(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
موسوعة القواعد الفقهية   (محمد صدقي آل بورنو)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: مُوْسُوعَة القَواعِد الفِقْهِيَّة

المؤلف: محمد صدقي بن أحمد بن محمد آل بورنو أبو الحارث الغزي

الناشر: مؤسسة الرسالة، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م

عدد الأجزاء: 12

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 جُمادَى الآخرة 1436

ফিকহী মূলনীতিমালার বিশ্বকোষ   (মুহাম্মদ সিদকী আল বোরনো)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিমালা


গ্রন্থ: ফিকহী মূলনীতিমালার বিশ্বকোষ

লেখক: মুহাম্মদ সিদকী বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল বোরনো আবু আল-হারিস আল-গাজ্জী

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরী - ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১২

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৭ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬

(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
لِأوّل مرَّة في تَارِيخ الفِقهِ الإسلَامي

 

مُوْسُوعَة

القَواعِد الفِقْهِيَّة

 

جَمع وَترتيب وَبَيان

الشيخ الدكتور

محمد صدقي بن أحمَد البُورْنوُ أبو الحَارث الغزِّي عَفَا الله عَنه

الأستاذ المشارك في كليّة الشريعَة وأصُول الِدّين

بالقصيم - بريدَة

 

القِسمُ الثاني

 

حُروف

الباء والتاء والثاء

 

المجلّد الأوّل

 

مكتبة التَّوبَة
ইসলামী ফিকহ-এর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো

 

বিশ্বকোষ

ফিকহী মূলনীতিসমূহ

 

সংকলন, বিন্যাস ও বর্ণনা

শাইখ ডক্টর

মুহাম্মদ সিদকী বিন আহমদ আল-বুরনো আবু আল-হারিস আল-গাজ্জী (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন)

শরীয়াহ ও উসুলুদ্দীন অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক

কাসিম - বুরাইদাহ-তে

 

দ্বিতীয় অংশ

 

বর্ণসমূহ

বা, তা এবং সা

 

প্রথম খণ্ড

 

মাকতাবাতুত তাওবাহ
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة

الطبعة الأولى

1418 هـ/ 1997 م

مكتبة التوبة الرياض - المملكة العربية السعودية - شارع جرير

هاتف 4763421 فاكس 4774862 ص. ب 18290 الرمز 11415
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪১৮ হিজরি/ ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

মাকতাবাতুত তাওবা, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজ্য - জারির সড়ক

ফোন ৪৭৬৩৪২১ ফ্যাক্স ৪৭৭৪৮৬২ পোস্ট বক্স ১৮২৯০ কোড ১১৪১৫
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
موسوعة

القواعد الفقهية
বিশ্বকোষ

ফিকহী মূলনীতিমালা
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
-[مقدمة القسم الثاني]-

الحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات، وبشكر نعمته تزيد النعم وتتكاثر البركات، وبفضله ورحمته ومِنَّته على عباده تعرف الحسنات من السيئات، وتميز الخيرات من الرديَّات، وبكلاءته وحفظه عباده يسلمون من الوقوع في الشبهات أو اقتراف الموبقات، فلله الحمد والمنة والشكر ما دامت الأرضون والسماوات.

وأشهد أن لا إله إلا الله الواحد الأحد الفرد الصمد لم يلد ولم يولد ولم يكن له ند ولا شريك ولا كفؤ ولا مثيل، سبحانه تنزَّه عن الأنداد وتعالى سبحانه عن الأضداد.

وأشهد أن سيدنا ومولانا محمد بن عبد الله رسوله وخليله وصفيه من خلقه أرسله إلى الثَّقلين مبشراً ونذيراً وداعياً إليه بإذنه وسراجاً منيراً، فصلى الله عليه صلاة وسلاماً عدد ما ذكره الذاكرون وغفل عن ذكره الغافلون.

أما بعد:

فهذا هو القسم الثاني من موسوعة القواعد الفقهية أعان الله ووفق لإنجازه، وهو يشتمل على قواعد حروف: الباء والتاء والثاء وعدة قواعده اثنتان وستون وثلاث مئة قاعدة. منها لحرف الباء إحدى ومئة قاعدة، ولحرف التاء خمس وثلاثون ومئتا قاعدة، ولحرف الثاء ست وعشرون قاعدة، أرجو الله مخلصاً أن ينفع به وبسابقه وتاليه وأن يجعله في ميزان حسناتي يوم لا ينفع مال ولا بنون، وقد سرت في تأليفه وجمعه على غرار ما سبق في قواعد القسم الأول - قواعد حرف الهمزة - حيث أعطيت كل قاعدة رقماً يميزها بالنسبة لحرفها - حيث إن قواعد كل حرف مميزة بأرقام تخصها، ثم أذكر لفظ أو ألفاظ ورود القاعدة فما كان من نفس الحرف
[দ্বিতীয় খণ্ডের ভূমিকা]

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে নেক কাজসমূহ পূর্ণতা পায়; যাঁর নিআমতের শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে নিআমত বৃদ্ধি পায় এবং বরকতসমূহ প্রাচুর্য লাভ করে; বান্দাদের প্রতি যাঁর কৃপা, রহমত ও ইহসানের বদৌলতে মন্দ থেকে ভালো কাজগুলো চেনা যায় এবং নিকৃষ্ট বিষয় থেকে কল্যাণকর বিষয়সমূহ পৃথক করা যায়; এবং যাঁর রক্ষণাবেক্ষণ ও হিফাযতের মাধ্যমে বান্দাগণ সংশয়পূর্ণ বিষয়ে পতিত হওয়া অথবা ধ্বংসাত্মক পাপে লিপ্ত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকে। সুতরাং আসমান ও যমীন যতদিন বিদ্যমান থাকবে, আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা, অনুকম্পা ও কৃতজ্ঞতা।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক, অদ্বিতীয়, একক ও অমুখাপেক্ষী; তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, তাঁর কোনো সমকক্ষ, শরীক, সমমর্যাদার কিংবা সাদৃশ্য নেই। তিনি মহান পবিত্র, তিনি সকল প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে মুক্ত এবং সকল প্রতিপক্ষ থেকে সুউচ্চ।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ তাঁর রাসূল, খলীল এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত বান্দা; তিনি তাঁকে জিন ও ইনসানের নিকট সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, তাঁর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর ততবার রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, যতবার স্মরণকারীরা তাঁকে স্মরণ করে এবং বিমুখকারীরা তাঁর স্মরণ থেকে গাফেল থাকে।

অতঃপর:

এটি ফিকহি মূলনীতি বিশ্বকোষের (মাওসুআতুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ) দ্বিতীয় খণ্ড; আল্লাহ এটি সম্পন্ন করতে সাহায্য ও তাওফীক দান করেছেন। এটি ‘বা’, ‘তা’ এবং ‘সা’ বর্ণের মূলনীতিসমূহ ধারণ করে এবং এর মোট মূলনীতির সংখ্যা তিনশ বাষট্টিটি। এর মধ্যে ‘বা’ বর্ণের জন্য একশ একটি, ‘তা’ বর্ণের জন্য দুইশ পঁয়ত্রিশটি এবং ‘সা’ বর্ণের জন্য ছাব্বিশটি মূলনীতি রয়েছে। আমি কায়মনোবাক্যে আল্লাহর নিকট আশা করি যে, তিনি এর দ্বারা এবং এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী খণ্ডগুলোর দ্বারা উপকার সাধন করবেন এবং একে আমার নেক আমলের পাল্লায় সেই দিন জমা করবেন, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না। এর সংকলন ও রচনার ক্ষেত্রে আমি প্রথম খণ্ডের মূলনীতিসমূহের—অর্থাৎ ‘হামজা’ বর্ণের মূলনীতিসমূহের—অনুরূপ পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, যেখানে আমি প্রতিটি মূলনীতিকে তার বর্ণের সাপেক্ষে একটি স্বতন্ত্র নম্বর প্রদান করেছি; যেহেতু প্রতিটি বর্ণের মূলনীতিসমূহ তাদের নিজস্ব নম্বর দ্বারা পৃথক করা হয়েছে। এরপর আমি মূলনীতিটি যে শব্দ বা শব্দাবলির মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করি, যা সংশ্লিষ্ট বর্ণেরই অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
أعطيته رقماً، وما كان من حرف آخر أحيله إلى حرفه، ثم أذكر معنى القاعدة أو القواعد ومدلولها في اللغة وفي الاصطلاح الفقهي، وأذكر بجوار لفظ ورود القاعدة من يسار الصفحة موضوع القاعدة والمصطلح الفقهي لها، ثم أذكر أمثلة للقاعدة ومسائل توضح مدلولها ومضمونها. وإذا وجد في مسألة خلاف بين الأئمة أذكر الخلاف وقد أرجح، وأحيل كل قول إلى مصدره ومرجعه.

وأخيراً أضفت لهذا القسم - في كثير من القواعد - قسماً رابعاً خاصًّا بما يستثنى من القاعدة من بعض المسائل.

هذا وقد أرجعت كل قاعدة إلى مصدرها المأخوذة منه أو إلى مصادرها إذا تعددت سواء كان ذلك بالنص أو المعنى.

وإذا تعددت القواعد ذوات المضمون الواحد فإنني أعطيها كلها رقماً واحداً إذا كان الاختلاف بينها يسيراً، إلا إذا كان هناك خلاف واضح في مفهومي القاعدتين فإني أُعطي كل قاعدة رقماً خاصًّا بها.

وعلى غرار ما سبق أرجعت كل قول إلى مصدره بالجزء والصفحة بعد اسم الكتاب، ورقمت الآيات الواردة ونسبتها إلى سورها، وخرَّجت الأحاديث الواردة ونسبتها إلى مخرجيها باختصار بقدر الوقت والجهد والطاقة، وترجمت للأعلام - الواردة والتي لم تترجم سابقاً - ترجمة مختصرة مقتصرة على اسم المترجَم له ونسبه وكنيته والعلم أو العلوم التي شهر بها وبعض مؤلفاته وسنة وفاته، ولم أذكر من مصادر الترجمة غالباً إلا مصدراً واحداً أو مصدرين، وذلك حتى لا أثقل الحواشي بذكر الكتب المتعددة التي ذكرت العَلَم المترجَم له. وبخاصة والكتاب ليس كتاباً في الرجال والأعلام. وقد ذيلت لهذا القسم بالفهارس العلمية الشاملة.
আমি একে একটি নম্বর দিয়েছি, আর অন্য কোনো অক্ষরের বিষয় হলে তা তার নিজ অক্ষরের দিকে নির্দেশ করেছি। তারপর আমি কায়েদা (নীতি) বা নীতিসমূহের অর্থ এবং এর ভাষাগত ও ফিকহী পারিভাষিক অর্থ উল্লেখ করেছি। পৃষ্ঠার বাম দিকে কায়েদার শব্দের পাশেই আমি কায়েদার বিষয়বস্তু এবং এর ফিকহী পরিভাষা উল্লেখ করেছি। এরপর কায়েদার কিছু উদাহরণ এবং এমন কিছু মাসআলা উল্লেখ করেছি যা এর অর্থ ও সারমর্মকে স্পষ্ট করে। যদি কোনো মাসআলায় ইমামগণের মধ্যে মতভেদ থাকে, তবে আমি সেই মতভেদ উল্লেখ করেছি এবং কখনো কখনো একটি মতকে প্রাধান্য দিয়েছি। আর প্রতিটি বক্তব্যকে তার মূল উৎস ও সূত্রের দিকে নিসবত করেছি।

পরিশেষে, আমি এই অংশে—অধিকাংশ কায়েদার ক্ষেত্রে—একটি চতুর্থ পরিচ্ছেদ যোগ করেছি, যা কায়েদা থেকে ব্যতিক্রম হওয়া কিছু নির্দিষ্ট মাসআলার সাথে সংশ্লিষ্ট।

তদুপরি, আমি প্রতিটি কায়েদাকে তার সংগৃহীত মূল উৎসের দিকে, অথবা একাধিক হলে সেগুলোর দিকে নিসবত করেছি, তা শব্দগত হোক বা ভাবগত।

যদি একই সারমর্ম বিশিষ্ট একাধিক কায়েদা থাকে, তবে সেগুলোর পার্থক্য সামান্য হলে আমি সেগুলোকে একটি নম্বর দিয়েছি। তবে যদি দুটি কায়েদার মূল ধারণার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকে, তবে আমি প্রতিটি কায়েদাকে স্বতন্ত্র নম্বর দিয়েছি।

পূর্বের ধারার অনুকরণেই আমি প্রতিটি বক্তব্যকে তার মূল উৎসের দিকে গ্রন্থের নামের পর খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ উল্লেখ করেছি। বর্ণিত আয়াতসমূহকে আমি নম্বর প্রদান করেছি এবং সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরার দিকে নিসবত করেছি। বর্ণিত হাদীসগুলোর তাখরীজ করেছি এবং সময়, শ্রম ও সামর্থ্য অনুযায়ী সংক্ষেপে সেগুলোকে সেগুলোর সংকলকদের দিকে নিসবত করেছি। উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের—যাঁদের জীবনী আগে আলোচিত হয়নি—সংক্ষিপ্ত জীবনী উল্লেখ করেছি, যা কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, বংশপরিচয়, উপনাম, যে বিদ্যায় তিনি প্রসিদ্ধ এবং তাঁর কিছু গ্রন্থ ও মৃত্যুসালের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি। জীবনী বর্ণনার ক্ষেত্রে সাধারণত একটি বা দুটি উৎসের বেশি উল্লেখ করিনি, যাতে করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে এমন অসংখ্য কিতাবের নাম উল্লেখের মাধ্যমে পাদটীকা ভারাক্রান্ত না হয়। বিশেষ করে যেহেতু এই গ্রন্থটি কোনো রিজাল বা জীবনীগ্রন্থ নয়। পরিশেষে এই অংশের শেষে আমি বিস্তারিত জ্ঞানগর্ভ সূচিপত্র যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
هذا جهدي أقدمه ليُستفاد منه فإن أصبت فيه فلله الحمد والمنة والفضل والثناء الجميل فهو بتوفيقه وتأييده وتسديده، وإن كانت الأخرى فلا أعتذر عن ذلك فهو جهد بشري قاصر لا يخلو عن خطأ أو زلل، فمن وجد صواباً فليحمد الله وليدعو لمؤلفه بالمغفرة والرحمة في الدنيا والآخرة، ومن وجد خطأ فليصوبه وليعذر، وليغفر قليل خطأ المرء في كثير صوابه، فكلنا خطَّاؤون، وأعوذ بالله أن أصرَّ على خطأ تبيَّن صوابه أو أصوِّب خطأ تحقق وجوده. وأحرج على كل مَن قرأ كتاباً من كتبي - هذا أو غيره - فوجد خطأ إلا نبهني إليه وإلى صوابه وله مني جزيل الشكر وعظيم الامتنان ويكون متفضلاً بذكر ذلك.

وأقول كما قال الفاروق أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه وأرضاه - رحم الله امرءاً أهدى إليَّ عيوبي.

والحمد لله رب العالمين أولاً وآخراً.

المؤلف

الفقير إلى ربه الغني

محمد صدقي بن أحمد بن محمد البورنو

أبو الحارث الغزي
এটি আমার প্রচেষ্টা যা আমি উপকারের উদ্দেশ্যে পেশ করছি। যদি এতে আমি সঠিক হয়ে থাকি, তবে সমস্ত প্রশংসা, অনুগ্রহ, শ্রেষ্ঠত্ব এবং সুন্দর গুণগান একমাত্র আল্লাহরই প্রাপ্য; কেননা এটি তাঁরই তাওফিক, সাহায্য ও সঠিক পথপ্রদর্শনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। আর যদি বিষয়টি অন্যরূপ হয়, তবে আমি সেজন্য ওজর পেশ করছি না, কারণ এটি একটি সীমাবদ্ধ মানবীয় প্রচেষ্টা যা ভুল-ত্রুটি বা স্খলন থেকে মুক্ত নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি এতে সঠিক কিছু পাবে, সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে এবং এর লেখকের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও রহমতের দোয়া করে। আর যে ব্যক্তি কোনো ভুল খুঁজে পাবে, সে যেন তা সংশোধন করে দেয় এবং ক্ষমাশীল দৃষ্টিতে দেখে। আর মানুষের অধিক সঠিক কাজের ভিড়ে তার সামান্য ভুল যেন মার্জনা করা হয়, কারণ আমরা সকলেই ভুলকারী। আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই কোনো ভুল স্পষ্ট হওয়ার পর তাতে অটল থাকা থেকে, অথবা কোনো ভুল সাব্যস্ত হওয়ার পর তা সঠিক বলে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা থেকে। আমার রচিত বইসমূহের মধ্যে এটি বা অন্য যে কোনোটি পাঠ করে যদি কেউ কোনো ভুল পায়, তবে আমি তাকে বিনীতভাবে তাকিদ দিচ্ছি সে যেন আমাকে সেই ভুল ও তার সঠিক রূপ সম্পর্কে অবগত করে। তার প্রতি আমার আন্তরিক শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা থাকবে এবং বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করবেন।

আমি ঠিক তেমনই বলছি যেমনটি আমীরুল মুমিনীন ফারুক ওমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন— "আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন, যে আমার নিকট আমার ত্রুটিগুলো উপহার হিসেবে পেশ করেছে।"

শুরুতে ও শেষে সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

লেখক

তাঁর অভাবমুক্ত রবের প্রতি মুখাপেক্ষী এক নিঃস্ব বান্দা

মুহাম্মদ সিদকী বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-বুরনো

আবু আল-হারিস আল-গাজ্জী
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌القاعدة الأولى [خيار المجلس]

‌‌أولاً: لفظ ورود القاعدة:

البائع والمبتاع بالخيار حتى يتفرقا، إلا أن تكون صفقة خيار، ولا يحل له أن يفارقه خشية أن يستقيله. عن ابن عمر متفق عليه بغير هذا اللفظ (1).

وفي رواية: حتى يتفرقا عن مكانهما.

وقد ورد الحديث بألفاظ أخرى مقاربة.

 

‌‌تخريج الحديث:

حديث القاعدة من رواية عمرو بن شعيب (2) عن أبيه عن جده رضي الله عنهم. أخرجه أحمد رحمه الله في المسند جـ 2 ص 183. واللفظ له.

كما رواه الخمسة (3) إلا ابن ماجه (4)، ورواه الدارقطني (5)، وابن خزيمة (6)، وابن الجارود (7).

--------------------------------------------

(1) ينظر المنتقى جـ 2 ص 335 فما بعدها الأحاديث من رقم 2880 - 2889.

(2) عمرو بن شعيب بن محمد بن عبد الله بن عمرو بن العاص. صدوق من الخامسة مات سنة 118 هـ، تقريب التهذيب جـ 2 ص 72.

(3) المراد بالخمسة: البخاري، ومسلم، أبو داود، الترمذي، النسائي.

(4) ابن ماجه هو محمد بن يزيد بن ماجه القزويني المتوفى سنة 275 هـ، سير الإعلام جـ 13 ص 277.

(5) الدارقطني: هو علي بن عمر الدارقطني، المتوفى سنة 385 هـ، سير الأعلام جـ 16 ص 449.

(6) ابن خزيمة: إمام الأئمة أبو بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة السلمي النيسابوري، المتوفى سنة 311 هـ، سير الإعلام مختصراً جـ 14/ 265.

(7) ابن الجارود: عبد الحميد بن المنذر بن الجارود العبدي البصري، ذكره ابن حبان في كتاب الثقات، وقال النسائي: ثقة وروى عن أنس بن مالك رضي الله عنه. تهذيب =
‌‌প্রথম নীতি [মজলিসের ইখতিয়ার]

‌‌প্রথমত: নীতিটি যেভাবে বর্ণিত হয়েছে:

বিক্রেতা ও ক্রেতার জন্য (চুক্তি বহাল রাখা বা বাতিলের) ইখতিয়ার থাকবে যতক্ষণ না তারা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তবে শর্তযুক্ত ইখতিয়ারের ক্রয়-বিক্রয় এর ব্যতিক্রম। আর কোনো পক্ষের জন্য তার সঙ্গীকে এই ভয়ে ছেড়ে চলে যাওয়া বৈধ নয় যে, সে হয়তো চুক্তিটি বাতিল করে দিতে চাইবে। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এটি ভিন্ন শব্দে মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত্যভাবে বর্ণিত)।

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: যতক্ষণ না তারা তাদের স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।

হাদিসটি কাছাকাছি আরও কিছু শব্দে বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌হাদিসের তাখরিজ (উৎস):

নীতির এই হাদিসটি আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ এটি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ১৮৩ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি তাঁরই।

তেমনিভাবে ইবনে মাজাহ ব্যতীত 'খামসা' (পাঁচজন ইমাম) এটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও আদ-দারাকুতনি, ইবনে খুজাইমা এবং ইবনুল জারুদ এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন আল-মুন্তাকা, ২য় খণ্ড, ৩৩৫ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী ২৮৮০ - ২৮৮৯ নম্বর হাদিসসমূহ।

(২) আমর ইবনে শুয়াইব ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস। তিনি পঞ্চম স্তরের একজন সত্যবাদী বর্ণনাকারী, ১১৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাকরিবুত তাহজিব, ২য় খণ্ড, ৭২ পৃষ্ঠা।

(৩) 'খামসা' (পাঁচজন) বলতে এখানে বুঝানো হয়েছে: বুখারি, মুসলিম, আবু দাওয়ুদ, তিরমিজি ও নাসায়ি।

(৪) ইবনে মাজাহ হলেন মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ আল-কাযভিনি, মৃত্যু ২৭৫ হিজরি। সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১৩শ খণ্ড, ২৭৭ পৃষ্ঠা।

(৫) আদ-দারাকুতনি: তিনি হলেন আলী ইবনে উমর আদ-দারাকুতনি, মৃত্যু ৩৮৫ হিজরি। সিয়ারুল আলাম, ১৬শ খণ্ড, ৪৪৯ পৃষ্ঠা।

(৬) ইবনে খুজাইমা: ইমামুল আইম্মাহ আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমা আস-সুলামি আন-নাইসাবুরি, মৃত্যু ৩১১ হিজরি। সিয়ারুল আলাম (সংক্ষিপ্ত), ১৪শ খণ্ড, ২৬৫ পৃষ্ঠা।

(৭) ইবনুল জারুদ: আব্দুল হামিদ ইবনুল মুনযির ইবনুল জারুদ আল-আবদি আল-বাসরি। ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং নাসায়ি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য এবং তিনি আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। তাহজিব...
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌ثانياً: معنى حديث القاعدة ومدلوله:

المراد بالخيار في الحديث: خيار المجلس.

الخيار: مصدر من اختار يختار اختياراً، طلب خير الأمرين: إمضاء البيع أو الفسخ.

والمجلس: موضع الجلوس، أي مكان التبايع. المطلع على أبواب المقنع ص 234.

ويفيد الحديث أن البائع والمشتري لكل منهما خيار المجلس، بأنه يجوز لكل واحد منهما - بعد تمام البيع - أن يفسخ العقد ما دام في المجلس - ولو بغير رضا صاحبه - وليس للآخر منعه من ذلك. فأما إذا تفرَّقا فقد تم العقد ولا يجوز لأي منهما فسخه إلا برضا صاحبه. وهي الإقالة.

وقد اختلف الفقهاء في المراد بالمفارقة هل هي المفارقة بالأبدان أو المفارقة بالأقوال، والأرجح عند العلماء المفارقة بالأبدان خاصة إذا ثبت الزيادة بلفظ "عن مكانهما" فلا يبقى للتأويل مجالس. كما قال ابن عبد البر (1) (2).

--------------------------------------------

= الكمال مختصراً جـ 16 ص 460 الترجمة رقم 3729.

(1) ابن عبد البر: أبو عمر يوسف بن عبد الله بن محمد النَمري القرطبي حافظ المغرب صاحب التمهيد وغيره، توفي بشاطبة من أعمال الأندلس سنة 460 هـ، تذكرة الحفاظ جـ 3 ص 1128، الترجمة رقم 1013، وله ترجمة في وفيات الأعيان جـ 6 ص 64، وجذوة المقتبس للحميدي ص 367، وغيرها كثير.

(2) يراجع سبل السلام جـ 3 ص 5 فما بعدها، والمنتقى جـ 3 ص 335 فما بعدها وشرحه نيل الأوطار جـ 6 ص 336.
‌‌দ্বিতীয়ত: মূলনীতির হাদীসের অর্থ ও তাৎপর্য:

হাদীসে খিয়ার (নির্বাচনের অধিকার) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: খিয়ারুল মজলিস (বৈঠককালীন ইখতিয়ার)।

খিয়ার: এটি 'ইখতারা-ইয়াখতারু-ইখতিয়ারান' থেকে উদ্গত একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), যার অর্থ হলো দুটি বিষয়ের মধ্যে উত্তমটি অন্বেষণ করা: ক্রয়-বিক্রয় কার্যকর রাখা অথবা তা বাতিল করা।

এবং মজলিস: বসার স্থান, অর্থাৎ কেনা-বেচার জায়গা। (আল-মুত্বলি' আলা আবওয়াবিল মুকনি', পৃষ্ঠা: ২৩৪)।

হাদীসটি এই মর্মার্থ প্রদান করে যে, বিক্রেতা ও ক্রেতা—উভয়েরই খিয়ারুল মজলিস বা বৈঠককালীন ইখতিয়ার রয়েছে; অর্থাৎ ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হওয়ার পর যতক্ষণ তারা মজলিসে অবস্থান করবে, ততক্ষণ তাদের প্রত্যেকের জন্য—এমনকি অপর পক্ষের সম্মতি ছাড়াও—চুক্তি বাতিল করা বৈধ এবং অপর পক্ষের জন্য তাকে তা থেকে বাধা দেওয়ার অধিকার নেই। তবে তারা যদি একে অপরের থেকে পৃথক হয়ে যায়, তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়ে গেল এবং এখন অপর পক্ষের সন্তুষ্টি ব্যতীত তাদের কারও পক্ষেই তা বাতিল করা বৈধ নয়। আর এটিই হলো 'ইকালা' (চুক্তি রদ)।

ফকীহগণ 'মুফারাযাত' বা পৃথক হওয়ার মর্মার্থ নিয়ে মতপার্থক্য করেছেন যে, তা কি শারীরিকভাবে পৃথক হওয়া নাকি মৌখিকভাবে পৃথক হওয়া? আলেমদের নিকট অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো শারীরিকভাবে পৃথক হওয়া, বিশেষ করে যখন "তাদের স্থান থেকে" শব্দসম্বলিত অতিরিক্ত অংশটি প্রমাণিত হয়েছে, তখন ব্যাখ্যার (তাওয়িল) আর কোনো অবকাশ থাকে না। যেমনটি ইবনে আব্দুল বার (১) (২) বলেছেন।

--------------------------------------------

= আল-কামাল মুখতাসারান, ১৬তম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪৬০, জীবনী নং: ৩৭২৯।

(১) ইবনে আব্দুল বার: আবু উমর ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আন-নামারি আল-কুরতুবি, মাগরিবের হাফিজ, আত-তামহীদ ও অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা; তিনি ৪৬০ হিজরীতে আন্দালুসের শাত্বিবায় মৃত্যুবরণ করেন। (তাযকিরাতুল হুফফায, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১২৮, জীবনী নং: ১০১৩; তাঁর জীবনী আরও দেখুন: ওফায়াতুল আইয়ান, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৬৪; জাযওয়াতুল মুকতাবিস লিল-হুমায়দি, পৃষ্ঠা: ৩৬৭; এবং আরও অনেক)।

(২) দ্রষ্টব্য: সুবুলুস সালাম, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫ ও পরবর্তী; আল-মুনতাকা, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩৩৫ ও পরবর্তী; এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ নাইলুল আওতার, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩৩৬।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌القاعدة الثانية [الربا]

‌‌أولاً: لفظ ورود القاعدة:

باب الربا مبني على الاحتياط (1).

 

‌‌ثانياً: معنى هذه القاعدة ومدلولها:

الربا في اللغة: الفضل والزيادة.

وأما معناه في الشرع: فهو فضل أحد المتجانسين على الآخر من مال بلا عِوَض (2).

والربا نوعان:

1 - ربا الفضل وهو زيادة على رأس المال من جنسه بدون مقابل.

2 - ربا النسيئة: وهو زيادة على الدين من جنسه مقابل تأخير الوفاء.

والاحتياط: هو الأخذ بالثقة، وهو: افتعال من حاطه يحوطه حوطاً، إذا كلأه ورعاه (3).

فمفاد القاعدة: أن باب الربا - والمراد به التعامل بالأموال الربوية - مبناه على الأخذ بالأوثق والأقوى في النفس في البعد عن المحرم، والبناء على الأمر المتيقن، والأمر المتيقن في التعامل بالأموال الربوية هو تحقق المماثلة، فما لم تتحقق المماثلة يقيناً لا يجوز التعامل؛ لأن شرط صحة التعامل بالأموال الربوية هو تحقق المماثلة، والقاعدة: (إن الشك في الشرط مانع من تحقق المشروط) (4).

--------------------------------------------

(1) المبسوط جـ 11 ص 88، جـ 13 ص 123.

(2) أنيس الفقهاء ص 210.

(3) المطلع ص 400.

(4) قواعد الونشريسي - إيضاح المسالك القاعدة العشرون.
দ্বিতীয় নীতিমালা [রিবা বা সুদ]

‌প্রথমত: নীতিমালার শব্দবিন্যাস:

রিবার অধ্যায় সতর্কতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত (১)।

 

‌দ্বিতীয়ত: এই নীতিমালার অর্থ ও তাৎপর্য:

অভিধানে রিবা অর্থ: আধিক্য ও বৃদ্ধি।

আর শরয়ি পরিভাষায় এর অর্থ হলো: কোনো বিনিময় ছাড়াই সমজাতীয় মালের একটিকে অন্যটির ওপর অতিরিক্ত প্রদান করা (২)।

রিবা দুই প্রকার:

১ - রিবাল ফজল: আর তা হলো কোনো বিনিময় বা প্রতিদান ছাড়াই একই জাতীয় মালের ক্ষেত্রে মূল মালের ওপর অতিরিক্ত গ্রহণ করা।

২ - রিবান নাসিয়া: আর তা হলো ঋণ পরিশোধের সময় বিলম্বিত করার বিনিময়ে সমজাতীয় মালের ক্ষেত্রে ঋণের ওপর অতিরিক্ত গ্রহণ করা।

সতর্কতা (ইহতিয়াত): এর অর্থ হলো অধিকতর নির্ভরযোগ্য বিষয়টি গ্রহণ করা। এটি 'হাতাহু ইয়াহুতুহু হাউতান' শব্দমূল থেকে উদ্গত, যার অর্থ হলো কোনো কিছুকে রক্ষণাবেক্ষণ ও যত্ন করা (৩)।

নীতিমালাটির সারমর্ম হলো: রিবার অধ্যায়—যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রিবাজাতীয় সম্পদের লেনদেন—তা হারাম থেকে বেঁচে থাকার জন্য মনের ভেতর অধিকতর নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী দিকটি গ্রহণ করার ওপর এবং সুনিশ্চিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আর রিবাজাতীয় সম্পদের লেনদেনের ক্ষেত্রে সুনিশ্চিত বিষয়টি হলো সমতা নিশ্চিত হওয়া। সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে সমতা অর্জিত না হবে, ততক্ষণ লেনদেন করা বৈধ হবে না; কারণ রিবাজাতীয় সম্পদের লেনদেন শুদ্ধ হওয়ার শর্ত হলো সমতা নিশ্চিত হওয়া। আর একটি প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি হলো: (শর্তের ব্যাপারে সন্দেহ থাকা শর্তযুক্ত বিষয়টি সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক) (৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-মাবসুত, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৮৮; খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ১২৩।

(২) আনিসুল ফুকাহা, পৃষ্ঠা ২১০।

(৩) আল-মুতলি', পৃষ্ঠা ৪০০।

(৪) কাওয়ায়েদুল ওয়ানশারিসি - ইদাহুল মাসালিক, ২০তম নীতিমালা।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌ثالثاً: من أمثلة هذة القاعدة ومسائلها:

بيع الأموال الربوية مجازفة - دون كيل أو وزن - لا يجوز؛ لعدم تحقق المماثلة والشك في حصولها؛ لأن الشك في التماثل يبطل المعاملة؛ ولأن مبنى المعاملات الربوية على الاحتياط.

 

‌‌رابعاً: مما استثني من مسائل هذه القاعدة:

العرايا: جمع عريَّة وهي مبادلة التمر بالرطب على رؤوس النخل مجازفة للحاجة، وقد ثبت إباحتها بالنص (1).

--------------------------------------------

(1) وهو ما رواه زيد بن ثابت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أرخص في بيع العرايا. متفق عليه. ينظر معرفة السنن والآثار جـ 8 ص 98 فما بعدها.
তৃতীয়ত: এই নিয়মের কিছু উদাহরণ ও মাসয়ালা:

রিবাভিত্তিক (সুদি) পণ্যসমূহ পরিমাপ বা ওজন ব্যতিরেকে কেবল অনুমানের ভিত্তিতে কেনাবেচা করা জায়েজ নয়; কারণ এতে সমতা নিশ্চিত হয় না এবং সমতা অর্জিত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ থেকে যায়। যেহেতু সমতার ক্ষেত্রে সন্দেহ লেনদেনকে বাতিল করে দেয়; আর রিবাভিত্তিক লেনদেনের ভিত্তি হলো সতর্কতা (এহতিয়াত)।

 

চতুর্থত: এই নিয়মের মাসয়ালাসমূহ থেকে যা কিছু ব্যতিক্রম:

আল-আরায়া: এটি ‘আরিয়্যাহ’ শব্দের বহুবচন। এটি হলো প্রয়োজনের খাতিরে খেজুর গাছের ওপর থাকা কাঁচা খেজুরকে (শুকনো) খেজুরের বিনিময়ে অনুমানের ভিত্তিতে বিনিময় করা। দলিলের (নস) মাধ্যমে এর বৈধতা প্রমাণিত (১)।

--------------------------------------------

(১) আর তা হলো যা যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরায়া পদ্ধতিতে বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন। এটি বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মতভাবে বর্ণিত (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। দ্রষ্টব্য: মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৯৮ ও পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌القاعدة الثالثة [العقد الباطل]

‌‌أولاً: لفظ ورود القاعدة:

الباطل لا تلحقه الإجازة (1).

وفي لفظ: لا يقبل الإجازة (2).

 

‌‌ثانياً: معنى هذة القاعدة ومدلولها:

الباطل: صفة لموصوف محذوف هو لفظ - العقد -.

والإجازة: معناها الإمضاء. فيقال: أجاز له البيع: أمضاه وأنفذه وسوَّغه (3).

فمفاد القاعدة: أن العقد الباطل - الذي لم يستوف شروط صحته - لا تعمل فيه الإجازة؛ لأنه معدوم، وإنما تعمل الإجازة في العقد المنعقد الموقوف إتمامه على رضا صاحب الحق فيه.

 

‌‌ثالثاً: من أمثلة هذة القاعدة ومسائلها:

إذا باع فضولي جنيناً في بطن بقرة - والبقرة ملك غيره - فالعقد باطل؛ لأن بيع ما في بطون الإناث (4) لا يجوز، حتى لو أجاز العقد

--------------------------------------------

(1) شرح السير الكبير ص 2055.

(2) المدخل الفقهي العام في 539، 694.

(3) القاموس المحيط مادة "جوز".

(4) بيع ما في بطون الأمهات من الأجنَّة نهى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم، ففي حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن شراء ما في بطون الأنعام حتى تضع. الحديث.

أخرجه ابن ماجه والبزار والدارقطني بإسناد ضعيف، سبل السلام جـ 2 ص 508 الحديث رقم 40، وفي حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن بيع المضامين =
‌‌তৃতীয় নীতি [বাতিল চুক্তি]

‌‌প্রথমত: নীতির শব্দগত রূপ:

বাতিল চুক্তিতে অনুমোদন কার্যকর হয় না (১)।

অন্য শব্দে: এটি অনুমোদন গ্রহণ করে না (২)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: এই নীতির অর্থ ও তাৎপর্য:

বাতিল: এটি একটি উহ্য বিশেষ্যের বিশেষণ, যা হলো 'চুক্তি' শব্দটি।

অনুমোদন (আল-ইজাজাহ): এর অর্থ হলো বলবৎ করা। বলা হয়: সে তার জন্য বিক্রয়টি অনুমোদন করেছে; অর্থাৎ সে এটিকে বলবৎ করেছে, কার্যকর করেছে এবং বৈধতা দিয়েছে (৩)।

সুতরাং নীতির সারকথা হলো: বাতিল চুক্তি—যা তার সঠিক হওয়ার শর্তাবলি পূরণ করেনি—তাতে অনুমোদন কার্যকর হয় না; কারণ এটি (আইনগতভাবে) অস্তিত্বহীন। অনুমোদন কেবল সেই চুক্তিতে কার্যকর হয় যা সম্পাদিত হয়েছে কিন্তু তার পূর্ণতা সংশ্লিষ্ট অধিকারীর সম্মতির ওপর স্থগিত থাকে।

 

‌‌তৃতীয়ত: এই নীতির কিছু উদাহরণ ও মাসআলা:

যদি কোনো অনধিকারচর্চাকারী ব্যক্তি কোনো গাভীর পেটের ভ্রূণ বিক্রি করে—অথচ গাভীটি অন্য ব্যক্তির মালিকানাধীন—তবে চুক্তিটি বাতিল; কারণ স্ত্রী প্রাণীর পেটে যা আছে তা বিক্রি করা জায়েজ নয় (৪), এমনকি যদি সে চুক্তিটি অনুমোদনও করে তবুও।

--------------------------------------------

(১) শারহুস সিয়ারিল কাবীর, পৃষ্ঠা ২০৫৫।

(২) আল-মাদখালুল ফিকহিল আম, পৃষ্ঠা ৫৩৯, ৬৯৪।

(৩) আল-কামুসুল মুহিত, 'জাওয়াজ' (جوز) মূলশব্দ।

(৪) মায়েদের পেটে থাকা ভ্রূণ বিক্রি করতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষেধ করেছেন। আবু সাঈদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গবাদি পশুর পেটে যা আছে তা প্রসব করার পূর্ব পর্যন্ত ক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। (হাদিস)।

এটি ইবনে মাজাহ, বাজার এবং দারাকুতনি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন, সুবুলুস সালাম ২য় খণ্ড, ৫০৮ পৃষ্ঠা, হাদিস নম্বর ৪০। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'মাদামিন' (ভ্রূণ) বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন—
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
صاحب البقرة بعد علمه بالبيع.

--------------------------------------------

= والملاقيح. وقالوا: إن المضامين: المراد بها ما في بطون الإبل، والملاقيح: ما في ظهور أو أصلاب الجمال، وقيل العكس.

والحديث أخرجه البزار وغيره. سبل السلام جـ 2 ص 510 حديث 43. وهذا البيع مجمع على تحريمه.
গাভীটির মালিক, বিক্রয় সম্পর্কে তার অবগত হওয়ার পর।

--------------------------------------------

= এবং আল-মালাকিহ। তারা বলেছেন: 'আল-মাদামিন' বলতে উটনীর গর্ভে যা আছে তাকে বোঝায় এবং 'আল-মালাকিহ' বলতে পুরুষ উটের পৃষ্ঠদেশে বা শুক্রাশয়ে যা আছে তাকে বোঝায়; আবার এর বিপরীতটিও বলা হয়েছে।

হাদিসটি আল-বাযযার এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। সুবুলুস সালাম, ২য় খণ্ড, ৫১০ পৃষ্ঠা, হাদিস নং ৪৩। আর এই ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে সর্বসম্মত ঐকমত্য (ইজমা) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌القاعدة الرابعة [الأنثى البالغة]

‌‌أولاً: لفظ ورود القاعدة:

البالغة مقبولة القول فيما يضرها (1).

 

‌‌ثانياً: معنى هذه القاعدة ومدلولها:

البالغة: المراد بها الأنثى التي بلغت مبلغ النساء، فهي صفة لموصوف محذوف. فالأنثى البالغة يقبل قولها فيما فيه ضرر عليها، ومفهوم القاعدة: أنه لا يقبل قولها فيما هو منفعة لها، وأيضاً تفيد القاعدة: أن الأنثى غير البالغة لا يقبل قولها فيما يضرها، وهل يقبل فيما ينفعها؟ وهذا الحكم في الصغار عموماً ذكوراً وإناثاً. وإنما يختلف الحكم إذا بلغوا؛ لأن الذكر إذا بلغ فهو رجل مسؤول عن نفسه وعمَّن تحت يده ويكون محارباً. وأما الأنثى فهي غير محاربة - أصلاً - وتكون عادة متابعة للزوج أو الأب أو الأخ أو غيرهم من الرجال الذين يرعونهن.

 

‌‌ثالثاً: من أمثلة هذه القاعدة ومسائلها:

إذا خرج رجل من دار الحرب بنساء قد بلغن، فقال: هؤلاء بناتي أو زوجاتي أو أخواتي وصدَّقنه، فهنَّ آمنات بأمانه استحساناً؛ لأنهن في عياله ونفقته.

وأما إذا كذَّبنه وقلن: إنهنَّ لسن بناته أو لسن أخواته فهنَّ فيء؛ لأن البالغة مقبولة القول فيما يضرها. وهنا تكذيبهن لادعاء الرجل أنهن من عياله فيه ضرر عليهن؛ لأن كونهن فيئاً فيه استرقاقهن واستعبادهن.

--------------------------------------------

(1) شرح السير جـ 1 ص 349.
চতুর্থ নীতি [প্রাপ্তবয়স্কা নারী]

প্রথমত: নীতির শব্দমালা:

প্রাপ্তবয়স্কা নারীর বক্তব্য সেই বিষয়ে গ্রহণযোগ্য যা তার জন্য ক্ষতিকর (১)।

 

দ্বিতীয়ত: এই নীতির অর্থ ও তাৎপর্য:

প্রাপ্তবয়স্কা: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই নারী যে সাবালিকা হওয়ার বয়সে উপনীত হয়েছে। এটি মূলত একটি উহ্য বিশেষ্যের গুণ। সুতরাং, প্রাপ্তবয়স্কা নারী নিজের জন্য ক্ষতিকর এমন বিষয়ে যে কথা বলে তা গ্রহণযোগ্য। এই নীতির বিপরীত অর্থ (মাফহুম) হলো: তার জন্য যা উপকারী বা লাভজনক, সেই বিষয়ে তার কথা গ্রহণযোগ্য নয়। এই নীতিটি আরও নির্দেশ করে যে: অপ্রাপ্তবয়স্কা নারীর বক্তব্য তার ক্ষতির বিষয়ে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে কি তার উপকারের বিষয়ে তা গ্রহণ করা হবে? এই বিধানটি সাধারণভাবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তারা পুরুষ হোক বা নারী। তবে তারা সাবালক হয়ে গেলে বিধানে ভিন্নতা আসে; কারণ পুরুষ সাবালক হলে সে নিজের জন্য এবং তার অধীনস্থদের জন্য দায়ী একজন ব্যক্তিতে পরিণত হয় এবং সে একজন যোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, নারী মূলত যোদ্ধা নয় এবং সে সাধারণত স্বামী, পিতা, ভাই বা অন্যান্য পুরুষদের অনুগামী হয় যারা তাদের রক্ষণাবেক্ষণ করেন।

 

তৃতীয়ত: এই নীতির কিছু উদাহরণ ও মাসআলাসমূহ:

যদি কোনো ব্যক্তি দারুল হরব (যুদ্ধরত দেশ) থেকে এমন কিছু নারীকে নিয়ে বের হয় যারা সাবালিকা হয়েছে, অতঃপর সে দাবি করে যে: এরা আমার কন্যা অথবা স্ত্রী অথবা বোন এবং তারাও তাকে সত্যায়ন করে, তবে ইস্তিহসান অনুযায়ী ওই ব্যক্তির আমান বা নিরাপত্তার কারণে তারাও নিরাপদ বলে গণ্য হবে; কারণ তারা তার পরিবার ও ভরণপোষণের অন্তর্ভুক্ত।

পক্ষান্তরে, তারা যদি তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং বলে যে: তারা তার কন্যা বা বোন নয়, তবে তারা 'ফাই' (রণলব্ধ সম্পদ) হিসেবে গণ্য হবে; কারণ প্রাপ্তবয়স্কা নারীর বক্তব্য সেই বিষয়ে গ্রহণযোগ্য যা তার জন্য ক্ষতিকর। এখানে ওই ব্যক্তির দাবির বিপরীতে তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করার মাঝে তাদের নিজেদেরই ক্ষতি নিহিত রয়েছে; কারণ 'ফাই' হিসেবে গণ্য হওয়ার অর্থ হলো তাদের দাসত্ব ও দাসীবৃত্তিতে পর্যবসিত হওয়া।

--------------------------------------------

(১) শারহুস সিয়ার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৪৯।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌القاعدة الخامسة [جزء العلة]

‌‌أولاً: لفظ ورود القاعدة:

ببعض أركان العلة لا يثبت شيء من الحكم (1). [أصولية فقهية].

 

‌‌ثانياً: معنى هذه القاعدة ومدلولها:

العلة في اللغة لها معان ثلاثة: الأول: يفيد التكرر ومنه العَلَل وهو الشربة الثانية، يقال: عَلَل بعد نَهَل.

والثاني: العائق يعوق. قال الخليل: العلة حدث يشغل صاحبه عن وجهه.

والثالث: العلة: المرض. وصاحبها معتل (2).

والعلة عند الأصوليين: الوصف الظاهر المنضبط الذي يكون مظنة وجود الحكمة.

أو هي الوصف الذي يلزم من وجوده وجود الحكم ومن عدمه عدم الحكم. وهي بمعنى السبب. وعندهم هي مأخوذة إما من الأول؛ لأن المجتهد يكرر النظر في استخراجها واستنباطها. وإما من الثالث؛ لأنها تشبه علة المريض التي تغير حاله من صحة إلى سقم، والعلة الأصولية كذلك؛ لأنها تغير الحكم بوجودها.

والعلة قد تكون مفردَة كالسكر والزنا الموجبان للحد، وقد تكون مركبة من أجزاء كالقتل العمد العدوان من غير والد.

فتفيد القاعدة: أن العلة المركبة إذا وجد بعض أجزائها أو أركانها في محل

--------------------------------------------

(1) المبسوط جـ 6 ص 95، جـ 22 ص 126.

(2) معجم مقاييس اللغة مادة "عل".
‌‌পঞ্চম নীতি [ইল্লতের অংশ]

‌‌প্রথমত: নীতির শব্দপ্রয়োগ:

ইল্লতের (কারণের) কোনো একটি রুকন বা অংশের মাধ্যমে হুকুমের (বিধানের) কিছুই সাব্যস্ত হয় না (১)। [উসূলে ফিকহ সংক্রান্ত]।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: এই নীতির অর্থ ও তাৎপর্য:

অভিধানে 'ইল্লত' শব্দের তিনটি অর্থ রয়েছে: প্রথম: এটি পুনরাবৃত্তি হওয়া বোঝায়। এখান থেকেই 'আল-আলাল' শব্দটি এসেছে, যার অর্থ দ্বিতীয়বার পান করা। বলা হয়: প্রথমবার পান করার পর পুনরায় পান করা।

দ্বিতীয়: এটি এমন এক বাধা যা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। খলীল বলেন: ইল্লত হলো এমন এক ঘটনা যা ব্যক্তিকে তার মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত বা ব্যস্ত করে ফেলে।

তৃতীয়: ইল্লত অর্থ ব্যাধি বা অসুস্থতা। আর অসুস্থ ব্যক্তিকে বলা হয় 'মু’তাল' (২)।

উসূলবিদদের মতে ইল্লত হলো: এমন প্রকাশ্য ও সুশৃঙ্খল গুণ বা বৈশিষ্ট্য যা হিকমত (রহস্য) বিদ্যমান থাকার ধারণা দেয়।

অথবা এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যার উপস্থিতিতে হুকুম উপস্থিত হওয়া এবং যার অনুপস্থিতিতে হুকুম অনুপস্থিত থাকা আবশ্যক হয়। এটি 'সাবাব' বা কারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়। উসূলবিদদের মতে ইল্লত শব্দটি হয় প্রথম অর্থ থেকে গৃহীত হয়েছে; কারণ মুজতাহিদ এটি আহরণ ও উদ্ভাবন করার ক্ষেত্রে বারবার অনুসন্ধান করেন। অথবা এটি তৃতীয় অর্থ থেকে নেওয়া হয়েছে; কারণ এটি অসুস্থ ব্যক্তির ব্যাধির সদৃশ যা তার অবস্থাকে সুস্থতা থেকে অসুস্থতায় পরিবর্তিত করে দেয়। উসূলে ফিকহের ইল্লতও তদ্রূপ; কারণ এটি তার উপস্থিতির মাধ্যমে হুকুমকে পরিবর্তন করে দেয়।

ইল্লত কখনো একক হতে পারে, যেমন—মাদকতা ও জিনা, যা হদ (শাস্তি) অনিবার্য করে। আবার কখনো এটি বিভিন্ন অংশের সমন্বয়ে গঠিত বা যৌগিক হতে পারে, যেমন—পিতা ব্যতীত অন্য কারো মাধ্যমে অন্যায়ভাবে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড।

এই নীতিটি প্রকাশ করে যে: যৌগিক ইল্লতের যদি কিছু অংশ বা রুকন কোনো স্থানে পাওয়া যায়...

--------------------------------------------

(১) আল-মাবসুত, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৯৫; খণ্ড ২২, পৃষ্ঠা ১২৬।

(২) মু'জাম মাকায়িসুল লুগাহ, 'আইন-লাম' মূলশব্দ।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الحكم فلا يترتب عليها حكم.

 

‌‌ثالثاً: من أمثلة هذه القاعدة ومسائلها:

إذا قتل والد ولده لا يقتص منه؛ لأن العلة هنا مركبة من أجزاء وقد انتفى أحدها وهو كون القاتل غير والد. وكذلك إذا كان القتل عمداً غير عدوان كقتل مَن يجب عليه القتل لقصاص أو ردَّة، فلا يوجب القصاص أيضاً.

ومنها: الجارية المشتركة بين اثنين فلا يحل لواحد منهما أن يطأها؛ لأن حل الوطء ينبني على ملك المتعة، وإنما يستفاد ذلك بكمال ملك الرقبة، وكلٌّ من المالكين هنا لا يملك الرقبة كلها.
বিধান, ফলে তার ওপর কোনো বিধান বর্তায় না।

 

‌‌তৃতীয়ত: এই মূলনীতির কিছু উদাহরণ ও মাসআলা:

যদি কোনো পিতা তার সন্তানকে হত্যা করেন, তবে তার থেকে কিসাস (প্রতিশোধমূলক শাস্তি) গ্রহণ করা হবে না; কারণ এখানে ইল্লত বা কারণটি একাধিক অংশের সমন্বয়ে গঠিত এবং তার একটি এখানে অনুপস্থিত, আর তা হলো—হত্যাকারী পিতা না হওয়া। তদ্রূপ হত্যা যদি ইচ্ছাকৃত হওয়া সত্ত্বেও অন্যায় বা আক্রমণাত্মক না হয়, যেমন—এমন ব্যক্তিকে হত্যা করা যার ওপর কিসাস বা মুরতাদ হওয়ার কারণে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা ওয়াজিব, তবে সেক্ষেত্রেও কিসাস কার্যকর হবে না।

এর আরেকটি উদাহরণ হলো: দুই ব্যক্তির মধ্যে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে মালিকানাধীন দাসী; তাদের কারও জন্যই তার সাথে সহবাস করা হালাল নয়। কারণ সহবাস হালাল হওয়া সম্ভোগের মালিকানার (মিলকুত তামতূ‘) ওপর নির্ভরশীল, আর তা কেবল সত্তার পূর্ণ মালিকানার (কামালু মিলকির রকব) মাধ্যমেই অর্জিত হয়। অথচ এখানে মালিকদের প্রত্যেকেই দাসীটির পূর্ণ সত্তার মালিক নয়।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌القاعدة السادسة [ألبتة]

‌‌أولاً: لفظ ورود القاعدة:

ألبتة هل تتبعض أم لا (1)؟

 

‌‌ثانياً: معنى هذه القاعدة ومدلولها:

البت: معناه القطع، يقال: بتَّه بتًّا: إذا قطعه. وبتَّ الرجل طلاق امرأته فهي مبتوتة، أي مبتوت طلاقها. وطلقها بتَّة: إذا قطعها عن الرجعة (2).

فمفاد القاعدة: بيان الاختلاف في الطلاق الباب أو الأمر الباب هل يجوز أن يقع فيه استثناء أو تبعيض أو لا يجوز؟ قولان.

 

‌‌ثالثاً: من أمثلة هذه القاعدة ومسائلها:

إذا طلق رجل امرأته ثلاثاً إلا واحدة فهل يصح الاستثناء أو لا؟

ومنها: إذا اختلف حكمان في التفريق بين زوجين فقضى أحدهما بواحدة، والآخر بالبتة - أي الثلاث - فهل تلزمه واحدة أو ثلاث؟

ومنها: إذا شهد واحد بواحدة وآخر بالبتة هل تلزمه واحدة ويحلف على البتات؟ أو يحلف على تكذيب كل واحد منهما ولا يلزمه شيء؟ قولان.

--------------------------------------------

(1) إيضاح المسالك القاعدة 77، ص 306.

(2) المصباح المنير مادة "بت".
ষষ্ঠ নীতি [আল-বাত্তাহ]

প্রথমত: নীতির শব্দাবলি:

আল-বাত্তাহ (চূড়ান্ত বা বিচ্ছেদকারী শব্দ) কি খণ্ডিত হয় নাকি হয় না (১)?

 

দ্বিতীয়ত: এই নীতির অর্থ ও তাৎপর্য:

'আল-বাত্ত' (البت): এর অর্থ হলো কর্তন করা বা বিচ্ছিন্ন করা। বলা হয়: সে তাকে 'বাত্তান' করেছে, যখন সে তাকে কেটে ফেলেছে। কোনো ব্যক্তি যখন তার স্ত্রীর তালাককে 'বাত্তাহ' করে, তখন সেই স্ত্রী 'মাবতুতাহ' (مبتوتة), অর্থাৎ তার তালাকটি চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর সে তাকে 'বাত্তাহ' তালাক দিয়েছে মানে: যখন সে তাকে পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার (রাজআত) সুযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় (২)।

সুতরাং এই নীতির নির্যাস হলো: চূড়ান্ত তালাক বা চূড়ান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে তাতে কি কোনো ব্যতিক্রম বা খণ্ডায়ন করা বৈধ নাকি অবৈধ, সে বিষয়ে মতভেদ বর্ণনা করা। এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে।

 

তৃতীয়ত: এই নীতির উদাহরণ ও মাসআলাসমূহ:

যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে এক তালাক বাদে তিন তালাক দেয়, তবে কি এই ব্যতিক্রম বা ইস্তিসনা শুদ্ধ হবে নাকি হবে না?

এর মধ্যে রয়েছে: যদি স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে দুজন বিচারকের সিদ্ধান্তে ভিন্নতা দেখা দেয়; একজন এক তালাকের ফয়সালা করেন এবং অন্যজন 'বাত্তাহ' তথা তিন তালাকের ফয়সালা করেন, তবে কি তার ওপর এক তালাক কার্যকর হবে নাকি তিন তালাক?

এর মধ্যে রয়েছে: যদি একজন সাক্ষী এক তালাকের সাক্ষ্য দেয় এবং অন্যজন 'বাত্তাহ' (চূড়ান্ত বিচ্ছেদ) এর সাক্ষ্য দেয়, তবে কি তার ওপর এক তালাক আবশ্যক হবে এবং চূড়ান্ত তালাকের বিষয়ে সে হলফ বা কসম করবে? অথবা সে তাদের প্রত্যেককে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ব্যাপারে কসম করবে এবং তার ওপর কিছুই আবশ্যক হবে না? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ইদাহুল মাসালিক, নীতি ৭৭, পৃষ্ঠা ৩০৬।

(২) আল-মিসবাহুল মুনির, 'বা-তা' (بت) অনুচ্ছেদ।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌القاعدة السابعة [تباين الدار]

‌‌أولاً: لفظ ورود القاعدة:

بتباين الدار تنقطع العصمة وينقطع التوارث (1).

 

‌‌ثانياً: معنى هذه القاعدة ومدلولها:

المراد بتباين الدار اختلافها، والمراد بالدار: دار الكفر ودار الإِسلام.

والعصمة هنا: حقن الدم، وعقد النكاح.

وانقطاع التوارث: أي لا يرث المسلم الكافر ولا الكافر المسلم.

فمفاد القاعدة: إن اختلاف الدار وتباينها - أي انتقال الشخص أو وجوده في إحدى الدارين - يكون سبباً في قطع العصمة؛ ولأن اختلاف الدارين ينتج عنه اختلاف المنعة والملك، فتنقطع به عصمة النكاح حقيقة وحكماً. وأما بين المسلمين فإن اختلاف المنعة والملك لا يكون سبباً في اختلاف الدار وتباينها؛ لأن حكم الإِسلام يجمعهم، فدار الإِسلام دار أحكام، ودار الحرب ليس دار أحكام.

 

‌‌ثالثاً: من أمثله هذه القاعدة:

إذا دخل الحربي دار الإِسلام بغير أمان فهو فيء للمسلمين يجوز لهم قتله أو استرقاقه.

وإذا دخلت امرأة كافرة دار الإِسلام بأمان انقطع النكاح بينها وبين زوجها ما لم يدخل معها.

وإذا مات مسلم في دار الإِسلام ووريثه كافر لا يرث منه، وكذلك لو مات كافر ووريثه مسلم لا يرث منه؛ لاختلاف الدين.

ومنها: إذا مات مستأمن في دار الإِسلام أو كافر في دار الكفر ووريثه ذمي

--------------------------------------------

(1) المبسوط جـ 30 ص 33.
সপ্তম নীতি [ভূখণ্ডের ভিন্নতা]

প্রথমত: নীতিটির শব্দরূপ:

ভূখণ্ডের ভিন্নতার কারণে সুরক্ষা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং উত্তরাধিকার রহিত হয়ে যায় (১)।

 

দ্বিতীয়ত: এই নীতির অর্থ ও তাৎপর্য:

ভূখণ্ডের ভিন্নতা বলতে এর পার্থক্যকে বোঝানো হয়েছে। আর ভূখণ্ড বলতে এখানে কুফর ভূখণ্ড ও ইসলামি ভূখণ্ড উদ্দেশ্য।

এখানে সুরক্ষা বলতে রক্তের নিরাপত্তা এবং বিবাহ বন্ধন বোঝানো হয়েছে।

উত্তরাধিকার বিচ্ছিন্ন হওয়া মানে হলো: মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না এবং কাফিরও মুসলিমের উত্তরাধিকারী হবে না।

সুতরাং এই নীতির সারমর্ম হলো: ভূখণ্ডের বিভিন্নতা ও ভিন্নতা — অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির এক ভূখণ্ডে স্থানান্তর হওয়া বা অবস্থান করা — সুরক্ষা বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ হয়। কারণ, দুই ভূখণ্ডের ভিন্নতার ফলে প্রতিরক্ষা ও সার্বভৌমত্বের ভিন্নতা তৈরি হয়, যার ফলে বিবাহ বন্ধনের সুরক্ষা বাস্তব ও আইনি উভয় দিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে মুসলিমদের ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা ও সার্বভৌমত্বের ভিন্নতা ভূখণ্ডের ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যের কারণ হয় না; কারণ ইসলামের বিধান তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে। কেননা দারুল ইসলাম হলো বিধান প্রয়োগের স্থান, আর দারুল হারব (যুদ্ধরত ভূখণ্ড) বিধান প্রয়োগের স্থান নয়।

 

তৃতীয়ত: এই নীতির কিছু উদাহরণ:

যদি কোনো হারবি (যুদ্ধরত অমুসলিম) নিরাপত্তা চুক্তি ছাড়াই দারুল ইসলামে প্রবেশ করে, তবে সে মুসলিমদের জন্য 'ফাই' হিসেবে গণ্য হবে, তাদের জন্য তাকে হত্যা করা বা দাসে পরিণত করা বৈধ হবে।

যদি কোনো অমুসলিম নারী নিরাপত্তা নিয়ে দারুল ইসলামে প্রবেশ করে, তবে তার ও তার স্বামীর মধ্যকার বিবাহ বন্ধন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, যতক্ষণ না স্বামীও তার সাথে প্রবেশ করে।

যদি দারুল ইসলামে কোনো মুসলিম মারা যায় এবং তার উত্তরাধিকারী অমুসলিম হয়, তবে সে উত্তরাধিকার পাবে না। তেমনিভাবে কোনো অমুসলিম মারা গেলে এবং তার উত্তরাধিকারী মুসলিম হলে, ধর্মের ভিন্নতার কারণে সে উত্তরাধিকার পাবে না।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যদি দারুল ইসলামে কোনো নিরাপত্তা প্রাপ্ত অমুসলিম মারা যায় অথবা কুফর ভূখণ্ডে কোনো অমুসলিম মারা যায় এবং তার উত্তরাধিকারী জিম্মি (ইসলামি রাষ্ট্রের অমুসলিম নাগরিক) হয়

--------------------------------------------

(১) আল-মাবসুত, খণ্ড ৩০, পৃষ্ঠা ৩৩।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
- أو العكس - فلا يرث أحدهما من الآخر لاختلاف الدار وتباينها حقيقة أو حكماً. أما لو كان وارث المستأمن في دار الحرب فميراثه لأقاربه من أهل دار الحرب فيوقف مال المستأمن حتى يأتي وارثه دار الإِسلام فيأخذه؛ لأنَّا أعطيناه الأمان في ماله ونفسه، فبعد موته يبقى الأمان في ماله لحقه لا لحق ورثته.
অথবা এর বিপরীত - তবে ভূখণ্ডের ভিন্নতা এবং প্রকৃতগত বা বিধানগত পার্থক্যের কারণে তাদের একজন অপরজনের উত্তরাধিকারী হবে না। পক্ষান্তরে, যদি নিরাপত্তা প্রাপ্ত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডে অবস্থান করে, তবে তার উত্তরাধিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডের অধিবাসী তার নিকটাত্মীয়দের প্রাপ্য হবে; এমতাবস্থায় নিরাপত্তা প্রাপ্ত ব্যক্তির সম্পদ স্থগিত রাখা হবে যতক্ষণ না তার উত্তরাধিকারী ইসলামি ভূখণ্ডে এসে তা গ্রহণ করে; কারণ আমরা তাকে তার জান ও মালের নিরাপত্তা প্রদান করেছি, তাই তার মৃত্যুর পর তার সম্পদের নিরাপত্তা তার হকের কারণেই অবশিষ্ট থাকবে, তার উত্তরাধিকারীদের হকের কারণে নয়।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌القاعدة الثامنة [تقرر الأجر]

‌‌أولاً: لفظ ورود القاعدة:

بالتمكن من الانتفاع يتقرر الأجر على المستأجر (1).

 

‌‌ثانياً: معنى هذه القاعدة ومدلولها:

مفاد هذه القاعدة أن من استأجر شيئاً - عقاراً أو غيره - فلا يجب عليه الأجر إلا بعد أن يتسلم الشيء المستأجر ويتمكن من الانتفاع به بحسب غرضه وغايته من استئجاره.

 

‌‌ثالثاً: من أمثلة هذه القاعدة مسائلها:

من استأجر أرضاً لزراعتها فلا يستوجب أجرة الأرض إلا بعد أن يتمكن من الانتفاع بها وصلاحيتها للزراعة، فأما إذا أغرق الماء هذه الأرض - وإن تسلمها المستأجر - فلا يجب عليه دفع الأجرة؛ لأنه لا يتمكن من الانتفاع بالأرض مع إغراقها بالماء.

ومنها: من استأجر بيتاً للسكن - ولم تدخله الكهرباء ولا الماء - فلا يتقرر عليه الأجر إلا بعد إدخال الكهرباء والماء إليه؛ لأنه في وقتنا هذا لا ينتفع بالبيت بدون إيصال الماء والكهرباء إليه.

--------------------------------------------

(1) المبسوط جـ 3 ص 50.
‌অষ্টম নীতি [ভাড়া সাব্যস্ত হওয়া]

‌প্রথমত: নীতির শব্দাবলি:

ব্যবহারের সুযোগ লাভের মাধ্যমে ভাড়াটিয়ার ওপর ভাড়া সাব্যস্ত হয় (১)।

 

‌দ্বিতীয়ত: এই নীতির অর্থ ও তাৎপর্য:

এই নীতির সারমর্ম হলো, যে ব্যক্তি কোনো কিছু ভাড়া নিল—তা স্থাবর সম্পত্তি হোক বা অন্য কিছু—ভাড়াটিয়া উক্ত ভাড়াকৃত বস্তু হস্তগত করা এবং তার ভাড়ার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অনুযায়ী তা ব্যবহারের সুযোগ লাভ করার পূর্ব পর্যন্ত তার ওপর ভাড়া প্রদান আবশ্যক হবে না।

 

‌তৃতীয়ত: এই নীতির উদাহরণ ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালাসমূহ:

যে ব্যক্তি চাষাবাদের জন্য জমি ভাড়া নিল, তবে উক্ত জমি ব্যবহারের সুযোগ লাভ এবং চাষাবাদের উপযোগী হওয়ার আগে তার ওপর জমির ভাড়া পাওনা হবে না। সুতরাং যদি পানি এই জমিকে প্লাবিত করে ফেলে—যদিও ভাড়াটিয়া তা হস্তগত করেছে—তবুও তার ওপর ভাড়া প্রদান করা আবশ্যক হবে না; কারণ পানি নিমজ্জিত থাকায় সে জমিটি থেকে উপকৃত হতে সক্ষম হচ্ছে না।

এর আরেকটি উদাহরণ হলো: যে ব্যক্তি বসবাসের জন্য একটি ঘর ভাড়া নিল—কিন্তু তাতে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ নেই—তবে বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ প্রদানের আগে তার ওপর ভাড়া সাব্যস্ত হবে না; কারণ বর্তমান সময়ে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যতিরেকে ঘর থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব নয়।

--------------------------------------------

(১) আল-মাবসুত, ৩য় খণ্ড, ৫০ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌القاعدة التاسعة [تباين الدار]

‌‌أولاً: لفظ ورود القاعدة:

باختلاف المنعة والملك لا تتباين الدار بين المسلمين؛ لأن حكم الإِسلام يجمعهم (1).

 

‌‌ثانياً: معنى هذه القاعدة ومدلولها ومثالها:

ومفاد هذه القاعدة أن دور المسلمين - أي بلادهم - لا تباين بينها - وإن اختلفت المنعة والملك - كما هو حاصل الآن - فكل دولة مسلمة لها منعتها وسلطانها، لكن ذلك لا يجعلهم دوراً متباينة من حيث الحكم الشرعي؛ لأن حكم الإِسلام يجمعهم.

هذا إذا كانوا جميعاً يحكمون بشرع الله دون غيره، ولكن إذا كان بعضهم يحكم بشرع الله وبعض آخر يحكم بغير شرع الله، فمن كان يحكم بشرع الله فداره دار إسلام. ومن لم يحكم بشرع الله فليست داره دار إسلام؛ لأن الفرق بين دار الحرب - أي دار الكفر - ودار الإِسلام هو سلطان الإِسلام وشرع الله، فمن حكم بغير شرع الله فداره دار حرب وإن كان سكان تلك الدار مسلمين.

--------------------------------------------

(1) المبسوط جـ 30 ص 33.
নবম মূলনীতি [ভূখণ্ডের ভিন্নতা]

প্রথমত: মূলনীতির পাঠ:

শক্তি ও মালিকানার ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও মুসলিমদের ভূখণ্ডসমূহের মাঝে ভিন্নতা তৈরি হয় না; কারণ ইসলামের বিধান তাদের একত্রিত করে (১)।

 

দ্বিতীয়ত: এই মূলনীতির অর্থ, তাৎপর্য ও উদাহরণ:

এই মূলনীতির সারকথা হলো, মুসলিমদের ভূখণ্ডসমূহ—অর্থাৎ তাদের দেশগুলো—পরস্পরের থেকে ভিন্ন নয়, যদিও শক্তি ও মালিকানা ভিন্ন ভিন্ন হয়—যেমনটি বর্তমানে পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রত্যেক মুসলিম রাষ্ট্রের নিজস্ব শক্তি ও সার্বভৌমত্ব রয়েছে, কিন্তু এটি শরয়ী বিধানের দিক থেকে তাদের ভিন্ন ভিন্ন ভূখণ্ডে পরিণত করে না; কারণ ইসলামের বিধান তাদের একত্রিত করে।

এটি তখনই প্রযোজ্য যখন তারা সকলেই একমাত্র আল্লাহর শরীয়ত দ্বারা শাসন পরিচালনা করবে। কিন্তু যদি তাদের মধ্যে কেউ আল্লাহর শরীয়ত অনুযায়ী শাসন করে এবং অন্য কেউ আল্লাহর শরীয়ত ব্যতিরেকে অন্য কিছু দিয়ে শাসন করে, তবে যে আল্লাহর শরীয়ত অনুযায়ী শাসন করে তার ভূখণ্ড 'দারুল ইসলাম' (ইসলামি ভূখণ্ড)। আর যে আল্লাহর শরীয়ত অনুযায়ী শাসন করে না, তার ভূখণ্ড 'দারুল ইসলাম' নয়। কারণ 'দারুল হারব'—অর্থাৎ কুফরি ভূখণ্ড—এবং 'দারুল ইসলাম'-এর মধ্যে পার্থক্য হলো ইসলামের কর্তৃত্ব ও আল্লাহর শরীয়ত। সুতরাং যে আল্লাহর শরীয়ত ব্যতিরেকে শাসন করবে, তার ভূখণ্ড 'দারুল হারব' হিসেবে গণ্য হবে, যদিও সেই ভূখণ্ডের অধিবাসীরা মুসলিম হয়।

--------------------------------------------

(১) আল-মাবসুত, খণ্ড ৩০, পৃষ্ঠা ৩৩।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌القاعدة العاشرة [الدعوى - التناقض]

‌‌أولاً: لفظ ورود القاعدة:

بالدعوى مع التناقض لا تُستَحق اليمين على الخصم (1).

 

‌‌ثانياً: معنى هذه القاعدة ومدلولها:

الدعوى: قول يقصد به الإنسان إيجاب حق على غيره (2).

وقيل: الدعوى: هي طلب الشيء زاعماً ملكه (3).

فالمدَّعي - اسم فاعل - هو الطالب. والمدَّعى عليه - اسم مفعول - هو المطلوب منه، والمدَّعى به: هو المطلوب. والمصدر: الادِّعاء. والاسم: الدعوى. وجمعها: دعاوى.

التناقض: من النقض وهو الهدم والنكث. فالتناقض: تفاعل من النقض، والمراد به: اختلاف المدَّعي في دعواه.

فمفاد القاعدة: أنه إذا تبين اختلاف المدَّعي في دعواه وطلب يمين خصمه المدَّعى عليه فإن القاضي لا يجيبه إلى ذلك ولا يطلب من خصمه اليمين للتناقض؛ لأنه لا تجب اليمين إلا مع صحة الدعوى. والتناقض يبطلها.

 

‌‌ثالثاً: من أمثلة هذه القاعدة ومسائلها:

إذا اقتسم شخصان مائة شاة بينهما فأصاب واحداً منهما ستون شاة، وأصاب الآخر أربعون، وأشهد أحدهما على الآخر بالوفاء، ثم جاء مَن أصابه الأربعون فقال: أصابني خمسون فدفعت إليَّ أربعين وبقي في

--------------------------------------------

(1) المبسوط جـ 15 ص 68 بتصرف.

(2) أنيس الفقهاء ص 241 بتصرف.

(3) المطلع على أبواب المقنع ص 403.
দশম মূলনীতি [দাবি - স্ববিরোধিতা]

‌প্রথমত: মূলনীতির শব্দরূপ:

স্ববিরোধিতা পূর্ণ দাবির ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের ওপর শপথ সাব্যস্ত হয় না (১)।

 

‌দ্বিতীয়ত: এই মূলনীতির অর্থ ও তাৎপর্য:

দাবি (আদ-দাওয়া): এমন উক্তি যার মাধ্যমে মানুষ অন্যের ওপর কোনো হক বা অধিকার আবশ্যক করার ইচ্ছা পোষণ করে (২)।

আরও বলা হয়েছে: দাবি হলো মালিকানা সাব্যস্ত করে কোনো কিছু প্রার্থনা করা (৩)।

সুতরাং 'মুদ্দায়ী' (দাবিদার) - কর্তৃবাচক বিশেষ্য - হলেন প্রার্থনাকারী। আর 'মুদ্দা'আ আলাইহি' (বিবাদী) - কর্মবাচক বিশেষ্য - হলেন তিনি যার কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে। আর 'মুদ্দা'আ বিহি' হলো প্রার্থিত বিষয়। এর ক্রিয়ামূল হলো 'আল-ইদ্দিআ' এবং বিশেষ্য হলো 'আদ-দাওয়া'। এর বহুবচন হলো 'দাওয়া'।

স্ববিরোধিতা (আত-তানাকুদ): এটি 'নাকদ' শব্দ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ ভেঙে ফেলা বা ছিন্ন করা। সুতরাং 'তানাকুদ' হলো 'নাকদ' এর পারস্পরিক রূপ, আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: দাবিদারের নিজ দাবিতে গরমিল বা বৈপরীত্য থাকা।

মূলনীতির সারমর্ম হলো: যদি দাবিদারের দাবিতে বৈপরীত্য বা অসঙ্গতি প্রকাশ পায় এবং সে তার প্রতিপক্ষ বিবাদীর শপথ প্রার্থনা করে, তবে বিচারক তার সেই আবেদনে সাড়া দেবেন না এবং স্ববিরোধিতার কারণে প্রতিপক্ষের কাছে শপথ চাইবেন না; কেননা দাবি সঠিক হওয়া ব্যতীত শপথ ওয়াজিব হয় না। আর স্ববিরোধিতা দাবিকে বাতিল করে দেয়।

 

‌তৃতীয়ত: এই মূলনীতির কিছু উদাহরণ ও মাসআলা:

যদি দুইজন ব্যক্তি নিজেদের মধ্যে একশটি বকরি বণ্টন করে এবং তাদের একজনের ভাগে ষাটটি ও অন্যজনের ভাগে চল্লিশটি বকরি পড়ে, আর তাদের একজন অন্যজনের অনুকূলে পাওনা পূর্ণ হওয়ার ব্যাপারে সাক্ষী রাখে; অতঃপর যার ভাগে চল্লিশটি পড়েছিল সে এসে দাবি করে যে: "আমার ভাগে পঞ্চাশটি পড়েছিল, কিন্তু আমাকে চল্লিশটি দেওয়া হয়েছে এবং বাকি রয়ে গেছে..."

--------------------------------------------

(১) আল-মাবসুত, খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ৬৮, কিছুটা পরিমার্জিত।

(২) আনিসুল ফুকারাহ, পৃষ্ঠা ২৪১, কিছুটা পরিমার্জিত।

(৩) আল-মুতলি' আলা আবওয়াবিল মুকনি', পৃষ্ঠা ৪০৩।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
يديك عشرة لم تدفعها إلي. كان القول قول من في يده ستون لإقرار صاحبه باستيفاء كمال حقه، ولا يمين عليه؛ لأن صاحبه مناقض في الدعوى بعد ذلك الإقرار.

তোমার হাতে দশ রয়েছে যা তুমি আমার নিকট সমর্পণ করোনি। এমতাবস্থায় যার হাতে ষাট বিদ্যমান তার কথাটিই গ্রহণযোগ্য হবে, কারণ তার সঙ্গী তার পূর্ণ হক উসুল করার স্বীকৃতি দিয়েছে। আর তার ওপর কোনো শপথ নেই; কেননা সেই স্বীকৃতির পর তার সঙ্গী দাবির ক্ষেত্রে স্ববিরোধিতা করছে।

(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌القاعدة الحادية عشرة [البدل]

‌‌أولاً: لفظ ورود القاعدة:

البدل إنما يظهر حكمه عند فوات الأصل لا مع القدرة على الأصل (1).

 

‌‌ثانياً: معنى هذه القاعدة ومدلولها:

بدل الشيء: ما يقوم مقامه ويسد مسدّه عند فقده أو عدم القدرة عليه، كالتراب بدل عن الماء عند فقده أو عدم القدرة على استعماله.

فمفاد القاعدة: أن الأبدال إنما يظهر حكمها وجواز استعمالها عند عدم وجود الأصل بفقدانه أو عدم القدرة عليه، ولا يجوز استعمال البدل أو الانتقال إليه مع وجود الأصل والقدرة على استعماله.

 

‌‌ثالثاً: من أمثلة هذه القاعدة ومسائلها:

لا يجوز التيمم بالتراب للتطهير عند وجود الماء والقدرة على استعماله، وإنما ينتقل للتيمم عند فقد الماء أو عدم القدرة على استعماله.

ومنها: لا يجوز الصيام مع القدرة على الهدي في وقته - أي دم التمتع والقِران.

ومنها: لا يجوز الانتقال إلى الصوم مع وجود الرقبة والقدرة على شرائها في كفارة القتل الخطأ.

--------------------------------------------

(1) المبسوط جـ 12 ص 27.
একাদশ নীতি [বদল (বিকল্প)]

‌প্রথমত: মূল নীতির শব্দবিন্যাস:

বদল বা বিকল্পের বিধান তখনই প্রকাশ পায় যখন মূল বিষয়টি পাওয়া যায় না, মূলটি ব্যবহারের সক্ষমতা থাকাবস্থায় নয় (১)।

 

‌দ্বিতীয়ত: এই মূল নীতির অর্থ ও তাৎপর্য:

কোনো জিনিসের বদল হলো তা, যা সেটির অনুপস্থিতিতে বা সেটি ব্যবহারে অক্ষমতার সময় সেটির স্থলাভিষিক্ত হয় এবং সেটির অভাব পূরণ করে। যেমন—পানির অনুপস্থিতিতে বা পানি ব্যবহারে অক্ষমতার সময় মাটি হলো পানির বদল বা বিকল্প।

সুতরাং মূল নীতির সারকথা হলো: মূল জিনিসটি হারিয়ে যাওয়া বা সেটি ব্যবহারে অক্ষমতার কারণে যখন তা বিদ্যমান থাকে না, তখনই কেবল বিকল্পগুলোর বিধান এবং তা ব্যবহারের বৈধতা প্রকাশ পায়। আর মূল জিনিসটি বিদ্যমান থাকা এবং তা ব্যবহারের সক্ষমতা থাকা অবস্থায় বদল ব্যবহার করা বা সেটির দিকে যাওয়া বৈধ নয়।

 

‌তৃতীয়ত: এই মূল নীতির কিছু উদাহরণ ও মাসআলা:

পানি বিদ্যমান থাকা এবং তা ব্যবহারের সক্ষমতা থাকাবস্থায় পবিত্রতা অর্জনের জন্য মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করা বৈধ নয়। বরং পানির অনুপস্থিতিতে বা পানি ব্যবহারে অক্ষমতার সময়ই তায়াম্মুমের বিধান কার্যকর হয়।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: হজ্জের নির্ধারিত সময়ে হাদি (কুরবানি)—অর্থাৎ তামাত্তু ও কিরান হজ্জের দম—দেওয়ার সক্ষমতা থাকাবস্থায় রোজা রাখা বৈধ নয়।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: ভুলবশত হত্যার কাফফারায় গোলাম বিদ্যমান থাকা এবং তা ক্রয় করার সক্ষমতা থাকা অবস্থায় রোজার দিকে যাওয়া বৈধ নয়।

--------------------------------------------

(১) আল-মাবসুত, ১২তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌القاعدة الثانية عشرة [النقصان]

‌‌أولاً: لفظ ورود القاعدة:

بدل الجزء لا يجب بدون بقاء النقصان (1).

 

‌‌ثانياً: معنى هذه القاعدة ومدلولها:

إن الشيء إذا دخله النقصان بفعل فاعل فيجب على فاعل النقصان بدلُه، بشرط بقاء النقصان، ولكن إذا زال النقصان فلا يجب البدل، لزوال موجبه.

 

‌‌ثالثاً: من أمثلة هذه القاعدة:

إذا كسر سنَّ آخر فيجب في هذه الحالة أرش السن - أي التعويض المالي عنها - ولكن إذا نبت مكانها سنٌّ آخر ففي هذه الحالة لا يجب البدل - وهو الأرش - لزوال النقصان؛ لأن البدل إنما يجب عند بقاء النقصان لا عند زواله.

ومنها: إذا اشترى سلعة ثم ظهر فيها عيب ورضي البائع إعطاءه بدل نقصان العيب - أي رد للمشتري شيئاً من ثمن السلعة مقابل العيب - وهو المسمى بأرش النقصان - أي نقصان قيمة السلعة بسبب العيب - ثم زال العيب فيجب على المشتري رد ما أخذه من البائع لزوال النقصان وهو سبب وجوب الأرش. كمن اشترى بقرة على أنها حلوب، ثم تبين أن لا حليب فيها، فصالحه البائع بأن رد عليه جزءاً من الثمن، ثم عاد الحليب، فيجب على المشتري رد ما أخذه للبائع؛ لأنه تبين أن الصلح غير صحيح، فيبطل ما ترتب عليه؛ لأنه إذا بطل المتضمَّن بطل المتضمَّن.

--------------------------------------------

(1) المبسوط جـ 26 ص 88.
দ্বাদশ নীতি [ঘাটতি]

প্রথমত: নীতির শব্দমালা:

ঘাটতি অবশিষ্ট না থাকলে অংশের বিনিময় প্রদান ওয়াজিব হয় না (১)।

 

দ্বিতীয়ত: এই নীতির অর্থ ও তাৎপর্য:

নিশ্চয়ই কোনো কাজ সম্পাদনকারীর কাজের ফলে যদি কোনো বস্তুতে ঘাটতি বা ত্রুটি দেখা দেয়, তবে উক্ত ঘাটতি অবশিষ্ট থাকার শর্তে তা সৃষ্টিকারীর ওপর তার বিনিময় প্রদান করা ওয়াজিব। কিন্তু যদি সেই ঘাটতি দূর হয়ে যায়, তবে আর বিনিময় ওয়াজিব হবে না; কারণ তা ওয়াজিব হওয়ার মূল কারণটিই বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

 

তৃতীয়ত: এই নীতির কিছু উদাহরণ:

যদি কেউ অন্যের দাঁত ভেঙে দেয়, তবে এই অবস্থায় দাঁতের আরশ বা ক্ষতিপূরণ—অর্থাৎ এর আর্থিক বিনিময়—প্রদান করা ওয়াজিব। কিন্তু যদি সেই স্থানে পুনরায় নতুন দাঁত গজায়, তবে এই অবস্থায় বিনিময় বা আরশ আর ওয়াজিব থাকবে না; কারণ ঘাটতি দূর হয়ে গেছে। কেননা বিনিময় কেবলমাত্র ঘাটতি অবশিষ্ট থাকলেই ওয়াজিব হয়, তা দূর হয়ে গেলে নয়।

এর আরেকটি উদাহরণ হলো: যদি কেউ কোনো পণ্য ক্রয় করার পর তাতে কোনো ত্রুটি প্রকাশ পায় এবং বিক্রেতা ত্রুটিজনিত ঘাটতির বিনিময় দিতে সম্মত হয়—অর্থাৎ ত্রুটির বিপরীতে পণ্যের মূল্যের কিছু অংশ ক্রেতাকে ফেরত দেয়, যাকে 'আরশুন নুকসান' (ত্রুটিজনিত মূল্যের ঘাটতি) বলা হয়—অতঃপর যদি সেই ত্রুটি দূর হয়ে যায়, তবে ক্রেতার ওপর বিক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া সেই অর্থ ফেরত দেওয়া ওয়াজিব হবে। কারণ যে ঘাটতি আরশ ওয়াজিব হওয়ার কারণ ছিল, তা দূর হয়ে গেছে। যেমন, কেউ একটি গাভী এই শর্তে ক্রয় করল যে সেটি প্রচুর দুধ দেয়, কিন্তু পরে দেখা গেল তাতে দুধ নেই। এমতাবস্থায় বিক্রেতা মূল্যের একটি অংশ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে ক্রেতার সাথে আপস করল, কিন্তু পরবর্তীতে দুধ পুনরায় ফিরে এল; তবে ক্রেতার ওপর বিক্রেতাকে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া ওয়াজিব। কারণ তখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে ওই আপসটি সঠিক ছিল না, ফলে এর ওপর যা কিছু আবর্তিত হয়েছিল তাও বাতিল হয়ে যাবে। কেননা যখন কোনো মূল বিষয় বাতিল হয়ে যায়, তখন তার অন্তর্ভুক্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ও বাতিল হয়ে যায়।

--------------------------------------------

(১) আল-মাবসুত, ২৬তম খণ্ড, ৮৮ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌القاعدة الثالثة عشرة [بدل الحر]

‌‌أولاً: لفظ ورود القاعدة:

بدل الحر لا يملك بالعقد (1).

 

‌‌ثانياً: معنى هذه القاعدة ومدلولها:

الحر غير العبد الرقيق - وهو الشخص الباقي على حكمه الأصلي - حيث إن الحرية أصل والرق طارئ. فإذا كان العبد الرقيق يباع ويُشترى ويملك بدله بالعقد؛ لقابليته للتملك فإن الحر لا يُملك ولا يدخل تحت اليد بملك ولا غيره، فبدله أيضاً لا يملك بالعقد؛ لأن العقد على الحر باطل وما بُني على باطل فهو باطل.

 

‌‌ثالثاً: من أمثلة هذه القاعدة ومسائلها:

إذا باع شخص لآخر رجلاً أو غلاماً أو امرأة على أنه عبد - وهو في الحقيقة حر - فإن العقد باطل، فلا يحل للبائع الثمن الذي أخذه بدلاً فيجب عليه رده على المشتري.

--------------------------------------------

(1) المبسوط جـ 13 ص 36.
ত্রয়োদশ নীতি [স্বাধীন ব্যক্তির বিনিময়]

প্রথমত: নীতিটির শব্দায়ন:

স্বাধীন ব্যক্তির বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে মালিকানাধীন হয় না (১)।

 

দ্বিতীয়ত: এই নীতির অর্থ ও তাৎপর্য:

স্বাধীন ব্যক্তি দাসের বিপরীত—তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি তার আদি বিধানের ওপর বহাল রয়েছেন—কেননা স্বাধীনতাই হলো মূল ভিত্তি আর দাসত্ব হলো একটি আগন্তুক অবস্থা। দাসকে যেহেতু ক্রয়-বিক্রয় করা যায় এবং সে মালিকানাযোগ্য হওয়ার কারণে চুক্তির মাধ্যমে তার বিনিময় বা মূল্য মালিকানাধীন হয়; সেখানে স্বাধীন ব্যক্তিকে মালিকানাধীন করা যায় না এবং তা মালিকানা বা অন্য কোনো উপায়ে কারো হস্তগত হয় না। সুতরাং, চুক্তির মাধ্যমে তার বিনিময়ও মালিকানাধীন হবে না; কারণ স্বাধীন ব্যক্তির ওপর সম্পাদিত চুক্তি বাতিল, আর যা বাতিলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে তাও বাতিল।

 

তৃতীয়ত: এই নীতির কিছু উদাহরণ ও মাসআলা:

যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট কোনো পুরুষ, বালক বা নারীকে দাস হিসেবে বিক্রি করে—অথচ বাস্তবে সে স্বাধীন—তবে সেই চুক্তিটি বাতিল হবে। বিক্রেতা বিনিময় হিসেবে যে মূল্য গ্রহণ করেছে তা তার জন্য বৈধ নয়, তাই সেটি ক্রেতাকে ফিরিয়ে দেয়া তার ওপর আবশ্যক।

--------------------------------------------

(১) আল-মাবসুত, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ৩৬।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌القاعدة الرابعة عشرة [حكم البدل]

‌‌أولاً: ألفاظ ورود القاعدة:

البدل عند العجز عن الأصل حكمه حكم الأصل (1).

وفي لفظ: البدل معتبر بأصله (2).

وفي لفظ: البدل يجب بالسبب الذي وجب به الأصل (3).

وفي لفظ: بدل الشيء قائم مقام أصله فكان حكمه حكم المبدل تحقيقاً لقيامه مقامه (4).

وفي لفظ: البدل يقوم مقام الأصل وحكمه حكم الأصل (5).

 

‌‌ثانياً: معنى هذه القواعد ومدلولها:

هذه القواعد تتضمن أحكام البدل:

أولاً: إن البدل إنما ينتقل إليه عند العجز عن الأصل.

ثانياً: إنما يجب البدل بالسبب الذي وجب به الأصل، وإلا كيف يكون بدلاً عنه!

ثالثاً: إن البدل يقوم مقام أصله في الوفاء بالمطلوب ولذلك كان حكمه حكم أصله؛ لابتنائه على سبب أصله، فإذا كان حكم الأصل الوجوب كان البدل واجباً، وإن كان حكم الأصل الندب كان البدل مندوباً، وإن

--------------------------------------------

(1) المبسوط جـ 1 ص 111.

(2) المبسوط جـ 2 ص 191.

(3) المبسوط جـ 20 ص 96.

(4) القواعد والضوابط ص 212.

(5) المبسوط جـ 21 ص 93.
‌‌চতুর্দশ মূলনীতি [বিকল্পের বিধান]

‌‌প্রথমত: মূলনীতিটি যে সকল শব্দে বর্ণিত হয়েছে:

মূল পালনে অক্ষমতার সময় বিকল্পের বিধান মূলের বিধানেরই অনুরূপ (১)।

অন্য শব্দে: বিকল্প তার মূলের নিরিখে বিবেচিত (২)।

অন্য শব্দে: যে কারণে মূলটি ওয়াজিব হয়, সেই একই কারণে বিকল্পটিও ওয়াজিব হয় (৩)।

অন্য শব্দে: কোনো বস্তুর বিকল্প তার মূলের স্থলাভিষিক্ত হয়; ফলে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার বিষয়টিকে কার্যকর করার জন্য তার বিধানটিও মূলের বিধানের ন্যায় সাব্যস্ত হয় (৪)।

অন্য শব্দে: বিকল্প মূলের স্থলাভিষিক্ত হয় এবং তার বিধান মূলের বিধানের অনুরূপ (৫)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: এই মূলনীতিগুলোর অর্থ ও তাৎপর্য:

এই মূলনীতিগুলো বিকল্পের বিধানসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথমত: মূল পালনে অক্ষম হলেই কেবল বিকল্পের দিকে ধাবিত হওয়া যাবে।

দ্বিতীয়ত: যে কারণে মূলটি ওয়াজিব হয়েছে, সেই একই কারণে বিকল্পটিও ওয়াজিব হয়; নতুবা এটি তার বিকল্প হয় কী করে!

তৃতীয়ত: উদ্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে বিকল্পটি তার মূলের স্থলাভিষিক্ত হয়, আর এই কারণেই তার বিধানটিও মূলের বিধানের অনুরূপ হয়; কেননা এটি তার মূলের কারণের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। অতএব, যদি মূলের বিধান ওয়াজিব হওয়া হয় তবে বিকল্পটিও ওয়াজিব হবে, আর যদি মূলের বিধান মুস্তাহাব হওয়া হয় তবে বিকল্পটিও মুস্তাহাব হবে, আর যদি

--------------------------------------------

(১) আল-মাবসুত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১১।

(২) আল-মাবসুত, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৯১।

(৩) আল-মাবসুত, খণ্ড ২০, পৃষ্ঠা ৯৬।

(৪) আল-কাওয়াইদ ওয়াল-দাওয়াবিত, পৃষ্ঠা ২১২।

(৫) আল-মাবসুত, খণ্ড ২১, পৃষ্ঠা ৯৩।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
كان حكم الأصل التحريم كان البدل محرماً؛ لأن البدل معتبر بأصله في السبب والحكم.

 

‌‌ثالثاً: من أمثلة هذه القواعد ومسائلها:

التيمم بدل عن الماء عند عدم القدرة عليه، فسبب الحاجة إلى الماء التطهر للعبادة وهو نفس سبب التيمم، وحكم استعمال الماء الوجوب لذلك السبب، فحكم التيمم كذلك عند عدم القدرة على الماء. وجواز العبادة أو وجوبها مترتب على التطهير بالماء فهو كذلك مترتب على التطهير بالتراب؛ لأنه قائم مقام أصله.

ومنها: الصيام عند عدم القدرة على الأصل في كفارة اليمين مثلاً - العتق أو الإطعام أو الكسوة - فهو - أي الصيام - مسبب عن وجوب الكفارة لليمين عند الحنث، فهو واجب كوجوب أصله وقائم مقام أصله في الوفاء.
যদি মূলের বিধান হারাম হয়, তবে তার স্থলাভিষিক্তও হারাম হবে; কারণ কারণ ও বিধানের ক্ষেত্রে স্থলাভিষিক্তকে তার মূলের অনুগামী হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

‌‌তৃতীয়ত: এই নিয়মাবলি ও মাসআলাসমূহের কিছু উদাহরণ:

পানির ব্যবহারে অক্ষমতার সময় তায়াম্মুম হলো পানির স্থলাভিষিক্ত। সুতরাং ইবাদতের জন্য পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশ্যে পানির প্রয়োজনীয়তার যে কারণ, তায়াম্মুমের কারণও তা-ই। উক্ত কারণে পানির ব্যবহারের বিধান যেমন ওয়াজিব, পানির ব্যবহারে অক্ষমতার সময় তায়াম্মুমের বিধানও তদ্রূপ। ইবাদত বৈধ হওয়া বা তা ওয়াজিব হওয়া যেহেতু পানির দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের ওপর নির্ভরশীল, তেমনি তা মাটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের ওপরও নির্ভরশীল; কারণ তা তার মূলের স্থলাভিষিক্ত।

এর অন্তর্ভুক্ত আরেকটি উদাহরণ হলো: শপথের কাফফারার ক্ষেত্রে মূল বিষয়ের (যেমন—দাসমুক্তি, খাদ্যদান বা বস্ত্রদান) সক্ষমতা না থাকলে রোজা রাখা। এই রোজা মূলত শপথ ভঙ্গের কারণে কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার ফলস্বরূপ সাব্যস্ত হয়। তাই এটি তার মূল বিধানের ন্যায় ওয়াজিব এবং দায়মুক্তির ক্ষেত্রে তার মূলের স্থলাভিষিক্ত।
(খণ্ড: ২) মাওসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌القاعدة الخامسة عشرة [تقرر البدل]

‌‌أولاً: لفظ ورود القاعدة:

البدل في عقود المعاوضات يتقرر بتسليم من له البدل لا باستيفاء من عليه (1).

 

‌‌ثانياً: معنى هذه القاعدة ومدلولها:

عقود المعاوضات: كالبيع والنكاح والإجارة.

مفاد هذه القاعدة أن البدل إنما يتقرر ويتأكد ويثبت في الذمة ويجب الوفاء به إذا سلم من له البدل مبدله - أي ما يقابل البدل - لا باستيفاء - أي أخذ البدل ممن عليه مبدله ومقابله.

 

‌‌ثالثاً: من أمثلة هذه القاعدة ومسائلها:

إذا اشترى إنسان سلعة من آخر وخلَّى البائع بين المشتري والسلعة، فيجب على المشتري دفع الثمن، وإن لم يأخذ المشتري السلعة بسبب منه لا من البائع؛ لأن التخلية تسليم، كما سيأتي.

ومنها: إذا تزوج رجل امرأة ولم يستطع الوصول إليها - للعنَّة مثلاً - فيجب المهر كاملاً؛ لأنها سلمت نفسها له فتقرر المهر عليه وإن لم يصل إليها لعيب فيه لا فيها.

--------------------------------------------

(1) المبسوط جـ 5 ص 149.
পঞ্চদশ নীতি [বিনিময় সাব্যস্ত হওয়া]

প্রথমত: নীতির শব্দ বিন্যাস:

বিনিময়মূলক চুক্তিতে বিনিময় সাব্যস্ত হয় বিনিময় প্রাপকের হস্তান্তরের মাধ্যমে, বিনিময় প্রদানকারীর ভোগের মাধ্যমে নয় (১)।

 

দ্বিতীয়ত: এই নীতির অর্থ ও তাৎপর্য:

বিনিময়মূলক চুক্তি: যেমন ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ এবং ইজারা (ভাড়া)।

এই নীতির মর্মার্থ হলো, বিনিময় তখনই সাব্যস্ত হয়, সুনিশ্চিত হয়, দায়বদ্ধতায় স্থির হয় এবং তা আদায় করা ওয়াজিব হয় যখন বিনিময়ের প্রাপক তার বিনিময়ের বস্তুটি—অর্থাৎ বিনিময়ের বিপরীতে যা রয়েছে তা—হস্তান্তর করে। এটি অপর পক্ষের ভোগের মাধ্যমে—অর্থাৎ যার ওপর বিনিময় ওয়াজিব হয়েছে তার গ্রহণের মাধ্যমে—সাব্যস্ত হয় না।

 

তৃতীয়ত: এই নীতির উদাহরণ ও মাসআলাসমূহ:

যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের কাছ থেকে কোনো পণ্য ক্রয় করে এবং বিক্রেতা ক্রেতাকে পণ্যটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্পণ করে, তবে ক্রেতার ওপর মূল্য পরিশোধ করা ওয়াজিব হয়ে যায়, যদিও ক্রেতা তার নিজের কোনো কারণে পণ্যটি গ্রহণ না করে থাকে (বিক্রেতার কারণে নয়); কারণ নিয়ন্ত্রণ অর্পণ করা হস্তান্তরেরই নামান্তর, যা সামনে আলোচিত হবে।

এর অন্তর্ভুক্ত: যদি কোনো পুরুষ কোনো নারীকে বিবাহ করে এবং তার কাছে পৌঁছাতে সক্ষম না হয়—উদাহরণস্বরূপ শারীরিক অক্ষমতার কারণে—তবে পূর্ণ মোহর প্রদান করা ওয়াজিব হবে; কারণ নারী নিজেকে তার নিকট সোপর্দ করেছে, ফলে পুরুষের ওপর মোহর সাব্যস্ত হয়ে গেছে, যদিও পুরুষের নিজস্ব ত্রুটির কারণে (নারীর ত্রুটি নয়) তার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

--------------------------------------------

(১) আল-মাবসুত, ৫ম খণ্ড, ১৪৯ পৃষ্ঠা।