(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
درر الفرائد المستحسنة في شرح منظومة ابن الشحنة القسم: البلاغة
الكتاب: دُرَرُ الفَرائدِ المُسْتَحْسَنَة في شرحِ مَنْظومةِ ابنِ الشِّحْنةِ (في علوم المعاني والبيان والبديع)
المؤلف: ابن عَبْدِ الحَقِّ العُمَرِيّ الطَّرَابُلْسِيّ (ت نحو 1024 هـ)
تحقيق ودراسة: الدكتور سُلَيمان حُسَين العُمَيرات
الناشر: دار ابن حزم، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2018 م
عدد الصفحات: 556
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 20 جُمادَى الآخرة 1440
দুরারুল ফারাইদ আল-মুস্তাহসানাহ ফি শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ বিভাগ: বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র)
কিতাব: দুরারুল ফারাইদ আল-মুস্তাহসানাহ ফি শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ (মাআনী, বায়ান ও বাদী শাস্ত্রের মানযূমা ইবনুশ শুহ্ নাহ-এর ব্যাখ্যা)
লেখক: ইবন আব্দুল হক আল-উমারী আত-তরাবুলসী (মৃত্যু আনুমানিক ১০২৪ হিজরি)
তাহকীক ও গবেষণা: ডক্টর সুলাইমান হুসাইন আল-উমাইরাত
প্রকাশক: দার ইবন হাযম, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল ছাপানো কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২০ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
دُرَرُ الفَرائدِ المُسْتَحْسَنَة في
شرحِ مَنْظومةِ ابنِ الشِّحْنةِ
(في علوم المعاني والبيان والبديع)
لابن عَبْدِ الحَقِّ العُمَرِيّ الطَّرَابُلْسِيّ (ت نحو 1024 هـ)
أُلحِقَ الكتابُ بتحقيق منظومة (مئة المعاني والبيان) لابن الشِّحنة (ت 815 هـ)
مقابلاً على إحدى عشرةَ نُسخةً خطيّةً
تحقيق ودراسة
الدكتور سُلَيمان حُسَين العُمَيرات
أستاذ البلاغة العربيّة بجامعة دمشق
دار ابن حزم
উপাদেয় চমৎকার ও দুর্লভ মুক্তাসমূহ:
ইবনুল শিহনাহর কাব্যমালার ব্যাখ্যা
(মাআনি, বায়ান ও বাদি শাস্ত্রের বর্ণনায়)
ইবনে আবদুল হক আল-উমারি আত-তারাবুলুসি (মৃত্যু আনুমানিক ১০২৪ হিজরি)
গ্রন্থটি ইবনুল শিহনাহ (মৃত্যু ৮১৫ হি.) বিরচিত ‘মিআতুল মাআনি ওয়াল বায়ান’ কাব্যের সম্পাদিত পাণ্ডুলিপির সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে
যা এগারোটি পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করে সম্পাদিত
সম্পাদনা ও গবেষণা
ডক্টর সুলাইমান হুসাইন আল-উমাইরাত
দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের অধ্যাপক
দার ইবনে হাযম
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
جميع الحقوق محفوظة
الطبعة الأولى
1439 هـ - 2018 م
دار ابن حزم
بيروت - لبنان
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪৩৯ হিজরী - ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ
দার ইবনে হাজম
বৈরুত - লেবানন
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
كلمة شكر وتقديرنوقش هذا الكتاب رسالة ماجستير في جامعة دمشق، بكلية الآداب والعلوم الإنسانية، بقسم اللغة العربية؛ يوم الأربعاء 20/ 1/ 2010 م، وناقشته لجنة التحكيم المؤلفة من أساتذة البلاغة:
- الأستاذ الدكتور محمد هيثم غرة.
- الأستاذة الدكتورة منيرة محمد فاعور.
- الأستاذ الدكتور خلدون سعيد صبح.
ونال به صاحبه درجة الماجستير في علوم اللغة العربية وآدابها بمرتبة: "الامتياز".
ودعاء بالرضوان لوالدي غفر الله له وجعل هذا العمل في حسناته، ولأمي حفظها الله تعالى كل البر والطاعة والوفاء.
والعرفان لهبة الله رفيقة دربي ومؤنستي في رحلتي، والمحبة لابنتي سلمى، ثمرة قلبي، وريحانة فؤادي، وبقية روحي. . . والمحبة لولدي سليم فلذة كبدي، وقرة عيني، جعله المولى ناصرا للإسلام. . نفع الله بكم أمة الإسلام العظيم.
وأما وطني سورية مهد الحضارات. . . الذي أهدى البشرية أول أبجدية في التاريخ؛ فيا رب اجعله بلدا آمنا مطمئنا، وارزق أهله من الثمرات، وسائر بلاد المسلمين. . .
* * *
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি জ্ঞাপনএই গ্রন্থটি দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের আরবি ভাষা বিভাগে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) থিসিস হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; ২০/০১/২০১০ খ্রিষ্টাব্দ, বুধবার। অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) অধ্যাপকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি পরীক্ষক কমিটি এটি মূল্যায়ন করেন:
- প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ হাইসাম গুররাহ।
- প্রফেসর ডক্টর মুনিরা মুহাম্মদ ফাউর।
- প্রফেসর ডক্টর খালদুন সাঈদ সুবহ।
এবং এর মাধ্যমে লেখক আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে ‘মুমতাজ’ (এক্সিলেন্ট) মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
আমার পিতার জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টির দুআ রইল, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন এবং এই কাজটিকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় সওয়াব হিসেবে গণ্য করুন। আর আমার মায়ের জন্য—আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত করুন—রইল সর্বোচ্চ সদাচার, আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা।
আর আমার জীবনসঙ্গিনী ও এই সফরের সহচরী হিবাতুল্লাহর প্রতি রইল কৃতজ্ঞতা। আমার কন্যা সালমার প্রতি ভালোবাসা—যে আমার হৃদয়ের ফল, প্রাণের সৌরভ এবং আত্মার অংশ... এবং ভালোবাসা রইল আমার পুত্র সালিমের প্রতি, যে আমার কলিজার টুকরো ও নয়নমণি; মহান রব তাকে ইসলামের সাহায্যকারী হিসেবে কবুল করুন... আল্লাহ আপনাদের মাধ্যমে মহান ইসলামি উম্মাহর কল্যাণ করুন।
আর আমার স্বদেশ সিরিয়া হলো সভ্যতার সূতিকাগার... যা মানবজাতিকে ইতিহাসের প্রথম বর্ণমালা উপহার দিয়েছে। হে প্রভু! একে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় দেশ হিসেবে কবুল করুন এবং এর অধিবাসীদের ফলমূলের রিজিক দান করুন, আর মুসলিম উম্মাহর অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই প্রার্থনা...
* * *
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي رزقَنا سَنَن الاهتداء إلى بلاغة القرآن، والصلاة والسلام على سيدنا محمد المبعوث رحمة للعالمين بلسان عربيٍّ مبين، وعلى آله وصحبه أجمعين.
أمّا بعد:
فالحديث عن البلاغة العربية حديث مهم؛ لأنه يتوجه نحو فهم القرآن أوّلًا، وقد بُذِلت فيه جهودٌ كبيرة؛ فبرزت كتب الجرجاني والسكاكي والقزويني والتفتازاني، وصارت لها شهرة واسعة في الأوساط العلمية.
لكنْ ثمة منهج من التأليف البلاغي لم يحظ بالنصيب الوافر من الشهرة في زماننا؛ ألا وهو المنظومات البلاغية، فثمّة منظومات بلاغية مخطوطة في تراثنا تنتظر من الباحثين جهدًا مخلصا؛ ليستفيد منها أبناؤنا في البلاغة كما استفادوا من منظومة ابن مالك في النحو.
والأخ الدكتور سليمان العميرات تطوّع بالبحث في ظاهرة المنظومات البلاغية فأحصى نحوا من ستين منظومة بلاغية مخطوطة وقدّم عنها دراسة وافية في رسالته للماجستير، ثم انتقى منها منظومة "مئة المعاني" لابن الشحنة، وحقّقها مقابلة على إحدى عشرة نسخة خطية، ثم أحصى نحو ثلاثين من شروح هذه المنظومة وحلّل مناهجها، ثم توخّى أحسن هذه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রের মাধ্যমে সঠিক পথ প্রাপ্তির পদ্ধতি দান করেছেন এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপ সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় প্রেরণ করা হয়েছে, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর:
আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) নিয়ে আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; কারণ এটি প্রাথমিকভাবে কুরআন অনুধাবনের দিকে পরিচালিত করে। এই বিষয়ে ব্যাপক প্রচেষ্টা ব্যয় করা হয়েছে; ফলে জুরজানি, সাক্কাকি, কাযউইনি এবং তাফতাযানির গ্রন্থসমূহ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং ইলমি মহলে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছে।
তবে বালাগাত রচনার এমন একটি ধারা রয়েছে যা আমাদের বর্তমান সময়ে পর্যাপ্ত খ্যাতি লাভ করেনি; আর তা হলো বালাগাত বিষয়ক কাব্যসমগ্র (মানযুমাত)। আমাদের ঐতিহ্যে বালাগাত বিষয়ক এমন অনেক পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান যা গবেষকদের পক্ষ থেকে একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার দাবি রাখে; যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বালাগাত শাস্ত্রে তা থেকে উপকৃত হতে পারে, ঠিক যেভাবে তারা নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে ইবনে মালিকের মানযূমাহ থেকে উপকৃত হয়েছে।
ভাই ডক্টর সুলাইমান আল-উমাইরাত স্বেচ্ছায় বালাগাত বিষয়ক কাব্যগ্রন্থসমূহের এই বিষয়ের ওপর গবেষণার কাজ হাতে নিয়েছেন এবং প্রায় ষাটটি পাণ্ডুলিপি আকারে থাকা কাব্যগ্রন্থ তালিকাভুক্ত করেছেন। তিনি তাঁর মাস্টার্স থিসিসে এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা পেশ করেছেন। অতঃপর তিনি সেখান থেকে ইবনে আশ-শুহনার ‘মিয়াতুল মাআনি’ নামক কাব্যগ্রন্থটি নির্বাচন করেন এবং এগারোটি পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করে এটি সম্পাদনা করেছেন। এরপর তিনি এই কাব্যগ্রন্থের প্রায় ত্রিশটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ তালিকাভুক্ত করেছেন এবং সেগুলোর পদ্ধতি বিশ্লেষণ করেছেন, অতঃপর তিনি এগুলোর মধ্যে সর্বোত্তমটি বেছে নিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الشروح وأوسعها: "درر الفرائد المستحسنة في شرح منظومة ابن الشحنة" فحقّقه مقابلا على أربع نسخ خطية.
وقرأت هذا الكتاب فوجدت الدكتور سليمان العميرات قدّم جهدًا طيبا مباركًا؛ ففي قسم الدراسة عرّف بالنّاظم ومنظومته وشروحها، وعرّف بالشارح ومنهج شرحه.
وفي قسم التحقيق رأيت تحقيقًا نفيسا منضبطا بقواعد المنهج العلمي، يُعالج كلّ المسائل العلمية الواردة في الكتاب؛ من البلاغة والنحو والصرف والتفسير والعقيدة والعروض
… بدقّة تدلّ على سعة اطّلاع وأمانة علمية وصبر.
وقد عاد المحقّق إلى أمّهات الكتب في كلّ علم، وبلغت مصادرُه أربعمئة مصدر في علوم شتّى، منها خمس وثلاثون مخطوطة يعرف قيمتها أهلُ التحقيق. وزادَ على هذا بالاستيفاء على الشارح، فأتمّ المسائل التي تحتاج إلى إتمام.
ثُم جاءت الفهارس الفنيّة لتشمل الآيات والأحاديث والأشعار والموضوعات والمصادر.
وهناك كتب كثيرة في البلاغة العربية، ولكنّ قلّةً منها يمكن أن تقاس بهذا الكتاب الذي يسهم بنهوض فكر القرّاء عموما، وطلبة الأدب العربي والعلوم الشرعية خصوصا.
هذا الكتاب كنز جديد يضاف إلى مكتبتنا العربية، وأشكر أخي الدكتور سليمان العميرات جزاه الله خيرا على هذا الجهد العلمي الدقيق، وأسأل الله أن يُشرّفنا جميعا بخدمة لغة القرآن الكريم.
الدكتور أيمن عبد الرّزّاق الشوا
أستاذ النحو والصرف بكلية الآداب - جامعة دمشق
ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত হলো: "দুরারুল ফারায়েদ আল-মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনিশ শুহনাহ"। তিনি এটি চারটি পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করে সম্পাদনা করেছেন।
আমি এই বইটি পড়েছি এবং দেখেছি যে ডক্টর সুলাইমান আল-উমাইরাত অত্যন্ত চমৎকার ও বরকতময় একটি প্রচেষ্টা পেশ করেছেন; গবেষণামূলক অংশে তিনি রচয়িতা, তাঁর কাব্যগ্রন্থ এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং ব্যাখ্যাকারক ও তাঁর ব্যাখ্যাপদ্ধতি সম্পর্কে পরিচিতি প্রদান করেছেন।
সম্পাদনা অংশে আমি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির নিয়মাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি মূল্যবান সম্পাদনা দেখতে পেয়েছি, যা বইটিতে আসা সমস্ত জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করে; অলঙ্কারশাস্ত্র, নাহু, সরফ, তাফসীর, আকীদা এবং ছন্দতত্ত্ব থেকে শুরু করে
… অত্যন্ত সূক্ষ্মতার সাথে, যা তাঁর ব্যাপক পড়াশোনা, জ্ঞানতাত্ত্বিক আমানতদারিতা এবং ধৈর্যের প্রমাণ দেয়।
সম্পাদক প্রতিটি শাস্ত্রের মূল গ্রন্থসমূহের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং তাঁর তথ্যসূত্র বিভিন্ন শাস্ত্রের চারশত উৎসে পৌঁছেছে, যার মধ্যে পঁয়ত্রিশটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যেগুলোর গুরুত্ব কেবল বিশেষজ্ঞরাই অনুধাবন করেন। এর পাশাপাশি তিনি ব্যাখ্যাকারকের আলোচনার পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছেন, ফলে যে বিষয়গুলো পূর্ণ করার প্রয়োজন ছিল তিনি তা সম্পন্ন করেছেন।
এরপর আয়াত, হাদীস, কবিতা, বিষয়বস্তু এবং সূত্রের সুশৃঙ্খল সূচীসমূহ বিন্যস্ত করা হয়েছে।
আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রে অনেক বই রয়েছে, কিন্তু খুব কম বইকেই এই বইটির সাথে তুলনা করা যেতে পারে, যা সাধারণ পাঠকদের এবং বিশেষ করে আরবি সাহিত্য ও শরয়ী বিজ্ঞানের ছাত্রদের চিন্তার উৎকর্ষ সাধনে অবদান রাখে।
এই বইটি আমাদের আরবি গ্রন্থাগারে যুক্ত হওয়া একটি নতুন রত্নভাণ্ডার। আমি আমার ভাই ডক্টর সুলাইমান আল-উমাইরাতকে এই সূক্ষ্ম জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানাই, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সকলকে পবিত্র কুরআনের ভাষার সেবা করার মাধ্যমে সম্মানিত করেন।
ডক্টর আয়মান আব্দুল রাজ্জাক আল-শাওয়া
অধ্যাপক, নাহু ও সরফ বিভাগ, কলা অনুষদ - দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله، والصّلاة والسّلام على رسول الله، أمّا بعد:
فقد اطّلعت اطّلاعًا واسعًا، وراجعت كثيرًا في رسالة الماجستير للدكتور سليمان العميرات أستاذ البلاغة العربيّة في جامعة دمشق، فوجدتها رسالة نافعة جدًّا، تخدم واحدا من أحسن شروح هذه المنظومة الفريدة التي تُعدّ من أخصر منظومات البلاغة مع الشمول لسائر أبواب العلم وجلّ مسائله.
وقد فرحت جدًّا عندما علمت برغبة أخي الحبيب الأريب اللبيب الدكتور سليمان العميرات برغبته في طباعة هذه الرسالة؛ لشدّة الحاجة إلى وجود شرح محقَّق تحقيقًا علميًّا لهذه المنظومة.
وأسأل الله أن يجعل هذا الكتاب نافعًا لطلّاب العلم، ومُعينًا لهم على دراسة البلاغة، ليتوصّلوا بدراستها إلى تدبُّر آيات الذكر الكريم، وتأمُّل أحاديث نبيّنا الكريم عليه أفضل صلاة وأتم تسليم، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
الدكتور محمد بن عبد العزيز نصيف
أستاذ البلاغة المشارك في الجامعة الإسلامية بالمدينة المنوّرة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। এরপর:
আমি দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের অধ্যাপক ডক্টর সুলাইমান আল-উমাইরাতের মাস্টার্স গবেষণাপত্রটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা করেছি। আমি এটিকে অত্যন্ত উপকারী একটি গবেষণাপত্র হিসেবে পেয়েছি, যা এই অনন্য কাব্যগ্রন্থের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাগ্রন্থের খিদমত আঞ্জাম দেয়। এই কাব্যগ্রন্থটি অলঙ্কারশাস্ত্রের সংক্ষিপ্ততম সংকলনগুলোর মধ্যে গণ্য হওয়া সত্ত্বেও এই ইলমের সকল অধ্যায় ও অধিকাংশ মাসআলাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি যখন আমার প্রিয়, বিচক্ষণ ও প্রাজ্ঞ ভাই ডক্টর সুলাইমান আল-উমাইরাতের এই গবেষণাপত্রটি মুদ্রণ করার আকাঙ্ক্ষার কথা জানতে পেরেছি; কারণ এই কাব্যগ্রন্থটির একটি বৈজ্ঞানিকভাবে সম্পাদিত ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কিতাবটিকে জ্ঞানপিপাসুদের জন্য উপকারী করেন এবং অলঙ্কারশাস্ত্র অধ্যয়নে তাদের জন্য সহায়ক বানান, যাতে তারা এর অধ্যয়নের মাধ্যমে মহিমান্বিত কুরআনের আয়াতসমূহ অনুধাবন করতে এবং আমাদের প্রিয় নবী—তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক—এর হাদিসসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে সক্ষম হয়। আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ডক্টর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ নাসিফ
মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অলঙ্কারশাস্ত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةحمداً لمَنْ خَلَقَ الإنسانَ وعلَّمَه البيان، وصلاةً وسلاماً على أفصحِ بني عدنان.
وأمَّا بعدُ:
فإنَّ عِلمَ البلاغةِ علمٌ قُرآنيٌّ، يُعينُنا على فهمِ كتابِ الله تعالى وتدبُّر معانيه، وما مِن امرئٍ يجتهدُ في تحصيل علوم الشَّريعة الإسلاميّة مِن تفسيرٍ وفقهٍ وعقيدةٍ وأُصولٍ إلّا وهو مُحتاجٌ إلى تحصيلِ علمِ البلاغةِ.
وإنّ ما جرَتْ به عادةُ بعضِ الجامعاتِ مِن الفصلِ بين علم البلاغةِ وعلومِ القرآن الكريم، وحصرِ تدريس علم البلاغة في أقسام اللُّغةِ العربيّة دون كُلّيّات الشّريعة لَهو خطأٌ تاريخيٌّ يُضعِفُ الباحثين في علوم الشّريعة؛ ويحرِمُهم من أحدِ علوم الآلة (علم البلاغة) الذي يُبصِّرُهم بلسان العرب وأسراره؛ ويُساعِدُهم على التَّأويل والاستدلال والاستنباط، ويعصمُهم من الشَّطَطِ والوهم في فهم النُّصوص الشَّرعيّة.
وحرمانُهم من علم البلاغة حَرَمَهم من الإحاطة بأسرار التعبير
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা সেই সত্তার জন্য যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ভাবপ্রকাশের ভাষা শিখিয়েছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বনী আদনানের সর্বাধিক প্রাঞ্জলভাষীর ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই অলঙ্কারশাস্ত্র (ইলমুল বালাগাত) হলো একটি কুরআনকেন্দ্রিক জ্ঞান, যা আমাদের মহান আল্লাহর কিতাব বুঝতে এবং এর মর্মার্থ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে সাহায্য করে। যে ব্যক্তিই তাফসীর, ফিকহ, আকীদা ও উসূলে ফিকহের মতো ইসলামি শরীয়াহর জ্ঞানসমূহ অর্জনে সচেষ্ট হন, তিনি অলঙ্কারশাস্ত্র অর্জনের মুখাপেক্ষী।
কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে অলঙ্কারশাস্ত্র ও কুরআনুল কারীমের জ্ঞানসমূহের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো এবং শরীয়াহ অনুষদগুলোকে বাদ দিয়ে কেবল আরবি ভাষা বিভাগে অলঙ্কারশাস্ত্রের পাঠদান সীমাবদ্ধ রাখার যে রীতি প্রচলিত হয়েছে, তা একটি ঐতিহাসিক ভুল; যা শরীয়াহ বিজ্ঞানের গবেষকদের দুর্বল করে দেয়; এবং এটি তাদের অন্যতম সহায়ক জ্ঞান (ইলমুল আলাত) বা অলঙ্কারশাস্ত্র থেকে বঞ্চিত করে, যা তাদের আরবদের ভাষা ও তার রহস্য সম্পর্কে সম্যক দৃষ্টি দান করে; এবং তাদের ব্যাখ্যা, দলিল উপস্থাপন ও বিধান আহরণে সহায়তা করে, আর শরয়ী পাঠ্যসমূহ (নসুস) অনুধাবনের ক্ষেত্রে তাদের বাড়াবাড়ি ও ভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে।
তাদের অলঙ্কারশাস্ত্র থেকে বঞ্চিত করা মূলত তাদের বাচনভঙ্গির নিগূঢ় রহস্য পরিবেষ্টন করা থেকেই বঞ্চিত করেছে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
القرآنيّ؛ فلا يُدركون الفروق بين المعاني الدقيقة، ولا يشعرون بلذّة البيان القرآنيّ، ولو شئت التأكُّد من ذلك؛ فلتسألهم بعض الأسئلة؛ كهذه:
- قال تعالى: (وَأَنَّا لَا نَدْرِي أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَنْ فِي الْأَرْضِ أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًا) [الجنّ: 10] لماذا وردَ الفعلُ نفسُه في الآية مرّة مبنيّاً للمعلوم وأُخرى للمجهول؟
- قال تعالى: (يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً) [آل عمران: 130] أَوَيجوزُ أكلُ الرّبا إذا لم يبلغ حَدَّ الأضعاف المضاعفة؟ !
- قال تعالى: (وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا) [البقرة: 41] أَوَيجوزُ ذلك إن كان الثمنُ كبيراً؟ !
- قال تعالى: (وَذَا النُّونِ إِذْ ذَهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ أَنْ لَنْ نَقْدِرَ عَلَيْهِ) [الأنبياء: 87] أَوَيصحُّ من نبيٍّ أنْ يظنُّ أن الله تعالى غيرُ قادرٍ عليه؟ !
- قال تعالى: (وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ مِنْ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ) [الأنعام: 151]، وقال: (وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ) [الإسراء: 31] ما حكمة التقديم والتأخير في الآيتين؟
- قال تعالى: (أَلَكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الْأُنْثَى * تِلْكَ إِذًا قِسْمَةٌ ضِيزَى) [النجم: 22] كيف وردت كلمة (ضيزى) في الآية، وهي مُستكرَهة على الأسماع؟
- ما جمال الصّورة في القرآن الكريم؛ كقولِه تعالى: (تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ) [السَّجدة: 16]، وقوله: (وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ) [الإسراء: 24]
… ؟
- قال تعالى: (إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ قَالُوا نَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَكَاذِبُونَ) [المنافقون: 1] ما وظيفة الجملة الاعتراضية (واللَّهُ يعلمُ إنّك لَرسولُه)؟
কুরআনিক; তাই তারা সূক্ষ্ম অর্থসমূহের মধ্যকার পার্থক্য অনুধাবন করতে পারে না এবং কুরআনের অলঙ্কারপূর্ণ বর্ণনার স্বাদ অনুভব করে না। আর আপনি যদি এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে চান, তবে তাদেরকে এই ধরণের কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন:
- মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমরা জানি না যে, জমিনবাসীদের জন্য কোনো অমঙ্গল করা হবে, নাকি তাদের প্রতিপালক তাদের জন্য সঠিক পথের ইচ্ছা করেছেন।" [জিন: ১০] আয়াতে কেন একই ক্রিয়া একবার কর্মবাচ্যে এবং অন্যবার কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত হয়েছে?
- মহান আল্লাহ বলেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না।" [আল ইমরান: ১৩০] তবে কি সুদ খাওয়া জায়েজ হবে যদি তা চক্রবৃদ্ধি হারের পর্যায়ে না পৌঁছে?!
- মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমরা আমার আয়াতসমূহের বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করো না।" [আল বাকারাহ: ৪১] তবে কি মূল্য যদি অনেক বেশি হয় তবে তা গ্রহণ করা জায়েজ হবে?!
- মহান আল্লাহ বলেন: "আর যুন-নূন (ইউনুস)-এর কথা স্মরণ করুন, যখন তিনি ক্রোধান্বিত হয়ে চলে গিয়েছিলেন এবং মনে করেছিলেন যে, আমি তাঁর ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করব না।" [আল আম্বিয়া: ৮৭] একজন নবীর ক্ষেত্রে কি এটা ভাবা সম্ভব যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সক্ষম নন?!
- মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরা দারিদ্র্যের কারণে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না, আমিই তোমাদেরকে এবং তাদেরকে রিযিক দেই।" [আল আন'আম: ১৫১], এবং তিনি বলেন: "তোমরা দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না, আমিই তাদেরকে এবং তোমাদেরকে রিযিক দেই।" [আল ইসরা: ৩১] আয়াত দুটিতে (শব্দের) আগে ও পরে আসার রহস্য কী?
- মহান আল্লাহ বলেন: "পুত্র সন্তান কি তোমাদের জন্য আর কন্যা সন্তান আল্লাহর জন্য? তবে এটি তো এক অন্যায় বণ্টন।" [আন-নাজম: ২১-২২] আয়াতে 'দ্বীযা' শব্দটি কীভাবে ব্যবহৃত হলো, অথচ শ্রবণে এটি একটি অপ্রিয় শব্দ?
- পবিত্র কুরআনের চিত্রায়নের সৌন্দর্য কী; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা হতে আলাদা থাকে।" [আস-সাজদাহ: ১৬], এবং তাঁর বাণী: "মমতাবশে তাদের উভয়ের প্রতি বিনয়ের ডানা অবনমিত করে দাও।" [আল ইসরা: ২৪]
… ?
- মহান আল্লাহ বলেন: "যখন মুনাফিকরা আপনার কাছে আসে, তারা বলে: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল। আর আল্লাহ জানেন যে আপনি অবশ্যই তাঁর রাসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে মুনাফিকরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী।" [আল মুনাফিকুন: ১] এখানে প্রক্ষেপিত বাক্য (আর আল্লাহ জানেন যে আপনি অবশ্যই তাঁর রাসূল)-এর ভূমিকা কী?
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
- قال تعالى: (وَفَجَّرْنَا الْأَرْضَ عُيُونًا) [القمر: 12]، ما الفرق لو قال: (وفجَّرْنا عيونَ الأرضِ)؟
فإذا كان طالبُ الشريعة الذي سيغدو أستاذاً للعلوم الإسلامية عاجزًا عن الفهم الصحيح لآيات القرآن الكريم، فكيف يكون حالُ أبنائنا وهم يدرسون دينَهم على يديه؟ أمّا إذا كان حالُ معلِّمي اللغة العربيّة كذلك؛ فتلك أدهى وأمَرّ.
والعَجَبُ كلُّ العجبِ ممَّن يتكلَّمُ في التَّفسير وهو مُفتقِرٌ إلى علوم العربيّة وبلاغتِها؛ إذْ لا يستطيعُ امرؤٌ تفسيرَ آيةٍ، أو استنباطَ حُكْمٍ، أو تأويلَ حديثٍ مُشكِلٍ؛ إلّا إذا تعلَّمَ لسانَ القرآن وبلاغتَه، وأصبحَ خبيراً بأساليب العربِ في تصريفِ كلامِها؛ فعلمُ البلاغةِ شرطٌ لازمٌ وغيرُ كافٍ لتحصيلِ العلوم الشّرعيّة.
وقد ذَكَرَ السُّيوطيُّ في كتابِه الإتقان خمسةَ عشرَ شرطاً للمُفَسِّرِ؛ هي: «اللُّغةُ، والنَّحوُ، والتَّصريفُ، والاشتقاقُ، والمعاني، والبيانُ، والبديعُ، وعلمُ القراءاتِ، وأصولُ الدِّينِ، وأُصول الفِقهِ، وأسبابُ النُّزولِ، والنّاسِخُ والمنسوخُ، والفقهُ، والأحاديثُ المُبَيِّنةُ لتفسيرِ المُجمَلِ والمُبهَمِ، وعِلمُ المَوهبةِ». فنصفُ شروطِ المفسِّرِ إتقانُ علوم اللُّغة العربيّة، ونصفُها الآخَرُ لا يكونُ إلّا بعد إتقانِ علوم اللُّغة العربيّة، وبعدَ ذلك كُلِّه نرى في زمانِنا مَن يتجرَّأُ على الخوض في التَّفسيرِ والتّأويلِ مع أنَّه لم يُحِطْ بعلوم العربيّة.
ونرى أنّ كثرةً من أبناء أُمّتنا الإسلاميّة من عَوامِّها وخَواصِّها قد حِيْلَ بينَها وبين فَهْمِ كتاب الله تعالى بسبب عُجْمتِها، وعدم إتقانِها لعلوم العربيّة (إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ) [يوسف: 2].
فأضحى أبناؤنا لُقمةً سائغةً في براثنِ بعض المستشرقين الحاقدين
মহান আল্লাহ বলেন: (আর আমি জমিনকে ঝরনারূপে উৎসারিত করলাম) [আল-কামার: ১২], যদি বলা হতো: (আর আমি জমিনের ঝরনাগুলোকে উৎসারিত করলাম), তবে পার্থক্য কী হতো?
যদি শরীয়াহর একজন ছাত্র, যে ভবিষ্যতে ইসলামি বিজ্ঞানের অধ্যাপক হবে, সে-ই যদি পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের সঠিক উপলব্ধি করতে অক্ষম হয়, তবে আমাদের সন্তানদের অবস্থা কী হবে যখন তারা তার কাছে দ্বীন শিক্ষা করবে? আর যদি আরবি ভাষার শিক্ষকদের অবস্থাও এমন হয়, তবে তা হবে আরও বেশি ভয়াবহ ও তিক্ত।
চরম বিস্ময়কর বিষয় হলো তাদের ব্যাপারে যারা তাফসির নিয়ে কথা বলে অথচ তারা আরবি ভাষা ও অলংকার শাস্ত্রের (বালাগাত) জ্ঞান থেকে বঞ্চিত; কেননা কোনো ব্যক্তি কোনো আয়াতের ব্যাখ্যা করতে, কোনো বিধান আহরণ করতে অথবা কোনো জটিল হাদিসের ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হবে না, যতক্ষণ না সে কুরআনের ভাষা ও তার অলংকার শাস্ত্র শিখবে এবং আরবদের বাকভঙ্গির বৈচিত্র্যের ব্যাপারে অভিজ্ঞ হবে। সুতরাং বালাগাত শাস্ত্র হচ্ছে শরীয়াহর জ্ঞান অর্জনের জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত, যদিও তা একাই যথেষ্ট নয়।
ইমাম সুয়ূতী তার আল-ইতকান গ্রন্থে মুফাসসিরের জন্য পনেরোটি শর্ত উল্লেখ করেছেন; সেগুলো হলো: «ভাষা, ব্যাকরণ (নাহু), রূপান্তর (তাসরিফ), শব্দমূল (ইশতিকাক), অর্থালংকার (মাআনি), শব্দালংকার (বায়ান), অলংকারিক কৌশল (বাদি'), কিরাত শাস্ত্র, উসুলুদ দ্বীন (আকিদা), উসুলুল ফিকহ, শানে নুযূল, নাসিখ ও মানসুখ, ফিকহ, মুজমাল ও মুবহাম-এর ব্যাখ্যাকারী হাদিসসমূহ এবং ইলমে মাওহিবা (আল্লাহপ্রদত্ত বিশেষ জ্ঞান)»। সুতরাং একজন মুফাসসিরের অর্ধেক শর্তই হলো আরবি ভাষার জ্ঞান আয়ত্ত করা, আর বাকি অর্ধেকও আরবি ভাষার দক্ষতা অর্জন ব্যতীত সম্ভব নয়। এত কিছুর পরেও আমরা বর্তমান সময়ে এমন সব ব্যক্তিদের দেখি যারা আরবি ভাষায় পারদর্শী না হয়েও কুরআনের তাফসির ও ব্যাখ্যার গভীরে প্রবেশের দুঃসাহস দেখায়।
আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আমাদের মুসলিম উম্মাহর সাধারণ ও বিশেষ স্তরের এক বিশাল অংশ মহান আল্লাহর কিতাব বোঝা থেকে বঞ্চিত হয়েছে তাদের ভাষাগত অনভিজ্ঞতা এবং আরবি বিদ্যায় পারদর্শী না হওয়ার কারণে: (নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআনরূপে অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো) [ইউসুফ: ২]।
ফলে আমাদের সন্তানরা কিছু বিদ্বেষী প্রাচ্যবিদের নখরে সহজ শিকারে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وبعض الضّالّين المُضِلِّين الذين أدركُوا أنّك (إذا أردْتَ قَتْلَ حقيقةٍ فإيّاكَ أنْ تُنْكِرَها، ولكنْ شَوِّهْها)، فأخذوا يُضلِّلون أبناءَنا ويُلَبِّسون عليهم؛ ويَلْوُون أعناقَ النُّصوص مُستغلِّين جهلَ أبناء المسلمين بأسرارِ لغةِ قُرآنهم!
وقد أدرَكَ عُلماؤنا أهميّة علم البلاغة في فهم القرآنِ والسُّنّة، فقال أبو هلال العسكريّ (ت 395 هـ) في كتاب الصِّناعتين: «اعلمْ أنّ أحقَّ العُلوم بالتَّعلُّم، وأَولاها بالتَّحفُّظ- بعد المعرفة بالله جلَّ ثناؤُه- علمُ البلاغة الذي به يُعرَفُ إعجازُ كتاب الله تعالى
… ، وقد عَلِمْنا أنّ الإنسانَ إذا أغفل علمَ البلاغة، وأَخلَّ بمعرفة الفصاحة لم يقعْ عِلمُه بإعجاز القرآن». وقال السَّكّاكيُّ (ت 626 هـ) في كتابِه مفتاح العلوم؛ في أثناءِ كلامِه على عِلْمَي المعاني والبيان: «فالويلُ كُلُّ الويلِ لمَنْ تعاطى التَّفسيرَ وهو فيهما راجِلٌ»، وكانَ ابنُ جِنِّيّ (ت 392 هـ) قد أفردَ في كتابِه الخصائص بابًا حشَدَ فيه الأمثلةَ التي تُؤكِّدُ أنَّ الجهلَ بأساليبِ البلاغة من مجازٍ وكنايةٍ وتشبيهٍ وغيرِ ذلك يُفضي إلى الخطأ في الاعتقاد؛ وقال: «أكثر مَن ضَلَّ مِن أهلِ الشّريعةِ عن القَصْدِ فيها، وحادَ عن الطّريقةِ المُثلى إليها؛ فإنَّما استهواه واستخفَّ حِلْمَه ضَعْفُه في هذه اللُّغةِ الكريمةِ الشّريفةِ».
ومن هُنا انبعثَ اهتمامُ عُلمائنا المسلمين من عَرَبٍ وعَجَمٍ بعلم البلاغة، فحَرَصُوا على تعلُّمِه وتعليمِه، حتّى تَشَعَّبَتْ مسالِكُ التَّصنيفِ في هذا العلمِ؛ فألفينا فيه الكُتبَ النَّظريّة كـ (مفتاح العلوم) لأبي يعقوب السَّكّاكيّ (ت 626 هـ)، و (تلخيص المفتاح) للخطيب القَزوينيّ (ت 739 هـ). والكتُبَ النَّظريّة بلمسةٍ أدبيّة ونقديّة كـ (أسرار البلاغة) و (دلائل الإعجاز) لعبد القاهرِ الجُرجانيّ (ت 471 هـ)، والدِّراساتِ النَّقديّةَ على أُسُسٍ بلاغيّة كـ (المَثَل السَّائر في أدب الكاتب والشّاعر) لضياء الدّين ابن الأثير (ت 637 هـ)، ومُصنَّفاتِ البلاغة التَّطبيقيَّة كتفسير (الكشّاف) للعلّامة الزَّمخشريّ (ت 538 هـ) وهو تاجُ التَّفاسير البلاغيّة، ورسائلَ الإعجاز القرآنيّ كـ (إعجاز القرآن) لأبي
এবং এমন কিছু পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্তকারী, যারা বুঝতে পেরেছে যে (যদি তুমি কোনো সত্যকে বিলুপ্ত করতে চাও, তবে তাকে সরাসরি অস্বীকার করো না, বরং তার বিকৃতি ঘটাও), ফলে তারা আমাদের সন্তানদের বিভ্রান্ত করতে শুরু করেছে এবং তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে; তারা মহান আল্লাহর কুরআনের ভাষার রহস্য সম্পর্কে মুসলিম সন্তানদের অজ্ঞতাকে পুঁজি করে মূল পাঠ বা নصوص-এর অপব্যাখ্যা করছে!
আমাদের উলামায়ে কেরাম কুরআন ও সুন্নাহ বোঝার ক্ষেত্রে অলঙ্কার শাস্ত্রের (ইলমে বালাগাত) গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। আবু হিলাল আল-আসকারী (মৃত্যু ৩৯৫ হি.) তাঁর ‘আল-সিনাআতাঈন’ গ্রন্থে বলেছেন: «জেনে রেখো, জ্ঞানার্জনের জন্য সবচেয়ে যোগ্য এবং আত্মস্থ করার জন্য সবচেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়—আল্লাহ জাল্লা সানাউহু-র পরিচয় লাভের পর—হলো অলঙ্কার শাস্ত্র, যার মাধ্যমে মহান আল্লাহর কিতাবের মুজিজা বা অলৌকিকত্ব জানা যায়
… , আর আমরা জেনেছি যে, মানুষ যখন অলঙ্কার শাস্ত্রকে অবহেলা করে এবং বাগ্মিতা (ফাসাহাত) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে ত্রুটি করে, তখন কুরআনের অলৌকিকত্ব সম্পর্কে তার জ্ঞান যথাযথ হয় না»। সাক্কাকী (মৃত্যু ৬২৬ হি.) তাঁর ‘মিফতাহুল উলূম’ গ্রন্থে ‘মাআনী’ ও ‘বায়ান’ শাস্ত্র নিয়ে আলোচনার সময় বলেছেন: «ঐ ব্যক্তির জন্য চরম দুর্ভোগ, যে এই দুই শাস্ত্রে পারদর্শী না হয়েও তাফসীর চর্চায় লিপ্ত হয়»। ইবনু জিন্নি (মৃত্যু ৩৯২ হি.) তাঁর ‘আল-খাসাইস’ গ্রন্থে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন যেখানে তিনি এমন সব উদাহরণ একত্রিত করেছেন যা নিশ্চিত করে যে, রূপক (মাজায), পরোক্ষ উক্তি (কিনায়া), উপমা (তাশবীহ) ইত্যাদি অলঙ্কার শাস্ত্রীয় পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে অজ্ঞতা আকীদার ক্ষেত্রে ভুলের দিকে নিয়ে যায়; তিনি বলেছেন: «শরীয়তপন্থীদের মধ্যে যারা এর মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং এর আদর্শ পথ থেকে দূরে সরে গেছে, তাদের অধিকাংশকেই এই মহিমান্বিত ও সম্মানিত ভাষায় তাদের দুর্বলতা বিভ্রান্ত করেছে এবং তাদের বোধশক্তিকে তুচ্ছ করেছে»।
এখান থেকেই অলঙ্কার শাস্ত্রের প্রতি আরব ও অনারব মুসলিম উলামায়ে কেরামের আগ্রহের উদ্ভব ঘটে। ফলে তারা এটি শিখা ও শিখানোর প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন, এমনকি এই শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনার ধারা বিভিন্ন শাখায় বিস্তৃত হয়। আমরা এতে তাত্ত্বিক গ্রন্থাবলি খুঁজে পাই যেমন আবু ইয়াকুব আস-সাক্কাকী (মৃত্যু ৬২৬ হি.)-র (মিফতাহুল উলূম) এবং খতীব আল-কাযভীনি (মৃত্যু ৭৩৯ হি.)-র (তালখিসুল মিফতাহ)। এছাড়া সাহিত্যিক ও সমালোচনামূলক ছোঁয়া সম্বলিত তাত্ত্বিক গ্রন্থ যেমন আব্দুল কাহের আল-জোরজানী (মৃত্যু ৪৭১ হি.)-র (আসরারুল বালাগাত) ও (দালাইলুল ই'জায)। অলঙ্কার শাস্ত্রীয় মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে রচিত সমালোচনামূলক গবেষণা যেমন যিয়াউদ্দীন ইবনুল আসীর (মৃত্যু ৬৩৭ হি.)-র (আল-মাসালুস সায়ির ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শায়ির), এবং প্রায়োগিক অলঙ্কার শাস্ত্রের সংকলন যেমন আল্লামা যামাখশারী (মৃত্যু ৫৩৮ হি.)-র তাফসীর (আল-কাশশাফ), যা অলঙ্কারশাস্ত্রী তাফসীরসমূহের মুকুট স্বরূপ; এবং কুরআনের অলৌকিকত্ব বিষয়ক গবেষণাপত্র যেমন আবু-র (ই'জাযুল কুরআন)
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بكر الباقلّانيّ (403 هـ)، وتصنيفاتٍ لبعض المتأدِّبين كـ (العُمْدَة في مَحاسِن الشِّعر وآدابِه) لابن رشيقٍ القَيْروانيّ (ت 463 هـ)، وبديعيّاتٍ كـ (الكافية البديعيّة في المدائح النَّبويّة) لصَفيّ الدِّين الحِلّيّ (ت 750 هـ)، ومنظوماتٍ وأراجيزَ تعليميّةً كـ الحَلَبيّ الكبير (ت 815 هـ).
ولعلَّهم لجؤوا في الأزمنة المتأخِّرةِ إلى طريقة المنظومات التّعليميّة؛ كما في منظومة (مئة المعاني والبيان) لابن الشِّحْنَة؛ لأنّ لها موسيقى تُساعدُ على حفظِ القواعد ورُسوخِها في ذاكرةِ طالب العلم، ولتقييد العلوم وحفظ المخطوطات في الصُّدور بعد ما رأَوا بعيونِهم كثيراً من المخطوطاتِ حُرِّقَتْ وغُرِّقَتْ على أيدي المُغُولِ.
وقد قرأتُ بدقّة وتمعُّنٍ نحواً من ستين منظومةً بلاغية؛ منها: «لِسانُ العَرَب في عُلُوم الأَدَب» لِشَعْبانَ الآثاريِّ (ت 828 هـ)، و «عُقُودُ الجُمان في عِلم المعاني والبيان» للسُّيوطيِّ (ت 911 هـ)، و «الجَوهَرُ المكنون في صَدَف الثَّلاثة فنون» للأخضريّ (ت 953 هـ)، و «منظومةُ الطَّبلاويِّ في الاستعارات» لمنصورٍ الطَّبلاويِّ (ت 1014 هـ)، و «حُسْنُ المجاز بضَبْطِ علاقاتِ المجاز» للسُّنْدُوْبيِّ (ت 1097 هـ)، و «ياقُوتة البَيَان» للإفرانيّ (ت بعد 1155 هـ)، و «منظومة السُّجَاعيِّ» للسُّجَاعيِّ (ت 1197 هـ)، و «كِفايةُ المُعاني في نَظْمِ حُرُوف المَعاني» للبَيْتُوْشِيِّ (ت 1221 هـ)، و «نَوْرُ الأَقاح» للشِّنْقِيْطِيِّ (ت 1225 هـ)، و «نظْمُ الاستعارات» لابن كيران الفاسيّ (ت 1227 هـ)، و «مُلْحَةُ البَيَان» للمَرْصَفِيِّ (ت 1300 هـ)، و «الطِّرازُ المُعْلَم في علم البيان» لناصيف اليازجي (ت 1871 م)، ومنظوماتٌ أخرى؛ أكثرُها ما زال مخطوطاً.
وقد رأيْتُ أنَّ المنظومةَ البلاغيّةَ التي ألَّفَها ابنُ الشِّحْنَة (ت 815 هـ) وأسماها: «مئة المعاني والبيان» أُرجوزةٌ نفيسةٌ، وهي أقدمُ منظومة بلاغيّة تامّةٍ وجدناها، وأوجزُ نظمٍ اختصَرَ مباحثَ تلخيص المفتاح للقزوينيّ
বাকর আল-বাকিল্লানি (৪০৩ হি.), এবং কিছু সাহিত্যিকের রচনা যেমন ইবনে রাশিক আল-কায়রাওয়ানি (মৃত্যু ৪৬৩ হি.) এর 'আল-উমদাহ ফি মাহাসিনিশ শি'রি ওয়া আদাবিহি', এবং অলঙ্কার শাস্ত্রীয় কাব্য যেমন সাফিউদ্দীন আল-হিল্লি (মৃত্যু ৭৫০ হি.) এর 'আল-কাফিয়াতুল বাদিইয়্যাহ ফীল মাদাইহিন নাবাওয়িয়্যাহ', এবং শিক্ষামূলক কাব্যগ্রন্থ ও রাজায ছন্দমালা যেমন আল-হালাবি আল-কাবীর (মৃত্যু ৮১৫ হি.)।
সম্ভবত পরবর্তী সময়ে তাঁরা শিক্ষামূলক ছন্দোবদ্ধ কাব্যরীতির আশ্রয় নিয়েছেন; যেমন ইবনে আশ-শিহনাহ এর 'মিআতুল মাআনি ওয়াল বায়ান' কাব্যগ্রন্থে দেখা যায়; কারণ এতে সুরের দোলা রয়েছে যা নিয়ম-কানুন মুখস্থ করতে এবং ইলম অন্বেষণকারীর স্মৃতিতে তা সুদৃঢ় করতে সাহায্য করে, এবং জ্ঞানকে সীমাবদ্ধ রাখা ও পাণ্ডুলিপিগুলোকে অন্তরে সংরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে, বিশেষ করে যখন তাঁরা স্বচক্ষে দেখেছেন যে মঙ্গোলদের হাতে অনেক পাণ্ডুলিপি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আমি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে এবং গভীরভাবে প্রায় ষাটটি অলঙ্কারশাস্ত্রীয় কাব্যগ্রন্থ পাঠ করেছি; তার মধ্যে রয়েছে: শাবান আল-আছারি (মৃত্যু ৮২৮ হি.) এর 'লিসানুল আরব ফি উলুমিল আদব', আস-সুয়ুতি (মৃত্যু ৯১১ হি.) এর 'উকুদুল জুমান ফি ইলমিল মাআনি ওয়াল বায়ান', আল-আখদরি (মৃত্যু ৯৫৩ হি.) এর 'আল-জাওহারুল মাকনুন ফি সাদাফিছ ছালাছাতি ফুনুন', মানসুর আত-তাবলাউয়ি (মৃত্যু ১০১৪ হি.) এর 'মানজুমাতুত তাবলাউয়ি ফিল ইসতি'আরাত', আস-সুন্দুবি (মৃত্যু ১০৯৭ হি.) এর 'হুসনুল মাজায বি দাবতি আলাকাতিল মাজায', আল-ইফরানি (মৃত্যু ১১৫৫ হি. এর পর) এর 'ইয়াকুতাতুল বায়ান', আস-সুজাঈ (মৃত্যু ১১৯৭ হি.) এর 'মানজুমাতুস সুজাঈ', আল-বাইতুশি (মৃত্যু ১২২১ হি.) এর 'কিফায়াতুল মাআনি ফি নাযমি হুরুফিল মাআনি', আশ-শিনকিতি (মৃত্যু ১২২৫ হি.) এর 'নাওরুল আকাহ', ইবনে কিরান আল-ফাসি (মৃত্যু ১২২৭ হি.) এর 'নাযমুল ইসতি'আরাত', আল-মারসাফি (মৃত্যু ১৩০০ হি.) এর 'মুলহাতুল বায়ান', নাসিফ আল-ইয়াজিজি (মৃত্যু ১৮৭১ খ্রি.) এর 'আত-তিরাযুল মুআলাম ফি ইলমিল বায়ান', এবং আরও অনেক কাব্যগ্রন্থ; যার অধিকাংশই এখনো পাণ্ডুলিপি আকারে রয়ে গেছে।
আমি দেখেছি যে ইবনে আশ-শিহনাহ (মৃত্যু ৮১৫ হি.) রচিত অলঙ্কারশাস্ত্রীয় কাব্যগ্রন্থ, যার নাম তিনি দিয়েছেন: 'মিআতুল মাআনি ওয়াল বায়ান', সেটি একটি মূল্যবান উরজুযাহ, এবং এটি আমাদের পাওয়া প্রাচীনতম পূর্ণাঙ্গ অলঙ্কারশাস্ত্রীয় কাব্যগ্রন্থ, যা আল-কাযউয়িনি রচিত 'তালখীসুল মিফতাহ' এর আলোচ্য বিষয়গুলোকে সংক্ষিপ্ততম ছন্দে সংকলিত করেছে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
(ت 739 هـ) في مئة بيتٍ، فجمعَتْ من أبوابِ البلاغةِ ما لم يَجتمعْ في مثيلاتِها، فحَظِيَتْ بما لم تحظَ به منظومةٌ بلاغيّةٌ أُخرى من كَثرة الشُّروح، فضلاً عن كثرة النُّسَخ الخطّيّة لها حولَ العالَم.
فأقبلَ عليها المعلِّمون والمتعلِّمون في أمصارٍ مختلفةٍ حِفظاً ودرساً وشرحاً؛ بسبب دقّتِها ووِجازتِها. وكثيراً مّا تشيرُ كُتبُ التَّراجِم إلى أنّ هذا الرّجُل ممّا قرأَهُ مئةُ المعاني والبيان لابن الشِّحنة الحلبيّ؛ فقد كانَ ممَّا يُمتدَحُ به طالبُ العلم أن يحفظَ منظومةَ ابنِ الشِّحنة في البلاغة.
لكنّ شُداةَ البلاغةِ ما زالُوا يشتكون من غياب شرحٍ واضحٍ يَسُدُّ حاجتَهم في فَكِّ عبارة هذه المنظومة، ويعينُهم على فهم مطالبها ومباحثها. ورأيتُ لهذه المنظومة شروحاً مخطوطةً كثيرةً؛ إلّا أنّه لم يُرزَقْ أيٌّ منها بنشرةٍ عِلميَّةٍ تُغني عن بقيَّة الشُّروح.
فقرأتُ هذه الشُّروحَ جميعاً، وانتهيتُ إلى أنَّ «دُرَر الفَرائد المُسْتَحْسَنة في شرح منظومة ابن الشِّحْنة» لابن عبد الحقِّ العُمَريِّ الطَّرَابُلْسِيِّ (ت بعد 1024 هـ) هو أنفَسُ هذه الشُّروح، وأوسعُها مادّةً بلاغيّةً، وأجوَدُها عَرْضاً للمادَّة، وأغزرُها أمثلةً، ومِن أقربِ شروح المنظومةِ مأخذاً؛ فضلاً عن كثرة مصادرِه. وهو إلى ذلك مازالَ غُفْلاً لم يُطبَع مِن قَبْلُ، ويتضمَّنُ في علم البديع رسالةً لطيفةً في الجِناس لعبد العزيز الدّيرينيّ (ت 697 هـ) فيها تجديدٌ في الشَّواهد، ولم يَسبقْ نشرُها أو دراستُها.
وكانَ العُمَرِيُّ في شَرحِه هذا كثيرَ الاتِّكاءِ على كُتُبِ مَن سبَقَه، ولاسيَّما شرحِ مُحِبِّ الدِّين الحمويِّ (ت 969 هـ) الذي سبقَه في شرح المنظومة، فتوقَّفَ العُمَرِيُّ يَرُدُّ آراءَه في مواضعَ كثيرةٍ، فجاءَ كتابُه «دُرَر الفرائد المُسْتَحْسَنة
… » مُغْنياً عن بقيَّة الشُّروح إغناءَ الصَّباح عن المِصباح.
(মৃত্যু ৭৩৯ হিজরি) একশত চরণে; এটি অলঙ্কারশাস্ত্রের এমন সব অধ্যায়কে একত্রিত করেছে যা এর সমজাতীয় অন্যগুলোতে পাওয়া যায় না। ফলে এটি এমন এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে যা এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রাচুর্যের কারণে অন্য কোনো অলঙ্কারশাস্ত্রীয় কাব্য লাভ করতে পারেনি; এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে এর পাণ্ডুলিপির সংখ্যাও অত্যধিক।
এর সূক্ষ্মতা ও সংক্ষিপ্ততার কারণে বিভিন্ন জনপদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ এটি মুখস্থকরণ, পাঠদান ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে এর প্রতি মনোনিবেশ করেছেন। জীবনবৃত্তান্ত বিষয়ক গ্রন্থসমূহে প্রায়ই উল্লেখ পাওয়া যায় যে, কোনো এক ব্যক্তি ইবনে আল-শিহনা আল-হালাবি রচিত 'মিআতু আল-মাআনি ওয়াল বায়ান' পাঠ করেছেন; কেননা অলঙ্কারশাস্ত্রে ইবনে আল-শিহনার কাব্যটি মুখস্থ রাখা জ্ঞানান্বেষীদের জন্য প্রশংসনীয় গুণের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে অলঙ্কারশাস্ত্রের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘকাল ধরে এমন একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যার অভাব বোধ করছিলেন, যা এই কাব্যের শব্দবিন্যাস উন্মোচনে তাদের প্রয়োজন মেটাবে এবং এর উদ্দেশ্য ও আলোচ্য বিষয়গুলো বুঝতে সাহায্য করবে। আমি এই কাব্যের অনেক পাণ্ডুলিপিভিত্তিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ দেখেছি; তবে সেগুলোর কোনটিই এমন কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পাদনার মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেনি যা অন্যান্য ব্যাখ্যার অভাব পূরণ করতে পারে।
অতঃপর আমি এই সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করেছি এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, ইবনে আবদিল হক আল-উমারি আত-তারাবুলসি (মৃত্যু ১০২৪ হিজরির পর) রচিত ‘দুরারুল ফারায়েদ আল-মুসতাহসানা ফি শারহি মানযূমাতি ইবনিশ শিহনা’ গ্রন্থটি এই ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে সবচাইতে মূল্যবান। এটি অলঙ্কারশাস্ত্রের উপাদানে সমৃদ্ধতম, উপস্থাপনায় উৎকৃষ্টতম এবং উদাহরণে প্রাচুর্যময়; তদুপরি এটি এই কাব্যের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচাইতে সহজবোধ্য এবং এর উৎসের আধিক্যও লক্ষণীয়। উপরন্তু এটি এ যাবত অপ্রকাশিত অবস্থায় রয়ে গেছে এবং এর আগে কখনও মুদ্রিত হয়নি। এতে ইলমে বাদী বা শব্দালঙ্কার বিষয়ে আব্দুল আজিজ আদ-দাইরিনি (মৃত্যু ৬৯৭ হিজরি) রচিত ‘জিনাস’ বা অনুপ্রাস বিষয়ক একটি চমৎকার পুস্তিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাতে উদাহরণের ক্ষেত্রে নতুনত্ব রয়েছে এবং যা ইতিপূর্বে প্রকাশিত বা পর্যালোচিত হয়নি।
আল-উমারি তার এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে পূর্ববর্তী লেখকদের কিতাবসমূহের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করেছেন, বিশেষ করে মুহিব্বুদ্দীন আল-হামাভি (মৃত্যু ৯৬৯ হিজরি) রচিত ব্যাখ্যার ওপর, যিনি তার পূর্বে এই কাব্যের ব্যাখ্যা লিখেছিলেন। আল-উমারি বহু স্থানে তার মতামতের পর্যালোচনা ও খণ্ডন করেছেন। ফলে তার ‘দুরারুল ফারায়েদ আল-মুসতাহসানা
… ’ গ্রন্থটি অন্যান্য সকল ব্যাখ্যার তুলনায় এমন স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে, যেমন প্রদীপের বিপরীতে সকালের আলো।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ورأيتُ أنَّ «دُرَر الفرائد المُسْتَحْسَنة في شرح منظومة ابن الشِّحنة» لابن عبد الحقّ العمريّ الطّرابُلْسيّ (ت بعد 1024 هـ) من النُّصوصِ الصّالحةِ لِأَنْ تُتَّخَذَ قاعدةً للدَّرسِ والتَّحقيق في بحثٍ أُعِدُّه لنيل درجة الماجستير في علوم اللُّغة العربيّة وآدابِها في جامعة دمشق.
وجعلتُ موضوعَ بحثي هذا في قِسمين؛ خصَصْتُ أوَّلَهما للدِّراسة، وأفردتُ الثّانيَ للنَّصِّ المُحقَّق.
أمّا الدِّراسةُ فكانت في فصلَين:
الفصل الأوّل: (النّاظم والمنظوم) تناولتُ فيه النّاظمَ ابنَ الشِّحْنَة، فأظهرتُ ملامحَ شخصيَّتِه العِلميّة؛ ومصنَّفاتِه. وتكلّمتُ على منظومة ابن الشِّحْنةِ (عَرْضاً ونقداً)؛ فعرضتُ لأبوابِها ومضمونها وبيّنتُ مكانةَ هذه المنظومة من تاريخ التّأليف البلاغيّ العربيّ.
ثُمَّ وقفتُ عندَ الحركة التَّأليفيَّة الدَّائرة حولَ منظومةِ ابن الشِّحنة، فأحصيتُ قريبًا من ثلاثين من الشُّروح التي أُقيمَتْ عليها - وجُلُّها مازالَ مخطوطاً.
الفصل الثّاني: (الشّارح والمشروح) عقدتُه لدراسة كتابِ «دُرَر الفرائد المستحسَنة في شرح منظومة ابن الشِّحْنة»، فترجمتُ لصاحبِه ابن عبد الحقّ العُمريّ، ثُمّ درستُ الأُسُسَ التي بنى عليها منهجَه في شرح كلامِ النّاظمِ، وطريقتَه في عَرْضِ المادّةِ وترتيبِها، وعرضتُ لمصادرِه، ومسالكِه في الأخْذِ عنها، وتكلَّمْتُ بعد ذلك على منزلة هذا الشّرحِ مُشيراً إلى ما فيه من مزايا جعلَتْهُ أكثرَ الشُّروحِ اشتِهاراً وتداوُلاً.
وأمّا التّحقيقُ فكانَ على أربعِ نُسَخٍ إحداها نفيسةٌ بخطِّ نجلِ المؤلِّف نقلاً عن مُسوَّدةِ أبيه، وكنتُ أطمحُ فيه إلى تقديمِ مَتْنٍ في علم البلاغةِ أقربَ ما يكونُ إلى الصِّحّة والسّلامة مادّةً وضَبْطاً، أربُطُ فيه هذا
আমি মনে করি যে, ইবনে আবদিল হক আল-উমারি আত-তরাবুলসি (মৃত্যু ১০২৪ হিজরির পরে) রচিত «দুরারুল ফারায়িদ আল-মুস্তাহসানাহ ফি শারহি মানজুমাহ ইবনুশ শিহনা» গ্রন্থটি দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য আমার প্রস্তুতকৃত গবেষণায় অধ্যয়ন ও সম্পাদনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণের উপযোগী একটি মূল পাঠ।
আমি আমার এই গবেষণার বিষয়টিকে দুটি অংশে বিভক্ত করেছি; এর প্রথম অংশটি পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি এবং দ্বিতীয় অংশটি সম্পাদিত মূল পাঠের জন্য বরাদ্দ করেছি।
আর পর্যালোচনা অংশটি দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: (মূল কাব্যের রচয়িতা ও কাব্য) এতে আমি রচয়িতা ইবনুশ শিহনার ব্যাপারে আলোচনা করেছি এবং তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যসমূহ ও তাঁর রচনাবলী তুলে ধরেছি। আমি ইবনুশ শিহনার কাব্যের ওপর (উপস্থাপন ও পর্যালোচনামূলক) আলোচনা করেছি; এখানে আমি এর বিভিন্ন অধ্যায় ও বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেছি এবং আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের রচনার ইতিহাসে এই কাব্যের স্থান স্পষ্ট করেছি।
এরপর আমি ইবনুশ শিহনার এই কাব্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা রচনামূলক কর্মকাণ্ডের ওপর আলোকপাত করেছি এবং এর ওপর রচিত প্রায় ত্রিশটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের তালিকা প্রস্তুত করেছি—যার অধিকাংশই এখনো পাণ্ডুলিপি আকারে রয়ে গেছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: (ব্যাখ্যাকার ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ) এই পরিচ্ছেদটি আমি «দুরারুল ফারায়িদ আল-মুস্তাহসানাহ ফি শারহি মানজুমাহ ইবনুশ শিহনা» গ্রন্থটি পর্যালোচনার জন্য নির্ধারণ করেছি। এতে আমি এর লেখক ইবনে আবদিল হক আল-উমারির জীবনী বর্ণনা করেছি, এরপর মূল রচয়িতার কথাগুলো ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে তিনি যে মূলনীতির ওপর তাঁর কর্মপদ্ধতি সাজিয়েছেন এবং বিষয়বস্তু উপস্থাপন ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছি। এছাড়া তাঁর গবেষণার উৎসসমূহ এবং সেগুলো থেকে তথ্য গ্রহণের তরীকা বর্ণনা করেছি। এরপর আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের মর্যাদা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এর সেই সব বৈশিষ্ট্যের দিকে ইঙ্গিত করেছি যা একে অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থের তুলনায় অধিক প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত করে তুলেছে।
আর সম্পাদনার কাজটি চারটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে একটি অত্যন্ত মূল্যবান যা লেখকের পুত্রের হস্তলিপিতে তাঁর পিতার খসড়া থেকে অনুলিপি করা হয়েছিল। এই সম্পাদনার মাধ্যমে আমার লক্ষ্য ছিল অলঙ্কারশাস্ত্রের এমন একটি মূল পাঠ উপস্থাপন করা যা বিষয়বস্তু ও নির্ভুলতার দিক থেকে শুদ্ধতার সবচেয়ে কাছাকাছি হবে, যার মাধ্যমে আমি একে...
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الشّرحَ بنظيرِه السّابق، وأُبيِّنُ فيه أُصولَ مادّتِه في مصادرِه التي صرَّحَ بها أو أخفاها، وأمُدُّ الأسبابَ بينَه وبينَ أُمَّهاتِ الكُتُبِ التي يُعوَّلُ عليها في تتبُّعِ مسائلِ هذا العِلم، مُجتهِداً من وراءِ ذلك إلى استيفاءِ ما لم يستوفِه الشّارحُ رحمه الله، والتَّثبُّتِ من سلامةِ مادّتِه. وبدأتُه بمقدِّمةٍ ذكرَتْ أبرزَ الأُسُسِ التي بُنيَ عليها عَمَلُ التّحقيق.
ولمّا كانتْ منظومةُ ابنِ الشِّحْنة - على تعدُّدِ طَبَعاتِها - ليسَ لها طبعةٌ مُحقَّقَةٌ تحقيقاً عِلميّاً، فقد ألحقتُ بالدِّراسةِ متنَ الأرجوزةِ مُحقَّقاً مُقابَلاً على إحدى عشرةَ نُسخةً خطيَّةً.
وبعدُ؛ فمسالكُ البحثِ لم تكُنْ سهلةً، ولكنْ أينَ نحنُ من أولئك الّذين أفنَوا حياتَهم في خِدمةِ هذه اللُّغة الشَّريفة؛ لغةِ القرآن الكريم.
هذا بحثُ الماجستير تمّ عام 2009 م، واليومَ أدفعُه إلى الطَّبعِ، بعد اختصار قسم الدّراسة. ولستُ أدَّعي أنّني أَوْفَيْتُ على الغاية، وليسَ لِمِثْلي أنْ يبلُغَها، ولكنّها محاولةُ مَن يتلمَّسُ طريقَ الاجتهاد، فإنْ أصبتُ فبفضلٍ من الله تعالى، وإنْ عَثَرْتُ فحسبي أنّي أخلصْتُ النِّيّة. راجياً منه جل جلاله أنْ أكونَ مِمَّنْ تُرتضى أخلاقُه في بابِ البحثِ والاجتهاد.
تَحِنُّ إلى أجْبالِ مَكَّةَ ناقتي
… ومِن دونِها أبوابُ صَنعاءَ مُؤْصَدهْ
والحمدُ لله ربِّ العالَمين.
الدُّكتور سُليمان حُسَين العُمَيرات
أستاذ البلاغة العربيّة بجامعة دمشق
مُحاضِر الدّراسات العليا بجامعة إزمير كاتب شلبي حاليّاً
sulimanomirat@gmail.com
1/ رمضان/1437 هـ- الموافق 6/ 6/ 2016 م
আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে তার পূর্ববর্তী অনুরূপ ভাষ্যের সাথে ব্যাখ্যা করেছি এবং এতে তার বিষয়বস্তুর মূল উৎসসমূহ বর্ণনা করেছি, যে উৎসগুলোর কথা তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন কিংবা গোপন রেখেছেন। আর আমি এই গ্রন্থের সাথে সেই সকল মৌলিক কিতাবসমূহের যোগসূত্র স্থাপন করেছি, যেগুলোর ওপর এই ইলমের মাসআলাগুলো অনুসরণের ক্ষেত্রে নির্ভর করা হয়। এর মাধ্যমে আমি ব্যাখ্যাকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) যা অসম্পূর্ণ রেখেছেন তা পূর্ণ করার এবং বিষয়বস্তুর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। আমি এটি একটি ভূমিকা দিয়ে শুরু করেছি, যেখানে তাহকিকের (গবেষণামূলক সম্পাদনা) কাজ যে সকল প্রধান ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, তা উল্লেখ করেছি।
যেহেতু ইবনুল শিহনার মানজুমা (কবিতা) গ্রন্থটির—একাধিক সংস্করণ থাকা সত্ত্বেও—কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে তাহকিককৃত সংস্করণ ছিল না, তাই আমি এই গবেষণার সাথে এগারোটি পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করে তাহকিককৃত 'মানজুমায়ে উরজুজা'র মূল পাঠটি সংযুক্ত করেছি।
অতঃপর, গবেষণার পথ সহজ ছিল না; কিন্তু আমরা কি তাদের সমকক্ষ হতে পারি যারা এই সম্মানিত ভাষা তথা পবিত্র কুরআনের ভাষার সেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন?
এটি একটি মাস্টার্স থিসিস যা ২০০৯ সালে সম্পন্ন হয়েছিল, আর আজ আমি গবেষণামূলক অংশটি সংক্ষিপ্ত করে তা মুদ্রণের জন্য পেশ করছি। আমি দাবি করছি না যে আমি এর চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি, আর আমার মতো কারও পক্ষে তা সম্ভবও নয়। বরং এটি কেবল ইজতিহাদের পথে অনুসন্ধানকারীর একটি প্রচেষ্টা মাত্র। যদি আমি সঠিক হয়ে থাকি তবে তা মহান আল্লাহর অনুগ্রহে, আর যদি আমি ভুল করে থাকি তবে আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে আমার নিয়ত বিশুদ্ধ ছিল। আমি মহামহিমান্বিত আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেন গবেষণার ক্ষেত্রে যাদের চরিত্র পছন্দনীয়।
আমার উষ্ট্রী মক্কার পাহাড়গুলোর জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠছে
… অথচ তার সামনে সানআর ফটকগুলো রুদ্ধ হয়ে আছে।
যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ডক্টর সুলাইমান হুসাইন আল-উমাইরাত
দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের অধ্যাপক
বর্তমানে ইজমির কাতিব চেলেবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের লেকচারার
sulimanomirat@gmail.com
১/ রমজান/ ১৪৩৭ হিজরি - মোতাবেক ৬/ ৬/ ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المحتوى
القسم الأوّل: الدّراسة
• الفصل الأول: أرجوزة ابن الشِّحْنة (ت 815 هـ)
المبحث الأوّل: النَّاظِم حياته العلميّة، وآثاره.
المبحث الثّاني: أرجوزة ابن الشِّحْنَة في البلاغة؛ عَرْضٌ، ونقد.
• الفصل الثّاني: الشّارح العمريّ (ت 1024 هـ)، ومنهجه.
المبحث الأوّل: الشَّارح العمريّ، وكتابه الدُّرَر.
المبحث الثّاني: منهج العمريّ في شرح مئة المعاني والبيان.
المبحث الثّالث: مصادر العمريّ في شرح مئة المعاني والبيان.
المبحث الرّابع: منزلة شرح العمريّ.
• ملحق (تحقيق منظومة مئة المعاني والبيان لابن الشِّحنة الكبير).
القسم الثّاني: التحقيق
الفهارس العامة.
বিষয়বস্তু
প্রথম অংশ: গবেষণা
• প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে আশ-শিহনার (মৃত্যু ৮১৫ হি.) আরজুযা
প্রথম আলোচনা: কাব্যকার, তাঁর ইলমি জীবন এবং তাঁর রচনাবলি।
দ্বিতীয় আলোচনা: বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিষয়ে ইবনে আশ-শিহনার আরজুযা; উপস্থাপনা ও সমালোচনা।
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শারহকারী আল-উমরি (মৃত্যু ১০২৪ হি.) এবং তাঁর পদ্ধতি।
প্রথম আলোচনা: শারহকারী আল-উমরি এবং তাঁর গ্রন্থ ‘আদ-দুরার’।
দ্বিতীয় আলোচনা: ‘মিআতুল মাআনি ওয়াল বায়ান’-এর ব্যাখ্যায় আল-উমরির পদ্ধতি।
তৃতীয় আলোচনা: ‘মিআতুল মাআনি ওয়াল বায়ান’-এর ব্যাখ্যায় আল-উমরির উৎসসমূহ।
চতুর্থ আলোচনা: আল-উমরির ব্যাখ্যার মর্যাদা।
• পরিশিষ্ট (ইবনে আশ-শিহনা আল-কাবিরের ‘মানযুমাতু মিআতিল মাআনি ওয়াল বায়ান’-এর সম্পাদনা)।
দ্বিতীয় অংশ: তাহকিক (সম্পাদনা)
সাধারণ নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
قسم الدِّراسة
গবেষণা বিভাগ
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصل الأوّل أُرجوزة ابن الشِّحْنَة- المبحث الأوّل: النَّاظِم؛ حياته العلميّة، وآثاره.
- المبحث الثّاني: أرجوزة ابن الشِّحْنَة في البلاغة؛ عَرْضٌ، ونقد.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে আল-শিহনার উরজুযাহ- প্রথম অনুচ্ছেদ: গ্রন্থকার; তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন ও রচনাবলি।
- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অলঙ্কারশাস্ত্রে ইবনে আল-শিহনার উরজুযাহ; উপস্থাপনা ও সমালোচনা।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الأوّل النّاظِم ابن الشِّحْنَة الكبير (1) (حياته العِلميّة، وآثاره)
(749 - 815 هـ/1348 - 1412 م)
•
اسمه ونسَبه، وكِنيته، ولقبه:محمّد بن محمّد بن محمّد بن محمود بن غازي بن أيّوب بن محمود حُسام الدِّين بن الخُتْلُو، وكنيته: أبو الوليد، أمَّا لقبهُ فهو: (ابن الشِّحْنَة) بكسر الشّين، وسكون الحاء المهمَلة، وفتْح النُّون. والشِّحْنَة لقبٌ أتاه عن جدِّه «محمود» شِحْنَةِ حلبَ، أي: رئيسِ شُرطتِها.
•
مولده، وبيتُه العِلميّ:وُلِدَ ابنُ الشِّحنةِ بحلبَ 749 هـ، في أسرةٍ عريقةٍ في الإفتاء والقضاء والرِّياسة، فحفظ القرآنَ العظيم وكتباً ومتوناً، وجَدّ في العلوم المنطوق فيها
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থকার ইবনুল শিহনা আল-কাবীর (১) (তাঁর ইলমি জীবন ও কর্মসমূহ)
(৭৪৯ - ৮১৫ হিজরি / ১৩৪৮ - ১৪১২ খ্রিস্টাব্দ)
•
তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম ও উপাধি:মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মাহমুদ ইবন গাজী ইবন আইয়ুব ইবন মাহমুদ হুসামুদ্দীন ইবন আল-খুতলু। তাঁর উপনাম: আবুল ওয়ালীদ। আর তাঁর উপাধি হলো: (ইবনুল শিহনা), 'শীন' বর্ণে কাসরা, 'হা' বর্ণে সুকুন এবং 'নুন' বর্ণে ফাতহা যোগে। 'শিহনা' উপাধিটি তিনি তাঁর দাদা 'মাহমুদ' থেকে লাভ করেন, যিনি ছিলেন আলেপ্পোর 'শিহনা', অর্থাৎ সেখানকার পুলিশ প্রধান।
•
তাঁর জন্ম ও ইলমি পরিবার:ইবনুল শিহনা ৭৪৯ হিজরিতে আলেপ্পোতে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যারা ফতোয়া প্রদান, বিচারকার্য এবং নেতৃত্বের জন্য সুপরিচিত ছিল। তিনি মহান কুরআন এবং বেশ কিছু কিতাব ও মতন (মূলপাঠ) মুখস্থ করেন এবং শ্রুত জ্ঞানসমূহে কঠোর সাধনা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
والمفهوم، أخذَها عن شيوخ بلده والقادمينَ إليها، وكان من أجداده الأميرُ حسام الدِّين شِحْنَةُ حلبَ، الذي بنى مدرسةً ومسجداً للهِ تعالى، ووقَفَ وقْفاً على الصَّدَقة وفَكاك الأسرى؛ ممّا يدلُّ على صلاحِه ونُصرتِه للعِلم وشُداته. وسنقف على نفرٍ من نَسْلِ أبي الوليد؛ لُقِّبوا بـ"ابن الشِّحنة"؛ لأنّ بعض الباحثين يخلطُ بين هؤلاء العلماء الذين جمعَهم لقبٌ واحد.
1 - ابن الشِّحنة (ت. ق 815 هـ) «ابنه: الوليد».
2 - ابن الشِّحنة (788 - 833 هـ) «ابنه: عبد اللّطيف» أوحد الدّين.
3 - ابن الشِّحنة الصَّغير (804 - 890 هـ) «ابنه: محبّ الدّين».
4 - ابن الشِّحنة (824 - 898 هـ) «حفيده: أثير الدّين.
5 - ابن الشِّحنة (851 - 921 هـ) «حفيده: سريّ الدّين» عبد البرّ.
6 - ابن الشِّحنة (844 - 882 هـ) «ابن حفيده: لسان الدّين».
7 - ابن الشِّحنة (ت 892 هـ) «جلال الدّين، ابن حفيده أثير الدّين».
•
مذهبه الفِقهيّ، وتولّيه القضاء:كانَ محبُّ الدِّين حنفيّاً، محبّاً للسُّنّة وأهلها، وَلِيَ قضاءَ حلبَ في التّاسعةَ عشرةَ، وولي قضاء الحنفيّة بمصر، ثمّ ولي قضاءَ الشّام كُلّه؛ حتّى لُقِّب بـ «قاضي القُضاة»، وتابَعَ اشتغالَه بالقضاء حتّى قُبِضَ، ولم يُعرَف عنه إلّا النّزاهةُ والعدالة. وله مع تيمورلنك خبر مشهور (1).
--------------------------------------------
এবং এটি বোধগম্য যে, তিনি তা তাঁর নিজ শহরের শায়খদের নিকট থেকে এবং সেখানে যারা আসতেন তাঁদের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে ছিলেন আমীর হুসামুদ্দীন শিহনাহ, যিনি হালাবের (আলেপ্পো) শাসনকর্তা ছিলেন। তিনি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি মাদ্রাসা ও একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন এবং দান-সদকা ও বন্দি মুক্তির জন্য সম্পদ ওয়াকফ করেছিলেন; যা তাঁর ধার্মিকতা এবং ইলম ও ইলম অন্বেষণকারীদের প্রতি তাঁর সহযোগিতার প্রমাণ বহন করে। আমরা আবু ওয়ালিদের বংশধরদের একদল লোকের কথা উল্লেখ করব; যাঁরা "ইবনুল শিহনাহ" উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন; কারণ কিছু গবেষক একই উপাধিধারী এই আলেমদের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন।
১ - ইবনুল শিহনাহ (মৃত্যু আনুমানিক ৮১৫ হিজরী) «তাঁর পুত্র: আল-ওয়ালিদ»।
২ - ইবনুল শিহনাহ (৭৮৮ - ৮৩৩ হিজরী) «তাঁর পুত্র: আব্দুল লতিফ» আওহাদুদ্দীন।
৩ - ইবনুল শিহনাহ আস-সাগীর (৮০৪ - ৮৯০ হিজরী) «তাঁর পুত্র: মুহিব্বুদ্দীন»।
৪ - ইবনুল শিহনাহ (৮২৪ - ৮৯৮ হিজরী) «তাঁর পৌত্র: আসীরুদ্দীন।
৫ - ইবনুল শিহনাহ (৮৫১ - ৯২১ হিজরী) «তাঁর পৌত্র: সারিয়্যুদ্দীন» আব্দুল বার।
৬ - ইবনুল শিহনাহ (৮৪৪ - ৮٨২ হিজরী) «তাঁর প্রপৌত্র: লিসানুদ্দীন»।
৭ - ইবনুল শিহনাহ (মৃত্যু ৮৯২ হিজরী) «জালালুদ্দীন, তাঁর প্রপৌত্র আসীরুদ্দীন»।
•
তাঁর ফিকহি মাযহাব এবং বিচারকের দায়িত্ব পালন:মুহিব্বুদ্দীন হানাফী ছিলেন, সুন্নাহ ও সুন্নাহর অনুসারীদের ভালোবাসতেন। তিনি উনিশ বছর বয়সে হালাবের বিচারক (কাযী) নিযুক্ত হন। এরপর তিনি মিশরের হানাফী বিচারক এবং পরবর্তীতে সমগ্র শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের বিচারক নিযুক্ত হন; এমনকি তাঁকে «কাযিউল কুযাত» (প্রধান বিচারপতি) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিচারকার্য অব্যাহত রাখেন এবং তাঁর সম্পর্কে সততা ও ন্যায়বিচার ছাড়া অন্য কিছু জানা যায়নি। তৈমুর লং-এর সাথে তাঁর একটি বিখ্যাত ঘটনা রয়েছে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
•
آثاره:1. «ألفيّة رجز» تشتمل على عشرة علوم؛ مِن فقهٍ وأُصولٍ وتفسيرٍ وغيرها.
2. «ألفيّة اختصرَ فيها منظومةَ النَّسَفِيّ في الخِلاف، وضَمَّ إليها مذهبَ أحمد».
3. «ألفيّة في الفرائض».
4. «روض المناظر في عِلم الأوائل والأواخر» في التاريخ.
5. «أوضح الدّليل والأبحاث فيما يحلّ به المطلَّقةُ بالثّلاث».
6. «الأمالي» في الحديث، سبعون مجلساً.
7. «اقتطاف الأزاهر في ذيل روض المناظر» هو ذيلٌ على الرّوض.
8. «تفسير غريب القرآن العظيم»، لم يكمله.
9. «تنوير المنار».
10. «الرّحلة القَسْريّة بالدّيار المصريّة».
11. «المنظومة الحلبيّة في السِّيرة النّبويّة». وشرحَها حفيدُه أبو البركات.
12. «شرْح الكَشَّاف»، لم يكمله.
13. «عقيدة» قصيدة بائيّة.
14. «المُبتغى» اختصارٌ مبالَغٌ فيه لروض المناظر.
তাঁর রচনাবলি:১. «আলফিয়্যা রাজায» যা দশটি জ্ঞানশাখা অন্তর্ভুক্ত করে; ফিকহ, উসুল, তাফসির ও অন্যান্য শাস্ত্র।
২. «আলফিয়্যা» যাতে তিনি ইখতিলাফ (মতভেদ) বিষয়ে নাসাফীর কাব্যসংকলনটি সংক্ষেপ করেছেন এবং এতে আহমাদ বিন হাম্বলের মাযহাব যুক্ত করেছেন।
৩. «ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) বিষয়ক আলফিয়্যা (সহস্রপদী কাব্য)»।
৪. ইতিহাসের ওপর রচিত «রাওদুল মানাযির ফি ইলমিল আওয়াইল ওয়াল আওয়াখির»।
৫. «আওদাহুদ দালীল ওয়াল আবহাস ফিমা ইয়াহিল্লু বিহি আল-মুতাল্লাকাতু বিস সালাস» (তিন তালাকপ্রাপ্তা নারী যার মাধ্যমে পুনরায় হালাল হয় সে বিষয়ে সুস্পষ্ট দলিল ও গবেষণা)।
৬. হাদিস শাস্ত্রে «আল-আমালি», যা সত্তরটি মজলিস বা অধিবেশন নিয়ে গঠিত।
৭. «ইকতিতাফুল আযাহির ফি যাইলি রাওদিল মানাযির» এটি মূলত «রাওদ» গ্রন্থের একটি পরিশিষ্ট।
৮. «তাফসিরু গারিবিল কুরআনিল আযিম», যা তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি।
৯. «তানউইরুল মানার»।
১০. «আর-রিহলাতুল কাসরিয়্যা বিদ-দিয়ারিল মিসরিয়্যা» (মিশরীয় ভূখণ্ডে বাধ্যতামূলক সফর)।
১১. «আল-মানযুমাতুল হালাবিয়্যা ফিস সিরাতিন নাবাউইয়্যা» (সীরাত বিষয়ক কাব্য)। তাঁর নাতি আবু আল-বারাকাত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন।
১২. «শারহুল কাশশাফ», যা তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি।
১৩. «আকিদা», যা একটি বা-য়িয়্যাহ কাসিদা (যে কবিতার প্রতি চরণের শেষে ‘বা’ বর্ণ রয়েছে)।
১৪. «আল-মুবতাগা», এটি «রাওদুল মানাযির» গ্রন্থের অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সার।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
15. مختصر في الفقه، ألّفه لأجْل ولدِه، محتوياً على ما لم تحتوِ عليه المُطوّلات.
16. «منظومة بائيّة في علم الكلام».
17. «منظومة في علم المعاني والبيان والبديع».
18. «الموافقات العُمَريّة للقرآن الشّريف».
19. «منظومة في الطِّبّ».
•
وفاته:بعدَ تنقُّلٍ في القضاء بين حلب والقاهرة، والتّدريس في دمشق، عادَ أخيراً إلى حلبَ، وفارقَ فيها: الجمعة 12/ربيع الآخر/815 هـ. وصُلِّيَ عليه بعدَ الجمعةِ تحتَ القلعةِ، ودُفنَ بتربةِ «اشق تمر» خارجَ بابِ المقامِ، وكانت جنازتُه حافلةً، وممّن حملَ نعشَه ملكُ الأمراءِ «نوروز» (1).
--------------------------------------------
১৫. ফেকাহ শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ, যা তিনি তাঁর সন্তানের জন্য রচনা করেছেন; এটি এমন সব বিষয়বস্তু সমৃদ্ধ যা অনেক বিস্তারিত গ্রন্থেও স্থান পায়নি।
১৬. «ইলমুল কালাম বিষয়ক বায়িয়াহ কাব্যগ্রন্থ»।
১৭. «ইলমুল মাআনি, বায়ান এবং বদি (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিষয়ক কাব্যগ্রন্থ»।
১৮. «পবিত্র কুরআনের সাথে উমর রা.-এর ঐকমত্যসমূহ»।
১৯. «চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক কাব্যগ্রন্থ»।
•
তাঁর ইন্তেকাল:আলেপ্পো ও কায়রোর মধ্যে বিচারকের দায়িত্ব পালন এবং দামেস্কে শিক্ষকতা করার পর, অবশেষে তিনি আলেপ্পোতে ফিরে আসেন এবং সেখানেই ১২ই রবিউস সানি, ৮১৫ হিজরি, রোজ শুক্রবার ইন্তেকাল করেন। জুমার নামাজের পর দুর্গের পাদদেশে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং বাবুল মাকামের বাইরে «আশাক তামুর» নামক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর জানাজায় মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়েছিল এবং যারা তাঁর জানাজার খাটিয়া বহন করেছিলেন তাঁদের মধ্যে আমীরদের প্রধান «নাওরোজ» অন্যতম ছিলেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث الثاني أُرجوزة ابن الشِّحْنَة في البلاغة (عَرْضٌ، ونقد)
توطئة1 - نسبةُ المنظومة إلى ابن الشِّحْنة الكبير.
2 - ذُيُوع المنظومة.
3 - طبَعات المنظومة، والنُّسَخُ الَّتي اعتُمِدَ عليها في التَّحقيق.
4 - الهندسة البِنائيّة للأرجوزة.
5 - الحركةُ التّأليفيّةُ الدَّائرةُ حولَ أُرجوزةِ ابن الشِّحْنَة.
توطئة:
عشرةُ حُؤُولٍ حالَتْ بينَ الرَّجُلين؛ فلم تَكَدْ يدُ الرَّدى تُغْمِضُ عيونَ صاحبِ التَّلخيص الإمام القزوينيّ وريثِ الطّريقةِ السّكّاكيّة في التّأليف البلاغيّ سنة (739 هـ)، حتّى وُلِدَ مُحِبُّ الدِّين ابنُ الشِّحْنةِ سنةَ (749 هـ).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অলঙ্কারশাস্ত্রে ইবনে শিনাহর উরজুযাহ (উপস্থাপনা ও সমালোচনা)
ভূমিকা১ - ইবনে শিনাহ আল-কাবীরের প্রতি কাব্যটির সম্বন্ধ।
২ - কাব্যটির প্রসার।
৩ - কাব্যটির মুদ্রণসমূহ এবং সম্পাদনায় (তাহকীক) যে পাণ্ডুলিপিসমূহের ওপর নির্ভর করা হয়েছে।
৪ - উরজুযাহর গাঠনিক বিন্যাস।
৫ - ইবনে শিনাহর উরজুযাহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত রচনামূলক কর্মকাণ্ড।
ভূমিকা:
দুই ব্যক্তির মাঝে দশটি বছরের ব্যবধান ছিল; অলঙ্কারশাস্ত্রীয় রচনায় সাক্কাকি পদ্ধতির উত্তরসূরি ‘আত-তালখিস’ প্রণেতা ইমাম কাযবিনীর চোখ যখন মৃত্যুর হাত সবেমাত্র মুদ্রিত করেছে (৭৩৯ হিজরি), তখনই মুহিব্বুদ্দীন ইবনে শিনাহর জন্ম হয় (৭৪৯ হিজরি)।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فأفادَ منه، ونظَمَ مطالبَ تلخيص المفتاح في أرجوزة لطيفةٍ مُشتهَرةٍ بِـ «مئة المعاني والبيان»، وهي مِن أقدمِ الأراجيز البلاغيَّةِ، وأوجَزُ نظْمٍ لتلخيص المفتاح، فأقبلَ عليها المتعلِّمون والمعلِّمون حفظاً وتدريساً؛ لوجازتها ودِقَّتِها.
وهذه الأرجوزةُ تُدرَّسُ إلى يومنا في الحِجاز والمغرب العربيّ؛ في بعض المساجد والمعاهد والجامعات، لكنَّ الطَّلَبةَ يشتكون من غيابِ شرحٍ جيّدٍ لهذه الأرجوزة يسدُّ حاجتَهم في فَكِّ عبارة النَّظْم، ويعينُهم على فهم مطالبه ومباحثه.
وقد أثنى العلماءُ قديماً وحديثاً على مئة المعاني والبيان؛ ومن ذلك:
- العلّامة محمّد المحفوظ التَّنْوَاجيويّ الشِّنقيطيّ (ولد 1934 م) في ختام شَرْحِه لهذه المنظومة: «هذا النّظْم الّذي هو أخْصَرُ وأفيَدُ ما قيل في هذا الفنّ
… » (1).
- الميرزا محمّد القميّ المشهدي (ت 1125 هـ) في بداية شرحه المنظومة: «هذه فوائد علَّقتُها على الأرجوزةِ المنظومة في فنِّ البلاغة؛ لأنَّها فائقةٌ على سائر ما صُنِّف في هذه الصِّناعة؛ لكونها قليلةَ اللَّفظ، كثيرةَ المعاني، قريبةً إلى فَهْم المقاصد للأجانب والأداني» (2).
- مُحِبّ الدّين الحمويّ (ت بعد 969 هـ) في بداية شرحها: «أطلعَني بعضُ الإخوان على هذه الدُّرَّة الوجيزة، وسألني أن أشرحَها شرحاً يُبَيِّنُ معانيَها، ويوضحُ مبانيَها، لمَّا وجدَها مختصرةً تحتوي على لطائف المعاني، ويسهلُ أخذها على مُعاني المَعاني» (3)
--------------------------------------------
তিনি তা থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং ‘তালখিসুল মিফতাহ’-এর বিষয়বস্তুসমূহকে ‘মিয়াতুল মাআনি ওয়াল বায়ান’ নামক এক চমৎকার ও সুপরিচিত আরজুযায় (ছন্দোবদ্ধ কবিতায়) বিন্যস্ত করেছেন। এটি অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রাচীনতম আরজুযাগুলোর অন্যতম এবং ‘তালখিসুল মিফতাহ’-এর সংক্ষিপ্ততম কাব্যরূপ। এর সংক্ষিপ্ততা এবং সূক্ষ্মতার কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ এটি মুখস্থকরণ ও পাঠদানে মনোনিবেশ করেছেন।
এই আরজুযাটি আজও হিজাজ এবং মাগরেব অঞ্চলের (উত্তর আফ্রিকা) কিছু মসজিদ, প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়; কিন্তু শিক্ষার্থীরা এই আরজুযার এমন একটি উত্তম ব্যাখ্যাগ্রন্থের অভাব বোধ করেন, যা কাব্যিক পঙ্ক্তিগুলোর জটিলতা নিরসনে তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারে এবং এর বিষয়বস্তু ও পর্যালোচনাসমূহ বুঝতে তাদের সহায়তা করতে পারে।
প্রাচীন ও বর্তমানকালের উলামায়ে কেরাম ‘মিয়াতুল মাআনি ওয়াল বায়ান’-এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন; তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- আল্লামা মুহাম্মদ আল-মাহফুজ আত-তানওয়াজিভি আশ-শিনকিতি (জন্ম ১৯৩৪ খ্রি.) এই মানজুমার ব্যাখ্যার শেষে বলেন: «এই কাব্যটি এই শাস্ত্রে (অলঙ্কারশাস্ত্র) রচিত সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং সবচেয়ে উপকারী কাজগুলোর একটি...» (১)।
- মিরজা মুহাম্মদ আল-কুম্মি আল-মাশহাদি (মৃত্যু ১১২৫ হি.) মানজুমার ব্যাখ্যার শুরুতে বলেন: «এগুলো কিছু সারসংক্ষেপ যা আমি অলঙ্কারশাস্ত্রের এই আরজুযার উপর টীকা হিসেবে লিখেছি; কারণ এটি এই শিল্পে রচিত অন্যান্য সকল রচনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ; কারণ এর শব্দ সংখ্যা অত্যন্ত কম কিন্তু অর্থ অত্যন্ত গভীর, এবং এটি সকলের নিকট মূল উদ্দেশ্যগুলো অনুধাবনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহজবোধ্য» (২)।
- মুহিব্বুদ্দীন আল-হামাভি (মৃত্যু ৯৬৯ হিজরীর পর) এর ব্যাখ্যার শুরুতে বলেন: «আমার জনৈক ভাই আমাকে এই সংক্ষিপ্ত মণি-মুক্তার ন্যায় রচনাটি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং তিনি আমাকে এটি এমনভাবে ব্যাখ্যা করার অনুরোধ করেন যা এর অর্থসমূহ ফুটিয়ে তুলবে এবং এর গঠনসমূহ স্পষ্ট করবে। তিনি এটিকে সংক্ষিপ্ত অথচ সূক্ষ্ম সব অর্থে পরিপূর্ণ হিসেবে পেয়েছেন, যা অর্থান্বেষীদের জন্য গ্রহণ করা অত্যন্ত সহজ» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
1 - نسبة المنظومة إلى ابن الشِّحنة الكبير:اشتُهرِتْ نسبةُ هذه المنظومة لابن الشِّحنة الكبير (ت 815 هـ)، في الكتب الّتي ترجمت له، وفي ترجمات شُرّاح المنظومة، وفي كتب المصنَّفات والمصنِّفين، ولم يقعْ في ذلك لَبْسٌ سوى ما كان من الطَّهرانيّ في الذّريعة (أ/2444)، و (م/8378) (1)؛ إذْ نسَب المنظومة - كما سيأتي - للميرزا محمّد القمّيّ المشهديّ الّذي ما هو إلّا واحدٌ من شُرَّاحِها.
2 - ذُيوعُ المنظومة:تُعَدُّ "مئة المعاني" نظْماً للتّلخيص (2)، فاقت في شُهرتِها منظوماتِ التّلخيص الأُخرى؛ كـ (عُقود الجُمان) للسُّيوطيِّ (ت 911 هـ)؛ لأنَّها الأقدمُ، والأوجزُ، ولقُربِها إلى الأفهام.
وإنّ اختصارَها وتكثيف عبارتها جَعَلَ حِفظَها بين طلبة العلم سائغاً شائعاً، فأقبلُوا على استنساخها؛ فهي نافعةٌ جدًّا لطالب البلاغة المبتدئ؛ وأدقُّ من غيرها من المنظومات البلاغيّة، ومفتاحٌ دالٌّ على أبواب البلاغة العربيّة وأشهر فنونها ومصطلحاتها.
ومِن دلائلِ شُيوعِ هذه المنظومةِ:1 - كثرةُ النُّسَخ الخطّيّة لها في متاحف العالَم ومكتباته.
2 - وأثرُها في غيرها من المنظومات البلاغيّة اللّاحقة.
3 - وكثرة الشُّروح؛ فقد شُرِحتْ ودُرِّست في المشرق والمغرب على
--------------------------------------------
১ - ইবনুশ শিহনা আল-কাবিরের প্রতি এই কাব্যগ্রন্থটির সম্বন্ধ (নিসবত):ইবনুশ শিহনা আল-কাবিরের (মৃত ৮১৫ হি.) জীবনী সম্বলিত গ্রন্থসমূহে, এই কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যাকারদের জীবনীতে এবং গ্রন্থ ও গ্রন্থকার বিষয়ক বইাবলিতে ইবনুশ শিহনার প্রতি এই কাব্যগ্রন্থটির সম্বন্ধ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এক্ষেত্রে তেহরানির ‘আয-যারিয়াহ’ (অ/২৪৪৪) ও (ম/৮৩৭৮) (১) গ্রন্থে বর্ণিত বিভ্রান্তি ছাড়া আর কোনো সংশয় পরিলক্ষিত হয় না; কারণ তিনি এই কাব্যগ্রন্থটিকে—যেমনটি সামনে আসবে—মির্জা মুহাম্মদ আল-কুম্মি আল-মাশহাদির দিকে সম্বন্ধ করেছেন, যিনি মূলত এর অন্যতম একজন ব্যাখ্যাকার মাত্র।
২ - কাব্যগ্রন্থটির প্রসার:‘মিয়াতুল মা’আনি’ গ্রন্থটি ‘আত-তালখিস’ (২) গ্রন্থের কাব্যরূপ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি তার খ্যাতির দিক দিয়ে তালখিসের অন্যান্য কাব্যরূপগুলোকে—যেমন সুয়ুতির (মৃত ৯১১ হি.) ‘উকুদুল জুমান’—অতিক্রম করেছে; কারণ এটি প্রাচীনতম, সংক্ষিপ্ততম এবং সহজে বোধগম্য।
এর সংক্ষিপ্ততা এবং নিবিড় শব্দচয়ন জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য এটি মুখস্থ করা সহজ ও প্রচলিত করে তুলেছে, ফলে তারা এটি প্রতিলিপি করার দিকে ঝুঁকেছেন। এটি অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত উপকারী; বালাগাত বিষয়ক অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের তুলনায় এটি অধিকতর নিখুঁত এবং এটি আরবি বালাগাতের অধ্যায়সমূহ এবং এর প্রসিদ্ধ শিল্পকলা ও পরিভাষাগুলোর দিকে নির্দেশকারী একটি চাবিকাঠি।
এই কাব্যগ্রন্থটির প্রসারের প্রমাণসমূহের মধ্যে রয়েছে:১ - বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘর ও লাইব্রেরিগুলোতে এর পাণ্ডুলিপির প্রাচুর্য।
২ - পরবর্তী অন্যান্য বালাগাত বিষয়ক কাব্যগ্রন্থের ওপর এর প্রভাব।
৩ - ব্যাখ্যার আধিক্য; এটি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং পাঠদান করা হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
حدٍّ سواء، بآية أنّ شارحَها العمريَّ (ت نحو 1024 هـ) من (الشّام)، وإحدى نسخ شرحه بخطٍّ مغربيّ، وشارحَها الأهدلَ (ت 1266 هـ) من (اليمن)، وشارحَها الميرزا (ت 1125 هـ) من (إيران)، وشارحَها الشِّنْقِيطِيَّ (مُعاصِر) من (موريتانيا)، وشارحَها محمّد بن عبد العزيز نَصِيف (معاصر) من (المملكة العربيّة السُّعوديّة)، وشارحَها زكريّاء توناني (معاصر) من (الجزائر)
… ، وقد وقفتُ في هذا البحث على ما يقرب من ثلاثين شرحاً لها.
3 - طبَعات المنظومة، والنُّسخ الّتي اعتُمِدَ عليها في التَّحقيق:طُبِعتْ منظومةُ ابن الشِّحنةِ البلاغيّةُ غيرَ مرَّةٍ طبَعاتٍ غيرَ عِلميّةٍ، ومن أولئك:
1 - طبعةُ مصر في كتاب (مجموع مُهِمّات المتون) وأُعيدَ طبعُه مِراراً (1297 هـ)، و (1303 هـ)، و (1304 هـ)، و (1323 هـ)، و (1369 هـ)، وبالدّوحة (1981 م) وهي طبعةٌ مُصَوَّرةٌ عن المصريَّة لا تختلفُ عنها إلّا بالفهارس التي صنعَها المحقِّق.
2 - وطبعةُ إيران (1300 هـ) ضمن مجموعة متون (1)، ثمَّ طُبعت في إيران مرّة ثانية (1316 هـ) مع مجموعة من المتون منها «عقود الجُمان»، وتقع منظومتنا هذه في (ص 112 - 123) من هذه المجموعة، وذلك باهتمام الشَّيخ أحمد الشِّيرازيّ (2). وجاءت الطّبعةُ الإيرانيّة سقيمةً كسابقتِها المصريّة؛ بآيةِ قول السَّيِّد محمّد رضا الحسينيّ مُعَلِّقاً على هذه الطّبعة: «وأمَّا المطبوعةُ المصريّةُ فلا تمتازُ بشيءٍ؛ لأنَّها مليئةٌ بالأخطاءِ، مع أنَّها
--------------------------------------------
সমভাবে, এর প্রমাণ হলো এর ব্যাখ্যাকার আল-উমারি (মৃত্যু আনুমানিক ১০২৪ হিজরি) শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের, এবং তাঁর ব্যাখ্যার একটি পাণ্ডুলিপি মাগরিবী হস্তাক্ষরে লিখিত, এর ব্যাখ্যাকার আল-আহদাল (মৃত্যু ১২৬৬ হিজরি) ইয়েমেনের, এর ব্যাখ্যাকার আল-মির্জা (মৃত্যু ১১২৫ হিজরি) ইরানের, এর ব্যাখ্যাকার আশ-শিনকিতি (সমসাময়িক) মৌরিতানিয়ার, এর ব্যাখ্যাকার মুহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ নাসিফ (সমসাময়িক) সৌদি আরবের, এবং এর ব্যাখ্যাকার জাকারিয়া তুনানি (সমসাময়িক) আলজেরিয়ার
… , আর আমি এই গবেষণায় এর প্রায় ত্রিশটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের সন্ধান পেয়েছি।
৩ - কাব্যগ্রন্থটির সংস্করণসমূহ এবং পাণ্ডুলিপিগুলো যার ওপর সম্পাদনার ক্ষেত্রে নির্ভর করা হয়েছে:ইবনে আশ-শিহনার অলঙ্কারশাস্ত্রীয় কাব্যগ্রন্থটি (মানজুমা) একাধিকবার অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - 'মাজমুউ মুহিম্মাতিল মুতুন' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত মিসরীয় সংস্করণ এবং এটি বারবার পুনর্মুদ্রিত হয়েছে (১২৯৭ হি.), (১৩০৩ হি.), (১৩০৪ হি.), (১৩২৩ হি.), এবং (১৩৬৯ হি.); এবং দোহা সংস্করণ (১৯৮১ খ্রি.) যা মিসরীয় সংস্করণেরই একটি ফটোকপি সংস্করণ, যা সম্পাদক কর্তৃক প্রস্তুতকৃত নির্ঘণ্ট (সূচিপত্র) ব্যতীত অন্য কোনো দিক থেকে আলাদা নয়।
২ - এবং ইরান সংস্করণ (১৩০০ হি.) যা একটি মূলপাঠ সংকলনের (১) অন্তর্ভুক্ত, অতঃপর এটি ইরানে দ্বিতীয়বার মুদ্রিত হয় (১৩১৬ হি.) একগুচ্ছ মূলপাঠের (মুতুন) সাথে যার মধ্যে «উকুদুল জুমান» অন্যতম, এবং এই সংকলনের (১১২ - ১২৩ পৃষ্ঠায়) আমাদের এই কাব্যগ্রন্থটি স্থান পেয়েছে, যা শেখ আহমদ আশ-শিরাজির (২) তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়েছে। আর ইরানি সংস্করণটি এর পূর্ববর্তী মিসরীয় সংস্করণের মতোই ত্রুটিপূর্ণ ছিল; যার প্রমাণ হলো এই সংস্করণের ওপর সাইয়্যিদ মুহাম্মদ রেজা আল-হুসাইনির মন্তব্য: «আর মিসরীয় মুদ্রণটির কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য নেই; কারণ এটি ভুলে পরিপূর্ণ, যদিও এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
توافِقُ المطبوعةَ الإيرانيَّة في أكثر المواضعِ» (1).
3 - وطُبِعَت المنظومةُ - في كتب أخرى - كلُّها مُصوَّرةٌ عن الطَّبعة المصريّة تصويراً دون أيّ تغييرٍ يُذكَر؛ ومنها: كتاب (متون البيان والأدب) (2).
4 - وطُبعت بعنوان: «الأرجوزة اللَّطيفة في علوم البلاغة» بتحقيق: السَّيِّد محمّد رضا الحسينيِّ في مجلّة تراثنا الفصليّة (3)، ولم يعتمد المحقِّقُ على أيّ نسخةٍ خطّيّة للمنظومة، بل اعتمد على ثلاث نُسخ خطّيّةٍ لأحدِ شروح المنظومةِ الموسوم بِـ «إنجاح المطالب في الفوز بالمآرب»، واعتمد على الطّبعتين الإيرانيّة الثّانية والمصريّة، بالإضافة إلى أنّه نَسَبَ الأُرجوزةَ - والّتي هي لابن الشِّحنة الكبير- إلى الميرزا محمّد بن محمّد رضا القميّ المشهديّ؛ اعتماداً على ما ذكره الشَّيخ آغا بزرك الطّهرانيّ في الذّريعة في حرف الألف برقم (2444)، وفي حرف الميم برقم (8378).
5 - طبعة دار الكتب العلميّة، عام 2014 م؛ بعنوان: (منظومة مائة المعاني والبيان - في البلاغة)، اعتمدت على ستّ نُسَخ خطّيّة، ثلاث منها من نسخ المنظومة، والثّلاث الباقية من نُسَخ شروح المنظومة: (العُمريُّ، والأهدلُ، وصنعُ الله أبو الإقبال الحلبيّ)، وهي طبعةٌ علميّة، تحقيق الدكتور زكريّاء توناني، مع مقدّمة موجزة ومفيدة. فرأيتُ إخراجَ هذه المنظومة - قبلَ تحقيق شرْحِها - مُلتزِماً ضوابطَ التّحقيقِ العِلميِّ، مستعيناً بإحدى عشرة نسخة خطيّة؛ ستذكرُ قبل تحقيق المنظومة.
--------------------------------------------
অধিকাংশ স্থানে তা ইরানি মুদ্রণের সাথে মিলে যায়» (১)।
৩ - এবং এই কাব্যগ্রন্থটি—অন্যান্য বইয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে—পুরোটাই মিসরীয় মুদ্রণ থেকে কোনো প্রকার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ছাড়াই হুবহু প্রতিলিপি আকারে মুদ্রিত হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে: (মুতুনুল বায়ান ওয়াল আদব) গ্রন্থটি (২)।
৪ - এবং এটি «আল-আরজুযাতুল লতিফাহ ফি উলুমিল বালাগাহ» শিরোনামে সাইয়্যেদ মুহাম্মদ রেজা আল-হুসাইনির সম্পাদনায় ত্রৈমাসিক ‘তুরাসুনা’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে (৩)। সম্পাদক কাব্যগ্রন্থটির কোনো পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেননি, বরং তিনি এই কাব্যের অন্যতম ভাষ্যগ্রন্থ (শারহ) «ইনজাহুল মাতালিব ফিল ফাওজি বিল মাআরিবে»-এর তিনটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন। এছাড়া তিনি দ্বিতীয় ইরানি মুদ্রণ এবং মিসরীয় মুদ্রণের ওপরও নির্ভর করেছেন। পাশাপাশি তিনি এই আরজুযাটি—যা ইবনে শিহনা আল-কাবিরের রচনা—তাকে মিরজা মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ রেজা আল-কুম্মি আল-মাশহাদি-এর প্রতি আরোপ করেছেন; যা তিনি শাইখ আগা বুযুর্গ আত-তিহরানি-এর ‘আদ-দারিআ’ গ্রন্থের ‘আলিফ’ বর্ণের ২৪৪৪ নম্বর এবং ‘মিম’ বর্ণের ৮৩৭৮ নম্বরে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে করেছেন।
৫ - দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ-এর সংস্করণ, ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ; শিরোনাম: (মানজুমাতু মিআতুল মাআনি ওয়াল বায়ান - ফিল বালাগাহ)। এটি ছয়টি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে সম্পাদিত, যার তিনটি মূল কাব্যের পাণ্ডুলিপি এবং বাকি তিনটি কাব্যের ভাষ্যগ্রন্থের (আল-উমারি, আল-আহদাল এবং সানউল্লাহ আবু আল-ইকবাল আল-হালাবি) পাণ্ডুলিপি। এটি একটি গবেষণাধর্মী সংস্করণ, যা ডক্টর জাকারিয়া তুনানির সম্পাদনায় এবং একটি সংক্ষিপ্ত ও উপকারী মুখবন্ধসহ প্রকাশিত হয়েছে। তাই আমি এই কাব্যগ্রন্থের ভাষ্য (শারহ) সম্পাদনা করার পূর্বে গবেষণামূলক সম্পাদনার নীতিমালা মেনে এগারোটি পাণ্ডুলিপির সাহায্য নিয়ে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি; যা কাব্যগ্রন্থটির সম্পাদনার পূর্বে উল্লেখ করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
4 - الهندسة البنائيّة للأُرجوزة:بلغَتِ المنظومةُ مئةَ بيتٍ، على كامل الرَّجَز؛ مرتَّبةً على النَّحو الآتي:
(1 - 4) (1) خُطبة النّاظِم.
(5 - 9) مُقدِّمة في الكشف عن معنى الفصاحة والبلاغة.
(10) التّنبيه على انحصار الخبر في الصَّادق والكاذب.
(11 - 12) تعريف علم المعاني، وحَصْر أبوابه الثّمانية.
(13 - 74) الفنّ الأوَّل: علم المعاني؛ وانقسمت أبوابُه الثّمانية كالآتي:
(13 - 18) الباب الأوّل: أحوال الإسناد الخبريّ.
(19 - 36) الباب الثّاني: أحوال المسند إليه.
(37 - 43) الباب الثّالث: أحوال المسند.
(44 - 51) الباب الرّابع: أحوال مُتعلَّقات الفعل.
(52 - 57) الباب الخامس: القَصْر.
(58 - 67) الباب السَّادس: الإنشاء.
(68 - 70) الباب السَّابع: الفصل والوصل.
(71 - 74) الباب الثَّامن: الإيجاز والإطناب والمساواة.
(75 - 89) الفنّ الثّاني: علم البيان؛ وانقسم الكلام عليه كالآتي:
(75 - 76) تعريف علم البيان.
(76 - 77) أبواب علم البيان.
(78 - 79) التَّشبيه - طرفاه.
--------------------------------------------
৪ - উরজুযাহ-এর গাঠনিক কাঠামো:কবিতাটি পূর্ণ রাজায ছন্দে একশত চরণে উপনীত হয়েছে; যা নিম্নোক্ত বিন্যাস অনুযায়ী বিন্যস্ত:
(১ - ৪) (১) রচয়িতার ভূমিকা।
(৫ - ৯) প্রাঞ্জলতা (ফাসাহাত) ও অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) অর্থ উন্মোচনে ভূমিকা।
(১০) সংবাদ সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়ে সতর্কতা।
(১১ - ১২) ইলমে মা’আনির সংজ্ঞা এবং এর আটটি পরিচ্ছেদের সীমাবদ্ধকরণ।
(১৩ - ৭৪) প্রথম বিদ্যা: ইলমে মা’আনি; এর আটটি পরিচ্ছেদ নিম্নোক্তভাবে বিভক্ত:
(১৩ - ১৮) প্রথম পরিচ্ছেদ: সংবাদমূলক সম্পর্কের (ইসনদ খবরি) অবস্থাসমূহ।
(১৯ - ৩৬) দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুসনাদ ইলাইহ-এর অবস্থাসমূহ।
(৩৭ - ৪৩) তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুসনাদ-এর অবস্থাসমূহ।
(৪৪ - ৫১) চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ক্রিয়া-সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির অবস্থাসমূহ।
(৫২ - ৫৭) পঞ্চম পরিচ্ছেদ: কাসর (সীমাবদ্ধকরণ)।
(৫৮ - ৬৭) ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ইনশা (ভাববাচক বাক্য)।
(৬৮ - ৭০) সপ্তম পরিচ্ছেদ: ফাসল (বিচ্ছেদ) ও ওয়াসল (সংযোগ)।
(৭১ - ৭৪) অষ্টম পরিচ্ছেদ: ঈজায (সংক্ষেপণ), ইতনাব (বিস্তৃতকরণ) ও মুসাওয়াত (সমতা)।
(৭৫ - ৮৯) দ্বিতীয় বিদ্যা: ইলমে বয়ান; এর আলোচনা নিম্নোক্তভাবে বিভক্ত:
(৭৫ - ৭৬) ইলমে বয়ান-এর সংজ্ঞা।
(৭৬ - ৭৭) ইলমে বয়ান-এর পরিচ্ছেদসমূহ।
(৭৮ - ৭৯) তাশবীহ (উপমা) - এর দুই পক্ষ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
(80 - 81) التَّشبيه - وجهه.
(82) التَّشبيه - أداته.
(83) التَّشبيه - أغراضه.
(84) التَّشبيه - أقسامه باعتبار كلّ ركن.
(84) المجاز.
(85) المجاز- أقسامه.
(85) الاستعارة.
(86 - 87) الاستعارة - أقسامها.
(88) الكِناية.
(88 - 89) الكناية- أقسامها.
(90 - 95) الفنّ الثّالث: علم البديع؛ وانقسم الكلام عليه كالآتي:
(90) تعريف علم البديع.
(91) علم البديع اللفظيّ.
(92 - 95) علم البديع المعنويّ.
(96 - 99) السَّرقات الشِّعريّة، وما يتّصلُ بها.
(99 - 100) مواضع الحُسن في الكلام.
5 - الحركةُ التّأليفيّةُ الدَّائرةُ حولَ أُرجوزةِ ابن الشِّحْنَة:هذه الأرجوزة - لنفاستِها ووِجازتها واكتنافِها فنونَ البلاغةِ كافّةً - طارتْ شُهرتُها، فكانَ ممَّا يُمتدَحُ به طالبُ العلم - في كتب التراجم - أنّه يحفظُ منظومةَ ابنِ الشِّحنة في البلاغة.
ولم تُشِرِ المصادرُ إلى أنَّ ابنَ الشِّحنة شرَحَ منظومتَه هذه، ولكنّ هذه الأرجوزةَ بعد أن تلقَّفَها طلبةُ العلم لسهولة مأخذها، شرعَ الشُّرّاحُ يحتفون
(80 - 81) উপমা - এর স্বরূপ।
(82) উপমা - এর উপকরণ।
(83) উপমা - এর উদ্দেশ্যসমূহ।
(84) প্রতিটি রুকন বা স্তম্ভের বিচারে উপমার প্রকারভেদ।
(84) মাজায (রূপক)।
(85) মাজায - এর প্রকারভেদ।
(85) ইসতিআরা (রূপক অলঙ্কার)।
(86 - 87) ইসতিআরা - এর প্রকারভেদ।
(88) কিনায়া (পরোক্ষ উক্তি)।
(88 - 89) কিনায়া - এর প্রকারভেদ।
(90 - 95) তৃতীয় শিল্প: ইলমুল বাদি' (শব্দ ও অর্থালঙ্কার); এর আলোচনা নিম্নোক্তভাবে বিভক্ত:
(90) ইলমুল বাদি'-এর সংজ্ঞা।
(91) শাব্দিক বাদি' অলঙ্কার।
(92 - 95) অর্থগত বাদি' অলঙ্কার।
(96 - 99) কাব্যিক চুরিবৃত্তি এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি।
(99 - 100) বাক্যের সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থানসমূহ।
৫ - ইবনে আল-শিহনার উরজুযাহ (কাব্যগাথা) কেন্দ্রিক রচনামূলক তৎপরতা:এই উরজুযাহটি — এর শ্রেষ্ঠত্ব, সংক্ষিপ্ততা এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের সকল শাখাকে অন্তর্ভুক্ত করার কারণে — অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। জীবনীগ্রন্থগুলোতে তালিবে ইলমদের প্রশংসাসূচক আলোচনার একটি দিক ছিল এই যে, তারা অলঙ্কারশাস্ত্রে ইবনে আল-শিহনার মানযুমাটি মুখস্থ রাখতেন।
সূত্রসমূহ এটি নির্দেশ করে না যে ইবনে আল-শিহনা তাঁর এই মানযুমাটির কোনো ব্যাখ্যা লিখেছেন; তবে শিক্ষার্থীরা এর সহজবোধ্যতার কারণে এটি গ্রহণ করার পর, ব্যাখ্যাকারগণ এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করতে শুরু করেন এবং এটি নিয়ে কাজ করার সংকল্প করেন।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল ফারাযিদুল মুস্তাহসানাহ ফী শারহি মানযূমাতি ইবনুশ শুহ্ নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
بها، فتكاثرت الشُّروحُ تحلُّ عقودَها، وتحقِّقُ المسائلَ المودَعةَ فيها، وتُظهِرُ لطائفَها، فحظيَتْ هذه المنظومةُ بشروحٍ جليلةٍ تُدرَّسُ في أمصارٍ شتَّى، وفي أزمان متفاوتة؛ ودونَكَ طائفةً من شروحها:
1 - شرح (حفيد النَّاظم) عبد الله بن محمّد بن محمّد بن الشِّحنة (ت 921 هـ) (1)
2 - شرح الحمويّ. فرغ منه سنة (969 هـ)، بعنوان: «شرْحُ منظومة ابن الشِّحنة في عِلم المعاني والبيان والبديع» (2).
3 - شرح الغزّيّ (ت 1126 هـ). بعنوان: «مواهب الرّحمن على غاية المعاني والبيان» (3).
4 - شرح العمريّ (ت 1204 هـ). فرغ منه سنة (1009 هـ)، بعنوان: «دُرَرُ الفرائد المستحسَنة في شرح منظومة ابن الشِّحنة» وهو الكتاب الذي بين أيدينا.
5 - شرح يوسُف بن أبي الفتح بن منصور بن عبد الرّحمن السَّقيفيّ الدّمشقي (ت 1056 هـ) (4).
6 - شرح محمّد علَّان المكّيّ الصّديقيّ (ت 1057 هـ)، بعنوان: «شرح منظومة ابن الشّحنة في البلاغة» (5).
--------------------------------------------
ফলে এগুলোর ওপর অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ) রচিত হয়েছে, যা এর জটিল গ্রন্থিগুলো উন্মোচন করে, এতে সন্নিবেশিত মাসয়ালাসমূহ সুক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে এবং এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলোকে ফুটিয়ে তোলে। এই কাব্যগ্রন্থটি (মানজুমা) বিভিন্ন জনপদে এবং বিভিন্ন সময়ে পঠিত এমন সব মহান ব্যাখ্যাগ্রন্থ লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেছে যা সর্বত্র সমাদৃত; নিচে এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর একটি তালিকা তুলে ধরা হলো:
১ - আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আশ-শিহনা (মৃত্যু ৯২১ হিজরী) এর ব্যাখ্যা (মূল কাব্য রচয়িতার পৌত্র) (১)
২ - আল-হামাউই-এর ব্যাখ্যা। তিনি এটি সমাপ্ত করেন ৯৬৯ হিজরীতে, যার শিরোনাম হলো: «শারহু মানজুমাতি ইবনিল শিহনা ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী» (২)।
৩ - আল-গাজ্জী (মৃত্যু ১১২৬ হিজরী) এর ব্যাখ্যা। শিরোনাম: «মাওয়াহিবুর রহমান আলা গায়াতিল মাআনী ওয়াল বায়ান» (৩)।
৪ - আল-উমারী (মৃত্যু ১২০৪ হিজরী) এর ব্যাখ্যা। তিনি এটি ১০০৯ হিজরীতে সমাপ্ত করেন। এর শিরোনাম: «দুরারুল ফারায়েদিল মুসতাহসানা ফী শারহি মানজুমাতি ইবনিল শিহনা», আর এটিই সেই কিতাব যা বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে।
৫ - ইউসুফ ইবন আবিল ফাতহ ইবন মানসূর ইবন আবদুর রহমান আস-সাকীফী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ১০৫৬ হিজরী) এর ব্যাখ্যা (৪)।
৬ - মুহাম্মদ আল্লান আল-মাক্কী আস-সিদ্দীকী (মৃত্যু ১০৫৭ হিজরী) এর ব্যাখ্যা, যার শিরোনাম: «শারহু মানজুমাতি ইবনিল শিহনা ফিল বালাগাহ» (৫)।
--------------------------------------------