(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: -)
حكم الإحرام من جده القسم: مسائل فقهية
الكتاب: حكم الإحرام من جده
المؤلف: عدنان بن محمد العرعور
عدد الصفحات: 78
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 جُمادَى الآخرة 1440
জেদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধার বিধান বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: জেদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধার বিধান
লেখক: আদনান বিন মুহাম্মদ আল-আরুর
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
আল-শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১৪ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
حكم
الإحرام من جده
إعداد
عدنان العرعور
বিধান (حكم)
জেদ্দা থেকে এহরাম (إحرام) গ্রহণ
প্রস্তুতকরণে
আদনান আল-আরূর
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
المقدمةالحمد لله، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.
أما بعد:
فقد كنت ألفت بحثاً مطولاً في حكم المواقيت، وفي حكم من مر بين ميقاتين، ومن أين يحرم؟ وأثبت فيه أن عليه أن يحرم مما يحاذي الميقات، ثم بينت فيه معنى المحاذاة، وأن القادم إلى مكة من جهة الغرب لا يحاذي ميقاتاً البتة قبل أن يصل إلى الساحل، فالواجب عليه أن يحرم مما يحاذي أقرب ميقات إليه، فماهو أقرب ميقات له؟ وماهو معنى المحاذاة؟ ! وهل جدة محاذية للمواقيت؟ وهل يجوز لمن مر بميقات أن يؤجل إحرامه إلى ميقات آخر؟ وقد طال البحث وتضمّن أبواباً دقيقةً، ورسوماً كثيرةً، الأمر الذي يصعب معه تناول البحث من عموم المسلمين، لذا عمدت إلى اختصاره، تسهيلاً لتناوله، والانتفاع به من قبل جمهور المسلمين، ومن أشكل عليه شيء، أو أراد مزيداً من التفصيل والنقول عن العلماء، أو النظر في الرسوم، فليرجع إلى الأصل.
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল।
অতঃপর:
আমি মিকাতসমূহের বিধান এবং যারা দুই মিকাতের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে অতিক্রম করে তাদের বিধান ও তারা কোথা থেকে ইহরাম বাঁধবে, সে সম্পর্কে একটি দীর্ঘ গবেষণাপত্র প্রণয়ন করেছিলাম। সেখানে আমি প্রমাণ করেছি যে, মিকাতের সমান্তরাল স্থান থেকে ইহরাম বাঁধা আবশ্যক। অতঃপর আমি সমান্তরাল হওয়ার অর্থ ব্যাখ্যা করেছি এবং দেখিয়েছি যে, পশ্চিম দিক থেকে মক্কায় আগমনকারী ব্যক্তি উপকূলে পৌঁছানোর পূর্বে কোনো মিকাতেরই সমান্তরাল হয় না। এমতাবস্থায় তার জন্য কর্তব্য হলো তার সবচেয়ে নিকটবর্তী মিকাতের সমান্তরাল স্থান থেকে ইহরাম বাঁধা। তাহলে তার জন্য নিকটতম মিকাত কোনটি? আর সমান্তরাল হওয়ার অর্থই বা কী?! জেদ্দা কি মিকাতসমূহের সমান্তরালে অবস্থিত? আর যে ব্যক্তি কোনো মিকাত অতিক্রম করে, তার জন্য কি ইহরাম অন্য মিকাত পর্যন্ত বিলম্বিত করা বৈধ? গবেষণাটি দীর্ঘ হওয়ার পাশাপাশি এতে অত্যন্ত সূক্ষ্ম পরিচ্ছেদ ও বহু চিত্র সন্নিবেশিত ছিল, যার ফলে সাধারণ মুসলিমদের পক্ষে তা হৃদয়ঙ্গম করা কষ্টসাধ্য ছিল। তাই আমি তা সহজবোধ্য করতে এবং সাধারণ মুসলিমদের নিকট এর উপকারিতা পৌঁছে দিতে একে সংক্ষিপ্ত করার সংকল্প করেছি। অতঃপর যার নিকট কোনো বিষয় অস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় অথবা কেউ যদি আলেমদের বিস্তারিত বর্ণনা ও উদ্ধৃতিসমূহ জানতে চায় কিংবা চিত্রগুলো দেখতে চায়, তবে সে যেন মূল গ্রন্থের শরণাপন্ন হয়।
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
هذا: ولقد تبين من خلال البحث العلمي والجغرافي أن (جدة) محاذية لميقات (يلملم) ولذا يشرع منها الإحرام، واعلم أني لست مُحدثاً في ذلك قولاً لم أُسبق إليه، وما كان لي ذلك، بل سبق إلى ذلك كثير من العلماء والباحثين، مما ستراه مفصلاً في الكتاب الأصل.
والمسألة ليست اجتهادية، بقدر ماهي تطبيقيّة، وهي لا تتعدى معرفة المعنى الصحيح «للمحاذاة» وإنزال ذلك على ساحة الواقع.
ولقد ناقشت فيها خلقاً كثيراً، فلم أر عندهم ما يرد الحجج التي سردت، ولا الأدلة التي ذكرت، فمنهم الموافق الساكت، ومنهم المخالف الصامت، ومنهم من لا يدري موقع البحر الأحمر من البحر الأسود، فذهب يُشرّق ويُغرّب، وبعضهم ينفر من كل ما يحسبه جديداً، ويظن أن كل جديدٍ غير صحيح، وكثير منهم مقتنع من الناحية العلمية، لكنه لا يرى نشرها خشية مخالفة ما اعتاد عليه الناس، وما يفتي به بعض أهل العلم.
এটি: বৈজ্ঞানিক ও ভৌগোলিক গবেষণার মাধ্যমে এটি সুস্পষ্ট হয়েছে যে, (জেদ্দা) হলো (ইয়ালামলাম) মিকাতের সমান্তরাল (محاذية), তাই সেখান থেকে ইহরাম পরিধান করা শরীয়তসম্মত। জেনে রাখুন, আমি এক্ষেত্রে এমন কোনো বক্তব্যের উদ্ভাবক (محدث) নই যা ইতিপূর্বে কেউ বলেনি এবং তেমন করার অবকাশও আমার নেই; বরং অনেক আলেম ও গবেষক ইতিপূর্বেই এ বিষয়ে ব্যক্ত করেছেন, যা আপনি মূল কিতাবে বিস্তারিত দেখতে পাবেন।
আর বিষয়টি গবেষণাধর্মী (اجتهادية) হওয়ার চেয়ে বরং প্রয়োগমুখী বিষয়; যা 'সমান্তরাল হওয়া' (محاذاة)-এর সঠিক অর্থ অনুধাবন করা এবং বাস্তব ক্ষেত্রে তার প্রয়োগ নিশ্চিত করার মাঝেই সীমাবদ্ধ।
আমি এ বিষয়ে অনেক ব্যক্তির সাথে আলোচনা করেছি, কিন্তু আমি তাদের নিকট এমন কিছু দেখিনি যা আমার উপস্থাপিত যুক্তি বা উল্লিখিত প্রমাণসমূহকে (الأدلة) খণ্ডন করতে পারে। তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন মৌন সমর্থনকারী, কেউ নীরব বিরোধী, আবার কেউ লোহিত সাগর ও কৃষ্ণ সাগরের অবস্থান সম্পর্কেও অবগত নন, ফলে তারা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেছেন। কেউ কেউ নতুন মনে হওয়া প্রতিটি বিষয় থেকেই বিমুখ হন এবং ধারণা করেন যে প্রতিটি নতুন বিষয়ই অশুদ্ধ। তাদের মধ্যে অনেকেই বৈজ্ঞানিক দিক থেকে বিষয়টিতে আশ্বস্ত, কিন্তু সাধারণ মানুষের চিরাচরিত অভ্যাস এবং কিছু আলেম যে বিষয়ে ফতোয়া প্রদান (يفتي) করেন, তার বিরোধিতার ভয়ে তারা এটি প্রচার করা সমীচীন মনে করেন না।
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
ورب بعضهم يقول: كيف خفيت هذه المسألة المهمّة على بعض أهل العلم.
والجواب: كيف خفيت كثير من المسائل على عمر بن الخطاب رضي الله عنه حتى نُبّه عليها من بعض أصاغر الصحابة، ممن هم أقل منه علماً وفطنة وفضلاً؟
والحقيقة: أن الحق أحق أن يقال، وإذا تبيّن للمرء الصواب فقد وجب عليه بيانه، وحَرُم عليه كتمانه، وبخاصة إذا كان يوافقه على مسألته علماء آخرون، فإن الحق ليس حُكْرةً على عالم، ولا محصوراً في علماء بلد معَين.
بل الحق ما تعلق بالدليل، والدليل ضالة المنصف أينما وجد، ومع من وجد، ولهذا وقف الصحابة يصححون لعمر ولعثمان ولعلي ولغيرهم من فضلاء الصحابة، لما تبيّن لهم الصواب، وعرفوا الحقّ، وما كان من هؤلاء الصحابة -عمر وعثمان وعلي رضي الله عنهم إلا الإنصات للنصيحة، والتراجع عن الخطأ إلى الصواب، رضوان الله وسلامه عليهم أجمعين.
হয়তো তাদের কেউ কেউ বলেন: কীভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাটি (المسألة) কিছু আলেমদের নিকট অগোচরে থেকে গেল?
এর উত্তর হলো: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট অনেক বিষয় কীভাবে অস্পষ্ট থেকে গিয়েছিল, এমনকি সাহাবিদের মধ্যে যারা ইলম, প্রজ্ঞা ও মর্যাদায় তাঁর চেয়ে ছোট ছিলেন, সেই কনিষ্ঠ সাহাবীগণও (أصاغر الصحابة) তাঁকে সে বিষয়ে সচেতন করেছিলেন?
প্রকৃতপক্ষে: সত্য (الحق) বলাই অধিক সংগত। যখন কোনো ব্যক্তির নিকট সঠিক (الصواب) বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন তা প্রকাশ করা তার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ে এবং তা গোপন করা নিষিদ্ধ। বিশেষত যখন অন্যান্য আলেমগণও সেই মাসআলায় তাঁর সাথে একমত পোষণ করেন। কারণ সত্য (الحق) কোনো নির্দিষ্ট আলেমের একচেটিয়া অধিকার নয়, কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের আলেমদের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়।
বরং সত্য (الحق) হলো তা-ই যা দলিলের (الدليل) সাথে সংশ্লিষ্ট। আর দলিল (الدليل) হলো ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির হারানো বস্তু, সে যেখানেই তা পায় এবং যার কাছেই পায় (তা গ্রহণ করে)। এ কারণেই সাহাবীগণ উমর, উসমান, আলী এবং অন্যান্য মর্যাদাবান সাহাবীগণের ভুল সংশোধন করে দিতেন যখন তাঁদের নিকট সঠিক (الصواب) বিষয়টি স্পষ্ট হতো এবং তাঁরা সত্য (الحق) জানতে পারতেন। আর এই সাহাবীগণ—উমর, উসমান ও আলী (রা.)-এর নীতিই ছিল উপদেশের প্রতি কর্ণপাত করা এবং ভুল থেকে সঠিকের (الصواب) দিকে ফিরে আসা; তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
كما ينبغي التنبيه إلى أن اتفاق علماء بلد على فتوى معيّنة، ليس إجماعاً لايجوز مخالفته، الإجماع: إجماع علماء الأمة، لا إجماع علماء بلد دون بلد، وإلا لما خالف الكوفيون البصريين، والشاميون المصريين، والنجديون الحجازيين.
ومهما عورضت هذه المسألة من قِبَل من لم يتدبّرها، فلن تعارض بأعظم مما عورضت به فتوى شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في مسألة جعل الطلاق بالثلاث واحدة، ثم جاء اليوم الذي تبنّى فيه معظم العالم الإسلامي فتواه، بل كادت محاكمهم أن تطبق عليها، بعد أن كان يُخطّأ صاحبُها بل ويُضلّل، ولن يمضي كبير وقت -إن شاء الله تعالى- إلا ويدرك العلماء والمسلمون صحة هذه المسألة، وأن «جدة» «محاذية» لميقات «يلملم» وأنها «ميقات إضافي» وإن غداً لناظره قريب.
وقد خرج أكثر من رد على كتابي هذا، قرأتها كلها وتدبرتها لعل فيها صواباً، فأما أحدهما: فكان سلطوياً، قرر أن جدة ليست ميقاتاً دون مناقشة ولا أدلة، ولا بيان للحجة.
كما ينبغي التنبيه إلى أن اتفاق علماء بلد على فتوى معيّنة، ليس إجماعاً لايجوز مخالفته، الإجماع: إجماع علماء الأمة، لا إجماع علماء بلد دون بلد، وإلا لما خالف الكوفيون البصريين، والشاميون المصريين، والنجديون الحجازيين。
একইভাবে এই বিষয়ে সতর্ক করা প্রয়োজন যে, কোনো নির্দিষ্ট শহরের আলেমদের একটি বিশেষ ফতোয়ার ওপর একমত হওয়া এমন কোনো ঐক্যমত্য (إجماع) নয় যা লঙ্ঘন করা বৈধ নয়। মূলত ঐক্যমত্য (إجماع) বলতে উম্মাহর আলেমদের ঐক্যমত্য (إجماع)-কে বোঝায়, কোনো সুনির্দিষ্ট ভূখণ্ডের আলেমদের ঐক্যমত্যকে নয়। অন্যথায় কুফাবাসীগণ বসরার আলেমদের, সিরীয়গণ মিশরীয়দের এবং নজদবাসীগণ হিজাজের আলেমদের বিরোধিতা করতেন না।
যারা এই বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেননি, তাদের পক্ষ থেকে এটি যত বিরোধিতাই করা হোক না কেন, এটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর তিন তালাককে এক তালাক গণ্য করার মাসআলায় প্রদত্ত ফতোয়ার চেয়ে বেশি বিরোধিতার সম্মুখীন হবে না। অতঃপর এমন দিন এসেছে যখন মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তার ফতোয়া গ্রহণ করেছে, বরং তাদের আদালতগুলো এর ওপর আমল করছে। অথচ একসময় এই ফতোয়ার প্রবক্তাকে ভুল আখ্যা দেওয়া হতো, এমনকি পথভ্রষ্টও বলা হতো। আল্লাহ তাআলা চাইলে খুব বেশি সময় অতিবাহিত হবে না, যখন আলেম সমাজ ও সাধারণ মুসলিমগণ এই মাসআলার বিশুদ্ধতা (صحة) উপলব্ধি করতে পারবেন—যে 'জেদ্দা' মূলত 'ইয়ালামলাম' মীকাতের সমান্তরালে অবস্থিত এবং এটি একটি 'অতিরিক্ত মীকাত'। নিশ্চয়ই আগামীকাল প্রতীক্ষাকারীর জন্য অতি নিকটে।
আমার এই বইটির ওপর একাধিক প্রতিবাদলিপি প্রকাশিত হয়েছে। আমি সেগুলো সবই পড়েছি এবং চিন্তা-ভাবনা করেছি যাতে সেখানে সত্য কিছু থাকলে তা গ্রহণ করা যায়। তবে এর মধ্যে একটি ছিল কর্তৃত্বপরায়ণ; কোনো আলোচনা, প্রমাণ বা দলিলের ব্যাখ্যা ছাড়াই সেখানে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে যে জেদ্দা মীকাত নয়।
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وأما ثانيهما، فكان فيه رائحة التعصب إذ كان يذكر (مشايخي) (مشايخنا) رغم أنه دكتور، وكأن الحق محصور في الحدود السياسية، وما درى هذا أن الإجماع هو إجماع الأمة لا اتفاق علماء بلده -لو كانوا متفقين- وفي الرد تدليس وحيدات، سأذكر بعضها خلال البحث.
هذا وقد اضطررت أن أزيد في هذا الملخص في الطبعة الثانية، وأنقل من الكتاب الأصل، لتوضيح بعض المسائل التي أشكلت على بعض الناس ومنهم الدكتور صاحب كتاب (المسائل المشكلة).
والله من وراء القصد، وهو المسؤول في العفو والقبول، وهو الهادي سواء السبيل.
جمادى الآخرة 1415 هـ
وكتبه
عدنان بن محمد العرعور
আর তাদের মধ্যে দ্বিতীয়জন সম্পর্কে কথা হলো, তার মাঝে গোঁড়ামির গন্ধ ছিল; কারণ তিনি একজন ডক্টর হওয়া সত্ত্বেও (আমার শিক্ষকগণ) (مشايخي) ও (আমাদের শিক্ষকগণ) (مشايخنا) শব্দগুলো ব্যবহার করছিলেন, যেন সত্য কেবল রাজনৈতিক সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই ব্যক্তি জানতেন না যে, ঐক্যমত্য (إجماع) হলো উম্মাহর ঐক্যমত্য, কেবল তার নিজ দেশের আলেমদের মতৈক্য নয়—যদি তারা ঐক্যবদ্ধ হতেনও। তার এই জবাবে তাদলিস (تدليس) ও কিছু বিচ্যুতি রয়েছে, যা আমি গবেষণার সময় উল্লেখ করব।
এই প্রেক্ষিতে, দ্বিতীয় সংস্করণে আমি এই সারসংক্ষেপে কিছু বিষয় বর্ধিত করতে এবং মূল গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করতে বাধ্য হয়েছি, যাতে সেই সব বিষয় স্পষ্ট হয় যা কিছু মানুষের নিকট অস্পষ্টতা তৈরি করেছিল; যাদের মধ্যে 'আল-মাসাইলুল মুশকিল্লাহ' গ্রন্থের লেখক ডক্টরও রয়েছেন।
আল্লাহ্ই সকল উদ্দেশ্যের কেন্দ্রবিন্দু, ক্ষমা ও কবুলিয়াতের জন্য তিনিই প্রার্থিত এবং তিনিই সঠিক পথের দিশারী।
জুমাদাল আখিরাহ ১৪১৫ হিজরি
লিখেছেন
আদনান বিন মুহাম্মদ আল-আর'উর
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
اصطلاحاتطلباً للاختصار، فهذه بعض المصطلحات التي اعتُمدت في هذا البحث يُرجى التنبه لها.
القاصد: هو مريد الحج أو العمرة.
الميقات الأصلي: هو الميقات الذي وقّته رسول الله صلى الله عليه وسلم.
الميقات الإضافي: هو نقطة المحاذاة التي يجب الإحرام منها لمن مرّ منها.
الساحل: هو ساحل البحر الأحمر المحصور بين (الجحفة) شمالاً ووادي (يلملم) جنوباً.
التجاوز:
পরিভাষাসমূহসংক্ষেপ করার সুবিধার্থে, এই গবেষণায় ব্যবহৃত কিছু পরিভাষা নিচে প্রদান করা হলো; অনুগ্রহপূর্বক এগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখুন।
উদ্দেশ্যকারী (القاصد): তিনি হলেন হজ বা উমরার সংকল্পকারী ব্যক্তি।
মূল মিকাত (الميقات الأصلي): এটি সেই মিকাত যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্ধারণ করেছেন।
অতিরিক্ত মিকাত (الميقات الإضافي): এটি হলো সমান্তরাল বিন্দু (نقطة المحاذاة), যেখান থেকে ঐ ব্যক্তির জন্য ইহরাম বাঁধা আবশ্যক যে তা অতিক্রম করে।
উপকূল (الساحل): এটি লোহিত সাগরের সেই উপকূলীয় অঞ্চল যা উত্তরে জুহফা (الجحفة) এবং দক্ষিণে ইয়ালামলাম (يلملم) উপত্যকার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
অতিক্রম করা (التجاوز):
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
تجاوز المواقيت دون إحرام.
المتجاوز: هو القاصد الذي يتجاوز المواقيت بلا إحرام، وأما مع الإحرام فلا يسمى تجاوزاً ولا متجاوزاً
الاختراق: اختراق محيط المواقيت، ومنه: المختَرِق.
جدة: يقصد بها في هذا الكتاب، ساحلها وما كان قريباً منه كالمطار والفنادق القريبة من الساحل، وليس المقصود امتدادها العمراني الحالي.
ইহরাম (إحرام) ব্যতিরেকে মিকাতসমূহ (المواقيت) অতিক্রম করা।
অতিক্রমকারী (المتجاوز): তিনি হলেন সেই সংকল্পকারী ব্যক্তি যিনি ইহরাম (إحرام) ব্যতিরেকে মিকাতসমূহ (المواقيت) অতিক্রম করেন; তবে ইহরামসহ অতিক্রম করলে তাকে 'অতিক্রম করা' (تجاوز) বলা হয় না এবং উক্ত ব্যক্তিকে 'অতিক্রমকারী' (متجاوز) হিসেবেও গণ্য করা হয় না।
সীমানা ভেদ করা (الاختراق): মিকাতসমূহের (المواقيت) পরিবেষ্টিত সীমানা ভেদ করা; আর এ থেকেই 'সীমানা ভেদকারী' (المخترق) শব্দের উৎপত্তি।
জেদ্দা: এই গ্রন্থে জেদ্দা বলতে এর উপকূলীয় অঞ্চল এবং তার নিকটবর্তী স্থানসমূহ যেমন বিমানবন্দর ও উপকূলের নিকটবর্তী হোটেলসমূহকে বোঝানো হয়েছে; বর্তমানে এর যে নগর বিস্তৃতি ঘটেছে তা এখানে উদ্দেশ্য নয়।
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
بين يدي المواقيتلقد شرع الله عز وجل الحج والعمرة إلى بيته الحرام، وعيّن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمكنةً محيطةً بالبيت إشعاراً ببدء النسك، لا يجوز للقاصد تجاوزها إلا محرماً متلبساً بالنسك.
وسُمّيت هذه الأماكن بالمواقيت، من: وقّت الشيء. أي: بيّن حدّه من زمانٍ أو مكانٍ.
وجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه المواقيت على طرق الناس المسلوكة إلى مكة والمعروفة يومئذ، فجعل على طريق أهل المدينة ((ذا الحليفة)) وهي تقع قريبة من المدينة، وتبعد عن مكة عشر مراحل (1)، وهو ما يساوي (430) كيلاً تقريباً.
وجعل على طريق الساحل الشمالي: ((الجحفة))، وتبعد عن مكة من أربع إلى خمس مراحل (186) كيلاً.
--------------------------------------------
মিকাতসমূহের আলোচনামহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র গৃহের উদ্দেশ্যে হজ্জ ও উমরাকে বিধিবদ্ধ করেছেন এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবাদতের (نسك) প্রারম্ভিক সূচনা বুঝাতে বাইতুল্লাহর চতুর্দিকে কিছু স্থান নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। কোনো গন্তব্যকারীর জন্য ইহরাম (إحرام) অবস্থায় উক্ত ইবাদতে (نسك) নিবিষ্ট হওয়া ব্যতিরেকে এই সীমাগুলো অতিক্রম করা বৈধ নয়।
এই স্থানগুলোকে মিকাত (مواقيت) নামকরণ করা হয়েছে, যা 'ওয়াক্কাতা' (وقّت) শব্দ থেকে উদ্ভূত; অর্থাৎ: কোনো বিষয়ের সময় বা স্থানগত সীমা স্পষ্ট করা।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই মিকাতগুলোকে (مواقيت) মক্কায় গমনের তৎকালীন পরিচিত ও ব্যবহৃত পথসমূহে নির্ধারণ করেছেন। তিনি মদীনার অধিবাসীদের পথের জন্য 'যুল হুলাইফাহ' নির্ধারণ করেছেন; এটি মদীনার নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত এবং মক্কা থেকে দশ মারহালাহ (مرحلة) (১) দূরে, যা প্রায় ৪৩০ কিলোমিটারের সমান।
তিনি উত্তর উপকূলীয় পথের জন্য 'আল-জুহফাহ' নির্ধারণ করেছেন, যা মক্কা থেকে চার থেকে পাঁচ মারহালাহ (مرحلة) (১৮৬ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وعيّن على طريق أهل الجنوب واليمن ((يلملم))، وهو وادٍ ممتد من الشرق إلى الساحل الغربي، وطرفه الغربي يقع على البحر، مقابل ميقات «الجحفة» وطوله 150 كيلاً، ويبعد وسطه عن مكة مرحلتين (90) كيلاً (1) ويحرم القاصد من أي بقعة من بقعه.
وحدّ على طريق أهل نجد ((قرن المنازل)) وتبعد عن مكة مرحلتين أيضاً (80) كيلاً.
ووقّت ((ذات عرق)) على طريق أهل العراق، ثم وقّتها عمر رضي الله عنه، وهو لا يعلم بتوقيت النبي صلى الله عليه وسلم لها، وتبعد عن مكة مرحلتين (80) كيلاً (2).
ودليل ذلك حديث ابن عباس رضي الله عنه قال: ((وقّت رسول الله صلى الله عليه وسلم لأهل المدينة: ذا الحليفة، ولأهل الشام: الجحفة، ولأهل نجد:
--------------------------------------------
দক্ষিণ এবং ইয়ামেনবাসীদের পথের জন্য ‘ইয়ালামলাম’ নির্ধারণ করা হয়েছে; এটি পূর্ব থেকে পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি উপত্যকা। এর পশ্চিম প্রান্ত সমুদ্রতীরে ‘জুহফাহ’ মিয়াকাতের বিপরীতে অবস্থিত এবং এর দৈর্ঘ্য ১৫০ কিমি। এর মধ্যভাগ মক্কা থেকে দুই মঞ্জিল (৯০ কিমি) দূরে অবস্থিত (১) এবং গন্তব্যযাত্রী এর যেকোনো স্থান থেকে ইহরাম পরিধান করবেন।
নজদবাসীদের পথের সীমানা হিসেবে ‘কারনুল মানাজিল’ নির্ধারিত হয়েছে এবং এটিও মক্কা থেকে দুই মঞ্জিল (৮০ কিমি) দূরত্বে অবস্থিত।
ইরাকবাসীদের পথের জন্য ‘জাতু ইরক’ মিয়াকাত হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে; পরবর্তীতে উমর (রা.) এটি নির্ধারণ করেন, অথচ তিনি এ বিষয়ে নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে নির্ধারিত থাকার বিষয়টি জানতেন না। এটি মক্কা থেকে দুই মঞ্জিল (৮০ কিমি) দূরে অবস্থিত (২)।
এর প্রমাণ হলো ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিস, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনাবাসীদের জন্য ‘জুল হুলাইফাহ’, শামবাসীদের জন্য ‘জুহফাহ’ এবং নজদবাসীদের জন্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
قرن المنازل، ولأهل اليمن: يلملم، قال: فهن لهن، ولمن أتى عليهن من غير أهلهن لمن كان يريد الحج والعمرة، فمن كان دونهن فمُهلُّه من أهله، وكذلك حتى أهل مكة يُهلّون منها)) (1).
انظر الشكل التالي:
الشكل (الخريطة) وهي تبيّن مواقع المواقيت على الواقع:
--------------------------------------------
কারনুল মানাজিল এবং ইয়েমেনবাসীদের জন্য: ইয়ালামলাম। তিনি বললেন: "এই মিকাতগুলো সংশ্লিষ্ট অধিবাসীদের জন্য এবং যারা হজ্জ ও উমরার সংকল্প নিয়ে অন্য অঞ্চল থেকে এই পথ দিয়ে আসবে তাদের জন্য। সুতরাং যারা এই মিকাতগুলোর সীমানার ভেতরে থাকে, তাদের ইহরাম বাঁধার স্থান হবে তাদের নিজ নিজ আবাসস্থল থেকেই; এমনকি মক্কাবাসীরা মক্কা থেকেই ইহরাম বাঁধবে।" (১)
নিচের চিত্রটি দেখুন:
চিত্র (মানচিত্র) যা বাস্তবে মিকাতসমূহের অবস্থানসমূহ প্রদর্শন করছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
من أحكام المواقيت، والمقصود منهاإن المتأمل في هذه المواقيت، والمطلع على أقوال أهل العلم في شأنها، يتبيّن له المسائل التالية:
المسألة الأولى: المواقيت نقاط أعلام لبدء النسك:إن هذه المواقيت إنما هي نقاط لإعلام القاصدين ببدء النسك، ووجوب الإحرام منها.
لقول ابن عباس: ((وقّت رسول الله
… )) الحديث. وهذا أمر مجمع عليه عند أهل العلم؛ ولهذا عُيّنت على طرق الناس المعروفة يومئذ.
قال شيخ الإسلام:
((وإنما فائدة التوقيت: وجوب الإحرام من هذه المواقيت)) (1).
--------------------------------------------
নির্ধারিত স্থানসমূহের (المواقيت) বিধানাবলি এবং এর উদ্দেশ্য প্রসঙ্গেনিশ্চয়ই এই নির্ধারিত স্থানসমূহ (المواقيت) সম্পর্কে যিনি অনুধাবন করবেন এবং এ সংক্রান্ত আলেমগণের বক্তব্যের ওপর দৃষ্টিপাত করবেন, তাঁর নিকট নিম্নোক্ত মাসআলাগুলো (المسائل) স্পষ্ট হবে:
প্রথম মাসআলা (المسألة): নির্ধারিত স্থানসমূহ (المواقيت) ইবাদত (النسك) শুরুর চিহ্ন বা সীমানা:এই নির্ধারিত স্থানসমূহ (المواقيت) মূলত হজ বা উমরার সংকল্পকারীদের জন্য ইবাদত (النسك) শুরুর সংকেত এবং সেখান থেকে ইহরাম (الإحرام) গ্রহণ করার আবশ্যকতা নির্দেশ করে।
ইবনে আব্বাসের (রাযি.) বাণীর কারণে: "রাসূলুল্লাহ ﷺ সময় ও স্থান নির্ধারণ করেছেন..." হাদিস। এটি আলেমদের নিকট একটি সর্বসম্মত (مجمع عليه) বিষয়; এ কারণেই তৎকালীন সময়ের মানুষের পরিচিত পথগুলোতে এগুলো নির্ধারণ করা হয়েছিল।
শাইখুল ইসলাম বলেন:
"সীমানা নির্ধারণের (التوقيت) উপকারিতা হলো: এই নির্ধারিত স্থানসমূহ (المواقيت) থেকেই ইহরাম (الإحرام) গ্রহণ করা ওয়াজিব বা আবশ্যক হওয়া।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
المسألة الثانية: المواقيت محيطة بالحرم:هذه المواقيت موزّعة حول الحرم ليَتشكّل منها محيط المواقيت، كي يسهل على القاصدين الإحرام من أي مكان يخترقون فيه هذا المحيط. إذا لم يكن على طريقهم ميقات أصلي، ونقطة الاختراق هذه؛ تسمى: ((المحاذاة)).
قال شيخ الإسلام ابن تيمية:
((وأيضا فإن المواقيت محيطة بالبيت كإحاطة جوانب الحرم)) (1).
وكذا قال الحافظ العسقلاني (2)، والفقيه ابن عابدين وغيرهم (3).
المسألة الثالثة: المواقيت نقاط علام، وليست أماكن مقدسة.
ليس لهذه المواقيت قدسيّة خاصة لذاتها، أي: ليس المقصود المكان نفسه، وليس فيه خاصيّة التعبد، كما لبعض الأماكن من قدسية، كالمسجد الحرام وغيره، ولا يوجد نص بذلك، ولم يقل بهذا أحد من
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মাসআলা: মীকাতসমূহ হারামের চতুর্পার্শ্বকে পরিবেষ্টনকারী:এই মীকাতগুলো হারামের চারপাশে এমনভাবে বিন্যস্ত যাতে এগুলোর সমন্বয়ে একটি মীকাত-পরিবেষ্টনী গঠিত হয়, যেন গন্তব্যে গমনকারীদের জন্য এই পরিবেষ্টনীর যেকোনো স্থান দিয়ে অতিক্রম করার সময় ইহরাম বাধা সহজ হয়। যদি তাদের পথে কোনো মূল মীকাত (ميقات أصلي) না থাকে, তবে সেই অতিক্রমের বিন্দুকে বলা হয়: "সমান্তরাল হওয়া (المحاذاة)"।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন:
"অনুরূপভাবে, মীকাতগুলো বায়তুল্লাহকে একইভাবে পরিবেষ্টন করে আছে যেমন হারামের চারপাশ পরিবেষ্টন করে থাকে" (১)।
অনুরূপ কথা হাফেজ আসকালানি (২), ফকিহ ইবনে আবিদিন এবং অন্যান্যরাও বলেছেন (৩)।
তৃতীয় মাসআলা: মীকাতসমূহ হলো চিহ্ন বিন্দু, পবিত্র স্থান নয়।এই মীকাতগুলোর নিজস্ব কোনো বিশেষ পবিত্রতা নেই, অর্থাৎ কেবল স্থানটিই উদ্দেশ্য নয় এবং এতে ইবাদতের এমন কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য নেই যা অন্য কিছু পবিত্র স্থানের ক্ষেত্রে থাকে, যেমন মসজিদুল হারাম বা অন্য কিছু। এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) নেই এবং এ কথা কেউ বলেননি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أهل العلم، وإنما الغرض منها الإعلام والتنبيه ببدء النسك، ذلك ولو كان هناك طرق أخرى غير الطرق المعروفة يومئذ، لعيّن عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم مواقيت لها، وقد كان تعيين رسول الله صلى الله عليه وسلم للمواقيت على طرق الناس التي كانت يومئذ إلى مكة، ولأن عمر رضي الله عنه عيّن لأهل العراق ميقاتاً على طريقهم لما طلبوا منه ذلك.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: ((وذلك لأن الإحرام مما يحاذي الميقات بمنزلة الإحرام من نفس الميقات، فإنه إذا كان بُعدُهما عن البيت واحداً لم يكن في نفس الميقات مقصود)) (1).
أي: ليس المقصود المرور من الميقات نفسه لقدسيته، ولكن المقصود: الإحرام من عند الميقات، أو مما يحاذيه، أي: من مسافة تساويه، ولذلك كانت المسألة الرابعة:
--------------------------------------------
বিদ্বানগণ, বরং এর উদ্দেশ্য হলো ইবাদতের শুরু সম্পর্কে জানানো এবং সতর্ক করা। যদি সে সময় পরিচিত পথগুলো ছাড়া অন্য কোনো পথ থাকত, তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেগুলোর জন্যও মিকাত (ميقات) নির্ধারণ করে দিতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের সে সময়ের মক্কার পরিচিত পথগুলোর ওপরই মিকাত (ميقات) নির্ধারণ করেছিলেন। আর একারণেই উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইরাকবাসীর জন্য তাদের পথের ওপর একটি মিকাত (ميقات) নির্ধারণ করেছিলেন যখন তারা তাঁর কাছে এই অনুরোধ করেছিলেন।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "আর এটি একারণে যে, মিকাতের (ميقات) সমান্তরাল স্থান থেকে ইহরাম করা স্বয়ং মিকাত (ميقات) থেকে ইহরাম করার মর্যাদাসম্পন্ন। কারণ কাবাঘর থেকে যদি উভয়ের দূরত্ব একই হয়, তবে মিকাতের (ميقات) নিজস্ব কোনো সত্তাগত উদ্দেশ্য থাকে না" (১)।
অর্থাৎ: মিকাতের (ميقات) নিজস্ব পবিত্রতার কারণে সেখান দিয়ে অতিক্রম করা উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো: মিকাত (ميقات) থেকে অথবা এর সমান্তরাল স্থান থেকে, অর্থাৎ সমপরিমাণ দূরত্ব থেকে ইহরাম করা। আর এই কারণেই চতুর্থ মাসয়ালাটি হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المسألة الرابعة: جواز المرور من أي ميقات، ولأي قاصد.
أجاز العلماء بالإجماع: المرور من أي ميقات شاء القاصد، وإن لم يكن ميقات بلده، إذ العبرة بجهة القدوم، وبميقات العبور، وليست العبرة ببلد القاصد، أو مولده، أو تابعيته، أو غير ذلك، ومستندهم في ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: ((ولمن أتى عليهن من غير أهلهن)) (1).
المسألة الخامسة: عدم وجوب الإحرام منها عيناً، وجوازه مما يحاذيها.
أجمع العلماء على عدم وجوب المرور منها (2)، وأجازوا المرور من بينها على أن يحرم مما يحاذي هذه المواقيت، ولم يوجب أحد منهم المرور بأحد المواقيت الأصلية التي عينها رسول الله صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
চতুর্থ মাসআলা: যে কোনো মিকাত দিয়ে অতিক্রম করার এবং যে কোনো যাত্রীর জন্য এর বৈধতা.
ওলামায়ে কেরাম সর্বসম্মতভাবে (إجماع) অনুমোদন দিয়েছেন যে: হজ্জ বা উমরার যাত্রী তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোনো মিকাত দিয়ে অতিক্রম করতে পারবেন, যদিও তা তার নিজ দেশের মিকাত না হয়। কারণ বিবেচ্য বিষয় হলো আগমনের দিক এবং যে মিকাত দিয়ে তিনি অতিক্রম করছেন; যাত্রীর নিজ দেশ, জন্মস্থান, নাগরিকত্ব বা অন্য কিছু এখানে বিবেচ্য নয়। এ ক্ষেত্রে তাদের দলীল হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "এবং এই মিকাতগুলো তাদের জন্যও যারা এগুলোর অধিবাসী না হয়েও এ পথ দিয়ে আসবে।" (১)।
পঞ্চম মাসআলা: নির্দিষ্টভাবে মিকাত থেকেই ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব না হওয়া এবং এর সমান্তরাল স্থান থেকে ইহরাম বাঁধার বৈধতা.
ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন (أجمع) যে, হুবহু মিকাতের ওপর দিয়েই অতিক্রম করা আবশ্যক নয় (২)। তারা মিকাতসমূহের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে অতিক্রম করা জায়েজ বলে গণ্য করেছেন, তবে শর্ত হলো এই মিকাতগুলোর সমান্তরাল কোনো স্থান থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে। তাদের কেউ-ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত মূল মিকাতগুলোর কোনো একটির ওপর দিয়েই অতিক্রম করাকে আবশ্যক করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قال ابن قدامة الحنبلي:
((ومن لم يكن طريقه على ميقات فميقاته حذو أقربها إليه)) (1).
وشرح ذلك شيخ الاسلام، وأيّده ومثّل له، واستدل له بأثر عمر رضي الله عنه في توقيت «ذات عرق» لأهل العراق، ثم قال: «ولم يأمرهم -أي: أهل العراق- عمر والمسلمون بالمرور بقرن بل جعلوا ما يحاذيها بمنزلتها».
وقال العلامة الشنقيطي رحمه الله:
((اعلم أن من سلك إلى الحرم طريقاً لا ميقات فيها، فميقاته المحل المحاذي لأقرب المواقيت، وهذا لاخلاف فيه بين أهل العلم)) (2). انظر مراجع المذاهب في الهامش.
--------------------------------------------
ইবনে কুদামা আল-হাম্বলি রহ. বলেছেন:
((যার যাতায়াতের পথ কোনো মিকাতের ওপর দিয়ে পড়েনি, তার মিকাত হবে তার নিকটতম মিকাতের সমান্তরাল স্থান)) (১)।
শায়খুল ইসলাম এটি ব্যাখ্যা করেছেন, সমর্থন করেছেন এবং এর উদাহরণ পেশ করেছেন। তিনি ইরাকবাসীদের জন্য 'জাতু ইরাক' মিকাত নির্ধারণের বিষয়ে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত বর্ণনা (أثر)-কে দলীল হিসেবে পেশ করেছেন। এরপর তিনি বলেন: "উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং মুসলিমগণ ইরাকবাসীদের 'কারন' অতিক্রম করার নির্দেশ দেননি, বরং তারা সেটির সমান্তরাল স্থানকে সেটির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে গণ্য করেছেন।"
আল্লামা শানকীতি রহ. বলেছেন:
((জেনে রাখুন, যে ব্যক্তি হারামের দিকে এমন পথ দিয়ে গমন করে যেখানে কোনো মিকাত নেই, তবে তার মিকাত হলো নিকটতম মিকাতের সমান্তরাল স্থান। এ বিষয়ে আলেমগণের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই)) (২)। পাদটীকায় বিভিন্ন মাযহাবের উদ্ধৃতিসমূহ দেখুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المسألة السادسة: تقسيم المواقيت إلى: أصلي وإضافيوعلى هذا: يمكن تقسيم المواقيت -اصطلاحاً- الى قسمين:
ميقات أصلي: وهو الذي عيّنه رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ميقات إضافي: وهو الذي يحاذي الميقات الأصلي، ويقع بين ميقاتين.
والإحرام من الأصلي والإضافي سواء (1).
--------------------------------------------
ষষ্ঠ মাসআলা: মিকাতসমূহকে (المواقيت) মূল এবং আনুষঙ্গিক ভাগে বিভক্ত করাসেই অনুযায়ী: পারিভাষিকভাবে মিকাতসমূহকে (المواقيت) দুই ভাগে বিভক্ত করা সম্ভব:
মূল মিকাত (ميقات أصلي): এটি সেই স্থান যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
আনুষঙ্গিক মিকাত (ميقات إضافي): এটি সেই স্থান যা মূল মিকাতের সমান্তরালে (المحاذاة) পড়ে এবং দুটি মিকাতের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
মূল এবং আনুষঙ্গিক উভয় মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধা সমান (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المسألة السابعة: كل بقعة محاذية فهي ميقات إضافيإن عدد ((المواقيت الإضافية)) هو بعدد النقاط المحاذية، والنقاط المحاذية: هي كل نقطة على محيط المواقيت، وهي التي يستطيع القاصد أن يحرم من أيها شاء دون حرج، وهي لا تعد ولا تحصى.
সপ্তম মাসআলা (المسألة السابعة): প্রতিটি সমান্তরাল স্থান (بقعة محاذية) হলো অতিরিক্ত মিকাত (ميقات إضافي)অতিরিক্ত মিকাতসমূহের (المواقيت الإضافية) সংখ্যা হলো সমান্তরাল বিন্দুসমূহের (النقاط المحاذية) সংখ্যার সমান। আর সমান্তরাল বিন্দুসমূহ (النقاط المحاذية) বলতে মিকাতসমূহের পরিধির (محيط المواقيت) ওপর অবস্থিত প্রতিটি বিন্দুকে বোঝায়; যেখান থেকে হজ বা উমরার সংকল্পকারী ব্যক্তি কোনো প্রকার সংকীর্ণতা ছাড়াই ইহরাম (إحرام) গ্রহণ করতে পারেন। আর এগুলোর সংখ্যা অগণিত ও অগণনযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أهمية تحديد المحاذاةلما أجمع أهل العلم على عدم وجوب المرور من الميقات نفسه؛ نظراً لعدم قدسيته، وأجازوا بلا كراهية الإحرام مما يحاذي الميقات، كان لزاماً علينا معرفة معنى ((المحاذاة)) ثم تحديد الأماكن المحاذية ((المواقيت الإضافية)) على الأرض، ورسم محيط المواقيت، وذلك مواكبة لتطورات العصر المتتابعة، وتحقيقاً لعالمية هذا الدين، وصلاحيّة أحكامه لكل زمان ومكان ووسيلة، وإيجاد حلول شرعية عمليّة صحيحة، تتناسب ووسائل المواصلات الحديثة في مجال البر والبحر والجو.
وإذا عُرف محيط المواقيت، عَرف المسلم أين يحرم، من أي: جهة قَدِمَ، وعلى أي وسيلة كانت.
সমান্তরাল স্থান (المحاذاة) নির্ধারণের গুরুত্বযেহেতু আলেমগণ মিকাত (الميقات)-এর নিজস্ব কোনো অলৌকিক পবিত্রতা না থাকার কারণে সরাসরি সেই মিকাত (الميقات) অতিক্রম করা ওয়াজিব (وجوب) না হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত (أجمع) পোষণ করেছেন এবং মিকাতের সমান্তরাল (المحاذاة) স্থান থেকে ইহরাম (الإحرام) গ্রহণ করাকে কোনো প্রকার অপছন্দনীয়তা (كراهية) ছাড়াই বৈধ (أجازوا) ঘোষণা করেছেন; তাই আমাদের জন্য 'সমান্তরালতা' (المحاذاة)-এর অর্থ অনুধাবন করা এবং অতঃপর ভূপৃষ্ঠে সমান্তরাল স্থানসমূহ অর্থাৎ 'অতিরিক্ত মিকাতসমূহ' (المواقيت الإضافية) চিহ্নিত করা এবং মিকাতসমূহের পরিধি অঙ্কন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এটি যুগের ধারাবাহিক বিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে, এই দ্বীনের বিশ্বজনীনতা নিশ্চিত করতে এবং সর্বকাল, সর্বস্থান ও সকল মাধ্যমের জন্য এর বিধানসমূহের উপযোগিতা প্রমাণের পাশাপাশি স্থল, জল ও আকাশপথের আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সঠিক ও বাস্তবসম্মত শরয়ি সমাধান প্রদানের লক্ষ্যে আবশ্যক।
মিকাতসমূহের এই পরিধি যদি জানা থাকে, তবে একজন মুসলিম যে দিক থেকেই আসুক না কেন এবং যে যানবাহনেই সওয়ার হোক না কেন, সে সহজেই অবগত হতে পারবে যে তাকে কোথা থেকে ইহরাম (الإحرام) গ্রহণ করতে হবে।
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ما دليل المحاذاةمما هو معروف في دين الإسلام: أن الإجماع حجة بعد الكتاب والسنة، يجب اتباعه، ويحرم مخالفته، وقد سبق ذكر إجماع أهل العلم على عدم وجوب المرور من المواقيت الأصلية، ومشروعية الإحرام من المحاذاة، وأنه لا فرق بين من أحرم من الميقات نفسه، وبين من أحرم من المحاذاة، وكان مستندهم في ذلك:
ما أخرجه البخاري (3/ 389) عن ابن عمر رضي الله عنه قال:
((لمّا فُتح (1) هذان المصران -أي: البصرة والكوفة- أتوا عمر فقالوا: يا أمير المؤمنين، إن رسول الله صلى الله عليه وسلم حدّ لأهل نجد قرناً، وهو جور عن طريقنا -أي: بعيد- وإنا إن أردنا قرناً شق علينا، فقال: ((انظروا حذوها من طريقكم)) فحّد لهم ((ذات عرق)).
ففي هذا الأثر العظيم أمور:
--------------------------------------------
সমান্তরাল স্থান (محاذاة) নির্ণয়ের দলিল কী?ইসলাম ধর্মে এটি একটি সুবিদিত বিষয় যে: কুরআন ও সুন্নাহর পর আলেমগণের ঐক্যমত (إجماع) একটি অকাট্য দলিল (حجة), যা অনুসরণ করা আবশ্যক এবং যার বিরোধিতা করা নিষিদ্ধ। ইতিপূর্বে মূল মিকাতসমূহের মধ্য দিয়ে সরাসরি অতিক্রম করা আবশ্যিক না হওয়া এবং মিকাতের সমান্তরাল স্থান (محاذاة) থেকে ইহরাম বাঁধার বৈধতার বিষয়ে আলেমগণের ঐক্যমত (إجماع) উল্লেখ করা হয়েছে। আর যে ব্যক্তি সরাসরি মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধল এবং যে ব্যক্তি সমান্তরাল স্থান (محاذاة) থেকে ইহরাম বাঁধল—উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এ ক্ষেত্রে তাঁদের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হলো:
সহিহ বুখারি (৩/৩৮৯) গ্রন্থে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন:
((যখন এই দুই শহর—অর্থাৎ বসরা ও কুফা—বিজয় (১) হলো, তখন তারা উমর (রা.)-এর নিকট এসে বলল: হে আমিরুল মুমিনিন! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নজদবাসীদের জন্য ‘কারন’ নির্ধারণ করেছেন, যা আমাদের পথ থেকে বিচ্যুত—অর্থাৎ দূরে। আমরা যদি ‘কারন’ হয়ে যেতে চাই তবে তা আমাদের জন্য কষ্টকর হবে। তখন তিনি বললেন: ((তোমাদের পথ থেকে এর সমান্তরাল (حذوها) দিকটি লক্ষ্য করো।)) অতঃপর তিনি তাদের জন্য ‘জাতু ইর্ক’ নির্ধারণ করে দিলেন।))
এই মহান বর্ণনার (أثر) মধ্যে কয়েকটি বিষয় রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الأول: الدلالة على ما سبق ذكره، من عدم وجوب المرور من الميقات نفسه الذي عيّنه رسول الله صلى الله عليه وسلم.
الثاني: جواز تحديد مواقيت جديدة، للطرق الجديدة التي تفتح إلى مكة.
الثالث: إن القاعدة في تحديد ((المواقيت الإضافية)) هي ((المحاذاة)).
وقد تابعت الأمة عمر بن الخطاب رضي الله عنه على هذه المسألة، ولولا خشية الإطالة لنقلت نصوصهم من أمهات الكتب، وقد سبقت الإشارة إلى مواضعها فليراجعها من شاء.
ومنها قول الحافظ ابن حجر عند شرحه لهذا الأثر:
((واستُدلّ به على أن من ليس له ميقات، أنّ عليه أن يحرم إذا حاذى ميقاتاً من هذه المواقيت الخمسة)) (1).
ونقل الحافظ عن ابن المنذر قوله:
((لكن لماّ سنّ عمر ((ذات عرق)) وتبعه عليه الصحابة، استمر عليه العمل)).
--------------------------------------------
প্রথমত: ইতিপূর্বে যা আলোচিত হয়েছে তার নির্দেশনা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত মিকাত (ميقات) দিয়েই অতিক্রম করা আবশ্যক নয়।
দ্বিতীয়ত: মক্কার দিকে নতুন যে পথগুলো উন্মুক্ত হবে, সেগুলোর জন্য নতুন মিকাত (مواقيت) নির্ধারণের বৈধতা।
তৃতীয়ত: “অতিরিক্ত মিকাতসমূহ” (المواقيت الإضافية) নির্ধারণের মূলনীতি হলো “সমান্তরালে অবস্থান” (المحاذاة)।
এই মাসআলার ক্ষেত্রে উম্মত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে আমি মূল আকর গ্রন্থসমূহ থেকে তাদের উদ্ধৃতিগুলো উদ্ধৃত করতাম। ইতিপূর্বে এগুলোর উৎসের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সুতরাং আগ্রহী ব্যক্তি যেন তা দেখে নেন।
তন্মধ্যে এই বর্ণনাটি (أثر) ব্যাখ্যা করার সময় হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজারের উক্তি হলো:
“এ থেকে প্রমাণ পেশ করা হয়েছে যে, যার জন্য কোনো নির্দিষ্ট মিকাত (ميقات) নেই, তাকে ইহরাম (إحرام) বাঁধতে হবে যখন সে এই পাঁচটি মিকাতের (مواقيت) কোনো একটির সমান্তরালে (حاذى) পৌঁছাবে” (১)।
হাফিজ (الحافظ) ইবনুল মুনযির থেকে তাঁর এই উক্তি বর্ণনা করেছেন: “কিন্তু যখন উমর ‘যাতু ইরক’ নির্ধারণ করলেন এবং সাহাবীগণ (الصحابة) এ ব্যাপারে তাঁর অনুসরণ করলেন, তখন থেকে এই আমলই অব্যাহত রয়েছে।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ما معنى المحاذاةليس فيما سبق من التقرير والتأصيل، خلاف بين أهل العلم، على الرغم من اختلاف مذاهبهم، وتنوع مشاربهم، والحمد لله (1).
ولم يبق سوى معرفة معنى «المحاذاة» وتحديد البقع المحاذية على أرض الواقع.
معنى المحاذاة:
المحاذاة لغة: الإزاء والمجاورة.
وحاذى الشيء: وازاه، وصار بجانبه (2).
حالات المحاذاة واقعاً وشرعاً:يطلق على المكان أنه يحاذي مكاناً آخر، إذا تحقق فيه إحدى الحالات الثلاث:
--------------------------------------------
মুহাজাত (সমান্তরালে অবস্থান) এর অর্থ কী?ইতিপূর্বে যা বর্ণিত ও মূলনীতি হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে ইলম বিশারদদের (أهل العلم) মধ্যে কোনো মতভেদ নেই, যদিও তাঁদের মাযহাব (مذاهب) ও দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন, আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য (১)।
এখন শুধু 'মুহাজাত' (সমান্তরালে অবস্থান) এর অর্থ জানা এবং বাস্তবিকভাবে সমান্তরাল স্থানসমূহ চিহ্নিত করা অবশিষ্ট রয়েছে।
মুহাজাত এর অর্থ:
শাব্দিক অর্থে মুহাজাত: সমান্তরাল হওয়া (الإزاء) এবং পার্শ্ববর্তী হওয়া (المجاورة).
কোনো বস্তুর 'মুহাজাত' হওয়া অর্থ হলো: তার সমান্তরালে আসা এবং তার পাশে অবস্থান করা (২)।
বাস্তবতা ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে মুহাজাতের অবস্থাসমূহ:কোনো স্থানকে অন্য একটি স্থানের সমান্তরাল বলা হয়, যদি তাতে নিম্নোক্ত তিনটি অবস্থার কোনো একটি বিদ্যমান থাকে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الحالة الأولى:أن يكون الموضع واقعاً بين مكانين، وعلى خط واحد، كما هو في الشكل التالي:
فالنقطتان (هـ) (د) لا تحاذيان النقطتين (أ) (ب)
وإنما الذي يحاذيهما هي (جـ)؛ لأنها تقع بينهما وعلى خط واحد.
وهذا أمر مسلم به عند العقلاء، وهو مقتضى اللغة، لا يحتاج إلى بسط الأدلة عليه.
ومن الأدلة عليه: قوله صلى الله عليه وسلم: ((حاذوا بين المناكب
… )) ولا تتم هذه المحاذاة، إلا أن يكون الرجل على خط واحد مع من عن يمينه، ومع من عن شماله، فلو أن رجلاً تقدم أو تأخر لم يكن محاذياً.
প্রথম অবস্থা:অবস্থানটি দুটি স্থানের মধ্যবর্তী হওয়া এবং একই সরলরেখায় অবস্থিত হওয়া, যেমনটি নিচের চিত্রে দেখানো হয়েছে:
সুতরাং (হ) ও (দ) বিন্দু দুটি (অ) ও (ব) বিন্দু দুটির সমান্তরালে নেই।
বরং যা সেগুলোর সমান্তরাল তা হলো (জ); কারণ এটি সেগুলোর মাঝখানে এবং একই সরলরেখায় অবস্থিত।
আর এটি বিবেকবানদের নিকট একটি স্বীকৃত বিষয় এবং ভাষার দাবিও অনুরূপ, যার সপক্ষে বিস্তারিত প্রমাণের প্রয়োজন নেই।
এর সপক্ষে অন্যতম প্রমাণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((তোমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমান্তরাল হও
… ))। আর এই সমান্তরালতা পূর্ণ হয় না যতক্ষণ না একজন ব্যক্তি তার ডানে থাকা এবং বামে থাকা ব্যক্তির সাথে একই সরলরেখায় অবস্থান করে। যদি কোনো ব্যক্তি সামনে এগিয়ে যায় বা পিছিয়ে যায়, তবে সে সমান্তরাল বলে গণ্য হবে না।
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقوله صلى الله عليه وسلم: ((لتتبعن سنن من كان قبلكم، حذو القُذّة بالقُذّة
… )).
والقُذّة لا تكون محاذاة إلا أن تكون بجوار أختها لا تتقدم عنها شيئاً ولا تتأخر.
الحالة الثانية: أن تكون البقعة مجاورةً للمكان، إذا كانت البقعة مجاورة لمكان أو ملاصقة له، فإنها تكون محاذية.
وبناء على هذا: فالمحاذاة في المواقيت: أن يكون القاصد قريباً من الميقات، والميقات عن يمينه أوشماله، ووجهه باتجاه مكة.
وأما إذا كان القاصد قبل الميقات أو بعده بالنسبة لمكة، فلا تعتبر محاذاة شرعيّة -والحال هذه- إطلاقاً.
دليل ذلك:
ما رواه الإمام مالك رحمه الله عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة عن أبيه قال: «دخلت على عمر بن الخطاب بالهاجرة، فوجدته
এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি হুবহু অনুকরণ করবে (তীরের এক পালক অন্য পালকের সমান হওয়ার মতো)
… "।
আর তীরের পালক তখনই সমান্তরাল (محاذاة) হয় যখন তা তার অপরটির পাশে অবস্থান করে, যা থেকে এটি বিন্দুমাত্র অগ্রবর্তী বা পশ্চাদবর্তী হয় না।
দ্বিতীয় অবস্থা: ভূখণ্ডটি স্থানের সংলগ্ন হওয়া; যখন কোনো ভূখণ্ড একটি স্থানের নিকটবর্তী বা তার সাথে যুক্ত থাকে, তখন সেটি সমান্তরাল (محاذية) বলে গণ্য হয়।
আর এর ওপর ভিত্তি করে: মিকাতসমূহের ক্ষেত্রে সমান্তরালতা (المحاذاة) হলো: গন্তব্যকারী মিকাতের নিকটবর্তী হওয়া, এমতাবস্থায় মিকাত তার ডানে বা বামে থাকে এবং তার অভিমুখ থাকে মক্কার দিকে।
কিন্তু গন্তব্যকারী যদি মক্কার তুলনায় মিকাতের আগে বা পরে অবস্থান করে, তবে—এমতাবস্থায়—সেটিকে মোটেও শরয়ি সমান্তরালতা (محاذاة شرعيّة) হিসেবে গণ্য করা হবে না।
এর দলিল:
ইমাম মালিক (রহ.) উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবাহ থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি দুপুরের প্রচণ্ড তাপে ওমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট প্রবেশ করলাম, অতঃপর তাঁকে পেলাম...
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يُسبّح -أي يصلي نافلة- فقمت وراءه، حتى جعلني حذاءه عن يمينه» (1).
وفي صحيح البخاري: "باب يقوم الإمام بحذائه سواءً، إذا كانوا اثنين"، قال الحافظ: "أي بجنبه، فأخرج بذلك من كان خلفه، أو مائلاً عنه، وقوله: (سواء) أخرج به من كان إلى جنبه لكن على بُعد عنه" (2).
الحالة الثالثة (3): أن تكون البقعتان متساويتي المسافة عن نقطة ثالثة.
وهذه أهم حالات ((المحاذاة)) وهي:
--------------------------------------------
তিনি নফল নামাজ আদায় করছিলেন (نافلة)—অর্থাৎ নফল নামাজ পড়ছিলেন—এমতাবস্থায় আমি তাঁর পেছনে দাঁড়ালাম, অবশেষে তিনি আমাকে তাঁর সমান্তরালে (حذاءه) তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন» (১)।
এবং সহিহ বুখারীতে রয়েছে: "পরিচ্ছেদ: ইমাম তাঁর সমান্তরালে সমানভাবে দাঁড়াবেন, যখন তাঁরা দুজন হবেন", হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: "অর্থাৎ তাঁর পাশে; এর মাধ্যমে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে যে তাঁর পেছনে দাঁড়িয়েছিল অথবা তাঁর থেকে বিচ্যুত হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর তাঁর কথা: 'সমানভাবে' (سواء) এর মাধ্যমে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে যে তাঁর পাশেই ছিল কিন্তু তাঁর থেকে দূরে ছিল" (২)।
তৃতীয় অবস্থা (৩): দুটি স্থান কোনো তৃতীয় বিন্দু থেকে সমদূরত্বের হওয়া।
আর এটিই হলো সমান্তরাল অবস্থানের (المحاذاة) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থা, আর তা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أن تكون مسافة نقطتين عن نقطة ثالثة متساويتين، فتكون البقعتان -والحالة هذه- متحاذيتين بالسنبة للنقطة الثالثة.
و((المحاذاة شرعاً)): أن تكون مسافة الموضع المراد الإحرام منه عن مكة تساوي مسافة أقرب المواقيت إليه، ولا يؤثر بُعد هذا الموضع أو قربه من الميقات، وإنما المهم: أن تكون مسافة المحاذي والمحاذى به عن مكة متساويتين، حتى تكونا متحاذيتين.
دليل ذلك:
قول عمر رضي الله عنه لأهل العراق عندما طلبوا منه تحديد ميقات على طريقهم: ((فانظروا حذوها)).
أي: انظروا بقعة تكون مسافتها عن مكة تساوي مسافة ((قرن)) ولو كانت بعيدة عنها.
قال الحافظ في الفتح (3/ 389):
"قوله ((فانظروا حذوها)) أي: اعتبروا ما يقابل الميقات من الأرض التي تسلكونها".
দুটি বিন্দুর দূরত্ব একটি তৃতীয় বিন্দু থেকে সমান হওয়া; এমতাবস্থায় ঐ দুটি স্থান তৃতীয় বিন্দুর সাপেক্ষে সমান্তরাল (متحاذيتين) বলে গণ্য হবে।
এবং শরয়ি পরিভাষায় সমান্তরাল হওয়া (المحاذاة) হলো: যে স্থান থেকে ইহরাম (الإحرام) বাঁধার ইচ্ছা করা হয়েছে, মক্কা থেকে তার দূরত্ব এবং তার নিকটবর্তী মিকাত (المواقيت) সমূহের মক্কা থেকে দূরত্বের সমান হওয়া। এই স্থানটি মিকাত থেকে দূরে বা কাছে হওয়া কোনো প্রভাব ফেলে না; বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: সমান্তরালকারী স্থান এবং যার সমান্তরাল করা হচ্ছে—মক্কা থেকে উভয়ের দূরত্ব সমান হওয়া, যাতে তারা পরস্পর সমান্তরাল (متحاذيتين) হতে পারে।
এর দলিল (دليل):
ইরাকবাসীরা যখন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর নিকট তাদের পথের জন্য একটি মিকাত (ميقات) নির্ধারণের অনুরোধ জানালেন, তখন তাদের প্রতি তাঁর উক্তি: "তোমরা এর সমান্তরাল (حذوها) স্থানটি লক্ষ্য করো।"
অর্থাৎ: তোমরা এমন একটি স্থান অনুসন্ধান করো যার মক্কা থেকে দূরত্ব 'কারন' (قرن) নামক মিকাতের দূরত্বের সমান হয়, যদিও তা সেই মিকাত থেকে দূরে অবস্থিত হয়।
হাফেজ (الحافظ) ফাতহুল বারীতে (৩/৩৮৯) বলেছেন:
"তাঁর উক্তি 'তোমরা এর সমান্তরাল (حذوها) স্থানটি লক্ষ্য করো' এর অর্থ হলো: তোমরা যে পথ দিয়ে অতিক্রম করছ, সেই জমিনে মিকাতের (الميقات) সমান্তরালে যা কিছু আছে তা বিবেচনা করো।"
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال ابن الأثير في النهاية (1/ 358): "وفي حديث ابن عباس: ((ذات عرق حذو قرن)) أي: أنها محاذيتها، ومسافتهما من الحرم سواء)).
ولخص شيخ الإسلام هذا كله بكلام متين في «شرح العمدة» (1/ 336) فقال:
"وذلك لأن الإحرام مما يحاذي الميقات، بمنزلة الإحرام من نفس الميقات، فإنه إذا كان بعدهما عن البيت واحداً، لم يكن في نفس الميقات مقصود".
وكذا قال غير واحد من أهل العلم، ولم أر مخالفاً لهم البتّة.
يوضح هذا الشكلُ التالي:
ইবনুল আসীর 'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থে (১/৩৫৮) বলেছেন: "ইবনে আব্বাসের হাদিসে এসেছে: ((জাতু ইরক কার্নের সোজাসুজি (حذو))) অর্থাৎ: তা এর সমান্তরাল (محاذي), এবং হারাম শরীফ থেকে উভয়ের দূরত্ব সমান।"
শাইখুল ইসলাম 'শারহুল উমদাহ' গ্রন্থে (১/৩৩৬) অত্যন্ত বলিষ্ঠ বক্তব্যের মাধ্যমে এই সবকিছুর সারসংক্ষেপ করে বলেছেন:
"আর এটি এই কারণে যে, মীকাতের সমান্তরাল (محاذي) কোনো স্থান থেকে ইহরাম বাঁধা স্বয়ং মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধার সমতুল্য; কেননা বাইতুল্লাহ থেকে যদি উভয়ের দূরত্ব এক হয়, তবে কেবল নির্দিষ্ট মীকাতই মূল উদ্দেশ্য থাকে না।"
অনুরূপভাবে একাধিক আলিম বলেছেন এবং আমি এ বিষয়ে তাদের কোনো বিরোধী (مخالف) একেবারেই দেখিনি।
নিচের চিত্রটি বিষয়টি স্পষ্ট করছে:
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عند تأمّل الشكل السابق نجد أن: ((ذات عرق)) تحاذي ((قرن)) لأن مسافتيهما عن البيت واحدة، وهكذا كل بقعة بينهما أو قريبة منهما تكون ((ميقاتاً إضافياً)) إذا كانت مسافتها عن البيت تساوي مسافة الميقات الأصلي.
وأما النقطة (أ) و (ب) فلا تحاذيان الميقات ولو كانت قريبة منه، أو كانت تقع على خط واحد معه؛ لأن مسافة (أ) أبعد من مسافة الميقات، ولأن مسافة (ب) أقصر.
পূর্ববর্তী চিত্রটি পর্যবেক্ষণ করলে আমরা দেখতে পাই যে: ((জাতু ইরক)) ((কারন))-এর সমান্তরালে অবস্থিত, কারণ কাবাগৃহ থেকে এ দুটির দূরত্ব অভিন্ন। একইভাবে এ দুটির মধ্যবর্তী বা নিকটবর্তী প্রতিটি স্থান ((অতিরিক্ত মিকাত)) হিসেবে গণ্য হবে, যদি কাবাগৃহ থেকে সেটির দূরত্ব মূল মিকাতের দূরত্বের সমান হয়।
আর (ক) ও (খ) বিন্দু দুটি মিকাতের সমান্তরাল নয়, যদিও তা মিকাতের নিকটবর্তী হয় অথবা একই সরলরেখায় অবস্থিত হয়; কারণ (ক) বিন্দুর দূরত্ব মিকাতের দূরত্বের চেয়ে বেশি এবং (খ) বিন্দুর দূরত্ব কম।
(খণ্ড: ১)
হুকমুল ইহরাম মিন জিদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
تنبيهان حول ((المحاذاة))
الأول:أن مسافة ((المحاذاة)) مناطة ببعد البقعة عن مكة، وليس ببعدها عن الميقات المجاور.
الثاني:أن ((المحاذاة الشرعية)) لا تعني كون القاصد عن يمين الميقات أو عن شماله فحسب، ولا تعني رؤية الميقات فحسب، فقد تكون الرؤية والمجاورة من خارج محيط المواقيت، ولا تعني أيضاً: كون القاصد على خط واحد مع الميقات، أي: يمكن رسم خط بينه وبين الميقات، فهذه الحالات كلها لا تعتبر محاذاة إطلاقاً.
وإذا فُهم هذان التنبيهان، عُلم أن ((المحاذاة)) إنما تعني بالنسبة للأرض: أن يكون بعد القاصد عن البيت يساوي بعد أقرب المواقيت إليه، أو أن يكون القاصد على الخط الذي يمر بالمواقيت المحيطة بمكة.
والمحاذاة بالنسبة للقاصد هي: مكان اختراق محيط المواقيت، أي: المرور بين ميقاتين، وما عدا ذلك فليس من ((المحاذاة)) في شيء.
সমান্তরাল অবস্থান (المحاذاة) সংক্রান্ত দুটি সতর্কতাপ্রথমটি:সমান্তরাল অবস্থান (المحاذاة)-এর দূরত্ব সংশ্লিষ্ট স্থানটি মক্কা থেকে কতটুকু দূরে তার ওপর নির্ভরশীল, নিকটস্থ মিকাত (الميقات) থেকে তার দূরত্বের ওপর নয়।
দ্বিতীয়টি:শরিয়তসম্মত সমান্তরাল অবস্থান (المحاذاة الشرعية) বলতে কেবল গন্তব্যকামী ব্যক্তি মিকাত (الميقات)-এর ডানে বা বামে অবস্থান করাকে বোঝায় না, এবং কেবল মিকাত (الميقات) দেখতে পাওয়াকেও বোঝায় না। কেননা মিকাতসমূহ (المواقيت)-এর সীমানার বাইরে থেকেও তা দেখা যেতে পারে বা তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করা হতে পারে। এর অর্থ এমনটিও নয় যে, গন্তব্যকামী ব্যক্তি মিকাত (الميقات)-এর সাথে একই সরলরেখায় অবস্থান করবে, অর্থাৎ তার ও মিকাত (الميقات)-এর মাঝে একটি রেখা অঙ্কন করা যাবে; এই সকল অবস্থার কোনোটিকেই মোটেও সমান্তরাল অবস্থান (المحاذاة) হিসেবে গণ্য করা হয় না।
যদি এই দুটি সতর্কতা বোঝা যায়, তবে এটি স্পষ্ট হয় যে, ভূমির প্রেক্ষাপটে সমান্তরাল অবস্থান (المحاذاة) বলতে মূলত বোঝায়: বাইতুল্লাহ থেকে গন্তব্যকামী ব্যক্তির দূরত্ব তার নিকটতম মিকাত (الميقات)-এর দূরত্বের সমান হওয়া, অথবা গন্তব্যকামী ব্যক্তি মক্কাকে পরিবেষ্টনকারী মিকাতসমূহের (المواقيت) ওপর দিয়ে অতিক্রান্ত রেখার ওপর অবস্থান করা।
আর গন্তব্যকামী ব্যক্তির ক্ষেত্রে সমান্তরাল অবস্থান (المحاذاة) হলো: মিকাতসমূহ (المواقيت)-এর বেষ্টনী অতিক্রম বা তাতে প্রবেশের স্থান, অর্থাৎ দুটি মিকাত (الميقات)-এর মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে অতিক্রম করা। এছাড়া অন্য কোনো কিছুই সমান্তরাল অবস্থান (المحاذاة)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়।