(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: -)
النعت الأكمل لأصحاب الإمام أحمد بن حنبل القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: النعت الأكمل لأصحاب الإمام أحمد بن حنبل
(من سنة 901 - 1207 هـ)
المؤلف: محمد كمال الدين بن محمد الغزي العامري (ت 1214 هـ)
وعليه: زيادات واستدراكات حتى نهاية القرن الرابع عشر الهجري
تحقيق وجمع: محمد مطيع الحافظ - نزار أباظة
الناشر: دار الفكر، دمشق - سوريا
الطبعة: الأولى، 1402 هـ - 1982 م
عدد الصفحات: 341
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)
تنبيه: أضاف المحققان - في متن الكتاب- تراجم ليست في الأصل، ونبه عليها، وقد نقلنا ما وقفنا عليه من ذلك للحاشية
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الآخرة 1440
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের অনুসারীদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস
বই: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের অনুসারীদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ
(৯০১ - ১২০৭ হিজরি থেকে)
লেখক: মুহাম্মদ কামাল উদ্দীন বিন মুহাম্মদ আল-গাজ্জী আল-আমিরী (মৃত্যু ১২১৪ হিজরি)
এবং এর সাথে রয়েছে: চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সংযোজন ও সংশোধন
সম্পাদনা ও সংকলন: মুহাম্মদ মুতী আল-হাফিজ - নিজার আবাজা
প্রকাশক: দারুল ফিকর, দামেস্ক - সিরিয়া
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪১
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নুসসাখ (অনুলিপিকারক সমিতি), বাস্তবায়নে (মারকায আল-নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (সুলাইমান আল-রাজিহি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন)
সতর্কবার্তা: সম্পাদকদ্বয় মূল গ্রন্থের পাঠ্যে এমন কিছু জীবনী যোগ করেছেন যা মূল গ্রন্থে ছিল না এবং সে সম্পর্কে তারা সতর্ক করেছেন। আমরা এ ধরনের যা কিছু পেয়েছি তা পাদটীকায় স্থানান্তর করেছি।
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ١)
النَّعْتُ الأَكْمَلُ
لِأصْحَابِ الإِمَامِ أحمد بن حَنْبَل
مِن سنةِ 901 - 1207 هجريَّة
تَألِيفُ
مُحَمَّدٍ كَمَالِ الدِّين بن مُحمَّد الغَزِّي العَامِرِيّ
المتَوَفَّى سَنَة 1214 هـ
وَعَلَيهِ زَيادَاتٌ وَاستِدَراكاتٌ حَتّى نِهَاية القَرْنِ الرَّابع عَشرَ الهِجريّ
تحقيق وجمع
مُحمَّدُ مُطِيع الحَافِظ
نِزار أباظة
دار الفكر
আন-নাতুল আকমাল (পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা)
ইমাম আহমদ ইবন হাম্বলের অনুসারীদের জীবনী প্রসঙ্গে
৯০১ - ১২০৭ হিজরি পর্যন্ত
গ্রন্থনায়
মুহাম্মাদ কামালুদ্দীন ইবন মুহাম্মাদ আল-গাজ্জী আল-আমিরী
মৃত্যু ১২১৪ হিজরি
এবং এতে চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সংযোজন ও পরিমার্জন করা হয়েছে
সম্পাদনা ও সংকলন
মুহাম্মাদ মুতী আল-হাফিজ
নিযার আবাজাহ
দার আল-ফিকর
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٢)
1402 هـ - 1982 م
دار الفكر
طبع بطريقة الصف التصويري
في دار الفكر بدمشق
১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ
দারুল ফিকর
ফটোটাইপ সেটিং পদ্ধতিতে মুদ্রিত
দামেস্কের দারুল ফিকরে
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٣)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
النَّعْتُ الأكمَلُ
لأصْحَابِ الإمَامِ أحْمَدْ بنِ حَنْبَل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
পরিপূর্ণ বৈশিষ্ট্য
ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের অনুসারীদের জন্য
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وآله وصحبه والتابعين لهم على سننه وهديه وبعد.
فلعلّ الحديث عن الطبقات والتراجم يعطي صورة تكمل ما قد تغفله كتب التاريخ بل ولعل هذه التراجم تسكب بعض الحياة في تلك الحوادث التاريخية ممثلة فيمن صنعوا ذاك التاريخ وعاشوه وانفعلوا به سواء أكان تاريخا ثقافيا أم اجتماعيا أم سياسيا .. وما أحداث التاريخ إلّا من صنع أفراد كل جيل.
ولئن كانت كتب التاريخ في جملتها تهتم بالحكام والسياسة والفتوح والمغازي وتقلبات الدول وإرث الخلافة فإن كتب الطبقات تهتم بنوع خاص بالتاريخ العلمي الذي يشكل جانبا خاصًا ولونًا معينًا يحتاج إليه الدارسون ويعتمد عليه الباحثون يتعرفون فيه خطًّا متتابعًا لجدول بعينه ينساب مرة ويتلوى مرة أخرى يعرض هنا ويضيق هناك ولكنه هو الجدول نفسه بمياهه التي قد تصفو أو تتكدر.
على أَن كتب الطبقات نفسها ذات ألوان عديدة منها ما يؤرخ متتابعًا مع الزمن ومنها ما يعتمد على النهج المتوسع ومنها ما يورد تراجم لأعيان معينين كالأدباء أو الفقهاء أو النحويين .. ومن هنا ذخرت المكتبة العربية بكتب
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর সুন্নাহ ও হেদায়েতের ওপর তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের প্রতি। অতঃপর:
সম্ভবত তবাকাত (স্তুরবিন্যাস) এবং জীবনী আলোচনা এমন একটি চিত্র ফুটিয়ে তোলে যা সাধারণ ইতিহাসের গ্রন্থসমূহ উপেক্ষা করে যায়; বরং সম্ভবত এই জীবনীগুলো সেই ঐতিহাসিক ঘটনাবলীতে প্রাণের সঞ্চার করে যা সেই ইতিহাস নির্মাতা, তাতে জীবন অতিবাহিতকারী এবং এর দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়; হোক তা সাংস্কৃতিক, সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক ইতিহাস। আর ইতিহাসের ঘটনাবলী তো প্রতিটি প্রজন্মের ব্যক্তিবর্গেরই কর্মতৎপরতার ফসল।
যদিও ইতিহাসের বইগুলো সামগ্রিকভাবে শাসকগোষ্ঠী, রাজনীতি, বিজয় ও যুদ্ধবিগ্রহ, রাষ্ট্রব্যবস্থার উত্থান-পতন এবং খিলাফতের উত্তরাধিকার নিয়ে আলোকপাত করে, তবে তবাকাত গ্রন্থসমূহ বিশেষভাবে ইলমী বা জ্ঞানতাত্ত্বিক ইতিহাসের প্রতি গুরুত্বারোপ করে। এটি এমন এক বিশেষ দিক ও বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত যা জ্ঞানপিপাসুদের প্রয়োজন হয় এবং গবেষকরা যার ওপর নির্ভর করেন। এর মাধ্যমে তারা একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের অবিচ্ছিন্ন গতিপথ সম্পর্কে জানতে পারেন, যা কখনো সাবলীলভাবে বয়ে চলে আবার কখনো আঁকাবাঁকা পথ নেয়, কোথাও তা প্রশস্ত হয় আবার কোথাও সংকীর্ণ হয়ে পড়ে; তবে এটি সেই একই প্রবাহ যার পানি কখনো স্বচ্ছ থাকে আবার কখনো ঘোলাটে হয়ে যায়।
তবে তবাকাত গ্রন্থগুলো নিজেই নানাবিধ বৈচিত্র্যে ভরপুর; এর মধ্যে কোনটি সময়ের ধারাবাহিকতায় ইতিহাস তুলে ধরে, কোনটি বিস্তারিত বর্ণনার রীতি অনুসরণ করে, আবার কোনটি সাহিত্যিক, ফকীহ কিংবা ব্যাকরণবিদদের মতো সুনির্দিষ্ট বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী বর্ণনা করে। আর এভাবেই আরবি গ্রন্থাগারগুলো সমৃদ্ধ হয়েছে এমন সব বইয়ে...
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٦)
الطبقات التي لا يزال بعضها مخطوطًا محفوظًا في الزوايا قابعًا ينتظر النور والربيع والحياة.
* * *
والعلماء أدركوا أهمية التراجم فضوا يؤلفون ويرتبون ويبوبون واجتهدوا ليرسموا لوحة صحيحة واضحة لأولئك الرجال بعلمهم وحياتهم وربما بمشاعرهم وعواطفهم أيضًا .. لوحة مكتملة معبرة نرى من خلالها مثلا كيف كان أصحاب أبي حنيفة أو الشافعي أو غيرهم، وفي أي زمن ازدهر هذا الذهب أو ذاك ومن كان يهتم بالتأليف أو من كان له رأي من الآراء أو فتوى من الفتاوى .. وربما سيخرج منها الجديد المدهش فيما سيأتي من الزمان.
* * *
وعلماء المذاهب الأربعة خدموا رجالهم فألف كلّ جيل حلقة واجتمع من الحلقات سلاسل متتابعة تترجم لطبقات كل مذهب وتعين على التأريخ له؛ فإذا استعرضنا ما ألف عنه الحنابلة وجدنا كتبا من لدن عصر إمام الذهب رضي الله عنه إلى اليوم
… فما التطورات التي طرأت على الحنابلة؟ وما الصفات العامة التي لونته؟ وكيف كانت تقلبات الأيام خلاله؟
نشأ مذهب الإمام العظيم أحمد بن حنبل في بغداد كما هو معروف ثم انتشر في العراق وبلاد الشام لكنه تقلص خلال القرن الثامن الهجري، ذكر ابن فرحون في الديباج المذهب: (وأما مذهب أحمد بن حنبل رحمه الله فظهر في
সেই তবাকাত যার কিছু অংশ এখনও পাণ্ডুলিপি আকারে নিভৃতে সংরক্ষিত হয়ে আলো, বসন্ত এবং জীবনের অপেক্ষায় দিন গুনছে।
* * *
আলেমগণ জীবনীগ্রন্থের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন, তাই তাঁরা সেগুলো রচনা, বিন্যাস ও অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাসে মনোনিবেশ করেন এবং সেই ব্যক্তিদের জ্ঞান, জীবন এবং এমনকি তাঁদের অনুভূতি ও আবেগেরও একটি সঠিক ও স্বচ্ছ চিত্র অঙ্কন করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন... এটি এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ও অর্থবহ চিত্র যার মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই, উদাহরণস্বরূপ, ইমাম আবু হানিফা বা শাফিয়ী কিংবা অন্যদের অনুসারীরা কেমন ছিলেন, কোন যুগে এই বা ওই মাজহাবের শ্রী বৃদ্ধি হয়েছিল, কে গ্রন্থ রচনায় ব্রতী ছিলেন অথবা কার স্বতন্ত্র কোনো মত বা ফতোয়া ছিল... এবং সম্ভবত ভবিষ্যতে এ থেকে নতুন ও বিস্ময়কর কিছু উন্মোচিত হবে।
* * *
চার মাজহাবের আলেমগণ তাঁদের মনীষীদের সেবা করেছেন, ফলে প্রতিটি প্রজন্ম একটি করে যোগসূত্র রচনা করেছে এবং এই যোগসূত্রগুলো একত্রিত হয়ে ধারাবাহিক শৃঙ্খল তৈরি করেছে যা প্রতিটি মাজহাবের তবাকাত (স্তরসমূহ) তুলে ধরে এবং এর ইতিহাস রচনায় সহায়তা করে। আমরা যদি হাম্বলি মাজহাব সম্পর্কে যা রচিত হয়েছে তা পর্যালোচনা করি, তবে আমরা এই মাজহাবের ইমামের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যুগ থেকে আজ অবধি বহু গ্রন্থ দেখতে পাই
… সুতরাং হাম্বলিদের ক্ষেত্রে কী কী বিবর্তন ঘটেছিল? কোন সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো একে বিশেষায়িত করেছিল? এবং সেই সময়ে কালের আবর্তনগুলো কেমন ছিল?
মহান ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মাজহাব বাগদাদে উৎপত্তি লাভ করেছিল যেমনটি সুপরিচিত, এরপর তা ইরাক ও শাম দেশে বিস্তৃতি লাভ করে, কিন্তু হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে তা সংকুচিত হয়ে আসে। ইবন ফারহুন 'আদ-দিবাজ' গ্রন্থে মাজহাব সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন: (আর আহমাদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহির মাজহাবের বিষয়টি হলো, এটি প্রকাশ পেয়েছিল
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٧)
بغداد ثم انتشر بكثير من بلاد الشام وضعف الآن في القرن الثامن)
(1). وإلى مثل هذا يشير ابن خلدون منوها باهتمام الحنابلة بالسنة وعنايتهم بالحديث وروايته فيقول: (وأما أحمد بن حنبل فمقلدوه قليل
… وأكثرهم بالشام والعراق في بغداد ونواحيها وهم أكثر الناس حفظًا للسنة ورواية الحديث)
(2) وإذا تساءلنا عن انتشار المذهب في أقطار أخرى غير العراق والشام لم نقع على نصوص تشير إلى ذلك إلا أن السيوطي في حسن المحاضرة
(3) يقول: (وهم بالديار المصرية قليل جدًا ولم أسمع بخبرهم فيها إلا في القرن السابع وما بعده؛ وذلك أنّ الإمام أحمد رضي الله عنه كان في القرن الثالث، ولم يبرز مذهبه خارج العراق إلا في القرن الرابع
… وأول إمام من الحنابلة علمت حلوله بمصر هو الحافظ عبد الغني المقدسي صاحب العمدة) وإذن فالمذهب انتقل إلى مصر من بيت القدس. وفي خطط المقريزي
(4): (أنّه لم يكن له [أي المذهب الحنبلي] وللمذهب الحنفي كبير ذكر بمصر في الدولة الأيوبية ولم يشتهر إلا في آخرها. ثم ازداد انتشاره بعدئذ في زمن القاضي عبد الله بن حمد الحجاوي الذي تولى قضاء قضاة الحنابلة بمصر سنة 738 هـ). أما المقدسي
(5) فيذكر أن المذهب كان موجودا في القرن الرابع بالبصرة وبإقليم فور والديلم والرحاب وبالسوس من إقليم خوزستان وأنّ الغلبة كانت له وللشيعة.
وفي كتابنا (النعت الأكمل) هذا نتعرف من خلال التراجم على كثير من
--------------------------------------------
বাগদাদ, অতঃপর শামের বহু দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে এবং বর্তমানে অষ্টম শতাব্দীতে তা দুর্বল হয়ে পড়েছে)
(১)। আর ইবনে খালদুন এ দিকেই ইঙ্গিত করেছেন এবং সুন্নাহর প্রতি হাম্বলিদের আগ্রহ এবং হাদীস ও তার বর্ণনার প্রতি তাদের বিশেষ যত্নের প্রশংসা করে বলেন: (আর আহমাদ ইবনে হাম্বালের ক্ষেত্রে, তাঁর অনুসারীরা সংখ্যায় অল্প
… তাদের অধিকাংশই শাম এবং ইরাকের বাগদাদ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে। তারা সুন্নাহ মুখস্থ রাখা এবং হাদীস বর্ণনায় মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী)
(২) আর আমরা যদি ইরাক ও শাম ব্যতীত অন্য দেশগুলোতে এই মাযহাবের বিস্তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি, তবে আমরা তেমন কোনো উদ্ধৃতি খুঁজে পাই না যা এ দিকে ইঙ্গিত দেয়, তবে সুয়ূতী 'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থে
(৩) বলেন: (মিশর ভূখণ্ডে তারা সংখ্যায় খুবই নগণ্য এবং সপ্তম শতাব্দী ও তার পরবর্তী সময়ের আগে সেখানে তাদের সংবাদ আমি শুনিনি; এর কারণ হলো ইমাম আহমাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তৃতীয় শতাব্দীতে ছিলেন এবং চতুর্থ শতাব্দীর আগে ইরাকের বাইরে তাঁর মাযহাব আত্মপ্রকাশ করেনি
… আর হাম্বলিদের মধ্য থেকে মিশরে প্রথম যে ইমামের আগমনের কথা আমি জেনেছি, তিনি হলেন 'আল-উমদাহ' গ্রন্থকার হাফিয আব্দুল গনি আল-মাকদিসী)। সুতরাং মাযহাবটি বাইতুল মাকদিস থেকে মিশরে স্থানান্তরিত হয়েছে। আর মাকরিযীর 'খিতাত' গ্রন্থে
(৪) বর্ণিত হয়েছে: (আইয়ূবী শাসনামলে মিশরে এই মাযহাব [অর্থাৎ হাম্বলি মাযহাব] এবং হানাফি মাযহাবের বিশেষ কোনো উল্লেখ ছিল না এবং এর শেষ সময়ের আগে তা প্রসিদ্ধি লাভ করেনি। অতঃপর ৭৩৮ হিজরিতে মিশরে হাম্বলিদের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনকারী কাযী আব্দুল্লাহ ইবনে হামদ আল-হাজ্জাভীর সময়ে এর বিস্তার আরও বৃদ্ধি পায়)। অন্যদিকে মাকদিসী
(৫) উল্লেখ করেন যে, চতুর্থ শতাব্দীতে বসরা, ফাউর প্রদেশ, দাইলাম, রিহাব এবং খুযিস্তান প্রদেশের সুস অঞ্চলে এই মাযহাব বিদ্যমান ছিল এবং প্রাধান্য ছিল এই মাযহাব ও শিয়াদের।
আর আমাদের এই (আন-নাতুল আকমাল) গ্রন্থে আমরা জীবনীগুলোর মাধ্যমে অনেকের সম্পর্কে জানতে পারব
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٨)
المواطن التي توضع فيها الحنابلة وترددوا إليها ونشروا علومهم فيها، فالقدس عرفتهم وكثيرون منهم ينتسبون إليها وهم المقادسة وكذلك كان لهم مستقر في نابلس وما حولها وفي بعض القرى الفلسطينية كقرية جماعيل ومردا وكفر قدوم وفيهم من ينتسب لهذه القرى
… من هؤلاء فئة هاجرت إلى دمشق هروبا من ظلم الفرنج سنة 551 هـ - ونشروا فيها مذهبهم ومدارسهم. نزلوا أولًا في مسجد أبي صالح قرب الباب الشرقي ثم لما ساءهم المكان نزحوا إلى جبل قاسيون وأسسوا فيه دير الحنابلة وانتشر العمران بسببهم وعمت المدارس فسميت المنطقة بالصالحية نسبة لصلاحهم أو نسبة إلى مسجد أبي صالح الذي نزلوا فيه أولًا
(6).
وكان للصالحية دور عظيم في الازدهار -الثقافي والعمراني، ولم تؤثر هجرة- على كثرة الهجرات إلى دمشق- كما أثر هؤلاء الفلسطينيون في نهضة علمية وعمرانية تحدث عنها ابن طولون في كتابه (القلائد الجوهرية في تاريخ الصالحية) فذكر مدارسهم بالجبل كالمدرسة الصاحبة والمدرسة الضيائية والمدرسة الشيخية العمرية التي أنشأها كبير القادسة الشيخ أبو عمر وسميت باسمه وما كان عليها من أوقاف وجرايات يجعلها من كبريات مدارس دمشق والجبل، الأمر الذي يدل على أهمية هؤلاء الوافدين العلماء الذين أعطوا. وأي عطاء خير من العلم! أنتجوا حضارة وألفوا كتبا قيمة في المذهب والحديث، أصبحت تدرس إلى اليوم ويعتمد عليها في الترجيح ..
ثم قاموا يؤدون رسالة مذهبهم في دمشق نفسها فكان لهم محراب في جامع بني أمية وإمامة فيه سيرد ذكرها في هذا الكتاب كثيرًا وهي الصلاة الرابعة، ولم تكفهم دمشق بل وصلوا إلى بلدان شتى منها دوما والرحيبة وضمير من قرى
--------------------------------------------
যেসব স্থানে হাম্বলিগণ বসবাস করতেন, যাতায়াত করতেন এবং তাদের জ্ঞান প্রচার করতেন, তার মধ্যে জেরুসালেম তাদের সাথে পরিচিত ছিল এবং তাদের মধ্যে অনেকে এই শহরের দিকেই নিজেদের নিসবত বা সম্বন্ধ করেন, আর তারা হলেন 'মাকাদিসা'। একইভাবে নাবলুস ও তার আশপাশে এবং ফিলিস্তিনের কিছু গ্রাম যেমন জামায়িল, মারদা এবং কাফর কাদ্দুম-এ তাদের বসতি ছিল; তাদের মধ্যে অনেকে এই গ্রামগুলোর দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করেন
… তাদের মধ্য থেকে একটি দল ৫৫১ হিজরি সালে ক্রুসেডারদের জুলুম থেকে বাঁচতে দামেস্কে হিজরত করেন এবং সেখানে তারা তাদের মাযহাব ও মাদ্রাসাগুলো প্রসারিত করেন। তারা প্রথমে 'বাব আল-শারকি'র নিকটবর্তী আবু সালেহ মসজিদে অবস্থান গ্রহণ করেন, এরপর যখন সেই স্থানটি তাদের জন্য অনুপযোগী মনে হলো, তখন তারা কাসিউন পর্বতে চলে যান এবং সেখানে 'দাইরুল হামাবিলা' প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের কারণেই সেখানে জনবসতি ও নগরায়ন ছড়িয়ে পড়ে এবং মাদ্রাসাসমূহ বিস্তৃত হয়। ফলে অঞ্চলটিকে তাদের সততার (সালাহ) কারণে অথবা তারা যেখানে প্রথম অবস্থান নিয়েছিলেন সেই আবু সালেহ মসজিদের সাথে সম্বন্ধ করে 'আস-সালিহিয়্যাহ' নামকরণ করা হয়
(৬)。
সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্য বিষয়ক সমৃদ্ধিতে আস-সালিহিয়্যাহর এক বিশাল ভূমিকা ছিল। দামেস্কে হিজরতের অনেক ঘটনা থাকলেও, এই ফিলিস্তিনিদের মতো কোনো হিজরত জ্ঞানতাত্ত্বিক ও স্থাপত্যিক রেনেসাঁয় এতোটা প্রভাব ফেলেনি, যা ইবনে তুলুন তার 'আল-কালাইদ আল-জাওহারিয়্যাহ ফি তারিখিস সালিহিয়্যাহ' গ্রন্থে আলোচনা করেছেন। তিনি এই পর্বতে অবস্থিত তাদের মাদ্রাসাগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন, যেমন আল-মাদরাসাতুস সাবিহা, আল-মাদরাসাতুদ দিয়ায়িয়্যাহ এবং আল-মাদরাসাতুশ শাইখিয়্যাহ আল-উমারিয়্যাহ, যা মাকাদিসাদের প্রধান শাইখ আবু উমর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তার নামেই নামকরণ করা হয়েছিল। এই মাদ্রাসাগুলোর যে ওয়াকফ ও অনুদান ছিল, তা এগুলোকে দামেস্ক ও পর্বতের বৃহত্তম মাদ্রাসাগুলোর অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছিল। এই বিষয়টি সেই আগত আলেমদের গুরুত্ব প্রমাণ করে যারা অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। আর ইলম বা জ্ঞানের চেয়ে উত্তম দান আর কী হতে পারে! তারা একটি সভ্যতা গড়ে তুলেছিলেন এবং মাযহাব ও হাদিসের ওপর মূল্যবান কিতাবাদি রচনা করেছিলেন, যা আজ অবধি পাঠদান করা হয় এবং (মাসআলার) অগ্রাধিকার নির্ধারণে সেগুলোর ওপর নির্ভর করা হয়...
এরপর তারা খোদ দামেস্কে তাদের মাযহাবের পয়গাম পৌঁছে দিতে সচেষ্ট হন। উমাইয়া মসজিদে তাদের নিজস্ব মেহরাব ও ইমামতি ছিল, যার কথা এই কিতাবে অনেকবার আসবে, আর তা হলো চতুর্থ সালাত। দামেস্কই তাদের জন্য যথেষ্ট ছিল না, বরং তারা বিভিন্ন জনপদে পৌঁছে গিয়েছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে দুমা, আল-রুহাইবা এবং দুমাইর নামক গ্রামসমূহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٩)
دمشق، ويمموا شطر بعلبك يفتحونها بعلمهم وأخلاقهم حتى عرف مسجدها بمسجد الحنابلة
(7).
وكما تتلألأ النجوم تسطع الأقمار تنير سماء الليل الداجي انتشر المذهب في البلاد النجدية منذ أكثر من مائة وخسين عاما ونما على يد الشيخ المجدد محمد ابن عبد الوهاب وذريته من آل الشيخ وتلامذته، واتخذ المذهب في نجد طابع الجهاد والثورة على الخرافات والجهل والضلالات حتى أزعجوا استانبول فاستنفرت عليهم محمد علي باشا وكانت وقائع حفظها االتاريخ بين الطرفين سنأتي على ذكرها في ملحق هذا الكتاب، ولا ينكر ما لهذه الحركة النجدية من أثر عظيم على العالم الإسلامي فعدّها بعضهم من عوامل النهضة الحديثة ودواعي اليقظة والتحرر والدعوة إلى الدين بلا مواربة ولا مداراة إحقاقا للحق وإبطالا للباطل.
* * *
ذكرنا أن علماء فطاحل اشتهروا بين الحنابلة في الحديث والرواية، ويؤكد هذا انتشار مدارس للحديث خاصة في دمشق والصالحية، وأدخلوا على هذا العلم اتجاهات جديدة كان لها أثر كبير في تنسيق علوم الحديث وتصنيف أبحاثه المتعددة ومن مشاهيرهم الحافظ ضياء الدين المقدسي الذي أنشأ دارًا للحديث في الصالحية وجعل لها مكتبة من أعظم مكتبات عصره، ومن مؤلفاته (المختارة) التي فضلها العلماء على مستدرك الحاكم
(8)، رووا الحديث علماء وعالمات فأتقنوا وضبطوا وكان لهم قدرهم ومكانتهم وإخلاصهم.
* * *
--------------------------------------------
দামেস্ক, এবং তাঁরা বালব্যাকের অভিমুখে যাত্রা করেন এবং নিজেদের জ্ঞান ও উন্নত চরিত্রের মাধ্যমে তা জয় করেন, এমনকি সেখানকার মসজিদটি 'হানবালী মসজিদ' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে
(৭)।
আর নক্ষত্রপুঞ্জ যেমন ঝলমল করে এবং পূর্ণিমা যেমন ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতের আকাশকে আলোকিত করে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, তেমনি একশ পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় আগে নজদ ভূখণ্ডে এই মাযহাব ছড়িয়ে পড়ে। শায়খ মুজাদ্দিদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব, তাঁর বংশধর 'আলে শায়খ' এবং তাঁর ছাত্রদের হাতে এটি বিকাশ লাভ করে। নজদে এই মাযহাব কুসংস্কার, অজ্ঞতা এবং গোমরাহীর বিরুদ্ধে জিহাদ ও বিপ্লবের রূপ পরিগ্রহ করে, যা এমনকি ইস্তাম্বুলকে বিচলিত করে তোলে। ফলে তারা তাদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদ আলী পাশাকে প্ররোচিত করে। উভয় পক্ষের মধ্যে এমন কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল যা ইতিহাস সংরক্ষণ করেছে, যেগুলোর বিবরণ আমরা এই বইয়ের পরিশিষ্টে তুলে ধরব। মুসলিম বিশ্বের ওপর এই নজদি আন্দোলনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব অনস্বীকার্য। কেউ কেউ একে আধুনিক রেনেসাঁর অন্যতম উপাদান এবং সত্য প্রতিষ্ঠা ও মিথ্যা বিলুপ্ত করার লক্ষ্যে কোনো প্রকার দ্বিধা বা তোষামোদ ছাড়াই জাগরণ, মুক্তি ও দ্বীনের পথে আহ্বানের কারণ হিসেবে গণ্য করেছেন।
* * *
আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, হাদীস এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে হানবালীগণের মধ্যে জগৎবিখ্যাত আলেমগণ প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। বিশেষ করে দামেস্ক এবং সালিহিয়াতে হাদীস মাদরাসাগুলোর বিস্তার এরই প্রমাণ বহন করে। তাঁরা এই ইলমের ক্ষেত্রে নতুন নতুন ধারার প্রবর্তন করেছিলেন, যা হাদীস শাস্ত্রের বিন্যাস এবং এর বহুবিধ গবেষণার শ্রেণিবিন্যাসে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। তাঁদের মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত হলেন হাফেজ জিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসি, যিনি সালিহিয়াতে একটি 'দারুল হাদীস' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেখানে তৎকালীন সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি লাইব্রেরি গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো 'আল-মুখতারা', যাকে ওলামায়ে কেরাম হাকামের মুস্তাদরাকের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন
(৮)। নারী ও পুরুষ উভয় আলেমই হাদীস বর্ণনা করেছেন; তাঁরা অত্যন্ত নিপুণতা ও সূক্ষ্মতার সাথে তা সংরক্ষণ করেছিলেন এবং তাঁদের বিশেষ মর্যাদা, অবস্থান ও ইখলাস ছিল।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ١٠)
واعتقد الحنابلة مذهب الأشاعرة في التوحيد؛ نقل العلامة أحمد تيمور عن طبقات التاج السبكي أن أكثر فضلاء متقدميهم أشاعرة ولم يخرج عن عقيدة الأشعري إلا من لحق بأهل التجسيم
(9).
ولم يكن اهتمامم بالعلم مقصورا على الرجال بل الحق أنهم اهتموا أيضًا بالنساء وأحضروهن مجالس الحديث وحلقات العلم فكان لهم شأن أي شأن وبلغن درجة المشيخة والتخصص بعلم الحديث والرواية والتصدر للإقراء ونشر العلم
(10) وخير مثال على ذلك نجده عند يوسف بن عبد الهادي الحنبلي في كتبه المحفوظة بدار الكتب الظاهرية والتي ينص في أولها على إجازاته وعلى تلقي أولاده وبناته ونسائه كتبه ورواياته
… وهذا يدل على عقل متفتح خصب وأفكار نيرة من جهة وعلى وجود مناخ علمي ينبت ويثمر من جهة أخرى، مع أن الجو الأدبي آنذاك كما يرى المؤرخون متسم بالجمود والتصنع والتقليد.
ولما كان العلم والمدارس يستلزمان الكتب فقد كانت مدارس الحنابلة عامرة بالمستنسخات التي تضم دار الكتب الظاهرية بدمشق بعضا من نفائسها فضلًا عما حمل إلى أوروبة وغيرها وكأن الخير يأبى إلّا أن يكون منتثرًا كضوء الشمس الخيّر.
وهذا العلم وذاك الانطلاق اللذان كانا في الصالحية يستدعيان تفتحا للحياة واهتماما بالشؤون العامة واتصالًا مع الناس والأعيان بحسن الصلة،
--------------------------------------------
হাম্বলিগণ তাওহিদের ক্ষেত্রে আশআরিদের মাযহাব পোষণ করতেন; আল্লামা আহমদ তাইমুর 'তাবাকাতুত তাজ আস-সুবকি' থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তাদের পূর্বসূরিদের অধিকাংশ শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতই ছিলেন আশআরি এবং কেবল তারাই আশআরি আকিদা থেকে বিচ্যুত হয়েছিলেন যারা মুজাসসিমা (আল্লাহর দেহ সাব্যস্তকারী)-দের সাথে যুক্ত হয়েছিল
(৯).
ইলমের প্রতি তাদের এই আগ্রহ কেবল পুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সত্য এই যে, তারা নারীদের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করতেন এবং তাদেরকে হাদিসের মজলিস ও ইলমি হালকায় উপস্থিত করতেন। ফলে নারীরা এক বিশেষ উচ্চমর্যাদায় আসীন হয়েছিলেন এবং মাশাইখ পর্যায়ের পণ্ডিত হওয়ার পাশাপাশি হাদিস শাস্ত্র ও বর্ণনায় বিশেষজ্ঞ হওয়া এবং কুরআন শিক্ষা ও জ্ঞান প্রসারে নেতৃত্ব প্রদানের পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন
(১০)। এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ আমরা ইউসুফ বিন আব্দুল হাদি আল-হাম্বলির নিকট পাই তার পাণ্ডুলিপিগুলোতে, যা 'দারুল কুতুব আজ-জাহিরিয়া'য় সংরক্ষিত আছে। এগুলোর শুরুতে তিনি তার ইজাজত এবং তার পুত্র-কন্যা ও স্ত্রীদের নিকট থেকে তার গ্রন্থ ও বর্ণনা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন
… এটি একদিকে যেমন এক উন্মুক্ত উর্বর মস্তিষ্ক ও আলোকিত চিন্তাধারার পরিচয় দেয়, অন্যদিকে একটি এমন ইলমি পরিবেশের উপস্থিতির প্রমাণ দেয় যা বিকশিত ও ফলপ্রসূ হয়েছিল; যদিও ঐতিহাসিকদের মতে তৎকালীন সাহিত্যিক পরিবেশ ছিল স্থবিরতা, কৃত্রিমতা ও অন্ধ অনুকরণের দ্বারা চিহ্নিত।
যেহেতু ইলম ও মাদরাসাগুলোর জন্য গ্রন্থাবলি অপরিহার্য ছিল, তাই হাম্বলি মাদরাসাগুলো পাণ্ডুলিপির অনুলিপি দ্বারা সমৃদ্ধ ছিল। দামেস্কের 'দারুল কুতুব আজ-জাহিরিয়া'য় এর কিছু দুর্লভ সংগ্রহ সংরক্ষিত আছে, এছাড়া বহু পাণ্ডুলিপি ইউরোপ ও অন্যান্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মনে হয় যেন কল্যাণ সূর্যরশ্মির ন্যায় বিচ্ছুরিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই মানে না।
সালেহিয়া অঞ্চলে বিদ্যমান এই ইলম ও অগ্রযাত্রা জীবনের প্রতি এক উদার দৃষ্টিভঙ্গি, জনহিতকর কার্যাবলির প্রতি গুরুত্ব প্রদান এবং সাধারণ মানুষ ও বিশিষ্টজনদের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের দাবি রাখে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ١١)
ولهذا فقد تولى الكثيرون من علماء الصالحية الوظائف الكبيرة والمهمة في الدولة كالقضاء وقضاء القضاة في مصر والشام، وتداخلوا في الحكم والسياسة وسافروا لمقابلة السلاطين.
* * *
وينسب الناس الحنابلة إلى الشدة ويصفون من يتشدد في معاملته بأنه حنبلي، وربما يكون ذلك بسبب أنهم يأخذون أنفسهم بالمعروف والنهي عن المنكر وإلى مثل هذا أشار ابن الأثير في حوادث سنة 323 هـ -: (وفيها عظم أمر الحنابلة وقويت شوكتهم وصاروا يكبسون دور القواد والعامة، وإن وجدوا نبيذًا أراقوه وإن وجدوا مغنية ضربوها وكسروا آلة الغناء واعترضوا في البيع والشراء، ومشى الرجال مع النساء والصبيان فإذا رأوا شيئًا من ذلك سألوا الذي معه ما هو السبب فأخبرهم وإلا ضربوه وحملوه إلى صاحب الشرطة وشهدوا عليه بالفاحشة)
(11).
ويصفهم بقوله: (هم قوم خشن تقلصت أخلاقهم عن المخالطة وغلظت طباعهم عن المداخلة وغلب عليهم الجد وقلّ عندهم الهزل عزت نفوسهم عن ذل المراياة وفزعوا عن الآراء إلى الروايات وتمسكوا بالظاهر تحرجا عن التأويل وغلبت عليهم الأعمال الصالحة فلم يدققوا في العلوم الغامضة بل دققوا في الورع وأخذوا ما ظهر من العلوم وما وراء ذلك قالوا الله أعلم ولم أحفظ على أحد منهم تشبيها إنما غلب عليهم الشناعة لإيمانهم بظواهر الآي والأخبار من غير تأويل ولا إنكار والله يعلم أني لا أعتقد في الإسلام بطائفة محقة خالية من البدع سوى من سلك هذا الطريق والسلام)
--------------------------------------------
এজন্য সালেহিয়া অঞ্চলের অনেক আলেম রাষ্ট্রে বিচারক ও মিশর এবং শাম দেশে প্রধান বিচারপতির (কাযীউল কুযাত) মতো বড় ও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। তারা শাসন ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সুলতানদের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করেছিলেন।
* * *
মানুষ হাম্বলিদের কঠোরতার সাথে সম্পৃক্ত করে থাকে এবং যে ব্যক্তি তার আচরণে কঠোরতা অবলম্বন করে তাকে হাম্বলি বলে অভিহিত করে। সম্ভবত এর কারণ হলো তারা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে নিজেদের কঠোরভাবে নিয়োজিত রাখে। ইবনুল আসীর ৩২৩ হিজরির ঘটনাবলীতে এ সম্পর্কেই ইঙ্গিত করে বলেছেন: (এ বছর হাম্বলিদের প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং তাদের শক্তি সুসংহত হয়। তারা সেনাপতি ও সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে তল্লাশি চালাতে শুরু করে। তারা যদি কোনো নবীজ (মদ) খুঁজে পেত তবে তা ঢেলে দিত, কোনো গায়িকাকে দেখলে তাকে মারধর করত এবং বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলত। তারা ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও হস্তক্ষেপ করত। নারী ও বালকদের সাথে কোনো পুরুষকে হাঁটতে দেখলে তারা তার কাছে কারণ জিজ্ঞাসা করত। সে সন্তোষজনক জবাব দিলে ভালো, অন্যথায় তারা তাকে মারধর করত এবং পুলিশের প্রধানের কাছে নিয়ে যেত এবং তার বিরুদ্ধে অশ্লীলতার সাক্ষ্য দিত)
(১১)।
তিনি তাদের বর্ণনা করে বলেন: (তারা কঠোর মেজাজের এক জাতি যাদের স্বভাব মেলামেশা থেকে সংকুচিত এবং প্রকৃতি অন্যদের সাথে অন্তরঙ্গ হওয়া থেকে বিমুখ। তাদের মধ্যে গাম্ভীর্য প্রবল এবং হাস্যরসের আধিক্য কম। লোকদেখানোর লাঞ্ছনা থেকে তাদের মন অনেক ঊর্ধ্বে। তারা ব্যক্তিগত মতের পরিবর্তে বর্ণনার (হাদিস ও আছার) দিকে ধাবিত হয় এবং ব্যাখ্যা করার (তাউয়িল) জটিলতা থেকে বাঁচতে শব্দের বাহ্যিক অর্থকে আঁকড়ে ধরে থাকে। তাদের মধ্যে নেক আমলের আধিক্য বেশি। তারা রহস্যময় ও জটিল ইলম নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ না করে বরং তাকওয়া ও আল্লাহভীতির বিষয়ে সূক্ষ্ম বিচার করে। তারা ইলমের প্রকাশ্য অংশ গ্রহণ করে এবং এর বাইরে যা আছে সে সম্পর্কে তারা বলে: আল্লাহই ভালো জানেন। আমি তাদের কারোর মধ্যে আল্লাহর সাথে সৃষ্টির সাদৃশ্য স্থাপনের (তাশবিহ) কোনো বিষয় পাইনি। বরং তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ ও কুৎসা রটানো হয়েছে মূলত আয়াত ও হাদিসসমূহের বাহ্যিক শব্দের ওপর কোনো প্রকার ব্যাখ্যা কিংবা অস্বীকার ছাড়াই ঈমান রাখার কারণে। আল্লাহই ভালো জানেন যে, ইসলামে এই পথ অবলম্বনকারী দল ব্যতীত বিদআত মুক্ত সঠিক কোনো দলের অস্তিত্ব আমি বিশ্বাস করি না। আসসালাম।)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ألف الحنابلة كتبا كثيرة في الطبقات والتراجم، منها ما هو شامل لعلماء المذهب عامة ككتب الطبقات التي سننوه بذكرها عما قليل، ومنها ما أفرد لعلماء معينين منهم كتلك التي صنفت في ترجمة الإمام أحمد وأصحابه مثلًا.
وبما أن كتابنا هذا هو متابعة لأعمال من سبقونا واقتداء بهداهم فقد رأينا أن نورد ما انتهى إلينا معرفته من المصنفات التي ترجمت للحنابلة على اعتبارها تاريخًا لحياتهم كما قلنا وصورة مشرقة لآرائهم الفقهية والعقيدية ونشاطهم الأدبي وبيانًا واضحًا لجهادهم ومحنتهم وصورة للمجتمع الذي عاشوا فيه
…لقد أصاب هذه المصنفات ما أصاب أصحاب المذهب من محن وظلم إذ لا يزال الكثير منها بين مخطوط أو مفقود وما نورده الآن هو أهم ما استطعنا التعرف عليه:
1 - طبقات الخلّال: وهو أحد أصحاب الإمام أحمد بن حنبل توفي سنة 311 هـ -.
2 - طبقات الفراء: وهو القاضي أبو الحسين محمد بن القاضي أَبي يعلى الفراء المتوفى سنة 526 هـ - جمع تراجم الحنابلة فيه حتى عصره وهي ست طبقات الأولى والثانية على حروف المعجم وما بعدهما على تقديم العمر والوفاة انتهى فيه إلى سنة 512 هـ-. طبع الكتاب محمد حامد الفقي سنة 1371 هـ-/ 1952 م في جزأين بمطبعة السنة المحمدية بالقاهرة. واختصره محمد بن عبد القادر بن عثمان المتوفى سنة 797 هـ-، فحذف منه الإسناد والمكرر وطبع الكتاب نفسه الأستاذ أحمد عبيد بدمشق سنة 1350 هـ-.
3 - طبقات ابن رجب: وهو زين الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن أحمد
হাম্বলিগণ জীবনী ও স্তরবিন্যাস (তবকাত) বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে কিছু গ্রন্থ মাযহাবের সাধারণ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত করে রচিত, যেমন সেই তবকাত গ্রন্থসমূহ যা নিয়ে আমরা শীঘ্রই আলোচনা করব। আবার কিছু গ্রন্থ নির্দিষ্ট আলেমদের জন্য নিবেদিত, যেমন উদাহরণস্বরূপ ইমাম আহমাদ ও তাঁর সাথীদের জীবনীতে রচিত গ্রন্থসমূহ।
যেহেতু আমাদের এই গ্রন্থটি পূর্বসূরিদের কাজের অনুসারী এবং তাঁদের নির্দেশনার অনুকরণে রচিত, তাই আমরা হাম্বলিদের জীবনী সম্বলিত সেই গ্রন্থগুলোর পরিচিতি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যেগুলোর জ্ঞান আমাদের কাছে পৌঁছেছে। কারণ হিসেবে আমরা ইতিপূর্বে বলেছি যে, এগুলো তাঁদের জীবনীর ইতিহাস, তাঁদের ফিকহি ও আকিদাগত মতামতের উজ্জ্বল প্রতিফলন, তাঁদের সাহিত্যিক তৎপরতা, তাঁদের জিহাদ ও পরীক্ষার সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং তাঁরা যে সমাজে বসবাস করতেন তার একটি চিত্র
…এই গ্রন্থগুলোও সেই সব পরীক্ষা ও জুলুমের শিকার হয়েছে যা এই মাযহাবের অনুসারীদের ওপর আপতিত হয়েছিল। কেননা এগুলোর অনেকগুলোই এখনও পাণ্ডুলিপি আকারে রয়ে গেছে অথবা হারিয়ে গেছে। আমরা এখন যা উল্লেখ করছি তা হলো সেই সব গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ যে সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি:
১ - তবকাতুল খাল্লাল: তিনি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের অন্যতম সাথী ছিলেন, ৩১১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
২ - তবকাতুল ফাররা: তিনি হলেন কাযী আবুল হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনে কাযী আবু ইয়ালা আল-ফাররা, ইন্তেকাল ৫২৬ হিজরি। এতে তিনি তাঁর যুগ পর্যন্ত হাম্বলি আলেমদের জীবনী সংগ্রহ করেছেন এবং এটি ছয়টি স্তরে (তবকাত) বিন্যস্ত। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরটি বর্ণানুক্রমিক এবং পরবর্তীগুলো বয়স ও ইন্তেকালের অগ্রবর্তিতা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। এটি ৫১২ হিজরি সন পর্যন্ত জীবনীতে গিয়ে শেষ হয়েছে। গ্রন্থটি ১৩৭১ হিজরি/ ১৯৫২ সালে মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফিকি কায়রোর মাতবাআতুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়া থেকে দুই খণ্ডে মুদ্রণ করেন। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে উসমান (ইন্তেকাল ৭৯৭ হিজরি) এটি সংক্ষেপ করেন, তিনি এতে সনদ ও পুনরাবৃত্তি বাদ দেন এবং এই গ্রন্থটিই ১৩৫০ হিজরি সনে উস্তাদ আহমদ উবাইদ দামেস্ক থেকে মুদ্রণ করেন।
৩ - তবকাতু ইবনে রাজাব: তিনি হলেন যাইনুদ্দিন আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান ইবনে আহমাদ।
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ابن رجب المتوفى سنة 795 هـ-. رتبه على الوفيات وتوقف عند وفيات سنة 751 هـ - أكمل فيه طبقات الفراء وذيّل عليها، وهي تبدأ بأصحاب القاضي أبي يعلى فبدأ بوفيات سنة 460 هـ-. طبع الجزء الأول منه بتحقيق الدكتور سامي الدهان وهنري لاووست بدمشق سنة 1951 هـ- ثم طبع كاملًا بإشراف حمد حامد الفقي سنة 1952 - 1953.
4 - طبقات الحنابلة: لمحمد بن عبد القوي بن بدران المقدسي المرداوي الدمشقي المتوفى سنة 699 هـ-.
5 - طبقات أصحاب الإمام أحمد: لإبراهيم بن محمد بن مفلح المقدسي الدمشقي الصالحي قاضي قضاة الحنابلة بدمشق والمتوفى سنة 803 هـ-. قال ابن طولون في كتابه قضاة دمشق صـ 288: احترق غالب [طبقاته].
6 - المقصد الأرشد في ترجمة أصحاب الإمام أحمد لإبراهيم بن حمد بن عبد الله بن مفلح قاضي الحنابلة بدمشق والمتوفى سنة 884 هـ-. وهو مرتب على حروف المعجم، منه نسخة مخطوطة بدار الكتب المصرية تحت رقم 3981 وتاريخ كتابته سنة 1192 هـ-. ومخطوطة ثانية في الحرم المكي برقم 114 تراجم دهلوي، ومخطوطة ثالثة برقم 9 دهلوي.
7 - العطاء المعجل في طبقات أصحاب الإمام المبجل ليوسف بن حسن بن عبد الهادي الشهير بابن المبرد الصالحي المتوفى سنة 909 هـ-. وهو ذيل على ذيل طبقات الحنابلة لابن رجب. وفي الظاهرية مسودة المؤلف برقم 4550.
8 - المنهج الأحمد في تراجم أصحاب الإمام أحمد لعبد الرحمن بن محمد العمري العليمي المتوفى سنة 927 هـ- طبع في القاهرة.
ইবনে রজব (মৃত্যু ৭৯৫ হিজরি)। তিনি এটি মৃত্যুসাল অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন এবং ৭৫১ হিজরির মৃত্যুতে গিয়ে থেমেছেন। এতে তিনি আল-ফাররার 'তবকাত' গ্রন্থটি সম্পন্ন করেছেন এবং তার ওপর পরিশিষ্ট যুক্ত করেছেন। এটি কাজী আবু ইয়ালা-র অনুসারীদের জীবনী দিয়ে শুরু হয়েছে, তাই তিনি ৪৬০ হিজরির মৃত্যু থেকে আরম্ভ করেছেন। এর প্রথম খণ্ড ড. সামি আদ-দাহহান এবং হেনরি লাউস্টের সম্পাদনায় ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে দামেস্কে মুদ্রিত হয়। এরপর ১৯৫২-১৯৫৩ সালে হামাদ হামিদ আল-ফিকির তত্ত্বাবধানে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে মুদ্রিত হয়।
৪ - তবকাতুল হানাবিলা: মুহাম্মদ বিন আব্দুল কাবি বিন বদরান আল-মাকদিসি আল-মারদাউয়ি আদ-দামেশকি রচিত, মৃত্যু ৬৯৯ হিজরি।
৫ - তবকাতু আসহাবিিল ইমাম আহমাদ: ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন মুফলিহ আল-মাকদিসি আদ-দামেশকি আস-সালিহি রচিত, যিনি দামেস্কের হাম্বলি প্রধান বিচারপতি ছিলেন এবং মৃত্যু ৮০৩ হিজরি। ইবনে তুলুন তাঁর 'কুদাতু দামেশক' (দামেস্কের বিচারকগণ) বইয়ের ২৮৮ পৃষ্ঠায় বলেছেন: তাঁর [তবকাত]-এর অধিকাংশ অংশ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে।
৬ - আল-মাকসাদুল আরশাদ ফি তারজামাতু আসহাবিল ইমাম আহমাদ: ইবরাহিম বিন হামাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুফলিহ রচিত, যিনি দামেস্কের হাম্বলি বিচারপতি ছিলেন এবং মৃত্যু ৮৮৪ হিজরি। এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো। এর একটি পাণ্ডুলিপি মিসরের 'দারুল কুতুব'-এ ৩৯৮১ নম্বরে সংরক্ষিত আছে এবং এর অনুলিপি সম্পন্ন হওয়ার তারিখ ১১৯২ হিজরি। দ্বিতীয় একটি পাণ্ডুলিপি মক্কার হারামে ১১৪ নম্বর 'তরাজিম দেহলভি' হিসেবে এবং তৃতীয় একটি পাণ্ডুলিপি ৯ নম্বর 'দেহলভি' হিসেবে সংরক্ষিত আছে।
৭ - আল-আতাউল মুয়াজ্জাল ফি তবকাতু আসহাবিল ইমামিল মুবাজ্জাল: ইউসুফ বিন হাসান বিন আব্দুল হাদি রচিত, যিনি ইবনে মুবাররাদ আস-সালিহি নামে পরিচিত, মৃত্যু ৯০৯ হিজরি। এটি ইবনে রজবের 'তবকাতুল হানাবিলা'-র পরিশিষ্টের ওপর একটি পরিশিষ্ট। 'জাহিরিয়া' লাইব্রেরিতে লেখকের মূল খসড়াটি ৪৫৫০ নম্বরে সংরক্ষিত আছে।
৮ - আল-মানহাজুল আহমাদ ফি তরাজিম আসহাবিল ইমাম আহমাদ: আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-উমারি আল-উলাইমি রচিত, মৃত্যু ৯২৭ হিজরি। এটি কায়রোতে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ١٤)
9 - الدر النضيد في ذكر أصحاب أحمد: لعبد الرحمن بن محمد العمري العليمي المتوفى سنة 927 هـ- (لعله المنضد).
وهو مختصر ابتدأ به المؤلف. بذكر الإمام أحمد ثم من اشتهر من أعيان أصحابه وهم الطبقة الأولى ثم أسماء فقهاء الحنابلة بعد الطبقة الأولى مرتبة على الطبقات والوفيات. اقتصر فيه على ذكر الاسم والولد والوفاة وذكر ما عرف من مصنفاته.
10 - من ولي قضاء الحنابلة استقلالا بدمشق في ولاية ملوك مصر لمحمد ابن إبراهيم أكمل الدين بن مفلح المتوفى سنة 1011.
11 - الدر المنضد في ذكر أصحاب الإمام أحمد لمحمد بن عيسى بن محمود بن كنان الصالحي الدمشقي المتوفى سنة 1153. منه نسخة في المكتبة الأحمدية بحلب برقم 246 ومنها مصورة بمعهد المخطوطات برقم 652 تاريخ.
ونحن إذ نتقدم بهذا الكتاب فإننا نتمم في إصداره سلسلة طبقات الحنابلة بعد أن توقفت عند نهاية القرن التاسع الهجري في كتاب (المقصد الأحمد) للإمام الشيخ عبد الرحمن العليمي. ولهذا شرع الشيخ محمد كمال الدين الغزي بتراجم من كانت وفياتهم بين سنة 901 وسنة 1207 هجرية فسدّ فراغا عظيما يحتاج إليه؛ وإلى ذلك أشار مفتي الحنابلة بدمشق المرحوم الشيخ محمد جميل الشطي الذي اعتبر هذا الكتاب -وقد رآه مخطوطا- ذيلا لطبقات العليمي، وتمنى طبع الكتابين فقال: "وحبذا لو صحت الأحلام بطبع طبقات العليمي فذيله المنوّه به غير أنه بالنظر لعظم هذا المشروع الذي يُحتاج فيه إلى التعاون
(12) … وقلة الحنابلة في دمشق
… أرى من الواجب على من عرف
--------------------------------------------
৯ - আদ-দুররুন নাদীদ ফী যিকরি আসহাবি আহমাদ: আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-উমারি আল-উলাইমি (মৃত্যু ৯২৭ হিজরি) কর্তৃক রচিত—(সম্ভবত এটিই আল-মানদাদ)।
এটি একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ যা লেখক ইমাম আহমাদের আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছেন। এরপর তাঁর বিশিষ্ট সঙ্গীদের আলোচনা করেছেন যারা প্রথম স্তরের অন্তর্ভুক্ত। এরপর প্রথম স্তরের পরবর্তী হাম্বলি ফকিহগণের নাম স্তর ও মৃত্যু সাল অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। এতে তিনি কেবল নাম, বংশ পরিচয় ও মৃত্যু তারিখ উল্লেখ করেছেন এবং লেখকের জানা গ্রন্থসমূহের বিবরণ দিয়েছেন।
১০ - মিসরের রাজাদের শাসনামলে দামেস্কে স্বতন্ত্রভাবে হাম্বলি বিচারপতির দায়িত্ব পালনকারীগণ: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আকমালুদ্দীন বিন মুফলিহ (মৃত্যু ১০১১ হিজরি) কর্তৃক রচিত।
১১ - আদ-দুররুল মানদাদ ফী যিকরি আসহাবি আল-ইমাম আহমাদ: মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন মাহমুদ বিন কিনান আস-সালিহি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ১১৫৩ হিজরি) কর্তৃক রচিত। এর একটি কপি আলেপ্পোর আহমাদিয়া লাইব্রেরিতে ২৪৬ নম্বরে এবং একটি অনুলিপি পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে ৬৫২ (ইতিহাস) নম্বরে সংরক্ষিত আছে।
আমরা যখন এই বইটি পেশ করছি, তখন আমরা এর মাধ্যমে হাম্বলি জীবনীগ্রন্থের (তাবাকাত) সেই ধারাটি পূর্ণ করছি যা ইমাম শেখ আব্দুর রহমান আল-উলাইমির 'আল-মাকসাদুল আহমাদ' গ্রন্থে হিজরি নবম শতাব্দীর শেষে এসে থেমে গিয়েছিল। এ কারণেই শেখ মুহাম্মদ কামালুদ্দীন আল-গাজ্জি ৯০১ থেকে ১২০৭ হিজরির মধ্যে মৃত্যুবরণকারীদের জীবনী রচনা শুরু করেন এবং এর মাধ্যমে একটি বিশাল শূন্যস্থান পূরণ করেন যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। দামেস্কের হাম্বলি মুফতি মরহুম শেখ মুহাম্মদ জামিল আশ-শাত্তি এদিকেই ইঙ্গিত করেছেন, যিনি এই বইটিকে—পাণ্ডুলিপি অবস্থায় দেখে—উলাইমির তাবাকাতের একটি পরিশিষ্ট হিসেবে গণ্য করেছিলেন এবং বই দুটি ছাপানোর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে বলেছিলেন: "যদি স্বপ্নগুলো সত্যি হতো এবং উলাইমির তাবাকাত ও এর উল্লেখিত পরিশিষ্টটি মুদ্রিত হতো, তবে কতই না ভালো হতো! তবে এই প্রকল্পের বিশালতা, যার জন্য সহযোগিতার প্রয়োজন
(১২) … এবং দামেস্কে হাম্বলিদের স্বল্পতার কথা বিবেচনা করলে
… আমি মনে করি যার জানা আছে তার ওপর কর্তব্য হলো..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ١٥)
تاريخم ووقف على سيرهم أن يشتركوا بسهام الطبع لأكون أولهم إقداما وأعظمهم سهما وأشكرهم"
(13).
وصف المخطوط:المخطوط الذي اعتمدنا عليه نسخة وحيدة نادرة ضمن مخطوطات مجمع اللغة العربية بدمشق يقع في (99 ورقة) كتبه المؤلف بخطه، وهو بقياس 25 ×18 وفي كل صفحة 28 سطرا تقريبا.
وقد اهتم بالمخطوط كثير من العلماء وخاصة علماء الحنابلة ومنهم آل الشطي كالشيخ عبد السلام الشطي الذي قرأه وعلق عليه بعبارات أشرنا إليها حين ورودها، ومنه انتقى الشيخ محمد جميل الشطي تراجم ضمنها مختصره وكتب على الورقة الأخيرة من المخطوط.
"تشرف بمطالعته ونسخه الحقير محمد جميل بن عمر حقي أفندي وسبط الشيخ عبد السلام الشطيين الحنبليين سائلا الحق تعالى أن يحفظ رفيق أفندي الغزي ويرحم أباه سنة 1321 هـ - و 1322 هـ -". ثم في سنة 1334 هـ - تملك المخطوط الشيخ محمد تاج الدين الحسني رئيس الحكومة السورية الأسبق.
والنسخة جيّدة خطها نسخي واضح إلا في بعض الكلمات فيحتاج قارئها إلى التمعن فيها، وقد كتبت أسماء المترجمين بالحمرة على جانب الصفحة. ويترك المؤلف أحيانا خلال السطور فراغا يبدو أنه كان يريد أن يملأه فيما بعد، وربما حالت منيته دون ذاك، هذا فضلا عن فراغ في الطبقتين التاسعة والعاشرة.
--------------------------------------------
তাদের ইতিহাস এবং তাদের জীবনী সম্পর্কে অবগত হওয়া যাতে তারা মুদ্রণের ক্ষেত্রে অংশীদার হতে পারে, যাতে আমি হই তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে অগ্রসর ব্যক্তি, সর্ববৃহৎ অংশের অধিকারী এবং সর্বাধিক কৃতজ্ঞ।"
(১৩).
পাণ্ডুলিপির বিবরণ:যে পাণ্ডুলিপিটির ওপর আমরা নির্ভর করেছি তা দামেস্কের আরবি ভাষা একাডেমির (মাজমাউল লুগাহ আল-আরাবিয়্যাহ) পাণ্ডুলিপিসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি অনন্য ও বিরল অনুলিপি। এটি ৯৯টি পত্রে বিন্যস্ত যা লেখক স্বহস্তে লিখেছেন। এর আকার ২৫ × ১৮ এবং প্রতি পৃষ্ঠায় প্রায় ২৮টি লাইন রয়েছে।
অনেক আলেম এই পাণ্ডুলিপিটির প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছেন, বিশেষ করে হাম্বলী আলেমগণ; যাদের মধ্যে আল-শাত্তি পরিবার অন্যতম, যেমন শেখ আবদুস সালাম আল-শাত্তি, যিনি এটি পাঠ করেছেন এবং এতে এমন কিছু মন্তব্য সংযোজন করেছেন যা আমরা পাঠ্যপ্রবাহে উল্লেখ করেছি। তাঁর থেকেই শেখ মুহাম্মদ জামিল আল-শাত্তি কিছু জীবনী নির্বাচন করেছেন যা তিনি তাঁর সংক্ষিপ্তসারে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠায় লিখেছেন:
"অধম মুহাম্মদ জামিল বিন ওমর হাক্কি এফেন্দি এবং শেখ আবদুস সালাম শাত্তিদ্বয়ের দৌহিত্র হাম্বলী, এটি অধ্যয়ন ও অনুলিপি করার সৌভাগ্য লাভ করেছেন; তিনি মহান সত্যের (আল্লাহর) নিকট প্রার্থনা করছেন যেন তিনি রফিক এফেন্দি আল-গাজ্জিকে হিফাজত করেন এবং তাঁর পিতার ওপর রহম করেন। ১৩২১ হিজরি ও ১৩২২ হিজরি।" অতঃপর ১৩৩৪ হিজরিতে সিরীয় সরকারের সাবেক প্রধান শেখ মুহাম্মদ তাজউদ্দীন আল-হাসানি পাণ্ডুলিপিটির মালিকানা লাভ করেন।
অনুলিপিটি বেশ উন্নতমানের এবং এর হস্তাক্ষর স্পষ্ট 'নাসখ' লিপিতে লিখিত, তবে কিছু শব্দের ক্ষেত্রে পাঠককে তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। যাদের জীবনী আলোচিত হয়েছে তাদের নামসমূহ পৃষ্ঠার পার্শ্বদেশে লাল কালিতে লেখা হয়েছে। লেখক মাঝে মাঝে লাইনের মাঝখানে শূন্যস্থান রেখেছেন, মনে হয় তিনি পরবর্তীতে তা পূরণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সম্ভবত মৃত্যু তাঁর অন্তরায় হয়েছিল। এছাড়া নবম ও দশম স্তরেও শূন্যস্থান বিদ্যমান রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ١٦)
منهج المؤلف في التراجم:وقد قسم الغزي تراجمه إلما طبقات مرتبة حسب الوفيات فجعل كل طبقة خمسا وعشرين سنة، فجاءت عدة طبقاته ثلاث عشرة طبقة ولكنّ الطبقة الأخيرة توقف فيها المؤلف عند سنة 1207 وكان المفروض أن تنتهي عند سنة 1225. هذا وصدر المخطوط بترجمة الإمام أحمد رضي الله عنه وذكر محنته مع المأمون والمعتصم.
مؤلف الكتاب (14)هو أبو الفضل كمال الدين محمد بن محمد شريف بن شمس الدين محمد بن عبد الرحمن بن زين العابدين علي بن زكريا بن بدر الدين محمد بن رضي الدين محمد بن رضي الدين محمد أيضا بن شهاب الدِين أحمد بن عبد الله الغزي العامري الحسني الصديقي الدمشقي. وأحمد هذا هو جد بني الغزي الأعلى الذي جاء من غزة هاشم إلى دمشق سنة 770 هـ- وتوفي سنة 822 هـ-.
كان الشيخ كمال الدين عالما فقيهًا فرضيا أديبا متفننا مؤرخا نسابة ناظما ناثرا وهو مفتي الشافعية بدمشق وابن مفاتيها. وهو وإن يكن غير حنبلي لقد أخذ عن الحنابلة وخدمهم- كما يقول الشيخ محمد جميل الشطي مختصر الطبقات- بما لم يخدموا به أنفسهم.
--------------------------------------------
জীবনী রচনায় লেখকের পদ্ধতি:আল-গাযযী তাঁর জীবনীগুলোকে মৃত্যুসন অনুযায়ী বিন্যস্ত স্তরে (তাবাকাত) ভাগ করেছেন। তিনি প্রতিটি স্তরের সময়কাল পঁচিশ বছর নির্ধারণ করেছেন। ফলে তাঁর মোট স্তরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তেরটি। তবে শেষ স্তরে লেখক ১২০৭ হিজরি সনে এসে থেমে গিয়েছেন, যদিও তা ১২২৫ হিজরি সনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পাণ্ডুলিপিটির শুরুতে ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর জীবনী এবং খলীফা মামুন ও মুতাসিমের আমলে তাঁর পরীক্ষার (মিহনা) বিবরণ প্রদান করা হয়েছে।
গ্রন্থের লেখক (১৪)তিনি হলেন আবুল ফজল কামালুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ শরীফ ইবনে শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে যাইনুল আবেদীন আলী ইবনে জাকারিয়া ইবনে বদরুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে রযীউদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে রযীউদ্দীন মুহাম্মাদ আরও ইবনে শিহাবুদ্দীন আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-গাযযী আল-আমিরী আল-হাসানী আস-সিদ্দীকী আদ-দিমাশকী। আর এই আহমাদ হলেন গাযযী বংশের ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ, যিনি হাশেমী গাজা থেকে ৭৭০ হিজরি সনে দামেস্কে এসেছিলেন এবং ৮২২ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
শায়খ কামালুদ্দীন ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ আলেম, ফকীহ, ফারাইয বিশেষজ্ঞ, সাহিত্যিক, বহুমুখী পণ্ডিত, ইতিহাসবিদ, বংশলতিকাবিদ, কবি ও গদ্যকার। তিনি দামেস্কে শাফিয়ী মাযহাবের মুফতী ছিলেন এবং সেখানকার মুফতী পরিবারের সন্তান ছিলেন। যদিও তিনি নিজে হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন না, তবুও তিনি হাম্বলী আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং তাঁদের এমন খিদমত করেছেন—যেমনটি শায়খ মুহাম্মাদ জামিল আশ-শাত্তী 'মুখতাসারুত তাবাকাত'-এ বলেছেন—যা তাঁরা নিজেরাও করতে সক্ষম হননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ١٧)
ولد بدمشق في السابع من جمادى الآخرة سنة 1173 هـ- ونشأ بها في حجر والده وقرأ القرآن على الشيخ محمد الحجاوي وأخذ العلم عن مشايخ كثيرين منهم الشيخ محمد سعيد السويدي البغدادي وتلقى عنه حديث الأولية والشيخ هبة الله التاجي والسيد كمال الدين البكري والشيخ عمر البغدادي نزيل دمشق وعلي الطاغستاني ومحمد الكزبري وأحمد العطار ومحمد العاني والشيخ أحمد البعلي الحنبلي مفتي الحنابلة بدمشق وتلميذه الشيخ محمد اللبدي وصالح الأزهري ومحمد البخاري وابراهيم بن خطاب البجيرمي الشافعي وعبد العليم المالكي ومصطفى الأيوبي الأنصاري الرحمتي والشيخ التافلاني مفتي القدس ومحب الله الهندي وابن منجا الطرابلسي واسماعيل القاضي واسماعيل أبو الفدا المواهبي ومحمد بن عبد الله ابن محمد بن فيروز الحنبلي وأحمد بن عبد الله السويدي وأخته أم الخير رقية ويوسف الزرقاني ومحمد بن علي الشنواني. واستجاز الشيخ يحيى الجامي المدني لما قدم دمشق سنة 1205 هـ- وكثيرين غيره.
وفي سنة 1203 في المحرم تولى افتاء الشافعية بدمشق بعد وفاة والده.
توفي في صفر سنة 1214 ودفن بتربة الدحداح هكذا أرخ وفاته من ترجمه ولكن العلامة أحمد تيمور
(15) ذكر أن وفاته كانت في سنة 1213 كما حسبها على حروف الجمل على صفحة الجزء السابع من التذكرة الكمالية استنادا إلى بيتين كتبا على لوحة قبره من نظم السيّد عبد الحليم اللوجي:
أيا سحْبَ الرِّضا والعفو سُحّي
… على قبرٍ حوى النَّفْس الزَّكيةْ
محمدٌ الفتى الغُزيُّ أرّخْ
… كمال الدينِ مفتي الشافعيَّةْ
91 + 95+ 530 + 497= 1213
--------------------------------------------
তিনি ১১৭৩ হিজরি সালের ৭ই জমাদিউল আখিরাত দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই তাঁর পিতার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন এবং শেখ মুহাম্মদ আল-হিজাউয়ির কাছে কুরআন পাঠ করেন। তিনি অনেক মাশায়েখ (শিক্ষক) থেকে ইলম অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শেখ মুহাম্মদ সাঈদ আস-সুওয়াইদি আল-বাগদাদি—যাঁর নিকট থেকে তিনি 'হাদিসুল আউয়ালিয়া' (মুসালসাল বিল আউয়ালিয়া) গ্রহণ করেন, শেখ হিবাতুল্লাহ আত-তাজি, সাইয়্যিদ কামালুদ্দিন আল-বাকরি, দামেস্কে বসবাসকারী শেখ ওমর আল-বাগদাদি, আলি আত-তাগাস্তানি, মুহাম্মদ আল-কুযবারি, আহমদ আল-আত্তার, মুহাম্মদ আল-আনি, দামেস্কের হাম্বলি মুফতি শেখ আহমদ আল-বালি আল-হাম্বলি এবং তাঁর ছাত্র শেখ মুহাম্মদ আল-লাবাদি, সালিহ আল-আযহারি, মুহাম্মদ আল-বুখারি, ইবরাহিম ইবনে খাত্তাব আল-বুজাইরিমি আশ-শাফিয়ি, আব্দুল আলিম আল-মালিকি, মুস্তফা আল-আইয়ুবি আল-আনসারি আর-রাহমাতি, কুদসের মুফতি শেখ আত-তাফালানি, মুহিব্বুল্লাহ আল-হিন্দি, ইবনে মানজা আত-তরাবুলুসি, ইসমাইল আল-কাদি, ইসমাইল আবু আল-ফিদা আল-মাওয়াহিবি, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ফিরুজ আল-হাম্বলি, আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সুওয়াইদি এবং তাঁর বোন উম্মুল খাইর রুকাইয়া, ইউসুফ আজ-যুরকানি এবং মুহাম্মদ ইবনে আলি আশ-শিনওয়ানি। ১২০৫ হিজরিতে যখন শেখ ইয়াহইয়া আল-জামি আল-মাদানি দামেস্কে আগমন করেন, তখন তিনি তাঁর নিকট থেকে এবং আরও অনেকের নিকট থেকে ইজাযত গ্রহণ করেন।
১২০৩ হিজরি সালের মহরম মাসে তাঁর পিতার ইন্তেকালের পর তিনি দামেস্কে শাফেয়ি মাযহাবের মুফতি পদের দায়িত্ব লাভ করেন।
তিনি ১২১৪ হিজরি সালের সফর মাসে ইন্তেকাল করেন এবং দাহদাহ কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর জীবনীকারগণ তাঁর মৃত্যু সন এভাবেই উল্লেখ করেছেন; তবে আল্লামা আহমদ তাইমুর
(১৫) উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর ইন্তেকাল হয়েছিল ১২১৩ হিজরি সালে। তিনি 'আত-তাযকিরাতুল কামালিয়্যাহ' গ্রন্থের সপ্তম খণ্ডের একটি পৃষ্ঠায় 'হুরুফুল জুমাল' (সংখ্যাগত মান) অনুযায়ী এটি গণনা করেছেন, যা তাঁর কবরের ফলকে খোদাইকৃত সাইয়্যিদ আব্দুল হালিম আল-লোজির রচিত দুটি কাব্য পঙক্তির ওপর ভিত্তি করে:
হে সন্তুষ্টি ও ক্ষমার মেঘমালা, তুমি বারিপাত করো
… সেই কবরের ওপর যা এক পবিত্র আত্মাকে ধারণ করে আছে
যুবক মুহাম্মদ আল-গুজ্জি, তুমি তারিখ নির্ধারণ করো
… কামালুদ্দিন, যিনি ছিলেন শাফেয়ি মাযহাবের মুফতি
৯১ + ৯৫ + ৫৩০ + ৪৯৭ = ১২১৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ١٨)
مؤلفاته:ذكر للغزي من المؤلفات:
1 - المورد الأنسي والوارد المقدسي في ترجمة العارف بالله عبد الغني النابلسي.
منه نسخة في الجامعة الأمريكية في بيروت رقم 752.
ونسخة في دار الكتب المصرية رقم 7161 ح ونسخة ثانية رقم 8072 ح.
ونسخة في مكتبة النابلسي بدمشق (نسخة جيدة).
2 - النعت الأكمل لأصحاب الإمام أحمد بن حنبل (في مكتبة مجمع اللغة العربية بدمشق نسخة المؤلف).
3 - طبقات الشافعية.
4 - التذكرة الكمالية في عشرين جزءًا واسمها الدر المكنون والجمان المصون من فرائد العلوم وفوائد الفنون وتشتمل على فوائد تاريخية وأدبية وعلوم شتى والموجود منها في الكتبة الظاهرية:
- الجزء الأول
… رقم 7602
… 10 ورقات
- الجزء الثاني
… 7603
… 52 ورقة
- الجزء الخامس
… 7604
… 69 ورقة
- الجزء السادس
… 7605
… 48 ورقة
- الجزء الثامن
… 9125
… 133 ورقة أكثره فارغ
- الجزء التاسع
… 7606
… 18 ورقة
- الجزء العاشر
… 9126
… 124 ورقة أكثره فارغ
- الجزء الخامس عشر
… 7607
… 7 ورقات
তাঁর রচনাবলী:আল-গাজ্জীর নিম্নোক্ত গ্রন্থগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে:
১ - আল-মাওরিদুল আনসি ওয়াল ওয়ারিদুল মাকদিসি ফী তারজামাতি আল-আরিফ বিল্লাহ আবদিল গনি আন-নাবুলুসি।
এর একটি পাণ্ডুলিপি বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে, নম্বর ৭৫২।
মিশরের দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে একটি অনুলিপি রয়েছে যার নম্বর ৭১৬১ হ এবং দ্বিতীয় একটি অনুলিপি নম্বর ৮০৭২ হ।
দামেস্কের নাবুলুসি লাইব্রেরিতে একটি অনুলিপি রয়েছে (উন্নত মানের অনুলিপি)।
২ - আন-নাতুল আকমাল লি-আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (দামেস্কের আরবি ভাষা একাডেমী বা মাজমাউল লুগাহ আল-আরাবিয়্যাহ লাইব্রেরিতে লেখকের স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান)।
৩ - তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ।
৪ - আত-তাযকিরাতুল কামালিয়্যাহ; এটি বিশ খণ্ডে বিভক্ত এবং এর নাম হলো 'আদ-দুররুল মাকনুন ওয়াল জুমানুল মাসুন মিন ফারায়িদিল উলুম ওয়া ফাওয়ায়িদিল ফুনুন'। এটি ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক বিবিধ তথ্যাবলি এবং বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের ওপর রচিত। যাহিরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে এর যে অংশগুলো রয়েছে:
- প্রথম খণ্ড
… নম্বর ৭৬০২
… ১০ পৃষ্ঠা
- দ্বিতীয় খণ্ড
… ৭৬০৩
… ৫২ পৃষ্ঠা
- পঞ্চম খণ্ড
… ৭৬০৪
… ৬৯ পৃষ্ঠা
- ষষ্ঠ খণ্ড
… ৭৬০৫
… ৪৮ পৃষ্ঠা
- অষ্টম খণ্ড
… ৯১২৫
… ১৩৩ পৃষ্ঠা, যার অধিকাংশ অংশ খালি
- নবম খণ্ড
… ৭৬০৬
… ১৮ পৃষ্ঠা
- দশম খণ্ড
… ৯১২৬
… ১২৪ পৃষ্ঠা, যার অধিকাংশ অংশ খালি
- পঞ্চদশ খণ্ড
… ৭৬০৭
… ৭ পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ١٩)
- والجزء السابع في المكتبة التيمورية الملحقة بدار الكتب المصرية برقم 875 أدب تيمور.
- ومنها جزء اقتنته مؤخرًا مكتبة جامعة الإمام محمد بن سعود في الرياض.
5 - العقود الجوهرية في حل الألفاظ الأجرومية في النحو.
6 - ديوان شعر.
7 - شرح المواهب اللدنية للقسطلاني.
8 - دفتر كتبه التي أوقفها على أولاده في الجامع الأموي منه نسخة في الظاهرية برقم 8347
منهج التحقيق:اعتمدنا في تحقيق الكتاب على النسخة الفريدة التي أشرنا إليها قبل فضبطنا النص مخرجين الآيات الكريمة والأماكن شارحين بعض الاصطلاحات المستعملة وأحلنا الترجمات إلى مصادر كان المؤلف اعتمد بعضها وإلى أخرى لم تقع تحت يده. ولما كان الكتاب قد تجاوز الطبقتين التاسعة والعاشرة لأمر لم نستطع تبينه فقد رأينا أن نستكملها ربطًا للسلسلة وإتماما للعمل.
ومما يقال هنا إنه من خلال عملنا وقفنا على بعض تراجم قليلة لم يذكرها الغزي لأنها لم تتصل به على ما يبدو فأنزلناها في مكانها ضمن الطبقات ووضعنا التراجم المضافة بين معقوفتين ونوهنا بذلك في الحاشية، ووضعناها ضمن معقوفتين تمييزًا لها عن تراجم المخطوط (*).
هذا ونعتقد أن هنالك تراجم لم نقع عليها ونأمل استدراكها في طبعة ثانية إن تمكنا بحول الله ومشيئته.
--------------------------------------------
- এবং সপ্তম খণ্ডটি মিশরীয় দারুল কুতুবের সাথে সংযুক্ত আল-তৈমুরিইয়্যাহ লাইব্রেরিতে ৮৭৫ নম্বর তৈমুর আদাব বিভাগে সংরক্ষিত।
- এবং এর মধ্য থেকে একটি খণ্ড সম্প্রতি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি সংগ্রহ করেছে।
৫ - নাহু শাস্ত্রের আল-আকুদ আল-জাওহারিয়্যাহ ফী হাল্লি আলফাযিল আজরুমিয়্যাহ।
৬ - কাব্যগ্রন্থ।
৭ - কাসতালানীর আল-মাওয়াহিব আল-লাদুননিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
৮ - তাঁর সেই গ্রন্থসমূহের তালিকা যা তিনি উমাইয়া মসজিদে তাঁর সন্তানদের জন্য ওয়াকফ করেছিলেন; এর একটি পাণ্ডুলিপি আল-জাহিরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে ৮৩৪৭ নম্বরে বিদ্যমান।
সম্পাদনা পদ্ধতি:আমরা গ্রন্থটির সম্পাদনায় পূর্বে উল্লিখিত সেই অনন্য পাণ্ডুলিপিটির ওপর নির্ভর করেছি। অতঃপর আমরা পাঠ্যটি যথাযথভাবে বিন্যস্ত করেছি, পবিত্র আয়াতসমূহ ও স্থানগুলোর উৎস নির্দেশ করেছি এবং ব্যবহৃত কিছু পরিভাষার ব্যাখ্যা প্রদান করেছি। জীবনীগুলোর ক্ষেত্রে আমরা এমন সব উৎসের উদ্ধৃতি দিয়েছি যার কিছু লেখক নিজেই ব্যবহার করেছিলেন এবং কিছু তাঁর নাগালে ছিল না। যেহেতু গ্রন্থটি নবম ও দশম তবকা (স্তর) এমন কোনো কারণে অতিক্রম করে গিয়েছিল যা আমরা স্পষ্ট করতে পারিনি, তাই আমরা সেগুলোর কাজ সম্পন্ন করাকে বাঞ্ছনীয় মনে করেছি যাতে এর ধারাবাহিকতা অটুট থাকে এবং কাজটি পূর্ণতা পায়।
এখানে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, কাজ চলাকালীন আমরা কিছু সংখ্যক এমন জীবনীর সন্ধান পেয়েছি যা আল-গাজ্জী উল্লেখ করেননি, সম্ভবত সেগুলো তাঁর কাছে পৌঁছায়নি। আমরা সেগুলোকে তবকা বা স্তরগুলোর মধ্যে স্ব-স্ব স্থানে সন্নিবেশিত করেছি এবং অতিরিক্ত এই জীবনীগুলোকে তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে রেখেছি ও পাদটীকায় সে সম্পর্কে অবহিত করেছি। পাণ্ডুলিপির মূল জীবনীসমূহ থেকে আলাদা করার জন্যই আমরা এগুলোকে তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত করেছি (*)।
পরিশেষে আমরা বিশ্বাস করি যে, আরও কিছু জীবনী হয়তো আমাদের অগোচরে রয়ে গেছে। আমরা আশা করি আল্লাহর শক্তি ও ইচ্ছায় দ্বিতীয় সংস্করণে সেগুলো সংশোধন বা যুক্ত করতে পারব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
ورأينا لزامًا علينا ونحن نودع القرن الرابع عشر الهجري ونستقبل القرن الخامس عشر أن نمضي في تراجم الحنابلة فنبدأ من حيث وقف الغزي مع تراجم سنة 1207 معتمدين على المصادر التي وقعت أيدينا عليها، محيلين كل ترجمة إلى مصدرها.
واحتراما لنهج الكتاب وطريقته ومؤلفه فقد مشينا على الخطة التي سار عليها ليكون روحا واحدة وكلا منسجمًا.
هذا ويعود الفضل إلى فضيلة السيد الأستاذ محمد فخر الدين الحسني حفظه الله؛ في ضم هذا المخطوط مع مجموعة قيمة من مخطوطات مكتبة جده العلامة المحدث الأكبر الشيخ محمد بدر الدين الحسني رحمه الله إلى مكتبة جمع اللغة العربية بدمشق، ولابد لنا هنا من تقديم شكرنا للأخ الأستاذ محمد رياض المالح لما يقدمه من خدمات علمية في نشر تراثنا العلمي وحفظه.
وبعد ..
فلئن أصبنا في عملنا فبتوفيق الله ومنّه، وإن كنا حدنا عن القصد فبتقصيرنا فرحم الله امرءًا أهدى إلينا عيوبنا ونبهنا إلى ما فاتنا خدمة للعلم وأهله.
ولابد لنا هنا من تقديم الشكر لأسرة (دار الفكر) التي تبذل الجهد المشكور في نشر تراث الأمة وفي إخراج هذا الكتاب بهذه الحلة القشيبة كما هو دأبها في إخراج التراث ونشره خدمة للعلم والأمة. والحمد لله أولًا وآخرًا.
دمشق 28 رمضان المبارك 1401 هـ
29 تموز 1981 م
المحققان
محمد مطيع الحافظ
نزار أباظة
আমরা চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীকে বিদায় জানিয়ে এবং পঞ্চদশ শতাব্দীকে স্বাগত জানিয়ে হানবালি আলিমদের জীবনী রচনার কাজ অব্যাহত রাখাকে আমাদের জন্য কর্তব্য মনে করেছি। আল-গাজ্জি যেখানে থেমেছিলেন, অর্থাৎ ১২০৭ হিজরির জীবনী থেকে আমরা শুরু করেছি; এক্ষেত্রে আমরা আমাদের হস্তগত উৎসসমূহের ওপর নির্ভর করেছি এবং প্রতিটি জীবনীকে তার মূল উৎসের দিকে নির্দেশ করেছি।
এই গ্রন্থের পদ্ধতি, ধারা এবং এর লেখকের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমরা তাঁর অনুসৃত পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হয়েছি, যাতে এটি একটি অভিন্ন সত্তা এবং সুসংগত পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে।
উল্লেখ্য যে, এই পাণ্ডুলিপিটিকে তাঁর দাদা মহান আল্লামা ও মুহাদ্দিস শেখ মুহাম্মদ বদরউদ্দীন আল-হাসানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর লাইব্রেরির একগুচ্ছ মূল্যবান পাণ্ডুলিপির সাথে দামেস্কের আরবি ভাষা একাডেমির লাইব্রেরিতে অন্তর্ভুক্ত করার কৃতিত্ব শ্রদ্ধেয় উস্তাদ জনাব মুহাম্মদ ফখরউদ্দীন আল-হাসানি (হাফিজাহুল্লাহ)-এর। এছাড়া আমাদের বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্য প্রকাশ ও সংরক্ষণে ইলমি খিদমত আঞ্জাম দেওয়ার জন্য ভাই উস্তাদ মুহাম্মদ রিয়াদ আল-মালিহ-এর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
অতঃপর...
আমাদের এই কাজে যদি আমরা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে থাকি, তবে তা আল্লাহর তাওফিক ও অনুগ্রহে; আর যদি আমরা লক্ষ্যচ্যুত হয়ে থাকি, তবে তা আমাদেরই সীমাবদ্ধতা। অতএব, আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন, যিনি ইলম ও আহলে ইলমের খিদমতের উদ্দেশ্যে আমাদের ভুলত্রুটিগুলো আমাদের সামনে উপহার হিসেবে তুলে ধরবেন এবং যা আমাদের নজর এড়িয়ে গেছে সে সম্পর্কে আমাদের সচেতন করবেন।
এখানে 'দারুল ফিকর' প্রতিষ্ঠানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের জন্য আবশ্যক, যারা উম্মাহর ঐতিহ্য প্রকাশে এবং এই গ্রন্থটিকে এই সুশোভিত অবয়বে বের করার জন্য প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন; যেমনটি ইলম ও উম্মাহর খিদমতে ঐতিহ্য প্রকাশ ও প্রসারে তাদের চিরাচরিত অভ্যাস। আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য শুরুতে ও শেষে।
দামেস্ক, ২৮ রমাদানুল মুবারক ১৪০১ হিজরি
২৯ জুলাই ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ
সম্পাদকদ্বয়
মুহাম্মদ মুতি’ আল-হাফিজ
নিযার আবাজা
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٢١)
بسم الله الرحمن الرحيم
يا رافع السبع الطباق، ومنشئ الكائنات على أحسن نظام واتساق، أحصيت الخلائق وأبدعت المذاهب والطرائق، أحمدك أن أنرْت منار العلما، ونشرت لهم على صفحات الكائنات من الفضل عَلَما، حمدَ معترفٍ بنعمائك، مغترف من حياض آلائك، وأشكرك على ما أجزلت من العطا، وكشفت من الغطا، بحمدك وشكرك اللذين يليقان بجنابك الأعلى، وجانبك الأعز الأرفع الأغلى، وأشهد أن لا إله إلا أنت وحدك لا شريك لك في ذاتك ولا في أسمائك ولا في سِمَاتك، وأشهد أن سيدنا وسندنا محمدًا عبدك المصطفى، ورسولك المرتضى، الشارع للأحكام السارع لبيان الحلال من الحرام، المُخبِّر بما سلف للأمم، المُحبِّر بُردَ الكمال بطراز كماله المُعْلم، الحائر في بديع قُدسك، الحائز لتجليات أُنسك، أتحفه اللهم من فيض إنعامك السامي، وإفضالك الذي ليس له مسامت ولا مسامي، بأفضل الصلاة والتسليم وأجل الإجلال والإعظام والتكريم، وألحق بذلك من آل إليه من آله أو صحبه وتبعه في أفعاله وأقواله.
أما بعد: فيقول العبد كمال الدين محمد بن محمد بن محمد العامري الحسيني سبطُ بني الصديق وأبي أيوب الدمشقي الشهير كأسلافه بابن الغَزّي، أسعده الله تعالى بالعلم والعمل، وغفر له الخطأ والخَطل: إن الإمامَ ركن الملة والإسلام، عمدة الأمة وعماد الأئمة، جامع أشتات الكمال بلا ارتياب، صدر المجتهدين بدون إطراء وإطناب، قامع المبتدعين، دافع شبه الملحدين، أوحد
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে সপ্ত স্তরের আকাশকে সমুন্নতকারী এবং সর্বোত্তম শৃঙ্খলা ও সামঞ্জস্যের সাথে সৃষ্টিজগতকে অস্তিত্ব দানকারী! আপনি মাখলুকাতকে গণনা করেছেন এবং বিবিধ মত ও পথ উদ্ভাবন করেছেন। আমি আপনার প্রশংসা করি এজন্য যে, আপনি ওলামাদের বাতিঘরকে আলোকিত করেছেন এবং সৃষ্টিজগতের পৃষ্ঠাগুলোতে তাদের জন্য আপনার অনুগ্রহের নিশান উড্ডীন করেছেন; এমন এক ব্যক্তির প্রশংসা যে আপনার নেয়ামতের স্বীকৃতি দানকারী এবং আপনার করুণার প্রস্রবণ হতে সুধাপানকারী। আপনি যা প্রচুর দান করেছেন এবং যে আবরণ উন্মোচন করেছেন তার জন্য আমি আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি; আপনার সেই প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে যা আপনার সুউচ্চ মহান সত্তার জন্য এবং আপনার সর্বাধিক সম্মানিত, উন্নত ও অমূল্য শানের সাথে মানানসই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, আপনি একক; আপনার সত্তায়, আপনার নামসমূহে কিংবা আপনার গুণাবলীতে কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও আশ্রয়স্থল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনার মনোনীত বান্দা এবং আপনার পছন্দনীয় রাসূল; যিনি বিধানসমূহের প্রবর্তক এবং হালাল-হারামের বর্ণনায় ক্ষিপ্রতাকারী; যিনি বিগত উম্মতদের সংবাদ প্রদানকারী; যিনি তাঁর পরিজ্ঞাত পূর্ণতার শৈলী দ্বারা পূর্ণতার চাদরকে সুশোভিতকারী; আপনার পবিত্রতার বিস্ময়ে অভিভূত এবং আপনার নৈকট্যের জ্যোতিরাশি অর্জনকারী। হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে আপনার সুউচ্চ নেয়ামতের প্রাবল্য এবং আপনার সেই অনুগ্রহ দ্বারা ভূষিত করুন যার কোনো সমকক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বী নেই; সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম এবং সুমহান সম্মান, মহিমা ও মর্যাদা দ্বারা। আর এর অন্তর্ভুক্ত করুন তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাঁর কথা ও কাজে যারা তাঁর অনুসরণ করেছেন তাদের সকলকে।
অতঃপর: বান্দা কামালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আমেরি আল-হুসাইনি, যিনি বনু সিদ্দিক ও আবু আইয়ুব আল-দামেশকির বংশধর এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের ন্যায় ইবনুল গাজ্জি নামে পরিচিত—আল্লাহ তাআলা তাঁকে ইলম ও আমল দ্বারা সৌভাগ্যবান করুন এবং তাঁর ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন—বলছেন: নিশ্চয়ই এই ইমাম হলেন মিল্লাত ও ইসলামের স্তম্ভ, উম্মতের অবলম্বন এবং ইমামগণের খুঁটি; কোনো সন্দেহ ব্যতিরেকেই বিবিধ পূর্ণতার সমাহারকারী; কোনো অতিরঞ্জন ও বাহুল্য ছাড়াই মুজতাহিদগণের শিরোমণি; বিদআতিদের দমনকারী, নাস্তিকদের সংশয় নিরসনকারী, অদ্বিতীয়...
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
الموحدين، وأحد العماء الراسخين، الفائق زهدًا وورعًا ودينًا، والسابق حالًا رصيفًا وقالًا رصينًا، شمس سمائه السيادة، سعد إفلال السعادة، جامع مجامع العلوم، الآخذ بحُجَزِ المنطوق والمفهوم، مالك أزمة العِرفان، قائد أعنة الإتقان والإيقان، الناصر للسنة، والصابر في المحنة، الإمام الأعظم والهمام المقدَّم، السّيدُ المبجّل، والسند المفضّل، صاحب الفيض الرباني، والعطاء الرحماني، والإمداد الصمداني، والمقام الإحساني [2 - آ]، الإمام أحمد بن حنبل الشيبانيّ، إمام علت مناقبه وراقت مشاربه وعمّت مواهبه، وأنارت مذاهبه، وطابت أرومته، وشرفت جرثومته، وعظمت أوقاته، وكملت حالاته، وصفت صفاته، وسمت سِماته، وبزغ بدره، وكرم قدره، وصفا من شراب المحبة كاسه، وضفا مورده وضا نبراسه، فهو كما قال القائل:
لا يُدرِكُ الواصفُ المُطري خَصَائِصَهُ
… وإنْ غَدا سابقًا في كلِّ ما وَصَفَا
كيف لا وهو المحيي معالم السنة النبوية، والحافظُ المحافظ على الآثار المحمدية، والذّابُّ عن مشارع الشرع المطهر، بمعرفة المعروفِ المعروفَ، وإنكار المُنكِرِ المنكَرَ، قد فاق علومًا ومعلومًا، وحاكى في الاقتداء والاهتداء نجومًا، لأهل الضلال رُجومًا، لا زال يمين الرضوان تشكل ضريحه وتصافحه، ويمن الرحمات تغادي جدثه وتصابحه، ولا برحت علاليه في الفراديس مرفوعة، وأنواء أنوار معاليه لا مقطوعة ولا ممنوعة:
سقى الله قبرًا ضمَّه وابل الحيا
… وحيّاهُ بالرضوان رضوانُ والحسنى
وألبسَهُ من كاملِ العفوِ حُلّةً
… تفوقُ به ظُرْفًا وتزهو بهِ حُسنًا
وأتحفَه في قربهِ ورضائِهِ
… بدائعَ نعماءٍ لهُ قد غَدَتْ حُسْنى
مدى الدهرِ ما طيرٌ تغنّى بروضةٍ
… وما أسعدت سُعْدى وما أحسنَتْ حُسْنى
তাওহীদপন্থীদের শিরোমণি, সুদৃঢ় জ্ঞানসম্পন্ন আলেমদের অন্যতম, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), তাকওয়া ও দ্বীনদারিতে অনন্য শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী, আমল ও অকাট্য বাকশৈলীতে অগ্রগামী, শ্রেষ্ঠত্বের আকাশের সূর্য, সৌভাগ্যের উদিত নক্ষত্র, সকল ইলমের সংকলক, শব্দের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য মর্ম অনুধাবনকারী, মারেফাতের লাগামের অধিপতি, দক্ষতা ও সুনিশ্চিত বিশ্বাসের পরিচালক, সুন্নাহর সাহায্যকারী এবং কঠিন পরীক্ষায় ধৈর্যধারণকারী, মহান ইমাম এবং অগ্রগামী বীরপুরুষ, সম্মানিত নেতা এবং শ্রেষ্ঠ আশ্রয়, রব্বানি অনুগ্রহ, রহমানি দান, সামাদানি সাহায্য এবং ইহসানি মাকামের অধিকারী [২ - ক], ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানি; তিনি এমন এক ইমাম যাঁর গুণাবলি সুউচ্চ, জীবনধারা নির্মল, অনুগ্রহ ব্যাপক এবং মাজহাবসমূহ আলোকোজ্জ্বল। যাঁর বংশমূল পবিত্র, উৎস মহিমান্বিত, সময়সমূহ বরকতময়, অবস্থাসমূহ পূর্ণাঙ্গ, গুণাবলি স্বচ্ছ এবং বৈশিষ্ট্যসমূহ উন্নত। যাঁর পূর্ণিমা উদিত হয়েছে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। যাঁর মহব্বতের পানপাত্র নির্মল এবং যাঁর উৎসস্থল প্রশস্ত ও প্রদীপ প্রজ্বলিত। তিনি তেমনই, যেমনটি কবি বলেছেন:
প্রশংসাকারী তাঁর বৈশিষ্ট্যের নাগাল পাবে না
… যদিও সে বর্ণনার প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রগামী হয়।
কেনই বা হবে না, অথচ তিনিই তো নব্যুয়তের সুন্নাহর চিহ্নসমূহের পুনর্জীবিতকারী, মুহাম্মাদি আসার (হাদিস ও নিদর্শন) সমূহের যথাযথ সংরক্ষণকারী, এবং পবিত্র শরিয়তের প্রবেশপথসমূহের প্রতিরক্ষা প্রদানকারী। তিনি ন্যায়ের সঠিক পরিচয়ের মাধ্যমে ন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং অন্যায়কে অন্যায় হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জ্ঞান ও জ্ঞাতব্য বিষয়ে সকলকে ছাড়িয়ে গেছেন, এবং অনুসরণ ও হিদায়াত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তিনি নক্ষত্ররাজির তুল্য, যা পথভ্রষ্টদের জন্য উল্কাপিণ্ড স্বরূপ। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি যেন সর্বদা তাঁর সমাধিকে বেষ্টন করে থাকে, এবং রহমতের বরকত যেন সকাল-সন্ধ্যা তাঁর কবরে বর্ষিত হতে থাকে। জান্নাতুল ফেরদাউসে তাঁর কক্ষসমূহ যেন সর্বদা সমুন্নত থাকে, এবং তাঁর উচ্চমর্যাদার নূরানী বর্ষণ যেন কখনো বিচ্ছিন্ন বা নিষিদ্ধ না হয়:
আল্লাহ সেই কবরে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করুন যা তাঁকে আগলে রেখেছে
… এবং জান্নাত ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমে তাঁকে অভিবাদন জানান।
এবং তাঁকে পূর্ণ ক্ষমার এমন এক পোশাক পরিধান করান
… যা আভিজাত্যে অনন্য এবং সৌন্দর্যে উজ্জ্বল।
এবং তাঁকে তাঁর নৈকট্য ও সন্তুষ্টির মাধ্যমে উপহার দিন
… এমন সব বিস্ময়কর নেয়ামত যা অতীব সুন্দর।
যতদিন কোনো পাখি বাগানে গান গাবে
… আর যতদিন সৌভাগ্যবানরা সুখী হবে ও সুন্দররা সৌন্দর্য ছড়াবে।
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وأتباعه قوم سعدوا برواته، وفازوا باتباع آرائه، وقد جعل الله تعالى، سما الصلاح عليهم ظاهرة، ببركة أنفاسه الطاهرة، وأجزل لهم الإسعاد والتوفيق، وأقام لهم التقوى رفيقًا رفيق، كيف وإمامم إمام السُّنّة، والمُذهِبُ من البِدَع كل غيهبٍ ودُجُنّة، وحامي حمى الدين، ودافع الشُبَه عن ملّةِ سيد الرسلين، بقمع المبتدعين، وإدحاضِ أدلةِ الزائغين والمفترين كما قلت:
همامٌ لأهلِ الزَّيغِ والميْنِ قد غدا
… بإبطال ما قالوا هُوَ الفارسُ البطلْ
إمامُ جميعَ الزَّاهدين بأسرِهِمْ
… ووارثُ خيرِ الخلْقِ في العِلْمِ والعملْ
وأنصُرهُمْ للحقِّ بالحقِ جهْرةً
… وأبصُرُهُمْ عند ارتباكِ ذوي النِحَلْ
رقى في العلا لمَّا ترقّى لِهامِها
… وسامى سماءَ العِزِّ سَمْتٌ بِه اتَّصَلْ
هو الحَبْرُ في العِرفانِ طالتْ يمينُهُ
… هو البَحْرُ حقًا والبرايا هُمُ الوَشَلْ
(1)فقلدْ إمامًا في الهُدى نجلَ حنبلٍ
… تنل لأَجَلّ القدر في منتهى الأجلْ
جزاه إلهُ العرش خيرَ جزائِه
… وأتحفَهُ فضلًا بجَنّاتِه اكتمَلْ
وقلت أيضًا:
إنْ رُمتَ أعلى وأولى
… سديدَ رأيٍ وأحمدْ
فاملى لملة أحمدْ
… واذهبْ لمذهبِ أحمدْ
وقد أفرده بالترجمة جماعة من الأئمة، ونشروا من أحاسن محاسن مناقبه ما هو غرة لوجوه الأمة [2 - ب].
--------------------------------------------
এবং তাঁর অনুসারীরা এমন এক জাতি যারা তাঁর বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে ধন্য হয়েছেন এবং তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের মাধ্যমে সফল হয়েছেন। মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র নিঃশ্বাসের বরকতে তাদের ওপর সততার চিহ্নসমূহ প্রকাশ্য করে দিয়েছেন, তাদের জন্য পরম সৌভাগ্য ও তাওফিক বৃদ্ধি করেছেন এবং তাকওয়াকে তাদের জন্য এক ঘনিষ্ঠ সঙ্গী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। কেনই বা হবে না, যখন তাদের ইমাম হলেন সুন্নাহর ইমাম, বিদআতের সকল অন্ধকার ও কালিমা দূরীভূতকারী, দ্বীনের সীমানার অতন্দ্র প্রহরী এবং পথভ্রষ্টদের দমন ও বিভ্রান্ত ও মিথ্যাবাদীদের দলিলসমূহ খণ্ডনের মাধ্যমে রাসূলগণের সরদারের মিল্লাত থেকে সংশয়সমূহ অপসারিতকারী; যেমনটি আমি বলেছি:
পথভ্রষ্ট ও মিথ্যাবাদীদের জন্য তিনি এক অগ্রসেনানী হয়ে দাঁড়িয়েছেন
… তাদের বক্তব্য বাতিল করার ক্ষেত্রে তিনি এক অকুতোভয় বীর অশ্বারোহী।
তিনি সকল যাহিদদের সামগ্রিক ইমাম
… এবং ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার যোগ্য উত্তরসূরি।
হকের সাহায্যে হকের জন্য তিনি তাদের মাঝে সর্বাধিক প্রকাশ্য সাহায্যকারী
… এবং বিভিন্ন মতাবলম্বীদের বিভ্রান্তির সময় তিনি তাদের মাঝে সর্বাধিক দূরদর্শী।
তিনি শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে আরোহণ করেছেন যখন তিনি তার সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছেন
… এবং এক অনন্য বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে তিনি সম্মানের আকাশের উচ্চতা স্পর্শ করেছেন যা তাঁর সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে।
তিনি আধ্যাত্মিক জ্ঞানের ক্ষেত্রে এক বিজ্ঞ পণ্ডিত যার হাত সুদীর্ঘ
… তিনি প্রকৃতপক্ষে এক সুবিশাল সমুদ্র আর সৃষ্টিজগত হলো সামান্য জলবিন্দু।
(১)অতএব হিদায়াতের পথে ইমাম ইবনে হাম্বলের অনুসরণ করো
… তবেই তুমি শেষ সময়ে সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করবে।
আরশের ইলাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন
… এবং স্বীয় অনুগ্রহে তাঁকে তাঁর জান্নাতসমূহের পূর্ণতা দিয়ে ধন্য করুন।
আমি আরও বলেছি:
যদি তুমি সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম
… সঠিক সিদ্ধান্ত এবং প্রশংসিত অবস্থান কামনা করো।
তবে আহমাদ (সা.)-এর মিল্লাতের দিকে ধাবিত হও
… এবং আহমাদের মাযহাব অনুসরণ করো।
একদল ইমাম তাঁর জীবনী রচনায় স্বতন্ত্র গ্রন্থ উৎসর্গ করেছেন এবং তাঁর গুণাবলির এমন চমৎকার শ্রেষ্ঠত্বসমূহ প্রচার করেছেন যা উম্মতের মুখমণ্ডলের জ্যোতি স্বরূপ [২ - খ]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
[كتب طبقات الحنابلة](2).
وقد ترجم هؤلاء الأئمة أصحاب هذا الإمام المقدم جماعةٌ من العلماء، فأول من اطلّعت عليه أنه أفردهم بالترجمة ورتبهم على طبقات:
- الإمام أبو الحسين محمد ابن الإمام الكبير السعيد القاضي أبي يعلى رحمهما الله تعالى. ثم جاء بعده:
- الشيخ الإمام العلامة شمس الدين محمد بن عبد القادر بن عثمان النابلسي المقدسي. فاختصر الطبقات المتقدم ذكرها بكتاب لطيف، مقدار ثماني كراريس. ثم جاء بعده:
- الشيخ الإمام الحافظ المحدث زين الدين عبد الرحمن بن أحمد بن رجب البغدادي الأصل ثم الدمشقي فألف كتابه الطبقات المشهورة وصل فيها إلى سنة [751 هـ]
(3). ثم جاء بعده:
- الشيخ الإمام العلامة عبد الرحمن بن محمد بن عبد الرحمن العليمي المقدسي فألف (الطبقات البديعة) وصل فيها إلى سنة تسعمائة من الهجرة وسماها (المقصد الأحمد).
ثم من بعده إلى زماننا هذا، لم أجد من تعرّض لأفراد السادة الحنابلة بالترجمة، ونَشَر من مآثرهم وفضائلهم كل منقبة متقنة محكمة، فشرعتُ بعد الاستخارة، حيث ظهرت من مخائل الخيرِ الإشارة، في ترجمة هؤلاء الأئمة الأعلام، ناشرًا من فضائلهم ومزاياهم ما تتعطر بنشره مسامع الأنام، معتمدًا على أركان العناية في البدء والختام، مُعَوِّلًا في تراجمهم على:
--------------------------------------------
[হাম্বলী মাযহাবের তবাকাত (স্তরাবিন্যাস) গ্রন্থসমূহ](২).
একদল আলেম এই অগ্রগণ্য ইমামের অনুসারী ও ইমামগণের জীবনী সংকলন করেছেন। আমি সর্বপ্রথম যার সম্পর্কে জানতে পেরেছি যে তিনি তাঁদের জীবনী পৃথকভাবে সংকলন করেছেন এবং তাঁদেরকে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করেছেন, তিনি হলেন:
- ইমাম আবুল হুসাইন মুহাম্মদ, যিনি মহান ও সৌভাগ্যবান ইমাম কাযী আবু ইয়া’লার পুত্র; আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। অতঃপর তাঁর পরে এসেছেন:
- শায়খ ইমাম আল্লামা শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কাদির বিন উসমান নাবুলুসী মাকদিসী। তিনি পূর্বে উল্লিখিত 'তবাকাত' গ্রন্থটিকে একটি সংক্ষিপ্ত ও চমৎকার বইয়ে রূপান্তর করেছেন, যার কলেবর প্রায় আটটি পুস্তিকা সমপরিমাণ। অতঃপর তাঁর পরে এসেছেন:
- শায়খ ইমাম হাফিজ মুহাদ্দিস যাইনুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব—যিনি মূলে বাগদাদী এবং পরবর্তীতে দামেশকী। তিনি তাঁর বিখ্যাত 'তবাকাত' গ্রন্থটি রচনা করেছেন এবং এতে তিনি [৭৫১ হিজরী] সাল পর্যন্ত আলোচনা পৌঁছে দিয়েছেন
(৩)। অতঃপর তাঁর পরে এসেছেন:
- শায়খ ইমাম আল্লামা আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আলীমী মাকদিসী। তিনি ‘আত-তবাকাত আল-বাদীআহ’ রচনা করেছেন, যেখানে তিনি হিজরী নয়শত সাল পর্যন্ত আলোচনা করেছেন এবং গ্রন্থটির নাম দিয়েছেন ‘আল-মাকসাদুল আহমাদ’।
অতঃপর তাঁর পর থেকে আমাদের এই সময় পর্যন্ত, আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি হাম্বলী মাযহাবের মনীষীদের জীবনী নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করেছেন এবং তাঁদের কীর্তিগাঁথা ও গুণাবলির মধ্য থেকে প্রতিটি সুসংহত ও সুপ্রতিষ্ঠিত শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার করেছেন। তাই ইস্তিখারার পর যখন কল্যাণের শুভ লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেল, তখন আমি এই মহান ইমামগণের জীবনী সংকলনে প্রবৃত্ত হলাম; তাঁদের সেই সকল গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য প্রচারের মাধ্যমে যা মানুষের শ্রবণেন্দ্রীয়কে সুবাসিত করে। আমি শুরু এবং শেষে মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের ওপর ভরসা করছি এবং তাঁদের জীবনী সংকলনে নির্ভর করছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
[مصادر المؤلف][1] تاريخ شيخ الإسلام الحافظ النجم الغزي العامري قدس الله تعالى روحه الذي سماه (الكواكب السائرة بمناقب المائة العاشرة).
[2] وتاريخ المرحوم أبي الفلاح العُكري الدمشقي الصالحي الذي سماه شذرات الذهب في أخبار من ذهب وابتدأ فيه من الهجرة إلى سنة ألف مرتبًا له على السنين.
[3] وذيل الكواكب المسمى (بلطف السمر وقطف الثمر) في تراجم الطبقة الأولى من أعيان القرن الحادي عشر لشيخ الإسلام النجم المتقدم ذكره، والفائحِ في خلال هذه الأوراق نشره.
[4] وتاريخ قريبنا المرحوم محمد الأمين المحبي المسمى (بخلاصة الأثر في تراجم أهل القرن الحادي عشر).
[5] والتقطت بقية التراجم من كتب المسانيد والأثبات، وأفواه الثقات الأئمة الأثبات ورتبت هذه الطبقات على ثلاث عشرة طبقة مُرتِّبًا وفياتِهم على السنين في التقديم والتأخير مبتدئًا بترجمة سيدنا الإمام أحمد، صاحب المقام الأرفع الأحمد، منوِّهًا بنشر منشور مناقبه، والتعريف بمنازله ومراتبه، وجعلت كل طبقة خمسًا وعشرين سنة، وسميت هذا الكتاب المستطاب: [النعت الأكمل [3 - آ] لأصحاب الإمام أحمد بن حنبل] وعلى الله اعتمادي، فهو عمدتي في كل مقصد وعمادي، والمسؤول ممن سرح بِطرَفِ طَرْفِهِ في رياض هذا الكتاب، وشرح بِظرف ظُرْفه صدرًا مُصدرًا عن عتبة العتاب أن يشمله بِشمول القَبُول، ويسحب ذيل الإغضاء عما أملاه القلم باللسان الملول، فإني -ومَن رفع مقامَ العلماء بين الأنام- لأعجَزُ الناس قالًا وحالًا
[লেখকের উৎসসমূহ][১] শাইখুল ইসলাম আল-হাফিজ আন-নাজম আল-গুজ্জি আল-আমিরি (আল্লাহ তাআলা তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন)-এর ইতিহাস গ্রন্থ, যার নামকরণ তিনি করেছেন ‘আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়িরাহ বি-মানাকিবিল মিআতি আল-আশিরাহ’।
[২] এবং মরহুম আবুল ফালাহ আল-উকরি আদ-দিমাশকি আস-সালিহি-এর ইতিহাস গ্রন্থ, যার নামকরণ তিনি করেছেন ‘শাযারাতুয যাহাব ফি আখবারি মান যাহাব’; এতে তিনি হিজরত থেকে এক হাজার হিজরি সাল পর্যন্ত বছর ভিত্তিক ক্রমানুসারে আলোচনা করেছেন।
[৩] এবং ‘আল-কাওয়াকিব’ গ্রন্থের পরিশিষ্ট (যাইল), যার নাম ‘লুতফুস সামার ওয়া কাতফুস সামার’; এটি পূর্বে উল্লেখিত শাইখুল ইসলাম নাজম-এর লিখিত একাদশ শতাব্দীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রথম স্তরের জীবনী নিয়ে রচিত, যার সুবাস এই পাতাগুলোর ভাঁজে ভাঁজে ছড়িয়ে আছে।
[৪] এবং আমাদের নিকটাত্মীয় মরহুম মুহাম্মদ আল-আমিন আল-মুহিব্বি-এর ইতিহাস গ্রন্থ, যার নাম ‘খুলাসাতুল আসার ফি তারাজিমি আহলিল কারনি আল-হাদি আশার’।
[৫] এবং অবশিষ্ট জীবনীগুলো আমি মাসানিদ ও আসবাত (সনদ সংবলিত গ্রন্থসমূহ) এবং নির্ভরযোগ্য ইমাম ও প্রামাণ্য ব্যক্তিত্বদের মুখ থেকে সংগ্রহ করেছি। আমি এই স্তরগুলোকে তেরোটি স্তরে বিন্যস্ত করেছি এবং তাদের মৃত্যুর বছর অনুযায়ী অগ্র-পশ্চাৎক্রম বজায় রেখেছি। আমি আমাদের নেতা ইমাম আহমাদ-এর জীবনী দিয়ে শুরু করেছি, যিনি অত্যন্ত উচ্চ ও প্রশংসিত মর্যাদার অধিকারী; তাঁর সুমহান গুণাবলি প্রচার করে এবং তাঁর মকাম ও মর্যাদা তুলে ধরে। আমি প্রতিটি স্তরকে পঁচিশ বছর করে নির্ধারণ করেছি এবং এই উত্তম কিতাবটির নামকরণ করেছি: [আন-নাতুল আকমাল [৩ - ক] লি-আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল]। আর আল্লাহর ওপরই আমার নির্ভরতা, তিনিই প্রতিটি উদ্দেশ্যে আমার প্রধান আশ্রয় ও স্তম্ভ। আর এই কিতাবের বাগানে যারা দৃষ্টি বুলিয়ে বিচরণ করবেন এবং স্বীয় মেধা ও উদারতা দিয়ে সমালোচনা পরিহার করে তা পাঠ করবেন, তাদের নিকট বিনীত আরজ হলো—যাতে তারা এটিকে কবুল করে নেন এবং ক্লান্ত রসনায় কলম যা লিখেছে তার ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেন। কেননা—শপথ তাঁর যিনি মানুষের মাঝে আলেমদের মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন—আমি কথা ও কাজে মানুষের মধ্যে সবচাইতে অক্ষম।
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
خصوصًا في هذه الأيام، وما قصدي بذلك إلا نشر مآثر هذه الطائفة الطاهرة، وطلب المدد منهم في الدنيا والآخرة، وعلى مَن بيده الخير الاتكال مني والتعويل، وهو حسبي ونعم الوكيل.
[سند المؤلف في الفقه الحنبلي]وقد سنح لي أن أقدم قبل الشروع في المقصود سندي بالفقه الحنبلي تبركًا بذكر أساتذته، وتيمنًا بسرد أسماء جهابذته فأقول:
أخذت ولله الحمد فقه السادة الحنابلة ورويته عن شيخي وأستاذي الشيخ الإمام والعالم العامل الهمام فريد العصر ووحيد الدهر شيخِ الإسلام الإمام الصُّوفي العابد الناسك أبي العباس شهابَ الدين أحمد بن عبد الله بن أحمد البعلي
(4) الأصل والشهرة الدمشقي الحنبلي مفتي السادة الحنابلة بدمشق الشام، وحضرت غالب دروسه الفقهية في حجرته داخل الخانقاه السميساتية
(5)، وأجازني به وبسائر مروياته ومؤلفاته وتحريراته بعد أن أسمعني المسلسل بالأولية والآخرية، وهو آخذه عن جماعة أئمة منهم: والده عبد الله وجده أحمد المذكوران، وشيخ الإسلام محمد أبو المواهب الحنبلي، وأبو التقى عبد القادر التغلبي الدمشقي مفتي الحنابلة بعد شيخه أبي المواهب ومنهم الفاضل محمد بن عبد الجليل المواهبي، والشيخ مصطفى بن عبد الحق اللبدي، والفقيه عواد بن عبيد الكوري الحنبلي نزيلُ دمشق، قال: من الثلاثة الأخيرون والأول وهم المواهي واللبدي والكوري والبعلي أخذنا الفقه وتفقهنا على الشيخ أبي المواهب
--------------------------------------------
বিশেষ করে বর্তমান সময়ে। আমার উদ্দেশ্য কেবল এই পবিত্র দলের মহৎ গুণাবলি ও কীর্তিগাঁথা প্রচার করা এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁদের নিকট থেকে সাহায্য প্রার্থনা করা। যাঁর হাতে সকল কল্যাণ রয়েছে, আমার ভরসা ও নির্ভরতা কেবল তাঁরই ওপর। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
[হাম্বলি ফিকহ শাস্ত্রে লেখকের সনদ]মূল বিষয়ে প্রবেশের পূর্বে হাম্বলি ফিকহ শাস্ত্রে আমার সনদ উপস্থাপন করার চিন্তা আমার মনে উদয় হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো এর উস্তাদগণের স্মরণের মাধ্যমে বরকত লাভ করা এবং এর বিদগ্ধ মনীষীদের নাম উল্লেখের মাধ্যমে সৌভাগ্য অন্বেষণ করা। সুতরাং আমি বলছি:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর; আমি হাম্বলি মাযহাবের ফিকহ গ্রহণ করেছি এবং বর্ণনা করেছি আমার শায়খ ও উস্তাদ, ইমাম, আমলকারী আলিম, মহান ব্যক্তিত্ব, যুগের অদ্বিতীয় ও অনন্য নক্ষত্র, শায়খুল ইসলাম, সূফি ইমাম, ইবাদতগুজার ও দুনিয়াবিমুখ আবিদ আবুল আব্বাস শিহাবুদ্দিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-বালি—মূলত ও পরিচিতিতে যিনি দামেশকি হাম্বলি—যিনি সিরিয়ার দামেশকে হাম্বলিগণের মুফতি ছিলেন। সুমাইসাতিয়া খানকাহর ভেতরে অবস্থিত তাঁর প্রকোষ্ঠে তাঁর অধিকাংশ ফিকহী দরসে আমি উপস্থিত হয়েছি। তিনি আমাকে ‘আল-মুসালসাল বিল আওয়ালিইয়াহ ওয়াল আখিরিইয়াহ’ শোনানোর পর এই শাস্ত্রের এবং তাঁর অন্যান্য সকল বর্ণনা, রচনা ও পাণ্ডুলিপির অনুমতি প্রদান করেছেন। তিনি (আমার শায়খ) একদল ইমামের নিকট থেকে তা গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ এবং তাঁর দাদা আহমাদ—যাঁদের কথা উল্লিখিত হয়েছে; এবং শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ আবু আল-মাওয়াহিব আল-হাম্বলি; এবং আবুল তুকা আব্দুল কাদির আত-তাগলিবি আদ-দামেশকি—যিনি তাঁর শায়খ আবু আল-মাওয়াহিবের পর হাম্বলিদের মুফতি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন ফাযিল মুহাম্মদ বিন আব্দুল জলিল আল-মাওয়াহিবি, শায়খ মুস্তাফা বিন আব্দুল হক আল-লাবাদি এবং ফকিহ আউওয়াদ বিন উবাইদ আল-কুরি আল-হাম্বলি, যিনি দামেশকে বসবাসকারী ছিলেন। তিনি বলেছেন: শেষোক্ত তিনজন এবং প্রথমজন—অর্থাৎ আল-মাওয়াহিবি, আল-লাবাদি, আল-কুরি এবং আল-বালি—আমরা সকলে শায়খ আবু আল-মাওয়াহিবের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছি এবং ফিকহে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
والشيخ عبد القادر، زاد الأول فقال: وعن والدي الشهاب أحمد وأخذ الشيخ عبد القادر التغلبي عن أبي المواهب، وتفقه كل من الشيخ أبي المواهب والشيخ عبد القادر التغلبي والشهاب أحمد على الشيخ الإمام عبد الباقي بن عبد الباقي مفتي الحنابلة بدمشق والد أبي المواهب، وعلى قدوة الحنابلة في زمانه علمًا وعملًا أبي عبد الله محمد بن بدر الدين البلباني الدمشقي الصالحي وهما تفقها بالشيخ الإمام شيخ الإسلام الشهاب أحمد بن علي الوفائي المفلحي [3 - ب]، وهو عن العلامة شرف الدين موسى بن أحمد بن موسى بن سالم الحجاوي صاحب (الإقناع) والقاضي برهان الدين إبراهيم بن مفلح، وتفقه كل من الحجاوي والبرهان على والد البرهان، هو الإمام نجم الدين بن مفلح، زاد الأول فقال: وعلى الشهاب أحمد بن أحمد بن أحمد الشويكي الصالحي، قال الشويكي: أخذت الفقه عن العلامة شهاب الدين أحمد بن عبد الله العُكري بضم العين المقدسي ثم الصالحي وتفقه العُكري بشيخ الإسلام مصحح المذهب ومقرب المأرب القاضي علاء الدين علي بن سليمان المرداوي المقدسي، وهو تفقه بالعلامة تقي الدين أبي بكر بن إبراهيم بن قندس البعلي، وهو تفقه بالشيخ العلامة علي بن محمد بن عباس البعلي المشهور بابن اللحام صاحب القواعد الأصولية، وتفقه ابن اللحام بالشيخ الإمام الحافظ المحقق زين الدين عبد الرحمن بن أحمد بن رجب البغدادي صاحب الطبقات، وهو تفقه بعلامة الدنيا على الإطلاق شمس الدين محمد بن أبي بكر بن أيّوب الزرعي الدمشقي المعروف بابن قيم الجوزية، وهو تفقه بشيخ الإسلام بحر العلوم المحقق المدقق أبي العباس تقي الدين أحمد بن تيمية الدمشقي.
(ح) وتفقه القاضي نجم الدين بن مفلح بوالده القاضي برهان الدين صاحب الفروع، وهو عن جده شرف الدين عبد الله بن مفلح والشيخ تقي
এবং শায়খ আব্দুল কাদির; প্রথমজন অতিরিক্ত বর্ণনা করে বলেন: এবং আমার পিতা শিহাব আহমাদ থেকে। শায়খ আব্দুল কাদির আত-তাগলিবি আবুল মাওয়াহিব থেকে (ইলম) গ্রহণ করেছেন। শায়খ আবুল মাওয়াহিব, শায়খ আব্দুল কাদির আত-তাগলিবি এবং শিহাব আহমাদ—তাঁরা প্রত্যেকেই দামেস্কের হাম্বলি মুফতি এবং আবুল মাওয়াহিবের পিতা শায়খ ইমাম আব্দুল বাকি বিন আব্দুল বাকির নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন। এবং তাঁরা তাঁর সমসাময়িককালে ইলম ও আমলে হাম্বলিদের আদর্শ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন বদর উদ্দিন আল-বালবানি আদ-দিমাশকি আস-সালিহির নিকটও শিক্ষালাভ করেন। তাঁরা উভয়ে শায়খ ইমাম শায়খুল ইসলাম শিহাব আহমাদ বিন আলি আল-ওয়াফায়ি আল-মুফলিহি [৩-খ] এর নিকট ফিকহ অর্জন করেছেন। তিনি আল্লামা শরাফ উদ্দিন মুসা বিন আহমাদ বিন মুসা বিন সালিম আল-হাজ্জাউয়ি (আল-ইকনা’ গ্রন্থের লেখক) এবং কাজি বুরহান উদ্দিন ইবরাহিম বিন মুফলিহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-হাজ্জাউয়ি এবং বুরহান উভয়েই বুরহানের পিতা ইমাম নাজমুদ্দিন বিন মুফলিহের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন। প্রথমজন আরও যোগ করে বলেন: এবং শিহাব আহমাদ বিন আহমাদ বিন আহমাদ আশ-শুওয়ায়কি আস-সালিহির নিকটও। আশ-শুওয়ায়কি বলেন: আমি আল্লামা শিহাব উদ্দিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-উকরি (আইন বর্ণে পেশসহ)—যিনি মাকদিসি এবং পরবর্তীতে সালিহি—তাঁর নিকট থেকে ফিকহ গ্রহণ করেছি। আল-উকরি শায়খুল ইসলাম, মাযহাবের সংশোধনকারী এবং লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক কাজি আলাউদ্দিন আলি বিন সুলাইমান আল-মারদাওয়ি আল-মাকদিসির নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন। তিনি আল্লামা তাকি উদ্দিন আবু বকর বিন ইবরাহিম বিন কুনদুস আল-বালির নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন। তিনি শায়খ আল্লামা আলি বিন মুহাম্মাদ বিন আব্বাস আল-বালি—যিনি ইবনুল লাহহাম নামে প্রসিদ্ধ এবং আল-কাওয়ায়িদুল উসুলিয়া গ্রন্থের লেখক—তাঁর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন। ইবনুল লাহহাম শায়খ ইমাম হাফেজ গবেষক জয়নুদ্দিন আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন রজব আল-বাগদাদি (আত-তাবাকাত গ্রন্থের লেখক) এর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন। তিনি জগতের অপ্রতিদ্বন্দ্বী আল্লামা শামসুদ্দিন মুহাম্মাদ বিন আবু বকর বিন আইয়ুব আজ-যারয়ি আদ-দিমাশকি—যিনি ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ নামে পরিচিত—তাঁর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন। এবং তিনি শায়খুল ইসলাম, ইলমের সমুদ্র, সূক্ষ্ম বিশ্লেষক আবু আব্বাস তাকি উদ্দিন আহমাদ বিন তাইমিয়্যাহ আদ-দিমাশকির নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন।
(হা) এবং কাজি নাজমুদ্দিন বিন মুফলিহ তাঁর পিতা আল-ফুরু’ গ্রন্থের লেখক কাজি বুরহান উদ্দিনের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন, তিনি তাঁর দাদা শরাফ উদ্দিন আব্দুল্লাহ বিন মুফলিহ এবং শায়খ তাকি... থেকে।
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
الدين بن تيمية. زاد الشرف بن مفلح فقال: وعن جدي قاضي القضاة جمال الدين المرداوي عن التقي سليمان بن حمزة، وهو عن الشيخ شمس الدين بن أبي عمر، وهو عن عمه الشيخ موفق الدين بن قدامة.
(ح) وتفقه التقي بن تيمية على كل من شيخي الإسلام عبد الحليم وقاضي القضاة شمس الدين عبد الرحمن بن أبي عمر، وتفقه الأول منهما بوالده شيخ الإسلام مجد الدين أبي البركات عبد السلام بن تيمية الحراني وهو تفقه بجماعة منهم الفخر اسماعيل البغدادي وأبو بكر بن الحلاوي، وتفقه الثاني بعمه الولي الكامل العارف شيخ الإسلام الشيخ موفق الدين بن قدامة العمري الجَمَّاعيلي جد الفقير مؤلف هذا الكتاب، وتفقه كل من الموفق بن قدامة والفخر إسماعيل وابن الحلاوي بقطب المذهبين عريق النسبين الإمام الرباني والعارف الصمداني سيدي الشيخ عبد القادر الكيلاني قدس الله سره العزيز، وبناصح الإسلام أبي النصح ابن المنى الذي قال في حقه الشيخ الإمام ناصح الإسلام ابن المنيل: فقهاء الحنابالة اليوم في سائر البلاد يرجعون إليه وإلى أصحابه، قال العلامة ابن رجب قلت: وإلى يومنا هذا الأمر على ذلك فإن أهل زماننا إنما يرجعون في الفقه من جهة [4 - آ] الشيوخ والكتب إلى الشيخين موفق الدين المقدسي ومجد الدين بن تيمية الحراني. فأما الموفق فهو تلميذ ابن المنى، وأما ابن تيمية فهو تلميذ الحلاوي. زاد الموفق فقال: وأخذت الفقه عن الإمام الحافظ أبي الفرج عبد الرحمن بن الجوزي، وتفقه كل من الأستاذ عبد القادر الكيلاني والحافظ عبد الرحمن بن الجوزي والإمام ناصح الإسلام ابن المنى بكل من الإمام أبي الوفا علي بن عقيل والإمام أبي الخطاب محفوظ الكلوذاني، والإمام أبي بكر بن الدينوري وغيرهم، وتفقه كلٌّ من هؤلاء الثلاثة بشيخ الإسلام القاضي أبي يعلى، وهو تفقه بشيخ الإسلام أبي
দ্বীন ইবনে তাইমিয়্যাহ। আশ-শারাফ ইবনে মুফলিহ আরও বর্ণনা করেন: এবং আমার দাদা কাযীউল কুযাত জামালুদ্দীন আল-মারদাভী থেকে বর্ণিত, তিনি আত-তাকী সুলাইমান ইবনে হামযাহ থেকে, তিনি শাইখ শামসুদ্দীন ইবনে আবি উমর থেকে, এবং তিনি তাঁর চাচা শাইখ মুওয়াফফাকুদ্দীন ইবনে কুদামা থেকে।
(হা) এবং আত-তাকী ইবনে তাইমিয়্যাহ ফিকহ শিক্ষা করেছেন শাইখুল ইসলাম আবদুল হালীম এবং কাযীউল কুযাত শামসুদ্দীন আবদুর রহমান ইবনে আবি উমর—উভয়ের নিকট। তাদের মধ্যে প্রথমজন তাঁর পিতা শাইখুল ইসলাম মাজদুদ্দীন আবুল বারাকাত আবদুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানীর নিকট ফিকহ অর্জন করেন। আর তিনি একদল আলিমের নিকট ফিকহ শিখেছেন যাদের মধ্যে আল-ফাখর ইসমাঈল আল-বাগদাদী এবং আবু বকর ইবনুল হাল্লাভী অন্তর্ভুক্ত। এবং দ্বিতীয়জন ফিকহ অর্জন করেছেন তাঁর চাচা—যিনি অলি-ই-কামিল, আরিফ এবং শাইখুল ইসলাম—শাইখ মুওয়াফফাকুদ্দীন ইবনে কুদামা আল-উমারী আল-জাম্মায়িলীর নিকট, যিনি এই গ্রন্থের লেখক অধমের দাদা। এবং মুওয়াফফাক ইবনে কুদামা, আল-ফাখর ইসমাঈল এবং ইবনুল হাল্লাভী—তারা প্রত্যেকেই ফিকহ অর্জন করেছেন উভয় মাযহাবের দিকপাল, কুলীন বংশের অধিকারী, ইমাম রাব্বানী এবং আরিফে সামদানী সাইয়্যিদী শাইখ আবদুল কাদির আল-কিলানীর নিকট, আল্লাহ তাঁর পবিত্র রহস্যকে মহিমান্বিত করুন। এবং নাসিহুল ইসলাম আবুল নাসহ ইবনুল মুনার নিকট, যাঁর সম্পর্কে শাইখ ইমাম নাসিহুল ইসলাম ইবনুল মুনাইল বলেছেন: "বর্তমানে সমস্ত ভূখণ্ডের হাম্বলী ফকীহগণ তাঁর এবং তাঁর সাথীদের দিকেই ফিরে যান।" আল্লামা ইবনে রাজাব বলেন, আমি বলছি: আমাদের আজ পর্যন্ত বিষয়টি এমনই রয়েছে; কারণ আমাদের সময়ের লোকেরা ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে উস্তাদ ও কিতাবের দিক থেকে [৪-ক] দুই শাইখ—মুওয়াফফাকুদ্দীন আল-মাকদিসী এবং মাজদুদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানীর—উপরই নির্ভর করেন। মুওয়াফফাক হলেন ইবনুল মুনার ছাত্র, আর ইবনে তাইমিয়্যাহ হলেন আল-হাল্লাভীর ছাত্র। মুওয়াফফাক আরও যোগ করেছেন: আমি ফিকহ গ্রহণ করেছি ইমাম হাফিজ আবুল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনুল জাওযীর নিকট থেকে। এবং উস্তাদ আবদুল কাদির আল-কিলানী, হাফিজ আবদুর রহমান ইবনুল জাওযী এবং ইমাম নাসিহুল ইসলাম ইবনুল মুনা—তারা প্রত্যেকেই ফিকহ অর্জন করেছেন ইমাম আবুল ওয়াফা আলী ইবনে আকীল, ইমাম আবুল খাত্তাব মাহফূয আল-কালওয়াযানী এবং ইমাম আবু বকর ইবনে আদ-দিনাওয়ারী ও অন্যান্যদের নিকট। এবং এই তিনজন আলিমই শাইখুল ইসলাম কাযী আবু ইয়া'লার নিকট ফিকহ শিখেছেন, আর তিনি ফিকহ শিখেছেন শাইখুল ইসলাম আবু...
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
عبد الله بن حامد، وهو تفقه بالإمام أبي بكر عبد العزيز المعروف بغلام الخلّال، وهو تفقه بشيخه أبي بكر الخلّال، وهو تفقه بالإمام أبي بكر المروزي، وهو تفقه بالإمام الأعظم والهمام المقدم العالم الرباني والهيكل الصمداني أبي عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني، وهو تفقه بجماعة منم: سفيان بن عيينة والإمام الأعظم أبي عبد الله محمد بن إدريس الشافعي، والإمام أبي يوسف تلميذ الإمام أبي حنيفة، وتفقه ابن عيينة بجماعة منم: عمرو بن دينار، عن ابن عمر وابن عباس رضي الله تعالى عنهما وعن أبويهما، وهما عن سيد الخلائق أجمعين ورسول رب العالمين، وقائد الغرّ المحجَّلين أبي القاسم محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم صلى الله عليه وسلم، وهو عن أمين الوحي جبريل وهو عمن ليس كمثله شيء رب العالمين تبارك وتعالى.
* * * * * *
ولي في الفقه سند آخر فأقول: أجازني مكتبة من مدينة نابلس الشيخ الإمام العلامة الفهامة محمد بن أحمد السفاريني النابلسي الحنبلي بالفقه الشريف وبسائر ما يجوز له روايته باستدعاء بعض الفضلاء، والسفاريني أخذ الفقه دراية ورواية عن خاتمة الحنابلة بدمشق صدر الإسلام عبد القادر بن عمر التغلبي الشيباني الدمشقي، وهو أخذ الفقه عن العلامة تقي الدين عبد الباقي بن عبد الباقي مفتي السادة الحنابلة بدمشق وهو أخذه عن الإمام أبي اليمن عبد الرحمن البهوتي المصري، وهو عن الإمام تقي الدين محمد بن أحمد الفتوحي، عن والده العلامة الشيخ شهاب الدين أحمد بن عبد العزيز الفتوحي الشهير بابن النجار، وهو عن العلامة أبي حامد شهاب الدين أحمد بن علي بن أحمد الشيشيني القاهري قاضي القضاة بالديار المصرية، عن القاضي نصر الله بن أحمد الكناني القاهري، عن المجال عبد الله ابن [4 - ب]
আবদুল্লাহ বিন হামিদ, তিনি ফিকহ শিক্ষা করেছেন ইমাম আবু বকর আবদুল আজিজের নিকট, যিনি গোলাম আল-খাল্লাল নামে পরিচিত। তিনি ফিকহ শিক্ষা করেছেন তাঁর উস্তাদ আবু বকর আল-খাল্লালের নিকট। তিনি ফিকহ শিক্ষা করেছেন ইমাম আবু বকর আল-মারওয়াযীর নিকট। তিনি ফিকহ শিক্ষা করেছেন ইমামে আজম, মহান বীর, রাব্বানি আলেম এবং সমদানি ব্যক্তিত্ব আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানীর নিকট। তিনি একদল মনীষীর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ, ইমামে আজম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফিঈ এবং ইমাম আবু হানিফার ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ। ইবনে উয়াইনাহ একদল মনীষীর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আমর বিন দিনার, তিনি ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি ও তাঁদের পিতা-মাতার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন। তাঁরা উভয়ে সমস্ত সৃষ্টির সরদার, রাব্বুল আলামীনের রাসূল এবং হাশরের ময়দানে উজ্জ্বল মুখ ও হাত-পা বিশিষ্ট মুমিনদের নেতা আবু আল-কাসিম মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি ওহীর বিশ্বস্ত জিবরাঈল থেকে এবং তিনি সেই সত্তা থেকে যাঁর সদৃশ কিছুই নেই, যিনি রাব্বুল আলামীন, বরকতময় ও সুউচ্চ।
* * * * * *
ফিকহ শাস্ত্রে আমার আরও একটি সনদ রয়েছে, আমি বলছি: নাবলুস শহরের একটি গ্রন্থাগার থেকে শেখ ইমাম আল্লামা সুপণ্ডিত মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সাফারিনী আন-নাবলুসী আল-হাম্বলী আমাকে সম্মানিত ফিকহ এবং তাঁর বর্ণনার অনুমতিপ্রাপ্ত অন্য সকল বিষয়ে কতিপয় গুণী ব্যক্তির আবেদনে ইজাযত প্রদান করেছেন। আস-সাফারিনী দামেস্কের হাম্বলীগণের শেষ আলেম, সদরে ইসলাম আবদুল কাদির বিন উমর আত-তাগলিবী আশ-শাইবানী আদ-দিমাশকী-এর নিকট থেকে পঠন ও বর্ণনার মাধ্যমে ফিকহ গ্রহণ করেছেন। তিনি ফিকহ গ্রহণ করেছেন দামেস্কের হাম্বলী সর্দারদের মুফতি আল্লামা তাকীউদ্দিন আবদুল বাকি বিন আবদুল বাকি-এর নিকট থেকে। তিনি তা গ্রহণ করেছেন ইমাম আবু আল-ইয়ামান আবদুর রহমান আল-বাহুতী আল-মিসরী-এর নিকট থেকে। তিনি ইমাম তাকীউদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-فুতুহী থেকে, তিনি তাঁর পিতা আল্লামা শেখ শিহাবউদ্দিন আহমদ বিন আবদুল আজিজ আল-ফুতুহী থেকে—যিনি ইবনুন নাজ্জার নামে পরিচিত। তিনি আল্লামা আবু হামিদ শিহাবউদ্দিন আহমদ বিন আলী বিন আহমদ আশ-শাশীনী আল-কাহেরী—যিনি মিসর অঞ্চলের প্রধান বিচারপতি ছিলেন—তাঁর থেকে। তিনি বিচারপতি নাসরুল্লাহ বিন আহমদ আল-কিনানী আল-কাহেরী থেকে, তিনি আল-মুজাল আবদুল্লাহ ইবনে [৪ - খ]
(খণ্ড: ১)
আন-নাআতুল আকমাল লি আসহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
القاضي علاء الدين علي الكناني، عن العلامة أبي الحسين علي بن محمد الفرضي الدمشقي، عن الفخر علي بن أحمد بن البخاري الدمشقي الصالحي، عن محمد الرصافي الكبر، عن أبي القاسم هبة الله بن الحسين، عن التميمي الواعظ عن الإمام أبي جعفر القطيعي عن الإمام الكبير عبد الله بن سيدنا الامام أحمد بن حنبل الشيباني، عن أبيه ناصر السنة وقامع البدعة أحمد بن حنبل عن الإمام سفيان بن عيينة، عن عمرو بن دينار، عن سيدنا عبد الله عن عمر وسيدنا عبد الله بن عباس رضي الله تعالى عنهما وعن والديهما عن سيد الخلائق وجمال المذاهب والطرائق أَوّلِ خلق الله وخاتمِ أنبياء الله، محمدِ بن عبد الله ذي الفضل الكثير الكبير بلا ارتياب ولا اشتباه صلى الله عليه وسلم وعلى آله وأصحابه الكرام البررة الثقات، وسيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم تلقى ذلك عن أمين الوحي جبريل، وهو عن رب العالين وخالق الخلائق أجمعين جلّت أسماؤه وتباركت صفاته التي ظهرت بها أرضه وسماؤه.
هذا ولنا شيوخ آخرون من السادة الحنابلة، لهم أسانيد عالية، وروايات غالية، وفيما ذكرناه كفاية، لأولي الدراية والرواية، والله يقول الحق وهو يهدي السبيل، وعليه لا على غيره قصد السبيل، ولنشرع في ترجمة الامام الكبير
(6) صاحب المقام الخطير، وذكر بعض مناقبه التي انطوى عليها تبركًا
--------------------------------------------
কাযী আলাউদ্দীন আলী আল-কিনানী, আল্লামা আবুল হুসাইন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-ফারাযী আদ-দিমাশকী থেকে, তিনি ফাখর আলী বিন আহমদ বিন আল-বুখারী আদ-দিমাশকী আস-সালিহী থেকে, তিনি মুহাম্মাদ আর-রাসাফী আল-কিবর থেকে, তিনি আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আল-হুসাইন থেকে, তিনি আত-তামীমী আল-ওয়ায়েজ থেকে, তিনি ইমাম আবু জাফর আল-কাতীঈ থেকে, তিনি মহান ইমাম আমাদের নেতা ইমাম আহমদ বিন হাম্বল আশ-শায়বানীর পুত্র আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা সুন্নাহর সাহায্যকারী ও বিদআতের মূলোৎপাটনকারী আহমদ বিন হাম্বল থেকে, তিনি ইমাম সুফিয়ান বিন উয়াইনা থেকে, তিনি আমর বিন দীনার থেকে, তিনি আমাদের নেতা আবদুল্লাহ বিন উমর এবং আমাদের নেতা আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের এবং তাঁদের পিতা-মাতার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তাঁরা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা, মাযহাব ও তরীকাসমূহের সৌন্দর্য, আল্লাহর সৃষ্টির আদি এবং আল্লাহর নবীগণের মোহর মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ (যিনি নিঃসন্দেহে এবং সংশয়হীনভাবে মহত্তম ও সুবিশাল শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী) থেকে (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর এবং তাঁর সম্মানিত, পুণ্যবান ও নির্ভরযোগ্য পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর বর্ষিত হোক), এবং আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা ওহীর আমানতদার জিবরীল থেকে গ্রহণ করেছেন, আর তিনি জগতসমূহের প্রতিপালক এবং সকল সৃষ্টির স্রষ্টা (যাঁঁঁর নামসমূহ মহিমান্বিত এবং যাঁর গুণাবলী বরকতময়, যাঁর দ্বারা তাঁর পৃথিবী ও আকাশ প্রকাশিত হয়েছে) থেকে লাভ করেছেন।
এ ছাড়াও হাম্বলী মাশায়েখদের মধ্যে আমাদের আরও অনেক উস্তাদ রয়েছেন, যাঁদের সনদসমূহ সুউচ্চ এবং বর্ণনাগুলো অত্যন্ত মূল্যবান। আমরা যা উল্লেখ করেছি, তা তত্ত্বগত জ্ঞান ও বর্ণনার অধিকারীদের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ সত্য কথা বলেন এবং তিনিই সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, তাঁর কাছেই সঠিক পথের প্রত্যাশা করা হয়, অন্য কারো কাছে নয়। এখন আমরা সেই মহান ইমামের জীবনী আলোচনা শুরু করব, যিনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, এবং বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে তাঁর চরিত্রের কিছু অংশ উল্লেখ করব।
--------------------------------------------