(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: -)
البعث والنشور للبيهقي ت الشوامي   (أبو بكر البيهقي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: البعث والنشور

المؤلف: أبو بكر أحمد بن الحسين بن علي بن موسى البيهقي (384 - 458 هـ)

حققه وضبطه وعلق عليه: أبو عاصم الشوامي الأثري

الناشر: مكتبة دار الحجاز للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1436 هـ

عدد الصفحات: 867

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 رجب 1440

আল-বা'স ওয়ান নুশূর - বায়হাকী, শওয়ামী-এর তাহকীক   (আবু বকর আল-বায়হাকী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-বা'স ওয়ান নুশূর (পুনরুত্থান ও হাশর)

গ্রন্থকার: আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন মুসা আল-বায়হাকী (৩৮৪ - ৪৫৮ হিজরি)

তাহকীক, বিন্যাস ও টীকা প্রদান করেছেন: আবু আসিম আশ-শওয়ামী আল-আসারি

প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল হিজায প্রকাশনী ও পরিবেশনী, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৬ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৬৭

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ছাপানো সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২ রজব ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ١)
البعث والنشور

 

تصنيف

الشيخ الإمام أبي بكر أحمد بن الحسين بن علي بن موسى البيهقي

الحافظ رحمه الله

(384 - 458 هـ)

 

يطبع لأول مرة كاملا على خمس نسخ خطية

 

حققه وضبطه وعلق عليه

أبو عاصم الشوامي الأثري

 

مكتبة دار الحجاز

للنشر والتوزيع
আল-বা’স ওয়ান নুশুর (পুনরুত্থান ও হাশর)

 

গ্রন্থনায়

শায়খ আল-ইমাম আবু বকর আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে মুসা আল-বাইহাকী

আল-হাফিয (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)

(৩৮৪ - ৪৫৮ হিজরী)

 

পাঁচটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গভাবে মুদ্রিত

 

তাহকীক, সম্পাদনা ও টীকা সংযোজনে

আবু আসিম আশ-শাওয়ামী আল-আসারি

 

মাকতাবাতু দারিল হিজায

প্রকাশনা ও বিতরণের জন্য
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٣)
البعث والنشور
পুনরুত্থান ও হাশর
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٤)
جميع الحقوق محفوظة

 

الطبعة الأولى

طبعة عام 1436 هـ

 

مكتبة دار الحجاز

للنشر والتوزيع

المملكة العربية السعودية - الرياض
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

 

প্রথম সংস্করণ

১৪৩৬ হিজরী বর্ষের সংস্করণ

 

মাকতাবাতু দারিল হিজাজ

প্রকাশনা ও পরিবেশনায়

সৌদি আরব সাম্রাজ্য - রিয়াদ
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

مقدمة

الحمدُ للهِ العَلِي القَدِير الذي خلق السَّمَاواتِ والأرضَ وجعلَ الظلماتِ والنور، وأَنْذَر عِبَادَه بيومِ البَعْثِ والنُّشُور، يَوم يُنْصَب ميزانُ الحَقِّ فلا تُظْلَم نَفْسٌ من قِطْمِير، ذلك يَومُ الجَمْعِ لا رَيْبَ فيه، فَريقٌ في الجنة وفريقٌ في السَّعِير، فَمَن زُحْزِحَ عن النَّارِ وأُدْخِلَ الجَنَّة فَقد فَاز، ومَا الحَيَاةُ الدُّنيا إلا مَتَاع الغُرور، وأشهد أن لا إله إلا الله العَلِيِّ الكَبير لَيْس كَمِثْلِه شَيءٌ وهو السَّمِيعُ البَصِير، شَهَادة مَن أَقَرَّ بالعَجْز والتَّفْرِيط والتَّقْصِير، والصَّلاة والسَّلام على البَشِير النَّذِير نَبِيِّنا مُحَمَّدِ بنِ عَبْدِ اللهِ صلى الله عليه وسلم الذي أَرْسَله الله للعالمين بالهدى والخَير الوَفِير، فَأَدَّى الأَمَانَةَ وبَلَّغَ رِسَالَة رَبِّه، أداءً وبلاغًا لا نَقْصَ فيه ولا تَغْيِير، وعلى أبويه الكَرِيْمَيْن إبراهيمَ وإسماعيلَ عليهما السلام، وعلى سائر الأنبياء والمرسلَين بالْهُدى والنُّور، وعَلَى أصحابه الرِّجَالِ المُطَهَّرِين الذين قَامُوا بَعْدَ نَبِيِّهم بِدَعْوَتِه، فَأَخْضَلُوا في سَبِيل ذَلِك النُّحُور، صَلاةً وسلامًا دَائمينِ مُبَارَكَيْن مَا تَعَاقَب المَلَوَانِ إلى يَومِ البَعْثِ والنُّشُور.

أَمَّا بعدُ،

فإن الله عز وجل خلق آدم، وأنزله إلى الأرض، وأخبره أنه سيرسل لذريته الهدى، الذي إِن اتُّبِعَ؛ فلا خوفٌ عَلى مُتَّبِعهِ ولا حزن، ومن خالفه؛ فهو الشَّقِي الحَزين المَغْبُون، فأرسل الله الرسل وأنزل الشرائع، وجعل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

ভূমিকা

সকল প্রশংসা সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর জন্য, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন। তিনি তাঁর বান্দাদের পুনরুত্থান ও হাশরের দিন সম্পর্কে সতর্ক করেছেন; যেদিন সত্যের পাল্লা স্থাপন করা হবে, ফলে কোনো প্রাণীর প্রতিই বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না। তা হচ্ছে সমাবেশের দিন, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। এক দল জান্নাতে এবং এক দল প্রজ্বলিত অগ্নিতে থাকবে। যাকে আগুন থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফলকাম হবে। আর পার্থিব জীবন তো কেবল ধোঁকার সামগ্রী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। এমন এক ব্যক্তির সাক্ষ্য যে তার অক্ষমতা, ত্রুটি ও অবহেলার কথা স্বীকার করে। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী আমাদের নবী মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর, যাঁকে আল্লাহ বিশ্ববাসীর কাছে হেদায়াত ও প্রচুর কল্যাণ দিয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি আমানত আদায় করেছেন এবং তাঁর রবের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন; এমন আদায়ে ও পৌঁছানোতে যাতে কোনো কমতি বা পরিবর্তন ছিল না। আর তাঁর দুই সম্মানিত পিতা ইবরাহিম ও ইসমাইলের (আলাইহিমাস সালাম) ওপর, এবং হেদায়াত ও নূরসহ আগত অন্যান্য সকল নবী ও রাসূলদের ওপর। এবং তাঁর পবিত্র সাহাবীদের ওপর, যারা তাঁদের নবীর পর তাঁর দাওয়াতের কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন এবং সেই পথে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই সালাত ও সালাম চিরস্থায়ী ও বরকতময় হোক যতক্ষণ দিন-রাত্রির পরিক্রমা চলবে পুনরুত্থান ও হাশরের দিন পর্যন্ত।

অতঃপর,

আল্লাহ তাআলা আদমকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে জমিনে নামিয়ে দিয়েছেন। আর তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তার বংশধরদের জন্য হেদায়াত পাঠাবেন। যদি তা অনুসরণ করা হয়, তবে তার অনুসারীদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না। আর যে তার বিরুদ্ধাচরণ করবে, সে হবে হতভাগ্য, চিন্তিত ও ক্ষতিগ্রস্ত। এরপর আল্লাহ রাসূলদের পাঠালেন এবং শরীয়তসমূহ নাযিল করলেন এবং নির্ধারণ করলেন...
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٦)
شريعة نبينا صلى الله عليه وسلم هي الشريعة الخاتمة، فتكفل رب العالمين بحفظها، وحفظ ما يتعلق بها، فقال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ (9)} [الحجر] والذكر يتناول السنة بمعناه، إن لم يتناولها بلفظه، بل يتناول العربية وكل ما يُتَوقَّف عليه معرفة الحق، فإن المقصود مِنْ حِفْظِ القُرآنِ أن تبقى الحجة قائمة والهداية دائمة إلى يوم القيامة؛ لأن محمدًا صلى الله عليه وآله وسلم خاتم الأنبياء، وشريعته خاتمة الشرائع، والله عز وجل إنما خَلَق الخَلْقَ لعبادته، فلا يَقْطَعُ عنهم طريقَ معرفَتِها، وانقطاعُ ذلك في هذه الحياة الدنيا انقطاعٌ لِعلَّةِ بَقَائِهم فيها (1).

فَقَيَّد اللهُ عز وجل للأمة بعد نبيها رجالًا يقومون بواجب تبليغ دعوة الحق، فقام الجهابذة الكبار بواجبهم على أحسن ما أنت راء، وكان منهم الإمام الكبير أبو بكر أحمد بن الحسين البيهقي رحمه الله، الذي وعى من كتاب ربه وسنة نبيه، فحرر وصنف في أكثر أبواب الشريعة، وكان مما صنف كتاب «البعث والنشور» الذي وقعت عيني عليه قبل ثمان سنوات، ورأيت أنه لم يخرج في صورة تليق به، فعزمت على تحقيقه، وإخراجه في صورة قشيبة آنذاك، وحثني على ذلك الشيخ العلامة الوالد الدكتور أَحْمَد مَعْبَد عبد الكريم حفظه الله ورعاه، وما أن صَوَّرْتُ نُسْخَتَه الخطية التي اعْتَمَد عليها من أخرجاه قبل ذلك، حتى رزقني الله بنسخة أخرى للكتاب كانت في مكتبة جمعية المَكْنِز -وكنت باحثًا فيها آنذاك-، فساعدني مديرُها الأسبق الشيخ الكريم الفاضل المعطاء الشيخ عماد الدين عباس حفظه الله، وأَذِن لي في تصويرها، وما أن وقعت في يدي حتى اكتشفت فيها أمرين، الأول أن

--------------------------------------------

(1) من أول الآية الكلام للعلامة المعلمي اليماني رحمه الله «التنكيل» (1/ 48).
আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়ত হলো সর্বশেষ শরীয়ত, তাই রব্বুল আলামীন এটি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছু সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় আমিই যিকির (উপদেশবাণী) নাযিল করেছি এবং নিশ্চয় আমিই এর সংরক্ষক} [আল-হিজর: ৯]। আর ‘যিকির’ তার অর্থের দিক থেকে সুন্নাহকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যদি তা শাব্দিক দিক থেকে নাও করে; বরং এটি আরবি ভাষা এবং সত্যকে জানার জন্য যা কিছুর ওপর নির্ভর করতে হয় তার সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা কুরআন সংরক্ষণের উদ্দেশ্য হলো কিয়ামত পর্যন্ত দলিল সুপ্রতিষ্ঠিত রাখা এবং হিদায়াতকে চিরস্থায়ী করা; কারণ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম হলেন শেষ নবী, এবং তাঁর শরীয়ত হলো শেষ শরীয়ত। আর মহান আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে শুধুমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন, তাই তিনি তাদের থেকে সেই ইবাদত জানার পথকে বিচ্ছিন্ন করবেন না। আর এই পার্থিব জীবনে সেই পথ বিচ্ছিন্ন হওয়া মানে তাদের বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যই বিলুপ্ত হওয়া (১)।

অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁর নবীর পরে এই উম্মতের জন্য এমন কিছু ব্যক্তিত্বকে নির্ধারিত করেছেন যারা সত্যের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। ফলে মহান পণ্ডিতগণ তাঁদের দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করেছেন। তাঁদেরই একজন ছিলেন মহান ইমাম আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-বাইহাকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, যিনি তাঁর রবের কিতাব ও নবীর সুন্নাহ হৃদয়ঙ্গম করেছিলেন এবং শরীয়তের অধিকাংশ অধ্যায়ে গ্রন্থ সম্পাদনা ও রচনা করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি হলো ‘আল-বা‘স ওয়ান-নুশুর’, যার ওপর আট বছর আগে আমার দৃষ্টি পড়ে। আমি লক্ষ্য করলাম যে এটি যথাযথ অবয়বে প্রকাশিত হয়নি, তাই আমি তখন এটি সম্পাদনা করার এবং একটি সুন্দর রূপে প্রকাশ করার সংকল্প গ্রহণ করি। আর এ কাজে আমাকে উৎসাহিত করেছিলেন শাইখ আল্লামা ডক্টর আহমদ মা‘বাদ আব্দুল কারীম হাফিজাহুল্লাহ। আমি যখন সেই পাণ্ডুলিপির অনুলিপি সংগ্রহ করলাম যার ওপর ভিত্তি করে ইতিপূর্বে এটি প্রকাশিত হয়েছিল, তখনই আল্লাহ আমাকে কিতাবটির অন্য একটি পাণ্ডুলিপি দান করলেন যা ‘মাকনিয’ সংস্থার লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত ছিল—তখন আমি সেখানে গবেষক হিসেবে কর্মরত ছিলাম। এর প্রাক্তন পরিচালক সম্মানিত ও গুণী ব্যক্তিত্ব শাইখ ইমাদ উদ্দীন আব্বাস হাফিজাহুল্লাহ আমাকে সাহায্য করেন এবং এর অনুলিপি নেওয়ার অনুমতি প্রদান করেন। আর তা আমার হাতে আসার পর আমি সেখানে দুটি বিষয় আবিষ্কার করলাম, প্রথমটি হলো এই যে...

--------------------------------------------

(১) আয়াতের শুরু থেকে এই বক্তব্যটি আল্লামা মুয়াল্লিমী ইয়ামানী রহমাতুল্লাহি আলাইহির; ‘আত-তানকীল’ (১/৪৮)।
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٧)
الكتاب المطبوع ناقص بمقدار النصف، والثاني أن النسخة الكاملة، مختصرة بحيث حذف ناسِخُهَا أسانيدَ الكِتَاب، فلا يَذكُر إلا الصَّحَابي، أو بالكاد يَذكر التابعي أو من دونه نادرًا، فأسقط في يدي، وتحسرت على فقد نصف هذا الكتاب الجليل، وشكوت ما وجدت للدكتور أحمد معبد حفظه الله تعالى فأرشدني جزاه الله خيرًا إلى أن هناك نسخة في مكتبة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، فأرسلت من فوري في طلبها، وجاءتني النسخة وكانت غاية في الجودة والإتقان، فاغتبطت بها جدا ولكن عكر علي سوء تصويرها في عدة مواضع منها، وخرم وقع في أولها وآخرها، سأصفه في بابه.

لكني عزمت على العمل وبدأت في نسخ الكتاب من نسخة الجامعة الإسلامية التي عانيت في نسخها عناء لا يقدره إلا من عانى معاناتي، ولكن همتي في إخراج كتاب لإمام كالبيهقي لم يطبع من قبل= دفعتني لإنجازه، ومرت الأيام وإذا بخبر يصك سمعي بأن أحد الإخوة قد انتهى من تحقيق الكتاب، فانثنى عزمي وخارت قوتي، وتوقفت عن العمل فيه، منتظرا لتلك الطبعة التي قالوا عنها، لكن علمت بعد ذلك أن الأمر لم يكن بالجِدِّ إنما كان كما يقولون «حجزا للكتاب»، ثم إن ربي أكرمني بنسخة مكتبة أحمد الثالث عن طريق أخي الحبيب الأستاذ وائل محفوظ، والتي قوت عزيمتي مرة أخرى فهي نسخة جيدة وكاملة، كما سيأتي وصفها إن شاء الله، وإن الله عز وجل إذا أراد شيئا هيئ أسبابه، فكان من تقدير الله أن يوفقني لنسخة أخرى ألا وهي نسخة مكتبة سان بطرس برج، فعلمت أن الله عز وجل قد شاء أن أمضي في الكتاب قدما، فالحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.

وسينتظم حديثي في هذه المقدمة في خمسة أبواب:
মুদ্রিত কিতাবটি প্রায় অর্ধেক অপূর্ণাঙ্গ। দ্বিতীয়ত, পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপিটি এমনভাবে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে যে এর লিপিকার কিতাবের সনদসমূহ বাদ দিয়েছেন; ফলে তিনি কেবল সাহাবীর নাম উল্লেখ করেছেন, কিংবা কদাচিৎ তাবিঈ অথবা তনিম্নস্থ স্তরের কারো নাম উল্লেখ করেছেন। এতে আমি হতাশ হয়ে পড়লাম এবং এই মহান কিতাবটির অর্ধেক অংশ হারিয়ে যাওয়ার কারণে আক্ষেপ করতে লাগলাম। আমার এই সমস্যার কথা আমি ডক্টর আহমদ মাবাদ (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর নিকট পেশ করলে তিনি আমাকে পথনির্দেশ দিলেন—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন—যে মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। আমি তৎক্ষণাৎ সেটি সংগ্রহের জন্য আবেদন করলাম এবং পাণ্ডুলিপিটি আমার কাছে এসে পৌঁছাল, যা ছিল অত্যন্ত উন্নত মানের ও নিখুঁত। এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হলাম, কিন্তু কতিপয় স্থানে এর অনুলিপির নিম্নমান এবং এর শুরুতে ও শেষে কিছু অংশ কর্তিত থাকা আমার আনন্দকে ম্লান করে দিল, যার বিবরণ আমি সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে প্রদান করব।

তবে আমি কাজের সংকল্প করলাম এবং ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই পাণ্ডুলিপি থেকে কিতাবটি অনুলিপি করতে শুরু করলাম, যা করতে গিয়ে আমাকে এমন কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছে যা আমার মতো অবস্থায় না পড়লে অন্য কেউ উপলব্ধি করতে পারবে না। কিন্তু ইমাম বায়হাকীর মতো একজন ইমামের কিতাব—যা পূর্বে কখনো মুদ্রিত হয়নি—তা প্রকাশের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমাকে কাজ সম্পন্ন করতে অনুপ্রাণিত করল। দিন অতিবাহিত হতে লাগল এবং হঠাৎ এক সংবাদ আমার কানে এল যে জনৈক ভাই কিতাবটির তাহকীক (সম্পাদনা) সম্পন্ন করেছেন। এতে আমার সংকল্প শিথিল হয়ে পড়ল এবং আমি উদ্যম হারিয়ে ফেললাম। তাই তাদের বলা সেই মুদ্রিত সংস্করণটির অপেক্ষায় আমি কাজ স্থগিত রাখলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমি জানতে পারলাম যে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ছিল না, বরং এটি ছিল স্রেফ তাদের পরিভাষায় ‘কিতাবটি বুক করে রাখা’। এরপর আমার প্রতিপালক আমার প্রিয় ভাই উস্তাদ ওয়ায়েল মাহফুজের মাধ্যমে আমাকে আহমদ আস-সালিস লাইব্রেরির একটি পাণ্ডুলিপি দিয়ে সম্মানিত করলেন, যা পুনরায় আমার সংকল্পকে দৃঢ় করল; এটি একটি উন্নত ও পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি, ইনশাআল্লাহ সামনে এর বিবরণ আসবে। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যখন কোনো কিছু ইচ্ছা করেন তখন তার উপকরণসমূহ প্রস্তুত করে দেন। আল্লাহর তকদীরে এটিই ছিল যে তিনি আমাকে আরও একটি পাণ্ডুলিপি অর্জনে তাওফিক দান করলেন, আর তা হলো সেন্ট পিটার্সবার্গ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কিতাবটির কাজ নিয়ে আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ারই ইচ্ছা করেছেন। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সমস্ত নেক কাজ পূর্ণতা পায়।

এই মুকাদ্দিমায় (ভূমিকা) আমার আলোচনা পাঁচটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত হবে:
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌الأول: التعريف بالكتاب

هو كتاب «البعث والنشور» كما سماه مصنفه رحمه الله في كتاب «شعب الإيمان» في عدة مواضع منه، وفي كتاب «الاعتقاد» في موضع واحد، وفي كتاب «حياة الأنبياء بعد وفاتهم» في موضع واحد.

وكذلك ذكره الذهبي في ترجمته من «سير أعلام النبلاء» (18/ 166)، فقال: وكتاب «البعث» مجلد. وفي «تاريخ الإسلام» (10/ 95)، وقال: «البعث والنشور».

وذكره السبكي في طبقاته (4/ 10)، في معرض ذكر مصنفات البيهقي، وقال: «وَكلهَا مصنفات نظاف مليحة التَّرْتِيب والتهذيب كَثِيرَة الْفَائِدَة يشْهد من يَرَاهَا من العارفين بِأَنَّهَا لم تتهيأ لأحد من السَّابِقين».

وكذلك الحاج خليفة في «كشف الظنون» (2/ 1402).

وغير هؤلاء من الأئمة الذين سنذكرهم في الباب الآتي.

وقد انتهج البيهقي رحمه الله في كتاب «البعث والنشور» نفس المنهج الذي انتهجه في سائر مصنفاته، كعادة المتقدمين في التصنيف، وذلك بإيراد الترجمة ثم الاستدلال عليها من القرآن والسنة المسندة، وقد استوعب البيهقي رحمه الله جُل الأبواب التي تتعلق بهذا الموضوع، فبدأ رحمه الله بباب الإيمان بذلك اليوم، وبين بالأسانيد الصحيحة أن منكره كافر، ثم استعرض أبواب أشراط الساعة، مستغرقا في ذلك لربع أحاديث الكتاب، ثم شرع في الكلام عن أبواب انقضاء الدنيا والنفخ في الصور، والحشر، والنشر، والقيام بين يدي رب العزة تبارك وتعالى، وذكر طول هذا اليوم، وعرض جملة وفيرة من التفسير المسند لآيات الذكر الحكيم التي تتناول وصف ذلك
প্রথম: গ্রন্থ পরিচিতি

এটি হলো ‘আল-বাআস ওয়ান নুশুর’ নামক গ্রন্থ, যেমনটি এর রচয়িতা (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘শুআবুল ঈমান’ গ্রন্থের একাধিক স্থানে, ‘আল-ইতিকাদ’ গ্রন্থের এক স্থানে এবং ‘হায়াতুল আম্বিয়া বা’দা ওয়াফাতিহিম’ গ্রন্থের এক স্থানে এর নামকরণ করেছেন।

অনুরূপভাবে ইমাম আয-যাহাবি ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ (১৮/ ১৬৬) গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: এবং ‘আল-বাআস’ গ্রন্থটি এক খণ্ড। আর ‘তারিখুল ইসলাম’ (১০/ ৯৫) গ্রন্থে তিনি একে ‘আল-বাআস ওয়ান নুশুর’ নামে অভিহিত করেছেন।

ইমাম আস-সুবকি তাঁর ‘তাবাকাত’ (৪/ ১০) গ্রন্থে আল-বায়হাকির রচনাবলির বর্ণনায় এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: ‘তাঁর সকল রচনাই অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন, চমৎকার বিন্যাস ও মার্জিত শৈলীর অধিকারী এবং অত্যন্ত তথ্যবহুল; বিজ্ঞজনদের মধ্যে যারা এগুলো দেখেন তারা সাক্ষ্য দেন যে, পূর্ববর্তীদের মধ্যে আর কারো পক্ষেই এমনটি প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি।’

অনুরূপভাবে হাজি খলিফা তাঁর ‘কাশফুয যুনুন’ (২/ ১৪০২) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

এছাড়াও অন্যান্য ইমামগণ এটি উল্লেখ করেছেন যাদের কথা আমরা পরবর্তী অধ্যায়ে আলোচনা করব।

আল-বায়হাকি (রহিমাহুল্লাহ) ‘আল-বাআস ওয়ান নুশুর’ গ্রন্থে সেই একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন যা তিনি তাঁর অন্যান্য সকল রচনায় অনুসরণ করেছেন এবং যা রচনার ক্ষেত্রে পূর্বসূরীদের সাধারণ রীতি ছিল; আর তা হলো—প্রথমে শিরোনাম উল্লেখ করা এবং তারপর কুরআন ও সনদযুক্ত সুন্নাহ থেকে তার স্বপক্ষে দলিল পেশ করা। ইমাম বায়হাকি (রহিমাহুল্লাহ) এই বিষয় সংশ্লিষ্ট প্রায় সকল অধ্যায়কেই এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) পরকালের সেই দিনের প্রতি ঈমান আনয়নের অধ্যায় দিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন এবং সহিহ সনদের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, একে অস্বীকারকারী ব্যক্তি কাফির। এরপর তিনি কিয়ামতের আলামতসমূহের অধ্যায়গুলো বিস্তারিত তুলে ধরেছেন, যা গ্রন্থের মোট হাদিসসমূহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জুড়ে রয়েছে। অতঃপর তিনি দুনিয়া সমাপ্ত হওয়া, শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেওয়া, হাশর, নশর এবং মহান রব্বুল ইজ্জত তাবারাকা ওয়া তায়ালার সামনে দণ্ডায়মান হওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়গুলোর আলোচনা শুরু করেছেন। এছাড়াও তিনি এই দিনের দীর্ঘতার কথা উল্লেখ করেছেন এবং আল-কুরআনের বর্ণনামূলক আয়াতসমূহের এক বিশাল ভাণ্ডার ও সনদযুক্ত তাফসির পেশ করেছেন যা এই দিবসের বিবরণ প্রদান করে।
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٩)
اليوم، ثم ذكر الميزان، والقصاص، والمرور على الصراط، وذكر أحوال المؤمنين والكافرين في ذلك، ثم ذكر أبواب الشفاعة وأطنب فيها وأجاد، وعرض فيها مذهب أهل السنة في ذلك، ثم ذكر عدة أبواب تتناول بعض القضايا المتعلقة باليوم الآخر، والتي قد يستشكل فهمها على بعض الناس كفداء المؤمن بالكافر، ثم ذكر حوض النبي صلى الله عليه وسلم وذكر صفته، ثم ذكر حال أصحاب الأعراف، ثم ذكر أبواب الإيمان بالجنة والنار، وأنهما مخلوقتان، وذكر صفتهما وما أعد فيهما لأهلهما، ثم ختم الكتاب بحديث الصور الطويل الذي يتضمن ذكر الكثير من أحوال يوم القيامة.

وعادة ما يبدأ البيهقي رحمه الله الباب بآيات الذكر الحكيم الذي تدل على المعنى المراد، ثم يذكر بأسانيده ما يوافق فيه أو يساوي أو يصافح الإمامين الجليلين البخاري ومسلم، ثم يخرج هو بنفسه الحديث منهما، وقد صرح البيهقي رحمه الله في مقدمة كتابه «دلائل النبوة» (1/ 47) فقال: «وقد صنف جماعة من المتأخرين في المعجزات وغيرها كتبا، وأوردوا فيهاأخبارا كثيرة من غير تمييز منهم صحيحها من سقيمها، ولا مشهورها من غريبها، ولا مرويّها من موضوعها، حتى أنزلها من حسنت نيته في قبول الأخبار منزلة واحدة في القبول، وأنزلها من ساءت عقيدته في قبولها منزلة واحدة في الردّ.

وعادتي- في كتبي المصنّفة في الأصول والفروع- الاقتصار من الأخبار على ما يصح منها دون ما لا يصح، أو التمييز بين ما يصح منها
সেই দিবসের কথা, এরপর তিনি মিযান (দাঁড়িপাল্লা), কিসাস (প্রতিশোধ) এবং সিরাত পার হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি এতে মুমিন ও কাফিরদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি শাফায়াতের (সুপারিশ) অধ্যায়গুলো উল্লেখ করেছেন এবং এ বিষয়ে অত্যন্ত বিস্তারিত ও চমৎকার আলোচনা করেছেন এবং এতে আহলে সুন্নাতের মাযহাব উপস্থাপন করেছেন। এরপর তিনি পরকাল সংক্রান্ত এমন কিছু বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকটি অধ্যায় উল্লেখ করেছেন যা বুঝতে কিছু মানুষের কঠিন মনে হতে পারে, যেমন—কাফিরের বিনিময়ে মুমিনের মুক্তি। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাওয ও এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি আ’রাফবাসীদের অবস্থা এবং জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি ঈমান আনা সংক্রান্ত অধ্যায়গুলো উল্লেখ করেছেন এবং এই মর্মে যে, এই দুটি সৃষ্ট বস্তু। এ দুটির বৈশিষ্ট্য এবং এগুলোতে অধিবাসীদের জন্য কী প্রস্তুত রাখা হয়েছে তাও তিনি বর্ণনা করেছেন। পরিশেষে তিনি শিঙায় ফুঁৎকার (সূর) সংক্রান্ত দীর্ঘ হাদীসটির মাধ্যমে কিতাবটি সমাপ্ত করেছেন, যাতে কিয়ামত দিবসের বহু অবস্থার বর্ণনা রয়েছে।

সাধারণত বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) উদ্দিষ্ট অর্থের প্রমাণবাহী পবিত্র কুরআনের আয়াত দ্বারা অধ্যায় শুরু করেন। এরপর তিনি নিজের সনদসহ এমন সব বর্ণনা উল্লেখ করেন যা দুই মহান ইমাম বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনার সাথে সংগতিপূর্ণ, সমপর্যায়ের কিংবা সমান্তরাল। এরপর তিনি স্বয়ং তাঁদের কিতাব থেকে হাদীসটি চয়ন করেন। বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর «দালাইলুন নুবুওয়াহ» (১/৪৭) কিতাবের ভূমিকায় স্পষ্ট করে বলেছেন: “পরবর্তীকালের একদল লেখক মুজিযা ও অন্যান্য বিষয়ে অনেক কিতাব সংকলন করেছেন এবং তাতে সহীহ-যয়ীফ, প্রসিদ্ধ-অপরিচিত কিংবা বর্ণিত ও জাল রেওয়ায়েতগুলোর মধ্যে পার্থক্য না করেই প্রচুর বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ফলে যাদের নিয়ত ভালো ছিল তারা হাদীস গ্রহণের ক্ষেত্রে সবগুলোকে একই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, আর যাদের আকিদা মন্দ ছিল তারা এগুলো প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে সবগুলোকে একই পর্যায়ে নামিয়ে দিয়েছে।

আর উসূলে দীন ও ফুরুয়ি মাসআলা নিয়ে রচিত আমার কিতাবসমূহে আমার অনুসৃত নিয়ম হলো—কেবল সহীহ বর্ণনাগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা এবং যা সহীহ নয় তা বর্জন করা, অথবা সহীহ বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করা...”
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ١٠)
وما لا يصح، ليكون الناظر فيها من أهل السنة على بصيرة مما يقع الاعتماد عليه، لا يجد من زاغ قلبه من أهل البدع عن قبول الأخبار مغمزا فيما اعتمد عليه أهل السنة من الآثار».

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله «لكن البيهقي يُنَقِّي الآثار ويُمَيِّزُ بين صحيحها وسقيمها أكثر من الطحاوي» (1).

هذا ويُعَدُّ كتاب «البعث والنشور» من أطول كتب الإمام البيهقي رحمه الله المصنفة في موضوع واحد بعد كتابه «الجامع لشعب الإيمان».

* * * * *

--------------------------------------------

(1) «مجموع فتاوى ابن تيمية» (24/ 154).
এবং যা সহীহ নয়; যাতে এর (গ্রন্থের) ওপর আহলে সুন্নাতের পাঠকদের এমন এক স্বচ্ছ ধারণা ও দূরদর্শিতা অর্জিত হয় যার ওপর নির্ভর করা যায়, এবং যাদের অন্তর সত্য হতে বিচ্যুত হয়েছে এমন বিদআতিরা যেন আহলে সুন্নাতের নির্ভরযোগ্য আসারসমূহের (বর্ণনাসমূহ) ব্যাপারে সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো খুঁত বা ছিদ্রান্বেষণ করার সুযোগ না পায়।»

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «তবে বায়হাকী আসারসমূহকে যাচাই-বাছাই করেন এবং এদের সহীহ ও যঈফের (দুর্বল) মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে তহাবী অপেক্ষা অধিক পারঙ্গম» (১)।

উল্লেখ্য যে, ইমাম বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে ‘আল-বাসু ওয়ান নুশুর’ কিতাবটি তাঁর ‘আল-জামি লি-শুআবুল ঈমান’ কিতাবের পর দীর্ঘতম গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।

* * * * *

--------------------------------------------

(১) «মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ» (২৪/ ১৫৪)।
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌الثاني: أهمية الكتاب

ترجع أهمية كتاب «البعث والنشور» إلى كونه من الكتب المسندة التي حوت لنا الكثير من الأسانيد، لذا فهو يُعد أصلا من الأصول التي اعتمد عليها كثير من الأئمة الذين جاءوا بعده، فقد كان مصدرا من مصادر كل من الإمام أبي زكريا النووي رحمه الله في «شرح صحيح مسلم»، والإمام ابن رجب الحنبلي في كتابه «فتح الباري شرح صحيح البخاري»، والإمام سراج الدين ابن الملقن في كتابيه «التوضيح لشرح الجامع الصحيح»، و «البدر المنير»، والإمام الطِّيْبِي في كتابه «الكاشف عن حقائق السنن»، والحافظ ابن كثير في كتابه «البداية والنهاية»، والإمام الزيلعي في «تخريج أحاديث الكشاف»، والإمام الحافظ ابن حجر في كتابيه «فتح الباري بشرح صحيح البخاري»، و «تغليق التعليق»، والإمام بدر الدين العيني في كتابه «عمدة القاري بشرح صحيح البخاري»، والإمام القسطلاني في كتابه «إرشاد الساري شرح صحيح البخاري»، والإمام السيوطي في كتابيه «الدر المنثور»، و «نواهد الأبكار وشوارد الأفكار» (1)، وغير هؤلاء من الأئمة والعلماء.

ثم إن الإمام البيهقي رحمه الله قد حفظ لنا كثيرًا من الروايات لبعض المصنفات التي طبعت والتي لم تطبع كاملة، والتي فُقِدَت، فقد روى بإسناده جملة لا بأس بها من طريق كل من الإمام:

مجاهد بن جبر في كتابه «التفسير».

أبي داود الطيالسي في كتابه «المسند».

--------------------------------------------

(1) هذا الكتاب حاشية على «تفسير البيضاوي».
দ্বিতীয়: কিতাবটির গুরুত্ব

‘আল-বা‘স ওয়ান নুশুর’ কিতাবটির গুরুত্বের কারণ হলো এটি সনদসমৃদ্ধ কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা আমাদের জন্য প্রচুর সনদ সংরক্ষণ করেছে। একারণে এটি এমন একটি মৌলিক উৎস হিসেবে গণ্য হয়, যার ওপর পরবর্তী অনেক ইমাম নির্ভর করেছেন। এটি নিম্নোক্ত ইমামগণের প্রত্যেকেরই অন্যতম একটি উৎস ছিল: ইমাম আবু জাকারিয়া আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘শারহু সহীহ মুসলিম’, ইমাম ইবনু রাজাব আল-হাম্বলী তাঁর ‘ফাতহুল বারী শারহু সহীহিল বুখারী’ কিতাবে, ইমাম সিরাজুদ্দীন ইবনুল মুলাক্কিন তাঁর ‘আত-তাওদীহ লি-শারহিল জামি‘ইস সহীহ’ ও ‘আল-বাদরুল মুনীর’ কিতাবদ্বয়ে, ইমাম আত-তীবী তাঁর ‘আল-কাশিফ আন হাকায়িকিস সুনান’ কিতাবে, হাফিয ইবনু কাসীর তাঁর ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ কিতাবে, ইমাম আয-যাইলায়ী ‘তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ’-এ, ইমাম হাফিয ইবনু হাজার তাঁর ‘ফাতহুল বারী বিশারহি সহীহিল বুখারী’ ও ‘তাগলীকুত তা‘লীক’ কিতাবদ্বয়ে, ইমাম বদরুদ্দীন আল-আইনী তাঁর ‘উমদাতুল কারী শারহু সহীহিল বুখারী’ কিতাবে, ইমাম আল-কাসতালানী তাঁর ‘ইরশাদুস সারী শারহু সহীহিল বুখারী’ কিতাবে এবং ইমাম আস-সুয়ূতী তাঁর ‘আদ-দুররুল মানসূর’ ও ‘নাওয়াহিদুল আবকার ওয়া শাওয়ারিদুল আফকার’ (১) কিতাবদ্বয়ে এটি ব্যবহার করেছেন। এছাড়াও অন্যান্য ইমাম ও উলামাগণ এই কিতাব থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।

অতঃপর ইমাম আল-বাইহাকী (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের জন্য এমন কিছু রচনার অনেক বর্ণনা সংরক্ষণ করেছেন, যেগুলোর কিছু মুদ্রিত হয়েছে, কিছু পূর্ণাঙ্গভাবে মুদ্রিত হয়নি এবং কিছু হারিয়ে গেছে। তিনি নিম্নোক্ত ইমামগণের সূত্র থেকে স্বীয় সনদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বর্ণনা বর্ণনা করেছেন:

মুজাহিদ ইবনু জাবর তাঁর ‘আত-তাফসীর’ কিতাবে।

আবু দাউদ আত-তায়ালিসী তাঁর ‘আল-মুসনাদ’ কিতাবে।

--------------------------------------------

(১) এই কিতাবটি ‘তাফসীরে বাইদাবী’-এর ওপর একটি হাশিয়া (টীকা)।
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ١٢)
أبي داود السجستاني في كتابه «السنن».

أبي عبد الله أحمد بن حنبل في كتابه «المسند».

أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري في كتابه «التاريخ الكبير».

أبي بكر ابن أبي شيبة في كتابه «المصنف».

أبي بكر عبد الرزاق بن همام الصنعاني في كتابه «التفسير».

أبي يوسف يعقوب بن سفيان الفسوي في كتابه «المعرفة والتاريخ».

أبي عثمان سعيد بن منصور في كتابه «التفسير -من السنن-».

أبي عبد الله محمد بن عبد الله الحاكم في كتابه «المستدرك».

أبي أحمد ابن عدي الجرجاني في كتابه «الكامل في ضعفاء الرجال».

وغير هؤلاء من الأئمة الذين صنفوا الأجزاء والأمالي، أو الذين جُمِعَت أحاديثهم عن شيخ معين وأفردت في مصنف.

ويغني الحديث ها هنا عن ذكر المصادر التي اعتمد عليها البيهقي فها هي بين يديك، سوى أنه اعتمد أيضا على كتاب أبي عبد الله الحليمي «المنهاج في شعب الإيمان»، وكذلك كتاب «أعلام الحديث» للخطابي، و «من معالم السنن» له أيضًا، وكتاب «تأويل مختلف الحديث» لابن قتيبة الدينوري.

هذا وللكتاب أهمية أخرى وفائدة جليلة، حيث استخرج الإمام البيهقي رحمه الله على الإمامين البخاري ومسلم رحمهما الله جملة كبيرة من الأحاديث التي أخرجاها، ولا يخفى على من له أدنى عناية بهذا الشأن أهمية هذه المستخرجات، من ذكر زيادات في المتون قد يستفاد منها حكمًا جديدًا، أو
আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি তাঁর ‘আস-সুনান’ গ্রন্থে।

আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বল তাঁর ‘আল-মুসনাদ’ গ্রন্থে।

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি তাঁর ‘আত-তারিখুল কাবির’ গ্রন্থে।

আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ তাঁর ‘আল-মুসান্নাফ’ গ্রন্থে।

আবু বকর আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম আস-সানআনি তাঁর ‘আত-তাফসির’ গ্রন্থে।

আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান আল-ফাসাউয়ি তাঁর ‘আল-মা’রিফাতু ওয়াত তারিখ’ গ্রন্থে।

আবু উসমান সাঈদ ইবনে মনসুর তাঁর ‘আত-তাফসির -আস-সুনান হতে-’ গ্রন্থে।

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাকিম তাঁর ‘আল-মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে।

আবু আহমদ ইবনে আদি আল-জুরজানি তাঁর ‘আল-কামিল ফি দুয়াফায়ির রিজাল’ গ্রন্থে।

এবং এঁরা ছাড়াও সেই সব ইমামগণ যারা বিশেষ বিষয়ের সংকলন ও শ্রুতলিপি রচনা করেছেন, অথবা যাদের হাদিসসমূহ কোনো নির্দিষ্ট শায়খের সূত্রে একত্রিত করে স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

এখানে বায়হাকি যেসব উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন তা বিস্তারিত উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই, কারণ সেগুলো আপনার সামনেই রয়েছে; তবে তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-হালিমি-র ‘আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ইমান’, একইভাবে খাত্তাবির ‘আলামুল হাদিস’ ও তাঁর ‘মাআলিমুস সুনান’, এবং ইবনে কুতাইবাহ আদ-দিনাওয়ারির ‘তাউয়িলু মুখতালিফিল হাদিস’ গ্রন্থগুলোর ওপরও নির্ভর করেছেন।

এর পাশাপাশি এই কিতাবটির আরেকটি গুরুত্ব ও মহান উপকারিতা রয়েছে, তাহলো ইমাম বায়হাকি (রাহিমাহুল্লাহ) ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুমুল্লাহ) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসসমূহের একটি বড় অংশের ‘ইস্তিখরাজ’ (ভিন্ন সনদে বর্ণনা) করেছেন। যারা এই বিষয়ে সামান্যতম জ্ঞান রাখেন, তাদের কাছে এই ‘মুস্তাখরাজাত’ বা সংকলনগুলোর গুরুত্ব অজানা নয়; যেমন মূল পাঠে এমন কিছু অতিরিক্ত অংশ উল্লেখ করা যা থেকে নতুন কোনো বিধান পাওয়া যেতে পারে, অথবা...
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ١٣)
إيضاح لمعنى أو غير ذلك من فوائد زيادات المتون، وكذلك العلو في الإسناد وهو من الأهمية بمكان، وهذه المستخرجات حَرِيَّة أن تُفْرَد في مصنف مستقل بحيث يتم جمعها من كتب الإمام البيهقي.

* * * * *
অর্থের ব্যাখ্যা বা মূল পাঠের অতিরিক্ত অংশের অন্যান্য উপকারিতা, আর তেমনিভাবে সনদের উচ্চমর্যাদা, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সংগৃহীত হাদিসগুলো (মুস্তাখরাজাত) একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলিত হওয়ার যোগ্য, যেন ইমাম বায়হাকীর কিতাবসমূহ থেকে সেগুলোকে একত্র করা হয়।

* * * * *
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌الثالث: وصف النسخ الخطية

وقد أكرمني الملك الجليل بتحقيق هذا الكتاب على خمس نسخ خطية وصفها كالآتي:

 

‌‌1 - نسخة المكتبة المحمودية، وقد حصلت عليها من مصورات مكتبة الجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية، وقد صورها لي أخي الحبيب أبو جويرية المديني إيهاب الصاوي حفظه الله تعالى.

وتقع النسخة في اثنين وأربعين ومائة ورقة، في كل ورقة وجهان، ومسطرتها زهاء خمس وعشرين سطرا، في كل سطر زهاء العشرين كلمة. وكتبت بخط نسخي عادي.

وقد قسمت إلى أربعة أجزاء، ختم كل جزء منها بما يلي:

«سمع هذه الأربعة الأجزاء وهو … (1) من الأصل على صاحبها الشيخ الفقيه الإمام الجليل السيد الأوحد أبو المرجا إلياس بن أحمد بن عبد الله الشافعي الدمشقي على الشيخ الإمام الأَجَلِّ الشيخ الأوحد الأغر صدر الحفاظ محدث الشام ناصر السنة أبي القاسم علي بن الحسن بن هبة الله الشافعي الدمشقي، وتقي الدين أبو الحرم مكي بن علي بن الحسن العراقي، وضياء الدين ابو القاسم عبد الملك بن زيد بن ياسين الشافعي يعرف بالدولعي، وأبو العباس أحمد بن أبي البركات بن عثيمة البصري، وشمس الدين أبو عبد الله محمد بن المحسر بن الحسين بن أبي المضاء، وأبو القاسم علي بن عبد الوهاب بن جعفر الحسيني، وأبو الفتح نصر الله بن محمد بن

--------------------------------------------

(1) ويذكر رقمه.
তৃতীয়: পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ

মহান রাজাধিরাজ আল্লাহ আমাকে পাঁচটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে এই গ্রন্থটি সম্পাদনা করার তৌফিক দান করেছেন, যেগুলোর বিবরণ নিম্নরূপ:

 

১ - মাহমুদিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি, এটি আমি মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সংগৃহীত অনুলিপি থেকে অর্জন করেছি। এটি আমার জন্য অনুলিপি তৈরি করে দিয়েছেন আমার প্রিয় ভাই আবু জুওয়াইরিয়াহ আল-মাদিনী ইহাব আস-সাবি, আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাজত করুন।

পাণ্ডুলিপিটি একশত বিয়াল্লিশটি পত্রে (ফলিও) বিন্যস্ত, যার প্রতিটি পত্রের দুইটি পার্শ্ব রয়েছে। এর প্রতি পৃষ্ঠায় প্রায় পঁচিশটি লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় বিশটি শব্দ রয়েছে। এটি সাধারণ নাসখ লিপিতে লিখিত।

এটি চারটি খণ্ডে বিভক্ত করা হয়েছে, যার প্রতিটি খণ্ড নিম্নোক্ত বিবরণের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে:

«এই চারটি খণ্ড শ্রবণ করেছেন এবং তিনি হচ্ছেন … (১) মূল পাণ্ডুলিপি থেকে এর মালিক শায়খ, ফকিহ, মহান ইমাম, অনন্য সাইয়্যিদ আবু আল-মুরজা ইলিয়াস বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আশ-শাফিয়ী আদ-দিমাশকি-এর নিকট; মহান ইমাম শায়খ, অদ্বিতীয় ও উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব, হাফেজদের প্রধান, শামের মুহাদ্দিস, সুন্নাহর সাহায্যকারী আবু আল-কাসিম আলী বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ আশ-শাফিয়ী আদ-দিমাশকি-এর নিকট হতে। আরও উপস্থিত ছিলেন তাকিউদ্দীন আবু আল-হারাম মাক্কি বিন আলী বিন আল-হাসান আল-ইরাকি, দিয়াউদ্দীন আবু আল-কাসিম আব্দুল মালিক বিন যাইদ বিন ইয়াসিন আশ-শাফিয়ী—যিনি আদ-দাওলায়ি নামে পরিচিত, আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আবি আল-বারাকাত বিন উসাইমাহ আল-বাসরি, শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-মুহাসসির বিন আল-হুসাইন বিন আবি আল-মাদা, আবু আল-কাসিম আলী বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন জাফর আল-হুসাইনি এবং আবু আল-ফাতহ নাসরুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন...

--------------------------------------------

(১) এবং এখানে তার নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ١٥)
ناصر، والفقيه أبو الثناء محمود بن غازي بن محمد وولداه إسماعيل وعبد الكافي، وأبو إسحاق إبراهيم بن علي بن محمد الصفار المصري، وجماعة أسمائهم على أصل الشيخ سلمه الله، وصح لهم ذلك بقراءة كاتب البلاغ صالح بن إسماعيل بن محمد بن إسماعيل الطرائفي الخوارزمي الكاثي في المئذنة الشرقية من جامع دمشق حماها الله تعالى في شهر رمضان سنة اثنين وخمسين وخمسمائة».

وهي نسخة جيدة جدا حيث إنها لا تكاد تخطئ إلا في القليل جدًا، ولكنها تنقص من أولها أوراقًا تعادل مائة وثلاثين إسنادًا، ومن آخرها أوراقًا تعادل أربعا وستين إسنادًا، ولا ريب في جودتها إذ قرأت على الإمام أبي القاسم ابن عساكر، وهو أحد رواة الكتاب، ويبدأ كل جزء من الكتاب بما يلي:

«كتاب البعث والنشور تصنيف الشيخ الإمام أبي بكر أحمد بن الحسين ابن علي بن موسى البيهقي الحافظ رحمه الله، مما أخبرنا به الشيخ الإمام أبو عبد الله محمد بن الفضل بن أحمد الفراوي الفقيه، عنه، رواية الشيخ الفقيه الأجل الإمام الحافظ الثقة صدر الحفاظ أبي القاسم الحسن بن علي بن الحسن بن هبة الله الشافعي رضي الله عنه».

وبالخرم الواقع في آخرها غاب عنا اسم ناسخها وتاريخ النسخ، غير أنى على يقين من أنها كتبت قبل سنة اثنين وخمسين وخمسمائة. إذ كان هذا هو تاريخ كتابة البلاغ، الذي تم بعد النسخ بلا ريب، إذن فبين نسخها وبين وفاة المصنف أقل من مائة سنة، ولا أعلم نسخة للكتاب أقدم منها والله تعالى أعلم.
নাসির, এবং ফকিহ আবু আল-ছানা মাহমুদ বিন গাজি বিন মুহাম্মদ ও তাঁর দুই পুত্র ইসমাইল ও আব্দুল কাফি, এবং আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আলি বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার আল-মিসরি, এবং এমন একদল লোক যাদের নাম শাইখের মূল কপিতে রয়েছে—আল্লাহ তাঁকে নিরাপদ রাখুন। দামেস্ক জামে মসজিদের পূর্ব মিনারে ৫৫২ হিজরি সনের রমজান মাসে তা তাঁদের জন্য বিশুদ্ধ সাব্যস্ত হয়েছে, যা পাঠ করেছেন শ্রবণলিপি লেখক সালিহ বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আত-তরাইফি আল-খাওয়ারিজমি আল-কাছি। আল্লাহ তাআলা এই মসজিদকে রক্ষা করুন।

এটি একটি অত্যন্ত উন্নতমানের পাণ্ডুলিপি, কারণ এতে ভুলের পরিমাণ নেই বললেই চলে। তবে এর শুরুর দিক থেকে ১৩০টি সনদ সমপরিমাণ এবং শেষের দিক থেকে ৬৪টি সনদ সমপরিমাণ পৃষ্ঠা অনুপস্থিত রয়েছে। এর গুণগত মান নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই কারণ এটি ইমাম আবু আল-কাসিম ইবনে আসাকিরের সামনে পাঠ করা হয়েছে, যিনি এই গ্রন্থের অন্যতম বর্ণনাকারী। গ্রন্থের প্রতিটি খণ্ড নিম্নোক্তভাবে শুরু হয়েছে:

«কিতাবুল বা’স ওয়ান নুশুর, যা শাইখ ইমাম আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলি বিন মুসা আল-বাইহাকি আল-হাফিজ (রাহিমাহুল্লাহ) এর সংকলন। আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন শাইখ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফদল বিন আহমদ আল-ফারাওয়ি আল-ফকিহ তাঁর থেকে। এটি বর্ণনা করেছেন অত্যন্ত সম্মানিত শাইখ, ফকিহ, ইমাম, হাফিজ, নির্ভরযোগ্য এবং হাফিজদের শিরোমণি আবু আল-কাসিম আল-হাসান বিন আলি বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ আশ-শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)»।

পাণ্ডুলিপির শেষে বিদ্যমান ত্রুটি বা পৃষ্ঠা না থাকার কারণে এর অনুলিপিকারের নাম এবং অনুলিপি করার তারিখ আমাদের অজানাই রয়ে গেছে। তবে আমি নিশ্চিত যে, এটি ৫৫২ হিজরি সনের পূর্বেই অনুলিপি করা হয়েছিল। কারণ এটিই ছিল সেই শ্রবণলিপি বা অডিট নোট (বালাগ) লেখার তারিখ, যা নিঃসন্দেহে অনুলিপি সম্পন্ন করার পরেই করা হয়েছে। সুতরাং, এর অনুলিপি তৈরি এবং লেখকের ইন্তেকালের মাঝে ব্যবধান একশ বছরেরও কম। আমার জানামতে এই গ্রন্থের এর চেয়ে প্রাচীন কোনো পাণ্ডুলিপি নেই। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক অবগত।
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ١٦)
وقد اصطلحت لها الرمز «م».

 

‌‌2 - نسخة مكتبة معهد الاستشراق بسان بطرس برج بروسيا، برقم (c 1040) وهي من مصورات مركز جمعة الماجد للثقافة والتراث بدبي.

وتقع في ثمان وأربعين ومائتين ورقة، في كل ورقة وجهان، ومسطرتها زهاء العشرين سطرا، في كل سطر زهاء اثني عشر كلمة، وكتبت بخط نسخي جميل، وهي مضبوطة بالشكل في أكثر المواضع إلا أن ضبطها لا يعتمد عليه البتة، وقد سقط منها الورقة الأولى، وفيها مقدمة المصنف، وكذلك خرم بمقدار ورقة كاملة في أثناءها أستغرق حوالي ثلاثة وثلاثين إسنادًا، ويبدو لي أن الخمس ورقات الأُوَل منها كتبت بخط مختلف عن باقي النسخة، وهي نسخة جيدة في جملتها وقد قوبلت على غيرها يظهر ذلك من التصحيحات والبلاغات التي في حواشيها.

وناسخها هو يوسف بن عبد الله المعروف بالقشامي رحمه الله.

وتاريخ النسخ في ذي القعدة سنة تسع وسبعين وخمسمائة.

وألحق بها ورقة ونصف ورقة، مكتوب عليها سماعات لهذا الكتاب.

وقد اعتمدت نفس الأصل الذي اعتمدته النسخة السابقة، إذ جاء في حاشيتها عند بداية الجزء الثاني من النسخة السابقة: «أول الثاني»، وجاء في نهاية الجزء الثالث: «آخر الجزء الثالث من الأصل».

كما جاء في آخرها: «بلغت معارضة بأصل الحافظ أبي القاسم ابن عساكر … بخطه مع الموفق أبي الفتح نصر الله بن محمد … ، … حسيب الطاقة، فصح ولله الحمد والمنة».
এবং আমি এর জন্য 'ম' প্রতীকটি নির্ধারণ করেছি।

 

‌‌২ - রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের ইনস্টিটিউট অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি, যার নম্বর (c ১০৪০)। এটি দুবাইয়ের জুমুআ আল-মাজিদ সেন্টার ফর কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ থেকে সংগৃহীত মাইক্রোফিল্মের অন্তর্ভুক্ত।

এটি দুইশত আটচল্লিশটি পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত, যার প্রতিটি পাতার দুই পাশ লিখিত। এর প্রতি পৃষ্ঠায় প্রায় বিশটি লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় বারোটি শব্দ রয়েছে। এটি চমৎকার নাসখ লিপিতে লিখিত এবং অধিকাংশ স্থানেই হরকত প্রদান করা হয়েছে, যদিও এর হরকতগুলোর ওপর একেবারেই নির্ভর করা যায় না। এর প্রথম পাতাটি হারিয়ে গেছে, যাতে লেখকের ভূমিকা ছিল। একইভাবে এর মাঝখান থেকে পূর্ণ এক পাতার সমপরিমাণ অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যার ফলে প্রায় তেত্রিশটি সনদ বাদ পড়েছে। আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, এর প্রথম পাঁচটি পাতা পাণ্ডুলিপির অবশিষ্ট অংশের চেয়ে ভিন্ন হস্তাক্ষরে লেখা। এটি সামগ্রিকভাবে একটি ভালো পাণ্ডুলিপি এবং এটিকে অন্য পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে, যা এর পার্শ্বটীকায় থাকা সংশোধন ও পাঠ সমাপ্তির চিহ্নসমূহ থেকে স্পষ্ট হয়।

এর অনুলিপিকার হলেন ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ, যিনি আল-কাশামি নামে পরিচিত, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

অনুলিপি করার তারিখ হলো ৫৭৯ হিজরি সালের জিলকদ মাস।

এর সাথে দেড়টি পাতা সংযুক্ত রয়েছে, যাতে এই কিতাবটি শ্রবণের বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে।

এটি পূর্ববর্তী পাণ্ডুলিপিটি যে মূল পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছিল, সেই একই মূলের ওপর নির্ভর করেছে। কারণ এর পার্শ্বটীকায় পূর্ববর্তী পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় খণ্ডের শুরুতে লেখা আছে: "দ্বিতীয় খণ্ডের শুরু", এবং তৃতীয় খণ্ডের শেষে লেখা আছে: "মূল কিতাবের তৃতীয় খণ্ডের সমাপ্তি"।

একইভাবে এর শেষে উল্লেখ আছে: "হাফিজ আবুল কাসিম ইবনে আসাকিরের স্বহস্তে লিখিত মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মুওয়াফ্ফাক আবুল ফাতহ নাসরুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদের উপস্থিতিতে … সামর্থ্য অনুযায়ী মিলিয়ে দেখা শেষ হয়েছে; ফলে এটি শুদ্ধ হয়েছে। আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা।"
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ١٧)
وقد اصطلحت لها الرمز «ب».

 

‌‌3 - نسخة مكتبة أحمد الثالث باستنبول- تركيا، (مكتبة متحف طوب قابو سراي) رقم 557.

وتقع في واحد وسبعين ومائة ورقة، في كل ورقة وجهان، ومسطرتها زهاء ثلاثة وعشرين سطرًا في كل سطر زهاء ثلاث عشرة كلمة، وكتبت بخط نسخي واضح، وهي نسخة كاملة، إلا أنه سقط منها الورقة رقم (24) وتستغرق من أثناء حديث رقم (146)، إلى أثناء حديث (155)، وكذلك حدث خرم بمقدار ورقة في آخرها يبدأ وينتهي في أثناء حديث الصور الطويل.

وهذه النسخة قد اختلف إسنادها عن النسختين السابقتين في أولها، فقد جاء في أولها ما يلي: «أخبرنا مولانا الشيخُ الإمامُ أستاذُ العُلماءِ، رئيسُ أهلِ السُّنة، ناصرُ الحديث، مُظهِر طَريقةِ السَّلف، شَرَفُ المِلَّة والدِّين، أبو حامد محمود بنُ عبد الرحمن بنِ سفهسلار الطَّرَازِي رضي الله عنه، أخبرنا الشيخُ الإمام العالمُ سيف الملة والدين محمد بن أحمد بن عبد الرحيم الزَّنْجَاني، أخبرنا الشيخ الإمام رَضِيُّ الدين أبو الخير أحمد بن إسماعيل بن يوسف القَزْوِيِنيُّ الطَالقَاني، أخبرنا أبو المَعَالي محمد بن إسماعيل الفَارِسِي، أخبرنا أبو بكر أحمد بن الحسين بن علي البَيْهَقِيُّ قال: … ».

فهي من رواية أبي المعالي الفارسي، عن البيهقي وليست من رواية الفراوي، إلا أنه في بداية الجزء الرابع على ترتيب نسخة ابن عساكر جاء فيها ما يلي: «أخبرنا الشيخ الفقيه أبو عبد الله محمد بن الفضل قال: أخبرنا الإمام أبو بكر أحمد بن الحسين بن علي البيهقي الحافظ قال: … ».

فرجع الإسناد مرة أخرى إلى الفراوي.
এবং আমি এর জন্য 'ব' প্রতীকটি নির্ধারণ করেছি।

 

‌‌৩ - তুরস্কের ইস্তাম্বুলের আহমেদ ৩য় লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি, (তোপকাপি প্যালেস মিউজিয়াম লাইব্রেরি) নম্বর ৫৫৭।

এটি একশত একাত্তরটি পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত, প্রতি পৃষ্ঠায় দুটি করে দিক রয়েছে। এর লিখনশৈলী প্রতি পৃষ্ঠায় প্রায় তেইশটি লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় তেরটি শব্দ। এটি স্পষ্ট নাখশ লিপিতে লেখা হয়েছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি, তবে ২৪ নম্বর পৃষ্ঠাটি এতে নেই, যা ১৪৬ নম্বর হাদিসের মাঝখান থেকে শুরু করে ১৫৫ নম্বর হাদিসের মাঝখান পর্যন্ত অংশজুড়ে ছিল। একইভাবে, এর শেষে এক পৃষ্ঠা পরিমাণ অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যা 'শিঙায় ফুঁক দেওয়া' সংক্রান্ত দীর্ঘ হাদিসের মাঝখানে শুরু ও শেষ হয়েছে।

এই পাণ্ডুলিপির সনদটি শুরুর দিকে আগের দুটি পাণ্ডুলিপির চেয়ে ভিন্ন। এর শুরুতে নিম্নরূপ বর্ণিত হয়েছে: «আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাদের অভিভাবক শাইখ ইমাম, উলামাদের শিক্ষক, আহলে সুন্নাতের প্রধান, হাদিসের সাহায্যকারী, সালাফদের পদ্ধতির প্রকাশকারী, মিল্লাত ও দ্বীনের গৌরব, আবু হামিদ মাহমুদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে সিফাহসালার আত-তারাজি (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন)। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম আলিম সাইফুর মিল্লাতি ওয়াদ দ্বীন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুর রহিম আজ-জানজানি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম রাদীয়ুদ্দীন আবুল খায়ের আহমদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইউসুফ আল-কাজওয়িনি আত-তালকানি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাআলি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-ফারিসি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে হুসাইন ইবনে আলী আল-বাইহাকী, তিনি বলেছেন: … »।

সুতরাং এটি বাইহাকী থেকে আবুল মাআলি আল-ফারিসির বর্ণনা, আল-ফারাউয়ির বর্ণনা নয়। তবে ইবনে আসাকিরের পাণ্ডুলিপির বিন্যাস অনুযায়ী চতুর্থ খণ্ডের শুরুতে এতে নিম্নরূপ বর্ণিত হয়েছে: «আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ফকিহ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল ফাদল, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম হাফিজ আবু বকর আহমদ ইবনে হুসাইন ইবনে আলী আল-বাইহাকী, তিনি বলেছেন: … »।

ফলে সনদটি পুনরায় আল-ফারাউয়ির দিকে ফিরে গেল।
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ١٨)
وهي نسخة كاملة كما ذكرنا وحفظت لنا صفحة العنوان، ومقدمة المصنف، وقد جاء على طرتها ما يلي: «كتاب البعث والنشور تصنيف الشيخ الإمام أبي بكر أحمد بن الحسين بن علي .... (1) البيهقي الحافظ رحمه الله».

وناسخها هو محمود بن محمد بن أحمد العلوي رحمه الله.

وتاريخ النسخ في عشر ليال خلون من جمادى الآخر سنة خمس وستين وخمسمائة.

وكان النسخ بمدينة دوقات (2).

وقد جاء في آخرها ما يلي: «تمت المقابلة مع النسخة التي نقلت عنها بحمد الله».

وهي نسخة جيدة جدًا وهي عندي أفضل من نسخة سان بطرس برج، ولكني قدمتها عليها في الذكر لتقدم نسخها وحسب.

وقد جاء في أول صفحة منها إجازة بخط راويها وهو محمود بن عبد الرحمن الطرازي لتلميذه الأمير محمود بن الخطير، ونصها:

«بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين والصلاة على سيد الخلق محمد وآله أجمعين، قال النبي صلى الله عليه وسلم الراحمون يرحمهم الرحمن، ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء، استخرت الله ́ وأجزت للوُلد الأعز الأمير العالم الفاضل صاحب السيف والقلم ضياء الدين محمود

--------------------------------------------

(1) طمس بفعل خاتم المكتبة.

(2) ويقال لها توقات، وهي بلدة في أرض الروم بين قونيا وسيواس ذات قلعة حصينة وأبنية مكينة، بينها وبين سيواس يومان. ينظر «معجم البلدان» (2/ 59)، وهي الآن بلدة بتركيا.
এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি এবং এটি আমাদের জন্য শিরোনাম পৃষ্ঠা ও গ্রন্থকারের ভূমিকা সংরক্ষণ করেছে। এর উপরিভাগে নিম্নোক্ত কথাগুলো এসেছে: «কিতাবুল বাস ওয়াল নুশুর, শাইখ ইমাম আবু বকর আহমদ বিন হুসাইন বিন আলী .... (১) আল-বায়হাকী আল-হাফিজ রাহিমাহুল্লাহর রচনা»।

এর অনুলিপিকারক হলেন মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আলাভি রাহিমাহুল্লাহ।

অনুলিপিকরণের তারিখ হলো পাঁচশত পঁয়ষট্টি হিজরি সালের জুমাদাল আখিরা মাসের দশ রাত অতিবাহিত হওয়ার পর।

অনুলিপিকরণ সম্পন্ন হয়েছিল দুকাত (২) শহরে।

এর শেষে নিম্নোক্ত কথাটি এসেছে: «আল্লাহর প্রশংসায় সেই অনুলিপির সাথে এর পাঠ-মিলকরণ সম্পন্ন হয়েছে যেখান থেকে এটি নকল করা হয়েছে»।

এটি অত্যন্ত উন্নত মানের একটি পাণ্ডুলিপি এবং আমার নিকট এটি সেন্ট পিটার্সবার্গ পাণ্ডুলিপির চেয়েও উত্তম। তবে আমি সেটিকে এর আগে উল্লেখ করেছি কেবল সেটির অনুলিপিকরণের সময়কাল প্রাচীন হওয়ার কারণে।

এর প্রথম পৃষ্ঠায় এর বর্ণনাকারী মাহমুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তরাযীর হস্তাক্ষরে তাঁর ছাত্র আমির মাহমুদ বিন আল-খাতিরের উদ্দেশ্যে একটি অনুমতিপত্র (ইজাযাহ) পাওয়া গেছে, যার বয়ান হলো:

«পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ ও তাঁর সকল পরিজনের প্রতি দরুদ বর্ষিত হোক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দয়ালুদের ওপর রাহমান (পরম দয়াময়) দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের ওপর দয়া করো, তবে আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমাদের ওপর দয়া করবেন। আমি আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করেছি এবং পরম স্নেহভাজন সন্তান, আলিম, ফাযিল, আমীর, তরবারি ও কলমের অধিকারী যিয়াউদ্দীন মাহমুদকে অনুমতি প্রদান করেছি...

--------------------------------------------

(১) লাইব্রেরির সিলের কারণে লেখাটি মুছে গেছে।

(২) একে তুকাতও বলা হয়। এটি রোম (আনাতোলিয়া) অঞ্চলের একটি শহর যা কুনিয়া এবং সিওয়াসের মধ্যে অবস্থিত। এখানে একটি সুদৃঢ় দুর্গ এবং মজবুত দালানকোঠা রয়েছে। সিওয়াস থেকে এর দূরত্ব দুই দিনের পথ। দেখুন «মু'জামুল বুলদান» (২/৫৯)। এটি বর্তমানে তুরস্কের একটি শহর।
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ١٩)
ابن الخطير، بَلَّغه الله مناه، وأحسن في الآخرة مثواه = أن يروي عني كتاب البعث والنشور للإمام الحافظ أبي بكر أحمد بن الحسين البيهقي سقى الله ثراه، بالأسانيد المذكورة في أول الكتاب، وبجميع البيهقيات وأجزت أيضًا أن يروي عني جميع مسموعاتي ومجازاتي، … من التفاسير والأحاديث وكتب … والأدب، وجميع ما للسماع والإجازة يدخل، وأنا بريء من الغلط والتصحيف والتحريف، وأنا عبد الله الفقير إلى رحمة ربه القدير محمود بن عبد الرحمن الطرازي، نزيل سِواس، كتبته في السادس من رجب سنة خمس وستين وستمائة (1) حامدًا الله تعالى مصليًا على نبيه محمد وآله».

وقد اصطلحت لها الرمز «ث».

 

‌‌4 - نسخة مكتبة الوزير الشهيد علي باشا- بتركيا رقم (1572)، وهي من مصورات معهد المخطوطات العربية بالقاهرة.

وتقع في واحد وعشرين ومائة ورقة، في كل ورقة وجهان، مسطرتها زهاء واحد وعشرين سطرًا، في كل سطر زهاء ثلاث عشرة كلمة، وكتبت بخط نسخي عادي، وهي نسخة مسندة لكن سقط منها النصف الأول من الكتاب ويعادل اثنين وثلاثين بابًا من أبواب الكتاب فقد بدأت بالباب الثالث والثلاثين (بَابُ قَولِهِ عز وجل: {وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُمْ مِنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ (28)} مَعَ سَائِرِ مَا يَحْتَجُّ بِهِ مَن أنكَرَ الشَّفَاعَةَ) وقد استغرق ذلك ستين وخمسمائة حديث، ما يعادل نصف أسانيد الكتاب تقريبًا.

وبالنقص الواقع في هذه النسخة من أولها غاب عنا إسناد الكتاب، إلا

--------------------------------------------

(1) وهو نفس تاريخ النسخ، وقد مر أن سيواس بينها وبين توقات مسرة يومين، وهي تقع في تركيا.
ইবনুল খাতীর - আল্লাহ তাঁকে তাঁর কাম্য বস্তুতে পৌঁছে দিন এবং পরকালে তাঁর আবাসস্থল উত্তম করুন - তিনি আমার পক্ষ থেকে ইমাম হাফিজ আবু বকর আহমাদ বিন আল-হুসাইন আল-বাইহাকীর 'কিতাবুল বা'স ওয়ান নুশুর' বর্ণনা করবেন - আল্লাহ তাঁর কবরের মাটিকে সিক্ত করুন - গ্রন্থের শুরুতে উল্লিখিত সনদসমূহের মাধ্যমে এবং বাইহাকীর সমস্ত কিতাবের মাধ্যমে। আমি তাঁকে আমার সমস্ত শ্রুত ও অনুমোদিত বিষয় বর্ণনা করার অনুমতি দিলাম, … তাফসীর, হাদীস, … এবং আদব (সাহিত্য) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ থেকে, এবং শ্রবণ ও অনুমোদনের (ইজাযত) আওতাভুক্ত সমস্ত কিছু। আমি ভুল, লিখনগত ত্রুটি ও বিকৃতি থেকে দায়মুক্ত। আমি আমার সর্বশক্তিমান রবের রহমতের মুখাপেক্ষী অভাবী বান্দা মাহমুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তরাযী, সিওয়াস নিবাসী; এটি লিখেছি ৬৬৫ হিজরীর ৬ই রজব তারিখে, মহান আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর নবী মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর সালাত পাঠ করে।

এবং আমি এর জন্য 'সা' (ث) প্রতীক নির্ধারণ করেছি।

 

‌‌৪ - তুরস্কে রক্ষিত শহীদ উজির আলী পাশা লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি নম্বর (১৫৭২), এটি কায়রোর আরবী পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটের সংগৃহীত মাইক্রোফিল্ম থেকে প্রাপ্ত।

এটি ১২১টি পৃষ্ঠা সংবলিত, প্রতি পৃষ্ঠার দুটি দিক রয়েছে, এর প্রতি পৃষ্ঠায় প্রায় ২১টি করে লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় ১৩টি করে শব্দ রয়েছে। এটি সাধারণ নাসখ লিপিতে লিখিত। এটি একটি সনদযুক্ত পাণ্ডুলিপি, তবে এর প্রথমার্ধ বিলুপ্ত হয়েছে যা গ্রন্থের ৩২টি অধ্যায়ের সমান। এটি ৩৩তম অধ্যায় (মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কেবল তাদের জন্য সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত (২৮)} এর সাথে শাফাআত অস্বীকারকারীদের পেশকৃত অন্যান্য যুক্তি সংক্রান্ত অধ্যায়) থেকে শুরু হয়েছে। এতে ৫৬০টি হাদীস অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা প্রায় গ্রন্থের অর্ধেক সনদের সমান।

এই পাণ্ডুলিপির শুরুতে বিদ্যমান ত্রুটির কারণে আমাদের নিকট গ্রন্থের সনদটি অনুপস্থিত রয়ে গেছে, তবে

--------------------------------------------

(১) এটিই পাণ্ডুলিপি তৈরির তারিখ, ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে সিওয়াস ও তুকাতের মধ্যবর্তী দূরত্ব দুই দিনের পথ এবং এটি তুরস্কে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
أنه عند بداية الباب رقم (49) كتب «أخبرنا الشيخ الفقيه أبو عبد الله محمد بن الفضل بن أحمد الفراوي قراءة عليه قال: أخبرنا أبو بكر أحمد بن الحسين بن علي البيهقي قال: … »

وقد اعتمد ناسخها الأصل الذي اعْتَمَدَتْهُ نسخةُ المحمودية، فقد كتب في الحاشية قبل بداية باب (49) (باب ما جاء في أنهار الجنة … ) = هذا آخر جزء الأصل، وكذلك هو في نسخة المحمودية.

وقد زيل الناسخ الكتاب بتعقيبة في نهاية كل صفحة من صفحات الظَّهر.

وهي عندي في تقييمي أقل النسخ جودة، ويبدو أن ناسخها لم يكن من المشتغلين بعلم الحديث، إلا أن عنده أمانة في النقل فقد التزم برسم الكثير من الكلمات التي ربما لم يكن يفهم معناها.

وناسخها هو أحمد بن علي بن المجاهد إسرائيل الأنصاري رحمه الله.

وتاريخ نسخها في يوم الأحد خامس شهر صفر من سنة اثنتين وخمسين وسبعمائة.

وقد اصطلحت لها الرمز «ع».

 

‌‌5 - نسخة مكتبة تستر بيتي بأيرلندا رقم (3280).

وتقع في ستة وخمسين ومائة ورقة، في كل ورقة وجهان، ومسطرتها خمسة عشر سطرًا في الوجه، في كل سطر زهاء سبعة عشر كلمة، وكتبت بخط نسخ عادي دقيق، وقد ضبطت كلماتها في مواضعَ كثيرة.

وهي نسخة كاملة تشتمل على جميع أبواب الكتاب، وكذلك مقدمة
৪৯ নম্বর অধ্যায়ের শুরুতে লেখা হয়েছে, «আমাদেরকে শেখ ফকিহ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ফাদল বিন আহমাদ আল-ফারাওয়ি তাঁর সামনে পাঠ করা অবস্থায় সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন আল-হুসাইন বিন আলি আল-বায়হাকি, তিনি বলেন: … »

এর লিপিকার সেই মূল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন যার ওপর মাহমুদিয়া পাণ্ডুলিপি নির্ভর করেছিল। তিনি ৪৯ নম্বর অধ্যায়ের (জান্নাতের নদ-নদী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে …) শুরুর আগে পার্শ্বটীকায় লিখেছেন = এটিই মূল পাণ্ডুলিপির শেষ অংশ এবং মাহমুদিয়া পাণ্ডুলিপিতেও বিষয়টি এমনই।

লিপিকার কিতাবটির প্রতিটি পৃষ্ঠার উল্টো পিঠের শেষে একটি অনুবৃত্তি (তাক্বিবাহ) যুক্ত করেছেন।

আমার মূল্যায়নে এটি গুণগত মানের দিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল পাণ্ডুলিপি। মনে হচ্ছে এর লিপিকার হাদিস শাস্ত্রের চর্চাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তবে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তাঁর বিশ্বস্ততা ছিল, কারণ তিনি এমন অনেক শব্দের লিখনরীতি বজায় রেখেছেন যার অর্থ হয়তো তিনি বুঝতেন না।

এর লিপিকার হলেন আহমাদ বিন আলি বিন আল-মুজাহিদ ইসরাইল আল-আনসারি (রাহিমাহুল্লাহ)।

এটি নকল করার তারিখ হলো সাতশ বাহান্ন হিজরি সালের সফর মাসের পাঁচ তারিখ, রবিবার।

আমি এর জন্য ‘আইন’ প্রতীকটি নির্ধারণ করেছি।

 

‌‌৫ - আয়ারল্যান্ডের চেস্টার বিটি লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি নম্বর (৩২৮০)।

এটি একশ ছাপ্পান্নটি পত্র বিশিষ্ট, প্রতিটি পত্রে দুটি পৃষ্ঠা রয়েছে। এর পৃষ্ঠাপ্রতি বিন্যাস হলো পনেরোটি লাইন, আর প্রতি লাইনে প্রায় সতেরোটি করে শব্দ রয়েছে। এটি সাধারণ ও সূক্ষ্ম নাসখ লিপিতে লেখা হয়েছে এবং অনেক স্থানে এর শব্দগুলোতে হরকত প্রদান করা হয়েছে।

এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি যা কিতাবের সকল অধ্যায় এবং সেই সাথে ভূমিকাও অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٢١)
المصنف، وهي نسخة جيدة جدًا، وقد أسعفتني في كثير من الأحيان وبينت لي كلمة تعثر علي قراءتها في النسخ الأخرى.

وكانت حرية أن تُتَّخَذ أصلا لولا أنها نسخة مختصرة محذوفة الأسانيد، لا يذكر الناسخ من إسنادها إلا اسم الصحابي فقط، أو ربما ذكر التابعي أو من دونه في مواضع قليلة، وفي مواضع أقل ربما ذكر الإسناد كاملا، لكن هذا لا يتجاوز أصابع اليد الواحدة، ويبدو أن ناسخها كان من أهل العلم حيث إن طريقة الاختصار هذه لا يستطيعها مجرد ناسخ للكُتب، بل تحتاج من له علم ودراية.

وقد نظر فيها بعض إخواني فرأى أنها قد تكون مختصر الإمام الذهبي رحمه الله للكتاب، وقد ذكر الدكتور بشار عواد معروف في دراسته عن الذهبي التي صُدِّر بها كتاب «سير أعلام النبلاء» = أن الذهبي رحمه الله قد اختصر كلا من كتاب «القدر» و» البعث والنشور للبيهقي» (1)، وكذلك أشار العلامة السيد أحمد صقر رحمه الله في مقدمة تحقيقه لكتاب «معرفة السنن والآثار» للبيهقي (ص 12) (2)، وقد دفعني ذلك إلى النظر في بعض كتب الإمام الذهبي التي بخطه، ومقارنته بهذه النسخة، فلا أستطيع أن أنكر أن بينهما تطابق كبير، فلعل هذه النسخة هي مختصر الإمام الذهبي لكتاب «البعث والنشور» غير أني لا أستطيع أن أجزم بذلك لقلة المعطيات لدي، لاسيما وتاريخ كتابة

--------------------------------------------

(1) «سير أعلام النبلاء» (المقدمة ص 65).

(2) أفدت ذلك من كتاب الأخ الفاضل الشيخ أبي الطيب نايف بن صلاح بن علي المنصوري «السلسبيل النقي في تراجم شيوخ البيهقي» (ص 122)، وقد أفدت من هذا الكتاب الكثير والكثير والله أسأل أن يجزي مؤلفه خير الجزاء، وأحسب أنه لا غنى لطالب علم نظر في كتب البيهقي عن هذا الكتاب.
মুসান্নিফ (গ্রন্থ), আর এটি একটি অত্যন্ত উত্তম পাণ্ডুলিপি। এটি আমাকে অনেক ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে এবং অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে যেসব শব্দ পড়তে আমার অসুবিধা হচ্ছিল, তা আমার কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছে।

এটিকে মূল পাণ্ডুলিপি হিসেবে গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত হতো, যদি না এটি সংক্ষিপ্ত এবং সনদসমূহ বিলুপ্তকৃত সংস্করণ হতো। অনুলিপিকার এর সনদ থেকে কেবল সাহাবীর নামই উল্লেখ করেছেন, অথবা কিছু সীমিত স্থানে তাবিঈ বা তার নিম্নস্তরের কারো নাম উল্লেখ করেছেন। খুব কম ক্ষেত্রে হয়তো পূর্ণ সনদ উল্লেখ করেছেন, তবে তা এক হাতের আঙুলের চেয়ে বেশি হবে না। মনে হয় এর অনুলিপিকার ইলমের অধিকারী ছিলেন; কারণ এই ধরনের সংক্ষিপ্তকরণের পদ্ধতি কেবল কোনো সাধারণ গ্রন্থ অনুলিপিকারের পক্ষে সম্ভব নয়, বরং এর জন্য ইলম ও প্রজ্ঞার প্রয়োজন।

আমার কিছু ভাই এটি পর্যবেক্ষণ করে মত দিয়েছেন যে, এটি ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর করা কিতাবটির সংক্ষিপ্তসার হতে পারে। ডক্টর বাশশার আওয়াদ মারুফ ইমাম যাহাবীর ওপর তাঁর গবেষণায়—যা 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' কিতাবের শুরুতে ভূমিকা হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে—উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বায়হাক্বীর 'আল-কদর' এবং 'আল-বা'সু ওয়ান নুশুর' উভয় কিতাবই সংক্ষেপ করেছিলেন (১)। একইভাবে আল্লামা সাইয়্যেদ আহমদ সাক্বর (রাহিমাহুল্লাহ) বায়হাক্বীর 'মা'রিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার' কিতাবের তাহক্বীকের ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ১২) এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন (২)। এই বিষয়টি আমাকে ইমাম যাহাবীর নিজ হাতের লেখা কিছু কিতাব দেখতে এবং এই পাণ্ডুলিপির সাথে তা তুলনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমি অস্বীকার করতে পারি না যে, এ দুটির মধ্যে ব্যাপক সামঞ্জস্য রয়েছে। সম্ভবত এই পাণ্ডুলিপিটি ইমাম যাহাবীর 'আল-বা'সু ওয়ান নুশুর' কিতাবের সংক্ষিপ্ত রূপ, তবে আমার কাছে তথ্যের স্বল্পতার কারণে আমি বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না, বিশেষ করে রচনার তারিখ...

--------------------------------------------

(১) 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৬৫)।

(২) আমি এটি সম্মানিত ভাই শায়খ আবু আল-তয়্যিব নায়েফ বিন সালাহ বিন আলী আল-মানসুরীর কিতাব 'আস-সালসাবিলুন নাকি ফী তারাজিমি শুয়ুখিল বায়হাক্বী' (পৃষ্ঠা ১২২) থেকে গ্রহণ করেছি। আমি এই কিতাব থেকে অনেক অনেক উপকৃত হয়েছি এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আমি মনে করি, যে ইলম অন্বেষী বায়হাক্বীর কিতাবসমূহ নিয়ে গবেষণা করেন, তার জন্য এই কিতাবটি অপরিহার্য।
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
النسخة واسم الناسخ غير موجودين في آخرها.

هذا وقد زيل ناسخها الكتاب بتعقيبة في مواضع من الكتاب وتركها في مواضع أخرى.

وقد اصطلحت لها الرمز «ش».

هذا وقد طبع الكتاب طبعتين قديمتين الأولى سنة 1986 م عن مركز الخدمات والأبحاث الثقافية- بيروت، بتحقيق الشيخ عامر أحمد حيد.

والثانية سنة 1988 عن مؤسسة الكتب الثقافية -بيروت، بتحقيق أبي هاجر محمد السعيد بن بسيوني زغلول.

ولا أريد أن أخوض في الكلام عن هاتين الطبعتين، نقضًا لهما فقد طبعتا منذ ما يقرب من ثلاثين عاما، ولم يكن توفر للمحقق في هذه الأيام ما توفر الآن من مراجع مطبوعة، وبرامج أليكترونية سريعة، وغير ذلك، وإني لأدعو الله للمحققين الكريمين أن يجزيهما خيرًا إذ أخرجا كتاب للنور لم يكن يعرف عنه الناس شيئا، إلا أني من جهة الأمانة العلمية لا أحل لأحد من طلاب العلم أن ينظر فيهما، أو يعتمد على ما جاء فيهما لكثرة ما وقع فيهما من تحريف وتصحيف، وقد اعتمد الأول على نسخة الشهيد علي فقط، والثاني لم يذكر أنه اعتمد على أي مخطوط غير أنه أدرج صور من نسخة الشهيد علي في آخر مقدمته.

* * * * *
পাণ্ডুলিপির বিবরণ এবং লিপিকারের নাম এর শেষে বিদ্যমান নেই।

এছাড়া, এর লিপিকার বইটির কোনো কোনো স্থানে অনুবৃত্তি যুক্ত করেছেন এবং অন্য স্থানগুলোতে তা বর্জন করেছেন।

আমি এর জন্য ‘শ’ প্রতীকটি নির্ধারণ করেছি।

উল্লেখ্য যে, বইটি পূর্বে দুইবার মুদ্রিত হয়েছে; প্রথমটি ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে বৈরুতের মারকাজুল খিদমাত ওয়াল আবহাাস আস-সাকাফিয়্যাহ থেকে, যা শায়খ আমির আহমদ হায়দ-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত।

এবং দ্বিতীয়টি ১৯৮৮ সালে বৈরুতের মুআসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ থেকে আবু হাজার মুহাম্মাদ আস-সাঈদ বিন বাসইউনি যাগলুল-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত।

আমি এই দুই সংস্করণ নিয়ে সমালোচনা করার উদ্দেশ্যে বিস্তারিত আলোচনায় যেতে চাই না, কারণ এগুলো প্রায় ত্রিশ বছর আগে মুদ্রিত হয়েছে। সেই সময়ে একজন গবেষকের কাছে বর্তমানে লভ্য মুদ্রিত তথ্যসূত্র, দ্রুতগতিসম্পন্ন ইলেকট্রনিক প্রোগ্রাম এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান ছিল না। আমি এই দুই সম্মানিত গবেষকের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি যেন তিনি তাদের উত্তম প্রতিদান দান করেন, যেহেতু তারা এমন একটি বই আলোর মুখ দেখিয়েছেন যা সম্পর্কে মানুষের কোনো ধারণা ছিল না। তবে বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার খাতিরে আমি কোনো জ্ঞানান্বেষীর জন্য এই দুই সংস্করণ দেখা বা এর ওপর প্রাপ্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করা বৈধ মনে করি না, কারণ এতে প্রচুর পরিমাণ বিকৃতি ও লিপিপ্রমাদ ঘটেছে। প্রথম সম্পাদক কেবল ‘শহীদ আলী’ পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছিলেন, আর দ্বিতীয় সম্পাদক কোনো পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করার কথা উল্লেখ করেননি, কেবল তার ভূমিকার শেষে ‘শহীদ আলী’ পাণ্ডুলিপির কিছু ছবি যুক্ত করেছেন।

* * * * *
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌الرابع: منهجي في تحقيق الكتاب

فبعد أن وفقني الله عز وجل وحصلت على هذه النسخ الخمس والتي من خلالها غلب على ظني أني سأخرج الكتاب في صورة قريبة مما تركه عليه مؤلفه رحمه الله، نسخت الكتاب مستعينًا بالله تعالى، من نسخة المحمودية، مستأنسًا بنسخة تشستر بيتي، وقد عانيت جدا في النسخ منها لرداءة التصوير في مواضع كثيرة، وما أن وصلتني نسخة أحمد الثالث حتى تنفست الصعداء فقد أنقذني الله بها، لوضوحها وكمالها.

وبعد النسخ قابلت المنسوخ على جميع ما لدي من نسخ للكتاب، واكتفيت بذكر الفروق التي أرى أن لها تأثيرا في فهم النص، وتركت جملة من الفروق لم أذكرها لظني أنه لا حاجة للقارئ بذكرها.

ثم رقمت أسانيد الكتاب التي بلغت (1192) إسنادًا، وكذلك رقمت أبواب الكتاب والتي بلغت (73) بابًا سوى باب حديث الصور الطويل.

وضبطت أكثر الكتاب بالشكل، لاسيما الأنساب والأعلام التي يخطئ حتى المتخصصون في ضبطها، وإني لا أستحي إن قلت إن ضبطي لأعلام الكتاب وأنسابه يمكن لمن جاء بعدي أن يعتمد عليه، وقد اجتهدت في ذلك غاية الجهد ورجعت لأكثر المراجع في سبيل ذلك ولربما بِتُّ ليلتي في البحث عن ضبط نسبة لم تذكرها كتب الضبط، وقد يكون للنسبة ضبطان ثابتان فإني أذكرهما معًا كما في نسبة «البَِسطامي» فقد ذكر أنها بفتح الباء وبكسرها فأضع العلامتين كما هو مبين.

ثم خرجت الكتاب على الإسناد، فجاء تخريجي أشبه بتوثيق النص منه إلى التخريج، ولأني أخرج الإسناد على طبقاته فقد أقدم المصدر النازل
চতুর্থ: গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার কর্মপদ্ধতি

অতঃপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যখন আমাকে তাওফিক দিলেন এবং আমি এই পাঁচটি পাণ্ডুলিপি লাভ করলাম, যার মাধ্যমে আমার প্রবল ধারণা হলো যে, আমি গ্রন্থটিকে এমন এক রূপে প্রকাশ করতে সক্ষম হব যা এর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) যেভাবে রেখে গিয়েছিলেন তার অনেকটা কাছাকাছি হবে; তখন আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে মাহমুদিয়াহ পাণ্ডুলিপি থেকে কিতাবটি অনুলিপি করি এবং চেস্টার বিটি পাণ্ডুলিপির সহায়তা গ্রহণ করি। উক্ত পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করতে গিয়ে আমাকে অত্যন্ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, কারণ অনেক স্থানেই ছবির মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। এরপর যখনই আমার কাছে ‘তৃতীয় আহমাদ’ পাণ্ডুলিপিটি পৌঁছাল, তখন আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম; আল্লাহ এর মাধ্যমে আমাকে রক্ষা করেছেন, কারণ এটি ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ।

অনুলিপি সম্পন্ন করার পর আমি প্রাপ্ত সকল পাণ্ডুলিপির সাথে আমার অনুলিপিটি মিলিয়ে দেখেছি এবং আমি কেবল সেই পার্থক্যগুলো উল্লেখ করার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি যেগুলোর পাঠ্য উপলব্ধিতে প্রভাব রয়েছে। আর অনেক পার্থক্য আমি উল্লেখ করা ছেড়ে দিয়েছি কারণ আমি মনে করেছি যে পাঠকের জন্য সেগুলো উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজন নেই।

এরপর আমি কিতাবটির সনদগুলোর নম্বর প্রদান করেছি যা ১১৯২টি পর্যন্ত পৌঁছেছে। একইভাবে আমি কিতাবটির অধ্যায়গুলোকেও নম্বরযুক্ত করেছি যার সংখ্যা হলো ৭৩টি, শিঙা (সুর) সংক্রান্ত দীর্ঘ হাদিসের অধ্যায়টি ব্যতীত।

আমি গ্রন্থটির অধিকাংশ স্থানে হরকত প্রদান করেছি, বিশেষ করে বংশনাম (আনসাব) এবং ব্যক্তিনামগুলোর (আলাম) ক্ষেত্রে, যেগুলোর সঠিক উচ্চারণে এমনকি বিশেষজ্ঞরাও ভুল করে থাকেন। আমি বলতে কুণ্ঠাবোধ করছি না যে, এই কিতাবের ব্যক্তিনাম ও বংশনামের ক্ষেত্রে আমার কৃত হরকত বিন্যাসের ওপর পরবর্তী গবেষকগণ নির্ভর করতে পারবেন। এ বিষয়ে আমি আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এবং অধিকাংশ তথ্যসূত্রের শরণাপন্ন হয়েছি। এমনকি এমনও হয়েছে যে, কোনো একটি বংশনামের সঠিক উচ্চারণের সন্ধানে আমি পুরো রাত কাটিয়ে দিয়েছি যা এই বিষয়ের সাধারণ গ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি বংশনামের দুটি প্রমাণিত উচ্চারণ পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে আমি সেগুলো একসাথেই উল্লেখ করেছি। যেমন ‘বাস্তামি/বিস্তামি’ শব্দটির ক্ষেত্রে ‘বা’ বর্ণে যবর ও যের উভয়টিই উল্লেখ করা হয়েছে, তাই আমি নির্দেশিত পদ্ধতি অনুযায়ী উভয় চিহ্নই ব্যবহার করেছি।

এরপর আমি সনদ অনুযায়ী কিতাবটির তাখরিজ (উৎস যাচাই) করেছি। ফলে আমার এই তাখরিজ সাধারণ তাখরিজের চেয়ে পাঠ্য প্রামাণ্যিকরণের মতো হয়েছে। আর যেহেতু আমি সনদের স্তর বিন্যাস অনুযায়ী তাখরিজ করেছি, তাই আমি অনেক সময় নিম্নস্তরের বা পরবর্তী সময়ের উৎসকেও আগে প্রদান করেছি...
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
على المصدر العالي، لتعلق الأول بالإسناد، خلافا للثاني، فلا يُظَن بي أني قصرت في العزو، فقد أبدأ مثلا بالتخريج من كتاب الحاكم «المستدرك» أو بكتاب «المعرفة والتاريخ» للفسوي، ثم أثني بسنن الترمذي أو مسند أحمد أو أي مصدر أعلى من الذين بدأت بهما، ذلك لوجودهما في الإسناد، أو لأنهما يرويان من طريق راو جاء ذكره في الإسناد.

وقد أشرت في كثير من الأحيان إلى درجة الحديث من حيث الصحة والضعف وذلك من خلال ذكر أقوال أهل العلم من النقاد، والبيهقي رحمه الله قد تعرض لذلك في بعض المواطن.

وأخيرًا صنعت مجموعة من الفهارس الفنية التي تعين القارئ على الوصول لبغيته فصنعت فهرسًا للآيات وآخر للأحاديث والآثار وثالثًا لشيوخ الإمام البيهقي الذين روى عنهم في «البعث والنشور»، ورابعاً للمصادر والمراجع التي اعتمدت عليها، وأخيرًا للموضوعات.

وإني لأحمد ربي حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه، وإن كان جهد الحمد لا يفي بشكر نعمة واحدة من نعمه، إذ وفقني لتحقيق هذا الكتاب ويسر لي السبيل إلى ذلك، وإني لا يسعني أن أغفل ذكر من أعان على ذلك فقد صح
উচ্চতর উৎসের ওপর, কারণ প্রথমটি ইসনাদের (সনদ) সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে, দ্বিতীয়টির পরিপন্থী। সুতরাং আমার প্রতি যেন এমন ধারণা না করা হয় যে আমি উৎস নির্দেশনায় (হাদীসের উৎস নির্ঘণ্ট) অবহেলা করেছি। আমি হয়তো উদাহরণস্বরূপ হাকেমের কিতাব ‘আল-মুস্তাদরাক’ অথবা ফাসাউয়ির কিতাব ‘আল-মা’রিফাহ ওয়াত-তারিখ’ থেকে তাখরীজ শুরু করেছি, অতঃপর তিরমিযীর সুনান অথবা আহমদের মুসনাদ অথবা যে দুটি দিয়ে শুরু করেছি তার চেয়ে উচ্চতর কোনো উৎস উল্লেখ করেছি। এটি করা হয়েছে সনদে তাদের উপস্থিতির কারণে, অথবা তারা এমন একজন বর্ণনাকারীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যার উল্লেখ সনদে এসেছে।

আমি অনেক ক্ষেত্রে সহীহ ও যঈফ হওয়ার দিক থেকে হাদীসের স্তরের দিকে ইঙ্গিত করেছি এবং তা ইলমে হাদীসের সমালোচক আলিমগণের বক্তব্য উল্লেখ করার মাধ্যমে সম্পন্ন করেছি। ইমাম বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) নিজেও কিছু স্থানে এই বিষয়ের অবতারণা করেছেন।

পরিশেষে, আমি একগুচ্ছ কারিগরি সূচিপত্র তৈরি করেছি যা পাঠককে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয় খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। আমি আয়াতের একটি সূচি, হাদীস ও আসারের একটি সূচি, ‘আল-বা’স ওয়ান নুশূর’ কিতাবে ইমাম বায়হাকী যে সকল শাইখদের থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের একটি সূচি, আমি যে সকল উৎস ও রেফারেন্সের ওপর নির্ভর করেছি সেগুলোর একটি এবং সবশেষে বিষয়ভিত্তিক একটি সূচিপত্র প্রস্তুত করেছি।

আমি আমার প্রতিপালকের প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা করছি, যদিও প্রশংসার কোনো প্রচেষ্টাই তাঁর নেয়ামতসমূহের মধ্য হতে একটি নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের জন্য যথেষ্ট নয়; যেহেতু তিনি আমাকে এই কিতাবটি তাহকীক করার তাওফিক দিয়েছেন এবং আমার জন্য এর পথ সুগম করেছেন। আর যারা এই কাজে সহযোগিতা করেছেন তাদের কথা উল্লেখ করতে ভুলে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়, কেননা এটি বর্ণিত হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لا يَشْكُرُ اللهَ مَن لا يَشْكُر النَّاسَ» (1).

فأبدأ أولا بشيخي الكريمين:

الدكتور العلامة الشيخ أحمد معبد عبد الكريم، حفظه الله ورعاه، فهو صاحب المنهج والموجه الأول لهذا العمل، بل هو من كان يدفعني للعمل دفعًا، بالترغيب تارة وبالتوبيخ تارة، فجزاه الله عن المسلمين خيرا، وشيخي ووالدي الذي لم يلدني، الذي لولا أن مَنَّ اللهُ عليَّ صغيرًا بصحبته لما كنت عرفت قَبيلًا من دَبِير، الشيخ الإمام الذي ما رأيت مثله قط أبي إسحاق الحويني حفظه الله ورعاه، وشفاه وعافاه وأمد في الخير عمره ومتعه بالعافية والستر في الدنيا والآخرة، فلولاهما -بارك الله فيهما- بعد عناية الله عز وجل ما أُنْجِز هذا العمل ولا غيره من أعمال سابقة.

ثم على ترتيب العمل في هذا الكتاب أشكر أخي وصديقي الكريم أبي عمر عبد المحسن بن محمد فَهيم الذي عانى معي في النسخ من نسخة المحمودية، وغيرها.

وأخي الحبيب وصديقي وصفيي الأستاذ هشام بن إبراهيم الجَوْجَرِي، الذي ساعدني في النسخ أيضًا وفي المقابلة، وليس كتاب أحققه إلا وله علي يد في إخراجه، فأسأل الله تعالى أن يُهَيأ له من أمره رشدًا.

وأخيرًا أخي الكريم المتأدب بالأخلاق العالية محمد بن غالب الدمشقي الذي أنجز معي أكثر فهارس الكتاب، أسال الله تعالى أن يحفظه وأهله من كل سوء.

--------------------------------------------

(1) اخرجه أبو داود (4811)، والترمذي (1954)، وقال صحيح.
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হয় না» (১)।

তাই আমি প্রথমে আমার দুইজন সম্মানিত শায়খের মাধ্যমে শুরু করছি:

শায়খ আল্লামা ডক্টর আহমাদ মাবাদ আব্দুল কারিম—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন ও রক্ষা করুন—যিনি এই কর্মপদ্ধতির প্রবর্তক এবং এই কাজের প্রধান নির্দেশক। বরং তিনিই আমাকে এই কাজে অবিরাম নিয়োজিত রেখেছেন, কখনও উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে আবার কখনও তিরস্কারের মাধ্যমে। আল্লাহ তাঁকে মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। এবং আমার শায়খ ও পিতা—যিনি আমাকে জন্ম না দিলেও শৈশব থেকে যদি আল্লাহ আমাকে তাঁর সাহচর্যের নিয়ামত না দিতেন, তবে আমি হিতাহিত জ্ঞান লাভ করতে পারতাম না—এমন এক ইমাম ও শায়খ যাঁর মতো আমি কাউকে দেখিনি, তিনি হলেন আবু ইসহাক আল-হুয়াইনী—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন, রক্ষা করুন, সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন, তাঁর নেক হায়াত বৃদ্ধি করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁকে নিরাপত্তা ও আবরণে আবৃত রাখুন। মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের পর যদি তাঁদের দু’জন না থাকতেন—আল্লাহ তাঁদের উভয়কে বরকত দান করুন—তবে এই কাজ কিংবা এর পূর্ববর্তী কোনো কাজই সম্পন্ন হতো না।

অতঃপর এই কিতাবের কাজ সম্পাদনের ধারাবাহিকতায় আমি আমার সম্মানিত ভাই ও বন্ধু আবু উমর আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মাদ ফাহিমকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, যিনি মাহমুদিয়্যাহ ও অন্যান্য পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি তৈরিতে আমার সাথে শ্রম দিয়েছেন।

এবং আমার প্রিয় ভাই, বন্ধু ও অকৃত্রিম সুহৃদ উস্তাদ হিশাম বিন ইবরাহিম আল-জাওজারি, যিনি আমাকে অনুলিপি তৈরি ও মূল পাঠের সাথে যাচাইকরণে (মুকাবালা) সাহায্য করেছেন। এমন কোনো কিতাব নেই যা আমি সম্পাদনা করেছি অথচ তা প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ অবদান নেই। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর সকল কাজে সঠিক পথ সুগম করে দেন।

সবশেষে আমার অত্যন্ত মার্জিত ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী সম্মানিত ভাই মুহাম্মাদ বিন গালিব আদ-দিমাশকি, যিনি আমার সাথে এই কিতাবের অধিকাংশ নির্ঘণ্ট তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে যাবতীয় অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৪৮১১) এবং তিরমিজি (১৯৫৪), এবং তিনি একে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وإنه لَمِن نَافِلَةِ القول أن أقول: إني لا أُسَلِّمُ نفسي عن خَطَإ أو زَلَل، ولا أَعْصِمُ قولي عن وَهَمٍ وخَطَل، فالفَاضِل مَنْ تُعدُّ سَقَطَاتُهُ، وتُحْصَى غَلَطَاتُهُ إلا بتوفيق اللهِ وعِصْمَتِه، والسَّالِم مِن ذلك كتابُ الله المَجِيد الذِي {لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ (42)} [فصلت: 42].

واللهَ تَعَالى أسأل أَنْ يَجعلَ عَمَلِي هذا خالصًا لوجهه، وأن يجعل تحقيقي وعنايتي بكتابٍ «البعث والنشور»، زادًا ليومِ البعث والنشور، وأَنْ يوفقني لما يحبه ويرضاه، وأن يرزقني حبه، وأن يمتعني بالستر والعافية في الدين والدنيا والآخرة، {رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ (40) رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ} [إبراهيم: 40 - 41]

والحمدُ لله أولًا وآخرًا ظاهرًا وباطنًا.

 

وكَتبهُ راجي عفو ربه الكريم

أبو عاصم الشَّوَامِي محمد بن محمود بن إبراهيم

في اليوم الثامن من شهر جمادى الآخر سنة ست وثلاثين وأربعمائة وألف

من هجرة النبي صلى الله عليه وسلم

* * * * *
আর এ কথা বলাই বাহুল্য যে, আমি নিজেকে ভুল বা বিচ্যুতি থেকে মুক্ত বলে দাবি করি না এবং আমার কথাকে ভ্রান্তি ও অসারতা থেকে পবিত্র মনে করি না। কেননা গুণী ব্যক্তি তিনিই, যাঁর ভুলগুলো গুটিকয়েক এবং যাঁর ভ্রান্তিগুলো গণনাযোগ্য, আর তা কেবল আল্লাহর তাওফিক ও তাঁরই রক্ষা করার মাধ্যমে সম্ভব। আর এসব থেকে কেবল আল্লাহর সুমহান কিতাবই সংরক্ষিত, যাতে "বাতিল এর সামনে থেকেও আসতে পারে না এবং এর পেছন থেকেও নয়; এটি প্রজ্ঞাময়, চির প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" [ফুসসিলাত: ৪২]।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার এই আমলকে কেবল তাঁর চেহারার (সন্তুষ্টির) জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং 'আল-বা'ছ ওয়ান নুশুর' কিতাবটির ওপর আমার এই তাহকিক ও যত্নকে পুনরুত্থান ও হাশরের দিনের পাথেয় হিসেবে কবুল করেন। আর তিনি যেন আমাকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজের তাওফিক দান করেন, তাঁর ভালোবাসা নসিব করেন এবং আমাকে দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতে পর্দা ও নিরাপত্তার নেয়ামত দান করেন। "হে আমার রব! আমাকে সালাত কায়েমকারী করুন এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের রব! আমাদের দোয়া কবুল করুন। হে আমাদের রব! যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিন।" [ইবরাহীম: ৪০-৪১]

আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য—শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে।

 

আর এটি লিখেছেন তাঁর মহান রবের ক্ষমার প্রত্যাশী

আবু আসিম আশ-শাওয়ামী মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ ইবনে ইবরাহীম

চৌদ্দশ ছত্রিশ হিজরি সনের জামাদিউল আখিরা মাসের আট তারিখ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরত অনুসারে

* * * * *
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌الخامس: ترجمة الإمام البيهقي

هو الإمام الحافظ العلامة، الثبت، الفقيه، شيخ الإسلام، أبو بكر أحمد بن الحسين بن علي بن عبد الله بن موسى الخُسْرَوْجِرْدِي، الخُرَاسَانِي، البَيْهَقِي.

وخُسْرَوْجِرْد بِضَم الْخَاء الْمُعْجَمَة وَسُكُون السِّين الْمُهْملَة وَفتح الرَّاء وَسُكُون الْوَاو وَكسر الْجِيم وَسُكُون الرَّاء وَفِي آخرهَا الدَّال الْمُهْملَة قَرْيَة من نَاحيَة بيهق.

ولد: في سنة أربع وثمانين وثلاث مائة في شعبان. وقد سمع وهو ابن خمس عشرة سنة من: أبي الحسن محمد بن الحسين العلوي؛ صاحب أبي حامد بن الشرقي، وهو أقدم شيخ عنده، وفاته السماع من أبي نعيم الإسفراييني؛ صاحب أبي عوانة، وروى عنه بالإجازة في البيوع.

قال الإمام الذهبي:

وبورك له في علمه، وصنف التصانيف النافعة، ولم يكن عنده «سنن النسائي»، ولا «سنن ابن ماجه»، ولا «جامع أبي عيسى» بلى عنده عن الحاكم وقر بعير أو نحو ذلك، وعنده «سنن أبي داود» عاليًا، وتفقه على ناصر العمري، وغيره.

وانقطع بقريته مقبلا على الجمع والتأليف، فعمل «السنن الكبير» في عشر مجلدات، ليس لأحد مثله، وألف كتاب «السنن والآثار» في أربع مجلدات، وكتاب «الأسماء والصفات» في مجلدتين، وكتاب «المعتقد» مجلد، وكتاب «البعث» مجلد، وكتاب «الترغيب والترهيب» مجلد، وكتاب «الدعوات» مجلد، وكتاب «الزهد» مجلد، وكتاب «الخلافيات» ثلاث
পঞ্চম: ইমাম বায়হাকীর পরিচিতি

তিনি হলেন ইমাম, হাফেজ, আল্লামা, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, ফকিহ, শায়খুল ইসলাম, আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুসা আল-খুসরাওজিরদী, আল-খুরাসানী, আল-বায়হাকী।

আর খুসরাওজিরদ —যা নুকতাযুক্ত 'খা' অক্ষরে পেশ, নুকতাহীন 'সীন' অক্ষরে সাকিন, 'রা' অক্ষরে জবর, 'ওয়াও' অক্ষরে সাকিন, 'জীম' অক্ষরে যের এবং 'রা' অক্ষরে সাকিনসহ উচ্চারিত এবং এর শেষে রয়েছে নুকতাহীন 'দাল'— এটি বায়হাক অঞ্চলের একটি গ্রাম।

জন্ম: ৩৮৪ হিজরির শাবান মাসে। তিনি পনেরো বছর বয়সে হাদীস শুনেছেন: আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-আলাওয়ীর নিকট থেকে; যিনি আবু হামিদ ইবনে শারকীর ছাত্র এবং তিনি ইমাম বায়হাকীর সবচেয়ে প্রাচীন উস্তাদ। তিনি আবু নুয়াইম আল-ইসফারাইনী —যিনি আবু আওয়ানার ছাত্র— তাঁর নিকট থেকে সরাসরি শোনার সুযোগ পাননি, তবে তাঁর নিকট থেকে ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে 'ইজাযাহ'র (অনুমতি) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আয-যাহাবী বলেন:

তাঁর ইলমে বরকত দান করা হয়েছে এবং তিনি বহু উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর নিকট 'সুনানে নাসাঈ', 'সুনানে ইবনে মাজাহ' কিংবা 'জামে আবু ঈসা' (তিরমিযী) ছিল না। তবে হাকিমের নিকট থেকে তাঁর নিকট উটের পিঠের বোঝার সমান বা এই পরিমাণ পাণ্ডুলিপি ছিল। তাঁর নিকট 'সুনানে আবু দাউদ' উচ্চ সনদে ছিল এবং তিনি নাসির আল-উমারী ও অন্যদের নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন।

তিনি তাঁর গ্রামে নির্জনে অবস্থান করে সংকলন ও গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন। তিনি দশ খণ্ডে 'আস-সুনানুল কবীর' রচনা করেন, যার সমতুল্য আর কেউ করতে পারেনি। তিনি চার খণ্ডে 'আস-সুনান ওয়াল আসার', দুই খণ্ডে 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত', এক খণ্ডে 'আল-মু'তাকাদ', এক খণ্ডে 'আল-বা'স', এক খণ্ডে 'আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব', এক খণ্ডে 'আদ-দাওয়াত', এক খণ্ডে 'আয-যুহদ' এবং তিন খণ্ডে 'আল-খিলাফিয়াত' গ্রন্থসমূহ রচনা করেন।
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
مجلدات، وكتاب «نصوص الشافعي» مجلدان، وكتاب «دلائل النبوة» أربع مجلدات، وكتاب «السنن الصغير» مجلد ضخم، وكتاب «شعب الإيمان» مجلدان، وكتاب «المدخل إلى السنن» مجلد، وكتاب «الآداب» مجلد، وكتاب «فضائل الأوقات» مجيليد، وكتاب «الأربعين الكبرى» مجيليد، وكتاب «الأربعين الصغرى»، وكتاب «الرؤية» جزء، وكتاب «الإسراء»، وكتاب «مناقب الشافعي» مجلد، وكتاب «مناقب أحمد» مجلد، وكتاب «فضائل الصحابة» مجلد، وأشياء لا يحضرني ذكرها.

قال الحافظ عبد الغافر بن إسماعيل في «تاريخه»: كان البيهقي على سيرة العلماء، قانعًا باليسير، متجملا في زهده وورعه.

وقال أيضا: هو أبو بكر الفقيه، الحافظ الأصولي، الدَّيِّن الوَرِع، واحد زمانه في الحفظ، وفرد أقرانه في الإتقان والضبط، من كبار أصحاب الحاكم، ويزيد على الحاكم بأنواع من العلوم، كتب الحديث، وحفظه من صباه، وتفقه وبرع، وأخذ فن الأصول، وارتحل إلى العراق والجبال والحجاز، ثم صَنَّف، وتَوالِيفُه تُقَارِب ألف جزء مما لم يسبقه إليه أحد، جمع بين علم الحديث والفقه، وبيان علل الحديث، ووجه الجمع بين الأحاديث، طلب منه الأئمة الانتقال من بَيْهَق إلى نَيْسَابُور، لِسَماع الكتب، فأتى في سنة إحدى وأربعين وأربع مائة، وعَقَدُوا له المجلس لسماع كتاب «المعرفة» وحضره الأئمة.

وقال الذهبي أيضًا: «وبلغنا عن إمام الحرمين أبي المعالي الجُوَيْنِيِّ قال: ما من فقيه شافِعي إلا وللشافعي عليه مِنَّةٌ إلا أبا بكر البَيْهَقِي، فإن المِنَّةَ له على الشافعي لِتَصَانِيفِه في نُصْرَة مَذْهَبِه».
খণ্ডসমূহ, এবং ‘নুসুস আশ-শাফিয়ি’ গ্রন্থটি দুই খণ্ড, ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থটি চার খণ্ড, ‘আস-সুনান আস-সাগির’ গ্রন্থটি একটি বিশাল খণ্ড, ‘শুআবুল ঈমান’ গ্রন্থটি দুই খণ্ড, ‘আল-মাদখাল ইলাস সুনান’ গ্রন্থটি এক খণ্ড, ‘আল-আদাব’ গ্রন্থটি এক খণ্ড, ‘ফাদাইলুল আওকাত’ গ্রন্থটি একটি ছোট খণ্ড, ‘আল-আরবাউন আল-কুবরা’ গ্রন্থটি একটি ছোট খণ্ড, ‘আল-আরবাউন আস-সুগরা’ গ্রন্থটি, ‘আর-রুইয়াহ’ গ্রন্থটি এক জুজ (অংশ), ‘আল-ইসরা’ গ্রন্থটি, ‘মানাকিব আশ-শাফিয়ি’ গ্রন্থটি এক খণ্ড, ‘মানাকিব আহমাদ’ গ্রন্থটি এক খণ্ড, ‘ফাদাইলুস সাহাবা’ গ্রন্থটি এক খণ্ড, এবং আরও অনেক কিছু যা এখন আমার স্মরণে আসছে না।

হাফিজ আব্দুল গাফির বিন ইসমাইল তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থে বলেছেন: বায়হাকী ওলামায়ে কেরামের আদর্শের ওপর অটল ছিলেন, অল্পে তুষ্ট থাকতেন এবং তাঁর দুনিয়াবিমুখতা ও পরহেজগারিতে অত্যন্ত মার্জিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন: তিনি হলেন আবু বকর আল-ফকিহ, হাফিজুল উসুলি, ধর্মপ্রাণ ও পরহেজগার, হিফজের ক্ষেত্রে তাঁর যুগের অদ্বিতীয় এবং নির্ভুলতা ও সুদৃঢ়তার ক্ষেত্রে তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে অনন্য। তিনি হাকিমের বড় সাথীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় হাকিমের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখতেন। তিনি হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন, শৈশব থেকে তা মুখস্থ করেছেন, ফিকহ শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন এবং উসুল শাস্ত্র আয়ত্ত করেছেন। তিনি ইরাক, জিবাল ও হিজাজ সফর করেছেন, অতঃপর গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর রচনাবলি প্রায় এক হাজার জুজের কাছাকাছি, যা তাঁর আগে কেউ করতে পারেনি। তিনি হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের মাঝে সমন্বয় সাধন করেছেন এবং হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি ও হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয়ের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। আইম্মায়ে কেরাম তাঁর কাছে বায়হাক থেকে নিশাপুরে আসার আবেদন করেন যেন তাঁর কিতাবসমূহ শ্রবণ করা যায়। ফলে তিনি চারশ একচল্লিশ হিজরিতে সেখানে আসেন এবং তাঁর থেকে ‘আল-মা’রিফাহ’ কিতাবটি শোনার জন্য মজলিস কায়েম করা হয় যেখানে বড় বড় ইমামগণ উপস্থিত ছিলেন।

ইমাম যাহাবি আরও বলেন: ‘আমাদের কাছে ইমামুল হারামাইন আবু আল-মাআলি আল-জুওয়াইনি থেকে পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন: আবু বকর আল-বায়হাকী ছাড়া এমন কোনো শাফিয়ি ফকিহ নেই যার ওপর ইমাম শাফিয়ির অনুগ্রহ নেই। বরং শাফিয়ি মাযহাবের সমর্থনে তাঁর রচনাবলির কারণে ইমাম শাফিয়ির ওপরই তাঁর অনুগ্রহ রয়েছে।’
(খণ্ড: ১) আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল বাইহাকী ত. আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
قال الذهبي: «قلت: أصاب أبو المعالي، هكذا هو، ولو شاء البيهقي أن يَعْمَل لِنَفْسِه مذهبًا يَجْتَهِدُ فيه؛ لكان قادرًا على ذلك، لِسَعَة عُلُومِهِ، ومَعْرَفِتِه بالاختلاف، ولهذا تراه يُلَوِّحُ بِنَصْر مَسائِل مِمَّا صَحَّ فِيهَا الحَدِيث.

ولَمَّا سَمِعُوا منه ما أحبوا في قَدْمَتِهِ الأخيرة، مَرِضَ، وحَضَرَت المَنِيَّةُ، فَتُوفِّي: في عاشر شهر جمادى الأولى، سنة ثمان وخمسين وأربعِمائة، فَغُسِّل وكُفِّنَ، وعُمِلَ له تَابُوت، فَنُقِل ودُفِن بِبَيْهَق، وهي نَاحِية قَصَبَتِها خُسْرَوْجِرد، هي مَحْتِدِهُ، وهي على يومين من نيسابور، وعاش أربعًا وسبعين سنة» (1).

هذا والإمام البيهقي رحمه الله أشعري المعتقد قد اشتهر بذلك، وقد عده الإمام ابن عساكر في «تبيين كذب المفتري» (2) ضمن أعيان الأشاعرة، وقال ابن السبكي في «الطبقات» (3): «وقرأ علم الكلام على مذهب الأشعري».

وذكر شيخ الإسلام ابن تيمية أنه يتولى مذهب المتكلمين من أصحاب أبي الحسن الأشعري ويذب عنهم وأنه من فضلاء الأشاعرة (4).

وأختم ترجمته بذكر شيوخه الذين روى عنهم في كتاب «البعث والنشور»، فقط وقد ذكرتهم في جملة الفهارس مرتبين على الاسم، وإني ذاكرهم هنا في المقدمة مرتبين على الكنية، ليسهل الوصول إليهم، وهم:

1 - أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن إبراهيم الإمام

2 - أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن إبراهيم الطوسي الفقيه

--------------------------------------------

(1) ما نقل عن الإمام الذهبي هو من ترجمته للبيهقي في «سير أعلام النبلاء» (18/ 163)، وما بعدها.

(2) «تبيين كذب المفتري فيما نسب إلى الإمام أبي الحسن الأشعري» ص (265).

(3) «طبقات الشافعية» (4/ 9).

(4) ينظر «محموع فتاوى ابن تيمية» (5/ 87) (6/ 53)، و «شرح العقيدة الأصفهانية» (ص 203).
আয-যাহাবী বলেছেন: «আমি বলছি: আবু আল-মাআলি সঠিক বলেছেন, বিষয়টি এমনই। আর আল-বায়হাকী যদি নিজের জন্য এমন কোনো মাযহাব তৈরি করতে চাইতেন যাতে তিনি ইজতিহাদ করবেন, তবে তাঁর ইলমের প্রশস্ততা এবং মতভেদ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের কারণে তিনি তাতে সক্ষম হতেন। এজন্যই আপনি তাকে এমন সব বিষয়ের মাসয়ালাগুলোর সমর্থনে ইঙ্গিত দিতে দেখেন যেগুলোর ক্ষেত্রে হাদিস সহিহ প্রমাণিত হয়েছে।

এবং যখন তারা তাঁর শেষ আগমনে তাঁর কাছ থেকে যা শুনতে পছন্দ করত তা শুনল, তখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল। অতঃপর তিনি চারশ আটান্ন হিজরির জুমাদাল উলা মাসের দশম তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে গোসল দেওয়া হল এবং কাফন পরানো হল, এবং তাঁর জন্য একটি কফিন তৈরি করা হল। এরপর তাকে বায়হাক-এ স্থানান্তর করে দাফন করা হল। এটি এমন একটি এলাকা যার প্রধান শহর হল খুসরوجিরদ, যা তাঁর জন্মস্থান। এটি নিশাপুর থেকে দুই দিনের দূরত্বে অবস্থিত। তিনি চুয়াত্তর বছর জীবিত ছিলেন» (১)।

আর ইমাম আল-বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) আকিদাগতভাবে আশআরি ছিলেন এবং তিনি এ বিষয়েই প্রসিদ্ধ। ইমাম ইবনে আসাকির তাকে «তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি» (২) গ্রন্থে বিশিষ্ট আশআরিদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইবনে সুবকী «আত-তবাকাত» (৩) গ্রন্থে বলেছেন: «তিনি আশআরি মাযহাব অনুযায়ী ইলমুল কালাম অধ্যয়ন করেছেন»।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আবুল হাসান আল-আশআরি-র অনুসারী কালামশাস্ত্রবিদদের মাযহাব অনুসরণ করতেন এবং তাদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করতেন এবং তিনি আশআরিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্বান ছিলেন (৪)।

আমি তাঁর জীবনী শেষ করছি তাঁর ঐ সকল শাইখদের আলোচনার মাধ্যমে যাদের থেকে তিনি «আল-বাসু ওয়ান নুশুর» কিতাবে বর্ণনা করেছেন। আমি তাদের সকলকে নির্ঘণ্টের মধ্যে নাম অনুযায়ী সাজিয়েছি, আর এখানে মুকাদ্দিমায় আমি তাদের কুনিয়াত (উপনাম) অনুযায়ী উল্লেখ করছি যাতে তাদের কাছে পৌঁছানো সহজ হয়। তারা হলেন:

১ - আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আল-ইমাম

২ - আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আত-তুসি আল-ফকিহ

--------------------------------------------

(১) ইমাম আয-যাহাবী থেকে যা উদ্ধৃত করা হয়েছে তা তাঁর «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১৮/ ১৬৩) এবং এর পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহে আল-বায়হাকীর জীবনী থেকে নেওয়া হয়েছে।

(২) «তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি ফীমা নুসিবা ইলাল ইমাম আবিল হাসান আল-আশআরি» পৃষ্ঠা (২৬৫)।

(৩) «তবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ» (৪/ ৯)।

(৪) দেখুন «মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ» (৫/ ৮৭) (৬/ ৫৩), এবং «শারহুল আকিদাতিল আসফাহানিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা ২০৩)।