(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: -)
قاعدة مختصرة في قتال الكفار ومهادنتهم وتحريم قتلهم لمجرد كفرهم القسم: مسائل فقهية
الكتاب: قاعدة مختصرة في قتال الكفار ومهادنتهم وتحريم قتلهم لمجرد كفرهم
المؤلف: شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية الحراني (661 - 728 هـ)
حققها ودرسها دراسة مقارنة: د. عبد العزيز بن عبد الله بن إبراهِيم الزير آل حمد
الناشر: (المحقق)
الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م
عدد الصفحات: 221
أعده للشاملة: محمد المنصور m_almansour@yahoo.com
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 رجب 1440
কাফিরদের সাথে যুদ্ধ, তাদের সাথে সন্ধি এবং কেবল কুফরের কারণে তাদের হত্যা করার হারামের সংক্ষিপ্ত নীতিমালা বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: কাফিরদের সাথে যুদ্ধ, তাদের সাথে সন্ধি এবং কেবল কুফরের কারণে তাদের হত্যা করার হারামের সংক্ষিপ্ত নীতিমালা
লেখক: শাইখুল ইসলাম আহমাদ বিন আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (৬৬১ - ৭২৮ হিজরি)
সম্পাদনা ও তুলনামূলক পর্যালোচনা: ড. আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-যাইর আল-হামাদ
প্রকাশক: (মুহাক্কিক)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২১
শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতি: মুহাম্মদ আল-মানসুর m_almansour@yahoo.com
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রজব ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ১)
قَاعِدَةٌ مُخْتَصَرَةٌ فِي قِتَالِ الكُفَّار وَمُهَادَنَتِهِمَ وَتَحْرِيمِ قَتْلِهِمَ لِمُجَرَّدِ كُفْرهِمَ
(قَاعِدِةٌ تبيِّن القِيَم السَّامِية لِلحَضَارَة الإسْلَاميَّةِ في الحَربِ وَالقِتَال)
تأليف
شيخ الإسْلَام أحْمَد بن عَبْد الحَليم ابْن تيميَّة الحرَّاني
(661 - 728 هـ)
حقّقَها ودَرسهَا درَاسَة مُقَارنة
د. عبْد العزيز بْن عَبْد اللَّه بن إِبْراهِيم الزِّير آل حمَد
غفرَ الله لَه وَلوَالديْه وللمُسلمين
কাফিরদের সাথে যুদ্ধ, তাদের সাথে সন্ধি এবং কেবলমাত্র কুফরের কারণে তাদের হত্যা করার নিষিদ্ধতা (تحريم) বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত মূলনীতি (قاعدة)
(যুদ্ধ ও সংঘাতের ক্ষেত্রে ইসলামি সভ্যতার সুমহান মূল্যবোধ বর্ণনাকারী একটি মূলনীতি (قاعدة))
রচনা
শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী
(৬৬১ - ৭২৮ হিজরি)
সম্পাদনা ও তুলনামূলক গবেষণা
ড. আব্দুল আজীজ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহীম আয-যীর আল হামাদ
আল্লাহ তাকে, তার পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ৩)
قَاعِدَةٌ مُخْتَصَرَةٌ فِي قِتَالِ الكُفَّار وَمُهَادَنَتِهِمَ وَتَحْرِيمِ قَتْلِهِمَ لِمُجَرَّدِ كُفْرهِمَ
কাফিরদের সাথে যুদ্ধ, তাদের সাথে সন্ধি এবং কেবল তাদের কুফরির কারণে তাদের হত্যা করার নিষিদ্ধতা সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত নীতিমালা (قاعدة)
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ৪)
ح عبد العزيز عبد الله الزير آل حمد، 1424 هـ
فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية اثناء النشر
ابن تيمية، أحمد بن عبد الحليم.
قاعدة مختصرة في قتال الكفار ومهادنتهم وتحريم قتلهم لمجرد كفرهم/ أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية؛ عبد العزيز عبد الله الزير آل حمد - الرياض، 1424 هـ.
242 ص 17 × 24 سم.
ردمك: 2 - 084 - 44 - 9960
1 - الجهاد
أ. الزير، عبد العزيز عبد الله (محقق) ب - العنوان ديوي 256
5969/ 1424
رقم الإيداع 5969/ 1424
ردمك: 2 - 084 - 44 - 9960
حُقُوق الطَّبْع مَحْفُوظَة لِلمُحقّق
الطَّبْعَة الأُولى
1425 هـ - 2004 مـ
يطلب الكتاب من المحقق على العنوان التالي:
المملكة العربية السعودية. الرياض
ص. ب 365183 الرمز البريدي 11393
بريد إلكتروني: dr_alzeer@hotmail.com
© আব্দুল আজিজ আব্দুল্লাহ আল-যীর আল-হামাদ, ১৪২৪ হিজরি
প্রকাশনাকালীন কিং ফাহদ জাতীয় গ্রন্থাগার সূচীকরণ
ইবনে তাইমিয়া, আহমদ বিন আব্দুল হালিম।
কাফিরদের সাথে যুদ্ধ, তাদের সাথে সন্ধি এবং কেবল কুফরের কারণে তাদের হত্যা করার হারামের বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত মূলনীতি (قاعدة) / আহমদ বিন আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়া; আব্দুল আজিজ আব্দুল্লাহ আল-যীর আল-হামাদ - রিয়াদ, ১৪২৪ হিজরি।
২৪২ পৃষ্ঠা ১৭ × ২৪ সেমি।
আইএসবিএন: ২ - ০৮৪ - ৪৪ - ৯৯৬০
১ - জিহাদ
ক. আল-যীর, আব্দুল আজিজ আব্দুল্লাহ (গবেষক-সম্পাদক (محقق)) খ - শিরোনাম। ডিউই ২৫৬
৫৯৬৯/ ১৪২৪
জমাদান নম্বর ৫৯৬৯/ ১৪২৪
আইএসবিএন: ২ - ০৮৪ - ৪৪ - ৯৯৬০
সর্বস্বত্ব গবেষক-সম্পাদকের (محقق) নিকট সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
বইটি নিম্নোক্ত ঠিকানায় গবেষক-সম্পাদকের (محقق) নিকট পাওয়া যাবে:
সৌদি আরব সাম্রাজ্য। রিয়াদ
পি.ও. বক্স ৩৬৫১৮৩ পোস্টাল কোড ১১৩৯৩
ইমেইল: dr_alzeer@hotmail.com
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ৫)
كلمات مضيئة
* قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى: (الكفار إنما يقاتلون بشرط الحراب، كما ذهب اليه جمهور العلماء، وكما دل عليه الكتاب والسنة، كما هو مبسوط في موضعه) "النبوات" ص (140).
* * *
* قال ابن القيم رحمه الله تعالى: (ولأن القتل إنما وجب في مقابلة الحراب لا في مقابلة الكفر، ولذلك لا يقتل النساء، ولا الصبيان، ولا الزمنى، والعميان، ولا الرهبان الذين لا يقاتلون؛ بل نقاتل من حاربنا) "أحكام أهل الذمة" (1/ 110).
* * *
* وقال أيضًا: (ولم يكره أحدًا قط على الدين، وإنما كان يقاتل من يحاربه ويقاتله، وأما من سالمه وهادنه فلم يقاتله ولم يكرهه على الدخول في دينه امتثالًا لأمر ربه سبحانه
… ومن تأمل سيرة النبي صلى الله عليه وسلم تبين له أنه لم يكره أحدًا على دينه قط، وأنه إنما قاتل من قاتله، وأما من هادنه فلم يقاتله ما دام مقيمًا على هدنته لم ينقض عهده) "هداية الحيارى" (1/ 12).
জ্যোতির্ময় বাণী
* শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: (কাফিরদের সাথে যুদ্ধ কেবল তখনই বৈধ যখন তারা যুদ্ধংদেহী অবস্থায় (حراب) লিপ্ত থাকে, যেমনটি সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) আলেমগণ মত পোষণ করেছেন এবং কিতাব ও সুন্নাহ এর প্রমাণ প্রদান করে, যা নির্দিষ্ট স্থানে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে) "আন-নুবুওয়াত" পৃষ্ঠা (১৪০)।
* * *
* ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: (কেননা হত্যা কেবল যুদ্ধংদেহী আচরণের (حراب) বিপরীতে আবশ্যক হয়েছে, কুফরের (كفر) বিপরীতে নয়; একারণেই নারী, শিশু, পঙ্গু, অন্ধ এবং সন্ন্যাসী যারা যুদ্ধ করে না, তাদের হত্যা করা হয় না; বরং আমরা কেবল তাদের সাথেই যুদ্ধ করি যারা আমাদের সাথে যুদ্ধ করে) "আহকামু আহলিয যিম্মাহ" (১/ ১১০)।
* * *
* তিনি আরও বলেছেন: (তিনি কাউকে কখনোই দ্বীনের ব্যাপারে বাধ্য করেননি, বরং তিনি কেবল তাদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করতেন যারা তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত। আর যারা তাঁর সাথে শান্তিতে থাকত এবং সন্ধি করত, তাদের সাথে তিনি যুদ্ধ করতেন না এবং তাঁর রব্ব সুবহানাহু-এর নির্দেশ পালনার্থে কাউকে তাঁর দ্বীনে প্রবেশ করতে বাধ্য করতেন না
… আর যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিরাত নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে, তার নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, তিনি কাউকে তাঁর দ্বীনের ওপর কখনোই বাধ্য করেননি; তিনি কেবল তাদের সাথেই যুদ্ধ করেছেন যারা তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছে। আর যারা তাঁর সাথে সন্ধি করেছিল, যতক্ষণ তারা তাদের সন্ধিতে অটল ছিল এবং চুক্তি ভঙ্গ করেনি, ততক্ষণ তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করেননি) "হিদায়াতুল হায়ারা" (১/ ১২)।
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ৭)
المُقَدِّمَةُ
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وأصحابه، ومن اتبع هداه، وبعد:
فإننا في هذه الأيام - أيام المحن، وتعدد ضروب الفتن - نعيش صراعًا ليس كباقي الصراعات، إنه صراع الحضارات أو صراع الحياة، وإن المقلب لصفحات التواريخ والأيام ليجد أن كثيرًا من الحضارات التي حاربت الإسلام والمسلمين قامت سياسة حربها وقتالها على مبدأ الظلم والعدوان، وسفك الدماء، وقتل الأبرياء، وهتك الأعراض، فلم ترع لأحد حرمة، ولم تر لأحد حقًّا.
فقتلوا كل من قابلهم من المسلمين لمجرد إسلامه وإيمانه، وسفكوا دم كل أحد حتى ولو أعلن استسلامه، ولا أدل على ذلك ما قام به هولاكو الذي قتل ما يزيد على ألف ألف من البشر.
وفرناندو، وإيزبلا، وريتشارد الملقب بـ: (قَلْب الأسَد)،
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর এবং যারা তাঁর প্রদর্শিত পথের অনুসরণ করে তাদের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আমরা বর্তমান এই দিনগুলোতে—যা পরীক্ষা ও বহুমুখী ফিতনা (فتن)-এর সময়—এমন এক সংঘাতের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছি যা অন্য সব সংঘাতের মতো নয়। এটি সভ্যতার সংঘাত অথবা অস্তিত্বের লড়াই। ইতিহাসের পাতা ও দিনগুলোর আবর্তন পর্যবেক্ষণকারী যে কেউ দেখতে পাবেন যে, ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী বহু সভ্যতার যুদ্ধ ও লড়াইয়ের নীতি জুলুম, আগ্রাসন, রক্তপাত, নিরপরাধ হত্যা এবং সম্ভ্রমহানির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তারা কারো মর্যাদার পরোয়া করেনি এবং কারো অধিকারের মূল্যায়ন করেনি।
তারা তাদের সামনে আসা প্রত্যেক মুসলিমকে কেবল তাদের ইসলাম ও ঈমানের কারণে হত্যা করেছে এবং প্রত্যেকের রক্ত ঝরিয়েছে, এমনকি যারা আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছিল তাদেরও। এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর হতে পারে না যা হালাকু খান ঘটিয়েছিল, যে দশ লক্ষাধিক মানুষকে হত্যা করেছিল।
এবং ফার্নান্দো, ইসাবেলা এবং রিচার্ড যাকে ‘সিংহহৃদয়’ নামে অভিহিত করা হয়,
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ৮)
ونابليون، وستالين الذي قتل ملايين المسلمين في القوقاز، وموسوليني الفاشي الذي أراد بناء حضارته على جثث المسلمين في شمال أفريقية، وغيرهم الكثير الكثير الذين عملوا من الأعمال الإرهابية، والجرائم الفظيعة الغير الإنسانية، ما تقشعر له الجلود، فإنا لله وإنا إليه راجعون.
بل في العصر الراهن نجد أن الحضارة الغربية، المبنية على العنصرية، والسياسة التي تدعي الديمقراطية والحرية، قد سامت البشرية وأذاقتها صنوفًا وألوانًا من العذاب، والقهر والتسلط، والبغي والعدوان، وما حادثة هيروشيما ونكازاكي عنا ببعيد، هذه الحادثة التي أقضت المضاجع، وقلَّبت المواجع، ليست فقط على من ذاق بلواها، وشاهد لأوها؛ بل على سكان الأرض أجمع إلى يومنا هذا .. وكذلك ما عملته الحضارة الغربية في فيتنام .. وما عملته في فلسطين تحت أيدي اليهود الغاصبين .. وما عملته في أفغانستان .. وما تعمله الآن في العراق من نهب الخيرات، وسلب
নেপোলিয়ন, এবং স্ট্যালিন—যিনি ককেশাসে লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে হত্যা করেছেন; এবং ফ্যাসিবাদী মুসোলিনি—যিনি উত্তর আফ্রিকায় মুসলিমদের লাশের ওপর নিজের সভ্যতা বিনির্মাণ করতে চেয়েছিলেন; এবং আরও অনেক অনেকে রয়েছেন যারা এমন সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অমানবিক নৃশংস অপরাধ সংঘটিত করেছেন, যা শুনলে গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী।
বরং বর্তমান যুগে আমরা দেখতে পাই যে, বর্ণবাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা পাশ্চাত্য সভ্যতা এবং গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার দাবিদার রাজনীতি মানবজাতিকে বিভিন্ন প্রকার ও বর্ণের আজাব, দমন-পীড়ন, আধিপত্যবাদ, সীমালঙ্ঘন ও আগ্রাসনের স্বাদ আস্বাদন করিয়েছে। হিরোশিমা ও নাগাসাকির ঘটনা আমাদের থেকে মোটেও দূরে নয়; এই ঘটনা মানুষের শান্তি ও স্থিতি কেড়ে নিয়েছে এবং যন্ত্রণাকে পুনরুজ্জীবিত করেছে—তা কেবল তাদের জন্যই নয় যারা এর ভয়াবহতা ভোগ করেছে এবং প্রত্যক্ষ করেছে, বরং আজ পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবীর অধিবাসীদের জন্য। তেমনিভাবে পাশ্চাত্য সভ্যতা ভিয়েতনামে যা করেছে, দখলদার ইহুদিদের অধীনে ফিলিস্তিনে যা করেছে, আফগানিস্তানে যা করেছে এবং বর্তমানে ইরাকে সম্পদ লুণ্ঠন ও হরণের মাধ্যমে যা করছে...
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ৯)
المقدرات.
إن الحضارة الغربية، وسياستها الحربية، ونزعتها الفكرية القتالية، لا تقوم إلا على الدماء، وقطع الأشلاء، من الضحايا الأبرياء، الذين لا حول لهم ولا قوة.
سياسة تقوم على القاعدة الفرعونية: {مَا أُرِيكُمْ إِلَّا مَا أَرَى وَمَا أَهْدِيكُمْ إِلَّا سَبِيلَ الرَّشَادِ}.
سياسة تقوم على مصادرة العقول والحريات "فمن ليس معنا فهو ضدنا"، فهي كالشجرة الخبيثة اجتثت من فوق الأرض ما لها من قرار.
أما سياسة الإسلام الحربية، وتشريعاته الجهادية، وحضارته الإنسانية، فقد كانت على خلاف ما كانت حروب عليه الأعداء تمامًا.
فهي سياسة شعارها ودثارها السلم والمسالمة، وإذا حاربت للدفاع عن نفسها أو عن دعوتها حتى لا تكون فتنة ويكون الدين
নির্ধারিত বিষয়সমূহ।
নিশ্চয়ই পাশ্চাত্য সভ্যতা, তার যুদ্ধনীতি এবং তার যুদ্ধংদেহী বুদ্ধিবৃত্তিক প্রবণতা কেবল রক্তপাত এবং সেই সব নিরপরাধ ভুক্তভোগীদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছিন্নভিন্ন করার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে, যাদের কোনো উপায় বা শক্তি নেই।
এটি এমন এক নীতি যা ফেরাউনি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত: {আমি তোমাদের তা-ই দেখাচ্ছি যা আমি সঙ্গত মনে করি, আর আমি তোমাদের কেবল সঠিক পথই প্রদর্শন করছি}।
এটি এমন এক নীতি যা চিন্তা ও স্বাধীনতা হরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত— "যে আমাদের পক্ষে নয়, সে আমাদের বিপক্ষে"; এটি সেই কদর্য বৃক্ষের ন্যায় যাকে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপড়ে ফেলা হয়েছে, যার কোনো স্থায়িত্ব নেই।
পক্ষান্তরে ইসলামের যুদ্ধনীতি, এর জিহাদ সংক্রান্ত বিধানাবলি এবং এর মানবিক সভ্যতা শত্রুদের যুদ্ধপদ্ধতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল।
এটি এমন এক নীতি যার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিটি স্তরই হলো শান্তি ও সন্ধি। আর যখন এটি আত্মরক্ষা কিংবা দাওয়াতের সুরক্ষায় যুদ্ধে লিপ্ত হয়, যাতে কোনো ফিতনা (فتنة) অবশিষ্ট না থাকে এবং দ্বীন...
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ১০)
لله، فهي لا تقاتل إلا المقاتل، فلا تقتل من لم يقاتل من الشيوخ، والرهبان، والأجراء، والنساء، والصبيان، ونحوهم ممن لم ينصب نفسه للقتال.
وهي سياسة لا تقوم على الإفساد في الأرض، فلا تهدم مسكنًا، ولا تخرب عمرانًا، ولا تقطع شجرة، إلا لمصلحة يراها ولي الأمر.
وهي سياسة تقوم على النظر في جلب المصالح ودرء المفاسد.
وهي سياسة تقوم على النظر في حال المسلمين من قوة وضعف - كما سيأتي - ومن تأمل القرآن والسنة، وما كان عليه مجاهدو هذه الأمة عرف ذلك حق المعرفة، والتاريخ خير شاهد.
ولقد كَتب في هذا الباب عدد من الكُتَّاب، لكن في الحقيقة لم أجد من فصّل في هذه المسألة تفصيلًا علميًّا دقيقًا، مقرونًا بالدليل النقلي والبرهان العقلي إلا شيخ الإسلام في قاعدته المختصرة هذه
আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে, এটি কেবল যোদ্ধার বিরুদ্ধেই লড়াই করে। সুতরাং যারা লড়াইয়ে লিপ্ত নয় এমন বৃদ্ধ, সন্ন্যাসী, শ্রমিক, নারী, শিশু এবং তাদের অনুরূপ যারা যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেনি, এটি তাদের হত্যা করে না।
এটি এমন এক নীতি যা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; তাই এটি কোনো বাসস্থান ধ্বংস করে না, কোনো জনপদ বিরান করে না এবং কোনো বৃক্ষ নিধন করে না, যদি না শাসক এতে কোনো বিশেষ কল্যাণ দেখেন।
এটি এমন এক নীতি যা কল্যাণ আনয়ন এবং অনিষ্ট দূর করার বিবেচনার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
এটি এমন এক নীতি যা মুসলমানদের শক্তি ও দুর্বলতা (ضعف) — যেমনটি সামনে আসবে — বিবেচনা করার ওপর প্রতিষ্ঠিত। যে ব্যক্তি কুরআন, সুন্নাহ এবং এই উম্মতের মুজাহিদগণ কিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তা নিয়ে চিন্তা করবে, সে তা যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারবে; আর ইতিহাসই এর শ্রেষ্ঠ সাক্ষী।
এই বিষয়ে অনেক লেখকই লিখেছেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এই মাসআলায় উদ্ধৃতিমূলক দলিল এবং যৌক্তিক প্রমাণের সমন্বয়ে এমন সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, যেমনটি শাইখুল ইসলাম তাঁর এই সংক্ষিপ্ত মূলনীতিমালায় করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ১১)
في قتال الكفار.
فلقد ألَّف رحمه الله في هذا الباب مجلدًا حافلًا مستقلًا (1)، لكن للأسف لم يقع بين أيدينا سوى المختصر منه، فقلت: ما لا يدرك كله، لا يترك كله، فسارعت إلى دراسته دراسة علمية موضوعية، ومقارنته بما تيسر من مخطوطاته ونسخه، وتأصيل جمله وعباراته من كلام شيخ الإسلام نفسه في سائر ما توفر لدي من مؤلفاته ومصنفاته، وكذا مصنفات تلميذه، صفي فؤاده، ابن قيم الجوزية رحمهما الله تعالى.
وإننا حينما نخرج هذه الرسالة المختصرة وأمثالها، لنوضح بجلاء للمسلمين وللعالم الغربي المستغفل إعلاميًا، مفاهيم الجهاد الشرعية، وأساليبه الحضارية، التي قام عليها الإسلام، وأسَّس عليها دُوَلَه، والتي من بينها دولة الإسلام والمسلمين، ومهوى
--------------------------------------------
কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রসঙ্গে।
নিশ্চয়ই তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে একটি সমৃদ্ধ ও স্বতন্ত্র খণ্ড রচনা করেছিলেন (১), তবে পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে এর সংক্ষিপ্তসার (مختصر) ব্যতীত অন্য কিছু আমাদের হস্তগত হয়নি। তাই আমি মনে করেছি: যা পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জন করা সম্ভব নয়, তা সম্পূর্ণ বর্জন করা উচিত নয়। ফলে আমি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এর একটি তাত্ত্বিক ও বস্তুনিষ্ঠ গবেষণায় ব্রতী হয়েছি এবং এর লভ্য পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) ও অনুলিপিগুলোর মধ্যে তুলনা করেছি। পাশাপাশি আমার নিকট থাকা শাইখুল ইসলামের অন্যান্য গ্রন্থ ও রচনাবলি এবং তাঁর প্রিয় অন্তরের সুহৃদ ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রাহিমাহুমাল্লাহ)-এর সংকলনসমূহ হতে এই গ্রন্থের বাক্য ও বক্তব্যগুলোর মূল ভিত্তি (تأصيل) নির্ধারণ করেছি।
আমরা যখন এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা (رسالة مختصرة) ও এই জাতীয় বিষয়গুলো প্রকাশ করি, তখন আমাদের উদ্দেশ্য থাকে মুসলিমদের কাছে এবং প্রচারমাধ্যম দ্বারা বিভ্রান্ত পশ্চিমা বিশ্বের কাছে জিহাদের শরয়ি (شرعي) ধারণা ও এর সভ্য পদ্ধতিসমূহ সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা, যার ওপর ইসলাম প্রতিষ্ঠিত এবং যার ওপর ভিত্তি করে ইসলামি রাষ্ট্রসমূহ গঠিত হয়েছে, যার অন্তর্ভুক্ত হলো ইসলাম ও মুসলিমদের রাষ্ট্র এবং যা হলো সকল মানুষের আশ্রয়স্থল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ১২)
أفئدة العالمين، بلاد الحرمين الشريفين "المملكة العربية السعودية".
بل إن في هذه الرسالة المختصرة أبلغ رد على من يتهم هذه الدولة المباركة، أو دعوة شيخ الإسلام ابن تيمية، أو دعوة شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب بالدعوة إلى الإرهاب أو الحض عليه، وما عقيدة وثقافة ابن عبد الوهاب إلا صورة أخرى لعقيدة وثقافة ابن تيمية، يعرف ذلك كل من له أدنى علم وفهم.
وكون بعض من شباب المسلمين قد سلكوا مسالك البغي والعدوان، فلا يعني أننا نحمّل الآخرين جريرتهم ووزرهم، وقد علَّمنا الإسلام ألا تزر وازرة وزر أخرى.
كما أرجو من الله تعالى أن يخرج بأسباب هذه الرسالة المختصرة كثيرًا من شباب الأمة ممن غرق في وحل الفكر المتطرف الذي يستحل دماء الأبرياء، مدعيًا أن ذلك هو منهج سيد الأنبياء! ! .
وأن يصحح بأسبابها كثيرًا من المفاهيم المغلوطة عن منهج شيخي الإسلام ابن تيمية وابن عبد الوهاب تجاه قتال الكفار،
বিশ্ববাসীর অন্তর, পবিত্র দুই হারামের দেশ "সৌদি আরব রাজ্য"।
বরং এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকাটি সেই সব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ, যারা এই বরকতময় রাষ্ট্র, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর দাওয়াত কিংবা শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব-এর দাওয়াতকে সন্ত্রাসবাদের আহ্বান বা এতে প্ররোচিত করার দায়ে অভিযুক্ত করে। অথচ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব-এর আকিদাহ (عقيدة) ও চিন্তাধারা ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর আকিদাহ (عقيدة) ও চিন্তাধারারই একটি প্রতিচ্ছবি মাত্র; যার নূ্যনতম জ্ঞান ও উপলব্ধি রয়েছে তিনি তা অনুধাবন করতে পারেন।
আর কতিপয় মুসলিম যুবক বিদ্রোহ ও অন্যায়ের পথ অবলম্বন করেছে বলেই আমরা অন্যদের ওপর তাদের অপরাধের দায়ভার চাপিয়ে দিতে পারি না। কেননা ইসলাম আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে, কোনো ভার বহনকারী অন্য কারও ভার বহন করবে না।
আমি মহান আল্লাহর নিকট আরও আশা পোষণ করছি যে, এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকাটি উম্মাহর সেই সব যুবকদের রক্ষা করার মাধ্যম হবে যারা উগ্রবাদী চিন্তাধারার আবর্তে নিমজ্জিত হয়ে নিরপরাধ মানুষের রক্ত প্রবাহিত করাকে বৈধ মনে করছে এবং দাবি করছে যে এটিই হলো নবীগণের সরদারের মানহাজ (منهج)! ! ।
এবং এর মাধ্যমে যেন দুই শায়খুল ইসলাম—ইবনে তাইমিয়্যাহ ও ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব-এর মানহাজ (منهج) অনুযায়ী কাফিরদের সাথে যুদ্ধের বিষয়ে প্রচলিত বহু ভুল ধারণার সংশোধন হয়,
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وتحريم قتلهم بمجرد كفرهم.
وفي الختام أشكر الله تعالى المان بكل خير، ثم أشكر كل من ساعدني على دراسة هذه الرسالة المختصرة وتحقيقها، وأخص منهم جميع الأخوة الذين منحوني - على كثرة شواغلهم - جزءًا كبيرًا من وقتهم لقراءة هذه الرسالة المختصرة، وإبداء ما عليها من ملحوظات.
فأرجو من الله أن أكون قد وفقت فيما توصلت إليه من دراسة ونظر حولها، وهي في الحقيقة لا تعدو أن تكون جهدًا من مقل، فإن أصبت فمن الله وحده، وإن أخطأت فمن نفسي ومن الشيطان والله ورسوله منه برئيان، والحمد لله رب العالمين.
وكتبه
د/ عبد العزيز بن عبد الله بن إبراهيم الزير آل حمد
رياض نجد 21/ 6/ 1424 هـ
dr_alzeer@hotmail.com
এবং নিছক কুফরের কারণে তাদের হত্যা করার নিষিদ্ধতা।
পরিশেষে আমি আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি সকল কল্যাণের দাতা। অতঃপর আমি সেই সকল ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানাই যারা আমাকে এই সংক্ষিপ্ত গবেষণাপত্র (رسالة) অধ্যয়ন ও এর সম্পাদনায় (تحقيق) সাহায্য করেছেন। বিশেষভাবে আমি সেই সকল ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা তাদের প্রচুর ব্যস্ততা সত্ত্বেও এই সংক্ষিপ্ত গবেষণাপত্রটি (رسالة) পাঠ করতে এবং এর ওপর প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ প্রদানের জন্য আমাকে তাদের সময়ের একটি বড় অংশ দিয়েছেন।
আমি আল্লাহর নিকট আশা করি যে, আমি এর ওপর গবেষণা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি তাতে সফল হয়েছি। প্রকৃতপক্ষে এটি একজন নগণ্য ব্যক্তির সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র। সুতরাং যদি আমি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে থাকি, তবে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে; আর যদি কোনো ভুল করে থাকি, তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের প্ররোচনায়, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন
ড. আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-যীর আল-হামাদ
রিয়াদ, নজদ ২১/ ০৬/ ১৪২৪ হিজরি
dr_alzeer@hotmail.com
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
القسم الأول
دراسة الكتاب، وتشتمل على الآتي:
* تمهيد.
* أسباب دراسة الرسالة المختصرة.
* تحقيق نسبة الرسالة المختصرة إلى شيخ الإسلام.
* تحقيق صحة الرسالة المختصرة، وأنها منقولة عن أصل شيخ الإسلام ابن تيمية في قتال الكفار.
* مراد شيخ الإسلام في هذه الرسالة المختصرة.
* عنوان الرسالة المختصرة.
* النسخ الخطية للرسالة المختصرة.
* منهجي في الدراسة.
* منهجي في التحقيق.
* نماذج مصورة للنسخ الخطية.
প্রথম অংশ
গ্রন্থ পর্যালোচনা, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
* প্রারম্ভিকা।
* সংক্ষিপ্ত রিসালাটি অধ্যয়নের কারণসমূহ।
* শাইখুল ইসলামের প্রতি সংক্ষিপ্ত রিসালাটির সম্বন্ধের সত্যতা যাচাই (تحقيق)।
* সংক্ষিপ্ত রিসালাটির বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাই (تحقيق) এবং এটি যে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়ে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত, তা নিশ্চিতকরণ।
* এই সংক্ষিপ্ত রিসালায় শাইখুল ইসলামের উদ্দেশ্য।
* সংক্ষিপ্ত রিসালাটির শিরোনাম।
* সংক্ষিপ্ত রিসালাটির পাণ্ডুলিপিসমূহ।
* অধ্যয়নে আমার পদ্ধতি।
* সম্পাদনায় (تحقيق) আমার পদ্ধতি।
* পাণ্ডুলিপিসমূহের চিত্রায়িত নমুনা।
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تمهيدلا شك أن ما حصل وما يحصل للمسلمين في هذه الأزمان من إرهاب، وقتل وتشريد على يد أعدائهم من الكفرة الظالمين، ولأجل جهل كثير من شباب المسلمين بسياسة الإسلام الحربية، وتشريعاته الجهادية القتالية، جعلت بعضهم يتصرف - بدافع عاطفته، وشفقته ومحبته لأمته - تصرفات هوجاء، ويعمل أعمالًا فظيعة شنعاء، من تدمير للمباني السكنية، والمحلات التجارية، ومن قتلٍ للمعاهدين والمستأمنين، وممن ليس أهلًا للقتال، كالنساء والصبيان والأجراء، ومن لم يقاتل منهم من الضعفاء، بل ومن قتل لبعض من المسلمين الأبرياء.
وسموا ما قاموا به: جهادًا وإرهابًا للأعداء! ! ، وما علموا - والله - أن الإسلام والمسلمين من ذلك براء، فحسبنا الله ونعم الوكيل.
ولأجل هذا كله أحببت أن أقف مع إخواني ممن أحب الجهاد
উপক্রমণিকানিঃসন্দেহে বর্তমান সময়ে জালিম কাফির শত্রুদের হাতে মুসলিমদের ওপর যে সন্ত্রাস, হত্যা ও উচ্ছেদ চলছে এবং ইসলামের যুদ্ধনীতি ও জিহাদের লড়াই সংক্রান্ত বিধানাবলী সম্পর্কে অনেক মুসলিম যুবকের অজ্ঞতার কারণে তাদের কেউ কেউ—উম্মাহর প্রতি আবেগ, মমতা ও ভালোবাসার তাড়নায়—উন্মত্ত আচরণ করছে। তারা আবাসিক ভবন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা এবং চুক্তিবদ্ধ (معاهدين) ও নিরাপত্তা প্রাপ্ত (مستأمنين) ব্যক্তিদের হত্যা করা এবং যারা যুদ্ধের যোগ্য নয়—যেমন নারী, শিশু, শ্রমিক ও দুর্বলদের মধ্যে যারা যুদ্ধে লিপ্ত নয়—এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিরপরাধ মুসলিমদেরও হত্যার মতো জঘন্য ও বীভৎস কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে।
তারা তাদের এই কর্মকাণ্ডের নাম দিয়েছে: জিহাদ ও শত্রুদের জন্য সন্ত্রাস!! আল্লাহর কসম, তারা জানে না যে ইসলাম ও মুসলিমরা এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। সুতরাং আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
এই সব কারণেই আমি আমার সেই ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি যারা জিহাদকে ভালোবাসেন।
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والمجاهدين - ونِعْم ما أحب - بعض الوقفات التالية؛ علَّ الله أن يرد بها ضالًا، ويرشد بها تائهًا، فأقول وبالله التوفيق، ومنه أستمد العون والتسديد:
* * *
এবং মুজাহিদদের তরে—আর তিনি যা ভালোবাসেন তা কতই না উত্তম—নিম্নোক্ত কিছু আলোকপাত; যেন আল্লাহ এর মাধ্যমে কোনো পথভ্রষ্টকে সুপথে ফিরিয়ে আনেন এবং কোনো বিভ্রান্তকে সঠিক পথের দিশা দেন। অতএব আমি বলছি, আর আল্লাহর তৌফীকেই আমি সকল কাজ সম্পাদন করি এবং তাঁর নিকট হতেই আমি সাহায্য ও সঠিক দিকনির্দেশনা যাঞ্চা করছি:
* * *
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الوقفة الأولىاعلم - وفقك الله - أن ما أصاب وما يصيب المسلمين في هذه الأزمان، وفي كل بلد من بلدانهم من تسلط للأعداء عليهم في كل مكان، إنما هو بسبب ذنوبهم وتقصيرهم في جنب الله تعالى: {وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ}.
فالبدع والخرافات، والشركيات والخزعبلات، وفساد الأخلاق والسلوكيات قائمة على قدم وساق، فالمسلمون اليوم - والله - بحاجة أكثر إلى جهاد أنفسهم قبل جهادهم لأعدائهم.
قال ابن القيم (1) رحمه الله تعالى: (ولما كان جهاد أعداء الله في الخارج فرعًا على جهاد العبد نفسه في ذات الله
… كان جهاد النفس مقدمًا على جهاد العدو في الخارج وأصلًا له، فإنه ما لم يجاهد نفسه
--------------------------------------------
প্রথম পর্যালোচনাজেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন—বর্তমান সময়ে এবং মুসলিম দেশগুলোর সর্বত্র শত্রুদের যে আধিপত্য মুসলিমদের ওপর আপতিত হয়েছে এবং হচ্ছে, তা মূলত তাদের পাপরাশি এবং মহান আল্লাহর হকের ব্যাপারে তাদের অবহেলার কারণে: {তোমাদের ওপর যে বিপদই আপতিত হয়, তা তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল এবং তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন।}
কেননা নব উদ্ভাবিত প্রথা (بدعة), কুসংস্কার, শিরক (شرك) ও অসার কথাবার্তা এবং নৈতিক ও আচরণগত অবক্ষয় আজ পুরোদমে বিদ্যমান। আল্লাহর কসম, আজ মুসলিমদের জন্য তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার আগে নিজেদের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা অনেক বেশি প্রয়োজন।
ইবনুল কায়্যিম (১) রহিমাহুল্লাহ বলেন: "যেহেতু বহির্জগতে আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা হলো বান্দার আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজ নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করারই একটি শাখা
… তাই নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করাই বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের ওপর অগ্রগণ্য এবং এটিই তার মূল ভিত্তি। কারণ, যতক্ষণ না সে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ২০)
أولًا لتفعل ما أمرت به، وتترك ما نهيت عنه، ويحاربها في الله، لم يمكنه جهاد عدوه في الخارج).
إلى أن قال: (وأمرهم أن يجاهدوا فيه حق جهاده .. فحق جهاده أن يجاهد العبد نفسه؛ ليسلم قلبه ولسانه وجوارحه لله .. ويجاهد شيطانه بتكذيب وعده ومعصية أمره وارتكاب نهيه .. فينشأ من هذين الجهادين قوة وسلطان وعدة، يجاهد بها أعداء الله في الخارج بقلبه ولسانه ويده وماله؛ لتكون كلمة الله هي العليا .. ).
* * *
প্রথমত, যাতে আপনি যা নির্দেশিত হয়েছেন তা পালন করতে পারেন এবং যা থেকে আপনাকে নিষেধ করা হয়েছে তা বর্জন করতে পারেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে এর (প্রবৃত্তির) বিরুদ্ধে লড়াই করেন; অন্যথায় বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রাম (جهاد) করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না।)
পরবর্তীতে তিনি বলেন: (এবং তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর পথে যথাযথভাবে সংগ্রাম (جهاد) করতে... আর তাঁর পথে যথাযথভাবে সংগ্রাম (جهاد) করার অর্থ হলো বান্দা যেন নিজের কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম (جهاد) করে; যাতে তার অন্তর, জিহ্বা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আল্লাহর জন্য সমর্পিত হয়... এবং সে যেন শয়তানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম (جهاد) করে তার প্রতিশ্রুতিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার মাধ্যমে, তার নির্দেশ অমান্য করার মাধ্যমে এবং তার নিষেধকৃত কাজ বর্জন করার মাধ্যমে... এই দুই প্রকার সংগ্রাম (جهاد) থেকে এমন শক্তি, কর্তৃত্ব ও সরঞ্জাম তৈরি হয়, যা দিয়ে সে আল্লাহর বাইরের শত্রুদের বিরুদ্ধে নিজের অন্তর, জিহ্বা, হাত ও সম্পদ দিয়ে সংগ্রাম (جهاد) করে; যেন আল্লাহর বাণীই সর্বোচ্চ হয়...।)
* * *
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ২১)
الوقفة الثانيةمما لا شك فيه عند كل مسلم وعاقل أن من أهم ما قرره الإسلام وأكده: أن أمر بحفظ الأنفس، فنهى عن إزهاقها بغير حقها قال تعالى: {وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ}.
وجعل من ضروب الإفساد في الأرض إهلاك الحرث والنسل: {وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الْأَرْضِ لِيُفْسِدَ فِيهَا وَيُهْلِكَ الْحَرْثَ وَالنَّسْلَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْفَسَادَ}.
وجعل من قتل نفسًا واحدة - بغير حق - فكأنما قتل الناس جميعًا: {مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ كَتَبْنَا عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنَّهُ مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا} [المائدة: 32].
فإزهاق الأنفس والأرواح، وقتل من لا يستحق القتل وقتاله أمر مرفوض شرعًا وعقلًا.
দ্বিতীয় বক্তব্যপ্রত্যেক মুসলিম ও বিবেকবান ব্যক্তির নিকট এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসলাম যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সাব্যস্ত করেছে এবং যার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো: জীবন রক্ষার নির্দেশ প্রদান। তাই ইসলাম ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত প্রাণ সংহার করতে নিষেধ করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তোমরা তাকে হত্যা করো না।}
আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির অন্যতম ধরন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে শস্য ও মানববংশ ধ্বংস করাকে: {আর যখন সে প্রস্থান করে তখন সে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং শস্য ও গবাদিপশু ধ্বংস করে, অথচ আল্লাহ অশান্তি পছন্দ করেন না।}
তদুপরি, ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া একজনকে হত্যা করাকে সমগ্র মানবজাতিকে হত্যার সমতুল্য সাব্যস্ত করা হয়েছে: {এই কারণেই আমরা বনী ইসরাঈলের ওপর এই বিধান লিখে দিয়েছি যে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির কারণ ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন সকল মানুষকে হত্যা করল। আর যে কারো প্রাণ রক্ষা করল সে যেন সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।} [আল-মায়িদাহ: ৩২]।
সুতরাং প্রাণ সংহার করা এবং যাকে হত্যা করা বৈধ নয় তাকে হত্যা করা কিংবা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া শরিয়ত ও বিবেক উভয় বিচারেই অগ্রহণযোগ্য বিষয়।
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ২২)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية (1) رحمه الله تعالى: (الأصل أن دم الآدمي معصوم لا يقتل إلا بالحق، وليس القتل للكفر من الأمر الذي اتفقت عليه الشرائع، ولا أوقات الشريعة الواحدة كالقتل قودًا، فإنه مما لا تختلف فيه الشرائع ولا العقول).
* * *
--------------------------------------------
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (১) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (মূলনীতি হলো এই যে, মানুষের রক্ত সংরক্ষিত; সংগত কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করা যাবে না। আর কুফরির কারণে হত্যা করা এমন কোনো বিষয় নয় যার ওপর সমস্ত শরিয়ত একমত হয়েছে, এমনকি তা কোনো একক শরিয়তের সকল সময়ের বিধানও নয়—যেমনটি কিসাস স্বরূপ হত্যার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কেননা এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে শরিয়তসমূহ এবং বিবেক-বুদ্ধি ভিন্নমত পোষণ করে না)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الوقفة الثالثةأن الله تعالى حينما شرع القتال والجهاد؛ فإنما شرعه لأسباب كثيرة، وحكم ظاهرة مستنيرة:
منها: مقاتلة من يقف في وجه الدعوة الإسلامية لمنع إعلاء كلمة الله، ونشر دينه الذي ارتضاه: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّهِ فَإِنِ انْتَهَوْا فَلَا عُدْوَانَ إِلَّا عَلَى الظَّالِمِينَ}.
ومنها: حماية المسلمين والدفاع عنهم، وعن عقيدتهم الربانية، وملتهم الحنيفية الإبراهيمية: {أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ}.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية (1) رحمه الله: (وإذا كان أصل القتال المشروع هو الجهاد ومقصوده هو أن يكون الدين كله لله، وأن
--------------------------------------------
তৃতীয় প্রসঙ্গমহান আল্লাহ যখন যুদ্ধ ও জিহাদ বিধিবদ্ধ করেছেন, তখন তা অনেক কারণ ও সুস্পষ্ট প্রজ্ঞার কারণেই বিধিবদ্ধ করেছেন:
তন্মধ্যে রয়েছে: যারা আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করতে এবং তাঁর মনোনীত দ্বীন প্রচার করতে বাধা দিয়ে ইসলামের দাওয়াতের সামনে দাঁড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা: {আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো যতক্ষণ না ফিতনা শেষ হয়ে যায় এবং দ্বীন আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। সুতরাং তারা যদি নিবৃত্ত হয়, তবে জালিমরা ছাড়া আর কারো ওপর কোনো জবরদস্তি নেই।}
আরও রয়েছে: মুসলিমদের সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা করা এবং তাদের ঐশ্বরিক আকিদা ও ইবরাহিমি একনিষ্ঠ মিল্লাতকে রক্ষা করা: {যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়, তাদের যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হলো; কারণ তারা নির্যাতিত। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে পূর্ণ সক্ষম।}
শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (১) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (যেহেতু শরয়ি লড়াইয়ের মূল ভিত্তি হলো জিহাদ এবং এর উদ্দেশ্য হলো দ্বীন পুরোপুরি আল্লাহর জন্য হওয়া এবং...)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
تكون كلمة الله هي العليا، فمن منع هذا قوتل باتفاق المسلمين).
وقال أيضًا (1): (المقصود بالقتال أن تكون كلمة الله هي العليا، وأن يكون الدين كله لله، وأن لا تكون فتنة، أي: لا يكون أحد يفتن أحدًا عن دين الله)، ومفهوم كلام الشيخ: أن من لم يمنع نشر دين الله، ولم يحاربه، ولم يضيق على أصحابه الخناق ألا يقتل ولا يقاتل.
* * *
--------------------------------------------
যেন আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ হয়; সুতরাং যে ব্যক্তি এতে বাধা প্রদান করবে, মুসলিমদের ঐক্যমত (اتفاق) অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে)।
তিনি আরও বলেন (১): (যুদ্ধের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর বাণী যেন সুউচ্চ হয়, দ্বীন যেন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য হয় এবং কোনো ফিতনা (فتنة) যেন না থাকে; অর্থাৎ, কেউ যেন কাউকে আল্লাহর দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে না পারে)। আর শাইখের বক্তব্যের মর্মার্থ হলো: যে ব্যক্তি আল্লাহর দ্বীন প্রচারে বাধা দেয় না, এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে না এবং দ্বীনের অনুসারীদের পথ সংকীর্ণ করে না, তাকে হত্যা করা যাবে না এবং তার বিরুদ্ধে যুদ্ধও করা যাবে না।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الوقفة الرابعةأن المتأمل في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم وحياته المليئة بقتال وجهاد الكافرين، والتضحية في سبيل هذا الدين، ليرى أنه مر في قتاله وجهاده للكافرين بمراحل متنوعة، ومراتب متغايرة، وأن هذه المراحل والمراتب جاءت متكيفة مع الحال والوضع الذي كان النبي صلى الله عليه وسلم وصحبه الكرام يعيشون فيه.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية (1) رحمه الله: (كان النبي صلى الله عليه وسلم في أول الأمر مأمورًا أن يجاهد الكفار بلسانه لا بيده، فيدعوهم ويعظهم ويجادلهم بالتي هي أحسن، ويجاهدهم بالقرآن جهادًا كبيرًا
… ، وكان مأمورًا بالكف عن قتالهم لعجزه وعجز المسلمين عن ذلك، ثم لما هاجر إلى المدينة وصار له بها أعوان أذن له في الجهاد، ثم لما قووا كتب عليهم القتال، ولم يكتب عليهم قتال من سالمهم؛ لأنهم
--------------------------------------------
চতুর্থ পর্যালোচনানিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও জিহাদে পরিপূর্ণ তাঁর জীবন নিয়ে যিনি গভীরভাবে চিন্তা করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে, কাফিরদের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই ও জিহাদের ক্ষেত্রে তিনি বিভিন্ন পর্যায় ও বৈচিত্র্যময় স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছেন। এই পর্যায় ও স্তরগুলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ যে অবস্থা ও পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছিলেন, তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (১) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাথমিক পর্যায়ে কাফিরদের বিরুদ্ধে তাঁর জিহ্বা দিয়ে জিহাদ করার জন্য আদিষ্ট ছিলেন, হাত দিয়ে নয়। ফলে তিনি তাদের দাওয়াত দিতেন, উপদেশ দিতেন এবং সর্বোত্তম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক করতেন এবং কুরআনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মহান জিহাদ করতেন
… , আর তাঁর নিজের এবং মুসলিমদের অক্ষমতার কারণে তাদের সাথে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকার জন্য তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অতঃপর যখন তিনি মদিনায় হিজরত করলেন এবং সেখানে তাঁর সাহায্যকারী লাভ করলেন, তখন তাঁকে জিহাদের অনুমতি দেওয়া হলো। এরপর যখন তাঁরা শক্তিশালী হলেন, তখন তাঁদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হলো। তবে যারা তাঁদের সাথে সন্ধি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা তাঁদের ওপর আবশ্যক করা হয়নি; কারণ তারা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
لم يكونوا يطيقون قتال جميع الكفار، فلما فتح الله مكة وانقطع قتال قريش ملوك العرب، ووفدت إليه وفود العرب بالإسلام، أمره الله تعالى بقتال الكفار كلهم).
فقتاله صلى الله عليه وسلم وقتال أصحابه للكفار، إنما هو قتال لمن يقاتلهم أثناء قيامهم بنشر دين الله تعالى حتى لا تكون فتنة ويكون الدين لله.
قال شيخ الإسلام (1) رحمه الله تعالى: (ثم خلفاؤه بعده أبو بكر وعمر ومن معهما من المهاجرين والأنصار الذي يعلم أنهم كانوا أتبع الناس له وأطوعهم لامره وأحفظهم لعهده، وقد غزوا الروم كما غزوا فارس، وقاتلوا أهل الكتاب كما قاتلوا المجوس، فقاتلوا من قاتلهم، وضربوا الجزية على من أداها منهم عن يد وهم صاغرون).
--------------------------------------------
(তারা সকল কাফিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সক্ষম ছিলেন না। অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা মক্কা বিজয় দান করলেন এবং আরবদের রাজন্যবর্গ কুরাইশদের সাথে যুদ্ধের অবসান হলো এবং আরবের প্রতিনিধি দলগুলো ইসলামের সাথে তাঁর নিকট আগমন করল, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে সকল কাফিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিলেন।)
সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছিল মূলত তাদেরই বিরুদ্ধে যারা আল্লাহর দ্বীন প্রচারের সময় তাঁদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতো, যাতে কোনো ফিতনা অবশিষ্ট না থাকে এবং দ্বীন একমাত্র আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।
শায়খুল ইসলাম (১) (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (অতঃপর তাঁর পরবর্তী খলিফাগণ—আবু বকর ও উমর এবং তাঁদের সাথে থাকা মুহাজির ও আনসারগণ, যাঁদের সম্পর্কে এটি সুবিদিত যে তাঁরা ছিলেন মানুষের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে একনিষ্ঠ অনুসারী, তাঁর নির্দেশের প্রতি সর্বাধিক অনুগত এবং তাঁর অঙ্গীকারের সবচেয়ে বড় হিফাজতকারী। তাঁরা রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন যেমন তাঁরা পারস্যবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন; তাঁরা আহলে কিতাবদের সাথে যুদ্ধ করেছেন যেমন তাঁরা মাজুসদের সাথে যুদ্ধ করেছেন। সুতরাং তাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেছেন যারা তাঁদের সাথে যুদ্ধ করেছে এবং যারা বশ্যতা স্বীকার করে জিজিয়া প্রদান করেছে তাদের ওপর তা ধার্য করেছেন।)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فقتالهم إنما كان لمن قاتلهم، كما قال شيخ الإسلام ابن تيمية (1)
رحمه الله تعالى: (ثم إنه كتب عليهم القتال مطلقًا وفسره بقوله: {وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا} الآية، فمن ليس من أهل القتال لم يؤذن في قتاله).
* * *
--------------------------------------------
সুতরাং তাদের যুদ্ধ কেবলমাত্র তাদের বিরুদ্ধে ছিল যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল, যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (১)
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন, বলেছেন: (অতঃপর তাদের ওপর সাধারণভাবে যুদ্ধ বিধিবদ্ধ করা হয়েছে এবং তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন: {আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং সীমালঙ্ঘন করো না} —আয়াত; সুতরাং যে ব্যক্তি যুদ্ধের উপযুক্ত (أهل القتال) নয়, তাকে হত্যা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الوقفة الخامسةأن جهاد الكافرين وقتالهم وبدئهم بالقتال - كما جاء في السنة - إنما شرع للضرورة، فإذا لم يقبل الكفار هذا الدين دينًا بينهم ليكون الدين لله، ولتكون كلمة الله هي العليا، وليتمكن المسلمون من نشره بين كافة العالمين، أو لم يدفع الكفار الجزية عن يد وهم صاغرون، فما هو إلا القتال، إذ ليس للمسلمين خيار آخر بعد هذين الخيارين إلا خيار المواجهة، فهو خيار حتمه الواقع، وفرضته الضرورة.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية (1) رحمه الله تعالى: (إن القتال إنما شرع للضرورة، ولو أن الناس آمنوا بالبرهان والآيات لما احتيج إلى القتال، فبيان آيات الإسلام وبراهينه واجب مطلقًا وجوبًا أصليًا، وأما الجهاد فمشروع للضرورة).
--------------------------------------------
পঞ্চম পর্যালোচনানিশ্চয়ই কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ (جهاد), তাদের সাথে যুদ্ধ এবং যুদ্ধের সূচনা করা—যেমনটি সুন্নাহ (سنة)-তে বর্ণিত হয়েছে—কেবল প্রয়োজনের (ضرورة) তাগিদেই বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। সুতরাং কাফিররা যদি এই দ্বীনকে নিজেদের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ না করে যাতে দ্বীন কেবল আল্লাহর জন্য হয় এবং আল্লাহর বাণী সুউচ্চ থাকে, আর মুসলিমরা যাতে সমগ্র বিশ্ববাসীর নিকট তা প্রচার করতে সক্ষম হয়, অথবা তারা যদি বশ্যতা স্বীকার করে জিজিয়া (جزية) প্রদান না করে, তবে যুদ্ধ ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না। কারণ এই দুটি বিকল্পের পর মুসলিমদের কাছে সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই; এটি বাস্তবতার নিরিখে একটি অনিবার্য এবং প্রয়োজনের (ضرورة) প্রেক্ষিতে একটি অপরিহার্য নির্বাচন।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (১) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (নিশ্চয়ই যুদ্ধ কেবল প্রয়োজনের (ضرورة) তাগিদেই বিধিবদ্ধ হয়েছে। মানুষ যদি দলিল-প্রমাণ ও নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে ঈমান আনত, তবে যুদ্ধের প্রয়োজন হতো না। সুতরাং ইসলামের নিদর্শন ও প্রমাণাদি স্পষ্ট করা নিরঙ্কুশ ও মৌলিকভাবে ওয়াজিব (واجب); আর জিহাদ (جهاد) কেবল প্রয়োজনেই বিধিবদ্ধ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أما بدئهم بالقتال مع عدم ممانعتهم من نشر دين الله تعالى وإقامته، وقتل من لا يقاتل منهم، فهو من الاعتداء الذي حرمه الله ورسوله، قال شيخ الإسلام ابن تيمية (1) رحمه الله تعالى: (وذلك أن الله تعالى أباح من قتل النفوس ما يحتاج إليه في صلاح الخلق كما قال تعالى: {وَالْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ الْقَتْلِ} أي: أن القتل وإن كان فيه شر وفساد، ففي فتنة الكفار من الشر والفساد ما هو أكبر منه، فمن لم يمنع المسلمين من إقامة دين الله لم تكن مضرة كفره إلا على نفسه).
* * *
--------------------------------------------
পক্ষান্তরে তারা আল্লাহর দ্বীন প্রচার ও প্রতিষ্ঠার পথে কোনো বাধা প্রদান না করা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা এবং তাদের মধ্য থেকে যারা যুদ্ধ করছে না তাদেরকে হত্যা করা সেই সীমালঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হারাম করেছেন। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (১) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (আর তা একারণে যে, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির সংশোধনের প্রয়োজনে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু প্রাণনাশের অনুমতি দিয়েছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর ফিতনা হত্যার চেয়েও গুরুতর}। অর্থাৎ: হত্যার মধ্যে যদিও অনিষ্ট ও ফাসাদ রয়েছে, তবে কাফিরদের ফিতনার মধ্যে যে অনিষ্ট ও ফাসাদ রয়েছে তা তার চেয়েও বড়। সুতরাং যে ব্যক্তি মুসলিমদের আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় বাধা দেয় না, তার কুফরের ক্ষতি কেবল তার নিজের ওপরই বর্তাবে)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الوقفة السادسةأن قتال الكافرين وطلبهم وجهادهم - في حالة ممانعتهم نشر دين الله - مشروط بقدرة المسلمين على مقاتلتهم، وإمكانهم لجهادهم، وإلا فلا.
ولهذا فإن الله تعالى حينما أمر نبيه بقتال الكفار كلهم لم يأمره إلا بعدما استقر له الأمر، وقواه على أعدائه، ففتح له مكة، وانقطع قتال قريش ملوك العرب، ووفدت إليه وفود العرب بالإسلام، أما إبان ضعف المسلمين وعدم قدرتهم على مواجهة أعدائهم، فإنه أمرهم بالصبر والكف، وهذا يظهر في الوقفة التالية.
* * *
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদনিশ্চয়ই কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা, তাদের অন্বেষণ করা এবং তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা—আল্লাহর দ্বীন প্রচারে তাদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অবস্থায়—তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মুসলমানদের সক্ষমতা এবং জিহাদ করার সামর্থ্যের ওপর শর্তযুক্ত; অন্যথায় তা নয়।
এ কারণেই মহান আল্লাহ যখন তাঁর নবীকে সকল কাফেরের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আদেশ প্রদান করেন, তখন তিনি এই আদেশ কেবল তখনই দিয়েছিলেন যখন তাঁর কর্তৃত্ব সুসংহত হয়েছিল এবং আল্লাহ তাঁকে তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করেছিলেন। ফলে তিনি তাঁর জন্য মক্কা বিজয় দান করেন, আরবদের অধিপতি কুরাইশদের যুদ্ধ স্তব্ধ হয়ে যায় এবং আরবের প্রতিনিধি দলসমূহ ইসলাম গ্রহণ করে তাঁর নিকট আগমন করে। পক্ষান্তরে, মুসলমানদের দুর্বলতা এবং শত্রুদের মোকাবিলায় সক্ষমতা না থাকার সময়ে তিনি তাদের ধৈর্য ধারণ ও বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন; যা পরবর্তী পরিচ্ছেদে পরিস্ফুটিত হবে।
* * *
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الوقفة السابعةأنه يجوز للمسلمين حال ضعفهم أن يسالموا من يسالمهم، فلا يقاتلوا إلا من يقاتلهم، وأن يعملوا بآية الكف والصبر، كما قال شيخ الإسلام ابن تيمية (1) رحمه الله: (فمن كان من المؤمنين بأرض هو فيها مستضعف، أو في وقت هو فيه مستضعف، فليعمل بآية الصبر والصفح عمن يؤذي الله ورسوله من الذين اوتوا الكتاب والمشركين.
وأما أهل القوة: فإنما يعملون بآية قتال أئمة الكفر الذين يطعنون في الدين، وبآية قتال الذين أوتوا الكتاب حتى يعطوا الجزية عن يد وهم صاغرون).
وقال - أيضًا - قولًا أصرح من هذا (2): (فحيث ما كان للمنافق
--------------------------------------------
সপ্তম পর্যবেক্ষণনিশ্চয়ই মুসলমানদের জন্য তাদের দুর্বলতা (ضعف) অবস্থায় তাদের সাথে সন্ধি করা বৈধ (يجوز) যারা তাদের সাথে শান্তিতে থাকে। সুতরাং তারা কেবল তাদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করবে যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আর তারা হাত গুটিয়ে রাখা ও ধৈর্য ধারণ সংক্রান্ত আয়াতের ওপর আমল করবে, যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (১) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "মুমিনদের মধ্যে যে ব্যক্তি এমন কোনো ভূখণ্ডে থাকে যেখানে সে দুর্বল (مستضعف), অথবা এমন কোনো সময়ে থাকে যখন সে দুর্বল (مستضعف), তবে সে যেন আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্য থেকে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, তাদের প্রতি ধৈর্য ধারণ এবং ক্ষমা প্রদর্শনের আয়াতের ওপর আমল করে।
পক্ষান্তরে যারা শক্তিশালী (أهل القوة): তারা কেবল কুফরের নেতাদের (أئمة الكفر) বিরুদ্ধে যুদ্ধের আয়াতের ওপর আমল করবে যারা দ্বীনকে আক্রমণ (يطعنون) করে, এবং আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আয়াতের ওপর আমল করবে যতক্ষণ না তারা বশ্যতা স্বীকার করে স্বহস্তে জিজিয়া (الجزية) প্রদান করে।"
তিনি আরও এর চেয়েও সুস্পষ্ট একটি কথা বলেছেন (২): "কেননা যেখানেই মুনাফিকের (منافق) জন্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন মুখতাসারাতুন ফী কিতালিল কুফফার ওয়া মুহাদানতিহিম ওয়া তাহরীমি কাতলিহিম লিমুজাররাদি কুফরিহিম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ظهور يخاف من إقامة الحد عليه فتنة أكبر من بقائه عملنا بآية: {وَدَعْ أَذَاهُمْ}، كما أنه حيث عجزنا عن جهاد الكفار عملنا بآية الكف عنهم والصفح، وحيث ما حصل القوة والعز خوطبنا بقوله: {جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ}).
قال مفتي الديار السعودية سماحة الشيخ عبد العزيز بن باز (1) رحمه الله تعالى، لمَّا ذكر الطور الثاني من الأطوار التي مرَّ بها الجهاد في الإسلام، قال: (وقد ذهب بعض أهل العلم إلى أن الطور الثاني، وهو: القتال لمن قاتل المسلمين، والكف عمن كف عنهم قد نسخ؛ لأنه كان في حال ضعف المسلمين فلما قواهم الله وكثر عددهم وعدتهم أمروا بقتال من قاتلهم ومن لم يقاتلهم، حتى يكون الدين كله لله وحده أو يؤدوا الجزية إن كانوا من أهلها.
وذهب آخرون من أهل العلم إلى أن الطور الثاني لم ينسخ؛ بل
--------------------------------------------
এমন কারও প্রকাশ যার ওপর দণ্ডবিধি (حد) কার্যকর করার ক্ষেত্রে তার অবশিষ্ট থাকার চেয়ে বড় ফিতনার আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে আমরা এই আয়াতের ওপর আমল করি: {এবং তাদের কষ্ট দেওয়া বর্জন করো}। অনুরূপভাবে, যখন আমরা কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে অক্ষম হই, তখন আমরা তাদের থেকে নিবৃত্ত থাকা ও ক্ষমা প্রদর্শনের আয়াতের ওপর আমল করি; আর যেখানেই শক্তি ও মর্যাদা অর্জিত হয়, সেখানেই আমরা আল্লাহর এই বাণীর দ্বারা সম্বোধিত হই: {কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো}।)।
সৌদি আরবের মুফতি মহামান্য শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (১) (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) যখন ইসলামে জিহাদ যে পর্যায়গুলোর মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে তার দ্বিতীয় পর্যায়টি উল্লেখ করেন, তখন তিনি বলেন: (আহলে ইলমদের কেউ কেউ এই মত পোষণ করেছেন যে, দ্বিতীয় পর্যায়টি—যা হলো যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং যারা বিরত থাকে তাদের থেকে বিরত থাকা—তা রহিত (نسخ) হয়ে গেছে; কারণ এটি ছিল মুসলিমদের দুর্বল অবস্থার প্রেক্ষাপটে। অতঃপর যখন আল্লাহ তাদের শক্তিশালী করলেন এবং তাদের সংখ্যা ও সমর-সরঞ্জাম বৃদ্ধি পেল, তখন তাদের নির্দেশ দেওয়া হলো যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং যারা যুদ্ধ করে না উভয়ের বিরুদ্ধেই লড়াই করতে, যতক্ষণ না দ্বীন সম্পূর্ণরূপে একমাত্র আল্লাহর জন্য হয় অথবা তারা জিজিয়া প্রদান করে যদি তারা এর যোগ্য হয়।
এবং অন্য আহলে ইলমগণ মনে করেন যে, দ্বিতীয় পর্যায়টি রহিত (نسخ) হয়নি; বরং
--------------------------------------------