(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: -)
الجامع لأحكام الطهارة   (محمد بن علي حلاوة)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الجامع لأحكام الطهارة

(دراسة فقهية حديثية مقارنة)

المؤلف: محمد بن علي حلاوة

راجعه وقدم له: مصطفى بن العدوي

الناشر: مكتبة مكة، طنطا - مصر

الطبعة: الأولى، 1436 هـ - 2015 م

عدد الصفحات: 646

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1445

পবিত্রতার বিধানাবলীর পূর্ণাঙ্গ সংকলন   (মুহাম্মদ বিন আলী হালাওয়াহ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: পবিত্রতার বিধানাবলীর পূর্ণাঙ্গ সংকলন

(একটি তুলনামূলক ফিকহী ও হাদীসভিত্তিক অধ্যয়ন)

লেখক: মুহাম্মদ বিন আলী হালাওয়াহ

পর্যবেক্ষণ ও ভূমিকা প্রদান করেছেন: মুস্তফা বিন আল-আদাউয়ী

প্রকাশক: মাকতাবাতু মক্কা, তানতা - মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৬ হিজরী - ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪৬

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة فضيلة الشيخ

مصطفى العدوي

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله:

فهذا كتاب الطهارة وأحكامها أعده أخي في الله الشيخ/ محمد حلاوة حفظه الله وبارك فيه، ونفع به وبعلمه وقد اعتنى فيه بهذا الباب العظيم، إذ قد بوَّب فأحسن التبويب وأورد فأحسن الإيراد، فقد أورد أدلة العلماء في المسائل سواء من الكتاب العزيز أو من السنة الصحيحة المباركة، وحكم على الأحاديث بما تستحِقّه صحةً أو ضعفًا، وجمع بين ما ظاهره التعارض، ورجح ما تقضيه المقامات من وجوه الترجيح، وذلك كما أسلفتُ بعد تخريج الأحاديث والحكم عليها، وكذا فعل بالآثار عن الصحابة والتابعين فمن بعدهم.

وكذا فإنه وفقه الله لم يهمل أقوال الفقهاء، بل أوردها وعزاها إلى مصادرها قولًا بعد قولٍ؛ فخرج كتابه كتابًا حديثيًا فقهيًّا، فأسأل الله أن يجازيه خيرًا، ويوفقه لمزيد من العلم الشرعي والدعوة إلى الله عز وجل.

هذا، وقد نظرت في كتابه هذا وراجعتُ عمله؛ فألفيته ولله الحمد موفقًا نافعًا، فالله أسأل أن يزيده سدادًا وتوفيقًا.

وهذا، ولأخي محمد حلاوة حفظه الله كتبٌ أُخر في الفقه منها: فقه الزكاة، وفقه الصيام، ولله الحمد فعمله موفق، فأسأل الله أن يبارك فيه وفي علمه.

وصلِّ الله على نبينا محمد وسلم، والحمد لله رب العالمين.

 

كتبه

أبو عبد الله

مصطفى بن العدوي
সম্মানিত শায়খ

মুস্তফা আল-আদাভীর ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর:

এটি পবিত্রতা ও এর বিধানাবলি বিষয়ক গ্রন্থ, যা আমার দ্বীনি ভাই শায়খ মুহাম্মদ হালাওয়া (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন এবং তাতে বরকত দান করুন, আর তার মাধ্যমে ও তার ইলমের মাধ্যমে উপকার করুন) প্রস্তুত করেছেন। তিনি এই মহান অধ্যায়ের প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন; কেননা তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে এর বিন্যাস করেছেন এবং উত্তমভাবে বিষয়সমূহ উপস্থাপন করেছেন। তিনি মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে আলেমদের দলীলসমূহ উপস্থাপন করেছেন, চাই তা মহাগ্রন্থ আল-কুরআন থেকে হোক কিংবা বরকতময় সহীহ সুন্নাহ থেকে। তিনি হাদীসগুলোর ওপর সেগুলোর যোগ্যতা অনুযায়ী সহীহ বা যঈফ হওয়ার হুকুম লাগিয়েছেন এবং বাহ্যত পরস্পরবিরোধী বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন। আর বিভিন্ন প্রামাণিক দিক বিবেচনার মাধ্যমে যেটি যুক্তিযুক্ত সেটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আর এটি যেমনটি আমি আগে উল্লেখ করেছি যে, তিনি হাদীসসমূহের তাখরীজ ও সেগুলোর ওপর হুকুম লাগানোর পর এই কাজ করেছেন। সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের আছার (বর্ণনা)-এর ক্ষেত্রেও তিনি অনুরূপ পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন।

তদ্রূপ, আল্লাহ তাকে তাওফীক দান করুন, তিনি ফকীহগণের বক্তব্যসমূহও উপেক্ষা করেননি; বরং তিনি সেগুলো উল্লেখ করেছেন এবং একে একে সেগুলোর মূল উৎসের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। ফলে তার কিতাবটি একটি হাদীসভিত্তিক ফিকহী কিতাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাই আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাকে আরও বেশি শরয়ী জ্ঞান অর্জন ও মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার তাওফীক দান করেন।

এমতাবস্থায়, আমি তার এই কিতাবটি দেখেছি এবং তার কাজ পর্যালোচনা করেছি; আলহামদুলিল্লাহ, আমি একে সঠিক ও উপকারী হিসেবে পেয়েছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তার সঠিকতা ও তাওফীক বৃদ্ধি করে দেন।

আর আমার ভাই মুহাম্মদ হালাওয়া (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর ফিকহ শাস্ত্রের ওপর আরও অন্যান্য কিতাব রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: জাকাতের ফিকহ এবং সিয়ামের ফিকহ। আলহামদুলিল্লাহ, তার কাজগুলো সঠিক ও সফল। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাতে এবং তার ইলমে বরকত দান করেন।

আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। আর সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।

 

লেখক

আবু আব্দুল্লাহ

মুস্তফা বিন আল-আদাভী
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌مقدمة

إن الحمد لله، نحمده ونستعين به ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، أرسله رحمة للعالمين، وقدوة للعاملين، ومحجة للسالكين، وحجة على الناس أجمعين، بعثه للإيمان مناديًا، وإلى دار السلام داعيًا وللخليقة هاديًا ولكتابه تاليًا، وفي مرضاته ساعيًا وبالمعروف آمرًا وعن المنكر ناهيًا. فسبحان من شرح له صدره ووضع عنه وزره ورفع له ذكره وجعل الذلة والصَّغار على من خالف أمره فدعا إلى الله سرًّا وجهارًا، ليلًا ونهارًا إلى أن طلع فجر الإسلام، وأشرقت شمس الإيمان، وعلت كلمة الرحمن، وبطلت دعوة الشيطان، وأضاءت بنور رسالته الأرض بعد ظلماتها، وتألفت به القلوب بعد تفرقها وشتاتها؛ فأشرق وجه الدهر حسنًا، وأصبح الظلام ضياء، واهتدى كل حيران فلما كمل الله به دينه، وأتم به نعمته، ونشر به على الخلائق رحمته، فبلغ رسالات ربه ونصح عباده، وجاهد في الله حق جهاده(1) فصلى الله عليه وعلى آله الطيبين، وأصحابه الغر الميامين، وسلم تسليمًا كثيرًا.

أما بعد:

قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ 102} [آل عمران 102].

--------------------------------------------

(1) مقدمة «حادي الأرواح» لابن القيم (ص: 4).
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাঁকে জগতসমূহের জন্য রহমত হিসেবে, আমলকারীদের জন্য আদর্শ হিসেবে, পথচারীদের জন্য উজ্জ্বল পথ হিসেবে এবং সমস্ত মানুষের জন্য হুজ্জত বা প্রমাণ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁকে ঈমানের দিকে আহ্বানকারী, দারুস সালামের (শান্তির নীড়) দিকে দাওয়াত প্রদানকারী, সৃষ্টির জন্য পথপ্রদর্শক, তাঁর কিতাব তিলাওয়াতকারী, তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট, সৎকাজের আদেশদাতা এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধকারী হিসেবে পাঠিয়েছেন। অতএব মহিমান্বিত সেই সত্তা, যিনি তাঁর বক্ষকে প্রশস্ত করেছেন, তাঁর বোঝা লাঘব করেছেন এবং তাঁর স্মরণকে সমুন্নত করেছেন। আর যারা তাঁর আদেশের অবাধ্য হয়, তাদের জন্য লাঞ্ছনা ও অপমান নির্ধারণ করেছেন। এরপর তিনি প্রকাশ্যে ও গোপনে, দিবা-রাত্রি আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন, যতক্ষণ না ইসলামের ফজর উদিত হয়েছে, ঈমানের সূর্য উদ্ভাসিত হয়েছে, দয়াময় রহমানের বাণী সমুন্নত হয়েছে এবং শয়তানের দাওয়াত বাতিল হয়েছে। তাঁর রিসালাতের আলোয় পৃথিবী অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়ার পর আলোকিত হয়েছে এবং বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত হওয়ার পর তাঁর মাধ্যমে অন্তরসমূহ একত্রিত হয়েছে। ফলে মহাকালের চেহারা সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত হয়েছে, অন্ধকার আলোতে পরিণত হয়েছে এবং প্রত্যেক দিশেহারা ব্যক্তি পথ খুঁজে পেয়েছে। অতঃপর যখন আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনকে পূর্ণ করলেন, তাঁর নেয়ামত সম্পন্ন করলেন এবং তাঁর মাধ্যমে সৃষ্টির ওপর স্বীয় রহমত ছড়িয়ে দিলেন, তখন তিনি তাঁর রবের রিসালাত পৌঁছে দিলেন, তাঁর বান্দাদের কল্যাণ কামনা করলেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করলেন(১) সুতরাং আল্লাহর সালাত ও প্রচুর সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পবিত্র পরিবার-পরিজন এবং তাঁর অত্যন্ত সম্মানিত ও বরকতময় সাহাবীগণের ওপর।

অতঃপর:

মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। ১০২} [আলে ইমরান ১০২]।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কাইয়্যিম রচিত ‘হাদিল আরওয়াহ’ গ্রন্থের ভূমিকা (পৃষ্ঠা: ৪)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
فمن أراد عزًّا وفلاحًا، ونشد خيرًا وصلاحًا، وطلب توفيقًا ونجاحًا فعليه بتقوى الله.

في تقوى الله الخروج من المضائق، والسلامة من العوائق، والنجاة من المآزق، قال تعالى: {وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا 2 وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ} [الطلاق].

التقوى هي السبيل إلى الجنان، والطريق لرضا الرحمن، قال تعالى: {تِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي نُورِثُ مِنْ عِبَادِنَا مَنْ كَانَ تَقِيًّا 63} [مريم].

وهي وصية الله للأولين والآخرين كما قال رب العالمين: {وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُوا اللَّهَ} [النساء: 131].

أما بعد: فإنَّ أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمّدٍ صلى الله عليه وسلم، وشرَّ الأمور محدثاتها، وكل محدثةٍ بدعة، وكل بدعةٍ ضلالة.

وبعد: فالصلاة من أعظم أركان الإسلام، وهي التي تصل العبد بربه المنَّان، أمر الله بها موسى الكليم، فقال: {أَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي 14} [طه: 14]، وأُمِرَ بها سيد الأنبياء وخاتم المرسلين فقال له ربه الكريم: {أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ} [الإسراء: 78]، وقد دعا إبراهيم الخليل فقال: {رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي} [إبراهيم: 40]، وقد أثنى الله على إسماعيل؛ لأنه {كَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ} [مريم: 55].

فالصلاة تفرج الكربات، وترفع بها الدرجات، وتمحى بها الخطايا والسيئات، فكم ينال الخاشع في صلاته من البركات وعظيم الخيرات، ولمَّا كانت الطهارة شرطًا لصحة هذا الركن العظيم، فقد دعا الإسلام إلى طهارة القلب من الشرك بالتوحيد والإيمان، وإلى طهارة الجوارح من الأوساخ والأدران، فالطهارة شطر الإيمان، وتكفر عن العبد الخطايا والآثام، وتَحُلّ عُقَد الشيطان، وإسباغها مع النطق بالشهادتين عند ختامها تُدخل العبد الجنان، صحَّ ذلك كله عن النبي العدنان، فروى مسلم عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبْسَةَ، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَا مِنْكُمْ رَجُلٌ يُقَرِّبُ وَضُوءَهُ فَيَتَمَضْمَضُ، وَيَسْتَنْشِقُ فَيَنْتَثِرُ إِلاَّ خَرَّتْ خَطَايَا وَجْهِهِ، وَفِيهِ وَخَيَاشِيمِهِ، ثُمَّ إِذَا غَسَلَ وَجْهَهُ كَمَا أَمَرَهُ الله، إِلاَّ خَرَّتْ خَطَايَا وَجْهِهِ مِنْ أَطْرَافِ لِحْيَتِهِ مَعَ الْمَاءِ، ثُمَّ يَغْسِلُ يَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ، إِلاَّ خَرَّتْ خَطَايَا يَدَيْهِ مِنْ أَنَامِلِهِ مَعَ الْمَاءِ، ثُمَّ يَمْسَحُ رَأْسَهُ، إِلاَّ خَرَّتْ خَطَايَا
অতএব যে ব্যক্তি সম্মান ও সাফল্য কামনা করে, কল্যাণ ও সংশোধন অনুসন্ধান করে এবং তাওফিক ও কামিয়াবি প্রার্থনা করে, তার উচিত আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা।

আল্লাহর তাকওয়ার মধ্যেই রয়েছে সংকীর্ণতা থেকে উত্তরণ, প্রতিবন্ধকতা থেকে নিরাপত্তা এবং বিপদ থেকে মুক্তি। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য বের হওয়ার কোনো পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না} [আত-ত্বলাক]।

তাকওয়াই হলো জান্নাতের পথ এবং পরম দয়াময় আল্লাহর সন্তুষ্টির রাস্তা। মহান আল্লাহ বলেন: {এটিই সেই জান্নাত, যার উত্তরাধিকারী আমি আমার বান্দাদের মধ্যে তাদের বানাব যারা মুত্তাকী ছিল} [মারইয়াম: ৬৩]।

আর এটিই পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের প্রতি আল্লাহর অসিয়ত বা উপদেশ, যেমনটি রাব্বুল আলামীন বলেছেন: {আর আমি তোমাদের পূর্ববর্তী যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদেরকে এবং তোমাদেরকে এই অসিয়ত করেছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো} [আন-নিসা: ১৩১]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়েত হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হেদায়েত। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা।

এরপর: সালাত হলো ইসলামের অন্যতম মহান স্তম্ভ, যা বান্দাকে তার পরম দাতা রবের সাথে সংযুক্ত করে। আল্লাহ তাআলা মূসা কালিমুল্লাহকে এর আদেশ দিয়ে বলেছিলেন: {আমার স্মরণে সালাত কায়েম করো} [ত্বহা: ১৪]। আর নবীগণের সরদার ও সর্বশেষ রাসূলকেও এর আদেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁর মহান রব তাঁকে বলেছেন: {সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে সালাত কায়েম করো} [আল-ইসরা: ৭৮]। ইবরাহীম খলীল দুআ করে বলেছিলেন: {হে আমার রব! আমাকে সালাত কায়েমকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও} [ইবরাহীম: ৪০]। আর আল্লাহ তাআলা ইসমাইলের প্রশংসা করেছেন; কারণ {তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে সালাতের আদেশ দিতেন} [মারইয়াম: ৫৫]।

সালাত বিপদ-আপদ দূর করে, এর মাধ্যমে মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং পাপ ও মন্দ কাজসমূহ মিটিয়ে দেওয়া হয়। একজন বিনয়ী মুসল্লি তার সালাতে কতই না বরকত ও মহান কল্যাণ লাভ করে! যেহেতু পবিত্রতা এই মহান স্তম্ভটি বিশুদ্ধ হওয়ার শর্ত, তাই ইসলাম তাওহীদ ও ঈমানের মাধ্যমে অন্তরকে শিরক থেকে পবিত্র করার এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ময়লা ও আবর্জনা থেকে পবিত্র করার আহ্বান জানিয়েছে। কেননা পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। এটি বান্দার পাপ ও অপরাধসমূহ মোচন করে এবং শয়তানের গিটসমূহ খুলে দেয়। আর ওযূ পূর্ণ করার সাথে ওযূর শেষে শাহাদাতাইন পাঠ করলে তা বান্দাকে জান্নাতে প্রবেশ করায়। এই সব কিছুই আদনানি নবী (সা.) থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম মুসলিম আমর বিন আবাসা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে তার ওযূর পানি কাছে নেয়, এরপর কুলি করে এবং নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করে, তবে অবশ্যই তার চেহারার, মুখের এবং নাকের ছিদ্রপথের পাপসমূহ ঝরে যায়। এরপর যখন সে তার চেহারা ধৌত করে যেমনটি আল্লাহ তাকে নির্দেশ দিয়েছেন, তবে তার চেহারার পাপসমূহ তার দাড়ির প্রান্ত দিয়ে পানির সাথে ঝরে যায়। এরপর সে যখন কনুই পর্যন্ত তার হাত দুটি ধৌত করে, তখন তার হাতের পাপসমূহ তার আঙুলের অগ্রভাগ দিয়ে পানির সাথে ঝরে যায়। এরপর যখন সে তার মাথা মাসাহ করে, তখন তার মাথার পাপসমূহ ঝরে যায়...»
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
رَأْسِهِ مِنْ أَطْرَافِ شَعْرِهِ مَعَ الْمَاءِ، ثُمَّ يَغْسِلُ قَدَمَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ، إِلاَّ خَرَّتْ خَطَايَا رِجْلَيْهِ مِنْ أَنَامِلِهِ مَعَ الْمَاءِ، فَإِنْ هُوَ قَامَ فَصَلَّى، فَحَمِدَ الله وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَمَجَّدَهُ بِالَّذِي هُوَ لَهُ أَهْلٌ، وَفَرَّغَ قَلْبَهُ لِله، إِلاَّ انْصَرَفَ مِنْ خَطِيئَتِهِ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ»(1).

وفي الصحيحين عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه؛ أَنَّ رَسُولَ اللهِ - صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلَاثَ عُقَدٍ، يَضْرِبُ كُلَّ عُقْدَةٍ، عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ، فَارْقُدْ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ، فَذَكَرَ اللهَ، انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ تَوَضَّأَ، انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ صَلَّى، انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ، وَإِلاَّ أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلَانَ»(2).

وقد صح عند مسلم: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلِغُ، أَوْ فَيُسْبِغُ، الْوَضُوءَ ثُمَّ يَقُولُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلاَّ الله وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ إِلاَّ فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ»(3).

والناظر في كتاب الرحمن، وفي سنة النبي العدنان يجد فيهما ما يصلح للعباد في كل مكان وزمان وفي الحال والمآل، حتى الأمور الجِبِلية التي جُبِل عليها الإنسان بفطرته، عَلَّمنا إيَّاها رسول الهدى، فروى مسلم عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ: قِيلَ لَهُ: قَدْ عَلَّمَكُمْ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم كُلَّ شَيْءٍ حَتَّى الْخِرَاءَةَ. قَالَ: فَقَالَ: «أَجَلْ لَقَدْ نَهَانَا أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ لِغَائِطٍ، أَوْ بَوْلٍ، أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِالْيَمِينِ … ».

فإذا كان نبينا قد علمنا كل شيء فلماذا نترك شريعة رب البرية ونتحاكم إلى حثالة أذهان البشرية، والله تعالى يقول: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا 65} [النساء]، فلابد للمسلم أن يسير على شرع الله في دينه ودنياه، وفي عباداته ومعاملاته، وفي كل شيء من أمور حياته، قال تعالى:

--------------------------------------------

(1) مسلم (832).

(2) البخاري (1074)، و مسلم (1259).

(3) مسلم (234).
তার মাথার চুলের অগ্রভাগ হতে পানির সাথে (ঝরে যায়), অতঃপর সে যখন তার উভয় পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করে, তখন তার উভয় পায়ের গুনাহসমূহ তার আঙ্গুলের ডগা দিয়ে পানির সাথে ঝরে যায়। এরপর যদি সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে এবং আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপন করে এবং তাঁর মহান মর্যাদা বর্ণনা করে যেমনিভাবে তিনি তার যোগ্য, আর সে স্বীয় অন্তরকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করে নেয়, তবে সে তার গুনাহসমূহ হতে এমনভাবে মুক্ত হয় যেন সে আজই তার মায়ের গর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হয়েছে।(১).

এবং সহীহদ্বয়ে (বুখারী ও মুসলিম) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত; রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাদ্ভাগে তিনটি গিট দেয়। সে প্রতিটি গিটে থাপ্পড় মেরে বলে: তোমার সামনে দীর্ঘ রাত পড়ে আছে, অতএব তুমি ঘুমাও। অতঃপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহর জিকির করে, তবে একটি গিট খুলে যায়। যদি সে ওযু করে, তবে আরেকটি গিট খুলে যায়। আর যদি সে সালাত আদায় করে, তবে আরেকটি গিট খুলে যায়। ফলে সে প্রফুল্ল ও পবিত্র মনে সকালে উপনীত হয়, অন্যথায় সে অপবিত্র মন ও অলসতা নিয়ে সকালে উপনীত হয়»(২).

এবং মুসলিমের নিকট সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের মাঝে এমন কেউ নেই যে ওযু করে এবং ওযুকে পূর্ণাঙ্গ বা উত্তমরূপে সম্পন্ন করে, অতঃপর বলে: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, তবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হয়, সে তার যেটি দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করবে»(৩).

রহমানের কিতাব এবং নবী আদনানের সুন্নাহর প্রতি দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তি এ দুটির মাঝে এমন সব বিধান দেখতে পাবে যা বান্দার জন্য সকল স্থানে, সকল কালে, বর্তমান ও ভবিষ্যতে কল্যাণকর। এমনকি মানুষের স্বভাবজাত বিষয়সমূহ যার ওপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, হিদায়াতের রাসুল আমাদের তাও শিক্ষা দিয়েছেন। মুসলিম সালমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাঁকে বলা হলো, তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো তোমাদের সবকিছুই শিক্ষা দিয়েছেন, এমনকি মলত্যাগের নিয়মাবলীও। তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি আমাদের পায়খানা বা প্রস্রাবের সময় কিবলার দিকে মুখ করতে অথবা ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য করতে নিষেধ করেছেন...।

সুতরাং আমাদের নবী যখন আমাদের সবকিছুই শিক্ষা দিয়েছেন, তখন কেন আমরা সৃষ্টিজগতের রবের শরীয়ত ছেড়ে দিয়ে মানুষের মস্তিস্কপ্রসূত আবর্জনার কাছে ফয়সালা কামনা করি? অথচ আল্লাহ তাআলা বলছেন: {অতএব তোমার রবের শপথ! তারা ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তোমাকে বিচারক মান্য করবে, অতঃপর তুমি যে ফয়সালা দেবে সে বিষয়ে তাদের মনে কোনো দ্বিধা থাকবে না এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে} [নিসা: ৬৫]। অতএব একজন মুসলিমের জন্য অপরিহার্য হলো তার দ্বীন ও দুনিয়াতে, ইবাদত ও লেনদেনে এবং তার জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর শরীয়তের ওপর চলা। আল্লাহ তাআলা বলেন:

--------------------------------------------

(১) মুসলিম (৮৩২)।

(২) বুখারী (১০৭৪), এবং মুসলিম (১২৫৯)।

(৩) মুসলিম (২৩৪)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
{قلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ 162 لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ 163} [الأنعام].

إنَّ المتأمل لما جاءت به الشريعة الغراء لَيَأْخُذْهُ العَجَبُ، ويشعر بالدهشة تملأ نفسه وتأثر قلبه، وتملك عليه جوارحه، فهي شريعة مبنية على رفع الحرج عن المكلفين، والتيسير على عموم المسلمين، فمن لم يجد الماء تيمم لعموم قوله تعالى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا} [النساء: 43].

وكذا في الشتاء القارص والبرد الحالك إذا لبس المرء الخفين أبيح له المسح عليهما، قال تعالى: {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} [البقرة: 185]. فالحمد لله الذي رضي لنا الإسلام دينا ومحمدًا نبينا ورسولًا.

وبما تقدَّم من أهمية الطهارة، ولتعلُّق أحكامها بالصحة والسقم، والحل والسفر، والشروق والغروب، والليل والنهار ولمدة زمانها، وما يعتري المسلم فيها من عوارضَ تحتاج إلى أحكام وأجوبة، ولتفريط كثير من المسلمين - من أسف - فى تحصيل فقه الطهارة، وقصورِهم عن معرفة أحكامها وسننها وآدابها؛ رَغِبتُ فى إعداد هذا الكتاب وتأليفِه، وتعنَّيت لتحبيره جهدي، مستلهمًا من المولى عزَّ شأنه التسديد والتوفيق، سائلًا إياه أن يكون للمسلمين والمسلمات دليلًا ونبراسًا، ولطالب العلم أصلًا وأساسًا.

على كف الندى أُهدي كتابي … وأُرخي في محبتكم ركابي

فإن كان الذي أهدي يسيرًا … ففيض الوُد أكمل في النِّصاب

وسميته «الجامع لأحكام الطهارة» وقد التزمت فيه ما صحَّ عن النبي العدنان G، مع ذكر بعض الأحاديث الضعيفة لبيان ضعفها أو للردِّ على من استدلَّ بها، وكذلك ذكرت الآثار عن الصحابة الأبرار والتابعين الأخيار، ثم ذكرت أقوال الأئمة المجتهدين، ورجَّحت ما يقتضي الدليل رُجحانَه(1).

--------------------------------------------

(1) قال الإمام الشافعي: «أجمع المسلمون على أن من استبانت له سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن له أن يدعها لقول أحد»، وما يفعله بعض الناس من التعصب لجماعة أو لشيخ فهذا مخالف لهدي السلف ومخالف لما عليه أئمة المذاهب، فإنهم متفقون على ذم التقليد وذم التعصب، فالواجب على المسلم أن ينصر الدليل.
{বলুন, "নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য ১৬২ তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি আর আমি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম ১৬৩} [আল-আনআম]।

নিশ্চয়ই এই উজ্জ্বল শরিয়ত যা নিয়ে এসেছে, তার প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করলে যে কেউ বিস্মিত হবে এবং সে অনুভব করবে যে এক মহা বিস্ময় তার সত্তাকে আবিষ্ট করছে, তার অন্তরকে প্রভাবিত করছে এবং তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আচ্ছন্ন করছে। কেননা এটি এমন এক শরিয়ত যার ভিত্তি হলো মুকাল্লাফ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের থেকে কষ্ট দূর করা এবং সাধারণ মুসলিমদের জন্য সহজসাধ্য করা। সুতরাং যে পানি পাবে না সে তায়াম্মুম করবে, মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপকতার কারণে: {অতঃপর তোমরা যদি পানি না পাও, তবে তায়াম্মুম করো} [আন-নিসা: ৪৩]।

একইভাবে হাড়কাঁপানো শীত ও তীব্র ঠান্ডার সময় যদি কোনো ব্যক্তি চামড়ার মোজা পরিধান করে, তবে তার জন্য তার ওপর মাসেহ করা বৈধ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না} [আল-বাকারা: ১৮৫]। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আমাদের নবী ও রাসূল হিসেবে পছন্দ করেছেন।

পবিত্রতার উপরোক্ত গুরুত্বের কারণে এবং এর বিধানসমূহ সুস্থতা ও অসুস্থতা, অবস্থান ও সফর, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, দিন ও রাত এবং সময়ের ব্যাপ্তির সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে; আর এ ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের সামনে যেসব বিষয়ের সম্মুখীন হতে হয় যেগুলোর বিধান ও উত্তর জানার প্রয়োজন পড়ে এবং দুঃখজনকভাবে অনেক মুসলিমের পবিত্রতার ফিকহ অর্জনে অবহেলা ও এর বিধান, সুন্নত ও আদবসমূহ জানার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণে—আমি এই বইটি সংকলন ও রচনা করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছি। আমি আমার সাধ্যমতো এটি সুবিন্যস্ত করার চেষ্টা করেছি, মহান প্রতিপালকের নিকট সঠিক পথনির্দেশ ও তাওফীক কামনা করে। আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি যেন এটি মুসলিম নর-নারীদের জন্য একটি পথপ্রদর্শক ও আলোকবর্তিকা এবং ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য একটি মূল ভিত্তি ও আদর্শ হয়।

দানশীলতার হাতে আমি আমার এই বই উপহার দিচ্ছি … এবং তোমাদের ভালোবাসায় আমার বাহন থামাচ্ছি

আমি যা উপহার দিচ্ছি তা যদি সামান্যও হয় … তবে ভালোবাসার প্রাচুর্যই তার পূর্ণতা দেবে

আমি এর নামকরণ করেছি ‘আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ’ (পবিত্রতার বিধানসমূহের সংকলন)। এতে আমি আদনানি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে যা সহিহ সাব্যস্ত হয়েছে তা মেনে চলার চেষ্টা করেছি, পাশাপাশি কিছু দুর্বল হাদিসও উল্লেখ করেছি সেগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট করার জন্য অথবা যারা সেগুলো দ্বারা দলিল পেশ করেন তাদের জবাব দেওয়ার জন্য। একইভাবে আমি পুণ্যবান সাহাবী ও শ্রেষ্ঠ তাবেয়ীদের থেকে বর্ণিত আছারসমূহ উল্লেখ করেছি। এরপর আমি মুজতাহিদ ইমামগণের বক্তব্য উল্লেখ করেছি এবং দলিল যা প্রাধান্য দেওয়ার দাবি রাখে তাকেই আমি প্রাধান্য দিয়েছি(১)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম শাফিঈ বলেন: ‘মুসলিমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সুন্নত স্পষ্ট হয়ে গেছে, তার জন্য অন্য কারো কথার খাতিরে তা বর্জন করা জায়েজ নয়।’ আর বর্তমানে কিছু মানুষ কোনো দল বা শাইখের প্রতি যে অন্ধ গোঁড়ামি করে, তা সালাফদের নির্দেশিত পথের পরিপন্থী এবং মাযহাবের ইমামগণ যা পোষণ করতেন তারও বিরোধী। কেননা তাঁরা অন্ধ অনুকরণ ও গোঁড়ামির নিন্দা করার ব্যাপারে একমত ছিলেন। অতএব, একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো দলিলের অনুসরণ করা।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وقد قسمت هذا الكتاب إلى عشرة أبواب:

الباب الأول: المياه.

والباب الثاني: النجاسات.

والباب الثالث: الأنية.

والباب الرابع: قضاء الحاجة.

والباب الخامس: خصال الفطرة.

والباب السادس: الوضوء.

والباب السابع: المسح على الحائل.

والباب الثامن: الغسل.

والباب التاسع: التيمم.

والباب العاشر: الحيض.

وهذا ترتيب منطقي فأول ما يفعله من أراد الطهارة أن يأتي بالمياه ثم توضع المياه في الأنية ثم قضاء الحاجة ثم الوضوء وإذا كان يلبس الخف يمسح عليه، وإذا أجنب فيجب عليه الغسل، وإذا فقد المرء الماء تيمم ثم ختمت بالحيض وهو خاص بالنساء.

وبعد أن أضنيتُ نفسى فى جمع هذا الكتاب، وتبويبه وترتيبه، وتخريجِ أحاديثِه وآثارِه والحكمِ عليها في ضوء قواعدِ الجرح والتعديل، قمت بعرض ما جمعته على شيخنا المفضال مصطفى بن العدوي - حفظه الله من كل سوءٍ وبارك فيه -، فراجعه على دَيدنِه فى سماحة خلقه، وبرِّه بطلاب العلم، فقدَّم له، فأفدتُ من تسديد ألحاظه، وتصويب ألفاظه؛ فكم أذكره في خلواتي، وأدعو له في صلواتي، فجزاه الله خير الجزاء وأوفاه، وجعل ما قَدَّمه فى ميزان حسناته يوم يلقى مولاه، وأسألُه سبحانه أن يُسعدَه بجنته، ويشملَه برحمته، وأن يكرمَه بمغفرته، وأن يرزقه مزيدَ العلم النافعِ، ومزيد العمل الصالح وأن ينفع بعلمه وسعيه الإسلامَ والمسلمين، وأن يرزقَه الإخلاصَ فى جميع ذلك، وأن يتقبَّل منه جميعَ أعمالِه، وأن يجعلَه من أهل جنة الفردوس، وأن يجزيَه عني وعن المسلمين خير الجزاء.

وإني لأعلم أن هناك من هو أكثر أهلية مني لهذا العمل الجلل، ولكني أذكر قول القائل:

وما كنت أهلًا للذي قد كتبته … وإني لفي خوف من الله نادم
আমি এই কিতাবটিকে দশটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি:

প্রথম অধ্যায়: পানিসমূহ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: অপবিত্রতাসমূহ।

তৃতীয় অধ্যায়: পাত্রসমূহ।

চতুর্থ অধ্যায়: শৌচকার্য সম্পাদন।

পঞ্চম অধ্যায়: ফিতরাতের বৈশিষ্ট্যসমূহ।

ষষ্ঠ অধ্যায়: অজু।

সপ্তম অধ্যায়: আবরণের ওপর মাসেহ করা।

অষ্টম অধ্যায়: গোসল।

নবম অধ্যায়: তায়াম্মুম।

দশম অধ্যায়: ঋতুস্রাব।

এটি একটি যৌক্তিক বিন্যাস; কেননা যে ব্যক্তি পবিত্রতা অর্জন করতে চায়, তার প্রথম কাজ হলো পানি সংগ্রহ করা, তারপর সেই পানি পাত্রে রাখা হয়, এরপর শৌচকার্য সম্পাদন, এরপর অজু; আর যদি সে মোজা পরিহিত থাকে তবে তার ওপর মাসেহ করবে। যদি সে অপবিত্র (জানাবাত) হয় তবে তার ওপর গোসল করা আবশ্যক হবে, আর যদি কেউ পানি না পায় তবে তায়াম্মুম করবে। অতঃপর ঋতুস্রাবের আলোচনার মাধ্যমে কিতাবটি শেষ করা হয়েছে, যা নারীদের জন্য নির্দিষ্ট।

এই কিতাবটি সংকলন, অধ্যায় বিন্যাস ও সুবিন্যস্তকরণ এবং জারহ ও তা'দীলের (হাদিস বিশারদদের সমালোচনা ও প্রশংসা) মূলনীতির আলোকে এর হাদিস ও আসারসমূহের তাখরীজ (উৎস নির্ণয়) ও সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে নিজেকে পরিশ্রান্ত করার পর, আমি আমার সংগৃহীত অংশটুকু আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ মুস্তফা বিন আল-আদাভী—আল্লাহ তাঁকে সকল অনিষ্ট থেকে হিফাজত করুন এবং তাঁর মধ্যে বরকত দান করুন—এর নিকট পেশ করি। তিনি তাঁর মহান চরিত্র এবং ইলম অন্বেষণকারীদের প্রতি তাঁর চিরচেনা সদাচরণের রীতি অনুযায়ী এটি পর্যালোচনা করেন এবং এর একটি ভূমিকা লিখে দেন। আমি তাঁর গভীর পর্যবেক্ষণ ও শব্দগত সংশোধনী থেকে উপকৃত হয়েছি। আমি আমার নির্জনতায় কতবার তাঁর কথা স্মরণ করি এবং আমার সালাতসমূহে তাঁর জন্য দোয়া করি! আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন এবং তিনি যা পেশ করেছেন তা যেন তাঁর প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের দিনে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় ভারী করে দেন। আমি মহাপবিত্র আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁকে জান্নাত দিয়ে সৌভাগ্যবান করেন, তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করেন, তাঁর মাগফিরাত দ্বারা তাঁকে সম্মানিত করেন, এবং তাঁকে আরও উপকারী ইলম ও নেক আমল দান করেন। তাঁর ইলম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে উপকৃত করেন। আর তাঁকে এসব বিষয়ে ইখলাস দান করেন, তাঁর সকল আমল কবুল করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী করেন। আমার পক্ষ থেকে এবং মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

আর আমি জানি যে, এই মহান কাজের জন্য আমার চেয়েও অধিক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন, কিন্তু আমি কবির সেই কথাটি স্মরণ করছি:

আমি যা লিখেছি তার জন্য আমি যোগ্য ছিলাম না … আর আমি আল্লাহর ভয়ে অনুতপ্ত অবস্থায় রয়েছি।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ولكنني أرجو من الله عفوه … وإن لأهل العلم لا شك خادم

ولما آمل من ثواب ونجاة في اليوم المشهود لمن خدم هذا الدين، تجرأت على الشأن الكؤود، فأسأل الله أن يتقبله مني في اليوم الموعود.

رب تقبل عملي … ولا تخيب أملي

أصلِح أموري كلها … قبل حلول أجلي

ولم أدخر جهدًا في هذا البحث إلا بذلته في تحريره وتنقيحه وتقريره، ولا أدعي الكمال والتمام والعصمةَ من الزلل والخطأ والنسيان، فقد قيل: أبى الله أن يصح إلا كتابه. وقال الشافعي: «لقد ألفت هذه الكتب ولم آل جهدًا فيها، ولابد أن يوجد فيها الخطأ؛ لأن الله تعالى يقول: {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا (82)} [النساء] فما وجدتم في كتبي هذه ما يخالف الكتاب والسنة فقد رجعت عنه، ولله در من قال:

كم من كتاب قد تصفحته … وقلت في نفسِ أصلحته

حتى إذا طالعته ثانيًا … وجدت تصحيفًا فصححته

وما أحسن ما قاله العماد الأصفهاني: «إني رأيت أنه لا يكتب إنسان كتابًا في يومه إلا قال في غده: لو غُيِّرَ هذا لكان أحسن، ولو زيد هذا لكان يستحسن، ولو قُدِّم هذا لكان أفضل، ولو تُرِك هذا لكان أجمل، وهذا من أعظم العِبَر، وهذا دليل استيلاء النقص على جملة البشر، فسبحان مَنْ تنزَّه عن النقص».

فمن وقف فيه على تقصير أو خلل، أو عثر فيه على تغيير أو زلل، فليعذر أخاه في ذلك متطولًا، أو ليصلح منه ما يحتاج إلى إصلاح متفضلًا، فالتقصير من الأوصاف البشرية، فليست الإحاطة بالعلم إلا لبارئ البرية، فهو الذي وسع كل شيء علمًا، وأحصى مخلوقاته عينًا واسمًا.

سطره لنفسه … قائله وجامعه

فليعف عن زلاته … ناقله وسامعه

فألتمس من النبلاء الأماجد تقويم ما اعوجَّ وندَّ، والتنبيه إلى ما ندَّ عنه القلم.
কিন্তু আমি আল্লাহর কাছে তাঁর ক্ষমার আশা রাখি … এবং আমি নিঃসন্দেহে আলেমদের একজন খাদেম।

আর এই দ্বীনের খিদমতকারীদের জন্য কিয়ামতের দিনে যে সওয়াব ও নাজাতের আশা আমি রাখি, সেই আশায় আমি এই দুরুহ কাজে সাহসী হয়েছি। তাই আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি যেন প্রতিশ্রুত দিবসে এটি আমার পক্ষ থেকে কবুল করে নেন।

হে প্রতিপালক, আমার আমল কবুল করুন … এবং আমার আশাকে নিরাশ করবেন না।

মৃত্যু আসার আগেই … আমার সকল বিষয় সংশোধন করে দিন।

আমি এই গবেষণায় কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখিনি, বরং এর সম্পাদনা, পরিমার্জন ও বয়ানে তা ব্যয় করেছি। আর আমি এর পূর্ণতা, সমাপ্তি কিংবা ভুল-ভ্রান্তি ও বিস্মৃতি থেকে মুক্ত হওয়ার দাবি করি না। কারণ বলা হয়েছে: আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কিছুকে নির্ভুল রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ইমাম শাফেঈ বলেছেন: «আমি এই কিতাবগুলো রচনা করেছি এবং এতে কোনো প্রচেষ্টার ত্রুটি করিনি, তবুও এতে অবশ্যই ভুল পাওয়া যাবে; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ পেত (৮২)} [আন-নিসা]। সুতরাং আমার এই কিতাবগুলোতে তোমরা যা কিছু কিতাব ও সুন্নাহর বিরোধী পাবে, তা থেকে আমি ফিরে আসলাম। আর কতই না চমৎকার বলেছেন সেই ব্যক্তি যিনি বলেছেন:

কত কিতাবই না আমি উল্টেপাল্টে দেখেছি … আর মনে মনে বলেছি আমি তা সংশোধন করেছি।

অবশেষে যখন আমি দ্বিতীয়বার তা অধ্যয়ন করলাম … তখন সেখানে ভুল দেখতে পেলাম এবং তা পুনরায় সংশোধন করলাম।

ইমাদ আল-আসফাহানি কতই না সুন্দর বলেছেন: «আমি দেখেছি যে, কোনো মানুষ আজ কোনো কিতাব লিখলে পরদিন সে অবশ্যই বলে: যদি এটা পরিবর্তন করা হতো তবে ভালো হতো, যদি এটা বাড়ানো হতো তবে আরও পছন্দনীয় হতো, যদি এটা আগে আনা হতো তবে উত্তম হতো, আর যদি এটা বাদ দেওয়া হতো তবে সুন্দর হতো। এটি এক মহা শিক্ষা, আর এটি সমগ্র মানবজাতির ওপর অপূর্ণতার প্রভাব বিস্তারের প্রমাণ। সুতরাং পবিত্রতা সেই সত্তার যিনি সকল অপূর্ণতা থেকে মুক্ত।»

সুতরাং কেউ যদি এতে কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি দেখতে পায়, কিংবা কোনো পরিবর্তন বা স্খলন খুঁজে পায়, তবে সে যেন অনুগ্রহপূর্বক তার ভাইকে ক্ষমা করে দেয়, অথবা সদয় হয়ে যা সংশোধন প্রয়োজন তা সংশোধন করে দেয়। কেননা ত্রুটি মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। আর জ্ঞানের পূর্ণ পরিবেষ্টন কেবল সৃষ্টির স্রষ্টার জন্যই নির্ধারিত। তিনিই সেই সত্তা যাঁর জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং যিনি তাঁর সৃষ্টিজগতকে সংখ্যা ও নামে গণনা করে রেখেছেন।

এটি নিজের জন্য লিখেছেন … এর বক্তা ও সংকলক।

সুতরাং এর ভুল-ভ্রান্তি যেন ক্ষমা করেন … এর বর্ণনাকারী ও শ্রবণকারী।

তাই আমি মহৎ ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের নিকট বিনীত অনুরোধ করছি যেন তারা বক্রতা ও বিচ্যুতি সংশোধন করেন এবং কলম থেকে যা বিচ্যুত হয়েছে সে বিষয়ে সতর্ক করেন।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وإن تَجِدْ عيبًا فَسُدَّ الخَلَلَا … فَجَلَّ مَنْ لَا عَيْبَ فيه وعلا

وأسأل الله عز وجل أن يجعل عملي هذا خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفعني به والمسلمين، وأن يجعلَه فى ميزان حسناتي يوم الدين، وأسأله أن يجزي عنى والديَّ أعمَّ الجزاءِ والمثوبةِ، وأن يمتَّعهما بالصحة والعافية، وأن ينوِّرَ أوقاتهما بالهدى والتُّقى، وأن يرزقَهما جنةَ الفردوس.

هذا وما كان من توفيقٍ فمن الواحد المنان، وما كان من خطأٍ أو نسيانٍ فمنى ومن الشيطان، والله ورسوله منه براءٌ، والله المستعان.

إذا لم يكن عون من الله للفتى … فأكثر ما يجني عليه اجتهاده

وصلِّ اللهم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

 

محمد بن علي حلاوة

مصر - كفر الشيخ - البرلس

هاتف: 01010637466
যদি কোনো ত্রুটি পাও, তবে সেই বিচ্যুতি সংশোধন করো … কেননা মহান সেই সত্তা যার মধ্যে কোনো ত্রুটি নেই এবং তিনি সুউচ্চ।

আর আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই আমলকে কেবল তাঁরই মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, এর দ্বারা আমাকে ও মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং বিচার দিবসে একে আমার নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন। আমি তাঁর কাছে আরও প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার পক্ষ থেকে আমার পিতা-মাতাকে সর্বোত্তম প্রতিদান ও সওয়াব দান করেন, তাঁদেরকে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করেন, হিদায়াত ও তাকওয়ার মাধ্যমে তাঁদের সময়গুলোকে আলোকিত করেন এবং তাঁদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করেন।

এতে যা কিছু সঠিক হয়েছে তা একক মহান দাতা আল্লাহর পক্ষ থেকে; আর যা কিছু ভুল বা বিস্মৃতি হয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত। আর আল্লাহই সাহায্যকারী।

যদি কোনো ব্যক্তির প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য না থাকে … তবে তার কঠোর প্রচেষ্টাই তার জন্য অধিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

 

মুহাম্মাদ বিন আলী হালাওয়াহ্

মিশর - কাফরুশ শাইখ - আল-বুরুলাস

ফোন: ০১০১০৬৩৭৪৬৬
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الباب الأول

تمهيد

وفيه مباحث

المبحث الأول: تعريف الطهارة.

المبحث الثاني: أقسام المياه من حيث حكمها (طهور، ونجس).

المبحث الثالث: أقسام المياه من حيث طبيعتها.

وفيه سبعة أقسام

القسم الأول: الماء المطلق، وفيه سبعة مطالب:

القسم الثاني: الماء المستعمل.

القسم الثالث: الماء المتغير بطول مُكثه.

القسم الرابع: الماء الذي وقعت فيه نجاسة، وفيه ستة مباحث.

القسم الخامس: حكم الماء أو الثوب المشكوك فيه، وفيه مبحثان.

القسم السادس: حكم الماء الحرام، وفيه مبحثان.

القسم السابع: حكم الوضوء بالمائعات غير الماء، وفيه مبحثان.
প্রথম অধ্যায়

ভূমিকা

এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে

প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্রতার সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিধান অনুযায়ী পানির প্রকারভেদ (পবিত্রকারী ও অপবিত্র)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: প্রকৃতি অনুযায়ী পানির প্রকারভেদ।

এতে সাতটি প্রকার রয়েছে

প্রথম প্রকার: সাধারণ পানি, এতে সাতটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

দ্বিতীয় প্রকার: ব্যবহৃত পানি।

তৃতীয় প্রকার: দীর্ঘ সময় জমে থাকার কারণে পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া পানি।

চতুর্থ প্রকার: যে পানিতে অপবিত্রতা পতিত হয়েছে, এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

পঞ্চম প্রকার: সন্দেহযুক্ত পানি বা পোশাকের বিধান, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

ষষ্ঠ প্রকার: নিষিদ্ধ পানির বিধান, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

সপ্তম প্রকার: পানি ব্যতীত অন্য তরল দ্বারা ওযু করার বিধান, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌المبحث الأول تعريف الطهارة

تطلق الطهارة في اللغة على معانٍ:

الأول: الطهارة تطلق على النظافة نقيض النجاسة.

الثاني: تطلق على طهارة القلب من الشرك، ومنه قوله تعالى: {أُولَئِكَ الَّذِينَ لَمْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يُطَهِّرَ قُلُوبَهُمْ} [المائدة: 41]، وقال تعالى: {إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ} [التوبة: 28] بكفرهم، وطهارة المشرك بإسلامه؛ ولذا قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إنَّ الْمُؤْمِنَ لَا يَنْجُسُ»(1).

الثالث: تطلق على الطهارة من الذنب بالتوبة وإقامة الحد، ومنه قول ماعز والغامدية: «يَا رَسُولَ الله إِنِّي قَدْ زَنَيْتُ وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ تُطَهِّرَنِي» أي: بإقامة الحد.

الرابع: تطلق الطهارة على النزاهة والكف عن الإثم وما لا يحل، قال تعالى عن قوم لوط: {أَخْرِجُوا آلَ لُوطٍ مِنْ قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ} [النمل: 56] يتنزهون عن إتيان الذكور.

الخامس: تطلق الطهارة على الحلال والبعد عن الحرام، ومنه قوله تعالى عن قوم لوط عليه السلام: {هَؤُلَاءِ بَنَاتِي هُنَّ أَطْهَرُ لَكُمْ} [هود: 78] حلال لكم بالزواج بهن، ولا يحل لكم إتيان الذكور.

السادس: تطلق الطهارة على طهارة القلب من الريبة، ومنه قوله تعالى: {ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ}.

السابع: تطلق على انقطاع دم الحيض، ومنه قوله: {وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ} [البقرة: 222].

--------------------------------------------

(1) البخاري (285)، ومسلم (371).
প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্রতার সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থে পবিত্রতা (তাহারাত) কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

প্রথম: পবিত্রতা বলতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বোঝায়, যা নাপাকির বিপরীত।

দ্বিতীয়: শিরক থেকে অন্তর পবিত্র হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এরা সেই সব লোক, আল্লাহ যাদের অন্তরকে পবিত্র করতে চাননি} [আল-মায়িদাহ: ৪১]। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র} [আত-তাওবাহ: ২৮], তাদের কুফরের কারণে। আর মুশরিকের পবিত্রতা হয় তার ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে; এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই মুমিন অপবিত্র হয় না»(১)।

তৃতীয়: তওবা এবং দণ্ডবিধি কার্যকরের মাধ্যমে গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর উদাহরণ হলো মায়েজ এবং গামেদিয়ার উক্তি: «হে আল্লাহর রাসূল, আমি ব্যভিচার করেছি এবং আমি চাই আপনি আমাকে পবিত্র করুন» অর্থাৎ: দণ্ডবিধি কার্যকরের মাধ্যমে।

চতুর্থ: পবিত্রতা বলতে নিষ্কলঙ্ক হওয়া এবং পাপ ও যা বৈধ নয় তা থেকে বিরত থাকা বোঝায়। লুত (আ.)-এর কওম সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: {লুতের পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও, এরা তো এমন লোক যারা পবিত্র হতে চায়} [আন-নামল: ৫৬], অর্থাৎ তারা পুরুষদের সাথে কামাচার থেকে নিষ্কলঙ্ক থাকতে চায়।

পঞ্চম: পবিত্রতা হালাল হওয়া এবং হারাম থেকে দূরে থাকা অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর উদাহরণ হলো লুত আলাইহিস সালামের কওম সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {এরা আমার কন্যা, তোমাদের জন্য তারা অধিক পবিত্র} [হুদ: ৭৮], অর্থাৎ বিবাহের মাধ্যমে তারা তোমাদের জন্য হালাল, আর পুরুষদের কাছে যাওয়া তোমাদের জন্য বৈধ নয়।

ষষ্ঠ: পবিত্রতা বলতে সংশয় থেকে অন্তরের পবিত্রতা বোঝায়। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এটি তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র}।

সপ্তম: এটি মাসিকের রক্ত বন্ধ হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তোমরা তাদের নিকটবর্তী হয়ো না} [আল-বাকারাহ: ২২২]।

--------------------------------------------

(১) বুখারী (২৮৫), এবং মুসলিম (৩৭১)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الثامن: تطلق الطهارة على الاغتسال، ومنه قوله تعالى: {فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ} [البقرة: 222]، وقوله تعالى: {وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا} [المائدة: 6].

التاسع: تطلق الطهارة على الاستنجاء بالماء، ومنه قوله تعالى: {فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا} [التوبة: 108]، نزلت في أهل قباء، كانوا يستعملون الماء في الاستنجاء.

العاشر: تطلق الطهارة على السلامة من سائر المستقذرات، ومنه قوله تعالى: {وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ} [البقرة: 25].

الحادي عشر: تطلق على الطهارة من الفاحشة، ومنه قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَاكِ وَطَهَّرَكِ} [آل عمران: 42] من الفاحشة(1).

والطهارة في الشرع: هي رفع الحدث وإزالة النجس أو الخبث(2).

فرفع الحدث الأصغر يكون بالوضوء، ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: «لَا يَقْبَلُ الله صَلَاةَ أَحَدِكُمْ إِذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ» معنى أحدث: أي: أحدث الحدث الأصغر من بول أو غائط أو ريح، الذي يجب منه الوضوء، دل على ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: «حَتَّى يَتَوَضَّأَ».

والاحتلام حدث أكبر يكون رفعه بالاغتسال، وكذا الحيض، ومنه قوله تعالى: {فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ} [البقرة: 222]، أي: فإذا اغتسلن بعد انقطاع دم الحيض فيحل لكم وطؤهن.

ومعنى «إزالة النجس» أي: إزالة النجس عن البدن، والثوب، والمكان، والإناء.

فإزالة النجاسة عن البدن تكون بالاستنجاء أو الغسل، فهذا رجل يعذب في قبره لعدم نظافة بدنه، ففي الصحيحين عن ابن عباس {، أن النبي صلى الله عليه وسلم مر عَلَى قَبْرَيْنِ فَقَالَ: «إِنَّهُمَا

--------------------------------------------

(1) انظر: «لسان العرب» (4/ 504)، و «القاموس المحيط» (ص 454)، و «مختار الصحاح» (2/ 379)، و «نزهة الأعين النواظر»: (ص: 421).

(2) «الجوهرة النيرة» (1/ 2)، و «مواهب الجليل» (1/ 43 - 44)، و «المجموع» (1/ 123)، وقال ابن قدامة «المغني» (1/ 34): رفع الحدث: رَفْعُ مَا يَمْنَعُ الصَّلَاةَ مِنْ حَدَثٍ أَوْ نَجَاسَةٍ بِالْمَاءِ، أَوْ رَفْعُ حُكْمِهِ بِالتُّرَابِ.
অষ্টম: পবিত্রতা শব্দটি গোসল করার অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর তারা যখন পবিত্র হবে, তখন তোমরা তাদের নিকট গমন করো} [আল-বাকারা: ২২২], এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যদি তোমরা অপবিত্র অবস্থায় থাকো, তবে তোমরা পবিত্রতা অর্জন করো} [আল-মায়িদাহ: ৬]।

নবম: পবিত্রতা শব্দটি পানি দ্বারা ইস্তিনজা করা অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {সেখানে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে} [আত-তাওবাহ: ১০৮], এটি কুবা-বাসীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, তারা ইস্তিনজায় পানি ব্যবহার করতেন।

দশম: পবিত্রতা শব্দটি যাবতীয় নোংরামি থেকে মুক্ত থাকা অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর সেখানে তাদের জন্য থাকবে পবিত্র সহধর্মিণীগণ} [আল-বাকারা: ২৫]।

একাদশ: পবিত্রতা শব্দটি অশ্লীলতা থেকে পবিত্র থাকার অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন এবং তোমাকে পবিত্র করেছেন} [আল-ইমরান: ৪২] অর্থাৎ অশ্লীলতা থেকে(১)।

আর শরিয়তের পরিভাষায় পবিত্রতা হলো: হাদাস (অশুচিতা) দূর করা এবং নাজাসাত (নাপাকি) বা খবাছ (অপবিত্রতা) দূরীভূত করা(২)।

ক্ষুদ্র হাদাস দূর করা হয় ওযুর মাধ্যমে, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: «তোমাদের কারো যখন হাদাস (অশুচিতা) হয়, তখন আল্লাহ তার সালাত কবুল করেন না যতক্ষণ না সে ওযু করে»। হাদাস হওয়ার অর্থ হলো: পেশাব, পায়খানা বা বায়ু নির্গমনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র অশুচিতার সৃষ্টি হওয়া, যার জন্য ওযু করা ওয়াজিব হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই কথাটিই তার প্রমাণ: «যতক্ষণ না সে ওযু করে»।

আর স্বপ্নদোষ হলো বড় হাদাস, যা গোসলের মাধ্যমে দূর করতে হয়, অনুরূপভাবে হায়েযও (মাসিক)। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর তারা যখন পবিত্র হবে, তখন তোমরা তাদের নিকট গমন করো} [আল-বাকারা: ২২২], অর্থাৎ: যখন তারা হায়েযের রক্ত বন্ধ হওয়ার পর গোসল করবে, তখন তোমাদের জন্য তাদের সাথে সহবাস করা বৈধ হবে।

“নাজাসাত দূরীভূত করা” এর অর্থ হলো: শরীর, কাপড়, স্থান এবং পাত্র থেকে নাপাকি দূর করা।

শরীর থেকে নাপাকি দূর করা হয় ইস্তিনজা অথবা ধৌত করার মাধ্যমে। যেমন এই ব্যক্তিটি তার কবরে আজাব ভোগ করছিল তার শরীর পরিচ্ছন্ন না রাখার কারণে; সহীহাইন-এ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই তাদের

--------------------------------------------

(১) দেখুন: «লিসানুল আরব» (৪/৫০৪), «আল-কামুস আল-মুহিত» (পৃ. ৪৫৪), «মুখতারুস সিহাহ» (২/৩৭৯), এবং «নুজহাতুল আইয়ুনিন নাওয়াযির»: (পৃ. ৪২১)।

(২) «আল-জাওহারাতুন নাইয়িরা» (১/২), «মাওয়াহিবুল জলীল» (১/৪৩ - ৪৪), «আল-মাজমু» (১/১২৩), এবং ইবনে কুদামা «আল-মুগনী» (১/৩৪)-তে বলেছেন: হাদাস দূর করা হলো: পানি দ্বারা হাদাস বা নাজাসাতজনিত সালাতের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, অথবা মাটি দ্বারা তার বিধানগত প্রভাব দূর করা।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
يُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِى كَبِيرٍ، أَمَّا هَذَا فَكَانَ لَا يَسْتَنْزِهُ مِنَ الْبَوْلِ، وَأَمَّا هَذَا فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ»(1).

وإزالة نجاسة الثوب بطهارته؛ لعموم قوله تعالى: {وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ} [المدثر: 4].

وإزالة النجاسة عن المكان الذي يصلي فيه تكون بتطهيره من النجاسات، دل على ذلك ما ورد في الصحيحين من حديث أنس: أَنَّ أَعْرَابِيًّا بَالَ فِي الْمَسْجِدِ، فَقَامَ إِلَيْهِ بَعْضُ الْقَوْمِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «دَعُوهُ وَلَا تُزْرِمُوهُ» قَالَ: فَلَمَّا فَرَغَ دَعَا بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ فَصَبَّهُ عَلَيْه(2).

فصبُّ الماء على بول الأعرابي حين بال في المسجد دليل على وجوب تطهير المسجد عن النجاسات، ووجوب طهارة المكان الذي يصلي فيه المرء.

وإزالة النجاسة عن الإناء الذي يتطهر منه؛ لعموم قول النبي صلى الله عليه وسلم: «إِذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ»(3).

وقد جمع الله في آية بين رفع الحدث وإزالة النجس؛ فقال: {وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ} من النجس، الذي هو انقطاع دم الحيض، {فَإِذَا تَطَهَّرْنَ} أي: اغتسلن من الحدث الأكبر بعد الطهارة من الحيض، حل لكم وطؤهن.

--------------------------------------------

(1) البخاري (216)، ومسلم (292).

(2) البخاري (219)، ومسلم (284).

(3) رواه مسلم (279).
«তাদের উভয়কে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, অথচ কোনো বড় (কঠিন মনে হওয়া) কারণে তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। তাদের একজন প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করত না, আর অন্যজন চোগলখুরি করে বেড়াত»(১)।

এবং পোশাক পবিত্র করার মাধ্যমে তার নাপাকি দূর করা; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাপকতার কারণে: {আর আপনার পোশাক পবিত্র করুন} [আল-মুদ্দাসসির: ৪]।

আর যে স্থানে সালাত আদায় করা হয়, সেখান থেকে নাপাকি দূর করা হবে তাকে নাপাকি থেকে পবিত্র করার মাধ্যমে। বুখারি ও মুসলিমের আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস এর ওপর প্রমাণ পেশ করে যে: এক বেদুইন মসজিদে প্রস্রাব করল, তখন কিছু লোক তার দিকে (তাড়াতে) উদ্যত হলো, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তাকে ছেড়ে দাও এবং তার প্রস্রাব মাঝপথে বন্ধ করো না।» বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর সে যখন শেষ করল, তখন তিনি এক বালতি পানি আনতে বললেন এবং তা তার ওপর ঢেলে দিলেন(২)।

বেদুইন যখন মসজিদে প্রস্রাব করেছিল, তখন তার প্রস্রাবের ওপর পানি ঢেলে দেওয়া প্রমাণ করে যে, মসজিদকে নাপাকি থেকে পবিত্র করা ওয়াজিব এবং যে স্থানে মানুষ সালাত আদায় করে, সেই স্থানটি পবিত্র হওয়াও ওয়াজিব।

এবং যে পাত্র থেকে পবিত্রতা অর্জন করা হয় তা থেকে নাপাকি দূর করা; নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর ব্যাপকতার কারণে: «যখন তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর পান করবে, তখন সে যেন তা সাতবার ধৌত করে»(৩)।

আল্লাহ তাআলা এক আয়াতে অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করা এবং নাপাকি (নাজাসাত) দূর করার বিষয়টি একত্রিত করেছেন; তিনি বলেছেন: {তোমরা তাদের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়} নাপাকি থেকে, যা হলো ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া, {অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে} অর্থাৎ: ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়ার পর যখন তারা বড় নাপাকি (হাদাস) থেকে গোসল করবে, তখন তাদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল হবে।

--------------------------------------------

(১) বুখারি (২১৬), এবং মুসলিম (২৯২)।

(২) বুখারি (২১৯), এবং মুসলিম (২৮৪)।

(৩) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২৭৯)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المبحث الثاني

أقسام المياه من حيث حكمها
(طهور ونجس)

اختلف أهل العلم في أقسام المياه على قولين:

القول الأول: ذهب جمهور العلماء إلى أن الماء ينقسم إلى ثلاثة أقسام: طهور وطاهر ونجس. وبه قال الحنفية، والمالكية، والشافعية، ورواية عن أحمد(1).

واستدلوا لذلك بالسنة: فعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ الله، إنَّا نَرْكَبُ الْبَحْرَ، وَنَحْمِلُ مَعَنَا الْقَلِيلَ مِنَ الْمَاءِ، فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا، أَفَنَتَوَضَّأُ بِمَاءِ الْبَحْرِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ»(2).

--------------------------------------------

(1) «بدائع الصنائع» (1/ 66 - 67)، و «بداية المجتهد» (1/ 271)، و «المجموع» (1/ 150)، و «كشاف القناع» (1/ 30).

(2) إسناده صحيح: وقد اختلف في إسناده ألوانًا:

أ - فرواه مَالِكٌ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَلَمَةَ مولى ابن الأَزْرَقِ، عن الْمُغِيرَةِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ وَهُوَ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ، عن أَبي هُرَيْرَةَ: كما في الموطأ (1/ 22). وأحمد (2/ 361)، وأبي داود (83)، والترمذي (69)، والنسائي «الصغرى» (59، 332)، وابن ماجه (386) وغيرهم من طرق عن مالك. وتابع مالكًا (إسحاق بن إبراهيم، وعبد الرحمن بن إسحاق) فروياه عن صفوان عند الحاكم «(1/ 141).

ب - تابع صفوانَ بن سليم، الجلاحُ، واختلف عليه: فرواه أبو النضر ويحيى بن بكير، عن الليث، عن يزيد بن حبيب، عن الجلاح، عن سعيد، عن المغيرة، عن أبي هريرة، كما أخرجه أبو عبيد «الطهور» (ص: 294).

وخالف أبا النضر ويحيى بن بكير قتيبة بن سعيد فرواه عن الليث عن الجلاح، عن المغيرة عن أبي هريرة به، عند أحمد (2/ 378)، وقد اختلف على قتيبة. فرواه النسائي (59) عن قتيبة عن مالك عن صفوان بن سلمة عن المغيرة به. ورواية أبي النضر ويحيى بن بكير أرجح من رواية قتيبة؛ لموافقة رواية مالك.

ج - ورواه محمد بن إسحاق عن يزيد عن الجلاح، عن عبد الله بن سعيد، عن المغيرة، عن أبيه، عن أبي هريرة به. عند الدارمي (728).

وأخرجه البخاري «التاريخ الكبير» (1599)، من طريق محمد بن سلمة عن ابن إسحاق، بدون والد المغيرة.

وقد روى عن يحيى بن سعيد، عن المغيرة، عن رجل؛ كما في «المستدرك» (1/ 141).

وروى عنه: عن عبد الله بن المغيرة الكندي، عن رجل، كما في «المعرفة» للبيهقي (1/ 229).

وروى عنه: عن عبد الله بن المغيرة بن أبي بردة، عن رجل كما في «المستدرك» (1/ 141).

وروى عنه: عن عبد الله بن المغيرة، عن أبيه، في «الآحاد والمثاني» (2818).

وهناك خلافات أخرى عن يحيى بن سعيد، فدل ذلك على أنه غير محفوظ عن يحيى بن سعيد.

قال البيهقي: معرفة السنن والآثار «1/ 231»: هَذَا الِاخْتِلَافُ يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ لَمْ يَحْفَظْ كَمَا يَنْبَغِي. وَقَدْ أَقَامَ إِسْنَادَهُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، وَتَابَعَهُ عَلَى ذَلِكَ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ، عَنِ الْجُلَاحِ أَبِي كَثِيرٍ، ثُمَّ عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنِ الْجُلَاحِ، كِلَاهُمَا عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. فَصَارَ الْحَدِيثُ بِذَلِكَ صَحِيحًا، كَمَا قَالَ الْبُخَارِيُّ فِي رِوَايَةِ أَبِي عِيسَى عَنْهُ.

وقد صحح البخاري والدارقطني والترمذي وابن خزيمة والبيهقي وابن عبد البر والنووي وغيرهم طريق مالك =
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

বিধানের দিক থেকে পানির প্রকারভেদ
(পবিত্রকারী ও অপবিত্র)

পানির প্রকারভেদ সম্পর্কে আলেমগণ দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: জমহুর (অধিকাংশ) ওলামায়ে কেরামের মতে পানি তিন প্রকার: পবিত্রকারী, পবিত্র এবং অপবিত্র। এটি হানাফী, মালিকী ও শাফেয়ী মাযহাবের অভিমত এবং ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা পাওয়া যায়(১)।

তাঁরা সুন্নাহ থেকে এর স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করেছেন: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা সমুদ্র ভ্রমণ করি এবং আমাদের সাথে সামান্য পানি বহন করি। যদি আমরা তা দিয়ে ওযু করি তবে আমরা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ব। এমতাবস্থায় আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযু করতে পারি? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «তার পানি পবিত্রকারী এবং তার মৃত প্রাণী হালাল»(২)।

--------------------------------------------

(১) «বাদায়েউস সানায়ে» (১/ ৬৬-৬৭), «বিদায়াতুল মুজতাহিদ» (১/ ২৭১), «আল-মাজমু» (১/ ১৫০), «কাশশাফুল কিনা» (১/ ৩০)।

(২) এর সনদ সহীহ: এর সনদে বিভিন্নভাবে বর্ণনাগত পার্থক্য হয়েছে:

ক - এটি মালিক বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি ইবনুল আযরাকের আযাদকৃত গোলাম সাঈদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি বনু আবদুদ-দারের আল-মুগীরা ইবনে আবি বুরদাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে: যেমনটি বর্ণিত হয়েছে মুয়াত্তা (১/ ২২), আহমাদ (২/ ৩৬১), আবু দাউদ (৮৩), তিরমিযী (৬৯), নাসাঈ «আস-সুগরা» (৫৯, ৩৩২), ইবনে মাজাহ (৩৮৬) এবং মালিকের সূত্রে আরও অন্যান্য গ্রন্থে। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম এবং আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক ইমাম মালিকের অনুসরণ করেছেন এবং তাঁরা এটি হাকেমের বর্ণনা অনুযায়ী সাফওয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন (১/ ১৪১)।

খ - সাফওয়ান ইবনে সুলাইমের অনুসরণ করেছেন আল-জুলাহ, তবে তার সূত্রে মতভেদ রয়েছে: এটি বর্ণনা করেছেন আবু আন-নাযর এবং ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর লাইস থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে হাবীব থেকে, তিনি আল-জুলাহ থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি আল-মুগীরা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে; যেমনটি আবু উবাইদ «আত-ত্বহুর» (পৃ. ২৯৪) গ্রন্থে বের করেছেন।

কুতাইবা ইবনে সাঈদ আবু আন-নাযর এবং ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইরের বিরোধিতা করেছেন। তিনি এটি আহমাদ গ্রন্থে (২/ ৩৭৮) লাইস থেকে, তিনি আল-জুলাহ থেকে, তিনি মুগীরা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। কুতাইবা থেকেও বর্ণনায় ভিন্নতা পাওয়া যায়। নাসাঈ (৫৯) কুতাইবা থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি মুগীরা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালিকের বর্ণনার সাথে মিল থাকায় আবু আন-নাযর এবং ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইরের বর্ণনা কুতাইবার বর্ণনার চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য।

গ - এটি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইয়াযীদ থেকে, তিনি আল-জুলাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি আল-মুগীরা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন; যা দারেমীতে (৭২৮) রয়েছে।

বুখারী «আত-তারীখুল কাবীর» (১৫৯৯) গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহর সূত্রে ইবনে ইসহাক থেকে মুগীরার পিতার উল্লেখ ছাড়াই এটি উদ্ধৃত করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে আল-মুগীরা হয়ে জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত হয়েছে; যেমনটি «আল-মুস্তাদরাক» (১/ ১৪১) গ্রন্থে রয়েছে।

তার থেকে বর্ণিত: আব্দুল্লাহ ইবনে মুগীরা আল-কিন্দি থেকে জনৈক ব্যক্তি হতে; যেমনটি বায়হাকীর «আল-মারিফাহ» (১/ ২২৯) গ্রন্থে রয়েছে।

তার থেকে বর্ণিত: আব্দুল্লাহ ইবনে মুগীরা ইবনে আবি বুরদাহ থেকে জনৈক ব্যক্তি হতে; যেমনটি «আল-মুস্তাদরাক» (১/ ১৪১) গ্রন্থে রয়েছে।

তার থেকে বর্ণিত: আব্দুল্লাহ ইবনে মুগীরা থেকে, তিনি তাঁর পিতা হতে; «আল-আহাদ ওয়াল মাসানি» (২৮১৮) গ্রন্থে।

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে আরও কিছু মতভেদ রয়েছে, যা নির্দেশ করে যে এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে সংরক্ষিত নয়।

বায়হাকী তাঁর «মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার» (১/ ২৩১) গ্রন্থে বলেন: এই মতভেদ নির্দেশ করে যে এটি যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি। তবে মালিক ইবনে আনাস সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে এর সনদ সুদৃঢ় করেছেন। লাইস ইবনে সাদ ইয়াযীদ থেকে, তিনি আল-জুলাহ আবু কাসীর থেকে, এরপর আমর ইবনুল হারিস আল-জুলাহ থেকে—তাঁরা উভয়ে সাঈদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি আল-মুগীরা ইবনে আবি বুরদাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি বর্ণনা করে তাঁকে অনুসরণ করেছেন। ফলে হাদীসটি এর মাধ্যমে সহীহ স্তরে পৌঁছেছে, যেমনটি ইমাম বুখারী তাঁর সম্পর্কে আবু ঈসার বর্ণনায় বলেছেন।

বুখারী, দারাকুতনী, তিরমিযী, ইবনে খুযাইমা, বায়হাকী, ইবনে আব্দুল বার, নববী এবং অন্যান্যরা মালিকের সূত্রটিকে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

=عن صفوان عن سعيد بن سلمة عن المغيرة عن أبي هريرة به. قَالَ التِّرْمِذِيُّ: حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ، وَسَأَلْت مُحَمَّدَ بْنَ إسْمَاعِيلَ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ، فَقَالَ: حَدِيثٌ صَحِيح.

وقال الدراقطني «العلل» (9/ 13): وأشبهها بالصواب قول مالك ومن تابعه عن صفوان بن سليم وقال ابن المنذر: ثابت عن رسول الله كما في «الأوسط» (1/ 247). وقال ابن عبد البر «التمهيد» (16/ 219): وهو عندي صحيح؛ لأن العلماء تلقوه بالقبول له والعمل به ولا يخالف في جملته أحد من الفقهاء.

قال النووي «المجموع» (1/ 127): هو حديث صحيح. وكذا البيهقي «المعرفة» (1/ 152)، وكذا ابن خزيمة «صحيحه» (1/ 58 - 59)، وابن حبان (1243) وغيرهم.

وقال ابن دقيق العيد: وهذا الحديث يعل بأربع علل:

الأولى: جهالة سعيد بن سلمة والمغيرة بن أبي بردة، قالوا: لم يرو عن المغيرة إلا سعيد بن سلمة، ولا سعيد بن سلمة إلا صفوان بن سليم.

واعترض عليه بأن سعيدًا روى عنه غير صفوان كالجلاح. وقال النسائي: ثقة. والمغيرة وثقه النسائي، وقال أبو داود: معروف. وتصحيح الحديث من البخاري وغيره الضمني لهذا الحديث يوثق هؤلاء الرواة.

العلة الثانية: اختلفوا في اسم سعيد بن سلمة، فقيل: هذا، وقيل: عبد الله بن سعيد، وقيل: سلمة بن سعيد.

واعترض عليه: بأن الصحيح أنه سعيد بن سلمة وغيره خطأ، وهي رواية مالك.

العلة الثالثة: الإرسال. واعترض عليه بأن الصحيح أن الرواية متصلة عند مالك.

العلة الرابعة: الاضطراب. واعترض عليه بأن الاضطراب يكون مع عدم إمكان الترجيح، والراجح رواية مالك، والحديث صحيح، والله أعلم.

--------------------------------------------

=সাফওয়ান থেকে, তিনি সাঈদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি মুগীরাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন: হাদীসটি হাসান সহীহ। আমি মুহাম্মাদ বিন ইসমাইলকে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বলেছেন: এটি একটি সহীহ হাদীস।

আদ-দারা কুতনী 'আল-ইলাল' (৯/১৩) গ্রন্থে বলেন: ইমাম মালিক এবং তাঁর অনুসারীদের সাফওয়ান বিন সালিম থেকে করা বর্ণনাটিই সঠিক হওয়ার অধিক নিকটবর্তী। ইবনুল মুনযির বলেন: এটি রাসূলুল্লাহ থেকে প্রমাণিত, যেমনটি 'আল-আওসাত' (১/২৪৭) গ্রন্থে রয়েছে।

ইবনে আবদিল বার 'আত-তামহীদ' (১৬/২১৯) গ্রন্থে বলেন: আমার নিকট এটি সহীহ; কারণ আলেমগণ এটিকে গ্রহণের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন এবং এর ওপর আমল করেছেন এবং ফকীহগণের মধ্যে কেউই এর মূল বক্তব্যের ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেন না।

আন-নববী 'আল-মাজমু' (১/১২৭) গ্রন্থে বলেন: এটি একটি সহীহ হাদীস। অনুরূপভাবে বায়হাকী 'আল-মা’রিফাহ' (১/১৫২) গ্রন্থে, ইবনে খুযায়মা তাঁর 'সহীহ' (১/৫৮-৫৯) গ্রন্থে, ইবনে হিব্বান (১২৪৩) এবং অন্যান্যরা একে সহীহ বলেছেন।

ইবনে দাকীক আল-ঈদ বলেন: এই হাদীসটির ক্ষেত্রে চারটি ত্রুটি (ইল্লাত) উল্লেখ করা হয়:

প্রথম: সাঈদ বিন সালামাহ এবং মুগীরাহ বিন আবি বুরদাহ-এর পরিচয় অজ্ঞাত হওয়া। তাঁরা বলেন: মুগীরাহ থেকে সাঈদ বিন সালামাহ ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি এবং সাঈদ বিন সালামাহ থেকে সাফওয়ান বিন সালিম ছাড়া কেউ বর্ণনা করেননি।

এর প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, সাফওয়ান ছাড়াও আল-জুল্লাহ-এর মতো অন্যরাও সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আন-নাসায়ী বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য। আন-নাসায়ী মুগীরাহ-কেও নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং আবু দাউদ বলেছেন: তিনি সুপরিচিত। বুখারী এবং অন্যান্যদের এই হাদীসটিকে সহীহ বলা পরোক্ষভাবে এই বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতাকেই সাব্যস্ত করে।

দ্বিতীয় ত্রুটি: সাঈদ বিন সালামাহ-এর নাম নিয়ে মতভেদ। কেউ বলেছেন এই নাম, কেউ বলেছেন আবদুল্লাহ বিন সাঈদ, আবার কেউ বলেছেন সালামাহ বিন সাঈদ।

এর প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে: সঠিক হলো তাঁর নাম সাঈদ বিন সালামাহ এবং অন্যান্যগুলো ভুল; আর এটিই ইমাম মালিকের বর্ণনা।

তৃতীয় ত্রুটি: ইরসাল (সনদ বিচ্ছিন্ন হওয়া)। এর প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, সঠিক হলো ইমাম মালিকের নিকট এই বর্ণনাটি নিরবচ্ছিন্ন (মুত্তাসিল)।

চতুর্থ ত্রুটি: ইদতিরাব (অসামঞ্জস্যতা)। এর প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, ইদতিরাব তখনই হয় যখন প্রাধান্য দেওয়া (তারজীহ) সম্ভব হয় না, অথচ এখানে ইমাম মালিকের বর্ণনাই অগ্রগণ্য। সুতরাং হাদীসটি সহীহ, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وجه الدلالة: أن ماء البحر ليس بنجس وهو طاهر بلا شك، وسؤال الصحابي من أجل أن يعلم هل هو طهور أم لا؟ فدل ذلك على أن الماء ثلاثة أقسام: طهور وطاهر ونجس.

واعترض عليه بما قاله شيخ الإسلام(1): وَقَدْ ثَبَتَ بِسُنَّةِ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ فِي الْبَحْرِ: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ» وَالْبَحْرُ مُتَغَيِّرُ الطَّعْمِ تَغَيُّرًا شَدِيدًا لِشِدَّةِ مُلُوحَتِهِ، فَإِذَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَخْبَرَ أَنَّ مَاءَهُ طَهُورٌ - مَعَ هَذَا التَّغَيُّرِ.

قلت: فدل ذلك على أن الماء قسمان: طهور ونجس.

واستدلوا بحديث أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِهِ، فَلَا يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثًا؛ فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ»(2). فإذا كان الماء الذي غمس فيه ليس بنجس، ولا يمكن التطهر منه، فهذا هو الماء الطاهر، وهو القسم الثالث من أقسام المياه.

وأما دليلهم من المعقول فقالوا: إن الماء لا يخلو إما أن يجوز الوضوء به أو لا، فإن جاز فهو الطهور، وإن لم يجز فلا يخلو إما أن يجوز شربه أو لا، فإن جاز فهو الطاهر، وإلا فهو

--------------------------------------------

(1) «مجموع الفتاوى» (21/ 26).

(2) البخاري (62)، دون قوله: «ثلاثًا»، ومسلم (278).
প্রমাণের দিক: সমুদ্রের পানি অপবিত্র নয় এবং তা নিঃসন্দেহে পবিত্র, আর সাহাবীর প্রশ্নটি ছিল এটি পবিত্রকারী কি না তা জানার জন্য। এটি একথার প্রমাণ দেয় যে পানি তিন প্রকার: পবিত্রকারী (তাহুর), পবিত্র (তাহির) এবং অপবিত্র (নাজিস)।

এর ওপর শাইখুল ইসলাম যা বলেছেন তা দ্বারা আপত্তি জানানো হয়েছে(১): রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি সমুদ্র সম্পর্কে বলেছেন: «তার পানি পবিত্রকারী, তার মৃত (প্রাণী) হালাল»। সমুদ্রের পানির স্বাদ অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে চরমভাবে পরিবর্তিত। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সংবাদ দিয়েছেন যে এর পানি পবিত্রকারী—এই পরিবর্তন থাকা সত্ত্বেও।

আমি বলি: এটি প্রমাণ করে যে পানি দুই প্রকার: পবিত্রকারী এবং অপবিত্র।

তারা আবু হুরায়রা-এর হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে, সে যেন পাত্রে হাত না ডুবায় যতক্ষণ না তা তিনবার ধৌত করে; কেননা সে জানে না তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে»(২)। সুতরাং যে পানিতে হাত ডুবানো হয়েছে তা যদি অপবিত্র না হয়, আবার তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করাও সম্ভব না হয়, তবে এটিই হলো পবিত্র (তাহির) পানি, যা পানির প্রকারসমূহের মধ্যে তৃতীয় প্রকার।

আর তাদের যৌক্তিক প্রমাণের বিষয়ে তারা বলেছেন: পানি দুই অবস্থার বাইরে নয়—হয় তা দিয়ে অজু করা বৈধ হবে অথবা হবে না। যদি বৈধ হয় তবে তা পবিত্রকারী (তাহুর), আর যদি বৈধ না হয় তবে হয় তা পান করা বৈধ হবে অথবা হবে না। যদি পান করা বৈধ হয় তবে তা পবিত্র (তাহির), অন্যথায় তা

--------------------------------------------

(১) «মাজমুউল ফাতাওয়া» (২১/ ২৬)।

(২) বুখারী (৬২), «তিনবার» শব্দটুকু ছাড়া, এবং মুসলিম (২৭৮)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
النجس(1).

القول الآخر: أن الماء قسمان: طهور ونجس، وهو رواية عن الإمام أحمد(2).

واستدلوا لهذا القول بعموم القرآن والسنة:

أما دليلهم من القرآن: فعموم قوله تعالى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا} [المائدة: 6].

فكلمة (ماء) نكرة في سياق النفي فتعم كل ماء؛ سواء كان مطلقًا أو مقيدًا، مستعملًا أو غير مستعمل، خرج الماء النجس بالإجماع، وبقي ما عداه على أنه طهور(3).

وقد استدل ابن المنذر بالآية على أن الماء قسمان: طهور ونجس، فقال: قال تعالى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا} [المائدة: 6]، فالطهارة على ظاهر كتاب الله بكل ماء إلا ما منع منه كتاب، أو سنة، أو إجماع. والماء الذي منع الإجماع الطهارة منه هو الماء الذي غلبت عليه النجاسة بلون، أو طعم، أو ريح(4).

أما دليلهم من السنة: فعن أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَنَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ، وَهِيَ بِئْرٌ يُلْقَى فِيهَا الْحِيَضُ وَالنَّتْنُ، وَلُحُومُ الْكِلَابِ؟ قَالَ: «الْمَاءُ طَهُورٌ، لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ»(5).

--------------------------------------------

(1) «المبدع» (1/ 32).

(2) «المغني» (1/ 21)، و «شرح الزركشي» (1/ 119).

(3) «مجموع الفتاوى» (21/ 25 - 26).

(4) «الأوسط» (2/ 268).

(5) ضعيف: مدار الحديث على سليط؛ فرواه خالد بن أبي نوف، عن سليط بن أيوب، عن ابن أبي سعيد الخدري، عن أبيه به. أخرجه أحمد (3/ 15/ 16) بإسقاط سليط، والنسائي (327)، وخالد بن أبي نوف لين الحديث.

وسليط بن أيوب لين الحديث، وقد اختلف عليه: فرواه ابن إسحاق، وقد اختلف عليه ألوانًا:

أ - فروى عن ابن إسحاق، عن سليط، عن عبيد الله بن عبد الرحمن بن رافع، عن أبي سعيد به. أخرجه أحمد (3/ 86)، و «شرح معاني الآثار» (1/ 11).

ب - وروى عن ابن إسحاق، عن سليط، عن عبد الله بن عبد الرحمن بن رافع. أخرجه الدارقطني (1/ 31).

ج - وروى عن ابن إسحاق، عن سليط، عن عبيد الله بن رافع. أخرجه الطيالسي (2199).

وقد أورد البيهقي الخلاف عن ابن إسحاق، في السنن الكبرى (1/ 257) وَقَالَ: يَحْيَى بْنُ وَاضِحٍ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ عَنْ سَلِيطٍ عَنْ عُبَيْدِ الله بْنِ عَبْدِ الله بْنِ رَافِعٍ كَمَا قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ كَعْبٍ، وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ وَأَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِىيُّ وَيُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ عَنْ سَلِيطٍ عَنْ عَبْدِ الله بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافِعٍ، وَقِيلَ: عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ الله بن أَبِى سَلَمَةَ عَنْ عَبْدِ الله بْنِ عَبْدِ الله بْنِ رَافِعٍ. وَقِيلَ: عَنْ سَلِيطٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ عَنْ أَبِيهِ.

وأخرجه أحمد (3/ 319)، وأبو داود (66)، والنسائي (1/ 174) وغيرهم من طريق الوليد ابن كثير، عن محمد بن كعب، عن عبيد الله بن عبد الله. نقل ابن عبد الهادي «التنقيح» (1/ 206) عن الدارقطني «العلل» قال: (وأحسنها إسنادًا حديث الوليد بن كثير عن محمد بن كعب، وحديث ابن إسحاق عن عبد الله بن أبي سلمة.

الحاصل: أنه اختلف على ابن إسحاق في الواسطة بين سليط وأبي سعيد: هل هو عبيد الله بن عبد الرحمن بن رافع، أو عبد الله بن عبد الرحمن بن رافع، أو عبيد الله بن عبد الله بن رافع. وكيفما كان؛ فهو لا يُعرف حاله، كما في بيان «الوهم والإيهام» (1059).

وأخرجه الطيالسي (2155) من طريق قيس، عن طريف بن سفيان، عن أبي نضرة، عن أبي سعيد، وفي إسناده طريف ضعيف. فالحديث ضعيف، وله شواهد لا تخلو من مقال.
নাপাক(১)।

অন্য মতটি হলো: পানি দুই প্রকার: পবিত্রকারী এবং নাপাক (অপবিত্র)। এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি রিওয়ায়াত (বর্ণনা)(২)।

তারা এই মতের পক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর ব্যাপক অর্থবোধক দলীলসমূহ পেশ করেছেন:

কুরআন থেকে তাদের দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপক অর্থ: {অতঃপর তোমরা যদি পানি না পাও, তবে তোমরা তায়াম্মুম করো} [আল-মায়িদাহ: ৬]।

এখানে 'পানি' শব্দটি না-বাচক প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্টবাচক (নাকিরাহ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা সমস্ত পানিকেই অন্তর্ভুক্ত করে; চাই তা সাধারণ পানি হোক বা বিশেষায়িত (মুকাইয়্যাদ), ব্যবহৃত পানি হোক বা অব্যবহৃত। সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (ইজমা) ভিত্তিতে কেবল নাপাক পানি এর বিধান থেকে বেরিয়ে গেছে, আর অবশিষ্ট সমস্ত পানি পবিত্রকারী হিসেবে রয়ে গেছে(৩)।

ইবনুল মুনযির এই আয়াতের মাধ্যমে পানি দুই প্রকার (পবিত্রকারী ও নাপাক) হওয়ার সপক্ষে দলীল পেশ করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর তোমরা যদি পানি না পাও, তবে তোমরা তায়াম্মুম করো} [আল-মায়িদাহ: ৬]। সুতরাং আল্লাহর কিতাবের বাহ্যিক বিধান অনুযায়ী যে কোনো পানি দ্বারাই পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ, যতক্ষণ না কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ অথবা ইজমা তা থেকে বারণ করে। আর যে পানির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনে ইজমা নিষেধ করেছে, তা হলো এমন পানি যার রঙ, স্বাদ অথবা গন্ধের ওপর নাপাকি জয়ী (প্রবল) হয়ে গেছে(৪)।

সুন্নাহ থেকে তাদের দলীল: আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আরজ করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি 'বুদাআ' কূপের পানি দিয়ে ওযু করব? অথচ এটি এমন একটি কূপ যাতে ঋতুস্রাবের ন্যাকড়া, দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু এবং কুকুরের গোশত নিক্ষিপ্ত হয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «পানি হলো পবিত্রকারী, কোনো কিছুই একে নাপাক করে না»(৫)।

--------------------------------------------

(১) ‘আল-মুবদি’ (১/ ৩২)।

(২) ‘আল-মুগনী’ (১/ ২১), এবং ‘শারহুয যারকাশী’ (১/ ১১৯)।

(৩) ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ (২১/ ২৫ - ২৬)।

(৪) ‘আল-আওসাত’ (২/ ২৬৮)।

(৫) যঈফ: হাদীসটির ভিত্তি সালীতের ওপর; খালিদ ইবনে আবী নাওফ এটি বর্ণনা করেছেন সালীত ইবনে আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে আবী সাঈদ আল-খুদরী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে। আহমাদ (৩/ ১৫, ১৬) সালীতকে বাদ দিয়ে এটি বর্ণনা করেছেন, এবং নাসাঈ (৩২৭) এটি বর্ণনা করেছেন। আর খালিদ ইবনে আবী নাওফ হাদীস বর্ণনায় শিথিল (লাইয়্যিনুল হাদীস)।

সালীত ইবনে আইয়ুবও হাদীস বর্ণনায় শিথিল, এবং তাঁর বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ হয়েছে: ইবনে ইসহাক তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রূপ পাওয়া যায়:

ক - ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি সালীত থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে রাফি থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে। এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৩/ ৮৬) এবং ‘শারহু মাআনিল আসার’ (১/ ১১)।

খ - ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি সালীত থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে রাফি থেকে। এটি বর্ণনা করেছেন দারা কুতনী (১/ ৩১)।

গ - ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি সালীত থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে রাফি থেকে। এটি বর্ণনা করেছেন তায়ালিসী (২১৯৯)।

বাইহাকী ‘আস-সুনান আল-কুবরা’ (১/ ২৫৭) গ্রন্থে ইবনে ইসহাকের বর্ণনার এই মতভেদ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াদিহ বর্ণনা করেছেন ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি সালীত থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রাফি থেকে যেমনটি মুহাম্মদ ইবনে কাব বলেছেন। আর ইব্রাহীম ইবনে সাদ, আহমাদ ইবনে খালিদ আল-ওয়াহবী এবং ইউনুস ইবনে বুকাইর বর্ণনা করেছেন ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি সালীত থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে রাফি থেকে। আবার কেউ বলেছেন: ইব্রাহীম ইবনে সাদ থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আবী সালামাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রাফি থেকে। আবার কেউ সালীত থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবী সাঈদ আল-খুদরী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ (৩/ ৩১৯), আবু দাউদ (৬৬), নাসাঈ (১/ ১৭৪) এবং অন্যান্যরা ওয়ালিদ ইবনে কাসীর থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে কাব থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে—এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্দুল হাদী ‘এটি-তানকীহ’ (১/ ২০৬) গ্রন্থে দারা কুতনীর ‘আল-ইলাল’ থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি বলেছেন: (এর মধ্যে সনদের দিক থেকে সর্বোত্তম হলো ওয়ালিদ ইবনে কাসীরের হাদীস যা তিনি মুহাম্মদ ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং ইবনে ইসহাকের হাদীস যা তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আবী সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।)

সারকথা: সালীত ও আবু সাঈদের মাঝখানের সূত্রের ক্ষেত্রে ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় মতভেদ হয়েছে: তিনি কি উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে রাফি, নাকি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে রাফি, নাকি উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রাফি। যেভাবেই হোক; তাঁর অবস্থা অজ্ঞাত (অপরিচিত), যেমনটি ‘বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহহাম’ (১০৫৯) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

তায়ালিসী (২১৫৫) কায়েস থেকে, তিনি তরীফ ইবনে সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু নাদরাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে—এই সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে তরীফ নামক বর্ণনাকারী দুর্বল। সুতরাং হাদীসটি যঈফ (দুর্বল), তবে এর এমন কিছু সমর্থক বর্ণনা (শাহিদ) রয়েছে যা সমালোচনা মুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
في الحديث دلالة على أن الماء طهور لا ينجسه شيء، فهذا هو الماء الطهور الذي يجوز الوضوء به، والماء النجس ثابت بالإجماع، وبقي الماء الطاهر لا دليل عليه، فدل ذلك على أن الماء ينقسم إلى قسمين (طهور ونجس).

وورد في الصحيحين عن حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، {، قَالَ: بَيْنَمَا رَجُلٌ وَاقِفٌ بِعَرَفَةَ، إِذْ وَقَعَ عَنْ رَاحِلَتِهِ، فَوَقَصَتْهُ- أَوْ قَالَ: فَأَوْقَصَتْهُ- قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ»(1).

فالماء إذا أضيف إليه السدر لا بد أن يتغير، وإذا كان هذا المتغير بشيء طاهرٍ يطهر الميتَ،

--------------------------------------------

(1) البخاري (1265)، ومسلم (1206).
এই হাদিসে প্রমাণ রয়েছে যে, পানি হচ্ছে পবিত্রকারী, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না। সুতরাং এটিই হলো সেই পবিত্রকারী পানি যা দ্বারা অজু করা বৈধ। আর অপবিত্র পানির বিষয়টি ইজমা (ঐক্যমত) দ্বারা সাব্যস্ত। অবশিষ্ট থাকল ‘তহির’ বা পবিত্র (কিন্তু পবিত্রকারী নয় এমন) পানি, যার স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, পানি দুই ভাগে বিভক্ত (পবিত্রকারী ও অপবিত্র)।

সহীহাইন-এ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আরাফায় অবস্থান করছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তার সওয়ারি থেকে পড়ে গেলেন এবং সেটি তার ঘাড় মটকে দিল - অথবা তিনি বলেছিলেন: সেটি তাকে পিষে ফেলল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল করাও"(১)।

সুতরাং পানিতে যখন বরই পাতা মেশানো হয়, তখন পানির অবস্থার পরিবর্তন হওয়া অনিবার্য। আর পবিত্র কোনো বস্তু মিশ্রিত এই পরিবর্তিত পানি যদি মৃত ব্যক্তিকে পবিত্র করতে পারে (তবে তা পবিত্রকারী হিসেবেই গণ্য হবে),

--------------------------------------------

(১) বুখারি (১২৬৫), এবং মুসলিম (১২০৬)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
فطهارة الحي كطهارة الميت، فما طهر الميت طهر الحي(1). ومع هذا التغير فهو ماء طهور، ولم يطلق عليه ماء طاهر؛ فدل ذلك على أن الماء قسمان: طهور ونجس.

وعَنْ أُمِّ هَانِئٍ، قَالَتْ: اغْتَسَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَمَيْمُونَةُ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ، قَصْعَةٍ فِيهَا أَثَرُ الْعَجِينِ(2).

وجه الدلالة: أن الماء يختلط بالعجين وَتَطَهَّر به النبي صلى الله عليه وسلم، وأطلق عليه ماء طهور، وليس بطاهر، فعُلم أن الماء ينقسم إلى قسمين: طهور ونجس.

وقد وردت أدلة كثيرة من القرآن والسنة تدل على الماء الطهور؛ منها قوله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا} [الفرقان: 48]، وقول النبي صلى الله عليه وسلم في ماء البحر: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ»، والإجماع ورد بالماء النجس، ولم ترد أدلة تدل على أن هناك قسمًا ثالثًا، وهو الماء الطاهر، والحاجة إلى بيانه مما يُحتاج إليه، فدل ذلك على أن الماء قسمان، وما كان ربك نسيًّا.

* * *

--------------------------------------------

(1) قال شيخ الإسلام «مجموع الفتاوى» (21/ 26): ثَبَتَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِغَسْلِ الْمُحْرِمِ بِمَاءِ وَسِدْرٍ. وَأَمَرَ بِغَسْلِ ابْنَتِهِ بِمَاءِ وَسِدْرٍ. وَأَمَرَ الَّذِي أَسْلَمَ أَنْ يَغْتَسِلَ بِمَاءِ وَسِدْرٍ. وَمِنْ الْمَعْلُومِ أَنَّ السِّدْرَ لَا بُدَّ أَنْ يُغَيِّرَ الْمَاءَ، فَلَوْ كَانَ التَّغَيُّرُ يُفْسِدُ الْمَاءَ لَمْ يَأْمُرْ بِهِ.

(2) رجاله ثقات: أخرجه أحمد (6/ 341 - 342)، والنسائي (240)، وابن ماجه (378) وغيرهم من طرق عن إبراهيم بن نافع، عن ابن أبي نجيح، عن مجاهد، عن أم هانئ به.

وقد تابع مجاهدًا كل من يوسف بن ماهك، وعطاء، والمطلب بن عبد الله بن حنطب وغيرهم.
সুতরাং জীবিতের পবিত্রতা মৃতের পবিত্রতার ন্যায়, যা মৃতকে পবিত্র করে তা জীবিতকেও পবিত্র করে(১)। আর এই পরিবর্তন সত্ত্বেও এটি পবিত্রকারী পানি, একে কেবল পবিত্র পানি বলা হয়নি; এটি প্রমাণ করে যে পানি দুই প্রকার: পবিত্রকারী এবং নাপাক।

উম্মে হানি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সা.) এবং মায়মুনা (রা.) একই পাত্র থেকে গোসল করেছেন, সেটি ছিল একটি বড় পাত্র যাতে আটার অবশিষ্টাংশ লেগে ছিল(২)।

দলিলের প্রাসঙ্গিকতা: পানি আটার সাথে মিশ্রিত হয়েছিল এবং নবী (সা.) তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করেছেন, একে পবিত্রকারী পানি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, কেবল পবিত্র হিসেবে নয়। এর দ্বারা জানা গেল যে পানি দুই ভাগে বিভক্ত: পবিত্রকারী এবং নাপাক।

পবিত্রকারী পানির ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে অনেক দলিল বর্ণিত হয়েছে; যার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি আকাশ থেকে পবিত্রকারী পানি বর্ষণ করেছি} [আল-ফুরকান: ৪৮], এবং সমুদ্রের পানির ব্যাপারে নবী (সা.)-এর বাণী: «এর পানি পবিত্রকারী», আর নাপাক পানির ব্যাপারে ইজমা (ঐক্যমত) রয়েছে। এমন কোনো দলিল পাওয়া যায় না যা তৃতীয় কোনো প্রকার অর্থাৎ কেবল 'পবিত্র' পানির অস্তিত্ব প্রমাণ করে, অথচ এর বর্ণনার প্রয়োজনীয়তা ছিল। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে পানি দুই প্রকার, আর আপনার পালনকর্তা বিস্মৃত হন না।

* * *

--------------------------------------------

(১) শাইখুল ইসলাম ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ (২১/২৬) গ্রন্থে বলেন: এটি প্রমাণিত যে, নবী (সা.) ইহরামকারী ব্যক্তিকে পানি ও কুল পাতা দিয়ে ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর কন্যাকেও পানি ও কুল পাতা দিয়ে ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবং যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছিল তাকেও পানি ও কুল পাতা দিয়ে গোসল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এটি সুপরিচিত যে, কুল পাতা অবশ্যই পানির পরিবর্তন ঘটায়, সুতরাং এই পরিবর্তন যদি পানিকে ব্যবহার অযোগ্য করে দিত, তবে তিনি এর নির্দেশ দিতেন না।

(২) এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য: এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৬/৩৪১-৩৪২), নাসাঈ (২৪০), ইবনে মাজাহ (৩৭৮) এবং অন্যান্যরা ইবরাহিম বিন নাফে-এর সূত্রে, ইবনে আবি নাজিহ থেকে, মুজাহিদ থেকে, উম্মে হানি (রা.)-এর মাধ্যমে।

মুজাহিদকে অনুসরণ করেছেন ইউসুফ বিন মাহিক, আতা, মুত্তালিব বিন আব্দুল্লাহ বিন হানতাব এবং অন্যান্যরা।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌أقسام المياه من حيث طبيعتها

‌‌القسم الأول: الماء المطلق، وفيه سبعة مطالب:

‌‌المطلب الأول: ماء المطر؛ لعموم قوله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا} [الفرقان: 48]، ولقوله تعالى: {وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ} [الأنفال: 11].

‌‌المطلب الثاني: ماء العيون: فعيون الماء إذا لم تتغير أحد أوصافها الثلاثة؛ فيجوز الوضوء والاغتسال والتطهر بمائها لعموم قوله تعالى: {أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَسَلَكَهُ يَنَابِيعَ فِي الْأَرْضِ} [الزمر: 21]، والينابيع هي عيون الماء.

‌‌المطلب الثالث: ماء الآبار، والآبار: جمع بئر، وهي: ما يحفره الناس للحصول على الماء، كبئر بُضاعة، فَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَنَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ، وَهِيَ بِئْرٌ يُلْقَى فِيهَا الْحِيَضُ وَالنَّتْنُ، وَلُحُومُ الْكِلَابِ؟ قَالَ: «الْمَاءُ طَهُورٌ، لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ».

فدل ذلك على أن ماء الآبار إذا لم يتغير أحد أوصافه الثلاثة؛ فهو طهور.

 

‌‌المطلب الرابع: ماء الأنهار: كنهر النيل، قال تعالى: {وَسَخَّرَ لَكُمُ الْأَنْهَارَ} [إبراهيم: 32].

‌‌المطلب الخامس: الماء الناتج عن الثلج والبَرَد. ففي البلاد الباردة ينزل الثلج، ثم يتحول إلى ماء فيجوز التطهر به. في الصحيحين من حديث أبي هريرة رضي الله عنه، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ»(1).

‌‌المطلب السادس: ماء البحار. والبحار: جمع بحر، وهو الماء المتبحر المتسع.

قال ابن المنذر: أجمعوا على أن الماء الكثير من النيل والبحر ونحو ذلك إذا وقعت فيه نجاسة،

--------------------------------------------

(1) البخاري (744)، ومسلم (598).
‌‌প্রকৃতির বিচারে পানির প্রকারভেদ

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: মায়ে মুতলাক (সাধারণ পানি), এতে সাতটি উপ-আলোচনা রয়েছে:

‌‌প্রথম উপ-আলোচনা: বৃষ্টির পানি; মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপকতার কারণে: {আর আমি আকাশ থেকে পবিত্রকারী পানি বর্ষণ করেছি} [আল-ফুরকান: ৪৮], এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {আর তিনি তোমাদের ওপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন যাতে তার দ্বারা তোমাদের পবিত্র করেন} [আল-আনফাল: ১১]।

‌‌দ্বিতীয় উপ-আলোচনা: ঝরনার পানি: পানির ঝরনাগুলোর তিনটি গুণের কোনোটি যদি পরিবর্তিত না হয়, তবে এর পানি দ্বারা ওজু করা, গোসল করা এবং পবিত্রতা অর্জন করা জায়েজ। মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপকতার কারণে: {তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর তা ভূমিতে ঝরনা হিসেবে প্রবাহিত করেছেন?} [আজ-জুমার: ২১]। আর ‘ইয়ানিবি’ বলতে পানির ঝরনাগুলোকেই বোঝায়।

‌‌তৃতীয় উপ-আলোচনা: কূপের পানি, আর ‘আবার’ হলো ‘বি’র’ এর বহুবচন, যার অর্থ কূপ। এটি হলো এমন গর্ত যা মানুষ পানি পাওয়ার জন্য খনন করে, যেমন বুদাআ কূপ। আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি বুদাআ কূপ থেকে ওজু করব? অথচ এটি এমন একটি কূপ যাতে মাসিকের কাপড়, দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু এবং কুকুরের মাংস নিক্ষেপ করা হয়। তিনি বললেন: «পানি পবিত্র, কোনো কিছুই তাকে অপবিত্র করে না»।

এটি প্রমাণ করে যে, কূপের পানির তিনটি গুণের কোনো একটি যদি পরিবর্তিত না হয়, তবে তা পবিত্রকারী পানি।

 

‌‌চতুর্থ উপ-আলোচনা: নদীর পানি: যেমন নীল নদ। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তিনি তোমাদের জন্য নদীগুলোকে অনুগত করে দিয়েছেন} [ইব্রাহিম: ৩২]।

‌‌পঞ্চম উপ-আলোচনা: বরফ ও শিলা থেকে উৎপন্ন পানি। শীতল দেশগুলোতে তুষারপাত হয়, এরপর তা পানিতে রূপান্তরিত হয়, ফলে তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা জায়েজ। সহীহাইনে (বুখারি ও মুসলিম) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে আল্লাহ! আমাকে আমার পাপসমূহ থেকে পানি, বরফ ও শিলা দিয়ে ধৌত করে দিন»(১)।

‌‌ষষ্ঠ উপ-আলোচনা: সমুদ্রের পানি। ‘বিহার’ হলো ‘বাহর’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ সমুদ্র। এটি হলো প্রচুর ও প্রশস্ত জলরাশি।

ইবনুল মুনজির বলেছেন: সকলে একমত হয়েছেন যে, নীল নদ, সমুদ্র এবং এই জাতীয় প্রচুর পানিতে যদি অপবিত্রতা পড়ে,

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৭৪৪) এবং মুসলিম (৫৯৮)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
فلم تغير له لونًا ولا طعمًا ولا ريحًا، أنه بحاله ويُتطهر منه(1).

وقال ابن جزي: الماء المطلق، وهو الباقي على أصله، فهو طاهر مطهر إجماعًا، سواء أكان عذبًا أو مالحًا، أو من بحر أو سماء أو أرض(2).

قلت: وهذا الإجماع منخرم؛ فقد ورد عن ابن عمرو، وأبي هريرة، وابن عمر عدم التطهر بماء البحر(3).

--------------------------------------------

(1) «الإجماع» (ص: 33).

(2) «القوانين الفقهية» (ص: 44).

(3) روى ابن أبي شيبة «المصنف» (1/ 122) بإسناد صحيح عن ابن عمرو قال: (مَاءُ البَحْرِ لَا يُجْزِئ مِنْ وُضُوءٍ). وروى ابن أبي شيبة (1/ 122) بإسناد صحيح عن ابن عمر، قال: (التَيَمُّمُ أَحَبّ إلىَّ مِنْ الوُضُوءِ بِمَاءِ البَحْرِ). واستدلوا بحديث ابن عمرو، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لَا يَرْكَبُ الْبَحْرَ إِلَّا حَاجٌّ أَوْ مُعْتَمِرٌ أَوْ غَازٍ فِي سَبِيلِ الله، فَإِنَّ تَحْتَ الْبَحْرِ نَارًا، وَتَحْتَ النَّارِ بَحْرًا». وجه الدلالة: إذا كان تحت البحر نار، فلا يكون فيه الطهارة والرحمة؛ فلذا لا يجوز الطهارة بماء البحر.

واعترض عليه من وجهين:

الأول: أن الحديث لا يصح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ فقد أخرجه سعيد بن منصور رقم (2393)، وفي إسناده بشر بن أبي عبد الله الكندي، وبشير بن مسلم، وكلاهما مجهول، وقد حدث اضطراب في إسناده؛ فتارة يرويه بشير، عن ابن عمرو، وتارة يرويه عن بشير، عن رجل، عن ابن عمرو، وتارة عن بشير بلغه عن ابن عمرو. قال ابن عبد البر: هو حديث ضعيف مظلم الإسناد لا يصححه أهل العلم بالحديث؛ لأن رواته مجهولون لا يُعرفون.

الوجه الثاني: ما قاله ابن قدامة «المغني» (1/ 23): وَقَوْلُهُمْ: " هُوَ نَارٌ " إنْ أُرِيدَ بِهِ أَنَّهُ نَارٌ فِي الْحَالِ فَهُوَ خِلَافُ الْحِسِّ، وَإِنْ أُرِيدَ أَنَّهُ يَصِيرُ نَارًا، لَمْ يَمْنَعْ ذَلِكَ الْوُضُوءَ بِهِ حَالَ كَوْنِهِ.

فالحاصل: أن الحديث الوارد لا يصح، وأما الآثار فلا حجة فيها؛ لا سيما إذا خالفت عموم قول النبي صلى الله عليه وسلم: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ». وقال ابن رشد «بداية المجتهد» (1/ 71): وَأَجْمَعَ الْعُلَمَاءُ عَلَى أَنَّ جَمِيعَ أَنْوَاعِ الْمِيَاهِ طَاهِرَةٌ فِي نَفْسِهَا مُطَهِّرَةٌ لِغَيْرِهَا، إِلَّا مَاءَ الْبَحْرِ؛ فَإِنَّ فِيهِ خِلَافًا فِي الصَّدْرِ الْأَوَّلِ شَاذًّا، وَهُمْ مَحْجُوجُونَ بِتَنَاوُلِ اسْمِ الْمَاءِ الْمُطْلَقِ لَهُ. وقال الزرقاني «شرح الموطأ» (1/ 53).): فَالتَّطْهِيرُ بِهِ حَلَالٌ صَحِيحٌ كَمَا عَلَيْهِ جُمْهُورُالسَّلَفِ وَالْخَلَفِ. وَمَا نُقِلَ عَنْ بَعْضِهِمْ مِنْ عَدَمِ الْإِجْزَاءِ بِهِ مُزَيَّفٌ أَوْ مُؤَوَّلٌ بِأَنَّهُ أَرَادَ عَدَمَ الْإِجْزَاءِ عَلَى وَجْهِ الْكَمَالِ عِنْدَهُ.

ويتفرع من ماء البحر:

الماء المتغير بالملح. فذهب جمهور العلماء إلى أن الماء المتغير بالملح طهور ما دام يسمى ماء لعموم قول النبي صلى الله عليه وسلم في ماء البحر: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ». وروى البخارى ومسلم من حديث ابن عباس قَالَ: بَيْنَمَا رَجُلٌ وَاقِفٌ بِعَرَفَةَ، إِذْ وَقَعَ عَنْ رَاحِلَتِهِ، فَوَقَصَتْهُ- أَوْ قَالَ: فَأَوْقَصَتْهُ- قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ». فدل ذلك على أن السدر إن أضيف إلى الماء لا بد أن يتغير به، وإذا كان يتطهر به الميت، فالحي كذلك، وإذا كان السدر إذا أضيف إلى الماء لا يسلب الطهورية؛ فكذا الملح إذا أضيف إلى الماء. وروى أحمد (6/ 341) بسند رجاله ثقات عن أم هانئ قالت: اغْتَسَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَمَيْمُونَةُ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ، قَصْعَةٍ فِيهَا أَثَرُ الْعَجِينِ. إذا كان الماء قد تغير من العجين وتطهر به النبي صلى الله عليه وسلم وزوجه؛ دل ذلك على أن الماء إذا تغير بشيء طاهر يبقى طهورًا ما دام يسمى ماءً.
ফলে এটি তার রং, স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তন করেনি, তবে তা তার আদি অবস্থাতেই রয়েছে এবং তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যাবে(১).

ইবনে জুযাই বলেছেন: সাধারণ পানি (আল-মাউল মুতলাক), যা তার মৌলিক বৈশিষ্ট্যের ওপর অবশিষ্ট রয়েছে, তা সর্বসম্মতভাবে পবিত্র ও পবিত্রতা অর্জনকারী; চাই তা মিষ্টি হোক বা লোনা, সমুদ্রের হোক, আকাশের হোক কিংবা জমিনের হোক(২).

আমি বলি: এই ইজমা বা ঐকমত্যটি ত্রুটিযুক্ত; কারণ ইবনে আমর, আবু হুরায়রা এবং ইবনে উমর থেকে সমুদ্রের পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন না করার বর্ণনা এসেছে(৩).

--------------------------------------------

(১) ‘আল-ইজমা’ (পৃষ্ঠা: ৩৩)।

(২) ‘আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যাহ’ (পৃষ্ঠা: ৪৪)।

(৩) ইবনে আবি শায়বা ‘আল-মুসান্নাফ’ (১/১২২)-এ একটি সহীহ সনদে ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: (সমুদ্রের পানি ওযুর জন্য যথেষ্ট নয়)। এবং ইবনে আবি শায়বা (১/১২২)-এ ইবনে উমর থেকে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: (সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযু করার চেয়ে তায়াম্মুম করা আমার কাছে অধিক প্রিয়)। তারা ইবনে আমরের হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হজকারী, উমরাহকারী বা আল্লাহর পথে জিহাদকারী ব্যতীত কেউ যেন সমুদ্রে আরোহণ না করে। কারণ সমুদ্রের নিচে আগুন রয়েছে এবং আগুনের নিচে রয়েছে সমুদ্র।» দলীলের ধরণ: যদি সমুদ্রের নিচে আগুন থাকে, তবে তাতে পবিত্রতা ও রহমত থাকে না; তাই সমুদ্রের পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা জায়েজ নয়।

এর বিরুদ্ধে দুটি দিক থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে:

প্রথমত: হাদীসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়; সাঈদ ইবনে মানসুর এটি বর্ণনা করেছেন (নং ২৩৯৩), এবং এর সনদে বিশর ইবনে আবি আব্দুল্লাহ আল-কিন্দি এবং বশির ইবনে মুসলিম রয়েছে, যারা উভয়ই অপরিচিত। এর সনদে অস্থিরতা রয়েছে; কখনও বশির ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, কখনও তিনি বশির থেকে, জনৈক ব্যক্তি থেকে, ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, আবার কখনও বশির থেকে যা তিনি ইবনে আমর থেকে শুনেছেন বলে বর্ণিত। ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: এটি একটি দুর্বল হাদীস যার সনদ অস্পষ্ট, হাদীস বিশারদগণ একে সহীহ বলেন না; কারণ এর বর্ণনাকারীরা অপরিচিত এবং তারা পরিচিত নন।

দ্বিতীয়ত: ইবনে কুদামা ‘আল-মুগনি’ (১/২৩)-এ যা বলেছেন: তাদের বক্তব্য: "এটি আগুন" — যদি এর দ্বারা বর্তমান অবস্থাকে বোঝানো হয় তবে তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতার বিপরীত, আর যদি এর দ্বারা বোঝানো হয় যে এটি আগুনে পরিণত হবে, তবে তা বর্তমানে পানি থাকা অবস্থায় ওযু করতে বাধা দেয় না।

সারকথা: বর্ণিত হাদীসটি সহীহ নয়, আর আসারসমূহ বা সাহাবীদের বাণীতে কোনো চূড়ান্ত দলিল নেই; বিশেষ করে যখন তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপক বাণীর পরিপন্থী হয়: «এর পানি পবিত্র»। ইবনে রুশদ ‘বিদায়াতুল মুজতাহিদ’ (১/৭১)-এ বলেছেন: আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সমস্ত প্রকার পানি স্বয়ং পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী, কেবল সমুদ্রের পানি ব্যতীত; কারণ এতে প্রথম যুগে বিচ্ছিন্ন একটি মতবিরোধ ছিল, কিন্তু ‘সাধারণ পানি’ নামটির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে তাদের বিপক্ষে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। আজ-যুরকানি ‘শারহুল মুয়াত্তা’ (১/৫৩)-এ বলেছেন: এটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা হালাল ও সঠিক, যেমনটি অধিকাংশ সালাফ ও পরবর্তী আলেমগণ মনে করেন। আর কারো কারো থেকে যে এর অপর্যাপ্ততা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, তা অসার অথবা এর ব্যাখ্যা এই যে, তিনি এর মাধ্যমে কেবল পূর্ণাঙ্গতা অর্জন না হওয়া বুঝিয়েছেন।

সমুদ্রের পানি থেকে একটি মাসআলা বের হয়:

লবণের কারণে পরিবর্তিত পানি। জমহুর উলামায়ে কেরামের মতে, লবণের কারণে পরিবর্তিত পানি যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে পানি বলা যায় ততক্ষণ তা পবিত্রতা অর্জনকারী, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমুদ্রের পানি সম্পর্কে সাধারণ বাণীর অন্তর্ভুক্ত: «তার পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণী হালাল»। বুখারী ও মুসলিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আরাফায় অবস্থান করছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তার সওয়ারি থেকে পড়ে গেলেন এবং তার ঘাড় মটকে গেল—অথবা তিনি বলেছেন: তাকে ফেলে দিল—তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল করাও»। এটি প্রমাণ করে যে, পানিতে বরই পাতা মেশানো হলে অবশ্যই পানি পরিবর্তিত হবে, আর যদি এর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তিকে পবিত্র করা যায়, তবে জীবিত ব্যক্তিও তেমনি। পানিতে বরই পাতা মেশালে যদি তার পবিত্রতা নষ্ট না হয়, তবে লবণের ক্ষেত্রেও তাই হবে। আহমদ (৬/৩৪১) নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সনদে উম্মে হানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মাইমুনা একটি পাত্র থেকে গোসল করেছিলেন, যা ছিল এমন এক গামলা যাতে আটার চিহ্ন ছিল। যদি আটার কারণে পানি পরিবর্তিত হওয়া সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার স্ত্রী তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করে থাকেন; তবে তা প্রমাণ করে যে পানি কোনো পবিত্র জিনিসের মাধ্যমে পরিবর্তিত হলেও তা পবিত্রতা অর্জনকারী হিসেবেই থাকে যতক্ষণ তাকে পানি বলা যায়।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد دل على جواز التطهر بماء البحر الكتاب والسنة:

قال تعالى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا}.

وكلمة: «ماء» نكرة في سياق النفي، فتعم كل ماء سواء كان ماء بحر أو غيره. وعن أبي هريرة رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم في ماء البحر، قال: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ».

 

‌‌المطلب السابع: ماء زمزم.

أي: حكم رفع الحدث، وإزالة الخبث بماء زمزم.

اختلف العلماء في استعمال ماء زمزم في رفع الحدث وإزالة الخبث على أقوال:

القول الأول: ذهب المالكية والشافعية إلى جواز رفع الحدث وإزالة الخبث بماء زمزم، وعند الشافعية إزالة الخبث بماء زمزم خلاف الأَوْلى(1).

القول الثاني: ذهب الحنفية والمشهور عند الحنابلة إلى أنه يُكره استعمال ماء زمزم في رفع

--------------------------------------------

(1) «إعانة الطالبين» (1/ 107).
সমুদ্রের পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের বৈধতার ওপর কিতাব ও সুন্নাহ প্রমাণ পেশ করেছে:

আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে তোমরা তায়াম্মুম করো}।

এখানে 'পানি' শব্দটি না-বোধক প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট (নাকিরা) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে এটি সমুদ্রের পানি বা অন্য যেকোনো পানিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সমুদ্রের পানি সম্পর্কে বলেছেন: "এর পানি পবিত্রকারী"।

 

‌‌সপ্তম পরিচ্ছেদ: যমযম পানি।

অর্থাৎ: যমযম পানি দ্বারা অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করা এবং নাপাকি (খাবাস) পরিষ্কার করার বিধান।

যমযম পানি ব্যবহার করে অপবিত্রতা দূর করা এবং নাপাকি পরিষ্কার করার বিষয়ে আলেমগণ বিভিন্ন মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: মালেকী এবং শাফেয়ীগণ যমযম পানি দিয়ে অপবিত্রতা দূর করা এবং নাপাকি পরিষ্কার করা বৈধ বলে মত দিয়েছেন; তবে শাফেয়ীদের মতে যমযম পানি দিয়ে নাপাকি পরিষ্কার করা অনুত্তম(১)।

দ্বিতীয় মত: হানাফী এবং হাম্বলীদের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী অপবিত্রতা দূর করতে যমযম পানির ব্যবহার মাকরূহ...

--------------------------------------------

(১) 'ইআনাতুত ত্বালিবীন' (১/ ১০৭)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الحدث وإزالة الخبث(1).

القول الثالث: يحرم فيهما، وهو قول عند الحنابلة(2).

القول الرابع: يُكره فيهما(3).

القول الخامس: يُستحب الوضوء بماء زمزم(4).

القول السادس: يُكره الغسل دون الوضوء(5).

والراجح: جواز رفع الحدث وإزالة الخبث بماء زمزم؛ لعموم قوله تعالى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا}، وهذا ماء طهور، ولا يجوز التيمم مع وجوده.

وأما مَنْ مَنَع إزالة الخبث ورفع الحدث بماء زمزم؛ فاستدلوا بأنه مبارك ومعظم، وأنه لا يُرفع به الحدث ولا يُزال به الخبث، بل هو للشرب؛ ولذا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّهَا مُبَارَكَةٌ، وإِنَّهَا طَعَامُ طُعْمٍ»(6).

واعترض عليه بأن الماء الذي نبع من بين أصابع النبي صلى الله عليه وسلم ماء مبارك، ومع ذلك توضأ منه النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه.

أما من قال بأنه لا يُزال به الخبث؛ لأن فيه إهانة لماء زمزم، و يُرفع به الحدث؛ لأنه ماء مبارك لاقى بدنًا طاهرًا.

واعترض عليه بعموم قوله تعالى: {لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ} [الأنفال: 11]، وهذا عام في ماء زمزم وغيره.

وأما مَنْ فَرَّق بين الغسل وبين الوضوء فاستدلوا بما روى عبد الرزاق عن ابن عباس

--------------------------------------------

(1) «حاشية ابن عابدين» (1/ 180)، و «الفروع» (1/ 74).

(2) «الفروع» (1/ 74)، و «حاشية الطحطاوي على مراقي الفلاح» (1/ 16).

(3) «المغني» (1/ 28).

(4) «الفروع» (1/ 77).

(5) «تصحيح الفروع» (1/ 76).

(6) مسلم (2473).
অপবিত্রতা দূর করা এবং নাপাকি পরিষ্কার করা(১)।

তৃতীয় মত: উভয় ক্ষেত্রেই এটি হারাম, আর এটি হাম্বলী মাযহাবের একটি মত(২)।

চতুর্থ মত: উভয় ক্ষেত্রে এটি মাকরুহ(৩)।

পঞ্চম মত: যমযমের পানি দিয়ে অযু করা মুস্তাহাব(৪)।

ষষ্ঠ মত: অযু ব্যতীত গোসল করা মাকরুহ(৫)।

আর অগ্রগণ্য মত হলো: যমযমের পানি দিয়ে অপবিত্রতা দূর করা এবং নাপাকি পরিষ্কার করা বৈধ; কারণ মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা: "অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো।" আর এটি পবিত্রকারী পানি, এবং এটি বিদ্যমান থাকাবস্থায় তায়াম্মুম করা জায়েয নয়।

আর যারা যমযমের পানি দিয়ে নাপাকি পরিষ্কার করা এবং অপবিত্রতা দূর করা নিষিদ্ধ করেছেন, তারা দলিল পেশ করেন যে, এটি বরকতময় ও সম্মানিত পানি। এর মাধ্যমে অপবিত্রতা দূর করা যাবে না এবং নাপাকিও পরিষ্কার করা যাবে না, বরং এটি পান করার জন্য; একারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি বরকতময় এবং এটি ভক্ষণকারীর খাদ্য"(৬)।

এর বিপরীতে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে, যে পানি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আঙুলের মাঝখান থেকে প্রবাহিত হয়েছিল তাও বরকতময় পানি ছিল, তা সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ তা দিয়ে অযু করেছেন।

আর যারা বলেন যে, এর দ্বারা নাপাকি পরিষ্কার করা যাবে না; কারণ তাতে যমযমের পানির অবমাননা হয়, তবে এর দ্বারা অপবিত্রতা দূর করা যাবে; কারণ এটি বরকতময় পানি যা একটি পবিত্র দেহের সংস্পর্শে এসেছে।

এর বিপরীতে মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা দিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে: "যাতে তিনি তোমাদেরকে এর মাধ্যমে পবিত্র করেন" [আনফাল: ১১]। এটি যমযমের পানি এবং অন্যান্য পানির ক্ষেত্রেও সাধারণ বা ব্যাপক।

আর যারা গোসল এবং অযুর মধ্যে পার্থক্য করেছেন, তারা ইবনে আব্বাস থেকে আব্দুর রাজ্জাক যা বর্ণনা করেছেন তা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) «হাশিয়া ইবনে আবিদীন» (১/ ১৮০), এবং «আল-ফুরু» (১/ ৭৪)।

(২) «আল-ফুরু» (১/ ৭৪), এবং «মারাউল ফালাহ-এর উপর হাশিয়া আত-তহতাবি» (১/ ১৬)।

(৩) «আল-মুগনি» (১/ ২৮)।

(৪) «আল-ফুরু» (১/ ৭৭)।

(৫) «তাসহিহুল ফুরু» (১/ ৭৬)।

(৬) মুসলিম (২৪৭৩)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
: (إِنَّى لَا أُحِلُّهَا لِمُغْتَسِلٍ، وَلَكِنْ هِيَ لِشَارِبٍ - أحسبه قال -: وَمُتَوَضِّئٍ حِلٌّ وَبِلٌّ)(1).

واعترض عليه بأنه هذا قول ابن عباس، وقد خالفه غيره من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم.

فبهذا ترجح قول من قال بالجواز؛ لقوة الأدلة، وعدم وجود دليل يمنع من رفع الحدث وإزالة الخبث بماء زمزم. وإذا كان الصحابة توضئوا بالماء المبارك الذي نبع من بين أصابع النبي صلى الله عليه وسلم(2)؛ فكذا يجوز الوضوء بماء زمزم.

 

‌‌القسم الثاني: الماء المستعمل:

صور الماء المستعمل:

 

‌‌الصورة الأولى: الماء المنفصل من أعضاء المتوضئ أو المغتسل.

قال الماوردي: الماء المستعمل في رفع الحدث، وهو ما انفصل من أعضاء المحدث في وضوئه، أو بدن الجنب في غسله.

فالحاصل: أن ما تقاطر من العضو الذي تتم به الطهارة ماء مستعمل بلا نزاع(3).

الصورة الثانية: إذا غمس يده في إناء بنية رفع الحدث، هل يصير مستعملًا؟ أو انغمس في ماء قليل لرفع الجنابة، هل يصير مستعملًا؟

--------------------------------------------

(1) إسناده صحيح، ولكن ذكر الوضوء فيه على الشك: أخرجه عبد الرزاق «المصنف» (5/ 114)، عن معمر، قال: أخبرني ابن طاوس، عن أبيه، عن ابن عباس به. وورد من طرق أخرى عن ابن عباس، كما عند ابن أبي شيبة في المصنف (1/ 41) وغيره.

(2) روى البخاري (169)، ومسلم (2279) من حديث أنس بن مالك، أنه قال: رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَحَانَتْ صَلَاةُ العَصْرِ، فَالْتَمَسَ النَّاسُ الوَضُوءَ فَلَمْ يَجِدُوهُ، فَأُتِيَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِوَضُوءٍ، فَوَضَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ الإِنَاءِ يَدَهُ، وَأَمَرَ النَّاسَ أَنْ يَتَوَضَّؤوا مِنْهُ. قَالَ: فَرَأَيْتُ المَاءَ يَنْبُعُ مِنْ تَحْتِ أَصَابِعِهِ، حَتَّى تَوَضَّؤُوا مِنْ عِنْدِ آخِرِهِمْ ..

(3) «الحاوي» (1/ 300)، و «شرح الخرشي» (1/ 74)، وانظر: «البناية شرح الهداية» (1/ 352)، و «منح الجليل» (1/ 38)، و «المجموع» (1/ 215).
: (আমি এটি গোসলকারীর জন্য বৈধ করছি না, তবে পানকারীর জন্য - আমার ধারণা তিনি বলেছেন - এবং ওজুকারীর জন্য তা বৈধ ও পুরোপুরি হালাল)(১)।

এর ওপর এই মর্মে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে, এটি ইবনে আব্বাসের ব্যক্তিগত উক্তি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যান্য সাহাবীগণ তাঁর বিরোধিতা করেছেন।

অতএব, এই ক্ষেত্রে যারা এটি বৈধ হওয়ার মত দিয়েছেন তাদের বক্তব্যই অগ্রগণ্য; কারণ তাদের দলীলসমূহ শক্তিশালী এবং জমজমের পানি দ্বারা অপবিত্রতা (হাদাস) ও নাপাকি (খাবাস) দূর করা থেকে বিরত রাখার মতো কোনো দলীল নেই। আর সাহাবীগণ যদি সেই বরকতময় পানি দ্বারা ওজু করে থাকেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আঙুলের মাঝখান থেকে উৎসারিত হয়েছিল(২); তবে একইভাবে জমজমের পানি দিয়ে ওজু করাও বৈধ।

 

‌‌দ্বিতীয় বিভাগ: ব্যবহৃত পানি (আল-মাউল মুস্তামাল):

ব্যবহৃত পানির রূপসমূহ:

 

‌‌প্রথম রূপ: ওজুকারী বা গোসলকারীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া পানি।

আল-মাওয়ার্দী বলেন: অপবিত্রতা দূরীকরণে ব্যবহৃত পানি হলো তা-ই যা অপবিত্র ব্যক্তির ওজু করার সময় তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে অথবা জুনুবী (বড় নাপাক) ব্যক্তির গোসল করার সময় তার দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।

সারকথা হলো: পবিত্রতা অর্জনের সময় শরীরের অঙ্গ থেকে যা ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়ে, তা কোনো মতবিরোধ ছাড়াই 'ব্যবহৃত পানি' হিসেবে গণ্য(৩)।

দ্বিতীয় রূপ: যদি কেউ অপবিত্রতা দূর করার নিয়তে পাত্রের পানির মধ্যে হাত ডুবিয়ে দেয়, তবে কি তা 'ব্যবহৃত পানি' হয়ে যাবে? অথবা যদি কেউ জানাবাত (বড় নাপাকি) দূর করার জন্য অল্প পানিতে ডুব দেয়, তবে কি তা 'ব্যবহৃত পানি' হয়ে যাবে?

--------------------------------------------

(১) এর সনদ সহীহ, তবে এতে ওজুর বিষয়টি সন্দেহের সাথে উল্লিখিত হয়েছে: আব্দুর রাজ্জাক তাঁর 'মুসান্নাফ' (৫/১১৪) গ্রন্থে মা'মার থেকে, তিনি ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি ইবনে আব্বাস থেকে অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি ইবনে আবী শায়বা তাঁর 'মুসান্নাফ' (১/৪১) ও অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

(২) ইমাম বুখারী (১৬৯) ও ইমাম মুসলিম (২২৭৯) আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম এমতাবস্থায় যে আসরের নামাজের সময় হয়ে গিয়েছিল। তখন লোকজন ওজুর পানি খুঁজছিল কিন্তু তা পাচ্ছিল না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ওজুর পানি আনা হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই পাত্রের ভেতরে তাঁর হাত রাখলেন এবং মানুষকে তা থেকে ওজু করার নির্দেশ দিলেন। আনাস বলেন: আমি দেখলাম তাঁর আঙুলের নিচ থেকে পানি উৎসারিত হচ্ছে, এমনকি তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত ওজু সম্পন্ন করল।

(৩) 'আল-হাভী' (১/৩০০), 'শারহুল খারাশী' (১/৭৪), আরও দেখুন: 'আল-বিনায়া শারহুল হিদায়া' (১/৩৫২), 'মিনহুল জলীল' (১/৩৮) এবং 'আল-মাজমু' (১/২১৫)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ذهب الحنفية إلى أن الجنب إذا انغمس في البئر بنية رفع الحدث، فسد الماء(1).

وذهب المالكية إلى أنه إذا غمس يده في إناء بنية رفع الحدث صار مستعملًا، وإن كان أكثر من ذلك لم يكن مستعملًا(2).

وذهب الشافعية والحنابلة إلى أنه إذا انغمس في ماء دون القلتين صار مستعملًا، وإلا فلا(3).

الصورة الثالثة: وضوء الرجال والنساء من إناء واحد، ووقوع بعض الماء المستعمل في الإناء وما يتعلق من أحكام.

تفصيل ذلك فيما يلي:

 

‌‌المبحث الأول: حكم الماء المستعمل المنفصل من أعضاء المتوضئ أو المغتسل.

اختلف أهل العلم في حكم الماء المستعمل على ثلاثة أقوال:

القول الأول: أن الماء المستعمل طهور، وبه قال المالكية، ورواية عن الحنابلة(4).

واستدلوا بالقرآن والسنة والمعقول:

أما دليلهم من القرآن: فعموم قوله تعالى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا}، «ماء» نكرة في سياق النفي، فتعم كل ماء، سواءٌ كان الماء مستعملًا أو غير مستعمل، والله سبحانه وتعالى أوجب التيمم على من لم يجد الماء.

وأما دليلهم من السنة: ففي الصحيحين عن عائشة رضي الله عنهما قالت: «كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَالنَّبِيُّ

--------------------------------------------

(1) «البحر الرائق» (1/ 95)، و «المبسوط» (1/ 53).

(2) «حاشية الدسوقي» (1/ 75 - 76)، و «الاستذكار» (1/ 253).

(3) «المجموع» (1/ 215)، وقال ابن قدامة في «المغني» (1/ 300): إذَا انْغَمَسَ الْجُنُبُ أَوْ الْمُحْدِثُ فِيمَا دُونَ الْقُلَّتَيْنِ يَنْوِي رَفْعَ الْحَدَثِ، صَارَ مُسْتَعْمَلًا، وَلَمْ يَرْتَفِعْ حَدَثُهُ. وَقَالَ الشَّافِعِيُّ: يَصِيرُ مُسْتَعْمَلًا وَيَرْتَفِعُ حَدَثُهُ؛ لِأَنَّهُ إنَّمَا يَصِيرُ مُسْتَعْمَلًا بِارْتِفَاعِ حَدَثِهِ فِيهِ ..

(4) «الشرح الصغير» (1/ 37)، و «بداية المجتهد» (1/ 274)، و «الإنصاف» (5/ 35).
হানাফী মাযহাবের অভিমত হলো, অপবিত্র ব্যক্তি যদি হদস (অশুচিতা) দূর করার নিয়তে কূপে ডুব দেয়, তবে পানি নষ্ট (অব্যবহারযোগ্য) হয়ে যাবে(১)।

মালিকী মাযহাবের অভিমত হলো, যদি কেউ হদস দূর করার নিয়তে কোনো পাত্রে হাত ডুবিয়ে দেয় তবে সেই পানি 'ব্যবহৃত পানি' (মুস্তামাল) হয়ে যাবে, আর যদি এর চেয়ে বেশি কিছু হয় (অর্থাৎ হাত না ডুবিয়ে পানি উঠিয়ে নেয়) তবে তা ব্যবহৃত পানি হবে না(২)।

শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের অভিমত হলো, যদি দুই কুল্লা-র কম পরিমাণ পানিতে কেউ ডুব দেয় তবে তা 'ব্যবহৃত পানি' হয়ে যাবে, অন্যথায় নয়(৩)।

তৃতীয় রূপ: এক পাত্র থেকে পুরুষ ও মহিলার ওযু করা এবং ব্যবহৃত পানির কিছু অংশ পাত্রে পড়ে যাওয়া ও এ সংক্রান্ত বিধানাবলি।

এর বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: ওযুকারী বা গোসলকারীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে বিচ্যুত 'ব্যবহৃত পানি' (মুস্তামাল)-এর বিধান।

ব্যবহৃত পানির বিধান সম্পর্কে আলেমগণ তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: ব্যবহৃত পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী (তহুর)। মালিকী মাযহাব এবং হাম্বলীদের একটি বর্ণনা অনুযায়ী এটাই তাদের অভিমত(৪)।

তারা কুরআন, সুন্নাহ এবং যুক্তিনির্ভর দলিল পেশ করেছেন:

কুরআন থেকে তাদের দলিল: মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা: {অতঃপর তোমরা যদি পানি না পাও, তবে তায়াম্মুম করো}। এখানে 'পানি' (মা-আন) শব্দটি না-বোধক বাক্যের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (নাকিরা) হিসেবে এসেছে, যা সব ধরনের পানিকেই অন্তর্ভুক্ত করে—চাই সেই পানি ব্যবহৃত হোক বা অব্যবহৃত। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পানি না পাওয়া ব্যক্তির ওপর তায়াম্মুম করা ফরজ করেছেন।

সুন্নাহ থেকে তাদের দলিল: বুখারী ও মুসলিম শরীফে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «আমি এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গোসল করতাম...

--------------------------------------------

(১) 'আল-বাহরুর রায়েক' (১/ ৯৫), এবং 'আল-মাবসূত' (১/ ৫৩)।

(২) 'হাশিয়াতুদ দসুূকী' (১/ ৭৫ - ৭৬), এবং 'আল-ইস্তিজকার' (১/ ২৫৩)।

(৩) 'আল-মাজমূ' (১/ ২১৫), এবং ইবনে কুদামা 'আল-মুগনী' (১/ ৩০০)-তে বলেছেন: যদি জুনুবি (অপবিত্র) ব্যক্তি বা হদসগ্রস্ত ব্যক্তি হদস দূর করার নিয়তে দুই কুল্লা-র কম পানিতে ডুব দেয়, তবে তা ব্যবহৃত পানি হয়ে যাবে এবং তার হদস দূর হবে না। ইমাম শাফেয়ী বলেন: পানি ব্যবহৃত হয়ে যাবে এবং তার হদস দূর হবে; কারণ হদস দূর হওয়ার মাধ্যমেই পানি ব্যবহৃত পানিতে পরিণত হয়...

(৪) 'আশ-শারহুস সাগীর' (১/ ৩৭), 'বিদায়াতুল মুজতাহিদ' (১/ ২৭৪) এবং 'আল-ইনসাফ' (৫/ ৩৫)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ، تَخْتَلِفُ أَيْدِينَا فِيهِ(1)». ولا شك أن الإناء لا يسلم من رشاش يقع فيه من أحدهما، وهذا يدل على أن الماء المنفصل من أعضاء المغتسل أو المتوضئ طهور.

وفي الصحيحين من حديث أبي هريرة رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَقِيَهُ فِي بَعْضِ طَرِيقِ المَدِينَةِ وَهُوَ جُنُبٌ، فَانْخَنَسَ مِنْهُ، فَذَهَبَ فَاغْتَسَلَ ثُمَّ جَاءَ، فَقَالَ: «أَيْنَ كُنْتَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ؟» قَالَ: كُنْتُ جُنُبًا، فَكَرِهْتُ أَنْ أُجَالِسَكَ وَأَنَا عَلَى غَيْرِ طَهَارَةٍ، فَقَالَ: «سُبْحَانَ اللهِ، إِنَّ المُسْلِمَ لَا يَنْجُسُ»(2) فإذا كان المسلم بدنه طاهرًا لاقى ماء طاهرًا، فالتقاء طاهر بطاهر لا يُفقد الماءَ الطُّهُورية.

واستدلوا بحديث الرُّبيع، كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتِينَا، فَيُكْثِرُ، فَأَتَانَا فَوَضَعْنَا لَهُ الْمِيضَأَةَ، فَتَوَضَّأَ، فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلَاثًا، وَمَضْمَضَ، وَاسْتَنْشَقَ، مَرَّةً مَرَّةً، وَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا، وَذِرَاعَيْهِ ثَلَاثًا، وَمَسَحَ رَأْسَهُ بِمَا بَقِيَ مِنْ وَضُوئِهِ فِي يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ(3).

وجه الدلالة: أن النبي صلى الله عليه وسلم مسح رأسه - وهو فرض - بالماء المتبقي من غسل يديه، وهو ماء مستعمل بلا شك، استعمل في رفع الحدث.

واستدلوا بأن الماء المتردد على العضو طهور بالإجماع، مع أنه يمر على أول اليد، ثم يمر على آخرها، ولم يمنع كونه استعمل في أول العضو أن يطهر بقية العضو، وهذا ماء مستعمل بيقين.

قال ابن حزم: فَلَا يَخْتَلِفُ اثْنَانِ مِنْ أَهْلِ الإِسْلَامِ فِي أَنَّ كُلَّ مُتَوَضِّئٍ فَإِنَّهُ يَأْخُذُ الْمَاءَ فَيَغْسِلُ بِهِ ذِرَاعَيْهِ مِنْ أَطْرَافِ أَصَابِعِهِ إلَى مِرْفَقِهِ، وَهَكَذَا كُلُّ عُضْوٍ فِي الْوُضُوءِ وَفِي غُسْلِ الْجَنَابَةِ، وَبِالضَّرُورَةِ وَالْحِسِّ يَدْرِي كُلُّ مُشَاهِدٍ لِذَلِكَ أَنَّ ذَلِكَ الْمَاءَ قَدْ وُضِّئَتْ بِهِ الْكَفُّ وَغُسِلَتْ، ثُمَّ غُسِلَ بِهِ أَوَّلُ الذِّرَاعِ ثُمَّ آخِرُهُ، وَهَذَا مَاءٌ مُسْتَعْمَلٌ بِيَقِينٍ، ثُمَّ إنَّهُ يَرُدُّ يَدَهُ إلَى الإِنَاءِ وَهِيَ تَقْطُرُ مِنْ الْمَاءِ الَّذِي طَهَّرَ بِهِ الْعُضْوَ، فَيَأْخُذُ مَاءً آخَرَ لِلْعُضْوِ الآخَرِ، فَبِالضَّرُورَةِ يَدْرِي كُلُّ ذِي حِسٍّ

--------------------------------------------

(1) البخاري (261)، ومسلم (321).

(2) البخاري (285)، ومسلم (371).

(3) ضعيف: أخرجه أحمد (6/ 358)، وأبو داود (130)، وابن ماجه (418) وغيرهم، ومدار الحديث على عبد الله بن محمد بن عقيل، وقد تفرد به، وهو ضعيف.
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই পাত্র থেকে (গোসল করতেন), যাতে আমাদের হাতগুলো পর্যায়ক্রমে প্রবেশ করত(১)। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পাত্রটি দুজনের কোনো একজনের অঙ্গ থেকে ছিটে পড়া পানি থেকে মুক্ত থাকে না। এটি প্রমাণ করে যে, গোসলকারী বা ওজুকারীর অঙ্গ থেকে পৃথক হওয়া পানি পবিত্র (তাহুর)।

সহীহাইন-এ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনার কোনো এক পথে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন যখন তিনি অপবিত্র (জুনুব) অবস্থায় ছিলেন। তখন তিনি সেখান থেকে সরে পড়লেন এবং গিয়ে গোসল করে ফিরে এলেন। তিনি (রাসূল) জিজ্ঞেস করলেন: «হে আবু হুরায়রা, তুমি কোথায় ছিলে?» তিনি বললেন: আমি অপবিত্র ছিলাম, তাই আপনার সাথে অপবিত্র অবস্থায় বসাটা আমি অপছন্দ করলাম। তিনি বললেন: «সুবহানাল্লাহ! নিশ্চয়ই মুসলিম অপবিত্র হয় না»(২)। অতএব, যখন মুসলিমের শরীর পবিত্র থাকে এবং তা পবিত্র পানির সংস্পর্শে আসে, তখন এক পবিত্র বস্তুর সাথে অন্য পবিত্র বস্তুর মিলনে পানি তার পবিত্রকারিতা (তাহুরিয়াত) হারায় না।

তাঁরা রুবাইয়ি-এর হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট আসতেন, প্রায়ই আসতেন। তিনি আমাদের কাছে এলেন এবং আমরা তাঁর জন্য ওজুর পাত্র রাখলাম। তিনি ওজু করলেন; তাঁর উভয় হাতের কবজি তিনবার ধুলেন, একবার করে কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন, তাঁর মুখমন্ডল তিনবার ধুলেন, উভয় হাত তিনবার ধুলেন এবং তাঁর হাতে ওজুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে দুইবার তাঁর মাথা মাসাহ করলেন(৩)।

দলিল গ্রহণের প্রেক্ষিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মাথা মাসাহ করেছেন—যা একটি ফরজ কাজ—উভয় হাত ধোয়ার পর অবশিষ্ট পানি দিয়ে। আর এটি নিঃসন্দেহে ব্যবহৃত (মুস্তামাল) পানি, যা অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

তাঁরা আরও দলিল দিয়েছেন যে, অঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত পানি সর্বসম্মতিক্রমে পবিত্র, যদিও তা হাতের শুরু দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষে গিয়ে পৌঁছায়। অঙ্গের শুরুর অংশে ব্যবহৃত হওয়াটা অঙ্গের বাকি অংশ পবিত্র করতে বাধা দেয় না, অথচ এটি নিশ্চিতভাবেই ব্যবহৃত পানি।

ইবনে হাজম বলেন: ইসলাম অনুসারীদের মধ্যে এমন কোনো দুইজন ব্যক্তি নেই যারা দ্বিমত পোষণ করবেন যে, প্রত্যেক ওজুকারী পানি গ্রহণ করেন এবং তা দিয়ে তাঁর হাতের আঙ্গুলের ডগা থেকে কনুই পর্যন্ত ধৌত করেন। ওজু এবং জানাবাতের গোসলের প্রতিটি অঙ্গের ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটে। এটি প্রত্যক্ষকারী যে কেউ আবশ্যিকভাবে এবং ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করতে পারেন যে, ঐ পানি দিয়ে প্রথমে হাতের কবজি ধোয়া হয়েছে, এরপর হাতের শুরুর অংশ এবং তারপর শেষ অংশ ধোয়া হয়েছে। এটি নিশ্চিতভাবেই ব্যবহৃত পানি। এরপর তিনি তাঁর হাতটি পুনরায় পাত্রে ফিরিয়ে নেন যখন তা থেকে ঐ পানি ঝরছে যা দিয়ে তিনি অঙ্গটি পবিত্র করেছেন, এরপর অন্য অঙ্গ ধোয়ার জন্য পুনরায় পানি নেন। সুতরাং ইন্দ্রিয়সম্পন্ন যে কেউ আবশ্যিকভাবে এটি জানেন

--------------------------------------------

(১) বুখারী (২৬১), মুসলিম (৩২১)।

(২) বুখারী (২৮৫), মুসলিম (৩৭১)।

(৩) যঈফ: আহমাদ (৬/৩৫৮), আবু দাউদ (১৩০), ইবনে মাজাহ (৪১৮) এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির বর্ণনাসূত্র আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আকীলের ওপর আবর্তিত, তিনি এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন এবং তিনি যঈফ।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
سَلِيمٍ أَنَّهُ لَمْ يُطَهِّرْ الْعُضْوَ الثَّانِي إلاَّ بِمَاءٍ جَدِيدٍ قَدْ مَازَجَهُ مَاءٌ آخَرُ مُسْتَعْمَلٌ فِي تَطْهِيرِ عُضْوٍ آخَرَ، وَهَذَا مَا لَا مَخْلَصَ مِنْهُ»(1).

واستدلوا بأن الماء إذا استعمل في التبرد والتنظيف فهذا الماء المستعمل طهور بالإجماع يجوز الوضوء به.

قال ابن قدامة: إَنَّ مَا اُسْتُعْمِلَ فِي التَّبَرُّدِ وَالتَّنْظِيفِ أَنَّهُ بَاقٍ عَلَى إطْلَاقِهِ، وَلَا نَعْلَمُ فِيهِ خِلَافًا(2).

قلت: فعُلم أن الماء إذا استعمل في التبرد والتنظيف، ولم يرد به رفع الحدث، كان طهورًا بالإجماع، فبأي دليل يخرج عن طهوريته إذا نوى به رفع الحدث؟! وهل النية تُخْرجه عن طهوريته، والنية محلها القلب؟!

القول الثاني: ذهب الحنفية، والشافعية، والمشهور عن الحنابلة أن الماء المستعمل طاهر غير طهور(3).

واستدلوا بما ورد في البخاري عن المسور ومروان بن الحكم، قالا: «خَرَجَ رَسُولُ اللهِ زَمَنَ الحُدَيْبِيةَ». .. وفيه: وَإِذَا تَوَضَّأَ كَادُوا يَقْتَتِلُونَ عَلَى وَضُوئِهِ(4).

وفي الصحيحين عن جابر بن عبد الله، قال: جَاءَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَعُودُنِي وَأَنَا مَرِيضٌ لَا أَعْقِلُ، فَتَوَضَّأَ وَصَبَّ عَلَيَّ مِنْ وَضُوئِهِ(5).

وروى البخاري عن أبي جحيفة، قال: (خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالهَاجِرَةِ، فَأُتِيَ بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَأْخُذُونَ مِنْ فَضْلِ وَضُوئِهِ فَيَتَمَسَّحُونَ بِهِ)(6).

فاستعمال الصحابة وضوء النبي صلى الله عليه وسلم والتمسح به دليل على أنه الماء المستعمل طاهر.

--------------------------------------------

(1) «المحلى» (1/ 184).

(2) «المغني» (1/ 34).

(3) «شرح فتح القدير» (1/ 87)، و «الأم» (8/ 100)، و «الإنصاف» (1/ 35، 36).

(4) البخاري (2734).

(5) البخاري (194)، ومسلم (1616).

(6) البخاري (187).
সঠিক যে, তিনি দ্বিতীয় অঙ্গটি এমন নতুন পানি ছাড়া পবিত্র করেননি যার সাথে অন্য অঙ্গ পবিত্রকরণে ব্যবহৃত অন্য পানি মিশেছে, আর এটি এমন বিষয় যা থেকে নিষ্কৃতি নেই।(১).

তারা দলিল পেশ করেছেন যে, পানি যদি শরীর শীতল করা বা পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত হয়, তবে সেই ব্যবহৃত পানি সর্বসম্মতিক্রমে পবিত্র ও পবিত্রকারী (তহুর), যা দিয়ে অজু করা বৈধ।

ইবনু কুদামা বলেছেন: শরীর শীতল করা এবং পরিষ্কার করার কাজে যা ব্যবহৃত হয়েছে, তা তার সাধারণ (পবিত্রকারী) বৈশিষ্ট্যের ওপর বহাল থাকে এবং এ বিষয়ে আমরা কোনো মতভেদ জানি না।(২).

আমি বলি: সুতরাং জানা গেল যে, পানি যখন শরীর শীতল করা ও পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং তার মাধ্যমে অপবিত্রতা দূর করার ইচ্ছা করা না হয়, তবে তা সর্বসম্মতিক্রমে পবিত্রকারী থাকে। তাহলে কোন দলিলের ভিত্তিতে তা পবিত্রকারিতা থেকে বিচ্যুত হবে যখন এর মাধ্যমে অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করা হয়?! আর নিয়ত কি একে পবিত্রকারিতা থেকে বের করে দেয়, অথচ নিয়তের স্থান হলো অন্তর?!

দ্বিতীয় মত: হানাফী, শাফেয়ী এবং হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী ব্যবহৃত পানি পবিত্র, কিন্তু পবিত্রকারী নয়।(৩).

তারা বুখারীতে মিসওয়ার ও মারওয়ান ইবনুল হাকাম থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার সময়ে বের হলেন...।’ তাতে রয়েছে: ‘এবং যখন তিনি অজু করতেন, তখন তারা তাঁর অজুর পানির জন্য প্রায় লড়াই করার উপক্রম হতো।’(৪).

সহীহাইন-এ জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে এলেন যখন আমি অসুস্থ ছিলাম এবং সংজ্ঞাহীন ছিলাম, অতঃপর তিনি অজু করলেন এবং তাঁর অজুর অবশিষ্ট পানি আমার ওপর ঢেলে দিলেন।(৫).

ইমাম বুখারী আবু জুহাইফা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুপুরের প্রচণ্ড গরমে আমাদের কাছে বের হলেন, অতঃপর তাঁর কাছে অজুর পানি আনা হলো এবং তিনি অজু করলেন। তখন মানুষ তাঁর অজুর অবশিষ্ট পানি নিতে শুরু করল এবং তা দিয়ে নিজেদের শরীর মুছতে লাগল)।(৬).

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অজুর পানি সাহাবায়ে কিরামের ব্যবহার করা এবং তা শরীরে মাখা একথার প্রমাণ যে, ব্যবহৃত পানি পবিত্র।

--------------------------------------------

(১) «আল-মুহাল্লা» (১/ ১৮৪)।

(২) «আল-মুগনী» (১/ ৩৪)।

(৩) «শারহু ফাতহিল কাদির» (১/ ৮৭), এবং «আল-উম্ম» (৮/ ১০০), এবং «আল-ইনসাফ» (১/ ৩৫, ৩৬)।

(৪) বুখারী (২৭৩৪)।

(৫) বুখারী (১৯৪), ও মুসলিম (১৬১৬)।

(৬) বুখারী (১৮৭)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
قلت: وما المانع أن يكون طهورًا يرفع به الحدث ويُزَالُ به الخبث؟

واستدلوا بأن الماء المستعمل طاهر غير طهور بما روى مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لَا يَغْتَسِلْ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ»(1). فنهى النبي صلى الله عليه وسلم عن الاغتسال في الماء الدائم حتى لا يصير مستعملًا(2)؛ وذلك لأن الاغتسال يؤثر في الماء.

واعترض عليه بأن قولهم: (حتى لا يصير مستعملًا) ليست علة نص عليها الحديث. ولو قلنا بأن هذه علة في الغسل، فهل يمنع الوضوء من الماء الدائم؟ فدل ذلك على بطلان هذه العلة، ثم إنهم قالوا: لو انغمس في الماء بدون نية رفع الحدث فالماء طهور؛ فهل النية تحول الماء والنية محلها القلب؟! وقد تكون العلة من النهي عن الاغتسال في الماء الدائم أنه قد يبول فيه فيؤثر في الماء.

واستدلوا بأن النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه احتاجوا في أسفارهم الكثيرة إلى الماء، ولم يجمعوا المستعمل لاستعماله مرة أخرى، ولو كان طهورًا لجمعوه؛ لأن التيمم لا يجوز مع وجود الماء(3).

ويجاب عنه: بأن الصحابة} كانوا يقتصدون في الوضوء، وقد ثبت من حديث أنس المتفق عليه قال: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ .... الحديث.

فكيف يمكن جمع هذا الماء؟! ولو أمكن جمعه لكان في ذلك مشقة، والحرج مرفوع عن هذه الأمة بنص القرآن، كما أن كونه لم يُجمع لا يدل على أنه لا يُتطهر به؛ ولهذا لم يجمعوه للشرب مع طهارته، وحاجتهم للشرب آكد، ولم يجمعوه لغير الشرب كالعجن والطبخ والتبرد، فعدم جمعه ليس دليلًا على عدم طهوريته.

واستدلوا بأن الماء المستعمل ليس ماء مطلقًا، بل هو مقيد بكونه ماء مستعملًا، والذي يرفع الحدث هو الماء المطلق.

--------------------------------------------

(1) مسلم (283).

(2) «المجموع» (1/ 206).

(3) «المجموع» (1/ 206).
আমি বললাম: ব্যবহৃত পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী (তাহুর) হতে বাধা কোথায়, যার মাধ্যমে অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করা হবে এবং নাপাকি (খাবাস) পরিষ্কার করা হবে?

তারা দলিল পেশ করেছেন যে, ব্যবহৃত পানি নিজে পবিত্র হলেও অন্যকে পবিত্রকারী নয় (তাহির গাইর তাহুর)। এর স্বপক্ষে তারা ইমাম মুসলিম বর্ণিত আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, যেখানে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র (জুনুবি) অবস্থায় স্থির পানিতে গোসল না করে»(১)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্থির পানিতে গোসল করতে নিষেধ করেছেন যাতে তা ব্যবহৃত পানিতে পরিণত না হয়(২); কারণ গোসল পানির ওপর প্রভাব ফেলে।

এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে, তাদের এই দাবি—(যাতে ব্যবহৃত পানিতে পরিণত না হয়)—এমন কোনো কারণ (ইল্লাত) নয় যা হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর আমরা যদি বলি যে এটি গোসলের ক্ষেত্রে একটি কারণ, তবে কি স্থির পানিতে ওযু করাও নিষিদ্ধ হবে? এটি উক্ত কারণটির অসারতা প্রমাণ করে। তাছাড়া তারা বলেছেন: যদি কেউ অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত ছাড়াই পানিতে ডুব দেয় তবে পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী (তাহুর) থাকে; তাহলে নিয়ত কি পানির গুণ পরিবর্তন করে দেয়, অথচ নিয়তের স্থান হলো অন্তর?! আবার স্থির পানিতে গোসল করতে নিষেধ করার কারণ এটিও হতে পারে যে, কেউ সেখানে প্রস্রাব করে দিতে পারে যা পানির ওপর প্রভাব ফেলবে।

তারা আরও দলিল দিয়েছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ তাঁদের অসংখ্য সফরে পানির মুখাপেক্ষী ছিলেন, তবুও তাঁরা পুনরায় ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত পানি সংগ্রহ করেননি। যদি তা পবিত্র ও পবিত্রকারী হতো তবে তাঁরা তা অবশ্যই সংগ্রহ করতেন; কারণ পানি থাকা অবস্থায় তায়াম্মুম বৈধ নয়(৩)।

এর উত্তরে বলা হয়: সাহাবীগণ ওযুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত মিতব্যয়ী ছিলেন। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক মুদ (এক আঁজলা পরিমাণ) পানি দিয়ে ওযু করতেন... (হাদিস)।

এই সামান্য পরিমাণ পানি কীভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব?! আর যদি তা সংগ্রহ করা সম্ভবও হতো, তবে তাতে চরম কষ্ট ও সংকীর্ণতা থাকত; অথচ কুরআনের বর্ণনানুসারে এই উম্মত থেকে সংকীর্ণতা দূর করা হয়েছে। এছাড়া কোনো কিছু সংগ্রহ না করা এটি প্রমাণ করে না যে তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা যাবে না। ঠিক একারণেই পানি পবিত্র হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা তা পান করার জন্য সংগ্রহ করেননি, যদিও পানের প্রয়োজনীয়তা ছিল অনেক বেশি। এমনকি তাঁরা পান করা ছাড়াও অন্য কাজে যেমন—আটা মাখা, রান্না করা বা শরীর শীতল করার জন্যও তা সংগ্রহ করেননি। সুতরাং সংগ্রহ না করা পানিটি পবিত্রকারী (তাহুর) না হওয়ার দলিল হতে পারে না।

তারা দলিল দিয়েছেন যে, ব্যবহৃত পানি নিরঙ্কুশ বা সাধারণ পানি (মা-এ মুতলাক) নয়, বরং তা ‘ব্যবহৃত পানি’ হিসেবে বিশেষায়িত। আর যা অপবিত্রতা দূর করে তা হলো সাধারণ বা নিরঙ্কুশ পানি।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম (২৮৩)।

(২) «আল-মাজমু» (১/ ২০৬)।

(৩) «আল-মাজমু» (১/ ২০৬)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
واعترض عليه بعموم قوله تعالى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً} فيشمل الماء المستعمل وغيره. وخرج الماء النجس بالإجماع، وبقي ما عداه.

واستدلوا بأن الماء استعمل في عبادة واجبة، فلا يمكن أن يستعمل في عبادة أخرى، كالعبد إذا أعتق لا يمكن أن يعتق مرة أخرى.

واعترض عليه: بأن العبد إذا أعتق صار حرًّا فكيف يعتق مرة أخرى؟!

القول الثالث: ذهب أبو حنيفة في رواية إلى أن الماء المستعمل نجس(1).

واستدلوا لذلك بالقرآن والسنة:

أما دليلهم من القرآن: فعموم قوله تعالى: {وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا} [المائدة: 6]، والطهارة لا تكون إلا عن نجاسة؛ إذ تطهير الطاهر لا يُعقل(2).

واعترض على قولهم: (والطهارة لا تكون إلا عن نجاسة) من وجوه:

الأول: أن تجديد الوضوء يطلق عليه طهارة شرعية مع أنه متطهر.

الثاني: لو كان المحدث نجسًا لما صح حمل النبى صلى الله عليه وسلم لأُمَامَةَ في الصلاة؛ فعن أبي قتادة رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصلي وَهُوَ حَامِلٌ أُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم.

الثالث: المتوضئ لا بد أن يتساقط على ثوبه من الماء المستعمل، ومعنى ذلك أنه سوف تتنجس ثيابه، فهل حَكَم أحد بالنجاسة؟

الرابع: إنما سُمِّيَ الوضوء والغسل طهارة لرفع الحدث، ولنفي الذنوب، كما صح في الأخبار(3).

أما دليلهم من السنة: فما روى مسلم عن أبي أُمَامَة، قال عمرو بن عَبَسَة السُّلَمِي: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْكُمْ رَجُلٌ يُقَرِّبُ وَضُوءَهُ فَيَتَمَضْمَضُ، وَيَسْتَنْشِقُ فَيَنْتَثِرُ، إِلَّا خَرَّتْ خَطَايَا وَجْهِهِ وَفِيهِ وَخَيَاشِيمِهِ، ثُمَّ إِذَا غَسَلَ وَجْهَهُ كَمَا أَمَرَهُ اللهُ، إِلَّا خَرَّتْ خَطَايَا وَجْهِهِ مِنْ أَطْرَافِ

--------------------------------------------

(1) «البناية» (1/ 350)، و «حاشية ابن عابدين» (1/ 201).

(2) «البناية» (1/ 353، 354).

(3) «المغني» (1/ 48).
এর বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা দ্বারা আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে: {অতঃপর যদি পানি না পাও}। সুতরাং এটি ব্যবহৃত এবং অব্যবহৃত উভয় পানিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর নাপাক পানি ইজমার ভিত্তিতে এর বাইরে চলে গেছে এবং এটি ছাড়া বাকিগুলো অবশিষ্ট রয়েছে।

তারা দলীল পেশ করেছেন যে, পানি একটি ওয়াজিব ইবাদতে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এটি অন্য কোনো ইবাদতে ব্যবহার করা সম্ভব নয়; যেমন একজন দাসকে যখন মুক্ত করে দেওয়া হয়, তখন তাকে দ্বিতীয়বার মুক্ত করা সম্ভব নয়।

এর বিপরীতে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে: দাস যখন মুক্ত হয় তখন সে স্বাধীন হয়ে যায়, তাহলে সে পুনরায় কীভাবে মুক্ত হবে?!

তৃতীয় মত: ইমাম আবু হানীফা থেকে একটি বর্ণনা অনুযায়ী ব্যবহৃত পানি নাপাক(১)।

তারা এর সপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দলীল পেশ করেছেন:

কুরআন থেকে তাদের দলীল হলো: মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা: {আর যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে পবিত্রতা অর্জন করো} [আল-মায়েদাহ: ৬]। আর নাপাকি ছাড়া পবিত্রতা অর্জিত হয় না; কারণ পবিত্র বস্তুকে পবিত্র করার বিষয়টি বোধগম্য নয়(২)।

তাদের বক্তব্য: (নাপাকি ছাড়া পবিত্রতা অর্জিত হয় না) এর ওপর কয়েকভাবে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে:

প্রথমত: অযু নবায়ন করাকেও শরয়ী পরিভাষায় পবিত্রতা বলা হয়, অথচ সে ব্যক্তি আগে থেকেই পবিত্র।

দ্বিতীয়ত: যদি অপবিত্র (হাদাসগ্রস্ত) ব্যক্তি নাপাক হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামাযে উমামাহকে বহন করা সহীহ হতো না। আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমামাহ বিনতে যয়নব বিনতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বহন করা অবস্থায় নামায পড়তেন।

তৃতীয়ত: অযুকারীর কাপড়ের ওপর ব্যবহৃত পানির ছিটা পড়া অনিবার্য, আর এর অর্থ হলো তার কাপড় নাপাক হয়ে যাবে। কিন্তু কেউ কি এমন নাপাক হওয়ার ফয়সালা দিয়েছেন?

চতুর্থত: অযু এবং গোসলকে পবিত্রতা নামকরণ করা হয়েছে কেবল অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করার জন্য এবং গুনাহ মোচনের জন্য, যেমনটি বর্ণিত হাদীসসমূহে সাব্যস্ত হয়েছে(৩)।

সুন্নাহ থেকে তাদের দলীল: ইমাম মুসলিম আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে আবাসা আস-সুলামী বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের মাঝে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে তার অযুর পানি কাছে আনে, অতঃপর কুলি করে এবং নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করে, তবে তার চেহারার, মুখের এবং নাকের ছিদ্রপথের গুনাহসমূহ ঝরে পড়ে। অতঃপর যখন সে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তার চেহারা ধৌত করে, তবে তার চেহারার গুনাহসমূহ (দাড়ির) অগ্রভাগ থেকে ঝরে পড়ে...

--------------------------------------------

(১) ‘আল-বিনায়াহ’ (১/ ৩৫০), এবং ‘হাশিয়াতু ইবনে আবিদীন’ (১/ ২০১)।

(২) ‘আল-বিনায়াহ’ (১/ ৩৫৩, ৩৫৪)।

(৩) ‘আল-মুগনী’ (১/ ৪৮)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আহকামিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
لِحْيَتِهِ مَعَ الْمَاءِ، ثُمَّ يَغْسِلُ يَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ، إِلَّا خَرَّتْ خَطَايَا يَدَيْهِ مِنْ أَنَامِلِهِ مَعَ الْمَاءِ، ثُمَّ يَمْسَحُ رَأْسَهُ، إِلَّا خَرَّتْ خَطَايَا رَأْسِهِ مِنْ أَطْرَافِ شَعْرِهِ مَعَ الْمَاءِ، ثُمَّ يَغْسِلُ قَدَمَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ، إِلَّا خَرَّتْ خَطَايَا رِجْلَيْهِ مِنْ أَنَامِلِهِ مَعَ الْمَاءِ، فَإِنْ هُوَ قَامَ فَصَلَّى، فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَمَجَّدَهُ بِالَّذِي هُوَ لَهُ أَهْلٌ، وَفَرَّغَ قَلْبَهُ لِله، إِلَّا انْصَرَفَ مِنْ خَطِيئَتِهِ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ»(1).

وجه الدلالة: أن الخطايا نجاسات، فيتنجس الماء المستعمل بها؛ ولذا يكون نجسًا.

واعترض عليه: بأن العبد إذا أذنب لا ينتقض وضوؤه، ولا يقال: إنه تنجس، وأن الذنوب ليست شيئًا حسيًّا يخالط الماء فينجسه.

قال ابن حزم: وَمَا عَلِمْنَا لِلْخَطَايَا أَجْرَامًا تَحِلُّ فِي الْمَاءِ.

وقال النووي: وَالْمُرَادُ بِخُرُوجِهَا مَعَ الْمَاءِ الْمَجَازُ وَالِاسْتِعَارَةُ فِي غُفْرَانِهَا لِأَنَّهَا لَيْسَتْ بِأَجْسَامٍ فَتَخْرُجَ حَقِيقَةً(2).

الدليل الثاني: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لا يَبُلْ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَلا يَغْتَسِلْ فِيهِ مِنْ جَنَابَةٍ»(3).

--------------------------------------------

(1) مسلم (832).

(2) «شرح مسلم» (3/ 133).

(3) أخرجه أحمد (2/ 433)، وأبو داود (70) وغيرهما من طريق محمد بن عجلان عن أبيه، عن أبي هريرة به. وقد حدث خلاف على ابن عجلان. وقد روى الحديث جماعة من الثقات الأثبات كالأعرج، وابن سيرين، وهمام بن همام وغيرهم بغير هذا اللفظ، كما في الصحيحين وغيرهما.

قال النووي «المجموع» (1/ 204): رَوَاهُ هَكَذَا أَبُو دَاوُد فِي سُنَنِهِ مِنْ رِوَايَةِ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: وَرَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ فِي صَحِيحَيْهِمَا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ ثُمَّ يَغْتَسِلُ مِنْهُ» وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: «لَا يَغْتَسِلُ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ» فَقِيلَ لِأَبِي هُرَيْرَةَ: كَيْفَ يَفْعَلُ؟ قَالَ: يَتَنَاوَلُهُ تَنَاوُلًا. فَهَاتَانِ الرِّوَايَتَانِ خِلَافُ رِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ، قَالَ الْبَيْهَقِيُّ: رِوَايَةُ الْحُفَّاظِ مِنْ أَصْحَابِ أَبِي هُرَيْرَةَ كَمَا رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ.

وحديث ابن عجلان شطره الأول: «لا يَبُلْ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ» له شواهد في الصحيحين، وثبت في مسلم: «لَا يَغْتَسِلُ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ» يشهد لقوله: «وَلا يَغْتَسِلْ فِيهِ مِنْ جَنَابَةٍ»، ولكن علة حديث ابن عجلان أنه جمع حديثين في حديث واحد.
পানির সাথে তার দাড়ি (থেকে), এরপর যখন সে তার দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করে, পানির সাথে তার আঙ্গুলের অগ্রভাগ থেকে তার দুই হাতের গুনাহসমূহ ঝরে পড়ে। এরপর যখন সে তার মাথা মাসাহ করে, পানির সাথে তার চুলের অগ্রভাগ থেকে তার মাথার গুনাহসমূহ ঝরে পড়ে। এরপর যখন সে টাখনু পর্যন্ত তার দুই পা ধৌত করে, পানির সাথে তার আঙ্গুলের অগ্রভাগ থেকে তার দুই পায়ের গুনাহসমূহ ঝরে পড়ে। অতঃপর যদি সে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে এবং আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করে এবং তাঁর মহিমা বর্ণনা করে যেভাবে তিনি তার উপযুক্ত, আর নিজের হৃদয়কে আল্লাহর জন্য খালি করে ফেলে, তবে সে তার গুনাহসমূহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয়ে ফিরে আসে যেন আজই তার মা তাকে প্রসব করেছেন»(১).

প্রমাণের দিক: গুনাহসমূহ হলো অপবিত্রতা, তাই এতে ব্যবহৃত পানি অপবিত্র হয়ে যায়; আর এই কারণেই তা নাপাক হবে।

এর প্রতি আপত্তি জানানো হয়েছে যে: বান্দা যখন গুনাহ করে তখন তার অজু ভঙ্গ হয় না, আর এটাও বলা হয় না যে সে নাপাক হয়ে গেছে; তদুপরি গুনাহ কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তু নয় যা পানির সাথে মিশে তাকে নাপাক করে দেবে।

ইবনে হাজম রহ. বলেন: গুনাহের জন্য আমরা এমন কোনো দেহ বা বস্তু আছে বলে জানি না যা পানির মধ্যে দ্রবীভূত হয়।

ইমাম নববী রহ. বলেন: পানির সাথে গুনাহ বের হয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য হলো রূপক ও অলঙ্কারিক, যা গুনাহ মাফ হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত; কারণ গুনাহ কোনো জড়বস্তু নয় যে তা প্রকৃতপক্ষে নির্গত হবে(২)।

দ্বিতীয় দলিল: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে এবং তাতে জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসল না করে»(৩)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম (৮৩২)।

(২) «শারহু মুসলিম» (৩/ ১৩৩)।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (২/ ৪৩৩), আবু দাউদ (৭০) এবং অন্যরাও মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রা. সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনে আজলানের বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে। একদল নির্ভরযোগ্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত বর্ণনাকারী যেমন আল-আরাজ, ইবনে সিরিন, হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ এবং অন্যরা এই শব্দগুলো ছাড়া অন্য শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি বুখারি ও মুসলিম এবং অন্যান্য কিতাবে রয়েছে।

ইমাম নববী রহ. «আল-মাজমু» (১/ ২০৪) গ্রন্থে বলেন: আবু দাউদ তার সুনান গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহদ্বয়ে আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে, এরপর সেখান থেকে গোসল করে।» মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে: «তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র অবস্থায় আবদ্ধ পানিতে গোসল না করে।» তখন আবু হুরায়রা রা.-কে জিজ্ঞেস করা হলো: তবে সে কীভাবে করবে? তিনি বললেন: সে তা অঞ্জলি ভরে নিয়ে ব্যবহার করবে। সুতরাং এই দুটি বর্ণনা আবু দাউদের বর্ণনার বিপরীত। আল-বাইহাকী বলেন: আবু হুরায়রার শাগরিদদের মধ্যে যারা হাফেজ (সংরক্ষণকারী), তাদের বর্ণনা ঠিক তেমন যেমন বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আর ইবনে আজলানের হাদিসের প্রথম অংশ: «তোমাদের কেউ যেন আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে»—এর স্বপক্ষে সহিহদ্বয়ে সমর্থনকারী বর্ণনা রয়েছে। আর মুসলিমে এটিও সাব্যস্ত রয়েছে যে: «তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র অবস্থায় আবদ্ধ পানিতে গোসল না করে», যা তার এই উক্তি: «এবং তাতে জানাবাত থেকে গোসল না করে»—এর সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু ইবনে আজলানের হাদিসের ত্রুটি হলো যে তিনি দুটি হাদিসকে একটি হাদিসে একত্রিত করে ফেলেছেন।