(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: -)
صفات الطائفة المنصورة ومفاهمها   (عدنان العرعور)

القسم: كتب عامة


الكتاب: صفات الطائفة المنصورة ومفاهمها

المؤلف: عدنان بن محمد آل عرعور

الناشر: مؤسسة قرطبة للطباعة والنشر والتوزيع، الجيزة - مصر

الطبعة: الثانية، 1416 هـ - 1995 م

عدد الصفحات: 99

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 14 جُمادَى الآخرة 1440

বিজয়প্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট্য ও তাদের ধারণাসমূহ   (আদনান আল-আর'উর)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি


গ্রন্থ: বিজয়প্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট্য ও তাদের ধারণাসমূহ

লেখক: আদনান বিন মুহাম্মদ আল আর'উর

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতু কুরতুবা লিত-তিবাআতি ওয়ান নাশর ওয়াত তাওজি, গিজা - মিশর

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪০

(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ১)
السبيل إلى منهج الطائفة المنصورة (5)

 

صفات الطائفة المنصورة ومفاهمها

 

بقلم

عدنان بن محمد آل عرعور

 

مؤسسة قرطبة طباعة - نشر - توزيع

ت: 535027
সাহায্যপ্রাপ্ত দলের (الطائفة المنصورة) মানহাজের (منهج) পথ (৫)

 

সাহায্যপ্রাপ্ত দলের (الطائفة المنصورة) বৈশিষ্ট্যসমূহ (صفات) ও এর ধারণাসমূহ

 

কলমে

আদনান বিন মুহাম্মদ আল আরুর

 

কুরতুবা প্রতিষ্ঠান মুদ্রণ - প্রকাশনা - বিতরণ

টেলিফোন: ৫৩৫০২৭
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ২)
السبيل إلى منهج الطائفة المنصورة (5)

 

صفات الطائفة المنصورة ومفاهيمها

 

القسم الخامس

بقلم

عدنان بن محمد آل عرعور
সাহায্যপ্রাপ্ত দলের মানহাজের পথ (৫)

 

সাহায্যপ্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট্য ও ধারণাসমূহ

 

পঞ্চম বিভাগ

কলমে

আদনান বিন মুহাম্মদ আল-আর'উর
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ৩)
حقوق الطبع محفوظة

الطبعة الثانية المزيدة والمنقحة

1416 هـ - 1995 م

 

مؤسسة منارة قرطبة

للجمع التصويري وتجهيزات الطباعة

64 ش الخليفة * مدينة الأندلس * الهرم * الجيزة
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দ্বিতীয় পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত সংস্করণ

১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

 

মুআসসাসাতু মানারাতি কুরতুবা

টাইপসেটিং ও মুদ্রণ প্রস্তুতির জন্য

৬৪ খলিফা স্ট্রিট * আন্দালুস সিটি * আল-হারাম * গিজা
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مُضِلَّ له، ومن يضلل فلا هاديَ له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عَبْدُهُ ورسولُهُ.

أما بعد:

وإنَّ كُلَّ مُنْصِفٍ واعٍ يَطَّلِعُ على هذا الواقع التعيس، ويتدبر ما قُدِّمَ في كتاب ((السبيل)) هذا من تحليلات شرعية لهذا الواقع يدرك أنه لا شفاء لهذه الأمة من أمراضها، ولا نجاة لها من مصائبها، ولا نصر لها على عدوها، ولا تمكين لها في أرض الله جميعًا إلا بالرجوع إلى دينها، شريطة التزام الضابط الذي يضبط لها الفهم الصحيح، والمنهج الذي ينير لها الدرب .. وحينئذ يوحَّد الفهم، ويتَّحد الطريق، فيكون الخير والفلاح.

وأَنَّ الله عز وجل لم يَدَعِ الأمر هملًا، كل يفهم دينه كما يرى، وكل يسير كما يجتهد، بل بَيَّنَ هذا الضابطَ بنفسه، ووضع هذا الميزان في كتابه؛ كي تقام الحجة، ويوحَّد المنهج.

وقد ثبت بالأدلة القطعية من الكتاب والسنة، وكلام الأئمة، والعقل
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের মন্দ দিক এবং আমাদের আমলের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই প্রতিটি সচেতন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি, যিনি এই শোচনীয় বাস্তবতাকে প্রত্যক্ষ করবেন এবং এই 'আস-সাবিল' গ্রন্থে বর্তমান পরিস্থিতির যে শরয়ি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবেন, তিনি উপলব্ধি করবেন যে—এই উম্মতের ব্যাধি থেকে মুক্তি, মুসিবত থেকে নাজাত, শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় এবং আল্লাহর জমিনে কর্তৃত্ব লাভ কেবল তার দ্বীনের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই সম্ভব। তবে শর্ত হলো এমন মূলনীতি (الضابط) মেনে চলা যা সঠিক বুঝকে সুসংহত করে এবং এমন মানহাজ (المنهج) অনুসরণ করা যা পথকে আলোকিত করে। তখন বুঝ বা অনুধাবন একীভূত হবে এবং পথ অভিন্ন হবে, ফলে কল্যাণ ও সাফল্য আসবে।

আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বিষয়টিকে লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি যে, প্রত্যেকে তার নিজ খেয়ালখুশিমতো দ্বীন বুঝবে এবং যে যার মতো ইজতিহাদ করবে; বরং তিনি নিজেই এই মূলনীতি (الضابط) স্পষ্ট করে দিয়েছেন এবং তাঁর কিতাবে এই মানদণ্ড স্থাপন করেছেন, যাতে প্রমাণ (الحجة) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মানহাজ (المنهج) একীভূত হয়।

আর এটি কুরআন, সুন্নাহ, ইমামগণের বক্তব্য এবং যুক্তিনির্ভর অকাট্য (القطعية) দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ৬)
السليم، والواقع المدروس على ضوء الكتاب والسنة وتحليلهما للأحداث؛ أن ضابط الفهم، وميزان العمل هو: ما كان عليه الصحابة -رضوان الله عليهم- ومن تبعهم بإحسان في العقيدة، والمنهج، والشريعة، والسلوك، وأنهم الطائفة المنصورة، والفرقة الناجية.

وأن لهذه الطائفة الوحيدة أصولًا، وقواعدَ، ومنهجًا، ومفاهيمَ، وأسسًا، وصفاتٍ تتميز بها عن الطوائف المخطئة، والفرق المنحرفة.

وأن كل من خرج عن هذه المفاهيم والأصول فقد أبعد الفهم، وضل السبيل، كذلك كانت الطوائف مِنْ قَبْلُ، وكذلك ستكون الطوائف مِنْ بَعْدُ، مهما كانت نِيَّاتُهُمْ، ومهما كانت تضحياتهم، ومهما كانت أدلتهم، وستبقى هذه الجماعات تعيش في تمزقها، وَتَرْسُفُ (1) في ضعفها، وتراوح في مكانها .. تلهث ولا تسير، تسقط ولا تنهض، تصرخ ولا تعمل .. تقوم من مصيبة لتقع في كارثة .. وتخرج من كيد لتسقط في فخ، وستبقى هكذا حتى تدرك هذا المنهج، وتسلك هذا السبيل، سبيلَ الطائفة المنصورة {وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ بِنَصْرِ اللَّهِ}.

وإلا فستظل هذه الْفِرَقُ تتخبط في تِيهِهَا مهما بذلت، ومهما اجتهدت {فَسَتَذْكُرُونَ مَا أَقُولُ لَكُمْ وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّهِ} .. إلى أن تدرك هذه الحقيقة، حقيقة اتباع منهج الفرقة الناجية، وعندئذ يتحقق وعد الله، ويتنزل نصره.

{وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا}.

--------------------------------------------

(1) رَسَفَ يَرْسُفُ ويَرْسِفُ: مَشَى مَشْيَ الْمُقَيَّدِ إِذا جاءَ يَتَحَامَلُ برِجْلِهِ مَعَ القَيْدِ. [هذه الحاشية في النسخة الإلكترونية فقط وليست بالمطبوع (مُعِدُّه للشاملة)]
সুস্থ বিবেক এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পর্যালোচিত বাস্তবতা ও ঘটনাবলির বিশ্লেষণ অনুযায়ী বুঝের মাপকাঠি এবং আমলের মানদণ্ড হলো: আকিদাহ (العقيدة), মানহাজ (المنهج), শরীয়াহ (الشريعة) ও আচরণের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنهم) এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণ যাঁর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আর তাঁরাই হলো সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة) এবং মুক্তিপ্রাপ্ত দল (الفرقة الناجية)।

এবং এই একমাত্র দলের কিছু উসুল (أصول), কাওয়ায়েদ (قواعد), মানহাজ (المنهج), ধারণা, ভিত্তি ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা ভ্রান্ত দল ও বিচ্যুত দলসমূহ (الفرق) থেকে স্বতন্ত্র হয়ে থাকে।

আর যে কেউ এই ধারণা ও উসুল (أصول) থেকে বিচ্যুত হয়েছে, সে সঠিক বুঝ থেকে দূরে সরে গেছে এবং পথভ্রষ্ট হয়েছে। পূর্ববর্তী দলগুলোও যেমন ছিল এবং পরবর্তী দলগুলোও তেমনই হবে—তাদের নিয়ত যাই হোক না কেন, তাদের ত্যাগ যাই হোক না কেন এবং তাদের দলিল-প্রমাণ যাই হোক না কেন। আর এই দলগুলো তাদের বিভক্তির মধ্যেই নিমজ্জিত থাকবে এবং তাদের দুর্বলতার শিকলে ধুঁকতে থাকবে (১), তারা একই স্থানে থমকে থাকবে... তারা হাঁপাবে কিন্তু চলতে পারবে না, পড়ে যাবে কিন্তু উঠতে পারবে না, চিৎকার করবে কিন্তু কাজ করবে না... তারা এক বিপদ থেকে উঠে আরেক মহাবিপদে নিপতিত হবে... এবং এক ষড়যন্ত্র থেকে বেরিয়ে আরেক ফাঁদে পা দেবে। তারা এভাবেই চলতে থাকবে যতক্ষণ না তারা এই মানহাজ (المنহج) উপলব্ধি করবে এবং এই পথে চলবে—যা সাহায্যপ্রাপ্ত দলের (الطائفة المنصورة) পথ—{আর সেদিন মুমিনরা আল্লাহর সাহায্যে আনন্দিত হবে}।

অন্যথায় এই দলগুলো (الفرق) তাদের বিভ্রান্তির মধ্যেই হাবুডুবু খাবে, তারা যতই শ্রম দিক আর যতই ইজতিহাদ (اجتهاد) করুক না কেন—{অচিরেই তোমরা স্মরণ করবে যা আমি তোমাদের বলছি এবং আমি আমার বিষয়টি আল্লাহর কাছে সোপর্দ করছি}... যতক্ষণ না তারা এই সত্যটি উপলব্ধি করে; অর্থাৎ মুক্তিপ্রাপ্ত দলের (الفرقة الناجية) মানহাজ (المنهج) অনুসরণের বাস্তবতা। আর তখনই আল্লাহর অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হবে এবং তাঁর সাহায্য অবতীর্ণ হবে।

{তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের ওয়াদা দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে খেলাফত দান করবেন যেভাবে তাদের পূর্ববর্তীদের দান করেছিলেন এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ের অবস্থার পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না।}

--------------------------------------------

(১) রাসাফা-ইয়ারসুফু/ইয়ারসিফু: শিকলে আবদ্ধ ব্যক্তির মতো চলা, যখন সে শিকল পরিহিত অবস্থায় পায়ের ভার নিয়ে অনেক কষ্টে হাঁটে। [এই টীকাটি শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক সংস্করণে রয়েছে, মূল মুদ্রিত কপিতে নেই (শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকৃত)]
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ৭)
وبناء على هذا؛ فاعلم أنه لا هداية للعبد دون السير على طريق أهل السنة والجماعة، وأنه لا سير صحيحًا إلا بعد معرفة ((السبيل)).

وأنه لا سبيل لتوحيد الأمة الإسلامية وتمكينها إلا بمعرفة معالم الطائفة المنصورة، والالتزام بها.

وفضلًا عَمَّا سبق فإنه لا نجاة للعبد من عذاب الله يوم القيامة، ولا فَوْزَ بالجنة إلا باعتقاد عقيدة الفرقة الناجية، والسير على منهاجها ..

وهاك ((السبيل)) بأجزائه خطوة جادة عملية وشرعية واقعية لرسم الطريق الأقوم لنهوض هذه الأمة من كبوتها، واستفاقتها من غفوتها؛ لتكون الأمة التي أرادها الله تعالى.

فليس المقصود بهذا الكتاب رجلًا معينًا، ولا جماعة مخصوصة، بقدر ما هو تشخيص حقيقي لواقع مؤلم، ومعالجة صحيحة لهذا الواقع، فضلًا عن أنه سَعْيٌ صادق، وخطوة منضبطة لتوجيه هذه الصحوة، وتأصيلها، وتوعية أفرادها، وتثبيتهم على الحق والمنهج المثمر، لا تربيتهم على العاطفة الجيَّاشة، والحماسة المؤقتة، اللتين تزولان بصيحة، وتنطفئان بنفخة … وهذا هو الذي يُفْرِحُ أعداءهم، إذ إليه يَصْبُونَ، ومنه يخترقون .. وبتأصيلهم وحسن تربيتهم يبقون ما بقي الحق، ويصمدون كما صمد الأنبياء، فينالون ما نالوا من التوفيق في الدنيا، والفوز في الآخرة.

ويكفينا عبرة ما حل بنا من كوارث، وما نصبت لنا من أفخاخ، وآن لنا أن ندرك الطريق المستقيم، ونسلك المحجة الواضحة.

وقد ذُكِرَ في الجزء الأول منه: الواقع المضطرب الذي يعيشه العالم، والحال المؤلمة التي يعيش فيها عالمنا الإسلامي، وَبُيِّنَ فيه الأسباب الحقيقية الكامنة
এর ওপর ভিত্তি করে; জেনে রাখুন যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পথ অনুসরণ করা ব্যতিরেকে কোনো বান্দার হিদায়াত লাভ করা সম্ভব নয়, এবং 'আস-সাবিল' (পথ) চেনা ছাড়া কোনো সঠিক (صحيح) পথচলা নেই।

আর বিজয়প্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট্যসমূহ জানা এবং তা আঁকড়ে ধরা ছাড়া মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও তাদের শক্তিশালীকরণের কোনো পথ নেই।

পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর পাশাপাশি, কিয়ামতের দিন আল্লাহর আজাব থেকে কোনো বান্দার নাজাত এবং জান্নাত লাভ সম্ভব নয় মুক্তিপ্রাপ্ত দলের আকিদাহ পোষণ করা এবং তাদের মানহাজের ওপর চলা ব্যতীত...

আর এই হলো 'আস-সাবিল' (পথ) এবং এর বিভিন্ন খণ্ড; যা এই উম্মাহর স্থবিরতা থেকে উত্তরণ এবং গাফিলতি থেকে জাগ্রত করার মাধ্যমে একটি বলিষ্ঠ পথ নির্মাণের জন্য একটি ঐকান্তিক, ব্যবহারিক, শরয়ি এবং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ; যাতে এই উম্মাহ তেমনই হতে পারে যা আল্লাহ তাআলা চেয়েছেন।

এই কিতাবের উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়, বরং এটি একটি যন্ত্রণাদায়ক বাস্তবতার প্রকৃত বিশ্লেষণ এবং সেই বাস্তবতার একটি সঠিক (صحيح) সমাধান। অধিকন্তু এটি একটি ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং এই জাগরণকে দিকনির্দেশনা প্রদান, এর তাত্ত্বিক ভিত্তি সুদৃঢ়করণ, এর কর্মীদের সচেতন করা এবং তাদেরকে সত্য ও ফলপ্রসূ মানহাজের ওপর অটল রাখার একটি সুশৃঙ্খল পদক্ষেপ; তাদের কেবল প্রবল আবেগ এবং সাময়িক উত্তেজনার ওপর লালন করা এর উদ্দেশ্য নয়, যা একটি হুংকারে বিলীন হয়ে যায় এবং এক ফুঁৎকারে নিভে যায় … আর এটাই তাদের শত্রুদের আনন্দিত করে, কারণ তারা এটাই কামনা করে এবং এর মাধ্যমেই তারা অনুপ্রবেশ করে... তবে তাদের তাত্ত্বিক ভিত্তি সুদৃঢ়করণ ও উত্তম তারবিয়াতের মাধ্যমে তারা সত্যের স্থায়িত্বের ন্যায় টিকে থাকবে এবং তারা নবীদের মতো অটল থাকবে; ফলে তারা দুনিয়াতে তাওফিক এবং আখিরাতে সফলতা লাভ করবে।

আমাদের ওপর যে বিপর্যয় নেমে এসেছে এবং আমাদের জন্য যে ফাঁদ পাতা হয়েছে, শিক্ষা নেওয়ার জন্য তাই যথেষ্ট; আর এখনই সময় যে আমরা সিরাতুল মুস্তাকিমকে অনুধাবন করি এবং স্বচ্ছ ও শুভ্র পথে চলি।

এর প্রথম খণ্ডে আলোচনা করা হয়েছে: বর্তমান বিশ্ব যে অস্থির বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং আমাদের মুসলিম বিশ্ব যে বেদনাদায়ক পরিস্থিতির শিকার, আর তাতে নিহিত প্রকৃত কারণসমূহ সেখানে বর্ণনা করা হয়েছে
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ৮)
وراء هذا الضعف .. من جهل بحقيقة هذا الدين وأهدافه، وتفرق مُخْزٍ، وفقدان للإخلاص والذات، فضلًا عَمَّا يكيده أعداء الله بهذه الأمة، وما يتربصون بها.

كما ذُكِرَ فيه أخطاء التشخيص والمعالجة المرتجلة، وصور مؤلمة من صور التربية التي تمارسها بعض الجماعات الإسلامية، ثم ذُكِرَ طريق العلاج، وسبيل النجاة، وعواصم الحفظ.

وَوُضِّحَ في الجزء الثاني منه السبيل الأمثل والوحيد لضبط فهم الكتاب والسنة، والذي به يزول الخلاف، وتتوحد الأمة، وهو أصل أصول الطائفة المنصورة، ثم ذُكِرَ فيه أصلان من أصولها.

وَعُرِّجَ في الجزء الثالث على أصلٍ عظيمٍ من أصولِ الطائفةِ المنصورةِ، وسبيلٍ قَوِيمٍ من سُبُلِهَا يُبَيِّنُ سببَ الانحرافِ وَخُطُورَتَهُ، ومعنى الاتباع ووجوبه، ومعنى الابتداع وحرمته، وعلامات كل من أصحاب الطريقين، ثم خُتِمَ ببعض قواعد الإنصاف التي تضبط المسلم على الصراط، وَتَقِيهِ من الانحراف، مِنْ غَيْرِ جَفَاءٍ مُنَفِّرٍ، وَلَا غُلُوٍّ مَقِيتٍ، وَلَا تَسَاهُلٍ مُشِينٍ.

وفي الجزء الرابع: عُرِضَ الأصل الرابع: السمع والطاعة وحدودهما، وحال المسلمين منهما.

وَفُصِّلَ في الأصل الخامس موقفُ العقل من الشرع، وحكم تعارضهما، وموقف الطوائف الأخرى من هذا الأصل العظيم.

وَبُيِّنَ فيه أيضًا الأصلُ السادس: التوفيق بين النصوص، وطرقه، ووجوهه، وهذا الأصل هو فَصْلُ الخطاب بين الطائفة المنصورة وطوائف الضلال الذين يضربون النصوص بَعْضَهَا ببعض، فلا يدركون توفيقًا، ولا يحسنون جمعًا.

وَذُكِرَ فيه أمثلة مفيدة من الكتاب والسنة على ذلك، تُنِيرُ لطالب العلم
এই দুর্বলতার পেছনে রয়েছে দ্বীনের প্রকৃত স্বরূপ ও এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা, লজ্জাজনক অনৈক্য, ইখলাস ও আত্মপরিচয়ের অভাব; সেই সাথে আল্লাহর শত্রুরা এই উম্মতের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র করছে এবং যে সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।

এতে সমস্যা চিহ্নিতকরণের ভুলসমূহ ও তাৎক্ষণিক প্রতিকার ব্যবস্থার পাশাপাশি কিছু ইসলামি দল কর্তৃক পরিচালিত তারবিয়াতের বেদনাদায়ক চিত্রগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। অতঃপর চিকিৎসার পথ, নাজাতের উপায় এবং সুরক্ষার মাধ্যমসমূহ বর্ণিত হয়েছে।

এর দ্বিতীয় খণ্ডে কিতাব ও সুন্নাহর সঠিক বুঝ (فهم) অর্জনের সর্বোত্তম ও একমাত্র পথ স্পষ্ট করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মতভেদ দূর হয় এবং উম্মত ঐক্যবদ্ধ হয়। আর এটিই হলো তায়েফায়ে মানসুরার মূল নীতিসমূহের ভিত্তি। এরপর এতে তাদের আরও দুটি মূল নীতি উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃতীয় খণ্ডে তায়েফায়ে মানসুরার অন্যতম একটি মহান মূল নীতি এবং একটি সুদৃঢ় পথ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা বিচ্যুতি (انحراف)-এর কারণ ও তার ভয়াবহতা বর্ণনা করে। সেই সাথে অনুসরণের (اتباع) অর্থ ও এর আবশ্যকতা (وجوب), এবং বিদআতের (ابتداع) অর্থ ও এর নিষিদ্ধতা (حرمة) বর্ণনা করে। এছাড়াও উভয় পথের অনুসারীদের নিদর্শনাবলীও উল্লেখ করা হয়েছে। অতঃপর এটি ইনসাফের কিছু মূলনীতির মাধ্যমে সমাপ্ত করা হয়েছে, যা একজন মুসলিমকে সঠিক পথে অবিচল রাখে এবং তাকে বিচ্যুতি (انحراف) থেকে রক্ষা করে—কোনো বিকর্ষণমূলক উদাসীনতা (جفاء), ঘৃণাভরা অতিরঞ্জন (غلو) কিংবা লজ্জাজনক শিথিলতা (تساهل) ছাড়াই।

চতুর্থ খণ্ডে: চতুর্থ মূল নীতি—শ্রবণ ও আনুগত্য (السمع والطاعة), এদের সীমারেখা এবং এ বিষয়ে মুসলিমদের অবস্থা উপস্থাপিত হয়েছে।

পঞ্চম মূল নীতিতে শরয়ি বিধানের বিপরীতে বিবেকের অবস্থান, এদের মধ্যে বৈপরীত্য (تعارض)-এর হুকুম এবং এই মহান মূল নীতির ব্যাপারে অন্যান্য দলসমূহের অবস্থান বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এতে ষষ্ঠ মূল নীতিটিও বর্ণনা করা হয়েছে: দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় (التوفيق), এর পদ্ধতিসমূহ ও দিকসমূহ। এই মূল নীতিটিই হলো তায়েফায়ে মানসুরা এবং সেইসব ভ্রষ্ট দলের (طوائف الضلال) মধ্যে চূড়ান্ত ফয়সালা, যারা দলীলসমূহের একটিকে অন্যটির বিরুদ্ধে দাঁড় করায়; ফলে তারা কোনো সমন্বয় (توفيق) করতে পারে না এবং সঠিকভাবে দলীলসমূহকে একত্রও করতে পারে না।

এতে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে এ বিষয়ে কিছু উপকারী উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইলম অন্বেষণকারীর (طالب العلم) জন্য আলোকবর্তিকা স্বরূপ।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ৯)
سبيلَ هذا الأصل، وَتُبَيِّنُ له أن أصل ضلال الطوائف الأخرى هو إعراضهم عن هذا الأصل العظيم.

وفي هذا الجزء:

ذُكِرَ ثلاث صفات من صفات الطائفة المنصورة، والتي يمكن للمرء أن يميز بها طائفة الحق عن طوائف الضلالة، وَضُرِبَتْ أمثلة واقعية؛ لتوضيح هذه الصفات، وفهمها.

كما ذُكِرَ ثلاثة مفاهيم من مفاهيم هذه الطائفة، تُجَلِّي حقيقةَ واقع المسلمين، والأسباب الحقيقية الكامنة وراء هذا الضعف الذي كان وراء هذا الذل الذي تعيشه أمتنا الإسلامية.

ثُمَّ ذُكِرَ إشكالات مهمة لبعض الجماعات الإسلامية، وَأَجَبْتُ عنها، مثل: ((إلى متى نُرَبِّي؟ ))، ((نحن نُرَبِّي وهم يهدمون))، إلى غير ذلك من حديث الصحوة الإسلامية.

وسيتتابع السبيل -إن شاء الله- في أجزائه القادمة على ذِكْرِ بقية أصول الطائفة الناجية التي بالتزامها يزول الخلاف، وعلى ذِكْرِ صفاتها التي بها تتميز عن الطوائف الأخرى، ومفاهيمها التي بها يُوَضَّحُ طريقُ تَشْخِيصِ أمراضِ الأمةِ، وَسُبُلُ معالجتها، ثُمَّ النهوضِ بها.

وَمَنْ رَأَى فِي هَذَا الْكِتَابِ شَيْئًا فَلْيَتَدَبَّرْ قَبْلَ أَنْ يَتَعَجَّلَ، وَلْيَسْتَفْصِلْ قَبْلَ أَنْ يَحْكُمَ، وَلْيَنْصَحْ قَبْلَ أَنْ يَفْضَحَ، وَمَنْ خَالَفَ شَيْئًا مِنْ هَذَا فَقَدِ اتَّصَفَ بِصِفَةٍ مِنْ صِفَاتِ الْمُنَافِقِينَ.

ولقد ذكرتُ سِرَّ كثرة استشهادي بأقوال الداعية سيد قطب رحمه الله في الجزء الأول، فَلْتُرَاجَعْ.
এই মূলনীতির পথ এবং তাকে এটি স্পষ্ট করে দেওয়া যে, অন্যান্য দলসমূহের পথভ্রষ্টতার মূল কারণ হলো এই মহান মূলনীতি থেকে তাদের বিমুখতা।

এবং এই অংশে:

সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে তিনটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সত্যের দলকে ভ্রান্ত দলসমূহ থেকে পৃথক করতে পারে; এবং এই বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্ট করার ও অনুধাবনের জন্য বাস্তব উদাহরণ পেশ করা হয়েছে।

একইভাবে এই দলের তিনটি মূল ধারণা উল্লেখ করা হয়েছে, যা মুসলমানদের বাস্তব চিত্রকে পরিস্ফুট করে এবং আমাদের ইসলামী উম্মাহ যে লাঞ্ছনার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছে, তার পেছনে বিদ্যমান এই দুর্বলতার প্রকৃত কারণগুলো উন্মোচন করে।

এরপর কিছু ইসলামী জামাতের গুরুত্বপূর্ণ সংশয় বা আপত্তিগুলো উল্লেখ করা হয়েছে এবং আমি সেগুলোর উত্তর দিয়েছি, যেমন: "কতদিন পর্যন্ত আমরা গড়ে তুলব?", "আমরা গড়ছি অথচ তারা ধ্বংস করছে"—ইসলামী জাগরণ সংক্রান্ত এই জাতীয় অন্যান্য আলোচনাও এখানে রয়েছে।

আর ইনশাআল্লাহ পরবর্তী অংশগুলোতে মুক্তিপ্রাপ্ত দল (الطائفة الناجية)-এর অবশিষ্ট মূলনীতিগুলো ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হবে, যা অনুসরণের মাধ্যমে মতভেদ দূর হয়; এবং তাদের সেই সব বৈশিষ্ট্য যা তাদের অন্যান্য দল থেকে পৃথক করে এবং তাদের সেই সব ধারণা যা উম্মাহর রোগ নির্ণয় ও তার চিকিৎসার পথ এবং এরপর উম্মাহর পুনর্জাগরণের পথকে স্পষ্ট করে।

যে ব্যক্তি এই কিতাবে কোনো কিছু দেখবে, সে যেন তাড়াহুড়া করার আগে চিন্তা-গবেষণা করে, সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে বিস্তারিত অনুসন্ধান করে এবং বিদ্রূপ করার আগে উপদেশ প্রদান করে। আর যে ব্যক্তি এর কোনো কিছুর বিপরীত করবে, সে মুনাফিকদের গুণাবলির মধ্য হতে একটি গুণে গুণান্বিত হবে।

আমি প্রথম খণ্ডে দাঈ সাইয়্যেদ কুতুব (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর উক্তিগুলো অধিক পরিমাণে উদ্ধৃত করার কারণ উল্লেখ করেছি, সুতরাং তা দেখে নেওয়া যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ১০)
واللهَ أسألُ أن ينفع به، وأن يجعله خالصًا لوجهه .. وما كان من خطأ فمن نفسي والشيطان، وما كان من صواب فمن توفيق الرحمن، وصلى الله وسلم على النبي المختار، وعلى آله وصحبه البررة الأخيار، وعلى من تبعهم بإحسان إلى يوم القرار، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

وكتبه

عدنان بن محمد آل عرعور
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর দ্বারা (মানুষকে) উপকৃত করেন এবং একে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। যা কিছু ভুল তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর যা কিছু সঠিক তা পরম করুণাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তাওফিকের ফসল। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মনোনীত নবীর ওপর এবং তাঁর পুণ্যবান ও শ্রেষ্ঠ পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, আর বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর। আমাদের শেষ নিবেদন হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

লিখেছেন

আদনান বিন মুহাম্মদ আল-আরূর
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ১১)
مباحث هذا الجزء

- المقدمة.

- من صفات الطائفة المنصورة.

الأولى: صفة الاستمرارية.

الثانية: صفة الاجتماع على التوحيد والمنهاج، والمفارقة عليها.

الثالثة: صفة الشمولية.

 

- من مفاهيم الطائفة المنصورة.

الأول: كل ما أصابنا فَبِمَا كسبتْ أيدينا.

الثاني: تغيير واقعنا إنما يكون بتغيير ما بنفوسنا.

الثالث: تربية الفرد ووحدة الصف قبل مناجزة العدو.

- خلاصة ما في الأجزاء السابقة.
এই খণ্ডের আলোচ্য বিষয়সমূহ

- ভূমিকা।

- বিজয়ী দল (الطائفة المنصورة)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে।

প্রথম: ধারাবাহিকতার বৈশিষ্ট্য।

দ্বিতীয়: তাওহিদ ও মানহাজ (المنهاج)-এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং এর ভিত্তিতেই পৃথক হওয়ার বৈশিষ্ট্য।

তৃতীয়: সামগ্রিকতার বৈশিষ্ট্য।

 

- বিজয়ী দল (الطائفة المنصورة)-এর ধারণাসমূহ থেকে।

প্রথম: আমাদের ওপর যা কিছু আপতিত হয়, তা আমাদের কৃতকর্মেরই ফল।

দ্বিতীয়: আমাদের পরিস্থিতির পরিবর্তন কেবল তখনই সম্ভব, যখন আমরা আমাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ অবস্থার পরিবর্তন করব।

তৃতীয়: শত্রুর মোকাবিলা করার আগে ব্যক্তির গঠন বা তরবিয়ত (تربية) এবং ঐক্যের সংহতি।

- পূর্ববর্তী খণ্ডসমূহের সারসংক্ষেপ।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ১২)
مِنْ

صِفَاتِ الطَّائِفَةِ الْمَنْصُورَةِ النَّاجِيَةِ

 

اعلم -هداني الله وإياك- أنه كما للطائفة المنصورة أصول تتبناها، وقواعد تعمل بمقتضاها، فإن لها كذلك صفاتٍ تُعْرَفُ بها، وسماتٍ تُمَيِّزُهَا عن تلك الطوائف المنحرفة التي حَكَمَ عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم بالضلال في الدنيا، والعذاب بالنار يوم القيامة، أعاذنا الله وإياكم منها.

وأهم هذه الصفات:
থেকে

সাহায্যপ্রাপ্ত (الطائفة المنصورة) ও মুক্তিপ্রাপ্ত (الناجية) দলের বৈশিষ্ট্যসমূহ

 

জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে হেদায়েত দান করুন—যেমন সাহায্যপ্রাপ্ত দলের (الطائفة المنصورة) নির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি (أصول) রয়েছে যা তারা অবলম্বন করে এবং কিছু নিয়মাবলী (قواعد) রয়েছে যার ভিত্তিতে তারা আমল করে, ঠিক তেমনি তাদের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার মাধ্যমে তাদের চেনা যায় এবং এমন কিছু নিদর্শন রয়েছে যা তাদেরকে সেই বিচ্যুত দলগুলো থেকে পৃথক করে, যাদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়াতে পথভ্রষ্টতা (الضلال) এবং কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনের আজাবের ফয়সালা দিয়েছেন; আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের তা থেকে রক্ষা করুন।

আর এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الصفة الأولى من صفات الطائفة المنصورة:

صفة الاستمرارية

اعلم أن أول صفة تتميز بها الطائفة المنصورة عن الطوائف الضالة الأخرى هي صفة ((الاستمرارية)).

أي: إن الطائفة المنصورة مستمرة بوجودها، ومقوماتها، وأصولها، ودعوتها، ومنهجها، ورجالها، من لدن رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى ساعتنا هذه، بل إلى يوم القيامة (1).

 

‌‌ودليل هذا قوله تعالى:

{وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} [التوبة: 100].

ففي قوله تعالى: ((السابقون الأولون)) إشارة إلى تاريخ بدء هذه الجماعة، وإلى أنها أُنَاسٌ، لا منهج مجرد.

--------------------------------------------

(1) قد حصل بين بعض الإخوة الأفاضل خلاف في الطائفة المنصورة، هل هي منهاج وسلوك؟ أم طائفة من الناس؟

والصواب الذي لا ريب فيه هو ما ذكرناه في ((السبيل))، الطبعة الأولى، منذ سنين، وقبل نشوء هذا الخلاف، أن الطائفة المنصورة هي منهاج، وأصول، ومقومات، وسلوك، وطائفة من الناس، يسيرون على هذا السبيل، ولا معنى لمنهاج بلا طائفة، ولا لطائفة بلا منهاج، فتدبر هذا؛ فهو فصل الخطاب -إن شاء الله- في هذه المسألة.
সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে প্রথম বৈশিষ্ট্য:

অবিচ্ছিন্নতা বা ধারাবাহিকতার (الاستمرارية) বৈশিষ্ট্য

জেনে রাখুন যে, প্রথম যে বৈশিষ্ট্য দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة) অন্যান্য পথভ্রষ্ট দলগুলো থেকে স্বতন্ত্র হয়, তা হলো "অবিচ্ছিন্নতা" (الاستمرارية)।

অর্থাৎ: সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة) তার অস্তিত্ব, উপাদানসমূহ, মূলনীতিসমূহ (الأصول), দাওয়াত, মানহাজ (المنهج) এবং ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত, বরং কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে (১)।

 

‌আর এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী:

“মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী (السابقون الأولون) এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।” [আত-তাওবাহ: ১০০]।

সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী "প্রথম অগ্রগামী" (السابقون الأولون)-এর মধ্যে এই জামাতের সূচনাকালের ইতিহাসের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে এবং এটিও স্পষ্ট করে যে, তারা মূলত একদল মানুষ, কেবল বিমূর্ত কোনো মানহাজ (المنهج) নয়।

--------------------------------------------

(১) কিছু বরেণ্য ভাইদের মধ্যে সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة) সম্পর্কে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে যে, এটি কি কেবল একটি মানহাজ (المنهج) ও আচরণপদ্ধতি? নাকি এটি মানুষের একটি দল?

আর সঠিক ও নিঃসন্দিগ্ধ বিষয়টি হলো যা আমরা কয়েক বছর আগে এই মতপার্থক্য সৃষ্টি হওয়ার পূর্বে 'আস-সাবিল' গ্রন্থের প্রথম সংস্করণে উল্লেখ করেছি যে—সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة) হলো একই সাথে একটি মানহাজ (المنهج), কতিপয় মূলনীতি (الأصول), উপাদান, আচরণপদ্ধতি এবং একদল মানুষ যারা এই পথে চলেন। দলবিহীন মানহাজের যেমন কোনো অর্থ হয় না, তেমনি মানহাজবিহীন কোনো দলেরও সার্থকতা নেই। সুতরাং বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করুন; ইনশাআল্লাহ, এই বিষয়ে এটিই চূড়ান্ত ফয়সালা।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
وفي قوله تعالى: ((والذين اتبعوهم)) إشارة إلى استمرارية هذا الوجود، وعموميته، وعدم انقطاعه، وأن ثمة رجالًا مستمرون على هذا السبيل، وأن قِوَامَ هذا الاستمرار هو الاتباع ((اتَّبَعُوهُمْ)).

فإذا فُقِدَ حَمَلَة المنهج، أو انعدم شرط الاتباع، فَقَدَتِ الجماعة هذه الصفة؛ وبالتالي فليست هي الطائفة المنصورة.

 

‌‌من السنة:

ويؤيد هذا ويوضحه قوله صلى الله عليه وسلم:

((لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق حتى يأتيهم أمر الله وهم ظاهرون)) (1).

ففي قوله صلى الله عليه وسلم: ((لا تزال)) دلالة واضحة، وَبَيِّنَةٌ ناصعة، على صفة ((الاستمرارية)) للطائفة المنصورة.

وفي قوله صلى الله عليه وسلم: ((طائفة)) دليل على وجود الجماعة التي تَنْصُرُ قَتُنْصَرُ، وهي بمنزلة السند في الحديث، وهم كالسلسلة، تأخذ كلُّ حلقة بعنق أختها، بلا انقطاع زمني، ولا انفصال بشري.

وفي قوله صلى الله عليه وسلم: ((ظاهرين على الحق)) دليل على وجود المنهاج، والقيام بأمره، قولًا وعملًا، حركةً ورسمًا.

قال شيخ الإسلام: ((لَكِنَّ أهلَ السنة يَبْقَوْنَ، ويبقى ذِكْرُهُمْ، وأهل البدعة يموتون، ويموت ذكرهم)) (2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري رقم (7311، 7459، … )، ومسلم (3/ 1523)، وغيرهما.

(2) الفتاوى (28/ 38).
আর মহান আল্লাহর বাণী: ((এবং যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন))-এর মধ্যে এই অস্তিত্বের নিরন্তরতা, এর ব্যাপকতা এবং এর অবিচ্ছিন্নতার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। আরও নির্দেশ করে যে, সেখানে এমন একদল লোক সর্বদাই বিদ্যমান থাকবেন যারা এই পথে চলেন এবং এই নিরন্তরতার মূল ভিত্তি হলো অনুসরণ করা ((তাঁদের অনুসরণ করেছেন))।

সুতরাং যদি এই মানহাজের (পদ্ধতি) ধারক-বাহকগণ হারিয়ে যান অথবা অনুসরণের শর্তটি বিলুপ্ত হয়, তবে সেই জামাত এই বৈশিষ্ট্যটি হারাবে; ফলে তা আর সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة) হিসেবে গণ্য হবে না।

 

‌‌সুন্নাহ থেকে:

এর সমর্থন ও স্পষ্টীকরণ পাওয়া যায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীতে:

((আমার উম্মতের একটি দল সত্যের ওপর বিজয়ী অবস্থায় থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে এমতাবস্থায় যে তারা বিজয়ী থাকবে)) (১)।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: ((অবিরাম থাকবে))-এর মধ্যে সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة)-এর "নিরন্তরতা" বৈশিষ্ট্যের একটি সুস্পষ্ট দলিল ও উজ্জ্বল প্রমাণ বিদ্যমান।

আর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: ((একটি দল))-এর মধ্যে সেই জামাতের অস্তিত্বের প্রমাণ রয়েছে যারা সত্যকে সাহায্য করে এবং নিজেরাও সাহায্যপ্রাপ্ত হয়। এটি হাদিসের সনদ (سند)-এর সমতুল্য। তারা একটি শৃঙ্খলের মতো, যার প্রতিটি আংটা তার অপর আংটার সাথে যুক্ত থাকে; যেখানে কোনো সময়ের বিচ্ছেদ নেই এবং ব্যক্তিবর্গেরও কোনো বিচ্ছিন্নতা নেই।

আর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: ((সত্যের ওপর বিজয়ী))-এর মধ্যে মানহাজের অস্তিত্ব এবং কথা ও কাজে, চলনে ও বলনে এর আদেশ পালনে অটল থাকার প্রমাণ রয়েছে।

শাইখুল ইসলাম বলেন: ((কিন্তু আহলুস সুন্নাহ অবশিষ্ট থাকেন এবং তাঁদের চর্চাও অব্যাহত থাকে, আর বিদআতিরা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং তাদের নাম-নিশানাও মিটে যায়)) (২)।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী নং (৭৩১১, ৭৪৫৯, … ), মুসলিম (৩/ ১৫২৩) এবং অন্যান্যরা।

(২) আল-ফাতাওয়া (২৮/ ৩৮)।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
وإذن؛ فالطائفة المنصورة الناجية هي منهج، ومقومات، وجماعة، ورجالات، تقوم على هذا المنهج، وتستمسك بتلك المقومات، وهي ظاهرة على هذا، عقيدةً ومسلكًا، شريعةً، وخلقًا، وجهادًا بالقول، واللسان، والعمل، والسِّنَانِ، فتارة هذا، وتارة ذاك، حسب الظروف، والأحوال، ومقتضى الشريعة الْغَرَّاءِ.

وهكذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه ..

تارة يجاهدون بالقرآن: {وَجَاهِدْهُمْ بِهِ جِهَادًا كَبِيرًا} [الفرقان: 52].

وتارة بالدعوة: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} [النحل: 125].

وتارة بالسِّنَانِ: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ} [البقرة: 193].

وبناء على هذه الصفة -صفة الاستمرارية- فإن أَيَّ جماعة نشأت بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم بمنهج، أو تحزب، أو سياسة، أو تَفَرُّقٍ، أو خرجت عن الجماعة الأم بعقيدة، أو فكر، أو بابتداع، أو منهج، فهي جماعة مقطوعة السند، غير ناجية المآل؛ إذ لم يتحقق فيها شروط صحة السند، وهي: ((نقل العدل الضابط، عن العدل الضابط، إلى منتهاه، من غير شذوذ، ولا علة)).

فلا بُدَّ من أن يكون في أول السند الصحابةُ -رضوان الله عليهم- ثم في الطبقة الثانية التابعون من بعدهم، وهكذا إلى يومنا هذا .. جِيلٌ عَنْ جِيلٍ.

وفي حال إنشاء جماعة جديدة، بفكر جديد، أو منهاج جديد، أو رسم جديد، فالسند -والحال هذه- مرسل، منقطع، والطائفة هذه فاقدة لصفة الاستمرارية التي هي الفارق الأكبر، والميزة العظمى، فهي-إذن- ليست منصورة، ولا ناجية.

وانقطاع السند يؤدي إلى انحراف في المتن والمنهج، وهو ما يسميه
অতএব; সাহায্যপ্রাপ্ত ও মুক্তিপ্রাপ্ত দল (আল-ত্বয়িফাহ আল-মানসুরাহ আন-নাজিয়াহ) হলো একটি মানহাজ, কিছু মূলনীতি, একটি জামাআত এবং একদল ব্যক্তি, যারা এই মানহাজের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং সেই মূলনীতিগুলোকে আঁকড়ে ধরে থাকে। তারা এর ওপর অবিচল থাকে—আক্বিদা, কর্মপন্থা, শরিয়াহ, চরিত্র এবং কথা, জিহ্বা, আমল ও অস্ত্রের জিহাদের মাধ্যমে। কখনো এটি, আবার কখনো সেটি; যা পরিস্থিতি, পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং সমুজ্জ্বল শরিয়াহর চাহিদাধীন।

আর এভাবেই আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ ছিলেন...

কখনো তারা কুরআনের মাধ্যমে জিহাদ করতেন: {আর আপনি এর (কুরআনের) মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মহা জিহাদ পরিচালনা করুন} [আল-ফুরকান: ৫২]।

কখনো দাওয়াতের মাধ্যমে: {আপনি আপনার রবের পথের দিকে হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন} [আন-নাহল: ১২৫]।

কখনো অস্ত্রের মাধ্যমে: {আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয়} [আল-বাক্বারা: ১৯৩]।

আর এই বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে—অর্থাৎ ধারাবাহিকতার বৈশিষ্ট্য—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে যে দলই কোনো (ভিন্ন) মানহাজ, দলাদলি, রাজনীতি কিংবা বিভক্তির মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে, অথবা কোনো আকিদা, চিন্তা, বিদআত কিংবা নতুন কোনো মানহাজের মাধ্যমে মূল জামাআত থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তবে সেটি হলো বিচ্ছিন্ন সূত্র (مقطوعة السند) বিশিষ্ট একটি দল, যাদের শেষ পরিণতি মুক্তিদায়ক নয়। কারণ, তাদের মধ্যে সূত্রের বিশুদ্ধতার (صحة السند) শর্তাবলি পূরণ হয়নি, আর তা হলো: “একজন ন্যায়পরায়ণ (العدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (الضابط) বর্ণনাকারী কর্তৃক অপর একজন ন্যায়পরায়ণ (العدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (الضابط) বর্ণনাকারী থেকে শেষ পর্যন্ত এমনভাবে বর্ণনা করা, যাতে কোনো অস্বাভাবিকতা (شذوذ) বা সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) না থাকে।”

সুতরাং সূত্রের (السند) শুরুতে সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর অবস্থান থাকা আবশ্যক, এরপর দ্বিতীয় স্তরে (الطبقة) তাদের পরবর্তী তাবেয়ীগণ এবং এভাবেই আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত... প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

এমতাবস্থায় নতুন কোনো চিন্তা, নতুন মানহাজ বা নতুন কাঠামোর ভিত্তিতে কোনো নতুন দল গঠন করা হলে তাদের সূত্রটি (السند) হবে বিচ্ছিন্ন (مرسل) ও ছিন্ন (منقطع)। আর এই দলটি সেই ধারাবাহিকতার বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে যা হলো সবচেয়ে বড় পার্থক্যকারী এবং শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য। সুতরাং এটি সাহায্যপ্রাপ্তও নয় এবং মুক্তিপ্রাপ্তও নয়।

আর সূত্রের বিচ্ছিন্নতা (انقطاع السند) মূল পাঠ (المتن) ও মানহাজের বিচ্যুতি ঘটায়, যাকে বলা হয়...
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
الْمُحَدِّثُونَ: الشذوذَ والنكارةَ.

وهكذا كان شأن الطوائف التي خرجت عن الجماعة الأم، من خوارجَ، ومعتزلة، وغيرهم .. إنما ضَلُّوا لشذوذهم عن الصحابة، ولنكارة ما أحدثوه من فكر، وطرق.

وَكُلَّمَا طال الزمن زاد الانحراف، وازداد الضلال، كَضِلْعَيِ الزاوية تمامًا، كُلَّمَا امتدا [ابْتَعَدَ أَحَدُهُمَا عن الآخر]، كما سبق بيانه.

وكذلك كل طائفة انقرضت وانتهت، أو انقطع نَسْلُهَا، وبارت رجالها، فهي مُعَلَّقَةُ السند، وَمِنْ ثَمَّ فهي جماعة مبتورةُ الأثر، غير ناجية المآل، ولو أعاد سيرتها رجال بعد ذلك؛ لأنها فَقَدَتْ حلقاتٍ في سندها، وبذلك فَقَدَتْ صفة الاستمرارية التي هي شرطٌ في الجماعة الناجية.

والحقيقة: أن هذه الصفة -صفة الاستمرارية- من أبرز صفات الطائفة المنصورة تمييزًا لها عن الطوائف الهالكة، أو الطوائف النابتة.

إذ بسهولة ولأول وَهْلَةٍ يدرك المرء العاقل بهذه الصفةِ الطائفةَ الناجيةَ من غيرها، فهو يدرك أن الطائفة التي تُقِرُّ أنها تأسست منذ كذا وكذا، وأن مؤسسها فلان، هي طائفة حَكَمَتْ على نفسها، وشهدت بلسان مقالها وفعالها، أنها لا تتصف بصفة الاستمرارية التي هي من أهم صفات الطائفة المنصورة ومميزاتها على الطوائف الضالة، ذلك بأن الطائفة الناجية لا مؤسس لها إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم.
হাদিস বিশারদগণ (المحدثون): বিচ্যুতি (الشذوذ) এবং অগ্রহণযোগ্যতা (النكارة)।

আর মূল জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দলগুলোর অবস্থাও ছিল এমনই, যেমন: খারেজি, মুতাজিলা এবং অন্যান্যরা... তারা সাহাবীগণের পথ থেকে তাদের বিচ্যুতির (الشذوذ) কারণে এবং তারা যেসব চিন্তা ও পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিল তার অগ্রহণযোগ্যতার (النكارة) কারণেই পথভ্রষ্ট হয়েছে।

সময় যত অতিবাহিত হয়েছে বিচ্যুতি তত বেড়েছে এবং পথভ্রষ্টতা তত বৃদ্ধি পেয়েছে, ঠিক একটি কোণের দুটি বাহুর মতো; সেগুলো যত দীর্ঘ হয় [একটি অপরটি থেকে তত দূরে সরে যায়], যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

অনুরূপভাবে, প্রতিটি দল যা বিলুপ্ত ও সমাপ্ত হয়ে গেছে, অথবা যাদের অনুসারীদের ধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যাদের ব্যক্তিবর্গ বিলীন হয়ে গেছে, তারা মূলত বিচ্ছিন্ন সূত্রের (معلقة السند) অন্তর্ভুক্ত। ফলে তারা এমন এক দল যাদের প্রভাব ছিন্ন (مبتورة الأثر) এবং যাদের পরিণাম নাজাতপ্রাপ্ত নয়; যদিও পরবর্তীকালে কিছু লোক তাদের সেই ধারা পুনরায় ফিরিয়ে আনতে চায়। কারণ তারা তাদের সূত্রের (سند) ধারাবাহিকতা হারিয়েছে, আর এর মাধ্যমে তারা সেই নিরবচ্ছিন্নতার গুণটি হারিয়েছে যা নাজাতপ্রাপ্ত দলের (الجماعة الناجية) জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত।

প্রকৃত সত্য হলো: এই নিরবচ্ছিন্নতার বৈশিষ্ট্যটি সাহায্যপ্রাপ্ত দলের (الطائفة المنصورة) অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, যা তাদেরকে ধ্বংসপ্রাপ্ত বা নতুনভাবে গজিয়ে ওঠা দলগুলো থেকে পৃথক করে।

কেননা একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি এই বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমেই অতি সহজে এবং প্রথম দর্শনেই অন্য সব দল থেকে নাজাতপ্রাপ্ত দলটিকে (الطائفة الناجية) চিনতে পারেন। তিনি বুঝতে পারেন যে, যে দল স্বীকার করে যে তারা অমুক সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তাদের প্রতিষ্ঠাতা অমুক ব্যক্তি, তারা প্রকৃতপক্ষে নিজেদের বিরুদ্ধেই রায় দিল এবং নিজেদের কথা ও কাজের মাধ্যমে সাক্ষ্য দিল যে, তারা সেই নিরবচ্ছিন্নতার গুণে গুণান্বিত নয় যা সাহায্যপ্রাপ্ত দলের (الطائفة المنصورة) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এবং পথভ্রষ্ট দলগুলোর বিপরীতে তাদের প্রধান স্বাতন্ত্র্য। কারণ, নাজাতপ্রাপ্ত দলের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠাতা নেই।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
فلا تأسيس للطائفة المنصورة مُحْدَثٌ بعد التأسيس الأول، ولا فِكْرَ لها جديد، ولا عقيدة مبتدعة، ولا منهج لها مخترع.

{الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: 3].

((اتبعوا ولا تبتدعوا فَقَدْ كُفِيتُمْ، عليكم بالأمر العتيق)) (1)، أي: الأول الأصيل.

فاللهم هداك.

--------------------------------------------

(1) من قول ابن مسعود رضي الله عنه -
বিজয়ী দলের (الطائفة المنصورة) জন্য প্রথম প্রতিষ্ঠার পর নতুন কোনো ভিত্তি নেই, তাদের জন্য কোনো নতুন চিন্তা নেই, নেই কোনো নবউদ্ভাবিত (مبتدعة) আকিদাহ এবং নেই কোনো আবিষ্কৃত মানহাজ।

{আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম} [আল-মায়িদাহ: ৩]।

((তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করো না (ولا تبتدعوا), কারণ তোমাদের জন্য যা যথেষ্ট তা প্রদান করা হয়েছে; তোমরা আদি ও অকৃত্রিম রীতির (الأمر العتيق) ওপর অবিচল থাকো)) (১), অর্থাৎ: যা প্রথম এবং মৌলিক।

হে আল্লাহ! আপনি হেদায়েত দান করুন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাণী থেকে -
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الصفة الثانية للطائفة المنصورة:

الاجتماع على التوحيد والمنهاج، والمفارقة عليهما

فالطائفة المنصورة لا تجتمع على أساس إلا أساس التوحيد والمنهاج، ولا تفارق الناسَ إلا عليهما.

فلا يكون أُسُّ اجتماعها، ولا محور عملها، على فقه، ولا زهد، ولا سنة، ولا واجب، ولا سياسة، ولا جهاد، ولا رمز، ولا نسب، ولا تفترق لخلاف في سنة، أو واجب، أو مكروه، أو محرم، أو رجل، أو حسب، أو نزعات شخصية، أو خلافات إدارية، أو مواقف سياسية.

والمقصود بالاجتماع ههنا أن لا يكون أساس اجتماعها إلا على هذا، وَإِلَّا فالاجتماع على هذه الأمور الشرعية، والتعاون عليها، واجب معروف، وإنما يكون التوحيد ((العقيدة)) أساسها، والمنهج محورها، والإسلام إطارها، وطريق الطائفة المنصورة طريقها.

والمقصود بكون التوحيد أساسًا لها، والمنهج محورها، أي: لا تقبل في صفوفها إلا الموحدين، ولا تبدأ دعوتها إلا بالتوحيد، ولا تربي أتباعها إلا على الإيمان والتوحيد، ولا تسير إلا على منهاج عندها، فيه من الله برهان، ولا برهان إلا على منهج أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومن تبعهم بإحسان.

فعليهما تجتمع، وفيهما تفارق، وعليهما توالي، وفيهما تعادي.
বিজয়ী দলের (الطائفة المنصورة) দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য:

তাওহিদ (التوحيد) ও মানহাজের (المنهاج) ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং এ দুটির ভিত্তিতেই পৃথক হওয়া

বিজয়ী দল (الطائفة المنصورة) তাওহিদ (التوحيد) ও মানহাজের (المنهاج) ভিত্তি ছাড়া অন্য কোনো ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় না এবং এ দুটির ভিত্তি ব্যতিরেকে মানুষের থেকে পৃথক হয় না।

তাদের ঐক্যের মূল ভিত্তি কিংবা কর্মতৎপরতার কেন্দ্রবিন্দু ফিকহ, যুহদ (زهد), সুন্নাহ, ওয়াজিব (واجب), রাজনীতি, জিহাদ, কোনো ব্যক্তিত্ব বা বংশীয় পরিচয়ের ওপর হয় না। আবার কোনো সুন্নাহ, ওয়াজিব (واجب), মাকরুহ (مكروه), হারাম (محرم), ব্যক্তি, আভিজাত্য (حسب), ব্যক্তিগত প্রবৃত্তি, প্রশাসনিক মতপার্থক্য কিংবা রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তারা বিচ্ছিন্ন হয় না।

এখানে ঐক্যের উদ্দেশ্য হলো—তাদের ঐক্যের ভিত্তি যেন কেবল এগুলোর ওপরই হয়। অন্যথায়, শরয়ি বিষয়াদির ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং এগুলোতে একে অপরকে সহযোগিতা করা একটি সুপরিচিত ওয়াজিব (واجب)। তবে তাওহিদ (التوحيد) আকিদাহ (العقيدة) হবে তাদের ভিত্তি, মানহাজ (المنهج) হবে কেন্দ্রবিন্দু, ইসলাম হবে তাদের কাঠামো এবং বিজয়ী দলের (الطائفة المنصورة) পথই হবে তাদের পথ।

তাওহিদ (التوحيد) তাদের ভিত্তি এবং মানহাজ (المنهج) তাদের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার অর্থ হলো: তারা তাদের কাতারে কেবল মুওয়াহহিদদের (الموحدين) গ্রহণ করে, তাদের দাওয়াত তাওহিদ (التوحيد) দিয়েই শুরু করে এবং তাদের অনুসারীদের ইমান (الإيمان) ও তাওহিদের (التوحيد) ওপরই গড়ে তোলে। তারা কেবল এমন একটি মানহাজের (المنهاج) ওপর পরিচালিত হয় যার সপক্ষে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রমাণ বিদ্যমান। আর রাসুলুল্লাহ সালллаল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও যারা ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করেছেন তাদের মানহাজ (منهج) ব্যতীত অন্য কোনো প্রমাণ নেই।

সুতরাং এ দুটির ভিত্তিতেই তারা ঐক্যবদ্ধ হয়, এ দুটির কারণে বিচ্ছিন্ন হয় এবং এ দুটির ওপর ভিত্তি করেই বন্ধুত্ব (توالي) ও শত্রুতা (تعادي) পোষণ করে।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ১৯)
هكذا فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم في مكة، وهكذا دعا …

دعا ثلاثة عشر عامًا إلى التوحيد، والأخلاق، وشيء من العبادة، يجمع الناس على التوحيد، ويفرقهم عليه، حتى وصفته الملائكة أنه ((فرق بين الناس)) (1).

 

‌‌آصرة التجمع:

قال سيد رحمه الله:

((وَمِنْ ثَمَّ لم يكن بُدٌّ أن تتمثل القاعدة النظرية للإسلام -أي: العقيدة- (2) في تجمع عضوي حركي منذ اللحظة الأولى، تستهدف رَدَّ الناس إلى ألوهية الله وحده … ربوبيته، وقوامته، وحاكميته، وسلطانه، وشريعته … )).

ثم قال: ((وبعد: فإن الإسلام وهو يبني الأمة المسلمة على هذه القاعدة، وفق هذا المنهج … يجعل آصرة التجمع هي العقيدة)).

وقال: ((لأن وجود المجتمع المسلم لا يتحقق إلا بهذا)) (3).

 

‌‌ثم ماذا؟

ثم بعد ذلك يُجْتَمَعُ على العلم، والعمل، والعبادة، والسياسة، والجهاد، والزهد، كُلٌّ حسب ترتيبه الشرعي، وكلٌّ حسب اختصاصه.

فهي تعطي كل ذي حق حقه، وكل ذي حكم حكمه، من حيث الأهمية، والأولوية، والترتيب.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (8/ 139 و 140)، و (فرق) بتسكين الراء، أو تشديدها مع الفتح.

(2) هذا من كلامه رحمه الله، واعلم أن هذا مشروط بدفع الحزبية.

(3) المعالم (ص 50).
রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কায় এভাবেই করেছিলেন এবং এভাবেই তিনি দাওয়াত দিয়েছিলেন …

তিনি তেরো বছর যাবত তাওহিদ, চরিত্র এবং ইবাদতের কিছু বিষয়ের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন; তিনি মানুষকে তাওহিদের ওপর ঐক্যবদ্ধ করতেন এবং এর মাধ্যমেই তাদের পৃথক করতেন। এমনকি ফেরেশতাগণ তাঁর বর্ণনায় বলেছিলেন যে, তিনি হলেন "মানুষের মাঝে পার্থক্যকারী" (১)।

 

‌‌ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বন্ধন:

সায়েদ (রহ.) বলেন:

((অতএব, ইসলামের তাত্ত্বিক ভিত্তি —অর্থাৎ আকিদা— (২) প্রথম মুহূর্ত থেকেই একটি জৈবিক ও গতিশীল সমাবেশের রূপ নেয়া অপরিহার্য ছিল, যার লক্ষ্য হবে মানুষকে একমাত্র আল্লাহর উলুহিয়্যাত … তাঁর রুবুবিয়্যাত, কর্তৃত্ব, সার্বভৌমত্ব, ক্ষমতা এবং তাঁর শরিয়তের দিকে ফিরিয়ে আনা …))।

এরপর তিনি বলেন: ((পরিশেষে: ইসলাম যখন এই ভিত্তির ওপর এবং এই মানহাজ অনুযায়ী মুসলিম উম্মাহ গঠন করে … তখন সে আকিদাকেই ঐক্যের বন্ধন হিসেবে নির্ধারণ করে))।

তিনি আরও বলেন: ((কেননা মুসলিম সমাজের অস্তিত্ব এটি ছাড়া বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব নয়)) (৩)।

 

‌‌তারপর কী?

অতঃপর ইলম, আমল, ইবাদত, রাজনীতি, জিহাদ এবং যুহদ-এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; যার প্রতিটিই তার শরয়ি বিন্যাস ও বিশেষত্ব অনুযায়ী আবর্তিত হবে।

এটি গুরুত্ব, অগ্রাধিকার এবং বিন্যাসের দিক থেকে প্রতিটি অধিকারপ্রাপ্তকে তার অধিকার এবং প্রতিটি বিধানকে তার যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান করে।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (৮/ ১৩৯ ও ১৪০)। আর 'ফারক্ব' শব্দটি 'রা' বর্ণে সাকিনসহ অথবা জবর ও তাশদীদসহ উচ্চারিত হতে পারে।

(২) এটি তাঁর (রহ.) উক্তি। জেনে রাখুন যে, এটি দলাদলি বা হিজবিয়্যাত বর্জনের শর্তে প্রযোজ্য।

(৩) আল-মাআলিম (পৃষ্ঠা ৫০)।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ২০)
ففي حديث معاذ رضي الله عنه حين أرسله رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى اليمن .. أرسله داعية، ومعلمًا، وَرَتَّبَ له الأولوياتِ، وَبَيَّنَ له الطريقة الْمُثْلَى في تجميع الناس، ودعوتهم، فقال له صلى الله عليه وسلم:

((إنك تأتي قومًا من أهل الكتاب، فادعهم إلى شهادة أن لا إله إلا الله، وأني رسول الله، فَإِنْ هُمْ أطاعوك لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم خمس صلوات في كل يوم وليلة، فَإِنْ هُمْ أطاعوك لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم صدقة تُؤْخَذُ من أغنيائهم، فَتُرَدُّ في فقرائهم، فَإِنْ هُمْ أطاعوا لذلك فإياك وكرائمَ أموالهم، وَاتَّقِ دعوة المظلوم؛ فإنه ليس بينها وبين الله حجاب)) (1).

فجعل صلى الله عليه وسلم الأولوية التي ليس قبلها ولا بعدها أولوية هي ((التوحيد))، ثم القيام بالعبادات، وهو ما يُعَبَّرُ عنه بـ: تصحيح العقائد، وإصلاح العبادات.

 

‌‌التوازن المطلوب:

إن على المسلم العاقل المتزن أن يراعي القواعد الدينية في الإيمان، والعمل، والدعوة، والمنهج .. فلا يقدِّم الفروع عل الأصول، ولا العبادات على الإيمانيات، ولا الجزئيات على الكليات، بل يُعطى كل ذي حق حقه، حسب منهج الأنبياء في ذلك.

ومعظم الناس في هذا -للأسف الشديد- على غير هُدًى:

فمنهم من لا يفرق بَيْنَ أصل عقدي أو منهجي وَبَيْنَ خلاف فقهي، ولا يفرق بين ركن وسنة، ولا بين صغيرة وكبيرة، ولا كلية ولا جزئية، فمنهم من يفرط بالتوحيد على حساب التجميع، وبعضهم يتفرقون في سنة،

--------------------------------------------

(1) البخاري رقم (1496)، ومسلم (1/ 50).
মুআয (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন... তিনি তাঁকে একজন দাঈ ও শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁর জন্য অগ্রাধিকারের বিষয়সমূহ বিন্যস্ত করে দিয়েছিলেন। মানুষের মাঝে ইসলামের প্রচার ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে তিনি তাঁকে সর্বোত্তম পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে দিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন:

((নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ; সুতরাং তুমি তাদেরকে এই সাক্ষ্য দেওয়ার দিকে দাওয়াত দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসুল। যদি তারা তা মেনে নেয়, তবে তাদেরকে অবগত করো যে, আল্লাহ তাদের ওপর প্রতি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যদি তারা এটিও মেনে নেয়, তবে তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর সদকা (যাকাত) ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা হবে। যদি তারা এটিও মেনে নেয়, তবে (যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে) তাদের মূল্যবান সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাকো। আর মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করো, কেননা তার এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই।)) (১)।

সুতরাং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন এক বিষয়কে অগ্রাধিকার প্রদান করেছেন যার আগে বা পরে আর কোনো অগ্রাধিকার নেই, আর তা হলো তাওহিদ (توحيد); এরপর হলো ইবাদতসমূহ পালন করা। একেই মূলত 'আকিদা সংশোধন' এবং 'ইবাদতের সংস্কার' হিসেবে অভিহিত করা হয়।

 

‌‌কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য:

একজন বুদ্ধিমান ও ভারসাম্যপূর্ণ মুসলিমের উচিত ইমান, আমল, দাওয়াত এবং মানহাজের ক্ষেত্রে দ্বীনি মূলনীতিসমূহ অনুসরণ করা। তিনি যেন মৌলিক বিষয়ের (أصول) ওপর শাখা-প্রশাখামূলক (فروع) বিষয়কে প্রাধান্য না দেন, ইমানি বিষয়ের ওপর কেবল ইবাদতকে অগ্রগণ্য না করেন এবং সামগ্রিক বিষয়ের (كليات) ওপর আংশিক (جزئيات) বিষয়কে অগ্রাধিকার না দেন। বরং আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের মানহাজ অনুযায়ী যার যা প্রাপ্য তাকে সেই যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করতে হবে।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এই ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ সঠিক পথনির্দেশনার ওপর নেই:

তাদের মধ্যে কেউ কেউ আকিদাগত মূলনীতি (أصل عقدي) বা মানহাজগত মূলনীতি (أصل منهجي) এবং ফিকহি মতপার্থক্য (خلاف فقهي)-এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। তারা রুকন (ركن) ও সুন্নতের (سنة) মধ্যে পার্থক্য করে না, ছোট গুনাহ (صغيرة) ও বড় গুনাহের (كبيرة) মধ্যে প্রভেদ করে না, এমনকি সামগ্রিক বিষয় (كلية) ও আংশিক বিষয়ের (جزئية) মধ্যেও না। ফলে তাদের কেউ দাওয়াতের ক্ষেত্রে লোক সমাগমের খাতিরে তাওহিদকে (توحيد) অবহেলা করে, আবার কেউ কেবল একটি সুন্নতের (سنة) প্রশ্নে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

--------------------------------------------

(১) বুখারি নম্বর (১৪৯৬), মুসলিম (১/৫০)।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ২১)
ويتهاجرون في خلاف معتبر، وآخرون يفسدون الأخوة بحزبية مصنوعة، أو عصبية ممقوتة لرجل، أو بلد، أو … يوالون على هذا، ويعادون عليه، غير مبالين بالأولويات، وبمنازل الأحكام التي قررها الشرع، فاقدين بذلك التوازنَ الشرعي المطلوب .. نسأل الله الهداية والسلام.

 

‌‌عِلَّةٌ موهومة:

لَمَّا عَبَدَ بنو إسرائيل العجلَ، وجاءهم موسى صلى الله عليه وسلم، وأخذ بلحية أخيه، اعتذر له هارون قائلًا:

{يَبْنَؤُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِي وَلَا بِرَأْسِي إِنِّي خَشِيتُ أَنْ تَقُولَ فَرَّقْتَ بَيْنَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَمْ تَرْقُبْ قَوْلِي} [طه: 94].

وكان رأي هارون عليه الصلاة والسلام أن يترك بني إسرائيل على ما هُمْ عليه من عبادة العجل، انتظارَ رأي موسى عليه الصلاة والسلام وخشية أن يُفَرِّقَ بين بني إسرائيل، فعاتبه موسى أشد الْعَتَبِ، فإن تفريقَ الناس بالتوحيد خيرٌ من بقائهم على الشرك مجتمعين.

وهذه هي العلة نفسها التي يتعلل بها كثير من الناس اليوم.

 

‌‌لا تفرق على سنة أو واجب:

وأما دليل عدم الاختلاف والتفرق على السنن والواجبات فهو ما كان يحدث من خلاف بين الصحابة في مِثْلِ هذه المسائل، فكانوا لا يتنازعون فيها، ولا يتفرقون لأجلها، ولا يوالون ولا يعادون عليها، فقد اختلف الصحابة -رضوان الله عليهم- في غزوة بني قريظة في واجب
এবং তারা গ্রহণযোগ্য মতভেদের (خلاف معتبر) কারণে একে অপরকে বর্জন করে, আবার অনেকে কৃত্রিম দলবাজি কিংবা কোনো ব্যক্তি, ভূখণ্ড বা … এর প্রতি নিন্দনীয় গোঁড়ামির মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব নষ্ট করে। তারা এর ভিত্তিতেই বন্ধুত্ব ও শত্রুতা গড়ে তোলে, শরীয়াহ নির্ধারিত অগ্রাধিকার এবং বিধানের মর্যাদাক্রমের তোয়াক্কা করে না; ফলে তারা কাঙ্ক্ষিত শারয়ী ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। আমরা আল্লাহর কাছে হেদায়েত ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।

 

‌একটি কাল্পনিক ত্রুটি বা কারণ (علة موهومة):

যখন বনী ইসরাঈল গোবৎসের পূজা করল এবং মূসা (আলাইহিস সালাম) তাদের কাছে ফিরে এসে তাঁর ভাইয়ের দাড়ি ধরলেন, তখন হারুন (আলাইহিস সালাম) এই বলে ওজর পেশ করলেন:

{হে আমার সহোদর, আমার দাড়ি ও মাথার চুল ধরবেন না; আমি আসলে এই আশঙ্কা করেছিলাম যে, আপনি হয়তো বলবেন, তুমি বনী ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছ এবং আমার নির্দেশের অপেক্ষা করনি} [ত্বহা: ৯৪]।

আর হারুন (আলাইহিস সালাম)-এর অভিমত ছিল বনী ইসরাঈলকে তাদের গোবৎস পূজার অবস্থাতেই ছেড়ে দেওয়া, যেন মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা যায় এবং বনী ইসরাঈলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির আশঙ্কা এড়ানো যায়। কিন্তু মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁকে অত্যন্ত কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করলেন; কারণ তাওহীদের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করা তাদের শিরকের ওপর ঐক্যবদ্ধ রাখার চেয়ে উত্তম।

আর এটিই সেই অজুহাত বা কারণ (علة) যা বর্তমান যুগের অনেক মানুষ পেশ করে থাকে।

 

‌সুন্নাত (سنة) কিংবা ওয়াজিব (واجب) নিয়ে কোনো বিভেদ নয়:

আর সুন্নাতসমূহ (سنن) ও ওয়াজিবসমূহ (واجبات) নিয়ে মতভেদ বা বিভক্তি না করার দলিল হলো সেই সকল মতপার্থক্য যা সাহাবীদের মধ্যে এই ধরণের মাসআলায় সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁরা এ নিয়ে বিবাদে জড়াতেন না, এর কারণে বিভক্ত হতেন না এবং এর ভিত্তিতে বন্ধুত্ব বা শত্রুতা পোষণ করতেন না। যেমন, সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বনী কুরাইযা যুদ্ধের সময় একটি ওয়াজিব (واجب) পালনের ক্ষেত্রে মতভেদ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ২২)
من أعظم الواجبات، أَلَا وهو الصلاة ووقتها، واختلفوا في موجبات الوضوء، وفي الفرائض، ومع ذلك كله لم يتفرقوا.

واختلفوا في الْحَجَّاجِ، في إيمانه وكفره، وفي حكم الخروج عليه .. واختلفوا في غلاة القدرية، في كفرهم وإيمانهم، وفي حكم الخروج على أئمتهم .. وَعَزَلَ السلف بعضهم بعضًا عن الولايات، ومع ذلك كله لم يتقاطعوا، ولم يُشَهِّرْ بعضهم ببعض.

وتنازعوا في فَهْمِ بعض الآيات، فقال لهم صلى الله عليه وسلم:

((اقرؤوا القرآن ما ائتلفت عليه قلوبكم، فإذا اختلفتم فقوموا)) (1).

واختلفوا في قضايا كثيرة، ومع هذا كله لم يَرْمِ أحدُ الطرفين الآخرَ بالابتداع، ولا نسبوا بعضهم لفرق الضلال، ولا تفرقوا لذلك، وقاعدتهم العظيمة في ذلك:

إذا حَسُنَتِ النيات، وَصَحَّ التأصيل، فلا مُشَاحَّةَ في التمثيل.

وهذا كله لا ينافي البحث العلمي، والتحقيق الفقهي، الذي يأخذ الراجح، ويرد المرجوح، ويبين الخطأ من الصواب، ضمن الإطار الأخوي، وفي دائرة التناصح، تحت ظل الكتاب والسنة، وَفَهْمِ السلف.

 

‌‌وجوب المفارقة:

وأما دليل المفارقة على المنهاج فما كان عليه سلفنا الصالح من الصحابة وأتباعهم من مفارقة من خالفهم في المنهاج، فضلًا عن العقيدة، والتبرؤ منهم على رءوس الأشهاد .. وقد ذكرنا في الفصول السابقة ما يغني عن التكرار؛ كتبرئهم

--------------------------------------------

(1) البخاري رقم (5060 و 5061)، ومسلم (4/ 2053)، وغيرهما.
সর্বশ্রেষ্ঠ ওয়াজিবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো সালাত এবং এর ওয়াক্ত। তাঁরা অজুর পরিপন্থী বিষয় এবং ফরায়েজ (উত্তরাধিকার বিধান) সম্পর্কে মতভেদ করেছেন, তা সত্ত্বেও তাঁরা বিচ্ছিন্ন হননি।

তাঁরা হাজ্জাজের ঈমান ও কুফর এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (الخروج) করার বিধান সম্পর্কে মতভেদ করেছেন... তাঁরা কাদারিয়াদের (القدرية) চরমপন্থীদের কুফর ও ঈমান এবং তাদের শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের (الخروج) বিধান সম্পর্কে মতভেদ করেছেন... সালাফগণ (السلف) একে অপরকে বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন, তবুও তাঁরা পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন করেননি এবং একে অপরকে হেয় প্রতিপন্ন করেননি।

তাঁরা কিছু আয়াতের মর্মার্থ বোঝার ক্ষেত্রে মতবিরোধ করেছেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেন:

((তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করো ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ তোমাদের অন্তর এর ওপর ঐক্যবদ্ধ থাকে; আর যখন তোমরা মতভেদ করবে, তখন তোমরা উঠে যাও)) (১)।

তাঁরা বহু বিষয়ে মতভেদ করেছেন, তা সত্ত্বেও উভয় পক্ষের কেউই অন্য পক্ষকে বিদআত (الابتداع) প্রবর্তনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেননি, কিংবা একে অপরকে পথভ্রষ্ট দলের অন্তর্ভুক্ত করেননি এবং সেই কারণে তাঁরা বিচ্ছিন্নও হননি। এ ক্ষেত্রে তাঁদের মহান মূলনীতি ছিল:

যদি উদ্দেশ্য সৎ হয় এবং মূলনীতি বা বুনিয়াদ (التأصيل) সঠিক হয়, তবে উদাহরণের (التمثيل) ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক নেই।

এসব কিছুর সাথে জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণা ও ফিকহী বিশ্লেষণের কোনো বিরোধ নেই, যা অগ্রগণ্য (الراجح) মতকে গ্রহণ করে এবং অপ্রধান (المرجوح) মতকে বর্জন করে, এবং ভ্রাতৃত্বের কাঠামোর মধ্যে থেকে, পারস্পরিক নসিহত বা উপদেশের পরিমণ্ডলে, কিতাব ও সুন্নাহ এবং সালাফদের (السلف) বুঝের অধীনে ভুল ও সঠিকের পার্থক্য স্পষ্ট করে।

 

‌‌বিচ্ছিন্ন হওয়ার আবশ্যকতা:

মানহাজ বা কর্মপন্থা (المنهاج) পরিবর্তনের কারণে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দলিল হলো আমাদের সালাফে সালেহীন—সাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁদের অনুসারীদের কর্মপন্থা, যাঁরা মানহাজের (المنهاج) বিরোধিতাকারীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হতেন, আকিদার (العقيدة) বিরোধিতার কথা তো বলাই বাহুল্য। এমনকি তাঁরা জনসম্মুখে তাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিতেন... আমরা পূর্ববর্তী অধ্যায়গুলোতে এ বিষয়ে যা উল্লেখ করেছি তা পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন রাখে না; যেমন তাদের সম্পর্কচ্ছেদের ঘটনা...

--------------------------------------------

(১) বুখারি নং (৫০৬০ ও ৫০৬১), এবং মুসলিম (৪/২০৫৩), এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
من الخوارج، والمعتزلة، والقدرية.

وبهذه الصفة -صفة الاجتماع على التوحيد والمنهاج، والتفرق عليهما- يدرك العاقل:

 

‌‌من هي الجماعة التي اتصفت بهذه الصفة؟

آلتي آلت على نفسها الدعوة للتوحيد ومنهج السلف، والانتصار لهما، أم التي أُسُّهَا: جَمِّعْ جَمِّعْ .. فلا يضرُّها أن تجمع في صفوفها من يقع في شرك الألوهية، من عبادة الأولياء، والقبور، أو مداهنة الكفر والطاغوت؟ ؟ ! !

ولا تُفَرِّقُ بين مَنْ ينكر صفات الله عز وجل؛ كالعلو، والوجه، وغير ذلك من صفات الخالق سبحانه، وَبَيْنَ مَنْ وَجَّهَ وَجْهَهُ للذي فطر السماوات والأرض بصفاته التي أثبتها، وأسمائه التي ذكرها، كل ذلك عندهم سواء! !

وهل هي التي منهاجها منهاج أبي بكر وعمر؟ أم التي اخترعت منهاجًا من بنات أفكارها، ورسمت طريقًا من آراء قادتها؟ !

فتجد في صفوفها من يلعن أبا بكر وعمر، بل ويكفرهما .. وتجد فيها المعتزلي الذي يَرُدُّ النصوص بعقله، وفيها من ينادي بالتآخي بين الأديان السماوية، وفيهم من يشارك الطاغوت في الحكم والظلم.

كل ذلك بدعوى تجميع المسلمين، وتكثير سوادهم! ! وهذه هي الغثائية التي حَذَّرَ منها رسول الله صلى الله عليه وسلم، والتي كانت وراء نكبات المسلمين.

((توشك الأمم أن تداعى عليكم كما تداعى الأكلة إلى قصعتها، فقال قائل: مِنْ قِلَّةٍ نحن يومئذ؟ قال: بل أنتم يومئذ كثير، ولكنكم غثاء كغثاء السيل، ولينزعن الله من صدور عدوكم المهابة منكم، وليقذفن في قلوبكم
খাওয়ারিজ (الخوارج), মুতাজিলা (المعتزلة) এবং কাদারিয়া (القدرية) সম্প্রদায় থেকে।

আর এই বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে—অর্থাৎ তাওহিদ (التوحيد) ও মানহাজ (المنهاج)-এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং এই দুটির ওপর ভিত্তি করেই বিচ্ছিন্ন হওয়ার বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে—একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি উপলব্ধি করতে পারেন:

 

‌‌সেই জামাআত (الجماعة) কোনটি যা এই বৈশিষ্ট্যে গুণান্বিত?

সেই দল কি যারা তাওহিদ (التوحيد) ও সালাফদের মানহাজ (منهج السلف)-এর দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং এই দুটির পক্ষাবলম্বন করাকে নিজেদের আবশ্যিক কর্তব্য বানিয়ে নিয়েছে? নাকি সেই দল যার মূল ভিত্তি হলো: 'একত্র করো, কেবল একত্র করো'... তাই তাদের কাতারে এমন ব্যক্তিদের সমবেত করতে তাদের কোনো আপত্তি নেই যারা উলুহিয়্যাতের শিরক (شرك الألوهية), যেমন ওলি-আওলিয়া ও কবরের উপাসনা করা, কিংবা কুফর (الكفر) ও তাগুত (الطاغوت)-এর সাথে আপসকামিতায় লিপ্ত? ? ! !

আর তারা কোনো পার্থক্য করে না ওই ব্যক্তির মাঝে যে মহান আল্লাহর গুণাবলি (صفات) অস্বীকার করে; যেমন সুউচ্চতা (العلو), চেহারা (الوجه) এবং স্রষ্টার অন্যান্য গুণাবলি, আর ওই ব্যক্তির মাঝে যে আসমান ও জমিনের স্রষ্টার প্রতি একনিষ্ঠ হয়েছে সেইসব গুণাবলির (صفات) মাধ্যমে যা তিনি সাব্যস্ত করেছেন এবং সেইসব নামের (أسماء) মাধ্যমে যা তিনি উল্লেখ করেছেন। তাদের নিকট এসবই সমান! !

আর তারা কি সেই দল যাদের মানহাজ (منهاج) হলো আবু বকর ও উমরের মানহাজ (منهاج)? নাকি তারা সেই দল যারা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো নতুন মানহাজ (منهاج) আবিষ্কার করেছে এবং নিজেদের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে পথ তৈরি করেছে? !

ফলে আপনি তাদের কাতারে এমন লোক পাবেন যে আবু বকর ও উমরকে অভিশাপ দেয়, এমনকি তাদের কাফের (تكفير) সাব্যস্ত করে... সেখানে আপনি পাবেন এমন মুতাজিলা (المعتزلي) যে নিজ বিবেকের দ্বারা দলিলসমূহকে (النصوص) প্রত্যাখ্যান করে। তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা আসমানি ধর্মগুলোর মাঝে ভ্রাতৃত্বের আহ্বান জানায়, আবার তাদের মাঝে এমন লোকও আছে যারা শাসন ও জুলুমের ক্ষেত্রে তাগুত (الطاغوت)-এর অংশীদার হয়।

এসবই মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করার এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করার দোহাই দিয়ে! আর এটাই হলো সেই স্রোতের ফেনার মতো অসারতা (الغثائية) যার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করেছেন এবং যা ছিল মুসলিমদের মহাবিপদগুলোর নেপথ্যে।

((অচিরেই বিজাতীয় জাতিসমূহ তোমাদের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে, যেভাবে ক্ষুধার্তরা খাবারের পাত্রের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন: সেদিন কি আমরা সংখ্যায় কম হব? তিনি বললেন: না, বরং সেদিন তোমরা হবে অগণিত, কিন্তু তোমরা হবে প্লাবনের স্রোতে ভেসে আসা খড়কুটোর (غثاء) মতো। আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দেবেন এবং তোমাদের অন্তরে নিক্ষিপ্ত করবেন...))
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ২৪)
الوهن، قيل: وما الوهن يا رسول الله؟ قال: حُبُّ الدنيا، وكراهية الموت)) (1).

فالجماعة التي اتصفت بهذه الصفة هي الجماعة التي تَجِدُ جميعَ أفرادها على عقيدة الصحابة، وعلى منهج واحد، هو منهج السلف، في أي زمان كانوا، وفي أي مكان وُجِدُوا، لا تَتَلَوَّنُ عقيدتهم حسب الزمان، ولا يتبدل منهجهم حسب المكان.

 

‌‌من صفات المخالفين:

ويخرج من صفة الطائفة المنصورة هذه -الاجتماع على التوحيد والمنهاج، والافتراق عليهما- كُلُّ مَنْ تَجَمَّعَ على فكر معين، أو تحزب على رجل معين، أو على بلد معين، أو على نسب معين، يجتمعون عليه، ويفترقون عليه ..

وهؤلاء الذين يكون أُسُّ تجمعهم على جزء من الدين؛ كالفقه، أو السياسة، أو الجهاد، سرعان ما يذوبون إذا ما انتهى محور تجمعهم، وكم من جماعة فَشِلَتْ إذا فَشِلَ قائدها، وكم من جماعة انتهت إذا ما انتهى مُؤَسِّسُهَا.

قال شيخ الإسلام رحمه الله:

((ليس لأحد أن يُنَصِّبَ للأمة شخصًا يدعو إلى طريقته، ويوالي ويعادي عليها، غير النبي صلى الله عليه وسلم، ولا ينصِّب لهم كلامًا يوالي عليه، ويعادي عليه، غير كلام الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، وما اجتمعت عليه الأمة، بل هذا مِنْ فِعْلِ أهل البدع الذين

--------------------------------------------

(1) أبو داود (4/ 111)، وأحمد (5/ 278)، وسنده صحيح.
'আল-ওয়াহন'। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, আল-ওয়াহন কী? তিনি বললেন: "দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং মৃত্যুর প্রতি অনীহা।" (১)।

সুতরাং যে দলটি এই বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, তারা এমন এক জামাআত যাদের প্রত্যেক সদস্যকে সাহাবীগণের আকিদাহ (عقيدة) এবং একটি অভিন্ন মানহাজ (منهج) তথা সালাফদের (سلف) মানহাজের ওপর পাওয়া যাবে—তারা যে কোনো সময়ে বা যে কোনো স্থানেই থাকুক না কেন। সময়ের আবর্তনে তাদের আকিদাহর (عقيدة) পরিবর্তন ঘটে না এবং স্থানের পরিবর্তনে তাদের মানহাজ (منهج) পরিবর্তিত হয় না।

 

‌‌বিরোধীদের কিছু বৈশিষ্ট্য:

আর সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة)-এর এই বৈশিষ্ট্য—অর্থাৎ তাওহিদ ও মানহাজের (منهج) ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং তার ভিত্তিতেই বিচ্ছিন্ন হওয়া—থেকে ঐ প্রত্যেক ব্যক্তি বেরিয়ে যাবে যারা কোনো নির্দিষ্ট চিন্তা-চেতনা, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, নির্দিষ্ট কোনো দেশ কিংবা নির্দিষ্ট কোনো বংশের ভিত্তিতে একত্রিত হয়; তারা তার ভিত্তিতেই ঐক্যবদ্ধ হয় এবং তার ওপর ভিত্তি করেই বিচ্ছিন্ন হয়...

আর এরা হলো তারা, যাদের ঐক্যের ভিত্তি হচ্ছে দ্বীনের আংশিক কোনো বিষয়ের ওপর; যেমন: ফিকহ (فقه), রাজনীতি কিংবা জিহাদ। তাদের ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু বিলীন হওয়ার সাথে সাথেই তারা দ্রুত বিলুপ্ত হয়ে যায়। কত দলই না তাদের নেতার ব্যর্থতার সাথে সাথে ব্যর্থ হয়ে গেছে এবং কত দলই না তাদের প্রতিষ্ঠাতার অবসানের সাথে সাথে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তিকে উম্মতের সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করার অধিকার কারো নেই, যার তরীকা বা পথের দিকে সে দাওয়াত দেবে এবং যার ভিত্তিতে সে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা পোষণ করবে। একইভাবে উম্মতের সামনে এমন কোনো বক্তব্য উপস্থাপন করা যাবে না যার ওপর ভিত্তি করে বন্ধুত্ব বা শত্রুতা করা হয়—আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী এবং উম্মাহ যে বিষয়ের ওপর ঐক্যবদ্ধ (إجماع) হয়েছে তা ব্যতীত। বরং এটি হলো বিদআতিদের (أهل البدع) কাজ যারা...

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ (৪/ ১১১), আহমাদ (৫/ ২৭৮), এবং এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ২৫)
يُنَصِّبُونَ له شخصًا، أو كلامًا، يفرقون به بين الأمة)) (1).

وقال رحمه الله:

((كُلُّ ما خرج عن دعوى الإسلام، والقرآن، من نسب، أو بلد، أو جنس، أو مذهب، أو طريقة، فهو من عزاء الجاهلية)) (2).

ومعنى قوله: ((يجتمعون عليه)): أي: مَنْ سَلَّمَ لهم بفكر صاحبهم ومذهبه؛ جمعوه معهم، وَعَدُّوهُ منهم، ولو كان على ما كان عليه من المخالفات الشرعية؛ كترك بعض الواجبات، بل حتى لو خالف في كل شيء غير فكر صاحبهم؛ كمخالفته للعقيدة الصحيحة، أو المنهاج القويم .. فالمهم عندهم أن يلتقي معهم على فكر صاحبهم.

ومعنى قوله: ((يفترقون عليه)):

أي: إذا خالف المرء قائدهم، أو زعيمهم؛ فارقوه، ومن صفوفهم فصلوه، ولو كانت مخالفته بناء على أدلة شرعية، وكان من أعلم العلماء، واتقى الصلحاء.

ومن غريب صفات المخالفين للطائفة المنصورة في هذه الصفة اختلافهم فيما بينهم في العقيدة، والمنهج، فتجد عقائدهم تَتَلَوَّنُ بِتَلَوُّنِ البلدان، ومناهجهم تتغير بتغيير السلطان، ففي بلد تجد هذه الجماعة تحارب حزبًا معينًا، وفي الوقت عَيْنِهِ تجد هذه الجماعة نفسها تحالف أو تثني على الحزب نفسه في بلد آخر، وعقيدته واحدة، وضلاله واحد، فما الذي يجمعهم إذن؟ !

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (2/ 240).

(2) اقتضاء الصراط (17).
((তারা এর জন্য এমন একজন ব্যক্তি বা এমন কোনো বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত করে, যার মাধ্যমে তারা উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে।)) (১)

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

((বংশ, দেশ, জাতি, মাজহাব (مذهب) অথবা তরীকা (طريقة)—ইসলাম ও কুরআনের দাওয়াতের বাইরে যা কিছু রয়েছে, সবই জাহিলিয়াতের অন্তর্ভুক্ত।)) (২)

তাঁর উক্তি: ((তারা এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়))—এর অর্থ হলো: যে ব্যক্তি তাদের নেতার চিন্তা ও মাজহাবের (مذهب) কাছে আত্মসমর্পণ করে; তাকে তারা নিজেদের সাথে সমবেত করে এবং নিজেদের একজন বলে গণ্য করে, যদিও সে শরিয়ত পরিপন্থী কোনো অবস্থায় থাকুক না কেন; যেমন কিছু ওয়াজিব (واجب) ত্যাগ করা, এমনকি সে যদি তাদের নেতার চিন্তা ছাড়া বাকি সব বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে; যেমন সঠিক আকিদাহ (العقيدة) বা সঠিক মানহাজের (المنهاج) বিরোধিতা করা... কারণ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো সে যেন তাদের নেতার চিন্তাধারায় তাদের সাথে একমত হয়।

তাঁর উক্তি: ((তারা এর ওপর বিচ্ছিন্ন হয়))—এর অর্থ হলো:

অর্থাৎ: যদি কোনো ব্যক্তি তাদের নেতা বা প্রধানের বিরোধিতা করে; তবে তারা তাকে বর্জন করে এবং তাদের কাতার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যদিও তার বিরোধিতা শরয়ি দলিলের (أدلة) ওপর ভিত্তি করে হয় এবং সে বড় কোনো আলেম কিংবা পরহেজগার সৎ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়।

সাহায্যপ্রাপ্ত দলের (الطائفة المنصورة) বিরোধীদের একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো আকিদাহ (العقيدة) এবং মানহাজের (المنهاج) ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের মধ্যকার পারস্পরিক মতভেদ। আপনি দেখতে পাবেন দেশ পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের আকিদাহর (العقيدة) রঙ বদলায় এবং শাসক পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের মানহাজ (المنهاج) পরিবর্তিত হয়। কোনো একটি দেশে হয়তো দেখবেন এই দলটি একটি নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, আবার একই সময়ে অন্য কোনো দেশে এই একই দলটিকে দেখবেন সেই একই দলের সাথে জোটবদ্ধ হতে বা প্রশংসা করতে, অথচ তাদের আকিদাহ (العقيدة) এবং পথভ্রষ্টতা (ضلال) একই। তাহলে কিসের ভিত্তিতে তারা একত্রিত হয়?!

--------------------------------------------

(১) মাজমু আল-ফাতাওয়া (২/ ২৪০)।

(২) ইকতিদা আস-সিরাত (১৭)।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌وباختصار:

يخرج من صفة الطائفة المنصورة هذه كُلُّ من تجمع على غير عقيدة السلف ومنهاجهم، كأن يجتمعوا على السياسة، أو على إسقاط حاكم، أو على رجل، أو على جهاد فحسب، أو على أي أمر آخر.

والله المستعان، وإليه ترجع الأمور.
সংক্ষেপে:

সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة)-এর এই বৈশিষ্ট্য থেকে তারা সকলে বহির্ভূত হবে যারা সালাফদের আকিদা (عقيدة) ও মানহাজ (منهاج) ব্যতীত অন্য কোনো ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে; যেমন তারা রাজনীতির ভিত্তিতে, অথবা কোনো শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে, অথবা কোনো ব্যক্তির আনুগত্যে, অথবা কেবল জিহাদের (جهاد) উদ্দেশ্যে, কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সংঘবদ্ধ হলো।

আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয় এবং সকল বিষয় তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তন করে।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الصفة الثالثة:

الشمولية الدعوية

إن من أبرز صفات الطائفة الناجية التي تميزها عن غيرها من الطوائف شمولُ دعوتها إلى الإسلام الناسَ كافة.

فالطائفة الناجية هي التي تشمل دعوتُهَا كلَّ عباد الله، فلا تخص طبقة دون طبقة، ولا فئة دون فئة، هكذا كانت دعوة الرسل، وهكذا كانت دعوة رسولنا صلى الله عليه وسلم، تشمل الغني والفقير، والعظيم والصعلوك، والشريف والوضيع، والكبير والصغير، والبر والفاجر، والحر والعبد، والبدوي والحضري، والعربي والعجمي، والرجال والنساء، والشيوخ والولدان.

وعلى تعبير إخواننا المعاصرين:

تشمل المثقف والعامي، والمتعلم والجاهل، والجامعي والشارعي (1)، والموظف والعامل، والمدني والعسكري، فهؤلاء كلهم كانوا يجلسون عند رسول الله صلى الله عليه وسلم في مجلس واحد، لا يفرق بينهم نسب، ولا منزلة، ولا علم، ولا جاه، ولا غنى، ولا فقر، ولا بلد، ولا مصر، ولا حزبية ابتدعوها ما أنزل الله بها من سلطان.

قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} [سبأ: 28].

--------------------------------------------

(1) الشارعي: تعبير مبتدع، أي: جوال الشوارع الذي لا دراسة له ولا عمل.
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য:

দাওয়াতের সর্বজনীনতা

নিশ্চয়ই নাজাতপ্রাপ্ত দলের (الطائفة الناجية) অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, যা তাকে অন্যান্য দল থেকে স্বতন্ত্র করে, তা হলো সর্বস্তরের মানুষের নিকট ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এর ব্যাপকতা ও সর্বজনীনতা।

নাজাতপ্রাপ্ত দল (الطائفة الناجية) হলো সেই দল যার দাওয়াত আল্লাহর সকল বান্দাকে অন্তর্ভুক্ত করে; তারা কোনো বিশেষ শ্রেণী বা গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নির্দিষ্ট করে না। রাসূলগণের দাওয়াত এমনই ছিল এবং আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াতও এমনই ছিল; যা ধনী ও দরিদ্র, প্রভাবশালী ও নিঃস্ব, অভিজাত ও সাধারণ, বৃদ্ধ ও শিশু, পুণ্যবান ও পাপাচারী, স্বাধীন ও ক্রীতদাস, মরুবাসী ও নগরবাসী, আরব ও অনারব, পুরুষ ও নারী এবং বৃদ্ধ ও শিশুদের শামিল করত।

আমাদের সমসাময়িক ভাইদের পরিভাষায়:

এটি বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষ (العامي), শিক্ষিত ও অশিক্ষিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সাধারণ পথচারী (১), চাকুরিজীবী ও শ্রমিক এবং বেসামরিক ও সামরিক—সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে। এঁরা সকলেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মজলিসে একই সাথে উপবেশন করতেন। তাদের মাঝে বংশমর্যাদা, সামাজিক অবস্থান, জ্ঞান, প্রভাব-প্রতিপত্তি, সচ্ছলতা, দারিদ্র্য, দেশ, অঞ্চল কিংবা তাদের উদ্ভাবিত কোনো দলাদলি (حزبية)—যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি—এসব কোনো কিছুই পার্থক্য তৈরি করত না।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করেছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।" [সাবা: ২৮]।

--------------------------------------------

(১) আশ-শারেয়ী: এটি একটি নব-উদ্ভাবিত (مبتدع) অভিব্যক্তি, অর্থাৎ: এমন ভবঘুরে পথচারী যার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা কর্মসংস্থান নেই।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ২৮)
فكان أشرف الناس بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، بل بعد الأنبياء؛ أبو بكر الحر الشريف العربي يجلس بجوار بلال العبد الحبشي، وبجوار الغلام ابن عباس رضي الله عنهم جميعًا.

وكان أشد الناس في الله عمر رضي الله عنه يجلس مع أضعف الناس.

وكان أتقى الناس بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم من مثل العشرة المبشرين بالجنة- يجلس مع مَنْ وقع منهم الكبائر؛ كحاطب، إذ تجسس على المسلمين .. وماعز، إذ زنى .. وابن نعيمان، إذ شرب الخمر.

وكان أذكى الناس يجلس مع من لم يقدر معلمُ البشرية صلى الله عليه وسلم أن يُعَلِّمَهُ الفاتحة (1)، رضي الله عن الجميع.

 

‌‌من أدلة ذلك:

قصة ابن أم مكتوم الأعمى رضي الله عنه، وهي أشهر من أن تُذْكَرَ، وهو الذي نزل في حقه: {عَبَسَ وَتَوَلَّى أَنْ جَاءَهُ الْأَعْمَى ..... أَمَّا مَنِ اسْتَغْنَى فَأَنْتَ لَهُ تَصَدَّى وَمَا عَلَيْكَ أَلَّا يَزَّكَّى وَأَمَّا مَنْ جَاءَكَ يَسْعَى وَهُوَ يَخْشَى فَأَنْتَ عَنْهُ تَلَهَّى كَلَّا} [عبس: 1 - 11].

أي: الذي أعرض عن الدعوة، وتلقي العلم، واستغنى بما عنده من المال، والجاه، والولد، تُصغي إليه، وتنشغل به عن الذي جاء يطلب العلم، وسعى للهداية! !

--------------------------------------------

(1) انظر سنن أبي داود رقم (832)، والنسائي (2/ 143)، وأحمد (4/ 353)، وابن حبان (3/ 148)، والحديث حسن لغيره.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর, বরং নবীগণের পরেই শ্রেষ্ঠতম মানুষ; স্বাধীন, উচ্চবংশীয় আরব আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হাবশী দাস বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং বালক ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)—তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন—এর পাশে বসতেন।

আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে কঠোরতম উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) দুর্বলতম মানুষের সাথে বসতেন।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর সর্বাধিক মুত্তাকী ব্যক্তিবর্গ—যেমন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন—এমন ব্যক্তিদের সাথে বসতেন যারা কবীরা গুনাহে লিপ্ত হয়েছিলেন; যেমন হাতিব, যখন তিনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করেছিলেন.. এবং মায়িজ, যখন তিনি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিলেন.. এবং ইবনে নুয়াইমান, যখন তিনি মদ্যপান করেছিলেন।

সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা এমন ব্যক্তির সাথে বসতেন যাকে মানবজাতির শিক্ষক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূরা ফাতিহা শেখাতে সক্ষম হননি (১), আল্লাহ সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন।

 

‌‌এর দলীলসমূহের মধ্যে রয়েছে:

অন্ধ সাহাবী ইবনে উম্মে মাকতুম (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঘটনা, যা উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না এমন সুপরিচিত। তাঁর ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে: {তিনি ভ্রুকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন, কারণ তাঁর কাছে সেই অন্ধ ব্যক্তিটি আসল ..... পক্ষান্তরে যে বেপরোয়া ভাব দেখায়, তুমি তার প্রতি মনোযোগ দাও। অথচ সে যদি পবিত্র না হয় তাতে তোমার কোনো দায় নেই। আর যে তোমার কাছে ছুটে এল এবং সে ভয় করে, তুমি তাকে অবজ্ঞা করলে। কখনো না।} [আবাসা: ১ - ১১]।

অর্থাৎ: যে দাওয়াত এবং ইলম অর্জন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং নিজের ধন-সম্পদ, প্রতিপত্তি ও সন্তান-সন্ততি নিয়ে মত্ত হয়ে বেপরোয়া ভাব দেখিয়েছে, তুমি তার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছ এবং তার মোহে ব্যস্ত হয়ে পড়ছ তাকে ছেড়ে যে ইলম অন্বেষণে এসেছে এবং হিদায়াতের জন্য চেষ্টা করছে! !

--------------------------------------------

(১) দেখুন সুনানে আবু দাউদ নং (৮৩২), নাসায়ী (২/ ১৪৩), আহমাদ (৪/ ৩৫৩), ইবনে হিব্বান (৩/ ১৪৮); হাদিসটি অন্য সূত্রের সমর্থনে হাসান (حسن لغيره)।
(খণ্ড: ১) সিফাতুত তায়িফাতিল মানসূরাহ ওয়া মাফাহিমুহা (পৃষ্ঠা: ২৯)
قال ابن كثير رحمه الله عند قوله تعالى: {كَلَّا إِنَّهَا تَذْكِرَةٌ}: ((الوصية في إبلاغ العلم بين شريفهم وخادمهم)).

قلتُ: وفي هذا تنبيه عظيم على أن لا ينشغل المسلم بدعوة الكفار إلى الإسلام عن تعليم أدنى المسلمين، وتربيتهم.

فكيف بالذي ينشغل بالكلام عن الكفار عن تربية المسلمين، وتعليمهم، بل يستهزئ، ويصد الناس عن ذلك؟ !

ولا يعني هذا عدم معرفة سبيل المجرمين .. فهذا شيء، والانشغال عن تربية المسلمين بالكفار شيء آخر.

قال القرطبي: (({وَأَمَّا مَنْ جَاءَكَ يَسْعَى}: يطلب العلم لله)).

ولذلك قال سبحانه بعدها: ((كلَّا)).

أي: لا تَعُدْ إلى هذا مرة أخرى، ولا تفرق بين الناس في شأن الدعوة والتبليغ.

ومنه تعلم خطأ الذين يتقوقعون بعضهم على بعض، ويغلقون الأبواب على أنفسهم، مخالفين بذلك هدي نبيهم صلى الله عليه وسلم.

 

‌‌الصد عن العلم سبيل الضالين:

وعلى هذا؛ فالذين يصدون الناس عن طلب العلم، وحضور مجالس العلماء، أو يشغلونهم عن ذلك بما لا ينفعهم في دينهم، ودنياهم، وآخرتهم، ليسوا في هذا من الطائفة المنصورة في شيء، بل هم أعداء لها.
ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) মহান আল্লাহর বাণী: {কখনো নয়, নিশ্চয় এটি একটি উপদেশবাণী}-এর ব্যাখ্যায় বলেন: ((ইলম পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি এবং সেবকদের মধ্যে সমতা বজায় রাখার এটি একটি অসিয়ত))।

আমি বলছি: এতে এক মহান সতর্কতা রয়েছে যে, একজন মুসলিম যেন কাফেরদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার কাজে মশগুল হয়ে সাধারণ মুসলিমদের শিক্ষা প্রদান এবং তাদের লালন-পালন থেকে বিমুখ না হয়ে পড়ে।

তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে, যে কাফেরদের বিষয়ে আলোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে মুসলিমদের লালন-পালন ও শিক্ষা দান থেকে দূরে থাকে, বরং এ নিয়ে উপহাস করে এবং মানুষকে তা থেকে বিরত রাখে?!

আর এর অর্থ এই নয় যে, অপরাধীদের পথ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা যাবে না... সেটি একটি বিষয়, আর কাফেরদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে মুসলিমদের লালন-পালন থেকে বিমুখ হওয়া ভিন্ন আরেকটি বিষয়।

ইমাম আল-কুরতুবি বলেন: (({আর যে আপনার কাছে ছুটে এল}: অর্থাৎ সে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইলম অন্বেষণ করে))।

আর একারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এরপর বলেছেন: ((কখনো নয়))।

অর্থাৎ: আপনি পুনরায় এমনটি করবেন না এবং দাওয়াত ও তাবলিগের ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে কোনো ভেদাভেদ করবেন না।

এ থেকে তাদের ভুলও স্পষ্ট হয় যারা একে অপরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং নিজেদের ওপর দরজা বন্ধ করে দেয়; আর এভাবে তারা তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শের বিরোধিতা করে।

 

‌‌ইলম অর্জনে বাধা প্রদান করা পথভ্রষ্টদের পথ:

এর ভিত্তিতে; যারা মানুষকে ইলম অন্বেষণ এবং আলেমদের মজলিসে উপস্থিত হতে বাধা দেয়, অথবা তাদের এমন বিষয়ে লিপ্ত রাখে যা তাদের দ্বীন, দুনিয়া ও আখেরাতের কোনো উপকারে আসে না, তারা কোনোভাবেই সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তারা তাদের শত্রু।