(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الفوائد المرضية بشرح الدرة المضية في علم القواعد الفرضية   (البعلي، عبد الرحمن بن عبد الله)

القسم: الفرائض والوصايا


الكتاب: الفَوَائِدُ المَرْضِيَّةُ بشَرْحِ الدُّرَّةِ المُضِيَّةِ فِي عِلْمِ القَوَاعِدِ الفَرَضِيَّةِ

المؤلف: عبد الرحمن بن عبد الله البعلي الحنبلي (ت: 1192 هـ)

المحقق: د. عبد العزيز بن عدنان العيدان، د. أنس بن عادل اليتامى

تقديم: الشيخ العلامة: صالح بن فوزان الفوزان

الناشر: دار ركائز للنشر والتوزيع - الكويت

الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2018

عدد الصفحات: 176

أهداه للشاملة: ركائز للنشر والتوزيع؛ جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 جُمادَى الآخرة 1440

উত্তরাধিকার শাস্ত্রের মূলনীতিমালার ব্যাখ্যায় উজ্জ্বল মুক্তার সন্তোষজনক উপকারিতা   (আল-বালি, আবদুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ)

বিভাগ: উত্তরাধিকার ও অসিয়ত


বই: উত্তরাধিকার শাস্ত্রের মূলনীতিমালার ব্যাখ্যায় উজ্জ্বল মুক্তার সন্তোষজনক উপকারিতা

লেখক: আবদুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আল-বালি আল-হাম্বলি (মৃত্যু: ১১৯২ হি.)

সম্পাদক: ড. আব্দুল আজিজ বিন আদনান আল-ঈদদান, ড. আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামা

উপস্থাপনা: শাইখুল আল্লামা: সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান

প্রকাশক: দারু রাকাইয লিন-নাশর ওয়াত-তাওযী - কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৯ হি. - ২০১৮

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৬

শামেলার জন্য উপহার দিয়েছেন: রাকাইয লিন-নাশর ওয়াত-তাওযী; আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৫ জুমাদাল আখিরা ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
الفَوَائِدُ المَرْضِيَّةُ
সন্তোষজনক ফায়দাহসমূহ
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
الفَوَائِدُ المَرْضِيَّةُ

لِشَرْحِ

الدُّرَّةِ المُضِيَّةِ فِي عِلْمِ القَوَاعِدِ الفَرَضِيَّةِ

 

للعلامة

عبد الرحمن بن عبد الله البعلي الحنبلي

(ت: 1192 هـ)

تقديم

الشيخ العلامة: صالح بن فوزان الفوزان

 

تحقيق

د. عبد العزيز بن عدنان العيدان

د. أنس بن عادل اليتامى
সন্তোষজনক ফায়দাহসমূহ

ব্যাখ্যাগ্রন্থ:

মিরাস বিজ্ঞানের নিয়মাবলি বিষয়ক উজ্জ্বল মুক্তা

 

আল্লামা

আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ আল-বালি আল-হাম্বলি

(মৃত্যু: ১১৯২ হিজরি)

উপস্থাপনায়

শায়খ আল্লামা: সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান

 

সম্পাদনায়

ড. আবদুল আজিজ বিন আদনান আল-আইদান

ড. আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামা
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

وبه نستعين

إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، ونشهد ألا إله إلا الله وأن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد:

فإن علم الفرائض من العلوم الشرعية اللطيفة، والأصول المرعية الشريفة، التي اعتنى بها العلماء قديمًا وحديثًا، وحثوا على تعلمها وتعليمها، حتى قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: «تَعَلَّمُوا الْفَرَائِضَ؛ فَإِنَّهَا مِنْ دِينِكُمْ» [ابن أبي شيبة: 31034]، بل ولشرف هذا العلم تولى الله تعالى تقديره بنفسه، وذكر أصوله في آياتٍ من كتابه.

ولأجل هذا الشرف والمكانة صنف العلماء فيه المصنفات، ونظموا فيه المنظومات، وذلك في سائر المذاهب الفقهية المتبوعة، ومن ذلك ما قام به العلامة عبد الرحمن بن عبد الله البعلي رحمه الله، حيث نظم نظمًا لطيفًا في علم الفرائض وسماه: (الدُّرَّةَ المُضِيَّةَ فِي عِلْمِ القَوَاعِدِ الفَرَضِيَّةِ)، اختصر فيه المنظومة الرحبية، وجاءت في (119 بيتًا).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবায়ে কেরামের ওপর অজস্র ধারায় দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই ফারায়েজ (উত্তরাধিকার) শাস্ত্র হলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম শরয়ি জ্ঞান এবং মহিমান্বিত মান্য মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার প্রতি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমগণ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এটি শেখা ও শেখানোর প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এমনকি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «তোমরা ফারায়েজ শিক্ষা করো; কেননা এটি তোমাদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত» [ইবনে আবি শায়বা: ৩১০৩৪]। বরং এই ইলমের মর্যাদার কারণেই আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং এর বণ্টনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর কিতাবের আয়াতসমূহে এর মূলনীতিগুলো উল্লেখ করেছেন।

আর এই মর্যাদা ও অবস্থানের কারণেই আলেমগণ এই বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং পদ্য সংকলন করেছেন, যা অনুসৃত সকল ফিকহি মাজহাবেই বিদ্যমান। এরই অংশ হিসেবে আল্লামা আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বালি (রাহিমাহুল্লাহ) ফারায়েজ শাস্ত্রের ওপর একটি চমৎকার পদ্য রচনা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: (আদ-দুররাতুল মুদিয়্যা ফি ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারাদিয়্যা), যাতে তিনি মানজুমা রাহবিয়্যাহকে সংক্ষেপ করেছেন এবং এটি (১১৯টি পঙক্তি) বা বেয়তের সমন্বয়ে গঠিত।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ولما اطلعنا على المنظومة، ورأينا براعة ناظمها في صياغتها، وانسكاب حبر قلمه في سبك عبارتها؛ بحثنا لشرحٍ لها، يُعين على فكِّ أقفالها، ويكشف الأستار عن مكنوناتها، فوفقنا الله تعالى إلى الوقوف على تعليق منيف لمؤلف النظم، سماه: (الفَوَائِدَ المَرْضِيَّةَ لِشَرْحِ الدُّرَّةِ المُضِيَّةِ فِي عِلْمِ القَوَاعِدِ الفَرَضِيَّةِ)، فلله الحمد والمنة.

ولما رأينا أن الكتاب لم يدخل عالم المطبوعات، ولم يُعرف عند كثير من المعتنين بعلم الفرائض فضلًا عن غيرهم، مع ما تمتاز به المنظومة وشرحها من مَيزاتٍ قد تفوق فيها المنظومة الرحبية كما سيتضح في المقارنة بينهما في قسم الدراسة، استعنَّا بالله تعالى وقمنا بتحقيقه والعمل على إخراجه، ليكون بين يَدَيْ طلاب العلم بحُلَّةٍ جميلة وترتيب لطيف.

نسأل الله تعالى أن يكون في ذلك نشر للعلم الذي يحب الله نشره، وأن يكون من البرِّ بأهل العلم الذين صنفوا تلك المصنفات وأفنوا أعمارهم في تبيين شرع الله تعالى وحكمه، وأن يبارك في هذا النظم وشرحه فتُعمر به المجالس العلمية والدروس الشرعية.

وما كان من اجتهاد خاطئ فمنَّا ومن الشيطان، ونرجو من الله العفو والغفران، ومن القارئ النصح والبيان.

والحمد لله رب العالمين

 

المحققان
যখন আমরা কাব্যগ্রন্থটি দেখলাম এবং এর রচয়িতার শব্দ বিন্যাসের নৈপুণ্য ও তাঁর কলমের কালির সাবলীলতা লক্ষ্য করলাম, তখন আমরা এর একটি ব্যাখ্যার অনুসন্ধান করলাম যা এর জটিলতা নিরসনে সহায়তা করবে এবং এর নিহিত রহস্য উন্মোচন করবে। অতঃপর মহান আল্লাহ আমাদের এই কাব্যের লেখকেরই একটি চমৎকার টীকা খুঁজে পাওয়ার তৌফিক দান করেছেন, যার নাম তিনি রেখেছেন: (আল-ফাওয়াইদুল মারদিয়্যাহ লি-শারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ)। সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহর জন্য।

যখন আমরা দেখলাম যে বইটি এখনো মুদ্রণ জগতে প্রবেশ করেনি এবং ইলমে ফারায়েজের অনেক বিশেষজ্ঞের কাছেও এটি পরিচিত নয়—অন্যদের কথা তো বলাই বাহুল্য—অথচ এই কাব্য ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি এমন সব বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল যা হয়তো 'মানযুমাহ রাহবিয়্যাহ'কেও ছাড়িয়ে যাবে (যেমনটি এই গবেষণার তুলনামূলক অংশে স্পষ্ট হবে), তখন আমরা আল্লাহর সাহায্য চেয়ে এর তাহকীক ও সম্পাদনার কাজ শুরু করি যাতে এটি ইলম অন্বেষণকারীদের হাতে সুন্দর সাজসজ্জা ও চমৎকার বিন্যাসে পৌঁছাতে পারে।

আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, এর মাধ্যমে যেন এমন ইলম প্রসারিত হয় যার প্রসার তিনি পছন্দ করেন এবং এটি যেন সেই সকল আলেমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ হয় যারা এসব কিতাব রচনা করেছেন এবং আল্লাহর শরীয়ত ও তাঁর বিধানসমূহ স্পষ্ট করার জন্য নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ যেন এই কাব্য ও এর ব্যাখ্যায় বরকত দান করেন যাতে এর মাধ্যমে ইলমি মজলিস ও শরয়ী দরসসমূহ আবাদ হয়।

আমাদের গবেষণায় যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে তবে তা আমাদের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং পাঠকের কাছে সদুপদেশ ও সংশোধনী প্রত্যাশা করছি।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য

 

গবেষকদ্বয়
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ترجمة المؤلف (1)

-‌‌ اسمه ونسبه:

هو عبد الرحمن بن عبد الله بن أحمد بن محمد الحنبلي البعلي الدمشقي الحنبلي.

--------------------------------------------

(1) مصادر الترجمة:

سلك الدرر في أعيان القرن الثاني عشر، تأليف: أبو الفضل المرادي الحسيني، مطبوع عن دار البشائر الإسلامية، (2/ 304)، وغالب الترجمة منه لكونه معاصرًا له وفي مقام مشايخه، حتى أجاز المترجَم له المرادي بجميع مروياته وبعث بها إليه في حلب، كما ذكر ذلك المرادي في الترجمة.

النعت الأكمل لأصحاب الإمام أحمد بن حنبل، تأليف: محمد كمال الدين بن محمد الغزي العامري، مطبوع عن دار الفكر سنة 1402 هـ، (ص 311).

مختصر طبقات الحنابلة، تأليف: الشيخ محمد جميل البغدادي المعروف بابن شطي، مطبوع عن دار الكتاب العربي في بيروت، (ص 145).

السحب الوابلة على ضرائح الحنابلة، تأليف: محمد بن عبد الله بن حميد النجدي ثم المكي، مطبوع عن مؤسسة الرسالة، (2/ 497).

تسهيل الوابلة لمريد معرفة الحنابلة، تأليف: صالح بن عبد العزيز العثيمين، مطبوع عن مؤسسة الرسالة، (3/ 1567).

المدخل إلى مذهب الإمام أحمد بن حنبل، تأليف: عبد القادر بن أحمد بن بدران، مطبوع عن مؤسسة الرسالة في بيروت، (ص 445).

 

فهرس الفهارس، تأليف: عبد الحي الكتاني، مطبوع عن دار الغرب الإسلامي - بيروت، (2/ 737).

معجم المؤلفين، تأليف: عمر بن رضا كحالة، مطبوع عن مكتبة المثنى في بيروت، (5/ 147).

الأعلام، تأليف: خير الدين بن محمود الزركلي، مطبوع عن دار العلم للملايين، (3/ 314).

معجم مصنفات الحنابلة، تأليف: د/عبد الله بن محمد الطريقي، (5/ 363).

الأنوار الجلية في مختصر الأثبات الحلبية، تأليف: محمد راغب الطباخ.
লেখকের জীবনী (১)

-‌‌ তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হাম্বলি আল-বালি আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি।

--------------------------------------------

(১) জীবনীর উৎসসমূহ:

সিলকুদ দুরার ফি আইয়ানিল করনিস সানি আশার, রচনায়: আবুল ফজল আল-মুরাদি আল-হুসাইনি, দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত, (২/ ৩০৪)। জীবনীর অধিকাংশ অংশ এখান থেকেই নেওয়া হয়েছে, কারণ তিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁর শিক্ষকদের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। এমনকি যার জীবনী আলোচনা করা হচ্ছে, তিনি মুরাদিকে তাঁর সমস্ত বর্ণনার জন্য ইজাজাহ (অনুমতি) প্রদান করেছিলেন এবং সেগুলো হালবে তাঁর কাছে পাঠিয়েছিলেন, যেমনটি মুরাদি জীবনীতে উল্লেখ করেছেন।

আন-নাতুল আকমাল লি-আসহারবি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, রচনায়: মুহাম্মদ কামালুদ্দিন বিন মুহাম্মদ আল-গাজ্জি আল-আমিরি, দারুল ফিকর থেকে ১৪০২ হিজরিতে প্রকাশিত, (পৃ. ৩১১)।

মুখতাসার তাবাকাতিল হানাবিলাহ, রচনায়: শেখ মুহাম্মদ জামিল আল-বাগদাদি, যিনি ইবনে শাত্তি নামে পরিচিত, বৈরুতের দারুল কিতাব আল-আরাবি থেকে প্রকাশিত, (পৃ. ১৪৫)।

আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ আলা দ্বারা-ইহিল হানাবিলাহ, রচনায়: মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ আন-নাজদি অতঃপর আল-মাক্কি, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে প্রকাশিত, (২/ ৪৯৭)।

তাশিলুল ওয়াবিলাহ লি-মুরিদি মা'রিফাতিল হানাবিলাহ, রচনায়: সালিহ বিন আবদুল আজিজ আল-উসাইমিন, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে প্রকাশিত, (৩/ ১৫৬৭)।

আল-মাদখাল ইলা মাযহাবিল ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, রচনায়: আবদুল কাদির বিন আহমদ বিন বাদরান, বৈরুতের মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে প্রকাশিত, (পৃ. ৪৪৫)।

 

ফিহরিসুল ফাহরিস, রচনায়: আবদুল হাই আল-কাত্তানি, বৈরুতের দারুল গারব আল-ইসলামি থেকে প্রকাশিত, (২/ ৭৩৭)।

মু'জামুল মুয়াল্লিফিন, রচনায়: উমর বিন রিদা কাহহালাহ, বৈরুতের মাকতাবাতুল মুসান্না থেকে প্রকাশিত, (৫/ ১৪৭)।

আল-আলাম, রচনায়: খাইরুদ্দিন বিন মাহমুদ আল-জিরিকলি, দারুল ইলম লিল-মালাঈন থেকে প্রকাশিত, (৩/ ৩১৪)।

মু'জামু মুসান্নাফাতিল হানাবিলাহ, রচনায়: ড. আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আত-তারিকি, (৫/ ৩৬৩)।

আল-আনোয়ারুল জালিয়্যাহ ফি মুখতাসারিল আসবাতিল হালাবিয়্যাহ, রচনায়: মুহাম্মদ রাগিব আত-তাব্বাখ।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
قال الزركلي: وُلد أحد جدوده في بعلبكّ فعُرِف بالبعلي، مولده وشهرته في دمشق، ووفاته في حلب.

 

-‌‌ مولده ونشأته:

ولد في ضحوة يوم الأحد، الثاني عشر من جمادي الأولى، سنة عشرة ومائة وألف (1110 هـ).

ثم لما بَلَغ سنَّ التمييز قرأ القرآن حتى ختمه على والده في مدة يسيرة.

ثم شرع في الاشتغال بطلب العلم في سنة عشرين، فقرأ على الشيخ عواد الحنبلي النابلسي في بعض مقدمات النحو والفقه، واشتغل عليه بالقراءة بعد ذلك نحوًا من عشرين سنة، وهو أول من أخذ عنه العلم.

ولما توفي والده في سنة اثنين وعشرين (1122 هـ)، لازم دروس الشيخ أبي المواهب الحنبلي في الفقه والحديث نحو خمس
আয-যিরিকলী বলেন: তাঁর এক পূর্বপুরুষ বালবক্ক-এ জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাই তিনি আল-বাল’লী নামে পরিচিত হন; তাঁর জন্ম ও খ্যাতি দামেস্কে এবং তাঁর মৃত্যু আলেপ্পোতে।

 

-‌‌ তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

তিনি ১১১০ হিজরি সালের ১২ই জুমাদাল উলা, রবিবার পূর্বাহ্ণে জন্মগ্রহণ করেন।

অতঃপর যখন তিনি ভালো-মন্দের পার্থক্য করার বয়সে পৌঁছালেন, তখন তিনি তাঁর পিতার কাছে অল্প সময়ের মধ্যেই কুরআন পাঠ সম্পন্ন করলেন।

অতঃপর (হিজরি ১১২০) সালে তিনি ইলম অর্জনে লিপ্ত হতে শুরু করেন। তিনি শাইখ আউয়াদ আল-হানবালী আন-নাবলুসী-র কাছে নাহু ও ফিকহ-এর কিছু প্রাথমিক কিতাব পাঠ করেন। এরপর তাঁর কাছে প্রায় বিশ বছর পাঠ গ্রহণের কাজে নিয়োজিত থাকেন; তিনিই প্রথম ব্যক্তি যার কাছ থেকে তিনি ইলম গ্রহণ করেছিলেন।

যখন ১১২২ হিজরি সালে তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি শাইখ আবুল মাওয়াহিব আল-হানবালীর ফিকহ ও হাদিসের পাঠে প্রায় পাঁচ
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
سنين، ودروس الشيخ عبد القادر التغلبي في الحديث والفقه والنحو والفرائض والحساب والأصول وغير ذلك مدة خمسة عشر سنة، وأجازه إجازة عامة.

ثم لازم حفيده العلامة الشيخ محمد المواهبي نحو تسع سنين في الحديث والفقه أيضاً، وأجازه.

وحضر دروس الشيخ عبد الغني النابلسي في تفسير البيضاوي، وفي الفقه والعربية وغير ذلك، ولازمه نحو ثمان سنين، وأجازه إجازة عامة بخطه.

ولازم دروس كثير من مشايخ عصره غير هؤلاء المذكورين، منهم الإمام الشيخ محمد الكاملي، والعلامة الشيخ إلياس الكردي، والشيخ إسماعيل العجلوني، والشيخ محمد الحبال، والشيخ أحمد المنيني، والشيخ علي كزبر، وغيرهم.

وأخذ الفرائض والحساب عن الشيخ مصطفى النابلسي.

وحفظ القرآن على الحافظ المقري المتقن الشيخ إبراهيم الدمشقي.

ثم بعد أن ارتحل إلى حلب وذلك في سنة أربع وأربعين أخذ عن جماعة من أجلالها، وممن ورد إليها، فسمع الحديث المسلسل بالأولية، وأكثر صحيح الإمام البخاري من المحدث العلامة الشيخ محمد عقيلة المكي.
বছর, এবং পনেরো বছর যাবত হাদিস, ফিকহ, নাহু (ব্যাকরণ), ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), হিসাববিজ্ঞান, উসুল (মূলনীতি) এবং অন্যান্য বিষয়ে শেখ আব্দুল কাদির আত-তাগলিবীর পাঠ গ্রহণ করেন এবং তিনি তাকে একটি সাধারণ ইজাজত (অনুমতিপত্র) প্রদান করেন।

অতঃপর তিনি তাঁর নাতি আল্লামা শেখ মুহাম্মদ আল-মাওয়াহিবীর সান্নিধ্যে প্রায় নয় বছর অতিবাহিত করেন হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের চর্চায় এবং তিনিও তাকে ইজাজত প্রদান করেন।

তিনি শেখ আব্দুল গনি আন-নাবুলসীর নিকট তাফসির আল-বায়দাবি, ফিকহ, আরবি ভাষা ও অন্যান্য বিষয়ের পাঠ গ্রহণ করেন। প্রায় আট বছর তিনি তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং শেখ নিজ হাতে তাকে সাধারণ ইজাজত প্রদান করেন।

উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও তিনি তাঁর সমসাময়িক আরও অনেক মাশায়েখের পাঠে অংশ নেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম শেখ মুহাম্মদ আল-কামিলি, আল্লামা শেখ ইলিয়াস আল-কুর্দি, শেখ ইসমাইল আল-আজলুনি, শেখ মুহাম্মদ আল-হাব্বাল, শেখ আহমদ আল-মানিনি, শেখ আলি কুজবার এবং অন্যান্যরা।

তিনি শেখ মুস্তফা আন-নাবুলসীর নিকট ফারায়েজ ও হিসাববিজ্ঞান শিক্ষা করেন।

তিনি দক্ষ ক্বারি ও হাফেজ শেখ ইব্রাহিম আদ-দামাশকির নিকট কুরআন হিফজ করেন।

অতঃপর চুয়াল্লিশ সনে (১১৪৪ হিজরি) আলেপ্পো গমনের পর তিনি সেখানকার একদল বিশিষ্ট আলেম এবং সেখানে আগতদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। তিনি মুহাদ্দিস আল্লামা শেখ মুহাম্মদ আকিলা আল-মাক্কির নিকট ‘আল-হাদিস আল-মুসালসাল বিল আওয়ালিয়্যাহ’ এবং ইমাম বুখারির সহিহ-এর অধিকাংশ শ্রবণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وقرأ جملة من المنطق والأصول على الشيخ صالح البصري، وطرفاً من الأصول أيضًا والتوحيد والنحو والمعاني والبيان على الشيخ محمد الحلبي المعروف بالزمار.

وحضر دروسه كثيرًا في صحيح البخاري، وأخذ العروض والاستعارات عن الفاضل الشيخ قاسم البكرجي، وأشياخه كثيرون لا يحصون عدة.

وكان بحلب مستقيمًا ساكنًا فاضلًا، وله أناس يبرونه، قائمين بمعاشه، وما يحتاج إليه، واستقام بها إلى أن مات.

 

-‌‌ مشايخه:

ذكر البعلي في ثبته (منار الإسعاد) مشايخه الذين أخذ عنهم، فقال: (هذا ثبت جمع فيه جملة ممن تشرفت برؤيتهم، ولحظتني السعادة بأنفاسهم وبركاتهم، من مشايخي الأئمة الأعلام، وهداة الأنام، عمدة علماء التحقيق، وزبدة رؤساء التدقيق، الذين جعلهم الله تعالى لطلب علوم الشريعة المطهرة أوضح منهاج، ولجِيد هذا القرن الثاني عشر ورأسه أشرف عِقد وأعظم تاج)، ثم قال: (قد اجتمع لي بحمد الله تعالى من المشايخ عدة أفراد محققين، وجهابذة مدققين)، وأخذ في سردهم بأسمائهم وألقابهم، ومن هؤلاء:

1 - الشيخ الإمام محمد أبو المواهب الحنبلي، مفتي السادة
তিনি শেখ সালিহ আল-বাসরির কাছে তর্কশাস্ত্র ও উসুল শাস্ত্রের একটি বড় অংশ এবং শেখ মুহাম্মদ আল-হালাবি—যিনি যাম্মার নামে পরিচিত—তাঁর কাছে উসুল, তাওহিদ, নাহু, মাআনি ও বয়ান শাস্ত্রের কিছু অংশ অধ্যয়ন করেছেন।

তিনি সহিহ বুখারির ওপর তাঁর পাঠে বহুবার উপস্থিত হয়েছেন এবং বিশিষ্ট শেখ কাসিম আল-বাকারজির কাছ থেকে ছন্দতত্ত্ব ও রূপক অলঙ্কার শাস্ত্র শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাঁর মাশায়েখ বা শিক্ষকগণ এত অধিক যে তাঁদের সংখ্যা গণনা করা সম্ভব নয়।

তিনি আলেপ্পোতে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান, শান্ত ও বিদগ্ধ ব্যক্তি হিসেবে বসবাস করতেন। সেখানে কিছু মানুষ ছিল যারা তাঁর সাথে সদাচরণ করত এবং তাঁর জীবিকা ও প্রয়োজনীয় বিষয়াদির দেখাশোনা করত। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করেন।

 

-‌‌ তাঁর মাশায়েখ:

বা’লি তাঁর সনদ সংকলন ‘মানারুল ইসআদ’-এ তাঁর সেইসব মাশায়েখদের কথা উল্লেখ করেছেন যাঁদের কাছ থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন। তিনি বলেন: (এটি একটি সনদ সংকলন যাতে আমি এমন একদল মহান ব্যক্তিদের কথা একত্রিত করেছি যাঁদের দর্শনে আমি ধন্য হয়েছি এবং যাঁদের সান্নিধ্য ও বরকতে আমি সৌভাগ্য লাভ করেছি। তাঁরা হলেন আমার মাশায়েখ—প্রখ্যাত ইমামগণ, সৃষ্টির পথপ্রদর্শক, গবেষক আলেমদের প্রধান অবলম্বন এবং সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিতদের সারবত্তা; যাঁদেরকে আল্লাহ তাআলা পবিত্র শরিয়তের জ্ঞান অন্বেষণের জন্য উজ্জ্বলতম পথ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং দ্বাদশ শতাব্দীর এই সময়ের গলার জন্য শ্রেষ্ঠ হার ও মাথার জন্য মহান মুকুটস্বরূপ বানিয়েছেন।) অতঃপর তিনি বলেন: (আল্লাহ তাআলার প্রশংসায় আমার জন্য বেশ কিছু সংখ্যক গবেষক এবং সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিত মাশায়েখদের মিলন ঘটেছে)। এরপর তিনি তাঁদের নাম ও উপাধিসহ বর্ণনা করতে শুরু করেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - শেখ ইমাম মুহাম্মদ আবু আল-মাওয়াহিব আল-হাম্বলি, সাদাতদের মুফতি।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الحنابلة بدمشق الشام.

2 - الشيخ العلامة عبد القادر بن عمر التغلبي، صاحب كتاب: (نيل المآرب بشرح دليل الطالب).

3 - الشيخ عبد الله بن الشيخ أحمد بن محمد الحنبلي، الشهير بالخطيب

4 - الشيخ عبد الغني النابلسي.

وذكر آخرين من علماء دمشق وغيرهم، ممن أخذ عنهم ولازمهم واستجازهم، حتى ذكر (36) من العلماء، رحمهم الله جميعًا.

 

-‌‌ ثناء العلماء عليه:

أثنى عليه جملة من العلماء الذين ترجموا له، فمن ذلك:

قال أبو الفضل المرادي (1206 هـ): (الشيخ العالم الفاضل الصالح كان فقيهاً بارعاً بالعلوم خصوصاً في القراآت وغيرها).

وقال ابن بدران (1346 هـ): (وكان فقيهًا متفننًا أديبًا شاعرًا).

وقال عبد الحي الكتاني (1382 هـ): (الشيخ العالم الصالح المقري المسند).

وقال الغزي: (عظم أمره، وارتفع قدره، واشتهر ذكره، وغلا سعره).
দামেস্কের হানবালি আলেমগণ।

২ - শায়খ আল্লামা আব্দুল কাদির ইবনে উমর আত-তাগলাবি, 'নাইলুল মায়ারিব বি-শারহি দালিলিত তালিব' গ্রন্থের প্রণেতা।

৩ - শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে শায়খ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হানবালি, যিনি আল-খাতিব নামে পরিচিত।

৪ - শায়খ আব্দুল গনি আন-নাবুলুসি।

তিনি দামেস্কের আরও অনেক আলেম ও অন্যদের কথা উল্লেখ করেছেন, যাঁদের নিকট থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন, তাঁদের সান্নিধ্য অবলম্বন করেছেন এবং তাঁদের থেকে ইজাযত গ্রহণ করেছেন। এমনকি তিনি ৩৬ জন আলেমের নাম উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন।

 

-‌‌ তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা:

যাঁরা তাঁর জীবনী রচনা করেছেন, তাঁদের মধ্য হতে একদল আলেম তাঁর প্রশংসা করেছেন। যেমন:

আবুল ফজল আল-মুরাদি (১২০৬ হি.) বলেন: (তিনি ছিলেন শায়খ, আলেম, মহৎ ও পুণ্যবান। তিনি ফিকহ শাস্ত্রে দক্ষ এবং বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানে, বিশেষ করে কিরাআত ও অন্যান্য বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন)।

ইবনে বাদরান (১৩৪৬ হি.) বলেন: (তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ফকিহ, সাহিত্যিক ও কবি)।

আব্দুল হাই আল-কাত্তানি (১৩৮২ হি.) বলেন: (শায়খ, আলেম, পুণ্যবান, ক্বারী ও মুসনিদ)।

আল-গাজ্জি বলেন: (তাঁর বিষয়াদি মহিমান্বিত হয়েছে, তাঁর মর্যাদা উচ্চ হয়েছে, তাঁর আলোচনা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং তাঁর মূল্যায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে)।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال ابن شطي (1379 هـ): (الإمام العالم العامل، الأديب البارع، الفقيه المقرئ، المفنن الأوحد).

 

-‌‌ مؤلفاته:

له مصنفات كثيرة متنوعة، مطبوعة ومخطوطة ومفقودة، فمن ذلك:

1 - منار الإسعاد في طرق الإسناد (1).

2 - مختصر الجامع الصغير للسيوطي، وسماه: (نور الأخبار وروض الأبرار في حديث النبي المصطفى المختار) (2).

3 - شرح مختصر الجامع الصغير، وسماه: (فتح الستار وكشف الأستار).

4 - النور الوامض في علم الفرائض.

--------------------------------------------

(1) أورده جماعة ممن ترجم له، وهو مخطوط في دار الكتب المصرية برقم 133 - مصطلح حديث، كما في معجم مصنفات الحنابلة.

وقد اختصر هذا الثبت الشيخ محمد راغب الطباخ الحلبي في كتابه: (الأنوار الجلية في مختصر الأثبات الحلبية)، مطبوع عن دار البشائر الإسلامية، سنة 1432 هـ، 2011 م، وقد ذكر الطباخ في مقدمته أن (منار الإسعاد) موجود بخط مؤلفه أو بخط ابنه عبد الله، ومحفوظ عند الشيخ ياسين سِريُّو ابن أخت الشيخ كامل الموقت رحمه الله.

(2) قال الكتاني: (اقتصر فيه على ما رواه أحمد والبخاري ومسلم). ينظر: فهرس الفهارس 2/ 737.
এবং ইবনে শাত্তি (১৩৭৯ হিজরি) বলেছেন: (তিনি ছিলেন আমলকারী আলেম ইমাম, দক্ষ সাহিত্যিক, ফকিহ ও কারি এবং অনন্য বহুমুখী প্রতিভাধর)।

 

-‌‌ তাঁর রচনাবলি:

তাঁর বহুবিধ বিচিত্র রচনা রয়েছে, যার কিছু মুদ্রিত, কিছু পাণ্ডুলিপি এবং কিছু বিলুপ্ত; তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - মানারুল ইসআদ ফি তুরুকিল ইসনাদ (১)।

২ - সুয়ূতি রচিত জামেউস সগিরের সংক্ষিপ্তসার, যার নামকরণ তিনি করেছেন: (নূরুল আখবার ওয়া রওজুল আবরার ফি হাদিসিন নাবিয়্যিল মুস্তাফাল মুখতার) (২)।

৩ - জামেউস সগিরের সংক্ষিপ্তসারের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার নামকরণ তিনি করেছেন: (ফাতহুস সাত্তার ওয়া কাশফুল আস্তার)।

৪ - আন-নূরুল ওয়ামিজ ফি ইলমিল ফারায়িজ।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী রচয়িতাদের একটি দল এটি উল্লেখ করেছেন। এটি মিসরের দারুল কুতুবে ১৩৩ নম্বর—হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা হিসেবে পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত আছে, যেমনটি মু'জামু মুসান্নাফাতিল হানাবিলাহ-তে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেখ মুহাম্মদ রাগির আত-তাব্বাখ আল-হালাবি তাঁর (আল-আনোয়ারুল জালিয়্যাহ ফি মুখতাসারিল আসবাতিল হালাবিয়্যাহ) নামক গ্রন্থে এই ছাবাত (সনদ সংকলন)-টিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন। এটি দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়া থেকে ১৪৩২ হিজরি, ২০১১ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছে। তাব্বাখ তাঁর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, (মানারুল ইসআদ) গ্রন্থটি লেখকের স্বহস্তে অথবা তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর হাতের লেখায় বিদ্যমান এবং এটি শেখ কামিল আল-মুওয়াক্কিত (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ভাগ্নে শেখ ইয়াসিন সিররিউ-এর নিকট সংরক্ষিত আছে।

(২) আল-কাত্তানি বলেছেন: (তিনি এতে কেবল আহমদ, বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত হাদিসগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন)। দ্রষ্টব্য: ফিহরিসুল ফাহারিস ২/৭৩৭।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
5 - الجامع لخطب الجوامع، ومختصره المسمى: النور اللامع في خطب الجوامع.

6 - رحلة، قال في ثبته منار الإسعاد: (ذكرت فيها ما شاهدته في سياحتي من عجائب البر والبحر).

7 - كشف المخدرات في شرح أخصر المختصرات (1).

8 - ديوان شعر، قال المرادي: (وله ديوان رائق محتو على رقائق).

9 - مجنى الثمرات، وقد ذكر في ثبته أنه مختصر لشرحه كشف المخدرات.

10 - بلوغ القاصد جل المقاصد (2).

11 - الدرة المضية في اختصار الرحبية، وهي منظومة.

12 - الفوائد المرضية شرح الدرة المضية، وهو كتابنا هذا.

13 - نظم الآجرومية.

14 - الرسالة الحلبية في اختصار الآجرومية، وشرحها: القطع الذهبية.

--------------------------------------------

(1) مطبوع بعناية الشيخ محمد بن ناصر العجمي، عن دار البشائر الإسلامية، سنة 1423 هـ، 2002 م.

(2) وهو شرح لمختصرنا هذا، مطبوع بعناية الشيخ محمد بن ناصر العجمي، عن دار البشائر الإسلامية، سنة 1421 هـ، في مجلد.
৫ - আল-জামি লি-খুতাবিল জাওয়ামি এবং এর সারসংক্ষেপ যার নাম: আন-নূরুল লামি ফি খুতাবিল জাওয়ামি।

৬ - রিহলাহ (ভ্রমণকাহিনী), তিনি তার সাবাত 'মানারুল ইসআদ'-এ বলেছেন: (আমি এতে আমার ভ্রমণে স্থল ও সমুদ্রের যেসব বিস্ময়কর বিষয় দেখেছি তা উল্লেখ করেছি)।

৭ - কাশফুল মুখাদ্দারাতি ফি শারহি আখসারিল মুখতাসারাত (১)।

৮ - দীওয়ানে শির (কবিতা সংকলন), আল-মুরাদি বলেছেন: (তার একটি চমৎকার কাব্যগ্রন্থ রয়েছে যা আধ্যাত্মিক সুক্ষ্মতত্ত্বে পরিপূর্ণ)।

৯ - মাজনাথ ছামারাত; তিনি তার সাবাত-এ উল্লেখ করেছেন যে এটি তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'কাশফুল মুখাদ্দারাতি'-এর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ।

১০ - বুলুগুল কাসিদ জুল্লুল মাকাসিদ (২)।

১১ - আদ-দুররাতুল মুদিয়্যা ফি ইখতিসারির রাহবিয়্যাহ; এটি একটি কাব্যগ্রন্থ।

১২ - আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ শারহুদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ; আর এটিই আমাদের বর্তমান এই গ্রন্থটি।

১৩ - নাযমুল আজরুমিয়্যাহ।

১৪ - আর-রিসালাতুল হালাবিয়্যাহ ফি ইখতিসারিল আজরুমিয়্যাহ, এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ: আল-কিতাউয যাহাবিয়্যাহ।

--------------------------------------------

(১) শাইখ মুহাম্মাদ বিন নাসের আল-আজমির তত্ত্বাবধানে দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে ১৪২৩ হিজরী, ২০০২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত।

(২) এটি আমাদের এই সংক্ষিপ্তসারটির ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা শাইখ মুহাম্মাদ বিন নাসের আল-আজমির তত্ত্বাবধানে দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে ১৪২১ হিজরীতে এক খণ্ডে প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - بداية العابد وكفاية الزاهد (1).

 

-‌‌ وفاته:

كانت وفاته بحلب، سنة اثنين وتسعين ومائة وألف (1192 هـ)، رحمه الله تعالى رحمة واسعة.

--------------------------------------------

(1) طُبع الكتاب بتحقيقنا، عن دار ركائز، سنة 1438 هـ.
১৫ - বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুয যাহিদ (১)।

 

-‌‌ তাঁর ইন্তেকাল:

তাঁর ইন্তেকাল হয়েছিল হালাব (আলেপ্পো) শহরে, এক হাজার একশত বিরানব্বই (১১৯২ হি.) হিজরি সনে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে প্রশস্ত রহমত দান করুন।

--------------------------------------------

(১) বইটি আমাদের তাহকীকসহ ‘দারুর রাকায়েজ’ প্রকাশনী থেকে ১৪৩৮ হিজরি সনে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌التعريف بمنظومة الدرة المضية

‌‌أولًا: توثيق اسم المنظومة:

ذكر الناظم في مقدمته أنه سمى هذه المنظومة باسم: «الدرة المضية»، وفي شرحه سماها: «الدُّرَّة المضيَّة في علم القواعد الفرضيَّة»، ولعل هذا الأخير هو الاسم المعتمد لهذه المنظومة، ولم يذكر اسمها كاملًا في النظم؛ للضرورة الشعرية.

 

‌‌ثانيًا: منهج الناظم في المنظومة:

اشتملت المنظومة على (119) بيتًا، اختصر فيها المنظومة الرحبية، المسماة: «بغية الباحث في تحقيق إرث الوارث»، لمؤلفها: أبي عبد الله، محمد بن علي الرحبي الشافعي (577 هـ).

قال الناظم في المقدمة مبينًا طريقته فيها:

وَبَعْدَ ذَا فَهَذِهِ قَوَاعِدُ … فِي الإرْثِ فِيهَا لِلْوَرَى فَوَائِدُ

قَد اختَصَرْتُهَا لِأَهْلِ الطَّلَبِ … مِنْ دُرِّ مَا نَظَمَهُ ابْنُ الرَّحَبِي
‌'আল-দুররাতুল মুদিইয়াহ' কাব্যগ্রন্থের পরিচিতি

‌‌প্রথমত: কাব্যগ্রন্থের নামের প্রমাণ ও যথার্থতা:

রচয়িতা তাঁর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এই কাব্যগ্রন্থের নাম রেখেছেন: «আল-দুররাতুল মুদিইয়াহ», এবং তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে তিনি এর নাম রেখেছেন: «আল-দুররাতুল মুদিইয়াহ ফি ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ», সম্ভবত এই শেষোক্ত নামটিই এই কাব্যগ্রন্থের জন্য স্বীকৃত নাম; কাব্যিক প্রয়োজনের কারণে তিনি কাব্যের মূল ছন্দে এর পূর্ণ নাম উল্লেখ করেননি।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: কাব্যগ্রন্থে রচয়িতার পদ্ধতি:

কাব্যগ্রন্থটি (১১৯)টি পঙক্তির সমন্বয়ে গঠিত, যাতে তিনি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী আল-রাহবী আল-শাফেয়ী (৫৭৭ হি.) রচিত «আল-মানজুমাতুর রাহবিয়্যাহ» সংক্ষেপ করেছেন, যার নাম: «বুগয়াতুল বাহিস ফি তাহকিক ইরসিল ওয়ারিস»।

রচয়িতা তাঁর ভূমিকায় নিজের কর্মপদ্ধতি বর্ণনা করে বলেছেন:

অতঃপর এগুলি হলো কিছু নীতিমালা ... উত্তরাধিকার বিষয়ে, যাতে সৃষ্টির জন্য রয়েছে বহু উপকারিতা

জ্ঞানান্বেষীদের জন্য আমি এটি সংক্ষেপ করেছি ... ইবনে রাহবী যা রচনা করেছেন সেই মুক্তাতুল্য পঙক্তিমালা হতে
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
لِكَيْ يَنَالَ المُرْتَجِي مِنْهَا الأَمَلْ … مِنْ غَيْرِ تَطْوِيلٍ بِهِ يُبْطِي العَمَلْ

سَمَّيْتُها بِالدُّرَّةِ المُضِيَّهْ … جَامِعَةِ القَوَاعِدِ الفَرْضِيَّهْ

 

وقد امتازت هذه المنظومة بميزات جليلة، تحدو الناظر فيها نظر المتمعن أن يعتني فيها ويقدمها على غيرها من المنظومات في علم الفرائض، ومن تلك الميزات:

1 - أنها منظومة وجيزة، قليلة الحشو، مع شموليتها لأبواب الفرائض، حيث جاءت في (119) بيتًا، بينما جاءت المنظومة الرحبية في (176) بيتًا، وجاءت المنظومة الفارضية، لمحمد القاهري الحنبلي المعروف بالفارضي في (128) بيتًا، وقد ترك الفارضي فيها أبوابًا استكملها الشنشوري في شرحه.

2 - سلاسة نظمها وسهولة ألفاظها، حيث جاءت المنظومة على بحر الرجز، وهو بحر معروف بسلاسته، وسهولة عبارته، بعيدة عن الألفاظ الوحشية والمفردات النادرة.

3 - أنها منظومة مختصرة من المنظومة الرحبية، وهي منظومة شهيرة معروفة، صالحة للحفظ والتعلم، حتى قال الشنشوري عنها: (هي من أنفع ما صُنِّف في هذا العلم للمبتدئ) (1).

--------------------------------------------

(1) الدرة المضية الفارضية للشنشوري، ص 7
যাতে আশাবাদী ব্যক্তি এর থেকে তার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করতে পারে … দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই, যা আমলকে বিলম্বিত করে

আমি এর নামকরণ করেছি 'আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ' … যা ফারায়েযের মূলনীতিসমূহের সংকলন

 

এই কাব্যগ্রন্থটি কিছু মহান বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র, যা গভীর মনোযোগী পাঠককে এতে যত্নশীল হতে এবং ইলমে ফারায়েযের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের ওপর এটিকে অগ্রাধিকার দিতে উদ্বুদ্ধ করে। সেই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - এটি একটি সংক্ষিপ্ত কাব্যগ্রন্থ, যাতে অপ্রাসঙ্গিক কথার বাহুল্য কম, অথচ এটি ফারায়েযের সকল অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি (১১৯)টি চরণে রচিত। পক্ষান্তরে, ‘মানযুমা রাহবিয়্যাহ’ (১৭৬)টি চরণে রচিত এবং আল-ফারযি নামে পরিচিত মুহাম্মদ আল-কাহিরি আল-হাম্বলির ‘মানযুমা ফারযিয়্যাহ’ (১২৮)টি চরণে রচিত। আল-ফারযি এতে কিছু অধ্যায় বাদ দিয়েছিলেন যা আশ-শানশুরি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে পূর্ণ করেছেন।

২ - এর কাব্যছন্দের সাবলীলতা এবং শব্দপ্রয়োগের সহজবোধ্যতা। কাব্যগ্রন্থটি 'বাহরে রাজাজ' ছন্দে রচিত, যা এর সাবলীলতা ও সহজ ভাবপ্রকাশের জন্য সুপরিচিত; এটি দুর্বোধ্য ও বিরল শব্দাবলী থেকে মুক্ত।

৩ - এটি প্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত কাব্যগ্রন্থ 'মানযুমা রাহবিয়্যাহ' এর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, যা মুখস্থ করা এবং শেখার জন্য উপযোগী। এমনকি আশ-শানশুরি এটি সম্পর্কে বলেছেন: (নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য এই শাস্ত্রে যা কিছু সংকলিত হয়েছে এটি তার মধ্যে অন্যতম উপকারী) (১)।

--------------------------------------------

(১) আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ আল-ফারযিয়্যাহ - শানশুরি, পৃষ্ঠা ৭
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
4 - شمولية المنظومة لأبواب الفرائض، حيث تضمنت ما لم تتضمنه الرحبية من الأبواب، كما سيتضح في المقارنة.

5 - أنها منظومة حنبلية، ومؤلفها من الحنابلة المتأخرين، والمصنفين المعتبرين في المذهب، ولذا فهو يذكر في هذه المنظومة مذهب الحنابلة عند المتأخرين.

إلا في مسألتين خالف فيهما المشهور من مذهب الحنابلة،

الأولى: في توريث الغرقى ونحوهم.

والثانية: في توريث الخنثى.

6 - أن الناظم قد يذكر الخلاف في بعض المسائل المهمة المشهورة في علم الفرائض، ويذكر قول المذهب فيها، كما في المسألة المشركة.

وغير ذلك من الميزات، ويمكن أن تتضح ميزات هذه المنظومة أيضًا عند مقارنتها بالمنظومة الرحبية التي هي أصل هذه المنظومة.
৪ - উত্তরাধিকার আইনের (ফারায়েয) অধ্যায়গুলোর ক্ষেত্রে কাব্যটির ব্যাপকতা, কারণ এতে এমন সব অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা রাহবিয়্যাহ কাব্যে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যেমনটি তুলনামূলক আলোচনায় স্পষ্ট হবে।

৫ - এটি একটি হাম্বলি কাব্য এবং এর লেখক পরবর্তী যুগের (মুতাআখখিরিন) হাম্বলিগণের অন্তর্ভুক্ত ও মাযহাবের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থকারদের একজন; তাই তিনি এই কাব্যে হাম্বলি মাযহাবের পরবর্তী যুগের আলেমদের অভিমত উল্লেখ করেছেন।

তবে দুটি মাসআলার ক্ষেত্রে তিনি হাম্বলি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতের বিরোধিতা করেছেন,

প্রথমটি: পানিতে ডুবে মৃত এবং এ জাতীয় ব্যক্তিদের উত্তরাধিকারের বিষয়ে।

এবং দ্বিতীয়টি: হিজড়াদের (খুনসা) উত্তরাধিকারের বিষয়ে।

৬ - কাব্যকার উত্তরাধিকার বিজ্ঞানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও প্রসিদ্ধ মাসআলায় মতভেদ উল্লেখ করেন এবং সে বিষয়ে মাযহাবের বক্তব্য তুলে ধরেন, যেমনটি দেখা যায় মুশাররাকা মাসআলায়।

এ ছাড়াও আরও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, আর এই কাব্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ আরও স্পষ্ট হতে পারে যখন একে রাহবিয়্যাহ কাব্যের সাথে তুলনা করা হবে, যা এই কাব্যের মূল ভিত্তি।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌مقارنة بين المنظومة الرحبية ومنظومة الدرة المضية

تفترق هذه المنظومة عن المنظومة الرحبية في ثلاثة أمور رئيسية:

الأمر الأول: أن هذه المنظومة مختصرة من المنظومة الرحبية، وليس هذا الاختصار بحذف شيء من مسائل المنظومة الرحبية، ، وإنما هو في إعادة صياغتها، وحذف الحشو عنها.

فجميع مسائل الرحبية موجودة في هذه المنظومة عدا ثلاث مسائل:

1 - ذكر الرحبي في المقدمة فضل علم الفرائض، وأغفل البعلي ذلك.

2 - ذكر الرحبي قاعدة: (ليس في النساء عصبة إلا المعتقة)، ولم يذكر هذه القاعدة البعلي، وذلك في قول الرحبي:

وليس في النساء طرًّا عصبة … إلا التي منَّت بعتق الرقبة

3 - ذكر الرحبي في تصحيح المسائل الانكسار على فريق واحد وعلى فريقين، بينما اقتصر البعلي على ذكر الانكسار على فريقين.
মানজুমাহ রাহবিয়্যাহ এবং মানজুমাহ আল-দুররাহ আল-মুদিয়্যাহ-এর মধ্যে তুলনা

এই মানজুমাহটি মানজুমাহ রাহবিয়্যাহ থেকে প্রধান তিনটি বিষয়ে পৃথক:

প্রথম বিষয়: এই মানজুমাহটি মানজুমাহ রাহবিয়্যাহ-এর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। আর এই সংক্ষিপ্তকরণ রাহবিয়্যাহ-এর কোনো মাসআলাহ বা বিষয় বাদ দেওয়ার মাধ্যমে করা হয়নি, বরং এর শব্দবিন্যাস পুনর্গঠন এবং বাহুল্য বর্জনের মাধ্যমে করা হয়েছে।

তিনটি মাসআলাহ ব্যতীত রাহবিয়্যাহ-এর সকল মাসআলাহ এই মানজুমাহতে বিদ্যমান রয়েছে:

১ - রাহবি তার ভূমিকার শুরুতে ফারায়েয শাস্ত্রের মর্যাদা বর্ণনা করেছেন, কিন্তু বা‘লী তা এড়িয়ে গেছেন।

২ - রাহবি একটি মূলনীতি উল্লেখ করেছেন যে: (নারীদের মধ্যে দাস মুক্তিদানকারিনী ব্যতীত কোনো ‘আসাবাহ নেই), কিন্তু বা‘লী এই মূলনীতিটি উল্লেখ করেননি। রাহবি-র উক্তিটি হলো:

নারীদের মধ্যে মোটেও কোনো ‘আসাবাহ নেই … কেবল সেই নারী ব্যতীত যে দাস মুক্তির মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছে

৩ - মাসআলাহ সংশোধনের (তাসহীহ) ক্ষেত্রে রাহবি এক দল এবং দুই দলের ওপর ‘ইনকিসার’ (অপূর্ণ সংখ্যায় বণ্টন) হওয়া উল্লেখ করেছেন, পক্ষান্তরে বা‘লী কেবল দুই দলের ওপর ‘ইনকিসার’ হওয়ার আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ويتضح هذ الاختصار في ثلاثة أمور:

1 - أن عدد أبيات المنظومة الرحبية (176) بيتًا، بينما عدد أبيات هذه المنظومة (119) بيتًا، فالفرق بينهما في (57) بيتًا، وهذا اختصارُ قريبٍ من ثلث المنظومة.

2 - أن كل باب من أبواب الفرائض كان عدد أبياته في هذه المنظومة أقل من المنظومة الرحبية، عدا باب المناسخات فهما متساويان، ويتضح ذلك في الجدول الآتي.

3 - أن الرحبي ضمَّن أبيات منظومته شيئًا من الحشو والتطويل، وتمكن البعلي من التخلص منها في منظومته.

وهذا الحشو قد أثبته جماعة من الفرضيين، فقال الفارضي (981 هـ) في منظومته:

وجيزةٌ، والحشو فيها يندرُ … فاحفظ، وحشو الرحبي سُكَّر

 

وأقره الشنشوري في شرحه لمنظومة الفارضي فقال: (ولما كان الحشو قد يُعاب، فربما توهم متوهم عبيًا في الرحبية للإمام أبي عبد الله محمد بن علي الرحبي رحمه الله، وذلك لكثرة ما فيها من الحشو، فذكر أن حشوها كالسكر، فهو تشبيه بحذف الأداة، وذلك لأن غالب حشوها له معنى صحيح مقصود في نفسه، مثل قوله: فاحفظ فكل حافظ إمام) (1).

--------------------------------------------

(1) الدرة المضية للشنشوري، ص 7.
এই সংক্ষিপ্তকরণটি তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট হয়:

১ - মানজুমা রাহবিয়্যাহ-এর শ্লোক সংখ্যা হলো (১৭৬)টি, পক্ষান্তরে এই মানজুমার শ্লোক সংখ্যা হলো (১১৯)টি। ফলে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো (৫৭)টি শ্লোক, আর এটি মানজুমার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সংক্ষিপ্তকরণ।

২ - উত্তরাধিকার আইনের (ফারায়িয) প্রতিটি অধ্যায়ে এই মানজুমার শ্লোক সংখ্যা মানজুমা রাহবিয়্যাহ-এর তুলনায় কম, কেবল মুনাসাবাখাত অধ্যায় ব্যতীত—যেখানে উভয়টি সমান। নিচের ছকে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে।

৩ - রাহবি তাঁর মানজুমার শ্লোকগুলোতে কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক দীর্ঘ আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আর আল-বা’লি তাঁর মানজুমায় তা থেকে মুক্ত থাকতে সক্ষম হয়েছেন।

ফারায়িয শাস্ত্রবিদদের একটি দল এই অপ্রাসঙ্গিক দীর্ঘ আলোচনার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। আল-ফারিদি (৯৮১ হি.) তাঁর মানজুমায় বলেছেন:

এটি সংক্ষিপ্ত, আর এতে অপ্রাসঙ্গিকতা দুর্লভ … অতএব মুখস্থ করো, আর রাহবির অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা তো চিনির মতো।

 

আশ-শানশুরি আল-ফারিদির মানজুমার ব্যাখ্যায় এটি সমর্থন করে বলেছেন: (যেহেতু অপ্রাসঙ্গিক দীর্ঘ আলোচনা কখনো দোষের হতে পারে, তাই কেউ হয়তো ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী রাহবি (রহিমাহুল্লাহ)-এর রাহবিয়্যাহ গ্রন্থে ত্রুটির ধারণা করতে পারেন, কারণ এতে এ জাতীয় বিষয়ের আধিক্য রয়েছে। তাই তিনি উল্লেখ করেছেন যে এর অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা চিনির মতো। এটি একটি রূপক তুলনা, কারণ এর অধিকাংশ অপ্রাসঙ্গিক আলোচনার নিজস্ব একটি সঠিক ও উদ্দেশ্যমূলক অর্থ রয়েছে, যেমন তাঁর উক্তি: ‘অতএব মুখস্থ করো, কারণ প্রত্যেক মুখস্থকারীই একজন ইমাম’)। (১)

--------------------------------------------

(১) আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ লিশ-শানশুরি, পৃষ্ঠা ৭।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وقال البعلي في مقدمة شرحه عن المنظومة الرحبية: (لاشتمالها على كثير من الحشو والتَّطويل، من غير إفادة لما عليه القصد والتعويل).

وأمثلة ذلك:

أولًا: الحشو:

ومن أمثلته:

أ) ذكر الرحبي في أول باب التعصيب:

وحق أن نشرع في التعصيب … بكل قول موجز مصيب

وهذا البيت لا علاقة له بالفرائض، وإن كان لا يخلو من فائدة.

ب) ذكر في أول باب الجد والإخوة:

ونبتدي الآن بما أردنا … في الجد والإخوة إذ وعدنا

فألق نحو ما أقول السمعا … واجمع حواشي الكلمات جمعا

واعلم بأن الجد ذو أحوال … أنبيك عنهن على التوالي
আল-বালি তার মানজুমাহ আর-রাহবিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: (কারণ এটি অনেক অনর্থক কথা ও দীর্ঘসূত্রিতা সমৃদ্ধ, যা মূল উদ্দেশ্য ও নির্ভরযোগ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ উপকার দেয় না)।

এর উদাহরণসমূহ:

প্রথমত: হাশউ (অনর্থক অতিরিক্ত কথা):

এর উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

ক) আর-রাহবি 'তাসিব' অধ্যায়ের শুরুতে উল্লেখ করেছেন:

আর এটিই সংগত যে আমরা তাসিব বিষয়ে আলোচনা শুরু করি … প্রতিটি সংক্ষিপ্ত ও সঠিক বাণীর মাধ্যমে

আর এই পঙক্তিটির ফারায়েজ শাস্ত্রের সাথে কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই, যদিও এটি ফায়দাহ বা উপকারিতা শূন্য নয়।

খ) তিনি দাদা ও ভাইদের অধ্যায়ের শুরুতে উল্লেখ করেছেন:

এখন আমরা তা শুরু করছি যা আমরা ইচ্ছা করেছিলাম … দাদা ও ভাইদের বিষয়ে যেহেতু আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম

সুতরাং আমি যা বলছি তার প্রতি মনোযোগ দাও … এবং শব্দগুলোর নির্যাসসমূহকে পূর্ণরূপে একত্রিত করো

জেনে রেখো যে, দাদার কয়েকটি অবস্থা রয়েছে … আমি তোমাকে সে সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে অবহিত করছি
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ثانيًا: التطويل:

ومن أمثلته:

أ) ذكر الرحبي أسباب الميراث في بيتين، فقال:

أسباب ميراث الورى ثلاثة … كل يفيد ربه الوراثة

وهي نكاح وولاء ونسب … ما بعدهن للمواريث سبب

بينما ذكرها البعلي في بيت واحد فقال:

أسباب ميراث: نكاح، ونسب … ثم ولاء، ما سواهن سبب

ب) ذكر الرحبي في مسألة سقوط الأخوات لأب بالأخت الشقيقة في ثلاثة أبيات، فقال:

ومثلهن الأخوات اللاتي … يُدلين بالقرب من الجهات

إذا أخذن فرضهن وافيا … أسقطن أولاد الأب البواكيا

وإن يكن أخ لهن حاضرا … عصبهن باطنا وظاهرا
দ্বিতীয়ত: দীর্ঘায়ন:

এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে:

ক) রহবী উত্তরাধিকারের কারণসমূহ দুটি চরণে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন:

সৃষ্টির উত্তরাধিকারের কারণ তিনটি … যার প্রতিটি তার অধিকারীকে মিরাস প্রদান করে

আর সেগুলো হলো বিবাহ, ওয়ালা (মুক্তদাসের সাথে সম্পর্ক) এবং বংশসূত্র … এগুলোর পরে উত্তরাধিকারের আর কোনো কারণ নেই

পক্ষান্তরে বালি তা একটি চরণে উল্লেখ করে বলেছেন:

উত্তরাধিকারের কারণসমূহ: বিবাহ এবং বংশসূত্র … অতঃপর ওয়ালা, এগুলো ব্যতীত অন্য কিছু কারণ নয়

খ) রহবী সহোদরা বোনের উপস্থিতিতে বৈমাত্রেয় বোনদের বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি তিনটি চরণে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন:

তাদেরই অনুরূপ ঐ বোনরা … যারা নিকটবর্তী দিকের মাধ্যমে নিজেদের সম্পর্ক প্রমাণ করে

যখন তারা তাদের নির্ধারিত পূর্ণ অংশ গ্রহণ করে … তখন তারা পিতার ক্রন্দনরত সন্তানদের (বৈমাত্রেয় বোনদের) বঞ্চিত করে দেয়

আর যদি তাদের কোনো ভাই উপস্থিত থাকে … তবে সে তাদের গোপনে ও প্রকাশ্যে আসাবা (অংশীদার) বানিয়ে নেয়
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
بينما ذكرها البعلي في الدرة في بيت واحد، فقال:

وتحجب الشقائق اللاتي لأب … ما لم يكن لهن من أخ عصب

ت) ذكر الرحبي الوارثون من الرجال في (6) أبيات، بينما ذكرهم البعلي في (3) أبيات.

الأمر الثاني: أن هذه المنظومة زادت على المنظومة الرحبية أبوابًا، أغفل الرحبي ذكرها، وهي أربعة أبواب: باب أركان الإرث، وباب شروط الإرث، وباب الرد، وباب ذوي الأرحام.

الأمر الثالث: أن الرحبي من علماء الشافعية، وقد جعل منظومته على مذهب الشافعية، وأما البعلي فهو من فقهاء الحنابلة، ولذا فقد جعل منظومته موافقة لما عليه المتأخرين من الحنابلة إلا في مسألتين خالف فيهما المشهور من مذهب الحنابلة،

الأولى: في توريث الغرقى ونحوهم، والثانية: في توريث الخنثى.

وفي نهاية هذه المقارنة، ومع جلالة المنظومة الرحبية وجلالة مؤلفها وكثرة شروحها، فإن هذه المنظومة المسماة: الدرة المضية، إن لم تكن أعلى رتبة من المنظومة الرحبية، فإنها لا تقل عنها براعةً ومتانةً وعلمًا، والله تعالى أعلم.

 

جدول يبين عدد أبيات الأبواب في المنظومة الرحبية ومنظومة الدرة المضية.
যেখানে বা’লী আদ-দুররাহ-তে এটি একটি পঙ্ক্তিতে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন:

পিতার দিক থেকে আসা বোনরা বাধাগ্রস্ত হয় … যতক্ষণ না তাদের সাথে কোনো আসাবাহ ভাই থাকে।

ত) রাহবী পুরুষ উত্তরাধিকারীদের কথা (৬) টি পঙ্ক্তিতে উল্লেখ করেছেন, যেখানে বা’লী তাদের কথা (৩) টি পঙ্ক্তিতে উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয়ত: এই কাব্যগ্রন্থটি রাহবী কাব্যগ্রন্থের তুলনায় অধিক কিছু অধ্যায় যুক্ত করেছে, যা রাহবী উল্লেখ করতে ছেড়ে দিয়েছেন। সেগুলো হলো চারটি অধ্যায়: উত্তরাধিকারের স্তম্ভের অধ্যায়, উত্তরাধিকারের শর্তাবলির অধ্যায়, রাদ্দ-এর অধ্যায় এবং যাউইল আরহাম-এর অধ্যায়।

তৃতীয়ত: রাহবী শাফিঈ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি তাঁর কাব্যগ্রন্থটি শাফিঈ মাযহাব অনুযায়ী রচনা করেছেন। অন্যদিকে বা’লী ছিলেন হাম্বলী ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত, তাই তিনি তাঁর কাব্যগ্রন্থটিকে পরবর্তী যুগের হাম্বলীদের মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছেন, কেবল দুটি মাসআলা ব্যতীত যেগুলোতে তিনি হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতের বিরোধিতা করেছেন,

প্রথমটি: যারা একসাথে ডুবে মারা গেছে বা অনুরূপ অবস্থায় মারা গেছে তাদের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে, এবং দ্বিতীয়টি: হিজড়াদের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে।

এই তুলনামূলক আলোচনার শেষে বলা যায় যে, রাহবী কাব্যগ্রন্থ ও তার লেখকের মাহাত্ম্য এবং এর বহুবিধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ থাকা সত্ত্বেও, 'আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ' নামক এই কাব্যগ্রন্থটি যদি মর্যাদার দিক থেকে রাহবী কাব্যগ্রন্থের চেয়ে উচ্চতর না-ও হয়, তবে তা দক্ষতা, দৃঢ়তা ও জ্ঞানের দিক থেকে কোনোভাবেই তার চেয়ে কম নয়। আর আল্লাহ তাআলা অধিক জ্ঞাত।

 

রাহবী কাব্যগ্রন্থ এবং আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ কাব্যগ্রন্থের অধ্যায়সমূহের পঙ্ক্তি সংখ্যা প্রদর্শনকারী ছক।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الباب … الرحبية … الدرة المضية

المقدمة … 13

أسباب الميراث … 2

موانع الميراث … 2

أركان الميراث … -

شروط الإرث … -

الوارثون من الرجال

الوارثات من النساء

الفروض المقدرة … 4

أصحاب النصف … 3

أصحاب الربع … 3

أصحاب الثمن … 2

أصحاب الثلثين … 4

أصحاب الثلث … 8

أصحاب السدس … 22

التعصيب … 11

الحجب … 13

المشركة … 4

الجد والإخوة … 14

الأكدرية … 5

الرد … -
অধ্যায় … আর-রাহবিয়্যাহ … আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ

ভূমিকা … ১৩

মিরাসের কারণসমূহ … ২

মিরাসের প্রতিবন্ধকসমূহ … ২

মিরাসের রুকনসমূহ … -

মিরাসের শর্তাবলি … -

পুরুষ উত্তরাধিকারীগণ

নারী উত্তরাধিকারীগণ

নির্ধারিত অংশসমূহ … ৪

অর্ধেক অংশের হকদারগণ … ৩

এক-চতুর্থাংশ অংশের হকদারগণ … ৩

এক-অষ্টমাংশ অংশের হকদারগণ … ২

দুই-তৃতীয়াংশ অংশের হকদারগণ … ৪

এক-তৃতীয়াংশ অংশের হকদারগণ … ৮

এক-ষষ্ঠাংশ অংশের হকদারগণ … ২২

তাসীব (অবশিষ্টাংশ ভোগী হওয়া) … ১১

হাজব (বঞ্চিতকরণ) … ১৩

মুশাররাকাহ (অংশীদারিত্বমূলক মাসআলা) … ৪

দাদা এবং ভাইগণ … ১৪

আকদারিয়্যাহ মাসআলা … ৫

আর-রদ্দ (প্রত্যাবর্তন) … -
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ذوي الأرحام … -

الحساب … 18

السهام … 16

المناسخات … 8

الخنثى والمفقود والحمل … 4

الغرقى والهدمى … 3

الخاتمة … 8

المجموع … 176
দূরবর্তী আত্মীয়গণ … -

হিসাব … ১৮

অংশসমূহ … ১৬

মুনাসখাত … ৮

উভয়লিঙ্গ, নিখোঁজ ব্যক্তি এবং গর্ভস্থ সন্তান … ৪

নিমজ্জিত এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তিগণ … ৩

উপসংহার … ৮

মোট … ১৭৬
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌التعريف بالفوائد المرضية لشرح الدرة المضية

‌‌أولًا: توثيق اسم الكتاب:

كُتب على صفحة المخطوط: (كتاب الفوائد المرضية لشرح الدرة المضية مختصر الرحبية في علم القواعد الفرضية).

وقد ذكره المؤلف في ثبته منار الإسعاد باسم: (الفوائد المرضية).

بينما جاء في مقدمة المؤلف في كتابه هذا أنه سماه: (الفوائد المرضية لشرح الدرة المضية في علم القواعد الفرضية)، وعلى هذا فهو الاسم المعتمد.

 

‌‌ثانيًا: سبب كتابته الشرح:

ذكر المؤلف في المقدمة سبب تأليفه لهذا الشرح، فقال: (لمَّا اختصرت القصيدة الموسومة بـ «الرَّحبيَّة» في علم المواريث الفرضيَّة - لاشتمالها على كثير من الحشو والتَّطويل، من غير إفادة لما عليه القصد والتعويل، الَّتي سمَّيتها بـ «الدُّرَّة المضيَّة في علم القواعد الفرضيَّة» -؛ طلب منِّي بعض أصحابي الكرام، الفضلاء الفخام، أن أعلِّق عليها شرحاً لطيفاً يكشف عن محاسن وجهها الأستار، ويُظهِر ما خَفِي من حُسن سبك معانيها من الأسرار،
আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-ফাওয়ায়িদ আল-মারদিয়্যাহ-এর পরিচিতি

প্রথমত: গ্রন্থের নামের প্রামাণিকতা:

পাণ্ডুলিপির পাতায় লেখা রয়েছে: (ইলমে ফরায়েযের মূলনীতি বিষয়ক কাসিদা আর-রাহবিয়্যাহ-এর সংক্ষিপ্ত রূপ আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-ফাওয়ায়িদ আল-মারদিয়্যাহ)।

লেখক তাঁর নিজস্ব তালিকাগ্রন্থ 'মানারুল ইসআদ'-এ এটিকে 'আল-ফাওয়ায়িদ আল-মারদিয়্যাহ' নামে উল্লেখ করেছেন।

পক্ষান্তরে এই কিতাবের ভূমিকায় লেখক স্বয়ং এর নাম দিয়েছেন: (আল-ফাওয়ায়িদ আল-মারদিয়্যাহ লি-শারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফি ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ), আর এটিই কিতাবটির স্বীকৃত ও নির্ভরযোগ্য নাম।

 

দ্বিতীয়ত: ব্যাখ্যাগ্রন্থটি রচনার কারণ:

লেখক কিতাবের ভূমিকায় এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি রচনার কারণ উল্লেখ করে বলেছেন: (যখন আমি উত্তরাধিকার তথা ইলমে ফরায়েয বিষয়ক 'আর-রাহবিয়্যাহ' নামক কাসিদাটিকে সংক্ষেপ করলাম—যেহেতু এতে অনেক বাহুল্য কথা ও দীর্ঘসূত্রতা ছিল যা মূল লক্ষ্যের জন্য বিশেষ ফলপ্রসূ ছিল না, আর যার নাম আমি দিয়েছিলাম 'ইলমে ফরায়েযের মূলনীতি বিষয়ক আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ'—; তখন আমার কিছু সম্মানিত ও বিজ্ঞ বন্ধু আমার নিকট অনুরোধ করলেন যেন আমি এর ওপর একটি প্রাঞ্জল ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করি, যা এর সৌন্দর্যের আবরণ উন্মোচন করবে এবং এর বাক্যশৈলীর অন্তরালে থাকা নিগূঢ় রহস্যগুলোকে ফুটিয়ে তুলবে...)
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
فأجبته إلى مطلوبه).

وهذه عادةٌ لكثير من المؤلفين؛ حيث يكون سبب التأليف تلبيةً لطلب المتعلمين بشرح ما يحتاجون إلى شرحه أو تأليف ما يحتاجون إليه.

 

‌‌ثالثًا: مصادر المؤلف في شرحه:

صرح المؤلف في شرحه ببعض الكتب التي اعتمد عليها، كما أنه أخذ من بعض الكتب التي لم يصرح بذكر اسمها، ومن ذلك:

1 - شرح الترتيب للشنشوري (1).

2 - الفوائد الشنشورية (2).

3 - رسالة الشباك (3).

--------------------------------------------

(1) اسمه: فتح القريب المجيب بشرح كتاب الترتيب، لبهاء الدين محمد بن عبد الله الشنشوري، الفرضي، الخطيب بالجامع الأزهر، وهو شرح لكتاب: ترتيب المجموع وإظهار السر المودوع، وقد طُبع سنة 1345 هـ، بمطبعة التقدم العلمية، بمصر، في جزئين.

(2) طُبع بتحقيق الشيخ محمد بن سليمان البسام، عن دار عالم الفوائد، مكة المكرمة، في مجلد واحد، سنة 1422 هـ.

(3) اسمه: شباك المناسخات؛ ومؤلفه: أحمد بن محمد بن عماد بن علي الشهاب القرافي، المصري، المقدسي، الشافعي، المعروف بابن الهائم (815 هـ)، طُبع بتحقيق يوسف بن سليمان العاصم، عن وزارة الأوقاف القطرية، سنة 1432 هـ / 2011 م.
(অতঃপর আমি তার অনুরোধ গ্রহণ করলাম)।

এটি অনেক লেখকেরই একটি অভ্যাস; যেখানে রচনার কারণ হয় শিক্ষার্থীদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তাদের প্রয়োজনীয় বিষয়াবলির ব্যাখ্যা প্রদান অথবা তাদের প্রয়োজনীয় কোনো কিতাব রচনা করা।

 

‌‌তৃতীয়: তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে লেখকের উৎসসমূহ:

লেখক তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে এমন কিছু কিতাবের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যার ওপর তিনি নির্ভর করেছেন, আবার এমন কিছু কিতাব থেকেও তিনি গ্রহণ করেছেন যেগুলোর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি; তার মধ্যে কয়েকটি হলো:

১ - শানশুরি-র শারহুত তারতিব (১)।

২ - আল-ফাওয়ায়েদ আল-শানশুরিইয়াহ (২)।

৩ - রিসালাতুশ শিব্বাক (৩)।

--------------------------------------------

(১) এর নাম: ফাতহুল কারীব আল-মাজীব বি-শারহি কিতাবিত তারতিব, এর লেখক হলেন বাহাউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-শানশুরি, উত্তরাধিকার আইন বিশেষজ্ঞ (ফারযি), জামে আজহারের খতিব। এটি ‘তারতিবুল মাজমু ওয়া ইজহারুস সিররিল মাওদু’ নামক কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ; এটি ১৩৪৫ হিজরি সালে মিসরের মাতবাআতু তাকদ্দুম আল-ইলমিয়্যাহ থেকে দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

(২) এটি শায়খ মুহাম্মদ বিন সুলায়মান আল-বাসসাম-এর তাহকীকে মক্কা মুকাররমার দারু আলমিল ফাওয়ায়েদ থেকে ১৪২২ হিজরি সালে এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

(৩) এর নাম: শিব্বাকুল মুনাসখাত; এর লেখক হলেন: আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইমাদ বিন আলী আল-শিহাব আল-কারাফি, আল-মিসরি, আল-মাকদিসি, আল-শাফিঈ, যিনি ইবনুল হায়িম (৮১৫ হি.) নামে পরিচিত। এটি ইউসুফ বিন সুলায়মান আল-আসিম-এর তাহকীকে কাতারের ধর্ম বিষয়ক (আওকাফ) মন্ত্রণালয় থেকে ১৪৩২ হি. / ২০১১ খ্রি. সালে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
4 - كشاف القناع، للشيخ منصور البهوتي.

5 - شرح منتهى الإرادات، للشيخ منصور البهوتي.

 

‌‌رابعًا: منهج المؤلف في شرحه:

من خلال النظر في الشرح يتضح أن المؤلف انتهج فيه ما يلي:

1 - أنه سلك في الشرح مسلك الاختصار والتعليق، كما ذكر في مقدمته، فلم يُطِل فيه ولم يُسْهِب.

2 - اقتصر في الشرح على ذكر المقصود من الباب، ثم يشرح بعض المفردات في النظم، ولم يعتنِ بشرح جميع مفردات النظم.

3 - اعتنى في الشرح بالتمثيل، وهذا أمر مهم في علم الفرائض.

4 - ذكر في بعض المسائل الخلاف بين المذاهب الأربعة ذكرًا مختصرًا، دون بيان الأدلة والمناقشات.

5 - يعتني بذكر مذهب الحنابلة في المسائل، وقد يذكر الأدلة أحيانًا.

6 - يعتني بذكر الأقسام والضوابط والقواعد.
4 - কাশশাফুল কিনা, শেখ মানসুর আল-বাহুতি।

5 - শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, শেখ মানসুর আল-বাহুতি।

 

‌‌চতুর্থ: তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনায় লেখকের পদ্ধতি:

ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, লেখক এতে নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করেছেন:

1 - তিনি ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্তকরণ এবং টীকা প্রদানের পথ বেছে নিয়েছেন, যেমনটি তিনি তার ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন; ফলে তিনি এতে দীর্ঘসূত্রিতা বা অতিবিস্তৃতি করেননি।

2 - তিনি ব্যাখ্যায় অধ্যায়ের মূল উদ্দেশ্য বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন, এরপর কাব্যগাথার কিছু শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন এবং কাব্যগাথার প্রতিটি শব্দের ব্যাখ্যা করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেননি।

3 - তিনি ব্যাখ্যা করার সময় উদাহরণের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন, আর এটি ফারায়েজ (উত্তরাধিকার) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

4 - তিনি কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে চার মাযহাবের মধ্যকার মতভেদ সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন, দলিল ও দীর্ঘ আলোচনা ছাড়াই।

5 - তিনি মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে হাম্বলি মাযহাব উল্লেখ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং কখনও কখনও দলিলও উল্লেখ করেন।

6 - তিনি শ্রেণিবিভাগ, নীতিমালা এবং মূলনীতিসমূহ উল্লেখ করার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌منهج التحقيق

1 - اعتمدنا في تحقيق الكتاب على نسخة فريدة يأتي وصفها.

2 - قمنا بمراجعة نصوص الكتاب المحقق جملة جملة، ومقارنتها قدر الإمكان مع ما في كتب الحنابلة؛ ككشاف القناع وشرح منتهى الإرادات وغيرهما، وكتب الفرائض؛ كالفوائد الشنشورية وشرح الترتيب وغيرهما، وإذا ما وجدنا خطأ ظاهرًا في المخطوط أثبتنا الصواب في الأصل وأشرنا إلى ما هو موجود في المخطوط، وإذا وجدنا سقطًا ظاهرًا أثبتناه في الأصل بين معكوفتين [].

3 - قمنا بتوثيق الآيات القرآنية، وتخريج الأحاديث تخريجًا متوسطًا.

4 - ترجمنا للأعلام غير المشهورين ترجمة مختصرة من كتب التراجم المعتبرة.

5 - عزونا المسائل الفقهية من الكتب المعتبرة في كل مذهب من المذاهب.

6 - علقنا على المسائل المتعلقة بالاعتقاد بما يوافق مذهب أهل السنة والجماعة.

7 - ضبطنا كلمات النظم كله، ووزنَّاه قدر الإمكان، وقمنا
সম্পাদনা পদ্ধতি

১ - কিতাবটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমরা একটি অনন্য পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যার বর্ণনা সামনে আসছে।

২ - আমরা সম্পাদিত কিতাবটির পাঠ্যসমূহ প্রতিটি বাক্য ধরে ধরে পর্যালোচনা করেছি এবং সেগুলোকে হাম্বলী মাযহাবের কিতাবসমূহ (যেমন: কাশশাফুল কিনা, শারহু মুনতাহাল ইরাদাত ও অন্যান্য) এবং ফারায়েজ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের (যেমন: আল-ফাওয়াইদ আশ-শানশুরিইয়্যাহ, শারহুত তারতীব ও অন্যান্য) সাথে যথাসম্ভব তুলনা করেছি। যদি পাণ্ডুলিপিতে কোনো স্পষ্ট ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে, তবে আমরা মূল পাঠে সঠিকটি স্থাপন করেছি এবং পাণ্ডুলিপিতে যা বিদ্যমান ছিল তা উল্লেখ করে দিয়েছি। আর যদি কোনো অংশ বাদ পড়া স্পষ্ট হয়েছে, তবে তা তৃতীয় বন্ধনী [ ]-এর মাঝে মূল পাঠে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

৩ - আমরা কুরআনের আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি এবং হাদীসসমূহের পরিমিত পর্যায়ের তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) করেছি।

৪ - আমরা স্বল্প পরিচিত ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত জীবনী নির্ভরযোগ্য জীবনীগ্রন্থসমূহ থেকে সংকলন করেছি।

৫ - আমরা ফিকহী মাসআলাসমূহ প্রতিটি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃত করেছি।

৬ - আকিদা সংক্রান্ত মাসআলাগুলোতে আমরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ অনুযায়ী টীকা প্রদান করেছি।

৭ - আমরা সম্পূর্ণ কাব্যের শব্দগুলোতে হরকত প্রদান করেছি এবং যথাসম্ভব এর ছন্দমাত্রা রক্ষা করেছি, এবং আমরা...
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
بترقيم الأبيات.

8 - وضعنا النظم باللون الأحمر، والشرح بالأسود؛ ليتضح الفرق بينهما.

9 - أفردنا المنظومة في بداية الكتاب.

10 - ترجمنا للمؤلف من مصادر ترجمته، وعرَّفنا بالنظم والشرح في مقدمة التحقيق.
শ্লোকসমূহের নম্বর প্রদানের মাধ্যমে।

৮ - আমরা কাব্যগ্রন্থটিকে লাল রঙে এবং ব্যাখ্যাটিকে কালো রঙে বিন্যস্ত করেছি; যাতে উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

৯ - আমরা কাব্যটিকে গ্রন্থের শুরুতে স্বতন্ত্রভাবে উপস্থাপন করেছি।

১০ - আমরা লেখকের জীবনীমূলক উৎসসমূহ হতে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছি এবং পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ভূমিকায় কাব্য ও ব্যাখ্যার পরিচয় তুলে ধরেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌وصف النسخة المعتمدة

اعتمدنا في تحقيق هذا الشرح المبارك على نسخة خطية فريدة لكتاب الدرة المضية بشرح الفوائد المرضية.

وهي نسخة مصورة من المكتبة الظاهرية، ورقمها (15758)، وتقع في (21 ورقة)، وعدد الأسطر في الورقة (25 سطرًا)، وقد كتبت بخط النسخ المعتاد.

وقد نسخت هذه النسخة سنة (1182 هـ)، أي: بعد سنة تقريبًا من كتابة المؤلف لهذا الشرح، حيث انتهى من كتابة الشرح سنة (1181 هـ)، فتكون النسخة مكتوبة في حياة المؤلف، بل وقريبة العهد بتأليف المؤلف لها.

وناسخها هو: محمَّد أمين بن الشَّيخ حسن العزازي رحمه الله.

ولم نقف على نسخة خطية أخرى لهذا الشرح، بل حتى فهارس المخطوطات لم تذكر سوى هذه النسخة الفريدة.

وهي نسخة واضحة، كاملة، ملونة، قليلة الأخطاء، وما فيها من خطأ فالغالب فيه أنه سبق قلم من الناسخ، ولذا نرى أنها جاءت بالمقصود من الشرح.

وقمنا أيضًا بمقابلة النظم بالنسخة المطبوعة بعناية الشيخ فيصل العلي وفقه الله، وأثبتنا الفروق في الهامش.
নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির বিবরণ

এই বরকতময় ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমরা 'আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ বি শারহিল ফাওয়াইদিল মারদিয়্যাহ' কিতাবটির একটি অনন্য পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি।

এটি জাহিরিয়া লাইব্রেরি থেকে সংগৃহীত একটি চিত্রায়িত কপি, যার নম্বর (১৫৭৫৮)। এটি (২১টি পত্র) সম্বলিত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা (২৫টি)। এটি প্রচলিত নাসখ লিপিতে লেখা হয়েছে।

এই কপিটি (১১৮২ হিজরি) সালে অনুলিপি করা হয়েছে; অর্থাৎ লেখক কর্তৃক এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি রচনার প্রায় এক বছর পর। লেখক ব্যাখ্যাগ্রন্থটি রচনার কাজ (১১৮১ হিজরি) সালে সমাপ্ত করেছিলেন। সুতরাং এই কপিটি লেখকের জীবদ্দশাতেই লেখা হয়েছে, এমনকি এটি রচনার সময়ের খুব কাছাকাছি সময়ের।

এর অনুলিপিকারক হলেন: মুহাম্মদ আমিন বিন শায়খ হাসান আল-আযাযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি।

আমরা এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাইনি, এমনকি পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগগুলোতেও এই অনন্য কপিটি ছাড়া অন্য কোনো কপির উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

এটি একটি স্পষ্ট, পূর্ণাঙ্গ ও রঙিন অনুলিপি, যাতে ভুলের পরিমাণ খুবই কম। এতে যে সামান্য ভুল রয়েছে, তার অধিকাংশই অনুলিপিকারকের অনিচ্ছাকৃত কলমের বিচ্যুতি। তাই আমরা মনে করি যে, এটি ব্যাখ্যাগ্রন্থটির মূল উদ্দেশ্য যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

এছাড়াও আমরা শায়খ ফয়সাল আল-আলী (আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন) এর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত মুদ্রিত কপির সাথে মূল কাব্যাংশের তুলনা করেছি এবং পার্থক্যগুলো টীকায় উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌صور المخطوطة
পাণ্ডুলিপির চিত্রসমূহ