(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: -)
فضل الصلاة على النبي لإسماعيل القاضي القسم: كتب السنة
الكتاب: فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم
المؤلف: القاضي أبو إسحاق إسماعيل بن إسحاق بن إسماعيل بن حماد بن زيد الأزدي البصري ثم البغدادي المالكي الجهضمي (ت 282هـ)
المحقق: محمد ناصر الدين الألباني
الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت
الطبعة: الثالثة، 1397
عدد الصفحات: 88
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসমাঈল আল-কাদীর সংকলিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পাঠের ফজিলত বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পাঠের ফজিলত
লেখক: আল-কাজী আবু ইসহাক ইসমাঈল ইবনে ইসহাক ইবনে ইসমাঈল ইবনে হাম্মাদ ইবনে যায়েদ আল-আযদি আল-বাসরি অতঃপর আল-বাগদাদি আল-মালিকী আল-জাহদামি (মৃত্যু: ২৮২ হিজরি)
তাহকীক: মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি
প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি - বৈরুত
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৩৯৭
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৮
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، حَدَّثَنِي أَخِي، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ ⦗ص: 24⦘ بِلَالٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: قَالَ أَبُو طَلْحَةَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَلَيْهِمْ يَوْمًا يَعْرِفُونَ الْبِشْرَ فِي وَجْهِهِ فَقَالُوا إِنَّا نَعْرِفُ الْآنَ فِي وَجْهِكَ الْبِشْرَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «أَجَلْ، أَتَانِي الْآنَ آتٍ مِنْ رَبِّي فَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ لَنْ يُصَلِّيَ عَلَيَّ أَحَدٌ مِنْ أُمَّتِي إِلَّا رَدَّهَا اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرَ أَمْثَالِهَا»
আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল ইবনে আবু উওয়াইস, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার ভাই, সুলাইমান ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ বিলাল হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর হতে, তিনি সাবিত আল-বুনানী হতে; আনাস ইবনে মালিক বলেন: আবু তালহা বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন তাঁদের সামনে বের হয়ে আসলেন এবং তাঁরা তাঁর চেহারায় আনন্দের আভা দেখতে পাচ্ছিলেন। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এখন আপনার চেহারায় খুশির চিহ্ন দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেন: «হ্যাঁ, আমার রবের পক্ষ হতে একজন আগন্তুক এইমাত্র আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে সংবাদ দিলেন যে, আমার উম্মতের মধ্য হতে যে ব্যক্তিই আমার ওপর দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশ গুণ রহমত বর্ষণ করবেন।»
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
2 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ، مَوْلَى الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَ يَوْمًا وَالْبِشْرُ يُرَى فِي وَجْهِهِ فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَرَى فِي وَجْهِكَ بِشْرًا لَمْ نَكُنْ نَرَاهُ قَالَ: " أَجَلْ إِنَّهُ أَتَانِي مَلَكٌ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّ رَبَّكَ يَقُولُ أَمَا يُرْضِيكَ أَلَّا يُصَلِّيَ عَلَيْكَ أَحَدٌ مِنْ أُمَّتِكَ إِلَّا صَلَّيْتُ عَلَيْهِ عَشْرًا وَلَا سَلَّمَ عَلَيْكَ إِلَّا سَلَّمْتُ عَلَيْهِ عَشْرًا؟ "
২ - সুলাইমান ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি হাসান ইবনে আলীর মুক্তদাস সুলাইমান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি তালহা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন আগমন করলেন এবং তাঁর চেহারায় আনন্দের আভা পরিলক্ষিত হচ্ছিল। তাঁরা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার চেহারায় এমন আনন্দ দেখতে পাচ্ছি যা ইতিপূর্বে দেখিনি।" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আমার নিকট একজন ফেরেশতা আগমন করেছেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনার রব বলছেন, আপনি কি এতে সন্তুষ্ট নন যে—আপনার উম্মতের কেউ আপনার ওপর দরুদ পাঠ করলে আমি তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করব এবং কেউ আপনাকে সালাম দিলে আমি তাকে সালাম প্রদান করব দশবার?"
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
3 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَرْوِيُّ قَالَ ثنا أَبُو طَلْحَةَ الْأَنْصَارِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا فَلْيُكْثِرْ عَدَدَ ذَلِكَ أَوْ لِيُقِلَّ»
৩ - ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারওয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু তালহা আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি তালহা থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন; সুতরাং সে এর সংখ্যা বৃদ্ধি করুক অথবা হ্রাস করুক»
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
4 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ قَالَ: ثنا سَلَمَةُ بْنُ وَرْدَانَ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ قَالَ: خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَبَرَّزُ فَلَمْ يَجِدْ أَحَدًا يَتْبَعُهُ فَهَرَعَ عُمَرُ فَاتَّبَعَهُ بِمَطْهَرَةٍ - يَعْنِي: إِدَاوَةً - فَوَجَدَهُ سَاجِدًا فِي شَرَبَةٍ فَتَنَحَّى عُمَرُ فَجَلَسَ وَرَاءَهُ حَتَّى رَفَعَ رَأْسَهُ قَالَ: فَقَالَ: " أَحْسَنْتَ يَا عُمَرُ حِينَ وَجَدْتَنِي سَاجِدًا فَتَنَحَّيْتَ عَنِّي؛ إِنَّ جِبْرِيلَ عليه السلام أَتَانِي فَقَالَ: مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا وَرَفَعَهُ عَشْرَ دَرَجَاتٍ "
৪ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালামাহ ইবনে ওয়ারদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং কাউকে তাঁর অনুগামী হতে দেখলেন না। তখন উমর দ্রুতগতিতে একটি পবিত্রতা অর্জনের পাত্র—অর্থাৎ পানির পাত্র—নিয়ে তাঁর অনুসরণ করলেন। তিনি তাঁকে একটি জলাশয়ের নিকট সাজদাহরত অবস্থায় পেলেন। তখন উমর একপাশে সরে গেলেন এবং নবী তাঁর মস্তক উত্তোলন করা পর্যন্ত উমর তাঁর পেছনে বসে রইলেন। তিনি (নবী) বললেন: "হে উমর, তুমি উত্তম কাজ করেছ যখন আমাকে সাজদাহরত পেয়ে আমার থেকে সরে গিয়েছিলে; নিশ্চয়ই জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমার নিকট আগমন করেছেন এবং বলেছেন: যে ব্যক্তি আপনার ওপর একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন এবং তাকে দশ স্তর উচ্চ মর্যাদা দান করবেন। "
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
5 - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ وَرْدَانَ، حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ: خَرَجَ النَّبِيُّ يَتَبَرَّزُ فَاتَّبَعْتُهُ بِإِدَاوَةٍ فَوَجَدْتُهُ قَدْ فَرَغَ وَوَجَدْتُهُ سَاجِدًا لِلَّهِ فِي شَرَبَةٍ، فَتَنَحَّيْتُ عَنْهُ فَلَمَّا فَرَغَ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ: " أَحْسَنْتَ يَا عُمَرُ حِينَ تَنَحَّيْتَ عَنِّي، إِنَّ جِبْرِيلَ أَتَانِي فَقَالَ: «مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ صَلَاةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا وَرَفَعَهُ عَشْرَ دَرَجَاتٍ»
৫ - ইয়াকুব ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস ইবনে ইয়াদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামাহ ইবনে ওয়ারদান থেকে বর্ণিত, মালিক ইবনে আওস ইবনুল হাদাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলেন, আমি একটি পানির পাত্র নিয়ে তাঁর অনুসরণ করলাম। আমি তাঁকে কাজ শেষ করা অবস্থায় পেলাম এবং তাঁকে একটি জলাধারের নিচু স্থানে আল্লাহর উদ্দেশে সিজদাবনত পেলাম। আমি তাঁর থেকে দূরে সরে দাঁড়ালাম। অতঃপর যখন তিনি অবসর হলেন এবং তাঁর মাথা তুললেন, তখন বললেন: "হে উমর, তুমি যখন আমার থেকে সরে দাঁড়ালে তখন তুমি উত্তম কাজ করেছ। নিশ্চয়ই জিবরাঈল আমার নিকট এসেছিলেন এবং বললেন: «যে ব্যক্তি আপনার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন এবং তাকে দশটি মর্যাদা (স্তর) উন্নীত করবেন।»
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
6 - حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: ثنا شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَا مِنْ عَبْدٍ يُصَلِّي عَلَيَّ إِلَّا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ مَا صَلَّى عَلَيَّ، فَلْيُقِلَّ مِنْ ذَلِكَ أَوْ لِيُكْثِرْ»
৬ - আমাদের নিকট আসিম ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, আসিম ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবি’আহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «কোনো বান্দা যখনই আমার ওপর দরূদ পাঠ করে, ফেরেশতারাও তার ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত দরূদ পাঠ করতে থাকে যতক্ষণ সে আমার ওপর দরূদ পাঠ করে; অতএব সে চাইলে এর পরিমাণ কমাতে পারে অথবা বৃদ্ধি করতে পারে।»
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
7 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ قَالَ: ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرَةَ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ وَهُوَ سَاجِدٌ فَأَطَالَ السُّجُودَ قَالَ: " أَتَانِي جِبْرِيلُ قَالَ: مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ صَلَّيْتُ عَلَيْهِ، وَمَنْ سَلَّمَ عَلَيْكَ سَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَسَجَدْتُ لِلَّهِ شُكْرًا "
৭ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল হামিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে আবি আমরাহ থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আউফ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম এমতাবস্থায় যে তিনি সিজদাবনত ছিলেন, অতঃপর তিনি সিজদাকে দীর্ঘ করলেন। তিনি বললেন: "আমার নিকট জিবরাঈল এসে বললেন: যে ব্যক্তি আপনার প্রতি দরুদ পাঠ করবে আমি তার প্রতি রহমত বর্ষণ করব, আর যে ব্যক্তি আপনার প্রতি সালাম পাঠাবে আমি তার প্রতি শান্তি বর্ষণ করব। তাই আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায়স্বরূপ সিজদা করলাম।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو ثَابِتٍ قَالَ: ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا»
৮ - আমাদের নিকট আবু সাবিত বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল আযীয ইবনে আবি হাযিম বর্ণনা করেছেন আল-আলা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করবেন»
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
9 - حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ مِينَاءٍ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا»
৯ - আমাদের নিকট ঈসা ইবন মীনা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন জাফর বর্ণনা করেছেন, আলা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করবেন»
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
10 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: ثنا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ قَالَ: أَخْبَرَنِي قَيْسُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ: كَانَ لَا يُفَارِقُ فَيْءَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ خَمْسَةُ نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ أَوْ أَرْبَعَةٌ لِمَا يَنُوبُهُ مِنْ حَوَائِجِهِ. قَالَ: فَجِئْتُ فَوَجَدْتُهُ قَدْ خَرَجَ فَتَبِعْتُهُ فَدَخَلَ حَائِطًا مِنْ حِيطَانِ ⦗ص: 29⦘ الْأَسْوَافِ فَصَلَّى فَسَجَدَ سَجْدَةً أَطَالَ فِيهَا فَحَزِنْتُ وَبَكَيْتُ فَقُلْتُ: لَأَرَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ قَبَضَ اللَّهُ رُوحَهُ قَالَ: فَرَفَعَ رَأْسَهُ وَتَرَاءَيْتُ لَهُ فَدَعَانِي فَقَالَ: «مَا لَكَ؟» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ سَجَدْتَ سَجْدَةً أَطَلْتَ فِيهَا فَحَزِنْتُ وَبَكَيْتُ وَقُلْتُ: لَأَرَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ قَبَضَ اللَّهُ رُوحَهُ قَالَ: «هَذِهِ سَجْدَةٌ سَجَدْتُهَا شُكْرًا لِرَبِّي فِيمَا آتَانِي فِي أُمَّتِي ، مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً كَتَبَ اللَّهُ لَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ»
১০ - আলী ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যায়দ ইবনুল হুবাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মূসা ইবনে উবায়দাহ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: কায়স ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি সা'সাআ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সাদ ইবনে ইবরাহীম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রয়োজনাদি দেখাশোনার জন্য দিন ও রাতে তাঁর সাথে তাঁর সাহাবীগণের চার অথবা পাঁচজন লোক থাকতেন। তিনি বলেন: আমি আসলাম এবং তাঁকে বেরিয়ে যেতে দেখে তাঁর অনুসরণ করলাম। তিনি আল-আসওয়াফের বাগানসমূহের মধ্যে একটিতে প্রবেশ করলেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ এবং সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি এমন দীর্ঘ একটি সিজদাহ করলেন যে আমি চিন্তিত হয়ে পড়লাম এবং কাঁদতে শুরু করলাম। আমি বললাম: আমার মনে হচ্ছে আল্লাহ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রূহ কবজ করে নিয়েছেন। তিনি বলেন: এরপর তিনি তাঁর মাথা তুললেন এবং আমাকে দেখতে পেয়ে ডাকলেন। তিনি বললেন: «তোমার কী হয়েছে?» আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এমন দীর্ঘ এক সিজদাহ করেছেন যে আমি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম এবং কাঁদতে শুরু করেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম যে আল্লাহ সম্ভবত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রূহ কবজ করে নিয়েছেন। তিনি বললেন: «এটি এমন এক সিজদাহ যা আমি আমার রবের নিকট কৃতজ্ঞতা স্বরূপ করেছি ওই সব বিষয়ের ওপর যা তিনি আমাকে আমার উম্মতের ব্যাপারে দান করেছেন; যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য দশটি নেকি লিখে দেবেন।»
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
11 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ: ثنا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ قَالَ: ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ: رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ مَرَّةً وَاحِدَةً كَتَبَ اللَّهُ لَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ»
১১ - মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবনুল মুফাযযাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-আলা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য দশটি নেকি লিখে দেবেন»
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
12 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ وَاقِدٍ الْعَطَّارُ قَالَ: ثنا هُشَيْمٌ قَالَ: ثنا الْعَوَّامُ بْنُ حَوْشَبٍ، حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ بَنِي أَسَدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: «مَنْ صَلَّى عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَتَبَ اللَّهُ لَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ وَمَحَا عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئَاتٍ وَرَفَعَ لَهُ عَشْرَ دَرَجَاتٍ»
১২ - আব্দুর রহমান ইবনে ওয়াকিদ আল-আত্তার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশায়ম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আওয়াম ইবনে হাওশাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বনু আসাদ গোত্রের এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য দশটি নেকি লিখে দেবেন, তার থেকে দশটি গুনাহ মিটিয়ে দেবেন এবং তার জন্য দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
13 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: ثنا سُفْيَانُ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ زَيْدِ بْنِ طَلْحَةَ التَّيْمِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَتَانِي آتٍ مِنْ رَبِّي فَقَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ يُصَلِّي عَلَيْكَ صَلَاةً إِلَّا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا ". فَقَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَجْعَلُ نِصْفَ دُعَائِي لَكَ؟ قَالَ: «إِنْ شِئْتَ» قَالَ: أَلَا أَجْعَلُ ثُلُثَيْ دُعَائِي لَكَ؟ قَالَ: «إِنْ شِئْتَ» قَالَ: أَلَا أَجْعَلُ دُعَائِي لَكَ كُلَّهُ؟ قَالَ: «إِذَنْ يَكْفِيكَ اللَّهُ هَمَّ الدُّنْيَا، وَهَمَّ الْآخِرَةِ» . قَالَ شَيْخٌ كَانَ بِمَكَّةَ يُقَالُ لَهُ مَنِيعٌ لِسُفْيَانَ: عَمَّنْ أَسْنَدَهُ؟ قَالَ: لَا أَدْرِي
১৩ - আমাদের নিকট আলী ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াকুব ইবনে যায়িদ ইবনে তালহা আত-তায়মী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার রবের পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: এমন কোনো বান্দা নেই যে আপনার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করে, তবে আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।" তখন এক ব্যক্তি তাঁর দিকে দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আমার দোয়ার অর্ধেক আপনার জন্য নির্দিষ্ট করব? তিনি বললেন: "তুমি চাইলে করতে পারো।" তিনি বললেন: আমি কি আমার দোয়ার দুই-তৃতীয়াংশ আপনার জন্য নির্দিষ্ট করব? তিনি বললেন: "তুমি চাইলে করতে পারো।" তিনি বললেন: আমি কি আমার পুরো দোয়াই আপনার জন্য নির্দিষ্ট করব? তিনি বললেন: "তবে আল্লাহ তোমার দুনিয়ার চিন্তা ও আখিরাতের চিন্তার জন্য যথেষ্ট হবেন।" মক্কায় মানী' নামক এক শাইখ সুফিয়ানকে জিজ্ঞেস করলেন: তিনি এটি কার সূত্রে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: আমি জানি না।
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
14 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سَلَّامٍ الْعَطَّارُ قَالَ: ثنا سُفْيَانُ - يَعْنِي الثَّوْرِيَّ -، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنِ الطُّفَيْلِ بْنِ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ فِي ثُلُثَيِ اللَّيْلِ فَيَقُولُ: «جَاءَتِ الرَّاجِفَةُ تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ، جَاءَ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ» ، وَقَالَ أُبَيٌّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ أَفَأَجْعَلُ لَكَ ثُلُثَ صَلَاتِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ⦗ص: 32⦘ «الشَّطْرُ» قَالَ: أَفَأَجْعَلُ لَكَ شَطْرَ صَلَاتِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ «الثُّلُثَانِ أَكْثَرُ» قَالَ: أَفَأَجْعَلُ لَكَ صَلَاتِي كُلَّهَا؟ قَالَ: «إِذَنْ يُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ كُلُّهُ»
১৪ - সাঈদ ইবনে সাল্লাম আল-আত্তার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফইয়ান—অর্থাৎ সাওরী—আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল থেকে, তিনি তুফাইল ইবনে উবাই ইবনে কাব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতের দুই-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলে বের হতেন এবং বলতেন: «প্রথম প্রকম্পন উপস্থিত হয়েছে, যার অনুগামী হবে দ্বিতীয় প্রকম্পন; মৃত্যু তার সমস্ত অনুষঙ্গ নিয়ে উপস্থিত হয়েছে।’ উবাই বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি রাতের বেলা প্রার্থনা করি, আমি কি আপনার জন্য আমার দোয়ার এক-তৃতীয়াংশ নির্ধারণ করব? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ «অর্ধেক (করো)।’ তিনি বললেন: আমি কি আপনার জন্য আমার দোয়ার অর্ধেক নির্ধারণ করব? আল্লাহর রাসূল বললেন: «দুই-তৃতীয়াংশ আরও উত্তম।’ তিনি বললেন: আমি কি আমার পূর্ণ দোয়াই আপনার জন্য নিবেদন করব? তিনি বললেন: «তাহলে তোমার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
15 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ قَالَ: ثنا سَلَمَةُ بْنُ وَرْدَانَ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: ارْتَقَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ دَرَجَةً فَقَالَ: «آمِينَ» ثُمَّ ارْتَقَى الثَّانِيَةَ فَقَالَ: «آمِينَ» ثُمَّ ارْتَقَى الثَّالِثَةَ فَقَالَ: «آمِينَ» ثُمَّ اسْتَوَى فَجَلَسَ فَقَالَ أَصْحَابُهُ: عَلَامَ أَمَّنْتَ؟ قَالَ: " ⦗ص: 33⦘ أَتَانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ: رَغِمَ أَنْفُ امْرِئٍ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصِلِّ عَلَيْكَ، فَقُلْتُ: آمِينَ، فَقَالَ: رَغِمَ أَنْفُ امْرِئٍ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ فَلَمْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ، فَقُلْتُ: آمِينَ، فَقَالَ: رَغِمَ أَنْفُ امْرِئٍ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ فَقُلْتُ: آمِينَ "
১৫ - আমাদিগকে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালামাহ ইবনে ওয়ারদান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরের একটি ধাপে আরোহণ করলেন এবং বললেন: «আমীন», অতঃপর তিনি দ্বিতীয় ধাপে আরোহণ করলেন এবং বললেন: «আমীন», অতঃপর তিনি তৃতীয় ধাপে আরোহণ করলেন এবং বললেন: «আমীন», অতঃপর তিনি স্থির হয়ে বসলেন। তখন তাঁর সাহাবীগণ বললেন: আপনি কিসের ওপর আমীন বললেন? তিনি বললেন: " ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ জিবরীল আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধূলামলিন হোক যার নিকট আপনার আলোচনা করা হলো অথচ সে আপনার ওপর দরূদ পাঠ করল না, তখন আমি বললাম: আমীন। অতঃপর তিনি বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধূলামলিন হোক যে তার পিতামাতাকে পেল অথচ সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না , তখন আমি বললাম: আমীন। অতঃপর তিনি বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধূলামলিন হোক যে রমজান মাস পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না, তখন আমি বললাম: আমীন।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
16 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ: ثنا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ قَالَ: ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ: صلى الله عليه وسلم
«رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ، وَرَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ عِنْدَ الْكِبَرِ فَلَمْ يُدْخِلَاهُ الْجَنَّةَ، وَرَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ دَخَلَ عَلَيْهِ رَمَضَانُ ثُمَّ انْسَلَخَ قَبْلَ أَنْ يُغْفَرَ لَهُ»
17 - حَدَّثَنَا الْمُقَدَّمِيُّ قَالَ: ثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ قَالَ: ثنا
⦗ص: 34⦘ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ
১৬ - মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবনুল মুফাজ্জাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
«সেই ব্যক্তির নাক ধূলায় ধূসরিত হোক যার নিকট আমার আলোচনা করা হলো অথচ সে আমার প্রতি দরূদ পাঠ করল না; সেই ব্যক্তির নাক ধূলায় ধূসরিত হোক যে তার পিতামাতাকে বার্ধক্য অবস্থায় পেল অথচ তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাল না, এবং সেই ব্যক্তির নাক ধূলায় ধূসরিত হোক যার নিকট রমজান মাস আসলো অতঃপর তাকে ক্ষমা করার পূর্বেই তা অতিবাহিত হয়ে গেল।’
১৭ - আল-মুকাদ্দামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে জুরাই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ আবদুর রহমান ইবনে ইসহাক তার সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
18 - حَدَّثَنَا أَبُو ثَابِتٍ قَالَ: ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَقِيَ الْمِنْبَرَ فَقَالَ: «آمِينَ آمِينَ آمِينَ» فَقِيلَ لَهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا كُنْتَ تَصْنَعُ هَذَا؟ فَقَالَ: قَالَ لِي جِبْرِيلُ: رَغِمَ أَنْفُ عَبْدٍ دَخَلَ عَلَيْهِ رَمَضَانُ لَمْ يُغْفَرْ لَهُ، فَقُلْتُ: آمِينَ، ثُمَّ قَالَ: رَغِمَ أَنْفُ عَبْدٍ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا لَمْ يُدْخِلَاهُ الْجَنَّةَ فَقُلْتُ: آمِينَ ثُمَّ قَالَ: رَغِمَ أَنْفُ عَبْدٍ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصِلِّ عَلَيْكَ فَقُلْتُ: آمِينَ "
১৮ - আবু সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল আজিজ ইবনে আবি হাজিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসির ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি ওয়ালিদ ইবনে রাবাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বারে আরোহণ করলেন এবং বললেন: «আমীন আমীন আমীন» অতঃপর তাঁকে বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তো এমনটি করতেন না? তিনি বললেন: জিবরাঈল আমাকে বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধুলামলিন হোক যার নিকট রমজান মাস এল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না, তখন আমি বললাম: আমীন। অতঃপর তিনি বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধুলামলিন হোক যে তার পিতামাতা উভয়কে অথবা তাদের কোনো একজনকে পেল অথচ তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালো না, তখন আমি বললাম: আমীন। অতঃপর তিনি বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধুলামলিন হোক যার নিকট আপনার আলোচনা করা হলো অথচ সে আপনার প্রতি দরুদ পাঠ করল না, তখন আমি বললাম: আমীন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
19 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ قَالَ: ثنا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ هِلَالٍ، حَدَّثَنِي سَعْدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، ⦗ص: 35⦘ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " احْضُرُوا الْمِنْبَرَ فَحَضَرْنَا فَلَمَّا ارْتَقَى الدَّرَجَةَ قَالَ: «آمِينَ» ثُمَّ ارْتَقَى الدَّرَجَةَ الثَّانِيَةَ فَقَالَ: «آمِينَ» ثُمَّ ارْتَقَى الدَّرَجَةَ الثَّالِثَةَ فَقَالَ: «آمِينَ» فَلَمَّا فَرَغَ نَزَلَ عَنِ الْمِنْبَرِ قَالَ: فَقُلْنَا لَهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ سَمِعْنَا مِنْكَ الْيَوْمَ شَيْئًا مَا كُنَّا نَسْمَعُهُ قَالَ: " إِنَّ جِبْرِيلَ عَرَضَ لِي فَقَالَ: بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ فَقُلْتُ: آمِينَ، فَلَمَّا رَقِيتُ الثَّانِيَةَ قَالَ: بَعُدَ مَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ فَقُلْتُ: آمِينَ فَلَمَّا رَقِيتُ الثَّالِثَةَ قَالَ: بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ الْكِبَرُ أَوْ أَحَدَهُمَا فَلَمْ يُدْخِلَاهُ الْجَنَّةَ فَقُلْتُ: آمِينَ "
১৯ - মুহাম্মদ বিন ইসহাক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবন আবি মারইয়াম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন হিলাল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, সাদ বিন ইসহাক বিন কাব বিন উজরাহ আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ তাঁর পিতা থেকে, তিনি কাব বিন উজরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা মিম্বরের কাছে উপস্থিত হও।" অতঃপর আমরা উপস্থিত হলাম। যখন তিনি (প্রথম) ধাপে উঠলেন, তখন বললেন: "আমীন"। এরপর তিনি দ্বিতীয় ধাপে উঠলেন এবং বললেন: "আমীন"। এরপর তিনি তৃতীয় ধাপে উঠলেন এবং বললেন: "আমীন"। যখন তিনি (খুতবা) শেষ করে মিম্বর থেকে নামলেন, তখন আমরা তাঁকে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আজ আমরা আপনার নিকট থেকে এমন কিছু শুনেছি যা আগে কখনো শুনতাম না। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই জিবরীল আমার সামনে উপস্থিত হলেন এবং বললেন: ধ্বংস হোক সেই ব্যক্তি যে রমজান মাস পেল অথচ তার ক্ষমা হলো না। তখন আমি বললাম: আমীন। এরপর যখন আমি দ্বিতীয় ধাপে উঠলাম, তিনি বললেন: ধ্বংস হোক সেই ব্যক্তি যার নিকট আপনার উল্লেখ করা হলো অথচ সে আপনার ওপর দরূদ পাঠ করল না। তখন আমি বললাম: আমীন। এরপর যখন আমি তৃতীয় ধাপে উঠলাম, তিনি বললেন: ধ্বংস হোক সেই ব্যক্তি যে তার পিতামাতার বার্ধক্য পেল অথবা তাঁদের একজনের বার্ধক্য পেল অথচ তাঁরা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাল না। তখন আমি বললাম: আমীন।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
20 - حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَمَّنْ أَخْبَرَهُ مِنْ أَهْلِ بَلَدِهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ، أَنَّ رَجُلًا، كَانَ يَأْتِي غَدَاةً فَيَزُورُ قَبْرَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَيُصَلِّي ⦗ص: 36⦘ عَلَيْهِ وَيَصْنَعُ مِنْ ذَلِكَ مَا اشْتَهَرَهُ عَلَيْهِ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ فَقَالَ لَهُ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ: مَا يَحْمِلُكَ عَلَى هَذَا؟ قَالَ: أُحِبُّ التَّسْلِيمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لَهُ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ: هَلْ لَكَ أَنْ أُحَدِّثَكَ حَدِيثًا عَنْ أَبِي؟ قَالَ: نَعَمْ، فَقَالَ لَهُ عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ: أَخْبَرَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «لَا تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيدًا وَلَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قُبُورًا، وَصَلُّوا عَلَيَّ وَسَلِّمُوا حَيْثُمَا كُنْتُمْ فَسَيَبْلُغُنِي سَلَامُكُمْ وَصَلَاتُكُمْ»
২০ - জাফর ইবন ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন আব্দুল্লাহ ইবন জাফর ইবন আবু তালিব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর শহরের এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আলী ইবন হুসাইন ইবন আলী থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে এসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর যিয়ারত করতেন এবং তাঁর প্রতি ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ দরূদ পাঠ করতেন। তাঁর এই বিষয়টি আলী ইবন হুসাইনের নিকট পরিচিতি লাভ করলে তিনি তাকে বললেন: "কোন বিষয়টি তোমাকে এতে উদ্বুদ্ধ করছে?" তিনি বললেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি সালাম পেশ করতে পছন্দ করি।" আলী ইবন হুসাইন তাকে বললেন: "আমি কি তোমাকে আমার পিতার সূত্রে একটি হাদীস শোনাব?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" অতঃপর আলী ইবন হুসাইন তাকে বললেন: আমার পিতা আমার দাদা থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা আমার কবরকে উৎসবের স্থানে পরিণত করো না এবং তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না। তোমরা যেখানেই থাকো আমার প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ করো, কারণ আমার নিকট তোমাদের সালাম পৌঁছাবে ও তোমাদের দরূদও।»
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
21 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ: ثنا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ زَاذَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ هُوَ ابْنُ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ لِلَّهِ فِي الْأَرْضِ مَلَائِكَةً سَيَّاحِينَ يُبَلِّغُونِي مِنْ أُمَّتِي السَّلَامَ»
২১ - মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান থেকে, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনুল সায়েব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যাযান থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ—যিনি ইবনে মাসউদ—থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই পৃথিবীতে আল্লাহর এমন কিছু পরিভ্রমণকারী ফেরেশতা রয়েছেন, যারা আমার নিকট আমার উম্মতের পক্ষ থেকে প্রেরিত সালাম পৌঁছে দেন»
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
22 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: ثنا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ قَالَ: ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، سَمِعْتُهُ يَذْكُرُ، عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ؛ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ قُبِضَ، وَفِيهِ النَّفْخَةُ، وَفِيهِ الصَّعْقَةُ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ» قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تُعْرَضُ عَلَيْكَ صَلَاتُنَا وَقَدْ أَرِمْتَ؟ - يَقُولُونَ: قَدْ بَلِيتَ - قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ»
২২ - আমাদের নিকট আলী ইবন আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুসাইন ইবন আলী আল-জু'ফী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ ইবন জাবির বর্ণনা করেছেন, আমি তাঁকে আবু আল-আশ'আস আস-সান'আনী থেকে উল্লেখ করতে শুনেছি, তিনি আওস ইবন আওস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমার দিন; এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাঁর রূহ কবজ করা হয়েছে, এই দিনে সিঙ্গায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে এবং এই দিনে প্রচণ্ড গর্জন ঘটবে। অতএব তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি বেশি সালাত পাঠ করো, কারণ তোমাদের সালাত আমার নিকট পেশ করা হয়» তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কীভাবে আমাদের সালাত আপনার নিকট পেশ করা হবে অথচ আপনি জীর্ণ হয়ে মিশে যাবেন? - তাঁরা বুঝিয়েছেন: আপনি মাটির সাথে মিশে যাবেন - তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ যমীনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন»
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
23 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ: ثنا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ قَالَ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ، يَقُولُ: قَالَ: رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَأْكُلُ الْأَرْضُ جَسَدَ مَنْ كَلَّمَهُ رُوحُ الْقُدُسِ»
২৩ - আমাদের নিকট সুলাইমান ইবনে হারব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট জারীর ইবনে হাযিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাসানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «পবিত্র আত্মা যার সাথে কথা বলেছেন, জমিন তার দেহ ভক্ষণ করবে না»
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
24 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ قَالَ: ثنا وُهَيْبٌ، عَنْ أَيُّوبَ قَالَ: بَلَغَنِي - وَاللَّهُ أَعْلَمُ - أَنَّ مَلَكًا مُوَكَّلٌ بِكُلِّ مَنْ صَلَّى عَلَى النَّبِيِّ حَتَّى يُبَلِّغَهُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم
২৪ - ইব্রাহিম ইবনুল হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উহাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে - এবং আল্লাহই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত - যে, একজন ফেরেশতা এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য নিয়োজিত রয়েছেন যে নবীর ওপর দরুদ পাঠ করে, যাতে তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছে দেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
25 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ قَالَ: ثنا غَالِبٌ الْقَطَّانُ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «حَيَاتِي خَيْرٌ لَكُمْ تُحَدِّثُونَ وَيُحَدَّثُ لَكُمْ، فَإِذَا أَنَا مُتُّ كَانَتْ وَفَاتِي خَيْرًا لَكُمْ، تُعْرَضُ عَلَيَّ أَعْمَالُكُمْ فَإِنْ رَأَيْتُ خَيْرًا حَمِدْتُ اللَّهَ، وَإِنْ رَأَيْتُ غَيْرَ ذَلِكَ اسْتَغْفَرْتُ اللَّهَ لَكُمْ»
২৫ - আমাদের নিকট সুলাইমান ইবনুল হারব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে যাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট গালিব আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন, বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুযানী থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমার জীবন তোমাদের জন্য কল্যাণকর, তোমরা কথা বলো এবং তোমাদের নিকটও বর্ণনা করা হয়। অতঃপর যখন আমি মৃত্যুবরণ করব, তখন আমার মৃত্যুও তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে; তোমাদের আমলসমূহ আমার নিকট উপস্থাপন করা হবে। যদি আমি কোনো কল্যাণ দেখি তবে আল্লাহর প্রশংসা করব, আর যদি তা ব্যতীত অন্য কিছু দেখি তবে তোমাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করব।»
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
26 - حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ كَثِيرٍ أَبِي الْفَضْلِ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «حَيَاتِي خَيْرٌ لَكُمْ، وَوَفَاتِي لَكُمْ خَيْرٌ، تُحَدِّثُونَ فَيُحَدَّثُ لَكُمْ فَإِذَا أَنَا مُتُّ عُرِضَتْ عَلَيَّ أَعْمَالُكُمْ، فَإِنْ رَأَيْتُ خَيْرًا حَمِدْتُ اللَّهَ وَإِنْ رَأَيْتُ شَرًّا اسْتَغْفَرْتُ اللَّهَ لَكُمْ»
২৬ - হাজ্জাজ বিন মিনহাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট কাসীর আবু আল-ফাদল থেকে, তিনি বকর বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «আমার জীবন তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং আমার মৃত্যুও তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তোমরা কথা বলো এবং তোমাদের উদ্দেশ্যে বর্ণনা করা হয়; অতঃপর যখন আমি মৃত্যুবরণ করব তখন তোমাদের আমলসমূহ আমার নিকট পেশ করা হবে। তখন যদি আমি ভালো দেখি তবে আল্লাহর প্রশংসা করব, আর যদি মন্দ দেখি তবে তোমাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করব।»
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
27 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ وَاقِدٍ الْعَطَّارُ قَالَ: ثنا هُشَيْمٌ قَالَ: ثنا حُصَيْنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، أَنَّ مَلَكًا مُوَكَّلٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ مَنْ صَلَّى عَلَى النَّبِيِّ يُبَلِّغُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: إِنَّ فُلَانًا مِنْ أُمَّتِكَ صَلَّى عَلَيْكَ
২৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে ওয়াকিদ আল-আত্তার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুশাইম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান, ইয়াজিদ আর-রাকাশি থেকে বর্ণিত যে, জুমার দিনে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন; যে ব্যক্তি নবীর ওপর দরুদ পাঠ করে তিনি তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছে দেন এবং বলেন: নিশ্চয়ই আপনার উম্মতের অমুক ব্যক্তি আপনার ওপর দরুদ পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৪০)
28 - حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ قَالَ: ثنا مُبَارَكٌ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ النَّبِيِّ قَالَ: «أَكْثِرُوا عَلَيَّ الصَّلَاةَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ»
২৮ - মুসলিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুবারক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি হাসান থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: “তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।”
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৪০)
29 - حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ سُلَيْمَانَ الضَّبِّيُّ قَالَ: ثنا أَبُو حُرَّةَ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «أَكْثِرُوا عَلَيَّ الصَّلَاةَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَإِنَّهَا تُعْرَضُ عَلَيَّ»
২৯ - আমাদের নিকট সালম ইবন সুলায়মান আদ-দাব্বী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আবু হুররাহ বর্ণনা করেছেন, হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল বলেছেন: «তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দুরুদ পাঠ করো, কেননা তা আমার নিকট পেশ করা হয়»
(খণ্ড: ১)
ফাদলুস সালাতি আলান নাবি লি-ইসমাইল আল-কাদি
(পৃষ্ঠা: ৪০)
30 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ قَالَ: ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلٍ قَالَ: جِئْتُ أُسَلِّمُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَحَسَنُ بْنُ حُسَيْنٍ يَتَعَشَّى فِي بَيْتٍ عِنْدَ النَّبِيِّ فَدَعَانِي فَجِئْتُهُ فَقَالَ: ⦗ص: 41⦘ ادْنُ فَتَعَشَّ قَالَ: قُلْتُ: لَا أُرِيدُهُ قَالَ: مَالِي رَأَيْتُكَ وَقَفْتَ؟ قَالَ: وَقَفْتُ أُسَلِّمُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: إِذَا دَخَلْتَ الْمَسْجِدَ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «صَلُّوا فِي بُيُوتِكُمْ وَلَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ، لَعَنَ اللَّهُ يَهُودَ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ، وَصَلُّوا عَلَيَّ؛ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ تَبْلُغُنِي حَيْثُمَا كُنْتُمْ»
৩০ - ইবরাহীম ইবন হামযাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল আযীয ইবন মুহাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুহাইল থেকে, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সালাম পেশ করতে আসলাম। এমতাবস্থায় হাসান ইবন হুসাইন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী একটি ঘরে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। তিনি আমাকে ডাকলেন এবং আমি তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ কাছে এসো এবং রাতের খাবার খাও। তিনি (সুহাইল) বললেন: আমি বললাম, আমার এটার প্রয়োজন নেই। তিনি বললেন: কি ব্যাপার, আমি তোমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম কেন? তিনি বললেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সালাম পেশ করার জন্য দাঁড়িয়েছিলাম। তিনি বললেন: যখন তুমি মসজিদে প্রবেশ করবে তখন তাঁর প্রতি সালাম পেশ করো। অতঃপর তিনি বললেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা তোমাদের ঘরগুলোতে সালাত আদায় করো এবং তোমাদের ঘরগুলোকে কবরস্থানে পরিণত করো না। আল্লাহ ইহুদীদের প্রতি লানত করেছেন, যারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করেছে। আর তোমরা দরূদ পাঠ করো আমার প্রতি; কারণ তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌঁছায়, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন।”