(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: -)
منهج الدعوة في ضوء الواقع المعاصر   (عدنان العرعور)

القسم: كتب عامة


الكتاب: منهج الدعوة في ضوء الواقع المعاصر

المؤلف: عدنان بن محمد آل عرعور

الناشر: جائزة نايف بن عبد العزيز آل سعود العالمية للسنة النبوية والدراسات الإسلامية المعاصرة

الطبعة: الأولى، 1426 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 453

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 3 رجب 1440

সমসাময়িক বাস্তবতার আলোকে দাওয়াতের মানহাজ   (আদনান আল-আরউর)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: সমসাময়িক বাস্তবতার আলোকে দাওয়াতের মানহাজ

লেখক: আদনান বিন মুহাম্মদ আল আরউর

প্রকাশক: সুন্নাহে নববী ও সমসাময়িক ইসলামি গবেষণার জন্য নায়েফ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ আন্তর্জাতিক পুরস্কার

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫৩

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা প্রকাশনার তারিখ: ৩ রজব ১৪৪০

(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ১)
منهج الدعوة

في

ضوء الواقع المعاصر

 

الحائز على جائزة نايف بن عبدالعزيز آل سعود

للسنة النبوية والدراسات الإسلامية المعاصرة

 

تأليف

عدنان بن محمد آل عرعور

 

الطبعة الأولى

1426 هـ - 2005 م
দাওয়াত পদ্ধতি

সমকালীন

বাস্তবতার আলোকে

 

সুন্নাতে নববী এবং সমকালীন ইসলামি গবেষণার জন্য

নায়েফ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ পুরস্কার বিজয়ী

 

রচনা

আদনান বিন মুহাম্মাদ আল-আরউর

 

প্রথম সংস্করণ

১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة:

الحمد لله الذي جعل الدعوة إلى سبيله من أفضل القربات، وخير الأعمال، فقال سبحانه: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مّمّن دَعَآ إِلَى اللهِ وَعَمِلَ صَالِحاً وَقَالَ إِنّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ}. والصلاة والسلام على سيد الدعاة ومعلم الناس الخير الذي قال: ((يا أيها الناس إنما أنا رحمة مهداة)) (1).

أما بعد:

فإن من أشد ما تحتاجه أمتنا اليوم والبشرية جمعاء إلى الإصلاح والسلام، وإنهما لا يحصلان إلا بالرجوع إلى دين الفطرة، ودين الحق، ودين الواقعية، ودين العدل والسلام، ودين الخير في الدنيا والآخرة

{فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ}.

وإن الوسيلة التي شرعها الله عز وجل لرجوع الناس إلى دين الفطرة هي: الدعوة بشروطها وأركانها، وهي التي أُرسل لأجلها المرسلون، وكُلف بها الدعاة، لإحقاق الحق، ونشر العدل والرحمة بين العباد {وَمَآ أَرْسَلْنَاكَ إِلاّ رَحْمَةً لّلْعَالَمِينَ} [الأنبياء: 107].

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن الأعرابي في معجمه (2452)، والحاكم (100)، وقال: هذا حديث صحيح على شرطهما، ووافقه الذهبي، ومن طريق الحاكم أخرجه البيهقي في الدلائل (1/ 157)، والقضاعي في مسند الشهاب (1160).

وأخرجه الدارمي (15)، وابن أبي شيبة (31782)، وابن سعد في الطبقات (1/ 192)، عن أبي صالح مرسلاً، وأورده الشيخ الألباني في الصحيحة (490).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌ভূমিকা:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর পথের দিকে দাওয়াত দেওয়াকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৈকট্য লাভ ও সর্বোত্তম আমল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর ওই ব্যক্তির চেয়ে কথায় কে উত্তম, যে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, সৎকাজ করে এবং বলে যে, নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত?}। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক দাঈদের সরদার এবং মানুষের জন্য কল্যাণের শিক্ষকের ওপর, যিনি বলেছেন: "হে লোকসকল! আমি কেবল এক উপহারস্বরূপ রহমত" (১)।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই আজ আমাদের উম্মত এবং সমগ্র মানবজাতি সংস্কার ও শান্তির জন্য চরম মুখাপেক্ষী। আর এই দুটি বিষয় কেবল ফিতরাতের (স্বভাবজাত) দ্বীন, সত্যের দ্বীন, বাস্তবতার দ্বীন, ন্যায়বিচার ও শান্তির দ্বীন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দ্বীনের দিকে ফিরে আসার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।

{আল্লাহর দেয়া ফিতরাত (প্রকৃতি), যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন; আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না}।

মানুষকে ফিতরাতের দ্বীনের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মহান আল্লাহ যে মাধ্যমটি বিধিবদ্ধ করেছেন তা হলো: দাওয়াত—তার যাবতীয় শর্তাবলি ও রুকনসহ। আর এই দাওয়াতের জন্যই রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছিলেন এবং দাঈদের এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বান্দাদের মাঝে ন্যায় ও রহমত ছড়িয়ে পড়ে। {আমি আপনাকে কেবল বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপ পাঠিয়েছি} [আল-আম্বিয়া: ১০৭]।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল আরাবী তাঁর ‘মুজাম’ (২৪৫২) গ্রন্থে এবং হাকেম (১০০) এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি (হাকেম) বলেছেন: এই হাদিসটি বুখারি ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ এবং ইমাম যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। হাকেমের সূত্র ধরে বায়হাকি এটি ‘দালায়েলুল নুবুওয়াহ’ (১/১৫৭) গ্রন্থে এবং কুযায়ি ‘মুসনাদুশ শিহাব’ (১১৬০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

এছাড়া এটি বর্ণনা করেছেন দারিমি (১৫), ইবনে আবি শায়বাহ (৩১৭৮২), এবং ইবনে সাদ তাঁর ‘তাবাকাত’ (১/১৯২) গ্রন্থে আবু সালেহ থেকে মুরসাল সূত্রে। শায়খ আলবানি এটি ‘আস-সহিহাহ’ (৪৯০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ৬)
وإننا بأمس الحاجة إلى إعادة ترتيب أوراق الدعوة، وبيان شروطها، ومنهجيها وأسلوبها. وتربية الدعاة على ذلك.

وقد قُمتُ في هذا البحث، بشيء من ذلك، أداءً للواجب، وتذكيراً للدعاة ليزداد عطاؤهم، ويتحسن أداؤهم.

وقد حاولتُ جاهداً أن يُكتب بأسلوب سهل، وعبارات بسيطة، بعيداً عن التركيبات المعقدة، والتخريجات الكثيرة، والتعريفات اللغوية، والمصطلحات العلمية.

فالكتاب ليس بحثاً فقهياً، أو دراسة ترجيحية، لذلك لم أسهب في الاستدلال، ولم أستقص الأقوال في المسألة، ولم أتتبع اجتهادات العلماء، وبخاصة إذا كانت المسألة معروفة، والحكم مشهور.

والكتاب وإن كان بحثاً في الدعوة، إلا أنني أردت أن يكون كتاباً دعوياً كذلك للدعاة وغيرهم، كيما يرتقي أسلوبهم الدعوي، لتنتشر الدعوة، وتعم الهداية، ويعود للدين دوره، وللمسلمين مجدهم.

ونظراً لتداخل مواد هذا البحث وتشاركها فقد حصل في بعض النصوص والقواعد الجزئية تكرار لابد منه.

والله أسأل التوفيق والفلاح، والقبول، إنه ولي ذلك وأهله، وإن أخطأت فمن نفسي والشيطان، وإن أحسنت فمن توفيق الرحمن، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

عدنان بن محمد آل عرعور
দাওয়াতের বিষয়াবলি পুনর্গঠন, এর শর্তাবলি, কর্মপন্থা ও পদ্ধতিসমূহ স্পষ্ট করা এবং দায়ীদেরকে এগুলোর ওপর গড়ে তোলার জন্য আমরা আজ অত্যন্ত মুখাপেক্ষী।

কর্তব্য পালন এবং দায়ীদের প্রতি একটি স্মারক হিসেবে আমি এই গবেষণায় তার কিয়দংশ সম্পাদন করেছি, যাতে তাদের অবদান বৃদ্ধি পায় এবং কর্মদক্ষতা উন্নত হয়।

আমি এটি সহজ শৈলী ও সরল বাক্যে লেখার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, যেখানে জটিল বাক্যরীতি, অত্যধিক উদ্ধৃতি বিশ্লেষণ, ভাষাগত সংজ্ঞা এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক পারিভাষিক জটিলতা পরিহার করা হয়েছে।

গ্রন্থটি কোনো ফিকহি গবেষণা বা অগ্রাধিকারমূলক পর্যালোচনা নয়। এ কারণে আমি দলিলাদি বর্ণনায় দীর্ঘসূত্রতা করিনি, কোনো মাসআলায় সম্ভাব্য সকল মতামতের বিস্তারিত অনুসন্ধান করিনি এবং আলেমদের ইজতিহাদসমূহ অনুসরণ করিনি; বিশেষ করে যখন বিষয়টি সুপরিচিত এবং বিধানটি প্রসিদ্ধ।

গ্রন্থটি দাওয়াহ বিষয়ক একটি গবেষণা হওয়া সত্ত্বেও আমি চেয়েছি এটি দায়ী ও অন্যান্যদের জন্য একটি দাওয়াতি বই হিসেবেও গণ্য হোক, যাতে তাদের দাওয়াতের পদ্ধতি উন্নত হয়, দাওয়াহ ছড়িয়ে পড়ে, হেদায়েত ব্যাপক হয় এবং দ্বীনের প্রভাব ও মুসলিমদের গৌরব ফিরে আসে।

এই গবেষণার বিষয়বস্তুর আন্তঃসম্পর্ক ও অংশীদারত্বের কারণে কিছু বর্ণনা ও আংশিক মূলনীতির ক্ষেত্রে অনিবার্য পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

আমি আল্লাহর কাছে তাওফিক, সফলতা ও কবুলিয়াত কামনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর উপযুক্ত। যদি আমি কোনো ভুল করে থাকি তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর যদি কোনো কল্যাণ সাধিত হয় তবে তা পরম দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তাওফিকের ফল। আমাদের সর্বশেষ আহ্বান হলো: সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

আদনান বিন মুহাম্মাদ আল-আরআর
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌خطة البحث:

قد تكلمت في هذا الموضوع سالكاً خطة تتكون من مقدمة وثلاثة أبواب، وخاتمة.

أما المقدمة: فقد ذكرت فيها اسم الموضوع الذي سأتكلم عنه، وأشرت إلى الأسباب التي جعلتني أكتب فيه، والخطة … التي سأسلكها في الكتابة، والمنهج الذي سأتبعه في ذلك.

أما الباب الأول: فموضوعه نظرات في حاجات المسلمين وواقعهم الدعوي، فهو أشبه ما يكون بالتمهيد للموضوع المراد بهذا البحث، وقد تضمن هذا الباب فصلين:

أما الفصل الأول: فهو نظرة في واقع المسلمين واحتياجاتهم، وواقعهم الدعوي، وشمل هذا الفصل ثمانية مباحث:

المبحث الأول: حاجة البشرية إلى الدعوة.

المبحث الثاني: حاجتنا إلى التأصيل قبل التمثيل والعاطفة والارتجال.

المبحث الثالث: حاجتنا إلى الفقه، وفيه خمسة مطالب:

المطلب الأول: المقصود بالفقه.

المطلب الثاني: فقه الأولويات.

المطلب الثالث: فقه المقاصد.

المطلب الرابع: فقه المصالح والمفاسد.

المطلب الخامس: فقه الشعب والمقامات.

المبحث الرابع: حاجتنا إلى التربية.
গবেষণার রূপরেখা:

আমি এই বিষয়ে একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার সম্বলিত একটি রূপরেখা অনুসরণ করে আলোচনা করেছি।

ভূমিকার ক্ষেত্রে: এতে আমি যে বিষয়ে আলোচনা করব তার নাম উল্লেখ করেছি এবং আমি যে সকল কারণে এটি লিখেছি সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি, আর লিখনের ক্ষেত্রে আমি যে রূপরেখা … অবলম্বন করব এবং যে পদ্ধতি অনুসরণ করব তা উল্লেখ করেছি।

প্রথম অধ্যায়ের ক্ষেত্রে: এর বিষয়বস্তু হলো মুসলমানদের প্রয়োজনীয়তা এবং তাদের দাওয়াতি বাস্তবতার ওপর আলোকপাত। এটি এই গবেষণার মূল বিষয়ের উপক্রমণিকার সমতুল্য। এই অধ্যায়টি দুটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে: এটি মুসলমানদের বাস্তবতা, তাদের প্রয়োজনীয়তা এবং দাওয়াতি পরিস্থিতির ওপর একটি আলোকপাত। এই অনুচ্ছেদটি আটটি আলোচ্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে:

প্রথম আলোচ্য বিষয়: দাওয়াতের প্রতি মানবজাতির প্রয়োজনীয়তা।

দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয়: দৃষ্টান্ত উপস্থাপন, আবেগ এবং পূর্বপ্রস্তুতিহীন কর্মতৎপরতার পূর্বে আমাদের নীতিগত ভিত্তি নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা।

তৃতীয় আলোচ্য বিষয়: ফিকহ বা প্রজ্ঞার প্রতি আমাদের প্রয়োজনীয়তা, আর এতে পাঁচটি উপ-আলোচ্য বিষয় রয়েছে:

প্রথম উপ-আলোচ্য বিষয়: ফিকহ দ্বারা যা উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় উপ-আলোচ্য বিষয়: অগ্রাধিকারের ফিকহ।

তৃতীয় উপ-আলোচ্য বিষয়: উদ্দেশ্যের ফিকহ।

চতুর্থ উপ-আলোচ্য বিষয়: কল্যাণ ও অকল্যাণের ফিকহ।

পঞ্চম উপ-আলোচ্য বিষয়: শাখা ও স্তরসমূহের ফিকহ।

চতুর্থ আলোচ্য বিষয়: তারবিয়াতের প্রতি আমাদের প্রয়োজনীয়তা।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ৮)
المبحث الخامس: حاجتنا إلى الورع.

المبحث السادس: حاجتنا إلى الواقعية.

المبحث السابع: حاجتنا إلى مخاطبة الناس بما يعقلون، وبما يحتاجون.

المبحث الثامن: حاجتنا إلى التواضع.

أما الفصل الثاني: فهو في بيان الدعوة إلى الله تعالى، وضمنته ستة مباحث.

المبحث الأول: تعريف الدعوة إلى الله.

المبحث الثاني: أهميتها ومقامها في الإسلام.

المبحث الثالث: فضل الدعوة إلى الله تعالى.

المبحث الرابع: حكم الدعوة إلى الله تعالى.

المبحث الخامس: أهداف الدعوة إلى الله تعالى، وفيه ثلاثة مطالب.

المطلب الأول: تعريف العباد بخالقهم، وحقّه عليهم، وحقّهم عليه.

المطلب الثاني: نشر الخير والصلاح، وقطع دابر الشر والفساد.

المطلب الثالث: تعارف الشعوب وتوحيد الأمم ونشر السلام بينهم.

المبحث السادس: آثار الدعوة إلى الله تعالى.

أما الباب الثاني: فهو في بيان أركان الدعوة الثلاثة، وقد احتوى هذا الباب ثلاثة فصول:

أما الفصل الأول: ففيه مبحثان:

الأول: فقد تطرقت فيه إلى أهمية الداعية.

الثاني: ذكرت فيه أبرز الصفات المحمودة له.
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: আমাদের তাকওয়ার প্রয়োজনীয়তা।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: আমাদের বাস্তবতার প্রয়োজনীয়তা।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: মানুষের বোধগম্যতা এবং তাদের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী তাদের সাথে সম্বোধন করার প্রয়োজনীয়তা।

অষ্টম অনুচ্ছেদ: আমাদের বিনয় ও নম্রতার প্রয়োজনীয়তা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের বর্ণনায়, এবং এতে আমি ছয়টি অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করেছি।

প্রথম অনুচ্ছেদ: আল্লাহর পথে দাওয়াতের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইসলামে এর গুরুত্ব ও মর্যাদা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহর পথে দাওয়াতের শ্রেষ্ঠত্ব।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহর পথে দাওয়াতের বিধান।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহর পথে দাওয়াতের উদ্দেশ্যসমূহ, এবং এতে তিনটি অনুবিভাগ রয়েছে।

প্রথম অনুবিভাগ: বান্দাদেরকে তাদের স্রষ্টা, তাঁদের ওপর তাঁর অধিকার এবং তাঁর ওপর তাঁদের অধিকার সম্পর্কে পরিচিত করা।

দ্বিতীয় অনুবিভাগ: কল্যাণ ও সংশোধন প্রচার করা এবং অকল্যাণ ও ফাসাদের মূলোৎপাটন করা।

তৃতীয় অনুবিভাগ: জাতিসমূহের পারস্পরিক পরিচয় লাভ, উম্মাহর ঐক্য এবং তাদের মাঝে শান্তি প্রচার করা।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহর পথে দাওয়াতের প্রভাবসমূহ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এটি দাওয়াতের তিনটি মূলস্তম্ভের বর্ণনায়, এবং এই অধ্যায়টি তিনটি পরিচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করেছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে দুইটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম: এতে আমি দায়ীর গুরুত্ব আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয়: এতে আমি দায়ীর প্রধান প্রশংসনীয় গুণাবলি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ৯)
وأما الفصل الثاني: فتكلمت فيه عن المدعوين وأحوالهم، ورتبت الحديث في هذا الفصل على سبعة مباحث:

المبحث الأول: أهمية مراعاة المدعوين وأحوالهم.

المبحث الثاني: مراعاة طباع المدعوين الشخصية.

المبحث الثالث: مراعاة أحوال المدعوين العلمية.

المبحث الرابع: مراعاة أحوال المدعوين الإيمانية، وفيه خمسة مطالب:

المطلب الأول: المقصود بأحوالهم الإيمانية.

المطلب الثاني: تقسيم الناس في الإيمان.

المطلب الثالث: المقصود من هذا التقسيم.

المطلب الرابع: تنوع خطاب القرآن بما يتناسب مع هذه الأصناف.

المطلب الخامس: مراعاة السنة لأحوال الناس الإيمانية.

المبحث الخامس: مراعاة أحوال المدعوين النفسية، وظروفهم الخاصة، وحاجاتهم الملحة.

المبحث السادس: مراعاة حاجات المدعوين.

المبحث السابع: مراعاة أحوال الناس العامة، وما اعتادوا عليه، وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: المقصود بأحوال الناس العامة.

المطلب الثاني: تقسيم عادات الناس.

المطلب الثالث: أحكام هذه العادات.

المطلب الرابع: مراعاة السنة لعادات الناس من حيث التغيير.
আর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ সম্পর্কে: আমি এতে দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং এই পরিচ্ছেদের আলোচনাকে সাতটি অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি:

প্রথম অনুচ্ছেদ: দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ এবং তাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখার গুরুত্ব।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত স্বভাবের প্রতি লক্ষ্য রাখা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ঈমানি অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা, এবং এতে পাঁচটি পরিদপ্তর রয়েছে:

প্রথম পরিদপ্তর: তাদের ঈমানি অবস্থা দ্বারা যা উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় পরিদপ্তর: ঈমানের ক্ষেত্রে মানুষের বিভাজন।

তৃতীয় পরিদপ্তর: এই বিভাজনের উদ্দেশ্য।

চতুর্থ পরিদপ্তর: এই সকল শ্রেণির সাথে সামঞ্জস্য রেখে কুরআনের সম্বোধনের বৈচিত্র্য।

পঞ্চম পরিদপ্তর: মানুষের ঈমানি অবস্থার প্রতি সুন্নাহর লক্ষ্য রাখা।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা, তাদের বিশেষ পরিস্থিতি এবং জরুরি প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রাখা।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রাখা।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: মানুষের সাধারণ অবস্থা এবং তারা যাতে অভ্যস্ত তার প্রতি লক্ষ্য রাখা, এবং এতে চারটি পরিদপ্তর রয়েছে:

প্রথম পরিদপ্তর: মানুষের সাধারণ অবস্থা দ্বারা যা উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় পরিদপ্তর: মানুষের অভ্যাসের বিভাজন।

তৃতীয় পরিদপ্তর: এই অভ্যাসসমূহের বিধানাবলি।

চতুর্থ পরিদপ্তর: পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মানুষের অভ্যাসের প্রতি সুন্নাহর লক্ষ্য রাখা।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ১০)
أما الفصل الثالث: وفيه نتحدث عن منهجية الدعوة، وتناولته من خلال ثمانية مباحث:

المبحث الأول: قاعدة: الدعوة إلىلإيمان قبل الأعمال والأحكام، وتحته ثمانية مطالب.

المطلب الأول: معنى هذه القاعدة.

المطلب الثاني: الحكمة من هذه القاعدة وثمرتها

المطلب الثالث: مثل العبادة عند قوي الإيمان، وعند ضعيفه.

المطلب الرابع: أدلة الإيمان قبل الأعمال والأحكام، ودعوة الرسل.

المطلب الخامس: صور من تطبيق هذه القاعدة.

المطلب السادس: قاعدة الإيمان قبل الأعمال والأحكام لا تمنع تبليغ الحلال والحرام.

المطلب السابع: تطبيق هذه القاعدة على أهل العصر.

المطلب الثامن: سبل زيادة الإيمان.

المبحث الثاني: قاعدة: التعليم والبلاغ، لا الحكم والحساب، وتحته ستة مطالب:

المطلب الأول: المقصود من هذه القاعدة المنهجية، وأدلتها.

المطلب الثاني: عمل الأنبياء بهذه القاعدة.

المطلب الثالث: تطبيق هذه القاعدة على أهل هذا العصر.

المطلب الرابع: مفاسد الخروج عن هذه القاعدة.

المطلب الخامس: بيان مهمة الداعية الأساسية.

المطلب السادس: الحكمة من هذه القاعدة وخلاصتها.
তৃতীয় অধ্যায়: এতে আমরা দাওয়াতের (دعوة) কর্মপদ্ধতি (منهجية) সম্পর্কে আলোচনা করব, এবং আমি এটি আটটি পরিচ্ছেদের (مبحث) মাধ্যমে উপস্থাপন করেছি:

প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): মূলনীতি (قاعدة): আমল ও বিধানাবলির (أحكام) পূর্বে ঈমানের (إيمان) প্রতি দাওয়াত (دعوة), এর অধীনে আটটি অনুচ্ছেদ (مطلب) রয়েছে।

প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): এই মূলনীতির (قاعدة) অর্থ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثاني): এই মূলনীতির (قاعدة) হিকমত (حكمة) এবং এর ফলাফল।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثالث): শক্তিশালী ঈমান (إيمان) এবং দুর্বল (ضعيف) ঈমানসম্পন্ন ব্যক্তির ইবাদতের দৃষ্টান্ত।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ (المطلب الرابع): আমল ও বিধানাবলির (أحكام) পূর্বে ঈমানের (إيمان) প্রমাণাদি (أدلة) এবং রাসুলগণের দাওয়াত (دعوة)।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ (المطلب الخامس): এই মূলনীতি (قاعدة) প্রয়োগের বিভিন্ন রূপ।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ (المطلب السادس): আমল ও বিধানাবলির (أحكام) পূর্বে ঈমানের (إيمان) মূলনীতি (قاعدة) হালাল (حلال) ও হারাম (حرام) পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়।

সপ্তম অনুচ্ছেদ (المطلب السابع): বর্তমান যুগের মানুষের ওপর এই মূলনীতির (قاعدة) প্রয়োগ।

অষ্টম অনুচ্ছেদ (المطلب الثامن): ঈমান (إيمان) বৃদ্ধির উপায়সমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): মূলনীতি (قاعدة): শিক্ষা প্রদান ও প্রচার (بلاغ), বিচার বা হিসাব গ্রহণ নয়; এর অধীনে ছয়টি অনুচ্ছেদ (مطلب) রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): এই পদ্ধতিগত মূলনীতির (قاعدة) উদ্দেশ্য এবং এর প্রমাণাদি (أدلة)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثاني): এই মূলনীতি (قاعدة) অনুযায়ী নবীদের আমল।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثالث): বর্তমান সময়ের অধিবাসীদের ওপর এই মূলনীতির (قاعدة) প্রয়োগ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ (المطلب الرابع): এই মূলনীতি (قاعدة) থেকে বিচ্যুত হওয়ার ক্ষয়ক্ষতি।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ (المطلب الخامس): একজন দাঈর (داعية) মৌলিক দায়িত্বের বর্ণনা।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ (المطلب السادس): এই মূলনীতির (قاعدة) হিকমত (حكمة) ও এর সারসংক্ষেপ।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الثالث: قاعدة: الدعوة إلى الأسس والتأصيل، قبل الفروع والتمثيل، وفيه خمسة مطالب:

المطلب الأول: المقصود من هذه القاعدة المنهجية الدعوية.

المطلب الثاني: أهمية هذه القاعدة وأدلتها.

المطلب الثالث: ثمار التأصيل.

المطلب الرابع: القاعدة وأهل هذا الزمان.

المطلب الخامس: الأمور التي يجب أن يراعيها الداعية عند بيان التأصيل، ومفاسد الخروج عنها.

المبحث الرابع: الموازنة - في الدعوة- بين الترهيب والترغيب، وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: المقصود من هذه القاعدة.

المطلب الثاني: منهج القرآن الكريم من هذه القاعدة.

المطلب الثالث: منهج السنة الكريمة من هذه القاعدة.

المطلب الرابع: الحكمة من الموازنة بين الترغيب والترهيب.

المبحث الخامس: مخاطبة الناس بما هو من شأنهم، وبما يناسبهم وينفعهم، وبما يقدرون عليه، وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: المقصود من هذه القاعدة.

المطلب الثاني: مخاطبة الناس بما يناسب مستواهم العقلي، والثقافي، والعلمي.

المطلب الثالث: مخاطبة الناس بما ينفعهم، وبما يقدرون عليه، وبما هو واجب عليهم.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: শাখা-প্রশাখা ও উদাহরণের পূর্বে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার (تأصيل) দাওয়াত, এবং এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: এই পদ্ধতিগত (منهجية) দাওয়াহ মূলনীতির উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এই মূলনীতির গুরুত্ব ও এর দলীলসমূহ (أدلة)।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের (تأصيل) সুফলসমূহ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: এই মূলনীতি এবং বর্তমান সময়ের মানুষ।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের (تأصيل) বর্ণনার সময় দাঈর (داعية) জন্য পালনীয় বিষয়সমূহ এবং এর থেকে বিচ্যুত হওয়ার ক্ষতিকর দিকসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: দাওয়াতের ক্ষেত্রে ভীতিপ্রদর্শন (ترهيب) ও উৎসাহপ্রদানের (ترغيب) মধ্যে ভারসাম্য (موازنة) রক্ষা করা, এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: এই মূলনীতির উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এই মূলনীতির ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের মানহাজ (منهج)।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এই মূলনীতির ক্ষেত্রে সুন্নাহর মানহাজ (منهج)।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: উৎসাহপ্রদান (ترغيب) ও ভীতিপ্রদর্শনের (ترهيب) মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার হিকমত (حكمة)।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মানুষের অবস্থা অনুযায়ী এবং যা তাদের জন্য উপযুক্ত, উপকারী ও সাধ্যের অনুকূলে সেই অনুযায়ী তাদের সম্বোধন করা, এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: এই মূলনীতির উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মানুষের বুদ্ধিগত, সাংস্কৃতিক ও ইলমী (علمي) স্তর অনুযায়ী তাদের সম্বোধন করা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মানুষের জন্য যা উপকারী, যা তাদের সাধ্যের মধ্যে এবং যা তাদের ওপর ওয়াজিব (واجب) সেই অনুযায়ী তাদের সম্বোধন করা।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ১২)
المطلب الرابع: التفصيل في معالجة أحوال المسلمين، والإجمال بما يفعله الكافرون.

المبحث السادس: جواز المداراة في الدعوة إلى الله تعالى، وحرمة المداهنة، وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: المقصود من المداراة والمداهنة.

المطلب الثاني: موقف الدعاة في هذا الباب والوسطية.

المطلب الثالث: عواقب غياب هذه القاعدة.

المبحث السابع: في التدرج، وفقه الأولويات، وفيه تسعة مطالب:

المطلب الأول: المقصود بالتدرج، وفقه الأولويات.

المطلب الثاني: التدرج في المأمورات واحدة واحدة وأدلة ذلك.

المطلب الثالث: التدرج في المأمور نفسه.

المطلب الرابع: التدرج في النهي عن المحرمات.

المطلب الخامس: التدرج في نفس المحرم.

المطلب السادس: التدرج سنّة لم تُنسخ.

المطلب السابع: التدرج لحالات خاصة.

المطلب الثامن: الوضع المكي لم ينسخ.

المطلب التاسع: حكمة التدرج.

المطلب العاشر: التدرج لا يبيح حراماً، ولا يسقط واجباً.

المبحث الثامن: الدعوة إلى الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، لا إلى الأحزاب ورجالها، وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: المقصود بهذه القاعدة وأدلتها.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুসলিমদের অবস্থা পর্যালোচনায় বিস্তারিত বিবরণ এবং কাফিরদের কার্যকলাপের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।

ষষ্ঠ অধ্যায়: আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বনের বৈধতা এবং আদর্শিক আপসের অবৈধতা; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কৌশল অবলম্বন ও আদর্শিক আপসের উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই ক্ষেত্রে দাওয়াত দানকারীদের অবস্থান ও মধ্যপন্থা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই মূলনীতির অনুপস্থিতির পরিণতি।

সপ্তম অধ্যায়: পর্যায়ক্রমিক ধারা এবং অগ্রাধিকারের ফিকহ প্রসঙ্গে; এতে নয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: পর্যায়ক্রমিক ধারা এবং অগ্রাধিকারের ফিকহের উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আদেশসমূহের ক্ষেত্রে একে একে পর্যায়ক্রমিক ধারার অনুসরণ এবং এর প্রমাণাদি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: স্বয়ং আদিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক ধারা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হারাম বিষয়সমূহ নিষেধ করার ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক ধারা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: স্বয়ং হারামকৃত বিষয়ের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক ধারা।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: পর্যায়ক্রমিক ধারা একটি পদ্ধতি যা রহিত হয়নি।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: বিশেষ পরিস্থিতির জন্য পর্যায়ক্রমিক ধারা।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: মক্কী যুগের প্রেক্ষাপট রহিত হয়নি।

নবম পরিচ্ছেদ: পর্যায়ক্রমিক ধারার হিকমত বা তাৎপর্য।

দশম পরিচ্ছেদ: পর্যায়ক্রমিক ধারা কোনো হারামকে বৈধ করে না এবং কোনো ওয়াজিবকে রহিত করে না।

অষ্টম অধ্যায়: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে দাওয়াত, কোনো দল বা ব্যক্তির দিকে নয়; এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এই মূলনীতির উদ্দেশ্য এবং এর প্রমাণাদি।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ১৩)
المطلب الثاني: الأخطاء الدعوية المخالفة لهذه القاعدة.

المطلب الثالث: خطورة هذه الأخطاء.

المطلب الرابع: خلاصة هذا المبحث.

المبحث التاسع: قواعد منهجية متنوعة، وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: القاعدة الأولى: جواز ترك المستحب لتأليف الناس، ورغبة في قبولهم الدعوة إلى الله.

المطلب الثاني: القاعدة الثانية: عدم إثارة ماضي المدعوين، وعدم تذكيرهم بسوابقهم، وإلقاء اللوم عليهم.

المطلب الثالث: القاعدة الثالثة: عدم الإنكار على من عمل بفتوى عالم.

المطلب الرابع: القاعدة الرابعة: اغتنام المواسم، وتخير الأوقات، واستغلال الأحداث.

وأما الباب الثالث: وقد أفردته للأساليب والوسائل الدعوية، وأدرجت تحته ثلاثة فصول:

أما الفصل الأول: فهو في بيان الأساليب الدعوية، وجاء تحته عشرون مبحثاً:

المبحث الأول: أهمية الأسلوب، وأثره في الدعوة.

المبحث الثاني: قواعد في الأسلوب الدعوي، وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: القاعدة الأولى: الأمر من الله ورسوله بإحسان الأسلوب.

المطلب الثاني: القاعدة الثانية: الرفق واللين والتيسير، لا القساوة والغلظة والتعسير.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই নিয়মের পরিপন্থী দাওয়াতি ভুলসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই ভুলসমূহের ভয়াবহতা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এই বিষয়ের সারসংক্ষেপ।

নবম অনুচ্ছেদ: বিবিধ পদ্ধতিগত মূলনীতিসমূহ, এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রথম মূলনীতি: মানুষের অন্তর জয় করার জন্য এবং আল্লাহর দাওয়াত গ্রহণে তাদের আগ্রহী করার লক্ষে মুস্তাহাব (مستحب) আমল বর্জনের বৈধতা (جواز)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় মূলনীতি: দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অতীতকে না খুঁচিয়ে তোলা, তাদের পূর্বের কর্মকাণ্ড স্মরণ করিয়ে না দেওয়া এবং তাদের তিরস্কার না করা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তৃতীয় মূলনীতি: কোনো আলেমের ফতোয়া (فتوى) অনুযায়ী আমলকারীর ওপর আপত্তি উত্থাপন না করা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: চতুর্থ মূলনীতি: বিভিন্ন উপলক্ষকে কাজে লাগানো, উপযুক্ত সময় নির্বাচন এবং ঘটনাবলিকে দাওয়াতের স্বার্থে ব্যবহার করা।

আর তৃতীয় পর্ব: আমি এটি দাওয়াতি পদ্ধতি ও মাধ্যমসমূহের জন্য নির্ধারিত করেছি এবং এর অধীনে তিনটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করেছি:

প্রথম অধ্যায়: এটি দাওয়াতি পদ্ধতিসমূহের বর্ণনায়, আর এর অধীনে বিশটি অনুচ্ছেদ এসেছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পদ্ধতির গুরুত্ব এবং দাওয়াতে এর প্রভাব।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দাওয়াতি পদ্ধতির মূলনীতিসমূহ, এবং এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রথম মূলনীতি: আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে উত্তম পদ্ধতি অবলম্বনের নির্দেশ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় মূলনীতি: নম্রতা, কোমলতা ও সহজীকরণ; কঠোরতা, রুক্ষতা ও কঠিনকরণ নয়।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ১৪)
المطلب الثالث: القاعدة الثالثة: الشفقة والنصح، ولا التوبيخ والفضح.

المطلب الرابع: القاعدة الرابعة: سهولة الأسلوب، وبساطة الطرح، وواقعية التمثيل.

المبحث الثالث: لفتات عن الأسلوب في القرآن الكريم.

المبحث الرابع: لفتات عن الأسلوب في السنة النبوية.

المبحث الخامس: أخطاء بعض الدعاة في الأسلوب.

المبحث السادس: في إثارة العاطفة، وتحريك العقل، وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: أهمية ذلك.

المطلب الثاني: التوازن بين خطاب القلب والعقل في القرآن الكريم.

المطلب الثالث: التوازن بين العقل والعاطفة عند الرسل.

المطلب الرابع: السنة ومخاطبة العقل والقلب.

المبحث السابع: التذكير بأيام الله، وذكر المنافع والمضار في الخطاب الدعوي، وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: المقصود والأهمية.

المطلب الثاني: ذكر ذلك في القرآن.

المطلب الثالث: سيرة الأنبياء في هذا.

المبحث الثامن: متنوع في صيغ الأسلوب، وفيه خمسة مطالب:

المطلب الأول: الخطاب بصيغة الجمع.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তৃতীয় নীতি: মমতা ও নসিহত, তিরস্কার ও লাঞ্ছনা নয়।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: চতুর্থ নীতি: শৈলীর সহজতা, উপস্থাপনার সাবলীলতা এবং বাস্তবধর্মী উপমা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের শৈলী সংক্রান্ত কিছু আলোকপাত।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: সুন্নাতে নববীতে শৈলী সংক্রান্ত কিছু আলোকপাত।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: দাওয়াতের ক্ষেত্রে কিছু দাঈর শৈলীগত ভুলত্রুটি।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: আবেগ সঞ্চার এবং বিবেককে নাড়া দেওয়া প্রসঙ্গে; এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এর গুরুত্ব।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে হৃদয় ও বিবেককে সম্বোধনের ক্ষেত্রে ভারসাম্য।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবিগণের নিকট বিবেক ও আবেগের মধ্যে ভারসাম্য।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ এবং বিবেক ও হৃদয়কে সম্বোধন।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: আল্লাহর দিনসমূহ স্মরণ করানো এবং দাওয়াতি ভাষণে উপকার ও অপকার উল্লেখ করা; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে এর উল্লেখ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এ বিষয়ে নবিগণের জীবনী।

অষ্টম অনুচ্ছেদ: শৈলীর বিভিন্ন রূপ; এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: বহুবচনবোধক শব্দে সম্বোধন।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ১৫)
المطلب الثاني: الخطاب المطلق.

المطلب الثالث: في استخدام الداعية أسلوب الاستفهام والترجي.

المطلب الرابع: القرآن الكريم وأسلوب الاستفهام والترجي.

المطلب الخامس: السنة وأسلوب الاستفهام والترجي.

المبحث التاسع: قص القصص، وضرب الأمثال، وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: المقصود والأهية.

المطلب الثاني: شروط القصة وأمثلة من الكتاب والسنة.

المطلب الثالث: شروط المثال ولآدابه، ونماذج من القرآن والسنة.

المطلب الرابع: الخلاصة والتوجيه.

المبحث العاشر: الدعابة تكون في الأسلوب.

المبحث الحادي عشر: من الأسلوب الحسن؛ استقبال الداعية بوجهه المدعوين، والحركة المعتدلة المعبرة، وتفاعله مع خطابه.

المبحث الثاني عشر: تنوع أسلوب الداعية، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: أنواع الأساليب الخطابية.

المطلب الثاني: أمثلة من تنوع الخطاب في الكتاب والسنة.

المبحث الثالث عشر: من الأسلوب الحسن؛ عدم الإطالة في الخطاب، وعدم التشقيق والتشدق والتفيهق في الكلام، وعدم تعمد السجع، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: الأهية والمعاني.

المطلب الثاني: موقف السنة من هذه الأمور.
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب): সাধারণ সম্বোধন (الخطاب المطلق)।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب): দাঈর (الداعية) পক্ষ থেকে প্রশ্নবোধক (استفهام) ও প্রত্যাশামূলক (ترجي) শৈলী ব্যবহারের বর্ণনায়।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ (المطلب): পবিত্র কুরআন এবং প্রশ্নবোধক (استفهام) ও প্রত্যাশামূলক (ترجي) শৈলী।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ (المطلب): সুন্নাহ এবং প্রশ্নবোধক (استفهام) ও প্রত্যাশামূলক (ترجي) শৈলী।

নবম পরিচ্ছেদ (المبحث): কাহিনী বর্ণনা (قص القصص) এবং উদাহরণ পেশ করা (ضرب الأمثال); এতে চারটি অনুচ্ছেদ (مطالب) রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب): উদ্দেশ্য (المقصود) ও গুরুত্ব (الأهمية)।

втоীয় অনুচ্ছেদ (المطلب): কাহিনীর (القصة) শর্তাবলি (شروط) এবং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে তার উদাহরণ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب): উদাহরণের শর্তাবলি (شروط) ও এর আদবসমূহ (آداب), এবং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে তার নমুনা।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ (المطلب): সারসংক্ষেপ (الخلاصة) ও নির্দেশনা (التوجيه)।

দশম পরিচ্ছেদ (المبحث): বাচনভঙ্গিতে কৌতুক (الدعابة) থাকা।

একাদশ পরিচ্ছেদ (المبحث): উত্তম পদ্ধতির (الأسلوب) অন্তর্ভুক্ত হলো; দাঈর (الداعية) পক্ষ থেকে শ্রোতাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসা, মার্জিত ও অর্থবহ শারীরিক অঙ্গভঙ্গি এবং নিজের বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ।

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ (المبحث): দাঈর (الداعية) শৈলীর ভিন্নতা; এতে দুটি অনুচ্ছেদ (مطالب) রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب): বক্তব্য প্রদানের শৈলীর (الأساليب) প্রকারভেদ।

втоীয় অনুচ্ছেদ (المطلب): কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বক্তব্যের (الخطاب) বৈচিত্র্যের উদাহরণ।

ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ (المبحث): উত্তম পদ্ধতির (الأسلوب) অন্তর্ভুক্ত হলো; বক্তব্যে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করা, অনর্থক বাক্যালংকার (التشقيق), মুখ বাঁকিয়ে কথা বলা বা বাগাড়ম্বর (التشدق) ও পাণ্ডিত্য প্রদর্শন (التفيهق) না করা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্য (السجع) তৈরি না করা; এতে দুটি অনুচ্ছেদ (مطالب) রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب): গুরুত্ব (الأهمية) ও অর্থসমূহ।

втоীয় অনুচ্ছেদ (المطلب): এসব বিষয়ে সুন্নাহর অবস্থান।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأما الفصل الثاني: فنتحدث فيه عن الوسائل الدعوية بعامة، وبخاصة المعاصرة: أنواعها .. وأحكامها، وتحته سبعة مباحث:

المبحث الأول: في الرابط بين الغايات، والطرق، والوسائل، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: المقصود من ذلك.

المطلب الثاني: الخلاف بين أهل العلم في حكم الطرق والوسائل.

المبحث الثاني: في الوسائل الدعوية، وتعريفها، وأنواعها، وفيه خمسة مطالب:

المطلب الأول: تعريف الوسيلة وأنواعها.

المطلب الثاني: حكم الوسائل وضوابطها.

المطلب الثالث: الأدلة على أن الأصل في الوسائل الإباحة.

المطلب الرابع: ضوابط استخدام الوسيلة الشرعية.

المطلب الخامس: أن حكم الوسائل حكم مقاصدها.

المبحث الثالث: حث الإسلام على استخدام الوسائل.

المبحث الرابع: الاستخدام العملي للوسائل عند الأنبياء.

المبحث الخامس: تتابع المسلمين على استخدام الوسائل.

المبحث السادس: الداعية والوسائل وتطورها، وقواعد استخدامها الفنية.

المبحث السابع: موافقة التربويين منهج الرسول صلى الله عليه وسلم في استخدام الوسائل.
আর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমরা সাধারণভাবে দাওয়াহর মাধ্যমসমূহ এবং বিশেষভাবে সমকালীন মাধ্যমসমূহ: সেগুলোর প্রকারভেদ... ও সেগুলোর বিধান নিয়ে আলোচনা করব। এর অধীনে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: লক্ষ্য, পদ্ধতি এবং মাধ্যমসমূহের মধ্যে সংযোগ প্রসঙ্গে, এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: এর দ্বারা উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: পদ্ধতি এবং মাধ্যমসমূহের বিধান সম্পর্কে আহলে ইলমগণের মধ্যে মতভেদ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দাওয়াহর মাধ্যমসমূহ, সেগুলোর সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ প্রসঙ্গে, এতে পাঁচটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: মাধ্যমের সংজ্ঞা এবং এর প্রকারভেদ।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: মাধ্যমসমূহের বিধান এবং এর নীতিমালা (ضوابط) সমূহ।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: মাধ্যমসমূহের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো বৈধতা (الإباحة)—এর স্বপক্ষে প্রমাণাদি।

চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: শরয়ি মাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালা (ضوابط)।

পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ: মাধ্যমসমূহের বিধান তাদের উদ্দেশ্যের বিধানের অনুসারী।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইসলামের উৎসাহ প্রদান।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নবীগণের ক্ষেত্রে মাধ্যমসমূহের ব্যবহারিক প্রয়োগ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মুসলমানদের ধারাবাহিকতা।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: দায়ী, মাধ্যমসমূহ ও সেগুলোর বিবর্তন এবং সেগুলোর শৈল্পিক ব্যবহারের নিয়মাবলি।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষাবিদগণের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মানহাজের (منهج) সাথে ঐক্যমত।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأما الفصل الثالث: وجاء في ذكر أهم الوسائل الدعوية مفردة، وبخاصة العصرية منها، وتضمن ستة عشر مبحثاً:

المبحث الأول: الكلمة.

المبحث الثاني: القلم والكتابة.

المبحث الثالث: الكتيبات والنشرات (المطويات)، وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: المقصود منها وأهميتها.

المطلب الثاني: فوائدها وسلبياتها.

المطلب الثالث: شروط الكتيبات والنشرات الناجحة.

المبحث الرابع: الإذاعات، وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: أهميتها.

المطلب الثاني: الوضع الواقعي للإذاعات وحكم المشاركة فيها.

المطلب الثالث: ميزات الموضوعات الناجحة.

المبحث الخامس: المحطات المرئية: (الرائي - الفضائيات)، وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: الأهمية والمقصود.

المطلب الثاني: حكم المشاركة فيها.

المطلب الثالث: إيجابياتها وسلبياتها.

المبحث السادس: الصحف والمجلات، وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: أهميتها.

المطلب الثاني: حكم المشاركة فيها واقتنائها.

المطلب الثالث: فوائدها وسلبياتها.
আর তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এখানে প্রধান দাওয়াতী মাধ্যমগুলো সম্পর্কে পৃথকভাবে আলোচনা করা হয়েছে, বিশেষ করে আধুনিক মাধ্যমসমূহ; এবং এটি ১৬টি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: শব্দ বা ভাষণ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কলম ও লিখন।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ছোট পুস্তিকা ও প্রচারপত্র (লিফলেট), এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: এর লক্ষ্য ও গুরুত্ব।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এর উপকারিতা ও নেতিবাচক দিকসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সফল ছোট পুস্তিকা ও প্রচারপত্রের শর্তাবলী।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: রেডিও সম্প্রচার, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: এর গুরুত্ব।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: রেডিও সম্প্রচারের বাস্তব পরিস্থিতি এবং এতে অংশগ্রহণের বিধান (حكم)।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সফল বিষয়বস্তুর বৈশিষ্ট্যসমূহ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: দৃশ্যমান চ্যানেলসমূহ: (টেলিভিশন - স্যাটেলাইট চ্যানেল), এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: গুরুত্ব ও লক্ষ্য।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এতে অংশগ্রহণের বিধান (حكم)।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকসমূহ।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সংবাদপত্র ও সাময়িকী, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: এর গুরুত্ব।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এতে অংশগ্রহণ ও তা সংগ্রহে রাখার বিধান (حكم)।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এর উপকারিতা ও নেতিবাচক দিকসমূহ।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث السابع: الدروس والمحاضرات، والندوات، وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: الأهمية والتعريف.

المطلب الثاني: مزايا الدروس وسلبياتها.

المطلب الثالث: مزايا المحاضرات وسلبياتها.

المبحث الثامن: المؤتمرات، وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: الأهمية والتعريف.

المطلب الثاني: الإيجابيات.

المطلب الثالث: السلبيات.

المبحث التاسع: الدورات العلمية، وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: التعريف والأهمية.

المطلب الثاني: ميزاتها.

المطلب الثالث: سلبياتها.

المبحث العاشر: الأشرطة السمعية والمرئية، وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: الأهمية.

المطلب الثاني: الإيجابيات.

المطلب الثالث: السلبيات

المبحث الحادي عشر: اللوحات المعلقة، وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: التعريف والأهمية.

المطلب الثاني: حكمها.

المطلب الثالث: ميزاتها وسلبياتها.

المطلب الرابع: توجيهات ونصائح حولها.
সপ্তম পরিচ্ছেদ: পাঠদান, বক্তৃতা এবং সেমিনার, এবং এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: গুরুত্ব ও সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: পাঠদানের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: বক্তৃতার সুবিধা ও অসুবিধাগুলো।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: সম্মেলনসমূহ, এবং এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: গুরুত্ব ও সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: ইতিবাচক দিকগুলো।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: নেতিবাচক দিকগুলো।

নবম পরিচ্ছেদ: ইলমি কোর্সসমূহ, এবং এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: সংজ্ঞা ও গুরুত্ব।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: এগুলোর বৈশিষ্ট্যসমূহ।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: এগুলোর নেতিবাচক দিকগুলো।

দশম পরিচ্ছেদ: অডিও ও ভিডিও মাধ্যমসমূহ, এবং এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: গুরুত্ব।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: ইতিবাচক দিকগুলো।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: নেতিবাচক দিকগুলো

একাদশ পরিচ্ছেদ: ঝুলন্ত বোর্ডসমূহ, এবং এতে চারটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: সংজ্ঞা ও গুরুত্ব।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: এগুলোর বিধান।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: এগুলোর সুবিধা ও অসুবিধাগুলো।

চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: এ সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা ও উপদেশসমূহ।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الثاني عشر: المجادلة والمحاورة والمناظرة، وفيه عشرة مطالب:

المطلب الأول: الأهمية والمقصود.

المطلب الثاني: المعاني والتعريف.

المطلب الثالث: مشروعية الجدال بعامة، وحرمة الذموم منه.

المطلب الرابع: الجدال في القرآن الكريم.

المطلب الخامس: تتابع الرسل على المجادلة.

المطلب السادس: الترتيب الدعوي لصور الجدال.

المطلب السابع: صور من الجدال في السنة.

المطلب الثامن: شروط الجدال المحمود وضوابطه.

المطلب التاسع: نصائح للمناظر.

المطلب العاشر: خلاصة المبحث.

المبحث الثالث عشر: المباهلة.

المبحث الرابع عشر: الشبكة العالمية (الشبكة العنكبوتية) (الإنترنت)، وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: ضرورة استغلالها في الدعوة إلى الله.

المطلب الثاني: إيجابياتها.

المطلب الثالث: سلبياتها.

المطلب الرابع: نصائح وتوجيهات.

المبحث الخامس عشر: التمثيل. وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: المقصود والحكم.
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: বিতর্ক, কথোপকথন এবং মুনাযারা (যুক্তি-তর্ক), এবং এতে দশটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: গুরুত্ব ও উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অর্থ ও সংজ্ঞা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সাধারণভাবে বিতর্কের বৈধতা এবং এর মধ্যে যা নিন্দনীয় তার নিষিদ্ধতা।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে বিতর্ক।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: বিতর্ক বা যুক্তি-তর্কের ক্ষেত্রে রাসূলগণের ধারাবাহিকতা।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: বিতর্কের বিভিন্ন রূপের দাওয়াহ-ভিত্তিক বিন্যাস।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: সুন্নাহতে বিতর্কের কিছু রূপ।

অষ্টম অনুচ্ছেদ: প্রশংসনীয় বিতর্কের শর্তাবলি ও নীতিমালা।

নবম অনুচ্ছেদ: মুনাযির বা তার্কিকের জন্য উপদেশ।

দশম অনুচ্ছেদ: পরিচ্ছেদের সারসংক্ষেপ।

ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: মুবাহালা।

চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: বিশ্বজনীন নেটওয়ার্ক (ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব) (ইন্টারনেট), এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এর ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এর ইতিবাচক দিকসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এর নেতিবাচক দিকসমূহ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: উপদেশ ও দিকনির্দেশনা।

পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: অভিনয়। এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: উদ্দেশ্য ও বিধান।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ২০)
المطلب الثاني: خلاصة الحكم (الترجيح).

المطلب الثالث: صور من التمثيل الهادف المباح.

المبحث السادس عشر: التصوير.

أما الخاتمة: فقد كتبت فيها أهم نتائج البحث، وأدرجت فيها بعض التوصيات والمقترحات التي تمخضت من كتابتي في هذا البحث.

هذا، وقد نهجت في بحث هذا الموضوع والكلام عنه منهجاً، هذه بعض خطواته:

أولاً: جمعت المادة العلمية من المصادر والمراجع الأصلية المثبتة في هوامش هذا البحث، وفي فهرس المراجع.

ثانياً: اعتمدت في بحث هذا الموضوع على إرشادات النصوص الشرعية، وما يفهم منها من دلالات دون تعصب لرأي معين، أو تقليد بعيد عن الحق.

حاولت التقعيد والتأصيل ما استطعت لتسهيل إدراكه من القارئ، ولتسهيل العمل به على ساحة الواقع، إذ المقصود الأول هو العمل بالعلم لا مجرد العلم.

ثالثاً: ركزت على وضع أمثلة تطبيقية لكل ما تكلمت عنه من تأصيل، ليتضح مراد ما نتكلم فيه، وليدلل على واقعية التأصيل ومصداقيته.

رابعاً: كتبت الموضوع بأسلوب مفهوم، ولغة بسيطة خالية من التعقيد والغموض، ليسهل تعلم هذه المادة، وتعليمها، وتطبيقها.

خامساً: أشرت إلى مواضع الآيات من السور.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সিদ্ধান্তের সারসংক্ষেপ (প্রাধান্যদান)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উদ্দেশ্যমূলক বৈধ অভিনয়ের কিছু চিত্র।

ষষ্ঠদশ পরিচ্ছেদ: চিত্রায়ন।

আর উপসংহারের ক্ষেত্রে: আমি তাতে গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো লিখেছি এবং এই গবেষণায় আমার লেখার মাধ্যমে উঠে আসা কিছু সুপারিশ ও প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করেছি।

এর সাথে, আমি এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা করার ক্ষেত্রে একটি পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, যার কয়েকটি ধাপ নিচে দেওয়া হলো:

প্রথমত: আমি গবেষণার এই পাদটীকাগুলোতে এবং তথ্যসূত্র তালিকায় উল্লিখিত মূল উৎস ও রেফারেন্স থেকে তাত্ত্বিক উপাদানসমূহ সংগ্রহ করেছি।

দ্বিতীয়ত: এই বিষয়টি গবেষণায় আমি শরয়ী দলীলসমূহের নির্দেশনা এবং তা থেকে প্রাপ্ত অর্থের ওপর নির্ভর করেছি; কোনো নির্দিষ্ট মতের প্রতি গোঁড়ামি বা সত্য থেকে বিচ্যুত কোনো অন্ধ অনুসরণ ছাড়াই।

আমি যথাসাধ্য মূলনীতি নির্ধারণ এবং তাত্ত্বিক ভিত্তি স্থাপনের চেষ্টা করেছি যাতে পাঠকের কাছে এটি উপলব্ধি করা সহজ হয় এবং বাস্তব ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ সহজতর হয়। কারণ প্রধান উদ্দেশ্য হলো অর্জিত জ্ঞানের ওপর আমল করা, কেবল জ্ঞানার্জন নয়।

তৃতীয়ত: আমি যে সকল তাত্ত্বিক আলোচনার অবতারণা করেছি, তার প্রতিটির জন্য প্রায়োগিক উদাহরণ প্রদানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি, যাতে আমাদের আলোচনার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয় এবং মূলনীতিগুলোর বাস্তবতা ও নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত হয়।

চতুর্থত: আমি বিষয়টি একটি বোধগম্য শৈলী এবং জটিলতা ও অস্পষ্টতামুক্ত সহজ ভাষায় লিখেছি, যাতে এই বিষয়টি শেখা, শেখানো এবং প্রয়োগ করা সহজ হয়।

পঞ্চমত: আমি সূরাসমূহ থেকে আয়াতের উদ্ধৃতিগুলোর অবস্থান নির্দেশ করেছি।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ২১)
سادساً: خرجت الأحاديث والآثار تخريج صحة دون استفاضة.

سابعاً: لم أعقد تراجم لمن ذكر من الأعلام لطبيعة هذا البحث.

ثامناً: اقتصرت على فهرسين لهذا البحث: فهرس الموضوعات، وفهرس للمراجع والمصادر.

كما أكتب هذا البحث مشاركة مني في هذه المسابقة (جائزة نايف بن عبد العزيز العالمية).

وإن فتح هذا المجال عن طريق المسابقات، لمشاركة الأقلام المختلفة، وتنوع الآراء المبدعة، والسعي لخدمة الدين، وتقويم الدعوة، مما يشكر القائمون عليها، وفي مقدمتهم: سمو الأمير نايف بن عبدالعزيز، والمشرف العام سمو الأمير سعود بن نايف، وأمينها العام الدكتور مساعد العرابي الحارثي، وأمينها ومديرها الدكتور مسفر بن عبد الله البشر -حفظهم الله- وغيرهم من العاملين فيها.

سائلاً المولى عز وجل أن يسدد أقوال الجميع، ويتقبل منا ومنهم، ويجعلنا من الفائزين في هذا البحث في الدنيا والآخرة، إنه ولي ذلك وأهله.

والحمد لله رب العالمين.
ষষ্ঠত: আমি হাদিস এবং আছারসমূহকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়াই বিশুদ্ধতার নিরিখে তাহরিজ (উৎস নির্দেশ) করেছি।

সপ্তমত: এই গবেষণার প্রকৃতির কারণে আমি এতে উল্লেখিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনবৃত্তান্ত উপস্থাপন করিনি।

অষ্টমত: আমি এই গবেষণার জন্য দুটি নির্ঘণ্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি: বিষয়সূচি এবং তথ্যসূত্র ও উৎসগ্রন্থের তালিকা।

এছাড়া আমি এই প্রতিযোগিতায় (নায়েফ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক পুরস্কার) আমার অংশগ্রহণের অংশ হিসেবে এই গবেষণাটি লিখছি।

প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন লেখকের অংশগ্রহণ, সৃজনশীল মতামতের বৈচিত্র্য এবং দ্বীনের খিদমত ও দাওয়াতের সংস্কারের লক্ষ্যে এই ক্ষেত্রটি উন্মুক্ত করা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। এর আয়োজকগণ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য, যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন: মহামান্য প্রিন্স নায়েফ বিন আব্দুল আজিজ, জেনারেল সুপারভাইজার মহামান্য প্রিন্স সউদ বিন নায়েফ, এর সেক্রেটারি জেনারেল ড. মুসাইদ আল-উরাবি আল-হারিছি এবং এর সেক্রেটারি ও পরিচালক ড. মুসফির বিন আব্দুল্লাহ আল-বিশ্‌র—আল্লাহ তাঁদের হিফাযত করুন—এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মীবৃন্দ।

আমি মহান প্রভুর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন সকলের কথাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, আমাদের ও তাঁদের পক্ষ থেকে কবুল করেন এবং এই গবেষণার উসিলায় আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে সফলকাম করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এতে সক্ষম।

আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ২২)
الباب الأول

نظرات في حاجات المسلمين، وواقعهم الدعوي
প্রথম অধ্যায়

মুসলিমদের প্রয়োজন এবং তাদের দাওয়াতী বাস্তবতার ওপর কিছু পর্যবেক্ষণ
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الباب الأول نظرات في حاجات المسلمين، وواقعهم الدعوي:

لا يخفى على مطلع ما يعانيه الكثيرون من المسلمين، وبخاصة الناشئة منهم وبعض الدعاة، من انحراف في التصور، واضطراب في المنهج، وتقصير في الدعوة، وخلل في المعالجة، أثّر على الساحة الدعوية سلباً، وسبب أحداثاً كثيرة وخطيرة، أحدثت تراجعات ونكسات في مجال الدعوة إلى الله.

الأمر الذي يدفع المُصلحين لتلمُّس دوافع الانحراف، ومعرفة أسباب الاضطراب، ودراسة أبعاد التقصير والخلل، دراسة جِديَّة، واقعية، لتقويمها ثم معالجتها، وسنتعرض لهذا من خلال الفصلين التاليين:
প্রথম অধ্যায়: মুসলমানদের প্রয়োজনীয়তা এবং তাদের দাওয়াতি বাস্তবতার ওপর এক দৃষ্টিপাত:

যেকোনো সচেতন ব্যক্তির কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, অনেক মুসলিম, বিশেষ করে তাদের মধ্যকার উদীয়মান তরুণ সমাজ এবং কতিপয় দাঈ, চিন্তা-চেতনার বিচ্যুতি, কর্মপদ্ধতির বিশৃঙ্খলা, দাওয়াতের ক্ষেত্রে ত্রুটি এবং সমস্যা সমাধানের দুর্বলতার শিকার। এই বিষয়গুলো দাওয়াতি ময়দানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং এমন অনেক গুরুতর ও বিপজ্জনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে, যা আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে পশ্চাদপসরণ ও বিপর্যয় নিয়ে এসেছে।

এই পরিস্থিতিই সংস্কারকদের বিচ্যুতির কারণসমূহ অনুসন্ধান করতে, অস্থিরতার কারণসমূহ জানতে এবং ত্রুটি ও বিচ্যুতিসমূহের মাত্রা নিয়ে একটি গুরুত্ববহ ও বাস্তবমুখী পর্যালোচনা করতে উদ্বুদ্ধ করে; যেন সেগুলো মূল্যায়ন করে প্রতিকার করা যায়। আমরা পরবর্তী দুটি পরিচ্ছেদের মাধ্যমে এ বিষয়ে আলোচনা করব:
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌الفصل الأول نظرة في واقع المسلمين واحتياجاتهم:

من المناسب في تمهيد هذا البحث، الإلماح إلى بعض أسباب الخلل، لمحات عاجلة، ولفتات مختصرة، ليُتفطن إليها، ولتكون محل نظر ومعالجة.

وستُذكر هذه الإلماحات من غير تفصيل ولا استفاضة في الأدلة، إذ الغاية التنويه والتذكير، لا الإسهاب والتدليل، فكل واحدة منها تحتاج إلى بحث مستفيض، ومؤلف مستقل، وسنفرد هذه الإلماحات في ثمانية مباحث:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুসলমানদের বাস্তবতা ও তাদের চাহিদাবলির ওপর এক দৃষ্টিপাত:

এই গবেষণার প্রারম্ভে ত্রুটি-বিচ্যুতির কিছু কারণের প্রতি ইঙ্গিত করা সমীচীন হবে। অত্যন্ত দ্রুত ও সংক্ষেপে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে, যেন সেগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করা যায় এবং সেগুলো পর্যালোচনা ও সংশোধনের বিষয়ে পরিণত হয়।

এই ইঙ্গিতগুলো বিস্তারিত বিবরণ বা দলিলের আধিক্য ছাড়াই উল্লেখ করা হবে। কেননা, এখানে মূল লক্ষ্য হলো সচেতন করা ও স্মরণ করিয়ে দেওয়া, বিস্তারিত আলোচনা বা প্রমাণ উপস্থাপন করা নয়। কারণ, এর প্রতিটি বিষয়ের জন্যই সুদীর্ঘ গবেষণা ও স্বতন্ত্র গ্রন্থের প্রয়োজন। আমরা এই বিষয়গুলোকে আটটি পরিচ্ছেদে পৃথকভাবে আলোচনা করব:
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الأول حاجة البشرية إلى الدعوة:

مضت سنة الله في خلقه، بوجود الكفر وأهله، ووجود الإيمان وأهله.

{هُوَ الّذِي خَلَقَكُمْ فَمِنكُمْ كَافِرٌ وَمِنكُمْ مّؤْمِنٌ وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} [التغابن: 2]

وكذلك مضت سنة الله في تناقص إيمان بعض المؤمنين، وقساوة قلوبهم، وفي الجهل في الدين، والانحراف عن الصراط المستقيم، كلما ابتعد الناس عن معين الوحي، وطال بهم العهد عن منبع الرسالة.

قال تعالى: {أَلَمْ يَأْنِ لِلّذِينَءَامَنُوَا أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقّ وَلا يَكُونُوا كَالّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الأمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مّنْهُمْ فَاسِقُونَ}. [الحديد: 16]

واقتضت حكمة الله إزالة الكفر، ورد الكافرين الى أصل الفطرة، وحظيرة الإيمان، وبيان المحجة لهم.

وكذلك اقتضت تجديد إيمان المؤمنين، وجلاء قلوبهم، وإعادة وصلها بالله، كيما يقوى الإيمان، وتستقيم النفوس على طريق الهداية، وتبقى القلوب موصولة بالله تعالى.

وسبقت رحمة الله أن تكون وسيلة الإسلام إلى هداية الكافرين، وإلى تجديد إيمان المؤمنين، وإصلاح ما فسد هي: الدعوة إلى الله تعالى، بشروطها، وأسلوبها المقرر، {وَيَقَوْمِ مَا لِى أَدْعُوكُمْ إِلَى النّجَاةِ وَتَدْعُونَنِى إِلَى النّارِ} [غافر: 41]
প্রথম পরিচ্ছেদ: দাওয়াতের প্রতি মানবজাতির প্রয়োজনীয়তা:

কুফর ও কুফরের অনুসারী এবং ঈমান ও ঈমানের অনুসারীদের অস্তিত্বের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর সুন্নাহ বা রীতি চলমান রয়েছে।

"তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ কাফির এবং তোমাদের মধ্যে কেউ মুমিন। আর তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।" [আত-তাগাবুন: ২]

ঠিক তেমনিভাবে, যখনই মানুষ ওহীর ঝর্ণাধারা থেকে দূরে সরে যায় এবং রিসালাতের উৎস থেকে তাদের সময়কাল দীর্ঘ হয়, তখনই কিছু মুমিনের ঈমান হ্রাস পাওয়া, তাদের অন্তরের কঠোরতা, দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং সঠিক পথ (সিরাতাল মুস্তাকিম) থেকে বিচ্যুত হওয়ার ক্ষেত্রেও আল্লাহর সুন্নাহ অতিবাহিত হয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেন: "যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য কি সেই সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তাদের হৃদয় বিগলিত হবে? আর তারা যেন তাদের মতো না হয় যাদেরকে ইতিপূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর তাদের ওপর দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হলে তাদের অন্তরসমূহ কঠোর হয়ে গিয়েছিল। আর তাদের অধিকাংশই ফাসিক।" [আল-হাদীদ: ১৬]

আর আল্লাহর হিকমত কুফর দূরীভূত করা, কাফিরদেরকে ফিতরাতের মূলে ও ঈমানের গণ্ডিতে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের জন্য উজ্জ্বল পথ স্পষ্ট করাকে অপরিহার্য করেছে।

অনুরূপভাবে এটি মুমিনদের ঈমান নবায়ন করা, তাদের অন্তরসমূহকে স্বচ্ছ করা এবং সেগুলোকে পুনরায় আল্লাহর সাথে সংযুক্ত করাকেও অপরিহার্য করেছে, যাতে ঈমান শক্তিশালী হয়, নফসসমূহ হিদায়াতের পথে অবিচল থাকে এবং অন্তরসমূহ মহান আল্লাহর সাথে সংযুক্ত থাকে।

আর আল্লাহর রহমত এ সিদ্ধান্ত পূর্বেই গ্রহণ করেছে যে, কাফিরদের হিদায়াত, মুমিনদের ঈমান নবায়ন এবং যা কলুষিত হয়েছে তা সংশোধনের ক্ষেত্রে ইসলামের মাধ্যম হবে: নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতি অনুযায়ী মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান। "হে আমার কওম! আমার কী হলো যে, আমি তোমাদেরকে মুক্তির দিকে ডাকছি, আর তোমরা আমাকে আগুনের দিকে ডাকছ?" [গাফির: ৪১]
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ২৬)
فكلما كانت الدعوة قائمة بشروطها، فعّالة بأسلوبها المشروع، كان الناس أقرب إلى الصلاح، وأبعدَ عن الفساد.

وكلما كانت الدعوة ضعيفة في أدائها، أو منحرفة في منهجها، كان الناسُ أقربَ إلى الشر والسوء، وأبعدَ عن الخير والاستقامة.

ولا أدل على ذلك من التفاوت في التدين بين الشعوب، فترى بعضها أحسنَ الناس عقيدة، وأفضلهم اتباعاً، وأقلهم فساداً وانحرافا، ذلك لما كان قائمًا بينهم من دعوة صحيحة، ذات جذور قوية.

وترى آخرين قد اختلت عقائدهم، وكثرت بدعهم، وظهر الفساد والانحراف في مجتمعهم .. وذلك للتقصير الدعوي فيهم.

وكل ما ظهر من الفساد العقائدي، والانحراف المنهجي، والسوء الخُلقي، والتطرف الفكري، ثم العملي الذي تفشى بين كثير من المسلمين، كان من التقصير في الدعوة إلى الله عز وجل، أو من الانحراف بها عن مقاصدها النبيلة التي رسمها لها الإسلام، أو لغياب منهجية الاعتدال فيها.

لذا بات من الضروري لهداية من ضل، ولإصلاح ما فسد، واستقامة ما انحرف، ولتقوية إيمان من ضعف، إحياء الدعوة إلى الله عز وجل على أسس سليمة، ومنهجية معتدلة، وأساليب متجددة مباحة، كي يعم الصلاح، وينقطع الفساد.

وهكذا كانت سنة الله تعالى في خلقه، كلما انحرف الناس، وانتشر الشر، أرسل الله فيهم رسولاً، أو بعث فيهم نبياً.
দাওয়াত যখনই তার শর্তাবলি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তার শরয়ী পদ্ধতিতে কার্যকর হবে, তখন মানুষ সংশোধনের নিকটবর্তী হবে এবং ফাসাদ বা বিপর্যয় থেকে দূরে থাকবে।

আর দাওয়াত যখনই তার সম্পাদনায় দুর্বল হবে অথবা তার মানহাজ বা পদ্ধতিতে বিচ্যুত হবে, তখন মানুষ অকল্যাণ ও মন্দের নিকটবর্তী হবে এবং কল্যাণ ও সঠিক পথ থেকে দূরে সরে যাবে।

বিভিন্ন জাতির মধ্যে ধার্মিকতার যে পার্থক্য বিদ্যমান, তা এর চেয়ে বড় কোনো প্রমাণ হতে পারে না। ফলে আপনি দেখবেন যে তাদের মধ্যে কেউ কেউ আকিদাহর দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ, অনুসরণে সর্বোত্তম এবং ফাসাদ ও বিচ্যুতির দিক থেকে সর্বনিম্ন; এটি তাদের মধ্যে শক্তিশালী শিকড়বিশিষ্ট সঠিক দাওয়াত প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণেই হয়েছে।

আবার অন্যদের দেখবেন যাদের আকিদাহ বিকৃত হয়ে গেছে, যাদের মধ্যে বিদআত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাদের সমাজে ফাসাদ ও বিচ্যুতি প্রকাশ পেয়েছে; এটি হয়েছে তাদের মাঝে দাওয়াতী কাজের অবহেলার কারণে।

আকিদাহগত ফাসাদ, মানহাজগত বিচ্যুতি, চারিত্রিক অবক্ষয়, চিন্তাগত এবং পরবর্তীতে কর্মগত যে চরমপন্থা বহু মুসলিমের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সবই মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে অবহেলার কারণে, অথবা ইসলাম দাওয়াতের জন্য যে মহান উদ্দেশ্যগুলো নির্ধারণ করেছে তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণে, অথবা এর মধ্যে মধ্যপন্থার অনুপস্থিতির কারণে ঘটেছে।

তাই যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে তাদের হেদায়েতের জন্য, যা নষ্ট হয়েছে তা সংশোধনের জন্য, যা বিচ্যুত হয়েছে তাকে সঠিক পথে আনার জন্য এবং যাদের ঈমান দুর্বল হয়ে গেছে তাদের শক্তিশালী করার জন্য সঠিক ভিত্তি, ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি এবং শরীয়তসম্মত আধুনিক উপায়ে মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতকে পুনরুজ্জীবিত করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে, যাতে সংশোধন ব্যাপক হয় এবং ফাসাদ বন্ধ হয়।

আর তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মহান আল্লাহর সুন্নাহ এমনই ছিল; যখনই মানুষ বিচ্যুত হয়েছে এবং মন্দ ছড়িয়ে পড়েছে, তখনই আল্লাহ তাদের মধ্যে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন অথবা একজন নবী পাঠিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ২৭)
{كَانَ النّاسُ أُمّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللهُ النّبِيّينَ مُبَشّرِينَ وَمُنذِرِينَ وَأَنزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ إِلاّ الّذِينَ أُوتُوهُ مِن بَعْدِ مَا جَآءَتْهُمُ الْبَيّنَاتُ بَغْياً بَيْنَهُمْ فَهَدَى اللهُ الّذِينَ آمَنُوا لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقّ بِإِذْنِهِ وَاللهُ يَهْدِى مَن يَشَآءُ إِلَىَ صِرَاطٍ مّسْتَقِيمٍ} [البقرة: 213]

قال ابن كثير - - عند هذه الآية ( … وأن الناس كلهم كانوا على دين واحد، وهو الإسلام، قال ابن عباس: ((ثم وقع الاختلاف بين الناس، وعُبدت الأصنام، والأنداد، والأوثان، فبعث الله الرسل بآياته، وبيناته وحججه البالغة، وبراهينه الدامغة، {لّيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَن بَيّنَةٍ وَيَحْيَى مَنْ حَىّ عَن بَيّنَةٍ .. })) (1). [الأنفال: 42]

وهكذا كان منهج الأنبياء في دعوتهم {إِنْ أُرِيدُ إِلاّ الإِصْلاحَ مَا اسْتَطَعْتُ وَمَا تَوْفِيقِى إِلاّ بِاللهِ عَلَيْهِ تَوَكّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} [هود: 88]

ولما لم يكن نبي بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقد وُكِّلَت الدعوة إلى العلماء والدعاة من أمته، يعلِّمون الناس ما جهلوا، ويذكرونهم ما نسوا، ويهدونهم إلى صراط الله المستقيم، ومن هنا جاءت أهمية الدعوة، وأهمية تأصيلها، وجاءت أهمية دور الدعاة، وأهمية إعدادهم.

--------------------------------------------

(1) - تفسير ابن كثير (2/ 426)
{মানুষ ছিল এক উম্মতভুক্ত; অতঃপর আল্লাহ নবীদের পাঠালেন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করলেন, যাতে তিনি মানুষের মধ্যে সেই বিষয়ে ফয়সালা করেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছিল। আর যারা তা প্রাপ্ত হয়েছিল, তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পর কেবল পরস্পর বিদ্বেষবশত তারা তাতে মতভেদ করেছিল। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নির্দেশে মুমিনদের সেই সত্যের পথে পরিচালিত করলেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছিল। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন।} [আল-বাকারা: ২১৩]

ইবনে কাসির -রাহিমাহুল্লাহ- এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, (… এবং নিশ্চয়ই সমস্ত মানুষ একই দ্বীনের ওপর ছিল, আর তা হলো ইসলাম। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "অতঃপর মানুষের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হলো এবং প্রতিমা, সমকক্ষ ও মূর্তিপূজা শুরু হলো। তখন আল্লাহ তাঁর নিদর্শনসমূহ, সুস্পষ্ট প্রমাণাদি, অকাট্য দলিল ও শক্তিশালী প্রমাণের সাথে রাসুলদের পাঠালেন, {যাতে যে ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে...}") (১)। [আল-আনফাল: ৪২]

আর নবীগণের দাওয়াতের পদ্ধতি এমনই ছিল, {আমি কেবল আমার সাধ্যমতো সংস্কারই চাই। আর আমার তাওফিক তো আল্লাহর সাহায্যেই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।} [হুদ: ৮৮]

যেহেতু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর আর কোনো নবী নেই, তাই দাওয়াতের এই দায়িত্ব তাঁর উম্মতের আলেম ও দাঈদের ওপর অর্পণ করা হয়েছে; যারা মানুষকে তাদের অজানা বিষয়গুলো শেখাবেন, তাদের ভুলে যাওয়া বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং আল্লাহর সরল পথের দিকে তাদের পরিচালিত করবেন। আর এখান থেকেই দাওয়াতের গুরুত্ব, এর মূলনীতি নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা, দাঈদের ভূমিকার গুরুত্ব এবং তাদের গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা যায়।

--------------------------------------------

(১) - তাফসির ইবনে কাসির (২/ ৪২৬)
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المبحث الثاني حاجتنا إلى التأصيل قبل التمثيل، والعاطفة والارتجال.

المقصود بهذه الإلماحة هنا: أن حاجتنا إلى معرفة أسس الدين، وأصول العلوم، وقواعد المسائل، كثوابت التوحيد، وقواعد الفقه، وأصول القضاء، وركائز الدعوة، وفهم هذه الأصول، والعمل بمقتضاها، وتربية الناشئة عليها، حاجتنا إلى هذا التأصيل أكثر من حاجتنا إلى فروع المسائل، وإثارة العواطف، وحماسة المواقف.

فإذا كان التأصيل صحيحاً، ثبت أصحابه في الملمات، ونجوا في الفتن، وآتى ثماره، وانتفع الناس به.

{أَلَمْ تَرَ كَيْفَ ضَرَبَ اللهُ مَثَلاً كَلِمَةً طَيّبَةً كَشَجَرةٍ طَيّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِى السّمَآءِ * تُؤْتِى أُكُلَهَا كُلّ حِينٍ بِإِذْنِ رَبّهَا … } الآية [إبراهيم: 24]

وأما إذا ساد -في المواقف الدعوية- الارتجال والتعجل، وتحكمت العواطف والحماسة، اضطربت الدعوة، وماج أصحابها، فسقطوا في حمئة الفتن، ولم يثبتوا في أعاصير المحن، فلم ينفعوا ولم ينتفعوا.

قال تعالى: {فَأَمّا الزّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَآءً وَأَمّا مَا يَنفَعُ النّاسَ فَيَمْكُثُ فِى الأرْضِ كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللهُ الأمْثَالَ}. [الرعد: 17]

فهل من متذكر! ؟ !

وقال: {وَمَثلُ كَلِمَةٍ خَبِيثَةٍ كَشَجَرَةٍ خَبِيثَةٍ اجْتُثّتْ مِن فَوْقِ الأرْضِ مَا لَهَا مِن قَرَارٍ .. }. الآية [إبراهيم: 26]
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দৃষ্টান্ত প্রদানের আগে ভিত্তি স্থাপন এবং আবেগ ও তাৎক্ষণিকতার প্রয়োজনীয়তা.

এখানে এই ইঙ্গিতের উদ্দেশ্য হলো: দ্বীনের ভিত্তি, ইলমের মূলনীতি ও মাসআলাসমূহের কায়দা-কানুন, যেমন তাওহীদের অটল বিষয়সমূহ, ফিকহী কায়দা, বিচারব্যবস্থার মূলনীতি এবং দাওয়াতের স্তম্ভসমূহ জানা, এই মূলনীতিগুলো বোঝা, সে অনুযায়ী আমল করা এবং নতুন প্রজন্মকে এর ওপর গড়ে তোলা; আমাদের নিকট এই ভিত্তি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা শাখা-প্রশাখার মাসআলা, আবেগ জাগানো এবং পরিস্থিতির উত্তেজনার চেয়ে অনেক বেশি।

যদি ভিত্তি স্থাপন সঠিক হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মহাবিপদে অটল থাকে, ফিতনা থেকে মুক্তি পায়, তা ফল দান করে এবং মানুষ এর মাধ্যমে উপকৃত হয়।

{আপনি কি লক্ষ্য করেননি আল্লাহ কীভাবে একটি উত্তম বাক্যের উদাহরণ দিয়েছেন? সেটি একটি উত্তম বৃক্ষের ন্যায়, যার মূল সুদৃঢ় এবং যার শাখা আকাশে বিস্তৃত। সেটি তার রবের নির্দেশে সর্বদা ফল দান করে …} আয়াত [ইবরাহীম: ২৪]

পক্ষান্তরে দাওয়াতের ময়দানে যদি তাৎক্ষণিকতা ও তাড়াহুড়ো প্রাধান্য পায় এবং আবেগ ও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করে, তবে দাওয়াতী কাজ অস্থির হয়ে পড়ে এবং এর সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা বিচলিত হয়ে যায়, ফলে তারা ফিতনার পঙ্কে পতিত হয় এবং পরীক্ষার ঘূর্ণিঝড়ে অটল থাকতে পারে না। তখন তারা না কাউকে উপকৃত করতে পারে, না নিজেরা উপকৃত হতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {তবে ফেনা তো নিঃশেষ হয়ে যায়, আর যা মানুষের উপকারে আসে তা জমিনে টিকে থাকে। এভাবেই আল্লাহ দৃষ্টান্ত পেশ করেন।} [আর-রাদ: ১৭]

তবে কি কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে! ? !

এবং তিনি বলেন: {আর মন্দ বাক্যের উদাহরণ একটি মন্দ বৃক্ষের ন্যায়, যাকে জমিনের উপরিভাগ থেকে উপড়ে ফেলা হয়েছে, যার কোনো স্থায়িত্ব নেই .. } আয়াত [ইবরাহীম: ২৬]
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ২৯)
والمقصود بالتأصيل كذلك: معرفة أحكام الكليات، وفهم العموميات، وضوابط الدليل، وأسس الاتباع، وتوضيح معنى الابتداع، وأنواع الخلاف ومواقفه، ومتى يجب الاتفاق، ومتى يسوغ الاختلاف والافتراق، ومتى يكون الاجتهاد خطأً، ومتى يكون الرأي انحرافاً وضلالاً.

ومن التأصيل المنهجي: معرفة قواعد الوصول إلى الحق (1)، والتفريق بين الدليل وبين التزيين (2)، وفهم قواعد المصالح والمفاسد حين التعارض، فيما بينها وبين النصوص، وفيما بين بعضها بعضاً.

والتأصيل في مجال الدعوة يعني: وجوب معرفة أصولها، وقواعدها، وآدابها، ومواقفها من كل فرد، ومن أنواع المجتمعات، ومعرفة أحكام وسائلها، وطرق أساليبها، كل ذلك يجب على الداعية أن يتعلمه، ويتربى عليه، قبل أن ينطلق في دعوته، وهو لا يعرف أصولاً، ولا يحسن سلوكاً، ولا يدرك حكمة، وإلا كان إفساده أكثر من إصلاحه، وصدود الناس عنه كان أكبر من إقبالهم، وسيُتكلم تفصيلاً عن هذا في فصل منهجية الدعوة.

إن فقدان هذا المَعْلَم - معلم التأصيل - جرّ على بعض المسلمين اضطراباً في التفكير، وانحرافاً في المنهج، وخللاً في الدعوة، فجعلهم يتعلقون بالعاطفة والتزيين (2)، لا بالبرهان والدليل، وفهم للتمحور حول

--------------------------------------------

(1) ثمة مؤلَف للمؤلف في ((قواعد معرفة الحق)) يسر الله نشره.

(2) التزيين مصدر زيّن: والمقصود بذلك؛ ما يفعله المخالفون للشرع من تزيين أقوالهم وأفعالهم لرد النصوص، والخروج عن الشرع، وقد يكون ذلك من أنفسهم أو من الشيطان، وقد أشار الله إلى هذا في أكثر من موضع في كتابه فقال: {أَفَمَن زُيّنَ لَهُ سُوَءَ عَمَلِهِ فَرَآهُ حَسَناً .. } الآية [فاطر: 8]، … =

 

= {وَجَدتّهَا وَقَوْمَهَا يَسْجُدُونَ لِلشّمْسِ مِن دُونِ اللهِ وَزَيّنَ لَهُمُ الشّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدّهُمْ عَنِ السّبِيلِ فَهُمْ لا يَهْتَدُونَ} [النمل: 24].
অনুরূপভাবে তাকসীল (মৌলিক ভিত্তি গঠন)-এর উদ্দেশ্য হলো: সামগ্রিক বিষয়াবলির বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, সাধারণ বিষয়াবলি অনুধাবন করা, দলিলের নীতিমালাসমূহ এবং অনুসরণের ভিত্তিগুলো জানা, বিদআতের মর্মার্থ স্পষ্ট করা, মতভেদের ধরন ও সেগুলোর ক্ষেত্রে অবস্থান নির্ণয় করা, কখন ঐক্যবদ্ধ হওয়া আবশ্যক আর কখন মতভেদ ও বিচ্ছিন্ন হওয়া বৈধ, কখন ইজতিহাদ ভুল হিসেবে গণ্য হয় এবং কখন কোনো অভিমত বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতা হিসেবে বিবেচিত হয় তা জানা।

পদ্ধতিগত তাকসীলের অন্তর্ভুক্ত হলো: সত্যে উপনীত হওয়ার নিয়মাবলি জানা (১), দলিল এবং কৃত্রিম চাকচিক্যের (২) মধ্যে পার্থক্য করা এবং যখন মাসলাহাত (কল্যাণ) ও মাফাসাদ (অকল্যাণ)-এর মাঝে অথবা এগুলোর সাথে নসের (শরয়ী উদ্ধৃতি) কোনো দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, তখন সেগুলো অনুধাবনের মূলনীতিসমূহ আয়ত্ত করা।

দাওয়াহর ক্ষেত্রে তাকসীল বলতে বোঝায়: এর মূলনীতি, নিয়মাবলি, আদব-কায়দা এবং প্রতিটি ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রকার সমাজের প্রতি দাওয়াহর দৃষ্টিভঙ্গি কী হবে তা জানা আবশ্যক। এছাড়াও দাওয়াহর মাধ্যম ও কর্মপন্থার বিধান সম্পর্কে জ্ঞান রাখা জরুরি। একজন দাঈ দাওয়াহর ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে এই সবকিছু শেখা এবং সে অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তোলা আবশ্যক; অন্যথায় তিনি যদি মূলনীতিগুলো না জানেন, সঠিক আচরণে পারদর্শী না হন এবং হিকমত বা প্রজ্ঞা উপলব্ধি করতে না পারেন, তবে তার সংশোধনের চেয়ে নষ্ট করার পরিমাণই বেশি হবে এবং মানুষের তার দিকে আসার চেয়ে বিমুখ হওয়ার হারই বেশি হবে। ‘দাওয়াহর পদ্ধতি’ অধ্যায়ে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

এই বৈশিষ্ট্যের অভাব—অর্থাৎ তাকসীল বা মৌলিক ভিত্তি গঠনের অভাব—কিছু মুসলিমের চিন্তাধারায় বিশৃঙ্খলা, কর্মপদ্ধতিতে বিচ্যুতি এবং দাওয়াহর ক্ষেত্রে ত্রুটি বয়ে এনেছে। এর ফলে তারা প্রমাণ ও দলিলের পরিবর্তে আবেগ ও চাকচিক্যের (২) পেছনে ছুটেছে এবং কেন্দ্রমুখিতার বিষয়টি বুঝেছে...

--------------------------------------------

(১) সত্য জানার নিয়মাবলি বিষয়ক লেখকের একটি রচনা রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা প্রকাশের পথ সুগম করেছেন।

(২) সুশোভিতকরণ (তাজয়ীন) হলো ‘যাইয়ানা’ শব্দের ক্রিয়ামূল। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—শরীয়ত বিরোধীরা তাদের কথা ও কাজকে যেভাবে সুশোভিত করে পেশ করে যাতে নস বা উদ্ধৃতিসমূহকে প্রত্যাখ্যান করা যায় এবং শরীয়ত থেকে বিচ্যুত হওয়া যায়। এটি তাদের নিজেদের পক্ষ থেকে হতে পারে অথবা শয়তানের পক্ষ থেকেও হতে পারে। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবের একাধিক স্থানে এ সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন: {যাকে তার মন্দ কাজ সুশোভিত করে দেখানো হয়েছে, ফলে সে তাকে উত্তম মনে করে...} আয়াত [সূরা ফাতির: ৮], … =

 

= {আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম যে, তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সিজদা করছে এবং শয়তান তাদের কার্যাবলিকে তাদের নিকট সুশোভিত করে দিয়েছে, অতঃপর তাদেরকে সঠিক পথ থেকে নিবৃত্ত করেছে, ফলে তারা হেদায়াত পায় না।} [সূরা আন-নামল: ২৪]।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ৩০)
الفروع (1) لا الأصول، والانطلاق من العاطفة والحماسة. لا من الثوابت وبُعد النظر، والتعلق بالحزبية والرجال، لا بالحق والإسلام.

إن فقدان الثوابت والتأصيل لدى جماهير المسلمين جعلهم يباعون ويشترون بأبخس الأثمان، ويجرون وراء كل ناعق.

إن غياب هذا المَعْلَم، يربك الداعية في المواقف الحرجةِ، ويجعله مضطرباً، لا يحسن تصرفاً ولا يجيد رأياً، ويجعلهُ لا يثبت في محنة؛ كريشة في مهب الريح، كحال البيت إذا هبت عليه عاصفة وقد بني بلا أسس.

وإن إعادة تربية الناشئة على التأصيل، وبخاصةٍ في مقام الدعوة، يقي كثيرًا من الانحرافات والانتكاسات، ويضمنُ كثيرًا من السدادِ والتوفيق.

إن التأصيل يَهَبُ للداعية توفيقاً في الدعوة، وحسنَ تصرفٍ في المواقف الحرجة، وثباتاً - على الحق- في مواجهة الفتن.

--------------------------------------------

(1) ولا يعني هذا؛ التقليل من شأن الفروع فالكل من الدين، والكل مهم، وقد أمرنا الله بالدخول في الدين كافة، فقال: {يَأَيّهَا الّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السّلْمِ كَآفّةً .. } الآية. [البقرة: 208]، ولكن المقصود ما يفعله بعض الدعاة من التركيز على بعض الفروع، كأنه الدين كله أو أصل من أصوله .. غافلاً عن الأولويات، ومتجافياً عن المهمات.
শাখা-প্রশাখা (১), মূলনীতি নয়; আবেগ ও উদ্দীপনা থেকে যাত্রা শুরু করা, সুদৃঢ় ভিত্তি ও দূরদর্শিতা থেকে নয়; এবং সত্য ও ইসলামের পরিবর্তে দলপ্রীতি ও ব্যক্তিকেন্দ্রিকতায় জড়িয়ে পড়া।

মুসলিম জনসাধারণের মধ্যে সুদৃঢ় মৌলনীতি ও তাত্ত্বিক ভিত্তির অভাব তাদেরকে তুচ্ছ মূল্যে কেনা-বেচার বস্তুতে পরিণত করেছে এবং তারা প্রতিটি আহ্বানকারীর পেছনে অন্ধভাবে ছুটে চলে।

এই বৈশিষ্ট্যের অনুপস্থিতি সংকটময় মুহূর্তে দাঈকে বিভ্রান্ত করে তোলে এবং তাকে অস্থির করে দেয়; ফলে সে না পারে সঠিক আচরণ করতে, আর না পারে উত্তম কোনো সিদ্ধান্ত নিতে। এটি তাকে পরীক্ষার সময় অটল থাকতে দেয় না; বরং বাতাসের ঝাপটায় পাখির পালকের মতো হয়ে যায়, যেমন ভিত্তিহীন কোনো ঘরের অবস্থা হয় যখন তার ওপর দিয়ে প্রচণ্ড ঝড় বয়ে যায়।

তরুণ প্রজন্মকে বিশেষ করে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক ভিত্তির ওপর নতুন করে গড়ে তোলা অনেক বিচ্যুতি ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে এবং অনেক সঠিক পথপ্রাপ্তি ও সফলতার নিশ্চয়তা প্রদান করে।

নিশ্চয়ই তাত্ত্বিক ভিত্তি দাঈকে দাওয়াতের কাজে সফলতা, সংকটময় পরিস্থিতিতে বিচক্ষণ আচরণ এবং ফিতনার মোকাবিলায় সত্যের ওপর অটল থাকার শক্তি দান করে।

--------------------------------------------

(১) এর অর্থ এই নয় যে, শাখা-প্রশাখাকে খাটো করে দেখা হচ্ছে; কারণ প্রতিটি বিষয়ই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত এবং সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ আমাদের দ্বীনের পূর্ণাঙ্গ পালনের নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ইসলামে পূর্ণরূপে প্রবেশ করো...} আয়াত। [আল-বাকারাহ: ২০৮]। তবে উদ্দেশ্য হলো কিছু দাঈর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা যারা কিছু শাখা বিষয়ের ওপর এমনভাবে গুরুত্বারোপ করেন যেন সেটিই সম্পূর্ণ দ্বীন বা দ্বীনের মূল স্তম্ভগুলোর একটি—অগ্রাধিকারযোগ্য বিষয়গুলো ভুলে গিয়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে বিমুখ হয়ে।
(খণ্ড: ১) মানহাজুদ দাওয়াহ ফী দাউয়িল ওয়াকিউল মুয়াসির (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌المبحث الثالث حاجتنا إلى الفقه:

وفيه خمسة مطالب:

 

الأول: المقصود بالفقه.

المقصود بالفقه هاهنا: ضرورة الفهم والإدراك لحقائق كثيرة في الشرع، قد غابت عن أذهان كثير من الدعاة، حتى ظن بعضهم أن مجرد الحفظ والعاطفة، وقوة الإلقاء، وبلاغة التعبير، كافية لترشيح صاحبها إلى منصة الإفتاء، واعتلائه منبر الدعوة، يَصول في الأحكام، دون تأصيل ولا فقه، ويحكم في الناس، دون رَويَّة ولا ورع.

إن الحفظ والاطلاع والعاطفة، ما لم تتوج بالفهم العميق، وتحاط بالتأصيل المتين، انعكست آثاراً سلبية على الدعوة والمدعوين والمجتمع، فقد تُنفِّر المدعوين، وتعرقل الدعوة إن لم توقفها (1).

ولذا ينبغي، أن يتحلى المسلمون بعامة، والدعاة بخاصة، بالفهم العميق لدينهم، في أهدافه .. وأصوله .. وقواعده .. ولدعوته؛ في منهجها، وأسلوبها، ووسائلها.

إن على الدعاة أن يتوفر فيهم الإدراك العميق لواقعهم، من حيث أحداثُهُ، وطباع الناس، وسلوكهم، ومداركهم، ثم تملُّك البصيرة النافذة، للتصرف حيال الأحداث الجارية، والمستحدثات المختلفة،

--------------------------------------------

(1) لينظر البصير إلى أحوال الدعوات المتطرفة وما حل بها وبأصحابها منذ نشأت، من عهد علي رضي الله عنه إلى يومنا هذا.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফিকহ-এর প্রতি আমাদের প্রয়োজনীয়তা:

এতে পাঁচটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:

 

প্রথমত: ফিকহ দ্বারা যা উদ্দেশ্য।

এখানে ফিকহ বলতে যা বোঝানো হয়েছে তা হলো: শরীয়তের বহুবিধ বাস্তবতা অনুধাবন ও উপলব্ধি করার প্রয়োজনীয়তা, যা অনেক দাঈর (আহ্বানকারী) মেধা থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেছেন যে, কেবল মুখস্থ করা, আবেগ, জোরালো বক্তব্য প্রদান এবং সাবলীল প্রকাশভঙ্গিই তার অধিকারীকে ফতোয়া প্রদানের মঞ্চে বসার এবং দাওয়াতের মিম্বারে আরোহণের যোগ্যতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট। ফলে তিনি কোনো মৌলিক ভিত্তি ও ফিকহ ছাড়াই শরয়ী বিধানের ক্ষেত্রে বিচরণ করেন এবং কোনো ধীরস্থিরতা ও পরহেযগারি ছাড়াই মানুষের মাঝে ফয়সালা প্রদান করেন।

নিশ্চয়ই মুখস্থ করা, ব্যাপক অধ্যয়ন এবং আবেগ যদি গভীর অনুধাবন দ্বারা ভূষিত না হয় এবং সুদৃঢ় মৌলিক ভিত্তির দ্বারা পরিবেষ্টিত না থাকে, তবে দাওয়াত, দাওয়াত গ্রহণকারী এবং সমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এটি দাওয়াত গ্রহণকারীদের মনে অনীহা সৃষ্টি করতে পারে এবং দাওয়াতের পথকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, যদি তা পুরোপুরি থামিয়ে না দেয় (১)।

তাই সাধারণ মুসলিমদের এবং বিশেষভাবে দাঈদের উচিত তাদের দ্বীনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, মূলনীতি ও বিধিবিধান এবং দাওয়াতের পদ্ধতি, শৈলী ও মাধ্যমসমূহ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অর্জন করা।

দাঈদের মধ্যে তাদের বাস্তবতা সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি থাকা অপরিহার্য; যেমন- সমসাময়িক ঘটনাবলি, মানুষের স্বভাব-চরিত্র, আচরণ এবং তাদের বোধশক্তি সম্পর্কে। অতঃপর চলমান ঘটনাবলি ও বিভিন্ন নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতির ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী হওয়া।

--------------------------------------------

(১) দূরদর্শী ব্যক্তি যেন চরমপন্থী দাওয়াত বা আন্দোলনগুলোর অবস্থা এবং তাদের সূচনালগ্ন থেকে অর্থাৎ আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত তাদের ও তাদের অনুসারীদের ওপর যা আপতিত হয়েছে, তার প্রতি লক্ষ্য করেন।