(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: -)
الاستدلال في التفسير دراسة في منهج الطبري   (نايف الزهراني)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الاستدلال في التفسير

دراسة في منهج ابن جرير الطبري في الاستدلال على المعاني في التفسير

المؤلف: نايف بن سعيد بن جمعان الزهراني

أصل الكتاب: أطروحة دكتوراه، قسم الكتاب والسُّنة، بكلية أصول الدين، بجامعة أم القرى، بمكة المكرمة، 1434 هـ

الناشر: مركر تفسير للدراسات القرآنية، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1436 هـ - 2015 م

عدد الصفحات: 678

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 رمضان 1445

তফসীরে ইস্তিদলাল (দলীল উপস্থাপন): তাবারীর মানহাজের ওপর একটি গবেষণা   (নায়েফ আল-যাহরানী)

বিভাগ: কুরআন উলুম এবং উসূলে তাফসীর


বই: তফসীরে ইস্তিদলাল (দলীল উপস্থাপন)

তফসীরের অর্থ নির্ণয়ে ইবনে জারীর আল-তাবারীর দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতির ওপর একটি গবেষণা

লেখক: নায়েফ বিন সাঈদ বিন জামআন আল-যাহরানী

মূল গ্রন্থ: পিএইচডি থিসিস, কিতাব ও সুন্নাহ বিভাগ, উসূলুদ্দীন অনুষদ, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কা মুকাররমা, ১৪৩৪ হিজরী

প্রকাশক: তাফসীর সেন্টার ফর কুরআনিক স্টাডিজ, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৬ হিজরী - ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ রমজান ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المُقدِّمةُ

الحمدُ لله ربِّ العالمين، والصَّلاةُ والسَّلامُ على نبيِّنا محمد، وعلى آلِه وصحبِه، ومَن تَبِعهم بإحسانٍ إلى يومِ الدّينِ، وسلَّمَ تسليماً كثيراً أمّا بعد:

فلمّا كانَ علمُ التَّفسيرِ في المحلِّ الأعلى مِنْ العلومِ؛ إذْ شرفُ العلمِ بشرفِ المعلومِ، وكانَت مناهجُ النَّظرِ فيه، والاستدلالِ لمعانيه، مِنْ أجلِّ مباحثِ أصولِه، ومعاقدِ فُصولِه؛ إذْ عيارُ العلمِ في كلِّ علمٍ: «تَفهيمُ طُرقِ الفِكرِ والنَّظرِ»(1) = كانَت هذه الدِّراسةُ الجامعةُ بين: أجلِّ العلومِ: (علمِ التَّفسيرِ)، وأهمِّ المباحثِ في أبوابِ العلومِ: (منهجِ النَّظرِ والاستدلالِ).

وقد أدركَ العلماءُ مِنْ أوَّلِ تاريخِ هذا العلمِ، أنَّ علمَ التَّفسيرِ قائمٌ على نظريَّةٍ جليَّةٍ، وثوابتَ مُطَّردةٍ، كانَت حاضرةً ماثلةً في أقوالِ أئمَّتِه ومُصنَّفاتِهم، يُدركُ ذلك مَنْ طالعَ هذا العلمَ بسُكونِ طائرٍ، وخَفضِ جناحٍ، وليس أجلَّ مِنْ العلمِ إلا أن نعلمَ كيف كانَ عُلماؤُنا رحمهم الله يَبنون هذا العلمَ(2)، وإنَّ في مَكنونِ عباراتِهم، ومُخبّئاتِ كُتبِهم، ما

--------------------------------------------

(1) معيار العلم، للغزالي (ص: 59).

(2) مدخلٌ إلى كتابَيْ عبد القاهر الجُرجاني (ص: 3، 4).
ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর; আর তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক অবারিত শান্তি। অতঃপর:

যেহেতু তাফসীর শাস্ত্র ইলমের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী; কেননা বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমেই জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয়। আর যেহেতু এতে পর্যালোচনার পদ্ধতি এবং এর অর্থসমূহের স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হলো এর মূলনীতির মহানতম গবেষণা এবং এর পরিচ্ছেদসমূহের সারবস্তু; কারণ প্রতিটি শাস্ত্রে ইলমের মানদণ্ড হলো: «চিন্তা ও পর্যালোচনার পদ্ধতিসমূহ অনুধাবন করানো»(১) = তাই এই অধ্যয়নটি মহানতম ইলম: (তাফসীর শাস্ত্র) এবং জ্ঞানরাজ্যের অধ্যায়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: (পর্যালোচনা ও প্রমাণ উপস্থাপনের পদ্ধতি)-এর মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছে।

এই শাস্ত্রের ইতিহাসের শুরু থেকেই উলামায়ে কিরাম উপলব্ধি করেছিলেন যে, তাফসীর শাস্ত্র একটি সুস্পষ্ট তত্ত্ব এবং ধারাবাহিক সুনিশ্চিত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা এই শাস্ত্রের ইমামগণের বক্তব্য ও তাঁদের গ্রন্থাবলির মধ্যে সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান ছিল। যে ব্যক্তি একাগ্রচিত্তে ও বিনয়ের সাথে এই শাস্ত্র পাঠ করবে, সে তা উপলব্ধি করতে পারবে। আমাদের উলামায়ে কিরাম (রাহিমাহুমুল্লাহ) কীভাবে এই শাস্ত্রটি নির্মাণ করেছিলেন তা জানার চেয়ে বড় জ্ঞান আর নেই(২)। নিশ্চয়ই তাঁদের বাণীর গভীরতায় এবং তাঁদের কিতাবসমূহের নিভৃত ভাঁজে এমন কিছু রয়েছে যা...

--------------------------------------------

(১) মিয়ারুল ইলম, গাযালী (পৃষ্ঠা: ৫৯)।

(২) মাদখাল ইলা কিতাবাই আবদিল কাহির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৩, ৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ৬)
يستوجبُ قراءةً تأصيليّةً تُبرزُ ذلك الرِّباطَ الذي يشُدُّه، والنِّظامَ الذي سارَ عليه.

وفي سبيلِ ذلك قصدتُ إلى هذه الدِّراسةِ التي تبحثُ (أدلَّةَ المعاني في التَّفسيرِ)، وتُبرزُ (منهجَ الاستدلالِ بها) في تراثِ أئِمَّتِنا، إذْ لم تكُن تلك القضايا غائبةً فيما دوَّنوه في هذا العلمِ؛ فقد اجتهدَ علماءُ التَّفسيرِ في بيانِ معاني الآياتِ وتحقيقِها غايةَ الاجتهادِ، وعُنوا -في سبيلِ ذلك- بتحديدِ أدلَّةِ تلك المعاني، وطرائق الاستدلالِ بها على الصَّوابِ، وكثُرَ ذلك مِنهم كثرةً ظاهرةً؛ حتّى غدَت كُتبُ التَّفسيرِ ما بين اختيارٍ لمَعنىً، ودليلٍ على ذلك الاختيارِ، ولا يكادُ يخرجُ موضوعُها عن ذلك.

ومع انتشارِ تلك المباحثِ في كتبِ التَّفسيرِ نظريّةً وتطبيقاً، واشتراكِ أئمَّةِ المُفسّرين في منهجٍ عامٍّ يحتكمون إليه في ذلك؛ إلا أنّي لم أجِدْ كتابةً مُفردةً تُجلّي تلك الأدلَّةَ بلا التباسٍ، وتُحدِّدُ ذلك المنهجَ العامَّ في الاستدلالِ بها على المعاني، وتُبيّنُ فيه الأصولَ الضّابطةَ، والقواعدَ الحاكمةَ، والمُقدَّمَ مِنْ الأدلَّةِ والمُؤَخَّر، والمُعتبرَ مِنها وغيرَ المُعتبر.

وبذلك تتبيَّنُ القيمةُ العلميَّةُ لهذه الدِّراسةِ، والتي أرجو أن أوَفَّقَ لبحثِها مِنْ خلالِ كتابٍ مِنْ أجلِّ كتبِ التَّفسيرِ وأشهرِها، وأعظمِها أثراً في هذا العلمِ، وهو تفسيرُ: «جامعِ البيانِ عن تأويلِ آيِ القرآن» لأبي جعفرَ محمد بن جريرٍ الطَّبريّ (ت: 310) رحمه الله، والذي جمعَ فيه مؤَلِّفُه أقوالَ مفسِّري السَّلفِ بأسانيدِها، ودرسَ مُتُونَها دراسةً تفسيريَّةً نقديَّةً شاملةً؛ فميَّزَ الأقوالَ، وبيَّنها، ورجَّحَ ما اختارَه مِنها، مع ذكرِ وجهِ ترجيحِه، ومأخَذِ اختيارِه بالتَّفصيلِ والدَّليلِ، وصارَ هذا الاستدلالُ والتَّرجيحُ مِنْ أعظمِ ما يُميِّزُ هذا الكتابَ عن غيرِه.
এটি এমন এক মৌলিক পাঠ দাবি করে, যা একে সুসংবদ্ধকারী বন্ধন এবং এটি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছে তাকে ফুটিয়ে তুলবে।

সেই উদ্দেশ্যেই আমি এই গবেষণার সংকল্প করেছি যা (তাফসীরের অর্থগত প্রমাণাদি) নিয়ে আলোচনা করে এবং আমাদের ইমামগণের ঐতিহ্যে (সেগুলোর মাধ্যমে দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি) ফুটিয়ে তোলে। কেননা এই ইলমে তারা যা সংকলন করেছেন, তাতে এই বিষয়গুলো অনুপস্থিত ছিল না। তাফসীরবিদগণ আয়াতের অর্থ বর্ণনা এবং তা নিরূপণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। সেই লক্ষ্যে তাঁরা সেই সকল অর্থের প্রমাণাদি নির্ধারণ এবং সঠিক অর্থ উদ্ঘাটনে দলীল পেশের পদ্ধতির প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁদের মাঝে এর ব্যাপক প্রচলন ছিল, এমনকি তাফসীর গ্রন্থগুলো কোনো একটি অর্থ নির্বাচন এবং সেই নির্বাচনের স্বপক্ষে দলীল প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে; এগুলোর মূল বিষয়বস্তু এর বাইরে খুব একটা যায় না।

তাফসীর গ্রন্থগুলোতে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় দিক থেকে এই সকল আলোচনার বিস্তার এবং মুফাসসির ইমামগণের একটি সাধারণ পদ্ধতির ওপর একমত হওয়া সত্ত্বেও—যার দিকে তাঁরা প্রত্যাবর্তন করতেন—আমি এমন কোনো স্বতন্ত্র রচনা খুঁজে পাইনি যা কোনো প্রকার অস্পষ্টতা ছাড়াই সেই সকল প্রমাণাদিকে স্পষ্ট করে, অর্থ নির্ধারণে সেগুলোর মাধ্যমে দলীল পেশের সাধারণ পদ্ধতিকে নির্দিষ্ট করে এবং তাতে নিয়ন্ত্রক মূলনীতি, শাসনকারী নিয়মাবলি, প্রমাণাদির অগ্রাধিকার ও অনুগামিতা এবং গ্রহণযোগ্য ও অগ্রহণযোগ্য বিষয়গুলো বর্ণনা করে।

এর মাধ্যমেই এই গবেষণার তাত্ত্বিক মূল্য ফুটে ওঠে। আমি আশা করি, তাফসীর শাস্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ, প্রসিদ্ধ এবং সর্বাধিক প্রভাবশালী একটি গ্রন্থের মাধ্যমে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার তাওফীক লাভ করব; আর সেটি হলো আবু জাফর মুহাম্মদ বিন জারীর আত-তাবারী (মৃত্যু: ৩১০ হিজরি) রহ.-এর তাফসীর: ‘জামেউল বায়ান আন তাউীলে আইল কুরআন’। এতে লেখক সালাফ মুফাসসিরগণের বক্তব্যসমূহ সনদসহ সংকলন করেছেন এবং সেগুলোর মূল পাঠ নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমালোচনামূলক তাফসীরভিত্তিক পর্যালোচনা করেছেন। ফলে তিনি বিভিন্ন মতের মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন, সেগুলো ব্যাখ্যা করেছেন এবং নিজের নির্বাচিত মতের স্বপক্ষে বিস্তারিত কারণ ও দলীলসহ সেটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এই দলীল উপস্থাপন ও অগ্রাধিকার প্রদানই গ্রন্থটিকে অন্যান্য গ্রন্থ থেকে পৃথককারী অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ৭)
وقد اشتهرَ في النّاسِ إمامةُ مؤلِّفِه، وتمَكُّنُه واجتهادُه في سائرِ العلومِ، فلا غروَ أن صارَ تفسيرُه أصلاً لعَامَّةِ مَنْ بعده؛ نقلاً، وشرحاً، وتهذيباً، واستدراكاً.

فمن ثَمَّ استعنتُ بالله تعالى، وبعد استخارةٍ واستشارةٍ وتأمُّلٍ، عزمتُ على دراسةٍ علميَّةٍ لهذا الموضوعِ تجمعُ بين:

• جلالةِ علمِ (الاستدلالِ) بين موضوعاتِ أصولِ التَّفسيرِ.

• ومكانةِ تفسيرِ «جامعِ البيانِ عن تأويلِ آيِ القرآن» بين كتبِ التَّفسيرِ.

• وإمامةِ مؤلِّفِه محمد بن جريرٍ الطَّبريِّ رحمه الله بين المفسِّرين.

وذلك تحت عُنوان:

 

‌‌منهجُ ابنِ جريرٍ الطَّبريِّ في الاستدلالِ على المعاني في التَّفسيرِ

وتتلخَّصُ أهدافُ هذه الدِّراسةِ في ما يأتي:

أولاً: إبرازُ بابٍ جليلٍ مِنْ أبوابِ أصولِ التَّفسيرِ هو: بابُ الاستدلالِ؛ وتحريرُ موضوعاتِه ومسائِلِه.

ثانياً: المشاركةُ في إظهارِ نوعٍ مهمٍّ مِنْ أنواعِ المعارفِ التَّفسيريَّةِ التي تميَّز بها ابنُ جريرٍ (ت: 310) في تفسيرِه.

ثالثاً: تحديدُ منهجيَّةٍ علميَّةٍ معتبَرةٍ في الاستدلالِ على المعاني القرآنيَّةِ؛ تضبطُ أصولَه، وتبيّنُ معالمَه.

رابعاً: تمييزُ أنواعِ الأدلَّةِ على المعاني في التَّفسيرِ، وتحديدُ ما
মানুষের মাঝে এর লেখকের ইমামত (নেতৃত্ব ও পাণ্ডিত্য), এবং সমস্ত বিদ্যায় তাঁর পারদর্শিতা ও ইজতিহাদ সুপ্রসিদ্ধ। সুতরাং এতে বিস্ময়ের কিছু নেই যে, তাঁর তাফসিরটি তাঁর পরবর্তী সাধারণ সবার জন্য উদ্ধৃতি, ব্যাখ্যা, পরিমার্জন ও ইস্তিদরাকের (সংশোধন বা সংযোজন) ক্ষেত্রে একটি মূল উৎসে পরিণত হয়েছে।

তাই আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এবং ইস্তিখারা, পরামর্শ ও গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনার পর এই বিষয়ের ওপর একটি জ্ঞানগর্ভ গবেষণার সংকল্প করেছি যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় ঘটাবে:

• উসুলুত তাফসির বা তাফসিরের মূলনীতিসমূহের বিষয়াবলির মধ্যে ‘ইস্তিদলাল’ (দলিল উপস্থাপন) বিদ্যার মহিমা।

• তাফসিরের গ্রন্থসমূহের মধ্যে ‘জামি উল-বায়ান আন তাউইলি আইল-কুরআন’-এর মর্যাদা।

• মুফাসসিরদের মধ্যে এর লেখক মুহাম্মদ ইবনে জারির আত-তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ইমামত ও শ্রেষ্ঠত্ব।

আর তা এই শিরোনামের অধীনে:

 

‌‌তাফসিরে অর্থ নির্ধারণে দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ইবনে জারির আত-তাবারীর পদ্ধতি

এই গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো:

প্রথমত: উসুলুত তাফসিরের একটি মহান অধ্যায় তথা ‘ইস্তিদলাল’ (দলিল উপস্থাপন) অধ্যায়কে ফুটিয়ে তোলা এবং এর বিষয়বস্তু ও মাসআলাসমূহকে সুসংজ্ঞায়িত করা।

দ্বিতীয়ত: তাফসির সংক্রান্ত জ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকারকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে অবদান রাখা, যে বৈশিষ্ট্যে ইবনে জারির (মৃত্যু: ৩১০ হি.) তাঁর তাফসিরে অনন্য ছিলেন।

তৃতীয়ত: কুরআনের অর্থ নির্ধারণে দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক মানহাজ (পদ্ধতি) নির্ধারণ করা; যা এর মূলনীতিগুলোকে সুসংবদ্ধ করবে এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহকে স্পষ্ট করবে।

চতুর্থত: তাফসিরে অর্থের স্বপক্ষে দলিলের প্রকারভেদসমূহকে পৃথক করা এবং তা নির্ধারণ করা যা...
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ৮)
يصحُّ مِنها وما لا يصحُّ، وما يُقَدَّم مِنها وما يؤخَّرُ، مع تعليل كُلِّ ذلك مِنْ خلالِ منهجِ ابنِ جريرٍ (ت: 310) فيه.

خامساً: إيضاحُ مواضعَ الاستدلالِ في علمِ التَّفسيرِ، ومتى يُحتاجُ إليه، وبيانُ مناسبةِ الأدلَّةِ لأنواعِ المعلومات المُستَدَلِّ لها.

سادساً: تصنيفُ الأدلَّةِ على مراتبَ ومجموعاتٍ بحسبِ استعمالاتِها، وقوَّتِها وضعفِها.

سابعاً: تحديدُ وجوهِ الاستدلالاتِ المردودةِ؛ الباطلةِ والضَّعيفةِ؛ مِنْ خلالِ أقوالِ ابنِ جريرٍ (ت: 310) وتطبيقاتِه التَّفسيريَّةِ.

ثامناً: بيانُ الموقفِ السَّليمِ والخُطواتِ العلميَّةِ عند التَّعارضِ بين الأدلَّة، ومنهجِ ابنِ جريرٍ (ت: 310) في التَّرجيحِ بينها.

تاسعاً: تحريرُ أصولٍ للتَّفسيرِ مُستَفَادَةٍ مِنْ أقوالِ أئمَّةِ التَّفسيرِ وتطبيقاتِهم، وهذا أَوْلى طريقٍ يُسلَكُ لذلك، كما يُستعانُ في تحريرِ تلك الأصولِ بكتبِ العلومِ الأُخرى المُقاربةِ لهذا العلمِ في جُملةٍ مِنْ أبوابِها ومباحثِها؛ كعلمِ أصولِ الفقهِ، واللُّغةِ ونحوِها.

ومِن خلالِ الخُطَّةِ الآتيةِ أرجو أن يُحقِّقَ البحثُ تلك الأهدافَ السّابقةَ.

 

*‌‌ خُطَّةُ البَحث:

يتكونُ البحثُ مِنْ مُقدِّمةٍ، وتمهيدٍ، وثلاثةِ أبوابٍ، وخاتمةٍ، وفهارسَ، على النَّحوِ الآتي:
সেগুলোর মধ্য থেকে কোনটি সঠিক এবং কোনটি সঠিক নয়, এবং সেগুলোর কোনটি অগ্রাধিকারযোগ্য এবং কোনটি পিছিয়ে দেওয়ার যোগ্য—ইবন জারীর (ওফাত: ৩১০ হিজরি)-এর মানহাজ বা পদ্ধতির আলোকে সেগুলোর কারণ ব্যাখ্যা করা।

পঞ্চম: তাফসির শাস্ত্রে দলীল পেশ করার ক্ষেত্রসমূহ স্পষ্ট করা, কখন এর প্রয়োজন হয় তা জানানো এবং যে সকল বিষয়ের স্বপক্ষে দলীল পেশ করা হচ্ছে, সেগুলোর সাথে দলীলের সামঞ্জস্য ব্যাখ্যা করা।

ষষ্ঠ: দলীলাদি তাদের ব্যবহার, সবলতা ও দুর্বলতা অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর ও শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা।

সপ্তম: ইবন জারীর (ওফাত: ৩১০ হিজরি)-এর বক্তব্য ও তাঁর তাফসিরী প্রয়োগের আলোকে প্রত্যাখ্যাত, বাতিল ও দুর্বল দলীলসমূহ নির্দিষ্ট করা।

অষ্টম: দলীলসমূহের মাঝে বৈপরীত্য দেখা দিলে সঠিক অবস্থান ও তাত্ত্বিক পদক্ষেপসমূহ বর্ণনা করা এবং দলীলসমূহের মধ্যে একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ইবন জারীর (ওফাত: ৩১০ হিজরি)-এর পদ্ধতি স্পষ্ট করা।

নবম: তাফসিরের ইমামগণের বক্তব্য ও প্রয়োগ থেকে গৃহীত তাফসিরের মূলনীতিসমূহ সংকলন করা; আর এটিই হলো তাফসিরের মূলনীতি নির্ধারণের শ্রেষ্ঠতম পথ। সেই সাথে এই মূলনীতিসমূহ সংকলনের ক্ষেত্রে এ শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শাস্ত্রের কিতাবসমূহের সাহায্য গ্রহণ করা—যেগুলোর বহু অধ্যায় ও আলোচনা এ শাস্ত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ; যেমন: উসূলুল ফিকহ, ভাষাবিজ্ঞান ও অনুরূপ অন্যান্য শাস্ত্র।

নিম্নে বর্ণিত পরিকল্পনার মাধ্যমে আমি আশা করি যে, এই গবেষণাটি উল্লেখিত লক্ষ্যসমূহ অর্জনে সক্ষম হবে।

 

*‌‌ গবেষণার পরিকল্পনা:

গবেষণাটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, তিনটি মূল অধ্যায়, উপসংহার এবং নির্ঘণ্টের সমন্বয়ে গঠিত, যা নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ৯)
• المُقدِّمةُ:

وتشتملُ على أهميَّةِ الموضوعِ، وأسبابِ اختيارِه، وخطَّةِ البحثِ، والمنهجِ المُتَّبعِ فيه.

• التَّمهيدُ: التَّعريفُ بمفرداتِ العُنوانِ.

ويشتملُ على مبحثَيْن:

o المبحثُ الأوَّلُ: التَّعريفُ بمفرداتِ البحثِ.

وفيه سِتَّةُ مَطَالِب:

المطلبُ الأوَّلُ: التَّعريفُ ب (المنهجِ).

المطلبُ الثّاني: التَّعريفُ ب (الاستدلالِ).

المطلبُ الثّالثُ: التَّعريفُ ب (التَّفسيرِ).

المطلبُ الرّابعُ: التَّعريفُ ب (ابنِ جريرٍ الطَّبريِّ).

المطلبُ الخامسُ: التَّعريفُ بتفسيرِ (جامعِ البيانِ عن تأويلِ آيِ القرآنِ).

المطلبُ السّادسُ: المرادُ ب (منهجِ ابنِ جريرٍ في الاستدلالِ على المعاني).

o المبحثُ الثّاني: «الاستدلالُ على المعاني» في علمِ التَّفسيرِ.

وفيه ثلاثةُ مطالب:

المطلبُ الأوَّلُ: نشأةُ الاستدلالِ على المعاني في التَّفسيرِ.

المطلبُ الثّاني: مكانةُ الاستدلالِ على المعاني في التَّفسيرِ.

المطلبُ الثّالثُ: مصادرُ أدلَّةِ المعاني في التَّفسيرِ.
• ভূমিকা:

এবং এতে বিষয়ের গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণসমূহ, গবেষণা পরিকল্পনা এবং এতে অনুসৃত পদ্ধতির আলোচনা রয়েছে।

• প্রস্তাবনা: শিরোনামের শব্দাবলির পরিচয়।

এবং এটি দুটি পরিচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত:

o প্রথম পরিচ্ছেদ: গবেষণার শব্দাবলির পরিচয়।

এতে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: (মানহাজ বা পদ্ধতি)-এর পরিচয়।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: (ইস্তিদলাল বা দলীল পেশ)-এর পরিচয়।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: (তাফসীর)-এর পরিচয়।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: (ইবনে জারীর তাবারী)-এর পরিচয়।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: (জামিঊল বায়ান আন তাউবীলি আয়িল কুরআন) নামক তাফসীর গ্রন্থের পরিচয়।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: (অর্থের স্বপক্ষে দলীল পেশ করার ক্ষেত্রে ইবনে জারীর-এর পদ্ধতি) দ্বারা যা উদ্দেশ্য।

o দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাফসীর শাস্ত্রে «অর্থের স্বপক্ষে দলীল পেশ করা»।

এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাফসীরে অর্থের স্বপক্ষে দলীল পেশ করার উৎপত্তি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাফসীরে অর্থের স্বপক্ষে দলীল পেশ করার গুরুত্ব।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাফসীরে অর্থের স্বপক্ষে দলীলসমূহের উৎস।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ১০)
• البابُ الأوَّلُ: أدلَّةُ المعاني عند ابنِ جريرٍ في تفسيرِه.

ويشتملُ على فصلَيْن:

الفصلُ الأوَّلُ: عنايةُ ابنِ جريرٍ بالاستدلالِ على المعَاني في التَّفسيرِ.

وفيه ثلاثةُ مباحث:

o المبحثُ الأوَّلُ: أقسامُ المعاني القرآنيَّةِ. وهي على قسمين:

القسمُ الأوَّلُ: معاني المفردات.

القسمُ الثّاني: معاني التَّراكيب.

o المبحثُ الثّاني: أنواعُ الاستدلالِ على المعاني في التَّفسيرِ. وهي على ثلاثةِ أنواعٍ:

النَّوعُ الأوَّلُ: الاستدلالُ لإثباتِ المعاني وتصحيحِها.

النَّوعُ الثّاني: الاستدلالُ للتَّرجيحِ بين المعاني المقبولةِ.

النَّوعُ الثّالثُ: الاستدلالُ لنفي المعاني وإبطالِها.

o المبحثُ الثّالثُ: أثرُ منهجِ ابنِ جريرٍ النَّقديِّ في إبرازِ أدلَّةِ المعاني ووجوهِ الاستدلالِ بها في تفسيرِه.

الفصلُ الثّاني: تفصيلُ أَدِلَّة المعاني عند ابنِ جريرٍ في تفسيرِه.

وفيه مبحثان:

o المبحثُ الأوَّلُ: أصولُ أدِلَّةِ المعاني التَّفسيريَّةِ عند ابنِ جرير.

وفيه ثلاثةُ مطالب:

المطلبُ الأوَّلُ: العباراتُ التي أورَدها ابنُ جريرٍ في التَّعبيرِ عن أصولِ أدلَّةِ المعاني.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে জারীরের তাফসিরে অর্থের দলীলসমূহ।

এবং এটি দুটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম অধ্যায়: তাফসিরে অর্থের পক্ষে দলীল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ইবনে জারীরের গুরুত্ব।

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

o প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনের অর্থের প্রকারভেদ। তা দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: একক শব্দসমূহের অর্থ।

দ্বিতীয় প্রকার: বাক্য গঠনগত অর্থ।

o দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাফসিরে অর্থের পক্ষে দলীল প্রদানের প্রকারসমূহ। তা তিন প্রকার:

প্রথম প্রকার: অর্থসমূহ সাব্যস্তকরণ এবং তা সঠিক প্রমাণের জন্য দলীল প্রদান।

দ্বিতীয় প্রকার: গ্রহণযোগ্য অর্থসমূহের মধ্যে প্রাধান্য নির্ধারণের জন্য দলীল প্রদান।

তৃতীয় প্রকার: অর্থসমূহ নাকচ এবং বাতিল করার জন্য দলীল প্রদান।

o তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে জারীরের সমালোচনামূলক পদ্ধতির প্রভাব—তার তাফসিরে অর্থের দলীলসমূহ এবং তা থেকে দলীল গ্রহণের পদ্ধতিগুলো ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: ইবনে জারীরের তাফসিরে অর্থের দলীলসমূহের বিস্তারিত আলোচনা।

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

o প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে জারীরের নিকট তাফসির সংক্রান্ত অর্থের দলীলসমূহের মূলনীতি।

এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: অর্থের দলীলসমূহের মূলনীতি ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে ইবনে জারীর যে সকল শব্দসমষ্টি ব্যবহার করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ১১)
المطلبُ الثّاني: الأصولُ الكُلِّيَّةُ لأدِلَّةِ المعاني عند ابنِ جريرٍ في تفسيرِه.

المطلبُ الثَّالثُ: المكانَةُ العلميَّةُ لأصولُ أدِلَّةِ المعاني التَّفسيريَّةِ.

o المبحثُ الثّاني: حصرُ الأدِلَّةِ المعتَبَرَةِ للمعاني التَّفسيريَّةِ عند ابنِ جريرٍ.

وفيه مطلبان:

المطلبُ الأوَّلُ: أنواعُ الأدلَّةِ النَّقليَّةِ.

المطلبُ الثّاني: أنواعُ الأدلَّةِ العقليَّةِ.

 

• البابُ الثّاني: بيانُ منهجِ ابنِ جريرٍ في الاستدلالِ على المعاني في تفسيرِه.

ويشتملُ على فصلَيْن:

الفصلُ الأوَّلُ: منهجُ ابنِ جريرٍ في الاستدلالِ على المعَاني في تفسيرِه إجمالاً.

وفيه مبحثان:

o المبحثُ الأوَّلُ: قواعِدُ في منهجِ الاستدلالِ على المعاني عند ابنِ جريرٍ.

وهي اثنتا عشرَةَ قاعِدَة، على النَّحوِ الآتي:

القاعدةُ الأولى: غيرُ جائزٍ الكلامُ في كتابِ الله بغيرِ دَليلٍ.

القاعدةُ الثّانيةُ: كلُّ قولٍ لا بُرهانَ على صِحَّتِهِ واضِحٌ خَطَأُه.

القاعدةُ الثّالثةُ: كلُّ قولٍ لا دليلَ عليه فدعوى لا تتعذَّرُ على أحدٍ.
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: ইবনে জারীরের তাফসীরে অর্থগত দলীলসমূহের সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: তাফসীরী অর্থের দলীলের মূলনীতিসমূহের ইলমী মর্যাদা।

o দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইবনে জারীরের নিকট তাফসীরী অর্থের নির্ভরযোগ্য দলীলসমূহের পরিবেষ্টন।

এতে দুটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: নকলী (শ্রুতিনির্ভর) দলীলসমূহের প্রকারভেদ।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: আকলী (যুক্তিভিত্তিক) দলীলসমূহের প্রকারভেদ।

 

• দ্বিতীয় অধ্যায়: ইবনে জারীরের তাফসীরে অর্থের স্বপক্ষে দলীল পেশ করার পদ্ধতির বর্ণনা।

এটি দুটি পরিচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে জারীরের তাফসীরে অর্থের স্বপক্ষে দলীল পেশ করার সামগ্রিক পদ্ধতি।

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

o প্রথম অনুচ্ছেদ: ইবনে জারীরের নিকট অর্থের স্বপক্ষে দলীল পেশ করার পদ্ধতি সংক্রান্ত মূলনীতিসমূহ।

তা বারোটি মূলনীতি, যা নিম্নরূপ:

প্রথম মূলনীতি: দলীল ছাড়া আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে কথা বলা বৈধ নয়।

দ্বিতীয় মূলনীতি: প্রতিটি কথা যার সঠিকতার কোনো প্রমাণ নেই, তার ভুল হওয়া সুস্পষ্ট।

তৃতীয় মূলনীতি: প্রতিটি কথা যার কোনো দলীল নেই, তা একটি নিছক দাবি যা পেশ করা কারো জন্যই অসম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ১২)
القاعدةُ الرّابعةُ: التَّوقُّفُ فيما لم يدلُّ على صِحَّتِه دليلٌ فلا يُقَالُ به.

القاعدةُ الخامسةُ: عدَمُ الاشتِغالِ بالاستِدلالِ على ما لا فائِدَةَ فيه مِنْ المعاني.

القاعدةُ السّادسةُ: ليسَ في القُرآنِ ما لا معنى له فلا يُستَدَلَّ عليه، ولا زيادَةَ فيه بلا معنى.

القاعدةُ السّابعةُ: غيرُ جائزٍ تصويبُ قولٍ وتضعيفُ آخرَ إلا بدَليلٍ.

القاعدةُ الثّامنةُ: الأحقُّ بإصابةِ الصَّوابِ في التَّفسيرِ الأصَحُّ برهاناً والأوضَحُ حُجَّةً.

القاعدةُ التّاسعةُ: الدَّليلُ الذي يتعيَّنُ الأخذُ به هو ما صَحَّت دلالتُه في نفسِه، وسَلِمَ من المُعارضِ الرّاجحِ.

القاعدةُ العاشرةُ: الدَّليلُ الواحِدُ كافٍ في الدَّلالَةِ، وبعضُ الأدِلَّةِ يُغني عن بعضٍ.

القاعدةُ الحاديَةَ عشرَةَ: ما ثَبَتَ بدليلٍ لا يُخرَجُ عنه إلا بدليلٍ.

القاعدةُ الثّانيَةَ عشرَةَ: الآراءُ الفاسِدةُ والتمويهاتُ الباطِلةُ أصلُ أدلَّةِ المُبتَدِعَة.

o المبحثُ الثّاني: مسائِلُ في منهجِ الاستدلالِ على المعاني عند ابنِ جريرٍ.

وهي عشرُ مسائِلَ على النَّحوِ الآتي:

أولاً: يعبِّرُ عن الاستدلالِ بالاستشهادِ، وعن الأدلَّةِ بالشواهدِ والحُجَجِ والعِلَلِ والأصولِ.
চতুর্থ নীতি: যার শুদ্ধতার পক্ষে কোনো দলিল নেই, সেক্ষেত্রে বিরত থাকা; সুতরাং তা বলা যাবে না।

পঞ্চম নীতি: অর্থগতভাবে যাতে কোনো উপকার নেই, তার সপক্ষে দলিল পেশ করার কাজে লিপ্ত না হওয়া।

ষষ্ঠ নীতি: কুরআনে অর্থহীন এমন কিছু নেই যে তার সপক্ষে দলিল দিতে হবে, আর এতে অর্থহীন কোনো অতিরিক্ত অংশও নেই।

সপ্তম নীতি: দলিল ব্যতীত কোনো একটি মতকে সঠিক বলা এবং অন্যটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করা বৈধ নয়।

অষ্টম নীতি: তাফসীরের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর অধিক হকদার সেটিই, যার প্রমাণ অধিক নির্ভুল এবং যার দলিল অধিক স্পষ্ট।

নবম নীতি: যে দলিলটি গ্রহণ করা আবশ্যক, তা হলো সেটিই যার নির্দেশক ক্ষমতা স্বয়ংসিদ্ধভাবে শুদ্ধ এবং যা শক্তিশালী কোনো বিরোধপূর্ণ প্রমাণ থেকে মুক্ত।

দশম নীতি: নির্দেশনার ক্ষেত্রে একটি দলিলই যথেষ্ট, আর কিছু দলিল অন্যগুলোর অভাব পূরণ করে।

একাদশ নীতি: যা দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে, দলিল ব্যতিরেকে তা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না।

দ্বাদশ নীতি: কলুষিত মতামত এবং বাতিল বিভ্রান্তিগুলোই বিদআতিদের দলিলের উৎস।

o দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে জারীরের নিকট অর্থের সপক্ষে দলিল গ্রহণের পদ্ধতির মাসয়ালাসমূহ।

যা নিম্নরূপ দশটি মাসয়ালা:

প্রথমত: তিনি দলিল পেশ করার প্রক্রিয়াকে 'ইস্তিশহাদ' (সাক্ষ্য গ্রহণ) দ্বারা এবং দলিলসমূহকে 'শাওয়াাহিদ' (সাক্ষ্য), 'হুজাজ' (যুক্তি), 'ইলাল' (কারণ) ও 'উসুল' (মূলনীতি) শব্দ দ্বারা প্রকাশ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ১৩)
ثانياً: يَحصْرُ المعاني تمهيداً للاستدلالِ لها.

ثالثاً: يجتهدُ في استيعابِ أدلَّةِ الأقوالِ وإن لم يَختَرْها.

رابعاً: يُورِدُ أدلَّةً للأقوالِ لم يذكُرها أصحابُها.

خامساً: لم يَقتَصِر مِنْ الأدلَّةِ على نوعٍ دون آخَرَ، كما لم يُكثِر مِنْ الاستدلالِ بدليلٍ مؤثِراً له دون باقي الأدلَّةِ.

سادساً: يبدأُ بدليلِ اللُّغةِ، ثُمَّ دليلِ الشَّرعِ النَّقليِّ؛ مِنْ الكِتابِ والسُّنَّةِ والإجماعِ وأقوالِ السَّلف، ثُمَّ دليلِ السِّياقِ والنَّظائِرِ وغيرِها.

سابعاً: يكتفي -أحياناً- بذكرِ بعضِ الأدلَّةِ، ويُحيلُ في مواضِعَ على ما سبقَ بيانُه مِنها، أو ما سيأتي.

ثامناً: يدعُ المعاني الواضِحَةَ الظَّاهرَةَ بلا استدلالٍ.

تاسعاً: يذكرُ دليلَ المعنى مُباشرةً ويستغني به عن بيانِ المعنى.

عاشراً: عند الاستدلالِ للقولِ المُختارِ يعمَدُ إلى أوضَحِ الأدلَّةِ، وأكثرِها موافقةً للمقصودِ.

الفصلُ الثّاني: منهجُ ابنِ جريرٍ في الاستدلالِ بالأدلَّةِ النَّقليَّةِ على المعاني في تفسيرِه.

وفيه ثمانيةُ مباحث:

o المبحثُ الأوَّلُ: منهجُ ابنِ جريرٍ في الاستدلالِ بالقرآنِ الكريمِ على المعاني.

وفيه أربعةُ مطالب:
দ্বিতীয়ত: অর্থগুলোর স্বপক্ষে দলিল উপস্থাপনের ভূমিকা হিসেবে সেগুলোকে সীমাবদ্ধ করা।

তৃতীয়ত: বিভিন্ন মতের দলিলগুলো আয়ত্ত করতে সচেষ্ট হওয়া, যদিও তিনি সেই মতগুলো পছন্দ করেননি।

চতুর্থত: মতগুলোর স্বপক্ষে এমন সব দলিল উল্লেখ করা যা সেই মতের প্রবক্তারা উল্লেখ করেননি।

পঞ্চমত: তিনি দলিলের ক্ষেত্রে কেবল এক প্রকারের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি, আবার অন্য সব দলিলের তুলনায় কোনো বিশেষ দলিলকে প্রাধান্য দিয়ে অধিক হারে ব্যবহারও করেননি।

ষষ্ঠত: তিনি ভাষাগত দলিল দিয়ে শুরু করেন, এরপর শরয়ি উদ্ধৃতিমূলক (নক্বলী) দলিল; যেমন— কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও সালাফদের উক্তি, এরপর প্রাসঙ্গিক দলিল (সিয়াক), সদৃশ উদাহরণ (নাযায়ির) ও অন্যান্য দলিল উল্লেখ করেন।

সপ্তমত: কখনও কখনও তিনি কিছু দলিল উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হন এবং ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে বা ভবিষ্যতে যা আসবে তার দিকে ইঙ্গিত করেন।

অষ্টমত: তিনি সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য অর্থগুলোকে দলিল ছাড়াই ছেড়ে দেন।

নবমত: তিনি সরাসরি অর্থের দলিল উল্লেখ করেন এবং এর মাধ্যমেই অর্থের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা দূর করেন।

দশমত: মনোনীত মতের স্বপক্ষে দলিল পেশ করার সময় তিনি সবচেয়ে স্পষ্ট এবং উদ্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ দলিলগুলো গ্রহণ করেন।

দ্বিতীয় অধ্যায়: ইবনে জারীরের তাফসিরে অর্থের স্বপক্ষে উদ্ধৃতিমূলক (নক্বলী) দলিল ব্যবহারের পদ্ধতি।

এতে আটটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

o প্রথম পরিচ্ছেদ: অর্থের স্বপক্ষে পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে দলিল উপস্থাপনে ইবনে জারীরের পদ্ধতি।

এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ১৪)
المطلبُ الأوَّلُ: مفهومُ الاستدلالِ بالقرآنِ الكريمِ على المعاني.

المطلبُ الثّاني: حُجِّيَّةُ الاستدلالِ بالقرآنِ الكريمِ على المعاني.

المطلبُ الثّالثُ: أوجهُ الاستدلالِ بالقرآنِ الكريمِ على المعاني.

المطلبُ الرّابعُ: ضوابطُ الاستدلالِ بالقرآنِ الكريمِ على المعاني ومسائِلُه.

o المبحثُ الثّاني: منهجُ ابنِ جريرٍ في الاستدلالِ بالقراءاتِ على المعاني.

وفيه أربعةُ مطالب:

المطلبُ الأوَّلُ: مفهومُ الاستدلالِ بالقراءاتِ على المعاني.

المطلبُ الثّاني: حُجِّيَّةُ الاستدلالِ بالقراءاتِ على المعاني.

المطلبُ الثّالثُ: أوجهُ الاستدلالِ بالقراءاتِ على المعاني.

المطلبُ الرّابعُ: ضوابطُ الاستدلالِ بالقراءاتِ على المعاني ومسائِلُه.

o المبحثُ الثّالثُ: منهجُ الاستدلالِ بالسُّنَّةِ النَّبويَّةِ على المعاني.

وفيه أربعةُ مطالب:

المطلبُ الأوَّلُ: مفهومُ الاستدلالِ بالسُّنَّةِ النَّبويَّةِ على المعاني.

المطلبُ الثّاني: حُجِّيَّةُ الاستدلالِ بالسُّنَّةِ النَّبويَّةِ على المعاني.

المطلبُ الثّالثُ: أوجهُ الاستدلالِ بالسُّنَّةِ النَّبويَّةِ على المعاني.

المطلبُ الرّابعُ: ضوابطُ الاستدلالِ بالسُّنَّةِ النَّبويَّةِ على المعاني ومسائِلُه.
প্রথম অনুচ্ছেদ: অর্থের সপক্ষে পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে দলিল গ্রহণের ধারণা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অর্থের সপক্ষে পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে দলিল গ্রহণের প্রামাণিকতা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: অর্থের সপক্ষে পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে দলিল গ্রহণের দিকসমূহ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: অর্থের সপক্ষে পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে দলিল গ্রহণের নীতিমালা ও এর মাসআলাসমূহ।

o দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অর্থের সপক্ষে কিরাতসমূহের মাধ্যমে দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে ইবনে জারীরের পদ্ধতি।

এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: অর্থের সপক্ষে কিরাতসমূহের মাধ্যমে দলিল গ্রহণের ধারণা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অর্থের সপক্ষে কিরাতসমূহের মাধ্যমে দলিল গ্রহণের প্রামাণিকতা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: অর্থের সপক্ষে কিরাতসমূহের মাধ্যমে দলিল গ্রহণের দিকসমূহ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: অর্থের সপক্ষে কিরাতসমূহের মাধ্যমে দলিল গ্রহণের নীতিমালা ও এর মাসআলাসমূহ।

o তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অর্থের সপক্ষে সুন্নাতে নববীর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি।

এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: অর্থের সপক্ষে সুন্নাতে নববীর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের ধারণা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অর্থের সপক্ষে সুন্নাতে নববীর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের প্রামাণিকতা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: অর্থের সপক্ষে সুন্নাতে নববীর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের দিকসমূহ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: অর্থের সপক্ষে সুন্নাতে নববীর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের নীতিমালা ও এর মাসআলাসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ১৫)
o المبحثُ الرّابعُ: منهجُ الاستدلالِ بالإجماعِ على المعاني.

وفيه أربعةُ مطالب:

المطلبُ الأوَّلُ: مفهومُ الاستدلالِ بالإجماعِ على المعاني.

المطلبُ الثّاني: حُجِّيَّةُ الاستدلالِ بالإجماعِ على المعاني.

المطلبُ الثّالثُ: أوجهُ الاستدلالِ بالإجماعِ على المعاني.

المطلبُ الرّابعُ: ضوابطُ الاستدلالِ بالإجماعِ على المعاني ومسائِلُه.

o المبحثُ الخامسُ: منهجُ الاستدلالِ بأقوالِ السَّلفِ على المعاني.

وفيه أربعةُ مطالب:

المطلبُ الأوَّلُ: مفهومُ الاستدلالِ بأقوالِ السَّلفِ على المعاني.

المطلبُ الثّاني: حُجِّيَّةُ الاستدلالِ بأقوالِ السَّلفِ على المعاني.

المطلبُ الثّالثُ: أوجهُ الاستدلالِ بأقوالِ السَّلفِ على المعاني.

المطلبُ الرّابعُ: ضوابطُ الاستدلالِ بأقوالِ السَّلفِ على المعاني ومسائِلُه.

o المبحثُ السّادس: منهجُ الاستدلالِ بلغةِ العربِ على المعاني. وفيه أربعةُ مطالب:

المطلبُ الأوَّلُ: مفهومُ الاستدلالِ بلغةِ العربِ على المعاني.

المطلبُ الثّاني: حُجِّيَّةُ الاستدلالِ بلغةِ العربِ على المعاني.

المطلبُ الثّالثُ: أوجهُ الاستدلالِ بلغةِ العربِ على المعاني.
o চতুর্থ আলোচনা: অর্থসমূহের ওপর ইজমার মাধ্যমে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি।

এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: অর্থসমূহের ওপর ইজমার মাধ্যমে দলীল গ্রহণের ধারণা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অর্থসমূহের ওপর ইজমার মাধ্যমে দলীল গ্রহণের প্রামাণিকতা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: অর্থসমূহের ওপর ইজমার মাধ্যমে দলীল গ্রহণের দিকসমূহ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: অর্থসমূহের ওপর ইজমার মাধ্যমে দলীল গ্রহণের নীতিমালা ও এর মাসআলাসমূহ।

o পঞ্চম আলোচনা: অর্থসমূহের ওপর সালাফদের বক্তব্যের মাধ্যমে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি।

এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: অর্থসমূহের ওপর সালাফদের বক্তব্যের মাধ্যমে দলীল গ্রহণের ধারণা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অর্থসমূহের ওপর সালাফদের বক্তব্যের মাধ্যমে দলীল গ্রহণের প্রামাণিকতা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: অর্থসমূহের ওপর সালাফদের বক্তব্যের মাধ্যমে দলীল গ্রহণের দিকসমূহ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: অর্থসমূহের ওপর সালাফদের বক্তব্যের মাধ্যমে দলীল গ্রহণের নীতিমালা ও এর মাসআলাসমূহ।

o ষষ্ঠ আলোচনা: অর্থসমূহের ওপর আরবি ভাষার মাধ্যমে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি। এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: অর্থসমূহের ওপর আরবি ভাষার মাধ্যমে দলীল গ্রহণের ধারণা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অর্থসমূহের ওপর আরবি ভাষার মাধ্যমে দলীল গ্রহণের প্রামাণিকতা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: অর্থসমূহের ওপর আরবি ভাষার মাধ্যমে দলীল গ্রহণের দিকসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ১৬)
المطلبُ الرّابعُ: ضوابطُ الاستدلالِ بلغةِ العربِ على المعاني ومسائِلُه.

o المبحثُ السّابعُ: منهجُ الاستدلالِ بأحوالِ النُّزولِ على المعاني.

وفيه أربعةُ مطالب:

المطلبُ الأوَّلُ: مفهومُ الاستدلالِ بأحوالِ النُّزولِ على المعاني.

المطلبُ الثّاني: حُجِّيَّةُ الاستدلالِ بأحوالِ النُّزولِ على المعاني.

المطلبُ الثّالثُ: أوجهُ الاستدلالِ بأحوالِ النُّزولِ على المعاني.

المطلبُ الرّابعُ: ضوابطُ الاستدلالِ بأحوالِ النُّزولِ على المعاني ومسائِلُه.

o المبحثُ الثّامنُ: منهجُ الاستدلالِ بالرواياتِ الإسرائيليَّةِ على المعاني.

وفيه أربعةُ مطالب:

المطلبُ الأوَّلُ: مفهومُ الاستدلالِ بالرواياتِ الإسرائيليَّةِ على المعاني.

المطلبُ الثّاني: حُجِّيَّةُ الاستدلالِ بالرواياتِ الإسرائيليَّةِ على المعاني.

المطلبُ الثالثُ: أوجهُ الاستدلالِ بالرواياتِ الإسرائيليَّةِ على المعاني.

المطلبُ الرّابعُ: ضوابطُ الاستدلالِ بالرواياتِ الإسرائيليَّةِ على المعاني ومسائِلُه.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অর্থের ক্ষেত্রে আরবি ভাষার মাধ্যমে দলীল গ্রহণের নীতিমালা ও এর মাসআলাসমূহ।

সপ্তম অধ্যায়: অর্থের ক্ষেত্রে নাযিলের প্রেক্ষাপটসমূহের মাধ্যমে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি।

এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: অর্থের ক্ষেত্রে নাযিলের প্রেক্ষাপটসমূহের মাধ্যমে দলীল গ্রহণের ধারণা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অর্থের ক্ষেত্রে নাযিলের প্রেক্ষাপটসমূহের মাধ্যমে দলীল গ্রহণের প্রামাণিকতা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অর্থের ক্ষেত্রে নাযিলের প্রেক্ষাপটসমূহের মাধ্যমে দলীল গ্রহণের দিকসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অর্থের ক্ষেত্রে নাযিলের প্রেক্ষাপটসমূহের মাধ্যমে দলীল গ্রহণের নীতিমালা ও এর মাসআলাসমূহ।

অষ্টম অধ্যায়: অর্থের ক্ষেত্রে ইসরাঈলি বর্ণনাসমূহের মাধ্যমে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি।

এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: অর্থের ক্ষেত্রে ইসরাঈলি বর্ণনাসমূহের মাধ্যমে দলীল গ্রহণের ধারণা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অর্থের ক্ষেত্রে ইসরাঈলি বর্ণনাসমূহের মাধ্যমে দলীল গ্রহণের প্রামাণিকতা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অর্থের ক্ষেত্রে ইসরাঈলি বর্ণনাসমূহের মাধ্যমে দলীল গ্রহণের দিকসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অর্থের ক্ষেত্রে ইসরাঈলি বর্ণনাসমূহের মাধ্যমে দলীল গ্রহণের নীতিমালা ও এর মাসআলাসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ১৭)
• البابُ الثّالثُ: منهجُ ابنِ جريرٍ في ترتيبِ أدلَّةِ المعاني في تفسيرِه.

ويشتملُ على ثلاثةِ فصولٍ:

الفصلُ الأوَّلُ: تقسيمُ أدلَّةِ المعاني في التَّفسيرِ عند ابنِ جريرٍ.

وفيه ثلاثةُ مباحث:

o المبحثُ الأوَّلُ: أقسامُ الأدلَّةِ باعتبارِ صِحَّةِ الاستدلالِ بها.

o المبحثُ الثّاني: أقسامُ الأدلَّةِ باعتبارِ أصلِها ومصدرِها.

o المبحثُ الثّالثُ: أقسامُ الأدلَّةِ باعتبارِ قوَّةِ دلالتِها.

الفصلُ الثّاني: منهجُ ابنِ جريرٍ في ترتيبِ أدلَّةِ المعاني في تفسيرِه مِنْ حيث النَّظرُ والاعتبارُ.

وفيه مبحثان:

o المبحثُ الأوَّلُ: أهميَّةُ ترتيبِ أدلَّةِ المعاني مِنْ حيث النَّظرُ والاعتبارُ.

o المبحثُ الثّاني: ترتيبُ أدلَّةِ المعاني مِنْ حيث النَّظرُ والاعتبارُ عند ابنِ جريرٍ.

الفصلُ الثّالثُ: منهجُ ابنِ جريرٍ في الجمعِ والتَّرجيحِ بين الأدلَّةِ المُتعارضةِ للمعاني التَّفسيريَّةِ.

وفيه مبحثان:

o المبحثُ الأوَّلُ: منهجُ ابنِ جريرٍ في الجمعِ بين أدلَّةِ المعاني المُتعارضةِ.
তৃতীয় অধ্যায়: ইবনে জারীরের তাফসীরে অর্থগত দলীলসমূহ বিন্যস্ত করার পদ্ধতি।

এটি তিনটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে জারীরের নিকট তাফসীরে অর্থগত দলীলসমূহের শ্রেণিবিভাগ।

এতে তিনটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:

o প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: দলীল হিসেবে গ্রহণের বিশুদ্ধতার ভিত্তিতে দলীলসমূহের প্রকারভেদ।

o দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: দলীলসমূহের মূল ও উৎসের ভিত্তিতে এগুলোর প্রকারভেদ।

o তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: নির্দেশনার শক্তির ভিত্তিতে দলীলসমূহের প্রকারভেদ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গবেষণা ও বিবেচনার দৃষ্টিকোণ থেকে ইবনে জারীরের তাফসীরে অর্থগত দলীলসমূহ বিন্যস্ত করার পদ্ধতি।

এতে দুটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:

o প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: গবেষণা ও বিবেচনার দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থগত দলীলসমূহ বিন্যস্ত করার গুরুত্ব।

o দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: ইবনে জারীরের নিকট গবেষণা ও বিবেচনার দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থগত দলীলসমূহের বিন্যাস।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাফসীরগত অর্থের ক্ষেত্রে পরস্পর বিরোধী দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় ও অগ্রাধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে ইবনে জারীরের পদ্ধতি।

এতে দুটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:

o প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: পরস্পর বিরোধী অর্থগত দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনে ইবনে জারীরের পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ১৮)
o المبحثُ الثّاني: منهجُ ابنِ جريرٍ في التَّرجيحِ بين أدلَّةِ المعاني المُتعارضةِ.

وفيه مطلبان:

المطلبُ الأوَّلُ: متى يُصارُ إلى التَّرجيحِ؟

المطلبُ الثّاني: أنواعُ المُرجِّحاتِ التي استعملَها ابنُ جريرٍ عند التَّعارضِ.

المطلبُ الثّالثُ: خصائصُ المُرجِّحاتِ في التَّفسيرِ.

• الخاتمةُ:

وفيها أهمُّ نتائجِ البحثِ، مع التَّوصياتِ العلميَّةِ.

• الفهارسُ:

وتحتوي أنواعاً مِنْ الفهارسِ الفنِّيّةِ التي تتناسبُ مع طبيعةِ البحثِ، وتكشِفُ عن مضمونِه، وهي على النَّحوِ الآتي:

1. فهرسُ الآياتِ.

2. فهرسُ القراءاتِ.

3. فهرسُ الأحاديثِ.

4. فهرسُ القواعدِ والمسائلِ العلميَّةِ.

5. فهرسُ المصادرِ والمراجعِ.

6. فهرسُ المحتوياتِ.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পরস্পরবিরোধী অর্থের দলীলসমূহের মধ্যে প্রাধান্য নিরূপণে ইবনে জারীরের পদ্ধতি।

এবং এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: কখন প্রাধান্য নিরূপণের দিকে যাওয়া হবে?

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: বিরোধের সময় ইবনে জারীর কর্তৃক ব্যবহৃত প্রাধান্য দানকারী বিষয়সমূহের প্রকারভেদ।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: তাফসীরের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দানকারী বিষয়সমূহের বৈশিষ্ট্যসমূহ।

• উপসংহার:

এবং এতে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ ও ইলমী সুপারিশমালা রয়েছে।

• নির্ঘণ্টসমূহ:

এতে গবেষণার প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর বিষয়বস্তুকে উন্মোচনকারী বিভিন্ন ধরণের কারিগরি নির্ঘণ্ট রয়েছে, যা নিম্নরূপ:

১. আয়াতের নির্ঘণ্ট।

২. কিরাতসমূহের নির্ঘণ্ট।

৩. হাদীসসমূহের নির্ঘণ্ট।

৪. ইলমী মূলনীতি ও মাসআলাসমূহের নির্ঘণ্ট।

৫. উৎস ও সহায়ক গ্রন্থাবলীর নির্ঘণ্ট।

৬. বিষয়সূচি।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ১৯)
*‌‌ منهَجُ البَحث:

سلكتُ في جمعِ مادَّةِ البَحثِ وكتابتِه المَنهجَ الآتي:

أوَّلاً: كرَّرتُ قراءةَ تفسيرِ ابنِ جريرٍ (ت: 310) مرَّاتٍ؛ استخرجتُ فيها جميعَ المواضِعِ التي استدلَّ فيها على المعنى الذي يُصَحِّحُه أو يرُدُّه، وأفرَدتُ قراءةً خاصَّةً خالصةً لمُطابقةِ الأدلّةِ، وتنقيحِها، وتحريرِها.

ثانياً: جعلتُ الاختصارَ منهجاً مُتَّبعاً في الرِّسالةِ، فلا أطيلُ في تقريرِ المُقدِّماتِ، أو النَّقلِ عن الأئمَّةِ، أو التَّعليقِ على الأمثلةِ، إلا إن دعتِ الحاجةُ إلى شيءٍ مِنْ ذلك.

ثالثاً: لا يخفى على مُطالعٍ لتفسيرِ ابنِ جريرٍ (ت: 310) أنَّ ممّا تميَّزَ به طولُ نَفَسِه في تقريرِ المُقدِّماتِ؛ حيثُ يطولُ الفاصلُ بين مُبتدأِ الكلامِ وآخرِه، وشرطِه وجوابِه. كما لا يخفى مثلُ ذلك أيضاً في شرحِ المعاني وتحريرِها، وتكرارِ الكلامِ لتمامِ الإيضاحِ.

وفي التَّعاملِ مع ذلك لم أُدخلْ حرفاً واحداً أتصرَّفُ به في نصٍّ مَنقولٍ، واستعضتُ عن التَّصرُّفِ في النَّقلِ بالإشارةِ إلى ما حُذفَ مِنْ الكلامِ اختصاراً بنُقطتَيْن مُتتاليَتَيْن: « .. ».

رابعاً: أكثرتُ مِنْ الأمثلةِ في إيضاحِ المسائلِ، وذكرتُ لتقريرِ كلِّ قضيَّةٍ مثالَيْن أو ثلاثةٍ في الغالبِ، مع الإشارةِ في الحاشيةِ -بما لا يزيدُ عن السَّطرِ- إلى مواضعَ أُخرى.

خامساً: اجتهدتُ في إخلاءِ الرِّسالةِ مِنْ التِّكرارِ، إلا ما اقتضَت الحاجةُ تكرارَه؛ لتعلُّقِه الظّاهرِ بكلِّ موضعٍ.
গবেষণার পদ্ধতি:

গবেষণার উপাদান সংগ্রহ এবং তা রচনার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

প্রথমত: আমি ইবনে জারীরের (মৃত্যু: ৩১০) তাফসীর বারবার পাঠ করেছি; সেখান থেকে আমি এমন সকল স্থান বের করেছি যেখানে তিনি এমন অর্থের পক্ষে দলিল পেশ করেছেন যা তিনি সঠিক সাব্যস্ত করেন অথবা প্রত্যাখ্যান করেন। আর দলিলগুলোর সামঞ্জস্য বিধান, পরিমার্জন ও সম্পাদনার জন্য আমি একটি বিশেষ ও নিবিড় পাঠ নিবেদিত রেখেছি।

দ্বিতীয়ত: আমি এই অভিসন্দর্ভে সংক্ষিপ্তকরণকে অনুসৃত পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করেছি। তাই আমি ভূমিকা বর্ণনা, ইমামগণের থেকে উদ্ধৃতি প্রদান কিংবা উদাহরণগুলোর ওপর মন্তব্য করার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা অবলম্বন করিনি, যদি না তেমন কোনো বিশেষ প্রয়োজন দেখা দেয়।

তৃতীয়ত: ইবনে জারীরের (মৃত্যু: ৩১০) তাফসীর পাঠকারীর কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, এই গ্রন্থের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ভূমিকা বর্ণনায় তাঁর দীর্ঘ বর্ণনাশৈলী; যেখানে বাক্যের শুরু ও শেষ এবং শর্ত ও জাওয়াবের (শর্তের উত্তর) মধ্যে দীর্ঘ ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। অনুরূপভাবে অর্থের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ এবং পূর্ণাঙ্গ স্পষ্টকরণের লক্ষ্যে বাক্যের পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রেও একই বিষয় পরিলক্ষিত হয়।

উদ্ধৃত পাঠ নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে আমি নিজের পক্ষ থেকে একটি বর্ণও পরিবর্তন বা পরিমার্জন করিনি। উদ্ধৃত পাঠে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপের পরিবর্তে আমি সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে বাদ দেওয়া অংশের সংকেত হিসেবে দুটি ধারাবাহিক বিন্দু « .. » ব্যবহার করেছি।

চতুর্থত: বিষয়গুলো স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে আমি উদাহরণের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছি এবং প্রতিটি বিষয় প্রমাণের জন্য সাধারণত দুই বা তিনটি উদাহরণ উল্লেখ করেছি। সেই সাথে পাদটীকায়—এক লাইনের বেশি নয় এমনভাবে—অন্যান্য প্রাসঙ্গিক স্থানের দিকে ইঙ্গিত করেছি।

পঞ্চমত: আমি গবেষণাপত্রটি পুনরাবৃত্তি থেকে মুক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, তবে যেখানে প্রয়োজনের তাগিদে পুনরাবৃত্তি করতে হয়েছে সেখানে তা করেছি; কারণ প্রতিটি বিষয়ের সাথে এর সুষ্পষ্ট সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ২০)
سادساً: لا أتوقَّفُ لمناقشةِ الأمثلةِ التي أذكرُها في تقريرِ المنهجِ؛ إذْ القَصدُ بيانُ منهجِ ابنِ جريرٍ (ت: 310) مِنْ خلالِ تلك النُّقولِ، دون التَّعرُّضِ لما فيها مِنْ رأيٍ أو اجتهادٍ، فالمَقصودُ مُطلقُ المثالِ لا تقريرُ الأقوالِ، وقد كانَ العلماءُ يُنشدون:

والشَّأنُ لا يُعترضُ المثالُ … إذْ قد كفى الفَرضُ والاحتمالُ(1)

سابعاً: أعتمدُ كلامَ ابنِ جريرٍ (ت: 310) في تقريرِ ضوابطِ الاستدلالِ بجميعِ الأدلَّةِ على المعاني ومسائلِه، ولا أتعدّاه إلى غيرِه إلا إن لم أجِدْ له نصّاً، أو كانَ كلامُ غيرِه أصرح.

ثامناً: أعتمدُ لتفسيرِ (جامعِ البيانِ عن تأويلِ آيِ القرآنِ) لابنِ جريرٍ الطَّبريِّ، طبعةَ دار هجر، القاهرة، ط 1، 1422، بتحقيقِ: د. عبد الله بن عبد المحسن التُّركي.

وأرجعُ عند الحاجةِ -مع بيان ذلك- إلى طبعتَيْ: مكتبة المعارف، ط 2، بتحقيقِ: محمود محمد شاكر. وطبعة: دار الفكر، بيروت، 1415، وهي مصورة عن طبعة مكتبة البابي الحلبي عام 1373، بتحقيق: مصطفى السّقّا، وآخرين.

تاسعاً: أخُصُّ الآياتِ القرآنيَّةِ بالرَّسمِ العثمانيِّ، وأجعلُها بين هذين القوسين {}.

عاشراً: أُخَرِّجُ الآياتِ في متنِ الرِّسالةِ بين هذين المعقوفين [] عقب ذكرِ الآيةِ مباشرةً، سواءً كانَت في نَصٍّ منقولٍ أو غيرِه.

--------------------------------------------

(1) مذكرة أصول الفقه، للشِّنقيطي (ص: 511 - 513).
ষষ্ঠত: আমি এই পদ্ধতির বর্ণনায় উল্লিখিত উদাহরণসমূহ পর্যালোচনার জন্য থামব না; কারণ উদ্দেশ্য হলো সেই সব উদ্ধৃতির মাধ্যমে ইবনে জারীরের (মৃত্যু: ৩১০ হি.) কর্মপদ্ধতি স্পষ্ট করা, সেখানে বিদ্যমান কোনো মতামত বা ইজতিহাদ নিয়ে আলোচনা করা নয়। এখানে উদ্দেশ্য স্রেফ উদাহরণ প্রদান করা, কোনো উক্তির প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করা নয়। উলামায়ে কেরাম এই কবিতাটি আবৃত্তি করতেন:

আর নিয়ম হলো উদাহরণের ওপর কোনো আপত্তি করা হয় না … যেহেতু অনুমান এবং সম্ভাবনা থাকাই যথেষ্ট।(১)

সপ্তমত: অর্থের ওপর সকল দলিলের মাধ্যমে প্রমাণের নিয়মাবলী ও মাসআলাসমূহ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমি ইবনে জারীরের (মৃত্যু: ৩১০ হি.) বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য না পেয়েছি অথবা অন্যের বক্তব্য অধিকতর স্পষ্ট না হয়েছে, ততক্ষণ আমি তাঁকে অতিক্রম করে অন্য কারো দিকে যাইনি।

অষ্টমত: আমি ইবনে জারীর আত-তাবারীর তাফসির 'জামি-উল বায়ান আন তাবীলি আয়িল কুরআন'-এর জন্য কায়রোর দারু হাজার থেকে প্রকাশিত, ১৪২২ হিজরী, ১ম সংস্করণ ব্যবহার করেছি, যা ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কী কর্তৃক সম্পাদিত।

এবং প্রয়োজনে -তা উল্লেখপূর্বক- আমি আরও দুটি সংস্করণের সহায়তা নিয়েছি: মাকতাবাতুল মাআরিফের ২য় সংস্করণ, যা মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির কর্তৃক সম্পাদিত; এবং বৈরুতের দারুল ফিকর থেকে ১৪১৫ হিজরীতে প্রকাশিত সংস্করণ, যা ১৩৭৩ হিজরীর মাকতাবাতুল বাবি আল-হালাবী সংস্করণের পুনর্মুদ্রণ এবং এটি মুস্তফা আস-সাক্কা ও অন্যদের দ্বারা সম্পাদিত।

নবমত: আমি কুরআনের আয়াতগুলোকে উসমানি লিপিতে নির্দিষ্ট করেছি এবং সেগুলোকে এই {} বন্ধনীর মধ্যে রেখেছি।

দশমত: আমি গবেষণাপত্রের মূল পাঠে আয়াতের উদ্ধৃতি এই [] থার্ড ব্র্যাকেটের মধ্যে আয়াতের ঠিক পরেই উল্লেখ করেছি, চাই তা কোনো উদ্ধৃত পাঠের অন্তর্ভুক্ত হোক বা অন্য কোথাও।

--------------------------------------------

(১) মুজাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ, শিনকীতি (পৃষ্ঠা: ৫১১ - ৫১৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ২১)
إحدى عشر: أُثبِتُ القراءاتِ القرآنيَّةَ بالرَّسمِ الإملائيِّ بين هذين القوسين ().

اثنى عشر: أُبيِّنُ حالَ القراءاتِ الشّاذَّةِ، وأعزو كلَّ قراءةٍ إلى مَنْ قرأَ بها، ما عدا روايةِ حفصٍ (ت: 180)، عن عاصمٍ الكوفيّ (ت: 127).

ثالث عشر: أخُصُّ الأحاديثَ النَّبويَّةَ بهذَيْن القوسَيْن «»، وأجعلُ ما عداها مِنْ الآثارِ والنُّصوصِ المَنقولةِ بين هذَيْن القوسَيْن «».

رابع عشر: أُخَرِّجُ الأحاديثَ النَّبويَّةَ والآثارَ تخريجاً مختصراً، أستوفي فيه العزوَ إلى مواضعِهما، مع بيانِ حالِ الأحاديثِ المرفوعةِ صِحَّةً وحُسناً وضعفاً، وربَّما أكتَفي في ذلك بنقلِ حُكمِ علماءِ الحديثِ.

خامس عشر: إذا كانَ الحديثُ في الصَّحيحَيْن أو أحدِهما اكتفي بذلك عن الحكم عليه، ولا أعزوه إلى غيرِهما إلا لِحاجَةٍ.

سادس عشر: عند تخريجِ ما في صحيحِ مسلمٍ أعزو إلى المطبوعِ مع شرحِه للنَّوَويِّ.

سابع عشر: أنسبُ الأشعارَ إلى قائليها، وأكتفي بعزوِها إلى دواوينِهم في الغالبِ، وإلا أحلتُ إلى مصادرِ الشِّعرِ والشُّعراءِ المعتمدةِ.

ثامن عشر: أُتَرجِم للأعلامِ الواردةِ أسماؤُهم في الرسالةِ تراجمَ مختصرةً، لا تزيدُ عن سطرَيْن ومَرجعَيْن، وأستثني مِنهم المشهورين، ولا أُترجمُ للصَّحابةِ رضي الله عنهم؛ لاستغنائِهم عن التَّعريف، إلا ما ندرَ في كلِّ ذلك للحاجةِ.

تاسع عشر: أُتبِعُ كُلَّ علَمٍ بذكر سنةِ وفاتِه -إن عُرِفَت- بين هلالَيْن: (ت:)، في جميعِ مواضعِ ورودِ اسمِه، إلا إذا كانَ في نَصٍّ منقولٍ؛
একাদশ: আমি কুরআনের কিরাআতসমূহকে বানানরীতি অনুযায়ী এই বন্ধনী ()-এর মধ্যে লিখেছি।

দ্বাদশ: আমি শায (বিরল) কিরাআতগুলোর অবস্থা বর্ণনা করেছি এবং আসিম আল-কুফীর (ওফাত: ১২৭) থেকে বর্ণিত হাফসের (ওফাত: ১৮০) বর্ণনা ব্যতীত প্রতিটি কিরাআতকে তার পাঠকের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি।

ত্রয়োদশ: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহকে এই উদ্ধৃতি চিহ্নের «» মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছি এবং হাদীস ব্যতীত অন্যান্য আছার ও উদ্ধৃত পাঠ্যসমূহকেও এই চিহ্নের «» মধ্যে রেখেছি।

চতুর্দশ: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস ও আছারসমূহের সংক্ষিপ্ত তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) করেছি, যেখানে সেগুলোর উৎস বর্ণনায় পূর্ণতা বজায় রেখেছি। সেই সাথে মারফূ হাদীসগুলোর বিশুদ্ধতা, গ্রহণযোগ্যতা কিংবা দুর্বলতা বর্ণনা করেছি; ক্ষেত্রবিশেষে আমি হাদীস বিশারদগণের হুকুম বা সিদ্ধান্ত উদ্ধৃত করার ওপরই যথেষ্ট করেছি।

পঞ্চদশ: হাদীসটি যদি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) অথবা এই দুটির কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি তার ওপর কোনো হুকুম প্রদান থেকে বিরত থেকেছি এবং প্রয়োজন ব্যতীত এই দুটি গ্রন্থ ছাড়া অন্য কোনো গ্রন্থের দিকে তা সম্বন্ধ করিনি।

ষোড়শ: সহীহ মুসলিমের কোনো উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমি ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থসহ মুদ্রিত সংস্করণের বরাত দিয়েছি।

সপ্তদশ: আমি কবিতাগুলোকে তাদের রচয়িতাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের কাব্যগ্রন্থের (দীওয়ান) বরাত প্রদান করেছি; অন্যথায় কবিতা ও কবিদের নির্ভরযোগ্য মূল উৎসগুলোর বরাত দিয়েছি।

অষ্টাদশ: এই অভিসন্দর্ভে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের আমি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রদান করেছি, যা সাধারণত দুই লাইন এবং দুইটি উৎসের অধিক নয়। তবে প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের আমি এর অন্তর্ভুক্ত করিনি এবং সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদেরও জীবনী উল্লেখ করিনি; কারণ তারা কোনো পরিচিতির মুখাপেক্ষী নন। তবে ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োজনবশত ব্যতিক্রম করা হয়েছে।

উনবিংশ: প্রতিটি নামের পরেই—যদি জানা থাকে—তার মৃত্যু সাল বন্ধনীর ভেতরে এভাবে (ওফাত:) উল্লেখ করেছি। নামের প্রতিটি স্থানেই এটি করা হয়েছে, তবে যদি নামটি কোনো উদ্ধৃত পাঠ্যের ভেতরে থাকে তবে তা করা হয়নি।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ২২)
ورأيتُ ذلك مفيداً في معرفةِ السّابقِ واللاحقِ، والمُتقدِّمِ بالرَّأيِ والتّابعِ فيه.

عشرون: أذكرُ التّاريخَ الهجريَّ غُفْلاً، ولا أُشيرُ إليه بعلامة (هـ)؛ لأنَّه هو الأصلُ فلا حاجةّ لتحديدِه.

إحدى وعشرون: أُعَرِّف بالأماكنِ والمذاهبِ والفرقِ غيرِ المَشهورةِ الواردةِ في متنِ الرِّسالةِ.

اثنان وعشرون: أختصرُ في ذكر أسماءِ المراجعِ في الحاشيةِ؛ اكتفاءً بالتَّفصيلِ الموجودِ في ثبتِ المراجعِ، إلا في الأسماءِ المشتركةِ بين أكثرَ مِنْ كتابٍ، فأبَيِّنُ مِنْ اسمِ الكتابِ ما يُمَيِّزُه.

ثلاث وعشرون: أشيرُ إلى صفحاتِ المرجعِ بهذا الرَّمزِ: (ص:).

وبعدُ، فهذا الأثرُ العلميُّ المُتواضعُ ثمرةٌ مِنْ علمِ هذا الإمامِ العالمِ الجليلِ محمد بنِ جريرٍ الطَّبريِّ (ت: 310) رحمه الله، وأقرَّ عينَه برضاه يومَ يلقاه، وليس لي فيه إلا الاستخراجُ والجمعُ، والتَّرتيبُ والتَّقريبُ، فإن أصَبتُ فمِن الله وله الفَضلُ، وإن أخطأتُ فمِن نَفسي وهي له أهلٌ.

وليس ما كتبتُ في هذه الموضوعِ آخرَ ما يُقالُ فيه، وإنَّما هو فاتحةُ بابٍ لمزيدٍ مِنْ التَّحريرِ والتّأصيلِ في أصولِ علمِ التَّفسيرِ، وفي أمثالِ هذا الكتابِ الجليلِ، فأنا شاكرٌ سلفاً لكُلِّ مَنْ أتمَّ هذا الكتابَ فصوَّبَ فيه رأياً، أو تمَّمَ نقصاً، أو استدركَ فائتاً.

 

وأخص بالشكر في هذا المقام -بعد شُكرِ الله تعالى- مَن أَولاني مِن علمه وأدبه واهتمامه ما تمَّ به هذا العمل بفضل الله، وهو د. خالد بن علي بن عبدان الغامدي وفقه الله، إمام الحرم المكي، والأستاذ
আমি এটিকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সম্পর্কে এবং মতামতের ক্ষেত্রে কে অগ্রগামী ও কে অনুসারী তা জানার জন্য উপকারী মনে করেছি।

বিশ: আমি হিজরি তারিখ সরাসরি উল্লেখ করি এবং একে (হিজরি) চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত করি না; কারণ এটিই মূল, তাই একে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার প্রয়োজন নেই।

একুশ: আমি রিসালার মূল পাঠে উল্লিখিত অপরিচিত স্থান, মাযহাব এবং দলগুলোর পরিচয় প্রদান করেছি।

বাইশ: আমি পাদটীকায় তথ্যসূত্রের নাম সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি এবং তথ্যসূত্র তালিকায় থাকা বিস্তারিত বিবরণের ওপর নির্ভর করেছি; তবে একাধিক কিতাবের মধ্যে সাধারণ নামের ক্ষেত্রে আমি কিতাবের নামের এমন অংশ স্পষ্ট করেছি যা সেটিকে পৃথক করে।

তেইশ: আমি তথ্যসূত্রের পৃষ্ঠাসমূহকে এই সংকেত: (পৃ:) দ্বারা নির্দেশ করেছি।

অতঃপর, এই বিনম্র ইলমি খিদমতটুকু মহান ইমাম ও প্রাজ্ঞ আলিম মুহাম্মদ বিন জারির আত-তবারী (মৃত্যু: ৩১০ হি.)-এর ইলমের ফসল, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং যেদিন তিনি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবেন, আল্লাহ যেন তাঁর সন্তুষ্টির মাধ্যমে তাঁকে চক্ষুশীতল করেন। এতে আমার কাজ কেবল চয়ন, সংগ্রহ, বিন্যাস ও সহজবোধ্য করা ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি আমি সঠিক করে থাকি তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই; আর যদি ভুল করে থাকি তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং এটি সেটিরই যোগ্য।

এই বিষয়ে আমি যা লিখেছি তা-ই শেষ কথা নয়; বরং এটি তাফসির শাস্ত্রের মূলনীতি এবং এই মহান কিতাবের ন্যায় অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে আরও অধিক যাচাই-বাছাই ও মৌলিক গবেষণার দ্বার উন্মোচন মাত্র। তাই আমি অগ্রিম কৃতজ্ঞতা জানাই তাঁদের প্রতি যাঁরা এই কিতাবটি পাঠ করবেন এবং এতে কোনো মতামত সংশোধন করবেন, অথবা কোনো অপূর্ণতা পূর্ণ করবেন, অথবা কোনো বিচ্যুতি সংশোধন করবেন।

 

আর এই পর্যায়ে আমি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের পর বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাঁর প্রতি, যিনি আমাকে তাঁর ইলম, আদব ও মনোযোগ দিয়ে ধন্য করেছেন যার মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহে এই কাজটি সম্পন্ন হয়েছে; তিনি হলেন ড. খালিদ বিন আলী বিন আবদান আল-গামিদী, আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দিন, হারাম মক্কীর ইমাম এবং অধ্যাপক...
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ২৩)
المشارك بجامعة أم القُرى، والمُشرف على هذا البحث؛ فآثاره فيه ظاهرةً لا تخفى كما هي ظاهرة أيضًا فيما تركه في نفسي من فوائدِ مجالسته ومباحثته، جزاه الله أحسنَ الجزاء وأوفاه على ما أحسنَ وقدَّمَ.

 

وللمُناقِشَيْن الفُضلاءِ جميلُ الثَّناءِ، وخالصُ الدُّعاءِ، على تفضلهما بمناقشة هذا البحث، وتقويمه وتسديده، وهم مِن أخصّ النَّاسِ بهذا العلم تأصيلاً وتحقيقاً، وأولاهم بابن جرير (ت: 310) عناية وتدريساً؛ فلهم جزيلُ الشُّكرِ وأوفاه وهما صاحبَي الفضيلة د. عبد العزيز بن صالح العبيد، الأستاذ الدكتور بالجامعة الإسلامية بالمدينة، ود. مساعد بن

سليمان الطيّار، الأستاذ المشارك بجامعة الملك سعود بالرياض.

 

وقد شَرُفتُ بالدّراسة في مرحلة الدكتوراه على يد شيخي د. عبد العزيز بن صالح العبيد -وفقه الله-، وأفادنا مِن عِلمه في نقدِ التَّفاسير، وحلّ مشكلاتِ المعاني، ما حَمِدنا أثره، وامتد نفعه، وما علَّمَناه مِن دينه وخُلُقِه أكثرُ وأكثرُ، فجزاه الله خير الجزاء، وزادَه مِن فضله.

 

وما أكثر ما أنبتَتْ يدا الشيخ مساعد بن سليمان الطيار من أبحاث، وما أكرمَ ما جنينا على يديه من ثمار، وكم تنقلنا معه من تعليق إلى تدقيق، ومن تدقيق إلى تحقيق ومن علم إلى آخر، ومِن فَنَنٍ إِلى فَنَنٍ فكانَ في كلّها .. مُساعداً بلا ثَمَنٍ ومهما رأيتَه لك شيخًا، لا يراك - على كثرة ما يُعطيك - إلا صاحباً، ويسمعُ منك الفائدةَ فينسبها إليك، ويذيعها عنك، وقد علم أنَّها مِن بعض علمه، وأطرافِ فوائده. وضعَ يدَيَّ على موضوع: (استدراكات السَّلفِ في التَّفسير) في مرحلةِ الماجستير، وأقامَ معي خُطَّتَه حتى اكتمَلَ، ثُمَّ قال لي ما معناه: أتيتَ
উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এবং এই গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক; এই গবেষণায় তাঁর প্রভাব সুস্পষ্ট যা গোপন থাকার নয়, ঠিক যেমন তা আমার হৃদয়ে তাঁর সান্নিধ্য ও আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত ফায়দাগুলোর ক্ষেত্রেও সুস্পষ্ট। আল্লাহ তাঁকে তাঁর ইহসান ও অবদানের জন্য সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।

 

আর সম্মানিত দুই পরীক্ষকের প্রতি রইল অনুপম প্রশংসা এবং আন্তরিক দুআ, এই গবেষণাটির পর্যালোচনা, মূল্যায়ন ও সঠিককরণে তাঁদের অনুগ্রহের জন্য। তাঁরা এই ইলমটির তাত্ত্বিক ও গবেষণালব্ধ বিষয়ে বিশেষ পারদর্শী ব্যক্তি এবং ইবনে জারীর (মৃত্যু: ৩১০ হিজরি)-এর কিতাবসমূহের যত্ন ও পাঠদানের বিষয়ে সর্বাধিক যোগ্য। তাঁদের প্রতি রইল অশেষ ও পূর্ণাঙ্গ কৃতজ্ঞতা; তাঁরা হলেন মহামান্য ড. আব্দুল আজিজ বিন সালেহ আল-উবাইদ, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, এবং ড. মুসাঈদ বিন

সুলাইমান আত-তাইয়ার, রিয়াদের বাদশাহ সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক।

 

আমি পিএইচডি পর্যায়ে আমার শাইখ ড. আব্দুল আজিজ বিন সালেহ আল-উবাইদ —আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন— এর নিকট পড়াশোনা করার সৌভাগ্য লাভ করেছি। তিনি তাঁর ইলম থেকে আমাদের তাফসিরের সমালোচনা ও অর্থগত জটিলতা নিরসনে যে উপকার করেছেন, আমরা তার প্রশংসা করি এবং এর কল্যাণ সুদূরপ্রসারী হয়েছে। তিনি তাঁর দ্বীনদারি ও আখলাক থেকে আমাদের যা শিখিয়েছেন তা আরও অনেক বেশি। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর অনুগ্রহ বৃদ্ধি করে দিন।

 

শাইখ মুসাঈদ বিন সুলাইমান আত-তাইয়ারের হাত কতই না গবেষণা অঙ্কুরিত করেছে, আর আমরা তাঁর হাত থেকে কতই না বরকতময় ফল আহরণ করেছি। তাঁর সাথে আমরা কতবার মন্তব্য থেকে সূক্ষ্ম পর্যালোচনায়, সূক্ষ্ম পর্যালোচনা থেকে গবেষণায়, এক ইলম থেকে অন্য ইলমে এবং এক শাখা থেকে অন্য শাখায় বিচরণ করেছি; এর প্রতিটিতেই তিনি ছিলেন নিস্বার্থ এক সহযোগী। আপনি তাঁকে যতই শাইখ হিসেবে দেখুন না কেন, তিনি আপনাকে —অকাতরে বিলিয়ে দেওয়ার পরেও— একজন সাথী হিসেবেই দেখেন। তিনি আপনার কাছ থেকে কোনো ইলমি ফায়দা শুনলে তা আপনার দিকেই সম্বন্ধ করেন এবং আপনার পক্ষ থেকে তা প্রচার করেন, অথচ তিনি জানেন যে এটি তাঁরই ইলমের অংশবিশেষ ও তাঁরই দেওয়া ফায়দার অবশিষ্টাংশ। তিনি মাস্টার্স পর্যায়ে আমার হাতকে 'তাফসিরে সালাফদের সংশোধনসমূহ' বিষয়ের ওপর স্থাপন করেছিলেন এবং এর পরিকল্পনা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত আমার সাথে ছিলেন। এরপর তিনি আমাকে এর মর্মার্থ সম্পর্কে যা বলেছিলেন: তুমি এসেছ...
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ২৪)
بما لم تستطعه الأوائل. فقلتُ في نفسي: ومَن ابنُ جريرٍ! ثُمَّ دارتِ الأيام، وحين أخبرته بموضوعي هذا - وكنتُ قد جعلته أوَّلاً في منهج الاستدلال في التَّفسير عند السَّلفِ َأشارَ عليَّ أن أجعله عند ابن جريرٍ، فقلتُ: ومن بابنِ جريرٍ فحمدتُ بالأيام رأيَه، جزاه الله عنِّي خيرَ ما يَجزي المحسنينَ مِن عِبادِه.

 

وأخيًرا أُهدي هذا العملَ مِن باء بسملته إلى آخر نقطةٍ فيه إلى مَن لا أشكرُه مهما شكرتُه، ولا أبرُّه مهما، بررتُه، ولا أحسنُ وصفه لكثرة محاسنه، ولا أوفيه حقه لعظم حقه، إلى مَن لا أشتكي الهم وهو حاضر، ولا أحتاجُ الدُّنيا وهو ناظر، ما بثثتُه يوماً صعباً إلا سهَّلَه بعد الله، ولا عسيرًا إلا يسَّرَه بأمر الله، دعاني إلى طلب العلم، وكفاني ما وراءه، وقال:

تخيّرتَ فاخترتَ الدراسة وحدها … وألقيت همَّ العيش وهو ثقيلُ

هنيئاً إذا يمَّمْتَ وجَهَك طيبةً … وإن كُنتَ في أم القرى فجميل

فشكر الله لك والدي .. والشكر واجب، وأحسن الله إليك والدتي .. كما أحسنتِ، وأدام عليكما عافيتَه وأطال عمركما في طاعته، وأنعمَ عليكما بعفوه.

هذا وأسأل الله تعالى توفيقَه وهدايتَه وتسديدَه، إنَّه خير مسؤول، وأكرم مأمولٍ، وصلى الله وسلَّمَ وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه، والحمد الله ربِّ العالمين.
যা পূর্ববর্তীরা সক্ষম হননি। তখন আমি মনে মনে বললাম: ইবনে জারীর কে! এরপর দিন অতিবাহিত হলো, আর যখন আমি তাঁকে আমার এই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করলাম—অথবা আমি একে প্রথমে 'সালাফদের নিকট তাফসিরের দলিল প্রদানের পদ্ধতি' হিসেবে নির্ধারণ করেছিলাম—তখন তিনি আমাকে পরামর্শ দিলেন যেন আমি একে ইবনে জারীরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করি। তখন আমি বললাম: ইবনে জারীরের সমতুল্য আর কে আছে? কালের পরিক্রমায় আমি তাঁর মতামতের প্রশংসা করলাম। আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁকে তাঁর বান্দাদের মধ্যে মুহসিনদের জন্য নির্ধারিত সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

 

পরিশেষে, আমি এই কাজটিকে এর বিসমিল্লাহর ‘বা’ থেকে শুরু করে এর শেষ বিন্দু পর্যন্ত এমন একজনের প্রতি উৎসর্গ করছি, যাঁর প্রতি আমি যতই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি না কেন তা যথেষ্ট নয়, এবং আমি যতই তাঁর প্রতি অনুগত হই না কেন তাঁর হক আদায় হবে না। তাঁর গুণের আধিক্যের কারণে আমি তা যথাযথভাবে বর্ণনা করতে অক্ষম এবং তাঁর হকের মহত্ত্বের কারণে আমি তা পূর্ণ করতে অপারগ। যাঁর উপস্থিতিতে আমি কোনো দুশ্চিন্তা করি না এবং যাঁর সান্নিধ্যে থাকাকালে আমার দুনিয়ার কোনো প্রয়োজন থাকে না। আমি যখনই কোনো কঠিন দিনের কথা বলেছি, আল্লাহর পরে তিনিই তা সহজ করে দিয়েছেন এবং আল্লাহর নির্দেশে প্রতিটি সংকটকে সুগম করেছেন। তিনি আমাকে ইলম অর্জনের পথে ডেকেছেন এবং এর বাইরের যাবতীয় দায়িত্ব তিনি নিজে বহন করেছেন। তিনি বললেন:

তুমি বেছে নিলে কেবল অধ্যয়নকেই … এবং জীবনধারণের ভারী দুশ্চিন্তা ছুড়ে ফেলে দিলে

তোমার জন্য মুবারকবাদ যদি তুমি তয়্যিবার দিকে মুখ করো … আর যদি উম্মুল কুরায় থাকো তবে তাও অতি সুন্দর

অতএব হে আমার পিতা, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন... আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা তো এক অনিবার্য কর্তব্য। আর হে আমার জননী, আল্লাহ আপনার প্রতি অনুগ্রহ করুন... যেমনটি আপনি অনুগ্রহ করেছেন। আল্লাহ আপনাদের উভয়কে সুস্থ রাখুন, তাঁর আনুগত্যের মধ্যে আপনাদের দীর্ঘায়ু দান করুন এবং আপনাদের ওপর তাঁর ক্ষমা বর্ষণ করুন।

পরিশেষে আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর তাওফিক, হেদায়াত ও সঠিক পথ নির্দেশ প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি যাঁর নিকট প্রার্থনা করা হয় তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং যাঁর নিকট আশা করা হয় তাদের মধ্যে পরম দয়ালু। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌التَّمهيدُ: التَّعريفُ بمفرداتِ العُنوانِ.

ويشتملُ على مبحثَيْن:

المبحث الأوَّل: التَّعريفُ بمفرداتِ البحثِ.

وفيه سِتَّةُ مَطالِب:

المطلبُ الأوَّلُ: التَّعريفُ ب (المَنهجِ).

المطلبُ الثّاني: التَّعريفُ ب (الاستدلالِ).

المطلبُ الثّالثُ: التَّعريفُ ب (التَّفسيرِ).

المطلبُ الرابعُ: التَّعريفُ ب (ابنِ جريرٍ الطَّبري).

المطلبُ الخامسُ: التَّعريفُ بتفسيرِ (جامعِ البيانِ عن تأويلِ آيِ القرآنِ).

المطلبُ السّادسُ: المرادُ ب (منهجِ ابنِ جريرٍ في الاستدلالِ على المعاني).

المبحث الثّاني: «الاستدلالُ على المعاني» في علمِ التَّفسيرِ.

وفيه ثلاثةُ مطالب:

المطلبُ الأوَّلُ: نشأةُ الاستدلالِ على المعاني في التَّفسيرِ.

المطلبُ الثّاني: مكانَةُ الاستدلالِ على المعاني في التَّفسيرِ.

المطلبُ الثّالثُ: مصادرُ أدلَّةِ المعاني في التَّفسيرِ.
ভূমিকা: শিরোনামের শব্দাবলির পরিচয়।

এবং এটি দুটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: গবেষণার শব্দাবলির পরিচয়।

এবং এতে ছয়টি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: (পদ্ধতি) এর পরিচয়।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: (দলিল উপস্থাপন) এর পরিচয়।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: (তাফসীর) এর পরিচয়।

চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: (ইবনে জারীর আত-তাবারী) এর পরিচয়।

পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ: (জামেউল বায়ান আন তাবীলি আয়িল কুরআন) তাফসীরের পরিচয়।

ষষ্ঠ উপ-পরিচ্ছেদ: (অর্থ নির্ণয়ে দলিল পেশের ক্ষেত্রে ইবনে জারীরের পদ্ধতি) দ্বারা যা উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাফসীর শাস্ত্রে «অর্থ নির্ণয়ে দলিল উপস্থাপন»।

এবং এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: তাফসীরে অর্থ নির্ণয়ে দলিল উপস্থাপনের উদ্ভব।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: তাফসীরে অর্থ নির্ণয়ে দলিল উপস্থাপনের গুরুত্ব।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: তাফসীরে অর্থ সংক্রান্ত দলিলের উৎসসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المبحثُ الأوَّلُ: التَّعريفُ بمفرداتِ البحثِ.

‌‌المطلبُ الأوَّلُ: التَّعريفُ ب (المَنهجِ).

المَنْهَج في اللغةِ: الطَّريقُ الواضحُ الجَليّ. وأصلُه (نَهَجَ)، ومَردُّه إلى الاستقامةِ والوضوحِ. ومثله (النَّهْج)، يُقالَ: هذا نهجي لا أحيدُ عنه. وكذا (المِنْهاج)؛ ومِنه قولُه تعالى {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} [المائدة: 48]، أي: سبيلاً واضحاً(1). وفي حديثِ العبّاسِ رضي الله عنه: «ما ماتَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم حتى تركَ السَّبيلَ نَهجاً واضِحاً»(2).(3)

قالَ ابنُ جريرٍ (ت: 310): «أصلُ المِنهاجِ: الطَّريقُ البَيِّنُ الواضحُ.

--------------------------------------------

(1) ينظر: جامع البيان 8/ 493.

(2) أخرجه عبد الرزاق في مصنفه 5/ 434، والدارمي في سننه 1/ 31 (83)، وصححه ابنُ حجر (ت: 852) في المطالب العالية 12/ 284 (4442). وينظر: النهاية في غريب الحديث 5/ 118.

(3) ينظر: مقاييس اللغة 2/ 528، وتهذيب اللغة 6/ 41، ولسان العرب 2/ 206، والمعجم الوسيط (ص: 957).
প্রথম পরিচ্ছেদ: গবেষণার শব্দাবলির পরিচিতি।

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: ‘মানহাজ’-এর পরিচিতি।

আভিধানিক অর্থে ‘মানহাজ’ (পদ্ধতি) হলো: স্পষ্ট ও সুপ্রকাশিত পথ। এর মূল ধাতু হলো (নাহাজা), যার সারকথা হলো ঋজুতা ও স্পষ্টতা। অনুরূপ শব্দ হলো ‘নাহজ’, বলা হয়ে থাকে: “এটিই আমার পথ (নাহজ), যা থেকে আমি বিচ্যুত হই না।” এবং একইভাবে ‘মিনহাজ’ শব্দটিও ব্যবহৃত হয়; মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরিয়ত ও স্পষ্ট পথ (মিনহাজ) নির্ধারণ করেছি} [আল-মায়িদা: ৪৮], অর্থাৎ: একটি স্পষ্ট পথ(১)। আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেননি, যতক্ষণ না তিনি দ্বীনের পথকে একটি স্পষ্ট ও সুপ্রকাশিত পথ হিসেবে রেখে গেছেন”(২)।(৩)

ইবনে জারির (মৃত্যু: ৩১০ হি.) বলেন: “মিনহাজ-এর মূল অর্থ হলো: সুস্পষ্ট ও প্রকাশিত পথ।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: জামিউল বায়ান ৮/৪৯৩।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে ৫/৪৩৪, এবং দারেমি তাঁর সুনান গ্রন্থে ১/৩১ (৮৩); ইবনে হাজার (মৃত্যু: ৮৫২ হি.) ‘আল-মাতালিবুল আলিয়া’ ১২/২৮৪ (৪৪৪২) গ্রন্থে এটিকে সহিহ বলেছেন। আরও দ্রষ্টব্য: আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ৫/১১৮।

(৩) দ্রষ্টব্য: মাকায়িসুল লুগাহ ২/৫২৮, তাহযিবুল লুগাহ ৬/৪১, লিসানুল আরব ২/২০৬, আল-মুজামুল ওয়াসিত (পৃষ্ঠা: ৯৫৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ২৮)
ويُقالُ مِنه: طريقٌ نَهْج، ومَنْهَج .. ثم يُستعمَل في كلِّ شيء كانَ بيِّناً واضحاً سهلاً»(1).

وقد تضمَّنَ ذلك المعنى لكلمةِ (المنهجِ) أمرَيْن بارزَيْن:

أوَّلَهما: أنَّ المنهجَ مسلَكٌ واضحٌ بَيِّن.

ثانيهما: أنَّ فيه معنى الالتزامِ والاستقامةِ.

وقد استمرَّ مصطلحُ (المنهجِ) متضمِّناً لتلك المعاني في عامَّةِ العلومِ والمعارفِ القديمةِ والمعاصرةِ، واستقرَّ مفهومُه فيها وفي عُرفِ الاستعمالِ على أنَّه: كُلُّ أمرٍ بَيِّنٍ واضحٍ يُلتَزَم.(2)

 

‌‌المطلبُ الثّاني: التَّعريفُ ب (الاستدلالِ).

الاسْتِدلالُ في اللغةِ: استفعالٌ مِنْ الدَّليلِ؛ فإن كانَ استدلالاً على الشَّيء فهو: طلبُ الدَّليلِ عليه. وإن كانَ استدلالاً بالشَّيء فهو: إقامَتُه دليلاً. والأوَّلُ قد يكونُ مِنْ السائِل عن الدَّليل، أو من النَّاظِر المُستَدِل، أمَّا الثاني فمن الناظرِ المُسْتَدِل.(3)

و (الدَّليلُ) عند العربِ(4): المُرشِدُ والموصِلُ إلى المطلوبِ. وأصلُه (دَلَّ)، و (الدِّلالةُ) مصدرُه، ومدارُه على: إبانةِ الشيءِ بأمارَةٍ تتعلَّمُها(5).

--------------------------------------------

(1) جامع البيان 8/ 493.

(2) ينظر: الكليّات (ص: 913)، ومنهج الاستدلال على مسائل الاعتقاد 1/ 20 - 26، ومناهج البحث العلمي (ص: 3 - 19)، ورؤية معاصرة في علم المناهج (ص: 255).

(3) ينظر: أساس البلاغة 1/ 295، ومعجم مقاليد العلوم (ص: 77)، والمعجم الوسيط (ص: 294).

(4) ينظر: جمهرة اللغة 1/ 114، وتهذيب اللغة 14/ 47، ولسان العرب 7/ 262، والتعريفات (ص: 108).

(5) ينظر: مقاييس اللغة 1/ 399.
এর থেকে বলা হয়: সুস্পষ্ট পথ ও পন্থা... এরপর তা এমন প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা সুস্পষ্ট, প্রাঞ্জল ও সহজ।(১)

‘মানহাজ’ (পন্থা) শব্দের এই অর্থটি দুটি বিশিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথমত: মানহাজ হলো একটি সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট পথ।

দ্বিতীয়ত: এতে অবিচলতা ও দৃঢ়তার অর্থ নিহিত রয়েছে।

প্রাচীন ও সমসাময়িক সকল জ্ঞান ও বিজ্ঞানের শাখায় ‘মানহাজ’ পরিভাষাটি উক্ত অর্থগুলো সম্বলিত রূপেই অব্যাহত রয়েছে। এর ব্যবহারিক পরিভাষা ও সংজ্ঞায় স্থির হয়েছে যে, এটি হলো: প্রতিটি সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল বিষয় যা অনুসরণ করা হয়।(২)

 

‌‌দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ‘ইস্তিদলাল’ (প্রমাণ উপস্থাপন)-এর পরিচয়।

আভিধানিক অর্থে ‘ইস্তিদলাল’ শব্দটি ‘দলিল’ থেকে নির্গত 'ইসতিফআল' ছাঁচের শব্দ। যদি কোনো বিষয়ের ওপর ইস্তিদলাল করা হয়, তবে তার অর্থ হলো: উক্ত বিষয়ে দলিল বা প্রমাণ অনুসন্ধান করা। আর যদি কোনো বিষয়ের মাধ্যমে ইস্তিদলাল করা হয়, তবে তার অর্থ হলো: সেই বিষয়টিকে দলিল হিসেবে উপস্থাপন করা। প্রথম বিষয়টি দলিল সম্পর্কে প্রশ্নকারীর পক্ষ থেকে হতে পারে অথবা গবেষণাকারী প্রমাণদাতার পক্ষ থেকেও হতে পারে; তবে দ্বিতীয় বিষয়টি কেবল গবেষণাকারী প্রমাণদাতার পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে।(৩)

আরবদের নিকট ‘দলিল’ (প্রমাণ) হলো: যা পথপ্রদর্শক এবং কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। এর মূল ধাতু হলো ‘দাল্লা’, এবং ‘দিলালাহ’ হলো এর ক্রিয়ামূল। এর মূল ভিত্তি হলো: কোনো নিদর্শনের মাধ্যমে কোনো কিছুকে স্পষ্ট করা যা দ্বারা জ্ঞান লাভ করা যায়।(৫)

--------------------------------------------

(১) জামিউল বায়ান ৮/ ৪৯৩।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-কুল্লিয়্যাত (পৃ. ৯১৩), মানহাজুল ইস্তিদলাল আলা মাসাইলিল ই'তিকাদ ১/ ২০-২৬, মানাহিযুল বাহসিল ইলমি (পৃ. ৩-১৯), রু'ইয়াহ মুআসিরাহ ফি ইলমিল মানাহিয (পৃ. ২৫৫)।

(৩) দ্রষ্টব্য: আসাসুল বালাগাহ ১/ ২৯৫, মু'জাম মাকালীদিল উলুম (পৃ. ৭৭), আল-মু'জামুল ওয়াসীত (পৃ. ২৯৪)।

(৪) দ্রষ্টব্য: জামহারাতুল লুগাহ ১/ ১১৪, তাহযীবুল লুগাহ ১৪/ ৪৭, লিসানুল আরব ৭/ ২৬২, আত-তা'রীফাত (পৃ. ১০৮)।

(৫) দ্রষ্টব্য: মাকায়িসুল লুগাহ ১/ ৩৯৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ২৯)
ويأتي (الاستدلالُ) مُصطلحاً خاصَّاً في عددٍ مِنْ العلومِ؛ كعلمِ الفقهِ، وأصولِه، والمنطقِ، وعلمِ الكلام(1)، غيرَ أنَّ المُرادَ به هنا: طلبُ إبانَةِ الشَّيءِ بأمَارَةٍ تُوصِلُ إلى المَطلوبِ. أو يُقالُ هو: إقامَةُ ما يُرشِدُ ويوصِلُ إلى المَطلُوبِ في قَضِيَّةٍ ما.

وتَشملُ تلك الإبانَةُ أمرَيْن هُما الغايَةُ مِنْ الاستدلالِ في أيِّ قضِيَّةٍ؛ وهُما:

الأوَّلُ: إبانَةُ صوابِ تلك القضيَّةِ، ومِن ثَمَّ قَبولُها وإثباتُها.

والثّاني: إبانَةُ خطَأِ تلك القضيَّةِ، ومِن ثَمَّ رَدُّها ونَفيُها.

وقريبٌ مِنْ (الاستدلالِ) في المعنى: (الاحتجاجُ)، وهو: إقامةُ الحُجَّةِ على الرَّأي؛ والحُجَّةُ: البُرهانُ، وما يقعُ به الظّفَرُ عند الخُصومةِ.(2)

وكذا (الاستشهادُ)، وهو: ذِكرُ الشّاهدِ؛ ومِن معانيه: الدَّليلُ.(3)

و (الاستشهادُ) أخصُّ مِنْ (الاحتجاجِ)؛ إذْ يغلُبُ إطلاقُه على الدَّلائلِ النَّقليَّةِ، أمّا (الاحتجاجُ) فيعُمُّ النَّقليَّةَ والعقليَّةَ.(4)

ويستعملُ ابنُ جريرٍ (ت: 310) (الاعتلالَ)، و (الانتزاعَ) في نحوِ معنى (الاستدلالِ).(5)

--------------------------------------------

(1) ينظر: التعريفات (ص: 108)، والكليَّات (ص: 439)، والاستدلال عند الأصوليين (ص: 22 - 26).

(2) ينظر: تهذيب اللغة 3/ 251، والتعريفات (ص: 87).

(3) ينظر: مقاييس اللغة 1/ 628، ولسان العرب 4/ 226، والمعجم الوسيط (ص: 497).

(4) ينظر: جامع البيان 1/ 83، 158، 166، 2/ 57، 5/ 617، 10/ 86، 328، 18/ 299.

(5) ينظر: جامع البيان 1/ 466، 3/ 753، 4/ 75، 397، 5/ 210، 611، 7/ 348، 9/ 281، 24/ 314.
'ইসতিদলাল' (প্রমাণ উপস্থাপন) শব্দটি ফিকহ শাস্ত্র, উসূলে ফিকহ, যুক্তিবিদ্যা এবং কালাম শাস্ত্রের মতো বেশ কিছু বিদ্যায় একটি বিশেষ পরিভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়;(১) তবে এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায় এমন কোনো নিদর্শনের মাধ্যমে কোনো বিষয়কে স্পষ্ট করার দাবি করা। অথবা বলা হয়: এটি হলো কোনো একটি বিষয়ে এমন কিছু উপস্থাপন করা যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে পথনির্দেশ করে এবং সেখানে পৌঁছে দেয়।

এই স্পষ্টীকরণ দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা যেকোনো বিষয়ে ইসতিদলালের মূল লক্ষ্য; সেগুলো হলো:

প্রথমত: সেই বিষয়ের সঠিকতা স্পষ্ট করা এবং ফলশ্রুতিতে তা গ্রহণ ও সাব্যস্ত করা।

দ্বিতীয়ত: সেই বিষয়ের ভুল বা ত্রুটি স্পষ্ট করা এবং ফলশ্রুতিতে তা বর্জন ও নাকচ করা।

অর্থের দিক থেকে 'ইসতিদলাল'-এর কাছাকাছি একটি শব্দ হলো 'ইহতিজাজ' (যুক্তি প্রদান), যার অর্থ হলো: কোনো মতের সপক্ষে দলিল (হুজ্জাত) উপস্থাপন করা; আর 'হুজ্জাত' হলো এমন প্রমাণ (বুরহান) যার মাধ্যমে তর্কের সময় বিজয় লাভ করা যায়।(২)

অনুরূপভাবে 'ইসতিশহাদ' শব্দটিও ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ হলো: সাক্ষী (শাহিদ) উল্লেখ করা; আর এর অন্যতম অর্থ হলো দলিল বা প্রমাণ।(৩)

'ইসতিশহাদ' শব্দটি 'ইহতিজাজ' অপেক্ষা অধিক সুনির্দিষ্ট; কেননা এটি সাধারণত বর্ণিত দলিলের (নকলি দলিল) ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়, অন্যদিকে 'ইহতিজাজ' বর্ণিত এবং যুক্তিনির্ভর (আকলি দলিল) উভয় প্রকার প্রমাণকেই অন্তর্ভুক্ত করে।(৪)

ইবনে জারীর (মৃত্যু: ৩১০ হি.) 'আল-ইতিলাল' এবং 'আল-ইনতিযা' শব্দ দুটিকেও 'ইসতিদলাল'-এর কাছাকাছি অর্থে ব্যবহার করেছেন।(৫)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আত-তা’রিফাত (পৃ. ১০৮), আল-কুল্লিয়াত (পৃ. ৪৩৯), আল-ইসতিদলাল ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃ. ২২-২৬)।

(২) দেখুন: তাহযীবুল লুগাহ ৩/২৫১, আত-তা’রিফাত (পৃ. ৮৭)।

(৩) দেখুন: মাকায়ীয়ুল লুগাহ ১/৬২৮, লিসানুল আরব ৪/২২৬, আল-মুজামুল ওয়াসীত (পৃ. ৪৯৭)।

(৪) দেখুন: জামিউল বায়ান ১/৮৩, ১৫৮, ১৬৬, ২/৫৭, ৫/৬১৭, ১০/৮৬, ৩২৮, ১৮/২৯৯।

(৫) দেখুন: জামিউল বায়ান ১/৪৬৬, ৩/৭৫৩, ৪/৭৫, ৩৯৭, ৫/২১০, ৬১১, ৭/৩৪৮, ৯/২৮১, ২৪/৩১৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌المطلبُ الثّالثُ: التَّعريفُ ب (التَّفسيرِ).

ترجعُ كلمةُ (تفسير) إلى أصلِ (فَسَرَ)، ويدورُ معناه في كلامِ العربِ على: الكشفِ والبيانِ والإيضاحِ(1). وهو ما بُنِيَ عليه المعنى الاصطلاحيُّ عند المفسرين، ويشملُه قولُهم في تعريفِه: بيانُ معاني القرآنِ الكريم.(2)

ومثلُهُ في المعنى عند ابنِ جريرٍ (ت: 310): التّأويلُ. فيقولُ في عامَّةِ تفسيرِه: (القولُ في تأويلِ قولِه تعالى)، قالَ ابنُ تيمية (ت: 728): «وهو التَّفسيرُ في لُغةِ السَّلفِ»(3).

ومِمّا يلفِتُ النَّظرَ في بعضِ تَعاريفِ العلماءِ لعلمِ التَّفسير: جَمعُهم فيها بين البيانِ اللُّغويِّ لمعاني القرآنِ، وما أضافَته الأدلَّةُ الأُخرى غيرَ دليلِ اللُّغةِ مِنْ تحديدِ المعنى المُرادِ، ومِن جَيِّدِ تلك التَّعاريفِ قولُ أبي الثَّناءِ الأصفهاني(4) (ت: 749): «التَّفسيرُ في عُرفِ العلماءِ هو: كَشفُ

--------------------------------------------

(1) ينظر: مقاييس اللغة 2/ 355، والصاحبي (ص: 145)، وأساس البلاغة 2/ 22، ولسان العرب 3/ 361، والمفردات (ص: 636)، والصواعق المرسلة 1/ 330، والتعريفات (ص: 67).

(2) ينظر: الكشف والبيان (لوحة: 9 أ، 9 ب)، وزاد المسير (ص: 29)، ودقائق التفسير 6/ 433، والتسهيل لعلوم التنْزيل 1/ 15، والبحر المحيط 1/ 121، ومقدمات تفسير الأصفهاني (ص: 131)، والصواعق المرسلة 1/ 215، وجلاء الأفهام (ص: 230)، والبرهان في علوم القرآن 1/ 33، 2/ 163، والتعريفات (ص: 67)، والتحرير والتنوير 1/ 11، 42، وأصولٌ في التفسير (ص: 35)، واستدراكات السَّلف في التفسير (ص: 27).

(3) مجموع الفتاوى 17/ 391.

(4) محمودُ بن عبد الرحمن الأصفهاني، شمسُ الدّين أبو الثَّناءِ الشّافعي، مفسِّر أصولي فقيه، صنَّفَ تفسيرَه أنوارَ الحقائقِ الربّانيةِ، وتوفي سنة (749). ينظر: طبقات الشافعية الكبرى 10/ 383، وبغية الوعاة 2/ 278.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: (তাফসির)-এর পরিচয়।

(তাফসির) শব্দটি (ফাসারা) মূলধাতু থেকে আগত, এবং আরবদের বক্তব্যে এর অর্থ আবর্তিত হয়: উন্মোচন করা, বিবৃত করা এবং স্পষ্ট করার ওপর।(১) আর এর ওপর ভিত্তি করেই মুফাসসিরদের নিকট পারিভাষিক অর্থটি গড়ে উঠেছে, যা এর সংজ্ঞায় তাদের এই উক্তিটিকে অন্তর্ভুক্ত করে: কুরআনুল কারিমের অর্থাবলির বর্ণনা।(২)

ইবনে জারিরের (মৃত্যু: ৩১০) নিকট অর্থের দিক থেকে এর অনুরূপ হলো: তাবিল। তিনি তাঁর তাফসিরের অধিকাংশ স্থানেই বলেন: (আল্লাহ তাআলার বাণীর তাবিল সম্পর্কে বক্তব্য), ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু: ৭ presentar) বলেন: "আর এটিই হলো সালাফদের ভাষায় তাফসির।"(৩)

তাফসির বিজ্ঞানের বিষয়ে আলেমদের প্রদানকৃত কিছু সংজ্ঞার মধ্যে যা দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হলো: কুরআনের অর্থের ভাষাগত বর্ণনার পাশাপাশি ভাষাগত প্রমাণাদি ব্যতিরেকে অন্যান্য দলীলসমূহ উদ্দিষ্ট অর্থ নির্ধারণে যা যোগ করেছে, এ দুয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। আর সেসব সংজ্ঞার মধ্যে চমৎকার একটি সংজ্ঞা হলো আবুল সানা আল-আসফাহানির(৪) (মৃত্যু: ৭৪৯) উক্তি: "আলেমদের পরিভাষায় তাফসির হলো: উন্মোচন করা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাকায়িসুল লুগাহ ২/৩৫৫, আস-সাহিবী (পৃ. ১৪৫), আসাসুল বালাগাহ ২/২২, লিসানুল আরব ৩/৩৬১, আল-মুফরাদাত (পৃ. ৬৩৬), আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ ১/৩৩০, আত-তারিফাত (পৃ. ৬৭)।

(২) দেখুন: আল-কাশফু ওয়াল বায়ান (ফলক: ৯ ক, ৯ খ), যাদুুল মাসীর (পৃ. ২৯), দাকায়িকুত তাফসির ৬/৪৩৩, আত-তাশহীল লি-উলূমিত তানযীল ১/১৫, আল-বাহরুল মুহীত ১/১২১, মুকাদ্দিমাতু তাফসিরিল আসফাহানি (পৃ. ১৩১), আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ ১/২১৫, জালাউল আফহাম (পৃ. ২৩০), আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন ১/৩৩, ২/১৬৩, আত-তারিফাত (পৃ. ৬৭), আত-তাহরীর ওয়াত তানভীর ১/১১, ৪২, উসুলুন ফিত তাফসির (পৃ. ৩৫), ইস্তিদরাকাতুস সালাফ ফিত তাফসির (পৃ. ২৭)।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া ১৭/৩৯১।

(৪) মাহমুদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-আসফাহানি, শামসুদ্দীন আবুল সানা আল-শাফেয়ী, মুফাসসির, উসূলবিদ ও ফকীহ। তিনি তাঁর তাফসির 'আনওয়ারুল হাকায়িক আল-রব্বানিয়্যাহ' রচনা করেন এবং (৭৪৯) হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ আল-কুবরা ১০/৩৮৩, বুগয়াতুল উয়াত ২/২৭৮।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ৩১)
معاني القرآنِ، وبيانُ المُرادِ»(1)، وشَرحَه الكافيجيّ(2) (ت: 879) فقالَ: «المُرادُ مِنْ معاني القرآنِ أعَمُّ، سواءٌ كانَت معاني لُغويَّةً أو شرعيَّةً، وسواءٌ كانَت بالوَضعِ، أو بمعونةِ المقامِ، وسَوقِ الكلامِ، وبقرائنِ الأحوالِ»(3).

ومثلُ ذلك ما أضافَه كثيرٌ مِنْ العلماءِ مِنْ ضَمِّ أدلَّةِ المعاني إلى صُلبِ معنى التَّفسيرِ؛ وعِلَّةُ ذلك أنَّها ما يُحدِّدُ المُرادَ مِنْ المعاني المُحتمَلةِ، كما في قولِ الثَّعلبي (ت: 427): «قالَت العُلماءُ: التَّفسيرُ: عِلمُ نُزولِ الآيةِ، وشَأنِها، وقِصَّتِها، والأسبابِ التي نزلَت فيها»(4)، وقالَ أبو حيَّان (ت: 745): «التَّفسيرُ عِلمٌ يُبحَثُ فيه عن كيفيَّةِ النُّطقِ بألفاظِ القرآنِ(5)، ومَدلولاتِها، وأحكامِها الإفراديَّةِ والتَّركيبيَّةِ، ومعانيها التي تُحمَلُ عليها حالةَ التَّركيبِ، وتَتِمّاتٍ لذلك»(6)، وقالَ الزَّركشي (ت: 794): «وفي الاصطلاحِ: هو علمُ نزولِ الآيةِ

--------------------------------------------

(1) مقدمات تفسير الأصفهاني (ص: 131). وينظر: الكشف والبيان 1/ 87.

(2) محمدُ بن سليمان الرّومي الحنفي، محي الدّين، عُرفَ بالكافيجي، عالمٌ باللغةِ والنَّحوِ، صنَّفَ التيسيرَ في قواعدِ علمِ التَّفسيرِ، وغيرِه، توفي سنة (879). ينظر: بغية الوعاة 1/ 117، وشذرات الذهب 9/ 488.

(3) التيسير في قواعد علم التفسير (ص: 124)، ومثله في (ص: 150).

(4) الكشفُ والبيان 1/ 87. وبه عرّفَه الزَّركشي (ت: 794)، والجُرجاني (ت: 816)، وابنُ ناصرِ الدّين الدِّمشقي (ت: 842)، والبَركوي (ت: 981). ينظر: البرهان 2/ 148، والتعريفات (ص: 67)، ومجالس في تفسير قوله تعالى {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ} (ص: 122، 337)، ومقدمة المفسرين (ص: 125).

(5) هذا القِسمُ المُتعلِّقُ بالأداءِ هو مِنْ علومِ القرآنِ، وليس مِنْ علمِ التَّفسيرِ، ولا أثرَ له فيه.

(6) البحر المحيط 1/ 121 ثُمَّ شرحه بعدُ، واختاره السيوطي (ت: 911) في التحبير في علم التفسير (ص: 36).
"কুরআনের অর্থাবলি এবং উদ্দীষ্ট বিষয়ের বর্ণনা"(১), এবং আল-কাফিয়াজি(২) (মৃত্যু: ৮৭৯) এর ব্যাখ্যা করে বলেছেন: "কুরআনের অর্থাবলি বলতে যা বোঝানো হয়েছে তা ব্যাপকতর; চাই তা ভাষাগত অর্থ হোক বা শরয়ি অর্থ, আর তা আভিধানিক অবস্থানের মাধ্যমে হোক কিংবা প্রেক্ষিতের সহায়তা, কথার প্রবাহ এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার ইঙ্গিতের মাধ্যমে হোক"(৩)।

অনুরূপভাবে অনেক আলেম তাফসিরের মূল সংজ্ঞার সাথে অর্থের প্রমাণাদিকেও যুক্ত করেছেন। এর কারণ হলো, এগুলোই সম্ভাব্য অর্থগুলোর মধ্য থেকে উদ্দীষ্ট অর্থটিকে সুনির্দিষ্ট করে। যেমন আস-সা'লাবি (মৃত্যু: ৪২৭) বলেছেন: "উলামায়ে কেরাম বলেছেন: তাফসির হলো আয়াত নাজিল হওয়ার জ্ঞান, এর প্রেক্ষাপট, এর ঘটনা এবং যে সব কারণে এটি নাজিল হয়েছে তা সংক্রান্ত বিষয়"(৪)। আবু হাইয়ান (মৃত্যু: ৭৪৫) বলেছেন: "তাফসির এমন এক বিদ্যা যাতে কুরআনের শব্দাবলি উচ্চারণের পদ্ধতি(৫), সেগুলোর নির্দেশিত অর্থ, তাদের একক ও যৌগিক বিধানাবলি, বাক্য গঠনের অবস্থায় সেগুলোর সম্ভাব্য অর্থ এবং এ সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা হয়"(৬)। আজ-যারকাশি (মৃত্যু: ৭৯৪) বলেছেন: "পারিভাষিক অর্থে: এটি হলো আয়াত নাজিল হওয়ার জ্ঞান...

--------------------------------------------

(১) আল-আসফাহানির তাফসিরের ভূমিকা (পৃষ্ঠা: ১৩১)। আরও দেখুন: আল-কাশফ ওয়াল বায়ান ১/৮৭।

(২) মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আর-রুমি আল-হানাফি, মুহিউদ্দিন, যিনি আল-কাফিয়াজি নামে পরিচিত; তিনি ভাষা ও ব্যাকরণ শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন। তিনি 'আত-তাইসির ফি কাওয়াইদ ইলমিত তাফসির' এবং অন্যান্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ৮৭৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: বুগইয়াতুল উআত ১/১১৭, শাযারাতুয যাহাব ৯/৪৮৮।

(৩) আত-তাইসির ফি কাওয়াইদ ইলমিত তাফসির (পৃষ্ঠা: ১২৪), এবং অনুরূপ বিষয় রয়েছে (পৃষ্ঠা: ১৫০)-এ।

(৪) আল-কাশফ ওয়াল বায়ান ১/৮৭। এই সংজ্ঞাটি আজ-যারকাশি (মৃত্যু: ৭৯৪), আল-জুরজানি (মৃত্যু: ৮১৬), ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি (মৃত্যু: ৮৪২) এবং আল-বারকাওয়ি (মৃত্যু: ৯৮১) প্রদান করেছেন। দেখুন: আল-বুরহান ২/১৪৮, আত-তারিফাত (পৃষ্ঠা: ৬৭), মাজালিস ফি তাফসিরি কউলিহি তাআলা {আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন} (পৃষ্ঠা: ১২২, ৩৩৭) এবং মুকাদ্দিমাতুল মুফাসসিরিন (পৃষ্ঠা: ১২৫)।

(৫) তিলাওয়াত বা উচ্চারণ পদ্ধতি সংক্রান্ত এই অংশটি কুরআনের বিজ্ঞানসমূহের (উলুমুল কুরআন) অন্তর্ভুক্ত, এটি তাফসির শাস্ত্রের অংশ নয় এবং এতে এর কোনো প্রভাব নেই।

(৬) আল-বাহরুল মুহিত ১/১২১, এরপর তিনি এর ব্যাখ্যা করেছেন, এবং আস-সুয়ুতি (মৃত্যু: ৯১১) আত-তাহবির ফি ইলমিত তাফসির (পৃষ্ঠা: ৩৬)-এ এটি পছন্দ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ৩২)
وسورتِها، وأقاصيصِها والإشاراتِ النَّازلةِ فيها، ثُمَّ ترتيبُ مَكيِّها ومَدنيِّها .. »(1)، وقالَ الشَّوكاني (ت: 1250): «المَقصودُ في كُتُبِ التَّفسيرِ ما يتعلَّقُ بتَفسيرِ ألفاظِ الكِتابِ العَزيزِ، وذِكرِ أسبابِ النُّزولِ، وبيانِ ما يُؤْخذُ مِنه مِنْ المسائِلِ الشَّرعيَّةِ. وما عدا ذلك فهو فَضْلَةٌ لا تدعو إليه حاجةٌ»(2).

فيُفهَمُ مِمّا سبقَ أنَّ علمَ التَّفسيرِ يشملُ: بيانَ المعنى، وما لا بُدَّ مِنه لبيانِه؛ مِمّا يتحدَّدُ به المُرادُ مِنْ المعاني. وذلك ما ضَمَّته كتبُ التَّفسيرِ، وتضمَّنَته مناهجُ المفسِّرين، ويشهدُ لذلك الأثرُ المَشهورُ عن ابنِ عباسٍ رضي الله عنه، في بيانِ أقسامِ التَّفسيرِ، حيث يقولُ: «التَّفسيرُ على أربعةِ أَوجُهٍ؛ وَجهٌ تَعرفُه العربُ مِنْ كلامِها، وتَفسيرٌ لا يُعذَرُ أحدٌ بجَهالتِه، وتَفسيرٌ يَعلمُه العلماءُ، وتَفسيرٌ لا يعلمُه إلا الله»(3)، وقد بيَّنَ ابنُ جريرٍ (ت: 310) تلك الأوجهَ، وقالَ عن الوَجهِ الرّابعِ: «وذلك ما فيه مِنْ الخبرِ عن آجالٍ حادثةٍ، وأوقاتٍ آتيةٍ؛ كوَقتِ قيامِ السّاعةِ، والنَّفخِ في الصّورِ، ونزولِ عيسى بن مريمَ، وما أشبهَ ذلك، فإنَّ تلك أوقاتٌ لا يعلمُ أحدٌ حدودَها، ولا يَعرفُ أحدٌ مِنْ تأويلِها إلا بالخبرِ عن أشراطِها؛ لاستئثارِ الله بعلمِ ذلك على خَلقِه»(4)، ولا شكَّ أنَّ ذلك زائدٌ عن حَدِّ بيانِ المعنى إلى تحديدِ المُرادِ بأدلَّتِه.

--------------------------------------------

(1) البرهان في علوم القرآن 2/ 148.

(2) فتح القدير 3/ 289.

(3) جامع البيان 1/ 70.

(4) جامع البيان 1/ 68.
...এর সূরাসমূহ, এর কাহিনীসমূহ এবং এতে অবতীর্ণ ইঙ্গিতসমূহ, অতঃপর এর মাক্কী ও মাদানী ধারাক্রম...»(১), এবং আশ-শাওকানী (মৃ: ১২৫০ হি.) বলেছেন: «তাফসীর গ্রন্থসমূহের উদ্দেশ্য হলো মহান কিতাবের শব্দাবলির ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ, শানে নুযূল উল্লেখ করা এবং তা থেকে শরীয়তের যে সকল মাসআলা গৃহীত হয় তার বর্ণনা। এর বাইরে যা কিছু আছে তা অতিরিক্ত, যার কোনো প্রয়োজন নেই»(২)।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, তাফসীর শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হলো: অর্থ স্পষ্ট করা এবং যা অর্থ স্পষ্ট করার জন্য অপরিহার্য; যার মাধ্যমে অর্থের উদ্দেশ্য নির্ধারিত হয়। তাফসীর গ্রন্থসমূহ এ বিষয়টিকেই ধারণ করেছে এবং মুফাসসিরগণের কর্মপদ্ধতিতেও এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত তাফসীরের প্রকারভেদ সংক্রান্ত প্রসিদ্ধ বর্ণনাটি এর সাক্ষ্য দেয়, যেখানে তিনি বলেন: «তাফসীর চার প্রকার; এক প্রকার যা আরবরা তাদের ভাষার মাধ্যমে জানে, এক প্রকার যার অজ্ঞতার কারণে কেউ ওজর পেশ করতে পারবে না, এক প্রকার যা আলেমগণ জানেন এবং এক প্রকার যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না»(৩)। ইবনে জারীর (মৃ: ৩১০ হি.) এই প্রকারগুলো বর্ণনা করেছেন এবং চতুর্থ প্রকার সম্পর্কে বলেছেন: «আর তা হলো সেই সব সংবাদ যা ভবিষ্যতে ঘটিতব্য বিষয় এবং আগত সময় সম্পর্কে; যেমন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময়, শিঙ্গায় ফুঁৎকার, ঈসা ইবনে মারইয়ামের অবতরণ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। কেননা এগুলো এমন সময় যার সীমা কেউ জানে না এবং এর ব্যাখ্যার হাকিকত কেউ চিনে না কেবল এর আলামতসমূহ সম্পর্কে প্রাপ্ত সংবাদ ব্যতীত; কারণ আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির অগোচরে এগুলোর জ্ঞান কেবল নিজের কাছেই রেখেছেন»(৪)। এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি কেবল অর্থ বর্ণনার সীমার বাইরে গিয়ে দলীলের ভিত্তিতে উদ্দিষ্ট বিষয়কে সুনির্দিষ্ট করার পর্যায়ে পড়ে।

--------------------------------------------

(১) আল-বুরহান ফী উলূমিল কুরআন ২/ ১৪৮।

(২) ফাতহুল কাদীর ৩/ ২৮৯।

(৩) জামিউল বায়ান ১/ ৭০।

(৪) জামিউল বায়ান ১/ ৬৮।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌المطلبُ الرّابعُ: التَّعريفُ ب (ابنِ جريرٍ الطَّبري).(1)

اسمُه ونسبُه:

هو محمدُ بن جرير بن يزيد بن كثير بن غالب، أبو جعفرَ الطَّبري، أحدُ أئمَّةِ العلماءِ، حافظٌ محدِّثٌ، رأسُ المفسِّرين، إمامٌ في الفقهِ والإجماعِ والخلافِ، علّامةٌ في التاريخِ وأيَّامِ النّاسِ، عارِفٌ بالقراءاتِ واللغةِ والأصولِ، مِنْ أئمَّةِ السُّنَّةِ والأثرِ.

ولادتُه وصفاتُه:

وُلِدَ بآمُل(2) بطبرستان(3) سنةَ (224)، ونشأَ بها، وكانَ أسْمرَ، أعْيَنَ، مليحَ الوجهِ، مديدَ القامةِ، فصيحَ اللسانِ، لم يتزوّجْ أو يتسرَّى.

--------------------------------------------

(1) أوفى من ترجم له: الخطيبُ في تاريخ بغداد 2/ 548، وياقوتُ في معجم الأدباء 6/ 2441، وأفرد ترجمته بالتصنيف عبدُ العزيز بن محمد الطبري، وأبو بكر بن كامل القاضي؛ وهما من أصحابِه وطُلابه -وعنهما نقل ياقوت في كتابه-، وجمالُ الدين القِفطيّ في كتابٍ وصفه بأنه: ماتع؛ سمَّاه (التحرير في أخبار محمد بن جرير). وأطال في ترجمته أبو إسحاق بن إبراهيم الطبري، وأبو الحسن أحمد بن يحيى المُنَجِّم، وأبو محمد الفرغاني -ونقل جملاً منها الذهبي في السير-. وتُرجِمَ له أيضاً في: الفهرست (ص: 287)، وإنباه الرواة 3/ 89، وسير أعلام النبلاء 14/ 267، ومعرفة القراء الكبار 2/ 527، وطبقات الشافعية الكبرى 3/ 120، والبداية والنهاية 11/ 123، وطبقات المفسرين (ص: 95)، وإمام المفسرين والمحدثين والمؤرخين أبو جعفر الطبري.

(2) قَصَبَةُ طبرستان، وأكبر مدنها في السهل، وخرج منها كثير من العلماء. ينظر: معجم البلدان 1/ 57.

(3) بُلدانٌ واسعةٌ كثيرةٌ يشملها هذا الاسم، وتُسمَّى بمازندران، وتقع جنوب بحر الخزر (قزوين)، وشمال طهران عاصمة إيران اليوم. ينظر: معجم البلدان 3/ 244، وأطلس عمر بن الخطاب رضي الله عنه (ص: 142).
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: (ইবনে জারীর আত-তাবারী)-র পরিচয়।(১)

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন জারীর বিন ইয়াজিদ বিন কাসীর বিন গালিব, আবু জাফর আত-তাবারী। তিনি আলেমগণের অন্যতম ইমাম, হাফেজ, মুহাদ্দিস, মুফাসসিরগণের প্রধান, ফিকহ, ইজমা ও ইখতিলাফ (মতভেদ) শাস্ত্রের ইমাম, ইতিহাস ও জাতিসমূহের ঘটনাবলীতে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী আল্লামা, কিরাত, ভাষা ও উসুল শাস্ত্রে অভিজ্ঞ এবং সুন্নাহ ও আসারের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর জন্ম ও গুণাবলি:

তিনি (২২৪) হিজরিতে তাবারিস্তানের আমুল(২)-এ জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি ছিলেন শ্যামবর্ণ, ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট, সুন্দর চেহারার অধিকারী, দীর্ঘাকৃতি এবং অত্যন্ত সুবক্তা। তিনি বিবাহ করেননি এবং কোনো দাসীও গ্রহণ করেননি।

--------------------------------------------

(১) যাঁরা বিস্তারিতভাবে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন: আল-খতিব 'তারিখে বাগদাদ' ২/ ৫৪৮-এ, ইয়াকুত 'মুজামুল উদাবা' ৬/ ২৪৪১-এ; এবং আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আত-তাবারী ও আবু বকর বিন কামিল আল-কাজী তাঁর জীবনী বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁরা উভয়েই তাঁর সঙ্গী ও ছাত্র ছিলেন—তাঁদের থেকে ইয়াকুত তাঁর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন—এবং জামালুদ্দিন আল-কিফতি একটি কিতাব লিখেছেন যাকে তিনি অত্যন্ত তথ্যবহুল হিসেবে বর্ণনা করেছেন; তিনি এর নামকরণ করেছেন 'আত-তাহরীর ফি আখবারি মুহাম্মদ বিন জারীর'। আবু ইসহাক বিন ইবরাহিম আত-তাবারী, আবু হাসান আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-মুনাজ্জিম এবং আবু মুহাম্মদ আল-ফারগানী তাঁর জীবনীর ওপর দীর্ঘ আলোচনা করেছেন—আল-জাহাবী 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে এর কিছু অংশ উদ্ধৃত করেছেন। এছাড়াও তাঁর জীবনী আলোচিত হয়েছে: 'আল-ফিহরিস্ত' (পৃষ্ঠা: ২৮৭), 'ইনবাহুর রুওয়াত' ৩/ ৮৯, 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' ১৪/ ২৬৭, 'মারিফাতুল কুররা আল-কিবার' ২/ ৫২৭, 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা' ৩/ ১২০, 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' ১১/ ১২৩, 'তাবাকাতুল মুফাসসিরীন' (পৃষ্ঠা: ৯৫) এবং 'ইমামুল মুফাসসিরীন ওয়াল মুহাদ্দিসীন ওয়াল মুয়াররিখীন আবু জাফর আত-তাবারী' গ্রন্থে।

(২) তাবারিস্তানের প্রধান শহর এবং সমতল ভূমিতে এর বৃহত্তম নগরী। এখান থেকে অনেক আলেমের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। দেখুন: 'মুজামুল বুলদান' ১/ ৫৭।

(৩) এই নামটির অন্তর্ভুক্ত অনেক প্রশস্ত এলাকা রয়েছে, যা মাজান্দারান নামে পরিচিত। এটি কাস্পিয়ান (কাজভিন) সাগরের দক্ষিণে এবং বর্তমান ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে অবস্থিত। দেখুন: 'মুজামুল বুলদান' ৩/ ২৪৪ এবং 'আটলাস উমর বিন আল-খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু' (পৃষ্ঠা: ১৪২)।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিদলাল ফিত তাফসির দিরাসাতুন ফি মানহাজিত তাবারি (পৃষ্ঠা: ৩৪)
طلبُه للعلمِ ورحلاتُه:

حفظَ القرآنَ وله سبعُ سنينَ، وأمَّ النّاسَ وهو ابنُ ثمانِ سنينَ، وكتبَ الحديثَ وله تسعُ سنينَ، ورحل عن بلدِه لطلبِ العلمِ وله سِتَّ عشرةَ سنةً.

أخذَ العلمَ عن علماءِ بلدِه مِنْ أنحاءِ طبرستان، ثمَّ رحلَ لتحصيلِه إلى العراقِ قاصداً لُقيا الإمام أحمدَ بن حنبل (ت: 241) ببغدادَ، فبلغَه خبرُ وفاتِه قبل دخولِه إليها، فأدركَ أقرانَه وأخذ عنهم. وجابَ البصرةَ والكوفةَ، ثمَّ يَمَّمَ إلى الشّامِ وما بها من السواحلِ والثُّغورِ، ثمَّ مصرَ سنةَ (253)، ودخلَ الفُسطاطَ، ثمَّ رجعَ إلى الشّامِ مَرَّة أُخرى، وعادَ بعدها إلى مصرَ سنةَ (256)، ودخلَ القاهرةَ، ثمَّ رجعَ إلى بغدادَ، ثمَّ إلى بلدِه طبرستان، وعادَ بعد ذلك إلى بغدادَ، ثمَّ إلى بلدِه مرَّةً أُخرى، ثمَّ استقرَّ به النَّوى ببغدادَ أخيراً سنةَ (290) وعمره سِتٌّ وستّونَ سنةً، إلى أن توفّاهُ الله عز وجل بها شهرَ شوّال سنةَ (310). وسافرَ في أثناءِ ذلك للحجِّ سنة (240).

أشهرُ مشايخِه:

أخذَ ابنُ جريرٍ (ت: 310) في أثناءِ ذلك التَّرحالِ عن طائفةٍ من أجِلَّاء العلماءِ والأئمَّةِ، فلقيَ -مِنْ أشهرِهم-:

1 - محمدَ بن حُمَيد الرّازي التَّميمي (ت: 248)، أخذَ عنه ابنُ جريرٍ (ت: 310) قريباً مِنْ مئةِ ألفِ حديثٍ، وهو أوَّلُ شيوخِه في الرَّيّ.
তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ ও তাঁর সফরসমূহ:

তিনি সাত বছর বয়সে কুরআন মুখস্থ করেন, আট বছর বয়সে মানুষের ইমামতি করেন, নয় বছর বয়সে হাদিস লিখতে শুরু করেন এবং ষোল বছর বয়সে জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে নিজ দেশ ত্যাগ করেন।

তিনি তাঁর নিজ দেশ তাবারিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেমদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। অতঃপর তা হাসিলের উদ্দেশ্যে বাগদাদে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (মৃত্যু: ২৪১ হিজরি)-এর সাথে সাক্ষাৎ করার সংকল্প নিয়ে ইরাক সফর করেন। কিন্তু সেখানে প্রবেশের পূর্বেই তিনি তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পান। ফলে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের সাক্ষাৎ লাভ করেন এবং তাঁদের কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করেন। তিনি বসরা ও কুফা ভ্রমণ করেন। অতঃপর সিরিয়া এবং সেখানকার উপকূলীয় অঞ্চল ও সীমান্ত এলাকাগুলোর দিকে যাত্রা করেন। এরপর ২৫৩ হিজরিতে মিসরে গিয়ে ফুস্তাত নগরীতে প্রবেশ করেন। পুনরায় তিনি সিরিয়ায় ফিরে আসেন এবং ২৫৬ হিজরিতে আবার মিসরে ফিরে কায়রোতে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি বাগদাদে এবং পরে তাঁর নিজ দেশ তাবারিস্তানে ফিরে যান। এরপর আবারও বাগদাদে এবং পুনরায় নিজ দেশে ফিরে আসেন। অবশেষে ২৯০ হিজরিতে ৬৬ বছর বয়সে তিনি বাগদাদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং ৩১০ হিজরির শাওয়াল মাসে মহান আল্লাহ সেখানে তাঁর মৃত্যু ঘটান। এর মাঝে ২৪০ হিজরিতে তিনি হজের উদ্দেশ্যে সফর করেছিলেন।

তাঁর প্রসিদ্ধ শিক্ষকগণ:

ইবনে জারীর (মৃত্যু: ৩১০ হিজরি) তাঁর এই সফরের সময় একদল বিশিষ্ট আলেম ও ইমামদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ছিলেন:

১ - মুহাম্মাদ বিন হুমাইদ আল-রাজি আল-তামিমি (মৃত্যু: ২৪৮ হিজরি), ইবনে জারীর (মৃত্যু: ৩১০ হিজরি) তাঁর কাছ থেকে প্রায় এক লক্ষ হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং তিনি ছিলেন রাই অঞ্চলে তাঁর প্রথম শিক্ষকদের একজন।