(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الفتوحات الربانية بشرح الدرة المضية في علم القواعد الفرضية القسم: الفرائض والوصايا
الكتاب: الفُتُوحَاتِ الرَّبَّانِيَّةَ بِشَرْحِ [الدُّرَّةِ المُضِيَّةِ في علم القواعد الفرضية لـ عبد الرحمن بن عبد الله البعلي الحنبلي (ت: 1192)]
المؤلف: د. عبد العزيز بن عدنان العيدان، د. أنس بن عادل اليتامي
الناشر: دار ركائز للنشر والتوزيع - الكويت
الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2018
عدد الصفحات: 355
أهداه للشاملة: ركائز للنشر والتوزيع؛ جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 25 جُمادَى الآخرة 1440
আল-ফুতুহুরাতুর রাব্বানিয়্যাহ বি-শারহ আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ ফি ইলমিল কাওয়াইদ আল-ফারদিয়্যাহ বিভাগ: মিরাস ও অসিয়ত
বই: আল-ফুতুহুরাতুর রাব্বানিয়্যাহ বি-শারহ [আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ ফি ইলমিল কাওয়াইদ আল-ফারদিয়্যাহ - আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ আল-বালী আল-হাম্বলি (মৃত্যু: ১১৯২ হি.)]
লেখক: ড. আবদুল আজিজ বিন আদনান আল-আইদান، ড. আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামি
প্রকাশক: দার রুকাইয প্রকাশনী - কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৯ হি. - ২০১৮ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫৫
শামেলা লাইব্রেরিকে উপহার দিয়েছেন: রুকাইয প্রকাশনী; আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৫ জুমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفتوحات الربانية
بشرح
الدرة المضية
في علم القواعد الفرضية
للعلامة
عبد الرحمن بن عبد الله البعلي
الحنبلي
(ت: 1192 هـ)
شرح
د. عبد العزيز بن عدنان العيدان
د. أنس بن عادل اليتامى
আল-ফুতুহাতুর রাব্বানিয়্যাহ
ব্যাখ্যায়
আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ
উত্তরাধিকার শাস্ত্রের মূলনীতি বিষয়ক বিদ্যায়
আল্লামা
আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আল-বালি
আল-হাম্বলী
(মৃত্যু: ১১৯২ হিজরি)
ব্যাখ্যা করেছেন
ড. আব্দুল আজিজ বিন আদনান আল-আইদান
ড. আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামা
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه نستعين
إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، ونشهد ألا إله إلا الله وأن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد:
فإن علم الفرائض من العلوم الشرعية التي اعتنى بها الأولون والآخرون من فقهاء هذه الأمة، فصنفوا فيه المصنفات، ونظموا فيه المنظومات، ودرسوه في المدارس والكتاتيب، وتلوا آياته في المساجد والمحاريب، وما ذاك إلا لشرف هذا العلم في الشريعة، ومكانته العالية الرفيعة.
وإن من تلكم المصنفات النافعة، والمنظومات السهلة الماتعة، ما نظمه العلامة عبد الرحمن بن عبد الله البعلي رحمه الله، والتي سماها: (الدُّرَّةَ المُضِيَّةَ فِي عِلْمِ القَوَاعِدِ الفَرَضِيَّةِ)، اختصر فيه المنظومة الرَّحَبِيَّة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতপর:
নিশ্চয়ই ফারায়েয (উত্তরাধিকার) শাস্ত্র হলো সেই সকল শরয়ি ইলমের অন্তর্ভুক্ত যার প্রতি এই উম্মতের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ফকীহগণ বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন, মানজুমা (কাব্যগ্রন্থ) সংকলন করেছেন, মাদরাসা ও মক্তবগুলোতে তা পাঠ দান করেছেন এবং মসজিদ ও মিহরাবসমূহে এর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেছেন। আর তা কেবল শরীয়তে এই ইলমের মর্যাদা এবং এর সুউচ্চ ও সুমহান অবস্থানের কারণে।
আর সেই সকল উপকারী রচনা এবং সহজ ও চমৎকার মানজুমাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লামা আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ আল-বালি (রহিমাহুল্লাহ) যা ছন্দবদ্ধ করেছেন এবং যার নাম তিনি রেখেছেন: (আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ ফি ইলমিল কাওয়াইদিল ফারায়েযিয়্যাহ)। এতে তিনি ‘মানজুমা আর-রাহবিয়্যাহ’-কে সংক্ষেপ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بإعادة صياغتها، وحذف حشوها، وتقصير ما تطاول منها، فجاءت في (119) بيتًا، وقام بحنبلة المواطن التي ما خالف المذهب عندنا مذهب الشافعية خلا بابي الغرقى والخنثى، فكانت منظومة جديرة بالعناية، وكفيلة بالاستغناء والكفاية (1).
ولما كانت المنظومة تمتاز بما تقدم زَبْرُه، وتحتوي على ما لا يسعف التقدمة ذكرُه، ولم يكن لها شرحٌ سوى شرحِ ناظمها الموسوم بـ: (الفَوَائِدِ المَرْضِيَّةِ لِشَرْحِ الدُّرَّةِ المُضِيَّةِ فِي عِلْمِ القَوَاعِدِ الفَرَضِيَّةِ) (2)؛ استعنَّا الله تعالى بوضع شرحٍ على أبياتها يوضح معناها، ويسهل على دارسها محتواها، مستفيدين من كتب علماء الحنابلة؛ ككشاف القناع وشرح منتهى الإرادات، مع ما سطره علماؤنا الأكابر؛ مثل كتاب: (الفوائد الجلية في المباحث الفرضية)، لسماحة العلامة عبد العزيز بن عبد الله بن باز رحمه الله، وكتاب (تسهيل الفرائض)، للعلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله، وكتاب (التحقيقات المرضية في المباحث الفرضية)، لشيخنا العلامة صالح بن فوزان الفوزان حفظه الله، وكتاب (الفرائض)، لشيخنا العلامة عبد الكريم بن محمد اللاحم رحمه الله، وسميناه: (الفُتُوحَاتِ الرَّبَّانِيَّةَ لِشَرْحِ الدُّرَّةِ المُضِيَّةِ).
--------------------------------------------
এটিকে পুনঃবিন্যাসের মাধ্যমে, বাহুল্য বর্জন করে এবং দীর্ঘ অংশগুলোকে সংক্ষেপ করার মাধ্যমে ১১৯টি পঙ্ক্তিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। তিনি ঐ সমস্ত স্থানগুলোকে হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী সংস্কার করেছেন যেগুলোতে আমাদের মাযহাব শাফিঈ মাযহাবের সাথে ভিন্নমত পোষণ করে, তবে ডুবে মারা যাওয়া ব্যক্তি এবং হিজড়া (খুনসা) সংক্রান্ত অধ্যায় দুটি এর ব্যতিক্রম। ফলে এটি এমন এক কাব্যগ্রন্থে পরিণত হয়েছে যা বিশেষ যত্নের দাবিদার এবং যা অন্য সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী ও পর্যাপ্ত হওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করে (১)।
যেহেতু এই কাব্যগ্রন্থটি উপরে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্য এবং এতে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকায় উল্লেখ করা সম্ভব নয়, আর এর রচয়িতার স্বরচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-ফাওয়ায়িদুল মারদিয়্যাহ লি শারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়ায়িদিল ফারাদিয়্যাহ’ (২) ব্যতীত অন্য কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থও ছিল না; তাই আমরা এর পঙ্ক্তিগুলোর উপর এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি যা এর অর্থকে স্পষ্ট করবে এবং শিক্ষার্থীর কাছে এর বিষয়বস্তুকে সহজ করে তুলবে। এক্ষেত্রে আমরা হাম্বলী আলিমদের কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছি; যেমন ‘কাশশাফুল কিনা’ ও ‘শারহু মুনতাহাল ইরাদাত’। এর পাশাপাশি আমাদের মহান আলিমগণের লেখনী থেকেও সহায়তা নিয়েছি; যেমন শ্রদ্ধেয় আল্লামা আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব ‘আল-ফাওয়ায়িদুল জালিইয়্যাহ ফিল মাবাহিসিল ফারাদিয়্যাহ’, আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব ‘তাসহীলুল ফারাইদ’, আমাদের শায়খ আল্লামা সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)-এর কিতাব ‘আত-তাহকীকাতুল মারদিয়্যাহ ফিল মাবাহিসিল ফারাদিয়্যাহ’ এবং আমাদের শায়খ আল্লামা আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মাদ আল-লাহিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব ‘আল-ফারাইদ’। আমরা এর নামকরণ করেছি: ‘আল-ফুতুহাতুর রব্বানিয়্যাহ লি শারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
نسأل الله تعالى أن يكون هذا الشرح نوعًا من نشر العلم الذي يحب الله نشره، ومن البرِّ بأهل العلم الذين صنفوا تلك المصنفات، وأفنوا أعمارهم في تبيين شرع الله تعالى وحكمه، وأن يبارك في هذا النظم وشرحه فتُعمر به المجالس العلمية والدروس الشرعية.
وما كان من اجتهاد خاطئ فمنَّا ومن الشيطان، ونرجو من الله العفو والغفران، ومن القارئ النصح والبيان.
والحمد لله رب العالمين
المؤلفان
আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি এমন জ্ঞান প্রসারের একটি মাধ্যম হয় যা প্রচার করা আল্লাহ পছন্দ করেন, এবং সেই সকল আলিমদের প্রতি সদাচরণস্বরূপ হয় যারা এই গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন এবং মহান আল্লাহর শরীয়ত ও তাঁর হিকমত বর্ণনায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন; আর তিনি যেন এই কাব্য ও এর ব্যাখ্যায় বরকত দান করেন যাতে এর মাধ্যমে ইলমি মজলিস ও শরয়ী দরসসমূহ সমৃদ্ধ হয়।
আর কোনো ভুল ইজতিহাদ হয়ে থাকলে তা আমাদের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; এ ক্ষেত্রে আমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি এবং পাঠকের নিকট নসিহত ও ভুল স্পষ্টীকরণের আশা রাখছি।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লেখকদ্বয়
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
ابتدأ المصنف كتابه بالبسملة؛ تأسياً بالكتاب العظيم، واقتداءً بالنبي الكريم صلى الله عليه وسلم.
والجار والمجرور في قوله: (بِسْمِ) متعلق بفعل محذوف مؤخر مناسب للمقام، وتقديره هنا: بسم الله أؤلف، والمعنى: أؤلف مستعيناً بجميع أسماء الله الحسنى المتضمنة لصفاته العليا، متبركاً بذكرها حال تأليف هذا النظم.
و(الله): عَلَمٌ على الباري جل وعلا، أصله: (الإله)، حُذفت الهمزة، وأُدغمت اللام في اللام، فصارتا لاماً واحدة مشددة مفخمة، و (الإله) هو المألوه، أي: المعبود، من أَلِهَ يألَه: إذا تعبَّد، قال ابن عباس رضي الله عنهما: «هُوَ الَّذِي يَأْلَهُهُ كُلُّ شَيْءٍ، وَيَعْبُدُهُ كُلُّ خَلْقٍ» [تفسير الطبري 1/ 121].
و(الرَّحْمَن): اسم من أسماء الله المختصة به، لا يُطلق على غيره، ومعناه: المتصف بالرحمة الواسعة.
و(الرَّحِيم): من أسماء الله أيضاً، ومعناه: ذو الرحمة الواصلة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
গ্রন্থকার তাঁর কিতাব বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেছেন; মহান কিতাব (কুরআন)-এর অনুসরণ এবং সম্মানিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুকরণস্বরূপ।
এবং তাঁর উক্তি: (বিসমিল্লাহ) এর 'জার' ও 'মাজরুর' একটি উহ্য, পরবর্তী এবং প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত। এখানে এর অনুমিত রূপ হলো: আল্লাহর নামে আমি রচনা করছি। আর এর অর্থ হলো: আমি আল্লাহর সেই সকল সুন্দর নামসমূহের সাহায্য নিয়ে রচনা করছি যা তাঁর সুউচ্চ গুণাবলিকে শামিল করে, এবং এই কাব্যগ্রন্থ রচনার সময় সেই নামসমূহ স্মরণের মাধ্যমে বরকত হাসিল করছি।
এবং 'আল্লাহ' শব্দটি মহান স্রষ্টার জন্য নির্ধারিত নাম। এর মূল হলো: (আল-ইলাহ), যেখান থেকে হামজা বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং লাম-কে লাম-এর সাথে সন্ধি করা হয়েছে, ফলে তা একটি তাশদীদযুক্ত ও মোটা স্বরে উচ্চারিত লামে পরিণত হয়েছে। আর 'ইলাহ' হলেন 'মালুহ', অর্থাৎ: উপাস্য। এটি 'আলাহা ইয়াহলাহু' থেকে নির্গত, যখন কেউ ইবাদত করে। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "তিনিই সেই সত্তা, যাঁর ইবাদত প্রতিটি বস্তু করে এবং যাঁর উপাসনা প্রতিটি সৃষ্টি করে" [তাফসিরে তাবারী ১/১২১]।
এবং 'আর-রাহমান' আল্লাহর নামসমূহের মধ্য থেকে একটি নাম যা তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট, অন্য কারো জন্য এটি ব্যবহার করা হয় না। এর অর্থ হলো: প্রশস্ত দয়ার গুণান্বিত।
এবং 'আর-রাহীম'ও আল্লাহর নামসমূহের অন্যতম, এর অর্থ হলো: (সৃষ্টির নিকট) পৌঁছে যাওয়া রহমতের অধিকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الحَمْدُ للهِ القَدِيمِ البَاقِي
… سُبْحانَهُ مِنْ وارِثٍ خَلَّاق
ثُمَّ الصَّلاةُ للنَّبِيْ والآلِ
… وَصَحْبِهِ مَعَ السَّلَامِ التَّالِي
(الحَمْدُ): هو وصف المحمود بصفات الكمال على وجه المحبة والتعظيم، سواءٌ كان في مقابلة نِعمة أم لا، واللام في (الحَمْد) للاستغراق أو الجنس، فكل أنواع المحامد أو جنسها مستحَقَّة ومملوكة (للهِ) تعالى؛ لكماله في أسمائه وصفاته وأفعاله.
(القَدِيمِ) بمعنى الأوَّل، قال الله تعالى: {هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [الحديد: 3]، ولكن لم يرد إطلاق لفظ (القديم) في الكتاب ولا في السنة، فلا يطلق على الله تعالى على أنه اسم له؛ لأنه ليس من الأسماء الحسنى، ولكن يخبر به عنه، قال ابن القيم رحمه الله: (ما يطلق عليه في باب الأسماء والصفات توقيفي، وما يُطلق عليه من الأخبار لا يجب أن يكون توقيفيًّا؛ كالقديم، والشيء، والموجود، والقائم بنفسه) (1).
(البَاقِي) الذي لا يفنى، والبقاء من صفات الله تعالى، كما قال تعالى: (ويبقى وجه ربك ذو الجلال والإكرام)، وأما اسم
--------------------------------------------
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অনাদি ও চিরস্থায়ী
… তিনি পবিত্র, মহান উত্তরাধিকারী ও মহাস্রষ্টা।
অতঃপর নবী ও তাঁর পরিবারের ওপর সালাত
… এবং তাঁর সঙ্গীদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক।
(আল-হামদ): এটি হলো ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে প্রশংসিত সত্তাকে তাঁর পূর্ণতার গুণাবলীতে গুণান্বিত করা, তা কোনো নিয়ামতের বিনিময়ে হোক বা না হোক। ‘আল-হামদ’ শব্দের ‘লাম’ অক্ষরটি ব্যাপকতা বা শ্রেণিগত অর্থ প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং সকল প্রকার প্রশংসা অথবা প্রশংসার মূল ধরণ মহান আল্লাহর প্রাপ্য এবং তাঁরই মালিকানাধীন; তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী এবং কার্যাবলীর পূর্ণতার কারণে।
(আল-কাদিম) অর্থ ‘আল-আউয়াল’ বা প্রথম। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনিই প্রকাশ্য এবং তিনিই গোপন; আর তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত} [আল-হাদিদ: ৩]। তবে কুরআন বা সুন্নাহতে ‘আল-কাদিম’ শব্দটি আসেনি, তাই আল্লাহর নাম হিসেবে এটি তাঁর ওপর প্রয়োগ করা যাবে না; কারণ এটি আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের (আসমাউল হুসনা) অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে এটি দিয়ে তাঁর সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া যেতে পারে। ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে যা কিছু সাব্যস্ত করা হয় তা দলিল-নির্ভর, আর সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে যা বলা হয় তা দলিল-নির্ভর হওয়া আবশ্যক নয়; যেমন—অনাদি, বস্তু, বিদ্যমান এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তা) (১)।
(আল-বাক্বি) হলেন তিনি, যাঁর কোনো বিনাশ নেই। স্থায়িত্ব মহান আল্লাহর অন্যতম একটি গুণ, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: (আর আপনার রবের চেহারা চিরস্থায়ী হবে, যিনি মহিমাময় ও মহানুভব)। আর নামের বিষয়ে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
(الباقي) فأثبته ابن منده وقوَّام السنة اسماً لله تعالى؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه الطويل في ذكر أسماء الله تعالى، وفيه: «الْبَاقِي، الْوَارِثُ، الرَّشِيدُ، الصَّبُورُ» [الترمذي: 3507]، والحديث ضعفه شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله (1)، ولم يصح دليل آخر في إثبات هذا الاسم.
(سُبْحانَهُ) اسم مصدر، من سبَّح يُسبِّح تسبيحًا وسبحانًا، وهو تنزيه لله تعالى وتبعيده عن كل ما لا ينبغي أن يُوصَف به.
(مِنْ وارِثٍ) وهو الله، وعدَّه كثير من أهل العلم من أسماء الله الحسنى، لقوله تعالى: {وَإِنَّا لَنَحْنُ نُحْيِ وَنُمِيتُ وَنَحْنُ الْوَارِثُونَ} [الحجر: 23]، ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه السابق في ذكر أسماء الله تعالى، وفيه: «الْبَاقِي، الْوَارِثُ، الرَّشِيدُ، الصَّبُورُ».
قال ابن عثيمين: (الوارث: لم يرد بهذا اللفظ من أسماء الله تعالى، ولكنه ورد بلفظ الجمع الدال على التعظيم في قوله تعالى: {وَكُنَّا نَحْنُ الْوَارِثِينَ} [القصص: 58]) (2).
وسبحانه من (خَلَّاقِ) أي: الموجد للشَّيء على غير مثال سَبَقَ، وهو من أسماء الله تعالى؛ لقوله: {إِنَّ رَبَّكَ هُوَ الْخَلَاّقُ الْعَلِيمُ}.
--------------------------------------------
(আল-বাকী) ইবনে মান্দাহ এবং কাওয়ামুস সুন্নাহ একে মহান আল্লাহর একটি নাম হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন; আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মহান আল্লাহর নামসমূহ উল্লেখ সম্বলিত দীর্ঘ হাদিসের কারণে, যেখানে রয়েছে: «আল-বাকী, আল-ওয়ারিস, আর-রাশীদ, আস-সাবুর» [তিরমিযী: ৩৫০৭]। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন (১), এবং এই নামটি সাব্যস্ত করার জন্য অন্য কোনো দলিল সহীহ নয়।
(সুবহানাহু) এটি একটি ইসম মাসদার, যা 'সাব্বাহা-ইউসাব্বিহু-তাসবীহান ও সুবহানান' থেকে আগত। এর অর্থ হলো মহান আল্লাহকে এমন প্রতিটি বিষয় থেকে পবিত্র রাখা এবং দূরে রাখা যার দ্বারা তাঁর গুণ বর্ণনা করা সমীচীন নয়।
(মিন ওয়ারিসিন) আর তিনি হলেন আল্লাহ। ইলমের অধিকারী অনেকের মতেই এটি আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর নিশ্চয়ই আমরাই জীবন দান করি ও মৃত্যু দান করি এবং আমরাই উত্তরাধিকারী} [আল-হিজর: ২৩]। এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত পূর্বে উল্লিখিত আল্লাহর নামসমূহ সম্বলিত হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: «আল-বাকী, আল-ওয়ারিস, আর-রাশীদ, আস-সাবুর»।
ইবনে উসাইমীন বলেন: (আল-ওয়ারিস: এই শব্দে মহান আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে আসেনি, তবে এটি সম্মানসূচক বহুবচন শব্দে মহান আল্লাহর এই বাণীতে এসেছে: {আর আমরাই ছিলাম উত্তরাধিকারী} [আল-কাসাস: ৫৮]) (২)।
এবং পবিত্রতা তাঁরই যিনি (খাল্লাক) অর্থাৎ: কোনো পূর্ব উদাহরণ ছাড়াই কোনো কিছুর অস্তিত্বদানকারী। আর এটি মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত; তাঁর এই বাণীর কারণে: {নিশ্চয়ই আপনার রবই হলেন মহাস্রষ্টা, মহাজ্ঞানী}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
(ثُمَّ) بعد الثناء على الله، (الصَّلاةُ للنَّبِيِّ) صلى الله عليه وسلم، وهي ثناؤه عليه في الملأ الأعلى، قال أبو العالية: «صلاة الله: ثناؤه عليه عند الملائكة» [البخاري معلقاً 6/ 120].
(و) الصلاة على (الآلِ) وهم أتباعه على دينه؛ لأن الله تعالى أطلق الآل على الأتباع في الدَّين، فقال: (أدخلوا آل فرعون أشد العذاب).
وعنه واختاره شيخ الإسلام: أنهم أهل بيته.
وأدخل شيخ الإسلام فيهم: زوجاته رضي الله عنهن.
(وَ) الصلاة على (صَحْبِهِ) جمع صاحب، وهو من اجتمع بالنَّبيِّ صلى الله عليه وسلم مؤمناً به، ومات على الإسلام.
والصلاة (مَعَ السَّلَامِ) أي: السلامة من النقائص والرذائل (التَّالِي) أي: التابع، والجمع بين الصَّلاة والسَّلام؛ لقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمَاً}، وخروجًا من خلاف من كَرِهَ إفراد أحدهما عن الآخر.
(অতঃপর) আল্লাহর প্রশংসার পর, (নবীর প্রতি সালাত) তথা দরুদ, যা হলো ঊর্ধ্বজগতে (ফেরেশতাদের নিকট) তাঁর প্রশংসা করা। আবুল আলিয়া বলেন: «আল্লাহর সালাত হলো ফেরেশতাদের নিকট তাঁর প্রশংসা করা» [বুখারি মুআল্লাক সূত্রে ৬/১২০]।
(এবং) তাঁর (পরিবার-পরিজন তথা আল)-এর প্রতি সালাত, আর তাঁরা হলেন দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসারীগণ; কারণ আল্লাহ তাআলা দ্বীনের অনুসারীদের ক্ষেত্রে 'আল' শব্দটির প্রয়োগ করেছেন, তিনি বলেছেন: (ফিরআউনের অনুসারীদের কঠোরতম আজাবে প্রবেশ করাও)।
তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং শাইখুল ইসলাম এটিই পছন্দ করেছেন যে: তাঁরা হলেন তাঁর আহলে বাইত বা পরিবারবর্গ।
আর শাইখুল ইসলাম তাঁদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন: তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণকে (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।
(এবং) তাঁর (সাহাবিদের) প্রতি সালাত; এটি 'সাহিব' শব্দের বহুবচন। আর সাহাবি হলেন এমন ব্যক্তি যিনি মুমিন অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন।
সালাত (সালামের সাথে) অর্থাৎ: সকল ত্রুটি ও মন্দ থেকে নিরাপত্তা (যা পরবর্তীতে আসে)। আর সালাত ও সালামকে একত্রে আনা হয়েছে আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ! তোমরা তাঁর প্রতি সালাত পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো}, এবং তাঁদের মতভেদ থেকে নিরসনকল্পে যারা সালাত ও সালামের একটিকে অপরটি থেকে এককভাবে উল্লেখ করাকে অপছন্দ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَبَعْدَ ذَا فَهَذِهِ قَوَاعِدُ
… فِي الإِرْثِ فِيهَا لِلوَرَى فَوَائِدُ
قَدِ اخْتَصَرْتُهَا لِأَهْلِ الطَّلَبِ
… مِنْ دُرِّ مَا نَظَمَهُ ابْنُ الرَّحَبِيْ
… لِكَيْ يَنَالَ المُرْتَجِيْ مِنْها الأَمَلْ
… مِنْ غَيْرِ تَطْوِيلٍ بِهِ يُبْطِي العَمَلْ
سَمَّيتُها بالدُّرَّةِ المُضِيَّهْ
… جَامِعَةِ القَوَاعِدِ الفَرْضِيَّهْ
وَأَسْأَلُ اللهَ الغَنِيْ بِفَضْلِهِ
… يَجْعَلُها خَالِصَةً لِوَجْهِه
(وَبَعْدَ ذَا) الذي تقدَّم من البسملة والحمدلة، والصَّلاةِ والسَّلامِ على سيِّد الأنام، (فَهَذِهِ) المسائل الَّتي تُذكر في هذا الكتاب (قَوَاعِدُ) جمع قاعدة، وهي: حكمٌ كلِّيٌّ ينطبق على جزئيَّاته؛ لتعرف أحكامها منه، (فِي الإِرْثِ) أي: متعلقة بالميراث، (فِيهَا) أي: في تلك المسائل (لِلوَرَى) أي: للخلق (فَوَائِدُ) جمع فائدة، وهي: ما استفدْتَه من علم أو مال.
(قَدِ اخْتَصَرْتُهَا) والاختصار: هو تجريد اللَّفظ اليسير من اللَّفظ الكثير، مع بقاء المعنى، (لِأَهْلِ الطَّلَبِ) أي: طلب العلم، (مِنْ دُرِّ) جمع
এরপর, এগুলো উত্তরাধিকার আইনের কিছু মূলনীতি
… যাতে সৃষ্টির জন্য রয়েছে বহু উপকার।
আমি জ্ঞানান্বেষীদের জন্য এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি
… ইবনুর রাহাবী যা পদ্যাকারে রচনা করেছেন তার মুক্তাসমূহ থেকে
… যাতে প্রত্যাশী ব্যক্তি এর মাধ্যমে তার কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করতে পারে
… কোনো দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই যা আমলকে মন্থর করে দেয়।
আমি এর নামকরণ করেছি 'আদ-দুররাতুল মুদিইয়্যাহ' (উজ্জ্বল মুক্তা)
… যা ফরায়েজের মূলনীতিসমূহকে একত্রিতকারী।
আর আমি অভাবমুক্ত আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহে প্রার্থনা করি
… তিনি যেন একে কেবল তাঁর (আল্লাহর) চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন।
(এরপর) যা বিসমিল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ পাঠ এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করার মাধ্যমে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। (এগুলো) ঐসব মাসয়ালা যা এই কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে। (মূলনীতিসমূহ) এটি 'কায়েদাহ' শব্দের বহুবচন। আর তা হলো: এমন এক সামগ্রিক বিধান যা তার অন্তর্ভুক্ত খুঁটিনাটি বিষয়সমূহের ওপর প্রযোজ্য হয়; যেন এর মাধ্যমে সেগুলোর বিধান জানা যায়। (উত্তরাধিকার বিষয়ে) অর্থাৎ: মীরাস সংক্রান্ত। (সেগুলোর মধ্যে) অর্থাৎ: ঐ মাসয়ালাগুলোর মধ্যে। (সৃষ্টির জন্য) অর্থাৎ: মাখলুকের জন্য। (উপকারসমূহ) এটি 'ফায়িদাহ' শব্দের বহুবচন। আর তা হলো: জ্ঞান বা সম্পদ থেকে তুমি যা অর্জন করেছ।
(আমি এগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি) আর সংক্ষিপ্তকরণ হলো: অর্থ ঠিক রেখে অনেক শব্দ থেকে সামান্য কিছু শব্দ চয়ন করা। (জ্ঞানান্বেষীদের জন্য) অর্থাৎ: ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য। (মুক্তাসমূহ থেকে) এটি 'দুররাহ' শব্দের বহুবচন...
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
درَّة، وهي اللُّؤلؤة العظيمة، (مَا نَظَمَهُ) أي: ألَّفه، (ابْنُ الرَّحَبِيْ) وهو الشَّيخ محمَّد بن علي بن محمَّد بن الحسن، أبو عبد الله الرَّحَبيُّ، فقيه فاضل، صنَّف كتباً صغيرة؛ منها منظومة الفرائض، سمَّاها: «بغية الباحث»، وهي أصل هذه المنظومة المباركة، مات رحمه الله سنة تسع وسبعين وخمسِ مِائة من الهجرة.
اختصرها المؤلف (لِكَيْ يَنَالَ) أي: يُعطى (المُرْتَجِيْ) أي: المؤمِّل (مِنْها) من هذه المنظومة (الأَمَلْ) أي: الرَّجاء، (مِنْ غَيْرِ) أن يكون فيها (تَطْوِيلٌ) وإسهاب (بِهِ) أي: بهذا التطويل (يُبْطِي) أي: يتأخر (العَمَلْ) أي: عمل المسائل، (سَمَّيتُها) أي: هذه المنظومة (بالدُّرَّةِ المُضِيَّهْ جَامِعَةِ القَوَاعِدِ الفَرْضِيَّهْ)، فجاءت هذه الدرَّة براَّقة في ألفاظها، غنية في معانيها، جامعة لأبواب الفرائض، حاوية لأمات المسائل.
ولما كانت هذه الدرَّة بحاجة إلى ما يُجلي قيمتها، ويكشف الخدر عن ضيائها وبريقها؛ استعنا الله الكريم بوضع نقاطٍ على حروفها، وإبراز فوائدها وعلومها، شرحًا حنبليًّا موافقًا لما عليه علماء المذهب الكرام، مشيرين إلى قول آخر إن كان لأحد من المحققين العظام، مع العناية بالتمثيل، والحرص قدر الإمكان على التذليل والتسهيل، وإلحاق المسائل بما تحتاج إليه من التدليل والتعليل، فغدى الشرح للناظر فيه سلوةً وللمستفيد منه منوةً، وسميناه: (الفتوحات الربانية لشرح الدرة المضية).
'দুররাহ' অর্থ হলো মহান মুক্তা। (যা তিনি রচনা করেছেন) অর্থাৎ সংকলন করেছেন, (ইবনুর রাহাবি)। তিনি হলেন শায়খ মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাসান, আবু আব্দুল্লাহ আর-রাহাবি। তিনি একজন বিদগ্ধ ফকিহ ছিলেন; তিনি ছোট ছোট বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত একটি কাব্যগ্রন্থ (মানজুমা) রয়েছে, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘বুগইয়াতুল বাহিস’। এটিই এই বরকতময় কাব্যগ্রন্থের মূল উৎস। তিনি হিজরি পাঁচশত উনআশি সালে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁকে রহম করুন।
লেখক এটি সংক্ষেপ করেছেন (যাতে লাভ করতে পারে) অর্থাৎ তাকে প্রদান করা হয়, (প্রত্যাশাকারী) অর্থাৎ যে আশা করে, (তা থেকে) এই কাব্যগ্রন্থ থেকে, (আকাঙ্ক্ষা) অর্থাৎ প্রত্যাশা। (এমন দীর্ঘতা ছাড়া) যাতে দীর্ঘসূত্রতা ও বাহুল্য না থাকে, (যার ফলে) এই দীর্ঘতার কারণে, (বিলম্বিত হয়) অর্থাৎ পিছিয়ে যায়, (আমল) অর্থাৎ মাসআলাসমূহের সমাধান। (আমি এর নাম দিয়েছি) অর্থাৎ এই কাব্যগ্রন্থের নাম রেখেছি (আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ জামিয়াতুল কাওয়ায়িদিল ফারদিয়্যাহ)। ফলে এই ‘দুররাহ’ বা মুক্তাটি তার শব্দশৈলীতে উজ্জ্বল, অর্থপূর্ণতায় সমৃদ্ধ, ফারায়েজের অধ্যায়সমূহের সংকলক এবং মৌলিক মাসআলাসমূহের আধার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
যেহেতু এই ‘দুররাহ’ বা মুক্তাটির মূল্যকে প্রস্ফুটিত করার এবং এর আলো ও উজ্জ্বলতার উপর থেকে পর্দা সরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল; তাই আমরা মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি এর অস্পষ্টতা দূর করতে এবং এর উপকারিতা ও জ্ঞানসমূহ ফুটিয়ে তুলতে। এটি একটি হাম্বলি ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা এই মাজহাবের সম্মানিত আলেমদের মতামতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। মহান গবেষকদের মধ্য থেকে কারো ভিন্ন মত থাকলে তাও নির্দেশ করা হয়েছে। সাথে উদাহরণের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং যথাসম্ভব বিষয়গুলোকে সহজ ও প্রাঞ্জল করার চেষ্টা করা হয়েছে। মাসআলাগুলোকে প্রয়োজনীয় দলিল ও কারণের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ফলে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পাঠকের জন্য প্রশান্তি এবং এর দ্বারা উপকৃত হতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য আকাঙ্ক্ষিত বস্তুতে পরিণত হয়েছে। আমরা এর নাম দিয়েছি: (আল-ফুতুহাতুর রব্বানিয়্যাহ লি-শারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
(وَأَسْأَلُ اللهَ) جل جلاله ولا مسؤول سواه، (الغَنِيَّ) والغني: هو الذي له الغنى التام المطلق، من جميع الوجوه والاعتبارات لكماله وكمال صفاته، فلا يتطرق إليها نقص بوجه من الوجوه، أتوسل إليه (بِفَضْلِهِ) وهذا من التوسل المشروع، إذ هو من التوسل إلى الله بأفعاله سبحانه، أن (يَجْعَلَها) أي: هذه المنظومة (خَالِصَةً لِوَجْهِهِ) أي: خالصة من الرِّياء والسُّمعة لأجل وجهه تعالى.
(এবং আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি) যাঁর মহিমা অতি মহান এবং তিনি ব্যতীত অন্য কোনো প্রার্থিত সত্তা নেই, (যিনি অমুখাপেক্ষী) আর অমুখাপেক্ষী হলেন তিনি, যাঁর জন্য তাঁর পরিপূর্ণতা ও তাঁর গুণাবলির পূর্ণতার কারণে সকল দিক ও বিবেচনা থেকে পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ অমুখাপেক্ষিতা সাব্যস্ত; ফলে কোনোভাবেই তাতে কোনো ত্রুটি স্পর্শ করতে পারে না। আমি তাঁর নিকট অসীলা প্রার্থনা করছি (তাঁর অনুগ্রহের মাধ্যমে) আর এটি শরীয়তসম্মত অসীলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেহেতু এটি মহান আল্লাহর কার্যাবলির মাধ্যমে তাঁর নিকট অসীলা গ্রহণ করার নামান্তর; যেন (তিনি এটিকে করেন) অর্থাৎ: এই কাব্যগ্রন্থটিকে (তাঁর চেহারার জন্য একনিষ্ঠ) অর্থাৎ: আল্লাহ তাআলার চেহারার সন্তুষ্টির নিমিত্তে লৌকিকতা ও সুখ্যাতি অর্জনের মোহ থেকে মুক্ত ও একনিষ্ঠ।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
فصل في الحقوق المتعلقة بالتركةالتركة: هي ما يخلفه الميت من مال أو حق أو مختص.
ويتعلق بتركة الميت خمسة حقوق، وهي مرتبة إن ضاقت التركة على الترتيب التالي:
الحق الأول: مؤنة تجهيز الميت، وهي ما يحتاج إليه الميت من كفن، وحنوط، وأجرة تغسيل وحفر، وغير ذلك؛ لأنها من حوائج الميت، فهي بمنزلة الطعام والشراب واللباس للمفلس.
فيبدأ بها أولًا وجوبًا، وهي مقدمة على جميع الحقوق الأخرى؛ لحديث ابن عباس رضي الله عنهما في قصة المُحْرِم الذي وقصته ناقته، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «وَكَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْهِ» [البخاري: 1851، ومسلم: 1206]، ولم يستفصل هل عليه دين أم لا، ولأن مصعب بن عمير رضي الله عنه لمَّا مات لم يوجد له إلا ثوب واحد، فكُفِّن فيه [البخاري: 1275]، ولأن لباس المفلس يقدم على وفاء دينه، فكذا كفن الميت.
- فرع: تجهيز الميت يكون بما يليق به عُرفًا، بحسب يسار الميت وإعساره، ولا عبرة بما كان عليه في حياته من إسرافه وتقتيره.
মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদতারাকাহ (ত্যাজ্য সম্পত্তি): মৃত ব্যক্তি সম্পদ, অধিকার বা নির্দিষ্ট মালিকানাধীন যা কিছু রেখে যান তাই হলো তারাকাহ বা ত্যাজ্য সম্পত্তি।
মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির সাথে পাঁচটি অধিকার সংশ্লিষ্ট। যদি ত্যাজ্য সম্পত্তি পর্যাপ্ত না হয়, তবে নিম্নোক্ত ক্রম অনুসারে সেগুলো সম্পন্ন করা হবে:
প্রথম অধিকার: মৃত ব্যক্তিকে প্রস্তুত করার খরচ। এটি হলো মৃত ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাফন, সুগন্ধি, গোসল ও কবর খননের মজুরি এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়; কারণ এগুলো মৃত ব্যক্তির মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত, যা দেউলিয়া ব্যক্তির খাদ্য, পানীয় ও পোশাকের সমতুল্য।
তাই আবশ্যিকভাবে এটি দিয়েই কাজ শুরু করতে হবে এবং এটি অন্য সকল অধিকারের ওপর অগ্রগণ্য। এর প্রমাণ হলো—ইহরাম অবস্থায় যে ব্যক্তির উট তাকে ফেলে দিয়ে ঘাড় মটকে দিয়েছিল, তার ঘটনার ব্যাপারে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদীস। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন: "তোমরা তাকে তার দুই কাপড়ে কাফন দাও" [বুখারী: ১৮৫১, মুসলিম: ১২০৬]। তিনি এটি বিস্তারিত জানতে চাননি যে তার ওপর কোনো ঋণ আছে কি না। এছাড়া মুসআব বিন উমায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার জন্য একটি কাপড় ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি, ফলে তাকে তা দিয়েই কাফন দেওয়া হয়েছিল [বুখারী: ১২৭৫]। আর যেহেতু দেউলিয়া ব্যক্তির নিজের পোশাক তার ঋণ পরিশোধের ওপর অগ্রাধিকার পায়, তাই মৃত ব্যক্তির কাফনও তদ্রূপ অগ্রাধিকারযোগ্য।
- শাখা মাসআলা: মৃত ব্যক্তিকে প্রস্তুত করার কাজ প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তার উপযুক্ত পন্থায় হতে হবে, যা মৃতের সচ্ছলতা ও অসচ্ছলতার অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। তিনি জীবিত থাকাকালীন কতটা অপব্যয়ী বা কৃপণ ছিলেন তা এখানে বিবেচ্য হবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
-
مسألة: لا يلزم الزوج مؤنة تجهيز زوجته، بل يكون ذلك من مالها، ولو كان الزوج موسرًا؛ لأن النفقة والكسوة في النكاح وجبت للتمكين من الاستمتاع، ولهذا تسقط بالنشوز والبينونة، وقد انقطع ذلك بالموت، فأشبهت الأجنبية.
وقيل، وحُكي رواية عن أحمد، واختاره ابن عثيمين: إن كان الزوج موسرًا فإن مؤنة تجهيز الزوجة على الزوج، وإن كانت الزوجة موسرة؛ لقوله تعالى: (وعاشروهن بالمعروف)، وتجهيزها من العشرة بالمعروف، ولأن عليه نفقتها في حال حياتها، فأشبهت القريب، ولأن علاقة الزوجية باقية، بدليل أنه يغسلها ويرثها.
الحق الثاني: الحقوق المتعلقة بعين التركة، فيبدأ بها بعد مؤنة الميت وقبل الديون المرسلة؛ لأنها تُقدَّم عليها حال الحياة، فكذلك حال الوفاة.
مثال ذلك:
1 - العبد الجاني، بأن قتل نفسًا، أو قطع طرفًا خطأً أو شبه عمد، أو عمدًا لا قصاص فيه، أو فيه قصاص لكن عفا مستحقه، أو أتلف مال إنسان بغير تسليط؛ فإن حق المجني علىه يكون مقدَّمًا على مؤن التجهيز وعلى الديون المرسلة وغيرها مما سيأتي؛ لتعلق أرش الجناية برقبة العبد الجاني.
ويقدم على حق المرتهن بغير خلاف، قاله في المبدع، لأنها مقدمة على حق المالك، والملك أقوى من الرهن، فأولى أن تقدم على الرهن.
মাসআলা: স্ত্রীর কাফন-দাফনের খরচ বহন করা স্বামীর জন্য আবশ্যক নয়, বরং তা স্ত্রীর নিজস্ব সম্পদ থেকেই নির্বাহ করা হবে, এমনকি স্বামী সচ্ছল হলেও। কারণ, বিবাহের ক্ষেত্রে খোরপোশ ও পোশাকের বাধ্যবাধকতা ছিল সম্ভোগের সুযোগ পাওয়ার কারণে; আর এ কারণেই স্ত্রীর অবাধ্যতা ও চূড়ান্ত বিচ্ছেদের ফলে তা বাতিল হয়ে যায়। মৃত্যুর মাধ্যমে সেই সুযোগ বা সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, ফলে সে একজন অনাত্মীয় বা ভিন্ন নারীর ন্যায় হয়ে গেছে।
বলা হয়েছে—এবং ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে এবং ইবনে উসাইমীন এটিই পছন্দ করেছেন—যে, স্বামী যদি সচ্ছল হয়, তবে স্ত্রীর কাফন-দাফনের খরচ স্বামীর উপরেই বর্তাবে, যদিও স্ত্রী সচ্ছল হয়। এর কারণ মহান আল্লাহর বাণী: (এবং তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করো), আর স্ত্রীর কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করা সদ্ভাবে বসবাসের অন্তর্ভুক্ত। তদুপরি, স্ত্রীর জীবদ্দশায় তার ভরণপোষণ স্বামীর জিম্মায় ছিল, তাই সে একজন নিকটাত্মীয়ের মতো। এছাড়া, বৈবাহিক সম্পর্ক তখনও অবশিষ্ট থাকে, যার প্রমাণ হলো স্বামী তাকে গোসল দিতে পারে এবং তার উত্তরাধিকার লাভ করে।
দ্বিতীয় হক: ত্যাজ্য সম্পত্তির মূল অংশের সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ। মৃতের কাফন-দাফনের পরে এবং সাধারণ ঋণের পূর্বেই এগুলোর নিষ্পত্তি শুরু করা হবে; কারণ জীবনকালে এই অধিকারগুলো সাধারণ ঋণের ওপর অগ্রগণ্য ছিল, মৃত্যুর পরেও তেমনি থাকবে।
এর উদাহরণ:
১ - অপরাধী দাস; যেমন সে কাউকে হত্যা করল, অথবা ভুলবশত কিংবা উপ-ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো অঙ্গহানি করল, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে করল যাতে কিসাস বা জানের বদলা নেই, অথবা কিসাস থাকলেও হকদার তা ক্ষমা করে দিয়েছে, কিংবা সে কারও অনুমতি ছাড়াই কারো সম্পদ নষ্ট করল। এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির অধিকার কাফন-দাফনের খরচ, সাধারণ ঋণ এবং পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে এমন অন্যান্য বিষয়গুলোর ওপর অগ্রাধিকার পাবে; কারণ অপরাধের দণ্ড বা জরিমানা অপরাধী দাসের সত্তার সাথে সম্পৃক্ত।
এবং এটি কোনো মতবিরোধ ছাড়াই বন্ধকগ্রহীতার হকের চেয়েও অগ্রগণ্য হবে—যেমনটি ‘আল-মুবদি’ গ্রন্থে বলা হয়েছে—কেননা এটি মালিকের হকের ওপরও অগ্রাধিকার পায়; আর মালিকানা বন্ধকের চেয়েও শক্তিশালী, তাই এটি বন্ধকের ওপর অগ্রাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি যুক্তিযুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
2 - الرهن الذي وُثِّق بالدَّين، بأن رهن عينًا؛ كبيت أو سيارة أو نحو ذلك بدينٍ عليه أو على غيره؛ فإن هذا الدَّين قد تَعلَّق بهذه العين المرهونة، فيكون مُقدَّمًا على غيره؛ لتعلق حق المرتهن بالعين المرهونة.
أما إن كان الدَّين غير موثق برهن، فهو الدَّين المرسل، وسيأتي في الحق الثالث.
3 - الزكاة المستقرة في الذمة، كما لو ملك نصابًا من المال، وحال عليها الحول، واستقرت في ذمته ثم مات، ولم يبق من ماله إلا قدر الواجب من الزكاة؛ فإن أهل الزكاة يُقدَّمون على أصحاب الديون المرسلة؛ لأن حق الزكاة هنا يكون كالمرهون بالتركة.
الحق الثالث: الديون المرسلة، وهي الدَّيون المتعلقة بذمة الميت لا بعين تركته، سواء أذن الميت في ذلك أم لا، وسواء كان الدَّين لله تعالى؛ كالزكاة والكفارة، أم لآدمي؛ كالقرض وثمن المبيع والأجرة، فتُقَّدم الديون على الوصايا والإرث إجماعًا؛ لما روي عن علي رضي الله عنه: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِالدَّيْنِ قَبْلَ الوَصِيَّةِ» [علقه البخاري بصيغة التمريض 4/ 5، ووصله أحمد: 1091، والترمذي: 2094، وابن ماجه: 2715]، ولأنها حقوق واجبة عليه، فتُقدَّم على الوصية؛ لأنها تبرع.
২ - সেই বন্ধক যা ঋণের মাধ্যমে সুনিশ্চিত করা হয়েছে, যেমন কোনো বস্তু বন্ধক রাখা; যেমন ঘর বা গাড়ি বা এই জাতীয় কিছু তার নিজের বা অন্যের ঋণের বিপরীতে; ফলে এই ঋণটি উক্ত বন্ধককৃত বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়, তাই এটি অন্য ঋণের ওপর অগ্রাধিকার পাবে; কারণ বন্ধকগ্রহীতার অধিকার উক্ত বন্ধককৃত বস্তুর সাথে যুক্ত হয়েছে।
আর যদি ঋণটি বন্ধক দ্বারা সুনিশ্চিত না হয়, তবে সেটি হলো অলগ্ন ঋণ (আদ-দাইনুল মুরসাল), যা তৃতীয় হকের আলোচনায় আসবে।
৩ - জিম্মায় সাব্যস্ত হওয়া যাকাত; যেমন কেউ যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় এবং তার ওপর এক বছর অতিবাহিত হয়, আর তা তার জিম্মায় অবধারিত হয়ে যায়, অতঃপর সে মারা যায় এবং তার অবশিষ্ট সম্পদ কেবল ওয়াজিব যাকাতের সমপরিমাণই থাকে; তবে যাকাতের হকদারগণ অলগ্ন ঋণদাতাদের ওপর অগ্রাধিকার পাবেন; কারণ এখানে যাকাতের অধিকারটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাথে বন্ধকের ন্যায় সংশ্লিষ্ট থাকে।
তৃতীয় হক: অলগ্ন ঋণ, যা মৃত ব্যক্তির জিম্মার সাথে সংশ্লিষ্ট, তার নির্দিষ্ট কোনো সম্পত্তির সাথে নয়; চাই মৃত ব্যক্তি সে ব্যাপারে অসিয়ত করে থাকুক বা না থাকুক, আর সেই ঋণ আল্লাহর হকের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক যেমন যাকাত ও কাফফারা, অথবা মানুষের হকের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক যেমন কর্জ (ঋণ), ক্রয়কৃত পণ্যের মূল্য এবং পারিশ্রমিক। এই ঋণগুলো সর্বসম্মতিক্রমে অসিয়ত এবং মিরাসের (উত্তরাধিকার) ওপর অগ্রাধিকার পাবে; যেহেতু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: «নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসিয়ত কার্যকর করার পূর্বেই ঋণ পরিশোধ করার ফয়সালা দিয়েছেন» [বুখারী এটি অনিশ্চয়তাবাচক শব্দে মুয়াল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন ৪/ ৫, এবং আহমাদ: ১০৯১, তিরমিযী: ২০৯৪ ও ইবনে মাজাহ: ২৭১৫ এটিকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেছেন]। আর যেহেতু এগুলো মৃত ব্যক্তির ওপর আবশ্যকীয় হক, তাই এগুলো অসিয়তের ওপর অগ্রাধিকার পাবে; কারণ অসিয়ত হলো ঐচ্ছিক দান।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
- فرع: يُسوَّى بين الدِّيون بالحصص إن لم تف التركة بالجميع، سواء كان الدَّين لله تعالى أم للآدمي، وسواء كان سابقًا أم لاحقًا، واختاره ابن عثيمين؛ لأنها متساوية في وجوب القضاء، فتتساوى في الترتيب.
وطريقة القسمة: بأن تنسب الموجود من مال الميت إلى مجموع الدِّيون، ثم يُدفع لكل حقِّ بمقدار هذه النسبة من المال الموجود.
مثاله: هلك شخص وعليه زكاة بألفين دينار، ودين بثلاثة آلاف دينار، ودين آخر بخمسة آلاف، فمجموع الدِّيون = عشرة آلاف، وتركته: خمسة آلاف دينار، فنسبة الخمسة إلى العشرة = (النصف)، فيُدفع لكل واحد نصف حقِّه.
الحق الرابع: الوصية: فيُبدأ بعد ذلك بتنفيذها؛ لقوله تعالى: {من بعد وصية يوصي بها أو دين} [النساء: 11]، فتُقدَّم على الإرث إجماعًا.
-
مسألة: يشترط لصحة الوصية شرطان:الشرط الأول: أن تكون الوصية من الثلث فأقل.
فتلزم الوصية في الثُلُث فما دون من غير إجازة، وأما ما زاد على الثُلُث فيقف على إجازة الورثة، فإن أجازوه جاز؛ لأن المنع لحقهم، فإذا رضوا بإسقاطه سقط، وإن ردوه بطل في قول جميع العلماء؛ لحديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه لما مرض بمكة، وفيه: قلت:
অনুচ্ছেদ: যদি মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদ সমস্ত ঋণ পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত না হয়, তবে পাওনা অনুপাতে ঋণসমূহ সমানভাবে বণ্টন করা হবে। ঋণটি মহান আল্লাহর হক হোক বা মানুষের হক এবং তা পূর্ববর্তী হোক বা পরবর্তী—উভয় ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। ইবনে উসাইমীন এই মতটি গ্রহণ করেছেন; কারণ আদায় করা আবশ্যক হওয়ার ক্ষেত্রে এগুলো সমান, তাই অগ্রাধিকারের ক্রমধারা নির্ধারণেও এগুলো সমান হবে।
বণ্টনের পদ্ধতি: মৃত ব্যক্তির বিদ্যমান সম্পদকে মোট ঋণের পরিমাণের সাথে অনুপাত করতে হবে, অতঃপর বিদ্যমান সম্পদ থেকে এই অনুপাত অনুযায়ী প্রতিটি পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ: এক ব্যক্তি মারা গেলেন যার ওপর দুই হাজার দিনার যাকাত, তিন হাজার দিনার ঋণ এবং পাঁচ হাজার দিনারের অন্য একটি ঋণ পাওনা ছিল। সুতরাং মোট ঋণের পরিমাণ = দশ হাজার দিনার। আর তার পরিত্যক্ত সম্পদ হলো পাঁচ হাজার দিনার। অতএব দশ হাজারের বিপরীতে পাঁচ হাজারের অনুপাত হলো (অর্ধেক)। ফলে প্রত্যেকের পাওনার অর্ধেক পরিমাণ পরিশোধ করা হবে।
চতুর্থ হক: অসিয়ত (ইচ্ছাপত্র): এরপর অসিয়ত কার্যকর করার মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {সে যে অসিয়ত করে তা পালন করার পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর} [আন-নিসা: ১১]। ফলে সর্বসম্মতিক্রমে এটি উত্তরাধিকার বণ্টনের পূর্বে রাখা হয়।
-
মাসআলা: অসিয়ত সহীহ হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে:প্রথম শর্ত: অসিয়ত মোট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ বা তার কম হতে হবে।
এক-তৃতীয়াংশ বা তার কম পরিমাণ অসিয়ত উত্তরাধিকারীদের অনুমতি ছাড়াই কার্যকর করা আবশ্যক। তবে এক-তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত অংশের অসিয়ত উত্তরাধিকারীদের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল। যদি তারা অনুমতি দেয় তবে তা বৈধ হবে; কারণ এই নিষেধাজ্ঞা তাদের হকের কারণেই ছিল। সুতরাং তারা যদি স্বীয় হক ছেড়ে দিতে রাজি হয় তবে তা কার্যকর হবে। আর যদি তারা তা প্রত্যাখ্যান করে, তবে সকল আলেমের মতে তা বাতিল হয়ে যাবে। এর কারণ হলো সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, যখন তিনি মক্কায় অসুস্থ হয়েছিলেন, তাতে বর্ণিত হয়েছে: আমি বললাম:
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
يا رسول الله، أوصي بمالي كله؟ قال: «لَا»، قلت: فالشطر، قال: «لَا»، قلت: الثُلُث، قال: «فَالثُّلُثُ، وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ، إِنَّكَ أَنْ تَدَعَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَدَعَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ فِي أَيْدِيهِمْ» [البخاري: 2742، ومسلم: 1628].
- فرع: إن أوصى بأكثر من الثُلُث وكان وارثه أحد الزوجين فقط، وردَّ الوصية ولم يُجِزها: أُعطي الموصى له الثُلُث؛ لأنه لا يتوقف على إجازة، ويأخذ أحد الزوجين فرضه من الثلثين، والباقي من الثلثين يكون للموصى له؛ لأن الزوجين لا يُرد عليهما الميراث، فلا يأخذان من المال أكثر من فرضيهما.
الشرط الثاني: أن تكون الوصية لأجنبي، وهو من ليس بوارث عند الموت، فإن كانت الوصية لوارثٍ؛ لم تصح إجماعًا إلا بإجازة الورثة كما تقدم، قليلًا كان المال أو كثيرًا؛ لحديث أبي أمامة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الله قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ، فَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ» [أحمد: 22294، وأبو داود: 2870، والترمذي: 2120، وابن ماجه: 2713]، قال شيخ الإسلام: (هذا مما تلقته الأمة بالقبول والعمل بموجبه).
- فرع: تعتبر الإجازة بعد موت الموصي؛ لأن حق الورثة لا يثبت إلا بموته.
وعنه، واختاره شيخ الإسلام: تصح الإجازة في حياة الموصي إذا وقعت في حال مرضه؛ فليس له الرجوع؛ لأنه تعلق حقهم بماله
হে আল্লাহর রাসুল, আমি কি আমার সমস্ত সম্পদ অসিয়ত করে দেব? তিনি বললেন: «না», আমি বললাম: তবে অর্ধেক? তিনি বললেন: «না», আমি বললাম: এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন: «এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক। নিশ্চয়ই তুমি তোমার উত্তরাধিকারীদের অভাবমুক্ত অবস্থায় রেখে যাওয়া তাদের মানুষের কাছে হাত পেতে বেড়ানোর মতো অভাবী অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম» [বুখারি: ২৭৪২, এবং মুসলিম: ১৬২৮]।
- উপশাখা: যদি কেউ এক-তৃতীয়াংশের বেশি অসিয়ত করে এবং তার উত্তরাধিকারী কেবল স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কোনো একজন হয়, আর সে অসিয়তটি প্রত্যাখ্যান করে এবং অনুমতি না দেয়: তবে যার অনুকূলে অসিয়ত করা হয়েছে তাকে এক-তৃতীয়াংশ দেওয়া হবে; কারণ এটি অনুমতির ওপর নির্ভরশীল নয়। আর স্বামী বা স্ত্রীর একজন অবশিষ্ট দুই-তৃতীয়াংশ থেকে তার নির্ধারিত অংশ গ্রহণ করবে এবং দুই-তৃতীয়াংশের বাকি অংশটি যার অনুকূলে অসিয়ত করা হয়েছে তার জন্য হবে; কারণ স্বামী বা স্ত্রীর অনুকূলে অতিরিক্ত মিরাস (রদ) হয় না, তাই তারা তাদের নির্ধারিত অংশের চেয়ে বেশি সম্পদ গ্রহণ করবে না।
দ্বিতীয় শর্ত: অসিয়তটি কোনো অনাত্মীয়ের (আজনাভি) জন্য হতে হবে, আর আজনাভি হলো সেই ব্যক্তি যে মৃত্যুর সময় উত্তরাধিকারী নয়। সুতরাং যদি উত্তরাধিকারীর জন্য অসিয়ত করা হয়, তবে তা সর্বসম্মতিক্রমে সহিহ হবে না যতক্ষণ না উত্তরাধিকারীরা অনুমতি দেয় যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, সম্পদের পরিমাণ কম হোক বা বেশি। কারণ আবু উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য অধিকার দিয়ে দিয়েছেন, সুতরাং উত্তরাধিকারীর অনুকূলে কোনো অসিয়ত নেই» [আহমদ: ২২২৯৪, আবু দাউদ: ২৮৭০, তিরমিজি: ২১২০, ইবনে মাজাহ: ২৭১৩]। শায়খুল ইসলাম বলেন: (এটি এমন একটি বিষয় যা উম্মত কবুল করে নিয়েছে এবং এর ওপর আমল করেছে)।
- উপশাখা: অসিয়তকারীর মৃত্যুর পর অনুমতি ধর্তব্য হবে; কারণ উত্তরাধিকারীদের অধিকার কেবল তার মৃত্যুর মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়।
তার (ইমাম আহমদের) থেকে অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে এবং শায়খুল ইসলাম এটিই পছন্দ করেছেন যে: অসিয়তকারীর জীবদ্দশায় অনুমতি সহিহ হবে যদি তা তার অসুস্থ অবস্থায় প্রদান করা হয়; সেক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের আর তা থেকে ফিরে আসার অধিকার নেই; কারণ তখন তার সম্পদের সাথে তাদের অধিকার সম্পৃক্ত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
وانعقد لهم سبب الإرث؛ فيصح ولو قبل وجود الشرط.
- فرع: تحرم المضارة في الوصية عند شيخ الإسلام، لقوله تعالى: {من بعد وصية يوصى بها أو دين غَيْرَ مُضَارٍّ}، وقال ابن عباس رضي الله عنهما: «الإِضْرَارُ فِي الوَصِيَّةِ مِنَ الكَبَائِرِ» [النسائي في الكبرى: 11026].
قال شيخ الإسلام: (فمتى أوصى بزيادة على الثلث فهو مضارٌّ، قصد أو لم يقصد، فَتُرَدُّ هذه الوصية، وإن وصى بدونه ولم يُعلم أنه قصد الضرار فيمضيها، فإن عَلِم الموصى له إنما أوصى له ضرارًا؛ لم يحل له الأخذ).
الحق الخامس: الإرث، فما بقي من المال بعد الحقوق الأربعة المتقدمة فإنه يكون ميراثًا، وهو المقصود في هذا النظم.
উত্তরাধিকারের কারণ তাদের জন্য সাব্যস্ত হয়েছে; ফলে শর্ত বিদ্যমান হওয়ার পূর্বেই তা শুদ্ধ হবে।
- একটি উপশাখা: শাইখুল ইসলামের নিকট অসিয়তের ক্ষেত্রে ক্ষতিসাধন করা হারাম, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {এমন অসিয়ত যা করা হয়েছে অথবা ঋণের পর, কারো ক্ষতি না করে}। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: «অসিয়তের ক্ষেত্রে ক্ষতিসাধন করা কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত» [নাসায়ি আল-কুবরা: ১১০২৬]।
শাইখুল ইসলাম বলেছেন: (যখনই কেউ এক-তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত অসিয়ত করবে, সে ক্ষতিসাধনকারী হিসেবে গণ্য হবে, চাই সে উদ্দেশ্য করুক বা না করুক; এমতাবস্থায় এই অসিয়তটি প্রত্যাখ্যান করা হবে। আর যদি সে এর চেয়ে কম অসিয়ত করে এবং এটি জানা না যায় যে সে ক্ষতির উদ্দেশ্য করেছে, তবে তা কার্যকর করা হবে। কিন্তু যাকে অসিয়ত করা হয়েছে সে যদি জানে যে তাকে কেবল ক্ষতির উদ্দেশ্যেই অসিয়ত করা হয়েছে, তবে তার জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ হবে না)।
পঞ্চম হক: উত্তরাধিকার; পূর্বোক্ত চারটি হক আদায়ের পর সম্পদের যা অবশিষ্ট থাকবে তা উত্তরাধিকার হিসেবে গণ্য হবে, এবং এই পঙক্তিমালায় এটিই উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
بَابُ أَسْبَابِ الإِرْثِأسبابُ ميراثٍ نكاحٌ ونَسَب ثمَّ ولاءٌ ما سواهُنَّ سبب
الأسباب جمع سبب، وهو لغة: ما يتوصل به إلى غيره.
واصطلاحاً: ما يلزم من وجوده الوجود، ومن عدمه العدم لذاته.
-
مسألة: (أَسْبَابُ مِيرَاثٍ) مجمعٍ عليها ثلاثة:السبب الأول: (نِكَاحٌ) وهو: عقد الزوجية الصحيح، سواء دخل بالزوجة أو لا، فيرث به الزوج من زوجته، والزوجة من زوجها بمجرد العقد، وإن لم يحصل وطء ولا خلوة؛ لعموم قوله تعالى: {وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُم} [النساء: 12]، وقوله تعالى: {وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ} [النساء: 12]، ولما ورد عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أنه قال في رجل تزوج امرأةً فمات عنها، ولم يَدخل بها ولم يَفرض لها الصداق: «لَهَا الصَّدَاقُ كَامِلًا، وَعَلَيْهَا العِدَّةُ، وَلَهَا المِيرَاثُ»، فقال معقل بن سنان رضي الله عنه: «سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِهِ فِي بَرْوَع بِنْتِ وَاشِقٍ رضي الله عنها» [أحمد: 4276، وأبو داود: 2114، والترمذي: 1145، والنسائي: 3355، وابن ماجه: 1891].
উত্তরাধিকারের কারণসমূহের অধ্যায়উত্তরাধিকারের কারণসমূহ হলো বিবাহ, বংশসূত্র এবং এরপর ওয়ালা (অভিভাবকত্ব); এগুলি ছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই।
আসবাব হলো ‘সবব’ শব্দের বহুবচন। এর আভিধানিক অর্থ: যার মাধ্যমে অন্য কিছুতে পৌঁছানো যায়।
পারিভাষিক অর্থ: যার অস্তিত্ব থাকলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক হয় এবং যার অনুপস্থিতিতে তার সত্তাগত কারণেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অনুপস্থিতি আবশ্যক হয়।
-
মাসআলা: সর্বসম্মত (উত্তরাধিকারের কারণসমূহ) তিনটি:প্রথম কারণ: (নিকাহ বা বিবাহ) আর তা হলো: সঠিক বৈবাহিক চুক্তি, চাই স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হোক বা না হোক। এর মাধ্যমে স্বামী তার স্ত্রীর থেকে এবং স্ত্রী তার স্বামীর থেকে কেবল চুক্তির ফলেই উত্তরাধিকার লাভ করবে, যদিও সহবাস বা নির্জন বাস (খলওয়াহ) না ঘটে থাকে; কারণ মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা: {তোমাদের স্ত্রীরা যা রেখে গেছে তার অর্ধেক তোমাদের জন্য} [আন-নিসা: ১২], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা যা রেখে যাও তার এক-চতুর্থাংশ তাদের জন্য} [আন-নিসা: ১২]। আরও একারণে যে, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে এক মহিলাকে বিবাহ করেছে এবং তার সাথে সহবাস করার ও মোহরানা নির্ধারণ করার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছে: “তার জন্য পূর্ণ মোহরানা রয়েছে, তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে এবং সে উত্তরাধিকার লাভ করবে।” তখন মা‘কিল বিন সিনান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: “আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বারওয়া বিনতে ওয়াশিক (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ক্ষেত্রে অনুরূপ ফয়সালা দিতে শুনেছি।” [আহমদ: ৪২৭৬, আবু দাউদ: ২১১৪, তিরমিযী: ১১৪৫, নাসাঈ: ৩৩৫৫, ইবনে মাজাহ: ১৮৯১]।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
فلا ميراث في النكاح الفاسد؛ كالنكاح بلا ولي، ولا الباطل؛ كنكاح خامسة؛ لأن وجوده كعدمه.
-
مسألة: ينقطع التوارث بين الزوجين بأحد أمرين:الأمر الأول: البينونة بينهما، إما بفسخ أو بطلاق بائن، ولا يخلو ذلك من قسمين:
1 - أن تكون البينونة في حال الصحة: فينقطع التوارث بين الزوجين بمجرد الفرقة، سواء في العدة أم بعدها؛ لأن العلاقة الزوجية تنقطع به، واختاره ابن باز وابن عثيمين.
2 - أن تكون البينونة في حال مرض الموت المخوف، ولا يخلو من حالتين:
الأولى: أن تقع الفرقة بغير قصد حرمانها من الميراث: فينقطع التوارث فيهما بين الزوجين بمجرد الفرقة، سواء في العدة أم بعدها؛ لما تقدم، ولأنه غير مُتَّهم.
الثانية: أن تقع الفرقة من أحدهما في حالٍ يُتَّهم فيها بقصد حرمان الآخر من الإرث؛ فإن المتهم يُورَث ولا يَرِث؛ معاقبة له بنقيض قصده السيِّئ.
مثال التهمة من قِبَل الزوج: أن يطلق الرجل زوجته في مرض موته المخوف متهمًا بقصد حرمانها.
সুতরাং ফাসিদ বিয়েতে কোনো উত্তরাধিকার নেই; যেমন অভিভাবক ছাড়া বিয়ে, এবং বাতিল বিয়েতেও নেই; যেমন পঞ্চম স্ত্রীকে বিয়ে করা; কারণ এই বিয়ের অস্তিত্ব না থাকারই শামিল।
-
মাসয়ালা: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক উত্তরাধিকার দুটি বিষয়ের কোনো একটির মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়:প্রথম বিষয়: তাদের উভয়ের মধ্যে চিরস্থায়ী বিচ্ছেদ (বাইনুনাহ), চাই তা ফাসখ (বিবাহ রদ) এর মাধ্যমে হোক কিংবা তালাক বায়েন (বিচ্ছেদকারী তালাক)-এর মাধ্যমে, আর এটি দুই প্রকারের বাইরে নয়:
১ - বিচ্ছেদ সুস্থ অবস্থায় হওয়া: এক্ষেত্রে বিচ্ছেদ ঘটার সাথে সাথেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক উত্তরাধিকার রহিত হয়ে যায়, চাই তা ইদ্দতের মধ্যে হোক বা পরে; কারণ এর ফলে বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইবনে বায এবং ইবনে উসাইমীন এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।
২ - বিচ্ছেদ মৃত্যু-ভীতিপূর্ণ অসুস্থতার অবস্থায় হওয়া, আর এটি দুই অবস্থার বাইরে নয়:
প্রথম অবস্থা: তাকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্য ছাড়া বিচ্ছেদ ঘটা: এক্ষেত্রে বিচ্ছেদ ঘটার সাথে সাথেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক উত্তরাধিকার রহিত হয়ে যায়, চাই তা ইদ্দতের মধ্যে হোক বা পরে; ইতোপূর্বে উল্লেখিত কারণে এবং যেহেতু সে অভিযুক্ত নয়।
দ্বিতীয় অবস্থা: তাদের একজনের পক্ষ থেকে এমন অবস্থায় বিচ্ছেদ ঘটা যাতে অপরকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার হীন উদ্দেশ্যে সে অভিযুক্ত হয়; সেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির থেকে উত্তরাধিকার পাওয়া যাবে কিন্তু সে নিজে উত্তরাধিকার পাবে না; তার অসৎ উদ্দেশ্যের বিপরীতে তাকে শাস্তি প্রদানের নিমিত্তে।
স্বামীর পক্ষ থেকে অভিযোগের উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তার মৃত্যু-ভীতিপূর্ণ অসুস্থতার সময় স্ত্রীকে তাকে বঞ্চিত করার হীন উদ্দেশ্যে তালাক প্রদান করা।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
فأما الرجل: فلا يرثها لو ماتت؛ لأن البينونة منه.
وأما المرأة: فإنها ترثه في العدة وبعدها؛ معاملة له بنقيض قصده؛ لأن الحيل لا تبطل الحقوق، ما لم تتزوج أو ترتد؛ لأنها إذا تزوجت فلا يمكن أن ترث زوجين، وإذا ارتدت - والعياذ بالله - فقد أتت بمانع من موانع الإرث، واختاره ابن باز.
ومثال التهمة من قِبل الزوجة: أن تفعل في مرض موتها المخوف ما يفسخ نكاحها من زوجها متهَمةً بقصد حرمانه، مثل: أن يُعقَد عليها لطفل صغير فترضعه رضاعاً تثبت به الأمومة، فإن النكاح ينفسخ، ويرث الطفل منها لو ماتت؛ لأنه أحد الزوجين، فلم يُسقِط فعلها ميراث الآخر؛ كالزوج، فيرثها ما دامت في عدتها لا بعد انقضاء العدة (1)، وأما هي فلا ترث.
الأمر الثاني: الطلاق الرجعي، ولا يخلو من حالين:
1 - أن يموت أحدهما بعد انتهاء العدة: فينقطع التوارث بينهما؛ لانقطاع العلاقة الزوجية بذلك.
2 - أن يموت أحدهما قبل انتهاء العدة: فيتوارثان؛ لما ورد عن
--------------------------------------------
পুরুষের ক্ষেত্রে কথা হলো: সে (স্ত্রী) যদি মারা যায়, তবে পুরুষটি তার উত্তরাধিকার পাবে না; কারণ বিচ্ছেদ তার পক্ষ থেকেই হয়েছে।
আর নারীর ক্ষেত্রে কথা হলো: সে ইদ্দতকালীন সময়ে এবং তার পরেও তার (স্বামীর) উত্তরাধিকারী হবে; এটি তার (স্বামীর) সাথে তার অসৎ উদ্দেশ্যের বিপরীত আচরণের ফলস্বরূপ; কারণ ছলচাতুরী অধিকারকে বাতিল করে দেয় না, যতক্ষণ না সে পুনরায় বিয়ে করে বা মুরতাদ হয়ে যায়; কারণ সে যদি বিয়ে করে, তবে একই সাথে দুইজন স্বামীর উত্তরাধিকারী হওয়া সম্ভব নয়। আর যদি সে মুরতাদ হয়ে যায়—আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—তবে সে উত্তরাধিকারের পথে একটি প্রতিবন্ধক নিয়ে এল। ইবন বাজ এই মতটিই পছন্দ করেছেন।
স্ত্রীর পক্ষ থেকে অসৎ উদ্দেশ্যের একটি উদাহরণ হলো: তার মৃত্যুভীতি উদ্রেককারী রোগের সময় এমন কোনো কাজ করা যা তার স্বামীর সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটায়, আর তা করা হয় তাকে বঞ্চিত করার অভিযুক্ত উদ্দেশ্যে। যেমন: কোনো ছোট শিশুর সাথে তার বিবাহ চুক্তি হলো, অতঃপর সে তাকে এমনভাবে দুগ্ধপান করাল যার ফলে মাতৃত্ব সাব্যস্ত হয়। এতে বিবাহটি বাতিল হয়ে যায়। সে (স্ত্রী) যদি মারা যায় তবে শিশুটি তার উত্তরাধিকারী হবে; কারণ সে দম্পতির একজন, তাই তার (স্ত্রীর) কাজ অন্যজনের উত্তরাধিকারকে রহিত করবে না; যেমন স্বামীর ক্ষেত্রে হয়। সুতরাং সে (স্বামী) তার উত্তরাধিকারী হবে যতক্ষণ সে ইদ্দত পালন করবে, ইদ্দত শেষ হওয়ার পর নয় (১), আর সে (স্ত্রী) উত্তরাধিকার পাবে না।
দ্বিতীয় বিষয়টি: রাজঈ তালাক (প্রত্যাবর্তনযোগ্য তালাক), এটি দুটি অবস্থার বাইরে নয়:
১ - ইদ্দত শেষ হওয়ার পর যদি তাদের কেউ মারা যায়: তবে তাদের মধ্যে উত্তরাধিকারের ধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে; কারণ এর মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হয়ে গিয়েছে।
২ - ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে যদি তাদের কেউ মারা যায়: তবে তারা একে অপরের উত্তরাধিকারী হবে; কারণ যা বর্ণিত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
مكحول: أن أبا بكر، وعمر، وعليًّا، وابن مسعود، وأبا الدرداء، وعبادة بن الصامت، وعبد الله بن قيس الأشعري رضي الله عنهم، كانوا يقولون في الرجل يطلق امرأته تطليقة أو تطليقتين: «إِنَّهُ أَحَقُّ بِهَا مَا لَمْ تَغْتَسِلْ مِنْ حَيْضَتِهَا الثَّالِثَةِ، يَرِثُهَا وَتَرِثُهُ مَا دَامَتْ فِي الْعِدَّةِ» [ابن أبي شيبة: 18899]، ولأن الرجعية في حكم الزوجة، قال في المغني: (بغير خلاف نعلمه).
(وَ) السبب الثاني: (نَسَبٌ) أي: قرابة، وهي: الاتصال بين إنسانين بالاشتراك في ولادة، قريبة أو بعيدة، فيرث بها؛ لقوله تعالى: {وأولو الأرحام بعضهم أولى ببعض في كتاب الله} [الأنفال: 75].
- فرع: جهات النسب ثلاثة:
1 - جهة الأصول: وهم من ينتمي إليهم الشخص من الآباء والأمهات، والأجداد والجدات.
2 - جهة الفروع: وهم من ينتمي إلى الشخص من الأولاد وأولادهم.
3 - جهة الحواشي: وهم من ينتمي إلى أَبَوَيِ الشخص وأجداده، من الإخوة وأولادهم، والأعمام وأولادهم.
(ثُمَّ) السبب الثالث: (وَلاءٌ) وهي: عصوبةٌ سببها نعمة المعتِق على رقيقه بالعتق، فيرث بالولاء المعتِق وعصبته المتعصبون بأنفسهم، لا بغيرهم ولا مع غيرهم، من العتيق، ولا عكس؛ لحديث ابن عمر رضي الله عنهما
মাকহুল হতে বর্ণিত: আবু বকর, উমর, আলী, ইবনে মাসউদ, আবু দারদা, উবাদাহ ইবনুন সামিত এবং আবদুল্লাহ ইবনে কায়স আল-আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এমন ব্যক্তি সম্পর্কে বলতেন যে তার স্ত্রীকে এক বা দুই তালাক প্রদান করে: "সে (স্বামী) তার ব্যাপারে অধিক হকদার যতক্ষণ না সে তার তৃতীয় ঋতুস্রাব থেকে গোসল করে; সে তার উত্তরাধিকারী হবে এবং স্ত্রীও তার উত্তরাধিকারী হবে যতক্ষণ সে ইদ্দতকালীন সময়ের মধ্যে থাকে।" [ইবনে আবি শাইবাহ: ১৮৮৯৯]। আর যেহেতু রাজয়ী (প্রত্যাবর্তনযোগ্য তালাকপ্রাপ্তা) স্ত্রী মূল বিধান অনুযায়ী স্ত্রীর মতোই গণ্য হয়। 'আল-মুগনী' গ্রন্থে বলা হয়েছে: (আমাদের জানামতে এতে কোনো মতভেদ নেই)।
(এবং) দ্বিতীয় কারণ: (নাসাব) অর্থাৎ: আত্মীয়তা। আর তা হলো: জন্মসূত্রে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দুই ব্যক্তির মধ্যকার সংযোগ, চাই তা নিকটবর্তী হোক বা দূরবর্তী। এর মাধ্যমে উত্তরাধিকার সাব্যস্ত হয়; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর আল্লাহর কিতাবে রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়গণ একে অপরের অধিক নিকটবর্তী} [আল-আনফাল: ৭৫]।
- শাখা: বংশীয় আত্মীয়তার দিক তিনটি:
১ - মূলের দিক (উসুল): তারা হলেন যাদের থেকে কোনো ব্যক্তি বংশীয়ভাবে এসেছে, যেমন পিতা-মাতা এবং দাদা-দাদী ও নানা-নানী।
২ - শাখার দিক (ফুরু): তারা হলেন যারা কোনো ব্যক্তির পরবর্তী বংশধর, যেমন সন্তানাদি ও তাদের সন্তানগণ।
৩ - পার্শ্বস্থ আত্মীয়দের দিক (হাওয়াশি): তারা হলেন যারা কোনো ব্যক্তির পিতা-মাতা ও তার দাদাদের সাথে সম্পৃক্ত, যেমন ভাই ও তাদের সন্তান এবং চাচা ও তাদের সন্তানগণ।
(অতঃপর) তৃতীয় কারণ: (ওয়ালা)। আর তা হলো: এমন এক 'আসাবা' বা উত্তরাধিকারের অধিকার যার কারণ হলো মনিব কর্তৃক তার ক্রীতদাসকে মুক্ত করে দেওয়ার মাধ্যমে কৃত অনুগ্রহ। ফলে ওয়ালার কারণে মুক্তিদাতা এবং তার সেই সকল আসাবা যারা নিজস্বভাবে আসাবা (আসাবায়ে নাফসিহি) হয়, তারা মুক্ত দাসের উত্তরাধিকারী হবে; তারা ব্যতীত অন্য কেউ নয় এবং অন্য কারো সাথে অংশীদারিত্বেও নয়। তবে এর বিপরীতটি হবে না (অর্থাৎ মুক্ত দাস মুক্তিদাতার ওয়ারিশ হবে না); ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদীসের কারণে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
مرفوعاً: «الْوَلَاءُ لُحْمَةٌ كَلُحْمَةِ النَّسَبِ» [ابن حبان 4950، والحاكم 7990]، فشبه الولاء بالنسب، والنسب يورث به، فكذا الولاء.
ولا يرث العتيق من معتِقه؛ لحديث عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا الوَلاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» [البخاري: 2156، ومسلم: 1504].
واختار شيخ الإسلام: أن العتيق يرث من سيده؛ لقول ابن عباس رضي الله عنهما: «مَاتَ رَجُلٌ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَتْرُكْ وَارِثًا إِلَّا عَبْدًا لَهُ هُوَ أَعْتَقَهُ، فَأَعْطَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِيرَاثَهُ» [أحمد 1930، والترمذي 2106، وأبو داود 2905، وابن ماجه 2741، وضعفه البخاري، وقال ابن القيم بعده: وبهذه الفتوى نأخذ]، ولأن له ولاء، فهو أولى من بيت المال.
- فرع: (مَا سِوَاهُنَّ) أي: هذه الأسباب الثلاثة (سَبَبٌ) يحصل به التوارث؛ لعدم الدليل على الإرث بغيرها.
وعنه، اختاره شيخ الإسلام، ومال إليه ابن عثيمين: يثبت الإرث عند عدم النكاح والنسب والولاء بأسباب أخرى، وهي:
1 - الموالاة والمعاقدة: وهو الاتفاق على الولاء والنصرة والتوارث، كما كانوا يفعلونه في الجاهلية من الخلة والمعاقدة، يقول لصاحبه: دمي دمك وترثني وأرثك، واستمر ذلك أول الإسلام، فكانوا يتوارثون بتلك المؤاخاة، وفي ذلك نزل قوله تعالى: {وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ فَآتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ} [النساء: 33]، والموالاة كالمعاقدة.
মারফু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: «অ্যালা বা মুক্তিজনিত সম্পর্ক বংশীয় সম্পর্কের ন্যায় একটি সুদৃঢ় বন্ধন» [ইবনে হিব্বান ৪৯৫০, এবং আল-হাকিম ৭৯৯০], এখানে অ্যালা-কে বংশীয় সম্পর্কের সাথে তুলনা করা হয়েছে; আর বংশের কারণে যেহেতু উত্তরাধিকার পাওয়া যায়, তেমনি অ্যালা-র কারণেও পাওয়া যাবে।
আর মুক্ত হওয়া দাস তার মুক্তিদাতার পক্ষ থেকে উত্তরাধিকার পায় না; আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই অ্যালা বা মুক্তিজনিত উত্তরাধিকারের অধিকার তারই যে মুক্ত করেছে» [আল-বুখারি: ২১৫৬, এবং মুসলিম: ১৫০৪]।
শাইখুল ইসলাম পছন্দ করেছেন (মতামত দিয়েছেন) যে: মুক্ত হওয়া দাস তার মনিবের পক্ষ থেকে উত্তরাধিকার পাবে; কারণ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেছেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে এক ব্যক্তি মারা গেলেন এবং তিনি তার মুক্ত করা এক দাস ছাড়া কোনো উত্তরাধিকারী রেখে যাননি, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকেই তার উত্তরাধিকার দিয়ে দেন» [আহমাদ ১৯৩০, তিরমিজি ২১০৬, আবু দাউদ ২৯০৫, এবং ইবনে মাজাহ ২৭৪১; ইমাম বুখারি একে দুর্বল বলেছেন, এবং ইবনে আল-কাইয়্যিম এরপর বলেছেন: আর এই ফতোয়াই আমরা গ্রহণ করি], আর যেহেতু তার সাথে অ্যালা-র সম্পর্ক রয়েছে, তাই সে বাইতুল মালের চেয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য।
- অনুচ্ছেদ: (এগুলো ব্যতীত অন্য কিছু) অর্থাৎ: এই তিনটি কারণ ছাড়া অন্য কোনো (কারণ নেই) যার মাধ্যমে উত্তরাধিকার অর্জিত হয়; কারণ এ তিনটি ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে মিরাস পাওয়ার কোনো দলিল নেই।
তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য রেওয়ায়েত অনুযায়ী—যা শাইখুল ইসলাম নির্বাচন করেছেন এবং ইবনে উসাইমিন যার প্রতি ঝুঁকেছেন—বিবাহ, বংশ ও অ্যালা-র অনুপস্থিতিতে অন্য কারণের মাধ্যমেও উত্তরাধিকার সাব্যস্ত হয়, আর সেগুলো হলো:
১ - মিত্রতা ও অঙ্গীকার: এটি হলো বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং উত্তরাধিকারের বিষয়ে পরস্পর চুক্তিবদ্ধ হওয়া, যেমনটি তারা জাহেলি যুগে বন্ধুত্ব ও অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে করত। এক ব্যক্তি তার সঙ্গীকে বলত: আমার রক্ত তোমার রক্ত, তুমি আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং আমি তোমার উত্তরাধিকারী হব। ইসলামের প্রারম্ভিকালেও এটি অব্যাহত ছিল, ফলে তারা এই ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে উত্তরাধিকার লাভ করত। আর এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তাআলার বাণী অবতীর্ণ হয়েছে: {আর যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছ, তাদের প্রাপ্য অংশ দিয়ে দাও} [আন-নিসা: ৩৩]। আর মিত্রতা অঙ্গীকারের মতোই।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
2 - الإسلام على يديه؛ لحديث تميم الداري رضي الله عنه قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الرجل يسلم على يدي الرجل؟ فقال: «هُوَ أَوْلَى النَّاسِ بِمَحْيَاهُ وَمَمَاتِهِ» [أحمد 16944، وأبوداود 2918، والترمذي 2112، وابن ماجه 2752]، وعن مجاهد: أن رجلًا أتى عمر رضي الله عنه فقال: إن رجلًا أسلم على يدي، فمات وترك ألف درهم، فتحرجت منها، ورفعتها إليك، فقال: «أَرَأَيْتَ لَوْ جَنَى جِنَايَةً عَلَى مَنْ كَانَتْ تَكُونُ؟ » قال: علَيَّ، قال: «فَمِيرَاثُهُ لَكَ» [ابن أبي شيبة 31577].
3 - الالتقاط؛ لحديث واثلة بن الأسقع رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «المَرْأَةُ تُحْرِزُ ثَلَاثَةَ مَوَارِيثَ: عَتِيقَهَا، وَلَقِيطَهَا، وَوَلَدَهَا الَّذِي لَاعَنَتْ عَنْهُ» [أحمد 16004، وأبوداود 2906، والترمذي 2115، وابن ماجه 2742]، ولقول عمر رضي الله عنه لمن التقط لقيطاً: «هُوَ حُرٌّ، وَوَلَاؤُهُ لَكَ، وَعَلَيْنَا رَضَاعُهُ» [ابن أبي شيبة 31569]، ولأن إنعام الملتقط على اللقيط بتربيته والقيام عليه؛ ليس بدون إنعام المعتق على العبد بعتقه.
4 - كونهما من أهل الديوان، وهو اسم الدفتر الذي يكتب فيه أسماء الجيش، وأهل العطاء، والمراد: كونهما مكتوبين في ديوان واحدٍ، قال أبو الخطاب في توريثهم من بعض: (يروى عن عمر رضي الله عنه (1).
5 - وزاد شيخ الإسلام: العتيق من سيده وتقدم.
--------------------------------------------
২ - কারও হাতে ইসলাম গ্রহণ; তামীম আদ-দারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে অন্য এক ব্যক্তির হাতে ইসলাম গ্রহণ করে? তিনি বললেন: «সে তার জীবন ও মরণে মানুষের মাঝে তার সবচেয়ে নিকটবর্তী» [আহমাদ ১৬৯৪৪, আবু দাউদ ২৯১৮, তিরমিযী ২১১২, ইবনে মাজাহ ২৭৫২], এবং মুজাহিদ থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এসে বললেন: এক ব্যক্তি আমার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছে, অতঃপর সে মারা গেছে এবং এক হাজার দিরহাম রেখে গেছে। আমি তা গ্রহণ করতে দ্বিধাবোধ করেছি এবং তা আপনার নিকট নিয়ে এসেছি। তিনি বললেন: «তোমার কী মনে হয়, যদি সে কোনো অপরাধ করত তবে তার দায় কার ওপর বর্তাত?» সে বলল: আমার ওপর। তিনি বললেন: «তাহলে তার মিরাস তোমার জন্য» [ইবনে আবি শায়বাহ ৩১৫৭৭]।
৩ - কুড়িয়ে পাওয়া শিশু (ইলতিকাত); ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নারী তিনটি মিরাস লাভ করে: তার মুক্ত করা দাস, তার কুড়িয়ে পাওয়া শিশু এবং তার সেই সন্তান যার ব্যাপারে সে লি'আন (শপথের মাধ্যমে অস্বীকার) করেছে» [আহমাদ ১৬০০৪, আবু দাউদ ২৯০৬, তিরমিযী ২১১৫, ইবনে মাজাহ ২৭৪২], এবং উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সেই উক্তির কারণে যা তিনি সেই ব্যক্তিকে বলেছিলেন যে একটি কুড়িয়ে পাওয়া শিশুকে পেয়েছিল: «সে স্বাধীন, তার ওয়ালা (উত্তরাধিকারের সম্পর্ক) তোমার জন্য, আর তার দুধপানের দায়িত্ব আমাদের ওপর» [ইবনে আবি শায়বাহ ৩১৫৬৯], এবং যেহেতু কুড়িয়ে পাওয়া শিশুকে লালন-পালন ও দেখাশোনার মাধ্যমে উদ্ধারকারীর অনুগ্রহ, কোনো দাসের মুক্তির মাধ্যমে মুক্তিদাতার অনুগ্রহের চেয়ে কম নয়।
৪ - উভয়েই দেওয়ানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, আর দেওয়ান হলো সেই খাতার নাম যাতে সৈন্যবাহিনী ও ভাতা প্রাপ্তদের নাম লিপিবদ্ধ থাকে। এর অর্থ হলো: তাদের উভয়ের নাম একই দেওয়ানে লিপিবদ্ধ থাকা। তাদের একে অপরের উত্তরাধিকার হওয়া প্রসঙ্গে আবুল খাত্তাব বলেন: (তা উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে) (১)।
৫ - এবং শাইখুল ইসলাম আরও যোগ করেছেন: মুনিব থেকে মুক্তদাসের মিরাস পাওয়ার বিষয়টি, যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
مَوَانِعُ الإِرْثِ
مَوَانعُ الإِرْثِ اخْتِلَافُ الدِّينِ وَالرِّقُّ وَالقَتْلُ فَخُذْ تَبْيِيني
المانع في اللغة: الحائل بين الشيئين.
وفي الاصطلاح: ما يلزم من وجوده العدم، ولا يلزم من عدمه وجود ولا عدم لذاته، عكس الشرط.
-
مسألة: (موانعُ الإِرْث) ثلاثة:المانع الأول: (اخْتِلَافُ الدِّينِ)، بأن يكون أحدهما على ملة والثاني على ملة أخرى، فلا يرث المسلم الكافر، ولا الكافر المسلم؛ لحديث أسامة بن زيد رضي الله عنهما مرفوعًا: «لَا يَرِثُ المُسْلِمُ الْكَافِرَ، وَلَا يَرِثُ الْكَافِرُ المُسْلِمَ» [البخاري 4283، ومسلم 1614].
وأهل الذمة يرث بعضهم بعضًا مع اتفاق أديانهم؛ كيهودي ويهودي، ولا يرث بعضهم من بعض مع اختلاف أديانهم؛ كاليهود مع النصارى؛ لحديث عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لَا يَتَوَارَثُ أَهْلُ مِلَّتَيْنِ شَتَّى» [أحمد 6664، وأبو داود 2911، وابن ماجه 2731]، وعن محمد بن الأشعث: أن عمَّةً له توفيت
উত্তরাধিকারের প্রতিবন্ধকসমূহ
উত্তরাধিকারের প্রতিবন্ধকগুলো হলো ধর্মের ভিন্নতা, দাসত্ব এবং হত্যা; সুতরাং আমার ব্যাখ্যাটি গ্রহণ করো।
শাব্দিক অর্থে 'মানি' (প্রতিবন্ধক) হলো: দুটি জিনিসের মধ্যকার অন্তরায় বা বাধা।
পারিভাষিক অর্থে: যার উপস্থিতি বিধানের অনুপস্থিতিকে আবশ্যক করে, কিন্তু তার অনুপস্থিতি সত্তাগতভাবে বিধানের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি কোনোটিকেই আবশ্যক করে না; এটি 'শর্ত'-এর বিপরীত।
-
মাসআলা: (উত্তরাধিকারের প্রতিবন্ধক) তিনটি:প্রথম প্রতিবন্ধক: (ধর্মের ভিন্নতা), অর্থাৎ একজন এক ধর্মাদর্শের অনুসারী হওয়া এবং অন্যজন ভিন্ন ধর্মাদর্শের অনুসারী হওয়া। ফলে মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না এবং কাফিরও মুসলিমের উত্তরাধিকারী হবে না; উসামা ইবনে যায়েদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদিসের কারণে: «মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হয় না এবং কাফির মুসলিমের উত্তরাধিকারী হয় না» [বুখারি ৪২৮৩, মুসলিম ১৬১৪]।
জিম্মিরা একে অপরের উত্তরাধিকারী হতে পারবে যদি তাদের ধর্ম অভিন্ন হয়; যেমন ইহুদি ও ইহুদি। তবে ধর্ম ভিন্ন হলে তারা একে অপরের উত্তরাধিকারী হবে না; যেমন ইহুদির সাথে খ্রিস্টান; আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «দুই ভিন্ন ধর্মাদর্শের অনুসারীরা একে অপরের উত্তরাধিকারী হতে পারে না» [আহমাদ ৬৬৬৪, আবু দাউদ ২৯১১, ইবনে মাজাহ ২৭৩১]। মুহাম্মদ ইবনে আশ'আছ থেকে বর্ণিত: তাঁর এক ফুফু মারা গেলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
باليمن وهي يهودية، فذكر ذلك لعمر بن الخطاب رضي الله عنه، فقال: «لَيْسَ ذَاكَ لَكَ، يَرِثُهَا أَقْرَبُ النَّاسِ مِنْهَا مِنْ أَهْلِ دِينِهَا، لَا يَتَوَارَثُ مِلَّتَانِ» [سنن الدارمي 3039].
- فرع: يستثنى من اختلاف الدين أمران:
1 - الولاء، فيرث المسلم عتيقه الكافر؛ لحديث جابر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لَا يَرِثُ المُسْلِمُ النَّصْرَانِيَّ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ عَبْدَهُ أَوْ أَمَتَهُ» [الدارقطني 6356]، ولأن ولاءه له بالإجماع، وهو شعبة من الرق، فورثه به كما يرثه قبل العتق.
ويرث الكافر عتيقه المسلم بالولاء؛ قياسًا على ما تقدم.
2 - إذا أسلم كافر قبل قسم ميراث مورثه المسلم، فيرث منه؛ لحديث عروة وابن أبي مليكة عن النبي صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَسْلَمَ عَلَى شَيْءٍ فَهُوَ لَهُ» [سعيد بن منصور 189، 190]، ولما روي: (أن عمر رضي الله عنه قضى أنه من أسلم على ميراث قبل أن يقسم فإنه يصيبه، وقضى به عثمان رضي الله عنه [ابن عبد البر بإسناده في التمهيد 2/ 57]، والحكمة فيه الترغيب في الإسلام والحث عليه.
فإن قُسِم البعض دون البعض؛ وَرِثَ مما بقي دون ما قُسِم.
ولا يرث من أسلم قبل قسم الميراث إن كان زوجًا؛ لانقطاع علق الزوجية عنه بموتها بخلافها، وكذا لا ترث هي منه إن أسلمت بعد عدتها.
ইয়ামেনে, এবং তিনি (নারীটি) ছিলেন ইহুদি। এই বিষয়টি উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিকট উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন: «এটি তোমার জন্য নয়; তার উত্তরাধিকারী হবে তার ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে থেকে তার নিকটতম ব্যক্তিরা। দুই ভিন্ন ধর্মাবলম্বী একে অপরের উত্তরাধিকারী হয় না» [সুনানে দারেমি ৩০৩৯]।
- শাখা: ধর্মের পার্থক্যের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হয়:
১ - আল-ওয়ালা (মুক্ত করার সম্পর্ক): একজন মুসলিম তার কাফির মুক্ত দাসের উত্তরাধিকারী হবে। জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «একজন মুসলিম একজন খ্রিস্টানের উত্তরাধিকারী হবে না, যদি না সে তার দাস বা দাসী হয়» [দারাকুতনি ৬৩৫৬]। আর এই কারণে যে, ইজমা (ঐক্যমত্য) অনুযায়ী তার 'ওয়ালা' তার জন্যই সাব্যস্ত। এটি দাসত্বের একটি শাখা, তাই সে এর মাধ্যমে উত্তরাধিকারী হবে যেমনটি সে দাসত্বমুক্ত হওয়ার আগেও উত্তরাধিকারী হতো।
অনুরূপভাবে, কাফির ব্যক্তি তার মুসলিম মুক্ত দাসের উত্তরাধিকারী হবে 'ওয়ালা'-এর ভিত্তিতে; পূর্বোক্ত বিষয়ের ওপর কিয়াস করে।
২ - যদি কোনো কাফির তার মুসলিম মৃত আত্মীয়ের উত্তরাধিকার বণ্টনের আগে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে সে উত্তরাধিকার লাভ করবে। উরওয়াহ এবং ইবনে আবি মুলাইকাহ কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে: «যে ব্যক্তি কোনো কিছুর ওপর ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তা তারই হবে» [সাঈদ ইবনে মানসুর ১৮৯, ১৯০]। আরও বর্ণিত আছে যে: (উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু ফয়সালা দিয়েছিলেন যে, যে ব্যক্তি উত্তরাধিকার বণ্টনের আগে ইসলাম গ্রহণ করবে সে তা লাভ করবে। উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুও অনুরূপ ফয়সালা দিয়েছিলেন [ইবনে আব্দুল বার আত-তামহিদ ২/৫৭ গ্রন্থে তার সনদে এটি বর্ণনা করেছেন])। এর অন্তর্নিহিত হিকমত বা রহস্য হলো ইসলামের প্রতি মানুষকে আগ্রহী করে তোলা এবং উৎসাহিত করা।
যদি কিছু অংশ বণ্টন করা হয় এবং কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকে, তবে সে অবশিষ্ট অংশ থেকে উত্তরাধিকার পাবে, যা বণ্টন করা হয়েছে তা থেকে নয়।
উত্তরাধিকার বণ্টনের আগে ইসলাম গ্রহণ করলেও সে উত্তরাধিকার পাবে না যদি সে স্বামী হয়; কারণ স্ত্রীর মৃত্যুর সাথে সাথে তার বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে (স্ত্রীর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন)। অনুরূপভাবে স্ত্রীও স্বামীর উত্তরাধিকার পাবে না যদি সে ইদ্দত পার হওয়ার পর ইসলাম গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
واختار شيخ الإسلام: أنه يستثنى من مانع اختلاف الدِّين أيضاً ثلاثة أمور:
1 - المسلم، فإنه يرث من قريبه الكافر الذمي، لا العكس؛ لحديث عائذ بن عمرو رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الإِسْلامُ يَعْلُو وَلا يُعْلَى» [الدارقطني 3620]، و «كَانَ مُعَاوِيَةُ، يُوَرِّثُ الْمُسْلِمَ مِنَ الْكَافِرِ، وَلَا يُوَرِّثُ الْكَافِرَ مِنَ الْمُسْلِمِ» [سعيد بن منصور 146]، ولئلا يمتنع قريبه من الإسلام.
2 - المرتد إن قُتِل في ردته أو مات عليها؛ فماله لوارثه المسلم، وهو رواية عن الإمام أحمد؛ لوروده عن علي وابن مسعود رضي الله عنهما [سنن الدارمي 3116، 3117]، قال شيخ الإسلام: (وهو المعروف عن الصحابة)، ولأن توريث قرابته المسلمين أولى من توريث عموم المسلمين.
والمذهب: أن ماله فيء؛ لأنه كافر فلا يرثه المسلم، ولا يمكن جعله لأهل دينه؛ لأنه لا يرثهم فلا يرثونه.
3 - الزنديق: وهو الذي يظهر الإسلام ويبطن الكفر، وهو المنافق: فإنه يرث ويورث؛ لأنه عليه السلام لم يأخذ من تركة منافق شيئًا، ولا جعله فيئًا، فعُلم أن التوارث مداره على النصرة الظاهرة، واسم الإسلام يجري عليه في الظاهر إجماعًا.
والمذهب: أن المنافق كالمرتد على ما تقدم؛ لأنه في الحقيقة كافر.
শাইখুল ইসলাম এটিই পছন্দ করেছেন যে, ধর্মের ভিন্নতাজনিত বাধার ক্ষেত্রে আরও তিনটি বিষয় ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে:
১ - মুসলিম ব্যক্তি: তিনি তার কাফির যিম্মি আত্মীয়ের উত্তরাধিকার লাভ করবেন, কিন্তু এর বিপরীতটি হবে না। এর দলীল হলো আয়িয ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইসলাম সর্বদা বিজয়ী থাকে এবং তার ওপর অন্য কিছু বিজয়ী হতে পারে না" [দারাকুতনী ৩৬২০]। এছাড়া "মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মুসলিমকে কাফিরের উত্তরাধিকারী করতেন, কিন্তু কাফিরকে মুসলিমের উত্তরাধিকারী করতেন না" [সাঈদ ইবনে মানসুর ১৪৬]। অন্য একটি কারণ হলো, যাতে তার কাফির আত্মীয় ইসলাম গ্রহণে নিরুৎসাহিত না হয়।
২ - মুরতাদ ব্যক্তি: যদি সে স্বধর্মত্যাগী অবস্থায় নিহত হয় অথবা ঐ অবস্থায় মারা যায়, তবে তার সম্পদ তার মুসলিম উত্তরাধিকারী পাবে। এটি ইমাম আহমাদের একটি বর্ণনা; কেননা এটি আলী এবং ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে [সুনানে দারেমী ৩১১৬, ৩১১৭]। শাইখুল ইসলাম বলেন: (এটিই সাহাবীদের নিকট প্রসিদ্ধ ছিল)। এছাড়া তার মুসলিম আত্মীয়দের উত্তরাধিকারী হওয়া সাধারণ মুসলিমদের উত্তরাধিকারী হওয়ার চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য।
আর মাযহাবের মত হলো: তার সম্পদ 'ফাই' (রাষ্ট্রীয় কোষাগারভুক্ত) হবে; কারণ সে একজন কাফির, তাই কোনো মুসলিম তার উত্তরাধিকার পাবে না। আর তার সম্পদ তার প্রাক্তন ধর্মের অনুসারীদের দেওয়া সম্ভব নয়; কারণ সে তাদের উত্তরাধিকারী হয় না, তাই তারাও তার উত্তরাধিকারী হতে পারবে না।
৩ - যিনদীক: যে প্রকাশ্যে ইসলাম প্রকাশ করে এবং গোপনে কুফরি পোষণ করে। সে মূলত মুনাফিক। সে উত্তরাধিকার লাভ করবে এবং অন্যরাও তার উত্তরাধিকারী হবে। কারণ নবী (আলাইহিস সালাম) কোনো মুনাফিকের পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করেননি এবং একে 'ফাই' হিসেবেও গণ্য করেননি। এর দ্বারা জানা গেল যে, উত্তরাধিকারের ভিত্তি হলো প্রকাশ্য আনুগত্য; আর বাহ্যিক বিচারে তার ওপর ইসলামের নাম প্রযোজ্য হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে।
আর মাযহাবের মত হলো: মুনাফিক ব্যক্তি পূর্বোল্লিখিত মুরতাদের ন্যায়; কারণ সে প্রকৃতপক্ষে একজন কাফির।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
وعنه، واختاره ابن باز وابن عثيمين: أن اختلاف الدين مانع من التوارث مطلقًا ولا يستثنى شيء مما تقدم؛ لحديث أسامة بن زيد رضي الله عنه السابق: «لَا يَرِثُ المُسْلِمُ الْكَافِرَ، وَلَا يَرِثُ الْكَافِرُ المُسْلِمَ».
وقال ابن عثيمين: (أما المنافق الذي لم يظهر نفاقه؛ فإنا نحكم بإسلامه في الظاهر، فيرث ويورث، إلا إن كان معلوم النفاق).
(وَ) المانع الثاني: (الرِّقُّ)، وهو: عجز حكمي يقوم بالإنسان سببه الكفر.
وهو مانع من الجانبين:
- فلا يرث الرقيق اتفاقاً، ولو مدبرًا أو مكاتبًا أو أم ولد؛ لأنه لو ورث لكان لسيده، وهو أجنبي عن الميت، قال الموفق: (لا أعلم فيه خلافًا، إلا ما روي عن ابن مسعود رضي الله عنه.
- ولا يورث الرقيق؛ لأنه لا مال له.
وأما المبعَّض: فيرث ويورث ويحجب بقدر ما فيه من الحرية، واختاره ابن باز؛ لحديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أَصَابَ المُكَاتَبُ حَدًّا، أَوْ وَرِثَ مِيرَاثًا؛ يَرِثُ عَلَى قَدْرِ مَا عَتَقَ مِنْهُ» [أبوداود 4582، والترمذي 1259، والنسائي 4811، وقال شيخ الإسلام: وهو إسناد جيد، يجب العمل به]، وروي عن علي رضي الله عنه [عبدالرزاق 15734]، قال الزركشي: (وهذا الحديث دل على شيئين: أحدهما: أن المكاتب يعتق،
এবং তাঁর থেকে বর্ণিত, এবং ইবনে বায ও ইবনে উসাইমিন এটিকেই গ্রহণ করেছেন: দ্বীনের ভিন্নতা উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশভাবে একটি প্রতিবন্ধক এবং এর কোনো ব্যতিক্রম হবে না; উসামা ইবনে যায়েদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদীসের কারণে: "মুসলিম কোনো কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না এবং কাফির কোনো মুসলিমের উত্তরাধিকারী হবে না।"
ইবনে উসাইমিন বলেছেন: (তবে সেই মুনাফিক যার নিফাক বা কপটতা প্রকাশ পায়নি; বাহ্যিকভাবে আমরা তাকে মুসলিম হিসেবে গণ্য করব, ফলে সে উত্তরাধিকার পাবে এবং তার থেকেও উত্তরাধিকার পাওয়া যাবে, যতক্ষণ না তার নিফাক নিশ্চিতভাবে জানা যায়)।
(এবং) দ্বিতীয় প্রতিবন্ধক: (দাসত্ব), আর তা হলো: মানুষের মধ্যে বিদ্যমান একটি আইনি অক্ষমতা যার কারণ হলো কুফর।
আর এটি উভয় পক্ষ থেকেই প্রতিবন্ধক:
- সুতরাং সর্বসম্মতিক্রমে দাস উত্তরাধিকার লাভ করবে না, হোক সে মুদাব্বার, মুকাতাব কিংবা উম্মু ওয়ালাদ; কারণ সে উত্তরাধিকার লাভ করলে তা তার মনিবের মালিকানায় চলে যাবে, অথচ মনিব মৃত ব্যক্তির জন্য একজন অসম্পর্কিত ব্যক্তি। আল-মুয়াফফাক বলেছেন: (ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা ছাড়া এ বিষয়ে আমি কোনো ভিন্নমত জানি না।
- এবং দাসের কোনো উত্তরাধিকার হয় না; কারণ তার নিজের কোনো সম্পদ নেই।
আর মুবা'আদ (আংশিক স্বাধীন দাস) সম্পর্কে বিধান হলো: সে তার মধ্যে বিদ্যমান স্বাধীনতার পরিমাণ অনুযায়ী উত্তরাধিকার লাভ করবে, উত্তরাধিকার প্রদান করবে এবং অন্যদের বঞ্চিত (হাজব) করবে; ইবনে বায এটিকেই গ্রহণ করেছেন; ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর হাদীসের কারণে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন কোনো মুকাতাব দাসের ওপর কোনো দণ্ডবিধি (হদ্দ) কার্যকর হয় অথবা সে কোনো উত্তরাধিকার লাভ করে; তবে সে যতটুকু স্বাধীন হয়েছে সেই পরিমাণ অনুযায়ী উত্তরাধিকার পাবে" [আবু দাউদ ৪৫৮২, তিরমিযী ১২৫৯, নাসাঈ ৪৮১১; শাইখুল ইসলাম বলেন: এর সনদটি উত্তম, এর ওপর আমল করা আবশ্যক], আর এটি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণিত হয়েছে [আবদুর রাজ্জাক ১৫৭৩৪]। যারকাশী বলেছেন: (এই হাদীসটি দুটি বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে: তার একটি হলো: মুকাতাব দাস স্বাধীন হয়ে যায়,
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
منه بقدر ما أدى. والثاني: أن المعتق بعضه يحد، ويودي، ويرث بقدر ما عتق منه)، ولأنه يجب أن يثبت لكلٍّ بعض حكمه، كما لو كان الآخر معه.
مثاله: ابنٌ نصفه حر، وأم وعم حران، فلو كان الابن كامل الحرية كان للأم السدس وله الباقي، وهو نصف وثلث، ولا شيء للعم، فللابن مع نصف حريته نصف ما يرث لو كان حرًّا كله، وهو ربع وسدس وللأم ربع، لأن الابن الحر يحجبها إلى السدس، فنصفه الحر يحجبها إلى نصف سدس، فلها سدس ونصف سدس، ومجموعهما ربع، والباقي وهو ثلث للعم تعصيبًا، وتصح من اثني عشر، للأم ثلاثة، وللمبعض خمسة، وللعم أربعة.
(وَ) المانع الثالث: (القَتْلُ)، فلا يرث القاتل باتفاق الأئمة، مكلف أو غير مكلف، انفرد بقتل مورثه أو شارك فيه، ولو كان القتل بسبب؛ كحفر نحو بئر؛ لحديث عمر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لَيْسَ لِقَاتِلٍ شَيْءٌ» [الموطأ 2/ 867، وأحمد 348، وابن ماجه 2646].
والقتل مانع من جهة القاتل فقط، وليس بمانع من جهة المقتول؛ فلو جرح مُوَرِّثه، ثم مات الجارح قبل موت المجروح؛ ورثه المجروح.
- فرع: القتل الذي يكون مانعًا من موانع الإرث: هو الذي يلزم القاتل فيه قود أو دية أو كفارة.
فشمل القتل العمد العدوان، والخطأ، وشبه العمد؛ لعموم حديث عمر رضي الله عنه السابق.
সেখান থেকে সেই পরিমাণ যা সে আদায় করেছে। দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তির কিছু অংশ মুক্ত করা হয়েছে, তার ওপর হদ কার্যকর হবে, সে রক্তপণ প্রদান করবে এবং তার যতটুকু অংশ মুক্ত হয়েছে সেই অনুপাতে সে উত্তরাধিকার লাভ করবে; কারণ প্রতিটি অংশের জন্য তার নিজস্ব বিধান সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক, যেমনটি হতো যদি অন্য অংশটিও তার সাথে থাকত।
উদাহরণস্বরূপ: একজন পুত্র যার অর্ধেক অংশ মুক্ত, আর একজন মা এবং একজন চাচা যারা উভয়েই মুক্ত। যদি পুত্রটি পূর্ণ স্বাধীন হতো, তবে মা ষষ্ঠাংশ পেতেন এবং সে অবশিষ্ট অংশ পেত, যা হলো অর্ধেক এবং এক-তৃতীয়াংশ, আর চাচার জন্য কিছুই থাকত না। সুতরাং পুত্রটি তার অর্ধেক স্বাধীনতার কারণে পূর্ণ স্বাধীন হলে যা পেত তার অর্ধেক পাবে, যা হলো এক-চতুর্থাংশ ও এক-ষষ্ঠাংশ। মায়ের জন্য থাকবে এক-চতুর্থাংশ, কারণ স্বাধীন পুত্র তাকে ষষ্ঠাংশে নামিয়ে আনে, তাই পুত্রের অর্ধেক স্বাধীনতা তাকে ষষ্ঠাংশের অর্ধেকে নামিয়ে আনবে। ফলে মায়ের জন্য থাকবে এক-ষষ্ঠাংশ এবং এক-ষষ্ঠাংশের অর্ধেক, যার সমষ্টি হলো এক-চতুর্থাংশ। আর অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ আসাবা হিসেবে চাচা পাবেন। আর মাসআলাটি বারো থেকে শুদ্ধ হবে; মায়ের জন্য তিন, আংশিক মুক্ত ব্যক্তির জন্য পাঁচ এবং চাচার জন্য চার।
(এবং) তৃতীয় প্রতিবন্ধক হলো: (হত্যা)। ইমামগণের ঐকমত্য অনুযায়ী হত্যাকারী উত্তরাধিকার লাভ করবে না, সে মুকাল্লাফ হোক বা না হোক, সে একাকী তার মীরাস প্রদানকারীকে হত্যা করুক অথবা তাতে অংশগ্রহণ করুক, এমনকি যদি হত্যাটি পরোক্ষ কারণেও হয়; যেমন কূপ খনন করা ইত্যাদির মাধ্যমে। এর কারণ উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হত্যাকারীর জন্য (উত্তরাধিকারের) কিছুই নেই» [মুয়াত্তা ২/৮৬৭, আহমাদ ৩৪৮, ইবনে মাজাহ ২৬৪৬]।
হত্যা কেবল হত্যাকারীর দিক থেকে প্রতিবন্ধক, নিহত ব্যক্তির দিক থেকে নয়; সুতরাং যদি কেউ তার মীরাস প্রদানকারীকে আহত করে, অতঃপর আহত ব্যক্তির মৃত্যুর আগে আঘাতকারী মৃত্যুবরণ করে, তবে আহত ব্যক্তি তার উত্তরাধিকার লাভ করবে।
- শাখা মাসআলা: যে হত্যা উত্তরাধিকারের প্রতিবন্ধকসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তা হলো এমন হত্যা যার কারণে হত্যাকারীর ওপর কিসাস, রক্তপণ বা কাফফারা ওয়াজিব হয়।
এটি অন্যায়ভাবে ইচ্ছাকৃত হত্যা, ভুলবশত হত্যা এবং ইচ্ছাকৃত সদৃশ হত্যা—সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে; উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসের ব্যাপকতার কারণে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ ফী ইলমিল কাওয়াইদিল ফারদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
فأما ما لا يُضمن من القتل بشيء؛ كالقتل لمورثه قصاصًا، أو حدًّا، أو دفعًا عن نفسه؛ كالصائل إن لم يندفع إلا بالقتل، وكقتل العادل الباغيَ؛ فلا يمنع الإرث؛ لأنه مأذون فيه، فالمنع من الميراث بالقتل يتبع الضمان.
واختار ابن القيم وابن عثيمين: إن قتل مورثه عمدًا عدوانًا، فلا يرث من مال مورثه ولا من ديته؛ لحديث عمر رضي الله عنه السابق، وإن قتله خطأ فإنه يرث من ماله ولا يرث من ديته؛ لحديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده مرفوعاً: «المَرْأَةُ تَرِثُ مِنْ دِيَةِ زَوْجِهَا وَمَالِهِ، وَهُوَ يَرِثُ مِنْ دِيَتِهَا وَمَالِهَا، مَا لَمْ يَقْتُلْ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ، فَإِذَا قَتَلَ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ عَمْدًا لَمْ يَرِثْ مِنْ دِيَتِهِ وَمَالِهِ شَيْئًا، وَإِنْ قَتَلَ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ خَطَأً وَرِثَ مِنْ مَالِهِ وَلَمْ يَرِثْ مِنْ دِيَتِهِ» [ابن ماجه 2736، وقال ابن القيم: وبه نأخذ (1)]، ووجه كونه يرث من المال: أنه لم يتعجله بالقتل، ووجه كونه لم يرث من الدية: أنها واجبة عليه، ولا معنى لكونه يرث شيئًا وجب عليه.
وقوله: (فَخُذْ تَبْيِينِي) أي: افهم معنى كلامي الذي تقدم.
--------------------------------------------
আর যে সকল হত্যার কারণে কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ বা দণ্ড (জামান) আবশ্যক হয় না; যেমন কিসাস হিসেবে, হদ্দ হিসেবে অথবা আত্মরক্ষার্থে স্বীয় উত্তরাধিকার প্রদানকারীকে (মৌরিস) হত্যা করা; যেমন এমন আক্রমণকারী যাকে হত্যা করা ব্যতীত প্রতিহত করা সম্ভব নয়, কিংবা ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি কর্তৃক বিদ্রোহীকে হত্যা করা; তবে তা মিরাস (উত্তরাধিকার) প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করে না; কারণ এটি শরিয়ত অনুমোদিত। সুতরাং হত্যার কারণে মিরাস থেকে বঞ্চিত হওয়া জরিমানা বা দণ্ড (জামান) আবশ্যক হওয়ার বিধানের অনুগামী।
ইবনুল কাইয়্যিম এবং ইবনে উসাইমীন এই মত গ্রহণ করেছেন যে: যদি কেউ তার মৌরিসকে (উত্তরাধিকার প্রদানকারীকে) অন্যায়ভাবে ও ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তবে সে সেই মৌরিসের সম্পদ থেকেও মিরাস পাবে না এবং তার রক্তপণ (দিয়াত) থেকেও কিছু পাবে না; উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ইতিপূর্বে বর্ণিত হাদিসের কারণে। আর যদি সে তাকে ভুলবশত হত্যা করে, তবে সে তার সম্পদ থেকে মিরাস পাবে কিন্তু রক্তপণ থেকে মিরাস পাবে না; আমর ইবন শুআইব থেকে তার পিতার মাধ্যমে তার দাদার সূত্রে বর্ণিত মারফু হাদিসের কারণে: «স্ত্রী তার স্বামীর রক্তপণ ও সম্পদ থেকে মিরাস পাবে এবং স্বামীও স্ত্রীর রক্তপণ ও সম্পদ থেকে মিরাস পাবে, যতক্ষণ না তাদের একজন অপরজনকে হত্যা করে। অতঃপর যদি তাদের একজন অপরজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তবে সে তার রক্তপণ ও সম্পদ থেকে কিছুই পাবে না। আর যদি তাদের একজন অপরজনকে ভুলবশত হত্যা করে, তবে সে তার সম্পদ থেকে মিরাস পাবে কিন্তু তার রক্তপণ থেকে মিরাস পাবে না» [ইবনে মাজাহ ২৭৩৬, এবং ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি (১)]। তার সম্পদ থেকে মিরাস পাওয়ার যৌক্তিকতা হলো: সে হত্যার মাধ্যমে সম্পদ প্রাপ্তিকে ত্বরান্বিত করেনি। আর তার রক্তপণ থেকে মিরাস না পাওয়ার যৌক্তিকতা হলো: এই রক্তপণ তার নিজের ওপরই ওয়াজিব বা আবশ্যক, আর নিজের ওপর যা আবশ্যক হয়েছে তা নিজেই মিরাস হিসেবে গ্রহণ করার কোনো অর্থ হয় না।
আর তার উক্তি: (অতঃপর তুমি আমার বর্ণনা গ্রহণ করো) অর্থাৎ: আমার পূর্বোক্ত বক্তব্যের অর্থ অনুধাবন করো।
--------------------------------------------