(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أعلام مالقة القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: أعلام مالقة
المؤلف: أبو عبد الله بن عسكر، وأبو بكر بن خميس
تقديم وتخريج وتعليق: الدكتور عبد الله المرابط الترغي
الناشر: دار الغرب الإسلامي، بيروت - لبنان، دار الأمان للنشر والتوزيع، الرباط - المغرب
الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999 م
عدد الصفحات: 432
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 ذو القعدة 1435
মালাগাহর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
কিতাব: মালাগাহর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
লেখক: আবু আবদুল্লাহ ইবনে আসকার, এবং আবু বকর ইবনে খামিস
উপস্থাপনা, হাদিস বিশ্লেষণ ও টীকা: ডক্টর আবদুল্লাহ আল-মুরাবিত আল-তারগী
প্রকাশক: দার আল-গারব আল-ইসলামী, বৈরুত - লেবানন, দার আল-আমান প্রকাশনী ও পরিবেশনী, রাবাত - মরক্কো
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরী - ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৪৩২
[কিতাবটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৪ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
المقدمة
كتاب أعلام مالقة التقديم والدراسة
ভূমিকা
কিতাব আলাম মালাকা: উপস্থাপনা ও গবেষণা
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلّى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليما.
هذا كتاب نفيس طالما تشوق إليه الباحثون في التراث العربي. فهو يتعلق بتراجم أعلام حاضرة أندلسية، هي مالقة، كان لها دور مهم في بناء الحضارة والثقافة في دولة الإسلام بالأندلس. وهو بموضوعه هذا يمثل أحد كتب التراجم البلدانية الأندلسية التي نجت من التلف رغم عوادي الزمان وأحداث الضياع التي أصابت التراث العربي في هذا القطر.
فهو بتراجم رجاله يكشف عما كانت تعرفه حاضرة مالقة من علم ونشاط في ممارسته تحصيلا وتدريسا وتأليفا. وهو بما يحتفظ به من حديث عن هؤلاء الرجال وآدابهم وسلوكهم وتصوراتهم ومواقفهم يقرب لنا بيئة الأندلس في حواضرها ومجالس علمائها وما كان يجري في ساحات الدرس بين طلبتها وأساتذتها.
فهو يسد ثغرة كبيرة في تاريخ وأدب هذا الأندلس في التراث العربي، فيختص بما أنتجه رجال مالقة من علم وأدب وما ساهموا به من جهتهم في تجلية الصورة الثقافية العامة والخاصة في الأندلس. ولم يكن غيره ليسد ذلك طالما أنه ينفرد بالعديد من هذه التراجم والعديد من نصوص الأدب التي ارتبطت بأصحاب هذه التراجم شعرا ونثرا.
ورغم الضرورة التي كانت تلح وبشدة على نشر هذا الكتاب والعمل على تحقيقه وتيسير الاستفادة منه، فقد كانت هناك موانع متعددة تحول دون ذلك.
فالكتاب في أصله يوجد في نسخة خطية وحيدة. ومن سوء الحظ أن ناسخ هذا الأصل الفريد لم يكن ممن يتقن عمل النسخ، فوقع في النص التحريف والتصحيف وداخله الإسقاط والزيادة والتغيير. وهي الموانع التي ظلت تحول دون
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও সম্যক শান্তি বর্ষিত হোক।
এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান গ্রন্থ যার জন্য আরব ঐতিহ্যের গবেষকগণ দীর্ঘকাল ধরে প্রতীক্ষায় ছিলেন। এটি আন্দালুসের একটি প্রধান মহানগর মালাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী সংক্রান্ত, যে শহরটি আন্দালুসের ইসলামি রাষ্ট্রে সভ্যতা ও সংস্কৃতি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এর বিষয়বস্তুর কারণে এটি আন্দালুসের শহর-ভিত্তিক জীবনী বিষয়ক সেই গ্রন্থগুলোর অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত, যা কালের প্রতিকূলতা এবং এই অঞ্চলের আরব ঐতিহ্যের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ধ্বংসযজ্ঞ সত্ত্বেও বিলুপ্তি থেকে রক্ষা পেয়েছে।
এখানে বর্ণিত ব্যক্তিবর্গের জীবনীর মাধ্যমে তদানীন্তন মালাকা শহরে জ্ঞানচর্চা এবং তা অর্জন, শিক্ষাদান ও গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে যে সক্রিয়তা বিদ্যমান ছিল তা ফুটে উঠেছে। এটি এই মনীষীদের জীবনকথা, তাঁদের আদব-কায়দা, আচরণ, চিন্তা-চেতনা এবং অবস্থানের বিবরণ সংরক্ষণের মাধ্যমে আমাদের সামনে আন্দালুসের শহরগুলোর পরিবেশ, আলেমদের মজলিস এবং ছাত্র ও শিক্ষকদের জ্ঞানতাত্ত্বিক আসরগুলোতে যা কিছু ঘটত, তাকে মূর্ত করে তোলে।
এটি আরব ঐতিহ্যে আন্দালুসের ইতিহাস ও সাহিত্যের এক বিশাল শূন্যতা পূরণ করে। এটি বিশেষভাবে মালাকার মনীষীদের উৎপাদিত জ্ঞান ও সাহিত্য এবং আন্দালুসের সাধারণ ও বিশেষ সাংস্কৃতিক চিত্র পরিস্ফুটকরণে তাঁদের অবদান নিয়ে আলোচনা করে। অন্য কোনো গ্রন্থ এই অভাব পূরণ করতে সক্ষম ছিল না, কারণ এটি এমন অনেক জীবনী এবং এসব জীবনীর সাথে সংশ্লিষ্ট কবিতা ও গদ্যের বহু সাহিত্যিক পাঠকে স্বতন্ত্রভাবে ধারণ করে আছে।
এই গ্রন্থটি প্রকাশ করা, এর পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা করা এবং এর থেকে উপকৃত হওয়া সহজ করার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত তীব্র হওয়া সত্ত্বেও, নানাবিধ বাধা এর পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
মূল গ্রন্থটি কেবল একটি মাত্র পাণ্ডুলিপি রূপে বিদ্যমান। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এই অনন্য পাণ্ডুলিপির লিপিকার অনুলিখন কাজে পারদর্শী ছিলেন না, ফলে মূল পাঠ্যে বিকৃতি ও বর্ণগত ভুল প্রবেশ করেছে এবং এর মধ্যে বাক্যচ্যুতি, অতিরিক্ত সংযোজন ও পরিবর্তন ঘটে গেছে। আর এই বাধাগুলোই মূলত এতদিন পর্যন্ত একে বাধাগ্রস্ত করছিল...
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
تعميم الاستفادة من هذا النص والعمل على تحقيقه ونشره. ولطالما أوقفت هذه الموانع المحاولات الكثيرة التي قام بها العديد من الأساتذة في المغرب وغيره لتحقيق هذا النص وتخريجه.
إلا أن إرادة الله في إخراج هذا النص وإحيائه وتيسير سبل نشره والاستفادة منه، قد آذنت فيه بالعمل لهذا العبد الضعيف ليقتحم مغالقه، وقربت إليه من الأسباب الإلهية والعلية ليتجاوز موانعه، وهيأت له من فضل الله كل الظروف من وقت وعلم وصحة لتكبر بجانبها آمال النجاح في بعث هذا الكتاب وإجراء قراءته.
لذلك كان الإقدام على تحقيق هذا الكتاب وإخراجه بالصورة التي يعم بها النفع يحمل الإذن من الله تعالى في تجاوز تلك الموانع والتغلب عليها بالصبر والمتابعة واستيفاء النظر والتأمل والإخلاص في العمل وخلق فرص نجاحه.
فتجاوز ما كان يعرف بالنسخة الوحيدة من هذا النص وما طرأ عليها من أعمال الناسخ بالتصحيف والتحريف والإسقاط والزيادة وغيرها مما كان يبدو في أول الأمر مستحيلا، قد بات بفضل الله أمرا ممكنا، مع تتابع العمل والإصرار على ملاحقته:
بالتأمل الطويل أولا. فقد مرت عليّ أيام وأنا أراود في هذا النص بيتا شعريا أو جملة نثرية استعصت صياغتهما الواردة في الأصل أن تستقيم. فأقلب احتمالاتهما وأستوفي ما يحضر فيهما من لغة وصرف وتركيب وبلاغة.
وبالاستفادة ثانيا من المصادر والمراجع والعودة إليها مرات متعددة لما يمكن أن تحمله من حل لغز الخفاء في النص أو ترجح الصواب في صيغة من صيغه.
وقد استقام النص في النهاية بفضل الله، والله يؤتي الفضل من يشاء، ليغيب عنه البياض، وينجاب عنه ظلام التحريف والتصحيف والإسقاط والزيادة، فيصبح في وضع ينفع فيه الناس وتستجيب مواده للقراءة والاستفادة.
وما كان ليتم هذا التحقيق وبهذه الصورة لولا مجهود الذين سبقوا بالعمل فيه.
فأعمال الفقيه سيدي محمد بوخبزة، والأستاذ المنوني والأستاذ المرحوم بنتاويت التطواني، كانت خطوات مرحلية لا بد منها لتجاوز ما تسلط على هذا النص من موانع الإرجاف والتهويل والتخويف. فلهم الفضل في اقتحام موانع هذا النص ورسم معالم الطريق نحو إحيائه بالتخريج والتحقيق. وإنه بإحياء هذا الكتاب وتهيئه للقراءة
এই পাঠ্যটি থেকে সাধারণের উপকার নিশ্চিত করা এবং এটি সম্পাদনা ও প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করা। মরক্কো এবং অন্যান্য স্থানের অনেক অধ্যাপক এই পাঠ্যটি সম্পাদনা এবং এর উদ্ধৃতি যাচাইয়ের জন্য বহু প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, কিন্তু দীর্ঘকাল যাবত নানা প্রতিবন্ধকতা সেই প্রচেষ্টাগুলোকে থামিয়ে রেখেছিল।
তবে এই পাঠ্যটিকে প্রকাশ করা, পুনরুজ্জীবিত করা এবং এর প্রকাশনা ও তা থেকে উপকৃত হওয়ার পথ সহজ করার ব্যাপারে আল্লাহর ইচ্ছা এই দুর্বল বান্দাকে এর রুদ্ধদ্বার উন্মোচনের অনুমতি দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর পক্ষ থেকে এমন সব মাধ্যম ও কারণ নিকটবর্তী করে দিয়েছেন যাতে এর বাধাবিপত্তিগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। আল্লাহর অনুগ্রহে তিনি সময়, জ্ঞান এবং সুস্বাস্থ্যের মতো যাবতীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছেন, যার ফলে এই বইটি পুনর্জীবিত করা এবং এটি পাঠযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে সফলতার আশা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অতএব, এই গ্রন্থটি সম্পাদনা করার এবং একে এমনভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যাতে এর উপকারিতা ব্যাপক হয়, তা মূলত ধৈর্য, নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা, গভীর পর্যবেক্ষণ, চিন্তা-গবেষণা, কাজের একাগ্রতা এবং এর সফলতার সুযোগ তৈরির মাধ্যমে সেই সব বাধা অতিক্রম ও জয় করার ব্যাপারে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুমতিরই নামান্তর ছিল।
ফলে এই পাঠ্যটির একমাত্র পাণ্ডুলিপি হিসেবে যা পরিচিত ছিল এবং লিপিকারদের মাধ্যমে তাতে যে বর্ণবিকৃতি, অর্থবিকৃতি, বর্জন, সংযোজন এবং অন্যান্য ত্রুটি দেখা দিয়েছিল—যা শুরুতে অসম্ভব বলে মনে হতো—তা অতিক্রম করা আল্লাহর অনুগ্রহে এখন সম্ভব হয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে নিরবচ্ছিন্ন কাজ এবং তা সম্পন্ন করার দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে:
প্রথমত, দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে। আমার ওপর এমন অনেক দিন অতিবাহিত হয়েছে যখন আমি এই পাঠ্যের কোনো একটি কাব্যিক চরণ বা গদ্যের বাক্য নিয়ে পড়েছিলাম, যেগুলোর মূল পাণ্ডুলিপিতে থাকা গঠন সংশোধন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। আমি সেগুলোর সম্ভাব্য সকল দিক পরীক্ষা করেছি এবং ভাষা, রূপতত্ত্ব, বাক্যগঠন ও অলঙ্কারশাস্ত্রের যাবতীয় দিক বিচার-বিশ্লেষণ করেছি।
দ্বিতীয়ত, মূল উৎস ও রেফারেন্স গ্রন্থগুলো থেকে সাহায্য গ্রহণ এবং সেগুলোর দিকে বারবার ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে; যাতে পাঠ্যের অস্পষ্ট রহস্যের সমাধান পাওয়া যায় অথবা কোনো পাঠভেদের ক্ষেত্রে সঠিকটি অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হয়।
অবশেষে আল্লাহর অনুগ্রহে পাঠ্যটি সুবিন্যস্ত হয়েছে, আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আপন অনুগ্রহ দান করেন। এর ফলে পাণ্ডুলিপির অস্পষ্টতা দূর হয়েছে এবং বিকৃতি, বর্ণবৈকল্য, বর্জন ও সংযোজনের অন্ধকার অপসৃত হয়েছে। এখন এটি এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যা মানুষের উপকারে আসবে এবং এর বিষয়বস্তুসমূহ পাঠ ও জ্ঞান অর্জনের উপযোগী হয়েছে।
যারা ইতিপূর্বে এই বিষয়ে কাজ করেছেন তাদের প্রচেষ্টা না থাকলে এই সম্পাদনা কর্মটি এভাবে সম্পন্ন হতো না।
ফকিহ সিদি মুহাম্মদ বুখাবজাহ, উস্তাদ আল-মানুনি এবং মরহুম উস্তাদ বিনতাউইত আত-তিতওয়ানির কাজগুলো ছিল এমন কিছু অপরিহার্য ধাপ, যা এই পাঠ্যের ওপর জেঁকে বসা সংশয়, অতিরঞ্জিত ভীতি এবং আতঙ্কের বাধাগুলো দূর করার জন্য প্রয়োজন ছিল। এই পাঠ্যের অন্তরায়গুলো ভেঙে ফেলা এবং এর উদ্ধৃতি যাচাই ও সম্পাদনার মাধ্যমে একে পুনরুজ্জীবিত করার পথ প্রশস্ত করার কৃতিত্ব তাঁদেরই। আর এই কিতাবটি পুনরুজ্জীবিত করা এবং পাঠের উপযোগী করার মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
السليمة المفيدة نكون قد أضفنا جديدا إلى الثقافة العربية والإسلامية، وذلك بالكشف عن نص نادر فيه من الأدب والتاريخ ما لا نجده في مصدر آخر، وكذلك بإزاحة الأستار عن ملامح الأسلوب الثقافي والحضاري الذي صاغ به الإسلام بيئة الإنسان في الأندلس وطبعها به.
وأخيرا أرجو من الله التوفيق والسداد، وحسبي الله ونعم الوكيل.
طنجة 30 رمضان 1414 موافق 13 مارس 1994
الدكتور عبد الله المرابط الترغي
সঠিক ও উপকারী [এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে] আমরা আরব ও ইসলামি সংস্কৃতিতে নতুন কিছু সংযোজন করতে সক্ষম হয়েছি। আর তা হলো এমন এক বিরল পাণ্ডুলিপি উন্মোচন করার মাধ্যমে, যা এমন সাহিত্য ও ইতিহাস সমৃদ্ধ যা অন্য কোনো উৎসে খুঁজে পাওয়া যায় না। সেই সাথে এটি সেই সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত শৈলীর বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে পর্দা উন্মোচন করে, যার মাধ্যমে ইসলাম আন্দালুসের মানবিক পরিবেশ বিনির্মাণ করেছিল এবং সেখানে নিজ ছাপ অঙ্কিত করেছিল।
পরিশেষে, আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
তানজাহ, ৩০ রমজান ১৪১৪ হিজরি মোতাবেক ১৩ মার্চ ১৯৯৪
ডক্টর আবদুল্লাহ আল-মুরাবিত আত-তারগি
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
التقديم
أولا: كتابة الترجمة وأصنافها:يعرف التراث العربي فائضا كبيرا في أعمال تراجم الرجال شمل أصناف المترجم بهم من العلماء والمحدثين والمفسرين والأدباء والشعراء واللغويين والنحاة والمتصوفة والأطباء وغيرهم، كما شملت هذه الأصناف أكبر التآليف في العربية حجما، وأوسعها مادة وأكثرها ذيولا وتكملة.
ومفهوم الترجمة مما يجري في هذه المصنفات والتآليف يقوم في عمومه على تهيئة ظروف التعرف على المترجم به وإزالة حجب المجهول التي تكتنفه، وذلك إما بعرض تاريخي الميلاد والوفاة ومحلهما وذكر الطبقة التي ينتمي إليها الرجل زمانا ومكانا وعلما وخطّة وإما بذكر أخباره وأحواله ورحلاته وأشياخه وتلامذته ونشاطه في التدريس والتأليف والإنتاج الأدبي وممارسة الخطط وغيرها.
ويبقى مجال التعرف على الرجل في كل هذا عملا نسبيا حسب ما يتيسر للمؤلف من مواد تزيل حجب هذا المجهول، أو مصادر معتمدة تقدم ما يتعرف به عليه، أو يعمل على تقريبه إلى القارئ.
وتبقى هذه التراجم أصنافا متعددة حسب الطبيعة التي تبنى عليها الترجمة والجهة التي تسخر لها. فهناك من هذه الأصناف
(1):
1 - صنف الترجمة العلمية العامة: وهي الترجمة التي تستهدف أساسا التعريف بالرجل في إطار انتمائه إلى صنف العلماء أو طبقة من طبقات الممارسين للعلم.
--------------------------------------------
ভূমিকা
প্রথমত: জীবনী লিখন এবং এর শ্রেণিবিভাগসমূহ:আরবি ঐতিহ্যে জীবনী সাহিত্যের এক বিশাল প্রাচুর্য পরিলক্ষিত হয়, যা আলেম, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, সাহিত্যিক, কবি, ভাষাবিদ, নাহুবিদ, সুফি, চিকিৎসক এবং আরও অন্যান্য শ্রেণির ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। তেমনি এই সকল জীবনী গ্রন্থসমূহ আরবি ভাষায় রচিত গ্রন্থের কলেবরের দিক থেকে বৃহত্তম, বিষয়বস্তুর দিক থেকে ব্যাপকতম এবং পরিশিষ্ট ও সম্পূরক রচনার দিক থেকে সংখ্যায় সর্বাধিক।
এই সকল গ্রন্থ ও রচনায় ‘তাজকিরা’ বা জীবনীর যে ধারণাটি প্রচলিত, তা মূলত যার জীবনী লেখা হচ্ছে তার পরিচয় তুলে ধরার উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করা এবং তাকে ঘিরে থাকা অজ্ঞাতনামা থাকার আবরণ উন্মোচন করার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এটি হয় তার জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ ও স্থান উল্লেখ করার মাধ্যমে এবং সময়, স্থান, জ্ঞান ও পদের দিক থেকে তিনি যে স্তরের (তবকা) অন্তর্ভুক্ত তা বর্ণনা করার মাধ্যমে। অথবা তার সংবাদ, অবস্থা, সফরসমূহ, উস্তাদগণ, ছাত্রবৃন্দ এবং তার পাঠদান, গ্রন্থ রচনা, সাহিত্যিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন পেশাগত দায়িত্ব পালনের বিবরণ প্রদানের মাধ্যমে।
এই সবকিছুর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে চেনার বিষয়টি আপেক্ষিকই থেকে যায়, যা নির্ভর করে লেখকের নিকট লভ্য থাকা সেই সকল উপাদানের ওপর যা অজ্ঞাত বিষয়গুলোকে দূর করে, অথবা এমন নির্ভরযোগ্য উৎসের ওপর যা তার পরিচয় তুলে ধরে কিংবা তাকে পাঠকের নিকট পরিচিত করতে সাহায্য করে।
জীবনীর প্রকৃতি এবং যে উদ্দেশ্যে তা রচিত হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে এই জীবনীগুলো বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত। এ সকল শ্রেণির মধ্যে রয়েছে
(১):
১ - সাধারণ ইলমি জীবনী: এটি এমন এক প্রকার জীবনী যার মূল লক্ষ্য হলো কোনো ব্যক্তিকে আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া বা ইলমি চর্চাকারীদের কোনো একটি স্তরের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার নিরিখে তার পরিচয় তুলে ধরা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وميزتها أن المؤلف يستقي موادها من الوثائق والمصادر التي تتيسر بين يديه. ويمثلها عموما نص الترجمة الوارد في كتب تواريخ الرجال والطبقات وكتب الوفيات.
2 - صنف الترجمة البرنامجية: وهي الترجمة التي يصوغها الرجل لأشياخه خاصة، فيستقي موادها من مواقفه الخاصة ومن معايشته للمترجم به ومشاهداته له في العموم.
وتمثل هذه الترجمة بشكل عام نصوص الترجمات الواردة في كتب الفهارس والأثبات والبرامج والمشيخات ومعاجم الشيوخ.
3 - صنف الترجمة البلدانية: وهي الترجمة التي يصوغها المؤلف لأجل التعريف بالرجل باعتبار شرط انتمائه إلى البلد الذي قامت عليه تراجم الكتاب، أو لمجرد إقامته أو مروره به فقط. وتبنى الترجمة هنا على طريقة الترجمة العلمية العامة، غير أنه يراعى في ذلك شرط الانتماء إلى البلد المعني بالأمر، بذكره والتنصيص عليه. ويمثل هذا الصنف من التراجم كتب تاريخ بغداد وذيوله وتواريخ مدينة دمشق، وحلب، والقاهرة، وغرناطة، وفاس وغيرها من بقية التواريخ البلدانية الخاصة بتراجم رجالها والطارئين عليها.
4 - صنف الترجمة الأدبية: وهي الترجمة التي يبنيها المؤلف بقصد تهيئة الظروف لعرض ما أنتجه المترجم به من نماذج أدبية. ولا يستهدف منها تقديم معلومات حول المترجم به أو عرض أحواله أو ذكر وفاة وغيرها. وغالبا ما تصاغ هذه الترجمة بطريقة أدبية يتأنق الكاتب في لغتها بالأسجاع والمحسنات ليجعلها مدخلا لعرض أعمال الأدب. من هذه الترجمات ما ضمه كتاب قلائد العقيان للفتح بن خاقان، وما ضمه كتاب ريحانة الألباء للشهاب الخفاجي، وغيرهما.
5 - صنف الترجمة الصوفية: وهو يمثل الترجمة التي يصوغها المؤلف بقصد تقريب المترجم به وهو في إطار انتمائه إلى رجال التصوف أو ممارسته له. فتركز موادها على ذكر الكرامات والمناقب وتعرض سلوك المتصوف وعبادته ومواقفه وأقواله ومعاملته للشيوخ والمريدين. ويمثل هذا الصنف التراجم الواردة في كتب طبقات الصوفية والمناقب مثل طبقات الصوفية للسلمي، وكتاب التشوف إلى رجال التصوف للتادلي، وغيرهما.
এর বৈশিষ্ট্য হলো, লেখক তাঁর হাতের কাছে পাওয়া নথিপত্র ও উৎসসমূহ থেকে এর উপাদানগুলো সংগ্রহ করেন। সাধারণত 'তারিখুর রিজাল' (ব্যক্তিদের ইতিহাস), 'তাবাকাত' (স্তরায়ন) এবং 'ওয়াফায়াত' (মৃত্যু সংবাদ) সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহে বর্ণিত জীবনীগুলোর পাঠ এর প্রতিনিধিত্ব করে।
২ - বর্ণনামূলক জীবনীধারা: এটি এমন জীবনী যা একজন ব্যক্তি বিশেষভাবে তাঁর শিক্ষকদের জন্য রচনা করেন। তিনি এর উপকরণগুলো তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, জীবনচরিতের ব্যক্তির সাথে তাঁর মেলামেশা এবং সাধারণত তাঁকে প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে সংগ্রহ করেন।
সাধারণত এই ধরণের জীবনী 'ফিহরিসাত', 'আসবাত', 'বারামিজ', 'মাশয়াখাত' এবং 'মু’জামুশ শুয়ুখ' গ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায়।
৩ - অঞ্চলভিত্তিক জীবনীধারা: এটি এমন জীবনী যা লেখক কোনো ব্যক্তির পরিচয় প্রদানের উদ্দেশ্যে রচনা করেন এই শর্তে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি উক্ত অঞ্চলের অধিবাসী, অথবা কেবল সেখানে বসবাস করেছেন কিংবা সেখান দিয়ে অতিক্রম করেছেন। এখানে জীবনীটি সাধারণ জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনীর পদ্ধতি অনুসারে রচিত হয়, তবে এতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সাথে সম্পৃক্ততার শর্তটি বিবেচনা করা হয় এবং তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। এই শ্রেণির জীবনীগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে 'তারিখু বাগদাদ' ও এর পরিশিষ্টসমূহ এবং দামেস্ক, আলেপ্পো, কায়রো, গ্রানাডা, ফাস ও অন্যান্য আঞ্চলিক ইতিহাসের গ্রন্থগুলো, যা সেসব অঞ্চলের অধিবাসী এবং সেখানে আগমনকারীদের জীবনীর জন্য নিবেদিত।
৪ - সাহিত্যিক জীবনীধারা: এটি এমন জীবনী যা লেখক কোনো ব্যক্তির সাহিত্যকর্ম উপস্থাপনের প্রেক্ষাপট তৈরির উদ্দেশ্যে রচনা করেন। এর লক্ষ্য জীবনচরিতের ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্য প্রদান, তাঁর অবস্থা বর্ণনা করা বা তাঁর মৃত্যু প্রভৃতি উল্লেখ করা নয়। সাধারণত এই ধরণের জীবনী সাহিত্যিক ঢঙে রচিত হয়, যেখানে লেখক অনুপ্রাস ও অলঙ্কারের মাধ্যমে ভাষাকে সুশোভিত করেন যাতে এটি সাহিত্যকর্ম উপস্থাপনের প্রবেশদ্বার হতে পারে। ফাতহ ইবন খাকানের 'কালাইদুল ইকইয়ান' এবং শিহাব খাফাজীর 'রাইহানাতুল আলিব্বা' সহ অন্যান্য গ্রন্থে এ জাতীয় জীবনী পাওয়া যায়।
৫ - সুফি জীবনীধারা: এটি এমন জীবনী যা লেখক কোনো ব্যক্তিকে তাসাউফের অনুসারী বা এর সাধক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে রচনা করেন। এর বিষয়বস্তু মূলত কারামত ও গুণাবলি বর্ণনার ওপর গুরুত্ব দেয় এবং সুফির আচার-আচরণ, ইবাদত-বন্দেগি, তাঁর আদর্শ, উক্তি এবং শিক্ষক ও মুরিদদের সাথে তাঁর ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরে। সুফিদের 'তাবাকাত' এবং 'মানাকিব' গ্রন্থসমূহে এই ধরণের জীবনী পাওয়া যায়, যেমন সুলামীর 'তাবাকাতুস সুফিয়্যাহ' এবং তাদিলীর 'আত-তাশাউউফ ইলা রিজালিত তাসাউউফ' ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ثانيا: أعلام مالقة وكتابة التراجم بالأندلس:ينتمي كتاب أعلام مالقة وفقهائها وأدبائها إلى ما يدخل تحت صنف التراجم البلدانية. وهو صنف من التراجم عرفه الأندلسيون وعلى نطاق واسع في مختلف مراحل حياتهم الثقافية. فكتبوا من هذه التراجم البلدانية والإقليمية العدد الكثير، حتى إن أكثر كور الأندلس وحواضرها قد حظي بتأليف أو أكثر يعرف بمشاهير رجالها في العلم والفكر والرواية. فقد عرف إقليم الأندلس تآليف تخص رجاله عامة، فابتدأت مع:
* كتاب طبقات الفقهاء لعبد الملك بن حبيب
(1) (ت 238).
* وكتاب طبقات الكتاب لمحمد بن موسى الأقشتين
(2) (ت 307).
* وكتاب طبقات الكتاب بالأندلس لسكن بن إبراهيم
(3).
* وكتاب طبقات شعراء الأندلس لعثمان بن ربيعة
(4) (ت قريبا من 310).
* وكتاب في شعراء الأندلس لمحمد بن عبد الرءوف الأزدي
(5) (ت 343) وهو كتاب بلغ فيه الغاية كما يذكر بن الفرضي.
* وكتاب طبقات المحدثين لأبي القسم مسلمة بن القاسم
(6) (ت 353).
* وكتاب في تاريخ المحدثين لأبي عمر بن حزم الصدفي
(7) (ت 350) بلغ فيه الغاية.
* وكتاب في الشعراء من الفقهاء بالأندلس لقاسم بن أبي الفتح
(8) (ت 338).
* وتأليف في رجال الأندلس لخالد بن سعد
(9) (ت 352).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: মালাকার বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ এবং আন্দালুসে জীবনী-গ্রন্থ রচনা:‘আ’লামু মালাকা ওয়া ফুকাহাউহা ওয়া উদাবাউহা’ (মালাকার বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ, তাদের ফকীহ ও সাহিত্যিকগণ) গ্রন্থটি অঞ্চলভিত্তিক জীবনী-গ্রন্থের (আত-তারাজিমুল বুলদানিয়্যাহ) অন্তর্ভুক্ত। এটি জীবনী-গ্রন্থের এমন একটি ধারা যা আন্দালুসীয়দের কাছে সুপরিচিত ছিল এবং তাদের সাংস্কৃতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। তারা এই ধরনের বহু আঞ্চলিক ও দেশীয় জীবনী-গ্রন্থ রচনা করেছেন, এমনকি আন্দালুসের অধিকাংশ জেলা ও প্রধান শহরগুলো নিয়ে এক বা একাধিক গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যেখানে জ্ঞান, চিন্তা ও রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। আন্দালুস অঞ্চলে সাধারণভাবে এখানকার ব্যক্তিদের নিয়ে বিশেষায়িত কিছু রচনার সূচনা হয়েছিল:
* আবদুল মালিক ইবনে হাবীব (ওফাত ২৩৮ হিজরী) রচিত ‘তাবাকাতুল ফুকাহা’ গ্রন্থ।
* মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-আকাশতীন (ওফাত ৩০৭ হিজরী) রচিত ‘তাবাকাতুল কুততাব’ গ্রন্থ।
* সাকান ইবনে ইবরাহিম রচিত ‘তাবাকাতুল কুততাব বিল আন্দালুস’ গ্রন্থ।
* উসমান ইবনে রাবিআ (ওফাত ৩১০ হিজরীর কাছাকাছি) রচিত ‘তাবাকাতু শুআরাইল আন্দালুস’ গ্রন্থ।
* মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রউফ আল-আজদি (ওফাত ৩৪৩ হিজরী) রচিত আন্দালুসের কবিদের নিয়ে একটি গ্রন্থ; যেমনটি ইবনুল ফারাদি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এই গ্রন্থে চরম উৎকর্ষ অর্জন করেছেন।
* আবুল কাসিম মাসলামাহ ইবনুল কাসিম (ওফাত ৩৫৩ হিজরী) রচিত ‘তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন’ গ্রন্থ।
* আবু উমর ইবনে হাযম আস-সাফাদি (ওফাত ৩৫০ হিজরী) রচিত মুহাদ্দিসদের ইতিহাসের উপর একটি গ্রন্থ, যাতে তিনি চরম উৎকর্ষ অর্জন করেছেন।
* কাসিম ইবনে আবিল ফাতহ (ওফাত ৩৩৮ হিজরী) রচিত আন্দালুসের ফকীহ কবিদের নিয়ে একটি গ্রন্থ।
* খালিদ ইবনে সাদ (ওফাত ৩৫২ হিজরী) রচিত আন্দালুসের ব্যক্তিদের নিয়ে একটি রচনা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
* وكتاب طبقات الشعراء لأبي الوليد بن الفرضي
(1) (ت 403) وقد نقل منه في الصلة، وفي أعلام مالقة.
* وكتاب في الفقهاء والقضاة بقرطبة والأندلس لمحمد بن عبد الله بن عبد البر
(2) (ت بعد 330).
* وكتاب في أخبار شعراء الأندلس لعبادة
(3) (ت 419).
* وكتاب في طبقات القراء لأبي عمرو الداني
(4) (ت 444).
* وكتاب الحميدي في رجال الأندلس المسمى بجذوة المقتبس
(5).
* وكتاب في طبقات الفقهاء بالأندلس لأبي الوليد بن الدباغ
(6).
* وكتاب في طبقات العلماء والشعراء لأبي عامر السالمي
(7) (ت 559) وقد نقل منه ابن عبد الملك في الذيل وسماه درر القلائد وغرر الفوائد في أخبار الأندلس وأمرائها وطبقات علمائها وشعرائها.
* وكتاب في أخبار الزهاد والعباد بالأندلس لابن عفيون الغافقي
(8) (ت بعد 584).
* وكتاب مشاهير الوشاحين في الأندلس لأبي الحسن علي بن سعد الخير (ت 571)، وقد جرى فيه «على طريقة الفتح في المطمح والقلائد وبن بسام في الذخيرة، وابن الإمام في سمط الجمان»
(9).
* وكتاب أنوار الأفكار فيمن حل جزيرة الأندلس من الزهاد والأبرار لأبي العباس بن الصقر
(10) (ت 569).
--------------------------------------------
* এবং আবু ওয়ালিদ ইবনুল ফারাদি
(১) (মৃত্যু ৪০৩)-এর 'তাবাকাতুশ শুয়ারা' নামক গ্রন্থ। 'আস-সিলাহ' এবং 'আলামু মালাকা' গ্রন্থে এ থেকে উদ্ধৃতি নেয়া হয়েছে।
* এবং মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল বার
(২) (মৃত্যু ৩৩০-এর পর)-এর কর্ডোভা ও আন্দালুসের ফকিহ ও বিচারকদের বিষয়ক গ্রন্থ।
* এবং উবাদাহ
(৩) (মৃত্যু ৪১৯)-এর আন্দালুসের কবিদের সংবাদ বিষয়ক গ্রন্থ।
* এবং আবু আমর আদ-দানি
(৪) (মৃত্যু ৪৪৪)-এর 'তাবাকাতুল কুররা' বিষয়ক গ্রন্থ।
* এবং আন্দালুসের বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ে আল-হুমাইদির গ্রন্থ, যার নাম 'জাযওয়াতুল মুকতাবিস'
(৫)।
* এবং আবু ওয়ালিদ ইবনুদ দাব্বাগ
(৬)-এর আন্দালুসের ফকিহদের স্তরবিন্যাস বিষয়ক গ্রন্থ।
* এবং আবু আমির আস-সালেমি
(৭) (মৃত্যু ৫৫৯)-এর আলেম ও কবিদের স্তরবিন্যাস বিষয়ক গ্রন্থ। ইবনে আব্দুল মালিক 'আয-যাইল' গ্রন্থে এ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং তিনি একে 'দুরারুল কালাইদ ওয়া গুরারুল ফাওয়াইদ ফি আখবারি আন্দালুস ওয়া উমারাইহা ওয়া তাবাকাতি উলামাইহা ওয়া শুয়ারাইহা' নামে অভিহিত করেছেন।
* এবং ইবনে আফিয়ুন আল-গাফেকি
(৮) (মৃত্যু ৫৮৪-এর পর)-এর আন্দালুসের যাহেদ ও ইবাদতগুজারদের সংবাদ বিষয়ক গ্রন্থ।
* এবং আবুল হাসান আলী ইবনে সাদ আল-খাইর (মৃত্যু ৫৭১)-এর আন্দালুসের প্রসিদ্ধ মোয়াশশাহ রচয়িতাদের বিষয়ক গ্রন্থ; এতে তিনি «'আল-মাতমাহ' ও 'আল-কালাইদ' গ্রন্থে ফাতহ-এর পদ্ধতি, 'আয-যাখিরা' গ্রন্থে ইবনে বাসসাম-এর পদ্ধতি এবং 'সিমতুল জুমান' গ্রন্থে ইবনে ইমাম-এর পদ্ধতি» অনুসরণ করেছেন
(৯)।
* এবং আবুল আব্বাস ইবনুস সাকার
(১০) (মৃত্যু ৫৬৯)-এর 'আনওয়ারুল আফকার ফিমান হাল্লা জাজিরাতাল আন্দালুস মিনায যুহহাদি ওয়াল আবরার' নামক গ্রন্থ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
* وكتاب تاريخ الكتاب الأندلسيين لأبي عمرو محمد بن عيشون بن عمر بن صباح اللخمي
(1) (ت 614).
* وكتاب خضراء السندس في شعراء الأندلس لابن الأبار القضاعي
(2) (ت 658) وغيرها من المؤلفات الخاصة برجال الأندلس مما عرفته الثقافة العربية التاريخية في الأندلس ووصلت هذه المصنفات إلى قمتها مع تاريخ علماء الأندلس
(3) لأبي الوليد بن الفرضي (ت 403) الذي كان عمله هذا مثار استدراك وتكميل وتذييل من طرف العديد من علماء الأندلس والمغرب، فكتبت أشكال عديدة من هذه الذيول وذيول الذيول.
غير أن أشهر هذه الذيول تأتي مع كتاب الصلة
(4) لأبي القاسم خلف بن بشكوال القرطبي (ت 578) لتكون من جهتها مثار التذييل والتكميل مع عمل:
أبي عبد الله بن الأبار القضاعي (ت 658) في التكملة
(5).
وأبي العباس أحمد بن فرتون الفاسي نزيل سبتة (ت 660) في الذيل
(6).
وأبي عبد الله محمد بن عبد الملك المراكشي (ت 703) في الذيل والتكملة
(7).
وأبي جعفر أحمد بن الزبير العاصمي الجياني (ت 708 في صلة الصلة
(8).
وأبي عبد الله محمد بن الخطيب السلماني (ت 776) في عائد الصلة
(9).
ومع غيرها من الذيول الأخرى التي لم تصل نصوصها إلينا أو لم يشتهر أمرها، لتتكوّن من هذه الصلات والذيول اليوم ما يعرف بسلسلة الصلات الأندلسية.
ومع هذه المصنفات التي اختصت بإقليم الأندلس عموما، فقد عرفت الكتابة التاريخية في التراث الأندلسي مصنفات خاصة تنصرف إلى تراجم جهة معينة أو بلدة محددة من الأندلس، فيذكر في هذا كتب خاصة تهم:
--------------------------------------------
* এবং আবু আমর মুহাম্মদ বিন আইশুন বিন উমর বিন সাবাহ আল-লাখমি
(১) (মৃত্যু ৬১৪ হিজরি) রচিত 'তারিখুল কিতাব আল-আন্দালুসিয়্যিন' (আন্দালুসি লেখকগণের ইতিহাস) গ্রন্থ।
* এবং ইবনুল আব্বার আল-কুদাঈ
(২) (মৃত্যু ৬৫৪ হিজরি) রচিত 'খাদরাউস সুন্দুস ফি শুআরাইল আন্দালুস' (আন্দালুসের কবিদের মাঝে রেশমের সজীবতা) গ্রন্থ এবং আন্দালুসের মনীষীদের কেন্দ্র করে রচিত অন্যান্য রচনাবলি, যা আন্দালুসের আরবি ঐতিহাসিক সংস্কৃতিতে পরিচিত ছিল। এই সংকলনগুলো এর শিখরে পৌঁছেছে আবু ওয়ালিদ ইবনুল ফারাদি (মৃত্যু ৪০৩ হিজরি) রচিত 'তারিখু উলামাইল আন্দালুস'
(৩) (আন্দালুসের আলেমদের ইতিহাস) গ্রন্থের মাধ্যমে, যার এই কর্মটি আন্দালুস ও মাগরিবের বহু আলেমের পক্ষ থেকে সংশোধন, পরিপূরণ এবং পরিশিষ্ট রচনার পথ প্রশস্ত করেছিল। ফলে এই পরিশিষ্ট এবং পরিশিষ্টের পরিশিষ্টগুলোর নানা রূপ রচিত হয়েছে।
তবে এই পরিশিষ্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হচ্ছে আবু কাসিম খালাফ বিন বাশকুওয়াল আল-কুরতুবি (মৃত্যু ৫৭৮ হিজরি) রচিত 'কিতাবুস সিলাহ'
(৪) গ্রন্থটি, যা নিজ থেকেই নিম্নোক্ত কর্মগুলোর মাধ্যমে পরিশিষ্ট ও পরিপূরণ রচনার উপলক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়:
আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল আব্বার আল-কুদাঈ (মৃত্যু ৬৫৪) 'আত-তাকমিলা'
(৫) গ্রন্থে।
আবু আব্বাস আহমদ বিন ফারতুন আল-ফাসি, সেবতার অধিবাসী (মৃত্যু ৬৬০) 'আয-যাইল'
(৬) গ্রন্থে।
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আল-মাররাকুশি (মৃত্যু ৭০৩) 'আয-যাইল ওয়াত তাকমিলা'
(৭) গ্রন্থে।
আবু জাফর আহমদ বিন আয-যুবায়ের আল-আসিম আল-জায়ানি (মৃত্যু ৭০৮) 'সিলাতুস সিলাহ'
(৮) গ্রন্থে।
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-খতিব আস-সালমানি (মৃত্যু ৭৭৬) 'আইদুস সিলাহ'
(৯) গ্রন্থে।
এবং অন্যান্য আরও অনেক পরিশিষ্টের সাথে যার পাণ্ডুলিপি আমাদের নিকট পৌঁছেনি অথবা যার কথা তেমন প্রসিদ্ধি লাভ করেনি, যাতে এই 'সিলাহ' এবং 'যাইল' (পরিশিষ্ট) সমূহের সমন্বয়ে বর্তমানে যা 'আন্দালুসি সিলাহ ধারাবাহিকতা' নামে পরিচিত তা গঠিত হয়।
সাধারণভাবে আন্দালুস অঞ্চলের জন্য বিশেষভাবে রচিত এই সংকলনগুলোর পাশাপাশি, আন্দালুসি ঐতিহ্যের ঐতিহাসিক রচনায় এমন কিছু বিশেষ সংকলনও পরিচিতি লাভ করেছে যা নির্দিষ্ট কোনো এলাকা বা আন্দালুসের নির্দিষ্ট কোনো শহরের জীবনী আলোচনার দিকে ধাবিত হয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষ বইগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
1 - مدينة قرطبة، مثل:
* قضاة قرطبة لابن حارث الخشني
(1) (ت 361).
* وفقهاء قرطبة لأحمد بن عبد البر
(2) (ت 338).
* والمؤتلف في فقهاء قرطبة وقضاتها لأبي عمر بن عفيف
(3) (ت 420).
* ومنها أخبار ومناقب من دفن من الصالحين بقرطبة لأبي القاسم بن الطيلسان
(4) (ت 642).
2 - ومدينة طليطلة، مثل:
* تاريخ فقهاء طليطلة لأبي جعفر بن مطاهر
(5) (ت 489).
3 - ومدينة غرناطة، مثل:
* فقهاء البيرة لمطرف بن عيسى الغساني الإلبيريّ
(6) (ت 357).
* وشعراء البيرة لنفس المؤلف أيضا
(7).
* ومنها ما رآه ابن حزم وذكره في رسالته في فضل الأندلس «من أخبار شعراء البيرة في نحو عشرة أجزاء»
(8).
* وتاريخ علماء البيرة لأبي القاسم الملاحي
(9) (ت 619). وهو غاية في بابه، وقد أكثر من النقل عنه كل من ابن الزبير في صلة الصلة، وابن الخطيب في الإحاطة.
* ومنها: الإحاطة في أخبار غرناطة لابن الخطيب
(10) (ت 776)، وغيرها.
--------------------------------------------
১ - কুরতুবা (কর্ডোভা) শহর, যেমন:
* ইবনে হারিস আল-খুশানি
(১) (মৃত্যু ৩৬১) রচিত ‘কুরতুবার বিচারকগণ’।
* আহমদ বিন আব্দুল বার
(২) (মৃত্যু ৩৩৮) রচিত ‘কুরতুবার ফকিহগণ’।
* আবু উমর বিন আফিফ
(৩) (মৃত্যু ৪২০) রচিত ‘আল-মু’তালিফ ফি ফুকাহাই কুরতুবা ওয়া কুদাতিহা’ (কুরতুবার ফকিহ ও বিচারকদের সমন্বয়)।
* আবুল কাসিম বিন আত-তাইলাসান
(৪) (মৃত্যু ৬৪২) রচিত ‘কুরতুবায় সমাহিত নেককার বান্দাদের সংবাদ ও গুণাবলি’।
২ - তুলাইতিলা (টলেডো) শহর, যেমন:
* আবু জাফর বিন মুতাহির
(৫) (মৃত্যু ৪৮৯) রচিত ‘তুলাইতিলার ফকিহদের ইতিহাস’।
৩ - গারনাতা (গ্রানাডা) শহর, যেমন:
* মুতাররিফ বিন ঈসা আল-গাসসানি আল-ইলবিরি
(৬) (মৃত্যু ৩৫৭) রচিত ‘ইলবিরার ফকিহগণ’।
* একই লেখকের রচিত ‘ইলবিরার কবিগণ’
(৭)।
* এর মধ্যে রয়েছে যা ইবনে হাজম দেখেছেন এবং আন্দালুসের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক তার রিসালায় উল্লেখ করেছেন: ‘প্রায় দশ খণ্ডে ইলবিরার কবিদের সংবাদ’
(৮)।
* আবু কাসিম আল-মাল্লাহি
(৯) (মৃত্যু ৬১৯) রচিত ‘ইলবিরার আলেমদের ইতিহাস’। এটি এই বিষয়ের একটি অনন্য গ্রন্থ। ইবনে আল-জুবায়ের তার ‘সিলাতুস সিলা’ গ্রন্থে এবং ইবনে আল-খাতিব তার ‘আল-ইহাতা’ গ্রন্থে এটি থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
* এর মধ্যে আরও রয়েছে: ইবনে আল-খাতিব
(১০) (মৃত্যু ৭৭৬) রচিত ‘আল-ইহাতা ফি আখবারি গারনাতা’ এবং অন্যান্য গ্রন্থ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
4 - ومدينة مالقة، مثل:
* فقهاء رية لابن سعدان
(1). وسماه ابن الفرضي في بعض الأحيان بفقهاء مالقة، ونقل عنه
(2). وكانت مالقة من قبل تدعى رية
(3).
* ومنها ما رآه ابن حزم وذكره في رسالته في فضل الأندلس، وهو «كتاب مجزأ في أجزاء كثيرة في أخبار رية وحصونها وحروبها وفقهائها وشعرائها، تأليف أبي إسحاق بن سلمة القيني»
(4).
* ومنها تقاييد في أدباء مالقة لأبي عمرو بن سالم المالقي (ت 620). وقد نقل عنه كثيرا في أعلام مالقة لا بني عسكر وخميس، وفي غير موضع
(5).
* ومنها كتاب في موثقي مالقة وفقهائها لأبي الطاهر السبتي المالقي
(6) (ت 612). وقد نقل منه كثيرا في أعلام مالقة في غير موضع
(7).
* ومنها تاريخ أدباء مالقة المسمى بالإعلام بمحاسن الأعلام من أهل مالقة الكرام، لأصبغ بن أبي العباس
(8) (ت 592). وقد نقل منه في غير موضع من أعلام مالقة من صياغة ابن خميس
(9).
وقد كان العمل على تذييل هذا الكتاب هو ما أنتج كتاب أعلام مالقة الذي بين أيدينا، والذي نقدمه اليوم إلى القارئ الكريم.
ابتدأ تذييله القاضي أبو عبد الله بن عسكر. ثم اخترمته المنية قبل إتمامه فأتمه ابن أخته أبو بكر بن خميس.
--------------------------------------------
৪ - এবং মালাকা শহর, যেমন:
* ইবনে সা’দানের ‘ফুকাহা-এ রায়্যাহ’
(১)। ইবনুল ফারাযী একে মাঝে মাঝে ‘ফুকাহা-এ মালাকা’ নামে অভিহিত করেছেন এবং তা থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন
(২)। মালাকা শহরটি পূর্বে রায়্যাহ নামে পরিচিত ছিল
(৩)।
* এবং তার মধ্যে রয়েছে যা ইবনে হাযম দেখেছেন এবং আন্দালুসের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক তাঁর রিসালায় (প্রবন্ধে) উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো আবু ইসহাক বিন সালামাহ আল-কাইনীর রচিত «রায়্যাহর সংবাদ, এর দুর্গসমূহ, যুদ্ধবিগ্রহ, ফকীহগণ এবং কবিদের বর্ণনায় বহু খণ্ডে বিভক্ত একটি কিতাব»
(৪)।
* এবং তার মধ্যে আবু আমর বিন সালিম আল-মালাকী (মৃত্যু: ৬২০ হি.) রচিত মালাকার সাহিত্যিকদের বিষয়ক পাণ্ডুলিপি বা টীকাগ্রন্থসমূহ রয়েছে। ইবনে আসকার ও ইবনে খামিস রচিত ‘আ’লাম মালাকা’ গ্রন্থে এবং অন্যান্য স্থানেও তাঁর থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি গ্রহণ করা হয়েছে
(৫)।
* এবং তার মধ্যে আবু তাহের আস-সাবতী আল-মালাকী
(৬) (মৃত্যু: ৬১২ হি.) রচিত মালাকার দলিল লেখক (মুওয়াসসিক) এবং ফকীহদের বিষয়ক একটি কিতাব রয়েছে। ‘আ’লাম মালাকা’ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে এর থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি সংকলিত হয়েছে
(৭)।
* এবং তার মধ্যে আসবাগ বিন আবিল আব্বাস
(৮) (মৃত্যু: ৫৯২ হি.) রচিত মালাকার সাহিত্যিকদের ইতিহাস বিষয়ক কিতাব রয়েছে যার নাম ‘আল-ই’লাম বি-মাহাসিনিল আ’লাম মিন আহলি মালাকাল কিরাম’। ইবনে খামিস কর্তৃক বিন্যাসকৃত ‘আ’লাম মালাকা’ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে এর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে
(৯)।
এই কিতাবটির পরিশিষ্ট (তদযিল) রচনার প্রয়াসেই ‘আ’লাম মালাকা’ নামক কিতাবটি আত্মপ্রকাশ করেছে যা বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে এবং যা আজ আমরা সম্মানিত পাঠকের সম্মুখে পেশ করছি।
এর পরিশিষ্ট (তদযিল) লেখা শুরু করেছিলেন কাজী আবু আব্দুল্লাহ বিন আসকার। অতঃপর এর সমাপ্তির পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়, ফলে তাঁর ভাগ্নে আবু বকর বিন খামিস এটি সম্পন্ন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
* ولذلك سمي هذا الذيل: الإكمال والإتمام في صلة الإعلام بمحاسن الأعلام من أهل مالقة الكرام. أو مطلع الأنوار ونزهة البصائر والأبصار فيما احتوت عليه مالقة من العلماء والرؤساء والأخيار
(1).
* وقد كان ذلك كله مستهدفا لذيل رابع من صنع القاضي أبي الحسن النباهي (ت بعد 794). فقد نقل عنه ابن الخطيب في غير موضع من كتاب الإحاطة
(2).
ولما كان الكتاب الذي نقدمه اليوم إلى القارئ - وهو أعلام مالقة - عملا مشتركا بين ابن عسكر وحفيده ابن خميس، كان لا بد من تقديم نعرف فيه بالرجلين ونقربهما بترجمة مقتضبة إلى القارئ.
ثالثا: ترجمة المؤلفين:
القاضي أبو عبد الله بن عسكر(3) (ت 636):محمد بن علي بن عبيد الله بن الخضر بن هارون الغساني، يعرف بابن عسكر.
من أهل مالقة، وأصله من قرية بغربيها. ولد في حدود سنة 584 ونشأ بمالقة حيث أخذ على شيوخها العلم والرواية. فأخذ عن:
الشيخ أبي إسحاق إبراهيم بن علي الخولاني الأديب، يعرف بالزوالي
(4) (ت 616).
والشيخ أبي جعفر أحمد بن عبد الحميد الجيار المالقي
(5) (ت 624).
والشيخ أبي بكر عتيق بن علي المربيطري يعرف بابن قنترال
(6) (ت 612).
والشيخ أبي الحسن علي بن أحمد بن علي الغافقي الشقوري
(7) (ت 616).
--------------------------------------------
* এজন্যই এই পরিশিষ্টের নামকরণ করা হয়েছে: আল-ইকমাল ওয়াল-ইতমাম ফী সিলাতিল ই'লাম বি মাহাসিনিল আ'লাম মিন আহলি মালাকাহ আল-কিরাম। অথবা মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার ফীমা ইহতাওয়াত আলাইহি মালাকাহ মিনাল উলামা ওয়ার রুয়াসা ওয়াল আখইয়ার
(১).
* আর এ সবই ছিল কাযী আবু হাসান আন-নুবাহীর (মৃত্যু ৭৯৪ হিজরির পর) রচিত চতুর্থ একটি পরিশিষ্টের লক্ষ্যবস্তু। ইবনে আল-খাতিব তাঁর আল-ইহাতা গ্রন্থের একাধিক স্থানে তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন
(২).
আজ আমরা পাঠকদের সামনে যে বইটি পেশ করছি—যা হলো 'আলামু মালাকাহ'—তা যেহেতু ইবনে আসকার এবং তাঁর পৌত্র ইবনে খামিসের একটি যৌথ কাজ, তাই একটি ভূমিকা প্রদান করা আবশ্যক যাতে আমরা এই দুই ব্যক্তিত্বের সাথে পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারি এবং একটি সংক্ষিপ্ত জীবনীর মাধ্যমে তাঁদের নিকটতর করতে পারি।
তৃতীয়ত: লেখকদ্বয়ের জীবনী:
কাযী আবু আব্দুল্লাহ বিন আসকার(৩) (মৃত্যু ৬৩৬):মুহাম্মদ বিন আলী বিন উবাইদুল্লাহ বিন আল-খিজির বিন হারুন আল-গাসসানি, তিনি ইবনে আসকার নামে পরিচিত।
তিনি মালাকার অধিবাসী ছিলেন এবং তাঁর আদি নিবাস ছিল মালাকার পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি গ্রামে। তিনি আনুমানিক ৫৮৪ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং মালাকায় বেড়ে ওঠেন, যেখানে তিনি সেখানকার শায়খদের নিকট ইলম এবং রেওয়ায়েত অর্জন করেন। তিনি যাঁদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন:
শায়খ আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আলী আল-খাওলানি আল-আদিব, যিনি আয-যাওয়াওয়ালি নামে পরিচিত
(৪) (মৃত্যু ৬১৬)।
এবং শায়খ আবু জাফর আহমাদ বিন আব্দুল হামিদ আল-জাইয়ার আল-মালাকি
(৫) (মৃত্যু ৬২৪)।
এবং শায়খ আবু বকর আতিক বিন আলী আল-মুরবীতারি, যিনি ইবনে কানতরাল নামে পরিচিত
(৬) (মৃত্যু ৬১২)।
এবং শায়খ আবু হাসান আলী বিন আহমাদ বিন আলী আল-গাফিকি আশ-শাকুরি
(৭) (মৃত্যু ৬১৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
والشيخ أبي الحجاج يوسف بن الشيخ البلوي المالقي
(1) (ت 604).
والشيخ أبي زيد عبد الرحمن بن محمد بن عبد الرحمن الأنصاري الخزرجي القمارشي
(2) (ت 637) وهو من أصحابه.
والشيخ أبي سليمان داود بن حوط الله الأنصاري الأندي
(3) (توفي وهو يتولى قضاء مالقة عام 621).
والشيخ أبي علي عمر بن عبد المجيد الرندي
(4) (ت 616).
والشيخ الأديب أبي عمرو سالم بن صالح بن سالم
(5) المالقي (ت 620).
والشيخ أبي الفضل عياض بن محمد بن عياض
(6) (ت 630).
والشيخ الإمام أبي محمد عبد الله بن الحسن الأنصاري يعرف بالقرطبي
(7) (ت 611).
والشيخ أبي القاسم محمد بن عبد الواحد الغافقي الملاحي
(8) (ت 619).
والشيخ أبي محمد عيسى بن سليمان الرعيني الرندي
(9) (ت 632).
--------------------------------------------
এবং শায়খ আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আশ-শায়খ আল-বালাবি আল-মালাকি
(১) (মৃত্যু ৬০৪)।
এবং শায়খ আবু যাইদ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-আনসারি আল-خাজরাজি আল-কুমারিশি
(২) (মৃত্যু ৬৩৭), তিনি তাঁর সহচরদের অন্যতম।
এবং শায়খ আবু সুলাইমান দাউদ বিন হুতুল্লাহ আল-আনসারি আল-আন্দি
(৩) (৬২১ হিজরিতে মালাকার বিচারকের দায়িত্ব পালনকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন)।
এবং শায়খ আবু আলি উমর বিন আব্দুল মাজিদ আল-রুন্দি
(৪) (মৃত্যু ৬১৬)।
এবং শায়খ সাহিত্যিক আবু আমর সালিম বিন সালিহ বিন সালিম আল-মালাকি
(৫) (মৃত্যু ৬২০)।
এবং শায়খ আবু আল-ফাদল ইয়াদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াদ
(৬) (মৃত্যু ৬৩০)।
এবং শায়খ ইমাম আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-আনসারি, যিনি আল-কুরতুবি নামে পরিচিত
(৭) (মৃত্যু ৬১১)।
এবং শায়খ আবু আল-কাসিম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-গাফেকি আল-মাল্লাহি
(৮) (মৃত্যু ৬১৯)।
এবং শায়খ আবু মুহাম্মাদ ঈসা বিন সুলাইমান আল-রুয়াইনি আল-রুন্দি
(৯) (মৃত্যু ৬৩২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
والشيخ أبي محمد عبد الله بن حوط الله الأنصاري الأندي
(1) (ت 612).
وغيرهم من بقية علماء حواضر الأندلس والمغرب.
واستفاد من إجازات المشارقة التي تشملها إفادات الراحلين إلى المشرق من علماء الأندلس وطلبته. فاتسعت مشيخته وكثر رجالها.
وتنوعت معارفه والعلوم التي حصل عليها من علوم القرآن، والفقه والنحو والتاريخ، وغيرها، فأخذ عنه الناس ببلده واستجازه الطلبة الراغبون في علمه من الأندلس وغيره.
فأخذ عنه: ابن أخته أبو بكر بن خميس الأنصاري المالقي، وابن أخته الأخرى أيضا، القاضي أبو عبد الله محمد بن علي بن أحمد بن علي بن برطال الأموي المالقي، وأبو بكر بن أبي العيون، وأبو عبد الله محمد بن أبي بكر البرّي التلمساني، وأبو عبد الله بن الأبار القضاعي، وأبو القاسم بن عمران، وغيرهم.
وكتب بالإجازات إلى مختلف الأصقاع. وتشتهر إجازته لأهل العراق البغداديين حيث ضمنها شعرا ونثرا
(2).
مارس الإفتاء، وشاوره القضاة، بجانب اشتغاله بالعلم تدريسا وتأليفا.
ثم تولى القضاء بمالقة نيابة عن القاضي أبي عبد الله بن الحسن الجذامي مدة على عهد دولة أبي عبد الله بن هود.
ثم تولى قضاء مالقة مستقلا، حينما تصيرت مالقة إلى دولة أبي عبد الله بن نصر، فسار في الناس سيرة حسنة وأقام العدل، فحمدت أفعاله، وأحكامه.
وتوفي وهو يتولى قضاء مالقة في شهر جمادى الآخرة سنة 636.
مؤلفاته:ترك ابن عسكر كثيرا من المؤلفات في مختلف العلوم والفنون التي أتقنها ومارس العمل فيها مطالعة وتدريسا. منها
(3):
--------------------------------------------
এবং শায়খ আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন হুতুল্লাহ আল-আনসারী আল-আন্দি
(১) (মৃত্যু ৬১২ হিজরি)।
এবং আন্দালুস ও মাগরিবের (মরক্কো অঞ্চল) প্রধান শহরগুলোর অন্যান্য অবশিষ্ট আলেমগণ।
তিনি মাশরিকের (প্রাচ্য) আলেমদের ইজাযতসমূহ থেকেও উপকৃত হয়েছিলেন, যা মাশরিক সফরকারী আন্দালুসের আলেম ও তালিবে ইলমদের বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে তার শায়খদের পরিধি বিস্তৃত হয়েছিল এবং তাদের সংখ্যাও অনেক ছিল।
কুরআনুল কারীমের জ্ঞান, ফিকহ, নাহু (ব্যাকরণ), ইতিহাস এবং অন্যান্য যে সকল জ্ঞান ও বিজ্ঞান তিনি অর্জন করেছিলেন তা ছিল বহুমুখী। ফলে তার দেশের মানুষ তার থেকে জ্ঞান গ্রহণ করেছিল এবং আন্দালুস ও অন্যান্য স্থানের ইলমপিপাসু ছাত্ররা তার কাছে ইজাযত প্রার্থনা করেছিল।
তার থেকে যারা জ্ঞান লাভ করেছেন তারা হলেন: তার ভাগ্নে আবু বকর বিন খামিস আল-আনসারী আল-মালাকি, তার অপর এক ভাগ্নে কাযী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ বিন আলী বিন বারতাল আল-উমাবী আল-মালাকি, আবু বকর বিন আবিল উইয়ুন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-বাররি আত-তিলিমসানি, আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-আব্বারা আল-কুদায়ী, আবুল কাসিম বিন ইমরান এবং আরও অনেকে।
তিনি বিভিন্ন অঞ্চলে ইজাযত লিখে পাঠিয়েছিলেন। ইরাকের বাগদাদবাসীদের জন্য তার ইজাযতটি বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ, যাতে তিনি কবিতা ও গদ্য অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন
(২)।
তিনি জ্ঞানচর্চা, অধ্যাপনা ও গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি ফতোয়া প্রদানের কাজও আঞ্জাম দিতেন এবং বিচারকগণ তার সাথে পরামর্শ করতেন।
অতঃপর তিনি আবু আব্দুল্লাহ বিন হুদ-এর শাসনকালে কিছুকাল কাযী আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-জুযামির প্রতিনিধি হিসেবে মালাকায় বিচারকের (কাযী) দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে মালাকা যখন আবু আব্দুল্লাহ বিন নাসর-এর শাসনাধীন হয়, তখন তিনি স্বাধীনভাবে মালাকার প্রধান বিচারকের দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি জনগণের মাঝে উত্তম আদর্শ অনুসরণ করেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন, ফলে তার কর্মকাণ্ড ও ফয়সালাসমূহ প্রশংসিত হয়েছিল।
তিনি ৬৩৬ হিজরির জমাদিউল আখিরা মাসে মালাকার প্রধান বিচারকের পদে থাকাকালীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
তার রচনাবলী:ইবনে আসকার বিভিন্ন জ্ঞান ও শিল্পকলায় অনেক গ্রন্থ রেখে গেছেন যেগুলোতে তিনি পারদর্শী ছিলেন এবং যা নিয়ে তিনি অধ্যয়ন ও অধ্যাপনায় রত থাকতেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো
(৩):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
1 - المشرع الروي في الزيادة على غريبي الهروي، وهو في غريبي القرآن والحديث.
2 - أربعون حديثا، التزم فيها موافقة اسم شيخه اسم الصحابي. وقد وصفها كل من ابن خميس وابن عبد الملك في الذيل بأنه رائد في هذا لم يسبق إليه. بل اعتبرها ابن عبد الملك من الأعمال التي تدل على اتساع مشيخة ابن عسكر بكثرة أسماء الرواة الواردين فيها من العلماء
(1).
3 - نزهة الناظر في مناقب عمار بن ياسر. وقد ألفه لأحد أصفيائه من أسرة بني سعيد وهو القائد عبد الله بن سعيد. فعرف فيه بأسرة بني سعيد وبجدهم عمار بن ياسر. وقد نقل منه ابن خميس في ترجمة القائد المذكور
(2).
4 - الجزء المختصر في السلو عن ذهاب البصر. وقد ألفه للواعظ الضرير أبي محمد بن أبي خرص.
5 - رسالة ادخار الصبر في افتخار القصر والقبر.
6 - شرح الآيات التي استشهد بها سيبويه في الكتاب
(3).
7 - تكملة كتاب التعريف والإعلام فيما أبهم في القرآن من الأسماء الأعلام لأبي القاسم السهيلي، أسماه التكميل والإتمام لكتاب التعريف والإعلام.
8 - فهرسة شيوخه. وهي التي يحيل عليها ابن الزبير في صلة الصلة عند ترجمة ابن عبد المجيد الرندي، فقال عند ذكر تلامذته: «روى عنه القاضي أبو عبد الله بن عسكر، وذكره. وكان يثني عليه ويعتمده ..»
(4). ولا شك أنه يحيل على ذكره في الفهرسة وليس في كتاب أعلام مالقة، لأن ترجمة الرندي الواردة في أعلام مالقة هي من صياغة ابن خميس، وهي مما استدرك به على ابن عسكر
(5).
ومما هو ثابت أن ابن عسكر قد جمع فهرسة عرف فيها بشيوخه. وقد أحال
--------------------------------------------
১ - আল-মাশরা’ আর-রাউয়ি ফিয যিয়াদাতি আলা গারিবাঈল হারাউয়ি, এটি কুরআন ও হাদীসের দুর্লভ বা কঠিন শব্দাবলি (গারিবে কুরআন ও হাদীস) বিষয়ক।
২ - চল্লিশটি হাদীস, যাতে তিনি তাঁর শিক্ষকের নামের সাথে সাহাবীর নামের মিল রাখার বিষয়টি অনুসরণ করেছেন। ইবনে খামিস এবং ইবনে আব্দুল মালিক উভয়েই ‘আয-যাইল’-এ এটিকে এমন এক অনন্য কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যাতে ইতিপূর্বে আর কেউ অগ্রসর হননি। বরং ইবনে আব্দুল মালিক এটিকে এমন একটি কাজ হিসেবে গণ্য করেছেন যা ইবনে আসকারের শিক্ষকদের (মাশায়েখ) বিশাল পরিধি এবং এতে বর্ণিত আলেম বর্ণনাকারীদের আধিক্যকে প্রমাণ করে
(১)।
৩ - নুযহাতুন নাযির ফি মানাকিবি আম্মার বিন ইয়াসির। এটি তিনি বনু সাঈদ পরিবারের তাঁর অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু সেনাপতি আব্দুল্লাহ বিন সাঈদের জন্য রচনা করেছেন। এতে তিনি বনু সাঈদ পরিবার এবং তাদের পূর্বপুরুষ আম্মার বিন ইয়াসির সম্পর্কে পরিচয় তুলে ধরেছেন। ইবনে খামিস উক্ত সেনাপতির জীবনীতে এই গ্রন্থটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন
(২)।
৪ - আল-জুযউল মুখতাসার ফিস সুলুয়ি আন যাহাবিল বাসার (দৃষ্টিশক্তি হারানোর শোকে ধৈর্য ধারণ সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত অংশ)। এটি তিনি অন্ধ ওয়ায়েজ আবু মুহাম্মদ বিন আবু খারসের জন্য রচনা করেছেন।
৫ - রিসালাতু ইদদিখারিস সাবর ফি ইফতিখারিল কাসরি ওয়াল কাবর।
৬ - সিবওয়াইহি ‘আল-কিতাব’-এ যেসব আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন সেগুলোর ব্যাখ্যা
(৩)।
৭ - আবুল কাসিম আস-সুহাইলির ‘আত-তারিফ ওয়াল ইলাম ফিমা উবহামা ফিল কুরআন মিনাল আসমায়িল আলাম’ গ্রন্থের পরিশিষ্ট; তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘আত-তাকমিল ওয়াল ইতমাম লি কিতাবিত তারিফ ওয়াল ইলাম’।
৮ - তাঁর শিক্ষকদের তালিকা (ফিহরিস্ত)। ইবনে আয-যুবায়ের ‘সিলাতুস সিলাহ’ গ্রন্থে ইবনে আব্দুল মাজিদ আর-রুন্দির জীবনী বর্ণনা করার সময় এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তিনি তাঁর ছাত্রদের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন: «কাযী আবু আব্দুল্লাহ বিন আসকার তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তাঁর ওপর নির্ভর করতেন...»
(৪)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি তাঁর শিক্ষকদের তালিকার বর্ণনার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন, ‘আলামু মালাকা’ গ্রন্থের দিকে নয়; কারণ ‘আলামু মালাকা’-তে রুন্দির যে জীবনী এসেছে তা ইবনে খামিসের রচনা এবং এটি ইবনে আসকারের ওপর একটি পরিমার্জন
(৫)।
এটি সুনিশ্চিত যে, ইবনে আসকার একটি শিক্ষকদের তালিকা (ফিহরিস্ত) সংকলন করেছিলেন যাতে তিনি তাঁর শিক্ষকদের পরিচয় প্রদান করেছেন। আর তিনি উদ্ধৃতি দিয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
عليها ابن أخته ابن خميس في أعلام مالقة ونقل منها، فقال في ترجمة أبي محمد القرطبي: «وذكره خالي رحمة الله عليه في أشياخه، فقال: ومن شيوخي رحمهم الله الشيخ ..»
(1).
9 - الإكمال والإتمام في صلة الإعلام بمحاسن الأعلام من أهل مالقة الكرام، وهو بتسمية أخرى: مطلع الأنوار ونزهة البصائر والأبصار فيما احتوت عليه مالقة من الأعلام والرؤساء والأخيار وتقييد ما لهم من المناقب والآثار
(2). وهو الكتاب المشهور بأعلام مالقة، والذي نقدم اليوم إلى القارئ نصه.
والكتاب في أصله ذيل على كتاب أصبغ بن أبي العباس المسمى بالإعلام بمحاسن الأعلام من أهل مالقة الكرام.
والمعروف أن ابن عسكر قد وافته المنية قبل أن يكمل هذا الذيل، ولذلك تممه ابن أخته أبو بكر بن خميس، فكان لذلك كتاب أعلام مالقة عملا مشتركا بين الرجلين: ابن عسكر وابن خميس.
--------------------------------------------
তাঁর ভাগ্নে ইবনে খামিস 'আলামু মালাকা' গ্রন্থে এর ওপর নির্ভর করেছেন এবং সেখান থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। তিনি আবু মুহাম্মদ আল-কুরতুবীর জীবনীতে বলেছেন: "আমার মামা (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর শিক্ষকদের বর্ণনায় তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আমার শিক্ষকদের (রাহিমাহুমুল্লাহ) মধ্যে রয়েছেন শায়খ..."
(১).
৯ - আল-ইকমাল ওয়াল-ইতমাম ফি সিলাতিল ই'লাম বি-মাহাসিনিল আ'লাম মিন আহলি মালাকাল কিরাম। এটি অন্য একটি নামেও পরিচিত: মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার ফিমা আহতাওয়াত আলাইহি মালাকা মিনাল আ'লাম ওয়ার রুআসা ওয়াল আখইয়ার ওয়া তাকয়িদু মা লাহুম মিনাল মানাকিব ওয়াল আসার
(২)। এটি সেই কিতাব যা 'আলামু মালাকা' নামে সুপ্রসিদ্ধ এবং আজ আমরা পাঠকদের সামনে এর মূল পাঠ উপস্থাপন করছি।
কিতাবটি মূলত আসবাগ বিন আবিল আব্বাসের 'আল-ই'লাম বি-মাহাসিনিল আ'লাম মিন আহলি মালাকাল কিরাম' নামক কিতাবের একটি পরিশিষ্ট।
এটি সুপরিচিত যে, ইবনে আসকার এই পরিশিষ্টটি সমাপ্ত করার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন। তাই তাঁর ভাগ্নে আবু বকর বিন খামিস এটি সম্পন্ন করেন। এর ফলে 'আলামু মালাকা' কিতাবটি ইবনে আসকার এবং ইবনে খামিস—উভয়ের একটি যৌথ কর্মে পরিণত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
أبو بكر محمد بن محمد بنعلي بن خميس
1 - اسمه ونسبه:يرد اسمه ونسبه في طالعة القطعة الموجودة من أعلام مالقة بهذه الصفة: أبو بكر محمد بن محمد بن علي بن خميس. ويرد نفس الاسم والنسب في الذيل والتكملة عند ترجمة خاله بن عسكر، فقال: «
… فتولى كماله - أي كتاب أعلام مالقة - ابن أخته أبو بكر بن محمد بن خميس المذكور»
(1).
فهو بهذا يشترك مع والده في التسمية بمحمد. ولذلك لم نظفر له بترجمة فيما بين أيدينا من أسماء المحمدين في كتاب الذيل والتكملة، إذ تصادف ترجمة من اسمه محمد بن محمد الجزء السابع المفقود من الكتاب.
ولست أدري ما هي علاقة أبي بكر هذا بأسرة ابن خميس المتواجدة آنذاك بحاضرتي اسطبونة، والجزيرة الخضراء. فهي أنصارية النسب. ولا أستبعد أن يكون أبو بكر بن خميس أنصاري النسب أيضا، ومن أبنائها. غير أن الظروف الطارئة وجهته لينشأ في بيت خاله القاضي بن عسكر بمالقة.
وتشتهر أسرة ابن خميس هذه بممارسة العلم تدريسا وتأليفا، ومزاولة الخطابة في كل من الجزيرة الخضراء وسبتة. وقد تخرج من أبنائها جماعة من العلماء. فمن أشهرهم - زيادة على أبي بكر بن خميس - نذكر
* محمد بن عبد الله بن محمد بن علي بن أبي بكر بن خميس الأنصاري
(2).
فهو حسب سلسلة نسبه يعتبر من أقارب أبي بكر بن خميس، إذ يلتقي معه في جده
--------------------------------------------
আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনেআলী ইবনে খামিস ১ - তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:'আ’লামু মালাকা' গ্রন্থের বিদ্যমান অংশের শুরুতে তাঁর নাম ও বংশপরিচয় এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে খামিস। 'আয-যাইল ওয়াত তাকমিলা' গ্রন্থে তাঁর মামা ইবনে আসকারের জীবনী আলোচনার সময়ও একই নাম ও বংশপরিচয় পাওয়া যায়; সেখানে বলা হয়েছে: «...অতঃপর তাঁর ভাগ্নে উল্লিখিত আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে খামিস এটি পূর্ণ করার—অর্থাৎ আ’লামু মালাকা গ্রন্থটি সম্পন্ন করার—দায়িত্ব গ্রহণ করেন»
(১)।
এই নামের কারণে তিনি তাঁর পিতার সাথে 'মুহাম্মাদ' নামটির অংশীদার হন। আর এই কারণেই আমাদের হাতে থাকা 'আয-যাইল ওয়াত তাকমিলা' গ্রন্থের মুহাম্মাদ নামধারী ব্যক্তিদের তালিকার মধ্যে আমরা তাঁর জীবনী খুঁজে পাইনি; কারণ যাদের নাম 'মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ', তাদের জীবনী গ্রন্থের সপ্তম খণ্ডে ছিল, যা বর্তমানে নিখোঁজ।
আমি জানি না এই আবু বকরের সাথে ইবনে খামিস পরিবারের কী সম্পর্ক, যারা সে সময় ইস্তাবোনা ও আল-জাযিরাতুল খাদরা নামক দুই প্রধান শহরে বসবাস করত। তারা বংশগতভাবে আনসারী ছিলেন। আমি এটি অসম্ভব মনে করি না যে, আবু বকর ইবনে খামিস নিজেও আনসারী বংশোদ্ভূত এবং সেই পরিবারেরই একজন সদস্য। তবে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তাঁকে মালাকায় তাঁর মামা কাযী ইবনে আসকারের ঘরে বেড়ে উঠতে হয়েছিল।
ইবনে খামিসের এই পরিবারটি শিক্ষকতা ও গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা এবং আল-জাযিরাতুল খাদরা ও সেউতা শহরে খুতবা প্রদানের কাজের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। এই পরিবারের সন্তানদের মধ্য থেকে একদল আলিম তৈরি হয়েছেন। আবু বকর ইবনে খামিস ছাড়াও তাঁদের মধ্যে কয়েকজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তির নাম আমরা উল্লেখ করছি:
* মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আবু বকর ইবনে খামিস আল-আনসারী
(২)।
বংশপরম্পরা অনুযায়ী তিনি আবু বকর ইবনে খামিসের আত্মীয় হিসেবে গণ্য হন, কারণ তিনি তাঁর দাদার সূত্রে তাঁর সাথে মিলিত হয়েছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
محمد بن علي بن خميس. ولد باسطبونة عام 613 وانتقل إلى الجزيرة الخضراء ليتولى خطابة جامعها، ويتصدر للتدريس بها. وبها توفي عام 688.أخذ عنه كثير من علماء عصره. في مقدمتهم ابنه أبو جعفر أحمد، وابن عبد الملك الأنصاري المراكشي صاحب الذيل، وابن رشيد السبتي وغيرهم.
* موسى بن فتح بن خميس الأنصاري
(1) من أهل الجزيرة الخضراء، وبها توفي بعد سنة 630 وهو ابن عم والد الخطيب أبي عبد الله المتقدم ذكره. كما يذكر ضمن شيوخه الذين روى عنهم.
* أبو جعفر أحمد بن الخطيب أبي عبد الله بن خميس المتقدم الذكر. من أهل الجزيرة الخضراء. وقد أخذ عن والده الخطيب المذكور.
* ولده أبو عبد الله محمد بن خميس الأنصاري الجزيري
(2). نزل سبتة بعد دخول النصارى إلى بلده. وتولى الخطابة بسبتة فاشتهر بذلك. له مؤلفات عديدة.
وأخذ عنه كثير من أعلام سبتة والأندلس. توفي بسبتة عام 750.
2 - ولادته ونشأته:إذا كنا لم نظفر بترجمة مفصلة لابن خميس لغياب المصادر التي يمكن أن تكون قد عرفت به، وانحجابها عنا، فإن الذي بين أيدينا مما بقي من كتاب أعلام مالقة وتتميمه، يقدم لنا على الأقل مادة أولية يمكن أن نستشف منها ما يمكن أن نتعرف به على الرجل في جانب من جوانب حياته، أو في نشاط من أنشطته العلمية.
فنحن لا نعرف تاريخ ولادة أبي بكر بن خميس بالضبط، ولا تاريخ وفاته أيضا. غير أننا نعرف أنه كان بين سنتي 636 هـ - وهو تاريخ وفاة خاله ابن عسكر - و 642 هـ - وهو تاريخ وفاة شيخه أبي عبد الله الأستجي الحميري
(3) - كامل الأهلية العلمية، وقادرا على التأليف ومتابعة تتميم كتاب أعلام مالقة الذي كان قد ابتدأه خاله ابن عسكر، وتوفي دون إكماله.
--------------------------------------------
মুহাম্মদ বিন আলি বিন খামিস। তিনি ৬১৩ হিজরিতে এস্তাপোনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং আল-জাজিরাতুল খাদরা (আলজেসিরাস)-এ চলে যান সেখানকার জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে এবং সেখানে অধ্যাপনায় নেতৃত্ব দিতে। তিনি ৬৮৮ হিজরিতে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সমসাময়িক অনেক আলেম তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন তাঁর পুত্র আবু জাফর আহমদ, 'আয-যাইল' গ্রন্থের প্রণেতা ইবনে আব্দুল মালিক আল-আনসারি আল-মাররাকুশি, ইবনে রুশাইদ আস-সাবতি এবং অন্যান্যরা।
* মুসা বিন ফাতহ বিন খামিস আল-আনসারি
(১) আল-জাজিরাতুল খাদরার অধিবাসী ছিলেন এবং ৬৩০ হিজরির পর সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি পূর্বে উল্লিখিত খতিব আবু আব্দুল্লাহর পিতার চাচাতো ভাই। তাঁকে তাঁর (আবু আব্দুল্লাহর) এমন সব শায়খদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় যাঁদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন।
* আবু জাফর আহমদ বিন খতিব আবু আব্দুল্লাহ বিন খামিস, যাঁর কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আল-জাজিরাতুল খাদরার অধিবাসী ছিলেন। তিনি তাঁর পিতা উক্ত খতিবের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন।
* তাঁর পুত্র আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন খামিস আল-আনসারি আল-জাজিরি
(২)। খ্রিস্টানরা তাঁর দেশে প্রবেশ করার পর তিনি সিউটাতে (সাবতা) বসতি স্থাপন করেন। তিনি সিউটাতে খতিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং এর মাধ্যমেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তাঁর অনেকগুলো রচনা রয়েছে।
সিউটা ও আন্দালুসের অনেক প্রখ্যাত আলেম তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি ৭৫০ হিজরিতে সিউটাতে মৃত্যুবরণ করেন।
২ - তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:ইবনে খামিসের পরিচয় তুলে ধরতে পারে এমন উৎসগুলোর অনুপস্থিতি এবং আমাদের নিকট সেগুলোর অপ্রাপ্যতার কারণে যদি আমরা তাঁর বিস্তারিত জীবনী নাও পাই, তবুও 'আলামু মালাকাহ' ও এর পরিশিষ্টের (তাতমিমাহ) যা কিছু আমাদের হাতে অবশিষ্ট রয়েছে, তা অন্তত এমন কিছু প্রাথমিক উপাদান সরবরাহ করে যার মাধ্যমে আমরা এই ব্যক্তির জীবনের কোনো একটি দিক অথবা তাঁর কোনো বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারি।
আমরা আবু বকর বিন খামিসের সঠিক জন্মতারিখ জানি না, এমনকি তাঁর মৃত্যুর তারিখও নয়। তবে আমরা জানি যে, ৬৩৬ হিজরি (যা তাঁর মামা ইবনে আসকারের মৃত্যুর তারিখ) এবং ৬৪২ হিজরি (যা তাঁর উস্তাদ আবু আব্দুল্লাহ আল-আসতাজি আল-হিমইয়ারি
(৩)-র মৃত্যুর তারিখ)-এর মধ্যবর্তী সময়ে তিনি পূর্ণ বৈজ্ঞানিক যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন। তিনি গ্রন্থ রচনা এবং 'আলামু মালাকাহ' গ্রন্থের পরিশিষ্ট সম্পন্ন করার সক্ষমতা রাখতেন, যে গ্রন্থটি তাঁর মামা ইবনে আসকার শুরু করেছিলেন এবং তা সমাপ্ত না করেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
فقد ورد في التتميم عند ذكر شيخه أبي عبد الله الإستجي الدعاء له بالبقاء
(1)، وهو أمر يقطع بأن العمل في هذا التتميم كان يجري وشيخه هذا ما يزال على قيد الحياة. وقد علمنا أن شيخه أبا عبد الله الإستجي كان قد رحل عن مالقة سنة 639، وأنه توفي بغرناطة سنة 642.فكم كان عمر أبي بكر بن خميس حين وفاة خاله ابن عسكر سنة 636.وكم كان سنه لحظة الاشتغال بكتاب أعلام مالقة وتتميمه؟.
لعل في كتاب أعلام مالقة من الملاحظات ما يمكن أن يقرب لنا مجال التعرف على أبي بكر بن خميس وتاريخ ولادته.
فأول ملاحظة تستقطب في هذا السياق أنه - وإلى حدود منتصف العقد الثالث من القرن السابع الهجري - كان ابن خميس ما يزال صغير السن لم يصل بعد إلى مستوى الأخذ عن الشيوخ والاستفادة منهم.
فهو لم يأخذ عن الشيخ أبي علي عمر بن عبد المجيد الرندي
(2) (توفي بمالقة عام 616)، ويصفه فقط بشيخ شيوخنا
(3).
ولم يأخذ عن الأديب أبي عمرو بن سالم الهمداني المالقي
(4) (توفي بمالقة عام 620) رغم أنه ينقل عنه وعن مقيداته ومعلقاته كثيرا، إما من خطه مباشرة أو بواسطة خاله. ويصفه في بعض التراجم بشيخ شيوخنا
(5).
ولم يأخذ عن أبي جعفر أحمد بن عبد المجيد الجيار المالقي
(6) (توفي بإشبيلية عام 624)، ولا يرد ذكره في أعلام مالقة إلا باعتباره شيخا لخاله ابن عسكر
(7).
بل إنه لم يأخذ عن الشيخ عبد الرحمن بن دحمان الأنصاري المالقي
(8) (توفي
--------------------------------------------
পরিশিষ্টে (আত-তাতমিম) তাঁর শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আল-ইসতিজির বর্ণনায় তাঁর জন্য দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়েছে
(১)। বিষয়টি নিশ্চিত করে যে, এই পরিশিষ্টের কাজ যখন চলছিল তখন তাঁর এই শায়খ তখনও জীবিত ছিলেন। আমরা জানি যে, তাঁর শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আল-ইসতিজি ৬৩৯ হিজরিতে মালাকা ত্যাগ করেন এবং ৬৪২ হিজরিতে গ্রানাডায় ইন্তেকাল করেন। তাহলে ৬৩৬ হিজরিতে তাঁর মামা ইবনে আসকারের মৃত্যুর সময় আবু বকর বিন খামিসের বয়স কত ছিল? আর 'আলামু মালাকা' গ্রন্থ ও এর পরিশিষ্ট রচনার সময় তাঁর বয়সই বা কত ছিল?
সম্ভবত 'আলামু মালাকা' গ্রন্থে এমন কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে যা আবু বকর বিন খামিসের পরিচয় এবং তাঁর জন্ম তারিখ সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রকে আমাদের নিকটবর্তী করতে পারে।
এই প্রসঙ্গে প্রথম যে পর্যবেক্ষণটি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হলো—সপ্তম হিজরি শতাব্দীর তৃতীয় দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত—ইবনে খামিস তখনও অল্পবয়স্ক ছিলেন এবং শায়খদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও তাঁদের থেকে উপকৃত হওয়ার স্তরে পৌঁছাননি।
তিনি শায়খ আবু আলী উমর বিন আব্দুল মাজীদ আর-রুন্দি
(২) (মৃত্যু ৬১৬ হিজরি, মালাকা) থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেননি; তাঁকে তিনি কেবল 'আমাদের শায়খদের শায়খ'
(৩) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি সাহিত্যিক আবু আমর বিন সালিম আল-হামদানি আল-মালাকি
(৪) (মৃত্যু ৬২০ হিজরি, মালাকা) থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেননি, যদিও তিনি তাঁর থেকে এবং তাঁর পাণ্ডুলিপি ও টীকাগুলো থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন—হয় সরাসরি তাঁর হাতের লেখা থেকে অথবা তাঁর মামার মাধ্যমে। কিছু জীবনীতে তিনি তাঁকে 'আমাদের শায়খদের শায়খ'
(৫) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি আবু জাফর আহমদ বিন আব্দুল মাজীদ আল-জাইয়্যার আল-মালাকি
(৬) (মৃত্যু ৬২৪ হিজরি, সেভিল) থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেননি; 'আলামু মালাকা' গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ কেবল তাঁর মামা ইবনে আসকারের শায়খ হিসেবেই এসেছে
(৭)।
এমনকি তিনি শায়খ আব্দুর রহমান বিন দাহমান আল-আনসারি আল-মালাকি
(৮) (মৃত্যু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
بمالقة عام 627)، فيكتفي فقط عند الحديث عنه بإيراد ما ذكره الناس له أو بما خبروه عنه
(1).
وليس في أعلام مالقة ما يفيد أنه تنبه إلى الأخذ عن الشيوخ الكبار ممن أدركهم آنذاك بمالقة من أمثال أبي الفضل عياض الحفيد
(2) (توفي بمالقة عام 630)، وأبي محمد بن عبد العظيم الزهري
(3) (توفي بمالقة عام 630)، وهما معا من شيوخ خاله القاضي بن عسكر.
غير أن الشيخ الوحيد الذي جلس إليه في هذه الحقبة هو شيخه في القرآن محمد بن عمار المكتب الذي توفي بمالقة عام
(4) 624.فهو أول شيوخه في التعلم، وقد احتضنه في المكتب وهو ابن ست سنوات، ولا أراه حسب الترجمة التي صاغها له في أعلام مالقة قد طالت مدة الأخذ عليه وملازمته له.
ومعنى هذا أنه إلى حدود سنة 627 لم يكن ابن خميس قد اشتد عوده ليبدأ مرحلة الأخذ عن الشيوخ والجلوس إليهم.
ولذلك لا نجد من شيوخه ممن ذكرهم في أعلام مالقة من تقدمت وفاته على سنة 630.
فإذا افترضنا أن مرحلة الأخذ عن الشيوخ والجلوس إلى حلقاتهم تبدأ في الأغلب مع مرحلة البلوغ من عمر الطالب، أي بعد حفظه القرآن والمتون العلمية - تأكد لنا بالتقريب أن ولادة أبي بكر بن خميس لا محالة قد تمت خلال إحدى سنوات العقد الثاني من القرن السابع. يؤكد هذا أنه حين ذكر بعض أصحابه في أعلام مالقة، سمى منهم ابن المعلم
(5)، وأبا بكر حميد
(6). وقد تبين أن هذا الأخير قد ولد بمالقة سنة 607.فالذي يصفه أبو بكر بن خميس بصاحبنا لا شك سيكون قرينا له أو قريبا منه في سنه وعمره، وستجمع بينهما طبقة واحدة ..
--------------------------------------------
(মালাগায় ৬২৭ হিজরি সালে), তাই তিনি তার সম্পর্কে আলোচনার সময় কেবল লোকমুখে যা শুনেছেন বা তার সম্পর্কে যা জানতে পেরেছেন তা উল্লেখ করার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছেন
(১)।
এবং 'আলামু মালাকা' গ্রন্থে এমন কোনো তথ্য নেই যা নির্দেশ করে যে, তিনি সে সময় মালাগায় অবস্থানরত বড় বড় শায়খদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের প্রতি মনোযোগী হয়েছিলেন, যাঁদের তিনি তখন পেয়েছিলেন। যেমন- আবুল ফজল ইয়াদ আল-হাফিদ
(২) (যিনি ৬৩০ হিজরি সালে মালাগায় ইন্তেকাল করেন) এবং আবু মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিম আজ-জুহরি
(৩) (যিনি ৬৩০ হিজরি সালে মালাগায় ইন্তেকাল করেন); তাঁরা উভয়েই তাঁর মামা কাজী বিন আসকারের শায়খ ছিলেন।
তবে এই সময়ে তিনি যে একমাত্র শায়খের মজলিসে বসেছিলেন, তিনি হলেন তাঁর কুরআনের শিক্ষক মুহাম্মদ বিন আম্মার আল-মুকাত্তিব, যিনি ৬২৪ হিজরি সালে মালাগায়
(৪) ইন্তেকাল করেন। তিনিই তাঁর শিক্ষার প্রথম শায়খ এবং মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি তাঁকে মক্তবে গ্রহণ করেন। 'আলামu মালাকা' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে তিনি যে জীবনী লিখেছেন, তা থেকে আমার মনে হয় না যে, তাঁর কাছে শিক্ষা গ্রহণ বা তাঁর সাহচর্যের সময়কাল খুব দীর্ঘ ছিল।
এর অর্থ হলো, ৬২৭ হিজরি সাল পর্যন্ত ইবনে খামিস শায়খদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং তাঁদের মজলিসে বসার পর্যায়ে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট পরিপক্ক হয়ে ওঠেননি।
এ কারণেই 'আলামু মালাকা' গ্রন্থে উল্লিখিত তাঁর শায়খদের মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া যায় না যাঁর মৃত্যু ৬৩০ হিজরি সালের আগে হয়েছে।
সুতরাং আমরা যদি ধরে নিই যে, শায়খদের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ এবং তাঁদের জ্ঞানগর্ভ মজলিসে বসার পর্যায়টি সাধারণত শিক্ষার্থীর বয়ঃসন্ধিকালে শুরু হয়—অর্থাৎ কুরআন এবং বৈজ্ঞানিক মূলপাঠসমূহ (মুতুন) মুখস্থ করার পর—তবে আমাদের কাছে মোটামুটি নিশ্চিত হয় যে, আবু বকর ইবনে খামিসের জন্ম নিঃসন্দেহে সপ্তম শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের কোনো এক বছরে হয়েছিল। এটি আরও নিশ্চিত হয় যখন তিনি 'আলামু মালাকা' গ্রন্থে তাঁর কিছু বন্ধুর কথা উল্লেখ করেন, যাদের মধ্যে তিনি ইবনুল মুআল্লিম
(৫) এবং আবু বকর হুমাইদের
(৬) নাম নিয়েছেন। জানা গেছে যে, শেষের জন ৬০৭ হিজরি সালে মালাগায় জন্মগ্রহণ করেন। সুতরাং আবু বকর ইবনে খামিস যাঁকে 'আমাদের সাথী' হিসেবে বর্ণনা করছেন, তিনি নিঃসন্দেহে তাঁর সমসাময়িক বা বয়সে তাঁর কাছাকাছি হবেন এবং তাঁরা উভয়েই একই প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
وإذا تبين بالتقريب تاريخ ولادة ابن خميس، فإن الذي لا يتبين لنا هو تاريخ وفاته. فلا أعرف شيئا عن نشاط الرجل بعد سنة 638 وهي السنة التي يرد ذكرها في أعلام مالقة
(1)، حيث كان ما يزال يشتغل في جمع وصياغة مواد الكتاب وتراجمه.
ولا أعرف شيئا عن أعماله ومواقفه، ولا عن المدى الذي امتد إليه عمره خلال القرن السابع للهجرة. فالرجل كما نرى قد ابتدأ حياته في سنة من سنوات العقد الثاني من القرن السابع على وجه الترجيح. وكان ما يزال حيا في أواخر العقد الرابع من هذا القرن، حيث كان ينجز تتميم كتاب أعلام مالقة.
3 - شيوخه:يعترضنا في الحديث عن شيوخ أبي بكر بن خميس عارضان اثنان:
أولهما: أنه ليس بين أيدينا لائحة كاملة، على غرار العادة، تسجل أسماء شيوخ الرجل. فغياب ترجمته المفصلة عنا، وضياع المصادر التي يحتمل أن تكون قد أنصفته بترجمة مطولة تفصح عن أحواله أو أفردته برسم يتعرّف به بين رجالها - قد غيب عنا أيضا ما جرت العادة أن تضمه التراجم المفصلة من ذكر للائحة الشيوخ الذين أخذ عنهم المترجم به أو من ذكر لائحة تلامذته الآخذين عنه.
فلا شيء بين أيدينا من لائحة شيوخ أبي بكر بن خميس، غير ما أورده الحديث العارض في أعلام مالقة، أو ما انجرّ إليه الذكر في بعض تراجم كتاب الذيل والتكملة. وهو ذكر يبقى في عمومه عبارة عن إشارات خاطفة لا تجتمع عندها لائحة شيوخ كاملة، ولا تفصح عن نوعية العلاقة العلمية في تلك المشيخة، ولا مدى أثرها على علم الطالب وشخصيته وأعماله.
فباستثناء خاله القاضي محمد ابن عسكر الذي يحتمل أن يكون أثره كبيرا في صنع شخصية أبي بكر بن خميس، فإن بقية الأسماء العارضة لا تكاد تتحدد معها سمة العلاقة العلمية التي تجعلها ضمن مشيخته، فأحرى أن تكشف سر التأثير في تكوين شخصيته أو توجيهها وجهة معينة.
ولا شك أن أبا بكر بن خميس - وقد كانت نشأته بمالقة في فترة زاهرة بالعلماء
--------------------------------------------
ইবনে খামিসের জন্মের তারিখ আনুমানিকভাবে স্পষ্ট হলেও যা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয় তা হলো তাঁর মৃত্যুর তারিখ। ৬৩৮ হিজরির পর এই ব্যক্তির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না, আর এটিই সেই বছর যার উল্লেখ আ’লামু মালাকা গ্রন্থে এসেছে
(১), যখন তিনি তখনও বইটির উপকরণ ও জীবনীসমূহ সংগ্রহ ও সংকলনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
হিজরি সপ্তম শতাব্দীতে তাঁর কর্ম, অবস্থান বা তাঁর জীবনকাল কতটুকু দীর্ঘ হয়েছিল সে সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমরা যেমনটি দেখছি, এই ব্যক্তি সম্ভবত সপ্তম শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের কোনো এক বছরে তাঁর জীবন শুরু করেছিলেন। আর তিনি এই শতাব্দীর চতুর্থ দশকের শেষভাগেও জীবিত ছিলেন, যখন তিনি আ’লামু মালাকা গ্রন্থের পরিশিষ্ট সম্পন্ন করছিলেন।
৩ - তাঁর শিক্ষকগণ:আবু বকর ইবনে খামিসের শিক্ষকদের সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে আমাদের সামনে দুটি অন্তরায় দেখা দেয়:
প্রথমটি হলো: সচরাচর যেমন থাকে, আমাদের কাছে এই ব্যক্তির শিক্ষকদের নামের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। তাঁর বিস্তারিত জীবনীর অনুপস্থিতি এবং সেইসব উৎসের বিলুপ্তি যা হয়তো দীর্ঘ জীবনীর মাধ্যমে তাঁর প্রতি সুবিচার করত, তাঁর অবস্থা স্পষ্ট করত কিংবা তাঁর জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি তুলে ধরত - তা আমাদের কাছ থেকে সেই বিষয়টিও আড়াল করে দিয়েছে যা বিস্তারিত জীবনীতে সাধারণত উল্লেখ থাকে, যেমন: যে শিক্ষকদের কাছ থেকে তিনি শিক্ষা লাভ করেছেন তাঁদের নামের তালিকা অথবা তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণকারী ছাত্রদের তালিকা।
আবু বকর ইবনে খামিসের শিক্ষকদের তালিকার ব্যাপারে আমাদের কাছে আ’লামু মালাকা গ্রন্থে প্রাসঙ্গিক আলোচনার মাধ্যমে যা এসেছে অথবা আয-যাইল ওয়াত তাকমিলা গ্রন্থের কিছু জীবনীতে যা উঠে এসেছে, তা ছাড়া আর কিছুই নেই। এই উল্লেখগুলো সাধারণভাবে কিছু সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত মাত্র, যার মাধ্যমে শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হয় না, কিংবা শিক্ষক-ছাত্রের জ্ঞানতাত্ত্বিক সম্পর্কের ধরন এবং ছাত্রের জ্ঞান, ব্যক্তিত্ব ও কর্মের ওপর তার প্রভাবের মাত্রা স্পষ্ট হয় না।
তাঁর মামা কাজী মুহাম্মদ ইবনে আসকার ব্যতিরেকে, যাঁর প্রভাব আবু বকর ইবনে খামিসের ব্যক্তিত্ব গঠনে অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বাকি যে প্রাসঙ্গিক নামগুলো পাওয়া যায় সেগুলোর ক্ষেত্রে ইলমি সম্পর্কের বৈশিষ্ট্যগুলো নির্ধারণ করা প্রায় অসম্ভব যা তাঁদেরকে তাঁর শিক্ষক হিসেবে গণ্য করার ভিত্তি হতে পারে, ফলে তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে বা তাকে নির্দিষ্ট কোনো দিকে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে প্রভাবের রহস্য উন্মোচন করা তো আরও সুদূরপরাহত।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আবু বকর ইবনে খামিস—যাঁর বেড়ে ওঠা ছিল মালেকায় উলামায়ে কেরামের এক উজ্জ্বল সময়ে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وزاخرة بأسماء الشيوخ الكبار من مسندي الحديث وغيرهم - قد جلس إلى كثير من حلقات العلم في مالقة، وحضر إلى شيوخ كثيرين ممن ضمتهم مجالسها العلمية آنذاك. ولو وصل إلينا نص الترجمة الذي خصه به ابن عبد الملك في جزئه السابع من الذيل، لوجدنا لائحة كبيرة من أسماء شيوخه - على عادة تراجم أمثاله وأقرانه - تضم جل علماء مالقة آنذاك، وكثيرا من علماء غرناطة والمرية وغيرها من بقية حواضر الأندلس الكبرى، وغيرها.
ثانيهما: أن ما يرد ذكره في أعلام مالقة من إشارات إلى تسمية شيوخه أو ما يتحدث فيه المؤلف بضمير المتكلم عن هؤلاء الشيوخ والأخذ عنهم، هو مما يجب الحذر فيه والتحفظ منه. ذلك أن كل ترجمة من تراجم أعلام مالقة - حسب النص الموجود بين أيدينا منه - تحتمل أن تكون من صياغة القاضي بن عسكر أو حفيده أبي بكر بن خميس. ولا يمكن الفرز بين عمل الرجلين إلا في جانب محدود منه.
فالكتاب من إنتاج الرجلين معا، ابتدأه الأول منهما وفاجأته وفاته دون إتمامه فأتمه الثاني. فهما معا قد اشتركا في صياغة تراجم رجاله. غير أنه ليس هناك حد فاصل بين التراجم التي صاغها هذا أو ذاك. وليس هناك تمييز بين عمل الرجلين سوى ما يمكن أن يستفاد من ثنايا هذا العمل أو من إحالات تراجمه.
وعلى هذا فاستغلال أعلام مالقة لاستخلاص ما يهم في معرفة شيوخ ابن خميس هو أمر يقتضي:
أولا: تمييز صيغة الترجمة إن كانت من صنع ابن عسكر أو حفيده ابن خميس، ولو في حدود ترجيحية معقولة.
ثانيا: اتخاذ الاحتياط الزائد والحذر الفائق في الاعتماد على الإشارات الواردة في الكتاب فيما يخص مشيخة ابن خميس والأخذ بها.
ثالثا: الاستعانة بالمصادر الأخرى التي تشير إلى أخذ ابن خميس أو تتلمذه على هذا الشيخ أو ذاك.
ورغم أن ما سيتحصل بين أيدينا من أسماء هؤلاء الشيوخ سيبقى قليلا، فإننا لا نجد مفرا من خوض هذه التجربة والاعتماد على ما تفرزه دراسة الكتاب من ملاحظات وإشارات في الموضوع.
এটি হাদিসের বড় বড় মুসনিদ ও অন্যান্য শায়খদের নামের এক বিশাল ভাণ্ডার - তিনি মালাগাহর বহু ইলমি হালকায় বসেছেন এবং তৎকালীন সময়ের ইলমি মজলিসগুলোতে উপস্থিত থাকা অনেক শায়খের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। ইবনে আবদিল মালিক তার ‘আয-যাইল’ গ্রন্থের সপ্তম খণ্ডে তার জন্য যে জীবনীটি নিবেদন করেছিলেন, তার মূল পাঠ যদি আমাদের নিকট পৌঁছাত, তবে আমরা তার শায়খদের নামের এক সুবিশাল তালিকা খুঁজে পেতাম - যেমনটি তার সমপর্যায়ী ও সমসাময়িকদের জীবনীতে সচরাচর দেখা যায় - যেখানে তৎকালীন মালাগাহর অধিকাংশ আলেম এবং গ্রানাডা, আলমেরিয়া ও আন্দালুসের অন্যান্য প্রধান নগরীসমূহের বহু আলেমের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকত।
দ্বিতীয়ত: ‘আলামু মালাগাহ’ গ্রন্থে শায়খদের নামকরণের ক্ষেত্রে যেসব ইঙ্গিত পাওয়া যায় অথবা লেখক যেখানে উত্তম পুরুষে এই শায়খদের সম্পর্কে এবং তাঁদের নিকট শিক্ষাগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেছেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক। কারণ ‘আলামু মালাগাহ’-এর প্রতিটি জীবনীই - আমাদের হাতে থাকা বিদ্যমান পাঠ অনুযায়ী - কাজী ইবনে আসকার অথবা তাঁর দৌহিত্র আবু বকর ইবনে খামিসের রচনা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। খুব সীমিত ক্ষেত্র ছাড়া এই দুই ব্যক্তির কাজের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব নয়।
বস্তুত বইটি এই দুই ব্যক্তির যৌথ প্রচেষ্টার ফসল; তাঁদের মধ্যে প্রথমজন এটি শুরু করেছিলেন এবং সম্পন্ন করার পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হলে দ্বিতীয়জন এটি সমাপ্ত করেন। ফলে তাঁরা উভয়েই এর অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের জীবনী রচনায় অংশগ্রহণ করেছেন। তবে কার লেখা জীবনী কোনটি, তার মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। এই দুই ব্যক্তির কাজের মধ্যে পার্থক্য করার কোনো উপায় নেই, কেবল এই কাজের গূঢ় বিষয়সমূহ থেকে যা আহরণ করা যায় অথবা এর অন্তর্ভুক্ত জীবনীসমূহের উদ্ধৃতিগুলো থেকে যা অনুমিত হয় তা ছাড়া।
অতএব, ইবনে খামিসের শায়খদের জানার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য আহরণে ‘আলামু মালাগাহ’-কে ব্যবহার করার বিষয়টি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দাবি করে:
প্রথমত: জীবনীর বর্ণনাশৈলীটি ইবনে আসকারের নাকি তাঁর দৌহিত্র ইবনে খামিসের তৈরি, তা অন্তত যুক্তিযুক্ত সম্ভাবনার ভিত্তিতে পৃথক করা।
দ্বিতীয়ত: ইবনে খামিসের শায়খ পরম্পরা ও তাঁদের নিকট শিক্ষাগ্রহণের বিষয়ে কিতাবে বর্ণিত ইঙ্গিতগুলোর ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা ও চরম সাবধানতা অবলম্বন করা।
তৃতীয়ত: অন্যান্য উৎসের সহায়তা নেওয়া যা ইবনে খামিসের অমুক বা অমুক শায়খের নিকট শিক্ষাগ্রহণ বা ছাত্রত্বের বিষয়ে ইঙ্গিত প্রদান করে।
যদিও এই শায়খদের যে নামগুলো আমাদের হস্তগত হবে তা পরিমাণে অল্পই থাকবে, তবুও এই অভিজ্ঞতা অর্জনের এবং কিতাবটির অধ্যয়ন থেকে প্রাপ্ত পর্যবেক্ষণ ও ইঙ্গিতগুলোর ওপর নির্ভর করার কোনো বিকল্প আমরা দেখছি না।
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
وانطلاقا من كل هذا، وبعد التمحيص لتراجم أعلام مالقة، نورد ما تحصل بين أيدينا من شيوخ ابن خميس، وهم:
1 - محمد بن علي بن عسكر الأنصاري (ت 636)(1):
وهو خال ابن خميس الذي أشرف على تربيته وسهر على تعليمه وتنشئته في العلم والطلب. ويرد في ترجمة القاضي ابن عسكر من الذيل وغيره التنصيص على أخذ ابن أخته أبي بكر بن خميس عنه واستفادته منه، كما يرد في أعلام مالقة وفي غير موضع منه النقل عن خاله والإحالة عليه، من خطه، ومن قوله. وقد عبر في ترجمته له في أعلام مالقة بما يكشف عن مكانته شيخا، وقريبا، وعالما من علماء مالقة فقال: بعد أن أورد وصفه وحدّد ممارساته في العلم والخطة، وبعد أن صوّر سلوكه وسمّى شيوخه:
«
… وإنما نبهت عليه هذا التنبيه، وذكرت بعض ما كان من المحاسن فيه، مخافة أن ينقرض الزمان فتنقرض أخباره، ويفنى ناس عصره فتنسى مآثره وآثاره.
وليقف من لم يدركه على مناقبه الجميلة، ويشاهد بعض مآثره الحميدة ومنازعه الجليلة. وما زالت مناقب الأئمة تجلو وتذكر، وتذاع وتنشر. وإذا كان من العلم قد تعيّن شرعا، واستحسن طبعا، فحقّه عليّ آكد الحقوق، وسكوتي عن الاعتناء بتخليد مناقبه ضرب من العقوق»
(2).
ولا أدل على تأدية هذا الحق أكثر من الاشتراك في تأليف هذا الكتاب الذي نقدمه اليوم إلى القارئ، وتتميم العمل فيه.
2 - محمد بن عبد الله الحميري المالقي الاستجي(3) (ت 642):ذكر أخذه عنه في كتاب أعلام مالقة في غير موضع. فقال في ترجمة والده عبد الله الاستجي ما نصه: «هو والد شيخنا ومعلمنا الفقيه الأستاذ العالم أبي عبد الله أبقاه الله»
(4).
--------------------------------------------
এই সবকিছুর প্রেক্ষাপটে এবং মালাকার (Malaga) বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার পর, ইবনুল খামিসের যে সকল শাইখ বা শিক্ষকদের সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি তারা হলেন:
১ - মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আসকার আল-আনসারী (মৃত্যু ৬৩৬ হিজরি)(১):
তিনি ইবনুল খামিসের মামা, যিনি তার লালন-পালনের তদারকি করেছিলেন এবং তার শিক্ষা-দীক্ষা ও ইলম অর্জনের জন্য সজাগ দৃষ্টি রেখেছিলেন। আল-জাইল এবং অন্যান্য গ্রন্থে কাজী ইবনুল আসকারের জীবনীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার ভাগ্নে আবু বকর ইবনুল খামিস তার কাছ থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং তার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। একইভাবে 'আলামু মালাকা' গ্রন্থের একাধিক স্থানে তার মামার কাছ থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা এবং তার পাণ্ডুলিপি ও বক্তব্য থেকে উদ্ধৃতি ও তথ্য প্রদান করা হয়েছে। তিনি 'আলামু মালাকা' গ্রন্থে তার মামার জীবনীতে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেছেন যা থেকে একজন শিক্ষক, নিকটাত্মীয় এবং মালাকার আলেমদের মধ্যে তার সুউচ্চ মর্যাদার পরিচয় পাওয়া যায়। তার বর্ণনা এবং ইলম ও কর্মক্ষেত্রে তার ভূমিকা তুলে ধরার পর এবং তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও শাইখদের নাম উল্লেখ করার পর তিনি বলেন:
«
… আমি তার সম্পর্কে এই বর্ণনা এজন্যই প্রদান করছি এবং তার কিছু গুণাবলী উল্লেখ করছি, এই ভয়ে যে—সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে তার সংবাদ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে এবং তার সমসাময়িক ব্যক্তিরা নিঃশেষ হয়ে গেলে তার কীর্তি ও প্রভাবগুলো বিস্মৃত হতে পারে।
আর যাতে যারা তাকে পায়নি, তারা তার সুন্দর গুণাবলী জানতে পারে এবং তার প্রশংসনীয় কীর্তি ও মহান পথসমূহ প্রত্যক্ষ করতে পারে। ইমামদের গুণাবলী তো সর্বদা প্রজ্জ্বলিত ও আলোচিত থাকে এবং তা প্রচারিত ও প্রসারিত হয়। আর যেহেতু ইলম চর্চা করা শরীয়তগতভাবে নির্ধারিত এবং স্বভাবগতভাবে প্রশংসিত একটি কাজ, তাই তার গুণাবলীকে অমর করে রাখার প্রতি যত্নশীল হওয়াটা আমার ওপর সবচাইতে বড় হক বা অধিকার। এ ব্যাপারে আমার নীরব থাকাটা হবে এক প্রকারের অকৃতজ্ঞতা ও অবাধ্যতা।’»
(২)।
এই হক আদায়ের এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে যে, আজ আমরা পাঠকদের সামনে যে গ্রন্থটি উপস্থাপন করছি, তার সংকলনে অংশগ্রহণ করা এবং এর কাজ সম্পন্ন করা।
২ - মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হিমইয়ারী আল-মালাকী আল-ইসতিজী(৩) (মৃত্যু ৬৪২ হিজরি):'আলামু মালাকা' গ্রন্থের একাধিক স্থানে তার নিকট থেকে ইলম গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার পিতা আব্দুল্লাহ আল-ইসতিজীর জীবনীতে তিনি যা লিখেছেন তার ভাষ্য হলো: «তিনি আমাদের শাইখ ও শিক্ষক, ফকিহ, উস্তাদ, আলিম আবু আব্দুল্লাহর পিতা—আল্লাহ তাকে দীর্ঘজীবী করুন»
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وذكره أيضا في ترجمة أبي عامر بن حسون فقال: «وذكر لي شيخي ومعلمي الفقيه الأجل الأستاذ العالم المتحقق أبو عبد الله الاستجي
…»
(1).
وحين ترجم له في الذيل سمى من الآخذين عنه: أبا بكر بن خميس، وأبا الحكم مالك بن المرحل
(2). ويبدو من خلال ما حلاه به من أوصاف أنه يمثل عمدته في الدرس والتعليم، وأن أخذه عنه واستفادته منه كان من الاتساع والكثرة بحيث أصبح شيخه ومعلمه في آن واحد.
وأبو عبد الله الاستجي هذا من أهل مالقة ومن علمائها الذين مارسوا وعلى نطاق واسع أصناف الدرس الحديثي والأدبي واللغوي بجامع مالقة.
وإذا كان هذا الشيخ أبو عبد الله الاستجي من حيث المبدأ على شرط كتاب أعلام مالقة وتراجم رجاله، فإن تلميذه ابن خميس لم يفرده برسم في كتابه، ولم يخصص له ترجمة تعرّف به سوى ما انجر إليه الذكر عرضا في تراجم غيره. ولعل سبب ذلك يرجع إلى أن اشتغال ابن خميس بجمع تراجم الكتاب كان في وقت ما يزال فيه شيخه هذا على قيد الحياة، فقد دعا له بطول البقاء عند ذكره
(3). ولا شك أن شرط الذكر في كتاب أعلام مالقة عند ابن خميس إنما يتم بحصول وفاة المترجم به. وقد تأخرت وفاة أبي عبد الله الاستجي التي حدثت بغرناطة إثر تحوله إليها وإقامته بها، إلى سنة 642.
وأبو عبد الله الاستجي حسب ما يذكر في ترجمته كان ذا مشاركة في فنون من العلم والأدب. أقام حلقته بجامع مالقة وأقرأ بها الصحيح وغيره. غير أنه يغلب عليه الأدب والاهتمام به. وقد كانت ميوله الأدبية مصدر نقمة عليه إذ سببت خروجه من بلده مالقة
(4). ويصفه في الإحاطة بأنه «الشيخ المتفنن الأديب البارع الشاعر المفلق»
(5).
وإذا كان ابن الخطيب قد أورد له أشعارا كثيرة وأنثارا عديدة
(6)، فإنه قد أورد
--------------------------------------------
তিনি আবু আমির বিন হাসসুন-এর জীবনীতেও এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «আমার শায়খ এবং শিক্ষক, মহান ফকীহ, উস্তাদ, সুনিপুণ আলেম আবু আব্দুল্লাহ আল-ইসতিজি আমার কাছে উল্লেখ করেছেন যে
…»
(১).
আর যখন তিনি ‘আয-যাইল’-এ তাঁর জীবনী লিখেছেন, তখন তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জনকারীদের মধ্যে আবু বকর বিন খামিস এবং আবু আল-হাকাম মালিক বিন আল-মুরুহহাল (২) এর নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁকে যেসব গুণাবলীতে ভূষিত করা হয়েছে তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি পাঠদান ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান অবলম্বন ছিলেন এবং তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও উপকৃত হওয়া এতোটাই ব্যাপক ও অধিক ছিল যে, তিনি একই সাথে তাঁর শায়খ এবং শিক্ষক হয়ে উঠেছিলেন।
এই আবু আব্দুল্লাহ আল-ইসতিজি মালাকা (Malaga) বাসীদের অন্তর্ভুক্ত এবং সেখানকার আলেমদের অন্যতম ছিলেন, যারা মালাকা জামে মসজিদে ব্যাপকভাবে হাদীস, সাহিত্য এবং ভাষাতত্ত্বের বিভিন্ন পাঠদান পরিচালনা করতেন।
যদিও নীতিগতভাবে এই শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আল-ইসতিজি ‘আ'লামু মালাকা’ (মালাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ) গ্রন্থ এবং এর জীবনী সংকলনের শর্ত পূরণ করতেন, তবুও তাঁর ছাত্র ইবনে খামিস তাঁর গ্রন্থে তাঁর জন্য স্বতন্ত্র কোনো অধ্যায় রাখেননি এবং অন্যদের জীবনী আলোচনার সময় প্রাসঙ্গিকভাবে যা এসেছে তা ছাড়া তাঁর পরিচিতিমূলক কোনো নির্দিষ্ট জীবনীও নিবদ্ধ করেননি। সম্ভবত এর কারণ হলো, ইবনে খামিস যখন এই গ্রন্থের জীবনীগুলো সংগ্রহে নিয়োজিত ছিলেন, তখন তাঁর এই শায়খ জীবিত ছিলেন; কারণ তাঁর কথা উল্লেখ করার সময় তিনি তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করে দুআ করেছেন (৩)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইবনে খামিসের ‘আ'লামু মালাকা’ গ্রন্থে কারো নাম অন্তর্ভুক্ত করার শর্ত ছিল ব্যক্তির মৃত্যু হওয়া। আবু আব্দুল্লাহ আল-ইসতিজির মৃত্যু বিলম্বিত হয়েছিল এবং তিনি গ্রানাডায় স্থানান্তরিত হয়ে সেখানে বসবাস শুরু করার পর ৬৪২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
আবু আব্দুল্লাহ আল-ইসতিজি, যেমনটি তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইলম ও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি মালাকা জামে মসজিদে তাঁর দারস-গাহ (শিক্ষাচক্র) প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে সহীহ (বুখারী/মুসলিম) ও অন্যান্য কিতাবের পাঠদান করতেন। তবে তাঁর মাঝে সাহিত্য এবং এর প্রতি অনুরাগ প্রবল ছিল। তাঁর এই সাহিত্যিক ঝোঁকই তাঁর জন্য বিপদের কারণ হয়েছিল, যা তাঁকে তাঁর জন্মভূমি মালাকা ত্যাগ করতে বাধ্য করেছিল (৪)। ‘আল-ইহাতা’ গ্রন্থে তাঁকে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি ছিলেন «বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শায়খ, দক্ষ সাহিত্যিক, নিপুণ কবি» (৫)।
যদিও ইবনুল খাতিব তাঁর অনেক কবিতা এবং গদ্য রচনা উদ্ধৃত করেছেন (৬), তবে তিনি উদ্ধৃত করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
له نص إجازة تأنق فيها غاية، وضمنها ما كان قد أنجزه من التآليف، فقال: «
وقصائدي المسماة بالروحانيات، ومعشراتي الحبيبات، وما نظمته من الوتريات، وشرحي لشعر أبي الطيب المسمى بظهور الإعجاز بين الصدور والأعجاز، وكتابي المسمى شمس البيان في لمس البنان، والزهرة الفائحة في الزهرة اللائحة، ونفح الكمامات في شرح المقامات، واقتراح المتعلمين في اصطلاح المتكلمين، وكتاب التصور والتصديق في التوطئة لعلم التحقيق، ورقم الحلل في نظم الجمل، ومفتاح الإحسان في إصلاح اللسان، وما أنشأته من السلطانيات نظما ونثرا وخطابة وشعرا ..»
(1).
ولا شك أن استفادة أبي بكر بن خميس من حلقات هذا الشيخ كانت واسعة وكثيرة، ولا سيما في ميداني الأدب والتأليف.
3 - أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن عبيد الله الأوسي يعرف بالقرطبي:وصفه بشيخنا في غير موضع من كتاب أعلام مالقة، ونقل عنه. فذكره في ترجمة والده أبي عبد الله القرطبي فقال: «هو والد شيخنا الفقيه الأجل الخطيب المحدث الورع أبي إسحاق القرطبي أكرمه الله»
(2).
وذكره في ترجمة محمد بن الولي أحد طلبة مالقة الأدباء ناقلا عنه ما نصه:
«أنشدني شيخنا الفقيه الأديب المحدث أبو إسحاق القرطبي أكرمه الله»
(3).
والملاحظ أنه في كلا الموضعين يصفه - علما - بالفقيه المحدث الأديب، ويصفه - سلوكا - بالورع الأجل. ولا شك أنه أهل لذلك وأوفق للوصف القائم به.
ولا أدري ماذا أخذ عنه أبو بكر بن خميس من العلوم والفنون. وإن كنت لا أستبعد أن يكون من الشيوخ الذين لازم مجالسهم العلمية، وكثر أخذه عنهم واستفادته منهم في مختلف العلوم والفنون التي اتصفوا بها. وقد أخذ أبو إسحاق القرطبي عن أبي الحجاج بن الشيخ البلوي فسمع عليه كثيرا
(4)، وعن أبي علي عمر بن عبد المجيد الرندي
(5) وغيرهما. كما أخذ عنه من المشاهير أبو بكر بن خميس، وأبو جعفر بن
--------------------------------------------
তাঁর একটি ইজাজতনামা (অনুমতিপত্র) রয়েছে যাতে তিনি চরম শৈল্পিকতা প্রদর্শন করেছেন এবং তাতে তিনি তাঁর সম্পন্নকৃত রচনাবলী অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি বলেন: «
আমার কাসিদাসমূহ যার নাম আর-রুহানিয়াত, আমার প্রিয় মুয়াশারাতসমূহ, আমার রচিত উতরিয়াতসমূহ, আবু তাইয়িবের কবিতার ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম যুহুরুল ইজাজ বাইনাস সুদুর ওয়াল আজাজ, আমার কিতাব যার নাম শামসুল বায়ান ফি লামসিল বানান, আয-যাহরাতুল ফাইহাহ ফিজ যাহরাতিল লাইহাহ, নাফহুল কামামাত ফি শারহিল মাকামাত, ইকতিরাহুল মুতাল্লিমিন ফি ইস্তিলাহিল মুতাকাল্লিমিন, কিতাবুত তাসাউর ওয়াত তাসদিক ফিত তাওতিয়াহ লি-ইলমিত তাহকিক, রাকমুল হুলাল ফি নাজমিল জুমাল, মিফতাহুল ইহসান ফি ইসলাহিল লিসান এবং আস-সুলতানিয়াত এর অন্তর্ভুক্ত যা কিছু আমি কবিতা, গদ্য, বক্তৃতা ও পদ্য আকারে রচনা করেছি...»
(১).
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই শাইখের মজলিসসমূহ থেকে আবু বকর ইবনে খামিসের শিক্ষাগ্রহণ ছিল ব্যাপক ও প্রচুর, বিশেষ করে সাহিত্য ও গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে।
৩ - আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-আওসী, যিনি আল-কুরতুবী নামে পরিচিত:'আলামু মালাকা' গ্রন্থের একাধিক স্থানে তিনি তাঁকে আমাদের শাইখ বলে অভিহিত করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর পিতা আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরতুবীর জীবনীতে তাঁর উল্লেখ করে বলেন: «তিনি আমাদের শাইখ, মহান ফকিহ, খতিব, মুহাদ্দিস ও পরহেজগার আবু ইসহাক আল-কুরতুবীর পিতা, আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন»
(২).
এবং মালাকার সাহিত্যমনা ছাত্রদের অন্যতম মুহাম্মদ ইবনে আল-ওয়ালীর জীবনীতে তিনি তাঁর কথা উল্লেখ করে তাঁর থেকে নিম্নোক্ত উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন:
«আমাদের শাইখ, ফকিহ, সাহিত্যিক ও মুহাদ্দিস আবু ইসহাক আল-কুরতুবী—আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন—আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন»
(৩).
লক্ষ্যণীয় যে, উভয় স্থানেই তিনি তাঁকে—ইলমের বিচারে—ফকিহ, মুহাদ্দিস ও সাহিত্যিক হিসেবে এবং—আচরণের বিচারে—মহান পরহেজগার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিঃসন্দেহে তিনি এর যোগ্য ছিলেন এবং এটি তাঁর গুণের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আমি জানি না আবু বকর ইবনে খামিস তাঁর থেকে কোন কোন জ্ঞান ও শিল্প অর্জন করেছিলেন। যদিও আমি এটাকে অসম্ভব মনে করি না যে, তিনি সেইসব শাইখদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের ইলমি মজলিসে তিনি নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন এবং তাঁদের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত বিভিন্ন জ্ঞান ও শিল্পকলায় তাঁদের থেকে প্রচুর আহরণ ও উপকার লাভ করতেন। আবু ইসহাক আল-কুরতুবী আবু আল-হাজ্জাজ ইবনুল শেখ আল-বালাওয়ীর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর থেকে প্রচুর শ্রবণ করেছেন
(৪), এছাড়াও আবু আলী উমর ইবনে আব্দুল মাজিদ আল-রুন্দি
(৫) এবং অন্যদের থেকেও ইলম অর্জন করেছেন। অনুরূপভাবে তাঁর থেকে প্রখ্যাতদের মধ্যে আবু বকর ইবনে খামিস এবং আবু জাফর ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
الزبير. وقد نقل عنه هذا الأخير في صلة الصلة ووصفه بالخطيب الورع
(1). ويحيل في ترجمة جده عبيد الله الأوسي إلى ما تقدم من ترجمة ابنه، وحفيده أبي إسحاق
(2).
4 - محمد بن سعيد الطراز الغرناطي(3) (ت 645):أشار ابن خميس إلى أخذه عنه، فنعته بشيخنا في ثنايا ترجمة محمد بن نوح الغافقي فقال: ونقلت من خط الشيخ الفقيه المحدث المقرئ الراوية أبي عبد الله بن سعيد الغرناطي أكرمه الله - وأنشدني صاحبنا الفقيه الأجل الأديب أبو بكر حميد بن الأستاذ أبي محمد القرطبي، وكتب به إليه شيخنا الفقيه المحدث المقرئ الراوية أبو عبد الله بن سعيد - لابن نوح مما أنشده أبوه ..»
(4).
والطراز المذكور أحد من اهتم بالرواية واتساع الأخذ وسماع الحديث وكثرة لقاء الشيوخ. وقد اشتهر عنه - زيادة على محبة الناس له، وإتقانه الوراقة وكتابة أعلاق المصنفات - عملان كبيران:
أولهما: برنامجه الذي عرف فيه بشيوخه وضمنه الكثير من الفوائد.
ثانيهما: إخراجه كتاب مشارق الأنوار للقاضي عياض من مسودته. وكان القاضي عياض قد تركه في نهاية من «النسخ والإدماج والإشكال وإهمال الحروف»
(5)، حتى غاب الانتفاع به، فاستوفى ما نقل منه المؤلف بالرجوع إلى المصادر والأصول، وأخرج بذلك الكتاب على أحسن وجه دون أن يسقط منه حرف أو كلمة.
ويعرف عن ابن سعيد الطراز أنه بعد تجوله في طلب العلم ولقاء الشيوخ، استقر ببلده غرناطة حيث كانت وفاته بها سنة 645.
ولم يصرح أبو بكر بن خميس بطريقة الأخذ التي انتسب بها إلى شيخه هذا،
--------------------------------------------
যুবাইর। শেষোক্ত ব্যক্তি তাঁর থেকে 'সিলাত আল-সিলা' গ্রন্থে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন এবং তাঁকে একজন পরহেজগার খতিব হিসেবে বর্ণনা করেছেন
(১)। তিনি তাঁর দাদা উবায়দুল্লাহ আল-আউসীর জীবনীতে তাঁর ছেলে এবং তাঁর নাতি আবু ইসহাকের পূর্বে বর্ণিত জীবনীর প্রতি নির্দেশ করেছেন
(২)।
৪ - মুহাম্মদ বিন সাঈদ আত-তারাজ আল-গারনাতি(৩) (মৃত্যু ৬৪৫ হিজরি):ইবনে খামিস তাঁর থেকে ইলম হাসিলের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং মুহাম্মদ বিন নুহ আল-গাফেকীর জীবনীর আলোচনায় তাঁকে 'আমাদের শাইখ' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: "আমি শাইখ, ফকিহ, মুহাদ্দিস, ক্বারী ও বর্ণনাকারী আবু আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ আল-গারনাতি—আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন—এর হাতের লেখা থেকে উদ্ধৃত করেছি। আমাদের সঙ্গী মহান ফকিহ ও সাহিত্যিক আবু বকর হুমাইদ বিন আল-উস্তাদ আবু মুহাম্মদ আল-কুরতুবি আমাকে শুনিয়েছেন এবং আমাদের শাইখ ফকিহ, মুহাদ্দিস, ক্বারী ও বর্ণনাকারী আবু আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ তাঁর কাছে এটি লিখেছিলেন—ইবনে নুহের সেই পঙক্তিমালা যা তাঁর পিতা পাঠ করেছিলেন..."
(৪)।
উল্লেখিত আত-তারাজ ছিলেন রেওয়ায়েত সংগ্রহ, ব্যাপক শিক্ষা গ্রহণ, হাদিস শ্রবণ এবং শাইখদের সাথে অধিক সাক্ষাতের প্রতি বিশেষভাবে আগ্রহী ব্যক্তিদের একজন। মানুষের কাছে তাঁর প্রিয় হওয়া এবং পাণ্ডুলিপি তৈরি ও মূল্যবান গ্রন্থসমূহ অনুলিপি করায় তাঁর পারদর্শিতা ছাড়াও তাঁর দুটি বড় কাজ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে:
প্রথমটি হলো: তাঁর 'বারনামাজ' (শিক্ষক-তালিকা), যাতে তিনি তাঁর শাইখদের পরিচয় দিয়েছেন এবং এতে অনেক জ্ঞানগর্ভ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
দ্বিতীয়টি হলো: কাযী ইয়াযের 'মাশারিকুল আনোয়ার' গ্রন্থটি এর মূল খসড়া থেকে উদ্ধার করে প্রকাশ করা। কাযী ইয়ায এটিকে কাটাকাটি, অস্পষ্টতা এবং হরফ বা অক্ষরের অবহেলার এমন এক পর্যায়ে রেখে গিয়েছিলেন
(৫), যার ফলে এর থেকে উপকৃত হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। তিনি মূল উৎস ও পাণ্ডুলিপিগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করে লেখক যা উদ্ধৃত করেছিলেন তা পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন এবং একটি অক্ষর বা শব্দও বাদ না দিয়ে বইটিকে সর্বোত্তমভাবে প্রকাশ করেন।
ইবনে সাঈদ আত-তারাজ সম্পর্কে জানা যায় যে, ইলম অন্বেষণে দেশভ্রমণ এবং শাইখদের সাথে সাক্ষাতের পর তিনি নিজ শহর গারনাদায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং ৬৪৫ হিজরিতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
আবু বকর ইবনে খামিস তাঁর এই শাইখের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের পদ্ধতিটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
ولا الكيفية التي ربطت بين الطالب والشيخ. فهل أخذ عنه بمالقة في بعض رحلات الشيخ إليها، أو أن ابن خميس قد جلس إلى حلقات الشيخ الطراز بغرناطة. أم أن الأخذ اقتصر فقط على الإجازة والمكاتبة.
5 - أبو محمد عيسى الرعيني الرندي المالقي (ت 632)(1):
ذكر أخذه عنه وقراءته عليه أثناء ترجمته في أعلام مالقة، فقال: «قرأنا عليه بمالقة كثيرا»
(2). وأحال في الذيل على بعض تلامذته فسمى منهم أبا بكر بن خميس
(3).
وقد كان لعيسى الرعيني الرندي رحلة طويلة إلى المشرق استغرقت ستة عشر عاما أكثر فيها من الأخذ عن الشيوخ واللقاء بأصحاب الرواية والسماع منهم. وعاد إلى الأندلس عام 631 فنزل بمالقة حيث أخذ عنه طلبتها وعلماؤها. واهتبلوا بالرواية عنه، لأنه أتى من المشرق «بفوائد جمة، وأوصل إجازات كثيرة من جلة من شيوخ البلاد العراقية والشامية نفعه الله بذلك. وكان في نهاية من الضبط والثقة ومعرفة الرجال وصحة الرواية
…»
(4)، «مميزا صحيح الحديث من سقيمه، مبرزا في علومه»
(5).
وإذا كان ابن خميس لم يعين المادة العلمية التي استفادها من هذا الشيخ، فإن مشهور ما حلّق به عيسى الرعيني في مالقة عند عودته من المشرق، كان في أساسه ينصرف إلى درس الحديث وروايته. ولذلك فهو - في الأغلب - شيخ له في الحديث والرواية والإسناد.
وقد شارك ابن خميس خاله القاضي أبا عبد الله بن عسكر في الأخذ عن هذا الشيخ
(6).
--------------------------------------------
ছাত্র ও শাইখের মধ্যকার সম্পর্কের প্রকৃতি কেমন ছিল তাও জানা যায় না। তিনি কি শাইখের মালাকা সফরের সময় তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন, নাকি ইবনে খামিস গ্রানাডায় শাইখ তরাজ-এর পাঠচক্রে উপস্থিত হয়েছিলেন? নাকি এই শিক্ষা গ্রহণ কেবল ইজাজত (অনুমতি) এবং পত্রবিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
৫ - আবু মুহাম্মদ ঈসা আল-রুআইনি আল-রুন্দি আল-মালাকি (মৃত্যু ৬৩২ হিজরি)(১):
‘আলামু মালাকা’ গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনাকালে তাঁর নিকট হতে শিক্ষা গ্রহণ এবং পাঠের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: «আমরা মালাকায় তাঁর নিকট প্রচুর পাঠ গ্রহণ করেছি»
(২)। তিনি ‘আয-যাইল’ গ্রন্থে তাঁর কিছু ছাত্রের নাম উল্লেখ করেছেন যাদের মধ্যে আবু বকর ইবনে খামিস অন্যতম
(৩)।
ঈসা আল-রুআইনি আল-রুন্দি প্রাচ্যের দেশগুলোতে দীর্ঘ ষোল বছর ব্যাপী এক সফর করেছিলেন, যেখানে তিনি অসংখ্য শাইখের নিকট হতে জ্ঞান অর্জন করেন এবং হাদিস বর্ণনাকারীদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁদের নিকট হতে শ্রবণ করেন। তিনি ৬৩১ হিজরিতে আন্দালুসে ফিরে আসেন এবং মালাকায় অবস্থান করেন, যেখানে স্থানীয় ছাত্র ও বিদ্বানগণ তাঁর নিকট হতে জ্ঞান আহরণ করেন। তাঁরা তাঁর নিকট হতে বর্ণনা গ্রহণে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, কারণ তিনি প্রাচ্য হতে «প্রচুর জ্ঞানগর্ভ বিষয় এবং ইরাক ও সিরিয়ার শ্রেষ্ঠ শাইখদের নিকট হতে অনেক ইজাজত নিয়ে এসেছিলেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে উপকৃত করেছিলেন। তিনি স্মৃতিশক্তির দৃঢ়তা, নির্ভরযোগ্যতা, বর্ণনাকারীদের পরিচয় এবং বর্ণনার বিশুদ্ধতা নিরূপণে চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিলেন
…»
(৪), «সহিহ ও দুর্বল হাদিসের মধ্যে পার্থক্যকারী এবং হাদিস বিজ্ঞানে অনন্য ছিলেন»
(৫)।
যদিও ইবনে খামিস এই শাইখের নিকট হতে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেছিলেন তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, তবে প্রাচ্য থেকে ফেরার পর মালাকায় ঈসা আল-রুআইনির পাঠদানের যে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল, তা মূলত হাদিস শিক্ষা ও বর্ণনার ওপরই কেন্দ্রীভূত ছিল। তাই সম্ভবত তিনি হাদিস, বর্ণনা এবং ইসনাদ শাস্ত্রে তাঁর অন্যতম শাইখ বা উস্তাদ ছিলেন।
ইবনে খামিস তাঁর মামা কাজি আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আসকারের সাথে এই শাইখের নিকট হতে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
6 - محمد بن يوسف بن عمار المكتب (ت 624)(1):
شيخ أبي بكر بن خميس في المكتب. وهو أول من أقرأه القرآن وعلّمه. وكان يعطف عليه وهو ابن صغير من ست سنوات، فيعامله معاملة لينة، ويحنّ عليه كما لو كان أبا أو قريبا له. ولعل ذلك للعلاقة الوثيقة التي كانت تربط بين الشيخ وخال ابن خميس القاضي بن عسكر.
وقد كان الشيخ ابن عمار صاحب مكتب بمالقة، غير أنه كان على جانب مهم من العلم والاهتمام بالأدب وممارسته. وقد احتفظ أعلام مالقة بمراجعات شعرية ونثرية تبادلها هذا الشيخ مع القاضي أبي عبد الله بن عسكر.
ولم يمتد عمر هذا الشيخ فيستفيد منه ابن خميس في مجالات العلم والأدب، إذ توفي الشيخ وابن خميس ما يزال حدثا لم يبلغ درجة الأخذ.
7 - عبد الله بن يوسف بن الشيخ البلوي (ت 633)(2):
ترجم له في أعلام مالقة وذكر أخذه عنه بقوله: «وقد أجازني وتلفظ بالإجازة»
(3).
وعبد الله هذا كانت له رواية واهتمام بالعلم. أخذ عن والده أبي الحجاج بن الشيخ، وعن كثير من علماء مالقة والأندلس، ورحل إلى المشرق حيث أقام بالعراق ثلاثة أعوام أخذ فيها على علماء بغداد ومشايخها.
وقد تحصلت له رواية واسعة، كما تحصل له علم كثير في الفقه والأصول والتفسير وغير ذلك. وقد أخذ عنه كثير من طلبة مالقة وعلمائها. في مقدمتهم ابنه أبو محمد عبد العظيم
(4) ابن الشيخ، وأبو بكر بن خميس.
وتوفي بمالقة في محرم عام 633.
--------------------------------------------
৬ - মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন আম্মার আল-মাকতাব (মৃত্যু ৬২৪)(১):
তিনি মাকতাবে আবু বকর বিন খামিসের শিক্ষক ছিলেন। তিনিই সর্বপ্রথম তাঁকে কুরআন পাঠ করান এবং শিক্ষা দান করেন। তিনি তাঁর প্রতি অত্যন্ত সদয় ছিলেন যখন তিনি ছয় বছরের ছোট শিশু ছিলেন; তিনি তাঁর সাথে অত্যন্ত কোমল আচরণ করতেন এবং তাঁকে এমনভাবে স্নেহ করতেন যেন তিনি তাঁর পিতা বা কোনো নিকটাত্মীয়। সম্ভবত শেখ এবং ইবনে খামিসের মামা কাজী ইবনে আসকারের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এমনটি ছিল।
শেখ ইবনে আম্মার মালাগায় একটি মাকতাবের (প্রাথমিক বিদ্যালয়) মালিক ছিলেন, তবে তিনি জ্ঞান ও সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগী এবং এর চর্চায় উচ্চ পর্যায়ের অধিকারী ছিলেন। মালাগার মনীষীগণ এই শেখ এবং কাজী আবু আব্দুল্লাহ বিন আসকারের মধ্যে বিনিময়কৃত কাব্যিক ও গদ্যের পত্রালাপসমূহ সংরক্ষণ করেছেন।
এই শেখের আয়ু দীর্ঘ হয়নি যাতে ইবনে খামিস তাঁর থেকে জ্ঞান ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে আরও উপকৃত হতে পারেন, কারণ শেখ যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন ইবনে খামিস তখনও অল্পবয়স্ক ছিলেন এবং জ্ঞান অর্জনের পরিণত স্তরে পৌঁছাননি।
৭ - আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন আল-শেখ আল-বালউয়ী (মৃত্যু ৬৩৩)(২):
'আলামু মালাগা' গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে: "তিনি আমাকে ইজাযত দিয়েছেন এবং মৌখিকভাবে ইজাযত প্রদান করেছেন"
(৩)।
এই আব্দুল্লাহর রেওয়ায়েত ও জ্ঞানের প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। তিনি তাঁর পিতা আবু আল-হাজ্জাজ বিন আল-শেখ এবং মালাগা ও আন্দালুসের বহু আলেমের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি প্রাচ্যের দেশগুলোতে সফর করেন এবং ইরাকে তিন বছর অবস্থান করেন, সেখানে তিনি বাগদাদের আলেম ও মাশায়েখদের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন।
তিনি ব্যাপক রেওয়ায়েত সংগ্রহ করেছিলেন এবং ফিকহ, উসুল, তাফসীর ও অন্যান্য বিষয়ে প্রভূত জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। মালাগার অনেক ছাত্র ও আলেম তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাদের অগ্রভাগে ছিলেন তাঁর পুত্র আবু মুহাম্মদ আব্দুল আযীম
(৪) ইবনুল শেখ এবং আবু বকর বিন খামিস।
তিনি ৬৩৩ হিজরীর মহররম মাসে মালাগায় মৃত্যুবরণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলামু মালাকাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
8 - أبو محمد عبد الله بن محمد بن إبراهيم الباهلي المالقي(1) (ت 642):وصفه بشيخنا في أعلام مالقة حين الحديث على شعراء المقامة المحسنية
(2) فقال: «ولشيخنا الفقيه
…» وأبو محمد الباهلي من مشاهير علماء مالقة، ومن أقران القاضي بن عسكر. وصفه ابن الزبير بأنه كان فقيها أديبا فصيحا سنيا
(3). وكان له مجلس حافل بجامع مالقة كثير الإفادة والانتفاع. أخذ عن أبي الحجاج بن الشيخ وأبي عمرو بن سالم وغيرهما من علماء مالقة.
وأخذ عنه كثير من طلبة مالقة، مثل أبي بكر بن خميس وأبي عبد الله الطنجالي، وغيرهما. وتوفي بمالقة عام 642.
9 - أبو زيد عبد الرحمن الخزرجي القمارشي(4) (ت 637):صرح ابن خميس بالأخذ عنه فقال: «قرأت عليه وأخذت عنه وأجازني إجازة عامة»
(5).
وهو أي القمارشي من جلّة طلبة مالقة، له اهتمام بالحديث رواية عن أبي جعفر بن حكم وغيره. كان في أول أمره فقيها يعقد الوثائق ثم صار في آخر عمره معلم كتاب بداخل مالقة فأخذ عنه الناس واستفادوا منه. وفي موضع كتابه لقيه أبو الحسن الرعيني فأخذ عنه وأجازه
(6).
أخذ عنه من علماء مالقة القاضي أبو عبد الله بن عسكر
(7)، وهو في عداد أصحابه، وأبو بكر حميد
(8)، وأبو بكر بن خميس، وغيرهم. وتوفي بمالقة عام 637.
--------------------------------------------
৮ - আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-বাহিলি আল-মালাকি(১) (মৃত্যু ৬৪২):'আলামু মালাকা' গ্রন্থে 'মাকামাহ আল-মুহসিনিয়্যাহ'-এর কবিদের সম্পর্কে আলোচনার সময় তাকে 'আমাদের শাইখ' হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়েছে:
(২) «আর আমাদের শাইখ ফকিহ
...» আবু মুহাম্মদ আল-বাহিলি ছিলেন মালাকার বিখ্যাত আলেমদের একজন এবং কাজি ইবনে আসকারের সমসাময়িক। ইবনে আল-জুবায়ের তাকে একজন ফকিহ, সাহিত্যিক, বাগ্মী এবং সুন্নি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(৩) মালাকা জামে মসজিদে তার একটি জনাকীর্ণ মজলিস ছিল, যা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও উপকারী ছিল। তিনি আবুল হাজ্জাজ ইবনে আল-শাইখ, আবু আমর ইবনে সালিম এবং মালাকার অন্যান্য আলেমদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।
মালাকার অনেক শিক্ষার্থী তার কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, যেমন আবু বকর ইবনে খামিস এবং আবু আবদুল্লাহ আল-তানজালি প্রমুখ। তিনি ৬৪২ হিজরি সনে মালাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
৯ - আবু যাইদ আবদুর রহমান আল-খাজরাজি আল-কুমারশি(৪) (মৃত্যু ৬৩৭):ইবনে খামিস তার থেকে শিক্ষা গ্রহণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেন: «আমি তার কাছে পড়েছি এবং তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছি, আর তিনি আমাকে সাধারণ ইজাজত প্রদান করেছেন»
(৫)।
তিনি অর্থাৎ আল-কুমারশি মালাকার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের একজন ছিলেন, আবু জাফর ইবনে হাকাম ও অন্যদের থেকে হাদিস বর্ণনার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। জীবনের প্রথম দিকে তিনি একজন ফকিহ ছিলেন যিনি দলিলপত্র সম্পাদনের কাজ করতেন, অতঃপর জীবনের শেষভাগে তিনি মালাকার অভ্যন্তরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হন, ফলে মানুষ তার কাছে জ্ঞান অর্জন করে এবং তার দ্বারা উপকৃত হয়। তার শিক্ষকতা করার স্থানেই আবু হাসান আল-রুয়াইনি তার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন ও ইজাজত লাভ করেন
(৬)।
মালাকার আলেমদের মধ্যে কাজি আবু আবদুল্লাহ ইবনে আসকার
(৭)—যিনি তার সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত—আবু বকর হুমাইদ
(৮), আবু বকর ইবনে খামis এবং অন্যরা তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি ৬৩৭ হিজরি সনে মালাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
--------------------------------------------