(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الأشاعرة في ميزان أهل السنة القسم: الفرق والردود
الكتاب: الأشاعرة في ميزان أهل السنة
نقدٌ لكتاب (أهل السنة الأشاعرة شهادة علماء الأمة وأدلتهم)
المؤلف: أبو عثمان فيصل بن قزار الجاسم
الناشر: المبرة الخيرية لعلوم القرآن والسنة، الكويت
الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م
عدد الأجزاء: 1
(تم إعداد الكتاب عن ملف وورد، وبه نقص واختصار عن المطبوع)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 ذو الحجة 1433
আহলুস সুন্নাহর মানদণ্ডে আশায়েরা বিভাগ: মতবাদ ও খণ্ডন
গ্রন্থ: আহলুস সুন্নাহর মানদণ্ডে আশায়েরা
(আহলুস সুন্নাহ আশায়েরা: উম্মতের আলেমগণের সাক্ষ্য ও তাঁদের দলিলসমূহ) গ্রন্থটির একটি সমালোচনা
লেখক: আবু উসমান ফয়সাল ইবনে কাযযার আল-জাসিম
প্রকাশক: আল-মাবাররাহ আল-খাইরিয়াহ লি-উলুমিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ, কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
(বইটি একটি ওয়ার্ড ফাইল থেকে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এতে মুদ্রিত সংস্করণের তুলনায় কিছু অসম্পূর্ণতা ও সংক্ষিপ্ততা রয়েছে)
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৫ যুল হিজ্জাহ ১৪৩৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الأشاعرة
في ميزان أهل السنة
نقدٌ لكتاب (أهل السنة الأشاعرة شهادة علماء الأمة وأدلتهم)
تأليف
فيصل بن قزار الجاسم
আশআরিগণ
আহলে সুন্নাতের মানদণ্ডে
‘আহলে সুন্নাতই হলো আশআরিয়া: উম্মাহর আলেমগণের সাক্ষ্য ও তাঁদের দলিলসমূহ’ গ্রন্থটির একটি পর্যালোচনা
রচনায়
ফয়সাল বিন ক্বাযযার আল-জাসিম
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
تقريظ الشيخ / د. محمد بن عبد الرحمن المغراوي (المغرب)
أستاذ الدراسات العليا بجامعة القرويين، وعضو مجلس الجامعة سابقاً
ورئيس جمعية الدعوة إلى القرآن والسنة بالمغرب
بسم الله الرحمن الرحيم
وبعد،
فلقد قرأت كتاب الأستاذ/ فيصل بن قزار أبو عثمان، فوجدته كتاباً عظيماً في بابه، فقد أتى على شبهة المشبّهين وبيّن وهنها وضعفها، وأنها مجرد دعاوى لا تقوم على حجة ولا على بينة، وهي كما قال القائل:
والدعاوى ما لم تقيموا عليها بينات أبناؤها أدعياء
والحقيقة أن الذي ساعد الكاتب في هذا البحث هو اطلاعه على ما كتبه السلف الصالح رضوان الله عليهم، فإن من نعمة الله وفضله على هذه الأمة أن حفظ لها تراثها كاملاً، ولا سيما في باب
অভিমত শাইখ ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-মাগরাবি (মরক্কো)
কারাওয়িন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সিন্ডিকেট সদস্য
এবং মরক্কোর 'জমঈয়াতুদ দাওয়াহ ইলাল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ'-এর সভাপতি
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
অতঃপর,
আমি উস্তাদ ফয়সাল বিন কাযার আবু উসমানের বইটি পাঠ করেছি। আমি একে নিজ বিষয়ে একটি অনন্য গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি; কেননা তিনি এতে সংশয়বাদীদের সংশয়গুলো উপস্থাপন করেছেন এবং সেগুলোর অসারতা ও দুর্বলতা প্রমাণ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, এগুলো নিছক কিছু দাবি মাত্র, যার সপক্ষে কোনো দলিল বা অকাট্য প্রমাণ নেই। এটি ঠিক যেমনটি জনৈক কবি বলেছেন:
দাবি ততক্ষণই ভিত্তিহীন যতক্ষণ না তার সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপিত হয়; নতুবা তার দাবিদাররা কেবল নামসর্বস্ব হিসেবেই গণ্য হয়।
প্রকৃতপক্ষে যে বিষয়টি লেখককে এই গবেষণায় সহায়তা করেছে তা হলো সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর রচনাবলির ওপর তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য। কেননা এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর অন্যতম নিয়ামত ও অনুগ্রহ হলো যে, তিনি এর পূর্ণাঙ্গ ঐতিহ্য (তুরাস) সংরক্ষণ করেছেন, বিশেষ করে...
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المعتقد، فإن هذا الباب ولله الحمد جنّد الله له جنوداً كثيرة في مختلف العصور والأزمان، وفي مختلف الأقاليم والأمصار، فهذا التراث العظيم الذي ظهر ولله الحمد وانتشر فضح كل دعيٍّ يدّعي أنه على مذهب السلف الصالح. فإن هذه المصادر العلمية التي قامت بالدفاع عن العقيدة السلفية أصبحت ولله الحمد في يد كل طالب علم يزن بها كل مدّع.
وما كان يُظنّ في مثل هذا الزمان الذي طفحت فيه المكتبات بمصادر السلف ومؤلفاتهم أن يتعلق متعلّق بخيوط العنكبوت، ويجري وراء تقليد المقلدين ويحكي شبههم التي نفثوها في مصنفاتهم ومؤلفاتهم، وهم يستكثرون بكل غث وسمين، وينزل مستواهم إلى الاستدلال بنقول لا تعتبر في الميزان العلمي حتى عند المبتدئين، كالنقل عن النسفي والقرطبي من المتأخرين، والذين لا يُسندون ولا يوثّقون معلوماتهم، ولا سيما في باب المعتقد.
فهذا البحث القيم الطيب ندعو لصاحبه بالتوفيق والثبات، ونتمنى من الله تبارك وتعالى أن يزيده علماً نافعاً، وأن يبارك فيه، وأن يجزيه خير الجزاء، فإنه قد قام بالدفاع عن عقيدة السلف وبيان الحق. والحمد لله الذي يجعل في أبناء الأمة الإسلامية من يرفع راية
আকিদা বা বিশ্বাসের বিষয়টি এমন যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, তিনি বিভিন্ন যুগে ও সময়ে এবং বিভিন্ন জনপদ ও ভূখণ্ডে এর পাহারায় বহু সৈন্য নিয়োজিত করেছেন। এই মহান ঐতিহ্য যা প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে, আল্লাহর শুকরিয়া, তা সলফে সালেহীনের (পুণ্যবান পূর্বসূরি) মাযহাবের অনুসারী দাবিদার প্রত্যেক মিথ্যাবাদীকে উন্মোচিত করে দিয়েছে। সালাফি আকিদা রক্ষায় রচিত এই ইলমি উৎসসমূহ আল্লাহর অনুগ্রহে আজ প্রতিটি তালিবে ইলমের (জ্ঞান অন্বেষী) হাতে রয়েছে, যা দিয়ে তারা প্রত্যেক দাবিদারের সত্যতা নিরূপণ করতে পারে।
বর্তমান যুগে, যখন লাইব্রেরিগুলো সলফে সালেহীনের মূল উৎসগ্রন্থ ও রচনাবলীতে পরিপূর্ণ, তখন এমনটি ধারণা করা হয়নি যে, কেউ মাকড়সার জালের (দুর্বল যুক্তি) মতো অসার বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে, অন্ধ অনুসারীদের অনুকরণের পেছনে ছুটবে এবং তাদের গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে দেওয়া সংশয়গুলো বর্ণনা করবে। তারা অসার ও অন্তঃসারশূন্য সবকিছুর সমাবেশ ঘটায় এবং তাদের মান এতটাই নিচে নেমে যায় যে, তারা এমন সব উদ্ধৃতি দিয়ে দলিল পেশ করে যা ইলমি মানদণ্ডে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের কাছেও গ্রহণযোগ্য নয়; যেমন—পরবর্তী যুগের নাসাফি ও কুরতুবির উদ্ধৃতি প্রদান করা, যারা তাদের তথ্যের কোনো সনদ (সূত্রপরম্পরা) উল্লেখ করেন না বা তথ্যকে প্রামাণ্য রূপ দেন না, বিশেষ করে আকিদার ক্ষেত্রে।
এই মূল্যবান ও উত্তম গবেষণার লেখকের জন্য আমরা আল্লাহর তাওফিক ও অবিচলতার দোয়া করি। আমরা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে আরও উপকারী ইলম দান করেন, তাতে বরকত দেন এবং তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন; কারণ তিনি সলফদের আকিদা প্রতিরক্ষা এবং সত্য স্পষ্ট করার কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি উম্মতে মুসলিমার সন্তানদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের রেখেছেন যারা সত্যের ঝাণ্ডা সমুন্নত রাখে।
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الحق، ويدفع راية الباطل {وقل جاء الحق وزهق الباطل إن الباطل كان زهوقا} الإسراء 81.
كاتبه/ محمد بن عبد الرحمن المغراوي
أستاذ الدراسات العليا بجامعة القرويين وعضو مجلس الجامعة سابقاً
ورئيس جمعية الدعوة إلى القرآن والسنة بالمغرب
28/ 11/1427هـ
সত্য এবং মিথ্যার পতাকাকে প্রতিহত করে; {আর আপনি বলুন, সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই বিষয়।} (সূরা আল-ইসরা: ৮১)
লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-মাগরাউয়ি
আল-কারাউইয়িন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সাবেক সদস্য
এবং মরক্কোর কুরআন ও সুন্নাহর দাওয়াতী সংস্থার সভাপতি
২৮/১১/১৪২৭ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
تقريظ الشيخ / أ. د. سعود بن عبد العزيز الخلفرئيس قسم العقيدة في كلية الدعوة وأصول الدين بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
ورئيس جمعية العقيدة في المملكة العربية السعودية
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله محمد وعلى آله وصحبه وسلم،
… وبعد،،،
فقد اطلعت على كتاب " الأشاعرة في ميزان أهل السنة نقدٌ لكتاب (أهل السنة الأشاعرة شهادة علماء الأمة وأدلتهم) " تأليف الأخ الفاضل: فيصل بن قزار الجاسم.
وقد استعرضته وتصفحته من أوله إلى آخره، وقرأت منه في مواطن عديدة وكنت أحب أن أقرأه كاملاً الاأن انشغالي وضيق الوقت حال دون ذلك، وقد ألفيته كتابا قيماً، أبان فيه صاحبه وفقه الله وجزاه الله خيرا عن موضوعه المتعلق بالأشاعرة، وما ادعاه بعض الأشاعرة من دعاوى عريضة تتعلق بما يعتقدان ويقولان به
শেখ / প্রফেসর ড. সাউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-খালাফ-এর অভিমতমদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ও উসুলুদ্দিন (ধর্মের মূলনীতি) অনুষদের আকীদাহ (বিশ্বাস) বিভাগের প্রধান
এবং সৌদি আরবের আকীদাহ সোসাইটির সভাপতি
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাথীদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।
… অতঃপর,
আমি সম্মানিত ভাই ফয়সাল বিন কাযার আল-জাসিম রচিত "আহলুস সুন্নাহর মানদণ্ডে আশআরি সম্প্রদায়: 'আহলুস সুন্নাহ আল-আশায়িরাহ - উম্মাহর আলেমদের সাক্ষ্য ও তাঁদের দলিলসমূহ' গ্রন্থের একটি সমালোচনা" শীর্ষক গ্রন্থটি পর্যবেক্ষণ করেছি।
আমি এটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যালোচনা ও অবলোকন করেছি এবং এর বিভিন্ন স্থান থেকে পাঠ করেছি। আমার ইচ্ছা ছিল এটি সম্পূর্ণ পাঠ করার, কিন্তু কর্মব্যস্ততা ও সময়ের স্বল্পতা তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি এটিকে একটি অত্যন্ত মূল্যবান গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি, যাতে এর লেখক—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন এবং উত্তম প্রতিদান দিন—আশআরি মতবাদ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং তাদের বিশ্বাস ও বক্তব্য সম্পর্কে কিছু আশআরির করা বিশাল দাবিগুলোর প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ويثنيان به على المذهب الذي ارتضياه لنفسيهما، واعتقدا ما يعتقد الأشاعرة في الله تعالى، أعني الكلام في صفات الله تعالى، وادعيا أن الأشاعرة هم أهل السنة.
وحقيقة الأمر أن الأشاعرة خالفوا أهل السنة وخاصة المتأخرون منهم مخالفة جذرية في مسألة الصفات، وذلك لأنهم بنوا قولهم فيها على قول المعتزلة، لايغادرون من قولهم شيئاً في الأصول، فقرروا ما قرره المعتزلة من أن معرفة الله عقلية، واستدلوا لإثبات وجود الله تعالى بدليل الحدوث أو الامكان، ولما كانوا أتعبوا أنفسهم في إثباته، أعني تقرير وجود الله تعالى ظنوا أنهم فازوا بفرس السبق في هذا المسلك، فراحوا يحافظون على هذا المسلك بكل وسيلة، لأنه عندهم الطريق الوحيد لإثبات وجود الله تعالى، وهو الدليل الذي يقيمون به الحجة على ملاحدة بني آدم المنكرين لوجود الله تعالى، مع أنه دليل فاسد ومسلك كاسد لم يستدل به الأنبياء ولا أهل العلم والدين من الصحابة ومن سلك منهجهم.
أقول لما وصلوا إلى هذه النتيجة - على ضلع- بهذا الدليل راحوا يبطلون كل ما يتعارض معه ويردونه ولا يقبلونه، بل يذمون من قبله أو أخذ به لأنه في الحقيقة على زعمهم سيهدم أصلهم الذي أثبتوا به وجود الله تعالى، فبناءً عليه قرروا أن الله تعالى لا يجوز أن يوصف بصفة تدل على الحدوث أو الجسمية، فأبطلوا جميع الصفات الاختيارية الفعلية كالاستواء والنزول والكلام والرحمة والغضب
তারা দুজনে এর মাধ্যমে এমন একটি মাযহাবের প্রশংসা করেন যা তারা নিজেদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তারা মহান আল্লাহ সম্পর্কে আশআরীরা যা বিশ্বাস করে তা-ই বিশ্বাস করেন; অর্থাৎ মহান আল্লাহর সিফাত (গুণাবলি) সংক্রান্ত আলোচনা। তারা দাবি করেন যে, আশআরীরাই হলো আহলুস সুন্নাহ।
প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি হলো, আশআরীরা আহলুস সুন্নাহর বিরোধিতা করেছে, বিশেষ করে তাদের পরবর্তী যুগের আলিমরা (মুতাআখখিরুন) সিফাত বা গুণাবলির মাসআলায় মৌলিকভাবে বিরোধিতা করেছেন। এর কারণ হলো, তারা এই বিষয়ে তাদের বক্তব্য মুতাযিলাদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছেন এবং মূলনীতির (উসূল) ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি। তারা মুতাযিলাদের এই সিদ্ধান্তই গ্রহণ করেছেন যে, আল্লাহর পরিচয় লাভ করা একটি বুদ্ধিভিত্তিক (আকলি) বিষয়। আর তারা মহান আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য সৃষ্টি হওয়া (হুদুস) বা সম্ভব হওয়া (ইমকান)-এর দলিল পেশ করেছেন। যেহেতু তারা মহান আল্লাহর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করতে নিজেদের অনেক পরিশ্রান্ত করেছিলেন, তাই তারা মনে করেছিলেন যে তারা এই পথে চূড়ান্ত সফলতা লাভ করেছেন। ফলে তারা সব উপায়ে এই পথকে রক্ষা করতে সচেষ্ট হন; কারণ তাদের নিকট মহান আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের এটিই একমাত্র পথ। এটি এমন এক দলিল যার মাধ্যমে তারা আদম সন্তানদের মধ্য থেকে আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকারকারী নাস্তিকদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেশ করেন। অথচ এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ দলিল এবং অচল পথ, যা নবীগণ ব্যবহার করেননি এবং সাহাবীগণ ও যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন সেই ইলম ও দীনের অধিকারীরাও এই পদ্ধতি অবলম্বন করেননি।
আমি বলছি, যখন তারা এই দলিলের মাধ্যমে—শত দুর্বলতা সত্ত্বেও—এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন, তখন তারা এর সাথে সাংঘর্ষিক সবকিছুকেই বাতিল ও প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করলেন এবং তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন। এমনকি যারা তা গ্রহণ করত বা অনুসরণ করত তারা তাদের নিন্দা করতে লাগলেন; কারণ তাদের দাবি অনুযায়ী এটি সেই মূল ভিত্তিকেই ধূলিসাৎ করে দেবে যার মাধ্যমে তারা আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করেছিলেন। এর ওপর ভিত্তি করেই তারা সিদ্ধান্ত নিলেন যে, মহান আল্লাহকে এমন কোনো গুণে গুণান্বিত করা জায়েয নয় যা নতুন সৃষ্টি হওয়া (হুদুস) বা দেহবিশিষ্ট হওয়া (জিসমিয়্যাহ) নির্দেশ করে। ফলে তারা আল্লাহর যাবতীয় স্বেচ্ছাধীন কর্মবাচক গুণাবলি (সিফাত ইখতিয়ারিয়্যাহ ফিলিয়্যাহ) অস্বীকার করলেন; যেমন—আরশে উঠা (ইস্তিওয়া), অবতরণ করা (নুযুল), কথা বলা (কালাম), দয়া (রাহমাহ) এবং ক্রোধ (গদব)।
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
والمجئ والاتيان وغير ذلك، ثم أبطلوا جميع الصفات التي تدل في زعمهم على الجسمية لأن الجسمية دليل على الحدوث أيضاً، فأبطلوا وصفه جل وعلا بالوجه واليد والقدم والعين والاصبع وسائر ما وصف الله به نفسه، ووصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم متذرعين مرة بالتأويل، ومرة بالتفويض، والأدهى من ذلك والأمر أنهم تجرأوا فقعدوا القواعد لإبطال الاستدلال بشئ من النصوص الشرعية على الصفات التي ينكرونها كما فعل الرازي في كتابه تأسيس التقديس فصاروا بذلك من غلاة النفاة المعطلة لصفات الله تعالى، لهذا صار الأشاعرة على قولين ظاهرين:
قول متقدميهم كالحارث المحاسبي وابن كلاب والأشعري في مذهبه المتوسط والباقلاني، الذين يثبتون الصفات الذاتية، وبعض الصفات الفعلية.
وقول متأخريهم الذين ينفون سائر الصفات الفعلية وسائر الصفات الذاتية إلا ما يسمونه الصفات العقلية: وهي: الحياة والعلم والإرادة والقدرة والكلام والسمع والبصر، على تفصيلات عديدة عندهم في مسألة السمع والبصر، حيث يرجعها بعضهم إلى العلم، أما الكلام فهم متفقون على نفي الحرف والصوت، مما يجعل إثباتهم لصفة الكلام دعوى لامعنى لها، بل ويصبح من لوازمها التي لا مفر لهم منها هو القول بخلق القرآن.
এবং আগমন (মাজিয়ি), আসা (ইতিয়ান) ও এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। অতঃপর তারা এমন সমস্ত গুণাবলিকে বাতিল ঘোষণা করেছে যা তাদের দাবি অনুযায়ী দৈহিকতাকে (জিসমিয়্যাহ) নির্দেশ করে; কারণ দৈহিকতা হলো নশ্বরতা বা নতুনভাবে সৃষ্টির (হুদুথ) প্রমাণ। ফলে তারা মহান আল্লাহর চেহারা (ওয়াজহ), হাত (ইয়াদ), পা (কদম), চোখ (আইন), আঙুল (ইসবা) এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহকে যে সমস্ত গুণাবলিতে গুণান্বিত করেছেন তার সবই তারা অস্বীকার করেছে। এ ক্ষেত্রে তারা কখনো অপব্যাখ্যা (তাবিল) আবার কখনো আল্লাহর ওপর অর্থ সোপর্দ করার (তাফওয়িদ) অজুহাত অবলম্বন করেছে। এর চেয়েও ভয়াবহ ও গুরুতর বিষয় হলো, তারা সেই সব গুণাবলির সপক্ষে শরয়ি দলিলসমূহের প্রমাণযোগ্যতা বাতিলের জন্য বিভিন্ন মূলনীতি প্রণয়ন করার দুঃসাহস দেখিয়েছে যেগুলোকে তারা অস্বীকার করে; যেমনটি রাযি তাঁর ‘তাসিসুত তাকদিস’ নামক গ্রন্থে করেছেন। এর মাধ্যমে তারা মহান আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারী চরমপন্থীদের (মুআত্তিলা) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই কারণেই আশআরিগণ দুটি সুস্পষ্ট মতবাদে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন:
তাদের পূর্ববর্তীগণের (মুতাকাদ্দিমীন) অভিমত—যেমন: হারিস আল-মুহাসিবি, ইবন কুল্লাব, ইমাম আশআরির মধ্যবর্তী পর্যায়ের মাযহাব এবং বাকিললানি; যারা আল্লাহর সত্তাগত গুণাবলি (সিফাত যাতিয়্যাহ) এবং কিছু কর্মগত গুণাবলি (সিফাত ফিলিয়্যাহ) সাব্যস্ত করতেন।
এবং তাদের পরবর্তীগণের (মুতায়াখখিরীন) অভিমত—যারা সমস্ত কর্মগত গুণাবলি এবং সত্তাগত গুণাবলিকে অস্বীকার করেন; কেবল সেই গুণগুলো ছাড়া যেগুলোকে তারা যৌক্তিক গুণাবলি (সিফাত আকলিয়্যাহ) হিসেবে অভিহিত করেন। সেগুলো হলো: জীবন (হায়াত), জ্ঞান (ইলম), ইচ্ছা (ইরাদা), ক্ষমতা (কুদরত), কথা (কালাম), শ্রবণ (সাম’) এবং দর্শন (বসর)। তবে শ্রবণ ও দর্শন গুণের ব্যাপারে তাদের মধ্যে নানাবিধ বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে, যেখানে তাদের কেউ কেউ এগুলোকে জ্ঞানের (ইলম) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর কথা (কালাম) গুণের ক্ষেত্রে তারা বর্ণ (হারফ) ও শব্দ (সাওত)-কে অস্বীকার করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন; যা তাদের ‘কালাম’ গুণ সাব্যস্ত করার দাবিটিকে অর্থহীন করে তোলে। বরং এর অনিবার্য ফল হিসেবে তারা কুরআন সৃষ্টির (খালকুল কুরআন) মতবাদে উপনীত হওয়া ছাড়া কোনো গত্যন্তর পায় না।
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ومن هنا فإن الأشاعرة لا يمكن أن يكونوا من أهل السنة في باب الصفات، كما أنهم في الإيمان مرجئة، وفي أفعال العباد قاربوا مذهب الجبرية، ومع ذلك فهم أقرب الفرق إلى أهل السنة فهم أقرب من المعتزلة والجهمية ومن الرافضة والزيدية وغيرهم.
وقد انبرى لكشف تلبيس من يلبس منهم على من لايعرف حقيقتهم بدعوى أنهم من اهل السنة أخونا الشيخ فيصل بن قزاز الجاسم، في هذا الكتاب القيم، وأبطل دعواهم من جميع الوجوه، وقد استند في ذلك إلى الأدلة الدامغة من كلام الله تعالى، ومن أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم والتي ثبت أن الأشاعرة لايثبتون مدلولها.
كما نقل عن أئمة أهل السنة وعلمائها إثباتهم للصفات كما وردت في الكتاب والسنة وأنها على الحقيقة تثبت لله تعالى من غير تحريف ولا تأويل ولا تشبيه ولا تكييف.
كما أثبت بما لايدع مجالاً للشك أن السلف ليسوا مؤولة وليسوا مفوضة.
ونقل عن أئمة السنة باستفاضة ما يؤيد ذلك، بل ذكر عنهم ما يدل على أنهم يحرمون التأويل ويرفضونه ويعتبرونه من باب تحريف كلام الله تعالى، كما يرفضون التجهيل المسمى التفويض، لأنه إبطال لدلالة كلام الله تعالى وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم في أعظم عقيدة وأخطر مسائل الدين ألا وهي صفات الله تعالى، المرتبط بها يقيناً
এই কারণেই গুণাবলির (সিফাত) ক্ষেত্রে আশআরীগণ আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না, ঠিক তেমনিভাবে ঈমানের ক্ষেত্রে তারা মুরজিআ এবং বান্দার কর্মের ক্ষেত্রে তারা জাবরিয়া মতবাদের নিকটবর্তী। তা সত্ত্বেও তারা আহলুস সুন্নাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী দল; তারা মুতাযিলা, জাহমিয়া, রাফেজি, যায়দিয়া এবং অন্যদের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী।
আমাদের ভাই শায়খ ফয়সাল বিন কাযযায আল-জাসিম এই মূল্যবান গ্রন্থে তাদের সেই বিভ্রান্তি উন্মোচন করতে সচেষ্ট হয়েছেন, যারা তাদের প্রকৃত পরিচয় না জানা ব্যক্তিদের সামনে নিজেদের আহলুস সুন্নাহ হিসেবে দাবি করে প্রতারণা করে। তিনি সব দিক থেকে তাদের দাবিকে অসার প্রমাণ করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি মহান আল্লাহর বাণী এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস থেকে অকাট্য দলিলের ওপর নির্ভর করেছেন, যেগুলোর মর্মার্থ আশআরীগণ সাব্যস্ত করে না বলে প্রমাণিত।
এছাড়াও তিনি আহলুস সুন্নাহর ইমাম ও ওলামায়ে কেরামের উক্তি উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে তারা কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত গুণাবলিকে সেভাবেই সাব্যস্ত করেছেন এবং এগুলোকে কোনো ধরনের বিকৃতি (তাহরিফ), অপব্যাখ্যা (তাউয়িল), সাদৃশ্য (তাশবিহ) কিংবা ধরণ নির্ধারণ (তাকয়িফ) ছাড়াই মহান আল্লাহর জন্য প্রকৃতভাবে সাব্যস্ত করেছেন।
একইভাবে তিনি কোনো প্রকার সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছেন যে, সালাফগণ ব্যাখ্যাকারী (মুআউয়িলাহ) ছিলেন না এবং অর্থ সমর্পণকারী (মুফাওয়িদাহ)-ও ছিলেন না।
তিনি সুন্নাহর ইমামদের কাছ থেকে বিস্তারিতভাবে এর সমর্থনে প্রমাণাদি পেশ করেছেন। এমনকি তিনি তাদের এমন বক্তব্যও উল্লেখ করেছেন যা প্রমাণ করে যে, তারা অপব্যাখ্যাকে (তাউয়িল) হারাম মনে করতেন, তা প্রত্যাখ্যান করতেন এবং একে মহান আল্লাহর কালামের বিকৃতি হিসেবে গণ্য করতেন। একইভাবে তারা তথাকথিত অর্থ সমর্পণকে (তাফউইদ)—যাকে অজ্ঞতা আরোপ করাও বলা হয়—প্রত্যাখ্যান করেছেন; কারণ এটি আকিদার সবচেয়ে মহান এবং দ্বীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থাৎ মহান আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর মর্মার্থকে অকার্যকর করে দেয়, যার সাথে বিশ্বাস অকাট্যভাবে জড়িত।
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
معرفة الله تعالى المعرفة الصحيحة، والتي ينبني عليها عبادته جل وعلا والإيمان به.
كما بين فضيلة الشيخ فيصل بما لايدع مجالاً للشك ما يلبس به بعض المتحذلقين من الأشاعرة ممن يحاولون أن يدعموا دعوى الأشاعرة في التأويل ببعض النقول الشاذة المعزوة إلى بعض السلف يزعمون أن فيها تأويلاً.
فسبحان الله ما أعجب الهوى كيف يفعل بأصحابه - يترك ذاك الكم الهائل من النصوص والتصريحات المثبتة للصفات على منطوق الكتاب والسنة إلى كليمات أكثرها لايصح، أو يكون لها معنى غير ما زعم المستدل بها على التأويل، وصدق الله إذ يقول {فأما الذين فى قلوبهم زيغ فيتبعون ما تشابه منهم ابتغاء الفتنة وابتغاء تأويله}.
كما جعل خاتمة الأبواب نقوله عن أئمة السنة في ذمهم للأشعرية وأنهم ليسوا من أهل السنة، وذلك لما ثبت عنهم من الابتداع في باب الصفات، وأنهم أرادوا تنزيه الله تعالى بالطريقة التي ينزه بها الجهمية الله تعالى، فوقعوا في شر مما فروا منه، فبدل أن يثبتوا إلهاً ورباً وخالقاً له صفات الجلال والكمال جعلوه تبارك وتعالى أبكم لا يتكلم وجماداً لايتحرك ليس له وجود، لا داخل العالم ولا خارجه ولا فوقه ولا تحته، ولا يحب مؤمناً ولا يرضى
মহান আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান (মারেফাত) লাভ করা, যার ওপর ভিত্তি করে মহান রবের ইবাদত এবং তাঁর প্রতি ঈমান সুদৃঢ় হয়।
অনুরূপভাবে শায়খ ফয়সাল অত্যন্ত অকাট্যভাবে সেই সমস্ত বিভ্রান্তি ও অপব্যাখ্যাসমূহকে উন্মোচন করেছেন যা আশআরিয়া মতবাদের কতিপয় পাণ্ডিত্য-অভিমানী ব্যক্তি উপস্থাপন করে থাকে। তারা সালাফে সালেহীনের (পূর্বসূরিদের) দিকে সম্বন্ধযুক্ত কিছু বিরল ও বিচ্ছিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে তাদের তাবিল (রূপক ব্যাখ্যা) এর দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা চালায় এবং দাবি করে যে, সেগুলোর মাঝে তাবিলের অবকাশ রয়েছে।
সুবহানাল্লাহ! প্রবৃত্তি মানুষকে কী অদ্ভুতভাবে চালিত করে—তারা কুরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট ভাষ্যে বর্ণিত আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সাব্যস্তকারী অগণিত অকাট্য দলিলসমূহ বর্জন করে এমন কিছু অসংলগ্ন কথার আশ্রয় নেয়, যেগুলোর অধিকাংশের সত্যতা প্রমাণিত নয়; অথবা সেগুলোর অর্থ তাবিলপন্থীদের দাবিকৃত অর্থের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আল্লাহ তাআলা সত্যই বলেছেন: “অতঃপর যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে তাতে যা রূপক (মুতাশাবিহ) রয়েছে তার অনুসরণ করে।”
তেমনিভাবে তিনি অধ্যায়গুলোর শেষে সুন্নাহর ইমামদের থেকে এমন সব উদ্ধৃতি সংকলন করেছেন যেখানে তারা আশআরিয়াদের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং তাদেরকে আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত করেননি। এর কারণ হলো সিফাতের ক্ষেত্রে তাদের পক্ষ থেকে সুষ্পষ্ট বিদআত (ধর্মীয় নব-উদ্ভাবন) প্রমাণিত হওয়া। তারা মহান আল্লাহকে পবিত্র সাব্যস্ত করতে গিয়ে জাহমিয়াদের অনুসৃত পথ অবলম্বন করেছে, ফলে তারা যে বিভ্রান্তি থেকে বাঁচতে চেয়েছিল তার চেয়েও জঘন্য বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছে। তারা এমন এক ইলাহ, রব ও স্রষ্টাকে সাব্যস্ত করার পরিবর্তে—যাঁর জন্য মর্যাদা ও পূর্ণতার সকল গুণাবলি রয়েছে—আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলাকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে যেন তিনি নির্বাক, কথা বলেন না এবং জড় পদার্থের ন্যায় তাঁর কোনো নড়াচড়া নেই; তাঁর অস্তিত্ব জগতের ভেতরেও নেই, বাইরেও নেই, উপরেও নেই, এমনকি নিচেও নেই; আর তিনি কোনো মুমিনকে ভালোবাসেন না এবং কারও প্রতি সন্তুষ্টও হন না।
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
عنه ولا يغضب على كافر ولا يكرهه، ليس موصوفا بالرحمة، مع أن كل ما يرى من آثار رحمته تبارك وتعالى، فأين هذا الكلام الهراء الذي ليس فيه توقير للرب جل وعلا، ولا يوصل إلى ذلك مما يثبته السلف له جل وعلا من صفات الكمال والجلال وفق ما أخبر الله تعالى، وأخبر به نبيه صلى الله عليه وسلم.
فلأخينا الشيخ فيصل الجاسم الدعوات أن الله تبارك وتعالى يبارك في جهوده، ويجزيه خيراً عن أهل السنة، حيث انتصر للحق وأبان عن تلبيسات الملبسين وتقريرات المفسدين وتجهيلات الجاهلين، وقوم ما اعوج من كلامهم، وثقف ما مال من دعواهم في مسألة الصفات، متأسياً في ذلك بمن تقدم من أهل العلم الكبار، الذين ردوا على المبتدعة من الجهمية والمعتزلة في مسألة الصفات، وكذلك من خص من أهل العلم الأشاعرة بالرد كالسجزي رحمه الله في إثبات الحرف والصوت، وكالقاضي أبي يعلى رحمه الله في إبطال التأويلات، وكشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في إبطال قاعدة المتكلمين العقلية في كتابه درء تعارض العقل والنقل، وكذلك نسفه لقواعد الرازي الكلامية الفاسدة في كتابه نقض تلبيس الجهمية في تأسيس بدعهم الكلامية، وغيرهم كثير.
وعليه فأقول: إن أخانا الشيخ فيصل الجاسم قد أجاد وأفاد في كتابه هذا، ونسأل الله أن يسلك بنا وبه سبيل العلماء الصالحين،
তিনি (আল্লাহ) কাফিরের ওপর ক্রোধান্বিত হন না এবং তাকে অপছন্দও করেন না, তিনি দয়ার গুণে গুণান্বিত নন—অথচ (মহাবিশ্বে) যা কিছু দেখা যায় সবই মহান আল্লাহর করুণার (রহমত) নিদর্শন। এই অসার বাক্যের কী মূল্য আছে যাতে মহান রবের প্রতি কোনো সম্মানবোধ নেই? আর এটি সেই পরম পূর্ণতা ও মহিমার গুণাবলির ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারে না যা সালাফগণ (পূর্বসূরিগণ) মহান আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করেছেন, যেভাবে আল্লাহ তাআলা স্বয়ং এবং তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন।
আমাদের ভাই শেখ ফয়সাল আল-জাসিমের জন্য প্রার্থনা করি যেন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁর প্রচেষ্টায় বরকত দান করেন এবং আহলুস সুন্নাহর পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দেন। কেননা তিনি সত্যকে বিজয়ী করেছেন এবং বিভ্রান্তকারীদের অপকৌশল, অনিষ্টকারীদের উপস্থাপনা ও অজ্ঞদের অজ্ঞতা উন্মোচন করেছেন। তিনি আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের বক্তব্যের বক্রতা সংশোধন করেছেন এবং তাদের বিচ্যুত দাবিগুলোকে সুসংহতভাবে নিরসন করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি পূর্ববর্তী মহান উলামায়ে কেরামের অনুসরণ করেছেন, যাঁরা সিফাতের মাসআলায় জাহমিয়্যাহ ও মুতাযিলাদের মতো বিদআতিদের খণ্ডন করেছেন। একইভাবে তিনি সেইসব আলিমদেরও অনুসরণ করেছেন যাঁরা বিশেষভাবে আশআরিদের খণ্ডন করেছেন; যেমন হরফ (অক্ষর) ও সাওত (শব্দ) সাব্যস্ত করার বিষয়ে ইমাম সাজজি (রহিমাহুল্লাহ), অপব্যাখ্যা (তাবিল) বাতিলের ক্ষেত্রে কাযী আবু ইয়ালা (রহিমাহুল্লাহ), এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)—যিনি তাঁর ‘দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি’ কিতাবে কালামশাস্ত্রবিদদের যুক্তিভিত্তিক মূলনীতি বাতিল করেছেন এবং তাঁর ‘নাকদু তালবিসিল জাহমিয়্যাহ’ কিতাবে রাযীর ভ্রান্ত কালামী মূলনীতিসমূহকে সমূলে উৎপাটিত করেছেন; এছাড়া আরও অনেক আলিম রয়েছেন।
পরিশেষে আমি বলব: আমাদের ভাই শেখ ফয়সাল আল-জাসিম তাঁর এই গ্রন্থে অত্যন্ত চমৎকার ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ও তাঁকে সৎকর্মশীল আলেমদের পথে পরিচালিত করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المدافعين والذابين عن سنة سيد المرسلين، وأن يجعل ذلك في ميزان حسناته وأن يوفقه لكل خير وفلاح، إنه ولي ذلك والقادر عليه.
وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم
وكتبه
سعود بن عبد العزيز الخلف
أستاذ العقيدة في كلية الدعوة وأصول الدين
بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
18/ 1/1428هـ
রাসূলগণের শিরোমণির সুন্নাহর অতন্দ্র প্রহরী ও প্রতিরক্ষা প্রদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং এটিকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় জমা করেন এবং তাঁকে যাবতীয় কল্যাণ ও সফলতার তাওফিক দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
এটি লিখেছেন
সাউদ বিন আব্দুল আজীজ আল-খালাফ
আকীদা (বিশ্বাসতত্ত্ব) বিভাগের অধ্যাপক, দাওয়াহ ও উসুলুদ্দীন অনুষদ
মদীনা মুনাওয়ারাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
১৮/ ০১/ ১৪২৮ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
تقريظ الشيخ / أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان (الأردن)بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده، نستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، أما بعد:
فقد أطلعني أخي الباحث فضيلة الشيخ / فيصل بن قزار الجاسم -حفظه الله ورعاه، وسدده، ونفع به- على كتابه القيم (الأشاعرة في ميزان أهل السنة)، فقرأته، فوجدته نافعاً، نصر فيه مذهب السلف الصالح في الأسماء والصفات بأسلوب سهل، وعرض جيد، وحشد فيه نقولات تنبئ عن صبر في البحث، وإدمان نظر، وحسن اختيار، وشدة تتبع لتلكم الدرر والشذرات من كلام الأئمة الأعلام، فنظمها في هذا العقد المحكم المتين، وزيّنه بتلكم الفوائد الأصيلة، وجاءت بصياغة محررة، وبتوثيق من مصادر معتبرة عن أعلام، أجمع -أو كاد- جميع الباحثين على فضلهم، وضرورة
শায়খ আবু উবাইদাহ মাশহুর ইবনে হাসান আল-সালমানের (জর্ডান) প্রশংসাবাণীপরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া (ইবাদতের যোগ্য) কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর:
আমার ভাই গবেষক সম্মানিত শায়খ ফয়সাল ইবনে ক্বাজার আল-জাসিম —আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন, রক্ষণাবেক্ষণ করুন, সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং তাঁর দ্বারা উম্মাহর কল্যাণ সাধন করুন— তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ ‘আশাইরা ফি মিযান আহলিস সুন্নাহ’ (আহলে সুন্নাহর মানদণ্ডে আশআরী মতবাদ) আমার নিকট উপস্থাপন করেছেন। আমি এটি পাঠ করেছি এবং একে অত্যন্ত উপকারী হিসেবে পেয়েছি। এতে তিনি সহজ ভাষা ও চমৎকার উপস্থাপনার মাধ্যমে আল্লাহর নাম ও গুণাবলির (আসমা ওয়া সিফাত) ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের মানহাজকে বিজয়ী করেছেন। তিনি এতে এমন সব উদ্ধৃতি একত্রিত করেছেন যা তাঁর গবেষণায় ধৈর্য, গভীর অভিনিবেশ, নিপুণ চয়ন এবং বরেণ্য ইমামগণের বাণী হতে সেই সকল মণি-মুক্তা ও দুর্লভ অংশসমূহ খুঁজে বের করার নিরলস প্রচেষ্টার বহিঃপ্রকাশ। অতঃপর তিনি সেগুলোকে এই মজবুত ও সুদৃঢ় শৃঙ্খলে বিন্যস্ত করেছেন এবং মৌলিক কিছু জ্ঞানগর্ভ আলোচনা দ্বারা একে সুশোভিত করেছেন। এটি অত্যন্ত পরিমার্জিত ভাষায় এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সংগৃহীত দলিলের ভিত্তিতে এমন সব মনীষীদের উদ্ধৃতিতে সমৃদ্ধ হয়েছে, যাঁদের মর্যাদা এবং (যাঁদের অনুসরণের) আবশ্যকতা সম্পর্কে প্রায় সকল গবেষকই ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الانصياع إلى تقريراتهم، والعض على تأصيلاتهم، ونبذ الدخيل مما قيل عنه -زوراً وبهتاناً- أنه مذهب أهل السنة والجماعة.
وهذه الدراسة الجادة القيمة هي في أصلها نقد -بل نقض- بكتاب (أهل السنة الأشاعرة، شهادة علماء الأمة وأدلتهم) قام الأخ الباحث فيصل -جعله الله فيصلاً بين الحق والباطل- بردّ ترهات تدور على الألسنة، وذلك من خلال الجمع والحشد لكلام أئمة في سائر الفنون، على اختلاف الأمصار والأعصار، وتجنب -عن عمد وقصد- كلام شيخ الإسلام ابن تيمية وتلاميذه الأئمة العظام من أمثال: ابن القيم، ومن تأثر بدعوتهم من الأعلام المتأخرين، رضي الله عنهم أجمعين، وألحقنا بهم في الصالحين.
وقد ازدان هذا الرد -بحق- بالمقارنة القوية بين الأصيل والدخيل، والجيد والرديء، والسنة والبدعة، وجمع بين الحشد المتقن المختار، والتحليل والتعليق بأسلوب سهل، ونَفَس علمي رصين، بيّن الباحث من خلاله الفرق الكبير، والبون الشاسع بين مذهب السلف الصالح ومذهب الأشاعرة، وزيّف فيه المؤلف تلكم الدعوة الظالمة أن "الأشاعرة" هم "أهل السنة والجماعة"!
ولا أكتم القارئ الكريم إني وجدت فيما قرأت من تقريرات -جاءت في معرض الرد-: أدباً في المناقشة، وترفعاً عن المهاترة، وتمالكاً وقوة نَفَس، تنبئ عن دقة فهم، ودماثة خلق، وحسن قصد، والله حسيبه، ولا أزكي على الله أحداً.
তাদের সিদ্ধান্তগুলোর অনুগত হওয়া, তাদের মূলনীতিগুলোকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরা এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব হিসেবে মিথ্যা ও অপবাদ দিয়ে যা চালিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই অনুপ্রবেশকারী বিষয়গুলোকে বর্জন করা।
এই গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান গবেষণাটি মূলত 'আহলুস সুন্নাহ আল-আশাঈরাহ: শাহাদাতু উলামাইল উম্মাহ ওয়া আদিল্লাতুহুম' (উম্মাহর আলেমদের সাক্ষ্য ও প্রমাণে আশআরি আহলুস সুন্নাহ) নামক গ্রন্থের একটি সমালোচনা—বরং খণ্ডন। গবেষক ভাই ফয়সাল—আল্লাহ তাকে সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী হিসেবে কবুল করুন—মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত ভিত্তিহীন কথাগুলোকে খণ্ডন করেছেন। আর এটি তিনি করেছেন বিভিন্ন যুগের ও বিভিন্ন অঞ্চলের সকল শাস্ত্রের ইমামদের বক্তব্য সুচারুভাবে সংকলন ও উপস্থাপনের মাধ্যমে। তিনি সচেতনভাবে ও সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর মহান ছাত্র ইমামগণ—যেমন ইবনুল কাইয়্যিম এবং পরবর্তী যুগের যেসব মনীষী তাঁদের দাওয়াত দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন—তাঁদের বক্তব্য উদ্ধৃত করা থেকে বিরত থেকেছেন। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং আমাদেরও সৎকর্মশীলদের সাথে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
এই খণ্ডনটি—যথাযথভাবেই—মৌলিক ও অনুপ্রবেশকারী, উৎকৃষ্ট ও নিকৃষ্ট এবং সুন্নাহ ও বিদআতের মধ্যকার বলিষ্ঠ তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়েছে। এতে চমৎকার ও নির্বাচিত উদ্ধৃতি চয়ন এবং সহজ শৈলী ও গভীর জ্ঞানতাত্ত্বিক মেজাজে বিশ্লেষণ ও মন্তব্যের এক সার্থক সমন্বয় ঘটেছে। এর মাধ্যমে গবেষক সালাফে সালেহীনের মাযহাব এবং আশআরি মাযহাবের মধ্যে বিদ্যমান বিশাল ব্যবধান ও সুদূরপ্রসারী পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন। লেখক এখানে এই অন্যায় দাবিটিকে মিথ্যা প্রমাণ করেছেন যে, 'আশআরিরাই' হলো 'আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত'।
আমি সম্মানীত পাঠকের কাছে এই সত্য গোপন করব না যে, এই খণ্ডনমূলক আলোচনার অংশ হিসেবে আমি যা পড়েছি, তাতে আমি বিতর্কের উচ্চতর শিষ্টাচার, অহেতুক বিবাদ থেকে সংযম, আত্মসংবরণ এবং এক বলিষ্ঠ জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থান খুঁজে পেয়েছি; যা লেখকের সূক্ষ্ম বুঝশক্তি, উন্নত চরিত্র ও মহৎ উদ্দেশ্যের পরিচয় দেয়। আল্লাহই তাঁর হিসাব গ্রহণকারী, আর আমি আল্লাহর ওপর কাউকে পবিত্রতা দান করি না।
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأخيراً، فقد قام الأخ الباحث -أحسن الله إليه- بواجب كفائي، كفّى فيه ووفّى، جامعاً ماتعاً نافعاً، على ما عهدناه منه، وقد أحسن وأجاد فيه، وينح في بالي، وخطر في خيالي -أكثر من مرة- أثناء قراءتي له ذلك المثل العربي: (أعط القوس باريها)، فهو أهل لمثل هذه المنازلة، وكفيل برد نلكم المشاغبة، التي لا تثبت أمام الحقائق العلمية، القائمة على البراهين القوية، والحجج الدامغة، فإنه (لا أمير في العلم إلا العلم)، ولا بقاء -في المآل- إلا للحق والعدل (الخير)، فإن الحق ثقيل، ولكنه مريء، بينما الباطل خفيف -ولذا قد ينتشر- ولكنه وبيء.
أجزل الله لمؤلف هذا الكتاب المثوبة والعطاء، ونفع الله به دينه، ونصر به الحق، وجعل لكتابه هذا الرضى والقبول، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
وكتبه
أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان
9 محرم 1428هـ
27/ 1/2007
পরিশেষে, গবেষক ভাই—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন—একটি সামষ্টিক দায়িত্ব (ওয়াজিব কিফায়ী) পালন করেছেন, যাতে তিনি পূর্ণতা দান করেছেন এবং যথাযোগ্য হক আদায় করেছেন। এটি একটি জ্ঞানগর্ভ, উপভোগ্য ও অত্যন্ত উপকারী সংকলন, যেমনটি আমরা তাঁর কাছ থেকে সর্বদা দেখে আসছি। তিনি এতে অত্যন্ত নৈপুণ্য ও উৎকর্ষ প্রদর্শন করেছেন। এটি পড়ার সময় আমার মনে বারবার সেই আরব্য প্রবাদটি উদিত হয়েছে: 'ধনুক তার যোগ্য কারিগরকেই দাও'। তিনি এ জাতীয় জ্ঞানতাত্ত্বিক লড়াইয়ের যোগ্য এবং সেই সংশয় নিরসনে সক্ষম, যা শক্তিশালী প্রমাণ ও অকাট্য দলিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্যের সামনে টিকে থাকে না। কেননা ‘জ্ঞানের রাজ্যে জ্ঞান ছাড়া অন্য কোনো অধিপতি নেই’ এবং পরিণামে সত্য ও ন্যায় (কল্যাণ) ছাড়া আর কিছুরই স্থায়িত্ব নেই। কারণ সত্য ভারী হলেও তা স্বাস্থ্যকর, আর মিথ্যা হালকা—তাই হয়তো এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে—কিন্তু তা সংক্রামক ব্যাধির ন্যায় ক্ষতিকর।
আল্লাহ এই কিতাবের লেখককে বিপুল প্রতিদান ও পুরস্কার দান করুন, তাঁর মাধ্যমে তাঁর দ্বীনের উপকার করুন, সত্যকে বিজয়ী করুন এবং তাঁর এই কিতাবকে সন্তুষ্টি ও কবুলিয়ত দান করুন। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ইতি,
আবু উবাইদাহ মাশহুর ইবন হাসান আল সালমান
৯ মহররম ১৪২৮ হিজরি
২৭/০১/২০০৭
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تقريظ الشيخ / أ. د. محمد أحمد لوح (السنغال)عميد الكلية الإفريقية للدراسات الإسلامية في السنغال.
الحمد لله الذي جعل لدين الإسلام من كل خلفٍ عدولاً ينفون عنه تحريف الغالين وانتحال المبطلين وتأويل الجاهلين، وزيف المتعالمين، والصلاة والسلام على من بشَّر أمته بأنه لا يزال طائفة منهم ظاهرين على الحق لا يضرهم من خذلهم أو ناوأهم حتى يأتي أمر الله وهم كذلك، اللهم صل وسلم عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبع هديهم بإحسان إلى يوم الدين أما بعد:
فإن طوائف المتكلمين الذين حادوا عن سبيل السلف في دين الله قد عرفهم علماء السنة -منذ بزوغ قرنهم- وأحصوهم عددا، وبينوا للناس خطورة ما سلكوه من طرائق قددا، ونادوا عليهم
শাইখ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আহমদ লুহ (সেনেগাল)-এর অভিমতডিন, আফ্রিকান কলেজ অফ ইসলামিক স্টাডিজ, সেনেগাল।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ইসলামের এই দ্বীনের প্রতিটি প্রজন্মে এমন একদল ন্যায়নিষ্ঠ উত্তরসূরি নিযুক্ত করেছেন, যারা এই দ্বীন থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি (তাহরিফ), বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং জ্ঞানহীনদের অপব্যাখ্যা ও ভণ্ড পণ্ডিতদের জালিয়াতি দূর করেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মহান সত্তার ওপর, যিনি তাঁর উম্মতকে এই সুসংবাদ দিয়েছেন যে, তাদের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে; যারা তাদের সহায়তা ত্যাগ করবে বা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) না আসা পর্যন্ত তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সঙ্গী-সাথি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের পথ অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর:
নিশ্চয়ই কালামশাস্ত্রবিদদের (আল-মুতাকাল্লিমিন) সেইসব দল যারা আল্লাহর দ্বীনের ক্ষেত্রে সালাফদের (পূর্বসূরিদের) পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, সুন্নাহর আলিমগণ তাদের আত্মপ্রকাশের শুরু থেকেই তাদের চিনেছেন এবং তাদের সংখ্যা নিরূপণ করেছেন। তারা সাধারণ মানুষের নিকট তাদের অনুসৃত নানাবিধ ভ্রান্ত মতাদর্শের ভয়াবহতা বর্ণনা করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ঘোষণা দিয়েছেন যে,
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بالزيغ والضلال في كل ناد، حتى عرفهم عامة أهل السنة فضلا عن علمائهم.
فكما أقر الجميع بانحراف الجهمية والمعتزلة والخوارج والروافض عن المنهج الحق لظهور شأنهم، وانكشاف أمرهم، فكذلك أدركوا -منذ وقت مبكر- زيغ أهل التبعيض في الصفات الإلهية من الماتريدية والأشعرية الكلابية: فهذا أبو إسماعيل عبد الله بن محمد بن علي الهروي يقول: ((سمعت أحمد بن نصر الماليني ت412هـ يقول: ((دخلت جامع عمرو بن العاص بمصر في نفر من أصحابي، فلما جلسنا جاء شيخ فقال: أنتم أهل خراسان أهل السنة، وهذا موضع الأشعرية فقوموا)) (1)
هكذا كان الناس -عامتهم وخاصتهم- يفرقون بين الأشعرية الكلابية وبين أهل السنة في هذا الوقت المبكر، فيا ترى كيف انقلبت الموازين لدى هؤلاء الناس، واختلطت الأمور على من يحسبون أنفسهم كتابا ومفكرين حتى فقدوا التمييز فحكموا بأن منهج وعقيدة أهل السنة هو منهج وعقيدة الأشعرية الكلابية؟ إنه لزعمٌ ما أبعده عن الواقع، ودعوى ما أفقرها إلى برهان، ولكن -ولله الحمد- الحق أبلج، والباطل لجلج، وأقلام أهل الحق لا زالت توضح المنهج، وتكشف البهرج.
-----------------------------------
বিচ্যুতি ও ভ্রষ্টতার মাধ্যমে প্রতিটি মজলিসে, এমনকি তাদের ওলামায়ে কেরামের পাশাপাশি সাধারণ আহলে সুন্নাতও তাদের চিনে ফেলেছিল।
যেহেতু জাহমিয়া, মুতাজিলা, খারিজি এবং রাফেজিদের স্বরূপ ও কার্যকলাপ প্রকাশ পেয়ে যাওয়ায় সত্য পথ থেকে তাদের বিচ্যুতির বিষয়টি সকলের কাছে স্বীকৃত হয়েছে, তেমনিভাবে ওলামায়ে কেরাম শুরু থেকেই ঐশ্বরিক গুণাবলির (সিফাত) ক্ষেত্রে আংশিক বিশ্বাসী মাতুরিদি এবং আশআরি-কুল্লাবিদের বিচ্যুতিও উপলব্ধি করেছিলেন। যেমন, আবু ইসমাইল আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলি আল-হারাউই বলেন: "আমি আহমদ বিন নাসর আল-মালিনিকে (মৃত্যু ৪১২ হি.) বলতে শুনেছি: 'আমি আমার একদল সঙ্গীর সাথে মিশরের জামে আমর ইবনুল আস-এ প্রবেশ করলাম। আমরা যখন বসলাম, তখন এক বৃদ্ধ লোক এসে বললেন: তোমরা খোরাসানের অধিবাসী এবং আহলে সুন্নাত; আর এটি আশআরিদের বসার স্থান, তাই তোমরা এখান থেকে উঠে যাও।'" (১)
এভাবেই সাধারণ ও বিশিষ্ট সকল মানুষ সেই প্রাথমিক যুগেই আশআরি-কুল্লাবি এবং আহলে সুন্নাতের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতেন। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, বর্তমানের এই মানুষগুলোর কাছে সত্য-মিথ্যার মানদণ্ড কীভাবে উল্টে গেল? আর যারা নিজেদের লেখক ও চিন্তাবিদ বলে মনে করেন, তাদের কাছেই বা বিষয়গুলো কেন এমনভাবে গুলিয়ে গেল যে, তারা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে এই ফয়সালা দিয়ে দিলেন যে—আহলে সুন্নাতের মানহাজ (পদ্ধতি) ও আকিদাহ (বিশ্বাস) মূলত আশআরি-কুল্লাবিদেরই মানহাজ ও আকিদাহ? এটি এমন এক দাবি যা বাস্তবতা থেকে যোজন যোজন দূরে, এবং এমন এক উক্তি যার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। তবে—আল্লাহর শুকরিয়া—সত্য সর্বদা উজ্জ্বল এবং মিথ্যা সদা জড়তাপূর্ণ, আর সত্যপন্থীদের কলম আজও সঠিক পথকে সুস্পষ্ট করছে এবং মিথ্যার চাকচিক্যকে উন্মোচিত করে দিচ্ছে।
-----------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فها هو أخونا الشيخ / أبو عثمان فيصل بن قزار الجاسم- وفقه الله - قد أطلعني على حرره رداً على من صنف الأشاعرة الكلابية مع أهل السنة في صف واحد عقيدة وديانة، فألفيته قد رتب الكتاب ترتيبًا حسنًا، وقسمه تقسيمًا يشوق المطالع، وكتبه بأسلوب لا يملّ منه قارئ ولا سامع، وأودعه من الفوائد العلمية، والجواهر السلفية ما يكفل لكل طالب حق بطلبته، ويجذب كل منصف لمطالعته وإقراره.
ولقد أعجبني ما اكتسى به هذا الكتاب من لباس الرفق والهدوء، والخلق الكريم، والأدب العظيم، والترفع عن سفاسف الأمور، وعن التعريج على القضايا الشخصية، والأحكام الجزافية التي اعتاد أهل الأهواء أن يتخذوها أسلوبا للرد، وهو في الحقيقة حالة من العجز قد قُمِّصت بلفافة من الشدة والعنف والقذائف الاستباقية.
إن من يقرأ هذا الكتب متأملاً أسلوبه السلفي المحكم ليشعر أنه يقرأ لكاتب يصنف مؤصلا، وخبير يكن الشفقة ويبذل النصح لمن يكتب له، وليس أسلوب كاتب يتصدى لمجادلة من خالف الحق صريحا في مقرراته العقدية، وتوجهاته المنهجية.
ومع هذا كله فالكتاب من حيث الحجة والبرهان المستقى من الكتاب والسنة والآثار السلفية قذيفةٌ من قذائف الحق أصابت باطل هؤلاء فدمغته فإذا هو زاهق.
আমাদের ভ্রাতা শায়খ আবু উসমান ফয়সাল বিন কাযার আল-জাসিম—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন—তিনি তাঁর রচিত সেই পাণ্ডুলিপিটি আমাকে দেখিয়েছেন, যা তিনি সেইসব ব্যক্তিদের প্রতিবাদে লিখেছেন যারা আকিদা ও দ্বীনের ক্ষেত্রে আশআরি-কুল্লাবিদের আহলে সুন্নাহর সমান্তরাল মনে করে। আমি বইটি অত্যন্ত উত্তম বিন্যাসে সাজানো পেয়েছি এবং এর পরিচ্ছেদগুলো পাঠকের আগ্রহ উদ্দীপ্ত করার মতো। এটি এমন এক শৈলীতে রচিত যা পাঠক বা শ্রোতার নিকট মোটেও ক্লান্তিকর মনে হয় না। এতে তিনি এমন সব জ্ঞানগর্ভ উপকারিতা ও সালাফি (পূর্বসূরিদের অনুসৃত) মুক্তোসমূহ সন্নিবেশিত করেছেন, যা প্রত্যেক সত্যসন্ধানীকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে এবং যেকোনো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিকে এটি পাঠ ও গ্রহণে আকৃষ্ট করবে।
আমি এই বইটির নম্রতা, প্রশান্তি, মহান চরিত্র এবং উচ্চমার্গের শিষ্টাচারের ভূষণে বিশেষভাবে মুগ্ধ হয়েছি। এতে তুচ্ছ বিষয়াবলি ও ব্যক্তিগত প্রসঙ্গের অবতারণা থেকে যেমন নিজেকে ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে, তেমনি বিরত থাকা হয়েছে সেসব অসংলগ্ন রায় প্রদান থেকে যা প্রবৃত্তি পূজারিরা সাধারণত তাদের খণ্ডন পদ্ধতিতে ব্যবহার করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে তাদের সেই আচরণ ছিল অক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ, যা তারা কঠোরতা, সহিংসতা ও আক্রমণাত্মক বাক্যালাপের আবরণে ঢেকে রাখতে চায়।
যে ব্যক্তি এই বইটি এর সুদৃঢ় সালাফি শৈলী নিয়ে গভীরভাবে পাঠ করবেন, তিনি অনুভব করবেন যে তিনি এমন একজন লেখকের লেখা পড়ছেন যিনি মৌলিক ও প্রামাণিক বিষয়ের আলোকে রচনা করেন। তিনি একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে অত্যন্ত মমতার সাথে তাঁর উদ্দিষ্ট পাঠকদের সদুপদেশ প্রদান করেছেন। এটি কেবল এমন কোনো লেখকের শৈলী নয় যিনি আকিদাগত মূলনীতি ও মানহাজগত (পদ্ধতিগত) অবস্থানে সত্যের স্পষ্ট বিরোধিতাকারীর সাথে নিছক বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য কলম ধরেছেন।
এতদসত্ত্বেও, কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফি বর্ণনা থেকে সংগৃহীত দলিল ও প্রমাণের বিচারে এই বইটি সত্যের এক অব্যর্থ আঘাতের মতো, যা তাদের বাতিল মতাদর্শকে এমনভাবে বিদীর্ণ করেছে যে তা সমূলে বিনাশপ্রাপ্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وما أحسب منصفاً- وإن كان مخالفاً- يقف عليه متأملاً إلا ويسلم بصحة ما قرره، ويدرك خطأ مخالفه.
والله المسئول أن يوفق مؤلفه وجميع المسلمين لخدمة هذا الدين والذب عن حياضه.
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.
كتبه/ أ. د. محمد أحمد لوح
عميد الكلية الإفريقية للدراسات الإسلامية في السنغال.
modlo@maktoob.com
আমি মনে করি না যে কোনো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি—এমনকি তিনি ভিন্নমতাবলম্বী হলেও—এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর এর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বিষয়ের সঠিকতা স্বীকার না করে এবং তার বিরোধীদের ভুল উপলব্ধি না করে থাকতে পারবেন।
আর আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন এর লেখক এবং সকল মুসলিমকে এই দ্বীনের সেবা করার এবং এর গৌরব ও মর্যাদা রক্ষার তাওফিক দান করেন।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
লিখেছেন/ অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আহমাদ লুহ
ডিন, আফ্রিকান কলেজ অব ইসলামিক স্টাডিজ, সেনেগাল।
modlo@maktoob.com
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
تقريظ الشيخ / د. أحمد شاكر الجنيدي (مصر)أستاذ العقيدة الإسلامية
ونائب الرئيس العام لجماعة أنصار السنة المحمدية
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الكبير المتعال، والصلاة والسلام على المصطفى المبعوث من ولد عدنان، وعلى آل بيته الطيبين الأطهار، وصحبه البررة الأخيار، ومن تبعهم بإحسان.
وبعد:
فإنه لمن دواعي سروري وغبطتي أن أشاهد وأقرأ بين الحين والآخر كتاباً علمياً يؤصل منهج أهل السنة والجماعة، ويدافع وينافح عن عقيدة سلف الأمة الصالحين، وذلك أن أهل الأهواء لا يكفّون عن نشر بدعهم على الناس بطرق ملتوية غريبة، فيها تحريف للنصوص، واستدلال بما لا يصح، والنقل عن أمثالهم ممن انحرفت بهم السبل، ولقد وجد هؤلاء في حياة أبي الحسن الأشعري مجالاً خصباً للترويج لبدعهم بسبب أن أبا الحسن الأشعري رحمه الله نشأ
শায়খ ড. আহমাদ শাকের আল-জুনাইদী (মিসর)-এর প্রশংসা বাণীইসলামী আকীদা শাস্ত্রের অধ্যাপক
এবং জামাআতে আনসারুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়াহ-এর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সমস্ত প্রশংসা মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আদনান-তনয় মনোনীত (আল-মুস্তফা) রাসূলের প্রতি, তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ এবং পুণ্যবান ও শ্রেষ্ঠ সাহাবায়ে কেরাম এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাঁদের সকলের প্রতি।
অতঃপর:
সময়ে সময়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শিক পদ্ধতিকে (মানহাজ) সুপ্রতিষ্ঠিত করে এবং উম্মতের নেককার পূর্বসূরিদের (সালাফ আস-সালেহীন) আকীদাকে রক্ষণাবেক্ষণ ও সমর্থন করে লিখিত কোনো গবেষণামূলক ইলমী কিতাব দেখতে পাওয়া এবং পাঠ করা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও তৃপ্তির বিষয়।
কারণ, প্রবৃত্তি পূজারীরা বিভিন্ন কুটিল ও অদ্ভুত উপায়ে মানুষের মাঝে তাদের বিদআতসমূহ প্রচার করা থেকে বিরত হয় না। এসব পন্থার মধ্যে রয়েছে মূল পাঠসমূহের (নস) বিকৃতি ঘটানো, অগ্রহণযোগ্য ও অশুদ্ধ দলীল উপস্থাপন করা এবং তাদের মতোই পথভ্রষ্ট ব্যক্তিদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করা। আর এই লোকগুলো আবুল হাসান আল-আশআরী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনীর মাঝে তাদের বিদআত প্রচারের এক উর্বর ক্ষেত্র খুঁজে পেয়েছে, কারণ আবুল হাসান আল-আশআরী (রাহিমাহুল্লাহ) লালিত-পালিত হয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
على مذهب الاعتزال في بداية عهده، ثم انتقل إلى مذهب عبد الله بن سعيد بن كلاب القطان الذي كان يثبت بعض الصفات ويؤول الآخ، ثم ختم الله لأبي الحسن بالخير فانتقل إلى مذهب أهل السنة والجماعة، ومحّص طريقته بالرجوع إلى مذهب السلف الصالح، وقال بما قاله إمام أهل السنة من قبله العالم الرباني أبي عبد الله أحمد بن حنبل الشيباني، وقد ذكر كثير من أهل العلم أطوار أبي الحسن الأشعري، ومنهم الإمام الحافظ ابن كثير رحمه الله حيث قال: (ذكروا للشيخ أبي الحسن الأشعري ثلاثة أطوار: أولها: حال الاعتزال التي رجع عنها لا محالة، والحال الثاني: إثبات الصفات العقلية السبع وهي: الحياة والعلم والقدرة والإرادة والسمع والبصر والكلام، وتأويل الخبرية كالوجه، واليدين، والقدم، والساق، ونحو ذلك، والحال الثالث: إثبات ذلك كله من غير تكييف ولا تشبيه جرياً على منوال السلف، وهي طريقته في الإبانة التي صنفها آخراً).
ومع هذا التصريح والتوضيح لأطوار الأشعري إلا أن أصحابه والمنتسبين إليه لم يلتزموا بمنهجه الأخير الذي رجع فيه إلى مذهب السلف، وألف الكتب النافعة فيه كالإبانة، ورسالة إلى أهل الثغر، وغير ذلك، بل أنكر الكثير منهم ما كتبه في معتقده الأخير، وهو ثابت يقيناً له، وثبتوا وتبنوا المرحلة الثانية للأشعري التي فيها تأويلٌ لكثير من الصفات، وغيرها من المخالفات،
তাঁর জীবনের শুরুতে তিনি মুতাজিলা মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন, অতঃপর তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে কুল্লাব আল-কত্তানের মাযহাবের দিকে স্থানান্তরিত হন, যিনি আল্লাহর কিছু গুণাবলি (সিফাত) সাব্যস্ত করতেন এবং অন্যগুলোর ব্যাখ্যা (তাবিল) করতেন। এরপর আল্লাহ তাআলা আবুল হাসানের শেষ পরিণতি কল্যাণের সাথে সম্পন্ন করেন, ফলে তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাবে ফিরে আসেন এবং সালাফে সালেহীনের মাযহাবে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে নিজের পদ্ধতিকে পরিশুদ্ধ করেন। তিনি তাঁর পূর্ববর্তী আহলুস সুন্নাহর ইমাম, মহান আলিম আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বল আশ-শাইবানীর বক্তব্যের অনুরূপ মত পোষণ করেন। অনেক আলিম আবুল হাসান আল-আশআরীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের কথা উল্লেখ করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম হাফিজ ইবনু কাসীর (রহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেছেন: (তারা শাইখ আবুল হাসান আল-আশআরীর জন্য তিনটি পর্যায়ের কথা উল্লেখ করেছেন: প্রথমটি: মুতাজিলা মতবাদের অবস্থা, যা থেকে তিনি নিশ্চিতভাবেই ফিরে এসেছিলেন। দ্বিতীয় অবস্থা: সাতটি বুদ্ধিগ্রাহ্য গুণাবলি (সিফাত আল-আকলিয়্যাহ) সাব্যস্ত করা, সেগুলো হলো: জীবন (হায়াত), জ্ঞান (ইলম), ক্ষমতা (কুদরত), ইচ্ছা (ইরাদাহ), শ্রবণ (সামু), দর্শন (বাসার) এবং কথা (কালাম); আর সংবাদনির্ভর গুণাবলি (সিফাত আল-খাবারিয়্যাহ) যেমন— মুখমণ্ডল, হাতদ্বয়, পা, নলা ইত্যাদির ব্যাখ্যা প্রদান করা। তৃতীয় অবস্থা: সালাফদের পথ অনুসরণে কোনো প্রকার ধরণ নির্ধারণ (তাকিয়িফ) বা সাদৃশ্য প্রদান (তাশবিহ) ছাড়াই এর সবগুলোকে সাব্যস্ত করা। এটিই ছিল ‘আল-ইবানাহ’ গ্রন্থে বর্ণিত তাঁর পদ্ধতি, যা তিনি তাঁর জীবনের শেষভাগে রচনা করেছেন)।
আবুল হাসানের জীবনের পর্যায়গুলোর ব্যাপারে এই সুস্পষ্ট ঘোষণা ও ব্যাখ্যা থাকা সত্ত্বেও তাঁর অনুসারীরা এবং তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তিবর্গ তাঁর সেই সর্বশেষ মানহাজের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকেনি, যেটিতে তিনি সালাফদের মাযহাবের দিকে ফিরে এসেছিলেন এবং এই বিষয়ে ‘আল-ইবানাহ’, ‘রিসালাতু ইলা আহলিস সাগির’ সহ অন্যান্য উপকারী কিতাবসমূহ রচনা করেছিলেন। বরং তাদের অনেকে তাঁর সেই শেষ জীবনের আকিদা-বিশ্বাস সম্বলিত রচনাবলিকে অস্বীকার করেছে, অথচ সেগুলো তাঁর পক্ষ থেকে অকাট্যভাবে প্রমাণিত। তারা আশআরীর দ্বিতীয় পর্যায়টিকেই গ্রহণ করেছে এবং তার ওপর অটল থেকেছে, যেখানে অনেক গুণাবলির অপব্যাখ্যা (তাবিল) এবং অন্যান্য কিছু বিচ্যুতি বিদ্যমান ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
يقول الشيخ محب الدين الخطيب رحمه الله: (أما الأشعرية: أي المذهب الذي المنسوب إليه في علم الكلام فكما أنه لا يمثل الأشعري في طور اعتزاله، فإنه ليس من الإنصاف أيضاً أن يلصق به فيما أراد أن يلقى الله عليه، بل هو مستمد من أقواله التي كان عليها في الطور الثاني، ثم عدل عن كثير منها في آخرته التي أتمها الله عليه بالحسنى) (1).
وإن عجبي لا ينتهي بعد ذلك من قوم يزعمون أن الصحابة رضي الله عنهم كانوا أشاعرة، فلا أدري هل يظن هؤلاء أن الأشعري سابق على الصحابة وتلقوا منه، أم أن الصحابة تأخروا إلى عصره وأخذوا عنه المعتقد؟!! إنني أترك القارئ الكريم أن يعرف بنفسه فساد هذا الكلام الذي لا يستحق أن يرد عليه إنسان.
وهذا الكتاب الذي كتبه الأخ الفاضل الباحث الأستاذ / فيصل بن قزار الجاسم من الكتب النافعة المفيدة التي تساهم مساهمة فعالة في بيان مذهب السلف الصالح في أسماء الله وصفاته، وبيان المعتقد الذي رجع إليه الإمام أبو الحسن الأشعري رحمه الله كل ذلك بالأدلة الواضحة، والنقول النافعة عن أئمة السلف الصالح، وما كتبه الأشعري نفسه،
-----------------------------------
শায়খ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতীব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আশআরী মতবাদ—অর্থাৎ ইলমুল কালামে (ইলমে কালাম) তাঁর দিকে যে মাযহাবটি সম্পৃক্ত করা হয়—তা যেমন আল-আশআরীর মুতাযিলা মতাদর্শে থাকাকালীন সময়ের প্রতিনিধিত্ব করে না, তেমনিভাবে তিনি যে বিষয়ের ওপর আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করতে চেয়েছেন, তার সাথে এটিকে যুক্ত করাও ইনসাফ বা ন্যায়সঙ্গত নয়। বরং এটি তাঁর সেই সকল বক্তব্য থেকে গৃহীত যা তাঁর দ্বিতীয় পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল, অতঃপর তিনি তাঁর জীবনের শেষভাগে এর অনেকগুলো থেকেই ফিরে এসেছিলেন, যা আল্লাহ তাঁর জন্য কল্যাণের সাথে পূর্ণ করেছিলেন) (১)।
এরপরও সেই সমস্ত লোকদের প্রতি আমার বিস্ময়ের সীমা থাকে না যারা দাবি করে যে সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) আশআরী ছিলেন। আমি জানি না তারা কি মনে করে যে আল-আশআরী সাহাবীগণের পূর্বে এসেছিলেন এবং তাঁরা তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন, নাকি সাহাবীগণ তাঁর যুগ পর্যন্ত বিলম্বিত হয়েছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে আকীদা (বিশ্বাস) গ্রহণ করেছিলেন?!! আমি সম্মানিত পাঠকের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি যাতে তিনি নিজেই এই কথার অসারতা বুঝতে পারেন, যা কোনো মানুষের পক্ষ থেকে প্রত্যুত্তরের যোগ্য নয়।
আর এই কিতাবটি, যা সম্মানিত ভাই গবেষক উস্তাদ ফয়সাল বিন কাযার আল-জাসিম রচনা করেছেন, তা এমন একটি উপকারী ও ফলপ্রসূ গ্রন্থ যা আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীন (নেককার পূর্বসূরিদের) মাযহাব স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে এবং ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী (রহিমাহুল্লাহ) যে আকীদার দিকে ফিরে এসেছিলেন তা বর্ণনায় কার্যকর অবদান রাখে। এ সবকিছুই করা হয়েছে সুস্পষ্ট দলীল এবং সালাফে সালেহীনের ইমামদের থেকে নির্ভরযোগ্য উদ্ধৃতি ও স্বয়ং আল-আশআরীর লেখনীর মাধ্যমে,
-----------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وقد تمكن الباحث بتوفيق الله من توضيح ذلك وبيانه بسبب فهمه لمعتقد السلف الصالح، ووقوفه على كتبهم الكثيرة في مسائل العقيدة، وهي مبنية على الاستدلال بكتاب الله وصحيح سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وما ورد عن الصحابة والتابعين من أهل القرون الفاضلة، كما تناول الباحث في هذا الكتاب مناقشة بعض المتعصبين للمذهب الأشعري في طوره الثاني، وقد نسبوا ذلك ظلماً وعدواناً إلى الصحابة والتابعين، وهذا أمر خطير، وفيه من الافتراء على الصحابة والسلف ما هو معلوم، وقد رد المؤلف عليهم رداً علمياً معتمداً -بعد فضل الله- على الأصول العلمية عند السلف، ولهذا كان موفقاًَ غاية التوفيق، مصيباً كل الإصابة، وقد كفى برده هذا كل منصف باحث عن الحقيقة محب للحق، وإنني أدعو كل أشعري بعد ذلك إلى الوقوف على معتقد الأشعري بعد رجوعه إلى مذهب السلف، لأنه ليس من الإنصاف أن ننسب إليه شيئاً رجع عنه وقال بغيره.
وقد سبق أن قرأت للمؤلف بعض الكتب الأخرى ككتاب (حقيقة الخوارج في الشرع وعبر التاريخ) وكتاب (كشف الشبهات في مسائل العهد والجهاد)، وهي كتب نافعة في بابها، مهمة في العصضر الحاضر الذي كثر فيه الخارجون وافترى المفترون، فجزاه الله خير الجزاء،
আল্লাহর তৌফিকে গবেষক এটি স্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছেন, কারণ তিনি সালাফে সালেহীনের আকিদা (বিশ্বাস) অনুধাবন করতে পেরেছেন এবং আকিদার বিষয়গুলোতে তাঁদের অসংখ্য গ্রন্থ অধ্যয়ন করেছেন। এই গ্রন্থগুলো আল্লাহর কিতাব, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহিহ সুন্নাহ এবং শ্রেষ্ঠ যুগের সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে বর্ণিত বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে রচিত। গবেষক এই গ্রন্থে আশআরি মাযহাবের দ্বিতীয় স্তরের কিছু গোঁড়া অনুসারীর আলোচনার অবতারণা করেছেন, যারা অন্যায় ও অবাধ্যতাবশত সেগুলোকে সাহাবী ও তাবিঈদের দিকে নিসবত (সম্পর্কযুক্ত) করেছেন। এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয় এবং এর মধ্যে সাহাবী ও সালাফদের ওপর স্পষ্ট অপবাদ নিহিত রয়েছে। লেখক—আল্লাহর অনুগ্রহে—সালাফদের জ্ঞানতাত্ত্বিক (ইলমি) মূলনীতিসমূহের ওপর নির্ভর করে তাঁদের একটি বলিষ্ঠ তাত্ত্বিক জবাব দিয়েছেন। এ কারণে তিনি অত্যন্ত সফল হয়েছেন এবং যথাযথ সত্যে উপনীত হতে পেরেছেন। তাঁর এই জবাব সত্যের অনুসন্ধানী এবং ইনসাফপরায়ণ প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট। অতঃপর আমি প্রত্যেক আশআরি অনুসারীকে সালাফদের আকিদাহর দিকে ফিরে আসার পর ইমাম আশআরির আকিদা সম্পর্কে অবগত হওয়ার আহ্বান জানাই। কারণ, তিনি যে মত থেকে ফিরে এসেছেন এবং যার বিপরীতে অন্য মত গ্রহণ করেছেন, সেটি তাঁর দিকে নিসবত করা কোনোভাবেই ইনসাফসম্মত নয়।
ইতিপূর্বে আমি লেখকের আরও কিছু গ্রন্থ পাঠ করেছি, যেমন: ‘শরিয়ত ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে খারেজিদের প্রকৃত স্বরূপ’ এবং ‘চুক্তি ও জিহাদ সংশ্লিষ্ট মাসআলায় সংশয় নিরসন’ শীর্ষক গ্রন্থসমূহ। এগুলো নিজ নিজ বিষয়ে অত্যন্ত উপকারী এবং বর্তমান সময়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এ যুগে খারেজিদের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মিথ্যাবাদীরা অপবাদ ছড়াচ্ছে। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وأسأل الله عز وجل أن يجعل ما كتبه في ميزان حسناته يوم الدين، وأن ينفع به المسلمين، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
كتبه
أ. د./ عبد الله شاكر الجنيدي
أستاذ العقيدة الإسلامية
ونائب الرئيس العام لجماعة أنصار السنة المحمدية
আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর এই লেখনিকে বিচার দিবসে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন এবং এর দ্বারা মুসলিমদের উপকৃত করেন। আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সহচরদের ওপর।
লিখেছেন
প্রফেসর ডক্টর আবদুল্লাহ শাকির আল-জুনাইদি
অধ্যাপক, ইসলামী আকীদা (ইসলামী বিশ্বাসতত্ত্ব)
এবং কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, জামাআতে আনসারুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
تقريظ الشيخ / أ. د. أبو عمر عبد العزيز النورستاني (باكستان)مدير الجامعة الأثرية (بيشاور) باكستان
اللهم لك الحمد كما ينبغي لجلال وجهك وعظيم سلطانك، حمداً يملأ السموات والأرض، ويملأ ما شئت من شيء بعد، أهل الثناء والمجد، أحق ما قال العبد وكلنا لك عبد، والصلاة والسلام على من قال: هو الأول فليس قبله شيء، وهو الآخر فليس بعده شيء، وهو الظاهر فليس فوقه شيء، وهو الباطن فليس دونه شيء، وعلى آله وصحبه الذين أثبتوا صفات الله تعالى العلى، وأسمائه الحسنى بلا تأويل، ولا تفويض، ولا تعطيل، ولا تجسيم، ولا تمثيل، ولا تشبيه، ولا تكييف.
أما بعد: فإن هذه الآونة الأخيرة آونة تجميع المسلمين وتوحيد صفوفهم، لأن أعداءهم محيطون من ورائهم، ولا نجاح لهم إلا بحول الله وقوته، ثم بتوحيد صفوفهم وكلمتهم فيما بينهم، ولكن لله في عباده شئون، وبعض الناس لهم فكرة وقادة يفكرون دائماً في
শাইখ প্রফেসর ড. আবু উমর আব্দুল আজিজ আন-নুরস্তানি (পাকিস্তান)-এর অভিমতমহাপরিচালক, আল-জামিয়া আল-আছারিইয়্যাহ (পেশোয়ার), পাকিস্তান
হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য, যেমনটি আপনার সত্তার গাম্ভীর্য ও আপনার মহান রাজত্বের জন্য শোভনীয়; এমন প্রশংসা যা আসমান ও জমিনকে পূর্ণ করে দেয় এবং এরপর আপনি যা ইচ্ছা করেন তা দিয়েও পূর্ণ করে। আপনিই প্রশংসা ও মহত্ত্বের যোগ্যতম অধিকারী, একজন বান্দা যা বলে তার মধ্যে এটিই সর্বাধিক সত্য এবং আমরা সবাই আপনারই বান্দা। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যিনি বলেছেন: তিনি (আল্লাহ) আদি, যার পূর্বে কিছু নেই; তিনি অন্তিম, যার পরে কিছু নেই; তিনি প্রকাশ্য, যার উপরে কিছু নেই; এবং তিনি গোপন, যার সন্নিকটে অন্য কিছু নেই। আরও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যারা মহান আল্লাহর সুউচ্চ গুণাবলি ও সুন্দর নামসমূহকে কোনো অপব্যাখ্যা (তাবিল), সোপর্দকরণ (তাফবিদ), গুণাবলি অস্বীকার (তাতিল), দেহপ্রদান (তাজসিম), সাদৃশ্যকরণ (তামসিল), তুলনা (তাশবিহ) কিংবা ধরন নির্ধারণ (তাকয়িফ) ছাড়াই সাব্যস্ত করেছেন।
অতঃপর: বর্তমান সময়টি মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করার এবং তাদের কাতারগুলোকে সুসংহত করার সময়, কারণ তাদের শত্রুরা চারপাশ থেকে তাদের ঘিরে রেখেছে। আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্য ব্যতীত এবং নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি স্থাপন ছাড়া তাদের কোনো সফলতা নেই। তবে বান্দাদের বিষয়ে আল্লাহর বিভিন্ন পরিচালনা রয়েছে এবং কিছু মানুষের প্রখর মেধা রয়েছে যারা সর্বদা চিন্তা করেন...
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
شيء يمزق توحيد المسلمين ويثير الخلاف بينهم بإلقاء الشبهات والوساوس في عقيدة أهل السنة والجماعة بالانتساب إليهم وليسوا منهم، بدعاوى باطلة لا أساس لها، ثم لا يأتون على دعواهم بحجة بل ببهتان يفترونه بين أيديهم وأرجلهم، وقد ثبت من حديث ابن عباس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (لو يُعطى الناس بدعواهم لذهب دماء قوم أموالهم). [البخاري (4552)، ومسلم (1711)]
ولكن الله حافظ دينه وناصر عباده المخلصين الذين رفعوا علم أسمائه الحسنى، وصفاته العلى، فيقيّض جنداً من جنوده، وعبداً منة عباده لإزالة هذه الشبهات، والوساوس، والانتسابات العارية عن الدليل.
فقد اطلعت على كتاب ألفه الشيخ الفاضل فيصل بن قزار الجاسم حفظه الله رداً على كتاب (أهل السنة الأشاعرة) ألفه الشيخان حمد السنان، وفوزي العنجري.
فوجدته شاملاً بموضوعه، كاملاً في معانيه، كافٍ في مراده، مع عفة اللسان والدعوة الصادقة إلى توحيد الله في أسمائه الحسنى وصفاته العلى، غير ذام ولا قادح ولا جارح، بل ملتزم بالمنهج العملي الأصيل من حيث الألفاظ والمعاني، يحيل النصوص لأربابها مع العزو والتثبت، بعبارة سليمة صحيحة رد فيها تلك الشبهات والوساوس والدعاوى التي ادعاها المؤلفان في كتابهما، وكشف كل
এমন এক বস্তু যা মুসলিমদের তাওহীদ (একত্ববাদ) ছিন্নভিন্ন করে এবং তাদের মাঝে বিবাদ উসকে দেয়। এটি করা হয় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাহ বা বিশ্বাসের মধ্যে সন্দেহ ও সংশয় ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে, নিজেদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত দাবি করে—অথচ তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা ভিত্তিহীন ও বাতিল সব দাবি উত্থাপন করে এবং সেই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে না; বরং তারা এক অপবাদ ও মিথ্যা রটনা করে। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যদি মানুষকে কেবল তাদের দাবির ভিত্তিতেই (সব কিছু) দিয়ে দেওয়া হতো, তবে এক জাতি অন্য জাতির রক্ত ও সম্পদের দাবি করে বসত।" [বুখারি (৪৫৫২), মুসলিম (১৭১১)]
কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীনের সংরক্ষক এবং তাঁর সেই মুখলিস (একনিষ্ঠ) বান্দাদের সাহায্যকারী, যারা তাঁর আসমাউল হুসনা (সুন্দরতম নামসমূহ) এবং সুউচ্চ সিফাত (গুণাবলি)-র ঝাণ্ডাকে সমুন্নত করেছেন। ফলে তিনি তাঁর একদল সৈন্যকে এবং তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে এমন কাউকে নিয়োজিত করেন, যিনি এই সকল সন্দেহ, সংশয় এবং প্রমাণহীন সম্বন্ধ বা দাবিগুলোকে অপনোদন করেন।
আমি সম্মানিত শায়খ ফয়সাল বিন কাযার আল-জাসিম (হাফিযাহুল্লাহ) রচিত একটি গ্রন্থ পর্যালোচনা করেছি, যা তিনি শায়খ হামাদ আস-সিনান এবং শায়খ ফাউজি আল-আনজারি রচিত ‘আহলে সুন্নাহ আল-আশায়িরাহ’ নামক গ্রন্থের জবাবে লিখেছেন।
আমি এটিকে বিষয়বস্তুর দিক থেকে ব্যাপক, অর্থগত দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ এবং উদ্দেশের দিক থেকে পর্যাপ্ত পেয়েছি। এতে রয়েছে মার্জিত ভাষা এবং আল্লাহর সুন্দরতম নাম ও সুউচ্চ গুণাবলির তাওহীদের প্রতি একনিষ্ঠ আহ্বান। এতে কোনো নিন্দাবাদ, তুচ্ছজ্ঞান বা আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা হয়নি; বরং শব্দ ও অর্থের ক্ষেত্রে এটি মূল ইলমি মানহাজ (পদ্ধতি)-র অনুসারী। লেখক এতে যথাযথ উদ্ধৃতি ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে মূল উৎস থেকে পাঠ্যসমূহ উপস্থাপন করেছেন। অত্যন্ত সাবলীল ও শুদ্ধ ভাষার মাধ্যমে তিনি ওই সকল সন্দেহ, সংশয় ও দাবিগুলোর খণ্ডন করেছেন যা উক্ত লেখকদ্বয় তাদের বইতে উল্লেখ করেছিলেন এবং তিনি উন্মোচন করেছেন প্রতিটি...
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
دعي يدعي الانتساب إلى مذهب السلف الصالح أهل السنة والجماعة.
وأرى أن هذا الكتاب كسهم مرمي في الدفاع عن ساحة أهل السنة والجماعة، وهو شاهد حق في رد تلك الشبهات والوساوس والدعاوى التي ادعاها المؤلفان.
فجزى الله الأخ الفاضل فيصل خير الجزاء، وأن يزيده علماً نافعاً، وأن يبارك في علمه، وشكر الله له هذا العمل لأنه قام بالدفاع عن عقيدة أهل السنة والسلف الصالح رحمهم الله تعالى، وبيان الحق وإعطاء كل ذي حق حقه.
إنه سميع قريب مجيب.
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين
وكتبه أبو عمر عبد العزيز النورستاني
مدير الجامعة الأثرية (بيشاور) باكستان
একজন দাবিদার যে সালাফে সালেহীন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাবের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার দাবি করে।
আমি মনে করি যে, এই বইটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অঙ্গন রক্ষায় একটি নিক্ষিপ্ত তীরের মতো এবং এটি সেই সকল সংশয়, কুমন্ত্রণা ও দাবি যা লেখকদ্বয় করেছেন, তা খণ্ডন করার ক্ষেত্রে এক সত্য সাক্ষী।
অতএব আল্লাহ তাআলা সম্মানিত ভাই ফয়সালকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর উপকারী ইলম বৃদ্ধি করে দিন এবং তাঁর ইলমে বরকত দান করুন। আল্লাহ তাঁর এই কাজের শুকরিয়া গ্রহণ করুন, কারণ তিনি আহলুস সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর আকিদা রক্ষায় এবং সত্য প্রকাশে ও প্রত্যেক হকদারকে তার হক প্রদানে সচেষ্ট হয়েছেন।
নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী এবং কবুলকারী।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
এটি লিখেছেন আবু উমর আব্দুল আজিজ আন-নূরিস্তানি
পরিচালক, জামিয়া আল-আসারিইয়াহ (পেশোয়ার), পাকিস্তান
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
مقدمةالحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين وعلى آله وصحبه ومن استن بسنته واقتفى أثره إلى يوم الدين وبعد،،
فقد وقع في يدي كتاب بعنوان "أهل السنة الأشاعرة شهادة علماء الأمة وأدلتهم" لاثنين من الأشاعرة. فوجدت مؤلفيه قد حاولا فيه إثبات كون الأشاعرة المنسوبين لأبي الحسن الأشعري هم أهل السنة والجماعة، وتكلفا ذلك حتى خرجا بالكتاب عن البحث العلمي الموضوعي، فقررا بغير دليل، وادعيا بغير برهان ولا حجة، وملآ كتابهما بأقوال الأشاعرة أنفسهم على كونهم أهل الحق والصواب في باب أسماء الله وصفاته.
ومما يظهر للمتأمل أن كثيراً من بحوثه، إن لم تكن أكثرها، لا تخرج عما كتبه محمد زاهد الكوثري في مقالاته، وحواشيه، ومقدماته، وما كتبه أيضاً وهبي سليمان غاوجي كذلك، كما أن بعضها مأخوذ مما كتبه حسن السقاف وهو المعروف بالافتراء والتلفيق مع عدم الأمانة في النقل والتحقيق، وهو لا يختلف كثيراً عن الكوثري، فهما إمامان في هذا!
والكتاب إجمالاً مليء بالمغالطات والمؤاخذات، حتى صار إلى الحشو والتلفيق أقرب منه إلى البحث والتحقيق. وذلك لأمور كثيرة:
ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের রহমতস্বরূপ প্রেরিত রাসূলের প্রতি, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করবে ও তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলবে তাদের প্রতি। অতঃপর:
সম্প্রতি আমার হস্তগত হয়েছে দুইজন আশআরি মতাবলম্বী দ্বারা রচিত "আহলুস সুন্নাহ আল-আশায়িরা: উম্মাহর উলামাদের সাক্ষ্য ও তাঁদের দলিলসমূহ" শীর্ষক একটি গ্রন্থ। আমি লক্ষ্য করলাম যে, এর লেখকদ্বয় এতে এটি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, আবুল হাসান আল-আশআরির (Abu al-Hasan al-Ash'ari) দিকে নিসবতকৃত আশআরিরাই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত। একাজে তারা এতোই কষ্টকল্পনার আশ্রয় নিয়েছেন যে, গ্রন্থটি বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক গবেষণার মানদণ্ড থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তারা কোনো দলিল ছাড়াই সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন এবং কোনো প্রমাণ ও যুক্তি ছাড়াই দাবি উত্থাপন করেছেন। এছাড়া আল্লাহর নাম ও গুণাবলির (Asma was-Sifat) ক্ষেত্রে তাঁরাই যে সত্য ও সঠিক পথের অনুসারী, তা প্রমাণের জন্য তাঁরা গ্রন্থটিকে খোদ আশআরিদেরই বিভিন্ন বক্তব্যে পরিপূর্ণ করেছেন।
একজন মনোযোগী পাঠকের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, এই গ্রন্থের অধিকাংশ আলোচনাই মুহাম্মাদ জাহিদ আল-কাওসারির প্রবন্ধ, টীকা ও ভূমিকাগুলো এবং ওয়াহবি সুলায়মান গাওজি যা লিখেছেন তার গণ্ডির বাইরে নয়। একইভাবে এর কিছু অংশ হাসান আস-সাক্কাফের লেখা থেকে গ্রহণ করা হয়েছে, যে ব্যক্তি উদ্ধৃতি ও গবেষণার ক্ষেত্রে আমানতদারিতার অভাব এবং মিথ্যাচার ও জালিয়াতির জন্য সুপরিচিত। সে কাওসারির চেয়ে খুব একটা ভিন্ন নয়; এই বিষয়ে তারা উভয়েই দিকপাল!
সামগ্রিকভাবে গ্রন্থটি ভুল ধারণা ও আপত্তিকর বিষয়ে পরিপূর্ণ, এমনকি এটি প্রকৃত গবেষণা ও অনুসন্ধানের তুলনায় অহেতুক বাক্যব্যয় ও জোড়াতালিরই অধিক নিকটবর্তী হয়েছে। এর পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
الأمر الأول: أن مؤلفيه لم يذكرا على ما يدعيانه من صحة طريقة الأشاعرة في أسماء الله وصفاته أدلة: لا من الكتاب، ولا من السنة، ولا من أقوال سلف الأمة. وإنما ملئاه بدعاوى مجردة بلا بينة ولا برهان. والغريب أنهما ذكرا في عنوانه "وأدلتهم" فصار اسماً على غير مسمى.
الأمر الثاني: أنهما قد ادعيا مراراً وتكراراً موافقة الأشاعرة في معتقدهم لمعتقد السلف والأئمة من الصحابة والتابعين وأتباعهم، ومع ذلك لم يستدلا بكلام واحد من السلف، ولم ينقلا من كتب أئمة السلف في المعتقد البتة، ككتاب "أصول السنة" للإمام أحمد، و"السنة" لابنه عبد الله، و"السنة" للخلال، ولابن أبي عاصم، وكتب الدارمي كـ"الرد على الجهمية"، و"الرد على المريسي"، وكتاب "خلق أفعال العباد" للبخاري، و"التوحيد" لابن خزيمة، ولابن منده، وكتب الطبري كـ "التبصير" و"صريح السنة"، و"شرح أصول اعتقاد أهل السنة" لللالكائي، و"الإبانة" لابن بطة، وغيرها كثير من كتب السنة والردود على المخالفين (1). وإنما اكتفيا بالنقل من كلام أئمة الأشاعرة ما يزعمون أنه معتقد سلف الأمة. ولا ريب أن هذا خلل كبير، وقصور عظيم في نقل المذاهب والمعتقدات، وهو يدل على جهلهما بأقوال أئمة السنة، وعدم اطلاعهما عليها،
-----------------------------------
প্রথম বিষয়: লেখকদ্বয় আল্লাহর নাম ও গুণাবলি (আসমা ওয়া সিফাত) সংক্রান্ত আশআরিদের পদ্ধতির বিশুদ্ধতা প্রমাণের সপক্ষে কুরআন, সুন্নাহ কিংবা উম্মতের সালাফদের বক্তব্য থেকে কোনো দলীল উল্লেখ করেননি। বরং তাঁরা একে প্রমাণ ও দলিলবিহীন নিছক কিছু দাবিতে পূর্ণ করেছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁরা বইটির শিরোনামে "তাদের প্রমাণাদি" শব্দটি উল্লেখ করেছেন, ফলে তা বিষয়বস্তুর সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ একটি শিরোনামে পরিণত হয়েছে।
দ্বিতীয় বিষয়: তাঁরা বারবার দাবি করেছেন যে, আশআরিদের আকিদাহ হচ্ছে সাহাবী, তাবিঈ ও তাঁদের অনুসারী সালাফ এবং ইমামগণের আকিদাহর অনুগামী। তা সত্ত্বেও তাঁরা সালাফদের কোনো একটি বক্তব্যকেও দলীল হিসেবে পেশ করেননি এবং আকিদাহ বিষয়ক সালাফ ইমামগণের কোনো কিতাব থেকে কিছুই উদ্ধৃত করেননি। যেমন—ইমাম আহমাদ-এর 'উসূলুস সুন্নাহ', তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর 'আস-সুন্নাহ', আল-খলাল ও ইবনে আবি আসিমের 'আস-সুন্নাহ', আদ-দারেমীর কিতাবসমূহ যেমন 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' ও 'আর-রাদ্দু আলাল মারীসী', ইমাম বুখারীর 'খালকু আফআলিল ইবাদ', ইবনে খুযাইমাহ ও ইবনে মানদাহর 'আত-তাওহীদ', তাবারীর 'আত-তাবসীর' ও 'সারীহুস সুন্নাহ', লালকায়ী-র 'শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ', ইবনে বাত্তাহর 'আল-ইবানাহ' এবং সুন্নাহ ও বিরোধীদের খণ্ডনমূলক আরও অসংখ্য কিতাব (১)। বরং তাঁরা কেবল আশআরি ইমামদের বক্তব্য থেকে এমন কিছু উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছেন যা তাঁরা উম্মতের সালাফদের আকিদাহ বলে দাবি করেন। নিঃসন্দেহে এটি মাযহাব ও আকিদাহ বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের বিচ্যুতি এবং বিশাল ত্রুটি। এটি সুন্নাহর ইমামগণের বক্তব্যের ব্যাপারে তাঁদের অজ্ঞতা এবং সেগুলোর ওপর গভীর পর্যবেক্ষণ না থাকারই প্রমাণ বহন করে।
-----------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশায়িরাহ ফি মিযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
وهذا خطأ جوهري يفقد الكتاب قيمته، ويسقطه عن درجة البحث الموضوعي إلى درجة الحشو والتلفيق والدعاوى المجردة.
وصدق أبو نصر السجزي إذ يقول في رسالته إلى أهل زبيد (ص101): (فكل مدع للسنة يجب أن يُطالب بالنقل الصحيح بما يقوله، فإن أتى بذلك عُلم صدقه، وقُبل قوله، وإن لم يتمكن من نقل ما يقوله عن السلف عُلم أنه مُحدِث زائغ، وأنه لا يستحق أن يُصغا إليه أو يُناظر في قوله، وخصومنا المتكلمون معلوم منهم أجمع اجتناب النقل والقول به، بل تمحينهم لأهله ظاهر، ونفورهم عنه بيّن، وكتبهم عارية عن إسناد، بل يقولون: قال الأشعري، وقال ابن كلاب، وقال القلانسي
… ) (1) اهـ.
وقال المِبرَد في رده على من امتدح الأشاعرة: (وهذا الذي قال لا يُقبل قوله، لأنه من جملة أتباع الأشعري، ومن يمدح العروس غير أمها وأختها) (2).
الأمر الثالث: أن غاية ما استدلا به وحصلاه في إثبات كون الأشاعرة هم أهل السنة والجماعة، وأنهم أهل الطريقة المثلى، هو شهادة الأشاعرة أنفسهم لأنفسهم، وهذا عبث لا طائل من ورائه، وحال هذين كحال الرافضي الذي يستشهد على كون الرافضة هم أهل الحق بشهادة أئمة الرافضة.
ومن بدهيات البحث والتحقيق العلمي أن تقرير صحة الطرق والمناهج لا يكون بشهادة أصحابها لأنفسهم، وإنما بالدليل والحجة والبرهان من الكتاب والسنة وأقوال السلف وأئمة السنة.
وصدق أبو نصر السجزي إذ يقول في مثل هذا: (ويتعلق قوم
-----------------------------------
এটি একটি মৌলিক ভুল যা বইটির গুরুত্ব নষ্ট করে দেয় এবং একে বস্তুনিষ্ঠ গবেষণার স্তর থেকে নামিয়ে অসার কথা, জোড়াতালি এবং ভিত্তিহীন দাবির স্তরে পর্যবসিত করে।
আবু নাসর আস-সিজজি সত্যই বলেছেন, তিনি জাবীদের (যাবীদবাসীদের) প্রতি তাঁর পত্রে (পৃ. ১০১) বলেন: (সুন্নাহর দাবিদার প্রত্যেকের নিকট থেকে তার বক্তব্যের স্বপক্ষে বিশুদ্ধ বর্ণনা (নকল) দাবি করা আবশ্যক। সে যদি তা উপস্থাপন করতে পারে, তবে তার সত্যতা প্রমাণিত হবে এবং তার কথা গ্রহণ করা হবে। আর যদি সে সালাফদের (পূর্বসূরিদের) থেকে তার বক্তব্যের স্বপক্ষে বর্ণনা দিতে সক্ষম না হয়, তবে বুঝতে হবে যে সে একজন পথভ্রষ্ট বিদআতী (মুহদিস), এবং সে এর উপযুক্ত নয় যে তার কথা শোনা হবে কিংবা তার বক্তব্যের ওপর বিতর্ক করা হবে। আমাদের প্রতিপক্ষ কালামশাস্ত্রবিদদের (মুতাকাল্লিমুন) ব্যাপারে এটি সর্বজনবিদিত যে, তারা বর্ণনা ও তার ওপর আমল করা পরিহার করে। বরং বর্ণনার অনুসারীদের প্রতি তাদের বিদ্বেষ স্পষ্ট এবং এ থেকে তাদের বিমুখতা প্রকট। তাদের কিতাবগুলো সনদহীন; বরং তারা বলে: আশআরি বলেছেন, ইবনে কুল্লাব বলেছেন, কালানিসি বলেছেন
... ) (১) সমাপ্ত।
আল-মুবরাদ আশআরিদের প্রশংসাকারীদের জবাবে বলেন: (সে যা বলেছে তা গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ সে নিজেও আশআরিদের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত। আর কনেকে তার মা এবং বোন ছাড়া আর কে-ই বা প্রশংসা করবে?) (২)।
তৃতীয় বিষয়: আশআরিরাই যে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং তারাই যে সর্বোত্তম আদর্শের অনুসারী—এ কথা প্রমাণের জন্য তারা যা কিছু দলিল হিসেবে পেশ করেছে এবং অর্জন করেছে তার সারমর্ম হলো নিজেদের সপক্ষে আশআরিদের নিজেদের সাক্ষ্য। আর এটি একটি অর্থহীন কাজ যার কোনো ফায়দা নেই। এই দুই ব্যক্তির অবস্থা সেই রাফেজির মতো, যে রাফেজিদের ইমামদের সাক্ষ্য দ্বারা রাফেজিরাই সত্যপন্থী হওয়ার দলিল পেশ করে।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অনুসন্ধানের একটি প্রাথমিক স্বতঃসিদ্ধ বিষয় হলো যে, কোনো পথ বা মতাদর্শের সঠিকতা নিরূপণ সংশ্লিষ্ট অনুসারীদের নিজেদের সাক্ষ্য দ্বারা হয় না; বরং তা হতে হয় কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফ ও সুন্নাহর ইমামগণের বক্তব্য থেকে প্রাপ্ত দলিল, যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে।
আবু নাসর আস-সিজজি এ জাতীয় বিষয়ে সত্যই বলেছেন: (এবং একদল লোক সংশ্লিষ্ট থাকে
-----------------------------------