(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: -)
الشعلة في شيوخ الخطيب في الرحلة القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الشعلة في شيوخ الخطيب في الرحلة
مطبوع مع: «الرحلة في طلب الحديث» للخطيب البغدادي
المؤلف: أبو أويس الكردي
الناشر: مكتبة ابن تيمية، القاهرة - مصر
الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م
عدد الصفحات: 59
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 رمضان 1445
সফরে আল-খাতিবের উস্তাদদের পরিচিতি সংক্রান্ত আলোকবর্তিকা বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস
বই: সফরের বর্ণনায় আল-খাতিবের উস্তাদদের পরিচিতি সংক্রান্ত আলোকবর্তিকা
যার সাথে মুদ্রিত: «আল-খাতিব আল-বাগদাদীর ‘হাদিস অন্বেষণে সফর’»
লেখক: আবু উয়াইস আল-কুর্দি
প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনি তাইমিয়া, কায়রো - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১২ রমজান ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وسلم وبعد: فمنهجي في «الشعلة في شيوخ الخطيب في الرحلة» يتمثل في النقاط التالية:
1 - ذكر الكنية والاسم والنسبة.
2 - ضبط ما يشكل من النسبة.
3 - ذكر من وثقه أو جرحه مع حذف المكرر من المتأخر غالباً إلا إذا أضاف جديداً.
4 - ذكر المولد والوفاة.
5 - ذكرت الأرقام التي وردت بها التراجم في الرحلة.
6 - رتبتها ترتيباً هجائيًّا حتى يسهل الوصول إليها.
* * *
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর, ‘আশ-শু’লাহ ফী শুয়ূখিল খাতীব ফির রিহলাহ’ গ্রন্থে আমার কর্মপদ্ধতি নিম্নোক্ত বিষয়াবলির মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে:
১ - কুনিয়া (উপনাম), নাম এবং নিসবত (বংশ বা অঞ্চল ভিত্তিক পরিচয়) উল্লেখ করা।
২ - নিসবতের ক্ষেত্রে যা উচ্চারণ করা কঠিন বা অস্পষ্ট তা সুস্পষ্ট করা।
৩ - যারা সংশ্লিষ্ট রাবীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন অথবা সমালোচনা করেছেন তাদের বর্ণনা উল্লেখ করা; এক্ষেত্রে পরবর্তী আলেমদের পুনরুক্তিগুলো সাধারণত বর্জন করা হয়েছে, যদি না তারা নতুন কোনো তথ্য যোগ করেন।
৪ - জন্ম ও মৃত্যুর সাল উল্লেখ করা।
৫ - ‘আর-রিহলাহ’ গ্রন্থে জীবনীসমূহ যে সকল নম্বরে বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করেছি।
৬ - আমি এগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি যাতে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়।
* * *
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
حرف الألف
1 - أحمد بن الحسن بن أحمد، أبو بكر الحرشي(1) الحيري(2) النيسابوري الشافعي (3).
قال الذهبي: الإمام العالم المحدث، مسند خراسان، قاضي القضاة
(4).
وقال السمعاني: قاضي نيسابور، فاضل غزير العلم، رحل إلى العراق والحجاز
(5).
وقال ابن عبد الغني: وقال الحافظ أبو طاهر السلفي كان يحيى بن معين
في وقته وعظم قدره
(6).
--------------------------------------------
হরফ আলিফ১ - আহমাদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আহমাদ, আবু বকর আল-হারাশি(১) আল-হায়রি(২) আন-নায়সাবুরি আশ-শাফিয়ি (৩)।
আয-যাহাবি বলেছেন: ইমাম, আলিম, মুহাদ্দিস, খুরাসানের মুসনিদ, প্রধান বিচারপতি
(৪)।
আস-সামআনি বলেছেন: নায়সাবুরের বিচারপতি, বিপুল ইলমের অধিকারী গুণীজন, ইরাক ও হিজাজ সফর করেছেন
(৫)।
ইবনে আবদিল গনি বলেছেন: হাফিজ আবু তাহির আস-সিলাফি বলেছেন যে, তিনি তার সময়ের ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ছিলেন এবং তার মর্যাদা সুমহান ছিল
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
وقال ابن الصلاح: أحد من انتهى إليه علو الإسناد في عصره، وعليه تدور رواية «مسند الشافعي» عن الأصم
(1).
قال الذهبي: ولد في حدود سنة خمس وعشرين وثلاث مئة
(2).
وقال أيضاً: مات الحيرى في شهر رمضان سنة إحدى وعشرين وأربع مئة وله ست وتسعون سنة رحمه الله
(3).
* * *
2 - أحمد بن الحسين بن علي بن عمر بن محمد بن الحسن بن شاذان أبو منصور الحضرمي البيع المعروف بابن السكري (4).
قال الخطيب: كتبنا عنه وكان بعض كتب جده قد ألحق فيه السماع لنفسه بأخرة تسميعاً طريًّا
(5).
قال الخطيب: سألته عن مولده فقال: ولدت في يوم الثامن عشر من ذي الحجة سنة اثنتين وستين وثلاثمائة
(6).
--------------------------------------------
ইবনে আস-সালাহ বলেন: তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে এমন একজন ছিলেন যাঁর কাছে উচ্চস্তরের ইসনাদ শেষ হয়েছিল এবং তাঁর মাধ্যমেই আল-আসাম্ম থেকে বর্ণিত 'মুসনাদ আশ-শাফিঈ'-এর বর্ণনা আবর্তিত হয়
(১).
আয-যাহাবী বলেন: তিনি ৩২৫ হিজরি সালের কাছাকাছি সময়ে জন্মগ্রহণ করেন
(২).
তিনি আরও বলেন: আল-হিরি ৪২১ হিজরি সালের রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর, আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন
(৩).
* * *
২ - আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন উমর বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন শাযান আবু মানসুর আল-হাদরামি আল-বাই', যিনি ইবনুস সুক্কারি নামে পরিচিত (৪).
আল-খতিব বলেন: আমরা তাঁর থেকে হাদিস লিখেছি; তাঁর দাদার কিছু কিতাবে পরবর্তীতে তাঁর নিজের জন্য নতুনভাবে শ্রবণের বিবরণ যুক্ত করা হয়েছিল
(৫).
আল-খতিব বলেন: আমি তাঁকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন: আমি ৩৬২ হিজরি সালের যিলহজ মাসের আঠারোতম দিনে জন্মগ্রহণ করেছি
(৬).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
وقال أيضاً: ومات في يوم الثلاثاء الخامس من المحرم سنة خمسين وأربعمائة، ودفن من الغد في مقبرة باب حرب
(1).
* * *
3 - أحمد بن طلحة بن أحمد بن هارون أبو بكر الواعظ يعرف بابن المنقي (2)(3).
قال الخطيب: كان شيخاً فقيراً ثقة مستوراً سمعنا منه بانتخاب محمد بن أبي الفوارس في جامع المدينة، وكان يسكن شارع العتابيين
(4).
وقال الذهبي: الإمام الواعظ
(5) كان ثقة
(6).
وقال ابن العماد: كان ثقة
(7).
وقال السمعاني: كان شيخاً فقيرًا مستوراً ثقة
(8).
--------------------------------------------
তিনি আরও বলেছেন: তিনি ৪৫০ হিজরি সনের ৫ই মহররম মঙ্গলবার মৃত্যুবরণ করেন এবং পরদিন বাবু হারব কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়
(১).
* * *
৩ - আহমাদ ইবনে তালহা ইবনে আহমাদ ইবনে হারুন আবু বকর আল-ওয়ায়েজ, যিনি ইবনে আল-মুনাক্কি নামে পরিচিত(২)(৩).
আল-খতিব বলেন: তিনি একজন দরিদ্র, নির্ভরযোগ্য এবং সচ্চরিত্র শাইখ ছিলেন। আমরা মুহাম্মাদ ইবনে আবিল ফাওয়ারিসের সংকলন থেকে জামে মাদিনায় তাঁর নিকট হাদিস শ্রবণ করেছি। তিনি আত্তাবিয়্যিন সড়কে বসবাস করতেন
(৪).
আয-যাহাবি বলেন: ইমাম ও ওয়ায়েজ
(৫); তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন
(৬).
ইবনুল ইমাদ বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন
(৭).
আস-সামআনি বলেন: তিনি একজন দরিদ্র, সচ্চরিত্র এবং নির্ভরযোগ্য শাইখ ছিলেন
(৮).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
قال الخطيب: توفي هذا الشيخ ودفن يوم الجمعة الثالث من ذي الحجة سنة عشرين وأربعمائة. وكان دفنه في مقبرة باب حرب
(1).
* * *
4 - أحمد بن عبد الله بن أحمد بن إسحاق بن موسى بن مهران، أبو نعيم، الأصبهاني الصوفي، الأحول سبط محمد بن يوسف البناء الصوفي (2).
قال ابن حجر: أحد الأعلام صدوق تكلم فيه بلا حجة لكن هذه عقوبة مِنْ الله لكلامه في ابن مندة بهوى.
قال الخطيب: رأيت لأبي نعيم أشياء يتساهل فيها، منها: أنه يطلق في الإجازة أخبرنا ولا يبين.
قلت: (ابن حجر): هذا مذهب رآه أبو نعيم وغيره، وهو ضرب من التدليس، وكلام ابن مندة في أبي نعيم فظيع، ما أحب حكايته، ولا أقبل قول كل منهما في الآخر، بل هما عندي مقبولان، لا أعلم لهما ذنبا أكبر من روايتهما الموضوعات، ساكتين عنها.
قرأت بخط يوسف بن أحمد الشيرازي الحافظ، رأيت بخط ابن طاهر المقدسي يقول: أسخن الله عين أبي نعيم يتكلم في أبي عبد الله بن مندة، وقد أجمع الناس على إمامته، ويسكت عن لاحق وقد أجمع الناس على كذبه.
--------------------------------------------
খতিব (আল-বাগদাদি) বলেছেন: এই শাইখ ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে চারশ বিশ হিজরি সনের ৩রা জিলহজ জুমাবার দাফন করা হয়। তাঁর দাফন সম্পন্ন হয় বাবুল হারব নামক কবরস্থানে
(১)।
* * *
৪ - আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন ইসহাক বিন মুসা বিন মেহরান, আবু নুআইম আল-আসফাহানি আস-সুফি, আল-আহওয়াল, মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-বান্না আস-সুফি-র নাতি (২)।
ইবনে হাজার বলেন: তিনি প্রখ্যাত ইমামদের অন্যতম এবং সত্যবাদী; তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুদৃঢ় প্রমাণ ছাড়াই সমালোচনা করা হয়েছে, তবে এটি ইবনে মানদাহ সম্পর্কে প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কথা বলার কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা একটি শাস্তি।
খতিব বলেন: আমি আবু নুআইমের এমন কিছু বিষয় দেখেছি যাতে তিনি শৈথিল্য প্রদর্শন করেছেন; তার মধ্যে একটি হলো: তিনি ইজাজতের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা না করেই 'আখবারানা' (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) শব্দ ব্যবহার করেন।
আমি (ইবনে হাজার) বলছি: এটি এমন একটি মত যা আবু নুআইম ও অন্য অনেকে সঠিক মনে করেছেন, যা এক প্রকার 'তাদলিস' (তথ্য গোপন করা)। আবু নুআইমের ব্যাপারে ইবনে মানদাহর বক্তব্য অত্যন্ত কঠোর, যা আমি উল্লেখ করা পছন্দ করি না এবং আমি তাদের একে অপরের বিরুদ্ধে বলা কথা গ্রহণ করি না; বরং আমার নিকট তারা উভয়েই গ্রহণযোগ্য। জাল হাদিস বর্ণনা করে সে বিষয়ে চুপ থাকার চেয়ে বড় কোনো অপরাধ আমি তাদের ক্ষেত্রে জানি না।
আমি হাফেজ ইউসুফ বিন আহমদ আশ-শিরাজির হস্তলিপিতে পড়েছি যে, তিনি ইবনে তাহির আল-মাকদিসির হস্তলিপিতে দেখেছেন, তিনি বলছেন: আল্লাহ আবু নুআইমের চোখ তপ্ত করুন (তাকে লাঞ্ছিত করুন), তিনি আবু আব্দুল্লাহ বিন মানদাহ সম্পর্কে কথা বলছেন যার ইমামতির বিষয়ে সকলে একমত, অথচ তিনি 'লাহিক' সম্পর্কে নিশ্চুপ যার মিথ্যেবাদী হওয়ার বিষয়ে সকলে একমত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
قلت: كلام الأقران بعضهم في بعض لا يعبأ به ولا سيما إذا لاح لك أنه لعداوة أو لمذهب أو لحسد لا ينجو منه إلا من عصم الله، وما علمت أن عصراً من الإعصار سلم أهله من ذلك سوى النبيين والصديقين، ولو شئت لسردت من ذلك كراريس اللهم {وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ}
(1).
وقال ابن كثير: الحافظ الكبير ذو التصانيف المفيدة الكثيرة الشهيرة
(2).
وقال السيوطي: الحافظ الكبير محدث العصر
… ولد سنة ست وثلاثين وثلاثمائة وأجاز له مشايخ الدنيا وله ست سنين، وتفرد بهم، ورحلت الحفاظ إلى بابه
لعلمه وضبطه وعلو إسناده
(3).
وقال ابن خلكان: الحافظ المشهور صاحب كتاب حلية الأولياء؛ كان من الأعلام المحدثين، وأكابر الحفاظ الثقات، أخذ عن الأفاضل، وأخذوا عنه، وانتفعوا به، وكتابه الحلية من أحسن الكتب
(4).
:
قال الذهبي: مات أبو نعيم الحافظ في العشرين من المحرم سنة ثلاثين وأربع مئة وله أربع وتسعون سنة
(5).
--------------------------------------------
আমি বলছি: সমসাময়িকদের একে অপরের সমালোচনা ধর্তব্য নয়, বিশেষ করে যখন আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, তা শত্রুতা, মাযহাবী পক্ষপাতিত্ব অথবা হিংসার কারণে হচ্ছে—যা থেকে আল্লাহ যাকে রক্ষা করেছেন সে ব্যতীত কেউ রেহাই পায় না। আমি জানি না যে, কোনো একটি যুগও নবী এবং সিদ্দিকগণ ব্যতীত এই ব্যাধি থেকে মুক্ত ছিল। আমি চাইলে এ বিষয়ে অনেকগুলো খাতা (দীর্ঘ তালিকা) পূর্ণ করতে পারতাম। হে আল্লাহ, {এবং আমাদের অন্তরে মুমিনদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের পালনকর্তা, নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু।}
(১).
ইবনে কাসীর বলেন: মহান হাফেজ, বহু উপকারী ও বিখ্যাত গ্রন্থের প্রণেতা
(২).
সুয়ূতী বলেন: মহান হাফেজ, যুগের মুহাদ্দিস
… তিনি তিনশ ছত্রিশ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ছয় বছর বয়সে বিশ্বের প্রখ্যাত শায়খগণ তাকে ইজাজত প্রদান করেন এবং তিনি তাঁদের বর্ণনায় অনন্য ও একক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। হাফেজগণ তাঁর জ্ঞান, প্রখর স্মৃতি ও উচ্চ পর্যায়ের সনদের সন্ধানে তাঁর দ্বারে সফর করতেন
(৩).
ইবনে খাল্লিকান বলেন: প্রসিদ্ধ হাফেজ, 'হিলয়াতুল আউলিয়া' গ্রন্থের লেখক; তিনি বরেণ্য মুহাদ্দিস ও প্রখ্যাত নির্ভরযোগ্য হাফেজদের অন্যতম ছিলেন। তিনি শ্রেষ্ঠ আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁরাও তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন ও উপকৃত হয়েছেন। তাঁর রচিত 'হিলয়াহ' গ্রন্থটি সর্বোত্তম গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত
(৪).
:
যাহাবী বলেন: হাফেজ আবু নুআইম ৪৩০ হিজরীর ২০শে মুহাররম ইন্তেকাল করেন এবং সে সময় তাঁর বয়স হয়েছিল চুরানব্বই বছর
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
* * *
5 - أحمد بن عبد الله بن الحسين بن إسماعيل بن محمد بن إسماعيل بن سعيد بن أبان أبو عبد الله الضَّبِّي المعروف بابن المحاملي (1)(2).
قال الخطيب: كتبنا عنه وكان سماعه صحيحاً في كتب أبي الحسين محمد بن أحمد بن القاسم المحاملي، وأما هو فلم يكن له كتاب.
وآخر ما حدث في أول سنة ثمان وعشرين وأربعمائة ولم يرو بعد ذلك شيئاً؛ لأنه صار أصم لا يسمع ما يقرأ عليه
(3).
وقال السمعاني: كان صحيح السماع، وكانت سماعاته في كتب أبي الحسين محمد بن أحمد بن القاسم المحاملي
(4).
قال الخطيب: يذكر أن مولده في شهر رمضان من سنة ثلاث وأربعين وثلاثمائة
(5).
--------------------------------------------
৫ - আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বিন সাঈদ বিন আবান আবু আব্দুল্লাহ আদ-দাব্বি, যিনি ইবনুল মাহামিলি নামে পরিচিত (১)(২).
আল-খতিব বলেন: আমরা তাঁর থেকে (হাদিস) লিখেছি এবং আবুল হুসাইন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আল-কাসিম আল-মাহামিলির গ্রন্থসমূহে তাঁর শ্রবণ (সামাউ) সঠিক ছিল; তবে তাঁর নিজস্ব কোনো কিতাব ছিল না।
তিনি সর্বশেষ হাদিস বর্ণনা করেছেন চারশত আটাশ হিজরি সনের শুরুতে, এরপর তিনি আর কিছুই বর্ণনা করেননি; কারণ তিনি বধির হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর সামনে যা পাঠ করা হতো তা তিনি শুনতে পেতেন না
(৩)।
আস-সামআনি বলেন: তাঁর শ্রবণ (সামাউ) সঠিক ছিল এবং তাঁর শ্রবণসমূহ ছিল আবুল হুসাইন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আল-কাসিম আল-মাহামিলির গ্রন্থসমূহে
(৪)।
আল-খতিব বলেন: উল্লেখ করা হয় যে, তাঁর জন্ম তিনশত তেতাল্লিশ হিজরি সনের রমজান মাসে
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
وقال الخطيب: مات في ليلة الخميس الرابع والعشرين من شهر ربيع الآخر من سنة تسع وعشرين وأربعمائة، ودفن صبيحة تلك الليلة في مقبرة باب حرب
(1).
* * *
6 - أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد بن مهدي أبو بكر الخطيب البغدادي.قال الذهبي
(2): الإمام الأوحد، العلامة المفتي، الحافظ الناقد، محدث الوقت صاحب التصانيف، وخاتمة الحفاظ.
وكتب الكثير، وتقدم في هذا الشأن، وبَذَّ الأقران، وجمع وصنف وصحح، وعلل وجرح، وعدل وأرخ وأوضح، وصار أحفظ أهل عصره على الإطلاق.
وعمل نيفا وخمسين مصنفا، وانتهى إليه الحفظ، شيعه خلق عظيم، وتصدق بمائتي دينار، وأوقف كتبه، واحترق كثير منها بعده بخمسين سنة.
قال المؤتمن الساجي: ما أخرجت بغداد بعد الدارقطني أحفظ من أبي بكر الخطيب
(3).
وقال أبو علي البرداني: لعل الخطيب لم ير مثل نفسه
(4).
قال أبو إسحاق الشيرازي: هو دارقطني عهدنا
(5).
--------------------------------------------
এবং খতিব বলেন: তিনি চারশ ঊনত্রিশ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের চব্বিশ তারিখ বৃহস্পতিবার রাতে ইন্তেকাল করেন, এবং সেই রাতের ভোরে তাকে বাবু হারব কবরস্থানে দাফন করা হয়
(১).
* * *
৬ - আহমদ ইবনে আলি ইবনে সাবিত ইবনে আহমদ ইবনে মাহদি আবু বকর আল-খতিব আল-বাগদাদি।জাহাবি বলেন
(২): অনন্য ইমাম, বিজ্ঞ মুফতি, হাফেজ ও সমালোচক, সমকালীন মুহাদ্দিস, বহু গ্রন্থের প্রণেতা এবং হাফেজগণের সমাপ্তি।
তিনি প্রচুর লিখেছেন, এই বিষয়ে অগ্রগণ্য হয়েছেন, সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেছেন, সংগ্রহ ও সংকলন করেছেন, সহিহ বর্ণনা করেছেন, ইল্লত বর্ণনা করেছেন, জারহ ও তাদিল করেছেন, ইতিহাস লিখেছেন ও ব্যাখ্যা করেছেন। আর তিনি নিরঙ্কুশভাবে নিজ যুগের শ্রেষ্ঠ হাফেজ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন।
তিনি পঞ্চাশের অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং হিফজের ধারা তার মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়েছে। বিশাল এক জনতা তার জানাযায় শরিক হয়েছিল। তিনি দুইশ দিনার সদকা করেছিলেন এবং তার কিতাবসমূহ ওয়াকফ করেছিলেন, যার অনেকগুলোই তার ইন্তেকালের পঞ্চাশ বছর পর পুড়ে গিয়েছিল।
মুতামান আস-সাজি বলেন: দারা কুতনির পর বাগদাদ আবু বকর আল-খতিবের চেয়ে বড় কোনো হাফেজ বের করেনি
(৩)।
আবু আলি আল-বারদানি বলেন: সম্ভবত খতিব নিজের সমতুল্য কাউকে দেখেননি
(৪)।
আবু ইসহাক আশ-শিরাজি বলেন: তিনি আমাদের যুগের দারা কুতনি
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
قال ابن ماكولا: كان أبو بكر الخطيب آخر الأعيان ممن شاهدناه معرفة وحفظًا وإتقانًا وضبطًا لحديث رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وتفننًا في علله وأسانيده وعلمًا بصحيحه وغريبه وفرده ومنكره ومطروحه. ثم قال: ولم يكن للبغداديين بعد الدارقطني مثله
(1).
قال ابن الجوزي: وكان في الخطيب شيئان:
أحدهما: الجري على عادة عوام المحدثين في الجرح والتعديل فإنهم يجرحون بما ليس بجرح وذلك لقلة فهمهم.
والثاني: التعصب على مذهب أحمد وأصحابه
(2).
قال إسماعيل بن أبي الفضل القومسي: ثلاثة من الحفاظ لا أحبهم لشدة تعصبهم وقلة إنصافهم؛ الحاكم أبو عبد الله، وأبو نعيم الأصبهاني، وأبو بكر الخطيب.
قال ابن الجوزي: لقد صدق إسماعيل
(3).
قال الذهبي: تكلم فيه بعضهم، وهو وأبو نعيم وكثير من علماء المتأخرين لا أعلم لهم ذنباً أكبر من روايتهم الأحاديث الموضوعة في تأليفهم غير محذرين منها، وهذا إثمٌ وجنايةٌ على السنن فالله يعفو عنا وعنهم
(4).
وتدليس الخطيب يأتي إن شاء الله في ترجمة العتيقي.
--------------------------------------------
ইবনে মাকুলা বলেন: আবু বকর আল-খাতিব ছিলেন আমাদের দেখা শেষ প্রধান ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত, যিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের জ্ঞান, মুখস্থ রাখা, নিপুণতা এবং নিখুঁত বর্ণনার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি হাদিসের ত্রুটি (ইলল) ও সনদসমূহ এবং সহিহ, গরিব, ফারদ, মুনকার ও মাতরুহ হাদিস সম্পর্কে গভীর পাণ্ডিত্য রাখতেন। অতপর তিনি বলেন: দারা কুতনির পর বাগদাদবাসীদের মধ্যে তার মতো আর কেউ ছিল না
(১)।
ইবনুল জাওজি বলেন: খাতিবের মধ্যে দুটি বিষয় ছিল:
প্রথমটি: জারহ ও তাদিল (বর্ণনাকারী যাচাই)-এর ক্ষেত্রে সাধারণ মুহাদ্দিসদের নীতি অনুসরণ করা; কেননা তারা এমন বিষয়ের মাধ্যমে দোষারোপ (জারহ) করতেন যা আসলে দোষের নয়, আর এটি তাদের বুঝের ঘাটতির কারণে হতো।
দ্বিতীয়টি: আহমাদ (ইবনে হাম্বল)-এর মাজহাব ও তার অনুসারীদের প্রতি বিদ্বেষ বা গোঁড়ামি
(২)।
ইসমাইল ইবনে আবিল ফজল আল-কাওমাসি বলেন: হাফেজদের মধ্যে তিনজনকে আমি তাদের কঠোর গোঁড়ামি এবং ইনসাফের অভাবের কারণে পছন্দ করি না; তারা হলেন: হাকেম আবু আব্দুল্লাহ, আবু নুআইম আল-আসফাহানি এবং আবু বকর আল-খাতিব।
ইবনুল জাওজি বলেন: ইসমাইল সত্যই বলেছেন
(৩)।
আজ-জাহাবি বলেন: কেউ কেউ তার সমালোচনা করেছেন। আমি তাকে, আবু নুআইম এবং পরবর্তী যুগের অনেক আলেমদের জন্য এমন কোনো বড় গুনাহ জানি না, যা তাদের রচিত কিতাবগুলোতে জাল হাদিস বর্ণনা করা এবং সে সম্পর্কে সতর্ক না করার চেয়ে বড় হতে পারে। এটি সুন্নাহর প্রতি একটি অপরাধ ও অবিচার। আল্লাহ আমাদের এবং তাদের ক্ষমা করুন
(৪)।
খাতিবের 'তাদলিস' সম্পর্কে আলোচনা ইনশাআল্লাহ আল-আতিকির জীবনীতে আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
قال عبد العزيز بن أحمد الكتاني: وكان يذهب إلى مذهب أبي الحسن الأشعري رحمه الله.
قال الذهبي: صدق، فقد صرح الخطيب في أخبار الصفات أنها تمر كما جاءت بلا تأويل
(1).
:
قال الخطيب: ولدت سنة اثنين وتسعين وثلاثمائة، وقيل: إحدى وتسعين. وتوفي سنة أربع مائة وثلاث وستين
(2).
* * *
7 - أحمد بن محمد بن إسماعيل بن أبي درة أبو بكر الحربي المعروف بالسقاء (3).
قال الخطيب: كتبت عنه في جامع المدينة وكان صدوقاً
(4).
قال الخطيب: ومات في ذي الحجة من سنة ست عشرة وأربعمائة
(5).
--------------------------------------------
আবদুল আজিজ বিন আহমদ আল-কাত্তানি বলেছেন: তিনি আবুল হাসান আল-আশআরী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব অনুসরণ করতেন।
আয-যাহাবি বলেছেন: তিনি সত্য বলেছেন, কেননা আল-খাতিব সিফাত বিষয়ক বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রে স্পষ্ট করেছেন যে, সেগুলো কোনো ব্যাখ্যা (তাউয়িল) ছাড়াই যেভাবে এসেছে সেভাবেই অতিক্রম করানো হবে
(১)।
:
আল-খাতিব বলেছেন: আমি তিনশত বিরানব্বই হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেছি, আর বলা হয়েছে: একানব্বই সনে। এবং তিনি চারশত তেষট্টি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন
(২)।
* * *
৭ - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বিন আবি দুররাহ আবু বকর আল-হারবি, আস-সাক্কা নামে পরিচিত (৩)।
আল-খাতিব বলেছেন: আমি শহরের জামে মসজিদে তাঁর নিকট থেকে (হাদিস) লিখেছি এবং তিনি সত্যবাদী ছিলেন
(৪)।
আল-খাতিব বলেছেন: এবং তিনি চারশত ষোল হিজরি সনের যিলহজ মাসে মৃত্যুবরণ করেন
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
8 - أحمد بن محمد بن أحمد بن غالب أبو بكر الخوارزمي(1)، المعروف بالبرقاني (2)(3).
قال الخطيب: كتبنا عنه وكان ثقةً ورعاً متقناً متثبتاً فهماً لم نر في شيوخنا أثبت منه، حافظاً للقرآن عارفاً بالفقة له حظ من علم العربية، كثير الحديث حسن الفهم له والبصيرة فيه، وصنف مسنداً ضمنه ما اشتمل عليه صحيح البخاري ومسلم
… ولم يقطع التصنيف إلى حين وفاته، ومات وهو يجمع حديث مسعر، وكان حريصاً على العلم منصرف الهمة إليه.
وسمعته يوماً يقول لرجل من الفقهاء معروف بالصلاح وقد حضر عنده: ادع الله أن ينزع شهوة الحديث من قلبي فإن حبه قد غلب علي فليس لي اهتمام بالليل والنهار إلا به، أو نحو هذا من القول.
وكنت كثيراً أذاكره بالأحاديث فيكتبها عني ويضمنها جموعه.
قال أبو القاسم الأزهري: البرقاني إمام وإذا مات ذهب هذا الشأن، يعنى: الحديث
…وحدثني محمد بن يحيى الكرماني الفقيه، قال: ما رأيت في أصحاب الحديث أكثر عبادة من البرقاني.
--------------------------------------------
৮ - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন গালিব আবু বকর আল-খাওয়ারিজমি(১), আল-বারকানি নামে পরিচিত (২)(৩).
আল-খতিব বলেন: "আমরা তাঁর নিকট থেকে হাদীস লিখেছি। তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, মুত্তাকী, অত্যন্ত দক্ষ, সুনিশ্চিত ও বিচক্ষণ। আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে তাঁর চেয়ে বেশি সুনিশ্চিত আর কাউকে দেখিনি। তিনি কুরআনের হাফেজ ও ফিকহ শাস্ত্রে বিজ্ঞ ছিলেন এবং আরবি ভাষায় তাঁর গভীর বুৎপত্তি ছিল। তিনি প্রচুর হাদীসের অধিকারী ছিলেন এবং সে বিষয়ে তাঁর উত্তম অনুধাবন ও গভীর অন্তর্দৃষ্টি ছিল। তিনি এমন একটি মুসনাদ সংকলন করেছিলেন যাতে সহীহ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণিত হাদীসগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল... তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গ্রন্থ সংকলন করা থেকে বিরত হননি এবং তিনি মিস’আরের হাদীসগুলো সংকলন করার সময় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইলম অর্জনে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং তাঁর সমস্ত মনোযোগ সেদিকেই নিবদ্ধ ছিল।"
আমি একদিন তাঁকে তাঁর নিকট উপস্থিত নেককার হিসেবে পরিচিত এক ফকিহকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আমার অন্তর থেকে হাদীসের প্রতি এই আসক্তি দূর করে দেন। কারণ এর ভালোবাসা আমার ওপর এমনভাবে প্রবল হয়েছে যে, দিন-রাত এটি ছাড়া আমার আর অন্য কোনো চিন্তা নেই।" অথবা এই জাতীয় কোনো কথা তিনি বলেছিলেন।
আমি প্রায়ই তাঁর সাথে হাদীস নিয়ে আলোচনা করতাম, তখন তিনি আমার কাছ থেকে সেগুলো লিখে নিতেন এবং তাঁর সংকলনগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করতেন।
আবু আল-কাসিম আল-আজহারী বলেন: "বারকানি হলেন একজন ইমাম; তিনি যখন মারা যাবেন, তখন এই শাস্ত্রও (অর্থাৎ হাদীস শাস্ত্র) বিদায় নেবে..."
ফকিহ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-কিরমানি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "হাদীস বিশারদদের মধ্যে আমি বারকানির চেয়ে বেশি ইবাদতকারী আর কাউকে দেখিনি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
حدثنا أبو بكر البرقاني قال: دخلت إسفرايين ومعي ثلاثة دنانير ودرهم واحد، فضاعت الدنانير مني وبقي معي الدرهم حسب، فدفعته إلى بقال وكنت آخذ منه في كل يوم رغيفين وآخذ من بشر بن أحمد جزءًا من حديثه، وأدخل مسجد الجامع فأكتبه وأنصرف بالعشي وقد فرغت منه، فكتبت في مدة شهر ثلاثين جزءاً، ثم نفذ ما كان لي عند البقال، فخرجت عن البلد.
وقال لنا أيضا: كان أبو بكر الإسماعيلي يقرأ لكل واحد ممن يحضره ورقة بلفظه ثم يقرأ عليه وكان يقرأ لي ورقتين، ويقول للحاضرين: إنما أفضله عليكم؛ لأنه فقيه
(1).
وقال الذهبي: الحافظ، الفقيه، الشافعي الإمام شيخ الفقهاء والمحدثين شيخ بغداد صنف التصانيف وخرج على الصحيحين.
وقال أبو محمد الخلال: هو نسيج وحده
(2).
قال أبو الوليد الباجي: هو ثقة حافظ
(3).
وقال السيوطي: البرقاني الإمام الحافظ شيخ الفقهاء والمحدثين
(4).
وقال الشيخ أبو إسحاق: تفقه في حداثته وصنف في الفقه، ثم اشتغل في علم الحديث فصار فيه إماماً
(5).
--------------------------------------------
আবু বকর আল-বারকানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইসফারাইয়িনে প্রবেশ করলাম এবং আমার সাথে তিনটি দিনার ও একটি দিরহাম ছিল। অতঃপর দিনারগুলো আমার কাছ থেকে হারিয়ে গেল এবং কেবল দিরহামটিই আমার কাছে অবশিষ্ট থাকল। আমি সেটি এক মুদির কাছে জমা রাখলাম এবং আমি তার কাছ থেকে প্রতিদিন দুটি করে রুটি নিতাম। আর বিশর বিন আহমাদ থেকে তার হাদিসের এক একটি জুয (অংশ) সংগ্রহ করতাম এবং জামে মসজিদে প্রবেশ করে তা লিখতাম। সন্ধ্যাবেলায় যখন তা লিখে শেষ করতাম তখন সেখান থেকে প্রস্থান করতাম। এভাবে এক মাস সময়ে আমি ত্রিশটি জুয লিখলাম। অতঃপর মুদির কাছে আমার যা পাওনা ছিল তা শেষ হয়ে গেল, তখন আমি শহর থেকে বেরিয়ে পড়লাম।
তিনি আমাদের আরও বলেছেন: আবু বকর আল-ইসমাঈলি তার নিকট উপস্থিত প্রত্যেকের জন্য নিজ কণ্ঠে এক পৃষ্ঠা করে পাঠ করতেন, অতঃপর তা তাকে শোনানো হতো। আর তিনি আমার জন্য দুই পৃষ্ঠা করে পাঠ করতেন এবং উপস্থিতদের বলতেন: আমি তাকে তোমাদের ওপর এজন্যই প্রাধান্য দিচ্ছি কারণ সে একজন ফকিহ
(১)।
আয-যাহাবি বলেছেন: তিনি হাফিয, ফকিহ, শাফেঈ ইমাম, ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণের শায়খ এবং বাগদাদের শায়খ; তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর রীতিতে মুখরাজ গ্রন্থ সংকলন করেছেন।
আবু মুহাম্মদ আল-খাল্লাল বলেছেন: তিনি ছিলেন আপন বৈশিষ্ট্যে অনন্য
(২)।
আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও হাফিয
(৩)।
আস-সুয়ূতি বলেছেন: বারকানি হলেন ইমাম, হাফিয, ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণের শায়খ
(৪)।
শায়খ আবু ইসহাক বলেছেন: তিনি তার যৌবনেই ফিকহ অর্জন করেছিলেন এবং ফিকহ শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। অতঃপর তিনি হাদিস শাস্ত্র নিয়ে ব্যস্ত হন এবং তাতে ইমামে পরিণত হন
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
قال الخطيب: سمعت البرقاني يقول: ولدت في آخر سنة ست وثلاثين وثلاثمائة
(1).
وقال أيضا: مات رحمه الله في يوم الأربعاء أول يوم من رجب سنة خمس وعشرين وأربعمائة، ودفن في بكرة غد وهو يوم الخميس وصلي عليه في جامع المنصور، وحضرت الصلاة عليه
(2).
* * *
9 - أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن منصور أبو الحسن المجهز المعروف بالعتيقي(3) روياني الأصل (4).
قال الخطيب: كتبت عنه وكان صدوقاً
(5).
وسمعت أبا القاسم الأزهري ذكر أبا الحسن العتيقي: فأثنى عليه خيراً ووثقه
(6).
وقال ابن الجوزي: كان صدوقاً
(7).
--------------------------------------------
খতীব বলেন: আমি বারকানীকে বলতে শুনেছি: আমি তিনশ ছত্রিশ হিজরী সালের শেষ দিকে জন্মগ্রহণ করেছি।
(১).
তিনি আরও বলেন: তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) চারশ পঁচিশ হিজরী সালের রজব মাসের প্রথম দিন বুধবার মৃত্যুবরণ করেন এবং পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে দাফন করা হয়। জামে মানসুরে তাঁর জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং আমি তাঁর জানাযায় উপস্থিত ছিলাম।
(২).
* * *
৯ - আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মানসুর আবুল হাসান আল-মুজাহহায, যিনি আল-আতিকী নামে পরিচিত(৩) মূলত রুয়ানের অধিবাসী (৪).
খতীব বলেন: আমি তাঁর নিকট থেকে হাদীস লিখেছি এবং তিনি সত্যবাদী ছিলেন।
(৫).
আমি আবুল কাসিম আল-আযহারীকে আবুল হাসান আল-আতিকীর কথা উল্লেখ করতে শুনেছি; তিনি তাঁর উত্তম প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন।
(৬).
ইবনুল জাওযী বলেন: তিনি সত্যবাদী ছিলেন।
(৭).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
وقال الذهبي: الإمام المحدث الثقة
(1).
وقال ابن كثير: وكان صدوقاً
(2).
وقال ابن حجر: أحد حفاظ بغداد
(3).
وقال ابن العماد: التاجر السفار المحدث
… وجمع وخرج على الصحيحين وكان ثقة فهماً
(4).
وقال السمعاني: كان أحد الثقات المكثرين من الحديث
(5).
قال ابن منظور: وكان ثقة متقناً يفهم ما عنده، وكان الخطيب ربما دلسه وروى
عنه وهو في الحياة، يقول: أخبرني أحمد بن أبي جعفر العتيقي لسكناه في قطيعة بغداد
(6).
وقال أبو بكربن عبد الغني: والخطيب يدلس به يقول: حدثنا أحمد بن أبي جعفرالقطيعي
(7).
--------------------------------------------
আর আয-যাহাবী বলেন: ইমাম, মুহাদ্দিস, নির্ভরযোগ্য
(১)।
আর ইবনে কাসীর বলেন: তিনি অত্যন্ত সত্যবাদী ছিলেন
(২)।
আর ইবনে হাজার বলেন: বাগদাদের হাফেজদের একজন
(৩)।
আর ইবনুল ইমাদ বলেন: ভ্রমণকারী ব্যবসায়ী ও মুহাদ্দিস
... তিনি সংকলন করেছেন এবং সহীহাইন-এর অনুসরণে হাদীস চয়ন করেছেন (তাখরীজ করেছেন), আর তিনি নির্ভরযোগ্য ও প্রজ্ঞাবান ছিলেন
(৪)।
আর আস-সামআনী বলেন: তিনি প্রচুর হাদীস বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন
(৫)।
ইবনে মানযুর বলেন: তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য ও দক্ষ, স্বীয় বর্ণনার ব্যাপারে সম্যক অবগত ছিলেন। আর আল-খতীব হয়তো তাঁর নাম বর্ণনায় ‘তাদলীস’ (পরিচয় গোপন) করতেন এবং বর্ণনা
করতেন তাঁর থেকে যখন তিনি জীবিত ছিলেন; তিনি বলতেন: আহমাদ বিন আবী জাফর আল-আতিকী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, বাগদাদের কুতাইয়া মহল্লায় তাঁর বসবাসের কারণে
(৬)।
আর আবু বকর ইবনে আব্দুল গানী বলেন: আল-খতীব তাঁর ক্ষেত্রে ‘তাদলীস’ করেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন আবী জাফর আল-কুতাইয়ী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
وقال ابن ماكولا: قال لي شيخنا العتيقي: إنه روياني الأصل، خرج على «الصحيحين»، وكان ثقة متقنا، يفهم ما عنده وكان الخطيب ربما دلسه
(1).
:
قال الخطيب: وسألته عن مولده فقال: ولدت صبيحة يوم الخميس التاسع عشرة من المحرم سنة سبع وستين وثلاثمائة.
قلت له: فالعتيقى نسبة إلى أيش؟ فقال: بعض أجدادي كان يسمى عتيقاً فنسبنا إليه
(2).
وقال أيضاً: مات العتيقي سحر يوم الثلاثاء الحادي والعشرين من صفر سنة إحدى وأربعين وأربعمائة.
(3)* * *
--------------------------------------------
ইবনে মাকুলা বলেন: আমাদের শাইখ আল-আতিকী আমাকে বলেছেন: তিনি মূলত রুয়ানি বংশোদ্ভূত, তিনি ‘সহীহাইন’-এর উপর মুস্তাখরাজ সংকলন করেছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য ও নিপুণ ছিলেন এবং নিজের কাছে যা (ইলম) ছিল তা তিনি বুঝতেন। আর আল-খতীব সম্ভবত কখনো কখনো তাঁর নাম গোপন (তাদলীস) করতেন
(১)।
:
আল-খতীব বলেন: আমি তাঁকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আমি তিনশ সাতষট্টি হিজরীর মুহাররম মাসের উনিশ তারিখ বৃহস্পতিবার ভোরে জন্মগ্রহণ করেছি।
আমি তাঁকে বললাম: ‘আল-আতিকী’ নিসবতটি কিসের সাথে সম্পৃক্ত? তিনি বললেন: আমার পূর্বপুরুষদের একজনের নাম ছিল আতিক, তাই আমাদের তাঁর দিকেই সম্বন্ধ করা হয়
(২)।
তিনি আরও বলেন: আল-আতিকী চারশ একচল্লিশ হিজরীর সফর মাসের একুশ তারিখ মঙ্গলবার শেষ রাতে মৃত্যুবরণ করেন।
(৩)* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
حرف الحاء
1 - الحسن بن أحمد بن إبراهيم بن الحسن بن محمد بن شاذان بن حرب بن مهران أبو علي البزاز (1).
قال الخطيب: كتبنا عنه وكان صدوقاً صحيح الكتاب وكان يفهم الكلام على مذهب الأشعري، وكان مشتهراً بشرب النبيذ إلى أن تركه بأخرة.
حدثني محمد بن يحيى الكرماني قال: كنا يوما بحضرة أبي علي بن شاذان فدخل علينا رجل شاب لا يعرفه منا أحد فسلم ثم قال: أيكم أبو علي بن شاذان، فأشرنا له إليه، فقال: أيها الشيخ رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم في المنام فقال لي: سل عن أبي علي بن شاذان، فإذا لقيته فأقرئه مني السلام، ثم انصرف الشاب فبكى أبو علي وقال: ما أعرف لي عملاً أستحق به هذا، اللهم إلا أن يكون صبري على قراءة الحديث علي، وتكرير الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم كلما جاء ذكره
(2).
وقال الذهبي: الإمام الفاضل الصدوق، مسند العراق
… وآخر من روى عن رجل عنه: عبد المنعم بن كليب
(3).
وقال ابن كثير: أحد مشايخ الحديث وكان ثقةً صدوقاً
(4).
--------------------------------------------
বর্ণ 'হা'১ - আল-হাসান বিন আহমদ বিন ইবরাহিম বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন শাযান বিন হারব বিন মিহরান আবু আলি আল-বাজ্জায (১).
আল-খতিব বলেন: আমরা তাঁর থেকে হাদিস লিখেছি, তিনি সত্যবাদী ও নির্ভুল পাণ্ডুলিপির অধিকারী ছিলেন। তিনি আশআরি মাযহাব অনুযায়ী ইলমুল কালাম বুঝতেন। তিনি নাবিয পানের জন্য পরিচিত ছিলেন, অবশেষে জীবনের শেষ দিকে তিনি তা বর্জন করেন।
মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-কিরমানি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন আমরা আবু আলি বিন শাযানের উপস্থিতিতে ছিলাম। এমতাবস্থায় এক যুবক আমাদের কাছে প্রবেশ করল যাকে আমাদের কেউ চিনত না। সে সালাম দিল এবং বলল: আপনাদের মধ্যে আবু আলি বিন শাযান কে? আমরা তাঁর দিকে ইশারা করলাম। তখন সে বলল: হে শাইখ, আমি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি। তিনি আমাকে বলেছেন: আবু আলি বিন শাযান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো, আর যখন তাঁর সাথে তোমার সাক্ষাৎ হবে, তখন তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দিও। তারপর যুবকটি চলে গেল। আবু আলি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন: আমার এমন কোনো আমলের কথা জানা নেই যার মাধ্যমে আমি এর যোগ্য হতে পারি। হে আল্লাহ! তবে সম্ভবত আমার সামনে হাদিস পাঠের সময় আমার ধৈর্য ধারণ এবং যখনই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম এসেছে তখনই বারবার তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করার কারণে এটি হতে পারে।
আয-যাহাবি বলেন: মহিমান্বিত সত্যবাদী ইমাম, ইরাকের মুসনিদ... তাঁর থেকে কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে সর্বশেষ বর্ণনাকারী হলেন: আবদুল মুনইম বিন কুলাইব।
ইবনে কাসির বলেন: হাদিসের অন্যতম শাইখ এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
وقال ابن عساكر: كتبنا عنه وكان صدوقاً صحيح الكتاب وكان يفهم الكلام
على مذهب الأشعري
(1).
وقال: سمعت أبا الحسن بن رزقويه يقول: أبو علي بن شاذان ثقة
(2).
وقال ابن الجوزي: كان ثقة صدوقا
(3).
وقال ابن تغري بردي: إمام محدث مشهور، وكان صالحا ثقة صدوقاً
(4).
وقال الكتاني: كان ثقة يفهم الكلام على مذهب الأشعري وكان مشتهراً بشرب النبيذ إلى أن تركه بآخره
(5).
قال الخطيب: توفي ابن شاذان في ليلة السبت مستهل المحرم من سنة ست وعشرين وأربعمائة بعد صلاة العتمة، ودفن من الغد وهو يوم السبت وقت صلاة العصر في مقبرة باب الدير، وحضرت الصلاة على جنازته
(6).
--------------------------------------------
এবং ইবনে আসাকির বলেছেন: আমরা তাঁর থেকে (হাদিস) লিখেছি, তিনি সত্যবাদী ও সঠিক পাণ্ডুলিপির অধিকারী ছিলেন এবং আশআরি মাযহাব অনুযায়ী কালাম (ধর্মতত্ত্ব) বুঝতেন
(১)।
তিনি আরও বলেছেন: আমি আবুল হাসান বিন রিজকুওয়াইহকে বলতে শুনেছি: আবু আলী বিন শাযান নির্ভরযোগ্য
(২)।
ইবনুল জাওজি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী ছিলেন
(৩)।
ইবনে তাগরি বারদি বলেছেন: তিনি প্রসিদ্ধ ইমাম ও মুহাদ্দিস ছিলেন এবং তিনি নেককার, নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী ছিলেন
(৪)।
কাত্তানি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন এবং আশআরি মাযহাব অনুযায়ী কালাম (ধর্মতত্ত্ব) বুঝতেন। তিনি নাবিয পানের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন, অবশেষে জীবনের শেষ দিকে তা বর্জন করেন
(৫)।
খতিব বলেছেন: ইবনে শাযান চারশত ছাব্বিশ হিজরি সনের মুহাররাম মাসের শুরুতে শনিবার রাতে ইশার নামাজের পর ইন্তেকাল করেন এবং পরের দিন শনিবার আসরের নামাজের সময় বাব উদ-দাইর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়; আমি তাঁর জানাজায় উপস্থিত ছিলাম
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
2 - الحسن بن علي بن محمد بن الحسن بن عبد الله أبو محمد الجوهري (1).
(2)قال الخطيب: كتبنا عنه وكان ثقة أميناً كثير السماع
(3).
وقال الذهبي: مسند العراق، بل مسند الدنيا في عصره
(4).
وقال السمعاني: شيخ ثقة صالح مكثر أمين.
قال الخطيب: سمعته سئل عن مولده فقال: في شعبان من سنة ثلاث وستين وثلاثمائة
(5).
وقال: ومات في ليلة الثلاثاء السابع من ذي القعدة سنة أربع وخمسين وأربعمائة
(6).
* * *
--------------------------------------------
২ - আল-হাসান ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ আবু মুহাম্মাদ আল-জাওহারি (১).
(২)আল-খাতিব বলেন: আমরা তাঁর নিকট থেকে লিখেছি, তিনি বিশ্বস্ত ও আমানতদার ছিলেন এবং তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছিলেন
(৩)।
আয-যাহাবি বলেন: তিনি ছিলেন ইরাকের মুসনাদ (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী), বরং তাঁর যুগের পৃথিবীর মুসনাদ
(৪)।
আস-সামআনি বলেন: তিনি একজন নির্ভরযোগ্য শায়খ, নেককার, অধিক হাদিস বর্ণনাকারী ও আমানতদার।
আল-খাতিব বলেন: আমি তাঁকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি, তিনি বললেন: ৩৬৩ হিজরির শাবান মাসে
(৫)।
তিনি আরও বলেন: তিনি ৪৫৪ হিজরির ৭ই যিলকদ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মৃত্যুবরণ করেন
(৬)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
3 - الحسن بن علي بن محمد أبو علي الوخشي البلخي الحافظ الكبير (1).
(2)قال الذهبي: الشيخ الإمام الحافظ، المحدث الزاهد
(3) رحل وطوّف، وجمع وصنَّف، وعاش ستّاً وثمانين سنة
… وكان ثقةً
(4).
قال ابن حجر: رحّال مكثر
(5).
قال السيوطي: وكان حافظاً كبيراً فاضلاً ثقة، اتهم بالقدر
(6).
قال الصفدي: أحد حفاظ الحديث الأثبات الفضلاء له الرحلة الواسعة من بلده إلى العراق والشام ومصر وسمع الكثير وقرأ بنفسه وانتقى على الحفاظ وكتب بخطه
(7).
وقال ابن النجار: أحد حفاظ الحديث الأثبات
(8).
قال الشيباني: وتوفي سنة إحدى وسبعين
(9).
--------------------------------------------
৩ - আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ আবু আলী আল-ওয়াখশি আল-বালখি আল-হাফিজ আল-কাবির (১).
(২)আয-যাহাবি বলেন: শায়খ ইমাম হাফিজ, মুহাদ্দিস ও দুনিয়াবিমুখ
(৩) তিনি ইলম অন্বেষণে সফর ও দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করেছেন, হাদীস সংগ্রহ ও গ্রন্থ সংকলন করেছেন এবং ছিয়াশি বছর বেঁচে ছিলেন ... এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন
(৪)।
ইবনে হাজার বলেন: তিনি ছিলেন অত্যন্ত ভ্রমণকারী ও প্রচুর বর্ণনা সংগ্রহকারী
(৫)।
আস-সুয়ুতি বলেন: তিনি একজন মহান হাফিজ, ফাজিল ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কদরের (তাকদির অস্বীকারের) অভিযোগ আনা হয়েছিল
(৬)।
আস-সাফাদি বলেন: তিনি হাদিসের নির্ভরযোগ্য ও ফাজিল হাফিজদের অন্যতম। স্বীয় দেশ থেকে ইরাক, সিরিয়া ও মিসর পর্যন্ত তাঁর সুদীর্ঘ সফর ছিল। তিনি প্রচুর শ্রবণ করেছেন, নিজে পাঠ করেছেন, হাফিজদের থেকে হাদিস বাছাই করেছেন এবং নিজ হাতে লিখেছেন
(৭)।
ইবনে আন-নাজ্জার বলেন: হাদিসের নির্ভরযোগ্য হাফিজদের অন্যতম
(৮)।
আশ-শাইবানি বলেন: তিনি একাত্তর হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন
(৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৪৫)
وقال ابن منظور: توفي أبو علي الوخشي سنة ست وخمسين وأربع مئة، وقيل: إن هذا التاريخ وهم
(1).
قال ابن العماد: عاش ستا وثمانين سنة .... وكان من الثقات.
4 - الحسن بن علي بن أحمد بن بشار أبو محمد النيسابوري بالبصرة (2)قال ابن الجزري: مقرئ متصدر
(3).
* * *
5 - الحسن بن محمد بن الحسن بن علي أبو محمد الخلال(4)، وهو الحسن بن أبي طالب (5).
قال الخطيب: كتبنا عنه وكان ثقة، له معرفة وتنبه، وخرج المسند على الصحيحين، وجمع أبواباً وتراجم كثيرة.
(6).
قال السيوطي: الحافظ المفيد الإمام الثقة.
--------------------------------------------
ইবনে মানজুর বলেছেন: আবু আলী আল-ওয়াখশি চারশত ছাপ্পান্ন হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেছেন, এবং বলা হয়েছে: এই তারিখটি একটি বিভ্রম
(১)।
ইবনে আল-ইমাদ বলেছেন: তিনি ছিয়াশি বছর বেঁচে ছিলেন .... এবং তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
৪ - আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে আহমাদ ইবনে বাশশার আবু মুহাম্মদ আন-নাইসাপুরী (বসরায়) (২)ইবনে আল-জাজারি বলেছেন: তিনি ছিলেন একজন অগ্রগণ্য ক্বারী
(৩)।
* * *
৫ - আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আলী আবু মুহাম্মদ আল-খাল্লাল(৪), এবং তিনি আল-হাসান ইবনে আবি তালিব (৫)।
আল-খতিব বলেছেন: আমরা তাঁর থেকে বর্ণনা লিখেছি এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন, তাঁর গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ছিল, তিনি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী মুসনাদ সংকলন করেছেন এবং অনেক অধ্যায় ও জীবনী সংগ্রহ করেছেন।
(৬)।
আস-সুয়ূতী বলেছেন: হাফিজ, প্রাজ্ঞ শিক্ষক, ইমাম এবং অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৪৬)
وقال أيضا: قال الصوري: ما رأت عيناي بعد عبد الغني أحفظ من الخلال.
وقال الخليلي: كان ثقة خرج المسند على الصحيحين
(1).
قال الخطيب: وسألته عن مولده، فقال: في صفر غداة يوم السبت من سنة اثنتين وخمسين وثلاثمائة
(2).
وقال: ومات في ليلة الثلاثاء الخامس والعشرين من جمادى الأولى سنة تسع وثلاثين وأربعمائة، ودفن يوم الثلاثاء في مقبرة باب حرب، حضرت الصلاة عليه في جامع المدينة
(3).
* * *
6 - الحسين بن علي بن عبيد الله بن أحمد بن ثابت بن جعفر بن عبد الكريم أبو الفرج الطناجيري (4).
قال الخطيب: كتبنا عنه وكان ديناً مستوراً ثقةً صدوقاً.
قال الخطيب: وسئل وأنا أسمع عن مولده فقال: ولدت لاثنتي عشرة ليلة
--------------------------------------------
তিনি আরও বলেন: আস-সুরি বলেছেন: আবদুল গনির পর আল-খাল্লালের চেয়ে বড় হাফেজ (স্মৃতিধর) আমার দুই চোখ আর দেখেনি।
আল-খলিলি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন, তিনি সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর আদলে মুসনাদ সংকলন করেছেন
(১)।
আল-খাতিব বলেন: আমি তাকে তার জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বললেন: ৩৫২ হিজরি সালের সফর মাসের শনিবার সকালে
(২)।
তিনি আরও বলেন: তিনি ৪৩৯ হিজরি সালের ২৫শে জুমাদাল উলা মঙ্গলবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন এবং মঙ্গলবার দিনই তাকে বাব হারব কবরস্থানে দাফন করা হয়। আমি শহরের জামে মসজিদে তার জানাজায় উপস্থিত ছিলাম
(৩)।
* * *
৬ - আল-হুসাইন বিন আলি বিন উবাইদুল্লাহ বিন আহমদ বিন সাবিত বিন জাফর বিন আবদুল কারিম আবুল ফারাজ আত-তানাযিরি (৪)।
আল-খাতিব বলেন: আমরা তার থেকে হাদিস লিখেছি; তিনি ধার্মিক, নেককার, নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী ছিলেন।
আল-খাতিব বলেন: আমি শুনছিলাম এমন অবস্থায় তাকে তার জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: আমি (মাসের) বারো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর জন্মগ্রহণ করেছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৪৭)
خلت من ذي الحجة سنة خمسين وثلاثمائة.
قال: ومات في ليلة الثلاثاء ودفن يوم الثلاثاء سلخ ذي القعدة من سنة تسع وثلاثين وأربعمائة.
(1)* * *
7 - الحسين بن عمر بن بُرهان: أبو عبد الله البغدادي الغزال(2) البزاز (3).
قال الخطيب: كتبت عنه وكان شيخاً ثقة صالحاً كثير البكاء عند الذكر
(4).
وقال الذهبي: الشيخ الثقة الصالح كان ثقة صالحاً
(5).
قال أبو سعد السمعاني: ثقة صالح
(6).
قال الخطيب: مات في يوم الخميس، ودفن يوم الجمعة ثالث ذي الحجة من سنة اثنتي عشرة وأربعمائة في مقبرة باب حرب
(7).
* * *
--------------------------------------------
৩৫০ হিজরি সনের জিলহজ মাসের (কিছু দিন) অতিবাহিত হওয়ার পর।
তিনি বলেন: তিনি মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেন এবং ৪৩৯ হিজরি সনের জিলকদ মাসের শেষ দিনে মঙ্গলবার তাকে দাফন করা হয়।
(১)* * *
৭ - আল-হুসাইন বিন উমর বিন বুরহান: আবু আব্দুল্লাহ আল-বাগদাদি আল-গাজ্জাল(২) আল-বাজ্জাজ (৩).
আল-খাতিব বলেন: আমি তাঁর নিকট থেকে (হাদিস) লিখেছি, তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ও নেককার শায়খ ছিলেন এবং জিকিরের সময় প্রচুর কাঁদতেন।
(৪).
আয-যাহাবি বলেন: নির্ভরযোগ্য ও নেককার শায়খ, তিনি নির্ভরযোগ্য ও সৎকর্মশীল ছিলেন।
(৫).
আবু সা’দ আস-সামআনি বলেন: নির্ভরযোগ্য ও নেককার।
(৬).
আল-খাতিব বলেন: তিনি বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন এবং ৪১২ হিজরি সনের ৩রা জিলহজ শুক্রবার তাকে ‘বাব হারব’ কবরস্থানে দাফন করা হয়।
(৭).
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৪৮)
8 - حمزة بن محمد بن طاهر الحافظ المفيد المحدث، أبو طاهر، البغدادي الدقاق (1).
قال الخطيب: كتبنا عنه، وكان صدوقاً فهماً عارفاً يسكن شارع دار الرقيق.
قال البرقاني: ما اجتمعت قط مع أبي طاهر حمزة ففارقته إلا بفائدة علمٍ
(2).
وقال ابن العماد: الحافظ أحد أصحاب الدارقطني كان البرقاني يخضع لمعرفته وعلمه
(3).
قال الخطيب: ولد في شهر ربيع من سنة ست وستين وثلاثمائة
(4).
وقال الخطيب: مات حمزة بن محمد بن طاهر في سحر يوم الأحد السادس من شهر ربيع الآخر سنة أربع وعشرين وأربعمائة، وحضرت الصلاة على جنازته في جامع المدينة، وحضرت دفنه أيضا، ودفن في مقابر باب الشام
(5).
* * *
--------------------------------------------
৮ - হামযা বিন মুহাম্মাদ বিন তাহির আল-হাফিজ আল-মুফিদ আল-মুহাদ্দিস, আবু তাহির, আল-বাগদাদি আদ-দাক্কাক (১).
আল-খতিব বলেন: আমরা তাঁর থেকে (হাদিস) লিখেছি, তিনি ছিলেন সত্যবাদী, বুদ্ধিমান ও অভিজ্ঞ; তিনি দারুর রকিদ সড়কে বসবাস করতেন।
আল-বারকানি বলেন: আবু তাহির হামযার সাথে আমি যখনই একত্রিত হয়েছি, কোনো ইলমি ফায়দা অর্জন করা ব্যতীত আমি তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি
(২)।
ইবনুল ইমাদ বলেন: হাফিজ, আদ-দারাকুতনির অন্যতম সাথী ছিলেন; আল-বারকানি তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতি অনুগত ও বিনম্র ছিলেন
(৩)।
আল-খতিব বলেন: তিনি তিনশ ছেষট্টি হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন
(৪)।
আল-খতিব বলেন: হামযা বিন মুহাম্মাদ বিন তাহির চারশ চব্বিশ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের ছয় তারিখ রবিবার শেষ রাতে মৃত্যুবরণ করেন। আমি জামেউল মদিনায় তাঁর জানাযার নামাজে উপস্থিত ছিলাম এবং তাঁর দাফনেও উপস্থিত ছিলাম। তাঁকে বাবুল শাম কবরস্থানে দাফন করা হয়
(৫)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৪৯)
حرف الراء
1 - رضوان بن محمد بن الحسن بن إبراهيم بن الحسن أبو القاسم الدينوري (1)(2):
قال الخطيب: وقدم بغداد، وكتبنا عنه بها في سنة ثلاث عشرة وأربعمائة، وكتبت عنه أيضا بالدينور في سنة خمس عشرة وأربعمائة، وما علمت من حاله إلا خيراً
(3).
قال الخطيب: وبلغني أنه مات بالدينور في سنة ست وعشرين وأربعمائة
(4).
* * *
--------------------------------------------
রা বর্ণ
১ - রিজওয়ান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন ইবরাহিম বিন আল-হাসান আবুল কাসিম আদ-দীনওয়ারী (১)(২):
আল-খাতীব বলেন: তিনি বাগদাদে এসেছিলেন, এবং আমরা ৪১৩ হিজরীতে সেখানে তাঁর নিকট থেকে (হাদীস) লিখেছি। আমি ৪১৫ হিজরীতে দীনওয়ারেও তাঁর নিকট থেকে লিখেছি। আমি তাঁর অবস্থা সম্পর্কে কল্যাণ ব্যতীত অন্য কিছু জানতাম না।
(৩).
আল-খাতীব বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি ৪২৬ হিজরীতে দীনওয়ারে ইন্তেকাল করেছেন।
(৪).
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৫০)
حرف السين
1 - سعيد بن محمد بن الحسن بن القاسم بن إدريس أبو القاسم المروروذي(1) الإدريسي (2)(3).
قال الذهبي: إمام جامع صور وخطيبها
(4).
قال ابن منظور: توفي سعيد بن محمد الإدريسي بصور سنة تسع وخمسين وأربع مئة
(5).
* * *
--------------------------------------------
সীন বর্ণ
১ - সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনুল কাসিম ইবনে ইদ্রিস আবুল কাসিম আল-মারওয়ারুযী(১) আল-ইদ্রিসী (২)(৩).
যাহাবী বলেন: তিনি সূর শহরের জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব ছিলেন
(৪).
ইবনে মানযুর বলেন: সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-ইদ্রিসী চারশত উনষাট হিজরি সালে সূর শহরে মৃত্যুবরণ করেন
(৫).
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৫১)
حرف العين
1 - العباس بن عمر بن العباس بن محمد بن عبد الملك بن سليمان أبو الحسن يعرف بابن مروان الكلوذاني (1)(2).
قال الخطيب: كتبت عنه وكان خبيث المذهب رافضيًّا، وكان غير ثقة في الحديث، دفع إلي جزءاً ذكر أنه سمعه من عم أبيه عن حميد بن الربيع والحسن بن عرفة، ونحوهما فكتبت منه أوراقاً ثم بدا لي فرددته عليه، وخرقت ما كتبته منه، وكان العباس ادعى في آخر عمره سماعاً من القاضي أبي عبد الله المحاملي، وعمد إلى أحاديث من مناكير الفضائل التي يرويها أبو العباس بن عقدة فركبها على المحاملي، ورواها عنه
(3).
قال الخطيب: مات في شهر رمضان من سنة أربع عشرة وأربعمائة
(4).
2 - عبد الله بن أحمد بن علي أبو القاسم السوذرجاني (5)،
(6).
--------------------------------------------
আইন বর্ণ
১ - আল-আব্বাস ইবনে উমর ইবনুল আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে সুলাইমান আবুল হাসান, যিনি ইবনে মারওয়ান আল-কালওয়াজানি নামে পরিচিত(১)(২).
আল-খাতীব বলেন: আমি তাঁর নিকট থেকে হাদিস লিখেছি, তবে তিনি ছিলেন নিকৃষ্ট মাযহাবের অনুসারী একজন রাফেযী। হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন না। তিনি আমাকে একটি পাণ্ডুলিপি প্রদান করেন এবং দাবি করেন যে, তিনি তা তাঁর বাবার চাচার সূত্রে হুমাইদ ইবনুর রাবী' এবং হাসান ইবনে আরাফাহ ও তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। আমি তা থেকে কিছু পৃষ্ঠা লিখে নিয়েছিলাম, কিন্তু পরবর্তীতে প্রকৃত অবস্থা আমার নিকট স্পষ্ট হলে আমি তা তাঁকে ফেরত দেই এবং যা লিখেছিলাম তা ছিঁড়ে ফেলি। আব্বাস তাঁর জীবনের শেষ দিকে কাজী আবু আব্দুল্লাহ আল-মাহামিলির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণের দাবি করতেন। তিনি আবু আব্বাস ইবনে উকদাহ বর্ণিত ফযীলত বিষয়ক কিছু মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস সংগ্রহ করে সেগুলোকে আল-মাহামিলির নামে চালিয়ে দিতেন এবং তাঁর সূত্রে বর্ণনা করতেন
(৩).
আল-খাতীব বলেন: তিনি চারশত চৌদ্দ হিজরী সনের রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন
(৪).
২ - আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আলী আবুল কাসিম আস-সুজারজানি (৫)،
(৬).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৫২)
قال الخطيب: كان دينا ثقةً صالحاً
(1).
قال الذهبي: كان يحفظ
(2).
قال الذهبي: توفي في جمادى الأولى سنة خمس وعشرين وأربعمائة
(3).
* * *
3 - عبد الله بن أبي بكر أحمد بن إبراهيم بن الحسن بن محمد بن شاذان بن حرب بن مهران أبو محمد الصيرفي (4).
قال الخطيب: كان صدوقا روى شيئاً يسيراً وكتبنا عنه.
قال الخطيب: مات في ليلة الإثنين لثلاث بقين من شعبان سنة ست وعشرين وأربعمائة
(5).
* * *
--------------------------------------------
খতীব বলেন: তিনি ধর্মপ্রাণ, নির্ভরযোগ্য ও নেককার ছিলেন
(১).
যাহাবী বলেন: তিনি (হাদীস) মুখস্থ রাখতেন
(২).
যাহাবী বলেন: তিনি চারশত পঁচিশ হিজরীর জুমাদাল উলা মাসে মৃত্যুবরণ করেন
(৩).
* * *
৩ - আবদুল্লাহ বিন আবি বকর আহমদ বিন ইবরাহীম বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন শাযান বিন হারব বিন মিহরান আবু মুহাম্মাদ আস-সাইরাফী (৪).
খতীব বলেন: তিনি সত্যবাদী ছিলেন, সামান্য কিছু বর্ণনা করেছেন এবং আমরা তাঁর নিকট থেকে লিখেছি।
খতীব বলেন: তিনি চারশত ছাব্বিশ হিজরীর শাবান মাসের তিন দিন অবশিষ্ট থাকতে সোমবার দিবাগত রাতে মৃত্যুবরণ করেন
(৫).
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
4 - عبد الله بن يحيى بن عبد الجبار أبو محمد السكري، يعرف: بابن وجه العجوز (1).
قال الخطيب: كتبنا عنه وكان صدوقاً.
سمعت البرقاني يقول: عبد الله بن يحيى السكري شيخ وحسَّن أمره
(2).
وقال الذهبي: السكري الشيخ المعمر الثقة
(3).
وقال ابن العماد: صدوقاً مشهورًا
(4).
قال الخطيب: مات السكري في يوم الأربعاء ودفن يوم الخميس سلخ صفر من سنة سبع عشرة وأربعمائة
(5).
--------------------------------------------
৪ - আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল জব্বার আবু মুহাম্মদ আস-সুক্কারি, যিনি ইবনে ওয়াজহুল আজুজ নামে পরিচিত(১).
আল-খতিব বলেছেন: আমরা তাঁর থেকে (হাদিস) লিখেছি এবং তিনি সত্যবাদী ছিলেন।
আমি আল-বারকানিকে বলতে শুনেছি: আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া আস-সুক্কারি একজন শায়খ এবং তিনি তাঁর অবস্থাকে উত্তম বলেছেন
(২)।
আয-যাহাবি বলেছেন: আস-সুক্কারি দীর্ঘজীবী নির্ভরযোগ্য শায়খ
(৩)।
ইবনুল ইমাদ বলেছেন: সুপরিচিত সত্যবাদী
(৪)।
আল-খতিব বলেছেন: আস-সুক্কারি চারশ সতেরো হিজরি সনের সফর মাসের শেষ দিন বুধবার মৃত্যুবরণ করেন এবং বৃহস্পতিবার তাঁকে দাফন করা হয়
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শু’লা ফি শুয়ুখিল খাতিব ফির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৫৪)
5 - عبد الرحمن بن عبيد الله بن عبد الله بن محمد بن الحسين بن عبد الله بن إسحاق بن الفرات بن دينار بن مسلم بن أسلم أبو القاسم السمسار المعروف بابن الحربي الحرفي (1)،
(2).
قال الخطيب: من أهل الحربية كتبنا عنه وكان صدوقاً غير أن سماعه في بعض ما رواه عن النجاد كان مضطرباً
(3).
وقال الذهبي: الشيخ المسند العالم، وأملى عدة مجالس
(4).
وقال ابن العماد: أبو القاسم الحرفي عبد الرحمن بن عبيد الحربي المحدث
(5).
قال الخطيب: وسمعته يذكر أن مولده في جمادى الآخرة في اليوم الرابع عشر منه سنة ست وثلاثين وثلاثمائة
(6).
وقال أيضا: مات في يوم السبت السابع من شوال سنة ثلاث وعشرين وأربعمائة، ودفن في مقبرة باب حرب
(7).
* * *
--------------------------------------------
৫ - আবদুর রহমান বিন উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন আবদুল্লাহ বিন ইসহাক বিন আল-ফুরাত বিন দিনার বিন মুসলিম বিন আসলাম আবু আল-কাসিম আল-সামসার, যিনি ইবনুল হারবি আল-হারফি নামে পরিচিত(১),
(২).
আল-খাতিব বলেন: তিনি হারবিয়্যাহ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন, আমরা তাঁর নিকট থেকে হাদিস লিখেছি। তিনি সত্যবাদী ছিলেন, তবে আল-নাজ্জাদ থেকে বর্ণিত তাঁর কিছু বর্ণনায় শ্রবণের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা বিদ্যমান ছিল
(৩).
আল-জাহাবি বলেন: তিনি শায়খ, মুসনিদ, বিজ্ঞ আলেম; তিনি বেশ কিছু মজলিসে হাদিস পাঠ করিয়েছেন
(৪).
ইবনুল ইমাদ বলেন: আবুল কাসিম আল-হারফি আবদুর রহমান বিন উবাইদ আল-হারবি, তিনি একজন মুহাদ্দিস ছিলেন
(৫).
আল-খাতিব বলেন: আমি তাঁকে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, তাঁর জন্ম ৩৩৬ হিজরীর জমাদিউল আখিরা মাসের চৌদ্দ তারিখে
(৬).
তিনি আরও বলেন: তিনি ৪২৩ হিজরীর ৭ই শাওয়াল শনিবার মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে বাবু হারব কবরস্থানে দাফন করা হয়
(৭).
* * *
--------------------------------------------