(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: -)
بداية العابد وكفاية الزاهد - ت ركائز   (البعلي، عبد الرحمن بن عبد الله)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: بداية العابد وكفاية الزاهد

المؤلف: عبد الرحمن بن عبد الله البعلي الحنبلي (ت: 1192)

المحقق: د. أنس بن عادل بن خليفة اليتامى، د. عبد العزيز بن عدنان العيدان

الناشر: دار ركائز للنشر والتوزيع - الكويت

الطبعة: الأولى، 1438 هـ - 2017 م

عدد الصفحات: 179

أهداه للشاملة: ركائز للنشر والتوزيع؛ جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 جُمادَى الآخرة 1440

বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুয যাহিদ - তাহকীক রাকায়েজ   (আল-বালি, আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


বই: বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুয যাহিদ

লেখক: আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ আল-বালি আল-হাম্বলি (মৃত্যু: ১১৯২)

গবেষক: ড. আনাস বিন আদিল বিন খলিফা আল-ইয়াতামা، ড. আবদুল আজিজ বিন আদনান আল-আইদান

প্রকাশক: দারু রাকায়েজ প্রকাশনী ও পরিবেশনী - কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৮ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৯

শামেলাতে উপহার দিয়েছেন: রাকায়েজ প্রকাশনী ও পরিবেশনী; আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৫ জুমাদাস সানি ১৪৪০

(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১)
بداية العابد وكفاية الزهد
ইবাদতকারীর সূচনা ও দুনিয়াবিমুখতার যথেষ্ট পাথেয়
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৩)
بداية العابد وكفاية الزهد

 

للعلامة

عبد الرحمن بن عبد الله البعلي الحنبلي

(ت: 1192 هـ)

 

تحقيق

د. أنس بن عادل بن خليفة اليتامى

د. عبد العزيز بن عدنان العيدان
বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুয যাহিদ (ইবাদতকারীর প্রারম্ভ এবং সংসারবিরাগীর পর্যাপ্ততা)

 

আল্লামা

আব্দুর রহমান ইবন আব্দুল্লাহ আল-বা‘লী আল-হাম্বলী রচিত

(মৃত্যু: ১১৯২ হিজরি)

 

সম্পাদনায়

ড. আনাস ইবন আদিল ইবন খলিফা আল-ইয়াতামা

ড. আব্দুল আজিজ ইবন আদনান আল-আইদান
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

وبه نستعين

إنَّ الحمد لله نحمد ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، ونشهد ألا إله إلا الله وأن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد:

فإنه لما كان «مَنْ يُرِدِ اللهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ»، وكان طلب العلم فريضة في الجملة، ويحتاج إليه كل مسلم، اجتهد علماء كل فنٍّ بتذليل ذلك الفن على طالبيه، وتسهيل فهمه لراغبيه، وكتابة مسائله في مختصرات ومتوسطات ومطولات، ليتمكن السالك في ذلك الفن من الارتقاء، ابتداء بأوائل ذلك العلم، وحتى بلوغ نهمته منه.

وإن من ذلك، ما ألفه العلامة عبد الرحمن بن عبد الله البعلي في مختصره المنيف: (بِدَايَةِ العَابِدِ وَكِفَايَةِ الزَّاهِدِ)، حيث جعله متنًا مختصرًا، ورتبه ترتيبًا بديعًا، واقتصر فيه على أبواب العبادات،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর অনেক অনেক রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর:

যেহেতু "আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন", এবং জ্ঞান অন্বেষণ করা সামগ্রিকভাবে একটি আবশ্যিক কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলিমের এর প্রয়োজন রয়েছে, তাই প্রতিটি শাস্ত্রের আলেমগণ শিক্ষার্থীদের নিকট সেই শাস্ত্রকে সহজবোধ্য করতে এবং আগ্রহীদের নিকট তা অনুধাবন করা সহজ করতে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তাঁরা এর মাসআলাসমূহ সংক্ষিপ্ত, মধ্যম ও বিস্তারিত গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করেছেন, যাতে সেই শাস্ত্রের পথিকের পক্ষে বিদ্যার্জনের প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে পূর্ণতা লাভ করা পর্যন্ত আরোহণ করা সম্ভব হয়।

আর এরই অংশ হিসেবে আল্লামা আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বালী তাঁর চমৎকার সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ: (বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুয যাহিদ) রচনা করেছেন; যেখানে তিনি একে একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ্য হিসেবে প্রস্তুত করেছেন, একে চমৎকারভাবে বিন্যস্ত করেছেন এবং এতে কেবল ইবাদতের অধ্যায়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন,
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৬)
ليكون أول درجة يرتقيها طالب العلم في فقه الحنابلة، ليتوصل بعد دراسته إلى ما هو فوقه من المتون.

ولما كان هذا المختصر مختصرًا مفيدًا، صالحًا لأن يكون بداية للعابد، ولم يكن له شرح مطبوع سوى ما سطره مؤلفه -وهو شرح مختصر للغاية-، استعنا الله تعالى بوضع شرح عليه وسميناه: (مُنْيَةَ السَّاجِدِ فِي شَرْحِ بِدَايَةِ العَابِدِ وَكِفَايَةِ الزَّاهِدِ).

ثم رأينا بعد ذلك: أن هذا المختصر بحاجة إلى أن يكون بين يدي المبتدئ بأسلوبٍ ميسرٍ يُسهل عليه التعرف على أمهات المسائل، وفروعها الملحقة بها، والأنواع والتقاسيم الواردة عليها، فقمنا بالعناية بمخطوطه - كما سيتضح لك - وصغناه صياغة تتوافق مع ما تقدم ذكره، والله الموفق والهادي إلى سبيل العلم والرشاد.

ولا يخفى أن ثَمَّ مواطن في مثل هذا العمل خاصة تختلف فيها أنظار النظار، إلا أن ذلك لا يُغلق باب تسهيل العلم على المتفقهين، وتقريبه للطالبين، ولا يزال هذا التسهيل والتقريب محل اهتمام المؤلفين والعلماء المصلحين، فما كان فيه من صواب فمن الله وحده، وما كان من اجتهاد خاطئ فمنَّا ومن الشيطان، ونرجو من الله العفو والغفران، ومن القارئ النصح والبيان.

والحمد لله رب العالمين

 

المحققان
যাতে এটি হাম্বলি ফিকহ-এর ক্ষেত্রে ইলম অন্বেষণকারীর আরোহণের প্রথম ধাপ হতে পারে, যাতে এর অধ্যয়নের পরে সে এর চেয়ে উচ্চতর মূল পাঠসমূহ (মুতুন) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

যেহেতু এই সংক্ষিপ্তসারটি একটি উপকারী সারসংক্ষেপ, যা একজন ইবাদতকারীর সূচনার জন্য উপযুক্ত, এবং এর রচয়িতার লিখিত ব্যাখ্যা—যা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি ব্যাখ্যা—ব্যতীত আর কোনো মুদ্রিত ব্যাখ্যা ছিল না, তাই আমরা এর উপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং এর নামকরণ করেছি: (মুনিয়াতুস সাজিদ ফি শারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতিল জাহিদ)।

অতঃপর আমরা অনুধাবন করলাম যে, এই সারসংক্ষেপটি একজন শুরুর স্তরের শিক্ষার্থীর নিকট এমন এক সহজ পদ্ধতিতে থাকা প্রয়োজন যা তার জন্য মৌলিক মাসআলাসমূহ, তার সাথে সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহ এবং এতে বর্ণিত প্রকারভেদ ও বিভাজনসমূহ চেনা সহজ করে দেয়। তাই আমরা এর পাণ্ডুলিপির যত্ন নিয়েছি—যেমনটি আপনার নিকট স্পষ্ট হবে—এবং একে এমনভাবে বিন্যস্ত করেছি যা পূর্বে উল্লিখিত বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং জ্ঞান ও সঠিক পথের দিশারী।

এটি অস্পষ্ট নয় যে, এ ধরণের কাজে বিশেষ করে এমন কিছু স্থান থাকে যেখানে গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা দেখা দেয়, তবে তা ফিকহ অন্বেষণকারীদের জন্য জ্ঞান সহজসাধ্য করার এবং শিক্ষার্থীদের নিকট তা পৌঁছে দেওয়ার পথ রুদ্ধ করে না। লেখকবৃন্দ ও সংস্কারক আলেমগণের নিকট এই সহজীকরণ ও নিকটবর্তী করার বিষয়টি সর্বদা গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল ইজতিহাদ তা আমাদের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করি এবং পাঠকের নিকট সদুপদেশ ও ভুলত্রুটি বর্ণনার প্রত্যাশা করি।

আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

গবেষকদ্বয়
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ترجمة المؤلف (1)

-‌‌ اسمه ونسبه:

هو عبد الرحمن بن عبد الله بن أحمد بن محمد الحنبلي البعلي الدمشقي الحنبلي.

--------------------------------------------

(1) مصادر الترجمة:

سلك الدرر في أعيان القرن الثاني عشر، تأليف: أبو الفضل المرادي الحسيني، مطبوع عن دار البشائر الإسلامية، (2/ 304)، وغالب الترجمة منه لكونه معاصرًا له وفي مقام مشايخه، حتى أجاز المترجَم له المرادي بجميع مروياته وبعث بها إليه في حلب، كما ذكر ذلك المرادي في الترجمة.

النعت الأكمل لأصحاب الإمام أحمد بن حنبل، تأليف: محمد كمال الدين بن محمد الغزي العامري، مطبوع عن دار الفكر سنة 1402 هـ، (ص 311).

مختصر طبقات الحنابلة، تأليف: الشيخ محمد جميل البغدادي المعروف بابن شطي، مطبوع عن دار الكتاب العربي في بيروت، (ص 145).

السحب الوابلة على ضرائح الحنابلة، تأليف: محمد بن عبد الله بن حميد النجدي ثم المكي، مطبوع عن مؤسسة الرسالة، (2/ 497).

تسهيل الوابلة لمريد معرفة الحنابلة، تأليف: صالح بن عبد العزيز العثيمين، مطبوع عن مؤسسة الرسالة، (3/ 1567).

المدخل إلى مذهب الإمام أحمد بن حنبل، تأليف: عبد القادر بن أحمد بن بدران، مطبوع عن مؤسسة الرسالة في بيروت، (ص 445).

فهرس الفهارس، تأليف: عبد الحي الكتاني، مطبوع عن دار الغرب الإسلامي - بيروت، (2/ 737).

معجم المؤلفين، تأليف: عمر بن رضا كحالة، مطبوع عن مكتبة المثنى في بيروت، (5/ 147).

الأعلام، تأليف: خير الدين بن محمود الزركلي، مطبوع عن دار العلم للملايين، (3/ 314).

معجم مصنفات الحنابلة، تأليف: د/عبد الله بن محمد الطريقي، (5/ 363).

 

الأنوار الجلية في مختصر الأثبات الحلبية، تأليف: محمد راغب الطباخ،
লেখকের জীবনী(১)

-‌‌ তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-হাম্বলি আল-বালি আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি।

--------------------------------------------

(১) জীবনীর উৎসসমূহ:

সিলকুদ দুরার ফি আ'ইয়ানিল কারনিল সানি আশার, রচনা: আবুল ফজল আল-মুরাদি আল-হুসাইনি, দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে মুদ্রিত, (২/ ৩০৪); জীবনীর অধিকাংশ অংশ এখান থেকেই নেওয়া হয়েছে কারণ তিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁর শিক্ষকদের মর্যাদাসম্পন্ন ছিলেন, এমনকি যাঁর জীবনী লেখা হচ্ছে তিনি মুরাদিকে তাঁর সমস্ত বর্ণিত হাদিস ও কিতাবের ইজাযাহ প্রদান করেছিলেন এবং সেগুলো তাঁর কাছে হালাবে পাঠিয়েছিলেন, যেমনটি মুরাদি জীবনীর আলোচনায় উল্লেখ করেছেন।

আন-নাতুল আকমাল লি আসহাবি ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, রচনা: মুহাম্মদ কামালুদ্দিন বিন মুহাম্মদ আল-গাজজি আল-আমিরি, দারুল ফিকর থেকে ১৪০২ হিজরিতে মুদ্রিত, (পৃ. ৩১১)।

মুখতাসার তাবাকাতিল হানাবিলাহ, রচনা: শেখ মুহাম্মদ জামিল আল-বাগদাদি, যিনি ইবনে শত্তি নামে পরিচিত, বৈরুতের দারুল কিতাব আল-আরাবি থেকে মুদ্রিত, (পৃ. ১৪৫)।

আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ আলা দারয়িহিল হানাবিলাহ, রচনা: মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ আন-নাজদি অতঃপর আল-মাক্কি, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে মুদ্রিত, (২/ ৪৯৭)।

তাসহিলুল ওয়াবিলাহ লি মুরিদি মা'রিফাতিল হানাবিলাহ, রচনা: সালিহ বিন আবদুল আজিজ আল-উসাইমিন, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে মুদ্রিত, (৩/ ১৫৬৭)।

আল-মাদখাল ইলা মাজহাবি ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, রচনা: আবদুল কাদির বিন আহমদ বিন বাদরান, বৈরুতের মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে মুদ্রিত, (পৃ. ৪৪৫)।

ফিহরিসুল ফাহারিস, রচনা: আবদুল হাই আল-কাত্তানি, দারুল গারব আল-ইসলামি - বৈরুত থেকে মুদ্রিত, (২/ ৭৩৭)।

মু'জামুল মুয়াল্লিফিন, রচনা: উমর বিন রিদা কাহহালাহ, বৈরুতের মাকতাবাতুল মুসান্না থেকে মুদ্রিত, (৫/ ১৪৭)।

আল-আ'লাম, রচনা: খাইরুদ্দিন বিন মাহমুদ আজ-জিরিকলি, দারুল ইলম লিল-মালাইয়িন থেকে মুদ্রিত, (৩/ ৩১৪)।

মু'জামু মুসান্নাফাতিল হানাবিলাহ, রচনা: ড. আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আত-তারিকি, (৫/ ৩৬৩)।

 

আল-আনোয়ারুল জালিয়্যাহ ফি মুখতাসারিল আসবাতিল হালাবিয়্যাহ, রচনা: মুহাম্মদ রাগিব আত-তাব্বাখ।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৮)
قال الزركلي: وُلد أحد جدوده في بعلبكّ فعُرِف بالبعلي، مولده وشهرته في دمشق، ووفاته في حلب.

 

-‌‌ مولده ونشأته:

ولد في ضحوة يوم الأحد، الثاني عشر من جمادي الأولى، سنة عشرة ومائة وألف (1110 هـ).

ثم لما بَلَغ سنَّ التمييز قرأ القرآن حتى ختمه على والده في مدة يسيرة.

ثم شرع في الاشتغال بطلب العلم في سنة عشرين، فقرأ على الشيخ عواد الحنبلي النابلسي في بعض مقدمات النحو والفقه، واشتغل عليه بالقراءة بعد ذلك نحوًا من عشرين سنة، وهو أول من أخذ عنه العلم.

ولما توفي والده في سنة اثنين وعشرين (1122 هـ)، لازم دروس الشيخ أبي المواهب الحنبلي في الفقه والحديث نحو خمس سنين، ودروس الشيخ عبد القادر التغلبي في
যারকালী বলেন: তাঁর পূর্বপুরুষদের একজন বা’লাবাক্কে জন্মগ্রহণ করেন, ফলে তিনি আল-বা’লী নামে পরিচিত হন। তাঁর জন্ম ও খ্যাতি দামেস্কে এবং তাঁর মৃত্যু হালাবে।

 

-‌‌ তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

তিনি একশত দশ ও এক হাজার (১১১০ হি.) সনের জুমাদাল উলা মাসের বারো তারিখ, রবিবার পূর্বাহ্নে জন্মগ্রহণ করেন।

অতঃপর যখন তিনি বোধশক্তির বয়সে উপনীত হলেন, তখন অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর পিতার নিকট পূর্ণ কুরআন পাঠ সম্পন্ন করেন।

এরপর তিনি [এগারোশত] বিশ সনে ইলম অন্বেষণে লিপ্ত হন এবং শাইখ আওয়াদ আল-হাম্বালী আন-নাবুলুসীর কাছে নাহু ও ফিকহ শাস্ত্রের কিছু প্রাথমিক কিতাব পাঠ করেন। এরপর প্রায় বিশ বছর তাঁর নিকট জ্ঞানার্জনে ব্যাপৃত থাকেন; তিনিই প্রথম ব্যক্তি যার নিকট থেকে তিনি ইলম অর্জন করেন।

যখন এক হাজার একশত বাইশ (১১২২ হি.) সনে তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি প্রায় পাঁচ বছর শাইখ আবুল মাওয়াহিব আল-হাম্বালীর ফিকহ ও হাদিসের দরসে এবং শাইখ আব্দুল কাদির আত-তাগলাবীর দরসে...
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৯)
الحديث والفقه والنحو والفرائض والحساب والأصول وغير ذلك مدة خمسة عشر سنة، وأجازه إجازة عامة.

ثم لازم حفيده العلامة الشيخ محمد المواهبي نحو تسع سنين في الحديث والفقه أيضاً، وأجازه.

وحضر دروس الشيخ عبد الغني النابلسي في تفسير البيضاوي، وفي الفقه والعربية وغير ذلك، ولازمه نحو ثمان سنين، وأجازه إجازة عامة بخطه.

ولازم دروس كثير من مشايخ عصره غير هؤلاء المذكورين، منهم الإمام الشيخ محمد الكاملي، والعلامة الشيخ إلياس الكردي، والشيخ إسماعيل العجلوني، والشيخ محمد الحبال، والشيخ أحمد المنيني، والشيخ علي كزبر، وغيرهم.

وأخذ الفرائض والحساب عن الشيخ مصطفى النابلسي.

وحفظ القرآن على الحافظ المقري المتقن الشيخ إبراهيم الدمشقي.

ثم بعد أن ارتحل إلى حلب وذلك في سنة أربع وأربعين أخذ عن جماعة من أجلالها، وممن ورد إليها، فسمع الحديث المسلسل بالأولية، وأكثر صحيح الإمام البخاري من المحدث العلامة الشيخ محمد عقيلة المكي.
হাদীস, ফিকহ, নাহু, ফারায়েয, হিসাববিজ্ঞান, উসুল এবং অন্যান্য শাস্ত্র দীর্ঘ পনের বছর পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন এবং তিনি তাকে সাধারণ ইজাযত (অনুমতি) প্রদান করেন।

অতঃপর তিনি তাঁর পৌত্র আল্লামা শেখ মুহাম্মদ আল-মাওয়াহিবীর সান্নিধ্যে হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের জন্য প্রায় নয় বছর অবস্থান করেন এবং তিনিও তাকে ইজাযত প্রদান করেন।

তিনি শেখ আব্দুল গনী আন-নাবলুসীর নিকট তাফসীরে বায়যাবী, ফিকহ, আরবী ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়ের দরসে উপস্থিত হন এবং প্রায় আট বছর তাঁর সান্নিধ্যে অতিবাহিত করেন। শেখ নিজ হাতে লিখে তাঁকে সাধারণ ইজাযত প্রদান করেন।

উল্লিখিত ব্যক্তিগণ ছাড়াও তিনি তাঁর সমসাময়িক আরও অনেক মাশায়েখের দরসে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ইমাম শেখ মুহাম্মদ আল-কামিলী, আল্লামা শেখ ইলিয়াস আল-কুর্দী, শেখ ইসমাইল আল-আজলুনী, শেখ মুহাম্মদ আল-হাব্বাল, শেখ আহমদ আল-মানীনী এবং শেখ আলী কুযবার প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

তিনি শেখ মুস্তফা আন-নাবলুসীর নিকট ফারায়েয ও হিসাববিজ্ঞান শিক্ষা করেন।

তিনি দক্ষ কারী ও হাফেজ শেখ ইব্রাহিম আদ-দিমাশকীর নিকট কুরআন হিফয করেন।

এরপর চুয়াল্লিশ (১১৪৪) হিজরী সালে তিনি হালব শহরে সফর করেন এবং সেখানকার একদল বিশিষ্ট আলেম ও সেখানে আগত মনীষীদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা শেখ মুহাম্মদ আকীলা আল-মাক্কীর নিকট ‘আল-হাদীস আল-মুসালসাল বিল আওয়ালিয়া’ এবং সহীহ আল-বুখারীর অধিকাংশ অংশ শ্রবণ করেন।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১০)
وقرأ جملة من المنطق والأصول على الشيخ صالح البصري، وطرفاً من الأصول أيضًا والتوحيد والنحو والمعاني والبيان على الشيخ محمد الحلبي المعروف بالزمار.

وحضر دروسه كثيرًا في صحيح البخاري، وأخذ العروض والاستعارات عن الفاضل الشيخ قاسم البكرجي، وأشياخه كثيرون لا يحصون عدة.

وكان بحلب مستقيمًا ساكنًا فاضلًا، وله أناس يبرونه، قائمين بمعاشه، وما يحتاج إليه، واستقام بها إلى أن مات.

 

-‌‌ مشايخه:

ذكر البعلي في ثبته (منار الإسعاد) مشايخه الذين أخذ عنهم، فقال: (هذا ثبت جمع فيه جملة ممن تشرفت برؤيتهم، ولحظتني السعادة بأنفاسهم وبركاتهم، من مشايخي الأئمة الأعلام، وهداة الأنام، عمدة علماء التحقيق، وزبدة رؤساء التدقيق، الذين جعلهم الله تعالى لطلب علوم الشريعة المطهرة أوضح منهاج، ولجِيد هذا القرن الثاني عشر ورأسه أشرف عِقد وأعظم تاج)، ثم قال: (قد اجتمع لي بحمد الله تعالى من المشايخ عدة أفراد محققين، وجهابذة مدققين)، وأخذ في سردهم بأسمائهم وألقابهم، ومن هؤلاء:
তিনি শেখ সালেহ আল-বসরীর নিকট যুক্তিবিদ্যা ও উসুলের একাংশ এবং 'যাম্মার' নামে পরিচিত শেখ মুহাম্মদ আল-হালাবীর নিকট উসুল, তাওহিদ, ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র ও বর্ণনাভঙ্গিরও কিছু অংশ অধ্যয়ন করেন।

তিনি তাঁর নিকট সহীহ আল-বুখারীর বহু দরসে উপস্থিত হয়েছেন এবং বিজ্ঞ শেখ কাসেম আল-বাকারজি থেকে ছন্দশাস্ত্র ও রূপক অলঙ্কার গ্রহণ করেছেন। তাঁর শিক্ষকদের সংখ্যা অগণিত।

তিনি আলেপ্পোতে সুপ্রতিষ্ঠিত, শান্ত ও গুণী ব্যক্তি হিসেবে বসবাস করতেন। সেখানে তাঁর প্রতি সদয় কিছু লোক ছিল যারা তাঁর জীবনযাত্রা ও প্রয়োজনীয় বিষয়ের দেখাভাল করত। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করেন।

 

-‌‌ তাঁর শিক্ষকগণ:

আল-বালী তাঁর সনদ সংকলন (মানারুল ইসআদ)-এ তাঁর শিক্ষকদের কথা উল্লেখ করেছেন যাদের কাছ থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি বলেন: (এটি একটি সংকলন যাতে আমি এমন একদল ব্যক্তিকে একত্রিত করেছি যাদের দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে এবং যাদের সাহচর্য ও বরকতে আমি ধন্য হয়েছি; তাঁরা আমার সেই শিক্ষক যারা প্রখ্যাত ইমাম, মানবজাতির পথপ্রদর্শক, গবেষক আলেমদের মূল ভিত্তি এবং সূক্ষ্মদর্শী প্রধানদের নির্যাস; যাঁদেরকে মহান আল্লাহ পবিত্র শরীয়তের জ্ঞান অন্বেষণের জন্য উজ্জ্বলতম পথ এবং এই দ্বাদশ শতাব্দীর গ্রীবা ও মস্তকের জন্য শ্রেষ্ঠ হার ও মহান মুকুট হিসেবে নির্ধারণ করেছেন)। এরপর তিনি বলেন: (আল্লাহ তাআলার প্রশংসায় আমার নিকট বেশ কয়েকজন গবেষক শিক্ষক এবং সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিত একত্রিত হয়েছেন)। অতঃপর তিনি তাঁদের নাম ও উপাধিসহ তালিকা বর্ণনা করতে শুরু করেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১১)
1 - الشيخ الإمام محمد أبو المواهب الحنبلي، مفتي السادة الحنابلة بدمشق الشام.

2 - الشيخ العلامة عبد القادر بن عمر التغلبي، صاحب كتاب: (نيل المآرب بشرح دليل الطالب).

3 - الشيخ عبد الله بن الشيخ أحمد بن محمد الحنبلي، الشهير بالخطيب

4 - الشيخ عبد الغني النابلسي.

وذكر آخرين من علماء دمشق وغيرهم، ممن أخذ عنهم ولازمهم واستجازهم، حتى ذكر (36) من العلماء، رحمهم الله جميعًا.

 

-‌‌ ثناء العلماء عليه:

أثنى عليه جملة من العلماء الذين ترجموا له، فمن ذلك:

قال أبو الفضل المرادي (1206 هـ): (الشيخ العالم الفاضل الصالح كان فقيهاً بارعاً بالعلوم خصوصاً في القراآت وغيرها).

وقال ابن بدران (1346 هـ): (وكان فقيهًا متفننًا أديبًا شاعرًا).

وقال عبد الحي الكتاني (1382 هـ): (الشيخ العالم الصالح المقري المسند).

وقال الغزي: (عظم أمره، وارتفع قدره، واشتهر ذكره، وغلا سعره).
১ - শেখ ইমাম মুহাম্মদ আবু আল-মাওয়াহিব আল-হাম্বলি, সিরিয়ার দামেশকের হাম্বলি উলামাদের মুফতি।

২ - শেখ আল্লামা আব্দুল কাদির ইবনে উমর আল-তাগলবি, ‘নাইলুল মাআরিব বি শারহি দালিলিত তালিব’ গ্রন্থের রচয়িতা।

৩ - শেখ আবদুল্লাহ ইবনে শেখ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হাম্বলি, যিনি আল-খতিব নামে পরিচিত।

৪ - শেখ আব্দুল গনি আল-নাবুলসি।

তিনি দামেশকের ও অন্যান্য স্থানের আরও অনেক আলেমের কথা উল্লেখ করেছেন, যাদের নিকট থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন, সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং ইজাজত গ্রহণ করেছেন; এমনকি তিনি ৩৬ জন আলেমের নাম উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

 

-‌‌ তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা:

তাঁর জীবনী রচনাকারী আলেমগণের একটি দল তাঁর প্রশংসা করেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

আবুল ফজল আল-মুরাদি (১২০৬ হি.) বলেছেন: (তিনি ছিলেন শেখ, বিজ্ঞ আলেম, গুণী ও নেককার ব্যক্তি; তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে, বিশেষ করে ক্বিরাআত ও অন্যান্য বিদ্যায় অত্যন্ত দক্ষ ফকিহ ছিলেন)।

ইবনে বদরান (১৩৪৬ হি.) বলেছেন: (তিনি বহুমুখী জ্ঞানের অধিকারী ফকিহ, সাহিত্যিক এবং কবি ছিলেন)।

আব্দুল হাই আল-কাত্তানি (১৩৮২ হি.) বলেছেন: (বিজ্ঞ আলেম, সৎকর্মশীল, ক্বারী এবং মুসনিদ)।

আল-গাজ্জি বলেছেন: (তাঁর শান ছিল মহান, তাঁর মর্যাদা ছিল সুউচ্চ, তাঁর খ্যাতি ছিল বিশ্বজুড়ে এবং তাঁর কদর ছিল অত্যন্ত বেশি)।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১২)
وقال ابن شطي (1379 هـ): (الإمام العالم العامل، الأديب البارع، الفقيه المقرئ، المفنن الأوحد).

 

-‌‌ مؤلفاته:

له مصنفات كثيرة متنوعة، مطبوعة ومخطوطة ومفقودة، فمن ذلك:

1 - منار الإسعاد في طرق الإسناد (1).

2 - مختصر الجامع الصغير للسيوطي، وسماه: (نور الأخبار وروض الأبرار في حديث النبي المصطفى المختار) (2).

3 - شرح مختصر الجامع الصغير، وسماه: (فتح الستار وكشف الأستار).

4 - النور الوامض في علم الفرائض.

5 - الجامع لخطب الجوامع، ومختصره المسمى: النور اللامع

--------------------------------------------

(1) أورده جماعة ممن ترجم له، وهو مخطوط في دار الكتب المصرية برقم 133 - مصطلح حديث، كما في معجم مصنفات الحنابلة.

وقد اختصر هذا الثبت الشيخ محمد راغب الطباخ الحلبي في كتابه: (الأنوار الجلية في مختصر الأثبات الحلبية)، مطبوع عن دار البشائر الإسلامية، سنة 1432 هـ، 2011 م، وقد ذكر الطباخ في مقدمته أن (منار الإسعاد) موجود بخط مؤلفه أو بخط ابنه عبد الله، ومحفوظ عند الشيخ ياسين سِريُّو ابن أخت الشيخ كامل الموقت رحمه الله.

(2) قال الكتاني: (اقتصر فيه على ما رواه أحمد والبخاري ومسلم). ينظر: فهرس الفهارس 2/ 737.
এবং ইবনে শাত্তি (১৩৭৯ হিজরী) বলেছেন: (তিনি ইমাম, আমলকারী আলেম, দক্ষ সাহিত্যিক, ফকিহ ও ক্বারী এবং অনন্য বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী)।

 

-‌‌ তাঁর রচনাবলী:

তাঁর অনেক বৈচিত্র্যময় রচনা রয়েছে, যার কিছু মুদ্রিত, কিছু পাণ্ডুলিপি আকারে এবং কিছু হারিয়ে গেছে। তার মধ্যে রয়েছে:

১ - মানারুল ইসআদ ফি তুরুকিল ইসনাদ (১)।

২ - সুয়ূতী রচিত আল-জামিউস সগির-এর সংক্ষিপ্তসার, যার নাম তিনি দিয়েছেন: (নুরুল আখবার ওয়া রওজুল আবরার ফি হাদিসিন নাবিয়্যিল মুস্তফাল মুখতার) (২)।

৩ - আল-জামিউস সগির-এর সংক্ষিপ্তসারের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার নাম দিয়েছেন: (ফাতহুস সাত্তার ওয়া কাশফুল আস্তার)।

৪ - আন-নুরুল ওয়ামিজ ফি ইলমিল ফরাইজ।

৫ - আল-জামিউ লি-খুতাবিল জাওয়ামি এবং এর সংক্ষিপ্তসার যার নাম: আন-নুরুল লামি

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী যারা লিখেছেন তাদের একটি দল এটি উল্লেখ করেছেন। এটি মিশরের দারুল কুতুব-এ হাদিসের পরিভাষা বিভাগে ১৩৩ নম্বর পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত আছে, যেমনটি মু'জামু মুসান্নাফাতিল হানাবিলাহ-তে উল্লেখ করা হয়েছে।

শায়খ মুহাম্মদ রাগিব আল-তাব্বাখ আল-হালাবি তাঁর (আল-আনওয়ারুল জালিয়্যাহ ফি মুখতাসারিল আসবাতিল হালাবিয়্যাহ) গ্রন্থে এই সনদ সংকলনটি সংক্ষিপ্ত করেছেন। এটি ১৪৩২ হিজরী, ২০১১ খ্রিস্টাব্দে দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তাব্বাখ তাঁর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, (মানারুল ইসআদ) গ্রন্থটি লেখকের নিজ হাতে লেখা অথবা তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর হাতের লেখায় বিদ্যমান এবং এটি মরহুম শায়খ কামিল আল-মুওয়াক্কিত-এর ভাগ্নে শায়খ ইয়াসিন সিরিয়্যুর নিকট সংরক্ষিত রয়েছে।

(২) কিত্তানি বলেছেন: (তিনি এতে আহমদ, বুখারি এবং মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন)। দেখুন: ফিহরিসুল ফাহারিস ২/ ৭৩৭।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৩)
في خطب الجوامع.

6 - رحلة، قال في ثبته منار الإسعاد: (ذكرت فيها ما شاهدته في سياحتي من عجائب البر والبحر).

7 - كشف المخدرات في شرح أخصر المختصرات (1).

8 - ديوان شعر، قال المرادي: (وله ديوان رائق محتو على رقائق).

9 - مجنى الثمرات، وقد ذكر في ثبته أنه مختصر لشرحه كشف المخدرات.

10 - بلوغ القاصد جل المقاصد (2).

11 - الدرة المضية في اختصار الرحبية، وهي منظومة.

12 - نظم الآجرومية.

13 - الرسالة الحلبية في اختصار الآجرومية، وشرحها: القطع الذهبية.

--------------------------------------------

(1) مطبوع بعناية الشيخ محمد بن ناصر العجمي، عن دار البشائر الإسلامية، سنة 1423 هـ، 2002 م، في مجلدين.

(2) وهو شرح لمختصرنا هذا، مطبوع بعناية الشيخ محمد بن ناصر العجمي، عن دار البشائر الإسلامية، سنة 1421 هـ، في مجلد.
জামে মসজিদের খুতবাসমূহ প্রসঙ্গে।

৬ - রিহলা (ভ্রমণকাহিনী), তিনি তাঁর গ্রন্থতালিকা 'মানারুল ইসআদ'-এ বলেছেন: (এতে আমি আমার ভ্রমণে স্থল ও সমুদ্রের যেসব বিস্ময়কর বিষয় দেখেছি তা উল্লেখ করেছি)।

৭ - কাশফুল মুখাদ্দারাত ফি শারহি আখসারিল মুখতাসারাত (১)।

৮ - দিওয়ানে শের (কাব্যগ্রন্থ), আল-মুরাদি বলেছেন: (তাঁর একটি চমৎকার কাব্যসংকলন রয়েছে যা আধ্যাত্মিক ও কোমল কবিতার সমাহার)।

৯ - মাজনাথ সামারাত, তিনি তাঁর কিতাব তালিকায় উল্লেখ করেছেন যে এটি তাঁর ‘কাশফুল মুখাদ্দারাত’ নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার।

১০ - বুলুগুল কাসিদ জাল্লাল মাকাসিদ (২)।

১১ - আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ ফি ইখতিসারির রাহবিয়্যাহ, এটি একটি কাব্যগ্রন্থ।

১২ - নাজমুল আজরুমিয়্যাহ।

১৩ - আর-রিসালাতুল হালাবিয়্যাহ ফি ইখতিসারিল আজরুমিয়্যাহ, এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ: আল-কিতাউয যাহাবিয়্যাহ।

--------------------------------------------

(১) এটি শায়খ মুহাম্মাদ বিন নাসির আল-আজমির তত্ত্বাবধানে, দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে ১৪২৩ হিজরি, ২০০২ খ্রিস্টাব্দে দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

(২) এটি আমাদের এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটির একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা শায়খ মুহাম্মাদ বিন নাসির আল-আজমির তত্ত্বাবধানে দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে ১৪২১ হিজরিতে এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৪)
14 - بداية العابد وكفاية الزاهد (1)، وهو كتابنا هذا.

 

-‌‌ وفاته:

كانت وفاته بحلب، سنة اثنين وتسعين ومائة وألف (1192 هـ)، رحمه الله تعالى رحمة واسعة.

--------------------------------------------

(1) طُبع بعناية الشيخ محمد بن ناصر العجمي، عن دار البشائر الإسلامية، سنة 1417 هـ، 1997 م.
১৪ - ইবাদতকারীর সূচনা ও সংসারবিরাগীর পর্যাপ্ততা (১), আর এটিই আমাদের এই গ্রন্থ।

 

-‌‌ তাঁর ইনতিকাল:

তাঁর ইনতিকাল হয়েছিল হালাবে, এক হাজার একশত বিরানব্বই (১১৯২ হি.) সনে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে প্রশস্ত রহমত দান করুন।

--------------------------------------------

(১) শেখ মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমির তত্ত্বাবধানে, দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে, ১৪১৭ হি., ১৯৯৭ খ্রি. সনে মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌منهج التحقيق

1 - اعتمدنا نسخة واحدة، وهي النسخة المكتوبة بخط المؤلف مع الشرح، واستعنا - عند الحاجة - بالنسخة المطبوعة.

2 - قمنا بتوثيق الآيات القرآنية، وتخريج الأحاديث تخريجًا مختصرًا يتناسب مع المختصر.

3 - ضبطنا كلمات المتن كلها، معتمدين في ذلك على كتب اللغة والمعاجم.

4 - شرحنا الكلمات التي نرى أنها بحاجة إلى شرح من مصادرها المعتمدة، واعتمدنا غالباً على ما ذكره محمد بن أبي الفتح البعلي (ت: 709 هـ)، صاحب كتاب: (المطلع على ألفاظ المقنع)؛ لكونه إماماً في اللغة وفقه الحنابلة، وإلا فغيره من كتب اللغة والمعاجم والغريب.

5 - قمنا بترتيب مسائل الكتاب، بحيث يُسهِّل على القارئ معرفة المسائل وفروعها وأقسامها، وذلك على النحو التالي:

- جعلنا لكل مسألة منفصلة علامة قبلها وهي: (*).

- إذا كانت المسألة تحتها فروع؛ جعلنا كل فرع في سطر تحت المسألة الأم، وجعلنا أمام هذا الفرع علامة (-).
সম্পাদনা পদ্ধতি

১ - আমরা একটিমাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, আর তা হলো লেখকের স্বহস্তে লিখিত মূল ভাষ্য সম্বলিত পাণ্ডুলিপি; এবং প্রয়োজনবোধে আমরা মুদ্রিত কপিরও সাহায্য নিয়েছি।

২ - আমরা কুরআনের আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি এবং হাদিসসমূহের সংক্ষিপ্ত তাখরিজ (উৎসনির্দেশ) সম্পন্ন করেছি, যা এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটির জন্য উপযুক্ত।

৩ - আমরা মূল পাঠের (মাতন) সকল শব্দের স্বরচিহ্ন (হরকত) বিন্যাস করেছি, এক্ষেত্রে ভাষাতত্ত্ব ও অভিধানগ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছি।

৪ - যেসব শব্দের ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করেছি, নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি; এবং এক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় মুহাম্মদ ইবনে আবি আল-ফাতহ আল-বালি (মৃত্যু: ৭০৯ হি.), যিনি 'আল-মুতলি আলা আলফাজিল মুকনি' গ্রন্থের রচয়িতা—তার বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছি। কারণ তিনি ভাষা ও হাম্বলি ফিকহ শাস্ত্রের একজন ইমাম ছিলেন। অন্যথায় অন্যান্য ভাষাতত্ত্ব, অভিধান ও দুর্লভ শব্দের গ্রন্থাবলির সাহায্য নেওয়া হয়েছে।

৫ - আমরা কিতাবের মাসআলাগুলো বিন্যস্ত করেছি যাতে পাঠকের জন্য মাসআলাসমূহ, তার শাখা-প্রশাখা ও প্রকারভেদ অনুধাবন করা সহজ হয়; আর তা নিম্নরূপ:

- প্রতিটি স্বতন্ত্র মাসআলার পূর্বে আমরা একটি চিহ্ন দিয়েছি, যা হলো: (*)।

- যদি কোনো মাসআলার অধীনে শাখা-প্রশাখা থাকে, তবে মূল মাসআলার নিচে প্রতিটি শাখাকে আলাদা লাইনে রেখেছি এবং সেই শাখার সামনে একটি চিহ্ন (-) দিয়েছি।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৬)
- إذا كانت المسألة تحتها أنواع أو شروط أو أركانه أو نحو ذلك؛ جعلنا أمام كل نوع أو نحوه رقمًا بين معكوفتين، هكذا: [1].

- إذا ساق المؤلف جملة من المسائل، ثم ذكر بعد هذه المسائل حكمها جميعًا: وضعنا كل مسألة في سطر، ووضعنا أمام كل مسألة علامة (-)، على ما تقدم بيانه، ثم جعلنا الحكم المذكور في سطر دون أن تكون أمامه أي علامة؛ ليدل على أن هذا الحكم راجع لجميع المسائل السابقة.

6 - ترجمنا للمؤلف من مصادر ترجمته، وعرَّفنا بالكتاب في مقدمة التحقيق.
- যদি কোনো মাসআলার অধীনে বিভিন্ন প্রকার, শর্ত, রুকন বা অনুরূপ কিছু থাকে; তবে আমরা প্রতিটি প্রকার বা অনুরূপ বিষয়ের সামনে বন্ধনীভুক্ত একটি সংখ্যা প্রদান করেছি, এভাবে: [১]।

- যদি লেখক একাধিক মাসআলা পর পর বর্ণনা করেন এবং এরপর সেই সকল মাসআলার সামগ্রিক বিধান উল্লেখ করেন: তবে আমরা ইতিপূর্বে বর্ণিত নিয়মানুযায়ী প্রতিটি মাসআলাকে পৃথক লাইনে স্থাপন করেছি এবং প্রতিটি মাসআলার সামনে একটি চিহ্ন (-) প্রদান করেছি। অতঃপর উল্লিখিত বিধানটিকে কোনো প্রকার চিহ্ন ছাড়াই একটি স্বতন্ত্র লাইনে স্থাপন করেছি; যাতে এটি বুঝা যায় যে, উক্ত বিধানটি পূর্ববর্তী সকল মাসআলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

৬ - আমরা সংশ্লিষ্ট উৎসসমূহ হতে লেখকের জীবনী সংকলন করেছি এবং সম্পাদনার ভূমিকায় গ্রন্থটির পরিচিতি তুলে ধরেছি।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌وصف النسخة المعتمدة

اعتمدنا في تحقيق هذا المختصر المبارك على نسخة خطية فريدة لكتاب (بلوغ القاصد جل المقاصد لشرح بداية العابد وكفاية الزاهد)، وهو شرحٌ لطيف مختصر لمؤلف المتن.

وهي نسخة مصورة من المكتبة الظاهرية، ورقمها (33791)، وتقع في (63 ورقة)، وعدد أسطر في الورقة (15 سطرًا)، وقد كتبت بخط النسخ المعتاد.

وقد اقتصرنا على هذه النسخة في التحقيق لأسباب:

1 - أنها نسخة سطَّرها المؤلف بيده، فقال في نهايتها: (قال ذلك بفمه، وكتبه بقلمه العبد المفتقر إلى فضل المنان، أبو عبد الله، عبد الرحمن بن عبد الله بن أحمد بن محمد، الحنبلي، الخلوتي، ثم القادري، الدمشقي، ثم الحلبي، عفا الله عنه، وعن والديه، وعن مشايخه، وعن أخواله، ولمن دعا له بحسن الختام، والحمد لله على التمام، والصلاة والسلام على خير الأنام).

وهذا النوع من النسخ هو أعلى أنواع النسخ الخطية، وحين يقف عليها محقق كتاب يكتفي بها عن سائر النسخ - غالبًا -، كما هو معلوم في مناهج التحقيق الحديثة.
নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির বিবরণ

এই বরকতময় সংক্ষিপ্তসারটির তাহকীকে (সম্পাদনায়) আমরা 'বুলুগুল কাসিদ জুল্লুল মাকাসিদ লি-শারহি বিদায়াতিল আবিদ ওয়া কিফায়াতিল জাহিদ' নামক কিতাবের একটি অনন্য পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি; এটি মূল মতনের (মূলপাঠের) লেখকেরই রচিত একটি চমৎকার ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

এটি জাহিরিয়া লাইব্রেরি থেকে সংগৃহীত একটি আলোকচিত্র সংস্করণ, যার নম্বর (৩৩৭৯১)। এটি (৬৩টি পত্রে) বিন্যস্ত এবং প্রতিটি পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা (১৫টি)। এটি সাধারণ নাসখ লিপিতে লিখিত হয়েছে।

তাহকীক বা সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমরা কেবল এই পাণ্ডুলিপির ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি, যার কারণগুলো হলো:

১ - এটি লেখকের স্বহস্তে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপি। তিনি এর শেষে বলেছেন: (এটি তার মুখে উচ্চারিত এবং তার কলম দ্বারা লিখিত—যিনি পরম দাতা আল্লাহর অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী বান্দা, আবু আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ, আল-হাম্বলী, আল-খালওয়াতী, অতঃপর আল-কাদরী, আদ-দিমাশকী, অতঃপর আল-হালাবী; আল্লাহ তাকে, তার পিতা-মাতাকে, তার উস্তাদদের, তার মামাদের এবং যারা তার জন্য উত্তম সমাপ্তির দোয়া করবে তাদের ক্ষমা করুন। কাজটির পূর্ণতার জন্য সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং সৃষ্টির সেরার প্রতি সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)।

পাণ্ডুলিপির এই প্রকারটি হলো পাণ্ডুলিপি সমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের। আধুনিক তাহকীক বা সম্পাদনা পদ্ধতিতে এটি স্বীকৃত যে, যখন কোনো কিতাবের সম্পাদক এ জাতীয় পাণ্ডুলিপি পেয়ে যান, তখন সাধারণত তিনি অন্য সব পাণ্ডুলিপির পরিবর্তে এটিকেই যথেষ্ট মনে করেন।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৮)
2 - أنها نسخة كاملة، وواضحة، ومتقنة للغاية، حتى قام مؤلفها بمقابلتها وتحريرها مرة أخرى مما يدل على العناية بها، فكتب في آخرها على الهامش: (بلغ مقابلة وتحريرًا).

3 - أنها نسخة متأخرة النسخ، قال المؤلف في آخرها: (وفرغت من تسويده نهار الثلاثاء، عشر من شهر الله المحرم الحرام، افتتاح شهور سنة إحدى وسبعين ومائة وألف (1171 هـ)، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم).

وللمتن نسخة خطية، كتبها: عبد الرحمن بن عثمان آل جلاجل، نقلها عن خط المؤلف، إلا أن النسخة التي بأيدينا تغني عنها لكونها بخط المؤلف، فلا حاجة بعد ذلك إلى غيرها من النسخ، خصوصًا أن النسخة التي اعتمدناها متأخرة عن الأخرى، حيث ذُكر أن نسخة آل جلاجل فَرغ مؤلفها من نسخها سنة تسع وخمسين ومائة وألف (1159 هـ)، فالفرق بينهما قريبًا من اثني عشر سنة.
২ - এটি একটি পূর্ণাঙ্গ, স্পষ্ট এবং অত্যন্ত নিপুণ পাণ্ডুলিপি। এমনকি এর লেখক নিজেই এটি পুনরায় যাচাই এবং সম্পাদনা করেছেন, যা এর প্রতি বিশেষ যত্নের প্রমাণ দেয়। তিনি এর শেষে পার্শ্বটীকায় লিখেছেন: (যাচাই ও সম্পাদনা সম্পন্ন হয়েছে)।

৩ - এটি পাণ্ডুলিপি তৈরির দিক থেকে একটি পরবর্তী সংস্করণ। লেখক এর শেষে বলেছেন: (আমি এর অনুলিখন সমাপ্ত করেছি মঙ্গলবার দিনে, আল্লাহর মাস পবিত্র মুহাররামের দশ তারিখে, এগারশ একাত্তর হিজরি (১১৭১ হি.) সনের শুরুতে। মহান সুউচ্চ আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই)।

মূল পাঠের (মাতন) একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যা লিখেছেন আবদুর রহমান বিন উসমান আল-জালাজিল। তিনি এটি লেখকের মূল হস্তলিপি থেকে অনুলিপি করেছেন। তবে আমাদের হাতে থাকা পাণ্ডুলিপিটি সেই অভাব পূরণ করে দেয়, যেহেতু এটি খোদ লেখকের নিজস্ব হস্তলিপি। তাই এরপর অন্য কোনো পাণ্ডুলিপির প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে আমরা যে পাণ্ডুলিপিটির ওপর নির্ভর করেছি তা অন্যটির চেয়ে পরবর্তী সময়ের। কেননা এটি উল্লিখিত হয়েছে যে, আল-জালাজিলের পাণ্ডুলিপিটির অনুলিখন লেখক এগারশ ঊনষাট হিজরি (১১৫৯ হি.) সনে সম্পন্ন করেছিলেন। ফলে এই দুটির মধ্যে সময়ের ব্যবধান প্রায় বারো বছর।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌نماذج النسخ الخطية
হস্তলিপি পাণ্ডুলিপির নমুনা
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحَمْدُ لله الَّذِي فَقَّهَ فِي الدِّينِ مَنْ شَاءَ مِنَ العِبَادِ، وَوَفَّقَ أَهْلَ طَاعَتِهِ لِلْعِبَادَةِ وَالسَّدَادِ، وَالصَّلاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ الهَادِي إِلَى طَرِيقِ الرَّشَادِ، وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ السَّادَةِ القَادَةِ الأَمْجَادِ، وَعَلَى تَابِعِيهِمْ بِإِحْسَانٍ؛ صَلَاةً دَائِمَةً مُتَّصِلَةً إِلَى يَوْمِ المَعَادِ.

أَمَّا بَعْدُ:

فَقَدِ اسْتَخَرْتُ اللهَ تَعَالَى فِي جَمْعِ مُخْتَصَرٍ مُفِيدٍ، مُقْتَصِرًا فِيهِ عَلَى العِبَادَاتِ؛ تَرْغِيبًا لِلمُرِيدِ، وَتَقْرِيبًا لِلمُسْتَفِيدِ، فِي فِقْهِ الإِمَامِ المُبَجَّلِ، أَبِي عَبْدِالله أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، وَسَمَّيْتُهُ: «بِدَايَةَ العَابِدِ وَكِفَايَةَ الزَّاهِدِ»، وَمِنَ الله تَعَالَى أَرْتَجِي لَهُ القَبُولَ، وَالنَّفْعَ لِكُلِّ مَنِ اشْتَغَلَ بِهِ؛ مِنْ سَائِلٍ وَمَسْؤُولٍ، إِنَّهُ أَكْرَمُ مَأْمُولٍ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেছেন এবং তাঁর অনুগতদের ইবাদত ও সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করেছেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি সঠিক পথের দিশারী, এবং তাঁর পরিবার ও মহান নেতা সমতুল্য সাহাবীবর্গের ওপর, এবং যারা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর; এমন সালাত যা পরকাল দিবস পর্যন্ত চিরকাল নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।

অতঃপর:

আমি আল্লাহ তাআলার নিকট ইস্তিখারা করেছি একটি উপকারী সংক্ষিপ্ত সার সংকলন করার বিষয়ে, যাতে আমি কেবল ইবাদত সংক্রান্ত বিষয়গুলোই সীমাবদ্ধ রেখেছি; শিক্ষার্থীর আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য এবং জ্ঞান অন্বেষণকারীর নিকট সহজবোধ্য করার লক্ষ্যে, যা সম্মানিত ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বলের ফিকহ অনুযায়ী রচিত। আমি এর নামকরণ করেছি: ‘বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুয যাহেদ’। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট এর কবুলিয়াত এবং এর চর্চায় নিয়োজিত প্রত্যেক জিজ্ঞাসু ও উত্তরদাতার উপকারের আশা করছি; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ আশাস্থল।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌كِتَابُ الطَّهَارَةِ

- وَهِيَ:

- ارْتِفَاعُ الحَدَثِ.

- وَزَوَالُ الخَبَثِ.

- وَالمِيَاهُ ثَلَاثَةٌ: طَهُورٌ، وَطَاهِرٌ، وَنَجِسٌ.

[1] فَالطَّهُورُ: هُوَ البَاقِي عَلَى خِلْقَتِهِ.

- طَهُورٌ فِي نَفْسِهِ، مُطَهِّرٌ لِغَيْرِهِ.

- يَجُوزُ اسْتِعْمَالُهُ مُطْلَقًا.

[2] وَالطَّاهِرُ:

- مَا تَغَيَّرَ كَثِيرٌ مِنْ لَوْنِهِ، أَوْ طَعْمِهِ، أَوْ رِيحِهِ بِطَاهِرٍ.

- وَهُوَ طَاهِرٌ فِي نَفْسِهِ، غَيْرُ مُطَهِّرٍ لِغَيْرِهِ.

- يَجُوزُ اسْتِعْمَالُهُ فِي غَيْرِ:

- رَفْعِ حَدَثٍ.

- وَزَوَالِ خَبَثٍ.

[3] وَالنَّجِسُ: مَا تَغَيَّرَ بِنَجَاسَةٍ فِي غَيْرِ مَحَلِّ تَطْهِيرٍ.
পবিত্রতা অধ্যায়

- আর তা হলো:

- অপবিত্রতা (হাদাস) দূর হওয়া।

- এবং নাপাকি (খাবাস) দূরীভূত হওয়া।

- এবং পানি তিন প্রকার: পবিত্রকারী, পবিত্র এবং নাপাক।

[1] অতঃপর পবিত্রকারী পানি হলো: যা তার আদিম বা প্রাকৃতিক অবস্থায় অবশিষ্ট রয়েছে।

- যা নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী।

- এর ব্যবহার নিঃশর্তভাবে জায়েজ।

[2] এবং পবিত্র পানি:

- যার রঙ, স্বাদ অথবা গন্ধের অধিকাংশ কোনো পবিত্র বস্তুর দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে।

- তা নিজে পবিত্র, তবে অন্যকে পবিত্রকারী নয়।

- এটি নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলো ব্যতীত অন্য কাজে ব্যবহার করা জায়েজ:

- অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করা।

- এবং নাপাকি (খাবাস) দূরীভূত করা।

[3] আর নাপাক পানি: যা নাপাকির মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে, পবিত্র করার স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৪)
- وَيَحْرُمُ اسْتِعْمَالُهُ مُطْلَقًا إِلَّا لِضَرُورَةٍ.

- وَالكَثِيرُ: قُلَّتَانِ فَأَكْثَرُ.

- وَاليَسِيرُ: مَا دُونَهُمَا، وَهُمَا: مِئَةُ رِطْلٍ (1) وَسَبْعَةُ أَرْطَالٍ وَسُبُعُ رِطْلٍ بِالدِّمَشْقِيِّ (2)، وَمَا وَافَقَهُ.

- وَكُلُّ إِنَاءٍ طَاهِرٍ: يُبَاحُ اتِّخَاذُهُ، وَاسْتِعْمَالُهُ.

- غَيْرَ ذَهَبٍ وَفِضَّةٍ.

 

‌‌فَصْلٌ

- وَالِاسْتِنَجَاءُ: إِزَالَةُ مَا خَرَجَ مِنْ سَبِيلٍ بِمَاءٍ
، أَوْ حَجَرٍ، وَنَحْوِهِ.

- وَهُوَ وَاجِبٌ مِنْ كُلِّ خَارِجٍ، إِلَّا:

[1] الرِّيحَ.

[2] وَالطَّاهِرَ.

[3] وَغَيْرَ المُلَوِّثِ.

--------------------------------------------

(1) الرطل: الذي يوزن به، بكسر الراء، ويجوز فتحها. ينظر: المطلع (ص 19).

(2) تساوي: خمسمائة رطل عراقي، والرطل العراقي بالمثاقيل يساوي 90 مثقالًا، فـ (500 رطل × 90) = 45 ألف مثقال.

والمثقال حرِّر الآن بالغرامات، فيساوي (4.250) غرام، فالقلتان: (4.250 × 45 ألف) = 191250 غرام، = (191،25) كيلاً.
- এবং এর ব্যবহার নিঃশর্তভাবে হারাম, তবে বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত।

- এবং অধিক (পানি) হলো: দুই কুল্লা বা তার বেশি।

- এবং অল্প (পানি) হলো: যা এর চেয়ে কম। আর তা হলো: একশত সাত রতল (১) এবং এক রতলের সাত ভাগের এক ভাগ দামেশকী ওজনে (২), এবং এর সমপরিমাণ।

- এবং প্রতিটি পবিত্র পাত্র: তা সংগ্রহ করা এবং ব্যবহার করা বৈধ।

- স্বর্ণ ও রৌপ্য ব্যতীত।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

- এবং ইস্তিনজা হলো: মল-মূত্র ত্যাগের পথ দিয়ে যা নির্গত হয় তা পানি
, অথবা পাথর কিংবা অনুরূপ কিছুর মাধ্যমে দূর করা।

- এবং নির্গত প্রতিটি জিনিসের ক্ষেত্রে এটি ওয়াজিব, তবে এগুলো ব্যতীত:

[১] বায়ু।

[২] এবং পবিত্র বস্তু।

[৩] এবং যা দাগ বা ময়লা লেপনকারী নয়।

--------------------------------------------

(১) রতল: যা দিয়ে ওজন করা হয়, 'র' বর্ণে কাসরা (জের) যোগে, তবে ফাতহা (জবর) দেওয়াও বৈধ। দেখুন: আল-মুতলি (পৃষ্ঠা ১৯)।

(২) এটি পাঁচশত ইরাকি রতলের সমান। আর ইরাকি রতল মিসকাল হিসেবে ৯০ মিসকালের সমান, সুতরাং (৫০০ রতল × ৯০) = ৪৫,০০০ মিসকাল। বর্তমানে মিসকালকে গ্রামে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা (৪.২৫০) গ্রামের সমান। অতএব দুই কুল্লা: (৪.২৫০ × ৪৫,০০০) = ১৯১২৫০ গ্রাম = (১৯১.২৫) কেজি।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৫)
- وَلَا يَصِحُّ الِاسْتِجَمَارُ إِلَّا:

[1] بِطَاهِرٍ.

[2] مُبَاحٍ.

[3] يَابِسٍ.

[4] مُنَقٍّ.

- فَالإِنْقَاءُ بِحَجَرٍ وَنَحْوِهِ: أَنْ يَبْقَى أَثَرٌ لَا يُزِيلُهُ إِلَّا المَاءُ.

[5] وَشُرِطَ لَهُ: ثَلَاثُ مَسَحَاتٍ فَأَكْثَرُ مُنْقِيَةٍ.

[6] وَعَدَمُ تَعَدِّي خَارِجٍ مَوْضِعَ العَادَةِ.

- وَبِمَاءٍ: عَوْدُ المَحَلِّ كَمَا كَانَ.

- وَظَنُّهُ كَافٍ.

[7] [8] وَحَرُمَ: بِرَوْثٍ، وَعَظْمٍ، وَطَعَامٍ وَلَوْ لِبَهِيمَةٍ.

- وَلَا يَصِحُّ وُضُوءٌ وَلَا تَيَمُّمٌ قَبْلَهُ.

- وَحَرُمَ:

[1] لُبْثٌ فَوْقَ قَدْرِ حَاجَتِهِ.

[2] وَتَغَوُّطُهُ بِمَاءٍ.
- ইস্তিঝমার (পাথর বা সমজাতীয় বস্তু দিয়ে শৌচকার্য) শুদ্ধ হবে না যতক্ষণ না তা হয়:

[১] পবিত্র বস্তু দ্বারা।

[২] বৈধ বস্তু দ্বারা।

[৩] শুষ্ক বস্তু দ্বারা।

[৪] পরিষ্কারক বস্তু দ্বারা।

- পাথর বা অনুরূপ বস্তুর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা হলো: এমন সামান্য চিহ্ন অবশিষ্ট থাকা যা পানি ব্যতীত অন্য কিছুতে দূর হয় না।

[৫] আর এর জন্য শর্ত হলো: তিনবার বা তার অধিকবার মুছা যা পরিচ্ছন্নতা আনয়ন করে।

[৬] এবং নির্গত অপবিত্রতা স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম না করা।

- পানির মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা হলো: আক্রান্ত স্থানটি পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসা।

- এবং পরিচ্ছন্ন হওয়ার প্রবল ধারণা হওয়াই যথেষ্ট।

[৭] [৮] আর হারাম হলো: গোবর, হাড় এবং খাদ্যদ্রব্য দ্বারা শৌচকার্য করা, যদিও তা পশুর খাদ্য হয়।

- আর এর পূর্বে ওযু এবং তায়াম্মুম শুদ্ধ হবে না।

- এবং হারাম হলো:

[১] প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা।

[২] এবং পানিতে মলত্যাগ করা।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৬)
[3] وَبَوْلُهُ وَتَغَوُّطُهُ:

- بِمَوْرِدِهِ.

- وَبِطَرِيقٍ مَسْلُوكٍ.

- وَظِلٍّ نَافِعٍ.

- وَتَحْتَ شَجَرَةٍ عَلَيْهَا ثَمَرٌ يُقْصَدُ.

[4] وَاسْتِقْبَالُ قِبْلَةٍ وَاسْتِدْبَارُهَا بِفَضَاءٍ.

 

‌‌فَصْلٌ

- وَالسِّوَاكُ مَسْنُونٌ مُطْلَقًا
.

- إِلَّا لِصَائِمٍ:

[1] بَعْدَ الزَّوَالِ فَيُكْرَهُ.

[2] وَيُبَاحُ قَبْلَهُ بِعُودٍ رَطْبٍ.

[3] وَيُسْتَحَبُّ بِيَابِسٍ.

- وَلَمْ يُصِبِ السُّنّةَ مَنِ اسْتَاكَ بِغَيْرِ عُودٍ.

- وَيَتَأَكَّدُ عِنْدَ:

[1] صَلَاةٍ.
[৩] এবং তার প্রস্রাব ও পায়খানা করা:

- পানির উৎসস্থলে।

- চলাচলকারী পথে।

- উপকারী ছায়ায়।

- এমন ফলবান বৃক্ষের নিচে যার ফল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মানুষ আসে।

[৪] এবং উন্মুক্ত স্থানে ক্বিবলামুখী হওয়া অথবা ক্বিবলার দিকে পিঠ দেওয়া।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

- মিসওয়াক করা সর্বাবস্থায় সুন্নাত
।

- তবে রোযা পালনকারীর জন্য:

[১] সূর্য ঢলে পড়ার পর তা মাকরূহ।

[২] এবং এর পূর্বে কাঁচা ডাল দিয়ে তা বৈধ।

[৩] আর শুকনো ডাল দিয়ে করা মুস্তাহাব।

- আর যে ব্যক্তি ডাল ব্যতিরেকে মিসওয়াক করল, সে সুন্নাত অর্জন করতে পারল না।

- আর এটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন:

[১] সালাত।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৭)
[2] وَقِرَاءَةٍ.

[3] وَوُضُوءٍ.

[4] وَانْتِبَاهٍ مِنْ نَوْمٍ.

[5] وَدُخُولِ مَسْجِدٍ.

[6] وَتَغَيُّرِ رَائِحَةِ فَمٍ وَنَحْوِهِ.

- وَسُنَّ:

- بُدَاءَةٌ (1) بِالأَيْمَنِ فِي سِوَاكٍ، وَطُهُورٍ، وَشَأْنِهِ كُلِّهِ.

- وَادِّهَانٌ.

- وَاكْتِحَالٌ.

- وَنَظَرٌ فِي مِرْآةٍ.

- وَتَطَيُّبٌ.

- وَاسْتِحْدَادٌ.

--------------------------------------------

(1) قال في المطلع (ص 29): (البُداءة بالشيء: تقديمه على غيره، وفيها عشر لغات: بَدَأة كبقرة، وبُدْأة كغرقة، وبُداءة كملاءة، وبدوؤة كمروؤة، وبَدِيئَة كخطيئة، وبَدْء كخبء، وبُدَاهة على البدل بوزن مُلاءة، وبَداءة كسحابة، وبداة بوزن فَلاة، فأما بداية بلفظ هداية، فلم أرها مصرحاً بها، لكن تتخرج على لغة من قال: بديت الشيء وبديت به بغير همز، وهي لغة الأنصار، قال عبد الله بن رواحة رضي الله عنه: باسم الإله وبه بَدِينا … ولو عبدنا غيره شقينا).
[2] এবং (কুরআন) পাঠের সময়।

[3] এবং ওযুর সময়।

[4] এবং ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সময়।

[5] এবং মসজিদে প্রবেশের সময়।

[6] এবং মুখের দুর্গন্ধ বা এ জাতীয় পরিবর্তনের সময়।

- এবং সুন্নাত হলো:

- মেসওয়াক, পবিত্রতা অর্জন এবং যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে ডান দিক থেকে শুরু করা (১)।

- তেল ব্যবহার করা।

- সুরমা লাগানো।

- আয়নায় তাকানো।

- সুগন্ধি ব্যবহার করা।

- নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা।

--------------------------------------------

(১) আল-মুতলি গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ২৯) বলা হয়েছে: (কোনো কিছু শুরু করার অর্থ হলো তাকে অন্য কিছুর আগে উপস্থাপন করা। এতে দশটি শব্দরূপ রয়েছে: 'বাদআহ' যেমন 'বাক্কারাহ', 'বুদআহ' যেমন 'গুরকাহ', 'বুদআআহ' যেমন 'মুলাআআহ', 'বুদুউআহ' যেমন 'মারুউআহ', 'বাদিইয়াহ' যেমন 'খাত্বিইয়াহ', 'বাদউ' যেমন 'খাবউ', 'বুদাহাহ' হামযার পরিবর্তে হা বর্ণ দিয়ে 'মুলাআআহ'-এর ওজনে, 'বাদাআআহ' যেমন 'সাহাবাহ', এবং 'বাদাতুন' যেমন 'ফালাতুন' এর ওজনে। পক্ষান্তরে 'বিদায়াহ' শব্দটি 'হিদায়াহ'-এর ওজনে, আমি এটিকে স্পষ্টভাবে উল্লিখিত দেখিনি, তবে এটি সেই ব্যক্তির ভাষা অনুসারে হতে পারে যে হামযাহ ছাড়া 'বাদাইতুশ শাইআ' বা 'বাদাইতু বিহি' বলে থাকে; যা আনসারদের ভাষা। আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আল্লাহর নামে এবং তাঁর মাধ্যমেই আমরা শুরু করেছি … আর যদি আমরা তাঁকে ছাড়া অন্যের ইবাদত করতাম তবে আমরা হতভাগা হতাম)।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৮)
- وَحَفُّ شَارِبٍ.

- وَتَقْلِيمُ ظُفُرٍ (1).

- وَنَتْفُ إِبْطٍ (2).

- وَيَجِبُ خِتَانُ ذَكَرٍ وَأُنْثَى عِنْدَ بُلُوغٍ.

- وَزَمَنَ صِغَرٍ أَفْضَلُ.

 

‌‌فَصْلٌ

- وَالوُضُوءُ:
اسْتِعْمَالُ مَاءٍ طَهُورٍ فِي الأَعْضَاءِ الأَرْبَعَةِ عَلَى صِفَةٍ مَخْصُوصَةٍ.

- وَالتَّسْمِيَةُ وَاجِبَةٌ:

[1] فِيهِ.

[2] وَفِي غُسْلٍ.

[3] وَتَيَمُّمٍ.

--------------------------------------------

(1) الظفر للإنسان مذكر، وفيه لغات: أفصحها بضمتين، والثانية: الإسكان للتخفيف، والثالثة: بكسر الظاء وزان حِمل، والرابعة: بكسرتين للإتباع، والخامسة: أظفور مثل أسبوع). ينظر: المصباح المنير (2/ 358).

(2) إبْط: بسكون الباء، وقد تكسر. ينظر: تاج العروس (19/ 120).
- এবং গোঁফ ছাঁটা।

- এবং নখ কাটা (১)।

- এবং বগলের পশম উপড়ানো (২)।

- এবং সাবালকত্ব অর্জনের সময় পুরুষ ও নারীর খতনা করা ওয়াজিব।

- এবং ছোটবেলায় করা উত্তম।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

- এবং ওজু হলো:
চারটি অঙ্গে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পবিত্র পানি ব্যবহার করা।

- এবং তাসমিয়া পাঠ করা ওয়াজিব:

[১] এতে (ওজুতে)।

[২] এবং গোসলে।

[৩] এবং তায়াম্মুমে।

--------------------------------------------

(১) মানুষের ক্ষেত্রে নখ শব্দটি পুংলিঙ্গ, এতে বেশ কিছু শব্দরূপ রয়েছে: সবচেয়ে বিশুদ্ধ হলো দুই পেশ বিশিষ্ট (জুফুর), দ্বিতীয়টি হলো সহজ করার জন্য সাকিন বিশিষ্ট (জুফর), তৃতীয়টি হলো 'যা' বর্ণে কাসরা বা জের বিশিষ্ট 'হিমল' শব্দের ওজনে (জিফর), চতুর্থটি হলো অনুবর্তী হওয়ার কারণে দুই কাসরা বিশিষ্ট (জিফির) এবং পঞ্চমটি হলো 'উসবু' শব্দের ওজনে 'আযফুর'। দেখুন: আল-মিসবাহুল মুনির (২/৩৫৮)।

(২) ইব্ত (বগল): 'বা' বর্ণে সাকিন বা জযম যোগে, তবে কখনো কাসরা বা জের দিয়েও পড়া হয়। দেখুন: তাজুল আরুস (১৯/১২০)।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৯)
[4] وَغَسْلِ يَدَيْ قَائِمٍ مِنْ نَوْمِ لَيْلٍ نَاقِضٍ لِوُضُوءٍ.

[5] وَغَسْلِ مَيْتٍ.

- وَيَجِبُ غَسْلُ يَدَيِ القَائِمِ مِنْ نَوْمِ اللَّيْلِ:

- ثَلَاثًا.

- بِنِيَّةٍ.

- وَتَسْمِيَةٍ.

- وَشُرُوطُ الوُضُوءِ ثَمَانِيَةٌ (1):

[1] انْقِطَاعُ مَا يُوجِبُهُ.

[2] وَالنِّيَّةُ.

- وَهِيَ شَرْطٌ لِكُلِّ طَهَارَةٍ شَرْعِيَّةٍ، غَيْرَ إِزَالَةِ خَبَثٍ وَنَحْوِهَا.

[3] وَالإِسْلَامُ.

[4] وَالعَقْلُ.

[5] وَالتَّمِيِيزُ.

[6] وَالمَاءُ الطَّهُورُ المُبَاحُ.

[7] وَإِزَالَةُ مَا يَمْنَعُ وُصُولَهُ.

--------------------------------------------

(1) وزاد في الإقناع (1/ 23)، والمنتهى (1/ 48) تاسعاً، وهو: دخول الوقت على من حدثه دائم لفرض ذلك الوقت.
[৪] এবং অযু ভঙ্গকারী রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির দুই হাত ধৌত করা।

[৫] এবং মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো।

- এবং রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির জন্য দুই হাত ধৌত করা ওয়াজিব:

- তিনবার।

- নিয়তের সাথে।

- এবং তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ বলা)-এর সাথে।

- এবং অযুর শর্তাবলি আটটি (১):

[১] অযু ওয়াজিবকারী বিষয় (নাপাকি) বন্ধ হওয়া।

[২] এবং নিয়ত।

- এবং এটি (নিয়ত) প্রতিটি শরয়ী পবিত্রতার জন্য শর্ত, নাপাকি দূরীকরণ এবং এর সদৃশ বিষয়গুলো ব্যতীত।

[৩] এবং ইসলাম।

[৪] এবং বিবেক বা বুদ্ধি (আকল)।

[৫] এবং ভালো-মন্দ পার্থক্য করার সক্ষমতা (তাময়ীয)।

[৬] এবং পবিত্র ও বৈধ (মুুবাহ) পানি।

[৭] এবং পানি পৌঁছাতে বাধা প্রদানকারী বস্তু দূর করা।

--------------------------------------------

(১) আল-ইকনা (১/২৩) এবং আল-মুন্তাহা (১/৪৮) গ্রন্থে নবম একটি শর্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে, আর তা হলো: যার সর্বদা অপবিত্রতা বিদ্যমান থাকে (দায়েমে হাদাস), তার জন্য ওই ওয়াক্তের ফরয আদায়ের লক্ষ্যে ওয়াক্ত প্রবেশ করা।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৩০)
[8] وَالِاسْتِنْجَاءُ.

- وَفُرُوضُهُ سِتَّةٌ:

[1] غَسْلُ الوَجْهِ.

- وَمِنْهُ فَمٌ وَأَنْفٌ.

[2] وَغَسْلُ اليَدَيْنِ مَعَ المِرْفَقَيْنِ.

[3] وَمَسْحُ الرَّأْسِ كُلِّهِ.

- وَمِنْهُ الأُذُنَانِ.

[4] وَغَسْلُ الرِّجْلَيْنِ مَعَ الكَعْبَيْنِ.

[5] وَتَرْتِيبٌ.

[6] وَمُوَالَاةٌ.

وَيَسْقُطَانِ مَعَ غُسْلٍ.

 

‌‌فَصْلٌ

- يَجُوزُ المَسْحُ عَلَى الخُفَّيْنِ وَنَحْوِهِمَا بِسَبْعَةِ شُرُوطٍ
(1):

[1] لُبْسُهُمَا بَعْدَ كَمَالِ طَهَارةٍ بِمَاءٍ.

--------------------------------------------

(1) وزاد في المنتهى (1/ 63) شرطاً ثامناً: أن لا يكون واسعًا يرى منه بعض محل الفرض.
[৮] এবং ইসতিনজা (শৌচকার্য)।

- ওযুর ফরযসমূহ ছয়টি:

[১] মুখমণ্ডল ধৌত করা।

- মুখ এবং নাক এর অন্তর্ভুক্ত।

[২] কনুইসহ উভয় হাত ধৌত করা।

[৩] সম্পূর্ণ মাথা মাসেহ করা।

- উভয় কান এর অন্তর্ভুক্ত।

[৪] টাখনুসহ উভয় পা ধৌত করা।

[৫] ধারাবাহিকতা রক্ষা করা (তারতীব)।

[৬] বিরতিহীনভাবে সম্পাদন করা (মুওয়ালাত)।

আর গোসলের ক্ষেত্রে এই দুটি (তারতীব ও মুওয়ালাত) রহিত হয়ে যায়।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

- চামড়ার মোজা (খুফ) এবং অনুরূপ বস্তুর ওপর মাসেহ করা সাতটি শর্তে বৈধ
(১):

[১] পানি দ্বারা পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের পর সেগুলো পরিধান করা।

--------------------------------------------

(১) আল-মুনতাহা (১/৬৩) গ্রন্থে অষ্টম একটি শর্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে: মোজা যেন এত প্রশস্ত না হয় যার ফলে ফরয অঙ্গের কোনো অংশ দৃষ্টিগোচর হয়।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৩১)
[2] وَسَتْرُهُمَا لِمَحَلِّ فَرْضٍ.

[3] وَإِمْكَانُ مَشْيٍ بِهِمَا عُرْفًا.

[4] وَثُبُوتُهُمَا بِنَفْسِهِمَا.

[5] وَإِبَاحَتُهُمَا.

[6] وَطَهَارَةُ عَيْنِهِمَا.

[7] وَعَدَمُ وَصْفِهِمَا البَشَرَةَ.

- فَيَمْسَحُ:

- مُقِيمٌ، وَعَاصٍ بِسَفَرِهِ - مِنْ حَدَثٍ بَعْدَ لُبْسٍ -: يَوْمًا وَلَيْلَةً.

- وَمُسَافِرٌ سَفَرَ قَصْرٍ لَمْ يَعْصِ بِهِ: ثَلَاثَةً بِلَيَالِيهِنَّ.

- فَلَوْ:

- مَسَحَ فِي سَفَرٍ ثُمَّ أَقَامَ.

- أَوْ فِي حَضَرٍ ثُمَّ سَافَرَ.

- أَوْ شَكَّ فِي ابْتِدَاءِ المَسْحِ.

لَمْ يَزِدْ عَلَى مَسْحِ مُقِيمٍ.

- وَيَجُوزُ المَسْحُ عَلَى جَبِيرَةٍ:

[1] إِنْ كَانَ وَضَعَهَا عَلَى طَهَارَةٍ.
[2] এবং মোজাদ্বয় যেন (পা ধোয়ার) ফরয স্থানকে ঢেকে রাখে।

[3] এবং সাধারণত তা পরে চলাফেরা করা সম্ভব হওয়া।

[4] এবং মোজাদ্বয় কোনো কিছু দিয়ে বাঁধা ছাড়াই নিজ থেকে স্থির থাকা।

[5] এবং মোজাদ্বয় (ব্যবহারের জন্য) বৈধ হওয়া।

[6] এবং মোজাদ্বয় বস্তুগতভাবে পবিত্র হওয়া।

[7] এবং মোজাদ্বয় পাতলা হওয়ার কারণে চামড়ার রং প্রকাশ না পাওয়া।

- সুতরাং মাসেহ করবে:

- মুকীম (স্বদেশে অবস্থানকারী) এবং যে নিজ সফরে পাপাচারী —মোজাদ্বয় পরিধানের পর অপবিত্র হওয়ার সময় থেকে— এক দিন ও এক রাত।

- আর কসর সম্পন্ন করার মতো সফরের মুসাফির যে পাপাচারী নয়: তিন দিন ও তিন রাত।

- সুতরাং যদি:

- সফরে মাসেহ করে অতঃপর মুকীম হয়ে যায়।

- অথবা মুকীম অবস্থায় মাসেহ করে অতঃপর সফরে বের হয়।

- অথবা মাসেহ শুরুর সময়ের ব্যাপারে সন্দেহ করে।

সে মুকীমের মাসেহের মেয়াদের অতিরিক্ত করবে না।

- এবং জাবীরার (ক্ষতস্থানের পট্টি) ওপর মাসেহ করা জায়েজ:

[1] যদি তা পবিত্র অবস্থায় লাগানো হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৩২)
[2] وَلَمْ تُجَاوِزْ قَدْرَ الحَاجَةِ.

- وَإِنْ جَاوَزَتْهُ، أَوْ كَانَ وَضَعَهَا عَلَى غَيْرِ طَهَارَةٍ؛ وَجَبَ نَزْعُهَا.

- فَإِنْ خَافَ ضَرَرًا؛ تَيَمَّمَ مَعَ مَسْحِ مَوْضُوعَةٍ عَلَى طَهَارَةٍ مُجَاوِزَةٍ مَحَلَّ الحَاجَةِ.

- وَ:

[1] إِنْ ظَهَرَ بَعْضُ مَحَلِّ فَرْضٍ.

[2] أَوْ حَصَلَ مَا يُوجِبُ الغُسْلَ.

[3] أَوِ انْقَضَتِ المُدَّةُ.

بَطَلَ الوُضُوءُ.

 

‌‌فَصْلٌ

- نَوَاقِضُ الوُضُوءِ ثَمَانِيَةٌ:

[1] خَارِجٌ مِنْ سَبِيلٍ مُطْلَقًا.

[2] وَخُرُوجُ:

- بَوْلٍ أَوْ غَائِطٍ مِنْ بَاقِي البَدَنِ، قَلَّ أَوْ كَثُرَ.

- أَوْ غَيْرِهِمَا؛ كَقَيْءٍ، أَوْ دَمٍ إِنْ فَحُشَ فِي نَفْسِ كُلِّ أَحَدٍ
[২] এবং তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্থান অতিক্রম করেনি।

- আর যদি তা (প্রয়োজনের সীমা) অতিক্রম করে, অথবা অপবিত্র অবস্থায় তা লাগানো হয়ে থাকে; তবে তা খুলে ফেলা ওয়াজিব।

- অতঃপর যদি সে ক্ষতির আশঙ্কা করে; তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্থান জুড়ে পবিত্র অবস্থায় লাগানো পট্টির ওপর মাসেহ করার সাথে সাথে তায়াম্মুম করবে।

- এবং:

[১] যদি ফরয অঙ্গের কোনো অংশ প্রকাশ পেয়ে যায়।

[২] অথবা এমন কিছু ঘটে যা গোসল ওয়াজিব করে।

[৩] অথবা (মাসেহর) সময়সীমা শেষ হয়ে যায়।

ওযু বাতিল হয়ে যাবে।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

- ওযু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ আটটি:

[১] সাধারণভাবে দুই পথ (মল-মূত্রদ্বার) দিয়ে যা কিছু নির্গত হয়।

[২] এবং নির্গত হওয়া:

- শরীরের অবশিষ্ট অংশ থেকে প্রস্রাব বা পায়খানা, তা অল্প হোক বা বেশি।

- অথবা এ দুটি ব্যতীত অন্য কিছু; যেমন বমি অথবা রক্ত, যদি তা প্রত্যেকের নিজ নিজ বিবেচনায় অত্যধিক হয়।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা. রাকায়েজ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بِحَسَبِهِ.

[3] وَزَوَالُ عَقْلٍ.

- إِلَّا يَسِيرَ نَوْمٍ مِنْ قَائِمٍ أَوْ جَالِسٍ.

[4] وَغُسْلُ مَيْتٍ أَوْ بَعْضِهِ.

[5] وَأَكْلُ لَحْمِ إِبِلٍ، وَلَوْ نِيِّئًا.

- تَعَبُّدًا.

- فَلَا نَقْضَ بِـ:

(1) بَقِيَّةِ أَجْزِائِهَا.

(2) وَشُرْبُ لَبَنِهَا.

(3) وَمَرَقِ لَحْمِهَا.

[6] وَمَسُّ فَرْجِ:

- آدَمِيٍّ.

- مُتَّصِلٍ.

- أَوْ حَلْقَةِ دُبُرِهِ.

- وَلَوْ مَيْتًا بِيَدِهِ.
তার ধরন অনুযায়ী।

[৩] এবং জ্ঞান বিলুপ্তি।

- তবে দণ্ডায়মান বা উপবিষ্ট অবস্থায় সামান্য তন্দ্রা ব্যতীত।

[৪] এবং মৃতদেহ অথবা তার কিয়দংশ ধৌত করা।

[৫] এবং উটের গোশত ভক্ষণ করা, যদিও তা কাঁচা হয়।

- ইবাদতগত নির্দেশের কারণে।

- ফলে অজু ভঙ্গ হবে না:

(১) তার অবশিষ্ট অঙ্গসমূহের কারণে।

(২) এবং তার দুধ পান করার কারণে।

(৩) এবং তার গোশতের ঝোলের কারণে।

[৬] এবং লজ্জাস্থান স্পর্শ করা:

- মানুষের।

- যা দেহের সাথে সংযুক্ত।

- অথবা তার মলদ্বার।

- যদিও তা মৃত ব্যক্তির হয়, নিজ হাতের মাধ্যমে।