(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: -)
السبيل إلى منهج أهل السنة والجماعة   (عدنان العرعور)

القسم: كتب عامة


الكتاب: السبيل إلى منهج أهل السنة والجماعة

المؤلف: عدنان محمد عرعور

الناشر: دار الراية قسم البحث العلمي

الطبعة: الأولى، 1410 هـ

عدد الصفحات: 56

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 3 رجب 1440

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজের পথ   (আদনান আল-আরঊর)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী


বই: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজের পথ

লেখক: আদনান মুহাম্মদ আরঊর

প্রকাশক: দারুর রাইয়াহ, গবেষণা বিভাগ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৩ রজব ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ১)
السَبِيلُ

إلى

منهج أهل السنة والجماعة

 

بقلم

عَدنَان مَحَمَّد عَرْعُور

دار الراية/ قسم البحث العلمي
পথ

অভিমুখে

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ

 

কলমে

আদনান মুহাম্মদ আরূর

দার আল-রাইয়াহ/ বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিভাগ
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

أما بعد فأشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدًا عبده ورسوله.

 

‌‌المقدمة:

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد الأولين والآخرين، محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

فعلى ضيق من الوقت، وكثرة الأشغال، ألح علي مُحب أن أكتب كتيبًا مختصرًا في منهاج الطائفة المنصورة، وذلك بمناسبة عقد المؤتمر الثالث لجمعية القرآن والسنة بأمريكا، وكي يكون هذا الكتاب سبيل رشد، ونبراس نور يضيء للمبتدئ طريق الهدى وطريق خلاص ومنهج حق في خضم هذه الخلافات الهائجة والجماعة المختلفة، وفي زمن فشى فيه الجهل، وقل العلم، وكثر القيل والقال، وصدق فينا قول المصطفى صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ اللَّهَ لا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا، يَنْتَزِعُهُ مِنَ الْعِبَادِ، وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ، حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا، اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالاً فَسُئِلُوا، فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ، فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا" [رواه البخاري ومسلم وغيرهما]

 

وإن مما تجدر الإشارة إليه أن المسلمين قد فقدوا الشيء
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

অতঃপর, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল।

 

‌‌ভূমিকা:

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর।

সময়ের স্বল্পতা এবং কর্মব্যস্ততার আধিক্য সত্ত্বেও একজন প্রিয়জন আমাকে 'বিজয়াপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة)'-এর কর্মপন্থা (منهاج) সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা রচনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন। এটি মূলত আমেরিকায় 'জামিয়াতুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ'-এর তৃতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়া উপলক্ষে রচিত। যেন এই বইটি সঠিক পথের দিশা এবং একটি আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে, যা একজন নতুন শিক্ষার্থীর জন্য হিদায়াতের পথ, মুক্তির পথ এবং সত্যের কর্মপন্থা (منهاج) আলোকোজ্জ্বল করে দেয়—এই উত্তাল মতপার্থক্য ও নানাবিধ দলের ভিড়ে। এমন এক সময়ে যখন মূর্খতা ছড়িয়ে পড়েছে, ইলম হ্রাস পেয়েছে এবং অনর্থক কথা ও বিতর্কের আধিক্য ঘটেছে। আর আমাদের বর্তমান অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীটি সত্য প্রমাণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে ইলম ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তা তুলে নেবেন না, বরং তিনি আলেমদের (علماء) উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম তুলে নেবেন। শেষ পর্যন্ত যখন তিনি কোনো আলেম (عالم) অবশিষ্ট রাখবেন না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদের নিকট ফতোয়া চাওয়া হবে, আর তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া প্রদান করবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।" [এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, মুসলিম ও অন্যান্যগণ]

 

নিশ্চয়ই যে বিষয়টি এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো, মুসলিমরা এমন কিছু হারিয়েছে যা...
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ৪)
الكثير من معالم دينهم، وسبيل نجاتهم، وإن من أهم ما فقدوه ـ إلا من رحم الله ـ قواعد معرفة الحق.

فقد أحلوا مكان البينة التزيين، وقدموا الرجال على الدليل، واتبعوا الهوى بدل الهدى، واستبدلوا العقل بالعاطفة، وأحلوا الكفر محل الاتباع، واشتروا بكتاب الله عز وجل وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم فكر زيد وتجديد عمرو {وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ} حتى صار العالم عندهم، من ابتدع وفكر، وعن سنة رسوله صلى الله عليه وسلم أدبر، وبالمشركين اقتدى وتمسك {أَفَمَنْ كَانَ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّهِ كَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ} [محمد: 14]

فالمجتهد عندهم من خالف النصوص، وأحدث في دين الله من البدع الفكرية ما لم ينزل الله به من سلطان بدعوى الفكر والتجديد، وهي في حقيقتها تمييع وتبديد.

والمتبع عندهم لسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحابته الكرام جامد العقل، بدوي الفقه، سطحي التفكير، وإذا كان علامة أهل البدع في عهد سلفنا، قولهم عن أهل السنة والجماعة المجسمة والحشوية، فإن علامة أهل الزيغ في زماننا، قولهم عن أهل الحق، أصحاب الفقه البدوي.

فإلى الله المشتكى من غربة هذا الزمان

ورغم قناعتي بعدم الكتابة في هذا الموضوع الهام، وذلك لضيق الوقت، ولأن مثل هذه الموضوع الهام يحتاج إلى وقت
তাদের দ্বীনের বহু নিদর্শন এবং তাদের নাজাতের পথ; আর তারা যা হারিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান বিষয় হলো—আল্লাহ যাদের প্রতি দয়া করেছেন তারা ব্যতীত—সত্য অনুধাবনের মূলনীতিসমূহ।

তারা সুস্পষ্ট প্রমাণের (بينة) পরিবর্তে বাহ্যিক চাকচিক্যকে স্থান দিয়েছে, দলিলের (دليل) ওপর ব্যক্তিত্বকে প্রাধান্য দিয়েছে, হিদায়াতের পরিবর্তে প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে এবং আকলের (বিবেকের) স্থলে আবেগকে স্থলাভিষিক্ত করেছে। তারা অনুসরণের (اتباع) পরিবর্তে কুফরকে গ্রহণ করেছে এবং মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহর বিনিময়ে ‘জায়েদ’-এর চিন্তা আর ‘আমর’-এর আধুনিকতাকে ক্রয় করে নিয়েছে। "এবং তারা তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেছে।" অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, তাদের নিকট আলেম বা জ্ঞানী হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করে বা বিদআত (ابتدع) করে এবং চিন্তা-গবেষণা করে, আর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ থেকে বিমুখ হয় এবং মুশরিকদের অনুসরণ ও অনুকরণ করে। "তবে কি সেই ব্যক্তি যে তার রবের পক্ষ থেকে আসা সুস্পষ্ট প্রমাণের (بينة) ওপর প্রতিষ্ঠিত, সে কি ঐ ব্যক্তির সমান যার কাছে তার মন্দ কাজগুলোকে সুশোভিত করে দেখানো হয়েছে?" [সূরা মুহাম্মদ: ১৪]

তাদের নিকট মুজতাহিদ (مجتهد) হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে নস বা মূল পাঠের (نصوص) বিরোধিতা করে এবং চিন্তা ও আধুনিকায়নের দোহাই দিয়ে আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে এমন সব চিন্তাগত বিদআত (البدع الفكرية) উদ্ভাবন করে, যার কোনো প্রমাণ আল্লাহ অবতীর্ণ করেননি; অথচ প্রকৃত অর্থে তা হলো দ্বীনকে হালকা করা এবং ধ্বংস করা।

আর যারা রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীদের সুন্নাহর অনুসারী, তাদের তারা স্থবির মস্তিষ্কের অধিকারী, গেঁয়ো ফিকহধারী এবং অগভীর চিন্তাসম্পন্ন মনে করে। আমাদের সালাফদের যুগে বিদআতিদের (أهل البدع) লক্ষণ যদি এই হয়ে থাকে যে তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতকে 'মুজাসসিমা' (المجسمة) ও 'হাশউইয়া' (الحشوية) বলত, তবে বর্তমান যুগে বিচ্যুত সম্প্রদায়ের (أهل الزيغ) লক্ষণ হলো তারা সত্যপন্থীদের 'মরুচারী ফিকহধারী' বলে অভিহিত করে।

সুতরাং এই যমানার একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতা সম্পর্কে আল্লাহর কাছেই ফরিয়াদ।

সময়ের স্বল্পতার কারণে এবং এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে না লেখার ব্যাপারে আমার দৃঢ় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও...
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ৫)
كبير ومطالعات جمة وتأصيل وتقعيد.

روغم هذا كله أراني أكتب على هذه العجالة، كلمات غير مرتبات ولا مرتبطات، حاولت فيهن الإجابة عن أسئلة المبتدئ.

* ما هو السبيل؟

* ما هي النجاة؟

* ما هو الضمان؟

وأدعو الله تعالى .. أن يبارك لي في وقتي كي أعطي هذه الموضوع الهام حقه، لما له من أهمية بالغة في بيان الحق وإيضاح الخلاص.

هذا وقد كتبت معظم ما كتبت إن لم يكن كله من الذاكرة، فمن رأى فيه شيئًا فليسارع إلى النصح، وليسبق إلى الخير، فما تم كتاب بعد كتاب الله عز وجل.

فعسى الله تعالى أن يهدي به أناسًا، ويكتب لآخرين الأجر والمثوبة، أنه رحيم كريم، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.

الرياض/ غرة ربيع الآخر 1410 هـ

دار الراية / قسم البحث العلمي

عدنان محمد عرعور
ব্যাপক ও দীর্ঘ অধ্যয়ন এবং ভিত্তি স্থাপন (تأصيل) ও মূলনীতি প্রণয়ন (تقعيد)।

এতসব সত্ত্বেও নিজেকে এই তড়িঘড়ি অবস্থায় অগোছালো ও অসংলগ্ন কিছু কথা লিখতে দেখছি, যাতে আমি একজন শিক্ষানবিশের (مبتدئ) প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

* পথ কী?

* মুক্তি কী?

* নিশ্চয়তা কী?

আমি আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করছি.. তিনি যেন আমার সময়ে বরকত দান করেন যাতে আমি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির হক আদায় করতে পারি; যেহেতু সত্য প্রকাশ এবং মুক্তির পথ স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে এর অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, আমি যা কিছু লিখেছি তার প্রায় সবটুকুই—যদি সবটুকু না-ও হয়—স্মৃতি থেকে লিখেছি, তাই যদি কেউ এতে কোনো ভুলত্রুটি দেখতে পান তবে যেন দ্রুত নসিহত (نصح) প্রদান করেন এবং কল্যাণের দিকে এগিয়ে আসেন; কারণ আল্লাহ তাআলার কিতাবের পর আর কোনো কিতাবই পূর্ণাঙ্গ নয়।

আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে অনেক মানুষকে হিদায়াত দান করবেন এবং অন্যদের জন্য সওয়াব ও প্রতিদান লিখে দেবেন, নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু ও অতি দাতা। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

রিয়াদ / ১লা রবিউস সানি ১৪১০ হিজরি

দারুর রায়াহ / বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিভাগ

আদনান মুহাম্মদ আরউর
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌من أين وإلى أين؟

لا يخفى على العاقل ما يعانيه عالمنا الإسلامي من فوضى فكرية .. واضطراب منهجي .. وتخلف في كافة مجالات الحياة .. حتى غدا بمن يمثله مهزلة على رؤوس الأشهاد، ودمية يحركها الأوغاد، وكرة يتقاذفها المتلاعبون كيف شاؤوا وأنَّى شاؤوا، كل ذلك على حين غفلة من المسلمين، وعجز من المصلحين.

وصدق فينا تشبيه المصطفى صلى الله عليه وسلم:

"يُوشِكُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمُ الأُمَمُ مِنْ كُلِّ أُفُقٍ كَمَا تَدَاعَى الأُكَلَةُ عَلَى قَصْعَتِهَا، قيل: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمِنْ قِلَّةٍ بِنَا يَوْمَئِذٍ؟ قَالَ: أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ، وَلَكِنْ تَكُونُونَ غُثَاءً كَغُثَاءِ السَّيْلِ يَنْتَزِعُ الْمَهَابَةَ مِنْ قُلُوبِ عَدُوِّكُمْ وَيَجْعَلُ فِى قُلُوبِكُمُ الْوَهَنَ، قيل وَمَا الْوَهَنُ؟ قَالَ: حُبُّ الْحَيَاةِ وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ" [أخرجه أبو داود وأحمد في مسنده]

ومما زاد الطينة بلة، والأمر تعقيدًا، ما يعانيه المسلمون المتمسكون أنفسهم من تفرق بين جماعاتهم، واضطراب في مناهجهم، بل وتمزق وتناحر في صفوفهم حتى غدوا يتقاذفون التهم، ويتبادلون التخطئة، الأمر الذي أشغلهم عن كيد أعدائهم .. وما يحاك لهذه الأمة من مكر وخديعة لكي تكون شر الأمم في الدنيا وأذلها.

أقول: لم يعد هذا خافيًا على أحد استقر في رأسه عقل، أو سكن في صدره قلب، أو بقي في نفسه ضمير.
কোথা থেকে এবং কোন দিকে?

বিচক্ষণ ব্যক্তির নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, আমাদের মুসলিম বিশ্ব বর্তমানে যে বুদ্ধিবৃত্তিক বিশৃঙ্খলা, পদ্ধতিগত অস্থিরতা (اضطراب) এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে অনগ্রসরতার শিকার হচ্ছে... এমনকি পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, উম্মাহর প্রতিনিধিত্বকারীরা আজ বিশ্ববাসীর সামনে এক উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়েছে; তারা দুরাচারদের হাতের পুতুল এবং ক্রীড়নকদের খেলনায় রূপান্তরিত হয়েছে, যারা একে নিজেদের ইচ্ছামতো যে কোনো দিকে পরিচালিত করছে। আর এই সব কিছু ঘটছে মুসলমানদের চরম উদাসীনতা এবং সংস্কারকদের অক্ষমতার সুযোগে।

আর আমাদের বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদত্ত উপমাটি যথার্থই সত্য প্রমাণিত হয়েছে:

"অচিরেই বিভিন্ন জাতি তোমাদের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে, যেভাবে আহারকারীরা তাদের খাবারের পাত্রের দিকে একে অপরকে আহ্বান করে। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসুল! সেদিন কি আমাদের সংখ্যা স্বল্প হওয়ার কারণে এমনটি হবে? তিনি বললেন: না, বরং তোমরা সেদিন সংখ্যায় প্রচুর হবে, কিন্তু তোমরা হবে প্লাবনের স্রোতে ভেসে আসা ফেনা বা আবর্জনার (غثاء) ন্যায়। আর আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দেবেন এবং তোমাদের অন্তরে ‘ওয়াহান’ (الوهن) ঢেলে দেবেন। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসুল, ‘ওয়াহান’ কী? তিনি বললেন: দুনিয়ার প্রতি আসক্তি এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।" [এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) আবু দাউদ এবং আহমদ তার মুসনাদ গ্রন্থে]

পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর ও জটিল করে তুলেছে খোদ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের নিজেদের মধ্যকার বিভেদ, তাদের কর্মপদ্ধতির অস্থিরতা (اضطراب), এমনকি তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পারস্পরিক বিবাদ। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, তারা একে অপরের প্রতি অভিযোগের আঙুল তুলছে এবং একে অন্যকে ভুল সাব্যস্ত করতে লিপ্ত হয়েছে। এই বিষয়টি তাদের শত্রুদের চক্রান্ত এবং এই উম্মাহর বিরুদ্ধে যে সুগভীর ষড়যন্ত্র ও প্রতারণার জাল বোনা হচ্ছে—যাতে একে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম ও লাঞ্ছিত জাতিতে পরিণত করা যায়—সেসব থেকে তাদের বিমুখ করে রেখেছে।

আমি বলি: যার মস্তিস্কে নূন্যতম বুদ্ধি বিদ্যমান, যার বক্ষে একটি জীবন্ত হৃদয় স্পন্দিত হয় অথবা যার অন্তরে সামান্য বিবেক অবশিষ্ট আছে, তার কাছে এই সত্য আর গোপন নেই।
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ৭)
ولكن الذي ما زال خافيًا هو: سبيل الخلاص، وطريق النجاة .. فهؤلاء العلمانيون من شيوعيين واشتراكيين وما شابههم، بدأوا ينكسون رؤوسهم خزيًا مما فعلوه بشعوبهم من ذل مهين، وفقر مدقع، بما أحدثوه في أفكار خبيثة، ومبادئ هدَّامة، جرَّت الويل على مجتمعاتهم، والدمار على شعوبهم، فالشجاع منهم من أعلن هذا على الملأ، والخبيث من غطى وجهه من الذل مما أصابهم، كالنعامة تغطي وجهها تظن إن لم تر أحدًا فإن أحدًا لن يراها.

ولا أعتقد أن مراقبًا للأحداث العالمية يعتقد أن يمر عقد إلى والشيوعية وأترابها قد فروا من الواقع، ولم يعد لهم وجود يذكر بإذن الله تعالى (1).

وأما المجتمعات الغربية، فليس لديها مبدأ يناقش اللهم إلا الدرهم والفرج .. وحسك هذين المبدأين دينًا لهم، وأساس لمجتمعهم، وسيأتهيم ما أتى إخوانهم من الشيويعيين من قبلهم، ذاقوا وبال أمرهم وكان عاقبتهم خسرانًا وذلاً.

ونحن إذ نقول هذا، لا ننكر أنهم حققوا تقدمًا علميًّا ملموسًا، ونالوا قسطًا من الرفاهية المادية لا تنكر، وتخلقوا بكثير من أخلاق المسلمين التي فقدها أهلها .. ومن هم أولى بها.

ولكنهم في الوقت نفسه، فقدوا الكثير والكثير من متع الحياة الحقيقية، فقد فقدوا المتعة الروحية، والحياة الأسرية،

--------------------------------------------

(1) لم يمضى على كتابة ما تقدم سوى شهور، وإذا بعروش الشيوعية تنهار واحدًا تلو الآخر، وإذا بكبرائهم يقتل الواحد منهم تلو الآخر، فسبحان الله.
তবে যা এখনও অপ্রকাশিত রয়ে গেছে তা হলো: পরিত্রাণের পথ এবং মুক্তির পন্থা... এই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা—কমিউনিস্ট, সমাজতন্ত্রী ও তাদের সমগোত্রীয় যারা—তারা তাদের স্বজাতিগুলোর ওপর যে অবমাননাকর লাঞ্ছনা এবং চরম দারিদ্র্য চাপিয়ে দিয়েছে, তার গ্লানিতে মাথা নত করতে শুরু করেছে। তারা তাদের উদ্ভাবিত কলুষিত চিন্তা ও ধ্বংসাত্মক নীতিমালার মাধ্যমে নিজ নিজ সমাজে দুর্ভোগ এবং জাতিগুলোর ওপর বিপর্যয় বয়ে এনেছে। তাদের মধ্যে যারা সাহসী, তারা প্রকাশ্যে তা স্বীকার করেছে; আর যারা ধূর্ত, তারা অপমানের ভয়ে উটপাখির মতো মুখ লুকিয়ে রেখেছে, যে তার মাথা বালিতে লুকিয়ে মনে করে যে, সে কাউকে দেখতে পাচ্ছে না মানে কেউ তাকে দেখতে পাচ্ছে না।

আমি মনে করি না যে, বিশ্ব পরিস্থিতির কোনো পর্যবেক্ষক এমনটি ভাববেন যে, একটি দশক অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই কমিউনিজম ও তার দোসররা বাস্তবতা থেকে বিলীন হয়ে যাবে না এবং মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তাদের আর কোনো উল্লেখযোগ্য অস্তিত্ব অবশিষ্ট থাকবে না (১)।

আর পাশ্চাত্য সমাজের কথা বলতে গেলে, অর্থ-কড়ি এবং জৈবিক প্রবৃত্তি ব্যতীত তাদের কাছে আলোচনা করার মতো কোনো আদর্শ নেই... আর এই দুটি বিষয়কেই তারা তাদের ধর্ম এবং সমাজের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। অচিরেই তাদের কাছেও সেই দশা উপস্থিত হবে যা ইতিপূর্বে তাদের কমিউনিস্ট ভাইদের ওপর আপতিত হয়েছিল; তারা তাদের কৃতকর্মের অশুভ পরিণাম আস্বাদন করেছিল এবং তাদের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ক্ষতি ও লাঞ্ছনা।

আমরা যখন এসব বলছি, তখন এটি অস্বীকার করছি না যে তারা দৃশ্যমান বৈজ্ঞানিক উন্নতি সাধন করেছে এবং জাগতিক বিলাসিতার এমন এক অনস্বীকার্য পর্যায় অর্জন করেছে। তারা মুসলমানদের এমন অনেক উন্নত চরিত্রে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে যা স্বয়ং মুসলিমরা হারিয়ে ফেলেছে, অথচ তারাই ছিল এসব গুণের অধিকতর যোগ্য।

কিন্তু একই সঙ্গে তারা জীবনের বহুবিধ প্রকৃত আনন্দ হারিয়েছে; তারা হারিয়েছে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও পারিবারিক জীবন।

--------------------------------------------

(১) উপরের কথাগুলো লেখার পর মাত্র কয়েক মাস অতিবাহিত হয়েছে, এরই মধ্যে কমিউনিজমের সিংহাসনগুলো একে একে ভেঙে পড়ছে এবং তাদের প্রতাপশালী নেতারা একে একে নিহত হচ্ছে। সুবহানাল্লাহ।
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ৮)
والتراحم بينهم، وانتشرت الجريمة في صفوفهم حتى أصبحت بلادهم غابات لوحوش كاسرة، القوي فيها هو صاحب الحق، والضعيف هو الظالم .. يقصفون مدنًا كاملة بأهلها .. ويمدون دولاً ظالمة لتعتدي على دول مستضعفة مظلومة .. ثم إذا ما أصاب أحد افراد شعوبهم مكروه، أقاموا الدنيا وأقعدوها باسم الإنسانية .. وبعدوى حقوق الإنسان.

قتل امرئ في غابة جريمة لا تغتفر … وقتل شعب آمن قضية فيها نظر

وغدت مجتمعاتهم بؤرًا للفساد، ومرتعًا لانتشار الأمراض الوبائية الفتاكة، وملعبًا للعصابات المنظمة .. يخطفون الأطفال الأبرياء، فيفعلون بهم الفاحشة، ثم يقتلونهم، أو يبيعونهم، وأمست تجارة الأطفال من أربح التجارات .. بعد تجارة المخدرات.

وأصبح الرجل يجامع أخته، والأب يزني ببنته .. بل والولد يضاجع أمه، والذكر يتزوج الذكر .. فأي فساد بعد هذا، وأي حضيض بعد هذا الحضيض.

لقد ظنا أول أمرهم أن المتعة الحقيقية في الدرهم والطعام والخمر والزنى {وَالَّذِينَ كَفَرُوا يَتَمَتَّعُونَ وَيَأْكُلُونَ كَمَا تَأْكُلُ الْأَنْعَامُ وَالنَّارُ مَثْوًى لَهُمْ} [محمد: 12]

حتى عضتهم أمراض الزنى واللواط، فلا يكاد ينجو
এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক দয়া ও সহমর্মিতা বিলুপ্ত হয়েছে এবং তাদের মাঝে অপরাধ এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, তাদের জনপদগুলো আজ হিংস্র পশুর অরণ্যে পরিণত হয়েছে; সেখানে যে শক্তিশালী সেই হকের অধিকারী, আর যে দুর্বল (ضعيف) সেই যেন জালিম... তারা জনবসতিসহ পুরো শহরগুলোতে বোমাবর্ষণ করে... এবং জালেম রাষ্ট্রগুলোকে মদদ দেয় যাতে তারা অসহায় মজলুম দেশগুলোর ওপর আক্রমণ করতে পারে... অতঃপর যখনই তাদের নিজেদের কোনো নাগরিক সামান্য বিপদে পড়ে, তখন তারা মানবতার নামে এবং মানবাধিকারের দোহাই দিয়ে আকাশ-পাতাল তোলপাড় করে।

অরণ্যে একজন মানুষের মৃত্যু একটি অমার্জনীয় অপরাধ … আর একটি শান্তিকামী জাতিকে হত্যা করা এমন একটি বিষয় যা সংশয়পূর্ণ (فيه نظر)

তাদের সমাজগুলো আজ কলুষতার আকর, মারাত্মক প্রাণঘাতী মহামারী ব্যাধি ছড়ানোর ক্ষেত্র এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিচরণভূমিতে পরিণত হয়েছে... তারা নিষ্পাপ শিশুদের অপহরণ করে তাদের সাথে অশ্লীল কাজ করে, তারপর তাদের হত্যা করে অথবা বিক্রি করে দেয়। মাদক ব্যবসার পর এখন শিশু পাচার অন্যতম লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

এখন ভাই তার বোনের সাথে সহবাস করে, পিতা নিজ কন্যার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়... এমনকি সন্তান তার মায়ের সাথে শয়ন করে এবং পুরুষ পুরুষকে বিবাহ করে... এর চেয়ে বড় ফাসাদ আর কী হতে পারে, আর এর চেয়ে চরম অধঃপতনই বা কী হতে পারে!

তারা শুরুতে মনে করেছিল যে প্রকৃত সুখ কেবল অর্থ-কড়ি, খাদ্য, মদ এবং ব্যভিচারের মধ্যেই নিহিত। {আর যারা কুফরি করে তারা পার্থিব ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় ভক্ষণ করে, আর জাহান্নামই তাদের আবাসস্থল} [মুহাম্মদ: ১২]

শেষ পর্যন্ত ব্যভিচার ও সমকামিতার ব্যাধিগুলো তাদের দংশন করতে শুরু করেছে, যার ফলে প্রায় কেউই নিস্তার পাচ্ছে না।
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ৯)
منها أحد، وتفشت فيهم الأمراض النفسية، وحل بهم القلق، فتوغل في أعماق نفوسهم، فلجأوا إلى الكهان، يستمدون منهم العون، ويطلبون منهم النجاة، فشاع فيهم الانتحار، وقتل الذرية والزوجات، وما تخفي لهم الأيام أدهى وأمر.

وصدق فيهم قول الله تعالى:

{وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى (124) قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيرًا (125) قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنْسَى} [طه: 124 - 126]

وقوله {فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ} [الأنعام: 44]

ولا أنسى ذلك السؤال من فتاة أمريكية ـ عقب محاضرة عن الإسلام في إحدى الجامعات الأمريكية ـ إذ سألت: إذا كان هذا هو الإسلام فلماذا لم تبلغوه لنا؟

هكذا سألت .. وهكذا أحرجت، وايم الله .. ما أحرجت في حياتي بسؤال مثل هذا.

وإنه ـ والله ـ لسؤال محرج لكل مسلم مهما كان .. وحيثما كان، وإنها الأمانة .. التي نأت عن حملها السماوات، وأعرضت عن قبولها الأرض والجبال {وَحَمَلَهَا الْإِنْسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولاً} [الأحزاب: 72]
তাদের মধ্যে কেউই [রেহাই পায়নি], আর তাদের মধ্যে মানসিক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাদের ওপর উদ্বেগ চেপে বসেছে, যা তাদের হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত হয়েছে। ফলে তারা গণকদের শরণাপন্ন হয়েছে, তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছে এবং তাদের নিকট মুক্তি কামনা করছে। এর ফলে তাদের মধ্যে আত্মহত্যা এবং সন্তান ও স্ত্রীদের হত্যার প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে; আর দিনগুলো তাদের জন্য যা লুকিয়ে রেখেছে তা আরও ভয়াবহ ও তিক্ত।

এবং তাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহর এই বাণী সত্য হয়েছে:

“আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, তার জন্য রয়েছে এক সংকীর্ণ জীবন এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব। সে বলবে, ‘হে আমার পালনকর্তা, কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালেন? অথচ আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম?’ তিনি বলবেন, ‘এভাবেই তোমার নিকট আমার নিদর্শনাবলী এসেছিল কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে; আর এভাবেই আজ তোমাকে ভুলে যাওয়া হচ্ছে।‘” [ত্বহা: ১২৪ - ১২৬]

এবং তাঁর বাণী: “অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তা যখন তারা ভুলে গেল, তখন আমি তাদের জন্য সবকিছুর দরজা খুলে দিলাম; অবশেষে যখন তাদেরকে যা দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে তারা উল্লাসিত হলো, তখন আমি হঠাৎ করে তাদেরকে পাকড়াও করলাম, ফলে তখনই তারা হতাশ হয়ে পড়ল।” [আল-আন’আম: ৪৪]

এবং আমি একজন মার্কিন তরুণীর সেই প্রশ্নটি ভুলতে পারি না—আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলাম সম্পর্কে এক বক্তৃতার পর—যখন সে জিজ্ঞেস করেছিল: যদি এটাই ইসলাম হয়ে থাকে, তবে কেন আপনারা তা আমাদের কাছে পৌঁছাননি?

এভাবেই সে প্রশ্ন করেছিল... এবং এভাবেই সে [আমাকে] লজ্জিত করেছিল। আল্লাহর কসম! আমার জীবনে আমি এমন কোনো প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে এতটা লজ্জিত হইনি।

আর আল্লাহর কসম! এটি প্রত্যেক মুসলিমের জন্য একটি বিব্রতকর প্রশ্ন, সে যেই হোক না কেন এবং যেখানেই থাকুক না কেন। আর এটিই হলো সেই আমানত... যা বহন করতে আসমানসমূহ অস্বীকার করেছে এবং জমিন ও পর্বতমালা তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, “আর মানুষ তা বহন করেছে; নিশ্চয় সে অতিশয় জালেম ও অতিশয় জাহেল।” [আল-আহযাব: ৭২]
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ১০)
ظلومًا في أدائها .. جهولاً بالخير الذي فيها.

قصر في تبليغها فظلم نفسه وغيره، وجهل فيها فخالف أحكامها ولم يخضع لسننها.

وكان الجواب وقتئذٍ: نبلغكم الإسلام حين يصبح المسلمون مسلمين! !

والسؤال الذي يطرح نفسه الآن، ويلح على إيجاد جواب عملي وواقعي: متى يصبح المسلمون مسلمين؟ بل، كيف يصبح المسلمون مسلمين؟ متى يدرك المسلمون إسلامهم؟ ويعملوا به، بخاصة بعدما تزلزلت عروش الشيوعيين والاشتراكيين، وأمثالهم .. وأعلنوا هم أنفسهم على الملأ فشلهم.

ومتى يصبح المسلمون صادقين مع دينهم؟ بخاصة بعدما أعلن العالم الغربي إفلاسه من الأخلاق والروح.

إنه لم يعد سوى الإسلام لإنقاذ البشرية من حمأتها، وإنقاذ الناس من كفرهم.

وفي الوقت الذي نعتقد أن الإسلام هو الطريق الوحيد للخلاص والنجاة، فلا لأنه يؤمن لنا العيش الرغيد، والحياة المطمئنة الهانئة فحسب .. لا: بل لأنه دين رب العالمين .. أمر به عباده، ودعا إليه خلفه، فلا مفر من الإيمان به، والتمسك بأحكامه.

{قُلْ أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَأْمُرُونِّي أَعْبُدُ أَيُّهَا الْجَاهِلُونَ} [الزمر: 64]، {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلامُ} [آل عمران: 19]،
এটি পালনে সে ছিল চরম জুলুমকারী... এতে যে কল্যাণ রয়েছে সে সম্পর্কে সে ছিল নিতান্তই অজ্ঞ।

এটি প্রচারে সে ত্রুটি করেছে, ফলে সে নিজের এবং অন্যের প্রতি জুলুম করেছে; আর এ বিষয়ে সে অজ্ঞ থেকেছে, ফলে এর বিধানসমূহ লঙ্ঘন করেছে এবং এর নীতিমালা বা সুন্নাহর অনুগত হয়নি।

তখন উত্তরটি ছিল এমন: আমরা তোমাদের নিকট ইসলাম পৌঁছাবো যখন মুসলমানরা প্রকৃত মুসলমান হবে!!

এখন যে প্রশ্নটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে উত্থাপিত হচ্ছে এবং যার একটি বাস্তব ও প্রায়োগিক উত্তর খোঁজা জরুরি হয়ে পড়েছে তা হলো: মুসলমানরা কবে প্রকৃত মুসলমান হবে? বরং, মুসলমানরা কীভাবে প্রকৃত মুসলমান হবে? মুসলমানরা কবে তাদের ইসলাম সম্পর্কে সম্যক উপলব্ধি করবে এবং সে অনুযায়ী আমল করবে? বিশেষ করে যখন কমিউনিস্ট, সমাজতান্ত্রিক এবং তাদের সমগোত্রীয়দের সিংহাসন প্রকম্পিত হয়েছে এবং তারা নিজেরাই জনসমক্ষে নিজেদের ব্যর্থতা ঘোষণা করেছে।

এবং মুসলমানরা কবে তাদের দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ ও সত্যবাদী হবে? বিশেষ করে যখন পশ্চিমা বিশ্ব নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতার দেউলিয়াত্ব ঘোষণা করেছে।

মানবতাকে তার পঙ্কিলতা থেকে এবং মানুষকে তাদের কুফর থেকে উদ্ধার করার জন্য ইসলাম ব্যতীত আর কোনো পথ অবশিষ্ট নেই।

আমরা যখন বিশ্বাস করি যে ইসলামই হচ্ছে মুক্তি ও নাজাতের একমাত্র পথ, তখন তা কেবল এই কারণে নয় যে এটি আমাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন ও প্রশান্তিদায়ক সুখী জীবনের নিশ্চয়তা দেয়... না; বরং এই কারণে যে এটি রাব্বুল আলামীনের মনোনীত দ্বীন... তিনি তাঁর বান্দাদের এর আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর সৃষ্টির নিকট এর আহ্বান জানিয়েছেন; তাই এর ওপর ঈমান আনা এবং এর বিধানসমূহ আঁকড়ে ধরা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

{বলুন, হে মূর্খরা! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করতে আদেশ করছ?} [যুমার: ৬৪], {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম} [আলে ইমরান: ১৯]
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ১১)
{وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [آل عمران: 85]

فلا خيار لنا في غيره، مهما ظننا أننا نفلح بغيره، ولا خيار لنا في أحكامه، مهما ظننا أن في غيره رشدًا ومصلحة {مَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ} [الأحزاب: 36]

فإذا قال قائل: سلّمنا أن لا مناص من الإسلام، وأنه الدين الذي فرضه الله على العباد، وآمنا وأيقنا بأحكامه، صغيرها وكبيرها، عامها وخاصها، وصدقنا أن به الفلاح في الدنيا والنجاة في الآخرة، كل هذا سلّمنا به عن قناعة وإيمان، ولكن! كيف يصبح المسلمون مسلمين؟

ومتى يصبح المسلمون مسلمين؟

والمسلمون أنفسهم مختلفون في المنهج والسلوك، وهم أنفسهم متنازعون في الأصول والفروع، ولا يكادون يستقرون على حال.

يتجاذبون الناس كل إلى جماعته، وكل حزب بما لديهم فرحون.

وكل يدَّعي وصلاً بليلى … وليلى لا تقر لهم بذاك

 

فما هو السبيل؟ وكيف تكون النجاة؟ وهل يمكن الاعتصام؟ وكيف يكون؟ وما هو الضابط لهذه الخلافات؟
{যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন অনুসরণ করতে চাইবে, তার পক্ষ থেকে তা কখনো কবুল করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।} [আলে ইমরান: ৮৫]

সুতরাং ইসলাম ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই, আমরা যতই মনে করি না কেন যে অন্য কিছুর মাধ্যমে আমরা সফল হব; এবং এর বিধানাবলীর ক্ষেত্রেও আমাদের কোনো পছন্দ-অপছন্দের সুযোগ নেই, আমরা যতই মনে করি না কেন যে অন্য কিছুর মধ্যে সঠিক পথ ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে। {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো এখতিয়ার থাকার অবকাশ নেই।} [আল-আহজাব: ৩৬]

যদি কেউ বলে: আমরা মেনে নিলাম যে ইসলাম ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই, আর এটিই সেই দ্বীন যা আল্লাহ বান্দাদের ওপর ফরজ করেছেন; আমরা এর ছোট-বড়, সাধারণ (عام) ও বিশেষ (خاص) সকল বিধানের ওপর ঈমান এনেছি ও দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছি; আর আমরা বিশ্বাস করেছি যে, এতেই দুনিয়ার কল্যাণ ও আখেরাতের মুক্তি নিহিত। এই সবকিছুই আমরা পূর্ণ তৃপ্তি ও ঈমানের সাথে মেনে নিয়েছি। কিন্তু! মুসলিমরা কীভাবে প্রকৃত মুসলিম হবে?

আর মুসলিমরা কখন প্রকৃত মুসলিম হবে?

অথচ মুসলিমরা নিজেরাই মানহাজ (منهج) ও আচরণের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য করছে, তারা নিজেরা মূলনীতি (أصول) ও শাখা-প্রশাখার (فروع) বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত এবং তারা কোনো একটি অবস্থার ওপর স্থির হতে পারছে না।

তারা মানুষকে নিজ নিজ দলের দিকে টেনে নিচ্ছে, আর প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত।

প্রত্যেকেই লাইলীর সাথে সম্পর্কের দাবিদার … কিন্তু লাইলী তাদের সেই দাবি স্বীকার করে না।

 

তাহলে পথ কোনটি? কীভাবে মুক্তি মিলবে? ঐক্যবদ্ধভাবে আঁকড়ে ধরা কি সম্ভব? তা কীভাবে হবে? আর এই মতভেদগুলোর নিয়ন্ত্রক মানদণ্ডই বা কী?
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وهل يمكن الانتهاء منها؟ وهل تضمن لنا صحة هذا الضابط وعدم الاختلاف فيه؟

 

قبل الإجابة عن هذه الأسئلة نحب أن نقول:

أرأيت لو أن أمام قوم أكثر من سبعين طريقًا، ليس فيه طريق سالك مأمون إلا واحدًا، فعبرت كل فرقة من طريق، فهلكوا جميعًا إلا طائفة نجت من الطريق الأول، فهل من رجل في رأسه ذرة من عقل، أو مُسكَة من تفكير، يسلك غير الطريق الأول؟

إن رسول الله صلى الله عليه وسلم أخبرنا أن أمة الإسلام تفترق على ثلاث وسبعين فرقة، كل هذه الفرق مخطئة بل وضالة، إلا طائفة واحدة، هي الصحابة رضوان الله عليهم، ومن سار على دربهم، وسلك سبيلهم.

"وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِى عَلَى ثَلاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِى النَّارِ إِلَاّ مِلَّةً وَاحِدَةً قَالُوا وَمَنْ هِىَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِى" [رواه الترمذي ـ واللفظ له ـ والحاكم وابن عساكر]

فحريٌّ بالمسلم أن لا يهدأ له بال، ولا يكتحل بنوم، ولا يهنأ بطعام ولا شراب حتى يتيقن أنه من الطائفة الناجية.

إن وجود شيخه الصالح في نظره في جماعة ما لا ينجيه، ووراثته دينه عن أبويه لا تفيده، بل إن الصادق ليزداد خوفه عندما يبلغه قول الله يوم القيامة لآدم: أَخْرِجْ بَعْثَ النَّارِ، قَالَ وَمَا بَعْثُ النَّارِ؟ قَالَ مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعَمِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِينَ،
এবং এটি কি সমাপ্ত করা সম্ভব? আর আপনি কি আমাদের এই মানদণ্ডের (الضابط) সঠিকতা (صحة) এবং এতে মতভেদ না থাকার নিশ্চয়তা দিতে পারেন?

 

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার আগে আমরা বলতে চাই:

আপনি কি ভেবে দেখেছেন, যদি একদল মানুষের সামনে সত্তরটিরও বেশি পথ থাকে, যার মধ্যে একটি ছাড়া আর কোনোটিই নিরাপদ ও সুগম নয়, অতঃপর প্রতিটি দল (فرقة) ভিন্ন ভিন্ন পথ অবলম্বন করে এবং প্রথম পথটি অবলম্বনকারী মুক্তিপ্রাপ্ত দলটি (طائفة) ছাড়া সকলেই ধ্বংস হয়ে যায়; তবে কি সামান্যতম বুদ্ধি বা চিন্তাশক্তি সম্পন্ন কোনো ব্যক্তি থাকবে, যে সেই প্রথম পথটি ছাড়া অন্য পথে চলবে?

নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানিয়েছেন যে, উম্মতে ইসলাম তিয়াত্তরটি দলে (فرقة) বিভক্ত হবে। এই দলগুলোর (الفرق) প্রতিটিই ভ্রান্ত বরং বিভ্রান্তিকর, কেবল একটি দল (طائفة) ছাড়া; আর তারা হলো সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) এবং যারা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে ও তাঁদের পথে চলেছে।

“আর আমার উম্মত তিয়াত্তরটি মিল্লাতে (ملة) বিভক্ত হবে, তাদের সবাই জাহান্নামী হবে কেবল একটি মিল্লাত (ملة) ছাড়া। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: আমি এবং আমার সাহাবীগণ আজ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।” [তিরমিযী বর্ণনা করেছেন—শব্দ বিন্যাস তাঁরই—এবং হাকেম ও ইবনে আসাকির]

সুতরাং একজন মুসলিমের জন্য উচিত নয় যে সে ততক্ষণ প্রশান্তি বোধ করবে, চোখে ঘুমের আবেশ জড়াবে কিংবা পানাহারে তৃপ্তি পাবে, যতক্ষণ না সে নিশ্চিত হতে পারে যে সে মুক্তিপ্রাপ্ত দলের (الطائفة الناجية) অন্তর্ভুক্ত।

তার দৃষ্টিতে তার সৎ শায়খের কোনো বিশেষ দলে (جماعة) থাকা তাকে মুক্তি দেবে না, এবং পিতা-মাতার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত দ্বীনও তার উপকারে আসবে না; বরং একজন সত্যনিষ্ঠ মুমিনের ভয় তখন আরও বেড়ে যায়, যখন তার কাছে কিয়ামতের দিন আদমের প্রতি আল্লাহর এই বাণীর সংবাদ পৌঁছে: “জাহান্নামীদের দল বের করে আনো।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “জাহান্নামীদের দল কোনটি?” আল্লাহ বললেন, “প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন।”
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
فَعِنْدَهُ يَشِيبُ الصَّغِيرُ {وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى وَلَكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ} [الحج: 2] " [متفق عليه عن أبي سعيد]

واعلم يا عبد الله أن حسن نيتك لا يغني عنك شيئًا إن كنت في غير الطائفة الناجية.

قال تعالى {قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا (103) الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا} [الكهف: 103، 104]

وفي الآية إشارة إلى أن خسران المرء رغم الإقرار بحسن نيته {وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا} إذ لم يصب في عمله.

إذن فما النجاة .. ؟ النجاة إنما تكون بحسن النية مع إصابة الطريق.

والطريق هو طريق الطائفة الناجية، طريق الصحابة .. ولكن كيف نعرفه؟ وكيف نعتم به جميعًا؟

لا شك أن الله يحب الهداية للعباد، فمحال إذن أن يبين لنا أحكام الطهارة والنجاسة ولا يبين لنا سبيل الاتفاق، وطريق الاعتصام، وقد أمرنا به {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا} [آل عمران: 103]، ولا يأمر الله سبحانه إلا بالمستطاع.

وما كان الله ليحفظ كتابه، وسنة نبيه، ثم يذر الناس
সেদিন শিশু বৃদ্ধ হয়ে যাবে, {আর প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করবে এবং আপনি মানুষকে মাতাল সদৃশ দেখবেন, অথচ তারা মাতাল নয়; বরং আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর} [হজ: ২]। [আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)]

হে আল্লাহর বান্দা, জেনে রেখো যে, তোমার নিয়তের বিশুদ্ধতা তোমার কোনো উপকারে আসবে না যদি তুমি মুক্তিপ্রাপ্ত দল (الطائفة الناجية)-এর অন্তর্ভুক্ত না হও।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, আমি কি তোমাদেরকে আমলের দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সংবাদ দেব? (১০৩) তারা সেই সব লোক, যাদের দুনিয়ার জীবনের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়ে গিয়েছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎকাজ করছে।} [কাহাফ: ১০৩-১০৪]

এই আয়াতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, ব্যক্তির নিয়তের ভালো হওয়ার স্বীকৃতি সত্ত্বেও সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে {অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎকাজ করছে}, কারণ সে তার আমলে সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়নি।

তাহলে মুক্তির উপায় কী...? মুক্তি কেবল তখনই সম্ভব যখন নিয়তের বিশুদ্ধতার সাথে সাথে সঠিক পথ পাওয়া যায়।

আর সেই পথ হলো মুক্তিপ্রাপ্ত দল (الطائفة الناجية)-এর পথ, সাহাবীদের পথ... কিন্তু আমরা তা জানব কীভাবে? আর আমরা সকলে কীভাবে তা আঁকড়ে ধরব?

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য হেদায়েত পছন্দ করেন। সুতরাং এটা অসম্ভব যে, তিনি আমাদের পবিত্রতা ও অপবিত্রতার বিধান বর্ণনা করবেন অথচ ঐক্যের পথ ও আঁকড়ে ধরার উপায় বর্ণনা করবেন না, অথচ তিনি আমাদের তা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন: {তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো} [আলে ইমরান: ১০৩]। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সাধ্যের অতীত কোনো কিছুর নির্দেশ দেন না।

আর আল্লাহ তাঁর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ (سنة) সংরক্ষণ করবেন, আর তারপর মানুষকে লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দেবেন—এমনটি হওয়ার নয়।
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
يفهمون مقاصدها حسب أفهامهم، ونزعات عقولهم، وما كان الله ليترك العباد في منازعاتهم، واختلافاتهم، ثم يأمرهم بالاعتصام، ولا يرشدهم إلى الحق، ولا يبين لهم طريق الرشد.

محال هذا والله هو الرؤوف بعباده {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِلَّ قَوْمًا بَعْدَ إِذْ هَدَاهُمْ حَتَّى يُبَيِّنَ لَهُمْ مَا يَتَّقُونَ} [التوبة: 115]

إي وربي إنه لأرأف بعباده من أنفسهم، ولأرحم بهم من أن يدعهم حيارى مختلفين، كل فرقة منهم تفهم الإسلام فهمًا يناقض فهم الأخرى، وكلهم يدعون أنهم على الحق اليقين، معاذ الله أن يكون هذا!

إذن فالاعتصام والنجاة من الخلاف ممكن، لأن الله أمر به ولا يأمر الله إلا بالممكن، والاختلاف محرم، والنجاة منه ممكن لأن الله تعالى نهى عنه ولا ينهى الله عن أمر إلا وبالإمكان الانتهاء عنه {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} [البقرة: 286]

فأين هذا الضابط الذي يضبط الفهم؟

وأين هذا المرجح الذي يبين الحق؟

مما لا شك فيه أن الإسلام عقيدة ومنهاج، وشريعة وأخلاق، وأن الخلاف واقع بين طوائف الإسلام في الجميع.

ونبين ههنا على هذه العجالة هذا الضابط باختصار فنقول: قال الله تعالى {فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا
তারা তাদের নিজস্ব বুঝ এবং মেধার প্রবৃত্তি অনুযায়ী এর উদ্দেশ্যসমূহ বুঝে থাকে; আর আল্লাহ কখনোই বান্দাদের তাদের পারস্পরিক বিবাদ ও মতভেদের মধ্যে ছেড়ে দেবেন না, অথচ পরক্ষণেই তাদের সত্যকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দেবেন কিন্তু তাদের সত্যের দিকে পথপ্রদর্শন করবেন না কিংবা হিদায়াতের পথ সুস্পষ্ট করবেন না।

এটা অসম্ভব; অথচ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু। "আল্লাহ কোনো কওমকে হিদায়াত করার পর ততক্ষণ পর্যন্ত বিভ্রান্ত করেন না, যতক্ষণ না তাদের জন্য যা পরিহার করা উচিত তা সুস্পষ্ট করে দেন।" [আত-তাওবাহ: ১১৫]

হ্যাঁ, আমার রবের কসম! নিশ্চয়ই তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি তাদের নিজেদের চেয়েও বেশি স্নেহশীল এবং তাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াশীল, তিনি তাদের বিভ্রান্ত ও মতভেদপূর্ণ অবস্থায় ছেড়ে দেবেন না—যেখানে প্রতিটি দল ইসলামকে এমনভাবে বুঝবে যা অন্য দলের বুঝের সম্পূর্ণ পরিপন্থী হবে এবং প্রত্যেকেই দাবি করবে যে তারাই নিশ্চিত সত্যের ওপর রয়েছে। আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই এমন অবস্থা থেকে!

সুতরাং সত্যকে আঁকড়ে ধরা এবং মতভেদ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব, কেননা আল্লাহ এর নির্দেশ দিয়েছেন; আর আল্লাহ কেবল সাধ্যের ভেতরে থাকা বিষয়েরই নির্দেশ দেন। মতভেদ নিষিদ্ধ, এবং তা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব কারণ আল্লাহ তাআলা তা থেকে নিষেধ করেছেন; আর আল্লাহ এমন কোনো বিষয় থেকে নিষেধ করেন না যা বর্জন করা অসম্ভব। "আল্লাহ কোনো সত্তাকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেন না।" [আল-বাকারাহ: ২৮৬]

তাহলে সেই মানদণ্ড (ضابط) কোথায় যা বুঝ বা উপলব্ধিকে সুসংহত করবে?

এবং সেই অগ্রাধিকার প্রদানকারী (مرجح) প্রমাণ কোথায় যা সত্যকে সুস্পষ্ট করবে?

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসলাম হলো আকিদাহ ও কর্মপদ্ধতি (منهاج), শরিয়ত ও আখলাক; আর ইসলামের বিভিন্ন দলের মধ্যে এই সবকটি বিষয়েই মতভেদ বিদ্যমান।

আমরা এখানে সংক্ষেপে সেই মানদণ্ড (ضابط) বর্ণনা করছি; আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "অতঃপর তোমরা যেভাবে ঈমান এনেছ, তারা যদি সেভাবেই ঈমান আনে, তবে অবশ্যই তারা হিদায়াত প্রাপ্ত হবে..."
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ} [البقرة: 137]

أي فإن آمن الناس من يهود ونصارى وغيرهم، بمثل ما آمن به أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، فقد أصابوا الطريق، واهتدوا المحجة.

وإن تولوا عن الإيمان بمثل ما آمن به الصحابة رضوان الله عليهم، فسوف يقعدون في حمأة الخلاف، والتفرق؟ ؟ ؟ ؟ ؟ ؟ والتفرق والشقاق.

ولحكمة عظيمة، لم يقل الله تعالى: فإن آمنوا بمثل ما آمنت به .. وذلك إشارة إلى صحة إيمان الصحابة رضوان الله عليهم، وأنهم الحكم الفصل في هذه القضية الهامة.

فهذا هو ضابط الإيمانيات والتوحيد والغيبيات وغير ذلك.

وهو الإيمان بمثل ما آمن به أصحاب النبي، والكف عما كفوا.

والإعراض عما أعرضوا، وترك البحث في قضايا ومسائل تركوا البحث فيها.

فبهذا تتحد كلمة المسلمين في العقيدة، وتنتهي الخلافات فيها.

وأما ضابط المنهاج، وهو الطريق والسبيل الذي تسير عليه الجماعة المسلمة، لتحقيق أمر العقيدة، وهو ـ المنهاج ـ محور الخلاف العصرين قال الله عز وجل {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ
{আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা কেবল বিরোধের (شقاق) মধ্যেই রয়েছে।} [আল-বাকারা: ১৩৭]

অর্থাৎ যদি ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য মানুষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ যেভাবে ঈমান এনেছেন তদ্রূপ ঈমান আনে, তবে তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়েছে এবং সরল ও সুস্পষ্ট পথের (المحجة) দিশা পেয়েছে।

আর তারা যদি সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যেভাবে ঈমান এনেছেন তদ্রূপ ঈমান আনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে অচিরেই তারা মতভেদ, অনৈক্য এবং বিরোধের (الشقاق) পঙ্কিলতায় নিপতিত হবে।

এক সুমহান হিকমতের কারণে মহান আল্লাহ এটি বলেননি যে: "যদি তারা আমার বিশ্বাসের ন্যায় বিশ্বাস স্থাপন করে".. বরং এটি সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ঈমানের বিশুদ্ধতার প্রতি একটি ইঙ্গিত এবং তারা যে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত মীমাংসাকারী (الحكم الفصل), এটি তার প্রমাণ।

এটিই হলো বিশ্বাস সংক্রান্ত বিষয় (الإيمانيات), তাওহীদ (التوحيد), অদৃশ্যের বিষয়াবলী (الغيبيات) এবং অন্যান্য বিষয়ের মূল মাপকাঠি (ضابط)।

আর তা হলো আল্লাহর নবীর সাহাবীগণ যেভাবে ঈমান এনেছেন তদ্রূপ ঈমান আনা এবং তাঁরা যা থেকে বিরত থেকেছেন তা থেকে বিরত থাকা।

তাঁরা যা থেকে বিমুখ থেকেছেন তা থেকে বিমুখ হওয়া এবং তাঁরা যেসব বিষয় ও মাসআলা নিয়ে গবেষণা বা অনুসন্ধান বর্জন করেছেন, তা বর্জন করা।

এর মাধ্যমেই আকিদা (العقيدة) বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে মুসলমানদের কথা ঐক্যবদ্ধ হয় এবং এ সংক্রান্ত সকল মতভেদের অবসান ঘটে।

আর মানহাজ (المنهاج) বা কর্মপন্থা—যা হলো সেই পথ ও পন্থা যার ওপর মুসলিম জামাত আকিদা বাস্তবায়নের জন্য পরিচালিত হয় এবং যা বর্তমান সময়ের মতভেদের মূল কেন্দ্রবিন্দু—তার মাপকাঠি সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে ব্যক্তি তার কাছে হিদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের (المؤمنين) পথের পরিপন্থী পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরতে চায় এবং তাকে প্রবেশ করাব...}
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} [النساء: 115]

فهذا بيان واضح، وحجة دامغة على العباد، بوجوب اتباع سبيل المؤمنين، ومن هم المؤمنون وقت نزول الآية غير الصحابة رضوان الله عليهم.

وهذا هو الضابط الثاني في مسألة المنهاج.

وقد توعد الله لمن خرج عن طريقهم، وسلك غير سبيلهم، أن يتخلى عنه في الدنيا، وأن يعذبه عذابًا أليمًا في الآخرة.

بعد هذا، يستطيع العاقل أن يجيب عن كافة الأسئلة السابقة.

ما النجاة؟

وما هو سبيل الخلاص من هذه الخلافات؟

وهل يمكن الاتفاق، وكيف يكون؟

وما هو الاعتصام، وكيف يكون؟

فالنجاة من ذلك كله، هي الرجوع إلى هذا الدين الحنيف، والتمسك به على طريقة الصحابة رضوان الله عليهم، ومن اتخذهم سلفًا له في العقيدة والمنهاج، والسلوك والفهم والعمل، بدءًا من لا إله إلا الله، وانتهاءً بإماطة الأذى عن الطريق، مرورًا بالامتثال لكل أمر، واجتناب كل نهي، بما في ذلك: فهم أصول أهل السنة والسير عليها، وإدراك معنى البدعة واجتنابها، واقتفاء آثار الصحابة الميامين، في كل خلق ودين، وقاعدة وسبيل، فمن ابتغى وراء ذلك، فأولئك هم الضالون والمنحرفون ولأمة الإسلام مفرقون {فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ أَصْحَابُ الصِّرَاطِ السَّوِيِّ وَمَنِ اهْتَدَى} [طه: 135]
জাহান্নাম এবং তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য! [নিসা: ১১৫]

এটি একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং বান্দাদের জন্য এক অকাট্য দলিল যে, মুমিনদের পথ অনুসরণ করা আবশ্যক। আর এই আয়াত নাজিলের সময় সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ব্যতীত মুমিন আর কারা ছিলেন?

আর এটিই হলো মানহাজ (منهاج) সংক্রান্ত বিষয়ের দ্বিতীয় নীতিমালা (ضابط)।

আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যে ব্যক্তি তাঁদের পথ থেকে বিচ্যুত হবে এবং তাঁদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অবলম্বন করবে—আল্লাহ তাকে সেই পথেই ছেড়ে দেবেন যা সে বেছে নিয়েছে এবং পরকালে তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রদান করবেন।

এরপর, একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি পূর্বোক্ত সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হবেন।

মুক্তি কী?

এবং এই সকল মতবিরোধ থেকে পরিত্রাণের পথই বা কী?

একমত হওয়া কি সম্ভব এবং তা কীভাবে হতে পারে?

দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা (اعتصام) কী এবং তা কীভাবে সম্ভব?

এই সব কিছু থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ হলো এই একনিষ্ঠ দ্বীনের দিকে ফিরে আসা এবং সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এবং যারা আকিদা (عقيدة), মানহাজ (منهاج), আচার-আচরণ, সমঝ (فهم) ও আমলের ক্ষেত্রে তাঁদেরকে আদর্শ পূর্বসূরী (سلف) হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তাঁদের পদ্ধতিতে দ্বীনকে আঁকড়ে ধরা। যার শুরু 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' থেকে এবং সমাপ্তি রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা পর্যন্ত। এর মাঝে রয়েছে প্রতিটি আদেশ পালন এবং প্রতিটি নিষেধ বর্জন করা। যার অন্তর্ভুক্ত হলো: আহলুস সুন্নাহর মূলনীতিসমূহ (أصول) অনুধাবন করা ও সে অনুযায়ী চলা, বিদআতের (بدعة) স্বরূপ উপলব্ধি করা ও তা বর্জন করা এবং প্রত্যেক চরিত্র, দ্বীন, নিয়ম ও পথে বরকতময় সাহাবীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা। সুতরাং যে ব্যক্তি এর বাইরে অন্য কিছু খুঁজবে, তারাই হলো পথভ্রষ্ট ও বিচ্যুত এবং তারা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী। {শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কারা সঠিক পথের পথিক এবং কারা হেদায়েতপ্রাপ্ত।} [ত্বহা: ১৩৫]
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
فبهذا تعرف الفرقة الناجية من الفرق الأخرى المخطئة والمنحرفة.

فإذا رجعنا إليهم في أمر ديننا جميعه، لانتهى الخلاف واندثر الشقاق.

ولهذا كان الصحابة حكمًا وقاضيًا على طوائف الإسلام، كما كان الإسلام حكمًا ومهيمنًا على كافة الأديان.

وإن لم نحكمهم في خلافتنا، وهم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد نزل القرآن بلغتهم، ورأوا سيرة رسول الله بأم أعينهم، ثم أبلغنا الله أنهم نجوا في الآخرة بعد أن أفلحوا في الدنيا {رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} [البينة: 8]

{وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} [التوبة: 100]

إن لم نحكم هؤلاء في خلافاتنا، فمن نحكم؟ !

وخلاصة الكلام أن من أراد لنفسه الهداية والنجاة هل يسلك طريقًا جديدًا مجهولاً؟ ويخوض مخاضة غير مأمومنة؟ وأمامه طريق مأمون، قد سلكته أمة من قبله، وأفلحوا في دنياهم، ونجوا في آخرتهم؟

عبر للمعتبرين:

ثم أمر آخر ما من فئة ولا طائفة عدلت عن هذا الطريق المسلوك، وانحرفت عن هذه المخاضة، إلا هلك أهلها، وغرق أفرادها، فهل من معتبر؟ !
এর মাধ্যমেই অন্যান্য ভ্রান্ত (المخطئة) ও বিচ্যুত (المنحرفة) দলগুলোর মধ্য থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল (الفرقة الناجية)-কে চেনা যায়।

সুতরাং আমরা যদি আমাদের দ্বীনের সকল বিষয়ে তাঁদের দিকে প্রত্যাবর্তন করি, তবে মতবিরোধের অবসান ঘটবে এবং বিভেদ নির্মূল হবে।

একারণেই সাহাবীগণ ছিলেন ইসলামের সকল দলের জন্য সিদ্ধান্ত প্রদানকারী ও বিচারক, যেমনটি ইসলাম ছিল সকল ধর্মের ওপর হুকুমদাতা ও নিয়ন্ত্রক।

আমরা যদি আমাদের মতপার্থক্য নিরসনে তাঁদেরকে বিচারক মান্য না করি—অথচ তাঁরা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহচর, তাঁদের ভাষাতেই কুরআন নাযিল হয়েছে এবং তাঁরা সচক্ষে রাসূলুল্লাহর সীরাত প্রত্যক্ষ করেছেন, তদুপরি আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন যে, তাঁরা দুনিয়াতে সফল হওয়ার পর আখিরাতেও মুক্তি পেয়েছেন: {আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তাঁরাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট} [বাইয়্যিনাহ: ৮]

{মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন} [তাওবাহ: ১০০]

আমাদের মতবিরোধের ক্ষেত্রে আমরা যদি তাঁদেরকে বিচারক না মানি, তবে আর কাকে মানব?!

কথার সারকথা হলো, যে ব্যক্তি নিজের জন্য হিদায়াত ও মুক্তি চায়, সে কি কোনো নতুন ও অজানা পথ অবলম্বন করবে? সে কি এমন কোনো অনিরাপদ পথে পা বাড়াবে যেখানে তার সামনে একটি নিরাপদ পথ বিদ্যমান, যে পথে তার পূর্ববর্তী একটি উম্মত চলেছেন এবং তারা দুনিয়াতে সফল হওয়ার পাশাপাশি আখিরাতেও মুক্তি পেয়েছেন?

উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য শিক্ষা:

অতঃপর আরেকটি বিষয় হলো, এমন কোনো দল বা গোষ্ঠী নেই যারা এই অনুসৃত পথ থেকে বিমুখ হয়েছে এবং এই পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তাদের অনুসারীরা ধ্বংস হয়েছে এবং তাদের সদস্যরা নিমজ্জিত হয়েছে। অতএব, কোনো শিক্ষা গ্রহণকারী আছে কি?!
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ومسألة أخرى: وهي أن الذين عدلوا عن هذا الطريق، طريق الصحابة، كان عندهم من الأدلة الباطلة، ما أقنعهم بهذا العدول، ولديهم من الحجج ما حملهم على ترك اتباعهم، وفتحهم طريقًا جديدًا، فضلُّوا وأضلُّوا.

فلا يخدعنك الشيطان كما خدع مَن قبلك.

فإن الشيطان إذا أتى ابن آدم، لا يأتيه على حقيقته، ولا يصارحه بمأربه، ولا يكاشفه بنيته، إنما يأتيه كما أتى أباه آدم من قبل بثوب الناصح، ولباس الهادي {قَالَ يَا آدَمُ هَلْ أَدُلُّكَ عَلَى شَجَرَةِ الْخُلْدِ وَمُلْكٍ لَا يَبْلَى} [طه: 120]

ولم يكتف بهذا الخداع، بل راح يقسم لهما بالله إنه لمن الناصحين {وَقَاسَمَهُمَا إِنِّي لَكُمَا لَمِنَ النَّاصِحِينَ} [الأعراف: 21]

تمامًا كما يقسم كثير من الناس أنهم على الحق وهم في ضلال بعيد.

لقد جاء الشيطان فقال لهم: هل أدلكم على فلسفة أهدى من كلام أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟

وهل أدلكم على فكر أقوم من تفكير أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن تبعهم بإحسان؟

وهل أدلكم على سبيل التمكين في الأرض لتصبحوا ملوك الدنيا وسادتها؟

قالوا: بلى.
অন্য একটি বিষয় হলো: যারা এই পথ—সাহাবীগণের (الصحابة) পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তাদের কাছে এমন কিছু অসার দলিল ছিল যা তাদের এই বিচ্যুতিতে প্রলুব্ধ করেছে এবং তাদের নিকট এমন কিছু যুক্তি ছিল যা তাদের সাহাবীগণের অনুসরণ ত্যাগ করতে এবং একটি নতুন পথ উন্মোচন করতে প্ররোচিত করেছে; ফলে তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করেছে।

সুতরাং শয়তান যেন আপনাকে প্রতারিত না করে, যেমন সে আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতারিত করেছিল।

কেননা শয়তান যখন আদম সন্তানের কাছে আসে, তখন সে তার প্রকৃত রূপে আসে না, সে তার অভিসন্ধি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে না এবং তার নিয়তও ব্যক্ত করে না; বরং সে তার কাছে সেভাবেই আসে যেভাবে ইতিপূর্বে তার পিতা আদমের কাছে হিতাকাঙ্ক্ষীর বেশে এবং পথপ্রদর্শকের পোশাকে এসেছিল— {সে বলল: হে আদম! আমি কি তোমাকে অনন্ত জীবনের বৃক্ষ এবং অক্ষয় রাজত্বের সন্ধান দেব?} [তহা: ১২০]

সে কেবল এই প্রতারণাতেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং আল্লাহর নামে তাদের কাছে শপথ করে বলতে লাগল যে সে অবশ্যই তাদের হিতাকাঙ্ক্ষীদের একজন— {এবং সে তাদের উভয়ের কাছে কসম খেয়ে বলল: নিশ্চয়ই আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষীদের একজন।} [আল-আরাফ: ২১]

ঠিক যেভাবে অনেক মানুষ শপথ করে বলে যে তারা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, অথচ তারা ঘোর বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত।

শয়তান এসে তাদের বলল: আমি কি তোমাদের এমন এক দর্শনের সন্ধান দেব যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের (الصحابة) বাণীর চেয়েও অধিক সঠিক?

আমি কি তোমাদের এমন এক চিন্তাধারার সন্ধান দেব যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (الصحابة) এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের চিন্তাধারার চেয়েও অধিক সুদৃঢ়?

আমি কি তোমাদের জমিনে এমন এক কর্তৃত্ব ও সুপ্রতিষ্ঠার পথের সন্ধান দেব যার মাধ্যমে তোমরা দুনিয়ার অধিপতি ও নেতা হতে পারবে?

তারা বলল: অবশ্যই।
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
قال: فابتدعوا ولا تتبعوا، وجددوا ولا تتمسكوا، وتحزبوا ولا تجتمعوا، فزمانكم غير زمانهم، وظروفكم غير ظروفهم، فقد ولَّى زمانهم، وانقضى عهدهم، فهم أصحاب الفكر السطحي، وحملة الفقه البدوي، لا علم لهم بالمنطق ولا بعلم الكلام .. ولا يحملون الشهادات، بل قال لي أحدهم: نحن أعلم من الصحابة في كل شيء، قلت: حتى في العربية؟ ، قال: نعم، عندنا عشرات المعاجم، وماكان عندهم معجم واحد؟

وحلف لهم الشيطان: أنكم أعلم من الصحابة وأحكم، كيف وأنتم حملة الشهادات، وخريجوا الجامعات، ولما رأى الشيطان هول هذا عليهم، وخشي أن يفلتوا من زمامه، خفف عنهم، فقال للسابقين: طريقة الصحابة أسلم، وطريقتي التي أرشدكم إليها أعلم وأحكم.

فراح بعضهم ـ والعياذ بالله ـ يحرف صفات الله وينكرها.

وقال اللاحقين ـ بدعوى التجديد ـ ينقضون قواعد الأصول، ويهدمون أسس الدين، ولمّا يبنوا بيت العنكبوت بعد، ليحرموا ما أحل الله، ويُحلوا ما أحل الله.

وآخرون غرهم عقلهم، وخدعم أسلوبهم، ونفخهم نفاقهم وتزلفهم، فسبوا سلف هذه الأمة المشهود لها بالخيرية، وطعنوا بشباب هذه الصحوة، وحكموا عليهم بالعمالة والسوداوية، والسذاجة والسطحية، والعته والعمى، كل هذه الأوصاف في حق من؟ ! في حق أبي بكر وعمر وصحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم ..
তিনি বললেন: সুতরাং তোমরা উদ্ভাবন (ابتدعوا) করো এবং অনুসরণ (تتبعوا) করো না; সংস্কার করো এবং আঁকড়ে ধরো না; দলে বিভক্ত হও এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ো না। কেননা তোমাদের সময় তাদের সময়ের মতো নয় এবং তোমাদের পরিস্থিতি তাদের পরিস্থিতির মতো নয়। তাদের সময় অতিবাহিত হয়েছে এবং তাদের যুগ শেষ হয়ে গেছে। তারা ছিল অগভীর চিন্তার অধিকারী এবং মরুময় গ্রাম্য ফিকহের বাহক। মানতিক (منطق) কিংবা ইলমুল কালাম (علم الكلام) সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান ছিল না এবং তারা কোনো সনদ (الشهادات) বা ডিগ্রিধারী ছিল না। বরং তাদের একজন আমাকে বলল: আমরা প্রতিটি বিষয়ে সাহাবিদের (الصحابة) চেয়ে বেশি জ্ঞানী। আমি বললাম: এমনকি আরবি ভাষাতেও? সে বলল: হ্যাঁ, আমাদের কাছে ডজন ডজন অভিধান আছে, অথচ তাদের কাছে একটি অভিধানও ছিল না?

আর শয়তান তাদের কাছে শপথ করে বলল: তোমরা সাহাবিদের (الصحابة) চেয়ে বেশি জ্ঞানী ও প্রাজ্ঞ। কেন হবে না, যখন তোমরা উচ্চতর ডিগ্রিধারী (الشهادات) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক? শয়তান যখন দেখল এর ভয়াবহতা তাদের ওপর অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে এবং সে ভয় পেল পাছে তারা তার নিয়ন্ত্রণ থেকে ফসকে যায়, তখন সে তাদের জন্য বিষয়টি কিছুটা হালকা করে দিল। সে পূর্ববর্তীদের বলল: সাহাবিদের (الصحابة) পদ্ধতি অধিক নিরাপদ (أسلم), আর আমার পদ্ধতি যা আমি তোমাদের বাতলে দিয়েছি তা অধিক জ্ঞানগর্ভ (أعلم) ও অধিক সুনিপুণ (أحكم)।

ফলে তাদের কেউ কেউ—আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই—আল্লাহর গুণাবলিকে (صفات) বিকৃত করল এবং তা অস্বীকার করল।

আর পরবর্তীরা—সংস্কারের (التجديد) দাবি তুলে—উসুলের (الأصول) মূলনীতিসমূহ (قواعد) লঙ্ঘন করতে লাগল এবং দ্বীনের ভিত্তি ধ্বংস করতে লাগল। অথচ তারা এখনো মাকড়সার ঘরও নির্মাণ করতে পারেনি; যাতে তারা আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা হারাম করতে পারে এবং আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা-ই হালাল রাখতে পারে।

অন্যরা তাদের বুদ্ধি দ্বারা প্রলুব্ধ হয়েছে, তাদের বাচনভঙ্গিতে প্রতারিত হয়েছে এবং তাদের মুনাফেকি ও চাটুকারিতা তাদের অহংকারী করে তুলেছে। ফলে তারা এই উম্মতের কল্যাণপ্রাপ্ত পূর্বসূরিদের (سلف) গালি দিল এবং এই জাগরণের (الصحوة) যুবকদের প্রতি অপবাদ আরোপ করল। তারা তাদের দালালি, অন্ধকারাচ্ছন্নতা, সরলতা, অগভীরতা, উন্মাদনা ও অন্ধত্বের বিচার করল। এই সমস্ত বিশেষণ কাদের ক্ষেত্রে?! আবু বকর, উমর এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবিদের (الصحابة) ক্ষেত্রে!
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ২০)
في حق عمر بن عبد العزيز وأبي حنيفة والشافعي وأحمد ومالك .. في حق ابن المبارك والأوزاعي وابن تيمية وابن القيم والنووي .. في حق ابن كثير والذهب والعسقلاني والشوكاني .. في حق محمد بن عبد الوهاب وابن باز والألباني وعلماء هذه الأمة المشهود لهم بالخير.

فوا أسفاه على هذه الأمة من ألسنة السوء، ومن المعاهد التي تكلف شذاذ الآفاق للنيل والطعن بهم من علماء هذه الأمة.

فاللهم {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ (6) صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} [الفاتحة: 6، 7]

فإن لم يكن الذين أنعم الله عليهم هم الصحابة، فلم ينعم الله على أحد قط.

فتعال معي إذن نتعرف على أصولهم، ونتعلم قواعدهم، ونتلمس طريقهم .. فهي ـ والله ـ بحق قواعد النجاة، وطريق الفائزين، وحكم المختلفين، وسبيل الخلاص من تفرق المسلمين، وطريق وحدة صفوفهم، وجمع كلمتهم.
উমর ইবনে আবদুল আজিজ, আবু হানিফা, শাফেয়ী, আহমদ এবং মালিকের ক্ষেত্রে.. ইবনুল মুবারক, আওজায়ি, ইবনে তাইমিয়াহ, ইবনুল কায়্যিম এবং নববীর ক্ষেত্রে.. ইবনে কাসীর, যাহাবী, আসকালানী এবং শাওকানীর ক্ষেত্রে.. মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব, ইবনে বায, আলবানী এবং এই উম্মতের সেই সকল আলেমদের (علماء) ক্ষেত্রে যাদের কল্যাণের সাক্ষ্য প্রদান করা হয়েছে।

আফসোস এই উম্মতের কটুভাষীদের জন্য, এবং সেই সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য যারা এই উম্মতের আলেমদের (علماء) হেয় প্রতিপন্ন ও আক্রমণ করার জন্য বিভিন্ন প্রান্তের লক্ষ্যভ্রষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োজিত করে।

হে আল্লাহ! {আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন (৬) তাদের পথ, যাদের আপনি নিআমত দান করেছেন} [আল-ফাতিহা: ৬, ৭]

যদি আল্লাহ যাদের প্রতি নিআমত দান করেছেন তারা সাহাবী (صحابة) না হন, তবে আল্লাহ আর কখনও কারও প্রতি নিআমত দান করেননি।

তবে আসুন আমার সাথে, আমরা তাদের মূলনীতি (أصول) সম্পর্কে জানি, তাদের নিয়মাবলী (قواعد) শিখি এবং তাদের পথ অনুসন্ধান করি.. আল্লাহর কসম, এগুলোই হলো নাজাতের যথার্থ নিয়মাবলী (قواعد), সফলকামদের পথ, মতবিরোধকারীদের মীমাংসার মানদণ্ড, মুসলিমদের অনৈক্য থেকে মুক্তির পথ এবং তাদের কাতার ও সংহতি রক্ষার উপায়।
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌قواعد النجاة من منهج الطائفة المنصورة

‌‌أولاً: التمسك بالإسلام جميعه:

لقد كان سلفنا يجمعون بين العلم والعمل، والجهاد والعبادة، والدعوة والقيادة، والزهد والإعمار، لكن بترتيب معين، فقد كانوا يؤتون القرآن ثم العلم والعمل، ونحن في زمن يؤتي الناس فيه العلم قبل الإيمان، والعمل قبل العلم، إلا من رحم الله، نسأل الله أن يجعلنا منهم.

فعن ابن مسعود رضي الله عنه قال: كانَ الرجل مِنَّا إذا تعلَّم عَشْر آياتٍ لم يجاوزهُنّ حتى يعرف معانيهُنَّ، والعملَ بهنَّ. [أخرجه الطبري (81) في تفسيره]

وقال أبو عبد الرحمن السلمي: حدثنا الذين كانوا يُقرِئوننا: "أنهم كانوا يستقرِئون من النبي صلى الله عليه وسلم، فكانوا إذا تعلَّموا عَشْر آيات لم يخلِّفوها حتى يعملوا بما فيها من العمل، فتعلَّمنا القرآن والعمل جميعًا، وزاد في رواية ابن سعد "وإنه سيرث القرآن بعدنا قوم ليشربونه شرب الماء لا يجاوز تراقيهم، بل لا يجاوز هاهنا، ووضع يده على الحلق" [أخرجه الطبري (82) وابن سعد (6/ 172)]
সাহায্যপ্রাপ্ত দলের (الطائفة المنصورة) মানহাজ থেকে নাজাতের মূলনীতিসমূহ

প্রথমত: পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামকে আঁকড়ে ধরা:

আমাদের পূর্বসূরিগণ (سلف) জ্ঞান ও আমল, জিহাদ ও ইবাদত, দাওয়াত ও নেতৃত্ব এবং দুনিয়াবিমুখতা ও আবাদকরণের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতেন, তবে তা ছিল একটি সুনির্দিষ্ট ক্রমে। তাঁদেরকে প্রথমে কুরআন, অতঃপর জ্ঞান ও আমল প্রদান করা হতো। আর আমরা এমন এক যুগে রয়েছি যখন মানুষকে ঈমানের আগে জ্ঞান এবং জ্ঞানের আগে আমল প্রদান করা হয়, তবে আল্লাহ যাদের প্রতি দয়া করেছেন তারা ব্যতীত। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।

ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি যখন দশটি আয়াত শিখতেন, তখন তিনি সেগুলোর অর্থ এবং তদনুযায়ী আমল না জানা পর্যন্ত পরবর্তী আয়াতে যেতেন না। [তাবারী তাঁর তাফসিরে (৮১) এটি বর্ণনা করেছেন]

আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী বলেন: যারা আমাদের কুরআন পড়াতেন তারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, "তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পাঠ গ্রহণ করতেন। যখন তাঁরা দশটি আয়াত শিখতেন, তখন সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত আমলগুলো সম্পন্ন না করা পর্যন্ত তা ছেড়ে যেতেন না। ফলে আমরা কুরআন এবং আমল উভয়ই একত্রে শিখেছি।" ইবনে সা’দের একটি বর্ণনায় (رواية) অতিরিক্ত এসেছে— "নিশ্চয়ই আমাদের পরে এমন এক সম্প্রদায় কুরআনের উত্তরাধিকারী হবে যারা তা পানির মতো পান করবে, অথচ তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না, বরং তা এখানেই থেকে যাবে—এ কথা বলে তিনি তাঁর হাত কণ্ঠনালীর ওপর রাখলেন।" [তাবারী (৮২) এবং ইবনে সা’দ (৬/১৭২) এটি বর্ণনা করেছেন]
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ২২)
فتأمل قوله: لم يجاوزهن .. وتأمل قوله: لا يجاوز تراقيهم.

فلا جرم للذين يتولون مسئولية التربية من الاهتمام بهذا الأمر العظيم، فإن معظم النكبات التي أصابت الأمة الإسلامية إن لم نقل كلها كانت بسبب سوء التربية، وخطأ المنهج.

فكم في زماننا من مجاهد بلا عقيدة.

وكم من عالم بلا عمل.

وكم من عامل بلا علم.

وكم من داعية بلا تقوى.

أما مثل المجاهد قبل التوحيد فكمثل مدرس وعظ طلابه في الصلاة فرغبهم بها ورهبهم من تركها حتى إذا ما قاموا يصلون الصلاة قبل وقتها، قيل لهم لا تصلوا، قالوا: أتنهانا عن الصلاة؟ !

وإذا قيل للناس ـ في زماننا ـ وحدوا الله تعالى حق توحيده ثم جاهدوا، قالوا: أتنهانا عن الجهاد؟ !

ومثَّل رسول الله صلى الله عليه وسلم العالم الذي لا يعمل بعلمه بالسراج الذي يُضيء للناس ويحرق نفسه.

ومثل الذي يعمل بلا علم، كمثل الذي يحتطب ليلاً فربما رفع حطبًا فيه ثعبان يلدغه.

ورأى أحد العلماء طالبًا في سفينة، قال: فقال أين؟ قال: اطلب العلم، قال: هل عملت بما علمت؟ قال: لا، إنما أريد جمع العلم ثم أعمل به، قال: مثلك كمثل الذي يأكل حتى إذا ما وصلت اللقمة إلى فيه، ألقاها وراءه ظهره، متى يشبع؟
সুতরাং তাঁর বাণীটি লক্ষ্য করুন: "তা তাদের অতিক্রম করে না"... এবং তাঁর বাণী লক্ষ্য করুন: "তা তাদের কণ্ঠনালি অতিক্রম করবে না।"

অতএব, যারা লালন-পালন ও প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের জন্য এই মহৎ বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করা অপরিহার্য। কেননা মুসলিম উম্মাহর ওপর আপতিত অধিকাংশ বিপর্যয়—যদি আমরা সবটুকু না-ও বলি—তার মূল কারণ হলো ত্রুটিপূর্ণ লালন-পালন ও ভ্রান্ত কর্মপদ্ধতি।

আমাদের এই সময়ে আকিদাহহীন কত মুজাহিদই না রয়েছে!

এবং আমলহীন কত আলিমই না রয়েছে!

এবং ইলমহীন কত আমলকারীই না রয়েছে!

এবং তাকওয়াহীন কত দায়িই না রয়েছে!

তাওহিদ অর্জনের পূর্বেই জিহাদে লিপ্ত হওয়ার দৃষ্টান্ত হলো সেই শিক্ষকের মতো, যিনি তাঁর ছাত্রদের সালাত সম্পর্কে নসিহত করলেন, এর প্রতি তাদের আগ্রহী করে তুললেন এবং তা বর্জনের ব্যাপারে সতর্ক করলেন। অতঃপর যখন তারা সালাতের ওয়াক্ত হওয়ার আগেই সালাত আদায়ে দাঁড়িয়ে গেল এবং তাদের বলা হলো, "তোমরা সালাত আদায় করো না," তখন তারা বলল: "আপনি কি আমাদের সালাত আদায়ে বাধা দিচ্ছেন?!"

আর আমাদের যুগে যখন মানুষকে বলা হয়—তোমরা মহান আল্লাহকে যথার্থভাবে একত্ববাদে একনিষ্ঠ করো, অতঃপর জিহাদ করো; তখন তারা বলে: "আপনি কি আমাদের জিহাদ করতে নিষেধ করছেন?!"

আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন আলিমের দৃষ্টান্ত দিয়েছেন যে তার ইলম অনুযায়ী আমল করে না, তাকে সেই প্রদীপের সাথে তুলনা করেছেন যা মানুষকে আলো দেয় কিন্তু নিজেকে পুড়িয়ে ফেলে।

আর ইলম ব্যতীত আমলকারীর দৃষ্টান্ত হলো সেই ব্যক্তির মতো যে রাতে কাঠ সংগ্রহ করে; সম্ভবত সে এমন কাষ্ঠখণ্ড তুলল যার ভেতরে সাপ রয়েছে যা তাকে দংশন করবে।

জনৈক আলিম নৌকায় এক ছাত্রকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, "কোথায় যাচ্ছ?" সে বলল, "ইলম অন্বেষণে।" তিনি বললেন, "তুমি যা শিখেছ তদানুযায়ী কি আমল করেছ?" সে বলল, "না, আমি কেবল ইলম সংগ্রহ করতে চাই এবং পরে আমল করব।" তিনি বললেন, "তোমার দৃষ্টান্ত তো সেই ব্যক্তির মতো যে আহার গ্রহণ করে, কিন্তু লোকমাটি যখনই তার মুখের কাছে পৌঁছে, তখনই সে তা পিঠের পেছনে ফেলে দেয়; সে কখন পরিতৃপ্ত হবে?"
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌ثانيًا: الدعوة للتوحيد والأخلاق والتمسك بهما معًا وقبل كل شيء:

إذا كان التوحيد يسبق الشريعكة والمنهاج في الالتزام والاعتقاد والدعوة .. فإنه لا يسبق الأخلاق والالتزام بها والتربية عليها، بل هما متلازمان كتلازم الماء للشجر، والروح للجسد.

صحيحٌ أن كثيرًا من الدعاة قد أدركوا ما للتوحيد من أهمية بالغة في البناء والتربية، وأنه لا يحل أن يسبقه شيء من جهاد أو سياسة أو غير ذلك، ولكنهم ما يزالون يعانون من نقص حاد في التربية الأخلاقية، الأمر الذي نجم عنه ثغرات كبيرة في العمل الإسلامي، وشروخ عميقة صدعت الجماعات الإسلامية، وأوهنت قواها، بل وشتت شملها.

إن إهمال مسألة تربية الأفراد على الأخلاق، يعني بالضرورة فشل العمل الإسلامي، وقد تجرع العاملون للإسلام مرارة سوء الخلق، فحصدوا التفرق والشتات، وجنوا البغضاء والمهاترات وشماتة الأعداء، فكان الفشل مطافهم، مما هو ثمرة أكيدة من ثمار سوء الأخلاق.

وإن من أهم ما يلفت النظر في هذه القضية البالغة الأهمية، أن كثيرًا من المسلمين فقدوا الأخلاق، وفقدوا معناها إلا من رحم الله.

فإنك إذا ما أردت أن تصلح بين اثنين، فقلت
দ্বিতীয়ত: তাওহীদ ও আখলাকের প্রতি দাওয়াত এবং সবকিছুর পূর্বে এই দুটির প্রতি একত্রে দৃঢ়ভাবে অবিচল থাকা:

তাওহীদ যদি অনুসরণ, বিশ্বাস ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে শরীয়ত ও মানহাজের অগ্রবর্তী হয়, তবুও তা আখলাক, তার অনুসরণ এবং তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা তরবিয়তের চেয়ে অগ্রবর্তী নয়; বরং তারা একে অপরের সাথে এমনভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িত যেমন গাছের জন্য পানি এবং শরীরের জন্য রুহ অপরিহার্য।

এটি সত্য যে, অনেক দাঈ গঠন এবং তরবিয়তের ক্ষেত্রে তাওহীদের সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন এবং তারা মানেন যে জিহাদ, রাজনীতি বা অন্য কোনো কিছুই তাওহীদের আগে আসা বৈধ নয়; কিন্তু তারা এখনও চারিত্রিক তরবিয়তের চরম অভাব অনুভব করছেন। যার ফলে ইসলামী কার্যক্রমে বড় ধরনের ছিদ্র সৃষ্টি হয়েছে এবং ইসলামী দলগুলোর মধ্যে গভীর ফাটল দেখা দিয়েছে, যা তাদের শক্তিকে দুর্বল করেছে, এমনকি তাদের ঐক্যকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।

ব্যক্তিদের আখলাকের ওপর তরবিয়ত প্রদানের বিষয়টি অবহেলা করার অর্থই হলো অনিবার্যভাবে ইসলামী কার্যক্রমের ব্যর্থতা। ইসলামের একনিষ্ঠ কর্মীরা দুশ্চরিত্রের তিক্ততা আস্বাদন করেছেন, ফলে তারা বিভেদ ও বিচ্ছিন্নতা কুড়িয়েছেন এবং ঘৃণা, বাকবিতণ্ডা ও শত্রুদের উপহাস অর্জন করেছেন। পরিণামে ব্যর্থতাই তাদের গন্তব্য হয়েছে, যা চারিত্রিক বিচ্যুতি বা মন্দ আচরণের একটি সুনিশ্চিত ফল।

এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে অন্যতম যা দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হলো, অনেক মুসলিম তাদের আখলাক হারিয়ে ফেলেছে এবং এর প্রকৃত অর্থও বিস্মৃত হয়েছে, তবে তারা ব্যতীত যাদের ওপর আল্লাহ দয়া করেছেন।

কেননা আপনি যদি দুজনের মধ্যে মীমাংসা করতে চান এবং বলেন
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
لأحدهما: سامح أخاك .. أجابك وعلى الفور: إنه أخطأ معي .. إنه ظلمني .. فكيف أسامحه! وعندئذ تعتري العاقل الحيرة، وتتملكه الدهشة، أليست المسامحة إنما وجدت دواء لخطأ الآخرين، وأن المسامحة والتسامح لا تطلب من فراغ، إنما تعني كلمة التسامح خطأ وظلم من طرف، وغفران وعفو من الطرف الآخر، فهذه المعادلة المتبادلة تسمى تسامحًا، ومع ذلك يصر المسلمون على عدم إدراك هذا المعنى، وعدم تطبيقه، ولكن بقي سؤال: كيف تكون الأخلاق؟

وكيف يتكون حسن الخلق؟

الظاهر والله أعلم أن حسن الخلق يكون، بعد هداية الله، بالفطرة وبالاكتساب.

فالقدوة هي العالم الرئيسي في حسن الخلق، والتأثير عليه، إذ يتأثر المتربي تأثرًا مباشرًا وغير مباشر بخلق مربيه ومعلمه، ولذلك ترى أنه لا يحسن التربية، من كانت شيمته سوء الخلق، وأنى له هذا؟ ! وفاقد الشيء لا يعطيه.

وإذا كان يمكن تحصيل العلم بالكتب، فإنه من المحال تحصيل الأخلاق بالدراسة والتعلم، بل إني أعرف اثنين ألفا كتبًا في أخلاق المسلم، وسوء خلقهما وبذاءة لسان أحدهما أشهر من أن نذكر اسميهما.

ألا ترى إلى هؤلاء الثلة الطيبة الطاهرة التي تخرجت من
তাদের একজনকে যখন বলা হয়: তোমার ভাইকে ক্ষমা করো.. সে তৎক্ষণাৎ উত্তর দেয়: সে আমার সাথে অন্যায় করেছে.. সে আমার প্রতি জুলুম করেছে.. তবে আমি কীভাবে তাকে ক্ষমা করব! এমতাবস্থায় একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি বিভ্রান্ত হন এবং বিস্ময় তাকে গ্রাস করে। ক্ষমা কি অন্যের ভুলের প্রতিষেধক হিসেবেই সৃষ্টি হয়নি? আর ক্ষমা ও সহনশীলতা তো কেবল শূন্যতা থেকে প্রত্যাশা করা হয় না। বরং সহনশীলতা শব্দটির নিহিত অর্থই হলো এক পক্ষ থেকে ভুল ও অন্যায় এবং অপর পক্ষ থেকে মার্জনা ও ক্ষমা। এই পারস্পরিক ভারসাম্যপূর্ণ সমীকরণটিকেই সহনশীলতা বলা হয়। তা সত্ত্বেও মুসলিমরা এই মর্মার্থ অনুধাবনে এবং এর প্রয়োগে বিমুখতা প্রদর্শন করে। তবে একটি প্রশ্ন রয়ে যায়: নৈতিকতা বা আখলাক কেমন হওয়া উচিত?

এবং কীভাবে উত্তম চরিত্র গঠিত হয়?

বাহ্যত—আর আল্লাহই সর্বাধিক অবগত—আল্লাহর হিদায়াতের পর উত্তম চরিত্র অর্জিত হয় স্বভাবজাতভাবে এবং অনুশীলনের মাধ্যমে।

উত্তম চরিত্রের ক্ষেত্রে এবং তার ওপর প্রভাব বিস্তারে আদর্শই হলো প্রধান নিয়ামক। কেননা একজন দীক্ষার্থী তার অভিভাবক ও শিক্ষকের চরিত্রের দ্বারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয়। এ কারণেই দেখা যায়, যার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই হলো দুশ্চরিত্র, সে সঠিক তরবিয়ত বা লালন-পালন করতে সক্ষম হয় না। আর সে এটি লাভ করবেই বা কীভাবে? কেননা, যে ব্যক্তি কোনো বস্তু থেকে বঞ্চিত, সে অন্যকে তা প্রদান করতে পারে না।

যদি কিতাব বা গ্রন্থাদির মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হয়, তবে পাঠ ও শিক্ষার মাধ্যমে চরিত্র অর্জন করা অসম্ভব। এমনকি আমি এমন দুই ব্যক্তিকে চিনি যারা ‘মুসলিমের চরিত্র’ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, অথচ তাদের অসদাচরণ এবং তাদের একজনের ভাষার কটুতা এতই সুপরিচিত যে তাদের নাম উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।

আপনি কি সেই পবিত্র ও পুণ্যবান দলটির দিকে লক্ষ্য করেন না যারা এখান থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন...
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
مدرسة النبوة، فكان كل واحد منهم أمة في سلوكه، إمامًا في أخلاقه، رغم تفاوتهم في العلم والمعرفة.

وخلاصة هذا الأصل أن لا يهمل المربي مسألتين:

الأولى: مواكبة الخلق للتوحيد من حيث الأولوية في العملية التربوية.

التأكيد على حسن خلق القدوة، لأن الطالب يحاكي مربيه شاء أم أبى، شعر بذلك أم لم يشعر.

 

‌‌ثالثًا: الاتباع لا الابتداع:

لقد كان سلفنا أحرص الناس على الاتباع، وأبعد الناس عن الابتداع، وكان الاتباع عندهم أوسع مما ندركه، وكان الابتداع في الدين عندهم أشمل مما نعرفه، والآيات والأحاديث في ذلك أشهر من أن تذكر، وعبارات السلف في هذا أكثر من أن تحصى.

فالاتباع عندهم في كل صغيرة وكبيرة، والابتداع في الدين عندهم كذلك في كل صغيرة وكبيرة.

عَنْ حُصَيْنٍ قَالَ: كُنْتُ إِلَى جَنْبِ عُمَارَةَ بْنِ رُوَيْبَةَ وَبِشْرٌ يَخْطُبُنَا فَلَمَّا دَعَا رَفَعَ يَدَيْهِ فَقَالَ عُمَارَةُ: قَبَّحَ اللَّهُ هَاتَيْنِ الْيَدَيْنِ، رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَخْطُبُ إِذَا دَعَا يَقُولُ هَكَذَا وَرَفَعَ السَّبَّابَةَ وَحْدَهَا"
নবুয়তের বিদ্যাপীঠ; তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ আচরণে এক একটি উম্মাহ এবং নিজ চরিত্রে এক একজন আদর্শ (إمام) ছিলেন, যদিও জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় তাদের মধ্যে তারতম্য ছিল।

এই মূলনীতির সারকথা হলো, একজন শিক্ষাদানকারী যেন দুটি বিষয় উপেক্ষা না করেন:

প্রথমত: শিক্ষা প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকারের দিক থেকে তাওহীদের সাথে চারিত্রিক গুণাবলির সমন্বয় ঘটানো।

আদর্শ ব্যক্তিত্বের উত্তম চরিত্রের ওপর গুরুত্বারোপ করা; কারণ ছাত্র তার শিক্ষককে অনুকরণ করে, সে চাইুক বা না চাইুক, তা অনুভব করুক বা না করুক।

 

‌‌তৃতীয়ত: অনুসরণ (الاتباع), উদ্ভাবন (الابتداع) নয়:

আমাদের পূর্বসূরিগণ (السلف) অনুসরণের (الاتباع) প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহী এবং উদ্ভাবন (الابتداع) থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে ছিলেন। তাঁদের নিকট অনুসরণের (الاتباع) পরিধি আমাদের উপলব্ধির চেয়েও প্রশস্ত ছিল এবং দ্বীনের মধ্যে উদ্ভাবন (الابتداع) তাঁদের নিকট আমাদের জানার চেয়েও ব্যাপক ছিল। এ বিষয়ে আয়াত ও হাদিসসমূহ উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না এমন প্রসিদ্ধ, আর পূর্বসূরিদের (السلف) বক্তব্যসমূহ গণনাাতীত।

তাঁদের নিকট প্রতিটি ছোট ও বড় বিষয়েই অনুসরণ (الاتباع) কাম্য ছিল এবং একইভাবে দ্বীনের মধ্যে প্রতিটি ছোট ও বড় বিষয়েই উদ্ভাবন (الابتداع) পরিত্যজ্য ছিল।

হুসাইন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উমারা ইবনে রুওয়ায়বার পাশে ছিলাম এবং বিশর আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিচ্ছিলেন। যখন তিনি দোয়া করলেন, তখন তিনি তাঁর হাত দুটি তুললেন। তখন উমারা বললেন: "আল্লাহ এই হাত দুটিকে কলঙ্কিত করুন! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুতবা প্রদানরত অবস্থায় দেখেছি যে, তিনি দোয়ার সময় কেবল এভাবে বলতেন।" অতঃপর তিনি কেবল তর্জনী আঙুলটি উঁচিয়ে ধরলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
[رواه مسلم وأحمد في مسنده]

والابتداع لا يشمل العبادات فحسب، بل ويشمل الفكر الدخيل على الإسلام كذلك، بل الابتداع الفكري أخطر بكثير من الابتداع في العبادة، لأنه سبب الضلال في المنهاج والطريق، وإذا كان السابقون من المبتدعة من أمثال الخوارج والمعتزلة قد ابتدعوا في العقائد، فإن أحفادهم قد ابتدعوا في المنهاج والسبيل، بدعوى الفكر .. والتجديد.

وإذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد سمى الذين يتكلمون في القدر بغير علم "الْقَدَرِيَّةُ مَجُوسُ هَذِهِ الأُمَّةِ" [أخرجه أبو دواد والحاكم عن ابن عمر رضي الله عنه]، فإن الذين يحرفون آيات الله وأحاديث رسوله، بدعوى الفكر والتجديد، إنما هم يهود هذه الأمة، لما يحدثونه من فساد، وتخريب في البلاد والعباد، وليس لهم دواء، إلا دواء عمر بن الخطاب صلى الله عليه وسلم لجدهم صبيغ .. وقصة صبيغ معروفة، إذ جاء الصحابة يسألهم عن متشابه القرآن، وأراد أن يعمل فيها بفكره، وأن يفهمها بعقله، دونما الرجوع إلى الأثر والاتباع، وألقى بشبهة على الصحابة، فما كان هؤلاء المتربين على يد سيد المربين صلى الله عليه وسلم، إلا أن أمسكوا عن الجواب، وعزفوا عن الرد، ثم أخبروا عمر رضي الله عنه وعنهم أجمعين بما حدث،
[মুসলিম ও আহমদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন]

উদ্ভাবন বা বিদআত (بدعة) কেবল ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ইসলামের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী বিজাতীয় চিন্তাধারার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। প্রকৃতপক্ষে, বুদ্ধিবৃত্তিক বিদআত (بدعة) ইবাদতের বিদআতের (بدعة) চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক; কারণ এটি মানহাজ (منهاج) বা আদর্শিক কর্মপন্থা এবং পথের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির মূল কারণ। পূর্ববর্তী বিদআতপন্থী (مبتدعة) সম্প্রদায়—যেমন খারেজী ও মুতাজিলাগণ—যদি আকিদার (عقائد) ক্ষেত্রে নতুনত্বের উদ্ভাবন করে থাকে, তবে তাদের উত্তরসূরিরা ‘চিন্তা’ ও ‘আধুনিকায়ন’-এর দোহাই দিয়ে মানহাজ (منهاج) ও পথের ক্ষেত্রে বিদআত (بدعة) উদ্ভাবন করেছে।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি জ্ঞান ছাড়াই তাকদির (قدر) সম্পর্কে আলোচনাকারীদের "কদরিয়া এই উম্মতের মাজুস (অগ্নিপূজক)" বলে অভিহিত করে থাকেন [আবু দাউদ ও হাকিম ইবনে উমর (রাযি.) থেকে এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন], তবে যারা চিন্তা ও আধুনিকায়নের দোহাই দিয়ে আল্লাহর আয়াত ও তাঁর রাসূলের হাদিসসমূহ বিকৃত করে, তারা প্রকৃতপক্ষে এই উম্মতের ইহুদি। কারণ তারা দেশ ও জাতির মাঝে যে বিপর্যয় ও ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে, তার কোনো প্রতিষেধক নেই—উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) তাদের পূর্বপুরুষ সাবিগ-এর জন্য যে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন তা ব্যতীত। সাবিগ-এর ঘটনাটি সুবিদিত; যখন সে সাহাবীগণের নিকট কুরআনের অস্পষ্ট (متشابه) আয়াতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছিল এবং সেগুলোকে রেওয়াত বা বর্ণনা (أثر) ও অনুসরণের (اتباع) দিকে প্রত্যাবর্তন করা ছাড়াই নিজের চিন্তা ও বিচার-বুদ্ধি দিয়ে বুঝতে চেয়েছিল। সে সাহাবীগণের মনে সংশয় (شبهة) তৈরি করেছিল। এমতাবস্থায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাতে লালিত-পালিত সেই মহান সাহাবীগণ উত্তর দেয়া থেকে বিরত থাকলেন এবং কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো থেকে বিমুখ হলেন। অতঃপর যা ঘটেছিল তা তারা উমর (রাযি.) এবং তাঁদের সকলকে অবহিত করলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
فأخذ عمر رضي الله عنه فجلده، ثم حبسه، ثم جلده وحبسه، ثم جلده وحبسه، ثم قال صبيغ: يا أمير المؤمنين: قد ذهب الذي أجد! فنفاه إلى العراق، ومنعه من مجالسة الناس، ثم صلح حاله، فلما قامت فتنة الخوارج، فتنة الفكر والتقوّل على الله تعالى بغير علم، جاء الناس صبيغًا فقالوا: قم يا صبيغ فقد جاء دورك، فقال: أدبني العبد الصالح!

فانظر ـ أخي المسلم ـ لو كان صبيغ عندنا، لرددنا عليه بألف جواب، ولألفنا أكثر من كتاب، ولشغلنا مساحات الصحف ردًا، وردًا على رد، يقذف بعضنا بعضًا بالردود والتهم، حتى نوقع الريبة في قلوب العباد، ونضع القارئ في القيل والقال، ويتسرب إلى قلبه شيء من الشك، والانتقاص من آيات الله وأحاديث نبيه صلى الله عليه وسلم كل ذلك بسبب إعراضنا عن أصول البحث العلمي، وطريقة السلف في تأديب أحفاد صبيغ.

 

‌‌رابعًا: السمع والطاعة:

إن من أهم قواعد النجاة، وأصول الطائفة الناجية: السمع والطاعة لله ورسوله، وهما ركنان من أركان كلمة التوحيد.

ولا يسمى المسلم مسلمًا حقًا إلا أن يستسلم بقلبه وجوارحه لله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم، وذلك بفعل كل أمر، والنتهاء عن كل نهي.
অতঃপর ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে ধরলেন এবং চাবুকপেটা করলেন, এরপর তাকে বন্দি করলেন। পুনরায় তাকে চাবুকপেটা ও কারারুদ্ধ করলেন, এরপর আবার তাকে চাবুকপেটা ও কারারুদ্ধ করলেন। অবশেষে সাবিগ বলল: হে আমীরুল মুমিনীন! আমার অন্তরে যা (কুচিন্তা) ছিল, তা বিদায় নিয়েছে। এরপর তিনি তাকে ইরাকে নির্বাসিত করলেন এবং মানুষের সাথে ওঠাবসা করতে তাকে নিষিদ্ধ করলেন। পরবর্তীতে তার অবস্থার সংশোধন হলো। যখন খারেজীদের ফিতনা (فتنة) — ভ্রান্ত চিন্তা ও জ্ঞানহীনভাবে আল্লাহ তাআলার ওপর মিথ্যাচারের ফিতনা (فتنة) — শুরু হলো, তখন লোকেরা সাবিগের কাছে এসে বলল: হে সাবিগ ওঠো, এখন তোমার সময় এসেছে। সে উত্তর দিল: সেই নেক বান্দা (ওমর) আমাকে সংশোধন করে দিয়েছেন!

অতএব হে মুসলিম ভাই, লক্ষ্য করুন—সাবিগ যদি আমাদের যুগে থাকত, তবে আমরা তার বিপরীতে হাজারো উত্তর দিতাম, একাধিক কিতাব রচনা করতাম এবং সংবাদপত্রের পাতাগুলোতে খণ্ডন ও পাল্টা খণ্ডন লিখে ভরিয়ে দিতাম। আমরা একে অপরের দিকে খণ্ডন ও অভিযোগ ছুড়ে দিতাম, যতক্ষণ না বান্দাদের অন্তরে সংশয় তৈরি করতাম এবং পাঠককে অনর্থক বাকবিতণ্ডার মাঝে ফেলে দিতাম। ফলে তার অন্তরে আল্লাহর আয়াত ও তাঁর নবীর হাদিস সম্পর্কে সংশয় ও অবজ্ঞা তৈরি হতো। এসবই হতো বৈজ্ঞানিক গবেষণার মূলনীতি (أصول البحث العلمي) এবং সাবিগের উত্তরসূরিদের সংশোধন করার ক্ষেত্রে সালাফ বা পূর্বসূরিদের (السلف) পদ্ধতি থেকে আমাদের বিমুখ হওয়ার কারণে।

 

‌‌চতুর্থত: শোনা ও আনুগত্য করা (السمع والطاعة):

মুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম এবং নাজাতপ্রাপ্ত দলের (الطائفة الناجية) মূলনীতি হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আনুগত্য ও শ্রবণ; আর এই দুটি হলো তাওহীদের বাণীর অন্যতম স্তম্ভ (ركنان)।

কোনো মুসলিম প্রকৃত মুসলিম হিসেবে গণ্য হতে পারে না যতক্ষণ না সে তার অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে আত্মসমর্পণ করে। আর এটি সম্পন্ন হয় প্রতিটি আদেশ পালনের মাধ্যমে এবং প্রতিটি নিষেধ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهذا هو معنى الإسلام، ولذلك كان دين الإسلام دين جميع الأنبياء والرسل {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ} [آل عمران: 19]، أي الاستسلام والخضوع والانقياد لهذا الدين العظيم، والعمل به.

وهذه هي ملة إبراهيم {إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ} [البقرة: 131]

ولذلك أوصى الله الأنبياء من بعده، باتباع ملته {ثُمَّ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ أَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [النحل: 123]

وحذر من الإعراض عنها، فقال سبحانه {وَمَنْ يَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَنْ سَفِهَ نَفْسَهُ} [البقرة: 130]، فالسفيه من إذا أمره الله عز وجل أو رسوله صلى الله عليه وسلم لم يسمع ولم يطع.

وضرب الله لنا مثلاً رائعًا في إبراهيم، إذ أمره بذبح ابنه الوحيد {قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ} [الصافات: 102]، ورؤيا الأنبياء وحي، فماكان من هذا الابن الشاب، إلا أن استجاب استجابة لا تقل طاعة وتسليمًا عن طاعة أبيه وتسليمه، إذ قال {يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ} [الصافات: 102].

ولا أعتقد أن أحدًا ابتُليَ بمثل ما ابتليَ به إبراهيم، والحكمة من ذلك والله أعلم كي يكن المثل الأعلى للناس من بعده وإمامًا لهم.

فأين أهل زماننا من هذا، تذكره بالحديث فلا يسمع،
এটাই হলো ইসলামের প্রকৃত অর্থ; আর এই কারণেই ইসলাম ধর্ম ছিল সকল নবী ও রাসুলের দ্বীন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম} [আলে ইমরান: ১৯]। অর্থাৎ এই মহান দ্বীনের প্রতি আত্মসমর্পণ, বিনয় ও আনুগত্য প্রকাশ করা এবং সেই অনুযায়ী আমল করা।

আর এটিই হলো ইবরাহিমের আদর্শ: {স্মরণ করো, যখন তাঁর প্রতিপালক তাঁকে বললেন, ‘আত্মসমর্পণ করো’, তিনি বললেন, ‘আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম’} [বাকারা: ১৩১]।

সেজন্যই আল্লাহ তাআলা তাঁর পরবর্তী নবীদেরকে তাঁর আদর্শ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন: {অতঃপর আমি আপনার প্রতি ওহি (وحي) পাঠিয়েছি যে, আপনি একনিষ্ঠ হয়ে ইবরাহিমের আদর্শ অনুসরণ করুন; আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না} [নাহল: ১২৩]।

আর তিনি এই আদর্শ থেকে বিমুখ হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন: {ইবরাহিমের আদর্শ থেকে কেবল সেই ব্যক্তিই বিমুখ হয়, যে নিজেকে নির্বোধ বানিয়েছে} [বাকারা: ১৩০]। বস্তুত নির্বোধ সেই ব্যক্তি, যাকে যখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা অথবা তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো নির্দেশ প্রদান করেন, সে তা শোনে না এবং আনুগত্য করে না।

আল্লাহ তাআলা ইবরাহিমের ঘটনায় আমাদের জন্য এক অনুপম দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন, যখন তিনি তাঁকে তাঁর একমাত্র পুত্রকে জবেহ করার নির্দেশ দিলেন: {তিনি বললেন, হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখছি যে আমি তোমাকে জবেহ করছি} [সাফফাত: ১০২]। আর নবীদের স্বপ্ন হলো ওহি (وحي); এমতাবস্থায় সেই তরুণ পুত্রের পক্ষ থেকে এমন এক সাড়া এল যা আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের দিক থেকে তাঁর পিতার চেয়ে কোনো অংশেই কম ছিল না; সে বলল: {হে আব্বাজান! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তা-ই করুন, ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন} [সাফফাত: ১০২]।

আমি মনে করি না যে, ইবরাহিমকে যেভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে, অন্য কাউকেও তেমনটি করা হয়েছে। এর গূঢ় রহস্য সম্পর্কে আল্লাহই সম্যক অবগত; সম্ভবত এর উদ্দেশ্য ছিল যেন তিনি পরবর্তী প্রজন্মের মানুষের জন্য এক মহান আদর্শ এবং তাদের ইমাম (إمام) বা নেতা হতে পারেন।

অথচ আমাদের বর্তমান যুগের মানুষেরা এ আদর্শ থেকে কত দূরে! যখন আপনি তাকে হাদিস শুনিয়ে উপদেশ দেবেন, তখন সে তা কর্ণপাত করে না।
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وتذكره بالآيات فلا يطيع.

وأمرنا باللحية ـ على سبيل المثال ـ فتجد أهل زماننا يتهربون منها كل مهرب، ويتأولون كل متأول.

فكيف لو أمرنا بذبح أبنائنا، أو مما ابتُليَ به الناس من قبلنا، فلا حول ولا قوة إلا بالله.

واعلم أن المقصود بالسمع، سمع الإقرار والقبول والفهم، لا مجرد السمع الذي يشترك فيه المؤمن والكافر والناس جميعًا، والمقصود بالطاعة: الانقياد والعمل.

فمعنى سمعنا وأطعنا: أي قبلنا وفهمنا ونفذنا.

لقد أدرك أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم معنى هذين الركنين من أركان الإيمان، واستقر ذلك في قلوبهم، وجرى مع الدم في عروقهم.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "فَهَذَا إقْرَارٌ مِنْهُمْ بِرُكْنَيْ الْإِيمَانِ الَّذِي لَا يَقُومُ إلَّا بِهِمَا" [مجموع الفتاوى]

وكذلك نزل قول الله تعالى {لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ} [البقرة: 284]، وأدرك الصحابة رضوان الله عليهم ما تضمنته هذه الآية، من أن الله محاسب العبد على ما يخفيه في نفسه، ولو لم يفعله، فاشتد ذلك عليهم، وغمتهم غمًا شديدًا، ووجدوا منها موجدة عظيمة، وبكوا من هولها بكاءً مرًا، رضوان الله عليهم وسلامه،
আপনি তাকে আয়াতসমূহের মাধ্যমে নসিহত করবেন, অথচ সে আনুগত্য করে না।

উদাহরণস্বরূপ, আমাদের দাড়ি রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে—অথচ আপনি আমাদের বর্তমান যুগের লোকদের দেখবেন যে তারা এটি থেকে বাঁচার জন্য নানা বাহানা খুঁজছে এবং সব ধরনের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে।

তাহলে অবস্থা কেমন হতো যদি আমাদের সন্তানদের যবেহ করার নির্দেশ দেওয়া হতো, কিংবা আমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহকে যে ধরনের কঠিন পরীক্ষায় ফেলা হয়েছিল আমাদেরও তেমন পরীক্ষায় ফেলা হতো? আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।

জেনে রাখুন যে, এখানে 'শ্রবণ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্বীকৃতি, গ্রহণ ও অনুধাবনের শ্রবণ; কেবল সেই শ্রবণ নয় যাতে মুমিন, কাফির ও সকল মানুষ সমানভাবে অংশ নেয়। আর 'আনুগত্য' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: অনুসরণ ও আমল করা।

সুতরাং 'আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম'-এর অর্থ হলো: আমরা গ্রহণ করলাম, বুঝতে পারলাম এবং বাস্তবায়ন করলাম।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ ঈমানের এই দুই রুকনের গুরুত্ব যথাযথভাবে উপলব্ধি করেছিলেন এবং তা তাঁদের অন্তরে দৃঢ়ভাবে গেঁথে গিয়েছিল ও তাঁদের শিরায় রক্তের ন্যায় প্রবহমান ছিল।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এটি ছিল ঈমানের সেই দুটি রুকনের প্রতি তাঁদের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি, যা ব্যতীত ঈমান প্রতিষ্ঠিত হয় না।" [মাজমুউল ফাতাওয়া]

অনুরূপভাবে আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হয়েছিল: {আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই। তোমাদের মনের ভেতরে যা আছে তা তোমরা প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো, আল্লাহ তোমাদের থেকে তার হিসাব নেবেন} [আল-বাকারাহ: ২৮৪]। সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এই আয়াতের অন্তর্নিহিত মর্মার্থ বুঝতে পেরেছিলেন যে, বান্দা তার মনের ভেতরে যা গোপন রাখে তার জন্যও আল্লাহ হিসাব নেবেন, যদিও সে তা বাস্তবে না করে। বিষয়টি তাঁদের নিকট অত্যন্ত কঠিন প্রতীয়মান হলো এবং তাঁরা প্রচণ্ড বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন হলেন। তাঁরা এতে অত্যন্ত মর্মাহত হলেন এবং এর ভয়াবহতায় অতি কষ্টে ক্রন্দন করলেন; তাঁদের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আস-সাবীল ইলা মানহাজি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فأتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم جثوا على الركب، وقالوا: يا رسول الله؛ كلفنا من الأعمال ما نطيق، الصلاة والصيام والجهاد والصدقة، وقد أنزلت عليك هذه الآية، ولا نطيقها ـ أي لا نستطيع العمل بها ـ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أَتُرِيدُونَ أَنْ تَقُولُوا كَمَا قَالَ أَهْلُ الْكِتَابَيْنِ مِنْ قَبْلِكُمْ {سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا} بَلْ قُولُوا {سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ}، قَالُوا {سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ}، فَلَمَّا اقْتَرَأَهَا الْقَوْمُ ذَلَّتْ بِهَا أَلْسِنَتُهُمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ فِى إِثْرِهَا {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ} فَلَمَّا فَعَلُوا ذَلِكَ نَسَخَهَا اللَّهُ تَعَالَى فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل {لا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَاّ وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا} [البقرة: 286]. [رواه مسلم وأحمد في مسنده]

القاعدة الخامسة من قواعد النجاة:

وهي أصل من أصول الطائفة المنصورة إذا صح النقل شهد العقل.

أي إذا وردت الآية الكريمة وثبت معناها.

أو صح الحديث النبوي، ووضح مقصده، فما على العبد إلا التسليم، والشهادة بصحة المعنى .. ولم لم تكتمل القناعة لديه، إذ يكفي المرء أن يعتقد أن هذا النص من لدن عليم
অতঃপর তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং হাঁটু গেড়ে বসলেন। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকা আমলগুলোর দায়িত্ব আমাদের প্রদান করা হয়েছে, যেমন— সালাত, সিয়াম, জিহাদ ও সদকা। কিন্তু আপনার ওপর এই আয়াতটি নাজিল হয়েছে যা আমরা পালনে সক্ষম নই— অর্থাৎ, এর ওপর আমল করা আমাদের সাধ্যের বাইরে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা কি তা-ই বলতে চাও, যা তোমাদের পূর্ববর্তী দুই কিতাবধারী জাতি বলেছিল— {আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম}? বরং তোমরা বলো— {আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল}।" তখন তাঁরা বললেন: {আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল}। যখন লোকেরা তা পাঠ করল এবং তাদের রসনা এর প্রতি বিনীত হলো, তখন আল্লাহ তাআলা এর পরপরই নাজিল করলেন: {রাসুল তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা তাঁর প্রতি নাজিল করা হয়েছে তার ওপর ইমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ইমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসুলগণের প্রতি। আমরা তাঁর রাসুলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আর তারা বলল, আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা চাই এবং আপনারই দিকে প্রত্যাবর্তনস্থল}। যখন তারা তা করল, আল্লাহ তাআলা তা রহিত (نسخ) করলেন এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা নাজিল করলেন: {আল্লাহ কোনো নফসকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না। সে যা অর্জন করেছে তা তারই জন্য এবং সে যা কামাই করেছে তা তারই ওপর বর্তাবে। হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই কিংবা ভুল করি তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না...} [সুরা বাকারা: ২৮৬]। [এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন মুসলিম এবং আহমাদ তাঁর মুসনাদে]

নাজাত বা মুক্তির নীতিমালাসমূহের মধ্যে পঞ্চম নীতি:

আর এটি সাহায্যপ্রাপ্ত দলের (الطائفة المنصورة) একটি অন্যতম মূলনীতি যে, যখন উদ্ধৃতি (النقل) সঠিক (صح) হয়, তখন বিবেকও তার সাক্ষ্য দেয়।

অর্থাৎ, যখন কোনো সম্মানিত আয়াত বর্ণিত হয় এবং তার অর্থ সাব্যস্ত (ثبت) হয়।

অথবা নববী হাদিস সহিহ (صح) হয় এবং এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন বান্দার কর্তব্য কেবলই আত্মসমর্পণ করা এবং সেই অর্থের যথার্থতার সাক্ষ্য প্রদান করা... যদিও তার মধ্যে পূর্ণ তৃপ্তি অর্জিত না হয়; কেননা একজন মানুষের জন্য এটাই বিশ্বাস করা যথেষ্ট যে, এই পাঠ (নস) এক মহাজ্ঞানীর পক্ষ থেকে আগত।