(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: -)
الجامع العام في فقه الصيام القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الجامع العام في فقه الصيام
(دراسة فقهية حديثية مقارنة)
يحتوي على فقه صيام رمضان وصيام التطوع وقيام الليل والاعتكاف وزكاة الفطر وآحكام العيدين
المؤلف: محمد بن علي حلاوة
تقديم: مصطفى بن العدوي
الناشر: مكتبة العلوم والحكم، الشرقية - مصر
الطبعة: الثانية، 1433 هـ - 2013 م
عدد الصفحات: 585
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1445
সিয়ামের ফিকহ বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ সংকলন বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: সিয়ামের ফিকহ বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ সংকলন
(একটি তুলনামূলক ফিকহী ও হাদীসভিত্তিক গবেষণা)
এতে রমজানের সিয়াম, নফল সিয়াম, কিয়ামুল লাইল, ইতিকাফ, জাকাতুল ফিতর এবং দুই ঈদের বিধানাবলী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
লেখক: মুহাম্মাদ বিন আলী হালাওয়াহ্
উপস্থাপনা: মুস্তফা বিন আল-আদাবী
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম, শারকিয়া - মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৩৩ হিজরী - ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৭)
تقديمالحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وبعد:
فهذا كتاب جامع في الصيام وأحكامه، وكذا قيام الليل والاعتكاف والعيدين وزكاة الفطر وما يتعلق بذلك من فقه وأحكام، أعدَّه أخي في الله الشيخ/ محمد حلاوة - حفظه الله وبارك فيه، وقد أتقن عمله وفَّقه الله، فقد جمع ما يتعلق بكل باب من مادة علمية، فجمع الأحاديث والآثار، وخرجها فأحسن تخريجها، ثم حكم عليها بما تستحقه صحة أو ضعفًا، مع عدم إهماله لأقوال علماء العلل، ثم إنه أورد أقوال أهل العلم والفقه، ابتداءً من الصحابة رضوان الله عليهم، ثم أقوال التابعين وأتباعهم، وكذا أقوال أصحاب المذاهب الأربعة، وأيضًا أقوال أئمة آخرين وعلماء كالظاهرية وابن تيمية ومتأخري الفقهاء، ورجح القول الذي تقتضي الأدلة رجحانه، وكذا؛ فإنه وفقه الله لكل خير، لم يغفل الآيات التي لها اتصال بالموضوعات، فأوردها وأورد أقوال العلماء فيها، فأفاد وأحسن، جزاه الله خيرًا.
هذا، وقد راجعت مع أخي الشيخ محمد عمله؛ فألفيته من فضل الله نافعًا موفقًا، فأسأل الله له مزيدًا من السداد والتوفيق والسير قُدمًا في الدعوة إلى الله وطلب العلم الشرعي.
وصلِّ اللهم على نبينا محمدٍ وسلم والحمد لله رب العالمين
كتبه
أبو عبد الله
مصطفى بن العدوي
উপস্থাপনাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম আল্লাহর রাসূলের ওপর বর্ষিত হোক। অতঃপর:
এটি সিয়াম ও এর বিধিবিধান এবং তদ্রূপ রাতের সালাত (কিয়ামুল লাইল), ইতিকাফ, দুই ঈদ, জাকাতুল ফিতর এবং এ সংশ্লিষ্ট ফিকহ ও বিধিবিধান বিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব। এটি প্রস্তুত করেছেন আল্লাহর পথে আমার ভাই শায়খ মুহাম্মদ হালাওয়া—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন ও তাতে বরকত দান করুন। তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে কাজ সম্পন্ন করেছেন, আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন। তিনি প্রতিটি অধ্যায় সংশ্লিষ্ট ইলমি উপাদানসমূহ সংগ্রহ করেছেন। তিনি হাদিস ও বর্ণনা (আছার) সংকলন করেছেন এবং অত্যন্ত সুচারুভাবে সেগুলোর উৎস নির্দেশ করেছেন। এরপর সুক্ষ্ম ত্রুটি বিশারদ আলেমদের মতামতকে উপেক্ষা না করেই সেগুলোর বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা বিচার করেছেন। অতঃপর তিনি সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), তাবেয়ি ও তাঁদের অনুসারীগণ, চার মাজহাবের ইমামগণ এবং অন্যান্য ইমাম ও আলেম যেমন জাহেরিগণ, ইবনে তাইমিয়্যাহ ও পরবর্তী যুগের ফকিহদের ফিকহি বক্তব্যগুলো উল্লেখ করেছেন। এবং দলিলের বিচারে যে মতটি অগ্রগণ্য হওয়ার দাবি রাখে, তিনি সেটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তদ্রূপ—আল্লাহ তাঁকে সকল কল্যাণের তাওফিক দিন—তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর সাথে সম্পৃক্ত আয়াতগুলো বিস্মৃত হননি; বরং তিনি সেগুলো এবং সে বিষয়ে আলেমদের বক্তব্যগুলো উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি অনেক উপকৃত করেছেন এবং অতি উত্তম কাজ করেছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন।
অতঃপর, আমি আমার ভাই শায়খ মুহাম্মদের সাথে তাঁর কাজগুলো পর্যালোচনা করেছি এবং আল্লাহর অনুগ্রহে সেটিকে অত্যন্ত উপকারী ও যথাযথ পেয়েছি। আমি আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য আরও বেশি সঠিক পথে অবিচলতা, তাওফিক এবং আল্লাহর পথে দাওয়াত ও শরয়ি জ্ঞান অর্জনে উত্তরোত্তর অগ্রযাত্রার প্রার্থনা করছি।
হে আল্লাহ, আপনি আমাদের নবী মুহাম্মদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন এবং সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন
আবু আবদুল্লাহ
মুস্তফা বিন আল-আদাউয়ি
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৮)
المقدمةإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71].
أما بعد: فإنَّ أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمّدٍ صلى الله عليه وسلم، وشرَّ الأمور محدثاتها، وكل محدثةٍ بدعة، وكل بدعةٍ ضلالة.
ثم أما بعد: فمِن أحبِّ الأعمال إلى الله تعالى وأبلغِها إلى مرضاته، وأحضِّها للظفر بجناته، إقامةُ أركان الشريعة، وفرائضِ الملة الرفيعة، ولا صحة لذلك ولا قَبول إلا على الوجه الذى دعا إليه الباري وبه أمر.
روى البخاري
(1) عن أبى هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «قال الله عز وجل: وَمَا تَقَرَّبَ إلى عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إلى مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ».
ومن هذه الفرائض العظام شعيرة الصيام.
--------------------------------------------
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয়ের থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চেয়ে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আহযাব: ৭০, ৭১]।
এরপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।
অতঃপর: আল্লাহর নিকট প্রিয়তম কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম, তাঁর সন্তুষ্টির জন্য সবচেয়ে কার্যকর এবং তাঁর জান্নাত লাভের জন্য সবচেয়ে উৎসাহব্যঞ্জক কাজ হলো শরীয়তের রুকনসমূহ এবং দ্বীনের মহান আবশ্যিক বিধানসমূহ প্রতিষ্ঠা করা। আর স্রষ্টা যে পদ্ধতিতে আহ্বান করেছেন এবং যা নির্দেশ দিয়েছেন, তা ছাড়া এর কোনো সঠিকতা বা গ্রহণযোগ্যতা নেই।
বুখারি
(১) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল বলেছেন: আমার বান্দা আমার নিকট প্রিয়তর আর কোনো জিনিসের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে পারে না, যা আমি তার ওপর ফরজ করেছি তার চেয়ে।»
আর এই মহান ফরজসমূহের মধ্যে সিয়ামের বিধান অন্যতম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৯)
وهذا الصوم قد فضَّله الباري جل اسمه على سائر الطاعات، وذلك بإضافته إلى نفسه العلية؛ تعظيمًا لقدره وشانه، وتنويهًا بسامق مكانه، فقد ثبت فى «الصحيحين»
(1) من حديث أبى هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «قال الله عز وجل: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ».
كيف لا! وصيام رمضان أحد أركان الإسلام الركين، ومن أعظم معالمه وأثبت دعائمه، ففى «الصحيحين»
(2)، عن ابن عمر {قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ
… ». فذكر منها: «
… وَصَوْمُ رَمَضَان».
أيامه بالرحمات والسكينة مُجَلَّلة، وبالمنافع والبركات الغزار مُعجَّلة، فى لياليه الطُّهر ليلةٌ خيرٌ من ألف شهرٍ، فيها تنزل الملائكة الكرام، حافِّين بالعباد وهم فى تبتلٍ وابتهالٍ، ودموعهم فى انهمالٍ، راجين من الكبير المتعال أن يغفر لهم زلاتِهم، ويمحو حوباتِهم، ويُقِيل عثراتِهم، ويَكشف كرباتِهم، ويفرِّجُ مُلماتِهم، كلُّ ذلك وأشدُّه أيام الاعتكاف حين يكونون عن الدنيا فى انصراف، بقلوبٍ من ربها وجلة، فلله ما أبهاه من شهر عظيم.
فانظروا إلى ما خصكم الله به من الإنعام والإكرام وحباكم به من العطايا الجسام، وشَرَّفكم بنبي الرحمة ورسول الهدى وأنقذكم ببركته من الردى، فاستدرِكوا رحمكم الله مواسم العمر فحادي الموت بالرحيل قد حدا، واغتنموا ليلة القدر فلعل أن تُكتبوا في ديوان السعداء فإنها ليلة تفوق ليالي الدهر، وهي خير من ألف شهر، فيا فوز من أحياها ويا سعادة من رآها لقد نال فخرًا وسؤددًا.
فليلة القدر يُفتح فيها الباب، وتُقرب الأحباب، ويُسمع الخطاب، ويُرد الجواب، ويُكتب للعاملين فيها جزيل الأجر والثواب.
اعلم أن ليلة القدر ليلة شريفة فيها يتجلى رب الأرباب، ويجزل للعاملين بطاعته الثواب، ويسمع فيها الدعاء ويستجاب فيها، تنزل الملائكة بأمر رب العالمين.
--------------------------------------------
আর এই সিয়ামকে বারি তাআলা, যাঁর নাম মহিমান্বিত, অন্যান্য সকল ইবাদতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আর তা করেছেন একে তাঁর সুউচ্চ সত্তার সাথে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে; এর মর্যাদা ও শানকে মহিমান্বিত করতে এবং এর সুউচ্চ মাকামকে তুলে ধরতে। নিশ্চয়ই ‘সহীহাইন’-এ
(১) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: বনী আদমের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, শুধু সিয়াম ব্যতীত; কেননা তা কেবল আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব»।
কেনই বা হবে না! অথচ রমজানের সিয়াম ইসলামের অন্যতম সুদৃঢ় রুকন এবং এর অন্যতম মহান নিদর্শন ও শক্তিশালী ভিত্তি। ‘সহীহাইন’-এ
(২) ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর...»। অতঃপর তিনি তার মধ্যে উল্লেখ করেছেন: «...এবং রমজানের সিয়াম পালন করা»।
এর দিনগুলো রহমত ও প্রশান্তি দ্বারা আচ্ছাদিত, এবং প্রচুর উপকার ও বরকতের মাধ্যমে ত্বরান্বিত। এর পবিত্র রাতগুলোতে এমন এক রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। তাতে সম্মানিত ফেরেশতাগণ অবতরণ করেন, তারা ইবাদতকারীদের বেষ্টন করে রাখেন যখন তারা একান্ত বিনয় ও কাকুতি-মিনতিতে নিমগ্ন থাকে এবং তাদের অশ্রু নিরবচ্ছিন্নভাবে ঝরতে থাকে। তারা মহান সুউচ্চ সত্তার কাছে প্রার্থনা করে যেন তিনি তাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দেন, তাদের পাপসমূহ মুছে দেন, তাদের স্খলনগুলো মার্জনা করেন, তাদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করেন এবং তাদের বিপদ-আপদ কাটিয়ে দেন। এই সব কিছু এবং এর চেয়েও অধিক পরিলক্ষিত হয় ইতিকাফের দিনগুলোতে, যখন তারা দুনিয়া থেকে বিমুখ হয়ে তাদের রবের প্রতি ভীত-কম্পিত হৃদয়ে নিমগ্ন থাকে। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা, কতই না দীপ্তিময় এই মহান মাস!
অতএব, আল্লাহ আপনাদেরকে যে নিআমত ও সম্মানে বিশেষিত করেছেন এবং যে বিশাল দানসমূহ প্রদান করেছেন তার দিকে লক্ষ্য করুন। তিনি আপনাদেরকে রহমতের নবী ও হেদায়াতের রাসূলের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন এবং তাঁর বরকতে আপনাদেরকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করেছেন। সুতরাং আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন, আপনারা জীবনের এই মৌসুমগুলোকে দ্রুত কাজে লাগান; কেননা মৃত্যুর আহ্বানকারী প্রস্থানের ডাক দিয়ে দিয়েছে। আর আপনারা লাইলাতুল কদরকে গনীমত হিসেবে গ্রহণ করুন, যাতে সম্ভবত আপনাদের নাম সৌভাগ্যবানদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়; কেননা এটি এমন এক রাত যা মহাকালের সমস্ত রাতকে ছাড়িয়ে যায় এবং তা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সুতরাং কতই না সফল সেই ব্যক্তি যে একে ইবাদতের মাধ্যমে জীবিত রাখল, আর কতই না সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে তা লাভ করল; সে তো গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করল।
কারণ লাইলাতুল কদরে (রহমতের) দরজা খুলে দেওয়া হয়, প্রিয়জনদের নৈকট্য দান করা হয়, সম্বোধন শ্রবণ করা হয়, উত্তর প্রদান করা হয় এবং আমলকারীদের জন্য এতে বিপুল সওয়াব ও প্রতিদান লিখে রাখা হয়।
জেনে রাখুন যে, লাইলাতুল কদর এক অতি সম্মানিত রাত, যাতে রব্বুল আরবাব (প্রভুদের প্রতিপালক) জ্যোতি প্রকাশ করেন, এবং তাঁর আনুগত্যে আমলকারীদের বিপুল সওয়াব দান করেন। এতে দুআ শোনা হয় এবং এতেই কবুল করা হয়; রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে ফেরেশতাগণ এতে অবতরণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১০)
هي ليلة القدر التي شرفت على
… كل الشهور وسائر الأعوام
من قامها يمحو الإله بفضله
… عنه الذنوب وسائر الآثام
فيها تجلى الحق جل جلاله
… وقضى القضاء وسائر الأحكام
فادعوه واطلبه لكي تعطى المنى
… وتجاب بالإنعام والإكرام
فالله يرزقنا القبول بفضله
… ويجود بالغفران للصوام
ويذيقنا فيها حلاوة عفوه
… ويميتنا حقًّا على الإسلام
فالصيام: وقايةٌ وترسٌ للمسلم من الخطايا والأوزار، وجُنهٌ تحميه من التلطِّخ - عياذًا بالله - بالأدران والأكدار؛ فقد ثبت فى «الصحيحين»
(1) من حديث أبى هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الصِّيَامُ جُنَّةٌ». أي: وقاية يقي صاحبه من الشهوات، كما أخبر الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم: «يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، وَمَنْ لم يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ؛ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ»
(2).
وقيل: إن الصيام جُنةٌ، أي: وقايةٌ من النار.
فالصوم فيه مضاعفةُ الحسنات، وإقالةُ العثرات، ومغفرةُ الذنوب والسيئات، ورفعةُ الدرجات، فيه تُفتح الجنات، وتُنزل الرحمات وتُغفر الزَّلات.
فطوبى لمن جَوَّع نفسه ليوم الشبع الأكبر، طوبى لمن أظمأ نفسه ليوم الري الأكبر، طوبى لمن ترك شهوة حاضرة لموعد غيب لم يره، طوبى لمن ترك طعامًا في دار تنفد لدار أكلها دائم وظلها.
وصم ما تستطيع تجده ريا
… إذا ما قمت ظمآنًا سغيبا
الصوم من أعظم العبادات التى بها رفع الدرجات، وتكفير الخطايا والسيئات، وكَسر الشهوات، والانزجار عن خواطر المعاصي والمخالفات، فالصيام هو الطريق
--------------------------------------------
এই সেই লাইলাতুল কদর যা সমস্ত মাস ও বছরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে
… সমস্ত মাস ও সারা বছরের ওপর।
যে ব্যক্তি এতে ইবাদতে দণ্ডায়মান হয়, আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে
… তার পাপ ও সমস্ত অপরাধ মিটিয়ে দেন।
এতে সত্য ইলাহ—যাঁর মহিমা অতি মহান—প্রকাশিত হন
… এবং তিনি তকদির ও সমস্ত বিধান ফয়সালা করেন।
অতএব তাঁকে ডাকো এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করো যেন তোমাদের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়
… আর নিয়ামত ও সম্মানের সাথে তোমাদের ডাকে সাড়া দেওয়া হয়।
আল্লাহ যেন তাঁর অনুগ্রহে আমাদের কবুলিয়াত দান করেন
… আর রোজাদারদের ক্ষমা দিয়ে ধন্য করেন।
আর তিনি যেন এতে আমাদের তাঁর ক্ষমার মিষ্টতা আস্বাদন করান
… এবং আমাদের প্রকৃত ইসলামের ওপর মৃত্যু দান করেন।
রোজা হলো: গুনাহ ও পাপের বোঝা থেকে মুসলিমের জন্য একটি সুরক্ষা ও ঢাল, এবং এক আবরণ যা তাকে—আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি—পঙ্কিলতা ও কলুষতায় লিপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। ‘সহীহাইন’
(১)-এ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «রোজা হলো ঢাল স্বরূপ»। অর্থাৎ: এমন এক সুরক্ষা যা তার অধিকারীকে কুপ্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করে, যেমন সত্যবাদী ও সত্য প্রত্যাদিষ্ট (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন: «হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে, আর যে সামর্থ্য রাখে না সে যেন রোজা রাখে; কেননা তা তার জন্য কামস্পৃহা দমনকারী»
(২)।
আর বলা হয়েছে: রোজা হলো ঢাল, অর্থাৎ: জাহান্নামের আগুন থেকে সুরক্ষা।
রোজার মধ্যে রয়েছে নেক আমল বহুগুণে বৃদ্ধি পাওয়া, পদস্খলন মার্জনা করা, গুনাহ ও মন্দ কাজ ক্ষমা করা এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পাওয়া; এতে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, রহমত নাজিল হয় এবং ভুলত্রুটি ক্ষমা করা হয়।
ধন্য সেই ব্যক্তি যে নিজেকে ক্ষুধার্ত রেখেছে মহা পরিতৃপ্তির দিনের জন্য, ধন্য সেই ব্যক্তি যে নিজেকে পিপাসার্ত রেখেছে মহা তৃষ্ণা নিবারণের দিনের জন্য, ধন্য সেই ব্যক্তি যে এক অদৃশ্যের ওয়াদার খাতিরে উপস্থিত কুপ্রবৃত্তিকে বিসর্জন দিয়েছে যা সে দেখেনি, ধন্য সেই ব্যক্তি যে এমন এক আবাসে খাবার পরিত্যাগ করেছে যা ফুরিয়ে যাবে, এমন এক আবাসের জন্য যার খাদ্য ও ছায়া চিরস্থায়ী।
আর তুমি সাধ্যমতো রোজা রাখো, তবেই তুমি তৃপ্তি খুঁজে পাবে
… যখন তুমি পিপাসার্ত ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় দণ্ডায়মান হবে।
রোজা মহান ইবাদতগুলোর অন্যতম যার মাধ্যমে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, গুনাহ ও মন্দ কাজ মোচন হয়, কুপ্রবৃত্তি দমন হয় এবং নাফরমানি ও অবাধ্যতার চিন্তা থেকে বিরত থাকা যায়। সুতরাং রোজা হলো সেই পথ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১১)
الأعظم للوصول إلى تقوى الله عز وجل؛ قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ}. [البقرة: 183].
والتقوى تكفلُ للعبد السعادة فى الدنيا والآخرة؛ فهى وصية الله للأولين والآخرين، كما قال رب العالمين: {وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُوا اللَّهَ} [النساء: 131].
فالمقصود من الصيام هو تحصيل تقوى الله عز وجل، وهل يتم ذلك بالصوم عن الطعام والجماع؟ كلا، إنما يكون بصوم الجوارح عن الآثام، وصمتِ اللسان عن فضول الكلام، وغضِّ البصر عن النظر إلى الحرام، وكفِّ الكف عن أخذ الحُطام، ومنع الأقدام عن قبيح الإقدام، وبذل ندى الكف، والتورع عن الأذى والكف. قال عليه الصلاة والسلام: «مَنْ لم يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ، فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ في أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ».
فرمضان شهر التوبة، فيا من عصى وأسرف ارجع إلى ربك وأقبل عليه، فإنه غافر الذنب وقابل التوب، ففي الصحيحين عن أبي هريرة، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ».
فيا من فرط في رمضان ومضى رمضان وهو على الذنوب والعصيان، غافل عن الصيام والقيام، يا من ضيع عمره في غير الطاعة، يا من بضاعته التسويف والتفريط وبئست البضاعة، إلى متى الغفلة والتسويف وطولُ الأمل واتباعُ الشيطان والهوى؟!!
فما أجملَ رمضان عندما يكون بدايةَ التوبة والإنابة.
رمضان أقبل قم بنا يا صاح
… هذا أوان تبتل وصلاح
واغنم ثواب صيامه وقيامه
… تسعد بخير دائم وفلاح
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ جِبْرِيلَ أَتَانِي فَقَالَ: مَنْ أَدْرَكَ شَهْرَ رَمَضَانَ فَلم يُغْفَرْ لَهُ فَدَخَلَ النَّارَ، فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ، قُلْ: آمِينَ، فَقُلْتُ: آمِينَ».
متى يُغفر لمن لم يُغفر له في رمضان؟ متى يُقبل من رُد في ليلة القدر وما فيها من الغفران؟ متى يزلف من رمي فيه بالإبعاد والهجران؟ متى يشفى قلب لم تشفه آيات
মহান আল্লাহ عز وجل-এর তাকওয়া অর্জনের এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়; আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম (রোজা) ফরজ করা হয়েছে যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।" [আল-বাকারাহ: ১৮৩]।
আর তাকওয়া বান্দার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে সৌভাগ্যের নিশ্চয়তা দেয়; এটি পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকলের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ উপদেশ, যেমনটি রাব্বুল আলামিন বলেছেন: "আর আমি তোমাদের পূর্বে যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের এবং তোমাদের নির্দেশ দিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো (তাকওয়া অবলম্বন করো)।" [আন-নিসা: ১৩১]।
মূলত সিয়ামের মূল উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহ عز وجل-এর তাকওয়া অর্জন করা। তবে তা কি কেবল পানাহার ও স্ত্রী-সহবাস থেকে বিরত থাকার মাধ্যমেই সম্ভব? কদাপি নয়! বরং তা পূর্ণতা পায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পাপকাজ থেকে বিরত রাখা, অনর্থক ও অতিরিক্ত কথা থেকে জিহ্বাকে সংযত রাখা, হারাম দৃষ্টি থেকে চোখ অবনত রাখা, নশ্বর দুনিয়ার তুচ্ছ বস্তু গ্রহণ থেকে হাতকে ফিরিয়ে রাখা, কদর্য ও অশ্লীল কাজের দিকে পা বাড়ানো থেকে বিরত থাকা, দান-সদকায় হাত প্রসারিত করা এবং অনিষ্ট করা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখার মাধ্যমে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা এবং তদনুযায়ী কাজ করা বর্জন করল না, তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।"
কেননা রমজান হলো তওবার মাস। অতএব, হে পাপে লিপ্ত ও সীমালঙ্ঘনকারী! তুমি তোমার রবের দিকে ফিরে এসো এবং তাঁর প্রতি মনোনিবেশ করো; কেননা তিনি পাপ ক্ষমাকারী এবং তওবা কবুলকারী। সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
হে ওই ব্যক্তি, যে রমজানের অবহেলা করেছ এবং যার রমজান অতিবাহিত হয়ে গেল পাপ ও নাফরমানির ওপর অটল থাকা অবস্থায়, যে সিয়াম ও কিয়ামের ব্যাপারে উদাসীন ছিলে! হে ওই ব্যক্তি, যে ইবাদত ছাড়া অন্য কাজে নিজের আয়ু নষ্ট করেছ! হে ওই ব্যক্তি, যার পুঁজি কেবল টালবাহানা আর অবহেলা—আর তা কতই না নিকৃষ্ট পুঁজি! কতকাল আর এই উদাসীনতা, গড়িমসি, দীর্ঘ আশা এবং শয়তান ও কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ চলবে?!!
রমজান কতই না সুন্দর যখন তা তওবা ও আল্লাহর দিকে একনিষ্ঠ প্রত্যাবর্তনের সূচনা হয়।
রমজান এসেছে, হে বন্ধু জেগে ওঠো
… এটিই একনিষ্ঠ ইবাদত ও সংশোধনের সময়।
এর সিয়াম ও কিয়ামের সওয়াব লুফে নাও
… চিরস্থায়ী কল্যাণ ও সফলতায় ধন্য হবে তুমি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমার নিকট এসে বললেন: যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল অথচ তার গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারল না এবং ফলে জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তাকে (নিজের রহমত থেকে) দূর করে দিন। আপনি বলুন: আমীন। তখন আমি বললাম: আমীন।"
যার ক্ষমা রমজানে হলো না, তার ক্ষমা আর কবে হবে? লাইলাতুল কদরের ক্ষমার রাতে যাকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো, তাকে আর কবে কবুল করা হবে? এ সময়ে যাকে বিতাড়ন ও বিচ্ছেদের মাঝে নিক্ষেপ করা হলো, সে আর কবে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে? যে অন্তর (কুরআনের) আয়াতসমূহের মাধ্যমে সুস্থ হলো না, সে অন্তর আর কবে আরোগ্য লাভ করবে?
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১২)
القرآن؟ يا لها من خسارة لا تشبه الخسران أن ترى المحسنين قد حظوا بالقرب والزلفى والرضوان، وأُزلفت لهم الجنات، وأُلبسوا التيجان، وأُعطوا الملك والخلد، وأُدخلوا على الرحمن، وقد رُميت بالطرد والإبعاد والحرمان، تُغل وتُجر إلى النيران، أترى قلبك هذا نائمًا أم يقظان؟
• يا من صام رمضان: لقد عظمت مصيبتك بعدم توبتك فأين مقلتك الباكية؟ وأين دمعتك الجارية؟ وأين زفرتك الرائحة الغادية؟ لأي يوم أخرت توبتك؟ ولأي عام ادخرت أوبتك؟ إلى عام قابل وحول حائل؟ كلا فما إليك مدة الأعمار؟ ولا معرفة المقدار؟ فكم من مؤمل أمّل بلوغه فلم يبلغه؟ وكم من مدرك لم يختمه؟ وكم من أعد طيبًا لعيده جُعل في تلحيده؟ وثيابًا لتزيينه صارت لتكفينه؟ ومتأهبَا لفطره صار مرتهنًا في قبره؟ وكم من لا يصوم بعده سواه وهو يطمع في غيره أنه يراه؟
فأين الصوام القوام المرافقون لنا في سالف الأعوام؟ وأين من كانوا معنا ليالي شهر رمضان شاهدين وفي كل حق لله معاملين؟ أتاهم والله هادم اللذات وقاطع الشهوات ومفرق الجماعات، فأخلي منهم المشاهد؟ وعطل منهم المساجد، تراهم في بطون الألحاد صرعى، لا يجدون لهم فيه دفعًا ولا يملكون لأنفسهم ضرًا ولا نفعًا، ينتظرون يومًا الأمم فيه إلى ربها تُدعى والخلائق تحشر إلى الموقف وتسعى والفرائص ترعد من هول ذلك اليوم والعيون تذرف دمعًا، والقلوب تتصدع من الحساب صدعًا (ونفخ في الصور فجمعناهم جمعًا)
(1).
فعلى المسلم أن يغتنم مواسم الطاعة ولا يفرط فيها، بل يشتغل بما يدوم نفعه، ويبقى أثره وما هي إلا أيامًا معدودات تصام تباعًا، وتنقضي سراعًا.
أرى الأيام تسرع بارتحال
… وبدر الشهر صار إلى هلال
فبادر باغتنام الأجر فيما
… سيأتي من عشر فضال
ولا تترك محبك من دعاء
… فإن ذنوبه مثل الجبال
--------------------------------------------
কুরআন? এ যেন এমন এক ক্ষতি যা আর কোনো ক্ষতির মতো নয়; যখন দেখবে যে সৎকর্মশীলরা নৈকট্য, উচ্চ মর্যাদা ও সন্তুষ্টি লাভ করেছে, তাদের জন্য জান্নাতসমূহ নিকটবর্তী করা হয়েছে, তাদের মুকুট পরানো হয়েছে, তাদের রাজত্ব ও অমরত্ব দান করা হয়েছে এবং পরম করুণাময় রহমানের দরবারে উপস্থিত করা হয়েছে; অথচ তোমাকে বিতাড়ন, দূরত্ব ও বঞ্চনার মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছে, তোমাকে শিকলবদ্ধ করে আগুনের দিকে টেনে নেওয়া হচ্ছে। তুমি কি দেখছ তোমার এই হৃদয় কি ঘুমন্ত নাকি জাগ্রত?
• হে রমজানের রোজা পালনকারী: তোমার তওবা না করার কারণে তোমার বিপদ কতই না প্রকট হয়েছে! তোমার ক্রন্দনরত চক্ষু আজ কোথায়? তোমার প্রবহমান অশ্রু কোথায়? তোমার সকাল-সন্ধ্যার দীর্ঘশ্বাস কোথায়? কোন দিনের জন্য তুমি তোমার তওবা বিলম্বিত করেছ? কোন বছরের জন্য তোমার প্রত্যাবর্তনকে জমিয়ে রেখেছ? আগামী বছর নাকি আসন্ন সময়ের জন্য? কক্ষনো নয়, আয়ুর মেয়াদ তো তোমার হাতে নেই, আর না আছে তার পরিমাণের কোনো জ্ঞান। কত আশাবাদীই তো তা পূর্ণ করার আশা করেছিল কিন্তু সফল হয়নি? কতজন রমজান পাওয়া সত্ত্বেও তা শেষ করতে পারেনি? কতজন তার ঈদের জন্য সুগন্ধি প্রস্তুত করেছিল কিন্তু তা তার দাফনের সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে? সাজসজ্জার জন্য যে পোশাক প্রস্তুত ছিল তা তার কাফন হয়ে গেছে? ইফতারের জন্য যে প্রস্তুত ছিল সে তার কবরে বন্দি হয়ে গেছে? কতজন এমন আছে যে এই রমজানের পর আর রোজা রাখবে না, অথচ সে আশা করছে যে সে তা দেখতে পাবে?
পূর্ববর্তী বছরগুলোতে আমাদের সঙ্গী সেই রোজাদার এবং রাত জেগে ইবাদতকারীরা আজ কোথায়? রমজান মাসের রাতগুলোতে যারা আমাদের সাথে উপস্থিত ছিল এবং আল্লাহর প্রতিটি হকের ব্যাপারে কর্মতৎপর ছিল তারা আজ কোথায়? আল্লাহর কসম, তাদের নিকট স্বাদ চূর্ণকারী, প্রবৃত্তি বিচ্ছিন্নকারী এবং জামাতসমূহকে ছিন্নভিন্নকারী মৃত্যু এসে গেছে। ফলে আজ তাদের উপস্থিতির স্থানগুলো শূন্য পড়ে আছে এবং তাদের অভাবে মসজিদসমূহ জনশূন্য হয়ে গেছে। তুমি তাদের দেখবে কবরের গভীরে শায়িত, তারা সেখানে নিজেদের কোনো প্রতিরোধ করতে পারছে না এবং নিজেদের কোনো ক্ষতি বা উপকারের মালিকও তারা নয়। তারা সেই দিনের অপেক্ষা করছে যেদিন সকল উম্মতকে তাদের রবের দিকে ডাকা হবে এবং সমস্ত সৃষ্টিকে হাশরের ময়দানে সমবেত করা হবে আর তারা দৌড়াতে থাকবে। সেই দিনের ভয়াবহতায় ঘাড়ের পেশিগুলো কাঁপতে থাকবে এবং চোখ থেকে অশ্রু ঝরবে, আর হিসাবের কঠোরতায় অন্তর ফেটে চৌচির হয়ে যাবে (অতঃপর শিংগায় ফুঁক দেওয়া হবে এবং আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব)
(১)।
সুতরাং একজন মুসলমানের উচিত আনুগত্যের এই মৌসুমগুলোকে গনিমত মনে করা এবং সেগুলোতে অবহেলা না করা। বরং এমন কাজে লিপ্ত হওয়া যার উপকার স্থায়ী হয় এবং যার প্রভাব অবশিষ্ট থাকে। এ তো কেবল গুটিকয়েক নির্দিষ্ট দিন, যা ধারাবাহিকভাবে রোজা রাখা হয় এবং অতি দ্রুতই অতিক্রান্ত হয়ে যায়।
আমি দেখছি দিনগুলো দ্রুত প্রস্থান করছে
… আর মাসের পূর্ণ চাঁদ এখন এক ফালি বাঁকা চাঁদে পরিণত হয়েছে
সুতরাং আসন্ন ফযিলতপূর্ণ দশ দিনে
… সওয়াব অর্জনে সচেষ্ট হও
আর তোমার ভালোবাসার মানুষকে দুআ হতে বঞ্চিত করো না
… কেননা তার পাপসমূহ পাহাড়ের ন্যায় বিশাল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فإن ملائكة الرحمن تثني
… عليك بمثله من ذي الجلال
والصوم شهر الجود والإحسان، والمودة والإخاء والرأفة والرحمة والصفاء، ففي الصحيحين من حديث ابن عباس {قال: «كان رسول الله أجود الناس فكان أجود ما يكون في رمضان»
فكن متصدقًا سرًّا وجهرًا
… ولا تبخل وكن سمحًا وهوبا
تجد ما قدَّمَتْه يداك ظلًّا
… إذا ما اشتد بالناس الكروبا
فشعور الصائم بالجوع يذكره بإخوانه الذين ذاقوا من البؤس ألوانًا بعد رغد العيش، وتجرعوا من العلقم غصصا بعد وفرة النعيم، فشردتهم وقتلتهم ودمرتهم وطحنتهم الحروب، وبعضهم يعيش بين أنات وأصوات الصواريخ والدبابات والقذائف والنيران، فاعتاضوا عن الفرحة بالبكاء وحل محل البهجة الأنين والعناء، كم من يتيم ينشد عطف الأبوة الحانية، ويلتمس حنان الأم الرؤوم ويدنوا إلى من يخفف بؤسه، وكم من أرملة توالت عليها المحن بفقد عشيرها تذكرت برمضان عزَّا قد مضى تحت كنف زوج عطوف كل اولئك وأمثالهم قد استبدلوا بعد العز ذلًّا، بعد الرخاء والهناء فاقة وفقرًا.
إن المسلم إذا تذكر هذا أو سمعه ذاب قلبه كمدًا وحزنًا وحرقة على ديار المسلمين، وأنه ليجد الكلمات عاجزة والبيان شحيحًا، أف لقلب لا يعتصر لذلك ألما، وعميت عين لا تسح لذلك دمعًا، أين شعور الجسد الواحد في حياة المسلمين؟ إننا نحكي هذه الفجائع ونحن نرى ما لا ينقضي منه العجب، ألسنا كلنا مسلمين؟ إنما المؤمنون إخوة فأين أخوتنا في الدين؟، تلكم الرابطة العظيمة فهلا تحركنا، هلا أنفقنا وجدنا.
من هنا كان واجبًا على كل مسلم أن يعايش هذا الواقع بقلبه وقالبه، ولسانه ويده، ونفسه وماله، وقلمه ودعائه، حتى يكون الجميع على علم وبصيرة بما يراد بالإسلام والمسلمين وليكون الجميع صفا واحدًا في مواجهة قوى الشر وجحافل الباطل على اختلاف مللها ومذاهبها {إِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 92] فيا من تصومون في وقت واحد وتفطرون في وقت واحد وتتجهون إلى قبلة واحدة
কেননা দয়াময় আল্লাহর ফেরেশতারা তোমার প্রশংসা করে
… মহিমাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য অনুরূপ দোয়ার মাধ্যমে।
আর রোজা হলো দানশীলতা ও ইহসানের মাস, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের মাস, মমতা, রহমত ও পবিত্রতার মাস। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন, আর রমজান মাসে তিনি সবচেয়ে বেশি দানশীল হতেন»
অতএব তুমি গোপনে ও প্রকাশ্যে দানকারী হও
… কৃপণতা করো না এবং উদার ও দাতা হও
তোমার দুই হাত যা অগ্রিম পাঠিয়েছে তা তুমি ছায়া হিসেবে পাবে
… যখন মানুষের ওপর বিপদ-আপদ তীব্রতর হবে
রোজা রাখা অবস্থায় ক্ষুধার অনুভূতি তাকে তার সেইসব ভাইদের কথা মনে করিয়ে দেয়, যারা সচ্ছল জীবনের পর বিভিন্ন ধরনের দুঃখ-কষ্টের স্বাদ আস্বাদন করেছে এবং অফুরন্ত নেয়ামতের পর তিক্ততার ঢোক গিলেছে। যুদ্ধ তাদেরকে বাস্তুচ্যুত করেছে, হত্যা করেছে, ধ্বংস করেছে এবং চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে। তাদের কেউ কেউ রকেট, ট্যাংক, কামানের গোলা ও আগুনের আর্তনাদ ও শব্দের মাঝে বসবাস করছে। তারা আনন্দের পরিবর্তে কান্নার বিনিময় পেয়েছে এবং উল্লাসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে আহাজারি ও কষ্ট। কত ইয়াতিম শিশু রয়েছে যারা স্নেহময়ী পিতৃত্বের মমতা খুঁজছে এবং দয়াবান মায়ের মমতা অন্বেষণ করছে, আর এমন কাউকে খুঁজছে যে তার দুঃখ লাঘব করবে। কত বিধবা নারী রয়েছে যারা তাদের সঙ্গীকে হারিয়ে একের পর এক বিপদের সম্মুখীন হয়েছে; তারা রমজান মাসে সেই হারানো সম্মানের কথা স্মরণ করে যা একজন দয়ালু স্বামীর আশ্রয়ে ছিল। তারা সবাই এবং তাদের মতো আরও অনেকে সম্মানের পর লাঞ্ছনা এবং স্বচ্ছলতা ও আনন্দের পর অভাব ও দারিদ্র্যবরণ করেছে।
একজন মুসলিম যখন এগুলো স্মরণ করে বা শোনে, তখন মুসলিম ভূখণ্ডগুলোর জন্য ব্যথায়, শোকে ও দহনে তার অন্তর গলে যায়। সে শব্দগুলোকে অক্ষম এবং বর্ণনাকে অপর্যাপ্ত মনে করে। ধিক সেই অন্তরের জন্য যা এর কারণে যন্ত্রণায় সংকুচিত হয় না, আর অন্ধ সেই চোখ যা এর জন্য অশ্রু বিসর্জন দেয় না। মুসলিমদের জীবনে 'এক দেহ' হওয়ার সেই অনুভূতি কোথায়? আমরা এই ট্র্যাজেডিগুলো বর্ণনা করছি অথচ আমরা এমন কিছু দেখছি যাতে বিস্ময়ের শেষ নেই। আমরা কি সবাই মুসলিম নই? মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই, তাহলে দ্বীনের ভিত্তিতে আমাদের সেই ভ্রাতৃত্ব কোথায়? এটি এক মহান বন্ধন, তবে কেন আমরা নড়েচড়ে বসছি না? কেন আমরা ব্যয় ও দান করছি না?
এখান থেকেই প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব যে, সে এই বাস্তবতাকে তার অন্তর ও অবয়ব দিয়ে, তার জবান ও হাত দিয়ে, তার জীবন ও সম্পদ দিয়ে, তার কলম ও দোয়ার মাধ্যমে অনুভব করবে। যেন ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে কী ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে সে সম্পর্কে সবাই জ্ঞান ও দূরদর্শিতা লাভ করতে পারে এবং যাতে সবাই মন্দ শক্তি ও বাতিলের বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে এক সারিতে দাঁড়াতে পারে, তাদের ধর্ম ও মতাদর্শের ভিন্নতা সত্ত্বেও। {নিশ্চয়ই তোমাদের এই উম্মত তো একই উম্মত, আর আমি তোমাদের রব, অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো।} [আল-আম্বিয়া: ৯২] হে তারা! যারা একই সময়ে রোজা রাখো, একই সময়ে ইফতার করো এবং একই কিবলার দিকে মুখ করো—
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وتجمعكم مشاعر واحدة أليس في ذلك كله ما يشعركم بضرورة الوحدة الإسلامية؟ أليس في ذلك كله ما يدعوكم إلى التعاون والإخاء؟ الاجتماع على الكتاب والسنة بفهم سلف الأمة.
فحق على كل ذي نعمة ممن صام وقام أن يتذكر هؤلاء، فيرعى اليتامى ويواسي الأيامى، ويرحم أعزاء قوم قد ذلوا، ولا ينسى أراضي للمسلمين منكوبة بمجاهديها وشهدائها ويتاماها وأراملها وأسراها، يستجدون أمم الأرض لقمة أو كساء أو خيمة أو غطاء، وكم هو جميل كذلك الاستعداد لهذا الشهر بتفريج كربة وملاطفة يتيم ومواساة ثكلى وتفتيش عن أصحاب الحوائج فإن لم تستطع خيلا ولا مالا فأسعفهم بكلمة طيبة وابتسامة حانية ولفتة طاهرة من قلب مؤمن ودعاء لهم بتفريج كربهم وإصلاح حالهم ونصرهم على عدوهم، إن إخوتكم قد أملوا فيكم خيرًا فليجدوا عندكم ما يؤملون
(1)أحسن إذا كان إمكان ومقدرة
… فلا يدوم على الإنسان إمكان
لقد حرص السلف الصالح على اغتنام هذا الشهر بفعل الخيرات وترك المنكرات، فجعلوا من لياليه قيامًا وركوعًا ودموعًا وخشوعًا، وجعلوا من نهاره ذكرا وتلاوة وصدقات وبرًا وتقوى وإحسانًا وصلات.
أرأيت كيف يقضون ليلهم وكيف يحافظون على أوقاتهم؟ ونحن نهدر أيامنا ونضيع أعمارنا.
فقد صار هذا الشهر عند الكثير شهر النوم والكسل والسهرات والمسلسلات والمباريات وفي النهار نائم، وفي الليل هائم، فالله يرحمنا وإياهم فما مثلنا ومثلهم إلا كما قال القائل:
نزلوا بمكة في قبائل هاشم
… ونزلت بالبيداء أبعد منزل
أيها النائم والركب سرى
… الحق القوم ولا تقعد ورى
واحسرتاه قد تقضى العمر وانصرمت
… ساعاته بين العجز والكسل
--------------------------------------------
একই অনুভূতি কি আপনাদের একত্রিত করে না? এই সবকিছুর মধ্যে কি এমন কিছু নেই যা আপনাদের ইসলামী ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করাবে? এই সবকিছুর মধ্যে কি এমন কিছু নেই যা আপনাদের সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের দিকে আহ্বান করবে? কিতাব ও সুন্নাহর ওপর উম্মাহর সালাফদের বুঝ অনুযায়ী একত্রিত হওয়া।
সুতরাং নেয়ামতপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য—যারা রোজা রেখেছেন এবং কিয়াম করেছেন—উচিত হলো এদের কথা স্মরণ করা; তারা যেন এতিমদের দেখাশোনা করে, বিধবা ও স্বামীহীনদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে, এবং এমন সব সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে যারা বর্তমানে লাঞ্ছিত। তারা যেন মুসলিমদের সেই সব বিপদগ্রস্ত জনপদগুলোর কথা ভুলে না যায়, যারা তাদের মুজাহিদ, শহীদ, এতিম, বিধবা এবং বন্দীদের কারণে বিপর্যস্ত; যারা পৃথিবীর জাতিগুলোর কাছে এক লোকমা খাবার, একটু কাপড়, একটি তাবু বা একটি চাদরের জন্য আকুতি জানাচ্ছে। আর এই মাসের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া কতই না সুন্দর হবে বিপদ দূর করার মাধ্যমে, এতিমের প্রতি কোমলতা প্রদর্শনের মাধ্যমে, সন্তানহারা মায়ের প্রতি সমবেদনা প্রকাশের মাধ্যমে এবং অভাবী ও প্রয়োজনগ্রস্তদের খুঁজে বের করার মাধ্যমে। যদি আপনার বাহন বা অর্থ ব্যয় করার সামর্থ্য না থাকে, তবে অন্তত একটি উত্তম কথা, একটি মমতাভরা হাসি এবং একজন মুমিনের অন্তরের পবিত্র সহমর্মিতা দিয়ে তাদের সাহায্য করুন; আর তাদের বিপদমুক্তি, অবস্থার সংশোধন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে তাদের বিজয়ের জন্য দোয়া করুন। আপনাদের ভাইয়েরা আপনাদের কাছে কল্যাণের আশা করেছে, সুতরাং তারা যেন আপনাদের কাছে সেই প্রত্যাশিত কল্যাণই পায়।
(১)যখন সামর্থ্য ও সক্ষমতা থাকে তখন ইহসান করুন... কারণ মানুষের এই সক্ষমতা চিরকাল থাকে না।
সালাফে সালেহীন নেক আমলের মাধ্যমে এবং মন্দ কাজ বর্জনের মাধ্যমে এই মাসটিকে গনীমত হিসেবে গ্রহণ করতে সচেষ্ট হতেন। তারা এই মাসের রাতগুলোকে কিয়াম (নামাজ), রুকু, অশ্রুপাত এবং খুশু-খুযুর মাধ্যমে অতিবাহিত করতেন এবং দিনগুলোকে জিকির, তিলাওয়াত, দান-সদকা, পুণ্যকর্ম, তাকওয়া, ইহসান ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার কাজে নিয়োজিত করতেন।
আপনি কি দেখেছেন তারা কীভাবে তাদের রাত অতিবাহিত করতেন এবং কীভাবে তাদের সময়ের হেফাযত করতেন? অথচ আমরা আমাদের দিনগুলোকে অপচয় করছি এবং আমাদের জীবনকে নষ্ট করছি।
অনেকের কাছে এই মাসটি এখন ঘুম, অলসতা, আড্ডা, ধারাবাহিক নাটক এবং খেলাধুলার মাসে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলায় তারা ঘুমিয়ে কাটায় আর রাতে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়। আল্লাহ আমাদের এবং তাদের প্রতি রহম করুন। আমাদের এবং তাদের দৃষ্টান্ত কেবল কবির সেই কথার মতোই:
তারা মক্কায় হাশেমী গোত্রের সাথে অবস্থান করছে... আর আমি মরুভূমিতে অত্যন্ত দূরবর্তী স্থানে অবস্থান নিয়েছি।
হে ঘুমন্ত ব্যক্তি, কাফেলা তো চলতে শুরু করেছে... দলের সাথে মিলিত হও, পেছনে পড়ে থেকো না।
হায় আফসোস! জীবন তো শেষ হয়ে গেল এবং এর সময়গুলো অক্ষমতা ও অলসতার মধ্যেই অতিবাহিত হলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والقوم قد أخذوا درب النجاة وقد
… ساروا إلى المطلب الأعلى على مهل
أيا صاح هذا الركب قد سار مسرعًا
… ونحن قعود ما الذي أنت صانع
على نفسه فليبك من كان باكيًا
… أيذهب وقت وهو باللهو ضائع
فأوصي نفسي وإخواني بالإكثار من فعل الخيرات، واغتنام هذا الشهر الكريم بالاكثار من قراءة القرآن وذكر الواحد الديان والتذلل بين يدي الملك العلام والتوبة والاستغفار والرجوع إلى الرحيم الرحمن.
جاء الصيام فجاء الخير أجمعه
… ترتيل ذكر وتحميد وتسبيح
فالنفس تدأب في قول وفي عمل
… صوم النهار وبالليل التراويح
وقال آخر:
دواء قلبك خمس عند قسوته
… أفدم عليها تفز بالخير والظفر
خلاء بطن وقرآن تدبره
… كذا تضرع باك ساعة السحر
وفي قيامك جنح الليل أوسطه
… وأن تجالس أهل الخير والخبر
وقال الشاعر:
دع التكاسل في الخيرات تطلبها
… فليس يسعد بالخيرات كسلان
ولما تقدَّم من عظمة الفريضة المفعمة بالخيرات، ولتعلُّق أحكامها: بالصحة والسقم، والحل والسفر، والشروق والغروب، والليل والنهار ولمدة زمانها، وما يعتري الصائم فيها من عوارضَ تحتاج إلى أحكام وأجوبة، ولتفريط كثير من المسلمين - من أسف - فى تحصيل فقه الصيام، وقصورِهم عن معرفة أحكامه وسننة وآدابه، رَغِبتُ فى إعداد هذا الكتاب وتأليفِه، وتعنَّيت لتحبيره جُهدى، مستلهمًا من المولى عزَّ شأنه التسديد والتوفيق، سائلًا إياه أن يكون للصائمين والصائمات دليلًا ونبراسًا، ولطالب العلم أصلًا وأساسًا.
على كف الندى أُهدي كتابي
… وأُرخي في محبتكم ركابي
فإن كان الذي أهدي يسيرًا
… ففيض الوُد أكمل في النِّصاب
কাফেলা নাজাতের পথ ধরেছে এবং তারা
… ধীরস্থিরভাবে সর্বোচ্চ লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হয়েছে।
হে বন্ধু! এই কাফেলা তো দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে
… আর আমরা বসে আছি; তুমি কী করছ?
যার কাঁদার ইচ্ছা সে যেন নিজের জন্যই কাঁদে
… খেল-তামাশার মধ্য দিয়ে কি সময়গুলো এভাবেই অপচয় হয়ে হারিয়ে যাবে?
তাই আমি নিজেকে এবং আমার ভাইদের উপদেশ দিচ্ছি অধিক পরিমাণে নেক আমল করার, আর এই বরকতময় মাসকে কাজে লাগানোর—অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত, এক অদ্বিতীয় প্রতিপালকের জিকির, সর্বজ্ঞাত রাজাধিরাজের সামনে বিনয় প্রকাশ, তওবা ও ইস্তিগফার এবং পরম দয়ালু করুণাময় আল্লাহর দিকে ফিরে আসার মাধ্যমে।
সিয়াম এসেছে, সাথে নিয়ে এসেছে সকল কল্যাণ
… যিকিরের তিলাওয়াত, তাহমিদ এবং তাসবিহ।
নফস কথা ও কাজে পরিশ্রম করে
… দিনের বেলা রোজা এবং রাতের বেলা তারাবিহ।
অন্য একজন বলেছেন:
অন্তরের কঠোরতার সময় তার ওষুধ হলো পাঁচটি
… এগুলো নিয়মিত পালন করো, তবেই তুমি কল্যাণ ও সফলতা লাভ করবে।
পেট খালি রাখা, চিন্তা-গবেষণাসহ কুরআন পাঠ করা
… এবং শেষ রাতে ক্রন্দনরত অবস্থায় রোনাজারি করা।
আর মধ্যরাতের অন্ধকারে কিয়ামুল লাইল করা
… এবং নেককার ও অভিজ্ঞদের সাহচর্যে বসা।
কবি বলেছেন:
কল্যাণ অন্বেষণে অলসতা ত্যাগ করো
… কারণ অলস ব্যক্তি কল্যাণের মাধ্যমে সৌভাগ্যবান হতে পারে না।
কল্যাণে ভরপুর এই ফরজ ইবাদতের মাহাত্ম্য এবং এর বিধানাবলি স্বাস্থ্য ও অসুস্থতা, সুস্থতা ও সফর, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, রাত ও দিন এবং এর সময়ের ব্যাপ্তির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে, আর রোজাদারের যেসব আপতিত সমস্যার সমাধান ও বিধানের প্রয়োজন হয় সেসবের গুরুত্ব বিবেচনা করে, এবং অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে—অনেক মুসলিমের সিয়ামের ফিকহ অর্জনে অবহেলা এবং এর বিধান, সুন্নাত ও আদব সম্পর্কে জ্ঞানের স্বল্পতা দেখে আমি এই কিতাবটি প্রস্তুত ও সংকলন করার সংকল্প করেছি। আমি আমার সাধ্যমতো এটি সুবিন্যস্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি এবং মহান রবের নিকট সঠিক পথনির্দেশনা ও তাওফিক কামনা করছি। আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করি যেন এটি রোজাদার নর-নারীদের জন্য একটি দিকনির্দেশক ও আলোকবর্তিকা এবং ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য একটি মৌলিক ভিত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়।
উদারতার হাতে আমি আমার এই বইটি উপহার দিচ্ছি
… আর আপনাদের ভালোবাসায় আমার বাহন থামিয়েছি।
আমি যা উপহার দিচ্ছি তা যদি সামান্যও হয়
… তবে আমার অন্তরের গভীর ভালোবাসা তা পূর্ণতা দান করবে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وسميته «الجامع العام في فقه الصيام» جمعت فيه ما يتعلق بصيام الفريضة، وصيام التطوع، من فضائل وأحكام ثم لما كان هناك مباحث تتعلق بصيام رمضان، كالاعتكاف في العشر الأواخر من رمضان وضعت فقه الاعتكاف، ولما كان رمضان شهر القيام وضعت قيام رمضان، ولما كانت زكاة الفطر تتعلق بالفطر من رمضان أدرجت في الكتاب زكاة الفطر، وإذا كان هذا شهر الصيام والقيام والصدقة والإحسان فليختم بالفرح والسرور والغبطة والحبرور ذيلت بفقه العيدين.
وقد التزمت فيه ما صحَّ عن النبي العدنان عليه الصلاة والسلام، مع ذكر بعض الأحاديث الضعيفة لبيان ضعفها أو للردِّ على من استدلَّ بها، وكذلك ذكرت الآثار عن الصحابة الأبرار والتابعين الأخيار، ثم ذكرت أقوال الأئمة المجتهدين، ورجَّحت ما يقتضي الدليل رُجحانَه
(1).
وبعد أن أضنيتُ نفسى فى جمع هذا الكتاب، وتبويبه وترتيبه، وتخريجِ أحاديثِه وآثارِه والحكمِ عليها في ضوء قواعدِ الجرح والتعديل، قمت بعرض ما جمعته على شيخنا المفضال -مصطفى بن العدوي - حفظه الله من كل سوءٍ وبارك فيه -، فراجعه على دَيدنِه فى سماحة خلقه، وبرِّه بطلاب العلم، فقدَّم له، فأفدتُ من تسديد ألحاظه، وتصويب ألفاظه؛ فجزاه الله خير الجزاء وأوفاه، وجعل ما قدَمه فى ميزان حسناته يوم يلقى مولاه، وأسألُه سبحانه أن يُسعدَه بجنته، ويشملَه برحمته، وأن يكرمَه بمغفرته، وأن يرزقه مزيدَ العلم النافعِ، ومزيد العمل الصالح وأن ينفع بعلمه وسعيه المبذولَ
--------------------------------------------
আমি এর নামকরণ করেছি «আল-জামি‘ আল-‘আম ফি ফিকহিস সিয়াম» (রোজার ফিকহের সাধারণ সংকলন)। এতে আমি ফরজ রোজা এবং নফল রোজা সংক্রান্ত ফজিলত ও বিধিবিধানসমূহ একত্রিত করেছি। এরপর যেহেতু রমজান মাসের রোজার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু আলোচনা রয়েছে, যেমন রমজানের শেষ দশ দিনের ইতিকাফ, তাই আমি এতে ইতিকাফের ফিকহ অন্তর্ভুক্ত করেছি। আর যেহেতু রমজান কিয়ামের (রাত্রিকালীন ইবাদত) মাস, তাই আমি এতে রমজানের কিয়াম যুক্ত করেছি। আবার যেহেতু জাকাতুল ফিতর রমজান পরবর্তী রোজা ভঙ্গের (ঈদুল ফিতর) সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই কিতাবটিতে জাকাতুল ফিতর অন্তর্ভুক্ত করেছি। আর যেহেতু এটি রোজা, কিয়াম, সদকা ও ইহসানের মাস, তাই এর সমাপ্তি যেন আনন্দ, খুশি, উল্লাস ও প্রসন্নতার মাধ্যমে হয়, সেজন্য পরিশেষে দুই ঈদের ফিকহ যুক্ত করেছি।
এতে আমি নির্ভরযোগ্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা সহিহ সাব্যস্ত হয়েছে তা মেনে চলার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি কিছু জয়িফ (দুর্বল) হাদিস উল্লেখ করেছি তার দুর্বলতা বর্ণনা করার জন্য অথবা যারা সেগুলোর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন তাদের জবাব দেওয়ার জন্য। তদ্রূপ পুণ্যবান সাহাবী এবং শ্রেষ্ঠ তাবেয়ীদের থেকে বর্ণিত আসার (বিবরণ) উল্লেখ করেছি। এরপর মুজতাহিদ ইমামগণের বক্তব্য উল্লেখ করেছি এবং দলিলে যেটির প্রাধান্য প্রতীয়মান হয়েছে সেটিকে আমি প্রাধান্য দিয়েছি
(১)।
এই কিতাবটি সংকলন, অধ্যায় বিন্যাস, ক্রমানুসরণ এবং জারহ ও তা‘দিলের (যাচাই-বাছাই) মূলনীতির আলোকে এর হাদিস ও আসারগুলোর তাখরিজ ও হুকুম বর্ণনা করার ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করার পর, আমি সংগৃহীত বিষয়গুলো আমাদের সম্মানিত শাইখ মুস্তফা বিন আল-আদাউয়ি —আল্লাহ তাকে সকল অনিষ্ট থেকে হিফাজত করুন এবং তাকে বরকত দান করুন— এর নিকট পেশ করি। তিনি তার চারিত্রিক উদারতা এবং ইলম অন্বেষণকারীদের প্রতি সদাচরণের সহজাত রীতি অনুযায়ী এটি পর্যালোচনা করেন এবং এর জন্য একটি ভূমিকা লিখে দেন। ফলে আমি তার পর্যবেক্ষণ এবং শব্দ সংশোধনের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছি। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন এবং তিনি যা পেশ করেছেন তা যেন তাঁর মাওলার (প্রভুর) সাথে সাক্ষাতের দিনে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাকে জান্নাত দ্বারা সৌভাগ্যবান করেন, তাঁকে তাঁর রহমতে বেষ্টন করেন, তাঁকে তাঁর ক্ষমা দ্বারা সম্মানিত করেন এবং তাকে আরও উপকারী ইলম ও নেক আমল দান করেন এবং তাঁর ইলম ও প্রচেষ্টার দ্বারা মানুষকে উপকৃত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الإسلامَ والمسلمين، وأن يرزقَه الإخلاصَ فى جميع ذلك، وأن يتقبَّل منه جميعَ أعمالِه، وأن يجعلَه من أهل جنة الفردوس، وأن يجزيَه عنى وعن المسلمين خير الجزاء.
وإني لأعلم أن هناك من هو أكثر أهلية مني لهذا العمل الجلل ولكني أذكر قول القائل:
وما كنت أهلًا للذي قد كتبته
… وإني لفي خوف من الله نادم
ولكنني أرجو من الله عفوه
… وإني لأهل العلم لا شك خادم
ولما آمل من ثواب ونجاة في اليوم المشهود لمن خدم هذا الدين، تجرأت على الشأن الكئود، فأسأل الله أن يتقبله مني في اليوم الموعود.
رب تقبل عملي
… ولا تخيب أملي
أصلح أموري كلها
… قبل حلول أجلي
ولم أدخر جهدًا في هذا البحث إلا بذلته في تحريره وتنقيحه وتقريره، ولا أدعي الكمال والتمام والعصمةَ من الزلل والخطأ والنسيان، فقد قيل: أبى الله أن يصح إلا كتابه.
وقال الشافعي: «لقد ألفت هذه الكتب ولم آل جهدًا فيها، ولابد أن يوجد فيها الخطأ؛ لأن الله تعالى يقول: {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} فما وجدتم في كتبي هذه ما يخالف الكتاب والسنة فقد رجعت عنه، ولله در من قال:
كم من كتاب قد تصفحته
… وقلت في نفس أصلحته
حتى إذا طالعته ثانيًا
… وجدت تصحيفًا فصححته
وما أحسن ما قاله العماد الأصفهاني: «إني رأيت أنه لا يكتب إنسان كتابًا في يومه إلا قال في غده: لو غُيِّرَ هذا لكان أحسن، ولو زيد هذا لكان يستحسن، ولو قُدِّم هذا لكان أفضل، ولو تُرِك هذا لكان أجمل، وهذا من أعظم العِبَر، وهذا دليل استيلاء النقص على جملة البشر، فسبحان مَنْ تنزَّه عن النقص».
فمن وقف فيه على تقصير أو خلل، أو عثر فيه على تغيير أو زلل، فليعذر أخاه في ذلك متطولًا، أو ليصلح منه ما يحتاج إلى إصلاح متفضلًا، فالتقصير من الأوصاف البشرية، فليست الإحاطة بالعلم إلا لبارئ البرية، فهو الذي وسع كل شيء علما، وأحصى مخلوقاته عينًا واسمًا.
ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য, আর তিনি যেন তাকে এই সবকিছুর মধ্যে ইখলাস (নিষ্ঠা) দান করেন, তার সকল আমল কবুল করেন, তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী করেন এবং আমার ও সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।
আমি জানি যে, এই মহান কাজের জন্য আমার চেয়ে অধিক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন, তবে আমি এক কবির কথা স্মরণ করছি:
আমি যা লিখেছি তার জন্য আমি যোগ্য ছিলাম না
… আর আমি আল্লাহর ভয়ে অনুতপ্ত হয়েছি
কিন্তু আমি আল্লাহর নিকট তাঁর ক্ষমা প্রত্যাশা করি
… আর নিঃসন্দেহে আমি জ্ঞানীদের একজন সেবক
যেহেতু আমি সেই মহাসাক্ষ্যের দিবসে এই দ্বীনের সেবাকারীদের জন্য সওয়াব ও নাজাতের আশা রাখি, তাই আমি এই কঠিন কাজে সাহসী হয়েছি। সুতরাং আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন প্রতিশ্রুত দিবসে আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করে নেন।
হে প্রভু, আমার আমল কবুল করুন
… আর আমার আশা ভঙ্গ করবেন না
আমার সকল বিষয় সংশোধন করে দিন
… আমার অন্তিম সময় আসার আগে
আমি এই গবেষণার সম্পাদনা, সংশোধন ও উপস্থাপনায় কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখিনি। আমি পূর্ণতা, সমাপ্তি কিংবা বিচ্যুতি, ভুল ও বিস্মৃতি থেকে মুক্ত হওয়ার দাবি করছি না। কারণ বলা হয়ে থাকে: আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে অস্বীকার করেছেন।
ইমাম শাফিঈ বলেছেন: "আমি এই কিতাবগুলো রচনা করেছি এবং এতে কোনো শ্রম দিতে ত্রুটি করিনি, তবুও এতে অবশ্যই ভুল পাওয়া যাবে; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ দেখতে পেত}। সুতরাং আমার এই কিতাবসমূহে তোমরা যা কিছু কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী পাবে, তা থেকে আমি ফিরে আসলাম।" আর কতই না চমৎকার বলেছেন সেই ব্যক্তি যিনি বলেছেন:
কত কিতাব আমি উল্টেপাল্টে দেখেছি
… আর মনে মনে বলেছি যে আমি তা সংশোধন করেছি
অবশেষে যখন আমি দ্বিতীয়বার তা অধ্যয়ন করলাম
… তখন তাতে ভুল খুঁজে পেলাম এবং তা সংশোধন করলাম
ইমাদ আল-আসফাহানি কতই না চমৎকার বলেছেন: "আমি দেখেছি যে, কোনো মানুষ আজ কোনো কিতাব লিখলে কাল সে অবশ্যই বলে: যদি এটি পরিবর্তন করা হতো তবে তা আরও ভালো হতো, যদি এটি বাড়ানো হতো তবে তা পছন্দনীয় হতো, যদি একে আগে আনা হতো তবে তা শ্রেষ্ঠ হতো, আর যদি এটি বাদ দেওয়া হতো তবে তা সুন্দর হতো। এটি এক মহান শিক্ষা এবং এটি সমগ্র মানবজাতির উপর অপূর্ণতার কর্তৃত্বের প্রমাণ। সুতরাং সেই সত্তা পবিত্র, যিনি সকল অপূর্ণতা থেকে মুক্ত।"
সুতরাং কেউ যদি এতে কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি দেখতে পায়, অথবা এতে কোনো পরিবর্তন বা স্খলন খুঁজে পায়, তবে সে যেন দয়াপরবশ হয়ে তার ভাইকে ক্ষমা করে দেয় অথবা অনুগ্রহপূর্বক যা সংশোধন প্রয়োজন তা সংশোধন করে দেয়। কেননা ত্রুটি হলো মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। আর জ্ঞানের পূর্ণ পরিবেষ্টন কেবল সৃষ্টির স্রষ্টার জন্যই নির্ধারিত। তিনি সেই সত্তা, যাঁর জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং যিনি তাঁর সৃষ্টিজগতকে সংখ্যা ও নামে গণনা করে রেখেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
سطره لنفسه
… قائله وجامعه
فليعف عن زلاته
… ناقله وسامعه
فألتمس من النبلاء الأماجد تقويم ما اعوجَّ وندَّ، والتنبيه إلى ما ندَّ عنه القلم.
وإن تَجِدْ عيبًا فَسُدَّ الخَلَلَا
… فَجَلَّ مَنْ لَا عَيْبَ فيه وعلا
وأسأل الله عز وجل أن يجعل عملى هذا خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفعنى به والمسلمين، وأن يجعلَه فى ميزان حسناتى يوم الدين، وأسأله أن يجزىَ عنى والديَّ أعمَّ الجزاءِ والمثوبةِ، وأن يمتَّعهما بالصحة والعافية، وأن ينوِّرَ أوقاتهما بالهدى والتُّقى، وأن يرزقَهما جنةَ الفردوس.
هذا وما كان من توفيقٍ فمن الواحد المنان، وما كان من خطأٍ أو نسيانٍ فمنى ومن الشيطان، والله ورسوله منه براءٌ، والله المستعان.
إذا لم يكن عون من الله للفتى
… فأكثر ما يجني عليه اجتهاده
وصل اللهم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
أبو عبد الله
محمد بن علي بن حلاوة
مصر - كفر الشيخ - البرلس
هاتف: 01010637466
এটি নিজের জন্য লিখেছেন
… এর প্রবক্তা ও সংকলক।
তিনি যেন তাঁর ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করেন
… এর বর্ণনাকারী ও শ্রবণকারী।
আমি মহানুভব ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের নিকট বক্রতাকে সংশোধন ও যা বিচ্যুত হয়েছে তা সোজা করার এবং কলম থেকে যা কিছু এড়িয়ে গেছে সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
যদি আপনি কোনো ত্রুটি খুঁজে পান তবে সেই শূন্যতা পূরণ করুন
… কেননা সেই সত্তা মহান ও সুউচ্চ যাঁর কোনো ত্রুটি নেই।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমার এই কাজটিকে কেবল তাঁর মহান চেহারার জন্য কবুল করেন, এবং এর মাধ্যমে আমাকে ও মুসলিমদের উপকৃত করেন, আর বিচার দিবসে একে যেন আমার নেক আমলের পাল্লায় স্থান দেন; আমি তাঁর নিকট আরও প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমার পক্ষ থেকে আমার পিতামাতাকে সর্বোত্তম প্রতিদান ও পুরস্কার দান করেন, তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দান করেন, তাঁদের সময়গুলোকে হিদায়াত ও তাকওয়া দ্বারা আলোকিত করেন এবং তাঁদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন।
এই ছিল বিষয়, আর যা কিছু সঠিক হয়েছে তা কেবল একমাত্র দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল ও বিস্মৃতি হয়েছে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এ থেকে মুক্ত, আর আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী।
যদি যুবকের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য না থাকে
… তবে তার অধিকাংশ প্রচেষ্টাই তার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
হে আল্লাহ, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীবৃন্দের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
আবু আবদুল্লাহ
মুহাম্মদ বিন আলী বিন হালাওয়াহ
মিশর - কাফরুশ শাইখ - আল-বুরুলাস
ফোন: ০১০১০৬৩৭৪৬৬
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الباب الأولوفيه فصول
الفصل الأول: في تعريف وفضل الصوم
الفصل الثاني: على من يجب الصيام؟
الفصل الثالث: النية
الفصل الرابع: أحكام دخول الشهر ورؤية الهلال
الفصل الخامس: من يباح له الفطر
الفصل السادس: مفسدات الصوم
الفصل السابع: المفطرات المستجدة
الفصل الثامن: الكفارة وما يتعلق بها من أحكام
الفصل التاسع: القضاء وما يتعلق به من أحكام
الفصل العاشر: مباحات الصيام
الفصل الحادي عشر: الإفطار والسحور
প্রথম পরিচ্ছেদএতে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদসমূহ রয়েছে
প্রথম অনুচ্ছেদ: সিয়ামের সংজ্ঞা ও ফযীলত প্রসঙ্গে
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সিয়াম কার ওপর ফরয?
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নিয়ত
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মাস শুরু হওয়া এবং চাঁদ দেখার বিধানাবলি
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: যাদের জন্য সিয়াম ভঙ্গ করা বৈধ
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: সিয়াম বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ
সপ্তম অনুচ্ছেদ: সিয়াম ভঙ্গকারী আধুনিক বিষয়সমূহ
অষ্টম অনুচ্ছেদ: কাফফারা এবং এ সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি
নবম অনুচ্ছেদ: কাযা এবং এ সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি
দশম অনুচ্ছেদ: সিয়ামের বৈধ বিষয়সমূহ
একাদশ অনুচ্ছেদ: ইফতার ও সাহরি
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২০)
الفصل الأول: في تعريف وفضل الصوموفيه مباحث
المبحث الأول: تعريف الصيام
المبحث الثاني: فضل الصوم
المبحث الثالث: فضائل شهر رمضان
المبحث الرابع: ما يجب على الصائم تركه
المبحث الخامس: الحكمة من مشروعية الصيام
المبحث السادس: أقسام الصيام
المبحث السابع: حكم صيام رمضان
المبحث الثامن: ترك الصيام بغير عذر
প্রথম পরিচ্ছেদ: সিয়ামের সংজ্ঞা ও ফযিলত প্রসঙ্গেএতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে
প্রথম অনুচ্ছেদ: সিয়ামের সংজ্ঞা
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সিয়ামের ফযিলত
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: রমজান মাসের ফযিলতসমূহ
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: সিয়াম পালনকারীর যা বর্জন করা আবশ্যক
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: সিয়াম বিধিবদ্ধ করার হিকমত (তাৎপর্য)
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: সিয়ামের প্রকারভেদ
সপ্তম অনুচ্ছেদ: রমজানের সিয়ামের বিধান
অষ্টম অনুচ্ছেদ: ওজর ব্যতীত সিয়াম বর্জন করা
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الأول: تعريف الصيام•
الصَّوْمُ لغة: الإمساكُ عن الشيء والتَّرْكُ له.
وقيل للصائم صائمٌ لإمْساكِه عن المطْعَم والمشْرَبِ والمنْكَح.
وقيل للصامت صائمٌ لإمساكه عن الكلام، قالت مريم عليها السلام: {إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْمًا فَلَنْ أُكَلم الْيَوْمَ إِنْسِيًّا} [مريم: 26].
وقيل للفرس صائمٌ لإمساكه عن العَلَفِ مع قيامِه.
قال أَبو عبيدة: كلُّ مُمْسكٍ عن طعامٍ أَوْ كلامٍ أَوْ سيرٍ فهو صائمٌ
(1).
•
الصوم شرعًا: الإمساك عن المفطرات من شخص مخصوص مع اقتران النية به من طلوع الفجر إلى غروب الشمس، وتمامُه وكمالُه باجتناب المحظورات وعدم الوقوع فى المحرمات؛ لقوله عليه السلام: «مَنْ لم يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ في أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ»
(2).
فقولنا: «الإمساك عن المفطرات» كالأكل والشرب والجماع.
وقولنا: «من شخص مخصوص» أي المسلم العاقل
…وقولنا: «من طلوع الفجر إلى غروب الشمس» هذا بالإجماع
(3).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সিয়ামের সংজ্ঞা•
আভিধানিক অর্থে সিয়াম: কোনো বস্তু থেকে বিরত থাকা এবং তা বর্জন করা।
রোজা পালনকারীকে তার আহার, পানীয় এবং মৈথুন থেকে বিরত থাকার কারণে ‘সায়েম’ বলা হয়।
কথা বলা থেকে বিরত থাকার কারণে মৌন অবলম্বনকারীকেও ‘সায়েম’ বলা হয়, মারইয়াম আলাইহাস সালাম বলেন: {আমি দয়াময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিয়ামের (মৌনতার) মানত করেছি, সুতরাং আজ আমি কোনো মানুষের সাথে কথা বলব না} [মারইয়াম: ২৬]।
দণ্ডায়মান অবস্থায় ঘাস খাওয়া থেকে বিরত থাকার কারণে ঘোড়াকেও ‘সায়েম’ বলা হয়।
আবু উবায়দাহ বলেন: খাদ্য, কথা বা পথচলা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিই ‘সায়েম’
(১)।
•
শরয়ি পরিভাষায় সিয়াম: নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক নিয়তের সাথে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা। আর এর পূর্ণতা ও সার্থকতা হলো নিষিদ্ধ বিষয়াবলি বর্জন এবং হারামে লিপ্ত না হওয়া; যেহেতু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী আমল করা বর্জন করে না, তার পানাহার ত্যাগ করাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই»
(২)।
আমাদের বক্তব্য: «রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা» যেমন— পানাহার ও সহবাস।
আমাদের বক্তব্য: «নির্দিষ্ট ব্যক্তি» অর্থাৎ— সুস্থ মস্তিস্কসম্পন্ন মুসলিম …
আমাদের বক্তব্য: «সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত» এটি ইজমা (ঐক্যমত) দ্বারা প্রমাণিত
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২২)
الخلاصة: الصيام لغةً: الإمساك.
وشرعًا: الإمساك بنية من شخص مخصوص عن المفطرات، كالطعام والشراب والجماع، من طلوع الفجر إلى غروب الشمس.
المبحث الثاني: فَضْلُ الصوم
1 - الصوم من أسباب المغفرة ورفعة الدرجات فى الآخرة:قال تعالى: {إِنَّ المسْلمينَ وَالمسْلماتِ وَالمؤْمِنِينَ وَالمؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالمتَصَدِّقِينَ وَالمتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 35].
2 - الصائمون هم السائحون (1): قال تعالى: {التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الْآمِرُونَ بِالمعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ المنْكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللَّهِ وَبَشِّرِ المؤْمِنِينَ} [التوبة: 112]
(2).
--------------------------------------------
সারসংক্ষেপ: সিয়ামের শাব্দিক অর্থ: বিরত থাকা।
পরিভাষায়: সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক নিয়তসহ রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ, যেমন—আহার, পানীয় ও যৌন মিলন থেকে বিরত থাকা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সিয়ামের মর্যাদা
১ - সিয়াম ক্ষমা লাভ এবং আখিরাতে মর্যাদা বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম:মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আত্মসমর্পণকারী পুরুষ ও নারী, মুমিন পুরুষ ও নারী, অনুগত পুরুষ ও নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও নারী, বিনীত পুরুষ ও নারী, দানশীল পুরুষ ও নারী, সিয়াম পালনকারী পুরুষ ও নারী, নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজতকারী পুরুষ ও নারী এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারী—তাদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহাপুরস্কার প্রস্তুত রেখেছেন।} [সূরা আল-আহযাব: ৩৫]।
২ - সিয়াম পালনকারীরাই হলেন পর্যটক (১): মহান আল্লাহ বলেন: {তারা তওবাকারী, ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী (পর্যটক), রুকুকারী, সেজদাকারী, সৎকাজের আদেশদাতা, অসৎকাজে নিষেধকারী এবং আল্লাহর সীমানাসমূহ হিফাজতকারী; আর আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন।} [সূরা আত-তাওবাহ: ১১২]
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
3 - إضافته إلى الله تعالى تشريفًا لقدره وشانه وتنويهًا بسامق مكانه: ففي الصحيحين
(1) عن أبى هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «قال اللَّهُ: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ، فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ»
(2).
--------------------------------------------
৩ - আল্লাহর সত্তার সাথে এর সম্পৃক্ততা এর মর্যাদা ও শান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এবং এর সুউচ্চ স্থানের প্রতি ইঙ্গিত স্বরূপ: সহীহাইন
(১)-এ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আদমসন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, তবে রোজা ব্যতীত; কেননা তা আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব»
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
4 - الصوم فى سبيل الله يباعد عن النيران: ففي «الصحيحين»
(1) عن أبى سعيد الخدرى رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ عَبْدٍ يَصُومُ يَوْمًا في سَبِيلِ اللَّهِ
(2) إِلَّا بَاعَدَ اللَّهُ بِذَلِكَ الْيَوْمِ وَجْهَهُ عَنْ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا»
(3).
5 - الصوم وقاية وجُنة من النار: ففي الصحيحين
(4) من حديث أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «الصِّيَامُ جُنَّةٌ».
وعن عثمان بن أبى العاص رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «الصَّوْمُ جُنَّةٌ مِنْ النَّارِ، كَجُنَّةِ أَحَدِكُمْ مِنْ الْقِتَالِ»
(5)، وفى لفظٍ: «الصِّيَامُ جُنَّةٌ يَسْتَجِنُّ بِهَا الْعَبْدُ مِنَ النَّارِ».
وقال ابن العربي
(6): إنما كان الصوم جُنة من النار لأنه إمساك عن الشهوات، والنار محفوفة بالشهوات، فالحاصل أنه إذا كف نفسه عن الشهوات في الدنيا، كان ذلك ساترًا
--------------------------------------------
৪ - আল্লাহর পথে রোজা রাখা জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়: ‘সহীহাইনে’
(১) আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো বান্দা যখন আল্লাহর পথে
(২) একদিন রোজা রাখে, আল্লাহ সেই একদিনের বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেন»
(৩)।
৫ - রোজা হলো জাহান্নাম থেকে সুরক্ষা ও ঢাল: সহীহাইনে
(৪) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «রোজা হলো ঢাল স্বরূপ»।
উসমান ইবনে আবিল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «রোজা হলো জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢাল, যেমন তোমাদের যুদ্ধের ঢাল হয়»
(৫)। অন্য শব্দে এসেছে: «রোজা হলো একটি ঢাল, যা দ্বারা বান্দা নিজেকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে»।
ইবনুল আরাবি বলেন
(৬): রোজা মূলত জাহান্নাম থেকে ঢাল হওয়ার কারণ হলো এটি প্রবৃত্তির চাহিদা থেকে বিরত রাখা, আর জাহান্নাম প্রবৃত্তির চাহিদা দ্বারা পরিবেষ্টিত। সারকথা হলো, দুনিয়াতে যখন সে নিজেকে প্রবৃত্তির চাহিদা থেকে বিরত রাখে, তখন তা তার জন্য আবরণ হয়ে দাঁড়ায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
له من النار في الآخرة.
وفي «الصحيحين»
(1) عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «مَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، وَمَنْ لم يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ؛ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ»
(2).
أي أن الصوم قامع لشهوة النكاح وعدم الوقوع في الزنا. وهذا يدل على أن الصوم يُضعف شهوات النفس التي تدخل النار.
6 - باب الريان للصائمين يوم القيامة: ففي «الصحيحين»
(3) عن سهل بن سعد الساعدى رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إنَّ في الْجَنَّةِ بَابًا يُقال لَهُ: الرَّيَّانُ، يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَا يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ، يُقَالُ: أَيْنَ الصَّائِمُونَ؟ فَيَقُومُونَ، لَا يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ، فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلم يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ».
قال ابن حجر
(4): الرَّيَّان بَاب مِنْ أَبْوَاب الْجَنَّة يَخْتَصّ بِدُخُولِ الصَّائِمِينَ مِنْهُ، وَهُوَ مِمَّا وَقَعَت المنَاسَبَة فِيهِ بَيْن لَفْظه وَمَعْنَاهُ؛ لِأَنَّهُ مُشْتَقّ مِنْ الرِّيّ وَهُوَ مُنَاسِب لِحَالِ
--------------------------------------------
পরকালে তা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে (সুরক্ষা) হবে।
আর «সহীহাইন»-এ
(১) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী (সা.)-এর সাথে ছিলাম, তখন তিনি বললেন: «তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে, আর যে সামর্থ্য রাখে না তার উচিত রোজা রাখা; কেননা তা তার জন্য কামভাব দমনের মাধ্যম»
(২)।
অর্থাৎ সিয়াম বিবাহের আকাঙ্ক্ষা দমনকারী এবং ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া থেকে রক্ষাকারী। আর এটি প্রমাণ করে যে, সিয়াম নফসের ঐ সকল কামনা-বাসনাকে দুর্বল করে দেয় যা (মানুষকে) জাহান্নামে প্রবেশ করায়।
৬ - পরিচ্ছেদ: কিয়ামতের দিন রোজাদারদের জন্য রাইয়ান নামক দরজা: ফফি «সহীহাইন»-এ
(৩) সাহল ইবনে সাদ আল-সা'ঈদী (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: «জান্নাতে একটি দরজা আছে যাকে 'রাইয়ান' বলা হয়, কিয়ামতের দিন তা দিয়ে কেবল রোজাদারগণই প্রবেশ করবে, তারা ছাড়া অন্য কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করবে না। বলা হবে: রোজাদাররা কোথায়? তখন তারা উঠে দাঁড়াবে, তারা ছাড়া অন্য কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করবে না। যখন তারা প্রবেশ করবে তখন তা বন্ধ করে দেওয়া হবে, ফলে আর কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করবে না»।
ইবনে হাজার
(৪) বলেন: রাইয়ান হলো জান্নাতের দরজাগুলোর মধ্যে একটি দরজা যা রোজাদারদের প্রবেশের জন্য নির্ধারিত। এটি এমন এক বিষয় যেখানে শব্দ ও অর্থের মধ্যে চমৎকার সামঞ্জস্য বিদ্যমান; কারণ এটি 'আল-রিয়' (তৃপ্তি) শব্দ থেকে উদ্ভূত, যা রোজাদারদের অবস্থার সাথে মানানসই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الصَّائِمِينَ، وَسَيَأْتِي أَنَّ مَنْ دَخَلَهُ لم يَظْمَأ. قَالَ الْقُرْطُبِيّ: اُكْتُفِيَ بِذِكْرِ الرِّيِّ عَنْ الشِّبَع لِأَنَّهُ يَدُلّ عَلَيْهِ مِنْ حَيْثُ إنَّهُ يَسْتَلْزِمهُ، قُلْت: أَوْ لِكَوْنِهِ أَشَقّ عَلَى الصَّائِم مِنْ الْجُوع.
7 - فرح الصائم بصومه يوم القيامة: «ففي الصحيحين»
(1) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَقُولُ اللَّهُ عز وجل: الصَّوْمُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَأَكْلَهُ وَشُرْبَهُ مِنْ أَجْلِي، وَالصَّوْمُ جُنَّةٌ، وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ حِينَ يُفْطِرُ وَفَرْحَةٌ حِينَ يَلْقَى رَبَّهُ، وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ المسْكِ».
8 - الصوم كفارة للخطيئات: ففي «الصحيحين»
(2) عن حذيفة قال: قال: عمر رضي الله عنه: «من يحفظ حديثًا عن النبي صلى الله عليه وسلم فى الفتنة؟ قال: حذيفة: أنا سمعته يقول: «فِتْنَةُ الرَّجُلِ في أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَجَارِهِ، تُكَفِّرُهَا الصَّلَاةُ وَالصِّيَامُ وَالصَّدَقَةُ».
9 - الصوم لا مثل له: عن أبي أُمامة الباهلى رضي الله عنه قال: أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت: مُرني بأمر آخذه عنك. قال: «عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا مِثْلَ لَهُ»
(3).
10 - وهناك حديثٌ يدلُّ على أن الصيام يشفع لصاحبه يوم القيامة، ولكن فى إسناده حُيّىُّ بن عبد الله، وفيه مقال.
--------------------------------------------
রোজাদারদের। আর অচিরেই সামনে আসবে যে, যে ব্যক্তি তাতে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। আল-কুরতুবী বলেন: ক্ষুধা নিবারণের পরিবর্তে কেবল পিপাসা নিবারণের উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে, কারণ পিপাসা নিবারণ ক্ষুধা নিবারণকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আমি (লেখক) বলি: অথবা এর কারণ হতে পারে যে, ক্ষুধার চেয়ে পিপাসা রোজাদারের জন্য অধিক কষ্টকর।
৭ - কিয়ামতের দিন রোজা নিয়ে রোজাদারের আনন্দ: «সহীহাইনে»
(১) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: «মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: রোজা আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। বান্দা আমার জন্যই তার কামনা-বাসনা এবং পানাহার ত্যাগ করে। রোজা হলো একটি ঢাল। রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে: একটি আনন্দ তার ইফতারের সময় এবং অন্যটি তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। আর অবশ্যই রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়»।
৮ - রোজা পাপমোচনকারী: «সহীহাইনে»
(২) হুযায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ওমর (রা.) বললেন: «ফিতনা সম্পর্কে নবী (সা.) থেকে কার হাদিস মুখস্থ আছে? হুযায়ফা বললেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: মানুষের ফিতনা (গুনাহ বা পরীক্ষা) তার পরিবার, সম্পদ ও প্রতিবেশীর মধ্যে যা ঘটে, তা নামাজ, রোজা ও দান-সদকা মিটিয়ে দেয়»।
৯ - রোজার কোনো তুলনা নেই: আবু উমামা আল-বাহিলি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর নিকট এসে বললাম: আমাকে এমন কোনো কাজের আদেশ দিন যা আমি আপনার পক্ষ থেকে গ্রহণ করব। তিনি বললেন: «তুমি রোজা পালন করো, কারণ এর কোনো তুলনা নেই»
(৩)।
১০ - সেখানে আরও একটি হাদিস রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, কিয়ামতের দিন রোজা তার পালনকারীর জন্য সুপারিশ করবে, কিন্তু এর বর্ণনাসূত্রে হুয়াই বিন আব্দুল্লাহ রয়েছেন এবং তাকে নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা (দুর্বলতা) রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عن عبد الله بن عمرو أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «الصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، يَقُولُ الصِّيَامُ: أَيْ رَبِّ مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ، وَيَقُولُ الْقُرْآنُ: مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ، قَالَ: فَيُشَفَّعَانِ»
(1).
المبحث الثالث: فضائل شهر رمضان
1 - شهر القرآن: قال تعالى: {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ} [البقرة: 185].
2 - تصفيدُ الشياطين وفتحُ أبواب الجنان وغلق أبواب النيران:ففي «الصحيحين»
(2)، عن أبى هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ
(3)، ...............
--------------------------------------------
আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সিয়াম এবং কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। সিয়াম বলবে: হে প্রতিপালক! আমি দিনের বেলা তাকে আহার ও কামনা-বাসনা থেকে বিরত রেখেছিলাম, সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে: আমি তাকে রাতের বেলা ঘুম থেকে বিরত রেখেছিলাম, সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তিনি (রাসূলুল্লাহ) বলেন: অতঃপর তাদের উভয়ের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে»
(১).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রমজান মাসের ফজিলতসমূহ
১ - কুরআনের মাস: মহান আল্লাহ বলেন: {রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়েতের জন্য এবং হেদায়েতের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে} [আল-বাকারা: ১৮৫]।
২ - শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা, জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা:অতঃপর «সহীহাইনে»
(২), আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন রমজান আসে, তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়
(৩), ...............
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ
(1)، وَصُفِّدَتْ الشَّيَاطِينُ»، وفى البخاري: «وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ»
(2).
3 - كان حقًّا على الله أن يدخله الجنة: روى البخاري
(3) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:
--------------------------------------------
এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়
(১), আর শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়", এবং বুখারিতে রয়েছে: "আর শয়তানদের জিঞ্জিরে আবদ্ধ করা হয়"
(২)।
৩ - আল্লাহর ওপর এটি পাওনা হয়ে যায় যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন: ইমাম বুখারি
(৩) আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
«مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَصَامَ رَمَضَانَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ».
وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ أَعْرَابِيًّا أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ إِذَا عَمِلْتُهُ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ. قَالَ: «تَعْبُدُ اللَّهَ لَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ المكْتُوبَةَ وَتُؤَدِّي الزَّكَاةَ المفْرُوضَةَ وَتَصُومُ رَمَضَانَ» قَالَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا، فَلما وَلَّى قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى هَذَا»
(1).
عن أَبي أُمَامَةَ رضي الله عنه قال: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «اعْبَدُوا رَبَّكُمْ وَصَلُّوا خَمْسَكُمْ وَصُومُوا شَهْرَكُمْ وَأَطِيعُوا ذَا أَمْرِكُمْ، تَدْخُلُوا جَنَّةَ رَبِّكُمْ»
(2).
4 - شهر الغفران: صوم رمضان إيمانًا واحتسابًا سببٌ لمغفرة ما تقدَّم من الذنوب، ففي «الصحيحين»
(3) عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا
(4)، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ».
وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَعِدَ المنْبَرَ فَقَالَ: «آمِينَ، آمِينَ، آمِينَ» فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّكَ حِينَ صَعِدْتَ المنْبَرَ قُلْتَ: «آمِينَ، آمِينَ، آمِينَ؟» قَالَ: «إِنَّ جِبْرِيلَ أَتَانِي فَقَالَ:
--------------------------------------------
«যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনল, সালাত কায়েম করল এবং রমজানের সিয়াম পালন করল, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এটি আল্লাহর ওপর একটি হক (অধিকার) হয়ে যায়।»
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক গ্রামবাসী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন, যা করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, ফরয সালাত কায়েম করবে, নির্ধারিত জাকাত আদায় করবে এবং রমজানের সিয়াম পালন করবে» তিনি (লোকটি) বললেন: যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! আমি এর চেয়ে বেশি কিছু করব না। অতঃপর যখন তিনি চলে গেলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «যাকে জান্নাতি কোনো মানুষকে দেখে আনন্দিত হওয়া খুশি করে, সে যেন এই লোকটির দিকে তাকায়»
(১)।
আবু উমামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো, তোমাদের পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করো, তোমাদের (রমজান) মাসের সিয়াম পালন করো এবং তোমাদের নির্দেশদাতাদের আনুগত্য করো, তাহলে তোমরা তোমাদের রবের জান্নাতে প্রবেশ করবে»
(২)।
৪ - ক্ষমার মাস: ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের সিয়াম পালন করা পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ হওয়ার কারণ। 'সহীহাইনে'
(৩) আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায়
(৪) রমজানের সিয়াম পালন করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে»।
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন: «আমীন, আমীন, আমীন» বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যখন মিম্বরে আরোহণ করলেন তখন কেন বললেন: «আমীন, আমীন, আমীন?» তিনি বললেন: «নিশ্চয় জিবরাঈল আমার কাছে আসলেন এবং বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مَنْ أَدْرَكَ شَهْرَ رَمَضَانَ فَلم يُغْفَرْ لَهُ فَدَخَلَ النَّارَ، فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ، قُلْ: آمِينَ، فَقُلْتُ: آمِينَ، وَمَنْ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ، أَوْ أَحَدَهُمَا، فَلم يَبَرَّهُمَا، فَمَاتَ، فَدَخَلَ النَّارَ فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ، قُلْ: آمِينَ، فَقُلْتُ: آمِينَ، وَمَنْ ذُكِرْتَ عَنْدَهُ فَلم يُصَلِّ عَلَيْكَ فَمَاتَ فَدَخَلَ النَّارَ فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ، قُلْ: آمِينَ، فَقُلْتُ: آمِينَ»
(1).
وروى مسلم
(2) عن أبى هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الصَّلَوَاتِ الْخَمْسُ، وَالْجُمْعَةُ إِلَى الْجُمْعَةِ، وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ مُكَفِّرَاتٌ لما بَيْنَهُنَّ مَا اجْتُنِبَتِ الْكَبَائِرُ».
5 - رمضان شهر الجود: ففي الصحيحين
(3) عن ابن عباس {قال: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدَ النَّاسِ، وَكَانَ أَجْوَد مَا يَكُونُ في رَمَضَانَ، حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ، وَكَانَ يَلْقَاهُ في كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ، فَلَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنْ الرِّيحِ المرْسَلَةِ»
(4).
--------------------------------------------
"যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল অথচ তার গুনাহ মাফ হলো না এবং সে জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তাকে (রহমত থেকে) দূর করুন। আপনি বলুন: আমীন। তখন আমি বললাম: আমীন। আর যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে অথবা তাদের একজনকে বার্ধক্যে পেল অথচ তাদের সাথে সদাচরণ করল না, অতঃপর সে মারা গেল এবং জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তাকে দূর করুন। আপনি বলুন: আমীন। তখন আমি বললাম: আমীন। আর যার নিকট আপনার নাম উল্লেখ করা হলো অথচ সে আপনার প্রতি দরুদ পাঠ করল না, অতঃপর সে মারা গেল এবং জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তাকে দূর করুন। আপনি বলুন: আমীন। তখন আমি বললাম: আমীন।"
(১).
ইমাম মুসলিম
(২) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমুআ থেকে অন্য জুমুআ এবং এক রমজান থেকে অন্য রমজান—এগুলো তাদের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহের কাফফারা (গুনাহ মোচনকারী), যতক্ষণ পর্যন্ত কবিরা গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।"
৫ - রমজান দানশীলতার মাস: সহীহাইনে
(৩) ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে যখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরও বেশি দানশীল হয়ে যেতেন। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁকে কুরআন পাঠ করে শোনাতেন। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কল্যাণ বিতরণে প্রবাহিত বায়ুর চেয়েও বেশি দানশীল ছিলেন।"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
6 - الصيام سببٌ لجعلك من الصدِّيقين والشُّهداء: عن عمرو بن مُرة الجُهنى رضي الله عنه قال: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ شَهِدْتُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ، وَصَلَّيْتُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ، وَأَدَّيْتُ الزَّكَاةَ، وَصُمْتُ رَمَضَانَ، وَقُمْتُهُ، فَمِمَّنْ أَنَا؟ قَالَ: «مِنَ الصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ»
(1).
في كل يوم عتقاء ولكل منهم دعوة مستجابة: عن الْأَعْمَش عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَوْ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ - هُوَ شَكَّ، يَعْنِي الْأَعْمَشَ - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِلَّهِ عُتَقَاءَ في كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، لِكُلِّ عَبْدٍ مِنْهُمْ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ»
(2).
8 - فيه ليلة القدر: من فضائل هذا الشهر العظيم أن فيه ليلةً هي خير من ألف شهرٍ أى: للعبادة فيها، قال الله عز وجل: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ في لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ تَنَزَّلُ الملَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ} [القدر: 1 - 5].
قال القرطبي: معنى قوله: {لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ} أى: العمل فيها خيرٌ من العمل فى ألف شهر.
وروى البخاري
(3)، عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ».
فينبغى للمؤمن أن يقوم فى هذه الليلة للواحد القهار بِذُلٍّ وانكسارٍ، يدعوه ويرجوه أن يغفرَ له زلاتِه، ويتجاوزَ عن سيئاتِه؛ فإن هذه الليلة تُحْسَب بالعمر.
--------------------------------------------
৬ - সিয়াম আপনাকে সিদ্দীকীন ও শুহাদাদের অন্তর্ভুক্ত করার কারণ: আমর ইবনে মুররা আল-জুহানি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার অভিমত কী—যদি আমি সাক্ষ্য দিই যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল, আর আমি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি, জাকাত প্রদান করি, রমজানের রোজা রাখি এবং তার (রাতের) কিয়াম করি, তবে আমি কাদের অন্তর্ভুক্ত হব? তিনি বললেন: "সিদ্দীকীন ও শুহাদাদের অন্তর্ভুক্ত।"
(১).
প্রতিদিন অনেককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং তাদের প্রত্যেকের একটি করে কবুল দোয়া রয়েছে: আমাশ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা অথবা আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন—আমাশ (রাবি) এখানে সন্দেহ পোষণ করেছেন—তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট প্রতিদিন ও রাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত বান্দা রয়েছে এবং তাদের প্রত্যেক বান্দার জন্য একটি কবুল দোয়া রয়েছে।"
(২).
৮ - এতে লাইলাতুল কদর রয়েছে: এই মহান মাসের অন্যতম ফযীলত হলো এতে এমন এক রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম, অর্থাৎ—তাতে ইবাদত করা। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমি তা অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রজনীতে (লাইলাতুল কদরে)। আর আপনাকে কিসে জানাবে লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সেই রাতে ফেরেশতারা ও রূহ (জিবরাইল) তাদের রবের নির্দেশে প্রতিটি বিষয় নিয়ে অবতীর্ণ হয়। সেই রাত শান্তিই শান্তি, ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত।} [কদর: ১ - ৫]।
ইমাম কুরতুবী বলেন: মহান আল্লাহর বাণী {লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম}-এর অর্থ হলো: তাতে আমল করা হাজার মাসের আমলের চেয়েও উত্তম।
বুখারি
(৩) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম (সালাত আদায়) করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
সুতরাং মুমিনের উচিত এই রাতে সুমহান পরাক্রমশালী (ওয়াহিদ আল-কাহহার) আল্লাহর সামনে বিনয় ও নম্রতার সাথে দণ্ডায়মান হওয়া, তাঁর কাছে দোয়া করা এবং এই আশা রাখা যে তিনি যেন তার ভুলত্রুটি ক্ষমা করেন এবং তার পাপসমূহ মার্জনা করেন; কেননা এই রাতটি আয়ুষ্কাল হিসেবে গণ্য হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قال ابن رجب
(1): فالمبادرة المبادرة إلى اغتنام العمل فيما بقى من الشهر، فعسى أن يستدرك ما فات من ضياع العمر.
تَوَلَّى العُمُر في سهو
… وفي لَهْوٍ وفي خُسْر
فيا ضيعةَ ما أَنْفَقْ
… تُ في الأيام من عُمْري
وما لِي في الَّذِي ضيَّعْ
… تُ من عمريَ من عُذْرِ
فما أغْفَلَنَا عن وا
… جبات الحمد والشكر
أمَا قد خَصَّنا الل
… هُ بشهرٍ أيِّما شهرِ
بشهرٍ أنْزَلَ الرحم
… نُ فيهِ أشرفَ الذِّكْرِ
وهل يُشبِهُه شهرٌ
… وفيه ليلةُ القدرِ
فكمْ مِنْ خَبرٍ صَحَّ
… بما فِيها من الخير
رَوَيْنَا عن ثقاتٍ أنَّ
… ها تُطْلَبُ في الوِتر
فطُوبى لأمْرئ يطلُ
… بُهَا في هِذِه العَشرِ
فَفِيْهَا تنزلُ الأملا
… كُ بالأنوار والبرِ
وقد قال: «سلامٌ هـ
… يَ حتى مَطْلعِ الفجرِ
ألَا فادَّخِروها إنْ
… نَها من أنْفَسِ الذُّخر
فكمْ مِنْ مُعْتَقٍ فيها
… من النارِ ولا يَدْرِي
يا ليلة القدر للعابدين اشهدي، يا أقدام القانتين اركعى لربك واسجدى، يا ألسنة السائلين جِدِّي فى المسألة واجتهدي.
يا رجال الليل جدوا
… رب داعٍ لا يُرد
ما يقوم الليل إلا
… من له عزم وجد
--------------------------------------------
ইবন রাজাব
(১) বলেন: সুতরাং মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোতে আমল করার সুযোগ অন্বেষণে দ্রুততা অবলম্বন করুন, দ্রুততা অবলম্বন করুন; সম্ভবত জীবনের যা কিছু নষ্ট হয়ে গেছে তা পুষিয়ে নেওয়া যাবে।
জীবন কেটে গেল গাফলতে
… এবং খেল-তামাশায় ও লোকসানে
হায় আক্ষেপ! আমার জীবনের দিনগুলো
… আমি যা কিছু অপব্যয় করেছি
আর জীবনের যা কিছু আমি হারিয়েছি
… তাতে আমার দেওয়ার মতো কোনো ওজর নেই
আমরা কতই না উদাসীন হয়ে আছি
… প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার আবশ্যিক কর্তব্যগুলো থেকে
আল্লাহ কি আমাদের বিশেষত্ব দান করেননি
… এমন এক মাসের মাধ্যমে যা অত্যন্ত মহিমান্বিত এক মাস!
এমন এক মাস যাতে পরম করুণাময় নাযিল করেছেন
… সর্বশ্রেষ্ঠ যিকর (কুরআন)
আর কোনো মাস কি এর সদৃশ হতে পারে?
… যাতে রয়েছে লাইলাতুল কদর
এর মধ্যে যে কল্যাণ নিহিত রয়েছে
… সে বিষয়ে কতই না বিশুদ্ধ বর্ণনা এসেছে
আমরা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করেছি যে
… এটি বেজোড় রাতগুলোতে অন্বেষণ করতে হয়
সুতরাং সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যে একে অন্বেষণ করে
… এই শেষ দশ দিন ও রাতে
কারণ এতেই ফেরেশতারা অবতরণ করেন
… নূর ও বরকত নিয়ে
আর তিনি (আল্লাহ) বলেছেন: "এটি শান্তিময়
… ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত"
সাবধান! তোমরা একে পাথেয় হিসেবে সঞ্চয় করো
… কারণ এটি অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ
এতে কত মানুষকেই যে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়
… অথচ সে তা জানেও না
হে লাইলাতুল কদর! ইবাদতকারীদের জন্য তুমি সাক্ষী থেকো; হে অনুগতদের পা! তোমার রবের জন্য রুকু করো এবং সাজদা করো; হে প্রার্থনাকারীদের জিহ্বা! প্রার্থনার বিষয়ে সচেষ্ট হও এবং কঠোর পরিশ্রম করো।
হে রাতের পুরুষেরা (ইবাদতকারীরা)! তোমরা প্রচেষ্টা চালাও
… কত প্রার্থনাকারীই তো আছে যার প্রার্থনা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না
রাতের ইবাদতে কেবল তারাই দাঁড়ায়
… যাদের সুদৃঢ় সংকল্প ও কর্মতৎপরতা রয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ليلة القدر عند المحبين ليلة الحظوة، بأنس مولاهم وقربه، وإنما يفرون من ليالى البعد والهجر، يا من ضاع عمره فى لا شيء، استدرك ما فاتك فى ليلة القدر، فإنها تحسب بالعمر. يا يعقوب الهجر، قد هبت ريح يوسف الوصل، فلو استنشقت لعدت بعد العمى بصيرًا، ولوجدت ما كان لفقده فقيرًا.
كان لى قلب أعيش به
… ضاع منى فى تقلبه
رب فاردده على فقد
… عيل صبرى فى تطلبه
وأغثنى ما دام بى رمق
… يا غياث المستغيث به
لو قام المذنبون فى هذه الأسحار على أقدام الانكسار، ورفعوا قصص الاعتذار مضمونها: {يَا أَيُّهَا الْعَزِيزُ مَسَّنَا وَأَهْلَنَا الضُّرُّ وَجِئْنَا بِبِضَاعَةٍ مُزْجَاةٍ فَأَوْفِ لَنَا الْكَيْلَ وَتَصَدَّقْ عَلَيْنَا} [يوسف: 88] لبزر لهم التوقيع عليها: {لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكُمْ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ} [يوسف: 92].
أشكو إلى الله كما قد شكى
… أولاد يعقوب إلى يوسف
قد مسنى الضر وأنت الذى
… تعلم حالى وترى موقفى
بضاعتى المزجاة محتاجة
… إلى سماح من كريم وفى
فقد أتى المسكين مستعطرا
… جودك فارحم ذله واعطف
فأوف كيلى وتصدق على
… هذا المقل البائس الأضعف
لليلة القدر عند الرب تفضيل
… وفي فضائلها قد جاء تنزيل
فجد فيها على خير تنال به
… أجرًا فللخير عند الرب تفضيل
واحرص على فعل أعمال تُسر بها
… يوم المعاد ولا يغررك تأميل
فكم رأينا صحيح الجسم ذا أمل
… في ليلة القدر لم يبله تنويل
فتب إلى الله واحذر من عقوبته
… عن كل ما فيه توبيخ وتنكيل
মহব্বতকারীদের নিকট লাইলাতুল কদর হলো তাদের মাওলার সান্নিধ্য ও নৈকট্য লাভের মাধ্যমে সৌভাগ্য অর্জনের রাত। তারা তো কেবল বিচ্ছেদ ও দূরত্বের রাতগুলো থেকেই পলায়ন করে। হে ঐ ব্যক্তি যার আয়ু বৃথা নষ্ট হয়েছে, লাইলাতুল কদরে যা হারিয়েছ তা পুষিয়ে নাও; কেননা এটি পুরো জীবনের সমান গণ্য হয়। হে বিচ্ছেদের ইয়াকুব! মিলনের ইউসুফী বাতাস বইতে শুরু করেছে। যদি তুমি সেই ঘ্রাণ নিতে, তবে অন্ধত্বের পর পুনরায় দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে; আর যা হারিয়ে তুমি নিঃস্ব হয়েছিলে, তা খুঁজে পেতে।
আমার একটি হৃদয় ছিল যা নিয়ে আমি বাঁচতাম
… তার অস্থিরতায় তা আমার থেকে হারিয়ে গেছে
হে প্রতিপালক! তা আমার কাছে ফিরিয়ে দিন, কেননা
… তা খুঁজতে গিয়ে আমার ধৈর্য নিঃশেষ হয়ে গেছে
আর যতক্ষণ আমার মাঝে প্রাণ অবশিষ্ট আছে আমাকে উদ্ধার করুন
… হে সাহায্যপ্রার্থীদের সাহায্যকারী
যদি পাপীরা এই শেষ রাতে ভগ্ন হৃদয়ে দাঁড়িয়ে যেত এবং ক্ষমার আবেদন পেশ করত যার সারমর্ম হলো: {হে আজিজ! আমাদের ও আমাদের পরিবারকে বিপদ স্পর্শ করেছে এবং আমরা সামান্য পুঁজি নিয়ে এসেছি, সুতরাং আমাদের পরিমাপ পূর্ণ করে দিন এবং আমাদের সদকা দিন} [ইউসুফ: ৮৮]; তবে তাদের জন্য এই স্বাক্ষরিত ফয়সালা প্রকাশ পেত: {আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন এবং তিনি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু} [ইউসুফ: ৯২]।
আমি আল্লাহর কাছে সেভাবেই অভিযোগ করছি যেভাবে
… ইয়াকুবের সন্তানরা ইউসুফের কাছে করেছিল
নিশ্চয়ই আমাকে বিপদ স্পর্শ করেছে আর আপনিই তো সেই সত্তা
… যিনি আমার অবস্থা জানেন এবং আমার অবস্থান দেখছেন
আমার এই তুচ্ছ পুঁজি একজন মহান ও প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারীর
… ক্ষমার মুখাপেক্ষী
এই মিসকিন আপনার বদান্যতার সুগন্ধি প্রত্যাশা করে এসেছে
… সুতরাং তার হীনম্মন্যতার প্রতি দয়া করুন এবং অনুকম্পা প্রদর্শন করুন
আমার পরিমাপ পূর্ণ করে দিন এবং আমার প্রতি সদকা করুন
… এই রিক্তহস্ত, দুর্ভাগা ও অতিশয় দুর্বলের প্রতি
রবের নিকট লাইলাতুল কদরের রয়েছে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব
… আর এর ফযিলত সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে ওহী
সুতরাং এতে কল্যাণের অন্বেষণ করো যার মাধ্যমে তুমি
… বিনিময় পাবে; কেননা রবের নিকট কল্যাণের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা
এমন আমল করার ব্যাপারে যত্নবান হও যা তোমাকে আনন্দিত করবে
… কিয়ামতের দিনে, আর দীর্ঘ আশা যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে
আমরা কতই না সুস্থ দেহের অধিকারীকে দেখেছি যারা আশা নিয়ে ছিল
… কিন্তু লাইলাতুল কদরে তাদের কোনো প্রাপ্তি জোটেনি
সুতরাং আল্লাহর নিকট তওবা করো এবং তাঁর শাস্তি থেকে সতর্ক থাকো
… সেই সব কাজ থেকে যাতে তিরস্কার ও কঠোর সাজা রয়েছে
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ولا تغرنك الدنيا وزخرفها
… فكل شيء سوى التقوى أباطيل
هي ليلة تُتلقى فيها الوفود، ويحصل لهم المقصود من القبول والفوز والسعود، أترى يؤلمك أيها المطرود؟
هذه أوقات يربح فيها من فهم ودرى، ويصل إلى مراده كل من جد وسرى، ويفك فيها العاني وتطلق الأسرى، تقدم القوم وأنت راجع إلى ورا أو ليس كل هذا قد جرى وكأنه لم يجر، قال الله تعالى: {سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ} [القدر: 5].
وقد جاء في صحيح الإسناد: أنها تُلتمس في الأفراد فاطلبوها في هذه الأعداد تظفروا بحسن القبول ونيل المراد {سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ}.
هي ليلة يجود فها الرب على العباد، ويقضي فيها القضاء بما شاء وأراد، تُكتب فيها الآجال والأرزاق، وهي أفضل الليالي في حقنا على الإطلاق، فاغتنموها فإنها عظيمة القدر {سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ}.
فليلة القدر خير قال خالقنا
… من ألف شهر هنيئًا من لها شهدا
فيها القرآن بأمر الله أنزله
… بعلمه وبهذا النص قد وردا
فيها تُفتح أبواب السماء لمن
… مد الأكف وبالأعمال مجتهدا
وينزل الروح فيها والملائك من
… عند المهيمن لن تحصي لهم عددا
يا فوز عبد رآها إنه رجل
… قد عاش في الدهر عيشًا دائمًا رغدًا
وفاز بالأمن والغفران مغتبطًا
… ونال ما يرتجى من ربه أبدا
فاطلب من الله إن وافيتها سحرا
… جنات عدن تكن من جملة السُّعدا
وابك ونُحْ وتضرع في الدجى أسفا
… وقل إلهي تفضل بالجميل غدا
شهر يفوق على الشهور بليلة
… من ألف شهر فُضلت تفضيلا
فاجهد عساك تنالها فيما بقي
… بالجد واحذر أن تكون غَفولا
দুনিয়া ও এর চাকচিক্য যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে
… কারণ তাকওয়া ছাড়া আর সবকিছুই অসার।
এটি এমন এক রাত যাতে (আল্লাহর রহমতের) প্রতিনিধিদলকে গ্রহণ করা হয়, এবং তারা কবুলিয়াত, সফলতা ও সৌভাগ্যের উদ্দেশ্য হাসিল করে। ওহে বিতাড়িত, এটি কি তোমাকে ব্যথিত করে না?
এটি এমন এক সময় যাতে সেই ব্যক্তি লাভবান হয় যে বুঝেছে ও জেনেছে, আর যে চেষ্টা করেছে ও রাতের আঁধারে পথ চলেছে সে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছেছে। এতে আর্তদের কষ্ট লাঘব করা হয় এবং বন্দিদের মুক্ত করা হয়। কাফেলা তো সামনে এগিয়ে গেল, আর তুমি কি পেছনেই পড়ে রইলে? অথবা এসব কি অতিক্রান্ত হয়নি এমনভাবে যেন এর কিছুই ঘটেনি? আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত তা শান্তিময়।" [আল-কদর: ৫]।
সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে যে: এটি (লাইলাতুল কদর) বিজোড় রাতগুলোতে অন্বেষণ করতে হয়। সুতরাং তোমরা এই সংখ্যাগুলোতে তা তালাশ করো, তবেই তোমরা উত্তম কবুলিয়াত ও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে। "ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত তা শান্তিময়।"
এটি এমন এক রাত যাতে রব বান্দাদের ওপর দানশীলতা প্রদর্শন করেন এবং যাতে তিনি যা ইচ্ছা ও সংকল্প করেন সেই অনুযায়ী ফয়সালা করেন। এতে হায়াত ও রিযিক লিপিবদ্ধ করা হয় এবং এটি আমাদের জন্য নিরঙ্কুশভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ রাত। সুতরাং একে গণিমত হিসেবে গ্রহণ করো, কেননা এটি অত্যন্ত মহিমান্বিত। "ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত তা শান্তিময়।"
আমাদের স্রষ্টা বলেছেন, কদরের রাত এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
… মোবারকবাদ সেই ব্যক্তির জন্য যে এর সাক্ষী হলো।
এতে আল্লাহর নির্দেশে তিনি কুরআন নাজিল করেছেন
… তাঁর ইলম অনুযায়ী এবং এই দলিলের মাধ্যমেই তা বর্ণিত হয়েছে।
এতে আকাশের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় তার জন্য, যে
… হাত প্রসারিত করেছে এবং নেক আমলে সচেষ্ট হয়েছে।
এতে রূহ ও ফেরেশতারা অবতীর্ণ হন প্রতাপশালী (আল্লাহর)
… পক্ষ থেকে, তুমি তাদের সংখ্যা গণনা করতে পারবে না।
ওহে সেই বান্দার সফলতা যে এটি পেয়েছে! সে তো এমন এক ব্যক্তি
… যে যুগে যুগে চিরকাল স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন লাভ করেছে।
সে নিরাপত্তা ও ক্ষমা লাভ করে ঈর্ষণীয় হয়েছে
… এবং তার রবের পক্ষ থেকে চিরকাল যা প্রত্যাশিত তা লাভ করেছে।
সুতরাং তুমি যদি শেষ রাতে এর সাক্ষাৎ পাও, তবে আল্লাহর কাছে
… জান্নাতুল আদন প্রার্থনা করো, যাতে তুমি সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারো।
আর কান্নাকাটি করো, বিলাপ করো এবং রাতের অন্ধকারে আক্ষেপের সাথে কাকুতি-মিনতি করো
… আর বলো, হে আমার ইলাহ! কাল আপনি অনুগ্রহ করে সুন্দর ফয়সালা দান করুন।
এটি এমন এক মাস যা অন্য সব মাসের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে এমন এক রাতের মাধ্যমে
… যা এক হাজার মাস অপেক্ষা বহু গুণে শ্রেষ্ঠ করা হয়েছে।
সুতরাং যা অবশিষ্ট আছে তাতে আপ্রাণ চেষ্টা করো, সম্ভবত তুমি তা পেয়ে যাবে
… কঠোর পরিশ্রম করো এবং অসতর্ক হওয়া থেকে বেঁচে থাকো।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল আম ফি ফিকহিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
أيها المسلمون اجتهدوا في هذا الليالي المباركات فإنها فرصة العمر، والفرص لا تدوم، والله أخبر أن ليلة القدر خير من ألف شهر، يعني تزيد على ثمانين عامًا، وهي عمر طويل لو قضاه الإنسان كله في طاعة الله فليلة واحدة، وهي ليلة القدر، خير منه وأفضل، وهذا فضل عظيم وثواب جزيل وخير عميم، من وُفق لها يُغفر له ما تقدم من ذنبه فيكون من الذنوب التي فَعلها كيوم ولدته أمه.
عبدَ الله جِد واجتهد وشمِّر ونافس في الأعمال الصالحة، لعلك تدرك ليلة القدر وتفوز بالعتق والأجر وجائزة الرب، لعلك تكون من المقبولين، لعل الرحيم الرحمن ينظر إليك فيرحمك رحمة لا تشقى بعدها أبدًا، فما هي إلا أيام وساعات فنافس وسارع وسابق أيامًا معدودات، جد فيما بقي منها.
9 - يختص بمزيد من الطاعات: من فضائل شهر رمضان أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يعتكف فى العشر الأواخر من رمضان، وكان يخصُّ هذا الشهر بمزيدٍ من العبادة. ففي «الصحيحين»
(1) عن عائشة رضي الله عنها: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ شَدَّ مِئْزَرَهُ، وَأَحْيَا لَيْلَهُ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ». وفي «الصحيحين»
(2) عن أبي سعيد الخدرى رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَعْتَكِفُ في الْعَشْرِ الْأَوْسَطِ مِنْ رَمَضَانَ، فَاعْتَكَفَ عَامًا، حَتَّى إِذَا كَانَ لَيْلَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ - وَهِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي يَخْرُجُ مِنْ صَبِيحَتِهَا مِنْ اعْتِكَافِهِ - قَالَ: «مَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعِي فَلْيَعْتَكِف الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ».
قال ابن رجب
(3): فمعنى الاعتكاف وحقيقته: قطع العلائق عن الخلائق للاتصال بخدمة الخالق، وكلما قويت المعرفة بالله والمحبة له والأنس به، أورثت صاحبها الانقطاع إلى الله تعالى بالكلية، على كل حال كان بعضهم لا يزال منفردًا فى بيته خاليًا بربه، فقيل له: أما تستوحش؟ قال: كيف أستوحش وهو يقول: «أنا جليس من
--------------------------------------------
হে মুসলিমগণ, এই বরকতময় রাতগুলোতে ইবাদতে সচেষ্ট হোন; কেননা এটি জীবনের এক শ্রেষ্ঠ সুযোগ, আর সুযোগ চিরস্থায়ী হয় না। আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, লাইলাতুল কদর এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম, অর্থাৎ তা আশি বছরেরও বেশি সময়ের সমান। এটি এক দীর্ঘ জীবন, যদি মানুষ তার পুরো সময়টা আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করে; অথচ একটি মাত্র রাত—লাইলাতুল কদর—তার চেয়েও উত্তম ও শ্রেষ্ঠ। এটি এক মহান অনুগ্রহ, বিশাল প্রতিদান এবং ব্যাপক কল্যাণ। যাকে এর তাওফিক দেওয়া হয়, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়, ফলে সে তার কৃত গুনাহসমূহ থেকে এমনভাবে পবিত্র হয় যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন।
হে আল্লাহর বান্দা, নেক আমলের ক্ষেত্রে সচেষ্ট হও, কঠোর পরিশ্রম করো, কোমর বেঁধে লেগে যাও এবং প্রতিযোগিতা করো; যাতে তুমি লাইলাতুল কদর লাভ করতে পারো এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি, মহাপুরস্কার ও রবের পক্ষ থেকে পুরস্কার অর্জন করে সফল হতে পারো। হতে পারে তুমি কবুলকৃতদের অন্তর্ভুক্ত হবে। হতে পারে পরম দয়ালু ও করুণাময় আল্লাহ তোমার দিকে দয়ার দৃষ্টি দেবেন এবং তোমাকে এমন রহমত করবেন যার পর তুমি আর কখনো দুর্ভাগা হবে না। এটি তো মাত্র কয়েক দিন ও কয়েক ঘণ্টার ব্যাপার, তাই এই গণনা করা দিনগুলোতে প্রতিযোগিতা করো, দ্রুত করো এবং অগ্রগামী হও। যা অবশিষ্ট আছে তাতে পূর্ণ প্রচেষ্টা ব্যয় করো।
৯ - অতিরিক্ত ইবাদত ও আনুগত্যের বিশেষত্ব: রমজান মাসের অন্যতম মর্যাদা হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন এবং তিনি এই মাসকে অতিরিক্ত ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করতেন। ‘সহীহাইন’
(১)-এ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: “যখন (রমজানের শেষ) দশ দিন প্রবেশ করত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর লুঙ্গি শক্ত করে বাঁধতেন, রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং তাঁর পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন।” ‘সহীহাইন’
(২)-এ আবু সাঈদ খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজানের মধ্য দশকে ইতিকাফ করতেন। এক বছর তিনি ইতিকাফ করলেন, এমনকি যখন একুশতম রাত এল—যে রাতের পরদিন সকালে তিনি তাঁর ইতিকাফ থেকে বের হতেন—তখন তিনি বললেন: “যে ব্যক্তি আমার সাথে ইতিকাফ করেছে, সে যেন শেষ দশকেও ইতিকাফ করে।”
ইবনে রাজাব
(৩) বলেন: ইতিকাফের অর্থ ও প্রকৃত হাকিকত হলো—সৃষ্টিকুলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে স্রষ্টার খিদমতে (ইবাদতে) যুক্ত হওয়া। আল্লাহর পরিচয়, তাঁর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর সান্নিধ্যের মাধুর্য যখনই শক্তিশালী হয়, তা ব্যক্তিকে সর্বাবস্থায় পূর্ণাঙ্গভাবে আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট করে তোলে। তাঁদের কেউ কেউ সর্বদা নির্জনে নিজের ঘরে রবের সাথে একাকী থাকতেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার কি একাকীত্ব বোধ হয় না? তিনি বললেন: কীভাবে আমার একাকীত্ব বোধ হবে অথচ তিনি বলেন: “আমি তার সঙ্গী যে...
--------------------------------------------