(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: -)
القنوت   (عدنان العرعور)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: القنوت

المؤلف: عَدنَان مَحَمَّد عَرْعُور

عدد الصفحات: 165

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 14 جُمادَى الآخرة 1440

আল-কুনুত   (আদনান আল-আরূর)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


কিতাব: আল-কুনুত

লেখক: আদনান মুহাম্মদ আরূর

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৫

[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

الحمد لله الذي قال: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ} [غافر: 60].

والصلاة والسلام على القائل: ((الدعاء هو العبادة)) (1).

أما بعد:

فهذا جزء في أحكام القنوت: قنوت الحاجة والنازلة، وقنوت الوتر، وقنوت رمضان.

ولقد دفعني إلى هذا البحث، إحياء السنة، وما رأيته من مخالفات كثير من المسلمين للسنة الصحيحة، إهمالاً لها، أو جهلاً بها، أو تعصباً لغيرها.

ولم ألتزم فيه مذهباً معيناً من المذاهب المتداولة، سوى ما صح في السنة وقام عليه الدليل، وثبت من عمل السلف رضوان الله عليهم، وهذا الذي أمر الله به.

--------------------------------------------

(1) صحيح، أخرجه الخمسة وغيرهم، وقال الحافظ في الفتح: سنده جيّد.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বলেছেন: {এবং তোমাদের প্রতিপালক বলেন: তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব} [গাফির: ৬০]।

এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যিনি বলেছেন: ((দোয়াই হলো ইবাদত)) (১)।

অতঃপর:

এটি কুনুতের বিধানাবলি সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা: হাজত ও নাযিলার (বিপদকালীন) কুনুত, বিতরের কুনুত এবং রমজানের কুনুত।

সুন্নাহকে পুনর্জীবিত করার প্রেরণা এবং অনেক মুসলিমকে বিশুদ্ধ (صحيح) সুন্নাহর পরিপন্থী কাজ করতে দেখা—তা অবহেলার কারণে হোক, অজ্ঞতার কারণে হোক কিংবা সুন্নাহর পরিবর্তে অন্য কিছুর প্রতি অন্ধভক্তির কারণে হোক—আমাকে এই গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করেছে।

আর আমি এতে প্রচলিত মাযহাবগুলোর মধ্য হতে নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের অনুসারী হইনি; বরং সুন্নাহর মধ্যে যা বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, যার সপক্ষে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর কর্ম দ্বারা যা প্রমাণিত হয়েছে, কেবল তারই অনুসরণ করেছি। আর আল্লাহ তাআলা এরই নির্দেশ দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) বিশুদ্ধ (صحيح), এটি পাঁচজন (সুনানে আরবাআ ও ইমাম আহমাদ) এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। হাফেজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারী গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদ বা সূত্রটি উত্তম (جيد)।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ৪)
قال تعالى: {اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ} [الأعراف: 3].

ولقد أبى الله سبحانه إلا أن يكون في الناس، وفي معظم الأمور طرفان ووسط، فإما غال، وإما جاف، وقليل أولئك المتوسطون، جعلنا الله وإياكم منهم.

ومسألة القنوت لم تنج من هذا التطرف، فمن الناس من هو معرض عنها، جاف لا يعرفها، ولا يفعلها البتة، لا في نازلة، ولا في غيرها، الأمر الذي حرم الناس من العمل بالسنة، بل دفعهم إلى هجرانها.

ومنهم مغالٍ فيها يفعلها كل يوم، ممّا أوقع الناس في الابتداع، وذلك موجب التقليد، وأخذ بعض النصوص دون بعض، وكذلك مواقف الناس من الأئمة الأربعة وغيرهم -رضوان الله عليهم- فإما غال في بعضهم، يقدم أقوالهم على ما ثبت في الكتاب والسنة، وإما جاف عنهم، غامز بهم، معرض عما عندهم من الحق.

والمهتدي من هداه الله إلى العدل والوسط.
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো} [আল-আরাফ: ৩]।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষের মধ্যে এবং অধিকাংশ বিষয়ের ক্ষেত্রে দুটি প্রান্তিকতা ও একটি মধ্যপন্থা (وسط) রাখতেই পছন্দ করেছেন। ফলে কেউ হয় চরমপন্থী (غال), আবার কেউ হয় শিথিলপন্থী (جاف)। আর মধ্যপন্থীদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

কুনুতের বিষয়টিও এই চরমপন্থা থেকে রেহাই পায়নি। কিছু মানুষ এর থেকে বিমুখ এবং এতটাই শিথিল (جاف) যে, তারা এটি চেনেও না এবং কখনোই তা আদায় করে না—তা কোনো বিশেষ বিপদাপদকালীন (نازلة) সময় হোক বা অন্য কোনো সময়। এই বিষয়টি মানুষকে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা থেকে বঞ্চিত করেছে, বরং এটি তাদের সুন্নাহ পরিত্যাগের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ এক্ষেত্রে অতিশয়োক্তি বা চরমপন্থা (غال) অবলম্বন করে এবং প্রতিদিন এটি আদায় করে, যা মানুষকে বিদআত বা নব-উদ্ভাবনের (ابتداع) মধ্যে নিপতিত করেছে। আর এটি অন্ধ অনুকরণ (تقليد) এবং কিছু অকাট্য দলিলের (نصوص) বিপরীতে অন্যগুলো গ্রহণের ফল। অনুরূপভাবে চার ইমাম ও অন্যদের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ব্যাপারেও মানুষের অবস্থান এমন—হয়তো কেউ তাদের কারো ক্ষেত্রে চরমপন্থী (غال) হয়ে তাদের বক্তব্যকে কুরআন ও সুন্নাহর প্রতিষ্ঠিত প্রমাণের ওপর প্রাধান্য দেয়, অথবা তাদের ব্যাপারে শিথিলতা (جاف) প্রদর্শন করে তাদের প্রতি কটাক্ষ করে এবং তাদের নিকট থাকা সত্য থেকে বিমুখ থাকে।

আর হিদায়াতপ্রাপ্ত সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ ন্যায়বিচার ও মধ্যপন্থার (وسط) তাওফিক দান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ৫)
والعدل، والوسط، والصواب الذي أُمرنا به: هو اتباع الكتاب والسنة، هذا هو الأصل، أما أقوال الأئمة والمذهبية والتقليد فهي تبع لذلك، وليست أصلاً فيه، وهذا هو الفرق بين الاتباع المحمود، والتقليد المذموم.

قال تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [آل عمران: 31].

ويجب أن يكون هذا الاتباع على مسلك العلماء الأخيار من السلف الأبرار، وبخاصة الأئمة الأعلام.

وقال تعالى: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النحل: 43]

وقال تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} [النساء: 115].

وأن نكون غير متعصبين لأحد منهم، فلا معصوم إلا الرسول صلى الله عليه وسلم ولا مستغنين عن علمهم وأصولهم، وأفهامهم، وقواعدهم، ومنهجهم.
ন্যায়বিচার (عدل), মধ্যপন্থা (وسط) এবং সঠিক পথ (صواب)—যাতে আমরা আদিষ্ট হয়েছি—তাহলো কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণ (اتباع)। এটিই মূল ভিত্তি। পক্ষান্তরে ইমামগণের বক্তব্য, মাযহাবমুখিতা এবং অন্ধ অনুকরণ (تقليد) এর অনুগামী মাত্র, মূল বিষয় নয়। আর এটিই হলো প্রশংসিত অনুসরণ (اتباع) এবং নিন্দিত অন্ধ অনুকরণের (تقليد) মধ্যে পার্থক্য।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [আলে ইমরান: ৩১]।

আর এই অনুসরণ (اتباع) অবশ্যই পুণ্যবান সালাফদের (سلف) মধ্যকার সর্বোত্তম আলেমদের (علماء) পদ্ধতিতে হতে হবে, বিশেষ করে প্রখ্যাত ইমামগণের অনুসৃত পথে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "সুতরাং তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো, যদি তোমরা না জানো।" [আন-নাহল: ৪৩]

আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যে ব্যক্তি তার কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই পরিচালিত করব যে পথ সে বেছে নিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব, আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য!" [আন-নিসা: ১১৫]।

আর আমরা যেন তাদের কারো প্রতি অন্ধ গোঁড়ামি (تعصب) না করি; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত আর কেউ নিষ্পাপ (معصوم) নন। আবার আমরা তাদের জ্ঞান, মূলনীতি (أصول), প্রজ্ঞা, নিয়মাবলী (قواعد) এবং মানহাজ (منهج) থেকে বিমুখও নই।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ৬)
((عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين من بعدي عضوا عليها بالنواجذ)) (1).

فهم أئمة الهدى، ومصابيح الدجى، أنار الله بهم المحجة، وهدى الله بهم الأمة، وأمر بالاقتداء بهم، وبلزوم منهجهم، ولم يأذن بتقديم أقوالهم على كتابه وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم إذ لم يعصم أحداً منهم.

فمن استغني عنهم ضل، ومن عصمهم زل.

وليس المقصود عصمتهم بلسان المقال، فهذا لا يفعله إلا الضّلال، وإنما رد السنة بأقوالهم، هي عصمة عملية، وهي لا تقل مفسدة كثيراً عن أختها.

هذا؛ وقد عمدت إلى ذكر نص المسألة على الوجه الصواب، ثم أتبعتها بالأدلة، وتفصيل الآراء.

وقد قدمت بين يدي البحث شعاعين.

الأول: في أهمية الدعاء.

--------------------------------------------

(1) رواه الترمذي وابن ماجة وقال الترمذي: حديث حسن صجيح.
((তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো; তোমরা একে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো)) (১)।

তাঁরা হলেন হিদায়াতের ইমাম এবং অন্ধকারের প্রদীপ। আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে সত্য পথকে আলোকিত করেছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে উম্মাহকে হিদায়াত দান করেছেন। তিনি তাঁদের অনুসরণ করতে এবং তাঁদের মানহাজ (منهج) আঁকড়ে ধরতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি তাঁদের বক্তব্যকে তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহর ওপর প্রাধান্য দেওয়ার অনুমতি দেননি, কারণ তিনি তাঁদের কাউকে নিষ্পাপ (معصوم) করেননি।

সুতরাং যে তাঁদের থেকে বিমুখ হলো সে পথভ্রষ্ট হলো, আর যে তাঁদের নিষ্পাপ (معصوم) সাব্যস্ত করল সে পদস্খলিত হলো।

আর মৌখিক বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁদের নিষ্পাপ (معصوم) দাবি করা এখানে উদ্দেশ্য নয়, কারণ এটি কেবল পথভ্রষ্টরাই করে থাকে। বরং তাঁদের বক্তব্যের মাধ্যমে সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করা হলো একটি কর্মগত 'নিষ্পাপ সাব্যস্তকরণ', যা অনিষ্টের দিক থেকে অন্যটির চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

যাইহোক; আমি মাসআলার মূল পাঠটি সঠিকরূপে উল্লেখ করার প্রয়াস পেয়েছি, অতঃপর এর সপক্ষে প্রমাণাদি এবং মতামতের বিস্তারিত বিবরণ যুক্ত করেছি।

আমি এই গবেষণার প্রারম্ভে দুটি আলোকপাত পেশ করেছি। প্রথমটি: দোয়ার গুরুত্ব প্রসঙ্গে।

--------------------------------------------

(১) এটি তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী বলেছেন: হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ৭)
الثاني: في معنى الاتباع وأهميته.

ولم أشأ أن يكون بحثاً مفصلاً في كل مسألة، ولذلك لم أكثر من الروايات، بل اكتفيت بما يُكتفى به، ولا تتبعت من خالف السنة، وذلك حرصاً على عدم التطويل، والانشغال بالقال والقيل، عن إبراز السنة الصحيحة والعمل بها، ولكي يكون الكتاب قريباً من عامة المسلمين، ليحيوا هذه السنة التي ماتت، أو كادت، في كثير من بقاع المسلمين، فإن التطويل والدخول في الردود يَذْهَبُ ببهاء السنة، ويشغل عنها، ويدفع العامي للملل.

والمسلمون بأشدّ الحاجة إلى ردّهم إلى السنة، أكثر من حاجتهم إلى بحوث مفصّلة، تبقى لطبقة دون طبقة! ولعل من أسباب عزوف العامة عن السنة والاتباع، عدم وجود كتب تناسبهم، وهذا الذي دفعني في مؤلفاتي إلى الكتابة في مستوى شباب الصحوة، وعامة المسلمين، لكي ينتفعوا بما يكتب، بعيداً عن التطويل الممل، والردود المشغلة، والتعقيد في الأسلوب، والألفاظ الصعبة.
দ্বিতীয়ত: অনুসরণ (الاتباع) ও এর গুরুত্ব প্রসঙ্গে।

আমি প্রতিটি মাসআলায় বিস্তারিত আলোচনা করতে চাইনি, তাই আমি বর্ণনাগুলোর (الروايات) সংখ্যা বাড়াইনি; বরং যা যথেষ্ট, তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। সুন্নাহর বিরোধিতাকারীদের মতামতও আমি অনুসন্ধান করিনি; আর এটি দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করার সংকল্প এবং অনর্থক বাদানুবাদে লিপ্ত হওয়ার পরিবর্তে সঠিক (الصحيحة) সুন্নাহকে ফুটিয়ে তোলা ও তদনুযায়ী আমলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে। এছাড়া বইটি যাতে সাধারণ মুসলিমদের নিকটবর্তী হয়, যেন তারা সেই সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে যা মুসলিম বিশ্বের অনেক জনপদে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। কেননা দীর্ঘসূত্রতা ও খণ্ডনমূলক (الردود) আলোচনায় লিপ্ত হওয়া সুন্নাহর সৌন্দর্য ম্লান করে দেয়, তা থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেয় এবং সাধারণ মানুষকে বিরক্তির দিকে ঠেলে দেয়।

মুসলিমদের আজ সুন্নাহর পথে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি, যা কোনো বিশেষ শ্রেণীর জন্য সীমাবদ্ধ বিস্তারিত গবেষণার চেয়েও বেশি প্রয়োজন। সম্ভবত সুন্নাহ ও অনুসরণ (الاتباع) থেকে সাধারণ মানুষের বিমুখতার অন্যতম কারণ হলো তাদের উপযোগী গ্রন্থের অভাব। আর এ বিষয়টিই আমাকে আমার গ্রন্থসমূহে জাগরণে (الصحوة) উদ্বুদ্ধ তরুণ সমাজ ও সাধারণ মুসলিমদের মান অনুযায়ী লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে, যেন তারা বিরক্তিকর দীর্ঘসূত্রতা, বিভ্রান্তিকর খণ্ডন (الردود), জটিল রচনাশৈলী এবং দুর্বোধ্য শব্দাবলি এড়িয়ে লিখিত বিষয়াদি থেকে উপকৃত হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ৮)
والله أسأل أن يوفقنا للسداد، وأن يلهمنا الصواب، وأن يجعل أعمالنا خالصة لوجهه، وأن ينفع بها المسلمين، وأن يفقه المؤمنين بدينهم، وأن يمكن لهم في أرضهم، إنه أهل ذلك والقادر عليه وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

 

عدنان بن محمد العرعور
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করেন, আমাদের সত্যের দিশা দান করেন, আমাদের আমলসমূহকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন, মুমিনদেরকে তাঁদের দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান দান করেন এবং তাঁদেরকে তাঁদের ভূমিতে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর উপযুক্ত ও সর্বশক্তিমান। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

 

আদনান বিন মুহাম্মদ আল-আরুর
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مباحث الكتاب

- الشعاع الأول:

الدعاء، والحكمة فيه، وأننا بحاجة إليه، حاجتنا للطعام والشراب.

- الشعاع الثاني:

الاتباع: معناه، وجوبه، لا نصر للإسلام إلا به.

- القنوت:

- معناه.

- مشروعية قنوت النازلة.

- عدد المرات التي قنت فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم.

- حكم قنوت النازلة.

- أدعيته.

- حكم رفع الأيدي والتأمين، والصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وسلم.

- متى يشرع القنوت؟ ومتى ينتهي؟
গ্রন্থের আলোচ্য বিষয়সমূহ

- প্রথম রশ্মি:

দোয়া, এর অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞা এবং পানাহারের ন্যায় আমাদের এর প্রতি মুখাপেক্ষিতা।

- দ্বিতীয় রশ্মি:

অনুসরণ (اتباع): এর অর্থ, এর আবশ্যকতা (وجوب) এবং এটি ব্যতীত ইসলামের কোনো বিজয় সম্ভব নয়।

- কুনুত:

- এর অর্থ।

- কুনুতে নাযিলার বৈধতা (مشروعية)।

- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার কুনুত পাঠ করেছেন তার সংখ্যা।

- কুনুতে নাযিলার বিধান (حكم)।

- এর দোয়াসমূহ।

- হাত তোলা, আমিন বলা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত ও সালাম পাঠ করার বিধান (حكم)।

- কখন কুনুত পাঠ করা বিধিবদ্ধ (يشرع) হয়? এবং কখন তা সমাপ্ত হয়?
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ১০)
- محله في الصلاة.

- من يدعو ولمن يدعو.

- نص دعاء قنوت الوتر.

- نص دعاء قنوت النوازل.

- حكم قنوت الوتر.

- مباحث أخرى متفرقة.
- সালাতে এর স্থান।

- কে দোয়া করবেন এবং কার জন্য দোয়া করবেন।

- বিতর সালাতের কুনুতের দোয়ার মূল পাঠ (نص)।

- কুনুতে নাযেলার দোয়ার মূল পাঠ (نص)।

- বিতর সালাতের কুনুতের বিধান (حكم)।

- অন্যান্য বিবিধ আলোচনা।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الشعاع الأول

- أهمية الدعاء

الدعاء من أجل العبادات، وأعلاها، ومن أعظم الطاعات، وأزكاها؛ وذلك لما فيه من تحقيق العبودية لله وحده، وتلبية حاجة النفس البشرية، التي جبلت عليها.

لقد كان من أجل العبادات وأنفعها؛ لما فيه من تعظيم للخالق، وقنوت وخضوع له، وأن الأمر والخلق كله بيده، فهو الذي يرزق، وهو الذي يستر، وهو الذي يحيي، وهو الذي يميت، وهو الذي يجعل من كل همّ فرجاً، ومن كل ضيق مخرجاً.

{أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ} [النمل: 62].

{وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا}. [الطلاق: 2]
প্রথম রশ্মি

- দোয়ার গুরুত্ব

দোয়া হলো অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ইবাদত এবং এটি অন্যতম মহান ও পবিত্রতম আনুগত্য। এর কারণ হলো, এতে কেবলমাত্র আল্লাহর প্রতি দাসত্ব বাস্তবায়িত হয় এবং মানবাত্মার সেই সহজাত চাহিদা পূরণ হয়, যার ওপর ভিত্তি করে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

নিশ্চয়ই এটি ইবাদতসমূহের মধ্যে অন্যতম মহান ও সর্বাধিক উপকারী; কারণ এতে রয়েছে স্রষ্টার প্রতি মহিমা প্রদর্শন এবং তাঁর সমীপে বিনয় ও পূর্ণ আত্মসমর্পণ। আর নিশ্চয়ই সকল কর্তৃত্ব ও সৃষ্টি তাঁরই হাতে; তিনিই রিজিক দান করেন, তিনিই দোষ গোপন রাখেন, তিনিই জীবন দান করেন, তিনিই মৃত্যু ঘটান এবং তিনিই প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির পথ ও প্রতিটি সংকীর্ণতা থেকে উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন।

{বল তো, কে তিনি, যিনি আর্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ দূরীভূত করেন?} [আন-নামল: ৬২]।

{আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন।} [আত-তালাক: ২]
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ১২)
والدعاء انشراح للصدور، واطمئنان للقلوب.

{وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ} [الطلاق: 3].

والتوجه لله وحده بالدعاء هو التقوى، والإخلاص له به هو مخها.

لقد كان الدعاء من أجل الطاعات وأزكاها؛ لما فيه من إظهار حقيقة ضعف المخلوق تجاه خالقه، وإقرار العبد بعبوديته وافتقاره له.

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَنْتُمُ الْفُقَرَاءُ إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ} [فاطر: 15].

وفي الدعاء: تحقيق عبادة الشكر في السراء، والصبر في الضراء، والالتجاء إليه في البأساء، والتوبة من الذنوب، والالتجاء إلى علام الغيوب، الذي يعلم حقائق الأمور ومآلها، والعبد لا يعلم حقيقة ذلك كله {وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [البقرة: 216].
দোয়া হলো বক্ষসমূহের প্রশস্ততা এবং অন্তরের প্রশান্তি।

{আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তবে তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।} [আত-তালাক: ৩]।

দোয়ার মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহর অভিমুখী হওয়া হলো তাকওয়া, আর এতে তাঁর প্রতি একনিষ্ঠতা পোষণ করাই হলো এর মূল মজ্জা।

নিশ্চয়ই দোয়া হলো অন্যতম মহান ও পবিত্রতম আনুগত্য; কারণ এতে স্রষ্টার প্রতি সৃষ্টির দুর্বলতার প্রকৃত রূপ প্রকাশিত হয় এবং বান্দা তার দাসত্ব ও অভাবগ্রস্ততার স্বীকৃতি প্রদান করে।

{হে মানুষ! তোমরা আল্লাহর মুখাপেক্ষী; আর আল্লাহ, তিনিই অভাবমুক্ত, পরম প্রশংসিত।} [ফাতির: ১৫]।

আর দোয়ার মধ্যে রয়েছে: সচ্ছলতায় কৃতজ্ঞতা এবং প্রতিকূলতায় ধৈর্য ধারণের ইবাদতকে বাস্তবে রূপ দেওয়া, বিপদের সময় তাঁরই আশ্রয় গ্রহণ করা, গুনাহ থেকে তওবা করা এবং অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতার সমীপে ধাবিত হওয়া; যিনি সব বিষয়ের নিগূঢ় রহস্য ও পরিণাম সম্পর্কে জানেন, অথচ বান্দা এর কোনো কিছুই জানে না— {আর আল্লাহ জানেন, কিন্তু তোমরা জানো না।} [আল-বাকারাহ: ২১৬]।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ১৩)
وهذه المعاني كلها من التوحيد والعبادة، والافتقار والحاجة، والذل والانكسار، والانقياد والطاعة.

وفي هذا خير عظيم للعبد، في دنياه وآخرته.

ومن أدرك هذه المعاني العظيمة التي يشملها الدعاء، أدرك معنى قوله صلى الله عليه وسلم: ((الدعاء هو العبادة)) (1).

وقول إبراهيم عليه السلام:

{وَأَعْتَزِلُكُمْ وَمَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَأَدْعُو رَبِّي عَسَى أَلَّا أَكُونَ بِدُعَاءِ رَبِّي شَقِيًّا} [مريم: 48].

فتأمل كيف سمّى العبادة دعاء في ثلاثة مواضع، وفي آية واحدة، كما سمى عبادتهم لغير الله -أي كفرهم- دعاءً.

ووصف إبراهيم عليه السلام عبادته: دعاءً، وأوجبها على نفسه.

ثم خشي الله ورجاه: أن لا يضل بعبادته التي سماها دعاءً، لكي لا يكون شقي الدنيا والآخرة.

--------------------------------------------

(1) سبق تخريجه ص 3.
এই অর্থগুলোর সবই তাওহিদ, ইবাদত, মুখাপেক্ষিতা ও অভাব, বিনয় ও ম্রিয়মাণতা এবং আনুগত্য ও বশ্যতার অন্তর্ভুক্ত।

আর এতে বান্দার জন্য তার দুনিয়া ও আখিরাতে মহান কল্যাণ রয়েছে।

আর যে ব্যক্তি দোয়ার অন্তর্ভুক্ত এই মহান অর্থগুলো অনুধাবন করল, সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর মর্ম অনুধাবন করল: “দোয়াই হলো ইবাদত।” (১)।

এবং ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-এর উক্তি:

{আমি তোমাদের থেকে এবং তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ডাকো তাদের থেকে পৃথক হচ্ছি, আর আমি আমার রবের কাছে দোয়া করছি; আশা করি আমার রবের কাছে দোয়া করে আমি হতভাগ্য হব না।} [মারইয়াম: ৪৮]।

সুতরাং লক্ষ করুন, তিনি কীভাবে একটি আয়াতের তিনটি স্থানে ইবাদতকে ‘দোয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন; যেভাবে তিনি আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদতকে—অর্থাৎ তাদের কুফরকে—দোয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আর ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তাঁর ইবাদতকে ‘দোয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তা নিজের ওপর আবশ্যক করে নিয়েছেন।

অতঃপর তিনি আল্লাহকে ভয় করলেন এবং তাঁর কাছে আশা রাখলেন: যাতে তিনি তাঁর ইবাদত—যাকে তিনি দোয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন—তার মাধ্যমে পথভ্রষ্ট না হন, যাতে তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে হতভাগ্য না হন।

--------------------------------------------

(১) এর উৎসায়ন (تخريج) পৃষ্ঠা ৩-এ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ১৪)
وكلّما استشعر الداعي بعجزه وفقره، وقوة مدعوه وغناه، وقدرته وكرمه، ازداد إقبالاً عليه، وألحّ على مولاه، وطابت نفسه بدعائه.

وكلما استأنس الداعي بقرب مدعوه، واستماعه له، ورؤية حاله، وحبه تلبية دعاء داعية الموحد الصادق، وأنه هو الواحد الذي بيده الاستجابة ومنعها، وبيده الأمر كله، ازداد بذلك إيماناً، وازداد دعاءً {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ} [غافر: 60].

{أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ} [النمل: 62].

وكلما استشعر الداعي برحمة الله -المدعو- وفضله، ولطفه وحكمته، أضفى ذلك عليه شعوراً بالاطمئنان، وثقة في النفس، وإيناساً بالمدعو، واستخفافاً بالدنيا ومن فيها، واحتقاراً للأرض ومن عليها، إلا ذكر الله وما والاه، واستعظاماً للآخرة وما فيها، من طمع في دخول الجنّة، وشوق للقاء الرحمن.

{يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَفْدًا} [مريم: 85]. فأيّ مقام أعظم من هذا المقام؟ وأي لقاء أكبر من هذا اللقاء؟ لقاء الأنس والأمان، ومقام المهابة والجلال، فإذا اختلج هذا في قلب
প্রার্থনাকারী যখনই নিজের অক্ষমতা ও অভাবগ্রস্ততা এবং যাঁর নিকট প্রার্থনা করা হচ্ছে তাঁর শক্তি, অমুখাপেক্ষিতা, ক্ষমতা ও মহানুভবতা অনুভব করেন, তখন আল্লাহর প্রতি তাঁর একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়, তিনি তাঁর প্রতিপালকের নিকট অধিক অনুনয়-বিনয় করেন এবং প্রার্থনার মাধ্যমে তাঁর অন্তর প্রশান্ত হয়।

প্রার্থনাকারী যখন তাঁর প্রার্থিত সত্তার নৈকট্য, তাঁর কথা শ্রবণ করা, তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং সত্যনিষ্ঠ একত্ববাদী আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেওয়ার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার সাথে হৃদ্যতা অনুভব করেন, এবং এটি বিশ্বাস করেন যে তিনিই একমাত্র সত্তা যাঁর হাতে প্রার্থনা কবুল করা বা না করা নিহিত এবং সকল বিষয় তাঁরই কর্তৃত্বে, তখন এর মাধ্যমে তাঁর ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং প্রার্থনা করার ব্যাকুলতা আরও বেড়ে যায়— {এবং তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব} [গাফির: ৬০]।

{নাকি তিনি, যিনি আর্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন} [আন-নামল: ৬২]।

যখনই প্রার্থনাকারী আল্লাহর—যাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয়—রহমত, অনুগ্রহ, কৃপা ও প্রজ্ঞা অনুভব করেন, তা তাঁর মধ্যে এক গভীর প্রশান্তি, আত্মবিশ্বাস এবং আল্লাহর সাথে এক আধ্যাত্মিক নিবিড়তা তৈরি করে। এর ফলে দুনিয়া ও এর মধ্যকার সবকিছুর গুরুত্ব তাঁর কাছে তুচ্ছ হয়ে যায় এবং আল্লাহর যিকির ও তাঁর আনুগত্যের বিষয়গুলো ছাড়া এই পৃথিবী ও তার ওপর যা কিছু আছে তা নগণ্য মনে হয়। বিপরীতে তা তাঁর হৃদয়ে জান্নাতে প্রবেশের আকাঙ্ক্ষা ও দয়াময় আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের ব্যাকুলতাসহ পরকাল ও সেখানে যা আছে তার প্রতি এক গভীর মহিমান্বিত বোধ সৃষ্টি করে।

{যেদিন আমি মুত্তাকীদের দয়াময় আল্লাহর নিকট অতিথিরূপে সমবেত করব} [মারইয়াম: ৮৫]। সুতরাং এর চেয়ে মহান আর কোন মর্যাদা হতে পারে? আর এর চেয়ে বড় সাক্ষাৎই বা কোনটি? এটি হচ্ছে হৃদ্যতা ও নিরাপত্তার সাক্ষাৎ এবং গাম্ভীর্য ও মহিমার স্থান। যখন এই অনুভূতি হৃদয়ে আলোড়িত হয়...
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ১৫)
الداعي، واستقر بين جوانحه، انشرح صدره، وزال همُّه، وفُرّج كربُه، وهانت عليه المصائب، وسهلت عليه الخطوب، وأتته الدنيا وهي راغمة، كل ذلك، بحقه وشروطه، وأحكامه وآدابه، ومن أهمها:

- اليقين بالاستجابة، وترك الاستعجال.

وعدم الاستجابة أو تأخرها، يكون لحكمة بالغة خفيّة، أو لذنب مانع، فليزداد العبد إيماناً بِحكْمة ربه، وتسليماً لحُكْمه.

وإذا علم العبد أن ما يدخره الله له عنده من الأجر العظيم عند تأخير الإجابة، أعظم وأنفع للعبد من تعجيل الإجابة، ازداد بذلك دعاء، وعلى الله إقبالاً؛ لأن لله في قدره وقضائه حكمٌ بالغة، لا تدركها العقول المحدودة، ولا تنالها الأفهام القاصرة، فمن سلّم غنم، ومن كابر ندم!

فكم من مصيبة كانت خيراً لصاحبها، ذكّرته بربّه، ودفعته إلى الإلحاح في دعائه، وردّته إلى توبته، وألجأته إلى خالقه، فاستشعر بأنسه، وطابت نفسه بلقائه.

وكم من تأخير استجابة كانت خيراً لصاحبها، أبقته على حال من الذّل والانكسار، واللجوء إلى خالقه الجبار، وهذه
আহ্বানকারী, যখন তা তার অন্তরে বদ্ধমূল হয়, তখন তার বক্ষ প্রশস্ত হয়, তার দুশ্চিন্তা দূরীভূত হয়, তার সংকট মোচন হয়, তার নিকট বিপদ-আপদ তুচ্ছ হয়ে যায়, কঠিন পরিস্থিতি সহজ হয়ে যায় এবং পার্থিব জগত তার নিকট লাঞ্ছিত ও অবনত মস্তকে উপস্থিত হয়। এই সবকিছুই অর্জিত হয় তার হক, শর্তাবলি, বিধিবিধান ও আদবসমূহ পালনের মাধ্যমে; যার মধ্যে অন্যতম হলো:

- দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়ে সুনিশ্চিত বিশ্বাস রাখা এবং তাড়াহুড়া বর্জন করা।

দোয়া কবুল না হওয়া বা তা বিলম্বিত হওয়া কোনো সুগভীর গোপন প্রজ্ঞা কিংবা অন্তরায় সৃষ্টিকারী কোনো পাপের কারণে হতে পারে। অতএব, বান্দার উচিত তার রবের প্রজ্ঞার প্রতি ঈমান এবং তাঁর ফয়সালার প্রতি আত্মসমর্পণ বৃদ্ধি করা।

বান্দা যখন জানতে পারে যে, দোয়া কবুল হতে বিলম্ব হওয়ার কারণে আল্লাহ তার জন্য তাঁর নিকট যে সুমহান প্রতিদান সঞ্চিত রাখেন, তা দ্রুত কবুল হওয়ার চেয়েও বান্দার জন্য অধিক মহত্তর ও উপকারী; তখন তার দোয়ার ব্যাকুলতা আরও বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহর প্রতি একাগ্রতা বেড়ে যায়। কারণ আল্লাহর তকদির ও ফয়সালার মধ্যে এমন সুগভীর প্রজ্ঞা নিহিত থাকে, যা সীমাবদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তি দিয়ে অনুধাবন করা সম্ভব নয় এবং সংকীর্ণ বোধশক্তি দিয়েও তা আয়ত্ত করা যায় না। সুতরাং যে আত্মসমর্পণ করল সে সফল হলো, আর যে হঠকারিতা করল সে অনুতপ্ত হলো!

কত মুসিবত এমন রয়েছে যা আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর হয়েছে; যা তাকে তার রবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, তাকে দোয়ায় কাকুতি-মিনতি করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, তাকে তওবার পথে ফিরিয়ে এনেছে এবং তার স্রষ্টার নিকট আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছে। ফলে সে তাঁর সান্নিধ্য অনুভব করেছে এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের প্রতীক্ষায় তার আত্মা প্রশান্ত হয়েছে।

কত দোয়া কবুলের বিলম্ব এমন রয়েছে যা ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর হয়েছে; যা তাকে হীনতা, ম্রিয়মাণতা এবং তার প্রতাপশালী স্রষ্টার নিকট শরণাপন্ন অবস্থায় রেখেছে। আর এটিই
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ১৬)
الحال -والله في كثير من الأحوال- خير له من تحقيق استجابة دعائه، فكم من داع استجيبت دعوته، فترك دعاءه، ثم نسي ربه.

 

-‌‌ الدعاء حاجة نفسية:

إن المتأمل في مسألة الدعاء، يجد أنها حاجة نفسية خفية ملحة، فضلاً عن أنها عبادة مأمور بها، ومأجور عليها.

فإن للمخلوق إحساساً خفياً بالضعف والخوف، وحاجة وافتقاراً إلى قوي يقوي ضعفه، ومهيمن يؤمّن روعه، وصمدٍ يقضي حاجته (1)، وغني يسد فاقته.

والدعاء عند الموقنين، استغناء عن الورى، وبث للجوى، عند من يؤنس إليه من وحشة الخلق، وضيق الضيق، وشظف العيش، وهم الحياة.

وهو إفراغ لكوامن النفس ممّا شُحنت به من ظلم العباد، وقهر الرجال، وشماتة الأعداء.

--------------------------------------------

(1) الصمد: اسم من أسماء الله. وفي أحد معانيه: هو الذي يصمد لقضاء الحاجات.
প্রকৃতপক্ষে—আল্লাহর শপথ, অনেক ক্ষেত্রেই—ব্যক্তির বর্তমান অবস্থা তার দোয়া কবুল হওয়ার চেয়েও তার জন্য বেশি কল্যাণকর। কত দোয়া কারী এমন আছে যার দোয়া কবুল করা হয়েছে, অতঃপর সে দোয়া করা ছেড়ে দিয়েছে এবং তার প্রতিপালককে ভুলে গিয়েছে।

 

-‌‌ দোয়া একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রয়োজন:

যে ব্যক্তি দোয়ার বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে এটি একটি প্রচ্ছন্ন ও জরুরি মনস্তাত্ত্বিক প্রয়োজন; পাশাপাশি এটি একটি আদিষ্ট ইবাদত, যার ওপর সওয়াব প্রদান করা হয়।

কেননা সৃষ্টির মাঝে দুর্বলতা ও ভয়ের এক প্রচ্ছন্ন অনুভূতি বিদ্যমান। সে এমন এক শক্তিশালী সত্তার মুখাপেক্ষী ও অভাবী যিনি তার দুর্বলতাকে শক্তি দেবেন, এমন এক আধিপত্যশীল সত্তার প্রতি অনুরাগী যিনি তার ভয়কে দূর করবেন, এমন এক অমুখাপেক্ষী (আস-সামাদ) সত্তার প্রত্যাশী যিনি তার প্রয়োজন পূরণ করবেন (১), এবং এমন এক অভাবমুক্ত সত্তার মুখাপেক্ষী যিনি তার অভাব দূর করবেন।

আর দৃঢ় বিশ্বাসীদের নিকট দোয়া হলো সৃষ্টিজগত থেকে বিমুখ হওয়া এবং সেই সত্তার নিকট মনের দুঃখ-বেদনা প্রকাশ করা, যাঁর সান্নিধ্যে সৃষ্টির একাকীত্ব, সংকীর্ণতা, জীবনসংগ্রামের কঠোরতা ও পার্থিব দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

এটি অন্তরের গভীরে জমে থাকা সেইসব আবেগ প্রশমিত করার মাধ্যম, যা মানুষের জুলুম, নিপীড়ন এবং শত্রুদের উপহাসের কারণে পুঞ্জীভূত হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) আস-সামাদ: এটি আল্লাহর নামসমূহের একটি। এর অন্যতম একটি অর্থ হলো: তিনি এমন এক সত্তা, যাঁর নিকট যাবতীয় প্রয়োজন পূরণের জন্য ধাবিত হওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ১৭)
والدعاء شكاية عند قويّ لا يُقهر، وقدير لا يعجز، وغنيّ لا يبخل.

وفي الدعاء يشعر القانت بلذة المناجاة، وأنس القرب.

فمن ذاق عرف، ومن لم يذق جهل وأنكر.

{وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ} [البقرة: 186].

{فَإِنِّي قَرِيبٌ}: بلا وسيط، ولا حاجب، ولا مانع، ولا حاجز.

{أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ} بلا شرط، إلا شرط الاستجابة؛ ليجيب.

{فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي} كي أستجيب لهم {وَأَوْفُوا بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ} [البقرة: 40].

وشرط الإيمان ليؤمن {وَلْيُؤْمِنُوا بِي} كي أؤمّنهم، وأُرشدهم، وأهديهم.

واعلم -رحمني الله وإياك-:

أن التقصير في الدعاء جفاء.
দোয়া হলো এমন এক পরাক্রমশালী সত্তার সমীপে আর্তি পেশ করা যাকে পরাভূত করা যায় না, এমন এক সর্বশক্তিমান সত্তার সমীপে যিনি অক্ষম নন এবং এমন এক অমুখাপেক্ষী সত্তার সমীপে যিনি অকৃপণ।

দোয়ার মাঝে একনিষ্ঠ ইবাদতকারী নিভৃতে আলাপনের স্বাদ এবং সান্নিধ্যের প্রশান্তি অনুভব করে।

যে এর স্বাদ পেয়েছে সে তা অনুধাবন করেছে, আর যে স্বাদ গ্রহণ করেনি সে অজ্ঞ রয়ে গেছে এবং তা অস্বীকার করেছে।

“আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন (বলুন) নিশ্চয়ই আমি অতি নিকটে। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেই যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে, যাতে তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়।” [আল-বাকারা: ১৮৬]

“নিশ্চয়ই আমি অতি নিকটে”: কোনো মাধ্যম, কোনো দ্বাররক্ষক, কোনো প্রতিবন্ধক কিংবা কোনো অন্তরায় ব্যতিরেকেই।

“আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেই” কোনো শর্ত ছাড়াই, কেবল সাড়া প্রদানের শর্ত ব্যতীত; যাতে সে সাড়া দেয়।

“সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয়” যাতে আমি তাদের প্রতি সাড়া প্রদান করি। “আর তোমরা আমার অঙ্গীকার পূর্ণ করো, আমি তোমাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করব।” [আল-বাকারা: ৪০]

আর ঈমানের শর্ত হলো যাতে তারা বিশ্বাস স্থাপন করে—“এবং তারা যেন আমার প্রতি ঈমান আনে”—যাতে আমি তাদের নিরাপদ করি, সঠিক পথ দেখাই এবং সুপথে পরিচালিত করি।

জেনে রাখুন—আল্লাহ আমার ও আপনার প্রতি রহম করুন—:

দোয়ার ক্ষেত্রে অবহেলা করা হলো এক প্রকার বিমুখতা।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ১৮)
والإعراض عنه كبر.

وصرفه لغير الله كفر.

{وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا}. [الجن: 18].

وللدعاء أسرار خفية، وفوائد جمة، لا يدركها إلا الموقنون بربهم، المسلمون لبارئهم، المستشعرون لعظمة خالقهم، ولو لم يكن في الدعاء، إلا شعور القانت بضعفه تجاه خالقه، وحاجته إلى بارئه، وأن وراءه رباً يحفظه، ورازقاً يرزقه، وقوياً ينصره، وخالقاً لا ينساه، لكفى به سكينة للمؤمنين، وأجراً عظيماً للطامعين.

فأكثر -يا عبد الله- من الدعاء ما استطعت، وارفع يدك ما حييت.

{فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا * إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا} [الانشراح: 5، 6].
এবং তা থেকে বিমুখ হওয়া অহংকার।

আর আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য তা নিবেদন করা কুফর।

“এবং নিশ্চয়ই মাসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য; সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।” [আল-জিন: ১৮]।

আর দোয়ার রয়েছে নিগূঢ় রহস্য এবং প্রচুর উপকারিতা, যা কেবল তাদের প্রতিপালকের প্রতি সুনিশ্চিত বিশ্বাসীরা, তাদের স্রষ্টার প্রতি আত্মসমর্পণকারীরা এবং তাদের স্রষ্টার মহত্ত্ব অনুভবকারীরাই অনুধাবন করতে পারে। যদি দোয়ার মধ্যে কেবল অনুগত বান্দার তার স্রষ্টার নিকট নিজের দুর্বলতা ও তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষিতার অনুভূতি এবং এ বিশ্বাসটুকু ছাড়া আর কিছু নাও থাকত যে, তার পেছনে এমন এক প্রতিপালক রয়েছেন যিনি তাকে হেফাযত করেন, এমন এক রিযিকদাতা আছেন যিনি তাকে রিযিক দান করেন, এমন এক শক্তিশালী সত্তা আছেন যিনি তাকে সাহায্য করেন এবং এমন এক স্রষ্টা আছেন যিনি তাকে ভুলে যান না—তবে মুমিনদের জন্য প্রশান্তি হিসেবে এবং আশাবাদীদের জন্য মহান প্রতিদান হিসেবে এটাই যথেষ্ট হতো।

সুতরাং হে আল্লাহর বান্দা! সাধ্যানুযায়ী অধিক পরিমাণে দোয়া করো এবং আজীবন দোয়ার জন্য হাত উত্তোলন করো।

“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।” [আল-ইনশিরাহ: ৫, ৬]।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ১৯)
(( … إن ربكم حي كريم يستحيي من عبده أن يرفع إليه يديه، فيردهما صفراً)) (1) وإن مع الصبر نصراً، وإن مع التقوى الفرج.

اللهم اجعل لنا من أمرنا فرجاً.

واهدنا في خضم هذه المتاهات سبيلاً رشداً.

ووحّد اللهم أمتنا.

وأمدّنا بعون منك ما أحييتنا.

ومكّن الإيمان في قلوبنا، والإسلام على أرضنا.

واجعل الآخرة هي همّنا وغايتنا، والجنة دار قرارنا.

يا وليّ المستضعفين، ويا وليّنا، ويا ناصر المظلومين ويا ناصرنا، اللهم إن الأعداء على الأبواب (2) والمنافقين في البيوت، اللهم إن لم تنصرنا فمن ينصرنا؟ ! وإن لم ترفق بنا فمن

--------------------------------------------

(1) رواه ابن ماجة وأحمد والطبراني في معجميه الأوسط والكبير، وصححه شيخنا الألباني في صحيح الجامع وصحيح الترغيب.

(2) كان هذا قبل غزو بلاد الرافدين، والآن قد كسروا الأبواب، واحتلوا البلاد، ولا حول ولا قوة إلا بالله.
(( … নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক চিরঞ্জীব ও অতিশয় দয়ালু। যখন তাঁর কোনো বান্দা তাঁর দিকে হাত তুলে প্রার্থনা করে, তখন তিনি সেই হাত দুটিকে শূন্য অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।)) (১) নিশ্চয়ই ধৈর্যের সাথে বিজয় রয়েছে এবং তাকওয়ার সাথে রয়েছে মুক্তি।

হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের প্রতিটি বিষয়ে প্রশস্ততা ও মুক্তি দান করুন।

এবং এই বিভ্রান্তিকর গোলকধাঁধার মধ্যে আমাদের সঠিক পথের দিশা দিন।

হে আল্লাহ! আমাদের উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করুন।

আর যতদিন আপনি আমাদের জীবিত রাখবেন, আমাদের আপনার পক্ষ থেকে সাহায্য প্রদান করুন।

আমাদের অন্তরে ঈমানকে এবং আমাদের ভূমিতে ইসলামকে সুপ্রতিষ্ঠিত করুন।

পরকালকেই আমাদের মূল চিন্তা ও চূড়ান্ত লক্ষ্য বানান এবং জান্নাতকে আমাদের চিরস্থায়ী আবাসস্থল করুন।

হে দুর্বলদের অভিভাবক, হে আমাদের অভিভাবক! হে মজলুমদের সাহায্যকারী, হে আমাদের সাহায্যকারী! হে আল্লাহ! শত্রুরা আজ দ্বারে দ্বারে (২) এবং মুনাফিকরা ঘরের অভ্যন্তরে। হে আল্লাহ! আপনি যদি আমাদের সাহায্য না করেন, তবে কে আমাদের সাহায্য করবে?! আর আপনি যদি আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে কে আর...

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাজাহ, আহমাদ এবং তাবারানি তাঁর মুজাম আল-আওসাত ও মুজাম আল-কবির গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন; আমাদের শায়খ আলবানি সহিহ আল-জামি এবং সহিহ আত-তারগিব গ্রন্থে একে সহিহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন।

(২) এটি ছিল মেসোপটেমিয়া (ইরাক) আক্রমণের পূর্বের কথা; আর এখন তারা দরজা ভেঙে ফেলেছে এবং দেশ দখল করে নিয়েছে। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ২০)
يرفق بنا؟ ! إن لم يكن بك علينا غضب فلا نبالي، لك العتبى حتى ترضى، ولا حول ولا قوة إلا بك.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
আমাদের প্রতি কি সদয় হবেন?! যদি আমাদের ওপর আপনার কোনো ক্রোধ না থাকে, তবে আমি অন্য কিছুর পরোয়া করি না। আপনার সন্তুষ্টি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সকল অনুযোগ আপনারই সমীপে নিবেদন করছি। আর আপনার সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই।

আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الشعاع الثاني

وجوب الاتباع وأهميته

ومهما يكن من أمر الدعاء وأهميته، فإن للاتباع السهم الأوفى، والقدح المعلى، إذ لا يقوم دين، ولا يستقيم أمر، ولا تصلح طاعة، ولا تقبل عبادة، إلا بالاتباع، بعد حسن النية والإخلاص.

قال تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} [الكهف: 110].

قال أهل العلم: لا يكون العمل صالحاً حتى يكون مطابقاً هدي رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو ما يعبر عنه أحياناً: بالسنة والاتباع، وإذا لم يكن صالحاً فالعمل مردود، ولو كان صاحبه ذا نية حسنة.

فحقيق -إذاً- أن نكرر هذا الموضوع ونؤكده، ونبين معالمه ونفصله؛ لما له من الأهمية الكبرى.

قال تعالى: {اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُون} [الأنعام: 2].
দ্বিতীয় রশ্মি

অনুসরণের (الاتباع) আবশ্যকতা ও এর গুরুত্ব

দোয়ার বিষয় ও এর গুরুত্ব যাই হোক না কেন, অনুসরণের (الاتباع) অংশই সবচেয়ে বেশি এবং এর মর্যাদা সর্বোচ্চ। কেননা, উত্তম নিয়ত ও ইখলাসের পর অনুসরণ (الاتباع) ব্যতীত কোনো দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, কোনো বিষয় সুদৃঢ় হয় না, কোনো আনুগত্য সঠিক হয় না এবং কোনো ইবাদত কবুল হয় না।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "সুতরাং যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক না করে।" [সুরা আল-কাহাফ: ১১০]।

আলিমগণ বলেন: কোনো আমল ততক্ষণ পর্যন্ত সৎকর্ম হিসেবে গণ্য হয় না, যতক্ষণ না তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিদায়াত বা আদর্শের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। একে কখনো সুন্নাহ (السنة) ও অনুসরণ (الاتباع) হিসেবে অভিহিত করা হয়। আর আমলটি যদি সঠিক না হয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত (مردود), যদিও আমলকারীর নিয়ত ভালো থাকে।

সুতরাং এই বিষয়টির গুরুত্ব অত্যন্ত অধিক হওয়ার কারণে আমাদের উচিত এটি বারবার আলোচনা করা ও এর ওপর জোর দেওয়া এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা ও বিশ্লেষণ করা।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবকদের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো।" [সুরা আল-আনআম: ২]।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ২২)
وقال صلى الله عليه وسلم:

((من رغب عن سنتي فليس مني)) (1).

وقال ابن مسعود رضي الله عنه:

((اتبعوا ولا تبتدعوا فقد كفيتم، عليكم بالأمر العتيق)) (2).

والعتيق هو: الأول الأصيل.

قال صلى الله عليه وسلم:

((صلوا كما رأيتموني أصلي)) (3).

ويعني ذلك: الاتباع، ومقتضاه ولازمه أن نصلي لله كما صلّى رسولنا صلى الله عليه وسلم، وأن نقنت كما قنت، وأن ندعوكما دعا، وأن نجاهد كما جاهد، وأن نقيم دولة الإسلام كما أقام، وأن نتخلّق بأخلاقه صلى الله عليه وسلم، وأن نقتدي بأصحابه الذين لهم الحظ الأوفى بعد الرسول صلى الله عليه وسلم في الاتباع، رضوان الله عليهم أجمعين.

وإلاّ كنّا عن السنّة معرضين، وعن الصراط ناكبين، ولطريق الاعوجاج سالكين.

--------------------------------------------

(1) البخاري (6/ 116) مسلم (رقم 1401).

(2) أخرجه اللالكائي في شرح أصول الاعتقاد (1/ 6) وابن وضاح في البدع (10) وغيرهما.

(3) البخاري [1/ 155] ومسلم (رقم 674).
এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:

((যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ (سنة) হতে বিমুখ হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়)) (১)।

এবং ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন:

((তোমরা অনুসরণ (اتبعوا) করো এবং নতুন কিছুর উদ্ভাবন তথা বিদআত (تبتدعوا) করো না, কেননা তোমাদের জন্য যা যথেষ্ট তা প্রদান করা হয়েছে। তোমাদের কর্তব্য হলো আদি পদ্ধতির (الأمر العتيق) ওপর অবিচল থাকা)) (২)।

আর আতিক (العتيق) হলো: প্রথম ও মৌলিক বিষয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:

((তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ)) (৩)।

এর অর্থ হলো: অনুসরণ (الاتباع)। এর দাবি ও অপরিহার্যতা হলো আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেভাবেই সালাত আদায় করব যেভাবে আমাদের রাসূল (সা.) সালাত আদায় করেছেন, সেভাবেই কুনুত পাঠ করব যেভাবে তিনি করেছেন, সেভাবেই দুআ করব যেভাবে তিনি করেছেন, সেভাবেই জিহাদ করব যেভাবে তিনি করেছেন, সেভাবেই ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করব যেভাবে তিনি করেছেন, তাঁর সুমহান চরিত্রে চরিত্রবান হব এবং তাঁর সাহাবীগণের ইক্তিদা (اقتداء) তথা অনুসরণ করব, যারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরে অনুসরণের ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা অধিক অংশের অধিকারী ছিলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

অন্যথায় আমরা সুন্নাহ (السنة) হতে বিমুখ, সরল পথ (الصراط) হতে বিচ্যুত এবং বক্র পথের অনুসারী হয়ে পড়ব।

--------------------------------------------

(১) বুখারী (৬/১১৬), মুসলিম (নং ১৪০১)।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন লালকায়ী 'শারহু উসুলি ইতিকাদ' (১/৬) গ্রন্থে, ইবনে ওয়াদদাহ 'আল-বিদআ' (১০) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা।

(৩) বুখারী (১/১৫৫) এবং মুসলিম (নং ৬৭৪)।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ২৩)
ولذلك أمر الله باتباع سبيله، ووصى بذلك، وحذر من مغبة الخروج عنه إلى السبل، فقال سبحانه: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [الأنعام: 153].

إن طول العهد، والبعد عن النبع الصافي، كدر الماء، وأسن المجرى، وغير طعمه، فماتت في كثير من البلدان السنة، وأحييت في كثير منها البدعة، واختلطتا في بلدان أخرى، فتشابه على الناس الأمر، وغشي الحق غياية قاتمة من التعصب والتساهل، والغلو والجفاء.

ومن أعظم مفسدات الاتباع: التقليد الأعمى، وتقديم آراء الرجال على السنة، واتباع هوى الناس وعاداتهم المخالفة لشرع الله.

فلا تغلبنّك عوائد الناس عن الاتباع، ولا يدفعنك إرضاء الناس إلى هجر السنة والابتداع، فأحي السنة ما حييت، وأمت البدعة ما استطعت.

فوالله ما أفسد اليهود والنصارى إلا الابتداع، وما أبقى دين الإسلام بعد فضل الله إلا بقية من اتباع.
এজন্যই আল্লাহ তাঁর পথ অনুসরণের (اتباع) নির্দেশ দিয়েছেন, এ বিষয়ে অসিয়ত করেছেন এবং সেই পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্যান্য পথে চলার অশুভ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।} [আল-আন'আম: ১৫৩]।

নিশ্চয়ই দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া এবং বিশুদ্ধ উৎস থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলে পানি ঘোলাটে হয়ে গেছে, এর প্রবাহপথ দূষিত হয়েছে এবং এর স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ফলে বহু জনপদে সুন্নাহ বিলুপ্ত হয়েছে এবং সেখানে বিদআত (بدعة) পুনরুজ্জীবিত হয়েছে; আবার অন্যান্য অনেক জনপদে এই দুইয়ের সংমিশ্রণ ঘটেছে, ফলে মানুষের কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। আর সত্যকে গোঁড়ামি, শিথিলতা (تساهل), অতিরঞ্জন (غلو) এবং বিমুখতা (جفاء)-এর এক গাঢ় অন্ধকার আচ্ছন্ন করে ফেলেছে।

অনুসরণ (اتباع)-কে বিনষ্টকারী বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: অন্ধ অনুকরণ (تقليد), সুন্নাহর ওপর মানুষের ব্যক্তিগত অভিমত (رأي) প্রাধান্য দেওয়া এবং আল্লাহর বিধানের পরিপন্থী মানুষের খেয়াল-খুশি ও প্রথা অনুসরণ করা।

সুতরাং মানুষের প্রচলিত প্রথা যেন আপনাকে অনুসরণের (اتباع) পথ থেকে বিচ্যুত না করে এবং মানুষকে সন্তুষ্ট করার আকাঙ্ক্ষা যেন আপনাকে সুন্নাহ বর্জন ও বিদআত (بدعة) চর্চার দিকে ঠেলে না দেয়। অতএব, যতদিন বেঁচে আছেন সুন্নাহকে জীবিত রাখুন এবং সাধ্যমতো বিদআত (بدعة) নির্মূল করুন।

আল্লাহর কসম! ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কেবল বিদআত (بدعة)-ই ধ্বংস করেছে; আর আল্লাহর অনুগ্রহের পর একমাত্র অনুসরণ (اتباع)-এর অবশিষ্টাংশই ইসলাম ধর্মকে টিকিয়ে রেখেছে।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ২৪)
ووالله لن يقوم للإسلام قائمة إلا بالاتباع، ولن يستقيم أمر هذه الصحوة إلا بالاتباع، ولن نتمكن في الأرض إلا بالاتباع.

ويوم ترى السنن قد أحييت، وقُدمت على أهواء الناس وعوائدهم، ويوم ترى البدع أميتت، والعوائد المخالفة للشرع دفنت.

ويوم ترى الناس يسعون في طلب العلم، لا طلب السفساف والترهات، من اتباع لسياسة الكافرين، وفكر المُحَدِثِينَ، مخالفين بذلك سبيل النبي صلى الله عليه وسلم وصحبه والمؤمنين، يوم ترى ذلك، يومئذ يفرح المؤمنون بنصر الله، يوم ينصرون سنّته، ويتبعون طريق نبيّه، ويقتفون أثر أصحابه.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ} [محمد: 7]. وإن لم يكن نصر الله هو نصر دينه، والعمل بأحكامه، واتباع نبيه صلى الله عليه وسلم، والاقتداء بصحابته رضي الله عنهم، فلا نصر لله أبداً.

والاتباع أعم من أن يكون محصوراً في عبادة، أو عملاً بسنة، بل هو شامل جميع جوانب الدين، وسبيل سيد المرسلين.
আল্লাহর শপথ, অনুসরণ (الاتباع) ব্যতীত ইসলামের কোনো ভিত্তি গড়ে উঠবে না; অনুসরণ (الاتباع) ব্যতীত এই জাগরণের বিষয়সমূহ সুসংহত হবে না এবং অনুসরণ (الاتباع) ব্যতীত আমরা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারব না।

যেদিন আপনি দেখবেন সুন্নাহসমূহ (السنن) পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এবং সেগুলোকে মানুষের প্রবৃত্তি ও প্রথা-আচারের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে; এবং যেদিন দেখবেন বিদআতসমূহ (البدع) নির্মূল হয়েছে এবং শরয়ি বিধানের পরিপন্থী প্রথাগুলো সমাহিত হয়েছে।

যেদিন আপনি দেখবেন মানুষ জ্ঞান অন্বেষণে সচেষ্ট, তুচ্ছ ও অসার বস্তুর অন্বেষণে নয়—যা মূলত কাফিরদের রাজনীতির অনুসরণ এবং নবউদ্ভাবকদের (المحدثين) চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ, যার মাধ্যমে তারা নবী (সা.), তাঁর সাহাবীগণ এবং মুমিনদের পথের বিরোধিতা করে—যেদিন আপনি তা দেখবেন, সেদিন মুমিনগণ আল্লাহর সাহায্যে আনন্দিত হবে; যেদিন তারা তাঁর সুন্নাহকে (سنة) সাহায্য করবে, তাঁর নবীর পথ অনুসরণ করবে এবং তাঁর সাহাবীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে।

{হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদক্ষেপসমূহ সুদৃঢ় করবেন} [মুহাম্মদ: ৭]। আর আল্লাহর সাহায্য বলতে যদি তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করা, তাঁর বিধান অনুযায়ী আমল করা, তাঁর নবীর অনুসরণ (الاتباع) করা এবং তাঁর সাহাবীদের আদর্শ অনুসরণ করা না বোঝায়, তবে আল্লাহর সাহায্য কখনোই আসবে না।

আর অনুসরণ (الاتباع) কেবল ইবাদত বা কোনো সুন্নাহর (سنة) ওপর আমল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দ্বীনের সকল দিক এবং রাসূলগণের সরদারের পথকে শামিল করে।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ২৫)
{قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ}. [يوسف: 108].

ومن لم يكن بالرسول مقتدياً، ولمنهج الصحابة متبعاً، كان مبتدعاً.

{وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} [النساء: 110].

ولقد كان للاتباع هذا الأهمية، والابتداع هذه الخطورة؛ لأن باب الهداية الاتباع، وباب الضلالة الابتداع.

والله غالب على أمره ولكن أكثر الناس لا يعلمون.
{বলুন, "এটিই আমার পথ। আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা পূর্ণ সচেতনতার সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। আর আল্লাহ অতি পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।"} [ইউসুফ: ১০৮]।

আর যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহর পদাঙ্ক অনুসরণ করে না এবং সাহাবাগণের মানহাজ (منهج) মেনে চলে না, সে বিদআতকারী (مبتدع) হিসেবে গণ্য হবে।

{আর যে ব্যক্তি তার নিকট হিদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই পরিচালিত করব যা সে বেছে নিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব; আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য।} [আন-নিসা: ১১০]।

আর নিশ্চয়ই অনুসরণের (اتباع) এই গুরুত্ব এবং বিদআতের (ابتداع) এই ভয়াবহতা অনস্বীকার্য; কেননা হিদায়াতের দ্বার হলো অনুসরণ (اتباع) এবং পথভ্রষ্টতার দ্বার হলো বিদআত (ابتداع)।

আর আল্লাহ তাঁর কার্যে প্রবল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা অবগত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌معنى القنوت

تأتي كلمة القنوت بمعان متعددة: فالقنوت لغة: الخضوع، والذل، والتعبد، والدعاء (1).

كالطاعة، والخشوع، والصلاة، والدعاء، والعبادة، والقيام، وطول القيام، والسكوت، والذكر، ودوام الطاعة (2).

فيصرف كل واحد من هذه المعاني إلى ما يتحمله اللفظ، في السياق والسباق.

فالقانت هو: الداعي، والمداوم على الطاعة، والخاشع، و …

وقد تأتي هذه المعاني مفردة، وقد تأتي مجتمعة، كما في قوله تعالى: {وَكَانَتْ مِنَ الْقَانِتِينَ} [التحريم: 12].

لأن حقيقة القانت: أنه القائم بأمر الله (3).

قال ابن مسعود:

"القانت: المطيع لأوامر الله ورسوله" (4).

--------------------------------------------

(1) (2) النهاية، اللسان، القاموس، الوسيط، مادة: (ق ن ت).

(3) اللسان المادة نفسها.

(4) ابن كثير (4 - 51).
কুনুতের অর্থ

কুনুত শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়: আভিধানিক অর্থে কুনুত হলো— বশ্যতা, হীনতা প্রকাশ, দাসত্ব এবং প্রার্থনা (১)।

যেমন— আনুগত্য, একাগ্রতা, সালাত, প্রার্থনা, ইবাদত, দণ্ডায়মান হওয়া, দীর্ঘ কিয়াম, নীরবতা পালন, জিকির এবং ইবাদতে অবিচল থাকা (২)।

এই অর্থগুলোর প্রত্যেকটি শব্দটির প্রয়োগ ও প্রসঙ্গের দাবি অনুযায়ী যথাযোগ্য স্থানে ব্যবহৃত হয়।

অতএব কানিত হলেন: প্রার্থনাকারী, আনুগত্যে অবিচল ব্যক্তি, বিনয়াবনত ব্যক্তি এবং …

এই অর্থগুলো কখনো এককভাবে আসে, আবার কখনো সমষ্টিগতভাবে আসে; যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: {এবং সে ছিল অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত} [আত-তাহরীম: ১২]।

কেননা কানিতের প্রকৃত স্বরূপ হলো: সে আল্লাহর নির্দেশ পালনকারী (৩)।

ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন:

"কানিত হলো: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশসমূহের অনুগত ব্যক্তি" (৪)।

--------------------------------------------

(১) (২) আন-নিহায়া, আল-লিসান, আল-কামুস, আল-ওয়াসিত; মূলশব্দ: ক-ন-ত।

(৩) আল-লisan, একই মূলশব্দ।

(৪) ইবনে কাসীর (৪ - ৫১)।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال شيخ الإسلام:

"والقنوت في اللغة: دوام الطاعة" (1).

وعلى هذا فسر حديث النبي صلى الله عليه وسلم حين سئل: أي الصلاة أفضل قال: ((طول القنوت)) (2).

أي: طول القيام والركوع والسجود.

وقد ترمي لمعنى خاص: كما في قوله تعالى:

{وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ}. [البقرة: 238]. أي: ممسكين عن الكلام.

لحديث زيد بن أرقم: "كنا نتكلم في الصلاة حتى نزلت: {وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} فأمسكنا عن الكلام" (3).

ولا يمنع هذا أن يكون المعنى أعمّ، ليشمل الخشوع، والذلة والاستكانة، ولازمه الإمساك عن الكلام في الصلاة؛ كما ذهب إلى هذا جمهور المفسرين.

قال ابن كثير [1/ 302]:

--------------------------------------------

(1) جامع الرسائل (1 - 5).

(2) رواه مسلم (756).

(3) البخاري (5/ 162) مسلم (539) وغيرهما.
শায়খুল ইসলাম বলেন:

"আভিধানিক অর্থে কুনূত (القنوت) হলো: আনুগত্যের ধারাবাহিকতা" (১)।

আর এরই ভিত্তিতে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোন সালাত সর্বোত্তম? তিনি বললেন: ((দীর্ঘ কুনূত (القنوت))) (২)।

অর্থাৎ: দীর্ঘ কিয়াম, রুকু এবং সিজদা।

কখনও এটি বিশেষ কোনো অর্থকেও নির্দেশ করে: যেমন আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে:

{আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে অনুগত (قَانِتِينَ) হয়ে দাঁড়াও}। [আল-বাকারা: ২৩৮]। অর্থাৎ: কথা বলা থেকে বিরত থাকা।

জায়দ বিন আরকাম-এর হাদিসের কারণে: "আমরা সালাতে কথা বলতাম যতক্ষণ না অবতীর্ণ হয়: {আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে অনুগত (قَانِتِينَ) হয়ে দাঁড়াও}, অতঃপর আমরা কথা বলা থেকে বিরত হই" (৩)।

তবে এটি এর অর্থ অধিক ব্যাপক হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়, যাতে খুশু (الخشوع), হীনতা ও বিনয় অন্তর্ভুক্ত হয়, যার অনিবার্য পরিণতি হলো সালাতে কথা বলা থেকে বিরত থাকা; যেমনটি অধিকাংশ মুফাসসির মত প্রকাশ করেছেন।

ইবনে কাসীর বলেন [১/ ৩০২]:

--------------------------------------------

(১) জামিউর রাসায়িল (১ - ৫)।

(২) মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৭৫৬)।

(৩) বুখারি (৫/ ১৬২), মুসলিম (৫৩৯) এবং অন্যান্যরা।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ২৮)
"أي خاشعين ذليلين مستكينين بين يديه، وهذا الأمر مستلزم ترك الكلام في الصلاة".

وفي قول الله تعالى:

{أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاءَ اللَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا}. [الزمر: 9].

قال ابن كثير [4 - 51]:

"ذهب بعضهم إلى أن القنوت: هو الخشوع في الصلاة، ليس هو القيام وحده، كما ذهب إليه آخرون".

والذي يظهر من خلال استقراء كلمة "القنوت" في الكتاب والسنة ونصوص العربية، أن أصل معناها هو الخضوع، والخضوع هو: المعنى المشترك بين جميع معانيها، فالقائم: خاضع لأمر الله، والساكت: خاضع لأمر الله، والخاشع: خاضع لأمر الله، والكافر: خاضع لأمر الله، والكائنات كلها: خاضعة لأوامر الله.

{أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ} [الأعراف: 54].

{إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} [يس: 83].

فإذا كانت خطاباً للمؤمنين؛ فتتضمّن الخضوع مع الخشوع ودوام الطاعة، كما في قوله تعالى:
অর্থাৎ তাঁর সম্মুখে বিনীত (خاشعين), নম্র (ذليلين) এবং বিনত (مستكينين) হয়ে; আর এই বিষয়টি সালাতে কথাবার্তা বর্জন করাকে আবশ্যক করে।

এবং মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে:

{যিনি রাতের প্রহরে বিনয়াবনত হয়ে (قانت) সিজদাবনত ও দণ্ডায়মান অবস্থায় ইবাদত করেন।} [আয-যুমার: ৯]।

ইবনে কাসীর [৪ - ৫১] বলেন:

"কারও কারও মতে কুনুত (القنوت) হলো সালাতে বিনয় (الخشوع); এটি কেবল দণ্ডায়মান থাকা নয়, যেমনটি অন্য অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।"

কুরআন, সুন্নাহ এবং আরবি ভাষাতাত্ত্বিক পাঠসমূহে 'কুনুত' (القنوت) শব্দের পর্যালোচনার মাধ্যমে যা স্পষ্ট হয় তা হলো—এর মূল অর্থ হলো বশ্যতা (الخضوع), আর এই বশ্যতা (الخضوع) বিষয়টি এর সকল অর্থের মধ্যে একটি সাধারণ অর্থ হিসেবে বিদ্যমান। সুতরাং দণ্ডায়মান ব্যক্তি আল্লাহর আদেশের অনুগত (خاضع), নীরব ব্যক্তি আল্লাহর আদেশের অনুগত (خاضع), বিনীত ব্যক্তি আল্লাহর আদেশের অনুগত (خاضع), কাফির আল্লাহর আদেশের অনুগত (خاضع) এবং সমস্ত সৃষ্টিজগত আল্লাহর আদেশের অনুগত (خاضعة)।

{জেনে রেখো, সৃষ্টি ও আদেশ কেবল তাঁরই} [আল-আরাফ: ৫৪]।

{তাঁর নির্দেশ তো এই যে, তিনি যখন কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তাকে বলেন ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়} [ইয়াসিন: ৮৩]।

সুতরাং যখন এটি মুমিনদের প্রতি সম্বোধন হয়; তখন এটি বিনয় (الخشوع) ও অবিরাম আনুগত্যের সাথে বশ্যতা (الخضوع) প্রদর্শনকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ২৯)
{يَا مَرْيَمُ اقْنُتِي لِرَبِّكِ} [آل عمران: 43].

وقوله تعالى:

{إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتًا}. [النحل: 120].

وإن كان الخطاب بها للناس جميعهم، كافرهم ومؤمنهم، فيكون معنى القنوت -والحال هذه- مجرد الخضوع لسنن الله الكونية.

كما في قوله تعالى:

{وَقَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ بَلْ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ كُلٌّ لَهُ قَانِتُونَ} [البقرة: 116] أي: خاضعون.

ولكن منهم الخاضع خضوعاً كونياً فحسب، وهم الكفار، ومنهم الخاضع خضوعاً كونياً وشرعياً، وهم المؤمنون.

والخضوع الشرعيّ هو: الاستسلام لأوامره، والابتعاد عن نواهيه، والالتزام بشرعه.

والمقصود بالخضوع الكوني:

الخضوع لسنن الله الكونية: من موت، وحياة، ورزق، ولون، ومرض، وغير ذلك، مما يخضع له الناس جميعاً، مؤمنهم وكافرهم. ومعنى كرهاً، أي: شاؤوا أم أبوا، رضوا أم سخطوا،
{হে মারইয়াম! তোমার রবের প্রতি একনিষ্ঠ অনুগত্য (قنوت) করো} [আলে ইমরান: ৪৩]।

এবং মহান আল্লাহর বাণী:

{নিশ্চয় ইবরাহিম ছিলেন এক উম্মত, আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ অনুগত (قانت)}। [আন-নাহল: ১২০]।

যদি এই সম্বোধন কাফির ও মুমিন নির্বিশেষে সকল মানুষের উদ্দেশ্যে হয়, তবে এই অবস্থায় একনিষ্ঠ অনুগত্য (قنوت)-এর অর্থ হবে স্রেফ আল্লাহর মহাজাগতিক নিয়মের কাছে নতিস্বীকার করা।

যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে:

{এবং তারা বলে: আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন, তিনি অতি পবিত্র। বরং আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর; সবকিছুই তাঁর প্রতি অনুগত (قانتون)} [আল-বাকারা: ১১৬] অর্থাৎ: নতিস্বীকারকারী (خاضعون)।

কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ কেবল মহাজাগতিকভাবে নতিস্বীকারকারী, আর তারা হলো কাফির; আবার কেউ মহাজাগতিক ও শরয়ি উভয়ভাবেই অনুগত, আর তারা হলো মুমিন।

আর শরয়ি অনুগত্য হলো: তাঁর আদেশসমূহের প্রতি আত্মসমর্পণ করা, তাঁর নিষেধসমূহ থেকে দূরে থাকা এবং তাঁর শরয়ি বিধানের ওপর অটল থাকা।

মহাজাগতিক অনুগত্য বলতে যা উদ্দেশ্য:

আল্লাহর মহাজাগতিক নিয়মাবলির প্রতি নতিস্বীকার করা: যেমন মৃত্যু, জীবন, রিজিক, বর্ণ, রোগ-ব্যাধি এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ, যার কাছে মুমিন ও কাফির সকল মানুষই নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়। আর অনিচ্ছাসত্ত্বেও (كرهًا) কথাটির অর্থ হলো: তারা চাক বা না চাক, সন্তুষ্ট থাকুক বা অসন্তুষ্ট হোক।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ৩০)
قال مجاهد: " {كُلٌّ لَهُ قَانِتُونَ} مطيعون، قال: كن إنساناً، فكان، وقال: كن حماراً، فكان" (1).

قلت: فهذه هي: الطاعة الكونية.

ومثالها: كن طويلاً فكان، كن جميلاً فكان، كن فقيراً فكان، كن مريضاً فكان، كن ميتاً فكان، كن مبعوثاً يوم القيامة فكان، فهذه الطاعة، يستوي فيها المؤمن والكافر، والحيوان والجماد، وتسمى عند العلماء الطاعة الكونية لله عز وجل.

قال تعالى: {وَكُلٌّ أَتَوْهُ دَاخِرِينَ} [النمل: 87].

وقال سبحانه:

{إِنْ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا} [مريم: 93].

قال شيخ الإسلام في جامع الرسائل (1 - 9):

"وفسرها -أي مجاهد-: بطاعة أمره الكوني".

{إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} [يس: 83].

--------------------------------------------

(1) رواه ابن جرير (2 - 538) وابن أبي حاتم (1 - 349).
মুজাহিদ বলেছেন: "{সবাই তাঁর অনুগত (قانتون)} অর্থাৎ অনুগত (مطيعون); তিনি বলেছেন: মানুষ হও, ফলে সে হয়ে গেল, এবং তিনি বলেছেন: গাধা হও, ফলে সে হয়ে গেল" (১)।

আমি বলছি: এটিই হলো: মহাজাগতিক আনুগত্য (الطاعة الكونية)।

এর উদাহরণ হলো: লম্বা হও ফলে সে হয়ে গেল, সুন্দর হও ফলে সে হয়ে গেল, দরিদ্র হও ফলে সে হয়ে গেল, অসুস্থ হও ফলে সে হয়ে গেল, মৃত হও ফলে সে হয়ে গেল, কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত হও ফলে সে হয়ে গেল। এই আনুগত্যে মুমিন ও কাফির, প্রাণী ও জড়বস্তু সবাই সমান, আর আলেমদের নিকট একে আল্লাহ মহান ও মহিমান্বিত-এর মহাজাগতিক আনুগত্য (الطاعة الكونية) বলা হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং সবাই তাঁর নিকট বিনীত অবস্থায় আসবে} [আন-নামল: ৮৭]।

এবং তিনি পবিত্র সত্তা বলেন:

{আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে এমন কেউ নেই যে পরম করুণাময়ের নিকট বান্দা হিসেবে উপস্থিত হবে না} [মারইয়াম: ৯৩]।

শায়খুল ইসলাম জামিউর রাসাইল-এ (১ - ৯) বলেছেন:

"আর তিনি -অর্থাৎ মুজাহিদ- এর ব্যাখ্যা করেছেন: তাঁর মহাজাগতিক আদেশের (أمره الكوني) আনুগত্য দ্বারা"

{তাঁর আদেশ তো কেবল এই যে, যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাকে বলেন: 'হও', ফলে তা হয়ে যায়} [ইয়াসীন: ৮৩]।

--------------------------------------------

(১) বর্ণনা করেছেন (رواه) ইবনে জারীর (২ - ৫৩৮) এবং ইবনে আবি হাতেম (১ - ৩৪৯)।
(খণ্ড: ১) আল-কুনুত (পৃষ্ঠা: ৩১)
وعلى هذا يحمل قوله تعالى:

{وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا} [الرعد: 15].

طوعاً: الطاعة الشرعية، كرهاً: الطاعة الكونية.

لأن السجود يأتي بمعنى الخضوع الكوني، كالقنوت الكوني، وكذا الاستسلام الكوني، كما في قوله تعالى:

{وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا} [آل عمران: 83]. والواو هنا بمعنى: أو، أي: منهم من يسجد ويسلم طوعاً، ومنهم من يسجد ويخضع لسنتنا الكونية كرهاً، كما في قوله تعالى: {مُحَلِّقِينَ رُءُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ}. [الفتح: 27]: أي: منكم المحلق، ومنكم المقصر.

فالسجود، والاستسلام، والقنوت، -وحتى التسبيح- كل منها يأتي على المعنى الشرعي، وعلى معنى الخضوع الكوني.

فإذا فُهم هذا، فهمت كثيراً من الآيات التي أشكلت على كثير من الناس كقوله تعالى:

{وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [الرعد: 15].

{يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ} [الجمعة: 1].
আর এরই ওপর ভিত্তি করে মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যা করা হয়:

{আর আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আল্লাহর প্রতি সেজদা (سجود) করে} [রা’দ: ১৫]।

স্বেচ্ছায়: শারঈ আনুগত্য (الطاعة الشرعية), অনিচ্ছায়: মহাজাগতিক আনুগত্য (الطاعة الكونية)।

কেননা সেজদা (السجود) শব্দটি মহাজাগতিক বিনয় (الخضوع الكوني) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন মহাজাগতিক আনুগত্য (القنوت الكوني) এবং একইভাবে মহাজাগতিক আত্মসমর্পণ (الاستسلام الكوني), যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে:

{আর আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা স্বেচ্ছায় ও অনিচ্ছায় তাঁরই নিকট আত্মসমর্পণ (أَسْلَمَ) করেছে} [আলে ইমরান: ৮৩]। আর এখানে 'ওয়াও' (এবং) অক্ষরটি 'অথবা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ: তাদের মধ্যে কেউ স্বেচ্ছায় সেজদা (يسجد) ও আত্মসমর্পণ (يسلم) করে, আবার কেউ অনিচ্ছায় আমাদের মহাজাগতিক নিয়মের কাছে সেজদা (يسجد) ও বিনত হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে বলা হয়েছে: {তোমাদের মাথা মুণ্ডনকারী অবস্থায় এবং চুল ছাঁটানো অবস্থায়}। [ফাতহ: ২৭]: অর্থাৎ: তোমাদের কেউ মুণ্ডনকারী, আবার কেউ চুল ছাঁটানো।

অতএব সেজদা (السجود), আত্মসমর্পণ (الاستسلام), আনুগত্য (القنوت), এমনকি পবিত্রতা বর্ণনা (التسبيح) - এর প্রতিটিই শারঈ অর্থ (المعنى الشرعي) এবং মহাজাগতিক বিনয়ের (الخضوع الكوني) অর্থে ব্যবহৃত হয়।

যদি এটি বোঝা যায়, তবে এমন অনেক আয়াত বোঝা সম্ভব হবে যা অনেক মানুষের নিকট অস্পষ্ট মনে হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী:

{আর আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা আল্লাহর প্রতি সেজদা (يسجد) করে} [রা’দ: ১৫]।

{আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা (يُسَبِّحُ) করে} [জুমুআ: ১]।