(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: -)
جمع السبائك لأحكام المناسك   (محمد بن علي حلاوة)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: جمع السبائك لأحكام المناسك

المؤلف: محمد بن على حلاوة

تقديم: مصطفى بن العدوي

الناشر: مكتبة مكة، طنطا - مصر

الطبعة: الأولى، 1443 هـ - 2021 م

عدد الصفحات: 666

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1445

হজের বিধানাবলির সংকলন (জামউস সাবায়েক)   (মুহাম্মাদ বিন আলী হালাওয়াহ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলা


গ্রন্থ: হজের বিধানাবলির সংকলন (জামউস সাবায়েক)

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আলী হালাওয়াহ

উপস্থাপনা: মুস্তফা বিন আল-আদাবী

প্রকাশক: মাকতাবাতু মক্কা, তানতা - মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৩ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تقديم

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله.

وبعد، فهذا بحث في الحج والعمرة وأعمالهما، وما يتعلق بهما من أحكام، أَعَدَّه أخي في الله، فضيلة الشيخ محمد حلاوة- حَفِظه الله- وقد اعتَنى فيه بصحة المادة الحديثية وسلامتها، فخَرَّج الأحاديث والآثار، وحَكَم عليها بما تستحقه صحة أو ضعفًا، وأورد أقوال أئمة الفقه من مصادرها، ورَجَّح ما يقتضي ما صححه من الدليل رجحانه.

فجزاه الله خيرًا، ونَفَع به، ووَفَّقه لمزيد من العلم النافع والعمل الصالح.

وهذا، ولأخي محمد- حَفِظه الله- عدد من المصنفات النافعة في الفقه، مثل «أحكام الطهارة» و «الصيام» و «الزكاة» فاللهَ أسأل أن ينفع به وبعلمه.

وصلى الله على نبينا محمد وسلم.

والحمد لله رب العالمين.

 

كتبه

أبو عبد الله

مصطفى بن العدوي

(2) رمضان (1442 هـ)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর।

অতঃপর, এটি হজ ও ওমরাহ, এগুলোর কার্যাবলি এবং এতদসংক্রান্ত বিধানাবলি নিয়ে একটি গবেষণা, যা প্রস্তুত করেছেন আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে আমার ভাই, সম্মানিত শাইখ মুহাম্মদ হালাওয়া—আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন। এতে তিনি হাদিস সংক্রান্ত তথ্যের বিশুদ্ধতা ও নির্ভুলতার প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন; তিনি হাদিস ও আছারসমূহের তাখরিজ করেছেন এবং সেগুলোর ওপর সহিহ বা যয়িফ হওয়ার যথাযথ হুকুম প্রদান করেছেন। এছাড়া তিনি ফিকহ শাস্ত্রের ইমামগণের বক্তব্যসমূহ তাদের মূল উৎস থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং দলিলে যা সহিহ প্রমাণিত হয়েছে তার ভিত্তিতে প্রাধান্যযোগ্য মতটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর মাধ্যমে মানুষকে উপকৃত করুন এবং তাঁকে আরও বেশি উপকারী জ্ঞান ও নেক আমলের তাওফিক দান করুন।

উল্লেখ্য যে, আমার ভাই মুহাম্মদের—আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন—ফিকহ শাস্ত্রে বেশ কিছু উপকারী গ্রন্থ রয়েছে, যেমন «পবিত্রতার বিধান», «সিয়াম» এবং «যাকাত»; আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে এবং তাঁর জ্ঞানকে মানুষের জন্য উপকারী করেন।

আমাদের নবী মুহাম্মদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

এটি লিখেছেন

আবু আব্দুল্লাহ

মুস্তফা ইবনে আল-আদাবী

(২) রমজান (১৪৪২ হিজরি)
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي شَرَع الحج إلى بيته الحرام، وجَعَله أحد أركان الإسلام، ونَهَى الحاج عن ارتكاب المعاصي والمخالفات والآثام، وغَفَر لمَن حج واعتمر ما اكتسب من الذنوب والآثام، أحمده حمدًا كثيرًا طيبًا على مر الليالي والأيام.

وأشهد أَنْ لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شَرَع الشرائع وأَحْكَم الأحكام، وجَعَل الحج سببًا لدخول الجنة دار السلام، ووسيلةً لتكفير الذنوب والآثام. وأشهد أن سيدنا ونبينا محمد عبد الله ورسوله، أفضل الخَلْق وصفوة الأنام، وأفضل مَنْ صلى وصام، وأدى مناسك الحج على الكمال والتمام.

أنت الذي قَوَّمْتَ ميزان الورى … ومحوتَ ظُلْم العدل في الميزانِ

آسيتَ أيتامًا كَفَلْتَ أراملًا … أَسْعَدْتَ محرومًا رَحِمْتَ العاني

أَنْقَذْتَ مسكينًا حَمَيْتَ مُشَرَّدًا … أَسْعَدْتَ مكروبًا هَدَيْتَ الجاني

صلى عليك الله وسَلَّمَا … يا رحمة بُعِثَتْ من الرحمنِ

اللهم صَلِّ على صاحب النفس الرضية، والطَّلْعة البهية، والمُهجة التقية، واليد الوفية، وعلى آله وصحبه، تلك النخبة الأبية، الأئمة الأعلام، شموس الدُّجَى ومصابيح الظلام، وعلى التابعين ومَن تَبِعهم بإحسان ما تعاقبت الليالي والأيام.

أما بعد:

فإِنَّ مِنْ أعجب ما يدهش ألباب العقلاء، ويأخذ بقلوب الأصفياء، ويحار في ذكره المفكرون والعظماء، ويقف عن ترجمته الخبراء والعلماء، ويَعجز عن وصفه الفصحاء والبلغاء- جَذْب النفوس لبيت الله الحرام.

إلى قِبلة الرُّوح رُوحي سَمَتْ … وطَرْفي إليها أطال النظَرْ

أَحن إليها وأشتاقها … وكم من فؤاد إليها انفطَرْ
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর পবিত্র ঘরের দিকে হজের বিধান দিয়েছেন এবং একে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি হাজিকে পাপাচার, নাফরমানি ও গুনাহে লিপ্ত হতে নিষেধ করেছেন এবং যে ব্যক্তি হজ ও ওমরাহ পালন করেছে তার অর্জিত যাবতীয় পাপ ও গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। রাত ও দিনের আবর্তনে আমি তাঁর অনেক অনেক পবিত্র প্রশংসা করছি।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি শরিয়তসমূহ প্রবর্তন করেছেন এবং বিধানসমূহ সুদৃঢ় করেছেন। তিনি হজকে জান্নাত তথা শান্তির আবাসে প্রবেশের কারণ এবং গুনাহ ও পাপ মোচনের মাধ্যম বানিয়েছেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল; তিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও মানবজাতির মনোনীত পুরুষ, যিনি সালাত ও সিয়াম পালনকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং যিনি হজের আহকামসমূহ পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথভাবে সম্পাদন করেছেন।

আপনিই সেই ব্যক্তি যিনি সৃষ্টির মানদণ্ড সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন … এবং নিক্তিতে অবিচারের অন্ধকার মুছে দিয়েছেন।

আপনি এতিমদের সমব্যথী ছিলেন, বিধবাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছিলেন … বঞ্চিতকে সুখী করেছিলেন এবং আর্তের প্রতি দয়া করেছিলেন।

আপনি অভাবীকে উদ্ধার করেছিলেন, আশ্রয়হীনকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন … ব্যথিতকে আনন্দিত করেছিলেন এবং অপরাধীকে পথ প্রদর্শন করেছিলেন।

আল্লাহর রহমত ও শান্তি আপনার ওপর বর্ষিত হোক … হে দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রহমত।

হে আল্লাহ! আপনি রহমত বর্ষণ করুন প্রশান্ত আত্মা, উজ্জ্বল চেহারা, পবিত্র হৃদয় এবং বিশ্বস্ত হাতের অধিকারীর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর; যাঁরা ছিলেন সেই অভিজাত গোষ্ঠী, বরেণ্য ইমাম, অন্ধকার রজনীর সূর্য ও তমসাপূর্ণ রাতের প্রদীপ। আরও রহমত বর্ষিত হোক তাবেয়িগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে দিন ও রাতের আবর্তনে তাঁদের অনুসরণ করে তাঁদের ওপর।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানদের বিবেককে যা সবচেয়ে বেশি বিমোহিত করে, শুদ্ধচিত্ত ব্যক্তিদের অন্তরকে যা কেড়ে নেয়, চিন্তাবিদ ও মহাজনরা যার স্মরণে ব্যাকুল হয়, বিশেষজ্ঞ ও আলেমগণ যার ব্যাখ্যায় থমকে দাঁড়ায় এবং অলঙ্কারবিদ ও বাগ্মীগণ যার বর্ণনায় অক্ষম হয়ে যায়—তা হলো আল্লাহর পবিত্র ঘরের প্রতি প্রাণের টান।

আঁখি আমার সুদীর্ঘকাল চেয়ে রয় সেথায় … রুহের কিবলা পানে আমার রুহ যে ধেয়ে যায়।

ব্যাকুল হই তারি তরে, জাগে মনে সে চাওয়া … কত হৃদয় বিদীর্ণ হলো না পেয়ে তার পাওয়া।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ৫)
هناك الهدى والمُنى والسَّنا … وطَيْف من الأمل المُنتظَرْ

هناك بداياتنا أُمَّة … تسامت وميلاد خير البشَرْ

وإِنَّ مِنْ أعظم علامات اليُمْن، وأمارات الخير، وتباشير النصر لهذه الأمة العظيمة العزيزة بدينها- حبها لبيت بارئها، ولَهْفها لِحَرَم خالقها، وتَحَقَّقَتْ دعوة الخليل: {فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ} [إبراهيم: 37].

هنا بمكة آي الله قد نَزَلَتْ … هنا تربى رسول الله خير نبي

هنا الصحابة عاشوا يَصنعون لنا … مجدًا فريدًا على الأيام لم يشب

هنا، مكة مهد الدين والإسلام، اصطفاها الرحمن، وتَنَزَّل في جنباتها القرآن، وفيها وُلد ونشأ وبُعث سيد الأنام، عليه أفضل الصلاة وأزكى السلام.

بلدة ترنو إليها الأبصار، وتمتد إليها الأعناق، وتَعْلَق بها الخواطر، وتَلْهَج بها الأفكار.

لا تُنكِروا شوقي إلى أُم القُرى … وتَهتُّكي بين الورى من ذكرها

أبدًا بقلبي لا تَزال ربوعها … وبناظرَيَّ مَصِيفها وربيعها

بلد تَطْرَب القلوب لذكره، وتشتاق الأفئدة لحُسْنه، إنه مكة، الاسم الخالد في قلب كل مؤمن، على ثراها نزلت الهداية، ومِن رُباها رُفعت للحق أعظم راية وكانت البداية.

أُمَّ القرى يا جنة اليوم والغد … ويا زينة الماضي التليد المجدد

أعز بلاد الله في الأرض موطنًا … ومولد خير الأنبياء محمد

إن الله تعالى جَعَل الكعبة مَهْوَى أفئدة المسلمين، وقِبلة المصلين، ومَثابة للعَالَمين، وأَمْنًا للخائفين، ومأوى للمذنبين والمُقصِّرين، يَطلبون عنده العفو والمغفرة من رب العالمين، قال تعالى: {إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ} [آل عمران: 96].

كيف لا يكون هُدًى، ومنه انبثق فجر الإسلام ونور الإيمان؟!

كيف لا، وقد جَعَلها الله قيامًا للناس أجمعين، وهي قِبلة للمسلمين، ومَهْبِط الوحي على النبي الأمين؟!

كيف لا، وكم مِنْ نفوس دخلته فآبت وتابت واستقامت؟! وكم مِنْ قلوب دخلته فاطمأنت وسكنت؟! كيف لا والقلوب والأبدان تتوجه إليه كل يوم مرات ومرات، ولو
সেখানে রয়েছে হিদায়াত, আকাঙ্ক্ষা ও জ্যোতি … এবং প্রতীক্ষিত আশার এক আভা

সেখানে আমাদের উম্মাহর সূচনা … যা উচ্চতায় আসীন হয়েছে এবং তা সর্বশ্রেষ্ঠ মানবের জন্মস্থান

নিশ্চয়ই এই মহান উম্মাহর জন্য—যারা তাদের দ্বীনের মাধ্যমে সম্মানিত—সৌভাগ্য, কল্যাণের নিদর্শন এবং বিজয়ের সুসংবাদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তাদের স্রষ্টার ঘরের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের সৃষ্টিকর্তার পবিত্র হারামের প্রতি আকুলতা। আর এভাবেই খলীল (আলাইহিস সালাম)-এর দুআ বাস্তবায়িত হয়েছে: "অতএব আপনি মানুষের অন্তরসমূহকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন।" [ইবরাহীম: ৩৭]।

এখানেই মক্কায় আল্লাহর আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে … এখানেই সর্বশ্রেষ্ঠ নবী রাসূলুল্লাহ লালিত-পালিত হয়েছেন

এখানেই সাহাবীগণ আমাদের জন্য এক অনন্য গৌরব রচনা করে অতিবাহিত করেছেন … যা কালের পরিক্রমায় কখনও ম্লান হয়নি

এখানে, মক্কা হলো দ্বীন ও ইসলামের সূতিকাগার, যাকে পরম করুণাময় চয়ন করেছেন। এর চারদিকে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং এখানেই মানবজাতির সর্দার জন্মগ্রহণ করেছেন, বেড়ে উঠেছেন এবং রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন; তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক।

এমন এক শহর যার দিকে দৃষ্টিসমূহ নিবদ্ধ থাকে, যার পানে গ্রীবাসমূহ প্রলম্বিত হয়, যার সাথে চিন্তাচেতনা জড়িয়ে থাকে এবং যার ভাবনায় মন মগ্ন থাকে।

উম্মুল কুরার প্রতি আমার আকুলতাকে তোমরা অস্বীকার করো না … এবং তার স্মরণে সৃষ্টির মাঝে আমার ব্যাকুলতাকে নিন্দা করো না

চিরকাল আমার হৃদয়ে তার প্রাঙ্গণগুলো অম্লান থাকবে … আর আমার দৃষ্টিতে থাকবে তার গ্রীষ্ম ও বসন্তের রূপ

এমন এক জনপদ যার স্মরণে হৃদয় প্রশান্ত হয় এবং যার সৌন্দর্যের জন্য অন্তর ব্যাকুল হয়ে ওঠে; তা হলো মক্কা, যা প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে এক চিরন্তন নাম। এর মাটিতে হিদায়াত অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর উচ্চভূমি থেকেই সত্যের মহান ঝাণ্ডা উত্তোলিত হয়েছিল এবং সূচিত হয়েছিল নবদিগন্ত।

হে উম্মুল কুরা! তুমি আজ ও আগামীর জান্নাত … এবং তুমি সুপ্রাচীন ও নবায়িত ঐতিহ্যের অলঙ্কার

ভূখণ্ড হিসেবে আল্লাহর জমিনে সবচাইতে সম্মানিত জনপদ … এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদের জন্মস্থান

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কাবাকে করেছেন মুসলমানদের অন্তরের মিলনস্থল, নামাযীদের কিবলা, বিশ্ববাসীর জন্য আশ্রয়স্থল, ভীতসন্ত্রস্তদের জন্য নিরাপদ স্থান এবং পাপী ও অপরাধীদের জন্য আশ্রয়; যেখানে তারা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করে। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই মানুষের জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মিত হয়েছে, তা তো মক্কায় অবস্থিত; যা বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াতস্বরূপ।" [আলে ইমরান: ৯৬]।

কেনই বা এটি হিদায়াত হবে না, যখন এখান থেকেই ইসলামের ঊষা এবং ঈমানের নূর উদ্ভাসিত হয়েছে?!

কেনই বা হবে না, অথচ আল্লাহ একে সকল মানুষের জন্য স্থায়িত্বের ভিত্তি করেছেন, আর এটিই হলো মুসলমানদের কিবলা এবং আমানতদার নবীর ওপর ওহী অবতরণের স্থান?!

কেনই বা হবে না, যখন কত শত প্রাণ এতে প্রবেশ করে ফিরে এসেছে, তওবা করেছে এবং অবিচল হয়েছে?! কত হৃদয় এতে প্রবেশ করে প্রশান্তি ও স্থিরতা লাভ করেছে?! কেনই বা হবে না যখন অন্তরসমূহ ও দেহসমূহ প্রতিদিন বারবার এর দিকেই নিবিষ্ট হয়, এমনকি যদি
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ৬)
كانت في قاع البحار أو فوق السحاب؟!

يا مكة الخير يا أرض المَسَرَّاتِ … يا مَشْرِق النور يا مَهْد النُّبواتِ

يا دُرَّة في جبين الكون ساطعة … يا عبيرًا لأرواح زكياتِ

وكيف لا ننتشي شوقًا إلى بلد … نهفو له كل يوم خَمْس مراتِ

بيتٌ سطع نوره، وأشرقت بهجته، وراقت نضارته، وتألق حُسنه!

بيت تتحرك إليه النفوس، وتتلهف له القلوب، وتثور شجون الحب، وتُنْفَق فيه الأموال، وتُتْرَك من أجله الأوطان؛ طاعة واستجابة لنداء الواحد الديان؛ لترتوي النفوس وتطمئن القلوب وتزكو الجوارح؛ لتزداد من الحسنات وتتقرب من رب الأرض والسموات، ترجو الجنان والعتق من النيران.

في البيت الحرام تُسْكَب العَبَرات، وتُجَدَّد التوبات، وتَصعد الزَّفَرات، وتُسَح الدمعات، وتُسْمَع الآهات.

في البيت الحرام يكون الأُنس بالرحمن، ويتخلص القلب من الأحزان، وتنطلق الرُّوح من العصيان.

في البيت الحرام تُضاعَف الحسنات، وتُحَط الغَدَرات، وتُعَظَّم السيئات، وتُغْفَر الزلات.

فالناظر حول الكعبة بيت الله الحرام يرى رجالًا أتقياء، ونساء خَيِّرات، وشبابًا أصفياء، بتلك النفوس المؤمنة الزمان يزدهر، والأيام تحتفل، والأرض في طرب.

حَيِّ الشباب شباب أُمتنا الذي … هَجَر الرِّعاع وسار للرحمنِ

متوجهًا للبيت يَبغِي رحمة … متوثبًا بالنور والإيمانِ

العين تَفرح حين تُبْصِر ما تَرَى … من دعوة وإنابة الشُّبَّانِ

علماءنا ودُعاتَنا بُشْرَى لكم … يا مَنْ بَنيتم عاليَ البُنيانِ

ولتفرحي يا أمتي فلقد بدا … فجر الهداية واضحًا لعِيَانِ

والشِّيب قد خَفُّوا على عَجْز بهم … لِلِقاء خالقهم بغير هوانِ

قَطَعُوا الفيافي والقفار لعلهم … يَحْظَوْنَ بالرحمات والغُفرانِ
তা কি সমুদ্রের অতল গহ্বরে ছিল নাকি মেঘের উপরে?!

হে কল্যাণের মক্কা, হে আনন্দের ভূমি … হে নূরের উদয়স্থল, হে নবুওয়াতের দোলনা

হে মহাবিশ্বের ললাটে উজ্জ্বল মুক্তা … হে পবিত্র আত্মাসমূহের সুগন্ধি

আমরা কেন সেই শহরের আকাঙ্ক্ষায় ব্যাকুল হব না … যার জন্য আমরা প্রতিদিন পাঁচবার অধীর হই

এমন এক ঘর যার নূর উদ্ভাসিত হয়েছে, যার আনন্দ বিকশিত হয়েছে, যার সজীবতা প্রসন্ন হয়েছে এবং যার সৌন্দর্য ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়েছে!

এমন এক ঘর যার দিকে প্রাণসমূহ ধাবিত হয়, হৃদয়সমূহ ব্যাকুল হয়, ভালোবাসার আবেগ উথলে ওঠে, যাতে সম্পদ ব্যয় করা হয় এবং যার জন্য স্বদেশ ত্যাগ করা হয়; একমাত্র প্রতিদানদাতা আল্লাহর আহ্বানে আনুগত্য ও সাড়া প্রদানের নিমিত্তে; যেন প্রাণসমূহ পরিতৃপ্ত হয়, হৃদয়সমূহ প্রসন্ন হয় এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ পবিত্র হয়; যাতে নেক আমল বৃদ্ধি পায় এবং যমীন ও আসমানের রবের নৈকট্য লাভ করা যায়, জান্নাতের আশায় এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির কামনায়।

বাইতুল হারামে অশ্রু বিসর্জন করা হয়, তাওবা নবায়ন করা হয়, দীর্ঘশ্বাস উত্থিত হয়, চোখের পানি প্রবাহিত হয় এবং আহাজারি শোনা যায়।

বাইতুল হারামে রহমানের সাথে হৃদ্যতা তৈরি হয়, হৃদয় দুঃখ-বেদনা থেকে মুক্তি পায় এবং আত্মা নাফরমানি থেকে মুক্ত হয়।

বাইতুল হারামে পুণ্যসমূহ বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়, পাপসমূহ মোচন করা হয়, মন্দ কাজের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় এবং ভুলত্রুটি ক্ষমা করা হয়।

অতএব, আল্লাহর পবিত্র ঘর কাবার চারদিকে দৃষ্টিপাতকারী দেখতে পান মুত্তাকী পুরুষদের, পুণ্যবতী নারীদের এবং নিষ্কলুষ যুবকদের; সেই মুমিন আত্মাদের মাধ্যমে সময় সমৃদ্ধ হয়, দিনগুলো উৎসবমুখর হয় এবং পৃথিবী আনন্দে মেতে ওঠে।

আমাদের উম্মতের সেই যুবকদের অভিবাদন জানাও যারা … অধমদের সঙ্গ ত্যাগ করেছে এবং রহমানের দিকে যাত্রা করেছে

পবিত্র ঘরের দিকে অভিমুখী হয়ে রহমত কামনায় … নূর ও ঈমানের সাথে ক্ষিপ্রগতিতে ধাবমান

যখন দেখা যায় যুবকদের এই দাওয়াত ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসা … তখন চোখ আনন্দিত হয়

হে আমাদের উলামা ও দাঈগণ, আপনাদের জন্য সুসংবাদ … হে তারা যারা সুউচ্চ ভিত্তি নির্মাণ করেছেন

হে আমার উম্মত, তুমি আনন্দিত হও, কারণ হেদায়েতের ফজর … চাক্ষুষভাবে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে

আর বৃদ্ধরা তাদের অক্ষমতা সত্ত্বেও লঘু পায়ে অগ্রসর হয়েছে … তাদের স্রষ্টার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে কোনো হীনম্মন্যতা ছাড়াই

তারা মরুভূমি ও প্রান্তর পাড়ি দিয়েছে এই আশায় যে তারা … রহমত ও ক্ষমা লাভে ধন্য হবে
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ৭)
هَذِي سطور قد كَتَبْتُ حروفها … بالحُب والإشفاق للإخوانِ

والنصح منكم يا أَحبةُ مَطْلَبِي … ليَزول ما في القول من نقصانِ

ولتستروا خَلاتنا ولتصفحوا … فالصفح منكم غاية الإحسانِ

واللهَ أسأل أن يُعمِّم نفعها … وتصير خير زاد للركبانِ

ثم الصلاة على النبي محمد … ما طاف معتمر على الأركانِ

فالحج عبادة عظيمة، مِنْ أَجَلّ العبادات، وقربة من أعظم القربات، فيه الانطراح بين يدي الواحد العَلَّام، وتجديد العهد مع الله على الإسلام، وبه تُمْحَى الخطايا والآثام، ويُباهِي الله تعالى بعباده ملائكته الكرام، وقبل ذلك وبعده الركن الخامس من أركان الإسلام، وأحد مبانيه العظام، وشَهِد النص بأنه من أفضل الأعمال وأنه من الجهاد، ويَهدم ما كان قبله من الذنوب والآثام، وأن المتابعة بينه وبين والعمرة تَنفي الفقر والذنوب كما يَنفي الكِير خَبَث الحديد.

فالحج عبادة تُفْضِي بالعبد إلى مغفرة الذنوب، وتُخَلِّصه من ماضٍ تراكمت فيه الأوزار، وتفاقمت فيه الشرور والآثام والخطايا، التي تنوء بها الجبال، فيرجع بذلك العبد إلى أهله بعد أداء حجه طاهر القلب، زكي النفس، مشرق الرُّوح، نقي الوجدان، نظيف الظاهر والباطن من الذنوب، مستقيمًا على هَدْي الفطرة، كما قال صلى الله عليه وسلم: «مَنْ حَجَّ هَذَا البَيْتَ، فَلَمْ يَرْفُثْ، وَلَمْ يَفْسُقْ، رَجَعَ كَمَا وَلَدَتْهُ أُمُّهُ».

وإن مما يُفرح القلب، ويَشرح الصدر، ويُمتع الأرواح، ويبعث الأمل- ذلك الإقبال العالمي، ولا سيما في شهر الغفران وحج بيت الحرام.

مُتدفِّقون كأنهم أنهارُ … أَنَّى اتجهتَ جلالةٌ ووقارُ

فالناظر يرى تباشير النصر والتأييد والعز والتمكين لهذه الأمة.

لَبَّيْكَ فاح الكون من نَفَحاتها … وتَعَطَّرَتْ منها ربوع الوادي

هذا الرحيل إلي ربوع لم تَزَلْ … تُهْدِي إلى الدنيا براعة هادِ

فهل رأيتَ لباسًا قَطُّ أَجَلَّ من لباس المُحْرِمين؟ وهل رأيتَ رُءوسًا أعز من رءوس المُحَلِّقين؟ وهل مَرَّ بك رَكْبٌ أشرف من ركب الطائفين؟ وهل مَرَّ بك مشهد كمشهد ليلة سبع وعشرين؟
এই সেই পঙক্তিমালা যার হরফগুলো আমি লিখেছি … ভাইদের প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ববোধ নিয়ে

হে প্রিয়জনেরা, আপনাদের নিকট থেকে সদুপদেশই আমার কাম্য … যেন আমার কথার ত্রুটিসমূহ দূরীভূত হয়

আপনারা যেন আমাদের ভুলত্রুটিগুলো ঢেকে রাখেন এবং ক্ষমা করেন … কেননা আপনাদের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রদর্শনই হলো সর্বোত্তম অনুগ্রহ

আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর উপকারিতাকে ব্যাপক করে দেন … এবং এটি যেন মুসাফিরদের জন্য সর্বোত্তম পাথেয় হয়

অতঃপর নবী মুহাম্মাদের ওপর দরুদ বর্ষিত হোক … যতক্ষণ কোনো উমরাকারী কাবার রুকনসমূহ তাওয়াফ করবে

হজ এক মহান ইবাদত, অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপাসনা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম বড় মাধ্যম। এতে মহাজ্ঞানী একক সত্তার সামনে নিজেকে সঁপে দেওয়া হয় এবং ইসলামের ওপর আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার নবায়ন করা হয়। এর মাধ্যমে গুনাহ ও পাপাচার মিটে যায় এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত ফেরেশতাদের সামনে তাঁর বান্দাদের নিয়ে গর্ব করেন। এর আগে ও পরে এটি ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের পঞ্চম স্তম্ভ এবং এর অন্যতম প্রধান ভিত্তি। শরয়ি দলিল সাক্ষ্য দেয় যে, এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল এবং এটি জিহাদের অন্তর্ভুক্ত। এটি পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ও পাপাচারকে মিটিয়ে দেয়। আর হজ ও উমরা একটির পর একটি ধারাবাহিকভাবে আদায় করা দারিদ্র্য ও গুনাহকে এমনভাবে দূর করে দেয়, যেমন হাপর লোহার মরিচা দূর করে দেয়।

হজ এমন এক ইবাদত যা বান্দাকে গুনাহর ক্ষমার দিকে নিয়ে যায় এবং তাকে এমন এক অতীত থেকে মুক্তি দেয় যেখানে পাপাচারের স্তূপ জমেছিল এবং অনিষ্ট ও ত্রুটিসমূহ প্রকট হয়েছিল—যা পাহাড়ের জন্যও বহন করা দুঃসাধ্য। ফলে হজ আদায়ের পর বান্দা তার পরিবারের কাছে ফিরে আসে পবিত্র হৃদয়, শুদ্ধ আত্মা, উজ্জ্বল রূহ এবং স্বচ্ছ বিবেক নিয়ে; তার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সত্তা গুনাহ থেকে পরিচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং সে ফিতরাতের হেদায়েতের ওপর অবিচল হয়, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি এই ঘরের হজ করল এবং কোনো প্রকার অশ্লীল কাজ বা পাপাচার করল না, সে সেভাবেই ফিরে এল যেভাবে তার মা তাকে প্রসব করেছিলেন।»

আর যে বিষয়টি অন্তরকে আনন্দিত করে, বক্ষকে প্রশান্ত করে, আত্মাকে তৃপ্ত করে এবং আশার সঞ্চার করে—তা হলো বিশ্বব্যাপী মানুষের এই বিপুল আগমন, বিশেষ করে ক্ষমার মাসগুলোতে এবং আল্লাহর পবিত্র ঘরের হজের মৌসুমে।

তারা প্রবাহমান যেন নদীর স্রোতধারা … যেদিকেই তাকাবে শুধু গাম্ভীর্য আর মর্যাদা

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি এই উম্মতের জন্য বিজয়, সাহায্য, মর্যাদা এবং প্রতিষ্ঠার শুভ সংবাদ দেখতে পায়।

‘লাব্বাইক’ ধ্বনির সুবাসে জগত আমোদিত হয়েছে … আর তার সৌরভে উপত্যকার চারপাশ সুবাসিত হয়েছে

এই সেই যাত্রা এমন এক জনপদের দিকে যা সর্বদা … পৃথিবীকে পথপ্রদর্শকের শ্রেষ্ঠত্ব উপহার দিয়ে যাচ্ছে

আপনি কি ইহরাম পরিহিতদের পোশাকের চেয়ে মহিমান্বিত কোনো পোশাক কখনো দেখেছেন? আপনি কি মাথা মুণ্ডনকারীদের মাথার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো মাথা দেখেছেন? আপনার পাশ দিয়ে কি তাওয়াফকারীদের কাফেলার চেয়ে অধিক মর্যাদাবান কোনো কাফেলা অতিক্রম করেছে? আর আপনার চোখে কি সাতাশতম রজনীর দৃশ্যের মতো কোনো দৃশ্য কখনো পড়েছে?
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ৮)
لله دَرُّ ركائب سارت بهم … تَطوي القفار الشاسعات عن الدجى

رحلوا إلى البيت الحرام وقد شجا … قَلْبَ المُتيَّم منهم ما قد شجا

نَزَلُوا بباب لا يَخيب نزيله … وقلوبهم بين المخافة والرجا

جموع ملبية، وأعين باكية، وعَبَرات ساكبة، وألسنة ذاكرة، وقلوب خاشعة، ونفوس خاضعة، وأيدٍ داعية، وجِباه ساجدة.

إليك إلهي قد أتيتُ ملبيًا … فبَارِك إلهي حجتي ودعائيا

قصدتُك مضطرًّا وجئتك باكيًا … وحاشاك ربي أن تَرُد بكائيا

أتيتُ بلا زاد وَجُودك مطمعي … وما خاب مَنْ يهفو لجودك ساعيا

إليك إلهي قد حَضَرْتُ مُؤمِّلًا … خلاص فؤادي من ذنوبي ملبيا

فها هي قوافل حُجاج بيت الله الحرام، وجموع ضيوف الرحمن، ووفود المَلِك العَلَّام، أتت من كل فَجٍّ عميق، أتوا عبر القارات والبحار، وقَطَعُوا الفيافي والأجواء والقفار؛ ليَشهدوا منافع لهم، يدفعهم الإيمان وتقودهم الرغبة، ويحدوهم الشوق، ويُحفزهم الأمل فيما عند الله عز وجل؛ استجابة لأمر الله سبحانه لخليله عليه السلام: {وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ} [الحج: 27].

فيا ضيوف الرحمن، وفود المَلِك العَلَّام، يا مَنْ تجشمتم الصِّعاب، وركبتم المَشاقّ والأخطار، وقطعتم الفيافي والقِفار، والأجواء والبحار، وتركتم الأوطان والأموال والأولاد، لا لشيء إلا لأداء فريضة الحج على الوجه الأكمل والطريق الأمثل؛ هنيئًا لكم سلامة الوصول وحصول المأمول.

أهلًا وسهلًا والسلام عليكمُ … وتحية منا تُزَفّ إليكمُ

أحبابَنا ما أَجْمَلَ الدنيا بكم … لا تَقْبُح الدنيا وفيها أنتمُ

فمرحبًا بوفد الرحمن وضيوف البيت الحرام، فلهم منا أجمل وأسمى تحية وإكبار.

أهلًا وسهلًا بالحجيج ومرحبًا … تزهو بها الدنيا وتَخْضَرّ الرُّبا

غنت طيور الشوق في إحساسه … فلكم أصاخ الكون منه وأطربا

يا حُجاج بيت الله، اتقوا الله واشكروه على ما هيأ لكم من الوصول إلى بيته العتيق،
চমৎকার সেই সওয়ারীগুলো যা তাদের নিয়ে চলেছে … যারা অন্ধকারের বুক চিরে বিশাল প্রান্তর পাড়ি দিচ্ছে।

তারা পবিত্র ঘরের দিকে যাত্রা করেছে এবং তাদের ব্যাকুল অন্তরকে সেই বিরহ ব্যথিত করেছে যা তাকে ব্যথিত করার ছিল।

তারা এমন এক দ্বারে উপস্থিত হয়েছে যেখানে আগন্তুক কখনো নিরাশ হয় না … আর তাদের অন্তর ভয় ও আশার মাঝে দোদুল্যমান।

লাব্বাইক পাঠকারী জনসমুদ্র, ক্রন্দনরত চোখ, বিগলিত অশ্রুধারা, জিকিররত জবান, বিনীত অন্তর, অনুগত আত্মা, দোয়ারত হাত এবং সিজদাবনত ললাট।

হে আমার ইলাহ! আপনার কাছে আমি লাব্বাইক বলতে বলতে এসেছি … অতএব হে আমার ইলাহ! আপনি আমার হজ ও দোয়া কবুল করুন।

আমি নিরুপায় হয়ে আপনার মুখাপেক্ষী হয়েছি এবং কাঁদতে কাঁদতে আপনার কাছে এসেছি … আর হে আমার রব! আপনার শানে এটা অসম্ভব যে, আপনি আমার কান্নাকে ফিরিয়ে দেবেন।

আমি কোনো পাথেয় ছাড়াই এসেছি, আপনার দানশীলতাই আমার একমাত্র আশা … আর যে ব্যক্তি আপনার দানের আশায় ব্যাকুল হয়ে প্রচেষ্টা চালায় সে কখনো ব্যর্থ হয় না।

হে আমার ইলাহ! আমি লাব্বাইক বলতে বলতে আপনার দরবারে উপস্থিত হয়েছি … আমার অন্তরকে গুনাহ থেকে মুক্তির আশা নিয়ে।

এই তো আল্লাহর পবিত্র ঘরের হাজীদের কাফেলা, দয়াময় রহমানের মেহমানদের সমাবেশ এবং মহাজ্ঞানী অধিপতির প্রতিনিধি দল। তারা প্রতিটি দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে এসেছে। তারা মহাদেশ ও সমুদ্র পাড়ি দিয়ে এসেছে। তারা প্রান্তর, আকাশপথ ও মরুভূমি অতিক্রম করেছে; যাতে তারা তাদের কল্যাণ প্রত্যক্ষ করতে পারে। ইমান তাদের চালিত করছে, আকাঙ্ক্ষা তাদের পথ দেখাচ্ছে, ব্যাকুলতা তাদের উদ্বুদ্ধ করছে এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কাছে যা রয়েছে তার আশা তাদের অনুপ্রাণিত করছে। এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার তাঁর বন্ধু ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে দেওয়া নির্দেশেরই প্রতিফলন: "আর মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সব ধরনের কৃশকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে, যারা আসবে দূর-দূরান্তের গভীর পথসমূহ অতিক্রম করে।" [আল-হজ: ২৭]।

অতএব হে রহমানের মেহমানগণ, মহাজ্ঞানী অধিপতির প্রতিনিধি দল, হে আপনারা যারা কষ্ট সহ্য করেছেন, বিপদ-আপদ ও ঝুঁকি মোকাবিলা করেছেন, প্রান্তর ও মরুভূমি এবং আকাশপথ ও সমুদ্র পাড়ি দিয়েছেন, এবং স্বদেশ, সম্পদ ও সন্তানাদি ছেড়ে এসেছেন কেবল হজের বিধানটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বোত্তম পদ্ধতিতে আদায় করার জন্য; আপনাদের এই নিরাপদ আগমন ও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে আপনাদের অভিনন্দন।

স্বাগতম, আপনাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক … এবং আমাদের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি মোবারকবাদ পেশ করা হচ্ছে।

হে আমাদের প্রিয়জনেরা! আপনাদের উপস্থিতিতে দুনিয়া কতই না সুন্দর … দুনিয়া কখনো কুৎসিত হতে পারে না যতক্ষণ তাতে আপনারা আছেন।

অতএব রহমানের প্রতিনিধি দল এবং আল্লাহর পবিত্র ঘরের মেহমানদের জানাই মোবারকবাদ। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের জন্য রইল সুন্দর ও শ্রেষ্ঠ অভিবাদন এবং গভীর শ্রদ্ধা।

হাজীদের জানাই স্বাগতম ও মোবারকবাদ … যাদের আগমনে দুনিয়া গর্বিত হয় এবং টিলাগুলো সবুজ শ্যামল হয়ে ওঠে।

ব্যাকুলতার পাখিরা তাদের অনুভূতিতে গেয়ে উঠেছে … আর মহাবিশ্ব কান পেতে তা শুনেছে এবং বিমোহিত হয়েছে।

হে আল্লাহর ঘরের হাজীরা! আপনারা আল্লাহকে ভয় করুন এবং তাঁর শোকরিয়া আদায় করুন এজন্য যে, তিনি আপনাদের জন্য তাঁর প্রাচীন ঘরে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন,
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ৯)
والاجتماع حول هذه الكعبة المشرفة، حيث تُسْكَب العبرات، وتَتنزل الرحمات، وتُرْفَع الدرجات، وتقال العثرات، وتُكَفَّر السيئات، وتُغْفَر الذنوب والخطيئات.

فيا لها من مواقف تُهَذَّب فيها النفوس، وتَصْقُل فيها القلوب، وتحيا فيها الضمائر، وتصفو فيها المشاعر، ويَفرح بها أهل الإيمان!

عبدَ الله، إن من نعمة الله عليك زيارة البيت العتيق، يوم أن حُرِمه كثير من العالمين، فحالت بينهم وبينه المصائب والأقدار، ما بين مُقْعَد على الفراش، كانت زيارة البيت من أعظم مناه، فوافاه الأجل قبل رؤياه. وما بين فقير، ليس عنده من الزاد ما يُبلغه إياه. وما بين شارد تائه عن الله ورضاه. فاغتَنِم هذه الفرصة.

حُجاجَ بيت الله الحرام، اعلموا إن من أهم مقاصد الحج تحقيق التوحيد، فلقد أَوْدَع الله تعالى في مناسك الحج أعظم مظاهر التوحيد! ففي الطواف حول البيت العتيق يتجلى معنى الالتفاف حول الكعبة، فيجتمع حولها المسلمون ليُعلنوا توحيدهم لله ونَبْذهم لكل صور الشرك ومظاهر الوثنية، قال تعالى: {وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْنًا} [البقرة: 125].

يا نازلين بأرض مكة والحَرَمْ … والطائفين بركنه والمُلتزَمْ

هذي نصيحة مشفق مُتوجِّل … أَرْعِ لها سمعًا وبالنصح التَزِمْ

يا زائرًا للبيت تلك وصية … اشْدُد بها عضدًا وبالحق استَقِمْ

تلك الوصايا قد حواها ديننا … لنُشيد رفعتنا ونَبني ما انهدمْ

قد حاز هذا الدينُ كل فضيلة … شَهِدَتْ له حتى الفرنجة والعجمْ

ثم الصلاة على الذي بسماحة … مَلَك القلوب وقادها نحو القِممْ

يا حُجاج بيت الله الحرام، هل تذكرتم - وأنتم تَحلّون في رحاب هذا البيت العتيق- أباكم إبراهيم عليه السلام، وابنه إسماعيل، وهما يَرفعان القواعد من البيت؟!

وهل تذكرتم نبيكم المصطفى محمدًا صلى الله عليه وسلم، وهو يقوم بالدعوة إلى الله من هذه البقاع المقدسة؟!

هل تذكرتم كيف نَمَتْ دوحة الإيمان، وترعرعت دعوة الإسلام، التي حَمَلها رجال صَدَقُوا ما عاهدوا الله عليه؟!
এই সম্মানিত কাবার চারপাশে সমবেত হওয়া, যেখানে অশ্রু বিসর্জিত হয়, রহমত বর্ষিত হয়, মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়, ভুলত্রুটি মার্জনা করা হয়, মন্দ কাজগুলো মিটিয়ে দেওয়া হয় এবং পাপ ও গুনাহসমূহ মাফ করা হয়।

আহা! এটি এমন এক অবস্থান যেখানে আত্মা পরিশুদ্ধ হয়, অন্তরসমূহ সজীব হয়, বিবেক জাগ্রত হয়, অনুভূতি নির্মল হয় এবং মুমিনরা আনন্দিত হয়!

হে আল্লাহর বান্দা, নিশ্চয়ই আপনার ওপর আল্লাহর অন্যতম নিয়ামত হলো এই প্রাচীন ঘর জিয়ারত করা, যখন বিশ্বের অনেক মানুষই তা থেকে বঞ্চিত। নানাবিধ বিপদ-আপদ ও তাকদির তাদের ও এই ঘরের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ বিছানায় শয্যাশায়ী, যার সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল এই ঘর জিয়ারত করা, কিন্তু তা দেখার পূর্বেই তার মৃত্যু সমাগত হয়েছে। আবার কেউ এমন অভাবী, যার কাছে সেখানে পৌঁছানোর মতো প্রয়োজনীয় পাথেয় নেই। আর কেউ আল্লাহর পথ ও তাঁর সন্তুষ্টি থেকে বিচ্যুত হয়ে লক্ষ্যহীন ঘুরে বেড়াচ্ছে। অতএব, এই সুযোগকে কাজে লাগান।

হে আল্লাহর সম্মানিত ঘরের হাজিগণ, জেনে রাখুন যে হজের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাওহিদ প্রতিষ্ঠা করা। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা হজের বিধানাবলির মধ্যে তাওহিদের মহান বহিঃপ্রকাশ নিহিত রেখেছেন! প্রাচীন ঘরের চারপাশে তাওয়াফের মাধ্যমে কাবার চারদিকে আবর্তিত হওয়ার প্রকৃত অর্থ ফুটে ওঠে; সেখানে মুসলমানরা সমবেত হয় যাতে তারা আল্লাহর প্রতি তাদের তাওহিদের ঘোষণা দিতে পারে এবং শিরকের সকল প্রকার ও মূর্তিপূজার সকল নিদর্শনকে বর্জন করতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যখন আমি এই ঘরকে মানুষের জন্য বারবার ফিরে আসার স্থান ও শান্তির আলয় বানালাম।" [আল-বাকারা: ১২৫]

হে মক্কা ও হারামের ভূমিতে অবস্থানকারীরা … এবং কাবার কোণ ও মুলতাজামে তাওয়াফকারীরা

এটি একজন চিন্তিত হিতাকাঙ্ক্ষীর উপদেশ … এর প্রতি কর্ণপাত করুন এবং এই উপদেশের ওপর অবিচল থাকুন

হে আল্লাহর ঘরের জিয়ারতকারী, এটি একটি অসিয়ত … এর মাধ্যমে নিজেকে শক্তিশালী করুন এবং সত্যের ওপর দৃঢ় থাকুন

আমাদের দ্বীন এই সমস্ত উপদেশকে ধারণ করে আছে … যাতে আমরা আমাদের উচ্চমর্যাদা ঘোষণা করতে পারি এবং যা ধ্বংস হয়েছে তা পুনর্নির্মাণ করতে পারি

এই দ্বীন সকল শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে … এমনকি ইউরোপীয় ও অনারবরাও এর সত্যতার সাক্ষ্য দিয়েছে

অতঃপর তাঁর ওপর সালাত (দরুদ), যিনি অত্যন্ত মহানুভবতার সাথে … মানুষের অন্তরসমূহ জয় করেছেন এবং সেগুলোকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে গেছেন

হে আল্লাহর সম্মানিত ঘরের হাজিগণ, আপনারা যখন এই প্রাচীন ঘরের প্রাঙ্গণে অবস্থান করছেন, তখন কি আপনাদের পিতা ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এবং তাঁর পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামের কথা মনে পড়ছে, যখন তাঁরা এই ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর নির্মাণ করছিলেন?

আপনারা কি আপনাদের মনোনীত নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা স্মরণ করেছেন, যখন তিনি এই পবিত্র স্থানগুলো থেকে আল্লাহর দিকে দাওয়াতের কাজ করছিলেন?

আপনারা কি স্মরণ করেছেন কীভাবে ঈমানের মহীরুহ শাখা-প্রশাখা বিস্তার করেছিল এবং ইসলামের দাওয়াত বিকশিত হয়েছিল, যা এমন সব ব্যক্তিরা বহন করেছিলেন যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছিলেন?
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ১০)
ثم هل تفكرتم فيما آل إليه أمركم في هذا الزمان، وعَرَفتم ما السبب في ذلك الخِذلان؟

إنه-والله- التساهل في أمر هذا الدين، ووجود الخلاف والفُرقة بين أبناء المسلمين، هو الذي سبب تسلط أعداء الإسلام على أمة الإسلام، واحتلال مقدسات المسلمين وإحلال الفساد والدمار فيها.

هل تذكرتم- يا إخوة الإسلام، ويا أيها الحُجاج الكرام- وأنتم تنعمون في ظل هذا البيت الآمن- أخاه المسجد الأقصى المبارك الذي يئن تحت وطأة الاحتلال الغاشم، من أعداء الله ورسوله والمؤمنين.

حُجاج بيت الله، عَظِّموا شعائر ربكم وشرائعه {ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ} [الحج: 32] واعقدوا العزم الأكيد على العمل بدينكم، مصدر عزكم ونصركم وسعادتكم في الدنيا والآخرة، واعلموا أن في أيام الحج صورًا وعظات، وعبرًا وآيات، واكتساب علم وخبرات، وحصول منافع ودفع سيئات، ودوام ذكر وعبرات، قال تعالى: {لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ} [الحج: 28].

عبادَ الله، إنَّ أَعْظَم أركان الحج: الوقوف بعرفة، فعن عَائِشَة: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللهُ فِيهِ عَبْدًا مِنَ النَّارِ، مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ، وَإِنَّهُ لَيَدْنُو، ثُمَّ يُبَاهِي بِهِمِ الْمَلَائِكَةَ، فَيَقُولُ: مَا أَرَادَ هَؤُلَاءِ؟».

أراد هؤلاء رضا الرحمن، إنهم جاءوا يرجون الجنان، إنهم جاءوا من أقاصي البلدان يرجون العتق من النيران، إنهم جاءوا وَكُلهم وجل وخوف من الديان، وكأن كل واحد منهم يقول بلسان حاله:

إليك إلهي قد شددتُ رحاليا … وأقبلتُ في شوق أَبُثك ما بيا

أتيتُك بعد اليأس أدنو ملبيًا … إلى العفو ظمآنًا إلى الصفح صاديا

فلما استبد اليأس واستحكم الهوى … قصدتُك يا مولاي أطوي الفيافيا

أتيتُ إلى أفياء بيتك عَلَّني … أُريح ضميري من عناء شقائيا

فلَبَّيْكَ رَبَّ البيت لَبَّيْكَ ما سَرَى … إلى البيت عبد من عبيدك عانيا

رَأَى كل باب غير بابك مُوصَدًا … فآب إلى أعتاب بابك ثاويا
এরপর আপনারা কি চিন্তা করেছেন এই সময়ে আপনাদের পরিস্থিতি কী দাঁড়িয়েছে, এবং আপনারা কি এই লাঞ্ছনার কারণ জানতে পেরেছেন?

আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই এই দীনের ব্যাপারে শিথিলতা এবং মুসলিম সন্তানদের মধ্যে মতবিরোধ ও বিভক্তির উপস্থিতিই হলো সেই কারণ যা ইসলামের শত্রুদের মুসলিম উম্মাহর ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে সুযোগ করে দিয়েছে, এবং মুসলিমদের পবিত্র স্থানসমূহ দখল ও সেখানে ফাসাদ ও ধ্বংসলীলা চালানোর পথ তৈরি করেছে।

হে ইসলামের ভ্রাতৃবৃন্দ এবং হে সম্মানিত হাজীবৃন্দ—আপনারা যখন এই নিরাপদ গৃহের ছায়াতলে নেয়ামত ভোগ করছেন, তখন কি এর ভাই বরকতময় মাসজিদুল আকসার কথা মনে করেছেন, যা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের শত্রুদের নিষ্ঠুর দখলের যাতনায় আর্তনাদ করছে?

হে আল্লাহর ঘরের হাজীবৃন্দ, আপনারা আপনাদের রবের নিদর্শনসমূহ ও শরীয়তকে সম্মান করুন; "এটাই হলো আল্লাহর বিধান; আর কেউ আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে সম্মান করলে তা তো তার হৃদয়ের তাকওয়া থেকেই উদ্ভূত।" [হাজ: ৩২] এবং আপনারা আপনাদের দীনের ওপর আমল করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করুন, যা দুনিয়া ও আখিরাতে আপনাদের সম্মান, বিজয় ও সৌভাগ্যের উৎস। জেনে রাখুন, হজের দিনগুলোতে রয়েছে নানা চিত্র ও উপদেশ, শিক্ষা ও নিদর্শন, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন, কল্যাণ লাভ ও পাপ মোচন এবং নিরন্তর জিকির ও অশ্রুপাত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে।" [হাজ: ২৮]।

হে আল্লাহর বান্দাগণ, নিশ্চয়ই হজের শ্রেষ্ঠ রুকন হলো আরাফায় অবস্থান করা। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আরাফার দিনের চেয়ে বেশি আর কোনো দিন নেই যে দিন আল্লাহ তাআলা বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। তিনি সেদিন (বান্দাদের) নিকটবর্তী হন, এরপর ফেরেশতাদের কাছে তাদের নিয়ে গর্ব করে বলেন: এরা কী চায়?"

এরা পরম করুণাময়ের সন্তুষ্টি চায়; তারা এসেছে জান্নাতের আশায়; তারা দূর-দূরান্তের দেশ থেকে এসেছে জাহান্নাম থেকে মুক্তির আশায়; তারা সকলেই বিচারকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভয় নিয়ে এসেছে। যেন তাদের প্রত্যেকেই নিজের অবস্থা দ্বারা বলছে:

হে আমার ইলাহ, আপনার পানেই আমি আমার সফরের পাথেয় বেঁধেছি … এবং আকুল আকাঙ্ক্ষায় আপনার কাছে আমার মনের কথা নিবেদন করতে এগিয়ে এসেছি

হতাশার পর আপনার কাছে এসেছি লাব্বাইক বলে নিকটবর্তী হতে … ক্ষমার জন্য তৃষ্ণার্ত হয়ে, মার্জনা লাভের জন্য পিপাসার্ত হয়ে

যখন নৈরাশ্য চেপে ধরল আর প্রবৃত্তি প্রবল হলো … তখন আমি মরুভূমি পাড়ি দিয়ে আপনার পানেই যাত্রা করলাম হে আমার মাওলা

আমি আপনার গৃহের ছায়াতলে এসেছি এই আশায় যে … আমার দুর্ভাগ্যের যাতনা থেকে আমার অন্তরকে শান্তি দিতে পারব

লাব্বাইক হে কাবা গৃহের রব, লাব্বাইক—যতক্ষণ আপনার কোনো এক ক্লান্ত বান্দা আপনার গৃহের দিকে সফর করে

সে আপনার দ্বার ছাড়া প্রতিটি দ্বার রুদ্ধ দেখেছে … তাই আশ্রয়প্রার্থী হয়ে আপনার দ্বারের চৌকাঠেই ফিরে এসেছে
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ১১)
يقول ابن القيم في وصفِ يوم عرفة:

فلله ذاك الموقف الأعظم الذي … كموقفِ يوم العَرْض بل ذاك أعظمُ

ويدنو به الجبارُ جل جلاله … يُباهِي بهم أملاكَه فَهْو أَكْرَمُ

يقول: عبادي قد أتَوْنيِ محبة … وإني بهم بَرٌّ أَجُودُ وأُكْرِمُ

فأُشْهِدكم أني غفرتُ ذنوبهم … وأعطيتُهم ما أَمَّلُوه وأُنْعِمُ

يسعى الحاج بين الصفا والمروة استذكارًا لسعيِ هاجر أُم إسماعيل؛ فإنها لَمَّا استسلمت لأمر اللهِ وانقادتْ لمشيئتِه، رَفَع اللهُ قَدْرها وأعلى شأنها، وأزال عنها البأساء والضراء، ومَنَحها وابنَها الخير والرخاء.

أخرجَ البخاريُّ عن ابنِ عباسٍ رضي الله عنهما، قال: «جَاءَ إِبْرَاهِيمُ عليه السلام بِهَاجَرَ وَبِابْنِهَا إِسْمَاعِيلَ عليه السلام، وَهِيَ تُرْضِعُهُ، حَتَّى وَضَعَهُمَا عِنْدَ البَيْتِ، عِنْدَ دَوْحَةٍ، فَوْقَ زَمْزَمَ فِي أَعْلَى المَسْجِدِ، وَلَيْسَ بِمَكَّةَ يَوْمَئِذٍ أَحَدٌ، وَلَيْسَ بِهَا مَاءٌ، فَوَضَعَهُمَا هُنَالِكَ، وَوَضَعَ عِنْدَهُمَا جِرَابًا فِيهِ تَمْرٌ، وَسِقَاءً فِيهِ مَاءٌ، ثُمَّ قَفَّى إِبْرَاهِيمُ مُنْطَلِقًا، فَتَبِعَتْهُ أُمُّ إِسْمَاعِيلَ فَقَالَتْ: يَا إِبْرَاهِيمُ، أَيْنَ تَذْهَبُ وَتَتْرُكُنَا بِهَذَا الوَادِي، الَّذِي لَيْسَ فِيهِ إِنْسٌ وَلَا شَيْءٌ؟ فَقَالَتْ لَهُ ذَلِكَ مِرَارًا، وَجَعَلَ لَا يَلْتَفِتُ إِلَيْهَا، فَقَالَتْ لَهُ: آللَّهُ الَّذِي أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَتْ: إِذَنْ لَا يُضَيِّعُنَا» ولم يضيعهما الله، حيث فَجَّر لهما زمزم، وأَسْبَغَ عليهما مِنْ بركاته وأَنْعَمَ، واجتمع الناس إليهم من كل سبيلٍ، فتحققت بذلك دعوة أبينا إبراهيم الخليل: {رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ} [إبراهيم: 37]، وما زالت زمزم- والحمد لله بَرَكة مِنْ إنعام الله عليهما، وأثرًا طيباً مِنْ آثارهما.

فتُذكِّرنا الصفا والمروة وزمزم بهاجر التي ضربت أروع الأمثلة في التوكل في الله، حينما قالت لزوجها: «آللهُ أمرَك بهذا؟ قال: نعمْ. قالت: إذنْ لا يُضَيِّعُنا» لم تَجعل عَقْدها مع إبراهيم، بل جَعَلَتْ عَقْدها مع الله، فلم تَشترط شروطًا؛ لعِلمها أن الله لا يضيعها، تَرَكها إبراهيم عليه السلام في وادٍ غير ذي زرع، لا أُنس ولا أنيس؛ لأنه عَقَد عقدًا مع الله، ومَن تَوكَّل على الله، فإنه يَنال من فضائله وثمراته بحَسَب تحقيقه له، ما لا يَخطر له على بال ولا يدور في خيال، ولا يحيط به مقال.
ইবনুল কাইয়্যিম আরাফাহ দিবসের বর্ণনায় বলেন:

আল্লাহর জন্যই সেই মহান অবস্থান, যা … হাশরের ময়দানে উপস্থিত হওয়ার অবস্থানের ন্যায়, বরং এটিই অধিক মহান।

মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ এতে নিকটবর্তী হন -তাঁর মহিমা অতি উচ্চ- … তিনি তাদের নিয়ে তাঁর ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন, আর তিনি অত্যন্ত দাতা।

তিনি বলেন: "আমার বান্দারা আমার কাছে ভালোবাসাসহ এসেছে … আর আমি তাদের প্রতি সদাচারী, মহান দানশীল ও অত্যন্ত দয়ালু।"

"আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছি … এবং তারা যা আশা করেছে আমি তাদের তা দান করেছি ও নেয়ামত দিচ্ছি।"

হাজীরা সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করেন ইসমাঈলের মাতা হাজেরার সায়ীকে স্মরণ করে; কারণ তিনি যখন আল্লাহর আদেশের সামনে আত্মসমর্পণ করেছিলেন এবং তাঁর ইচ্ছার অনুগত হয়েছিলেন, তখন আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিলেন, তাঁর সম্মানকে উচ্চ করেছিলেন, তাঁর থেকে দুঃখ-কষ্ট ও প্রতিকূলতা দূর করেছিলেন এবং তাঁকে ও তাঁর পুত্রকে কল্যাণ ও সচ্ছলতা দান করেছিলেন।

ইমাম বুখারী ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) হাজেরা ও তাঁর পুত্র ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে নিয়ে আসলেন, যখন তিনি তাঁকে স্তন্যপান করাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁদেরকে বাইতুল্লাহর কাছে, একটি বড় গাছের নিচে, মসজিদের উপরিভাগে জমজমের উপরে রেখে আসলেন। সেই সময় মক্কায় কোনো মানুষ ছিল না এবং সেখানে কোনো পানিও ছিল না। তিনি তাঁদেরকে সেখানেই রেখে দিলেন এবং তাঁদের কাছে একটি চামড়ার থলেতে কিছু খেজুর ও একটি মশক ভর্তি পানি রেখে দিলেন। তারপর ইবরাহীম প্রস্থান করার জন্য ফিরে চললেন, তখন ইসমাঈলের মা তাঁর পিছু নিলেন এবং বললেন: হে ইবরাহীম, আপনি আমাদের এমন এক উপত্যকায় রেখে কোথায় যাচ্ছেন যেখানে কোনো মানুষ নেই এবং অন্য কিছুই নেই? তিনি তাঁকে বারবার এ কথা বললেন, কিন্তু ইবরাহীম তাঁর দিকে ফিরে তাকালেন না। তখন হাজেরা তাঁকে বললেন: আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। হাজেরা বললেন: তাহলে তিনি আমাদের ধ্বংস করবেন না।» আল্লাহ তাঁদেরকে ধ্বংস করেননি, কারণ তিনি তাঁদের জন্য জমজম প্রবাহিত করে দিয়েছেন, তাঁদের ওপর তাঁর বরকতসমূহ পূর্ণ করেছেন ও নেয়ামত দান করেছেন এবং সব দিক থেকে মানুষ তাঁদের কাছে সমবেত হয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের পিতা ইবরাহীম খলীল-এর দোয়া পূর্ণ হয়েছে: {হে আমাদের পালনকর্তা, আমি আমার বংশধরদের একাংশকে আপনার পবিত্র ঘরের কাছে এক অনুর্বর উপত্যকায় বসতি স্থাপন করালাম, হে আমাদের পালনকর্তা, যাতে তারা সালাত কায়েম করে। অতএব আপনি মানুষের অন্তরসমূহকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন এবং তাদেরকে ফলমূলের রিযিক দান করুন, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।} [ইবরাহীম: ৩৭], এবং আল্লাহর শুকরিয়া যে, জমজম আজও তাঁদের ওপর আল্লাহর নেয়ামতের বরকত এবং তাঁদের পুণ্যময় স্মৃতির এক উত্তম নিদর্শন হিসেবে বিদ্যমান।

সুতরাং সাফা, মারওয়া এবং জমজম আমাদের হাজেরার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যিনি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের ক্ষেত্রে এক চমৎকার উদাহরণ পেশ করেছেন, যখন তিনি তাঁর স্বামীকে বলেছিলেন: «আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। হাজেরা বললেন: তাহলে তিনি আমাদের ধ্বংস করবেন না।» তিনি তাঁর নির্ভরতা ইবরাহীমের সাথে যুক্ত করেননি, বরং তিনি তাঁর নির্ভরতা আল্লাহর সাথে যুক্ত করেছিলেন। তাই তিনি কোনো শর্ত আরোপ করেননি; কারণ তিনি জানতেন যে আল্লাহ তাঁকে ধ্বংস করবেন না। ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) তাঁকে এক অনুর্বর উপত্যকায় রেখে গিয়েছিলেন, যেখানে কোনো জনমানব বা সঙ্গী ছিল না; কারণ তিনি আল্লাহর সাথে এক অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়েছিলেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, সে তার তাওয়াক্কুল পূর্ণ করার অনুপাতে এমন ফযীলত ও সুফল লাভ করে যা তার কল্পনাতেও আসে না, চিন্তায়ও উদিত হয় না এবং কোনো বর্ণনাও তাকে আয়ত্ত করতে পারে না।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ১২)
والتوكل هو جماع الإيمان، مَنْ سَرَّه أن يكون أقوى الناس فليتوكل على الله. لا تَدَعْ قلبك يتعلق بما عند الناس وبما في أيديهم، واجعل تعلقك بربك، وارمِ بهمومك وأسرارك وما عندك بين يدي الله سبحانه وتعالى، وأَقْبِل عليه بالدعاء في جوف الليل وهجير النهار، وبكثرة ترددك على أبوابه ستُفتح لك أبواب الرحمة.

أيها المؤمن، تعالَ وانظر بقلبك وقالبك كيف شَكَر الله لأم إسماعيل؟! فإنها لَمَّا صَدَقَتْ في إيمانها خَلَّد الله ذكرها بزمزم، وجَعَل السعي عبادة من العبادات اقتداء بها، وجَعَل ببركتها مكة المباركة التي تهوي أفئدة الناس إليها.

ففي زمن يتكالب فيه أعداء الأمة على المرأة المسلمة، مستخدمين كل ما بوُسعهم من سبل وقوة، زاعمين أن الإسلام لم يُعْطِ المرأة حقها بل أهانها! انظر أيها المسلم المعتز بدينه، كيف مَجَّد الإسلام هذه المرأة، وجَعَلها بركة على العالمين؟!

وقد أَكَّد النبي صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع حق المرأة، ووجوب رعايتها والتخويف من الاعتداء عليها، فقال صلى الله عليه وسلم: «فَاتَّقُوا اللهَ فِي النِّسَاءِ؛ فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانِ اللهِ، وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللهِ».

أين المتشدقون العابثون الكاذبون على الله ودينه، بأنه حقر المرأة وظَلَمها وأقصاها، ولم يَجعل لها وزنًا؟!

أيتها المسلمة الحرة الأبية، كوني حرة بالإسلام والحجاب والعفاف والفضيلة.

والحج من أكثر العبادات ذِكرًا لله، بَدْءًا من التلبية إلى الختام، قال تعالى: {فَإِذَا قَضَيْتُمْ مَنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللَّهَ كَذِكْرِكُمْ آبَاءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًا} [البقرة: 200].

لو يَعلم العبد ما في الذِّكر من شرف … أمضى الحياةَ بتسبيح وتهليل

لو يَعلم الناس ما في الذِّكر من شرف … لم يُلهِهم عنه تجميع الدنانير

تُعَلِّمنا مناسك الحج حُسْن الخُلق، وقد تجلى ذلك في تواضع النبي صلى الله عليه وسلم في حجه في مواقف شتى، فليس من الآداب رفع الأصوات والقيل والقال، والحديث في الجَوَّال بصوت عالٍ مزعج لغير حاجة.

تُعَلِّمنا مناسك الحج الدقة والتنظيم في المكان والزمان، فليس لأحد أن يقف بعرفة في يوم النحر. وفي ذلك رَدٌّ على الذين يظنون أن الإسلام دين فوضى ولا تنظيم فيه.
তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসা করাই হলো ঈমানের নির্যাস। যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে চায়, সে যেন আল্লাহর ওপর ভরসা করে। তোমার অন্তরকে মানুষের নিকট যা আছে বা তাদের হাতে যা আছে, তার সাথে সম্পৃক্ত করো না; বরং তোমার সম্পৃক্ততা তোমার রবের সাথেই স্থাপন করো। তোমার সকল দুশ্চিন্তা, গোপন কথা এবং যা কিছু তোমার আছে তা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দুই হাতের সামনে পেশ করো এবং রাতের গভীরে ও দিনের প্রখরতায় দোয়ার মাধ্যমে তাঁর অভিমুখী হও। বারবার তাঁর দুয়ারে ধর্ণা দিলে তোমার জন্য রহমতের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যাবে।

হে মুমিন, এসো এবং তোমার অন্তর ও দেহ দিয়ে লক্ষ্য করো, কীভাবে আল্লাহ ইসমাঈল জননীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন! যখন তিনি তাঁর ঈমানে সত্যনিষ্ঠ ছিলেন, তখন আল্লাহ যমযমের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতিকে অম্লান করে রেখেছেন। তাঁর অনুসরণে ‘সাঈ’ করাকে ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাঁর বরকতে বরকতময় মক্কা নগরীকে এমন করেছেন, যার দিকে মানুষের অন্তরসমূহ ধাবিত হয়।

এমন এক সময়ে যখন উম্মাহর শত্রুরা মুসলিম নারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে, তাদের সর্বাত্মক পথ ও শক্তি ব্যয় করছে এবং দাবি করছে যে ইসলাম নারীকে তার প্রাপ্য অধিকার দেয়নি বরং তাকে অপমানিত করেছে! হে নিজের দ্বীন নিয়ে গর্বিত মুসলিম, তুমি লক্ষ্য করো, কীভাবে ইসলাম এই নারীকে মহিমান্বিত করেছে এবং তাকে বিশ্ববাসীর জন্য বরকতস্বরূপ বানিয়েছে!

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে নারীর অধিকার, তাদের যত্ন নেওয়া এবং তাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করার ব্যাপারে সতর্কবাণী সুনিশ্চিত করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো; কেননা তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছো এবং আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থানকে নিজেদের জন্য হালাল করেছো।”

সেই সব বাচাল ও অনর্থক মিথ্যাচারীরা কোথায়, যারা আল্লাহর ওপর এবং তাঁর দ্বীনের ওপর এই বলে মিথ্যা আরোপ করে যে, ইসলাম নারীকে তুচ্ছ করেছে, তার ওপর জুলুম করেছে এবং তাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে এবং তার কোনো গুরুত্ব দেয়নি?!

হে স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল মুসলিম নারী, তুমি ইসলাম, হিজাব, পবিত্রতা এবং সচ্চরিত্রের মাধ্যমেই স্বাধীন হও।

হজ হলো আল্লাহকে অধিক স্মরণের অন্যতম একটি ইবাদত, যা তালবিয়া থেকে শুরু হয়ে সমাপ্তি পর্যন্ত বিস্তৃত। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর যখন তোমরা তোমাদের হজের কার্যাদি সমাপ্ত করবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো, যেভাবে তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের স্মরণ করতে অথবা তার চেয়েও অধিক গভীরভাবে।} [সূরা বাকারা: ২০০]।

বান্দা যদি জানত জিকিরের মাঝে কী সম্মান রয়েছে … তবে সে তাসবিহ ও তাহলিলের মাঝেই জীবন কাটিয়ে দিত।

মানুষ যদি জানত জিকিরের মাঝে কী সম্মান রয়েছে … তবে দিনার-দিরহাম জমা করা তাদের তা থেকে বিমুখ করত না।

হজের আহকামসমূহ আমাদের উত্তম চরিত্র শিক্ষা দেয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হজের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর বিনয় ও নম্রতার মধ্য দিয়ে তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। উচ্চস্বরে কথা বলা, অনর্থক আলাপ-আলোচনা এবং প্রয়োজন ছাড়া মোবাইলে উচ্চস্বরে কথা বলে অন্যকে বিরক্ত করা হজের আদবের পরিপন্থী।

হজের আহকামসমূহ আমাদের স্থান ও কালের সূক্ষ্মতা ও শৃঙ্খলা শিক্ষা দেয়। যেমন, কারও পক্ষে নহরের দিনে আরাফাতে অবস্থান করার সুযোগ নেই। যারা মনে করে ইসলাম বিশৃঙ্খলার ধর্ম এবং এতে কোনো সুশৃঙ্খল নিয়ম নেই, এটি তাদের প্রতি এক মোক্ষম জবাব।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ১৩)
حُجاج بيت الله الحرام، اعلموا أن من أهم مقاصد الحج تحقيق معاني الأخوة الإسلامية، ففي الحج تتساوى الرءوس، ولا تستطيع أن تُفَرِّق بين غني وفقير، أو بين شريف ووضيع، أو بين رئيس ومرءوس؛ فالكُل يَلبس البياض إشارة إلى فقره وحاجته إلى الله تعالى، وإلى أنه لن يَخرج من الدنيا إلا بهذا الإزار والرداء، لا فضل هنا لأحد على أحد بمال أو جاه أو لون أو نَسَب أو أي غرض من أغراض الدنيا، إنما يَشرف الإنسان في هذا الموضع بالتقوى.

فتتجلى في الحج رُوح المساواة والوحدة، فالوحدة تَرى معناها في الحج واضحًا جليًّا! وحدة في المشاعر، وحدة في الشعائر، وحدة في الهدف، وحدة في العمل، وحدة في القول، لا عصبية ولا عنصرية لِلَون أو جنس أو طبقة، فالناس من آدم، وآدم من تراب، لَا فَضْلَ لِعَرَبِيٍّ عَلَى أَعْجَمِيٍّ، وَلَا لِعَجَمِيٍّ عَلَى عَرَبِيٍّ، وَلَا لِأَحْمَرَ عَلَى أَسْوَدَ، وَلَا أَسْوَدَ عَلَى أَحْمَرَ، إِلَّا بِالتَّقْوَى. {إِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 92].

أرى الناس أصنافًا ومن كل بقعة … إليك انتهوا من غربة وشتات

تَساوَوْا فلا أنساب فيها تَفاوُت … لديك ولا الأقدار مختلفات

هنا تَظهر الرابطة الإسلامية، وتُدفَن العصبية والنعرات الجاهلية، هنا الأقرب لله أكثرهم تقوى، لا مال ولا نَسَب. هنا تَظهر صورة الإسلام بجماله وروعته وعظمته.

هنا الأماني هنا الأمجاد قد رُفعت … هنا المعالي هنا القربى هنا الرحمُ

هنا القلوب استفاقت من معاقلها … هنا النفوس أتت للحق تزدحمُ

هنا رُوَاء هنا فجر هنا أمل … هنا كتاب هنا لوح هنا قَلَمُ

فباجتماع المسلمين في بلادهم المقدسة وتعاونهم، تتقارب قلوبهم وإن تباعدت أجسادهم، وتجتمع كلمتهم وإن تَفَرَّقَ شملهم، وتنتظم صفوفهم وإن تبعثرت وجهاتهم، فيصبحون على كثرتهم وتَعَدُّد أوطانهم وتباعد بلادهم- جسدًا واحدًا، وإذا اشتكى عضوًا منه تداعى له سائره بالحُمى والسهر.

فيجب علينا أن نَشعر بعمق تلك الوحدة في حياتنا، فنتحسس من خلالها آلام المضطهدين والمعذبين من المسلمين في مشارق الأرض ومغاربها، حيث يسامون على أيدي أعداء الله ألوان العذاب والتنكيل.
আল্লাহর পবিত্র ঘরের হাজিগণ, জেনে রাখুন যে, হজের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো ইসলামি ভ্রাতৃত্বের অর্থসমূহ বাস্তবায়ন করা। কেননা হজে সবাই সমান হয়ে যায়; সেখানে আপনি ধনী ও দরিদ্রের মাঝে, কিংবা উচ্চবংশীয় ও সাধারণের মাঝে, অথবা নেতা ও অনুসারীর মাঝে কোনো পার্থক্য করতে পারবেন না। সকলেই শুভ্র পোশাক পরিধান করে, যা মহান আল্লাহর নিকট তাদের নিঃস্বতা ও মুখাপেক্ষিতার ইঙ্গিত দেয় এবং এই বার্তাও দেয় যে, তারা এই ইহকাল থেকে এই ইহরামের কাপড় ও চাদর ব্যতীত আর কিছুই নিয়ে বিদায় হবে না। এখানে ধন-সম্পদ, প্রতিপত্তি, গায়ের রঙ, বংশপরিচয় বা পার্থিব কোনো উদ্দেশ্যে একজনের ওপর অন্যজনের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; বরং এই স্থানে মানুষ কেবল তাকওয়ার মাধ্যমেই সম্মানিত হয়।

ফলে হজে সাম্য ও ঐক্যের চেতনা ফুটে ওঠে। হজে ঐক্যের তাৎপর্য অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রোজ্জ্বলভাবে প্রতীয়মান হয়! অনুভূতির ঐক্য, ইবাদতের নিয়ম-নীতির ঐক্য, লক্ষ্যের ঐক্য, কর্মের ঐক্য, বাণীর ঐক্য। রঙ, বর্ণ বা শ্রেণির কোনো গোঁড়ামি বা বর্ণবাদ এখানে নেই; কারণ মানুষ আদম থেকে, আর আদম মাটি থেকে। কোনো অনারবের ওপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আরবের ওপর কোনো অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই; কালোর ওপর লালের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আবার লালের ওপর কালোর শ্রেষ্ঠত্ব নেই—তাকওয়া ব্যতীত। "নিশ্চয়ই তোমাদের এই উম্মত তো একই উম্মত এবং আমিই তোমাদের পালনকর্তা, অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো।" [আল-আম্বিয়া: ৯২]

আমি মানুষদের দেখছি নানা প্রকারের এবং প্রতিটি ভূখণ্ড থেকে … পরবাস ও বিচ্ছেদ কাটিয়ে তারা আপনারই দিকে সমবেত হয়েছে।

তারা সকলে সমান হয়ে গেছে, তাই এখানে বংশীয় কোনো ভেদাভেদ নেই … আপনার নিকট কারো মর্যাদাও ভিন্ন নয়।

এখানে ইসলামি বন্ধন প্রকাশিত হয় এবং জাহিলি গোঁড়ামি ও গর্জন দাফন করা হয়। এখানে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী সেই ব্যক্তি যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকি; ধন-সম্পদ বা বংশগৌরবের কোনো স্থান নেই। এখানে ইসলামের সৌন্দর্য, চমৎকারিত্ব ও মহিমা মূর্ত হয়ে ওঠে।

এখানে আকাঙ্ক্ষাসমূহ, এখানে গৌরবসমূহ সমুন্নত হয়েছে … এখানে উচ্চমর্যাদা, এখানে নৈকট্য, এখানে আত্মীয়তার বন্ধন।

এখানে হৃদয়সমূহ তাদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে জেগে উঠেছে … এখানে আত্মাসমূহ সত্যের পানে ভিড় জমিয়েছে।

এখানে সজীবতা, এখানে প্রভাত, এখানে আশা … এখানে কিতাব, এখানে লওহ, এখানে কলম।

পবিত্র ভূমিতে মুসলমানদের এই সমবেত হওয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের অন্তরসমূহ নিকটবর্তী হয়, যদিও তাদের দেহগুলো দূরে থাকে; তাদের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয় যদিও তাদের অবস্থান বিচ্ছিন্ন থাকে; এবং তাদের কাতারগুলো সুশৃঙ্খল হয় যদিও তাদের গন্তব্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। ফলে তারা সংখ্যায় অধিক হওয়া এবং মাতৃভূমি ও দেশের ভিন্নতা সত্ত্বেও একটি দেহে পরিণত হয়; যার কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হলে পুরো শরীর জ্বর ও অনিদ্রায় তার অংশীদার হয়।

সুতরাং আমাদের জীবনে এই ঐক্যের গভীরতা অনুভব করা আবশ্যক। এর মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের সেইসব নিপীড়িত ও নির্যাতিত মুসলমানদের ব্যথা অনুভব করব, যারা আল্লাহর শত্রুদের হাতে নানা প্রকারের শাস্তি ও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ১৪)
إن أمة الإسلام اليوم بحاجة مَاسَّة إلى الاستفادة من مواسم الإسلام المباركة، وآثارها العظيمة ومنافعها الجمة؛ لتنطلق للإصلاح من هذه البقاع المباركة، فمتى تظل الأمة تراوح مكانها؟ وتأسى على أوضاعها؟ وتندب حظها؟ دون تحرك جاد في العمل للإسلام وبالإسلام.

وبما تَقَدَّم من أهمية هذا الركن العظيم، وما يعتري المسلم فيه من عوارض تحتاج إلى أحكام وأجوبة، ولتفريط كثير من المسلمين - من أسف - فى تحصيل فقه الحج، وقصورِهم عن معرفة أحكامه وسُننه وآدابه؛ رَغِبتُ فى إعداد هذا الكتاب وتأليفه، وتَعنَّيتُ لتحبيره جهدي، مُستلهمًا من المولى عز شأنه التسديد والتوفيق، سائلًا إياه أن يكون لحُجاج بيت الله دليلًا ونبراسًا، ولطالب العلم أصلًا وأساسًا.

على كف الندى أُهْدِي كتابي … وأُرخي في محبتكم رِكابي

فإن كان الذي أُهْدي يسيرًا … ففيض الوُد أكمل في النِّصابِ

وسَميتُه «جَمْع السبائك لأحكام المناسك».

وكان عملي في هذا الكتاب هو جَمْع مسائل الحج:

فإن كانت المسألة من مواضع الإجماع، حاولتُ قدر استطاعتي توثيق هذا الإجماع من مظانه المعتبرة، وبَينتُ هل هذا الإجماع منخرم أم لا؟

وإذا كانت المسألة من مسائل الخلاف، قمتُ بعرض المسألة الخلافية بذكر كل قول، ثم القائل به، لا سيما المذاهب الأربعة، ثم الأدلة من القرآن والسُّنة.

وقد التزمتُ فيه ما صَحَّ عن النبي العدنان، مع ذكر بعض الأحاديث الضعيفة لبيان ضعفها، أو للرد على مَنْ استَدل بها.

وكذلك ذَكَرْتُ الآثار عن الصحابة الأبرار والتابعين الأخيار، ورجَّحتُ ما يقتضي الدليل رُجحانه.

ثم لما كانت هناك مسائل نازلة في الحج، لم أجد فيها أقوالًا للصحابة ولا التابعين، ذَكَرْتُ أقوال أهل العلم المعاصرين.

وكم تمنيتُ أن يكون هذا الكتاب فريدًا في بابه، يجد فيه طالب العلم نَهْمته والناسك بُغيته.
বর্তমান মুসলিম উম্মাহ আজ ইসলামের বরকতময় মৌসুমসমূহ, সেগুলোর সুমহান প্রভাব ও অগাধ কল্যাণ থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য তীব্র প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে; যেন তারা এই বরকতময় ভূমিগুলো থেকে সংস্কারের অভিযাত্রায় যাত্রা শুরু করতে পারে। এই উম্মাহ আর কতকাল স্থবির হয়ে থাকবে? নিজ পরিস্থিতির ওপর বিলাপ করবে? এবং স্বীয় ভাগ্যের জন্য আক্ষেপ করবে? অথচ ইসলামের তরে এবং ইসলামের মাধ্যমে কাজের ক্ষেত্রে কোনো আন্তরিক তৎপরতা নেই।

এই মহান রুকনের পূর্বোক্ত গুরুত্ব এবং এতে একজন মুসলিমের যেসকল আপতিত বিষয়ের সম্মুখীন হতে হয় যেগুলোর বিধান ও উত্তরের প্রয়োজন রয়েছে, তদুপরি—দুঃখের বিষয়—হজের ফিকহ অর্জনে অনেক মুসলিমের শৈথিল্য এবং এর বিধিবিধান, সুন্নাত ও আদবসমূহ জানার ক্ষেত্রে তাদের অপূর্ণতার কারণে; আমি এই গ্রন্থটি প্রস্তুত ও রচনার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছি। আমি সাধ্যমতো এটিকে সুবিন্যস্ত করার পরিশ্রম করেছি, মহান প্রতিপালকের নিকট সঠিক পথনির্দেশনা ও তাওফিক প্রার্থনা করছি। তাঁর নিকট প্রার্থনা করি, এটি যেন আল্লাহর ঘরের হাজিদের জন্য একটি পথপ্রদর্শক ও আলোকবর্তিকা হয় এবং ইলম অন্বেষীর জন্য একটি মূলনীতি ও ভিত্তি হয়।

বদান্যতার করপুটে আমি আমার কিতাবটি উপহার দিচ্ছি … আর আপনাদের ভালোবাসায় আমার সওয়ারির লাগাম ঢিল করে দিচ্ছি।

যদি আমার এই উপহার যৎসামান্যই হয় … তবে অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রাচুর্য এর ঘাটতি পূর্ণ করে দেয়।

আমি এর নাম রেখেছি 'জমউস সাবাইক লি-আহকামিল মানাসিক' (ইবাদতের বিধানাবলির স্বর্ণপিণ্ড সংকলন)।

এই কিতাবে আমার কাজ ছিল হজের মাসআলাসমূহ একত্রিত করা:

মাসআলাটি যদি ইজমার (সর্বসম্মত) বিষয় হয়, তবে আমি আমার সাধ্যমতো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সেই ইজমার প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি এবং এই ইজমা কি ভঙ্গ হয়েছে নাকি অক্ষুণ্ণ আছে, তা স্পষ্ট করেছি।

আর মাসআলাটি যদি মতপার্থক্যের বিষয় হয়, তবে আমি প্রতিটি মত এবং সেই মতের প্রবক্তার উল্লেখপূর্বক মতভেদের বিষয়গুলো তুলে ধরেছি, বিশেষ করে চার মাযহাবের বক্তব্য, অতঃপর কুরআন ও সুন্নাহ থেকে তার দলিল পেশ করেছি।

এতে আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যা কিছু সহিহ তার ওপর অটল থাকার চেষ্টা করেছি, পাশাপাশি কিছু দুর্বল হাদিসের উল্লেখ করেছি সেগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট করার জন্য অথবা যারা সেগুলো দিয়ে দলিল পেশ করেন তাদের জবাব দেওয়ার জন্য।

একইভাবে আমি পুণ্যবান সাহাবায়ে কেরাম এবং শ্রেষ্ঠ তাবেঈদের আসার (উক্তি ও কর্ম) উল্লেখ করেছি এবং দলিলের নিরিখে যা অধিক শক্তিশালী মনে হয়েছে তাকেই প্রাধান্য দিয়েছি।

অতঃপর হজের ক্ষেত্রে এমন কিছু নতুন উদ্ভূত মাসআলা রয়েছে যেগুলোতে আমি সাহাবা বা তাবেঈদের কোনো বক্তব্য পাইনি, সেক্ষেত্রে আমি বর্তমান সময়ের আলেমদের অভিমত উল্লেখ করেছি।

আমার একান্ত আকাঙ্ক্ষা ছিল যেন এই কিতাবটি তার নিজ বিষয়ে অনন্য হয়, যেখানে ইলম অন্বেষী তার জিজ্ঞাসার খোরাক খুঁজে পাবে এবং ইবাদতকারী তার উদ্দিষ্ট বিষয়ের দিশা পাবে।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد قسمتُ هذا الكتاب إلى ثلاثة وعشرين بابًا:

الباب الأول: مقدمة في الحج. والباب الثاني: شروط الحج.

والباب الثالث: آداب السفر. والباب الرابع: المواقيت.

والباب الخامس: الأنساك الثلاثة. والباب السادس: الإحرام.

والباب السابع: دخول مكة. والباب الثامن: الطواف.

والباب التاسع: السعي.

والباب العاشر والحادي عشر والثاني عشر: يوم التروية ويوم عرفة، و المزدلفة.

من الباب الثالث عشر حتى الباب الثامن عشر: أعمال يوم النحر، مِنْ رمي جمرة العقبة والحلق وطواف الإفاضة والهَدْي والتحلل.

والباب التاسع عشر، والعِشرون: أعمال أيام التشريق من مبيت بمنى ورمي الجمار.

والباب الحادي والعِشرون: طواف الوداع. والباب الثاني والعِشرون: نوازل الحج.

والباب الثالث والعِشرون: أحكام تختص بالعمرة.

وهذا ترتيب منطقي، فأول ما يفعله مَنْ أراد الحج أن يَتعلم فضل الحج وحكمه وشروطه. ثم إذا أراد السفر للحج، تَعَلَّمَ آداب السفر. وفي طريقه يمر بالمواقيت ويُحْرِم منها. ثم دخول مكة والطواف والسعي، ثم يوم التروية ويوم عرفة، والوقوف بمُزدلِفة، وأعمال يوم النحر من رمي ونَحْر وحَلْق، وطواف وسعي. ثم أعمال أيام التشريق، من مبيت بمنى ورَمْي الجمار، ثم طواف الوداع لتوديع البيت ومفارقته.

وبعد أن أضنيتُ نفسي في جمع هذا الكتاب، قمتُ بعرض ما جمعتُه على شيخنا المِفضال مصطفى بن العدوي- حَفِظه الله - فراجعه على دَيدنه في سماحة خلقه، وبِرِّه بطلاب العلم، فقَدَّم له، فأفدتُ من تسديد ألحاظه وتصويب ألفاظه.

فله مني شكر لا ينقطع مداه، وثناء لا يُبلغ منتهاه، ودعاء مدى الحياة؛ فقد كان له فضل عليَّ في سلوك جادة العلم والتحصيل، وما كتبتُ في أبحاثي إلا زهرة من بستانه، فقد كان عونًا لي بعد الله على طلب العلم، وكيفية بحث المسائل، والحُكم على الأحاديث في ضوء قواعدِ الجَرْح والتعديل، وفي حل كل ما يشكل عليَّ.

فكم أَذْكُره في خَلَواتي، وأدعو له في صلواتي، فجزاه الله خير الجزاء وأوفاه، وجَعَل ما قَدَّمه في ميزان حسناته يوم يلقى مولاه.
আমি এই কিতাবটিকে তেইশটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি:

প্রথম অধ্যায়: হজ্জের ভূমিকা। দ্বিতীয় অধ্যায়: হজ্জের শর্তাবলি।

তৃতীয় অধ্যায়: সফরের আদব। চতুর্থ অধ্যায়: মিকাতসমূহ।

পঞ্চম অধ্যায়: তিন প্রকারের হজ্জ। ষষ্ঠ অধ্যায়: ইহরাম।

সপ্তম অধ্যায়: মক্কায় প্রবেশ। অষ্টম অধ্যায়: তাওয়াফ।

নবম অধ্যায়: সায়ী।

দশম, একাদশ এবং দ্বাদশ অধ্যায়: ইয়াউমুত তারবিয়াহ, আরাফার দিন এবং মুযদালিফা।

ত্রয়োদশ অধ্যায় থেকে অষ্টাদশ অধ্যায় পর্যন্ত: ইয়াউমুন নাহার বা কুরবানির দিনের কার্যাবলি; যেমন: জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ, মাথা মুণ্ডানো, তাওয়াফে ইফাযাহ, কুরবানি এবং ইহরাম থেকে হালাল হওয়া।

ঊনবিংশ এবং বিংশ অধ্যায়: আইয়ামে তাশরিকের কার্যাবলি; যেমন: মিনায় রাত্রিযাপন এবং পাথর নিক্ষেপ।

একবিংশ অধ্যায়: বিদায়ী তাওয়াফ। দ্বাবিংশ অধ্যায়: হজ্জের সমসাময়িক মাসআলাসমূহ।

ত্রয়োবিংশ অধ্যায়: উমরা সংশ্লিষ্ট হুকুম-আহকাম।

এটি একটি যৌক্তিক বিন্যাস; কেননা হজ্জ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি সর্বপ্রথম হজ্জের ফযিলত, বিধান ও শর্তাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে। এরপর হজ্জের উদ্দেশ্যে সফরের ইচ্ছা করলে সফরের আদবসমূহ শিখবে। পথিমধ্যে সে মিকাত অতিক্রম করবে এবং সেখান থেকে ইহরাম বাঁধবে। অতঃপর মক্কায় প্রবেশ, তাওয়াফ ও সায়ী করবে। এরপর ইয়াউমুত তারবিয়াহ, আরাফার দিন, মুযদালিফায় অবস্থান এবং ইয়াউমুন নাহারের কার্যাবলি যথা: পাথর নিক্ষেপ, কুরবানি, মাথা মুণ্ডানো, তাওয়াফ ও সায়ী সম্পন্ন করবে। এরপর আইয়ামে তাশরিকের কার্যাবলি যথা: মিনায় রাত্রিযাপন ও পাথর নিক্ষেপ করবে। সবশেষে বাইতুল্লাহকে বিদায় জানানোর জন্য বিদায়ী তাওয়াফ করবে।

এই কিতাবটি সংকলনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করার পর, আমি সংগৃহীত অংশসমূহ আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ মোস্তফা বিন আল-আদাবী —আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন— এর নিকট পেশ করি। তিনি তাঁর মহানুভবতা ও ত্বলিবুল ইলমদের প্রতি সদয় আচরণের চিরাচরিত অভ্যাসবশত এটি পর্যালোচনা করেন এবং এর একটি ভূমিকা লিখে দেন। ফলে আমি তাঁর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও শব্দ সংশোধনের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছি।

তাঁর প্রতি আমার পক্ষ থেকে অন্তহীন কৃতজ্ঞতা, অশেষ প্রশংসা এবং আজীবন দুআ রইল। কেননা ইলম অর্জন ও তা হাসিলের পথে চলার ক্ষেত্রে তাঁর বিরাট অবদান রয়েছে। আমি আমার গবেষণায় যা কিছু লিখেছি তা তাঁর বাগানের একটি ফুল মাত্র। আল্লাহর সাহায্যের পর তিনি ইলম তলব করা, মাসআলা গবেষণার পদ্ধতি এবং জারাহ-তাদিলের মূলনীতির আলোকে হাদিসের মান নির্ণয়সহ আমার সকল জটিলতা নিরসনে সহায়ক ছিলেন।

আমি নির্জনে তাঁকে কতই না স্মরণ করি এবং আমার সালাতগুলোতে তাঁর জন্য দুআ করি। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন এবং তিনি যা পেশ করেছেন তা তাঁর রবের সাথে সাক্ষাতের দিনে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করুন।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأسأله سبحانه أن يُسْعِده بجنته، ويشمله برحمته، وأن يُكْرِمه بمغفرته، وأن يمتعه بالصحة والعافية، وأن يُمِد في عمره على طاعته، وأن يرزقه مزيد العلم النافعِ والعمل الصالح، وأن ينفع بعلمه وسعيه الإسلام والمسلمين، وأن يبارك له في أزواجه وأهله وذريته أجمعين.

كما أشكر لكل مَنْ شارك وساهم في إعداد الشاملة التي يَسَّرَتْ وسَهَّلَتْ على الباحثين طرق البحث، فشَكَر الله سعيهم وغَفَر ذنبهم، وجَعَل كل ذلك في ميزان حسناتهم.

وإني لأعلم أن هناك مَنْ هو أكثر أهلية مني لهذا العمل الجلل، ولكني أذكر قول القائل:

وما كنتُ أهلًا للذي قد كتبتُه … وإني لفي خوف من الله نادمُ

ولكنني أرجو من الله عفوه … وإني لأهل العلم لا شك خادمُ

ولِما آمُل من ثواب ونجاة في اليوم المشهود لمن خدم هذا الدين، تجرأتُ على الشأن الكئود، فأسأل الله أن يتقبله مني في اليوم الموعود.

رب تَقَبَّلْ عملي … ولا تُخيِّب أملي

أَصْلِح أموري كلها … قبل حلول أجلي

ولم أدخر جهدًا في هذا البحث إلا بذلتُه في تحريره وتنقيحه وتقريره، ولا أدعي الكمال والتمام والعصمة من الزلل والخطأ والنسيان؛ فقد قيل: أَبَى الله أن يصح إلا كتابه.

وقال الشافعي: «لقد أَلَّفْتُ هذه الكتب ولم آلُ جهدًا فيها، ولا بد أن يوجد فيها الخطأ؛ لأن الله تعالى يقول: {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} [النساء: 82] فما وجدتم في كتبي هذه ما يخالف الكتاب والسُّنة، فقد رجعتُ عنه».

ولله دَرّ مَنْ قال:

كم من كتاب قد تصفحتُه … وقلتُ في نفسي أصلحتُه

حتى إذا طالعتُه ثانيًا … وجدتُ تصحيفًا فصححتُه

وما أَحْسَنَ ما قاله العماد الأصفهاني: «إني رأيتُ أنه لا يَكتب إنسان كتابًا في يومه، إلا قال في غده: لو غُيِّرَ هذا لكان أحسن، ولو زِيد هذا لكان يُستحسَن، ولو قُدِّم هذا لكان أفضل، ولو تُرِك هذا لكان أجمل! وهذا من أعظم العِبَر، وهذا دليل استيلاء النقص على جملة
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁকে তাঁর জান্নাতের মাধ্যমে সৌভাগ্যমণ্ডিত করেন, তাঁকে তাঁর রহমতের চাদরে আবৃত করেন, তাঁর ক্ষমা দ্বারা তাঁকে সম্মানিত করেন, তাঁকে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দান করেন, তাঁর আনুগত্যের ওপর তাঁর আয়ু দীর্ঘায়িত করেন, তাঁকে অধিক পরিমাণে উপকারী ইলম ও নেক আমল দান করেন, তাঁর ইলম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং তাঁর স্ত্রী, পরিবার ও উত্তরসূরি সকলের মাঝে বরকত দান করেন।

সেই সাথে আমি তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা ‘শামেলা’ (মাকতাবাতুশ শামেলা) প্রস্তুতকরণে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করেছেন, যা গবেষকদের জন্য অনুসন্ধানের পথকে সহজ ও সুগম করে দিয়েছে। আল্লাহ তাঁদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন, তাঁদের গুনাহ ক্ষমা করুন এবং এসব কিছুকে তাঁদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করুন।

আমি জানি যে, এই মহান কাজের জন্য আমার চেয়েও অধিক যোগ্য ব্যক্তিরা রয়েছেন, তবে আমি এই পঙ্ক্তিটি স্মরণ করছি:

আমি যা লিখেছি তার যোগ্য আমি ছিলাম না … আর আমি আল্লাহর ভয়ে অনুতপ্ত।

তবে আমি আল্লাহর নিকট তাঁর ক্ষমার প্রত্যাশা করি … আর আমি নিঃসন্দেহে ইলমের অধিকারীদের একজন খাদেম।

দ্বীনের খেদমতকারীদের জন্য সেই সাক্ষ্য প্রদানের দিনে (কিয়ামতের দিন) যে সওয়াব ও মুক্তির আশা আমি রাখি, তার কারণেই আমি এই কঠিন ও শ্রমসাধ্য কাজে সাহসী হয়েছি। অতএব, আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি প্রতিশ্রুত দিনে আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করে নেন।

হে রব! আমার আমল কবুল করুন … আর আমার আশা ভঙ্গ করবেন না।

আমার সকল বিষয় সংশোধন করে দিন … আমার অন্তিম সময় আসার আগে।

এই গবেষণার সম্পাদনা, সংশোধন ও উপস্থাপনায় আমি আমার সাধ্যের কোনো ত্রুটি করিনি। আমি পূর্ণতা, সমাপ্তি কিংবা পদস্খলন, ভুল ও বিস্মৃতি থেকে মুক্ত হওয়ার দাবি করি না; কেননা বলা হয়েছে: আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবকে ভুলমুক্ত রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

ইমাম শাফিঈ রহ. বলেছেন: «আমি এই কিতাবগুলো রচনা করেছি এবং এতে শ্রম দিতে কোনো ত্রুটি করিনি, তবুও এতে অবশ্যই ভুল পাওয়া যাবে; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {তা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ (বা অসঙ্গতি) দেখতে পেত।} [আন-নিসা: ৮২]। অতএব, আমার এই কিতাবসমূহে তোমরা যা কিছু কিতাব ও সুন্নাহর বিরোধী পাবে, জেনে রেখো আমি তা থেকে ফিরে আসলাম (তা প্রত্যাহার করলাম)»।

সেই ব্যক্তির কী চমৎকার উক্তি যিনি বলেছেন:

কত কিতাবই না আমি পর্যবেক্ষণ করেছি … আর মনে মনে বলেছি আমি তা সংশোধন করেছি।

এমনকি যখন আমি দ্বিতীয়বার তা পাঠ করেছি … তখন তাতে ভুল খুঁজে পেয়েছি এবং তা সংশোধন করেছি।

ইমাদ আল-ইসফাহানী কী চমৎকার বলেছেন: «আমি দেখেছি যে, কোনো মানুষ আজ কোনো কিতাব লিখলে পরদিন অবশ্যই বলে: যদি এই বিষয়টি পরিবর্তন করা হতো তবে তা আরও সুন্দর হতো, যদি এটি বৃদ্ধি করা হতো তবে তা পছন্দনীয় হতো, যদি একে অগ্রে আনা হতো তবে তা আরও উত্তম হতো, আর যদি এটি বর্জন করা হতো তবে তা আরও চমৎকার হতো! এটি এক মহান শিক্ষা এবং এটি সমস্ত কিছুর ওপর মানুষের অপূর্ণতার প্রভাবের অকাট্য প্রমাণ...»
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ১৭)
البشر، فسبحان مَنْ تَنزَّه عن النقص».

فمَن وقف فيه على تقصير أو خلل، أو عَثَر فيه على تغيير أو زلل، فليَعذر أخاه في ذلك متطولًا، أو ليُصْلِح منه ما يَحتاج إلى إصلاح متفضلًا؛ فالتقصير من الأوصاف البشرية، فليست الإحاطة بالعلم إلا لبارئ البرية؛ فهو الذي وَسِع كل شيء علمًا، وأحصى مخلوقاته عينًا واسمًا.

سَطَّره لنفسه … قائله وجامعه

فليَعْفُ عن زلاته … ناقله وسامعه

فألتمس من النبلاء الأماجد تقويم ما اعْوَجَّ ونَدَّ، والتنبيه إلى ما نَدَّ عنه القلم.

وَإِنْ تَجِدْ عَيْبًا فَسُدَّ الخَلَلَا … فَجَلَّ مَنْ لَا عَيْبَ فِيهِ وَعَلَا

فالمرجو ممن صَرَف وجهه إليه بعين الرضا والرغبة لديه- أن يُصْلِح خطأه وسقطته، ويزيل زلَله وهفوته بعد المراجعة والتأمل والإمعان، لا بمجرد النظر والعِيان(1).

وما مِنْ كاتب إلا سيَفنى … ويبقى الدهرَ ما كَتَبَتْ يداهُ

فلا تَكتب بكفك غير شيء … يَسُرك في القيامة أن تراهُ

وأسأل الله عز وجل أن يَجعل كتابي هذا خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينشره في العالمين، وأن ينفعني به والمسلمين، وأن يجعله في ميزان حسناتي يوم الدين.

وأسأله أن يُعِزنا بالإسلام، وأن يجعلنا من أنصار هذا الدين.

كما أسأله أن يَجزي عنى والديَّ أعم الجزاء والمثوبة، وأن يَرحم والداتي، وأن يُمتِّع والدي بالصحة والعافية، وأن يُنوِّرَ أوقاته بالهدى والتُّقى، وأن يرزقهما جنة الفردوس.

يا رب ارحم مَنْ عَلَّمني ووالدي وكن بهم … بهم برًّا رحيمًا

--------------------------------------------

(1) ولا أقصد هذا الصنف من الناس.

وقد أَحْسَن مَنْ قال فيهم:

إِنْ يَسْمَعُوا سُبَّةَ طَارُوا بِهَا فَرَحًا … مِنِّي وَمَا سَمِعُوا مِنْ صَالِحٍ دَفَنُوا

صُمٌّ إِذَا سَمِعُوا خَيْرًا ذُكِرْتُ بِهِ … وَإِنْ ذُكِرْتُ بِسُوءٍ عِنْدَهُمْ أَذِنُوا

وأَحْسَن مَنْ قال:

إِنْ يَعْلَمُوا الْخَيْرَ أخْفَوْهُ وَإِنْ عَلِمُوا … شَرًّا أَذَاعُوا وَإِنْ لَمْ يَعْلَمُوا كَذَبُوا
মানুষ, অতএব পবিত্রতা তাঁর জন্য যিনি সকল প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত।

সুতরাং এতে কেউ যদি কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি খুঁজে পান, কিংবা কোনো পরিবর্তন বা স্খলন প্রত্যক্ষ করেন, তবে তিনি যেন অনুগ্রহপূর্বক তাঁর ভাইকে ক্ষমা করে দেন অথবা সদয়ভাবে যা সংশোধন করা প্রয়োজন তা সংশোধন করে দেন; কেননা ত্রুটি হলো মানবীয় বৈশিষ্ট্য, আর পূর্ণ জ্ঞান তো কেবল সৃষ্টির স্রষ্টারই রয়েছে। তিনি প্রত্যেকটি বিষয়কে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং তাঁর সকল সৃষ্টিকে সত্তাগত ও নামগতভাবে সংখ্যায়িত করেছেন।

এর বক্তা ও সংকলক এটি নিজের জন্য লিপিবদ্ধ করেছেন …

এর বর্ণনাকারী ও শ্রবণকারী যেন তার ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দেন …

অতএব আমি মহানুভব ও সম্মানিত ব্যক্তিদের নিকট বিনীত অনুরোধ করছি যেন তারা বক্রতাকে সোজা করে দেন এবং কলম থেকে যা বিচ্যুত হয়েছে সে সম্পর্কে সতর্ক করে দেন।

যদি কোনো খুঁত পাও তবে সেই ফাটল বন্ধ করে দাও … মহান সেই সত্তা যিনি ত্রুটিমুক্ত এবং সুউচ্চ।

সুতরাং যার নিকট এটি সন্তুষ্টি ও আগ্রহের দৃষ্টিতে পড়বে—তার কাছে প্রত্যাশা এই যে, তিনি যেন পর্যালোচনা, চিন্তা-গবেষণা ও গভীর মনোনিবেশের পর এর ভুল ও বিচ্যুতি সংশোধন করেন এবং এর স্খলন ও অসাবধানতা দূর করেন; কেবল ভাসাভাসা দৃষ্টি বা চাক্ষুষ দেখার মাধ্যমেই নয়(১)।

প্রত্যেক লেখকই একদিন বিলীন হয়ে যাবে … কিন্তু মহাকাল জুড়ে রয়ে যাবে যা তার হাত লিখেছে।

অতএব তোমার হাত দিয়ে এমন কিছু লিখো না … যা কিয়ামতের দিন দেখে তুমি আনন্দিত হবে।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কিতাবটিকে কেবল তাঁর মহান চেহারার জন্য নিবেদিত করেন, বিশ্বজুড়ে এর প্রসার ঘটান, এর মাধ্যমে আমাকে ও সকল মুসলিমকে উপকৃত করেন এবং বিচার দিবসে একে আমার নেক আমলের পাল্লায় জমা করেন।

আমি তাঁর কাছে আরও প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেন এবং আমাদের এই দ্বীনের সাহায্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তেমনি আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার পক্ষ থেকে আমার পিতামাতাকে সর্বোত্তম প্রতিদান ও সওয়াব দান করেন, আমার মাতাকে রহম করেন, আমার পিতাকে সুস্থতা ও আফিয়াতের সাথে রাখেন, হিদায়াত ও তাকওয়ার মাধ্যমে তাঁর সময়গুলোকে আলোকিত করেন এবং তাঁদের উভয়কে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন।

হে রব! যিনি আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন তাঁর প্রতি এবং আমার পিতামাতার ওপর দয়া করুন এবং তাঁদের প্রতি … তাঁদের প্রতি সদাচারী ও পরম দয়ালু হোন।

--------------------------------------------

(১) আমি এ ধরনের লোকদের উদ্দেশ্য করছি না।

তাদের সম্পর্কে যিনি নিম্নোক্ত কথাগুলো বলেছেন তিনি চমৎকার বলেছেন:

যখনই তারা কোনো নিন্দার কথা শোনে, অমনি তারা খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়ে … আর আমার কোনো ভালো কথা শুনলে তা তারা দাফন করে ফেলে।

যখন আমার কোনো ভালো কাজের কথা আলোচনা করা হয় তখন তারা বধির হয়ে যায় … আর যখন তাদের সামনে আমার কোনো মন্দ আলোচনা করা হয় তখন তারা কান পেতে শোনে।

সেই ব্যক্তিও কতই না চমৎকার বলেছেন:

যদি তারা কোনো কল্যাণের কথা জানতে পারে তবে তা গোপন করে রাখে, আর যদি কোনো অকল্যাণ জানে … তবে তা প্রচার করে বেড়ায়, আর যদি কিছুই জানতে না পারে তবে তারা মিথ্যা রটনা করে।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ১৮)
واكتب لهم أجر الذي سَطَّرتُه … واقبله واقبلنا فذاك رجانا

اللهم كما مَنَنْتَ عليَّ بإكمال هذا السِّفر المبارك، وأعنتني على تحصيله، وتَفَضَّلْتَ عليَّ بالفراغ منه بعد مدة مديدة؛ امنن عليَّ بقَبوله، واجعله لي ذخيرةَ خير عندك بمنك وكرمك وَجُودك، وأَجْزِل لي المثوبة بما لاقيتُه في جمعه وكتابته من التعب والنَّصَب، وانفع به مَنْ تَلَقَّاه بالقَبول، وقَصَد الانتفاع به من عبادك؛ ليدوم لي الانتفاع به بعد موتي؛ فإن هذا هو المَقصِد المهم من تأليفه.

واجعله خالصًا لوجهك الكريم، وتَجَاوَزْ عني ما خطر لي من خواطر السوء مما يخالف الإخلاص. واغفر لي ما لا يطابق مرادك؛ فإني لم أقصد في جمع أبحاثي فيه إلا إصابة الحق وموافقة ما ترضاه، فإن أخطأتُ فأنت غافر الخطيات، ومُسْبِل ذيل السَّتر على الهفوات.

بِالذُّلِّ قَدْ وَافَيْتُ بَابَكَ عَالِمًا … أَنَّ التَّذَلُّلَ عِنْدَ بَابِكَ يَنْفَعُ

اجْعَلْ لِيَ مِنْ كُل خَطْأٍ مَخْرَجًا … وَاسْمَحْهُ لِي يَا مَنْ إِلَيْهِ الْمَفْزَعُ

مَا لِي سِوَى قَرْعِيْ لِبَابِكَ حِيلَةٌ … وَلَئِنْ رُدِدْتُ فَأَيَّ بَابٍ أَقْرَعُ

واللهَ أسأل أن يُخْلِص نيتي ويُحْسِن طويتي، ويتقبل عملي ويُنْجِح أملي.

هذا، وما كان من توفيق فمن الواحد المنان، وما كان من خطأ أو نسيانٍ فمني ومن الشيطان، والله ورسوله منه براء، والله المستعان.

إذا لم يكن عَوْن من الله للفتى … فأَكْثَرُ ما يَجني عليه اجتِهادهْ

وصَلِّ اللهم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه، وسَلِّم.

كتبه

محمد بن علي حلاوة

01010637466
আপনি তাদের জন্য আমি যা লিখেছি তার সওয়াব লিপিবদ্ধ করুন … এবং তা কবুল করুন ও আমাদেরও কবুল করুন, কারণ এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

হে আল্লাহ, যেভাবে আপনি এই বরকতময় গ্রন্থটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, এটি অর্জনে আমাকে সাহায্য করেছেন এবং দীর্ঘকাল পরে এটি সমাপ্ত করার তাওফিক দিয়ে আমার ওপর কৃপা করেছেন; (তেমনিভাবে) এটি কবুল করার মাধ্যমে আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন। আপনার করুণা, মহানুভবতা ও বদান্যতায় এটিকে আপনার কাছে আমার জন্য কল্যাণের সঞ্চয় হিসেবে কবুল করুন। এর সংকলন ও লিখনে আমি যে ক্লান্তি ও শ্রম স্বীকার করেছি, তার বিনিময়ে আমাকে প্রচুর পুরস্কার দান করুন। আপনার যে বান্দারা এটি কবুল করবেন এবং এর মাধ্যমে উপকৃত হতে চাইবেন, আপনি তাদের জন্য এটিকে উপকারী করে দিন; যাতে আমার মৃত্যুর পরেও এর উপকারিতা আমার জন্য অব্যাহত থাকে। কারণ এই গ্রন্থটি রচনার এটাই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।

এটিকে আপনার মহান সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ হিসেবে কবুল করুন এবং আমার মনে ইখলাস পরিপন্থী যেসব অশুভ চিন্তার উদয় হয়েছে তা মার্জনা করুন। যা আপনার মালের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়, তা আমাকে ক্ষমা করুন। কারণ আমি এতে আমার গবেষণালব্ধ বিষয়সমূহ সংকলনের ক্ষেত্রে কেবল সত্যে উপনীত হওয়া এবং আপনার সন্তুষ্টির অনুকূল হওয়ারই ইচ্ছা পোষণ করেছি। অতএব যদি আমি ভুল করে থাকি, তবে আপনিই পাপ ক্ষমাশীল এবং ত্রুটি-বিচ্যুতির ওপর ক্ষমার চাদর আবৃতকারী।

আমি হীনতা ও বিনয় সহকারে আপনার দ্বারে উপস্থিত হয়েছি এই জেনে যে … আপনার দ্বারে হীনতা প্রকাশ করাই ফলপ্রসূ।

আমার প্রতিটি ভুলের জন্য আপনি নিষ্কৃতির পথ করে দিন … আর হে সেই সত্তা যার নিকট আশ্রয় চাওয়া হয়, আমাকে ক্ষমা করে দিন।

আপনার দ্বারে করাঘাত করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই … আর যদি আমি প্রত্যাখ্যাত হই, তবে কোন দ্বারে আমি করাঘাত করব?

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার নিয়তকে পরিশুদ্ধ করেন, আমার অন্তঃকরণকে সুন্দর করেন, আমার কর্ম কবুল করেন এবং আমার আশা পূর্ণ করেন।

পরিশেষে, যতটুকু তাওফিক হয়েছে তা এক ও অদ্বিতীয় দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যা কিছু ভুল বা বিস্মৃতি ঘটেছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত। আর আল্লাহই সাহায্যকারী।

কোনো যুবকের প্রতি যদি আল্লাহর সাহায্য না থাকে … তবে তার প্রচেষ্টাই তার জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হে আল্লাহ, আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

এটি লিখেছেন

মুহাম্মদ বিন আলী হালাওয়াহ

০১০১০৬৩৭৪৬৬
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الباب الأول مقدمة في الحج

وفيه ثمانية مباحث:

المبحث الأول: تعريف الحج.

المبحث الثاني: حُكْم الحج.

المبحث الثالث: حُكْم جاحد الحج.

المبحث الرابع: مرات الحج الواجبة.

المبحث الخامس: فَضْل الحج.

المبحث السادس: حُكْم تَكرار الحج للنساء.

المبحث السابع: من مقاصد الحج.

المبحث الثامن: هل يجب الحج على الفور أم على التراخي؟
প্রথম অধ্যায়: হজ প্রসঙ্গে ভূমিকা

এতে আটটি আলোচ্য বিষয় রয়েছে:

প্রথম আলোচ্য বিষয়: হজের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয়: হজের বিধান।

তৃতীয় আলোচ্য বিষয়: হজ অস্বীকারকারীর বিধান।

চতুর্থ আলোচ্য বিষয়: হজ কতবার করা আবশ্যক।

পঞ্চম আলোচ্য বিষয়: হজের ফজিলত।

ষষ্ঠ আলোচ্য বিষয়: নারীদের জন্য বারবার হজ করার বিধান।

সপ্তম আলোচ্য বিষয়: হজের অন্যতম উদ্দেশ্যসমূহ।

অষ্টম আলোচ্য বিষয়: হজ কি অবিলম্বে আদায় করা আবশ্যক নাকি বিলম্বে করার অবকাশ রয়েছে?
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المبحث الأول: تعريف الحج:

الحج لُغة: بفتح الحاء وكسرها لغتان، معناهما: القصد إلى الشيء المُعَظَّم(1).

والحج شرعًا: هو قَصْد البيت الحرام والمشاعر المقدسة؛ تَعبُّدًا لله عز وجل لأداء المناسك، على وجه مخصوص، في زمن مخصوص.

 

•‌‌ شرح التعريف:

«هو قَصْد البيت الحرام والمشاعر المقدسة» إخراج مَنْ قَصَد البيت فحَسْب لأداء العمرة؛ لأن المشاعر لا تُقصَد إلا في حال الحج، كعرفة ومُزدلِفة ومِنًى.

«تَعبُّدًا لله عز وجل» يَخرج به كل قصد ليس خالصًا لله.

«لأداء المناسك» مِنْ إحرام وطواف وسعي ووقوف بعرفة … وغير ذلك من أعمال الحج. وَيخرج به مَنْ قَصَد مكة والمناسك لعمل أو تجارة، بدون أداء المناسك.

«على وجه مخصوص» ويُقصَد به أداء المناسك على الكيفية الواردة في سُنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد أَكَّد على ذلك بقوله صلى الله عليه وسلم: «خذوا عني مناسككم».

«في زمن مخصوص» أي: أَشْهُر الحج: شَوَّال، وذي القعدة، وذي الحجة(2).

 

‌‌المبحث الثاني: حُكْم الحج:

الحج أحد مباني الإسلام الخمسة، وهو فَرْضُ عَيْن على المُكلَّف المستطيع، مرة واحدة في العمر.

وقد دل على ذلك قوله تعالى: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ} [آل عمران: 97](3).

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بُنِيَ الإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ

--------------------------------------------

(1) «لسان العرب» (2/ 226)، و «أنيس الفقهاء» (ص: 48).

(2) «البناية» (4/ 138)، و «حاشية الدسوقي» (2/ 2)، و «المغني» (5/ 5).

(3) قال ابن العربي: قَالَ عُلَمَاؤُنَا: هَذَا مِنْ أَوْكَدِ أَلْفَاظِ الْوُجُوبِ عِنْدَ الْعَرَبِ، إذَا قَالَ الْعَرَبِيُّ: (لِفُلَانٍ عَلَيَّ كَذَا) فَقَدْ وَكَّدَهُ وَأَوْجَبَهُ. فَذَكَرَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ الْحَجَّ بِأَبْلَغِ أَلْفَاظِ الْوُجُوبِ؛ تَأْكِيدًا لِحَقِّهِ، وَتَعْظِيمًا لِحُرْمَتِهِ، وَتَقْوِيَةً لِفَرْضِهِ. «أحكام القرآن» (ص: 385).
‌প্রথম পরিচ্ছেদ: হজের সংজ্ঞা:

হজের শাব্দিক অর্থ: ‘হা’ বর্ণে ফাতহা (যবর) ও কাসরা (যের) উভয়টিই পঠনযোগ্য ভাষা, যার অর্থ হলো: কোনো মহিমান্বিত জিনিসের সংকল্প করা(১)।

আর শরয়ি পরিভাষায় হজ হলো: আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ পদ্ধতিতে হজের কার্যাবলি পালনের জন্য বাইতুল্লাহ হারাম ও পবিত্র স্থানসমূহের সংকল্প করা।

 

•‌সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:

«বাইতুল্লাহ হারাম ও পবিত্র স্থানসমূহের সংকল্প করা» এর মাধ্যমে কেবল ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে কাবা ঘর যিয়ারতকারীকে বাদ দেওয়া হয়েছে; কারণ পবিত্র স্থানসমূহ (মাশা’ইর) যেমন আরাফাত, মুযদালিফা ও মিনা কেবল হজের সময়ই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।

«আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে» এর মাধ্যমে এমন সব সংকল্প বাদ পড়ে যায় যা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয়।

«হজের কার্যাবলি পালনের জন্য» যেমন ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ, আরাফাতে অবস্থান... ইত্যাদি হজের কার্যাবলি। এর মাধ্যমে এমন ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া হয়েছে যে কোনো কাজ বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে মক্কা ও পবিত্র স্থানসমূহে গমন করে কিন্তু হজের কার্যাবলি পালন করে না।

«বিশেষ পদ্ধতিতে» বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহতে বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী হজের কার্যাবলি পালন করা বোঝায়। তিনি এর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন: «তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের পদ্ধতি শিখে নাও»।

«নির্দিষ্ট সময়ে» অর্থাৎ হজের মাসসমূহ: শাওয়াল, যিলকদ এবং যিলহজ মাস(২)।

 

‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হজের বিধান:

হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। এটি সামর্থ্যবান ও শারিরীক-মানসিকভাবে সক্ষম ব্যক্তির ওপর জীবনে একবার আদায় করা ফরযে আইন।

মহান আল্লাহর বাণী এর প্রমাণ দেয়: {আর আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, তার ওপর ওই ঘরের হজ করা আবশ্যক। আর যে কুফরি করবে, তবে (জেনে রাখা উচিত যে) নিশ্চয়ই আল্লাহ জগতসমূহের মুখাপেক্ষী নন।} [আল ইমরান: ৯৭](৩)।

ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে...»

--------------------------------------------

(১) «লিসানুল আরব» (২/২২৬), এবং «আনিসুল ফুকাহা» (পৃ. ৪৮)।

(২) «আল-বিনায়াহ» (৪/১৩৮), «হাশিয়াতুদ দিসুকি» (২/২), এবং «আল-মুগনি» (৫/৫)।

(৩) ইবনুল আরাবি বলেন: আমাদের ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: এটি আরবদের নিকট ওয়াজিব বা আবশ্যকতার সবচেয়ে জোরালো শব্দমালার অন্যতম। যখন কোনো আরব বলে: (অমুকের জন্য আমার ওপর এমন পাওনা রয়েছে), তখন সে তা সুনিশ্চিত ও আবশ্যক করে দেয়। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর অধিকারকে সুনিশ্চিত করতে, এর মর্যাদাকে মহিমান্বিত করতে এবং এর ফরয হওয়াকে শক্তিশালী করতে হজের বিষয়টি ওয়াজিব হওয়ার অত্যন্ত জোরালো শব্দে উল্লেখ করেছেন। «আহকামুল কুরআন» (পৃ. ৩৮৫)।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ২১)
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ»(1).

 

‌‌المبحث الثالث: حُكْم جاحد الحج:

مَنْ أَنْكَر وجَحَد وجوب الحج فهو كافر بالنص والإجماع، إلا إذا كان حديث عهد بالإسلام، أو نشأ في بادية بعيدة عن العلم وأهله؛ لقوله تعالى: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ} [آل عمران: 97].

قال ابن تيمية: فَكُلُّ مَنْ لَمْ يَرَ حَجَّ الْبَيْتِ وَاجِبًا عَلَيْهِ، مَعَ الِاسْتِطَاعَةِ، فَهُوَ كَافِرٌ بِاتِّفَاقِ الْمُسْلِمِينَ، كَمَا دَلَّ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ(2).

 

‌‌المبحث الرابع: مرات الحج الواجبة:

يجب الحج مرة واحدة في العمر على المستطيع بالسُّنة والإجماع:

أما السُّنة فما رواه مسلم: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، قَدْ فَرَضَ اللهُ عَلَيْكُمُ الْحَجَّ، فَحُجُّوا» فَقَالَ رَجُلٌ: أَكُلَّ عَامٍ يَا رَسُولَ اللهِ؟ فَسَكَتَ حَتَّى قَالَهَا ثَلَاثًا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لَوْ قُلْتُ: نَعَمْ لَوَجَبَتْ، وَلَمَا اسْتَطَعْتُمْ»(3).

وأَجْمَع العلماء على وجوب الحج على المستطيع، مَرَّةً واحدة في العُمْر(4).

وقد وقع خلاف في المسألة، وحُكِم عليه بالشذوذ، وبأنه مُخالِف للإجماع.

قال الحَطَّاب: وَقَالَ بَعْضُ مَنْ شَذَّ: إِنَّهُ يَجِبُ فِي كُلِّ سَنَةٍ. وَعَنْ بَعْضِهِمْ أَنَّهُ يَجِبُ فِي كُلِّ خَمْسَةِ أَعْوَامٍ، فعَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَفَعَهُ: «إِنَّ اللهَ يَقُولُ: وَإِنَّ عَبْدًا أَصْحَحْتُ لَهُ جِسْمَهُ، وَأَوْسَعْتُ عَلَيْهِ فِي المَعِيشَةِ، تَمْضِي عَلَيْهِ خَمْسَةُ أَعْوَامٍ لَا يَفِدُ إِلَيَّ، إِلَّا مَحْرُومٌ»(5).

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (8)، ومسلم (16).

(2) «شرح العمدة» (1/ 76)، و «الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح» (2/ 126).

(3) رواه مسلم (1337).

(4) وقد نَقَل الإجماع على ذلك: ابن المنذر في «الإجماع» (ص: 51)، والحَطَّاب في «مواهب الجليل» (2/ 465)، والنووي في «شرح مسلم» (8/ 72)، وابن قُدامة في «المغني» (5/ 6) وغيرهم كثير.

(5) ضعيف: رواه جماعة عن العلاء بن المُسَيَّب، واختُلِف عنه:

رواه خَلَف بن خليفة، عن العلاء، عن أَبيه، عن أَبي سعيد، مرفوعًا، به. عند أبي يعلى (1031).

ورواه الثوري عنه، عن أَبيه- أو: عن رَجُل- عن أبي سعيد، به موقوفًا، عند عبد الرزاق (8826).

ورواه الفاكهي (951) من طريق عبد الرزاق، ولكن حصل خلاف من وجهين: الأول: أنه أورده مرفوعًا. والثاني جَزَم برواية العلاء عن أبيه. وفي إسناده (محمد بن أبي عُمَر العَدَني) قال أبو حاتم: كان رجلًا صالحًا، وكان به غفلة. فأخشى أن يكون وهم في رفع هذه الرواية، وقد استَغرب ابن عَدي رواية الثوري لهذا الحديث عن العلاء، وذَكَر أن هذا حديث يُعْرَف بخَلَف. كما في «الكامل» (3/ 513).

ورواه ابن فُضَيْل واختُلف عنه: فرواه مَرَّة عن العلاء، عن يونس بن خَبَّاب، عن أَبي سعيد. ورواه مَرَّة أخرى، فذَكَر بين يونس وأبي سعيد مجاهدًا. ذَكَرهما الدارقطني في «علله» (5/ 465) مع ذكر طرق أخرى، وعَقَّب بقوله: ولا يصح منها شيء.

وقال أبو حاتم بعد ذكر طرقه: هو مضطرب. وقال أبو زُرْعَة: والصحيح: عن العلاء، عن أبيه، عن أبي سعيد، مرفوعًا. «العلل» (1/ 291).

والحاصل: أن أرجح الطرق: (المسيب عن أبي سعيد) والمسيب لم يَسمع منه، قال ابن مَعين: لم يَسمع المسيب بن رافع من أحد من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، إلا البراء. رواية الدُّوري (4/ 19).

وفي الباب عن أبي هريرة عند البيهقي (10491) وغيره من طرق، عن صَدقَة بن يزيد، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن أَبيه، عن أَبي هريرة، به. وهذا السند مُنْكَر، أخطأ فيه صدقة.

قال ابن عَدي: فلعل صدقة هذا سَمِع بذكر العلاء، فظَن أنه العلاء بن عبد الرحمن، عن أبيه، عن أبي هريرة. وكان هذا الطريق أسهل عليه. وإنما هو العلاء بن المُسَيَّب، عن أبيه، عن أبي سعيد.

قال البخاري: عن العلاء بن عبد الرحمن منكر، ولا أعلم يرويه عن العلاء غير صدقة، وإنما يَروي هذا خَلَف بن خليفة، وهو مشهور، ورُوي عن الثوري أَيضًا، عن العلاء بن المُسَيَّب، عن أبيه، عن أبي سعيد الخُدري. «الكامل» (5/ 123).

وقال أبو حاتم وأبو زُرْعَة: هذا عندنا مُنْكَر من حديث العلاء بن عبد الرحمن، وهو من حديث العلاء بن المسيب أشبه. «علل الحديث» (1/ 291).

وأخرجه الخطيب في «المُوضح» (1/ 152) من طريق عَبَّاد بن أبي صالح، عن أبيه، عن أبي هريرة.

وفي إسناده: قيس بن الربيع، صدوق، تَغَيَّر لَمَّا كَبِر، وأَدْخَل عليه ابنه ما ليس من حديثه، فحَدَّث به. وعَبَّاد- واسمه عبد الله- لَيِّن.

قال ابن العَرَبِيّ: رِوَايَةُ هَذَا الْحَدِيثِ حَرَامٌ، فَكَيْفَ إِثْبَاتُ حُكْمٍ بِهِ؟! يَعْنِي أَنَّهُ مَوْضُوعٌ، وَهَذَا لَا يُلْتَفَتُ إِلَيْهِ لِشُذُوذِهِ. «عارضة الأحوذي» (4/ 28، 29).
আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল—একথা সাক্ষ্য দেওয়া, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা এবং হজ করা।(১).

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হজ অস্বীকারকারীর বিধান:

যে ব্যক্তি হজের আবশ্যকতাকে অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করে, সে পবিত্র কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট বর্ণনা (নস) এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (ইজমা) অনুযায়ী কাফের। তবে যদি সে নতুন মুসলিম হয় অথবা ইলম ও আলিমদের থেকে দূরে কোনো মরুপ্রান্তের জনপদে বেড়ে ওঠে, তবে ভিন্ন কথা। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ‘মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেই ঘরের হজ করা তার ওপর আবশ্যক। আর যে কুফরি করবে (অস্বীকার করবে), তবে জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ সৃষ্টিজগতের মুখাপেক্ষী নন।’ [সূরা আল-ইমরান: ৯৭]।

ইবনে তাইমিয়া বলেন: সুতরাং যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বাইতুল্লাহর হজকে নিজের ওপর আবশ্যক মনে করে না, মুসলিমদের ঐকমত্য অনুযায়ী সে কাফের; যেমনটি কুরআন নির্দেশ করে(২).

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হজ কতবার ফরজ:

সুন্নাহ এবং ইজমা অনুযায়ী সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ:

সুন্নাহর প্রমাণ হলো ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত হাদিস: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: «হে লোকসকল, আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন, সুতরাং তোমরা হজ করো।» এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসূল, প্রতি বছর কি? তিনি চুপ থাকলেন, এমনকি লোকটি তিনবার প্রশ্নটি করল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: «যদি আমি হ্যাঁ বলতাম, তবে তা (প্রতি বছর) ওয়াজিব হয়ে যেত এবং তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হতে না»(৩).

উলামায়ে কেরাম এই মর্মে ইজমা (ঐকমত্য) পোষণ করেছেন যে, সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ(৪).

এ বিষয়ে কিছু দ্বিমত দেখা গেছে, তবে সেটিকে বিচ্ছিন্ন (শাজ) এবং ইজমা-বিরোধী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

আল-হাত্তাব বলেন: কিছু বিচ্ছিন্ন মতাবলম্বী বলেছেন যে, এটি প্রতি বছর ওয়াজিব। আবার কারো মতে এটি প্রতি পাঁচ বছরে একবার ওয়াজিব। কারণ আবু সাঈদ (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: «নিশ্চয়ই আল্লাহ বলেন: এমন বান্দা যার শরীর আমি সুস্থ রেখেছি এবং যার জীবিকা আমি প্রশস্ত করেছি, তার ওপর দিয়ে পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হয় অথচ সে আমার কাছে (হজে) আসে না, সে অবশ্যই বঞ্চিত»(৫).

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৮) এবং মুসলিম (১৬) বর্ণনা করেছেন।

(২) «শারহুল উমদাহ» (১/ ৭৬), এবং «আল-জাওয়াবুস সহিহ লিমান বাদ্দালা দিনাল মাসিহ» (২/ ১২৬)।

(৩) মুসলিম (১৩৩৭) বর্ণনা করেছেন।

(৪) এই বিষয়ে ইজমা বর্ণনা করেছেন: ইবনুল মুনজির «আল-ইজমা» (পৃ: ৫১), আল-হাত্তাব «মাওয়াহিবুল জলিল» (২/ ৪৬৫), আন-নববী «শারহে মুসলিম» (৮/ ৭২), ইবনু কুদামা «আল-মুগনি» (৫/ ৬) এবং আরও অনেকে।

(৫) জয়িফ (দুর্বল): এটি একদল রাবি আল-আলা ইবনুল মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তার থেকে বর্ণিত বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে:

খালাফ ইবনে খলিফা এটি আল-আলা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন; যা আবু ইয়ালায় (১০৩১) বর্ণিত হয়েছে।

আস-সাওরি এটি তার (আল-আলা) থেকে, তিনি তার পিতা থেকে-অথবা জনৈক ব্যক্তি থেকে-তিনি আবু সাঈদ থেকে মাউকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন; যা আব্দুর রাজ্জাকে (৮৮২৬) বর্ণিত হয়েছে।

আল-ফাকিহি (৯৫১) আব্দুর রাজ্জাকের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে এখানে দুই দিক থেকে মতভেদ ঘটেছে: প্রথমত, তিনি এটি মারফু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয়ত, তিনি আল-আলা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এর সনদে (মুহাম্মদ ইবনে আবু উমর আল-আদনি) রয়েছেন; আবু হাতিম বলেন: তিনি একজন নেককার মানুষ ছিলেন কিন্তু তার মধ্যে অসতর্কতা ছিল। তাই আমার আশঙ্কা হয় যে, তিনি এই বর্ণনাটিকে মারফু করার ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হয়েছেন। ইবনে আদি এই হাদিসটি আস-সাওরি কর্তৃক আল-আলা থেকে বর্ণনা করাকে আশ্চর্যজনক বলেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এই হাদিসটি খালাফের বর্ণনা হিসেবে পরিচিত। যেমনটি «আল-কামিল» (৩/ ৫১৩) গ্রন্থে রয়েছে।

ইবনু ফুদাইল এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার বর্ণনায়ও মতভেদ হয়েছে: একবার তিনি আল-আলা থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে খাব্বাব থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার অন্যবার তিনি ইউনুস ও আবু সাঈদের মাঝে মুজাহিদের নাম উল্লেখ করেছেন। দারাকুতনি তার «ইলাল» (৫/ ৪৬৫) গ্রন্থে অন্যান্য সূত্রের সাথে এই দুটিও উল্লেখ করেছেন এবং মন্তব্য করেছেন: এর কোনোটিই সহিহ নয়।

আবু হাতিম এর সূত্রগুলো উল্লেখ করার পর বলেছেন: এটি মুজতারিব (অসংলগ্ন)। আবু জুরআ বলেন: সঠিক হলো—আল-আলা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে মারফু হিসেবে। «আল-ইলাল» (১/ ২৯১)।

সারকথা: সবচেয়ে শক্তিশালী সূত্র হলো (মুসাইয়্যাব থেকে আবু সাঈদ থেকে); অথচ মুসাইয়্যাব তার থেকে শোনেননি। ইবনে মাইন বলেন: মুসাইয়্যাব ইবনে রাফি বারা (রা.) ব্যতীত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অন্য কোনো সাহাবি থেকে শোনেননি। আদ-দুরি-র বর্ণনা (৪/ ১৯)।

এই অনুচ্ছেদে বাইহাকি (১০৪৯১) ও অন্যদের নিকট আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বিভিন্ন সূত্রে সাদাকাহ ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আল-আলা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হয়েছে। এই সনদটি মুনকার (পরিত্যক্ত), এতে সাদাকাহ ভুল করেছেন।

イবনে আদি বলেন: সম্ভবত এই সাদাকাহ ‘আল-আলা’ নাম শুনেছেন এবং ধারণা করেছেন যে তিনি আল-আলা ইবনে আব্দুর রহমান, যিনি তার পিতা হয়ে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন। এই সূত্রটি তার জন্য সহজ ছিল। অথচ এটি মূলত আল-আলা ইবনুল মুসাইয়্যাব, তার পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে।

বুখারি বলেন: আল-আলা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি মুনকার। সাদাকাহ ছাড়া আর কেউ এটি আল-আলা থেকে বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই। মূলত এটি খালাফ ইবনে খলিফা বর্ণনা করেন এবং এটিই প্রসিদ্ধ। আস-সাওরি থেকেও এটি আল-আলা ইবনুল মুসাইয়্যাব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণিত হয়েছে। «আল-কামিল» (৫/ ১২৩)।

আবু হাতিম ও আবু জুরআ বলেন: আমাদের নিকট এটি আল-আলা ইবনে আব্দুর রহমানের হাদিস হিসেবে মুনকার; এটি আল-আলা ইবনুল মুসাইয়্যাবের হাদিস হওয়ার অধিক সদৃশ। «ইলালুল হাদিস» (১/ ২৯১)।

আল-খতিব «আল-মুওয়াদিহ» (১/ ১৫২) গ্রন্থে আব্বাদ ইবনে আবু সালিহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এর সনদে কায়েস ইবনুর রাবি রয়েছেন, তিনি সত্যবাদী ছিলেন কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে তার স্মৃতিশক্তি লোপ পায় এবং তার ছেলে তার হাদিসের মধ্যে এমন কিছু ঢুকিয়ে দেয় যা তার হাদিস নয়, তিনি সেগুলোই বর্ণনা করতেন। আর আব্বাদ—যার নাম আবদুল্লাহ—তিনি দুর্বল।

ইবনুল আরাবি বলেন: এই হাদিস বর্ণনা করা হারাম, তাহলে এর মাধ্যমে কোনো বিধান সাব্যস্ত করা যাবে কীভাবে?! অর্থাৎ এটি জাল (মাওজু) এবং এর বিচ্ছিন্নতার কারণে এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না। «আরিজাতুল আহওয়াযি» (৪/ ২৮, ২৯)।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ২২)
ونوقش بأن هذا الحديث لا يصح. ولو صح فهو محمول على الاستحباب في هذه المدة.

* * *
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এই হাদিসটি সহিহ নয়। আর যদি তা সহিহ হয়-ও, তবে তা এই সময়কালের জন্য মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য হবে।

* * *
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الخامس: فَضْل الحج:

1 - الحج المبرور من أفضل الأعمال عند الله تعالى، فعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ: أَيُّ العَمَلِ أَفْضَلُ؟ فَقَالَ: «إِيمَانٌ بِاللهِ وَرَسُولِهِ» قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «حَجٌّ مَبْرُورٌ»(1).

2 - أفضل الجهاد حج مبرور، فَعَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، أَنَّهَا قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ، نَرَى الجِهَادَ أَفْضَلَ العَمَلِ، أَفَلَا نُجَاهِدُ؟ قَالَ: «لَا، لَكِنَّ أَفْضَلَ الجِهَادِ حَجٌّ مَبْرُورٌ»(2).

3 - الحج من أسباب مغفرة الذنوب، فَعَنْ أبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ حَجَّ لِلَّهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ، رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ»(3).

4 - الحج يَهدم ما كان قبله، فَعَنِ ابْنِ شِمَاسَةَ قَالَ: حَضَرْنَا عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ، وَهُوَ فِي سِيَاقَةِ الْمَوْتِ. قَالَ: فَلَمَّا جَعَلَ اللهُ الْإِسْلَامَ فِي قَلْبِي، أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: ابْسُطْ يَمِينَكَ فَلْأُبَايِعْكَ. فَبَسَطَ يَمِينَهُ. قَالَ: فَقَبَضْتُ يَدِي. قَالَ: «مَا لَكَ يَا عَمْرُو؟!» قَالَ: قُلْتُ: أَرَدْتُ أَنْ أَشْتَرِطَ. قَالَ: «تَشْتَرِطُ بِمَاذَا؟» قُلْتُ: أَنْ يُغْفَرَ لِي. قَالَ: «أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الْإِسْلَامَ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ؟ وَأَنَّ الْهِجْرَةَ تَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهَا؟ وَأَنَّ الْحَجَّ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ؟»(4).

5 - الحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة، فَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «العُمْرَةُ إِلَى العُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا، وَالحَجُّ المَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الجَنَّةُ»(5).

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (26)، ومسلم (83).

(2) رواه البخاري (1520).

(3) رواه البخاري (1521).

و (الرَّفَثُ): الْجِمَاعُ، وَيُطْلَقُ عَلَى التَّعْرِيضِ بِهِ، وَعَلَى الْفُحْشِ فِي الْقَوْلِ.

قَوْلُهُ: «وَلَمْ يَفْسُقْ» أَيْ: لَمْ يَأْتِ بِسَيِّئَةٍ.

قَوْلُهُ: «رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ» أَيْ: بِغَيْرِ ذَنْبٍ. «فتح الباري» (3/ 382).

(4) رواه مسلم (121)

(5) رواه البخاري (1773)، ومسلم (1349).
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: হজের ফযিলত:

১ - মকবুল হজ মহান আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো: কোন্ আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: «আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা।» বলা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «আল্লাহর পথে জিহাদ করা।» বলা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «মকবুল হজ।»(১).

২ - সর্বোত্তম জিহাদ হলো মকবুল হজ। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা জিহাদকে সর্বোত্তম আমল মনে করি, তবে কি আমরা জিহাদ করব না? তিনি বললেন: «না, বরং সর্বোত্তম জিহাদ হলো মকবুল হজ।»(২).

৩ - হজ গুনাহ মাফের অন্যতম কারণ। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ করল এবং তাতে কোনো প্রকার অশ্লীল আচরণ বা পাপাচার করল না, সে ঐ দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসবে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিলেন।»(৩).

৪ - হজ পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয়। ইবনে শিমাসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট উপস্থিত হলাম যখন তিনি মৃত্যুশয্যায় ছিলেন। তিনি বললেন: যখন আল্লাহ আমার অন্তরে ইসলামের হিদায়াত দিলেন, তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম এবং বললাম: আপনার ডান হাত প্রসারিত করুন যাতে আমি আপনার হাতে বায়আত হতে পারি। তখন তিনি তাঁর ডান হাত প্রসারিত করলেন। তিনি বলেন: তখন আমি আমার হাত গুটিয়ে নিলাম। তিনি বললেন: «হে আমর, তোমার কী হয়েছে?!» তিনি বললেন: আমি বললাম: আমি একটি শর্তারোপ করতে চাই। তিনি বললেন: «তুমি কীসের শর্ত করতে চাও?» আমি বললাম: যেন আমাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। তিনি বললেন: «তুমি কি জানো না যে, ইসলাম পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয়? হিজরত তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয়? এবং হজ তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয়?»(৪).

৫ - মকবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «এক উমরা থেকে অন্য উমরা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা স্বরূপ, আর মকবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।»(৫).

--------------------------------------------

(১) বুখারী (২৬) ও মুসলিম (৮৩) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) বুখারী (১৫২০) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) বুখারী (১৫২১) এটি বর্ণনা করেছেন।

আর 'রাফাস' (الرَّفَثُ) হলো: সহবাস, এবং সহবাসের ইঙ্গিত প্রদান কিংবা অশ্লীল কথাবার্তার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়।

তাঁর উক্তি: «এবং পাপাচার করল না» অর্থাৎ: কোনো মন্দ কাজ করল না।

তাঁর উক্তি: «সে ঐ দিনের মতো ফিরে আসবে যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিলেন» অর্থাৎ: কোনো গুনাহ ব্যতিরেকে। দেখুন: 'ফাতহুল বারী' (৩/৩৮২)।

(৪) মুসলিম (১২১) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৫) বুখারী (১৭৭৩) ও মুসলিম (১৩৪৯) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ২৪)
6 - المتابعة بين الحج والعمرة تَنفي الفقر والذنوب، قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «تَابِعُوا بَيْنَ الحَجِّ وَالعُمْرَةِ؛ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الفَقْرَ وَالذُّنُوبَ، كَمَا يَنْفِي الكِيرُ خَبَثَ الحَدِيدِ»(1).

--------------------------------------------

(1) حَسَن، وله ثلاثة طرق عن ابن عباس:

الطريق الأول: طريق عمرو بن دينار، وله إسنادان:

- فرواه أبو عَتَّاب سهل بن حماد، عن عَزْرَة بن ثابت، عن عمرو، به. عند النَّسَائي (2650).

وسهل بن حماد الدلال صدوق، ولكن قد نص على تفرده بذلك الدارقطني. كما في «أطراف الغرائب» (2471). ومع ذلك فهذا الإسناد أحسن ما يُرْوَى به حديث ابن عباس، وقد حَسَّنه الذهبي كما في «السِّيَر» (13/ 148).

- ورواه شُعَيْب، عن الربيع، عن عمرو، به، عند ابن عَدي (4/ 5)، وشُعَيْب بن صفوان الثقفي مقبول. «التقريب» (2803)، والربيع بن رُكَيْن الفَزَاري قد تَرجم له البخاري وابن أبي حاتم، ولم يَذكرا فيه جَرْحًاً ولا تعديلًا. انظر: «التاريخ الكبير» (3/ 274)، و «الجَرْح والتعديل» (3/ 460).

الطريق الثاني: طريق عطاء: أخرجه الطبراني (11428) وعلته ما قاله العُقَيْلي: يحيى بن صالح الْأَيْلِي، رَوَى عنه يحيى بن بُكَيْر مناكير. «الضعفاء» (4/ 409)، وكذا ابن عَدي. «الكامل» (10/ 635).

وقد تَفَرَّدَ به يحيى بن صالح الأيلي، واضطرب فيه: فرواه مرة عن ابن جُريج، عن عطاء. ومَرَّة: عن إسماعيل بن أُمية، عن عطاء. وقد أشار إلى تفرده الدارقطني. انظر «أطراف الغرائب» (2628).

الطريق الثالث: عن يوسف بن مِهْرَان: أخرجه الطبراني في «الأوسط» (3814) وفي إسناده علي بن زيد بن جُدْعَان، ضعيف. «التقريب» (4734).

ولهذا الحديث شواهد:

1 - حديث ابن مسعود، أخرجه أحمد (3669)، والترمذي (817): عَنْ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، به.

وقد أُعِل هذا السند بعلتين:

إحداهما: أن في إسناده عاصم بن بَهْدَلة، وهو ابن أبي النَّجُود، وقد تُكُلِّم في حفظه، وأنه كان يخطئ.

وقد قال ابن حجر: صدوق، له أوهام، فمِثله لا يتحمل التفرد.

وقال المُعَلِّمي: له أوهام، ولم يُخَرَّج له في «الصحيحين» إلا مقرونًا. «الفوائد المجموعة» (2/ 2).

وقد تَفَرَّد بهذا المتن عن شقيق، فأين أصحاب شقيق؟! ولذا استغربه غير واحد من أهل العلم.

قال أبو نُعَيْم: غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ عَاصِمٍ، تَفَرَّدَ بِهِ عَنْهُ عَمْرُو بْنُ قَيْسٍ. «حِلية الأولياء» (4/ 110).

وقال الترمذي: حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ. «سُنن الترمذي» (2/ 176).

وقال البَزَّار: وَهَذَا الْحَدِيثُ لَا نَعْلَمُهُ يُرْوَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، إِلَّا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ. «مُسْنَد البزار» (5/ 134).

العلة الثانية: أن أَبا خالدٍ الأحمر له أوهام، وقد قال فيه الحافظ: صدوق يخطئ، قد ذَكَره العُقَيْلي في ترجمته في الضعفاء، كالمُستنكِر له، وقد ذَكَر الدارقطني أنه تَفَرَّدَ به. كما في «أطراف الغرائب» (3926) فمِثله لا يتحمل مثل هذا التفرد.

وأخرجه الطبري في «تفسيره» (3/ 566) وفي السند محمد بن حُمَيْد، ضعيف.

2 - حديث عمر: ومداره على عاصم بن عُبَيْد الله، وهو ضعيف، وقد اضطرب فيه، ورُوي مرة من مسند عمر بن الخطاب عند أحمد (167)، ومرة من مسند عامر بن ربيعة، عند أحمد (15694) وقال الدارقطني: يرويه عاصم، ولم يكن بالحافظ … وكان يضطرب فيه. وقال يعقوب بن شيبة: ولا نَرى هذا الاضطراب إلا من عاصم، وقد بَيَّن ابن عُيينة ذلك. «تاريخ دمشق» (25/ 259).

3 - حديث ابن عمر، وله أربعة طرق عنه:

الأول: أخرجه الفاكهي في «أخبار مكة» (869، 870)، وفي إسناده إبراهيم الخَوْزِيّ، متروك.

الثاني: ورواه الحارث في «بغية الباحث» (368) بسنده عن ابن عمر.

وفي إسناده هَوْذَة بن خليفة، وهو وإن كان حَسَن الحديث إذا توبع، ولكن قد تَفَرَّدَ به. وقد قال ابن مَعين: هوذة لم يكن بالمحمود. قيل له: لِمَ؟ قال: لم يأتِ أحد بهذه الأحاديث كما جاء بها، وكان أُطْروشًا. انظر «تهذيب الكمال» (30/ 320).

ولم يخرجه غير الحارث بن أبي أسامة، ولو كان صحيحًا فأين أصحاب الصحاح والسُّنن؟

الثالث: أخرجه الطبراني (13651) من طريق حَجاج بن نُصَيْر، وهو ضعيف.

الرابع: أخرجه الطبراني في «الشاميين» (170) وفي إسناده عثمان بن سعيد الصيداوي وشيخه، ولم أقف لهما على ترجمة. وفيه انقطاع بين الشَّعْبي وابن عمر، قاله أبو حاتم. فهذا إسناد ساقط.

4 - حديث جابر بن عبد الله، وله ثلاثة طرق عنه:

الأول: عن عمرو بن دينار: أخرجه البزار «كَشْف» (1147) وفي إسناده محمد بن مسلم الطائفي، قال الذهبي: فيه لِين وقد وُثِّق. وقال ابن حجر: صدوق يخطئ من حفظه، وبِشر بن المنذر الرملي، فإن كان قال فيه أبو حاتم: (كان صدوقًا) فقد ذَكَره العُقَيْلي في «الضعفاء» وقال: في حديثه وهم.

الثاني: عن عبد الله بن عَقيل: عند الطبراني في «الأوسط» (4977)، وفيه ابن أبي زياد، ضعيف.

أما الثالث، فهو رواية محمد بن المنكدر: أخرجه ابن عَدي في «الكامل» (6/ 219) وفي إسناده محمد بن عبد الله العَمِّي، لَيِّن الحديث. «التقريب» (6058) وذَكَره ابن عَدي في ترجمته مُستنكِرًا له.

5 - حديث أبي هريرة: أخرجه الحارث في «بغية الباحث» (366) وفيه داود بن المُحَبِّر، متروك.

فهذه كل الأحاديث الواردة في هذا المعنى، وقد تبين أنه ليس فيها حديث ثابت بنفسه، ولكن فيها طرق يمكن أن يُعضِّد بعضها بعضًا، وهذا الحديث في الفضائل فقد يُحَسَّن الحديث بمجموع الطرق.
৬ - হজ ও উমরার ধারাবাহিকতা দারিদ্র্য ও পাপরাশিকে দূর করে দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা হজ ও উমরার একটির পর অপরটি আদায় করো; কারণ তারা উভয়ই দারিদ্র্য ও পাপরাশিকে এমনভাবে দূর করে দেয়, যেমন হাপর লোহার মরিচা দূর করে দেয়»(১)।

--------------------------------------------

(১) হাসান, ইবনে আব্বাস থেকে এটি তিনটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে:

প্রথম সূত্র: আমর ইবনে দীনারের সূত্র, এর দুটি সনদ রয়েছে:

- এটি বর্ণনা করেছেন আবু আত্তাব সাহল ইবনে হাম্মাদ, তিনি আজরাহ ইবনে সাবিত থেকে, তিনি আমরের সূত্রে। এটি নাসাঈর (২৬৫০) সংকলনে রয়েছে।

সাহল ইবনে হাম্মাদ আদ-দাল্লাল সত্যবাদী, তবে আদ-দারাকুতনি তার একাকী বর্ণনার (তফাররুদ) কথা উল্লেখ করেছেন, যেমনটি 'আতরাফুল গরায়েব' (২৪৭১) গ্রন্থে রয়েছে। তা সত্ত্বেও ইবনে আব্বাসের হাদিসগুলোর মধ্যে এই সনদটিই সবচেয়ে উত্তম বর্ণনাসূত্র এবং আয-যাহাবি এটিকে হাসান বলেছেন, যেমনটি 'আস-সিয়ার' (১৩/১৪৮) গ্রন্থে রয়েছে।

- শুয়াইব, রবী থেকে এবং তিনি আমরের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, যা ইবনে আদির (৪/৫) সংকলনে রয়েছে। শুয়াইব ইবনে সাফওয়ান আস-সাকাফি 'মাকবুল' (গ্রহণযোগ্য)। 'আত-তাকরিব' (২৮০৩)। রবী ইবনে রুকাইন আল-ফাজারি সম্পর্কে ইমাম বুখারি ও ইবনে আবি হাতিম জীবনী আলোচনা করেছেন, তবে তারা তার ব্যাপারে কোনো জরাহ (দোষারোপ) বা তাদিল (প্রশংসা) উল্লেখ করেননি। দেখুন: 'আত-তারিখুল কাবীর' (৩/২৭৪) এবং 'আল-জরাহ ওয়াত তাদিল' (৩/৪৬০)।

দ্বিতীয় সূত্র: আতার সূত্র: এটি তাবারানি (১১৪২৮) বর্ণনা করেছেন এবং এর ত্রুটি সম্পর্কে আল-উকাইলি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ আল-আইলি, তার থেকে ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর অনেক 'মুনকার' (প্রত্যাখ্যাত) হাদিস বর্ণনা করেছেন। 'আদ-দুয়াফা' (৪/৪০৯)। ইবনে আদিও অনুরূপ বলেছেন। 'আল-কামিল' (১০/৬৩৫)।

ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ আল-আইলি এটি বর্ণনায় একাকী হয়ে পড়েছেন এবং এতে তিনি অস্থিরতা (ইজতিরাব) সৃষ্টি করেছেন: কখনো তিনি এটি ইবনে জুরাইজ থেকে এবং তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার কখনো ইসমাইল ইবনে উমাইয়া থেকে এবং তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেছেন। আদ-দারাকুতনি তার একাকী বর্ণনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। দেখুন: 'আতরাফুল গরায়েব' (২৬২৮)।

তৃতীয় সূত্র: ইউসুফ ইবনে মিহরানের সূত্রে: তাবারানি এটি 'আল-আওসাত' (৩৮১৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে আলি ইবনে যাইদ ইবনে জুদআন রয়েছে, যিনি যঈফ বা দুর্বল। 'আত-তাকরিব' (৪৭৩৪)।

এই হাদিসটির কিছু শাহেদ বা সমর্থনমূলক বর্ণনা রয়েছে:

১ - ইবনে মাসউদের হাদিস, যা আহমদ (৩৬৬৯) ও তিরমিযি (৮১৭) বর্ণনা করেছেন: আবু খালিদ থেকে, তিনি আমর ইবনে কাইস থেকে, তিনি আসিম থেকে, তিনি শাকিক থেকে, তিনি ইবনে মাসউদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

এই সনদটিতে দুটি ত্রুটি নির্দেশ করা হয়েছে:

প্রথমত: এর সনদে আসিম ইবনে বাহদালা রয়েছেন, যিনি ইবনে আবি আল-নাজুদ নামে পরিচিত। তার স্মরণশক্তির সমালোচনা করা হয়েছে এবং তিনি ভুল করতেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

ইবনে হাজার বলেছেন: তিনি সত্যবাদী, তবে তার অনেক বিভ্রম (আওহাম) রয়েছে। সুতরাং তার মতো বর্ণনাকারীর একক বর্ণনা (তফাররুদ) গ্রহণযোগ্য নয়।

আল-মুয়াল্লিমি বলেছেন: তার বিভ্রম রয়েছে এবং 'সহিহাইন'-এ কেবল অন্য বর্ণনাকারীর সহযোগী হিসেবেই তার হাদিস আনা হয়েছে। 'আল-ফাওয়ায়িদুল মাজমুআ' (২/২)।

শাকিক থেকে এই মূল পাঠটি (মাতান) বর্ণনায় তিনি একাকী হয়ে পড়েছেন, অথচ শাকিকের অন্যান্য ছাত্ররা কোথায়?! এ কারণেই একাধিক আহলুল ইলম এই বর্ণনাটিকে 'গারিব' বলেছেন।

আবু নুয়াইম বলেছেন: আসিমের হাদিস হিসেবে এটি গারিব, তার থেকে এটি আমল ইবনে কাইস এককভাবে বর্ণনা করেছেন। 'হিলয়াতুল আউলিয়া' (৪/১১০)।

তিরমিযি বলেছেন: এটি হাসান সহিহ গারিব হাদিস। 'সুনানুত তিরমিযি' (২/১৭৬)।

আল-বাযযার বলেছেন: আমরা জানি না যে এই হাদিসটি আবদুল্লাহ থেকে এই সূত্র ছাড়া আর কোনো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। 'মুসনাদুল বাযযার' (৫/১৩৪)।

দ্বিতীয় ত্রুটি: আবু খালিদ আল-আহমারের বিভ্রম (আওহাম) রয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার তার সম্পর্কে বলেছেন: তিনি সত্যবাদী কিন্তু ভুল করেন। আল-উকাইলি তাকে দুর্বলদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন এবং বিষয়টিকে আপত্তিকর মনে করেছেন। আদ-দারাকুতনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি বর্ণনায় একাকী হয়ে পড়েছেন, যেমনটি 'আতরাফুল গরায়েব' (৩৯২৬) গ্রন্থে রয়েছে। সুতরাং তার মতো বর্ণনাকারী এ ধরনের একক বর্ণনা বহনের যোগ্য নন।

আত-তাবারি এটি তার 'তাফসির' (৩/৫৬৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং সেই সনদে মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ রয়েছেন, যিনি যঈফ।

২ - উমরের হাদিস: এর মূল ভিত্তি আসিম ইবনে উবায়দুল্লাহর ওপর, যিনি যঈফ। তিনি এই বর্ণনায় অস্থিরতা (ইজতিরাব) সৃষ্টি করেছেন। এটি কখনো উমর ইবনুল খাত্তাবের মুসনাদ হিসেবে আহমদের গ্রন্থে (১৬৭) বর্ণিত হয়েছে, আবার কখনো আমির ইবনে রাবিআর মুসনাদ হিসেবে আহমদের গ্রন্থে (১৫৬৯৪) বর্ণিত হয়েছে। আদ-দারাকুতনি বলেছেন: এটি আসিম বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি হাফেজ ছিলেন না... এবং তিনি এতে ইজতিরাব করতেন। ইয়াকুব ইবনে শাইবা বলেছেন: আমরা মনে করি এই অস্থিরতা আসিমের পক্ষ থেকেই হয়েছে, এবং ইবনে উইয়াইনা তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। 'তারিখু দামেস্ক' (২৫/২৫৯)।

৩ - ইবনে উমরের হাদিস, তার থেকে এটি চারটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে:

প্রথমত: আল-ফাকিহি 'আখবারু মক্কা' (৮৬৯, ৮৭০) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে ইব্রাহিম আল-খাওজি রয়েছে, যিনি মাতরুক (পরিত্যক্ত)।

দ্বিতীয়ত: আল-হারিস 'বুগইয়াতুল বাহিস' (৩৬৮) গ্রন্থে তার সনদে ইবনে উমর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এর সনদে হাওজাহ ইবনে খলিফা রয়েছেন; তিনি অন্য বর্ণনাকারীর সমর্থন পেলে হাসান স্তরের হলেও, এখানে তিনি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাঈন বলেছেন: হাওজাহ প্রশংসিত ছিলেন না। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো কেন? তিনি বললেন: তিনি যেভাবে এই হাদিসগুলো নিয়ে আসতেন, অন্য কেউ তা আনেনি, আর তিনি বধির ছিলেন। দেখুন 'তাহযিবুল কামাল' (৩০/৩২০)।

হারিস ইবনে আবি উসামা ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি। এটি যদি সহিহ হতো, তবে সহিহ ও সুনান গ্রন্থকাররা কোথায় ছিলেন?

তৃতীয়ত: তাবারানি (১৩৬৫১) হাজ্জাজ ইবনে নুসায়েরের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, যিনি যঈফ।

চতুর্থত: তাবারানি 'আশ-শামিয়্যিন' (১৭০) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে উসমান ইবনে সাঈদ আস-সাইদাউয়ি ও তার শিক্ষক রয়েছেন, যাদের জীবনী সম্পর্কে আমি অবগত হতে পারিনি। আর এতে আশ-শাবি ও ইবনে উমরের মাঝে ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা) রয়েছে, যা আবু হাতিম বলেছেন। সুতরাং এটি একটি অকেজো সনদ।

৪ - জাবির ইবনে আবদুল্লাহর হাদিস, তার থেকে এটি তিনটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে:

প্রথমত: আমর ইবনে দীনারের সূত্রে: আল-বাযযার এটি 'কাশফ' (১১৪৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আত-তায়েফি রয়েছেন। আয-যাহাবি বলেছেন: তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে তবে তাকে বিশ্বস্তও বলা হয়েছে। ইবনে হাজার বলেছেন: তিনি সত্যবাদী কিন্তু নিজের মুখস্থ থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে ভুল করেন। আর বিশর ইবনে মুনজির আর-রামলি সম্পর্কে যদি আবু হাতিম বলে থাকেন যে 'তিনি সত্যবাদী ছিলেন', তবে আল-উকাইলি তাকে 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তার হাদিসে বিভ্রম রয়েছে।

দ্বিতীয়ত: আবদুল্লাহ ইবনে আকিলের সূত্রে: তাবারানির 'আল-আওসাত' (৪৯৭৭) গ্রন্থে রয়েছে, এতে ইবনে আবি যিয়াদ রয়েছেন, যিনি যঈফ।

তৃতীয়ত: এটি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদিরের বর্ণনা: ইবনে আদি এটি 'আল-কামিল' (৬/২১৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আম্মি রয়েছেন, যিনি বর্ণনায় দুর্বল (লাইয়্যিনুল হাদিস)। 'আত-তাকরিব' (৬০৫৮)। ইবনে আদি তার জীবনীতে এটি উল্লেখ করে বিষয়টিকে মুনকার বা আপত্তিকর বলেছেন।

৫ - আবু হুরায়রার হাদিস: আল-হারিস 'বুগইয়াতুল বাহিস' (৩৬৬) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে দাউদ ইবনুল মুহাব্বর রয়েছেন, যিনি মাতরুক বা পরিত্যক্ত।

এই অর্থবোধক যত হাদিস বর্ণিত হয়েছে এটিই তার বিস্তারিত বিবরণ। এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এর মধ্যে এমন কোনো হাদিস নেই যা স্বতন্ত্রভাবে সাব্যস্ত বা সহিহ। তবে এতে এমন কিছু সূত্র রয়েছে যা একে অপরকে শক্তিশালী করতে পারে। যেহেতু এই হাদিসটি আমলের ফজিলত সংক্রান্ত, তাই সব কটি সূত্রের সমষ্টিগত বিচারে হাদিসটিকে 'হাসান' বলা যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ২৫)
7 - الحاج في ضمان الله عز وجل، فَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «ثَلَاثَةٌ فِي ضَمَانِ اللهِ عز وجل: رَجُلٌ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ إِلَى مَسْجِدٍ مِنْ مَسَاجِدِ اللهِ عز وجل، وَرَجُلٌ خَرَجَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللهِ عز وجل، وَرَجُلٌ خَرَجَ حَاجًّا»(1).

--------------------------------------------

(1) إسناده صحيح: أخرجه الحُمَيْدي (1121) من طريق أبي الزِّنَاد، عن الأعرج، عن أبي هريرة، به.
৭ - হাজ্জ পালনকারী আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জিম্মায়; আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «তিন ব্যক্তি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জিম্মায় রয়েছেন: সেই ব্যক্তি যে তার ঘর থেকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কোনো এক মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়, সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পথে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হয় এবং সেই ব্যক্তি যে হাজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে বের হয়»(১).

--------------------------------------------

(১) এর সনদ সহীহ: এটি আল-হুমায়দী (১১২১) আবুয যিনাদের সূত্রে, আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المبحث السادس: حُكْم تَكرار الحج للنساء:

يُستحَب تَكرار الحج للنساء لتضافر الأدلة على ذلك.

فَعَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَلَا نَغْزُو وَنُجَاهِدُ مَعَكُمْ؟ فَقَالَ: «لَكِنَّ أَحْسَنَ الجِهَادِ وَأَجْمَلَهُ الحَجُّ، حَجٌّ مَبْرُورٌ» فَقَالَتْ عَائِشَةُ: فَلَا أَدَعُ الحَجَّ بَعْدَ إِذْ سَمِعْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم(1).

وَجْه الدلالة: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نَدَب النساء إلى تَكرار الحج بقوله: «لَكِنَّ أَحْسَنَ الجِهَادِ وَأَجْمَلَهُ الحَجُّ، حَجٌّ مَبْرُورٌ» وذلك ظاهر من فَهْم عائشة إذ قالت: فَلَا أَدَعُ الحَجَّ بَعْدَ إِذْ سَمِعْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

ولكن يشكل عليه ما ورد عن أبي واقد الليثي قال: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِأَزْوَاجِهِ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ: «هَذِهِ، ثُمَّ ظُهُورَ الْحُصُرِ»(2).

--------------------------------------------

(1) البخاري (1861).

(2) ضعيف، ومدار هذا الحديث على زيد بن أسلم، واختُلف عليه في الوصل والإرسال من وجهين:

الأول: رواه الدَّرَاوَرْدِيّ، عن زيد، عن ابن لأَبي واقد الليثي، عن أبيه، به. أخرجه أبو داود (1722).

وابن أبي واقد قد سُمي ب (واقد) بن أبي واقد، عند أحمد (21905).

الثاني: رواه مَعْمَر عن زيد بن أَسْلَم، مرسلًا، أن النبي صلى الله عليه وسلم، به. أخرجه عبد الرزاق (8812).

وقد أُعِل هذا الحديث بعلتين:

الأولى: أن ابن أبي واقد- واسمه واقد- مُختلَف في صحبته، وقد تفرد بالرواية عنه زيد بن أَسْلَم.

قال ابن حجر: واقد الليثي يقال: له صحبة. وقيل: بل هو من الثالثة.

قال ابن القطان: إسناده فيه علة، وهي أن ابن أبي واقد هذا لا يُعْرَف له اسم ولا حال. «بيان الوهم والإيهام» (5/ 61). وقال المنذري: وواقد هذا شبيه بالمجهول، كما في «تهذيب السُّنن» (2/ 276).

الثانية: أنه أُعِل بالإرسال، فمدار الحديث على زيد بن أسلم، واختُلف عليه: فرواه الدَّرَاوَرْدِيّ على الرفع. وخالفه مَعْمَر، فرواه عن زيد مرسلًا، ومَعْمَر أوثق من الدَّراوَرْدِيّ.

ولهذا الحديث شواهد:

الأول: عن أُم سلمة: أخرجه أبو يعلى (6885) عن المَخْرَمِيّ، عن عثمان الأخنسي، عن عبد الرحمن بن يربوع، عن أُمّ سلمة، به. ورواه ابن سعد في «الطبقات» (10/ 197) بإسقاط أُمّ سلمة.

قال ابن حِبان: عُثْمَانُ الأخنسى يعْتَبر حَدِيثه من غير رِوَايَة المخرمي عَنهُ لِأَن المخرمي لَيْسَ بِشَيْء فِي الحَدِيث (7/ 203).

الثاني: عن أبي هريرة: أخرجه أحمد (9765) وفي إسناده صالحٍ، مَوْلَى التَّوْأَمَة، وفيه ضعف.

الثالث: عن ابن عمر: أخرجه ابن حِبان (3706) وفي إسناده عاصم بن عمر، وهو ضعيف.
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: নারীদের হজ্জ পুনরায় করার বিধান:

নারীদের জন্য পুনরায় হজ্জ করা মুস্তাহাব, কারণ এর সপক্ষে দলীলসমূহ সুসংহত।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি আপনাদের সাথে যুদ্ধ ও জিহাদে অংশগ্রহণ করব না? তিনি বললেন: «বরং সর্বোত্তম এবং সবচেয়ে সুন্দর জিহাদ হলো হজ্জ, কবুল হওয়া হজ্জ (হজ্জে মাবরুর)»। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি শোনার পর আমি আর হজ্জ করা ছাড়ব না(১)।

দলীল গ্রহণের ধরণ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণী: «বরং সর্বোত্তম এবং সবচেয়ে সুন্দর জিহাদ হলো হজ্জ, কবুল হওয়া হজ্জ»-এর মাধ্যমে নারীদের পুনরায় হজ্জ করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। আর এটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার উপলব্ধি থেকে স্পষ্ট, যখন তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি শোনার পর আমি আর হজ্জ করা ছাড়ব না।

তবে এর বিপরীতে আবু ওয়াকিদ আল-লায়সী থেকে বর্ণিত হাদীসটি সংশয় তৈরি করে, তিনি বলেন: আমি বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছি: «এটিই (হজ্জ), এরপর চাটাইয়ের পিঠে (অর্থাৎ ঘরে অবস্থান করা)»(২)।

--------------------------------------------

(১) বুখারী (১৮৬১)।

(২) যঈফ (দুর্বল)। এই হাদীসের কেন্দ্রবিন্দু হলেন যায়েদ বিন আসলাম, এবং তাঁর নিকট থেকে এটি সংযুক্ত (মুত্তাসিল) ও বিচ্ছিন্ন (মুরসাল) হওয়ার ব্যাপারে দুটি দিক থেকে মতভেদ রয়েছে:

প্রথমত: আদ-দারওয়ারদী এটি যায়েদ থেকে, তিনি আবু ওয়াকিদ আল-লায়সীর এক পুত্র থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি আবু দাউদ (১৭২২) সংকলন করেছেন।

আর ইবনে আবু ওয়াকিদ-কে আহমাদ-এর (২১৯০৫) বর্ণনায় 'ওয়াকিদ' বিন আবু ওয়াকিদ নামে অভিহিত করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: মা’মার এটি যায়েদ বিন আসলাম থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি বলেছেন। এটি আবদুর রাজ্জাক (৮৮১২) সংকলন করেছেন।

এই হাদীসটি দুটি ত্রুটির কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত হয়েছে:

প্রথমটি: ইবনে আবু ওয়াকিদ—যার নাম ওয়াকিদ—তাঁর সাহাবী হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। আর তাঁর থেকে বর্ণনায় যায়েদ বিন আসলাম একক হয়ে গেছেন।

ইবনে হাজার বলেছেন: ওয়াকিদ আল-লায়সী সম্পর্কে বলা হয় যে তাঁর সাহাবী হওয়ার মর্যাদা রয়েছে। আবার বলা হয় যে, বরং তিনি তৃতীয় স্তরের (তাবেয়ী)।

ইবনে আল-কাত্তান বলেছেন: এর সনদে ত্রুটি রয়েছে, আর তা হলো ইবনে আবু ওয়াকিদ নামক এই ব্যক্তির নাম বা অবস্থা পরিচিত নয়। «বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহাম» (৫/৬১)। আল-মুনযিরী বলেছেন: এই ওয়াকিদ মجهুল বা অজ্ঞাত ব্যক্তির সদৃশ, যেমনটি «তাহযীবুস সুনান» (২/২৭৬) গ্রন্থে রয়েছে।

দ্বিতীয়টি: এটি মুরসাল হওয়ার কারণে ত্রুটিযুক্ত। কারণ হাদীসটির কেন্দ্রবিন্দু হলেন যায়েদ বিন আসলাম, আর তাঁর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে: আদ-দারওয়ারদী একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মা’মার তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং একে যায়েদ থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন; আর মা’মার আদ-দারওয়ারদীর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য।

এই হাদীসটির কিছু শাহিদ বা সমর্থক বর্ণনা রয়েছে:

প্রথমটি: উম্মে সালামাহ থেকে: এটি আবু ইয়ালা (৬৮৮৫) আল-মাখরামী থেকে, তিনি উসমান আল-আখনাসী থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন ইয়ারবু থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে সা’দ তাঁর «তাবাকাত» (১০/১৯৭) গ্রন্থে উম্মে সালামাহর নাম বাদ দিয়ে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে হিব্বান বলেছেন: উসমান আল-আখনাসীর হাদীসটি মাখরামীর বর্ণনা ব্যতীত গ্রহণযোগ্য, কারণ মাখরামী হাদীস শাস্ত্রে উল্লেখযোগ্য কেউ নন (৭/২০৩)।

দ্বিতীয়টি: আবু হুরায়রা থেকে: এটি আহমাদ (৯৭৬৫) সংকলন করেছেন এবং এর সনদে সালেহ মাওলা আত-তাওয়ামাহ রয়েছেন, যার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে।

তৃতীয়টি: ইবনে উমর থেকে: এটি ইবনে হিব্বান (৩৭০৬) সংকলন করেছেন এবং এর সনদে আসিম বিন উমর রয়েছেন, যিনি দুর্বল।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَجْه الدلالة: هذه الحَجة ثم ظهورَ الحُصُر معناه: ثم لا تَخرجن من بيوتكن لحجة أخرى وتَلزمن الحُصُر. فظاهره يدل على منع نسائه بعد حجهن معه من الحج.

ونوقش هذا الاستدلال من وجهين:

الأول: بأن هذا الحديث منكر؛ لأنه كيف يَنْهَى النبي نساءه عن تَكرار الحج، ثم يذهبن للحج ويخالفن أمره؟!(1).

فَعَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ: «أَذِنَ عُمَرُ رضي الله عنه لِأَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي آخِرِ حَجَّةٍ حَجَّهَا، فَبَعَثَ مَعَهُنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ»(2).

الوجه الثاني: بحَمْل قوله صلى الله عليه وسلم: «هَذِهِ، ثُمَّ ظُهُورَ الْحُصُرِ» على أن المراد به أنه لا تجب عليكن، ولا يَلزمكن إلا هذه الحَجة.

 

‌‌المبحث السابع: من مقاصد الحج:

•‌‌ المَقصِد الأول: تحقيق التوحيد وإخلاص العبادة لله:

لأن الله تعالى ما أَمَر ببناء البيت إلا لذلك، كما قال سبحانه: {وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَنْ لَا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ} [الحج: 26] وتطهير البيت إنما يكون بتطهيره من الشرك والأوثان، وكذا من الأوساخ والأدران.

فالعلاقة واضحة بين التوحيد والحج؛ ولذا فإن سائر المناسك مبنية على التوحيد.

ودل على ذلك أمور كثيرة، منها:

الأول: أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يحج في السَّنة التاسعة حين فُرِض الحج؛ لأن الشرك كانت آثاره بادية في المسجد الحرام، حيث كان المشركون يطوفون بالبيت عراة، ويُحَوِّلون الحج إلى موسم ومِهرجان للوثنية، فبَعَث النبيُّ صلى الله عليه وسلم أبا بكر الصِّديق أميرًا على الحج، وأَمَره أن يبين للناس أمرين: «لَا يَحُجُّ بَعْدَ الْعَامِ مُشْرِكٌ، وَلَا يَطُوفُ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ»(3).

--------------------------------------------

(1) قال الذهبي: وهذا منكر، فما زلن يَحججن. «ميزان الاعتدال» (4/ 330).

(2) البخاري (1860).

(3) أخرجه البخاري (369) (1622)، ومسلم (1347) عن أبي هريرة رضي الله عنه.
দলিলের ধরন: এই হজ, এরপর পাটির পিঠ (চটাইয়ের ওপর অবস্থান); এর অর্থ হলো: এরপর তোমরা অন্য কোনো হজের জন্য তোমাদের ঘর থেকে বের হবে না এবং পাটির ওপর (ঘরে) অবস্থান করবে। এর প্রকাশ্য অর্থ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হজ করার পর তাঁর স্ত্রীদের পুনরায় হজ করা নিষিদ্ধ হওয়াকে বুঝায়।

এই দলিলের ব্যাপারে দুটি দিক থেকে আলোচনা করা হয়েছে:

প্রথমত: এই হাদিসটি মুনকার (অস্বীকৃত); কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে তাঁর স্ত্রীদের পুনরায় হজ করতে নিষেধ করবেন, আর তারপর তাঁরা হজে গিয়ে তাঁর আদেশের বিরোধিতা করবেন?!(১)।

ইব্রাহিম বিন আব্দুর রহমান বিন আউফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর শেষ হজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের হজের অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তাঁদের সাথে উসমান বিন আফফান ও আব্দুর রহমান বিন আউফকে পাঠিয়েছিলেন"(২)।

দ্বিতীয় দিক: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «এই হজই (শেষ), তারপর পাটির পিঠ» - এর ব্যাখ্যা হলো এর দ্বারা উদ্দেশ্য এই যে, তোমাদের জন্য এই হজ ব্যতীত অন্য কোনো হজ আর ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়।

 

‌‌সপ্তম পরিচ্ছেদ: হজের অন্যতম উদ্দেশ্যসমূহ:

•‌‌ প্রথম উদ্দেশ্য: তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা এবং আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা:

কারণ আল্লাহ তাআলা কেবল এই উদ্দেশ্যেই ঘর (কাবা) নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন, যেমনটি তিনি মহিমান্বিত সত্তা বলেছেন: {আর যখন আমি ইব্রাহিমের জন্য ঘরের স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না এবং আমার ঘরকে তাওয়াফকারীদের জন্য পবিত্র রাখো} [আল-হজ: ২৬]। আর ঘরকে পবিত্র করার অর্থ হলো একে শিরক ও মূর্তিপূজা থেকে পবিত্র করা, তেমনিভাবে ময়লা ও অপবিত্রতা থেকেও।

সুতরাং তাওহীদ ও হজের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত স্পষ্ট; আর এজন্যই হজের বাকি সমস্ত বিধিবিধান তাওহীদের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

অনেক বিষয় এর প্রমাণ দেয়, যার মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত: নবম হিজরিতে হজ ফরজ হওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন হজ করেননি; কারণ মসজিদুল হারামে শিরকের চিহ্ন অবশিষ্ট ছিল, যেখানে মুশরিকরা উলঙ্গ হয়ে ঘর তাওয়াফ করত এবং হজকে মূর্তিপূজার একটি মৌসুম ও উৎসবে পরিণত করেছিল। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে হজের আমির হিসেবে পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি মানুষের কাছে দুটি বিষয় ঘোষণা করেন: «এই বছরের পর কোনো মুশরিক আর হজ করবে না এবং কোনো ব্যক্তি উলঙ্গ অবস্থায় ঘর তাওয়াফ করবে না»(৩)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম যাহাবি বলেন: এটি মুনকার (অস্বীকৃত), কারণ তাঁরা নিয়মিত হজ করতেন। «মিজানুল ইতিদাল» (৪/ ৩৩০)।

(২) বুখারি (১৮৬০)।

(৩) বুখারি (৩৬৯) (১৬২২) এবং মুসলিম (১৩৪৭) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ২৮)
الثاني: أن شعار الحاج منذ إحرامه هو التلبية، وهي لا تَخرج إلا عن إعلان توحيد الله عز وجل، وإخلاص العبادة له وحده. فَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما، أَنَّ تَلْبِيَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ … » ولقد شاء الله أن يكون الإهلال بالحج بهذا الشعار ليعلم الحاج نبذ الشرك والأوثان، وإخلاص العبادة للواحد الديان.

الثالث: روي بأن النبي صلى الله عليه وسلم في ركعتي الطواف كان يَقرأ سورتي (الكافرون) و (الإخلاص)، فسورة (الكافرون) تُبيِّن البراءة من الشرك وأهله، وسورة (الإخلاص) فيها تقرير للتوحيد(1).

الرابع: أن النبي صلى الله عليه وسلم بدأ بالتوحيد عندما صَعِد على الصفا.

ففي «مسلم» عن جابر- وفيه-: حَتَّى رَأَى الْبَيْتَ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ، فَوَحَّدَ اللَّهَ وَكَبَّرَهُ، وَقَالَ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ … ».

ولا يَبدأ أول شوط بالتوحيد فحَسْب، بل يقوله في كل شوط من أشواط السعي.

الخامس: في يوم عرفة الذي فيه قال النبي: «الحَجُّ عَرَفَةُ» فالله يباهي بأهل عرفة الملائكة لتوحيدهم، بقوله: «مَا أَرَادَ هَؤُلَاءِ؟» بحجهم ووقوفهم إلا وجه الله، فروى مسلم عن عائشة: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللهُ فِيهِ عَبْدًا مِنَ النَّارِ- مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ، وَإِنَّهُ لَيَدْنُو، ثُمَّ يُبَاهِي بِهِمُ الْمَلَائِكَةَ، فَيَقُولُ: مَا أَرَادَ هَؤُلَاءِ؟».

السادس: أن الله أَمَر الحُجاج والمعتمرين بإخلاص حجهم وعمرتهم لربهم، بقوله: {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ} [البقرة: 196] وفي هذا إشعار بأن تحقيق التوحيد أهم مقاصد الحج.

 

•‌‌ المقصد الثاني: تزكية النفس:

من مقاصد الحج تطهير النفس من الأخلاق المذمومة، وتزكيتها للوصول إلى حقيقة التقوى التي هي مَقصِد كل عبادة، قال تعالى: {الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ} [البقرة: 197].

معنى (الرفث) في الآية شامل لأمرين:

--------------------------------------------

(1) وهذا المعنى في حديث جابر عند مسلم، وهذه الفقرة انتُقدتْ على مسلم، وسيأتي تفصيل ذلك.
দ্বিতীয়ত: ইহরাম বাধার পর থেকে হাজীর স্লোগান হলো তালবিয়া, আর এটি মহান আল্লাহর তাওহীদের ঘোষণা এবং একমাত্র তাঁরই জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা ছাড়া আর কিছুই নয়। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তালবিয়া ছিল: «আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির। আমি হাজির, আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির...»। আর আল্লাহ তাআলা চেয়েছেন হজের এই ঘোষণা বা ইহরাম যেন এই স্লোগানের মাধ্যমেই হয়, যাতে হাজী ব্যক্তি শিরক ও মূর্তিপূজা বর্জন করা এবং একমাত্র প্রতিদানদাতা আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করতে পারে।

তৃতীয়ত: বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফের দুই রাকাআতে সূরা (আল-কাফিরুন) এবং সূরা (আল-ইখলাস) পাঠ করতেন। সূরা (আল-কাফিরুন) শিরক ও মুশরিকদের থেকে সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দেয় এবং সূরা (আল-ইখলাসে) তাওহীদের স্বীকৃতি রয়েছে(১)।

চতুর্থত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাফা পাহাড়ে আরোহণ করেন, তখন তিনি তাওহীদের মাধ্যমেই শুরু করেছিলেন।

মুসলিম-এ জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে: যতক্ষণ না তিনি বাইতুল্লাহ দেখতে পেলেন, এরপর তিনি কিবলামুখী হলেন, অতঃপর আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করলেন এবং তাঁর বড়ত্ব বর্ণনা করলেন। আর তিনি বললেন: «আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাশীল। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক; তিনি তাঁর ওয়াদা পূরণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সকল বাহিনীকে পরাজিত করেছেন...»।

তিনি কেবল প্রথম চক্করটিই তাওহীদের মাধ্যমে শুরু করতেন না, বরং সাঈ-এর প্রতিটি চক্করেই তিনি এটি বলতেন।

পঞ্চমত: আরাফার দিনে, যে দিন সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আরাফাই হলো হজ», সেখানে আল্লাহ তাআলা আরাফাবাসীদের তাওহীদের কারণে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করে বলেন: «এরা কী চায়?» অর্থাৎ তাদের এই হজ ও অবস্থানের মাধ্যমে তারা একমাত্র আল্লাহর চেহারা কামনা করে। মুসলিম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আরাফার দিনের চেয়ে এমন কোনো দিন নেই যে দিন আল্লাহ তাআলা অধিক সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আর নিশ্চয়ই তিনি নিকটবর্তী হন, অতঃপর ফেরেশতাদের নিকট তাদের নিয়ে গর্ব করে বলেন: এরা কী চায়?»।

ষষ্ঠত: আল্লাহ তাআলা হাজীদের এবং ওমরাহ পালনকারীদের নির্দেশ দিয়েছেন তাদের হজ ও ওমরাহকে তাদের রবের জন্য একনিষ্ঠ করার জন্য। তিনি বলেছেন: {এবং তোমরা আল্লাহর জন্য হজ ও ওমরাহ পূর্ণ করো} [সূরা বাকারাহ: ১৯৬]। এর মাধ্যমে এ কথাই জানানো হচ্ছে যে, তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করাই হলো হজের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

 

•‌‌ দ্বিতীয় উদ্দেশ্য: নফসের পরিশুদ্ধি:

হজের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নফসকে নিন্দনীয় চরিত্র থেকে পবিত্র করা এবং একে এমনভাবে পরিশুদ্ধ করা যাতে তাকওয়ার প্রকৃত হাকীকত অর্জন করা যায়, যা প্রতিটি ইবাদতের লক্ষ্য। মহান আল্লাহ বলেন: {হজের সময় হলো সুনির্দিষ্ট মাসসমূহ। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মাসগুলোতে নিজের ওপর হজ আবশ্যক করে নেয়, সে যেন হজের সময় কোনো প্রকার অশ্লীল কাজ, পাপাচার এবং কোনো ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত না হয়} [সূরা বাকারাহ: ১৯৭]।

আয়াতে (রাফাছ) শব্দের অর্থ দুটি বিষয়কে শামিল করে:

--------------------------------------------

(১) আর এই অর্থটি মুসলিমে বর্ণিত জাবিরের হাদীসে রয়েছে, তবে এই অনুচ্ছেদটির ব্যাপারে ইমাম মুসলিমের ওপর সমালোচনা করা হয়েছে, যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ২৯)
أحدهما: مباشرة النساء بالجماع ومقدماته.

والثاني: الكلام بذلك، كأن يقول المُحْرِم لامرأته: إن أحللنا، فَعَلْنا كذا وكذا.

والمراد ب (الفسوق): المعاصي كلها؛ لأن الفاسق: الخارج من الطاعة إلى المعصية. ومنه قوله تعالى: {فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ} [الكهف: 50].

ويَدخل فيها الذبح للأصنام؛ لعموم قوله: {أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ} [الأنعام: 145].

ويَدخل فيها محظورات الإحرام.

ويَدخل فيها سِباب المسلم؛ لعموم قول النبي صلى الله عليه وسلم: «سِبَابُ المُسْلِمِ فُسُوقٌ».

ويَدخل فيها التنابز بالألقاب؛ لقوله تعالى: {وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ} [الحجرات: 11].

ويَدخل فيها الحج بالمال الحرام، فقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا».

وقال الشاعر:

إِذَا حَجَجْتَ بِمالٍ أَصْلُهُ دَنِسٌ … فَما حَجَجْتَ وَلَكِنْ حَجَّتِ العِيرُ

لَا يَقْبَلُ اللَهُ إِلَّا كُلَّ طَيِّبَةٍ … مَا كُلُّ مَنْ حَجَّ بَيْتَ اللَهِ مَبرُورُ

ومِن الفسق المنهي عنه: إيذاء الحُجاج والتعدي عليهم، والاستهزاء والسخرية بهم.

والمراد بالجدال في الحج: هو مماراة الصاحب حتى يغضبه، والمنازعة والسِّباب والمِراء والخصومات … وغير ذلك مما ينبغي أن يَتنزه عنه الحاج.

والحج الذي لا رفث ولا فسوق فيه: هو الحج المبرور الذي يترتب عليه مغفرة الذنوب، لقوله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ حَجَّ هَذَا البَيْتَ، فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ، رَجَعَ كَمَا وَلَدَتْهُ أُمُّهُ»(1).

 

•‌‌ المَقصِد الثالث: تحصيل تقوى الله:

مِنْ أهم مقاصد الحج تحصيل تقوى الله، قال تعالى: {فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّهُ وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى وَاتَّقُونِ يَاأُولِي الْأَلْبَابِ} [البقرة: 197] فلما نهاهم الله في الحج عن إتيان القبيح قولًا وفعلًا، مِنْ الرفث والفسوق والجدال، حثهم على فعل الجميل بقوله، وأخبرهم بأنه عالم به، فقال:

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (1819).
একটি হলো: সহবাস এবং এর উপক্রমসমূহের মাধ্যমে নারীদের সাথে শারিরীক মেলামেশা করা।

আর দ্বিতীয়টি হলো: সে বিষয়ে কথা বলা, যেমন ইহরামকারী তার স্ত্রীকে বলল: আমরা যখন হালাল হব, তখন আমরা এমন এমন কাজ করব।

আর 'ফুসূক' (পাপাচার) বলতে সকল অবাধ্যতাকে বোঝানো হয়েছে; কারণ 'ফাসিক' হলো সেই ব্যক্তি যে আনুগত্য থেকে বের হয়ে অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: "সে তার রবের আদেশ অমান্য করল।" [কাহফ: ৫০]।

মূর্তির উদ্দেশ্যে পশু জবাই করাও এর অন্তর্ভুক্ত; কেননা তাঁর বাণীর ব্যাপকতা একেও শামিল করে: "অথবা পাপাচার যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে।" [আন'আম: ১৪৫]।

ইহরামের নিষিদ্ধ কাজসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত।

মুসলমানকে গালি দেওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর ব্যাপকতা একেও শামিল করে: "মুসলমানকে গালি দেওয়া হলো পাপাচার।"

মন্দ নামে একে অপরকে ডাকাও এর অন্তর্ভুক্ত; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেকো না।" [হুজুরাত: ১১]।

হারাম সম্পদ দিয়ে হজ করাও এর অন্তর্ভুক্ত, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না।"

আর কবি বলেছেন:

যখন তুমি এমন সম্পদ দিয়ে হজ করলে যার মূল হচ্ছে অপবিত্র … তবে তুমি হজ করোনি, বরং তোমার উট বা গাধাই হজ করেছে।

আল্লাহ পবিত্র বস্তু ছাড়া আর কিছু গ্রহণ করেন না … আল্লাহর ঘর হজ করা প্রত্যেকেই পুণ্যময় হজের অধিকারী নয়।

আর নিষিদ্ধ পাপাচারের অন্তর্ভুক্ত হলো: হাজীদের কষ্ট দেওয়া, তাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করা এবং তাদেরকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ ও উপহাস করা।

আর হজের মধ্যে 'জিদাল' (তর্ক-বিতর্ক) এর অর্থ হলো: সাথীর সাথে ঝগড়া করা যাতে সে রাগান্বিত হয়, বিবাদ করা, গালিগালাজ করা, বাগবিতণ্ডা এবং শক্রতা পোষণ করা … এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা থেকে হাজীদের দূরে থাকা উচিত।

আর যে হজে কোনো অশালীনতা এবং পাপাচার নেই, তাই হলো 'হজে মাবরুর' (পুণ্যময় হজ), যার ফলশ্রুতিতে গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই ঘরের হজ করল এবং তাতে কোনো অশালীন কাজ ও পাপাচার করল না, সে সেদিনের মতো ফিরে আসবে যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল।"(১)।

 

•‌‌ তৃতীয় উদ্দেশ্য: আল্লাহর তাকওয়া অর্জন করা:

হজের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর তাকওয়া অর্জন করা। মহান আল্লাহ বলেন: "সুতরাং যে এই মাসগুলোতে নিজের ওপর হজ আবশ্যক করে নিল, তবে হজের মধ্যে কোনো অশালীনতা, কোনো পাপাচার এবং কোনো ঝগড়া-বিবাদ বৈধ নয়। আর তোমরা যে ভালো কাজই করো না কেন, আল্লাহ তা জানেন। আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া। আর হে জ্ঞানবানগণ! তোমরা কেবল আমাকেই ভয় করো।" [বাকারা: ১৯৭]। যখন আল্লাহ তাদেরকে হজের মধ্যে অশালীনতা, পাপাচার ও ঝগড়া-বিবাদের মতো মন্দ কথা ও কাজ থেকে নিষেধ করলেন, তখন তিনি তাদের সুন্দর কাজের প্রতি উৎসাহ দিয়ে এই ঘোষণা দিলেন এবং তাদের জানালেন যে তিনি সে সম্পর্কে পরিজ্ঞাত, তাই তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (১৮১৯)।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ৩০)
{وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّهُ} [البقرة: 197].

وقوله: {وَتَزَوَّدُوا} في سفركم إلى الحج، من الطعام وما يَحتاج إليه المسافر.

ورَوَى البخاري: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: كَانَ أَهْلُ اليَمَنِ يَحُجُّونَ وَلَا يَتَزَوَّدُونَ، وَيَقُولُونَ: نَحْنُ المُتَوَكِّلُونَ. فَإِذَا قَدِمُوا مَكَّةَ سَأَلُوا النَّاسَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى} [البقرة: 197](1).

وكثرة زاد الرجل في سفره من مكارم الأخلاق، فربما واسى إخوانه من هذا الزاد. وإطعام الطعام من أعظم أفعال البر، كما قال تعالى: {وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ} [الحج: 28].

وإذا كان الله أَمَرَنا بالتزود من الطعام والشراب للسفر في الدنيا، فقد أَرْشَدنا إلى التزود في سفر الآخرة بزاد التقوى؛ فزادُ التقوى خير زاد؛ لأنه الزاد الموصل إلى النعيم المقيم في الجنة يوم القيامة، وإلى رضوان الله.

فقد نبهت الآية إلى العناية بزاد الآخرة وهو التقوى؛ لأن مدار النجاة عليه، ولأنه السبيل لاكتساب الفضائل، ولأنه يَعصم صاحبه من الندم يوم القيامة، كما قيل:

إِذَا أَنْتَ لَمْ تَرْحَلْ بِزَادٍ مِنَ التُّقَى … وَلَاقَيْتَ بَعْدَ المَوْتِ مَنْ قَدْ تَزَوَّدَا

نَدِمْتَ عَلَى أَنْ لَا تَكُونَ كَمِثْلِهِ … فَتَرَصَّدْ لِلْأَمْرِ الذِي كَانَ أَرْصَدَا

وقد خَتَم الله الآية بالأمر بالتقوى، فقال: {وَاتَّقُونِ يَاأُولِي الْأَلْبَابِ} [البقرة: 197] وخَصَّ أُولي الألباب بالخطاب؛ لأنهم المنتفعون بخطاب الله على الحقيقة.

وقد تَكرر ذكر التقوى في آيات الحج؛ لأنها المقصودة من الحج(2) وقد بَيَّن الله

--------------------------------------------

(1) ومدار هذا الحديث على عمرو بن دينار، عن عكرمة، واختُلف عليه في الوصل والإرسال:

فرواه ورقاء، عن عمرو، عن عكرمة، عن ابن عباس رضي الله عنهما، به، أخرجه البخاري (1523).

ورواه ابن عُيينة، عن عمرو، عن عكرمة مرسلًا. أخرجه سعيد بن منصور في «تفسيره» (347)، وابن أبي حاتم (1839) وقال: والمرسل أَصح.

(2) وكذا عند قوله تعالى: {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ} [البقرة: 196] خَتَم الآية بقوله: {وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} [البقرة: 196]. وكذا في رمي الجمرات، قال تعالى: {وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ لِمَنِ اتَّقَى} وخَتَم الآية بقوله: {وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ} [البقرة: 203] وتقوى الله بامتثال أوامره واجتناب معاصيه.
{আর তোমরা ভালো যা কিছু করো, আল্লাহ তা জানেন} [আল-বাকারা: ১৯৭]।

আর তাঁর বাণী: {আর তোমরা পাথেয় গ্রহণ করো} অর্থাৎ তোমাদের হজের সফরে খাবার এবং একজন মুসাফিরের যা প্রয়োজন হয় তা সংগ্রহ করো।

ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন: ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইয়ামেনবাসীরা হজ করতে আসত কিন্তু তারা কোনো পাথেয় সাথে আনত না। তারা বলত: "আমরা আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলকারী।" অতঃপর যখন তারা মক্কায় আসত, তখন মানুষের কাছে হাত পাতত। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: {তোমরা পাথেয় গ্রহণ করো, আর নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া} [আল-বাকারা: ১৯৭](১)।

সফরে কোনো ব্যক্তির পর্যাপ্ত পাথেয় রাখা মহৎ চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এর মাধ্যমে হয়তো সে তার ভাইদের সাহায্য করতে পারে। আর খাবার খাওয়ানো নেক কাজের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা অভাবী ও দরিদ্রকে আহার করাও} [আল-হজ: ২৮]।

আল্লাহ যখন আমাদের দুনিয়ার সফরের জন্য খাদ্য ও পানীয়র পাথেয় সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন, তখন তিনি আমাদের আখিরাতের সফরের জন্য তাকওয়ার পাথেয় সংগ্রহেরও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাকওয়ার পাথেয় হলো সর্বোত্তম পাথেয়; কারণ এটি কিয়ামতের দিন জান্নাতের চিরস্থায়ী নেয়ামত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পৌঁছে দেওয়ার পাথেয়।

এই আয়াতটি আখিরাতের পাথেয় অর্থাৎ তাকওয়ার প্রতি যত্নবান হতে সতর্ক করেছে; কারণ মুক্তির মূল ভিত্তি হলো এটি, এটিই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পথ এবং কিয়ামতের দিন এটি এর অধিকারীকে অনুশোচনা থেকে রক্ষা করবে। যেমন বলা হয়েছে:

যখন তুমি তাকওয়ার পাথেয় ছাড়াই যাত্রা করবে … এবং মৃত্যুর পর এমন ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করবে যে পাথেয় সংগ্রহ করেছে

তখন তুমি তার মতো না হওয়ার কারণে অনুতপ্ত হবে … সুতরাং সেই বিষয়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করো যে বিষয়ের প্রস্তুতি সে গ্রহণ করেছিল

আল্লাহ আয়াতটি তাকওয়ার নির্দেশ দিয়ে শেষ করেছেন, তিনি বলেছেন: {আর হে জ্ঞানবানগণ! তোমরা কেবল আমাকেই ভয় করো} [আল-বাকারা: ১৯৭]। আর তিনি বিশেষভাবে জ্ঞানবানদের সম্বোধন করেছেন; কারণ তারাই প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর বাণীর দ্বারা উপকৃত হয়।

হজের আয়াতসমূহে তাকওয়ার উল্লেখ বারবার এসেছে; কারণ তাকওয়াই হলো হজের মূল উদ্দেশ্য(২)। আর আল্লাহ বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) এই হাদিসটির মূল কেন্দ্র হলো আমর ইবনে দীনার, ইকরিমা থেকে বর্ণিত। তাঁর সূত্রে এটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত) নাকি মুরসাল (বিচ্ছিন্ন) তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে:

ওয়ারকা এটি আমর থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন; এটি বুখারি (১৫২৩) বর্ণনা করেছেন।

ইবনে উইয়াইনা এটি আমর থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সাঈদ ইবনে মানসুর তাঁর 'তাফসিরে' (৩৪৭) এবং ইবনে আবি হাতিম (১৮৩৯) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: মুরসাল বর্ণনাটিই অধিক বিশুদ্ধ।

(২) একইভাবে আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ ও উমরা পূর্ণ করো} [আল-বাকারা: ১৯৬] এর ক্ষেত্রেও তিনি আয়াতটি এই কথা দিয়ে শেষ করেছেন: {আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর} [আল-বাকারা: ১৯৬]। একইভাবে জামরাতে পাথর নিক্ষেপের ক্ষেত্রেও আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করো। অতঃপর যে ব্যক্তি দুই দিনে তাড়াহুড়ো করে চলে আসবে তার কোনো গুনাহ নেই, আর যে বিলম্ব করবে তারও কোনো গুনাহ নেই; এটি তার জন্য যে তাকওয়া অবলম্বন করে} এবং তিনি আয়াতটি শেষ করেছেন এই বলে: {আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রেখো যে, তোমাদেরকে তাঁর কাছেই সমবেত করা হবে} [আল-বাকারা: ২০৩]। আর আল্লাহর তাকওয়া হলো তাঁর আদেশসমূহ পালন করা এবং তাঁর নিষেধসমূহ বর্জন করা।
(খণ্ড: ১) জামউস সাবায়িক লি-আহকামিল মানাসিক (পৃষ্ঠা: ৩১)
تبارك وتعالى أنه لا يَرضى شيئًا من أفعال الحج إلا ما كان مصاحبًا للتقوى، فقال: {لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ} [الحج: 37].

فلن تقع هذه اللحوم ولا الدماء المهراقة بالنحر موضع القَبول، إلا إذا كان الباعث عليها هو تقوى قلوبكم التي تدعوكم إلى تعظيم أمره والتقرب إليه والإخلاص له.

قال السعدي: ليس المقصود منها ذبحها فقط، ولا يَنال اللهَ من لحومها ولا دمائها شيء؛ لكَوْنه الغني الحميد، وإنما يناله الإخلاص فيها، والاحتساب والنية الصالحة؛ ولهذا قال: {وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ} [الحج: 37].

ففي هذا حث وترغيب على الإخلاص في النحر، وأن يكون القصد وجه الله وحده، لا فخرًا ولا رياء ولا سمعة، ولا مجرد عادة، وهكذا سائر العبادات، إن لم يَقترن بها الإخلاص وتقوى الله، كانت كالقشر الذي لا لب فيه، والجسد الذي لا رُوح فيه.

 

•‌‌ المَقصِد الرابع: ذِكر الله تعالى والدعاء من أعظم مقاصد الحج:

ولذا فالذِّكر والدعاء ملازمان للحج قبل وأثناء وبعد أداء نسكه؛ ولذا لا يخلو نسك من أنساك الحج من الذِّكر والدعاء.

فالإحرام الذي فيه نية الدخول في النسك ذِكر بالقلب.

والتلبية بعد الإحرام ذِكر باللسان، ويُستحب لزوم التلبية ولا يَنقطع الحاج عنها إلا عند رمي جمرة العقبة.

ثم الطواف يَبدأ بالتكبير وهو ذِكر. وكلما حاذى الحَجَر الأسود كَبَّر.

ثم يَتوجه الحاج إلى مَقام إبراهيم، ويصلي ركعتين خلف المَقام، يَذكر فيهما ربه.

ثم يتجه الحاج إلى الصفا، فيصعد عليها ويَذكر الله ويدعوه، فعن جابر قال: فَلَمَّا دَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الصَّفَا قَرَأَ: {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} [البقرة: 158] «أَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللَّهُ بِهِ». فَبَدَأَ بِالصَّفَا فَرَقِيَ عَلَيْهِ، حَتَّى رَأَى الْبَيْتَ، فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ، فَوَحَّدَ اللَّهَ وَكَبَّرَهُ، وَقَالَ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ» ثُمَّ دَعَا بَيْنَ ذَلِكَ.

وفي يوم عرفة يُكْثِر من الذِّكر والتلبية والتكبير والدعاء. وفي حديث جابر الطويل: ثُمَّ رَكِبَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، حَتَّى أَتَى الْمَوْقِفَ … وَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ، فَلَمْ يَزَلْ وَاقِفًا صلى الله عليه وسلم بعد الزوال
মহান ও সুউচ্চ আল্লাহ হজের কোনো কাজই পছন্দ করেন না যতক্ষণ না তা তাকওয়ার সাথে সম্পৃক্ত হয়। তিনি বলেছেন: "আল্লাহর কাছে এগুলোর গোশত পৌঁছে না এবং রক্তও পৌঁছে না, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।" [আল-হজ: ৩৭]।

সুতরাং কুরবানির মাধ্যমে জবেহ করা এই গোশত বা প্রবাহিত রক্ত কবুল হওয়ার স্তরে পৌঁছাবে না, যদি না এর পেছনের মূল চালিকাশক্তি হয় আপনাদের অন্তরের তাকওয়া, যা আপনাদেরকে তাঁর আদেশকে সম্মান করতে, তাঁর নৈকট্য লাভ করতে এবং তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ হতে আহ্বান জানায়।

আস-সাদী বলেন: এর উদ্দেশ্য শুধু পশু জবেহ করা নয়, আর আল্লাহর কাছে এগুলোর গোশত বা রক্ত থেকে কিছুই পৌঁছে না; কারণ তিনি অভাবমুক্ত ও চিরপ্রশংসিত। বরং তাঁর কাছে পৌঁছে এতে বিদ্যমান একনিষ্ঠতা, সাওয়াবের আশা এবং সৎ নিয়ত; একারণেই তিনি বলেছেন: "বরং তাঁর কাছে তোমাদের তাকওয়াই পৌঁছে।" [আল-হজ: ৩৭]।

এতে কুরবানির ক্ষেত্রে একনিষ্ঠতার প্রতি উৎসাহ ও প্রেরণা দেওয়া হয়েছে এবং উদ্দেশ্য যেন হয় একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি; কোনো অহংকার, লোকদেখানো বা সুখ্যাতির জন্য নয় এবং স্রেফ প্রথা হিসেবেও নয়। অন্যান্য সমস্ত ইবাদতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই; যদি তার সাথে একনিষ্ঠতা ও আল্লাহর প্রতি তাকওয়া যুক্ত না থাকে, তবে তা শাঁসবিহীন খোসা এবং প্রাণহীন দেহের মতো।

 

•‌‌ চতুর্থ উদ্দেশ্য: আল্লাহ তাআলার জিকির ও দোয়া হজের অন্যতম মহান উদ্দেশ্য:

তাই হজের বিধানগুলো পালনের আগে, চলাকালীন এবং পরে জিকির ও দোয়া হজের অবিচ্ছেদ্য অংশ; এজন্য হজের কোনো আমলই জিকির ও দোয়া থেকে খালি নয়।

ইহরাম, যার মধ্যে হজের আমলে প্রবেশের নিয়ত থাকে, তা হলো অন্তরের জিকির।

আর ইহরামের পর তালবিয়া পাঠ করা হলো জবানের জিকির। তালবিয়া পাঠ অব্যাহত রাখা মুস্তাহাব এবং হাজি ব্যক্তি জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করার আগ পর্যন্ত তা বন্ধ করবেন না।

এরপর তাওয়াফ শুরু হয় তাকবিরের মাধ্যমে, যা একটি জিকির। হাজি যখনই হাজরে আসওয়াদের সমান্তরালে আসেন, তখনই তাকবির পাঠ করেন।

অতঃপর হাজি মাকামে ইবরাহিমের দিকে অগ্রসর হন এবং মাকামের পেছনে দুই রাকাত সালাত আদায় করেন, যাতে তিনি তাঁর রবের জিকির করেন।

এরপর হাজি সাফা পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হন এবং তার উপরে আরোহণ করে আল্লাহর জিকির ও তাঁর কাছে দোয়া করেন। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফার নিকটবর্তী হলেন, তখন পাঠ করলেন: "নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।" [আল-বাকারা: ১৫৮] "আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন আমিও তা দিয়ে শুরু করছি।" এরপর তিনি সাফা দিয়ে শুরু করলেন এবং তার উপরে আরোহণ করলেন, এমনকি যখন বায়তুল্লাহ দেখতে পেলেন, তখন কিবলামুখী হলেন এবং আল্লাহর একত্ব ঘোষণা করলেন ও তাঁর বড়ত্ব বর্ণনা করলেন। আর বললেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই জন্য, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেছেন।" এরপর তিনি এর মাঝে দোয়া করলেন।

আর আরাফার দিনে অধিক পরিমাণে জিকির, তালবিয়া, তাকবির ও দোয়া করবেন। জাবিরের দীর্ঘ হাদিসে রয়েছে: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হলেন, এমনকি যখন অবস্থানের জায়গায় এলেন … এবং কিবলামুখী হলেন। অতঃপর সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবিরাম দাঁড়িয়ে থাকলেন।