(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: -)
حاشية الدسوقي على مختصر المعاني القسم: البلاغة
الكتاب: حاشية الدسوقي على مختصر المعاني لسعد الدين التفتازاني (ت 792 هـ) [ومختصر السعد هو شرح تلخيص مفتاح العلوم لجلال الدين القزويني]
المؤلف: محمد بن عرفة الدسوقي
المحقق: عبد الحميد هنداوي
الناشر: المكتبة العصرية، بيروت
عدد الأجزاء: 1
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 جُمادَى الآخرة 1440
মুখতাসার আল-মা’আনী-এর ওপর আদ-দসুযকী-র হাশিয়া বা টীকা বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র
বই: সা’দ আদ-দীন আত-তাফতাযানী (মৃত্যু ৭৯২ হিজরি) রচিত 'মুখতাসার আল-মা’আনী'-এর ওপর আদ-দসুযকী-র হাশিয়া বা টীকা [এবং সা’দ-এর মুখতাসার হলো জালাল আদ-দীন আল-কাসভীনী রচিত 'তালখীস মিফতাহুল উলুম'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ]
লেখক: মুহাম্মাদ বিন আরাফাহ আদ-দসুযকী
সম্পাদক: আব্দুল হামিদ হিন্দাবি
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ, বৈরুত
খণ্ড সংখ্যা: ১
শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিত্বাতুন নুসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (সুলাইমান আর-রাজহি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন)
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ৩)
تقديمالحمد لله والصلاة والسّلام على رسوله صلى الله عليه وسلم، وبعد: فقد بدأنا هذه السلسلة من تحقيق هذا التراث البلاغى المطمور من شروح" التلخيص" بإخراج كتاب" عروس الأفراح" للسبكي، ثم ثنينا بهذا الكتاب إنجازا لما وعدنا به من محاولة إخراج هذا التراث فى ثوب قشيب جديد، يساعد الباحث على استجلاء خير ما فيه، والوقوف على بغيته من قضايا البلاغة ومسائلها.
والحقيقة أن معين البلاغة لا ينضب، وأن كتب التراث مهما تباعد زمانها فلا يزال الباحثون المعاصرون يجدون فيها كثيرا مما يوافق أحدث النظريات والبحوث العلمية، وهذا يجعلنا نعكف على قراءة هذا التراث بشيء من التأنى والتؤدة؛ بغية تأصيل كثير من القضايا المعاصرة.
والحق الذى لا مرية فيه- وهو ما أكده كثير من الدارسين العقلاء- أننا إذا أردنا نهضة علمية صحيحة تمثل هويتنا وذاتنا العربية الإسلامية، فلا بد لهذه النهضة أن تقوم على أمرين:
1 - العكوف على دراسة التراث وهضمه وتمثله.
2 - إعادة النظر فى ذلك التراث فى ضوء أطروحات العصر، ومحاولة الانطلاق من روح ذلك التراث ومفاهيمه دون التقيد الحرفى بتطبيقاته؛ للوصول إلى رؤية حديثة تجمع بين الأصالة والمعاصرة.
وبغير هذا الصنيع فلن نكون جديرين باحترام الآخرين لنا؛ ذلك لأن الآخر لن ينظر إلينا بعين التقدير والاحترام إذا نظر فيما نقدمه فقال: هذِهِ بِضاعَتُنا رُدَّتْ إِلَيْنا وإنما سوف نكون جديرين باحترام الناس جميعا إذا وجدوا لدينا ما نتميز به، وما يعبر عن ذواتنا وهوياتنا المغايرة لذواتهم وآرائهم وما هم عليه، فحينئذ سيكون أدبنا وبلاغتنا ونقدنا وسائر علومنا جديرة بأن يقرأها الآخرون؛ لأنهم سوف يجدون فيها ما ليس عندهم.
أما وهم لا يجدون فى كتاباتنا إلا صورة مشوهة لآداب الغرب وعلومه، فليس فى ذلك إلا ما يدعو للسخرية والنفور!
المحقق
উপস্থাপনাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর: আমরা 'তালখীস'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের এই লুক্কায়িত অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ঐতিহ্য সম্পাদনার ধারাবাহিকতা শুরু করেছিলাম সুবকির 'আরুসুল আফরাহ' গ্রন্থটি প্রকাশের মাধ্যমে। এরপর আমরা এই গ্রন্থটি প্রকাশ করে আমাদের সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করছি, যেখানে আমরা এই ঐতিহ্যকে একটি নতুন ও পরিচ্ছন্ন অবয়বে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি, যা গবেষককে এর ভেতরের শ্রেষ্ঠত্ব উন্মোচন করতে এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয় ও মাসআলা সম্পর্কে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।
প্রকৃতপক্ষে অলঙ্কারশাস্ত্রের উৎসধারা কখনো শুকিয়ে যায় না। ঐতিহ্যের বইগুলো যতই প্রাচীন হোক না কেন, সমসাময়িক গবেষকরা এখনও সেগুলোর মধ্যে আধুনিক তত্ত্ব ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার সাথে মিল সম্পন্ন অনেক কিছুই খুঁজে পান। এটি আমাদের এই ঐতিহ্যকে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে ও গভীর মনোযোগের সাথে পাঠ করতে উদ্বুদ্ধ করে; যাতে অনেক সমসাময়িক বিষয়ের মূল ভিত্তি অন্বেষণ করা সম্ভব হয়।
আর যে ধ্রুব সত্যে কোনো সন্দেহ নেই—এবং যা অনেক প্রাজ্ঞ গবেষকও নিশ্চিত করেছেন—তাহলো আমরা যদি আমাদের আরব-ইসলামী পরিচয় ও সত্তার প্রতিনিধিত্বকারী একটি সঠিক জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণ চাই, তবে সেই জাগরণকে অবশ্যই দুটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে:
১ - ঐতিহ্যের অধ্যয়নে মনোনিবেশ করা, তা আত্মস্থ করা এবং তার প্রতিফলন ঘটানো।
২ - বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে সেই ঐতিহ্যের পুনর্বিবেচনা করা এবং এর আক্ষরিক প্রয়োগে সীমাবদ্ধ না থেকে এর মূল চেতনা ও ধারণা থেকে যাত্রা শুরু করার চেষ্টা করা; যাতে মৌলিকত্ব ও আধুনিকতার সমন্বয়ে একটি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
এই কর্মপন্থা ব্যতীত আমরা অন্যদের শ্রদ্ধার পাত্র হতে পারব না। কারণ, অন্যরা আমাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানের দৃষ্টিতে তাকাবে না যদি তারা আমাদের উপস্থাপিত বিষয়ের দিকে তাকিয়ে বলে: 'এগুলো তো আমাদেরই পণ্য যা আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।' বরং আমরা সকল মানুষের শ্রদ্ধার যোগ্য তখনই হব যখন তারা আমাদের কাছে এমন কিছু পাবে যা আমাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত এবং যা আমাদের নিজস্ব সত্তা ও পরিচয়ের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়—যা তাদের সত্তা, মতবাদ ও অবস্থান থেকে ভিন্ন। তখনই আমাদের সাহিত্য, অলঙ্কারশাস্ত্র, সমালোচনা এবং অন্যান্য সকল শাস্ত্র অন্যদের পাঠ করার যোগ্য বিবেচিত হবে; কারণ তখন তারা এতে এমন কিছু খুঁজে পাবে যা তাদের কাছে নেই।
কিন্তু তারা যদি আমাদের লেখায় পাশ্চাত্যের সাহিত্য ও বিজ্ঞানের একটি বিকৃত রূপ ছাড়া আর কিছুই না পায়, তবে তাতে উপহাস ও ঘৃণা উদ্রেক করা ছাড়া আর কিছুই অর্জিত হবে না!
সম্পাদক
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ৪)
ترجمة جلال الدين القزوينى صاحب" التلخيص"
اسمه ونسبه:هو محمد بن عبد الرحمن بن عمر بن أحمد بن محمد بن عبد الكريم بن الحسن بن على بن إبراهيم بن على بن أحمد بن دلف بن أبى دلف، العجلى القزوينى، جلال الدين أبو المعالى بن سعد الدين بن أبى القاسم بن إمام الدين، الشافعى العلامة.
ولادته ونشأته:ولد سنة 666 هـ، وسكن الروم مع والده وأخيه، واشتغل وتفقه حتى ولى قضاء ناحية بالروم وله دون العشرين، ثم قدم هو وأخوه أيام التتر من بلادهم إلى دمشق.
صفته:كان فهما ذكيّا مفوها حسن الإيراد جميل الذات والهيئة والمكارم، وكان جميل المحاضرة حسن الملتقى حلو العبارة حاد الذهن جيد البحث منصفا، فيه مع الذكاء والذوق فى الأدب حسن الخط.
وكان جوادا صرف مال الأوقاف على الفقراء والمحتاجين. وكان مليح الصورة، فصيح العبارة، موطأ الأكناف، جم الفضيلة، يحب الأدب ويحاضر به ويستحضر نكته.
طلبه للعلم ومشايخه:سمع من العز الفاروتى (1) وطائفة وأخذ عن الأيكى وغيره، وخرج له البرزالى جزءا من حديثه وحدث به، وتفقه واشتغل فى الفنون وأتقن الأصول والعربية والمعانى والبيان.
--------------------------------------------
"আল-তাখলিস" প্রণেতা জালালুদ্দিন আল-কাযউইনীর জীবনীতাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন উমর বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম বিন আল-হাসান বিন আলী বিন ইব্রাহিম বিন আলী বিন আহমাদ বিন দুলাফ বিন আবি দুলাফ, আল-ইজলি আল-কাযউইনী, জালালুদ্দিন আবুল মাআলি বিন সা'দুদ্দিন বিন আবিল কাসিম বিন ইমামুদ্দিন, প্রাজ্ঞ শাফেয়ী আলেম।
তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:তিনি ৬৬৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর পিতা ও ভাইয়ের সাথে রোম (আনাতোলিয়া) অঞ্চলে বসবাস করেন। সেখানে তিনি জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন এবং ফিকহশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন, এমনকি বিশ বছর বয়সের আগেই তিনি রোমের একটি অঞ্চলের বিচারপতির দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। অতঃপর তাতারদের (মোঙ্গল) আক্রমণের যুগে তিনি ও তাঁর ভাই নিজ দেশ থেকে দামেস্কে আগমন করেন।
তাঁর গুণাবলী:তিনি ছিলেন অত্যন্ত সমঝদার, মেধাবী, বাগ্মী, চমৎকার উপস্থাপক এবং তাঁর সত্তা, অবয়ব ও নৈতিকতা ছিল অত্যন্ত সুন্দর। তিনি মনোজ্ঞ আলোচনা করতেন, বন্ধুসুলভ ছিলেন, তাঁর প্রকাশভঙ্গি ছিল সুমিষ্ট, তিনি প্রখর মেধা ও উন্নতমানের গবেষণার অধিকারী এবং অত্যন্ত ন্যায়নিষ্ঠ ছিলেন। মেধা ও সাহিত্যের রুচির পাশাপাশি তাঁর হস্তাক্ষরও ছিল অত্যন্ত সুন্দর।
তিনি অত্যন্ত দানশীল ছিলেন এবং ওয়াকফকৃত অর্থ দরিদ্র ও অভাবীদের জন্য ব্যয় করতেন। তিনি দেখতে সুন্দর ছিলেন, তাঁর ভাষা ছিল প্রাঞ্জল, তিনি ছিলেন অমায়িক ও বিনয়ী এবং মহৎ গুণের আধার। তিনি সাহিত্য পছন্দ করতেন, সাহিত্যের দরস দিতেন এবং এর সূক্ষ্ম ও কৌতুকপূর্ণ বিষয়গুলো স্মরণ রাখতেন।
তাঁর ইলম অর্জন ও উস্তাদগণ:তিনি ইজ্জ আল-ফারুতী (১) ও একদল আলেমের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং আল-আইকী ও অন্যদের নিকট থেকে জ্ঞান লাভ করেছেন। আল-বিরযালী তাঁর বর্ণিত হাদীসসমূহের একটি অংশ সংকলন করেছেন এবং তিনি তা বর্ণনা করেছেন। তিনি ফিকহ অর্জন করেছেন এবং বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানে চর্চা করেছেন; বিশেষ করে উসুল (মূলনীতি), আরবি ভাষা এবং বালাগাতশাস্ত্রের মানি ও বায়ান শাখায় পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ৫)
وكان يرغّب الناس فى الاشتغال بأصول الفقه وفى المعانى والبيان.
ولى القضاء فى ناحية الروم ثم دمشق ثم مصر ثم دمشق، وخطب بجامع القلعة لما أتى مصر بأمر من السلطان.
قال عنه صاحب" كشف الظنون": " المعروف بخطيب دمشق"، ولعل هذا سبب شهرته بالخطيب القزوينى، وكان يفتى كثيرا.
مصنفاته:قال ابن كثير: " له مصنفات فى المعانى، مصنف مشهور اسمه" التلخيص" اختصر فيه" المفتاح" للسكاكى". وهو من أجل المختصرات فيه كما قال السيوطى. وله: إيضاح التلخيص، والسور المرجانى من شعر الأرجانى.
وفاته:قال ابن حجر: " قال الذهبى: مات فى منتصف جمادى الأولى سنة 739 هـ، وشيعه عالم عظيم وكثر التأسف عليه، وسيرته تحتمل كراريس وما كل ما يعلم يقال.
هذا كلام الذهبى على عادته فى الرمز إلى الحط على من يخشى غائلة التصريح فيه".
اه كلام ابن حجر.
وقال الحافظ ابن كثير: " دفن بالصوفية
… وكان عمره قريبا من السبعين أو جاوزها" (1).
--------------------------------------------
তিনি মানুষকে উসুলুল ফিকহ এবং আল-মা'আনি ও আল-বায়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতেন।
তিনি রোম অঞ্চল, এরপর দামেস্ক, এরপর মিসর এবং পুনরায় দামেস্কে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। সুলতানের আদেশে যখন তিনি মিসরে আসেন, তখন জামে আল-কালা’তে খুতবা প্রদান করেন।
'কাশফুন জুনুন' এর লেখক তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি খতিবে দামেস্ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন", আর সম্ভবত এটিই তাঁর 'খতিব আল-কাজউইনি' হিসেবে প্রসিদ্ধির কারণ ছিল; তিনি প্রচুর ফতোয়া দিতেন।
তাঁর রচনাবলী:ইবনে কাসীর বলেন: "ইলমুল মা'আনিতে তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হলো 'আত-তালখিস', যাতে তিনি সাক্কাকির 'আল-মিফতাহ' গ্রন্থের সংক্ষেপণ করেছেন।" সুয়ুতির মতে এটি এই বিষয়ের শ্রেষ্ঠতম সংক্ষিপ্তসারগুলোর একটি। এছাড়াও তাঁর রয়েছে: ঈজাহুত তালখিস এবং আস-সুরুল মারজানি মিন শিরিল আরজানি।
তাঁর মৃত্যু:ইবনে হাজার বলেন: "যাহাবি বলেছেন: তিনি ৭৩৯ হিজরীর জমাদিউল আউয়াল মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইন্তেকাল করেন। এক বিশাল জনতা তাঁর জানাজায় শরিক হন এবং তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তাঁর জীবনী অনেকগুলো খাতা বা বইয়ে লিপিবদ্ধ হওয়ার উপযোগী, তবে যা জানা যায় তার সবই বলা হয় না।
এটি যাহাবির সেই অভ্যাসের অংশ যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে সমালোচনা করার বিপদের আশঙ্কায় ইঙ্গিতের মাধ্যমে হেয় প্রতিপন্ন করার পথ বেছে নেন।"
ইবনে হাজারের বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।
হাফেজ ইবনে কাসীর বলেন: "তাঁকে সুফিয়া কবরস্থানে দাফন করা হয় … তাঁর বয়স সত্তরের কাছাকাছি বা তার কিছু বেশি ছিল" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ৬)
ترجمة سعد الدين التفتازاني صاحب" مختصر السعد شرح التلخيص"
هو مسعود بن عمر بن عبد الله، سعد الدين التفتازانى، الإمام العالم بالعلوم العربية والكلام والأصول والمنطق، وكان فى لسانه حبسة.
مولده:ولد بتفتازان- وهى بلدة بخراسان- فى صفر سنة 712 هـ، هذا ما ذكره الإمام ابن حجر فى" الدرر الكامنة" على ما وجد بخط ابن الجزري.
منزلته وشهرته:اشتهر ذكره وطار صيته فى الآفاق، وكان من محاسن الزمان، وأحد الأعلام والأعيان، وقد خلد التاريخ ذكره فى بطون الأوراق، وانتفع الناس بتصانيفه فى أنواع العلوم التي تنافس الأئمة فى تحصيلها والاعتناء بها، وكان قد انتهت إليه معرفة علوم البلاغة والمعقول بالمشرق، بل بسائر الأمصار لم يكن له نظير فى معرفة هذه العلوم.
مصنفاته:له التآليف التى تدل على عظيم قدرته، ومزيد فطنته وذكائه، منها:
(1) الشرحان الكبير والصغير على تلخيص «المفتاح»، أتم الأول بهراة سنة 748 هـ، والثانى سنة 756 هـ.
(2) شرح الرسالة الشمسية المعروف بالسعدية (فى المنطق)، أتمه فى جمادى الآخرة سنة 757 هـ بمزار جام.
(3) حاشية التلويح على التوضيح فى الأصول (فقه حنفي)، أتمها فى ذى القعدة سنة 768 هـ.
সাদউদ্দীন আত-তাফতাজানীর জীবনী, যিনি "মুখতাসার আস-সাদ শারহুত তালখিস"-এর রচয়িতাতিনি হলেন মাসউদ বিন উমর বিন আব্দুল্লাহ, সাদউদ্দীন আত-তাফতাজানী। তিনি আরবি ভাষাবিজ্ঞান, ইলমুল কালাম, উসুল এবং যুক্তিবিদ্যার পণ্ডিত ইমাম ছিলেন। তাঁর জিহ্বায় কিছুটা আড়ষ্টতা ছিল।
তাঁর জন্ম:তিনি খোরাসানের তাফতাজান নামক একটি শহরে ৭১২ হিজরির সফর মাসে জন্মগ্রহণ করেন। ইমাম ইবনে হাজার তাঁর "আদ-দুরার আল-কামিনাহ" গ্রন্থে ইবনে আল-জাযারির স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে এটি উল্লেখ করেছেন।
তাঁর মর্যাদা ও খ্যাতি:তাঁর সুখ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং দিগদিগন্তে তাঁর নাম প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। তিনি ছিলেন সমকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব এবং বরেণ্য মনীষীদের একজন। ইতিহাস তাঁর নাম পাতায় পাতায় অমর করে রেখেছে। মানুষ তাঁর বিভিন্ন শাস্ত্রের রচনাবলি থেকে উপকৃত হয়েছে, যা অর্জনে ইমামগণও তৎপর থাকতেন। প্রাচ্য দেশগুলোতে, এমনকি অন্যান্য জনপদেও অলঙ্কারশাস্ত্র ও যুক্তিনির্ভর বিদ্যায় তাঁর জ্ঞান ছিল সর্বোচ্চ শিখরে এবং এই শাস্ত্রগুলোতে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না।
তাঁর রচনাবলি:তাঁর এমন সব রচনা রয়েছে যা তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য এবং প্রখর মেধা ও বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ বহন করে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
(১) 'তালখিসুল মিফতাহ'-এর ওপর বড় এবং ছোট দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ)। তিনি প্রথমটি ৭৪৮ হিজরিতে হেরাতে এবং দ্বিতীয়টি ৭৫৬ হিজরিতে সম্পন্ন করেন।
(২) 'আর-রিসালাত আশ-শামসিয়া'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা 'আস-সাদিয়া' নামে পরিচিত (যুক্তিবিদ্যায়)। তিনি এটি ৭৫৭ হিজরির জামাদিউল আখিরা মাসে মাযার-ই জাম-এ সমাপ্ত করেন।
(৩) উসুল (হানাফি ফিকহ)-এর ওপর 'আত-তাওজিহ'-এর পাদটীকা 'আত-তালবিহ'। এটি তিনি ৭৬৮ হিজরির জিলকদ মাসে সম্পন্ন করেন।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ৭)
(4) تهذيب المنطق والكلام، أتمه فى رجب سنة 789 هـ.
(5) المقاصد وشرحها فى علم الكلام، أتمها فى رجب سنة 789 هـ.
(6) مفتاح الفقه، أتمه سنة 772 هـ.
(7) حواشى الكشاف، أتمها فى الثامن من شهر ربيع الأول سنة 789 هـ.
(8) شرح الزنجانى فى الصرف، عمله حين بلغ عمره ست عشرة سنة فى شهر شعبان سنة 738 هـ.
(9) شرح تلخيص الجامع الكبير سنة 786 هـ بسرخس.
(10) رسالة الإرشاد، أتمها فى سنة 774 هـ.
(11) شرح عقائد النسفي، أتمه فى شعبان سنة 768 هـ.
(12) حاشية شرح مختصر ابن الحاجب للعضد، أتمها فى سنة 770 هـ.
(13) شرح المفتاح، أتمه فى شوال سنة 789 هـ بسمرقند.
(14) شرع فى تأليف الفتاوى الحنفية يوم الأحد التاسع من ذى القعدة سنة 769 هـ.
مذهبه الفقهي:اختلف الناس فى مذهبه الذى كان يتعبد عليه:
أ- طائفة جعلوه حنفيّا؛ من جراء تصانيفه فى فقه أبى حنيفة، ومن هؤلاء ابن نجيم المصرى صاحب" البحر الرائق" فى فقه الحنفية، قال: إليه انتهت رياسة الحنفية فى زمانه حتى ولى قضاء الحنفية، وله تكملة شرح الهداية للسروجي، وفتاوى الحنفية، وشرح تلخيص الجامع الكبير.
ب- طائفة جعلوه شافعيّا، منهم: صاحب كشف الظنون، وحسن جلبى فى حواشيه على المطول، والكفوي قال: كان التفتازانى من علماء الشافعية وله آثار جليلة فى أصول الحنفية. وكذا السيوطى فى بغية الوعاة (1).
--------------------------------------------
(৪) তাহযীবুল মানতিক ওয়াল কালাম, এটি ৭৮৯ হিজরীর রজব মাসে সমাপ্ত করেছেন।
(৫) আল-মাকাসিদ এবং ইলমুল কালামে এর শারহ (ব্যাখ্যা), এটি ৭৮৯ হিজরীর রজব মাসে সমাপ্ত করেছেন।
(৬) মিফতাহুল ফিকহ, এটি ৭৭২ হিজরীতে সমাপ্ত করেছেন।
(৭) আল-কাশশাফের টীকাগ্রন্থসমূহ, এটি ৭৮৯ হিজরীর ৮ই রবিউল আউয়াল সমাপ্ত করেছেন।
(৮) ইলমুস সরফে শারহুয যানজানি, এটি তিনি তাঁর ১৬ বছর বয়সে ৭৩৮ হিজরীর শাবান মাসে রচনা করেছেন।
(৯) শারহু তালখীসিল জামিউল কাবীর, ৭৮৬ হিজরীতে সারাখসে।
(১০) রিসালাতুল ইরশাদ, এটি ৭৭৪ হিজরীতে সমাপ্ত করেছেন।
(১১) শারহু আকাইদিন নাসাফি, এটি ৭৬৮ হিজরীর শাবান মাসে সমাপ্ত করেছেন।
(১২) আযুদের মুখতাসার ইবনুল হাজিবের শারহ এর টীকাগ্রন্থ, এটি ৭৭০ হিজরীতে সমাপ্ত করেছেন।
(১৩) শারহুল মিফতাহ, এটি ৭৮৯ হিজরীর শাওয়াল মাসে সমরকন্দে সমাপ্ত করেছেন।
(১৪) ৭৬৯ হিজরীর ৯ই যিলকদ রবিবার ফাতাওয়া আল-হানাফিয়্যাহ রচনা শুরু করেন।
তাঁর ফিকহী মাযহাব:তিনি কোন মাযহাব অনুযায়ী ইবাদত করতেন সে বিষয়ে মানুষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে:
ক- একদল তাকে হানাফী গণ্য করেছেন; হানাফী ফিকহের ওপর তাঁর রচনাবলির কারণে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হানাফী ফিকহের গ্রন্থ "আল-বাহরুর রাইক" এর লেখক ইবনে নুজাইম আল-মিসরী। তিনি বলেন: তাঁর যুগে হানাফী মাযহাবের নেতৃত্ব তাঁর কাছেই শেষ হয়েছিল, এমনকি তিনি হানাফীদের বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। তাঁর রয়েছে আস-সারুজির হিদায়ার শারহ-এর পরিশিষ্ট, ফাতাওয়া আল-হানাফিয়্যাহ এবং শারহু তালখীসিল জামিউল কাবীর।
খ- একদল তাকে শাফেয়ী গণ্য করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: 'কাশফুয যুনুন' এর লেখক, 'আল-মুতাউওয়াল' এর ওপর তাঁর টীকাগ্রন্থে হাসান চালাবি এবং আল-কাফাউয়ি। আল-কাফাউয়ি বলেন: তাফতাযানী শাফেয়ী উলামাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং হানাফী উসূলের ওপরও তাঁর মহান অবদান রয়েছে। অনুরূপভাবে আস-সুয়ূতীও 'বুগইয়াতুল উয়াত' (১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ৮)
عبقرية التفتازاني:يقول الشيخ المراغى فى" تاريخ علوم البلاغة":
" إن السيد الشريف وإن فاقه ذكاء وغلبه فى البحث والجدل، فإنه لا يصل إلى منزلته فى دقة الفكر والغوص على المعاني، وقد كان فى بدء التأليف وأثناء التصنيف يغوص فى بحار تحقيقاته، ويلتقط الدر من تدقيقاته، ويعترف برفعة شأنه، وجلالة قدره وعلوّ مقامه، إلا أنه وقعت بينهما منافرة بسبب المناظرة التى كانت فى مجلس تيمورلنك، وحل الخلاف محل الوفاق، والتزم كل منهما تزييف ما قال الآخر".
وقال مؤرخ المغرب القاضى عبد الرحمن بن محمد الحضرمى المالكى الشهير بابن خلدون فى" مقدمة" تاريخه: وقفت بمصر على تآليف متعددة لرجل من عظماء هراة من بلاد خراسان اشتهر بسعد الدين التفتازاني، تشهد بأن له ملكة راسخة فى علم الكلام وأصول الفقه والبيان، وفى أثنائها ما يدل على أن له اطلاعا على العلوم الحكمية، وقدما عالية فى سائر الفنون.
ذكر وفاته- رحمه الله تعالى-:
قال السيوطى فى" بغية الوعاة": " مات بسمرقند سنة إحدى وتسعين وسبعمائة هجرية" وقال ابن حجر فى" الدرر": " مات فى صفر سنة 792 هـ، ولم يخلف بعده مثله، وكان مولده سنة 712 هـ على ما وجد بخط ابن الجزري، وذكر لى شهاب الدين بن عربشاه الدمشقى الحنفى أن الشيخ علاء الدين كان يذكر أن الشيخ سعد الدين توفى سنة 791 هـ عن نحو ثمانين سنة".
كتاب" مختصر السعد":
أما كتابه هذا فهو من جملة شروح" التلخيص" الدائرة فى فلك" المفتاح" والتى صبغتها الصبغة السكاكية، وغلبت عليها الحدود المنطقية.
غير أن القارئ لكتابه لا يعدم فائدة أو لطيفة يبز بها التفتازانى أقرانه، ويتميز بها عليهم، وقد حاولنا إبراز بعض ذلك فى مواضعه.
আল-তাফতাজানির প্রতিভা:শায়খ আল-মারাগি তাঁর "তারিখু উলুমিল বালাগাহ" গ্রন্থে বলেন:
"নিশ্চয়ই আস-সায়্যিদ আশ-শরীফ যদিও মেধা ও বুদ্ধিতে তাঁকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং গবেষণা ও বিতর্কে তাঁকে পরাভূত করেছিলেন, তবুও তিনি চিন্তার সূক্ষ্মতা এবং অর্থের গভীরে প্রবেশের ক্ষেত্রে তাঁর মাকামে পৌঁছাতে পারেননি। তিনি যখন গ্রন্থ রচনা শুরু করতেন এবং সংকলনের কাজ করতেন, তখন তিনি তাঁর (তাফতাজানির) গবেষণার সাগরে ডুব দিতেন এবং তাঁর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ থেকে মুক্তো কুড়িয়ে নিতেন। তিনি তাঁর উচ্চ মর্যাদা, বিশাল সম্মান ও উন্নত অবস্থানের কথা স্বীকারও করতেন। তবে তৈমুর লঙের দরবারে অনুষ্ঠিত একটি বিতর্কের কারণে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় এবং সম্প্রীতির পরিবর্তে মতভেদ দেখা দেয়। ফলে তাঁরা প্রত্যেকেই একে অপরের বক্তব্যকে ভুল প্রমাণের নীতি গ্রহণ করেন।"
এবং মাগরিবের ইতিহাসবিদ কাজী আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-হাদরামি আল-মালিকি, যিনি ইবনে খালদুন নামে পরিচিত, তাঁর ইতিহাসের "মুকাদ্দিমা"-তে বলেছেন: আমি মিসরে থাকাকালীন খোরাসান অঞ্চলের হেরাতের এক মহান ব্যক্তি, যিনি সা'দ আদ-দ্বীন আল-তাফতাজানি নামে পরিচিত, তাঁর বহু রচনা দেখেছি। সে সকল রচনা সাক্ষ্য দেয় যে, ইলমুল কালাম (ধর্মতত্ত্ব), উসুলুল ফিকহ এবং বয়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিদ্যায় তাঁর সুগভীর পাণ্ডিত্য রয়েছে। আর সেই গ্রন্থগুলোর মাঝে এমন নিদর্শনও রয়েছে যা প্রমাণ করে যে, দর্শন সংক্রান্ত জ্ঞানরাশি এবং অন্যান্য শিল্পকলায়ও তাঁর অগাধ জ্ঞান ও সুউচ্চ অবস্থান ছিল।
তাঁর মৃত্যুর বিবরণ—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—:
আস-সুয়ুতি "বুগইয়াতুল উয়াত" গ্রন্থে বলেন: "তিনি হিজরি ৭৯১ সনে সমরকন্দে মৃত্যুবরণ করেন।" ইবনে হাজার "আদ-দুরার" গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি ৭৯২ হিজরির সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পরে তাঁর সমতুল্য আর কেউ উত্তরসূরি হিসেবে থাকেনি। ইবনে আল-জাযারির হস্তলিপি অনুযায়ী তাঁর জন্ম ছিল ৭১২ হিজরিতে। আর শিহাব আদ-দ্বীন ইবনে আরবাশাহ আদ-দিমাশকি আল-হানাফি আমাকে বলেছেন যে, শায়খ আলাউদ্দীন উল্লেখ করতেন যে, শায়খ সা'দ আদ-দ্বীন ৭৯১ হিজরিতে প্রায় আশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।"
"মুখতাসারুস সা'দ" কিতাব:তাঁর এই গ্রন্থটি হলো "আল-তালখিস"-এর সেই সকল ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত যা "আল-মিফতাহ"-এর পরিমণ্ডলে আবর্তিত এবং যা আস-সাক্কাকির ধারায় রঞ্জিত, আর যাতে যৌক্তিক সংজ্ঞাসমূহের প্রাধান্য রয়েছে।
তবে তাঁর এই কিতাবের পাঠক এমন কোনো উপকারিতা বা সূক্ষ্ম তথ্য থেকে বঞ্চিত হবে না যার মাধ্যমে আল-তাফতাজানি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেছেন এবং তাঁদের ওপর বিশিষ্টতা লাভ করেছেন। আমরা এর যথাস্থানে এগুলোর কিছু অংশ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ৯)
ترجمة محمد بن عرفة الدسوقى صاحب" حاشية الدسوقى"
اسمه وكنيته (1):
هو محمد بن أحمد بن عرفة المصرى المالكى الشهير بالدسوقى.
مولده وحياته:لم تحدد كتب التراجم تاريخ نشأته، ولم تحدد عمره، هل عمّر طويلا أم لم يعمر.
ولكنه ولد بدسوق- إحدى قرى الدلتا بمصر- ورحل إلى القاهرة، وحفظ القرآن، وتعلم بالأزهر الشريف حتى صار شيخا له رواده من طلبة العلم.
صفاته:هو الجامع لأشتات الفضائل والمعارف، المنفرد بتسهيل المعانى، وتبيين المبانى، اشتهر فى عصره بحل المشكلات، وفتح باب المعضلات، بأسلوب عذب وتحرير بديع.
شيوخه:تلقى العلم على عليّ الصعيدى، والدردير، وحسن الجبرتى المتوفى سنة 1188 هـ صاحب الشروح والحواشى فى العلوم المختلفة من فقه وهندسة، وقد أخذ عن الأخير علم الفلك والهندسة والتوقيت والحكمة برواق الجبرتى بالأزهر.
تلاميذه:لم تذكر كتب التراجم أسماء تلامذته، إلا الشيخ حسن العطار المتوفى سنة 1250 هـ، وقد كان تلميذا نجيبا حيث كان الدسوقي شيخ الجامع الأزهر، وقد رثاه
--------------------------------------------
"হাশিয়াতুদ দসুফী"-এর রচয়িতা মুহাম্মাদ ইবন আরাফাহ আদ-দসুফীর জীবনীনাম ও উপনাম (১):
তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আরাফাহ আল-মিসরী আল-মালিকী, যিনি আদ-দসুফী নামে প্রসিদ্ধ।
জন্ম ও জীবন:জীবনীগ্রন্থসমূহ তাঁর জন্মের সঠিক তারিখ নির্ধারণ করেনি এবং তাঁর বয়সও নির্ধারণ করেনি যে, তিনি দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন নাকি অল্প বয়সেই ইন্তেকাল করেছেন।
তবে তিনি মিসরের ডেল্টা অঞ্চলের অন্যতম গ্রাম দসুফ-এ জন্মগ্রহণ করেন। এরপর তিনি কায়রো অভিমুখে যাত্রা করেন এবং কুরআন হিফজ করেন। তিনি আল-আযহার শরীফে শিক্ষালাভ করেন এবং একপর্যায়ে এমন একজন শাইখে পরিণত হন যার কাছে জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ছিল।
তাঁর গুণাবলি:তিনি ছিলেন বহুমুখী শ্রেষ্ঠত্ব ও জ্ঞানরাজির সমাহারকারী। তিনি অর্থের সহজবোধ্যকরণ এবং শব্দের বিশদ ব্যাখ্যায় অনন্য ছিলেন। তিনি তাঁর যুগে সাবলীল শৈলী ও অপূর্ব লেখনীর মাধ্যমে জটিল বিষয়ের সমাধান ও দুর্বোধ্য সমস্যার দ্বার উন্মোচনের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:তিনি আলী আস-সাঈদী, আদ-দারদীর এবং হাসান আল-জাবারতী (মৃত্যু ১১৮৮ হিজরি)-এর নিকট ইলম অর্জন করেন। হাসান আল-জাবারতী ফিকহ ও প্রকৌশলসহ বিভিন্ন শাস্ত্রে ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকাগ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন। তিনি শেষোক্ত শিক্ষকের নিকট আল-আযহারের 'রিওয়াক আল-জাবারতী'-তে জ্যোতির্বিদ্যা, প্রকৌশল, সময় নির্ধারণ বিদ্যা এবং হিকমত শিক্ষা লাভ করেন।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:জীবনীগ্রন্থসমূহ তাঁর ছাত্রদের নাম উল্লেখ করেনি, কেবল শাইখ হাসান আল-আত্তার (মৃত্যু ১২৫০ হিজরি) ব্যতীত। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ছাত্র। দসুফী যখন জামে আল-আযহারের শাইখ ছিলেন, তখন তিনি তাঁর ছাত্র ছিলেন এবং তিনি তাঁর মৃত্যুতে শোকগাঁথা রচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ১০)
عند
وفاته بقصيدة سوف نذكر جزءا منها عند ذكر وفاته، وقد كان درسه مجتمع أذكياء الطلاب النابغين من ذوى الألباب.
مؤلفاته:له التآليف السهلة العبارة، الواضحة الأسلوب، وقد كان مكثرا فى عمل الحواشى على الكتب المختلفة من نحو وبلاغة وشعر وفقه
… إلخ، مثل: حاشيته على مختصر السعد على تلخيص المفتاح، وحاشيته على شرح المغنى لابن هشام، وحاشيته على شرح المحلى للبردة، وحاشيته على شرح الدردير لمتن خليل فى فقه المالكية.
وفاته:
لم يزل معنيّا بالجمع والكتابة والإفادة والإفتاء إلى أن اعتلت صحته، وتوفى يوم الأربعاء الحادى والعشرين من شهر ربيع الأول سنة 1232 هـ، وصلّى عليه بالجامع الأزهر فى جمع حافل، ودفن بقرافة المجاورين، ورثاه تلميذه حسن العطار بقصيدة منها:
أحاديث دهر قد ألّم فأوجعا
… وحلّ بنادى جمعنا فتصدّعا
ومنها:
وأبقى بتأليفاته بيننا هدى
… بها يسلك الطّلّاب للحقّ مهيعا
وحلّ بتحريراته كلّ مشكل
… فلم يبق للإشكال فى ذاك مطمعا
ومنها:
فقدناه لكن نفعه الدّهر دائم
… وما مات من أبقى علوما لمن وعى
তাঁর
ইন্তেকাল উপলক্ষে রচিত একটি কসিদা সম্পর্কে আমরা তাঁর মৃত্যুর বিবরণে কিছু অংশ উল্লেখ করব। তাঁর পাঠদান ছিল প্রখর মেধাবী ও বুদ্ধিদীপ্ত ছাত্রদের মিলনস্থল।
তাঁর রচনাবলি:তিনি সহজবোধ্য প্রকাশভঙ্গি ও প্রাঞ্জল শৈলীর অধিকারী গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন। তিনি নাহু, বালাগাত, কবিতা ও ফিকহ
… ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের কিতাবসমূহের ওপর প্রচুর হাশিয়া (টীকা) রচনা করেছেন, যেমন: তালখিসুল মিফতাহ-এর ওপর মুখতাসারুস সাদ-এর হাশিয়া, ইবনে হিশামের শরহুল মুগনি-র ওপর হাশিয়া, বুরদাহ-এর ওপর শরহুল মাহাল্লি-র হাশিয়া এবং মালিকি ফিকহশাস্ত্রে খলিলের মাতন-এর ওপর শরহুদ দারদির-এর হাশিয়া।
ইন্তেকাল:
অসুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি কিতাব সংগ্রহ, সংকলন, জ্ঞান দান ও ফতোয়া প্রদানের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ১২৩২ হিজরি সনের ২১শে রবিউল আউয়াল বুধবার তিনি ইন্তেকাল করেন। জামে আজহারে এক বিশাল সমাবেশে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয় এবং তাঁকে কারাফাতুল মুজাওয়িরিন কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর ছাত্র হাসান আল-আত্তার একটি কসিদার মাধ্যমে তাঁর শোকগাঁথা রচনা করেন, যার অংশবিশেষ হলো:
কালের সেই ঘটনাবলি যা আঘাত হেনে যন্ত্রণাদায়ক হয়েছে
… এবং আমাদের মিলনস্থলে আপতিত হয়ে তাকে বিদীর্ণ করে দিয়েছে।
এবং আরও:
তিনি তাঁর রচনাবলির মাধ্যমে আমাদের মাঝে এমন পথনির্দেশ রেখে গেছেন
… যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সত্যের সুপ্রশস্ত পথে পরিচালিত হয়।
তিনি তাঁর লেখনীর দ্বারা সকল জটিল বিষয়ের সমাধান করেছেন
… ফলে সেসব ক্ষেত্রে সংশয়ের আর কোনো অবকাশ থাকেনি।
এবং আরও:
আমরা তাঁকে হারিয়েছি ঠিকই কিন্তু তাঁর উপকারিতা চিরকাল বিদ্যমান থাকবে
… আর সেই ব্যক্তি কখনো মরে না, যে জ্ঞানবানদের জন্য জ্ঞান রেখে যায়।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ১১)
منهج التحقيق1 - اعتمدنا فى تحقيق هذا الكتاب على النسخة المصورة عن طبعته القديمة المتداولة، مع الاستعانة فى تصحيحها بمخطوطات الكتاب فى دار الكتب المصرية.
2 - أضفنا تعليقات توضيحية أفدناها من شروح" التلخيص" الأخرى.
3 - تخريج الشواهد القرآنية.
4 - تخريج الشواهد الحديثية فى كتب الحديث المشهورة مع الحكم على الحديث.
5 - تخريج الشواهد الشعرية فى دواوينها ومصادرها فى كتب الأدب وكتب التراث البلاغى.
6 - شرح معانى الألفاظ الغريبة.
7 - الترجمة لبعض أعلام البلاغة المذكورين فى الكتاب.
8 - الترجمة الوافية لكل من الخطيب القزوينى صاحب الأصل (التلخيص) والتفتازانى صاحب الشرح (مختصر السعد)، والدسوقى صاحب الحاشية (حاشية الدسوقى على مختصر السعد).
9 - جعلنا شرح السعد كمتن فى أعلى الصفحة وحاشية الدسوقى شرحا عليه.
10 - زيادة بعض العناوين الفرعية للموضوعات، مع تمييزها بمعكوفين.
11 - وضع الفهارس العلمية الشاملة للقرآن والحديث والشواهد الشعرية والموضوعات.
সম্পাদনা পদ্ধতি১ - আমরা এই গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে এর প্রচলিত প্রাচীন মুদ্রণের ফটোকপি সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি, পাশাপাশি এর পাঠ সংশোধনে দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলোর সাহায্য গ্রহণ করেছি।
২ - আমরা "আত-তালখিস" এর অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ থেকে সংগৃহীত ব্যাখ্যামূলক টীকা যুক্ত করেছি।
৩ - কুরআনিক উদ্ধৃতিসমূহের তথ্যসূত্র প্রদান।
৪ - প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থসমূহ থেকে হাদিস বিষয়ক উদ্ধৃতিসমূহের তথ্যসূত্র বের করার পাশাপাশি হাদিসের মান নির্ধারণ।
৫ - কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহকে তাদের মূল কাব্যসমগ্র এবং সাহিত্য ও অলঙ্কারশাস্ত্রের ঐতিহ্যবাহী উৎসগ্রন্থসমূহ থেকে তথ্যসূত্রসহ উল্লেখ করা।
৬ - দুষ্প্রাপ্য ও কঠিন শব্দাবলির অর্থ ব্যাখ্যা করা।
৭ - বইটিতে উল্লিখিত অলঙ্কারশাস্ত্রের কতিপয় বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের জীবনী সংকলন।
৮ - মূল গ্রন্থের (আত-তালখিস) রচয়িতা আল-খতিব আল-কাযভিনি, ব্যাখ্যাগ্রন্থের (মুখতাসারুস সাদ) রচয়িতা আত-তাফতাজানি এবং হাশিয়া বা টীকাগ্রন্থের (মুখতাসারুস সাদের ওপর হাশিয়ায়ে দসুকি) রচয়িতা আদ-দসুকি—প্রত্যেকের বিস্তারিত জীবনী প্রদান।
৯ - আমরা সা’দের ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে পৃষ্ঠার উপরের অংশে মূল পাঠ হিসেবে এবং দসুকির হাশিয়াকে তার ব্যাখ্যা হিসেবে বিন্যস্ত করেছি।
১০ - বিষয়বস্তুর জন্য কিছু অতিরিক্ত উপ-শিরোনাম যুক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলোকে বন্ধনী দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
১১ - কুরআন, হাদিস, কাব্যিক উদ্ধৃতি এবং বিষয়বস্তুর জন্য ব্যাপক ও সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক সূচিপত্র প্রণয়ন।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
حاشية الدسوقي على مختصر السّعد
মুখতাসারুস সা’দ-এর ওপর আদ-দাসূকীর হাশিয়া।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مقدمة مختصر السعدبسم الله الرحمن الرحيم بسم الله الرحمن الرحيم
كلمة الافتتاح للدسوقي===
الحمد لله العلى الأعلى، موجد الأشياء بعد فنائها، فله المجد الأسنى، أحمده على ما ألهمناه من معانى البيان، وعلمنا من لوامع التبيان، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، الملك المنان، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله سيد ولد عدنان- صلّى الله عليه وعلى آله وأصحابه الذين أعجزوا ببلاغتهم فرسان البلغاء فى كل ميدان؛ وبعد:
فيقول العبد الفقير المضطر لإحسان ربه القدير، محمد بن عرفة الدسوقى، نظر الله بعين لطفه إليه، وغفر له ولوالديه: هذه فوائد شريفة، وتقييدات لطيفة، على شرح العلامة الثانى سعد الملة والدين التفتازانى لتلخيص" المفتاح"، اقتطعتها من تقارير مشايخنا المحققين، ومن زبد أرباب الحواشى والشارحين، وإن لم أكن من فرسان هذا الميدان، لكن رجوت العفو بدعوة صالح من الإخوان، وبالله أستعين، وعليه التكلان، فى سلوك سبيل الرشاد فى كل شان.
[القول فى البسملة]:قال- نفعنا الله به (1) -: (بسم الله الرحمن الرحيم)، ينبغى التكلم على هذه الجملة بما يتعلق بها من الفنون الثلاثة التى صنّف فيها هذا الكتاب كما هو اللائق بالشارع فى كل فن؛ لما قيل: إن ترك التكلم عليها إما تقصير أو قصور، فنقول: يتعلق بها من فن المعاني- وهو الباحث عن مقتضيات الأحوال- مبحثان:
الأول: أن مقتضى الحال تقدير المتعلّق مؤخّرا؛ لإفادة الاهتمام باسمه تعالى؛ لأن المقام مقام استعانة بالله، ولإفادة القصر.
والقصر: إما قصر إفراد، وهو يخاطب به من يعتقد الشركة، وقصر قلب، ويخاطب به من يعتقد العكس، وقصر تعيين، ويخاطب به الشاك.
--------------------------------------------
মুখতাসার আস-সা'দ-এর ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আদ-দসুখীর উদ্বোধনী ভাষণ===
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সুউচ্চ ও মহীয়ান, অনস্তিত্বের পর সকল বস্তুর অস্তিত্বদানকারী। সকল মহিমা কেবল তাঁরই। আমি তাঁর প্রশংসা করছি সেই সব অলঙ্কারশাস্ত্রের মর্মার্থের জন্য যা তিনি আমাদের অন্তরে ইলহাম করেছেন এবং সেই সব সুস্পষ্ট বর্ণনা যা তিনি আমাদের শিখিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি রাজাধিরাজ ও পরম দাতা। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, আদনান বংশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যাঁরা তাঁদের বাগ্মিতা দিয়ে প্রত্যেক ময়দানে বাগ্মীদের পর্যুদস্ত করেছেন। এরপর:
স্বীয় পরাক্রমশালী রবের অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী দরিদ্র বান্দা মুহাম্মদ ইবনে আরাফাহ আদ-দসুখী—আল্লাহ তাঁকে তাঁর দয়ার নজরে দেখুন এবং তাঁকে ও তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন—বলছেন: এগুলো হলো কিছু শ্রেষ্ঠ ফায়দা এবং সূক্ষ্ম টীকা; যা আল্লামা সানি সা'দ আল-মিল্লাত ওয়াদ-দ্বীন আত-তাফতাজানী কর্তৃক 'তালখিসুল মিফতাহ'-এর ওপর লিখিত শরাহ (ব্যাখ্যা)-এর ওপর রচিত। আমি এগুলো আমাদের মুহাক্কিক উস্তাদদের বয়ান থেকে এবং হাশিয়া ও শরাহ রচয়িতাদের নির্যাস থেকে গ্রহণ করেছি। যদিও আমি এই ময়দানের কোনো অশ্বারোহী (বিশেষজ্ঞ) নই, তবুও আমি দ্বীনি ভাইদের নেক দোয়ার মাধ্যমে ক্ষমার প্রত্যাশা করি। আর প্রত্যেক বিষয়ে সঠিক পথে চলার জন্য আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর ওপরই ভরসা করছি।
[বিসমিল্লাহ সম্পর্কে আলোচনা]:তিনি—আল্লাহ যেন আমাদের তাঁর দ্বারা উপকৃত করেন (১)—বলেন: (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে)। এই কিতাবটি যে তিনটি বিদ্যার ওপর সংকলিত হয়েছে, এই বাক্যের ওপর সেই তিনটি বিদ্যা অনুযায়ী আলোচনা করা আবশ্যক, যেমনটি প্রত্যেক বিদ্যা শুরু করার সময় করা শোভনীয়। কারণ বলা হয়ে থাকে যে, এর ওপর আলোচনা না করা হয় অবহেলা অথবা অযোগ্যতা। সুতরাং আমরা বলি: 'ইলমুল মা'আনি' (অর্থবিজ্ঞান)—যা অবস্থার দাবি নিয়ে আলোচনা করে—এর সাথে সংশ্লিষ্ট এখানে দুটি আলোচনা রয়েছে:
প্রথম: অবস্থার দাবি হলো সংশ্লিষ্ট শব্দটিকে (মুতাআল্লাক) শেষে আনা; যাতে আল্লাহর নামের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। কারণ এই ক্ষেত্রটি হলো আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্র, এবং এতে যেন সীমাবদ্ধতার অর্থ (কাসর) প্রকাশ পায়।
আর সীমাবদ্ধতা (কাসর) হলো: হয় 'কাসরুল ইফরাদ' (একক সীমাবদ্ধতা), যার মাধ্যমে সেই ব্যক্তিকে সম্বোধন করা হয় যে অংশীদারিত্বে বিশ্বাস করে; অথবা 'কাসরুল কালব' (বিপরীত সীমাবদ্ধতা), যার মাধ্যমে তাকে সম্বোধন করা হয় যে বিপরীত বিশ্বাস রাখে; অথবা 'কাসরুত তায়ীন' (নির্দিষ্টকরণ সীমাবদ্ধতা), যার মাধ্যমে সংশয়বাদীকে সম্বোধন করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
===
فالقصر هنا ينظر فيه لأحوال المخاطبين: فهو قصر قلب إن كانوا يعتقدون أن البركة تحصل بالابتداء بغير اسم الله سبحانه وتعالى. وقصر إفراد إن اعتقدوا أنها تحصل بالابتداء باسم الله واسم غيره. وقصر تعيين: إن شكوا فى حصول البركة بأىّ. لكن هذا الثالث بعيد.
المبحث الثانى: أن مقتضى الحال قطع الصفات، أعنى الرحمن الرحيم؛ لأن المقام مقام ثناء، وقد نصوا على أن النعوت إذا كان المقصود منها المدح فالأولى قطعها؛ لأن فى قطعها دلالة على أن المنعوت متعيّن بدونها، وإنما أتى بها لمجرد المدح، لكن لا يخفاك أن الوارد فى القرآن والسنة الإتباع، وحينئذ فتكون مخالفة مقتضى الحال؛ لما فى الإتباع من الجرى على الأصل؛ إذ الأصل عدم القطع، ثم إذا قطعت تلك الصفات على تقدير (هو)، أو (أعنى) كانت الجملة مفصولة، فيقال: ما سبب الفصل دون الوصل؟
فيقال: سببه أنه لم يقصد التشريك بين الجملتين فى حكم من الأحكام المقتضى ذلك للوصل، أو يقال: سببه أن بين الجملتين كمال الانقطاع؛ وذلك لأن جملة" أؤلف باسم الله" خبرية بالنظر لصدرها، وجملة" هو الرحمن" مثلا لإنشاء المدح، ومتى كان بين الجملتين كمال انقطاع تعين الفصل، كما يأتى إن شاء الله تعالى.
وأما ما يتعلق بها من علم البيان- الباحث عن حال اللفظ من حيث الحقيقة والمجاز والكناية- فخمسة مباحث:
الأول: " الباء" حقيقتها الإلصاق، وهو حقيقى ك" أمسكت بزيد" إذا قبضت على شيء من جسمه أو على ما يحبسه من يد أو نحوه، ومجازى نحو" مررت بزيد" أى ألصقت مرورى بمكان يقرب من زيد، وهى هنا للاستعانة، وحيث كانت هنا كذلك فتكون استعارة تبعية، وتقريرها أن يقال: شبه الارتباط على وجه الاستعانة بالارتباط على وجه الإلصاق بجامع مطلق الارتباط فى كلّ، فسرى التشبيه للجزئيات، فاستعيرت الباء الموضوعة للإلصاق الجزئى للاستعانة الجزئية على طريق الاستعارة التبعية، ولك أن تجعلها من قبيل المجاز المرسل علاقته الإطلاق، والتقييد، وذلك أن الباء
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
===
এখানে 'কাসর' (সীমিতকরণ) সম্বোধিত ব্যক্তিদের অবস্থার ওপর নির্ভর করে: এটি 'কাসরে কালব' (বিপরীত ধারণা খণ্ডন) হবে যদি তারা বিশ্বাস করে যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নাম ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে শুরু করলে বরকত অর্জিত হয়। এটি 'কাসরে ইফরাদ' (অংশীদারিত্ব খণ্ডন) হবে যদি তারা বিশ্বাস করে যে আল্লাহর নাম এবং অন্য কারো নাম—উভয়টির মাধ্যমেই বরকত অর্জিত হয়। আর এটি 'কাসরে তায়্যিন' (নির্ধারণকরণ) হবে যদি তারা সংশয়ে থাকে যে কোনটির মাধ্যমে বরকত অর্জিত হবে। তবে এই তৃতীয় বিষয়টি (এক্ষেত্রে) দূরবর্তী।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পরিস্থিতির দাবি হলো গুণাবলিকে বিচ্ছিন্ন করা, অর্থাৎ 'আর-রহমান' ও 'আর-রাহিম'-কে; কেননা এই স্থানটি হলো প্রশংসার স্থান। আলিমগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বিশেষণের উদ্দেশ্য যদি প্রশংসা করা হয়, তবে সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন করাই উত্তম। কারণ সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার মধ্যে এই প্রমাণ থাকে যে, যাকে গুণান্বিত করা হচ্ছে তিনি এগুলো ছাড়াও সুনির্দিষ্ট, এবং এগুলো কেবল নিছক প্রশংসার জন্যই আনা হয়েছে। কিন্তু আপনার কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, কুরআন ও সুন্নাহতে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো পূর্ববর্তী পদের অনুগামী হওয়া। এমতাবস্থায় এটি পরিস্থিতির দাবির পরিপন্থী হবে; কারণ অনুগামী হওয়ার মধ্যে মূল রীতির অনুসরণ নিহিত রয়েছে, যেহেতু মূল নীতি হলো বিচ্ছিন্ন না করা। অতঃপর যখন ঐ গুণাবলিকে 'হুয়া' (তিনি) অথবা 'আ’নী' (আমি বুঝাচ্ছি) উহ্য ধরে বিচ্ছিন্ন করা হবে, তখন বাক্যটি পৃথক হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় প্রশ্ন ওঠে: যুক্ত না করে পৃথক করার কারণ কী?
উত্তরে বলা হয়: এর কারণ হলো দুই বাক্যের মধ্যে এমন কোনো বিধানে অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্য নেই যা যুক্ত করার দাবি রাখে। অথবা বলা যায়: এর কারণ হলো দুই বাক্যের মধ্যে পূর্ণ বিচ্ছেদ বিদ্যমান। আর তা এ কারণে যে, 'আমি আল্লাহর নামে রচনা করছি' বাক্যটি এর শুরুর দিক বিবেচনায় একটি বিবৃতিমূলক বাক্য, আর উদাহরণস্বরূপ 'তিনি পরম করুণাময়' বাক্যটি প্রশংসা প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত। আর যখনই দুই বাক্যের মধ্যে পূর্ণ বিচ্ছেদ থাকে, তখন পৃথক করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।
আর এই বিষয়ের সাথে ইলমে বয়ান—যা শব্দের প্রকৃত অর্থ, রূপক অর্থ ও ইঙ্গিত নিয়ে আলোচনা করে—সংক্রান্ত যা কিছু সংশ্লিষ্ট, তা পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথমটি: 'বা' বর্ণটির প্রকৃত অর্থ হলো সংযুক্তি। এটি কখনো প্রকৃত হয়, যেমন—'আমি জায়েদকে ধরলাম', যখন আপনি তার শরীরের কোনো অংশ অথবা তার হাত বা এই জাতীয় কিছু যা তাকে আটকে রাখে তা শক্ত করে ধরেন। আবার এটি রূপক হতে পারে, যেমন—'আমি জায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম', অর্থাৎ আমি আমার অতিক্রম করার বিষয়টিকে জায়েদের নিকটবর্তী কোনো স্থানের সাথে সংযুক্ত করলাম। এখানে এই 'বা' সাহায্য প্রার্থনার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেহেতু এখানে এটি এই অর্থে এসেছে, তাই এটি 'ইসতিয়ারা তাবাইয়্যাহ' হবে। এর ব্যাখ্যা হলো এভাবে বলা: সাহায্য প্রার্থনার পর্যায়ের সম্পর্ককে সংযুক্ত করার পর্যায়ের সম্পর্কের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যেখানে উভয়ের মধ্যে সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো নিঃশর্ত সম্পর্ক। অতঃপর এই উপমাটি আংশিক বিষয়াবলির দিকে ধাবিত হয়েছে। ফলে আংশিক সংযুক্তির জন্য নির্ধারিত 'বা' বর্ণটিকে 'ইসতিয়ারা তাবাইয়্যাহ' পদ্ধতিতে আংশিক সাহায্য প্রার্থনার অর্থে ধার নেওয়া হয়েছে। আপনি চাইলে একে 'মাজাযে মুরসাল' হিসেবেও গণ্য করতে পারেন, যার সম্পর্ক হলো ব্যাপকতা ও সীমাবদ্ধতা। আর তা হলো এই যে, 'বা' বর্ণটি...
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
===
موضوعة للارتباط المقيد بالإلصاق فأطلقت عن ذلك، واستعملت فى الارتباط على وجه الاستعانة، فهو مجاز مرسل بمرتبتين علاقته ما ذكر. هذا إذا كان استعمال الباء فى الاستعانة من حيث خصوصها، وأما إن كان الاستعمال فيها من حيث إنها جزئى من جزئيات مطلق ارتباط كان المجاز بمرتبة وهى الإطلاق على ما فيه من الخلاف، ثم حيث نقلت الباء من معناه الأصلى، وهو الإلصاق للاستعانة، فحق الاستعانة أن تكون بالذات لا بالاسم، وهنا قد جعلها بالاسم فيكون ذلك مجازا على مجاز، أما المجاز المبنى عليه فقد علمته، وأما المبنى فتقريره أن يقال: شبه الارتباط الواقع بين مطلق مستعان فيه واسم المستعان به، بالارتباط الواقع بين مطلق مستعان فيه وذات المستعان به، فسرى التشبيه للجزئيات، فاستعيرت الباء الموضوعة للارتباط بين المستعان فيه ونفس المستعان به الخاصين للارتباط بين المستعان فيه واسم المستعان به الخاصين، على طريق الاستعارة التبعية. هذا وقد وقع خلاف فى بناء المجاز على المجاز: فقال بعضهم بمنعه؛ لأن فيه أخذ الشىء من غير مالكه؛ لأن الحق فى اللفظ إنما هو للمعنى الحقيقىّ والمجازىّ أخذه تطفلا، وقال بعضهم بالجواز؛ لأن اللفظ لما نقل للمعنى المجازى بالعلاقة صار كأنه موضوع له خصوصا، وقد قالوا: إن المجاز موضوع بالوضع النوعى، وجعل من ذلك قوله تعالى:
وَلكِنْ لا تُواعِدُوهُنَّ سِرًّا (1)، فإن السر ضد الجهر، ثم أطلق على الوطء مجازا؛ لأنه لا يكون غالبا إلا سرّا، ثم استعمل اللفظ فى سببه وهو العقد، وحينئذ فاستعمال السر فى العقد مجاز مبنى على مجاز. ثم اعلم أنه على القول بالجواز تعتبر علاقة المجاز الثانى بينه وبين المجاز الأول، لا بينه وبين المعنى الحقيقى.
المبحث الثانى: الجار والمجرور فى البسملة متعلّق بمحذوف، وحينئذ ففيها مجاز بالحذف بناء على قول من يقول: إن الحذف مجاز مطلقا، وأما على قول من يقول:
ليس بمجاز مطلقا، وكذا على قول من يقول: إنه مجاز إذا تغير بسببه إعراب الباقى
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
===
এটি সংলগ্নতার সাথে সীমাবদ্ধ সম্পর্কের জন্য পরিনির্ধারিত, অতঃপর তা থেকে একে বিমুক্ত করা হয়েছে এবং সাহায্য গ্রহণ অর্থে সংশ্লিষ্ট করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। সুতরাং এটি দুই স্তরের একটি মাজাযে মুরসাল (মুক্ত রূপক), যার সম্পর্কের কথা উল্লিখিত হয়েছে। এটি তখনই প্রযোজ্য যখন 'বা' বর্ণের ব্যবহার সাহায্য গ্রহণের ক্ষেত্রে তার বিশেষত্বের দিক থেকে হয়। আর যদি এর ব্যবহার এই দিক থেকে হয় যে এটি সাধারণ সম্পর্কের একটি অংশ, তবে রূপকটি এক স্তরের হবে এবং এটি সাধারণীকরণজনিত রূপক হিসেবে গণ্য হবে, যদিও এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। অতঃপর যখন 'বা' বর্ণকে তার মূল অর্থ অর্থাৎ সংলগ্নতা থেকে সাহায্য গ্রহণের অর্থে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, তখন সাহায্য গ্রহণের বিষয়টি মূলত সত্তার সাথে হওয়া উচিত ছিল, নামের সাথে নয়। কিন্তু এখানে তা নামের সাথে করা হয়েছে, ফলে এটি রূপকের ওপর রূপক (মাজায আলা মাজায) হিসেবে গণ্য হবে। যে রূপকের ওপর এটি ভিত্তি করে আছে তা আপনি অবগত হয়েছেন। আর যা এর ওপর ভিত্তি করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা হলো: যে কার্যের সাহায্য চাওয়া হয়েছে এবং যার নাম দ্বারা সাহায্য চাওয়া হয়েছে তাদের মধ্যকার সম্পর্ককে, সেই কার্যের সাথে সেই সত্তার সম্পর্কের সাথে তুলনা করা হয়েছে। ফলে উপমাটি শাখা-প্রশাখায় প্রসারিত হয়েছে এবং সাহায্য প্রার্থিত কার্য ও সাহায্যদাতার নির্দিষ্ট সত্তার মধ্যে সম্পর্কের জন্য নির্ধারিত 'বা' বর্ণটিকে সাহায্য প্রার্থিত কার্য ও সাহায্যদাতার নির্দিষ্ট নামের মধ্যে সম্পর্কের জন্য 'ইস্তিআরায়ে তাবিইয়াহ' পদ্ধতিতে ধার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে রূপকের ওপর রূপক নির্মাণ করার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ একে নিষেধ করেছেন; কারণ এতে কোনো কিছুকে তার প্রকৃত মালিক ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়। কেননা শব্দের ওপর প্রকৃত অধিকার কেবল প্রকৃত (হাকিকি) অর্থের জন্য, আর রূপক (মাজাযি) অর্থ তা কেবল গৌণভাবে লাভ করে। আবার কেউ কেউ একে বৈধ বলেছেন; কারণ শব্দ যখন কোনো সম্পর্কের ভিত্তিতে রূপক অর্থে স্থানান্তরিত হয়, তখন মনে হয় যেন এটি বিশেষভাবে সেই অর্থের জন্যই নির্ধারিত হয়েছে। ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, রূপক প্রকারগত নির্ধারণের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এর উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী উল্লেখ করা হয়েছে:
কিন্তু তোমরা তাদের সাথে গোপনে কোনো অঙ্গীকার করো না (১)। এখানে গোপন বা 'সির' হলো প্রকাশের বিপরীত। অতঃপর রূপক হিসেবে একে সহবাসের অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে; কারণ তা সাধারণত গোপনেই সম্পন্ন হয়। এরপর শব্দটি তার কারণ অর্থাৎ বিবাহের চুক্তির অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এমতাবস্থায় বিবাহের চুক্তির ক্ষেত্রে 'সির' শব্দের ব্যবহার রূপকের ওপর প্রতিষ্ঠিত রূপক। আরও জেনে রাখুন যে, বৈধতার মতানুসারে, দ্বিতীয় রূপকের সম্পর্কটি প্রথম রূপকের সাথে বিবেচনা করা হবে, প্রকৃত অর্থের সাথে নয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিসমিল্লাহর জার-মাজরুর একটি উহ্য (মাহযুফ) পদের সাথে সংশ্লিষ্ট। এমতাবস্থায়, যারা উহ্য করাকে নিঃশর্তভাবে রূপক বলেন, তাদের মতে এতে উহ্যকরণজনিত রূপক বিদ্যমান। আর যারা একে একেবারেই রূপক মনে করেন না, তাদের মত ভিন্ন। অনুরূপভাবে তাদের মতেও ভিন্ন যারা মনে করেন যে, এটি তখনই রূপক হবে যখন এর কারণে অবশিষ্ট অংশের কারক বিভক্তি পরিবর্তিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
===
كما فى قوله تعالى: وَسْئَلِ الْقَرْيَةَ (1) - فليس فيها مجاز. وسيأتى أن المجاز بالحذف ليس من قسم المجاز المعرّف بأنه: الكلمة المستعملة فى غير ما وضعت له
… إلخ، بل قسم آخر.
المبحث الثالث: إضافة" اسم" إلى" الله" حقيقية إن أريد من لفظ الجلالة الذات، وعليه يأتى ما مر من بناء المجاز على المجاز، وأما إن أريد منه اللفظ فهى بيانية، والإضافة البيانية مجاز بالاستعارة عندهم؛ لأن الإضافة البيانية مقابلة للحقيقيّة، والإضافة نسبة جزئية بمنزلة معنى الحرف، والاستعارة فى معنى الحرف تبعية، فكذا ما كان بمنزلته.
وتقريرها أن تقول: إن هيئة الإضافة موضوعة لتخصيص الأول بالثانى أو تعريفه به، فاستعملت هنا فى تبيين الثانى للأول بأن شبه مطلق نسبة شيء لشيء على أن الثانى مبين للأول بمطلق نسبة شيء لشيء، على أن الثانى مخصص أو معرف للأول بجامع مطلق التعلق فى كلّ، فسرى التشبيه للجزئيات، فاستعير صورة الإضافة الموضوعة للنسبة الجزئية المفيدة للتعريف والتخصيص، للنسبة الجزئية المفيدة للبيان على سبيل الاستعارة التصريحية التبعية.
المبحث الرابع: لفظ الجلالة علم على الذات العلية علم شخصى لا جنسى، وقد اختلف فى الأعلام الشخصية: فقيل: إنها حقيقة؛ لأنها استعملت فيما وضعت له، وقيل: إنها واسطة بين الحقيقة والمجاز؛ لأنهما من خواص الأمور الكلية، والأعلام الشخصية موضوعة لمعان جزئية، فعلى القول الأول لفظ الجلالة حقيقة، وعلى الثانى لا حقيقة ولا مجاز، بل واسطة بينهما.
المبحث الخامس: حقيقة الرحمة رقة فى القلب وانعطاف تقتضى التفضل والإحسان، وهى مستحيلة عليه سبحانه وتعالى، فيراد منها لازمها، وهو التفضل والإحسان، واشتق منها بهذا المعنى رحمان ورحيم بمعنى: متفضل ومحسن، فهو مجاز
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
===
যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "গ্রামবাসীকে জিজ্ঞাসা করো" (১) — এতে কোনো রূপক (মাজায) নেই। সামনে আসবে যে, কোনো অংশ ঊহ্য থাকার কারণে যে রূপক হয় (মাজায বিল হাজফ), তা সেই রূপকের অন্তর্ভুক্ত নয় যার সংজ্ঞায় বলা হয়: "শব্দকে তার মূল সংজ্ঞায়িত অর্থের বাইরে অন্য অর্থে ব্যবহার করা" ইত্যাদি; বরং এটি অন্য একটি প্রকার।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: "ইসম" (নাম) শব্দটিকে "আল্লাহ" শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা (ইজাফত) প্রকৃত হবে যদি 'লফজে জালালাহ' (আল্লাহ শব্দ) দ্বারা তাঁর সত্তাকে উদ্দেশ্য করা হয়। এমতাবস্থায় রূপকের ওপর রূপক গঠন করার যে বিষয়টি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তা প্রযোজ্য হবে। আর যদি তা দ্বারা শব্দকে (লফজ) উদ্দেশ্য করা হয়, তবে তা হবে বর্ণনামূলক সম্বন্ধ (ইজাফাতে বায়ানিয়্যাহ)। তাঁদের মতে বর্ণনামূলক সম্বন্ধ রূপক বা ইস্তিয়ারা হিসেবে গণ্য; কারণ বর্ণনামূলক সম্বন্ধ প্রকৃত সম্বন্ধের বিপরীত। সম্বন্ধ হলো একটি আংশিক নিসবত (সম্পর্ক), যা অব্যয়ের (হরফ) অর্থের পর্যায়ভুক্ত। আর অব্যয়ের অর্থের ক্ষেত্রে রূপক বা ইস্তিয়ারা সর্বদা অনুগামী (তাবাঈয়্যাহ) হয়ে থাকে, সুতরাং যা এর সমপর্যায়ের তার ক্ষেত্রেও অনুরূপ হবে।
এর ব্যাখ্যা হলো আপনি বলবেন: ইজাফাত বা সম্বন্ধের কাঠামোটি মূলগতভাবে প্রথম শব্দকে দ্বিতীয় শব্দের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করার জন্য অথবা তার দ্বারা প্রথম শব্দকে পরিচিত করানোর জন্য গঠিত হয়েছে। কিন্তু এখানে তা প্রথম পদের জন্য দ্বিতীয় পদের বর্ণনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এভাবে যে—কোনো বস্তুর সাথে অন্য বস্তুর সাধারণ নিসবত, যেখানে দ্বিতীয়টি প্রথমটির বর্ণনাকারী—তাকে কোনো বস্তুর সাথে অন্য বস্তুর সাধারণ নিসবতের—যেখানে দ্বিতীয়টি প্রথমটিকে নির্দিষ্টকারী বা পরিচয়দানকারী—সাথে তুলনা করা হয়েছে, উভয়ের মধ্যে বিদ্যমান সাধারণ সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে। ফলে এই উপমাটি আংশিক বিষয়গুলোর (জুযইয়্যাত) ক্ষেত্রেও সঞ্চারিত হয়েছে। এভাবে পরিচয় ও নির্দিষ্টকরণের জন্য গঠিত আংশিক নিসবতের ইজাফতি রূপটিকে বর্ণনামূলক আংশিক নিসবতের জন্য 'ইস্তিয়ারা তাসরিহিয়্যাহ তাবাঈয়্যাহ' এর পদ্ধতিতে রূপক হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: 'লফজে জালালাহ' (আল্লাহ শব্দ) হলো মহান সত্তার জন্য একটি আলাম বা নাম, যা আলামে শাখসি (ব্যক্তিগত নাম), আলামে জিনসি (জাতিবাচক নাম) নয়। আলামে শাখসি বা ব্যক্তিগত নাম সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে: কেউ বলেন, এটি হাকিকাত বা প্রকৃত; কারণ তা যে অর্থের জন্য গঠিত হয়েছে সেই অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। আবার কেউ বলেন, এটি হাকিকাত ও মাজাযের (প্রকৃত ও রূপক) মধ্যবর্তী একটি বিষয়; কারণ হাকিকাত ও মাজায হলো সামগ্রিক (কুল্লী) বিষয়ের বৈশিষ্ট্য, আর ব্যক্তিগত নামগুলো আংশিক (জুযয়ী) অর্থের জন্য গঠিত। প্রথম মতানুসারে, 'লফজে জালালাহ' হলো হাকিকাত বা প্রকৃত। আর দ্বিতীয় মতানুসারে, এটি হাকিকাতও নয়, মাজাযও নয়; বরং উভয়ের মধ্যবর্তী একটি বিষয়।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: রহমত বা দয়ার প্রকৃত অর্থ হলো হৃদয়ের কোমলতা এবং এমন সহানুভূতি যা অনুগ্রহ ও ইহসানকে দাবি করে। মহান আল্লাহর পবিত্র সত্তার ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব; তাই এখানে এর দ্বারা এর অনিবার্য ফলাফল অর্থাৎ অনুগ্রহ ও ইহসান উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। এই অর্থেই তা থেকে 'রহমান' ও 'রহিম' শব্দ দুটি বুৎপন্ন করা হয়েছে, যার অর্থ: অনুগ্রহকারী ও ইহসানকারী। সুতরাং এটি মাজায বা রূপক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
===
مرسل تبعى؛ لأن التجوز فيهما تابع للتجوز فى أصلهما. وذكر بعضهم أنه يصح أن يكون فى الكلام استعارة تمثيلية بأن يقال: شبه حال الله مع عباده فى إيصاله لهم بجلائل النعم ودقائقها، بحال ملك رق قلبه على رعيته فأوصلهم إنعامه، بجامع أن كلّا حالة عظيم مستول على ضعفى ممدّ لهم بإحسانه، واستعير اللفظ الدال على المشبه به للمشبه. وأورد عليه أن اللفظ المستعار فى التمثيلية لا بد أن يكون مركّبا كما فى" إنى أراك تقدم رجلا وتؤخر أخرى" وما هنا مفرد، وأجيب: بأنه يجوز أن يقتصر على بعض المفردات، ويرمز به إلى المركب على أن المشترط فى اللفظ منها إنما هو مطلق تركيب، وهو حاصل ب" الرحمن الرحيم" وليس بلازم أن يكون تركيب جملة.
واعترض بأن المشبه به شأنه أن يكون أقوى من المشبه، وجعل حال الملك أقوى من حال الله لا يتم، وأجيب بأنه ليس المراد القوة بحسب الحقيقة ونفس الأمر فقط، بل القوة ولو بالاعتبار كما هنا، فحال الملك باعتبار مشاهدتها للقاصرين أقوى، واعترض أيضا بأن استعارة اللفظ من شيء لشيء تقتضى استعمال اللفظ فى المستعار منه، وقد نصوا على أن" الرحمن الرحيم" مختصان بالله ولم يستعملا فى غيره، وأجيب بأن الاستعمال فى المستعار منه ليس بلازم، بل يكفى الوضع للمستعار منه الذى هو المعنى الحقيقى، ولذا قال الشارح بجواز وجود مجازات لا حقائق لها.
وأما ما يتعلق بها من البديع: فاعلم أن فيها التورية، وهى أن يطلق لفظ له معنيان: قريب وبعيد، ويراد البعيد اعتمادا على قرينة خفية، فقد أطلقت الرحمة وأريد بها التفضل والإحسان- الذى هو معنى بعيد لها؛ لأنه مجازى- اعتمادا على قرينة خفية، وهو استحالة المعنى القريب الذى هو الرقة.
وفيها أيضا القول بالموجب، ويقال له: المذهب الكلامى، وهو أن يساق المعنى بدليله، كما فى قوله (1):
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
===
এটি একটি মুরসাল তাবি (অনুসারী রূপক); কারণ এই উভয় শব্দের রূপক ব্যবহার তাদের মূল শব্দের রূপক ব্যবহারের অনুসারী। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, এই কালামে একটি 'ইস্তিআরাহ তামসিলিয়্যাহ' (প্রতিনিধিত্বমূলক রূপক) হওয়া সঠিক হতে পারে। এভাবে যে: মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নিকট মহান ও সূক্ষ্ম নেয়ামতসমূহ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিকে এমন একজন বাদশাহর অবস্থার সাথে তুলনা করা হয়েছে, যার অন্তর তার প্রজাদের প্রতি দয়ার্দ্র হয়েছে এবং সে তাদের নিকট তার অনুগ্রহ পৌঁছে দিয়েছে। এর সাধারণ যোগসূত্র হলো যে, উভয়টিই এমন এক মহান সত্তার অবস্থা যিনি দুর্বলদের ওপর প্রভাবশালী এবং তাঁর ইহসান বা অনুগ্রহ দ্বারা তাদের সাহায্যকারী। এখানে 'মুশাব্বাহ বিহি' (যার সাথে তুলনা করা হয়েছে) এর অর্থ প্রকাশকারী শব্দটি 'মুশাব্বাহ' (যাকে তুলনা করা হয়েছে) এর জন্য রূপক হিসেবে ধার নেয়া হয়েছে। এর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে, 'তামসিলিয়্যাহ' রূপকের ক্ষেত্রে রূপক শব্দটি অবশ্যই যৌগিক (মুরাক্কাব) হতে হয়, যেমন: "আমি তোমাকে দেখছি এক পা এগিয়ে দিচ্ছ এবং অন্যটি পিছিয়ে নিচ্ছ।" অথচ এখানে শব্দটি একক (মুফরাদ)। এর উত্তরে বলা হয়েছে: কিছু একক শব্দের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা জায়েজ, যার মাধ্যমে যৌগিক অর্থকে নির্দেশ করা হয়। কারণ শব্দের ক্ষেত্রে শর্ত হলো কেবল সাধারণ কোনো সংযুক্তি বা তারকিব থাকা, আর এটি "আর-রাহমান আর-রাহিম" দ্বারা অর্জিত হয়েছে। এক্ষেত্রে পূর্ণ বাক্যের গঠন (জুমলা) হওয়া জরুরি নয়।
আবার আপত্তি করা হয়েছে যে, 'মুশাব্বাহ বিহি'-এর বৈশিষ্ট্য হলো তাকে 'মুশাব্বাহ'-এর চেয়ে শক্তিশালী হতে হয়। এক্ষেত্রে বাদশাহর অবস্থাকে আল্লাহর অবস্থার চেয়ে শক্তিশালী সাব্যস্ত করা সংগত হয় না। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এখানে কেবল প্রকৃত ও বাস্তব বিচারে শক্তিশালী হওয়া উদ্দেশ্য নয়, বরং বিবেচনামূলকভাবে শক্তিশালী হওয়াও যথেষ্ট, যেমনটি এখানে ঘটেছে। সুতরাং সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ করার বিচারে বাদশাহর অবস্থাটিই অধিক শক্তিশালী। আরও আপত্তি করা হয়েছে যে, এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুর জন্য শব্দের রূপক ব্যবহার দাবি করে যে, শব্দটি 'মুসতাআর মিনহু' (যে উৎস থেকে ধার নেয়া হয়েছে) এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে হবে। অথচ আলিমগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, "আর-রাহমান" ও "আর-রাহিম" শব্দ দুটি আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট এবং এগুলো অন্য কারো ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, 'মুসতাআর মিনহু' এর ক্ষেত্রে শব্দের ব্যবহার (ইস্তিমাল) জরুরি নয়, বরং 'মুসতাআর মিনহু'-এর জন্য শব্দটির মূল গঠন (ওয়াদউ) থাকাই যথেষ্ট, যা মূলত এর হাকিকি বা প্রকৃত অর্থ। এই কারণেই ব্যাখ্যাকারক এমন মাজায বা রূপক থাকার বৈধতার কথা বলেছেন যার কোনো প্রকৃত প্রয়োগ বা হাকিকাত নেই।
অলঙ্কারশাস্ত্র (বাদি) সংক্রান্ত আলোচনার ক্ষেত্রে জেনে রাখুন যে, এতে 'তাওরিয়াহ' রয়েছে। তাওরিয়াহ হলো এমন একটি শব্দ ব্যবহার করা যার দুটি অর্থ থাকে: একটি নিকটবর্তী এবং অন্যটি দূরবর্তী। এখানে একটি সূক্ষ্ম প্রমাণের (কারিনা) ওপর ভিত্তি করে দূরবর্তী অর্থটি উদ্দেশ্য নেয়া হয়। এখানে 'রাহমাত' (দয়া) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর দ্বারা 'তাফায্যুল' (বিশেষ অনুগ্রহ) ও 'ইহসান' (দয়া-দাক্ষিণ্য) উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে—যা এর জন্য একটি দূরবর্তী অর্থ; কারণ এটি রূপক। এটি একটি সূক্ষ্ম প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, আর তা হলো নিকটবর্তী অর্থ তথা 'রিক্কাত' (হৃদয়ের কোমলতা) আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব হওয়া।
এর মধ্যে 'আল-কাওলু বিল মুজাব'-ও রয়েছে, যাকে 'আল-মাযহাবুল কালামি' বলা হয়। তা হলো অর্থকে তার প্রমাণসহ উপস্থাপন করা, যেমনটি তাঁর এই বাণীতে রয়েছে (১):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ২০)
نحمدك
…===
لو لم تكن نيّة الجوزاء خدمته
… لما رأيت عليها عقد منتطق
وكما فى قوله تعالى: لَوْ كانَ فِيهِما آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتا (1). وبيانه هنا:
أن قوله: " بسم الله الرحمن الرحيم" فى قوة قولنا: لا أبتدئ إلا باسم الله؛ لأنه الرحمن الرحيم. وفيها أيضا الاستخدام بناء على أن المراد من اسم الجلالة اللفظ، وفى الرحمن ضمير يعود على الله باعتبار الذات، وفيها التفات على مذهب السكاكى؛ لأن مقتضى الظاهر فى التوجه له تعالى الخطاب، بأن يقال: باسمك اللهم، فعدل عن مقتضى الظاهر وقيل" بسم الله الرحمن الرحيم". وفيها أيضا الإدماج وهو أن يضمّن الكلام المسوق لغرض غرضا آخر، كما فى قوله:
أقلّب فيه أجفانى كأنّى
… أعدّ بها (2) على الدّهر الذّنوبا (3)
وبيان ذلك هنا: أن الغرض الأصلى من البسملة التبرك والاستعانة باسمه تعالى، فبعد أن ذكر هذا الغرض منها أدمج فيها الثناء على الله بكونه رحمانا رحيما.
(قوله: نحمدك) أى: نصفك بالجميل الذى أنت أهله؛ لأن الحمد: الثناء بالجميل، ومن المعلوم أن كل أوصافه جميلة، فكأنه قال: نصفك بكل صفة جميلة، ثم إن ذكر نعمتى شرح الصدور وتنوير القلوب، وإن احتمل أن يكون لمجرد تعيين المحمود، أو لمجرد براعة الاستهلال المتبادر منه أنه لأجل كونهما المحمود عليه، والمعنى: نحمدك يا من
… إلخ لأجل هذين الوصفين؛ لأن الموصول مع صلته فى معنى المشتق، وتعليق الحكم بالمشتق يؤذن بعلية المشتق منه، وحينئذ فيرد ما يقال: إن هذا الحمد حمد وشكر، فلم اختار التعبير بالحمد على التعبير بالشكر؟ وأجيب: بأنه إنما اختار مادة الحمد على مادة الشكر لأمور ثلاثة:
الأول: الاقتداء بالقرآن الأعظم. الثانى: العمل بحديث: " كل أمر ذى بال لا يبدأ فيه ب (الحمد لله) فهو أجذم" (4) على رواية ضم الدال. الثالث: أن الحمد اللغوى
--------------------------------------------
আমরা আপনার প্রশংসা করি
...===
জাওযা (মিথুন রাশি) যদি তাঁর খেদমত করার নিয়ত না করত
... তবে তাকে কোমরবন্ধনী পরিহিত অবস্থায় দেখতে পেতে না।
যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: যদি আকাশ ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য থাকত, তবে উভয়ই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত (১)। এবং এর ব্যাখ্যা এখানে এই যে:
নিশ্চয়ই তাঁর বাণী: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে" কথাটি আমাদের এই বলার সমতুল্য যে: আমি কেবল আল্লাহর নামেই শুরু করছি; কারণ তিনি পরম করুণাময় ও দয়ালু। এতে 'ইস্তিখদাম' অলঙ্কারও রয়েছে এই ভিত্তিতে যে, 'আল্লাহ' শব্দ দ্বারা এর শব্দগত রূপ উদ্দেশ্য করা হয়েছে, আর 'রাহমান' শব্দের মধ্যে এমন একটি সর্বনাম রয়েছে যা তাঁর সত্তার দিকে ফিরেছে। এতে সাক্কাকীর মাযহাব অনুযায়ী 'ইলতিফাত' (বাকভঙ্গি পরিবর্তন) রয়েছে; কারণ স্বাভাবিক দাবি ছিল আল্লাহ তাআলার দিকে সম্বোধন করে বলা: "হে আল্লাহ, আপনার নামে", কিন্তু সেই স্বাভাবিক নিয়ম থেকে সরে এসে বলা হয়েছে "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে"। এতে 'ইদমাঝ' (অন্তর্ভুক্তি) অলঙ্কারও রয়েছে, আর তা হলো কোনো একটি উদ্দেশ্যে পরিচালিত কথার মধ্যে অন্য একটি উদ্দেশ্য অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া, যেমন কবির এই উক্তিতে রয়েছে:
আমি এতে আমার চোখের পাতা উল্টাচ্ছি যেন আমি এর মাধ্যমে (২)
... মহাকালের ওপর কৃত পাপসমূহ গণনা করছি (৩)।
আর এখানে এর ব্যাখ্যা হলো: বিসমিল্লাহর মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাআলার নামের বরকত গ্রহণ এবং তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করা। সুতরাং এই উদ্দেশ্য বর্ণনার পর, এতে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা হিসেবে তাঁর 'রাহমান' ও 'রাহীম' হওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
(তাঁর উক্তি: আমরা আপনার প্রশংসা করি) অর্থাৎ: আমরা আপনার সেই সৌন্দর্যের বর্ণনা দিচ্ছি যার আপনি যোগ্য; কারণ 'হামদ' হলো সৌন্দর্যের মাধ্যমে প্রশংসা করা। আর এটি সর্বজনবিদিত যে আল্লাহর সকল গুণই সুন্দর, তাই তিনি যেন বলছেন: আমরা আপনার প্রতিটি সুন্দর গুণের বর্ণনা করছি। অতঃপর 'বক্ষ উন্মোচন' ও 'অন্তর আলোকিত করার' নেয়ামতদ্বয় উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও সম্ভাবনা আছে যে এটি কেবল প্রশংসিত সত্তাকে নির্দিষ্ট করার জন্য, অথবা কেবল 'বারাআতুল ইস্তিহলাল' (সূচনায় প্রসঙ্গের ইঙ্গিত) হিসেবে। এর দ্বারা যা প্রাথমিকভাবে বুঝে আসে তা হলো, এই গুণ দুটির জন্যই তাঁর প্রশংসা করা হচ্ছে। এর অর্থ দাঁড়ায়: আমরা আপনার প্রশংসা করি হে সেই সত্তা... ইত্যাদি, এই দুটি গুণের কারণে। কারণ কোনো গুণবাচক বিশেষ্য ও তার সংশ্লিষ্ট অংশ মূলত উদ্ভূত শব্দের অর্থ প্রদান করে, আর কোনো বিধানকে উদ্ভূত শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট করা সেই শব্দের মূল উৎসের কারণ হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত দেয়। তখন এই প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে যে: এই প্রশংসা তো একাধারে হামদ (প্রশংসা) ও শুকর (কৃতজ্ঞতা), তবে কেন 'শুকর' শব্দের পরিবর্তে 'হামদ' শব্দ বেছে নেওয়া হলো? এর উত্তরে বলা হয়: তিনটি কারণে তিনি 'শুকর' এর পরিবর্তে 'হামদ' শব্দকে প্রাধান্য দিয়েছেন:
প্রথম: মহাগ্রন্থ কুরআনের অনুসরণ। দ্বিতীয়: এই হাদিসের ওপর আমল করা: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা 'আল্লাহর প্রশংসা' (আলহামদুলিল্লাহ) দিয়ে শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা বা বরকতহীন" (৪)—ডাল বর্ণে পেশ-সহ বর্ণনার ভিত্তিতে। তৃতীয়ত: আভিধানিক হামদ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ২১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
===
أظهر من الشكر بغير اللسان فى أداء المقصود؛ لخفاء الاعتقاد، واحتمال عمل الجوارح لغير الحمد، فهو أظهر أنواعه؛ ولذلك روى: " ما شكر الله عبد لم يحمده" (1) أى: ما أظهر نعمته كل الإظهار وكشف عنها عبد لم يثن عليه باللفظ، وإن اعتقد وعمل، فالمراد بالشكر فى الحديث إظهار النعمة، ولا يرد أن زيادة النعم مترتبة على الشكر لقوله تعالى: لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ (2)؛ لأنه ليس المراد بالشكر المقتضى لزيادة النعم فى الآية خصوص الشكر اللفظى، أعنى الشكر بخصوص لفظه، بل الشكر العرفى الشامل للثناء بغير لفظه، وخدمة الأركان، واعتقاد الجنان فى مقابلة النعمة، واختارها على مادة المدح للأمرين الأولين، وتنبيها على أنه تعالى فاعل مختار. واختار الجملة الفعلية المضارعية على الاسمية والماضوية؛ لإفادتها؛ لتجدد مضمونها على سبيل الدوام والاستمرار؛ ليناسب الحمد المحمود عليه هنا، وهو نعمة شرح الصدور للتخليص المذكور، وتنوير القلوب، المتجدد ذلك وقتا بعد وقت، بخلاف الماضوية؛ فإنها إنما تدل على الحدوث فقط، والاسمية تدل على الدوام فقط، فلا يناسبان المحمود عليه هنا، وأيضا المضارعية تدل على الأمرين معا، أعنى الحدوث الذى تدل عليه الماضوية، وعلى الاستمرار الدالة عليه الاسمية، وحينئذ فهى أشرف منهما، كذا قيل. ولكن اعترض بأن الاستمرار من وظائف الاسمية فقط- كما يأتى- إلا أن يقال: إن الذى تدل عليه الاسمية الاستمرار مجردا عن التجدد، والذى تدل عليه الجملة المضارعية الاستمرار مع التجدد.
ولما رأى بعض الأشياخ هذا الإشكال، قرر أن الجملة الفعلية المضارعية تدل على الاستمرار من حيث القرائن، وفيه أن الماضى كذلك يدل عليه بواسطة القرينة، اللهم إلا أن يقال: قوة دلالة الماضى على الانقطاع تعارض القرينة، فلم يعتبر فيه ذلك.
بقى شىء آخر، وهو أن الاستمرار التجددى لمضمون الجملة هنا محال؛ لأن
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
===
উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে জিহ্বা ব্যতীত অন্য মাধ্যমের শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা) অপেক্ষা [মৌখিক প্রশংসা] অধিক স্পষ্ট; কারণ বিশ্বাস অপ্রকাশ্য থাকে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল প্রশংসা ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং এটিই (মৌখিক প্রশংসা) শুকরিয়ার প্রকারভেদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট। আর একারণেই বর্ণিত হয়েছে: "সেই বান্দা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেনি যে তাঁর প্রশংসা (হামদ) করেনি।" (১) অর্থাৎ: যে বান্দা মৌখিকভাবে তাঁর প্রশংসা করেনি, সে তাঁর নেয়ামতকে পূর্ণরূপে প্রকাশ ও উন্মোচন করেনি, যদিও সে মনে-প্রাণে বিশ্বাস পোষণ করেছে এবং আমল করেছে। সুতরাং হাদীসে 'শুকর' বা কৃতজ্ঞতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নেয়ামতের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো। এখানে এই আপত্তি আসবে না যে, নেয়ামত বৃদ্ধি তো শুকরিয়ার ওপর নির্ভরশীল; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে বাড়িয়ে দেবো।" (২); কারণ আয়াতে বর্ণিত নেয়ামত বৃদ্ধির কারণ হিসেবে যে 'শুকর' বুঝানো হয়েছে, তা কেবল শাব্দিক বা মৌখিক শুকরিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এখানে পারিভাষিক শুকরিয়া উদ্দেশ্য—যা নেয়ামতের বিনিময়ে মৌখিক প্রশংসা ব্যতীতও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আনুগত্য এবং অন্তরের বিশ্বাসকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আর প্রথমোক্ত দুটি কারণে এবং মহান আল্লাহ যে একজন স্বেচ্ছাধীন কর্তা (ফায়েলে মুখতার) তা বুঝানোর জন্য 'মাদহ্' (সাধারণ প্রশংসা) শব্দের পরিবর্তে একে [হামদ] নির্বাচন করা হয়েছে। আর তিনি বিশেষ্যবাচক (ইস্মিয়াহ) ও অতীতকালবাচক (মাদিয়াহ) বাক্যের পরিবর্তে বর্তমান-ভবিষ্যৎকালবাচক ক্রিয়াওয়ালা বাক্য (জুমলা ফে'লিয়া মুদারিয়া) গ্রহণ করেছেন; এর উপকারিতা হলো—এটি এর বিষয়বস্তু সর্বদা ও নিরবচ্ছিন্নভাবে নবায়ন হওয়ার অর্থ প্রদান করে; যেন তা এখানে 'মাহমুদ' বা যার জন্য প্রশংসা করা হচ্ছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আর তা হলো—উল্লিখিত মুক্তির জন্য বক্ষ উন্মোচন এবং হৃদয়ের আলোকায়নের নেয়ামত, যা সময়ের ব্যবধানে নতুন করে অর্জিত হয়। পক্ষান্তরে অতীতকালবাচক বাক্য কেবল ঘটার (হুদুছ) প্রমাণ দেয় এবং বিশেষ্যবাচক বাক্য কেবল স্থায়িত্বের (দাওয়াম) প্রমাণ দেয়; তাই এই দুটি এখানে প্রশংসিত বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অধিকন্তু, বর্তমান-ভবিষ্যৎকালবাচক ক্রিয়া (মুদারে) উভয় বিষয়কেই একত্রে নির্দেশ করে; অর্থাৎ অতীতকাল যা নির্দেশ করে সেই ঘটা (হুদুছ) এবং বিশেষ্যবাচক বাক্য যা নির্দেশ করে সেই ধারাবাহিকতা (ইস্তিমরার)। এমতাবস্থায় এটি ওই দুটি অপেক্ষা অধিক শ্রেষ্ঠ; এমনটিই বলা হয়েছে। তবে আপত্তি তোলা হয়েছে যে, ধারাবাহিকতা (ইস্তিমরার) কেবল বিশেষ্যবাচক বাক্যেরই বৈশিষ্ট্য—যেমনটি সামনে আসবে। তবে এর উত্তর এভাবে দেওয়া যায় যে: বিশেষ্যবাচক বাক্য নবায়ন ব্যতিরেকে কেবল স্থায়িত্ব বুঝায়, আর বর্তমান-ভবিষ্যৎকালবাচক ক্রিয়াওয়ালা বাক্য নবায়নের সাথে সাথে স্থায়িত্বও বুঝায়।
যখন কিছু উস্তাদ এই জটিলতাটি দেখলেন, তখন তারা স্থির করলেন যে, বর্তমান-ভবিষ্যৎকালবাচক ক্রিয়াযুক্ত বাক্য প্রেক্ষাপটের (কারাইন) ভিত্তিতে ধারাবাহিকতা বুঝায়। তবে এতে কথা আছে যে, অতীতকালবাচক বাক্যও প্রেক্ষাপটের মাধ্যমে একই অর্থ দিতে পারে। অবশ্য যদি বলা হয়: অতীতকালবাচক ক্রিয়ার বিচ্ছিন্নতা বুঝানোর শক্তি প্রেক্ষাপটের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তাই এতে তা ধর্তব্য নয়।
আরও একটি বিষয় অবশিষ্ট থাকে, তা হলো: এখানে বাক্যের বিষয়বস্তুর নবায়নভিত্তিক ধারাবাহিকতা অসম্ভব; কারণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ২২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
===
الحمد ثناء، وهو عرض يزول بمجرد حصوله، وأجيب بأن هذا دوام واستمرار تخييلى لا تحقيقي، وأما جواب بعضهم بأن الدوام باعتبار الثواب، ففيه نظر؛ لأن الدوام المدلول للجملة متعلق بمضمونها لا بالثواب، فهو غير منظور له.
والنون فى قوله: (نحمدك) يحتمل أن تكون للمعظّم نفسه، وأتى بها مع أنها تدل على العظمة المنافية لمقام التأليف، وهو الذل والانكسار؛ إظهارا لملزومها، وهو تعظيم الله له، فهو من باب التحدث بالنعمة الذى هو أولى من سلوك التواضع عند الفقهاء والمحدّثين، ويحتمل أنها للمتكلم ومعه غيره، والمراد بالغير إخوانه الحامدون أو العلماء وأدخلهم معه فى الحمد؛ إما لكون أمر الحمد عظيما لا يقوم به الشخص الواحد، فاستعان بهم عليه، ومع ذلك لم يقوموا بحقه، وإما لتعود بركة الحمد عليهم؛ شفقة منه عليهم، كما تقرأ شيئا وتهدى ثوابه إلى والديك، فإنه يحصل لك ولهم الثواب. غاية الأمر أنه نزل الشركة فى الحمد منزلة الشركة فى الثواب إقامة للسبب مقام المسبّب. ويحتمل أن المراد بالغير أجزاء ذاته، فكأنه جعل كلّ جارحة بمنزلة شخص مستقل ادعاء، لكن لا يخفى أن من جملة كل جزء موارد الحمد الثلاثة: اللسان، والجنان، والأركان، ومن المعلوم أن إسناد الفعل لآلته مجاز، ولفاعله حقيقة، فيكون إسناد الحمد للمتكلم حقيقة، وإلى الموارد الثلاثة المذكورة مجازا، فيلزم على ذلك الجمع بين الحقيقة والمجاز، كما يقال باعتبار ذلك: يقطع، باعتبار إسناد القطع إلى القاطع وإلى آلته، ولا بعد فيه على مذهب من جوز الجمع بين الحقيقة والمجاز، وهذا ظاهر على جعل الجملة خبرية، فإن جعلت إنشائية فى المعنى تعين أن تكون النون للعظمة؛ لأن إنشاء الحمد بهذه الجملة لم يقع إلا من المصنف، فلا يتأتى أن تكون لإنشاء الحمد منه ومن غيره إلا على سبيل التنزيل.
واعلم أنه إذا جعلت الجملة خبرية لفظا ومعنى، حصل بها الحمد ضمنا فى ابتداء التأليف؛ لأن الإخبار عن حمد يقع منه يستلزم أنّ ذلك المحمود أهل لأن يحمد، وهذا ليس تلزم اتصافه بالجميل الذى هو حقيقة الحمد، أو يقال: هو إخبار عن حمد واقع
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
===
হামদ হলো প্রশংসা, আর এটি একটি ক্ষণস্থায়ী গুণ যা অর্জিত হওয়ার সাথে সাথেই বিলীন হয়ে যায়। এর জবাবে বলা হয়েছে যে, এই স্থায়িত্ব ও ধারাবাহিকতা হলো কাল্পনিক, প্রকৃত নয়। আর কারো কারো উত্তর যে, স্থায়িত্ব হলো সওয়াবের বিবেচনায়—তাতে আপত্তি রয়েছে; কারণ বাক্য দ্বারা নির্দেশিত স্থায়িত্ব তার বিষয়বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট, সওয়াবের সাথে নয়। সুতরাং সওয়াব এখানে উদ্দেশ্য নয়।
“আমরা আপনার প্রশংসা করছি” বাক্যে 'নুন' বর্ণটি বক্তার নিজের মাহাত্ম্য প্রকাশের জন্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি উল্লেখ করা হয়েছে যদিও তা মহত্ত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে, যা গ্রন্থ রচনার সময়কার কাঙ্ক্ষিত বিনয় ও নম্রতার পরিপন্থী; মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে মহিমান্বিত করার বিষয়টি প্রকাশের জন্য তিনি এটি ব্যবহার করেছেন। এটি আল্লাহর নিয়ামত আলোচনার অন্তর্ভুক্ত, যা ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণের নিকট বিনয় প্রকাশের চেয়েও অগ্রগণ্য। আবার সম্ভাবনা রয়েছে যে, এটি বক্তা এবং তার সাথে অন্যদের বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে 'অন্যান্য' দ্বারা তার প্রশংসাকারী ভাইগণ বা আলেম সমাজ উদ্দেশ্য এবং তিনি তাদের প্রশংসার অন্তর্ভুক্ত করেছেন; হয় একারণে যে, প্রশংসার বিষয়টি অত্যন্ত মহান যা একাকী কোনো ব্যক্তির পক্ষে আঞ্জাম দেওয়া সম্ভব নয়, তাই তিনি তাদের সাহায্য নিয়েছেন—তা সত্ত্বেও তারা এর যথাযথ হক আদায় করতে পারেননি। অথবা প্রশংসার বরকত যেন তাদের ওপরও পৌঁছে সেই মমত্ববোধ থেকে তিনি এমনটি করেছেন; যেমন আপনি কোনো কিছু পাঠ করে তার সওয়াব আপনার পিতা-মাতাকে উপহার দেন, ফলে আপনি এবং তারা উভয়ই সওয়াব লাভ করেন। বড়জোর তিনি প্রশংসায় অংশীদার হওয়াকে সওয়াবের অংশীদার হওয়ার স্থলাভিষিক্ত করেছেন—অর্থাৎ কারণকে ফলাফলের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। অথবা সম্ভাবনা রয়েছে যে, 'অন্যান্য' দ্বারা তার নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বুঝানো হয়েছে; যেন তিনি দাবি করছেন যে প্রতিটি অঙ্গ একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি। তবে এটি স্পষ্ট যে, প্রশংসার তিনটি উৎস: জিহ্বা, অন্তর এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, ক্রিয়াকে তার মাধ্যমের দিকে সম্বন্ধ করা রূপক এবং প্রকৃত কর্তার দিকে সম্বন্ধ করা বাস্তব। সুতরাং প্রশংসাকে বক্তার দিকে সম্বন্ধ করা বাস্তব এবং উল্লিখিত তিনটি উৎসের দিকে সম্বন্ধ করা রূপক হবে। এমতাবস্থায় এটি বাস্তব ও রূপক অর্থের সংমিশ্রণ হবে। যেমনটি কর্তার দিকে এবং যন্ত্রের দিকে সম্বন্ধ করার বিচারে বলা হয়: “সে কাটছে”। আর যারা বাস্তব ও রূপক অর্থ একত্র করা বৈধ মনে করেন, তাদের নিকট এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। আর এটি তখনই স্পষ্ট হবে যখন বাক্যটিকে সংবাদবাচক ধরা হবে। কিন্তু যদি একে অর্থগতভাবে ভাববাচক ধরা হয়, তবে 'নুন' বর্ণটি মাহাত্ম্য প্রকাশের জন্যই নির্দিষ্ট হবে; কারণ এই বাক্যের মাধ্যমে প্রশংসার সূচনা কেবল গ্রন্থকারের পক্ষ থেকেই হয়েছে। তাই রূপক অর্থ ছাড়া এটি তার এবং অন্য কারো পক্ষ থেকে প্রশংসা হওয়া সম্ভব নয়।
জেনে রাখুন যে, বাক্যটি যদি শব্দ ও অর্থে সংবাদবাচক হয়, তবে গ্রন্থ রচনার শুরুতে পরোক্ষভাবে প্রশংসা অর্জিত হয়ে যায়। কারণ তার পক্ষ থেকে প্রশংসা সম্পন্ন হওয়ার সংবাদ দেওয়া একথাই অনিবার্য করে তোলে যে, সেই প্রশংসিত সত্তা প্রশংসার যোগ্য। আর এটি আল্লাহর সুন্দর গুণে গুণান্বিত হওয়াকে সাব্যস্ত করে যা প্রশংসার মূল হাকীকত। অথবা বলা যায়: এটি একটি সংঘটিত প্রশংসার সংবাদ মাত্র।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يا من شرح صدورنا
…===
بذلك الإخبار كما قيل فى نحو (أتكلم): إنه إخبار عن تكلم حصل به، وإنما عدل عن اسم الجلالة الذى ورد التعبير به فى الكتاب والسنة فى مقام الحمد إلى ضمير الخطاب؛ لأن اللائق بحال الحامد أن يلاحظ المحمود فى حال حمده حاضرا مشاهدا؛ ليكون حمده على وجه الإحسان المفسّر فى حديث الإحسان: " أن تعبد الله كأنك تراه" (1)، ففى التعبير بالضمير المذكور إشارة إلى أن الحامد بلغ مقام المشاهدة للمحمود، بحيث حمده على وجه المخاطبة والمشافهة، وإنما آثر تأخير المفعول مع أن تقديمه يفيد الاختصاص؛ لأن تأخيره هو الأصل، وللإشارة إلى استغناء هذا الاختصاص عن البيان لوضوحه.
(قوله: يا من) أتى ب" يا" الموضوعة لنداء البعيد مع أنه تعالى أقرب إلينا من حبل الوريد؛ إشارة إلى علوّ مرتبة الحضرة العلية عن الحامد الملوّث بالمكدرات البشرية من الذنوب والآثام؛ ولذا قال بعض الأفاضل:
العبد عبد وإن تسامى
… والمولى مولى وإن تنزّل
ولا يناقض هذا ما مر فى نكتة التعبير بكاف الخطاب؛ لأن البعد الرتبى بين الحق والخلق يصاحبه قوة الإقبال والتوجه إليه تعالى، واستعمل" من" فى الذات العلية مع أنها من المبهمات؛ لورود الإذن فى إطلاقها عليه كتابا وسنة، نحو: سُبْحانَ الَّذِي أَسْرى (2) أَفَمَنْ يَخْلُقُ كَمَنْ لا يَخْلُقُ (3)، وفى الحديث: " يا من إحسانه فوق كل إحسان، يا من لا يعجزه شىء"، فمنع إطلاقها (4) عليه تعالى فيه نظر.
(قوله: شرح) الشرح فى الأصل: الفتح، والمراد به هنا التهيئة، وقوله: (صدورنا) جمع صدر بمعنى القلب، من إطلاق المحل وإرادة الحالّ، وفى الحقيقة المهيأ للعلوم إنما هو النفس بمعنى الروح لا القلب بمعنى المضغة الحالة فى الصدر، فيراد بالقلب النفس، والمعنى:
--------------------------------------------
হে তিনি, যিনি আমাদের বক্ষসমূহ উন্মুক্ত করেছেন
…===
এই সংবাদের মাধ্যমে, যেমনটি (আমি কথা বলছি) এর মতো ক্ষেত্রে বলা হয়: এটি এমন এক কথা বলার সংবাদ যা তার মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। প্রশংসা বা হামদ-এর ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহতে যে 'ইসমুল জালালাহ' (আল্লাহ শব্দ) ব্যবহারের রীতি বর্ণিত হয়েছে, তা থেকে সরে এসে সম্বোধনবাচক সর্বনামের দিকে ফিরে আসার কারণ হলো— প্রশংসাকারীর অবস্থার জন্য এটিই উপযুক্ত যে, সে তার প্রশংসার সময় প্রশংসিত সত্তাকে উপস্থিত ও প্রত্যক্ষ করবে; যাতে তার প্রশংসাটি সেই ইহসানের স্তরে হয় যা হাদীসে ইহসানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে: "তুমি আল্লাহর ইবাদত করো এমনভাবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ" (১)। সুতরাং উল্লিখিত সর্বনামের ব্যবহারের মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, প্রশংসাকারী প্রশংসিত সত্তার প্রত্যক্ষণের (মুশাহাদা) মাকামে পৌঁছেছেন, ফলে তিনি তাঁকে সরাসরি সম্বোধন ও মুখোমুখি আলাপের মাধ্যমে প্রশংসা করছেন। আর মাফ'উল (কর্মপদ)-কে পরে আনা হয়েছে যদিও আগে আনা হলে তা নির্দিষ্টকরণ (ইখতিসাস) বুঝাত; কারণ পরে আনাই মূল নিয়ম এবং এটি নির্দেশ করে যে এই নির্দিষ্টকরণটি অত্যন্ত স্পষ্ট হওয়ার কারণে তা পৃথকভাবে বর্ণনার মুখাপেক্ষী নয়।
(তাঁর বক্তব্য: হে তিনি যিনি) এখানে 'ইয়া' অব্যয়টি আনা হয়েছে যা দূরবর্তী কাউকে ডাকার জন্য নির্ধারিত, অথচ মহান আল্লাহ আমাদের ঘাড়ের শাহরগের চেয়েও নিকটবর্তী। এটি প্রশংসাকারীর তুলনায় মহান দরবারের সুউচ্চ মর্যাদার দিকে ইঙ্গিত করার জন্য, কারণ প্রশংসাকারী গুনাহ ও অপরাধের মতো মানবিক পঙ্কিলতায় কলুষিত। এই কারণেই কোনো কোনো গুণীজন বলেছেন:
বান্দা বান্দাই থাকে যদিও সে উচ্চ শিখরে আরোহণ করে
… আর মওলা মওলাই থাকেন যদিও তিনি নিচে নেমে আসেন।
এটি সম্বোধনবাচক 'কাফ' ব্যবহারের রহস্যের সাথে সাংঘর্ষিক নয়; কারণ স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে মর্যাদাগত দূরত্বের সাথে সাথে মহান আল্লাহর দিকে একাগ্রতা ও অভিমুখী হওয়ার শক্তিও বিদ্যমান থাকে। আর মহান সত্তার ক্ষেত্রে 'মান' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে যদিও তা অস্পষ্টতাবাচক শব্দগুলোর অন্তর্ভুক্ত; কারণ কিতাব ও সুন্নাহতে তাঁর ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারের অনুমতি এসেছে। যেমন: "পবিত্র সেই সত্তা যিনি ভ্রমণ করিয়েছেন" (২), "তবে কি যিনি সৃষ্টি করেন তিনি তার মতো যে সৃষ্টি করে না?" (৩)। আর হাদীসে এসেছে: "হে তিনি যাঁর ইহসান সব ইহসানের ঊর্ধ্বে, হে তিনি যাঁকে কোনো কিছুই অপারগ করতে পারে না"। সুতরাং মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ।
(তাঁর বক্তব্য: উন্মুক্ত করেছেন) শারহ শব্দের মূল অর্থ হলো খোলা, আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রস্তুত করা। এবং তাঁর উক্তি: (আমাদের বক্ষসমূহ) এটি 'সদর' শব্দের বহুবচন যার অর্থ অন্তর। এখানে স্থান (আধার) উল্লেখ করে আধেয়কে বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে জ্ঞানের জন্য যা প্রস্তুত হয় তা হলো নফস বা রুহ (আত্মা), বক্ষস্থিত গোশতের টুকরো সদৃশ হার্ট বা হৃৎপিণ্ড নয়। সুতরাং অন্তর বলতে এখানে নফস বা আত্মাকে বোঝানো হয়েছে। আর অর্থ হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لتلخيص البيان فى إيضاح المعانى،
…===
يا من هيأ أرواحنا القائمة بقلوبنا التى محلها منا الصدور، ففيه مجاز بمرتبتين من إطلاق المحل على الحال فيهما.
(وتلخيص الكلام): تنقيحه أى: الإتيان به خالصا من الحشو والتطويل، (والبيان) هو الكلام الفصيح المعرب عما فى الضمير، ثم إنه لا بد من حذف فى الكلام، والمعنى يا من هيأ أرواحنا لعلم كيفية تلخيص الكلام الفصيح وتنقيحه وتخليصه من الحشو والتطويل والقصور عن فهم مراده حينما احتجنا لذلك؛ لأن الذى تهيأ النفس لقبوله العلوم والمعارف، وقوله: (فى إيضاح المعاني) يحتمل أن تكون" فى" بمعنى" مع" على حد قوله تعالى: ادْخُلُوا فِي أُمَمٍ (1)، أى: نحمدك يا من هيأ قلوبنا للعلم بكيفية الإتيان لكلام الفصيح منقحا مصاحبا لإيضاح المعاني، أى معانى ذلك البيان؛ وعلى هذا فالإتيان بلفظ" في" التى بمعنى" مع" إشارة إلى أن المقصود بالذات إيضاح المعاني، وأما الإتيان بالكلام الفصيح منقحا فهو بالتبع؛ لأن" مع" تدخل على المتبوع، ويحتمل أن تكون بمعنى" لام التعليل" متعلقة بتلخيص على حد قوله تعالى: لَمَسَّكُمْ فِيما أَفَضْتُمْ فِيهِ (2) أى: لأجل ما أفضتم فيه، أو باقية على حالها متعلقة بمحذوف صفة لتلخيص أو للبيان، وفى الكلام حذف، والمعنى: التلخيص الكائن أو البيان الكائن فى وقت إيضاح المعاني وحالته، أو أنها بمعنى" عند"، والمعنى: يا من علمنا كيفية تلخيص البيان عند قصدنا إيضاح المعانى بذلك البيان، ولا يخفى ما فى كلام الشارح من الاحتراس؛ إذ ربما يتوهم من تلخيص البيان عدم إيضاح معانيه، فدفع ذلك التوهم بقوله: فى إيضاح المعانى، على حدّ قوله (3):
فسقى ديارك غير مفسدها
… صوب الربيع وديمة تهمى
--------------------------------------------
অর্থসমূহ স্পষ্টীকরণের ক্ষেত্রে বক্তব্যের সারসংক্ষেপ করার জন্য,
…===
হে সেই সত্তা, যিনি আমাদের আত্মাকে প্রস্তুত করেছেন যা আমাদের অন্তরে বিদ্যমান, আর আমাদের মাঝে যার স্থান হলো বক্ষসমূহ; এতে দুই স্তরের রূপক (মাজায) রয়েছে যেখানে উভয় ক্ষেত্রে 'স্থান' শব্দটিকে 'অবস্থানকারীর' অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
(বক্তব্যের সারসংক্ষেপ): এর পরিমার্জন করা অর্থাৎ: একে অনর্থক অতিরিক্ত কথা ও দীর্ঘসূত্রিতা থেকে মুক্ত করে উপস্থাপন করা, (আর বয়ান) হলো মনের ভাব প্রকাশকারী প্রাঞ্জল বক্তব্য। অতঃপর বাক্যের মধ্যে কিছু অংশ উহ্য থাকা আবশ্যক, আর এর অর্থ হলো: হে সেই সত্তা যিনি আমাদের আত্মাকে প্রাঞ্জল বক্তব্যের সারসংক্ষেপ ও পরিমার্জন করার এবং একে অনর্থক অতিরিক্ত কথা, দীর্ঘসূত্রিতা ও উদ্দেশ্য বুঝতে অক্ষম হওয়া থেকে মুক্ত করার পদ্ধতিগত জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রস্তুত করেছেন যখন আমাদের তার প্রয়োজন হয়; কারণ আত্মা যা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয় তা হলো বিভিন্ন জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। আর তাঁর কথা: (অর্থসমূহ স্পষ্টীকরণের ক্ষেত্রে) এখানে 'ফি' (মধ্যে/ক্ষেত্রে) শব্দটি 'মা'আ' (সাথে) অর্থে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "তোমরা উম্মতদের সাথে প্রবেশ করো" (১), অর্থাৎ: আমরা আপনার প্রশংসা করি হে সেই সত্তা, যিনি আমাদের অন্তরকে পরিমার্জিত প্রাঞ্জল বক্তব্য প্রদানের পদ্ধতিগত জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রস্তুত করেছেন যা অর্থসমূহ স্পষ্টীকরণের সহগামী, অর্থাৎ সেই বয়ানেরই অর্থসমূহ; আর এই ভিত্তিতে 'ফি' শব্দের ব্যবহার যা 'সাথে' অর্থে এসেছে, তা এই দিকে ইঙ্গিত করে যে মূলত উদ্দেশ্য হলো অর্থ স্পষ্ট করা, আর পরিমার্জিত প্রাঞ্জল বক্তব্য উপস্থাপন করা হলো তার অনুগামী বিষয়; কারণ 'সাথে' শব্দটি মূলত অনুগামী বিষয়ের আগে আসে। আবার এটি 'কারণ দর্শানোর লাম' অর্থে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যা 'সারসংক্ষেপ' এর সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "তোমরা যাতে লিপ্ত হয়েছিলে তার কারণে তোমাদের ওপর আজাব আসত" (২) অর্থাৎ: তোমরা যাতে লিপ্ত হয়েছিলে তার জন্য। অথবা এটি তার মূল অর্থেই বহাল থেকে 'সারসংক্ষেপ' বা 'বয়ান' এর কোনো উহ্য বিশেষণের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে, আর বাক্যের মধ্যে কিছু অংশ উহ্য আছে। এর অর্থ হবে: অর্থ স্পষ্ট করার সময় বা অবস্থায় বিদ্যমান সারসংক্ষেপ বা বয়ান। অথবা এটি 'নিকটে বা সময়ে' অর্থে হতে পারে, আর অর্থ হবে: হে সেই সত্তা যিনি আমাদের বয়ানকে সারসংক্ষেপ করার পদ্ধতি শিখিয়েছেন যখন আমরা সেই বয়ানের মাধ্যমে অর্থ স্পষ্ট করার ইচ্ছা করি। আর ব্যাখ্যাকারকের বক্তব্যের মধ্যে যে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে তা অস্পষ্ট নয়; কারণ বয়ানকে সারসংক্ষেপ করা থেকে হয়তো এই ভ্রম হতে পারত যে এর অর্থগুলো স্পষ্ট হবে না, তাই তিনি "অর্থসমূহ স্পষ্টীকরণের ক্ষেত্রে" বলে সেই ভ্রম দূর করেছেন, যেমনটি কবির উক্তিতে রয়েছে (৩):
বসন্তের বৃষ্টি এবং অবিরাম বারিধারা তোমার গৃহসমূহকে সিক্ত করুক তাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করেই
… --------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ونوّر قلوبنا بلوامع التبيان
…. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
===
ويحتمل أن يراد بالبيان والمعانى خصوص العلمين، وحينئذ ف" فى" بمعنى" مع"، ولا يخفى ما فى كلام الشارح من المحسّنات البديعية، ففى التعبير بشرح الصدور حسن الافتتاح؛ لأن شرح الصدور أصل لكل خير، ففى افتتاح الكلام به إدخال السرور على السامع، وفيه أيضا براعة استهلال؛ لأنه يشير إلى أن الكلام الآتى شرح، وقوّى البراعة بما ذكره بعد بقوله: لتلخيص البيان، وإيضاح المعاني، وفى ذكر التلخيص، والإيضاح، والبيان، ودلائل الإعجاز، وأسرار البلاغة- التى هى أسماء كتب فى هذا الفن، الأولان للمصنف، والثالث للطيبي، والأخيران للشيخ عبد القاهر- التوجيه، وهو أن يوجه الكلام إلى أسماء متلائمة ولو اصطلاحا، كما فى قول علاء الدين الكندى:
من أمّ بابك لم تبرح جوارحه
… تروى أحاديث ما أوليت من منن
فالعين عن قرّة والكفّ عن صلة
… والقلب عن جابر والسّمع عن حسن
(قوله: ونورّ قلوبنا) التنوير: إدخال النور فى القلب، والمراد بالقلوب النفوس، واللوامع: جمع لامعة، وهى الذات المضيئة كالشمس والقمر والنجوم، والتبيان هو الكلام الفصيح المقترن بدليل أو برهان، فهو أخص من البيان، وإضافة اللوامع للتبيان إما من قبيل إضافة المشبه به للمشبه أى: بالتبيان الذى هو كالأنجم اللوامع فى الاهتداء بكل، وعلى هذا ف (أل) فى التبيان للاستغراق، فيكون جمعا فى المعنى، فالملاءمة بين المشّبه والمشبه به فى الجمعية حاصلة، وحينئذ فلا يقال: إنّ فيه تشبيه المفرد بالجمع وهو ممنوع، أو يقال: إنه قصد المبالغة فى تشبيهه بجميع اللوامع حيث جعله مقاوما لجميعها، وقولهم بالمنع محله ما لم يقصد المبالغة، فهما جوابان: الأول: بالمنع، والثاني: بالتسليم. ويحتمل أن تكون الإضافة على حقيقتها، والمراد باللوامع المعانى المفهومة بالتبيان على طريق الاستعارة التصريحية؛ وعلى هذا فهو من إضافة المدلول للدالّ، أو من إضافة الموصوف لصفته، أى: اللوامع المبيّنة، من إطلاق المصدر على اسم المفعول؛ لأن التّبيان فى الأصل مصدر (بيّن)، وهو بكسر التاء على غير قياس، ونظيره فى الكسر شذوذا: التّلقاء، وغيرهما بالفتح على القياس كالتّذكار والتّكرار، وإنما عبر الشارح بالبيان فى جانب شرح
এবং আমাদের অন্তরসমূহকে সুস্পষ্ট বর্ণনার আলোকচ্ছটা দ্বারা আলোকিত করুন
…. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
===
সম্ভবত 'বায়ান' এবং 'মাআনি' দ্বারা এই দুটি বিশেষ শাস্ত্রকে (ইলমুল বায়ান ও ইলমুল মাআনি) বোঝানো হয়েছে। এমতাবস্থায় 'ফি' (মধ্যে) শব্দটি 'মাআ' (সাথে) অর্থে ব্যবহৃত হবে। ব্যাখ্যাকারকের (শারহে) বক্তব্যের মধ্যে যে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় সৌন্দর্য বিদ্যমান তা অস্পষ্ট নয়। 'শরহুস সুদুর' (বক্ষসমূহ প্রশস্তকরণ) শব্দ ব্যবহারের মধ্যে 'হুসনুল ইফতিতাহ' (চমৎকার প্রারম্ভিকা) বিদ্যমান; কারণ বক্ষসমূহ প্রশস্ত হওয়া সকল কল্যাণের মূল। অতএব এর মাধ্যমে বক্তব্য শুরু করার মধ্যে শ্রোতার মনে আনন্দ সঞ্চার করা হয়েছে। আর এতে 'বারাআতিল ইস্তিহলাল'ও (সূচনা-শৈলী) রয়েছে; কারণ এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরবর্তী বক্তব্যটি একটি ব্যাখ্যা (শরহ)। তিনি তাঁর বক্তব্যের পরবর্তী অংশে 'তালখিস আল-বায়ান' এবং 'ইদহ আল-মাআনি' বলার মাধ্যমে এই শৈলীকে আরও শক্তিশালী করেছেন। আর 'আত-তালখিস', 'আল-ইদাহ', 'আল-বায়ান', 'দালাইলুল ইজায' এবং 'আসরারুল বালাগাহ' উল্লেখ করার মধ্যে - যেগুলি এই শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের নাম; প্রথম দুটি কিতাব গ্রন্থকারের (মুসান্নিফ) নিজের, তৃতীয়টি তিবীর এবং শেষ দুটি শায়খ আব্দুল কাহিরের - 'আত-তাওজিহ' (ইঙ্গিতধর্মী সমন্বয়) অলঙ্কার ফুটে উঠেছে। আর 'তাওজিহ' হলো বক্তব্যকে এমন সব নামের দিকে ফিরিয়ে দেয়া যা একে অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যদিও তা কেবল পারিভাষিক দিক থেকে হয়। যেমনটি আলাউদ্দীন আল-কিন্দি বলেছেন:
যে তোমার দুয়ারে আসে, তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ সর্বদা
… তোমার দেওয়া নিয়ামতসমূহের বিবরণ বর্ণনা করতে থাকে
চক্ষুসমূহ কুররা (শীতলতা) থেকে, হস্তসমূহ সিলাহ (দান) থেকে
… অন্তরসমূহ জাবির (উপশমকারী) থেকে এবং শ্রবণেন্দ্রিয়সমূহ হাসান (সৌন্দর্য) থেকে বর্ণনা করে
(তাঁর উক্তি: এবং আমাদের অন্তরসমূহকে আলোকিত করুন) 'তানবীর' অর্থ অন্তরে নূর বা আলো প্রবেশ করানো। আর 'কুলুব' (অন্তরসমূহ) দ্বারা এখানে আত্মা উদ্দেশ্য। 'লাওয়ামি' হলো 'লামিআহ' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ উজ্জ্বল সত্তা যেমন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র। 'তিবইয়ান' হলো এমন সাবলীল বক্তব্য যা দলিল বা প্রমাণের সাথে যুক্ত; ফলে এটি 'বায়ান' অপেক্ষা অধিক বিশিষ্ট। 'লাওয়ামি' শব্দটিকে 'তিবইয়ান' এর দিকে সম্বন্ধ (ইদাফাত) করা হয় হয় উপমানকে উপমেয়ের দিকে সম্বন্ধ করার ন্যায়; অর্থাৎ সেই 'তিবইয়ান' বা সুস্পষ্ট বর্ণনা যা সঠিক পথ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির ন্যায়। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী 'তিবইয়ান' শব্দের 'আল' (আলিফ-লাম) আভিধানিক ব্যাপকতা (ইস্তিগরাক) বোঝানোর জন্য, ফলে এটি অর্থের দিক থেকে বহুবচন হবে। এমতাবস্থায় উপমেয় ও উপমানের মধ্যে বহুবচন হওয়ার দিক থেকে সামঞ্জস্য রক্ষা হবে। সুতরাং এখানে এই আপত্তি উত্থাপন করা যাবে না যে, একবচনকে বহুবচনের সাথে তুলনা করা হয়েছে যা নিষিদ্ধ। অথবা বলা যেতে পারে যে, এখানে সমস্ত উজ্জ্বল নক্ষত্রের সাথে তুলনা করার মাধ্যমে আতিশয্য (মুবালগা) উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যেন এটি একা সবগুলোর সমকক্ষ। আর (একবচনকে বহুবচনের সাথে তুলনায়) পণ্ডিতদের নিষেধ করার বিষয়টি তখনই প্রযোজ্য যখন আতিশয্য উদ্দেশ্য না থাকে। সুতরাং এখানে দুটি উত্তর পাওয়া গেল: প্রথমটি হলো (নিষেধকে) অস্বীকার করা এবং দ্বিতীয়টি হলো (আপত্তি) মেনে নিয়ে তার সমাধান দেওয়া। এটিও সম্ভব যে, এই সম্বন্ধটি (ইদাফাত) তার প্রকৃত অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। সেক্ষেত্রে 'লাওয়ামি' দ্বারা 'তিবইয়ান' এর মাধ্যমে উপলব্ধ অর্থসমূহকে রূপকভাবে (ইস্তিয়ারা তাসরিহিয়্যাহ) বোঝানো হয়েছে। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি 'দাল' (নির্দেশক) এর দিকে 'মাদলুল' (নির্দেশিত) এর সম্বন্ধ অথবা বিশেষ্যের দিকে বিশেষণের সম্বন্ধ; অর্থাৎ সুস্পষ্টকারী উজ্জ্বলসমূহ। এটি মূলত 'মাসদার'কে (ক্রিয়ামূল) 'ইসমুল মাফউল' (কর্মবাচক বিশেষ্য) অর্থে ব্যবহার করার অন্তর্ভুক্ত; কারণ 'তিবইয়ান' মূলত 'বায়্যানা' ক্রিয়ার মাসদার। আর এর শুরুতে 'তা' বর্ণে কাসরা (জের) হওয়া নিয়মের বহির্ভূত। নিয়মের ব্যতিক্রম হিসেবে নিচে কাসরা হওয়ার অনুরূপ দৃষ্টান্ত হলো 'তিলকা'। এগুলো ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী ফাতহা (জবর) হয়, যেমন 'তাযকার' ও 'তাকরার'। ব্যাখ্যাকারক কেবল 'বায়ান' শব্দ ব্যবহার করেছেন...
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
من مطالع المثانى،
…===
الصدور، والتبيان فى جانب تنوير القلوب؛ لأن التبيان أبلغ من البيان؛ لأن زيادة البناء تدل على زيادة المعنى غالبا، فهو بيان مع برهان، وقيل: مع كد خاطر وإعمال قلب، وتنوير القلب أقوى من شرح الصدر؛ لأن تنوير القلب إدخال النور فيه، وشرحه فتحه، والأبلغ أولى بالأقوى، وإنما قدم شرح الصدور على تنويرها؛ لأنه وسيلة له، والوسيلة مقدّمة على المقصد، وهذا كله بحسب الأصل، وإلا فالمراد بشرح الصدور، وتنوير القلوب واحد، ويدل له ما قالوه فى قوله تعالى: أَفَمَنْ شَرَحَ اللَّهُ صَدْرَهُ لِلْإِسْلامِ (1) أى: قذف فى قلبه نورا ينتفع به، فإنّ هذا يدل لما قلنا من أن شرح الصدر عبارة عن تنويره، وحينئذ ففى العبارة تفنن، أى: ارتكاب فنين ونوعين من التعبير، كذا قال بعضهم.
(قوله: من مطالع المثانى) حال من التبيان، أو صفة له؛ لأن الجار والمجرور الواقع بعد المعرف ب (أل) الجنسية يجوز فيه الأمران، و" من" للسببية، وهذا ترشيح للتشبيه على الاحتمال الأول، والمعنى: ونور قلوبنا بالتبيان الشبيه باللوامع كائنا ذلك التبيان أو الكائن بسبب تدبر مطالع المثاني، وعلى الاحتمال الثانى يكون الجار والمجرور حالا أو صفة للوامع ترشيحا للاستعارة، والمعنى: ونور قلوبنا بمعانى التبيان حالة كونها ناشئة من مطالع المثاني، ف" من" للابتداء، وعلى هذا فمعانى التبيان معان أخر غير معانى القرآن استفيدت من ممارسته.
والمثانى- بالثاء المثلثة، كما بالنسخة التى صححها الشارح-: القرآن؛ لأن الأحكام والقصص فيه ثنّيت أى كرّرت، أو لتكرر نزوله، وهو جمع مثنى كمفعل اسم مكان، أو مثنّى بالتشديد من التثنية على غير قياس، (والمطالع) جمع مطلع وهو فى الأصل اسم لمحل طلوع الكواكب والمراد به هنا ألفاظ القرآن، فشبهت ألفاظ القرآن بمحلّ طلوع الكواكب بجامع أن كلّا محل لطلوع ما يهتدى به، واستعير اسم المشبه به للمشبه على طريق الاستعارة التصريحية، وإضافة مطالع للمثانى على هذا من إضافة الأجزاء للكل أو بيانية، ويحتمل أن إضافة مطالع للمثان ى من إضافة المشبه به للمشبه
--------------------------------------------
মাসানি-র উদয়স্থল হতে,
...===
বক্ষসমূহ, এবং অন্তরসমূহকে আলোকিত করার ক্ষেত্রে তিবইয়ান; কারণ তিবইয়ান শব্দটি বায়ান অপেক্ষা অধিকতর অলঙ্কারপূর্ণ। কারণ শব্দগঠনের বৃদ্ধি সাধারণত অর্থের আধিক্য নির্দেশ করে; সুতরাং এটি হলো প্রমাণের সাথে সুস্পষ্ট বর্ণনা। কেউ কেউ বলেছেন: মনের একাগ্রতা ও হৃদয়ের সক্রিয়তা সহকারে। আর অন্তরকে আলোকিত করা বক্ষ প্রশস্ত করার চেয়ে অধিক শক্তিশালী; কারণ অন্তরের আলোকায়ন মানে তাতে নূর প্রবেশ করানো, আর বক্ষ প্রশস্ত করার অর্থ হলো তা খুলে দেওয়া। আর অধিকতর অলঙ্কারপূর্ণ শব্দটি অধিকতর শক্তিশালী অর্থের জন্য অধিক উপযোগী। এখানে বক্ষ প্রশস্ত করাকে অন্তর আলোকিত করার আগে আনা হয়েছে; কারণ এটি তার মাধ্যম, আর মাধ্যম সাধারণত উদ্দেশ্যের অগ্রে থাকে। এই সবকিছুই মূলগত বিচারে; নতুবা বক্ষ প্রশস্ত করা এবং অন্তর আলোকিত করার উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। আর এ কথার সপক্ষে প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যায় যা বলা হয়েছে: আল্লাহ যার বক্ষকে ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন (১), অর্থাৎ: তিনি তার অন্তরে এমন নূর ঢেলে দিয়েছেন যা দ্বারা সে উপকৃত হয়। নিশ্চয়ই এটি আমাদের ঐ কথার প্রমাণ বহন করে যে, বক্ষ প্রশস্ত করা বলতে তাকে আলোকিত করাকেই বুঝানো হয়েছে। এমতাবস্থায় এই বাচনভঙ্গিতে বৈচিত্র্য রয়েছে, অর্থাৎ প্রকাশের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন শৈলী বা ধরন অবলম্বন করা হয়েছে; এমনটিই কেউ কেউ বলেছেন।
(তার উক্তি: মাসানি-র উদয়স্থল হতে) এটি 'তিবইয়ান' থেকে 'হাল' (অবস্থা) অথবা তার জন্য 'সিফাত' (গুণ); কারণ 'আল' জিনসিয়া যুক্ত নির্দিষ্ট বিশেষ্যের পর অবস্থিত জার ও মাজরুর উভয়টি হওয়ারই সম্ভাবনা রাখে। আর 'মিন' অব্যয়টি কারণ দর্শাতে ব্যবহৃত হয়েছে। আর প্রথম সম্ভাবনা অনুযায়ী এটি উপমার জন্য 'তারশিহ' (পুষ্টি)। এর অর্থ হলো: এবং তিনি আমাদের অন্তরকে আলোকপ্রভার সদৃশ সেই সুস্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে আলোকিত করেছেন যা মাসানি-র উদয়স্থলসমূহ নিয়ে চিন্তাগবেষণার কারণে অর্জিত হয়েছে। দ্বিতীয় সম্ভাবনা অনুযায়ী জার ও মাজরুর হবে 'লাওয়ামে' (আলোকপ্রভা)-এর জন্য 'হাল' অথবা 'সিফাত', যা রূপকের পুষ্টিস্বরূপ। এর অর্থ হলো: এবং তিনি আমাদের অন্তরকে তিবইয়ান বা সুস্পষ্ট বর্ণনার মর্মার্থের মাধ্যমে আলোকিত করেছেন এমতাবস্থায় যে তা মাসানি-র উদয়স্থল হতে উদ্ভূত। এখানে 'মিন' অব্যয়টি প্রারম্ভ বা উৎস অর্থে। এমতাবস্থায় তিবইয়ান-এর অর্থসমূহ কুরআনের অর্থসমূহ ব্যতীত অন্য কিছু হবে যা কুরআন চর্চার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে।
আর 'মাসানি'—তিন নুক্তাওয়ালা 'সা' যোগে, যেমনটি ব্যাখ্যাকার কর্তৃক সংশোধিত পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে—এর অর্থ হলো কুরআন; কারণ এর বিধানাবলী ও কাহিনীসমূহ বারংবার বর্ণিত বা পুনরাবৃত্ত হয়েছে, অথবা এর অবতরণ বারবার হওয়ার কারণে। এটি 'মাফআল' ওজনে 'মাসনা'-এর বহুবচন যা স্থানবাচক বিশেষ্য, অথবা নিয়ম বহির্ভূতভাবে 'তাসনিয়া' হতে তাসদিদ যুক্ত 'মুসান্না' শব্দের বহুবচন। '(মাতালি)' হলো 'মাতলা' এর বহুবচন, যা মূলত নক্ষত্ররাজির উদয়স্থলের নাম। এখানে এটি দ্বারা কুরআনের শব্দাবলী উদ্দেশ্য। এখানে কুরআনের শব্দাবলীকে নক্ষত্র উদিত হওয়ার স্থানের সাথে তুলনা করা হয়েছে এই সাধারণ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে যে, উভয়টিই এমন কিছু উদিত হওয়ার স্থান যা দ্বারা সঠিক পথ পাওয়া যায়। আর এখানে 'ইস্তিয়ারা তাসরিহিয়া' (সুস্পষ্ট রূপক) পদ্ধতিতে 'মুসাব্বাহ বিহি'-এর নাম 'মুসাব্বাহ'-এর জন্য ধার নেয়া হয়েছে। এই ভিত্তিতে 'মাসানি'-র সাথে 'মাতালি'-এর সম্বন্ধটি হলো সমষ্টির সাথে অংশের সম্বন্ধ অথবা বর্ণনামূলক। আর এটিও সম্ভব যে, 'মাসানি'-র সাথে 'মাতালি'-এর এই সম্বন্ধটি হলো 'মুসাব্বাহ'-এর সাথে 'মুসাব্বাহ বিহি'-এর সম্বন্ধ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ونصلى على نبيك محمد المؤيد دلائل إعجازه
…===
كلجين الماء، وليس فى الكلام استعارة. وبين المثانى والمعانى من المحسنات البديعية الجناس اللاحق؛ لاختلافهما بحرفين متباعدين فى المخرج.
(قوله: ونصلى .. إلخ) (1) لعله لم يأت بالسلام خطّا اكتفاء بإثباته له لفظا، فلا يقال إنّ إفراد الصلاة عن السّلام مكروه، أو إنه ترجح عنده القول بعدم كراهة الإفراد.
(قوله: على نبيك) بالهمز مأخوذ من" النبأ"، وهو الخبر؛ لأنه مخبر عن الله بما بلغه الملك من الأحكام، أو لإخباره الناس بأنه نبى فيحترم. وبدون همز من" النبوة" وهى الرفعة؛ لارتفاع رتبته. وإنما لم يقل: على رسولك، مع أن الرسالة أشرف؛ لأن الوصف بالنبوة أشهر استعمالا.
(قوله: محمد) بدل أو عطف بيان من" نبيك".
(قوله: المؤيد) من التأييد، وهو التقوية، وهو نعت لمحمد لا لنبي؛ لئلا يلزم تقديم غير النعت من التوابع عليه.
(قوله: دلائل) جمع دليل على غير قياس كوصيد ووصائد؛ لأن شرط جمع فعيل على فعائل أن يكون مؤنثا كسعيد اسم امرأة، والأولى أن تكون جمع دلالة بمعنى دليل ولا شذوذ ولا شىء، قال فى" الخلاصة" (2):
وبفعائل اجمعن فعاله
… وشبهه ذا تاء أو مزاله
ثم إن دليل الشيء ما يؤدى إلى معرفته، وحينئذ فدلائل إعجازه- عليه الصلاة والسلام المعجزات التى يعرف بها إعجازه- عليه السلام لمعارضيه عن المعارضة بالإتيان بمثل ما أتى به، واعترض بأن المعجزات (3) إنما يعرف بها صدقه- عليه الصلاة والسلام لأنه المقصود من الإتيان بها لا الإعجاز الذى هو إثبات عجز الغير، وحينئذ فالأولى للشارح أن يقول: المؤيد دلائل صدقه إلخ، وأجيب بأن الإعجاز فى الأصل إثبات
--------------------------------------------
আমরা আপনার নবী মুহাম্মদের প্রতি দরুদ পাঠ করি যিনি তাঁর অলৌকিকত্বের প্রমাণাদি দ্বারা সমর্থিত
…===
পানির রূপার মতো, এবং এই বক্তব্যের মধ্যে কোনো রূপক অলঙ্কার নেই। আর 'আল-মাছানি' ও 'আল-মাআনি' শব্দ দুটির মধ্যে অলঙ্কারশাস্ত্রের দিক থেকে 'জিনাস লাহিক' (পরবর্তী অনুপ্রাস) বিদ্যমান; যেহেতু তারা উচ্চারণস্থলের দিক থেকে পরস্পর দূরবর্তী দুটি ভিন্ন বর্ণের মাধ্যমে পৃথক হয়েছে।
(তাঁর বক্তব্য: এবং আমরা দরুদ পাঠ করি... ইত্যাদি) (১) সম্ভবত তিনি সালামকে লিখিতভাবে উল্লেখ করেননি মৌখিকভাবে তা সাব্যস্ত করার ওপর নির্ভর করে। অতএব এ কথা বলা যাবে না যে, সালাম ব্যতীত কেবল দরুদ পাঠ করা মাকরূহ, অথবা সম্ভবত তাঁর নিকট এককভাবে দরুদ পাঠ মাকরূহ না হওয়ার মতটিই প্রাধান্য পেয়েছে।
(তাঁর বক্তব্য: আপনার নবীর প্রতি) হামযা যোগে এটি 'আন-নাবা' (সংবাদ) থেকে গৃহীত, যা হলো খবর; কারণ তিনি ফেরেশতার মাধ্যমে প্রাপ্ত বিধানসমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদানকারী, অথবা তিনি মানুষকে সংবাদ দান করেন যে তিনি একজন নবী যেন তাঁকে সম্মান করা হয়। আর হামযা ব্যতীত এটি 'আন-নুবুওয়াহ' থেকে গৃহীত যার অর্থ হলো উচ্চমর্যাদা; তাঁর উচ্চ মকামের কারণে। তিনি 'আপনার রসুলের প্রতি' বলেননি, যদিও রিসালাত অধিক মর্যাদাপূর্ণ; কারণ নবুওয়াত গুণের ব্যবহার অধিক প্রসিদ্ধ।
(তাঁর বক্তব্য: মুহাম্মাদ) এটি 'আপনার নবী' শব্দ থেকে বদল অথবা আতফে বায়ান।
(তাঁর বক্তব্য: সমর্থিত) এটি 'তায়ীদ' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ শক্তিশালী করা। এটি 'মুহাম্মাদ' শব্দের বিশেষণ (সিফাত), 'নবী' শব্দের নয়; যাতে সিফাত ব্যতীত অন্য অনুগামী পদকে সিফাতের আগে আনা আবশ্যক না হয়।
(তাঁর বক্তব্য: প্রমাণাদি) এটি কিয়াসবহির্ভূতভাবে 'দালিল' শব্দের বহুবচন, যেমন 'ওয়াসিদ' ও 'ওয়াসাইদ'; কারণ 'ফাইল' ওজনকে 'ফায়াইল' আকারে বহুবচন করার শর্ত হলো সেটি স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া, যেমন কোনো নারীর নাম 'সাঈদ'। তবে উত্তম হলো একে 'দালিল' অর্থে 'দালালাহ' শব্দের বহুবচন ধরা, তবে এতে কোনো নিয়মবহির্ভূত বিষয় বা অন্য কিছু থাকে না। 'আল-খুলাসায়' (২) বলা হয়েছে:
এবং 'ফায়াইল' ওজনে 'ফাআলাহ' শব্দের বহুবচন করো
… এবং গোল 'তা' যুক্ত বা গোল 'তা' মুক্ত তার অনুরূপ শব্দকেও।
অতঃপর কোনো বস্তুর প্রমাণ (দালিল) হলো তাই যা তাকে চেনার দিকে নিয়ে যায়। এমতাবস্থায় তাঁর (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) অলৌকিকত্বের প্রমাণাদি বলতে সেই মুজিযাসমূহকে বোঝায়, যার মাধ্যমে তাঁর বিরোধীরা তাঁর আনীত বিষয়ের অনুরূপ কিছু আনয়নে তাদের অক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারে। তবে আপত্তি তোলা হয়েছে যে, মুজিযাসমূহের (৩) মাধ্যমে মূলত তাঁর (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সত্যবাদিতাই জানা যায়, কারণ এটিই মুজিযা আনয়নের মূল উদ্দেশ্য, ইজায (অক্ষম করা) নয়—যা অন্যের অক্ষমতা প্রমাণ করাকে বোঝায়। এমতাবস্থায় ব্যাখ্যাকারীর জন্য বলা উত্তম ছিল: তাঁর সত্যবাদিতার প্রমাণাদি দ্বারা সমর্থিত ইত্যাদি। এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, ইজায-এর মূল অর্থ হলো সাব্যস্ত করা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بأسرار البلاغة، وعلى آله وأصحابه المحرزين قصب السبق
…===
العجز فى الغير ثم نقل لإظهار العجز فيه، ثم نقل لأظهار صدق النبى- عليه الصلاة والسلام فى دعواه الرسالة، فهو مجاز مبنى على مجاز، وحينئذ فالمعنى: المؤيد دلائل صدقه، وبأن الإضافة لأدنى ملابسة، وبيان ذلك: أن الدلائل لما كانت ملابسة لإعجاز الخلق أى إثبات عجزهم عن الإتيان بمثلها، ودلت على الصدق بواسطته أضيفت إليه.
وفى كلامه من المحسنات البديعية جناس الطباق حيث جمع بين المؤيد والإعجاز، وهما معنيان متقابلان.
(قوله: بأسرار البلاغة) أى الأسرار المعتبرة فى البلاغة، وهى مطابقة الكلام لمقتضى الحال مع فصاحته، وأسرارها: الأمور التى يقتضيها الحال، كالتأكيد عند الإنكار، وتركه عند عدمه، وغير ذلك مما سيأتي، وسميت أسرارا؛ لأنها لا يعرفها إلا أربابها، فشبهت بالسر الذى بين اثنين لا يعرفه إلا هما، واستعير اللفظ الدال على المشبه به للمشبه على طريق الاستعارة المصرّحة، فإن قلت: من جملة دلائل إعجازه انشقاق القمر، وسعى الحجر، وغيرهما، وأسرار البلاغة ليست موجودة فيهما، فما معنى كونهما مؤيدين بتلك الأسرار؟ وأجيب بأن المعجزات يؤيد بعضها بعضا، فالتأييد ثابت لهما بالأسرار بهذا الاعتبار، وتوضيح ذلك أن القرآن مؤيّد بأسرار البلاغة، وهو مؤيّد لبقية المعجزات؛ لثبوته بالتواتر وبقائه على الدوام، فتكون الأسرار مؤيّدة لبقية المعجزات؛ لأن مؤيّد المؤيّد لشيء مؤيد لذلك الشيء، هذا إن جعلنا إضافة" دلائل" إلى" إعجاز" للاستغراق، فإن جعلناها للجنس لم يرد السؤال، وكذا إن جعلناها للعهد وأردنا بدلائل إعجازه: السور القرآنية، وكل جملة من القرآن قدر سورة، ومعنى تأييد القرآن بأسرار البلاغة أن أمارات الإعجاز فيه وإن كانت كثيرة من الإخبار بالغيوب، والأساليب العجيبة، وغيرهما، لكن أقوى تلك الأمارات كمال البلاغة الحاصل بتلك الأسرار.
(قوله: المحرزين) صفة للآل والأصحاب، مأخوذ من الإحراز، وهو الحوز والضم، أى: الذين حازوا وضمّوا. (وقوله: قصب السبق) القصب: جمع قصبة، وهى سهم صغير تغرسه الفرسان فى آخر الميدان يأخذه من سبق إليه أولا، وإضافة قصب
অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্যসমূহের মাধ্যমে, এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীগণের প্রতি, যারা অগ্রগামিতার গৌরব অর্জন করেছেন
…===
অন্যের অক্ষমতা, এরপর মুজিযাতে অক্ষমতা প্রকাশের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাতের দাবির সত্যতা প্রকাশের জন্য স্থানান্তরিত হয়েছে। সুতরাং এটি রূপকের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি রূপক, এবং এমতাবস্থায় অর্থ হলো: তাঁর সত্যতার প্রমাণাদি দ্বারা সমর্থিত। আর এই সম্বন্ধটি ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা হলো: এই প্রমাণাদি যখন সৃষ্টির অক্ষমতার (অর্থাৎ এর সমতুল্য কিছু নিয়ে আসতে তাদের অপারগতা প্রমাণের) সাথে সংশ্লিষ্ট হলো এবং এর মাধ্যমে সত্যতা নির্দেশ করল, তখন এটি তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হলো।
এবং তাঁর বক্তব্যের অলঙ্কারশাস্ত্রের চমৎকারিত্বের মধ্যে রয়েছে বৈপরীত্যমূলক শব্দালঙ্কার, যেখানে তিনি 'সমর্থিত' এবং 'অক্ষমতা' শব্দদ্বয়কে একত্রে উল্লেখ করেছেন, যা দুটি পরস্পর বিপরীত অর্থবোধক শব্দ।
(তাঁর বক্তব্য: অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্যসমূহের মাধ্যমে) অর্থাৎ অলঙ্কারশাস্ত্রের ক্ষেত্রে বিবেচ্য রহস্যসমূহ। আর তা হলো সাবলীলতার সাথে পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী বক্তব্যের সামঞ্জস্য বিধান করা। এর রহস্যগুলো হলো সেই সব বিষয় যা পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী আসে, যেমন—অস্বীকারের সময় বক্তব্য জোরালো করা এবং অস্বীকার না থাকলে তা পরিহার করা, এবং এর বাইরে অন্যান্য বিষয় যা সামনে আসবে। এগুলোকে রহস্য বলা হয়েছে কারণ এগুলো কেবল এর বিশেষজ্ঞরাই অনুধাবন করতে পারেন। ফলে একে এমন গোপনীয় বিষয়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে যা দুজন ব্যক্তির মাঝে থাকে এবং কেবল তারাই তা জানে। এখানে উপমানের জন্য ব্যবহৃত শব্দকে উপমেয়ের জন্য ধার নেওয়া হয়েছে 'ইসতিয়ারা মুসাররাহ' এর পদ্ধতিতে। যদি আপনি প্রশ্ন করেন: তাঁর মুজিযার প্রমাণাদির মধ্যে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া, পাথরের হেঁটে আসা এবং আরও অন্যান্য বিষয় রয়েছে, অথচ অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্যসমূহ তো সেই সব ঘটনায় বিদ্যমান নেই, তবে সেগুলো সেই রহস্যসমূহ দ্বারা সমর্থিত হওয়ার অর্থ কী? উত্তরে বলা হবে যে, মুজিযাসমূহ একে অপরকে সমর্থন করে। সুতরাং এই বিবেচনায় সেই রহস্যগুলোর মাধ্যমে এই দুইটির জন্যও সমর্থন সাব্যস্ত হয়। এর ব্যাখ্যা হলো, কুরআন অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্যসমূহ দ্বারা সমর্থিত, আবার কুরআন অন্যান্য মুজিযাসমূহকেও সমর্থন দানকারী; কারণ এটি অবিচ্ছিন্ন বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত এবং চিরস্থায়ী। ফলে সেই রহস্যসমূহ অন্যান্য মুজিযার জন্যও সমর্থক হয়ে দাঁড়ায়; কারণ কোনো বিষয়ের সমর্থকের সমর্থক সেই বিষয়েরই সমর্থক। এটি তখন প্রযোজ্য হবে যদি আমরা 'প্রমাণাদি' শব্দটিকে 'অক্ষমতা'র দিকে সম্বন্ধ করাকে ব্যাপকতা অর্থে গ্রহণ করি। কিন্তু যদি আমরা একে জাতীয় অর্থে গ্রহণ করি তবে এই প্রশ্ন আসবে না। তদ্রূপ যদি আমরা একে নির্দিষ্ট অর্থে গ্রহণ করি এবং মুজিযার প্রমাণাদি বলতে কুরআনের সূরাসমূহ এবং কুরআনের প্রতিটি সূরার সমপরিমাণ অংশ উদ্দেশ্য নিই। আর অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্যের মাধ্যমে কুরআন সমর্থিত হওয়ার অর্থ হলো যে, কুরআনে যদিও অদৃশ্যের সংবাদ দান, চমৎকার রচনাশৈলী এবং আরও অনেক মুজিযার নিদর্শন রয়েছে, তবুও সেই নিদর্শনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো এই রহস্যগুলোর মাধ্যমে অর্জিত অলঙ্কারশাস্ত্রের পূর্ণতা।
(তাঁর বক্তব্য: যারা অর্জন করেছেন) এটি তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের বিশেষণ, যা 'ইহরায' শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ হলো অর্জন করা ও আয়ত্ত করা। অর্থাৎ যারা তা অর্জন করেছেন ও আয়ত্ত করেছেন। (এবং তাঁর বক্তব্য: অগ্রগামিতার পুরস্কার) কাসাব হলো কাসাবাহ-এর বহুবচন, যা মূলত একটি ছোট কাঠি যা অশ্বারোহীরা ময়দানের শেষ প্রান্তে গেঁথে রাখত; যে ব্যক্তি সবার আগে সেখানে পৌঁছাত সে তা তুলে নিত। আর কাসাব শব্দের সম্বন্ধ...
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فى مضمار الفصاحة والبراعة
…===
السبق من إضافة الدال للمدلول، أى القصب الدال على السبق، أى الدال حوزه عليه.
(وقوله: فى مضمار) صفة القصب أى المغروز فى مضمار الفصاحة، والمضمار محل تسابق الفرسان بالخيل ويقال له أيضا: ميدان، وإنما سمّى مضمارا لتسابق الفرسان فيه بالخيل المضمرة.
ثم إن الفصاحة سيأتى تعريفها، وأما البراعة فمصدر (برع) الرجل إذا فاق أقرانه، فالبراعة: فوقان الأقران، والمراد بها هنا ما به الفوقان من الكمال والشرف. ثم لا يخفى أن كلا من الفصاحة والبراعة بالمعنى المراد هنا لا مضمار لهما، وحينئذ ففى الكلام استعارة تمثيلية، حيث شبّه هيئة الآل والأصحاب فى حوزهم أعلى مراتب الفصاحة والبراعة عند المحاورة والتخاطب، بهيئة الفرسان فى حوزهم قصب السبق عند التسابق بالخيل فى الميدان، واستعير اللفظ الموضوع للهيئة المشبه بها للهيئة المشبهة على طريق الاستعارة التمثيلية، أو استعارة مفردة مصرّحة فى قصب السبق، بأن شبه ما اختصوا به من بديع العبارات الدال على علو مرتبتهم فى الفصاحة والبراعة بقصب السبق، واستعير اسم المشبه به للمشبه، والمضمار ترشيح، أو مكنيّة فى الآل والأصحاب بأن شبههم بفرسان، أو فى الفصاحة والبراعة بأن شبههما بالخيل الجيدة الموصلة للمراد، وإثبات المضمار على كل من الوجهين تخييل، وإحراز قصب السبق ترشيح، والفصاحة والبراعة على الأول من الوجهين تجريد، وأقرب من ذلك أن نقول: الإحراز فى الأصل هو الضم، والمراد به هنا التحصيل، والقصب فى الأصل هى السهام الصغيرة التى تغرز فى آخر الميدان بحيث يعد من أخذها أولا سابقا، والمراد بها هنا النكات الدقيقة، أى: المحصلين للمعانى الدقيقة الدالة على سبقهم على غيرهم. (وقوله: فى مضمار) حال من الآل والأصحاب أى حال كون الآل والأصحاب تتسابق أذهانهم فى مضمار، والمراد به هنا الكلام البليغ من كلام الله ورسوله، فكما أن المضمار الأصلى تركض وتتسابق فيه الفرسان، كذلك الكلام البليغ تركض فيه أذهان الآل والأصحاب، وإضافة المضمار بمعنى الكلام البليغ للفصاحة والبراعة؛ من حيث إنه يفيد أن الراكض فيه ذو فصاحة وبراعة،
বাগ্মিতা ও শ্রেষ্ঠত্বের ময়দানে
…===
'সাবক' (অগ্রগামিতা) শব্দটি নির্দেশকের সাথে নির্দেশিত বিষয়ের সম্বন্ধকরণের (ইদাফাত) অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, সেই কঞ্চি যা অগ্রগামিতাকে নির্দেশ করে, তথা যার অর্জন অগ্রগামিতার প্রমাণ দেয়।
(এবং তাঁর বক্তব্য: ময়দানে) এটি কঞ্চির বিশেষণ, অর্থাৎ যা বাগ্মিতার ময়দানে প্রোথিত। 'মিদমার' হলো ঘোড়সওয়ারদের ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগিতা করার স্থান, যাকে 'ময়দান'ও বলা হয়। মূলত একে 'মিদমার' নামকরণ করা হয়েছে এই কারণে যে, অশ্বারোহীরা এতে প্রশিক্ষিত ও সুগঠিত ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগিতা করে থাকে।
অতঃপর বাগ্মিতার সংজ্ঞা সামনে আসবে। আর 'বারাআত' (শ্রেষ্ঠত্ব) শব্দটি 'বারাআ' থেকে উদ্ভূত মূলশব্দ, যার অর্থ হলো কোনো ব্যক্তির তার সমকক্ষদের চেয়ে অগ্রগামী হওয়া। সুতরাং 'বারাআত' মানে সমকক্ষদের ছাড়িয়ে যাওয়া। আর এখানে এর দ্বারা সেই পূর্ণতা ও মর্যাদা উদ্দেশ্য, যার মাধ্যমে এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয়। এরপর এটি অস্পষ্ট নয় যে, এখানে যে অর্থে বাগ্মিতা ও শ্রেষ্ঠত্ব ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলোর কোনো (বাস্তব) ময়দান নেই। এমতাবস্থায় এই বক্তব্যের মধ্যে 'ইস্তিয়ারা তামসিলিয়াহ' (রূপক উপমা) বিদ্যমান। যেখানে বংশধর (আল) ও সাহাবায়ে কেরামগণের কথোপকথন ও সম্বোধনের সময় বাগ্মিতা ও শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোচ্চ শিখর অর্জনের অবস্থাকে তুলনা করা হয়েছে প্রতিযোগিতার ময়দানে ঘোড়সওয়ারদের বিজয়সূচক কঞ্চি অর্জনের অবস্থার সাথে। এক্ষেত্রে 'ইস্তিয়ারা তামসিলিয়াহ'র পদ্ধতিতে উপমেয় অবস্থার জন্য উপমান অবস্থার নির্ধারিত শব্দাবলিকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অথবা 'কাসাবুস সাবক' (বিজয়সূচক কঞ্চি) শব্দটিতে 'ইস্তিয়ারা মুফরাদা মুসাররাহ' (সুস্পষ্ট একক রূপক) রয়েছে। এভাবে যে, বাগ্মিতা ও শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে তাঁদের যে অনন্য ও চমৎকার শব্দশৈলী রয়েছে, যা তাঁদের উচ্চ মর্যাদার প্রমাণ দেয়, তাকে 'কাসাবুস সাবক' বা বিজয়সূচক কঞ্চির সাথে তুলনা করা হয়েছে। এখানে উপমানের নাম উপমেয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে এবং 'মিদমার' (ময়দান) শব্দটি এখানে 'তারশিহ' (সহায়ক অলঙ্কার) হিসেবে এসেছে। অথবা বংশধর ও সাহাবীগণের ক্ষেত্রে 'ইস্তিয়ারা মাকনিয়াহ' (উহ্য রূপক) রয়েছে, যেখানে তাঁদেরকে অশ্বারোহীদের সাথে তুলনা করা হয়েছে। অথবা বাগ্মিতা ও শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে 'ইস্তিয়ারা মাকনিয়াহ' রয়েছে, যেখানে এই দুটিকে এমন উৎকৃষ্ট ঘোড়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে যা লক্ষ্যবস্তু পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। এই উভয় পদ্ধতিতেই 'মিদমার' (ময়দান) এর সাব্যস্তকরণ হলো 'তাখয়িল' (কল্পনাপ্রসূত রূপক), এবং 'কাসাবুস সাবক' অর্জন করা হলো 'তারশিহ' (সহায়ক অলঙ্কার)। আর প্রথম পদ্ধতিতে বাগ্মিতা ও শ্রেষ্ঠত্ব শব্দ দুটি হলো 'তাজরিদ' (নিরাকরণ)। এর চেয়ে সহজতর ব্যাখ্যা হলো: 'ইহরাজ' শব্দের মূল অর্থ হলো কুক্ষিগত করা বা একত্র করা, আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অর্জন করা। 'কাসাব' মূলত সেই ছোট ছোট তীর বা কাঠিকে বলা হয় যা ময়দানের শেষ প্রান্তে পুঁতে রাখা হয়, যাতে যে ব্যক্তি তা সবার আগে গ্রহণ করবে তাকে অগ্রগামী হিসেবে গণ্য করা যায়। এখানে এর দ্বারা সূক্ষ্ম ও গভীর তত্ত্বসমূহ উদ্দেশ্য। অর্থাৎ, তাঁরা হলেন সেই সকল ব্যক্তি যারা এমন সূক্ষ্ম অর্থসমূহ অর্জন করেছেন যা অন্যদের ওপর তাঁদের অগ্রগামিতার প্রমাণ দেয়। (এবং তাঁর বক্তব্য: ময়দানে) এটি বংশধর ও সাহাবায়ে কেরামগণের অবস্থা (হাল) বর্ণনা করছে। অর্থাৎ, এমন অবস্থা যখন বংশধর ও সাহাবীগণের মেধা কোনো ময়দানে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। এখানে ময়দান দ্বারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অলঙ্কারপূর্ণ বাণী উদ্দেশ্য। সুতরাং যেভাবে প্রকৃত ময়দানে অশ্বারোহীরা ঘোড়া দৌড়ায় ও প্রতিযোগিতা করে, ঠিক তেমনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অলঙ্কারপূর্ণ বাণীর ময়দানে বংশধর ও সাহাবীগণের মেধা বিচরণ করে। আর অলঙ্কারপূর্ণ বাণীরূপ ময়দানকে বাগ্মিতা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এই দিক থেকে যে, এটি প্রকাশ করে যে এতে বিচরণকারী ব্যক্তি বাগ্মিতা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وبعد: فيقول الفقير إلى الله
…===
كذا قرر شيخنا العلامة العدوى، ولا يخفى ما فى كلام الشارح من التلميح، وهو الإشارة لشيء من كلام الله أو كلام رسوله أو قصة أو مثل، فذكر السبق إشارة لقوله تعالى: وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ (1)، وذكر البراعة إشارة لقوله عليه الصلاة والسلام:
" لو أنفق أحدكم مثل أحد ذهبا ما ساوى مدّ أحدهم ولا نصفيه" (2).
(قوله: وبعد
… إلخ) هو ظرف زمان مبنى على الضمّ لقطعه عن الإضافة لفظا لا معنى، أى: بعد البسملة والحمدلة والصلاة، ودخول الفاء على توهّم" أمّا" فى الكلام، والواو عاطفة قصة على قصة أو للاستئناف: إما النحوى وهو ظاهر، أو البيانى فتكون الجملة واقعة فى جواب سؤال مقدّر، أى: ماذا تقول بعد البسملة والحمدلة والصلاة؟
فأجاب بقوله: وبعد فيقول
… إلخ، وعلى هذا الاحتمال- أعنى كون" أما" متوهمة والواو عاطفة أو استثنائية- فالظرف معمول ل" يقول"، ويحتمل أن تكون" أما" مقدّرة فى نظم الكلام والواو عوض عنها، وعلى هذا الاحتمال فعامل" بعد" أما المحذوفة لنيابتها عن فعل الشرط أو فعل الشرط المقدر بمهما يكن من شيء أو جوابه، وهو يقول.
(قوله: فيقول) مقتضى الظاهر أن يعبّر ب" أقول" لكنه التفت من المتكلم فى" نحمدك" إلى الغيبة؛ توصلا للوصف بالعبودية التى هى أشرف الأوصاف، ولو عبر بما يقتضيه الظاهر وأتى بذلك الوصف لكانت جملته فضلة، واللائق بذلك الوصف أن تكون جملته عمدة.
(قوله: الفقير) فعيل بمعنى مفتقر، وصيغة فعيل تأتى للمبالغة وصفة مشبهة، وهى هنا للمعنيين؛ بناء على جواز استعمال المشترك فى معنييه، وحينئذ فالمعنى:
كثير الفقر ودائمه، وهذا الوصف لازم لكل أحد لا ينفك عنه، قال تعالى: يا أَيُّهَا النَّاسُ أَنْتُمُ الْفُقَراءُ إِلَى اللَّهِ (3) وهذا معنى البطلان فى قول لبيد (4):
--------------------------------------------
অতঃপর: আল্লাহর মুখাপেক্ষী বলছেন
…===
আমাদের শায়খ আল্লামা আল-আদাওয়ি এভাবেই সাব্যস্ত করেছেন। আর ব্যাখ্যাকারীর বক্তব্যে যে 'তালমিহ' (ইঙ্গিত) রয়েছে তা গোপন নয়; আর তালমিহ হলো মহান আল্লাহর বাণী বা তাঁর রাসূলের বাণী অথবা কোনো কাহিনী বা প্রবাদের প্রতি ইঙ্গিত করা। সুতরাং এখানে অগ্রগামিতার উল্লেখ করা মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি ইঙ্গিত: "আর যারা অগ্রগামী, তারা তো অগ্রগামীই" (১)। আর পারদর্শিতার উল্লেখ করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর প্রতি ইঙ্গিত:
"তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও ব্যয় করে, তবে তাদের (সাহাবীদের) এক অঞ্জলি বা তার অর্ধেক পরিমাণ সওয়াবের সমানও হতে পারবে না" (২)।
(তাঁর বক্তব্য: 'অতঃপর' ইত্যাদি) এটি একটি কালবাচক অব্যয় যা 'যম্মাহ' ধ্বনির ওপর ভিত্তিপ্রাপ্ত, কারণ এটি শাব্দিকভাবে পরবর্তী সম্বন্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন কিন্তু অর্থগতভাবে নয়; অর্থাৎ: বিসমিল্লাহ, হামদ ও সালাতের পর। আর 'ফা' বর্ণটির প্রবেশ ঘটেছে বাক্যে 'আম্মা' শব্দের উপস্থিতির অনুমানের ভিত্তিতে। আর 'ওয়াও' বর্ণটি এক কাহিনীকে অন্য কাহিনীর সাথে সংযোগকারী অথবা বাক্য সূচনাকারী: হয় নাহু শাস্ত্রীয় পরিভাষায় যা স্পষ্ট, অথবা বর্ণনাভঙ্গি অনুযায়ী; সেক্ষেত্রে বাক্যটি একটি উহ্য প্রশ্নের উত্তর হিসেবে গণ্য হবে, অর্থাৎ: বিসমিল্লাহ, হামদ ও সালাতের পর আপনি কী বলবেন?
অতঃপর তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে উত্তর দিয়েছেন: 'অতঃপর বলছেন...' ইত্যাদি। এই সম্ভাবনা অনুযায়ী—অর্থাৎ 'আম্মা' শব্দটিকে অনুমিত ধরা এবং 'ওয়াও' বর্ণটিকে সংযোজক বা প্রারম্ভিক ধরা—এই অব্যয়টি 'বলছেন' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এটাও সম্ভব যে বাক্যের বিন্যাসে 'আম্মা' শব্দটি উহ্য রয়েছে এবং 'ওয়াও' বর্ণটি তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। এই সম্ভাবনা অনুযায়ী, 'অতঃপর' শব্দের আমিল বা ক্রিয়াশীল শব্দ হবে উহ্য 'আম্মা', যা শর্তমূলক ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে, অথবা শর্তমূলক ক্রিয়া যা 'যাই ঘটুক না কেন' বাক্য দ্বারা অনুমিত, অথবা এর উত্তর যা হলো 'বলছেন'।
(তাঁর বক্তব্য: 'বলছেন') বাহ্যিক দাবি ছিল 'আমি বলছি' শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা, কিন্তু তিনি 'আমরা আপনার প্রশংসা করছি' বাক্যে উত্তম পুরুষ থেকে নাম পুরুষে মোড় ঘুরিয়েছেন (ইলতিফাত); যাতে দাসত্বের গুণ দ্বারা বিশেষিত হওয়া যায় যা সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ। যদি তিনি বাহ্যিক দাবি অনুযায়ী শব্দ ব্যবহার করতেন এবং সেই গুণটি নিয়ে আসতেন, তবে তাঁর বাক্যটি অতিরিক্ত অংশ হিসেবে গণ্য হতো। অথচ সেই গুণের সাথে সংগতিপূর্ণ হলো বাক্যটি প্রধান অংশ হওয়া।
(তাঁর বক্তব্য: 'মুখাপেক্ষী' বা ফকির) এটি 'ফায়িল' এর ওজনে 'অভাবী' অর্থে ব্যবহৃত। 'ফায়িল' শব্দটি আধিক্য এবং গুণবাচক—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। এখানে এটি উভয় অর্থেই প্রযোজ্য; কারণ একই শব্দকে তার দুটি অর্থেই ব্যবহার করা বৈধ। সেমতে অর্থ দাঁড়াবে:
অত্যন্ত অভাবী এবং স্থায়ী মুখাপেক্ষী। আর এই বৈশিষ্ট্যটি প্রত্যেকের জন্য অপরিহার্য যা থেকে কেউ মুক্ত নয়। মহান আল্লাহ বলেন: "হে মানুষ, তোমরা আল্লাহর মুখাপেক্ষী" (৩)। আর এটিই লাবিদ (৪)-এর উক্তির মধ্যে 'অসারতা' শব্দের অর্থ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الغنى، مسعود بن عمر المدعو بسعد
…===
ألا كلّ شىء ما خلا الله باطل
… ...
(قوله: الغني) بالجر صفة لله، أى: المستغنى عن كلّ شيء، فهو سبحانه منزه عن الاحتياج، وبين الفقر والغنى من المحسنات البديعية جناس الطباق، وفى كلامه إشارة إلى أن ما عليه الحادث نقيض ما عليه القديم. ويصح قراءته بالرفع صفة ثانية للعبد، أى: المستغنى به تعالى عن كل ما سواه تعالى؛ وعلى هذا ففيه إيهام التضاد.
(قوله: مسعود بن عمر) بدون تنوين؛ لأن العلم الموصوف بابن يحذف تنوينه سواء كان العلم اسما أو كنية أو لقبا، وهو بدل من العبد الفقير أو عطف بيان؛ لأن نعت المعرفة إذا قدم عليها أعرب بحسب العوامل، وأعربت بدلا منه أو عطف بيان وانعكس الأمر فصار التابع متبوعا، بخلاف نعت النكرة إذا قدم عليها فإنه ينصب على الحال غالبا، وتبقى النكرة على ما هى عليه من الإعراب، كما فى قوله: (1):
لمية موحشا طلل
… ...
ومن غير الغالب قد يعامل نعت النكرة معاملة نعت المعرفة كما فى قولك: ما مررت بمثلك أحد.
(قوله: المدعو بسعد) أى المسمى بسعد، وكما أن التسمية تتعدى للمفعول الثانى بالباء كما تتعدىّ بنفسها، كذلك الدعاء الذى بمعناها تارة يتعدى للمفعول الثانى بالباء قال تعالى: وَلِلَّهِ الْأَسْماءُ الْحُسْنى فَادْعُوهُ بِها (2) أى:
سموه، وتارة يتعدى له بنفسه قال تعالى: أَيًّا ما تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْماءُ الْحُسْنى (3)، وعلى فرض عدم تعديته بالباء يكون ضمّن الدعاء معنى الاشتهار تضمينا نحويّا أو بيانيّا فعداه بالباء، أو ضمنه معنى التسمية تضمينا بيانيّا لا نحويّا؛ لأنّ الدعاء بمعناها وضعا فلا معنى لإشرابه معناها. وعلى
--------------------------------------------
অমুখাপেক্ষী, মাসউদ ইবনে উমর, যিনি সা’দ নামে পরিচিত
…===
জেনে রেখো, আল্লাহ ব্যতীত সব কিছুই বাতিল
… ...
(তাঁর উক্তি: আল-গনি) শব্দটি যের (জের) যুক্ত হয়ে আল্লাহর গুণবাচক বিশেষণ হয়েছে; অর্থাৎ: তিনি সকল কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী। সুতরাং তিনি মহান ও পবিত্র, তিনি মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত। আর ‘ফকর’ (মুখাপেক্ষিতা) ও ‘গিনা’ (অমুখাপেক্ষিতা)-র মধ্যে শব্দালংকারের বিচারে ‘জিনাসুত তিবাক’ (বিপরীতার্থক শব্দানুপ্রাস) রয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, নশ্বর জগতের অবস্থা অনাদি সত্তার অবস্থার বিপরীত। শব্দটি পেশ (রাফ) যুক্ত করে ‘আবদ’ বা বান্দার দ্বিতীয় বিশেষণ হিসেবে পড়াও সঠিক; এমতাবস্থায় এর অর্থ হবে: তিনি যিনি আল্লাহ তাআলার মাধ্যমে অন্য সবকিছু থেকে বিমুখ বা অমুখাপেক্ষী হয়েছেন। এই হিসেবে এখানে ‘ইহমাত তাদাদ’ (বিরোধাভাসমূলক অলংকার) রয়েছে।
(তাঁর উক্তি: মাসউদ ইবনে উমর) তানভীন ব্যতীত; কেননা ‘ইবন’ শব্দ দ্বারা বিশেষায়িত কোনো নাম বা সংজ্ঞবাচক শব্দের তানভীন বিলুপ্ত হয়ে যায়, চাই সেই নামটি মূল নাম হোক, উপনাম হোক কিংবা উপাধি হোক। এটি ‘আল-আবদুল ফাকির’ থেকে ‘বদল’ অথবা ‘আতফে বায়ান’। কারণ নির্দিষ্ট বিশেষ্য (মারেফাহ) যদি তার বিশেষণের (সিফাত) পূর্বে আসে, তবে তা কারক অনুযায়ী বিভক্তিপ্রাপ্ত হয় এবং বিশেষণটি তার বদল অথবা আতফে বায়ান হিসেবে গণ্য হয়; তখন অনুগামীটি অনুগমনীয়তে পরিণত হয়। পক্ষান্তরে অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (নাকিরাহ) বিশেষণ যদি তার আগে আসে, তবে নিয়ম ভিন্ন; সেক্ষেত্রে বিশেষণটি সাধারণত ‘হাল’ হিসেবে নসব (যবর) প্রাপ্ত হয় এবং অনির্দিষ্ট বিশেষ্যটি তার মূল বিভক্তি অনুযায়ী বহাল থাকে। যেমন কবিতায় বলা হয়েছে (১):
মাইয়্যাহর জন্য বিরান বাস্তুভিটা
… ...
কদাচিৎ অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের বিশেষণ নির্দিষ্ট বিশেষ্যের বিশেষণের ন্যায় আচরণ করে, যেমনটি তোমার এই উক্তি: ‘আমি তোমার মত কারো পাশ দিয়ে অতিক্রম করিনি’।
(তাঁর উক্তি: আল-মাদউ বি সা’দ) অর্থাৎ সা’দ নামে অভিহিত বা নামযুক্ত। ‘তাসমিয়াহ’ (নামকরণ) ক্রিয়াটি যেমন সরাসরি দ্বিতীয় কর্মের (মাফউল) দিকে ধাবিত হয়, আবার কখনো ‘বা’ অব্যয়ের মাধ্যমেও ধাবিত হয়। অনুরূপভাবে ‘দুয়া’ ক্রিয়াটি যখন এর সমার্থক হয়, তখন কখনো তা ‘বা’ যোগে দ্বিতীয় কর্ম গ্রহণ করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ‘আর আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে, অতএব তোমরা তাঁকে সেসব নামে ডাকো’ (২), অর্থাৎ: সেসব নামে তাঁর নামকরণ করো। আবার কখনো তা সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে, আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্য তো রয়েছে সুন্দরতম সব নাম’ (৩)। যদি ধরে নেওয়া হয় যে এটি ‘বা’ যোগে কর্ম গ্রহণ করে না, তবে এখানে ‘দুয়া’ ক্রিয়াটিকে ‘প্রসিদ্ধি’ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে যা ব্যাকরণিক অথবা অলংকারিক অন্তর্ভুক্তিকরণ (তাদমিন); সেকারণে একে ‘বা’ দিয়ে অব্যয়যুক্ত করা হয়েছে। অথবা একে ‘নামকরণ’ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে অলংকারিক অন্তর্ভুক্তিকরণ হিসেবে, ব্যাকরণিক হিসেবে নয়; কারণ আভিধানিক অর্থেই ‘দুয়া’ সেই অর্থ প্রকাশ করে, তাই নতুন করে সেই অর্থ আরোপ করার প্রয়োজন নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়া আদ-দুসুকী আলা মুখতাসারিল মাআনী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
التفتازانى- هداه الله سواء الطريق،
…===
فرض عدم التضمين تجعل الباء زائدة للتأكيد لا للتقوية؛ لأن الباء تزاد فى مواضع، منها المفعول كما فى قوله تعالى: وَلا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ (1)؛ فاندفع ما نقل عن الشارح من أن الأولى المدعو لسعد باللام؛ لأن الدعاء بمعنى التسمية إنما يتعدى لمفعوليه بنفسه، والشائع زيادته للتقوية اللام لا الباء 10 هـ.
وقد يقال فى ردّه- زيادة على ما مر-: إن زيادة اللام للتقوية إنما ثبتت فى المفعول الأول لا الثانى، فلا يقال: زيد معط عمرا للدراهم (*)، تأمل. ثم إنّ قوله:
(المدعو بسعد) أصله بسعد الدين فحذف جزء العلم اختصارا؛ للعلم به بواسطة الشهرة، وتأدبا فى كون الدين سعد به، والتصرف فى العلم شائع على التحقيق.
(قوله: التفتازاني) بالجر صفة لسعد، أو بالرفع صفة لمسعود، نسبة لتفتازان قرية من أعمال خراسان، - ولد رحمه الله تعالى- سنة اثنتى عشرة وسبعمائة بتقديم السين، وتوفّى سنة إحدى وتسعين وسبعمائة، أخذ عن القطب الرازى، وعن العضد بسمرقند.
(قوله: هداه الله سواء الطريق) عدى الهداية للمفعول الثانى بنفسها دون" إلى" أو اللام؛ ملاحظة لما قيل: إن الهداية إذا تعدّت للمفعول الثانى بنفسها يراد بها معنى الإيصال، وإن تعدت باللام أو" إلى" أريد بها معنى الدلالة، قال تعالى: إِنَّ هذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ (2)، وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلى صِراطٍ مُسْتَقِيمٍ (3)، كذا فى الخطابي، ويعكر عليه ما فى" المصباح" من أن لغة الحجازيين تعديتها إلى المفعول الثانى بنفسها، ولغة غيرهم تعديتها إليه ب" إلى" أو اللام، ودعوى أنها عند الحجازيين دائما بمعنى الإيصال وعند غيرهم دائما بمعنى الدلالة بعيدة. وإضافة" سواء" إلى" الطريق" من إضافة الصفة إلى الموصوف، أى: إلى الطريق السواء أى السوىّ بمعنى المستقيم، أو الإضافة على معنى" من" أى السواء بمعنى السوى من الطريق، والطريق يحتمل أن يراد بها هنا الموصلة للمقصود دنيويّا كان أو أخرويّا، ويحتمل أن يراد بها الدليل القطعى على طريق الاستعارة المصرحة، ومن المعلوم أن من هدى للدلائل القطعية صار عالما محققا.
--------------------------------------------
আত-তাফতাজানি - আল্লাহ তাকে সরল পথ প্রদর্শন করুন।
...===
অন্তর্নিহিত অর্থ (তাদমিন) না থাকার অনুমিতিতে 'বা' (ب) বর্ণটিকে তাকভিয়াহ বা শক্তি প্রদানের জন্য নয়, বরং তাকীদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। কারণ 'বা' বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়, যার মধ্যে অন্যতম হলো মাফ'উল (কর্মকারক), যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "এবং তোমরা নিজেদের হাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না" (১); এর মাধ্যমে শারহ বা ব্যাখ্যাকার থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা খণ্ডিত হয়ে গেল—যেখানে বলা হয়েছিল যে, ল্যাম (ل) ব্যবহার করে 'সা'দ-এর জন্য যাকে ডাকা হয়' (আল-মাদ'উ লি-সা'দ) বলা অধিক উত্তম ছিল। কারণ 'দুআ' শব্দটি যখন নামকরণের অর্থে আসে, তখন তা নিজেই সরাসরি তার দুটি মাফ'উলের দিকে ধাবিত হয়, আর এক্ষেত্রে শক্তি প্রদানের জন্য 'ল্যাম' বৃদ্ধি করাই প্রচলিত, 'বা' নয়। ১০ হিজরি।
এর জবাবে—পূর্বোক্ত আলোচনার অতিরিক্ত হিসেবে—বলা যেতে পারে যে: শক্তি প্রদানের জন্য 'ল্যাম' এর আধিক্য কেবল প্রথম মাফ'উলে প্রমাণিত, দ্বিতীয়টিতে নয়। সুতরাং এমনটি বলা যায় না যে: 'যায়েদ আমরকে দিরহামসমূহ প্রদানকারী' (ল্যাম যোগে), লক্ষ্য করুন। তারপর তার বক্তব্য:
(সা'দ নামে যাকে ডাকা হয়) এর মূল হলো 'সা'দ উদ্দীন'। কিন্তু সংক্ষেপ করার জন্য এবং প্রসিদ্ধির কারণে বিষয়টি জানা থাকায় নামের অংশ বিশেষ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া দ্বীন তার দ্বারা সৌভাগ্যমণ্ডিত হয়েছে—এরূপ শিষ্টাচার হিসেবেও এটি করা হয়েছে। আর নামের ক্ষেত্রে এরূপ পরিবর্তন করা গবেষণালব্ধ মতে প্রচলিত।
(তার কথা: আত-তাফতাজানি) শব্দটিতে যের (জার) দিয়ে পড়লে এটি 'সা'দ' এর গুণবাচক শব্দ (সিফাত) হবে, অথবা পেশ (রাফা) দিয়ে পড়লে এটি 'মাসউদ' এর সিফাত হবে। এটি খুরাসানের অন্তর্ভুক্ত তাফতাজান নামক একটি গ্রামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—তিনি ৭১২ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৯১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তিনি কুতুব আর-রাজি এবং সমরকন্দে আল-আদুদ-এর নিকট শিক্ষা লাভ করেন।
(তার কথা: আল্লাহ তাকে সরল পথ প্রদর্শন করুন) এখানে 'হিদায়াত' ক্রিয়াটিকে 'ইলা' বা 'ল্যাম' ছাড়াই সরাসরি দ্বিতীয় মাফ'উলের দিকে ধাবিত করা হয়েছে। যা বলা হয়েছে তা বিবেচনা করে যে: হিদায়াত ক্রিয়াটি যখন সরাসরি দ্বিতীয় মাফ'উলের দিকে ধাবিত হয়, তখন তার দ্বারা 'গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া' (ঈসাল) অর্থ উদ্দেশ্য হয়। আর যখন এটি 'ল্যাম' বা 'ইলা' যোগে আসে, তখন তার দ্বারা 'পথ প্রদর্শন' (দালালাহ) অর্থ উদ্দেশ্য হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথের দিকে পরিচালিত করে যা সর্বাধিক সরল" (২), এবং "নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথ প্রদর্শন করেন" (৩)। খাত্তাবিতে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তবে 'আল-মিসবাহ' গ্রন্থে যা রয়েছে তা একে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সেখানে বলা হয়েছে যে, হিজাজবাসীদের ভাষা অনুযায়ী এটি সরাসরি দ্বিতীয় মাফ'উলের দিকে ধাবিত হয়, আর অন্যদের ভাষায় এটি 'ইলা' বা 'ল্যাম' এর মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়। আর হিজাজবাসীদের নিকট এটি সর্বদা 'পৌঁছে দেওয়া' অর্থে এবং অন্যদের নিকট সর্বদা 'পথ প্রদর্শন' অর্থে ব্যবহৃত হয়—এমন দাবি করা সুদূরপরাহত। আর 'সাওয়া' (সরল) শব্দটিকে 'তরিক' (পথ) এর সাথে সম্বন্ধ (ইযাফাত) করা হলো গুণকে গুণীর সাথে (সিফাতকে মাওসুফের সাথে) সম্বন্ধ করার অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ: সরল পথের দিকে। অথবা এই ইযাফাতটি 'মিন' (থেকে) অব্যয়ের অর্থে হতে পারে, অর্থাৎ পথের মধ্য থেকে যা সরল। আর এখানে 'পথ' বলতে উদ্দেশ্য হতে পারে যা উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছায়, চাই তা পার্থিব হোক বা পারলৌকিক। আবার ইসতিআরাহ মুসাররাহ (সুস্পষ্ট রূপক) হিসেবে এখানে অকাট্য দলিল বা প্রমাণাদিও উদ্দেশ্য হতে পারে। আর এটি সুবিদিত যে, যাকে অকাট্য দলিলের দিকে পরিচালিত করা হয়েছে, সে একজন প্রকৃত গবেষক আলিমে পরিণত হয়েছে।
--------------------------------------------