(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: -)
أحاديث تعظيم الربا على الزنا «دراسة نقدية»   (علي الصياح)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: أحاديث تعظيم الربا على الزنا «دراسة نقدية»

المؤلف: أبو عمر علي بن عبد الله بن شديد الصياح المطيري

الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1430 هـ

عدد الصفحات: 187

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 جُمادَى الأولى 1436

ব্যভিচারের তুলনায় সুদের ভয়াবহতা বর্ণনাকারী হাদিসসমূহ «একটি সমালোচনামূলক অধ্যয়ন»   (আলী আস-সায়্যাহ)

বিভাগ: তাখরীজ ও আতরাফ


গ্রন্থ: ব্যভিচারের তুলনায় সুদের ভয়াবহতা বর্ণনাকারী হাদিসসমূহ «একটি সমালোচনামূলক অধ্যয়ন»

লেখক: আবু উমর আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন শাদীদ আস-সায়্যাহ আল-মুতাইরী

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযী প্রকাশনী ও পরিবেশনী، সৌদি আরব রাজত্ব

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩০ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৭

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ জুমাদাল উলা ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة المؤلفات والتحقيقات (2)

 

أحاديث تعظيم الربا على الزنا

«دراسة نقدية»

 

تأليف

د. علي بن عبد الله الصياح

أستاذ الحديث وعلومه المشارك

جامعة الملك سعود

 

دار ابن الجوزي
গ্রন্থাবলি ও গবেষণা সিরিজ (২)

 

ব্যভিচারের চেয়ে সূদকে গুরুতর সাব্যস্তকারী হাদিসসমূহ

«একটি পর্যালোচনাগত গবেষণা»

 

রচনায়

ড. আলী বিন আবদুল্লাহ আস-সাইয়্যাহ

সহযোগী অধ্যাপক, হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান

কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি

 

দার ইবনুল জাওজি
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌ملخص البحث

عنوان البحث: أحَاديثُ تَعْظيمِ الرّبَا على الزنا دِرَاسةٌ نَقْديةٌ.

مجال الدراسة: علم الحديث النبوي.

الباحث: د. علي بن عبد الله الصيّاح.

التخصص: الحديث وعلومه.

عدد صفحات البحث: 200.

مشكلة البحث: أنَّ هناك تفاوتاً كبيراً بين علماء الحديث في الحُكْمِ عَلى أحَاديث تَعْظيمِ الرّبَا على الزنا فيرى بعضُهُم أنّها صحيحةٌ بلْ عَلى شرطِ الشيخين، وفي المقابل يرى آخرون أنّها موضوعةٌ، وبين القولين أقوالٌ متفاوتة، فما هو الصحيحُ في ذلكَ؟ وما أسباب هذا الاختلاف؟ وهل يمكن أن يكون درهم واحد مِنْ الرّبَا أشدّ من الزنا، بل في بعض روايات الحَدِيث: ((أدناها مثل أَنْ يَنْكِحَ الرَّجُلُ أُمَّهُ))؟.

هدف البحث:

يهدف البحث إلى:

1 - جمعِ وتتبع طُرُق أحَاديثُ تَعْظيمِ الرّبَا على الزنا، ودراسة كلّ طريق وفق ميزان النقد الحديثي الذي وَضَعَهُ عُلماءُ الحَدِيث.

2 - بيانِ أقوالِ علماء الحَدِيث - المتقدمين منهم والمتأخرين - في الحُكْمِ عَلى الحَدِيث، مَعَ بيانِ الرأي الراجح في ذلكَ بعدَ الموازنةِ والتعليل.
গবেষণার সারসংক্ষেপ

গবেষণার শিরোনাম: ব্যভিচারের তুলনায় সুদকে গুরুতর সাব্যস্তকরণ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ: একটি সমালোচনামূলক পর্যালোচনা।

গবেষণার ক্ষেত্র: ইলমে হাদিস।

গবেষক: ড. আলী বিন আব্দুল্লাহ আস-সাইয়্যাহ।

বিশেষজ্ঞতা: হাদিস ও উলূমুল হাদিস।

গবেষণার পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০০।

গবেষণার সমস্যা: ব্যভিচারের তুলনায় সুদকে গুরুতর সাব্যস্তকরণ সংক্রান্ত হাদিসগুলোর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদগণের মধ্যে বড় ধরনের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। তাঁদের কেউ কেউ এগুলোকে সহিহ, এমনকি শাইখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহিহ মনে করেন; পক্ষান্তরে অন্য কেউ কেউ এগুলোকে জাল বা বানোয়াট মনে করেন। এই দুই মতের মাঝে আরও বিভিন্ন মত রয়েছে। এমতাবস্থায় সঠিক বিষয়টি কী? এবং এই মতপার্থক্যের কারণসমূহ কী কী? এক দিরহাম সুদ কি ব্যভিচারের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে? এমনকি হাদিসের কিছু বর্ণনায় এসেছে: "এর (সুদের) নিম্নতম স্তর হলো কোনো ব্যক্তির নিজ মাতাকে বিবাহ (ব্যভিচার) করার সমতুল্য।"

গবেষণার লক্ষ্য:

গবেষণার লক্ষ্যসমূহ নিম্নরূপ:

১ - ব্যভিচারের তুলনায় সুদকে গুরুতর সাব্যস্তকরণ সংক্রান্ত হাদিসগুলোর সূত্রসমূহ (তুরুক) সংগ্রহ ও অনুসন্ধান করা এবং হাদিস বিশারদগণ কর্তৃক নির্ধারিত হাদিস সমালোচনার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি সূত্রের বিচার-বিশ্লেষণ করা।

২ - হাদিসের হুকুমের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী হাদিস বিশারদগণের মতামত বর্ণনা করা এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও যৌক্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে অগ্রগণ্য (রাজীহ) মতটি সুস্পষ্ট করা।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ৬)
3 - النظر في متن الحديث ومدى موافقته للأصول التي دل عليها القرآن الكريم، والسنة الصحيحة.

أهم النتائج: من أهم النتائج التي توصل إليها الباحث:

- ضعفُ الحديث من جميع طرقه، وعدمُ صلاحية جميع الطرق للشواهد والمتابعات.

- أنَّ تَعْظيمِ الرّبا على الزنا ثابت عن اثنين من مسلمة أهل الكتاب، بل ومن علمائهم وأحبارهم: الأوَّل: الصحابي الجليل عبد الله بن سلام، والثاني: التابعي الجليل كعب الأحبار، وبين البحث السر في ذلك.

- أنّ غالبَ من نقد الحديث وأعله من متقدمي المحدثين وكبارهم، وغالب من صحح الحديث من المتأخرين والمعاصرين.

- وعلى ما تقدم - من ضعف جميع الأحاديث الواردة في هذا الباب - أرى أنه لا ينبغي أبداً التكلف بتقرير تَعْظيمِ الرّبا على الزنا، فالآيات الكريمة، والسنة الصحيحة موضحةٌ أنّ الزنا أشدّ خطراً وأعظم مفسدة من الربا، فتبقى نكارة المتن قائمة.
৩ - হাদিসের পাঠ (মতন) এবং পবিত্র কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ নির্দেশিত মূলনীতিসমূহের সাথে এর সামঞ্জস্য পর্যালোচনাকরণ।

প্রধান ফলাফলসমূহ: গবেষক যেসব প্রধান ফলাফলে উপনীত হয়েছেন:

- হাদিসটির সকল সনদ (সূত্র) দুর্বল এবং এর কোনো সূত্রই শাহেদ (সাক্ষ্য) বা মুতাবা’আত (সমর্থক বর্ণনা) হিসেবে গ্রহণের যোগ্য নয়।

- যিনার চেয়ে সুদকে অধিকতর গুরুতর মনে করার বিষয়টি আহলে কিতাব থেকে ইসলাম গ্রহণকারী দুইজনের বর্ণনা থেকে সাব্যস্ত, এমনকি তাদের বড় আলেম ও পণ্ডিতদের থেকে সাব্যস্ত: প্রথমজন হলেন মহান সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে সালাম এবং দ্বিতীয়জন হলেন মহান তাবেয়ী কাব আল-আহবার; আর এই গবেষণায় এর পেছনের রহস্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

- অধিকাংশ মুহাদ্দিস যারা হাদিসটির সমালোচনা করেছেন এবং একে ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত করেছেন তারা হলেন পূর্ববর্তী ও বরেণ্য মুহাদ্দিসগণ, আর অধিকাংশ যারা হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন তারা হলেন পরবর্তী ও সমসাময়িক আলেমগণ।

- উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে—যেহেতু এই বিষয়ে বর্ণিত সকল হাদিসই দুর্বল—আমি মনে করি সুদকে যিনার চেয়ে অধিকতর গুরুতর হিসেবে প্রমাণের জন্য অনর্থক পরিশ্রম করা মোটেই উচিত নয়। কেননা পবিত্র আয়াতসমূহ এবং সহিহ সুন্নাহ স্পষ্ট করেছে যে, যিনা সুদের চেয়ে অধিক বিপজ্জনক এবং এর অনিষ্টতা সুদের চেয়ে বড়। ফলে হাদিসের পাঠের অসংগতি (নাকারা) বজায় থাকছে।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة

إنَّ الحمدَ لله، نحمدُهُ ونستعينهُ، ونستغفرهُ، ونعوذُ باللهِ من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.

أمَّا بعد:

فإنَّ مِنْ طرائقِ المحدثين في التصنيف إفرادُ بعضِ الأحاديث بجزءٍ ومصنفٍ، والكلام عليه عقدياً أو حَدِيثياً أو فقهياً أو لغوياً أو غير ذلك (1).

وفي الغالب أنّ الأحاديثَ المفردةَ بالتصنيفِ تكونُ إمّا:

- مِنْ جَوامعِ كَلِمهِ صلى الله عليه وسلم كحَدِيثِ "إنما الأعمالُ بالنيات"، وَحَدِيث" بُني الإسلامُ عَلى خمسٍ".

- أو مِنْ الأحَادِيثِ المشتملة عَلى "فوائد خطيرة، وفرائد غزيرة، ومباحث كثيرة" (2) كحَدِيثِ "ذي اليدين"، وَحَدِيثِ "المسيء صلاته".

- أو مِنْ الأحَادِيثِ المُشْكِلة التي تحتاجُ إلى جَلاء وبيان كحَدِيثِ

--------------------------------------------

(1) وقد جمع الباحث يوسف العتيق الأحاديث التي أفردت بالتصنيف في كتاب سماه"التعريف بما أفرد من الأحاديث بالتصنيف"، الطبعة الأولى، 1418، دار الصميعي - الرياض -.

(2) مقتبس من مقدمة العلائيّ لكتابه "نظم الفرائد لما تضمنه حَدِيث ذي اليدين من الفوائد" (ص 36).
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের অন্যতম একটি পদ্ধতি হলো কোনো কোনো হাদিসকে আলাদা জুজ (পুস্তিকা) বা স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলন করা এবং সেটির ওপর আকিদাগত, হাদিসতাত্ত্বিক, ফিকহী, ভাষাগত বা অন্য কোনো আঙ্গিকে আলোচনা করা (১)।

সাধারণত যে হাদিসগুলো স্বতন্ত্রভাবে সংকলিত হয়, সেগুলো হয়:

- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জাওয়ামিউল কালিম (সংক্ষিপ্ত ও ব্যাপক অর্থবোধক বাণী) সমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেমন: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটি এবং "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত" হাদিসটি।

- অথবা এমন সব হাদিসের অন্তর্ভুক্ত যা "গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা, প্রচুর দুর্লভ জ্ঞান এবং বহুবিধ আলোচনা" (২) সম্বলিত, যেমন: "যুল ইয়াদাইন" এর হাদিস এবং "সালাতে ভুলকারী ব্যক্তি"র হাদিস।

- অথবা এমন অস্পষ্ট হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা স্পষ্টীকরণ ও ব্যাখ্যার দাবি রাখে, যেমন...

--------------------------------------------

(১) গবেষক ইউসুফ আল-আতিক সেই হাদিসগুলোকে একত্রিত করেছেন যেগুলো স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে সংকলিত হয়েছে। তিনি তাঁর গ্রন্থের নাম দিয়েছেন "আত-তারিফ বিমা উফরিদা মিনাল আহাদিসি বিত-তাসনিফ", প্রথম সংস্করণ, ১৪১৮ হিজরি, দারুস সুমাইয়ি - রিয়াদ -।

(২) আল-আলাইয়্যি রচিত তাঁর গ্রন্থ "নাযমুল ফারায়েদ লিমা তাত্তামানাহু হাদিসু যিল ইয়াদাইনি মিনাল ফাওয়াইদ" (পৃ. ৩৬) এর ভূমিকা থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ৮)
"أُمِّ زَرْع (1) "، وَحَدِيثِ "لا تردُ يد لامسٍ".

- أو مِنْ الأحَادِيثِ المتعارضة التي تحتاجُ إلى جمعٍ أو ترجيحٍ كحَدِيث "لا عَدوى ولا طِيَرة"، وَحَدِيث "بئر بُضَاعة".

- أو مِنْ الأحَادِيثِ المُخْتَلفِ فيها صحةً وضعفاً كحَدِيث "القلتين".

ولا شك أنّ الحَدِيث إذا أُفْرِدَ بالتصنيفِ كَانَ ذَلكَ أدْعَى للشموليةِ والاستقصاءِ مما يترتبُ عليه عُمْق البحث، ودِقة النتائج.

ومِنْ الأحَادِيثِ الجديرة بالإفراد والتصنيف أحَاديثُ تَعْظيمِ الرّبَا على الزنا وذلك لأسبابٍ عديدةٍ مِنْها:

1 - أنَّ هناك تفاوتاً كبيراً بين العلماءِ في الحُكْمِ عَلى الحَدِيث فيرى بعضُهُم أنّه صحيحٌ بلْ عَلى شرطِ الشيخين، وفي المقابل يرى آخرون أنّه موضوعٌ، وبين القولين أقوالٌ متفاوتة، فما هو الصحيحُ في ذلكَ؟، وما أسباب هذا الاختلاف؟.

2 - غَرابةُ متنِ الحَدِيث والتي استوقفت بعض النّقاد والعلماء: فدرهمٌ واحدٌ مِنْ الرّبَا أشدّ من الزنا - الذي عقوبةُ صاحبهِ تدورُ بين الجلدِ والتغريبِ أو الرّجم - بل في بعض روايات الحَدِيث: ((أدناها مثل أَنْ يَنْكِحَ الرَّجُلُ أُمَّهُ)).

3 - شُهْرةُ هذا الحَدِيث فكثيراً ما يُسْمعُ مِنْ الخطباء والوعاظ فضلاً عَنْ عموم الناس.

--------------------------------------------

(1) انظر: كلام القاضي عياض في مقدمة كتابه "بغية الرائد لما تضمنه حَدِيث أمِّ زَرْع من الفوائد" (ص 1).
"উম্মে যার" (১), এবং "সে কোনো স্পর্শকারীর হাত ফিরিয়ে দেয় না" শীর্ষক হাদিস।

- অথবা সেইসব পরস্পরবিরোধী হাদিসসমূহ থেকে যেগুলো সমন্বয় বা প্রাধান্য নির্ণয়ের মুখাপেক্ষী, যেমন "সংক্রামক ব্যাধি ও কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই" শীর্ষক হাদিস এবং "বি'র বুদা'আহ" (বুদা'আহ কূপ) সংক্রান্ত হাদিস।

- অথবা সেইসব হাদিসসমূহ থেকে যেগুলোর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, যেমন "কুল্লাহতাইন" (দুই মটকা) সংক্রান্ত হাদিস।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো হাদিসকে যদি স্বতন্ত্রভাবে গ্রন্থনার জন্য নির্বাচন করা হয়, তবে তা অধিকতর ব্যাপকতা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের সহায়ক হয়, যার ফলে গবেষণার গভীরতা ও ফলাফলের সূক্ষ্মতা অর্জিত হয়।

আর এককভাবে গ্রন্থনার যোগ্য হাদিসসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো যিনার তুলনায় সুদের ভয়াবহতা সংক্রান্ত হাদিসসমূহ; এর পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - হাদিসটির মান নির্ধারণে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। তাদের কেউ কেউ একে সহিহ মনে করেন, এমনকি শায়খাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহিহ বলেন। বিপরীতে অন্য অনেকে একে বানোয়াট মনে করেন। এই দুই মতের মাঝে আরও নানাবিধ মত রয়েছে। এমতাবস্থায় এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত কোনটি? এবং এই মতপার্থক্যের কারণসমূহ কী কী?

২ - হাদিসটির মতনের (মূল পাঠের) অস্বাভাবিকতা, যা অনেক সমালোচক ও আলিমকে থমকে দিয়েছে: সুদের একটি দিরহাম যিনার চেয়েও জঘন্য—অথচ যিনাকারীর শাস্তি বেত্রাঘাত ও নির্বাসন অথবা পাথর ছুড়ে হত্যার (রজম) মধ্যে আবর্তিত হয়। এমনকি হাদিসের কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: "সুদের সর্বনিম্ন পর্যায় হলো কোনো ব্যক্তির নিজের মাকে বিবাহ করার (যৌন সম্পর্ক করার) সমান।"

৩ - এই হাদিসটির প্রসিদ্ধি; কারণ সাধারণ মানুষ তো বটেই, খতিব ও ওয়ায়েজদের থেকেও এটি প্রায়ই শোনা যায়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: কাযী ইয়ায-এর উক্তি, তাঁর 'বুগইয়াতুর রায়িদ লিমা তাদাম্মানাহু হাদিসু উম্মে যার মিনা আল-ফাওয়াইদ' গ্রন্থের ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ১)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ৯)
4 - لم أقفْ عَلى مصنفٍ مستقلٍ يُحَرّر الكلام على الحَدِيث، ويستوعبُ طرقَهُ وَأسانيدَهُ، ويجمعُ شتاتَ ما قيل فيه، ويُبين سبب هذا التفاوت الكبير في الحكم على الحَدِيث، مع أهمية ذلك، وقد لمستُ مِنْ بعضِ علمائنا الأجلاء تمني بحث الحَدِيث بتوسعٍ ونقل كلام كبار النّقاد عليه.

ويهدفُ البحث إلى:

4 - جمعِ وتتبع طُرُق أحَاديثُ تَعْظيمِ الرّبَا على الزنا، ودراسة كلّ طريق وفق ميزان النقد الحديثي الذي وَضَعَهُ عُلماءُ الحَدِيث.

5 - بيانِ أقوالِ علماء الحَدِيث - المتقدمين منهم والمتأخرين - في الحُكْمِ عَلى الحَدِيث، مَعَ بيانِ الرأي الراجح في ذلكَ بعدَ الموازنةِ والتعليل.

6 - النظر في متن الحديث ومدى موافقته للأصول التي دل عليها القرآن الكريم، والسنة الصحيحة.

ولا شكّ أنّ جمعَ طُرُق الحَدِيثِ وَمَا قِيلَ فيهِ - مَعَ المناقشةِ والترجيحِ - في مؤلّف مُفْرد يُسهل على الباحثين مهمة النظر في الحَدِيث وتحقيق الراجح في حُكْمهِ.

منهجُ البحثِ:

يعتمد البحث في مثل هذه الدراسة على المنهج الاستقرائي في جمع وتتبع طُرُق الحَدِيث وأقوال النّقاد عليه، ومِنْ ثَمَّ الدراسة والموازنة في ضوء منهج النقد عَنْد المحدثين.

خطة البحث:

ويتكون البحث مِنْ مُقدمةٍ وَفصلين وخَاتمةٍ وفهارس فنية:
৪ - আমি এমন কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থ পাইনি যা এই হাদিসটির বিষয়ে আলোচনাকে পরিশীলিত করে, এর সকল সূত্র ও সনদকে অন্তর্ভুক্ত করে, এটি সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে তার বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করে এবং এই হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান এই বিশাল পার্থক্যের কারণ বর্ণনা করে, যদিও এর গুরুত্ব অপরিসীম। আমি আমাদের কিছু সম্মানিত উলামায়ে কেরামের নিকট থেকে এই হাদিসটি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা এবং এটি সম্পর্কে বড় বড় মুহাদ্দিস ও সমালোচকদের বক্তব্য উদ্ধৃত করার আকাঙ্ক্ষা প্রত্যক্ষ করেছি।

আর এই গবেষণার লক্ষ্য হলো:

৪ - ব্যভিচারের তুলনায় সুদকে বড় পাপ সাব্যস্তকারী হাদিসসমূহের সূত্রগুলো একত্র করা ও অনুসন্ধান করা এবং হাদিস বিশারদদের প্রণীত হাদিস সমালোচনার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি সূত্র বিশ্লেষণ করা।

৫ - হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী হাদিস বিশারদদের বক্তব্যসমূহ বর্ণনা করা এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও কারণ দর্শানোর পর এক্ষেত্রে অগ্রগণ্য মতটি স্পষ্ট করা।

৬ - হাদিসের মূল পাঠ (মতন) পর্যালোনা করা এবং পবিত্র কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ নির্দেশিত মূলনীতিসমূহের সাথে এর সামঞ্জস্যের মাত্রা যাচাই করা।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, হাদিসের সূত্রসমূহ এবং এটি সম্পর্কে যা বলা হয়েছে—তা আলোচনা ও অগ্রগণ্য মত নির্ধারণসহ—একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলন করা গবেষকদের জন্য হাদিসটি পর্যালোচনা করা এবং এর হুকুমের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কাজকে সহজ করে দেবে।

গবেষণা পদ্ধতি:

এই ধরণের গবেষণায় হাদিসের সূত্রসমূহ এবং এটি সম্পর্কে সমালোচকদের বক্তব্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে আরোহী পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা হয়েছে, অতঃপর মুহাদ্দিসগণের সমালোচনা পদ্ধতির আলোকে বিশ্লেষণ ও তুলনামূলক পর্যালোচনা করা হয়েছে।

গবেষণা পরিকল্পনা:

গবেষণাটি একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায়, একটি উপসংহার এবং নির্ঘণ্টের সমন্বয়ে গঠিত:
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ১০)
1 - المقدّمة - وهي هذه -.

2 - الفصل الأوَّل: تخريجُ طُرُق الحَدِيث وَالحُكْم عليها، وفيه مباحث:

المبحثُ الأوَّل: تخريجُ حَدِيث أنس بنِ مَالِك رضي الله عنه والحُكْمُ عليهِ.

المبحثُ الثاني: تخريجُ حَدِيث الْبَرَاء بنِ عازب رضي الله عنه والحُكْمُ عليهِ.

المبحثُ الثالث: تخريجُ حَدِيث عبدِ الله بنِ سَلَام رضي الله عنه والحُكْمُ عليهِ.

المبحثُ الرابع: تخريجُ حَدِيث عبدِ الله بنِ عَبَّاس رضي الله عنه والحُكْمُ عليهِ.

المبحثُ الخامس: تخريجُ حَدِيث عبدِ الله بنِ عُمَر رضي الله عنه والحُكْمُ عليهِ.

المبحثُ السادس: تخريجُ حَدِيث عبدِ الله بنِ مسعود رضي الله عنه والحُكْمُ عليهِ.

المبحثُ السابع: تخريجُ حَدِيث أبي هُرَيرة رضي الله عنه والحُكْمُ عليهِ.

المبحثُ الثامن: تخريجُ حَدِيث وَهْبِ بنِ الأسود أو الأسود بن وَهْب رضي الله عنه - على خلافٍ في ذلك - والحُكْمُ عليهِ.

المبحثُ التاسع: تخريجُ حَدِيث عائشة رضي الله عنها، وَحَدِيثِ عبد الله بنِ حنظلة رضي الله عنه، وقول كعب الأحبار رحمه الله والحُكْمُ عليهِا (1).

--------------------------------------------

(1) بينتُ في هذا المبحث سبب تأخير وجمع حديث عائشة، وحديث عبد الله بن حنظلة، وقول كعب عن بقية الأحاديث.
১ - ভূমিকা - যা এটি -।

২ - প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিসের সনদসমূহের তাখরিজ ও সেগুলোর ওপর হুকুম, এবং এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের তাখরিজ ও তার ওপর হুকুম।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বারা বিন আজিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের তাখরিজ ও তার ওপর হুকুম।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আব্দুল্লাহ বিন সালাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের তাখরিজ ও তার ওপর হুকুম।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের তাখরিজ ও তার ওপর হুকুম।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের তাখরিজ ও তার ওপর হুকুম।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের তাখরিজ ও তার ওপর হুকুম।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের তাখরিজ ও তার ওপর হুকুম।

অষ্টম অনুচ্ছেদ: ওয়াহাব বিন আসওয়াদ অথবা আসওয়াদ বিন ওয়াহাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের তাখরিজ - এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে - এবং তার ওপর হুকুম।

নবম অনুচ্ছেদ: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিস, আব্দুল্লাহ বিন হানজালা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস এবং কাব আল-আহবার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তির তাখরিজ ও এগুলোর ওপর হুকুম (১)।

--------------------------------------------

(১) আমি এই অনুচ্ছেদে আয়েশার হাদিস, আব্দুল্লাহ বিন হানজালার হাদিস এবং কাবের উক্তিকে অন্যান্য হাদিস থেকে বিলম্বে উল্লেখ করার এবং একত্রিত করার কারণ স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ১১)
المبحثُ الثامن: الآثارُ الواردةُ عَنْ الصحابةِ في ذلكَ، وفيه مطلبان:

المطلبُ الأوّل: تخريجُ أثر عثمان بن عفان رضي الله عنه والحُكْمُ عليهِ.

المطلبُ الثاني: تخريجُ أثر علي بنِ أبي طالب رضي الله عنه والحُكْمُ عليهِ.

3 - الفصل الثاني: تتمات حول أحَاديثُ تَعْظيمِ الرّبَا على الزنا، وفيه مباحث:

المبحثُ الأوَّل: نظرةٌ تحليلية في المصادر الأصلية التي روتْ أحاديث تَعْظيمِ الرّبَا على الزنا.

المبحثُ الثاني: خُلاصةُ الكلامِ عَلى الحَدِيث، وفيه مطالب:

المطلب الأوّل: مَنْ قوّى الحديث - أو بعض طرقه - من العلماء، وأسباب ذلك.

المطلب الثاني: مَنْ ضعف الحديثَ مِنْ العلماء، وأسباب ذلك.

المطلب الثالث: مجملُ الرأي الراجح، وخلاصة الكلام على الأحاديث.

المبحثُ الثالث: نكتةٌ علميةٌ في تَلَمُسِ سبب ورود تَعْظيمِ الرّبا على الزنا عن اثنين من مسلمة أهل الكتاب وأحبارهم.

4 - الخاتمة: وتتضمن أبرز النتائج والتوصيات.

5 - قائمة المصادر والمراجع.

وأنبه هنا أني أذكر بعد استيفاء الكلام على الطريق المعين أقوال علماء الحديث عليه تقويةً أو تضعيفاً، لكي يكون القارىء متصوراً الطريق وما قيل فيه في موطنٍ واحد، فإن كان هناك ما يحتاج للتعليق والمناقشة فعلتُ.
অষ্টম পরিচ্ছেদ: এ বিষয়ে সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত আছারসমূহ, এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: উসমান ইবন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর আছারের তাখরিজ ও তার উপর হুকুম।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: আলী ইবন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর আছারের তাখরিজ ও তার উপর হুকুম।

৩ - দ্বিতীয় অধ্যায়: ব্যভিচারের তুলনায় সুদকে গুরুতর সাব্যস্ত করা বিষয়ক হাদীসসমূহের পরিশিষ্ট, এতে বেশ কিছু পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ব্যভিচারের তুলনায় সুদকে গুরুতর সাব্যস্ত করার হাদীসসমূহ বর্ণনাকারী মূল উৎসগুলোর একটি বিশ্লেষণাত্মক পর্যালোচনা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদীসটির বিষয়ে সারকথা, এতে বেশ কিছু উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: আলেমদের মধ্যে যারা হাদীসটিকে—অথবা এর কিছু সূত্রকে—শক্তিশালী বলেছেন এবং এর কারণসমূহ।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: আলেমদের মধ্যে যারা হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন এবং এর কারণসমূহ।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: অগ্রগণ্য মতামতের সংক্ষিপ্তসার এবং হাদীসগুলোর ওপর পর্যালোচনার সারকথা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আহলে কিতাবের দুইজন ইসলাম গ্রহণকারী আলেম ও পণ্ডিতের পক্ষ থেকে ব্যভিচারের চেয়ে সুদকে গুরুতর সাব্যস্ত করার বর্ণনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তাত্ত্বিক সূক্ষ্ম বিষয়।

৪ - উপসংহার: এতে প্রধান ফলাফল ও সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

৫ - তথ্যসূত্র ও গ্রন্থপঞ্জি।

আমি এখানে সচেতন করছি যে, কোনো নির্দিষ্ট সূত্রের আলোচনা পূর্ণ করার পর আমি সেটির বিষয়ে হাদীস বিশারদদের বক্তব্য—শক্তিশালী হওয়া বা দুর্বল হওয়ার ক্ষেত্রে—উল্লেখ করব, যাতে পাঠক এক জায়গাতেই উক্ত সূত্র এবং সে সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা অনুধাবন করতে পারেন। অতঃপর যদি কোনো বিষয়ে ব্যাখ্যা বা পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়, তবে আমি তা করব।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ১২)
وبعدُ فهذا "جهدُ المقل والقدر الذي واتاه {وَمَنْ قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللَّهُ} (الطلاق: 7)، وإليه سبحانه وتعالى السؤال أن يجعل ذلك خالصاً لوجهه الكريم، مقتضيا لرضاه، وأن لا يجعل العلم حجة على كاتبه في دنياه وأخراه، وعلى الله قصد السبيل، وهو حسبنا ونعم الوكيل" (1).

--------------------------------------------

(1) مقتبس من مقدمة العلائيّ لكتابه "نظم الفرائد لما تضمنه حَدِيث ذي اليدين من الفوائد" (ص 36).
আর অতঃপর, এটি হলো "অক্ষম ব্যক্তির সাধ্যানুযায়ী প্রচেষ্টা এবং সেই সামর্থ্য যা তাকে দেওয়া হয়েছে {আর যার রিযিক সংকুচিত করা হয়েছে, সে যেন আল্লাহ তাকে যা দান করেছেন তা থেকে ব্যয় করে} (আত-তালাক: ৭)। এবং মহান ও পবিত্র আল্লাহর নিকট প্রার্থনা এই যে, তিনি যেন একে তাঁর মহান সত্তার জন্য একনিষ্ঠ করেন, যা তাঁর সন্তুষ্টির কারণ হবে; আর তিনি যেন এই জ্ঞানকে দুনিয়া ও আখিরাতে এর লেখকের বিরুদ্ধে দলিল হিসেবে দাঁড় না করান। সঠিক পথ প্রদর্শন করা আল্লাহরই জিম্মায়; আর তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক" (১)।

--------------------------------------------

(১) আল-আলায়ীর গ্রন্থ ‘নাযমুল ফারিদ লিমা তাদাম্মানাহু হাদিসু যিল ইয়াদাইন মিনাল ফাওয়াইদ’ (পৃষ্ঠা ৩৬) এর ভূমিকা থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصلُ الأوَّلُ

تخريجُ طُرُق الحَدِيث والحكم عليها
প্রথম পরিচ্ছেদ

হাদিসের সূত্রসমূহের তাখরিজ এবং সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদান
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المبحثُ الأوَّلُ

تخريجُ حَدِيثِ أنس بنِ مَالِك رضي الله عنه والحُكْمُ عليهِ
.

رُوي الحَدِيث عَنْ أنس بنِ مَالِك مِنْ طريقين:

1 - طريق ثابت البُناني، عَنْ أنس بنِ مَالِك مرفوعاً.

2 - يحيى بن أبي كثير، عَنْ أنس مرفوعاً.

• الطريقُ الأوَّل: طريقُ ثابت البُناني، عَنْ أنسِ بنِ مَالِك مرفوعاً.

1 - تخريجُ الحَدِيث:

أخرجه:

- ابنُ أبي الدّنيا في الصمت (ص 123 - 124 رقم 175).

- وابنُ عديّ في الكامل (4/ 233) - ومن طريقه ابن الجَوزيّ في الموضوعات (3/ 22 رقم 1227) -.

- والبيهقيّ في شُعب الإيمان (4/ 395).

- والأصبهانيّ في الترغيبِ والترهيبِ (2/ 192 رقم 1410).

جميعهم من طريق أبي مجاهد عبد الله بنِ كيسان، عَنْ ثابت البُناني، عَنْ أنس بن مَالِك قَالَ: خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر الرّبَا وعظّم شأنه فَقَالَ: ((إنّ الرجُلَ يصيبُ مِنْ الرّبَا أعظمُ عَنْدَ الله في الخطيئةِ مِنْ ستٍ وَثلاثين زَنْية يزنيها الرجُل، وإنَّ أربى الرّبَا عرضُ الرجُلِ المسلم)).
প্রথম পরিচ্ছেদ

আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের তাখরিজ এবং তার ওপর হুকুম
.

হাদিসটি আনাস ইবনে মালিক থেকে দুটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে:

১ - সাবিত আল-বুনানির সূত্র, আনাস ইবনে মালিক থেকে মারফু হিসেবে।

২ - ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির, আনাস থেকে মারফু হিসেবে।

• প্রথম সূত্র: সাবিত আল-বুনানির সূত্র, আনাস ইবনে মালিক থেকে মারফু হিসেবে।

১ - হাদিসের তাখরিজ:

এটি বর্ণনা করেছেন:

- ইবনে আবিদ দুনিয়া 'আস-সামত' গ্রন্থে (পৃ. ১২৩ - ১২৪, নম্বর ১৭৫)।

- এবং ইবনে আদি 'আল-কামিল' গ্রন্থে (৪/ ২৩৩) - এবং তাঁর সূত্রে ইবনুল জাওযি 'আল-মাওযুআত' গ্রন্থে (৩/ ২২, নম্বর ১২২৭) -।

- এবং বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে (৪/ ৩৯৫)।

- এবং আসবাহানি 'আত-তারগিব ওয়াত তারহিব' গ্রন্থে (২/ ১৯২, নম্বর ১৪১০)।

তাঁরা সবাই আবু মুজাহিদ আব্দুল্লাহ ইবনে কায়সানের সূত্রে, সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন, সেখানে তিনি সুদের কথা উল্লেখ করলেন এবং এর ভয়াবহতা তুলে ধরলেন। এরপর তিনি বললেন: ((নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি সুদের মাধ্যমে যে পাপ অর্জন করে, তা আল্লাহর কাছে ছত্রিশ বার ব্যভিচার করার চেয়েও গুরুতর। আর সবচেয়ে বড় সুদ হলো কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্মানহানি করা))।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ১৬)
قَالَ البيهقيُّ: ((تفرد به أبو مجاهد عبدُ الله بنُ كيسان المروزيّ، عَنْ ثابت، وهو منكر الحَدِيث)).

2 - دراسةُ رجال الإسناد:

1 - ثابت البُناني هو: ابن أسلم البُناني - بضم الموحدة، ونونين - أبو محمد البصري، متفق على ثقته وصلاحه، رَوَى له الجماعة (1).

2 - وعبد الله بن كيسان، أبو مجاهد المروزي، ضعيف الحديث، وخاصةً عَنْ عكرمة مولى ابن عَبَّاس، وثابت البناني، قَالَ البخاري: ((منكر الحَدِيث)) (2)، وَقَالَ أبوحاتم: ((ضعيفُ الحَدِيث)) (3)، وَقَالَ العُقَيلي: ((في حديثهِ وهمٌ كثير)) (4)، وذكر له العقيلي حديثين منكرين عَنْ ثابت ثم قَالَ: ((وليس لهما من حَدِيث ثابت أصل، وأصح الناس حديثا عَنْ ثابت حماد بن سلمة))، قَالَ ابنُ عدي: ((ولعبدِ الله بن كيسان عَنْ عكرمة عَنْ ابن عَبَّاس أحاديث غير ما أمليت غير محفوظة وعَنْ ثابت عَنْ أنس كذلك)) (5)، وقال الذهبيّ: ((ضعيف)) (6)، وقال ابنُ حَجَر: ((صدوقُ يخطىء كثيراً)) (7)، روى له البخاري في الأدب المفرد حديثاً واحداً، وأبو داود (8).

--------------------------------------------

(1) انظر: الجرح (2/ 449 رقم 1805)، تهذيب الكمال (4/ 342 - 349).

(2) التاريخ الكبير (5/ 178 رقم 561)، الكامل في ضعفاء الرجال (4/ 233)، ميزان الاعتدال (4/ 165).

(3) الجرح والتعديل (5/ 143 رقم 669).

(4) الضعفاء للعقيلي (2/ 290).

(5) الكامل في ضعفاء الرجال (4/ 233).

(6) المغني في الضعفاء (2/ 806 رقم 7702).

(7) تقريب التهذيب (ص 319 رقم 3558).

(8) الكاشف (1/ 590 رقم 2930)، المغني في الضعفاء (1/ 352 رقم 3315، 2/ 806 رقم 7702)، تهذيب التهذيب (5/ 325).
বায়হাকী বলেছেন: ((আবু মুজাহিদ আবদুল্লাহ ইবনে কায়সান আল-মারওয়াযী সাবিত থেকে বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন, এবং তিনি মুনকারুল হাদীস (অস্বীকৃত হাদীস বর্ণনাকারী)))।

২ - সনদ বা বর্ণনাকারীগণের পর্যালোচনা:

১ - সাবিত আল-বুনানী হলেন: ইবনে আসলাম আল-বুনানী - প্রথম বর্ণে পেশ এবং দুটি 'নুন' সহ - আবু মুহাম্মাদ আল-বাসরী, তার নির্ভরযোগ্যতা ও সততার বিষয়ে সকলে একমত, আল-জামাআহ (ছয়জন ইমাম) তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন (১)।

২ - এবং আবদুল্লাহ ইবনে কায়সান, আবু মুজাহিদ আল-মারওয়াযী, হাদীস বর্ণনায় দুর্বল, বিশেষ করে ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমাহ এবং সাবিত আল-বুনানী থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে; বুখারী বলেছেন: ((তিনি মুনকারুল হাদীস)) (২), আবু হাতিম বলেছেন: ((তিনি দুর্বল হাদীস বর্ণনাকারী)) (৩), উকায়লী বলেছেন: ((তার হাদীসে অনেক ভ্রম রয়েছে)) (৪), এবং উকায়লী তার সম্পর্কে সাবিত থেকে দুটি মুনকার হাদীস উল্লেখ করে বলেছেন: ((সাবিতের হাদীস হিসেবে এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই, আর সাবিত থেকে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সঠিক ব্যক্তি হলেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ)), ইবনে আদী বলেছেন: ((আবদুল্লাহ ইবনে কায়সান কর্তৃক ইকরিমাহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এমন কিছু হাদীস বর্ণনা করেছেন যা আমি উল্লেখ করিনি এবং যা সংরক্ষিত নয়, তদ্রূপ সাবিত থেকে আনাস এর সূত্রেও একই অবস্থা)) (৫), যাহাবী বলেছেন: ((দুর্বল)) (৬), ইবনে হাজার বলেছেন: ((সত্যবাদী তবে প্রচুর ভুল করেন)) (৭), বুখারী তার থেকে আল-আদাবুল মুফরাদ-এ একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আবু দাউদও বর্ণনা করেছেন (৮)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-জারহ (২/ ৪৪৯ নং ১৮০৫), তাহযীবুল কামাল (৪/ ৩৪২ - ৩৪৯)।

(২) আত-তারীখুল কাবীর (৫/ ১৭৮ নং ৫৬১), আল-কামিল ফী দুয়াফাউর রিজাল (৪/ ২৩৩), মীযানুল ইতিদাল (৪/ ১৬৫)।

(৩) আল-জারহ ওয়াত তা'দীল (৫/ ১৪৩ নং ৬৬৯)।

(৪) আদ-দুয়াফা লিল উকায়লী (২/ ২৯০)।

(৫) আল-কামিল ফী দুয়াফাউর রিজাল (৪/ ২৩৩)।

(৬) আল-মুগনী ফিদ দুয়াফা (২/ ৮০৬ নং ৭৭০২)।

(৭) তাকরীবুত তাহযীব (পৃ. ৩১৯ নং ৩৫৫৮)।

(৮) আল-কাশিফ (১/ ৫৯০ নং ২৯৩০), আল-মুগনী ফিদ দুয়াফা (১/ ৩৫২ নং ৩৩১৫, ২/ ৮০৬ নং ৭৭০২), তাহযীবুত তাহযীব (৫/ ৩২৫)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ১৭)
وذَكَرَهُ ابنُ حبان في الثقات وَقَالَ: ((يتقي حديثه من رواية ابنه عَنْه)) (1)، وذِكْرُ ابنِ حبان له في الثقات - مع تضعيف النّقاد له - دليل من الأدلة الكثيرة على تساهله في باب التوثيق، فهذا التوثيق لا يفرح به، وسيأتي لهذا نظائر في هذا البحث (2).

قال الذهبي: ((صخرٌ لا يُعْرف إلا في هذا الحديثِ الواحد، وَلا قِيلَ إنّه صحابيّ إلاّ بهِ، وَلا نَقَلَ ذلكَ إلاّ عُمَارة، وعُمَارةُ مجهولٌ، كَما قَالَ الرازيان، ولا يُفرح بذكر ابن حبان له في الثقات، فإن قاعدته معروفة من الاحتجاج بمن لا يعرف)) (3).

3 - دراسةُ الإسناد والحكم عليه:

هذا الحَدِيث بهذا الإسناد ضعيف لأمور:

1 - أنَّ عبد الله بن كيسان ضعيف، وينفرد بأشياء ليس لها أصول، خاصةً عَنْ ثابت البناني كما بين ذلك العقيليّ، وابن عدي.

2 - تفرد عبد الله بن كيسان بالحديث عَنْ ثابت البناني مما يزيد الحَدِيث وهناً، فأين أصحابُ ثابت البناني لم يرووا هذا الأثر عَنْه!!.

قَالَ ابنُ رَجَب: ((أصحاب ثابت البُناني: وفيهم كثرة، وهم ثلاث طبقات:

الطبقة الأولى: الثقات: كشعبة، وحماد بن زيد، وسليمان بن المغيرة، وحماد بن سلمة، ومعمر، وأثبت هؤلاء كلهم في ثابت حماد بن سلمة …

--------------------------------------------

(1) الثقات (7/ 33)

(2) انظر: ص 35، 90.

(3) الميزان (5/ 211)، وانظر: الميزان (2/ 458، 3/ 146)، لسان الميزان (1/ 14، 4/ 277، 1/ 331).
ইবনে হিব্বান তাকে আস-সিকাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: ((তার থেকে তার ছেলের বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত)) (১), এবং সমালোচকগণ তাকে দুর্বল বলা সত্ত্বেও ইবনে হিব্বানের তাকে আস-সিকাত গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করা—রাবীকে নির্ভরযোগ্য বলার ক্ষেত্রে (তাওসিক) তার শিথিলতার অনেক প্রমাণের একটি; সুতরাং এই নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের বিষয়টি নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য হয় না, এবং এই গবেষণায় এর অনুরূপ উদাহরণ সামনে আসবে (২)।

যাহাবী বলেছেন: ((সাখরকে এই একটি হাদিস ছাড়া চেনা যায় না, এবং কেবল এটার মাধ্যমেই তাকে সাহাবী বলা হয়েছে, আর এটি কেবল উমারা বর্ণনা করেছেন; আর উমারা একজন অপরিচিত (মাজহুল) ব্যক্তি, যেমনটি দুই রাযী (আবু যুরআ ও আবু হাতিম) বলেছেন। ইবনে হিব্বান তাকে আস-সিকাত গ্রন্থে উল্লেখ করায় আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ অপরিচিত ব্যক্তিদের বর্ণনার মাধ্যমে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে তার মূলনীতি সুপরিচিত)) (৩)।

৩ - সনদ পর্যালোচনা ও এর উপর হুকুম:

এই সনদসহ এই হাদিসটি কয়েকটি কারণে দুর্বল:

১ - আব্দুল্লাহ ইবনে কায়সান দুর্বল, এবং তিনি এমন কিছু বিষয় এককভাবে বর্ণনা করেন যার কোনো ভিত্তি নেই, বিশেষ করে সাবিত আল-বুনানী থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে, যেমনটি উকায়লী এবং ইবনে আদী স্পষ্ট করেছেন।

২ - সাবিত আল-বুনানী থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়সানের এককভাবে হাদিসটি বর্ণনা করা এর দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়; সাবিত আল-বুনানীর ছাত্ররা কোথায় যে তারা তার থেকে এই বর্ণনাটি বর্ণনা করেননি!!

ইবনে রাজাব বলেছেন: ((সাবিত আল-বুনানীর ছাত্রগণ: তারা সংখ্যায় অনেক এবং তারা তিন স্তরের:

প্রথম স্তর: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (সিকাত): যেমন শু'বা, হাম্মাদ ইবনে যাইদ, সুলাইমান ইবনুল মুগীরাহ, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ এবং মা'মার; আর সাবিতের বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের সবার মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হলেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ …

--------------------------------------------

(১) আস-সিকাত (৭/ ৩৩)

(২) দেখুন: পৃষ্ঠা ৩৫, ৯০।

(৩) আল-মিজান (৫/ ২১১), এবং দেখুন: আল-মিজান (২/ ৪৫৮, ৩/ ১৪৬), লিসানুল মিজান (১/ ১৪, ৪/ ২৭৭, ১/ ৩৩১)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ১৮)
الطبقة الثانية، الشيوخ: مثل الحكم بن عطية، وقد ذكر أحمد الحكم بن عطية فَقَالَ: " هؤلاء الشيوخ يخطئون على ثابت " …

الطبقة الثالثة: الضعفاء والمتركون: وفيهم كثرة، كيوسف بن عطية الصفّار …)) (1).

ومن قرائن إعلال الأخبار عند نقاد الحديثِ وأطباء علله "أنْ يتفرد راوٍ بخبر عن إمام مشهور يجمع حديثه" وكلما كَانَ الراوي أقلَّ ضبطاً كانتْ الرواية أشدّ ضعفاً ونكارة.

قَالَ ابنُ أبي حاتم: ((سمعتُ أبي وذكر حديثا رواه قُران بن تمام عن أيمن بن نابل عن قدامة العامري فَقَالَ: رأيتُ النبي صلى الله عليه وسلم يطوف بالبيت يستلم الحجر بمحجنه، سمعتُ أبي يقولُ: لم يرو هذا الحَدِيث عن أيمن إلا قُران ولا أراه محفوظا، أين كان أصحاب أيمن بن نابل عن هذا الحَدِيث؟)) (2).

وَقَالَ مُسلمُ بنُ الحجاج في مُقدّمةِ صحيحهِ: ((فأمَّا مَنْ تراهُ يَعْمدُ لمثلِ الزُّهريّ في جَلالتهِ، وَكثرةِ أصحابهِ الحفّاظ المتقنين لحديثِهِ وَحَدِيثِ غيرهِ، أو لمثلِ هشامِ بنِ عُروةَ، وحديثهُمَا عند أهلِ العلمِ مَبْسوطٌ مُشتركٌ قد نَقَلَ أصحابهما عنهما حَدِيثهما علَى الاتفاق منهم في أكثرهِ، فَيروى عنهما أو عن أحدهما العَدَدُ مِنْ الحَدِيثِ مما لا يعرفُهُ أحدٌ مِنْ أصحابهما، وَليسَ ممن قد شاركهم في الصحيح مما عندهم فغيرُ جائزٍ قبولُ حَدِيثِ هذا الضربِ مِنْ النّاس)) (3).

وقَالَ عبدُ الرحمن بنُ مهدى: قيل لشعبة: مَنْ الذي يتركُ حديثه؟

--------------------------------------------

(1) شرح علل الترمذيّ (2/ 690).

(2) العلل (1/ 296 رقم 886).

(3) (1/ 7).
দ্বিতীয় স্তর, শায়খগণ: যেমন হাকাম ইবনে আতিয়্যাহ। ইমাম আহমাদ হাকাম ইবনে আতিয়্যাহ সম্পর্কে আলোচনা করে বলেছেন: "এই শায়খগণ সাবিত-এর বর্ণনায় ভুল করেন" …

তৃতীয় স্তর: দুর্বল ও বর্জনীয় (মাতরুক) বর্ণনাকারীগণ: তাদের সংখ্যা অনেক, যেমন ইউসুফ ইবনে আতিয়্যাহ আস-সাফফার …)) (১)।

হাদিস বিশারদ এবং হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাত) বিশেষজ্ঞদের নিকট হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করার অন্যতম আলামত হলো "কোনো বর্ণনাকারী এমন একজন প্রসিদ্ধ ইমাম থেকে এককভাবে কোনো বর্ণনা করা যার হাদিসসমূহ সংকলিত ও সংগৃহীত রয়েছে।" বর্ণনাকারীর নির্ভুলতা (দাবত) যত কম হবে, বর্ণনাটি তত বেশি দুর্বল ও নেকারাত (অস্বাভাবিকতা) যুক্ত হবে।

ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: ((আমি আমার পিতাকে একটি হাদিসের কথা উল্লেখ করতে শুনেছি যা কুরান ইবনে তাম্মাম আইমান ইবনে নাবিল থেকে এবং তিনি কুদামা আল-আমিরি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে তিনি বায়তুল্লাহ তওয়াফ করছেন এবং নিজের বাঁকানো লাঠি দিয়ে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করছেন। আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আইমান থেকে কুরান ছাড়া অন্য কেউ এই হাদিস বর্ণনা করেনি এবং আমি একে সংরক্ষিত (মাহফুজ) মনে করি না। আইমান ইবনে নাবিল-এর ছাত্ররা এই হাদিসের ব্যাপারে কোথায় ছিলেন?)) (২)।

মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ তার সহিহ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: ((পক্ষান্তরে আপনি যাকে দেখবেন যে সে ইমাম যুহরি-র মতো মর্যাদাবান এবং যার বহু সংখ্যক মুখস্থকারী ও দক্ষ ছাত্র রয়েছে যারা তার এবং অন্যদের হাদিস বর্ণনায় পারদর্শী, অথবা হিশাম ইবনে উরওয়ার মতো ব্যক্তিদের হাদিস বর্ণনা করতে উদ্যত হয়—যাদের হাদিস আলেমদের নিকট বিস্তারিতভাবে বিদ্যমান এবং তাদের ছাত্রগণ অধিকাংশ হাদিসের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের ভিত্তিতে তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন—অতঃপর সে তাদের থেকে বা তাদের কোনো একজনের থেকে এমন কিছু সংখ্যক হাদিস বর্ণনা করে যা তাদের অন্য কোনো ছাত্র জানে না এবং সে নিজেও তাদের সাথে সহিহ বর্ণনার ক্ষেত্রে শরীক নয়, তবে এই ধরনের লোকদের হাদিস গ্রহণ করা বৈধ নয়)) (৩)।

আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি বলেন: শু'বাহকে জিজ্ঞাসা করা হলো: কার হাদিস বর্জন করা হবে?

--------------------------------------------

(১) শারহু ইলালিত তিরমিজি (২/ ৬৯০)।

(২) আল-ইলাল (১/ ২৯৬ নম্বর ৮৮৬)।

(৩) (১/ ৭)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ১৯)
قَالَ: إذا روى عن المعروفين ما لا يعرفه المعروفون فأكثر ترك حديثه، فإذا اتهم بالحديث ترك حديثه، فإذا أكثر الغلط ترك حديثه، وإذا روى حديثا اجتمع عليه أنه غلط ترك حديثه، وما كانَ غير هذا فأرو عنه (1).

وقَالَ ابنُ رَجَب: ((أمَّا أكثر الحفاظ المتقدمين فإنهم يقولون في الحَدِيث - إذا تفرد به واحد - وإن لم يرو الثقات خلافه -: إنه لا يتابع عليه، ويجعلون ذلك علة فيه، اللهم إلا أن يكون ممن كثر حفظه واشتهرت عدالته وحديثه كالزهري ونحوه، وربما يستنكرون بعض تفردات الثقات الكبار أيضاً، ولهم في كل حَدِيث نقد خاص، وليس عندهم لذلك ضابط يضبطه)) (2).

3 - أنّ عبد الله بن كيسان سَلَكَ في هذا الحَدِيث الجادة، وهذه عَادةُ الضعفاءِ عِنْد الخطأ، قَالَ ابنُ رَجَب:

((وَقَالَ (3) في عُمَارة بنِ زَاذان: يروي عَنْ ثابت أحاديثَ مناكير، ثمّ قَالَ: هؤلاء الشيوخ رَووا عن ثابت، وكان ثابت جُلّ حَدِيثهِ عَنْ أنس، فَحَمَلوا أحاديثه عن أنس … ، وقَالَ ابن هاني: قَالَ أحمدُ: " كَانَ حماد ثبتاً في حَدِيث ثابت البناني، وبعده سليمان بن المغيرة، وكانَ ثابت يحيلون عليهِ في حَدِيث أنس، وكلّ شئ لثابت رَوَي عَنْه يقولون: ثابت عَنْ أنس "، وَقَالَ أحمدُ - في رواية أبي طالب -: " أهلُ المدينةِ إذا كَانَ الحَدِيث غلطاً يقولون: ابنُ المنكدر عَنْ جابر، وأهلُ البصرة يقولون: ثابت عَنْ أنس، يحيلون عليهما ".

ومُراد أحمد بهذا كثرة من يروي عَنْ ابن المنكدر من ضعفاء أهل

--------------------------------------------

(1) الضعفاء للعقيلي (1/ 13)، معرفة علوم الحَدِيث للحاكم (ص 62)، الكفاية (142)، شرح علل الترمذي (1/ 400)

(2) شرح علل الترمذي (1/ 352).

(3) أي: أحمد بن حنبل.
তিনি বলেন: যখন সে পরিচিত বর্ণনাকারীদের থেকে এমন কিছু বর্ণনা করে যা অন্য পরিচিত বর্ণনাকারীরা চেনে না, তখন তার হাদিস অধিকাংশ ক্ষেত্রে বর্জন করা হয়। যখন সে হাদিস জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়, তখন তার হাদিস বর্জন করা হয়। যখন সে অত্যধিক ভুল করে, তখন তার হাদিস বর্জন করা হয়। আর যখন সে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করে যার ভুলের ব্যাপারে সকলে একমত হয়, তখন তার হাদিস বর্জন করা হয়। এর বাইরে যা আছে তা তার থেকে বর্ণনা করো (১)।

এবং ইবনু রজব বলেন: ((পূর্ববর্তী অধিকাংশ হাফিজগণের (হাদিস বিশারদ) মতামত হলো—যখন কোনো হাদিস এককভাবে কেউ বর্ণনা করে, যদিও নির্ভরযোগ্য অন্য কেউ তার বিপরীত বর্ণনা করেনি—তারা বলেন: এটির কোনো অনুসারী (সমর্থনমূলক বর্ণনা) নেই এবং তারা একে ওই হাদিসের একটি ত্রুটি হিসেবে গণ্য করেন। তবে যদি বর্ণনাকারী এমন কেউ হন যার মুখস্থশক্তি প্রখর এবং যার ন্যায়পরায়ণতা ও হাদিস সুপ্রসিদ্ধ, যেমন যুহরি ও তার সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ; (তবেই তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে)। এমনকি কখনও কখনও তারা বড় বড় নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের কিছু একক বর্ণনাকেও নাকচ করে দেন। প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ সমালোচনা ও পর্যবেক্ষণ রয়েছে এবং এর জন্য তাদের কাছে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই যা দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায়)) (২)।

৩ - আব্দুল্লাহ ইবনে কাইসান এই হাদিসের ক্ষেত্রে 'জাদদাহ' (পরিচিত বা বহুল প্রচলিত পথ) অনুসরণ করেছেন, আর ভুল করার সময় এটিই দুর্বল বর্ণনাকারীদের স্বভাব। ইবনু রজব বলেন:

((এবং তিনি (৩) উমারা বিন যাদান সম্পর্কে বলেছেন: সে সাবিত থেকে 'মুনকার' (অস্বীকৃত) হাদিসসমূহ বর্ণনা করে। এরপর তিনি বলেন: এই শাইখগণ সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, আর সাবিতের অধিকাংশ হাদিসই ছিল আনাস থেকে; ফলে তারা তার হাদিসগুলোকে আনাস-এর সূত্রে চালিয়ে দিয়েছেন... , এবং ইবনু হানি বলেন: আহমাদ বলেছেন: "হাম্মাদ সাবিত আল-বুনানির হাদিসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ছিলেন, এরপরে সুলাইমান বিন মুগিরাহ। আর সাবিতের ক্ষেত্রে তারা আনাস-এর হাদিসের হাওয়ালা দিত; সাবিত থেকে যা-ই বর্ণিত হতো, তারা বলত: সাবিত, আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।" এবং ইমাম আহমাদ -আবু তালিবের বর্ণনায়- বলেছেন: "মদিনাবাসীরা যখন কোনো হাদিস ভুল করে, তখন তারা বলে: ইবনুল মুনকাদির, জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন। আর বসরার অধিবাসীরা বলে: সাবিত, আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন; তারা এই দুইজনের ওপর বিষয়টি চাপিয়ে দেয়।")

আর আহমাদ এর দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে, ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণনা করা দুর্বলদের সংখ্যা আধিক্য...

--------------------------------------------

(১) আল-উকাইলির আদ-দুয়াফা (১/ ১৩), আল-হাকিমের মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস (পৃ. ৬২), আল-কিফায়া (১৪২), শারহু ইলালিত তিরমিযি (১/ ৪০০)

(২) শারহু ইলালিত তিরমিযি (১/ ৩৫২)।

(৩) অর্থাৎ: আহমাদ বিন হাম্বল।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ২০)
المدينة، وكثرة من يروي عَنْ ثابت من ضعفاء أهل البصرة، وسيئ الحفظ والمجهولين منهم، فإنه كَثُرتْ الرواية عَنْ ثابت من هذا الضرب فوقعت المنكرات في حديثه، وإنما أُتي مِنْ جهة من رَوَى عَنْه من هؤلاء، وذَكَرَ هذا المعَنْى ابنُ عديّ وغيرهُ.

ولما اشتهرت روايةُ ابنِ المنكدر عَنْ جابر، ورواية ثابت عَنْ أنس صَارَ كُلّ ضعيفٍ وسيئ الحفظ إذا رَوَى حَدِيثاً عَنْ ابن المنكدر يجعله عَنْ جابر عَنْ النبي صلى الله عليه وسلم، وإنْ رَوَاهُ عَنْ ثابت جَعَلَهُ عَنْ أنس عَنْ النبي صلى الله عليه وسلم، هذا معَنْى كلام الإمام أحمد والله أعلم)) (1).

وكثيراً ما ينبه المحدثون على هذه القرينة ويستعملونها في إعِلال الأخبار، مِنْ ذلكَ قولُ أبي حَاتِم: ((بُسْر قد سمع من واثلة، وكثيراً ما يحدث بُسْر عن أبي إدريس فغلط ابن المبارك، وظن أنّ هذا مما رَوَى عن أبي إدريس عن واثلة)) (2).

وقول ابن عدي: ((والمقدّمي مع ضعفه أخطأ على حماد بن زيد فقال: عن ثابت عن أنس، وكان هذا الطريق أسهل عليه، وإنما هو ثابت عن عبد الله بن رباح عن أبي قتادة)) (3).

وقال ابنُ دقيق العيد: ((أنّ الطريقة المعروفة: عروة عن عائشة، وعروة عن فاطمة نادر، وأقرب عند التحديث من الحفظ سبق الوهم إلى الغالب المشهور، فعدوله عنه إلى النادر أقرب إلى أن يكون عن تثبت، وقد رجح بعض الروايات بمثل هذا)) (4).

--------------------------------------------

(1) شرح علل الترمذيّ (2/ 690).

(2) العلل (1/ 349 رقم 1029)

(3) الكامل (1/ 201) وانظر: الكامل (1/ 421، 3/ 418، 4/ 78، 6/ 229، 286).

(4) الإمام (3/ 188).
মদিনা, এবং বসরাবাসীদের মধ্যে যারা দুর্বল, মন্দ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন এবং অজ্ঞাত তাদের মধ্য থেকে যারা সাবেত থেকে বর্ণনা করেন তাদের আধিক্য। সাবেত থেকে এই ধরণের লোকদের বর্ণনা বেড়ে যাওয়ার কারণে তার হাদিসগুলোতে মুনকার (অস্বীকৃত) বিষয়াদি প্রবেশ করেছে। মূলত যারা তার থেকে বর্ণনা করেছে তাদের পক্ষ থেকেই এই ত্রুটি এসেছে, ইবনে আদি এবং অন্যরা এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

যখন ইবনুল মুনকাদিরের সূত্রে জাবিরের বর্ণনা এবং সাবেতের সূত্রে আনাসের বর্ণনা প্রসিদ্ধি লাভ করল, তখন প্রত্যেক দুর্বল এবং মন্দ হেফজশক্তির বর্ণনাকারী যখনই ইবনুল মুনকাদিরের সূত্রে কোনো হাদিস বর্ণনা করত, তখনই সেটাকে জাবির থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণনা করে দিত। আর যদি সাবেত থেকে বর্ণনা করত, তবে সেটাকে আনাস থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণনা করে দিত। ইমাম আহমাদের কথার মর্মার্থ এটাই, আল্লাহই ভালো জানেন (১)।

মুহাদ্দিসগণ প্রায়শই এই ক্লু বা সংকেতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং হাদিসের ত্রুটি (ইল্লত) উদঘাটনে এটি ব্যবহার করেন। যেমন আবু হাতেমের উক্তি: "বুসর ওয়াসিলা থেকে শুনেছেন, কিন্তু বুসর প্রায়ই আবু ইদিসের সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেন। তাই ইবনুল মুবারক ভুল করেছেন এবং ধারণা করেছেন যে এটি আবু ইদিসের সূত্রে ওয়াসিলা থেকে বর্ণিত" (২)।

এবং ইবনে আদির উক্তি: "মুকাদ্দামী দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও হাম্মাদ ইবনে যায়দ এর বর্ণনায় ভুল করেছেন এবং বলেছেন: সাবেত থেকে আনাসের সূত্রে। এই পথটি (সনদ) তার জন্য সহজ ছিল। অথচ এটি মূলত সাবেত থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে রাবাহ এর সূত্রে আবু কাতাদা থেকে বর্ণিত" (৩)।

ইবনে দাকীকুল ঈদ বলেছেন: "সুপরিচিত পথ হলো: উরওয়া থেকে আয়েশা। উরওয়া থেকে ফাতেমা-এর সূত্রে বর্ণনা বিরল। মুখস্থ থেকে বর্ণনা করার সময় সাধারণত সুপরিচিত এবং প্রসিদ্ধ বিষয়ের দিকেই মানুষের মনোযোগ আগে চলে যায়। তাই প্রসিদ্ধ বর্ণনা ছেড়ে বিরলটির দিকে যাওয়া বর্ণনাকারীর নিখুঁত বর্ণনার ও দৃঢ়তারই প্রমাণ। কেউ কেউ এর মাধ্যমে কিছু বর্ণনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন" (৪)।

--------------------------------------------

(১) শারহ ইলালুত তিরমিজি (২/ ৬৯০)।

(২) আল-ইলাল (১/ ৩৪৯ নং ১০২৯)

(৩) আল-কামিল (১/ ২০১) এবং দেখুন: আল-কামিল (১/ ৪২১, ৩/ ৪১৮, ৪/ ৭৮, ৬/ ২২৯, ২৮৬)।

(৪) আল-ইমাম (৩/ ১৮৮)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ২১)
وقد ذَكَرَ الحديثَ ابنُ عديّ في ترجمة عبد الله بنِ كيسان ضمن منكراته، وقالَ: ((ولعبدِ الله بن كيسان عَنْ عكرمة عَنْ ابن عَبَّاس أحاديث غير ما أمليت غير محفوظة، وعَنْ ثابت عَنْ أنس كذلك))، ومِنْ عادةِ ابنِ عديّ في كتابهِ "الكامل" ذِكْرُ أبرز ما أُنكر على الراوي وقد قال في مقدمة كتابهِ: ((وذَاكرٌ لكل رجل منهم مما رواه ما يُضَعّف من أجله، أو يَلْحَقه بروايته له اسم الضعف؛ لحاجة الناس إليها)) (1)، وَقَالَ الحافظ ابن حجر: ((من عادة ابن عدي في الكامل، أن يخرج الأحاديث التي أنكرت على الثقة، أو على غير الثقة)) (2).

وحَكَمَ العراقيُّ على الحَدِيث بقولهِ: ((سندُهُ ضعيفٌ)) (3).

وتعقبه الزَّبيديّ (4) بقوله: ((قلتُ: ليس فيه من وصف بالضعف، وأبو مجاهد سعد الطائيّ ذكره ابن حبان في الثقات، وَقَالَ أحمد: إنه لا بأس به، ونسبه فَقَالَ: سعد بن عبيد الطائي الكوفي، رَوَى له البخاريّ وأبو داود والترمذي وابن ماجه، وعلي بن شقيق وابنه محمد ما رأيتُ أحداً وصفهما بضعفٍ ولا غيرهِ، وَقَالَ الكمال الدّميريّ (5) - كما وُجِدَ بخطهِ هُنَا -: الحَدِيث رُوّيناهُ في مُسْند أحمد)) (6).

--------------------------------------------

(1) الكامل (1/ 2).

(2) هدي الساري (ص 429).

(3) تخريج أحاديث إحياء علوم الدين (4/ 1742).

(4) هو: محمد بن محمد الحسيني الزَّبيديّ (1145 - 1205) علامة باللغة والحديث والرجال، وله مؤلفات كثيرة منها"إتحاف السادة المتقين" شرح إحياء علوم الدين. الأعلام للزركلي (7/ 70).

(5) هو: محمد بن موسى بن الكمال أبو البقاء الدَّميري الأصل القاهري الشافعي (742 - 808) قَالَ السخاويُّ: ((برع في التفسير والحديث والفقه وأصوله والعربية والأدب وغيرها)). الضوء اللامع (10/ 59).

(6) المرجع السابق.
ইবনে আদি তার 'আল-কামিল' গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে কাইসানের জীবনীতে তার প্রত্যাখ্যাত (মুনকার) হাদিসগুলোর মধ্যে এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: ((ইকরামা হতে আবদুল্লাহ ইবনে কাইসানের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে এবং সাবিত হতে আনাস থেকে বর্ণিত যা আমি শ্রুতলিখন করেছি তা ছাড়া আরও কিছু অসংরক্ষিত হাদিস রয়েছে))। আর ইবনে আদির তার 'আল-কামিল' গ্রন্থে অভ্যাস হলো কোনো বর্ণনাকারীর সবচেয়ে বেশি প্রত্যাখ্যাত হাদিসগুলো উল্লেখ করা। তিনি তার গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: ((আমি তাদের প্রত্যেকের বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্যে এমন সব হাদিস উল্লেখ করব যার কারণে তাকে দুর্বল বলা হয়েছে, অথবা যার বর্ণনার কারণে তার সাথে দুর্বলতা সম্পৃক্ত হয়েছে; কারণ মানুষের এগুলো জানার প্রয়োজন রয়েছে)) (১)। হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: ((আল-কামিল গ্রন্থে ইবনে আদির অভ্যাস হলো এমন সব হাদিস বের করা যা নির্ভরযোগ্য বা অনির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে)) (২)।

ইরাকি হাদিসটির বিষয়ে হুকুম দিয়ে বলেছেন: ((এর সনদ দুর্বল)) (৩)।

আজ-জাবিদি (৪) এর পর্যালোচনা করে বলেছেন: ((আমি বলি: এতে এমন কেউ নেই যাকে দুর্বল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আবু মুজাহিদ সাদ আত-তায়িকে ইবনে হিব্বান নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন এবং আহমাদ বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। তিনি তার বংশ পরিচয় দিয়ে বলেছেন: সাদ ইবনে উবাইদ আত-তায়ি আল-কুফি। ইমাম বুখারি, আবু দাউদ, তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর আলি ইবনে শাকিক ও তার পুত্র মুহাম্মাদকে আমি কাউকে দুর্বল হিসেবে বা অন্য কোনোভাবে অভিযুক্ত করতে দেখিনি। কামাল আদ-দামিরি (৫) —যেমনটি এখানে তার স্বহস্তে লিখিত নোটে পাওয়া গেছে— বলেছেন: হাদিসটি আমরা মুসনাদে আহমাদে বর্ণনা করেছি)) (৬)।

--------------------------------------------

(১) আল-কামিল (১/ ২)।

(২) হাদি আস-সারি (পৃ. ৪২৯)।

(৩) তাখরিজু আহাদিসি ইহয়ায়ি উলুমিদ দীন (৪/ ১৭৪২)।

(৪) তিনি হলেন: মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-হুসাইনি আজ-জাবিদি (১১৪৫ - ১২০৫), ভাষা, হাদিস এবং রিজাল শাস্ত্রের একজন বিশেষজ্ঞ পণ্ডিত। তার অনেক গ্রন্থ রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম হলো 'ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন', যা ইহয়া উলুমিদ দীনের ব্যাখ্যাগ্রন্থ। আল-আ'লাম লিয যিরিকলি (৭/ ৭০)।

(৫) তিনি হলেন: মুহাম্মাদ ইবনে মুসা ইবনে কামাল আবুল বাকা আদ-দামিরি, কায়রো নিবাসী আশ-শাফিয়ি (৭৪২ - ৮০৮)। সাখাবি বলেছেন: ((তিনি তাফসির, হাদিস, ফিকহ, উসুল, আরবি ভাষা ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন))। আদ-দাও আল-লামি (১০/ ৫৯)।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ২২)
وفي كلام الزَّبيديّ أمرانِ:

الأوَّل: أنه اشتبه عليه راو متفق على ضعفه وهو أبو مجاهد عبد الله بن كيسان براو آخر لم يُتكلم فيه ووثق وهو أبومجاهد سعد الطائيّ (1)، فَظَنّ أنّ راوي الحَدِيث هو الثاني الذي لم يتكلم فيه، وهذا وهم فراوي هذا الخبر هو الأوَّل المتفق على ضعفه، ولست بحاجةٍ لتكرار ما يفيد ذلك من أقوال العلماء، وكذلك من تصرفاتهم في كتبهم - حيثُ ذَكَروا هذا الحَدِيث في تَرْجمتهِ مَنسوباً إليه - فكلُّ ذلكَ تقدّم.

الثاني: ما نقله عَنْ الكمال الدّميريّ من أنّ الحَدِيث في مسند أحمد غريبٌ، فلم أقف عليه بعد البحث ولم يذكره ابن حجر في الأطراف، ولم أر أحداً نسبه للمسند غير الدّميريّ!.

ثُمّ بدا لي أنَّ الدّميريّ رُبما قَصَد أنَّ متن الحديث في مسند أحمد - وهو كذلك ولكن مِنْ طريقٍ آخر كما سيأتي (2) -، وإنْ كَان كلام الزَّبيديّ: ((كما وُجِدَ بخطهِ هُنَا)) يُشعر بأنه يقصد الحديث بسنده ومتنه، واللهُ أعلمُ.

• الطريقُ الثاني: يحيى بنُ أبي كثير، عَنْ أنس مرفوعاً.

1 - تخريج الحَدِيث:

أخرجهُ:

ابنُ الجَوزيّ في الموضوعات (3/ 22 رقم 1228) من طريق الدَّارقُطني - ولم أقف عليه في السنن، فلعله في الغرائب والأفراد - قَالَ الدَّارقُطني: حَدَّثنَا أحمد بن محمد بن إبراهيم الصلحي، قَالَ: حَدَّثنَا

--------------------------------------------

(1) تهذيب التهذيب (3/ 421).

(2) انظر: ص 128 من هذا البحث.
আজ-জাবিদীর বক্তব্যের ক্ষেত্রে দু’টি বিষয় লক্ষ্যণীয়:

প্রথমত: তিনি এমন একজন রাবী (বর্ণনাকারী) সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়েছেন যার দুর্বলতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে, আর তিনি হলেন আবু মুজাহিদ আবদুল্লাহ ইবন কায়সান; তাকে তিনি অন্য একজন রাবীর সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন যার ব্যাপারে কোনো সমালোচনা নেই এবং যিনি নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত, অর্থাৎ আবু মুজাহিদ সা’দ আত-তাঈ (১)। তিনি ধারণা করেছিলেন যে, হাদিসটির রাবী হলেন দ্বিতীয়জন যার সম্পর্কে কোনো আপত্তি নেই। এটি একটি ভুল ধারণা, কারণ এই সংবাদের বর্ণনাকারী হলেন প্রথমজন যার দুর্বলতার ব্যাপারে সকলে একমত। এ বিষয়ে ওলামাদের উক্তি এবং তাদের কিতাবসমূহে বর্ণিত কর্মপদ্ধতি—যেখানে তারা এই হাদিসটিকে তার জীবনীতে তার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করেছেন—পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই, কারণ এসব পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: তিনি আল-কামাল আদ-দামিরী থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন যে, মুসনাদে আহমাদে এই হাদিসটি ‘গারিব’ বা অপরিচিত; অনুসন্ধানের পর আমি এটি পাইনি এবং ইবন হাজারও ‘আল-আতরাফ’-এ এটি উল্লেখ করেননি। আদ-দামিরী ছাড়া অন্য কাউকে আমি এটি মুসনাদের দিকে সম্বন্ধ করতে দেখিনি!

অতঃপর আমার নিকট প্রতীয়মান হয়েছে যে, আদ-দামিরী সম্ভবত বুঝাতে চেয়েছেন যে হাদিসের মূল পাঠটি (মতন) মুসনাদে আহমাদে রয়েছে—এবং বিষয়টি তেমনই, তবে সেটি অন্য একটি সনদে বা সূত্রের মাধ্যমে যা সামনে আসবে (২)—যদিও আজ-জাবিদীর বক্তব্য: “যেমনটি এখানে তার হস্তলিপিতে পাওয়া গেছে” দ্বারা এমন অনুভূতি হয় যে তিনি হাদিসের সনদ ও মতন উভয়কেই বুঝিয়েছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

• দ্বিতীয় সূত্র (তারিক): ইয়াহইয়া ইবন আবি কাসির, আনাস (রা.) থেকে মারফূ’ হিসেবে বর্ণিত।

১ - হাদিসের তাখরীজ:

এটি বর্ণনা করেছেন:

ইবনুল জাওযী তার ‘আল-মাওদুআত’ (৩/ ২২, নম্বর ১২২৮) গ্রন্থে আদ-দারাকুতনীর সূত্রে—তবে আমি এটি ‘আস-সুনান’ গ্রন্থে পাইনি, সম্ভবত এটি ‘আল-গরাইব ওয়াল আফরাদ’ গ্রন্থে রয়েছে—আদ-দারাকুতনী বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম আস-সুলহী, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন

--------------------------------------------

(১) তাহযীবুত তাহযীব (৩/ ৪২১)।

(২) দেখুন: এই গবেষণার ১২৮ নং পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ২৩)
أبو فروة يزيد بن محمد، قَالَ: حَدَّثنَا أبي قَالَ: حَدَّثنَا طلحة بن زيد عَنْ الأوزاعي يحيى بن أبي كثير، عَنْ أنس بن مَالِك قَالَ: قَالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((الرّبَا سبعون باباً أهون باب منه الذي يأتي أمَّهُ في الإسلام وهو يعرفها، وإنَّ أربى الرّبَا خَرْقُ المرء عِرْضَ أخيه المسلم، وخَرْقُ عرضه يقول فيه ما يكره من مَسَاوِئِهِ، والبُهتان أن يقول فيه ما ليس فيه)).

وَقَالَ الدَّارقُطني - كَمَا في أطرافِ الغرائب والأفراد (2/ 251) -: ((غَريبٌ مِنْ حَدِيثِ يحيى عَنْه، وَغَريبٌ مِنْ حَدِيث الأوزاعيّ، عَنْ يحيى، تفرّدَ بهِ طلحةُ بنُ زيد عَنْ الأوزاعي، وتفرد به عَنْه محمدُ بنُ يزيد بن سنان)).

2 - دراسةُ رجال الإسناد:

1 - يحيى بن أبي كَثِير هو: الطائي مولاهم، أبو نصر اليَمَامي، متفقٌ على توثيقه، وكان يرسل، وَقَالَ العقيلي: ((ذُكر بالتدليس)) (1)، والمراد بالتدليس هنا رواية الراوي عمن عاصره ولم يلقه (2) ومما يوضح ذلك قولُ حُسينِ المُعَلّم: قُلْنَا ليحيى بنِ أبي كَثير: إنّكَ تحدثُنَا عَنْ قومٍ لَمْ تلْقهُم، وَلم تسمعْ مِنْهُم .. (3)،وَقولُ ابنِ حبان: ((كان يُدلس، فكل ما روى عَنْ أنس فقد دلس عنه، لم يسمع من أنس ولا من صحابي شيئاً)) (4)، وقد ذكره العلائيُّ - وتابعه ابن حجر - في الطبقة الثانية من المدلسين، وهم من احتمل الأئمة تدليسهم، روى له الجماعة، مات سنة

--------------------------------------------

(1) الضعفاء الكبير (4/ 423 - 424).

(2) وهذه الصورة إحدى معاني التدليس عند المحدثين، انظر: معرفة علوم الحديث (ص 109)، وموقف الإمامين البخاري ومسلم من اشتراط اللقيا والسماع في السند المعنعن بين المتعاصرين (ص 331)، ومنهج المتقدمين في التدليس (ص 60).

(3) ضعفاء العقيلي (4/ 423).

(4) الثقات (7/ 591 - 592).
আবু ফারওয়াহ ইয়াযীদ বিন মুহাম্মদ বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তালহা বিন যায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওযায়ী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবী কাসীর থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সুদের সত্তরটি দরজা রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে হালকাটি হলো ইসলামের মধ্যে নিজ মায়ের সাথে ব্যভিচার করা এমতাবস্থায় যে সে তাকে চেনে। আর সবচেয়ে বড় সুদ হলো কোনো মুসলিম ভাইয়ের সম্মানে আঘাত করা। তার সম্মানে আঘাত করা বলতে তার দোষত্রুটি নিয়ে এমন কথা বলা যা সে অপছন্দ করে, আর অপবাদ (বুহতান) হলো তার সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তার মধ্যে নেই।"

আর ইমাম দারাকুতনী বলেন—যেমনটি আতরাফুল গরায়েব ওয়াল আফ্রাদ-এ (২/ ২৫১) এসেছে—: "এটি ইয়াহইয়ার বর্ণনা হিসেবে গরীব (একক), এবং ইয়াহইয়া থেকে আওযায়ীর বর্ণনা হিসেবেও গরীব। আওযায়ী থেকে তালহা বিন যায়েদ এটি বর্ণনায় একক হয়েছেন এবং তার থেকে মুহাম্মদ বিন ইয়াযীদ বিন সিনান এটি বর্ণনায় একক হয়েছেন।"

২ - সনদের বর্ণনাকারীদের পর্যালোচনা:

১ - ইয়াহইয়া বিন আবী কাসীর হলেন: আত-তাঈ (তাদের মুক্তদাস), আবু নাসর আল-ইয়ামামী। তাঁর নির্ভরযোগ্যতার (তাওসীক) ব্যাপারে সকলে একমত, তবে তিনি মুরসাল বর্ণনা করতেন। উকায়লী বলেন: "তাঁকে তাদলীসের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে" (১)। এখানে তাদলীস বলতে উদ্দেশ্য হলো বর্ণনাকারী এমন ব্যক্তির থেকে বর্ণনা করা যার সমসাময়িক তিনি ছিলেন কিন্তু তাঁর সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি (২)। আর হুসাইন আল-মুয়াল্লিমের উক্তিটি এটি স্পষ্ট করে: আমরা ইয়াহইয়া বিন আবী কাসীরকে বললাম: আপনি আমাদের নিকট এমন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করেন যাদের সাথে আপনি সাক্ষাৎ করেননি এবং যাদের থেকে সরাসরি কিছু শোনেননি.. (৩)। আর ইবনে হিব্বানের উক্তি: "তিনি তাদলীস করতেন, সুতরাং তিনি আনাস থেকে যা কিছু বর্ণনা করেছেন তাতে তাদলীস করেছেন; তিনি আনাস থেকে বা কোনো সাহাবী থেকে সরাসরি কিছুই শোনেননি" (৪)। আল্লামা আলাইয়ী তাঁকে মুদাল্লিসদের দ্বিতীয় স্তরে উল্লেখ করেছেন—এবং ইবনে হাজারও তাঁকে অনুসরণ করেছেন—এরা হলেন সেই সকল বর্ণনাকারী যাদের তাদলীস ইমামগণ গ্রহণ করেছেন। জামাত (ছয় কিতাবের সংকলকগণ) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি মৃত্যুবরণ করেন...

--------------------------------------------

(১) আদ-দুয়াফাউল কাবীর (৪/ ৪২৩ - ৪২৪)।

(২) মুহাদ্দিসদের নিকট তাদলীসের এটি একটি অর্থ। দেখুন: মারিফাতু উলূমিল হাদীস (পৃ. ১০৯), মাওকিফুল ইমামাইন আল-বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লিকয়া ওয়াস সামা' ফিল সানাদিল মু'আন'আন বাইনাল মুতাসিরীন (পৃ. ৩৩১), মানহাজুল মুতাকাদ্দিমীন ফিত তাদলীস (পৃ. ৬০)।

(৩) দুয়াফাউল উকায়লী (৪/ ৪২৩)।

(৪) আস-সিকাত (৭/ ৫৯১ - ৫৯২)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ২৪)
اثنتين وثلاثين ومائة (1).

2 - والأوزاعيُّ هُو: عبدُالرحمن بن عَمْرو ثقةٌ فقيهٌ جَليلٌ، قَالَ ابنُ مهديّ: ((الأئمةُ في الحَدِيث أربعة: الأوزاعي، ومالك، وسفيان الثوري، وحماد بن زيد))، رَوَى له الجماعة، مَاتَ سنة سبع وخمسين ومائة (2).

3 - وطلحة بن زيد هو: القرشي أبو مسكين أو أبو محمد الرقي أصله دمشقي متروكُ الحَدِيث، قَالَ أحمدُ بنُ حنبل، وعلي بنُ المديني، وأبو داود: كَانَ يضعُ الحَدِيث، رَوَى لهُ ابنُ ماجة (3).

وقد ذَكَرَ ابنُ عديّ لطلحةَ بنِ زيد حديثاً من طريق أبي فروة يزيد بن محمد بن سنان قَالَ: حَدَّثنَا أبي قَالَ: حَدَّثنَا طلحة بن زيد الرقي عَنْ الأوزاعي عَنْ يحيى بن أبي كثير عَنْ أنس بن مَالِك قَالَ: قَالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((مَنْ تَكلم بالفارسيةِ زادت في خُبْثِه (4)، ونقصت مِنْ مروءتِهِ))، فَقَالَ: ((وهذا الحَدِيث بهذا الإسناد باطل، وبهذا الإسناد أحاديث)) (5).

--------------------------------------------

(1) انظر: تهذيب الكمال (31/ 504 - 511)، جامع التحصيل (ص 113)، تعريف أهل التقديس (ص 127 رقم 63).

(2) انظر: تهذيب الكمال (17/ 307 - 316)، التهذيب (6/ 240 - 241).

(3) تهذيب التهذيب) 5/ 15)، تقريب التهذيب (ص 282 رقم 3020).

(4) تصحفت في الكامل إلى (خبه) فعلق المحقق بقوله (الخب: الخداع - النهاية لابن الأثير)!.

والحديث أخرجه: الحاكم في المستدرك (4/ 98)، وقال ابن حجر - تعليقاً على قول تبويب البخاريّ "باب من تكلم بالفارسية" -: ((وأشار المصنف إلى ضعف ما ورد من الأحاديث الواردة في كراهة الكلام بالفارسية كحديث كلام أهل النار بالفارسية وكحديث من تكلم بالفارسية زادت في خبثه ونقصت من مروءته أخرجه الحاكم في مستدركه وسنده واه)). فتح الباري (6/ 184).

(5) الكامل (4/ 108).
একশত বত্রিশ (১)।

২ - এবং আওযাঈ হলেন: আবদুর রহমান বিন আমর; তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) এবং এক মহান ফকিহ। ইবনে মাহদী বলেন: "হাদিসের ইমাম হলেন চারজন: আওযাঈ, মালিক, সুফিয়ান সাওরী এবং হাম্মাদ বিন যায়েদ।" জামাআত (ছয়জন প্রধান মুহাদ্দিস) তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি একশত সাতান্ন হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (২)।

৩ - এবং তালহা বিন যায়েদ হলেন: কুরাশী, আবু মিসকিন বা আবু মুহাম্মদ আর-রাক্কী, তাঁর মূল নিবাস দামেস্ক, তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে পরিত্যাজ্য (মাতরুক)। আহমাদ বিন হাম্বল, আলী বিন আল-মাদিনী এবং আবু দাউদ বলেছেন: "তিনি হাদিস জাল করতেন।" ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন (৩)।

ইবনে আদী, তালহা বিন যায়েদ সূত্রে আবু ফারওয়া ইয়াযীদ বিন মুহাম্মদ বিন সিনান-এর মাধ্যমে একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তালহা বিন যায়েদ আর-রাক্কী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আওযাঈ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ফারসি ভাষায় কথা বলে, তা তার খবিসতা (৪) বৃদ্ধি করে এবং তার ব্যক্তিত্ব (মুরুয়াত) হ্রাস করে।" অতঃপর তিনি বলেন: "এই সনদে এই হাদিসটি বাতিল এবং এই সনদে আরও অনেক হাদিস রয়েছে" (৫)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাহযীবুল কামাল (৩১/ ৫০৪ - ৫১১), জামেউত তাহসীল (পৃ. ১১৩), তারিফু আহলিত তাকদিস (পৃ. ১২৭, নং ৬৩)।

(২) দেখুন: তাহযীবুল কামাল (১৭/ ৩০৭ - ৩১৬), আত-তাহযীব (৬/ ২৪০ - ২৪১)।

(৩) তাহযীবুত তাহযীব (৫/ ১৫), তাকরীবুত তাহযীব (পৃ. ২৮২, নং ৩০২০)।

(৪) 'আল-কামিল' গ্রন্থে এটি 'খিব্বিহি' হিসেবে বিকৃত হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে মুহাক্কিক মন্তব্য করেছেন (আল-খিব্বু অর্থ: প্রতারণা - ইবনুল আসিরের আন-নিহায়াহ)!

হাদিসটি বর্ণনা করেছেন: হাকিম তার মুস্তাদরাক গ্রন্থে (৪/ ৯৮), এবং ইবনে হাজার - ইমাম বুখারীর অনুচ্ছেদ 'যে ব্যক্তি ফারসি ভাষায় কথা বলে' এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: "মুসান্নিফ (ইমাম বুখারী) ফারসি ভাষায় কথা বলা অপছন্দনীয় হওয়ার বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলোর দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেমন জাহান্নামীদের ফারসি ভাষায় কথা বলার হাদিস এবং 'যে ব্যক্তি ফারসি ভাষায় কথা বলে তা তার খবিসতা বৃদ্ধি করে ও ব্যক্তিত্ব হ্রাস করে' সংক্রান্ত হাদিসটি; যা হাকিম তার মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল।" ফাতহুল বারী (৬/ ১৮৪)।

(৫) আল-কামিল (৪/ ১০৮)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ২৫)
3 - دراسةُ الإسناد والحكم عليه:

هذا الإسنادُ باطلٌ لأمرين:

1 - أنّ طلحةَ بنَ زيد متروكُ الحَدِيث بل رُمي بالوضع كما تقدم.

2 - تفرد طلحة بالحديث عَنْ الأوزاعي مما يؤكد بطلان هذه الرواية، فالأوزاعي إمام أهل الشام في زمانه، فأين أصحابُ الأوزاعي لم يرووا هذا الأثر عَنْه!.

قَالَ ابنُ رَجَب: ((أصحاب الأوزاعيّ: …)) (1)، فَذَكر أقوال النّقاد في أصحاب الأوزاعي، وممن ذكروا من أصحابه: عبد الحميد بن أبي العشرين، يزيد بن السمط، وسلمة بن العيار، والوليد بن مسلم، وعبد الله بن المبارك، والوليد بن مزيد، وأبوإسحاق الفزاري.

وتقدم أنّ ابنَ عديّ ذَكَرَ حَدِيثاً بهذا الإسناد في ترجمة طلحة ثُمّ قَالَ: ((وهذا الحَدِيث بهذا الإسناد باطل، وبهذا الإسناد أحاديث)).

قلتُ: ومنها حديثنا هذا فهو بهذا الإسناد.

وَقَالَ ابنُ الجَوزيّ: ((تفرد به طلحةُ بنُ زيد، قَالَ البخاريّ: منكرُ الحَدِيث، وَقَالَ النسائيّ: متروكُ الحَدِيثِ)) (2).

فخُلاصةُ الكلامِ عَلى حَدِيثِ أنس بنِ مالك أنّه لا يصح، ولا يعتمد عليه في الشواهد والمتابعات فالطريق الأوَّل لا أصلَ له، والثاني باطل وتقدم بيان علل هذين الطريقين.

--------------------------------------------

(1) شرح علل الترمذيّ (2/ 730).

(2) الموضوعات (3/ 22 رقم 1228).
৩ - সনদ পর্যালোচনা ও এর ওপর হুকুম:

এই সনদটি দুটি কারণে বাতিল:

১ - তালহা বিন যায়েদ পরিত্যক্ত হাদীস বর্ণনাকারী (মাতরুকুল হাদীস), বরং তার ওপর হাদীস জাল করার অপবাদও দেওয়া হয়েছে, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

২ - আওযাঈ থেকে এই হাদীসটি বর্ণনায় তালহার একক হয়ে যাওয়া এই বর্ণনার অসারতাকে নিশ্চিত করে। কেননা আওযাঈ ছিলেন তাঁর সময়ের সিরিয়াবাসীদের ইমাম; তাহলে আওযাঈর অন্যান্য ছাত্ররা কোথায় যে তারা তাঁর থেকে এই বর্ণনাটি বর্ণনা করেননি!

ইবনে রজব বলেন: ((আওযাঈর ছাত্ররা: ...)) (১), এরপর তিনি আওযাঈর ছাত্রদের সম্পর্কে হাদীস সমালোচকদের মতামত উল্লেখ করেছেন। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন: আব্দুল হামীদ বিন আবিল ইশরীন, ইয়াযীদ বিন সামত, সালামাহ বিন আইয়্যার, ওয়ালীদ বিন মুসলিম, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, ওয়ালীদ বিন মাযীদ এবং আবু ইসহাক আল-ফাযারী।

ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইবনে আদী তালহার জীবনবৃত্তান্তে এই সনদে একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন, এরপর তিনি বলেছেন: ((এই সনদে বর্ণিত এই হাদীসটি বাতিল, এবং এই সনদে আরও হাদীস রয়েছে))।

আমি (লেখক) বলি: আমাদের আলোচ্য হাদীসটিও সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা এই সনদে বর্ণিত।

ইবনুল জাওযী বলেন: ((তালহা বিন যায়েদ এটি একাকী বর্ণনা করেছে। বুখারী বলেছেন: সে মুনকারুল হাদীস (অস্বীকৃত হাদীস বর্ণনাকারী), এবং নাসাঈ বলেছেন: সে মাতরুকুল হাদীস (পরিত্যক্ত হাদীস বর্ণনাকারী))) (২)।

আনাস বিন মালিকের হাদীসটির ওপর আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো এটি সহীহ নয় এবং সমর্থনমূলক ও অনুগামী বর্ণনা হিসেবেও এর ওপর নির্ভর করা যাবে না। কেননা প্রথম সূত্রটির কোনো ভিত্তি নেই এবং দ্বিতীয়টি বাতিল; আর এই উভয় সূত্রের ত্রুটিগুলো ইতিপূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) শারহু ইলালিত তিরমিযী (২/ ৭৩০)।

(২) আল-মাওদুআত (৩/ ২২, নং ১২২৮)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المبحثُ الثاني

تخريجُ حَدِيث الْبَرَاء بنِ عازب رضي الله عنه والحُكْمُ عليهِ
.

رُوي الحَدِيث عن الْبَرَاء بنِ عازب مِنْ طريقين:

1 - طريقُ يحيى بنِ إسحاق بنِ عبد الله بن أبي طلحة عن البراء بن عازب مرفوعاً.

2 - طريقُ إسحاق بنِ عبد الله بن أبي طلحة - والد يحيى -، عن البراء بن عازب مرفوعاً.

1 - تخريجُ الطريقين:

- الطريقُ الأوَّلُ: يحيى بنُ إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة عن البراء بن عازب مرفوعاً، أخرجه:

- ابنُ أبي شيبة في مسنده (1) - كما في المطالب العالية (11/ 879) - قَالَ: حَدَّثنَا معاوية بن هشام.

- وابنُ أبي حَاتم في المراسيل (ص 245) قَالَ: حَدَّثنَا محمد بن خلف العسقلانيّ، قَالَ: أخبرنا الفريابي.

كلاهما عن عُمَر بن رَاشِد اليمامي عن يحيى بن (2)

إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة

--------------------------------------------

(1) ولم أقف عليه في القطعة المطبوعة من المسند، وهي ناقصة.

(2) كذا وقع في المصدرين (يحيى بن إسحاق) وقد عنون ابن أبي حاتم في المراسيل لهذا بقوله: ((يحيى بن إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة))، وساق الحَدِيث في ترجمته، ووقع في إتحاف الخيرة للبوصيري (7/ 431) " يحيى بن إسحاق عن عبد الله بن أبي طلحة"

تنبيهٌ: قام محقق المطالب العالية بتغيير " يحيى بن إسحاق" إلى " يحيى عن إسحاق" وَقَالَ - في الهامش -: ((تصحفت في جميع النسخ إلى "بن" فصارت " يحيى بن إسحاق بن عبد الله "، وما أثبته الصحيح من المعجم الأوسط للطبراني، وكتب الرجال)).

 

كذا قَالَ - وفقه الله - وما أثبته غير صحيح بل الصحيح ما اتفقت عليه جميعُ النسخ، وأيد ذلكَ رواية ابن أبي حاتم في المراسيل وعنوانه عليه، ورواية الطبراني روايةٌ أخرى - يأتي تخريجها -، ويأتي أنّ عُمَر بن رَاشِد - وهو متفق على ضعفه - يضطرب فيه فتارةً يرويه عن يحيى بن إسحاق عن البراء، وتارةً: عن يحيى بن أبي كثير عن إسحاق بن عبد الله عن البراء.

وأنبه هنا أنَّ وظيفةَ الباحث الأولى إثبات النّص سليماً كما أراده مؤلفه، فعلى الباحث أنْ يتحرى في ذلك غاية التحري، ويراعي قواعد التحقيق السليمة، فالأصل أن ينسخ المخطوط كما هُوَ، وينبه في الهامش على ما يلاحظ في نص الكتاب، إذْ إنه يحتمل أنّ ما يلاحظ صواب ولكن لم يتبين للباحث، وغير الباحث يجد مخرجاً ووجها لذلك.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

বারা বিন আজেব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের তাখরিজ এবং এর ওপর হুকুম
.

বারা বিন আজেব থেকে হাদিসটি দুটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে:

১ - ইয়াহইয়া বিন ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা-র সূত্র, যা বারা বিন আজেব থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত।

২ - ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা - যিনি ইয়াহইয়ার পিতা - তাঁর সূত্র, যা বারা বিন আজেব থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত।

১ - সূত্র দুটির তাখরিজ:

- প্রথম সূত্র: ইয়াহইয়া বিন ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা, বারা বিন আজেব থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এটি সংকলন করেছেন:

- ইবনে আবি শাইবা তাঁর মুসনাদে (১) - যেমনটি আল-মাতালিবুল আলিয়া (১১/ ৮৭৯) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে - তিনি বলেছেন: মুয়াবিয়া বিন হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

- এবং ইবনে আবি হাতিম আল-মরাসিল (পৃ. ২৪৫) গ্রন্থে বলেছেন: মুহাম্মদ বিন খালাফ আল-আসকালানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আল-ফিরইয়াবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।

তাঁরা উভয়েই উমর বিন রাশিদ আল-য়ামামি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন (২)

ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মুসনাদ-এর মুদ্রিত অংশে আমি এটি খুঁজে পাইনি, আর ওই অংশটি অসম্পূর্ণ।

(২) উভয় উৎসে এভাবেই (ইয়াহইয়া বিন ইসহাক) এসেছে। ইবনে আবি হাতিম আল-মরাসিল গ্রন্থে এর শিরোনাম দিয়েছেন এভাবে: ((ইয়াহইয়া বিন ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা)), এবং তাঁর জীবনী আলোচনায় হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। আল-বুসিরি-র ইত্তিহাফুল খাইরাহ (৭/ ৪৩১) গ্রন্থে "ইয়াহইয়া বিন ইসহাক, আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে" এভাবে এসেছে।

সতর্কবার্তা: আল-মাতালিবুল আলিয়া-র মুহাক্কিক "ইয়াহইয়া বিন ইসহাক"-কে পরিবর্তন করে "ইয়াহইয়া, ইসহাক থেকে" করেছেন এবং টিকায় বলেছেন: ((সকল পাণ্ডুলিপিতে এটি বর্ণ বিপর্যয়ের কারণে "বিন" হয়ে গেছে এবং "ইয়াহইয়া বিন ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ" হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর আমি যা সাব্যস্ত করেছি সেটিই তাবারানির আল-মু'জামুল আওসাত এবং রিজাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহ অনুযায়ী সঠিক।))

 

তিনি - আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দিন - এমনটিই বলেছেন। তবে তিনি যা সাব্যস্ত করেছেন তা সঠিক নয়, বরং সঠিক সেটিই যেটির ওপর সকল পাণ্ডুলিপি একমত হয়েছে। ইবনে আবি হাতিম-এর আল-মরাসিল-এর বর্ণনা এবং এর ওপর তাঁর দেওয়া শিরোনাম একে সমর্থন করে। আর তাবারানির বর্ণনাটি ভিন্ন একটি বর্ণনা - যার তাখরিজ সামনে আসবে। আরও বিষয় হলো, উমর বিন রাশিদ - যার দুর্বলতার ব্যাপারে সকলে একমত - তিনি এই বর্ণনায় অস্থিরতা (ইদতিরাব) সৃষ্টি করেন; কখনো তিনি ইয়াহইয়া বিন ইসহাক থেকে, তিনি বারা থেকে বর্ণনা করেন, আবার কখনো ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির থেকে, তিনি ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি বারা থেকে বর্ণনা করেন।

আমি এখানে সতর্ক করছি যে, একজন গবেষকের প্রথম কাজ হলো মূল পাঠকে লেখক যেভাবে চেয়েছিলেন সেভাবে নির্ভুলভাবে সাব্যস্ত করা। অতএব, গবেষকের উচিত এই বিষয়ে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা এবং তাহকিকের সঠিক নিয়মাবলি অনুসরণ করা। মূল নিয়ম হলো পাণ্ডুলিপি যেভাবে আছে সেভাবেই নকল করা এবং গ্রন্থের পাঠে যা পরিলক্ষিত হয় সে বিষয়ে টিকায় সতর্ক করে দেওয়া। কারণ, যা পরিলক্ষিত হচ্ছে তা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে কিন্তু গবেষকের কাছে তা স্পষ্ট হয় না, অথচ অন্য কেউ তার কোনো সমাধান বা দিক খুঁজে পেতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ২৭)
عن البراء بن عازب عن النبي صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((الرّبَا اثنان وسبعون بابا، أدناها مثل إتيان الرجُل أمه وأربا الرّبَا استطالة الرجُل في عرض أخيه)).

قَالَ ابن أبي حاتم: ((فسمعتُ أبي رحمه الله يقول: هو مرسل، لم يدرك يحيى ولا إسحاق البراء بن عازب)).

- الطريق الثاني: طريق إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة، عن البراء بن عازب عن النبي صلى الله عليه وسلم، أخرجه:

الطبرانيُّ في المعجم الأوسط (8/ 73 - 74 رقم 7147) قَالَ: حَدَّثنَا محمد بن عبد الرحيم الديباجيُّ، قَالَ: حَدَّثنَا عثمان بن أبي شيبة، قَالَ: حَدَّثنَا معاوية بن هشام، قَالَ: حَدَّثنَا عُمَر بن رَاشِد عن يحيى بن
বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সুদ বাহাত্তর প্রকার, যার ক্ষুদ্রতম স্তর হলো কোনো ব্যক্তির নিজ মায়ের সাথে ব্যভিচার করার সমতুল্য এবং সুদের মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো কোনো ব্যক্তির তার ভাইয়ের সম্মানের ওপর হস্তক্ষেপ করা।"

ইবনু আবি হাতিম বলেন: "আমি আমার পিতাকে (রহিমাহুল্লাহ) বলতে শুনেছি: এটি মুরসাল, ইয়াহইয়া কিংবা ইসহাক কেউই বারা ইবনে আযিবের সাক্ষাৎ পাননি।"

- দ্বিতীয় সূত্র: ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহার সূত্র, বারা ইবনে আযিব থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, এটি উদ্ধৃত করেছেন:

তাবারানি আল-মু'জামুল আওসাতে (৮/৭৩-৭৪, নম্বর ৭১৪৭); তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহিম আদ-দিবাজি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উসমান বিন আবি শায়বা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুয়াবিয়া বিন হিশাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উমর বিন রাশিদ বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন... থেকে।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ২৮)
أبي كثير، عن إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة، عن البراء بن عازب مرفوعاً: ((الرّبَا اثنان وسبعون باباً، أدناها …)).

وَقَالَ: ((لم يرو هذا الحَدِيث عن يحيى بن أبي كثير إلاّ عُمَر بن رَاشِد، ولا رَوَاهُ عَنْ عُمَر بنِ رَاشِد إلاّ معاوية بن هشام، ولا يُرْوى عن البراء إلاّ بهذا الإسناد)).

وَقَالَ ابن أبي حاتم: ((وسَأَلْتُ أَبِي عَنْ حَدِيث رَوَاهُ الفِرْيابِيُّ، عَنْ عُمَر بنِ رَاشِد، عَنْ يَحْيَى بنِ إِسْحَاقَ بن (1) عَبْد الله بنِ أَبِي طَلْحة، عَنْ الْبَرَاء، عَنْ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "الرّبَا اثنان وسَبْعُون (2)، أدناها مِثْلَ إتيان الرجُل أُمَّهُ"، قَالَ أَبِي: هُوَ مُرْسل، لَمْ يُدْرِكْ يَحْيَى بنُ إِسْحَاق الْبَرَاء، وَلا أَدْرَكَ والدُهُ الْبَرَاء)) (3).

2 - دراسةُ رجال الإسناد:

1 - إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة الأنصاريُّ النّجاريّ المدنيّ، متفق على توثيقه، قَالَ ابن سعد: ((كان مالك لا يقدم عليه في الحَدِيث أحداً .. وكان ثقة كثير الحَدِيث))، روى له الجماعة، مات سنة أربع وثلاثين ومائة (4).

2 - يحيى بن إسحاق هو: ابن عبد الله بن أبي طلحة، وثقه ابن معين، والذهبيّ، وابن حجر، وذكره ابن حبان في الثقات، ولم يسمع من

--------------------------------------------

(1) في المطبوع - وهي نسخة لا يعتمد عليها لكثرة الأخطاء والتصحيفات - (عن) وهو خطأ، وفي ثلاث نسخ خطية جيدة (بن).

(2) في المطبوع (بابا) وليست في جميع النسخ الخطية!.

(3) العلل (1/ 381 رقم 1136).

(4) انظر: الطبقات (القسم المتمم: ص 288 - 289)، تهذيب الكمال (2/ 444 - 446)، التقريب (ص 101 رقم 367).
আবু কাসির থেকে, তিনি ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে, তিনি বারা বিন আযিব থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: ((সুদের বাহাত্তরটি দরজা রয়েছে, যার নিম্নতমটি হলো …))।

এবং তিনি বলেছেন: ((ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির থেকে ওমর বিন রাশিদ ছাড়া অন্য কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি, আর ওমর বিন রাশিদ থেকে মুয়াবিয়া বিন হিশাম ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি, এবং এই সনদ ছাড়া বারা থেকে এটি বর্ণিত হয়নি))।

এবং ইবনে আবি হাতেম বলেন: ((আমি আমার পিতাকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যা ফিরইয়াবি, ওমর বিন রাশিদ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন ইসহাক বিন (১) আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে, তিনি বারা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "সুদের বাহাত্তরটি (২) রয়েছে, যার নিম্নতমটি হলো কোনো ব্যক্তির তার মায়ের সাথে ব্যভিচার করার মতো", আমার পিতা বললেন: এটি মুরসাল, ইয়াহইয়া বিন ইসহাক বারা-কে পাননি, এবং তার পিতাও বারা-কে পাননি)) (৩)।

২ - সনদের বর্ণনাকারীদের পরিচিতি:

১ - ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা আল-আনসারি আন-নাজ্জারি আল-মাদানি; তাঁর বিশ্বস্ততার ব্যাপারে সকলে একমত। ইবনে সাদ বলেন: ((মালিক হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর কাউকে প্রাধান্য দিতেন না... তিনি বিশ্বস্ত এবং অনেক হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন।)), ছয় কিতাবের ইমামগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি একশত চৌত্রিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৪)।

২ - ইয়াহইয়া বিন ইসহাক হলেন: ইবনে আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা। ইবনে মাইন, যাহাবি এবং ইবনে হাজার তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন। তিনি শ্রবণ করেননি [থেকে]

--------------------------------------------

(১) মুদ্রিত কপিতে—যা ভুলভ্রান্তি ও লিপিক্রমের প্রাচুর্যের কারণে নির্ভরযোগ্য নয়—সেখানে রয়েছে (থেকে), যা ভুল; তবে তিনটি ভালো পাণ্ডুলিপিতে (বিন) রয়েছে।

(২) মুদ্রিত কপিতে (দরজা) শব্দটি আছে, তবে তা সকল পাণ্ডুলিপিতে নেই!।

(৩) আল-ইলাল (১/ ৩৮১, নম্বর ১১৩৬)।

(৪) দেখুন: আত-তাবাকাত (পরিপূরক অংশ: পৃষ্ঠা ২৮৮ - ২৮৯), তাহজিবুল কামাল (২/ ৪৪৪ - ৪৪৬), আত-তাকরিব (পৃষ্ঠা ১০১, নম্বর ৩৬৭)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ২৯)
البراء، روى له أبو داود (1).

3 - يحيى بن أبي كثير تقدمت ترجمته (2)،وهو: متفقٌ على توثيقه، وكان يرسل.

- وعمر بن رَاشِد هو: أبو حفص اليَمَامي، ضعيف، وخاصةً عن يحيى بن أبي كثير، قَالَ أحمد: ((لا يساوي حديثه شيئاً)) (3)، وقال أيضاً: ((حديثه ضعيف ليس بمستقيم، حدَّث عن يحيى بن أبي كثير بأحاديث مناكير)) (4)، وقال ابن معين: ((ليس بشيء)) (5)، وفي رواية: ((ضعيف)) (6)، وقَالَ البخاريُّ: ((يضطرب في حديثه عن يحيى)) (7)، وَقَالَ ابن حبان: ((كان من يروي الأشياء الموضوعات عن ثقات أئمة، لا يحل ذكره في الكتب إلاّ على سبيل القدح فيه، ولا كتابة حديثه إلاّ على جهة التعجب)) (8).

وقالَ ابنُ عَديّ - بعدما ساق عدداً من منكراته عن يحيى بن أبي كثير وغيره -: ((ولعمر بن رَاشِد غير ما ذكرت من الحديث وعامة حديثه وخاصة عن يحيى بن أبي كثير لا يوافقه الثقات عليه، وينفرد عن يحيى بأحاديثٍ عِدادٍ، وهو إلى الضعف أقرب منه إلى الصدق)) (9).

--------------------------------------------

(1) انظر: المراسيل (ص 245)، الجرح (9/ 125 رقم 530)، الثقات (7/ 593)، تهذيب الكمال (31/ 194 - 195)، الكاشف (3/ 249)، جامع التحصيل (ص 296 - 297)، التقريب (ص 587 رقم 7498).

(2) ص: 22 من هذا البحث.

(3) أحوال الرجال (ص 121)، الكامل (5/ 15).

(4) الجرح (6/ 107 - 108 رقم 567).

(5) تاريخ الدوري (4/ 345)، الضعفاء للعقيلي (3/ 157).

(6) المرجع السابق.

(7) التاريخ الكبير (6/ 155).

(8) المجروحين (2/ 83 - 84).

(9) الكامل (5/ 16).
আল-বারা, তার থেকে আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (১)।

৩ - ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির, তার জীবনী পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে (২), আর তিনি: তার নির্ভরযোগ্যতার ওপর ঐক্যমত রয়েছে, তবে তিনি মুরসাল বর্ণনা করতেন।

- আর উমর বিন রাশিদ হলেন: আবু হাফস আল-ইয়ামামী, তিনি দুর্বল, বিশেষ করে ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসিরের সূত্রে, আহমাদ বলেছেন: ((তার হাদিসের কোনো মূল্য নেই)) (৩), তিনি আরও বলেছেন: ((তার হাদিস দুর্বল ও সঠিক নয়, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসিরের সূত্রে অনেক মুনকার (অস্বাভাবিক) হাদিস বর্ণনা করেছেন)) (৪), ইবনে মাইন বলেছেন: ((তিনি কিছুই নন)) (৫), অন্য বর্ণনায়: ((দুর্বল)) (৬), বুখারি বলেছেন: ((ইয়াহইয়ার সূত্রে তার হাদিস বর্ণনায় অস্থিরতা (ইজতিরাব) রয়েছে)) (৭), ইবনে হিব্বান বলেছেন: ((তিনি বিশ্বস্ত ইমামগণের সূত্রে জাল বিষয়াবলী বর্ণনা করতেন, কিতাবসমূহে তার সমালোচনা করা ব্যতীত তাকে উল্লেখ করা বৈধ নয় এবং বিষ্ময় প্রকাশের উদ্দেশ্য ছাড়া তার হাদিস লিখে রাখা যাবে না)) (৮)।

ইবনে আদি — ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত তার বেশ কিছু মুনকার হাদিস উল্লেখ করার পর — বলেছেন: ((উমর বিন রাশিদের আমি যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়াও আরও হাদিস রয়েছে, তার অধিকাংশ হাদিস এবং বিশেষভাবে ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসিরের সূত্রে বর্ণিত হাদিসগুলোতে বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীগণ তার সাথে একমত হননি। তিনি ইয়াহইয়ার সূত্রে বেশ কিছু হাদিস একাকী বর্ণনা করেছেন, আর তিনি সত্যবাদিতার চেয়ে দুর্বলতারই বেশি নিকটবর্তী)) (৯)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মারাসিল (পৃষ্ঠা ২৪৫), আল-জারহ (৯/১২৫, নং ৫৩০), আস-সিকাত (৭/৫৯৩), তাহযিবুল কামাল (৩১/১৯৪-১৯৫), আল-কাশিফ (৩/২৪৯), জামিউত তাহসিল (পৃষ্ঠা ২৯৬-২৯৭), আত-তাক্রিব (পৃষ্ঠা ৫৮৭, নং ৭৪৯৮)।

(২) পৃষ্ঠা: ২২, এই গবেষণা থেকে।

(৩) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা ১২১), আল-কামিল (৫/১৫)।

(৪) আল-জারহ (৬/১০৭-১০৮, নং ৫৬৭)।

(৫) তারিখুদ্দুরি (৪/৩৪৫), আদ-দুয়াফা লিল-উকায়লি (৩/১৫৭)।

(৬) পূর্বোক্ত সূত্র।

(৭) আত-তারিখুল কাবির (৬/১৫৫)।

(৮) আল-মাজরুহিন (২/৮৩-৮৪)।

(৯) আল-কামিল (৫/১৬)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَقَالَ العجليّ وحده: ((لا بأس به)) (1)، وهذا تساهل من العجليّ، ومن تتبع كلام العجلي على الرجالِ وَجَدَ لهذا نظائر مما يخالف فيه جميع النقاد أو يوثق من لا يعرف، فعنده توسع في باب التوثيق وقد نبه على ذلك المعلميُّ فقَالَ: ((سعيد لا يروي عنه إلا ابنه، ولم يوثقه إلاّ العجلي وابنُ حبان، وقاعدة ابن حبان معروفة، وقد استقرأتُ كثيراً من توثيق العجليّ، فبان لي أنه نحو من ابن حبان)) (2).

وَقَالَ أيضاً: ((وتوثيق العجلي وجدته بالاستقراء، كتوثيق ابن حبان أو أوسع)) (3). روى له الترمذيُّ حديثاً واحداً، وابن ماجه حديثين (4).

3 - دراسةُ الإسناد والحكم عليه:

هذا الإسناد ضعيفٌ جداً:

1 - فعُمَرُ بنُ رَاشِد متفقٌ عَلى ضعفهِ، وخاصةً عن يحيى بن أبي كثير كما تقدم، ويضطرب في هذا الحَدِيث على أوجه:

--------------------------------------------

(1) معرفة الثقات (2/ 165 رقم 1340).

(2) الفوائد المجموعة (ص 22) هامش.

(3) الأنوار الكاشفة (ص 70)، ومن أمثلة ذلك أيضاً هؤلاء الرواة الذين قواهم العجلي خلافاً لبقية النقاد:

1. كثير بن إسماعيل ويقال بن نافع النواء أبو إسماعيل التيمي، تهذيب التهذيب (8/ 367).

2. الفضل بن مبشر الأنصاري، تهذيب التهذيب (8/ 256).

3. فرقد بن يعقوب السبخي، تهذيب التهذيب (8/ 236).

4. عيسى بن سنان الحنفي أبو سنان القسملي، تهذيب التهذيب (8/ 189)

5. علي بن زيد بن جدعان، تهذيب التهذيب (7/ 283).

6. أصبغ بن نباتة، تهذيب التهذيب (1/ 316).

7. عمارة بن حديد. الميزان (5/ 211)، معرفة الثقات (2/ 162).

وغيرهم.

(4) انظر: الضعفاء الكبير (3/ 175 - 185)، الكامل (5/ 15 - 17)، تهذيب الكمال (21/ 340 - 343).
আর কেবল আল-ইজলি একাকী বলেছেন: ((তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই)) (১), এবং এটি আল-ইজলির পক্ষ থেকে একটি শিথিলতা। আর যে ব্যক্তি রাবীদের ব্যাপারে আল-ইজলির বক্তব্য অনুসরণ করবে, সে এর এমন কিছু নজির খুঁজে পাবে যাতে তিনি সমস্ত সমালোচকদের বিরোধিতা করেন অথবা এমন কাউকে নির্ভরযোগ্য বলেন যিনি পরিচিত নন। নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তার মাঝে প্রশস্ততা রয়েছে এবং আল-মুয়াল্লিমি সে বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন: ((সাঈদ—তার থেকে কেবল তার ছেলে ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি, আর আল-ইজলি ও ইবনে হিব্বান ছাড়া অন্য কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেননি। ইবনে হিব্বানের মূলনীতি তো জানাই আছে। আমি আল-ইজলির অনেক তাওসিক (নির্ভরযোগ্য বলা) অনুসন্ধান করেছি, ফলে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে তা ইবনে হিব্বানের পদ্ধতির কাছাকাছি)) (২)।

তিনি আরও বলেছেন: ((অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমি আল-ইজলির তাওসিককে ইবনে হিব্বানের তাওসিকের মতো বা তার চেয়েও প্রশস্ত পেয়েছি)) (৩)। তিরমিযী তার থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে মাজাহ দুটি হাদিস (৪)।

৩ - সনদ পর্যালোচনা ও তার ওপর হুকুম:

এই সনদটি অত্যন্ত দুর্বল:

১ - উমর বিন রাশিদ—তার দুর্বলতার বিষয়ে সকলে একমত, বিশেষ করে ইয়াহইয়া বিন আবি কাসীরের সূত্রে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, আর তিনি এই হাদিসটি বর্ণনায় বিভিন্নভাবে ওলটপালট (ইযতিরাব) করেছেন:

--------------------------------------------

(১) মা’রিফাতুস সিকাত (২/ ১৬৫, নম্বর ১৩৪০)।

(২) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআ (পৃষ্ঠা ২২) টীকা।

(৩) আল-আনওয়ারুল কাশিফাহ (পৃষ্ঠা ৭০)। এর আরও কিছু উদাহরণ হলো সেই সব রাবী যাদেরকে আল-ইজলি অন্যান্য সমালোচকদের বিপরীতে শক্তিশালী বলেছেন:

১. কাসীর বিন ইসমাইল, তাকে ইবনে নাফি আন-নাওয়া আবু ইসমাইল আত-তাইমীও বলা হয়, তাহযীবুত তাহযীব (৮/ ৩৬৭)।

২. ফাযল বিন মুবাশশির আল-আনসারী, তাহযীবুত তাহযীব (৮/ ২৫৬)।

৩. ফারকাদ বিন ইয়াকুব আস-সাবখি, তাহযীবুত তাহযীব (৮/ ২৩৬)।

৪. ঈসা বিন সিনান আল-হানাফি আবু সিনান আল-কাসমালী, তাহযীবুত তাহযীব (৮/ ১৮৯)।

৫. আলী বিন যায়েদ বিন জুদআন, তাহযীবুত তাহযীব (৭/ ২৮৩)।

৬. আসবাগ বিন নুবাতাহ, তাহযীবুত তাহযীব (১/ ৩১৬)।

৭. উমারাহ বিন হাদীদ। আল-মীযান (৫/ ২১১), মা’রিফাতুস সিকাত (২/ ১৬২)।

এবং অন্যান্যরা।

(৪) দেখুন: আদ-দুয়াফাউল কাবীর (৩/ ১৭৫ - ১৮৫), আল-কামিল (৫/ ১৫ - ১৭), তাহযীবুল কামাল (২১/ ৩৪০ - ৩৪৩)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ৩১)
الأوَّل: يرويه عن يحيى بن إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة عن البراء بن عازب عن النبي مرفوعاً، وتقدم تخريجه.

الثاني: يرويه عن يحيى بن أبي كثير، عن إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة، عن البراء بن عازب مرفوعاً، وتقدم تخريجه

الثالث: يرويه عن يحيى بن أبي كثير، عن رجلٍ من الأنصار مرفوعاً، أخرجه عبد الرزاق في المصنف (8/ 314 رقم 15345) كتاب البيوع، باب ما جاء في الرّبَا، قَالَ: أخبرنا عُمَر بن رَاشِد، عن يحيى بن أبي كثير، عن رجلٍ من الأنصار قَالَ: قَالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((الرّبَا أحد وسبعون، أو قَالَ: ثلاثة وسبعون حوباً، أدناها …)).

2 - والاضطرابُ المتقدمُ ذكرُهُ علةٌ أخرى للحديث يزدادُ به وهناً، ويؤكد نكارة رواية عُمَر عن يحيى بن أبي كثير.

3 - تفرد عُمَر بالحديث عن يحيى بن أبي كثير دليل على شدة نكارة هذه الرواية فأين أصحابُ يحيى بنِ أبي كثير - وهو الإمام المشهور الذي عُني المحدثون بجمعِ حَدِيثهِ - عن هذا الحديث المرفوع!.

قال ابنُ رَجَب: ((أصحابُ يحيى بنِ أبي كثير ..)) (1).ثم ذكر أقوال النقاد في بيان وعدّ أصحاب يحيى فممن ذُكِرَ منْ أصحاب يحيى المقدمين: هشام الدستوائي، وأبان العطار، والأوزاعي، وهمام بن يحيى، وحجاج الصواف، وحسين المعلم، وشيبان النحوي، وحرب بن شداد، ومعاوية بن سلام، وعلي بن المبارك وغيرهم فأين هؤلاء عن هذا الحديث المرفوع حتى يتفرد به راو متفق على ضعفه.

--------------------------------------------

(1) شرح علل الترمذي (2/ 677)، وانظر: تاريخ دمشق (59/ 41).
প্রথম: তিনি এটি বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা থেকে, তিনি বারা ইবনে আযিব থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফু হিসেবে, এবং এর তাখরিজ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয়: তিনি এটি বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা থেকে, তিনি বারা ইবনে আযিব থেকে মারফু হিসেবে, এবং এর তাখরিজ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃতীয়: তিনি এটি বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আনসারদের জনৈক ব্যক্তি থেকে মারফু হিসেবে। আব্দুর রাজ্জাক এটি আল-মুসান্নাফ (৮/৩১৪, নং ১৫৩৪৫) গ্রন্থে 'কিতাবুল বুয়ু' (ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়), 'সুদ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ'-এ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: উমর ইবনে রাশিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি জনৈক আনসারী ব্যক্তি থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((সুদ হলো একাত্তর অথবা তিনি বলেছেন তিয়াত্তরটি পাপের সমষ্টি, যার সর্বনিম্ন পর্যায় হলো …))।

২ - পূর্বে উল্লিখিত ইজতিরাব (অসংগতি) হাদীসটির জন্য অপর একটি ত্রুটি যা এর দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে দেয় এবং ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে উমরের বর্ণনার অগ্রহণযোগ্যতাকে (নাকারাত) সুনিশ্চিত করে।

৩ - ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে এই হাদীস বর্ণনায় উমরের একাকী হওয়া এই বর্ণনার তীব্র অগ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ। ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসিরের ছাত্ররা — যিনি এমন একজন প্রসিদ্ধ ইমাম যাঁর হাদীস সংগ্রহের ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ বিশেষ যত্ন নিয়েছেন — তাঁরা এই মারফু হাদীসটি থেকে কোথায় ছিলেন!

ইবনে রজব বলেন: ((ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসিরের ছাত্রগণ ..)) (১)। অতঃপর তিনি ইয়াহইয়ার ছাত্রদের পরিচয় ও সংখ্যা বর্ণনায় সমালোচকদের উক্তি উল্লেখ করেছেন। ইয়াহইয়ার অগ্রগণ্য ছাত্রদের মধ্যে যাদের উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন: হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ী, আবান আল-আত্তার, আওযায়ী, হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া, হাজ্জাজ আস-সাউওয়াফ, হুসাইন আল-মুআল্লিম, শায়বান আন-নাহবী, হারব ইবনে শাদ্দাদ, মুয়াবিয়া ইবনে সালাম, আলী ইবনুল মুবারক এবং আরও অনেকে। এই মারফু হাদীসটি বর্ণনায় তাঁরা কোথায় ছিলেন যে, এমন একজন বর্ণনাকারী এতে একক হয়ে গেলেন যার দুর্বলতার বিষয়ে সকলে একমত!

--------------------------------------------

(১) শরহু ইলালিত তিরমিযী (২/ ৬৭৭), এবং দেখুন: তারিখু দামিশক (৫৯/ ৪১)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ৩২)
4 - وفي السند أيضاً انقطاعٌ بين يحيى بن إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة والبراء بن عازب، وكذلك والده إسحاق لم يدرك البراء كما بين ذلك أبو حاتم.

ومما تقدم يعلم أنَّ:

- قول المنذريّ: ((وعن البراء بن عازب رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم: الرّبَا اثنان … رَوَاهُ الطبرانيُّ في الأوسط من رواية عُمَر بن رَاشِد وقد وثق)) (1).

فيه تساهل فعمر بن رَاشِد اتفق الأئمة على ضعفه - عدا العجلي -، وخاصةً عن يحيى بن أبي كثير، وهو في هذا الحَدِيث يضطرب، ولم يذكرا الانقطاع الذي في الإسناد.

وضعف الشيخُ الألباني حَدِيثَ البراء بعينه - وإنْ كان الشيخ يرى أنّ الحديثَ صحيحٌ بمجموعِ طرقهِ - فقال - بعدما خرّج الحديث -: ((قلتُ: وهو ضعيف، عمر بن راشد قال الحافظ في التقريب: ضعيف، ومعاوية بن هشام صدوق له أوهام …)) (2).

قلتُ: ولم يذكر الشيخ بقية العلل المتقدم ذكرها، والتي تدل بمجموعها على أنّ الحديث ضعيفٌ جداً لا يصلح للشواهد والمتابعات.

--------------------------------------------

(1) الترغيب والترهيب (3/ 6).

(2) السلسلة الصحيحة (4/ 488 رقم 1871).
৪ - এবং সনদে (বর্ণনাসূত্রে) ইয়াহইয়া ইবনে ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা এবং বারা ইবনে আযিব-এর মাঝে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। তদ্রূপ তাঁর পিতা ইসহাকও বারা-কে পাননি, যেমনটি আবু হাতিম স্পষ্ট করেছেন।

আর যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তা থেকে জানা যায় যে:

- মুনযিরীর উক্তি: ((বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: সুদ হলো দুই প্রকার... এটি তাবারানী ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে ওমর ইবনে রাশিদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তাকে বিশ্বস্ত বলা হয়েছে)) (১)।

এতে শিথিলতা রয়েছে; কেননা ওমর ইবনে রাশিদ-এর দুর্বলতার ব্যাপারে ইমামগণ একমত হয়েছেন - ইজলী ব্যতীত - বিশেষ করে ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে। আর তিনি এই হাদিসে অস্থিরতা সৃষ্টি করেন, এবং তাঁরা সনদের বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি উল্লেখ করেননি।

এবং শায়খ আলবানী বারা-এর এই হাদিসটিকে সুনির্দিষ্টভাবে দুর্বল বলেছেন - যদিও শায়খ মনে করেন যে সবকটি সূত্রের সমন্বয়ে হাদিসটি সহীহ - তিনি হাদিসটি যাচাই করার পর বলেছেন: ((আমি বলছি: এটি দুর্বল। ওমর ইবনে রাশিদ সম্পর্কে হাফেজ (ইবনে হাজার) ‘আত-তাকরীব’ গ্রন্থে বলেছেন: দুর্বল। আর মুআবিয়া ইবনে হিশাম সত্যবাদী কিন্তু তাঁর কিছু ভুলভ্রান্তি রয়েছে...)) (২)।

আমি বলছি: শায়খ পূর্বে বর্ণিত অবশিষ্ট ত্রুটিগুলো উল্লেখ করেননি, যা সামগ্রিকভাবে একথারই প্রমাণ দেয় যে হাদিসটি অত্যন্ত দুর্বল এবং এটি সাক্ষী বা সমর্থক বর্ণনার স্তরেরও নয়।

--------------------------------------------

(১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব (৩/ ৬)।

(২) আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ (৪/ ৪৮৮ নম্বর ১৮৭১)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু তাযিমির রিবা আলায যিনা «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌المبحثُ الثالثُ

تخريجُ حَدِيث عبدِ الله بنِ سَلَام رضي الله عنه والحُكْمُ عليهِ
.

رُوي الحَدِيث عن عبدِ الله بنِ سَلَام من عدة طُرُق:

1 - طريق عطاء الخراساني، عَنْ عبد الله بن سَلَام مرفوعاً.

2 - طريقُ عطاء بن يسار، عَنْ عبد الله بن سَلَام موقوفاً عليه.

3 - طريق أبي سلمة، عَنْ عبدِ الله بنِ سَلَام موقوفاً عليه.

الطريقُ الأوَّلُ: طريقُ عَطاء الخراساني، عَنْ عبد الله بن سَلَام مرفوعاً، أخرجه:

الطبرانيُّ في المعجمِ الكبير (171 - 172 رقم 411 - القطعة من الجزء 13) قَالَ: حَدَّثنَا المقدام بنُ داود، قَالَ: حَدَّثنَا أبو الأسود النضر بن عبد الجبار، قَالَ: حَدَّثنَا ابن لهيعة، عَنْ أبي عيسى الخراساني سليمان بن كيسان، عَنْ عطاء الخراساني، عَنْ عبد الله بن سَلَام، عَنْ رسول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ:

((الدّرهمُ يُصيبهُ الرجُل من الرّبَا أعظمُ عِنْدَ اللهِ من ثلاثة وثلاثين زَنْية يزنيها في الإسلام)).

وعن رسول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((إنّ أبوابَ الرّبَا اثنان وسبعون حوباً، أدناه كالذي يأتي أمه في الإسلام)).

• رجال الإسناد:

1 - عطاء الخراساني هو: ابن أبي مسلم أبو عثمان الخراساني،
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের তাখরিজ এবং এর হুকুম
.

আবদুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে হাদিসটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে:

১ - আতা আল-খুরাসানির সূত্র, যা আবদুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত।

২ - আতা ইবনে ইয়াসারের সূত্র, যা আবদুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত।

৩ - আবু সালামার সূত্র, যা আবদুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত।

প্রথম সূত্র: আতা আল-খুরাসানির সূত্র, যা আবদুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, এটি বর্ণনা করেছেন:

তাবারানি তাঁর ‘আল-মুজামুল কাবির’-এ (১৭১ - ১৭২, নং ৪১১ - ১৩তম খণ্ডের অংশ) বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মিকদাম ইবনে দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল আসওয়াদ আন-নাদর ইবনে আবদিল জাব্বার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবনে লাহিয়াহ, আবু ঈসা আল-খুরাসানি সুলাইমান ইবনে কাইসান থেকে, তিনি আতা আল-খুরাসানি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে, তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:

((একজন ব্যক্তি সুদের মাধ্যমে যে দিরহাম লাভ করে, তা আল্লাহর নিকট ইসলামে তেত্রিশ বার ব্যভিচার করার চেয়েও গুরুতর।))

এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: ((নিশ্চয়ই সুদের বাহাত্তরটি পাপের স্তর রয়েছে, যার নিম্নতম স্তর হলো ইসলামে নিজের মায়ের সাথে ব্যভিচার করার সমতুল্য।))

• সনদের বর্ণনাকারীগণ:

১ - আতা আল-খুরাসানি হলেন: ইবনে আবি মুসলিম আবু উসমান আল-খুরাসানি,