(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: -)
الخطط التوفيقية الجديدة   (علي مبارك)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: الخطط التوفيقية الجديدة لمصر والقاهرة ومدنها وبلادها القديمة والشهيرة

المؤلف: علي باشا مبارك [ت 1311 هـ]

الناشر: دار الكتب والوثائق القومية، القاهرة - مصر

الطبعة: الثانية المنقحة، 1425 هـ - 2004 م

عدد الأجزاء: 20

تنبيه:

• طُبع الكتاب (لأول مرة) في مطبعة بولاق (الأميرية) 1988 م

• ثم طبعته دار الكتب والوثائق طبعة (ثانية) حديثة مع تعليقات 1969 م

• ثم صورتها (بنفس ترقيم الصفحات) مع مزيد تنقيح في 2004 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 ذو الحجة 1445

আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়া আল-জাদিদা   (আলী মুবারক)

বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী


গ্রন্থ: মিসর, কায়রো এবং এর প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ শহর ও জনপদসমূহের জন্য নতুন তাওফিকিয়া পরিকল্পনা (আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়া আল-জাদিদা)

লেখক: আলী পাশা মুবারক [মৃত্যু ১৩১১ হিজরি]

প্রকাশক: দারুল কুতুব ওয়াল ওয়াসাইক আল-কাওমিয়া (জাতীয় গ্রন্থাগার ও আর্কাইভস)، কায়রো - মিসর

সংস্করণ: দ্বিতীয় পরিমার্জিত সংস্করণ، ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২০

দ্রষ্টব্য:

• বইটি (প্রথমবারের মতো) বুলাক (আমিরিয়া) ছাপাখানায় ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছিল

• অতঃপর দারুল কুতুব ওয়াল ওয়াসাইক এটি ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে টীকা সহ আধুনিক (দ্বিতীয়) সংস্করণ হিসেবে মুদ্রণ করে

• পরবর্তীতে ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে অধিকতর পরিমার্জন সহ এটি (একই পৃষ্ঠা সংখ্যা বজায় রেখে) পুনর্মুদ্রিত হয়

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৫ জিলহজ ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌تقديم

 

لقد اقترن اسم «على مبارك» (1824 - 1893 م) فى تاريخ مصر الحديث بالجانب العملى للنهضة والعمران، ومن اللافت للنظر أن إسهاماته فى هذا المضمار كانت بارزة بشكل يثير الإعجاب والتقدير، ولا سيما بعد تولى الخديوى إسماعيل الحكم فى 18 من يناير 1863 م، والذى عهد إلى على مبارك قيادة مشروعه المعمارى العمرانى بإعادة تنظيم القاهرة على نمط حديث، بشقّ الشوارع الواسعة، وإنشاء الميادين، وإقامة المبانى والعمائر العثمانية الجديدة، وإمداد القاهرة بالمياه وإضاءتها بالغاز، فضلا عن تعيينه ناظرا على القناطر الخيرية، وكذا تعيينه وكيلا عاما لديوان المدارس، وديوان الأشغال العمومية، وإدارة السكك الحديدية، ونظارة عموم الأوقاف، بالإضافة إلى الإشراف على الاحتفال بافتتاح قناة السويس.

ونظرا لبصماته الواضحة وكفاءته العالية فى كل عمل كان يوكل إليه، فقد تولى على مبارك ثلاث وزارات هى: الأوقاف، والمعارف، والأشغال العمومية.

وبالرغم من تعدد هذه المسئوليات إلا أن ذلك لم يشغله عن التأليف، فترك لنا مؤلفات متنوعة تدل على نبوغه فى ميدان العمل الإصلاحى، والتأليف … أهمها: تنوير الأفهام فى تغذى الأجسام، ونخبة الفكر فى تدبير نيل مصر، وعلم الدين، وآثار الإسلام فى المدنية والعمران، فضلا عن موسوعته العظيمة التى بين أيدينا: «الخطط التوفيقية الجديدة لمصر … القاهرة ومدنها وبلادها القديمة والشهيرة».

ويعد كتاب «الخطط التوفيقية» أطلس متكاملا لمدن مصر على مر العصور، حيث إنه يصف فيه بالتفصيل مدن مصر وقراها من أقدم العصور إلى الوقت الذى اندثرت فيه أو ظلت قائمة حتى عصره، واصفا ما بها من منشآت ومرافق مثل: المساجد والزوايا والأضرحة والأديرة والكنائس، وغير ذلك، ومن ثم فإن هذا الكتاب يخرج من كونه مؤلفا مهما إلى عمل موسوعى ينبض بالحياة بكل ما يتصل بمصر - بصفة عامة والقاهرة خاصة - من تاريخ سياسى واجتماعى واقتصادى، وبما اشتمل عليه مما لا يحصى من تراجم الأعلام فى قديم مصر وحديثها، مما جعل منه محاولة رائدة لكتابة تاريخ مصر وفق المعلومات الحديثة، حيث أضافت هذه الخطط إلى تاريخ مصر فى فرعى التاريخ القديم والحديث مادة علمية جديدة، وقد استفاد المؤلف فى كلا الفرعين من نتائج الكشوف الأثرية التى أجريت فى مصر فى القرن التاسع عشر الميلادى ومما كتبه الأوروبيون عن تاريخ مصر، وحيث إن على باشا مبارك شارك فى تنفيذ بعض المشروعات العمرانية العملاقة، أو عاصرها، فقد جاءت كتاباته عنها غاية فى الدقة، الأمر الذى جعل من هذه الخطط سجلا حافلا لمظاهر الحضارة التى أدخلت فى مصر فى العصر الحديث من توسع زراعى، وصناعى.
উপস্থাপনা

 

আধুনিক মিশরের ইতিহাসে 'আলী মুবারক' (১৮২৪ - ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দ) নামটি নবজাগরণ ও নগরায়ণের বাস্তব রূপায়নের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, এই ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অত্যন্ত চমকপ্রদ ও প্রশংসনীয় ছিল; বিশেষ করে ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই জানুয়ারি খেদিভ ইসমাইল শাসনভার গ্রহণ করার পর, যিনি আলী মুবারকের ওপর তাঁর স্থাপত্য ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল আধুনিক আদলে কায়রোকে পুনর্গঠিত করা, যার মধ্যে ছিল প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ, চত্বর স্থাপন এবং উসমানীয় শৈলীর নতুন ইমারত ও ভবন নির্মাণ। এ ছাড়া কায়রোতে পানি সরবরাহ এবং গ্যাস দিয়ে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা, 'আল-কানাতীর আল-খায়রিয়াহ' (কল্যাণকর বাঁধ) এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন, সেই সাথে শিক্ষা বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ, রেলওয়ে প্রশাসন এবং ওয়াকফ প্রশাসনের সাধারণ প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত হওয়া এবং সুয়েজ খালের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের তদারকি করাও তাঁর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

অর্পিত প্রতিটি কাজে তাঁর স্পষ্ট পদচিহ্ন এবং উচ্চ দক্ষতার কারণে আলী মুবারক তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন, সেগুলো হলো: ওয়াকফ, শিক্ষা এবং গণপূর্ত।

বহুমুখী দায়িত্ব সত্ত্বেও লেখালেখি ও গ্রন্থ রচনা থেকে তিনি বিচ্যুত হননি। তিনি আমাদের জন্য নানা বৈচিত্র্যময় গ্রন্থ রেখে গেছেন, যা সংস্কারমূলক কাজ ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে তাঁর মেধার স্বাক্ষর বহন করে ... তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: 'তানভীরুল আফহাম ফি তাগজিয়াতিল আজসাম', 'নুখবাতুল ফিকর ফি তদবিরি নীলি মিসর', 'ইলমুদ্দীন' এবং 'আসারুল ইসলাম ফিল মাদানিইয়াহ ওয়াল উমরান'। এ ছাড়া তাঁর সেই বিশাল বিশ্বকোষ তো রয়েছেই যা এখন আমাদের হাতে: 'আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়্যাহ আল-জাদিদাহ লি-মিসর ... আল-কাহিরা ওয়া মুদুনুহা ওয়া বিলাদুহাল কাদিমা ওয়াস শাহীরা'।

'আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়্যাহ' গ্রন্থটি সর্বযুগের মিশরীয় শহরগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র বা এটলাস হিসেবে বিবেচিত। কারণ এতে তিনি প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত অথবা তাঁর সময় পর্যন্ত টিকে থাকা মিশরের প্রতিটি শহর ও গ্রামের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। সেখানে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধার বর্ণনা দিয়েছেন, যেমন: মসজিদ, খানকাহ, মাজার, মঠ, গির্জা ইত্যাদি। ফলে এই গ্রন্থটি কেবল একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনাই নয়, বরং এটি মিশর—বিশেষত কায়রো—সংক্রান্ত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত বিশ্বকোষে পরিণত হয়েছে। এতে প্রাচীন ও আধুনিক মিশরের অগণিত বিশিষ্ট ব্যক্তির জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আধুনিক তথ্যের ভিত্তিতে মিশরের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে একে একটি অগ্রগামী প্রচেষ্টায় রূপান্তর করেছে। এই 'খিতাত' (ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক বিবরণ) মিশরের প্রাচীন ও আধুনিক ইতিহাসের ধারায় নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য যোগ করেছে। লেখক উভয় ক্ষেত্রেই ঊনবিংশ শতাব্দীতে মিশরে পরিচালিত প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের ফলাফল এবং মিশরের ইতিহাস সম্পর্কে ইউরোপীয়দের লেখা থেকে উপকৃত হয়েছেন। যেহেতু আলী পাশা মুবারক নিজে কিছু বিশাল নগর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অংশ নিয়েছিলেন অথবা সেগুলোর সমসাময়িক ছিলেন, তাই এ বিষয়ে তাঁর বর্ণনা ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। যার ফলে এই 'খিতাত' আধুনিক যুগে মিশরে সূচিত কৃষি ও শিল্প প্রসারের মতো সভ্যতার নানাবিধ নিদর্শনের একটি সমৃদ্ধ নথিতে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ২)
وقد نهج المؤلف فى كتابه هذا منهجا علميا، اعتمد فيه على كثير من المصادر والمراجع القديمة والحديثة (العربية وغير العربية)، مكملا وموضحا كثيرا من الأماكن والمعالم التى تغيرت أو اختفت بعد المقريزى، والتى أوردها فى كتابه الشهير «المواعظ والاعتبار بذكر الخطط والآثار»، وفضلا عن ذلك، فقد تميزت الخطط التوفيقية بروح الفحص والنقد والمناقشة، ولم تقع أسيرة التقليد، حيث ناقش على مبارك ونظر فيما بين يديه من معلومات، كما اعتمد على العلوم المساعدة لفهم التاريخ مثل: الوثائق والنميات والآثار والنقوش، وقد استغرق المؤلف فى وصف هذه بضع عشرة سنة حتى فرغ من طباعتها، وقسمها إلى عشرين جزءا مما جعلها دائرة معارف متكاملة من العصر الفاطمى إلى عصر توفيق، حتى قيل عن كاتبها إن لم يكن له من الأعمال سواها لكفته ذكرا باقيا وأثرا شاهدا على عزيمة جبارة وعقل متوهج، وقلم متدفق.

 

ويسعد مكتبة الأسرة أن تعيد إصدار هذه الموسوعة الضخمة بأجزائها العشرين عن طبعتها الصادرة عام 2004 عن مركز تحقيق التراث بدار الكتب والوثائق القومية.
লেখক তাঁর এই গ্রন্থে একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, যাতে তিনি বহু প্রাচীন ও আধুনিক (আরবি ও অনারবি) উৎস ও সূত্রের ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি আল-মাকরিজির পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত বা বিলুপ্ত হওয়া অনেক স্থান ও নিদর্শনের পরিপূরক ও ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা প্রদান করেছেন, যা মাকরিজি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-মাওয়ায়িজ ওয়াল ই’তিবার বি জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার’-এ উল্লেখ করেছিলেন। এছাড়া, ‘খুতাতুত তাওফিকিয়্যাহ’ গ্রন্থটি অনুসন্ধান, সমালোচনা ও পর্যালোচনার বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল ছিল এবং এটি অন্ধ অনুকরণের শিকলে আবদ্ধ হয়নি। এখানে আলি মুবারক তাঁর সম্মুখে বিদ্যমান তথ্যাদি নিয়ে আলোচনা ও পর্যবেক্ষণ করেছেন। পাশাপাশি ইতিহাস অনুধাবনের জন্য তিনি সহায়ক বিজ্ঞানসমূহ যেমন: নথিপত্র, মুদ্রা-বিজ্ঞান, প্রত্নতত্ত্ব ও শিলালিপির ওপরও নির্ভর করেছেন। লেখক এই বর্ণনার কাজে এক দশকেরও বেশি সময় ব্যয় করেছেন যতক্ষণ না এর মুদ্রণ সমাপ্ত হয় এবং তিনি এটিকে বিশটি খণ্ডে বিভক্ত করেছেন। এটি ফাতেমি যুগ থেকে শুরু করে তাওফিকের যুগ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষে পরিণত হয়েছে। এমনকি এর রচয়িতা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, যদি তাঁর আর কোনো কাজ না-ও থাকত, তবে এই একটি কাজই তাঁর চিরস্থায়ী স্মরণ এবং তাঁর প্রবল সংকল্প, উজ্জ্বল মেধা ও সাবলীল কলমের সাক্ষ্য হিসেবে যথেষ্ট হতো।

 

‘মাকতাবাতুল উসরাহ’ (পারিবারিক পাঠাগার) এই বিশাল বিশ্বকোষটি এর বিশটি খণ্ডসহ পুনরায় প্রকাশ করতে পেরে আনন্দিত। এটি জাতীয় গ্রন্থশালা ও নথিপত্র কেন্দ্রের (দারুল কুতুব ওয়াল ওয়াসায়িকুল কাওমিয়্যাহ) অধীনস্থ ঐতিহ্য গবেষণা কেন্দ্র থেকে ২০০৪ সালে প্রকাশিত সংস্করণের ভিত্তিতে পুনর্মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: -)
الخطط التوفيقية الجديدة   (علي مبارك)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: الخطط التوفيقية الجديدة لمصر والقاهرة ومدنها وبلادها القديمة والشهيرة

المؤلف: علي باشا مبارك [ت 1311 هـ]

الناشر: دار الكتب والوثائق القومية، القاهرة - مصر

الطبعة: الثانية المنقحة، 1425 هـ - 2004 م

عدد الأجزاء: 20

تنبيه:

• طُبع الكتاب (لأول مرة) في مطبعة بولاق (الأميرية) 1988 م

• ثم طبعته دار الكتب والوثائق طبعة (ثانية) حديثة مع تعليقات 1969 م

• ثم صورتها (بنفس ترقيم الصفحات) مع مزيد تنقيح في 2004 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 ذو الحجة 1445

আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়্যাহ আল-জাদিদাহ   (আলী মুবারক)

বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণকাহিনী


বই: মিসর, কায়রো এবং এর শহর ও সুপ্রসিদ্ধ প্রাচীন জনপদসমূহের নতুন তাওফিকী নকশা ও বর্ণনা

লেখক: আলী পাশা মুবারক [মৃত্যু ১৩১১ হিজরী]

প্রকাশক: দারুল কুতুব ওয়া আল-ওয়াসায়িক আল-কাওমিয়্যাহ (জাতীয় গ্রন্থাগার ও আর্কাইভস), কায়রো - মিশর

সংস্করণ: দ্বিতীয় পরিমার্জিত সংস্করণ, ১৪২৫ হিজরী - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২০

দ্রষ্টব্য:

• বইটি (প্রথমবারের মতো) বুলাক প্রেসে (আল-আমিরিয়্যাহ) ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছিল

• অতঃপর দারুল কুতুব ওয়া আল-ওয়াসায়িক এর একটি আধুনিক (দ্বিতীয়) সংস্করণ টীকা সহ ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ করে

• এরপর ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে অধিকতর পরিমার্জনসহ (একই পৃষ্ঠা সংখ্যা বজায় রেখে) এটির প্রতিলিপি প্রকাশিত হয়

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা’য় প্রকাশের তারিখ: ৫ জিলহজ ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ২)
تنويه: ينظر الاستدراكات وتصحيح الأسماء فى آخر هذا الجزء

 

قام بمراجعة هذا الجزء وعمل الاستدراكات:

الأستاذ/متولى خليل عوض، باحث أول بالمركز.

الأستاذ/مصطفى عبد السميع، باحث بالمركز.

 

قام بتصحيح الأسماء:

الدكتورة/لبيبة إبراهيم مصطفى، كبير باحثين بالمركز.
দ্রষ্টব্য: এই খণ্ডের শেষে সংশোধনী ও নামসমূহের শুদ্ধিকরণ দেখুন।

 

এই খণ্ডটির পর্যালোচনা এবং সংশোধনী সম্পন্ন করেছেন:

জনাব মুতাওয়াল্লী খলীল আওয়াদ, কেন্দ্রের প্রধান গবেষক।

জনাব মুস্তফা আবদুস সামী, কেন্দ্রের গবেষক।

 

নামসমূহের শুদ্ধিকরণ সম্পন্ন করেছেন:

ডক্টর লাবিবা ইব্রাহিম মুস্তফা, কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ গবেষক।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مقدمة الطبعة الثانية

وجه نفر من المؤرخين المصريين فى العصور الوسطى عنايته إلى الكتابة فى نوع من التاريخ، على ما فيه من مشقة ونصب وما يحتاجه من سعة فى الاطلاع ووفرة فى تحصيل العلوم والمعرفة، ذلك هو الكتابة فى الخطط، سواء أكانت خاصة بمدينة بعينها، أم إقليم بذاته.

والتأريخ بأسلوب الخطط أشبه ما يكون بدائرة معارف شاملة عن المكان الذى يتناوله المؤرخ، إذ يذكر فيه كل ما يتعلق بالموقع من معلومات جغرافية وتاريخية، وسير وتراجم، وعادات وتقاليد، وحضارة وفنون، ومعالم وآثار … إلى غير ذلك من الموضوعات التى تتعلق بذاك المكان.

وأقدم مؤرخ مصرى، ألّف بأسلوب الخطط هو عبد الرحمن بن الحكم، فضلا عن أنه أقدم مؤرخ مصرى لمصر الإسلامية، ولذلك يعتبر واضح حجر الأساس لهذا الفرع من التاريخ.

وتلا عبد الرحمن بن الحكم فى هذا الميدان عدد من المؤرخين على مر العصور، يذكر منهم على سبيل المثال لا الحصر: ابن الحكم أبو عمر بن يوسف الكندى، وأبو محمد الحسن بن إبراهيم زولاق الليثى المصرى، والأمير المختار عز الملك المسيحى، وأبو عبد الله محمد بن سلامة بن جعفر القضاعى الفقيه الشافعى، وصارم الدين إبراهيم بن محمد بن أيدمر بن دقماق القاهرى، وأحمد بن على بن عبد القادر، أبو العباس الحسينى العبيدى تقى الدين المعروف «بالمقريزى»، صاحب ذلك الأثر النفيس الذى وصل إلينا عن خطط مصر؛ وهو كتاب «المواعظ والاعتبار بذكر الخطط والآثار».

وقد قيّض الله لمصر فى العصر الحديث ابنا من أبر أبنائها، وعلما من أشهر أعلامها، وهو على مبارك باشا، الذى اقتفى أثر المؤرخين السابقين، وكتب كتابا عن خطط مصر، سماه: «الخطط التوفيقية الجديدة لمصر القاهرة ومدنها وبلادها القديمة والشهيرة» وهو نفسه
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

মধ্যযুগের একদল মিশরীয় ঐতিহাসিক ইতিহাসের এমন এক বিশেষ ধারার রচনায় মনোনিবেশ করেছিলেন, যা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য এবং যার জন্য প্রয়োজন ছিল ব্যাপক অধ্যয়ন ও গভীর জ্ঞান। তা হলো 'খিতাত' (শহর বা অঞ্চলের বিবরণ) বিষয়ক রচনা, হোক তা কোনো নির্দিষ্ট শহর কিংবা কোনো বিশেষ অঞ্চলের জন্য।

'খিতাত' পদ্ধতিতে ইতিহাস রচনা হলো সেই স্থান সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষের মতো, যেখানে ঐতিহাসিক উক্ত স্থান সংশ্লিষ্ট সকল ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক তথ্য, জীবনী, আচার-আচরণ ও ঐতিহ্য, সভ্যতা ও শিল্পকলা এবং নিদর্শন ও প্রত্নতত্ত্ব … ইত্যাদি আরও অনেক বিষয় আলোচনা করেন যা উক্ত স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট।

'খিতাত' পদ্ধতিতে গ্রন্থ রচনা করা প্রথম মিশরীয় ঐতিহাসিক হলেন আবদুর রহমান বিন হাকাম। অধিকন্তু, তিনি ইসলামি মিশরেরও প্রাচীনতম ঐতিহাসিক। এ কারণে তাঁকে ইতিহাসের এই শাখার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী হিসেবে গণ্য করা হয়।

আবদুর রহমান বিন হাকামের পর বিভিন্ন যুগে এই ক্ষেত্রে বহু ঐতিহাসিকের আবির্ভাব ঘটেছে। উদাহরণস্বরূপ: ইবনুল হাকাম আবু উমর বিন ইউসুফ আল-কিন্দি, আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন ইবরাহিম জাওলাক আল-লাইসি আল-মিসরি, আল-আমির আল-মুখতার ইজ্জুল মুলক আল-মুসাব্বিহি, শাফেয়ী ফকিহ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সালামা বিন জাফর আল-কুদায়ি, সারিমুদ্দিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আয়দামুর বিন দুকমাক আল-কাহিরাহি এবং আহমদ বিন আলি বিন আব্দুল কাদির, আবু আব্বাস আল-হুসাইনি আল-উবাইদি তাকিউদ্দীন—যিনি 'আল-মাকরিজি' নামে পরিচিত। তিনি মিশরের খিতাত সম্পর্কে আমাদের কাছে পৌঁছে যাওয়া সেই মূল্যবান নিদর্শনের রচয়িতা; আর তা হলো ‘আল-মাওয়ায়িজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খিতাত ওয়াল আসার’ গ্রন্থটি।

আধুনিক যুগে আল্লাহ মিশরের জন্য তার এক সুযোগ্য সন্তান ও প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বকে নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তিনি হলেন আলী মুবারক পাশা। তিনি পূর্ববর্তী ঐতিহাসিকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং মিশরের খিতাত নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার নাম দিয়েছেন: ‘আল-খিতাতুত তাওফিকিয়্যাতিল জাদিদাহ লি-মিসরিল কাহিরাহ ওয়া মুদুনিহা ওয়া বিলাদিহাল কাদিমাতি ওয়াশ শাহীরাহ’। আর তিনি নিজেই...
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
الذى اشتهر باسم «الخطط التوفيقية»، وذلك بعد أن رأى قدم العهد، بخطط المقريزى، وتغير كثير من المعالم، بل واختفاء بعضها، لدرجة يصعب معها التحقق مما ورد فى هذا المؤلّف القديم، والتعرف على كثير من المعالم، فقرّ رأيه على ضرورة وضع كتاب آخر حديث، ولذا نراه يقول فى مقدمته:

«فلما كانت مدينة القاهرة المعزية التى هى دار الحكومة الخديوية قد كثر ذكرها فى كتب الخطط والتواريخ والسير، ووصف ما كان بها من المبانى والبساتين، وهى الآن غيرها فى تلك الأزمان، لتغييرها عما كانت عليه زمن الفاطميين الذين اختطوها بتغيير الدول، وتقلب الأزمنة، وكانت تارة يؤثر فيها الزيادة، فترى أحيانا زاهرة زاهية، وطورا واهنة واهية، ولم نر منا معشر أبنائها، من يهدينا إلى تلك التقلبات، ويفقهنا أسباب هاتيك الانتقالات، ويدلنا على ما فيها من الآثار، فنجوس خلالها ولا نعرف أحوالها، ونجوب أقطاعها ولا ندرى من وضعها، وقد خطها العلامة المقريزى لوقته، وأطال القول فيما فيها من المبانى والمزارع، وتكلم على الحوادث والرجال، ولكن بعده كم من أمور مرت فدمرت، وعبر جرت فغيرت، حتى ذهب أكثر ما أسهب فى شرحه كليا، وزال حتى صار نسيا منسيا، وكم من آثار خيرية صار نفعها مندثرا مهجورا ومصانع وصنائع قد دثرت كأن لم تكن شيئا مذكورا، وكم من تلال كانت عمارات شاهقة، ووهاد كانت بساتين معينة متأنقة، وقبور مزوية فى جوانب الحارات ومشاهد متباعدة فى الفلوات أطلق عليها العامة أسماء كاذبة، كقولهم مثلا: «هذا ضريح الأربعين».، وكم من مساجد نسبوها لغير من بناها، ومعابد أسندوها لمن لم يكن رآها، والحقيقة أنها قبور ملوك عظام، أو معابد سادات كرام، أو مساجد أمراء فخام، مع أن معرفة ذلك حق علينا، إذ لا يليق بنا جهل بلادنا، والتهاون بمعرفة آثار أسلافنا، التى هى عبرة للمعتبر، وذكرى للمدّكر، فهم وإن مضوا لسبيلهم، قد تركوا لنا ما يحثّنا على اقتفاء آثارهم، وأن نصنع لوقتنا ما صنعوه لوقتهم، وأن نجد فى طريق الإفادة كما جدّوا، دعتنى نفسى لتأليف كتاب واف للمصريين من قديم وحديث».

ذلك هو ما دفع على مبارك باشا إلى وضع كتابه «الخطط التوفيقية»، وقد قدّم له محرر المقدمة بقوله:

«صار يذكر فى كل مكان من أماكن القاهرة خطته القديمة واسمه وشهرته التى كانت فى ذلك الوقت مستديمة، ثم يعقبه بذكر ما تحولت إليه فى وقتنا هذا، وقبله حاله
যা ‘আল-খিতাত আল-তাওফিকিয়া’ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; আর তা হয়েছে মাকরিযির ‘খিতাত’-এর প্রাচীনত্ব এবং অনেক নিদর্শনের পরিবর্তন, এমনকি কিছু নিদর্শনের বিলুপ্তির বিষয়টি লক্ষ্য করার পর। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সেই প্রাচীন গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তা যাচাই করা এবং অনেক নিদর্শনের পরিচয় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই তিনি একটি নতুন আধুনিক গ্রন্থ রচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। একারণেই আমরা তাকে তার ভূমিকায় বলতে দেখি:

«যেহেতু আল-মুইয্যিয়া কায়রো শহর—যা খেদিভীয় সরকারের কেন্দ্র—তার আলোচনা ভৌগোলিক বিবরণ, ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থগুলোতে প্রচুর এসেছে এবং সেখানকার তৎকালীন দালানকোঠা ও বাগানসমূহের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে; অথচ বর্তমান সময়ে তা আর আগের মতো নেই। ফাতেমীয়দের সময় থেকে রাষ্ট্র পরিবর্তন ও যুগের বিবর্তনের কারণে এর অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। কখনো এখানে সমৃদ্ধি এসেছে, ফলে তা প্রস্ফুটিত ও উজ্জ্বল হয়েছে; আবার কখনো দুর্বলতা ও জীর্ণতা একে গ্রাস করেছে। কিন্তু আমরা, এই শহরের অধিবাসীরা, এমন কাউকে পাইনি যিনি আমাদের এই পরিবর্তনগুলোর পথ দেখাবেন, এই রূপান্তরের কারণগুলো বুঝিয়ে দেবেন এবং সেখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান দেবেন। ফলে আমরা এর অলিগলি ঘুরে বেড়াই কিন্তু এর অবস্থা জানি না, এর বিভিন্ন প্রান্ত অতিক্রম করি কিন্তু জানি না কে এগুলো স্থাপন করেছে। আল্লামা মাকরিযি তার সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এর বিবরণ দিয়েছিলেন এবং সেখানকার দালানকোঠা ও খামার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন, আর বিভিন্ন ঘটনা ও ব্যক্তিত্বের বর্ণনা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর পরে কত ঘটনা ঘটে গেছে যা ধ্বংস সাধন করেছে, কত বিবর্তন বয়ে গেছে যা পরিবর্তন এনেছে; ফলে তিনি যা সবিস্তারে ব্যাখ্যা করেছিলেন তার অধিকাংশ পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে এবং বিস্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে। কত কল্যাণকর নিদর্শন আজ পরিত্যক্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত, কত কলকারখানা ও শিল্পকর্ম এমনভাবে মিটে গেছে যেন তা কখনো উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না। কত উঁচু দালান আজ ঢিবিতে পরিণত হয়েছে, কত মনোরম বাগান আজ নিচু ও জীর্ণ ভূমিতে রূপ নিয়েছে। মহল্লার কোণায় কোণায় পড়ে থাকা কবর এবং নির্জন প্রান্তরে ছড়িয়ে থাকা সমাধিগুলোতে সাধারণ মানুষ ভুল নাম জুড়ে দিয়েছে, যেমন তারা বলে: ‘এটি চল্লিশের মাজার’। কত মসজিদকে তারা এর নির্মাতা ব্যতীত অন্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছে এবং কত উপাসনালয়কে এমন ব্যক্তির নামে চালিয়ে দিয়েছে যে তা কখনো দেখেনি। অথচ বাস্তবতা হলো, সেগুলো মহান রাজাদের কবর, অথবা সম্মানিত নেতাদের মাজার, কিংবা জাঁকজমকপূর্ণ আমিরদের মসজিদ। অথচ এসব বিষয়ে জ্ঞান রাখা আমাদের আবশ্যিক কর্তব্য, কারণ আমাদের জন্য নিজ দেশ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা এবং পূর্বসূরীদের নিদর্শন সম্পর্কে উদাসীন থাকা শোভা পায় না। এগুলো তো শিক্ষণীয় ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষা এবং চিন্তাশীলদের জন্য স্মারক। তাঁরা যদিও নিজ পথে চলে গেছেন, তবুও তাঁরা আমাদের জন্য এমন কিছু রেখে গেছেন যা আমাদের তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে। তাঁরা তাঁদের সময়ের জন্য যা করেছিলেন, আমাদেরও উচিত আমাদের সময়ের জন্য তা করা এবং উপকারের পথে তাঁদের মতোই সচেষ্ট হওয়া। এসব বিষয়ই আমাকে প্রাচীন ও আধুনিক মিসরবাসীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনার প্রেরণা দিয়েছে।»

এটিই আলী মুবারক পাশাকে তাঁর গ্রন্থ ‘আল-খিতাত আল-তাওফিকিয়া’ রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল। আর এই ভূমিকার সম্পাদক তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:

«তিনি কায়রোর প্রতিটি স্থানের প্রাচীন নকশা, নাম এবং সেই সময়কার স্থায়ী প্রসিদ্ধির কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর বর্তমানে তা যে অবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে এবং তার পূর্বের অবস্থা বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وما آل إليه مآله. ويذكر أول من أنشأ هذا المكان ومن انتقل إليه بعده مرة بعد أخرى، وتملكه من جميع أخطاط القاهرة وشوارعها وحارتها ودروبها وأزقتها وبيوتها الكبيرة والصغيرة وخاناتها، حتى صارت جهاتها واضحة معلومة للساكنين، غير مشتبهة الأعلام والطرق على السائرين فى أزقتها والسابلين».

وهذا قول حق يلمسه المطلع على كتاب «الخطط التوفيقية» الذى جعله على باشا مبارك من 20 جزءا، نستعرض محتويات كل منها فيما يلى:

يعرض الجزء الأول تاريخ القاهرة ومصر منذ قدوم الفاطميين إليها حتى عصر توفيق ويقارن أوضاعها القديمة بالأوضاع المعاصرة، ويصف أحياء القاهرة الحديثة.

وتذكر الأجزاء الثانى والثالث والرابع خطط القاهرة وشوارعها ودروبها وحاراتها مرتبة على حروف المعجم، مع تحقيقات عن أوضاعها القديمة، منذ عصر «المقريزى».

والجزء الخامس خاص بالحديث عن الجوامع.

والجزء السادس عن المدارس والزوايا والمساجد والخانقاوات والأسبلة والكنائس، مرتبة على حروف المعجم.

والجزء السابع عن مدينة الإسكندرية.

وتشمل الأجزاء من الثامن إلى الخامس عشر الكلام عن أقاليم الديار المصرية، ومدنها، وقراها، وترجمة أعيانها وأدبائها، وشعرائها وأوليائها وأكابرها، مرتبة على حروف المعجم.

والجزء السادس عشر عن الآثار الفرعونية، وبخاصة أهرام الجيزة وما حولها.

ونجد فى الجزء السابع عشر بعض التراجم والأماكن والوقائع.

أما الجزء الثامن عشر، فخاص بمقياس النيل منذ عصر الفراعنة وخلال مختلف الدول الإسلامية وأيام الاحتلال الفرنسى، وعيد الشهيد، ومهرجان النيل وما يتعلق بذلك.

ويدرس الجزء التاسع عشر الريّاحات والترع.

فى حين يتناول الجزء العشرون النقود وأشكالها وتواريخها وقيمتها فى مختلف العصور، وبه جدول للمقارنة بين قيمتها القديمة وقيم النقد الحديث.

ولقد جاء كتاب «الخطط التوفيقية»، دائرة معارف مصرية شاملة تعد بمثابة المرجع الأول للعصر الذى تحدث عنه فى كثير من المسائل، وبخاصة تاريخ الأشخاص الذين
এবং এর পরিণাম কী হয়েছিল তাও এতে বিবৃত হয়েছে। এই স্থানটি কে প্রথম নির্মাণ করেছিলেন এবং পর্যায়ক্রমে কে কে এখানে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন, তার বিবরণ এতে রয়েছে। কায়রোর সমস্ত জেলা, রাস্তাঘাট, মহল্লা, পথ, অলিগলি, ছোট-বড় বাড়িঘর এবং সরাইখানাগুলোর মালিকানা বা অবস্থা এতে বর্ণিত হয়েছে, যাতে এর দিকনির্দেশনা অধিবাসীদের নিকট সুষ্পষ্ট ও জ্ঞাত হয় এবং পথচারী ও পথিকদের জন্য এর অলিগলিতে যাতায়াতের সময় চিহ্ন বা রাস্তা নিয়ে কোনো সংশয় না থাকে।

এটি একটি ধ্রুব সত্য যা ‘আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়্যাহ’ নামক গ্রন্থটি পাঠ করলে অনুভব করা যায়। আলী পাশা মুবারক এই গ্রন্থটি ২০ খণ্ডে বিন্যস্ত করেছেন। নিচে এর প্রতিটি খণ্ডের বিষয়বস্তু আলোচনা করা হলো:

প্রথম খণ্ডে ফাতেমিদের আগমনের সময় থেকে শুরু করে তাওফিকের শাসনামল পর্যন্ত কায়রো ও মিশরের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এতে প্রাচীন অবস্থার সাথে সমসাময়িক অবস্থার তুলনা করা হয়েছে এবং আধুনিক কায়রোর বিভিন্ন এলাকার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ খণ্ডে কায়রোর জেলাসমূহ, রাস্তাঘাট, পথ ও মহল্লাগুলোর বিবরণ বর্ণানুক্রমিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ‘আল-মাকরিজি’র যুগ থেকে শুরু করে সেগুলোর প্রাচীন অবস্থা সম্পর্কে বিশদ অনুসন্ধান ও গবেষণা স্থান পেয়েছে।

পঞ্চম খণ্ডটি বিশেষভাবে জামে মসজিদসমূহের আলোচনার জন্য বরাদ্দ।

ষষ্ঠ খণ্ডটি বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো বিভিন্ন মাদরাসা, যাবিযা, মসজিদ, খানকাহ, সাবিল এবং গির্জা সম্পর্কে।

সপ্তম খণ্ডটি আলেকজান্দ্রিয়া শহর বিষয়ক।

অষ্টম থেকে পঞ্চদশ খণ্ড পর্যন্ত মিশরীয় ভূখণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চল, শহর ও গ্রাম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। একইসাথে এই খণ্ডগুলোতে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাহিত্যিক, কবি, ওলি-আউলিয়া এবং মনিষীদের জীবনী বর্ণানুক্রমিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে।

ষোড়শ খণ্ডটি ফেরাউনদের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ, বিশেষ করে গিজার পিরামিড এবং এর চারপাশের এলাকা সম্পর্কে।

সপ্তদশ খণ্ডে আমরা কিছু জীবনী, স্থান এবং ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ পাই।

অষ্টাদশ খণ্ডটি ফেরাউনদের আমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইসলামি রাজবংশ এবং ফরাসি দখলদারিত্বের সময় পর্যন্ত নীল নদের পানির স্তর মাপার যন্ত্র (নীলোমিটার), শহীদ দিবস, নীল উৎসব এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াদির জন্য নিবেদিত।

উনবিংশ খণ্ডে বড় খাল ও জলপ্রণালীগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বিংশ খণ্ডে মুদ্রা, সেগুলোর আকৃতি, ইতিহাস এবং বিভিন্ন যুগে সেগুলোর মান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে প্রাচীন ও আধুনিক মুদ্রার মানের মধ্যে তুলনামূলক একটি তালিকাও দেওয়া হয়েছে।

‘আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়্যাহ’ গ্রন্থটি একটি পূর্ণাঙ্গ মিশরীয় বিশ্বকোষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা অনেক বিষয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যুগের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়, বিশেষ করে সেই সব ব্যক্তিদের ইতিহাসের ক্ষেত্রে যারা
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
عاصرهم، والمنشئات العامة، مثل المواصلات والرى والتلغراف والمدارس وغير ذلك.

فهى والحالة هذه، تساعد على إعطاء صورة عامة عن أحوال البلاد، كما تمكن فى الوقت نفسه من تتبع تاريخ موضوع بحثه.

وهكذا عمل على مبارك باشا على سد الفراغ الذى شعر به وأشار إليه فى مقدمة كتابه، وفى هذا يقول محمد عبد الله عنان فى كتابه «مصر الإسلامية وتاريخ الخطط المصرية»:

«ولم يشهد تاريخ الخطط منذ المقريزى جهودا فى الطرافة والإفاضة كمجهود على باشا مبارك، بل لقد جاءت «الخطط التوفيقية» من بعض الوجوه، أتم وأوفى من خطط المقريزى، وكانت مهمة مؤلفها فى كثير من الأحيان أدق وأصعب، من مهمة سلفه الكبير، فقد كان عليه أن يتتبع تاريخ الخطط فى ظلمات العصر التركى، وأن يحقق المعالم والمواقع والآثار القديمة على ضوء الأطلال الدارسة والمنشئات المحدثة التى تفصلها من الماضى قرون طويلة.

وقد توسع فى مهمة التعريف عن الخطط والتراجم توسعا عظيما، فتناول بعد القاهرة جميع المدن والقرى المصرية بإفاضة، وترجم لكثير من أعيانها فى مختلف العصور».

ومما لا شك فيه أن نشأة على باشا مبارك والمناصب التى تولاها كانت عاملا فى مساعدته على الوقوف على كثير من البيانات والمعلومات التى دونها فى كتابه هذا.

ومن المعروف أن على مبارك كان طموحا تواقا إلى تولى المناصب الهامة، ولم يكن راضيا على ما رسمه له أبوه من أن يكون فقيها، ولذلك نراه لا يقبل على نوع الدراسة التى اختارها له، بل يلتحق بالمدارس التى تخرّج طبقة الحكام ويكون له ما أراد، إذ يظهر تفوقا فى دراساته ونبوغا، ويلتحق بمدرسة قصر العينى سنة 1836، ثم مدرسة المهندسخانة سنة 1840، ويكافأ على تفوقه فيها بإرساله ضمن بعثة أنجال محمد على للدراسة فى فرنسا سنة 1845، حيث درس الفنون العسكرية والهندسة الحربية.

ولما عاد إلى مصر إثر وفاة إبراهيم باشا سنة 1848 التحق بخدمة الحكومة، وتقلب فى مناصب عدة، منها التدريس بالمدارس التحضيرية والعسكرية، وتنقل بين ميادين التعليم والأوقاف والأعمال الهندسية، وكلها أعمال ساعدته لا شك على الوقوف على الكثير من المعلومات والبيانات، ليس عن القاهرة فقط، بل وعن المدن الأخرى، فضلا عن إطلاعه على كثير من كتب الخطط والتراجم وغيرها من المراجع التى كانت بين يديه. ككتب العرب والفرنج الذين زاروا البلاد وساحوا خلالها، ووثائق المحفوظات الحكومية، ومحفوظات المساجد والآثار المختلفة، وغيرها مما لدى الأسر الكبيرة.
যাঁরা তাঁদের সমসাময়িক ছিলেন এবং জনকল্যাণমূলক স্থাপনা যেমন যোগাযোগ ব্যবস্থা, সেচ, টেলিগ্রাফ, বিদ্যালয় ইত্যাদি।

এমতাবস্থায় এটি দেশের সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা দিতে সহায়তা করে, পাশাপাশি তাঁর গবেষণার বিষয়ের ইতিহাস অনুসরণে সক্ষম করে।

এভাবেই আলী মুবারক পাশা সেই শূন্যতা পূরণে সচেষ্ট হন যা তিনি অনুভব করেছিলেন এবং তাঁর বইয়ের ভূমিকায় উল্লেখ করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইনান তাঁর ‘মিশরুল ইসলামিয়া ওয়া তারিখুল খিতাতিল মিসরিয়াহ’ গ্রন্থে বলেন:

“আল-মাকরিজীর পর থেকে খিতাতের ইতিহাসে আলী পাশা মুবারকের প্রচেষ্টার মতো অভিনবত্ব ও ব্যাপকতাপূর্ণ কোনো প্রয়াস দেখা যায়নি। বরং ‘আল-খিতাতুত তাওফিকিয়্যাহ’ কিছু কিছু দিক থেকে আল-মাকরিজীর খিতাতের চেয়েও অধিক পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এর লেখকের দায়িত্ব তাঁর মহান পূর্বসূরির তুলনায় অনেক বেশি সূক্ষ্ম ও কঠিন ছিল। কারণ তাঁকে তুর্কি আমলের অন্ধকার যুগে খিতাতের ইতিহাস অনুসন্ধান করতে হয়েছিল এবং দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী আগের প্রাচীন নিদর্শন, স্থান ও প্রত্নতাত্ত্বিক চিহ্নসমূহকে বিলুপ্তপ্রায় ধ্বংসাবশেষ ও নবনির্মিত স্থাপনার আলোকে যাচাই করতে হয়েছিল।

তিনি খিতাত ও জীবনী সংক্রান্ত আলোচনার পরিধি অত্যন্ত ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করেছেন। কায়রোর পর তিনি মিশরের সমস্ত শহর ও গ্রামের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন এবং বিভিন্ন যুগের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির জীবনী লিপিবদ্ধ করেছেন।”

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আলী পাশা মুবারকের বেড়ে ওঠা এবং তাঁর অধিষ্ঠিত পদগুলো এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা অনেক তথ্য ও উপাত্ত লাভে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

এটি সুবিদিত যে, আলী মুবারক উচ্চাভিলাষী এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার জন্য আগ্রহী ছিলেন। তাঁর পিতা তাঁর জন্য ফকীহ হওয়ার যে পথ নির্ধারণ করেছিলেন, তাতে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। এজন্য আমরা দেখি যে, তিনি তাঁর পিতার পছন্দ করা পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেননি; বরং তিনি এমন সব বিদ্যালয়ে ভর্তি হন যা শাসক শ্রেণী তৈরি করত এবং তিনি যা চেয়েছিলেন তা-ই অর্জন করেন। তিনি তাঁর পড়াশোনায় শ্রেষ্ঠত্ব ও মেধার পরিচয় দেন এবং ১৮৩৬ সালে কসরুল আইনি বিদ্যালয়ে, অতঃপর ১৮৪০ সালে প্রকৌশল বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কারস্বরূপ ১৮৪৫ সালে মুহাম্মদ আলীর সন্তানদের সাথে উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রান্সে প্রেরিত প্রতিনিধিদলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যেখানে তিনি সামরিক বিদ্যা ও সমর প্রকৌশল অধ্যয়ন করেন।

১৮৪৮ সালে ইবরাহিম পাশার মৃত্যুর পর মিশরে ফিরে এসে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন এবং বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রিপারেটরি ও সামরিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা; এছাড়াও তিনি শিক্ষা, ওয়াকফ এবং প্রকৌশল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিভাগে কাজ করেছেন। এই সমস্ত কাজ নিঃসন্দেহে তাঁকে শুধু কায়রো নয়, বরং অন্যান্য শহর সম্পর্কেও প্রচুর তথ্য ও উপাত্ত লাভে সাহায্য করেছে। এর পাশাপাশি তিনি তাঁর হস্তগত বহু খিতাত ও জীবনীগ্রন্থ এবং অন্যান্য আকরগ্রন্থ অধ্যয়ন করার সুযোগ পান। যেমন সেই সব আরব ও ইউরোপীয় পর্যটকদের লিখিত গ্রন্থ যারা দেশ ভ্রমণ করেছিলেন, সরকারি মহাফেজখানার নথিপত্র, মসজিদের নথিপত্র, বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং অভিজাত পরিবারগুলোর কাছে রক্ষিত অন্যান্য দলিলপত্র।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد طبعت الخطط التوفيقية بأمر الخديو توفيق فى مطبعة بولاق الأهلية، وصدرت أجزاؤها خلال سنتى 1888، 1889.

ونظرا لمضى عهد طويل على صدور «الخطط التوفيقية»، وتغير الكثير من معالم البلاد وتخطيطها نتيجة لإدخال الأساليب الحديثة فى التخطيط والتنظيم ووسائل المواصلات ووقوع أحداث كثيرة غيرت فى تاريخها ومعالمها لهذا كان من الواجب وضع كتاب جديد عن خطط مصر. ولكن نظرا لتعذر تأليف مثل هذا الكتاب الآن، فقد رئى الاكتفاء مؤقتا بإعادة نشر الخطط التوفيقية وفق الأساليب الحديثة فى الطباعة والنشر والإخراج، وأن تكون الطبعة الجديدة محققة مستوفاة للتعليقات والشروح لتمثل حالة البلاد فى الوقت الراهن، وتكون هاديا ومرشدا لمن يريد الوقوف على خطط البلاد وتاريخها وتطورها ونموها، وهذا ما نرجو أن يتحقق فى الأجزاء التالية من الخطط، وفى الطبعة الثالثة من هذا الجزء التى لا نشك فى أن إقبال القراء عليه فى طبعته الحالية سيدفع دار الكتب إلى إعادة طبعه فى وقت قريب.

ونرجو أن تحوز هذه الطبعة الجديدة رضاء القراء وأن تسد ولو جزءا من الفراغ الذى يشعر به كل دارس ومحقق فى هذا الميدان من ميادين التاريخ، وخاصة بعد نفاد الطبعة الأولى من «الخطط التوفيقية» منذ سنوات بعيدة.

 

مارس 1969

د. جمال محمد محرز
আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়া গ্রন্থটি খেদিভ তাওফিকের নির্দেশে বুলাক সরকারি ছাপাখানায় মুদ্রিত হয়েছিল এবং এর খণ্ডসমূহ ১৮৮৮ ও ১৮ Born ৮৯ সালের মধ্যে প্রকাশিত হয়েছিল।

“আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়া” প্রকাশের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় এবং আধুনিক পরিকল্পনা, বিন্যাস ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রবর্তনের ফলে দেশের বহু নিদর্শন ও মানচিত্র পরিবর্তিত হওয়ায়, সেইসাথে এর ইতিহাস ও নিদর্শনে পরিবর্তন আনা বহু ঘটনার প্রেক্ষাপটে, মিশরের মানচিত্র ও ইতিহাস (খিতাত) নিয়ে একটি নতুন গ্রন্থ রচনা করা আবশ্যক হয়ে পড়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এই ধরণের একটি গ্রন্থ রচনা করা দুঃসাধ্য হওয়ায়, আপাতত আধুনিক মুদ্রণ, প্রকাশনা ও উপস্থাপনা শৈলী অনুযায়ী “আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়া” পুনরায় প্রকাশের মাধ্যমে সন্তুষ্ট থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নতুন সংস্করণটি যেন বর্তমান সময়ের দেশের অবস্থা প্রতিফলিত করার জন্য টীকা ও ব্যাখ্যাসহ যথাযথভাবে সম্পাদিত হয় এবং যারা দেশের মানচিত্র, ইতিহাস, বিবর্তন ও প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে জানতে চান তাদের জন্য পথপ্রদর্শক ও নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে। আমরা আশা করি যে এই গ্রন্থের পরবর্তী খণ্ডগুলোতে এবং এই খণ্ডের তৃতীয় সংস্করণে এটি বাস্তবায়িত হবে। আমরা নিঃসন্দহে বিশ্বাস করি যে বর্তমান সংস্করণের প্রতি পাঠকদের আগ্রহ ‘দারুল কুতুব’-কে অচিরেই এটি পুনঃমুদ্রণে উদ্বুদ্ধ করবে।

আমরা আশা করি যে এই নতুন সংস্করণটি পাঠকদের সন্তুষ্টি অর্জন করবে এবং ইতিহাসের এই ক্ষেত্রে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও গবেষক যে শূন্যতা অনুভব করেন, তার অন্তত কিয়দংশ পূরণ করবে; বিশেষ করে দীর্ঘ বছর আগে “আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়া”-র প্রথম সংস্করণ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর।

 

মার্চ ১৯৬৯

ড. জামাল মুহাম্মদ মুহরিয
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌مقدمة الطبعة الأولى

(تشتمل على تقريظ كتاب الخطط التوفيقية وبيان سبب تأليفه وطبعه) يقول خادم تصحيح العلوم بدار الطباعة العامرة ببولاق مصر القاهرة، الفقير إلى الله تعالى محمد الحسينى، أعانه الله على أداء واجبه الكفائى والعينى:

 

بسم الله الرحمن الرحيم

سبحان من أبدع بحكمته خلق الإنسان، وحلاه بملكة التدبير، وزينه بحلية البيان، وخصه(*) باللطيفة الروحية العقلية، فاقتدر بها على إبراز المكنونات الغيبية، ونوعه إلى أنواع متعددة على أنحاء شتى، وأخلاق ولغات مختلفة، ووافق بين بعض أشكاله، وخالف بين بعض، لحكم بالغة تدق على العقل الحكيم، جهل ذلك من جهله، وعرفه من عرفه. وفاضل بباهر تدبيره بين بنيه فيما وهبهم من نفائس الفهوم، وأوردهم موارد علمه، فانتهل كل من رائق دقائقه حظه المقسوم.

نحمده حمد من استنارت بصيرته فعرف الحق لأهله، ونشكره شكرا يستوجب المزيد من إحسانه وفضله.

ونصلى ونسلم على نبيه الأكرم، ورسوله السيد السند الأعظم، سيدنا ومولانا محمد الذى فتح الله له من كنوز غيبه، ما أعجز عن الوصول إلى أدناه أفره السوابق من جياد العقول، وأفعم سجله العظيم من زلال علمه وهنىّ سيبه، فارتوت أمته من فيضه، وملأوا آنيتهم من سائغ علمه المعقول والمنقول. قصّ سبحانه عليه من قصص الأولين ما ثبت به فؤاده، وأنبأه من نبأ السابقين بما بلغ به من هداية الأمة مراده، وكشف له من مغيبات الآخرين ما وقف

--------------------------------------------

(*) الأرقام على جوانب الصفحات هى أرقام صفحات الطبعة الأولى من الكتاب، وهى طبعة بولاق الصادرة سنة 1306 هـ.

প্রথম সংস্করণের ভূমিকা

(এতে আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়্যাহ কিতাবটির প্রশংসা এবং এর রচনা ও মুদ্রণের কারণ বর্ণনা করা হয়েছে) কায়রো মিশরের বুলাক নামক স্থানে অবস্থিত সমৃদ্ধ প্রকাশনা সংস্থা ‘দারুত তিবায়াহ আল-আমেরাহ’-তে জ্ঞানচর্চামূলক কাজের সংশোধনকারী হিসেবে নিয়োজিত খাদেম, মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী মুহাম্মদ আল-হুসাইনি বলছেন—আল্লাহ তাআলা তাকে তার ওপর অর্পিত ফরযে আইন ও ফরযে কিফায়া দায়িত্বসমূহ পালনে সহায়তা করুন:

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

পবিত্রতা সেই মহান সত্তার জন্য, যিনি স্বীয় প্রজ্ঞার মাধ্যমে মানুষের সৃষ্টিতে অভিনবত্ব দান করেছেন, তাকে বিচক্ষণ পরিচালনা ক্ষমতার অলঙ্কারে সজ্জিত করেছেন এবং অলঙ্কারপূর্ণ বর্ণনার ভূষণে তাকে সুশোভিত করেছেন। তিনি মানুষকে বিশেষভাবে দান করেছেন আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সূক্ষ্ম এক চেতনা, যার মাধ্যমে সে অদৃশ্য গূঢ় রহস্যসমূহ প্রকাশে সক্ষম হয়। তিনি মানুষকে বিভিন্ন পন্থায় বহু প্রকারে বিভক্ত করেছেন এবং ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র ও ভাষায় বৈচিত্র্যময় করেছেন। তিনি মানুষের কিছু অবয়ব ও আকৃতিতে মিল রেখেছেন এবং কিছুতে অমিল রেখেছেন; আর এর পেছনে রয়েছে এমন সুগভীর প্রজ্ঞা যা অতি বিচক্ষণ ব্যক্তির বুদ্ধির পক্ষেও অনুধাবন করা দুরূহ। যারা এটি জানে না তারা অজ্ঞ রয়ে গেছে, আর যারা জানে তারা তা অনুধাবন করেছে। তিনি স্বীয় চমৎকার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আদম সন্তানদের মধ্যে তাদের প্রদত্ত শ্রেষ্ঠতর বোধশক্তির দ্বারা উচ্চমর্যাদা দান করেছেন। তিনি তাদেরকে স্বীয় ইলমের ঝর্ণাধারায় উপনীত করেছেন, ফলে প্রত্যেকেই তাঁর সেই সূক্ষ্ম ও স্বচ্ছ জ্ঞানের প্রবাহ থেকে নিজ নিজ বরাদ্দকৃত অংশ গ্রহণ করেছে।

আমরা তাঁর এমন প্রশংসা করছি যার অন্তর্দৃষ্টি আলোকিত হয়েছে এবং এর ফলে সে সত্যকে তার যথাযথ মর্যাদা অনুযায়ী চিনে নিয়েছে; আর আমরা তাঁর এমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যা তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ার প্রবৃদ্ধি অর্জনের কারণ হয়।

আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করছি তাঁর মহাসম্মানিত নবী এবং মহান সরদার ও নির্ভরস্থল রসূল, আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি; যার জন্য আল্লাহ তাআলা তাঁর অদৃশ্যের এমন ভাণ্ডারসমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, যার সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছাতেও তুখোড় বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিরাও অক্ষম। তিনি তাঁর মহান দফতরকে স্বীয় স্বচ্ছ জ্ঞান ও কল্যাণময় দানে পূর্ণ করেছেন; ফলে তাঁর উম্মত তাঁর সেই ধারা থেকে পরিতৃপ্ত হয়েছে এবং তারা বুদ্ধিবৃত্তিক ও বর্ণিত জ্ঞানের সুস্বাদু প্রস্রবণ থেকে নিজ নিজ পাত্র পূর্ণ করে নিয়েছে। মহান আল্লাহ তাঁর নিকট পূর্ববর্তীদের এমন ঘটনাবলী বর্ণনা করেছেন যার দ্বারা তিনি তাঁর অন্তরকে সুদৃঢ় করেছেন, এবং তাঁকে পূর্ববর্তীদের এমন সংবাদ দিয়েছেন যার মাধ্যমে তিনি উম্মতকে হেদায়েতের দিকে ডাকার উদ্দেশ্য পূর্ণ করেছেন। আর তিনি তাঁর কাছে পরবর্তীদের এমন গূঢ় রহস্যসমূহ উন্মোচন করেছেন যার ফলে তিনি অবগত হয়েছেন...

--------------------------------------------

(*) পৃষ্ঠার পার্শ্বে বিদ্যমান সংখ্যাগুলো হলো কিতাবটির প্রথম সংস্করণের পৃষ্ঠা নম্বর, যা ১৩০৬ হিজরীতে মিশরের বুলাক থেকে প্রকাশিত সংস্করণ।

(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فى بيانه موقفا حدث فيه بعض خواصه عما كان وما يكون إلى يوم الدين، وعلى آله كنوز أسراره، وأصحابه حملة شرعه وأخباره.

أما بعد فإن الله جلت قدرته، ودقت حكمته، جعل أحوال الماضين عبرة للغابرين، وأخبار الأولين أدبا تتكمل به نفوس الآخرين، وطرائق السابقين مثالا يحذو حذوه نبلاء اللاحقين، فعلم كل أناس مشربهم، ونهج كل قبيل مذهبهم. لهذا كان علم التاريخ من أرفع العلوم شأنا، وأرجحها ميزانا، وأفسحها مجالا، وأنفعها حالا ومآلا، فأكبّ النبلاء على تدوين أحوال أسلافهم، وذكر معاهدهم، ومنشأ اختلافهم وائتلافهم. وما قنعوا حتى بحثوا عن مبدأ عالم الإنسان، فسطروا أحواله من نشأته. وقيدوا شئونه من جذمه إلى قمته، وبيّنوا أصوله وفصوله، من القبائل والشعوب والعشائر، والفصائل والبطون والأفخاذ والعمائر.

وفصّلوا أنواعه وأصنافه من عرب وعجم على تشعب فروعها وأصولها، وتوفرت لديهم الدواعى لشحن بطون الدفاتر بتفصيل مصطلحاتهم، وتحرير نقولها، وقيد علماء كل فريق ما أشرق الله على عقولهم من أنوار العلوم والمعارف، وانتفع من بعدهم بما أبرزوه من غوامض الأسرار؛ التالد منها والطارف.

واجتهد إثر ذلك جهابذة المتأخرين، فافتتحوا كنوز المعارف التى اشتد فى إخفاء مغالقها حذاق السابقين، فكشفوا هاتيك الأستار، وفتحوا خدور تلك الأفكار، وأبرزوا من حصونها مخدرات الأبكار، واستنتجوا من أصولها غوامض فصول شذت عن أفكار سلفهم، واستحدثوا شوارد فروع ندت عن أفئدة أولئك، فانتفعوا بها فى شئونهم، وكانت ثمرتهم لخلفهم، ليعلم أنه كم ترك الأول للآخر، وأن فضل الله على عباده لا يختص به سابقهم، بل هو عام للجميع ظاهر باهر، واعتنوا أيضا ببيان مساكنهم ومنازلهم من المدن والقرى والبوادى والجبال مواقعها من المعمورة وأبعادها وأطوالها وعروضها وميلها عن خط الاستواء على أتم حال، وابانوا أديانهم وعباداتهم ومعبوداتهم، وسيرهم فى أنفسهم ومع ملوكهم، ووقائعهم وحروبهم وعاداتهم.

ونقش بعض الأمم ذلك على جدران معابدهم وهياكلهم وبرابيهم ومغاراتهم، وبعضهم ملأ بذلك أغوار سجلاتهم. واعتنى المتأخرون ببيان خطط بلادهم وديارهم، وتبعهم من بعدهم على آثارهم، سيّما أهل الديار المصرية، فإنهم جارون فى ذلك غالبا على عوائد أهل هذه الديار الأصلية.

وممن شمر الذيل فى ذلك، واشتد فى السعى حتى بلغ الغاية وسابق فرسان هذا الميدان، فلم يكن لسبقه نهاية نابغة زمانه، وقدوة فضلاء آنه، الشيخ الإمام علامة الأنام: تقى الدين
তাঁর বর্ণনায় এমন এক পরিস্থিতির বিবরণে যা তাঁর কোনো এক বিশেষ সাহাবীর সাথে ঘটেছিল, যা ছিল অতীত এবং কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে সে প্রসঙ্গে; এবং তাঁর বংশধরদের প্রতি যারা তাঁর রহস্যের খনিস্বরূপ, এবং তাঁর সঙ্গীদের প্রতি যারা তাঁর শরীয়ত ও সংবাদের বাহক।

অতঃপর, নিশ্চয়ই আল্লাহ—যাঁর ক্ষমতা সুমহান এবং প্রজ্ঞা অতি সূক্ষ্ম—অতীতের অবস্থাগুলোকে পরবর্তীদের জন্য শিক্ষা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, পূর্ববর্তীদের সংবাদকে এমন এক শিষ্টাচার বানিয়েছেন যার মাধ্যমে পরবর্তীদের আত্মা পূর্ণতা লাভ করে, এবং পূর্বসূরিদের পথকে পরবর্তী যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে স্থাপন করেছেন। ফলে প্রতিটি গোষ্ঠী তাদের পানপাত্র সম্পর্কে অবগত হয়েছে এবং প্রতিটি দল তাদের পথ নির্দিষ্ট করেছে। এই কারণেই ইতিহাস বিজ্ঞান মর্যাদার দিক থেকে অন্যতম উচ্চতর বিজ্ঞান, বিচারে সবচেয়ে গুরুত্ববহ, পরিধিতে সর্বাধিক বিস্তৃত এবং বর্তমান ও পরিণামের বিচারে অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তাই গুণী ব্যক্তিরা তাঁদের পূর্বপুরুষদের অবস্থা লিপিবদ্ধ করা, তাঁদের বিচরণক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করা এবং তাঁদের অনৈক্য ও ঐক্যের প্রেক্ষাপট বর্ণনায় আত্মনিয়োগ করেছেন। তাঁরা কেবল এতেই সন্তুষ্ট হননি, বরং তাঁরা মানব জগতের আদি উৎস সম্পর্কে গবেষণা করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির সূচনা থেকে তাঁর অবস্থা বর্ণনা করেছেন। তাঁরা মানুষের বিষয়াবলিকে এর মূল থেকে শিখর পর্যন্ত নিবদ্ধ করেছেন এবং এর মূল ও শাখা-প্রশাখাগুলোকে গোত্র, জাতি, গোষ্ঠী, উপগোত্র, বংশ ও শাখা-বংশ অনুযায়ী বিশ্লেষণ করেছেন।

তাঁরা আরব ও অনারবদের প্রকারভেদ ও শ্রেণিবিভাগ তাঁদের শাখা-প্রশাখা ও মূলের বিস্তৃতি অনুযায়ী বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। পরিভাষাগুলোর বিস্তারিত বিবরণ এবং সেগুলোর উদ্ধৃতিসমূহ লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে নথিপত্র পূর্ণ করার প্রচুর প্রেরণা তাঁদের ছিল। প্রতিটি দলের আলিমগণ তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিতে আল্লাহ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার যে আলো উদ্ভাসিত করেছেন তা লিপিবদ্ধ করেছেন এবং পরবর্তীরা তাঁদের উন্মোচিত নিগূঢ় রহস্যসমূহ—তা প্রাচীন হোক বা আধুনিক—তা দ্বারা উপকৃত হয়েছে।

এর পর পরবর্তী যুগের মণীষীরা কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং জ্ঞানের সেই নিগূঢ় ভাণ্ডারগুলো উন্মোচন করেছেন যার তালাগুলো রুদ্ধ করে রাখায় পূর্ববর্তী বিজ্ঞগণ সচেষ্ট ছিলেন। তাঁরা সেই আবরণসমূহ উন্মোচন করেছেন এবং চিন্তা-ভাবনার পর্দার অন্তরাল খুলে দিয়েছেন, তাঁদের দুর্গ থেকে অন্তরীণ নতুন নতুন তত্ত্বসমূহ বের করে এনেছেন। তাঁরা এর মূলনীতি থেকে এমন সব সূক্ষ্ম বিষয় আহরণ করেছেন যা তাঁদের পূর্বসূরিদের চিন্তার অগম্য ছিল। তাঁরা এমন সব অভিনাব শাখা-প্রশাখা উদ্ভাবন করেছেন যা পূর্ববর্তীদের হৃদয় থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। ফলে তাঁরা তাঁদের কার্যাবলিতে তা দ্বারা উপকৃত হয়েছেন এবং এটি তাঁদের উত্তরসূরিদের জন্য সুফল বয়ে এনেছে; যাতে এটি জানা যায় যে, পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছু রেখে গেছেন এবং নিশ্চয়ই বান্দাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ কেবল পূর্ববর্তীদের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং তা সবার জন্য সাধারণ, প্রকাশ্য ও জাজ্বল্যমান। তাঁরা তাঁদের বাসস্থান ও আবাসস্থলগুলো—যেমন শহর, গ্রাম, মরুভূমি ও পাহাড়ের অবস্থান, পৃথিবীর জনবসতির মধ্যে সেগুলোর অবস্থান, তাঁদের দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং বিষুব রেখা থেকে সেগুলোর বিচ্যুতির অবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনার প্রতিও যত্নবান হয়েছেন। তাঁরা তাঁদের ধর্ম, উপাসনা পদ্ধতি, উপাস্যসমূহ এবং নিজেদের ও রাজাদের সাথে তাঁদের আচরণ, যুদ্ধবিগ্রহ ও রীতিনীতি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।

কোনো কোনো জাতি তাদের উপাসনালয়, মন্দির, প্রাচীন স্থাপনা ও গুহার দেয়ালে এগুলো খোদাই করে রেখেছে, আবার কোনো কোনো জাতি তাদের নথিপত্রের অতল গহ্বর তা দিয়ে পূর্ণ করেছে। পরবর্তীকালের লোকেরা তাঁদের দেশ ও জনপদের মানচিত্র ও বিবরণের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং পরবর্তী প্রজন্ম তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে, বিশেষ করে মিশরীয় ভূখণ্ডের অধিবাসীরা; কারণ তারা সাধারণত এই ভূখণ্ডের আদিবাসীদের রীতিনীতিই অনুসরণ করে চলে।

আর যাঁরা এ কাজে কোমর বেঁধে নেমেছেন এবং প্রচেষ্টায় কঠোর পরিশ্রম করে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছেছেন এবং এই ময়দানের অশ্বারোহীদের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন—যাঁর অগ্রগতির কোনো শেষ ছিল না—তিনি হলেন তাঁর যুগের অনন্য প্রতিভা, সমকালীন গুণীজনদের আদর্শ, ইমাম, শাইখ, জগদ্বিখ্যাত আল্লামা: তাকী উদ্দীন।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
أحمد بن على بن عبد القادر بن محمد المعروف بالمقريزى. طيب الله ثراه، وأجزل فى دار النعيم قراه، فإنه رحمه الله بين خطط القاهرة فى زمانه أتم بيان، وأوضح معالم مدنها وقراها الشهيرة أبدع إيضاح وأجمل تبيان، وذكر معظم تواريخ أعاظمها من العلماء والأعيان، وما وصل إليه من أحوال أهلها فى زمنه وفرقهم ومذاهبهم، وما عثر عليه من القديم، حتى بلغ من ذلك مبلغا انتفع به الناس النفع العميم، ثم لما تقادم الزمن واستدار، ودارت على مصر فى الأعصر الخالية دوائر الأهوال والإحن والأقدار، فاكفهر نجمها وحال حالها، واسود وجهها النضير، وكسف بالها.

إلى أن أدركها الله تعالى بعنايته، ووصلت من النضرة والسرور إلى غايته، حين وليتها العائلة الفخيمة؛ عائلة مولانا وسيدنا الخديو الجليل المرحوم الحاج محمد على. فقد لبست مصر فى عهدها بعد البؤس والقدم لباس النعيم والجدة، وبدلت الرخاء بعد الشدة، فتغيرت لذلك أخطاطها ومعاهدها؛ وتبدلت معالمها، فلا يكاد يهتدى إلى منزل من منازلها ولا إلى دار ولا خطة من خططها الآن قاصدها، وبقيت مجهولة المسالك والمساكن وغيرها قديما وحديثا، وصار الناس، عالمهم وجاهلهم، من أمرها لا يفقهون حديثا، انتهض لذلك ذو العزم الذى لا يجارى، والهمة التى لا تبارى، الذى بلغ من كل وصف جليل غايته، وحاز من كل خلق كريم بهجته، وحلّ من كل ثناء جميل بحبوحته، الرياضى الذى لا يشق غباره، والنبراس الذى لا يهتدى إلا به، ولا تشرق فى القلوب إلا آثاره:

أمير له فى الفضل أرفع منزل … وفى أفق التحقيق أنجمه زهر

جليل نبيل ذو وقار وحشمة … وبين ذوى أحكامنا أمره الأمر

إذا رفع الناس الحوائج نحوه … أنالهم برا فجم له الشكر

بشوش المحيا دائم البشر للذى … يوافيه يبغى عرفه، دأبه اليسر

إذا خط فالدر الرطيب منظم … أو الروض فى أفنانه ينفح الزهر

هو الفيصل المعدود فى كل معضل … هو الشهم فى حل العويص له ذكر

هو الحكم المرضى والثقف الذى … إذا ناضل الأنداد تم له النصر

العلم الشهير. والبدر المنير، والعالم النحرير، والطبن بالمشكلات الخبير، الجبرى الذى كاد أن يبين عن حقيقة الجذر الأصم، والحيسوب الذى كشف عن وجه الأعداد الأول اللثام على الوجه الأتم، والهندسى الذى أسس أشكال التأسيس، ووضع الأعداد المتناسبة على الوجه النفيس، ذو السعادة على باشا مبارك ناظر ديوان المعارف العمومية بالمحروسة مصر المعزية،
আহমদ বিন আলী বিন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ, যিনি আল-মাকরিজি নামে পরিচিত। আল্লাহ তাঁর সমাধিকে পবিত্র করুন এবং জান্নাতে তাঁর আতিথেয়তাকে সুপ্রশস্ত করুন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সময়ে কায়রোর মানচিত্র ও পরিকল্পনা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এর বিখ্যাত শহর ও গ্রামগুলোর নিদর্শনসমূহ চমৎকারভাবে স্পষ্ট করেছেন। তিনি সেখানকার মহান আলেম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অধিকাংশ ইতিহাস উল্লেখ করেছেন, এবং তাঁর সমসাময়িক জনগণের অবস্থা, তাদের দল ও মাজহাব সম্পর্কে যা কিছু সংগ্রহ করতে পেরেছেন এবং প্রাচীন যা কিছু খুঁজে পেয়েছেন তা বর্ণনা করেছেন। এমনকি তিনি এ ক্ষেত্রে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছেন যেখান থেকে মানুষ ব্যাপক উপকৃত হয়েছে। অতঃপর যখন দীর্ঘকাল অতিবাহিত হলো এবং সময়ের আবর্তন ঘটল, এবং বিগত যুগগুলোতে মিশরের ওপর দিয়ে ভয়াবহ বিপদ, শত্রুতা ও নিয়তির নানা বিপর্যয় বয়ে গেল, তখন তার সৌভাগ্যের নক্ষত্র ম্লান হয়ে গেল, তার অবস্থার পরিবর্তন ঘটল, তার উজ্জ্বল মুখমণ্ডল মলিন হয়ে গেল এবং তার গৌরব অন্তর্হিত হলো।

অবশেষে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বিশেষ অনুগ্রহে এর প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং এটি সজীবতা ও আনন্দের চরম সীমায় পৌঁছাল, যখন এর দায়িত্ব গ্রহণ করল সেই মহিমান্বিত পরিবার; আমাদের অভিভাবক ও নেতা মহান খেদিভ মরহুম হাজি মুহাম্মদ আলীর পরিবার। ফলে মিশর তাদের যুগে দুর্দশা ও জরাজীর্ণতার পর সচ্ছলতা ও নতুনত্বের পোশাক পরিধান করল এবং কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ্য লাভ করল। এই কারণে এর মানচিত্র ও স্থাপনাগুলো পরিবর্তিত হয়ে গেল; এর নিদর্শনসমূহ বদলে গেল। এমনকি এখন কেউ এর কোনো বাড়ি বা কোনো রাস্তার খোঁজ করতে চাইলে দিশেহারা হয়ে পড়ে। এর প্রাচীন ও আধুনিক পথঘাট এবং বসতিসমূহ অজ্ঞাত থেকে গেল। ফলে আলেম বা সাধারণ মানুষ কেউই এর বিষয়াদি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান রাখতে পারছিল না। এরপর এই কাজের জন্য এমন এক অদম্য সংকল্পবান ও অতুলনীয় হিম্মতধারী ব্যক্তি এগিয়ে এলেন, যিনি প্রতিটি মহৎ গুণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, প্রতিটি উচ্চতর চরিত্রে সজ্জ্বিত হয়েছেন এবং সকল সুন্দর প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি এমন এক গণিতবিদ যাঁর ধূলিও কেউ স্পর্শ করতে পারে না, এবং এমন এক প্রদীপ যাকে ছাড়া পথ চলা অসম্ভব এবং যাঁর পদচিহ্ন ছাড়া হৃদয়ে আলো জ্বলে না:

তিনি এমন এক আমির, শ্রেষ্ঠত্বে যাঁর স্থান সর্বোচ্চ … এবং গবেষণার দিগন্তে যাঁর নক্ষত্রসমূহ দেদীপ্যমান

তিনি মহান, মহৎ, গাম্ভীর্য ও মর্যাদার অধিকারী … আমাদের বিচারকদের মধ্যে তাঁর আদেশই চূড়ান্ত

মানুষ যখন তাদের অভাব-অভিযোগ নিয়ে তাঁর কাছে যায় … তখন তিনি তাদের প্রতি সদাচরণ করেন এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা উপচে পড়ে

সদাহাস্যমুখ ও প্রসন্ন চেহারার অধিকারী সেই ব্যক্তির কাছে যে আসে … সে তাঁর অনুগ্রহ কামনা করে, আর স্বাচ্ছন্দ্য প্রদানই তাঁর অভ্যাস

তিনি যখন লেখেন, তখন মনে হয় যেন সিক্ত মুক্তোরাজি সুবিন্যস্ত রয়েছে … অথবা যেন বাগানের শাখা-প্রশাখা থেকে ফুল সুবাস ছড়াচ্ছে

যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধানে তিনি এক অকাট্য মীমাংসাকারী … কঠিন জট খোলার ক্ষেত্রে তিনি এমন এক বীর যাঁর খ্যাতি সুবিদিত

তিনি সন্তোষজনক বিচারক এবং এমন তীক্ষ্ণধী সম্পন্ন … যে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করলে বিজয় তাঁরই করায়ত্ত হয়

তিনি সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত, দীপ্তিমান পূর্ণিমার চাঁদ, বিজ্ঞ আলেম এবং জটিল সমস্যা সমাধানে বিশেষজ্ঞ। তিনি এমন এক বীজগণিতবিদ যিনি প্রায় অমূল সংখ্যার মূলের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করেছেন এবং এমন এক গণনাকারী যিনি পূর্ণাঙ্গভাবে মৌলিক সংখ্যার রহস্য উন্মোচন করেছেন। তিনি জ্যামিতিবিদ যিনি জ্যামিতিক নকশার ভিত্তি স্থাপন করেছেন এবং অত্যন্ত চমৎকারভাবে সমানুপাতিক সংখ্যাসমূহ বিন্যস্ত করেছেন। তিনি হলেন সৌভাগ্যবান আলী পাশা মোবারক, সংরক্ষিত ও গৌরবময় মিশরের সাধারণ শিক্ষা বিভাগের পরিচালক।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
إذ أخذته - حفظه الله - الغيرة الوطنية، واحتملته الحمية، حمية العلمية، وهاجته النجدة والحرية الطبيعية، ودعته محبة تكثير العلوم والمعارف والأعمال الخيرية واهتزته نخوة الأريحية الجبلية، فنادى فى سوق الأدب:

«يا تجار الآداب، يا من سلكوا فى طريق المعرفة سبيل الصواب، يا جهابذة التاريخ، وأساة الأخبار، يا دعاة العلوم، ورعاة الآثار، يا من أعملوا جيادهم فى تدوين الفنون، يا نقاد النفائس ودهاقنة الجوهر المكنون. إن هذه الديار قد انمحت من دواوين التخطيط أخبارها، واندرست - أو كادت - من معالم التاريخ الآن آثارها، فهل من حر تحمله الهمة على تخطيط داره؟ هل من ذى نخوة تستفزه مروءته إلى إيضاح منار وطنه، وتدوين تاريخه، وإشهار أخباره وآثاره؟ يا فرسان هذا الميدان، يا من لهم اليد الطولى فى هذا الشان، يا من اشتهروا باحتياز فنون الأدب والتاريخ فى جميع البلدان، هلموا إلى هذه الخطة التى فضلها لا ينكر، والعمل الذى مزيته الحسنة وأثره الجميل أشهر من أن يذكر».

فلم يجبه إلى هذا النداء مجيب، ولم يظهر لهذا الداء طبيب، ولم يأخذ أحد من هذا الفضل محظ ولا نصيب.

فشمر حفظه الله ساعد الاجتهاد، واعتمد فى هذا الغرض المهم على رب العباد، وسار بحول الله وقوته سالكا سبيل السداد، وجمع لذلك الكتب العدة، واستعد له بكل عدة، ووضع خطط المقريزى أمامه، وسلّ فى سيره على قطاع الطريق من شياطين الغواية حسامه، وصار يذكر فى كل مكان من أماكن القاهرة خطته القديمة واسمه وشهرته التى كانت فى ذلك الوقت مستديمة، ثم يعقبه بذكر ما تحولت إليه فى وقتنا هذا وقبله حاله، وما آل إليه مآله. ويذكر أول من أنشأ هذا المكان ومن انتقل إليه بعده مرة بعد أخرى حتى الآن وتملكه، ومن استولى عليه بأى نوع من أنواع الاستيلاء، أو فى سلك الأوقاف سلكه، وهكذا الأمر فى جميع أخطاط القاهرة وشوارعها وحاراتها ودروبها وأزقتها وبيوتها الكبيرة والصغيرة وخاناتها، حتّى صارت جهاتها واضحة معلومة للسالكين، غير مشتبهة الأعلام والطرق على السائرين فى أزقتها والسابلين.

وذكر فى أمر الجوامع والمساجد والزوايا والكنائس والديور ما هو أغرب وأطرب، وذكر من تواريخ أصحاب الأضرحه، ومشاهير الأولياء والعلماء وأرباب البيوت والمساجد والأوقاف والأسبلة وغير ذلك وتراجمهم، فأبان وأعرب، وذكر قبل ذلك فائدة تشتمل على حملة عدد المساجد والجوامع والزوايا والربط والكنائس والديور والحمامات.
যখন স্বদেশপ্রেমের উদ্দীপনা তাকে—আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন—আচ্ছন্ন করল, এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক আত্মমর্যাদাবোধ তাকে উদ্বুদ্ধ করল, আর বীরত্ব ও মজ্জাগত স্বাধীনতা তাকে উদ্দীপ্ত করল, এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও জনকল্যাণমূলক কাজ প্রসারের আকাঙ্ক্ষা তাকে আহ্বান করল, আর তার স্বভাবজাত উদারতার মহানুভবতা তাকে নাড়া দিল, তখন তিনি সাহিত্যের বাজারে উচ্চৈঃস্বরে ডাক দিলেন:

«হে সাহিত্যের বণিকগণ! হে যারা জ্ঞানের সঠিক পথে চলেছেন! হে ইতিহাসের মহাপ্রাজ্ঞগণ ও সংবাদ সংকলকগণ! হে বিজ্ঞানের প্রচারক ও প্রত্নতত্ত্বের সংরক্ষকগণ! হে যারা বিভিন্ন শিল্প সংকলনে আপনাদের মেধা প্রয়োগ করেছেন! হে মূল্যবান নিদর্শনের সমালোচক ও গুপ্ত মণির অভিজ্ঞ জহুরিগণ! নিশ্চয়ই এই অঞ্চলের সংবাদসমূহ নগর-নকশার নথিপত্র থেকে মুছে গেছে এবং ইতিহাসের মানচিত্র থেকে এর চিহ্নসমূহ বর্তমানে বিলুপ্ত হয়ে গেছে—বা প্রায় বিলুপ্ত। তবে কি এমন কোনো স্বাধীন ব্যক্তি আছে যাকে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিজের বাসস্থানের নকশা করতে উদ্বুদ্ধ করবে? এমন কোনো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি আছে যার মনুষ্যত্ব তাকে নিজের স্বদেশের পরিচিতি স্পষ্ট করতে, এর ইতিহাস সংকলন করতে এবং এর সংবাদ ও নিদর্শনসমূহ প্রচার করতে উৎসাহিত করবে? হে এই ময়দানের বীর সওয়ারগণ! হে এই বিষয়ে যাদের সুদীর্ঘ হাত রয়েছে! হে যারা সকল দেশে সাহিত্য ও ইতিহাসের বিভিন্ন শাখায় পাণ্ডিত্যের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন! আপনারা এই পরিকল্পনার দিকে এগিয়ে আসুন যার শ্রেষ্ঠত্ব অনস্বীকার্য, এবং এই কাজের দিকে যার উত্তম গুণ ও সুন্দর প্রভাব বর্ণনা করার অপেক্ষা রাখে না।»

কিন্তু এই আহ্বানে কেউ সাড়া দিল না, এই রোগের কোনো চিকিৎসকও দেখা দিল না, আর এই শ্রেষ্ঠত্বের কোনো অংশ বা ভাগ্য কেউ গ্রহণ করল না।

অতঃপর তিনি—আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন—প্রচেষ্টার কোমর বাঁধলেন এবং এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যে বান্দাদের রবের ওপর ভরসা করলেন। তিনি আল্লাহর সাহায্য ও শক্তিতে সঠিক পথে অগ্রসর হলেন এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সংগ্রহ করলেন ও সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিলেন। তিনি মাকরিজীর 'খিতাত' গ্রন্থটি সামনে রাখলেন এবং তার এই পথচলায় বিভ্রান্তির শয়তানরূপী ডাকাতদের বিরুদ্ধে স্বীয় তরবারি কোষমুক্ত করলেন। তিনি কায়রোর প্রতিটি স্থানের প্রাচীন নকশা, নাম এবং সেই সময়কার স্থায়ী প্রসিদ্ধি উল্লেখ করতে শুরু করলেন। অতঃপর আমাদের বর্তমান সময়ের এবং তার আগের অবস্থার পরিবর্তন ও তার বর্তমান পরিণতির কথা উল্লেখ করলেন। তিনি সেই স্থানটি সর্বপ্রথম কে নির্মাণ করেছিলেন এবং তার পর থেকে এ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে কার কার কাছে এর মালিকানা স্থানান্তরিত হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন। কে এটি কীভাবে দখল করেছে বা কে এটি ওয়াকফ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে তাও বর্ণনা করেছেন। কায়রোর সমস্ত এলাকা, রাস্তা, গলি, উপগলি, ছোট-বড় বাড়ি এবং সরাইখানার ক্ষেত্রে তিনি এভাবেই বর্ণনা করেছেন। ফলে এর প্রতিটি দিক পথচারীদের কাছে স্পষ্ট ও পরিচিত হয়ে উঠল এবং এর গলিপথ ও রাস্তা দিয়ে চলাচলকারীদের কাছে এর চিহ্নসমূহ আর অস্পষ্ট রইল না।

তিনি জামে মসজিদ, সাধারণ মসজিদ, খানকাহ, গির্জা ও মঠের বিষয়ে অত্যন্ত বিস্ময়কর ও আনন্দদায়ক তথ্য উল্লেখ করেছেন। তিনি মাজারের অধিবাসীগণ, বিখ্যাত ওলি-আউলিয়া, আলেম-ওলামা এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারসমূহ, মসজিদ, ওয়াকফ ও পানি সরবরাহ কেন্দ্র ইত্যাদির ইতিহাস ও তাদের জীবনী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এর আগে তিনি একটি পরিচ্ছেদ উল্লেখ করেছেন যাতে মসজিদ, জামে মসজিদ, খানকাহ, মুসাফিরখানা, গির্জা, মঠ ও হাম্মামখানার মোট সংখ্যার একটি পরিসংখ্যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وفى البلاد يذكر إقليم البلد، والمسافة بينها وبين ما يليها من البلاد من أىّ الجهات، ثم إن كانت تلك البلد محل وقعة من الوقائع القديمة قبل الإسلام، أو الحادثة بعده ذكرها.

ويصف البلد على أتم وصف، ويوضح أمرها، ويذكر ما طرأ عليها من تغيير وتبديل وعمارة وخراب، وغير ذلك من الأحوال على وجه الصواب، ويذكر تواريخ وتراجم من نشأ فيها من العلماء والأعيان والمشاهير والأولياء قديما وحديثا بألطف بيان.

وقد جمع لذلك ما لا يحصى من حجج الأوقاف والأملاك وكتب التاريخ للقاهرة وغيرها من النظار والملاك.

وبالجملة فهو كتاب جليل المقدار، واضح المنار، ثمين القيمة، غزير الديمة، فريد فى بابه، إمام فى محرابه، يعز على غير مؤلفه - حفظه الله - تأليف مثله، ولا يعرف غير العلماء والفضلاء فى هذا الشأن مقدار فضله:

كتاب عظيم الشان عز مثيله … حوى دقة المعنى إلى رقة اللفظ

إذا سمعت أذناك رقة لفظه … ترى نفثات السحر فى ألطف اللحظ

به منهل التحقيق ساغ وروده … له فى نفوس الأذكياء أوفر الحظ

يعز على ذوق الغبىّ مناله … وينبو عن الجافى وعن مسمع الفظ

جعله مؤلفه خدمة لوطنه، ونفعا لأهل هذا الشأن، وقياما بحق زمنه، وهدية من أحسن الهدايا، وتحفة من أبهج التحف، وذخيرة من أعظم الذخائر، وطرفة من أنفس الطرف، لخزانة الحضرة المهيبة الخديوية(1)، والطلعة الداورية التوفيقية، حضرة سيدنا ومولانا الذى عم الأنام إحسانه، وشملهم جوده وامتنانه، محيى رفات المكارم بعد اندراسها، ومشيد أركان المفاخر على مكين أساسها.

سيد يملأ القلوب ابتهاجا … ولمن حلّ فى حماه مجير

هو نهد رحب الذراع مهيب … ورؤوف لمن أساء غفور

وسع الناس حلمه وهو سيف … فى حدود الإله ماض غيور

وأنام الأنام فى ظل أمن … بحماه وسيفه مشهور

أخصبت مصر إذ أقام بها العد … ل، فأمست وكسرها مجبور

--------------------------------------------

(1) بقية المقدمة عبارة عن مدح بالنثر والشعر فى الخديو محمد توفيق، وذكر لمناقبه وكريم خصاله وسجاياه، رأينا إثباتها بالرغم من زيفها وافتتاتها على الحق، خاصة وقد أصبحنا نعرف دور توفيق فى ضرب الثورة العرابية الوطنية، والترحيب بمقدم قوات الاحتلال البريطانية، ليرى القارئ المعاصر نموذجا لبعض أساليب الكتابة والزلفى للحاكمين وقت نشر الكتاب.

দেশসমূহের বর্ণনায় তিনি দেশের অঞ্চল এবং তার সাথে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দূরত্বের কথা যেকোনো দিক থেকেই হোক উল্লেখ করেছেন। অতঃপর সেই দেশটি যদি ইসলাম-পূর্ব কোনো প্রাচীন ঘটনার বা পরবর্তী সময়ের কোনো ঘটনার কেন্দ্র হয়ে থাকে, তবে তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

তিনি দেশের পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা প্রদান করেন, এর অবস্থা স্পষ্ট করেন এবং সেখানে যা কিছু পরিবর্তন, পরিবর্ধন, আবাদ ও ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে, এছাড়া অন্যান্য অবস্থাগুলোও যথাযথভাবে উল্লেখ করেন। সেখানে জন্ম নেওয়া আলেম, বিশিষ্ট ব্যক্তি, খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গ এবং ওলি-আউলিয়াদের ইতিহাস ও জীবনী অতি চমৎকার বর্ণনায় প্রাচীন ও আধুনিক উভয় প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করেন।

এই কাজের জন্য তিনি অসংখ্য ওয়াকফ ও মালিকানা দলিল এবং কায়রো ও অন্যান্য স্থানের ইতিহাস গ্রন্থসমূহ তত্ত্বাবধায়ক ও মালিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন।

সারসংক্ষেপে, এটি একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কিতাব, যার দিকনির্দেশনা সুস্পষ্ট, মূল্য অপরিসীম এবং যার কল্যাণ অফুরন্ত। এটি স্বীয় বিষয়ে অনন্য এবং নিজ অঙ্গনে অগ্রণী। এর লেখকের (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন) ন্যায় অন্য কারো পক্ষে এমন গ্রন্থ রচনা করা সুকঠিন। এই বিষয়ের আলেম ও গুণী ব্যক্তিগণ ছাড়া অন্য কেউ এর শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা অনুধাবন করতে পারবে না:

মহান মর্যাদার এক কিতাব যার তুলনা মেলা ভার … যা শব্দের লালিত্যের সাথে অর্থের সূক্ষ্মতাকে ধারণ করেছে

যখন তোমার কর্ণকুহর এর শব্দের লালিত্য শ্রবণ করবে … তুমি অতি সুন্দর মুহূর্তে জাদুকরী প্রভাব দেখতে পাবে

এতে রয়েছে গবেষণার স্বচ্ছ নহর যাতে অবগাহন তৃপ্তিদায়ক … বুদ্ধিমানদের অন্তরে এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর

নির্বোধের রুচির পক্ষে এর নাগাল পাওয়া দুঃসাধ্য … আর কঠোর ও রূঢ় ব্যক্তির শ্রবণ থেকে এটি দূরে থাকে

লেখক একে স্বদেশের সেবা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপকারিতা এবং নিজ সময়ের হক আদায়ের নিমিত্তে তৈরি করেছেন। এটি একটি চমৎকার উপহার, এক আনন্দময় উপঢৌকন, সর্বশ্রেষ্ঠ ভাণ্ডার এবং এক মূল্যবান বিরল সম্পদ হিসেবে পেশ করা হয়েছে মহিমান্বিত খেদিভীয় গ্রন্থাগার(১) এবং তাওফীকী রাজকীয় দরবারের প্রতি। সেই মহান ব্যক্তিত্ব, আমাদের নেতা ও অভিভাবক, যাঁর অনুগ্রহ মানবজাতিকে পরিবেষ্টন করেছে এবং যাঁর দান ও কৃতজ্ঞতা সকলকে শামিল করেছে। তিনি বিলুপ্ত হওয়ার পর মহৎ কর্মসমূহের অবশেষকে পুনরুজ্জীবিতকারী এবং সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর গৌরবের স্তম্ভসমূহ নির্মাণকারী।

এমন এক নেতা যিনি অন্তরসমূহকে আনন্দে পূর্ণ করে দেন … আর যে তাঁর আশ্রয়ে আসে তাঁর জন্য তিনি ত্রাণকর্তা

তিনি প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী ও প্রভাবশালী … এবং অপরাধীর প্রতি দয়ালু ও ক্ষমাশীল

তাঁর সহনশীলতা মানুষকে পরিবেষ্টন করেছে, অথচ তিনি একটি তরবারি … আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে তিনি ক্ষিপ্র ও আত্মমর্যাদাবান

তিনি মানুষকে নিরাপত্তার ছায়াতলে শান্তিতে নিদ্রিয় করেছেন … তাঁর আশ্রয়ে এবং তাঁর তরবারি সুবিখ্যাত

মিশরের উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে যখন তিনি সেখানে ন্যায়বিচার কায়েম করেছেন, ফলে তার ক্ষয়ক্ষতি পূরণ হয়েছে

--------------------------------------------

(১) ভূমিকার অবশিষ্টাংশ খেদিভ মুহাম্মদ তাওফীকের গদ্য ও পদ্যে প্রশংসামূলক বর্ণনা এবং তাঁর গুণাবলি ও উন্নত চরিত্রের উল্লেখ সম্বলিত। আমরা একে বহাল রাখা সমীচীন মনে করেছি, যদিও তা সত্যের অপলাপ এবং বাস্তবতার পরিপন্থী। বিশেষ করে আমরা এখন জাতীয়তাবাদী উরাবি বিপ্লব দমনে তাওফীকের ভূমিকা এবং ব্রিটিশ দখলদার বাহিনীর আগমনে তাঁর স্বাগত জানানোর বিষয়টি জানি। এটি করার উদ্দেশ্য হলো, সমসাময়িক পাঠক যেন কিতাবটি প্রকাশের সময় শাসকদের প্রতি তোষামোদি ও চাটুকারিতার কিছু নমুনা দেখতে পান।

(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
هو شمس الوجود لولاه ما أز … هر بدر ولا استفاض النور

لا، ولا أنبتت سنابل زرع … أى أرض ولا زها التزهير

هو بر بالمعتفين رحيم … هو بحر جداه جم غزير

هو ليث تأتى الأسود إليه … مطرقات عنيدها مقهور

العزيز الذى أعزّ به الدي … ن فأضحى وبيته معمور

المليك الفخم المفخم توفي … ق الإله المؤيد المنصور

ما رأينا ولا سمعنا عزيزا … مثله خيره الهنى كثير

إن أوصافه الحسان بحار … ليس يحصى من قطرها التسطير

غير أن النفوس تروى أواما … من نداها المرىّ فهو نمير

يحسن المدح من سناها ويحلو … من حلاها المنظوم والمنثور

صغت من درها اليتيم عقودا … تتحلى بها الحسان الحور

مهديا وشيها لحضرته العلي … افمدحى له بها مشكور

يا جوادا أروى النفوس بجدوا … هـ وأحيا الأرواح وهى تمور

يا إماما له الأنام خضوع … ورفيقا للنصر حيث تسير

أنت كل الورى كمالا وفضلا … أنت للفادحات آس خبير

عش كما شئت راقيا فى المعالى … فلك السعد خادم وسمير

وتهنأ نفسا ببهجة الأنجا … ل دواما فحظهم موفور

رب أصلح به العباد وأزهر … بدره بالسرور وهو منير

رب أحسن به البلاد وأكثر … خيرها تمس والعسير يسير

فهو غوث الأنام غيث مريع … سائغ ورده الزلال الشهير

الشهم الذى اقتعد هام المعالى بهمته، والمهيب الذى عنت جباه الحبابرة لهيبته، ذو الجناب المجيد، والفخر الجلى، أبو العباس أفندينا محمد توفيق بن اسماعيل بن إبراهيم بن محمد على، لا زالت ألوية العز خافقة على هامه، ولا برح الخير مغدقا على رعيته مدى أيامه، مهنأ البال بأنجاله، فرح الفؤاد بأشباله.

هذا، ولما رأى - أدام الله عزه - هذا الكتاب البديع، وما اشتمل عليه من لطف الشكل، وحسن الصنيع، راقه حسنه الرائق، وأعجبه لطفه الفائق، وأطربه شكله الظريف
তিনি অস্তিত্বের সূর্য, তিনি না থাকলে কোনো পূর্ণিমা উদ্ভাসিত হতো না … আর আলোও বিচ্ছুরিত হতো না।

না, কোনো ভূখণ্ডে শস্যের শীষ গজাত না … আর কোনো পুষ্পও বিকশিত হতো না।

তিনি প্রার্থী ও অভাবীদের প্রতি পরম দয়ালু ও হিতৈষী … তিনি বদান্যতার এক সুগভীর ও বিশাল সমুদ্র।

তিনি এমন এক সিংহ যার কাছে অন্য সিংহরা মস্তক অবনত করে আসে … তাদের উদ্ধতরা সেখানে পরাজিত ও পর্যুদস্ত।

সেই প্রতাপশালী যার দ্বারা ধর্মকে সম্মানিত করা হয়েছে … ফলে তা এবং তার গৃহ আবাদ ও সমৃদ্ধ হয়েছে।

সুমহান ও মহিমান্বিত অধিপতি, আল্লাহর তৌফিকপ্রাপ্ত … ঐশ্বরিক সাহায্যপ্রাপ্ত ও বিজয়ী।

আমরা তাঁর মতো আর কোনো প্রতাপশালীকে দেখিনি বা শুনিনি … যাঁর কল্যাণকর দান অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক ও প্রচুর।

নিশ্চয়ই তাঁর সুন্দর গুণাবলীসমূহ এক একটি সমুদ্র … যার এক বিন্দুও লেখনীর মাধ্যমে গণনা করা সম্ভব নয়।

তবুও প্রাণগুলো তৃষ্ণা মেটায় … তাঁর সেই সুমিষ্ট দান থেকে, যা সুপেয় ও স্বচ্ছ।

তাঁর জ্যোতিতে প্রশংসা সুন্দর হয়ে ওঠে এবং তাঁর মাধুর্যে … পদ্য ও গদ্য হয়ে ওঠে সুমিষ্ট।

তাঁর অদ্বিতীয় মুক্তা দিয়ে আমি এমন মালা গেঁথেছি … যা দিয়ে রূপবতী হুরগণ নিজেদের সুসজ্জিত করে।

তাঁর উচ্চ দরবারে এই অলঙ্কৃত উপহার পেশ করছি … যাতে আমার এই প্রশংসা তাঁর কাছে প্রশংসিত হয়।

হে দানশীল! যিনি আপন বদান্যতায় প্রাণগুলোকে সিক্ত করেছেন … এবং স্পন্দিত আত্মাসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন।

হে ইমাম! যাঁর সামনে সৃষ্টিজগত নতমস্তক … এবং আপনি যেখানেই গমন করেন বিজয় আপনার সহচর হয়।

পূর্ণতা ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে আপনিই সমগ্র সৃষ্টিজগত … আপনি বিপদাপদে এক অভিজ্ঞ চিকিৎসক।

উচ্চমর্যাদার সোপানে নিজের ইচ্ছামতো আরোহণ করে বেঁচে থাকুন … সৌভাগ্য আপনার সেবক ও সহচর হোক।

সন্তানদের আনন্দে সর্বদা সন্তুষ্ট চিত্তে থাকুন … তাদের সৌভাগ্য যেন চিরকাল অটুট থাকে।

হে প্রভু! তাঁর মাধ্যমে বান্দাদের সংশোধন করুন এবং আনন্দ ও প্রফুল্লতার মাধ্যমে … তাঁর পূর্ণিমাকে সর্বদা উজ্জ্বল ও আলোকিত রাখুন।

হে প্রভু! তাঁর মাধ্যমে দেশসমূহকে সুন্দর করুন এবং এর কল্যাণ বৃদ্ধি করুন … যেন কঠিন কাজগুলো সহজ হয়ে যায়।

তিনি সৃষ্টির আশ্রয় এবং এক ফলপ্রসূ বৃষ্টি … যাঁর সুপ্রসিদ্ধ স্বচ্ছ জলধারা অত্যন্ত সুপেয়।

সেই বীরপুরুষ যিনি আপন উচ্চাকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে উচ্চমর্যাদার শীর্ষে আরোহণ করেছেন, এবং সেই প্রভাবশালী ব্যক্তি যাঁর প্রতাপের সামনে স্বৈরাচারীদের কপাল নমিত হয়েছে; মহান মর্যাদার অধিকারী, সুস্পষ্ট গৌরবের আধার, আবু আব্বাস আমাদের মহানুভব মুহাম্মদ তৌফিক ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আলী। তাঁর মস্তকের ওপর সম্মানের পতাকা যেন সর্বদা উড়তে থাকে, এবং তাঁর প্রজাদের ওপর তাঁর জীবদ্দশায় কল্যাণ যেন সর্বদা বর্ষিত হয়; তিনি যেন তাঁর সন্তানদের নিয়ে প্রশান্তচিত্তে এবং তাঁর বীর সন্তানদের নিয়ে আনন্দিত হৃদয়ে থাকেন।

অতঃপর, যখন তিনি—আল্লাহ তাঁর সম্মান দীর্ঘস্থায়ী করুন—এই অপূর্ব কিতাবটি দেখলেন এবং এর চমৎকার অবয়ব ও নিপুণ নির্মাণশৈলী প্রত্যক্ষ করলেন, তখন এর মোহনীয় সৌন্দর্য তাঁকে মুগ্ধ করল, এর অনন্য সূক্ষ্মতা তাঁকে আশ্চর্যান্বিত করল এবং এর চমৎকার রূপ তাঁকে আনন্দিত করল।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وأنعشه روضه النضير، وظله الوريف، فرغبت نفسه الشريفة، وتعلقت آماله المنيفة، وصدر أمره الكريم بطبعه، رغبة فى عموم نفعه، فبودر إلى امتثال أمره الكريم، وأجرى طبعه حسب مرغوب جنابه الفخيم بالمطبعة الكبرى العامرة ببولاق مصر القاهرة، الشائع فضلها فى جميع الأنحاء والأقطار، الشهير صيتها وحسنها، والسارى عموم نفعها فى سائر الجهات سريان الليل والنهار، وذلك لشدة شغفه، أدام الله دولته وكثرة شوقه إلى تأليف كتاب فى عهده، يبين خطط مصر الجديدة، ويشرح حالها، ويذكر تواريخ أهلها، ويوضح ما عليها وما لها، ولما جبلت عليه نفسه الزكية، وشيمته الطاهرة المرضية، من حب المساعى الخيرية، والمبادرة إلى الأفعال البرّية.

فانه، أطال الله حياته، مجبول على حب الطاعة وفعل الخير والتواضع، والشفقة على عباد الله، والرحمة للضعفاء والمساكين، فطالما كان يدخل المستشفيات فى مصر والإسكندرية، ويصافح المرضى بنفسه، ويصبرهم ويدعو لهم بالشفاء، ويعدهم بذلك من فضل الله تعالى، ويأمر الأطباء بالرأفة والشفقة على المرضى، ويحثهم على المواظبة على عياداتهم، والصدق فى مداواتهم، وعدم التكبر والتأخر عن أحد دعوا إليه؛ كبيرا أو صغيرا، عظيما أو حقيرا.

وهو مولع بحب المساجد، والصلاة فيها، والإقبال بهمته على عمارتها، خصوصا مساجد أهل البيت رضي الله عنهم، فانه - أيده الله - حث على عمارة مسجد سيدنا الإمام الشافعى رضي الله عنه التى صدر أمره الكريم بها سنة 1303، وحضر بنفسه يوم وضع أساسه، وكان يوما عظيما مشهودا، ووضع أول لبنة فى أساسه بيده الشريفة، اعتناء بهذا المسجد الشريف، وحبا فى سيدنا الإمام رضي الله عنه، وكذلك مسجد سيدتنا السيدة زينب، بنت سيدنا الإمام على رضي الله عنه، وكرم وجهه، الكائن عند قناطر السباع، الذى جرى تجديده فى عهد الحضرة الفخيمة الخديوية التوفيقية أدام الله أيامها.

وبالجملة فعزيزنا - حفظه الله - سيد أهل هذا الزمان حقا، وبهجة هذا الوقت جميعه، يقينا وصدقا، نسأل الله تعالى أن يديم على رعيته أيامه، ويوالى عليهم بره وإنعامه، وأن يصلح له وبه الأحوال، ويكثر به الخير فى الحال والمآل، بجاه سيدنا ومولانا محمد الرؤوف الرحيم، عليه وعلى آله وصحبه أفضل الصلاة وأتم التسليم.
তার প্রফুল্ল বাগান এবং সুশীতল ছায়া তাকে পুনরুজ্জীবিত করেছে, ফলে তার মহৎ প্রাণ আগ্রহী হয়েছে এবং তার উচ্চাশা নিবদ্ধ হয়েছে। তার সম্মানজনক আদেশ জারি হয়েছে এটি মুদ্রণ করার জন্য, যাতে এর উপকারিতা সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছায়। তাই দ্রুত তার সম্মানজনক আদেশ পালন করা হয়েছে এবং মিশরের কায়রোর বুলাকস্থ মহান সরকারি ছাপাখানায় তার মহানুভব সম্মানের ইচ্ছা অনুযায়ী মুদ্রণকার্য সম্পাদিত হয়েছে। এই ছাপাখানার শ্রেষ্ঠত্ব সকল দিক ও জনপদে বিস্তৃত, এর খ্যাতি ও সৌন্দর্য সুপরিচিত, এবং এর উপকারিতা দিবা-রাত্রির ন্যায় সর্বত্র প্রবহমান। আর এটি হয়েছে তার প্রবল আগ্রহের কারণে—আল্লাহ তার শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করুন—এবং তার যুগের একটি গ্রন্থ রচনার প্রতি তার প্রবল আকাঙ্ক্ষা হেতু, যা মিশরের নতুন মানচিত্রগুলো বর্ণনা করবে, এর অবস্থা ব্যাখ্যা করবে, এর অধিবাসীদের ইতিহাস বর্ণনা করবে এবং এর পাওনা ও দায়সমূহ স্পষ্ট করবে। আর তার পবিত্র আত্মা এবং তার প্রশংসিত ও নির্মল স্বভাবের কারণেই তিনি কল্যাণকর প্রচেষ্টার প্রতি অনুরাগী এবং পুণ্যকর্মের প্রতি অগ্রগামী।

কেননা তিনি—আল্লাহ তার জীবন দীর্ঘ করুন—আনুগত্যের প্রতি ভালোবাসা, কল্যাণকর কাজ, বিনয় এবং আল্লাহর বান্দাদের প্রতি মমত্ববোধ ও অসহায়-দরিদ্রদের প্রতি দয়ার ওপর সৃষ্টিগতভাবেই অধিষ্ঠিত। তিনি প্রায়শই মিশর ও আলেকজান্দ্রিয়ার হাসপাতালগুলোতে যেতেন এবং নিজ হাতে রোগীদের সাথে করমর্দন করতেন, তাদের ধৈর্য ধরার সান্ত্বনা দিতেন এবং তাদের সুস্থতার জন্য দোয়া করতেন। তিনি আল্লাহর অনুগ্রহে তাদের আরোগ্যের প্রতিশ্রুতি দিতেন এবং ডাক্তারদের নির্দেশ দিতেন রোগীদের প্রতি নম্রতা ও মমতা প্রদর্শনের জন্য। তিনি তাদের চিকিৎসায় নিয়মিত হতে এবং রোগ নির্ণয়ে সত্যনিষ্ঠ হতে উৎসাহিত করতেন, আর যাকে চিকিৎসার জন্য ডাকা হয় তার ক্ষেত্রে—চাই সে বড় হোক বা ছোট, মহান হোক বা তুচ্ছ—অহংকার না করার ও দেরি না করার তাকিদ দিতেন।

তিনি মসজিদের প্রতি গভীর অনুরাগী, সেখানে নামাজ আদায় করতে এবং স্বীয় ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মসজিদ আবাদ করতে আগ্রহী, বিশেষ করে আহলে বাইতের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মসজিদসমূহ। কেননা তিনি—আল্লাহ তাকে শক্তিশালী করুন—আমাদের সর্দার ইমাম শাফিঈর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মসজিদ নির্মাণের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যার সম্মানজনক নির্দেশ তিনি ১৩০৩ হিজরি সনে দিয়েছিলেন। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিনে তিনি স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন, যা ছিল এক মহান ও স্মরণীয় দিন। এই পবিত্র মসজিদের প্রতি বিশেষ যত্ন এবং ইমাম শাফিঈর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) প্রতি ভালোবাসার টানে তিনি স্বয়ং নিজের সম্মানিত হাতে এর ভিত্তির প্রথম ইটটি স্থাপন করেছিলেন। একইভাবে আমাদের নেত্রী সায়্যিদা জয়নাব—যিনি আমাদের সর্দার ইমাম আলীর (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে মর্যাদাবান করুন) কন্যা—তাঁর মসজিদের ক্ষেত্রেও একই রূপ ঘটেছিল, যা কানাতীরুস সিবা-তে অবস্থিত। এটি মহিমান্বিত খেদিভ তৌফিক-এর যুগে সংস্কার করা হয়েছিল, আল্লাহ তাঁর দিনগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী করুন।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমাদের প্রিয় শাসক—আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন—প্রকৃতপক্ষেই এই জামানার লোকদের সর্দার এবং নিশ্চিত ও সত্যভাবেই এই সময়ের পরম আনন্দ। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর প্রজাদের ওপর তাঁর রাজত্ব স্থায়ী করেন এবং তাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ ও দান অব্যাহত রাখেন। আল্লাহ যেন তাঁর মাধ্যমে এবং তাঁর জন্য সকল অবস্থার সংশোধন করেন এবং ইহকাল ও পরকালে এর দ্বারা কল্যাণ বৃদ্ধি করেন; আমাদের নেতা ও অভিভাবক দয়ালু ও করুণাময় মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উসিলায়, যার ওপর এবং যার পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌مقمة الطبعة المنقحة

يعد كتاب الخطط التوفيقية دائرة معارف مصرية شاملة، من العصر الفاطمى إلى عصر توفيق. وقد حظى كتاب الخطط التوفيقية، لعلى باشا مبارك، باهتمام كبير من الباحثين، حيث أنه المكمل والموضح لكثير من الأماكن والمعالم التى تغيرت أو اختفت بعد المقريزى، والتى شملها كتابه: «المواعظ والاعتبار بذكر الخطط الآثار»، مما يصعب معه التحقق مما ورد فيه.

فكان قدم العهد بخطط المقريزى وتغير الأمان هو الدافع لعلى باشا مبارك لكتابة هذا الكتاب، والذى تتبع فيه أثر من سبقه من المؤرخين فى الخطط مثل: ابن الحكم، وابن زولاق الليثى المصرى، والمسبحى، وابن دقماق القاهرى، والمقريزى.

وقد ذكر على باشا مبارك فى مقدمته لهذا الكتاب الدافع والأسباب لوضع كتابه، ومنهجه فى تبع أماكن القاهرة فى خطتها القديمة وأسمائها وشهرتها، ثم ذكر ما تحولت إليه فى وقته، مع ذكر أول من أنشأها ومن تملكها.

وقد قسم على باشا مبارك كتابه إلى عشرين جزءا، تشمل تاريخ القاهرة ومصر منذ العصر الفاطمى حتى عصر توفيق، مع مقارنة أوضاعها القديمة بالأوضاع المعاصرة له.

طبع الكتاب أو مرة بمطبعة بولاق سنة 1306 هـ، تشمل تاريخ القاهرة ومصر منذ العصر الفاطمى حتى عصر توفيق، مع مقارنة أوضاعها القديمة بالأوضاع المعاصرة له.

طبع الكتاب أو مرة بمطبعة بولاق سنة 1306 هـ، ثم طبعت الهيئة المصرية العامة للكتاب الأجزاء من 1 - 11 طبعتين مصورتين عن طبعة بولاق، وقام المركز مؤخرا بطبع الأجزاء من 12 - 20 (صدر الجزء 17، وجار طبع باقى الأجزاء) طبعة جديدة منقحة عن طبعة بولاق.

والمركز الآن بصدد إعادة الأجزاء من 1 - 11، طبعة منقحة ومصورة عن الطبعات السابقة عن طبعة بولاق، لما فى هذه الطبعات من الأخطاء اللغوية الكثيرة والأخطاء فى أسماء الشخصيات، ووجو بعض السقط فيها، ولنفادها من الأسواق.

وقد تمت المراجعة اللغوية والتاريخية لهذه الطبعة بمركز تحقيق التراث.

ونرجو أن تعود هذه الطبعة بالفائدة على الباحثين والدارسين في هذا المجال، ونسألا لله التوفيق لبلوغ القصد

 

إبريل 2004 م

مدير عام مركز تحقيق التراث نجوى مصطفى كامل
পরিমার্জিত সংস্করণের ভূমিকা

'আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়া' গ্রন্থটি ফাতেমীয় যুগ থেকে শুরু করে তাওফিক পাশার শাসনামল পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ মিশরীয় বিশ্বকোষ হিসেবে গণ্য হয়। আলী পাশা মোবারকের 'আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়া' গ্রন্থটি গবেষকদের কাছে ব্যাপক গুরুত্ব লাভ করেছে। কেননা এটি আল-মাকরিজীর পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত বা বিলুপ্ত হওয়া অনেক স্থান ও নিদর্শনের পরিপূরক ও ব্যাখ্যাকারী হিসেবে কাজ করে, যা আল-মাকরিজীর গ্রন্থ 'আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি যিকরিল খিতাত ওয়াল আসার'-এ বর্ণিত হয়েছে এবং বর্তমানে যার সত্যতা যাচাই করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।

আল-মাকরিজীর 'খিতাত'-এর প্রাচীনত্ব এবং স্থানসমূহের পরিবর্তনই ছিল আলী পাশা মোবারকের এই গ্রন্থটি রচনার মূল প্রেরণা। এতে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী ইতিহাসবিদদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, যেমন: ইবনে হাকাম, ইবনে জুলাইক আল-লাইসি আল-মিসরি, আল-মুসাব্বিহি, ইবনে দুকমাক আল-কাহিরি এবং আল-মাকরিজী।

আলী পাশা মোবারক এই গ্রন্থের ভূমিকায় এটি সংকলনের উদ্দেশ্য ও কারণসমূহ এবং কায়রোর প্রাচীন মানচিত্র অনুযায়ী স্থানসমূহ, সেগুলোর নাম ও প্রসিদ্ধি অনুসরণের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি তাঁর সমসাময়িক সময়ে এই স্থানগুলোর রূপান্তর এবং এর আদি নির্মাতা ও মালিকদের পরিচয় উল্লেখ করেছেন।

আলী পাশা মোবারক তাঁর গ্রন্থটিকে বিশটি খণ্ডে বিভক্ত করেছেন, যা ফাতেমীয় যুগ থেকে তাওফিক পাশার যুগ পর্যন্ত কায়রো ও মিশরের ইতিহাসকে ধারণ করে এবং তৎকালীন প্রাচীন অবস্থার সাথে তাঁর সমসাময়িক অবস্থার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে।

গ্রন্থটি প্রথমবার ১৩০৬ হিজরিতে বুলাক প্রেসে মুদ্রিত হয়, যাতে ফাতেমীয় যুগ থেকে তাওফিক পাশার যুগ পর্যন্ত কায়রো ও মিশরের ইতিহাস এবং প্রাচীন অবস্থার সাথে তাঁর সমসাময়িক অবস্থার তুলনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গ্রন্থটি প্রথমবার ১৩০৬ হিজরিতে বুলাক প্রেসে মুদ্রিত হয়; অতঃপর 'মিশরীয় জেনারেল বুক অথরিটি' ১ থেকে ১১ খণ্ড পর্যন্ত বুলাক সংস্করণের আদলে দুইবার মুদ্রণ করে। সম্প্রতি কেন্দ্র ১২ থেকে ২০ খণ্ড পর্যন্ত (১৭তম খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে এবং বাকি খণ্ডগুলো মুদ্রণাধীন) বুলাক সংস্করণের ভিত্তিতে নতুন ও পরিমার্জিত সংস্করণে মুদ্রণ করেছে।

পূর্ববর্তী মুদ্রণগুলোতে ভাষাগত অনেক ত্রুটি ও ব্যক্তিনামের ভুল থাকা, কিছু অংশ বাদ পড়া এবং বাজারে এর প্রাপ্যতা শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে কেন্দ্র এখন ১ থেকে ১১ খণ্ড পর্যন্ত বুলাক সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে একটি পরিমার্জিত ও সচিত্র সংস্করণ পুনরায় প্রকাশের কাজ করছে।

ঐতিহ্য অনুসন্ধান কেন্দ্রে এই সংস্করণের ভাষাগত ও ঐতিহাসিক পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে।

আমরা আশা করি যে, এই সংস্করণটি গবেষক ও এ বিষয়ের শিক্ষার্থীদের উপকারে আসবে। আমরা আল্লাহর কাছে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর তাওফিক কামনা করি।

 

এপ্রিল ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ

ঐতিহ্য অনুসন্ধান কেন্দ্রের মহাপরিচালক নাজওয়া মুস্তাফা কামিল
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الجزء الأوّل من الخطط التوفيقية الجديدة لمصر والقاهرة ومدنها وبلادها القديمة والشهيرة

 

تأليف

الجناب الأمجد والملاذ الأسعد سعادة على باشا مبارك رحمه الله

 

طبعة منقحة

[ومصورة عن الطبعات السابقة]

[عن طبعة بولاق]

[1425 هـ - 2004 م]
মিসর, কায়রো এবং এর প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ শহর ও জনপদসমূহের নতুন আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়ার প্রথম খণ্ড

 

রচনা

মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব ও পরম আশ্রয়স্থল মহামান্য আলী পাশা মুবারক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)

 

পরিমার্জিত সংস্করণ

[এবং পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর চিত্রিত অনুলিপি]

[বুলাক সংস্করণ হতে]

[১৪২৫ হিজরী - ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ]
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد، فلما كانت مدينة القاهرة المعزية، التى هى دار الحكومة الخديوية، قد كثر ذكرها فى كتب الخطط والتواريخ والسير، ووصف ما كان بها من المبانى والبساتين، وهى الآن غيرها فى تلك الأزمان، لتغيرها عما كانت عليه زمن الفاطميين الذين اختطوها بتغير الدول وتقلب الأزمنة، وكانت تارة يؤثر فيها الزيادة وتارة النقصان، فترى أحيانا زاهرة زاهية، وطورا واهنة واهية.

ولم نر منا معشر أبنائها من يهدينا إلى تلك التقلبات، ويفقهنا أسباب هاتيك الانتقالات، ويدلنا على ما فيها من الآثار، فنجوس خلالها ولا نعرف أحوالها، ونجوب أقطاعها ولا ندرى من وضعها.

وقد خطّها العلامة المقريزى لوقته، وأطال القول فيما فيها من المبانى والمزارع، وتكلم على الحوادث والرجال، ولكن بعده كم من أمور مرت فدمرت، وغير جرت فغيّرت، حتى ذهب أكثر ما أسهب فى شرحه كليا، وزال حتى صار نسيا منسيا. وكم من آثار خيرية صار نفعها مندثرا مهجورا، ومصانع وصنائع قد دثرت كأن لم تكن شيئا مذكورا.

وكم من تلال كانت عمارات شاهقة، ووهاد كانت بساتين معجبة فائقة، وقبور مزوية فى جوانب الحارات، ومشاهد متباعدة فى الفلوات، أطلق عليها العامة أسماء كاذبة كقولهم هذا ضريح الأربعين مثلا. وكم من مساجد نسبوها لغير من بناها، ومعابد أسندوها لمن لم يكن رآها، والحقيقة أنها قبور ملوك عظام، أو معابد سادات كرام، أو مساجد أمراء فخام.

مع أن معرفة ذلك حق علينا، إذ لا يليق بنا جهل بلادنا، والتهاون بمعرفة آثار أسلافنا، التى هى عبرة للمعتبر وذكرى للمدّكر، فهم - وإن مضوا لسبيلهم - قد تركوا لنا ما بحثنا على اقتفاء آثارهم، وأن نصنع لوقتنا ما صنعوه لوقتهم، وأن نجدّ فى طرق الإفادة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর উপর।

অতঃপর, যেহেতু আল-মুইয্যি কায়রো শহরটি—যা খেদাইভীয় সরকারের কেন্দ্র—ইতিহাস, মানচিত্র এবং জীবনী বিষয়ক গ্রন্থসমূহে প্রচুরভাবে আলোচিত হয়েছে এবং সেখানকার অট্টালিকা ও উদ্যানসমূহের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে; অথচ ফাতিমীয় যুগে যারা এর গোড়াপত্তন করেছিল, তাদের সময়ের তুলনায় বর্তমানের কায়রো সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাম্রাজ্যের পরিবর্তন এবং কালের আবর্তনে এতে কখনো পরিবর্ধন ঘটেছে, কখনো বা হয়েছে সংকোচন। ফলে একে কখনো সমৃদ্ধ ও প্রোজ্জ্বল দেখা গেছে, আবার কখনো বা জীর্ণ ও দুর্বল।

অথচ আমাদের এই প্রজন্মের সন্তানদের মধ্যে এমন কাউকে দেখলাম না যে আমাদের এই পরিবর্তনের পথ দেখাবে, এই রূপান্তরের কারণসমূহ আমাদের অনুধাবন করাবে এবং এখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের দিশা দেবে। ফলে আমরা এর অলিতে-গলিতে বিচরণ করি ঠিকই কিন্তু এর অবস্থা সম্পর্কে জানি না, এর বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে বেড়াই অথচ এর স্থপতি সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই।

আল্লামা মাকরিযী তাঁর সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এর বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন এবং এখানকার দালানকোঠা ও কৃষিজমি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন; তিনি আলোকপাত করেছেন বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা ও ব্যক্তিবর্গের ওপর। কিন্তু তাঁর পরবর্তীকালে অনেক বিষয় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এমন অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে যা পূর্বাবস্থাকে বদলে দিয়েছে। এমনকি তিনি যা বিস্তারিত বর্ণনা করেছিলেন তার অধিকাংশ আজ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং এমনভাবে মুছে গেছে যে তা বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছে। কত জনকল্যাণমূলক প্রাচীন নিদর্শনের উপযোগিতা আজ বিলীন ও পরিত্যক্ত হয়েছে, আর কত শিল্প ও কারখানা এমনভাবে ধ্বংস হয়েছে যেন তার কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

কত টিলা আজ সেখানে যেখানে আগে সুউচ্চ অট্টালিকা ছিল, কত নিচু ভূমি আজ সেখানে যেখানে একসময় চমৎকার ও নয়নাভিরাম বাগান ছিল। গলির কোণে পড়ে থাকা কত কবর আর প্রান্তরে ছড়িয়ে থাকা কত সমাধি রয়েছে যাদের সাধারণ মানুষ ভুল নামে অভিহিত করে; যেমন তারা বলে এটি 'আরবাঈন'-এর মাজার। কত মসজিদকে তারা এমন লোকের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে যারা তা নির্মাণ করেনি, এবং কত ইবাদতখানাকে এমন ব্যক্তির দিকে নিসবত করে যে তা কখনো দেখেইনি। অথচ বাস্তবতা হলো—সেগুলো ছিল মহান রাজন্যবর্গের কবর, কিংবা সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের ইবাদতখানা, অথবা মর্যদাবান আমিরদের নির্মিত মসজিদ।

অথচ এসব বিষয় জানা আমাদের জন্য আবশ্যক; কারণ নিজ দেশ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা এবং পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া নিদর্শনাবলি সম্পর্কে উদাসীন থাকা আমাদের জন্য মোটেও শোভনীয় নয়। এই নিদর্শনগুলো শিক্ষাগ্রহণকারীদের জন্য উপদেশ এবং স্মরণকারীদের জন্য স্মারক। তারা—যদিও পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন—আমাদের জন্য এমন সব কীর্তি রেখে গেছেন যা আমাদের তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করে; যেন আমরা আমাদের সময়ের জন্য তা-ই করি যা তারা তাদের সময়ের জন্য করেছিলেন এবং আমরা যেন জগতের কল্যাণে সচেষ্ট হই।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
كما جدّوا، دعتنى نفسى لتأليف كتاب واف بما لمصر من قديم وحديث، متضمن لذكر مبانيها الداثرة والموجودة، وما يتبع ذلك من أخبار أربابها، وذكر نيلها ومنافعه، وكيفية تصرفاته ومواضعه.

لكنى رأيت هذا المشروع صعب المسلك، لما يحتاج إليه من مراجعة كتب كثيرة فى هذا الشأن، ومناظرة رسوم القديم والجديد من تلك الأزمان، وربما تعسر الوجود، أو تعذر المقصود، كما أنه محتاج لخلو بال وصلاح زمان، وأنّى لى بذلك مع كثرة أشغالى، وتحملى أعباء الوظائف المهمة فى أزمان الحوادث التى أخلت بالراحة العمومية والخصوصية مما يكدر الفكر ويحير العقل؟

فأخذت أحمل جهابذة العلوم، ومن لهم القدرة على ذلك، وأحثهم على وضع كتاب يفك لنا عقدة تلك الصعوبات، ويفض ختام ما أودع فى كتب الخطط من أخبار المتقدمين، وآثار القرون السالفين، وأهل العصر الذى نحن فيه، وأبين ما لهذا المشروع الجليل من الفائدة فى الدنيا والثواب فى العقبى، حتى كلّ فؤادى، وكأن لا حياة لمن أنادى.

فلما لم يلتفت لهذا الأمر إنسان، بل ربما عدّه بعض الجهلة ضربا من الهذيان، قمت مشمرا عن ساعد الجد والاجتهاد، معتمدا على من بيده الهداية إلى سبيل الرشاد، منتهزا لكل فرصة سنحت، مداوما على استنباط الغرائب وترتيب المقاصد، جامعا من كتب العجم والعرب ما يفضى بمتأمله إلى العجب، مراجعا كتب العرب والإفرنج الذين ساحوا تلك الديار، ورسومهم التى بينوا فيها حدود هذه الأقطار، وكذا حجج الأوقاف والأملاك، وما وجد مسطورا على الأحجار والجدران، ملخصا من ذلك ما يحتاج إليه ولا يحسن جهله بحسب الإمكان، إذ ما لا يدرك كله لا يترك كله، ولم أزل على ذلك مدة من الزمن، حارما للعين فى كثير من الأوقات لذيذ الوسن، حتى جاء بحمد الله مجموعا يسر الناظر، ويشرح الخاطر، وهو وإن كان بالنسبة لما قصدت ليس على ما أردت، لكن اخترت أن يكون ذلك مقدمة لمن يوافيه، فينتفع بما فيه.

 

‌‌[منهج الكتاب]

ورأيت أن العلاّمة المقريزى لم يقتصر فى خططه على مدينة القاهرة المعزية، بل تكلم على كثير من بلدان الديار المصرية، بعضها اندثر ولم يبق له أثر، وبعضها صار إلى خالة فائقة لا مناسبة بينها وبين الحالة السابقة، ونصّ على أسماء رجال لم يترجمها، وبلدان وقرى لم يذكر موضعها، وذلك مما ينبغى بيانه خصوصا أن أكثر الآثار القديمة؛ كالأهرام والبرانى وغيرها
যেমন তারা সচেষ্ট হয়েছেন, তেমনি আমার মন আমাকে মিশরের প্রাচীন ও আধুনিক বিষয়াবলী নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনার প্রেরণা দিয়েছে, যাতে এর বিলুপ্ত ও বিদ্যমান স্থাপনাসমূহ, সেগুলোর মালিকদের সংবাদ, নীল নদ ও এর উপকারিতা এবং এর গতিপথ ও অবস্থানের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

কিন্তু আমি এই প্রকল্পটিকে একটি কঠিন পথ হিসেবে গণ্য করেছি, কারণ এর জন্য এই বিষয়ে বহু গ্রন্থ পর্যালোচনা এবং সেই সময়কার প্রাচীন ও আধুনিক মানচিত্র ও নকশাগুলোর তুলনা করা প্রয়োজন; যা খুঁজে পাওয়া হয়তো কঠিন হতে পারে অথবা উদ্দেশ্য পূরণ অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। তদুপরি এর জন্য প্রয়োজন চিন্তামুক্ত মন এবং অনুকূল সময়। কিন্তু আমার প্রচুর ব্যস্ততা এবং সেই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বসমূহের বোঝা বহন করার মাঝে তা কীভাবে সম্ভব হবে, যখন বিভিন্ন ঘটনাবলী জনজীবন ও ব্যক্তিগত প্রশান্তি নষ্ট করে দিচ্ছিল, যা চিন্তাকে কলুষিত এবং বুদ্ধিকে বিভ্রান্ত করে দেয়?

তাই আমি জ্ঞানের দিকপাল ও দক্ষ ব্যক্তিদের উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করলাম এবং তাদের এমন একটি গ্রন্থ রচনায় উৎসাহিত করলাম যা আমাদের জন্য এই জটিলতার গ্রন্থিগুলো উন্মোচন করবে এবং 'খিতাত' (ইতিহাস ও ভূগোল) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে গচ্ছিত পূর্ববর্তীদের সংবাদ, গত হওয়া শতাব্দীসমূহের নিদর্শন এবং আমাদের সমসাময়িক যুগের মানুষের অবস্থা প্রকাশ করবে। আমি এই মহান প্রকল্পের দুনিয়াবী উপকারিতা ও পরকালীন সওয়াবের কথা বর্ণনা করেছি, এমনকি শেষ পর্যন্ত আমার হৃদয় ক্লান্ত হয়ে পড়ল—যেন আমি যাদের ডাকছি তাদের মাঝে প্রাণের অস্তিত্ব নেই।

যখন কেউ এই বিষয়ে কর্ণপাত করল না, বরং কোনো কোনো মূর্খ একে এক প্রকার প্রলাপ বলে গণ্য করল, তখন আমি সত্যপথের দিশারী মহান সত্তার ওপর ভরসা করে কঠোর পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় কোমর বেঁধে নেমে পড়লাম। প্রতিটি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে, দুর্লভ বিষয়সমূহ আহরণ ও লক্ষ্যসমূহ বিন্যাসে অবিচল থাকলাম। আমি অনারব ও আরবদের কিতাবসমূহ থেকে এমন সব তথ্য সংগ্রহ করলাম যা চিন্তাশীল ব্যক্তিকে বিস্ময়াভিভূত করবে। আমি সেই সব আরব ও ইউরোপীয় পর্যটকদের কিতাব ও নকশাসমূহ পর্যালোচনা করেছি যারা এই ভূখণ্ড ভ্রমণ করেছেন এবং এ অঞ্চলের সীমানা বর্ণনা করেছেন। একইভাবে আমি ওয়াকফ ও মালিকানার দলিলসমূহ এবং পাথর ও দেয়ালে খোদাই করা লিপিগুলো পর্যালোচনা করেছি। সেখান থেকে যতটুকু সম্ভব প্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য বিষয়গুলোর সারসংক্ষেপ তৈরি করেছি; কারণ যা পুরোপুরি হাসিল করা যায় না, তা পুরোপুরি বর্জন করা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় ধরে আমি এই কাজে নিমগ্ন ছিলাম এবং অনেক সময় দু'চোখকে মিষ্টি ঘুম থেকে বঞ্চিত করেছি। অবশেষে আল্লাহর প্রশংসায় এটি একটি সংকলনে রূপ নিল যা পাঠকারীকে আনন্দিত করবে এবং অন্তরকে প্রফুল্ল করবে। যদিও আমার মূল লক্ষ্যের তুলনায় এটি ঠিক তেমন হয়নি যেমনটি আমি চেয়েছিলাম, তবুও আমি একে পরবর্তী পাঠকদের জন্য একটি ভূমিকা হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন মনে করেছি, যাতে তারা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে।

 

‌‌[গ্রন্থের পদ্ধতি]

আমি লক্ষ্য করেছি যে, আল্লামা মাকরিজী তাঁর 'খিতাত' গ্রন্থে কেবল কায়রো (আল-মুইজিয়্যাহ) শহরের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি মিশরীয় জনপদের অনেক শহর নিয়ে আলোচনা করেছেন; যার কিছু বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই, আর কিছু এমন চরম অবস্থায় উপনীত হয়েছে যার সাথে পূর্বাবস্থার কোনো মিল নেই। তিনি এমন কিছু ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করেছেন যাদের জীবনী বর্ণনা করেননি এবং এমন কিছু শহর ও গ্রামের কথা বলেছেন যেগুলোর অবস্থান উল্লেখ করেননি। এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করা প্রয়োজন, বিশেষ করে প্রাচীন নিদর্শনসমূহ যেমন পিরামিড, প্রাচীন স্থাপনা এবং অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
مما بقى من أعمال الأمم الماضية والقرون الخالية، لم يكن الغرض من ذكرها إلا كونها من عجائب الدنيا.

ومعلوم أن الكتابة الطيرية المعروفة بالهيروجليفية، لم تنكشف حقيقتها إلا فى هذا القرن، فقد وقف الإفرنج على حقائقها من الكتابات الباقية على جدران الآثار المصرية والمبانى الفرعونية، وأخذوا مجدّين اليوم فى توسيع دائرة علمها، فالتزمت أن أطالع ما كتب بخصوص تلك الآثار، وألخص ما فيه الفائدة، من غير إطالة ولا إكثار.

ووضعت فى كل بلدة من البلدان المذكورة فى هذا الكتاب تراجم من أحاط به الاطلاع ممن نشأ منها، أو استوطنها، أو أقام بها، أو دفن فيها، أو له مناسبة بها من أعلام العلماء والأمراء، ومشاهير الرجال، مع بيان ما لهم من الآثار والأخبار والمصنفات والمرويات بحسب الاستطاعة.

وأتيت على ذكر ما عثرت عليه، أو نقل إلىّ علمه مما اختص بالبلدة، أو برعت فيه، أو عرفت به من صناعة أو غيرها، مضافا إلى ما بها من الآثار العتيقة والمبانى الشهيرة.

وابتدأت الكتاب بهذا المجلد، فجعلته مقدمة له، لخصت فيه الكلام على محل القاهرة قبل قدوم جوهر القائد، وعلى ما حصل لها من الأحوال والتغييرات بتقلب الأزمان وتداول الدول من عهد الدولة الفاطمية، وعلى بقية ملوك القاهرة إلى الآن على الإجمال.

وجعلت للبلدان والقرى مجلدات مخصوصة على ترتيب حروف المعجم تسهيلا على الطالب، ثم شرحت مقياس النيل السعيد فى مجلد وحيد، وبسطت الكلام عليه، وأضفت المتجددات إليه، وأتيت فيه بالحوادث والكائنات من أول الزمان متتابعة، يتلو بعضها بعضا إلى وقتنا هذا، وقصدت أتم الروايات فنقلتها عمن يعلم صدقهم فيما نقلوه وصحة ما دونوه، وإنه بذلك لجدير، كيف لا وهو الإشارة الناطقة، والدلالة الواضحة على نمو الزراعة فى كل سنة؟ وبحثت على درجات ارتفاعه وانخفاضه من الكتب العربية والإفرنجية، ووضعت لذلك جدولا لطيفا شاملا لارتفاعه وحوادثه، وما صار بسببه إلى بلادنا. وطبعته مع الكتاب لوقوف أهل ديارنا على حقيقة نيلهم الذى هو منبع سعادتهم إن اعتنوه، ومورد شقاوتهم إن أهملوه.

وأفردت الترع والخلجان بمجلد بينت فيه أحوالها، وما كانت عليه قبل الآن، أو هى عليه الآن.

وجعلت أيضا لمدينة الإسكندرية جزءا مشتملا بوجه وجيز على بعض حوادثها، وما كانت عليه فى الأزمان المتقدمة.
অতীত জাতিসমূহ এবং বিগত শতাব্দীসমূহের কার্যাবলির মধ্যে যা অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলো উল্লেখ করার উদ্দেশ্য কেবল এই যে, সেগুলো পৃথিবীর আশ্চর্যের অন্তর্ভুক্ত।

আর এটি সুবিদিত যে, হায়ারোগ্লিফিক্স নামে পরিচিত পক্ষীসদৃশ লিপিটির প্রকৃত রহস্য কেবল এই শতাব্দীতেই উন্মোচিত হয়েছে। মিশরীয় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং ফেরাউনি ইমারতসমূহের দেয়ালে অবশিষ্ট লিপিগুলো থেকে ইউরোপীয়রা এর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অবগত হয়েছে। বর্তমানে তারা এর জ্ঞানের পরিধি বিস্তারে সচেষ্ট রয়েছে। ফলে আমি সেই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে যা কিছু লেখা হয়েছে তা অধ্যয়ন করা এবং দীর্ঘসূত্রিতা ও অহেতুক আধিক্য পরিহার করে উপকারী বিষয়গুলোর সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা আবশ্যক মনে করেছি।

আর এই গ্রন্থে উল্লিখিত প্রতিটি জনপদের ক্ষেত্রে আমি সেই সমস্ত প্রখ্যাত আলেম, আমির ও প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের জীবন-চরিত অন্তর্ভুক্ত করেছি, যাদের সম্পর্কে আমার কাছে তথ্য পৌঁছেছে; যারা সেখানে জন্মগ্রহণ করেছেন, কিংবা সেখানে বসতি স্থাপন করেছেন, অবস্থান করেছেন, সেখানে সমাহিত হয়েছেন অথবা যে কোনভাবে সেই স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। সেই সাথে সাধ্যানুযায়ী তাদের রেখে যাওয়া কীর্তি, সংবাদ, রচনা ও বর্ণনাগুলোর বিবরণও প্রদান করেছি।

সেই শহরের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত বিষয়াদি, কিংবা শহরটি যে শিল্প বা অন্য কোন ক্ষেত্রে বিশেষ পারদর্শী ছিল অথবা যে জন্য তা পরিচিত ছিল, সে সম্পর্কে আমি যা পেয়েছি অথবা যা আমার গোচরীভূত হয়েছে তা উল্লেখ করেছি। এর পাশাপাশি সেখানে বিদ্যমান প্রাচীন নিদর্শন ও প্রসিদ্ধ ইমারতসমূহের বিবরণও যোগ করেছি।

আমি এই খণ্ডটির মাধ্যমে গ্রন্থটি আরম্ভ করেছি এবং একে এর ভূমিকা হিসেবে নির্ধারণ করেছি। এতে আমি সেনাপতি জওহরের আগমনের পূর্বে কায়রোর অবস্থান এবং ফাতেমি খেলাফতের সময়কাল থেকে শুরু করে কালের বিবর্তন ও রাষ্ট্রসমূহের পালাবদলে এর অবস্থা ও পরিবর্তনের সারসংক্ষেপ বর্ণনা করেছি। এছাড়া বর্তমান সময় পর্যন্ত কায়রোর অন্যান্য শাসকদের বিবরণও সংক্ষেপে তুলে ধরেছি।

জ্ঞানান্বেষীদের সুবিধার্থে আমি জনপদ ও গ্রামগুলোর জন্য বর্ণানুক্রমিকভাবে বিশেষ খণ্ডসমূহ বরাদ্দ করেছি। এরপর একটি স্বতন্ত্র খণ্ডে বরকতময় নীল নদের পরিমাপক সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করেছি। এতে আমি নতুন সংযোজনগুলো যুক্ত করেছি এবং শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সংঘটিত ঘটনাবলি ও বিষয়াদি উল্লেখ করেছি। আমি পূর্ণাঙ্গ বর্ণনাগুলো প্রদানের সংকল্প করেছি, তাই আমি এমন ব্যক্তিদের থেকে উদ্ধৃতি নিয়েছি যাদের বর্ণিত বিষয়ের সত্যতা ও নথিবদ্ধ তথ্যের নির্ভুলতা সুপ্রমাণিত। আর এটি এর উপযুক্তও বটে; কারণ এটি তো প্রতি বছরের কৃষি উন্নয়নের এক মুখর নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণ। আমি আরবি ও ইউরোপীয় গ্রন্থসমূহ থেকে এর জলস্তরের হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ে গবেষণা করেছি এবং এর উচ্চতা, আনুষঙ্গিক ঘটনাবলি ও আমাদের দেশে এর প্রভাব সম্পর্কে একটি চমৎকার ও ব্যাপক তালিকা তৈরি করেছি। এটি আমি মূল গ্রন্থের সাথেই মুদ্রণ করেছি, যাতে আমাদের দেশবাসী তাদের নীল নদের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারে; যা তাদের যত্নের ওপর নির্ভর করে তাদের সুখের উৎস এবং অবহেলার কারণে দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আমি খাল এবং নদীশাখাগুলোর জন্য একটি পৃথক খণ্ড নির্ধারণ করেছি, যাতে সেগুলোর অবস্থা এবং আগে সেগুলো কেমন ছিল ও বর্তমানে কী অবস্থায় আছে তা বর্ণনা করেছি।

এছাড়া আলেকজান্দ্রিয়া শহরের জন্য আমি একটি অংশ বরাদ্দ করেছি, যেখানে অতি সংক্ষেপে এর কিছু ঘটনাবলি এবং প্রাচীনকালে এর অবস্থা কেমন ছিল তা উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ولم أتكلم على الفسطاط لاندثارها وخرابها، ومن أراد الوقوف على ما كان بها فليراجع خطط المقريزى، فقد أتى فيها بما يشفى ويكفى.

ولما كانت مدينة القاهرة هى الغرض الأصلى المقصود بالذات من هذا الموضوع، لأنها أم البلاد المصرية، وتخت الحكومة الخديوية، ومنبع العلم والصنعة والتجارة، جعلت مبانيها الشهيرة - كالمساجد والمدارس ونحوها - مرتبة على ترتيب حروف الهجاء فى مجلدات على حدتها، حتى أن من أراد الاطلاع على مسجد أو مدرسة مثلا، يسهل له الوقوف على ما أراد بعد معرفة اسمه. ولم أقتصر فى ذلك على شرح الحالة الراهنة، بل أخذت ما وجدته فى الخطط وغيرها من صفة الحال السالفة، رغبة فى جمع ما تشتت من أحوالها، لوقوف الطالب على جميع صفاتها قديما وحديثا.

ووضعت أيضا لشوارعها مجلدين على ترتيب الحروف، وتكلمت على ملحقات كل شارع من دروب وحارات وعطف وأزقة، مع ما فيها من المساجد والمدارس والأضرحة والأسبلة والحمامات والوكائل ونحو ذلك، سابقا ولاحقا، حتى صار هذان المجلدان عبارة عن خطط القاهرة فى زماننا هذا، فجاء ما فيهما كافيا وافيا فى الدلالة على هذه المدينة ومشتملاتها.

ولتتم الفائدة من هذا الكتاب أفردت مجلدا قررت فيه القول على أصناف النقدية التى كان جاريا بها التعامل فى مصرنا بكل عصر من الأزمان الخالية، وشرحت تاريخها، وأصل وضعها، وأسباب حدوثها، ومن أحدثها وقوّمها، حتى صار فى إمكان الطالب أن يقارن بين أسعار الأشياء فى الأوقات المتفاوتة، فإنه متى قيل كان صنف كذا يباع بكذا من الدنانير مثلا، وحصلت مقارنة بين هذه القيمة لهذا الصنف فى سنة كذا وبين قيمته الآن بمعاملتنا، يعلم أن هذا الصنف كان أعلى قيمة مما هو عليه الآن أو أقل فى كل زمن وقع فيه الاعتبار.

فكمل كتابنا هذا بحمد الله فى عشرين مجلدا لطيفا على أسلوب رقيق، ووضع أنيق، يسرّ سامعه، ويروق مطالعه. والله الكريم أسأل من فضله وكرمه أن يجعله خالصا لوجهه الكريم، وأن ينفع به كل طالب بقلب سليم، وأن يوفق من اطلع. عليه إلى إصلاح ما عسى أن يكون فيه من الخطأ والنسيان، ويزيد عليه ما عجزت عن الإتيان به، وأن يكافئنا وإياه بما كافأ به عباده الصالحين، الذين قصروا أعمالهم مدة حياتهم على طلب مرضاته. إنه جواد كريم، رؤوف رحيم.
আমি ফুসতাত নিয়ে আলোচনা করিনি কারণ তা বিলুপ্ত ও ধ্বংস হয়ে গেছে। যে ব্যক্তি সেখানে যা ছিল সে সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, সে যেন মাকরিযীর 'খিতাত' পর্যালোচনা করে; কেননা তিনি তাতে পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক বর্ণনা দিয়েছেন।

কায়রো শহরই যেহেতু এই বিষয়ের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল, কারণ এটি মিশরীয় জনপদসমূহের জননী, খেদিভীয় সরকারের রাজধানী এবং জ্ঞান, শিল্প ও বাণিজ্যের উৎস; তাই আমি এর বিখ্যাত অট্টালিকাগুলো—যেমন মসজিদ, মাদ্রাসা এবং অনুরূপ বিষয়াদি—বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে পৃথক খণ্ডে সাজিয়েছি। এমনকি কেউ যদি কোনো নির্দিষ্ট মসজিদ বা মাদ্রাসা সম্পর্কে জানতে চায়, তবে তার নাম জানার পর কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পাওয়া তার জন্য সহজ হবে। আমি এতে শুধুমাত্র বর্তমান অবস্থার বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং 'খিতাত' এবং অন্যান্য গ্রন্থে এর পূর্ববর্তী অবস্থার যা কিছু বর্ণনা পেয়েছি তাও গ্রহণ করেছি; যেন এর বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো একত্রিত করা যায় এবং শিক্ষার্থী এর প্রাচীন ও আধুনিক সকল বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবগত হতে পারে।

আমি এর রাস্তাগুলোর জন্যও বর্ণানুক্রমিকভাবে দুটি খণ্ড নির্ধারণ করেছি এবং প্রতিটি রাস্তার সাথে সংশ্লিষ্ট গলি, পাড়া, বাঁক ও সরু পথ নিয়ে আলোচনা করেছি। সেই সঙ্গে সেগুলোতে অবস্থিত প্রাচীন ও বর্তমানকালের মসজিদ, মাদ্রাসা, মাজার, পানিশালা, গোসলখানা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও অনুরূপ বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি। ফলে এই দুই খণ্ড বর্তমান সময়ে কায়রোর মানচিত্রের (খিতাত) একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণ করেছে এবং এতে যা সন্নিবেশিত হয়েছে তা এই শহর ও এর অন্তর্গত বিষয়াবলীর বর্ণনায় পর্যাপ্ত ও পরিপূর্ণ হয়েছে।

এই কিতাবের উপযোগিতা পূর্ণ করার জন্য আমি একটি পৃথক খণ্ড নির্দিষ্ট করেছি, যাতে বিগত প্রতিটি যুগে আমাদের মিশরে প্রচলিত বিভিন্ন মুদ্রার প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি সেগুলোর ইতিহাস, প্রবর্তনের মূল ভিত্তি, উদ্ভব হওয়ার কারণ এবং কারা তা প্রবর্তন ও মান নির্ধারণ করেছেন তা ব্যাখ্যা করেছি। ফলে শিক্ষার্থীর পক্ষে বিভিন্ন সময়ের পণ্যের দামের মধ্যে তুলনা করা সম্ভব হবে। যেমন যখন বলা হবে কোনো পণ্য অতীতে কত দিনারে বিক্রি হতো এবং সেই মূল্যের সাথে বর্তমানের লেনদেনের তুলনা করা হবে, তখন বোঝা যাবে যে বিবেচ্য সময়ে ওই পণ্যটির মূল্য বর্তমানের তুলনায় বেশি ছিল নাকি কম।

আল্লাহর প্রশংসায় আমাদের এই কিতাবটি বিশটি চমৎকার খণ্ডে সুক্ষ্ম শৈলী ও সুন্দর বিন্যাসে সম্পন্ন হয়েছে, যা শ্রোতাকে আনন্দিত করবে এবং পাঠককে মুগ্ধ করবে। আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ ও করুণা প্রার্থনা করছি যেন তিনি একে একমাত্র তাঁর মহান সত্তার (চেহারার) জন্য কবুল করেন, এবং এর মাধ্যমে প্রতিটি সুস্থ হৃদয়ের অধিকারীকে উপকৃত করেন। আর যে ব্যক্তি এটি অধ্যয়ন করবে, আল্লাহ তাকে এর ভুলভ্রান্তি ও বিস্মৃতি সংশোধন করার তাওফিক দান করুন এবং আমি যা উপস্থাপনে অক্ষম হয়েছি তা এতে যোগ করার সামর্থ্য দিন। তিনি যেন আমাদের ও তাকে সেই পুরস্কারে ভূষিত করেন, যা তিনি তাঁর নেককার বান্দাদের দান করেন—যারা তাদের সারা জীবন কেবল তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কাজ করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা, মহানুভব, অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌بيان محل القاهرة قبل قدوم جوهر القائد

لما قدم القائد جوهر بعساكر الفاطميين إلى ساحل الفسطاط وقت الزوال من يوم الثلاثاء لسبع عشرة خلت من شهر شعبان سنة سبع وخمسين وثلثمائة نزل بحرى الفسطاط فى الأرض التى فيها اليوم الجامع الأزهر وبيت القاضى وخان الخليلى وبين القصرين وما جاورهما من الأماكن التى بين الجبل والخليج. وكانت هذه البقعة رمالا فيما بين مصر الفسطاط وعين شمس - التى تسمى الآن بالمطرية - يمر بها الناس عند مسيرهم من الفسطاط إلى عين شمس، فيما بين الخليج، المعروف فى أول الإسلام بخليج أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه، والخليج المعروف باليحاميم لمروره بجانبها، إذ اليحاميم اسم للجبل الأحمر الكائن بشرق العباسية. وكان ذلك الخليج يمر بقربها، وقد زال من مدة ولم يبق له أثر.

وعند نزول جوهر بهذه الرملة لم يكن بها بنيان غير البساتين وأماكن قليلة، منها بستان الإخشيد محمد بن طغج المعروف بالكافورى، وكان هذا البستان فى شرقى الخليج - محله اليوم فيما بين جامع الشعرانى والسكة الجديدة قريبا من قنطرة الموسكى - ممتدا فى الجهة الشرقية إلى النحاسين، وكانت مساحته تبلغ ستة وثلاثين فدانا بمقياسنا اليوم، وبجانبه من الجهة القبلية ميدان الإخشيد - ومحله الآن من بر الخليج الشرقى إلى شارع السكرية والغورية.

وكان فى محل الجامع الأقمر دير للنصارى، يعرف بدير العظام، تزعم النصارى أن فيه بعض من أدرك المسيح عليه السلام، وبئر هذا الجامع هى بئر ذلك الدير، وتعرف ببئر العظام، وتسميها العامة ببئر العظمة.

وكان بهذه الرملة أيضا موضع آخر يعرف بقصيّر الشوك (بصيغة التصغير)، تنزله بنو عذرة فى الجاهلية، وصار عند بناء القاهرة خطا، يعرف بقصر الشوك.

وفى تلك الحقبة كان الخليج المصرى ينتهى إلى قنطرة بناها عبد العزيز بن مروان سنة تسع وستين - موضعها الآن منتهى حارة السيدة زينب رضي الله عنها وكانت الحارة طريقا لا بناء فيه، تمر الناس من فوق تلك القنطرة إلى بره الغربى. وإلى ساحل النيل.
কমান্ডার জাওহারের আগমনের পূর্বে কায়রোর অবস্থানের বর্ণনা

কমান্ডার জাওহার যখন ৩৫৭ হিজরি সালের ১৭ই শাবান মঙ্গলবার দ্বিপ্রহরের সময় ফাতিমি সেনাবাহিনী নিয়ে ফুস্তাতের উপকূলে আগমন করেন, তখন তিনি ফুস্তাতের উত্তরাঞ্চলে এমন এক ভূমিতে অবতরণ করেন যেখানে আজ আল-আযহার মসজিদ, বাইতুল কাজী, খান আল-খালিলি, বাইনাল কাসরাইন এবং পাহাড় ও খালের মধ্যবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো অবস্থিত। এই ভূখণ্ডটি ছিল ফুস্তাত-মিশর এবং আইন শামস—যা বর্তমানে আল-মাতারিয়া নামে পরিচিত—এর মধ্যবর্তী একটি বালুকাময় অঞ্চল। ফুস্তাত থেকে আইন শামসে যাওয়ার পথে মানুষ এই পথটি ব্যবহার করত। এটি ইসলামের প্রাথমিক যুগে আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খাল হিসেবে পরিচিত জলপথ এবং ইয়াহামিম নামক খালের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল। ইয়াহামিম হলো আব্বাসিয়ার পূর্ব দিকে অবস্থিত লাল পাহাড়ের নাম। সেই খালটি এর নিকট দিয়েই প্রবাহিত হতো, যা অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং এখন তার কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই।

জাওহার যখন এই বালুকাময় প্রান্তরে অবতরণ করেন, তখন সেখানে বাগান এবং হাতেগোনা কয়েকটি স্থান ছাড়া কোনো স্থাপনা ছিল না। সেগুলোর মধ্যে একটি ছিল মুহাম্মাদ ইবনে তুগজ আল-ইখশিদের বাগান, যা 'কাফুরি' নামে পরিচিত ছিল। এই বাগানটি ছিল খালের পূর্ব দিকে—যার বর্তমান অবস্থান জামে শারানি ও সিক্কাহ জাদিদার মধ্যবর্তী মুসকি সেতু বা পোলের নিকটবর্তী—এবং এটি পূর্ব দিকে নাহহাসিন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বর্তমান পরিমাপ অনুযায়ী এর আয়তন ছিল ছত্রিশ ফাদান। এর দক্ষিণ দিকে ছিল ইখশিদের ময়দান—যার বর্তমান অবস্থান খালের পূর্ব পাড় থেকে শুরু করে সুক্কারিইয়া ও গুরিয়া সড়ক পর্যন্ত।

আল-আকমর মসজিদের স্থানে খ্রিস্টানদের একটি মঠ ছিল, যা 'দাইরুল ইযাম' নামে পরিচিত ছিল। খ্রিস্টানদের দাবি ছিল যে, সেখানে এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর সমসাময়িক ছিলেন। এই মসজিদের কূপটি মূলত সেই মঠেরই কূপ ছিল, যা 'বি'রুল ইযাম' নামে পরিচিত এবং সাধারণ মানুষ একে 'বি'রুল আযমাহ' বলে ডাকে।

এই বালুকাময় প্রান্তরে 'কুসাইর আশ-শাওক' (ক্ষুদ্রার্থে) নামে পরিচিত আরও একটি স্থান ছিল, যেখানে জাহেলি যুগে বনু উযরা গোত্র তাবু ফেলত। কায়রো নির্মাণের সময় এটি একটি মহল্লায় পরিণত হয় এবং 'কাসর আশ-শাওক' নামে পরিচিতি পায়।

সেই সময়ে মিশরীয় খালটি একটি সেতুতে গিয়ে শেষ হতো যা আব্দুল আজিজ ইবনে মারওয়ান ৬৯ হিজরি সালে নির্মাণ করেছিলেন। এর বর্তমান অবস্থান সায়্যিদাহ যয়নাব (রাদিয়াল্লাহু আনহা) মহল্লার শেষ প্রান্তে। সেই সময়ে এই মহল্লাটি ছিল একটি জনশূন্য রাস্তা, মানুষ সেই সেতুর ওপর দিয়ে খালের পশ্চিম পাড়ে এবং নীল নদের তীরের দিকে যাতায়াত করত।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وكان فى غربى الخليج تجاه معسكر جوهر قرية تعرف بأم دنين، ثم عرفت بعد بالمقس، وهى الآن خط من أخطاط القاهرة، واقع عن يسرة من سلك من شارع كلوت بك إلى سكة الحديد، ممتدا إلى الشارع الواقع عليه جامع أولاد عنان. وكان الخليج فاصلا بينهما وبين الرملة المذكورة، وكان فيما بين قرية أم دنين والشاطئ الغربى فضاء لا بناء فيه، ثم صار بعد بناء القاهرة ميدانا توضع فيه الغلال، وسمّاه المقريزى ميدان القمح، وهو الآن من جملة خط باب الشعرية. وكان الواقف بهذا الفضاء يرى النيل عن يمينه من بعد إذا استقبل المغرب، وعن يساره بستان المقس - محل بركة الأزبكية وما بحذائها من الجهة القبلية - وبعده تلك البساتين إلى الفسطاط، وكان يرى بر الجيزة والقرى الواقعة عليه أمامه.

وكان من يسافر من الفسطاط إلى الشام من العسكر والتجار وغيرهم ينزل بطرف هذه الرملة فى الموضع الذى كان يعرف إذ ذاك بمنية الإصبغ، ثم عرف زمن الفاطميين بالخندق، والآن يعرف بقرية الدمرداش، ويقوم من منية الإصبغ إلى سلمنت وبلبيس، وبينها وبين الفسطاط أربعة وعشرون ميلا، ومن بلبيس إلى العلاقمة ثم إلى الفرما، ولم يكن هذا الدرب يعرف قديما، وإنما عرف بعد خراب تنيس والفرما.

وكان من يسافر من الفسطاط إلى الحجاز برا، ينزل بجب عميرة المسمى أولا ببركة الجب والآن ببركة الحاج - وكانت حافة الخليج الشرقية هى الطريق العام.

وكان القادم من الفسطاط إلى القاهرة يجد عن يمينه منازل العسكر - فى محل التلال التى نشاهدها الآن قريبا من باب السد - ثم يجد عدة ديور وكنائس موضع خط السيدة زينب رضي الله عنها، ثم بركة البغالة وبركة الفيل إلى سور القاهرة. وكانت العامة تجلس فى هذا الطريق أمام السور للتفرج على الخليج وما وراءه من البساتين والبرك.

وأما بر الخليج الغربى فكان بأوله بحرى قنطرة عبد العزيز بن مروان البستان الزهرى ممتدا إلى باب اللوق إلى جامع الطباخ، ويتصل به عدة بساتين إلى المقس، جميعها مطل على النيل، ولم يكن لبر الخليج الغربى كبير عرض، وإنما يمر النيل فى غربى البساتين على الموضع الذى يعرف اليوم باللوق، وأوله عند جامع الطباخ، ويمتد جهة الغرب إلى ساحل النيل.
খালিল (খালিজ)-এর পশ্চিমে জাওহারের শিবিরের বিপরীতে উম্মে দুনাইন নামে পরিচিত একটি গ্রাম ছিল। পরবর্তীতে এটি আল-মাকস নামে পরিচিত হয়। বর্তমানে এটি কায়রোর একটি এলাকা, যা ক্লট বে সড়ক থেকে রেললাইনের দিকে যাওয়ার পথের বাম দিকে অবস্থিত এবং আওলাদ আনান জামে মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই খালটি এবং উল্লিখিত বালুময় ভূমির (রামলা) মাঝে একটি বিভাজক ছিল। উম্মে দুনাইন গ্রাম এবং পশ্চিম তীরের মধ্যবর্তী স্থানটি ছিল জনশূন্য। কায়রো নির্মাণের পর এটি শস্য রাখার ময়দানে পরিণত হয় এবং আল-মাকরিযি এর নাম দেন 'ময়দানুল কামহ' (গমের ময়দান)। বর্তমানে এটি বাব আল-শারিয়ার একটি এলাকা। এই উন্মুক্ত স্থানে দাঁড়ালে পশ্চিমমুখী হওয়ার পর ডানদিকে দূর থেকে নীল নদ দেখা যেত, আর বাম দিকে মাকসের বাগান দেখা যেত—যা বর্তমানে উজবেকিয়া পুকুর এবং এর দক্ষিণ দিকের সংলগ্ন এলাকা। এরপর আল-ফুস্তাত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল সেই সব বাগান। সামনে গিজা ভূখণ্ড এবং এর পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো দেখা যেত।

ফুস্তাত থেকে যারা সৈন্য, ব্যবসায়ী বা অন্য কেউ সিরিয়ার (শাম) উদ্দেশ্যে সফর করতেন, তারা এই বালুময় ভূমির প্রান্তে এমন এক স্থানে অবতরণ করতেন যা তৎকালীন সময়ে 'মুনিয়াতুল আসবাগ' নামে পরিচিত ছিল। ফাতেমি যুগে এটি 'আল-খন্দক' নামে পরিচিত হয় এবং বর্তমানে এটি 'দেমেরদাশ' গ্রাম নামে পরিচিত। মুনিয়াতুল আসবাগ থেকে সালমান্ত এবং বিলবাইস পর্যন্ত পথ বিস্তৃত ছিল। ফুস্তাত থেকে এর দূরত্ব চব্বিশ মাইল। বিলবাইস থেকে আল-আলাকিমা এবং এরপর আল-ফারামা পর্যন্ত যাওয়া যেত। এই পথটি প্রাচীনকালে পরিচিত ছিল না, বরং তেনিস এবং আল-ফারামা ধ্বংস হওয়ার পরেই এটি পরিচিতি পায়।

ফুস্তাত থেকে যারা স্থলপথে হিজাজে সফর করতেন, তারা জুব্বে আমিরাহতে অবতরণ করতেন, যা প্রথমে 'বিরকাতুল জুব্ব' এবং বর্তমানে 'বিরকাতুল হাজ' নামে পরিচিত। খালের পূর্ব তীরটিই ছিল প্রধান পথ।

ফুস্তাত থেকে কায়রো আগত ব্যক্তি তার ডানদিকে সৈন্যদের আবাসস্থল দেখতে পেতেন—যা বর্তমানে বাব আল-সাদ্দ-এর নিকটবর্তী টিলাগুলোর স্থানে অবস্থিত। এরপর সায়্যিদা যাইনাব (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এলাকার স্থানে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও গির্জা ছিল। এরপর বিরকাতুল বাগগালা এবং বিরকাতুল ফিল হয়ে কায়রোর দেয়াল পর্যন্ত পথটি বিস্তৃত ছিল। সাধারণ মানুষ এই পথে দেয়ালের সামনে বসে খাল এবং এর ওপারের বাগান ও পুকুরগুলোর দৃশ্য উপভোগ করত।

আর খালের পশ্চিম তীরের শুরুতে আব্দুল আজিজ ইবনে মারওয়ানের সেতুর উত্তর দিকে বুস্তান আল-যাহরি অবস্থিত ছিল, যা বাব আল-লুক থেকে জামে তাব্বাখ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এরপর মাকস পর্যন্ত বেশ কিছু বাগান এর সাথে যুক্ত ছিল, যার সবকটিই নীল নদের তীরে অবস্থিত ছিল। খালের পশ্চিম তীরের প্রশস্ততা খুব বেশি ছিল না। নীল নদ বাগানের পশ্চিম দিক দিয়ে আজ যা আল-লুক নামে পরিচিত সেই স্থানের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতো। এর শুরু জামে তাব্বাখের কাছে এবং এটি পশ্চিম দিকে নীল নদের উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌حال القاهرة فى مدة الخلفاء الفاطميين

هذه المدينة الفخيمة وضعها الفاطميون سنة ثمان وخمسين وثلثمائة من الهجرة، وذلك أنه لما توالى الغلاء، وتتابعت الشدائد، وحصل الإدبار، وعجز رجال الدولة عن إدارة الأمور، واختل حال الأقاليم المصرية، قام المعز لدين الله أبو تميم معدّ، وأغار على مصر فى أيام الإخشيديين، وقام إليها تابعه جوهر قائد عساكره، فانتزعها من أيديهم، ودخل الفسطاط بالعساكر فى السنة المذكورة. وكانت الفسطاط اذ ذاك مدينة كبيرة، وكانت محل الأمراء، ومستقر ملكهم، وإليها تجبى ثمرات الأقاليم، وكان لها من وفور العمارة، وكثرة السكان، وسعة الأرزاق، ما تفتخر به على مدن المعمورة.

وكان حدها الشرقى من باب القرافة تحت قلعة الجبل، ممتدا إلى كوم الجارح إلى بركة الحبش، وهى أرض البساتين.

والحد الغربى قناطر السباع إلى دير الطين، ممتدا على ساحل النيل.

والحد القبلى من شاطئ النيل عند دير الطين إلى نهاية الحد الشرقى حيث البساتين.

والحد البحرى من قناطر السباع إلى قلعة الجبل.

وما بين تلك الحدود كان مشحونا بالعمارة من الدور الفاخرة والأسواق والمبانى. وكان منها العسكر والقطايع.

وكل ذلك تخرّب واندرست معالمه، ولم يبق منه إلا القليل جدا؛ كخط السيدة زينب رضي الله عنها، وخط الكبش، والجامع الطولونى، والسيدة نفيسة رضي الله عنها، إلى آخر ثمن الخليفة، وما حول الرميلة وقراميدان. فإذا خرج الإنسان من بوابة السيدة نفيسة إلى العيون، وقلب طرفه فى تلك الصحراء الواسعة يرى أثر العمائر أطلالا وتلالا مرتفعة فى بحرىّ العيون وقبلّيها، وخلف العامر من مصر العتيقة، وجهة الإمام الشافعى وأبى السعود الجارحى رضي الله عنهما، والدير الكبير المعروف قديما بقصر الشمع، وجهة الرصد، وهو الجبل المرتفع على أرض البساتين من بحريها وغير ذلك.
ফাতেমী খলিফাদের যুগে কায়রোর অবস্থা

এই মহিমান্বিত শহরটি ফাতেমীরা হিজরি তিনশ আটান্ন সনে নির্মাণ করেছিলেন। এর কারণ ছিল যখন দুর্ভিক্ষ ও বিপদ-আপদ একের পর এক আসতে থাকে, রাজ্যের অবনতি ঘটে, শাসনকর্তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় অক্ষম হয়ে পড়েন এবং মিশরের প্রদেশগুলোর অবস্থা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে, তখন আল-মুইজ লি-দীনিল্লাহ আবু তামীম মা'দ রুখে দাঁড়ান এবং ইখশিদী আমলের মিশরের ওপর আক্রমণ করেন। তাঁর সেনাপতি জওহর সেনাবাহিনী নিয়ে সেখানে অগ্রসর হন, তাদের হাত থেকে এটি ছিনিয়ে নেন এবং উল্লেখিত বছরে সসৈন্যে ফুসতাতে প্রবেশ করেন। ফুসতাত তখন একটি বিশাল শহর ছিল, যা ছিল আমিরদের আবাসস্থল এবং তাঁদের রাজত্বের কেন্দ্র। বিভিন্ন প্রদেশের উৎপাদিত পণ্য সেখানে সংগৃহীত হতো। এর স্থাপত্যের প্রাচুর্য, জনসংখ্যার আধিক্য এবং জীবনোপকরণের প্রশস্ততা এমন ছিল যা বিশ্বের অন্যান্য শহরের ওপর গর্ব করার মতো ছিল।

এর পূর্ব সীমা ছিল জাবাল দুর্গের নিচের বাবুল কারাফাহ থেকে শুরু করে কুমুল জারিহ হয়ে বীরকাতুল হাবাশ পর্যন্ত বিস্তৃত, যা ছিল উদ্যানভূমি।

পশ্চিম সীমা ছিল কানাতীরুস সিবা থেকে দাইরুত তীন পর্যন্ত, যা নীল নদের তীর ঘেঁষে বিস্তৃত ছিল।

দক্ষিণ সীমা ছিল দাইরুত তীনের নিকটবর্তী নীল নদের তীর থেকে পূর্ব সীমার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যেখানে উদ্যানগুলো অবস্থিত ছিল।

উত্তর সীমা ছিল কানাতীরুস সিবা থেকে জাবাল দুর্গ পর্যন্ত।

এই সীমানাগুলোর মধ্যবর্তী এলাকা বিলাসবহুল ঘরবাড়ি, বাজার ও দালানকোঠায় পরিপূর্ণ ছিল। এর অন্তর্ভুক্ত ছিল আসকার এবং কাতায়ি এলাকা।

এইসবই ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এর চিহ্নগুলো বিলীন হয়ে গেছে; সামান্য কিছু ব্যতীত এর কিছুই অবশিষ্ট নেই; যেমন সায়্যিদা যাইনাব (রা.)-এর এলাকা, খাত্তুল কাবশ, জামে তুলুনী, সায়্যিদা নাফীসা (রা.)-এর এলাকা থেকে খলিফার অষ্টম সীমানা পর্যন্ত এবং রুমাইলা ও কারামায়দানের আশপাশ। সুতরাং মানুষ যখন সায়্যিদা নাফীসার ফটক থেকে উয়ুনের (ঝরনাধারা) দিকে বের হয় এবং সেই বিশাল মরু প্রান্তরে দৃষ্টিপাত করে, তখন সে দালানকোঠার ধ্বংসাবশেষ ও উঁচু টিলা দেখতে পায়—যা উয়ুনের উত্তরে ও দক্ষিণে, প্রাচীন মিশরের জনবসতির পেছনে, ইমাম শাফিঈ ও আবুস সউদ আল-জারিহী (রা.)-এর মাজারের দিকে, এবং প্রাচীনকালে কাসরুশ শাম নামে পরিচিত বড় গির্জা, রাসাদ অঞ্চল—যা উদ্যানভূমির উত্তরে অবস্থিত একটি উঁচু পাহাড়—এবং অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে আছে।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌[ما عابه ابن رضوان على القاهرة]

ومع ما كانت عليه هذه المدينة من العز والثروة عابها ابن رضوان، وشنّع على موقعها وترتيبها، قال: إن بعدها عن خط الاستواء ثلاثون درجة، والجبل المقطم فى شرقيها:

وبينها وبينه المقابر، وقد قال الأطباء إن أردأ المواضع ما كان الجبل فى شرقيه يعوق ريح الصباعنه. قال: وأعظم أجزاء الفسطاط فى غور، فانه يعلوه من الشرق المقطم، وكذا من الجنوب الشرقى، ومن الشمال المكان المعروف بالموقف والعسكر وجامع ابن طولون. ومتى نظرت إلى الفسطاط من الشرق، أو من مكان آخر عال، رأيت وضعها فى غور. وقد بين بقراط أن المواضع المتسفلة أسخن من المواضع المرتفعة وأردأ هواء، لاحتقان البخار فيها، لأن ما حولها من المواضع العالية يعوق تحليل الرياح لها. وأزقة الفسطاط وشوارعها ضيقة، وأبنيتها عالية، وقد قال روفس: إذا دخلت مدينة فرأيتها ضيقة الأزقة مرتفعة البناء، فاهرب منها لأنها وبيئة، اذ رداءة البخار لا تنحل منها كما ينبغى، لضيق الأزقة وارتفاع البناء.

ومن شأن أهل الفسطاط أن يرموا ما مات فى دورهم من السنانير والكلاب ونحوها من الحيوانات التى تخّالط الناس فى شوارعهم وأزقتهم، فتتعفن ويخالط عفونتها الهواء. ومن شأنهم أيضا أن يرموا فى النيل الذى يشربون منه فضول الحيوانات وجيفها، وتصب فيه خرارات كنفهم، وربما انقطع جرى الماء فيشربون هذه العفونة باختلاطها بالماء. وفى خلال الفسطاط مستوقدات عظيمة يصعد منها فى الهواء دخان مفرط.، وهى أيضا كثيرة البخار لسخونة أرضها، حتى إنك تجد بها الهواء فى أيام الصيف كدرا، ويتسخ منه الثوب النظيف فى اليوم الواحد وإذا مر بها الإنسان فى حاجة لم يرجع إلا وقد اجتمع فى وجهه ولحيته غبار كثير، ويعلوها فى العشيات، خاصة فى أيام الصيف، بخار كدر أسود، لا سيما عند سكون الرياح، إلى آخر ما قال من كلام طويل.

 

‌‌[بناء القاهرة ووصول المعز]

ولما دخلت عساكر المعز الديار المصرية سار جوهر إلى الفسطاط، ودخلها يوم الثلاثاء سابع عشر شعبان من السنة المذكورة، فاختار أن يبنى فى بحريها بعيدا عنها، فاختلط للعسكر فى الرملة التى كانت تجاه قرية أم دنين، وكانت فى ملك الخلفاء العباسيين، ثم بنى ابن طولون، فاستقر جوهر هناك، واختط القصر.

فلما أصبح المصريون ذهبوا إليه للتهنئة، فوجدوه قد حفر أساس القصر ليلا. وكانت فيه ازورارات، فلما رآها لم تعجبه، ثم أغضى عنها، وقال: إنه قد حفر فى ليلة مباركة،
‌‌[ইবনে রিদওয়ান কায়রোর যা যা সমালোচনা করেছেন]

এই শহরটি যে মর্যাদা ও ঐশ্বর্যের অধিকারী ছিল, তা সত্ত্বেও ইবনে রিদওয়ান এর সমালোচনা করেছেন এবং এর অবস্থান ও বিন্যাসের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন: এটি বিষুবরেখা থেকে ত্রিশ ডিগ্রি দূরে অবস্থিত এবং এর পূর্ব দিকে মুকাত্তাম পাহাড় অবস্থিত।

শহর এবং পাহাড়ের মাঝখানে রয়েছে কবরস্থান। চিকিৎসকরা বলেছেন যে, নিকৃষ্টতম স্থান হলো সেটিই যার পূর্ব দিকে পাহাড় থাকে, যা পূর্বীয় বাতাসকে (সাবা) বাধাগ্রস্ত করে। তিনি আরও বলেছেন: ফুস্তাতের অধিকাংশ অংশ নিচু ভূমিতে অবস্থিত, কারণ এর পূর্ব দিক থেকে মুকাত্তাম পাহাড় এবং দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর দিক থেকে আল-মাওকিফ, আল-আসকার এবং ইবনে তুলুন মসজিদ সংলগ্ন উঁচু স্থানগুলো একে ঘিরে রেখেছে। আপনি যখন পূর্ব দিক থেকে বা অন্য কোনো উঁচু স্থান থেকে ফুস্তাতের দিকে তাকাবেন, তখন এর অবস্থানকে একটি নিচু গর্তের মতো দেখবেন। হিপোক্রেটিস স্পষ্ট করেছেন যে, নিচু স্থানগুলো উঁচু স্থানের তুলনায় অধিক উষ্ণ এবং সেখানকার বাতাস অত্যন্ত দূষিত হয়, কারণ সেখানে বাষ্প আটকে থাকে; চারপাশের উঁচু স্থানগুলো বাতাসের প্রবাহের মাধ্যমে সেই বাষ্প দূর হতে বাধা দেয়। ফুস্তাতের গলি ও রাস্তাগুলো সরু এবং এর ভবনগুলো অনেক উঁচু। রুফাস বলেছেন: যখন তুমি কোনো শহরে প্রবেশ করবে এবং দেখবে যে তার গলিগুলো সরু ও ভবনগুলো উঁচু, তবে সেখান থেকে পালিয়ে যাও; কারণ সেটি একটি মহামারীর স্থান। সরু গলি ও উঁচু ভবনের কারণে সেখানকার দূষিত বাষ্প যথাযথভাবে অপসারিত হতে পারে না।

ফুস্তাতবাসীদের স্বভাব হলো, তাদের বাড়িতে বিড়াল, কুকুর বা এই জাতীয় যেসব প্রাণী মানুষের সাথে মেলামেশা করে, সেগুলো মারা গেলে তারা তা রাস্তা ও গলিতে ফেলে দেয়। ফলে সেগুলো পচে যায় এবং সেই দুর্গন্ধ বাতাসের সাথে মিশে যায়। তাদের আরও স্বভাব হলো, তারা নীলনদে পশুপাখির বর্জ্য ও মৃতদেহ নিক্ষেপ করে, অথচ সেই নদ থেকেই তারা পানি পান করে। তাদের শৌচাগারের পয়ঃনিষ্কাশন নালীর মুখগুলোও এতে গিয়ে পড়ে। কখনো কখনো পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, তখন তারা পানির সাথে মিশে থাকা এই দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা পানিই পান করে। ফুস্তাতের ভেতরে অনেক বড় বড় চুল্লি রয়েছে যেখান থেকে প্রচুর ধোঁয়া আকাশে ওঠে। মাটির উষ্ণতার কারণে সেখানে বাষ্পও প্রচুর। এমনকি গ্রীষ্মকালে সেখানকার বাতাস এতটাই ঘোলাটে থাকে যে, পরিষ্কার কাপড় একদিনেই ময়লা হয়ে যায়। কোনো ব্যক্তি কোনো প্রয়োজনে সেখান দিয়ে গেলে, ফেরার সময় তার মুখ ও দাড়িতে প্রচুর ধুলোবালি জমে থাকে। বিশেষ করে গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় যখন বাতাস স্থির থাকে, তখন শহরের ওপর এক কালো ও ঘোলাটে বাষ্প ছেয়ে যায়।— তার দীর্ঘ আলোচনার শেষ পর্যন্ত।

 

‌‌[কায়রো নির্মাণ এবং আল-মুইজ্জের আগমন]

যখন আল-মুইজ্জের সেনাবাহিনী মিশর ভূখণ্ডে প্রবেশ করল, তখন জওহর ফুস্তাতের দিকে অগ্রসর হলেন এবং উক্ত বছরের ১৭ই শাবান মঙ্গলবার সেখানে প্রবেশ করলেন। তিনি ফুস্তাত থেকে দূরে এর উত্তর দিকে শহর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি উম্মে দুনাইন গ্রামের বিপরীতে বালুময় স্থানে সেনাবাহিনীর জন্য তাবু ফেললেন। এই স্থানটি পূর্বে আব্বাসীয় খলিফাদের মালিকানাধীন ছিল, এরপর ইবনে তুলুন এখানে নির্মাণ কাজ করেছিলেন। জওহর সেখানে অবস্থান নিলেন এবং প্রাসাদের নকশা ও সীমানা নির্ধারণ করলেন।

পরদিন সকালে মিশরীয়রা তাকে অভিনন্দন জানাতে গেল। তারা দেখতে পেল যে তিনি রাতেই প্রাসাদের ভিত্তি খনন করে ফেলেছেন। তাতে কিছু বক্রতা ছিল, যা দেখে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তবুও তিনি তা এড়িয়ে গেলেন এবং বললেন: এটি একটি বরকতময় রাতে খনন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وساعة سعيدة، فتركه على حاله، وأدخل فيه دير العظام الذى فى محله جامع الأقمر، واختطت كل قبيلة خطة عرفت بها، وأدار السور الذى جعله من اللّبن على مناخه الذى نزل فيه بعساكر وسماها «المنصورية».

ولما كملت فى ثلاث سنين، وبلغ المعز تمامها، خرج من مدينة «المنصورة» - تخت ملكه بالمغرب - يريد أرض مصر، فركب البحر فى أسطول، واجتاز على جزيرة سار دينيا ثم جزيرة صقلية التابعتين لملكه، وأقام بهما عدة شهور حتى رتّب أمورهما، ثم اجتاز على طرابلس الغرب، فأقام بها يسيرا، وقام منها فدخل الإسكندرية فى شعبان من السنة المذكورة، وأقام بها مدة، ثم سار إلى الفسطاط بعساكره، واجتاز النيل على جسر عمله له جوهر عند البستان المسمى بالمختار، وكان فى الطرف البحرى من جزيرة المقياس. فلم يدخل الفسطاط مع أنها تزينت له، واستعدّ أهلها لملاقاته، بل سار إلى أن دخل القاهرة، وكان معه أولاده وإخوته، وسائر أولاد جده عبيد الله المهدى أول ملوك الدولة الفاطمية بالمغرب، وتوابيت آبائه.

 

‌‌[محاولة القرامطة غزو مصر]

وفى الخطط أن القاهرة فى أول الأمر كانت تسمى بالقلعة والطابية والمعقل والحصن، وقصد القائد باختطاطها فى هذا الموضع أن تكون حصنا للفسطاط ممن يقصدها من جهتها البحرية، خصوصا القرامطة الذين كانت بايديهم البلاد الشامية القاصية وبلاد أرمنستان، فإنه لما بلغهم استيلاء جوهر على مصر وأخذه دمشق جيشوا جيوشا جرارة، وساروا لقتاله فى سنة ستين وثلثمائة. فلما وصلوا دمشق أخذوها، وقتلوا جعفر بن فلاح حاكمها من طرف الفاطميين، ثم أخذوا الرملة، ثم وصلوا القلزم، فاحترس جوهر، واستعد لقتالهم، وحفر الخنادق، وبنى الأبواب المنيعة، وركّب عليها بوابات البستان الكافورى وكانت من حديد، وبنى القنطرة عند شارع باب الشعرية - وهى باقية إلى زماننا هذا - سنة ثلثمائة وألف، ثم حصل بينه وبينهم عدة وقعات قتل فيها كثير منهم، وانهزموا شر هزيمة، واستولى جوهر على سواد أميرهم الأعصم وكتبه وصناديقه.

 

‌‌[الخنادق المحيطة بالقاهرة، وبستان الإخشيد]

وكانت القاهرة إذ ذاك بين ثلاثة خنادق: خندق من قبليها، وهو الذى حفره عمرو ابن العاص، رضي الله عنه، وكان شرقى قبر الإمام الشافعى رضي الله عنه، وخندق اليحاميم أوله الجبل الأحمر المسمى باليحاميم، وخندق من غربيها وهو الخليج الموجود فى هذا القرن الثالث عشر.
এবং একটি শুভ মুহূর্ত, তাই তিনি এটিকে তার অবস্থায় রেখে দিলেন এবং তাতে সেই হাড়ের মঠ (দাইরুল ইযাম) অন্তর্ভুক্ত করলেন যার স্থানে বর্তমানে আল-আকমার মসজিদ অবস্থিত। প্রতিটি গোত্র তাদের জন্য নির্দিষ্ট একটি এলাকা নির্ধারণ করল যা তাদের নামে পরিচিত হলো। তিনি কাঁচা ইটের তৈরি একটি প্রাচীর তার সেই অবস্থানের চারপাশে নির্মাণ করলেন যেখানে তিনি সসৈন্যে অবতরণ করেছিলেন এবং এর নামকরণ করলেন 'আল-মানসুরিয়া'।

যখন তিন বছরে এটি সম্পন্ন হলো এবং আল-মুয়িজ্জ এর পূর্ণতা সম্পর্কে অবগত হলেন, তখন তিনি মাগরিবে (উত্তর আফ্রিকা) তাঁর রাজসিংহাসন 'আল-মানসুরা' শহর থেকে মিশরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। তিনি একটি নৌবহরে সমুদ্রপথে যাত্রা করলেন এবং তাঁর শাসনাধীন সারদিনিয়া দ্বীপ ও এরপর সিসিলি দ্বীপ অতিক্রম করলেন। সেখানে তিনি কয়েক মাস অবস্থান করে সেখানের বিষয়াদি সুশৃঙ্খল করলেন। এরপর তিনি ত্রিপোলি (পশ্চিম) অতিক্রম করে সেখানে অল্প সময় অবস্থান করলেন। সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে উল্লিখিত বছরের শাবান মাসে তিনি আলেকজান্দ্রিয়াতে প্রবেশ করলেন এবং সেখানে কিছুদিন অবস্থান করলেন। এরপর তিনি তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ে ফুস্তাতের দিকে অগ্রসর হলেন এবং 'আল-মুখতার' নামক বাগানের কাছে জওহর তাঁর জন্য যে সেতুটি তৈরি করেছিলেন তার ওপর দিয়ে নীল নদ পার হলেন, যা ছিল রওদা দ্বীপের (জাজিরাতুল মিকইয়াস) উত্তর প্রান্তে। তিনি ফুস্তাতে প্রবেশ করেননি, যদিও শহরটি তাঁর জন্য সজ্জিত করা হয়েছিল এবং অধিবাসীরা তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত ছিল। বরং তিনি অগ্রসর হয়ে কায়রোতে প্রবেশ করলেন। তাঁর সাথে ছিল তাঁর সন্তানরা, ভাইয়েরা এবং মাগরিবে ফাতেমীয় রাষ্ট্রের প্রথম শাসক তাঁর দাদা ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদীর অন্যান্য বংশধর এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের কফিনসমূহ।

 

‌‌[মিশর আক্রমণে কারামাতিদের প্রচেষ্টা]

'আল-খিতাত' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, কায়রো প্রথম দিকে আল-কাল'আ (দুর্গ), আত-তাবিইয়াহ, আল-মাকিল এবং আল-হিসন (কিল্লা) নামে পরিচিত ছিল। সেনাপতি (জওহর) এই স্থানে শহরটি নির্মাণের মাধ্যমে উদ্দেশ্য করেছিলেন যেন এটি ফুস্তাতের জন্য উত্তর দিক থেকে আসা আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে একটি দুর্গ হিসেবে কাজ করে, বিশেষ করে কারামাতিদের হাত থেকে, যাদের দখলে ছিল দূরবর্তী সিরিয়া এবং আর্মেনিয়া অঞ্চল। যখন তাদের কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে জওহর মিশর দখল করেছেন এবং দামেস্ক জয় করেছেন, তখন তারা বিশাল এক সেনাবাহিনী সংগ্রহ করল এবং ৩৬০ হিজরি সালে তাঁর সাথে যুদ্ধ করার জন্য অগ্রসর হলো। যখন তারা দামেস্কে পৌঁছাল, তারা তা দখল করে নিল এবং ফাতেমীয়দের পক্ষ থেকে সেখানকার গভর্নর জাফর ইবনে ফাল্লাহকে হত্যা করল। এরপর তারা রামলা দখল করল এবং কুলজুমে পৌঁছাল। তখন জওহর সতর্ক হলেন এবং তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। তিনি পরিখা খনন করলেন, মজবুত প্রবেশদ্বার নির্মাণ করলেন এবং তাতে 'বুস্তান আল-কাফুরি'র লোহার দরজাগুলো স্থাপন করলেন। তিনি ৩৬০ হিজরিতে বাবুশ শারিয়া সড়কের কাছে একটি সেতু নির্মাণ করেন—যা আমাদের সময় ১৩০০ হিজরি পর্যন্ত অবশিষ্ট ছিল। এরপর তাঁর এবং তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি যুদ্ধ সংঘটিত হয় যেখানে তাদের অনেকে নিহত হয় এবং তারা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। জওহর তাদের আমির আল-আসামের রসদপত্র, নথিপত্র এবং সিন্দুকগুলো দখল করে নেন।

 

‌‌[কায়রো পরিবেষ্টিত পরিখা এবং ইখশিদী বাগান]

কায়রো সেই সময় তিনটি পরিখার মাঝে অবস্থিত ছিল: তার দক্ষিণ দিকে একটি পরিখা ছিল যা আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) খনন করেছিলেন এবং সেটি ইমাম শাফেয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কবরের পূর্ব দিকে অবস্থিত ছিল। দ্বিতীয়টি আল-ইয়াহামিম পরিখা, যার শুরু ছিল আল-জাবাল আল-আহমার (লাল পাহাড়) থেকে যা আল-ইয়াহামিম নামে পরিচিত ছিল। আর পশ্চিম দিকে একটি পরিখা ছিল যা এই ত্রয়োদশ শতাব্দীতে বিদ্যমান খাল (খালিজ)।
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ولما أدار سورها حفر لها الخندق الرابع من بحريها، فصارت بين أربعة خنادق، وأدخل فى السور بستان الإخشيد وميدانه، وجعل دير العظام وقصر الشوك من ضمن القصر الكبير، فكان البستان بين القصر والخليج، وصار الخليج خارجا، وكان البستان كبيرا جدا - وفى محله الآن حارات اليهود وخط الخرنفش، ويمتد إلى شارع النحاسين.

والذى أنشأ هذا البستان الأمير أبو بكر بن محمد بن طغج بن الإخشيد أمير مصر، وكان مطلا على الخليج، واعتنى به، وجعل له أبوابا من حديد، وكان يتردد إليه ويقيم به الأيام، واهتم به بعده أبناؤه: الأمير أبو القاسم أنوجور، والأمير أبو الحسن على أيام إمارتهما بعد أبيهما، ولما استقل بعدهما بإمارة مصر الأستاذ أبو المسك كافور الإخشيدى كان كثيرا ما يتنزه به ويواصل الركوب إلى الميدان الذى به، وكانت خيوله بهذا الميدان، ثم لما آلت مصر للفاطميين صار هذا الميدان منتزها لهم، وكانوا يتوصلون إليه من سراديب مبنية تحت الأرض ينزلون إليها من القصر الكبير، ويسيرون فيها بالدواب إلى البستان ومناظر اللؤلؤة، بحيث لا تراهم الأعين، فلما زالت الدولة الفاطمية حكّر، وتجددت فيه الأبنية سنة إحدى وخمسين وستمائة.

 

‌‌[أبواب القاهرة]

وكان فى السور الذى بناه جوهر عدة أبواب: ففى الجهة البحرية باب النصر القديم - كان بجوار زاوية القاصد، وباب الفتوح القديم، وكان بجوار حارة بين السيارج التى فى خارجه - وكان محل الجامع الحاكمى خارج السور.

وبالجهة القبلية بابان متلاصقان يسميان بابى زويلة، أحدهما بجوار زاوية سام بن نوح المجاورة لسبيل العقادين، والآخر بجواره، وكان أحدهما وهو المجاور للزاوية المذكورة يسمى باب القوس، دخل منه المعز القاهرة عند قدومه، فتيامن الناس به، واستعملوه، وهجروا الباب الآخر، زاعمين أن من مرّ منه لا تقضى له حاجة، وقد زال بالكلية ولم يبق له أثر.

وفى الجهة الشرقية الباب المحروق القديم، وكان دون موضعه الآن، وباب البرقية كان خارج حارة البرقية التى اختطها جماعة من أهل برقة - وهى التى تعرف اليوم بالدراسة، وبقرب موضعه اليوم الباب المعروف بباب الغريب.

وكان لها هناك باب ثالث يغلب على الظن أنه كان بين هذين البابين.

وفى الجهة الغربية باب سعادة - ومحله بجوار الحد القبلى لسراى الأمير منصور باشا بقرب جامع اسكندر الذى هدم وصار محله الميدان الكائن أمام منزل الباشا المذكور - وكان هذا
যখন তিনি এর প্রাচীর বেষ্টন করলেন, তখন এর উত্তর দিকে চতুর্থ পরিখাটি খনন করেন। ফলে এটি চারটি পরিখার মাঝে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। তিনি প্রাচীরের ভেতরে ইখশীদের উদ্যান ও তার ময়দানকে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং দাইরুল ইজাম ও কাসরুশ শাওককে বৃহৎ প্রাসাদের (আল-কাসরুল কাবীর) অন্তর্ভুক্ত করেন। ফলে উদ্যানটি প্রাসাদ ও খলিজের (খালের) মাঝখানে অবস্থিত ছিল এবং খলিজটি প্রাচীরের বাইরে পড়ে যায়। উদ্যানটি ছিল বিশাল বড়—বর্তমানে এর স্থানে ইহুদি পাড়া এবং আল-খুরুনফুশ গলি অবস্থিত এবং তা আন-নাহহাসীন সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত।

এই উদ্যানটি মিসরের আমীর আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তুগজ আল-ইখশীদ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি খলিজ বা খালের দিকে মুখ করা ছিল। তিনি এর বিশেষ যত্ন নেন এবং এতে লোহার দরজা স্থাপন করেন। তিনি সেখানে প্রায়ই যাতায়াত করতেন এবং কয়েক দিন অবস্থান করতেন। তাঁর পরে তাঁর পুত্রদ্বয় আমীর আবু কাসিম আনুজুর এবং আমীর আবুল হাসান আলী তাঁদের শাসনকালে এর প্রতি যত্নবান ছিলেন। তাঁদের পর যখন উস্তাদ আবু আল-মিসক কাফুর আল-ইখশীদী স্বাধীনভাবে মিসর শাসন করেন, তিনি প্রায়ই সেখানে ভ্রমণে যেতেন এবং সেখানে অবস্থিত ময়দান পর্যন্ত নিয়মিত ঘোড়সওয়ারী করতেন। তাঁর ঘোড়াগুলো এই ময়দানেই থাকতো। পরবর্তীতে যখন মিসর ফাতিমীয়দের অধীনে আসে, তখন এই ময়দান তাদের বিহারস্থলে পরিণত হয়। তারা ভূগর্ভস্থ নির্মিত সুড়ঙ্গপথ দিয়ে সেখানে যাতায়াত করত; তারা বৃহৎ প্রাসাদ থেকে সুড়ঙ্গে নামত এবং তাতে পশুর পিঠে চড়ে উদ্যান ও মানাযিরুল লুলুয়াহ (মুক্তার দৃশ্যশালা) পর্যন্ত যেত, যাতে কারো নজরে না পড়ে। ফাতিমীয় সালতানাতের পতনের পর এটি ইজারা দেওয়া হয় এবং ৬৫১ হিজরি সনে এতে নতুন নতুন দালানকোঠা নির্মিত হয়।

 

‌‌[কায়রোর ফটকসমূহ]

জাওহার যে প্রাচীরটি নির্মাণ করেছিলেন তাতে বেশ কয়েকটি ফটক ছিল: উত্তর দিকে ছিল পুরাতন বাবুন নাসর—যা জাওয়িয়াতুল কাসিদের পাশে ছিল, এবং পুরাতন বাবুল ফুতুহ—যা এর বাইরের দিকে অবস্থিত হারাতু বাইনাস সাইয়্যারেজ-এর পাশে ছিল। আর আল-হাকিমী জামে মসজিদটি প্রাচীরের বাইরে অবস্থিত ছিল।

দক্ষিণ দিকে দুটি সংযুক্ত ফটক ছিল যা ‘বাবুল জুওয়াইলা’ নামে পরিচিত ছিল। তার মধ্যে একটি ছিল আক্কাদীন সিবিল সংলগ্ন সাম ইবনে নূহ-এর জাওয়িয়ার পাশে, এবং অন্যটি ছিল তার পাশেই। যার একটিকে ‘বাবুল কাউস’ (ধনুক ফটক) বলা হতো, যা জাওয়িয়াটির পাশেই ছিল। মুয়িজ (ফাতিমীয় খলিফা) কায়রোতে আগমনের সময় এই ফটক দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। ফলে মানুষ এটিকে শুভ মনে করতে শুরু করে এবং তারা এটিই ব্যবহার করত। তারা অন্য ফটকটি পরিত্যাগ করে এই ধারণা থেকে যে, যে ব্যক্তি সেই ফটক দিয়ে যাতায়াত করবে তার কোনো প্রয়োজন পূরণ হবে না। বর্তমানে সেটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং এর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই।

পূর্ব দিকে ছিল পুরাতন বাবুল মাহরুক, যা বর্তমান অবস্থানের চেয়ে কিছুটা নিচে ছিল। আর ছিল বাবুল বারকিয়্যাহ, যা হারাতুল বারকিয়্যাহর বাইরে অবস্থিত ছিল এবং বারকার একদল লোক এটি নির্মাণ করেছিল—যা বর্তমানে আদ-দাররাসা নামে পরিচিত। এর বর্তমান অবস্থানের কাছেই রয়েছে ‘বাবুল গারীব’ নামে পরিচিত ফটকটি।

সেখানে আরও একটি তৃতীয় ফটক ছিল, প্রবল ধারণা করা হয় যে সেটি এই দুই ফটকের মাঝামাঝি স্থানে ছিল।

পশ্চিম দিকে ছিল বাবু সাআদাহ—এর অবস্থান আমীর মনসুর পাশার প্রাসাদের দক্ষিণ সীমানার পাশে ইসকান্দার মসজিদের নিকটবর্তী স্থানে ছিল, যা ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং বর্তমানে উক্ত পাশার বাড়ির সামনের ময়দানটি এর স্থলে অবস্থিত।—এটি ছিল...
(খণ্ড: ১) আল-খুতাতুত তাওফিকিয়াতুল জাদিদাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
الباب على رأس زقاق هدم فى ضمن ما هدم من الأبنية فى إنشاء الميدان المذكور، وكان هذا الزقاق من درب سعادة.

وباب آخر يسمى باب القنطرة لكونه مبنيا فوق القنطرة التى بناها جوهر القائد على الخليج، يمر منه السالك من باب مرجوش إلى باب الشعرية، ثم هدم بعد سنة سبعين ومائتين وألف لخلل قام به.

وكان باب ثالث يعرف بباب الفرج قد زال، وكان بعد حمام المؤيد بجواره.

وباب رابع يعرف بباب الخوخة كان بشارع قبو الزينية، ومحله تجاه جامع الشيخ فرج.

وما بين هذه الحدود كان ثلثمائة وأربعين فدانا، والقصر الكبير الشرقى يشغل من الأرض خمس ذلك.

 

‌‌[برك القاهرة القديمة وبساتينها]

وكان شكل القاهرة إذ ذاك مربعا تقريبا، فكان طولها على الخليج ألف متر ومائتى متر.

وعرضها ألف متر ومائة متر، وطول وجهة القصر الغربية ثلثمائة وخمسة وأربعون مترا باعتبار الفدان أربعة آلاف متر ومائتان من الأمتار المربعة.

وكان الذاهب من الفسطاط إلى عين شمس - أى المطرية - يسير على ساحل النيل القديم ثم يسير بحافة الخليج الشرقية، فتكون عن يمينه بركة الفيل الصغيرة - وهى بركة البغالة - وكان حولها ديور وكنائس وبساتين، تحيط بها المبانى المعروفة بالعسكر - التى هى الآن تلال مرتفعة قبلى بركة البغالة - وبجوارها مبانى جبل يشكر وجبل الكبش، ثم يلى هذه البركة بركة الفيل الكبيرة - الباقى بعضها إلى الآن - وكانت تتصل ببركة الفيل الصغيرة، وتمتد بركة الفيل الكبيرة قرب باب زويلة، ويحدها من جهة الشرق شارع السروجية، وكان بساحلها الشرقى بساتين تمتد إلى الرميلة إلى السيدة نفيسة رضي الله عنها، وتتصل بها بساتين أخرى عند القطائع والفسطاط إلى النيل، ومن جهة الغرب الطريق المار بشرقى الخليج - وهو الطريق المعروف الآن بشارع درب الجماميز - وعلى حافة هذه البركة من هذه الجهة بنى فيما يعد جامع بشتاك وغيره من المبانى وغيرها.

ومن الجهة القبلية الجسر الأعظم، وهو الطريق المار تحت قلعة الكبش الموصل من الصليبة إلى خط السيدة زينب رضي الله عنها، ويحدها من الجهة البحرية الشارع المعروف بشارع تحت الربع.

وكان السالك على حافة هذه البركة من الجهة الغربية فى طول الخليج يشاهد فى غربى الخليج المذكور بحر النيل، وبينه وبين الخليج بساتين الزهرى على ضفته الغربية ممتدة إلى قنطرة
উল্লিখিত ময়দান নির্মাণের সময় যেসব দালানকোঠা ভেঙে ফেলা হয়েছিল, এই প্রবেশদ্বারটি সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত একটি গলির মাথায় অবস্থিত ছিল এবং এই গলিটি ছিল দরবে সাআদার অংশ।

আরেকটি প্রবেশদ্বার ‘বাবুল কান্তারা’ নামে পরিচিত, কারণ এটি সেনাপতি জাওহার কর্তৃক খলিজের (খালের) উপর নির্মিত একটি সেতুর উপর তৈরি করা হয়েছিল। পথিকরা এই পথ দিয়ে বাবু মারজুশ থেকে বাবুশ শারইয়্যাহ পর্যন্ত যাতায়াত করত। পরবর্তীকালে ১২৭০ হিজরি সালের পর এর কাঠামোগত ত্রুটির কারণে এটি ভেঙে ফেলা হয়।

‘বাবুল ফারাজ’ নামে পরিচিত তৃতীয় একটি প্রবেশদ্বার ছিল যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এটি মুআইয়াদ হাম্মামের পাশেই অবস্থিত ছিল।

‘বাবুল খাওখা’ নামে পরিচিত চতুর্থ একটি প্রবেশদ্বার ছিল কাবুয যাইনিয়্যাহ সড়কে, যা শায়খ ফারাজ জামে মসজিদের বিপরীতে অবস্থিত ছিল।

এই সীমানাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানের পরিমাণ ছিল তিনশত চল্লিশ ফেদ্দান (বিঘা বিশেষ), যার পাঁচ ভাগের এক ভাগ জুড়ে ছিল আল-কাসরুল কাবির আশ-শারকি (বৃহৎ পূর্ব প্রাসাদ)।

 

‌‌[প্রাচীন কায়রোর জলাশয় ও উদ্যানসমূহ]

তৎকালীন কায়রোর আকৃতি ছিল প্রায় চতুর্ভুজাকার। খালের পাড় ধরে এর দৈর্ঘ্য ছিল এক হাজার দুইশত মিটার।

এর প্রস্থ ছিল এক হাজার একশত মিটার এবং প্রাসাদের পশ্চিম দিকের দৈর্ঘ্য ছিল তিনশত পঁয়তাল্লিশ মিটার। এখানে প্রতি ফেদ্দান চার হাজার দুইশত বর্গমিটার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

ফুস্তাত থেকে আইন শামস—অর্থাৎ মাতারিয়্যাহর—উদ্দেশ্যে যাত্রাকারীরা প্রথমে প্রাচীন নীল নদের তীর ধরে চলত, এরপর খলিজের (খালের) পূর্ব পাড় দিয়ে অগ্রসর হতো। তখন তার ডান পাশে ছোট ‘বিরাকাতুল ফিল’—যা ‘বিরাকাতুল বাগালাহ’ নামেও পরিচিত—অবস্থিত ছিল। এর চারপাশে ছিল মঠ, গির্জা ও উদ্যান। আর এগুলো ‘আসকার’ নামে পরিচিত দালানকোঠা দ্বারা বেষ্টিত ছিল—যা বর্তমানে বিরাকাতুল বাগালাহর দক্ষিণ দিকে উঁচু টিলা হিসেবে বিদ্যমান। এর পাশেই জাবালে ইয়াশকুর এবং জাবালে কাবশের অট্টালিকাগুলো অবস্থিত ছিল। এই জলাশয়ের পরেই ছিল বড় ‘বিরাকাতুল ফিল’—যার কিছু অংশ আজও টিকে আছে। এটি ছোট বিরাকাতুল ফিলের সাথে যুক্ত ছিল। বড় বিরাকাতুল ফিল বাবু যুওয়াইলা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং এর পূর্ব দিকে সারুজিয়্যাহ সড়ক অবস্থিত ছিল। এর পূর্ব তটে রুমানিয়া থেকে শুরু করে সায়্যিদা নাফিসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) পর্যন্ত বিস্তৃত উদ্যানসমূহ ছিল এবং এগুলো কাতায়ে ও ফুস্তাত হয়ে নীল নদ পর্যন্ত বিস্তৃত অন্যান্য উদ্যানগুলোর সাথে যুক্ত ছিল। পশ্চিম দিকে ছিল খলিজের পূর্ব পাশ দিয়ে চলে যাওয়া পথ—যা বর্তমানে ‘দর্পে জামামিজ’ সড়ক নামে পরিচিত। এই জলাশয়ের তটে এই দিকটিতেই পরবর্তীকালে বাশতাক জামে মসজিদসহ আরও বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনা নির্মিত হয়েছিল।

এর দক্ষিণ দিকে ছিল ‘জিসরে আযম’ বা মহাপোল, যা কালাতুল কাবশের নিচ দিয়ে সালিবা থেকে সায়্যিদা যায়নব (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। আর এর উত্তর দিকে ছিল ‘তাহতুর রাব’ নামে পরিচিত সড়কটি।

এই জলাশয়ের পশ্চিম পাড় দিয়ে খালের দৈর্ঘ্য বরাবর চলাচলকারী ব্যক্তি খালের পশ্চিম দিকে নীল নদ দেখতে পেতেন। নীল নদ এবং খালের মধ্যবর্তী স্থানে এর পশ্চিম তীরে যুহরি উদ্যানসমূহ অবস্থিত ছিল, যা সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।