(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
أصول وشواهد النظر العقلي في القرآن والفكر الإسلامي القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: أصول وشواهد النظر العقلي في القرآن والفكر الإسلامي
المؤلف: د. عبد القادر محمود
[الكتاب مرقم آليا]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কুরআন ও ইসলামি চিন্তাধারায় বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির মূলনীতি (أصول) ও প্রমাণসমূহ বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)
বই: কুরআন ও ইসলামি চিন্তাধারায় বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির মূলনীতি (أصول) ও প্রমাণসমূহ
লেখক: ড. আব্দুল কাদির মাহমুদ
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে]
শামেলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم
الكتاب:
أصول وشواهد النظر العقلي في القرآن والفكر الإسلاميالمؤلف: د. عبد القادر محمود
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
গ্রন্থ:
কুরআন ও ইসলামি চিন্তাধারায় বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যবেক্ষণের মূলনীতি (أصول) ও নিদর্শনসমূহ (شواهد)লেখক: ড. আব্দুল কাদির মাহমুদ
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২)
أصُوُلُ وَشَواهِدُ النَّظَر العَقلي في القُرآنِ وَالفِكرِ الإسلاميلا شك في أن التديّن، سابقّ على التفلسف. وقبل ظهور فلاسفة اليونان، كانت هنا: ديانات مُنَزَّلةٌ معروفةٌ، وأخرى غير منزّلة، ولا ريب في أنّ فلاسفة اليونان عرفوا ذلك، وانطبعت عقولهم بالكثير منه، خصوصاً أفلاطون، لكن اليونان بوجه عام، في تصوراتهم للألوهية وأحاديثهم عنها، كانوا يعتمدون على ملكاتهم الفكرية الطبيعية. حقيقة أخرى خاصة بالديانة اليهودية; فعلى الرغم من أن اليهودية ظهرت قبل الفلسفة اليونانية وكانت أسبق عليها; فإنه لم يظهر بين اليهود من تفلسف، إلاّ بعد ظهور الفلسفة اليونانية. كان ذلك: على يد فيلوان السكندري (30 ق. م ـ 50م) ; لكننا في الحقيقة لا نجد عنده ولا عند فلسفته نظراً عقلياً، وتفسيراً علميّاً فلسفياً لهذا العالم، ولا أدلّةً نظرية لإثبات وجود الله، ولا فلسفة لاهوتية بمعنى الكلمة، وإن وجدنا فقط تأويلات رمزية للتوراة، ونزعات روحية، فيها عناصر أفلاطونية، مع دفاع عن الدين. أما فلاسفة اليهود الذين يشار إليهم ويُعتَدُّ بهم، من بدايات نشأة التفكير الفلسفي بين اليهود حتى ظهور موسى بن ميمون (ت1204 هـ) ، فإنهم نبغوا بفضل الحضارة الإسلامية بالذات، وبفضل الفكر الإسلامي بالذات، وهم ينتمون جميعاً من الناحية الفلسفية، إلى التيارات الكبرى عند فلاسفة الإسلام (2) .
وكان ظهور المسيحية، واختلاط عناصر الفلسفة، بتصوّرات علماء اللاهوت المسيحيين، مجالاً لظهور آراء في الألوهيّة. لكنّ أوَّل كلام له وَزنُه، فيما يتعلق بالله، وإثبات وجود الله، هو ما نجده عند «أوغسطين» (ت340م) ثم عند «انسلم» (ت1109م) .
কুরআন ও ইসলামি চিন্তায় যৌক্তিক পর্যালোচনার মূলনীতি ও প্রমাণসমূহএতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ধর্মতাত্ত্বিক চর্চা দর্শনচর্চার পূর্ববর্তী। গ্রিক দার্শনিকদের আবির্ভাবের পূর্বে এখানে সুপরিচিত আসমানি ধর্মসমূহ এবং অন্যান্য অনাসমানি ধর্ম বিদ্যমান ছিল। এতে কোনো সংশয় নেই যে, গ্রিক দার্শনিকগণ এ সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং তাদের চিন্তাধারায় এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল, বিশেষ করে প্লেটোর ক্ষেত্রে। তবে গ্রিকরা সাধারণত ঈশ্বরত্ব সম্পর্কে তাদের ধারণা ও আলোচনায় তাদের সহজাত বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতার ওপর নির্ভর করত। ইহুদি ধর্ম সংক্রান্ত আরেকটি বিশেষ সত্য হলো; যদিও ইহুদি ধর্ম গ্রিক দর্শনের আগে আবির্ভূত হয়েছিল এবং এটি আরও প্রাচীন ছিল, তবুও গ্রিক দর্শনের আবির্ভাবের আগে ইহুদিদের মধ্যে কোনো দার্শনিক আবির্ভূত হননি। এটি আলেকজান্দ্রিয়ার ফিলো (৩০ খ্রিষ্টপূর্ব – ৫০ খ্রিষ্টাব্দ) এর হাত ধরে শুরু হয়েছিল; কিন্তু বাস্তবে আমরা তার কাছে বা তার দর্শনে এই জগৎ সম্পর্কে কোনো যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা বৈজ্ঞানিক-দার্শনিক ব্যাখ্যা খুঁজে পাই না। এমনকি আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য কোনো তাত্ত্বিক প্রমাণ কিংবা সঠিক অর্থে কোনো ঈশ্বরতাত্ত্বিক দর্শনও সেখানে নেই; বরং আমরা সেখানে কেবল তাওরাতের রূপক ব্যাখ্যা এবং আধ্যাত্মিক প্রবণতা খুঁজে পাই, যাতে ধর্মীয় প্রতিরক্ষার পাশাপাশি প্লেটোবাদী উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে। আর যেসব ইহুদি দার্শনিকদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয় এবং যাদের নির্ভরযোগ্য গণ্য করা হয়—ইহুদিদের মধ্যে দার্শনিক চিন্তার সূচনা থেকে মুসা ইবনে মাইমুন (মৃত্যু ১২০৪ হিজরি) এর আবির্ভাব পর্যন্ত—তারা মূলত ইসলামি সভ্যতারই অবদানে এবং বিশেষ করে ইসলামি চিন্তাধারার বদৌলতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারা সকলেই ইসলামি দার্শনিকদের প্রধান ধারাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
খ্রিস্টধর্মের আবির্ভাব এবং খ্রিস্টান ধর্মতাত্ত্বিকদের ধারণার সাথে দর্শনের উপাদানগুলোর সংমিশ্রণ ঈশ্বরত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদ প্রকাশের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল। তবে আল্লাহ এবং আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের বিষয়ে গুরুত্ববহ প্রথম আলোচনা আমরা ‘অগাস্টিন’ (মৃত্যু ৩৪০ খ্রিষ্টাব্দ) এবং পরবর্তীতে ‘আনসেলম’ (মৃত্যু ১১০৯ খ্রিষ্টাব্দ)-এর নিকট লক্ষ্য করি।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
أما «أوغسطين» فيستدلّ على وجود الله من النظر، في هذا العالم المحسوس، الذي يدل تغيُّرُه على أنّه مخلوق، ويدلّ نظامُه البديع على أنه مصنوع (3) . ويضيف «أوغسطين» حقيقة جديدة، هي أن ذات الله لا يمكن إدراكها بالمفهومات الإنسانية فهو «يُعرف بأنّه لا يعرف» ، وهو قد خلق الأشياء عن لا شيء، بِفعل إراديِّ حرّ كامل. ومعنى هذا أن أوغسطين، يرفض تماماً، ما ذهب إليه أفلاطون وأرسطو، من وجود «هيولى» قديمة إلى جانب علّة العالم، كما يرفض القول بالصُّدور، على ما هو معروف في الأفلوطينية المحدثة (4) .
وأمّا «أنسلم» فهو يؤكد أننا نتصور ونَعقَل وجود كائن لا يمكن تصوّر ما هُوَ أعظم منه، لكن هذا الكائن لا يمكن أن يكون في الذّهن فقط، لأنه إنّ كان كذلك، فنحن نستطيع أن نتصوره موجوداً في الحقيقة، أي خارج الذهن، وهو في هذه الحالة يكون أعظم.
وإذن، فلو كان الكائن، الذي لا أعظم منه، موجوداً في الذهن فقط، فكأننا نقول: ما لا يُتَصَوَّر أعظم منه، يمكن أن يتصور أعظم منه!! وهذا تناقض.
وعلى هذا فالكائن الذي لا أعظم منه، لابد أن يكون موجوداً في الذهن، كمفهوم، وخارج الذهن كشيء حقيقي موجود بالفعل (5) .
وقد ظل هذا الدليل موضع جدال وخلاف بين الفلاسفة، وكان أقوى من رَفَضَه واعتبره لوناً من السفسطة، (توماس الأكويني) (ت1274م) . ومن الواضح أن الأكويني ـ وهو متأثر بمدرسة ابن رشد ـ كان يرى، كما رأى بعض فلاسفة المتكلمين في الإسلام بوجه عام، أن المعرفة بالله، ليست بديهية أو ضرورية كما يقولون، يقصدون أن العقل لا يمكنه إنكارها. ويمكن الرجوع في هذا إلى المستشرق الأسباني، آسين بلاسيوس في بعض مباحثه عن الأكويني والمدرسة الإسلامية في الثلاثينات من هذا القرن العشرين.
পক্ষান্তরে «অগাস্টিন» এই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের পর্যালোচনার মাধ্যমে আল্লাহর অস্তিত্বের সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করেন; এই জগতের পরিবর্তনশীলতা প্রমাণ করে যে এটি সৃষ্টি, এবং এর চমৎকার সুশৃঙ্খল বিন্যাস প্রমাণ করে যে এটি নির্মিত (৩)। অগাস্টিন একটি নতুন সত্য যোগ করেন যে, আল্লাহর সত্তাকে মানবিক ধারণার মাধ্যমে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়, ফলে তিনি «এমনভাবে পরিচিত যে তিনি পরিচিত নন»। তিনি একটি পূর্ণ স্বাধীন ইচ্ছার মাধ্যমে শূন্য থেকে সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। এর অর্থ হলো, অগাস্টিন প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের এই মতবাদকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেন যে, জগতের আদি কারণের পাশাপাশি একটি অনাদি ‘আদিম বস্তু’ বিদ্যমান ছিল। তেমনিভাবে তিনি নব্য-প্লেটোবাদে পরিচিত ‘নিঃসরণ’ মতবাদকেও প্রত্যাখ্যান করেন (৪)।
আর «অ্যানসেলাম» দৃঢ়ভাবে বলেন যে, আমরা এমন এক সত্তার অস্তিত্ব কল্পনা ও অনুধাবন করি যার চেয়ে মহান আর কিছুই কল্পনা করা সম্ভব নয়। কিন্তু এই সত্তা কেবল মনে বা মস্তিষ্কেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; কারণ যদি তা কেবল মনেই থাকত, তবে আমরা তাঁকে বাস্তবেও বিদ্যমান বলে কল্পনা করতে পারতাম—অর্থাৎ মনের বাইরেও—আর সেই অবস্থায় তিনি আরও মহান হতেন।
সুতরাং, যাঁর চেয়ে মহান আর কিছু নেই, এমন সত্তা যদি কেবল মনেই বিরাজমান থাকত, তবে তা এমন হতো যেন আমরা বলছি: যাঁর চেয়ে মহান আর কিছু কল্পনা করা যায় না, তাঁর চেয়েও মহান কিছু কল্পনা করা সম্ভব!! আর এটি একটি স্ববিরোধিতা।
অতএব, যাঁর চেয়ে মহান আর কিছু নেই, এমন সত্তাকে অবশ্যই মনে একটি ধারণা হিসেবে এবং মনের বাইরে একটি বাস্তব ও কার্যকর অস্তিত্ব হিসেবে বিদ্যমান থাকতে হবে (৫)।
দার্শনিকদের মধ্যে এই প্রমাণটি দীর্ঘকাল বিতর্ক ও মতভেদের বিষয় হয়ে ছিল। যারা একে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং একে এক ধরনের কুতর্ক হিসেবে গণ্য করেছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিলেন থমাস অ্যাকুইনাস (মৃত্যু ১২৭৪ খ্রি.)। এটি স্পষ্ট যে, অ্যাকুইনাস—যিনি ইবনে রুশদের দর্শনের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন—তিনি মনে করতেন (যেমনটি সাধারণভাবে ইসলামের কিছু ধর্মতত্ত্ববিদ বা মুতাকাল্লিমগণ মনে করতেন) যে, আল্লাহ সম্পর্কিত জ্ঞান ‘স্বতঃসিদ্ধ’ (بديهية) বা ‘অপরিহার্য’ (ضرورية) নয় যেমনটি তারা দাবি করেন; তাদের উদ্দেশ্য হলো যে, মানুষের বুদ্ধি একে অস্বীকার করতে পারে না। এ বিষয়ে বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকে স্প্যানিশ প্রাচ্যবিদ আসিন প্যালাসিওস-এর অ্যাকুইনাস এবং ইসলামি চিন্তাধারা বিষয়ক কিছু গবেষণার সূত্র গ্রহণ করা যেতে পারে।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
وكان ظهور الإسلام بكتابه الحكيم هو الحقيقة العظمى، كما كان مدخل التحوّل، في تاريخ الدين المنزَّل، والتفكير الديني أو العلمي والفلسفي معاً وجميعاً. فقد جاء فيما يتعلق بالألوهية، بالمفهوم الكامل الواضح للإله، بالمعنى الحقيقي لهذه الكلمة، وجاء يبني الإيمان على نظر العقل وثمرة المعرفة، وجعل موضوعات العقائد مسائل بحثٍ، وموضوع دليل وبرهان، ورسم منهجاً من المعرفة، يحدّد سبيلها، بُوُجود الله، وما له من صفات الكمال.
إنّ الذي يعنينا في هذه الكلمة، هو أن القرآن، حين عظّم أمر العلم والحكمة، أمر بالنظر العقلي البصير، في آيات الكون الظاهرة، داعياً للتأمل في أسرارها الخفية، عن طريق الحس والوجدان والعقل معاً وجميعاً والقرآن الحكيم حين يتكلم عن الله سبحانه، في ذاته، وصفاته، وأفعاله، وتدبيره لهذا العالم، فإنه يبيّن لنا أن المنهج إلى معرفة ذلك: هو النظر العقلي المتكامل الصحيح في هذا العالم بكل إبداعاته وإجازاته الكونية والطبيعية، ومع سائر مخلوقاته وكائناته على السواء.
والقرآن الحكيم حين يعيب أهل التقليد فيصفهم بأنهم صمٌ بكمٌ عُميٌ فهم لا يعقلون، يؤكد أن مقاصد آياته ومعانيها، إنما تتجلّى للعلماء، والراسخين في العلم، أولئك الذين يدركون ضرورة وجود الإله الحق، ويَدعون فيما يَدعون إلى تعظيمه وخَشيَته: ?إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاء? (الآية 28، فاطر) .
প্রজ্ঞাময় কিতাবসহ ইসলামের আবির্ভাব ছিল এক মহত্তম সত্য, ঠিক যেমন এটি ছিল অবতীর্ণ দ্বীনের ইতিহাসে এবং একই সাথে ধর্মীয়, বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক চিন্তাধারার ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণ। ইলাহ বা উপাস্য হওয়ার ক্ষেত্রে এটি এই শব্দের প্রকৃত অর্থে ইলাহের এক পূর্ণাঙ্গ ও সুস্পষ্ট ধারণা নিয়ে এসেছে। এটি ঈমানের ভিত্তি স্থাপন করেছে বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যবেক্ষণ ও জ্ঞানের নির্যাসের ওপর। এটি আকিদাহর বিষয়গুলোকে গবেষণার প্রতিপাদ্য এবং দলীল ও প্রমাণের বিষয়ে পরিণত করেছে এবং জ্ঞানের এমন এক পদ্ধতি অঙ্কন করেছে, যা আল্লাহর অস্তিত্ব এবং তাঁর পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির পথ সুনির্দিষ্ট করে।
আমাদের এই আলোচনার মূল কথা হলো, কুরআন যখন জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বিষয়টিকে মহিমান্বিত করেছে, তখন এটি মহাবিশ্বের প্রকাশ্য নিদর্শনাবলির ওপর দূরদর্শী বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে; এবং একই সাথে ইন্দ্রিয়, বোধ ও বুদ্ধিবৃত্তির সমন্বয়ে এর নিগূঢ় রহস্যসমূহ নিয়ে চিন্তাভাবনার আহ্বান জানিয়েছে। আল-কুরআনুল হাকিম যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সত্তা, গুণাবলি, কার্যাবলি এবং এই মহাবিশ্ব পরিচালনায় তাঁর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আলোচনা করে, তখন এটি আমাদের নিকট স্পষ্ট করে দেয় যে, তা জানার পদ্ধতি হলো: এই জগতের প্রতিটি মহাজাগতিক ও প্রাকৃতিক সৃজনশীলতা ও বিস্ময় এবং সেই সাথে অন্য সকল সৃষ্টির ক্ষেত্রে এক সুসংহত ও সঠিক (صحيح) বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যবেক্ষণ।
আল-কুরআনুল হাকিম যখন অন্ধ অনুকরণের অনুসারীদের নিন্দা করে তাদের বধির, বোবা ও অন্ধ হিসেবে বর্ণনা করে এবং বলে যে তারা অনুধাবন করে না, তখন এটি নিশ্চিত করে যে, এর আয়াতসমূহের উদ্দেশ্য ও মর্মার্থ কেবল আলেম বা জ্ঞানী এবং যারা জ্ঞানে সুগভীর, তাদের নিকটই প্রতিভাত হয়। তারাই সেই ব্যক্তি যারা সত্য ইলাহের অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন এবং অন্যদের মাঝে তাঁর মহিমা ও ভীতি প্রচার করেন: “আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই আল্লাহকে ভয় করে” (আয়াত ২৮, ফাতির)।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
وإذا كان القرآن يشير في بعض آياته إلى أنّ المعرفة بالله كامنةٌ في الفطرة الأصلية، فطرة الروح الإنسانية، على حالتها الأولى، قبل أن تظهر في هذا العالم، وتستخدم فيه، هذا المركّب البديع، الذي هو البَدَن، ومالَهُ من حواسّ ظاهرة وباطنة، ومن جوارح، فإنه يُوجِّهُ عقل الإنسان إلى الطريق السويّ، لمعرفة الله، بأن نبّهَهُ إلى النظر في العالم وفي نفسه معاً: ?وَفِي الْأَرْضِ آيَاتٌ لِّلْمُوقِنِينَ / وَفِي أَنفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ? (الآية 20 ـ 21، الذاريات) . ?إِنَّ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَآيَاتٍ لِّلْمُؤْمِنِينَ / وَفِي خَلْقِكُمْ وَمَا يَبُثُّ مِن دَابَّةٍ آيَاتٌ لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ? (الآية 3 ـ 4، الجاثية) . ?أَفِي اللهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ? (الآية 10، إبراهيم) . ?سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ? (الآية 53، فصّلت) . فالقرآن يجعل نقطة البداية لمعرفة الله، ما يشاهده الإنسان في الكون وفي نفسه.
وتدلّ آيات كثيرة في القرآن، على أن المقصود مما يشاهده الإنسان في نفسه، هو نشأته وتقلُّبه في مراحل الخِلقة، وبنيتهُ، وأعضاؤه، وجوارحهُ، إلى جانب ما يدركُه الإنسان في حياته الباطنة: حياة الفكر، وحياة النفس. معنى هذا أن القرآن لا يجعل أساس النظر العقلي، المؤدِّي إلى معرفة الله، مفهوماتٍ مجرّدة، ولا معانِيَ ذهنية، ولا قضايا نظرية جَدَليّة، وهو حتى عندما يريد أن يجادل، لا يجعل موضوع الجدال، خارجاً، أو بعيداً عن نطاق المُشَاهَد الذي يدركه الإنسان مباشرة.
যদিত্ত কুরআন তার কিছু আয়াতে এই ইঙ্গিত প্রদান করে যে, আল্লাহর পরিচয় মানুষের আদি স্বভাবজাত প্রবৃত্তি তথা মানবাত্মার মূল প্রকৃতির মাঝে নিহিত রয়েছে—যা এই নশ্বর পৃথিবীতে মানুষের আবির্ভাবের এবং বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ ইন্দ্রিয় ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশিষ্ট এই চমৎকার দৈহিক অবয়ব ব্যবহারের পূর্বাবস্থা; তথাপি এটি আল্লাহর পরিচয়ের ক্ষেত্রে মানুষের বিবেককে সঠিক পথের দিশা প্রদান করে। আর তা হচ্ছে বিশ্বজগৎ এবং মানুষের নিজ সত্তার প্রতি যুগপৎ দৃষ্টি নিবদ্ধ করার বিষয়ে সচেতন করার মাধ্যমে: "নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য পৃথিবীতে বহু নিদর্শন রয়েছে। এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও; তবে কি তোমরা লক্ষ্য করো না?" (আয়াত ২০-২১, আয-যারিয়াত)। "নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনে মুমিনদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে। আর তোমাদের সৃষ্টিতে এবং ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে থাকা জীবজন্তুর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা নিশ্চিত বিশ্বাসী।" (আয়াত ৩-৪, আল-জাসিয়া)। "আল্লাহ সম্পর্কে কি কোনো সন্দেহ আছে, যিনি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা?" (আয়াত ১০, ইবরাহিম)। "শীঘ্রই আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ প্রদর্শন করব বিশ্ব দিগন্তে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, এটিই সত্য। আপনার রবের ব্যাপারে কি এটি যথেষ্ট নয় যে, তিনি সব কিছুর ওপর সাক্ষী (شهيد)?" (আয়াত ৫৩, ফুসসিলাত)। সুতরাং কুরআন আল্লাহর পরিচয়ের প্রারম্ভিক বিন্দু হিসেবে নির্ধারণ করেছে মানুষ বিশ্বজগতে এবং নিজের মাঝে যা প্রত্যক্ষ করে তাকেই।
কুরআনের বহু আয়াত একথাই প্রমাণ করে যে, মানুষ নিজের মধ্যে যা প্রত্যক্ষ করে তা দ্বারা তার উদ্ভব, সৃষ্টি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে তার বিবর্তন, তার শারীরিক গঠন, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং হাত-পা বুঝানো হয়েছে; এর পাশাপাশি রয়েছে মানুষের অভ্যন্তরীণ জীবনের উপলব্ধি: যা তার চিন্তা ও নফসের জীবন। এর অর্থ হলো, কুরআন আল্লাহর পরিচয়ের দিকে ধাবিত হওয়া যৌক্তিক চিন্তার ভিত্তি হিসেবে কোনো বিমূর্ত ধারণা, নিছক মানসিক কল্পনা কিংবা কোনো তাত্ত্বিক বিতর্কমূলক বিষয়কে সাব্যস্ত করে না। এমনকি কুরআন যখন কোনো বিষয়ে বিতর্ক উপস্থাপন করতে চায়, তখনো সেই বিতর্কের বিষয়বস্তুকে মানুষের সরাসরি অনুধাবনযোগ্য বা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার গণ্ডির বাইরে কিংবা দূরবর্তী কোনো স্থানে নিয়ে যায় না।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
فأمامنا هذه الآية الكريمة التي ترينا منهج القرآن في الإرشاد إلى معرفة الله
… ? وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لَاّ إِلَهَ إِلَاّ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنفَعُ النَّاسَ وَمَا أَنزَلَ اللهُ مِنَ السَّمَاء مِن مَّاء فَأَحْيَا بِهِ الأرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَآبَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخِّرِ بَيْنَ السَّمَاء وَالأَرْضِ لآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَعْقِلُونَ? (الآية 163 ـ 164، البقرة) .
ونلاحظ أن الآية الكريمة قد وضعت القضية أوّلاً، وهي وجود الإله الواحد الأحد، ثم نبّهت وأرشدت إلى الطريق للمعرفة به، وأكدت فيما أكدّت، أن هذا الطريق فقط لمن يستعمل عقله.
আমাদের সম্মুখে এই মহান আয়াতটি বিদ্যমান, যা আল্লাহর পরিচয় লাভের নির্দেশনার ক্ষেত্রে কুরআনের পদ্ধতি প্রদর্শন করে
… “আর তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ; তিনি ছাড়া অন্য কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, তিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের পরিবর্তনে, সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজসমূহে যা মানুষের উপকারে আসে, আকাশ থেকে আল্লাহর বর্ষিত বৃষ্টিতে যার মাধ্যমে তিনি পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন এবং তাতে সকল প্রকার প্রাণীর বিস্তার ঘটান, আর বায়ুর প্রবাহে এবং আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী নিয়ন্ত্রিত মেঘমালায় অবশ্যই জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।” (আয়াত ১৬৩-১৬৪, আল-বাকারাহ)।
আমরা লক্ষ্য করি যে, এই মহান আয়াতটি প্রথমে মূল বিষয়টি উপস্থাপন করেছে, আর তা হলো এক ও অদ্বিতীয় ইলাহ-এর অস্তিত্ব; অতঃপর এটি তাঁর পরিচয় লাভের পথের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে এবং অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেছে যে, এই পথটি কেবল তাদের জন্য যারা নিজেদের বুদ্ধি ও বিবেককে কাজে লাগায়।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
ولنتأمل بوعي وبصيرة هذه الآيات الكريمة: ?فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ / وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ / يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَيُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَكَذَلِكَ تُخْرَجُونَ / وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ إِذَا أَنتُم بَشَرٌ تَنتَشِرُونَ / وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ / وَمِنْ آيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِّلْعَالِمِينَ / وَمِنْ آيَاتِهِ مَنَامُكُم بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَابْتِغَاؤُكُم مِّن فَضْلِهِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَسْمَعُونَ / وَمِنْ آيَاتِهِ يُرِيكُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَطَمَعًا وَيُنَزِّلُ مِنَ السَّمَاء مَاء فَيُحْيِي بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَعْقِلُونَ /وَمِنْ آيَاتِهِ أَن تَقُومَ السَّمَاء وَالْأَرْضُ بِأَمْرِهِ ثُمَّ إِذَا دَعَاكُمْ دَعْوَةً مِّنَ الْأَرْضِ إِذَا أَنتُمْ تَخْرُجُونَ / وَلَهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ كُلٌّ لَّهُ قَانِتُونَ / وَهُوَ الَّذِي يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ وَلَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلَى فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ / ضَرَبَ لَكُم مَّثَلًا مِنْ أَنفُسِكُمْ هَل لَّكُم مِّن مَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُم مِّن شُرَكَاء فِي مَا رَزَقْنَاكُمْ فَأَنتُمْ فِيهِ سَوَاء تَخَافُونَهُمْ كَخِيفَتِكُمْ أَنفُسَكُمْ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ
আসুন আমরা সচেতনতা ও অন্তর্দৃষ্টির সাথে এই মহান আয়াতগুলো নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করি: সুতরাং তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করো যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং যখন ভোরে উপনীত হও। / আর আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে তাঁরই প্রশংসা, এবং অপরাহ্নে ও যখন তোমরা দ্বিপ্রহরে উপনীত হও। / তিনি মৃত থেকে জীবিতকে নির্গত করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে নির্গত করেন এবং ভূমির মৃত্যুর পর তাকে পুনর্জীবিত করেন; এভাবেই তোমাদেরকেও বের করা হবে। / তাঁর নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো যে, তিনি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন; অতঃপর এখন তোমরা মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছ। / তাঁর আরও নিদর্শন হলো যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করতে পারো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। / তাঁর আরও নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত হলো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। / তাঁর আরও নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত হলো রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা এবং তাঁর অনুগ্রহ থেকে তোমাদের অন্বেষণ। নিশ্চয় এতে শ্রবণকারী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। / তাঁর আরও নিদর্শন হলো যে, তিনি তোমাদের ভয় ও ভরসা হিসেবে বিদ্যুৎ দেখান এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দ্বারা ভূমির মৃত্যুর পর তাকে পুনর্জীবিত করেন। নিশ্চয় এতে বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। / তাঁর আরও নিদর্শন হলো যে, আকাশ ও পৃথিবী তাঁরই আদেশে দণ্ডায়মান থাকে; অতঃপর যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে একবার ডাক দেবেন, তখনই তোমরা বের হয়ে আসবে। / আর আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব তাঁরই; সবাই তাঁর অনুগত। / তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তিনি একে পুনরায় সৃষ্টি করবেন; আর এটি তাঁর জন্য অধিকতর সহজ। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ গুণাবলি তাঁরই এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। / তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে একটি দৃষ্টান্ত পেশ করছেন: আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তোমাদের মালিকানাধীন দাসদের মধ্যে কেউ কি তাতে তোমাদের সমান অংশীদার আছে, যাদেরকে তোমরা নিজেদের মতো ভয় করো? এভাবেই আমি বিস্তারিত বর্ণনা করি
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ / بَلِ اتَّبَعَ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَهْوَاءهُم بِغَيْرِ عِلْمٍ فَمَن يَهْدِي مَنْ أَضَلَّ اللَّهُ وَمَا لَهُم مِّن نَّاصِرِينَ / فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ? (الآيات 17 ـ 30، الروم) .
في هذه الآيات الطيبات، نجد أنّ وضع القضية، معرفةُ الله وتعظيمه وتمجيده، في توحيده المؤكد لصدق الإيمان به
… ثم يأتي الحديث عن تدبير الله الحكيم للأشياء، وعن آيات الكون، ثم تأتي الإشارة الدقيقة إلى أولئك الذين ظلموا أنفسهم باتباع أهوائهم، وبُعدهم التام عن نهج العقل وهدايته
… أولئك الذين لم يستندوا إلى علم، أو هُدّى من عقل، أو كتابٍ مُنير، ولم يسلكوا طريق العلم، المؤدّي إلى المعرفة بالله
… ثم يأتي التوجيه الإلهي إلى الدين الحق، مع الإشارة إلى أنّ الدين القائم على العلم، يُطابق الفطرة الإنسانية، أي الفطرة الأولى الأصلية التطر فَطَرَ النَّاس عليها، والفطرة الحاليّة، التي تتلخّص في العلم والعقل واستعمالهما الاستعمال الصحيح.
ولننظر بعين العقل إلى هذه الآيات: ?أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاء كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ / وَجَعَلْنَا فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِهِمْ وَجَعَلْنَا فِيهَا فِجَاجًا سُبُلًا لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ / وَجَعَلْنَا السَّمَاء سَقْفًا مَّحْفُوظًا وَهُمْ عَنْ آيَاتِهَا مُعْرِضُونَ / وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ? (الآيات 30 ـ 33، الأنبياء) .
...বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলী। / বরং যারা সীমালঙ্ঘন করেছে, তারা জ্ঞান ছাড়াই নিজেদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেছে। সুতরাং আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাকে কে পথ দেখাবে? আর তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই। / সুতরাং আপনি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত রাখুন। এটিই আল্লাহর সেই প্রকৃতি, যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। (আয়াত ১৭ — ৩০, আর-রূম) ।
এই বরকতময় আয়াতগুলোতে আমরা দেখতে পাই যে, মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো আল্লাহর পরিচয় লাভ এবং তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা; যা তাঁর তাওহীদের আলোচনায় বিধৃত হয়েছে এবং তাঁর প্রতি ঈমানের সত্যতাকে সুদৃঢ় করে
… এরপর বিষয়বস্তুর হিকমতপূর্ণ ব্যবস্থাপনা এবং মহাজাগতিক নিদর্শনাবলীর বর্ণনা এসেছে। অতঃপর সেই সব লোকের প্রতি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত করা হয়েছে যারা নিজেদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে নিজেদের ওপর জুলুম করেছে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পথ ও তার সঠিক নির্দেশনা থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরে গেছে
… যারা কোনো জ্ঞান, বুদ্ধিবৃত্তিক হিদায়াত কিংবা কোনো উজ্জ্বল কিতাবের ওপর নির্ভর করেনি এবং ইলমের সেই পথ অনুসরণ করেনি যা আল্লাহর পরিচয়ের দিকে নিয়ে যায়
… এরপর সত্য দ্বীনের প্রতি ঐশী নির্দেশনা আসে এবং সাথে এই ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, ইলমের ওপর প্রতিষ্ঠিত দ্বীন মানব প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ সেই আদি ও মূল প্রকৃতি যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং বর্তমান প্রকৃতি, যার সারকথা হলো জ্ঞান ও বুদ্ধি এবং এগুলোর সঠিক ব্যবহার।
আর আমরা যেন বুদ্ধির দৃষ্টি দিয়ে এই আয়াতগুলোর দিকে তাকাই: "অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং প্রাণবান সবকিছু আমি সৃষ্টি করলাম পানি থেকে; তবুও কি তারা ঈমান আনবে না? আর আমি পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছি সুদৃঢ় পর্বত যাতে পৃথিবী তাদেরকে নিয়ে হেলে না পড়ে এবং সেখানে আমি প্রশস্ত পথ তৈরি করেছি যাতে তারা সঠিক পথ পায়। আর আমি আকাশকে করেছি এক সুরক্ষিত ছাদ; অথচ তারা তার নিদর্শনাবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে।" (আয়াত ৩০ — ৩৩, আল-আম্বিয়া) ।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
في هذه الآيات نشهد وندرك موقف المنكرين لوجود الله
… وهي تُنبِّهُهُم إلى ما في نظام السموات والأرض من اتساق وإحكام، وتطالبهم بأن يُفسّروا هذا النظام المحكم، بحسب قوانين العقل، الذي يقضي بأنّ الشيء الحادِث والواقِع والكائن والموجود، على نحو معيّن، لابدّ أن تكون له علّة كافية، وأن بقاء هذا النظام المحكم على ما هو عليه منذ وجوده، يؤكّد أيضاً إلى جانب العلّة الكافية لإيجادِهِ، علّةً أخرى مصاحبة متلازمة وقائمة مع العلّة الكافية، وهي علّةُ الحفظ والرعاية، وهي التي تؤكّد نفس علة الإيجاد والخَلق معاً وجميعاً
…ولننظر أيضاً بوعي إلى هذه الآية الكريمة: ?ألم تَرَوا أنّ الله سَخَّر لكم ما في السموات وما في الأرض وأَسبغَ عليكم نِعَمَهُ ظاهرةً وباطنةً ومِن الناس مَن يُجادل في الله بغير علم ولا هُدىً ولا كتابٍ منير? (الآية 20، لُقمان) هذه الآية تنبّه إلى القوانين الطبيعية والكونية السائدة، التي يخضع لها نظامُ العالم كله، وإلى أن هذه القوانين في مَجراها، تحقق مصالح الإنسان وعمران الحياة، وتشيرُ إلى أن الجاحدين بوجود الله، لا يستندون مطلقاً فيما يزعمون، إلى أي سَنَدٍ مِن علم بالأمر، أو منهجٍ راشد، أو حجة علمية محقّقة مدوّنة متداولة.
هذه الآيات وأمثالها كثير في الكتاب الحكيم، تبيّن لنا بأفصح لسان وأرفع بيان، أن نقطة البداية لإثبات وجود الله هي النظر الواعي المستنير في كتاب الكون الكبير، كما أنها نقطة البداية أيضاً، للرد على الجاحدين.
والذي لا مراء فيه، أن القرآن قد انفرد بين الكتب المنزّلة، على صورتها التي وصلت إلينا بهذه الطريقة، من المعرفة بالله وجعل مسألة إثبات وجود الله، مسألةَ بحثٍ علمي، في ضوء العقل والحسّ. ويُؤخذ من حُشود الآيات الكثيرة، في القرآن الداعية إلى النظر العقلي، أن الإيمان بالله ثمرة العِلم، وَأن الجحود بوجوده سببُهُ الجهل.
في هذه الآيات نشهد وندرك موقف المنكرين لوجود الله
… وهي تُنبِّهُهُم إلى ما في نظام السموات والأرض من اتساق وإحكام، وتطالبهم بأن يُفسّروا هذا النظام المحكم، بحسب قوانين العقل، الذي يقضي بأنّ الشيء الحادِث والواقِع والكائن والموجود، على نحو معيّن، لابدّ أن تكون له علّة كافية، وأن بقاء هذا النظام المحكم على ما هو عليه منذ وجوده، يؤكّد أيضاً إلى جانب العلّة الكافية لإيجادِهِ، علّةً أخرى مصاحبة متلازمة وقائمة مع العلّة الكافية، وهي علّةُ الحفظ والرعاية، وهي التي تؤكّد نفس علة الإيجاد والخَلق معاً وجميعاً
…এই আয়াতগুলোতে আমরা আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকারকারীদের অবস্থানের সাক্ষী হই এবং তা উপলব্ধি করি
… আর এগুলো তাদের আসমান ও জমিনের ব্যবস্থার মধ্যে বিদ্যমান সুশৃঙ্খলতা ও সুসংগতির (إحكام) প্রতি সজাগ করে দেয়। এটি তাদের নিকট দাবি করে যেন তারা এই সুসংগঠিত (محكم) ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দেয় আকল বা যুক্তির নিয়ম অনুযায়ী; যা এই ফয়সালা দেয় যে, কোনো বিষয় যখন একটি নির্দিষ্ট রূপে নতুনভাবে সংঘটিত (حادث) হয় এবং বিদ্যমান থাকে, তখন অবশ্যই তার জন্য একটি পর্যাপ্ত কারণ (علة) থাকতে হবে। আর এই সুসংগঠিত (محكم) ব্যবস্থা তার সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকে যেভাবে আছে সেভাবেই টিকে থাকা—সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত কারণের (علة) পাশাপাশি অপর একটি আনুষঙ্গিক, অবিচ্ছেদ্য এবং স্থায়ী কারণকেও নিশ্চিত করে, আর তা হলো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণ (علة)। এটিই সৃষ্টির আদি কারণকে (علة) একত্রে ও সামগ্রিকভাবে সত্যায়ন করে
…ولننظر أيضاً بوعي إلى هذه الآية الكريمة: ﴿ألم تَرَوا أنّ الله سَخَّر لكم ما في السموات وما في الأرض وأَسبغَ عليكم نِعَمَهُ ظاهرةً وباطنةً ومِن الناس مَن يُجادل في الله بغير علم ولا هُدىً ولا كتابٍ منير﴾ (الآية 20، لُقمان) هذه الآية تنبّه إلى القوانين الطبيعية والكونية السائدة، التي يخضع لها نظامُ العالم كله، وإلى أن هذه القوانين في مَجراها، تحقق مصالح الإنسان وعمران الحياة، وتشيرُ إلى أن الجاحدين بوجود الله، لا يستندون مطلقاً فيما يزعمون، إلى أي سَنَدٍ مِن علم بالأمر، أو منهجٍ راشد، أو حجة علمية محقّقة مدوّنة متداولة.
আসুন আমরা সচেতনভাবে এই মহিমান্বিত আয়াতের প্রতি লক্ষ করি: "তোমরা কি দেখ না যে, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, আল্লাহ তা তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন? মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে কোনো জ্ঞান, পথনির্দেশ কিংবা কোনো উজ্জ্বল কিতাব ছাড়াই।" (আয়াত ২০, লোকমান)। এই আয়াতটি প্রচলিত প্রাকৃতিক ও মহাজাগতিক নিয়মের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যার অধীনে সমগ্র বিশ্বব্যবস্থা পরিচালিত। এই নিয়মগুলো আপন গতিতে মানুষের কল্যাণ ও জীবনের আবাদ নিশ্চিত করে। আয়াতটি আরও ইঙ্গিত দেয় যে, যারা আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করে, তারা তাদের দাবিতে কোনো প্রকার জ্ঞানগত ভিত্তি (سند), সঠিক পথনির্দেশ বা কোনো সংকলিত ও প্রচলিত জ্ঞানতাত্ত্বিক দলিলের (حجة) ওপর বিন্দুমাত্র নির্ভর করে না।
هذه الآيات وأمثالها كثير في الكتاب الحكيم، تبيّن لنا بأفصح لسان وأرفع بيان، أن نقطة البداية لإثبات وجود الله هي النظر الواعي المستنير في كتاب الكون الكبير، كما أنها نقطة البداية أيضاً، للرد على الجاحدين.
এই আয়াতসমূহ এবং হিকমতপূর্ণ কিতাবে এই জাতীয় আরও অনেক আয়াত অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও উচ্চাঙ্গের ভাষায় আমাদের সামনে স্পষ্ট করে দেয় যে, আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের প্রারম্ভিক বিন্দু হলো এই মহাবিশ্ব নামক সুবিশাল কিতাবের প্রতি সচেতন ও আলোকিত পর্যবেক্ষণ। পাশাপাশি এটি অস্বীকারকারীদের জবাব দেওয়ারও প্রাথমিক সূত্র।
والذي لا مراء فيه، أن القرآن قد انفرد بين الكتب المنزّلة، على صورتها التي وصلت إلينا بهذه الطريقة، من المعرفة بالله وجعل مسألة إثبات وجود الله، مسألةَ بحثٍ علمي، في ضوء العقل والحسّ. ويُؤخذ من حُشود الآيات الكثيرة، في القرآن الداعية إلى النظر العقلي، أن الإيمان بالله ثمرة العِلم، وَأن الجحود بوجوده سببُهُ الجهل।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমাদের কাছে যে রূপে আসমানি কিতাবসমূহ পৌঁছেছে, তার মধ্যে কুরআনই একমাত্র কিতাব যা আল্লাহ তাআলার পরিচয় প্রদানের ক্ষেত্রে এবং আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের বিষয়টিকে যুক্তি ও ইন্দ্রিয়লব্ধ প্রমাণের আলোকে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিষয়ে পরিণত করেছে। কুরআনের অসংখ্য আয়াত—যা আকল বা যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনার আহ্বান জানায়—তা থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর প্রতি ঈমান হলো জ্ঞানের ফসল, আর তাঁর অস্তিত্ব অস্বীকার করার মূল কারণ হলো মূর্খতা।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
على أساس هذا الصراط القويم من منهج القرآن الحكيم، أمكن لعلماء وفلاسفة الإسلام أن يستخلصوا أدلّة على وجود الله، ولا يزال وسيظل المجال مفتوحاً أمام المفكر المسلم في كل عصر وفي كل مكان وزمان.
فَعَلَى أساسٍ من جملة آيات القرآن، التي تتكلم عن العالم وتنبّه إلى آياته وعجائبه وَأسراره، استخلصوا بوجه عام، دليلاً على وجود الله، أسموه: «دليل التدبير، أو: دليل الإتقان، أو: دليل الإِحكام» . وهو يتلخص في الاستدلال من النظر في نظام العالم، على وجود خالقٍ قادر حكيم، طبقاً لمبدإٍ عقليٍّ هو مبدأ العلِّية، الذي يَقضي، بأنّ كل حادث، وكل شيء واقع، يقع على نحوٍ ما، لابُدَّ له من علِّة كافية وهي الخالق المُوجِد القادر الحكيم.
فإذا وقفنا مثلاً أمام ابن رشد، رائد النظر العقليّ في الفلسفة الإسلامية، (ابن رشد ت595 هـ = 1198 م) فإننا نشهد أنه نظر في آيات القرآن نظراً فلسفياً تحليليّاً عميقاً، وميّز بين دليلين اثنين يمكن أخذهما من الكتاب الكريم (6) :
الدليل الأول: دليل الاختراع، ومعنى الاختراع هو الإِيجاد والإِحداث، أو كما يقول ابن رشد، هو اختراع جواهر الأشياء، واختراع الحياة في المادّة. ويقوم هذا الدليل في نظره على نوع من الدلالة، التي يدركها الإنسان بالحسّ والعقل إدراكاً مباشراً.
فمثلاً، فيما يتعلق بعالم الكائنات الحيّة نحن نلاحظ حدوث النبات والحيوان، وهذا يدل بحكم الضرورة العقلية، على أنّ للحياة عِلَّةً خالقة، وفيما يتعلق بنظام السموات، نلاحظ أن الأهرام والكواب والأفلاك:
আল-কুরআনুল হাকিমের এই সুদৃঢ় পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে ইসলামের আলেম ও দার্শনিকগণ আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণসমূহ আহরণ করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রতিটি যুগে, প্রতিটি স্থানে এবং সময়ে মুসলিম চিন্তাবিদদের জন্য এ ক্ষেত্রটি উন্মুক্ত রয়েছে এবং থাকবে।
কুরআনের সেই সমস্ত আয়াতের ওপর ভিত্তি করে, যা জগত সম্পর্কে আলোচনা করে এবং এর নিদর্শন, বিস্ময় ও রহস্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তাঁরা সাধারণভাবে আল্লাহর অস্তিত্বের একটি প্রমাণ (دليل) আহরণ করেছেন। তাঁরা এর নাম দিয়েছেন: 'তদবিরের প্রমাণ' (دليل التدبير), অথবা 'নিপুণতার প্রমাণ' (دليل الإتقان), অথবা 'সুদৃঢ়করণের প্রমাণ' (دليل الإِحكام)। এর সারকথা হলো, জগতের শৃঙ্খলার প্রতি দৃষ্টিপাত করার মাধ্যমে একজন সর্বশক্তিমান ও প্রজ্ঞাবান স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ (دليل) পেশ করা। এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা হলো 'কার্যকারণ নীতি' (مبدأ العلية)। এই নীতি অনুযায়ী, প্রতিটি ঘটনা এবং প্রতিটি বাস্তব বিষয় যা কোনো একভাবে সংঘটিত হয়, তার জন্য অবশ্যই একটি পর্যাপ্ত কারণ (علة) থাকতে হবে; আর সেই কারণ (علة) হলেন মহান স্রষ্টা, উদ্ভাবক, সর্বশক্তিমান ও প্রজ্ঞাবান আল্লাহ।
উদাহরণস্বরূপ, আমরা যদি ইসলামি দর্শনে বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাধারার পথিকৃৎ ইবনে রুশদের (ইবনে রুশদ মৃত্যু ৫৯৫ হিজরি = ১১৯৮ খ্রিস্টাব্দ) দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাই যে তিনি কুরআনের আয়াতসমূহের প্রতি গভীর দার্শনিক ও বিশ্লেষণমূলক দৃষ্টিপাত করেছেন। তিনি পবিত্র কিতাব থেকে গ্রহণ করা যায় এমন দুটি প্রমাণের (دليلين) মধ্যে পার্থক্য করেছেন (৬):
প্রথম প্রমাণ (دليل): উদ্ভাবনের প্রমাণ (دليل الاختراع)। আর 'উদ্ভাবন' (الاختراع) এর অর্থ হলো অস্তিত্ব দান করা এবং সৃষ্টি করা। অথবা ইবনে রুশদ যেমনটি বলেছেন, এটি হলো বস্তুর সারসত্তার উদ্ভাবন এবং পদার্থের মধ্যে জীবনের উদ্ভাবন। তাঁর মতে, এই প্রমাণটি (دليل) এমন এক ধরনের নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যা মানুষ ইন্দ্রিয় ও বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমে সরাসরি উপলব্ধি করে।
উদাহরণস্বরূপ, জীবজগতের ক্ষেত্রে আমরা উদ্ভিদ ও প্রাণীর উদ্ভব লক্ষ্য করি। বুদ্ধিবৃত্তিক আবশ্যকতা অনুযায়ী এটি নির্দেশ করে যে, জীবনের জন্য একজন সৃজনকারী কারণ (علة) বিদ্যমান। আর আসমানি জগতের শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে আমরা লক্ষ্য করি যে, জ্যোতিষ্কসমূহ, গ্রহ এবং কক্ষপথসমূহ:
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
السماوية، بكل ما يتعلّق بها من ملايين المجرّات والنجيمات والذّرات، تلتزم تماماً، في كل حركاتها ومساراتها، مَسَالِكَ مُعينة، تؤدي إلى تحقيق غايات، وخصوصاً فيما يتعلق بالأرض ومن عليها وما عليها مع دَوَرَانات الفصول وتعاقب الليل والنهار وحركة الكون الكلية. إنّ هذا معناه أن كل هذه الأجرام السماوية مُسَخَّرةٌ مقهورة، والعقلُ يَقضِي بأن المُسَخَّر مُختَرَعٌ مخلوق بالضرورة.
الدليل الثاني: دليل العناية. وهذه العناية ـ كما يقولُ ابن رُشد ـ مِحوَرُها الإنسان خاصّة. فنحن نلاحظ أن جميع نظام العالم من الشمس والقمر والليل والنهار، وكل ما ظهر على الأرض ملائمٌ للحياة الإنسانية، بل إن تركيبة الإنسان نفسه ملائمة لحياته على الأرض، الأمر الذي نلاحظه وندركه بالحس والعقل، وهو مر يَقضي بأن هذه المُلاءمة، ناشئةٌ عن فِعل خالقٍ مدبّر حكيم قَصَدَ ذلك وأراده سبحانه، وأنّ عِلّةَ الرعَاية والعناية قائمةٌ في عِلّة الإيجاد والخلق معاً وجميعاً ودائماً
…نذكر أيضاً فيما نذكر، بعض الشواهد الأخرى، فيما أخذه المفكرون من آيات القرآن الكريم، وفيها أدلّةٌ نظريّة علمية منطقية في بِنائها
…
মহাজাগতিক বস্তুসমূহ, এর সাথে সংশ্লিষ্ট লক্ষ লক্ষ ছায়াপথ, নক্ষত্রপুঞ্জ এবং অণু-পরমাণুসহ তাদের সমস্ত গতিবিধি ও কক্ষপথে নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করে, যা বিশেষ লক্ষ্য অর্জনের দিকে পরিচালিত করে; বিশেষ করে পৃথিবী এবং এর ওপর ও অভ্যন্তরে যা কিছু রয়েছে, ঋতু পরিবর্তন, দিবা-রাত্রির পরিক্রমা এবং মহাবিশ্বের সামগ্রিক গতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহে। এর অর্থ হলো, এই সমস্ত মহাজাগতিক বস্তু অনুগত ও আজ্ঞাবহ, আর বিচারবুদ্ধি এ কথাই বলে যে, যা আজ্ঞাবহ তা আবশ্যিকভাবেই উদ্ভাবিত ও সৃষ্ট।
দ্বিতীয় প্রমাণ: যত্নের প্রমাণ। আর এই যত্নের কেন্দ্রবিন্দু—যেমনটি ইবনে রুশদ বলেন—বিশেষত মানুষ। আমরা লক্ষ্য করি যে, সূর্য, চন্দ্র, রাত, দিন এবং পৃথিবীতে প্রকাশিত সবকিছুই মানবজীবনের জন্য উপযোগী। এমনকি মানুষের নিজস্ব শারীরিক গঠনও পৃথিবীতে তার জীবনের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ; যা আমরা পঞ্চইন্দ্রিয় ও বিচারবুদ্ধি দিয়ে উপলব্ধি করি। এটি এমন এক বিষয় যা নির্দেশ করে যে, এই উপযোগিতা এক প্রজ্ঞাবান ও পরিচালক স্রষ্টার কর্ম হতে উদ্ভূত, যিনি এটি সংকল্প ও ইচ্ছা করেছেন (মহাপবিত্র তিনি)। আর তদারকি ও যত্নের কার্যকারণটি অস্তিত্ব দান ও সৃষ্টির কার্যকারণের মাঝে একত্রে ও সর্বদা বিদ্যমান
…আমরা প্রাসঙ্গিকভাবে আরও কিছু নিদর্শন উল্লেখ করছি যা চিন্তাবিদগণ পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ থেকে আহরণ করেছেন; সেগুলোতে এমন সব তাত্ত্বিক, বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক প্রমাণাদি রয়েছে যা তাদের কাঠামোগত বিন্যাসে সুসংহত
…
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
الأشعري مثلاً (أبو علي الحسن بن إسماعيل الأشعري ت324 هـ) وصاحب مقالات الإسلاميين وغيرها من الروائع في الفكر الإسلامي
… الأشعري (7) يقول فيما يقول: هذا الإنسان الذي نراه في حال كمال نموّه البَدَني، قد تطوّر من مبادىء بسيطة. ونلاحظ أن هذه مقدمة حسّية. ولكنّ هذا الإنسان ذاته، يعلم علم اليقين، أنه ليس هو الذي يَنقُل نفسه من طور إلى طور، أو من مرحلة إلى مرحلة، «لأنه حتّى وهو في حال كمال قوّته لا يستطيع أن يخلق لنفسه حاسّةً أو جارحةً» . وهذا يدل فيما يدلّ، على أنّه، عندما كان في بداية أمره، وأول نشأته، أعجز عَن أن يخلق لنفسه ذلك:. ثم هو يعلم تماماً أنه ليس هو الذي ينقل نفسه من حال الشباب والفُتُوَّة، إلى حال الكبر والشيخوخة والهَرَم والعَجز، بدليل أنه لا يستطيع أن يُعيد أو يردّ نفسه إلى الشباب، ثم هو لا يستطيع أبداً أن يمنع عن نفسه الموت، فهو من البداية إلى النهاية عاجز، وكل هذا يدركه بالحس والعقل معاً وجميعاً.
وإذن: فبما أن الإنسان ليس هو الذي يطوّر نفسه، وبما أنه محمولٌ على التطور، فإنه ليس هو الذي أوجد نفسه، لأنه لا يملك من أمر ظهوره أو نهايته أو أمر ميلاده أو موته شيئاً، ولابد لهذا من الإيمان بموجد هو الذي أوجده وخلقه وهو الذي يدبّر أمره، لأنه صاحب الخلق والأمر في الحياة والموت على السواء.
উদাহরণস্বরূপ আশআরী (আবু আলী আল-হাসান ইবনে ইসমাইল আল-আশআরী, মৃত্যু ৩২৪ হিজরি), যিনি মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন এবং ইসলামি চিন্তাধারার অন্যান্য কালজয়ী রচনার রচয়িতা
… আশআরী (৭) তার বক্তব্যের মধ্যে বলেন: এই মানুষ যাকে আমরা তার শারীরিক বিকাশের পূর্ণতায় দেখতে পাই, সে সরল কিছু মূল উপাদান থেকে বিকশিত হয়েছে। আমরা লক্ষ্য করি যে এটি একটি ইন্দ্রিয়জাত উপক্রমণিকা। কিন্তু এই মানুষটি নিজেই দৃঢ় নিশ্চিত জ্ঞান দ্বারা জানে যে, সে নিজে নিজেকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় কিংবা এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে স্থানান্তরিত করে না, "কেননা সে তার শক্তির পূর্ণ অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও নিজের জন্য কোনো ইন্দ্রিয় বা অঙ্গ সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়"। এটি অন্যান্য বিষয়ের সাথে একথাই প্রমাণ করে যে, যখন সে তার অস্তিত্বের শুরুতে এবং সৃষ্টির প্রারম্ভে ছিল, তখন সে নিজের জন্য তা সৃষ্টি করতে আরও বেশি অক্ষম ছিল। অতঃপর সে পূর্ণরূপে জানে যে, সে নিজে নিজেকে যৌবন ও তারুণ্যের অবস্থা থেকে বার্ধক্য, জরা ও অক্ষমতার দিকে নিয়ে যায় না; যার প্রমাণ হলো সে নিজেকে পুনরায় যৌবনে ফিরিয়ে নিতে পারে না এবং সে কখনোই নিজের মৃত্যু রোধ করতে সক্ষম নয়। ফলে সে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অক্ষম; আর এই সবকিছুই সে ইন্দ্রিয় ও বুদ্ধি—উভয়টি দিয়েই সমভাবে উপলব্ধি করে।
অতএব: যেহেতু মানুষ নিজেই নিজেকে বিকশিত করে না এবং যেহেতু সে বিবর্তনের অধীন, তাই সে নিজেই নিজের অস্তিত্ব দানকারী নয়। কারণ তার আত্মপ্রকাশ বা পরিসমাপ্তি এবং তার জন্ম বা মৃত্যুর ওপর তার কোনো কর্তৃত্ব নেই। তাই এমন এক অস্তিত্বদাতার প্রতি ঈমান আনা অপরিহার্য যিনি তাকে অস্তিত্ব দান করেছেন, সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার সকল বিষয় পরিচালনা করেন; কেননা জীবন ও মৃত্যু—উভয় ক্ষেত্রেই সৃষ্টি ও আদেশের কর্তৃত্ব একমাত্র তাঁরই।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
ونلاحظ أن الأشعري بعد هذا العرض السخيّ الثريّ، عن العلّة الكافية الراعية للكائنات والمخلوقات، يؤكد أن من يجحد ذلك يُصادم قوانين العقل وبديهياته، كما يؤكد ويثبت، أن الخالق الأوحد الأعظم لا يمكن أن يكون جسماً على الإطلاق، ويؤكد ويثبت كل صفات الكمال للإله الحق، وهي صفات الخَلق والإيجاد والتدبير والعناية والرعاية. ومن الواضح أن الأشعري حين يدور حول ظاهرة الإنسان في إثبات آرائه وأدلته، فإنه يؤكد في نفس الوقت ومع نفس الحجة، أن الفكرة التي يقوم عليها تشمل كل شيء حادث أو كائن، يسيرُ حسب قوانين ثابتة هي سنُّةُ الله في خَلقه، كما يقول القرآن بأفصح وأدق بيان والعالم كلُّه كذلك.
ونعود فنقول إن الآيات التي أخذ منها الفلاسفة والعلماء، دليل الإتقان أو الأحكام أو الرعاية والعناية، تتواصل مع آيات أخرى كريمة، هي في ذاتها أَقرب أو أشبه بالأدلّة المنطقية لإثبات وجود الله. وحسبنا أن نذكر منها هذه الآيات القصيرة المحكمة، والموجّهة بالذات إلى المنكرين الجاحدين:
?أم خُلِقوا من غير شيءٍ أم هُمُ الخالقون
… ? ?أم خَلَقُوا السموات والأرض بل لا يُوقنون
… ? ?أم لهم إلهٌ غيرُ الله، سبحانَ الله عما يُشركون? (الآيات 35 ـ 36 ثم 43 من سورة الطور) .
والناظر الباصر المتأمّل لهذه الآيات القصيرة الحاسمة في صُورها المنطقية الرائعة، يتبيّن له، أنها تَتَضَمَّنُ بيان الاحتمالات الممكنة، بحسب العقل، فيما يتعلق بتعليل هذه الأشياء الحادثة التي نراها:
আমরা লক্ষ করি যে, ইমাম আশআরী মহাবিশ্ব ও সকল সৃষ্টির জন্য পর্যাপ্ত ও রক্ষণাবেক্ষণকারী কারণ সম্পর্কে এই বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ আলোচনার পর নিশ্চিত করেছেন যে, যারা এটি অস্বীকার করে তারা বিবেকের নিয়মাবলী ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলোর সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। তেমনি তিনি দৃঢ়ভাবে সাব্যস্ত করেছেন যে, মহান অদ্বিতীয় স্রষ্টা কখনোই দেহধারী হতে পারেন না। তিনি সত্য ইলাহের জন্য পূর্ণতার সমস্ত গুণাবলী নিশ্চিত ও প্রমাণ করেছেন, যা হলো সৃজনশীলতা, অস্তিত্ব দান, পরিকল্পনা, তত্ত্বাবধান এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত গুণাবলী। এটি স্পষ্ট যে, আশআরী যখন তার মতবাদ ও দলীলসমূহ প্রমাণের ক্ষেত্রে মানুষের অস্তিত্বের রহস্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা করেন, তখন তিনি একই সাথে এবং একই যুক্তিতে নিশ্চিত করেন যে, এই মৌলিক ধারণাটি প্রতিটি নশ্বর (حادث) বা বিদ্যমান বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা আল্লাহর সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে পরিচালিত হয়; যেমনটি কুরআন অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও নিখুঁতভাবে বর্ণনা করেছে এবং সমগ্র বিশ্বজগতের অবস্থাও তদ্রূপ।
আমরা পুনরায় বলছি যে, দার্শনিক ও উলামায়ে কেরাম যে আয়াতগুলো থেকে নৈপুণ্য, সুশৃঙ্খলতা বা যত্ন ও তত্ত্বাবধানের প্রমাণ গ্রহণ করেছেন, সেগুলো অন্যান্য সম্মানিত আয়াতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই আয়াতগুলো আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে যৌক্তিক দলীলের অত্যন্ত নিকটবর্তী বা সদৃশ। আমাদের জন্য সেই সংক্ষিপ্ত ও সুষ্পষ্ট (محكمة) আয়াতগুলো উল্লেখ করাই যথেষ্ট, যা মূলত অস্বীকারকারী ও বিমুখদের উদ্দেশ্য করে অবতীর্ণ হয়েছে:
“তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?
… নাকি তারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? আসলে তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না।
… নাকি আল্লাহ ছাড়া তাদের অন্য কোনো ইলাহ আছে? তারা যা শরিক করে আল্লাহ তা থেকে অত্যন্ত পবিত্র।” (সূরা আত-তূর: আয়াত ৩৫-৩৬ এবং ৪৩)।
যিনি এই সংক্ষিপ্ত ও চূড়ান্ত আয়াতগুলো গভীর পর্যবেক্ষণ ও চিন্তাভাবনার সাথে পাঠ করবেন, যার যৌক্তিক রূপ অত্যন্ত চমৎকার, তার কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এই আয়াতগুলো—আমরা যে সকল নশ্বর (حادثة) বস্তু দেখছি তার কারণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে—বিবেকের বিচারে সম্ভাব্য সকল দিকগুলো বর্ণনা করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
ما هي العلّة لوجودها؟ هل الأشياء الحادثة حدثت من غير علّة؟ هذا أمر يرفضه العقل. هل هي التي أحدثت نفسها؟ هذا أمر يرفضعه العقل أيضاً، لأن هذه الأشياء لا تملك: أمر ميلادها أو موتها أو تطوّرها بين الميلاد والموت
… فإذا فرضنا أن بعض هذه الكائنات، يُؤثر في وجود بعضها، مما يحدث تطورات وتغييرات، فالسؤال هنا: من الذي أوجد هذا النظام الكوني في جُملته وفي أجزائه أو في ذرّاته في السموات وفي الأرض، وفي كل ما نعلم وما لا نعلم، وفي كل ما نراه ولا نراه؟
إن هذه الآيات الحاسمة الرائعة، حين تذكر هذه الاحتمالات على صورة الاستفهام، فإنها في الحقيقة، تؤكّد النقيض، حين تؤكد وتثبت أنه لابد من علّةٍ مُوجِدَةٍ راعيةٍ حافظةٍ، لهذا النظام الكوني كلّه، وهي الإله، الخالق الحق الحكيم.
إلى جانب هذه الأدلة، نرى دليلاً آخر أسماه بعض العلماء «دليل إبراهيم» وهو الذي يسمّى في القرآن: حُجَّةً. نرى هذا من الآيات التي تبيّن لنا موقف أبي الأنبياء الخليل إبراهيم عليه السلام، من قومه الذين كانوا يعبدون ويقدسون الأصنام، وحوارَه معهم، ودعوتَه لهم بالتفكر في نظام الكون، واهتداءَهُ هو بنفسه، في تجربته الخاصة، إلى حقيقةِ: أنَّ تَغَيُّرَ أحوال الأشياء، يؤكد أنها حادثة، لابدّ لها، من خالقٍ واحدٍ لا يتغير. وهذه الآيات هي:
?وكذلك نُري إبراهيم ملكوتَ السمواتِ والأرضِ وليكون من المُوقنين فلمّا جَنَّ عليه الليلُ رأى كوكباً قال هذا ربّي فلما أَفَلَ قال لا أُحِبُّ الآفلين فلما رأى القمر بازغاً قال هذا ربّي فلما أفَلَ قال لئن لم يَهدِنِي ربّي لأكُونَنَّ من القوم الضالّين فلما رأى الشمس بازغةً قال هذا ربّي هذا أكبر فلما أَفَلَت قال يا قوم إني بريءٌ مما تشركون إني وَجَّهتُ وجهيَ للذي فَطَرَ السموات والأرض حَنِيفاً، وما أنا من المشركين? (الآيات 70 ـ 79، الأنعام) .
এর অস্তিত্বের কারণ (علة) কী? নবউদ্ভূত (حادثة) বস্তুসমূহ কি কোনো কারণ (علة) ছাড়াই অস্তিত্ব লাভ করেছে? এটি এমন এক বিষয় যা বিবেক প্রত্যাখ্যান করে। এগুলো কি নিজেরাই নিজেদের সৃষ্টি করেছে? এটিও বিবেক প্রত্যাখ্যান করে; কেননা এই বস্তুগুলোর নিজস্ব জন্ম, মৃত্যু অথবা জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী বিবর্তনের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই
… আমরা যদি ধরে নিই যে, এই সৃষ্টিজগতের কিছু অংশ অন্য অংশের অস্তিত্বে প্রভাব ফেলে, যার ফলে বিবর্তন ও পরিবর্তন ঘটে; তবে এখানে প্রশ্ন হলো: কে এই মহাজাগতিক ব্যবস্থাকে এর সামগ্রিকতায়, এর অংশসমূহে কিংবা এর অণু-পরমাণুতে—আসমান ও জমিনে এবং আমাদের জানা ও অজানার মাঝে, আর যা আমরা দেখি ও দেখি না—সবকিছুর মধ্যে অস্তিত্ব দান করেছেন?
এই অকাট্য ও চমৎকার আয়াতসমূহ যখন প্রশ্নাকারে এই সম্ভাবনাগুলো উল্লেখ করে, তখন এগুলো প্রকৃতপক্ষে বিপরীত সত্যটিই নিশ্চিত করে; কেননা এগুলো প্রমাণ ও সাব্যস্ত করে যে, এই সমগ্র মহাজাগতিক ব্যবস্থার জন্য একজন অস্তিত্বদানকারী, লালনকারী ও সংরক্ষণকারী কারণ (علة) থাকা আবশ্যক, আর তিনি হলেন ইলাহ, সত্য স্রষ্টা ও প্রজ্ঞাময়।
এই প্রমাণগুলোর পাশাপাশি আমরা আরেকটি প্রমাণ দেখতে পাই, যাকে কোনো কোনো আলেম 'ইবরাহিমি দলিল' বলে অভিহিত করেছেন, আর কুরআনে একে 'প্রমাণ' (حجة) বলা হয়েছে। আমরা এটি সেই আয়াতগুলো থেকে দেখতে পাই যা আমাদের সামনে আম্বিয়াগণের পিতা খলিলুল্লাহ ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর অবস্থান তুলে ধরে—যাঁরা মূর্তিপূজা ও মূর্তিকে পবিত্র জ্ঞান করত—তাদের সাথে তাঁর বিতর্ক এবং তাদের প্রতি বিশ্বজগত নিয়ে চিন্তাভাবনা করার দাওয়াত এবং তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এই সত্যে উপনীত হওয়া যে: বস্তুর অবস্থার পরিবর্তন এটিই প্রমাণ করে যে তা নবউদ্ভূত (حادثة), যার জন্য একজন অপরিবর্তনীয় স্রষ্টা থাকা আবশ্যক। আর আয়াতগুলো হলো:
“আর এভাবেই আমি ইবরাহিমকে আসমান ও জমিনের রাজত্ব দেখাই যেন সে নিশ্চিত বিশ্বাসীদের (موقنين) অন্তর্ভুক্ত হয়। অতঃপর যখন রাত তাকে আচ্ছন্ন করল, সে একটি তারকা দেখতে পেল এবং বলল, 'এটি আমার রব।' কিন্তু যখন তা ডুবে গেল, তখন সে বলল, 'আমি অস্তগামীদের ভালোবাসি না।' তারপর যখন সে চাঁদকে উজ্জ্বলভাবে উদিত হতে দেখল, তখন বলল, 'এটি আমার রব।' কিন্তু যখন তাও ডুবে গেল, সে বলল, 'যদি আমার রব আমাকে পথ না দেখান, তবে আমি অবশ্যই পথভ্রষ্ট কওমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।' এরপর যখন সে সূর্যকে উজ্জ্বলভাবে উদিত হতে দেখল, তখন বলল, 'এটি আমার রব, এটি সবচাইতে বড়।' কিন্তু যখন তাও ডুবে গেল, সে বলল, 'হে আমার কওম! তোমরা যা কিছুর শরিক করো, নিশ্চয়ই আমি তা থেকে মুক্ত। আমি একনিষ্ঠভাবে (حنيفاً) তাঁর দিকেই মুখ ফেরালাম, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।'” (আয়াত ৭৫-৭৯, আল-আনআম)।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
ألم تَرَ إلى الذي حاجَّ إبراهيمَ في ربّه، أن آتاهُ اللهُ المُلك إذ قال إبراهيمُ رَبِّيَ الذي يُحيي ويميت قال أنا أُحيِي وأُميت قال إبراهيم فإنَّ اللهَ يأتي بالشمسِ من المشرقِ فَأتِ بها من المَغرب فَبُهِتَ الذي كَفَرَ والله لا يَهدِي القوم الظالمين? (الآية 258، البقرة) . وفي القرآن آيات وآيات، تتكلم عن فَزَعِ الإنسان عندما تحيط به الأخطار المهلكة، والتجائِهِ إلى مُوجِدِ الكون، الذي بيده كل شيء من خيرٍ وشرٍ، ونفع وضر، وهذا الشعور في حقيقته، ناشئٌ عن معرفةٍ كامنةٍ عميقةٍ، في نفس الإنسان، بأنَّ له خالقاً رحيماً، هو خالق العالم، ومدبّر الأمر كله فيه. لكنّ هذا الشعور تَغمُرُه عواملُ ورواسبُ التقليد، أو الإنكار، أو الشك، أو المكابرة والعِناد، أو الغرور، يتجلى وقت الشدة، فَيَفزَعُ الإنسانُ، بفطرته الأصيلة، إلى الله مفتقراً إليه. وهذا ما أشار إليه بعض المفكرين، حين تكلموا عما أسموه: دليل الافتقار، نرى هذا مع المُطهّر بن طاهر المقدسي (ت 340 هـ) في كتابه الشهير: البدء والتاريخ حين يقول فيما يقول (8) : «من الدليل على إثبات الباري سُبحانه: وَلَهُ النفوس، وَفَزَعُ القلوب إليه، إذا ضَرَبَت الحوادث اضطراراً. إذ لا يوجد مضطر وقد عضّتهُ نائبة، ولدغته ناكبة، يفزع إلى حجر أو شجر أو مدر، أو شيءٍ من الخلائق، غلاّ إليه، ويدعوه بما هو معروف عنده، من اسم أو صفةٍ ـ هذا مشاهد عياناً ـ كما تفزع النفس عند المكاره المخوفة، إلى طلب المهرب والنجاة، وكما يفزع الطفل إلى ثدي أمه ضرورةً وخلقة … كذلك الله في معرفة خلقه إياه، إلاّ أنّ أثر الدلالة في الخلق عليه أعظم من أمثال ميل الطبع إلى ما يلائمه، وازوراره عما ينافره، ولا يمكن للملحد المنكر، وإن غلا وتعمق في الإلحاد، الامتناع في معرفة الله، وإجراء ذكره واسمه على لسانه، شاء أم أبى، في حال عمره ونسيانه، لأنّ قلبه
আপনি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেননি যে ইবরাহীমের সাথে তার প্রতিপালক সম্পর্কে বিতর্ক করেছিল, কারণ আল্লাহ তাকে রাজত্ব দিয়েছিলেন? যখন ইবরাহীম বললেন, 'আমার প্রতিপালক তিনি, যিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান।' সে বলল, 'আমিও জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই।' ইবরাহীম বললেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন, আপনি তাকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত করুন।' তখন সেই কাফির ব্যক্তি হতভম্ব হয়ে গেল। আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না? (আয়াত ২৫৮, আল-বাকারা)। এবং কুরআনে এমন বহু আয়াত রয়েছে, যা মানুষের সেই অস্থিরতা ও ব্যাকুলতা সম্পর্কে আলোচনা করে যখন ধ্বংসাত্মক বিপদসমূহ তাকে ঘিরে ধরে, এবং সে মহাবিশ্বের স্রষ্টার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে, যাঁর হাতে কল্যাণ ও অকল্যাণ, উপকার ও অপকারের সবকিছু নিহিত। মূলত এই অনুভূতি মানুষের অন্তরের গভীরে লুক্কায়িত এক গভীর পরিচয় থেকে উদ্ভূত যে, তার একজন দয়ালু স্রষ্টা রয়েছেন, যিনি এই জগতের স্রষ্টা এবং এর সকল বিষয়ের পরিচালক। কিন্তু অন্ধ অনুসরণ, অস্বীকার, সন্দেহ, হঠকারিতা ও অবাধ্যতা অথবা অহংকারের মতো প্রভাব ও অবশেষসমূহ এই অনুভূতিকে আচ্ছন্ন করে রাখে। তবে কঠিন বিপদের সময় এটি প্রকাশ পায়, তখন মানুষ তার মৌলিক স্বভাবজাত প্রবৃত্তি (فطرة) অনুযায়ী অভাবগ্রস্ত হয়ে আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়। কিছু চিন্তাবিদ যখন 'অভাবগ্রস্ততার প্রমাণ' (دليل الافتقار) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন তখন এই বিষয়টিই ইঙ্গিত করেছেন। আমরা এটি আল-মুতাহহার বিন তাহির আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৩৪০ হিজরি)-র বিখ্যাত গ্রন্থ আল-বাদওয়া আত-তারিখ-এ দেখতে পাই, যখন তিনি বলেন (৮) : «সৃষ্টিকর্তা (الباري) সুবহানাহু-এর অস্তিত্ব প্রমাণের অন্যতম দলিল হলো: আত্মার তাঁর প্রতি সমর্পণ এবং হৃদয়ের তাঁর দিকে ব্যাকুল হয়ে ধাবিত হওয়া যখন কঠিন বিপদসমূহ আকস্মিকভাবে হানা দেয়। কারণ এমন কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি পাওয়া যাবে না যার ওপর কোনো মুসিবত আপতিত হয়েছে বা কোনো বিপদ তাকে দংশন করেছে, অথচ সে কোনো পাথর, গাছ, মাটির ঢিবি কিংবা কোনো সৃষ্টির নিকট না গিয়ে বরং তাঁরই নিকট ব্যাকুল হয়ে ফরিয়াদ করে না। সে তাঁকে এমন সব নামে বা গুণে ডাকে যা তার কাছে সুপরিচিত —এটি প্রত্যক্ষভাবে দৃশ্যমান— ঠিক যেমন কোনো ভীত-সন্ত্রস্ত আত্মা বিপদের সময় পলায়ন ও পরিত্রাণের পথ খোঁজে এবং যেমন একটি শিশু প্রবৃত্তিগত ও জন্মগত স্বভাববশত তার মায়ের স্তন্যের দিকে ব্যাকুল হয়ে ছুটে যায় … তেমনিভাবে আল্লাহর পরিচয় সম্পর্কে তাঁর সৃষ্টির অবস্থা। তবে সৃষ্টির মাঝে তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণের প্রভাব প্রকৃতির নিজস্ব অনুকূল বিষয়ের দিকে ঝোঁকা এবং প্রতিকূল বিষয় থেকে বিমুখ হওয়ার চেয়েও অধিক শক্তিশালী। কোনো নাস্তিক (ملحد) অস্বীকারকারীর পক্ষেই, সে নাস্তিকতায় যত চরমপন্থী ও গভীর হোক না কেন, আল্লাহর পরিচয় থেকে বিমুখ হওয়া এবং তার জিহ্বায় তাঁর স্মরণ ও নাম উচ্চারিত হওয়া থেকে বিরত থাকা সম্ভব নয়; সে চাইুক বা না চাইুক, তার জীবনকালে কিংবা বিস্মৃতির অবস্থায় হোক না কেন, কারণ তার অন্তর
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
ولسانه على ذلك: خلق، كما أنّ طبعه على الميل إلى المحبوب، والازورار عن المكروه جبل» على أننا نجد آيات طيّبات في القرآن، توجّه الإنسان إلى الإيمان بالإله الحق، عن طريق الترهيب والترغيب، أي عن طريق التأثير النفسي، مع الاستعانة، بما يثير الوجدان، ومن ذلك على سبيل المثال:
?والذين كفروا أعمالهم كسرابٍ بقيعةٍ يَحسبه الظمآن ماءً حتى إذا جاءه لم يجده شيئاً ووجد الله عنده فوفاهُ حِسابه والله سريع الحساب أو كظلمات في بحرٍ لجيٍّ، يغشاهُ موجٌ مِن فوقه سحابٍ ظلماتٌ بعضُها فوق بعض إذا أخرج يده لم يكد يراها ومن لم يجعل الله له نوراً فما له من نور? (الآية 39 و 40، النور) .
?يا أيها الناس اتقوا ربكم إنّ زلزلة الساعة شيءٌ عظيم
… يَومَ تَرَونَهَا تَذهَلُ كلُّ مُرضِعَةٍ عمّا أرضعت وتضع كل ذات حملٍ حملها وترى الناس سكارى وما هم بسكارى ولكن عذاب الله شديد? (الآية 1 ـ 2، الحج) .
?ومن يُشرك بالله فكأنما خرَّ من السماء فتخطفه الطير أو تهوي به الريحُ في مكان سحيق? (الآية 31 من الحج) .
والذي لا شك فيه، أنّ في هذه الآيات وأمثالها، اتساقاً بين روح الموعظة، وبين التفكير المنطقي، على صورة طبيعية بسيطة، يهدف فيما يهدف إلى الإقناع والتوجيه للسامع أو القارئ المتصوّر للمشاهد الرهيبة، عن طريق دعوته للموازنة والمقارنة، بين ما يدعو إلى الفزع، وبين ما يدعو إلى الأمان، وبين ما يدعو إلى القلق والخوف، وبين ما يدعو إلى السكينة والاطمئنان.
إنّ هذا معناه، أنّ في القرآن، أنواعاً من الأدلّة على وجود الله، لها شواهدُها وملامحها، في أفكار وآراء علماء وفلاسفة الإسلام، وهذه الأدلة القرآنية، منها، ما هو ذو طابَعٍ علمي فلسفيٍّ، ومنها ما لَهُ طابَعُ نظريٌّ منطقيّ، ومنها أدلةٌ إقناعيّة متنوعة، تكفي لإقناع الإنسان على أساس نفسيّ وكلُّها جميعاً في تواصُلها، لا تقطع النسب أو الصلة بين الفكر والواقع.
মানুষের ভাষা এর ওপর সৃষ্টিগতভাবেই অভ্যস্ত, যেমন তার প্রকৃতি প্রিয় বস্তুর প্রতি অনুরাগী হওয়া এবং অপ্রিয় বস্তু থেকে বিমুখ হওয়ার ওপর সহজাত। তা সত্ত্বেও আমরা কুরআনে এমন কিছু বরকতময় আয়াত দেখতে পাই, যা মানুষকে সত্য ইলাহের প্রতি ঈমান আনার দিকে ভয় প্রদর্শন ও উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে পরিচালিত করে; অর্থাৎ এটি আবেগ ও বিবেককে জাগ্রত করার সহায়তায় মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে করা হয়। এর উদাহরণস্বরূপ:
"আর যারা কুফরি করে, তাদের আমলসমূহ মরুভূমির মরীচিকার মতো, যাকে পিপাসার্ত ব্যক্তি পানি মনে করে; কিন্তু যখন সে তার কাছে আসে, তখন দেখে যে তা কিছুই নয় এবং সে সেখানে আল্লাহকে পায়, অতঃপর তিনি তার হিসাব পূর্ণ করে দেন। আর আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। অথবা তা গভীর সমুদ্রের অন্ধকারের মতো, যাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে তরঙ্গের ওপর তরঙ্গ, যার উপরে রয়েছে মেঘমালা। অন্ধকারের ওপর অন্ধকার। যখন সে তার হাত বের করে, তখন সে তা একেবারেই দেখতে পায় না। আর আল্লাহ যাকে আলো দান করেন না, তার জন্য কোনো আলো নেই।" (সূরা আন-নূর: ৩৯ ও ৪০)।
"হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়াবহ ব্যাপার।
… যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী মা তার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারী তার গর্ভপাত করবে। আর তুমি মানুষকে দেখবে মাতাল সদৃশ, অথচ তারা মাতাল নয়; বরং আল্লাহর আজাব অত্যন্ত কঠিন।" (সূরা আল-হাজ্জ: ১-২)।
"আর যে আল্লাহর সাথে শরিক করে, সে যেন আকাশ থেকে পড়ে গেল, অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোনো দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল।" (সূরা আল-হাজ্জ: ৩১)।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই আয়াতসমূহ ও এর সদৃশ আয়াতগুলোতে উপদেশের মূল সুর এবং যৌক্তিক চিন্তাধারার মধ্যে এক সহজ ও স্বাভাবিক সমন্বয় রয়েছে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শ্রোতা বা পাঠককে সেই ভয়াবহ দৃশ্যপটগুলো কল্পনা করানোর মাধ্যমে আশ্বস্ত করা এবং সঠিক পথ প্রদর্শন করা। এটি করা হয় তাকে সেই সব বিষয়ের মধ্যে তুলনা ও পার্থক্য করার আহ্বানের মাধ্যমে, যা একদিকে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং অন্যদিকে নিরাপত্তা দান করে, আবার যা একদিকে উদ্বেগ ও ভয় সৃষ্টি করে এবং অন্যদিকে প্রশান্তি ও স্থিরতা দান করে।
এর অর্থ হলো, কুরআনে আল্লাহর অস্তিত্বের এমন কিছু প্রমাণের প্রকারভেদ রয়েছে, যার নিদর্শন ও বৈশিষ্ট্যসমূহ ইসলামের আলেম ও দার্শনিকদের চিন্তাধারা ও মতামতে প্রতিফলিত হয়েছে। এই কুরআনিক প্রমাণসমূহের মধ্যে কিছু আছে বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক প্রকৃতির, কিছু তাত্ত্বিক ও যৌক্তিক প্রকৃতির এবং কিছু বিবিধ প্রবোধমূলক প্রমাণ, যা মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিতে মানুষকে আশ্বস্ত করার জন্য যথেষ্ট। আর এই সবকিছুর ধারাবাহিকতা চিন্তা ও বাস্তবতার মধ্যে কোনো বিচ্ছেদ বা সম্পর্কহীনতা তৈরি করে না।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
حقيقة هامة يجب أن ندركها من القرآن، ومن شواهد الآراء لكثير من علماء وفلاسفة الإسلام، وهي أن الله سبحانه الموصوف بكل صفات الكمال ?لا تدركه الأبصار وهو يُدرك الأبصار وهو اللطيف الخبير? (الآية 103، الأنعام) إن هذا معناه، أنّ كُنهُ ذات الله تعالى لا يُدرك. لهذا لا نجد كلاماً عن ماهيّة الله، أي عن حقيقته في ذاته، ولا عن هويّته، أي من هو؟ حتى مع وجود المناسبات الداعية إلى ذلك، إنما نجد كلاماً عن أفعاله وأنه هو الخالق الأوحد المدبّر لكل شيء، والذي بيده الأمر كله … نرى هذا في صورة بيانية رفيعة، لا حدّ لروعتها ولا لوصفها على الإطلاق، في حوار موسى وفرعون، بلسان القرآن الحكيم: ?قال فرعون وما ربُّ العالمين قال ربّ السموات والأرض وما بينهما إن كنتم موقنين قال لمن حوله ألا تستمعون قال ربّكم وربّ آبائكم الأوّلين قال إنّ رسولكم الذي أُرسل إليكم لمجنون قال ربّ المشرق والمغرب وما بينهما إن كنتم تعقلون? (الآيات 23 ـ 28، الشعراء) .
একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য যা আমাদের কুরআন থেকে এবং ইসলামের অনেক আলেম ও দার্শনিকদের মতামতের প্রমাণ (شواهد) থেকে অনুধাবন করা আবশ্যক, তা হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সকল পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত; "দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না, অথচ তিনি সকল দৃষ্টিকে আয়ত্ত করেন এবং তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত" (সূরা আল-আনআম, আয়াত ১০৩)। এর তাৎপর্য হলো, আল্লাহ তাআলার সত্তার প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। এ কারণেই আমরা আল্লাহর সত্তাগত স্বরূপ, অর্থাৎ তাঁর হাকিকত বা পরিচয় সম্পর্কে কোনো আলোচনা পাই না—এমনকি যেখানে এ সংক্রান্ত আলোচনার দাবি রাখে এমন প্রেক্ষাপট বিদ্যমান সেখানেও নয়। বরং আমরা কেবল তাঁর কার্যাবলী এবং তিনি যে একমাত্র স্রষ্টা, সবকিছুর ব্যবস্থাপক এবং যাঁর হাতে সমস্ত কর্তৃত্ব ন্যস্ত—সে সম্পর্কিত আলোচনাই দেখতে পাই … কুরআনুল হাকিমের বর্ণনায় মূসা ও ফেরাউনের সংলাপের মধ্যে আমরা এটি এক উচ্চাঙ্গের অলঙ্কারপূর্ণ শৈলীতে দেখতে পাই, যার চমৎকারিত্ব বা বর্ণনার কোনো সীমা নেই: "ফেরাউন বলল, রাব্বুল আলামীন কী? মূসা বললেন, তিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও। ফেরাউন তার চারপাশের লোকদের বলল, তোমরা কি শুনছ না? মূসা বললেন, তিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও পালনকর্তা। ফেরাউন বলল, তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের এই রাসূল তো নিশ্চয়ই এক উন্মাদ! মূসা বললেন, তিনি পূর্ব, পশ্চিম এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা, যদি তোমরা বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন হও।" (সূরা আশ-শুয়ারা, আয়াত ২৩-২৮)।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
قال فَمَن ربُّكما يا موس قال ربنا الذي أعطى كُلّ شيءٍ خَلقهُ ثم هدى قال فما بالُ القرون الأولى قال عِلمها عند ربي في كتاب لا يضلُّ ربي ولا يَنسَى الذي جعل لكم الأرض مهداً وسلك لكم فيها سبلاً وأنزل من السماء ماءً فأخرجنا به أزواجاً من نباتٍ شتى كلوا وارعوا أنعامكم إن في ذلك لآياتٍ لأولي النهي? (الآيات 49 ـ 54، طه) على هذا الصراط، يستدل المفكرون في الإسلام على أنّ ذات الله سبحانه وتعالى لا تُدرك، وهذا معناه أن العقل لا يحيط، بكنه ذاته، وإن كان يقطع بأنه موجودٌ بالأدلّة التي يستحيل إنكارُها على الاطلاق. كما يستنتجون، أنّ ذات الله لا يمكن أن تُعرَّف التعريف المنطقيّ، لأنَّه سبحانه وتعالى فريدٌ أوحدٌ، في وجوده، فلا يدخل مطلقاً في المفهومات العاديّة، ولأنّ التعريف المنطقي يتألف من الجنس القريب والفصل، وهو سبحانه وتعالى لا يدخل في جنس ولا نوع، لأنه ليس كمثله شيء!!
إن هذا معناه أن الله سبحانه وتعالى له حقيقته المخصوصة التي لا يعلمها إلاّ هو، ومن الطبيعي، والبديهيّ معاً، أن العقل الإنساني الحادِث المحدود النظر، لا يحيط بكنه المطلق الذي لا نهاية له. لذلك فإن القرآن عندما يتكلم عن الله، فإنه يذكر صفاته ويشير إلى أفعاله وحسبنا أن نذكر على سبيل المثال في هذا المقام آية الكرسي:
তিনি বললেন, "হে মুসা, তবে তোমাদের দুজনের প্রতিপালক কে?" তিনি বললেন, "আমাদের প্রতিপালক তিনি, যিনি প্রতিটি বস্তুকে তার উপযোগী আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর পথনির্দেশ করেছেন।" তিনি (ফেরাউন) বললেন, "তাহলে বিগত প্রজন্মগুলোর অবস্থা কী?" তিনি বললেন, "তাদের জ্ঞান আমার প্রতিপালকের নিকট এক কিতাবে সংরক্ষিত আছে; আমার প্রতিপালক ভুল করেন না এবং বিস্মৃতও হন না।" যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা স্বরূপ করেছেন এবং তাতে তোমাদের জন্য পথসমূহ প্রশস্ত করেছেন আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন; অতঃপর আমরা তার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি। তোমরা আহার করো এবং তোমাদের গবাদিপশু চরাও; নিশ্চয়ই এতে বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। (আয়াত ৪৯-৫৪, ত্বহা) এই পন্থায় ইসলামের চিন্তাবিদগণ এই যুক্তি প্রদান করেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সত্তা (ذات) উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। এর অর্থ হলো বুদ্ধি বা বিবেক তাঁর সত্তার স্বরূপ পরিবেষ্টন করতে পারে না, যদিও এমন সব অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে তাঁর অস্তিত্ব সুনিশ্চিত যা কোনোভাবেই অস্বীকার করা অসম্ভব। তারা আরও এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, আল্লাহর সত্তাকে যৌক্তিক সংজ্ঞায় (تعريف منطقي) সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয়। কারণ তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর অস্তিত্বে অনন্য ও একক; তাই তিনি কখনোই সাধারণ ধারণাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হন না। আর যেহেতু যৌক্তিক সংজ্ঞা ‘নিকটবর্তী বর্গ’ (جنس قريب) এবং ‘ব্যবচ্ছেদক বৈশিষ্ট্য’ (فصل) নিয়ে গঠিত হয়, অথচ তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কোনো বর্গ (جنس) বা শ্রেণির (نوع) অন্তর্ভুক্ত নন; কারণ তাঁর সদৃশ আর কিছুই নেই!!
এর অর্থ এই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার একটি বিশেষ হাকিকত (حقيقة) বা বাস্তবতা রয়েছে যা তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। এটি একইসাথে স্বাভাবিক এবং স্বতঃসিদ্ধ যে, মানুষের সৃষ্ট (حادث) ও সীমাবদ্ধ দৃষ্টিসম্পন্ন বিবেক সেই অসীম পরম (مطلق) সত্তার স্বরূপ পরিবেষ্টন করতে পারে না। এই কারণে কুরআন যখন আল্লাহ সম্পর্কে আলোচনা করে, তখন তা তাঁর গুণাবলি (صفات) উল্লেখ করে এবং তাঁর কার্যাবলির দিকে ইঙ্গিত দেয়। এই পর্যায়ে উদাহরণ হিসেবে আয়াতুল কুরসি উল্লেখ করাই আমাদের জন্য যথেষ্ট:
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
الله لا إله إلا هو، الحيّ القيّوم لا تأخذه سِنةٌ ولا نومٌ له ما في السموات وما في الأرض مَن ذا الذي يشفع عنده إلا بإذنه يعلم ما بين أيديهم وما خلفهم ولا يحيطون بشيءٍ من علمه إلا بما شاء وسع كرسيهُ السموات والأرض ولا يؤوده حفظهما وهو العليُّ العظيم? (الآية 255، البقرة) كما نذكُر هذه الآيات: ?هو الله الذي لا إله إلا هو عالم الغيب والشهادة هو الرحمن الرحيم هو الله الذي لا إله إلا هو الملكُ القدّوس السلام المؤمن المهيمن العزيز الجبّار المتكبر سبحانه الله عمّا يشركون هو الله الخالق البارئ المصوّر له الأسماء الحُسنى يُسبِّح له ما في السماوات والأرض وهو العزيز الحكيم? (الآيات 32 ـ 34، الحشر) .
وقد يتكلم القرآن عن صفات الله على صورة التشبيه والرمز أحياناً، نرى هذا في آية النور العظيمة، التي قامت على صراطها ونورها فلسفات الإشراق في الحقل الفلسفي والصوفي معاً. وفي مختلف الدوائر الفلسفية والصوفية، وآية النور الرمزية هي: ?اللهُ نورُ السموات والأرض مثل نُوره كمشكاة فيها مصباح المصباحُ في زجاجة الزجاجةُ كأنها كوكبٌ ذُرّيٌّ يُوقد من شجرةٍ مباركةٍ زيتونة لا شرقيةٍ ولا غربيةٍ يكادُ زَينتُةا يُضيءُ ولو لم تَمسَسهُ نار نورٌ على نورٍ يهدي اللهُ لنوره مَن يشاء ويضربُ الله الأمثالَ للناس والله بكل شيء عليم? (الآية 35، النور) .
আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করবে? তাদের সম্মুখে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছু তারা আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসি আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সুউচ্চ, সুমহান। (আয়াত ২৫৫, আল-বাকারা)। তেমনিভাবে আমরা এই আয়াতগুলো উল্লেখ করি: "তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা; তিনি পরম করুণাময়, পরম দয়ালু। তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; তিনিই অধিপতি, অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষক, পরাক্রমশালী, প্রবল প্রতাপান্বিত, অতীব মহিমান্বিত; তারা যা শরিক করে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র। তিনিই আল্লাহ, সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী; তাঁরই জন্য রয়েছে সকল উত্তম নাম। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর মহিমা ঘোষণা করে; আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" (আয়াত ৩২-৩৪, আল-হাশর)।
কুরআন কখনো কখনো আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে উপমা ও রূপকের আদলে আলোচনা করে থাকে; আমরা এটি সুমহান আয়াতুন নূরে দেখতে পাই, যার পথ ও আলোর ওপর ভিত্তি করে দর্শন ও তাসাউফ উভয় ক্ষেত্রে ইশরাকি দর্শনের ভিত্তি গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন দার্শনিক ও সুফি মহলে এই রূপকধর্মী আয়াতুন নূর হলো: "আল্লাহ আসমান ও জমিনের নূর। তাঁর নূরের উপমা হলো যেন একটি তাক, যাতে রয়েছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাঁচের আবরণে রাখা, কাঁচের আবরণটি যেন একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র; তা বরকতময় জয়তুন গাছ থেকে প্রজ্বলিত হয়, যা পূর্বমুখী নয় এবং পশ্চিমমুখীও নয়। এর তেল যেন আলোর বিচ্ছুরণ ঘটায়, যদিও আগুন তাকে স্পর্শ না করে। আলোর ওপর আলো। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর নূরের দিকে পথপ্রদর্শন করেন। আল্লাহ মানুষের জন্য উপমাসমূহ পেশ করেন এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।" (আয়াত ৩৫, আল-নূর)।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
على أنه إذا كان القرآن من جهة يرشد المتفكر، إلى الطريق المؤدي إلى الإيمان بوجود الله إيماناً استدلالياً، يقوم على النظر العقلي العلمي والفلسفي، في هذا العالم; فإنه من جهةٍ أخرى يشير إلى أن أساس الإيمان بالله، موجود كامنٌ في الفطرة الإنسانية: ?فأقِم وجهك للدين حنيفاً فطرة الله التي فطر الناس عليها? (الآية 30، الروم) أمر آخر نجده في آية العهد والميثاق التي شغلت ساحة التصوف الإسلامي كله، وهذه الآية تؤكد أن الإيمان بالله إلى جانب أنه معرفة أصلية، فهو عهدٌ وميثاق، أخذه اللهُ على الأرواح الآدمية البشرية كلها في عالمها السابق قبل أن تظهر متلبسةً متشخصةً في الأبدان والأجساد في هذه الدنيا: ?وإذ أخذ ربُّك مِن بني آدم من ظهورهم ذريتهم وأشهدهم على أنفسهم ألستُ بربكم قالوا بلى شهدنا أن تقولوا يوم القيامة إنا كنا عن هذا غافلين أو تقولوا إنما أشرك آباؤنا من قبل وكنا ذريةً من بعدهم أفتهلكنا بما فعل المبطلون وكذلك نفصل الآيات ولعلهم يرجعون? (الآيات 172 ـ 174، الأعراف) .
ولا شك: أن معرفة الروح بوجود الله، تلك المعرفة الفطرية في عالم الأرواح، الناطقة في آية العهد والميثاق الأزليّ الأبديّ، هذه المعرفة ليست استدلالية، بل هي معرفة ضرورية أو تجربة روحية، فيها تدرك الروح وجود ذاتها، وتدرك أن الله هو مصدر وجودها ومصدر معرفتها بهذه الحقيقة. على صراط الكتاب الحكيم، قامت البحوث حول المعرفة الإلهية. هل هي في هذه الدنيا استدلالية، أو هي ضرورية بديهية مغروزة كامنة في الفطرة كمون النار والنور في الحجر الصوان كما يقول بعض مفكّري الإسلام.
একদিকে কুরআন যেমন চিন্তাশীল ব্যক্তিকে সেই পথের দিকে পরিচালিত করে যা তাকে মহান আল্লাহর অস্তিত্বের ওপর যুক্তি-নির্ভর ঈমানের দিকে নিয়ে যায়—যা এই নশ্বর জগতের বুদ্ধিভিত্তিক, বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক পর্যালোচনার ওপর প্রতিষ্ঠিত; অন্যদিকে এটি এও ইঙ্গিত প্রদান করে যে, আল্লাহর ওপর বিশ্বাসের মূল ভিত্তিটি মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির (ফিতরাত) মধ্যেই সুপ্ত অবস্থায় বিদ্যমান: “সুতরাং তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখো। এটিই আল্লাহর সেই প্রকৃতি (ফিতরাত), যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন” (সূরা আর-রূম: ৩০)। অন্য একটি বিষয় আমরা অঙ্গীকার ও চুক্তির (আহদ ও মিছাক) আয়াতে দেখতে পাই যা সমগ্র ইসলামি তাসাউফের অঙ্গনকে পরিব্যপ্ত করে রেখেছে। এই আয়াতটি নিশ্চিত করে যে, আল্লাহর প্রতি ঈমান একটি মৌলিক জ্ঞান হওয়ার পাশাপাশি এটি একটি অঙ্গীকার ও চুক্তিও বটে, যা আল্লাহ সমস্ত মানবাত্মার নিকট থেকে তাদের পূর্বতন জগতে গ্রহণ করেছিলেন—এই পৃথিবীতে দেহ ও অবয়ব ধারণ করে প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে: “আর যখন তোমার পালনকর্তা বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করলেন এবং তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী রাখলেন যে, ‘আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই?’ তারা বলল, ‘অবশ্যই, আমরা সাক্ষ্য দিলাম।’ এটি এজন্য যে, পাছে তোমরা কিয়ামতের দিন বলো যে, ‘আমরা তো এ বিষয়ে অনবহিত ছিলাম।’ অথবা বলো যে, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরাই তো আগে শিরক করেছিল, আর আমরা তো ছিলাম তাদের পরবর্তী বংশধর; তবে কি আপনি পথভ্রষ্টদের কৃতকর্মের জন্য আমাদের ধ্বংস করবেন? আর এভাবেই আমি নিদর্শনসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি, যাতে তারা (সত্যের দিকে) ফিরে আসে” (সূরা আল-আরাফ: ১৭২-১৭৪)।
নিঃসন্দেহে আত্মার অস্তিত্ব ও আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে আত্মার সেই জ্ঞান, যা রূহ জগতের ফিতরাতজাত জ্ঞান এবং যা শাশ্বত ও চিরন্তন অঙ্গীকারের আয়াতে ব্যক্ত হয়েছে—সেই জ্ঞান যুক্তি-নির্ভর নয়; বরং তা একটি অপরিহার্য (ضروري) জ্ঞান অথবা একটি আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। সেখানে আত্মা নিজের অস্তিত্বকে অনুধাবন করে এবং বুঝতে পারে যে আল্লাহই তার অস্তিত্বের উৎস এবং এই সত্য উপলব্ধির মূল উৎস। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের প্রদর্শিত পথে ঐশী জ্ঞান সম্পর্কে বিভিন্ন তাত্ত্বিক গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। এই পৃথিবীতে সেই জ্ঞান কি যুক্তি-নির্ভর, নাকি তা একটি অপরিহার্য (ضروري) ও স্বতঃসিদ্ধ (بديهي) বিষয় যা মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির মাঝে এমনভাবে প্রোথিত ও সুপ্ত থাকে, যেমনটি চকমকি পাথরের মাঝে অগ্নি ও আলো সুপ্ত থাকে—যেমনটি কিছু ইসলামি চিন্তাবিদ ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
ذهب البعض إلى أن كل عقلٍ، فيه المعرفة بالله، ولكنها مغمورة بتأثير عوامل كثيرة، قد لا يستطيع الإنسان إلا قليلاً، أن يعبر عنها. وذهب البعض إلى أن المعرفة بالله استدلالية، وأنها نتيجة للنظر العقلي في العالم الرحيب. والأوّلون هم في الغالب من الصوفية، الذين يعرفون بطبيعة الحال طريق النظر العقلي ويسلكونها، وإلى جانب ذلك يسلكون طريق التصفية الروحية، ليدركوا المعرفة بالله في أرواحهم إدراكاً ذوقيّاً، ويدركوا تدبير الله في كل شيء. والآخَرون هم أصحاب النظر والاستدلال، وهم جماعة المتكلمين وعلماء الكلام، والفلاسفة بوجه عام، وكل المؤمنين المشتغلين بالعلوم الطبيعية والكونية. عَلى أنه لا تناقُض بين الطريقين، لأن النظر والاستدلال، لا يُعارضان طريق التصفية الروحية، وهما يؤيدان عن طريق البرهان، ما تثمره التصفية من معرفة ذوقية.
والصوفية يرون أن المعرفة بالله الموجودة في النفس من عهد?ألست بربكم? كالخط المكتوب على لوح وقع عليه غبار، ثم أُزيل، فعند ذلك يظهر الخط (9) . ويردُ ذكرُ هذا العهد مع الله في أشعارهم الرائعة، مثل شعر عمر ابن الفارض، وعبد الكريم الجيلي، وجلال الدين الرومي وعبد الرحمن الجامي وغيرهم. والمحقّقون من الصوفية في حضور دائم بين يدي الله، حتى قال بعضهم (10) : «ما رأيت شيئاً إلا ورأيت الله فيه» وقال البعض الآخر «ما رأيت شيئاً إلا ورأيت الله قبله» .
ويمكن القول بأن دليل المتكلمين الرئيسي لإثبات وجود الله هو (دليل الحدوث) أي أنه يستند إلى النظر في هذا العالم، وإثبات حدوث ما فيه من أجسام، ثم إثبات وجود محدثٍ له، بمقتضى ضرورة عقلية لا شك: فيها. على أن بعض المتكلمين انفرد بأدلّة على وجود الله، اختص بها; فيذكر لإبراهيم النظّام (11) دليل على وجود الله، يمكن تلخيصه فيما يلي:
কেউ কেউ মনে করেন যে, প্রতিটি বুদ্ধিবৃত্তি (عقل)-এর মধ্যেই আল্লাহর পরিচয় (معرفة) বিদ্যমান, তবে তা বহুবিধ প্রভাবের কারণে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে; মানুষ হয়তো সামান্যই তা প্রকাশ করতে সক্ষম হয়। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, আল্লাহর পরিচয় (معرفة) হলো যৌক্তিক অনুমাননির্ভর (استدلالي) এবং এটি বিশাল মহাবিশ্বে তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণের (نظر) ফল। প্রথমোক্তরা মূলত সুফি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, যারা স্বভাবজাতভাবেই তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণের (نظر) পথ সম্পর্কে অবগত এবং তা অনুসরণ করেন; এর পাশাপাশি তারা আত্মিক পরিশুদ্ধির পথও অবলম্বন করেন, যাতে তারা তাদের অন্তরে আল্লাহর পরিচয়কে (معرفة) আধ্যাত্মিক আস্বাদনমূলক (ذوقي) অনুভবের মাধ্যমে উপলব্ধি করতে পারেন এবং প্রতিটি বিষয়ের মধ্যে আল্লাহর পরিচালনা প্রত্যক্ষ করতে পারেন। আর অন্য দলটি হলো পর্যবেক্ষণ ও যৌক্তিক অনুমানের (استدلال) প্রবক্তা; তারা হলেন কালামশাস্ত্রবিদ (متكلمون), কালামশাস্ত্রের (علم الكلام) পণ্ডিতগণ, সাধারণভাবে দার্শনিকগণ এবং প্রাকৃতিক ও মহাজাগতিক বিজ্ঞান চর্চায় নিয়োজিত সকল মুমিন। তবে এই দুই পথের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, কারণ তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ (نظر) ও যৌক্তিক অনুমান (استدلال) আত্মিক পরিশুদ্ধির পথের বিরোধী নয়; বরং এগুলো অকাট্য প্রমাণের (برهان) মাধ্যমে পরিশুদ্ধির ফলে অর্জিত আধ্যাত্মিক আস্বাদনমূলক (ذوقي) জ্ঞানকে সুসংহত করে。
সুফিরা মনে করেন যে, 'আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই?' এই অঙ্গীকারের সময় থেকে আত্মার মাঝে বিদ্যমান আল্লাহর পরিচয় (معرفة) হলো একটি ফলকের উপর লেখা লিপির মতো যার ওপর ধুলো পড়েছিল, অতঃপর তা সরিয়ে ফেলার পর লিপিটি পুনরায় দৃশ্যমান হয়ে উঠল (৯)। আল্লাহর সাথে এই অঙ্গীকারের কথা তাঁদের চমৎকার কবিতাগুলোতে ফুটে উঠেছে, যেমন উমর ইবনুল ফারিদ, আব্দুল কারীম আল-জিলি, জালালুদ্দিন রুমি এবং আব্দুর রহমান জামি ও অন্যান্যদের কবিতা। সুফিদের মধ্যে যারা সত্যায়নকারী (محققون), তারা সর্বদা আল্লাহর দরবারে উপস্থিত থাকেন, এমনকি তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন (১০): “আমি এমন কোনো বস্তু দেখিনি যার মধ্যে আল্লাহকে দেখিনি” এবং অন্য কেউ বলেছেন “আমি কোনো বস্তু দেখার আগেই তাতে আল্লাহকে দেখেছি”।
বলা যেতে পারে যে, আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য কালামশাস্ত্রবিদদের (متكلمون) প্রধান দলিল হলো ‘সৃষ্টির নতুনত্বের দলিল’ (دليل الحدوث), অর্থাৎ এটি এই জগতের পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে এবং এর মধ্যকার বস্তুসমূহের নতুন সৃষ্টি বা আকস্মিকতা (حدوث) প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল, অতঃপর একটি অনিবার্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে এর একজন উদ্ভাবক (محدث)-এর অস্তিত্ব প্রমাণ করে যাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে কিছু কালামশাস্ত্রবিদ (متكلمون) আল্লাহর অস্তিত্বের এমন কিছু দলিলে অনন্য ছিলেন যা কেবল তাঁদেরই বৈশিষ্ট্য; যেমন ইব্রাহিম আন-নাজ্জাম (১১) আল্লাহর অস্তিত্বের এমন একটি দলিল উল্লেখ করেছেন যার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
«الأشياء في هذا العالم مختلفة متضادة بطبيعتها، لكنها مجتمعة، ومقهورة على خلاف طبيعتها. ولما كان الضدّان لا يجتمعان من ذات أنفسهما، فإن اجتماعهما يدلّ على فعلٍ لهما، على خلاف طبيعتهما، والخاضع لقهر غيره ضعيف حادث محتاج إلى محدث» .
ويمكننا أن نجد عند المقدسي (12) ، إجمالاً لكثير من الأدلّة على وجود الله وأهمها:
1 ـ دليل الاضطرار أو دليل الافتقار وقد وضحناه وذكرنا شواهده في القرآن.
2 ـ الدليل المستند إلى إجماع الأمم على وجود خالق مدبر، وهو دليل وثيق الصلة أيضاً، بالآية القرآنية: ?ولئن سألتهم من خلق السموات والأرض، ليقولنَّ خلقهنَّ العزيز العليم? (الآية 9، الزخرف) .
3 ـ الدليل الغائي مع مزجه بالدليل الكوني (ومن الدليل على إثبات الباري سبحانه، هذا العالم بما فيه من عجيب النظم وبديع التركيب، ومحكم الصنع، ولطيف التدبير والاتساق والإتقان) .
4 ـ الدليل المستند إلى تفاوت المخلوقات في درجاتها «فلو كانت الأشياء راجعةً إلى الطبيعة، لاستوت أحوالها وتكافأت أسبابها ولم تتفاوت، فلما وجدناها على خلاف ذلك، فلابد لها من مدبر حكيم وهو الله» .
5 ـ الدليل الغائي المستند إلى الإتقان والدقة والنظام في كل شيء، مما يدلّ على تدبير قادر حكيم.
ويرى المقدسي (13) أنّ الملحد حجة على نفسه بنفسه ولغيره (فلا محيص للملحد من حجج الله وآياته، فكيف وهو حجة بنفسه ولغيره) ، كما يرى أن شكّ الشاكّين في وجوده له نفس الدلالة، وأيضاً وجود الخير والشر والثواب والعقاب، كل هذا يقضي بضرورة وجود الإله.
فإذا مضينا مع الفلاسفة كالكندي والفارابي وابن سينا مثلاً كما وقفنا مع ابن رشد في البداية، وجدنا للكنديّ (14) أدلّة تقوم على مقدمات واضحة: إمّا من البديهيات الرياضية والمنطقية، وإمّا من النظر في الواقع الكوني.
وأهم أدلته.
«এই জগতের বস্তুসমূহ প্রকৃতিগতভাবে ভিন্ন ও পরস্পরবিরোধী, কিন্তু সেগুলো একত্রে সমবেত এবং তাদের প্রকৃতির পরিপন্থী অবস্থার ওপর বাধ্য করা হয়েছে। যেহেতু দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয় নিজস্বভাবে একত্রে মিলিত হতে পারে না, তাই তাদের একত্র হওয়া এমন এক ক্রিয়াকে নির্দেশ করে যা তাদের প্রকৃতির পরিপন্থী। আর অন্যের আধিপত্যের নিকট নতিস্বীকারকারী সত্তা হলো দুর্বল (ضعيف), নব্যসৃষ্ট (حادث) এবং একজন সৃষ্টিকারীর (محدث) মুখাপেক্ষী»।
আমরা মাকদিসী-এর (১২) নিকট আল্লাহর অস্তিত্বের সপক্ষে অনেকগুলো দলিলের সারসংক্ষেপ খুঁজে পাই, যার মধ্যে প্রধান হলো:
১ ـ আবশ্যকতা বা মুখাপেক্ষিতার দলিল; যা আমরা ব্যাখ্যা করেছি এবং কুরআনে এর প্রমাণাদি উল্লেখ করেছি।
২ ـ স্রষ্টা ও মহান নিয়ন্ত্রকের অস্তিত্বের ওপর জাতিসমূহের ঐকমত্যের (إجماع) ওপর ভিত্তি করে উপস্থাপিত দলিল। এটি কুরআনের এই আয়াতের সাথেও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত: "যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, এগুলো সৃষ্টি করেছেন মহাপراক্রমশালী, সর্বজ্ঞ" (সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত ৯)।
৩ ـ মহাজাগতিক দলিলের সাথে উদ্দেশ্যমূলক দলিলের সংমিশ্রণ (স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলার অস্তিত্ব প্রমাণের একটি দলিল হলো এই জগত এবং এর মধ্যকার বিস্ময়কর শৃঙ্খলা, চমৎকার গঠনশৈলী, নিপুণ কারুকার্য এবং সূক্ষ্ম পরিচালনা, সামঞ্জস্য ও পূর্ণতা)।
৪ ـ সৃষ্টির স্তরের ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে উপস্থাপিত দলিল: «যদি বস্তুসমূহ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল হতো, তবে সেগুলোর অবস্থা অভিন্ন হতো এবং কারণসমূহ সমান হতো, কোনো তারতম্য থাকতো না। যেহেতু আমরা এর বিপরীত দেখতে পাচ্ছি, তাই অবশ্যই একজন প্রজ্ঞাবান পরিচালক প্রয়োজন, আর তিনি হলেন আল্লাহ»।
৫ ـ প্রতিটি জিনিসের নিখুঁত গঠন, সূক্ষ্মতা ও শৃঙ্খলার ওপর ভিত্তি করে উদ্দেশ্যমূলক দলিল, যা একজন সর্বশক্তিমান ও প্রজ্ঞাবান সত্তার পরিচালনার দিকে নির্দেশ করে।
মাকদিসী (১৩) মনে করেন যে, একজন নাস্তিক নিজের বিরুদ্ধে নিজেই এবং অন্যদের জন্যও একটি প্রমাণ (আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত প্রমাণ ও নিদর্শন থেকে নাস্তিকের পালানোর কোনো পথ নেই; সে নিজেই নিজের জন্য এবং অন্যদের জন্য আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ)। একইভাবে তিনি মনে করেন যে, আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে সংশয়বাদীদের সংশয়ও একই প্রকারের নির্দেশনা বহন করে। এছাড়াও ভালো ও মন্দের অস্তিত্ব এবং সওয়াব ও আযাবের অস্তিত্ব—এসবই একজন ইলাহের উপস্থিতির অনিবার্যতাকে নির্দেশ করে।
আমরা যদি কিন্দী, ফারাবী ও ইবনে সিনার মতো দার্শনিকদের অনুসরণ করি, যেমনটা শুরুতে ইবনে রুশদকে নিয়ে আলোচনা করেছি, তবে দেখব যে কিন্দীর (১৪) দলিলগুলো সুষ্পষ্ট ভূমিকার ওপর প্রতিষ্ঠিত: হয় গাণিতিক ও যৌক্তিক স্বতঃসিদ্ধের ভিত্তিতে, অথবা মহাজাগতিক বাস্তবতার পর্যালোচনার ভিত্তিতে।
এবং তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিলসমূহ।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
1 ـ دليل التناهي: تناهي هذا العالم من حيث امتداده المكاني، ومن حيث مدة زمانه، ومن حيث حركته.
2 ـ دليل التغير، وهذا شاهد فيما يعتري الأشياء من أحوال التغيرات، من وحدة وكثرة وتركيب وانحلال، وتتابع هذه الأحوال يدل على أنها ليست للأشياء بحكم طبيعتها، فلابدّ أن تكون راجعةً لعلّةٍ خارجةٍ عنها.
3 ـ الدليل المنطقي التحليلي، وخلاصته أن الحادث يستحيل أن يكون علّةً لحدوث نفسه أو ذاته، لما في ذلك من تناقض واضح.
4 ـ الدليل الغائي، وهو عند الكندي على صورة واضحة، تجمع بين الاعتماد على الحسّ وعلى العقل.
فإذا انتقلنا إلى الفارابي المثاليّ النزعة، فإننا نجده يؤثر طريق التأمل لمفهوم الوجود، وتحليل هذا المفهوم، أو كما يقول الفارابي (15) :
«الموجودات على ضربين: أحدهما إذا اعتبرنا ذاته لم يجب وجوده، وهو يسمى ممكن الوجود، والثاني إذا اعتبرنا ذاته، وجب وجوده، وهو يسمى واجب الوجود، وهو الله. فإذا فرضنا أن ممكن الوجود غير موجود، لم يلزم عن ذلك محال، فإذا وجد فلا غنى لوجوده عن علّة، ولا يجوز أن تمر العلل بلا نهاية،
بل لابد أن تنتهي إلى شيء واجب الوجود وهو الله. وهذا الدليل يمكن ن نسميه: دليل الإمكان» .
وعند الفارابي دليل آخر، يقوم على التمييز بين حقيقة الأشياء أو ماهيتها (مثل الإنسانية بالنّسبة لأفراد الإنسان) ، وبين وجودها المتشخّص المشار إليه، أو هويّتها (مثل أفراد الإنسان) . فبما أن للممكنات ماهيّة وهويّة، وليست الأولى داخلة في الثانية، ولا الثانية في الأولى، ولا إحداهما تقتضي الأخرى، فإنهما إذا اجتمعتا، فلابدَّ لهما، من مبدإٍ مغايرٌ له ماهيّته، عين هويّته» .
ولا يخرج ابن سينا في أدلته على وجود الله، على منهج الفارابي وفكر الفارابي، وإن كان ابن سينا أكثر تفصيلاً وأرواع أسلوباً، وهذا واضح تمام الوضوح في سائر كتبه ومباحثه ولا سيما الإشارات.
1 ـ সসীমতার প্রমাণ (دليل التناهي): স্থানিক বিস্তৃতি, সময়ের স্থায়িত্ব এবং গতির দিক থেকে এই জগতের সসীমতা।
2 ـ পরিবর্তনের প্রমাণ (دليل التغير): এটি বস্তুর মধ্যে পরিলক্ষিত বিভিন্ন পরিবর্তনশীল অবস্থার সাক্ষ্য দেয়—যেমন একত্ব ও বহুত্ব এবং সংমিশ্রণ ও বিশ্লেষণ। এসব অবস্থার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে, এগুলো বস্তুর নিজস্ব স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের কারণে নয়; বরং এগুলো অবশ্যই কোনো বাহ্যিক কারণের (علة) দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।
3 ـ যৌক্তিক বিশ্লেষণমূলক প্রমাণ (الدليل المنطقي التحليلي): এর সারকথা হলো, কোনো সৃষ্ট বা নশ্বর বিষয়ের (حادث) পক্ষে স্বয়ং নিজের সৃষ্টির কারণ (علة) হওয়া অসম্ভব; কারণ এতে স্পষ্ট স্ববিরোধিতা বিদ্যমান।
4 ـ উদ্দেশ্যমূলক প্রমাণ (الدليل الغائي): আল-কিন্দির নিকট এটি একটি সুস্পষ্ট রূপ লাভ করেছে, যা ইন্দ্রিয়লব্ধ অভিজ্ঞতা ও বিবেকের সমন্বয়ে গঠিত।
আমরা যখন আদর্শবাদী ভাবধারার আল-ফারাবীর প্রসঙ্গে আসি, তখন দেখতে পাই তিনি অস্তিত্বের (وجود) ধারণা নিয়ে গভীর চিন্তা এবং এই ধারণার বিশ্লেষণের পথকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আল-ফারাবী (১৫) যেমনটি বলেন:
«অস্তিত্বশীল বস্তুসমূহ দুই প্রকার: প্রথমটি হলো যার সত্তার কথা বিবেচনা করলে তার অস্তিত্ব অপরিহার্য হয় না, তাকে সম্ভাব্য অস্তিত্ব (ممكن الوجود) বলা হয়। দ্বিতীয়টি হলো যার সত্তার কথা বিবেচনা করলে তার অস্তিত্ব অপরিহার্য হয়ে পড়ে, তাকে আবশ্যিক অস্তিত্ব (واجب الوجود) বলা হয়; আর তিনি হলেন আল্লাহ। যদি আমরা ধরে নিই যে সম্ভাব্য অস্তিত্ব বিদ্যমান নেই, তবে তাতে কোনো অসম্ভব (محال) কিছু ঘটবে না। কিন্তু যদি তা বিদ্যমান থাকে, তবে তার অস্তিত্বের জন্য একটি কারণের (علة) প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আর কারণের এই পরম্পরা অসীম পর্যন্ত চলতে পারে না;
বরং অবশ্যই তা আবশ্যিক অস্তিত্ব (واجب الوجود) অর্থাৎ আল্লাহর নিকট গিয়ে শেষ হতে হবে। এই প্রমাণটিকে আমরা সম্ভাবনার প্রমাণ (دليل الإمكان) বলতে পারি।»
আল-ফারাবীর নিকট অন্য একটি প্রমাণ রয়েছে, যা বস্তুর সারসত্তা বা হাকিকত (ماهية) —যেমন ব্যক্তিসত্তার বিপরীতে মানবতা—এবং তার মূর্ত অস্তিত্ব বা পরিচয় (هوية) —যেমন মানুষের ব্যক্তিসত্তাসমূহ—এর মধ্যে পার্থক্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। যেহেতু সম্ভাব্য অস্তিত্বশীল বিষয়গুলোর সারসত্তা (ماهية) এবং পরিচয় (هوية) রয়েছে এবং প্রথমটি দ্বিতীয়টির অন্তর্ভুক্ত নয়, আবার দ্বিতীয়টিও প্রথমটির অন্তর্ভুক্ত নয় এবং কোনোটিই অপরটির জন্য অপরিহার্য নয়; তাই এই দুটির মিলনের ক্ষেত্রে অবশ্যই এমন এক ভিন্ন মূল সত্তার প্রয়োজন যাঁর সারসত্তা (ماهية) তাঁর পরিচয়ের (هوية) হুবহু বা অভিন্ন।»
ইবনে সিনা আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণাদি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আল-ফারাবীর পদ্ধতি ও চিন্তাধারার বাইরে যাননি; যদিও ইবনে সিনার বর্ণনা অধিকতর বিস্তারিত এবং চমৎকার শৈলীপূর্ণ। তাঁর সকল কিতাব ও গবেষণায় এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, বিশেষ করে ইশারাত গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
ونعود فنقول في نهاية بحثنا أنّ الدين المنزّل، من عند خالق العالم وخالق الإنسان جاء موجهاً للإنسان المزود بالعقل والحواس وهو في هذا العالم. وهو من هذه النقطة، أو من ناحية المبدأ، يوحى بأن هناك اتفاقاً بين حقائق الدين، وبين ما يصل إليه العقل من علم، بشرط أن يكون الدين المنزّل على حالة صحّبته الأصلية، وأن يكونه فهمنا له فهماً صحيحاً، وأن يكون العلم الذي نصل إليه صحيحاً، وأن نعرف حكم العقل الصحيح وحدود أحكامه.
আমরা আমাদের গবেষণার শেষে পুনরায় বলছি যে, বিশ্বজাহান ও মানুষের স্রষ্টার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ দ্বীন এই পৃথিবীতে বিবেক ও ইন্দ্রিয়শক্তিসম্পন্ন মানুষের দিশারি হিসেবে এসেছে। এই প্রেক্ষাপট থেকে অথবা মূলনীতির দিক থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, ধর্মের শাশ্বত সত্যসমূহ এবং বিবেকের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানের মধ্যে একটি সমন্বয় বিদ্যমান; তবে শর্ত হলো অবতীর্ণ দ্বীন যেন তার আদি বিশুদ্ধ (صحيح) অবস্থায় থাকে, ধর্মের প্রতি আমাদের উপলব্ধি যেন সঠিক (صحيح) হয়, আমাদের অর্জিত জ্ঞান যেন সঠিক (صحيح) হয় এবং আমরা যেন বিবেকের সঠিক (صحيح) সিদ্ধান্ত (حكم) ও তার বিধানের (أحكام) সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকি।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
ولمّا كان الإسلام دين عقل وعلم، وكان القرآن قد تكلّم عن العالم ونظامه، وأمر بالنظر فيه، بالحس والعقل، للاستدلال على وجود الله، فإن العالم المسلم جديرٌ، بأن يؤمن بالعلم، كما يؤمن بالدين، فيطلب العلم بالكون، لأنه سبيل المعرفة بالله أيد هذا أو أكدهُ سائر علماء وفلاسفة الإسلام، فالكندي (16) مثلاً يقول فيما يقول: «كلّ ما جاء به الإسلام يمكن أن يُفهم بالمقاييس العقلية، التي لا يرفضها إلاّ جاهل» وابن رشد (17) يقول فيما يقول: «إنه لمّا كان الدين حقاً، فإنه لا يمكن أن يناقض العلم البرهاني، لأن الحق لا يضاد الحق، بل هو يوافقه ويشهد له» وإذا كان دليل العلم، قد أثبت وجود الله القادر الحكيم، فإنه بذلك يضع العالم كله أمام مسؤولية كبرى، فيما يتعلق بواجبه نحو هذا الإله، وحكمته من وجود الإنسان الذي كرّمه الله، وفيما يتعلق بواجبه نحو ما يترتب على استعمال نتائج البحوث العلمية التي وصلت إليها عبقرية العلماء، من عصر البخار والكهرباء حتى عصر الراديوم واليورانيوم، والكومبيوتر، وسفن الفضاء، في القرن العشرين
… فهي قد تُستعمل لخير الإنسان وعمران الحياة، أو لتحطيم، وتدمير الإنسان وتخريب الحياة. ومن هنا يجب على العالم الحديث والمعاصر أن يهتم بالنتائج التي تترتب على استعمال المعرفة العلمية، اهتمامه بالبحث العلمي نفسه. ومن هنا يصبح الإيمان بالله، باعثاً على معرفة حكمته، وعلى تقديسها واحترامها، فيكون العلم، مؤيداً للإيمان بالله ورسالة الإنسان، وعاملاً على كمال هذا الإنسان، وخيره وسعادته، في دنياه وأُخراه.
_________
যেহেতু ইসলাম যুক্তি ও বিজ্ঞানের ধর্ম, এবং যেহেতু কুরআন বিশ্ব ও এর ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছে এবং আল্লাহর অস্তিত্বের ওপর দলিল উপস্থাপনের (الاستدلال) উদ্দেশ্যে ইন্দ্রিয় ও বুদ্ধির সাহায্যে তাতে পর্যবেক্ষণ (النظر) করার নির্দেশ দিয়েছে, তাই একজন মুসলিম বিদ্বান (العالم) বিজ্ঞানের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার ততটাই যোগ্য, যতটা তিনি ধর্মের প্রতি বিশ্বাস রাখেন। ফলে তিনি মহাবিশ্ব বিষয়ক জ্ঞান অন্বেষণ করেন, কারণ এটি আল্লাহ সম্পর্কে পরিচিতি বা জ্ঞান (المعرفة) লাভের পথ। ইসলামের সকল আলেম ও দার্শনিকগণ এই বিষয়টিকে সমর্থন বা সুনিশ্চিত করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, আল-কিন্দি (১৬) বলেন: «ইসলাম যা কিছু নিয়ে এসেছে, তার সবটুকুই বুদ্ধিবৃত্তিক মানদণ্ডের (المقاييس العقلية) মাধ্যমে অনুধাবন করা সম্ভব, যা কেবল একজন মূর্খই প্রত্যাখ্যান করতে পারে»। ইবনে রুশদ (১৭) বলেন: «যেহেতু দ্বীন সত্য (الحق), তাই এটি কোনোভাবেই প্রমাণভিত্তিক বিজ্ঞানের (العلم البرهاني) পরিপন্থী হতে পারে না; কারণ সত্য (الحق) অন্য কোনো সত্যের (الحق) বিরোধী হয় না, বরং তা সত্যের অনুকূল হয় এবং তার সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়»। আর যদি বিজ্ঞানের দলিল (الدليل) সর্বশক্তিমান ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করে, তবে তা বিংশ শতাব্দীতে বাষ্প ও বিদ্যুতের যুগ থেকে শুরু করে রেডিয়াম, ইউরেনিয়াম, কম্পিউটার এবং মহাকাশযানের যুগ পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের মেধা ও প্রতিভা যে বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ ফলাফলের (النتائج) স্তরে পৌঁছেছে, তার ব্যবহারের পরিণতির ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর প্রতি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মানিত মানুষের অস্তিত্বের হিকমত বা প্রজ্ঞার প্রতি নিজ কর্তব্যের ব্যাপারে সমগ্র বিশ্বকে এক বিশাল দায়বদ্ধতার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়
… কারণ সেগুলো মানুষের কল্যাণ ও জীবন গড়ার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে, অথবা মানুষের বিনাশ ও জীবন ধ্বংসের কাজেও ব্যবহৃত হতে পারে। আর এখান থেকেই একজন আধুনিক ও সমসাময়িক বিদ্বানের (العالم) উচিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার ন্যায় বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ব্যবহারের ফলে উদ্ভূত ফলাফলসমূহের (النتائج) প্রতিও গুরুত্বারোপ করা। এর মাধ্যমেই আল্লাহর প্রতি ঈমান তাঁর হিকমত বা প্রজ্ঞা অনুধাবনের এবং তা শ্রদ্ধা ও সম্মান করার প্রেরণা হয়ে ওঠে; ফলে বিজ্ঞান আল্লাহর প্রতি ঈমান ও মানবীয় লক্ষ্যের সমর্থক হয় এবং মানুষের পূর্ণতা, কল্যাণ ও ইহকাল ও পরকালের সুখ-শান্তির মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
_________
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
1- هذا البحث له أصوله في مذكرات كنت أدوّنها خلال دراساتي الأكاديمية العالية، وهي مستوحاة من بعض محاضرات في الفلسفة الإسلامية، كان يلقيها علينا من أربعين عاماً أستاذنا الدكتور محمد عبد الهادي أبو ريدة أحد أعلام مدرسة شيخنا الجليل مصطفى عبد الرازق مؤسس ورائد المدرسة الفلسفية الإسلامية في الفكر الإسلامي المعاصر.
2- د/ علي سامي النشار: الفكر اليهودي وتأثره بالفلسفة الإسلامية المقدمة + المدخل 1 ـ 3 دار المعارف بالإسكندرية 1972م.
3- يوسف كرم: تاريخ الفلسفة الأوروبية في العصر الوسيط 32 ـ 33 القاهرة ـ دار المعارف 1965.
4- المرجع السابق 1/2.
5- المراجع السابقة 1 / 2.
6- ابن رشد: الكشف عن مناهج الأدلة في عقائد الملة تحقيق وتقديم الأستاذ الدكتور محمود قاسم مكتبة الأنجلو القاهرة 1964م.
7- الأشعري: (أبو الحسن) : مقالات الإسلاميين واختلاف المصلين ج1 ج2، اسطمبول 1920م.
8- المقدسي: البدء والتاريخ 1/50 ـ 62 بيروت 1960م.
9- نجم الدين الكبرى: فوائح الجمال وفواتح الجلال القاهرة 1920 م10 ـ 20 وانظر أيضاً الكلاباذي: التعرف لمذهب أهل التصوف 60 ـ 70 الحلبي: القاهرة 1964 وانظر أيضاً د/ عبد القادر محمود: الفلسفة الصوفية في الإسلام دار الفكر 1965 وانظر أيضاً د/ عبد القادر محمود: الفكر الإسلامي والفلسفات المعارضة في القديم والحديث 3 أجزاء جامعة الخرطوم لجنة التأليف والترجمة والنشر 1971 ـ 1973.
10- نجم الدين الكبرى: فوائح الجمال وفواتح الجلال القاهرة 1920 م10 ـ 20 وانظر أيضاً الكلاباذي: التعرف لمذهب أهل التصوف 60 ـ 70 الحلبي: القاهرة 1964 وانظر أيضاً د/ عبد القادر محمود: الفلسفة الصوفية في الإسلام دار الفكر 1965 وانظر أيضاً د/ عبد القادر محمود: الفكر الإسلامي والفلسفات المعارضة في القديم والحديث 3 أجزاء جامعة الخرطوم لجنة التأليف والترجمة والنشر 1971 ـ 1973.
1- এই গবেষণার মূল ভিত্তি হলো সেই সকল স্মারকলিপি যা আমি আমার উচ্চতর একাডেমিক অধ্যয়নকালে লিপিবদ্ধ করেছিলাম। এগুলো ইসলামী দর্শনের কিছু বক্তৃতা থেকে অনুপ্রাণিত, যা আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে আমাদের নিকট প্রদান করেছিলেন আমাদের উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মদ আব্দ আল-হাদী আবু রিদা। তিনি ছিলেন আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ মুস্তফা আব্দ আল-রাযিক-এর ধারার অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, যিনি সমকালীন ইসলামী চিন্তাধারায় ইসলামী দার্শনিক ধারার প্রতিষ্ঠাতা ও পথিকৃৎ ছিলেন।
2- ড. আলী সামি আন-নাশশার: ইহুদি চিন্তা ও তাতে ইসলামী দর্শনের প্রভাব; ভূমিকা + প্রবেশিকা ১-৩, দারুল মা’আরিফ, আলেকজান্দ্রিয়া, ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ।
3- ইউসুফ কারাম: মধ্যযুগে ইউরোপীয় দর্শনের ইতিহাস, ৩২-৩৩, কায়রো—দারুল মা’আরিফ, ১৯৬৫।
4- পূর্বোক্ত উৎস, ১/২।
5- পূর্বোক্ত উৎসসমূহ, ১/২।
6- ইবনে রুশদ: আল-কাশফ আন মানাহিজিল আদিল্লাহ ফি আকাইদিল মিল্লাহ, সম্পাদনা ও উপস্থাপনা: প্রফেসর ডক্টর মাহমুদ কাসিম, মাকতাবাতুল আনজলো, কায়রো, ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দ।
7- আল-আশআরি: (আবুল হাসান): মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন ওয়া ইখতিলাফুল মুসাল্লিন, খণ্ড ১, খণ্ড ২, ইস্তাম্বুল, ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দ।
8- আল-মাকদিসি: আল-বাদ ওয়া আত-তারিখ, ১/৫০-৬২, বৈরুত, ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
9- নাজমুদ্দিন আল-কুবরা: ফাওয়াইহুল জামাল ওয়া ফাওয়াতিহুল জালাল, কায়রো, ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দ, পৃষ্ঠা ১০-২০; আরও দেখুন: আল-কালাবাযি: আত-তা’আররুফ লি মাযহাবি আহলিত তাসাউফ, ৬০-৭০, আল-হালাবি: কায়রো, ১৯৬৪; আরও দেখুন: ড. আব্দুল কাদির মাহমুদ: আল-ফালসাফাতুস সুফিয়্যাহ ফিল ইসলাম, দারুল ফিকর, ১৯৬৫; আরও দেখুন: ড. আব্দুল কাদির মাহমুদ: আল-ফিকরুল ইসলামি ওয়াল ফালসাফাতুল মুয়ারিদাহ ফিল কদিমি ওয়াল হাদিস (প্রাচীন ও আধুনিক যুগের ইসলামী চিন্তা ও বিরোধী দর্শনসমূহ), ৩ খণ্ড, খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়, রচনা, অনুবাদ ও প্রকাশনা কমিটি, ১৯৭১-১৯৭৩।
10- নাজমুদ্দিন আল-কুবরা: ফাওয়াইহুল জামাল ওয়া ফাওয়াতিহুল জালাল, কায়রো, ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দ, পৃষ্ঠা ১০-২০; আরও দেখুন: আল-কালাবাযি: আত-তা’আররুফ লি মাযহাবি আহলিত তাসাউফ, ৬০-৭০, আল-হালাবি: কায়রো, ১৯৬৪; আরও দেখুন: ড. আব্দুল কাদির মাহমুদ: আল-ফালসাফাতুস সুফিয়্যাহ ফিল ইসলাম, দারুল ফিকর, ১৯৬৫; আরও দেখুন: ড. আব্দুল কাদির মাহমুদ: আল-ফিকরুল ইসলামি ওয়াল ফালসাফাতুল মুয়ারিদাহ ফিল কদিমি ওয়াল হাদিস, ৩ খণ্ড, খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়, রচনা, অনুবাদ ও প্রকাশনা কমিটি, ১৯৭১-১৯৭৩।
(খণ্ড: ১)
উসুলু ওয়া শাওয়াহিদুন নাযারিল আকলি ফিল কুরআন ওয়াল ফিকরিল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
11- د/ عبد الهادي أبو ريدة: إبراهيم بن سيار النظّام ـ ط2/ 1990 م القاهرة.
12- د/ عبد الهادي أبو ريدة: رسائل الكندي الفلسفية تحقيق وتقديم الدكتور أبو ريدة القاهرة 1950 م.
13- نفس المصدر.
14- نفس المصدر.
15- ابن رشد: فصل المقال فيما بين الحكمة والشريعة من الاتصال، 1949م.
16- نفس المصدر.
17- نفس المصدر.
11- ড. আব্দুল হাদি আবু রিদাহ: ইব্রাহিম বিন সাইয়ার আন-নাজ্জাম — ২য় সংস্করণ/ ১৯৯০ খ্রি. কায়রো।
12- ড. আব্দুল হাদি আবু রিদাহ: আল-কিন্দির দার্শনিক পত্রাবলি, ডক্টর আবু রিদাহর সম্পাদনা ও উপস্থাপনা, কায়রো ১৯৫০ খ্রি.।
13- একই উৎস।
14- একই উৎস।
15- ইবনে রুশদ: ফাসলুল মাকাল ফীমা বাইনাল হিকমাতি ওয়াশ শারিয়াতি মিনাল ইত্তিসাল, ১৯৪৯ খ্রি.।
16- একই উৎস।
17- একই উৎস।