(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: -)
مناسك الحج لابن تيمية ط ركائز   (ابن تيمية)

القسم: الفقه العام


الكتاب: مناسك الحج

المؤلف: شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية الحراني (ت 728 هـ)

المحقق: د. أنس بن عادل اليتامى

الناشر: دار ركائز للنشر والتوزيع، الكويت

الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2018 م

عدد الصفحات: 184

أهداه للشاملة: ركائز للنشر والتوزيع؛ جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 جُمادَى الآخرة 1440

ইবনে তাইমিয়া কর্তৃক মানাসিকুল হাজ্জ, রাকায়েজ সংস্করণ   (ইবনে তাইমিয়া)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: মানাসিকুল হাজ্জ (হজ্জের নিয়মাবলি)

লেখক: শাইখুল ইসলাম আহমদ বিন আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)

সম্পাদক: ড. আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামা

প্রকাশক: দার রাকায়েজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৪

শামেলার জন্য উপহার: দার রাকায়েজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন; আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৫ জুমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরি

(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأنَّ محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد:

فإن الفقه في الدين من أجل ما يتقرب به المسلم إلى ربه تبارك وتعالى، وهو الوسيلة العظمى لتحقيق عبودية الرب جل وعلا، لا سيما ما يتعلق بالأركان الخمسة للإسلام، ودعائمه العظام.

ولما كانت أحكام الحج والعمرة من أدق الأحكام، كما قال شيخ الإسلام رحمه الله: (وعلم المناسك أدق ما في العبادات) (1)، أفرد لها أهل العلم التصانيف في بيان مسائلها وفروعها، وبيان أحكامها ودلائلها، فتنوعت التصانيف فيه ما بين مختصر ومطول، فلم يخلُ مذهب من المذاهب الأربعة إلا ونُظمت فيه أحكام المناسك في مؤلف مستقل.

--------------------------------------------

(1) منهاج السنة 5/ 497.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন করা একজন মুসলিমের জন্য তার বরকতময় ও সুমহান প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়। আর এটিই হচ্ছে মহান রবের দাসত্ব বা বন্দেগি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের সর্বোত্তম মাধ্যম, বিশেষ করে ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ এবং এর সুমহান বুনিয়াদগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহে।

যেহেতু হজ ও উমরার বিধানাবলি অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ইবাদতসমূহের মধ্যে মানাসিক বা হজের কার্যাবলি সংক্রান্ত জ্ঞানই সবচেয়ে সূক্ষ্ম" (১); তাই আলিমগণ এর মাসআলা-মাসায়েল, শাখা-প্রশাখা এবং এর বিধান ও দলীলসমূহ বর্ণনায় স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। এই বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত নানা ধরনের কিতাব রচিত হয়েছে। এমনকি চার মাযহাবের মধ্যে এমন কোনো মাযহাব নেই যাতে মানাসিকের বিধানাবলি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলিত হয়নি।

--------------------------------------------

(১) মিনহাজুস সুন্নাহ ৫/৪৯৭।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৬)
وممن كتب فيه وأفاد، وهو أهل لهذه المسالك والجواد، فارس المنقول والمعقول، الإمام القدوة العلامة شيخ الإسلام أحمد بن عبدالحليم ابن تيمية الحراني رحمه الله تعالى (ت 728 هـ)، فكتب منسكاً في أوائل عمره، وقلد فيه في الأحكام من كان قبله، قال رحمه الله في اقتضاء الصراط المستقيم (2/ 339): (وقد ذكر طائفة من المصنفين في المناسك استحباب زيارة مساجد مكة وما حولها، وكنت قد كتبتها في منسك كتبته قبل أن أحج في أول عمري، لبعض الشيوخ، جمعته من كلام العلماء، ثم تبين لنا أن هذا كله من البدع المحدثة التي لا أصل لها في الشريعة) (1).

ثم كتب منسكاً آخر في أواخر عمره (2) -وهو الذي بين أيدينا-، بعد أن اكتملت فيه آلة الاجتهاد، وبلغ من العلم مبلغاً كبيراً، فكتب فيه ما تبين له من سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، مختصراً مبيناً، ولم يلتزم فيه بمذهبٍ معين، بل ذكر فيه ما ترجح عنده من المسائل، وربما ذكر الخلاف في بعضها وأطلق، حتى تم هذا المنسك بأجمل حلة، وأبهى صورة.

وقد طُبع الكتاب قديماً بالمطبعة العامرة بمصر عام 1323 هـ،

--------------------------------------------

(1) وقد نقل ابن عبدالهادي في الصارم المنكي من منسك شيخ الإسلام القديم كما في ص (17)، ونقل أيضًا من المنسك الجديد كما في ص (45).

(2) ذكر ذلك ابن عبدالهادي في الصارم المنكي ص (45).
যাঁরা এ বিষয়ে লিখেছেন এবং উপকৃত করেছেন, এবং যিনি এই পথের যোগ্য ও পারদর্শী, বর্ণিত (منقول) ও যুক্তিনির্ভর (معقول) শাস্ত্রের অশ্বারোহী, ইমাম, আদর্শ পুরুষ, আল্লামা, শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (রহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু ৭২৮ হি.), তিনি তাঁর জীবনের শুরুর দিকে হজের নিয়মাবলি সংক্রান্ত একটি গ্রন্থ (মানাসিক) লিখেছিলেন এবং তাতে বিধানের ক্ষেত্রে তাঁর পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করেছিলেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) 'ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম' (২/৩৩৯) গ্রন্থে বলেছেন: "হজের নিয়মাবলি লেখকদের একটি দল মক্কার মসজিদসমূহ এবং এর আশপাশের স্থানসমূহ যিয়ারত করা মুস্তাহাব (مستحب) হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। আমি নিজেও হজের আগে আমার জীবনের শুরুর দিকে জনৈক শাইখের জন্য লেখা একটি মানাসিকে তা লিখেছিলাম, যা আমি আলেমদের বক্তব্য থেকে সংগ্রহ করেছিলাম। পরবর্তীতে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, এগুলোর সবই নব-আবিষ্কৃত বিদআত (بدعة محدثة), শরীয়তে যার কোনো ভিত্তি (أصل) নেই।" (১)।

অতঃপর তিনি তাঁর জীবনের শেষ দিকে আরেকটি মানাসিক লিখেন (২) - যা বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে - যখন তাঁর মধ্যে ইজতিহাদ (اجتهاد) করার যোগ্যতা পূর্ণতা পেয়েছিল এবং তিনি ইলমের উচ্চ শিখরে পৌঁছেছিলেন। এতে তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ থেকে যা তাঁর নিকট স্পষ্ট হয়েছে তা সংক্ষেপে ও স্পষ্টভাবে লিখেছিলেন। তিনি এতে কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের অনুসারী হননি, বরং মাসআলাগুলোর মধ্যে যা তাঁর নিকট অগ্রগণ্য (راجح) মনে হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন। কখনো কোনো বিষয়ে মতভেদ (خلاف) উল্লেখ করে তা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই রেখে দিয়েছেন। পরিশেষে এই মানাসিকটি অত্যন্ত সুন্দর ও চমৎকার অবয়বে সম্পন্ন হয়েছে।

বইটি প্রাচীনকালে মিসরের আল-মাতবাআহ আল-আমীরাহ থেকে ১৩২৩ হিজরি সনে মুদ্রিত হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আব্দুল হাদী 'আস-সারিমুল মুনকি' গ্রন্থে শাইখুল ইসলামের পুরনো মানাসিক থেকে ১৭ পৃষ্ঠায় উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং ৪৫ পৃষ্ঠায় নতুন মানাসিক থেকেও উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

(২) ইবনে আব্দুল হাদী 'আস-সারিমুল মুনকি' গ্রন্থের ৪৫ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৭)
ويسر لي المولى جل وعلا الوقوف على أربع نسخٍ خطية، فاستعنت بالله تعالى بمقابلتها وتحقيقها، وإخراجها بهذه الصورة.

 

‌‌توثيق اسم الكتاب:

يظهر والله أعلم أن شيخ الإسلام رحمه الله لم يسم هذا المنسك، وإنما قال في مقدمته: (فقد تكرر السؤال من كثير من المسلمين أن أكتب في بيان مناسك الحج)، ولكن ذكرت تسميته في نسختين من النسخ الخطية -وهي (أ) و (د) - بـ (مناسك الحج).

 

‌‌منهج التحقيق:

1 - اعتمدت في تحقيق الكتاب على أربع نسخة خطية يأتي وصفها.

2 - لم أعتمد نسخة من النسخ على أنها هي الأصل؛ إذ إنها جميعاً متأخرة عن زمن المؤلف، وإنما قمت بالتلفيق بينها، فما كان أقرب للصواب أثبته.

3 - أثبت جميع الفروق بين النسخ المعتمدة، عدا ما يتعلق بصيغ الترضي والترحم والصلاة والسلام، وكذلك ما يتعلق بالآيات، فتارة تذكر الآية كاملة أو يذكر جزء منها، فلم أشر إلى ذلك.

4 - قمت بتوثيق الآيات القرآنية، وتخريج الأحاديث والآثار
মহান পালনকর্তা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা আমার জন্য চারটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া সহজ করে দিয়েছেন। আমি মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে সেগুলোর পরস্পর তুলনা ও সম্পাদনা (تحقيق) সম্পন্ন করেছি এবং এই রূপে তা উপস্থাপন করেছি।

 

‌‌গ্রন্থের নামের প্রামাণিকরণ (توثيق):

আল্লাহই সর্বজ্ঞ, এটি প্রতীয়মান হয় যে শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) হজ পালনের এই নিয়মাবলির কোনো সুনির্দিষ্ট নাম দেননি। বরং তিনি তাঁর ভূমিকার শুরুতে বলেছেন: (অনেক মুসলিমের পক্ষ থেকে বারবার এই আবেদন এসেছে যে, আমি যেন হজের নিয়মাবলির বর্ণনায় কিছু লিখি), তবে পাণ্ডুলিপিগুলোর দু'টি কপিতে—অর্থাৎ (আলিফ) ও (দাল)—বইটির নাম "মনাসিকুল হজ" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

‌‌সম্পাদনার (تحقيق) পদ্ধতি:

1 - গ্রন্থটির সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে আমি চারটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি যেগুলোর বিবরণ সামনে আসছে।

2 - আমি কোনো পাণ্ডুলিপিকেই মূল হিসেবে গ্রহণ করিনি; কেননা এগুলোর সবগুলোই লেখকের সময়ের অনেক পরের। বরং আমি এগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছি; ফলে যা অধিকতর সঠিক বলে মনে হয়েছে তা-ই সাব্যস্ত করেছি।

3 - আমি নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার সকল পার্থক্য উল্লেখ করেছি। তবে সাহাবীগণের জন্য সন্তুষ্টির দুআ, রহমতের দুআ এবং দুরুদ ও সালামের শব্দাবলির পার্থক্যগুলো এবং আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ, যেমন কখনো আয়াত পূর্ণ উল্লেখ করা হয়েছে আবার কখনো আংশিক—আমি এসবের প্রতি ইঙ্গিত করিনি।

4 - আমি কুরআনের আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি এবং হাদিস ও বর্ণনাসমূহের (آثار) উৎস নির্দেশ (تخريج) করেছি।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৮)
تخريجاً مختصراً يتناسب مع المختصر.

5 - متى أطلق المصنف الخلاف، فقال: (فيه نزاع)، أو (على أصح القولين) ونحو ذلك، بينت الأقوال في الحاشية باختصار، مع العزو للمصادر.

6 - أشرت إلى المسائل التي خالف فيها المصنف المشهور من مذهب الحنابلة المتأخرين.

7 - شرحت الكلمات التي تحتاج إلى شرح من مصادرها المعتمدة.

 

‌‌وصف النسخ المعتمدة

اعتمدت في تحقيق الكتاب على أربع نسخ خطية:

 

‌‌النسخة الأولى: نسخة الشيخ عبدالله بن عبدالرحمن أبا بطين.

عدد أوراقها (10) ورقات، عدد أسطرها (28)، من محفوظات دارة الملك عبدالعزيز برقم (آل عبداللطيف/15)، مصححة، وناسخها هو الشيخ عبدالله بن عبدالرحمن أبا بطين رحمه الله، وتاريخ نسخها 1214 هـ.

ورمزت لها بـ (أ).
সংক্ষিপ্ত তাখরিজ (تخريج) যা এই সংক্ষেপিত গ্রন্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৫ - লেখক যখনই কোনো মতভেদের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যেমন তিনি বলেছেন: (এ বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে), অথবা (দুইটি মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) মত অনুযায়ী) ইত্যাদি; আমি পাদটিকায় সংক্ষেপে সেই মতগুলো বর্ণনা করেছি এবং মূল উৎসের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি।

৬ - আমি সেই সকল মাসআলার প্রতি ইঙ্গিত করেছি যেখানে লেখক পরবর্তী যুগের হাম্বলি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতের বিরোধিতা করেছেন।

৭ - ব্যাখ্যার প্রয়োজন এমন শব্দগুলোকে আমি নির্ভরযোগ্য (معتمدة) উৎসসমূহ হতে ব্যাখ্যা করেছি।

 

‌‌ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ

গ্রন্থটি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে আমি চারটি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির (نسخ خطية) ওপর নির্ভর করেছি:

 

‌‌প্রথম পাণ্ডুলিপি: শেখ আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবা বাতিন-এর অনুলিপি।

এর পত্র সংখ্যা ১০টি, প্রতিটি পৃষ্ঠায় ২৮টি লাইন রয়েছে। এটি দারাতে মালিক আব্দুল আজিজ-এর সংরক্ষিত সংগ্রহশালায় (আল আব্দুল লতিফ/১৫) নম্বরে সংরক্ষিত। এটি একটি সংশোধিত (مصححة) পাণ্ডুলিপি এবং এর অনুলিপিকার হলেন শেখ আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবা বাতিন (রাহিমাহুল্লাহ), অনুলিপি করার তারিখ ১২১৪ হিজরি।

আমি একে (أ) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌النسخة الثانية: إدارة المخطوطات في وزارة الأوقاف الكويتية.

عدد أوراقها (24) ورقة، وعدد أسطرها (20)، مصححة ومقابلة، ورقم حفظها (7/ 334)، وعليها بعض الحواشي، فيها سقط يسير من أولها، وعليها قيد تملك لإبراهيم بن صالح بن إبراهيم بن عيسى وغيره، نسخت عام 1275 هـ.

ورمزت لها بـ (ب).

 

‌‌النسخة الثالثة: جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية.

عدد أوراقها (45) ورقة، وعدد أسطرها (15)، مصورة من دشت روضة خيري بمصر، وناسخها محمد المكي بن عزوز، وتاريخ النسخ عام 1327 هـ. رقم حفظها (1679).

ورمزت لها بـ (ج).

 

‌‌النسخة الرابعة: جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية.

عدد أوراقها (38) ورقة، وعدد أسطرها (17)، رقم حفظها (4/ 8782)، وناسخها عبدالله بن محمد دليقان، وتاريخ النسخ عام 1322 هـ. وعليها تملك لمحمد السعيد ابن عبدان سنة 1335 هـ.
দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি: কুয়েতের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের পাণ্ডুলিপি বিভাগ.

এর পত্রসংখ্যা (২৪), পঙক্তি সংখ্যা (২০), এটি সংশোধিত এবং মূল পাঠের সাথে মিলিয়ে দেখা (مقابلة), এর সংরক্ষণ নম্বর (৭/ ৩৩৪)। এতে কিছু পার্শ্বটীকা রয়েছে এবং এর শুরুর দিকে সামান্য অংশ বাদ (سقط) পড়েছে। এতে ইব্রাহিম বিন সালেহ বিন ইব্রাহিম বিন ঈসা ও অন্যদের মালিকানা স্বত্বের বিবরণ রয়েছে। এটি ১২৭৫ হিজরি সনে অনুলিপি করা হয়েছে।

আমি এটিকে 'বা' (ب) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

 

তৃতীয় পাণ্ডুলিপি: ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়.

এর পত্রসংখ্যা (৪৫), পঙক্তি সংখ্যা (১৫), এটি মিশরের 'দাশত রওজা খায়রি' থেকে সংগৃহীত আলোকচিত্র (مصورة), এর অনুলিপিকারক মুহাম্মদ আল-মাক্কি বিন আজ্জুজ এবং অনুলিপি করার তারিখ ১৩২৭ হিজরি। এর সংরক্ষণ নম্বর (১৬৭৯)।

আমি এটিকে 'জিম' (ج) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

 

চতুর্থ পাণ্ডুলিপি: ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়.

এর পত্রসংখ্যা (৩৮), পঙক্তি সংখ্যা (১৭), এর সংরক্ষণ নম্বর (৪/ ৮৭৮২)। এর অনুলিপিকারক আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ দালইকান এবং অনুলিপি করার তারিখ ১৩২২ হিজরি। এতে ১৩৩৫ হিজরিতে মুহাম্মদ আল-সাঈদ ইবন আবদান-এর মালিকানা স্বত্বের বিবরণ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১০)
ورمزت لها بـ (د).

 

والله المسؤول أَن يجعل هذا العمل لوجهه خالصاً، وأن ينفع به مؤلفه ومحققه والناظر فيه، في الدنيا والآخرة، إنه سميع الدعاء، وأَهل الرجاء، وهو حسبنا ونعم الوكيل.

والحمد لله رب العالمين.

وكتبه أنس بن عادل اليتامى

غفر الله لوالديه ولمشايخه وللمسلمين
এবং আমি একে (د) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

 

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে এর লেখক, গবেষক (محقق) ও পাঠককে দুনিয়া ও আখিরাতে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও আশার আশ্রয়স্থল, আর তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

লিখেছেন: আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামা

আল্লাহ তাঁর পিতা-মাতা, শিক্ষকগণ এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১১)
و‌‌نماذج النسخ الخطية

النسخة (أ)

 

النسخة (ب)
এবং পাণ্ডুলিপির নমুনাগুলো

সংস্করণ (أ)

 

সংস্করণ (ب)
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১২)
النسخة (ج)

 

النسخة (د)
সংস্করণ (জ)

 

সংস্করণ (দ)
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৩)
مناسك الحج

 

لشيخ الإسلام

أحمد بن عبدالحليم ابن تيمية الحراني رحمه الله

(ت 728 هـ)

قوبل على أربع نسخ خطية

ومعه ملحق باختيارات شيخ الإسلام في المناسك مما لم ترد في المنسك

تحقيق:

د. أنس بن عادل اليتامى
হজ্জের কার্যাবলি

 

শায়খুল ইসলাম

আহমাদ বিন আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)

(মৃত ৭২৮ হি.)

চারটি পাণ্ডুলিপির (نسخ خطية) সাথে মিলিয়ে সম্পাদিত

এবং এর সাথে হজ্জের কার্যাবলি (مناسك) সংক্রান্ত শায়খুল ইসলামের এমন কিছু চয়ন (اختيارات) পরিশিষ্ট হিসেবে রয়েছে যা মূল গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়নি

গবেষণা ও সম্পাদনা (تحقيق):

ড. আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামী
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم (1)

[وبه نستعين، وصلى الله على محمد وآله وصحبه أجمعين، قال شيخ الإسلام] (2):

الحمدُ للهِ، نحمدُه، ونستعينُه، ونستهديه (3)، ونستغفرُه، ونعوذُ باللهِ منْ شرورِ أنفسِنا، ومِنْ سيِّئاتِ أعمالِنا، مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فلَا مُضِلَّ لهُ، ومَنْ يُضْلِلْ فلَا هادِيَ لهُ، وأشهدُ أنْ لَا إلهَ إلَّا اللهُ وحدَه لا شريكَ لهُ، وأشهدُ أنَّ محمدًا عبدُه ورسولُه، صلَّى اللَّهُ عليهِ، وعلَى آلِه وصحبِه (4)، وسلَّمَ تسليمًا كثيرًا.

أمَّا بعدُ:

فقدْ تكرَّرَ السؤالُ مِنْ كثيرٍ منَ المسلمينَ أنْ أَكْتُبَ في بيانِ

--------------------------------------------

(1) زيد في (د): قال الشيخ العالم العلامة ناصر السنة وماحي البدعة، تقي الدين أبو العباس ابن الإمام شهاب الدين عبد الحليم بن الإمام مجدد الدين عبد السلام بن عبد الله بن تيمية رحمه الله تعالى.

(2) ما بين معقوفين سقط من (ج) و (د).

(3) قوله: (نحمده ونستعينه ونستهديه) هو في (أ): نستعينه.

(4) قوله: (وصحبه) سقطت من (أ).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (১)

[আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং আল্লাহ মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। শায়খুল ইসলাম বলেন] (২):

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে হেদায়েত (نستهديه) যাঞ্চা করি (৩) এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীদের (৪) ওপর অজস্র ধারায় রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর:

অনেক মুসলিমের পক্ষ থেকে বারবার এই আবেদন এসেছে যে, আমি যেন স্পষ্টীকরণে (بيان) লিখি

--------------------------------------------

(১) 'দাল' (د) পাণ্ডুলিপিতে বর্ধিত করা হয়েছে: শায়খ, আলিম, আল্লামা, সুন্নাহর সাহায্যকারী ও বিদআতের বিলোপকারী, তাকিউদ্দিন আবুল আব্বাস ইবনুল ইমাম শিহাবুদ্দিন আব্দুল হালিম ইবনুল ইমাম মুজাদ্দিদুদ্দিন আব্দুল সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন।

(২) তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটি 'জিম' (ج) ও 'দাল' (د) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৩) তাঁর উক্তি: (আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে হেদায়েত চাই) এটি 'আলিফ' (أ) পাণ্ডুলিপিতে: ‘আমরা তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি’ হিসেবে রয়েছে।

(৪) তাঁর উক্তি: (এবং তাঁর সাহাবীদের) এটি 'আলিফ' (أ) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৬)
مناسكِ الحجِّ ما يحتاجُ إليهُ غالِبُ الْحُجَّاجِ في غالِبِ الأوقاتِ على سبيل الاختصار (1)؛ فإنِّي كنتُ (2) كتبتُ مَنْسَكًا في أوائلِ عُمُرِي، وذكرتُ (3) فيه أدعيةً كثيرةً، وقلَّدتُ في الأحكامِ مَنِ اتَّبَعْتُهُ قبلي مِنَ العلماءِ، وكتبتُ في هذا ما تبيَّنَ لي مِنْ سُنَّةِ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مختصَرًا مبيَّنًا، ولَا حولَ ولَا قوَّةَ إلَّا باللهِ. (4)

--------------------------------------------

(1) قوله: (على سبيل الاختصار) سقط من (ج) و (د).

(2) زيد في (ج) و (د): قد.

(3) في (ج) و (د): فذكرت.

(4) زيد في (د): العلي العظيم.
হজ্জের বিধিবিধান (مناسك) সম্পর্কিত যা অধিকাংশ হাজীদের অধিকাংশ সময়ে প্রয়োজন হয়, তা সংক্ষিপ্তাকারে (اختصار) (১) বর্ণিত; কেননা আমি (২) আমার জীবনের প্রারম্ভে হজ্জের বিধিবিধান বিষয়ক একটি গ্রন্থ লিখেছিলাম এবং (৩) তাতে অনেক দোয়া উল্লেখ করেছিলাম। বিধিবিধানের ক্ষেত্রে আমি আমার পূর্ববর্তী যে সকল আলেমদের অনুসরণ করেছিলাম তাদেরই অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করেছিলাম। আর আমি এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) থেকে যা আমার নিকট সুস্পষ্ট হয়েছে তা সংক্ষিপ্ত ও প্রাঞ্জলভাবে লিখেছি। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই। (৪)

--------------------------------------------

(১) তাঁর উক্তি: (সংক্ষিপ্তাকারে) অংশটি (জীম) এবং (দাল) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(২) (জীম) এবং (দাল) পাণ্ডুলিপিতে 'কাদ' শব্দটি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

(৩) (জীম) এবং (দাল) পাণ্ডুলিপিতে এটি 'ফা-যাকারতু' হিসেবে এসেছে।

(৪) (দাল) পাণ্ডুলিপিতে 'আল-আলিয়্যুল আজিম' শব্দসমষ্টি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৭)
فصلٌ

أولُ (1) ما يفعلُه قاصِدُ الحجِّ أو العمرةِ (2) إذَا أرادَ الدخولَ فيهما: [أنْ يُحْرِمَ بذلكَ، وقبلَ ذلكَ فهو قاصِدٌ الحجَّ أوِ العمرةَ ولم يدخلْ فيهما] (3)، بمنزلةِ الذي يخرجُ إلى صلاةِ الجمعةِ؛ فله أجرُ السَّعْيِ، ولا يدخلُ في الصلاةِ حتى يُحْرِمَ بها، وعليه إذا وصلَ إلى (4) الميقاتِ أنْ يُحْرِمَ.

والمواقيتُ خمسةٌ (5): ذُو الْحُلَيْفَةِ (6)،

--------------------------------------------

(1) من هنا تبدأ النسخة (ب).

(2) في (ج) و (د): والعمرة.

(3) ما بين معقوفين سقط من (أ).

(4) قوله: (إلى) سقط من (د).

(5) قال شيخ الإسلام في شرح العمدة 5/ 178: (هذه المواقيت الخمسة منصوصة عن النبي صلى الله عليه وسلم عند جمهور أصحابنا، وهو المنصوص عن أبي عبد الله، … وذهب أبو الفرج بن الجوزي وغيره من أصحابنا: إلى أن ذات عرق إنما ثبتت بتوقيت عمر رضي الله عنه اجتهادًا، ثم انعقد الإجماع على ذلك .... ، والأول هو الصواب لما ذكرناه من الأحاديث المرفوعة الجياد الحسان التي يجب العمل بمثلها مع تعددها، ومجيئها مسندة، ومرسلة من وجوه شتى).

(6) قال في المطلع (ص 200): (ذو الحُليفة: بضم الحاء وفتح اللام، موضع معروف مشهور، بينه وبين المدينة ستة أميال، وقيل سبعة، قاله عياض وغيره).

قال في تيسير العلام (1/ 359): (وتسمى الآن آبار علي، ويكاد عمران =
পরিচ্ছেদ

হজ বা ওমরার সংকল্পকারী (১) প্রথম যা করবেন যখন তিনি তাতে প্রবেশের ইচ্ছা পোষণ করেন (২): [তা হলো এর জন্য ইহরাম বাঁধা; আর এর আগে তিনি কেবল হজ বা ওমরার সংকল্পকারী হিসেবে গণ্য, কিন্তু তখনও তিনি তাতে প্রবেশ করেননি] (৩), এটি সেই ব্যক্তির ন্যায় যে জুমার নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয়; সে গমনের সওয়াব পায়, তবে সে নামাজে প্রবেশ করে না যতক্ষণ না সে এর জন্য ইহরাম (তাকবীরে তাহরিমা) বাঁধছে। আর যখন সে মিকাতে পৌঁছাবে, তখন তার ওপর ইহরাম বাঁধা আবশ্যক (৪)।

মিকাতসমূহ পাঁচটি (৫): জুল হুলাইফা (৬),

--------------------------------------------

(১) এখান থেকে পাণ্ডুলিপি (বা) শুরু হয়েছে।

(২) (জিম) ও (দাল) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'এবং ওমরাহ'।

(৩) বন্ধনীভুক্ত অংশটি (আলিফ) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৪) লেখকের কথা: (পর্যন্ত) শব্দটি (দাল) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৫) শাইখুল ইসলাম শারহুল উমদাহ (৫/১৭৮)-এ বলেছেন: (আমাদের অধিকাংশ সহচরদের মতে এই পাঁচটি মিকাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি নির্দেশিত, এবং এটিই আবু আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, ... আর আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী এবং আমাদের অন্যান্য সহচরদের মতে: 'জাতু ইরক' কেবল উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইজতিহাদ (اجتهاد) দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে, এরপর সে বিষয়ে ইজমা (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে...। তবে প্রথম মতটিই সঠিক, কারণ আমরা মারফু (مرفوع) পর্যায়ের এমন কিছু উত্তম (جيد) ও হাসান (حسن) হাদিস উল্লেখ করেছি যেগুলোর আধিক্য এবং বিভিন্ন সূত্রে মুসনাদ (مسند) ও মুরসাল (مرسل) হিসেবে বর্ণিত হওয়ার কারণে এগুলোর ন্যায় হাদিসের ওপর আমল করা ওয়াজিব)।

(৬) 'আল-মুতলা' (পৃষ্ঠা ২০০)-এ বলা হয়েছে: (জুল হুলাইফা: হা বর্ণে পেশ এবং লাম বর্ণে জবর বিশিষ্ট, এটি একটি সুপরিচিত স্থান, মদিনা থেকে এর দূরত্ব ছয় মাইল, কেউ বলেছেন সাত মাইল; এটি আইয়ায ও অন্যান্যরা বলেছেন)।

তাইসিরুল আল্লাম (১/৩৫৯)-এ বলা হয়েছে: (একে বর্তমানে 'আবারে আলী' বলা হয়, এবং এর বসতি প্রায় =
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৮)
والْجُحْفَةُ (1)، وقَرْنُ المنازلِ (2)، ويَلَمْلَمُ (3)،

--------------------------------------------

= المدينة المنورة الآن يصل إليها، وتبلغ المسافة من ضفة وادي الحليفة إلى المسجد النبوي: ثلاثة عشر كيلًا، ومن تلك الضفة إلى مكة المكرمة عن طريق وادي الجموم: أربعمائة وثمانية وعشرين كيلًا).

(1) قال في المطلع (ص 201): (الجُحْفَةُ - بجيم مضمومة ثم حاء مهملةٍ ساكِنَةٍ-: قال صاحب المطالع: هي قرية جامعةٌ بمنبَرٍ على طريق المدينة من مكة، وهي مَهْيَعةُ، وسميت الجُحْفَة؛ لأن السيل اجتحفها وحمل أهلها، وهي على ستة أميالٍ من البحر، وثماني مراحل من المدينة، وقيل: نحو سبع مراحل من المدينة، وثلاث من مكة).

قال في توضيح الأحكام (4/ 43): (كانت قرية عامرة محطة من محطات الحاج بين الحرمين، ثم جحفتها السيول، فصار الإحرام من قرية رابغ، الواقعة عنها غربًا ببعد (22) ميلًا، ويحاذي الجحفة من خط الهجرة: الخط السريع من المدينة باتجاه مكة، وتبعد عن مكة (208) كيلو).

(2) قال في المطلع (ص 202): (قَرْنٌ: بسكون الراء بلا خلاف، قال صاحب المطالع: وهو ميقاتُ نجدٍ، على يوم وليلة من مكة، ويقال له: قرنُ المنازل وقرنُ الثعالب، ورواه بعضهم بفتح الراء، وهو غلط، إنما قَرَن -بفتح الراء- قبيلة من اليمن).

قال في تيسير العلام (1/ 360): (وهذا الميقات اشتهر اسمه الآن: بالسيل الكبير، ومسافته من بطن الوادي إلى مكة المكرمة: (78) كيلًا).

(3) قال في المطلع (ص 202): (يلملم: قال صاحب المطالع: أَلَمْلَم، ويقال: يلملم، وهو جبل من جبال تهامة، على ليلتين من مكة، والياء فيه بدلٌ من الهمزة، وليست بمزيدة، وحكى اللغتين فيه الجوهري وغيره).

قال في توضيح الأحكام (4/ 44): (يلملم وادٍ عظيم، ينحدر من جبال السراة إلى تهامة، ثم يصب في البحر الأحمر عند ساحل يمسى "المجيرمة"، والاسم لهذا الوادي من فروعه حتى مصبه، ومكان الإحرام منه الذي يمر =
এবং আল-জুহফাহ (১), এবং কার্ণুল মানাজিল (২), এবং ইয়ালামলাম (৩),

--------------------------------------------

= বর্তমানে মদিনা মুনাওয়ারা পর্যন্ত পৌঁছানো যায়; ওয়াদী আল-হুলাইফার তীর থেকে মসজিদে নববী পর্যন্ত দূরত্ব হলো তেরো কিলোমিটার এবং সেই তীর থেকে ওয়াদী আল-জামূম হয়ে মক্কা মুকাররমা পর্যন্ত দূরত্ব হলো চারশত আটাশ কিলোমিটার।

(১) আল-মুতালি (পৃষ্ঠা ২০১)-এ বলা হয়েছে: (আল-জুহফাহ - জিম বর্ণে পেশ এবং এরপর হা সাকিন সহযোগে): আল-মাতালি গ্রন্থের লেখক বলেছেন: এটি মক্কা থেকে মদিনার পথে মিম্বর বিশিষ্ট একটি জনপদ, যা মাহয়াআহ নামে পরিচিত। একে আল-জুহফাহ নামকরণ করা হয়েছে; কারণ প্লাবন একে গ্রাস করেছিল এবং এর অধিবাসীদের ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। এটি সমুদ্র থেকে ছয় মাইল দূরে এবং মদিনা থেকে আট মঞ্জিল দূরে অবস্থিত। কেউ কেউ বলেছেন: মদিনা থেকে প্রায় সাত মঞ্জিল এবং মক্কা থেকে তিন মঞ্জিল দূরে অবস্থিত।

তওদীহুল আহকাম (৪/৪৩)-এ বলা হয়েছে: (এটি একটি আবাদকৃত গ্রাম এবং দুই হারামের মধ্যবর্তী হাজীদের একটি যাত্রাবিরতি স্থল ছিল। পরবর্তীতে প্লাবন একে বিধ্বস্ত করে দেয়, ফলে বর্তমানে এর পশ্চিমে ২২ মাইল দূরে অবস্থিত রাবিগ নামক গ্রাম থেকে ইহরাম বাঁধা হয়। আল-জুহফাহ হিজরত রোড তথা মদিনা থেকে মক্কার দিকে যাওয়ার দ্রুতগামী সড়কের সমান্তরালে অবস্থিত এবং এটি মক্কা থেকে ২০৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।)

(২) আল-মুতালি (পৃষ্ঠা ২০২)-এ বলা হয়েছে: (কার্ণ: কোনো দ্বিমত ছাড়াই রা সাকিন সহযোগে। আল-মাতালি গ্রন্থের লেখক বলেছেন: এটি নজদবাসীর মীকাত, যা মক্কা থেকে একদিন ও এক রাতের দূরত্বে অবস্থিত। একে কার্ণুল মানাজিল এবং কার্ণু সাআলিব-ও বলা হয়। কেউ কেউ এটি রা-এর জবর দিয়ে বর্ণনা (رواه) করেছেন, যা ভুল; কারণ ‘কারান’ -রা-এর জবর যোগে- মূলত ইয়ামানের একটি গোত্রের নাম।)

তায়সীরুল আল্লাম (১/৩৬০)-এ বলা হয়েছে: (বর্তমানে এই মীকাতটি ‘আস-সায়লুল কাবীর’ নামে প্রসিদ্ধ। উপত্যকার তলদেশ থেকে মক্কা মুকাররমা পর্যন্ত এর দূরত্ব ৭৮ কিলোমিটার।)

(৩) আল-মুতালি (পৃষ্ঠা ২০২)-এ বলা হয়েছে: (ইয়ালামলাম: আল-মাতালি গ্রন্থের লেখক বলেছেন: আলামলাম, আবার ইয়ালামলামও বলা হয়। এটি তিহামাহ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর মধ্যে একটি পাহাড়, যা মক্কা থেকে দুই রাতের দূরত্বে অবস্থিত। এতে ‘ইয়া’ বর্ণটি হামযাহ-এর স্থলাভিষিক্ত এবং এটি অতিরিক্ত কোনো হরফ নয়। জাওহারী এবং অন্যরা এর উভয় উচ্চারণই উল্লেখ করেছেন।)

তওদীহুল আহকাম (৪/৪৪)-এ বলা হয়েছে: (ইয়ালামলাম একটি বিশাল উপত্যকা যা সারাত পাহাড় থেকে তিহামার দিকে নেমে এসেছে, অতঃপর ‘আল-মুজাইরিমা’ নামক উপকূল দিয়ে লোহিত সাগরে পতিত হয়েছে। এই উপত্যকাটির শাখা-প্রশাখা থেকে মোহনা পর্যন্ত পুরোটিই এই নামে পরিচিত। আর যে স্থান থেকে ইহরাম বাঁধা হয় সেটি হলো...)=
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وذاتُ عِرْقٍ (1)، ولَمَّا وَقَّتَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم المواقيتَ قالَ: «هُنَّ لِأَهْلِهِنَّ (2)، وَلِمَنْ مَرَّ عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرِ أَهْلِهِنَّ مِمَّنْ (3) يُرِيدُ الْحَجَّ أو الْعُمْرَةَ (4)، وَمَنْ كَانَ مَنْزِلُهُ دُونَهُنَّ فَمُهَلُّهُ مِنْ أَهْلِهِ، حَتَّى أَهْلُ مَكَّةَ يُهِلُّونَ مِنْ مَكَّةَ» (5).

فذُو الحُلَيْفَةِ: هي أبعدُ المواقيتِ، بينها وبين مكةَ عَشْرُ (6) مراحِلَ (7)، أو أقلُّ، أو أكثرُ، بحسبِ اختلافِ الطُّرُقِ؛ فإنَّ منها إلى مكةَ عدةَ طُرُقٍ، وتسمَّى (8) وادِيَ العَقِيقِ، ومسجدُها يسمَّى مسجدَ الشجرةِ.

--------------------------------------------

= طريق تهامة المملكة العربية السعودية، وتهامة من ضفته الجنوبية تبعد عن مكة مسافة (120) كيلو متر).

(1) قال في توضيح الأحكام (4/ 47): (ويسمى الضريبة - بفتح الضاد بعدها راء مكسورة ثم ياء ساكنة-، واحدة الضراب، وهي الجبال الصغار، ويقع عن مكة شرقًا بمسافة قدرها (100) كيلو متر، والآن مهجور لعدم وجود الطرق عليه).

(2) في (ب): (لهن).

(3) في (ج) و (د): (لمن).

(4) في (ج) و (د): (والعمرة).

(5) رواه البخاري (1526)، ومسلم (1181) من حديث ابن عباس رضي الله عنهما.

(6) في (أ) و (ب): عشرة.

(7) المراحل: جمع المرحلة، وهي المسافة التي يقطعها السائر في نحو يوم، أو ما بين المنزلين، والمرحلة الواحدة تساوي (38.4) كيلو متر تقريباً. ينظر: لسان العرب 11/ 280، الدلائل والإشارات شرح أخصر المختصرات 2/ 39.

(8) في (ب): (ويسمى).
এবং যাতু ইরাক (১); আর যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মীকাতসমূহ (المواقيت) নির্ধারিত করলেন, তিনি বললেন: «এই স্থানগুলো ঐ অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য (২), এবং যারা ঐ পথ দিয়ে অতিক্রম করবে অথচ ঐ অঞ্চলের অধিবাসী নয় তাদের মধ্য থেকে যারা (৩) হজ (الحج) অথবা উমরাহ (العمرة) (৪) করার ইচ্ছা পোষণ করে তাদের জন্য। আর যে ব্যক্তি এই সীমানার ভেতরে অবস্থান করে, তার ইহরামের প্রারম্ভিক স্থান (فمهله) তার নিজের এলাকা থেকেই, এমনকি মক্কাবাসীরা মক্কা থেকেই ইহরাম বাঁধবে» (৫)।

যুল-হুলাইফা: এটি মক্কা থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী মীকাত (المواقيت), এর এবং মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্ব দশ (৬) মনজিল (مراحل) (৭), অথবা রাস্তার ভিন্নতা অনুযায়ী কম বা বেশি; কেননা সেখান থেকে মক্কায় যাওয়ার একাধিক পথ রয়েছে। একে ওয়াদিয়ে আকীক বলা হয় (৮) এবং এর মসজিদকে মাসজিদুশ শাজারাহ বলা হয়।

--------------------------------------------

= সৌদি আরবের তিহামাহ অঞ্চলগামী রাস্তা, আর তিহামাহ এর দক্ষিণ প্রান্ত থেকে মক্কার দূরত্ব ১২০ কিলোমিটার)।

(১) 'তাওদিহুল আহকাম' (৪/ ৪৭) গ্রন্থে বলা হয়েছে: (একে আদ-দারীবাহ বলা হয় - 'দ্বদ' বর্ণে ফাতহাহ, এরপর 'রা' বর্ণে কাসরাহ এবং এরপর 'ইয়া' সাকিন যোগে - এটি 'দ্বরাব' এর একবচন, যার অর্থ ছোট পাহাড়। এটি মক্কা থেকে পূর্ব দিকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বর্তমানে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় এটি পরিত্যক্ত)।

(২) (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (لهن)।

(৩) (গ) এবং (ঘ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (لمن)।

(৪) (গ) এবং (ঘ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (والعمرة)।

(৫) বুখারী (১৫২৬) এবং মুসলিম (১১৮১) এটি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৬) (ক) এবং (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: দশ (عشرة)।

(৭) আল-মারাহিল (المراحل): এটি 'মারহালাহ' (المرحلة) শব্দের বহুবচন, আর এটি এমন দূরত্ব যা একজন পথচারী প্রায় একদিনে অতিক্রম করে, অথবা দুটি মনজিলের মধ্যবর্তী দূরত্ব। এক মারহালাহ (المرحلة) প্রায় ৩৮.৪ কিলোমিটারের সমান। দ্রষ্টব্য: লিসানুল আরব ১১/ ২৮০, আদ-দালাইল ওয়াল ইশারাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত ২/ ৩৯।

(৮) (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (ويسمى)।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২০)
وفيها بئرٌ تسمِّيها جُهَّالُ (1) العامةِ: «بئرَ عَلِيٍّ»؛ لظنِّهم أنَّ عَلِيًّا قاتَلَ الجنَّ بها، وهو كَذِبٌ؛ فإنَّ الجنَّ لم يقاتِلْهم أحدٌ مِنَ الصحابةِ، وعَلِيٌّ أرفعُ قَدْرًا مِنْ (2) أنْ يَثْبُتَ الجنُّ لقتالِه.

ولا فضيلةَ لهذا البئرِ ولا مَذَمَّةَ، ولَا يُسْتَحَبُّ أنْ يَرْمِيَ بها حجرًا ولا غيرَهُ.

وأمَّا الْجُحْفَةُ: فبَيْنَها وبين مكةَ نحوُ ثلاثِ مراحلَ، وهي قريةٌ كانتْ قديمةً معمورةً، وكانتْ تسمَّى: مَهْيَعَةَ، وهِيَ اليومَ خرابٌ، ولهذا صارَ (3) الناسُ يُحْرِمُونَ قَبْلَها؛ مِنَ المكانِ الذي يسمَّى: رَابِغًا.

وهذا ميقاتٌ لِمَنْ حجَّ مِنْ ناحيةِ الْمَغْرِبِ؛ كأهلِ الشامِ، ومصرَ، وسائرِ المغربِ.

لكنْ أهلُ الشامِ (4) إذا اجتازُوا بالمدينةِ النبويةِ - كما يفعلونَهُ في هذه الأوقاتِ - أَحْرَمُوا مِنْ ميقاتِ أهلِ (5) المدينةِ؛ فإنَّ هذا هو المستحبُّ لهم بالاتفاقِ، فإنْ أَخَّرُوا (6) الإحرامَ إلى الْجُحْفَةِ؛

--------------------------------------------

(1) قوله: (تسميها جهال) هو في (د): (تسميه).

(2) قوله: (من) سقط من (د).

(3) في (ب): (كان).

(4) قوله: (لكن أهل الشام) سقط من (ج) و (د).

(5) قوله: (أهل) سقط من (أ).

(6) في (د): (أخر).
সেখানে একটি কূপ রয়েছে যাকে সাধারণ মূর্খরা (১) ‘বীরে আলী’ (আলীর কূপ) বলে অভিহিত করে; তাদের ধারণা হলো আলী (রা.) সেখানে জিনের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন, অথচ এটি একটি মিথ্যা (كذب); কারণ সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে কেউ জিনের সাথে যুদ্ধ করেননি, আর আলী (রা.)-এর মর্যাদা এতোই ঊর্ধ্বে যে তাঁর সাথে যুদ্ধ করার জন্য জিনের স্থির থাকার প্রশ্নই আসে না।

এই কূপের কোনো বিশেষ ফজিলত নেই এবং কোনো নিন্দাও নেই, আর সেখানে পাথর বা অন্য কিছু নিক্ষেপ করা মুস্তাহাব নয়।

আর জুহফা প্রসঙ্গে: এটি এবং মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় তিন মনজিল। এটি একটি প্রাচীন ও জনাকীর্ণ জনপদ ছিল এবং একে ‘মাহইয়াহ’ বলা হতো। বর্তমানে এটি জনশূন্য ও পরিত্যক্ত এলাকা, যার ফলে মানুষ এখন এর পূর্বেই ‘রাবিগ’ নামক স্থান থেকে ইহরাম পরিধান করে।

এটি ওই সকল হাজীদের জন্য মিকাত যারা পশ্চিম দিক থেকে আসেন; যেমন সিরিয়া, মিসর এবং সমগ্র মাগরিব অঞ্চলের অধিবাসী।

তবে সিরিয়ার (৪) অধিবাসীরা যখন মদিনা মুনাওয়ারা হয়ে অতিক্রম করেন—যেমনটি তারা বর্তমানে করে থাকেন—তখন তারা মদিনাবাসীদের (৫) মিকাত থেকেই ইহরাম পরিধান করেন; কেননা সর্বসম্মতিক্রমে এটিই তাদের জন্য মুস্তাহাব। আর যদি তারা ইহরামকে (৬) জুহফা পর্যন্ত বিলম্বিত করেন—

--------------------------------------------

(১) তাঁর উক্তি: (তাসমিহা জুহহাল), এটি (দাল) পাণ্ডুলিপিতে: (তাসমিহি) হিসেবে আছে।

(২) তাঁর উক্তি: (মিন) (দাল) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৩) (বা) পাণ্ডুলিপিতে: (কানা) রয়েছে।

(৪) তাঁর উক্তি: (লাকিন আহলুশ শাম) (জিম) ও (দাল) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৫) তাঁর উক্তি: (আহলু) (আলিফ) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৬) (দাল) পাণ্ডুলিপিতে: (আখখারা) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২১)
ففيهِ نِزَاعٌ (1).

وأمَّا المواقيتُ الثلاثةُ (2): فبَيْنَ كلِّ واحدٍ منها وبينَ مكةَ نحوٌ (3) من (4) مرحلتَيْنِ.

وليسَ لأحدٍ أنْ يُجَاوِزَ الميقاتَ إذا أرادَ الحجَّ أوِ العمرةَ إلَّا بإحرامٍ (5).

وإنْ قصدَ مكةَ لتجارةٍ أوِ لزيارةٍ (6)؛ فينبغي له أنْ يُحْرِمَ، وفي الوجوبِ نزاعٌ (7).

--------------------------------------------

(1) ذهب الحنابلة، والشافعية: أنه يلزمهم الإحرام من ذي الحليفة.

وذهب الحنفية، والمالكية، واختاره شيخ الإسلام: أن لهم مجاوزة ذي الحليفة، والإحرام من الجحفة.

قال شيخ الإسلام في الاختيارات (ص 174): (ومن ميقاته الجحفة؛ كأهل مصر والشام، إذا مروا على المدينة؛ فلهم تأخير الإحرام إلى الجحفة، ولا يجب عليهم الإحرام من ذي الحليفة، وهو مذهب أبي حنيفة ومالك). ينظر: بدائع الصنائع 2/ 164، مواهب الجليل 3/ 53، المجموع 7/ 206، الإنصاف 3/ 425.

(2) أي: قرن المنازل، ويلملم، وذات عرق.

(3) قوله: (نحو) سقط من (ب).

(4) قوله: (من) زيادة من (أ).

(5) في (أ) و (ب): (بالإحرام).

(6) في (ب): (زيارة).

(7) ذهب الحنفية، والمالكية، والحنابلة: إلى وجوب الإحرام. =
এ বিষয়ে মতভেদ (نزاع) রয়েছে (১)।

আর তিনটি মিকাতের (المواقيت) (২) ক্ষেত্রে: এগুলোর প্রত্যেকটি এবং মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় (৩) (৪) দুই মঞ্জিল (مرحلتين)।

হজ বা উমরাহ পালনের সংকল্প থাকলে ইহরাম (إحرام) (৫) ব্যতীত কারো জন্য মিকাত (الميقات) অতিক্রম করা বৈধ নয়।

আর যদি কেউ ব্যবসা বা পরিদর্শনের (৬) উদ্দেশ্যে মক্কায় যাওয়ার ইচ্ছা করে, তবে তার জন্য ইহরাম (يحرم) করা উচিত, তবে এর আবশ্যকতা (وجوب) নিয়ে মতভেদ (نزاع) রয়েছে (৭)।

--------------------------------------------

(১) হাম্বলি ও শাফিঈ মাযহাবের মত হলো: তাদের জন্য যুল হুলাইফা থেকে ইহরাম (الإحرام) করা আবশ্যক (يلزم)।

হানাফি ও মালিকি মাযহাবের অভিমত এবং শায়খুল ইসলাম এটিই গ্রহণ করেছেন যে: তাদের জন্য যুল হুলাইফা অতিক্রম করা এবং জুহফা থেকে ইহরাম (الإحرام) করা বৈধ।

শায়খুল ইসলাম আল-ইখতিয়ারাত গ্রন্থে (পৃ. ১৭৪) বলেন: (যাদের মিকাত (ميقات) জুহফা; যেমন মিশর ও সিরিয়াবাসী, তারা যখন মদিনার ওপর দিয়ে অতিক্রম করে; তখন তাদের জন্য ইহরাম (الإحরাম) জুহফা পর্যন্ত বিলম্বিত করা বৈধ, তাদের জন্য যুল হুলাইফা থেকে ইহরাম (الإحرام) করা ওয়াজিব (يجب) নয়; আর এটিই আবু হানিফা ও মালিকের মাযহাব)। দ্রষ্টব্য: বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬৪, মাওয়াহিবুল জলীল ৩/৫৩, আল-মাজমু ৭/২০৬, আল-ইনসাফ ৩/৪২৫।

(২) অর্থাৎ: কারনুল মানাযিল, ইয়ালামলাম এবং যাতু ইরক।

(৩) তাঁর উক্তি: (প্রায়) (نحو) শব্দটি (ব) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৪) তাঁর উক্তি: (হতে) (من) শব্দটি (আ) পাণ্ডুলিপির অতিরিক্ত অংশ।

(৫) (আ) ও (ব) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (ইহরামের মাধ্যমে) (بالإحرام)।

(৬) (ব) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (পরিদর্শন) (زيارة)।

(৭) হানাফি, মালিকি এবং হাম্বলি মাযহাবের অভিমত হলো: ইহরাম (الإحرام) করা ওয়াজিব (وجوب)। =
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২২)
ومَنْ وَافَى الميقاتَ في أَشْهُرِ الحجِّ فهو مُخَيَّرٌ بينَ ثلاثةِ أنواعٍ، وهي التي يقالُ لها: التمتُّعُ، والإفرادُ، والقِرَانُ:

- إنْ شاءَ أَحرم (1) بعمرةٍ، فإذا حَلَّ (2) منها أَهَلَّ بالحجِّ، وهذا الذي يَختَصُّ (3) باسمِ التمتُّعِ.

- وإنْ شاءَ أَحْرَمَ بهما جميعًا، أو أَحْرَمَ بالعمرةِ ثم أَدْخَلَ عليها الحجَّ قبلَ الطوافِ؛ وهو القِرَانُ، وهو داخِلٌ في اسمِ (4) التمتُّعِ في الكتابِ، والسُّنَّةِ، وكلامِ الصحابةِ رضي الله عنهم.

- وإنْ شاءَ أَحْرَمَ بالحجِّ مُفْرِدًا، وهو الإفرادُ.

--------------------------------------------

= واستثنى المالكية والحنابلة ثلاث مسائل لا يجب فيها الإحرام: إذا كان دخول مكة لقتال مباح، أو كان لخوف، أو كان لحاجة متكررة.

وذهب الشافعية، وأحمد في رواية، واختاره ابن القيم: إلى عدم وجوب الإحرام. ينظر: مجمع الأنهر 1/ 266، ومواهب الجليل 3/ 43، والمجموع 7/ 10، الإنصاف 3/ 427، زاد المعاد 3/ 337.

(1) في (ج) و (د): (أهلَّ).

(2) في (أ) و (ب): (أحلَّ).

(3) قوله: (وهذا الذي يختص) هو في (ب) و (ج) و (د): (وهو يخص).

(4) في (ب): (باسم).
যে ব্যক্তি হজের মাসসমূহে মিকাতে পৌঁছে, সে তিন ধরনের পদ্ধতির মধ্য থেকে যেকোনোটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার রাখে; আর সেগুলো হলো: তামাত্তু (التمتُّعُ), ইফরাদ (الإفرادُ) এবং কিরান (القِرَانُ):

- সে চাইলে উমরার ইহরাম (إحرام) বাঁধতে পারে, অতঃপর যখন তা থেকে হালাল (أحلَّ) হবে, তখন হজের জন্য ইহরামের সূচনা (أهلَّ) করবে; আর এটিই মূলত তামাত্তু (التمتُّعُ) নামে সুনির্দিষ্ট।

- আর সে চাইলে উভয়টির (হজ ও উমরা) জন্য একত্রে ইহরাম (إحرام) বাঁধতে পারে, অথবা উমরার ইহরাম বাঁধার পর তাওয়াফের পূর্বে তার সাথে হজকে অন্তর্ভুক্ত করে নিতে পারে; আর এটিই হলো কিরান (القِرَانُ), যা কিতাব, সুন্নাহ (السُّنَّةِ) এবং সাহাবী (الصحابة) রাদিয়াল্লাহু আনহুম-গণের পরিভাষায় তামাত্তু (التمتُّعُ) নামের অন্তর্ভুক্ত।

- আর সে চাইলে এককভাবে কেবল হজের ইহরাম (إحরাম) বাঁধতে পারে, আর তা হলো ইফরাদ (الإفرادُ)।

--------------------------------------------

= মালিকি এবং হাম্বলিগণ তিনটি বিষয়কে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন যাতে ইহরাম (إحرام) ওয়াজিব নয়: যদি মক্কায় প্রবেশ কোনো বৈধ যুদ্ধের জন্য হয়, অথবা ভীতির কারণে হয়, অথবা বারবার যাতায়াতের প্রয়োজন হয় এমন কোনো প্রয়োজনে হয়।

শাফেয়িগণ এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায়—যা ইবনুল কাইয়্যিম পছন্দ করেছেন—ইহরাম (إحرام) ওয়াজিব না হওয়ার মত ব্যক্ত করা হয়েছে। দ্রষ্টব্য: মাজমাউল আনহুর ১/২৬৬, মাওয়াহিবুল জলীল ৩/৪৩, আল-মাজমু ৭/১০, আল-ইনসাফ ৩/৪২৭, যাদুল মাআদ ৩/৩৩৭।

(১) ‘জিম’ এবং ‘দাল’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (أهلَّ)।

(২) ‘আলিফ’ এবং ‘বা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (أحلَّ)।

(৩) তাঁর বক্তব্য: ‘আর এটি যা সুনির্দিষ্ট’ এটি ‘বা’, ‘জিম’ ও ‘দাল’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (وهو يخص)।

(৪) ‘বা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (باسم)।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৩)
فصل في (1) الأفضلِ منْ ذلكَ

فالتحقيقُ في ذلك: أنَّهُ يتنوَّعُ باختلافِ حالِ الحاجِّ (2).

- فإنْ كانَ يسافِرُ سَفْرَةً للعمرةِ (3) وسَفْرَةً أخرى للحَجِّ (4) (5)، أو

--------------------------------------------

(1) قوله: (فصل في) هو في (أ): (وأمَّا).

(2) والمذهب: أفضلها التمتع ثم الإفراد. ينظر: مجموع الفتاوى 27/ 79 - 85، الفروع 5/ 334، اختيارات البعلي ص 173، الإنصاف 3/ 434.

(3) في (ب): (إلى العمرة).

(4) في (ج): (وللحج سفرة أخرى).

(5) أي: كون العمرة في سفرة والحج في سفرة أفضل من جمعهما بالتمتع في سفرة واحدة فقط، لا أن ذلك أفضل من التمتع مطلقاً، ولذا قال في مجموع الفتاوى (26/ 276): (لو أفرد الحج بسفرة والعمرة بسفرة فهو أفضل من المتعة المجردة).

ويدل لذلك ما نقله ابن القيم في زاد المعاد (2/ 194) عن شيخ الإسلام أنه قال: (إن عمر رضي الله عنه لم ينه عن المتعة البتة، وإنما قال: " إنه أتم لحجكم وعمرتكم أن تفصلوا بينهما "، فاختار عمر لهم أفضل الأمور، وهو إفراد كل واحد منهما بسفر ينشئه له من بلده، وهذا أفضل من القران والتمتع الخاص بدون سفرة أخرى)، ثم قال ابن القيم: (فهذا الذي اختاره عمر للناس، فظن من غلط منهم أنه نهى عن المتعة).

وأما لو اعتمر قبل ذلك ثم أراد الحج في سفرة أخرى؛ فالتمتع أفضل من الإفراد، قال شيخ الإسلام في مجموع الفتاوى (26/ 88): (من سافر سفرة واحدة واعتمر فيها، ثم أراد أن يسافر أخرى للحج، فتمتعه أيضًا أفضل له من =
এর মধ্যে কোনটি সর্বোত্তম (১) সেই সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

এ বিষয়ের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ হলো: তা হজ্জ পালনকারীর অবস্থার ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে (২)।

- যদি তিনি ওমরার জন্য একবার সফর (৩) করেন এবং হজ্জের জন্য অন্য একবার সফর (৪) (৫) করেন, অথবা

--------------------------------------------

(১) তাঁর উক্তি: (পরিচ্ছেদ) এটি 'আলিফ' (أ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (আর যদি)।

(২) মাযহাবের অভিমত: এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো তামাত্তু (التمتع), এরপর একক হজ্জ (الإفراد)। দ্রষ্টব্য: মাজমুউল ফাতাওয়া ২৭/ ৭৯ - ৮৫, আল-ফুরু ৫/ ৩৩৪, ইখতিয়ারাতুল বালী পৃ. ১৭৩, আল-ইনসাফ ৩/ ৪৩৪।

(৩) 'বা' (ب) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (ওমরার উদ্দেশ্যে)।

(৪) 'জিম' (ج) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (এবং হজ্জের জন্য অন্য সফর)।

(৫) অর্থাৎ: ওমরা এক সফরে এবং হজ্জ অন্য সফরে সম্পাদন করা, শুধুমাত্র এক সফরে তামাত্তু (التمتع) এর মাধ্যমে উভয়টি একত্রিত করার চেয়ে উত্তম। এটি এমন নয় যে তা সাধারণভাবে তামাত্তু (التمتع) এর চেয়ে উত্তম; একারণেই তিনি মাজমুউল ফাতাওয়াতে (২৬/ ২৭৬) বলেছেন: (যদি কেউ হজ্জকে এক সফরে একক হজ্জ (الإفراد) হিসেবে এবং ওমরাকে অন্য সফরে আদায় করেন, তবে তা সাধারণ তামাত্তু অপেক্ষা উত্তম)।

এর প্রমাণ হিসেবে ইবনুল কাইয়্যিম 'যাদুল মাআদ' (২/ ১৯৪)-এ শাইখুল ইসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: (নিশ্চয়ই উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তামাত্তু (التمتع) থেকে মোটেও নিষেধ করেননি, বরং তিনি বলেছিলেন: "তোমাদের হজ্জ ও ওমরার পূর্ণতা এতেই যে, তোমরা এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য করবে (পৃথক সফরে করবে)"। উমর তাদের জন্য সর্বোত্তম বিষয়টি পছন্দ করেছিলেন, আর তা হলো নিজ দেশ থেকে প্রতিটি ইবাদতের জন্য পৃথক সফরের সূচনা করা। এটি অন্য সফর ব্যতীত কিরান (القران) এবং বিশেষ তামাত্তু (التمتع) অপেক্ষা উত্তম)। এরপর ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: (উমর মানুষের জন্য এটিই পছন্দ করেছিলেন, কিন্তু যারা ভুল করেছেন তারা মনে করেছেন যে তিনি তামাত্তু (التمتع) থেকে নিষেধ করেছেন)।

পক্ষান্তরে যদি কেউ এর আগে ওমরা করে থাকেন এবং এরপর অন্য সফরে হজ্জ করার ইচ্ছা করেন, তবে তার জন্য একক হজ্জ (الإفراد) অপেক্ষা তামাত্তু (التمتع) উত্তম। শাইখুল ইসলাম মাজমুউল ফাতাওয়াতে (২৬/ ৮৮) বলেছেন: (যে ব্যক্তি এক সফরে ওমরা পালন করেন, এরপর হজ্জের জন্য অন্যবার সফর করতে চান, তবে তার তামাত্তু (التمتع) করাও তার জন্য উত্তম... )
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৪)
يسافِرُ إلى مكةَ قبلَ أَشْهُرِ الحجِّ ويعتمرُ ويُقِيمُ بها حتى يَحُجَّ، فهذا الإفرادُ له أفضلُ باتفاقِ الأئمةِ الأربعةِ (1).

و‌‌الإحرامُ بالحجِّ قبلَ أَشْهُرِهِ (2) ليس بمَسْنُونٍ (3)، بل مكروهٌ، وإذا فعلَهُ فهلْ يصيرُ مُحْرِمًا بعمرةٍ أو بحَجٍّ؟ فيهِ نزاعٌ (4).

- وأمَّا إذا فَعَلَ ما يفعلُه غالبُ الناسِ؛ وهو أنْ يَجْمَعَ بينَ العمرةِ والحجِّ في سَفْرَةٍ واحدةٍ، ويَقْدَمَ مكةَ في أَشْهُرِ الحجِّ

--------------------------------------------

= الحج، فإن كثيرًا من الصحابة الذين حجوا مع النبي صلى الله عليه وسلم كانوا قد اعتمروا قبل ذلك، ومع هذا فأمرهم بالتمتع، لم يأمرهم بالإفراد، ولأن هذا يجمع بين عمرتين وحجة وهدي، وهذا أفضل من عمرة وحجة).

(1) قال في مجموع الفتاوى (26/ 85): (إذا أفرد الحج بسفرة والعمرة بسفرة فهو أفضل من القران والتمتع الخاص بسفرة واحدة، وقد نص على ذلك أحمد وأبو حنيفة مع مالك والشافعي وغيرهم).

وفي مختصر الفتاوى المصرية 1/ 484: (فأما من أفردهما في سفرتين، أو اعتمر قبل أشهر الحج وأقام إلى الحج؛ فهذا أفضل من التمتع، وهو قول الخلفاء الراشدين رضي الله عنهم، وقول أحمد وغيره، وبعض أصحاب مالك والشافعي وغيرهم).

(2) في (أ): (أشهر الحج).

(3) في (ج) و (د): (مسنوناً).

 

(4) ذهب الحنفية والمالكية والحنابلة: أن الإحرام بالحج قبل أشهره ينعقد حجًا مع الكراهة.

وذهب الشافعية: أنه ينعقد عمرة مجزئة عن عمرة الإسلام. ينظر: المبسوط 4/ 61، مواهب الجليل 3/ 18، الحاوي 4/ 28، شرح المنتهى 1/ 527.
তিনি হজের মাসসমূহের আগে মক্কায় সফর করবেন এবং উমরাহ পালন করবেন এবং হজ সম্পন্ন না করা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। এমতাবস্থায় তার জন্য এই ইফরাদ (الإفراد) হজ পালন করাই চার ইমামের সর্বসম্মতিক্রমে উত্তম (১)।

এবং হজের মাসসমূহের আগে হজের ইহরাম (الإحرام) বাঁধা (২) সুন্নাহসম্মত (مسنون) নয় (৩), বরং এটি মাকরুহ (مكروه)। আর যদি কেউ তা করে, তবে সে কি উমরাহ নাকি হজের ইহরামকারী (محرمًا) বলে গণ্য হবে? এ বিষয়ে মতপার্থক্য (نزاع) রয়েছে (৪)।

- আর পক্ষান্তরে যদি সে অধিকাংশ মানুষ যা করে তা-ই করে; আর তা হলো এক সফরেই উমরাহ ও হজকে একত্র করা এবং হজের মাসসমূহে মক্কায় আসা

--------------------------------------------

= হজ, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে হজ পালনকারী অনেক সাহাবী ইতিপূর্বে উমরাহ করেছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি তাদেরকে তামাত্তু (التمتع) করার আদেশ দিয়েছিলেন, ইফরাদ (الإفراد) করার আদেশ দেননি। কারণ এটি দুটি উমরাহ, একটি হজ এবং একটি হাদয় (هدي) -এর সমন্বয় করে, যা একটি উমরাহ ও একটি হজের চেয়ে উত্তম)।

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া-তে (২৬/৮৫) বলা হয়েছে: (যদি হজকে একটি সফরে এবং উমরাহকে অন্য একটি সফরে আলাদাভাবে (أفرد) পালন করা হয়, তবে তা এক সফরে কিরান (القران) এবং বিশেষ তামাত্তু (التمتع) করার চেয়ে উত্তম। ইমাম আহমাদ, আবু হানিফা, মালিক ও শাফিয়ী এবং অন্যান্যগণ এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন)।

এবং মুখতাসারুল ফাতাওয়া আল-মিসরিয়্যাহ ১/৪৮৪-তে রয়েছে: (পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি দুই সফরে দুটিকে আলাদাভাবে আদায় করে, অথবা হজের মাসসমূহের আগে উমরাহ করে এবং হজ পর্যন্ত অবস্থান করে; তবে এটি তামাত্তু (التمتع) অপেক্ষা উত্তম। এটিই খুলাফায়ে রাশেদিন (رضي الله عنهم)-এর অভিমত এবং আহমাদ ও অন্যান্যদের অভিমত, এবং মালিক ও শাফিয়ী মাযহাবের একদল অনুসারী এবং অন্যান্যদেরও অভিমত)।

(২) (অ) পাণ্ডুলিপিতে: (হজের মাসসমূহ)।

(৩) (জ) ও (দ) পাণ্ডুলিপিতে: (সুন্নাহসম্মত (مسنوناً))।

 

(৪) হানাফী, মালিকী ও হাম্বলীগণ মনে করেন: হজের মাসসমূহের আগে হজের ইহরাম (الإحرام) বাঁধা মাকরুহ (الكراهة) হওয়া সত্ত্বেও হজ হিসেবেই গণ্য হবে।

আর শাফিয়ীগণ মনে করেন: এটি উমরাহ হিসেবে গণ্য হবে যা ইসলামের ফরজ উমরাহ হিসেবে যথেষ্ট (مجزئة) হবে। দ্রষ্টব্য: আল-মাবসুত ৪/৬১, মাওয়াহিবুল জলীল ৩/১৮, আল-হাভী ৪/২৮, শারহুল মুনতাহা ১/৫২৭।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৫)
- وهنَّ: شوالٌ، وذُو القَعْدَةِ، وعَشْرٌ من ذِي الْحِجَّةِ-: فهذا إنْ ساقَ الهَدْيَ فالقِرَانُ أفضلُ له (1)، وإنْ لم يَسُقِ الهَدْيَ؛ فالتحلُّلُ مِنْ إحرامِه بعمرةٍ أفضلُ (2).

فإنَّهُ قد ثبتَ [بالنقولِ الْمُسْتَفِيضَةِ التي لم يختلفْ في صِحَّتِهَا أهلُ العلمِ] (3) بالحديثِ أنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا حجَّ حَجَّةَ الوداعِ هو وأصحابُه أَمَرَهُمْ جميعَهم أنْ يَحِلُّوا مِن إحرامِهم، ويجعلُوها عُمْرَةً، إلَّا مَنْ ساقَ الهَدْيَ فإنَّه أَمَرَهُ أنْ يَبْقَى على إحرامِه حتى يبلُغَ مَحِلَّهُ يومَ النَّحْرِ (4)، وكانَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم قدْ ساقَ الهَدْيَ هو وطائفةٌ من أصحابِه، وقَرَنَ هو بين العمرةِ والحجِّ، فقالَ: «لَبَّيْكَ عُمْرَةً وَحَجًّا» (5).

ولم يعتمِرْ بعدَ الحجِّ أحدٌ ممنْ كانَ معَ النبيِّ صلى الله عليه وسلم إلَّا عائشةَ

--------------------------------------------

(1) في (د): (له أفضل)، وقوله: (له) سقط من (ب).

(2) والمذهب عند الحنابلة: أن التمتع أفضل، ثم الإفراد. ينظر: الإنصاف 3/ 434.

تتمة: اختار شيخ الإسلام: أن القران مع سوق الهدي أفضل من تمتع بلا سوق للهدي. ينظر: مجموع الفتاوى 26/ 90.

(3) ما بين معقوفين سقط من (د).

(4) ومن ذلك ما أخرجه البخاري (1085) ومسلم (1240) من حديث ابن عباس رضي الله عنهما، قال: «قدم النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه لصبح رابعة يلبون بالحج، فأمرهم أن يجعلوها عمرة إلا من معه الهدي».

(5) أخرجه مسلم (1232) من حديث أنس رضي الله عنه.
আর সেগুলো হলো: শাওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজের (প্রথম) দশ দিন। এমতাবস্থায় যদি কেউ হাদয় (কুরবানির পশু) সাথে নিয়ে আসে, তবে তার জন্য কিরান হজ করা উত্তম (১)। আর যদি হাদয় সাথে না নিয়ে আসে, তবে ওমরাহ পালন করে ইহরাম থেকে হালাল হওয়া তার জন্য অধিকতর উত্তম (২)।

কেননা এটি সেই সকল সুপ্রসিদ্ধ (مستفيضة) বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত [যাদের বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণ কোনো মতপার্থক্য করেননি] (৩), যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ বিদায় হজ পালন করেন, তখন তিনি তাদের সকলকেই ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার এবং তাকে ওমরাহতে রূপান্তর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে যার সাথে হাদয় ছিল, তাকে তিনি কোরবানির দিন পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন (৪)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর একদল সাহাবী হাদয় সাথে এনেছিলেন এবং তিনি ওমরাহ ও হজকে একত্রে (কিরান) আদায় করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: «লাব্বায়েক ওমরাতান ওয়া হাজ্জান» (৫)।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) ব্যতীত অন্য কেউ হজের পর ওমরাহ করেননি।

--------------------------------------------

(১) (দ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (له أفضل), এবং (ب) পাণ্ডুলিপি থেকে (له) শব্দটি বাদ পড়েছে।

(২) হাম্বলি মাজহাব মতে: তামাত্তু হজ সর্বোত্তম, এরপর ইফরাদ। দেখুন: আল-ইনসাফ ৩/৪৩৪।

পরিশিষ্ট: শায়খুল ইসলাম চয়ন করেছেন যে: হাদয় সাথে নিয়ে কিরান হজ করা, হাদয় ব্যতীত তামাত্তু হজ করার চেয়ে উত্তম। দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া ২৬/৯০।

(৩) বন্ধনীভুক্ত অংশটি (দ) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৪) এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা বুখারি (১০৮৫) এবং মুসলিম (১২৪০) ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ জিলহজ মাসের চতুর্থ তারিখের সকালে হজের তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় আগমন করেন। অতঃপর তিনি তাদের নির্দেশ দেন যেন তারা ইহরামকে ওমরাহতে রূপান্তর করেন, তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যার সাথে হাদয় রয়েছে।»

(৫) এটি মুসলিম (১২৩২) আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وحدَها؛ لأنَّها كانتْ قدْ (1) حاضَتْ، فلم يُمْكِنْهَا الطوافُ؛ [لأنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم قالَ: «تَقْضِي الْحَائِضُ الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا إِلَّا الطَّوَافَ] (2) بِالْبَيْتِ» (3)، فَأَمَرَهَا (4) أنْ تُهِلَّ بالحجِّ وتَدَعَ أفعالَ العمرةِ؛ لأنَّها كانتْ مُتَمَتِّعَةً، ثُمَّ إنَّها طلبتْ مِنَ النبيِّ صلى الله عليه وسلم أنْ يُعْمِرَهَا، فأَرسلَها مع أَخِيهَا عبدِ الرحمنِ فاعتمرتْ مِنَ التَّنْعِيمِ (5).

والتنعيمُ هو أقربُ الحِلِّ إلى مكةَ، وبه اليومَ المساجدُ التي تسمَّى: «مساجدَ عائشةَ»، ولم تكنْ هذِه على عَهْدِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم، وإنَّما بُنِيَتْ بعدَ ذلك علامةً على (6) المكانِ الذي أَحْرَمَتْ منه عائشةُ رضي الله عنها.

وليس دخولُ هذهِ المساجدِ والصلاةُ (7) فيها - لِمَنِ اجتازَ بِهَا مُحْرِمًا - لَا فرضًا ولا سُنَّةً، بلْ قَصْدُ ذلك واعتقادُ (8) أنَّهُ يُسْتَحَبُّ؛

--------------------------------------------

(1) في (ب): (قد كانت).

(2) ما بين معقوفين سقط من (ب).

(3) أخرجه ابن أبي شيبة (14363) من حديث عائشة رضي الله عنها، وأصله في البخاري (305)، ومسلم (1211) من حديث عائشة رضي الله عنها بلفظ: «فافعلي ما يفعل الحاج، غير أن لا تطوفي بالبيت حتى تطهري».

(4) في (ب): (وأمرها).

(5) أخرجه البخاري (316)، ومسلم (1211) من حديث عائشة رضي الله عنها.

(6) قوله: (على) سقط من (د).

(7) في (ب) و (د): (ولا الصلاة).

(8) في (ب): (واعتقد).
একা; কেননা তিনি (১) ঋতুবতী হয়েছিলেন, ফলে তাঁর পক্ষে তওয়াফ (الطواف) করা সম্ভব ছিল না; [কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ঋতুবতী নারী বাইতুল্লাহর তওয়াফ (الطواف) ব্যতীত হজের যাবতীয় আহকাম বা মানাসিক (المناسك) সম্পন্ন করবে] (২)» (৩)। অতঃপর তিনি তাকে (৪) হজের ইহরাম (إحرام) বাঁধার এবং উমরার কার্যাবলি বর্জন করার নির্দেশ দিলেন; কারণ তিনি মুতামাত্তিআ (متمتعة) ছিলেন। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উমরা করার আবেদন করলেন, ফলে তিনি তাঁকে তাঁর ভাই আবদুর রহমানের সাথে পাঠালেন এবং তিনি তানয়িম (৫) থেকে উমরা করলেন।

আর তানয়িম হলো মক্কার নিকটতম হিল্ল (الحل) এলাকা। সেখানে বর্তমানে এমন কিছু মসজিদ রয়েছে যেগুলোকে «আয়েশা মসজিদ» বলা হয়। এগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ছিল না, বরং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যে স্থান থেকে ইহরাম (إحرام) বেঁধেছিলেন তার নিদর্শন হিসেবে (৬) এগুলো পরবর্তীতে নির্মাণ করা হয়েছে।

যারা ইহরাম (إحرام) অবস্থায় এগুলো অতিক্রম করেন, তাদের জন্য এই মসজিদগুলোতে প্রবেশ করা এবং সেখানে সালাত (৭) আদায় করা কোনো ফরজ (فرض) নয় এবং সুন্নাহ (سنة)-ও নয়; বরং এর সংকল্প করা এবং একে মুস্তাহাব (يستحب) বলে বিশ্বাস করা (৮);

--------------------------------------------

(১) (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (কাদ কানাত)।

(২) তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৩) এটি ইবনে আবি শায়বা (১৪৩৬৩) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه)। এর মূল উৎস আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিস হিসেবে সহিহ বুখারি (৩০৫) এবং সহিহ মুসলিম (১২১১)-এ এই শব্দে (لفظ) পাওয়া যায়: «হজ পালনকারী যা করে তুমিও তা করো, তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বাইতুল্লাহর তওয়াফ (الطواف) করো না»।

(৪) (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (ওয়া আমারাহা)।

(৫) এটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিস থেকে সহিহ বুখারি (৩১৬) এবং সহিহ মুসলিম (১২১১) উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه)।

(৬) লেখকের কথা: (আলা) শব্দটি (দাল) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৭) (খ) এবং (দাল) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (ওয়া লাস-সালাত)।

(৮) (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (ওয়া’তাকাদা)।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৭)
بدعةٌ مكروهةٌ، لكنْ مَنْ خرجَ مِنْ مكةَ ليعتمرَ (1)؛ فإنَّهُ إذا (2) دخلَ واحدًا منها، وصلَّى فيه لأجلِ الإحرامِ؛ فلا بأسَ بذلك.

ولم يكنْ على عهدِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم وخلفائِه الراشدِينَ أحدٌ يخرُجُ مِنْ مكةَ لِيَعْتَمِرَ (3) إلَّا لِعُذْرٍ (4)، لَا في رمضانَ، ولَا في (5) غيرِ رمضانَ، والذينَ حَجُّوا مع النبيِّ صلى الله عليه وسلم ليسَ فيهم (6) مَنِ اعتمرَ بعدَ الحجِّ مِنْ مكةَ إلَّا عائشةَ، كما ذُكِرَ، ولا كَانَ هذا مِنْ فِعْلِ الخلفاءِ الراشدِينَ.

والذين استحبُّوا الإفرادَ مِنَ الصحابةِ؛ إنما استحبُّوا أنْ يَحُجَّ في سَفرةٍ ويعتمرَ في أخرى، ولم (7) يستحبُّوا أنْ يحجَّ ويعتمرَ عَقِبَ (8) ذلك عمرةً مَكِّيَّةً (9)، بلْ هذا لم يكونُوا يفعلونَهُ قطُّ، اللَّهُمَّ إلَّا أنْ يكونَ شيئًا نادِرًا (10).

--------------------------------------------

(1) في (د): (يعتمر).

(2) قوله: (إذا) سقط من (د).

(3) في (د): (يعتمر).

(4) قوله: (ليعتمر إلا لعذر) هو في (ب): ليعقد الإزار.

(5) قوله: (في) سقط من (ج) و (د).

(6) في (د): (منهم).

(7) في (أ) و (ب): (لم).

(8) في (د): (عقيب).

(9) المذهب: تشرع العمرة للمفرد بعد حجه. ينظر: الإنصاف 3/ 347.

(10) قال شيخ الإسلام في مجموع الفتاوى 26/ 86: (وأما إذا أفرد الحج واعتمر عقب ذلك من أدنى الحل؛ فهذا الإفراد لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا أحد من =
এটি একটি অপছন্দনীয় (مكروهة) নব উদ্ভাবন (بدعة), তবে যে ব্যক্তি উমরা করার জন্য মক্কা থেকে বের হয় (১); সে যদি (২) তার কোনো একটিতে প্রবেশ করে এবং ইহরামের উদ্দেশ্যে সেখানে সালাত আদায় করে, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগে ওজর (৪) ব্যতীত মক্কা থেকে উমরা করার জন্য (৩) বের হওয়ার কোনো প্রচলন ছিল না, রমজানেও নয় এবং রমজান ব্যতীত (৫) অন্য সময়েও নয়। যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে হজ করেছিলেন, তাদের মধ্যে (৬) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ব্যতীত এমন কেউ ছিলেন না যিনি হজের পর মক্কা থেকে উমরা করেছিলেন, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে। আর এটি খুলাফায়ে রাশিদীনের কর্মপন্থার অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

সাহাবীদের মধ্যে যারা কেবল হজ বা ইফরাদ (الإفراد) করাকে পছন্দনীয় (استحبوا) মনে করতেন, তারা কেবল এক সফরে হজ এবং অন্য সফরে উমরা করাকেই পছন্দনীয় (استحبوا) মনে করতেন। তারা হজের পরপরই (৮) মক্কী উমরা (৯) করার বিষয়টিকে পছন্দ (৭) করতেন না; বরং তারা এটি কখনোই করতেন না, তবে যদি তা বিরল (نادرًا) কোনো ঘটনা হয়ে থাকে (১০)।

--------------------------------------------

(১) (দ) পাণ্ডুলিপিতে: (উমরা করে)।

(২) তাঁর উক্তি: (যদি) এটি (দ) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৩) (দ) পাণ্ডুলিপিতে: (উমরা করে)।

(৪) তাঁর উক্তি: (ওজর ব্যতীত উমরা করার জন্য) এটি (ব) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ইহরামের কাপড় বাঁধার জন্য।

(৫) তাঁর উক্তি: (মধ্যে/তে) এটি (জ) এবং (দ) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৬) (দ) পাণ্ডুলিপিতে: (তাদের মধ্যে)।

(৭) (আ) এবং (ব) পাণ্ডুলিপিতে: (না/লেন না)।

(৮) (দ) পাণ্ডুলিপিতে: (পরবর্তীতে)।

(৯) মাজহাব (المذهب): ইফরাদকারী (মুফরিদ) ব্যক্তির জন্য হজের পরে উমরা করা শরীয়তসম্মত। দ্রষ্টব্য: আল-ইনসাফ ৩/৩৪৭।

(১০) শাইখুল ইসলাম মাজমু আল-ফাতাওয়ায় (২৬/৮৬) বলেছেন: (আর যদি কেউ কেবল হজ বা ইফরাদ (الإفراد) করে এবং তার পরপরই নিকটতম হালাল এলাকা থেকে উমরা করে, তবে এই ইফরাদ (الإفراد) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) করেননি এবং অন্য কেউও...)
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقد (1) تنازَعَ السلفُ في هذا: هلْ يكونُ متمتِّعًا عليه دمٌ، أمْ لَا؟ (2) وهلْ تُجْزِئُهُ هذه العمرةُ عنْ عمرةِ الإسلامِ، أمْ لَا؟ (3)

وقدِ اعتمرَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم بعدَ هِجْرَتِهِ أربعَ عُمَرٍ:

عمرةَ الْحُدَيْبِيَةِ؛ وَصَلَ إلى الحديبيةِ -والحديبيةُ (4) وراءَ الجبلِ

--------------------------------------------

= أصحابه الذين حجوا معه، بل ولا غيرهم، كيف يكون هو الأفضل مما فعلوه معه بأمره؟ ! بل لم يعرف أن أحدًا اعتمر من مكة على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا عائشة، لا في حجة الوداع ولا قبلها ولا بعدها؛ بل هذه العمرة لا تجزئ عن عمرة الإسلام في إحدى الروايتين عن أحمد، وعند بعض أهل العلم أنها متعة، وتكره العمرة في ذي الحجة عند طائفة من أهل العلم، مع أن عائشة كانت إذا حجت صبرت حتى يدخل المحرم، ثم تحرم من الجحفة، فلم تكن تعتمر من أدنى الحل، ولا في ذي الحجة).

وفي الإنصاف 4/ 57: (كره الشيخ تقي الدين الخروج من مكة للعمرة إذا كان تطوعًا، وقال: هو بدعة؛ لأنه لم يفعله عليه أفضل الصلاة والسلام، ولا صحابي على عهده إلا عائشة، لا في رمضان ولا في غيره اتفاقًا).

(1) في (أ) و (ب): (وإن).

(2) والمنصوص عن أحمد: لا يجب على من اعتمر بعد الحج هديٌ. ينظر: مسائل ابن هانئ 1/ 141.

(3) العمرة من التنعيم: تجزئ عن عمرة الإسلام عند الحنابلة والشافعية.

وعن الإمام أحمد: لا تجزئ عن العمرة الواجبة. ينظر: تحفة المحتاج 4/ 49، الإنصاف 4/ 56.

وأما الحنفية والمالكية: فلا يرون وجوب العمرة أصلاً، واختاره شيخ الإسلام. ينظر: بدائع الصنائع 2/ 226، بداية المجتهد 2/ 87 الاختيارات ص 170.

(4) قوله: (والحديبية) سقط من (ب) و (د).
এবং (১) এ বিষয়ে সালাফগণ মতবিরোধ করেছেন: তিনি কি তামাত্তুকারী (متمتع) হিসেবে গণ্য হবেন যার ওপর দণ্ড বা কুরবানি (دم) ওয়াজিব (واجب), নাকি নয়? (২) আর এই উমরাহ কি ইসলামের আবশ্যিক উমরাহ হিসেবে যথেষ্ট হবে, নাকি হবে না? (৩)

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরতের পর চারটি উমরাহ পালন করেছেন:

হুদাইবিয়ার উমরাহ; তিনি হুদাইবিয়াতে পৌঁছেছিলেন - আর হুদাইবিয়া (৪) পাহাড়ের পেছনে...

--------------------------------------------

= তাঁর সেই সব সাহাবী যারা তাঁর সাথে হজ করেছেন, বরং অন্য কেউও নয়; তিনি তাঁদেরকে তাঁর নির্দেশে যা করতে বলেছিলেন, তার চেয়ে এটি কীভাবে উত্তম হতে পারে? বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে আয়েশা (রা.) ছাড়া মক্কা থেকে আর কারো উমরাহ করার কথা জানা যায় না; বিদায় হজেও নয়, তার আগে বা পরে কোথাও নয়। বরং আহমাদ (রহ.) থেকে বর্ণিত দুই বর্ণনার (رواية) একটি অনুযায়ী, এই উমরাহ ইসলামের আবশ্যিক উমরাহ হিসেবে যথেষ্ট হবে না। কোনো কোনো আলিমের মতে এটি তামাত্তু (متعة) হিসেবে গণ্য। একদল আলিমের মতে যিলহজ মাসে উমরাহ করা অপছন্দনীয় (مكروه), যদিও আয়েশা (রা.) যখন হজ করতেন, তখন মহররম মাস শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন, তারপর জুহফাহ থেকে ইহরাম বাঁধতেন। তিনি হারামের সীমানার নিকটবর্তী স্থান (أدنى الحل) থেকে উমরাহ করতেন না এবং যিলহজ মাসেও করতেন না।

আল-ইনসাফ ৪/৫৭ গ্রন্থে বলা হয়েছে: (শায়খ তাকিউদ্দীন নফল উমরাহর উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে বাইরে বের হওয়াকে অপছন্দনীয় (مكروه) মনে করতেন এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি নব উদ্ভাবন (بدعة); কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি করেননি এবং আয়েশা (রা.) ব্যতীত তাঁর যুগের কোনো সাহাবীও এটি করেননি—রমজান বা রমজান ছাড়া অন্য কোনো সময়েও নয়, এ বিষয়ে ঐকমত্য (اتفاق) রয়েছে)।

(১) (ক) ও (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (আর যদি)।

(২) ইমাম আহমাদ (রহ.) থেকে স্পষ্টভাবে বর্ণিত (منصوص) রয়েছে: হজের পর যিনি উমরাহ করেন তার ওপর কুরবানি (هدي) ওয়াজিব (واجب) নয়। দ্রষ্টব্য: মাসায়িল ইবনে হানি ১/১৪১।

(৩) তানঈম থেকে উমরাহ করা: হাম্বলি ও শাফিঈ মাযহাব মতে তা ইসলামের আবশ্যিক উমরাহর স্থলাভিষিক্ত হবে।

আর ইমাম আহমাদ (রহ.) থেকে বর্ণিত: তা ওয়াজিব (واجب) উমরাহ হিসেবে যথেষ্ট হবে না। দ্রষ্টব্য: তুহফাতুল মুহতাজ ৪/৪৯, আল-ইনসাফ ৪/৫৬।

আর হানাফি ও মালিকি মাযহাব মতে: তারা মূলত উমরাহ ওয়াজিব (واجب) হওয়াকে স্বীকার করেন না; শায়খুল ইসলাম এটিই পছন্দ করেছেন। দ্রষ্টব্য: বাদায়েউস সানায়ে ২/২২৬, বিদায়াতুল মুজতাহিদ ২/৮৭, আল-ইখতিয়ারাত পৃ. ১৭০।

(৪) তাঁর বক্তব্য: (ওয়াল হুদাইবিয়া) অংশটি (খ) ও (ঘ) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الذي بالتنعيمِ عندَ مساجدِ عائشةَ، عنْ يمينِكَ وأنتَ داخِلٌ إلى مكةَ-، فصَدَّهُ (1) المشركونَ عنِ البيتِ، فصالَحَهُمْ (2)، وحَلَّ مِنْ إحرامِه وانصرَفَ.

وعمرةُ القَضِيَّةِ؛ اعْتَمَرَ مِنَ العامِ القابِلِ.

وعمرةُ الجِعْرَانَةِ؛ لأنَّهُ (3) كانَ قدْ قَاتَلَ المشركِينَ بِحُنَيْنٍ - وحُنَيْنٌ مِنْ ناحيةِ المشرقِ (4) مِنْ ناحيةِ الطائفِ-، وأمَّا بدرٌ فهي بين المدينةِ وبين مكةَ، وبين الغزوتَيْنِ سِتُّ سنينَ، ولكنْ قُرِنَا (5) في الذِّكْرِ؛ لأنَّ اللهَ تعالَى أَنْزَلَ فيهما الملائكةَ لِنَصْرِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم والمؤمنِينَ في القتالِ، ثم ذهبَ فَحَاصَرَ المشركِينَ بالطائفِ، ثم رجعَ، وقَسَمَ غنائمَ حُنَيْنٍ بالجِعْرَانَةِ (6)، فلمَّا قَسَمَ غنائمَ حُنَيْنٍ اعتمرَ مِنَ الجِعْرَانَةِ داخِلًا إلى مكةَ لا خارجًا منها للإحرامِ.

والعمرةُ الرابعةُ مع حَجَّتِهِ، فإنَّه قَرَنَ بين العمرةِ والحجِّ باتفاقِ أهلِ المعرفةِ بِسُنَّتِهِ، وباتفاقِ الصحابةِ على ذلك، ولم يُنْقَلْ عن أحدٍ

--------------------------------------------

(1) في (أ): (ثم صده).

(2) قوله: (المشركونَ عنِ البيتِ، فصالَحَهُمْ) سقط من (ب).

(3) في (أ): (أنه)، وفي (ج): (وأنه)، وقوله: (لأنه) سقط من (ب).

(4) في (ب): (الشرق).

(5) في (ج): (قرنتا)، وفي (د): (قرن).

(6) قوله: (بالجعرانة) سقط من (ب).
যা তানইমে আয়েশা মাসজিদসমূহের নিকট অবস্থিত—মক্কায় প্রবেশ করার সময় তোমার ডান দিকে—অতঃপর মুশরিকরা তাঁকে বায়তুল্লাহ থেকে বাধা প্রদান করল (১), ফলে তিনি তাদের সাথে সন্ধি করলেন (২) এবং তাঁর ইহরাম (إحরাম) ত্যাগ করে হালাল (حل) হলেন ও ফিরে গেলেন।

আর উমরাতুল কাযা; তিনি পরবর্তী বছর উমরা পালন করেছিলেন।

আর জিরানার উমরা; কেননা (৩) তিনি হুনাইনে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন—আর হুনাইন হলো পূর্ব দিক (৪) অর্থাৎ তায়েফের দিক থেকে—পক্ষান্তরে বদর হলো মদিনা ও মক্কার মাঝখানে। আর এই দুই যুদ্ধের (غزوة) ব্যবধান হলো ছয় বছর, কিন্তু এগুলোকে বর্ণনায় একত্রে যুক্ত করা হয়েছে (৫); কারণ মহান আল্লাহ এই দুই যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও মুমিনদের সাহায্যের জন্য ফেরেশতা অবতীর্ণ করেছিলেন। অতঃপর তিনি গিয়ে তায়েফে মুশরিকদের অবরোধ করলেন, তারপর ফিরে এলেন এবং জিরানায় (৬) হুনাইনের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (غنائم) বণ্টন করলেন। যখন তিনি হুনাইনের গনিমত (غنائم) বণ্টন শেষ করলেন, তখন তিনি ইহরামের (إحরাম) উদ্দেশ্যে মক্কার বাইরে না গিয়ে বরং মক্কায় প্রবেশকালে জিরানা থেকে উমরা পালন করলেন।

আর চতুর্থ উমরাটি ছিল তাঁর হজের সাথে। কেননা তিনি তাঁর সুন্নাহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের (أهل المعرفة بسنته) ঐকমত্য এবং এই বিষয়ে সাহাবায়ে কিরামের ঐকমত্য অনুযায়ী উমরা ও হজকে একত্রে (قرن) আদায় করেছিলেন। আর কারও কাছ থেকে এমন কিছু বর্ণিত (نقل) হয়নি যে...

--------------------------------------------

(১) ‘আলিফ’ (أ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘অতঃপর তিনি তাঁকে বাধা প্রদান করলেন’ (ثم صده)।

(২) তাঁর উক্তি: ‘মুশরিকরা বায়তুল্লাহ থেকে (বাধা দিল), ফলে তিনি তাদের সাথে সন্ধি করলেন’ (المشركون عن البيت، فصالحهم) ‘বা’ (ب) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৩) ‘আলিফ’ (أ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘যে তিনি’ (أنه), এবং ‘জীম’ (ج) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘এবং যে তিনি’ (وأنه), আর তাঁর উক্তি ‘কেননা তিনি’ (لأنه) ‘বা’ (ب) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৪) ‘বা’ (ب) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘পূর্ব’ (الشرق)।

(৫) ‘জীম’ (ج) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘সে দুটিকে যুক্ত করা হয়েছে’ (قرنتا), এবং ‘দাল’ (د) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘যুক্ত করা হয়েছে’ (قرن)।

(৬) তাঁর উক্তি: ‘জিরানায়’ (بالجعرانة) ‘বা’ (ب) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৩০)
مِنَ الصحابةِ أنَّهُ تمتَّعَ تمتُّعًا (1) حَلَّ فيه، بل كانُوا يُسَمُّونَ القِرَانَ (2): تمتُّعًا، ولا نُقِلَ عن أحدٍ مِنَ الصحابةِ أنَّه لَمَّا قَرَنَ طافَ طَوَافَيْنِ وسَعَى سَعْيَيْنِ.

وعامةُ المنقولِ عنِ الصحابةِ في صفةِ حَجَّتِهِ ليستْ (3) بمختلفةٍ، وإنَّما اشتبهتْ على مَن لم يعرفْ مُرَادَهُمْ، وجميعُ الصحابةِ الذينَ نُقِلَ عنهم أنَّه أَفْرَدَ الحجَّ؛ كعائشةَ (4)، وابنِ عمرَ (5)، [وجابرٍ (6)؛ قالُوا: إنَّه تمتَّعَ بالعمرةِ إلى الحجِّ، وقدْ (7) ثبتَ هذا (8) في الصحيحَيْنِ عنْ عائشةَ (9)

--------------------------------------------

(1) في (ب): (متمتعاً).

(2) في (د): (القرن).

(3) في (ب): (ليس).

(4) أخرج مسلم (1211) عن عائشة رضي الله عنها: «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أفرد الحج».

(5) أخرج مسلم (1231) عن ابن عمر رضي الله عنهما: قال: «أهللنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بالحج مفردًا».

(6) أخرج ابن ماجه (2966) عن جابر رضي الله عنه: «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أفرد الحج» وصححه الألباني، وفي البخاري (1651) ومسلم (1216) قال جابر رضي الله عنه: «أهلَّ النبي صلى الله عليه وسلم هو وأصحابه بالحج» واللفظ للبخاري.

(7) في (ج) و (د): (فقد).

(8) قوله: (هذا) سقط من (ج) و (د).

(9) أخرج البخاري (1692)، ومسلم (1228) عن عروة بن الزبير: «أن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أخبرته عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في تمتعه بالحج إلى العمرة، وتمتع =
সাহাবীদের (صحابة) পক্ষ থেকে এমন কোনো বর্ণনা নেই যে তিনি এমনভাবে 'তামাত্তু' (تمتع) (১) করেছিলেন যাতে তিনি (ইহরাম থেকে) হালাল হয়েছিলেন; বরং তারা 'কিরান'কে (قران) (২) 'তামাত্তু' (تمتع) হিসেবে অভিহিত করতেন। আর কোনো সাহাবী (صحابة) থেকে এমনটি বর্ণিত হয়নি যে, তিনি যখন 'কিরান' (قران) করেছিলেন তখন দুইবার তাওয়াফ ও দুইবার সাঈ করেছিলেন।

তাঁর হজের পদ্ধতির বিবরণে সাহাবীদের (صحابة) থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার অধিকাংশের মধ্যে কোনো ভিন্নতা (৩) নেই। বরং এটি কেবল তাদের কাছে অস্পষ্ট মনে হয়েছে যারা তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত নয়। আর ঐ সকল সাহাবী (صحابة) যাদের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি হজে 'ইফরাদ' (إفراد) করেছিলেন; যেমন আয়েশা (৪), ইবনে ওমর (৫), [এবং জাবির (৬)]; তাঁরা বলেছেন: তিনি হজের সাথে উমরার 'তামাত্তু' (تمتع) করেছিলেন। আর আয়েশা (৯) থেকে এটি (৮) সহিহাইন-এ সাব্যস্ত (৭) হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) (বা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (متمتعاً)।

(২) (দাল) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (القرن)।

(৩) (বা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (ليس)।

(৪) মুসলিম (১২১১) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'ইফরাদ' (إفراد) হজ করেছিলেন»।

(৫) মুসলিম (১২৩১) ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন: «আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে 'ইফরাদ' (إفراد) হজের ইহরাম বেঁধেছিলাম»।

(৬) ইবনে মাজাহ (২৯৬৬) জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'ইফরাদ' (إفراد) হজ করেছিলেন» এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। আর বুখারি (১৬৫১) ও মুসলিম (১২১৬) অনুযায়ী জাবির (রা.) বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (صحابة) হজের ইহরাম বেঁধেছিলেন» এবং শব্দগুলো বুখারির।

(৭) (জিম) ও (দাল) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (فقد)।

(৮) তাঁর উক্তি: (هذا) শব্দটি (জিম) ও (দাল) পাণ্ডুলিপি থেকে বিলুপ্ত হয়েছে।

(৯) বুখারি (১৬৯২) এবং মুসলিম (১২২৮) উরওয়াহ ইবনে যুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নী আয়েশা (রা.) তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হজের সাথে উমরার 'তামাত্তু' (تمتع) করা সম্পর্কে অবহিত করেছেন, এবং তামাত্তু =
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وابنِ عمرَ (1)] (2) بإسنادٍ أصحَّ مِنْ إسنادِ الإفرادِ، ومُرادُهُم بالتمتُّعِ القِرَانُ، كما ثَبَتَ ذلكَ في الصِّحَاحِ أيضًا (3).

فإذَا أرادَ الإحرامَ:

- فإنْ كانَ قارِنًا قالَ: لبَّيْكَ [عمرةً وحَجًّا.

- وإنْ كانَ متمتِّعًا قالَ: لَبَّيْكَ عمرةً.

- وإنْ كانَ مُفْرِدًا قالَ: لَبَّيْكَ] (4) حَجَّةً.

أوْ قالَ: اللهُمَّ إنِّي قد (5) أوجبتُ عمرةً وحَجًّا، أوْ أَوْجَبْتُ عمرةً أوجبت حجًّا، [أو أوجبت عمرةً أتمتَّعُ بها إلى الحجِّ، أو قال: اللهم إني أريد العمرة] (6)، أو أريدُ الحجَّ، أو أريدُهُمَا، أو أريدُ التمتُّعَ بالعمرةِ إلى الحجِّ، فمهما قالَ (7) مِنْ ذلكَ؛ أَجْزَأَهُ باتفاقِ

--------------------------------------------

= الناس معه».

(1) أخرجه البخاري (1691)، ومسلم (1227) بلفظ: «تمتع رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع، بالعمرة إلى الحج وأهدى».

(2) ما بين معقوفين سقط من (ب).

(3) تنظر المسألة: مجموع الفتاوى 26/ 61 وما بعدها، زاد المعاد 2/ 112.

(4) ما بين معقوفين سقط من (د).

(5) قوله: (قد) سقط من (ج) و (د).

(6) ما بين معقوفين سقط من (ج) و (د).

(7) زيد في (د): (شيئاً).
...এবং ইবনে উমর (১)] (২) ইফরাদ (إفراد)-এর সনদ (إسناد) অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধ (أصح) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে; আর তামাত্তু (تمتع) দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো কিরান (قران), যেমনটি সহিহ গ্রন্থসমূহেও (৩) প্রমাণিত হয়েছে।

অতঃপর যখন তিনি ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা করবেন:

- যদি তিনি কিরান (قران) হজকারী হন, তবে বলবেন: লাব্বাইক [উমরা ও হজের জন্য।

- আর যদি তিনি তামাত্তু (تمتع) হজকারী হন, তবে বলবেন: লাব্বাইক উমরার জন্য।

- আর যদি তিনি মুফরিদ (مفرد) হজকারী হন, তবে বলবেন: লাব্বাইক] (৪) হজের জন্য।

অথবা বলবেন: হে আল্লাহ! আমি (৫) অবশ্যই উমরা ও হজের নিয়ত করলাম, অথবা আমি উমরার নিয়ত করলাম এবং হজের নিয়ত করলাম, [অথবা আমি উমরার নিয়ত করলাম যার মাধ্যমে আমি হজের সাথে তামাত্তু (تمتع) করব, অথবা তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আমি উমরার ইচ্ছা পোষণ করছি] (৬), অথবা হজের ইচ্ছা করছি, অথবা উভয়ের ইচ্ছা করছি, অথবা উমরার মাধ্যমে হজের সাথে তামাত্তু (تمتع)-এর ইচ্ছা করছি। তিনি এগুলোর মধ্য থেকে যা-ই বলুন (৭) না কেন; সর্বসম্মতিক্রমে তা যথেষ্ট হবে।

--------------------------------------------

= মানুষেরা তাঁর সাথে ছিল।

(১) এটি বুখারি (১৬৯১) ও মুসলিম (১২২৭) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজে হজের সাথে উমরার তামাত্তু (تمتع) করেছেন এবং হাদি (কুরবানির পশু) সাথে নিয়েছেন।"

(২) বন্ধনীযুক্ত অংশটুকু (বা) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৩) বিষয়টি দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া ২৬/৬১ এবং পরবর্তী অংশ, যাদুল মাআদ ২/১১২।

(৪) বন্ধনীযুক্ত অংশটুকু (দাল) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৫) তাঁর উক্তি: (কাদ/قد) শব্দটি (জিম) ও (দাল) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৬) বন্ধনীযুক্ত অংশটুকু (জিম) ও (দাল) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৭) (দাল) পাণ্ডুলিপিতে (শাইআন/شيئاً) শব্দটি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৩২)
الأئمةِ، ليسَ في ذلكَ عبارةٌ مخصوصةٌ، ولا يجبُ شيءٌ مِنْ هذهِ العباراتِ باتفاقِ الأئمةِ؛ كما لا يجبُ التلفُّظُ بالنيةِ في الطهارةِ والصلاةِ والصيامِ باتفاقِ الأئمةِ، بلْ متى لَبَّى قاصِدًا للإحرامِ؛ انعقدَ إحرامُهُ باتفاقِ المسلمينَ.

ولا يجبُ عليه أنْ يتكلَّمَ قبلَ التلبيةِ بشيءٍ، ولكنْ تنازَعَ العلماءُ: هلْ يُستحبُّ أن يتكلَّم بذلكَ (1)؟ (2) كمَا تنازَعُوا: هلْ يُسْتَحَبُّ التلفُّظُ بالنيةِ في الصلاةِ؟ (3)

--------------------------------------------

(1) قوله: (أن يتكلم بذلك) هو في (أ): (التكلم بشيء من ذلك).

(2) ذهب الحنفية والشافعية والحنابلة: أنه يستحب التلفظ بالنية، خلافاً للمالكية. ينظر: بدائع الصنائع 2/ 144، القوانين الفقهية 89، المجموع 7/ 224، الفروع 5/ 328.

(3) قال شيخ الإسلام: (تنازع العلماء هل يستحب أن يتكلم بما نواه؟ على قولين، واتفقوا على أنه لا يستحب الجهر بالنية ولا تكرير التكلم بها؛ بل ذلك منهي عنه باتفاق الأئمة، ولو لم يتكلم بالنية صحت صلاته عند الأئمة الأربعة وغيرهم، ولم يخالف إلا بعض شذوذ المتأخرين).

وقال: (ولم يشرع لأحد أن يقول قبل التلبية شيئًا، لا يقول: اللهم إني أريد العمرة والحج، ولا الحج والعمرة، ولا يقول: فيسره لي وتقبله مني، ولا يقول: نويتهما جميعًا، ولا يقول: أحرمت لله، ولا غير ذلك من العبادات كلها .... )، وقال: (وجميع ما أحدثه الناس من التلفظ بالنية قبل التكبير وقبل التلبية وفي الطهارة وسائر العبادات؛ فهي من البدع التي لم يشرعها رسول الله صلى الله عليه وسلم. ينظر: مجموع الفتاوى 22/ 222 - 242.
ইমামগণের মতে, এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট শব্দ নেই এবং ইমামগণের ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী এই শব্দগুলোর কোনোটিই আবশ্যক (واجب) নয়; যেমনটি ইমামগণের ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী পবিত্রতা, নামাজ এবং রোজার ক্ষেত্রে নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক (واجب) নয়। বরং যখনই কেউ ইহরামের উদ্দেশ্যে তালবিয়া পাঠ করবে, মুসলমানদের ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী তার ইহরাম কার্যকর হয়ে যাবে।

এবং তালবিয়ার আগে তার জন্য কোনো কিছু বলা আবশ্যক (واجب) নয়, তবে আলেমগণ মতভেদ করেছেন: তা মুখে বলা কি পছন্দনীয় (مستحب) (১)? (২) যেমন তাঁরা মতভেদ করেছেন: নামাজের ক্ষেত্রে কি নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা পছন্দনীয় (مستحب) (৩)?

--------------------------------------------

(১) তাঁর বক্তব্য: (তা মুখে বলা) এটি পাণ্ডুলিপি (أ)-তে রয়েছে: (এ জাতীয় কোনো কিছু উচ্চারণ করা)।

(২) হানাফি, শাফেয়ি এবং হাম্বলিগণ এই অভিমত পোষণ করেছেন যে: নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা পছন্দনীয় (مستحب), যা মালিকিগণের মতের পরিপন্থী। দ্রষ্টব্য: বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৪, আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যাহ ৮৯, আল-মাজমু ৭/২২৪, আল-ফুরু ৫/৩২৮।

(৩) শায়খুল ইসলাম বলেন: (আলেমগণ মতভেদ করেছেন যে, ব্যক্তি যা নিয়ত করেছে তা মুখে বলা কি পছন্দনীয় (مستحب)? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। তাঁরা একমত হয়েছেন যে, উচ্চস্বরে নিয়ত করা বা তা বারবার মুখে উচ্চারণ করা পছন্দনীয় (مستحب) নয়; বরং ইমামগণের ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী এটি নিষিদ্ধ (منهي عنه) নয়। যদি কেউ নিয়ত মুখে উচ্চারণ না-ও করে, তবুও চার ইমাম এবং অন্যদের নিকট তার নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। কেবল পরবর্তী যুগের কিছু বিরল (شذوذ) মতাবলম্বী ব্যতীত কেউ এর বিরোধিতা করেননি)।

তিনি আরও বলেন: (কারো জন্যই তালবিয়ার পূর্বে কোনো কিছু বলা বিধিবদ্ধ করা হয়নি। সে এ কথা বলবে না: 'হে আল্লাহ, আমি উমরাহ এবং হজের ইচ্ছা পোষণ করছি', কিংবা 'হজ ও উমরার', এবং সে এ কথাও বলবে না: 'এটি আমার জন্য সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে কবুল করে নিন', কিংবা বলবে না: 'আমি উভয়টির নিয়ত করেছি', কিংবা বলবে না: 'আমি আল্লাহর জন্য ইহরাম বেঁধেছি', আর অন্য কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রেও এমনটি বলবে না...)। এবং তিনি বলেছেন: (মানুষ তাকবিরের আগে, তালবিয়ার আগে এবং পবিত্রতা অর্জনসহ অন্যান্য সকল ইবাদতের ক্ষেত্রে নিয়ত মুখে উচ্চারণের যে নতুন প্রথা উদ্ভাবন করেছে; তা হলো বিদআত (بدعة) যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিধিবদ্ধ করেননি)। দ্রষ্টব্য: মাজমুউল ফাতাওয়া ২২/২২২ - ২৪২।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
والصوابُ المقطوعُ به: أنَّهُ لا يُسْتَحَبُّ شيءٌ من ذلكَ؛ فإنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم لم يَشْرَعْ للمسلمينَ (1) شيئًا مِن ذلكَ، ولَا كانَ يتكلَّمُ قبلَ التكبيرِ بشيءٍ (2) مِنْ ألفاظِ النيةِ، لا هو ولا أصحابُه، بلْ لَمَّا أَمَرَ ضُبَاعَةَ بنتَ الزُّبَيْرِ بالاشتراطِ قالتْ: فكيفَ أقولُ؟ قالَ: قُولِي: «لَبَّيْكَ اللهُمَّ لَبَّيْكَ، مَحِلِّي مِنَ الأرضِ حيثُ تَحْبِسُنِي»، رواهُ أهلُ السُّنَنِ (3)، وصحَّحَهُ الترمذيُّ، ولفظُ النسائِيِّ: إنِّي أريدُ الحجَّ، فكيفَ أقولُ؟ قال: «قُولِي: لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، مَحِلِّي مِنَ الْأَرْضِ حَيْثُ تَحْبِسُنِي، فَإِنَّ لَكِ (4) عَلَى رَبِّكِ مَا اسْتَثْنَيْتِ»، وحديثُ (5) الاشتراطِ في الصحيحَيْنِ (6).

لكنَّ المقصودَ بهذَا اللفظِ: أنَّهُ أَمَرَهَا بالاشتراطِ في التلبيةِ (7)، ولم (8) يَأْمُرْهَا أنْ تقولَ قبلَ التلبيةِ شيئًا، لَا اشتراطًا ولا غيرَهُ،

--------------------------------------------

(1) قوله: (للمسلمين) سقط من (د).

(2) قوله: (بشيء) سقط من (ب).

(3) أخرجه أبو داود (1776)، والترمذي (941)، والنسائي (2766)، وابن ماجه (3936)، وصححه الألباني.

(4) في (أ): (ذلك).

(5) في (ب): (حديث).

(6) البخاري (5089)، ومسلم (1207) من حديث عائشة رضي الله عنها.

(7) في (د): (بالتلبية).

(8) في (أ) و (ب): (لم).
এবং অকাট্যভাবে সঠিক অভিমত হলো এই যে, এর কোনো কিছুই পছন্দনীয় (مستحب) নয়; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিমদের জন্য (১) এমন কিছুর বিধান দেননি এবং তিনি তাকবিরের আগে নিয়তের কোনো শব্দ উচ্চারণ করার মাধ্যমে (২) কোনো কথা বলতেন না, তিনি নিজেও নন এবং তাঁর সাহাবীগণও নন। বরং তিনি যখন দুবা’আ বিনতে যুবাইরকে শর্তারোপ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন তিনি (দুবা’আ) বলেছিলেন: আমি কী বলব? তিনি বললেন: «তুমি বলো: আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির; জমিনের যে স্থানে আপনি আমাকে আটকে দেবেন সেখানেই আমার ইহরাম সমাপ্ত হবে», এটি সুনান গ্রন্থকারগণ (৩) বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন। নাসাঈ-এর শব্দগুলো হলো: আমি হজের ইচ্ছা পোষণ করছি, আমি কী বলব? তিনি বললেন: «তুমি বলো: আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির; জমিনের যে স্থানে আপনি আমাকে আটকে দেবেন সেখানেই আমার ইহরাম সমাপ্ত হবে, নিশ্চয়ই তোমার (৪) রবের নিকট তোমার জন্য সেটিই সাব্যস্ত হবে যা তুমি শর্ত করেছ», আর শর্তারোপ সংক্রান্ত হাদিসটি (৫) সহিহাইন (৬) গ্রন্থে রয়েছে।

তবে এই শব্দের মাধ্যমে উদ্দেশ্য হলো: তিনি তাঁকে তালবিয়াহর (৭) মধ্যে শর্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তালবিয়াহর আগে কোনো কিছু বলার নির্দেশ দেননি (৮), শর্ত হিসেবেও নয় বা অন্য কিছু হিসেবেও নয়।

--------------------------------------------

(১) তাঁর উক্তি: (মুসলিমদের জন্য) এটি ‘দাল’ পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(২) তাঁর উক্তি: (কোনো কিছুর মাধ্যমে) এটি ‘বা’ পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৩) এটি আবু দাউদ (১৭৭৬), তিরমিজি (৯৪১), নাসাঈ (২৭৬৬) এবং ইবনে মাজাহ (৩৯৩৬) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।

(৪) ‘আলিফ’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (সেই বিষয়টি)।

(৫) ‘বা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (হাদিস)।

(৬) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস থেকে বুখারি (৫০৮৯) ও মুসলিম (১২০৭)।

(৭) ‘দাল’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (তালবিয়াহ পাঠের মাধ্যমে)।

(৮) ‘আলিফ’ ও ‘বা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (নির্দেশ দেননি)।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وكانَ يقولُ في تلبيتِهِ: «لَبَّيْكَ عُمْرَةً وَحَجًّا (1)» (2)، وكانَ يقولُ للواحدِ منْ أصحابِهِ: «بِمَ أَهْلَلْتَ؟ » (3).

وقالَ في المواقيتِ: «مُهَلُّ أهلِ المدينةِ مِنَ ذي (4) الْحُلَيْفَةِ، وَمُهَلُّ أَهْلِ الشَّامِ الْجُحْفَةُ، وَمُهَلُّ أَهْلِ الْيَمَنِ يَلَمْلَمُ، وَمُهَلُّ أَهْلِ نَجْدٍ قَرْنُ الْمَنَازِلِ، وَمُهَلُّ أَهْلِ الْعِرَاقِ ذَاتُ عِرْقٍ، وَمَنْ كَانَ دُونَهُنَّ فَمُهَلُّهُ مِنْ أَهْلِهِ» (5)، والإهلالُ هو التلبيةُ.

فهذَا هُوَ الذِّي شَرَعَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم للمسلمِينَ (6) التكلُّمَ بِهِ في ابتداءِ الحجِّ والعمرةِ، وإنْ كانَ مشروعًا بعدَ ذلِكَ، كما تُشْرَعُ تكبيرةُ الإِحرامِ (7)، ويُشْرَعُ التكبيرُ بعد ذلكَ عندَ تغيُّرِ الأحوالِ.

ولو أَحْرَمَ إحرامًا مطلقًا جازَ، فلو أَحْرَمَ بالقصدِ للحجِّ (8) مِنْ

--------------------------------------------

(1) في (أ): (وحجة).

(2) أخرجه مسلم (1232) من حديث أنس رضي الله عنه.

(3) أخرجه البخاري (4352)، ومسلم (1216) من حديث جابر رضي الله عنه.

(4) في (ج) و (د): (ذو) بدل: (من ذي).

(5) أخرجه مسلم (1183) من حديث جابر رضي الله عنه ما عدا قوله: (وَمَنْ كَانَ دُونَهُنَّ فَمُهَلُّهُ مِنْ أَهْلِهِ) فأخرجها البخاري (1526)، ومسلم (1181) من حديث ابن عباس رضي الله عنهما.

(6) قوله: (للمسلمين) سقط من (ج) و (د).

(7) في (أ): الافتتاح. وفي (ب): (الاستفتاح).

(8) قوله: (للحج) سقطت من (أ) و (ب).
তিনি তাঁর তালবিয়াতে বলতেন: «আমি উমরা ও হজের জন্য উপস্থিত (لَبَّيْكَ عُمْرَةً وَحَجًّا) (১)» (২), এবং তিনি তাঁর সাথীদের কাউকে উদ্দেশ্য করে বলতেন: «তুমি কিসের ইহরামের উচ্চধ্বনি (أَهْلَلْتَ) দিয়েছ?» (৩)।

আর তিনি মিকাতসমূহ (المواقيت) সম্পর্কে বলেছেন: «মদিনাবাসীদের ইহরামের স্থান (مُهَلُّ) হলো যুল হুলাইফা থেকে, সিরিয়াবাসীদের ইহরামের স্থান (مُهَلُّ) হলো জুহফা, ইয়ামেনবাসীদের ইহরামের স্থান (مُهَلُّ) হলো ইয়ালামলাম, নজদবাসীদের ইহরামের স্থান (مُهَلُّ) হলো কারনুল মানাযিল এবং ইরাকবাসীদের ইহরামের স্থান (مُهَلُّ) হলো যাতু ইর্ক। আর যারা এসকল মিকাতের ভেতরে অবস্থান করে, তাদের ইহরামের স্থান (مُهَلُّ) হলো তাদের নিজ নিজ আবাসস্থল» (৫)। আর 'ইহলাল' (الإهلال) বলতে মূলত তালবিয়া পাঠ করাকেই বোঝায়।

সুতরাং এটিই হলো সেই পদ্ধতি যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের (৬) জন্য হজ ও উমরার শুরুতে উচ্চারণ করার বিধান (شَرَعَ) দিয়েছেন, যদিও এটি পরবর্তীতেও বৈধ (مشروع), যেমনটি তাকবিরে তাহরিমা (تكبيرة الإحرام) (৭) পাঠ করার বিধান রয়েছে, এবং পরবর্তীতে অবস্থার পরিবর্তনের সময়ও তাকবির পাঠের বিধান (يُشْرَعُ) রয়েছে।

আর যদি কেউ সাধারণভাবে ইহরাম (إحرام) গ্রহণ করে তবে তা বৈধ হবে। সুতরাং কেউ যদি হজের (৮) সংকল্পে ইহরাম (أَحْرَمَ) গ্রহণ করে...

--------------------------------------------

(১) 'আলিফ' পান্ডুলিপিতে রয়েছে: (ওয়া হাজ্জাতান)।

(২) এটি মুসলিম (১২৩২) আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি বুখারি (৪৩৫২) এবং মুসলিম (১২১৬) জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৪) 'জিম' এবং 'দাল' পান্ডুলিপিতে 'মিন যী' এর পরিবর্তে 'যূ' রয়েছে।

(৫) এটি মুসলিম (১১৮৩) জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে "আর যারা এসকল মিকাতের ভেতরে অবস্থান করে, তাদের ইহরামের স্থান হলো তাদের নিজ নিজ আবাসস্থল" অংশটুকু বুখারি (১৫২৬) এবং মুসলিম (১১৮১) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৬) 'মুসলমানদের জন্য' অংশটি 'জিম' এবং 'দাল' পান্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৭) 'আলিফ' পান্ডুলিপিতে রয়েছে: 'আল-ইফতিতাহ' এবং 'বা' পান্ডুলিপিতে রয়েছে: 'আল-ইস্তিফতাহ'।

(৮) 'হজের জন্য' কথাটি 'আলিফ' এবং 'বা' পান্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।