(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: -)
مناسك الحج لابن تيمية ط ركائز القسم: الفقه العام
الكتاب: مناسك الحج
المؤلف: شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية الحراني (ت 728 هـ)
المحقق: د. أنس بن عادل اليتامى
الناشر: دار ركائز للنشر والتوزيع، الكويت
الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2018 م
عدد الصفحات: 184
أهداه للشاملة: ركائز للنشر والتوزيع؛ جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 25 جُمادَى الآخرة 1440
ইবনে তাইমিয়া কর্তৃক মানাসিকুল হাজ্জ, রাকায়েজ সংস্করণ বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: মানাসিকুল হাজ্জ (হজ্জের নিয়মাবলি)
লেখক: শাইখুল ইসলাম আহমদ বিন আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)
সম্পাদক: ড. আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামা
প্রকাশক: দার রাকায়েজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৪
শামেলার জন্য উপহার: দার রাকায়েজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন; আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৫ জুমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরি
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأنَّ محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد:
فإن الفقه في الدين من أجل ما يتقرب به المسلم إلى ربه تبارك وتعالى، وهو الوسيلة العظمى لتحقيق عبودية الرب جل وعلا، لا سيما ما يتعلق بالأركان الخمسة للإسلام، ودعائمه العظام.
ولما كانت أحكام الحج والعمرة من أدق الأحكام، كما قال شيخ الإسلام رحمه الله: (وعلم المناسك أدق ما في العبادات) (1)، أفرد لها أهل العلم التصانيف في بيان مسائلها وفروعها، وبيان أحكامها ودلائلها، فتنوعت التصانيف فيه ما بين مختصر ومطول، فلم يخلُ مذهب من المذاهب الأربعة إلا ونُظمت فيه أحكام المناسك في مؤلف مستقل.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন করা একজন মুসলিমের জন্য তার বরকতময় ও সুমহান প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়। আর এটিই হচ্ছে মহান রবের দাসত্ব বা বন্দেগি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের সর্বোত্তম মাধ্যম, বিশেষ করে ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ এবং এর সুমহান বুনিয়াদগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহে।
যেহেতু হজ ও উমরার বিধানাবলি অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ইবাদতসমূহের মধ্যে মানাসিক বা হজের কার্যাবলি সংক্রান্ত জ্ঞানই সবচেয়ে সূক্ষ্ম" (১); তাই আলিমগণ এর মাসআলা-মাসায়েল, শাখা-প্রশাখা এবং এর বিধান ও দলীলসমূহ বর্ণনায় স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। এই বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত নানা ধরনের কিতাব রচিত হয়েছে। এমনকি চার মাযহাবের মধ্যে এমন কোনো মাযহাব নেই যাতে মানাসিকের বিধানাবলি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলিত হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وممن كتب فيه وأفاد، وهو أهل لهذه المسالك والجواد، فارس المنقول والمعقول، الإمام القدوة العلامة شيخ الإسلام أحمد بن عبدالحليم ابن تيمية الحراني رحمه الله تعالى (ت 728 هـ)، فكتب منسكاً في أوائل عمره، وقلد فيه في الأحكام من كان قبله، قال رحمه الله في اقتضاء الصراط المستقيم (2/ 339): (وقد ذكر طائفة من المصنفين في المناسك استحباب زيارة مساجد مكة وما حولها، وكنت قد كتبتها في منسك كتبته قبل أن أحج في أول عمري، لبعض الشيوخ، جمعته من كلام العلماء، ثم تبين لنا أن هذا كله من البدع المحدثة التي لا أصل لها في الشريعة) (1).
ثم كتب منسكاً آخر في أواخر عمره (2) -وهو الذي بين أيدينا-، بعد أن اكتملت فيه آلة الاجتهاد، وبلغ من العلم مبلغاً كبيراً، فكتب فيه ما تبين له من سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، مختصراً مبيناً، ولم يلتزم فيه بمذهبٍ معين، بل ذكر فيه ما ترجح عنده من المسائل، وربما ذكر الخلاف في بعضها وأطلق، حتى تم هذا المنسك بأجمل حلة، وأبهى صورة.
وقد طُبع الكتاب قديماً بالمطبعة العامرة بمصر عام 1323 هـ،
--------------------------------------------
যাঁরা এ বিষয়ে লিখেছেন এবং উপকৃত করেছেন, এবং যিনি এই পথের যোগ্য ও পারদর্শী, বর্ণিত (منقول) ও যুক্তিনির্ভর (معقول) শাস্ত্রের অশ্বারোহী, ইমাম, আদর্শ পুরুষ, আল্লামা, শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (রহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু ৭২৮ হি.), তিনি তাঁর জীবনের শুরুর দিকে হজের নিয়মাবলি সংক্রান্ত একটি গ্রন্থ (মানাসিক) লিখেছিলেন এবং তাতে বিধানের ক্ষেত্রে তাঁর পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করেছিলেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) 'ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম' (২/৩৩৯) গ্রন্থে বলেছেন: "হজের নিয়মাবলি লেখকদের একটি দল মক্কার মসজিদসমূহ এবং এর আশপাশের স্থানসমূহ যিয়ারত করা মুস্তাহাব (مستحب) হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। আমি নিজেও হজের আগে আমার জীবনের শুরুর দিকে জনৈক শাইখের জন্য লেখা একটি মানাসিকে তা লিখেছিলাম, যা আমি আলেমদের বক্তব্য থেকে সংগ্রহ করেছিলাম। পরবর্তীতে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, এগুলোর সবই নব-আবিষ্কৃত বিদআত (بدعة محدثة), শরীয়তে যার কোনো ভিত্তি (أصل) নেই।" (১)।
অতঃপর তিনি তাঁর জীবনের শেষ দিকে আরেকটি মানাসিক লিখেন (২) - যা বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে - যখন তাঁর মধ্যে ইজতিহাদ (اجتهاد) করার যোগ্যতা পূর্ণতা পেয়েছিল এবং তিনি ইলমের উচ্চ শিখরে পৌঁছেছিলেন। এতে তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ থেকে যা তাঁর নিকট স্পষ্ট হয়েছে তা সংক্ষেপে ও স্পষ্টভাবে লিখেছিলেন। তিনি এতে কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের অনুসারী হননি, বরং মাসআলাগুলোর মধ্যে যা তাঁর নিকট অগ্রগণ্য (راجح) মনে হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন। কখনো কোনো বিষয়ে মতভেদ (خلاف) উল্লেখ করে তা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই রেখে দিয়েছেন। পরিশেষে এই মানাসিকটি অত্যন্ত সুন্দর ও চমৎকার অবয়বে সম্পন্ন হয়েছে।
বইটি প্রাচীনকালে মিসরের আল-মাতবাআহ আল-আমীরাহ থেকে ১৩২৩ হিজরি সনে মুদ্রিত হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ويسر لي المولى جل وعلا الوقوف على أربع نسخٍ خطية، فاستعنت بالله تعالى بمقابلتها وتحقيقها، وإخراجها بهذه الصورة.
توثيق اسم الكتاب:يظهر والله أعلم أن شيخ الإسلام رحمه الله لم يسم هذا المنسك، وإنما قال في مقدمته: (فقد تكرر السؤال من كثير من المسلمين أن أكتب في بيان مناسك الحج)، ولكن ذكرت تسميته في نسختين من النسخ الخطية -وهي (أ) و (د) - بـ (مناسك الحج).
منهج التحقيق:1 - اعتمدت في تحقيق الكتاب على أربع نسخة خطية يأتي وصفها.
2 - لم أعتمد نسخة من النسخ على أنها هي الأصل؛ إذ إنها جميعاً متأخرة عن زمن المؤلف، وإنما قمت بالتلفيق بينها، فما كان أقرب للصواب أثبته.
3 - أثبت جميع الفروق بين النسخ المعتمدة، عدا ما يتعلق بصيغ الترضي والترحم والصلاة والسلام، وكذلك ما يتعلق بالآيات، فتارة تذكر الآية كاملة أو يذكر جزء منها، فلم أشر إلى ذلك.
4 - قمت بتوثيق الآيات القرآنية، وتخريج الأحاديث والآثار
মহান পালনকর্তা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা আমার জন্য চারটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া সহজ করে দিয়েছেন। আমি মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে সেগুলোর পরস্পর তুলনা ও সম্পাদনা (تحقيق) সম্পন্ন করেছি এবং এই রূপে তা উপস্থাপন করেছি।
গ্রন্থের নামের প্রামাণিকরণ (توثيق):আল্লাহই সর্বজ্ঞ, এটি প্রতীয়মান হয় যে শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) হজ পালনের এই নিয়মাবলির কোনো সুনির্দিষ্ট নাম দেননি। বরং তিনি তাঁর ভূমিকার শুরুতে বলেছেন: (অনেক মুসলিমের পক্ষ থেকে বারবার এই আবেদন এসেছে যে, আমি যেন হজের নিয়মাবলির বর্ণনায় কিছু লিখি), তবে পাণ্ডুলিপিগুলোর দু'টি কপিতে—অর্থাৎ (আলিফ) ও (দাল)—বইটির নাম "মনাসিকুল হজ" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পাদনার (تحقيق) পদ্ধতি:1 - গ্রন্থটির সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে আমি চারটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি যেগুলোর বিবরণ সামনে আসছে।
2 - আমি কোনো পাণ্ডুলিপিকেই মূল হিসেবে গ্রহণ করিনি; কেননা এগুলোর সবগুলোই লেখকের সময়ের অনেক পরের। বরং আমি এগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছি; ফলে যা অধিকতর সঠিক বলে মনে হয়েছে তা-ই সাব্যস্ত করেছি।
3 - আমি নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার সকল পার্থক্য উল্লেখ করেছি। তবে সাহাবীগণের জন্য সন্তুষ্টির দুআ, রহমতের দুআ এবং দুরুদ ও সালামের শব্দাবলির পার্থক্যগুলো এবং আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ, যেমন কখনো আয়াত পূর্ণ উল্লেখ করা হয়েছে আবার কখনো আংশিক—আমি এসবের প্রতি ইঙ্গিত করিনি।
4 - আমি কুরআনের আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি এবং হাদিস ও বর্ণনাসমূহের (آثار) উৎস নির্দেশ (تخريج) করেছি।
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ৮)
تخريجاً مختصراً يتناسب مع المختصر.
5 - متى أطلق المصنف الخلاف، فقال: (فيه نزاع)، أو (على أصح القولين) ونحو ذلك، بينت الأقوال في الحاشية باختصار، مع العزو للمصادر.
6 - أشرت إلى المسائل التي خالف فيها المصنف المشهور من مذهب الحنابلة المتأخرين.
7 - شرحت الكلمات التي تحتاج إلى شرح من مصادرها المعتمدة.
وصف النسخ المعتمدةاعتمدت في تحقيق الكتاب على أربع نسخ خطية:
النسخة الأولى: نسخة الشيخ عبدالله بن عبدالرحمن أبا بطين.
عدد أوراقها (10) ورقات، عدد أسطرها (28)، من محفوظات دارة الملك عبدالعزيز برقم (آل عبداللطيف/15)، مصححة، وناسخها هو الشيخ عبدالله بن عبدالرحمن أبا بطين رحمه الله، وتاريخ نسخها 1214 هـ.
ورمزت لها بـ (أ).
সংক্ষিপ্ত তাখরিজ (تخريج) যা এই সংক্ষেপিত গ্রন্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৫ - লেখক যখনই কোনো মতভেদের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যেমন তিনি বলেছেন: (এ বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে), অথবা (দুইটি মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) মত অনুযায়ী) ইত্যাদি; আমি পাদটিকায় সংক্ষেপে সেই মতগুলো বর্ণনা করেছি এবং মূল উৎসের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি।
৬ - আমি সেই সকল মাসআলার প্রতি ইঙ্গিত করেছি যেখানে লেখক পরবর্তী যুগের হাম্বলি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতের বিরোধিতা করেছেন।
৭ - ব্যাখ্যার প্রয়োজন এমন শব্দগুলোকে আমি নির্ভরযোগ্য (معتمدة) উৎসসমূহ হতে ব্যাখ্যা করেছি।
ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণগ্রন্থটি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে আমি চারটি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির (نسخ خطية) ওপর নির্ভর করেছি:
প্রথম পাণ্ডুলিপি: শেখ আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবা বাতিন-এর অনুলিপি।
এর পত্র সংখ্যা ১০টি, প্রতিটি পৃষ্ঠায় ২৮টি লাইন রয়েছে। এটি দারাতে মালিক আব্দুল আজিজ-এর সংরক্ষিত সংগ্রহশালায় (আল আব্দুল লতিফ/১৫) নম্বরে সংরক্ষিত। এটি একটি সংশোধিত (مصححة) পাণ্ডুলিপি এবং এর অনুলিপিকার হলেন শেখ আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবা বাতিন (রাহিমাহুল্লাহ), অনুলিপি করার তারিখ ১২১৪ হিজরি।
আমি একে (أ) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ৯)
النسخة الثانية: إدارة المخطوطات في وزارة الأوقاف الكويتية.
عدد أوراقها (24) ورقة، وعدد أسطرها (20)، مصححة ومقابلة، ورقم حفظها (7/ 334)، وعليها بعض الحواشي، فيها سقط يسير من أولها، وعليها قيد تملك لإبراهيم بن صالح بن إبراهيم بن عيسى وغيره، نسخت عام 1275 هـ.
ورمزت لها بـ (ب).
النسخة الثالثة: جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية.
عدد أوراقها (45) ورقة، وعدد أسطرها (15)، مصورة من دشت روضة خيري بمصر، وناسخها محمد المكي بن عزوز، وتاريخ النسخ عام 1327 هـ. رقم حفظها (1679).
ورمزت لها بـ (ج).
النسخة الرابعة: جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية.
عدد أوراقها (38) ورقة، وعدد أسطرها (17)، رقم حفظها (4/ 8782)، وناسخها عبدالله بن محمد دليقان، وتاريخ النسخ عام 1322 هـ. وعليها تملك لمحمد السعيد ابن عبدان سنة 1335 هـ.
দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি: কুয়েতের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের পাণ্ডুলিপি বিভাগ.
এর পত্রসংখ্যা (২৪), পঙক্তি সংখ্যা (২০), এটি সংশোধিত এবং মূল পাঠের সাথে মিলিয়ে দেখা (مقابلة), এর সংরক্ষণ নম্বর (৭/ ৩৩৪)। এতে কিছু পার্শ্বটীকা রয়েছে এবং এর শুরুর দিকে সামান্য অংশ বাদ (سقط) পড়েছে। এতে ইব্রাহিম বিন সালেহ বিন ইব্রাহিম বিন ঈসা ও অন্যদের মালিকানা স্বত্বের বিবরণ রয়েছে। এটি ১২৭৫ হিজরি সনে অনুলিপি করা হয়েছে।
আমি এটিকে 'বা' (ب) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
তৃতীয় পাণ্ডুলিপি: ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়.
এর পত্রসংখ্যা (৪৫), পঙক্তি সংখ্যা (১৫), এটি মিশরের 'দাশত রওজা খায়রি' থেকে সংগৃহীত আলোকচিত্র (مصورة), এর অনুলিপিকারক মুহাম্মদ আল-মাক্কি বিন আজ্জুজ এবং অনুলিপি করার তারিখ ১৩২৭ হিজরি। এর সংরক্ষণ নম্বর (১৬৭৯)।
আমি এটিকে 'জিম' (ج) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
চতুর্থ পাণ্ডুলিপি: ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়.
এর পত্রসংখ্যা (৩৮), পঙক্তি সংখ্যা (১৭), এর সংরক্ষণ নম্বর (৪/ ৮৭৮২)। এর অনুলিপিকারক আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ দালইকান এবং অনুলিপি করার তারিখ ১৩২২ হিজরি। এতে ১৩৩৫ হিজরিতে মুহাম্মদ আল-সাঈদ ইবন আবদান-এর মালিকানা স্বত্বের বিবরণ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ورمزت لها بـ (د).
والله المسؤول أَن يجعل هذا العمل لوجهه خالصاً، وأن ينفع به مؤلفه ومحققه والناظر فيه، في الدنيا والآخرة، إنه سميع الدعاء، وأَهل الرجاء، وهو حسبنا ونعم الوكيل.
والحمد لله رب العالمين.
وكتبه أنس بن عادل اليتامى
غفر الله لوالديه ولمشايخه وللمسلمين
এবং আমি একে (د) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে এর লেখক, গবেষক (محقق) ও পাঠককে দুনিয়া ও আখিরাতে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও আশার আশ্রয়স্থল, আর তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন: আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামা
আল্লাহ তাঁর পিতা-মাতা, শিক্ষকগণ এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১১)
و
نماذج النسخ الخطيةالنسخة (أ)
النسخة (ب)
এবং
পাণ্ডুলিপির নমুনাগুলোসংস্করণ (أ)
সংস্করণ (ب)
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১২)
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مناسك الحج
لشيخ الإسلام
أحمد بن عبدالحليم ابن تيمية الحراني رحمه الله
(ت 728 هـ)
قوبل على أربع نسخ خطية
ومعه ملحق باختيارات شيخ الإسلام في المناسك مما لم ترد في المنسك
تحقيق:
د. أنس بن عادل اليتامى
হজ্জের কার্যাবলি
শায়খুল ইসলাম
আহমাদ বিন আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)
(মৃত ৭২৮ হি.)
চারটি পাণ্ডুলিপির (نسخ خطية) সাথে মিলিয়ে সম্পাদিত
এবং এর সাথে হজ্জের কার্যাবলি (مناسك) সংক্রান্ত শায়খুল ইসলামের এমন কিছু চয়ন (اختيارات) পরিশিষ্ট হিসেবে রয়েছে যা মূল গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়নি
গবেষণা ও সম্পাদনা (تحقيق):
ড. আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামী
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم (1)
[وبه نستعين، وصلى الله على محمد وآله وصحبه أجمعين، قال شيخ الإسلام] (2):
الحمدُ للهِ، نحمدُه، ونستعينُه، ونستهديه (3)، ونستغفرُه، ونعوذُ باللهِ منْ شرورِ أنفسِنا، ومِنْ سيِّئاتِ أعمالِنا، مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فلَا مُضِلَّ لهُ، ومَنْ يُضْلِلْ فلَا هادِيَ لهُ، وأشهدُ أنْ لَا إلهَ إلَّا اللهُ وحدَه لا شريكَ لهُ، وأشهدُ أنَّ محمدًا عبدُه ورسولُه، صلَّى اللَّهُ عليهِ، وعلَى آلِه وصحبِه (4)، وسلَّمَ تسليمًا كثيرًا.
أمَّا بعدُ:
فقدْ تكرَّرَ السؤالُ مِنْ كثيرٍ منَ المسلمينَ أنْ أَكْتُبَ في بيانِ
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (১)
[আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং আল্লাহ মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। শায়খুল ইসলাম বলেন] (২):
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে হেদায়েত (نستهديه) যাঞ্চা করি (৩) এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীদের (৪) ওপর অজস্র ধারায় রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
অনেক মুসলিমের পক্ষ থেকে বারবার এই আবেদন এসেছে যে, আমি যেন স্পষ্টীকরণে (بيان) লিখি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مناسكِ الحجِّ ما يحتاجُ إليهُ غالِبُ الْحُجَّاجِ في غالِبِ الأوقاتِ على سبيل الاختصار (1)؛ فإنِّي كنتُ (2) كتبتُ مَنْسَكًا في أوائلِ عُمُرِي، وذكرتُ (3) فيه أدعيةً كثيرةً، وقلَّدتُ في الأحكامِ مَنِ اتَّبَعْتُهُ قبلي مِنَ العلماءِ، وكتبتُ في هذا ما تبيَّنَ لي مِنْ سُنَّةِ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مختصَرًا مبيَّنًا، ولَا حولَ ولَا قوَّةَ إلَّا باللهِ. (4)
--------------------------------------------
হজ্জের বিধিবিধান (مناسك) সম্পর্কিত যা অধিকাংশ হাজীদের অধিকাংশ সময়ে প্রয়োজন হয়, তা সংক্ষিপ্তাকারে (اختصار) (১) বর্ণিত; কেননা আমি (২) আমার জীবনের প্রারম্ভে হজ্জের বিধিবিধান বিষয়ক একটি গ্রন্থ লিখেছিলাম এবং (৩) তাতে অনেক দোয়া উল্লেখ করেছিলাম। বিধিবিধানের ক্ষেত্রে আমি আমার পূর্ববর্তী যে সকল আলেমদের অনুসরণ করেছিলাম তাদেরই অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করেছিলাম। আর আমি এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) থেকে যা আমার নিকট সুস্পষ্ট হয়েছে তা সংক্ষিপ্ত ও প্রাঞ্জলভাবে লিখেছি। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই। (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فصلٌ
أولُ (1) ما يفعلُه قاصِدُ الحجِّ أو العمرةِ (2) إذَا أرادَ الدخولَ فيهما: [أنْ يُحْرِمَ بذلكَ، وقبلَ ذلكَ فهو قاصِدٌ الحجَّ أوِ العمرةَ ولم يدخلْ فيهما] (3)، بمنزلةِ الذي يخرجُ إلى صلاةِ الجمعةِ؛ فله أجرُ السَّعْيِ، ولا يدخلُ في الصلاةِ حتى يُحْرِمَ بها، وعليه إذا وصلَ إلى (4) الميقاتِ أنْ يُحْرِمَ.
والمواقيتُ خمسةٌ (5): ذُو الْحُلَيْفَةِ (6)،
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ
হজ বা ওমরার সংকল্পকারী (১) প্রথম যা করবেন যখন তিনি তাতে প্রবেশের ইচ্ছা পোষণ করেন (২): [তা হলো এর জন্য ইহরাম বাঁধা; আর এর আগে তিনি কেবল হজ বা ওমরার সংকল্পকারী হিসেবে গণ্য, কিন্তু তখনও তিনি তাতে প্রবেশ করেননি] (৩), এটি সেই ব্যক্তির ন্যায় যে জুমার নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয়; সে গমনের সওয়াব পায়, তবে সে নামাজে প্রবেশ করে না যতক্ষণ না সে এর জন্য ইহরাম (তাকবীরে তাহরিমা) বাঁধছে। আর যখন সে মিকাতে পৌঁছাবে, তখন তার ওপর ইহরাম বাঁধা আবশ্যক (৪)।
মিকাতসমূহ পাঁচটি (৫): জুল হুলাইফা (৬),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والْجُحْفَةُ (1)، وقَرْنُ المنازلِ (2)، ويَلَمْلَمُ (3)،
--------------------------------------------
এবং আল-জুহফাহ (১), এবং কার্ণুল মানাজিল (২), এবং ইয়ালামলাম (৩),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وذاتُ عِرْقٍ (1)، ولَمَّا وَقَّتَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم المواقيتَ قالَ: «هُنَّ لِأَهْلِهِنَّ (2)، وَلِمَنْ مَرَّ عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرِ أَهْلِهِنَّ مِمَّنْ (3) يُرِيدُ الْحَجَّ أو الْعُمْرَةَ (4)، وَمَنْ كَانَ مَنْزِلُهُ دُونَهُنَّ فَمُهَلُّهُ مِنْ أَهْلِهِ، حَتَّى أَهْلُ مَكَّةَ يُهِلُّونَ مِنْ مَكَّةَ» (5).
فذُو الحُلَيْفَةِ: هي أبعدُ المواقيتِ، بينها وبين مكةَ عَشْرُ (6) مراحِلَ (7)، أو أقلُّ، أو أكثرُ، بحسبِ اختلافِ الطُّرُقِ؛ فإنَّ منها إلى مكةَ عدةَ طُرُقٍ، وتسمَّى (8) وادِيَ العَقِيقِ، ومسجدُها يسمَّى مسجدَ الشجرةِ.
--------------------------------------------
এবং যাতু ইরাক (১); আর যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মীকাতসমূহ (المواقيت) নির্ধারিত করলেন, তিনি বললেন: «এই স্থানগুলো ঐ অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য (২), এবং যারা ঐ পথ দিয়ে অতিক্রম করবে অথচ ঐ অঞ্চলের অধিবাসী নয় তাদের মধ্য থেকে যারা (৩) হজ (الحج) অথবা উমরাহ (العمرة) (৪) করার ইচ্ছা পোষণ করে তাদের জন্য। আর যে ব্যক্তি এই সীমানার ভেতরে অবস্থান করে, তার ইহরামের প্রারম্ভিক স্থান (فمهله) তার নিজের এলাকা থেকেই, এমনকি মক্কাবাসীরা মক্কা থেকেই ইহরাম বাঁধবে» (৫)।
যুল-হুলাইফা: এটি মক্কা থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী মীকাত (المواقيت), এর এবং মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্ব দশ (৬) মনজিল (مراحل) (৭), অথবা রাস্তার ভিন্নতা অনুযায়ী কম বা বেশি; কেননা সেখান থেকে মক্কায় যাওয়ার একাধিক পথ রয়েছে। একে ওয়াদিয়ে আকীক বলা হয় (৮) এবং এর মসজিদকে মাসজিদুশ শাজারাহ বলা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وفيها بئرٌ تسمِّيها جُهَّالُ (1) العامةِ: «بئرَ عَلِيٍّ»؛ لظنِّهم أنَّ عَلِيًّا قاتَلَ الجنَّ بها، وهو كَذِبٌ؛ فإنَّ الجنَّ لم يقاتِلْهم أحدٌ مِنَ الصحابةِ، وعَلِيٌّ أرفعُ قَدْرًا مِنْ (2) أنْ يَثْبُتَ الجنُّ لقتالِه.
ولا فضيلةَ لهذا البئرِ ولا مَذَمَّةَ، ولَا يُسْتَحَبُّ أنْ يَرْمِيَ بها حجرًا ولا غيرَهُ.
وأمَّا الْجُحْفَةُ: فبَيْنَها وبين مكةَ نحوُ ثلاثِ مراحلَ، وهي قريةٌ كانتْ قديمةً معمورةً، وكانتْ تسمَّى: مَهْيَعَةَ، وهِيَ اليومَ خرابٌ، ولهذا صارَ (3) الناسُ يُحْرِمُونَ قَبْلَها؛ مِنَ المكانِ الذي يسمَّى: رَابِغًا.
وهذا ميقاتٌ لِمَنْ حجَّ مِنْ ناحيةِ الْمَغْرِبِ؛ كأهلِ الشامِ، ومصرَ، وسائرِ المغربِ.
لكنْ أهلُ الشامِ (4) إذا اجتازُوا بالمدينةِ النبويةِ - كما يفعلونَهُ في هذه الأوقاتِ - أَحْرَمُوا مِنْ ميقاتِ أهلِ (5) المدينةِ؛ فإنَّ هذا هو المستحبُّ لهم بالاتفاقِ، فإنْ أَخَّرُوا (6) الإحرامَ إلى الْجُحْفَةِ؛
--------------------------------------------
সেখানে একটি কূপ রয়েছে যাকে সাধারণ মূর্খরা (১) ‘বীরে আলী’ (আলীর কূপ) বলে অভিহিত করে; তাদের ধারণা হলো আলী (রা.) সেখানে জিনের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন, অথচ এটি একটি মিথ্যা (كذب); কারণ সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে কেউ জিনের সাথে যুদ্ধ করেননি, আর আলী (রা.)-এর মর্যাদা এতোই ঊর্ধ্বে যে তাঁর সাথে যুদ্ধ করার জন্য জিনের স্থির থাকার প্রশ্নই আসে না।
এই কূপের কোনো বিশেষ ফজিলত নেই এবং কোনো নিন্দাও নেই, আর সেখানে পাথর বা অন্য কিছু নিক্ষেপ করা মুস্তাহাব নয়।
আর জুহফা প্রসঙ্গে: এটি এবং মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় তিন মনজিল। এটি একটি প্রাচীন ও জনাকীর্ণ জনপদ ছিল এবং একে ‘মাহইয়াহ’ বলা হতো। বর্তমানে এটি জনশূন্য ও পরিত্যক্ত এলাকা, যার ফলে মানুষ এখন এর পূর্বেই ‘রাবিগ’ নামক স্থান থেকে ইহরাম পরিধান করে।
এটি ওই সকল হাজীদের জন্য মিকাত যারা পশ্চিম দিক থেকে আসেন; যেমন সিরিয়া, মিসর এবং সমগ্র মাগরিব অঞ্চলের অধিবাসী।
তবে সিরিয়ার (৪) অধিবাসীরা যখন মদিনা মুনাওয়ারা হয়ে অতিক্রম করেন—যেমনটি তারা বর্তমানে করে থাকেন—তখন তারা মদিনাবাসীদের (৫) মিকাত থেকেই ইহরাম পরিধান করেন; কেননা সর্বসম্মতিক্রমে এটিই তাদের জন্য মুস্তাহাব। আর যদি তারা ইহরামকে (৬) জুহফা পর্যন্ত বিলম্বিত করেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ففيهِ نِزَاعٌ (1).
وأمَّا المواقيتُ الثلاثةُ (2): فبَيْنَ كلِّ واحدٍ منها وبينَ مكةَ نحوٌ (3) من (4) مرحلتَيْنِ.
وليسَ لأحدٍ أنْ يُجَاوِزَ الميقاتَ إذا أرادَ الحجَّ أوِ العمرةَ إلَّا بإحرامٍ (5).
وإنْ قصدَ مكةَ لتجارةٍ أوِ لزيارةٍ (6)؛ فينبغي له أنْ يُحْرِمَ، وفي الوجوبِ نزاعٌ (7).
--------------------------------------------
এ বিষয়ে মতভেদ (نزاع) রয়েছে (১)।
আর তিনটি মিকাতের (المواقيت) (২) ক্ষেত্রে: এগুলোর প্রত্যেকটি এবং মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় (৩) (৪) দুই মঞ্জিল (مرحلتين)।
হজ বা উমরাহ পালনের সংকল্প থাকলে ইহরাম (إحرام) (৫) ব্যতীত কারো জন্য মিকাত (الميقات) অতিক্রম করা বৈধ নয়।
আর যদি কেউ ব্যবসা বা পরিদর্শনের (৬) উদ্দেশ্যে মক্কায় যাওয়ার ইচ্ছা করে, তবে তার জন্য ইহরাম (يحرم) করা উচিত, তবে এর আবশ্যকতা (وجوب) নিয়ে মতভেদ (نزاع) রয়েছে (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ومَنْ وَافَى الميقاتَ في أَشْهُرِ الحجِّ فهو مُخَيَّرٌ بينَ ثلاثةِ أنواعٍ، وهي التي يقالُ لها: التمتُّعُ، والإفرادُ، والقِرَانُ:
- إنْ شاءَ أَحرم (1) بعمرةٍ، فإذا حَلَّ (2) منها أَهَلَّ بالحجِّ، وهذا الذي يَختَصُّ (3) باسمِ التمتُّعِ.
- وإنْ شاءَ أَحْرَمَ بهما جميعًا، أو أَحْرَمَ بالعمرةِ ثم أَدْخَلَ عليها الحجَّ قبلَ الطوافِ؛ وهو القِرَانُ، وهو داخِلٌ في اسمِ (4) التمتُّعِ في الكتابِ، والسُّنَّةِ، وكلامِ الصحابةِ رضي الله عنهم.
- وإنْ شاءَ أَحْرَمَ بالحجِّ مُفْرِدًا، وهو الإفرادُ.
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি হজের মাসসমূহে মিকাতে পৌঁছে, সে তিন ধরনের পদ্ধতির মধ্য থেকে যেকোনোটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার রাখে; আর সেগুলো হলো: তামাত্তু (التمتُّعُ), ইফরাদ (الإفرادُ) এবং কিরান (القِرَانُ):
- সে চাইলে উমরার ইহরাম (إحرام) বাঁধতে পারে, অতঃপর যখন তা থেকে হালাল (أحلَّ) হবে, তখন হজের জন্য ইহরামের সূচনা (أهلَّ) করবে; আর এটিই মূলত তামাত্তু (التمتُّعُ) নামে সুনির্দিষ্ট।
- আর সে চাইলে উভয়টির (হজ ও উমরা) জন্য একত্রে ইহরাম (إحرام) বাঁধতে পারে, অথবা উমরার ইহরাম বাঁধার পর তাওয়াফের পূর্বে তার সাথে হজকে অন্তর্ভুক্ত করে নিতে পারে; আর এটিই হলো কিরান (القِرَانُ), যা কিতাব, সুন্নাহ (السُّنَّةِ) এবং সাহাবী (الصحابة) রাদিয়াল্লাহু আনহুম-গণের পরিভাষায় তামাত্তু (التمتُّعُ) নামের অন্তর্ভুক্ত।
- আর সে চাইলে এককভাবে কেবল হজের ইহরাম (إحরাম) বাঁধতে পারে, আর তা হলো ইফরাদ (الإفرادُ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فصل في (1) الأفضلِ منْ ذلكَ
فالتحقيقُ في ذلك: أنَّهُ يتنوَّعُ باختلافِ حالِ الحاجِّ (2).
- فإنْ كانَ يسافِرُ سَفْرَةً للعمرةِ (3) وسَفْرَةً أخرى للحَجِّ (4) (5)، أو
--------------------------------------------
এর মধ্যে কোনটি সর্বোত্তম (১) সেই সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
এ বিষয়ের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ হলো: তা হজ্জ পালনকারীর অবস্থার ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে (২)।
- যদি তিনি ওমরার জন্য একবার সফর (৩) করেন এবং হজ্জের জন্য অন্য একবার সফর (৪) (৫) করেন, অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يسافِرُ إلى مكةَ قبلَ أَشْهُرِ الحجِّ ويعتمرُ ويُقِيمُ بها حتى يَحُجَّ، فهذا الإفرادُ له أفضلُ باتفاقِ الأئمةِ الأربعةِ (1).
و
الإحرامُ بالحجِّ قبلَ أَشْهُرِهِ (2) ليس بمَسْنُونٍ (3)، بل مكروهٌ، وإذا فعلَهُ فهلْ يصيرُ مُحْرِمًا بعمرةٍ أو بحَجٍّ؟ فيهِ نزاعٌ (4).
- وأمَّا إذا فَعَلَ ما يفعلُه غالبُ الناسِ؛ وهو أنْ يَجْمَعَ بينَ العمرةِ والحجِّ في سَفْرَةٍ واحدةٍ، ويَقْدَمَ مكةَ في أَشْهُرِ الحجِّ
--------------------------------------------
তিনি হজের মাসসমূহের আগে মক্কায় সফর করবেন এবং উমরাহ পালন করবেন এবং হজ সম্পন্ন না করা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। এমতাবস্থায় তার জন্য এই ইফরাদ (الإفراد) হজ পালন করাই চার ইমামের সর্বসম্মতিক্রমে উত্তম (১)।
এবং
হজের মাসসমূহের আগে হজের ইহরাম (الإحرام) বাঁধা (২) সুন্নাহসম্মত (مسنون) নয় (৩), বরং এটি মাকরুহ (مكروه)। আর যদি কেউ তা করে, তবে সে কি উমরাহ নাকি হজের ইহরামকারী (محرمًا) বলে গণ্য হবে? এ বিষয়ে মতপার্থক্য (نزاع) রয়েছে (৪)।
- আর পক্ষান্তরে যদি সে অধিকাংশ মানুষ যা করে তা-ই করে; আর তা হলো এক সফরেই উমরাহ ও হজকে একত্র করা এবং হজের মাসসমূহে মক্কায় আসা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
- وهنَّ: شوالٌ، وذُو القَعْدَةِ، وعَشْرٌ من ذِي الْحِجَّةِ-: فهذا إنْ ساقَ الهَدْيَ فالقِرَانُ أفضلُ له (1)، وإنْ لم يَسُقِ الهَدْيَ؛ فالتحلُّلُ مِنْ إحرامِه بعمرةٍ أفضلُ (2).
فإنَّهُ قد ثبتَ [بالنقولِ الْمُسْتَفِيضَةِ التي لم يختلفْ في صِحَّتِهَا أهلُ العلمِ] (3) بالحديثِ أنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا حجَّ حَجَّةَ الوداعِ هو وأصحابُه أَمَرَهُمْ جميعَهم أنْ يَحِلُّوا مِن إحرامِهم، ويجعلُوها عُمْرَةً، إلَّا مَنْ ساقَ الهَدْيَ فإنَّه أَمَرَهُ أنْ يَبْقَى على إحرامِه حتى يبلُغَ مَحِلَّهُ يومَ النَّحْرِ (4)، وكانَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم قدْ ساقَ الهَدْيَ هو وطائفةٌ من أصحابِه، وقَرَنَ هو بين العمرةِ والحجِّ، فقالَ: «لَبَّيْكَ عُمْرَةً وَحَجًّا» (5).
ولم يعتمِرْ بعدَ الحجِّ أحدٌ ممنْ كانَ معَ النبيِّ صلى الله عليه وسلم إلَّا عائشةَ
--------------------------------------------
আর সেগুলো হলো: শাওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজের (প্রথম) দশ দিন। এমতাবস্থায় যদি কেউ হাদয় (কুরবানির পশু) সাথে নিয়ে আসে, তবে তার জন্য কিরান হজ করা উত্তম (১)। আর যদি হাদয় সাথে না নিয়ে আসে, তবে ওমরাহ পালন করে ইহরাম থেকে হালাল হওয়া তার জন্য অধিকতর উত্তম (২)।
কেননা এটি সেই সকল সুপ্রসিদ্ধ (مستفيضة) বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত [যাদের বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণ কোনো মতপার্থক্য করেননি] (৩), যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ বিদায় হজ পালন করেন, তখন তিনি তাদের সকলকেই ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার এবং তাকে ওমরাহতে রূপান্তর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে যার সাথে হাদয় ছিল, তাকে তিনি কোরবানির দিন পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন (৪)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর একদল সাহাবী হাদয় সাথে এনেছিলেন এবং তিনি ওমরাহ ও হজকে একত্রে (কিরান) আদায় করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: «লাব্বায়েক ওমরাতান ওয়া হাজ্জান» (৫)।
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) ব্যতীত অন্য কেউ হজের পর ওমরাহ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وحدَها؛ لأنَّها كانتْ قدْ (1) حاضَتْ، فلم يُمْكِنْهَا الطوافُ؛ [لأنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم قالَ: «تَقْضِي الْحَائِضُ الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا إِلَّا الطَّوَافَ] (2) بِالْبَيْتِ» (3)، فَأَمَرَهَا (4) أنْ تُهِلَّ بالحجِّ وتَدَعَ أفعالَ العمرةِ؛ لأنَّها كانتْ مُتَمَتِّعَةً، ثُمَّ إنَّها طلبتْ مِنَ النبيِّ صلى الله عليه وسلم أنْ يُعْمِرَهَا، فأَرسلَها مع أَخِيهَا عبدِ الرحمنِ فاعتمرتْ مِنَ التَّنْعِيمِ (5).
والتنعيمُ هو أقربُ الحِلِّ إلى مكةَ، وبه اليومَ المساجدُ التي تسمَّى: «مساجدَ عائشةَ»، ولم تكنْ هذِه على عَهْدِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم، وإنَّما بُنِيَتْ بعدَ ذلك علامةً على (6) المكانِ الذي أَحْرَمَتْ منه عائشةُ رضي الله عنها.
وليس دخولُ هذهِ المساجدِ والصلاةُ (7) فيها - لِمَنِ اجتازَ بِهَا مُحْرِمًا - لَا فرضًا ولا سُنَّةً، بلْ قَصْدُ ذلك واعتقادُ (8) أنَّهُ يُسْتَحَبُّ؛
--------------------------------------------
একা; কেননা তিনি (১) ঋতুবতী হয়েছিলেন, ফলে তাঁর পক্ষে তওয়াফ (الطواف) করা সম্ভব ছিল না; [কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ঋতুবতী নারী বাইতুল্লাহর তওয়াফ (الطواف) ব্যতীত হজের যাবতীয় আহকাম বা মানাসিক (المناسك) সম্পন্ন করবে] (২)» (৩)। অতঃপর তিনি তাকে (৪) হজের ইহরাম (إحرام) বাঁধার এবং উমরার কার্যাবলি বর্জন করার নির্দেশ দিলেন; কারণ তিনি মুতামাত্তিআ (متمتعة) ছিলেন। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উমরা করার আবেদন করলেন, ফলে তিনি তাঁকে তাঁর ভাই আবদুর রহমানের সাথে পাঠালেন এবং তিনি তানয়িম (৫) থেকে উমরা করলেন।
আর তানয়িম হলো মক্কার নিকটতম হিল্ল (الحل) এলাকা। সেখানে বর্তমানে এমন কিছু মসজিদ রয়েছে যেগুলোকে «আয়েশা মসজিদ» বলা হয়। এগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ছিল না, বরং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যে স্থান থেকে ইহরাম (إحرام) বেঁধেছিলেন তার নিদর্শন হিসেবে (৬) এগুলো পরবর্তীতে নির্মাণ করা হয়েছে।
যারা ইহরাম (إحرام) অবস্থায় এগুলো অতিক্রম করেন, তাদের জন্য এই মসজিদগুলোতে প্রবেশ করা এবং সেখানে সালাত (৭) আদায় করা কোনো ফরজ (فرض) নয় এবং সুন্নাহ (سنة)-ও নয়; বরং এর সংকল্প করা এবং একে মুস্তাহাব (يستحب) বলে বিশ্বাস করা (৮);
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بدعةٌ مكروهةٌ، لكنْ مَنْ خرجَ مِنْ مكةَ ليعتمرَ (1)؛ فإنَّهُ إذا (2) دخلَ واحدًا منها، وصلَّى فيه لأجلِ الإحرامِ؛ فلا بأسَ بذلك.
ولم يكنْ على عهدِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم وخلفائِه الراشدِينَ أحدٌ يخرُجُ مِنْ مكةَ لِيَعْتَمِرَ (3) إلَّا لِعُذْرٍ (4)، لَا في رمضانَ، ولَا في (5) غيرِ رمضانَ، والذينَ حَجُّوا مع النبيِّ صلى الله عليه وسلم ليسَ فيهم (6) مَنِ اعتمرَ بعدَ الحجِّ مِنْ مكةَ إلَّا عائشةَ، كما ذُكِرَ، ولا كَانَ هذا مِنْ فِعْلِ الخلفاءِ الراشدِينَ.
والذين استحبُّوا الإفرادَ مِنَ الصحابةِ؛ إنما استحبُّوا أنْ يَحُجَّ في سَفرةٍ ويعتمرَ في أخرى، ولم (7) يستحبُّوا أنْ يحجَّ ويعتمرَ عَقِبَ (8) ذلك عمرةً مَكِّيَّةً (9)، بلْ هذا لم يكونُوا يفعلونَهُ قطُّ، اللَّهُمَّ إلَّا أنْ يكونَ شيئًا نادِرًا (10).
--------------------------------------------
এটি একটি অপছন্দনীয় (مكروهة) নব উদ্ভাবন (بدعة), তবে যে ব্যক্তি উমরা করার জন্য মক্কা থেকে বের হয় (১); সে যদি (২) তার কোনো একটিতে প্রবেশ করে এবং ইহরামের উদ্দেশ্যে সেখানে সালাত আদায় করে, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগে ওজর (৪) ব্যতীত মক্কা থেকে উমরা করার জন্য (৩) বের হওয়ার কোনো প্রচলন ছিল না, রমজানেও নয় এবং রমজান ব্যতীত (৫) অন্য সময়েও নয়। যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে হজ করেছিলেন, তাদের মধ্যে (৬) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ব্যতীত এমন কেউ ছিলেন না যিনি হজের পর মক্কা থেকে উমরা করেছিলেন, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে। আর এটি খুলাফায়ে রাশিদীনের কর্মপন্থার অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
সাহাবীদের মধ্যে যারা কেবল হজ বা ইফরাদ (الإفراد) করাকে পছন্দনীয় (استحبوا) মনে করতেন, তারা কেবল এক সফরে হজ এবং অন্য সফরে উমরা করাকেই পছন্দনীয় (استحبوا) মনে করতেন। তারা হজের পরপরই (৮) মক্কী উমরা (৯) করার বিষয়টিকে পছন্দ (৭) করতেন না; বরং তারা এটি কখনোই করতেন না, তবে যদি তা বিরল (نادرًا) কোনো ঘটনা হয়ে থাকে (১০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وقد (1) تنازَعَ السلفُ في هذا: هلْ يكونُ متمتِّعًا عليه دمٌ، أمْ لَا؟ (2) وهلْ تُجْزِئُهُ هذه العمرةُ عنْ عمرةِ الإسلامِ، أمْ لَا؟ (3)
وقدِ اعتمرَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم بعدَ هِجْرَتِهِ أربعَ عُمَرٍ:
عمرةَ الْحُدَيْبِيَةِ؛ وَصَلَ إلى الحديبيةِ -والحديبيةُ (4) وراءَ الجبلِ
--------------------------------------------
এবং (১) এ বিষয়ে সালাফগণ মতবিরোধ করেছেন: তিনি কি তামাত্তুকারী (متمتع) হিসেবে গণ্য হবেন যার ওপর দণ্ড বা কুরবানি (دم) ওয়াজিব (واجب), নাকি নয়? (২) আর এই উমরাহ কি ইসলামের আবশ্যিক উমরাহ হিসেবে যথেষ্ট হবে, নাকি হবে না? (৩)
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরতের পর চারটি উমরাহ পালন করেছেন:
হুদাইবিয়ার উমরাহ; তিনি হুদাইবিয়াতে পৌঁছেছিলেন - আর হুদাইবিয়া (৪) পাহাড়ের পেছনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الذي بالتنعيمِ عندَ مساجدِ عائشةَ، عنْ يمينِكَ وأنتَ داخِلٌ إلى مكةَ-، فصَدَّهُ (1) المشركونَ عنِ البيتِ، فصالَحَهُمْ (2)، وحَلَّ مِنْ إحرامِه وانصرَفَ.
وعمرةُ القَضِيَّةِ؛ اعْتَمَرَ مِنَ العامِ القابِلِ.
وعمرةُ الجِعْرَانَةِ؛ لأنَّهُ (3) كانَ قدْ قَاتَلَ المشركِينَ بِحُنَيْنٍ - وحُنَيْنٌ مِنْ ناحيةِ المشرقِ (4) مِنْ ناحيةِ الطائفِ-، وأمَّا بدرٌ فهي بين المدينةِ وبين مكةَ، وبين الغزوتَيْنِ سِتُّ سنينَ، ولكنْ قُرِنَا (5) في الذِّكْرِ؛ لأنَّ اللهَ تعالَى أَنْزَلَ فيهما الملائكةَ لِنَصْرِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم والمؤمنِينَ في القتالِ، ثم ذهبَ فَحَاصَرَ المشركِينَ بالطائفِ، ثم رجعَ، وقَسَمَ غنائمَ حُنَيْنٍ بالجِعْرَانَةِ (6)، فلمَّا قَسَمَ غنائمَ حُنَيْنٍ اعتمرَ مِنَ الجِعْرَانَةِ داخِلًا إلى مكةَ لا خارجًا منها للإحرامِ.
والعمرةُ الرابعةُ مع حَجَّتِهِ، فإنَّه قَرَنَ بين العمرةِ والحجِّ باتفاقِ أهلِ المعرفةِ بِسُنَّتِهِ، وباتفاقِ الصحابةِ على ذلك، ولم يُنْقَلْ عن أحدٍ
--------------------------------------------
যা তানইমে আয়েশা মাসজিদসমূহের নিকট অবস্থিত—মক্কায় প্রবেশ করার সময় তোমার ডান দিকে—অতঃপর মুশরিকরা তাঁকে বায়তুল্লাহ থেকে বাধা প্রদান করল (১), ফলে তিনি তাদের সাথে সন্ধি করলেন (২) এবং তাঁর ইহরাম (إحরাম) ত্যাগ করে হালাল (حل) হলেন ও ফিরে গেলেন।
আর উমরাতুল কাযা; তিনি পরবর্তী বছর উমরা পালন করেছিলেন।
আর জিরানার উমরা; কেননা (৩) তিনি হুনাইনে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন—আর হুনাইন হলো পূর্ব দিক (৪) অর্থাৎ তায়েফের দিক থেকে—পক্ষান্তরে বদর হলো মদিনা ও মক্কার মাঝখানে। আর এই দুই যুদ্ধের (غزوة) ব্যবধান হলো ছয় বছর, কিন্তু এগুলোকে বর্ণনায় একত্রে যুক্ত করা হয়েছে (৫); কারণ মহান আল্লাহ এই দুই যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও মুমিনদের সাহায্যের জন্য ফেরেশতা অবতীর্ণ করেছিলেন। অতঃপর তিনি গিয়ে তায়েফে মুশরিকদের অবরোধ করলেন, তারপর ফিরে এলেন এবং জিরানায় (৬) হুনাইনের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (غنائم) বণ্টন করলেন। যখন তিনি হুনাইনের গনিমত (غنائم) বণ্টন শেষ করলেন, তখন তিনি ইহরামের (إحরাম) উদ্দেশ্যে মক্কার বাইরে না গিয়ে বরং মক্কায় প্রবেশকালে জিরানা থেকে উমরা পালন করলেন।
আর চতুর্থ উমরাটি ছিল তাঁর হজের সাথে। কেননা তিনি তাঁর সুন্নাহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের (أهل المعرفة بسنته) ঐকমত্য এবং এই বিষয়ে সাহাবায়ে কিরামের ঐকমত্য অনুযায়ী উমরা ও হজকে একত্রে (قرن) আদায় করেছিলেন। আর কারও কাছ থেকে এমন কিছু বর্ণিত (نقل) হয়নি যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مِنَ الصحابةِ أنَّهُ تمتَّعَ تمتُّعًا (1) حَلَّ فيه، بل كانُوا يُسَمُّونَ القِرَانَ (2): تمتُّعًا، ولا نُقِلَ عن أحدٍ مِنَ الصحابةِ أنَّه لَمَّا قَرَنَ طافَ طَوَافَيْنِ وسَعَى سَعْيَيْنِ.
وعامةُ المنقولِ عنِ الصحابةِ في صفةِ حَجَّتِهِ ليستْ (3) بمختلفةٍ، وإنَّما اشتبهتْ على مَن لم يعرفْ مُرَادَهُمْ، وجميعُ الصحابةِ الذينَ نُقِلَ عنهم أنَّه أَفْرَدَ الحجَّ؛ كعائشةَ (4)، وابنِ عمرَ (5)، [وجابرٍ (6)؛ قالُوا: إنَّه تمتَّعَ بالعمرةِ إلى الحجِّ، وقدْ (7) ثبتَ هذا (8) في الصحيحَيْنِ عنْ عائشةَ (9)
--------------------------------------------
সাহাবীদের (صحابة) পক্ষ থেকে এমন কোনো বর্ণনা নেই যে তিনি এমনভাবে 'তামাত্তু' (تمتع) (১) করেছিলেন যাতে তিনি (ইহরাম থেকে) হালাল হয়েছিলেন; বরং তারা 'কিরান'কে (قران) (২) 'তামাত্তু' (تمتع) হিসেবে অভিহিত করতেন। আর কোনো সাহাবী (صحابة) থেকে এমনটি বর্ণিত হয়নি যে, তিনি যখন 'কিরান' (قران) করেছিলেন তখন দুইবার তাওয়াফ ও দুইবার সাঈ করেছিলেন।
তাঁর হজের পদ্ধতির বিবরণে সাহাবীদের (صحابة) থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার অধিকাংশের মধ্যে কোনো ভিন্নতা (৩) নেই। বরং এটি কেবল তাদের কাছে অস্পষ্ট মনে হয়েছে যারা তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত নয়। আর ঐ সকল সাহাবী (صحابة) যাদের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি হজে 'ইফরাদ' (إفراد) করেছিলেন; যেমন আয়েশা (৪), ইবনে ওমর (৫), [এবং জাবির (৬)]; তাঁরা বলেছেন: তিনি হজের সাথে উমরার 'তামাত্তু' (تمتع) করেছিলেন। আর আয়েশা (৯) থেকে এটি (৮) সহিহাইন-এ সাব্যস্ত (৭) হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وابنِ عمرَ (1)] (2) بإسنادٍ أصحَّ مِنْ إسنادِ الإفرادِ، ومُرادُهُم بالتمتُّعِ القِرَانُ، كما ثَبَتَ ذلكَ في الصِّحَاحِ أيضًا (3).
فإذَا أرادَ الإحرامَ:
- فإنْ كانَ قارِنًا قالَ: لبَّيْكَ [عمرةً وحَجًّا.
- وإنْ كانَ متمتِّعًا قالَ: لَبَّيْكَ عمرةً.
- وإنْ كانَ مُفْرِدًا قالَ: لَبَّيْكَ] (4) حَجَّةً.
أوْ قالَ: اللهُمَّ إنِّي قد (5) أوجبتُ عمرةً وحَجًّا، أوْ أَوْجَبْتُ عمرةً أوجبت حجًّا، [أو أوجبت عمرةً أتمتَّعُ بها إلى الحجِّ، أو قال: اللهم إني أريد العمرة] (6)، أو أريدُ الحجَّ، أو أريدُهُمَا، أو أريدُ التمتُّعَ بالعمرةِ إلى الحجِّ، فمهما قالَ (7) مِنْ ذلكَ؛ أَجْزَأَهُ باتفاقِ
--------------------------------------------
...এবং ইবনে উমর (১)] (২) ইফরাদ (إفراد)-এর সনদ (إسناد) অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধ (أصح) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে; আর তামাত্তু (تمتع) দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো কিরান (قران), যেমনটি সহিহ গ্রন্থসমূহেও (৩) প্রমাণিত হয়েছে।
অতঃপর যখন তিনি ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা করবেন:
- যদি তিনি কিরান (قران) হজকারী হন, তবে বলবেন: লাব্বাইক [উমরা ও হজের জন্য।
- আর যদি তিনি তামাত্তু (تمتع) হজকারী হন, তবে বলবেন: লাব্বাইক উমরার জন্য।
- আর যদি তিনি মুফরিদ (مفرد) হজকারী হন, তবে বলবেন: লাব্বাইক] (৪) হজের জন্য।
অথবা বলবেন: হে আল্লাহ! আমি (৫) অবশ্যই উমরা ও হজের নিয়ত করলাম, অথবা আমি উমরার নিয়ত করলাম এবং হজের নিয়ত করলাম, [অথবা আমি উমরার নিয়ত করলাম যার মাধ্যমে আমি হজের সাথে তামাত্তু (تمتع) করব, অথবা তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আমি উমরার ইচ্ছা পোষণ করছি] (৬), অথবা হজের ইচ্ছা করছি, অথবা উভয়ের ইচ্ছা করছি, অথবা উমরার মাধ্যমে হজের সাথে তামাত্তু (تمتع)-এর ইচ্ছা করছি। তিনি এগুলোর মধ্য থেকে যা-ই বলুন (৭) না কেন; সর্বসম্মতিক্রমে তা যথেষ্ট হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الأئمةِ، ليسَ في ذلكَ عبارةٌ مخصوصةٌ، ولا يجبُ شيءٌ مِنْ هذهِ العباراتِ باتفاقِ الأئمةِ؛ كما لا يجبُ التلفُّظُ بالنيةِ في الطهارةِ والصلاةِ والصيامِ باتفاقِ الأئمةِ، بلْ متى لَبَّى قاصِدًا للإحرامِ؛ انعقدَ إحرامُهُ باتفاقِ المسلمينَ.
ولا يجبُ عليه أنْ يتكلَّمَ قبلَ التلبيةِ بشيءٍ، ولكنْ تنازَعَ العلماءُ: هلْ يُستحبُّ أن يتكلَّم بذلكَ (1)؟ (2) كمَا تنازَعُوا: هلْ يُسْتَحَبُّ التلفُّظُ بالنيةِ في الصلاةِ؟ (3)
--------------------------------------------
ইমামগণের মতে, এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট শব্দ নেই এবং ইমামগণের ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী এই শব্দগুলোর কোনোটিই আবশ্যক (واجب) নয়; যেমনটি ইমামগণের ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী পবিত্রতা, নামাজ এবং রোজার ক্ষেত্রে নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক (واجب) নয়। বরং যখনই কেউ ইহরামের উদ্দেশ্যে তালবিয়া পাঠ করবে, মুসলমানদের ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী তার ইহরাম কার্যকর হয়ে যাবে।
এবং তালবিয়ার আগে তার জন্য কোনো কিছু বলা আবশ্যক (واجب) নয়, তবে আলেমগণ মতভেদ করেছেন: তা মুখে বলা কি পছন্দনীয় (مستحب) (১)? (২) যেমন তাঁরা মতভেদ করেছেন: নামাজের ক্ষেত্রে কি নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা পছন্দনীয় (مستحب) (৩)?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
والصوابُ المقطوعُ به: أنَّهُ لا يُسْتَحَبُّ شيءٌ من ذلكَ؛ فإنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم لم يَشْرَعْ للمسلمينَ (1) شيئًا مِن ذلكَ، ولَا كانَ يتكلَّمُ قبلَ التكبيرِ بشيءٍ (2) مِنْ ألفاظِ النيةِ، لا هو ولا أصحابُه، بلْ لَمَّا أَمَرَ ضُبَاعَةَ بنتَ الزُّبَيْرِ بالاشتراطِ قالتْ: فكيفَ أقولُ؟ قالَ: قُولِي: «لَبَّيْكَ اللهُمَّ لَبَّيْكَ، مَحِلِّي مِنَ الأرضِ حيثُ تَحْبِسُنِي»، رواهُ أهلُ السُّنَنِ (3)، وصحَّحَهُ الترمذيُّ، ولفظُ النسائِيِّ: إنِّي أريدُ الحجَّ، فكيفَ أقولُ؟ قال: «قُولِي: لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، مَحِلِّي مِنَ الْأَرْضِ حَيْثُ تَحْبِسُنِي، فَإِنَّ لَكِ (4) عَلَى رَبِّكِ مَا اسْتَثْنَيْتِ»، وحديثُ (5) الاشتراطِ في الصحيحَيْنِ (6).
لكنَّ المقصودَ بهذَا اللفظِ: أنَّهُ أَمَرَهَا بالاشتراطِ في التلبيةِ (7)، ولم (8) يَأْمُرْهَا أنْ تقولَ قبلَ التلبيةِ شيئًا، لَا اشتراطًا ولا غيرَهُ،
--------------------------------------------
এবং অকাট্যভাবে সঠিক অভিমত হলো এই যে, এর কোনো কিছুই পছন্দনীয় (مستحب) নয়; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিমদের জন্য (১) এমন কিছুর বিধান দেননি এবং তিনি তাকবিরের আগে নিয়তের কোনো শব্দ উচ্চারণ করার মাধ্যমে (২) কোনো কথা বলতেন না, তিনি নিজেও নন এবং তাঁর সাহাবীগণও নন। বরং তিনি যখন দুবা’আ বিনতে যুবাইরকে শর্তারোপ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন তিনি (দুবা’আ) বলেছিলেন: আমি কী বলব? তিনি বললেন: «তুমি বলো: আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির; জমিনের যে স্থানে আপনি আমাকে আটকে দেবেন সেখানেই আমার ইহরাম সমাপ্ত হবে», এটি সুনান গ্রন্থকারগণ (৩) বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন। নাসাঈ-এর শব্দগুলো হলো: আমি হজের ইচ্ছা পোষণ করছি, আমি কী বলব? তিনি বললেন: «তুমি বলো: আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির; জমিনের যে স্থানে আপনি আমাকে আটকে দেবেন সেখানেই আমার ইহরাম সমাপ্ত হবে, নিশ্চয়ই তোমার (৪) রবের নিকট তোমার জন্য সেটিই সাব্যস্ত হবে যা তুমি শর্ত করেছ», আর শর্তারোপ সংক্রান্ত হাদিসটি (৫) সহিহাইন (৬) গ্রন্থে রয়েছে।
তবে এই শব্দের মাধ্যমে উদ্দেশ্য হলো: তিনি তাঁকে তালবিয়াহর (৭) মধ্যে শর্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তালবিয়াহর আগে কোনো কিছু বলার নির্দেশ দেননি (৮), শর্ত হিসেবেও নয় বা অন্য কিছু হিসেবেও নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাসিকুল হাজ্জ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ ত. রাকায়েজ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وكانَ يقولُ في تلبيتِهِ: «لَبَّيْكَ عُمْرَةً وَحَجًّا (1)» (2)، وكانَ يقولُ للواحدِ منْ أصحابِهِ: «بِمَ أَهْلَلْتَ؟ » (3).
وقالَ في المواقيتِ: «مُهَلُّ أهلِ المدينةِ مِنَ ذي (4) الْحُلَيْفَةِ، وَمُهَلُّ أَهْلِ الشَّامِ الْجُحْفَةُ، وَمُهَلُّ أَهْلِ الْيَمَنِ يَلَمْلَمُ، وَمُهَلُّ أَهْلِ نَجْدٍ قَرْنُ الْمَنَازِلِ، وَمُهَلُّ أَهْلِ الْعِرَاقِ ذَاتُ عِرْقٍ، وَمَنْ كَانَ دُونَهُنَّ فَمُهَلُّهُ مِنْ أَهْلِهِ» (5)، والإهلالُ هو التلبيةُ.
فهذَا هُوَ الذِّي شَرَعَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم للمسلمِينَ (6) التكلُّمَ بِهِ في ابتداءِ الحجِّ والعمرةِ، وإنْ كانَ مشروعًا بعدَ ذلِكَ، كما تُشْرَعُ تكبيرةُ الإِحرامِ (7)، ويُشْرَعُ التكبيرُ بعد ذلكَ عندَ تغيُّرِ الأحوالِ.
ولو أَحْرَمَ إحرامًا مطلقًا جازَ، فلو أَحْرَمَ بالقصدِ للحجِّ (8) مِنْ
--------------------------------------------
তিনি তাঁর তালবিয়াতে বলতেন: «আমি উমরা ও হজের জন্য উপস্থিত (لَبَّيْكَ عُمْرَةً وَحَجًّا) (১)» (২), এবং তিনি তাঁর সাথীদের কাউকে উদ্দেশ্য করে বলতেন: «তুমি কিসের ইহরামের উচ্চধ্বনি (أَهْلَلْتَ) দিয়েছ?» (৩)।
আর তিনি মিকাতসমূহ (المواقيت) সম্পর্কে বলেছেন: «মদিনাবাসীদের ইহরামের স্থান (مُهَلُّ) হলো যুল হুলাইফা থেকে, সিরিয়াবাসীদের ইহরামের স্থান (مُهَلُّ) হলো জুহফা, ইয়ামেনবাসীদের ইহরামের স্থান (مُهَلُّ) হলো ইয়ালামলাম, নজদবাসীদের ইহরামের স্থান (مُهَلُّ) হলো কারনুল মানাযিল এবং ইরাকবাসীদের ইহরামের স্থান (مُهَلُّ) হলো যাতু ইর্ক। আর যারা এসকল মিকাতের ভেতরে অবস্থান করে, তাদের ইহরামের স্থান (مُهَلُّ) হলো তাদের নিজ নিজ আবাসস্থল» (৫)। আর 'ইহলাল' (الإهلال) বলতে মূলত তালবিয়া পাঠ করাকেই বোঝায়।
সুতরাং এটিই হলো সেই পদ্ধতি যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের (৬) জন্য হজ ও উমরার শুরুতে উচ্চারণ করার বিধান (شَرَعَ) দিয়েছেন, যদিও এটি পরবর্তীতেও বৈধ (مشروع), যেমনটি তাকবিরে তাহরিমা (تكبيرة الإحرام) (৭) পাঠ করার বিধান রয়েছে, এবং পরবর্তীতে অবস্থার পরিবর্তনের সময়ও তাকবির পাঠের বিধান (يُشْرَعُ) রয়েছে।
আর যদি কেউ সাধারণভাবে ইহরাম (إحرام) গ্রহণ করে তবে তা বৈধ হবে। সুতরাং কেউ যদি হজের (৮) সংকল্পে ইহরাম (أَحْرَمَ) গ্রহণ করে...
--------------------------------------------