(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
الجامع في أمثال القرآن   (ابن القيم)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الجامع في أمثال القرآن، للعلامة ابن القيم

جمعه ورتبه ووثق نصوصه وحققه: أبو أويس الكردي

(جمع أمثال القرآن التي ذكرها ابن القيم في كتبه ورتبتها على السور)

راجعه وقدم له: الشيخ مصطفى العدوي

الناشر: مكتبة ابن تيمية - القاهرة، مصر

الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م

عدد الصفحات: 245

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1446

আল-জামি' ফি আমসালিল কুরআন   (ইবনুল কাইয়্যিম)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলুত তাফসীর


গ্রন্থ: আল-জামি' ফি আমসালিল কুরআন، আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম-এর রচিত

সংকলন, বিন্যাস, পাঠের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (توثيق) ও সম্পাদনা (تحقيق): আবু উওয়াইস আল-কুর্দি

(ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর গ্রন্থসমূহে কুরআনের যে সকল দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেছেন সেগুলোর সংকলন এবং সূরা অনুযায়ী সেগুলোর বিন্যাস)

নিরীক্ষণ (مراجعة) ও ভূমিকা: শায়খ মোস্তফা আল-আদাওয়ী

প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া - কায়রো، মিশর

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৫

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة فضيلة الشيخ

مصطفى بن العدوي

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله

وبعد:

فمن نعم الله عز وجل على العبد بعد أن يوفقه ويهديه ويشرح صدره للإسلام أن يوفقه لطلب العلم الشرعي، المتمثل بالدرجة الأولى في كتاب الله عز وجل، وفي سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فتلك علامة خير، وذلك شاهد صدق بإذن الله، إذ النبي صلى الله عليه وسلم قال: «خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ»(1) وقال: «مَنْ يُرِد الله بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ»(2).

هذا، ومن أجل العلوم وأنفعها كما أشرت وأسلفت العلم بكتاب الله عز وجل وتدبر آياته والتفكر فيها.

ولقد ضرب الله عز وجل في كتابه العزيز أمثالا للناس لعلهم يتذكرون ويتفكرون ويتقون، وفهم هذه الأمثال على الوجه الذي يريده الله عز وجل نعمة عظيمة

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (5027) من حديث عثمان رضي الله عنه.

(2) أخرجه البخاري (3116)، ومسلم (1037) من حديث معاوية رضي الله عنه.

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

 

‌‌মর্যাদাবান শায়খ

মুস্তফা বিন আল-আদাওয়ীর ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

বান্দাকে তাওফিক দান, হিদায়াত প্রদান এবং ইসলামের জন্য তার বক্ষ উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর মহান আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত হলো তাকে শরয়ী ইলম অর্জনের তাওফিক দান করা। এই ইলম মূলত মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর মাঝে নিহিত। এটি কল্যাণের লক্ষণ এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সত্যের সাক্ষ্য, যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা শিক্ষা দেয়»(১) এবং তিনি বলেছেন: «আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করেন»(২)।

আমি ইতিপূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছি, মহান আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান অর্জন করা এবং এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ও গবেষণা করা হলো অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও উপকারী ইলম।

মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে মানুষের জন্য বহু দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে, চিন্তা-ভাবনা করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে। আর এই দৃষ্টান্তসমূহকে আল্লাহ যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে উপলব্ধি করা এক বিশাল নেয়ামত।

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৫০২৭) এটি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

(২) বুখারি (৩১১৬) এবং মুসলিম (১০৩৭) এটি মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪)
من أجل النعم فذلك بإذن الله يورث تفكرًا وتدبرًا ويحمل على التقوى بإذن الله.

والذين يعقلون هذه الأمثال وصفهم الله عز وجل ب {الْعَالِمُونَ}.

إذ الله عز وجل قال: {وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا الْعَالِمُونَ} [العنكبوت: 43].

هذا، ومن أهل العلم الذين رزقهم الله فهمًا وآتاهم الله بصيرة في هذا الصدد العلامة ابن القيم رحمه الله تعالى، والمتأمل في كتبه والناظر في رسائله يرى ذلك بوضوح وجلاء، فقد تكلم العلامة رحمه الله عن أمثال القرآن في العديد من كتبه، وكان منها كتاب الأمثال له، وقد قيل: إنه هو الذي أفرده بالتصنيف، وقيل: إنه أُخِذَ من «إعلام الموقعين» وعلى كلٍّ فقد أجاد العلامة ابن القيم رحمه الله في شرح كثير من أمثال القرآن إجادة لا تخفى.

هذا، وقد قام أخي في الله/ الشيخ/ أبو أويس أشرف بن نصر بن صابر الكردي حفظه الله تعالى بتحقيق الأحاديث والآثار الواردة في كتاب الأمثال لابن القيم وكذا تخريجها، مع الحكم عليها بما تستحقه من الصحة والضعف، وكذا فقد تتبع كتب العلامة ابن القيم، وأورد أقواله وشروحه في الأمثال التي لم تذكر في كتاب الأمثال أو ذكرت مختصرة وبسطت في موضع آخر من كتبه ورتبها على سور القرآن.

وأضاف في الحاشية بعض الإضافات والنقولات عن بعض أهل العلم الأولين كالطبري وابن كثير وغيرهما.

هذا، وقد راجعت مع أخي/ الشيخ/ أبي أويس حفظه الله عمله فألفيته، ولله الحمد نافعًا مباركًا.
মহান নিয়ামতসমূহের অন্যতম; যা আল্লাহর অনুমতিক্রমে চিন্তা ও গবেষণার উদ্রেক করে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তাকওয়ার দিকে ধাবিত করে।

যারা এই দৃষ্টান্তসমূহ বোঝেন, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাদেরকে 'জ্ঞানী' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

যেহেতু আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ইরশাদ করেছেন: "আর এই দৃষ্টান্তসমূহ আমি মানুষের জন্য পেশ করি, কিন্তু কেবল জ্ঞানীরাই তা বোঝে।" [আল-আনকাবুত: ৪৩]।

এ বিষয়ে আহলে ইলমদের (জ্ঞানী) মধ্যে আল্লাহ যাদেরকে প্রজ্ঞা এবং অন্তর্দৃষ্টি দান করেছেন, তাঁদের অন্যতম হলেন আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা)। তাঁর কিতাবসমূহ গভীর অভিনিবেশ সহকারে অধ্যয়নকারী এবং তাঁর পত্রাবলির প্রতি দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তি তা স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন। আল্লামা (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর অসংখ্য কিতাবে কুরআনের উপমাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর 'কিতাবুল আমসাল'। কেউ কেউ বলেন, তিনি এটি স্বতন্ত্রভাবে রচনা করেছেন, আবার কেউ বলেন, এটি ‘ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন’ থেকে সংগৃহীত। তবে যাই হোক, আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) কুরআনের অনেক উপমার ব্যাখ্যায় এমন দক্ষতা দেখিয়েছেন যা অনস্বীকার্য।

আমার দ্বীনি ভাই শায়খ আবু উওয়াইস আশরাফ বিন নাসর বিন সাবের আল-কুর্দি (হাফিজাহুল্লাহ তায়ালা) ইবনুল কাইয়্যিমের 'কিতাবুল আমসাল'-এ বর্ণিত হাদিস ও আসার (الآثار) সমূহের তাহকিক (تحقيق) এবং তাখরিজ (تخريج) করার কাজ সম্পাদন করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি সেগুলোর বিশুদ্ধতা (الصحة) এবং দুর্বলতা (الضعف) এর মধ্য থেকে যা প্রাপ্য, সেই অনুযায়ী সেগুলোর ওপর হুকুম (الحكم) প্রদান করেছেন। একইভাবে তিনি আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিমের কিতাবসমূহ অনুসন্ধান করেছেন এবং সেই সমস্ত উপমাগুলোর ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য ও ব্যাখ্যাগুলোও উল্লেখ করেছেন যেগুলো 'কিতাবুল আমসাল'-এ উল্লিখিত হয়নি অথবা সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর অন্য কিতাবগুলোতে বিস্তারিতভাবে এসেছে। তিনি এগুলোকে কুরআনের সুরা অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন।

তিনি পাদটীকায় পূর্ববর্তী আহলে ইলমদের মধ্য থেকে তাবারী, ইবনে কাসির এবং অন্যদের কিছু সংযোজন ও উদ্ধৃতিও যুক্ত করেছেন।

আমি আমার ভাই শায়খ আবু উওয়াইসের (হাফিজাহুল্লাহ) সাথে তাঁর কাজটি পর্যালোচনা করেছি এবং আলহামদুলিল্লাহ, এটিকে অত্যন্ত উপকারী ও বরকতময় পেয়েছি।
(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
أسأل الله أن يجازيه خيراً وأن يوفقه لمواصلة طلب العلم والدعوة إلى الله، وصل اللهم على سيدنا محمد وسلم، والحمد لله رب العالمين.

 

كتبه/ أبو عبد الله

مصطفى بن العدوي
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং ইলম অর্জন ও আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজ অব্যাহত রাখার তাওফিক দান করেন। হে আল্লাহ, আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

এটি লিখেছেন/ আবু আব্দুল্লাহ

মোস্তফা বিন আল-আদাবী
(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم

إِنَّ الحَمْدَ لِلهِ تَعَالَى، نَحْمَدُه، وَنَسْتَعِينُهُ، وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بالِلهِ من شُرُور أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْد اللهُ فَلا مُضِلّ لَه، ومَن يُضْلِل فَلا هَادِي لَه، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَه إلا اللهُ، وَحْدَهُ لَا شَريك لَه، وَأَشْهَدُ أَنَّ محمدًا عَبْدُهُ ورسولُهُ.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)}

[آل عمران: 102].

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70 - 71].

فَإنَّ أصدقَ الْحَدِيث كِتَابُ الله، وَخَيْرَ الْهَدْي هَدْي مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَشَرّ الأُمُور مُحْدَثَاتُهَا، وَكل مُحْدَثَةٍ بِدْعَة، وَكل بِدْعَةٍ ضلالة(1).

أما بعد: فَلَا يَخْفَى عَلَى ذِي مَيز، وَلَا يشتبه عَلَى ذِي لُبٍّ مَا جَعَل الله تَعَالَى فِي الْأَمْثَالِ من الحِكْمَةِ، وأودع فِيها من الفَائِدَة، وناط بِهَا مَنْ الحَاجَةِ؛ فَإِنْ ضَرب الأمثال في القرآن يُستفاد منه أمورٌ كثيرة.

--------------------------------------------

(1) وزيادة «كل ضلالة في النار» شاذة، وقد تكلمت عليها في حاشية «الاعتصام» للشاطبي. ط. دار ابن رجب (ص 57) بتحقيقي. وانظر غير مأمور شرحًا لألفاظ خطبة الحاجة في «مجموع الفتاوى» (18/ 285 - 290).

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না (১০২)}

[আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন (১)} [নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০)। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে (৭১)} [আহজাব: ৭০ - ৭১]।

নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই হলো বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই হলো ভ্রষ্টতা(১)।

অতঃপর: বিবেকসম্পন্ন কোনো ব্যক্তির কাছে এটি গোপন নয় এবং বুদ্ধিমানের কাছেও এটি অস্পষ্ট নয় যে, আল্লাহ তাআলা উদাহরণসমূহের মধ্যে কী পরিমাণ প্রজ্ঞা নিহিত রেখেছেন, এর মধ্যে কী পরিমাণ উপকারিতা সঞ্চিত রেখেছেন এবং কতটুকু প্রয়োজনীয়তা এর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন; কেননা কুরআনে উদাহরণ পেশ করার মাধ্যমে অনেক বিষয় শিক্ষা লাভ করা যায়।

--------------------------------------------

(১) এবং 'প্রত্যেক ভ্রষ্টতা জাহান্নামে' অতিরিক্ত অংশটি শায (شاذة), আমি শাতবি রচিত 'আল-ইতিসাম' গ্রন্থের টিকায় এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। দার ইবনে রজব সংস্করণ (পৃ. ৫৭), আমার সম্পাদনায়। অনুগ্রহপূর্বক খুতবাতুল হাজাহ-এর শব্দসমূহের ব্যাখ্যার জন্য 'মাজমু আল-ফাতাওয়া' (১৮/ ২৮৫-২৯০) দেখুন।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌أغراض ضرب الأمثال

1 - منها: التذكير، قال سبحانه وتعالى: {وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ (27)} [الزمر: 27].

وقال سبحانه وتعالى: {وَيَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ (25)} [إبراهيم: 25].

قال ابن عاشور رحمه الله(1): خُصّت أمثال القرآن بالذكر من بين مزايا القرآن لأجل لَفت بصائرهم للتدبر في ناحية عظيمة من نواحي إعجازه، وهي بلاغة أمثاله، فإن بلغاءهم كانوا يتنافسون في جَودة الأمثال وإصابتها المحزّ(2) من تشبيه الحالة بالحالة.

 

2 - ومنها: التفكر والاعتبار والاستبصار قال سبحانه وتعالى: {وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ (21)} [الحشر: 21].

--------------------------------------------

(1) هو: محمد الطاهر بن عاشور التونسي، مالكي المذهب، أشعري العقيدة، بلاغي الأسلوب، أحد أعضاء المجمعين العربيين في دمشق والقاهرة. من مؤلفاته: «الوقف وآثاره في الإسلام»، و «أصول الإنشاء والخطابة» «موجز البلاغة»، «التحرير والتنوير» توفي رحمه الله تعالى سنة (1393) هجرية.

وانظر غير مأمور: «الأعلام للزركلي» (6/ 174)، وكتاب «المفسرون بين التأويل والإثبات في آيات الصفات» للشيخ محمد المغراوي (3/ 1403 - 1443).

(2) يقال: تكلم فأصاب المحز: تكلم فأقنع. «المعجم الوسيط» (م/ حزز).

‌উপমা প্রদানের উদ্দেশ্যসমূহ

১ - তার মধ্যে একটি হলো: উপদেশ গ্রহণ। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের উপমা বর্ণনা করেছি যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। (২৭)} [যুমার: ২৭]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর আল্লাহ মানুষের জন্য উপমা পেশ করেন যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। (২৫)} [ইব্রাহিম: ২৫]।

ইবনে আশুর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন(১): কুরআনের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্য থেকে বিশেষভাবে উপমাসমূহ উল্লেখ করার কারণ হলো, এর অলৌকিকত্বের এক সুমহান দিকের প্রতি মানুষের অন্তর্দৃষ্টিকে নিবদ্ধ করা—আর তা হলো এর উপমাসমূহের অলঙ্কারিক শ্রেষ্ঠত্ব। কেননা শ্রেষ্ঠ বাগ্মীরা উপমার উৎকর্ষতা এবং এক অবস্থার সাথে অন্য অবস্থার তুলনার ক্ষেত্রে সঠিক লক্ষ্যভেদে(২) একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করত।

 

২ - আরেকটি উদ্দেশ্য হলো: চিন্তা-গবেষণা, শিক্ষা গ্রহণ এবং অন্তর্দৃষ্টি লাভ। মহান আল্লাহ বলেন: {আর এই সকল উপমা আমি মানুষের জন্য বর্ণনা করি যেন তারা চিন্তা-গবেষণা করে। (২১)} [হাশর: ২১]।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: মুহাম্মদ আত-তাহির ইবনে আশুর আত-তিউনিসি। তিনি মাযহাবের দিক থেকে মালিকি, আকীদার দিক থেকে আশআরি এবং শৈলীর দিক থেকে আলঙ্কারিক। তিনি দামেস্ক ও কায়রোর দুটি আরবি ভাষা একাডেমির অন্যতম সদস্য ছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: ‘আল-ওয়াকফ ওয়া আসারুহু ফিল ইসলাম’, ‘উসুলুল ইনশা ওয়াল খিতাবাহ’, ‘মুজিজুল বালাগাহ’ এবং ‘আত-তাহরির ওয়াত-তানভির’। তিনি ১৩৯৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা)।

অনুরোধক্রমে আরও দেখুন: আয-যিরিকলির ‘আল-আলাম’ (৬/১৭৪) এবং শেখ মুহাম্মদ আল-মাগরাবি রচিত ‘আল-মুফাসসিরুনা বাইনাত তাবিল ওয়াল ইসবাত ফি আয়াতুস সিফাত’ (৩/১৪০৩ - ১৪৪৩)।

(২) বলা হয়: ‘সে কথা বলল এবং সঠিক লক্ষ্যভেদ করল’ (তাকাল্লামা ফা-আসাবাল মাহাজ্জ), অর্থাৎ সে কথা বলল এবং তা সন্তোষজনক বা অকাট্য হলো। ‘আল-মুজামুল ওয়াসিত’ (ম/হাজ্জ)।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
قال ابن القيم رحمه الله(1): الفكر: هو إحضار معرفتين في القلب لِيُستثمَرَ منهما معرفةٌ ثالثةٌ.

ومثال ذلك: إذا أحضر في قلبه العاجلة وعيشها ونعيمها وما يقترن به من الآفات وانقطاعه وزواله، ثم أحضر في قلبه الآخرة ونعيمها، ولذتها ودوامها وفضلها على نعيم الدنيا وجزم بهذين العلمين أثمر له ذلك علما ثالثا؛ وهو أن الآخرة ونعيمها الفاضل الدائم أولى عند كل عاقل بإيثاره من العاجلة المنقطعة المنغصة …

وهذا يُسمى تفكرًا، وتذكرًا، ونظرًا، وتأملًا، واعتبارًا، وتدبرًا، واستبصارًا. وهذه معان متقاربة تجتمع في شيء وتتفرق في آخر …

* والتفكر في القرآن نوعان:

* تفكر فيه ليقع على مراد الرب تعالى منه.

* وتفكر في معاني ما دعا عباده إلى التفكر فيه.

فالأول: تفكر في الدليل القرآني.

والثاني: تفكر في الدليل العياني.

الأول: تفكر في آياته المسموعة.

والثاني: تفكر في آياته المشهودة.

ولهذا أنزل الله القرآن ليتدبر ويتفكر فيه، ويعمل به، لا لمجرد تلاوته مع الإعراض عنه.

--------------------------------------------

(1) في «مفتاح دار السعادة» (1/ 542 فما بعد) ط ابن القيم وابن عفان.

ইবনে আল-কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)(১) বলেছেন: চিন্তা-গবেষণা হলো: হৃদয়ে দু’টি জানাশোনা বিষয়কে উপস্থিত করা, যাতে সেই দু’টির মাধ্যমে তৃতীয় একটি জ্ঞান অর্জন করা যায়।

এর উদাহরণ হলো: যখন কেউ তার হৃদয়ে এই নশ্বর পৃথিবী, এর জীবনযাত্রা ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এবং এর সাথে সম্পৃক্ত আপদ-বিপদ এবং এর সমাপ্তি ও বিলুপ্তির বিষয়টিকে উপস্থিত করে; অতঃপর সে তার হৃদয়ে আখিরাত, এর নেয়ামত, এর স্বাদ, স্থায়িত্ব এবং দুনিয়ার নেয়ামতের ওপর এর শ্রেষ্ঠত্বকে উপস্থিত করে এবং এই দু’টি জ্ঞানের ওপর দৃঢ় নিশ্চয়তা লাভ করে; তখন তা তার জন্য তৃতীয় একটি জ্ঞানের ফল দেয়। আর তা হলো—আখিরাত এবং এর শ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী নেয়ামতসমূহ প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিকট এই নশ্বর ও নিরবচ্ছিন্ন দুঃখ-কষ্টে ঘেরা দুনিয়ার ওপর অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য...

একে ‘তাফাক্কুর’ (চিন্তা), ‘তাজাক্কুর’ (স্মরণ), ‘নাজার’ (পর্যবেক্ষণ), ‘তাআম্মুল’ (অনুধ্যান), ‘ইতিবার’ (শিক্ষা গ্রহণ), ‘তাদাব্বুর’ (গভীর চিন্তা) এবং ‘ইস্তিবসার’ (অন্তর্দৃষ্টি) বলা হয়। এগুলো এমন কিছু নিকটবর্তী অর্থবোধক শব্দ, যা কোনো ক্ষেত্রে একই বিষয়কে নির্দেশ করে আবার অন্য ক্ষেত্রে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে...

* আর কুরআনের বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা দুই প্রকার:

* এক প্রকার হলো—কুরআন নিয়ে এমনভাবে চিন্তা করা যাতে এর মাধ্যমে মহান রবের উদ্দেশ্য অনুধাবন করা যায়।

* অন্য প্রকার হলো—বান্দাদের আল্লাহ তাআলা যেসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান জানিয়েছেন, সেগুলোর মর্মার্থ নিয়ে চিন্তা করা।

প্রথমটি হলো: কুরআনিক দলিলের ওপর চিন্তা-গবেষণা।

আর দ্বিতীয়টি হলো: চাক্ষুষ বা দৃশ্যমান দলিলের ওপর চিন্তা-গবেষণা।

প্রথমটি: তাঁর শ্রুত নিদর্শনাবলির ওপর চিন্তা।

আর দ্বিতীয়টি: তাঁর দৃশ্যমান নিদর্শনাবলির ওপর চিন্তা।

এই উদ্দেশ্যেই আল্লাহ তাআলা কুরআন অবতীর্ণ করেছেন যাতে এটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ও গবেষণা করা হয় এবং সে অনুযায়ী আমল করা হয়; শুধু এর থেকে বিমুখ থেকে নিছক পাঠ করার জন্য নয়।

--------------------------------------------

(১) ‘মিফতাহু দারিস সাআদাহ’ (১/ ৫৪২ এবং পরবর্তী অংশ), ইবনে আল-কাইয়্যিম ও ইবনে আফফান সংস্করণ দ্রষ্টব্য।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
قال الحسن البصري: «أنزل القرآن ليعمل به؛ فاتخذوا تلاوته عملًا».

وقال: «تفكرُ سَاعَةٍ خَيْرٌ من قِيَامِ لَيْلَةٍ»(1).

وكان سفيان الثوري كثيرًا ما يتمثل:

إذا المرءُ كانت له فِكرة … ففي كلِّ شيءٍ له عبرة(2)

 

3 - ومنها: التدبر والتأمل، قال سبحانه وتعالى: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ (29)} [ص: 29].

وقال سبحانه وتعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ} [النساء: 82].

وقال سبحانه وتعالى: {أَفَلَمْ يَدَّبَّرُوا الْقَوْلَ} [المؤمنون: 68].

وقال سبحانه وتعالى: {وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا الْعَالِمُونَ (43)}

[العنكبوت: 43].

وعن عمرو بن مُرَّةَ قال: ما مررت بآية من كتاب الله لا أعرفها إلا أحزنني؛ لأني سمعت الله سبحانه وتعالى يقول: {وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا الْعَالِمُونَ (43)}(3).

--------------------------------------------

(1) إسناده صحيح: أخرجه ابن أبي شيبة في «المصنف» (13/ 507) قال: حدثنا محمد بن فضيل عن العلاء بن المسيب عن الحسن به.

(2) انظر «مفتاح دار السعادة» (1/ 538 فما بعد) الوجه (153) ط ابن القيم وابن عفان.

(3) إسناده صحيح: أخرجه ابن أبي حاتم في «التفسير» (18174) حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الحُسَيْنِ بن الجنيد، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدشتكي، ثنا عبد الرحمن بن عبد الله بن سعد، ثنا

أَبُو سِنَانٍ سعيد بن سنان، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ. وانظر: «فضائل القرآن» لأبي عبيد (ص/ 42)، و «مفتاح دار السعادة» (1/ 317).

হাসান বসরী বলেন: «কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে সে অনুযায়ী আমল করার জন্য; অতএব তোমরা এর তিলাওয়াতকেই আমল হিসেবে গ্রহণ করো»।

তিনি আরও বলেন: «এক মুহূর্তের চিন্তা এক রাতের ইবাদতের চেয়ে উত্তম»(১)।

সুফিয়ান সাওরী প্রায়ই এই কবিতাংশটি আবৃত্তি করতেন:

যদি কোনো ব্যক্তির চিন্তা করার ক্ষমতা থাকে... তবে প্রতিটি জিনিসের মধ্যেই তার জন্য শিক্ষা রয়েছে(২)

 

৩ - এগুলোর মধ্যে রয়েছে: চিন্তা ও গবেষণা করা। মহান আল্লাহ বলেন: {এটি একটি বরকতময় কিতাব যা আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং জ্ঞানবানরা উপদেশ গ্রহণ করে। (২৯)} [সোয়াদ: ২৯]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না?} [নিসা: ৮২]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তবে কি তারা এই বাণী নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেনি?} [মুমিনুন: ৬৮]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর আমি মানুষের জন্য এই সকল দৃষ্টান্ত পেশ করি, কিন্তু কেবল জ্ঞানীগণই তা বুঝতে পারে। (৪৩)}

[আনকাবুত: ৪৩]।

আমর ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর কিতাবের এমন কোনো আয়াতের ওপর দিয়ে আমি অতিক্রম করিনি যা আমি বুঝতে পারিনি, অথচ তা আমাকে ব্যথিত করেনি; কারণ আমি মহান আল্লাহকে বলতে শুনেছি: {আর আমি মানুষের জন্য এই সকল দৃষ্টান্ত পেশ করি, কিন্তু কেবল জ্ঞানীগণই তা বুঝতে পারে। (৪৩)}(৩)।

--------------------------------------------

(১) এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح): ইবনে আবি শাইবাহ এটি 'আল-মুসান্নাফ' (১৩/ ৫০৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ফুদাইল আমাদের কাছে আল-আলা ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি হাসান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) দেখুন 'মিফতাহু দারিস সা'আদাহ' (১/ ৫৩৮ এবং পরবর্তী), অনুচ্ছেদ (১৫৩), ইবনুল কাইয়্যিম ও ইবনে আফফান সংস্করণ।

(৩) এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح): ইবনে আবি হাতিম এটি 'আত-তাফসির' (১৮১৭৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনুল জুনাইদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দাশতাকী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু সিনান সাঈদ ইবনে সিনান আমাদের কাছে আমর ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আরও দেখুন: আবু উবাইদ রচিত 'ফাদায়িলুল কুরআন' (পৃষ্ঠা ৪২), এবং 'মিফতাহু দারিস সা'আদাহ' (১/ ৩১৭)।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
4 - ومنها: تقريب المعقول في صورة المحسوس، قال سبحانه وتعالى: {مَثَلُ الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِائَةُ حَبَّةٍ وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ (261)} [البقرة: 261].

5 - ومنها: إيجاز اللفظ، وإصابة المعنى، وحسن التشبيه، قال سبحانه وتعالى: {إِنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ} [آل عمران: 59].

فأخبر سبحانه وتعالى أن عيسى نظيرُ آدم في التكوين بجامع ما يشتركان فيه من المعنى الذي تعلق به وجود سائر المخلوقات، وهو مجيئها طوعًا لمشيئته وتكوينه، فكيف يستنكر وجود عيسى من غير أب من يقر بوجود آدم من غير أب ولا أم، ووجود حواء من غير أم؛ فآدم وعيسى نظيران يجمعهما المعنى الذي يصح تعليق الإيجاد والخلق به(1).

 

6 - ومنها: المدح والذم، قال سبحانه وتعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا (29)}

[الفتح: 29].

وقال سبحانه وتعالى: {مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ (5)} [الجمعة: 5].

--------------------------------------------

(1) قاله ابن القيم في «إعلام الموقعين» (2/ 252)، و «هداية الحيارى» (ص/ 107).

قال الرازي: أجمع المفسرون على أن هذه الآية نزلت عند حضور وفد نجران على الرسول صلى الله عليه وسلم.

৪ - এর মধ্যে অন্যতম হলো: বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়কে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য রূপে উপস্থাপন করা; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে তাদের উপমা একটি শস্যবীজের মতো, যা সাতটি শীষ উৎপন্ন করল, প্রতিটি শীষে একশটি দানা। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহু গুণ বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। (২৬১)} [আল-বাকারা: ২৬১]।

৫ - এর মধ্যে আরও রয়েছে: শব্দের সংক্ষিপ্ততা, অর্থের যথার্থতা এবং উপমার সৌন্দর্য; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্তের মতো} [আলি ইমরান: ৫৯]।

অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় ঈসা আদমের সদৃশ। তারা উভয়ে এমন একটি অর্থের ক্ষেত্রে সমান যা অন্যান্য সকল সৃষ্টির অস্তিত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট; আর তা হলো মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও সৃজন প্রক্রিয়ার প্রতি অনুগত হয়ে অস্তিত্ব লাভ করা। সুতরাং যে ব্যক্তি পিতা ছাড়াই আদমের অস্তিত্ব এবং মাতা ছাড়াই হাওয়ার অস্তিত্ব স্বীকার করে, সে কীভাবে পিতা ছাড়াই ঈসার অস্তিত্বকে অস্বীকার করতে পারে? আদম ও ঈসা উভয়েই সদৃশ, যারা এমন একটি অর্থের ধারক যার মাধ্যমে অস্তিত্ব দান ও সৃষ্টি করা যথার্থ সাব্যস্ত হয়(১)।

 

৬ - এর মধ্যে আরও রয়েছে: প্রশংসা ও নিন্দা; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। আপনি তাদেরকে রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করতে দেখবেন। তাদের চিহ্ন তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার প্রভাবে বিদ্যমান। তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের দৃষ্টান্ত এমন একটি চারাগাছের মতো যা থেকে অঙ্কুর বের হয়, অতঃপর তা শক্ত হয়, এরপর পুষ্ট হয় ও নিজ কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে দাঁড়ায়, যা চাষীদেরকে আনন্দ দেয় যাতে আল্লাহ তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তরজ্বালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা করেছেন। (২৯)}

[আল-ফাতহ: ২৯]।

এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: {যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্বভার প্রদান করা হয়েছিল, অতঃপর তারা তা বহন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত সেই গাধার মতো যে কিতাবের বোঝা বহন করে। যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে তাদের উপমা কতই না মন্দ! আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না। (৫)} [আল-জুমুআহ: ৫]।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কাইয়্যিম এটি ‘ইলামুল মুওয়াক্কিঈন’ (২/ ২৫২) এবং ‘হিদায়াতুল হায়ারা’ (পৃ. ১০৭) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আল-রাজি বলেন: মুফাসসিরগণ ঐক্যমতে (إجماع) পৌঁছেছেন যে, এই আয়াতটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নাজরানের প্রতিনিধি দলের আগমনের সময় নাযিল হয়েছিল।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
قال ابن القيم رحمه الله: ضربُ الأمثال في القرآن يُستفاد منه أمورٌ: التذكير، والوعظ، والحث، والزجر، والاعتبار، والتقرير، وتقريب المراد للعقل، وتصويره في صورة المحسوس، بحيث يكون نسبته للعقل كنسبة المحسوس إلى الحس.

وقد تأتي أمثال القرآن مشتملةً على بيان تفاوت الأجر، وعلى المدح والذم، وعلى الثواب والعقاب، وعلى تفخيم الأمر أو تحقيره، وعلى تحقيق أمر وإبطال أمر(1).

--------------------------------------------

(1) «بدائع الفوائد» (4/ 1314) ط عالم الفوائد، وانظر: «مدارج السالكين» (4/ 504)، و «الإتقان» (4/ 44) للسيوطي.

ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: কুরআনে উপমা প্রদানের মাধ্যমে বেশ কিছু বিষয় অর্জিত হয়: স্মরণ করানো (التذكير), নসিহত (الوعظ), উৎসাহিত করা (الحث), সতর্ক করা (الزجر), শিক্ষা গ্রহণ (الاعتبار), সুপ্রতিষ্ঠিত করা (التقرير), উদ্দেশ্যকে বুদ্ধির নিকটবর্তী করা এবং তাকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (المحسوس) রূপে চিত্রিত করা; যাতে বুদ্ধির সাথে তার সম্পর্ক ঠিক তেমনই হয় যেমনটা অনুভূতির (الحس) সাথে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের হয়ে থাকে।

কুরআনের উপমাগুলো কখনো প্রতিদানের তারতম্য বর্ণনা করা, প্রশংসা (المدح) ও নিন্দা (الذم), সওয়াব (الثواب) ও শাস্তি (العقاب), কোনো বিষয়কে মহিমান্বিত করা (تفخيم) অথবা তুচ্ছ করা (تحقير), এবং কোনো বিষয়কে সত্য প্রমাণ (تحقيق) ও কোনো বিষয়কে বাতিল (إبطال) করার বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে থাকে(১)।

--------------------------------------------

(১) বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ (৪/১৩১৪), আলমুল ফাওয়ায়িদ সংস্করণ; আরও দেখুন: মাদারিজুস সালিকিন (৪/৫০৪), এবং সুয়ুতির আল-ইতকান (৪/৪৪)।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌تعددُ الأَمْثَالِ

قد أكثر سبحانه وتعالى من هذه الأمثال ونوعها مستدلًّا بها على حسن شكره وعبادته وقبح عبادة غيره(1).

قال سبحانه وتعالى: {وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ (27)} [الزمر: 27].

وقال سبحانه وتعالى: {وَلَقَدْ صَرَّفْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ فَأَبَى أَكْثَرُ النَّاسِ إِلَّا كُفُورًا (89)} [الإسراء: 89].

وقال سبحانه وتعالى: {وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ لِلنَّاسِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ وَكَانَ الْإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا (54)} [الكهف: 54].

وعن عبد الله بن عَمْروِ بْنِ الْعَاصِي(2) رضي الله عنه أنه قال: «عَقَلْتُ عَنْ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم أَلْفَ مَثَلٍ»(3).

--------------------------------------------

(1) «مفتاح دار السعادة» (2/ 333).

(2) قال النووي في شرح مسلم (1/ 77): وأما العاصي فأكثر ما يأتي في كتب الحديث والفقه ونحوها بحذف الياء، وهي لغة، والفصيح الصحيح: العاصي، بإثبات الياء .... ولا اغترار بوجوده في كتب الحديث أو أكثرها بحذفها، والله أعلم.

(3) إسناده ضعيف: رواه ابن لهيعة واختلف عليه؛ فرواه إسحاق بن عيسى - وهو صدوق - عنه عن أبي قبيل -حيي بن هانئ المعافري - سمعت عمرو بن العاصي به. أخرجه أحمد (4/ 204). =

উপমাসমূহের আধিক্য ও বৈচিত্র্য

মহান আল্লাহ এই উপমাগুলোকে প্রচুর পরিমাণে উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোকে বৈচিত্র্যময় করেছেন, যা তাঁর প্রতি যথাযথ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও ইবাদত করার সৌন্দর্য এবং অন্য কারো ইবাদত করার কুৎসিৎ পরিণতির ওপর প্রমাণস্বরূপ(১)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের উপমা পেশ করেছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। (২৭)} [যুমার: ২৭]।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: {আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের উপমা বারবার বর্ণনা করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কুফরি করা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। (৮৯)} [ইসরা: ৮৯]।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: {আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সব ধরনের উপমা নানাভাবে বর্ণনা করেছি, কিন্তু মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বড়ই বিতর্ককারী। (৫৪)} [কাহাফ: ৫৪]।

আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস(২) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এক হাজারটি উপমা অনুধাবন করেছি (মনে রেখেছি)»(৩)।

--------------------------------------------

(১) ‘মিফতাহু দারিস সাআদাহ’ (২/৩৩৩)।

(২) ইমাম নববী শারহু মুসলিম (১/৭৭)-এ বলেছেন: ‘আল-আসি’ শব্দের ক্ষেত্রে হাদিস ও ফিকহের কিতাবসমূহে সাধারণত ইয়া বর্জন করে লেখা হয়, যা একটি ভাষাগত রীতি। তবে অধিকতর বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল রূপ হলো ইয়া বহাল রেখে ‘আল-আসি’ বলা... হাদিসের অধিকাংশ কিতাবে এটি ইয়া ছাড়া ব্যবহৃত হয়েছে দেখে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। আল্লাহ ভালো জানেন।

(৩) এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف): এটি ইবনু লাহিয়া বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; তাঁর থেকে ইসহাক ইবনু ঈসা—যিনি সত্যবাদী (صدوق)—এটি আবু কাবিল (হাইয়ি ইবনু হানি আল-মাআফিরি) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমর ইবনুল আস থেকে এটি শুনেছি। ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন (৪/২০৪)। =

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقَال ابْنُ الجوزي رحمه الله: «فِي القُرْآنِ ثَلَاثَةٌ وَأَرْبَعُونَ مَثَلًا»(1).

وَقَال شَيْخُ الْإِسْلَام ابْن تيميةَ رحمه الله: «وَقَدْ قَيْل: إِنْ فِي الْقُرْآنِ اثْنَيْن وَأَرْبَعِينَ مَثَلًا»(2).

وقال ابن القيم رحمه الله: «قد اشتمل منها على بضعة وأربعين مثلًا»(3).

* * *

--------------------------------------------

= وخالفه زيد بن الحباب وكامل بن طلحة وسعيد بن أبي مريم ثلاثتهم عن ابن لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيْدَ بنِ عَمْرٍو، عَنْ شُفَيٍّ الأصبحي عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ عَمْرٍو به.

أخرجه الرامهرمزي في «الأمثال» (ص/ 6)، وأبو الشيخ الأصبهاني في «الأمثال» (1)، وأبو نعيم في «الحلية» (5/ 169)، وابن عساكر (31/ 257).

والخلاصة: أن مداره على ابن لهيعة، وقد اختلف عليه وهو ضعيف باستثناء رواية العبادلة التي لم تستنكر عليه.

(1) في «المدهش» (1/ 16 - 18).

(2) «منهاج السنة» (7/ 238).

(3) «الكافية الشافية» (1/ 41) ط عالم الفوائد، و «إعلام الموقعين» (1/ 248) ط ابن الجوزي. والبِضْعُ: من الثلاث إِلى التِّسع. (3 - 9).

এবং ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "কুরআনে তেতাল্লিশটি উদাহরণ রয়েছে।"(1).

এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "বলা হয়ে থাকে যে, কুরআনে বিয়াল্লিশটি উদাহরণ রয়েছে।"(2).

এবং ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি চল্লিশের অধিক (তিন থেকে নয় এর মধ্যে) উদাহরণ অন্তর্ভুক্ত করেছে।"(3).

* * *

--------------------------------------------

= আর যায়েদ বিন আল-হুবাব, কামিল বিন তালহা এবং সাঈদ বিন আবি মারিয়াম—এই তিনজন তার বিরোধিতা করেছেন। তারা ইবনে লাহিয়াহ থেকে, তিনি ইয়াযিদ বিন আমর থেকে, তিনি শুফাই আল-আসবাহি থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

এটি আর-রামেহুরমুযী ‘আল-আমসাল’ (পৃষ্ঠা ৬), আবুশ শাইখ আল-আসবাহানি ‘আল-আমসাল’ (১), আবু নুয়াইম ‘আল-হিলইয়াহ’ (৫/ ১৬৯) এবং ইবনে আসাকির (৩১/ ২৫৭) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।

সারকথা: এই বর্ণনার কেন্দ্রবিন্দু (مدار) হলো ইবনে লাহিয়াহ। তার ব্যাপারে মতভেদ করা হয়েছে এবং তিনি দুর্বল (ضعيف); তবে ‘আবাদিলা’ (العبادلة) তথা চার আবদুল্লাহর বর্ণনাসমূহ এর ব্যতিক্রম, যা তার ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত (منكر) হিসেবে গণ্য করা হয়নি।

(1) ‘আল-মুতহিশ’ (১/ ১৬ - ১৮) গ্রন্থে।

(2) ‘মিনহাজুস সুন্নাহ’ (৭/ ২৩৮)।

(3) ‘আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া’ (১/ ৪১), আলামুল ফাওয়ায়েদ সংস্করণ; এবং ‘ইলামুল মুওয়াক্কিঈন’ (১/ ২৪৮), ইবনুল জাওযী সংস্করণ। আর ‘বিদউন’ (بضع): তিন থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যা (৩ - ৯)।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌تعريف الأمثال

* الأمثال: جمع مثل، والمَثل و المِثل والمثيل: كالشبه والشِبه والشبيه لفظًا ومعنًى.

قال الراغب الأصفهاني: المثل عبارةٌ عن قولٍ في شيء يشبه قولاً في شيء آخر بينهما مشابهةٌ ليبين أحدُهما الآخر ويصورَهُ، وعلى هذا الوجه ما ضَرَب الله تعالى من الأمثال.

قال الزركشي رحمه الله(1): حقيقته: إخراج الأغمض إلى الأظهر؛ وهو قسمان:

1 - ظاهر: وهو المصرح به(2).

2 - وكامن: وهو الذي لا ذكر للمثل فيه، وحكمه حكم الأمثال(3).

--------------------------------------------

(1) في «علوم القرآن» (1/ 450) ط دار المعرفة.

(2) أي: ما صُرِّح فيها بلفظ المثل أو ما يدل على التشبيه.

(3) فمن ذلك قوله تعالى: {وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَاأُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ}

[البقرة: 179].

وقوله تعالى: {وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي} [البقرة: 260].

وانظر: «المدهش» (1/ 17، 16): ط الكتب العلمية. و «مدارج السالكين» (2/ 69 - 70) ط دار طيبة.

‌‌আল-আমসাল (الأمثال)-এর সংজ্ঞা

* আল-আমসাল (الأمثال): এটি মাসাল (مثل)-এর বহুবচন। আল-মাসাল (المَثل), আল-মিসল (المِثل) এবং আল-মাসিল (المثيل) শব্দগুলো শব্দগত ও অর্থগতভাবে সাদৃশ্য (الشبه), তুলনা (الشِبه) ও অনুরূপ (الشبيه) অর্থ প্রকাশ করে।

ইমাম রাগিব আল-আসফাহানি বলেন: মাসাল (المثل) হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে এমন একটি বক্তব্য যা অন্য একটি বিষয়ের বক্তব্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যাতে তাদের একটি অপরটিকে স্পষ্ট করে এবং চিত্রায়িত করে। মহান আল্লাহ যেসকল উপমা (الأمثال) পেশ করেছেন, সেগুলো এই পদ্ধতিতেই করা হয়েছে।

ইমাম যারকাশি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন(1): এর হাকিকত (حقيقة) হলো: অত্যন্ত অস্পষ্ট বিষয়কে সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা; আর এটি দুই প্রকার:

1 - প্রকাশ্য (ظاهر): যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে(2)।

2 - এবং অন্তর্নিহিত (كامن): যাতে 'উপমা' (المثل) শব্দের সরাসরি উল্লেখ নেই, তবে এর বিধান উপমাসমূহের (الأمثال) বিধানেরই অন্তর্ভুক্ত(3)।

--------------------------------------------

(1) 'উলুমুল কুরআন' (১/৪৫০), দারুল মা'রিফাহ সংস্করণ।

(2) অর্থাৎ, যাতে স্পষ্টভাবে 'উপমা' (المثل) শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে অথবা যা সাদৃশ্য বা তুলনার (التشبيه) ওপর দلالত করে।

(3) এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে বুদ্ধিমানগণ! কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার।}

[আল-বাকারাহ: ১৭৯]।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বরং আমার অন্তর যেন প্রশান্ত হতে পারে।} [আল-বাকারাহ: ২৬০]।

আরও দেখুন: 'আল-মুতহিশ' (১/১৬-১৭): আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ এবং 'মাদারিজুস সালিকিন' (২/৬৯-৭০), দারু তাইয়িবাহ সংস্করণ।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
وحكى السيوطي(1) قسماً ثالثا وهو المرسل(2) واكتفينا بالأول لشهرته.

قال ابن القيم رحمه الله: فإِنَّهَا تشبِيهُ شَيْءٍ بِشَيْءٍ فِي حُكْمِهِ، وَتَقْرِيبُ المَعْقُولِ مِنْ المَحْسُوسِ، أَوْ أَحَدُ المَحْسُوسَيْنِ مِنْ الآخَرِ، وَاعْتِبَارُ أَحَدِهَما بِالْآخَرِ، كَقَوْلِهِ فِي حَقِّ المُنَافِقِينَ: {مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَارًا فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُمَاتٍ لَا يُبْصِرُونَ (17) صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ (18)} إلَى قَوْلِهِ: {إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (20)} [البقرة: 17 - 20](3).

قال الأستاذ مناع خليل القطان:(4)

فابن القيم رحمه الله يقول: في أمثال القرآن: تشبيه شيء بشيء في حكمه، وتقريب المعقول من المحسوس، أو أحد المحسوسين من الآخر واعتبار أحدهما بالآخر. ويسوق الأمثلة: فتجد أكثرها على طريقة التشبيه الصريح، كقوله سبحانه وتعالى: {إِنَّمَا مَثَلُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا كَمَاءٍ أَنْزَلْنَاهُ مِنَ السَّمَاءِ} [يونس: 24].

ومنها ما يجيء على طريقة التشبيه الضمني، كقوله سبحانه وتعالى: {وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ} [الحجرات: 12]، إذ ليس فيه تشبيه صريح.

--------------------------------------------

(1) في «الإتقان» (4/ 84 - 49).

(2) وهو عبارة عن جمل أرسلت إرسالا من غير تصريح بلفظ التشبيه.

ومنه قوله تعالى: {الْآنَ حَصْحَصَ الْحَقُّ} [يوسف: 51]، وقوله تعالى: {لِكُلِّ نَبَإٍ مُسْتَقَرٌّ} [الأنعام: 67]، وقوله تعالى: {أَلَيْسَ الصُّبْحُ بِقَرِيبٍ} [هود: 81].

(3) «إعلام الموقعين» (1/ 270 - 271) ط ابن الجوزي.

(4) في «مباحث في علوم القرآن» (ص/ 276 - 277).

এবং সুয়ুতী(১) তৃতীয় একটি প্রকার বর্ণনা করেছেন, আর তা হলো বিচ্ছিন্ন (مرسل)(২); এর প্রসিদ্ধির কারণে আমরা প্রথমটির ওপরই যথেষ্ট করেছি।

ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “নিশ্চয়ই তা হলো কোনো বিষয়কে তার বিধানের ক্ষেত্রে অন্য কোনো বিষয়ের সাথে তুলনা করা, এবং বোধগম্য বিষয়কে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের নিকটবর্তী করা, অথবা একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়কে অন্যটির সাথে মেলানো এবং একটিকে অপরটির মাধ্যমে বিবেচনা করা; যেমন মুনাফিকদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার বাণী: {তাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে আগুন জ্বালাল, এরপর যখন তা তার চারপাশকে আলোকিত করল, তখন আল্লাহ তাদের আলো ছিনিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন, তারা দেখতে পায় না (১৭) তারা বধির, বোবা ও অন্ধ, তাই তারা ফিরে আসবে না (১৮)} থেকে {নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান (২০)} পর্যন্ত [আল-বাকারা: ১৭-২০](৩)।”

উস্তাদ মান্না খলিল আল-কাত্তান বলেন:(৪)

ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) কুরআনের প্রবাদ সম্পর্কে বলেন: কোনো বিষয়কে তার বিধানের ক্ষেত্রে অন্য কোনো বিষয়ের সাথে তুলনা করা, বোধগম্য বিষয়কে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের নিকটবর্তী করা, অথবা একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়কে অন্যটির সাথে মেলানো এবং একটিকে অপরটির মাধ্যমে বিবেচনা করা। তিনি উদাহরণগুলো পেশ করেছেন: আপনি সেগুলোর অধিকাংশকে স্পষ্ট তুলনার পদ্ধতিতে পাবেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {দুনিয়ার জীবনের উদাহরণ তো কেবল আকাশের পানির মতো যা আমরা বর্ষণ করেছি} [ইউনুস: ২৪]।

আর সেগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা উহ্য তুলনার পদ্ধতিতে আসে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা একে অপরের গিবত করো না; তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দই করো} [আল-হুজুরাত: ১২], যেহেতু এতে কোনো স্পষ্ট তুলনা নেই।

--------------------------------------------

(১) আল-ইতকান (৪/ ৮৪ - ৪৯) গ্রন্থে।

(২) এটি এমন সব বাক্য যা তুলনার শব্দ স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করে সাধারণভাবে ব্যক্ত করা হয়।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এখন সত্য প্রকাশিত হয়েছে} [ইউসুফ: ৫১], এবং আল্লাহর বাণী: {প্রত্যেক সংবাদের একটি নির্দিষ্ট সময় বা ভিত্তি রয়েছে} [আল-আনআম: ৬৭], এবং আল্লাহর বাণী: {সকাল কি খুব নিকটবর্তী নয়?} [হুদ: ৮১]।

(৩) ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন (১/ ২৭০ - ২৭১) ইবনুল জাওজি সংস্করণ।

(৪) মাবাহিছ ফি উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা/ ২৭৬ - ২৭৭) গ্রন্থে।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومنها: ما لم يشتمل على تشبيه ولا استعارة، كقوله سبحانه وتعالى: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَنْ يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ وَإِنْ يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئًا لَا يَسْتَنْقِذُوهُ مِنْهُ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ} [الحج: 73]، فقوله: {إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَنْ يَخْلُقُوا ذُبَابًا} .. قد سماه الله مثلًا وليس فيه استعارة ولا تشبيه.

* * *
আর এগুলোর মধ্যে রয়েছে এমন কিছু যা কোনো উপমা (تشبيه) বা রূপক (استعارة) অন্তর্ভুক্ত করে না, যেমন মহান ও পবিত্র আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে মানুষ! একটি উদাহরণ (مثل) পেশ করা হয়েছে, সুতরাং তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো; নিশ্চয় তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো, তারা কখনো একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা এর জন্য সমবেত হয়। আর মাছি যদি তাদের থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তা তার কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। অন্বেষণকারী ও অন্বেষিত উভয়ই দুর্বল।} [হজ: ৭৩]; সুতরাং তাঁর বাণী: {নিশ্চয় আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডাকো, তারা কখনো একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না} .. আল্লাহ একে উদাহরণ (مثل) হিসেবে অভিহিত করেছেন, অথচ এতে কোনো রূপক (استعارة) বা উপমা (تشبيه) নেই।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌منهج ابن القيم رحمه الله في شرح الأَمْثَالِ

أفصح العلامة ابن القيم رحمه الله عن منهج البلاغيين في شرح الأمثال؛ حيث جاء ذلك واضحًا في تفسيره لقوله سبحانه وتعالى: {اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ مَثَلُ نُورِهِ كَمِشْكَاةٍ فِيهَا مِصْبَاحٌ الْمِصْبَاحُ فِي زُجَاجَةٍ الزُّجَاجَةُ كَأَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ يُوقَدُ مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ زَيْتُونَةٍ لَا شَرْقِيَّةٍ وَلَا غَرْبِيَّةٍ يَكَادُ زَيْتُهَا يُضِيءُ وَلَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارٌ نُورٌ عَلَى نُورٍ يَهْدِي اللَّهُ لِنُورِهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ (35)} [النور: 35].

قال رحمه الله: وفي هذا التشبيه لأهل المعاني طريقتان:

أحدهما: طريقة التشبيه المركب، وهي أقرب مأخذًا، وأسلم من التكلف، وهي: أن تشبه الجملة برمتها بنور المؤمن من غير تعرض لتفصيل كل جزء من أجزاء المشبه ومقابلته بجزء من المشبه به، وعلى هذا عامة أمثال القرآن الكريم.

فتأمل صفة المشكاة، وهي كوة لا تنفذ لتكون أجمع للضوء، قد وضع فيها مصباح، وذلك المصباح داخل زجاجة تشبه الكوكب الدري في صفائها وحسنها، ومادته من أصفى الأذهان وأتمها وقودًا، من زيت شجرة في وسط القراح(1) لا شرقية ولا غربية بحيث تصيبها الشمس في إحدى طرفي النهار، بل هي في وسط القراح محمية بأطرافه تصيبها الشمس أعدل إصابة والآفات إلى الأطراف دونها، فمن شدة إضاءة زيتها وصفائها وحسنها، يكاد يضيء من غير أن تمسه نار، فهذا

--------------------------------------------

(1) القَرَاحُ: المزرعة التي ليس فيها بناء ولا شجر وجمعه «أَقْرِحَةٌ». «المصباح المنير»

(م/ ق رح).

‌‌উপমা (الأَمْثَالِ) ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর পদ্ধতি

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) উপমা (الأمثال) ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের (البلاغيين) পদ্ধতি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন; যা মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসিরে ফুটে উঠেছে: {আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনের নূর। তাঁর নূরের উদাহরণ (مثل) একটি কুলুঙ্গির (مشكاة) ন্যায়, যাতে একটি প্রদীপ রয়েছে, প্রদীপটি একটি কাঁচের পাত্রে অবস্থিত, কাঁচের পাত্রটি যেন একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র, যা একটি বরকতময় যায়তুন গাছ থেকে প্রজ্বলিত হয়, যা পূর্বমুখীও নয় এবং পশ্চিমমুখীও নয়। এর তেল যেন এখনই আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠবে যদিও আগুন তাকে স্পর্শ করেনি। নূরের ওপর নূর। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর নূরের দিকে পথপ্রদর্শন করেন। আল্লাহ মানুষের জন্য উপমা (الأمثال) বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ} [সূরা আন-নূর: ৩৫]।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: অর্থবিশারদদের নিকট এই রূপক বর্ণনার (التشبيه) ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি রয়েছে:

প্রথমটি: যৌগিক রূপক (التشبيه المركب) পদ্ধতি; এটি অনুধাবন করা সহজ এবং কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত। এটি হলো: উপমেয় (المشبه)-এর প্রতিটি অংশের বিপরীতে উপমান (المشبه به)-এর একেকটি অংশকে আলাদাভাবে তুলনা না করে সামগ্রিকভাবে পুরো বর্ণনাটিকে মুমিনের নূরের সাথে তুলনা করা। কুরআনুল কারীমের অধিকাংশ উপমা (الأمثال) এই পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করেই বর্ণিত হয়েছে।

অতএব দীপাধারের (المشكاة) বৈশিষ্ট্য নিয়ে চিন্তা করুন, যা এমন এক তাক বা কুলুঙ্গি যা এপার-ওপার ছিদ্রযুক্ত নয় যাতে তা আলোকে অধিক ঘনীভূত করতে পারে। এর মধ্যে একটি প্রদীপ (المصباح) রাখা হয়েছে, আর সেই প্রদীপটি রয়েছে একটি কাঁচের পাত্রের ভেতরে যা তার স্বচ্ছতা ও সৌন্দর্যের কারণে উজ্জ্বল নক্ষত্রের (الكوكب الدري) ন্যায়। এর জ্বালানি সংগৃহীত হয়েছে মাঠের (القراح) মধ্যস্থলে অবস্থিত এমন এক বরকতময় যায়তুন গাছ থেকে যার তেল অত্যন্ত স্বচ্ছ ও প্রজ্বলন ক্ষমতাসম্পন্ন। গাছটি না পূর্বমুখী, আর না পশ্চিমমুখী; অর্থাৎ সূর্যের আলো কেবল দিনের এক প্রান্তেই তাকে স্পর্শ করে না, বরং সেটি মাঠের (القراح) মাঝখানে তার চারপাশ দ্বারা সুরক্ষিত অবস্থায় থাকে, ফলে সূর্যের আলো তার ওপর অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণভাবে পড়ে এবং বিভিন্ন আপদ-বিপদ প্রান্তীয় অংশগুলোর ওপর দিয়ে যায় কিন্তু গাছ পর্যন্ত পৌঁছায় না। সেই তেলের তীব্র উজ্জ্বলতা, স্বচ্ছতা ও সৌন্দর্যের কারণে মনে হয় যেন আগুন স্পর্শ না করলেও তা এখনই জ্বলে উঠবে। এটি...

--------------------------------------------

(১) আল-ক্বরাহ (القَرَاحُ): এমন শস্যভূমি যেখানে কোনো দালানকোঠা বা গাছপালা নেই, এর বহুবচন হলো ‘আক্বরিহাহ’ (أَقْرِحَةٌ)। ‘আল-মিসবাহুল মুনির’

(মাদ্দাহ: ق ر ح)।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
المجموع المركب هو مثل نور الله سبحانه وتعالى الذي وضعه في قلب عبده المؤمن وخصه به.

والطريقة الثانية: طريقة التشبيه المفصل، فقيل: المشكاة صدر المؤمن، والزجاجة قلبه، وشبه قلبه بالزجاجة لرقتها وصفائها وصلابتها، وكذلك قلب المؤمن فإنه قد جمع الأوصاف الثلاثة؛ فهو يرحم ويحسن ويتحنن، ويشفق على الخلق برقته(1).

* * *

--------------------------------------------

(1) «اجتماع الجيوش الإسلامية» (50 - 51) و (ص/ 70 - 71) ط الرشد، وانظر: ما سيأتي في سورة الحج الآية (31).

وانظر: منهجيته في البحث والتأليف في «ابن قيم الجوزية حياته آثاره موارده» (ص/ 85 فما بعد).

সম্মিলিত রূপটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সেই নূরের ন্যায়, যা তিনি তাঁর মুমিন বান্দার অন্তরে গচ্ছিত রেখেছেন এবং তাকে এর মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন।

আর দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো: বিস্তারিত উপমার পদ্ধতি। বলা হয়েছে: দীপাধার হলো মুমিনের বক্ষ, আর কাঁচ হলো তার অন্তর। তার অন্তরকে কাঁচের সাথে তুলনা করা হয়েছে এর সূক্ষ্মতা, স্বচ্ছতা ও দৃঢ়তার কারণে। তদ্রূপ মুমিনের অন্তরও এই তিনটি গুণের সমন্বয় ঘটায়; ফলে সে দয়া করে, অনুগ্রহ করে ও মমতা প্রকাশ করে এবং নিজের কোমলতার কারণে সৃষ্টির প্রতি দয়ার্দ্র হয়।(১)

* * *

--------------------------------------------

(১) ‘ইজতিমাউল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ’ (৫০ - ৫১) এবং (পৃষ্ঠা/ ৭০ - ৭১), আর-রুশদ সংস্করণ; এবং দেখুন: যা সামনে সূরা হজ্জের ৩১ নং আয়াতে আসবে।

আরও দেখুন: তাঁর গবেষণা ও রচনা পদ্ধতি সম্পর্কে ‘ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ: হায়াাতুহু আসয়ারুহু মাওয়ারিদুহু’ (পৃষ্ঠা/ ৮৫ এবং পরবর্তী অংশ) গ্রন্থে।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌رسالة الأَمْثَالِ

مما لا شك فيه أن العلامة ابن القيم رحمه الله ذكر طائفة من الأمثال بصدد الحديث عن قياس الشبه من «إعلام الموقعين»(1).

ثم استلت هذه الأمثال في مؤلف مفرد، فهل هذا الاستلال من ابن القيم أم من غيره؟!!!

الذي يتبين لي - والعلم عند الله سبحانه وتعالى أنها من غيره؛ لأسباب يعضد بعضها بعضًا وهي:

* أولًا: ما جاء في مطلع الرسالة: «قال شيخنا رحمه الله: وقع في القرآن أمثال … وفي آخرها: لا سيما أسرار الأمثال التي لا يعقلها إلا العالمون.

قالوا: فهذا بعض ما اشتمل عليه القرآن من التمثيل .... !!!».

• ثانيًا: لا يختلف المخطوط عما في «إعلام الموقعين» إلا في بعض الحروف والكلمات.

• ثالثًا: عزم ابن القيم رحمه الله على إفراد كتاب في الأمثال حيث قال في «الكافية الشافية» (1/ 41) ط عالم الفوائد: «سنفرد لها إن شاء الله كتابًا مستقلًّا متضمنًا لأسرارها ومعانيها، وما تضمنه من كنوز العلم وحقائق الإيمان، والله المستعان».

--------------------------------------------

(1) (2/ 270 - فما بعد).

দৃষ্টান্তসমূহের রিসালা

নিঃসন্দেহে আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) ‘ইলামুল মুওয়াক্কিঈন’ গ্রন্থে সাদৃশ্যভিত্তিক কিয়াস (قياس الشبه) সংক্রান্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে একদল দৃষ্টান্ত (أمثال) উল্লেখ করেছেন(১)।

পরবর্তীতে এই দৃষ্টান্তগুলো (أمثال) একটি স্বতন্ত্র সংকলনে উদ্ধৃত করা হয়েছে; তবে এই চয়ন কি ইবনুল কাইয়্যিম স্বয়ং করেছেন নাকি অন্য কেউ?!!!

আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয়—আর প্রকৃত জ্ঞান তো মহান আল্লাহর নিকট—তা হলো এটি অন্য কারো কাজ; এর পেছনে কতগুলো কারণ রয়েছে যা একে অপরকে শক্তিশালী করে, সেগুলো হলো:

* প্রথমত: রিসালাটির শুরুতে যা এসেছে: «আমাদের শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: কুরআনে অনেক দৃষ্টান্ত (أمثال) এসেছে … এবং এর শেষে বলা হয়েছে: বিশেষ করে দৃষ্টান্তসমূহের (أمثال) রহস্যগুলো, যা কেবল জ্ঞানী ব্যক্তিরাই অনুধাবন করতে পারেন।

তাঁরা বলেন: কুরআনে বর্ণিত উপমাসমূহের (تمثيل) এটি একটি অংশ .... !!!»।

• দ্বিতীয়ত: পাণ্ডুলিপিটি ‘ইলামুল মুওয়াক্কিঈন’-এ যা রয়েছে তার থেকে কেবল কয়েকটি বর্ণ ও শব্দের পার্থক্য ছাড়া অন্য কোনো ভিন্নতা রাখে না।

• তৃতীয়ত: ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) দৃষ্টান্তসমূহের (أمثال) উপর একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার দৃঢ় সংকল্প করেছিলেন, যেখানে তিনি ‘আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ’ (১/ ৪১, আলমুল ফাওয়াইদ সংস্করণ) গ্রন্থে বলেছেন: «ইনশাআল্লাহ, আমরা এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করব, যা এর রহস্য ও অর্থসমূহ এবং এতে নিহিত জ্ঞানের ভাণ্ডার ও ঈমানের হাকীকতসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করবে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি»।

--------------------------------------------

(১) (২/ ২৭০ - পরবর্তী অংশ)।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
وقال في آخر الأمثال التي أوردها في كلامه على قياس الشبه من «إعلام الموقعين»: «فهذا بعض ما اشتمل عليه القرآن من التمثيل والقياس … ».

• رابعًا: قد بسط القول في بعض الأمثال في غير «إعلام الموقعين» أكثر مما فيه، وذلك واضح في المثال الأول والثاني.

• خامسًا: أما عن مخطوطها أو ما كتب عليه من نسبة أو عدِّها ضمن مؤلفاته، فلعلها أفردت في حياته أو بعده بقليل، والله أعلم.

* * *
এবং তিনি 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' গ্রন্থে সাদৃশ্যমূলক কিয়াস (قياس الشبه) প্রসঙ্গে আলোচনার শেষ দিকে তাঁর উল্লেখ করা উপমাগুলো সম্পর্কে বলেছেন: "কুরআনে বর্ণিত রূপক উদাহরণ (تمثيل) ও কিয়াস (قياس) সমূহের মধ্য হতে এটি সামান্য কিছু অংশ মাত্র … "।

• চতুর্থত: তিনি 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' ব্যতীত অন্য কিছু গ্রন্থে কোনো কোনো উপমা সম্পর্কে অধিকতর বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যা প্রথম ও দ্বিতীয় উদাহরণে সুস্পষ্ট।

• পঞ্চমত: এর পাণ্ডুলিপি (مخطوط) অথবা এর সাথে সংশ্লিষ্টতার যে বিবরণ লেখা হয়েছে কিংবা এটি তার রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যে বিষয়টি রয়েছে, তা সম্ভবত তার জীবদ্দশায় অথবা তার মৃত্যুর কিছুকাল পরেই স্বতন্ত্র রূপ দেওয়া হয়েছিল, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌ترجمة ابن قيم الجوزية رحمه الله-

•‌‌ اسمه وكنيته ولقبه

هو: الإمام شمس الدين، أبو عبد الله محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد بن حَرِيز الزُّرَعي(1) الدِّمَشْقي، الشهير بابن قيم الجوزية(2) رحمه الله.

 

•‌‌ مولده:

ولد سَنَة إِحْدَى وَتِسْعِين وَسِتِّ مئةٍ.

 

•‌‌ شيوخه المشاهير:

والده، ابن عبد الدائم، ابن تيمية، إسماعيل مجد الدين بن محمد الفراء الحراني شيخ الحنابلة، يوسف جمال الدين المزي إمام المحدثين، وغيرهم كثير.

 

•‌‌ رحلته:

الرحلة في الطلب أمر معهود لدى أهل العلم؛ فلا تكاد تقع عين ناظر على ترجمة عالم ما، إلا ويجد فيها بيان رحلاته في الطلب لتلقي العلوم عن الشيوخ، وابن القيم رحمه الله واحد من أولئك؛ فقد رحل إلى مصر.

--------------------------------------------

(1) نسبة إلى زُرَع قرية بنواحي دمشق.

(2) انتشر تجوزًا واختصارًا (ابن القيم)، والمشتهر بقيم الجوزية والد هذا الإمام؛ لأنه كان قيِّمًا على المدرسة الجوزية بدمشق.

ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী (ترجمة)-

•‌ তাঁর নাম, কুনিয়াত (উপনাম) ও লকব (উপাধি)

তিনি হলেন: ইমাম (إمام) শামসুদ্দীন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর ইবনে আইয়ুব ইবনে সাদ ইবনে হারিজ আজ-জুরায়ি আদ-দিমাশকি, যিনি ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) হিসেবে প্রসিদ্ধ।

 

•‌ তাঁর জন্ম:

তিনি ৬৯১ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন।

 

•‌ তাঁর প্রখ্যাত শায়খগণ (الشيوخ):

তাঁর পিতা, ইবনে আবদুদ দাইম, ইবনে তাইমিয়া, হাম্বলিদের শায়খ (شيخ) ইসমাইল মাজদুদ্দীন ইবনে মুহাম্মাদ আল-ফাররা আল-হাররানি, মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) ইমাম (إمام) ইউসুফ জামালুদ্দীন আল-মিজ্জি এবং আরও অনেকে।

 

•‌ তাঁর সফর:

ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে দেশভ্রমণ আহলে ইলমদের নিকট একটি সুপরিচিত বিষয়; কোনো গবেষকের দৃষ্টি যখনই কোনো আলেমের জীবনী (ترجمة)-এর ওপর পড়ে, তখনই তিনি সেখানে শায়খদের (الشيوخ) নিকট থেকে জ্ঞান অর্জনের জন্য তাঁর দেশভ্রমণের বিবরণ খুঁজে পান। ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন তাঁদেরই একজন; তিনি মিশরে সফর করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) দামেস্কের উপকণ্ঠে অবস্থিত জুরা' নামক গ্রামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত।

(২) এটি সংক্ষেপে 'ইবনুল কায়্যিম' হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; মূলত 'কায়্যিমুল জাওজিয়্যাহ' হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন এই ইমামের (إمام) পিতা, কারণ তিনি দামেস্কের আল-জাওজিয়্যাহ মাদরাসার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
ولعل عدم اشتهار الرحلة عنه يرجع إلى أسباب، منها:

1 - أنه كان يعيش في أكناف والده، وشيخ الإسلام ابن تيمية وغيرهم رحمهم الله تعالى.

2 - كانت دمشقُ محطَّ أنظار العلماء والناهلين.

3 - تدوين العلوم وانتشارها.

 

•‌‌ تلاميذه

أبو الفداء ابن كثير المفسر، ابن رجب الحنبلي، علي بن عبد الكافي السبكي، الإمام الذهبي، ابن عبد الهادي، النَّابُلُسي المعروف بالجنة،(1) وغيرهم.

 

•‌‌ غرامه بجمع الكتب:

قال تلميذه ابنُ رَجَب رحمه الله: «وكَان شَدِيدَ المَحَبَّةِ لِلْعِلْمِ وكتابته ومطالعته وتصنيفه، واقتناء الكُتُب، واقتنى من الكُتُب مَا لَم يَحْصُلْ لَغَيْره»(2).

وقال تلميذه ابن كثير رحمه الله: «واقتنى من الكُتُبِ مَا لا يَتَهَيَّأ لَغَيْره تحصيلُ عُشْرهِ من كتب السَّلَف والخلف»(3).

 

•‌‌ ثناء العلماء عليه:

قال بُرْهَان الدِّين الزرعي: مَا تَحْتَ أَدِيم السمَاء أوَسعَ علمًا مَنه.

--------------------------------------------

(1) لُقِّب بذلك لكثرة ما عنده من العلوم؛ لأن الجنة فيها ما تشتهيه الأنفس، وكان عنده ما تشتهيه أنفس الطلبة.

(2) «ذيل طبقات الحنابلة» (2/ 449).

(3) «البداية والنهاية» (14/ 235).

সম্ভবত তার জ্ঞানার্জনের সফর (رحلة) প্রসিদ্ধি লাভ না করার পেছনে কিছু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - তিনি তার পিতা, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং অন্যদের সান্নিধ্যে বসবাস করতেন, আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি রহম করুন।

২ - দামেস্ক ছিল আলিম সমাজ এবং জ্ঞানপিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

৩ - বিভিন্ন ইলম বা জ্ঞান সংকলিত হওয়া এবং তার ব্যাপক প্রচার ও প্রসার।

 

•‌‌ তার ছাত্রবৃন্দ

মুফাসসির আবুল ফিদা ইবনে কাসির, ইবনে রজব আল-হাম্বলি, আলী বিন আব্দুল কাফি আস-সুবকি, ইমাম আয-যাহাবি, ইবনে আব্দুল হাদি, আন-নাবুলুসি (যিনি 'আল-জান্নাহ' নামে পরিচিত ছিলেন),(১) এবং আরও অনেকে।

 

•‌‌ কিতাব সংগ্রহের প্রতি তার প্রবল অনুরাগ:

তার ছাত্র ইবনে রজব (রহ.) বলেন: «তিনি ইলম বা জ্ঞানের প্রতি এবং তা লেখা, পঠন ও রচনার প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। তিনি কিতাব সংগ্রহ করতেন এবং এমন বিপুল পরিমাণ কিতাব সংগ্রহ করেছিলেন যা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি»(২)।

তার ছাত্র ইবনে কাসির (রহ.) বলেন: «তিনি পূর্ববর্তী (سلف) ও পরবর্তী (خلف) আলিমগণের কিতাবসমূহ থেকে এমন পরিমাণ সংগ্রহ করেছিলেন, যার এক দশমাংশ অর্জন করাও অন্যের পক্ষে সহজসাধ্য ছিল না»(৩)।

 

•‌‌ তার প্রশংসায় আলিমগণের উক্তি:

বুরহানুদ্দিন আয-যারয়ি বলেন: আসমানের নিচে তার চেয়ে প্রশস্ত ইলমের অধিকারী আর কেউ নেই।

--------------------------------------------

(১) প্রচুর ইলম বা জ্ঞানের অধিকারী হওয়ার কারণে তাকে এই উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল; কারণ জান্নাতে এমন সবকিছু রয়েছে যা মানুষের অন্তর কামনা করে, আর তার কাছে এমন সব বিষয় ছিল যা তালিবে ইলমদের অন্তর কামনা করত।

(২) «যাইল তাবাকাতিল হানাবিলাহ» (২/ ৪৪৯)।

(৩) «আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া» (১৪/ ২৩৫)।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال تلميذه ابن كَثِيرٍ: كَان ملَازمًا للاشتغال ليْلًا ونَهَارًا، كَثِيرَ الصَّلَاة والتِّلَاوة، حَسَنَ الخلق، كَثِير التودد، لَا يَحْسدُ ولَا يحقدُ.

وقال: لَا أَعْرِف فِي زمَاننا من أَهل العلَم أكثر عبَادَة منه، وكَان يُطِيل الصّلَاة جِدًّا، ويمد رُكُوعَهَا وَسُجُودَهَا.

قال الذَّهَبِيُّ: وكَان إِذا صَلَّى الصُّبْحَ جَلَس مكَانه يَذكر الله حَتَّى يتعالى النَّهَارُ، وَيَقُول هَذِه غدوتي لَو لَم أقعدها سَقَطَت قواي.

قال ابن حَجَرٍ عَنْهُ: كَان جَرِيء اللِّسَان، وَاسِعَ العلم، عارفًا بالخلاف ومذهب السَّلَف.

قال الشوكَاني: كَان متَقيدًا بالأدلة الصَّحِيحَةِ، مُعْجَبًا بِالْعَمَلِ بِهَا، غَيْر معولٍ عَلَى الرَّأي صادعاً بِالْحَقّ، لَا يحابي فِيه أَحَدًا، وَنعْمَةُ الْجُرْأَةِ.

وقال الشوكاني(1): برع في جميع العلوم، وفاق الأقران، واشتهر في الآفاق، وتبحر في معرفة مذاهب السلف.

فهذه طائفة من أقوال الأئمة في بيان منزلة ابن القيم في الطلب

والتحصيل.

 

•‌‌ وفاته:

مَات فِي ثَالِث عَشر من شَهر رَجَب، سَنَة إِحْدَى وَخَمْسِين وَسَبْع مئةٍ، وله ستون عامًا.

--------------------------------------------

(1) في «البدر الطالع» (1/ 143).

তাঁর ছাত্র ইবনে কাসীর বলেন: তিনি দিবা-রাত্রি ইলম অর্জনে নিমগ্ন থাকতেন, তিনি ছিলেন অধিক সালাত আদায়কারী ও কুরআন তিলাওয়াতকারী, উত্তম চরিত্রের অধিকারী এবং অত্যন্ত অমায়িক; তিনি কারও প্রতি হিংসা বা বিদ্বেষ পোষণ করতেন না।

তিনি আরও বলেন: আমি আমাদের সময়ে আলেমদের মধ্যে তাঁর চেয়ে অধিক ইবাদতকারী কাউকে জানি না। তিনি সালাত অত্যন্ত দীর্ঘ করতেন এবং এর রুকু ও সিজদাকে দীর্ঘায়িত করতেন।

যাহাবি বলেন: তিনি যখন ফজরের সালাত আদায় করতেন, তখন রোদ না চড়া পর্যন্ত নিজ স্থানে বসে আল্লাহর জিকির করতেন এবং বলতেন, ‘এটিই আমার সকালের খোরাক, যদি আমি এটি না করি তবে আমার শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে’।

ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেন: তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী, ইলমের ক্ষেত্রে সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী এবং আলেমদের মতপার্থক্য ও সালাফদের মাযহাব সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত।

শাওকানি বলেন: তিনি সহিহ (صحيحة) দলিলসমূহের অনুসারী ছিলেন এবং সে অনুযায়ী আমল করতে পছন্দ করতেন। তিনি ব্যক্তিগত রায়ের ওপর নির্ভর করতেন না, বরং সত্য প্রকাশে ছিলেন অকুতোভয় এবং এ বিষয়ে তিনি কারও পক্ষাবলম্বন করতেন না; কী চমৎকার তাঁর এই সাহসিকতা!

শাওকানি আরও বলেন(১): তিনি সকল জ্ঞানে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন, সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং দেশ-দেশান্তরে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। আর সালাফদের মাযহাবের জ্ঞানে তিনি ছিলেন সমুদ্রের ন্যায় অগাধ।

ইলম অন্বেষণ ও জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে ইবনুল কাইয়্যিমের মর্যাদা বর্ণনায় এগুলো হলো ইমামগণের একগুচ্ছ উক্তি।

সংগ্রহ ও অর্জন।

 

•‌‌ তাঁর মৃত্যু:

তিনি ৭৫১ হিজরি সালের ১৩ই রজব মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ষাট বছর।

--------------------------------------------

(১) আল-বদরুত তালি (১/ ১৪৩) গ্রন্থে।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
•‌‌ مؤلفاته:

لقد تجاوزت مؤلفاته التسعين مؤلفاً، منها ما يتكون من مجلدات ك «إعلام الموقعين»(1) و «زاد المعاد» و «مدارج السالكين»، ومنها «الرسائل»، ومنها بين ذلك(2).

* * *

--------------------------------------------

(1) في ضبط (إعلام) بكسر الهمزة أو فتحها الوجهان، وإن كان الكسر هو المستفيض المشهور.

(2) وانظر: «المقصد الأرشد» (2/ 384 - 385)، و «الذيل على طبقات الحنابلة»

(4/ 368 - 372)، و «البداية والنهاية» (أحداث 751)، و «الدرر الكامنة في أعيان المئة الثامنة» (1/ 480) و «الوافي في الوفيات» (1/ 261) و «ابن قيم الجوزية حياته آثاره موَارده» للعلامة بكر أبو زيد رحمه الله ومنه اقتضبت جل هذه الترجمة.

‌ তাঁর রচনাবলি:

তাঁর গ্রন্থসংখ্যা নব্বইটি ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে কিছু রয়েছে কয়েক খণ্ডবিশিষ্ট; যেমন— ‘ইলামুল মুওয়াক্কিঈন’(১), ‘যাদুল মাআদ’ এবং ‘মাদারিজুস সালিকিন’। আবার কিছু রয়েছে পুস্তিকা আকারের, আর কিছু এ দুয়ের মাঝামাঝি পর্যায়ের(২)।

* * *

--------------------------------------------

(১) ‘ইলাম’ শব্দটির শুরুতে হামজাতে কাসরা (জের) বা ফাতহা (যবর) উভয় পড়ারই অবকাশ রয়েছে, যদিও কাসরা দিয়ে পড়াই অধিক প্রচলিত (مستفيض) ও প্রসিদ্ধ (مشهور)।

(২) দেখুন: ‘আল-মাকসাদুল আরশাদ’ (২/ ৩৮৪ - ৩৮৫), ‘আয-যাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলা’ (৪/ ৩৬৮ - ৩৭২), ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ (৭৫১ হিজরীর ঘটনাবলি), ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ ফী আয়ানিল মিআতিল সামিনাহ’ (১/ ৪৮০), ‘আল-ওয়াফি ফিল ওয়াফিয়াত’ (১/ ২৬১) এবং আল্লামা বকর আবু যায়েদ (রহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘ইবনে কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ: হায়াতুহু, আসারুহু, মাওয়ারিদুহু’; মূলত এই গ্রন্থটি থেকেই এই জীবনীর অধিকাংশ সংক্ষেপিত করা হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌منهجي في الكتاب

1 - جمعتُ الأمثال التي ذكرها ابن القيم رحمه الله في كتبه ورتبتها على سور القرآن.

2 - أوردتُ من كلام العلامة ابن القيم رحمه الله ما يتعلق بها تفسيرًا أو استشهادًا، مقتصرًا على أوعب موطن مع العزو إلى جل المواطن الأخرى، متحريًا أفضل الطبعات.

3 - ذكرت آيات ليست أمثالا، إنما هي متعلقة بالباب.

4 - حكمتُ على الأحاديث والآثار الواردة في كلامه رحمه الله صحةً أو ضعفًا بما تقتضيه القواعد الحديثية.

5 - بيَّنتُ معاني غريب الألفاظ.

6 - ذكرتُ في الحاشية آثارًا صحيحة، وأقوالًا للمفسرين، كالإمام الطبري والحافظ ابن كثير وغيرهم؛ تجلية للمعنى وأما أصل الكتاب فشتمل على كلام ابن القيم رحمه الله.
‌গ্রন্থে আমার কর্মপদ্ধতি

১ - আমি ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর গ্রন্থসমূহে যেসকল উপমা উল্লেখ করেছেন তা সংগ্রহ করেছি এবং কুরআনের সূরা অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি।

২ - আমি আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য থেকে সেগুলোর ব্যাখ্যা বা উদ্ধৃতি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি; এক্ষেত্রে সবচেয়ে বিস্তারিত স্থানটি গ্রহণ করার পাশাপাশি অন্যান্য অধিকাংশ স্থানের উদ্ধৃতি দিয়েছি এবং সর্বোত্তম সংস্করণগুলো অনুসন্ধান করেছি।

৩ - আমি এমন কিছু আয়াত উল্লেখ করেছি যা সরাসরি উপমা নয়, বরং তা এই অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট।

৪ - আমি তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) বক্তব্যে উল্লিখিত হাদিস এবং বর্ণনাগুলোর (الآثار) ওপর হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি অনুযায়ী বিশুদ্ধতা (صحة) বা দুর্বলতার (ضعفًا) বিধান প্রদান করেছি।

৫ - আমি দুর্বোধ্য শব্দগুলোর (غريب الألفاظ) অর্থ স্পষ্ট করেছি।

৬ - অর্থ স্পষ্ট করার লক্ষ্যে আমি টীকায় বিশুদ্ধ (صحيحة) বর্ণনা (آثارًا) এবং ইমাম তাবারী ও হাফিজ ইবনে কাসীরসহ অন্যান্য মুফাসসিরদের (المفسرين) উক্তি উল্লেখ করেছি; তবে মূল গ্রন্থটি কেবল ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যের ওপরই সীমাবদ্ধ।
(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
7 - ترجمتُ للعلامة ابن القيم رحمه الله ترجمة موجزة.

ولمّا تم ما أردته بحمد ذي المن والفضل، سميته «الجَامِع فِي أَمْثَالِ الْقُرْآن للعلامة ابْن القَيِّم رحمه الله».

وَالحَمْدُ لِلهِ أولًا وآخرًا، وظاهرًا وباطنًا.

وصلِّ اللهم عَلى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ، وعَلى آلِه وسلم.

 

وكتبه أبو أويس أشرف بن نصر بن صابر الكردي

مصر- كفر الشيخ- بلطيم- الحنفي الكبرى.

نزيل منية سمنود/ أجا/ دقهلية.

جوال/ 0107192699

* * *
৭ - আমি আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) প্রস্তুত করেছি।

অতঃপর পরম দাতা ও অনুগ্রহশীল আল্লাহর প্রশংসার সাথে যখন আমার উদ্দেশ্য পূর্ণ হলো, তখন আমি এর নামকরণ করেছি «আল-জামি ফি আমনালিল কুরআন লিল-আল্লামা ইবনিল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)»।

আদিতে ও অন্তে, প্রকাশ্য ও গোপনে সমস্ত প্রশংসা কেবল আল্লাহরই জন্য।

হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

 

এটি লিখেছেন আবু উওয়াইস আশরাফ বিন নাসর বিন সাবের আল-কুর্দি

মিশর— কাফরুশ শাইখ— বালতিম— আল-হানাফি আল-কুবরা।

মুনিয়াত সামানুদ/ আযা/ দাকাহলিয়া-এর অধিবাসী।

মোবাইল/ ০১০৭১৯২৬৯৯

* * *
(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌سورة البقرة

1 - قال سبحانه وتعالى: {مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَارًا فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُمَاتٍ لَا يُبْصِرُونَ (17) صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ (18)} [البقرة: 17، 18].

شبَّه سبحانه وتعالى أعداءه المنافقين بقوم أوقدوا نارًا لتضيء لهم وينتفعوا بها، فلما أضاءت لهم النار فأبصروا في ضوئها ما ينفعهم ويضرهم، وأبصروا الطريق بعد أن كانوا حيارى تائهين، فهم كقوم سفر ضلوا عن الطريق فأوقدوا النار لتضيء لهم الطريق.

فلما أضاءت لهم فأبصروا وعرفوا طفئت تلك الأنوار وبقوا في الظلمات لا يبصرون، قد سدت عليهم أبواب الهدى الثلاث، فإن الهدي يدخل إلى العبد من ثلاثة أبواب. مما يسمعه بأذنه ويراه بعينه ويعقله بقلبه.

وهؤلاء قد سدت عليهم أبواب الهدى فلا تسمع قلوبهم شيئًا ولا تبصره ولا تعقل ما ينفعها؛ وقيل لما لم ينتفعوا بأسماعهم وأبصارهم وقلوبهم نُزِّلوا بمنزلة من لا سمع له ولا بصر ولا عقل.

والقولان متلازمان، وقال في صفتهم {فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ} لأنهم قد رأوا في ضوء النار وأبصروا الهدى، فلما طفئت عنهم لم يرجعوا إلى ما رأوا وأبصروا وقال سبحانه وتعالى {ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ} ولم يقل ذهب نورهم، وفيه سر بديع وهو انقطاع سر تلك المعية الخاصة التي هي للمؤمنين من الله سبحانه وتعالى.

فإن الله تعالى مع المؤمنين وإن الله مع الصابرين وإن الله مع الذين اتقوا والذين هم محسنون؛ فذهاب الله بذلك النور انقطاع لمعيته التي خص بها أولياءه
‌সূরা আল-বাকারাহ

১ - মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {তাদের উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মতো যে আগুন জ্বালল; অতঃপর যখন তা তার চারপাশকে আলোকিত করল, আল্লাহ তাদের জ্যোতি কেড়ে নিলেন এবং তাদেরকে এমন অন্ধকারে রেখে দিলেন যে তারা কিছুই দেখতে পায় না (১৭)। তারা বধির, বোবা ও অন্ধ; তাই তারা ফিরে আসবে না (১৮)} [আল-বাকারাহ: ১৭, ১৮]।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর শত্রু মুনাফিকদের এমন এক দলের সাথে তুলনা করেছেন যারা আগুন প্রজ্জ্বলিত করেছে যাতে তা তাদের জন্য আলো দেয় এবং তারা তার দ্বারা উপকৃত হতে পারে। অতঃপর যখন আগুন তাদের চারপাশকে আলোকিত করল এবং তারা সেই আলোতে তাদের জন্য যা উপকারী ও যা ক্ষতিকর তা দেখতে পেল, এবং পথহারা ও বিভ্রান্ত অবস্থায় থাকার পর সঠিক পথের দিশা পেল; তারা সেই ভ্রমণকারী দলের মতো যারা পথ হারিয়ে ফেলেছিল এবং পথ চেনার জন্য আগুন জ্বালিয়েছিল।

অতঃপর যখন আগুন তাদের চারপাশ আলোকিত করল এবং তারা সত্য প্রত্যক্ষ করল ও চিনতে পারল, তখনই সেই জ্যোতিসমূহ নিভে গেল এবং তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো, তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছিল না। তাদের জন্য হেদায়াতের তিনটি পথই রুদ্ধ হয়ে গেল; কেননা হেদায়াত বান্দার নিকট তিনটি প্রবেশপথ দিয়ে পৌঁছায়: যা সে তার কান দিয়ে শোনে, চোখ দিয়ে দেখে এবং অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করে।

আর এদের জন্য হেদায়াতের দ্বারসমূহ রুদ্ধ হয়ে গেছে, ফলে তাদের অন্তর কোনো কিছু শোনে না, দেখে না এবং যা তাদের জন্য উপকারী তা উপলব্ধিও করে না। কেউ কেউ বলেছেন, যেহেতু তারা তাদের শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ থেকে কোনো উপকার গ্রহণ করেনি, তাই তাদেরকে এমন স্তরে গণ্য করা হয়েছে যাদের কোনো শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি বা বুদ্ধি নেই।

এই উভয় বক্তব্যই পরস্পর সম্পৃক্ত। তাদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তিনি বলেছেন {তাই তারা ফিরে আসবে না}, কারণ তারা আগুনের আলোতে সত্য প্রত্যক্ষ করেছিল এবং হেদায়াত দেখতে পেয়েছিল; কিন্তু যখন তা তাদের থেকে নিভে গেল, তখন তারা যা দেখেছিল ও প্রত্যক্ষ করেছিল সেই পথে আর ফিরে আসেনি। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন {আল্লাহ তাদের জ্যোতি নিয়ে গেছেন}, তিনি ‘তাদের জ্যোতি চলে গেছে’ বলেননি। এর মধ্যে একটি অপূর্ব রহস্য নিহিত রয়েছে, আর তা হলো সেই বিশেষ সান্নিধ্যের (معية) সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট।

কেননা আল্লাহ তাআলা মুমিনদের সাথে আছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকি ও সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন। সুতরাং আল্লাহ কর্তৃক সেই জ্যোতি নিয়ে যাওয়া হলো তাঁর সেই বিশেষ সান্নিধ্যের (معية) বিচ্ছেদ ঘটা যা তিনি তাঁর ওলিদের (أولياء) জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
فقطعها بينه وبين المنافقين فلم يبق عندهم بعد ذهاب نورهم ولا معهم. فليس لهم نصيب من قوله {لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا} ولا من {كَلَّا إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ}.

وتأمل قوله سبحانه وتعالى {أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ} كيف جعل ضوءها خارجًا عنه منفصلًا ولو اتصل ضوئها به ولابسه لم يذهب، ولكنه كان ضوء مجاورة لا ملابسة ومخالطة، وكان الضوء عارضًا والظلمة أصلية، فرجع الضوء إلى معدنه وبقيت الظلمة في معدنها، فرجع كل منهما إلى أصله اللائق به حجة من الله قائمة وحكمة بالغة تعرف بها إلى أولي الألباب من عباده.

وتأمل قوله سبحانه وتعالى: {ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ} ولم يقل بنارهم ليطابق أول الآية، فإن النار فيها إشراق وإحراق، فذهب بما فيها من الإشراق وهو النور؛ وأبقى عليهم ما فيها من الإحراق وهو النارية.

وتأمل كيف قال بنورهم ولم يقل بضوئهم مع قوله {فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ} لأن الضوء هو زيادة في النور فلو قيل ذهب الله بضوئهم لأوهم الذهاب بالزيادة فقط دون الأصل، فلما كان النور أصل الضوء كان الذهاب به ذهابًا بالشيء وزيادته.

وأيضًا فإنه أبلغ في النفي عنهم وإنهم من أهل الظلمات الذين لا نور لهم وأيضا فإن الله سبحانه وتعالى سمى كتابه نورًا ورسوله صلى الله عليه وسلم نورًا ودينه نورًا وهداه نورًا ومن أسمائه النور والصلاة نور، فذهابه سبحانه بنورهم ذهاب بهذا كله، وتأمل مطابقة هذا المثل لما تقدمه من قوله {أُولَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَى فَمَا رَبِحَتْ تِجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ (16)} كيف طابق هذه التجارة الخاسرة التي تضمنت حصول الضلالة والرضى بها، وبذل الهدى في مقابلتها.
অতএব তিনি তাদের এবং মুনাফিকদের মাঝে এটি বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন, ফলে তাদের নূর চলে যাওয়ার পর তা তাদের নিকট অবশিষ্ট রইল না এবং তাদের সাথেও থাকল না। সুতরাং তাঁর এই বাণীর মাঝে তাদের কোনো অংশ নেই: {চিন্তিত হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন} এবং {কখনই নয়, নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আমার সাথে আছেন, তিনি আমাকে পথপ্রদর্শন করবেন}—এই বাণীতেও নয়।

আর মহান আল্লাহর এই বাণীটি অনুধাবন করুন: {তা যখন তার চারপাশকে আলোকিত করল}, কীভাবে তিনি এর আলোকচ্ছটাকে তার থেকে পৃথক ও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। যদি এই আলো তার সাথে অবিচ্ছিন্ন থাকত এবং তার সত্তার সাথে মিশে থাকত, তবে তা দূরীভূত হতো না। বরং এটি ছিল কেবল পার্শ্ববর্তী হওয়ার কারণে প্রাপ্ত আলো, কোনো অবিচ্ছেদ্য সংমিশ্রণ বা একীভূত হওয়ার কারণে নয়। এই আলো ছিল আগন্তুক এবং অন্ধকারই ছিল তার প্রকৃত রূপ। ফলে আলো তার উৎসে ফিরে গেল এবং অন্ধকার তার নিজস্ব আধারেই রয়ে গেল। এভাবে তাদের উভয়টিই স্বীয় মূল প্রকৃতিতে ফিরে গেল যা তাদের জন্য উপযুক্ত ছিল; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সুপ্রতিষ্ঠিত দলিল এবং সুগভীর প্রজ্ঞা, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে প্রজ্ঞাবানদের নিকট আত্মপরিচয় পেশ করেন।

এবং লক্ষ্য করুন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তাদের নূর কেড়ে নিলেন}, তিনি "তাদের আগুন কেড়ে নিলেন" বলেননি যেন আয়াতের প্রথমাংশের সাথে সামঞ্জস্য বজায় থাকে। কারণ আগুনের ধর্ম হলো তা একইসাথে উজ্জ্বলতা দান ও দহন করে। অতএব তিনি এর উজ্জ্বলতার অংশটি অর্থাৎ 'নূর' কেড়ে নিয়েছেন এবং তাদের জন্য দহনকারী অংশটি অর্থাৎ 'অগ্নিগুণ' অবশিষ্ট রেখেছেন।

এবং লক্ষ্য করুন কীভাবে তিনি ‘তাদের নূর’ বলেছেন এবং ‘তাদের দীপ্তি’ বলেননি, যদিও তিনি ইতিপূর্বে বলেছেন {যখন তা তার চারপাশকে আলোকিত করল}। কারণ দীপ্তি হলো নূরের আধিক্য বা প্রাবল্য। যদি বলা হতো "আল্লাহ তাদের দীপ্তি কেড়ে নিলেন", তবে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতো যে কেবল নূরের অতিরিক্ত অংশটুকু অপসারিত হয়েছে, মূল নূর নয়। কিন্তু যেহেতু নূর হলো দীপ্তির মূল ভিত্তি, তাই নূর অপসারিত হওয়া মানে মূল বস্তু এবং এর অতিরিক্ত অংশ উভয়ই অপসারিত হওয়া।

তদুপরি, এটি তাদের থেকে নূরের অস্তিত্ব অস্বীকার করার ক্ষেত্রে অধিকতর বলিষ্ঠ ভাষা এবং এটিই প্রমাণ করে যে তারা সেই অন্ধকার জগতের অধিবাসী যাদের কোনো নূর নেই। এছাড়া মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবকে নূর হিসেবে অভিহিত করেছেন, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নূর বলেছেন, তাঁর দ্বীনকে নূর বলেছেন এবং তাঁর হেদায়েতকেও নূর বলেছেন। এমনকি আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহের মাঝে একটি হলো ‘আন-নূর’ এবং সালাতও হলো নূর। সুতরাং মহান আল্লাহ কর্তৃক তাদের নূর কেড়ে নেওয়ার অর্থ হলো এ সব কিছুকেই কেড়ে নেওয়া। লক্ষ্য করুন, এই উপমাটি এর পূর্ববর্তী বাণীর সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ: {তারাই তারা যারা হেদায়েতের বিনিময়ে ভ্রষ্টতাকে ক্রয় করেছে, সুতরাং তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি এবং তারা হেদায়েতপ্রাপ্তও ছিল না (১৬)}। এই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসার সাথে এর সামঞ্জস্য কত চমৎকার, যা ভ্রষ্টতা অর্জন ও তাতে সন্তুষ্ট হওয়া এবং এর বিনিময়ে হেদায়েত বিসর্জন দেওয়ার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
وحصول الظلمات التي هي الضلالة والرضى بها بدلا عن النور الذي هو الهدى، فبذلوا الهدى والنور وتعوضوا عنه بالظلمة والضلالة فيا لها من تجارة ما أخسرها وصفقة ما أشد غبنها.

وتأمل كيف قال الله سبحانه وتعالى {ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ} فوحده ثم قال {وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُمَاتٍ لَا يُبْصِرُونَ} فجمعها فإن الحق واحد وهو صراط الله المستقيم الذي لا صراط يوصل إليه سواه، وهو عبادته وحده لا شريك له بما شرعه على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم لا بالأهواء والبدع وطرق الخارجين عما بعث الله به رسوله صلى الله عليه وسلم من الهدى ودين الحق بخلاف طرق الباطل فإنها متعددة متشعبة.

ولهذا يفرد سبحانه الحق ويجمع الباطل، كقوله سبحانه وتعالى: {اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُمْ مِنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ} [البقرة: 257] وقال سبحانه وتعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ … الآية} [الأنعام: 153] فجمع سبل الباطل ووحد سبيل الحق ولا يناقض هذا قوله سبحانه وتعالى {يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ} [المائدة: 16].

فإن تلك هي طرق مرضاته التي يجمعها سبيله الواحد وصراطه المستقيم فإن طرق مرضاته كلها ترجع إلى صراط واحد وسبيل واحد وهي سبيله التي لا سبيل إليه إلا منها.

وقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه خط خطًّا مستقيمًا وقال: «هذا سبيل الله» ثم خط خطوطًا عن يمينه وعن شماله فقال: «هذه سبل على كل سبيل منها شيطان يدعو إليه»، ثم قرأ قوله سبحانه وتعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ
অন্ধকার যা বিভ্রান্তি হিসেবে গণ্য এবং হিদায়াত স্বরূপ আলোর পরিবর্তে সেই অন্ধকারেই সন্তুষ্ট থাকা; তারা হিদায়াত ও আলোকে বিসর্জন দিয়েছে এবং তার বিনিময়ে অন্ধকার ও ভ্রষ্টতাকে গ্রহণ করেছে। আক্ষেপ! এটি কতই না লোকসানজনক ব্যবসা এবং কতই না চরম বঞ্চনামূলক কারবার।

চিন্তা করে দেখুন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কীভাবে বলেছেন: {আল্লাহ তাদের নূর হরণ করেছেন}, এখানে তিনি একবচন ব্যবহার করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন: {এবং তাদেরকে ঘোর অন্ধকারের মধ্যে ছেড়ে দিয়েছেন যাতে তারা দেখতে পায় না}, এখানে তিনি বহুবচন ব্যবহার করেছেন। কারণ সত্য এক, আর তা হলো আল্লাহর সরল পথ, যা ছাড়া তাঁর নিকট পৌঁছানোর অন্য কোনো পথ নেই। আর তা হলো শরিকহীনভাবে একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা, যা তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র জবানিতে শরিয়ত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন; তা খেয়ালখুশি, বিদআত এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, তা থেকে বিচ্যুতদের পন্থার অনুসরণ করে নয়। পক্ষান্তরে বাতিলের পথগুলো বহুবিধ ও বহুধা বিভক্ত।

একারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সত্যকে একবচনে এবং বাতিলকে বহুবচনে উল্লেখ করেন। যেমন তাঁর বাণী: {যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক; তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে নিয়ে যান। আর যারা কুফরি করে তাদের অভিভাবক হলো তাগুত, তারা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়} [সূরা বাকারা: ২৫৭]। তিনি আরও বলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে … আয়াত} [সূরা আন'আম: ১৫৩]। এখানে তিনি বাতিলের পথগুলোকে বহুবচনে এবং সত্যের পথকে একবচনে উল্লেখ করেছেন। আর এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা-এর এই বাণীর সাথে সাংঘর্ষিক নয় যে: {এর দ্বারা আল্লাহ ঐ সকল ব্যক্তিদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে} [সূরা মায়িদা: ১৬]।

কেননা এগুলো হলো তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের বিভিন্ন পন্থা যা তাঁর একক পথ ও সরল পথের অন্তর্ভুক্ত। কারণ তাঁর সন্তুষ্টির সকল পন্থাই একটি অভিন্ন পথ ও সরণির দিকে প্রত্যাবর্তন করে এবং সেটিই হলো তাঁর একমাত্র পথ, যা ব্যতীত তাঁর সান্নিধ্য লাভের আর কোনো পথ নেই।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ (صحيح) প্রমাণিত যে, তিনি একটি সোজা রেখা টানলেন এবং বললেন: «এটি আল্লাহর পথ», তারপর তিনি তাঁর ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা টানলেন এবং বললেন: «এগুলো হলো বিভিন্ন পথ, যার প্রতিটি পথে একজন শয়তান অবস্থান করে সেদিকে মানুষকে ডাকছে», অতঃপর তিনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা-এর এই বাণী তিলাওয়াত করলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না...
(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (153)}(1).

وقد قيل: إن هذا مثل للمنافقين وما يوقدونه من نار الفتنة التي يوقعونها بين أهل الإسلام ويكون بمنزلة قوله سبحانه وتعالى: {كُلَّمَا أَوْقَدُوا نَارًا لِلْحَرْبِ أَطْفَأَهَا اللَّهُ} ويكون قوله سبحانه وتعالى: {ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ} مطابقًا لقوله سبحانه وتعالى: {أَطْفَأَهَا اللَّهُ}.

ويكون تخييبهم وإبطال ما راموه هو تركهم في ظلمات الحيرة لا يهتدون إلى التخلص مما وقعوا فيه ولا يبصرون سبيلا بل هم صم بكم عمي، وهذا التقدير وإن كان حقا ففي كونه مرادًا بالآية نظر، فإن السياق إنما قُصِد لغيره ويأباه قوله سبحانه وتعالى {فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ} وموقد نار الحرب لا يضيء ما حوله أبدًا، ويأباه قوله سبحانه وتعالى {ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ} وموقد نار الحرب لا نور له ويأباه قوله سبحانه وتعالى {وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُمَاتٍ لَا يُبْصِرُونَ} وهذا يقتضي أنهم انتقلوا من نور المعرفة والبصيرة إلى ظلمة الشك والكفر.

• قال الحسن رحمه الله: هو المنافق أبصر ثم عمي وعرف ثم أنكر(2).

ولهذا قال: {فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ}(3) أي: لا يرجعون إلى النور الذي فارقوه، وقال سبحانه وتعالى في حق الكفار: {صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَعْقِلُونَ (171)} فسلب العقل عن الكفار، إذ لم يكونوا من أهل البصيرة والإيمان، وسلب الرجوع عن المنافقين

--------------------------------------------

(1) صحيح: أخرجه أحمد (1/ 435). وانظر: حاشية «الاعتصام» (ص/ 44) ط ابن رجب.

(2) ذكره ابن أبي حاتم «التفسير» وأسند نحوه (185) عن عطاء وإسناده ضعيف.

(3) قال قتادة: قوله {صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ}: صمٌّ عن الحق فلا يسمعونه، عميٌ عن الحق فلا يبصرونه، بُكمٌ عن الحق فلا ينطقون به. أخرجه الطبري في «التفسير» (401) بإسناد حسن.
{ততক্ষণাৎ তা তোমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন (تفرق) করে ফেলবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো (১৫৩)}(১).

বলা হয়ে থাকে যে: এটি মুনাফিকদের এবং তাদের প্রজ্বলিত ফিতনার আগুনের একটি উদাহরণ, যা তারা মুসলিমদের মধ্যে সৃষ্টি করে। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর সমপর্যায়ভুক্ত: {যখনই তারা যুদ্ধের আগুন জ্বালায়, আল্লাহ তা নিভিয়ে দেন}। আর মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তাদের জ্যোতি কেড়ে নিলেন} তাঁর এই বাণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: {আল্লাহ তা নিভিয়ে দিলেন}।

তাদেরকে হতাশ করা এবং তাদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দেওয়ার অর্থ হলো তাদেরকে বিভ্রান্তির অন্ধকারের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া, যাতে তারা যে বিপদে পড়েছে তা থেকে নিষ্কৃতির পথ খুঁজে না পায় এবং কোনো পথ দেখতেও না পায়। বরং তারা বধির, বোবা ও অন্ধ। এই ব্যাখ্যা যদিও সঠিক, তবে এটিই আয়াতের মূল উদ্দেশ্য কি না সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ প্রসঙ্গের ধারাটি মূলত অন্য উদ্দেশ্যে এসেছে এবং আল্লাহর এই বাণী তা গ্রহণ করতে বাধা দেয়: {যখন আগুন তার চারপাশ আলোকিত করল}। কারণ যুদ্ধাগ্নি প্রজ্বলনকারী কখনোই তার চারপাশ আলোকিত করতে পারে না। অনুরূপভাবে আল্লাহর এই বাণীও একে প্রত্যাখ্যান করে: {আল্লাহ তাদের জ্যোতি কেড়ে নিলেন}। কারণ যুদ্ধাগ্নি প্রজ্বলনকারীর কোনো নূর বা জ্যোতি থাকে না। আবার আল্লাহর এই বাণীও একে বাধা দেয়: {এবং তাদেরকে অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন যাতে তারা কিছুই দেখতে না পায়}। এটি দাবি করে যে, তারা মা'রিফাত বা পরিচিতি এবং অন্তর্দৃষ্টির আলো থেকে সন্দেহ ও কুফরির অন্ধকারের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে।

• হাসান (রহ.) বলেন: সে হলো মুনাফিক, যে প্রথমে দেখেছিল তারপর অন্ধ হয়ে গেছে এবং প্রথমে চিনেছিল তারপর অস্বীকার করেছে(২).

এ কারণেই তিনি বলেছেন: {কাজেই তারা ফিরে আসবে না}(৩) অর্থাৎ: তারা যে নূর বা আলো ত্যাগ করে এসেছে তাতে আর ফিরে আসবে না। মহান আল্লাহ কাফিরদের ক্ষেত্রে বলেছেন: {তারা বধির, বোবা ও অন্ধ, তাই তারা বোঝে না (১৭১)}। এখানে কাফিরদের থেকে বোধশক্তি কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যেহেতু তারা অন্তর্দৃষ্টি ও ঈমানের অধিকারী ছিল না। আর মুনাফিকদের থেকে ফিরে আসার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সহিহ (صحيح): এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন (১/৪৩৫)। দেখুন: 'আল-ইতিসাম'-এর টীকা (পৃ. ৪৪), ইবনে রজব সংস্করণ।

(২) ইবনে আবি হাতিম তাঁর 'তাফসির' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং আতা থেকে অনুরূপ একটি বর্ণনা সনদসহ (إسناد) উদ্ধৃত করেছেন (১৮৫); এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)।

(৩) কাতাদা বলেছেন: তাঁর বাণী {বধির, বোবা ও অন্ধ}: অর্থাৎ হকের ব্যাপারে তারা বধির ফলে তারা তা শোনে না, হকের ব্যাপারে অন্ধ ফলে তারা তা দেখে না এবং হকের ব্যাপারে বোবা ফলে তারা তা উচ্চারণ করে না। তাবারী তাঁর 'তাফসির' গ্রন্থে (৪০১) এটি হাসান (حسن) সনদসহ (إسناد) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-জামে ফি আমসালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
لأنهم آمنوا ثم كفروا فلم يرجعوا إلى الإيمان.(1).

2 - قال سبحانه وتعالى: {أَوْ كَصَيِّبٍ مِنَ السَّمَاءِ فِيهِ ظُلُمَاتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ يَجْعَلُونَ أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِمْ مِنَ الصَّوَاعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ وَاللَّهُ مُحِيطٌ بِالْكَافِرِينَ (19) يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ كُلَّمَا أَضَاءَ لَهُمْ مَشَوْا فِيهِ وَإِذَا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُوا وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (20)} [البقرة: 19، 20].

ثم ضرب الله سبحانه وتعالى لهم - للمنافقين- مثلًا آخر مائيًّا فقال سبحانه وتعالى: {أَوْ كَصَيِّبٍ مِنَ السَّمَاءِ فِيهِ ظُلُمَاتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ يَجْعَلُونَ أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِمْ مِنَ الصَّوَاعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ وَاللَّهُ مُحِيطٌ بِالْكَافِرِينَ} فشبه نصيبهم مما بعث الله سبحانه وتعالى به رسوله صلى الله عليه وسلم من النور والحياة بنصيب المستوقد للنار التي طفئت عنه أحوج ما كان إليها وذهب نوره وبقي في الظلمات حائرًا تائهًا لا يهتدي سبيلًا ولا يعرف طريقًا، وبنصيب أصحاب الصيب وهو المطر الذي يصوب، أي ينزل من علو إلى أسفل، فشبه الهدى الذي هدى به عباده بالصيب، لأن القلوب تحيا به حياة الأرض بالمطر، ونصيب المنافقين من هذا الهدى بنصيب من لم يحصل له من الصيب إلا ظلمات ورعد وبرق، ولا نصيب له فيما وراء ذلك مما هو المقصود بالصيب من حياة البلاد والعباد والشجر والدواب.

وأن تلك الظلمات التي فيه وذلك الرعد والبرق مقصود لغيره وهو وسيلة إلى كمال الانتفاع بذلك الصيب، فالجاهل لفرط جهله يقتصر على الإحساس بما في الصيب من ظلمة ورعد وبرق ولوازم ذلك من برد شديد وتعطيل مسافر عن

--------------------------------------------

(1) «اجتماع الجيوش الإسلامية» (63 - 68) ط مكتبة الرشد. وانظر: «إعلام الموقعين» (2/ 217)، و «الوابل الصيب» (ص/ 125)، و «مدارج السالكين» (1/ 613)، و «طريق الهجرتين» (2/ 881).
কারণ তারা ঈমান এনেছিল, অতঃপর কুফরি করেছিল, তাই তারা আর ঈমানের দিকে ফিরে আসেনি।(1)।

২ - মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অথবা আকাশের বর্ষণমুখর মেঘের মতো, যাতে রয়েছে অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎচমক। তারা বজ্রধ্বনিতে মৃত্যুভয়ে কানে আঙুল দিয়ে থাকে। আর আল্লাহ কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছেন। (১৯) বিদ্যুৎচমক যেন তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে চায়। যখনই তা তাদের জন্য আলোকোজ্জ্বল হয়, তারা তাতে চলতে থাকে এবং যখন তাদের ওপর অন্ধকার আচ্ছন্ন হয়, তারা দাঁড়িয়ে পড়ে। আর আল্লাহ চাইলে অবশ্যই তাদের শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। (২০)} [আল-বাকারা: ১৯, ২০]।

অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের জন্য -অর্থাৎ মুনাফিকদের জন্য- পানির আরেকটি উদাহরণ পেশ করেছেন এবং ইরশাদ করেছেন: {অথবা আকাশের বর্ষণমুখর মেঘের মতো, যাতে রয়েছে অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎচমক। তারা বজ্রধ্বনিতে মৃত্যুভয়ে কানে আঙুল দিয়ে থাকে। আর আল্লাহ কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছেন।} এখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে নূর ও জীবন দিয়ে পাঠিয়েছেন, তাতে তাদের অংশকে সেই ব্যক্তির অংশের সাথে তুলনা করেছেন যে আগুন প্রজ্বলিত করেছিল, কিন্তু ঠিক প্রয়োজনের সময় তা নিভে গেল এবং তার আলো চলে গেল, আর সে অন্ধকারে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও পথভ্রষ্ট হয়ে রয়ে গেল, সে না পায় কোনো দিশা, না চেনে কোনো পথ। আর (তাদের অবস্থাকে তুলনা করেছেন) সেই বর্ষণমুখর মেঘের সঙ্গীদের সাথে যা উপর থেকে নিচে নিপতিত হয়। সুতরাং তিনি সেই হেদায়াতকে বৃষ্টির সাথে তুলনা করেছেন যার মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের পরিচালিত করেন, কারণ বৃষ্টির মাধ্যমে মাটি যেমন জীবিত হয়, তদ্রূপ এর মাধ্যমে অন্তরসমূহও সজীবতা লাভ করে। আর এই হেদায়াত থেকে মুনাফিকদের অংশ হলো সেই ব্যক্তির অংশের ন্যায় যে সেই বৃষ্টি থেকে অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎচমক ছাড়া আর কিছুই পায়নি। আর বৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ জনপদ, মানুষ, বৃক্ষলতা ও পশুপাখির জীবন পাওয়ার মতো যে কল্যাণ নিহিত রয়েছে, তার কোনো অংশই সে পায়নি।

আর সেই অন্ধকার, বজ্র ও বিদ্যুৎ স্বয়ং উদ্দেশ্য নয়, বরং তা বৃষ্টির পূর্ণ উপযোগিতা লাভের একটি মাধ্যম মাত্র। কিন্তু মূর্খ ব্যক্তি তার চূড়ান্ত মূর্খতার কারণে বৃষ্টির মধ্যকার অন্ধকার, বজ্র, বিদ্যুৎ এবং এর আবশ্যকীয় অনুষঙ্গ যেমন প্রচণ্ড শীত ও মুসাফিরের পথ চলায় বিঘ্ন ঘটার অনুভূতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

--------------------------------------------

(1) 'ইজতিমাউল জুইউশ আল-ইসলামিয়্যাহ' (৬৩ - ৬৮) মাকতাবাতুর রুশদ সংস্করণ। এবং দেখুন: 'ইলামুল মুওয়াক্কিইন' (২/ ২১৭), 'আল-ওয়াবিলুস সয়্যিব' (পৃ./ ১২৫), 'মাদারিজুস সালিকিন' (১/ ৬১৩) এবং 'তরিকুল হিজরাতাইন' (২/ ৮৮১)।