(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: -)
منية الساجد بشرح بداية العابد وكفاية الزاهد   (أنس بن عادل اليتامى)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: مُنْيَةُ السَّاجِدِ بِشَرْحِ [بِدَايَةِ العَابِدِ وَكِفَايَةِ الزَّاهِدِ لعبد الرحمن بن عبد الله البعلي الحنبلي (ت: 1192 هـ)]

المؤلف: د. أنس بن عادل اليتامى، د. عبد العزيز بن عدنان العيدان

الناشر: دار ركائز للنشر والتوزيع - الكويت، دار الصميعي للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1438 هـ - 2017 م

عدد الصفحات: 521

أهداه للشاملة: ركائز للنشر والتوزيع؛ جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 جُمادَى الآخرة 1440

মুনিয়াতুস সাজিদ বি-শারহি বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ   (আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামা)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


বই: মুনিয়াতুস সাজিদ বি-শারহি [আবদুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আল-বালি আল-হাম্বলি (মৃ: ১১৯২ হি.) রচিত বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ]

লেখক: ড. আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামা, ড. আব্দুল আজিজ বিন আদনান আল-আইদান

প্রকাশক: দারু রাকায়েজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - কুয়েত, দারুস সামায়ি পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৮ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২১

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রদান করেছেন: রাকায়েজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন; আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৫ জুমাদিউল আখিরা ১৪৪০

(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ১)
مُنْيَةُ السَّاجِدِ بِشَرْحِ بِدَايَةِ العَابِدِ وَكِفَايَةِ الزَّاهِدِ
ইবাদতকারীর প্রারম্ভিকা ও দুনিয়াবিমুখের জন্য পর্যাপ্ত পাথেয়-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ: সিজদাকারীর অভিলাষ।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة

لدار ركائز للنشر والتوزيع

 

الطبعة الأولى

1438 هـ - 2017 م
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দার রাকায়িজ প্রকাশনী ও পরিবেশনীর জন্য

 

প্রথম সংস্করণ

১৪৩৮ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ৩)
مُنْيَةُ السَّاجِدِ بِشَرْحِ بِدَايَةِ العَابِدِ وَكِفَايَةِ الزَّاهِدِ

 

للعلامة

عبد الرحمن بن عبد الله البعلي الحنبلي

(ت: 1192 هـ)

 

شرح

د. أنس بن عادل اليتامى

د. عبد العزيز بن عدنان العيدان
মুনিয়াতুস সাজিদ: বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ-এর ব্যাখ্যা

 

আল্লামা

আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আল-বালি আল-হাম্বলী

(মৃত্যু: ১১৯২ হিজরি)

 

ব্যাখ্যা

ড. আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামা

ড. আব্দুল আজিজ বিন আদনান আল-আইদান
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

إنَّ الحمدَ للهِ، نَحمدُه ونَستعينُه ونَستغفرُه، ونَعوذُ باللهِ مِن شُرورِ أنفسِنا وسَيِّئاتِ أعمالِنا، مَن يَهدِه اللهُ فلا مُضلَّ له، ومَن يُضلِلْ فلا هاديَ له، ونَشهدُ ألَّا إلهَ إلَّا اللهُ وحدَه لا شَريكَ له، وأنَّ محمَّدًا عبدُه ورسولُه، صلَّى الله عليه وعلى آلِه وصَحبِه وسلَّم تَسليمًا كَثيرًا.

أمَّا بعدُ:

فهذا شرحٌ لطيفٌ، وتعليقٌ منيفٌ، على متنِ (بِدَايَةِ العَابِدِ وَكِفَايَةِ الزَّاهِدِ (1)، للعلامةِ الفقيهِ عبدِ الرَّحمن بنِ عبدِ الله بنِ أحمدَ بنِ محمَّدِ بنِ أحمدَ بنِ محمَّدِ بنِ مُصطفى الحلبيِّ البَعليِّ الدِّمشقيِّ الحنبليِّ، الَّذي ابتدأ طريقَ العلمِ في سِنٍّ مُبكرةٍ، فأفاد مِن مشايخِ عصرِه، واشتَغل بعلماءِ وقتِه، ولازَم مِن كُلِّ أهلِ فنٍّ رَمزَه، حتَّى قال عن نفسِه: (أَخذْتُ عن مَشايِخَ كثيرين يطولُ ذِكرُهُم)، فبَرَع في العلومِ، وَفَاق أقرانَه في الفهومِ، وصار ثناءُ العلماءِ عليه في كتبِهِم مَسطورًا، وفي مؤلفاتِهِم مَرقومًا، فقال ابنُ بَدرانَ: (كان فَقيهًا، مُتَفنِّنًا، أَديبًا، شاعِرًا)، ووُصِف بالعبادةِ والصَّلاحِ، ، غَفَر الله له، وأسكنه أعلى مَنازِلِ بِلادِ الأفراحِ.

وكانت مُصنَّفاتُه في سائِرِ الفنونِ كثيرةً، والعلومُ التي أَوْدَعَها فيها

--------------------------------------------

(1) اعتمدنا في إثبات المتن، على نسخة الشَّرح (بلوغ القاصد جل المقاصد)، وهي نسخةٌ بخط المؤلف، نسخها في شهر الله المحرم سنة (1171 هـ)، وتقع في (63) ورقة، مصدرها: مكتبة الأسد الوطنية برقم: 33791.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অত:পর:

এটি হলো ‘বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুয যাহিদ’ (১) (ইবাদতকারীর সূচনা ও দুনিয়াবরাগীর জন্য পর্যাপ্ততা) নামক মূল পাঠের একটি সহজ ব্যাখ্যা এবং চমৎকার টীকা। যা রচনা করেছেন আল্লামাহ ফকিহ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুস্তফা আল-হালাবি আল-বালি আদ-দিমাশকি আল-হানবালি। যিনি অতি অল্প বয়সে জ্ঞান অন্বেষণের পথ শুরু করেছিলেন। ফলে তিনি তাঁর যুগের শায়খদের কাছ থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর সময়ের আলেমদের সাথে জ্ঞানচর্চায় ব্যস্ত থেকেছেন। তিনি প্রত্যেক শাস্ত্রের বিজ্ঞ পণ্ডিতদের সান্নিধ্য অবলম্বন করেছেন, এমনকি তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছেন: "আমি অনেক শায়খের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছি যাদের নাম উল্লেখ করতে গেলে দীর্ঘ হয়ে যাবে।" ফলে তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং বোধশক্তির ক্ষেত্রে সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান। আলেমদের কিতাবসমূহে তাঁর প্রশংসা লিপিবদ্ধ হয়েছে এবং তাঁদের রচনাবলিতে তা অঙ্কিত হয়েছে। ইবন বদরান বলেছেন: "তিনি ছিলেন একজন ফকিহ, বহুবিদ্যায় পারদর্শী, সাহিত্যিক এবং কবি।" তিনি ইবাদত ও নেক আমলের গুণের অধিকারী হিসেবে বর্ণিত হয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ স্থানে স্থান দান করুন।

বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর গ্রন্থসমূহ ছিল বহু সংখ্যক, এবং তিনি সেগুলোতে যে জ্ঞান গচ্ছিত রেখেছেন...

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠটি সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমরা ‘বুলুগুল কাসিদ জাল্লুল মাকাসিদ’ নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থের পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। এটি লেখকের নিজ হাতে লিখিত একটি কপি, যা তিনি ১১৭১ হিজরি সালের মহররম মাসে অনুলিপি করেছিলেন। এটি ৬৩ পৃষ্ঠার এবং এর উৎস হলো: আল-আসাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি, নম্বর: ৩৩৭৯১।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ৬)
غَزِيرةً، وكان مِن أَبْرَزِها: (كَشْفُ المُخَدَّرَاتِ) الَّذي شَرَح فيه كتابَ شَيخِ مَشايِخِه ابنِ بَلْبانَ: (أَخْصَرَ المُخْتَصَرَاتِ (1)، و (بُلُوغُ القَاصِدِ جُلَّ المَقَاصِدِ) الَّذي شَرَح فيه مُختصَرَهُ هذا (بِدايَةَ العَابِدِ)، وهو شَرْحٌ صَغيرٌ لم يَذكُرْ فيه دَليلًا، ولم يَقصِدْ فيه تَطويلًا، وقد مَنَّ اللهُ عليه بالاستِقامَةِ إلى وَفاتِهِ سَنَةَ (1192 هـ)، فَرَحِمَهُ اللهُ رَحمةً واسِعةً، وأَجْزل له الثوابَ في الآخِرةِ.

ولَمَّا رَأيْنا في مُصَنَّفِه هذا حُسنَ تَصنيفٍ، وبَديعَ تأليفٍ، وصَلاحيَّتَه للمُبتَدي، ونَفْعَه للمُنتَهي، وإنارَتَه للنَّاسكِ المُقتَدي، استعَنَّا المولى في رَقْمِ شرحٍ يُبيِّنُ مُرادَه، ويَحُلُّ ألفاظَه، ويُذلِّلُ صِعابَه، على وجهٍ يَكْشِفُ النِّقابُ عن مَسائلِه، ويَمتزِجُ فيه الشَّرحُ بعِبارتِه، وتَنقسِمُ فيه المسائلُ إلى أقسامِها، وتَتنوَّعُ فيه الفُروعُ إلى أنواعِها، وتَنحصِرُ فيه المباحِثُ إلى أحوالِها، مُشتمِلًا في كُلِّ مَسألةٍ على دَليلٍ أو تعليلٍ، دون إسهابٍ أو تطويلٍ، ولم نَخرُجْ في ذلك كُلِّه عن المُعتَمَدِ عند الحنابِلةِ المتأخِّرين، وكان غَالِبُ استِمْدادِنا مما كَتَبَه عُمْدَةُ المُؤَلِّفِين، الشَّيخُ مَنصورُ بنُ يُونُسَ البُهُوتيُّ رحمه الله، في كتابَيْهِ: (كَشَّافِ القِنَاعِ)، و (شَرْحِ مُنْتَهَى الإرَادَاتِ).

فإن كان ثَمَّ رَوايةٌ، أو وَجهٌ، أو قَولٌ له حَظٌّ مِن النَّظَرِ ذَكَرْناه؛ إِلفاتًا للطَّالِبِ المُبتَدي لِيَرْشُدَ، وتَنْبيهًا للعالِمِ المُنْتَهِي لِئَلَّا يَنْسَى فَيَفْسُدَ= إلى أنَّ العِلمَ المحبوبَ إلى اللهِ هو العِلمُ الموصِلُ إليه، المعرِّفُ به وبأمرِه ونهيِه،

--------------------------------------------

(1) لنا عليه شرح اسمه: (الدلائل والإشارات على أخصر المختصرات) نهجنا فيه نهج هذا الشرح، مع زيادة بسط وتدليل.
বিপুল ছিল, এবং সেগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো: (কাশফুল মুখাদ্দারাত) যাতে তিনি তাঁর শাইখদের শাইখ ইবনুল বালবানের কিতাব: (আখসারুল মুখতাসারাত (১)) এর ব্যাখ্যা করেছেন, এবং (বুলুগুল কাসিদ জুল্লাল মাকাসিদ) যাতে তিনি তাঁর এই সংক্ষিপ্ত সার (বিদায়াতুল আবিদ) এর ব্যাখ্যা করেছেন। এটি একটি ক্ষুদ্র ব্যাখ্যাগ্রন্থ যাতে তিনি কোনো দলিল উল্লেখ করেননি এবং দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যও করেননি। আল্লাহ তাকে ১১৯২ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত ইস্তিকামাত (দৃঢ়তা) দ্বারা অনুগ্রহ করেছেন। আল্লাহ তাকে প্রশস্ত রহমত দান করুন এবং পরকালে তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

যখন আমরা তাঁর এই সংকলনে চমৎকার বিন্যাস, অনুপম রচনাশৈলী, নবদীক্ষিতদের জন্য এর উপযুক্ততা, অভিজ্ঞদের জন্য এর উপকারিতা এবং অনুসারী ইবাদতগুজারদের জন্য এর আলোকবর্তিকা দেখতে পেলাম, তখন আমরা মওলার নিকট এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার সাহায্য প্রার্থনা করলাম যা তাঁর উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করবে, শব্দগুলোর জট খুলবে এবং এর কঠিন বিষয়গুলোকে সহজ করে দেবে; এমনভাবে যা এর মাসআলাগুলোর রহস্য উন্মোচন করবে, যেখানে মূল পাঠের সাথে ব্যাখ্যার সংমিশ্রণ ঘটবে, মাসআলাগুলো নিজ নিজ ভাগে বিভক্ত হবে, শাখা বিষয়গুলো বিভিন্ন প্রকারে বিন্যস্ত হবে এবং আলোচ্য বিষয়গুলো স্ব স্ব অবস্থায় সুসংগত হবে। এতে প্রতিটি মাসআলার সাথে দলিল অথবা কারণ (তালীল) অন্তর্ভুক্ত থাকবে, কোনো প্রকার বাহুল্য বা দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই। এ সবকিছুর ক্ষেত্রে আমরা পরবর্তী যুগের হাম্বলিদের নির্ভরযোগ্য মতের বাইরে যাইনি। আমাদের অধিকাংশ সংগৃহীত বিষয় ছিল লেখকদের আশ্রয়স্থল শাইখ মানসুর বিন ইউনুস আল-বুহুতি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর দুটি কিতাব: (কাশশাফুল কিনা) এবং (শারহু মুনতাহাল ইরাদাত) থেকে।

যদি সেখানে অন্য কোনো বর্ণনা, দৃষ্টিভঙ্গি বা মত থাকতো যা বিচার-বিশ্লেষণের দাবি রাখে, তবে আমরা তা উল্লেখ করেছি; যাতে নবদীক্ষিত শিক্ষার্থী সঠিক পথের দিশা পায় এবং অভিজ্ঞ আলেম সচেতন হন যাতে তিনি বিস্মৃত হয়ে কোনো ভুল না করেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর নিকট প্রিয় ইলম হলো সেই ইলম যা তাঁর পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এবং যা তাঁকে এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধকে চিনিয়ে দেয়।

--------------------------------------------

(১) উক্ত কিতাবটির ওপর আমাদের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যার নাম: (আদ-দালাইল ওয়াল ইশারাত আলা আখসারিল মুখতাসারাত)। সেখানে আমরা এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের পদ্ধতিই অনুসরণ করেছি, তবে অধিকতর বিস্তারিত আলোচনা ও দলিলের প্রয়োগসহ।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ৭)
وطريقُ ذلِك اتِّباعُ نُصوصِ الكتابِ والسُّنَّةِ، ومُطالَعَةُ فُهومِ سلفِ الأمَّةِ، وما هذه المذاهِبُ الأَربعَةُ المُتَّبَعةُ السُّنِّيَّةُ، وأقاويلُ أئِمَّتِها وعلمائِها الفِقهيَّةُ إلَّا آلةً تَنْسَبِكُ فيها الأبوابُ، وتَنتظِمُ فيها مَسائِلُ العلمِ في الكتابِ، وتُعرَفُ بها مَناطاتُ الأحكامِ، وإشاراتُ الأئمَّةِ الأعلامِ، ويُلمسُ مِن خِلالِها النظائِرُ والمُتَشابِهاتُ، وتَتَّضحُ الفوارِقُ والمُختلِفاتُ، فَيَتَمَكَّنُ النَّاظِرُ فيها مِن مَعرفِةِ مَوارِدِ الأدلَّةِ، وسَننَ استنباطِ الحُكمِ والعلَّةِ، فإذا خالَفَ قَولُ إمامٍ مِن الأئمَّةِ - بعدَ اجتهادٍ ونظرٍ - مَدلولَ الكتابِ والسُّنَّةِ، فقد وَقَع أجرُه على اللهِ، ولا يَسوغُ لنا مُتابعتُه في ذلك، بل المُتَعيِّنُ أنْ يَسيرَ الموفَّقُ مِن المُتعلِّمِين في طريقِه بِعَينيْنِ، ويَلْحَظَ في سَبيلِه بِنَظريْنِ، فَعَينٌ تَلحظُ عُلومَ الأوَّلينَ، وتَتَرحَّمُ على علمائِه السَّالِفينَ، وعَينٌ تَلحظُ مُرادَ اللهِ، وتَأْرِزُ إلى النُّصوصِ الموصلةِ إلى محبوبِ الإلهِ، فَيَعبدُ اللهَ على بَصيرةٍ، ويَسلَمُ مِن الوُقوعِ في المَزالِقِ الخَطيرَةِ، فتلِك واللهِ الطَّريقُ الوسطُ، الَّتي لا وَكْسَ فيها ولا شَطَط، أقامَنا اللهُ على السَّبيلِ المستقيمِ، وألْزَمَنا هَديَ نبيِّه القويمِ، وغَفَر لنا زَلَّاتِنا إنَّه غفورٌ رحيمٌ.

ثُمَّ إنَّ مِن علاماتِ التَّوفيقِ، سُلوكَ المُتعلِّمِ الجَادَّةَ المَألوفَةَ في التَّعلُّمِ، وإنزالَ المَطايا عندَ كلِّ مَتنٍ بِحفظِ مَسائِلِه، وتَكرارِ النَّظرِ في دَلائلِه، حتَّى يَقضِيَ فِيه نَهمَتَه، ويَقْطُفَ مِنه ثَمَرتَه، ثُمَّ يَرتقي إلى ما بعدَه ممَّا هو أعلى منه رُتبةً، وأَمتنُ منه فائِدةً، فيُكرِّرُ تلك المسائلَ مَرَّةً أُخرى بمعناها، ويَستزيدُ مَسائِلَ أُخرى حتَّى يَبلُغَ مُنتَهاها، فيَشتَدَّ عُودُ عَقلِه، ويَقوى صُلبُ فَهمِه، ويَأنَسَ مِن نفسِه قُدرةً على المُطالعةِ والمُناقشةِ.
এর পথ হলো কিতাব ও সুন্নাহর নসসমূহ (মূল পাঠ) অনুসরণ করা এবং উম্মাহর সালাফদের উপলব্ধিসমূহ অধ্যয়ন করা। এই অনুসরণীয় চারটি সুন্নি মাযহাব এবং তাদের ইমাম ও ফকিহ আলেমগণের উক্তিগুলো কেবল এমন একটি মাধ্যম, যার দ্বারা অধ্যায়গুলো বিন্যস্ত হয় এবং কিতাবের ইলমি মাসআলাগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো থাকে। এর মাধ্যমেই আহকামের (বিধানের) ভিত্তিগুলো এবং বিজ্ঞ ইমামগণের ইঙ্গিতসমূহ চেনা যায়, এর মধ্য দিয়েই সদৃশ ও সমরূপ বিষয়গুলো অনুভব করা যায় এবং পার্থক্য ও ভিন্নতাগুলো স্পষ্ট হয়। ফলে এতে অনুসন্ধানকারী দলিলের উৎসসমূহ এবং বিধান ও কারণ (ইল্লাত) উদ্ভাবনের পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম হন। অতএব, ইজতিহাদ ও পর্যালোচনার পর যদি কোনো ইমামের বক্তব্য কিতাব ও সুন্নাহর নির্দেশের পরিপন্থী হয়, তবে তাঁর প্রতিদান আল্লাহর নিকট সাব্যস্ত হয়েছে, কিন্তু সেই বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করা আমাদের জন্য বৈধ নয়। বরং তাওফীকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর জন্য কর্তব্য হলো তার পথে দু’টি চোখ নিয়ে চলা; এক চোখ পূর্ববর্তীদের ইলমের দিকে নজর রাখবে এবং তাঁদের অতীত আলেমদের জন্য রহমতের দোয়া করবে, আর অন্য চোখ আল্লাহর উদ্দেশ্যের দিকে নজর রাখবে এবং আল্লাহর প্রিয় জিনিসের দিকে নিয়ে যায় এমন নসসমূহের দিকে ধাবিত হবে। ফলে সে দূরদর্শিতার সাথে আল্লাহর ইবাদত করবে এবং বিপজ্জনক পদস্খলন থেকে নিরাপদ থাকবে। আল্লাহর কসম, এটিই হলো মধ্যপন্থা, যাতে কোনো কমতি বা বাড়াবাড়ি নেই। আল্লাহ আমাদের সরল পথে প্রতিষ্ঠিত রাখুন এবং তাঁর নবীর সঠিক হিদায়াতের ওপর অবিচল রাখুন, আর আমাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন; নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

অতঃপর তাওফীকের অন্যতম নিদর্শন হলো, শিক্ষার্থীর জ্ঞানার্জনের পরিচিত ও মূল পথে চলা এবং প্রতিটি মতনের (মূল পাঠ) মাসআলাসমূহ মুখস্থ করার মাধ্যমে সেখানে নিবিষ্ট হওয়া এবং এর দলিলসমূহ বারবার পর্যালোচনা করা, যতক্ষণ না সে তাতে তার জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করে এবং তা থেকে ফল আহরণ করে। এরপর সে তার পরবর্তী এমন স্তরে আরোহণ করবে যা মর্যাদায় উচ্চতর এবং উপকারিতায় অধিকতর দৃঢ়। তখন সে ঐ মাসআলাগুলো অর্থের সাথে পুনরায় পাঠ করবে এবং আরও নতুন নতুন মাসআলা যোগ করতে থাকবে যতক্ষণ না সে এর শেষ সীমায় পৌঁছায়। এতে তার বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি মজবুত হবে, তার বোধশক্তির মূল দৃঢ় হবে এবং সে নিজের মধ্যে অধ্যয়ন ও আলোচনার সক্ষমতা অনুভব করবে।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ৮)
وإنَّ الطُّرقَ في ذلك مُتَّسعةٌ، والوسائِلَ مُتنوِّعةٌ، وممَّا يَحسُنُ في ذلك: أنْ يَبتدِئَ الطَّالبُ النَّبيهُ بدِراسةِ (بِدايَةِ العَابِدِ) على النَّمَطِ السَّابِقِ، ثُمَّ (أَخْصَرِ المُخْتَصَرَاتِ)، ثُمَّ (زَادِ المُسْتَقْنِعِ)، فإذا قَضى مِن ذلك عَرَف الطَّريقَ بإذنِ اللهِ تَعالى.

وقد سَمَّينا هذا الشَّرْحَ: (مُنْيَةَ السَّاجِدِ فِي شَرْحِ بِدَايَةِ العَابِدِ وَكِفَايَةِ الزَّاهِدِ)، مع اعتِرافِنا بالعجزِ والتَّقصيرِ، واللهُ المسؤولُ أنْ يَجعلَه مُنيةً للرَّاغِبِ، وغُنيةً للطَّالِبِ، وطُعمةً للرَّاهِبِ، إنَّه سَميعٌ مُجيبٌ.
আর এক্ষেত্রে পথসমূহ প্রশস্ত এবং মাধ্যমগুলো বৈচিত্র্যময়। এক্ষেত্রে যা সমীচীন তা হলো: প্রখর ধীসম্পন্ন শিক্ষার্থী যেন পূর্ববর্ণিত পদ্ধতিতে ‘বিদায়াতুল আবিদ’ অধ্যয়নের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে, অতঃপর ‘আখসারুল মুখতাসারাত’, তারপর ‘যাদুল মুস্তাকনি’। যখন সে এগুলো সমাপ্ত করবে, তখন আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় সে পথের দিশা পেয়ে যাবে।

আমরা এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের নামকরণ করেছি: ‘মুনইয়াতুস সাজিদ ফি শারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতিল যাহিদ’, আমাদের অক্ষমতা ও ত্রুটি স্বীকার করার সাথে সাথে। আল্লাহর নিকটই প্রার্থনা যে, তিনি যেন একে আগ্রহীদের আকাঙ্ক্ষা, শিক্ষার্থীদের পাথেয় এবং ইবাদতগুজারদের জন্য খোরাক বানিয়ে দেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, প্রার্থনা কবুলকারী।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ৯)
(بِسْمِ الله الرَّحْمَنِ الرَّحِيم)

ابتدأ المصنِّف كتابه بالبسملة؛ تأسيًّا بالكتاب العظيم، واقتداءً بالنَّبيِّ الكريم.

والجار والمجرور في قوله: (بِسْمِ) متعلِّقٌ بفعلٍ محذوفٍ مؤخَّرٍ مناسبٍ للمقام، وتقديره هنا: باسم الله أؤلِّف، والمعنى: أؤلِّف مستعينًا بجميع أسماء الله الحسنى المتضمِّنة لصفاته العليا، متبرِّكًا بذكرها حال تأليف هذا المختصر.

و(اللهِ): عَلَمٌ على الباري جلَّ وعلا. و (الرَّحْمَنِ): اسمٌ من أسماء الله المختصَّة به، لا يُطلَق على غيره، ومعناه: المتَّصف بالرَّحمة الواسعة، و (الرَّحِيمِ): من أسماء الله أيضًا، ومعناه: ذو الرَّحمة الواصلة.

و(الحَمْدُ): هو وصف المحمود بصفات الكمال على وجه المحبَّة والتَّعظيم، سواءً كان في مقابلة نِعمةٍ أم لا، واللَّام في (الحَمْدُ) للاستغراق أو الجنس، فكلُّ أنواع المحامد أو جنسها مستحقَّةٌ ومملوكةٌ (لِله) تعالى؛ لكماله في أسمائه وصفاته وأفعاله.
(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি)

গ্রন্থকার মহান কিতাব (কুরআন)-এর অনুসরণ এবং সম্মানিত নবী (সা.)-এর অনুকরণের লক্ষ্যে বিসমিল্লাহর মাধ্যমে তাঁর কিতাব শুরু করেছেন।

তাঁর উক্তি ‘আল্লাহর নামে’ (বিসমিল্লাহ)-এর অব্যয় ও বিশেষ্য (জার ও মাজরুর) প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ঊহ্য এবং পরবর্তী ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। এখানে এর উহ্য রূপ হলো: ‘আল্লাহর নামে আমি রচনা করছি’। এর অর্থ হলো: আল্লাহর সেই সকল সুন্দর নামসমূহের সাহায্য প্রার্থনা করে আমি রচনা করছি যা তাঁর সুউচ্চ গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এই সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থটি রচনার সময় সেই নামসমূহ স্মরণের মাধ্যমে বরকত কামনা করছি।

‘আল্লাহ’ শব্দটি মহান ও সুউচ্চ স্রষ্টার জন্য নির্দিষ্ট একটি নাম। আর ‘আর-রাহমান’ হলো আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে এমন একটি নাম যা কেবল তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট, অন্য কারো জন্য তা ব্যবহার করা হয় না। এর অর্থ হলো: ব্যাপক দয়ার গুণে গুণান্বিত। এবং ‘আর-রাহীম’-ও আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার অর্থ হলো: এমন সত্তা যাঁর দয়া সৃষ্টির নিকট পৌঁছায়।

আর ‘আল-হামদ’ (প্রশংসা) হলো ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে প্রশংসিত সত্তাকে পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির মাধ্যমে বর্ণনা করা, তা কোনো নিয়ামতের বিনিময়ে হোক বা না হোক। আর ‘আল-হামদ’ শব্দের ‘লাম’ অক্ষরটি ব্যাপকতা অথবা শ্রেণি বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং সমস্ত প্রকার প্রশংসা বা প্রশংসার সকল ধরন মহান আল্লাহর জন্য প্রাপ্য ও তাঁরই মালিকানাধীন; কারণ তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলি অত্যন্ত নিখুঁত ও পরিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ১০)
(الَّذِي فَقَّهَ) أي: فهَّم (فِي الدِّينِ) وهو ما شرعه الله تعالى من الأحكام، (مَنْ شَاءَ) أي: أراد، (مِنَ العِبَادِ، وَوَفَّقَ)، والتَّوفيق: ألَّا يَكِل اللهُ الإنسانَ إلى نفسه، (أَهْلَ طَاعَتِهِ لِلْعِبَادَةِ وَالسَّدَادِ)، أي: الصَّواب من القول والعمل.

(وَالصَّلاةُ) على نبيِّنا محمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وهي ثناؤه عليه في الملأ الأعلى، (وَالسَّلَامُ) أي: السَّلامة من النَّقائص والرَّذائل (عَلَى سَيِّدِنَا) والسَّيد: مَن ساد في قومه، (مُحَمَّدٍ) صلى الله عليه وسلم، سُمِّيَ به لكثرة خصاله الحميدة، وشمائله المجيدة، (الهَادِي) هداية دلالةٍ وإرشادٍ، (إِلَى طَرِيقِ الرَّشَادِ) أي: الصَّواب؛ كما قال تعالى: (وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ) [الشورى: 52]، (وَعَلَى آلِهِ) وهم أتباعه على دينه؛ لأنَّ الله تعالى أطلق الآل على الأتباع في الدِّين، فقال: (أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ) [غافر: 46]. وعنه، واختاره شيخ الإسلام: أنَّهم أهل بيته.

(وَ) على (صَحْبِهِ) جمع صاحبٍ، بمعنى الصَّحابي: وهو من اجتمع بالنَّبيِّ صلَّى لله عليه وسلَّم مؤمنًا به ومات على ذلك، (السَّادَةِ) من السِّيادة (القَادَةِ) أي: المقتدى بهم، (الأَمْجَادِ) جمع ماجدٍ، والمجد: نيل الشَّرف والكرم، فوصف
(الَّذِي فَقَّهَ) অর্থাৎ: যিনি সম্যক জ্ঞান দান করেছেন (فِي الدِّينِ) দ্বীনের বিষয়ে, আর তা হলো যা আল্লাহ তাআলা বিধান হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন, (مَنْ شَاءَ) অর্থাৎ: বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে তিনি চেয়েছেন, (مِنَ العِبَادِ، وَوَفَّقَ) এবং তাওফিক দিয়েছেন। আর তাওফিক হলো: আল্লাহ মানুষকে তার নিজের ওপর ছেড়ে না দেওয়া, (أَهْلَ طَاعَتِهِ لِلْعِبَادَةِ وَالسَّدَادِ) তাঁর অনুগত বান্দাদের ইবাদত ও সঠিকতার জন্য; অর্থাৎ: কথা ও কাজে সঠিকতা অবলম্বন।

(وَالصَّلاةُ) এবং দরুদ বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, আর তা হলো উচ্চ পরিষদে (ফেরেশতাদের মাঝে) তাঁর প্রতি আল্লাহর প্রশংসা, (وَالسَّلَامُ) অর্থাৎ: যাবতীয় ত্রুটি ও মন্দ হতে নিরাপত্তা (عَلَى سَيِّدِنَا) আমাদের নেতার ওপর। 'সায়্যিদ' হলেন তিনি, যিনি তাঁর কওম বা জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন, (مُحَمَّدٍ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর অসংখ্য প্রশংসনীয় গুণাবলী ও মহান বৈশিষ্ট্যের কারণে তাঁকে এ নামে নামকরণ করা হয়েছে, (الهَادِي) যিনি দিশারি হিসেবে পথপ্রদর্শন ও দিকনির্দেশনা দানকারী, (إِلَى طَرِيقِ الرَّشَادِ) সত্য পথের দিকে; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করেন) [আশ-শুরা: ৫২], (وَعَلَى آلِهِ) এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর, আর তাঁরা হলেন তাঁর দ্বীনের অনুসারীবৃন্দ; কেননা মহান আল্লাহ দ্বীনের অনুসারীদের ক্ষেত্রে 'আল' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেছেন: (ফিরআউনের অনুসারীদের কঠোরতম আজাবে প্রবেশ করাও) [গাফির: ৪৬]। তাঁর থেকে বর্ণিত রয়েছে এবং শাইখুল ইসলাম এটিই পছন্দ করেছেন যে: তাঁরা হলেন তাঁর আহলে বায়ত (পরিবারের সদস্যগণ)।

(وَ) এবং (صَحْبِهِ) তাঁর সাহাবীগণের ওপর, যা 'সাহিব' শব্দের বহুবচন এবং সাহাবী অর্থ প্রকাশ করে: তিনি হলেন ঐ ব্যক্তি যিনি মুমিন অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সেই ঈমানের ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন, (السَّادَةِ) নেতৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বসম্পন্ন, (القَادَةِ) অর্থাৎ: যাদের অনুসরণ করা হয়, (الأَمْجَادِ) যা 'মাজিদ' শব্দের বহুবচন, আর 'মাজদ' হলো মর্যাদা ও সম্মান লাভ করা। সুতরাং তিনি গুণান্বিত করেছেন...
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ১১)
الصَّحابة رضي الله عنهم بثلاثة أوصافٍ يستحقُّونها وأكثرَ، وقد أثنى الله عليهم في كتابه دون قيدٍ فقال: (وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ) [التوبة: 100]، (وَعَلَى تَابِعِيهِمْ) أي: تابع الصَّحب في الاعتقاد والأقوال والأفعال، وقد أثنى الله عليهم بقيدٍ فقال: (وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا) [التوبة: 100]، ولذا قال المؤلِّف: (بِإِحْسَانٍ)، فهنيئًا لمن أحسن في اتِّباع الصَّحابة الكرام يوم القرار، ومن يخالف طريقهم فقال الله تعالى في حقِّه: (ومن يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا) [النساء: 115]، فاللَّهُمَّ صلِّ عليهم (صَلَاةً دَائِمَةً مُتَّصِلَةً) لا ينقطع مددها (إِلَى يَوْمِ المَعَادِ) أي: القيامة.

(أَمَّا بَعْدُ)، بالبناء على الضَّمِّ، أي: بعْدَ ما ذُكر من حَمْد الله والصَّلاة والسَّلام على رسوله، وهي كلمةٌ يُؤْتَى بها للشُّروع في المقصود، ويُسْتَحَبُّ الإتيان بها في المكاتبات؛ اقتداءً به صلى الله عليه وسلم.

(فَقَدِ اسْتَخَرْتُ اللهَ تَعَالَى) أي: طلبت منه الخيرة في أمري، (فِي جَمْعِ مُخْتَصَرٍ) وهو ما قلَّ لفظه وكثر معناه، (مُفِيدٍ، مُقْتَصِرًا فِيهِ عَلَى) بيان أحكام (العِبَادَاتِ؛ تَرْغِيبًا لِلمُرِيدِ، وَتَقْرِيبًا لِلمُسْتَفِيدِ، فِي فِقْهِ) مذهب (الإِمَامِ) أي:
সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তিনটি গুণের অধিকারী এবং এর চেয়েও বেশি, আর আল্লাহ তাঁর কিতাবে কোনো শর্ত ছাড়াই তাঁদের প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন: (মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী) [আত-তাওবাহ: ১০০], (এবং তাঁদের অনুসারীদের ওপর) অর্থাৎ: যারা বিশ্বাস, কথা ও কাজে সাহাবীগণের অনুসরণ করেছেন। আর আল্লাহ তাঁদের (অনুসারীদের) প্রশংসা করেছেন একটি শর্তের সাথে, তিনি বলেছেন: (আর যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে—আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে; আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে) [আত-তাওবাহ: ১০০]। এইজন্যই লেখক বলেছেন: (নিষ্ঠার সাথে), অতএব তাদের জন্য সুসংবাদ যারা পরকালে সম্মানিত সাহাবীগণের সার্থকভাবে অনুসরণ করেছে। আর যে কেউ তাঁদের পথের বিরোধিতা করবে, আল্লাহ তাআলা তার ব্যাপারে বলেছেন: (হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর যে ব্যক্তি রাসূলের বিরোধিতা করবে এবং মুমিনদের পথ ছেড়ে অন্য পথ অনুসরণ করবে, আমি তাকে সেই পথেই ছেড়ে দেব যা সে বেছে নিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব, আর তা কতই না মন্দ আবাস) [আন-নিসা: ১১৫]। অতএব হে আল্লাহ! আপনি তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন (চিরস্থায়ী ও অবিচ্ছিন্ন রহমত) যার ধারা কখনও বিচ্ছিন্ন হবে না (প্রত্যাবর্তনের দিন পর্যন্ত) অর্থাৎ: কিয়ামত দিবস।

(অতঃপর), এটি যম্মাহর ওপর ভিত্তি করে গঠিত, অর্থাৎ: আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর রাসূলের ওপর দরুদ ও সালাম যা আগে উল্লেখ করা হয়েছে তার পর। এটি এমন একটি শব্দ যা মূল বিষয়ে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত হয়, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে পত্রালিতে এটি নিয়ে আসা মুস্তাহাব।

(আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি) অর্থাৎ: আমার বিষয়ে তাঁর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করেছি, (একটি সংক্ষিপ্তসার সংকলন করার ক্ষেত্রে) যা শব্দে অল্প কিন্তু অর্থে ব্যাপক, (উপকারী, যাতে আমি শুধুমাত্র) (ইবাদতের) বিধান বর্ণনার ওপর (সীমাবদ্ধ থেকেছি; যা ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য অনুপ্রেরণা এবং জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য সহজবোধ্য হবে, ইমামের) মাযহাবের (ফিকহ শাস্ত্রে) অর্থাৎ:
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ১২)
المقتدى (المُبَجَّلِ) أي: المعظَّم (أَبِي عَبْدِالله أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ) الشَّيبانيِّ، (وَسَمَّيْتُهُ) أي: هذا الكتاب: («بِدَايَةَ العَابِدِ وَكِفَايَةَ الزَّاهِدِ»، وَمِنَ الله تَعَالَى) لا من غيره (أَرْتَجِي لَهُ) أي: لهذا الكتاب (القَبُولَ، وَالنَّفْعَ لِكُلِّ مَنِ اشْتَغَلَ بِهِ؛ مِنْ سَائِلٍ وَمَسْؤُولٍ، إِنَّهُ) تبارك وتعالى (أَكْرَمُ مَأْمُولٍ)
অনুসরণীয় ইমাম (সম্মানিত) অর্থাৎ: মর্যাদাবান (আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল) আশ-শায়বানী, (আর আমি এর নামকরণ করেছি) অর্থাৎ: এই কিতাবটির: («ইবাদতকারীর সূচনা ও দুনিয়াবিমুখের জন্য পর্যাপ্ততা», এবং মহান আল্লাহর নিকট থেকে) অন্য কারো নিকট থেকে নয় (আমি এর জন্য আশা করি) অর্থাৎ: এই কিতাবটির জন্য (কবুলিয়াত এবং উপকার; তাদের প্রত্যেকের জন্য যারা এর চর্চায় নিয়োজিত হবে; চাই সে প্রশ্নকারী হোক কিংবা উত্তরদাতা। নিশ্চয়ই তিনি) বরকতময় ও সুমহান (সর্বশ্রেষ্ঠ আশার স্থল)।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌(كِتَابُ الطَّهَارَةِ)

-‌‌ مسألةٌ: الطَّهارة لغةً: النَّظافة والنَّزاهة عن الأقذار.

(وَهِيَ) في الاصطلاح تُطْلَق على أمرين:

1 - (ارْتِفَاعُ الحَدَثِ)، والحدث: هو الوصف القائم بالبدن المانع من الصَّلاة ونحوها.

2 - (وَزَوَالُ الخَبَثِ)، أي: النَّجاسة.

 

-‌‌ مسألةٌ: (وَ) تنقسم (المِيَاهُ) باعتبار ما تتنوَّع إليه في الشَّرع إلى (ثَلَاثَةِ) أقسامٍ: (طَهُورٍ، وَطَاهِرٍ، وَنَجِسٍ)؛ لقوله تعالى: (وينزل عليكم من السماء ماء ليطهركم به) [الأنفال: 11]، فوصف الماء بوصفٍ زائدٍ؛ وهو كونه مطهِّرًا لغيره.

وعنه، واختاره شيخ الإسلام: أنَّ المياه تنقسم إلى قسمين: طهورٌ، ونجسٌ؛ لحديث أبي سعيدٍ الخدريِّ رضي الله عنه مرفوعًا: «الماءُ طَهُورٌ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ» [أحمدُ 11257، وأبو داودَ 66، والترمذيُّ 66، والنسائيُّ 326].
‌‌(পবিত্রতা অধ্যায়)

-‌‌ মাসআলা: শাব্দিক অর্থে পবিত্রতা (তাহারাত): পরিচ্ছন্নতা এবং ময়লা-আবর্জনা থেকে মুক্ত হওয়া।

(আর এটি) পারিভাষিক পরিভাষায় দুটি বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয়:

১ - (হাদাস বা নাপাকি দূর হওয়া); হাদাস হলো: শরীরের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন একটি অবস্থা যা নামাজ ও এই জাতীয় ইবাদত পালনে বাধা প্রদান করে।

২ - (এবং অপবিত্রতা দূরীভূত হওয়া), অর্থাৎ: নাজাসাত।

 

-‌‌ মাসআলা: শরয়ি প্রকারভেদ অনুযায়ী (পানি) (তিন) ভাগে বিভক্ত: (তাহুর বা পবিত্রকারী, তাহির বা পবিত্র এবং নাজিস বা অপবিত্র); মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: (এবং তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর পানি বর্ষণ করেন যাতে তা দিয়ে তোমাদের পবিত্র করতে পারেন) [আনফাল: ১১]। এখানে পানির একটি অতিরিক্ত গুণ বর্ণনা করা হয়েছে; আর তা হলো পানির অন্যকে পবিত্র করার ক্ষমতা।

ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত অপর এক বর্ণনায় এসেছে এবং শায়খুল ইসলাম এটিকেই পছন্দ করেছেন যে: পানি দুই ভাগে বিভক্ত: তাহুর (পবিত্রকারী) এবং নাজিস (অপবিত্র); আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসের কারণে: «পানি পবিত্রকারী, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না» [আহমাদ ১১২৫৭, আবু দাউদ ৬৬, তিরমিযি ৬৬, নাসায়ি ৩২৬]।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
(فَـ)‌‌ القسم الأَوَّلُ: (الطَّهُورُ)، أي: الطَّاهر في ذاته المطهِّر لغيره، و (هُوَ البَاقِي عَلَى خِلْقَتِهِ) أي: صفته الَّتي خُلِقَ عليها، إمَّا حقيقةً: بأن يبقى على ما وُجِدَ عليه من برودةٍ، أو ملوحةٍ، ونحوهما، أو حكمًا: بأن طرأ عليه شيءٌ لا يسلُبه الطَّهوريَّة، كالمتغيِّر بغير ممازجٍ ونحوه.

و(طَهُورٌ) بفتح الطَّاء: الطَّاهر (فِي نَفْسِهِ)، الـ (مُطَهِّرُ لِغَيْرِهِ)، فهو من الأسماء المتعدِّية، قال تعالى: {وينزل عليكم من السماء ماء ليطهركم به} [الأنفال: 11]، ولحديث أبي هريرةَ رضي الله عنه قال: سأل رجلٌ رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: إنَّا نركب البحر، ونحمل معنا القليل من الماء، فإن توضَّأنا به عطشنا، أفنتوضَّأ من ماء البحر؟ فقال النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ، الحِلُّ مَيْتَتُهُ» [أحمدُ 8735، وأبو داودَ 83، والترمذيُّ 69، والنَّسائيُّ 59، وابن ماجهْ 386]، ولو لم يكن متعدِّيًا بمعنى المطهِّر لم يكن ذلك جوابًا للقوم حين سألوه عن الوضوء به، إذ ليس كلُّ طاهرٍ مطهِّرًا.

 

-‌‌ مسألةٌ: (يَجُوزُ اسْتِعْمَالُهُ) أي: الماء الطَّهور (مُطْلَقًا) أي: في رفع الحدث وإزالة خبثٍ وغير ذلك، فحكمه أنَّه:

1 - لا يرفع الحدثَ غيرُه؛ لقوله تعالى: (فلم تجدوا ماءً فتيمَّموا).

2 - ولا يُزِيلُ النَّجسَ الطَّارئَ غيرُه؛ لأمر النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم أن يهراق على بول الأعرابيِّ ذنوبًا من ماءٍ. [البخاريُّ 221، ومسلمٌ 2004].
(অতএব)‌‌ প্রথম পরিচ্ছেদ: (পবিত্র ও পবিত্রকারী পানি), অর্থাৎ: যা স্বয়ং পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী। আর (তা হচ্ছে যা স্বীয় সৃষ্টির আদি অবস্থার ওপর বিদ্যমান রয়েছে) অর্থাৎ: যে বৈশিষ্ট্যের ওপর তা সৃষ্টি করা হয়েছে; চাই তা প্রকৃতগতভাবে হোক: যেমন তা সৃষ্টির সময় প্রাপ্ত শীতলতা বা লবণাক্ততা ও অনুরূপ গুণের ওপর অবশিষ্ট থাকা, অথবা বিধানগতভাবে হোক: যেমন পানির ওপর এমন কিছু আপতিত হওয়া যা তার পবিত্রকারী হওয়ার গুণকে ছিনিয়ে নেয় না, যেমন কোনো কিছু মিশে যাওয়া ছাড়াই পরিবর্তিত হওয়া ইত্যাদি।

এবং 'ত্বহুর' শব্দটি ত্ব-বর্ণে জবর যোগে: যা (স্বয়ং) পবিত্র এবং (অন্যকে পবিত্রকারী)। সুতরাং এটি সকর্মক বিশেষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং তিনি আকাশ হতে তোমাদের ওপর পানি বর্ষণ করেন যাতে এর মাধ্যমে তোমাদের পবিত্র করতে পারেন} [আনফাল: ১১]। আর আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমরা সমুদ্রে সফর করি এবং আমাদের সাথে সামান্য পানি বহন করি, যদি আমরা তা দিয়ে অজু করি তবে আমরা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ব, এমতাবস্থায় আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে অজু করতে পারি? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «এর পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী এবং এর মৃত প্রাণী হালাল» [আহমাদ ৮৭৩৫, আবু দাউদ ৮৩, তিরমিজি ৬৯, নাসায়ি ৫৯, ইবনে মাজাহ ৩৮৬]। আর যদি এটি ‘পবিত্রকারী’ অর্থে সকর্মক না হতো, তবে যখন তারা সমুদ্রের পানি দিয়ে অজু করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিল তখন এটি তাদের জন্য সঠিক উত্তর হতো না; কারণ প্রত্যেক পবিত্র বস্তু অন্যকে পবিত্রকারী নয়।

 

-‌‌ মাসআলা: (এর ব্যবহার জায়েজ) অর্থাৎ: পবিত্র ও পবিত্রকারী পানির ব্যবহার (নিঃশর্তভাবে বৈধ) অর্থাৎ: হাদাস বা অপবিত্রতা দূর করতে, নাপাকি দূর করতে এবং এছাড়া অন্যান্য কাজে। সুতরাং এর হুকুম হলো:

১ - এটি ছাড়া অন্য কিছু হাদাস বা অপবিত্রতা দূর করে না; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: (অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে তায়াম্মুম করো)।

২ - এবং এটি ছাড়া অন্য কিছু আপতিত নাপাকি দূর করে না; যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক বেদুঈনের পেশাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। [বুখারি ২২১, মুসলিম ২০০৪]।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
واختار شيخ الإسلام: أنَّ النَّجاسةَ تُزَال بأيِّ مزيلٍ، ويأتي في باب إزالة النَّجاسة.

 

(وَ)‌‌ القسم الثَّانِي من أقسام المياه: (الطَّاهِرُ) وهو (مَا تَغَيَّرَ كَثِيرٌ مِنْ لَوْنِهِ، أَوْ طَعْمِهِ، أَوْ رِيحِهِ بِطَاهِرٍ)؛ كزعفرانٍ ولبنٍ، (وَهُوَ طَاهِرٌ فِي نَفْسِهِ غَيْرُ مُطَهِّرٍ لِغَيْرِهِ)؛ لأنَّه ليس بماءٍ مطلقٍ.

وعلى الرِّواية الثَّانية الَّتي اختارها شيخ الإسلام: يجوز التَّطهُّر به مادام اسمُ الماء باقيًا عليه؛ لحديث أمِّ هانيءٍ رضي الله عنها: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اغْتَسَلَ وَمَيْمُونَةَ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ فِي قَصْعَةٍ فِيهَا أَثَرُ العَجِينِ» [أحمد 26893، والنسائي 240، وابن ماجهْ 378].

(يَجُوزُ اسْتِعْمَالُهُ فِي غَيْرِ رَفْعِ حَدَثٍ وَزَوَالِ خَبَثٍ)؛ كالأكل والشُّرب، فلا يرفع الحدثَ ولا يزيل الخبثَ؛ لما تقدَّم.

 

(وَ)‌‌ القسم الثَّالِثُ من أقسام المياه: (النَّجِسُ)، وَهُوَ (مَا تَغَيَّرَ بِنَجَاسَةٍ) قليلًا كان الماء أو كثيرًا، وحكى ابن المنذر الإجماعَ عليه، (فِي غَيْرِ مَحَلِّ تَطْهِيرٍ)، أمَّا إذا كان الماء الملاقي للنَّجاسة في محلِّ التَّطهير فلا ينجس؛ لضرورة التَّطهير.
শাইখুল ইসলাম চয়ন করেছেন যে: অপবিত্রতা যেকোনো দূরকারক বস্তু দ্বারা দূর করা যায় এবং এটি অপবিত্রতা দূরীকরণ অধ্যায়ে আসবে।

 

(এবং)‌‌ পানির প্রকারসমূহের দ্বিতীয় প্রকার: (পবিত্র পানি) তা হলো (যার রঙ, স্বাদ অথবা গন্ধের অধিকাংশ কোনো পবিত্র বস্তুর সংমিশ্রণে পরিবর্তিত হয়ে গেছে); যেমন জাফরান এবং দুধ, (এবং তা সত্তাগতভাবে পবিত্র কিন্তু অন্যকে পবিত্রকারী নয়); কারণ এটি নিরঙ্কুশ পানি নয়।

শাইখুল ইসলামের চয়নকৃত দ্বিতীয় বর্ণনা অনুযায়ী: যতক্ষণ পর্যন্ত এর ওপর পানির নাম বহাল থাকে, ততক্ষণ তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ; উম্মে হানি (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর হাদিসের কারণে: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং মায়মুনা একই পাত্র হতে একটি বড় গামলায় গোসল করেছেন যাতে আটার চিহ্ন ছিল» [আহমাদ ২৬৮৯৩, নাসায়ি ২৪০, ইবনে মাজাহ ৩৭৮]।

(হাদাস দূরীকরণ এবং নাপাকি বিদূরণ ব্যতীত অন্য কাজে এর ব্যবহার বৈধ); যেমন পানাহার, সুতরাং তা হাদাস দূর করে না এবং নাপাকিও বিদূরণ করে না; যা পূর্বে আলোচিত হয়েছে তার কারণে।

 

(এবং)‌‌ পানির প্রকারসমূহের তৃতীয় প্রকার: (নাপাক পানি), তা হলো (যা নাপাকির কারণে পরিবর্তিত হয়ে যায়) পানি অল্প হোক বা বেশি, এবং ইবনুল মুনযির এ বিষয়ে ইজমা বর্ণনা করেছেন, (পবিত্র করার স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে), পক্ষান্তরে যদি নাপাকির সংস্পর্শে আসা পানিটি পবিত্র করার স্থানে হয়, তবে তা নাপাক হবে না; পবিত্র করার প্রয়োজনীয়তার কারণে।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
(وَيَحْرُمُ اسْتِعْمَالُهُ مُطْلَقًا) أي: في العبادات وغيرها، ولو لم يُوجَد غيرُه؛ لقوله تعالى: (ويحرِّم عليهم الخبائث) [الأعراف: 157]، والنَّجس خبيثٌ، (إِلَّا لِضَرُورَةٍ) كدفع غُصَّةٍ؛ لأنَّ الضَّرورات تبيح المحظورات.

 

‌‌مسألةٌ: (وَ) الماء (الكَثِيرُ) إذا أُطْلِقَ: (قُلَّتَانِ) من قلال هَجَر (فَأَكْثَرُ، وَ) الماء (اليَسِيرُ مَا) كان (دُونَهُمَا) أي: دون القلَّتين، (وَهُمَا) أي: القُلَّتان: (مِئَةُ رِطْلٍ وَسَبْعَةُ أَرْطَالٍ وَسُبُعُ رِطْلٍ بِالدِّمَشْقِيِّ، وَمَا وَافَقَهُ)، وهي تساوي: خمسمائة رطلٍ عراقيٍّ، والرّطل العراقيُّ بالمثاقيل يساوي 90 مثقالًا، فـ (500 رطلٍ × 90) = 45 ألفَ مثقالٍ.

والمثقال حُرِّرَ الآن بالغرامات، فيساوي (4.250) غرام، فالقُلَّتَان: (4.250 × 45 ألف) = 191250 غرام = (191،25) كيلًا.
(এবং এর ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে হারাম) অর্থাৎ: ইবাদত বা অন্য কিছুতে, যদিও তা ছাড়া অন্য কিছু পাওয়া না যায়; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: (এবং তিনি তাদের ওপর অপবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম করেন) [আরাফ: ১৫৭], আর নাপাক বস্তু অপবিত্র, (অপরিহার্য প্রয়োজন ব্যতীত) যেমন গলায় আটকে যাওয়া খাদ্য নামানোর জন্য; কেননা বিশেষ প্রয়োজন নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে বৈধ করে দেয়।

 

‌‌মাসয়ালা: (এবং) (অধিক) পানি যখন সাধারণভাবে বলা হয় তখন তা: (দুই কুল্লা) হাজর অঞ্চলের মটকার হিসেবে (বা তার বেশি, এবং) (অল্প) পানি (যা) হয় (তার চেয়ে কম) অর্থাৎ: দুই কুল্লার কম। (আর তা) অর্থাৎ দুই কুল্লা হলো: (দিমাশকী পরিমাপে একশ সাত রতল এবং এক রতলের সাত ভাগের এক ভাগ, এবং যা তার অনুরূপ), যা পাঁচশ ইরাকি রতলের সমান। আর ইরাকি রতল মিসকালের হিসেবে ৯০ মিসকালের সমান, সুতরাং (৫০০ রতল × ৯০) = ৪৫ হাজার মিসকাল।

বর্তমানে মিসকালকে গ্রামের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়েছে, যা (৪.২৫০) গ্রামের সমান। অতএব দুই কুল্লা: (৪.২৫০ × ৪৫ হাজার) = ১৯১২৫০ গ্রাম = (১৯১.২৫) কেজি।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌فَصْلٌ

في أحكام الآنية

- ضابطٌ: الأصل في الآنية الطَّهارة؛ لأنَّ الأصل في الأشياء كلِّها الطَّهارة.

- ضابطٌ: (وَكُلُّ إِنَاءٍ طَاهِرٍ) كالخشب، ولو ثمينًا كالجوهر (يُبَاحُ اتِّخَاذُهُ وَاسْتِعْمَالُهُ) بلا كراهةٍ؛ لأنَّ الأصل في الأشياء الحلُّ.

والاتِّخاذ: مجرد الاقتناء ولو لم يباشره بالانتفاع، والاستعمال: مباشرته بالانتفاع.

 

-‌‌ فرعٌ: كلُّ إناءٍ يُبَاح اتِّخاذه واستعماله (غَيْرَ):

الأوَّل: آنيةُ (ذَهَبٍ وَفِضَّةٍ)، خالصٍ أو غير خالصٍ، فيحرم؛ لحديث حذيفةَ بن اليمان رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لَا تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالفِضَّةِ، وَلَا تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهِمَا؛ فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا، وَلَكُم فِي الآخِرَةِ» [البخاري: 5633، ومسلم: 2067].

الثاني: جِلدُ الآدميِّ وعظمُه فيحرم؛ لحرمته.

 

-‌‌ مسألةٌ: استعمال آنية الذَّهب والفضَّة على ثلاثة أقسامٍ:
পরিচ্ছেদ

পাত্রের বিধানাবলি প্রসঙ্গে

- মূলনীতি: পাত্রের ক্ষেত্রে মূল হলো পবিত্রতা; কারণ সকল বস্তুর ক্ষেত্রেই মূল নীতি হলো পবিত্রতা।

- মূলনীতি: (এবং প্রতিটি পবিত্র পাত্র) যেমন কাঠ, যদিও তা মণি-মুক্তার মতো মূল্যবান হয় (তা সংগ্রহে রাখা এবং ব্যবহার করা বৈধ) কোনো প্রকার অপছন্দনীয়তা ছাড়াই; কারণ সকল বস্তুর ক্ষেত্রে মূল হলো বৈধতা।

সংগ্রহে রাখা বলতে বুঝায়: কেবল মালিকানায় রাখা যদিও তা থেকে সরাসরি উপকার গ্রহণ করা না হয়, আর ব্যবহার হলো: সরাসরি তা থেকে উপকার গ্রহণ করা।

 

-‌‌ আনুষঙ্গিক শাখা: প্রতিটি পাত্রই সংগ্রহে রাখা এবং ব্যবহার করা বৈধ (ব্যতীত):

প্রথমত: (স্বর্ণ ও রৌপ্যের) পাত্র, খাঁটি হোক বা মিশ্রিত, তা ব্যবহার করা হারাম; হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর হাদীসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমরা স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে পান করো না এবং তাদের থালায় আহার করো না; কেননা এগুলো দুনিয়াতে তাদের জন্য এবং আখিরাতে তোমাদের জন্য» [বুখারী: ৫৬৩৩, মুসলিম: ২০৬৭]।

দ্বিতীয়ত: মানুষের চামড়া ও হাড়, যা ব্যবহার করা হারাম; এর মর্যাদার কারণে।

 

-‌‌ মাসআলা: স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রের ব্যবহার তিন প্রকার:
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌القسم الأوَّل: استعمالها في الأكل والشُّرب: فيحرم، وقد حُكِيَ الإجماع على ذلك؛ لحديث حذيفةَ السَّابق.

‌‌القسم الثَّاني: استعمالها في غير الأكل والشُّرب؛ كاستعمالها في الطَّهارة، أو حفظ الأشياء كالمحبرة: فيحرم باتِّفاق الأئمَّة؛ إلحاقًا لها بالأكل والشُّرب.

‌‌القسم الثَّالث: اتِّخاذها دون المباشرة بالاستعمال: فيحرم عند جمهور العلماء؛ لما تقدَّم.

واختار الشَّوكانيُّ، والصَّنعانيُّ، وابنُ عثيمينَ: جواز اتِّخاذ آنية الذَّهب والفضَّة، وجواز استعمالها في غير الأكل والشُّرب؛ لما روى عثمانُ بن عبد الله بن موهبٍ، قَالَ: «أَرْسَلَنِي أَهْلِي إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِقَدَحٍ مِنْ مَاءٍ مِنْ فِضَّةٍ فِيهِ شَعَرٌ مِنْ شَعَرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَكَانَ إِذَا أَصَابَ الإِنْسَانَ عَيْنٌ أَوْ شَيْءٌ بَعَثَ إِلَيْهَا مِخْضَبَهُ» [البخاري: 5896]؛ ولأنَّ النَّهي ورد في الأكل والشُّرب خاصَّةً فلا يُلْحَق به غيرُه.
প্রথম ভাগ: পান ও আহারে এগুলোর ব্যবহার: এটি হারাম, এবং এ বিষয়ে ইজমা (ঐকমত্য) বর্ণিত হয়েছে; হুযাইফা (রাযি.)-এর পূর্বোক্ত হাদীসের কারণে।

দ্বিতীয় ভাগ: পান ও আহার ব্যতীত অন্য কাজে এগুলোর ব্যবহার; যেমন পবিত্রতা অর্জনে ব্যবহার করা, অথবা দোয়াতের মতো কোনো কিছু সংরক্ষণে ব্যবহার করা: এটি ইমামগণের ঐকমত্যে হারাম; পান ও আহারের বিষয়ের সাথে একে সংযুক্ত করার কারণে।

তৃতীয় ভাগ: সরাসরি ব্যবহার ছাড়াই এগুলো সংগ্রহে রাখা: জুমহুর উলামায়ে কেরামের মতে এটি হারাম; ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে সেই কারণে।

শাওকানী, সানআনী এবং ইবনে উসাইমীন সোনা ও রূপার পাত্র সংগ্রহে রাখা এবং পান ও আহার ব্যতীত অন্য কাজে সেগুলোর ব্যবহারের বৈধতার মত গ্রহণ করেছেন; যেহেতু উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাওহাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমার পরিবার আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মে সালামাহর কাছে রূপার একটি পানির পাত্র নিয়ে পাঠিয়েছিলেন, যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র চুল রক্ষিত ছিল। যখন কোনো ব্যক্তি কুদৃষ্টি বা অন্য কোনো সমস্যায় আক্রান্ত হতো, তখন সে তার পানির পাত্রটি উম্মে সালামাহর কাছে পাঠিয়ে দিত» [বুখারী: ৫৮৯৬]; এবং যেহেতু নিষেধাজ্ঞা বিশেষভাবে পান ও আহারের ক্ষেত্রে এসেছে, তাই অন্য কোনো বিষয়কে এর অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌(فَصْلٌ)

في آداب دخول الخلاء وأحكام الاستنجاء

-‌‌ مسألةٌ: (وَالِاسْتِنَجَاءُ) لغةً: القطع، واصطلاحًا: (إِزَالَةُ مَا خَرَجَ مِنْ سَبِيلٍ بِمَاءٍ) طهورٍ، (أَوْ) بـ (حَجَرٍ وَنَحْوِهِ)؛ كخرقٍ.

- ضابطٌ: (وَهُوَ) أي: الاستنجاء بماءٍ أو حجرٍ ونحوِه (وَاجِبٌ مِنْ كُلِّ خَارِجٍ) من سبيلٍ، قليلًا كان أو كثيرًا، إذا أراد الصَّلاة ونحوها؛ لحديث سلمانَ رضي الله عنه: «نَهَانَا أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِأَقَلَّ مِنْ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ» [مسلم: 262].

- ضابطٌ: يجب الاستنجاء لكلِّ خارجٍ (إِلَّا) ثلاثة أمورٍ:

1 - (الرِّيحَ)، قال الإمام أحمدُ: (ليس في الرِّيح استنجاءٌ في كتاب الله، ولا في سنَّة رسوله).

2 - (وَالطَّاهِرَ)، كالمنيِّ؛ لأنَّ الاستنجاء إنَّما شُرِع لإزالة النَّجاسة، ولا نجاسةَ فيها.

3 - (وَغَيْرَ المُلَوِّثِ)، كالبعر النَّاشف؛ لما تقدَّم.
(অনুচ্ছেদ)

শৌচাগারে প্রবেশের আদবসমূহ এবং ইসতিনজার বিধানাবলী প্রসঙ্গে

-‌‌ মাসআলা: (ইসতিনজা) শাব্দিক অর্থে: বিচ্ছিন্ন করা, আর পারিভাষিক অর্থে: (রাস্তা দিয়ে যা নির্গত হয়েছে তা দূর করা) পবিত্র (পানি দ্বারা), (অথবা) (পাথর ও তদ্রূপ বস্তু) দ্বারা; যেমন কাপড়ের টুকরা।

- মূলনীতি: (আর তা) অর্থাৎ: পানি বা পাথর ও তদ্রূপ বস্তু দ্বারা ইসতিনজা করা (রাস্তা দিয়ে নির্গত হওয়া প্রত্যেকটি বস্তুর ক্ষেত্রে ওয়াজিব), তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি, যখন সে সালাত বা তদ্রূপ কিছুর ইচ্ছা করে; সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে: «তিনি আমাদের তিনটির কম পাথর দিয়ে ইসতিনজা করতে নিষেধ করেছেন» [মুসলিম: ২৬২]।

- মূলনীতি: নির্গত হওয়া প্রত্যেকটি বস্তুর জন্য ইসতিনজা ওয়াজিব, (ব্যতীত) তিনটি বিষয়:

১ - (বায়ু), ইমাম আহমাদ বলেন: (আল্লাহর কিতাবে কিংবা তাঁর রাসুলের সুন্নাহতে বায়ু নির্গত হওয়ার কারণে ইসতিনজা করার কোনো বিধান নেই)।

২ - (এবং পবিত্র বস্তু), যেমন বীর্য; কেননা ইসতিনজা কেবল অপবিত্রতা দূর করার জন্যই বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, আর বীর্যে কোনো অপবিত্রতা নেই।

৩ - (এবং যা লেপটে যায় না এমন বস্তু), যেমন শুকনো গোবর; পূর্বোক্ত কারণের ভিত্তিতে।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ২০)
-‌‌ مسألةٌ: (وَلَا يَصِحُّ الِاسْتِجَمَارُ إِلَّا) بثمانية شروطٍ:

‌‌الشَّرط الأوَّل: أن يكون الاستجمار (بِطَاهِرٍ)، فلا يصحُّ بنجسٍ؛ لقول ابن مسعودٍ رضي الله عنه: «أَتَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الغَائِطَ فَأَمَرَنِي أَنْ آتِيَهُ بِثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ، فَوَجَدْتُ حَجَرَيْنِ، وَالتَمَسْتُ الثَّالِثَ فَلَمْ أَجِدْهُ، فَأَخَذْتُ رَوْثَةً فَأَتَيْتُهُ بِهَا، فَأَخَذَ الحَجَرَيْنِ وَأَلْقَى الرَّوْثَةَ، وَقَالَ: هَذَا رِكْسٌ» يعني: نجسٌ [البخاري: 156].

‌‌والشَّرط الثَّاني: أن يكون بشيءٍ (مُبَاحٍ)، فلا يصحُّ بمغصوبٍ؛ لأنَّ الاستجمار رخصةٌ، والرُّخَص لا تُسْتَبَاح على وجهٍ محرَّمٍ، وهذا من المفردات.

وعنه، وفاقًا للثَّلاثة: يصحُّ؛ لأنَّ النَّهي يعود إلى شرط العبادة على وجهٍ لا يختصُّ.

 

‌‌والشَّرط الثَّالث: أن يكون بشيءٍ (يَابِسٍ)، فلا يصحُّ بليِّنٍ لا يُنقِي؛ والمقصود من الاستجمار الإنقاء.

‌‌والشَّرط الرَّابع: أن يكون بشيءٍ (مُنَقٍّ)، فلا يصحُّ بأملسَ كزجاجٍ؛ لأنَّ المقصود من الاستجمار الإنقاء، وهذا لا يُنقي.

- فرعٌ: (فَالإِنْقَاءُ بِحَجَرٍ وَنَحْوِهِ أَنْ يَبْقَى أَثَرٌ لَا يُزِيلُهُ إِلَّا المَاءُ).

(وَشُرِطَ لَهُ) أي: للاستجمار شرطٌ خامسٌ: أن يكون بـ (ثَلَاثِ مَسَحَاتٍ
একটি মাসআলা: (ইস্তিজমার বা পাথর দ্বারা শৌচকার্য সঠিক হবে না কেবল) আটটি শর্তের মাধ্যমে:

প্রথম শর্ত: ইস্তিজমার হতে হবে (পবিত্র বস্তু দ্বারা), সুতরাং অপবিত্র বস্তু দ্বারা তা সঠিক হবে না; ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বাণীর কারণে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মলত্যাগের স্থানে আসলেন এবং আমাকে তিনটি পাথর আনতে নির্দেশ দিলেন। আমি দুটি পাথর পেলাম এবং তৃতীয়টি তালাশ করলাম কিন্তু তা পেলাম না। তখন আমি একটি শুকনো গোবর নিয়ে তাঁর কাছে আসলাম। তিনি পাথর দুটি গ্রহণ করলেন এবং গোবরটি ফেলে দিলেন, আর বললেন: এটি অপবিত্র।" অর্থাৎ: নাপাক [বুখারি: ১৫৬]।

দ্বিতীয় শর্ত: (বৈধ) বস্তু হতে হবে, সুতরাং জবরদখলকৃত বস্তু দ্বারা তা সঠিক হবে না; কারণ ইস্তিজমার হলো একটি সহজসাধ্য অনুমতি (রুখসাত), আর সহজসাধ্য অনুমতি হারাস পন্থায় বৈধ হয় না। এটি ইমাম আহমাদের একক অভিমতগুলোর (মুফরাদাত) অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর থেকে বর্ণিত অপর বর্ণনায় এবং তিন ইমামের ঐকমত্যে: এটি সঠিক হবে; কারণ নিষেধাজ্ঞাটি ইবাদতের এমন একটি শর্তের দিকে ফিরে যায় যা কেবল এই ইবাদতের সাথে সুনির্দিষ্ট নয়।

 

তৃতীয় শর্ত: (শুষ্ক) বস্তু হতে হবে, সুতরাং এমন নরম কিছু দ্বারা সঠিক হবে না যা পরিষ্কার করে না; আর ইস্তিজমারের উদ্দেশ্য হলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা।

চতুর্থ শর্ত: (পরিষ্কারক) বস্তু হতে হবে, সুতরাং কাঁচের মতো মসৃণ বস্তু দিয়ে সঠিক হবে না; কারণ ইস্তিজমারের উদ্দেশ্য হলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা, আর এটি পরিষ্কার করে না।

- শাখা মাসআলা: (পাথর বা অনুরূপ বস্তু দ্বারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অর্থ হলো এমন সামান্য চিহ্ন অবশিষ্ট থাকা যা পানি ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে দূর করা যায় না)।

(এবং এর জন্য শর্ত করা হয়েছে) অর্থাৎ: ইস্তিজমারের জন্য পঞ্চম শর্ত: তা হতে হবে (তিনবার মোছার) মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ২১)
فَأَكْثَرَ مُنْقِيَةٍ)، فلا يجزئ أقلُّ منها؛ لقول سلمانَ رضي الله عنه: «نَهَانَا -يعني النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِأَقَلَّ مِنْ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ» [مسلم: 262].

 

‌‌(وَ) الشَّرط السَّادس: (عَدَمُ تَعَدِّي خَارِجٍ مَوْضِعَ العَادَةِ)، فإن انتشر الخارج على شيءٍ من الصَّفحة، أو امتدَّ إلى الحشفة امتدادًا غير معتادٍ فلا يجزئ فيه إلَّا الماء؛ لأنَّ الاستجمار رخصةٌ، فَتُقَدَّرُ بقدرها.

واختار شيخ الإسلام: يجزئ الاستجمار ولو انتشر، وليس للانتشار حدٌّ؛ لعموم أدلَّة الاستجمار، ولأنَّ الاستجمار مسحٌ وقد خُفِّف في أصله، فلا يُشَدَّد فيه.

- فرعٌ: (وَ) الإنقاء (بِمَاءٍ عَوْدُ المَحَلِّ كَمَا كَانَ، وَظَنُّهُ كَافٍ)؛ لأنَّ الظَّنَّ معمولٌ به في الشَّرع.

 

‌‌(وَ) الشَّرط السَّابع: ألَّا يكون روثًا أو عظمًا، ولو طاهرين، فإن فعل لم يجزئه، وإليه أشار بقوله: (حَرُمَ بِرَوْثٍ، وَعَظْمٍ)؛ لحديث ابن مسعودٍ رضي الله عنه مرفوعًا: «لَا تَسْتَنْجُوا بِالرَّوْثِ، وَلَا بِالعِظَامِ، فَإِنَّهُ زَادُ إِخْوَانِكُمْ مِنَ الجِنِّ» [الترمذي: 18]، والنَّهي يقتضي الفساد.

واختار شيخ الإسلام الإجزاء مع الإثم؛ لأنَّه لم يُنْهَ عنه لكونه لا يُنْقِي؛ بل لإفساده، ولأنَّ العلَّة النَّجاسة وقد زالت، والحكم يدور مع
...বা ততোধিক যা পরিষ্কারকারী হবে), এর চেয়ে কম যথেষ্ট হবে না; কারণ সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণনা: "তিনি—অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—আমাদেরকে তিনটির কম পাথর দিয়ে ইস্তিনজা করতে নিষেধ করেছেন" [মুসলিম: ২৬২]।

 

‌‌(এবং) ষষ্ঠ শর্ত: (নির্গত বস্তু স্বাভাবিক স্থান অতিক্রম না করা), যদি নির্গত বস্তু নিতম্বের কিনারায় ছড়িয়ে পড়ে অথবা লিঙ্গাগ্রের অস্বাভাবিক সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তবে পানি ছাড়া অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না; কারণ ইস্তিজমার বিধান একটি বিশেষ ছাড় (রুখসাত), তাই একে এর নির্ধারিত সীমা পর্যন্তই সীমিত রাখা হবে।

শাইখুল ইসলাম পছন্দ করেছেন যে: ছড়িয়ে পড়লেও ইস্তিজমার মাধ্যমে পবিত্র হওয়া যথেষ্ট হবে এবং এই ছড়িয়ে পড়ার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই; ইস্তিজমার দলীলসমূহের ব্যাপকতার কারণে এবং যেহেতু ইস্তিজমার ভিত্তি হলো মোছা এবং এর মূল বিধানেই সহজতা করা হয়েছে, তাই এতে কঠোরতা করা হবে না।

- একটি মাসআলা: (এবং) পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে (স্থানটি পূর্বের ন্যায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা আবশ্যক, এবং এই বিষয়ে প্রবল ধারণাই যথেষ্ট); কারণ শরীয়তে প্রবল ধারণার ওপর আমল করা হয়।

 

‌‌(এবং) সপ্তম শর্ত: গোবর বা হাড় না হওয়া, যদিও তা পবিত্র হয়, যদি কেউ এটি করে তবে তা যথেষ্ট হবে না, এবং তিনি একথাই ইঙ্গিত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: (গোবর এবং হাড় দিয়ে ইস্তিনজা করা হারাম); ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসের কারণে: "তোমরা গোবর এবং হাড় দিয়ে ইস্তিনজা করো না, কারণ তা তোমাদের জিন ভাইদের খাবার" [তিরমিযী: ১৮]। আর নিষেধ দ্বারা আমলের অসারতা প্রমাণিত হয়।

শাইখুল ইসলাম গুনাহ হওয়া সত্ত্বেও যথেষ্ট (পবিত্রতা অর্জিত) হওয়ার মত পোষণ করেছেন; কারণ এটি পরিষ্কার করতে পারে না বলে নিষিদ্ধ করা হয়নি, বরং তা (জিনের খাদ্যকে) নষ্ট করার কারণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া মূল কারণ হলো অপবিত্রতা এবং তা দূরীভূত হয়েছে। আর বিধান আবর্তিত হয়...
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ২২)
علَّته وجودًا وعدمًا.

 

‌‌(وَ) الشَّرط الثَّامن: ألَّا يكون بـ (طَعَامٍ وَلَوْ لِبَهِيمَةٍ)؛ لأنَّه عليه السلام علَّل المنع من الرَّوث والعظم بأنَّه زاد الجنِّ، فزادنا وزاد بهائمنا أَوْلى.

-‌‌ مسألةٌ: (وَلَا يَصِحُّ وُضُوءٌ وَلَا تَيَمُّمٌ قَبْلَهُ)، أي: قبل الاستنجاء؛ لحديث المقداد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يَغْسِلُ ذَكَرَهُ ثُمَّ لِيَتَوَضَّأْ» [النسائي 439]

وعنه، واختاره ابن قدامةَ: يصحُّ؛ لأنَّها إزالة نجاسةٍ فلم تُشْتَرَطْ لصحَّة الطَّهارة، والرِّواية المحفوظة: «يَغْسِلُ ذَكَرَهُ وَيَتَوَضَّأُ» [البخاري 269، ومسلم 303]، والواو لا تقتضي التَّرتيب.

 

-‌‌ مسألةٌ: (وَحَرُمَ) عند قضاء الحاجة:

1 - (لُبْثٌ) في الخلاء (فَوْقَ قَدْرِ حَاجَتِهِ)؛ لما فيه من كشف العورة بلا حاجةٍ.

وعنه: يُكْرَهُ؛ لما فيه من كشف العورة من غير حاجةٍ، ولا يحرم؛ لعدم الدَّليل على التَّحريم.

2 - (وَ) يحرم (تَغَوُّطُهُ بِمَاءٍ) قليلٍ أو كثيرٍ، راكدٍ أو جارٍ؛ لأنَّه يُقَذِّرُهُ
এর কারণ অস্তিত্বশীল হওয়া এবং অস্তিত্বহীন হওয়ার ক্ষেত্রে।

 

‌‌(এবং) অষ্টম শর্ত: তা যেন কোনো (খাদ্যদ্রব্য না হয়, এমনকি তা যদি চতুষ্পদ জন্তুর খাদ্যও হয়); কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গোবর এবং হাড় ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, তা জিনদের খাদ্য; সুতরাং আমাদের খাদ্য এবং আমাদের চতুষ্পদ জন্তুর খাদ্য আরও বেশি অগ্রাধিকারের সাথে নিষিদ্ধ।

-‌‌ একটি মাসআলা: (তার পূর্বে ওযু এবং তায়াম্মুম কোনোটিই সহীহ হবে না), অর্থাৎ: ইস্তিনজার পূর্বে; কেননা মিকদাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সে যেন তার লজ্জাস্থান ধৌত করে এবং অতঃপর ওযু করে।" [নাসায়ী ৪৩৯]

ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত অপর মতে—এবং এটিই ইবনে কুদামা পছন্দ করেছেন: সহীহ হবে; কারণ এটি অপবিত্রতা দূরীকরণ মাত্র, যা পবিত্রতা অর্জনের বৈধতার জন্য শর্ত নয়। আর সংরক্ষিত বর্ণনাটি হলো: "সে যেন তার লজ্জাস্থান ধৌত করে এবং ওযু করে" [বুখারী ২৬৯, মুসলিম ৩০৩], আর 'ওয়াও' (এবং) বর্ণটি ধারাবাহিকতার আবশ্যকতা বোঝায় না।

 

-‌‌ একটি মাসআলা: হাজত পূরণের সময় (হারাম):

১ - শৌচাগারে (প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা); কারণ এতে বিনাপ্রয়োজনে সতর উন্মুক্ত রাখা হয়।

তাঁর থেকে বর্ণিত অপর মতে: এটি মাকরূহ; কারণ এতে বিনাপ্রয়োজনে সতর উন্মুক্ত রাখা হয়, তবে তা হারাম নয়; কারণ হারামের সপক্ষে কোনো দলিল নেই।

২ - (এবং) হারাম হলো (পানির মধ্যে মলত্যাগ করা), পানি অল্প হোক বা অধিক, বদ্ধ হোক বা প্রবহমান; কারণ এটি পানিকে নোংরা করে দেয়।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ويمنع النَّاسَ الانتفاعَ به.

3 - (وَ) يحرم (بَوْلُهُ وَتَغَوُّطُهُ بِمَوْرِدِهِ)، أي: مورد الماء؛ لحديث معاذٍ رضي الله عنه قال: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: «اتَّقُوا المَلَاعِنَ الثَّلَاثَةَ: البَرَازَ فِي المَوَارِدِ، وَقَارِعَةِ الطَّرِيقِ، وَالظِّلِّ» [أبوداود 26، وابن ماجهْ 328].

4 - (وَ) يحرم بَوْله وتغوُّطه (بِطَرِيقٍ مَسْلُوكٍ، وَظِلٍّ نَافِعٍ)؛ لحديث أبي هريرةَ رضي الله عنه: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: «اتَّقُوا اللَّعَّانَيْنِ»، قالوا: وما اللَّعَّانَانِ يا رسول الله؟ قال: «الَّذِي يَتَخَلَّى فِي طَرِيقِ النَّاسِ، أَوْ فِي ظِلِّهِمْ» [مسلم: 269].

5 - (وَ) يحرم بولٌ وتغوُّطٌ (تَحْتَ شَجَرَةٍ عَلَيْهَا ثَمَرٌ يُقْصَدُ)، مأكولًا أو غير مأكولٍ؛ لأنَّه يُقَذِّرُهَا، وتعافه النَّاس.

6 - (وَ) حرم (اسْتِقْبَالُ قِبْلَةٍ وَاسْتِدْبَارُهَا) حال قضاء حاجةٍ (بِفَضَاءٍ)؛ لخبر أبي أيوبَ رضي الله عنه مرفوعًا: «إِذَا أَتَيْتُمُ الغَائِطَ فَلَا تَسْتَقْبِلُوا القِبْلَةَ، وَلَا تَسْتَدْبِرُوهَا وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا» [البخاري: 394، مسلم: 264].

ولا يحرم استقبالها ولا استدبارها في بنيانٍ؛ لقول عبد الله بن عمرَ رضي الله عنهما: «لَقَدْ ارْتَقَيْتُ يَوْمًا عَلَى ظَهْرِ بَيْتٍ لَنَا، فَرَأَيْتُ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم عَلَى لَبِنَتَيْنِ مُسْتَقْبِلًا بَيْتَ المَقْدِسِ لِحَاجَتِهِ» [البخاري: 145، مسلم: 266]، فَتُحْمَلُ أحاديث النَّهي على الفضاء، وأحاديث الرُّخصة على البنيان.
এবং এটি মানুষকে তা থেকে উপকৃত হতে বাধা দেয়।

৩ - (এবং) হারাম (পানির ঘাটে প্রস্রাব ও পায়খানা করা), অর্থাৎ: পানির উৎসস্থলে; মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা লানত বা অভিশাপের তিনটি কাজ থেকে বেঁচে থাকো: পানির ঘাটে, রাস্তার মাঝখানে এবং ছায়াযুক্ত স্থানে মলত্যাগ করা» [আবু দাউদ ২৬, এবং ইবনে মাজাহ ৩২৮]।

৪ - (এবং) হারাম প্রস্রাব ও পায়খানা করা (চলাচলের রাস্তায় এবং উপকারী ছায়ায়); আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসের কারণে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা অভিশপ্ত হওয়ার দুটি কাজ থেকে বেঁচে থাকো», তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! অভিশপ্ত হওয়ার দুটি কাজ কী? তিনি বললেন: «যে মানুষের চলাচলের পথে অথবা তাদের বিশ্রামের ছায়ায় মলত্যাগ করে» [মুসলিম: ২৬৯]।

৫ - (এবং) হারাম প্রস্রাব ও পায়খানা করা (এমন গাছের নিচে যাতে ফল আছে যা মানুষ আহরণ করে), ফলটি ভক্ষণযোগ্য হোক বা না হোক; কারণ এটি গাছটিকে নোংরা করে দেয় এবং মানুষ তা ঘৃণা করে।

৬ - (এবং) হারাম (কিবলার দিকে মুখ করা অথবা কিবলাকে পিঠ দিয়ে বসা) প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণকালে (খোলা জায়গায়); আবু আইয়ুব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত মারফু হাদিসের কারণে: «যখন তোমরা মলত্যাগের জন্য আসবে, তখন কিবলার দিকে মুখ করবে না এবং তার দিকে পিঠ দিয়েও বসবে না, বরং তোমরা পূর্ব দিকে অথবা পশ্চিম দিকে ফিরে বসবে» [বুখারি: ৩৯৪, মুসলিম: ২৬৪]।

তবে কোনো দালান বা ইমারতের ভেতরে কিবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ দিয়ে বসা হারাম নয়; আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর বাণীর কারণে: «আমি একদিন আমাদের একটি বাড়ির ছাদের ওপর উঠেছিলাম, তখন আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুটি ইটের ওপর বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করতে দেখেছিলাম» [বুখারি: ১৪৫, মুসলিম: ২৬৬]। সুতরাং নিষেধাজ্ঞার হাদিসগুলোকে খোলা জায়গার ওপর এবং অনুমতির হাদিসগুলোকে দালান বা ইমারতের ওপর প্রয়োগ করা হবে।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وعنه، واختاره شيخ الإسلام وابن القيَّم: يحرم الاستقبال والاستدبار في البنيان والفضاء؛ لعموم حديث أبي أيوبَ رضي الله السَّابق، وهو قولٌ، وحديث ابن عمرَ فعلٌ، فَيُقَدَّمُ القول على الفعل، لأنَّ الفعل يحتمل عدَّة احتمالاتٍ.

 

‌‌(فَصْلٌ) في السِّواك وما أُلْحِقَ به من الادِّهان وسنن الفطرة

-‌‌ مسألةٌ: (وَالسِّوَاكُ) له وقتان:

‌‌الوقت الأوَّل: وقتٌ مطلقٌ، وأشار إليه بقوله: (مَسْنُونٌ مُطْلَقًا) أي: في كلِّ وقتٍ، باتِّفاق الأئمَّة؛ لحديث عائشةَ رضي الله عنها مرفوعًا: «السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ» [أحمد: 24203، والنسائي: 5، وابن ماجهْ: 289، والبخاري معلَّقًا بصيغة الجزم: 3/ 31].

-‌‌ مسألةٌ: يُسَنُّ السِّواك كلَّ وقتٍ، (إِلَّا لِصَائِمٍ)، فرضًا كان الصَّوم أو نفلًا، فللصَّائم مع السِّواك ثلاثة أحوالٍ:

الأُولى: وقت الكراهة، وذلك (بَعْدَ الزَّوَالِ فَيُكْرَهُ) السِّواك بيابسٍ ورطبٍ؛ لحديث عليٍّ رضي الله عنه مرفوعًا: «إِذَا صُمْتُمْ فَاسْتَاكُوا بِالغَدَاةِ وَلَا
এবং তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণিত, যা শাইখুল ইসলাম ও ইবনুল কাইয়্যিম পছন্দ করেছেন: দালানকোঠা এবং খোলা ময়দান উভয় স্থানেই (কিবলার দিকে) মুখ করা এবং পিঠ দেওয়া হারাম; আবু আইয়ুব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পূর্বোক্ত হাদিসের ব্যাপকতার কারণে। সেটি হলো একটি মৌখিক উক্তি, আর ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসটি হলো একটি কর্ম। সুতরাং কর্মের ওপর উক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, কারণ কর্মের একাধিক ব্যাখ্যা বা সম্ভাবনার অবকাশ থাকে।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ) মিসওয়াক এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট তেল ব্যবহার ও ফিতরাতের সুন্নাতসমূহ প্রসঙ্গে

-‌‌ মাসআলা: (মিসওয়াক)-এর জন্য দুটি সময় রয়েছে:

‌‌প্রথম সময়: সাধারণ সময়, যেদিকে তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: (সর্বাবস্থায় সুন্নাত) অর্থাৎ: আইম্মাদের ঐকমত্যে প্রতিটি সময়েই তা সুন্নাত; আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসের কারণে: «মিসওয়াক হলো মুখের জন্য পবিত্রতা এবং রবের সন্তুষ্টির কারণ» [আহমাদ: ২৪২০৩, নাসাঈ: ৫, ইবনে মাজাহ: ২৮৯, এবং বুখারী জজম বা দৃঢ়তার সাথে মুয়াল্লাক হিসেবে: ৩/ ৩১]।

-‌‌ মাসআলা: প্রতিটি সময়েই মিসওয়াক করা সুন্নাত, (তবে সিয়াম পালনকারীর জন্য ব্যতিরেকে), সিয়ামটি ফরয হোক বা নফল। সিয়াম পালনকারীর জন্য মিসওয়াকের ক্ষেত্রে তিনটি অবস্থা রয়েছে:

প্রথম: অপছন্দনীয় বা মাকরুহ সময়, আর তা হলো (সূর্য ঢলে পড়ার পর, তখন মাকরুহ) শুকনো কিংবা কাঁচা—উভয় প্রকার মিসওয়াক করাই; আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসের কারণে: «তোমরা যখন সিয়াম পালন করবে, তখন সকালবেলা মিসওয়াক করো এবং...»
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
تَسْتَاكُوا بِالعَشِيِّ» [الدارقطني: 2372، والبيهقي: 8336].

الثَّانية: وقت الإباحة، وأشار إليه بقوله: (وَيُبَاحُ) السِّواك (قَبْلَهُ) أي: قبل الزَّوال (بِعُودٍ رَطْبٍ)؛ لما يتحلَّل منه بخلاف اليابس.

(وَ) الثَّالثة: وقت الاستحباب، وذلك قبل الزَّوال، فـ (يُسْتَحَبُّ بِـ) عودٍ (يَابِسٍ) لا رطبٍ؛ لقول عامر بن ربيعةَ رضي الله عنه: «رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَا لَا أُحْصِي يَتَسَوَّكُ وَهُوَ صَائِمٌ» [أبو داود: 2364، والترمذي: 725 وقال: حسن صحيح]، وحُمِلَ على ما قبل الزَّوال؛ لما تقدَّم من الأدلَّة.

وعنه، واختاره شيخ الإسلام: يُسَنُّ التَّسوُّك للصَّائم مطلقًا قبل الزَّوال وبعده، باليابس والرَّطب؛ لعموم الأدلَّة على استحباب السِّواك دون تفريقٍ بين الصَّائم وغيره، وأمَّا حديث عليٍّ رضي الله عنه فلا يصحُّ.

 

-‌‌ مسألةٌ: يُسَنُّ السِّواك بالعودِ، (وَلَمْ يُصِبِ السُّنَّةَ مَنِ اسْتَاكَ بِغَيْرِ عُودٍ)؛ كمن استاك بإصبعٍ وخرقةٍ ونحوهما؛ لأنَّ الشَّرع لم يَرِدْ به، ولا يحصل به الإنقاء كالعود.

واختار ابن قدامةَ: يصيب من السُّنَّة بقدر ما يحصل من الإنقاء؛ لعموم حديث عائشةَ رضي الله عنهما مرفوعًا: «السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ».
"...তোমরা বিকেলে মিসওয়াক করো" [দারাকুতনী: ২৩৭২, এবং বায়হাকী: ৮৩৩৬]।

দ্বিতীয়: বৈধতার সময়, এবং তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন: (এবং বৈধ) মিসওয়াক করা (তার পূর্বে) অর্থাৎ: যওয়ালের (সূর্য ঢলে পড়ার) পূর্বে (কাঁচা ডাল দিয়ে); কারণ এটি থেকে অংশ বিশেষ পৃথক হয়ে যায়, যা শুষ্ক ডালের বিপরীত।

(এবং) তৃতীয়: মুস্তাহাব হওয়ার সময়, আর তা হলো যওয়ালের পূর্বে, সুতরাং (মুস্তাহাব হলো) (শুষ্ক) ডাল দিয়ে, কাঁচা ডাল দিয়ে নয়; আমের ইবনে রাবিআহ রাযিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্যের কারণে: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রোজা রাখা অবস্থায় অসংখ্যবার মিসওয়াক করতে দেখেছি" [আবু দাউদ: ২৩৬৪, এবং তিরমিযী: ৭২৫ এবং তিনি বলেছেন: হাসান সহীহ], আর এটিকে যওয়ালের পূর্বের সময়ের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে; পূর্বোল্লিখিত দলীলসমূহের কারণে।

তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে আরেকটি বর্ণনা রয়েছে এবং শাইখুল ইসলাম এটিই পছন্দ করেছেন: রোজা পালনকারীর জন্য যওয়ালের আগে এবং পরে, শুষ্ক এবং কাঁচা উভয় ডাল দিয়ে সাধারণভাবে মিসওয়াক করা সুন্নাত; কারণ মিসওয়াক মুস্তাহাব হওয়ার দলীলসমূহ সাধারণ, যেখানে রোজা পালনকারী এবং রোজা পালনকারী নয় এমন ব্যক্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। আর আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত হাদীসটি সহীহ নয়।

 

-‌‌একটি মাসআলা: ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা সুন্নাত, (এবং সেই ব্যক্তি সুন্নাত অনুসরণকারী হিসেবে গণ্য হবে না যে ডাল ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে মিসওয়াক করে); যেমন কেউ আঙ্গুল, কাপড়ের টুকরো বা অনুরূপ কিছু দিয়ে মিসওয়াক করল; কারণ শরীয়াতে এর কোনো প্রমাণ আসেনি এবং এর দ্বারা ডালের মতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও অর্জিত হয় না।

ইবনে কুদামা মত দিয়েছেন যে: যতটুকু পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হবে ততটুকুই সুন্নাত অর্জিত হবে; আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত মারফূ' হাদীসের সাধারণ অর্থের কারণে: "মিসওয়াক হলো মুখের পবিত্রতা এবং রবের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।"
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الوقت الثَّاني: وقتٌ مقيَّدٌ، وأشار إليه بقوله: (وَيَتَأَكَّدُ) السِّواك في ثمانية مواطنَ:

1 - (عِنْدَ صَلَاةٍ)، فرضًا كانت أو نفلًا؛ لحديث أبي هريرةَ رضي الله عنه مرفوعًا: «لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ» [البخاري: 887، ومسلم: 252].

2 - (وَ) عند (قِرَاءَةِ) قرآنٍ؛ لحديث عليٍّ رضي الله عنه مرفوعًا: «إِنَّ العَبْدَ إِذَا تَسَوَّكَ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي قَامَ المَلَكُ خَلْفَهُ، فَتَسَمَّعَ لِقِرَاءَتِهِ، فَيَدْنُو مِنْهُ حَتَّى يَضَعَ فَاهُ عَلَى فِيهِ، فَمَا يَخْرُجُ مِنْ فِيهِ شَيْءٌ مِنَ القُرْآنِ، إِلَّا صَارَ فِي جَوْفِ المَلَكِ، فَطَهِّرُوا أَفْوَاهَكُمْ لِلقُرْآنِ» [البزار: 603، وجود إسناده المنذري والألباني].

3 - (وَ) عند (وُضُوءٍ)، ومحلُّه عند المضمضة؛ لحديث أبي هريرةَ رضي الله عنه مرفوعًا: «لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ مَعَ كُلِّ وُضُوءٍ» [أحمد: 9928، والبخاري معلَّقًا: 3/ 31].

4 - (وَ) عند (انْتِبَاهٍ مِنْ نَوْمِ) ليلٍ أو نهارٍ؛ لحديث حذيفةَ رضي الله عنه: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ، يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ» [البخاري: 245، ومسلم: 255].

5 - عند دخول المنزل؛ لقول عائشةَ رضي الله عنه: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ بَدَأَ بِالسِّوَاكِ» [مسلم: 253].
দ্বিতীয় সময়: নির্দিষ্ট সময়, এবং তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন: (এবং মেসওয়াক করা অধিক গুরুত্ববহ হয়) আটটি স্থানে:

১ - (সালাতের সময়), তা ফরজ হোক বা নফল; আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসের কারণে: «আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে অবশ্যই তাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম» [বুখারি: ৮৮৭, মুসলিম: ২৫২]।

২ - (এবং) কুরআন (তিলাওয়াতের) সময়; আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসের কারণে: «নিশ্চয়ই বান্দা যখন মেসওয়াক করে, অতঃপর সালাতে দাঁড়ায়, তখন একজন ফেরেশতা তার পেছনে দাঁড়ান এবং তার তিলাওয়াত শোনেন। তিনি তার এত কাছে চলে আসেন যে নিজের মুখ তার মুখের ওপর রাখেন। এমতাবস্থায় তার মুখ থেকে কুরআনের যা কিছুই বের হয়, তা ফেরেশতার উদরে প্রবেশ করে। সুতরাং তোমরা কুরআনের জন্য তোমাদের মুখগুলোকে পবিত্র করো» [বাযযার: ৬০৩, মুনযিরি ও আলবানি এর সনদকে উত্তম বলেছেন]।

৩ - (এবং) (অজুর) সময়, আর এর স্থান হলো কুলি করার সময়; আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসের কারণে: «আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে অবশ্যই তাদের প্রত্যেক অজুর সাথে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম» [আহমাদ: ৯৯২৮, এবং বুখারি মুআল্লাক হিসেবে: ৩/ ৩১]।

৪ - (এবং) রাত বা দিনের (ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সময়); হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে উঠতেন, তখন মেসওয়াক দিয়ে তাঁর মুখ পরিষ্কার করতেন» [বুখারি: ২৪৫, মুসলিম: ২৫৫]।

৫ - ঘরে প্রবেশ করার সময়; আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর উক্তির কারণে: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন মেসওয়াক দিয়ে শুরু করতেন» [মুসলিম: ২৫৩]।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
6 - (و) عند (دُخُولِ مَسْجِدٍ)؛ لأنَّه كالمنزل، أو أَوْلى.

واختار ابن عثيمين: لا يتسوَّك إذا دخل المسجد؛ بناءً على أنَّ سبب سواكه دخول المسجد؛ لأنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم كان يدخل المسجد ولم يُرْوَ عنه أنَّه كان يستاك.

7 - (وَ) عند (تَغَيُّرِ) رائحةِ (فَمٍ)، إمَّا بسبب إطالة السُّكوت، أو اصفرار الأسنان، أو غيره؛ لأنَّ السِّواك مشروعٌ لتطييب الفم وإزالة رائحته، فَتَأَكَّدَ عند تغيُّرِهِ.

8 - (وَنَحْوِهِ)؛ كعند الاحتضار؛ لحديث عائشةَ في تسوِّك النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم عند احتضاره [البخاري: 4438].

 

-‌‌ مسألةٌ: (وَسُنَّ بُدَاءَةٌ بِـ) الجانبِ (الأَيْمَنِ في سِوَاكٍ)، باتِّفاق الأئمَّة؛ لحديث عائشةَ السَّابق، وفي بعض ألفاظه: «وَسِوَاكِهِ» [أبو دواد: 4140]، (وَ) سُنَّ أيضًا البداءة بالجانب الأيمن في (طُهُورٍ، وَ) في (شَأْنِهِ كُلِّهِ)، وتقدَّم في باب الاستنجاء.

-‌‌ مسألةٌ: (وَ) يُسَنُّ (ادِّهَانٌ) في البدن، وشعر الرَّأس، واللِّحية؛ غِبًّا، أي: يومًا يدَّهن ويومًا لا يدَّهن؛ لما روى عبد الله بن مغفَّلٍ رضي الله عنه: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ التَّرَجُّلِ إِلَّا غِبًّا» [أحمد: 16793، وأبو داود: 4159، والترمذي: 1576، والنسائي: 5055]، والتَّرجُّل: تسريح الشَّعر ودهنه.

فإن احتاج المسلم إلى أن يدَّهن كلَّ يومٍ فلا بأسَ؛ لحديث
৬ - (এবং) মসজিদ (প্রবেশের সময়); কারণ এটি ঘরের মতো, কিংবা তার চেয়েও অগ্রগণ্য।

ইবনে উসাইমিন মত দিয়েছেন যে: মসজিদে প্রবেশকালে মিসওয়াক করবে না; এই যুক্তিতে যে মিসওয়াকের কারণ যদি মসজিদে প্রবেশ করা হয় (তবে তা সাব্যস্ত নয়); কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে প্রবেশ করতেন অথচ তাঁর থেকে মিসওয়াক করার কথা বর্ণিত হয়নি।

৭ - (এবং) মুখের (গন্ধ পরিবর্তনের) সময়, দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকার কারণে হোক, কিংবা দাঁত হলুদ হয়ে যাওয়ার কারণে হোক অথবা অন্য কোনো কারণে; কারণ মিসওয়াক মুখকে সুগন্ধযুক্ত করার জন্য এবং দুর্গন্ধ দূর করার জন্য বিধিবদ্ধ হয়েছে, তাই মুখ পরিবর্তিত হওয়ার সময় এটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়।

৮ - (এবং অনুরূপ অবস্থায়); যেমন মৃত্যু উপস্থিত হওয়ার সময়; আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্তিম সময়ে মিসওয়াক করার হাদীসের কারণে [বুখারী: ৪৪৩৮]।

 

-‌‌ মাসআলা: (এবং সুন্নাত হলো) মিসওয়াকের ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে (শুরু করা), আইম্মাদের ঐকমত্যে; আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর পূর্বোক্ত হাদীসের কারণে, যার কিছু শব্দে রয়েছে: "এবং তাঁর মিসওয়াক করার ক্ষেত্রে" [আবু দাউদ: ৪১৪০], (এবং) পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে এবং (তাঁর সকল কাজেও) ডান দিক থেকে শুরু করা সুন্নাত, যা ইস্তিনজা অধ্যায়ে অতিক্রান্ত হয়েছে।

-‌‌ মাসআলা: (এবং) শরীরে, মাথার চুলে ও দাড়িতে একদিন অন্তর তেল লাগানো সুন্নাত, অর্থাৎ: একদিন তেল লাগাবে এবং একদিন লাগাবে না; কারণ আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন পর পর ছাড়া চুল আঁচড়াতে নিষেধ করেছেন" [আহমাদ: ১৬৭৯৩, আবু দাউদ: ৪১৫৯, তিরমিযী: ১৫৭৬, নাসাঈ: ৫০৫৫], আর 'তারাজ্জুল' অর্থ হলো চুল আঁচড়ানো ও তেল লাগানো।

যদি কোনো মুসলিমের প্রতিদিন তেল লাগানোর প্রয়োজন হয় তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই; হাদীসের কারণে...
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
أبي هريرةَ مرفوعًا: «مَنْ كَانَ لَهُ شَعْرٌ فَلْيُكْرِمْهُ» [أبو داود: 4163].

وقال شيخ الإسلام: (يفعل ما هو الأصلح للبدن من الادِّهان أو غيره، كالغسل بماءٍ حارٍّ ببلدٍ رطبٍ).

 

-‌‌ مسألةٌ: (وَ) يُسَنُّ (اكْتِحَالٌ) في كلِّ عينٍ ثلاثًا بالإثمد المطيَّب، كلَّ ليلةٍ قبل أن ينام؛ لما روى ابن عبَّاسٍ رضي الله عنه: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَكْتَحِلُ بِالإِثْمِدِ كُلَّ لَيْلَةٍ قَبْلَ أَنْ يَنَامَ، وَكَانَ يَكْتَحِلُ فِي كُلِّ عَيْنٍ ثَلَاثَةَ أَمْيَالٍ» [أحمد: 3320، والترمذي: 2048، وابن ماجهْ: 3499].

ولكن حديث ابن عبَّاسٍ المذكور ضعيفٌ، وعليه فيمكن أن يُقَال: إنَّ الاكتحال ينقسم إلى قسمين:

1 - أن يكون المقصود صلاح العين وتقوية النَّظر: فَيُسْتَحَبُّ؛ لأنَّ المسلم مأمورٌ بحفظ البدن.

2 - أن يكون لمجرد التَّزيُّن والتَّجمُّل: فلا يخلو:

أأن تكون امرأةً متزوِّجةً: فَيُسْتَحَبُّ لها ذلك؛ لأنَّ المرأة يُطْلَبُ منها أن تتجمَّل لزوجها.

ب أن يكون رجلًا، أو امرأةً غير متزوِّجةٍ: فَيُبَاح؛ لأنَّ الأصل الإباحة، إلَّا إذا كان سيترتَّب عليه فتنةٌ فإنَّه يحرم.

 

-‌‌ مسألةٌ: (وَ) يُسَنُّ (نَظَرٌ فِي مِرْآةٍ)؛ ليزيل ما عسى أن يكون بوجهه من
আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত: "যার চুল আছে সে যেন তার যত্ন করে।" [আবু দাউদ: ৪১৬৩]।

শাইখুল ইসলাম বলেন: (শরীরের জন্য যা অধিকতর কল্যাণকর তা-ই সে করবে, যেমন তেল ব্যবহার করা বা অন্য কিছু, যেমন আর্দ্র অঞ্চলে গরম পানি দিয়ে গোসল করা)।

 

-‌‌ মাসআলা: (এবং) সুগন্ধিযুক্ত ইসমদ দ্বারা প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে প্রতি চোখে তিনবার (সুরমা লাগানো) সুন্নাত, কারণ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে ইসমদ দ্বারা সুরমা লাগাতেন এবং তিনি প্রতি চোখে তিন শলাকা করে সুরমা লাগাতেন।" [আহমাদ: ৩৩২০, তিরমিযী: ২০৪৮, ইবনে মাজাহ: ৩৪৯৯]।

তবে ইবনে আব্বাসের উল্লিখিত হাদীসটি দুর্বল, তাই বলা যেতে পারে যে: সুরমা লাগানো দুই ভাগে বিভক্ত:

১ - যদি উদ্দেশ্য চোখের সুস্থতা এবং দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করা হয়: তবে তা মুস্তাহাব; কেননা মুসলিমকে শরীর রক্ষা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

২ - যদি তা কেবল সৌন্দর্য ও সাজসজ্জার জন্য হয়: তবে তা নিম্নোক্ত অবস্থার বাইরে নয়:

ক. যদি সে বিবাহিতা নারী হয়: তবে তার জন্য এটি মুস্তাহাব; কারণ নারীর কাছে তার স্বামীর জন্য সুসজ্জিত হওয়া কাঙ্ক্ষিত।

খ. যদি সে পুরুষ হয় অথবা অবিবাহিতা নারী হয়: তবে তা জায়েয; কারণ মূল বিধান হলো বৈধতা, যদি না এর ফলে ফিতনার সৃষ্টি হয়, তবে সেক্ষেত্রে তা হারাম হবে।

 

-‌‌ মাসআলা: (এবং) (আয়নায় তাকানো) সুন্নাত; যাতে তার চেহারায় সম্ভাব্য যা কিছু (ময়লা বা ত্রুটি) থাকতে পারে তা দূর করতে পারে।
(খণ্ড: ১) মুনইয়াতুস সাজিদ বিশারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
أذًى؛ ولحديث عائشةَ رضي الله عنها قالت: «كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا نَظَرَ فِي المِرْآةِ قَالَ: الحَمْدُ لِلهِ، اللهمَّ كَمَا أَحْسَنْتَ خَلْقِي، فَأَحْسِنْ خُلُقِي» [البيهقي في الدعوات: 489]، وهو ضعيفٌ.

 

-‌‌ مسألةٌ: (وَ) يُسَنُّ (تَطَيُّبٌ)، في الجملة؛ لحديث أنسٍ رضي الله عنه مرفوعًا: «حُبِّبَ إِلَيَّ مِنَ الدُّنْيَا النِّسَاءُ وَالطِّيبُ» [أحمد: 12294، والنسائي: 3939].

-‌‌ مسألةٌ: (وَ) يُسَنُّ (اسْتِحْدَادٌ) وهو: حلق شعر العانة، وبأيِّ شيءٍ أزاله فلا بأسَ، والحلق أفضلُ، (وَ) يُسَنُّ (حَفُّ شَارِبٍ)، والحفُّ: المبالغة في قصِّهِ، (وَ) يُسَنُّ (تَقْلِيمُ ظُفُرٍ، وَنَتْفُ إِبْطٍ)، وبأيِّ شيءٍ أزاله جاز، والنَّتف أفضلُ؛ لحديث أبي هريرةَ رضي الله عنه مرفوعًا: «خَمْسٌ مِنَ الفِطْرَةِ: الخِتَانُ، وَالِاسْتِحْدَادُ، وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ، وَنَتْفُ الإِبِطِ، وَقَصُّ الشَّارِبِ» [البخاري: 5889، ومسلم: 257].

-‌‌ مسألةٌ: (وَيَجِبُ خِتَانُ ذَكَرٍ وَأُنْثَى) وخنثى، فالذَّكر: بأخذ جلدة الحشفة، والأنثى: بأخذ جلدةٍ فوق محلِّ الإيلاج تشبه عُرْفَ الدِّيك، والخنثى بأخذهما؛ لحديث كُلَيْبٍ الحضرميِّ رضي الله عنه: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال لرجلٍ أسلم: «أَلْقِ عَنْكَ شَعَرَ الكُفْرِ، وَاخْتَتِنْ» [أحمد: 15432، وأبو داود: 356].

وعنه، واختاره ابن قدامةَ: أنَّ الختان واجبٌ على الذُّكور؛ لما تقدَّم، ومُسْتَحَبٌّ للإناث؛ لأنَّ الختان للذَّكر يتعلَّق بمصلحةٍ تعود إلى شرطٍ من
কষ্টদায়ক বিষয়; এবং আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে তিনি বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আয়নায় দেখতেন তখন বলতেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে আমার গঠন সুন্দর করেছেন, সেভাবে আমার চরিত্রও সুন্দর করে দিন» [বায়হাকী, আদ-দাওয়াত: ৪৮৯], এবং এটি দুর্বল।

 

-‌‌ মাসআলা: (এবং) সুন্নাত হলো (সুগন্ধি ব্যবহার করা), সাধারণভাবে; আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসের কারণে: «দুনিয়া থেকে আমার কাছে নারী ও সুগন্ধিকে প্রিয় করা হয়েছে» [আহমাদ: ১২২৯৪, এবং নাসাঈ: ৩৯৩৯]।

-‌‌ মাসআলা: (এবং) সুন্নাত হলো (নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা) আর তা হলো: নাভির নিচের লোম মুণ্ডন করা, এবং যে কোনো কিছুর মাধ্যমে তা দূর করলে কোনো অসুবিধা নেই, তবে মুণ্ডন করা উত্তম। (এবং) সুন্নাত হলো (গোঁফ ছাঁটা), আর 'হাফফ' হলো: কাটার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন বা খুব ছোট করে কাটা। (এবং) সুন্নাত হলো (নখ কাটা এবং বগলের লোম উপড়ানো), এবং যে কোনো উপায়ে তা দূর করা জায়েয, তবে উপড়ানো উত্তম; আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসের কারণে: «ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত বিষয় পাঁচটি: খতনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, নখ কাটা, বগলের লোম উপড়ানো এবং গোঁফ ছোট করা» [বুখারী: ৫৮৮৯, এবং মুসলিম: ২৫৭]।

-‌‌ মাসআলা: (এবং পুরুষ ও মহিলার খতনা করা ওয়াজিব) এবং হিজড়াদেরও, পুরুষের ক্ষেত্রে: লিঙ্গমুণ্ডের চামড়া ফেলে দেওয়ার মাধ্যমে, আর মহিলার ক্ষেত্রে: যোনিপথের উপরের চামড়া ফেলে দেওয়ার মাধ্যমে যা মোরগের ঝুঁটির সদৃশ, আর হিজড়ার ক্ষেত্রে উভয়ের কর্তনের মাধ্যমে; কুলাইব আল-হাদরামি (রা.)-এর হাদিসের কারণে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসলাম গ্রহণকারী এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন: «তুমি তোমার থেকে কুফরির চুল ফেলে দাও এবং খতনা করো» [আহমাদ: ১৫৪৩২, এবং আবু দাউদ: ৩৫৬]।

আর তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, যা ইবনে কুদামাহ পছন্দ করেছেন: খতনা করা পুরুষের জন্য ওয়াজিব; যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তার ভিত্তিতে, আর মহিলাদের জন্য মুস্তাহাব; কারণ পুরুষের খতনা এমন এক কল্যাণের সাথে সংশ্লিষ্ট যা একটি শর্তের দিকে ফিরে যায়...