(খণ্ড: ১)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: -)
الروض المربع بشرح زاد المستقنع - ط ركائز القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: الروض المربع بشرح زاد المستقنع مختصر المقنع
المؤلف: منصور بن يونس البهوتي (ت: 1051 هـ)
المحقق: أ. د خالد بن علي المشيقح، د. عبد العزيز بن عدنان العيدان، د. أنس بن عادل اليتامى
الناشر: دار ركائز للنشر والتوزيع - الكويت
الطبعة: الأولى، 1438 هـ
عدد الأجزاء: 3
أهداه للشاملة: ركائز للنشر والتوزيع؛ جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 25 جُمادَى الآخرة 1440
আর-রওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - রকায়েজ সংস্করণ বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ
বই: আর-রওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি মুখতাসারুল মুকনি
লেখক: মানসুর ইবনে ইউনুস আল-বাহুতি (মৃত্যু: ১০৫১ হিজরি)
সম্পাদক: অধ্যাপক ডক্টর খালিদ ইবনে আলী আল-মুশাইকিহ، ডক্টর আবদুল আজিজ ইবনে আদনান আল-ঈদান، ডক্টর আনাস ইবনে আদিল আল-ইয়াতামা
প্রকাশক: দারু রকায়েজ প্রকাশনী - কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৮ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ৩
শামিলাকে উপহার দিয়েছেন: রকায়েজ প্রকাশনী؛ আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৫ জুমাদিউস সানি ১৪৪০
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ١)
الروض المربع
بشرح زاد المستنقع مختصر المقنع
আর-রওদুল মুরবি
আল-মুকনি-র সংক্ষিপ্তসার জাদুল মুস্তাকনি-র ব্যাখ্যা
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٣)
الروض المربع
بشرح زاد المستنقع مختصر المقنع
للعلامة منصور بن يونس البهوتي (ت: 1051 هـ)
قوبل على نسخة مقروءة على المؤلف وخمس نسخ أخرى
تحقيق
أ. د خالد بن علي المشيقح
د. عبد العزيز بن عدنان العيدان
د. أنس بن عادل اليتامى
المجلد الأول
من أول الكتاب إلى نهاية كتاب الزكاة
আর-রওদুল মুরবি
জাদুল মুসতাকনি (যা আল-মুকনি এর সংক্ষিপ্তসার) এর ব্যাখ্যা
আল্লামা মানসুর বিন ইউনুস আল-বাহুতি (মৃ: ১০৫১ হি.)
লেখকের কাছে পাঠকৃত একটি পাণ্ডুলিপি এবং অন্য পাঁচটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে যাচাইকৃত
তাহকিক ও সম্পাদনা
প্রফেসর ড. খালিদ বিন আলী আল-মুশাইকিহ
ড. আব্দুল আজিজ বিন আদনান আল-আইদান
ড. আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামা
প্রথম খণ্ড
গ্রন্থের শুরু থেকে যাকাত অধ্যায়ের সমাপ্তি পর্যন্ত
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه نستعين
إنَّ الحمدَ للهِ نَحمدُ ونَستعينُه ونَستغفِرُه، ونَعوذُ باللهِ مِن شُرورِ أنفسِنا ومِن سَيئاتِ أعمالِنا، مَن يَهدِه اللهُ فلا مُضلَّ له، ومَن يُضلِلْ فلا هادي له، ونَشهدُ ألا إله إلا اللهُ وحده لا شريك له، وأن محمداً عبدُه ورسولُه، صلى اللهُ عليه وعلى آلِه وصَحبِه وسلَّم تَسليماً كَثيراً.
أمَّا بعدُ:
فإنَّ أشرفَ العلومِ وأَعلاها قَدْراً: العلمُ المتعلِّقُ باللهِ تبارك وتعالى، إذْ الشيءُ يَشرُفُ بشرفِ مُتعلَّقِه، وإذا كان الله تعالى هو أعظمُ المعارِفِ سُبحانه فلا رَيْبَ أنَّ العلمَ الموصِلَ إليه هو أشرفُ العلومِ، ولذا تَنافَسَ الأولياءُ العارفون بالله في تحصيلِ هذا العلمِ والصبرِ على المتاعبِ المحتفَّةِ به، كلُّ ذلك لشرفِ هذا العلمِ في قلوبِهِم، وعظيمِ قَدْرِه في شَريعَتِهِم وعُقولِهِم.
ومِن ذلك: العلمُ الذي يُعرِّفُ العبدَ بمحابِّ اللهِ ومَراضيه، ومَكروهاتِه ومَساخِطَه، ليَتوصَّلَ إلى نَيلِ محبةِ معبودِه بفعلِ ما يحبُّ وتركِ ما يَكرهُ، وهو العلمُ الموسومُ عند العلماءِ بعلمِ الفقهِ.
وقد اجتهدَ العلماءُ منذُ قرونٍ متطاولةٍ بتذييلِه لطالبيه، وتسهيلِه على راغبيه، حتى انتظمَ لهذه الأمة مِن بعدِ القرنِ الثالثِ الهجري
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সকল জ্ঞানের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত এবং মর্যাদার দিক থেকে সর্বোচ্চ হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা সংক্রান্ত জ্ঞান। কারণ কোনো বিষয়ের মর্যাদা তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মর্যাদার ওপর নির্ভর করে। আর যেহেতু আল্লাহ তায়ালা হলেন সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সর্বশ্রেষ্ঠ পরিজ্ঞাত সত্তা, তাই এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর পরিচয় পর্যন্ত পৌঁছানোর জ্ঞানই হলো শ্রেষ্ঠতম জ্ঞান। এ কারণেই আল্লাহভীরু ওলিগণ এই জ্ঞান অর্জনে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিকূলতা মোকাবিলায় ধৈর্য ধারণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করেছেন। এ সবকিছুই তাদের অন্তরে এই জ্ঞানের উচ্চমর্যাদা এবং তাদের শরিয়ত ও বিবেকের নিকট এর মহান মূল্যের কারণে হয়েছে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই জ্ঞান যা বান্দাকে আল্লাহর পছন্দনীয় ও সন্তুষ্টির বিষয়সমূহ এবং তাঁর অপছন্দনীয় ও অসন্তুষ্টির বিষয়সমূহ সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেয়; যাতে সে আল্লাহ যা ভালোবাসেন তা সম্পাদন করে এবং যা তিনি অপছন্দ করেন তা বর্জনের মাধ্যমে তার মাবুদের ভালোবাসা লাভে সমর্থ হয়। আর এটিই হলো আলেমদের নিকট 'ইলমে ফিকহ' নামে পরিচিত।
সুদীর্ঘ শতাব্দী ধরে আলেমগণ এই জ্ঞানকে এর অন্বেষণকারীদের নিকট সহজবোধ্য করতে এবং আগ্রহীদের জন্য সহজতর করতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, যার ফলে হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর পর থেকে এই উম্মতের জন্য এটি সুসংবদ্ধ রূপ লাভ করেছে...
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٦)
أربعةُ مذاهبَ كان لها الصيتُ الذائِعُ في الأقطارِ، واجتمع عليها طُلَّابُ الفقهِ مِن جميعِ الأمصارِ، وتَعارَفَ الناسُ على أنَّ مَن أراد مَعرفةَ الأحكامِ الفقهيةِ فإنَّه يَحسُنُ به أن يَنتظِمَ أولاً في واحِدٍ تلك المذاهبِ الفقهيةِ المعروفةِ، التي قام أصحابُها بنظمِ مسائلِ الفقهِ في كتبٍ وأبوابٍ وفصولٍ، ووضعوا للاستدلالِ أصولَه وللاستنباطِ قَواعِدَه، وضَمُّوا النِّظيرَ إلى نظيرِه، وذَكروا الحكمَ بدليلِه، وصار لكلِّ مذهبٍ مِن هذه المذاهبِ كُتبٌ نفيسةٌ، منها الموسَّعُ ومنها المختصَرُ، ولكلِّ كتابٍ منها مَشرَبُه وطريقتُهُ، والله يُبارِكُ لمن يَشاءُ مِن عِبادِه فيما يُؤلِّفُ وفيما يُعلِّمُ وفيها يَعمَلُ.
وإنِّ مِن هؤلاء الأعلامِ العلماءِ، والمؤلفين الفقهاءِ: العلَّامةُ مَنصورُ بنُ يونسَ البَهُوتي رحمه الله، مُحقِّقُ مَذهَبِ الحنابلةِ عندَ المتأخرين بلا مُنازِعٍ، وعُمدَةُ الفقهاءِ العارفين بلا مدافِعٍ، رحمه الله رحمةً واسعةً.
وإنِّ اللهَ جلَّ في عُلاه لا يَزالُ يُبارِكُ في علومِ الشيخِ مَنصورٍ البهوتي مِن خِلالِ ما كَتَبه من كُتُبٍ مباركةٍ، حتى صار جملةٌ مِن متأخري الحنابلةِ يُعوِّلون علىها في معرفةِ المذهبِ ودليلِه، ولا نَحسَبُ ذلك إلا بإخلاصٍ لامَسَ قلبَه، وجدٍّ واجتهادٍ فاقَ به كثيراً ممن أتى بعدَه أو كان قبلَه، ولا نُزكي على اللهِ أحداً، واللهُ لا يُضيعُ أجرَ مَن أحسنَ عَملاً.
চারটি মাযহাবের পরিচিতি বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সকল জনপদের ফিকহ শাস্ত্রের শিক্ষার্থীরা এই মাযহাবগুলোর ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছিল। মানুষ এই মর্মে একমত হয়েছিল যে, যে ব্যক্তি ফিকহী বিধানসমূহ জানতে চায়, তার জন্য সমীচীন হলো প্রথমে এই প্রসিদ্ধ ফিকহী মাযহাবগুলোর কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত হওয়া। এই মাযহাবগুলোর ইমামগণ ফিকহ শাস্ত্রের মাসআলাগুলোকে বিভিন্ন কিতাব, অধ্যায় ও পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছেন এবং দলীল উপস্থাপনের মূলনীতি ও মাসআলা উদ্ভাবনের নিয়মাবলী নির্ধারণ করেছেন। তাঁরা সমজাতীয় মাসআলাসমূহকে একত্রে সন্নিবেশিত করেছেন এবং প্রতিটি বিধানকে তার দলীলসহ উল্লেখ করেছেন। এই মাযহাবগুলোর প্রতিটির জন্য মূল্যবান কিতাবাদি সংকলিত হয়েছে, যার মধ্যে কোনোটি বিস্তারিত আবার কোনোটি সংক্ষিপ্ত। প্রতিটি কিতাবের রয়েছে নিজস্ব ধারা ও পদ্ধতি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাঁর রচনা, শিক্ষা ও আমলের মধ্যে বরকত দান করেন।
এই সকল প্রখ্যাত আলেম ও ফকীহ লেখকদের মধ্যে একজন হলেন আল্লামা মনসুর বিন ইউনুস আল-বাহুতি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)। তিনি পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট হাম্বলী মাযহাবের অবিসংবাদিত গবেষক এবং বিজ্ঞ ফকীহদের নিকট অকাট্য নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব। আল্লাহ তাঁর প্রতি অসীম রহমত বর্ষণ করুন।
মহান আল্লাহ শায়খ মনসুর আল-বাহুতির জ্ঞান এবং তাঁর রচিত বরকতময় কিতাবসমূহের মাধ্যমে নিরন্তর বরকত দান করছেন। এমনকি পরবর্তী সময়ের একদল হাম্বলী আলেম মাযহাবের সঠিক মাসআলা ও তার দলীল জানার ক্ষেত্রে এই কিতাবগুলোর ওপরই নির্ভর করেন। আমরা মনে করি, এটি তাঁর অন্তরের ইখলাস এবং তাঁর এমন কঠোর সাধনা ও প্রচেষ্টারই ফসল, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অনেকের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তবে আমরা আল্লাহর কাছে কাউকে পবিত্র ঘোষণা করি না; আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٧)
وإنَّ مِن أدقِّ كُتبِه تحقيقاً، أجملِها تحريراً، وأعمقِها عِلماً، وأعلاها شَأناً، وأوسَعِها انتشاراً كتابَه الممتعَ: (الرَّوْضُ المُرْبِعُ شَرْحُ زَادِ المُسْتَقْنِعِ مُخْتَصَرِ المُقْنِعِ)، الذي شَرَح فيه كتابَ العلَّامةِ مُوسَى الحَجَّاوِي (زاد المستقنع) شَرحاً مزجياً، بَيَّن فيه حقائقَه، وأوضحَ مَعانيه وأَجلى دقائقه، وضَمَّ إليه قيوداً يَتعينُ التنبيهُ عليها، وزاد فيه فوائدَ يحتاجُ طالبُ فقهِ الحنابلةِ إليها، وجَمَّله بنصوصِ الوحيين تدليلاً، وبالأقيسةِ والمقاصدِ الشرعيةِ تَعليلاً، فَغَدا هذا الشرحُ روضةً مِن الرياضِ النَّاضرةِ، ومُمتِعاً للعيونِ النَّاظرةِ، حتى ذاع صيته في الآفاقِ، واعتَلَى مَن اعتنى به منابرَ العلمِ وَفَاق، بل صار مَدارُ عِنايةِ كثيرٍ مِن أهلِ العلمِ هذا الكتابِ، وحَطُّوا عندَه الرواحِلَ والرِّكابَ، وأوصوا به مَن بعدَهم مِن الطُّلَّابِ.
قال العلَّامةُ عبدُ الرحمنِ السِّعدي رحمه الله في مقدمةِ كتابِه المختاراتِ الجليةِ: (ورأيتُ شَرحَ مختصَرِ المقنعِ للشيخِ منصور البهوتي أكثرها استعمالاً، وأنفعُها للطلبةِ في هذه الأوقاتِ).
ويقولُ الشيخُ عبدُ الرحمنِ بنُ قاسمٍ رحمه الله تعالى في مقدمةِ حاشيتِه على الروضِ: (فإن زادَ المستقنع وشرحَه قد رَغِب فيهما طُلَّابُ العلمِ غايةَ الرَّغَبِ، واجتهدوا في الأخذِ بهما أشدَّ اجتهادٍ وطَلَب، لكونِهِما مختصَرَين لَطيفَين، ومنتخَبَين شَريفَين، حاوِيَين جُلَّ المهماتِ، فائِقَينِ أكثرَ المطولاتِ والمختصراتِ، بحيثُ إنه يحصُلُ منهما الحظُّ للمبتديِ والفصلُ للمنتهيِ).
নিশ্চয়ই তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে তাহকীক বা যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম সুনিপুণ, রচনার শৈলীতে অত্যন্ত চমৎকার, ইলমের গভীরতায় অনন্য, সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এবং সর্বাধিক সুপরিচিত হলো তাঁর আনন্দদায়ক গ্রন্থ: (আর-রওযুল মুরবি শারহু জাদিল মুস্তাকনি মুখতাসারিল মুকনি), যাতে তিনি আল্লামা মুসা আল-হাজ্জাওয়ীর গ্রন্থ (জাদুল মুস্তাকনি)-এর একটি মিশ্র ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি এতে এর নিগূঢ় সত্যসমূহ বর্ণনা করেছেন, এর অর্থসমূহ স্পষ্ট করেছেন এবং এর সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ উন্মোচন করেছেন। তিনি এতে এমন সব শর্ত বা সীমাবদ্ধতা যুক্ত করেছেন যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা আবশ্যক ছিল এবং এতে এমন সব তাত্ত্বিক উপকারিতা বৃদ্ধি করেছেন যা হাম্বলী ফিকহ অন্বেষণকারীর জন্য অপরিহার্য। তিনি একে ওহীদ্বয়ের ভাষ্য দ্বারা দলীল হিসেবে এবং শরীয়তের কিয়াস ও মাকাসিদ দ্বারা যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে সুশোভিত করেছেন। ফলে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি প্রস্ফুটিত উদ্যানসমূহের মাঝে একটি উদ্যানে পরিণত হয়েছে এবং দর্শকদের চোখের জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক হয়েছে। এমনকি দিগন্তজুড়ে এর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে এবং যারা এর প্রতি মনোযোগী হয়েছে তারা ইলমের মিম্বরগুলোতে আরোহণ করেছে ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। বরং বহু আলিমের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে এই কিতাবটি; তারা এর কাছেই তাদের সফরের সওয়ারি ও আসবাবপত্র থামিয়েছেন এবং তাদের পরবর্তী ছাত্রদের এই কিতাবটি পড়ার অসিয়ত করেছেন।
আল্লামা আবদুর রহমান আস-সা’দী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর আল-মুখতারাতুল জালিয়্যাহ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: (এবং আমি শায়খ মানসুর আল-বাহুতী রচিত মুখতাসারুল মুকনি-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে বর্তমান সময়ে সর্বাধিক ব্যবহৃত এবং ছাত্রদের জন্য সবচেয়ে উপকারী হিসেবে দেখতে পেয়েছি।)
শায়খ আবদুর রহমান ইবন কাসিম (রাহিমাহুল্লাহ) আর-রওয-এর উপর তাঁর হাশিয়াহ বা টীকাভাষ্যের ভূমিকায় বলেন: (নিশ্চয়ই জাদুল মুস্তাকনি এবং এর শারহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রতি ইলম অন্বেষণকারীরা চূড়ান্ত আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং তারা এ দুটি আয়ত্ত করার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা ও সাধনা করেছে। কারণ এ দুটি চমৎকার সংক্ষিপ্তসার এবং মহৎ চয়নকৃত গ্রন্থ, যা গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সকল বিষয়কে শামিল করেছে এবং অধিকাংশ দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত গ্রন্থকে ছাড়িয়ে গেছে; এমনভাবে যে তা থেকে একজন শিক্ষানবিশ পর্যাপ্ত অংশ লাভ করতে পারে এবং একজন অভিজ্ঞ আলেম চূড়ান্ত ফয়সালা পেতে পারেন।)
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٨)
وإن مِن أنواعِ العنايةِ بهذا الكتابِ: تحقيقُ نَصِّه تحقيقاً عِلمياً، لتَعظُمَ فائدةُ قارئيه، وتَكثُرَ استفادةُ دارسيه.
فقُمنا بخدمةِ هذا الكتابِ -مُستعينين بالمولى، مُعترفين بالضَّعفِ إلا به- وذلك بالعنايةِ بخمسةِ أمورٍ:
الأولُ: جمعُ نُسخِه الخطِّيةِ ومقارنَتُها واختيارُ أعلاها جَودةً وحُسناً، وفْقَ الأُسُسِ المتبعةِ في تحقيقِ كُتبِ أهلِ العلمِ، فكانت النسخة التي اعتمدناها أصلاً في التحقيق: نسخة مقروءة على المؤلف رحمه الله، وأَضَفْنا إليها خمسَ نُسخٍ أخرى عاليةَ الجودةِ كما ستراه في وَصفِ النسخِ الخطيةِ.
الثاني: تخريجُ الأحاديثِ والآثارِ تخريجاً يُعنى بمعرفةِ مصدرِ الحديثِ والأثرِ، وكلامِ المحققين حولَه مِن حيثُ التصحيحُ والتضعيفُ، وبيانُ العللِ وأجوبتِها، بصورةٍ وافيةٍ مختصرةٍ.
الثالثُ: ضَبطُ جميعِ كلماتِ المتنِ وغالبِ كلماتِ الشرحِ بالشَّكلِ صَرْفاً وإعراباً، وتوضيحُ ما يحتاجُ مِن المفرداتِ إلى توضيحٍ، مِن خلالِ مصادرِ اللغةِ العربيةِ المعتمدةِ.
الرابعُ: العنايةُ ببدايةِ الفقراتِ ونهايتِها بحيثُ يُربطُ بين أركانِ الجملةِ الواحدةِ دونَ الفصلِ بينها، مع العنايةِ بعلاماتِ الترقيمِ التي تُبرِزُ المرادَ وتُسهِّلُ على القارئ فَهمَ الكتابِ.
الخامسُ: مراعاةُ التحشيةِ، حيثُ جعلنا هوامِشَ الكتابِ صالحةً للتحشيةِ وكتابةِ الفوائدِ.
এই কিতাবটির প্রতি যত্ন নেওয়ার অন্যতম একটি মাধ্যম হলো: এর পাঠ্যের বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক সম্পাদনা (তাহকিক), যাতে এর পাঠকদের ফায়দা বৃদ্ধি পায় এবং এর শিক্ষার্থীদের উপকারিতা বহুগুণ হয়।
আমরা মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তাঁর সাহায্য ছাড়া নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করে এই কিতাবটির খিদমত সম্পন্ন করেছি—মূলত পাঁচটি বিষয়ের প্রতি বিশেষ যত্ন প্রদানের মাধ্যমে:
প্রথম: এর পান্ডুলিপিগুলো সংগ্রহ করা, সেগুলোর মধ্যে তুলনা করা এবং আহলে ইলমদের কিতাব সম্পাদনার অনুসৃত মূলনীতি অনুযায়ী সর্বোত্তম ও উচ্চমানের কপিটি নির্বাচন করা। সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমরা যে কপিটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি, সেটি ছিল লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) সম্মুখে পঠিত একটি কপি। এর সাথে আমরা আরও পাঁচটি উচ্চমানের কপি যুক্ত করেছি, যা আপনি পান্ডুলিপির বর্ণনায় দেখতে পাবেন।
দ্বিতীয়: হাদিস ও আসারসমূহের তাখরিজ করা। এমনভাবে তাখরিজ করা হয়েছে যাতে হাদিস ও আসারের উৎস জানা যায় এবং সহিহ বা জইফ হওয়ার ক্ষেত্রে মুহাক্কিকদের বক্তব্য ফুটে ওঠে। সেই সাথে সংক্ষেপে অথচ পূর্ণাঙ্গভাবে হাদিসের ত্রুটি (ইল্লত) এবং এর উত্তরগুলো স্পষ্ট করা হয়েছে।
তৃতীয়: মতনের সকল শব্দের এবং শারাহর অধিকাংশ শব্দের সরফ ও ইরাব অনুযায়ী হরকত প্রদান করা। এছাড়া যেসব শব্দের ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল, তা আরবি ভাষার নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে।
চতুর্থ: অনুচ্ছেদসমূহের শুরু এবং শেষের দিকে লক্ষ্য রাখা, যাতে একটি বাক্যের বিভিন্ন অংশের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা ছাড়াই সংযোগ বজায় থাকে। সেই সাথে বিরামচিহ্নের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা মূল উদ্দেশ্যকে ফুটিয়ে তোলে এবং পাঠকের জন্য কিতাবটি বোঝা সহজ করে দেয়।
পঞ্চম: টীকা প্রদানের বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা। আমরা কিতাবের পার্শ্বদেশকে টীকা প্রদান এবং গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয়াবলি নোট করার উপযোগী রেখেছি।
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٩)
فحَقَّقْناه -فيما نَظُنُّ- تحقيقاً عِلميًّا، مُوافقاً للمرادِ، شافِياً للفؤادِ، فما كان فيه مِن صوابٍ فمِن اللهِ وحدَه، وما كان مِن خَطأ فمنَّا ومِن الشيطانِ، ونَرجو مِن اللهِ العفوَ والغفرانَ، ومِن القارئ النُّصحُ والبيانُ.
والحمدُ للهِ ربِّ العالمين
المحققون
7/ 5/ 1438 هـ
আমরা এটি -আমাদের ধারণা অনুযায়ী- একটি তাত্ত্বিক সম্পাদনা করেছি, যা মূল উদ্দেশ্যের অনুকূল এবং হৃদয়ের জন্য প্রশান্তিদায়ক। এতে যা কিছু সঠিক তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল তা আমাদের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করি এবং পাঠকের নিকট সদুপদেশ ও স্পষ্টীকরণের প্রত্যাশা রাখি।
আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য
সম্পাদকবৃন্দ
৭/ ৫/ ১৪৩৮ হিজরি
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ترجمة صاحب زاد المستقنع-
اسمه:شرف الدِّين أبو النَّجا موسى بن أحمد بن موسى بن سالم بن عيسى بن سالم الحجَّاوي المقدسي، ثم الصَّالحي الحنبلي، الإمام العلَّامة، مفتي الحنابلة بدمشق، وشيخ الإسلام بها (1).
والحجاوي: نسبة إلى (حَجَّة)، من قرى نابلس (2).
-
مولده ونشأته:ولد بقية حجَّة من قرى نابلس، سنة 895 هـ.
قال ابن حميد رحمه الله: (وبها نشأ، وقرأ القرآن وأوائل الفنون، وأقبل على الفقه إقبالاً كليًّا، ثم ارتحل إلى دمشق فسكن في مدرسة شيخ الإسلام أبي عمر، وقرأ على مشايخ عصره، ولازم العلامة الشويكي في الفقه إلى أن تمكن فيه تمكناً تامًّا، وانفرد في عصره بتحقيق مذهب الإمام أحمد، وصار إليه المرجع، وأمَّ بالجامع المظفري عدَّة سنين، واشتغل عليه جمع من الفضلاء ففاقوا) (3).
--------------------------------------------
যাদুল মুসতাকনি-এর রচয়িতার জীবনী-
তাঁর নাম:শারাফুদ্দীন আবুল নাজা মূসা ইবনে আহমাদ ইবনে মূসা ইবনে সালিম ইবনে ঈসা ইবনে সালিম আল-হাজ্জাউয়ি আল-মাকদিসি, অতঃপর আস-সালিহি আল-হাম্বলি; তিনি ছিলেন মহান ইমাম ও আল্লামা, দামেস্কের হাম্বলিদের মুফতি এবং সেখানকার শাইখুল ইসলাম (১)।
আল-হাজ্জাউয়ি: এটি নাবলুসের গ্রামগুলোর অন্যতম ‘হাজ্জাহ’ এর দিকে একটি সম্বন্ধ (২)।
-
তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:তিনি হিজরি ৮৯৫ সনে নাবলুসের গ্রামগুলোর একটি, হাজ্জাহ-তে জন্মগ্রহণ করেন।
ইবনু হুমাইদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন, কুরআন এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের প্রাথমিক বিষয়াদি পাঠ করেন এবং ফিকহ শাস্ত্রের প্রতি পূর্ণরূপে মনোনিবেশ করেন। অতঃপর তিনি দামেস্কে পাড়ি জমান এবং শাইখুল ইসলাম আবু উমরের মাদরাসায় বসবাস করেন। তিনি তাঁর যুগের মাশায়েখদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ফিকহ শাস্ত্রে আল্লামা শুওয়াইকির সান্নিধ্য নিয়মিত অবলম্বন করেন, যতক্ষণ না তিনি তাতে পূর্ণ পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি তাঁর যুগে ইমাম আহমদের মাযহাবের গবেষণায় (তাহকীক) অনন্য হয়ে ওঠেন এবং এই মাযহাবে তিনিই প্রধান ব্যক্তিতে পরিণত হন। তিনি কয়েক বছর যাবত আল-জামে আল-মুজাফ্ফরিতে ইমামতি করেন এবং একদল গুণী ব্যক্তি তাঁর কাছে অধ্যয়ন করে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ١١)
-
فضائله وثناء العلماء عليه:قال ابن بشر رحمه الله: (كان له اليد الطولى في معرفة المذهب، تنقيحه، وتهذيب مسائله، وترجيحه) (1).
وقال ابن الشطي رحمه الله في مختصره: (هو مفتي الحنابلة بدمشق، والمعوَّل عليه في الفقه بالديار الشامية، حاز قصبة السبق في مضمار الفضائل، وفاز بالقدح المعلى لدى تزاحم الأفاضل، جامع أشتات العلوم، بدر سماء المنطوق والمفهوم، صاحب المؤلفات التي سارت بها الركبان، وتلقاها الناس بالقبول زماناً بعد زمان، والفتاوى التي اشتهرت شرقاً وغرباً، وعم نفعها الناس عجماً وعرباً، الحبر بلا ارتياب، والبحر المتلاطم العُباب، شمس أفق العلوم والمعارف، قطب دائرة الفهوم والعوارف، ذو التحقيقات الفائقة والتدقيقات الرائقة والتحريرات المقبولة، والتقريرات التي هي بالإخلاص مشمولة) (2).
وقال الغزي: (انتهت إليه مشيخة السادة الحنابلة والفتوى، وكان بيده تدريس الحنابلة بمدرسة الشيخ أبي عمر) (3).
--------------------------------------------
তাঁর গুণাবলি এবং তাঁর প্রতি উলামায়ে কিরামের প্রশংসা:ইবনে বিশর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (মাযহাবের জ্ঞান, এর সংস্কার, এর মাসয়ালাসমূহের পরিমার্জন এবং এর অগ্রাধিকার নির্ণয়ে তাঁর অসামান্য বুৎপত্তি ছিল) (১)।
ইবনুল শাত্তি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সংক্ষেপিত গ্রন্থে বলেন: (তিনি ছিলেন দামেস্কের হাম্বলিদের মুফতি এবং শামি ভূখণ্ডে ফিকহ শাস্ত্রের প্রধান নির্ভরস্থল। তিনি শ্রেষ্ঠত্বের ময়দানে অগ্রগণ্যতা লাভ করেছেন এবং গুণীজনদের সমাবেশে সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তিনি বিবিধ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সংগ্রাহক, পরিব্যক্ত ও অন্তর্নিহিত জ্ঞানের আকাশের পূর্ণচন্দ্র। তিনি এমন সব গ্রন্থের প্রণেতা যা দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানুষ কালান্তরে তা কবুলিয়াতের সাথে গ্রহণ করেছে। তাঁর ফতোয়াগুলো প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং আরব ও অনারব সকল মানুষের মাঝে তার উপকারিতা সাধারণ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি নিঃসন্দহে এক মহান পণ্ডিত এবং উত্তাল তরঙ্গের সুবিশাল সমুদ্র। তিনি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দিগন্তের সূর্য এবং বোধ ও মারেফাতের বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি সুউচ্চ গবেষণা, চমৎকার সূক্ষ্মতা ও গ্রহণযোগ্য সম্পাদনা এবং একনিষ্ঠতাপূর্ণ বর্ণনার অধিকারী ছিলেন) (২)।
আল-গাজ্জি বলেন: (হাম্বলি মাশায়েখদের নেতৃত্ব এবং ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব তাঁর কাছে এসে শেষ হয়েছিল এবং শায়খ আবু উমর মাদরাসায় হাম্বলিদের পাঠদানের দায়িত্ব তাঁর হাতে ছিল) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
-
مشايخه:أخذ العلم عن جماعة من العلماء، منهم:
1 - الشيخ محب الدين أحمد بن محمد بن محمد العقيلي النويري المكي الشافعي، خطيب الخطباء بالمسجد الحرام.
2 - الشيخ نجم الدين عمر بن إبراهيم بن محمد بن مفلح الصالحي.
3 - العلامة الشيخ شهاب الدين أحمد بن محمد الشويكي، صاحب كتاب: (التوضيح في الجمع بين المقنع والتنقيح).
4 - الشيخ محمد بن علي بن محمد، الشهير بابن طولون الدمشقي الحنفي، صاحب المؤلفات الكثيرة.
-
تلاميذه:أخذ عن العلامة الحجاوي جماعة من أهل العلم المعروفين، منهم:
1 - ابنه الشيخ يحيى الحجاوي.
2 - الشيخ محمد بن إبراهيم بن أبي حميدان النجدي، وقد لازمه سبع سنين ملازمة تامة.
3 - الشيخ زامل بن سلطان بن زامل الخطيب النجدي.
4 - الشيخ أحمد بن محمد بن مشرف الوهيبي التميمي
-
তাঁর উস্তাদগণ:তিনি একদল আলেমের নিকট ইলম অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - শায়খ মুহিব্বুদ্দিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-উকায়লি আল-নুওয়াইরি আল-মাক্কি আল-শাফিঈ, মাসজিদুল হারামের খতিবদের প্রধান।
২ - শায়খ নাজমুদ্দিন উমর বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন মুফলিহ আল-সালিহি।
৩ - আল্লামা শায়খ শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ আল-শুওয়াইকি, 'আত-তাওদিহ ফি আল-জাম বায়না আল-মুকনি ওয়া আল-তানকিহ' নামক গ্রন্থের রচয়িতা।
৪ - শায়খ মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ, ইবনে তুলুন আদ-দিমাশকি আল-হানাফি হিসেবে প্রসিদ্ধ, তিনি বহু গ্রন্থের প্রণেতা।
-
তাঁর ছাত্রগণ:আল্লামা হাজ্জাভির নিকট থেকে একদল সুপরিচিত আলেম ইলম অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - তাঁর পুত্র শায়খ ইয়াহইয়া আল-হাজ্জাভি।
২ - শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন আবি হুমাইদান আন-নাজদি; তিনি পূর্ণ সাত বছর তাঁর নিবিড় সান্নিধ্যে ছিলেন।
৩ - শায়খ জামিল বিন সুলতান বিন জামিল আল-খাতিব আন-নাজদি।
৪ - শায়খ আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুশরিফ আল-উহাইবি আত-তামিমি।
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
الحنبلي، ولازمه ملازمة تامة ثم عاد إلى نجد وتولى القضاء في أشيقر.
5 - العلامة شهاب الدين أحمد بن أبي الوفاء بن مفلح الوفائي الدمشقي الحنبلي.
وغيرهم من أهل العلم والفضل من أهل بلده وغيرهم.
-
مؤلفاته:منها ما هو مطبوع - وهو الأغلب -، ومنها ما لم يطبع، وهي:
1 - الإقناع لطالب الانتفاع.
2 - زاد المستقنع في اختصار المقنع.
3 - حاشية التنقيح.
4 - منظومة الآداب الشرعية وشرحها.
5 - شرح منظومة الآداب لابن مفلح.
6 - منظومة الكبائر.
7 - حاشية على الفروع.
8 - شرح المفردات.
9 - شرح غريب لغات الإقناع.
আল-হাম্বলী, এবং তিনি তাঁর সাথে পূর্ণরূপে সংলগ্ন ছিলেন, অতঃপর তিনি নাজদে ফিরে যান এবং উশাইকিরে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।
৫ - আল্লামা শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আবিল ওয়াফা বিন মুফলিহ আল-ওয়াফায়ী আদ-দিমাশকী আল-হাম্বলী।
এবং তাঁর নিজ শহরের ও অন্যান্য স্থানের জ্ঞান ও মর্যাদার অধিকারী অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।
-
তাঁর রচনাবলী:এর মধ্যে কিছু মুদ্রিত—যা সংখ্যায় অধিক—এবং কিছু অপ্রকাশিত, সেগুলো হলো:
১ - আল-ইকনা’ লি ত্বলিবিল ইনতিফা’।
২ - জাদুল মুসতাকনি’ ফী ইখতিসারিল মুকনি’।
৩ - হাশিয়াতুত তানকীহ।
৪ - মানজুমাতুল আদাব আশ-শারইয়্যাহ ওয়া শারহুহা।
৫ - ইবনে মুফলিহ রচিত মানজুমাতুল আদাব-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
৬ - মানজুমাতুল কাবায়ের।
৭ - হাশিয়া আলাল ফুরু’।
৮ - শারহুল মুফরাদাত।
৯ - শারহু গারিবি লুগাতিল ইকনা’।
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
-
وفاته:توفي يوم الخميس، الثاني والعشرين من ربيع الأول سنة 968 هـ، ودفن بدمشق (1) رحمه الله.
--------------------------------------------
তাঁর ইন্তিকাল:তিনি ৯৬৮ হিজরি সনের ২২শে রবিউল আউয়াল বৃহস্পতিবার ইন্তিকাল করেন এবং তাঁকে দামেস্কে সমাহিত করা হয় (১), আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
ترجمة صاحب الروض المربع-
اسمه:منصور بن يونس بن صلاح الدين بن حسن بن أحمد بن علي بن ادريس البهوتي الحنبلي، شيخ الحنابلة بمصر، وخاتمة علمائهم بها، الذائع الصيت البالغ الشهرة (1).
والبهوتي: نسبة إلى (بهوت)، بلدة بمصر، من الغربية (2).
-
صفاته وأخلاقه:قال محمد السفاريني رحمه الله: (كان كثير العبادة، غزير الإفادة والاستفادة، رحل إليه الحنابلة من الديار الشامية والنواحي النجدية والأراضي المقدسة والضواحي البعلية، وتمثلوا بين يديه، وضربت الإبل آباطها إليها، وعقدت عليه الخناصر، وقال من حظي بنظره: هل من مفاخر؟ وكان جواداً سخياً، له مكارم دارَّة، وبشاشة سارَّة) (3).
وقال المحبي رحمه الله: (كان ممن انتهى اليه الإفتاء والتدريس،
--------------------------------------------
রওযুল মুরবি'-এর লেখকের জীবনী-
তাঁর নাম:মানসুর বিন ইউনুস বিন সালাহুদ্দীন বিন হাসান বিন আহমাদ বিন আলী বিন ইদ্রিস আল-বাহুতি আল-হানবালি, মিশরে হাম্বলিদের শাইখ এবং সেখানে তাদের আলেমদের সর্বশেষ দিগপাল, যিনি ব্যাপক সুখ্যাতি ও অত্যধিক প্রসিদ্ধির অধিকারী (১)।
আল-বাহুতি: ‘বাহুত’-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা মিশরের গারবিয়্যাহ অঞ্চলের একটি শহর (২)।
-
তাঁর গুণাবলী ও চরিত্র:মুহাম্মাদ আস-সাফারিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (তিনি ছিলেন অধিক ইবাদতকারী, ইলম দান ও ইলম অর্জনে অত্যন্ত পারদর্শী; সিরিয়া, নজদ অঞ্চল, পবিত্র ভূমি এবং বালবাকের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে হাম্বলিরা তাঁর কাছে সফর করে আসতেন, তাঁর সামনে উপস্থিত হতেন, তাঁর কাছে পৌঁছানোর জন্য উট দ্রুত গতিতে চালিত হতো, শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে তাঁর ওপরই কনিষ্ঠাঙ্গুলি দিয়ে গিঁট দেওয়া হতো (অর্থাৎ তাঁকে সর্বশ্রেষ্ঠ গণ্য করা হতো), আর যে ব্যক্তি তাঁর সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হতো সে বলত: এর চেয়ে গর্বের আর কী থাকতে পারে? তিনি ছিলেন দানশীল ও উদার, তাঁর ছিল প্রবহমান মহানুভবতা এবং আনন্দদায়ক প্রফুল্লতা) (৩)।
আল-মুহিব্বি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (তিনি ছিলেন তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের নিকট ফতোয়া ও পাঠদানের পারদর্শিতা এসে সমাপ্ত হয়েছিল,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وكان شيخاً له مكارم دارَّة، وكان في كل ليلة جمعة يجعل ضيافة ويدعو جماعته من المقادسة، وإذا مرض منهم أحد عاده وأخذه إلى بيته ومرَّضه إلى أن يُشفى، وكانت الناس تأتيه بالصدقات فيفرقها على طلبة العلم في مجلسه ولا يأخذ منها شيئاً) (1).
-
شيوخه:أخذ الشيخ منصور البهوتي رحمه الله عن جماعة من العلماء، منهم:
1 - الشيخ يحيى بن موسى الحجاوي رحمه الله، الشهير بابن الحجاوي.
2 - الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن الدنوشري رحمه الله، الشافعي اللغوي النحوي.
3 - الشيخ محمد بن أحمد المرداوي الحنبلي رحمه الله، نزيل مصر وشيخ الحنابلة في عصره بها، وكان أكثر أخذه عنه.
4 - الشيخ عبد الرحمن بن يوسف بن علي البهوتي الحنبلي رحمه الله.
وغيرهم من أهل العلم والفضل.
--------------------------------------------
তিনি ছিলেন এমন একজন শাইখ যার মধ্যে প্রচুর মহৎ গুণাবলি বিদ্যমান ছিল। তিনি প্রতি জুমার রাতে মেহমানদারির আয়োজন করতেন এবং মাকদিসিদের মধ্য থেকে তাঁর সঙ্গীদের আমন্ত্রণ জানাতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে তিনি তাকে দেখতে যেতেন এবং তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসতেন এবং সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তার সেবা-শুশ্রূষা করতেন। মানুষ তাঁর কাছে সদকা নিয়ে আসত, আর তিনি তা তাঁর মজলিসের ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে বিতরণ করে দিতেন এবং সেখান থেকে নিজে কিছুই গ্রহণ করতেন না (১)।
-
তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:শাইখ মানসুর আল-বাহুতি (রাহিমাহুল্লাহ) একদল আলিমের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - শাইখ ইয়াহইয়া ইবনে মুসা আল-হিজ্জাবি (রাহিমাহুল্লাহ), যিনি ইবনুল হিজ্জাবি নামে প্রসিদ্ধ।
২ - শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দানুশারি (রাহিমাহুল্লাহ), যিনি শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী এবং ভাষাবিদ ও ব্যাকরণবিদ ছিলেন।
৩ - শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-মারদাউয়ি আল-হাম্বলি (রাহিমাহুল্লাহ), যিনি মিশরে বসবাস করতেন এবং তাঁর যুগে সেখানে হাম্বলিদের প্রধান শাইখ ছিলেন। তাঁর নিকট থেকেই তিনি সবচেয়ে বেশি ইলম অর্জন করেছেন।
৪ - শাইখ আব্দুর রহমান ইবনে ইউসুফ ইবনে আলি আল-বাহুতি আল-হাম্বলি (রাহিমাহুল্লাহ)।
এঁরা ছাড়াও অন্যান্য ইলম ও মর্যাদাবান ব্যক্তিবর্গ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
-
تلاميذه:رحل الناس إليه من الآفاق لأجل أخذ مذهب الإمام أحمد رضى الله عنه، حيث انفرد في عصره بالفقه، كما يقول المحبي.
وأخذ عنه كثير من متأخرين الحنابلة، يقول ابن بشر رحمه الله: (أخذ عنه الفقه جماعة من النجديين والمصريين وغيرهم) (1)، وتقدم كلام السفاريني في النواحي التي قدم منها التلاميذ للأخذ عنه، ومن هؤلاء التلاميذ:
1 - الشيخ عبد القادر الدنوشري رحمه الله.
2 - الشيخ يوسف الكرمي رحمه الله.
3 - الشيخ جمال الدين يوسف بن محمد الفتوحي رحمه الله.
4 - الشيخ القاضي عبد الله بن عبد الوهاب بن مشرف الوهيبي التميمي رحمه الله، قاضي العيينة.
5 - الشيخ ياسين بن علي اللبدي رحمه الله.
6 - الشيخ محمد بن أحمد بن علي البهوتي الحنبلي رحمه الله، المشهور بالخلوتي، ابن أخت الشيخ منصور، وقد لازمه مدة طويلة.
--------------------------------------------
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:মানুষ তাঁর নিকট দিগন্তের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইমাম আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাযহাব গ্রহণের জন্য সফর করত, কারণ তিনি তাঁর যুগে ফিকহ শাস্ত্রে অনন্য ছিলেন, যেমনটি আল-মুহিব্বী বলেছেন।
পরবর্তী যুগের বহু হাম্বলী তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। ইবনে বিশর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (একদল নজদবাসী, মিশরীয় এবং অন্যান্যরা তাঁর নিকট থেকে ফিকহ গ্রহণ করেছেন) (১)। সাফফারিনীর বক্তব্য পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোন কোন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণের জন্য আসত। সেই ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - শায়খ আব্দুল কাদির আদ-দানুশারী (রাহিমাহুল্লাহ)।
২ - শায়খ ইউসুফ আল-কারমী (রাহিমাহুল্লাহ)।
৩ - শায়খ জামালুদ্দীন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ আল-ফুতুহী (রাহিমাহুল্লাহ)।
৪ - শায়খ কাজী আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুশাররাফ আল-উহাইবী আত-তামিমী (রাহিমাহুল্লাহ), উয়ায়নাহর কাজী।
৫ - শায়খ ইয়াসীন বিন আলী আল-লাবাদী (রাহিমাহুল্লাহ)।
৬ - শায়খ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আলী আল-বাহুতী আল-হাম্বলী (রাহিমাহুল্লাহ), যিনি আল-খালওয়াতী নামে পরিচিত, শায়খ মানসুরের ভাগ্নে, এবং তিনি দীর্ঘ সময় তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
7 - الشيخ صالح بن حسن البهوتي رحمه الله.
-
مؤلفاته:تعتبر مؤلفات الشيخ منصور رحمه الله المصدر المعول عليه عند المتأخرين من الأصحاب ممن أتى بعده، وجميعها مطبوع مراراً ومعتنى بها ولله الحمد والمنة، وهذا من بركة علمه رحمه الله.
قال الشيخ عثمان بن منصور رحمه الله: (أخبرني بعض مشايخي عن أشياخهم قالوا: كل ما وضعه متأخرو الحنابلة من الحواشي على أولئك المتون ليس عليه معوَّل إلا ما وضعه الشيخ منصور، لأنه هو المحقق لذلك، إلا حاشية الخلوتي، لأن فيها فوائد جليلة) (1).
وهي على سبيل الحصر:
1 - كشاف القناع عن الإقناع.
2 - حاشية على الإقناع.
3 - شرح منتهى الإرادات، وسماه: (دقائق أولي النهى لشرح المنتهى).
4 - حاشية على المنتهى، وسماها: (إرشاد أولي النهى لدقائق المنتهى).
--------------------------------------------
৭ - শাইখ সালেহ ইবনে হাসান আল-বাহুতি (রাহিমাহুল্লাহ)।
-
তাঁর রচনাবলি:শাইখ মানসুর (রাহিমাহুল্লাহ)-এর রচনাবলি তাঁর পরবর্তী মাযহাবের উত্তরসূরি আলিমগণের কাছে প্রধান নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহে এগুলোর সবগুলোই বারবার মুদ্রিত হয়েছে এবং এগুলোর প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে। আর এটি তাঁর ইলমের বরকতেরই বহিঃপ্রকাশ।
শাইখ উসমান ইবনে মানসুর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আমার জনৈক শিক্ষক তাঁর শিক্ষকদের সূত্রে আমাকে জানিয়েছেন যে তাঁরা বলেছেন: পরবর্তীকালের হাম্বলি আলিমগণ মূল কিতাবগুলোর ওপর যত হাশিয়া বা টীকা লিখেছেন, তার কোনোটিই শাইখ মানসুরের রচনার মতো নির্ভরযোগ্য নয়; কারণ তিনি ছিলেন এ বিষয়ের গবেষক ও যাচাইকারী, তবে খালওয়াতীর হাশিয়া এর ব্যতিক্রম, কারণ তাতে অনেক মহান উপকারিতা রয়েছে) (১)।
সেগুলো নিম্নরূপ:
১ - কাশশাফুল কিনা' আনিল ইকনাহ।
২ - আল-ইকনাহ-এর ওপর হাশিয়া।
৩ - মুনতাহাল ইরাদাত-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার নাম তিনি রেখেছেন: (দাকায়িকু উলিন নুহা লি-শারহিল মুনতাহা)।
৪ - মুনতাহা-এর ওপর হাশিয়া, যার নাম তিনি রেখেছেন: (ইরশাদু উলিন নুহা লি-দাকায়িকিল মুনতাহা)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
5 - منح الشفا الشافيات في شرح المفردات.
6 - عمدة الطالب لنيل المآرب.
7 - إعلام الأعلام بقتال من انتهك حرمة البيت الحرام.
8 - منسك مختصر، لم يطبع مفرداً، وقد قام الشيخ أحمد المنقور رحمه الله بجمعه مع غيره من مناسك الأصحاب المتأخرين، وسماه: (جامع المناسك الثلاثة الحنبلية).
9 - الروض المربع شرح زاد المستقنع، وهو كتابنا هذا.
-
ثناء العلماء عليه:قال الغزي رحمه الله: (هو الشيخ الإمام شيخ الإسلام، كان إماماً هُماماً، علامة في سائر العلوم، فقيهاً متبحراً، أصوليًّا مفسراً، جبلاً من جبال العلم، وطوداً من أطواد الحكمة، وبحراً من بحور الفضائل، له اليد الطولى في الفقه والفرائض وغيرهما) (1).
وقال المحبي رحمه الله: (كان عالماً عاملاً، ورعاً متبحراً في العلوم الدينية، صارفاً أوقاته في تحرير المسائل الفقهية، رحل الناس إليه من الآفاق لأجل أخذ مذهب الإمام أحمد رضي الله عنه، فإنه انفرد في عصره بالفقه) (2).
--------------------------------------------
৫ - মিনহাহুশ শিফা আশ-শাফিয়াত ফী শারহিল মুফরাদাত।
৬ - উমদাতুত তালিব লি-নাইলিল মাআরিব।
৭ - ইলামুল আলাম বি-কিতালি মান ইনতাহাকা হুরমাতাল বাইতিল হারাম।
৮ - একটি সংক্ষিপ্ত মানাসিক (হজ্জের নিয়মাবলী), যা পৃথকভাবে মুদ্রিত হয়নি। শেখ আহমাদ আল-মানকুর (রহিমাহুল্লাহ) পরবর্তী যুগের হাম্বলী মাযহাবের অনুসারীদের অন্যান্য মানাসিকের সাথে এটি একত্রিত করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: (জামেউল মানাসিক আস-সালাসাতুল হাম্বালিয়্যাহ)।
৯ - আর-রওযুল মুরবি শারহু যাদিল মুসতাকনি, যা আমাদের এই কিতাবটি।
-
তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা:আল-গুযযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, শায়খুল ইসলাম; তিনি ছিলেন একজন মহান ইমাম, সমস্ত ইলমে পারদর্শী আল্লামা, গভীর জ্ঞানের অধিকারী ফকীহ, উসূলবিদ ও মুফাসসির। তিনি ছিলেন ইলমের পাহাড়সমূহের মধ্যে একটি পাহাড়, হিকমতের সুউচ্চ পর্বতসমূহের মাঝে একটি পর্বত এবং শ্রেষ্ঠত্বের সমুদ্রসমূহের মাঝে একটি সমুদ্র। ফিকহ, ফারায়েজ এবং অন্যান্য বিষয়ে তাঁর সুদীর্ঘ হাত ছিল) (১)।
وقال المحبي (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (তিনি ছিলেন একজন আমলকারী আলেম, মুত্তাকী এবং দ্বীনি ইলমে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী। তিনি তাঁর সময় ব্যয় করতেন ফিকহী মাসআলাসমূহ সুসংহত করার কাজে। মানুষ ইমাম আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাযহাব গ্রহণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিগন্ত থেকে তাঁর নিকট সফর করে আসত। কেননা তিনি তাঁর যুগে ফিকহশাস্ত্রে অনন্য ছিলেন) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وقال محمد الخلوتي رحمه الله في هامش المنتهى: (بلغت قراءة على شيخنا العلامة من طنَّت حصاة فضله في الأقطار، ومن لم تكتحل عين الزمان بثانية ولا اكتحلت فيما مضى من الأعصار، وهو أستاذي وخالي الراجي لطف ربه العلي) (1).
وقال ابن حميد: (وبالجملة فهو مؤيد المذهب ومحرره، وموطد قواعده ومقرره، والمعول عليه فيه، والمتكفل بإيضاح خافيه) (2).
-
وفاته:كانت وفاته ضحى يوم الجمعة عاشر شهر ربيع الثاني سنة إحدى وخمسين وألف بمصر، ودفن في تربة المجاورين رحمه الله تعالى (3).
قال الشيخ محمد الخلوتي: (مرض من يوم الأحد خامس شهر ربيع الثاني، ومات يوم الجمعة عاشره من سنة 1051 هـ، وكانت ولادته على رأس الألف، فعُمره إحدى وخمسون سنة، كسنة وفاته، رحمه الله ورفعه في الفردوس أعلى غرفاته).
--------------------------------------------
মুহাম্মদ আল-খালওয়াতি (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-মুনতাহা'র পাদটীকায় বলেছেন: (আমি আমার পাঠ সম্পন্ন করেছি আমাদের শাইখ, সেই মহান আল্লামার নিকট, যাঁর শ্রেষ্ঠত্বের খ্যাতি দিগদিগন্তে প্রতিধ্বনিত হয়েছে, এবং মহাকাল যাঁর দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তিত্বকে প্রত্যক্ষ করেনি এবং বিগত যুগসমূহেও এমন কাউকে দেখেনি; তিনি আমার উস্তাদ এবং মামা, যিনি তাঁর সুউচ্চ রবের অনুগ্রহের প্রত্যাশী) (১)।
ইবনে হুমাইদ বলেন: (সংক্ষেপে বলতে গেলে, তিনি মাযহাবের সমর্থক ও এর পরিমার্জনকারী, এর মূলনীতিসমূহের সুদৃঢ়কারী ও এর প্রতিষ্ঠাকারী, এই মাযহাবের ক্ষেত্রে তাঁর ওপরই নির্ভর করা হয় এবং এর অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যার দায়িত্ব তিনিই গ্রহণ করেছেন) (২)।
-
তাঁর মৃত্যু:তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১০৫১ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের দশম তারিখ জুমার দিন পূর্বাহ্ণে (চাশতের সময়) মিশরে, এবং তাঁকে 'মুজাওয়িরিন' গোরস্থানে দাফন করা হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন (৩)।
শাইখ মুহাম্মদ আল-খালওয়াতি বলেন: (তিনি রবিউস সানি মাসের পঞ্চম দিন রবিবার থেকে অসুস্থ ছিলেন এবং ১০৫১ হিজরি সনের দশম দিন জুমার দিনে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল সহস্রাব্দের শুরুতে, ফলে তাঁর বয়স হয়েছিল একান্ন বছর, যা তাঁর মৃত্যু সনের (হিজরি সন অনুসারে) সমান। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ কক্ষে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
توثيق اسم الكتابلم يذكر المؤلف في مقدمة كتابه اسم شرحه هذا، كما لم نقف على تسميته له في شيء من كتبه الأخرى، ولذا فإن المخطوطات التي بأيدينا اختلفت في ذكر اسم الكتاب اختلافاً يسيراً.
فجاء على غلاف النسخة التي نُسخت عام (1085 هـ) بخط أحمد اليونين البعلي، باسم: (شرح زاد المستقنع في اختصار المقنع).
وفي النسخة التي كانت عند الشيخ محمد بن إبراهيم بن سيف المتوفى بعد عام (1268 هـ)، والتي نُسخت سنة 1247 هـ، باسم: (الروض المربع بشرح زاد المستقنع مختصر المقنع).
وفي النسخة التي كانت عند الشيخ ابن سعدي باسم: (الروض المربع شرح زاد المستقنع مختصر المقنع).
وجاء في بعض النسخ الخطية الاقتصار على: (الروض المربع شرح زاد المستقنع)، وبعضها بزيادة الباء في (شرح).
وقد اعتمدنا ما في نسخة الشيخ محمد بن إبراهيم بن سيف، لكونه قد قابلها على النسخة المقروءة على المؤلف، فيقرُبُ والله أعلم أنه أخذها من تلك النسخة.
কিতাবটির নামের প্রামাণ্যতালেখক তাঁর কিতাবের ভূমিকায় তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের (শরহ) নাম উল্লেখ করেননি, যেমন আমরা তাঁর অন্য কোনো কিতাবেও এর কোনো নাম খুঁজে পাইনি; আর একারণেই আমাদের হাতে থাকা পাণ্ডুলিপিসমূহে কিতাবটির নাম উল্লেখে সামান্য পার্থক্য দেখা যায়।
আহমাদ আল-ইউনিনি আল-বা’লি-এর হস্তলিপিতে ১০৮৫ হিজরীতে অনুলিখিত কপির প্রচ্ছদে নামটি এসেছে এভাবে: (শারহু যাদিল মুসতাকনি’ ফী ইখতিসারিল মুকনি’)।
শেখ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সাইফ (যিনি ১২৬৮ হিজরীর পরে মৃত্যুবরণ করেছেন)-এর নিকট সংরক্ষিত যে কপিটি ১২৪৭ হিজরীতে অনুলিখিত হয়েছে, তাতে নাম ছিল: (আর-রওদুল মুরবি’ বিশারহি যাদিল মুসতাকনি’ মুখতাসারিল মুকনি’)।
শেখ ইবনে সাদীর নিকট সংরক্ষিত কপিতে নাম ছিল: (আর-রওদুল মুরবি’ শারহু যাদিল মুসতাকনি’ মুখতাসারিল মুকনি’)।
কিছু পাণ্ডুলিপিতে কেবল: (আর-রওদুল মুরবি’ শারহু যাদিল মুসতাকনি’) হিসেবে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার কোনো কোনোটিতে (শারহ) শব্দের শুরুতে ‘বা’ হরফটি অতিরিক্ত আনা হয়েছে।
আমরা শেখ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সাইফের কপির পাঠকে গ্রহণ করেছি, কারণ তিনি এটি লেখকের সামনে পঠিত পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়েছিলেন; ফলে আল্লাহই ভালো জানেন, এটিই অধিক যুক্তিযুক্ত যে তিনি সেই কপি থেকেই নামটি গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وصف النسخ الخطيةإن لكتاب الروض المربع حظوةً كبيرةً لدى علماء المذهب منذ حياة الشيخ منصور البهوتي إلى يومنا هذا، مما جعل الكتاب يَكثُرُ نَسخُه والعنايةُ به، ولذا نجد في مكتبات المخطوطات العامة والخاصة عدداً وافراً من النسخ الخطية لهذا الكتاب تصل إلى العشرات، منها ما هو كامل، ومنها ما فيه نقص يسير، ومنها ما نقصه كثير.
كما أن هذه النسخ تختلف من حيثُ الصحة والضبط والإتقان، ومن حيث عناية أهل العلم بها، وما إلى ذلك من الفروقات المعروفة عند أهل العلم عامة وأهل المخطوطات خاصة.
وقد اطلعنا على عدد كبير من نسخ الروض المربع، وجمعنا منها ما أمكننا جمعه، وقمنا بالنظر فيها والمقارنة بينها، فاخترنا منها ست نسخ، هي أفضلها وأصحها على ما نعتقد، والله أعلم.
-
نسخة المكتبة العباسية في البصرة:يجدر الإشارة إلى أن بعض فهارس المخطوطات ذكرت أن ثَمَّ نسخة من نسخ الروض المربع هي بخط المؤلف رحمه الله، وأن هذه النسخة محفوظة في المكتبة العباسية بالبصرة ورقمها (590)، وعدد أوراقها (404) ورقة، وبسبب الظروف التي تمر بها العراق من فتن
পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণশায়খ মানসুর আল-বাহুতী রহ.-এর জীবদ্দশা থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মাযহাবের আলেমদের নিকট 'আর-রওদুল মুরবি' কিতাবটি অত্যন্ত সমাদৃত। এই গ্রহণযোগ্যতার কারণে কিতাবটির প্রচুর অনুলিপি তৈরি করা হয়েছে এবং এর প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে। এই কারণেই আমরা সরকারি ও বেসরকারি পাণ্ডুলিপি পাঠাগারগুলোতে এই কিতাবটির বহুসংখ্যক পাণ্ডুলিপি দেখতে পাই, যার সংখ্যা কয়েক ডজন পর্যন্ত পৌঁছায়। এগুলোর মধ্যে কোনোটি পূর্ণাঙ্গ, কোনোটিতে সামান্য অসম্পূর্ণতা রয়েছে, আবার কোনোটিতে অসম্পূর্ণতা অনেক বেশি।
আবার এই পাণ্ডুলিপিগুলো সঠিকতা, নির্ভুলতা ও নিপুণতার দিক থেকে এবং আলেমদের এগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়ার দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন স্তরের। এছাড়াও পাণ্ডুলিপিগুলোর মাঝে আরও বিভিন্ন প্রকারের পার্থক্য বিদ্যমান যা সাধারণ আলেম সমাজ এবং বিশেষ করে পাণ্ডুলিপি বিশারদদের নিকট সুপরিচিত।
আমরা আর-রওদুল মুরবি-র বিপুল সংখ্যক পাণ্ডুলিপি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব তা সংগ্রহ করেছি। এরপর আমরা সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা ও পারস্পরিক তুলনা করেছি। পরিশেষে আমরা ছয়টি পাণ্ডুলিপি নির্বাচন করেছি, যেগুলো আমাদের বিশ্বাস অনুযায়ী সর্বাপেক্ষা উত্তম ও নির্ভুল। আর আল্লাহ্ই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।
-
বসরার মাকতাবাতুল আব্বাসিয়ার পাণ্ডুলিপি:এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, পাণ্ডুলিপির কিছু ক্যাটালগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আর-রওদুল মুরবি-র এমন একটি পাণ্ডুলিপি আছে যা স্বয়ং লেখকের (রহ.) হস্তলিপি। এই পাণ্ডুলিপিটি বসরার মাকতাবাতুল আব্বাসিয়ায় সংরক্ষিত রয়েছে যার নম্বর হলো (৫৯০) এবং এর পত্র সংখ্যা (৪০৪)টি। ইরাকের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে...
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
ومحن صَعُب على الباحثين الوصول إليها للتحقق من صحة ذلك وعدمه، وقد امتن الله علينا بالحصول على صورة كاملة من هذه النسخة عن طريق أحد الأخوة الفضلاء من سكان البصرة.
وبعد النظر في النسخة المنسوبة إلى خط المؤلف وعرضها على بعض خبراء المخطوطات، والمقارنة بين خطها وخط البهوتي كما في الإجازة التي كتبها بخطه لأحد تلاميذه، تبين لنا والله أعلم: أن هذه النسخة ليست بخط المؤلف، بل فيها من السقط والغلط والتصحيف ما يبعد أن تكون بخط مؤلفها، كما أنها نسخة مكتوبة بخط نجدي ملون تشير إلى أن نسخها متأخر، ولعله في القرن الثاني أو الثالث عشر الهجري.
ونذكر نوعين من الخطأ يدلان على استحالة كون هذه النسخة بخط المؤلف:
الأول: تكرار الجملة: وذلك أنه جاء في النسخة المنسوبة إلى خط المؤلف في باب صفة الصلاة ما نصه: (أو تعمد المصلي ترك ركن، أو واجب بطلت صلاته، ولو تركه لشك في وجوبه، وإن ترك ولو تركه لشك في وجوبه، وإن ترك الركن سهوا فيأتي به).
ومثل هذا النوع من التكرار لا يقع به المؤلفون، وإنما يكون من أخطاء النُّساخ عادة.
এবং এটি এমন একটি বিষয় যা গবেষকদের পক্ষে এর সত্যতা বা অসত্যতা যাচাই করার জন্য পৌঁছানো কঠিন ছিল। আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন বসরার একজন সম্মানিত ভাইয়ের মাধ্যমে এই পাণ্ডুলিপির একটি পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি লাভ করার তৌফিক দিয়ে।
লেখকের হস্তাক্ষর বলে দাবি করা এই পাণ্ডুলিপিটি পর্যালোচনার পর এবং তা পাণ্ডুলিপি বিশেষজ্ঞদের নিকট উপস্থাপন করার পর, এবং এর হস্তাক্ষরের সাথে আল-বাহুতির হস্তাক্ষরের তুলনা করার পর (যেমনটি তিনি তার এক ছাত্রের জন্য স্বহস্তে লিখিত ইজাজতে পাওয়া যায়), আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়েছে—এবং আল্লাহই ভালো জানেন—যে: এই পাণ্ডুলিপিটি লেখকের হস্তাক্ষরে নয়। বরং এতে এমন সব বিচ্যুতি, ভুল এবং শব্দগত বিকৃতি রয়েছে যা লেখকের নিজস্ব হস্তাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়। তদুপরি, এটি নজদি রঙিন লিপিতে লিখিত একটি অনুলিপি যা নির্দেশ করে যে এটি অনেক পরের সময়ের অনুলিপি, সম্ভবত হিজরি দ্বাদশ বা ত্রয়োদশ শতাব্দীর।
আমরা দুই ধরণের ভুলের কথা উল্লেখ করছি যা এই পাণ্ডুলিপিটি লেখকের হস্তাক্ষরে হওয়া অসম্ভব বলে প্রমাণ করে:
প্রথম: বাক্যের পুনরাবৃত্তি: লেখকের হস্তাক্ষর বলে দাবিকৃত পাণ্ডুলিপিটির 'নামাজের পদ্ধতি' অধ্যায়ে নিম্নোক্ত পাঠ্যটি এসেছে: (অথবা যদি মুসল্লি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো রুকন বা ওয়াজিব বর্জন করে তবে তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে, যদিও সে তা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহের কারণে বর্জন করে থাকে, আর যদি বর্জন করে যদিও সে তা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহের কারণে বর্জন করে থাকে, আর যদি রুকন ভুলবশত বর্জন করে তবে তা পালন করবে)।
এই ধরণের পুনরাবৃত্তি সাধারণত লেখকদের পক্ষ থেকে ঘটে না, বরং এগুলো সচরাচর অনুলিপিকারকদের ভুল হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
الثاني: سقط سطر كامل: وذلك أن نُسَخ الروض المربع جاء فيها في باب صلاة العيدين ما نصه: (ثم يقرأ جهراً؛ لقول ابن عمر: «كان النبي صلى الله عليه وسلم يجهر بالقراءة في العيدين والاستسقاء» رواه الدارقطني، في الأولى بعد الفاتحة بـ (سبح) وبـ (الغاشية في الثانية)؛ لقول سمرة: «إن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقرأ في العيدين بـ (سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى) [الأعلى: 1] و (هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ) [الغاشية: 1]» رواه أحمد).
وفي النسخة المنسوبة إلى خط المؤلف سقط السطر المظلل، ومثل هذا إنما يقع عادة من النساخ حيث تنتقل عين الناسخ حال النسخ من سطر إلى سطر إذا كان ثَمَّ كلمة متشابهة في السطرين، وهذا هو الذي حصل في هذه النسخة والله أعلم، ولذا دخل حديث في حديث، ومثل ذلك لا يقع من المؤلف نفسه.
وقد يكون السبب الذي دعا بعض فهارس المخطوطات القول بأنها بخط المؤلف، ما كُتب عليها - وبخط حديث - في أول أوراق المخطوط في هامشها: (هذه نسخةٌ بخط المؤلف)، ويظهر أن كاتب هذه العبارة هو أحد المفهرسين في المكتبة العباسية، ولعل الذي حداه إلى ذلك أنه لم ير في آخرها اسم للناسخ وتاريخ النسخ، وإنما كُتب في آخرها ما يُكتب عادة في كثير من المخطوطات: (وكتبه جامعه فقير رحمة ربه العلي منصور بن يونس بن صلاح الدين بن حسن بن أحمد بن علي بن إدريس البهوتي
দ্বিতীয়: একটি পূর্ণ লাইন বাদ পড়েছে। আর তা হলো এই যে, ‘আর-রওযুল মুরবি’র পাণ্ডুলিপিগুলোতে দুই ঈদের সালাতের অধ্যায়ে যে পাঠটি এসেছে তা হলো: (অতঃপর তিনি উচ্চৈঃস্বরে তিলাওয়াত করবেন; ইবনে উমরের উক্তির কারণে: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ঈদ ও ইস্তিসকার সালাতে উচ্চৈঃস্বরে তিলাওয়াত করতেন।” এটি দারাকুতনি বর্ণনা করেছেন। প্রথম রাকাতে ফাতিহার পর ‘সাব্বিহ’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘গাশিয়াহ’ পাঠ করবেন; সামুরার উক্তির কারণে: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ঈদে ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা’ এবং ‘হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ’ পাঠ করতেন।” এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন)।
আর লেখকের হস্তলিপি হিসেবে পরিচিত পাণ্ডুলিপিটিতে চিহ্নিত লাইনটি বাদ পড়েছে। সাধারণত নকলকারীদের (নাসেখ) ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে থাকে, যখন কপি করার সময় নাসেখের দৃষ্টি এক লাইন থেকে অন্য লাইনে চলে যায় যদি দুই লাইনে একই ধরণের কোনো শব্দ থাকে। এই পাণ্ডুলিপিতেও ঠিক এমনটাই ঘটেছে, আল্লাহই ভালো জানেন। এই কারণে এক হাদিস অন্য হাদিসের সাথে মিশে গেছে, আর এই ধরনের ভুল স্বয়ং লেখকের পক্ষ থেকে ঘটা অসম্ভব।
কিছু পাণ্ডুলিপি তালিকায় এটিকে লেখকের হস্তলিপি বলে উল্লেখ করার কারণ হতে পারে পাণ্ডুলিপির প্রথমদিকের পৃষ্ঠাগুলোর পার্শ্বটীকায় আধুনিক হাতের লেখায় যা লেখা হয়েছে: (এটি লেখকের স্বহস্তে লিখিত একটি কপি)। প্রতীয়মান হয় যে, এই বাক্যটির লেখক আব্বাসিয়া লাইব্রেরির কোনো এক তালিকাভুক্তকারী। সম্ভবত তাকে এটি করতে উদ্বুদ্ধ করেছে এই বিষয়টি যে, তিনি এর শেষে কোনো নকলকারীর নাম বা নকল করার তারিখ দেখতে পাননি। বরং এর শেষে তা-ই লেখা ছিল যা সাধারণত অনেক পাণ্ডুলিপিতে লেখা হয়ে থাকে: (আর এটি লিখেছেন এর সংকলক, তার সুউচ্চ রবের রহমতের কাঙাল মনসুর ইবনে ইউনুস ইবনে সালাহুদ্দীন ইবনে হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে আলী ইবনে ইদরীস আল-বাহুতী)।
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
الحنبلي)، فظن والله أعلم أن هذه النسخة هي نسخة المؤلف نفسه.
وفي بداية شروعنا في التحقيق اعتمدنا هذه النسخة من ضمن النسخ المعتمدة في التحقيق، ثم تبين لنا أثناء المقابلة أن النسخة فيها من السقط والتصحيف والخطأ ما لا يصلح أن تكون من ضمن النسخ المتقنة المحررة، ولذا قمنا باستبعادها.
وعوضنا الله تعالى بنسخة، وهي نسخة محررة مقروءة على المؤلف وهو ماسك بأصله، وقد قُرئت عليه في آخر حياته، مما يعني أنها من أعلى النسخ جودة وإتقاناً وتحريراً وتصحيحاً، فجعلناها هي الأصل في تحقيقنا.
وفي هذه النسخة سقط في أولها وآخرها وفي أثنائها - وليس هو بالكثير -، فمنَّ الله علينا مرة أخرى بأن وقعنا على نسخة لم يعتمدها أحد في التحقيقات السابقة أيضاً، وهي نسخة الشيخ إبراهيم بن راشد الحنبلي، حيث قام صاحبها وهو الشيخ محمد بن الشيخ إبراهيم بن سيف رحمه الله بمقابلتها على النسخة السابقة كاملة، فتداركنا السقط الحاصل في الأصل من النسخة الأخرى، والتي تكاد تكون متطابقة تماماً مع النسخة المقروءة على المؤلف، وكان المحشِّي يسمي النسخة المقروءة على المؤلف في الهوامش بـ (النسخة المحررة)، فصارت النسخة المقروءة على المؤلف كاملة ولله الحمد والمنة.
আল-হাম্বলি), ফলে তিনি ধারণা করেছিলেন—আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন—যে এই পাণ্ডুলিপিটি খোদ লেখকের নিজস্ব কপি।
আমাদের সম্পাদনা কার্যক্রমের শুরুতে আমরা এই পাণ্ডুলিপিটিকে নির্ভরযোগ্য কপিগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম; কিন্তু পরবর্তীতে পাঠ-মোকাবেলার সময় আমাদের নিকট স্পষ্ট হলো যে, এতে এমন কিছু বাদ পড়া অংশ, শব্দ বিকৃতি ও ভুলভ্রান্তি রয়েছে যার ফলে এটি সুসংহত ও সম্পাদিত পাণ্ডুলিপিগুলোর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার উপযুক্ত নয়। এই কারণে আমরা একে বর্জন করেছি।
অতঃপর আল্লাহ তা'আলা এর পরিবর্তে আমাদের এমন একটি পাণ্ডুলিপি দান করলেন যা লেখকের উপস্থিতিতে তাঁর মূল কপির সাথে মিলিয়ে পাঠ করা হয়েছিল। এটি তাঁর জীবনের শেষভাগে তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছিল, যার অর্থ হলো এটি গুণগত মান, নিখুঁত হওয়া, সম্পাদনা ও সংশোধনের দিক থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের। তাই আমরা আমাদের সম্পাদনায় একেই মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি।
এই পাণ্ডুলিপিটির শুরুতে, শেষে এবং মাঝখানে কিছু অংশ বাদ পড়েছিল—যদিও তা পরিমাণে খুব বেশি ছিল না। অতঃপর আল্লাহ আমাদের প্রতি পুনরায় দয়া করলেন যে আমরা এমন একটি পাণ্ডুলিপি পেয়ে গেলাম যা পূর্ববর্তী কোনো সম্পাদনাতেই কেউ ব্যবহার করেনি; আর সেটি হলো শাইখ ইবরাহীম বিন রাশিদ আল-হাম্বলীর কপি। এর অধিকারী শাইখ মুহাম্মাদ বিন শাইখ ইবরাহীম বিন সাইফ (রাহিমাহুল্লাহ) পূর্বোক্ত পাণ্ডুলিপিটির সাথে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে মিলিয়ে দেখেছিলেন। এর মাধ্যমে আমরা মূল পাণ্ডুলিপিতে থাকা ঘাটতিগুলো অন্য পাণ্ডুলিপিটি থেকে পূরণ করে নিয়েছি, যা লেখকের সামনে পঠিত পাণ্ডুলিপিটির সাথে প্রায় হুবহু মিলে যায়। টীকাকার পার্শ্বটীকায় লেখকের সামনে পঠিত কপিটিকে 'সম্পাদিত কপি' নামে অভিহিত করতেন। ফলে লেখকের সামনে পঠিত পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপিটি সুসম্পন্ন হলো, সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল আল্লাহরই।
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
ثم اخترنا أربع النسخ أخرى متميزة، هي أعلى نُسخ الكتاب فيما اطلعنا عليه، وأضبطها وأتقنها والله أعلم، فكان
مجموع النسخ المعتمدة في هذه التحقيق ست نسخ، وهي كالتالي:
الأولى: النسخة المقروءة على المؤلف:ورمزنا لها بـ (الأصل)، وهي من مصورات جامعة الملك سعود في الرياض، برقم (3883)، وعدد أوراقها (174) ورقة، ولا يوجد عليها اسم الناسخ ولا تاريخ النسخ، وذلك للسقط الواقع في أول النسخة وفي آخرها.
وهي نسخة نفيسة واضحة، قديمة، وذلك أنها مقروءة على المؤلف، فهي بلا شك نسخة أحد تلاميذه النجباء، فقرأها على الشيخ منصور البهوتي رحمه الله، وقاما بتصحيحها وضبطها.
وجاء في بداية كتاب الطلاق، في الهامش ما نصه: (إلى هنا بلغ على المؤلف تحريراً ومقابلة وهو ماسك بأصله، ثم توفي إلى رحمة الله تعالى نهار الجمعة عاشر ربيع الثاني من شهور سنة 1051 في الجامع الأزهر).
كما يوجد في النسخة حواشٍ، منها ما هو بنفس خط الناسخ، ومنها ما هو بخط آخر، مما يدل على أن النسخة قد وليت عناية من أهل العلم.
এরপর আমরা আরও চারটি স্বতন্ত্র পাণ্ডুলিপি নির্বাচন করেছি, যা আমাদের দেখা পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ মানের এবং সবচেয়ে সঠিক ও নিখুঁত; আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। ফলে
এই গবেষণায় নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়টি, যা নিম্নরূপ:প্রথম: লেখকের নিকট পঠিত পাণ্ডুলিপি:আমরা এটিকে (মূল) হিসেবে সংকেতবদ্ধ করেছি। এটি রিয়াদের কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির অন্তর্ভুক্ত, যার নম্বর (৩৮৮৩)। এর পত্র সংখ্যা (১৭৪টি)। পাণ্ডুলিপির শুরুতে ও শেষে কিছু অংশ হারিয়ে যাওয়ার কারণে এতে লিপিকারের নাম বা অনুলিপির তারিখ পাওয়া যায়নি।
এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান, স্পষ্ট ও প্রাচীন পাণ্ডুলিপি; কারণ এটি লেখকের নিকট পঠিত হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি তাঁর কোনো এক মেধাবী ছাত্রের অনুলিপি, যিনি এটি শায়খ মানসুর আল-বাহুতি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর নিকট পাঠ করেছিলেন এবং তারা উভয়ে মিলে এটি সংশোধন ও পরিমার্জন করেছিলেন।
কিতাবুত তালাক (তালাক অধ্যায়)-এর শুরুতে পার্শ্বটীকায় এই বক্তব্যটি এসেছে: (সম্পাদনা ও মূলের সাথে মিলিয়ে দেখা লেখকের নিকট এই পর্যন্ত সমাপ্ত হয়েছে এবং তিনি তাঁর মূল পাণ্ডুলিপিটি হাতে ধরে ছিলেন। অতঃপর তিনি ১০৫১ হিজরী সনের রবিউস সানি মাসের ১০ তারিখ শুক্রবার জুমার মসজিদে [জামে আজহার] আল্লাহর রহমতের দিকে পাড়ি জমিয়েছেন)।
এছাড়াও পাণ্ডুলিপিটিতে কিছু টীকা রয়েছে, যার কিছু অংশ লিপিকারের নিজস্ব হস্তাক্ষরে এবং কিছু অংশ অন্য হাতের লেখায়; যা প্রমাণ করে যে, পাণ্ডুলিপিটি আলেমদের বিশেষ মনোযোগ ও যত্ন লাভ করেছে।
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
وما بعد كتاب الطلاق - أي: من بعد وفاة المؤلف- يوجد عليها مقابلات وتصحيحات، ولذا فإن الشيخ محمد بن إبراهيم بن سيف -صاحب النسخة الثانية من الروض المربع الآتي ذكرها- كتب على هامش نسخته في آخر كتاب الإقرار، والتي قام بمقابلتها على هذه النسخة، ويسميها بـ (النسخة المحررة)، ما نصه: (بلغ من كتاب الطلاق إلى قوله هنا (الرجال) مقابلة مرتين، الأولى متناً والثانية متناً وشرحاً على أصلها، لكن هذه المذكور لم يحرر على المؤلف كما تقدم عند كتاب الطلاق، وهذا المذكور عليه أثر مقابلة، فأرجو أنه مقابل على نسخة المؤلف، فالحمد لله رب العالمين، وجزى الله المؤلف وإيانا وسائر المسلمين خيراً، وصلى الله عليه وسلم وآله وصحبه وسلم تسليماً).
الثانية: نسخة الشيخ محمد بن إبراهيم بن سيف رحمه الله:ورمزنا لها بـ (ح)، وهي من محفوظات جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، برقم (9117)، وعدد أورقها (303).
اسم الناسخ: إبراهيم بن راشد الحنبلي، برسم الشيخ محمد بن إبراهيم بن سيف.
تاريخ النسخ: 1247 هـ
وهي نسخة كاملة، مرتبة وحسنة الخط، ولا توجد بها آفات، وهي نسخة نفيسة جداً، مقابلة بعناية ولعدة مرات، ومصححة
এবং তালাক অধ্যায়ের পরবর্তী অংশে—অর্থাৎ লেখকের মৃত্যুর পর থেকে—এর ওপর পাঠ তুলনা ও সংশোধন বিদ্যমান রয়েছে। এই কারণে শায়খ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন সাইফ—যিনি সামনে উল্লেখিত রওদুল মুরবি-এর দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটির স্বত্বাধিকারী—তিনি ইকরার (স্বীকৃতি) অধ্যায়ের শেষে তার পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটিকায় লিখেছেন, যা তিনি এই পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে পাঠ তুলনা করেছেন এবং একে তিনি 'সম্পাদিত পাণ্ডুলিপি' বলে অভিহিত করেছেন। যার মূল পাঠ হলো: (তালাক অধ্যায় থেকে শুরু করে এখানে 'পুরুষগণ' শব্দ পর্যন্ত দুইবার পাঠ তুলনা করা হয়েছে; প্রথমবার কেবল মূল পাঠ এবং দ্বিতীয়বার মূল পাঠ ও ব্যাখ্যাসহ এর মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে। তবে এই উল্লিখিত অংশটি লেখকের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়নি যেমনটি তালাক অধ্যায়ের শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর ওপর পাঠ তুলনার চিহ্ন রয়েছে, তাই আমি আশা করি এটি লেখকের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহ লেখককে, আমাদের এবং সকল মুসলিমকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত ও অধিকহারে সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীগণের প্রতি।)
দ্বিতীয়: শায়খ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন সাইফ রহিমাহুল্লাহ-এর পাণ্ডুলিপি:আমরা এটিকে (হা) বর্ণ দ্বারা সংকেত প্রদান করেছি এবং এটি ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত সংগ্রহশালার অন্তর্ভুক্ত, যার নম্বর (৯১১৭) এবং এর পত্র সংখ্যা (৩০৩)।
অনুলিপিকারের নাম: ইব্রাহিম বিন রাশিদ আল-হাম্বলি, শায়খ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন সাইফ-এর আগ্রহে অনুলিপি করা হয়েছে।
অনুলিপির তারিখ: ১২৪৭ হিজরি
এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি, সুশৃঙ্খল এবং সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখিত এবং এতে কোনো ত্রুটি নেই। এটি অত্যন্ত মূল্যবান একটি পাণ্ডুলিপি, যা অত্যন্ত যত্নের সাথে কয়েকবার পাঠ তুলনা ও সংশোধন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
ومقروءة على عدد من العلماء، وتوجد بها الكثير من النقول والحواشي والفوائد، بل وتوجد أوراق بين صفحات المخطوط بها تعليقات كثيرة لضيق هواش المخطوط بالفوائد على سعة حجم الهامش.
وهذه النسخة مقابلة على النسخة السابقة (الأصل)، وذلك أنه مراراً يقول: (بلغ مقابلة على النسخة المحررة)، وتارة يقول: (بلغ مقابلة على النسخة المقروءة على المؤلف)، بل جاء عند كتاب الطلاق، ما نصه: (وجدت في أصل هذه النسخة في هذا الموضع عند آخر باب الخلع ما لفظه: إلى هنا بلغ على المؤلف تحريراً ومقابلة وهو ماسك بأصله) إلى آخر الكلام السابق الموجود في نسخة الأصل.
وهذه النسخة من أملاك الشيخ محمد بن إبراهيم بن سيف رحمه الله، المتوفى بعد عام 1268 هـ، وقد عُين قاضياً في مدينة حائل، وانتهى إليه الإفتاء والتدريس فيها وما حولها، وقد تلقى العلم عن جماعة من العلماء، منهم: والده الشيخ إبراهيم بن سيف، والعلامة عبد الرحمن بن حسن آل الشيخ، والشيخ عبد الله بن عبد الرحمن أبا بطين، والشيخ أحمد بن حسن بن رشيد الحنبلي رحمهم الله وغيرهم.
وطرَّز ابن سيف على حواشي نسخته هذه جملة من النقول
এটি বেশ কয়েকজন আলেমের নিকট পঠিত হয়েছে। এতে প্রচুর পরিমাণে উদ্ধৃতি, পার্শ্বটীকা ও তাত্ত্বিক আলোচনা রয়েছে; এমনকি মার্জিন অনেক প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তথ্যের আধিক্যের কারণে সেখানে সংকুলান না হওয়ায় পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠাগুলোর মাঝে মন্তব্য সংবলিত অনেক কাগজ যুক্ত করা হয়েছে।
এই সংস্করণটি পূর্ববর্তী মূল সংস্করণের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে; কারণ এতে বারবার বলা হয়েছে: (পরিমার্জিত কপির সাথে মিলিয়ে দেখা সম্পন্ন হয়েছে), এবং কখনো বলা হয়েছে: (লেখকের নিকট পঠিত সংস্করণের সাথে মিলিয়ে দেখা সম্পন্ন হয়েছে)। এমনকি 'কিতাবুত তালাক'-এর খুলা পরিচ্ছেদের শেষে নিম্নোক্ত বক্তব্য পাওয়া গেছে: (আমি এই সংস্করণের মূলে এই স্থানে খুলা পরিচ্ছেদের শেষে এই কথাগুলো পেয়েছি: এ পর্যন্ত লেখকের সামনে পরিমার্জন ও মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং তখন তিনি তার মূল কপিটি হাতে ধরে ছিলেন) - মূল সংস্করণে বিদ্যমান পূর্বোক্ত বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।
এই সংস্করণটি শেখ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন সাইফ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মালিকানাধীন ছিল, যিনি ১২৬৮ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি হাইল শহরের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং ওই অঞ্চলে ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ফতোয়া প্রদান ও পাঠদানের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত তাঁর ওপরই ন্যস্ত ছিল। তিনি একদল উলামার নিকট ইলম অর্জন করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: তাঁর পিতা শেখ ইব্রাহিম বিন সাইফ, আল্লামা আবদুর রহমান বিন হাসান আল-শেখ, শেখ আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আবা বাতিন এবং শেখ আহমদ বিন হাসান বিন রশিদ আল-হাম্বলি (রহিমাহুমুল্লাহ) ও অন্যান্যরা।
ইবনে সাইফ তাঁর এই কপির মার্জিনে বেশ কিছু উদ্ধৃতি সুনিপুণভাবে সংযোজন করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الفقهية التي استفادها من شيوخه وغيرهم من علماء نجد في ذلك الزمان كالشيخ محمد بن طراد، وعموم علماء المذهب المتأخرين كابن عوض والشيخ منصور البهوتي وغيرهم.
كما أن ابن سيف قرأ نسخته هذه على اثنين من مشايخه:
الأول: الشيخ عبد الله أبا بطين رحمه الله، فقد جاء في آخرها: (كمل هذا الشرح الشريف قراءة وبحثاً الولد الأديب والابن الأريب محمد ابن الشيخ إبراهيم بن سيف، زاده الله فهماً وعلماً، ووهب لنا وله حكماً، كتبه عبد الله بن عبد الرحمن أبابطين).
الثاني: الشيخ أحمد بن حسن بن رشيد الحنبلي رحمه الله، حيث جاء في هوامش النسخة: (بلغ قراءة على شيخنا أحمد بن رشيد الحنبلي دامت إفادته، وذلك بمصر سنة 1255 هـ).
فتميزت هذه النسخة بأمور منها: بأنها ملك أحد العلماء القضاة المعلمين، وأنها مقروءة على علماء زمانهم في المذهب الحنبلي، وأنها مقابلة على جملة من النسخ الخطية الأخرى والتي من أهمها النسخة المقروءة على المؤلف.
الثالثة: نسخة أحمد بن محمد اليونين البعلي رحمه الله:ورمزنا لها بـ (ق)، وهي من محفوظات دارة الملك عبد العزيز - الرياض -، برقم (2695)، ضمن مخطوطات الشيخ الرشيد،
ফিকহি বিষয়াবলি যা তিনি তার শায়খদের থেকে এবং সেই সময়ের নজদের অন্যান্য আলেমদের থেকে অর্জন করেছিলেন, যেমন শায়খ মুহাম্মাদ বিন তুরাদ এবং মাজহাবের পরবর্তী যুগের সাধারণ আলেমগণ যেমন ইবনে আওয়াদ ও শায়খ মানসুর আল-বাহুতি ও অন্যান্যগণ।
তেমনিভাবে ইবনে সাইফ তার এই পাণ্ডুলিপিটি তার দুইজন শায়খের নিকট পাঠ করেছিলেন:
প্রথমজন: শায়খ আবদুল্লাহ আবা বুতাইন (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন)। এর শেষে বর্ণিত হয়েছে: (এই মহিমান্বিত ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পাঠ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন সংস্কৃতিবান ও বুদ্ধিমান সন্তান মুহাম্মাদ ইবনুল শায়খ ইবরাহীম বিন সাইফ, আল্লাহ তার বোধশক্তি ও ইলম বৃদ্ধি করুন এবং আমাদের ও তাকে প্রজ্ঞা দান করুন। এটি লিখেছেন আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবা বুতাইন)।
দ্বিতীয়জন: শায়খ আহমাদ বিন হাসান বিন রুশাইদ আল-হাম্বলি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন)। পাণ্ডুলিপিটির পার্শ্বটিকায় এসেছে: (আমাদের শায়খ আহমাদ বিন রুশাইদ আল-হাম্বলির নিকট পাঠ সমাপ্ত হয়েছে, তার ফয়েজ অব্যাহত থাকুক। আর এটি ১২৫৫ হিজরি সনে মিসরে সম্পন্ন হয়েছে)।
এই পাণ্ডুলিপিটি বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র: এটি একজন আলেম, বিচারক ও শিক্ষকের মালিকানাধীন ছিল; এটি তাদের সময়ের হাম্বলি মাজহাবের আলেমদের নিকট পঠিত; এবং এটি আরও অনেকগুলো পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সম্পাদিত হয়েছে যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো লেখকের নিকট পঠিত পাণ্ডুলিপিটি।
তৃতীয়: আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-ইউনিনি আল-বালি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন)-এর পাণ্ডুলিপি:আমরা একে (ক্বফ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি, এটি রিয়াদের ‘দারাতে মালিক আব্দুল আজিজ’-এ শায়খ রুশাইদের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের অধীনে ২৬৯৫ নম্বরে সংরক্ষিত আছে।
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وعدد أوراقها (266).
ناسخها: أحمد بن محمد بن أحمد اليونين البعلي.
تاريخ النسخ: سنة 1085 هـ.
وهي نسخة كاملة، واضحة، قريبة من عهد المؤلف، قليلة الأخطاء، وعليها تصحيحات وتعليقات وتملكات.
ويظهر والله أعلم أنها منسوخة من نسخة أحد تلاميذ المؤلف، حيث جاء في باب الاستنجاء ما نصه: (قال شيخنا الشيخ منصور: إلا أن يكون متحدث الناس في غيبة ونميمة)، فيظهر أن الناسخ كان ينسخ من نسخة أحد تلاميذ المؤلف، وجاء في هامشها الكلام المذكور، فظنه الناسخ أنه من أصل الكتاب فنسخها على ذلك.
وهذه النسخة كانت في أملاك الشيخ قرناس القرناس رحمه الله المتوفى سنة 1262 هـ، قاضي القصيم في وقته، ثم انتقلت إلى ابنه الشيخ صالح بن قرناس رحمه الله المتوفى سنة 1336 هـ، قاضي الرس في وقته، وذلك يظهر من التملكات التي على المخطوط.
كما أن النسخة عليها قراءة على الشيخ عبدالله أبابطين وتقريراته، وقراءة الشيخ صالح بن قرناس وبحثه على شيخه سليمان بن علي المقبل سنة 1280 هـ، وقراءته وبحثه على شيخه علي آل محمد سنة 1282 هـ، وتقريراتهما، وتعليقات أخرى.
এবং এর পৃষ্ঠাসংখ্যা (২৬৬)।
এর লিপিকার: আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ইউনিনি আল-বালি।
প্রتিলিপিকরণের তারিখ: ১০৮৫ হিজরি সন।
এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্ট পাণ্ডুলিপি, যা লেখকের সমসাময়িক কালের কাছাকাছি সময়ের, এতে ভুলত্রুটি কম এবং এতে সংশোধনী, টীকা ও মালিকানা স্বত্বের বিবরণ রয়েছে।
আল্লাহই ভালো জানেন, দৃশ্যত এটি লেখকের কোনো এক ছাত্রের অনুলিপি থেকে প্রতিলিপি করা হয়েছে; কেননা ইস্তিনজা (শৌচকার্য) অধ্যায়ে এই পাঠটি এসেছে: (আমাদের শায়খ শায়খ মানসুর বলেছেন: তবে মানুষের কথাবার্তা যদি গিবত ও পরনিন্দার অন্তর্ভুক্ত হয়), এতে প্রতীয়মান হয় যে, লিপিকার লেখকের কোনো একজন ছাত্রের অনুলিপি থেকে প্রতিলিপি করছিলেন এবং তার মার্জিনে উল্লিখিত কথাটি ছিল, ফলে লিপিকার সেটাকে মূল বইয়ের অংশ মনে করে সেভাবেই প্রতিলিপি করেছেন।
এই পাণ্ডুলিপিটি শায়খ কিরনাস আল-কিরনাস (রহিমাহুল্লাহ)-এর মালিকানাধীন ছিল, যিনি ১২৬২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং তৎকালীন কাসিমের বিচারক (কাজি) ছিলেন। পরবর্তীতে এটি তাঁর পুত্র শায়খ সালিহ বিন কিরনাস (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট হস্তান্তরিত হয়, যিনি ১৩৩৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং তৎকালীন আর-রাসের বিচারক ছিলেন। পাণ্ডুলিপিতে থাকা মালিকানা স্বত্বের বিবরণ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
এছাড়াও এই পাণ্ডুলিপিটিতে শায়খ আব্দুল্লাহ আবা বুতাইন-এর নিকট পাঠ ও তাঁর সত্যায়ন (তাকরীর), ১২৮০ হিজরিতে শায়খ সালিহ বিন কিরনাস কর্তৃক তাঁর উস্তাদ সুলাইমান বিন আলি আল-মুকবিল-এর নিকট পাঠ ও গবেষণা, এবং ১২৮২ হিজরিতে তাঁর উস্তাদ আলি আল-মুহাম্মদ-এর নিকট পাঠ ও গবেষণা, তাঁদের উভয়ের সত্যায়ন এবং অন্যান্য টীকাও রয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আর-রওদুল মুরবি' বিশারহি যাদিল মুস্তাকনি - ত রাকাযিজ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
الرابعة: نسخة الشيخ ابن سعدي رحمه الله:ورمزنا لها بـ (أ)، وهي من محفوظات مكتبة عنيزة الوطنية، ورقمها (17751)، وعدد أوراقها (268).
لا يوجد عليها اسم الناسخ، ولا تاريخ النسخ.
وهي مقابلة ومصححة، جاء في آخرها: (بلغ مقابلة وتصحيحاً بين سبع نسخ، نسختين من الطبع، وخمس نسخ خطية معتبرة مصححة، بعضها على خط المؤلف، وذلك بمقابلة الفقير إلى الله عبد الرحمن بن ناصر السعدي سنة 1340 هـ).
ويوجد على حواشي النسخة بعض النقولات والتعليقات والتصحيحات.
ومما يدل على تميز هذه النسخة ما جاء في هامشها في باب المساقاة: (بلغ مقابلة على نسخة عليها خط المؤلف).
الخامسة: نسخة الشيخ أبا الخيل رحمه الله:ورمزنا لها بـ (ب)، وهي من محفوظات المكتبة العلمية الصالحية بعنيزة، المجلد رقم (8)، وعدد أورقها (217).
اسم الناسخ: عبد الله بن فايز بن منصور أبا الخيل رحمه الله.
تاريخ النسخ: الثلاثاء، خمس خلون من رمضان 1242 هـ.
وهي نسخة مقابلة ومصححة، وواضحة الخط، وعليها حواشٍ
চতুর্থ: শাইখ ইবনে সাদী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পাণ্ডুলিপি:এবং আমরা একে (আলিফ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি। এটি উনাইজাহ ন্যাশনাল লাইব্রেরির সংরক্ষিত সংগ্রহশালার অন্তর্ভুক্ত, এর নম্বর (১৭৭৫১), এবং এর পৃষ্ঠা সংখ্যা (২৬৮)।
এতে কোনো অনুলিপিকারের নাম বা অনুলিপির তারিখ উল্লেখ নেই।
এটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সংশোধিত। এর শেষে উল্লিখিত হয়েছে: (আল্লাহর নিকট মুখাপেক্ষী আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী কর্তৃক ১৩৪০ হিজরি সালে সাতটি পাণ্ডুলিপির মধ্যে তুলনা ও সংশোধনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে; যার মধ্যে দুইটি মুদ্রিত সংস্করণ এবং পাঁচটি নির্ভরযোগ্য ও সংশোধিত পাণ্ডুলিপি ছিল, যার কয়েকটি ছিল লেখকের স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপি)।
পাণ্ডুলিপিটির মার্জিনে কিছু উদ্ধৃতি, টীকা ও সংশোধন রয়েছে।
এই পাণ্ডুলিপির অনন্যতার একটি প্রমাণ হলো ‘মুসাকাত’ (সেচচুক্তি) অধ্যায়ের মার্জিনে যা বর্ণিত হয়েছে: (লেখকের স্বহস্তে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা সম্পন্ন হয়েছে)।
পঞ্চম: শাইখ আবা আল-খাইল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পাণ্ডুলিপি:এবং আমরা একে (বা) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি। এটি উনাইজাহর আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ আস-সালিহিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত, ভলিউম নম্বর (৮), এবং এর পৃষ্ঠা সংখ্যা (২১৭)।
অনুলিপিকারের নাম: আবদুল্লাহ বিন ফায়েজ বিন মানসুর আবা আল-খাইল (রাহিমাহুল্লাহ)।
অনুলিপির তারিখ: মঙ্গলবার, ৫ই রমজান ১২৪২ হিজরি।
এটি মূলের সাথে মিলিয়ে সংশোধিত পাণ্ডুলিপি, এর হস্তাক্ষর স্পষ্ট এবং এতে পার্শ্বটীকা রয়েছে।