة العقلية، ولا ريب في ان هنالك ما يجب ان يبحث به عن سرّ نفوذه وعظيم نجاحه" (4)
"كان لمحمد صلى الله عليه وسلم بالوحي آلام كبيرة.. وحالات مؤثرة كره ان يطلع الناس عليها، ولاحظ ابو بكر رضي الله عنه ذات يوم، والحزن ملء قلبه، بدء الشيب في لحية النبي صلى الله عليه وسلم فقال له النبي: (شيّبتني هود واخواتها: الواقعة والحاقة والقارعة) . وكان النبي صلى الله عليه وسلم يشعر بعد الوحي بثقل في رأسه فيطبه بالمراهم، وكان يدثر حين الوحي فيسمع له غطيط وانين. وكان إذا نزل الوحي عليه يتحدر جبينه عرقاً في البرد" (5)
"كان محمد صلى الله عليه وسلم، وهو البعيد من إنشاء القرآن وتأليفه ينتظر نزول الوحي اليه احياناً على غير جدوى، فيألم من ذلك، ويود لو يأتيه الملك متواتراً" (6)
--------------------------------------------
দারমেনঘেম (1)
"কুরআনে মসীহ আলাইহিস সালামের একটি উচ্চ মর্যাদা রয়েছে। তাঁর জন্ম অন্যান্য মানুষের জন্মের মতো সাধারণ ছিল না। তিনি আল্লাহর রাসূল, যিনি আল্লাহর উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকাশ্যে সম্বোধন করেছেন এবং তাঁর সাথে কথা বলা প্রথম ব্যক্তির কাছে তা বর্ণনা করেছেন। তিনি আল্লাহর কথা বলা বাণী (كلمة الله), যা কেবল ওহীর (وحي) মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়... কুরআন যখন বলে যে, ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর বাণী (كلمة الله) বা আল্লাহর রূহ (روح الله), যা তিনি মারইয়ামের প্রতি নিক্ষেপ করেছেন এবং তিনি একজন মানুষ—তখন মূলত সঠিক খ্রিস্টধর্মকেই উদ্দেশ্য করা হয়। এটি মসীহ আলাইহিস সালামকে উপাস্য হিসেবে সাব্যস্তকারী মতবাদ এবং ইবাদত হিসেবে মারইয়ামের উদ্দেশ্যে রুটি উৎসর্গ করে তা ভক্ষণ করার মতো শিরকপূর্ণ ও নাস্তিক্যবাদী খ্রিস্টীয় মতবাদগুলোর নিন্দা জানায়, সঠিক খ্রিস্টধর্মের নয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কুরআনের এই আক্রমণ—যা আল্লাহ, ঈসা ও মারইয়ামকে নিয়ে গঠিত ত্রিত্ববাদের বিরুদ্ধে—তা মেনে নেওয়া ছাড়া একজন খ্রিস্টানের কোনো উপায় নেই।" (2)
"কুরআন জিহাদের একটি উদ্দীপক হবে, যা মুমিনরা যুদ্ধের সংগীতের মতো বারবার উচ্চারণ করবে। এটি যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধকারী, যুদ্ধের বিষয়াবলি একত্রকারী, উদ্যমহীনদের গতিশীলকারী, পশ্চাৎপদদের মুখোশ উন্মোচনকারী, মুনাফিকদের লাঞ্ছিতকারী এবং শহীদদের জন্য জান্নাতুল আদনের প্রতিশ্রুতি প্রদানকারী হবে।" (3)
"মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকে ওহী (وحي) পৌঁছানোর একটি মাধ্যম হিসেবে গণ্য করতেন। তাঁর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ছিল একজন আমানতদার শ্রবণকারী কিংবা একটি সত্যনিষ্ঠ নথি অথবা পার্থিব রূপে বিদ্যমান শাশ্বত বাণীর সেই উজ্জ্বল ছায়া ও নীরব শব্দের এক নিষ্পাপ (معصوم) বর্ণনাকারী হওয়া, যা উম্মুল কিতাব বা আল্লাহর কালাম থেকে উৎসারিত এবং সপ্তম আকাশে সম্মানিত ফেরেশতারা যা সংরক্ষণ করেন। প্রত্যেক নবীর জন্য তাঁর রিসালাতের একটি প্রমাণ এবং একটি মুজিযা (معجزة) থাকা আবশ্যক, যার মাধ্যমে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবেন... আর কুরআনই হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একমাত্র মুজিযা (معجزة)। এর অলৌকিক শৈলী ও গবেষণার শক্তি আজও তিলাওয়াতকারীদের অন্তরে কম্পন সৃষ্টি করে, যদিও তারা মুত্তাকী ইবাদতকারী না হয়। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানব ও জিন জাতিকে এর সমতুল্য কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন এবং এই চ্যালেঞ্জটিই ছিল তাঁর রিসালাতের সত্যতার অকাট্য প্রমাণ... এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর প্রতিটি আয়াতে—তা যদি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সূক্ষ্মতম ঘটনার দিকেও ইঙ্গিত করে—এমন কিছু রয়েছে যা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক মুজিযা (معجزة) হিসেবে সমগ্র আত্মাকে আলোড়িত করে। আর এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর প্রভাব ও বিশাল সাফল্যের রহস্য উদঘাটনে গভীর গবেষণা প্রয়োজন।" (4)
"মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহী (وحي) অবতরণের সময় প্রচণ্ড কষ্ট অনুভব করতেন... এবং এমন কিছু প্রভাব বিস্তারকারী অবস্থার সম্মুখীন হতেন যা তিনি মানুষের সামনে প্রকাশ করা অপছন্দ করতেন। একদিন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ভরাক্রান্ত হৃদয়ে লক্ষ্য করলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাড়িতে শুভ্রতা দেখা দিয়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: 'সূরা হুদ এবং তার সমজাতীয় সূরাসমূহ—ওয়াকিয়া, হাক্কাহ ও কারিআহ—আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে।' ওহী (وحي) অবতরণের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথায় প্রচণ্ড ভার অনুভব করতেন, যার ফলে তিনি মলম ব্যবহার করতেন। ওহীর (وحي) সময় তিনি চাদর মুড়ি দিয়ে থাকতেন, তখন তাঁর নাক ডাকার মতো শব্দ ও আর্তনাদ শোনা যেত। প্রচণ্ড শীতের দিনেও ওহী (وحي) নাযিল হওয়ার সময় তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরতো।" (5)
"মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—যিনি কুরআনের রচয়িতা বা সংকলক হওয়া থেকে বহু দূরে ছিলেন—কখনও কখনও ওহী (وحي) অবতরণের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতেন কিন্তু তা আসত না; এতে তিনি ব্যথিত হতেন এবং কামনা করতেন যেন ফেরেশতা তাঁর কাছে অবিচ্ছিন্নভাবে (متواتر) আগমন করেন।" (6)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
دي كاستري (1)
".. ان العقل يحار كيف يتأتي ان تصدر تلك الآيات عن رجل امي وقد اعترف الشرق قاطبة بانها آيات يعجز فكر بني الإنسان عن الإتيان بمثلها لفظاً ومعنى. آيات لما سمعها عقبة ابن ربيعة حار في جماها، وكفى رفيع عبارتها لإقناع عمر بن الخطاب (رضى الله عنه) فآمن برب قائلها، وفاضت عين نجاشيّ الحبشة بالدموع لما تلى عليه جعفر بن ابى طالب سورة زكريا وما جاء في ولادة يحيى وصاح القسس ان هذا الكلام واردٌ من موارد كلام عيسى عليه السلام .. لكن نحن معشر الغربيين لا يسعنا ان نفقه معاني القرآن كما هي لمخالفته لافكارنا ومغايرته لما ربيت عليه الامم عندنا، غير انه لا ينبغي ان يكون ذلك سبباً في معارضة تأثيره في عقول العرب، ولقد اصاب (جان جاك روسو) حيث يقول: (من الناس من يتعلم قليلاً من العربية ثم يقرأ القران ويضحك منه ولو انه سمع محمداً صلى الله عليه وسلم يمليه على الناس بتلك اللغة الفصحى الرقيقة وصوته المشبع المقنع الذي يطرب الاذان ويؤثر في القلوب.. لخرّ ساجداً على الارض وناداه: ايها النبي رسول الله خذ بيدنا إلى مواقف الشرف والفخار او مواقع التهلكة والاخطار فنحن من اجلك نودّ الموت او الانتصار) .. وكيف يعقل ان النبي صلى الله عليه وسلم الّف هذا الكتاب باللغة الفصحى مع انها في الازمان الوسطى كاللغة اللاتينية ما كان يعقلها الا القوم العالمون.. ولو لم يكن في القرآن غير بهاء معانيه وجمال مبانيه لكفى بذلك ان يستولي على الافكار ويأخذ بمجامع القلوب.." (2)
"اتى محمد صلى الله عليه وسلم بالقرآن دليلاً على صدق رسالته، وهو لا يزال إلى يومنا هذا سرّاً من الاسرار التي تعذر فك طلاسمها ولن يسبر غور هذا السر المكنون الاّ من يصدق بانه منزل من الله.." (3)
".. قد نرى تشابهاً بين القرآن والتوراة في بعض المواضع، الا ان سببه ميسور المعرفة.. إذا لا حظنا ان القرآن جاء ليتممها، كما ان النبي صلى الله عليه وسلم خاتم الانبياء والمرسلين" (4)
--------------------------------------------
ডি কাস্ট্রি (১)
"..বুদ্ধি বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে যে, কীভাবে এই আয়াতসমূহ একজন নিরক্ষর (أمي) মানুষের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হতে পারে, অথচ সমগ্র প্রাচ্য একবাক্যে স্বীকার করেছে যে, এগুলি এমন আয়াত যার শব্দে (لفظاً) ও মর্মে (معنى) অনুরূপ কিছু উপস্থাপনে মানবজাতির চিন্তা অক্ষম। এগুলি এমন আয়াত যা শোনার পর উতবাহ ইবনে রাবিআহ এর সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে পড়েছিল এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে আশ্বস্ত করার জন্য এর উচ্চাঙ্গের শব্দশৈলীই যথেষ্ট ছিল, ফলে তিনি এর বক্তার রবের প্রতি ঈমান আনেন। আবিসিনিয়ার নাজ্জাশীর চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠেছিল যখন জাফর ইবনে আবি তালিব তাঁর সামনে সূরা যাকারিয়া এবং ইয়াহইয়ার জন্মসংক্রান্ত বিষয়সমূহ পাঠ করেছিলেন এবং যাজকগণ চিৎকার করে বলেছিলেন যে, এই বাণী সেই উৎস থেকেই আগত যেখান থেকে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর বাণী এসেছিল। কিন্তু আমরা পশ্চিমা গোষ্ঠী কুরআনের অর্থসমূহ যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম নই, কারণ এটি আমাদের চিন্তা-চেতনার পরিপন্থী এবং আমাদের জাতিসমূহ যে আদর্শে গড়ে উঠেছে তা থেকে ভিন্ন। তবে এটি যেন আরবদের মস্তিষ্কে এর প্রভাবের বিরোধিতার কারণ না হয়। জঁ-জ্যাক রুসো যথার্থই বলেছেন: (মানুষের মধ্যে এমন অনেকে আছে যারা সামান্য আরবি শেখে, তারপর কুরআন পাঠ করে এবং তা নিয়ে উপহাস করে; অথচ তারা যদি মুহাম্মাদ (সা.)-কে দেখত যে তিনি সেই বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল ভাষায় মানুষের সামনে তা পাঠ করছেন এবং তাঁর সেই আবেদনময় ও প্রত্যয়দীপ্ত কণ্ঠস্বর যা কানে তৃপ্তি দেয় এবং হৃদয়ে রেখাপাত করে—তবে তারা অবশ্যই সিজদাবনত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ত এবং তাঁকে সম্বোধন করে বলত: হে নবী, আল্লাহর রাসূল! সম্মানের উচ্চশিখরে কিংবা বিপদ ও ধ্বংসের মুখে আমাদের হাত ধরুন, আমরা আপনার জন্য মৃত্যু অথবা বিজয় কামনা করি)। আর এটি কীভাবে সম্ভব যে নবী (সা.) এই কিতাবটি বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল ভাষায় রচনা করেছেন, অথচ মধ্যযুগে এই ভাষাটি ছিল লাতিন ভাষার মতো যা কেবল জ্ঞানী ব্যক্তিরাই অনুধাবন করতে পারত। কুরআনে যদি এর অর্থের মহিমা এবং গাঠনিক সৌন্দর্য ছাড়া আর কিছুই না থাকত, তবে মানুষের চিন্তা-চেতনাকে জয় করতে এবং হৃদয়ের অন্তঃস্থলে স্থান করে নিতে তা-ই যথেষ্ট হতো।" (২)
"মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর রিসালাতের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে কুরআন নিয়ে এসেছেন, যা আজও পর্যন্ত এমন এক রহস্য হয়ে আছে যার নিগূঢ় রহস্য উন্মোচন করা দুঃসাধ্য। আর এই নিগূঢ় রহস্যের গভীরতা কেবল তারাই পরিমাপ করতে পারবে যারা বিশ্বাস করে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" (৩)
"..আমরা হয়তো কোনো কোনো স্থানে কুরআন ও তাওরাতের মধ্যে সাদৃশ্য দেখতে পাই, তবে এর কারণ জানা অতি সহজ। যদি আমরা লক্ষ্য করি যে, কুরআন পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের পূর্ণতা দিতেই অবতীর্ণ হয়েছে, ঠিক যেমন নবী (সা.) হলেন শেষ নবী ও রাসূল।" (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
دينيه (1)
"لقد حقق القرآن معجزة لا تستطيع اعظم المجامع العلمية ان تقوم بها، ذلك انه مكّن للغة العربية في الارض بحيث لو عاد احد اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الينا اليوم لكان ميسوراً له ان يتفاهم تمام التفاهم مع المتعلمين من اهل اللغة العربية، بل لما وجد صعوبة تذكر للتخاطب مع الشعوب الناطقة بالضاد. وذلك عكس ما يجده مثلاً احد معاصري (رابيليه) من اهل القرن الخامس عشر الذي هو اقرب الينا من عصر القرآن، من الصعوبة في مخاطبة العدد الاكبر من فرنسيّى اليوم" (2)
".. احسّ المشركون، في دخيلة نفوسهم، ان قد غزا قلوبهم ذلك الكلام العجيب الصادر من اعماق قلب الرسول الملهم صلى الله عليه وسلم وكلهم كثيراً ما كانوا على وشك الخضوع لتلك الالفاظ الأخاذة التى ألهمها ايمان سماوي، ولم يمنعهم عن الاسلام الا قوة حبهم لأعراض الدنيا.." (3)
"ان معجزة الانبياء الذين سبقوا محمداً كانت في الواقع معجزات وقتية وبالتالي معرضة للنسيان السريع. بينما نستطيع ان نسمي معجزة الآيات القرآنية: (المعجزة الخالدة) وذلك ان تأثيرها دائم ومفعولها مستمر، ومن اليسير على المؤمن في كل زمان وفي كل مكان ان يرى هذه المعجزة بمجرد تلاوة في كتاب الله، وفي هذه المعجزة نجد التعليل الشافي للانتشار الهائل الذي احرزه الاسلام، ذلك الانتشار الذي لا يدرك سببه الاوروبيون لانهم يجهلون القرآن، او لانهم لا يعرفونه الا من خلال ترجمات لا تنبض بالحياة فضلاً عن انها غير دقيقة". (4)
"ان كان سحر اسلوب القرآن وجمال معانيه، يحدث مثل هذا التأثير في نفوس علماء لا يمتون إلى العرب ولا إلى المسلمين بصلة، فماذا ترى ان يكون من قوة الحماسة التى تستهوى عرب الحجاز وهم الذين نزلت الآيات بلغتهم الجميلة؟
… لقد كانوا لا يسمعون القرآن الا وتتملك نفوسهم انفعالات هائلة مباغتة، فيظلون في مكانهم وكأنهم قد سمّروا فيه. أهذه الايات الخارقة تأتي من محمد صلى الله عليه وسلم ذلك الامي الذي لم ينل حظاً من المعرفة؟.. كلا ان هذا القرآن لمستحيل ان يصدر عن محمد، وانه لا مناص من الاعتراف بان الله العلي القدير هو الذي املى تلك الايات البينات.." (5)
"لا عجب ان نرى النبى الامي يتحدى الشعراء، ويعترف لهم بحق نعتهم له بالكذب، إن أتوا بعشر سور من مثله، فقد آمن بعجزهم عن ذلك". (6)
--------------------------------------------
দিনি (১)
"কুরআন এমন এক অলৌকিকত্ব (معجزة) সাধন করেছে যা বড় বড় বৈজ্ঞানিক একাডেমিগুলোও করতে সক্ষম নয়। এটি পৃথিবীতে আরবি ভাষাকে এমনভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো সাহাবী যদি আজ আমাদের কাছে ফিরে আসেন, তবে আরবি ভাষায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের সাথে পূর্ণাঙ্গরূপে ভাববিনিময় করা তাঁর জন্য অত্যন্ত সহজ হবে; এমনকি আরবি ভাষাভাষী (الناطقة بالضاد) জাতিগুলোর সাথে কথা বলতেও তাঁর তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য বেগ পেতে হবে না। এটি পঞ্চদশ শতাব্দীর 'রাবেলে'-এর সমসাময়িক ফরাসিদের ঠিক বিপরীত—যারা আমাদের সময়ের চেয়ে কুরআনের যুগের অনেক নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও—বর্তমান যুগের অধিকাংশ ফরাসির সাথে কথা বলতে গেলে চরম অসুবিধার সম্মুখীন হয়।" (২)
"...মুশরিকরা তাদের অন্তরের অন্তস্থলে অনুভব করেছিল যে, ঐশী প্রেরণাপ্রাপ্ত রাসূল (সা.)-এর হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত সেই বিস্ময়কর বাণী তাদের কলিজাকে জয় করে নিয়েছে। তাদের প্রত্যেকেই বারবার সেই চিত্তাকর্ষক শব্দমালার সামনে নতিস্বীকার করার উপক্রম হয়েছিল, যা এক আসমানি ঈমান দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল। দুনিয়াবি স্বার্থের প্রতি তাদের প্রবল মোহ ছাড়া আর কিছুই তাদের ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রাখেনি..." (৩)
"মুহাম্মাদ (সা.)-এর পূর্ববর্তী নবীদের অলৌকিকত্ব (معجزة) ছিল মূলত সাময়িক এবং ফলশ্রুতিতে তা দ্রুত বিস্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে যেতো। অপরদিকে কুরআনের আয়াতগুলোর অলৌকিকত্বকে আমরা 'চিরন্তন অলৌকিকত্ব' (المعجزة الخالدة) বলতে পারি; কারণ এর প্রভাব স্থায়ী এবং এর ক্রিয়া নিরন্তর। প্রত্যেক যুগের এবং প্রত্যেক স্থানের মুমিনের জন্য আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করার মাধ্যমেই এই অলৌকিকত্ব (معجزة) প্রত্যক্ষ করা অত্যন্ত সহজ। এই অলৌকিকত্বের মধ্যেই আমরা ইসলামের সেই ব্যাপক প্রসারের এক সন্তোষজনক ব্যাখ্যা খুঁজে পাই যা ইউরোপীয়রা অনুধাবন করতে অক্ষম। কারণ তারা হয় কুরআন সম্পর্কে অজ্ঞ, অথবা তারা এটি এমন সব অনুবাদের মাধ্যমে জানে যা প্রাণহীন ও ত্রুটিপূর্ণ।" (৪)
"কুরআনের শৈল্পিক মোহনীয়তা ও তার অর্থের সৌন্দর্য যদি এমন আলেমদের হৃদয়ে প্রভাব ফেলতে পারে যাদের সাথে আরব বা মুসলমানদের কোনো যোগসূত্র নেই, তবে হিজাজের আরবদের ওপর তার আবেগের প্রভাব কতটা শক্তিশালী হতে পারে যাদের সুন্দর ভাষায় এই আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে?
… তারা যখনই কুরআন শুনত, এক প্রচণ্ড ও আকস্মিক আবেগ তাদের আচ্ছন্ন করে ফেলত; তারা নিজ স্থানে এমনভাবে স্থির হয়ে যেত যেন তাদের সেখানে গেঁথে রাখা হয়েছে। এই অলৌকিক আয়াতসমূহ কি মুহাম্মাদ (সা.)-এর পক্ষ থেকে আসা সম্ভব, যিনি ছিলেন একজন নিরক্ষর (أمي) এবং যার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ছিল না? না, বরং মুহাম্মাদ (সা.)-এর পক্ষে এই কুরআন রচনা করা অসম্ভব। এটি স্বীকার না করে কোনো উপায় নেই যে, মহান আল্লাহ তায়ালাই এই সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ (الآيات البينات) পাঠিয়েছেন (অহি করেছেন)..." (৫)
"এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, আমরা সেই নিরক্ষর (أمي) নবীকে কবিদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে দেখি। এমনকি তারা যদি এর মতো দশটি সূরা (سور) নিয়ে আসতে পারে, তবে তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলার যে দাবি করে তা তিনি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন; কারণ তিনি নিশ্চিত জানতেন যে তারা তা করতে অক্ষম।" (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ديورانت (1)
".. ظل القرآن اربعة عشر قرناً من الزمان محفوظاً في ذاكرة المسلمين يستثير خيالهم، ويشكل اخلاقهم، ويشحذ قرائح مئات الملايين من الرجال. والقرآن يبعث في النفوس اسهل العقائد، واقلها غموضاً، وابعدها عن التقيد بالمراسم والطقوس، واكثرها تحرراً من الوثنية والكهنوتية. وقد كان له اكبر الفضل في رفع مستوى المسلمين الاخلاقي والثقافي، وهو الذي اقام فيهم قواعد النظام الاجتماعي والوحدة الاجتماعية، وحرضهم على اتباع القواعد الصحية، وحرر عقولهم من كثير من الخرافات والاوهام، ومن الظلم والقسوة، وحسّن احوال الارقاء، وبعث في نفوس الاذلاء الكرامة والعزة، واوجد بين المسلمين.. درجة من الاعتدال والبعد عن الشهوات لم يوجد لها نظير في اية بقعة من بقاع العالم يسكنها الرجل الابيض.." (2)
--------------------------------------------
ডিউরান্ট (১)
"..চৌদ্দ শতাব্দী কাল ধরে কুরআন মুসলিমদের স্মৃতিতে সংরক্ষিত (محفوظ) থেকে তাদের কল্পনাশক্তিকে উদ্দীপ্ত করছে, তাদের নৈতিকতা গঠন করছে এবং কোটি কোটি মানুষের মেধা ও মননকে শাণিত করছে। কুরআন মানুষের অন্তরে অত্যন্ত সহজ আকিদা (عقيدة) সঞ্চার করে, যা ছিল অস্পষ্টতামুক্ত, প্রথা ও আচার-অনুষ্ঠানের বেড়াজাল থেকে মুক্ত এবং মূর্তিপূজা ও যাজকতন্ত্র থেকে সর্বাপেক্ষা স্বাধীন। মুসলিমদের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক মান উন্নয়নে এর অবদান সর্বাধিক; এটিই তাদের মধ্যে সামাজিক শৃঙ্খলা ও সামাজিক সংহতির নিয়মাবলী সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে, তাদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং তাদের মন-মগজকে বহু কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা এবং জুলুম ও নিষ্ঠুরতা থেকে মুক্ত করেছে। এটি দাসদের অবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছে এবং লাঞ্ছিতদের অন্তরে মর্যাদা ও আত্মসম্মানবোধ জাগ্রত করেছে। এটি মুসলিমদের মধ্যে... এমন এক মাত্রার পরিমিতিবোধ ও ভোগবিলাস থেকে দূরত্বের সৃষ্টি করেছে, যার কোনো নজির শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত পৃথিবীর অন্য কোনো প্রান্তে পরিলক্ষিত হয় না.." (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
روزنثال (1)
"من الدوافع العملية لدراسة التاريخ توفر المادة التاريخية في القرآن مما دفع مفسريه إلى البحث عن معلومات تاريخية لتفسير ما جاء فيه. وقد اصبح الاهتمام بالمادة التاريخية، على مر المزمن، احد فروع المعرفة التي تمت بالارتباط بالقرآن. واذا كان الرسول صلى الله عليه وسلم قد سمع بعض الاخبار والمعلومات التاريخية، فان هذا لا يبرر الافتراض بانه قد قرأ المصادر التاريخية كالتوراة في ترجماتها العربية. لقد وردت في القرآن معلومات تاريخية تختلف عما يدعي اليهود وجوده في التوراة. وقد ذكر الرسول صلى الله عليه وسلم ان اليهود والنصارى حرفوا التوراة، وتمسك المسلمون بما جاء في القرآن.. لقد اشار القرآن إلى كثير من الاحداث التي احاطت بالرسول صلى الله عليه وسلم.. وكان لذلك اهمية في التاريخ الاسلامي لان الاحداث التي اشارت اليها الآيات صارت لها اهمية تاريخية كبرى للمسلمين، واستثارت البحوث التاريخية.." (2)
--------------------------------------------
রোজেনথাল (১)
"ইতিহাস পাঠের অন্যতম ব্যবহারিক প্রেরণা হলো কুরআনে বিদ্যমান ঐতিহাসিক উপাদানের সমাহার, যা এর ব্যাখ্যাকারকদের (مفسرون) কুরআনে বর্ণিত বিষয়াবলির ব্যাখ্যা প্রদানের উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক তথ্যানুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করেছে। কালক্রমে ঐতিহাসিক উপাদানের প্রতি এই বিশেষ অনুরাগ জ্ঞান-বিজ্ঞানের এমন এক শাখায় পরিণত হয়েছে যা কুরআনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যদি ইতিপূর্বে কিছু ঐতিহাসিক সংবাদ (أخبار) বা তথ্য শুনেও থাকেন, তবে তা থেকে এমন কোনো অনুমানের অবকাশ নেই যে, তিনি তাওরাতের ন্যায় ঐতিহাসিক উৎসগ্রন্থগুলোর আরবি অনুবাদ পাঠ করেছিলেন। কুরআনে এমন কিছু ঐতিহাসিক তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে যা তাওরাত সম্পর্কে ইহুদিদের দাবিকৃত তথ্যের চেয়ে ভিন্নতর। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যক্ত করেছেন যে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তাওরাতকে বিকৃত করেছে, তাই মুসলমানরা কুরআনের বর্ণনার ওপরই আস্থাশীল থেকেছে। কুরআন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবন সংশ্লিষ্ট অনেক ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করেছে। ইসলামি ইতিহাসে এর গুরুত্ব অপরিসীম, কেননা আয়াতসমূহে বর্ণিত ঘটনাবলি মুসলমানদের নিকট অত্যন্ত ঐতিহাসিক তাৎপর্য লাভ করেছে এবং তা ঐতিহাসিক গবেষণার পথ প্রশস্ত করেছে।" (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ريسلر (1)
"..لما كانت روعة القرآن في اسلوبه فقد انزل ليقرأ ويتلى بصوت عال. ولا تستطيع اية ترجمة ان تعبر عن فروقه الدقيقة المشبعة بالحساسية الشرقية. ويجب ان تقرأه في لغته التي كتب بها لتتمكن من تذوق جمله وقوته وسمو صياغته. ويخلق نثره الموسيقى والمسجوع سحراً مؤثراً في النفس حيث تزخر الافكار قوة وتتوهج الصور نضارة، فلا يستطيع احد ان ينكر ان سلطانه السحري وسموه الروحي يسهمان في إشعارنا بان محمداً صلى الله عليه وسلم كان ملهماً بجلال الله وعظمته" (2)
"كان في القرآن فوق انه كتاب ديني خلاصة جميع المعارف.. وظل زمناً طويلاً اول كتاب يتخذ للقراءة إلى الوقت الذي شكل فيه وحدة كتاب المعرفة والتربية. ولا يزال حتى اليوم النص الذي تقوم عليه اسس التعليم في الجامعات الاسلامية. ولا تستطيع الترجمات ان تنقل ثروته اللغوية (اذ يذبل جمال اللغة في الترجمات كأنها زهرة قطفت من جذورها) ولذلك يجب ان يقرأ القرآن في نصه الاصلي" (3)
" ان القرآن يجد الحلول لجميع القضايا، ويربط ما بين القانون الديني والقانون الاخلاقي، ويسعى إلى خلق النظام، والوحدة الاجتماعية، والى تخفيف البؤس والقسوة والخرافات. انه يسعى إلى الاخذ بيد المستضعفين، ويوصي بالبر، ويأمر بالرحمة.. وفي مادة التشريع وضع قواعد لادق التفاصيل للتعاون اليومي، ونظم العقود والمواريث، وفي ميدان الاسرة حدد سلوك كل فرد تجاه معاملة الاطفال والارقاء والحيوانات والصحة والملبس، الخ.." (4)
".. حقاً، لقد ظلت شريعة القرآن راسخة على انها المبدأ الاساسي لحياة المسلم ولم يتعرض ما جاء في القرآن من نظر واخلاق ونظام لأية تغييرات ولا لتبديلات بعيدة الغور" (5)
"يظل القرآن طيلة القرون الاولى للهجرة من جهة المبدأ مصدر الالهام لكل العقلية الاسلامية فهو يضم بين اطرافه الافكار والاحاسيس الضرورية والكافية لتزويد اعظم الداسات في الفكر" (6)
--------------------------------------------
রিসলার (১)
"..যেহেতু কুরআনের চমৎকারিত্ব এর শৈলীর মধ্যে নিহিত, তাই এটি উচ্চস্বরে পাঠ ও তিলাওয়াত করার জন্যই অবতীর্ণ হয়েছে। কোনো অনুবাদই এর প্রাচ্যীয় সংবেদনশীলতায় পরিপুষ্ট সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম নয়। এর বাক্যের শৈলী, শক্তি এবং রচনার উচ্চমার্গীয় গাম্ভীর্য আস্বাদন করার জন্য একে অবশ্যই সেই ভাষায় পড়তে হবে যে ভাষায় তা লিপিবদ্ধ হয়েছে। এর ছন্দময় এবং অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্য অন্তরে এক প্রভাবশালী জাদু তৈরি করে, যেখানে ধারণাগুলো শক্তিতে পরিপূর্ণ থাকে এবং চিত্রকল্পগুলো সজীবতায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ফলে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে, এর জাদুকরী প্রভাব এবং আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্ব আমাদের এই অনুভূতি প্রদানে সহায়ক ভূমিকা পালন করে যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর মহিমা ও মহানুভবতা দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন।" (২)
"কুরআন একটি ধর্মীয় কিতাব হওয়ার পাশাপাশি সকল জ্ঞানের নির্যাস ছিল... দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এটিই ছিল পাঠের জন্য ব্যবহৃত প্রথম কিতাব, যতক্ষণ না এটি জ্ঞান ও শিক্ষা বিষয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাবের রূপ লাভ করে। আজও এটি এমন এক মূল পাঠ (نص), যার ওপর ভিত্তি করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠিত। অনুবাদসমূহ এর ভাষাগত ঐশ্বর্যকে স্থানান্তরিত করতে পারে না (কেননা অনুবাদে ভাষার সৌন্দর্য এমনভাবে ম্লান হয়ে যায়, যেন তা শিকড় থেকে ছিঁড়ে ফেলা কোনো ফুল)। আর এ কারণেই কুরআনকে এর মূল পাঠে পড়তে হবে।" (৩)
"নিশ্চয়ই কুরআন সকল সমস্যার সমাধান খুঁজে দেয়, এবং ধর্মীয় আইন ও নৈতিক আইনের মাঝে যোগসূত্র স্থাপন করে। এটি শৃঙ্খলা ও সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং দুঃখ-দুর্দশা, নিষ্ঠুরতা ও কুসংস্কার দূর করতে সচেষ্ট হয়। এটি অসহায়দের সাহায্য করতে সচেষ্ট হয়, পুণ্য কর্মের উপদেশ দেয় এবং দয়ার নির্দেশ দেয়... আর বিধান প্রণয়নের (تشريع) ক্ষেত্রে এটি প্রাত্যহিক পারস্পরিক সহযোগিতার সূক্ষ্মতম বিষয়ের নীতিমালা নির্ধারণ করেছে এবং চুক্তি ও উত্তরাধিকার ব্যবস্থা সুসংগঠিত করেছে। পারিবারিক ক্ষেত্রে এটি শিশু, দাস, প্রাণী, স্বাস্থ্য ও পোশাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদির সাথে আচরণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তির আচরণবিধি সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে।" (৪)
"...প্রকৃতপক্ষে, কুরআনের বিধান (شريعة) মুসলিম জীবনের মৌলিক আদর্শ হিসেবে সুদৃঢ় রয়েছে। কুরআনে বর্ণিত দৃষ্টিভঙ্গি, নৈতিকতা ও ব্যবস্থা কোনো প্রকার পরিবর্তন কিংবা সুদূরপ্রসারী রদবদলের সম্মুখীন হয়নি।" (৫)
"হিজরি প্রথম কয়েক শতাব্দী জুড়ে কুরআন নীতিগতভাবে সমস্ত ইসলামী মননশীলতার অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিদ্যমান ছিল। কেননা এটি এমন সব প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত চিন্তা ও অনুভূতিকে ধারণ করে যা চিন্তাজগতের শ্রেষ্ঠ গবেষণাসমূহ পরিচালনার জন্য রসদ জোগায়।" (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২০)
سارتون (1)
"ان لغة القرآن على اعتبار انها اللغة التي اختارها الله جل وعلا للوحي كانت، بهذا التحديد، كاملة
… وهكذا يساعد القرآن على رفع اللغة العربية إلى مقام المثل الاعلى فى التعبير عن المقاصد،.. وجعل منها وسيلة دولية للتعبير عن اسمى مقتضيات الحياة" (2)
--------------------------------------------
সার্থন (১)
"নিশ্চয়ই কুরআনের ভাষা এই বিবেচনায় যে, এটি সেই ভাষা যা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা ওহি (وحي)-এর জন্য মনোনীত করেছেন, তা এই সংজ্ঞায় ছিল পূর্ণাঙ্গ
… এবং এভাবেই কুরআন আরবি ভাষাকে লক্ষ্যসমূহ প্রকাশের ক্ষেত্রে আদর্শ মানের স্তরে উন্নীত করতে সহায়তা করে, এবং একে জীবনের সর্বোচ্চ প্রয়োজনসমূহ প্রকাশের একটি আন্তর্জাতিক মাধ্যমে পরিণত করেছে।" (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২১)
ستشيجفسكا (1)
"ان القرآن الكريم مع انه انزل على رجل عربى امي نشأ في امة امية، فقد جاء بقوانين لا يمكن ان يتعلمها الإنسان الاّ في ارقى الجامعات، كما نجد في القرآن حقائق علمية لم يعرفها العالم الا بعد قرون طويلة" (2)
--------------------------------------------
স্তশিয়েজস্কা(১)
"নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআন যদিও একজন নিরক্ষর আরব ব্যক্তির ওপর অবতীর্ণ হয়েছে যিনি একটি নিরক্ষর জাতির মাঝে বেড়ে উঠেছেন, তবুও এটি এমন সব আইন ও বিধান নিয়ে এসেছে যা মানুষ কেবল উন্নতমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই শিখতে পারে। একইভাবে আমরা কুরআনে এমন সব বৈজ্ঞানিক সত্য খুঁজে পাই যা দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী অতিবাহিত হওয়ার আগে বিশ্ব জানতে পারেনি।" (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২২)
ستيفنز (1)
"في تلك الفترة من حياتي بدا لي وكأنني فعلت كل شئ وحققت لنفسي النجاح والشهرة والمال والنساء.. كل شئ، ولكن كنت مثل القرد اقفز من شجرة إلى اخرى ولم اكن قانعاً ابداً. ولكن كانت قراءة القرآن بمثابة توكيد لكل شئ بداخلي كنت اراه حقاً، وكان الوضع مثل مواجهة شخصيتي الحقيقية" (2) القرآن الكريم يقرر الكثير عن الزواج، وعن العلاقة بين الرجل والمرأة، وعن اي موضوع آخر تقريباً" (3)
--------------------------------------------
স্টিভেন্স (১)
"আমার জীবনের সেই সময়ে আমার কাছে মনে হতো যেন আমি সবকিছুই করেছি এবং নিজের জন্য সাফল্য, খ্যাতি, অর্থ ও নারী—সবকিছুই অর্জন করেছি... সবকিছুই, কিন্তু আমি ছিলাম অনেকটা বানরের মতো যে এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফিয়ে বেড়ায় এবং কখনোই সন্তুষ্ট ছিলাম না। তবে কুরআন পাঠ ছিল আমার ভেতরে বিদ্যমান সেই সকল সত্যের প্রতি এক সুদৃঢ় সত্যায়ন যা আমি প্রত্যক্ষ করতাম এবং বিষয়টি ছিল যেন আমার প্রকৃত সত্তার মুখোমুখি হওয়া।" (২) "পবিত্র কুরআন বিবাহ, নারী ও পুরুষের সম্পর্ক এবং প্রায় অন্য সকল বিষয় সম্পর্কে বিশদ সিদ্ধান্ত প্রদান করে।" (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
سلهب (1)
"إن الآية التي استطيب ذكرها هي التي تنبع سماحاً إذ تقول: "وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ وَقُولُوا آمَنَّا بِالَّذِي أُنزِلَ إِلَيْنَا وَأُنزِلَ إِلَيْكُمْ وَإِلَهُنَا وَإِلَهُكُمْ وَاحِدٌ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ" (العنكبوت/46) ذلك ما يقوله المسلمون للمسيحيين وما يؤمنون به لانه كلام الله اليهم. انها لعبارات يجدر بنا جميعاً، مسيحيين ومسلمين، ان نرددها كل يوم، فهي حجارة الاساس في بناءٍ نريده ان يتعالى حتى السماء، لانه البناء الذي فيه نلتقي والذي فيه نلقى الله: فحيث تكون المحبة يكون الله، والواقع ان القرآن يذكر صراحة ان الكتب المنزلة واحدة، وان اصلها عند الله، وهذا الاصل يدعى حينا (ام الكتاب) وحينا آخر (اللوح المحفوظ) او (الامام المبين) .." (2)
".. ان محمداً صلى الله عليه وسلم كان امياً لا يقرأ ولا يكتب. فاذا بهذا الامي يهدي الانسانية ابلغ اثر مكتوب حلمت به الانسانية منذ كانت الانسانية ذاك كان القرآن الكريم، الكتاب الذي انزله الله على رسوله هدى للمتقين.." (3)
".. الاسلام ليس بحاجة إلى قلمنا، مهما بلغ قلمنا من البلاغة. ولكن قلمنا بحاجة إلى الاسلام، إلى ما ينطوي عليه من ثروة روحية واخلاقية، إلى قرانه الرائع الذي بوسعنا ان نتعلم منه الكثير" (4)
"لم يقدر لاي سفر، قبل الطباعة، ايا كان نوعه واهميته، ان يحظى بما حظى به القرآن من عناية واهتمام، وان يتوفّر له ما توفّر للقرآن من وسائل حفظته من الضياع والتحريف، وصانته عما يمكن ان يشوب الاسفار عادة من شوائب" (5) "تلك اللغة التي ارادها الله قمة اللغات، كان القرآن قمتها، فهو قمة القمم، ذلك بانه كلام الله.." (6)
--------------------------------------------
সালহাব (১)
"যে আয়াতটির উল্লেখ করা আমি অত্যন্ত পছন্দ করি, তা হলো সেই আয়াত যা থেকে সহনশীলতা উৎসারিত হয়; যেখানে বলা হয়েছে: 'আর তোমরা উত্তম পদ্ধতি ব্যতীত আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করো না, তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করেছে তাদের কথা ভিন্ন। আর তোমরা বলো, আমরা ঈমান এনেছি যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর; আর আমাদের ইলাহ ও তোমাদের ইলাহ তো এক, আর আমরা তাঁরই প্রতি আত্মসমর্পণকারী।' (আনকাবুত/৪৬)। এটিই সেই কথা যা মুসলমানরা খ্রিস্টানদের উদ্দেশ্যে বলে এবং যাতে তারা বিশ্বাস করে, কারণ এটি তাদের প্রতি আল্লাহর বাণী। এটি এমন এক বাণী যা আমাদের সবার—খ্রিস্টান ও মুসলিম—প্রতিদিন উচ্চারণ করা উচিত; কারণ এগুলো সেই ইমারত নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর যা আমরা আকাশচুম্বী করতে চাই। কেননা এটিই সেই ইমারত যেখানে আমরা মিলিত হই এবং আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করি: কারণ যেখানে ভালোবাসা থাকে, সেখানে আল্লাহ থাকেন। প্রকৃতপক্ষে, কুরআন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, অবতীর্ণ কিতাবসমূহ এক এবং এগুলোর উৎস আল্লাহর কাছে। এই উৎসকে কখনও 'উম্মুল কিতাব', আবার কখনও 'লাওহে মাহফুজ' বা 'ইমামুম মুবিন' বলা হয়..." (২)
"...নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মি ছিলেন, যিনি পড়তে বা লিখতে জানতেন না। এমতাবস্থায় এই উম্মি ব্যক্তিই মানবতাকে এমন এক শ্রেষ্ঠ লিখিত নিদর্শন উপহার দিয়েছেন, যা মানবতা তার সৃষ্টিলগ্ন থেকে স্বপ্ন দেখে আসছিল। সেটি ছিল পবিত্র কুরআন, যে কিতাব আল্লাহ তাঁর রাসুলের ওপর মুত্তাকিদের হিদায়েত হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন..." (৩)
"...ইসলাম আমাদের কলমের মুখাপেক্ষী নয়, আমাদের কলম যতই সাবলীল হোক না কেন। বরং আমাদের কলমই ইসলামের মুখাপেক্ষী, এর ভেতর নিহিত আধ্যাত্মিক ও নৈতিক সম্পদের প্রতি, এবং এর বিস্ময়কর কুরআনের প্রতি, যা থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি" (৪)
"মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের পূর্বে কোনো গ্রন্থের পক্ষেই সম্ভব হয়নি—সেটি যে প্রকারেরই হোক বা যত গুরুত্বেরই হোক না কেন—কুরআন যে যত্ন ও গুরুত্ব পেয়েছে তা লাভ করা। কুরআনের জন্য হেফজ বা সংরক্ষণের যে উপায়সমূহ সহজলভ্য হয়েছিল, তা অন্য কোনো গ্রন্থের ক্ষেত্রে হয়নি, যা একে হারিয়ে যাওয়া ও বিকৃতি (تحريف) থেকে রক্ষা করেছে এবং সাধারণত ধর্মগ্রন্থসমূহে যে ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি মিশে যেতে পারে, তা থেকে একে সুরক্ষিত রেখেছে" (৫) "এটি সেই ভাষা যাকে আল্লাহ ভাষাগুলোর শীর্ষে স্থান দিতে চেয়েছেন, আর কুরআন ছিল সেই ভাষার শিখর। এটি সকল শিখরের শীর্ষবিন্দু, কারণ এটি আল্লাহর কালাম..." (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
سوسه (1)
"يرجع ميلي إلى الاسلام.. حينما شرعت في مطالعة القرآن الكريم للمرة الاولى.. فولعت به ولعاً شديداً.. وكنت اطرب لتلاوة اياته.." (2)
".. الواقع ان تحوير وتبديل مصاحف اليهود امر اجمع عليه العلماء في عصرنا الحالي نتيجة الدرس والتنقيب وقد جاء ذلك تأييداً علمياً للاقوال الربانية التي اوحيت قبل نيف وثلاثة عشر قرنا على لسان النبي العربي الكريم صلى الله عليه وسلم. اما الفرقان المجيد.. فقد حافظ المسلمون عليه بحرص شديد وامانة صادقة فهو حقاً الكتاب المقدس الفريد الذي اجمع الكل على سلامته وطهارته من التلاعب والتحوير، وما على القارئ الا ان يطالع ما كتبه المستشرقون في هذا الباب.. الذين وصفوا كيفية جمعه وتدوينه، وهؤلاء اجانب غرباء كثيراً ما يصوّبون اسهمهم الناقدة السامة نحو الاسلام. والواقع ان الدلائل التاريخية واضحة بأجلى وضوح مما لا يترك اي شك في ان الفرقان الكريم لم يطرأ عليه اي تحريف او تحوير وقد جاء كلام الله بكامله على لسان نبيه صلى الله عليه وسلم دون ان يتغير فيه حرف واحد" (3)
"ورد في القرآن انه جاء مهيمناً على ما بين يديه من الكتاب، ويستدل من ذلك ان التعاليم الالهية المقدسة الاصلية قد ضمن القرآن المحافظة عليها بما اوضحه من الحقيقة باظهار الصحيح والدخيل في الكتب الرائجة في زمان نزوله، وعليه فيكون بهذا البيان والايضاح قد جاء خير مهيمن على كتب الله الحقيقية وخير حافظ اياها من التلاعب" (4)
"الواقع انه يتعذر على المرء الذي لم يتقن اللغة العربية ولم يضطلع بأدابها ان يدرك مكانة هذا الفرقان الالهي وسموه وما يتضمنه من المعجزات المبهرة، ولماكان القرآن الكريم قد تناول كل انواع التفكير والتشريع فقد يكون من العسير على انسان واحد ان يحكم في هذه المواضيع كلها، وهل من مناص للمرء من الانجذاب إلى معجزة القرآن بعد تمعنه في اميّة نبي الاسلام ووقوفه على اسرار حياة الرسول صلى الله عليه وسلم.. فقد جعل الله تعالى معجزة القرآن وامية محمد صلى الله عليه وسلم برهاناً على صدق النبوة وصحة انتساب القرآن له.." (5)
"ان معجزة القرآن الكريم هي اكثر بروزاً في عصرنا الحالي، عصر النور والعلم، مما كانت عليه في الازمنة التي سادها الجهل والخمول.." (6)
--------------------------------------------
সুসা (১)
"ইসলামের প্রতি আমার অনুরাগের সূত্রপাত ঘটে... যখন আমি প্রথমবারের মতো পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন শুরু করি... তখন আমি এর প্রতি অত্যন্ত প্রবলভাবে আসক্ত হয়ে পড়ি... এবং এর আয়াতসমূহের তিলাওয়াত আমাকে বিমোহিত করত..." (২)
"...প্রকৃতপক্ষে ইহুদিদের কিতাবসমূহের পরিবর্তন ও পরিমার্জনের বিষয়টি বর্তমান যুগের গবেষকগণ দীর্ঘ অধ্যয়ন ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সর্বসম্মতভাবে স্বীকার করেছেন। এটি তেরোশ বছরেরও বেশি সময় আগে সম্মানিত আরব নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জবানি দিয়ে অবতীর্ণ হওয়া খোদায়ী বাণীর প্রতি এক বৈজ্ঞানিক সমর্থন। পক্ষান্তরে ফুরকানে মাজিদকে... মুসলিমগণ অত্যন্ত সতর্কতা ও বিশ্বস্ততার সাথে সংরক্ষণ করেছেন। এটিই সত্যিকারে সেই অনন্য পবিত্র কিতাব যার বিশুদ্ধতা এবং বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে মুক্ত থাকার বিষয়ে সবাই একমত। পাঠকের উচিত কেবল এই বিষয়ে প্রাচ্যবিদদের লেখাগুলো পাঠ করা... যারা এর সংকলন ও লিপিবদ্ধকরণের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা হলেন এমন বহিরাগত যারা প্রায়শই ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের বিষাক্ত সমালোচনার তির নিক্ষেপ করে থাকেন। বাস্তব সত্য এই যে, ঐতিহাসিক প্রমাণাদি অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং তা এমন কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না যে ফুরকানে করিমে কোনো রূপ বিকৃতি (تحريف) বা পরিবর্তন ঘটেনি। আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালাম তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জবানিতে হুবহু পৌঁছেছে, যেখানে একটি অক্ষরও পরিবর্তিত হয়নি।" (৩)
"কুরআনে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের রক্ষক (مهيمناً) হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, মূল পবিত্র ঐশী শিক্ষাগুলো কুরআন তার সত্যতা প্রকাশের মাধ্যমে সংরক্ষণের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে; যেখানে এটি তার অবতরণকালীন প্রচলিত কিতাবসমূহের মধ্যে কোনটি সহিহ (صحيح) এবং কোনটি প্রক্ষিপ্ত (دخيل) তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। সুতরাং এই বর্ণনা ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে এটি আল্লাহর প্রকৃত কিতাবসমূহের জন্য সর্বোত্তম রক্ষক এবং সেগুলোকে বিকৃতি থেকে হেফাযতকারী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।" (৪)
"প্রকৃতপক্ষে যে ব্যক্তি আরবি ভাষায় পারদর্শী নয় এবং এর সাহিত্যে ব্যুৎপত্তি লাভ করেনি, তার পক্ষে এই ঐশী ফুরকানের মর্যাদা, উচ্চতা এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিস্ময়কর মুজিযাসমূহ (معجزات) অনুধাবন করা অসম্ভব। যেহেতু পবিত্র কুরআন সকল প্রকার চিন্তাধারা ও আইনের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছে, তাই একজন মানুষের পক্ষে এই সমস্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করা কঠিন হতে পারে। কিন্তু ইসলামের নবীর নিরক্ষরতা (أميّة) এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনের রহস্যসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের পর কুরআনের মুজিযার প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে কি কারো উপায় আছে? আল্লাহ তাআলা কুরআনের মুজিযা এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিরক্ষরতাকে (أميّة) নবুওয়াতের সত্যতা এবং কুরআনের ঐশী উৎস হওয়ার প্রমাণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন..." (৫)
"পবিত্র কুরআনের মুজিযা বর্তমান এই আলোকোজ্জ্বল ও বিজ্ঞানের যুগে পূর্বের মূর্খতা ও স্থবিরতার যুগের তুলনায় অনেক বেশি প্রোজ্জ্বল..." (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
سيديو (1)
"لا تجد في القرآن آية إلا توحي بمحبة شديدة لله.. وفيه حث كبير على الفضيلة خلا تلك القواعد الخاصة بالسلوك الخلقي.. وفيه دعوة كبيرة إلى تبادل العواطف وحسن المقاصد والصفح عن الشتائم، وفيه مقت للعجب والغضب، وفيه إشارة إلى ان الذنب قد يكون بالفكر والنظر، وفيه حض على الايفاء بالعهود حتى مع الكافرين، وتحريض على خفض الجناح والتواضع، وعلى استغفار الناس لمن يسيئون إليهم، لا لعنهم ويكفى جميع تلك الاقوال الجامعة المملوءة حكمة ورشداً لاثبات صفاء قواعد الاخلاق في القرآن.. إنه أبصر كلّ شئ.." (2)
".. صلح القرآن ليكون نموذجاً للاسلوب وقواعد النحو.. فاوجب ذلك نشوء علم اللغة، فظهور علم البيان الذي درس فيه تركيب الكلام ومقتضى الحال والبديع واوجه البلاغة، واضحى لصناعة قراءة القرآن وتفسيره اكثر من مئة فرع، فادى هذا إلى مالا حصر له من التأليف في كل منها، واغتنت اللغة العربية بتعابير جديدة كثيرة بعيدة من الفساد بمخالطة اللغات الاخرى.." (3)
"مما يجدر ذكره ان يكون القرآن، بين مختلف اللغات التي يتكلم بها مختلف الشعوب الاسلامية في آسيا حتى الهند، وفي افريقية حتى السودان، كتاباً يفهمه الجميع، وان يربط القرآن هذه الشعوب المتباينة الطبائع برابط اللغة والمشاعر.." (4)
--------------------------------------------
সিডিও(১)
"কুরআনে আপনি এমন কোনো আয়াত পাবেন না যা আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসার ইঙ্গিত দেয় না... এতে নৈতিক আচরণের সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী ছাড়াও সচ্চরিত্রের প্রতি ব্যাপক উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এতে আবেগ বিনিময়, সদিচ্ছা এবং গালিগালাজ ক্ষমা করার ব্যাপক আহ্বান রয়েছে। এতে আত্মঅহংকার ও ক্রোধের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, চিন্তা ও দৃষ্টির মাধ্যমেও পাপ হতে পারে। এতে এমনকি কাফিরদের সাথেও অঙ্গীকার পূর্ণ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে এবং বিনয় ও নম্রতা অবলম্বনের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। যারা তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে তাদের প্রতি অভিশাপ না দিয়ে বরং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। কুরআনের নৈতিক আদর্শের বিশুদ্ধতা প্রমাণের জন্য প্রজ্ঞা ও সঠিক দিকনির্দেশনায় ভরপুর এই সকল সারগর্ভ বাণীই যথেষ্ট... নিশ্চয়ই এটি সবকিছু প্রত্যক্ষ করে..." (২)
"..শৈলী ও ব্যাকরণের নিয়মের জন্য কুরআন একটি আদর্শ হওয়ার যোগ্য... যা ভাষাবিজ্ঞানের (علم اللغة) জন্মকে অপরিহার্য করে তুলেছিল। ফলে ইলমে বয়ানের (علم البيان) উদ্ভব ঘটে যাতে বাক্যের গঠন (تركيب الكلام), পরিস্থিতির দাবি (مقتضى الحال), ইলমে বদি (البديع) এবং বাগ্মিতার (البلاغة) বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। কুরআন তিলাওয়াত ও এর তাফসির (تفسير) শাস্ত্রে একশরও বেশি শাখা তৈরি হয়েছে, যা এগুলোর প্রতিটিতে অগণিত রচনার দিকে নিয়ে গেছে। এর মাধ্যমে আরবি ভাষা অনেক নতুন অভিব্যক্তিতে সমৃদ্ধ হয়েছে, যা অন্য ভাষার সংমিশ্রণে বিকৃতি থেকে মুক্ত..." (৩)
"একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এশিয়া থেকে ভারত এবং আফ্রিকা থেকে সুদান পর্যন্ত বিভিন্ন মুসলিম জাতি যে সকল ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলে, তাদের সবার মাঝে কুরআন এমন একটি কিতাব যা সবাই বুঝতে পারে। কুরআন এই ভিন্ন প্রকৃতির জাতিগুলোকে ভাষা ও আবেগের বন্ধনে আবদ্ধ করে..." (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
سيرويا (1)
".. القرآن وحي من الله، لا يدانيه اسلوب البشر، وهو في الوقت عينه، ثورة عقيدية، هذه الثورة العقيدية لا تعترف - لا بالبابا ولا اى مجمع لعلماء الكهنوت والقساوسة، حيث لم يشعر الاسلام يوما بالخشية والهلع من قيام مبدأ التحكيم العقلي الفلسفي. فاذا قارنا الاسلام باليهودية والمسيحية نجد بعض الخطوط المميزة والتي لا تبدو مطابقة تماماً خاصة مع المسيحية.. فالنظام المسيحي اليهودي يخالف الاسلام حيث لا يوجد فراغ بين الخالق والخلق البشري، هذا الفراغ لدى اليهود والمسيحيين ملئ بالواسطة.. ولا شئ من هذا يتفق مع الاسلام. فمحمد صلى الله عليه وسلم مع كونه مبعوثاً ورسولاً من لدن الله لم يتظاهر بانكار دعوات كل من موسى وعيسى، كل مجهوده انحصر في تنقيتهما على ما جاء في القرآن، الذي وضع في العام الاول مهاجمة مبدأ الثلاثية منبهاً إلى ان عيسى ليس سوى رجل ابن مريم وليس بابن الله والقول بان الله له ولد، هذا شرك كبير تنشق له السماء وتنفتح له الارض وتنسحق له الجبال. اما روح القدس فما هو الا بمثابة ملاك مثل جبريل دوره هو ان ينقل إلى عيسى ومحمد صلى الله عليه وسلم الدعوة المقدسة، اما مريم فهى مريم العذراء وليست بام الله.." (2)
--------------------------------------------
সেরুয়া (১)
".. কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি (وحي), যার শৈলীর সমকক্ষ মানুষের কোনো রচনা হতে পারে না। একই সাথে এটি একটি আকিদাগত (عقيدية) বিপ্লব। এই আকিদাগত (عقيدية) বিপ্লব পোপ কিংবা যাজক ও পাদ্রিদের কোনো ধর্মীয় পরিষদকে স্বীকার করে না; কারণ ইসলাম কখনো বুদ্ধিভিত্তিক ও দার্শনিক বিচারের নীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভয় বা আতঙ্ক অনুভব করেনি। আমরা যদি ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের সাথে ইসলামের তুলনা করি, তবে কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাই যা বিশেষ করে খ্রিস্টধর্মের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। খ্রিস্টীয়-ইহুদি ব্যবস্থা ইসলামের পরিপন্থী, কারণ সেখানে স্রষ্টা এবং মানব সৃষ্টির মাঝে কোনো শূন্যস্থান নেই; পক্ষান্তরে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের নিকট এই শূন্যস্থান মধ্যস্থতাকারীদের দ্বারা পূর্ণ। এর কোনো কিছুই ইসলামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত নবি ও রাসুল হওয়া সত্ত্বেও মুসা ও ঈসা (আলাইহিমুস সালাম)-এর দাওয়াতকে অস্বীকার করেননি; বরং তাঁর সমস্ত প্রচেষ্টা ছিল কুরআনে বর্ণিত তত্ত্বে সেই দাওয়াতগুলোকে বিশুদ্ধ করার মাঝে সীমাবদ্ধ। কুরআন প্রথম বছরেই ত্রিত্ববাদের মূলনীতির ওপর আঘাত হেনে সতর্ক করেছে যে, ঈসা কেবলই মারইয়ামের পুত্র, আল্লাহর পুত্র নন। আর আল্লাহর সন্তান আছে—এই দাবি করা একটি কবীরা শিরক (شرك كبير), যার ফলে আকাশ বিদীর্ণ হতে পারে, পৃথিবী খণ্ডবিখণ্ড হতে পারে এবং পাহাড় ধসে পড়তে পারে। আর রুহুল কুদুস হলেন জিবরাঈলের মতো একজন ফেরেশতা মাত্র, যাঁর কাজ ছিল ঈসা ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পবিত্র বাণী পৌঁছে দেওয়া। আর মারইয়াম হলেন কুমারী মারইয়াম, তিনি আল্লাহর জননী নন.." (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
شاد (1)
".. عندما آمنت بالتوحيد بدأت ابحث عن الحجج والبراهين التي تثبت ان القرآن هو كتاب الله تعالى وانه آخر الكتب السماوية وخاتمها، وإنني احمد الله إذ مكنني من حل هذه المسألة. فالقرآن الكريم هو الكتاب الوحيد الذي يعترف بكافة الكتب السماوية الاخرى، بينما نجد انها جميعاً يرفض بعضها بعضاً.. وهذه في الحقيقة هي إحدى خصائص ومميزات القرآن الكريم، آخر الكتب السماوية وخاتمها" (2)
".. ان القرآن الكريم هو الكتاب السماوي الوحيد الذي يحفظه عن ظهر قلب الوف مؤلفة من البشر في مختلف بقاع الارض، بينما نجد ان الكتب المقدسة الاخرى محفوظة بالخط المطبوع فقط. ومن هنا لو حدث لسبب او لآخر ان اختفت الكتب المطبوعة يظل القرآن هو كتاب الله الوحيد المحفوظ في الصدور. وهكذا يحق له ان يتباهى بانه ظل في مأمن من التحريف لم ينقص منه حرف واحد ولم يزد فيه حرف واحد منذ ان نزل به الوحي على رسول الله صلى الله عليه وسلم. فليست هناك اية تناقضات ولا اخطاء من اي نوع في القرآن الكريم، هذا في الوقت الذي تعاني فيه الكتب السماوية الاخرى في نسختها الحالية من الكثير من التغيير والتبديل. وهذا سبب آخر جعلني اؤمن بالاسلام" (3)
--------------------------------------------
শাদ (১)
"..যখন আমি একত্ববাদে (توحيد) বিশ্বাস স্থাপন করলাম, তখন আমি সেই সকল যুক্তি ও প্রমাণাদি অনুসন্ধান করতে শুরু করলাম যা প্রমাণ করে যে, কুরআন মহান আল্লাহর কিতাব এবং এটি আসমানি কিতাবসমূহের সর্বশেষ ও সমাপ্তকারী (خاتم)। আমি আল্লাহর প্রশংসা করি যে, তিনি আমাকে এই বিষয়টি সমাধানে সক্ষম করেছেন। কেননা পবিত্র কুরআনই একমাত্র কিতাব যা অন্য সকল আসমানি কিতাবকে স্বীকৃতি দেয়, যেখানে আমরা দেখি যে সেগুলোর সবকটি একে অপরকে প্রত্যাখ্যান করে। মূলত এটিই পবিত্র কুরআনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা যে, এটি আসমানি কিতাবসমূহের সর্বশেষ ও সমাপ্তকারী (خاتم)।" (২)
"..নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআন হলো একমাত্র আসমানি কিতাব যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার মানুষ মুখস্থ (حفظ) করে রেখেছে, অথচ আমরা দেখি যে অন্যান্য পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো কেবল মুদ্রিত অক্ষরেই সংরক্ষিত। এ কারণে যদি কোনো পরিস্থিতিতে মুদ্রিত গ্রন্থসমূহ বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবুও কুরআনই আল্লাহর একমাত্র কিতাব হিসেবে মানুষের অন্তরে সংরক্ষিত (محفوظ) থাকবে। এভাবে কুরআন এই গৌরবের অধিকারী যে, এটি বিকৃতি (تحريف) থেকে নিরাপদ রয়েছে; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ওহি (وحي) নাজিল হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত এতে একটি অক্ষরও কমেনি বা বাড়েনি। পবিত্র কুরআনে কোনো প্রকার বৈপরীত্য বা ভুল নেই, অথচ বর্তমান সময়ের অন্যান্য আসমানি কিতাবগুলোর বিদ্যমান সংস্করণগুলো অনেক পরিবর্তন ও পরিমার্জনের শিকার। এটিই আমার ইসলাম গ্রহণের আরেকটি কারণ।" (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فاغليري (1)
"ان معجزة الاسلام العظمى هي القرآن الذي تنقل الينا الرواية الراسخة غير المنقطعة، من خلاله، انباء تتصف بيقين مطلق. انه كتاب لا سبيل إلى محاكاته. ان كلاً من تعبيراته شامل جامع، ومع ذلك فهو ذو حجم مناسب، ليس بالطويل اكثر مما ينبغي، وليس بالقصير اكثر مما ينبغي. اما اسلوبه فاصيل فريد. وليس ثمة ايما نمط لهذا الاسلوب في الادب العربي تحدر الينا من العصور التي سبقته. والاثر الذي يحدثه في النفس البشرية انما يتم من غير ايما عون عرضى او اضافى من خلال سموه السليقيّ. ان آياته كلها على مستوى واحد من البلاغة، حتى عندما تعالج موضوعات لابدّ ان تؤثر في نفسها وجرسها كموضوع الوصايا والنواهي وما اليها. انه يكرر قصص الانبياء عليهم السلام واوصاف بدء العالم ونهايته، وصفات الله وتفسيرها، ولكن يكررها على نحو مثير إلى درجة لا تضعف من اثرها. وهو ينتقل من موضوع إلى موضوع من غير ان يفقد قوته. اننا نقع هنا على العمق والعذوبة معا - وهما صفتان لا تجتمعان عادة - حيث تجد كل صورة بلاغية تطبيقاً كاملاً فكيف يمكن ان يكون هذا الكتاب المعجز من عمل محمد صلى الله عليه وسلم، وهو العربي الاميّ الذي لم ينظم طوال حياته غير بيتين او ثلاثة ابيات لا ينمّ اي منها عن ادنى موهبة شعرية؟ " (2)
"لا يزال لدينا برهان آخر على مصدر القرآن الالهي في هذه الحقيقة: وهي ان نصّه ظل صافياً غير محرف طوال القرون التي تراخت ما بين تنزيله ويوم الناس هذا، وان نصه سوف يظل على حاله تلك من الصفاء وعدم التحريف، باذن الله، مادام الكون" (3)
"ان هذا الكتاب، الذي يتلى كل يوم في طول العالم الاسلامي وعرضه، لا يوقع في نفس المؤمن ايما حسّ بالملل. على العكس، انه من طريق التلاوة المكرورة يحبب نفسه إلى المؤمنين اكثر فاكثر يوما بعد يوم. انه يوقع في نفس من يتلوه او يصغى اليه حسّاً عميقاً من المهابة والخشية. ان في امكان المرء ان يستظهره في غير عسر، حتى اننا لنجد اليوم، على الرغم من انحسار موجة الايمان، آلافاً من الناس القادرين على ترديده عن ظهر قلب وفي مصر وحدها عدد من الحفاظ اكثر من عدد القادرين على تلاوة الاناجيل في اوروبا كلها" (4)
"ان انتشار الاسلام السريع لم يتم لا عن طريق القوة ولا بجهود المبشرين الموصولة. ان الذي ادى إلى ذلك الانتشار كون الكتاب الذي قدمه المسلمون للشعوب المغلوبة مع تخييرها بين قبوله ورفضه، كتاب الله، كلمة الحق، اعظم معجزة كان في ميسور محمد صلى الله عليه وسلم ان يقدمها إلى المترددين في هذه الارض" (5)
"فيما يتصل بخلق الكون فان القرآن على الرغم من اشارته إلى الحالة الاصلية والى اصل العالم.. لا يقيم ايما حدّ مهما يكن في وجه قوى العقل البشري، ولكنه يتركها طليقة تتخذ السبيل الذي تريد.." (6)
--------------------------------------------
ভাগলিয়েরি (১)
"ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা হলো কুরআন, যার সংবাদসমূহ আমাদের কাছে সুদৃঢ় এবং নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার (الرواية الراسخة غير المنقطعة) মাধ্যমে পৌঁছেছে এবং যা এক পরম নিশ্চিত বিশ্বাসের বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এটি এমন এক কিতাব যার অনুকরণ অসম্ভব। এর প্রতিটি অভিব্যক্তি ব্যাপক ও অর্থবহ, এবং এর আয়তনও যথাযথ; এটি খুব দীর্ঘ নয় আবার খুব সংক্ষিপ্তও নয়। এর শৈলী মৌলিক ও অনন্য। এই শৈলীর কোনো নমুনা এর পূর্ববর্তী যুগের আরবি সাহিত্যে পাওয়া যায় না। মানবাত্মায় এটি যে প্রভাব সৃষ্টি করে, তা এর স্বভাবজাত শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমেই সম্ভব হয়, কোনো আনুষঙ্গিক বা বাহ্যিক সাহায্য ছাড়াই। এর প্রতিটি আয়াতই অলঙ্কারশাস্ত্রের একই স্তরে বিন্যস্ত, এমনকি এমন সব বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রেও যেখানে সাধারণত ভাষা ও সুরের পরিবর্তন ঘটে থাকে, যেমন আদেশ ও নিষেধের বিষয়াবলী। এটি নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) কাহিনী, মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও ধ্বংসের বর্ণনা এবং আল্লাহর গুণাবলী ও তার ব্যাখ্যা বারবার উল্লেখ করে; তবে এটি এমন রোমাঞ্চকর উপায়ে বারবার উল্লেখ করে যা এর প্রভাবকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করে না। এটি তার শক্তি না হারিয়েই এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে প্রবেশ করে। আমরা এখানে গভীরতা ও মাধুর্য—যা সাধারণত একত্রে পাওয়া যায় না—উভয় গুণেরই সমাবেশ দেখতে পাই, যেখানে প্রতিটি অলঙ্কারিক চিত্র পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করেছে। তাহলে কীভাবে এই অলৌকিক কিতাব মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাজ হতে পারে, যিনি ছিলেন একজন নিরক্ষর (أمي) আরব এবং সারা জীবনে দুই-তিনটি চরণের বেশি কবিতা রচনা করেননি যার কোনোটিতেই সামান্যতম কাব্যিক প্রতিভার স্বাক্ষর ছিল না?" (২)
"কুরআনের ঐশী উৎস সম্পর্কে আমাদের কাছে আরও একটি প্রমাণ রয়েছে: আর তা হলো এই বাস্তবতা যে, এর পাঠ (نصّ) নাযিল হওয়ার সময় থেকে আজ অবধি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অবিকৃত ও অপরিবর্তিত (غير محرف) রয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছায় মহাবিশ্বের অস্তিত্ব থাকা পর্যন্ত এর পাঠ একইভাবে স্বচ্ছ এবং অবিকৃতি (عدم التحريف) থেকে মুক্ত থাকবে।" (৩)
"এই কিতাব, যা প্রতিদিন মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র তিলাওয়াত করা হয়, মুমিনের হৃদয়ে কোনো বিরক্তির উদ্রেক করে না। বরং বারবার তিলাওয়াতের মাধ্যমে এটি দিনের পর দিন মুমিনদের কাছে অধিকতর প্রিয় হয়ে ওঠে। এটি পাঠক বা শ্রোতার মনে এক গভীর গাম্ভীর্য ও ভীতি সঞ্চার করে। একজন ব্যক্তি খুব সহজেই এটি মুখস্থ করতে পারে। এমনকি বর্তমান সময়ে ঈমানের জোয়ার কমে যাওয়া সত্ত্বেও আমরা হাজার হাজার মানুষকে এটি মুখস্থ বলতে সক্ষম দেখতে পাই। শুধু মিশরেই হাফেজদের (حفاظ) সংখ্যা সমগ্র ইউরোপের ইঞ্জিল পাঠে সক্ষম ব্যক্তিদের তুলনায় অনেক বেশি।" (৪)
"ইসলামের দ্রুত প্রসার শক্তির মাধ্যমে কিংবা ধর্মপ্রচারকদের অবিরাম প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঘটেনি। বরং যে বিষয়টি এই প্রসারে ভূমিকা রেখেছে তা হলো সেই কিতাব, যা মুসলমানরা বিজিত জাতিসমূহের সামনে পেশ করেছিল এবং তাদের তা গ্রহণ বা বর্জনের স্বাধীনতা দিয়েছিল। সেই কিতাবটি হলো আল্লাহর কিতাব, সত্যের বাণী, যা ছিল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে পৃথিবীর দ্বিধাগ্রস্ত মানুষদের সামনে উপস্থাপিত সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা।" (৫)
"মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রসঙ্গে কুরআন তার আদি অবস্থা ও উৎপত্তির দিকে ইঙ্গিত করা সত্ত্বেও... মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির সামনে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করে না, বরং একে স্বাধীনভাবে তার পছন্দমতো পথ অনুসরণ করার সুযোগ দেয়।" (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালু আনিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فايس (1)
"هكذا، بإلماح إلى وعي الإنسان وعقله ومعرفته بدأ تنزيل القرآن.." (2) "اصبحت السا (زوجتي) ، شأني انا، اكثر تأثراً مع الوقت بذلك الالتئام الباطني بين تعاليم (القرآن) الاخلاقية وتوجيهاته العملية. ان لله بمقتضى القرآن، لم يطلب خضوعاً اعمى من جانب الإنسان بل خاطب عقله: انه لا يقف بعيداً عن مصير الإنسان بل انه (اقرب اليك من حبل الوريد) انه لم يرسم اي خط فاصل بين الايمان والسلوك الاجتماعي" (3)
".. لقد عرفت الآن، بصورة لا تقبل الجدل، ان الكتاب الذي كنت ممسكاً به في يدي كان كتاباً موحى به من الله. فبالرغم من انه وضع بين يدي الإنسان منذ اكثر من ثلاثة عشر قرنا فانه توقع بوضوح شيئاً لم يكن بالامكان ان يصبح حقيقة الا في عصرنا هذا المعقد، الآلي. لقد عرف الناس التكاثر في جميع العصور والازمنة ولكن هذا التكاثر لم ينته قط من قبل إلى ان يكون مجرد اشتياق إلى امتلاك الاشياء والى ان يصبح ملهاة حجبت رؤية ايما شئ آخر.. اليوم اكثر من امس وغداً اكثر من اليوم.. لقد عرفت ان هذا 1 لم يكن مجرد حكمة انسانية من انسان عاش في الماضي البعيد في جزيرة العرب النائية فمهما كان هذا الإنسان على مثل هذا القدر من الحكمة فانه لم يكن يستطيع وحده ان يتنبأ بالعذاب الذي يتميز به هذا القرن العشرون. لقد كان ينطق لي، من القرآن، صوت اعظم من صوت محمد" (4)
--------------------------------------------
ভাইস (১)
"এভাবে, মানুষের চেতনা, বিবেক ও জ্ঞানের প্রতি ইঙ্গিত করার মাধ্যমে কুরআনের অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়েছিল..." (২) "সময়ের সাথে সাথে আমার স্ত্রী এলসা, আমার মতোই, কুরআনের নৈতিক শিক্ষা এবং এর ব্যবহারিক নির্দেশনার মধ্যকার সেই অভ্যন্তরীণ সামঞ্জস্যের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। কুরআনের মর্ম অনুযায়ী, আল্লাহ মানুষের কাছ থেকে অন্ধ আনুগত্য দাবি করেননি, বরং তিনি মানুষের বুদ্ধিকে সম্বোধন করেছেন: তিনি মানুষের ভাগ্য থেকে দূরে অবস্থান করেন না, বরং তিনি ‘মানুষের ঘাড়ের শাহরগের চেয়েও বেশি নিকটবর্তী’। তিনি ঈমান এবং সামাজিক আচরণের মধ্যে কোনো বিভেদরেখা টানেননি।" (৩)
"...আমি এখন অকাট্যভাবে জানতে পেরেছি যে, আমার হাতে যে কিতাবটি ছিল তা আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ একটি কিতাব। যদিও এটি তেরোশ বছরেরও বেশি সময় আগে মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, তবুও এটি স্পষ্টভাবেই এমন কিছু বিষয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যা কেবল আমাদের এই বর্তমান জটিল ও যান্ত্রিক যুগেই বাস্তবে রূপ নেওয়া সম্ভব ছিল। মানুষ সব যুগেই প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানত, কিন্তু এই প্রতিযোগিতা আগে কখনো কেবল বস্তুগত সম্পদ লাভের লালসা এবং অন্য সব কিছুকে আড়াল করে দেওয়ার মতো নিছক এক মরীচিকায় পরিণত হয়নি... আজ গতকালের চেয়ে বেশি এবং আগামীকাল আজকের চেয়েও বেশি... আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, এটি সুদূর অতীতে আরব উপদ্বীপের কোনো এক প্রান্তে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তির নিছক মানবিক প্রজ্ঞা ছিল না; সেই মানুষটি যতই প্রজ্ঞাবান হোন না কেন, তিনি নিজে নিজে এই বিংশ শতাব্দীর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এই যন্ত্রণার ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারতেন না। কুরআনের মাধ্যমে আমার সাথে মুহাম্মদের কণ্ঠস্বরের চেয়েও মহান এক সত্তার কণ্ঠস্বর কথা বলছিল।" (৪)
--------------------------------------------