(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: -)
التعليق على الرحيق المختوم   (محمود الملاح)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: التعليق على الرحيق المختوم

المؤلف: محمود بن محمد الملاح

تقديم: عبد الله بن مانع الروقي

الناشر: دار التدمرية - السعودية

الطبعة: الأولى (للتدمرية)، 1438 هـ - 2017 م

كانت أول طبعة للكتاب عن الدار العالمية للنشر والتوزيع، الإسكندرية - مصر، 1431 هـ - 2010 م

عدد الصفحات: 354

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 جُمادَى الأولى 1436

আর-রাহীকুল মাখতূম-এর ওপর টীকা   (মাহমুদ আল-মাল্লাহ)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


বই: আর-রাহীকুল মাখতূম-এর ওপর টীকা

লেখক: মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আল-মাল্লাহ

উপস্থাপনা: আবদুল্লাহ বিন মানি' আর-রুকী

প্রকাশক: দার আত-তাদমুরিয়্যাহ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম (তাদমুরিয়্যাহ-এর জন্য), ১৪৩৮ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

বইটির প্রথম সংস্করণ আদ-দার আল-আলামিয়্যাহ ফর পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, আলেকজান্দ্রিয়া - মিশর থেকে প্রকাশিত হয়েছিল, ১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫৪

[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ জুমাদাল উলা ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ১)
التعليق على الرحيق المختوم

محمود بن محمد الملاح

الطبعة: الأولى (للتدمرية)، 1438 هـ - 2017 م

--------------------------------------------

كانت أول طبعة للكتاب عن الدار العالمية للنشر والتوزيع، الإسكندرية - مصر، 1431 هـ - 2010 م
আর-রাহীকুল মাখতূম-এর ওপর টীকা

মাহমূদ বিন মুহাম্মাদ আল-মাল্লাহ

সংস্করণ: প্রথম (আত-তাদমুরীয়া প্রকাশনীর জন্য), ১৪৩৮ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

--------------------------------------------

গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল আদ-দারুল আলামিয়্যাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন থেকে, আলেকজান্দ্রিয়া - মিশর, ১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দে।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة فضيلة الشيخ عبد الله بن مانع الروقي -حفظه الله-

للطبعة الثانية

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، أما بعد:

فهذه طبعة جديدة، منقحة، ومزيدة من كتاب التعليق على الرحيق المختوم، وما أحوجنا إلى النظرة في السيرة النبوية العطرة؛ لتزكو نفوسنا، وتطهر أفئدتنا، في وقت نحن أحوج ما نكون فيه إلى القدوات الصادقة المخلصة، ولن تجد نفساً أطهر ولا أصدق من نفس نبينا محمد صلى الله عليه وسلم؛ فهو القدوة الذي زكى الله خلقه، قال تعالى: (وإنك لعلى خلق عظيم) (القلم: 4)، نفوس الأتباع تحتاج إلى تصحيح ومقابلة على تلك النفس الصادقة الصحيحة؛ فيحصل لها القرب، وتحصل لها الحظوة، اللهم ارزقنا صدق الاقتداء، وحسن الاتباع، وأحيينا على سنته، وأمتنا على طريقته، واحشرنا في زمرته، يا رحيم يا ودود، والحمد لله رب العالمين ..

وكتب

أبو محمد 26 صفر 1438 هـ
দ্বিতীয় সংস্করণের জন্য সম্মানিত শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে মানি আল-রুকি -আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন- এর ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, অতঃপর:

এটি 'আর-রাহীকুল মাখতূম' গ্রন্থের টীকা সম্বলিত একটি নতুন, পরিমার্জিত এবং বর্ধিত সংস্করণ। আমাদের নফসকে পরিশুদ্ধ করতে এবং হৃদয়কে পবিত্র করতে সুগন্ধিময় নবী-জীবনীর (সীরাত) প্রতি দৃষ্টিপাত করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি; বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন আমরা সত্যনিষ্ঠ ও একনিষ্ঠ আদর্শের সর্বাধিক মুখাপেক্ষী। আর আপনি আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নফসের চেয়ে অধিক পবিত্র ও সত্যনিষ্ঠ আর কোনো নফস খুঁজে পাবেন না; তিনিই সেই আদর্শ যার চরিত্রকে আল্লাহ পরিশুদ্ধ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর রয়েছেন" (আল-কালাম: ৪)। অনুসারীদের নফসসমূহকে সেই সত্যনিষ্ঠ ও সঠিক নফসের সাথে মিলিয়ে সংশোধন ও তুলনা করার প্রয়োজন রয়েছে; যাতে এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য ও মর্যাদা অর্জিত হয়। হে আল্লাহ! আমাদের সত্যনিষ্ঠভাবে অনুকরণ এবং উত্তম অনুসরণের তাওফীক দান করুন। আমাদের তাঁর সুন্নতের ওপর জীবিত রাখুন এবং তাঁর তরীকার ওপর আমাদের মৃত্যু দান করুন। আর কিয়ামতের দিন তাঁর দলের অন্তর্ভুক্ত করে আমাদের হাশর করুন, হে পরম দয়ালু, হে অতি স্নেহশীল। আর সকল প্রশংসা বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহর জন্য...

লিখেছেন

আবু মুহাম্মদ ২৬ সফর ১৪৩৮ হিজরী
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة الطبعة الثانية

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه، أما بعد:

فالسيرة النبوية هي الميدان العملي للإسلام فمنذ نزول القرآن الكريم على الرسول صلى الله عليه وسلم في غار حراء إلى وفاته صلى الله عليه وسلم نزلت الأحكام، وشرعت الشرائع، وأسس الدين، ونصبت القبلة، وعرف الحلال والحرام، وصححت العقائد؛ وذلك من خلال المواقف والأحداث التي مر بها الرسول صلى الله عليه وسلم مع المحيطين به من الصحابة، والكفار، وأهل الكتاب وغيرهم سواء أكان ذلك في الحرب أم في السلم؛

لذا قال الخطيب البغدادي-رحمه الله: (تتعلق بمغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم أحكام كثيرة، فيجب كتبها والحفظ لها)، وقال الزهري-رحمه الله: (في علم المغازي علم الآخرة والدنيا).(1)

لذا حرص الصحابة-رضي الله عنهم والسلف الصالح على مدارسة السيرة النبوية ومغازي الرسول صلى الله عليه وسلم ومعرفة حياته وهديه وقد وصف عبيد الله بن عتبة مجلس ابن عباس رضي الله عنهما فقال: (ولقد كنا نحضر عنده فيحدثنا العشية كلها في المغازي).(2)

--------------------------------------------

(1) الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع (2/ 195)، والبداية والنهاية (3/ 242).

(2) مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم لعروة بن الزبير ص (23).
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর। অতপর:

সীরাতে নববী হলো ইসলামের ব্যবহারিক ক্ষেত্র। হেরা গুহায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর পবিত্র কুরআন নাযিল হওয়া থেকে শুরু করে তাঁর মৃত্যু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সময়ে যাবতীয় বিধান নাযিল হয়েছে, শরীয়ত প্রবর্তিত হয়েছে, দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কিবলা নির্ধারিত হয়েছে, হালাল ও হারাম জানা গেছে এবং আকীদা সংশোধন করা হয়েছে। আর এ সবকিছুই সম্পন্ন হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চারপাশের সাহাবী, কাফির, আহলে কিতাব এবং অন্যদের সাথে যুদ্ধ কিংবা শান্তি—উভয় অবস্থায় যেসব পরিস্থিতি ও ঘটনার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছেন তার মাধ্যমে।

এই কারণেই খতীব বাগদাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধাভিযানসমূহের সাথে অনেক বিধান জড়িত, তাই তা লিপিবদ্ধ করা এবং মুখস্থ রাখা আবশ্যক)। আর ইমাম যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (যুদ্ধাভিযান সংক্রান্ত ইলমের মধ্যে আখিরাত ও দুনিয়ার ইলম নিহিত রয়েছে)।(১)

তাই সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং সালাফে সালেহীন সীরাতে নববী ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধাভিযানসমূহ অধ্যয়ন করতে এবং তাঁর জীবন ও আদর্শ জানতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। উবায়দুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মজলিসের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: (আমরা তাঁর নিকট উপস্থিত হতাম, তখন তিনি পুরো সন্ধ্যা আমাদের কাছে যুদ্ধাভিযানসমূহ নিয়ে আলোচনা করতেন)।(২)

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামি (২/১৯৫), এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (৩/২৪২)।

(২) উরওয়া ইবনুল যুবাইর রচিত মাগাযী রাসূলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, পৃষ্ঠা (২৩)।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ৮)
ومما يدل على اعتناء السلف بالمغازي ما ذكره الخطيب البغدادي-رحمه الله عن إسماعيل بن محمد بن سعد بن أبي وقاص قال: (كان أبي يعلمنا مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم ويعدها علينا وسراياه، ويقول: يا بني هذه مآثر آبائكم فلا تضيعوا ذكرها).

وروى أيضاً عن علي بن الحسين أنه كان يقول: (كنا نُعَلَّم مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم كما نُعَلَّم السورة من القرآن).(1)

وقد كتب العلماء السيرة ودونوا أحداثها ووثقوا مواقفها بصورة لا توجد لبشر إلا لرسول الله صلى الله عليه وسلم؛ لأن فيها (ما يعينهم على فهم كتاب الله تعالى؛ لأنها هي المفسرة للقرآن الكريم في الجانب العملي، ففيها أسباب النزول، وتفسير لكثير من الآيات فتعينهم على فهمها، والاستنباط منها، ومعايشة أحداثها، فيستخرجون أحكامها الشرعية، وأصول السياسة الشرعية، ويحصلون منها على المعارف الصحيحة في علوم الإسلام المختلفة، وبها يدركون الناسخ والمنسوخ وغيرها من العلوم، وبذلك يتذوقون روح الإسلام ومقاصده السامية، ويجد فيها الزهاد معاني الزهد وحقيقته ومقصده، ويستقي منها التجار مقاصد التجارة وأنظمتها وطرقها، ويتعلم منها المبتلون أسمى درجات الصبر والثبات، فتقوى عزائمهم على السير في طريق دعوة الإسلام وتعظم ثقتهم بالله عز وجل، ويوقنوا أن العاقبة للمتقين).(2)

ومن ينظر في القرآن الكريم يجد الإشارة إلى كثير من أحداث السيرة وغزوات الرسول صلى الله عليه وسلم مثل:

سورة العلق إشارة إلى بدء الوحي وأول ما نزل من القرآن الكريم.

سورة المدثر إشارة إلى التكليف بالرسالة والنذارة عن الشرك والدعوة إلى التوحيد.

سورة الضحى إشارة إلى فترة الوحي.

--------------------------------------------

(1) الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع (2/ 195)، والبداية والنهاية (3/ 242).

(2) انظر: مدخل لدراسة السيرة ص (14)، د. يحيى اليحيى.
পূর্বসূরিদের (সালাফ) যুদ্ধাভিযান (মাগাজি) সংক্রান্ত বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপের একটি প্রমাণ হলো যা খতিব বাগদাদি (আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন) ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (আমার পিতা আমাদের আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুদ্ধাভিযানসমূহ ও ছোট ছোট সেনাদলসমূহ (সারায়া) সম্পর্কে শেখাতেন এবং তা আমাদের কাছে গণনা করতেন। তিনি বলতেন: হে আমার সন্তানেরা! এগুলো তোমাদের পূর্বপুরুষদের বীরত্বগাথা, সুতরাং তোমরা এগুলোর স্মরণ হারিয়ে ফেলো না।)

তিনি আরও আলি ইবনুল হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতেন: (আমাদের আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুদ্ধাভিযানসমূহ শেখানো হতো ঠিক যেভাবে আমাদের কোরআনের সুরা শেখানো হতো)।(১)

আলেমগণ সিরাত (জীবনী) রচনা করেছেন, এর ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করেছেন এবং এর বিভিন্ন পর্যায়ের ঘটনাবলি এমনভাবে প্রামাণ্যরূপে সংরক্ষণ করেছেন যা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অন্য কোনো মানুষের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয় না। কারণ এতে রয়েছে (এমন কিছু যা তাদের মহান আল্লাহর কিতাব বুঝতে সাহায্য করে। কেননা এটি হলো ব্যবহারিক দিক থেকে পবিত্র কোরআনের ব্যাখ্যাকারী। এতে শানে নুযুল এবং বহু আয়াতের ব্যাখ্যা রয়েছে, যা তাদের কোরআন বুঝতে, তা থেকে বিধান আহরণ করতে এবং এর ঘটনাবলির বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করতে সাহায্য করে। ফলে তারা এর মধ্য থেকে শরিয়তের বিধান ও শরিয়াহ ভিত্তিক রাজনীতির মূলনীতি আহরণ করেন এবং ইসলামের বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় সঠিক জ্ঞান লাভ করেন। এর মাধ্যমে তারা নাসিখ ও মানসুখ এবং অন্যান্য বিজ্ঞান সম্পর্কে অবগত হন। এর ফলে তারা ইসলামের প্রাণ ও এর মহান উদ্দেশ্যসমূহ আস্বাদন করেন। এর মধ্যে দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তিরা (যুহহাদ) কৃচ্ছ্রসাধনার অর্থ, বাস্তবতা ও লক্ষ্য খুঁজে পান। ব্যবসায়ীরা এখান থেকে ব্যবসার উদ্দেশ্য, এর নিয়ম-নীতি ও পদ্ধতি গ্রহণ করেন। আর বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিরা এখান থেকে ধৈর্য ও অবিচলতার সর্বোচ্চ পর্যায় শিক্ষা লাভ করেন। ফলে ইসলামের দাওয়াতের পথে চলার ক্ষেত্রে তাদের সংকল্প দৃঢ় হয় এবং মহান আল্লাহর ওপর তাদের আস্থা বৃদ্ধি পায়, আর তারা নিশ্চিত হয় যে চূড়ান্ত শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকিদের জন্যই)।(২)

যে ব্যক্তি পবিত্র কোরআনের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে, সে সিরাতের বহু ঘটনা এবং রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুদ্ধাভিযানসমূহের প্রতি ইঙ্গিত দেখতে পাবে। যেমন:

সুরা আল-আলাক: ওহি শুরু হওয়া এবং পবিত্র কোরআনের সর্বপ্রথম যা নাজিল হয়েছে তার প্রতি ইঙ্গিত।

সুরা আল-মুদ্দাসসির: রিসালাতের দায়িত্ব অর্পণ, শিরক সম্পর্কে সতর্কীকরণ এবং তাওহিদের দাওয়াতের প্রতি ইঙ্গিত।

সুরা আদ-দুহা: ওহি স্থগিত থাকার সময়ের প্রতি ইঙ্গিত।

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি-আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি (২/ ১৯৫), এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (৩/ ২৪২)।

(২) দেখুন: মাদখাল লি-দিরাসাতিল সিরাহ, পৃষ্ঠা (১৪), ড. ইয়াহইয়া আল-ইয়াহইয়া।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ৯)
سورتا النجم والإسراء إشارة إلى الإسراء والمعراج.

سورة الأنفال إشارة إلى غزوة بدر الكبرى.

سورة آل عمران إشارة إلى غزوة أحد.

سورة الحشر إشارة إلى غزوة بني النضير.

سورة الأحزاب إشارة إلى غزوة الأحزاب والخندق.

سورة المنافقون إشارة إلى غزوة بني المصطلق.

سورة النور إشارة إلى حادثة الإفك.

سورة الفتح إشارة إلى صلح الحديبية وغزوة خيبر.

سورة التوبة إشارة إلى الهجرة وغزوة حنين.

سورة النصر إشارة إلى فتح مكة وقرب وداع الرسول صلى الله عليه وسلم.

ولو دققت النظر وأمعنت الفكر لوجدت إشارات كثيرة إلى أحداث السيرة في سور القرآن الكريم كالممتحنة والتحريم والمائدة والفرقان وغيرها.

ومن ينظر في كتب السنة من الصحاح والسنن والمسانيد يجد من أفرد للمغازي والسير كتباً كما فعل البخاري ومسلم وأصحاب السنن يجد فيها تفاصيل لكثير مما أجمل ذكره في القرآن الكريم.

وقد اعتبر العلماء السيرة من العلوم التي يتساهل في ذكر أحداثها ورواية الضعيف فيها كما فعل ابن إسحاق في سيرته، والواقدي في مغازيه، وغيرهم ممن جمع الأخبار الواردة بإسنادها دون تمحيص وتحقيق لها كما فعل المحدثون في رواية السنة النبوية.

قال عبد الرحمن بن مهدي-رحمه الله: (إذا روينا في الثواب والعقاب وفضائل الأعمال تساهلنا في الأسانيد وتسامحنا في الرجال، وإذا روينا في الحلال والحرام والأحكام تشددنا في الأسانيد وانتقدنا الرجال).(1)

--------------------------------------------

(1) دلائل النبوة للبيهقي (1/ 34).
সূরা আন-নাজম এবং সূরা আল-ইসরা হচ্ছে ইসরা এবং মি'রাজের প্রতি ইঙ্গিত।

সূরা আল-আনফাল হচ্ছে বদরের মহাযুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত।

সূরা আলে ইমরান হচ্ছে উহুদ যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত।

সূরা আল-হাশর হচ্ছে বনু নাযির যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত।

সূরা আল-আহযাব হচ্ছে আহযাব ও খন্দক যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত।

সূরা আল-মুনাফিকুন হচ্ছে বনু মুস্তালিক যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত।

সূরা আন-নূর হচ্ছে ইফকের (মিথ্যা অপবাদ) ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত।

সূরা আল-ফাতহ হচ্ছে হুদায়বিয়ার সন্ধি এবং খায়বার যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত।

সূরা আত-তাওবাহ হচ্ছে হিজরত এবং হুনাইন যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত।

সূরা আন-নাসর হচ্ছে মক্কা বিজয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের সময় নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত।

আপনি যদি নিবিড়ভাবে লক্ষ্য করেন এবং গভীরভাবে চিন্তা করেন, তবে পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন সূরা যেমন আল-মুমতাহিনা, আত-তাহরীম, আল-মায়িদাহ, আল-ফুরকান এবং অন্যান্য সূরাগুলোতেও সীরাতের বিভিন্ন ঘটনার অনেক ইঙ্গিত খুঁজে পাবেন।

আর যে ব্যক্তি সিহাহ, সুনান এবং মাসানীদ সদৃশ সুন্নাহর গ্রন্থসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে, সে দেখবে যে অনেক ইমাম মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) এবং সীরাতের জন্য স্বতন্ত্র অধ্যায় বা গ্রন্থ নির্ধারণ করেছেন—যেমনটি করেছেন ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম এবং সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ। সেখানে তারা এমন অনেক বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা পাবেন যা পবিত্র কুরআনে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওলামায়ে কেরাম সীরাতকে এমন একটি শাস্ত্র হিসেবে গণ্য করেছেন যেটির ঘটনাবলি বর্ণনা এবং দুর্বল বর্ণনা গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা অবলম্বন করা হয়। যেমনটি করেছেন ইবনে ইসহাক তাঁর সীরাত গ্রন্থে, আল-ওয়াকিদী তাঁর মাগাযী গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা, যারা বর্ণিত সংবাদগুলো সনদসহ সংকলন করেছেন কিন্তু মুহাদ্দিসগণ যেভাবে সুন্নাহ বর্ণনার ক্ষেত্রে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাই করেছেন, তারা সেভাবে করেননি।

আবদুর রহমান বিন মাহদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যখন আমরা সওয়াব, আজাব এবং আমলের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণনা করি, তখন আমরা সনদের ক্ষেত্রে শিথিলতা অবলম্বন করি এবং বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে উদার হই। কিন্তু যখন আমরা হালাল-হারাম এবং বিধি-বিধান সম্পর্কে বর্ণনা করি, তখন আমরা সনদের ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করি এবং বর্ণনাকারীদের কঠোর সমালোচনা করি।"(১)

--------------------------------------------

(১) বাইহাকী রচিত দালা-ইলুন নুবুওয়াহ (১/৩৪)।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ১০)
قال الإمام أحمد بن حنبل- رحمه الله: (ثلاثة كُتب ليس لها أصول: المغازي، والملاحم، والتفسير).(1)

وقد اختلف في تفسير كلام الإمام أحمد على أقوال منها ما ذكره الإمام الخطيب حيث فقال: "وهذا الكلام محمولٌ على وجه، وهو أنّ المراد به كُتُبٌ مخصوصة في هذه المعاني الثلاثة غير معتمد عليها، ولا موثوق بصحتها، لسوء أحوال مُصنّفيها، وعدم عدالة ناقليها، وزيادات القصّاص فيها. فأما كتب الملاحم، فجميعها بهذه الصفة، وليس يصح في ذكر الملاحم المرتقبة، والفتن المنتظرة غير أحاديث يسيرة اتصلت أسانيدها إلى الرسول-صلى الله عليه وسلم من وجوه مَرضية، وطرق واضحة جلية. "

وقد فسرها الحافظ ابن حجر رحمه الله بكثرة الأحاديث الضعيفة والموضوعة في هذه العلوم حيث ثم قال(2): " وقال الإمام أحمد: ثلاثة كتب ليس لها أصول: وهو المغازي، والتفسير، والملاحم، قلت: ينبغي أن يُضاف إليها الفضائل، فهذه أودية الأحاديث الضعيفة والموضوعة، إذ كانت العمدة في المغازي على مثل الواقدي، وفي التفسير على مثل مقاتل والكلبي، وفي الملاحم على الإسرائيليات، وأما الفضائل فلا تُحصى. كم وضع الرافضة في فضل أهل البيت، وعارضهم جهلة أهل السنة بفضائل معاوية، بل بفضائل الشيخين، وقد أغناهما الله وأعلى مرتبتهما عنها".

بالرغم من هذا فقد انتقد المحققون من أهل العلم صنيع هؤلاء في ذكر الضعيف والمنكر والموضوع في السيرة النبوية.

--------------------------------------------

(1) رواه الخطيب بإسناد صحيح عنه في الجامع (2/ 162)، ومما يحسن التنبيه عليه أن شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في مقدمة أصول التفسير رواها بالمعنى مما أوقع في اللبس فقال: (ثلاثةُ أمورٍ ليس لها إسناد: التفسيرُ، والملاحمُ، والمغازي، ويروى: ليس له أصلٌ، أي: إسناد).

(2) مقدمة كتاب لسان الميزان (1/ 13)، نشر مؤسسة الأعلمي للمطبوعات بيروت - لبنان، الطبعة الثانية، 1390 هـ/ 1971 م.
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (তিনটি বিষয়ের কিতাবসমূহের কোনো ভিত্তি নেই: আল-মাগাজি [যুদ্ধাভিযান], আল-মালাহিম [মহাযুদ্ধসমূহ], এবং তাফসির)।(১)

ইমাম আহমাদের এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হলো ইমাম আল-খাতিব যা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "এই বক্তব্যটি একটি বিশেষ অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হবে। আর তা হলো, এর দ্বারা এই তিনটি বিষয়ের এমন কিছু নির্দিষ্ট কিতাবকে বোঝানো হয়েছে যেগুলোর ওপর নির্ভর করা যায় না এবং যেগুলোর বিশুদ্ধতাও নির্ভরযোগ্য নয়। এর কারণ হলো এগুলোর সংকলকদের মন্দ অবস্থা, বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার অভাব এবং কাহিনী-কথকদের পক্ষ থেকে এতে নানাবিধ সংযোজন। আর মালাহিমের কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, এগুলোর সবগুলোই এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। প্রকৃতপক্ষে ভবিষ্যতে ঘটিতব্য মহাযুদ্ধসমূহ এবং প্রতীক্ষিত ফিতনাগুলোর বর্ণনায় অতি সামান্য কিছু হাদিস ছাড়া আর কিছুই বিশুদ্ধ নয়, যেগুলোর সনদ সন্তোষজনক ও সুস্পষ্ট পথে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছেছে।"

হাফেজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) এই শাস্ত্রগুলোতে দুর্বল ও জাল হাদিসের আধিক্যের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন(২): "ইমাম আহমাদ বলেছেন: তিনটি কিতাবের কোনো ভিত্তি নেই: তা হলো মাগাজি, তাফসির এবং মালাহিম। আমি (ইবনে হাজার) বলি: এর সাথে 'ফাজায়েল' (মর্যাদা) শাস্ত্রকেও যুক্ত করা উচিত। কারণ এগুলো হলো দুর্বল ও জাল হাদিসের চারণভূমি। যেহেতু মাগাজি শাস্ত্রে প্রধানত ওয়াকিদির মতো ব্যক্তিদের ওপর নির্ভর করা হয়, তাফসির শাস্ত্রে মুকাতিল ও কালবির মতো ব্যক্তিদের ওপর, আর মালাহিম শাস্ত্রে ইসরাইলি বর্ণনাগুলোর ওপর। আর ফাজায়েল বা মর্যাদার ক্ষেত্রে তো জাল বর্ণনার কোনো ইয়ত্তা নেই। রাফেজিরা আহলে বাইতের মর্যাদায় কত যে হাদিস জাল করেছে! আর তাদের বিপরীতে সুন্নাহর অনুসারী জাহেলরা মুয়াবিয়ার মর্যাদায়, এমনকি শায়খাইন (আবু বকর ও উমর)-এর মর্যাদাতেও হাদিস জাল করেছে, অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে এসব থেকে অমুখাপেক্ষী রেখেছেন এবং তাঁদের মর্যাদাকে অনেক উচ্চে স্থান দিয়েছেন।"

তা সত্ত্বেও, মুহাক্কিক আলেমগণ সিরাতে নববিতে এই ধরনের দুর্বল, মুনকার এবং জাল বর্ণনা উল্লেখ করার পদ্ধতির সমালোচনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-খাতিব এটি তাঁর থেকে সহিহ সনদে 'আল-জামি' (২/ ১৬২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এখানে একটি বিষয় সতর্ক করা সমীচীন যে, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) 'মুকাদ্দিমা উসুলিত তাফসির'-এ এটি অর্থানুসারে বর্ণনা করেছেন যা কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেছেন: (তিনটি বিষয়ের কোনো সনদ নেই: তাফসির, মালাহিম এবং মাগাজি। আবার এমনও বর্ণিত হয়েছে যে: এর কোনো মূল নেই, অর্থাৎ সনদ নেই)।

(২) লিসানুল মিজান গ্রন্থের ভূমিকা (১/ ১৩), মুআস্সাসাতুল আ'লামি লিল মাতবুআত বৈরুত - লেবানন থেকে প্রকাশিত, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৩৯০ হিজরি/ ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ১১)
فقد قال الإمام الذهبي-رحمه الله تعليقاً على سيرة ابن إسحاق(1): (وَلَا ريب ابْنَ إِسْحَاقَ كثَّرَ وَطوَّلَ بِأَنْسَابٍ مُسْتَوْفَاةٍ، اخْتصَارُهَا أَملحُ، وَبأَشعَارٍ غَيْرِ طَائِلَةٍ، حَذفُهَا أَرْجَحُ، وَبآثَارٍ لَمْ تُصحَّحْ، مَعَ أَنَّهُ فَاتَهُ شَيْءٌ كَثِيْرٌ مِنَ الصَّحِيْحِ، لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ، فَكِتَابُهُ مُحْتَاجٌ إِلَى تَنقِيحٍ وَتَصْحِيْحٍ، وَرِوَايَةِ مَا فَاتَهُ).

وقال الإمام الذهبي تعليقاً على القاضي عياض في كتابه الشفا(2): (تَوَالِيفُه نَفِيْسَةٌ، وَأَجَلُهَا وَأَشرفُهَا كِتَابُ "الشفَا" لَوْلَا مَا قَدْ حشَاه بِالأَحَادِيْث المفتعلَة، عَمَلَ إِمَامٍ لَا نَقد لَهُ فِي فَن الحَدِيْث وَلَا ذَوْق، وَاللهُ يُثيبه عَلَى حسن قصدهِ، وَيَنْفَع بِـ"شِفَائِهِ"، وَقَدْ فَعَلَ، وَكَذَا فِيْهِ مِنَ التَّأْوِيْلَات البعيدَة أَلوَان، وَنبينَا -صَلَوَاتُ اللهُ عَلَيْهِ وَسلَامه- غنِيٌّ بِمدحَه التنزِيل عَنِ الأَحَادِيْث، وَبِمَا تَوَاتر مِنَ الأَخْبَار عَنِ الآحَاد، وَبِالآحَاد النّظيفَة الأَسَانِيْد عَنِ الوَاهيَات، فَلِمَاذَا يَا قَوْم نَتشبع بِالمَوْضُوْعَات؟ فَيتطرق إِلَيْنَا مَقَالُ ذَوِي الْغل وَالحسد، وَلَكِن مَنْ لَا يَعلم مَعْذُور).

قال الدكتور عمر بن سليمان الاشقر رحمه الله(3): (إن تنقية السيرة مما شابها واجب كفائي مناط بالعلماء، فالمسلمون كانوا وما يزالون يرجعون إلى كتب السير، وفيها الصحيح والضعيف والموضوع، ويأخذون تلك الروايات أخذ المصدق بها المذعن لها، ونتج عن هذا أن ينسب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ما لم يقله ولم يفعله، ولم يحدث في زمانه.

وانتشرت روايات السيرة التي ضمتها كتب السيرة صحيحة وضعيفة في مؤلفات العلماء، وحدث بها الدعاة والوعاظ، واستدل بها العوام وطلبة العلم، وكل هذا أحدث خللًا كبيرًا عند هؤلاء جميعًا، ومن هنا كانت

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء للذهبي (6/ 267)، طبعة دار الحديث، عام 1427 هـ.

(2) سير أعلام النبلاء (15/ 51).

(3) مقدمة كتاب صحيح السيرة للعلي (ص: 6)، ط. دار النفائس، الأردن، الأولى 1425 هـ.
ইমাম আয-যাহাবী -রাহিমাহুল্লাহ- ইবন ইসহাকের সীরাতের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন(১): (নিঃসন্দেহে ইবন ইসহাক পূর্ণাঙ্গ বংশতালিকা বর্ণনার মাধ্যমে বিষয়টিকে দীর্ঘায়িত ও বিস্তারিত করেছেন, যার সংক্ষিপ্তকরণ অধিক সুন্দর হতো। তিনি এমন কিছু গুরুত্বহীন কবিতা উল্লেখ করেছেন যা বর্জন করাই ছিল শ্রেয়। সেই সাথে তিনি এমন কিছু বর্ণনা (আসার) এনেছেন যা প্রমাণিত নয়। পাশাপাশি অনেক সহীহ বর্ণনা তাঁর অগোচরে রয়ে গিয়েছিল যা তাঁর কাছে ছিল না। অতএব তাঁর গ্রন্থটি পরিমার্জন, সংশোধন এবং বাদ পড়া বর্ণনাগুলো যুক্ত করার মুখাপেক্ষী।)।

ইমাম আয-যাহাবী কাজী আইয়াজ ও তাঁর 'আশ-শিফা' গ্রন্থ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন(২): (তাঁর সংকলনসমূহ অত্যন্ত মূল্যবান; তার মধ্যে সবচেয়ে মহান ও মর্যাদাপূর্ণ হলো 'আশ-শিফা' গ্রন্থটি। যদি তিনি একে বানোয়াট হাদিস দিয়ে পূর্ণ না করতেন (তবে এটি আরও উত্তম হতো)। এটি এমন একজন ইমামের কাজ যার হাদিস যাচাই-বাছাই বা এই শাস্ত্রের রসবোধে দক্ষতা নেই। আল্লাহ তাঁকে তাঁর উত্তম সংকল্পের জন্য পুরস্কৃত করুন এবং তাঁর 'শিফা' গ্রন্থের মাধ্যমে মানুষকে উপকৃত করুন—যা আল্লাহ করেছেনও। একইভাবে এতে বিভিন্ন প্রকার দূরবর্তী ব্যাখ্যা বিদ্যমান। অথচ আমাদের নবী -তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক- তাঁর প্রশংসায় অবতীর্ণ কুরআনের বাণীর উপস্থিতিতে এসব (জাল) হাদিস থেকে অমুখাপেক্ষী। তদ্রূপ মুতাওয়াতির বর্ণনার উপস্থিতিতে একক বর্ণনার এবং পরিচ্ছন্ন সনদযুক্ত একক বর্ণনার উপস্থিতিতে দুর্বল বর্ণনার কোনো প্রয়োজন নেই। অতএব হে লোকসকল! আমরা কেন জাল বর্ণনার মাধ্যমে পরিতৃপ্ত হওয়ার চেষ্টা করছি? এর ফলে বিদ্বেষী ও হিংসুকদের সমালোচনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে যারা জানে না তারা ক্ষমার যোগ্য।)।

ডক্টর উমর বিন সুলাইমান আল-আশকার -রাহিমাহুল্লাহ- বলেছেন(৩): (সীরাতের ভেতর যা কিছু মিশ্রিত হয়েছে তা থেকে একে পরিচ্ছন্ন করা আলেমদের ওপর অর্পিত একটি ফরযে কিফায়া দায়িত্ব। মুসলমানরা সীরাতের গ্রন্থসমূহের দিকে সবসময়ই প্রত্যাবর্তন করে থাকে, যার মধ্যে সহীহ, যঈফ এবং জাল বর্ণনা বিদ্যমান। তারা এই বর্ণনাগুলোকে এমনভাবে গ্রহণ করে যেন সেগুলো সত্য ও তারা এর অনুগত। এর ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে এমন বিষয় সম্বন্ধ করা হয় যা তিনি বলেননি, করেননি এবং যা তাঁর যুগে ঘটেনি।

সীরাতের গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান সহীহ ও যঈফ বর্ণনাগুলো আলেমদের রচনায় ছড়িয়ে পড়েছে; দাঈ ও ওয়ায়েজরা তা বর্ণনা করেন এবং সাধারণ মানুষ ও ইলম অন্বেষণকারীরা তা দিয়ে দলিল পেশ করেন। এই সবকিছুই তাদের সকলের মাঝে একটি বড় ধরনের বিচ্যুতি তৈরি করেছে। আর এখান থেকেই...)

--------------------------------------------

(১) যাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা (৬/ ২৬৭), দারুল হাদিস সংস্করণ, ১৪২৭ হিজরি।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৫/ ৫১)।

(৩) আল-আলীর সহীহ সীরাহ গ্রন্থের ভূমিকা (পৃষ্ঠা: ৬), দারুন নাফায়েস, জর্ডান, প্রথম সংস্করণ ১৪২৫ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ১২)
الحاجة كبيرة وملحة لتنقية السيرة مما شابها، تصحيحًا للمسار، ونصحًا لله ولرسوله والمؤمنين، وإعانة للعلماء وطلبة العلم والدعاة والوعاظ).

ويقول الدكتور أكرم ضياء العمري- حفظه الله-(1):

(أما اشتراط الصحة الحديثية في قبول الأخبار التاريخية التي لا تمس العقيدة والشريعة ففيه تعسف كثير، والخطر الناجم عنه كبير، لأن الروايات التاريخية التي دونها أسلافنا المؤرخون لم تُعامل معاملة الأحاديث، بل تم التساهل فيها، وإذا رفضنا منهجهم فإن الحلقات الفارغة في تاريخنا ستمثل هوّة سحيقة بيننا، وبين ماضينا مما يولد الحيرة والضياع والتمزق والانقطاع … لكن ذلك لا يعني التخلي عن منهج المحدثين في نقد أسانيد الروايات التاريخية، فهي وسيلتنا إلى الترجيح بين الروايات المتعارضة، كما أنها خير معين في قبول أو رفض بعض المتون المضطربة أو الشاذة عن الإطار العام لتاريخ أمتنا، ولكن الإفادة منها ينبغي أن تتم بمرونة آخذين بعين الاعتبار أن الأحاديث غير الروايات التاريخية، وأن الأولى نالت من العناية ما يمكنها من الصمود أمام قواعد النقد الصارمة).

أقول: لا مانع في ذكر الروايات الضعيفة في السيرة

• ما لم تتعلق بالعقائد.

• أو بالحلال والحرام.

• أو يستدل بها على صحة بعض الأفعال، أو الأقوال.

• أو ما لم يكن فيها نقص لمقام النبوة والرسالة.

• أو إساءة لصحابي.

• أو نشر للبدع والمحدثات.

• أو الترويج لمنهج ضال منحرف.

--------------------------------------------

(1) دراسات تاريخية، ص (27).
(সীরাতকে এর সাথে মিশ্রিত ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে নির্মল করার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত ব্যাপক ও জরুরি; এটি করা হচ্ছে পথ সংশোধন, আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের প্রতি নিষ্ঠা প্রদর্শন এবং আলেম, তালিবে ইলম, দাঈ ও ওয়ায়েজদের সহায়তার উদ্দেশ্যে)।

ডক্টর আকরাম জিয়া আল-উমারি -আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন- বলেন(১):

(আকিদা ও শরীয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন ঐতিহাসিক সংবাদসমূহ গ্রহণের ক্ষেত্রে হাদিসশাস্ত্রীয় বিশুদ্ধতার শর্তারোপ করা অনেক ক্ষেত্রে কঠোরতা এবং এর ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি অনেক বড়। কারণ আমাদের পূর্বসূরি ঐতিহাসিকগণ যেসকল ঐতিহাসিক বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন, সেগুলোকে হাদিসের মতো বিবেচনা করা হয়নি, বরং এ ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা অবলম্বন করা হয়েছে। যদি আমরা তাঁদের পদ্ধতি প্রত্যাখ্যান করি, তবে আমাদের ইতিহাসের শূন্যতাগুলো আমাদের এবং আমাদের অতীতের মধ্যে এক গভীর গহ্বর তৈরি করবে, যা বিভ্রান্তি, দিশেহারা অবস্থা, বিচ্ছিন্নতা ও বিচ্ছেদ সৃষ্টি করবে... তবে এর অর্থ এই নয় যে ঐতিহাসিক বর্ণনার সনদ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি বর্জন করা হবে। বরং এটিই আমাদের জন্য পরস্পর বিরোধী বর্ণনাগুলোর মধ্যে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যম। ঠিক তেমনি আমাদের উম্মাহর ইতিহাসের সাধারণ কাঠামোর বাইরে থাকা কিছু বিশৃঙ্খল বা শায (বিচ্ছিন্ন) মতন (মূল পাঠ) গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে এটি সর্বোত্তম সহায়ক। তবে এ থেকে উপকৃত হওয়ার বিষয়টি নমনীয়তার সাথে হওয়া উচিত এবং এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত যে, হাদিস আর ঐতিহাসিক বর্ণনা এক নয়। হাদিসের ক্ষেত্রে এমন যত্ন নেওয়া হয়েছে যা কঠোর সমালোচনা পদ্ধতির সামনে টিকে থাকতে সক্ষম।)

আমি বলি: সীরাতের ক্ষেত্রে দুর্বল বর্ণনা উল্লেখ করতে কোনো বাধা নেই

• যতক্ষণ না তা আকিদার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়।

• অথবা হালাল ও হারামের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়।

• অথবা তা দ্বারা কোনো কর্ম বা বাণীর সঠিকতা প্রমাণ করা হয়।

• অথবা যাতে নবুওয়াত ও রেসালাতের মর্যাদার কোনো হানি না ঘটে।

• অথবা কোনো সাহাবীর প্রতি অবমাননা করা হয়।

• অথবা বিদআত ও নব-আবিষ্কৃত বিষয়ের প্রসার ঘটানো হয়।

• অথবা কোনো পথভ্রষ্ট ও বিচ্যুত মানহাজের প্রচার করা হয়।

--------------------------------------------

(১) দিরাসাত তারিখিয়্যাহ, পৃষ্ঠা (২৭)।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ১৩)
والأفضل مع ذكر الروايات الضعيفة في السيرة أن يتبعها بيان ضعفها؛ فكم من القصص الباطلة والمكذوبة انتشرت بين الناس من خلال السيرة وصار إنكارها من الصعوبة بمكان؛ لشهرتها، وللجهل بالصحيح الوارد في موطنها.

وينبغي للدارس للسيرة النبوية أن يفرق بين ضعف نسبة الكلام للرسول صلى الله عليه وسلم وبين وجود ما يدل على أصل الحدث التاريخي.

مثال: حديث: " اذهبوا فأنتم الطلقاء " ضعيف على شهرته في كتب المغازي كما قرر الألباني في السلسلة الضعيفة حديث (1163) ولا يعني ذلك أن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يعف عن أهل مكة، أو أنهم لا يسمون الطلقاء؛ لما ثبت في البخاري (4333)، ومسلم (1059) واللفظ له عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: " لما كان يوم حنين أقبلت هوازن وغطفان، وغيرهم بذراريهم ونعمهم، ومع النبي صلى الله عليه وسلم يومئذ عشرة آلاف، ومعه الطلقاء، فأدبروا عنه، حتى بقي وحده، قال: فنادى يومئذ نداءين، لم يخلط بينهما شيئا، قال: فالتفت عن يمينه، فقال: "يا معشر الأنصار" فقالوا: لبيك، يا رسول الله، أبشر نحن معك، قال: ثم التفت عن يساره فقال: "يا معشر الأنصار" قالوا: لبيك، يا رسول الله، أبشر نحن معك، قال: وهو على بغلة بيضاء، فنزل فقال: "أنا عبد الله ورسوله"، فانهزم المشركون، وأصاب رسول الله صلى الله عليه وسلم غنائم كثيرة، فقسم في المهاجرين والطلقاء، ولم يعط الأنصار شيئاً، فقالت الأنصار: إذا كانت الشدة فنحن ندعى، وتعطى الغنائم غيرنا، فبلغه ذلك، فجمعهم في قبة، فقال: "يا معشر الأنصار، ما حديث بلغني عنكم؟ " فسكتوا، فقال: "يا معشر الأنصار، أما ترضون أن يذهب الناس بالدنيا وتذهبون بمحمد تحوزونه إلى بيوتكم؟ " قالوا: بلى، يا رسول الله، رضينا، قال: فقال: "لو سلك الناس وادياً، وسلكت الأنصار شعباً، لأخذت شعب الأنصار".

مثال آخر: المقاطعة الاقتصادية من قريش للرسول صلى الله عليه وسلم-والمسلمين ومن تعاطف معهم في خيف بني كنانة.
সীরাত গ্রন্থে দুর্বল বর্ণনা উল্লেখ করার পাশাপাশি সেগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট করে দেওয়া অধিকতর উত্তম; কারণ কতই না বাতিল ও মিথ্যা কিচ্ছা-কাহিনী সীরাতের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেগুলোর প্রসিদ্ধি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সহীহ বর্ণনা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে তা অস্বীকার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সীরাতুন্নবী (সা.)-এর শিক্ষার্থীর জন্য এটি আবশ্যক যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দিকে কোনো উক্তির সম্বন্ধ বা নিসবতের দুর্বলতা এবং মূল ঐতিহাসিক ঘটনার ভিত্তি নির্দেশকারী প্রমাণের অস্তিত্বের মধ্যে পার্থক্য করবেন।

উদাহরণস্বরূপ: "তোমরা যাও, তোমরা আজ মুক্ত" - এই হাদীসটি মাগাযী বা যুদ্ধাভিযান বিষয়ক গ্রন্থসমূহে ব্যাপক প্রসিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তা দুর্বল, যেমনটি আলবানী 'সিলসিলাতুদ দাঈফাহ' (হাদীস নং ১১৬৩)-তে উল্লেখ করেছেন। এর অর্থ এই নয় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কাবাসীদের ক্ষমা করেননি অথবা তাদের 'তুলাকা' (মুক্তপ্রাপ্ত) বলা হয় না; কারণ বুখারী (৪৩৩৩) ও মুসলিম (১০৫৯) -এবং শব্দাবলী মুসলিমের- এ আনাস বিন মালিক (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: "যখন হুনায়নের দিন এল, তখন হাওয়াযিন, গাতফান ও অন্যরা তাদের সন্তান-সন্ততি ও গবাদি পশুসহ অগ্রসর হলো। সেদিন নবী (সা.)-এর সাথে দশ হাজার সৈন্য ছিল এবং তাঁর সাথে ছিল 'তুলাকা'গণ। অতঃপর তারা তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে পলায়ন করল, এমনকি তিনি একাকী রয়ে গেলেন। তিনি বলেন: সেদিন তিনি দুটি ডাক দিলেন যার সাথে অন্য কিছুর সংমিশ্রণ করেননি। তিনি তাঁর ডান দিকে ফিরে বললেন: 'হে আনসার সম্প্রদায়!' তারা বলল: 'আমরা উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসূল, সুসংবাদ গ্রহণ করুন, আমরা আপনার সাথেই আছি।' তারপর তিনি তাঁর বাম দিকে ফিরে বললেন: 'হে আনসার সম্প্রদায়!' তারা বলল: 'আমরা উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসূল, সুসংবাদ গ্রহণ করুন, আমরা আপনার সাথেই আছি।' তিনি তখন একটি সাদা খচ্চরের ওপর আরোহী ছিলেন। এরপর তিনি অবতরণ করে বললেন: 'আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।' অতঃপর মুশরিকরা পরাজিত হলো এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রচুর গনীমত লাভ করলেন। তিনি তা মুহাজির ও 'তুলাকা'দের মাঝে বণ্টন করলেন এবং আনসারদের কিছুই দিলেন না। এতে আনসারগণ বলতে লাগলেন: সংকটের সময় আমাদের ডাকা হয়, আর গনীমত দেওয়া হয় অন্যদের। এ কথা তাঁর কাছে পৌঁছালে তিনি তাদের একটি তাঁবুর নিচে সমবেত করলেন এবং বললেন: 'হে আনসার সম্প্রদায়, তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে কী সংবাদ পৌঁছেছে?' তারা নীরব থাকল। তিনি বললেন: 'হে আনসার সম্প্রদায়, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, মানুষ দুনিয়া নিয়ে চলে যাবে আর তোমরা মুহাম্মাদকে তোমাদের ঘরে নিয়ে ফিরবে?' তারা বলল: 'হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা সন্তুষ্ট।' তিনি বললেন: 'যদি মানুষ কোনো উপত্যকা দিয়ে চলে আর আনসারগণ কোনো গিরিপথ দিয়ে চলে, তবে আমি আনসারদের গিরিপথই গ্রহণ করব'।"

অন্য একটি উদাহরণ: খায়ফে বনী কানানায় রাসূলুল্লাহ (সা.), মুসলিম এবং তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীলদের বিরুদ্ধে কুরাইশদের পক্ষ থেকে আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ১৪)
ورد في الصحيح ما يدل على المقاطعة، عن أبي هريرة رضي الله عنه، قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم من الغد يوم النحر، وهو بمنى: "نحن نازلون غدا بخيف بني كنانة، حيث تقاسموا على الكفر" يعني ذلك المحصب، وذلك أن قريشا وكنانة، تحالفت على بني هاشم وبني عبد المطلب، أو بني المطلب: أن لا يناكحوهم ولا يبايعوهم، حتى يسلموا إليهم النبي صلى الله عليه وسلم. وَقَالَ سَلَامَةُ عَنْ عُقَيْلٍ، وَيَحْيَى بْنُ الضَّحَّاكِ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ: أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ. وَقَالَا: بَنِي هَاشِمٍ وَبَنِي الْمُطَّلِبِ. قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: بَنِي الْمُطَّلِبِ أَشْبَهُ.(1)

لكن تفاصيل المقاطعة وتعليق الصحيفة في جوف الكعبة والسعي في نقضها من قبل جماعة من قريش وأن الأرضة أكلتها ماعدا ما فيه ذكر الله وردت من مراسيل كما قال الدكتور العمري-حفظه الله-(2): (وقد ورد الخبر مفصلاً من مرسل أبي الأسود ومرسل الزهري(3)، كما ورد من مرسل عروة بن الزبير(4)، ونظراً لأن الزهري وأبا الأسود من تلاميذ عروة، فإن ثمة احتمالاً قوياً أنهما يرويان الخبر عنه، مما يجعل المرسل(5) لا يقوى بالتعدد لوحدة مخرجه.

وإذا لم تثبت رواية في تفاصيل دخول المسلمين شعب أبي طالب، فإن أصل الحادث ثابت، كما أن ذلك لا يعني عدم وقوع تفاصيل الحادث

--------------------------------------------

(1) متفق عليه، رواه البخاري (ح 1590) واللفظ له، ورواه مسلم (ح 1314).

(2) السيرة النبوية الصحيحة للعمري (1/ 181)، مكتبة العلوم والحكم بالمدينة، الطبعة السادسة، 1415 هـ.

(3) بإسناد حسن إلى أبي الأسود والزهري (دلائل البيهقي (2/ 311 - 314) والدرر في اختصار المغازي والسير لابن عبد البر (27 - 30).

(4) بإسناد ضعيف إليه فيه محمد بن عمرو بن خالد الحراني لم أقف له على ترجمة وابن لهيعة ضعيف. (الدلائل لأبي نعيم (1/ 357 - 362)، والدلائل للبيهقي (2/ 314)).

(5) يعني مرسل أبي الأسود والزهري، إذ هما أقوى سنداً إليهما من مرسل عروة الذي لم يثبت عنه من طريق صحيحة.
সহীহ গ্রন্থে বয়কট নির্দেশক বর্ণনা এসেছে। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কুরবানীর দিনের পরের দিন মিনায় অবস্থানকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "আমরা আগামীকাল বনী কিনানার খায়েফে অবস্থান করব, যেখানে তারা কুফরীর ওপর শপথ করেছিল।" এর দ্বারা মুহাসসাব উদ্দেশ্য। আর বিষয়টি হলো, কুরাইশ ও কিনানা গোত্র বনী হাশিম ও বনী আব্দুল মুত্তালিব (অথবা বনী মুত্তালিব)-এর বিরুদ্ধে এই মর্মে জোট করেছিল যে, তারা তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক রাখবে না এবং কোনো লেনদেন করবে না, যতক্ষণ না তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাদের হাতে সোপর্দ করে। সালামাহ উকাইল থেকে এবং ইয়াহইয়া ইবনুল যাহহাক আওযাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন: ইবনে শিহাব আমাকে জানিয়েছেন। তাঁরা উভয়েই বলেছেন: বনী হাশিম ও বনী মুত্তালিব। আবু আব্দুল্লাহ বলেন: বনী মুত্তালিব বলাই অধিক সঠিক।(১)

কিন্তু বয়কটের বিস্তারিত বিবরণ, কাবার অভ্যন্তরে চুক্তিপত্র ঝুলিয়ে রাখা, কুরাইশদের একটি দলের পক্ষ থেকে তা ভঙ্গের চেষ্টা করা এবং আল্লাহর নাম সম্বলিত অংশ ব্যতীত বাকি সবটুকু উইপোকায় খেয়ে ফেলা—এই বিষয়গুলো 'মুরসাল' বর্ণনাসমূহে এসেছে, যেমনটি ডক্টর আল-উমারী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন(২): "এই সংবাদটি বিস্তারিতভাবে আবুল আসওয়াদ এবং যুহরীর মুরসাল বর্ণনায় এসেছে(৩), যেমনটি উরওয়াহ ইবনুয যুবাইরের মুরসাল বর্ণনাতেও এসেছে(৪)। যেহেতু যুহরী ও আবুল আসওয়াদ উভয়েই উরওয়ার ছাত্র ছিলেন, তাই প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে তাঁরা তাঁর থেকেই বর্ণনাটি গ্রহণ করেছেন। ফলে এর মূল উৎস এক হওয়ার কারণে একাধিক বর্ণনা হওয়া সত্ত্বেও তা শক্তিশালী হয় না।(৫)

যদিও মুসলমানদের শিআবে আবু তালিবে প্রবেশের বিস্তারিত বিবরণের ক্ষেত্রে কোনো বর্ণনা প্রমাণিত নয়, তবে ঘটনার মূল ভিত্তি সাব্যস্ত। আর এর অর্থ এই নয় যে, বিস্তারিত ঘটনাগুলো ঘটেনি।

--------------------------------------------

(১) মুত্তাফাকুন আলাইহি, বুখারী (হাদীস নং ১৫৯০) এটি তাঁর শব্দে বর্ণিত, এবং মুসলিম (হাদীস নং ১৩১৪) বর্ণনা করেছেন।

(২) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ আস-সহীহাহ, আল-উমারী (১/ ১৮১), মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম, মদিনা, ষষ্ঠ সংস্করণ, ১৪১৫ হিজরী।

(৩) আবুল আসওয়াদ ও যুহরীর প্রতি হাসান সনদে (দালাইলুল বাইহাকী (২/ ৩১১ - ৩১৪) এবং আদ-দুরার ফি ইখতিসারিল মাগাযি ওয়াস সিয়ার, ইবনে আব্দুল বার (২৭ - ৩০))।

(৪) তাঁর প্রতি যঈফ সনদে, যাতে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে খালিদ আল-হাররানী রয়েছেন—আমি তাঁর জীবনী পাইনি, এবং ইবনে লাহীআহ একজন দুর্বল বর্ণনাকারী। (আবু নুয়াইমের আদ-দালাইল (১/ ৩৫৭ - ৩৬২) এবং বাইহাকীর আদ-দালাইল (২/ ৩১৪))।

(৫) অর্থাৎ আবুল আসওয়াদ ও যুহরীর মুরসাল বর্ণনা, কারণ তাঁদের পর্যন্ত সনদটি উরওয়ার মুরসাল বর্ণনার চেয়ে অধিক শক্তিশালী, যা তাঁর থেকে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত হয়নি।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ১৫)
تأريخياً، فإن عروة رائد مدرسة المغازي، وهو إنما يروي عن الصحابة في الغالب).

وقال الحافظ ابن حجر-رحمه الله(1): (وَلَمَّا لَمْ يَثْبُتْ عِنْدَ الْبُخَارِيِّ شَيْءٌ مِنْ هَذِهِ الْقِصَّةِ اكْتَفَى بِإِيرَادِ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ؛ لِأَنَّ فِيهِ دَلَالَةً عَلَى أَصْلِ الْقِصَّةِ؛ لِأَنَّ الَّذِي أَوْرَدَهُ أَهْلُ الْمَغَازِي مِنْ ذَلِكَ كَالشَّرْحِ لِقَوْلِهِ فِي الْحَدِيثِ: "تَقَاسَمُوا عَلَى الْكُفْرِ").

 

‌‌الجديد في الطبعة الثانية:

1 - تصحيح الأخطاء الواقعة في الطبعة الأولى وأهمها السقط ص (153) حيث سقط تخريج إرسال علي بن أبي طالب رضي الله عنه للتثبت من موقف المشركين، وسقط ذكر موقف سعد بن الربيع رضي الله عنه يوم أحد، وبقي تخريجه.

2 - المقارنة بين طبعتي كتاب الرحيق المختوم القديمة والجديدة، وإثبات ما بينهما من فروق، وما عدله المؤلف رحمه الله في الطبعة الجديدة.

3 - إضافة تعليقات جديدة على كتاب الرحيق المختوم لم تكن موجودة بالطبعة الأولى.

4 - كتابة مقدمة للطبعة الثانية ذكرت فيها فوائد دراسة السيرة النبوية وكيفية التعامل مع مروياتها.

5 - كتابة مختصر لكتاب التعليق على الرحيق المختوم في آخر الكتاب بلغ مئة وخمسين تعليقاً.

6 - زيادة عدد صفحات الكتاب مئة وخمسين صفحة تقريباً عن الطبعة الأولى مما جعله كأنه كتاب جديد.

--------------------------------------------

(1) فتح الباري (7/ 193)، دار المعرفة، بيروت، عام 1379 هـ.
ঐতিহাসিকভাবে, উরওয়া হলেন মাগাজি (রণাঙ্গনের ইতিহাস) শাস্ত্রের অগ্রপথিক, এবং তিনি মূলত অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরাম থেকেই বর্ণনা করেন)।

এবং হাফেজ ইবনে হাজার -রাহিমাহুল্লাহ-(১) বলেছেন: (যখন বুখারীর নিকট এই কাহিনীর কোনো অংশই সাব্যস্ত হয়নি, তখন তিনি আবু হুরায়রার হাদিসটি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন; কেননা তাতে মূল কাহিনীর প্রমাণ বিদ্যমান; কারণ মাগাজি শাস্ত্রবিদগণ এ বিষয়ে যা বর্ণনা করেছেন তা মূলত হাদিসে বর্ণিত তাঁর এই উক্তিরই ব্যাখ্যাস্বরূপ: "তারা কুফরির ওপর পরস্পর শপথ করেছিল")।

 

‌‌দ্বিতীয় সংস্করণে নতুন যা রয়েছে:

১ - প্রথম সংস্করণে সংঘটিত ভুলগুলোর সংশোধন, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ১৫৩ পৃষ্ঠার বিলুপ্তি, যেখানে মুশরিকদের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য আলি বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে পাঠানোর তাখরিজ (সূত্রোল্লেখ) বাদ পড়েছিল, এবং ওহুদ যুদ্ধের দিন সাদ বিন রাবি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর অবস্থানের উল্লেখ বাদ পড়েছিল, যদিও তার তাখরিজ অবশিষ্ট ছিল।

২ - 'আর-রাহীকুল মাখতূম' বইটির পুরাতন ও নতুন সংস্করণের মধ্যে তুলনা এবং এ দুটির মধ্যকার পার্থক্যসমূহ ও লেখক -রাহিমাহুল্লাহ- নতুন সংস্করণে যা সংশোধন করেছেন তা সাব্যস্ত করা।

৩ - 'আর-রাহীকুল মাখতূম' বইটির ওপর এমন নতুন টীকা সংযোজন যা প্রথম সংস্করণে ছিল না।

৪ - দ্বিতীয় সংস্করণের জন্য একটি ভূমিকা লিখন যাতে সীরাত পাঠের উপকারিতা এবং এর বর্ণনাগুলোর সাথে শাস্ত্রীয় আচরণের পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে।

৫ - বইয়ের শেষে 'আত-তালিক আলা আর-রাহীকিল মাখতূম' বইটির একটি সংক্ষিপ্তসার সংযোজন যা একশত পঞ্চাশটি টীকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

৬ - বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা প্রথম সংস্করণের তুলনায় প্রায় একশত পঞ্চাশ পৃষ্ঠা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে এটি একটি নতুন বইয়ের মতো হয়ে উঠেছে।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী (৭/ ১৯৩), দারুল মা’রিফা, বৈরুত, ১৩৭৯ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ১৬)
وختاماً:

هذا الكتاب ليس تحذيرا من كتاب الرحيق المختوم، أو انتقاصاً من مكانته، أو تحقيقاً له كما كتب على غلاف الطبعة الأولى من قبل الناشر، وإنما عبارة عن جمع لأقوال أهل العلم وتعليقات على الرحيق المختوم كتبتها لنفسي ومن شاء من المسلمين، استفدت غالبها من كتب العلامة الألباني رحمه الله، والدكتور أكرم العمري -حفظه الله-، وكتاب ما شاع ولم يثبت في السيرة للشيخ محمد العوشن-حفظه الله-، وكتب أخرى تجدون الإشارة إليها في موطنها، وأسأل الله أن ينفع به ويكتب له القبول ويجعله من العلم النافع الذي يعود علي نفعه في حياتي وبعد مماتي، ورحم الله مسلماً وجد في كتابي خللاً فسده، ونقصاً فأكمله، وعيباً فدلني عليه وله مني الشكر والدعاء، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.

 

كتبه أبو عبد الرحمن

محمود بن محمد الملاح

غفر الله له ولوالديه ولذريته والمسلمين

السعودية - مدينة الرياض العامرة حرسها الله من كل سوء

almallah72@gmail.com

00966508457570

يوم السبت 20 من صفر عام 1438 هـ

الموافق 20/ 11/ 2016 م
পরিশেষে:

এই বইটি 'আর-রাহিকুল মাখতুম' গ্রন্থ সম্পর্কে কোনো সতর্কবার্তা নয়, বা এর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করার কোনো প্রয়াসও নয়, কিংবা এটি এমন কোনো গবেষণামূলক সংস্করণ নয় যেমনটি প্রকাশকের পক্ষ থেকে প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদে লেখা হয়েছিল। বরং এটি মূলত ইলমের অধিকারী আলেমদের উক্তি এবং 'আর-রাহিকুল মাখতুম' গ্রন্থের ওপর কিছু টীকা-টিপ্পনীর সমষ্টি, যা আমি নিজের জন্য এবং আগ্রহী মুসলিমদের জন্য লিখেছি। এর অধিকাংশ আমি আল্লামা আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) ও ডক্টর আকরাম আল-উমারী (হাফিজাহুল্লাহ)-এর গ্রন্থসমূহ এবং শায়খ মুহাম্মাদ আল-আওশান (হাফিজাহুল্লাহ) রচিত 'মা শা-আ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাহ' গ্রন্থ থেকে গ্রহণ করেছি। এছাড়াও অন্যান্য যেসব উৎস থেকে সাহায্য নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর উল্লেখ যথাস্থানে করা হয়েছে। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা মানুষকে উপকৃত করেন, একে কবুল করে নেন এবং একে এমন উপকারী ইলম হিসেবে গণ্য করেন যার কল্যাণ আমি আমার জীবনে ও মৃত্যুর পর লাভ করতে পারি। আল্লাহ সেই মুসলিমের ওপর রহম করুন যিনি আমার এই কিতাবে কোনো বিচ্যুতি দেখলে তা সংশোধন করে দেবেন, কোনো অপূর্ণতা দেখলে তা পূর্ণ করবেন অথবা কোনো ত্রুটি দেখলে আমাকে সে সম্পর্কে অবগত করবেন; তাঁর জন্য আমার পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও দোয়া রইল। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

লিখেছেন আবু আব্দুর রহমান

মাহমুদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-মাল্লাহ

আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে, তাঁর সন্তান-সন্ততিদের এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন

সৌদি আরব - সমৃদ্ধ রিয়াদ শহর, আল্লাহ একে সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন

almallah72@gmail.com

00966508457570

শনিবার, ২০ সফর, ১৪৩৮ হিজরি

২০/১১/২০১৬ ইংরেজি
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌مقدمة فضيلة الشيخ: عبدالله بن مانع الروقي- حفظه الله -

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم المرسلين، وعلى آله وصحبه أجمعين أما بعد:

فإن الله - جل في علاه- قص على نبيه بعض ماكان من الحوادث التي سلى بها نبيه وصبره، حتى بلغ دعوة ربه.

وهذا القصص القرآني هو أحسن القصص وأكمله وأجمله كما قال جل وعلا: (نحن نقص عليك أحسن القصص بما أوحينا إليك هذا القرآن وإن كنت من قبله لمن الغافلين) (يوسف: 3) وفي آخر السورة قال جل وعلا: (لقد كان في قصصهم عبرة لأولي الألباب ما كان حديثا يفترى ولكن تصديق الذي بين يديه وتفصيل كل شيء هدى ورحمة لقوم يؤمنون) (يوسف: 111)

قال ابن سعدي-رحمه الله في تفسيره: ((أحسن القصص) وذلك؛ لصدقها وسلامة عباراتها ورونق معانيها … - إلى أن قال-: وأنها أحسن القصص على الإطلاق، فلا يوجد من القصص في شيء من الكتب مثل هذا القرآن). اهـ

ومن القصص الحسنة قصص خاتم النبيين- صلى الله عليه وسلم وأخباره في تبليغ رسالة ربه وما حصل له إزاء ذلك من قومه، وهو ما اصطلح عليه بالسيرة النبوية له عليه الصلاة والسلام.
সম্মানিত শাইখ আবদুল্লাহ বিন মানে' আল-রুকী -আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন- এর ভূমিকা-

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ রাসুলের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহ -যিনি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদায় অতি মহান- তাঁর নবীর কাছে এমন কিছু ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন যার মাধ্যমে তিনি তাঁর নবীকে সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং তাঁকে ধৈর্যশীল করেছেন, যাতে তিনি তাঁর প্রতিপালকের দাওয়াত পৌঁছে দিতে পারেন।

আর এই কুরআনিক কাহিনীসমূহ হলো সর্বোত্তম, পরিপূর্ণ এবং অতি সুন্দর কাহিনী, যেমনটি পরাক্রমশালী ও সুমহান আল্লাহ বলেছেন: (আমি আপনার কাছে অতি উত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি এই কুরআন আপনার কাছে ওহী করার মাধ্যমে, যদিও ইতিপূর্বে আপনি এ সম্পর্কে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন) (ইউসুফ: ৩)। আর সূরার শেষে পরাক্রমশালী ও সুমহান আল্লাহ বলেছেন: (অবশ্যই তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। এটি কোনো মিথ্যা উদ্ভাবিত কথা নয়, বরং এটি তার আগের কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ, আর এটি মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত) (ইউসুফ: ১১১)

ইবনে সাদী -আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন- তাঁর তাফসীরে বলেছেন: ((সর্বোত্তম কাহিনীসমূহ) আর তা এ কারণে যে; এগুলোর সত্যতা, প্রকাশভঙ্গির বিশুদ্ধতা এবং অর্থসমূহের উজ্জ্বলতার জন্য … -পরবর্তীতে তিনি বলেন-: এবং এটি নিরঙ্কুশভাবে সর্বোত্তম কাহিনী, ফলে অন্য কোনো কিতাবের কাহিনীতে এই কুরআনের মতো কোনো কিছু পাওয়া যাবে না)। সমাপ্ত।

আর সুন্দর কাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হলো সর্বশেষ নবী -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর কাহিনীসমূহ এবং তাঁর প্রতিপালকের রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সংবাদসমূহ এবং এর প্রেক্ষিতে তাঁর সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তাঁর সাথে যা যা ঘটেছিল; আর এটিই হলো তাঁর সীরাতে নববী বা নবীর জীবনচরিত হিসেবে পরিভাষিত বিষয়, তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ১৮)
ولما كان الله - تبارك وتقدس- قد تكفل بحفظ كتابه كما في قوله تعالى: (إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون) (الحجر: 9) وكان هذا متضمناً(1)

1 - لحفظه عند إنزاله.

2 - وحفظه بعد إنزاله، فالأول حفظه من مسترقي السمع من كل شيطان رجيم، وبعد إنزاله إيداعه في قلب نبيه صلى الله عليه وسلم وبعد ذلك في قلوب أمته.

3 - ويتضمن حفظ ألفاظه من التغيير، أو التبديل، أو النقص.

4 - ومتضمناً لحفظ معانيه؛ وكان هذا مستلزماً لحفظ السنة النبوية وما يحصل به حفظ الكتاب، فهذا القدر محفوظ، إذ السنة تكمل القرآن وتشرحه وتفسره وتبينه، والسيرة النبوية داخلة في هذا الالتزام، والله يتولى حفظه، وما كان خارجاً عن ذلك حيث يقوم الدين وتثبت الملة بدونه فهذا قدر يسير …

وقد نقب علماء الإسلام وبحثوا في أسانيد الحديث والأخبار النبوية، وضربوا أروع الأمثلة في التثبت، وبيان صحيح الأخبار من سقيمها، وقعدوا قواعد محكمة، وأسسوا أصولاً ثابتة حفظت - بفضل الله- ما حفظت من دواوين الحديث والسنة وأخبار النبي- صلى الله عليه وسلم وأخبار أصحابه- رضي الله عنهم.

ولما كانت الأخبار التي لا تتضمن أحكاماً يحتاج إليها المرء في دينه مثل كثير من أخبار السيرة وحوادثها رواها الإخباريون وتناقلوها وألفوا فيها المؤلفات، وقد حرص كثير من محبي السنة وحملتها على الفحص والتدقيق لجملة الأخبار وتطبيق قواعد المحدثين عليها؛ نصحاً للمسلمين، وذباً عن أخباره عليه الصلاة والسلام.

وأقول: إن الأئمة المتقدمين لهم نظر في الأحكام والسنن، ونظر آخر

--------------------------------------------

(1) انظر تفسير السعدي لسورة الحجر آية (9).
যেহেতু আল্লাহ -বরকতময় ও পবিত্র- তাঁর কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: (নিশ্চয় আমিই যিকির অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী) (আল-হিজর: ৯)। আর এটি অন্তর্ভুক্ত করে(১)

১ - এটি অবতীর্ণ করার সময়কার সংরক্ষণ।

২ - এবং এটি অবতীর্ণ করার পরবর্তী সংরক্ষণ। প্রথমটি হলো প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তানের কান পেতে শোনা থেকে একে রক্ষা করা, আর অবতীর্ণ হওয়ার পর একে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তরে আমানত রাখা এবং তার পর তাঁর উম্মতের অন্তরে সংরক্ষণ করা।

৩ - এবং এটি এর শব্দাবলিকে পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা হ্রাস পাওয়া থেকে সংরক্ষণকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

৪ - এবং এটি এর অর্থসমূহ সংরক্ষণকেও অন্তর্ভুক্ত করে; আর এটি নববী সুন্নাহ এবং যা দ্বারা কিতাব সংরক্ষিত হয় তা সংরক্ষণকেও আবশ্যক করে। অতএব, এই অংশটি সংরক্ষিত, যেহেতু সুন্নাহ কুরআনকে পূর্ণতা দান করে এবং এর ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ও স্পষ্টীকরণ করে। আর নববী সীরাতও এই অঙ্গীকারের অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহ তাআলা এর সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আর এর বাইরে যা কিছু রয়েছে, যা ব্যতীত দ্বীন প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং মিল্লাত স্থির থাকে, তা অতি সামান্য ...

ইসলামের আলেমগণ হাদীস ও নববী সংবাদের সনদসমূহ সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান করেছেন। তাঁরা সত্যতা যাচাই এবং নির্ভুল সংবাদ থেকে ত্রুটিযুক্ত সংবাদ পৃথক করার ক্ষেত্রে চমৎকার সব উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তাঁরা সুদৃঢ় মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন এবং অটল ভিত্তি স্থাপন করেছেন, যা আল্লাহর অনুগ্রহে হাদীসের সংকলনসমূহ, সুন্নাহ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংবাদসমূহ এবং তাঁর সাহাবীগণ রাযিয়াল্লাহু আনহুম-এর সংবাদসমূহের যা সংরক্ষিত হওয়ার তা সংরক্ষণ করেছে।

আর যেহেতু এমন অনেক সংবাদ রয়েছে যা মানুষের দ্বীন পালনের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো বিধান অন্তর্ভুক্ত করে না, যেমন সীরাতের অনেক সংবাদ ও ঘটনাবলী, যা ইতিহাসবিদগণ বর্ণনা করেছেন, একে অপরের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং সে বিষয়ে কিতাব রচনা করেছেন; সুন্নাহর অনেক অনুরাগী ও বাহক মুসলমানদের কল্যাণ কামনায় এবং রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর সংবাদের মর্যাদা রক্ষার্থে এই সংবাদগুলোর সামগ্রিক অনুসন্ধান, যাচাই-বাছাই এবং এগুলোর ওপর মুহাদ্দিসগণের মূলনীতি প্রয়োগ করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছেন।

আর আমি বলি: নিশ্চয়ই পূর্বসূরী ইমামগণের আহকাম ও সুন্নাহর ক্ষেত্রে এক ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল এবং অন্য ক্ষেত্রে অন্য দৃষ্টিভঙ্গি ছিল।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হিজর-এর ৯ নম্বর আয়াতের তাফসীরে সাদী দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ১৯)
في الأخبار المحضة التي هي من مكملات السيرة، وسادة لما فقد من حلقاتها، فشددوا في الأول، وتسامحوا في الثاني.(1)

وإتماما وإفادة لقراء السيرة، والمتلذذين بسماعها؛ فحص جماعة من حملة العلم من الفضلاء ونقبوا في كل أخبار السيرة وهم كثر: كالألباني، والطرهوني، والعمري، والعوشن … ومنهم صاحب الفضيلة الشيخ: محمود بن محمد الملاح أحد طلاب العلم وحملته، فنقب على كتاب الرحيق المختوم لفضيلة الشيخ: صفي الرحمن المباركفوري رحمه الله وكشف عن أخباره، وعلق عليه؛ فصار الكتاب - بعد هذا البحث - مرجعاً سليماً، وبحراً آمناً لمرتاديه والغائصين فيه، فجزاه الله خير الجزاء وأوفاه على ما نصح به .. وسدد قلمه وفكره ..

والحمد لله رب العالمين.

وكتبه أبو محمد

عبدالله بن مانع الروقي

عشية الخميس غرة شعبان 1430 هـ

--------------------------------------------

(1) وهذا التسامح في الرواية والنقل شريطة ألا تكون الحادثة تتضمن نكارة يحيلها العقل، أو تردها الأخبار الصحيحة الأخرى، أو تتضمن شيناً أو عيباً على مسلم، أو مخالفة لقاعدة من قواعد الدين أو آدابه.
বিশুদ্ধ সংবাদসমূহের ক্ষেত্রে যা সীরাতের পরিপূরক এবং এর হারিয়ে যাওয়া যোগসূত্রসমূহের পূর্ণতাদানকারী; তাই তারা প্রথমটির ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন।(১)

সীরাত পাঠকদের এবং যারা এটি শুনে তৃপ্তি লাভ করেন তাদের পূর্ণতা ও উপকারের উদ্দেশ্যে; ফজিলতধারী ইলম বাহকদের একটি দল সীরাতের সমস্ত সংবাদ পরীক্ষা ও অনুসন্ধান করেছেন এবং তারা সংখ্যায় অনেক: যেমন আলবানী, আত-তারহুনী, আল-উমারী এবং আল-আউশান … তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ফজিলাতুশ শায়খ মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আল-মাল্লাহ, যিনি ইলমের অন্যতম ছাত্র ও বাহক। তিনি ফজিলাতুশ শায়খ সফিউর রহমান মুবারকপুরী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর 'আর-রাহীকুল মাখতূম' কিতাবটির ওপর অনুসন্ধান চালিয়েছেন এবং এর সংবাদসমূহ উন্মোচন করেছেন ও তার ওপর টীকা প্রদান করেছেন। ফলে এই গবেষণার পর কিতাবটি এর ব্যবহারকারীদের এবং এতে অবগাহনকারীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য উৎস ও নিরাপদ সমুদ্রে পরিণত হয়েছে। আল্লাহ তাকে এর মাধ্যমে নসিহত করার জন্য সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর কলম ও চিন্তাধারাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

এটি লিখেছেন আবু মুহাম্মদ

আবদুল্লাহ বিন মানি' আর-রুকী

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা, ১লা শাবান ১৪৩০ হিজরী

--------------------------------------------

(১) বর্ণনা ও বর্ণনান্তরের ক্ষেত্রে এই শিথিলতা এই শর্তে যে, ঘটনাটিতে যেন এমন কোনো আপত্তিকর বিষয় না থাকে যা বুদ্ধি অসম্ভব মনে করে, অথবা যা অন্য কোনো বিশুদ্ধ সংবাদ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়, অথবা যা কোনো মুসলিমের প্রতি নিন্দা বা দোষারোপের অন্তর্ভুক্ত হয়, অথবা যা দ্বীনের কোনো নীতি বা শিষ্টাচারের পরিপন্থী হয়।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌مقدمة الطبعة الأولى

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، ولا عدوان إلا على الظالمين، والعاقبة للمتقين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. أما بعد،

فإن قراءة السيرة النبوية ومدارستها تساعد المسلم على معرفة الرسول صلى الله عليه وسلم عن قرب؛ وهذا يؤدي إلى زيادة محبته واتباعه، وخصوصاً المطلعين على أخبار الدعوة وقصصها، وما لاقاه الرسول- صلى الله عليه وسلم من: مصاعب وأهوال وتكذيب وعناد من كفار قريش والطائف وغيرهم، وكيف صبر على أذاهم؛ حتى اضطروه للهجرة للمدينة، واستطاع أن يبني دولة جديدة، ويرفع قواعدها مع كثرة الأعداء والمنافقين المناوئين لها، واستطاع في ثمانية أعوام أن يعود لمكة فاتحاً منتصراً في عشرة آلاف مجاهد، و تحقق النصر، وجاء الفتح، ودخل الناس في دين الله أفواجاً، ورفعت راية التوحيد في أرجاء الجزيرة، … كل هذه الأحداث العظيمة وغيرها حين تطالعها من كتاب الرحيق المختوم لصفي الرحمن المباركفوري رحمه الله تشعر وكأنك تعيشها بنفسك؛ لما تميز به الكتاب من أسلوب رائع في عرض أحداث السيرة وتسلسلها مع سهولة في الألفاظ وجمال في العبارات.

ولكن المتأمل في الكتاب يجد بعض الملحوظات التي تحتاج إلى تعليق وإيضاح ومن هنا كان هذا الكتاب.
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। যালিম ব্যতীত আর কারো ওপর শত্রুতা নেই। শেষ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত সত্তার ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের সবার ওপর। অতঃপর,

নিশ্চয়ই সীরাতে নববী পাঠ ও তা নিয়ে গবেষণা করা একজন মুসলিমকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে নিবিড়ভাবে জানতে সাহায্য করে; যা তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর অনুসরণের হার বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। বিশেষ করে যারা দা’ওয়াহর সংবাদ ও ঘটনাবলি সম্পর্কে অবগত হন এবং কুরাইশ ও তায়েফের কাফিরসহ অন্যান্যদের থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল কষ্ট, ভয়াবহতা, মিথ্যাপ্রতিপন্ন করা ও হঠকারিতার সম্মুখীন হয়েছেন, সে সম্পর্কে জানতে পারেন। আর তিনি তাদের নির্যাতনের মুখে কীভাবে ধৈর্য ধারণ করেছেন; এমনকি তারা তাঁকে মদীনায় হিজরত করতে বাধ্য করেছে। তিনি একটি নতুন রাষ্ট্র গঠন করতে এবং শত্রুদের আধিক্য ও বিরোধী মুনাফিকদের উপস্থিতি সত্ত্বেও এর ভিত্তি সুদৃঢ় করতে সক্ষম হন। আট বছরের মাথায় তিনি দশ হাজার মুজাহিদ নিয়ে বিজয়ী বীর বেশে মক্কায় ফিরে আসতে সক্ষম হন; বিজয় অর্জিত হয়, মক্কা বিজিত হয় এবং দলে দলে মানুষ আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করে আর জাযীরাতুল আরবের আনাচে-কানাচে তাওহীদের পতাকা উত্তোলিত হয়। … এসকল মহান ঘটনা এবং অন্যান্য বিষয় যখন আপনি সফিউর রহমান মুবারকপুরী (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত 'আর-রাহীকুল মাখতূম' গ্রন্থটি থেকে পাঠ করবেন, তখন আপনার মনে হবে যেন আপনি নিজেই সেই সময়ের মাঝে বসবাস করছেন। কারণ গ্রন্থটি সীরাতের ঘটনাবলি বর্ণনা এবং তার ধারাবাহিকতায় চমৎকার শৈলী, সহজবোধ্য শব্দচয়ন ও মনোমুগ্ধকর বাক্য বিন্যাসের মাধ্যমে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে।

কিন্তু কিতাবটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে সেখানে কিছু বিষয় পরিলক্ষিত হয়, যা নিয়ে মন্তব্য ও ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। আর এখান থেকেই এই কিতাবটির অবতারণা।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌لماذا اخترت كتاب الرحيق المختوم؟

اخترت كتاب الرحيق المختوم لدراسته والتعليق عليه لأسباب عدة منها ما يلي:

1 - شهرة كتاب الرحيق المختوم فهو يعد من أشهر كتب السيرة حالياً، وقد انتشر بصورة كبيرة جداً، بل لو أحصيت عدد طبعاته لحاز المركز الأول على مستوى العالم الإسلامي في كتب السيرة النبوية.

2 - كون كتاب الرحيق المختوم مرجعاً لكثير ممن يدرس السيرة النبوية، بل صار الكتاب المعتمد تدريسه في مقرر السيرة لكثير من المعاهد العلمية، والجامعات الإسلامية، والدورات الشرعية.

3 - فوز الكتاب بالمركز الأول في مسابقة السيرة النبوية العالمية التي نظمتها رابطة العالم الإسلامي، وأعلنت عنها عقب أول مؤتمر للسيرة النبوية الذي عقدته دولة باكستان في شهر ربيع الأول عام 1396 هـ، وهذا مما زاد الثقة بالكتاب، وأن ما جاء به لا اعتراض عليه.

4 - وجود كثير من الملحوظات على كتاب الرحيق المختوم؛ وهذا دفعني إلى التعليق على الكتاب حرصاً على صفاء السيرة النبوية، وصحة ما يذكر فيها.

5 - الاقتداء بعلمائنا فيما كتبوه من تعليقات على الكتب وخصوصاً المشهورة منها، وذات الأثر في واقع الناس، كما فعل العلامة الألباني رحمه الله مع كتاب فقه السيرة للغزالي وكذلك للبوطي أيضاً؛ وخصوصاً أن المباركفوري قد أفاد من الغزالي بصورة كبيرة في الأسلوب والمفردات والعبارات كما أفدت من كتب الألباني- رحمهم الله جميعاً-.

6 - صلتي القوية بكتاب الرحيق المختوم؛ فقد درسته بتكليف من شيخي الفاضل: إبراهيم بن محمد عبدالعزيز رحمه الله وذلك في عام 1413 هـ، وسجلت حينها الملحوظات على نسختي الخاصة، وقد انتظرت أن يعلق على كتاب الرحيق المختوم غيري طوال هذه الفترة، أو أن
‌কেন আমি আর-রাহীকুল মাখতূম কিতাবটি বেছে নিলাম?

আমি বেশ কিছু কারণে আর-রাহীকুল মাখতূম কিতাবটি অধ্যয়ন ও এর ওপর টীকা প্রদানের জন্য বেছে নিয়েছি, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - আর-রাহীকুল মাখতূম কিতাবটির খ্যাতি। এটি বর্তমানে সীরাত গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ কিতাব হিসেবে গণ্য এবং এটি অত্যন্ত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি এর মুদ্রণ সংখ্যা গণনা করা হলে সীরাতুন্নবী বিষয়ক কিতাবসমূহের মধ্যে এটি মুসলিম বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকার করবে।

২ - আর-রাহীকুল মাখতূম কিতাবটি সীরাত পাঠকদের অনেকের নিকট মূল উৎস বা মারজা হওয়া। এমনকি অনেক বৈজ্ঞানিক ইনস্টিটিউট, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শরয়ি কোর্সসমূহের সীরাত পাঠ্যক্রমে এটি অনুমোদিত কিতাব হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।

৩ - রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী আয়োজিত আন্তর্জাতিক সীরাতুন্নবী প্রতিযোগিতায় কিতাবটির প্রথম স্থান অর্জন করা। ১৩৯৬ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত প্রথম সীরাত সম্মেলনের পর এই প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এটি কিতাবটির প্রতি নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করেছে এবং মানুষের মনে এই ধারণা তৈরি করেছে যে, এতে যা বর্ণিত হয়েছে তা নিয়ে আপত্তির কিছু নেই।

৪ - আর-রাহীকুল মাখতূম কিতাবটিতে অনেকগুলো পর্যবেক্ষণ বা লক্ষণীয় বিষয় থাকা। এটিই আমাকে কিতাবটির ওপর টীকা লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে, যাতে নবী করীম (সা.)-এর সীরাতের বিশুদ্ধতা এবং এতে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সঠিকতা বজায় থাকে।

৫ - আমাদের উলামায়ে কেরামের পদাঙ্ক অনুসরণ করা, যাঁরা বিভিন্ন কিতাবের ওপর টীকা লিখেছেন—বিশেষ করে প্রসিদ্ধ ও জনজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী কিতাবসমূহের ওপর। যেমনটি আল্লামা আলবানী (রহ.) গাযালীর 'ফিকহুস সيرة' এবং বুতির কিতাবের ক্ষেত্রে করেছেন। বিশেষ করে মুবারকপুরী তার লিখনশৈলী, শব্দ ও বাক্যের ক্ষেত্রে গাযালীর নিকট থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছেন, যেমনটি আমি আলবানী (রহ.)-এর কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছি—আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন।

৬ - আর-রাহীকুল মাখতূম কিতাবটির সাথে আমার সুদৃঢ় সম্পর্ক। আমার শ্রদ্ধেয় শায়খ ইব্রাহীম বিন মুহাম্মদ আবদুল আজীজ (রহ.)-এর নির্দেশে আমি ১৪১৩ হিজরিতে এটি অধ্যয়ন করি এবং তখনই আমি আমার নিজস্ব কপিতে কিছু পর্যবেক্ষণ লিখে রাখি। আমি দীর্ঘ সময় এই অপেক্ষায় ছিলাম যে আমার পরিবর্তে অন্য কেউ হয়তো আর-রাহীকুল মাখতূমের ওপর টীকা লিখবেন, অথবা...
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ২৩)
يصلح المؤلف- رحمه الله ذلك في الطبعة الجديدة، ولكن لم يكن شيء من ذلك، ومع إلحاح بعض من يظن فينا خيراً على إخراج هذه الملحوظات؛ استعنت بالله وحده على جمع مادة هذا الكتاب.

 

‌‌عملي في هذا الكتاب

1 - قراءة كتاب الرحيق المختوم مرة أخرى، وقد سجلت ما رأيته من ملحوظات تحتاج إلى تعليق.

2 - المقارنة بين الطبعة القديمة والجديدة، وقد أثبتت ما بينهما من فروق، وخصوصاً ما يتعلق بالملحوظات.

3 - ذكر ترجمة مختصرة لمؤلف الرحيق المختوم الشيخ: صفي الرحمن المباركفوري-رحمه الله في أول الكتاب؛ حتى يعرفه القراء عن قرب، ويعلم الله عز وجل مدى حبي له، وتقديري لكتابه الرحيق المختوم، وأسأل الله أن يسقيه من الرحيق المختوم يوم القيامة؛ لتقريبه سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم للمسلمين.

4 - ذكر كلام المؤلف من الرحيق المختوم بنصه، وقد التزمت بذكر العنوان الذي جاء تحته؛ حتى يسهل الرجوع إليه بغض النظر عن اختلاف الطبعة، وصدرت كلام المؤلف بلفظ: (قوله:)، ثم ذكرت كلام أهل العلم على كلام المؤلف، موضحاً الخطأ والصواب حتى يكون القارئ على بينة. …

5 - تخريج الآيات القرآنية بذكر اسم السورة ورقم الآية بعدها مباشرة.

6 - بيان أحكام الأحاديث الواردة في الكتاب من حيث الصحة والضعف معتمداً على كلام أهل العلم من السابقين والمعاصرين ناسباً القول لقائله، وستجد في الكتاب أقوالاً لابن القيم، والذهبي، وابن كثير، وابن حجر، والشنقيطي، والألباني، وغيرهم.

7 - ذكر معلومات المراجع كاملة مثل: اسم الكتاب، والمؤلف،
লেখক -আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন- নতুন সংস্করণে তা সংশোধন করবেন (এমনটি আশা করা হয়েছিল), কিন্তু এর কিছুই হয়নি। আমাদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করেন এমন কিছু ব্যক্তির এই মন্তব্যগুলো প্রকাশ করার পিড়াপিড়ির কারণে; আমি এই বইয়ের বিষয়বস্তু সংকলনে একমাত্র আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি।

 

‌‌এই বইয়ে আমার কর্মপদ্ধতি

১ - আর-রাহীকুল মাখতূম বইটি পুনরায় পাঠ করা এবং মন্তব্য প্রয়োজন এমন বিষয়গুলো আমি লিপিবদ্ধ করেছি।

২ - পুরাতন ও নতুন সংস্করণের মধ্যে তুলনা করা এবং এগুলোর মধ্যবর্তী পার্থক্যসমূহ নিশ্চিত করা, বিশেষ করে যা মন্তব্যগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট।

৩ - বইয়ের শুরুতে আর-রাহীকুল মাখতূমের লেখক শাইখ সফিউর রহমান মুবারকপুরী -আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন- এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী উল্লেখ করা; যাতে পাঠকরা তাঁকে নিকট থেকে জানতে পারেন। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা জানেন আমি তাঁকে কতটা ভালোবাসি এবং তাঁর আর-রাহীকুল মাখতূম বইটির কতটুকু মূল্যায়ন করি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি কিয়ামতের দিন তাঁকে আর-রাহীকুল মাখতূম (জান্নাতের মোহরকৃত সুধা) পান করান; মুসলমানদের নিকট রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতকে সহজবোধ্য করার কারণে।

৪ - আর-রাহীকুল মাখতূম থেকে লেখকের বক্তব্য হুবহু উল্লেখ করা। এক্ষেত্রে আমি সেই শিরোনামটিও উল্লেখ করার নিয়ম অনুসরণ করেছি যার অধীনে কথাটি এসেছে; যাতে সংস্করণ ভিন্ন হলেও তা খুঁজে বের করা সহজ হয়। আমি লেখকের বক্তব্য ‘তাঁর কথা:’ শব্দ দিয়ে শুরু করেছি, এরপর লেখকের বক্তব্যের ওপর ইলমের অধিকারীদের বক্তব্য উল্লেখ করেছি, যেখানে ভুল ও সঠিক বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে যাতে পাঠক সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর থাকতে পারেন। …

৫ - সরাসরি আয়াতের পরেই সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে কুরআনের আয়াতসমূহের উৎস নির্দেশ করা।

৬ - বইটিতে বর্ণিত হাদীসগুলোর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার বিধান বর্ণনা করা, এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ও বর্তমান যুগের ইলমের অধিকারীদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা হয়েছে এবং প্রত্যেক বক্তব্য তার প্রবক্তার নামসহ উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি এই বইটিতে ইবনুল কাইয়্যিম, আয-যাহাবী, ইবনে কাসীর, ইবনে হাজার, আশ-শানকীত্বী, আল-আলবানী এবং অন্যদের বক্তব্য পাবেন।

৭ - তথ্যসূত্রের পূর্ণ বিবরণ উল্লেখ করা, যেমন: বইয়ের নাম এবং লেখক,
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ২৪)
ودار النشر، والطبعة … وذلك عند ذكرها أول مرة مكتفياً بذلك عن ذكر المراجع في آخر الكتاب.

8 - التعليق على كتاب الرحيق المختوم على ثلاثة أقسام:

الأول: عبارات للمؤلف، الأولى استعمال غيرها.

الثاني: أحاديث ضعيفة.

الثالث: حوادث وقصص في السيرة لم تثبت.

وحرصت على تعقبها، والتعليق عليها وفق تسلسل الكتاب؛ حتى يكون أسهل للقارئ.

9 - وقد جعلت الكتاب من مقدمة وبابين وخاتمة على النحو التالي:

مقدمة: وضحت فيها سبب تأليف الكتاب.

الباب الأول: وفيه فصلان:

الفصل الأول: ترجمة المؤلف.

الفصل الثاني: أخطاء عدلها المؤلف في الطبعة الجديدة.

الباب الثاني: التعليق على كتاب الرحيق المختوم.

الخاتمة:

وقد سميت الكتاب (التعليق على كتاب الرحيق المختوم)

10 - قد عرضت بعض مباحث الكتاب على شيخنا الأستاذ الدكتور: ناصر بن عبدالكريم العقل- حفظه الله-، وقد تفضل شيخنا الفاضل: عبد الله بن مانع الروقي- حفظه الله- بمراجعة الكتاب كاملاً، وعلق عليه، وقد أثبت تعليقاته منسوبة إليه، وقد كتب مقدمة للكتاب؛ و قد راجع الكتاب أيضاً أخونا الفاضل الشيخ: محمد بن عبد الله العوشن- حفظه الله- مؤلف كتاب (ما شاع ولم يثبت في السيرة النبوية)، وأبدى بعض الملحوظات وقد نفذتها، فجزاهم الله خيراً عن العلم وأهله.
প্রকাশনী এবং সংস্করণ … এটি প্রথমবার উল্লেখ করার সময় করা হয়েছে, যাতে বইয়ের শেষে তথ্যসূত্র উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা না থাকে।

৮ - 'আর-রাহীকুল মাখতূম' গ্রন্থের ওপর করা মন্তব্যসমূহ তিনটি ভাগে বিভক্ত:

প্রথম: লেখকের এমন কিছু শব্দ বা বাক্য, যেগুলোর পরিবর্তে অন্য শব্দ ব্যবহার করা অধিক উত্তম।

দ্বিতীয়: দুর্বল হাদীসসমূহ।

তৃতীয়: সীরাতের এমন কিছু ঘটনা ও কিচ্ছা যা প্রমাণিত নয়।

আমি এগুলো অনুসন্ধান করতে এবং বইয়ের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী সেগুলোর ওপর মন্তব্য করতে সচেষ্ট হয়েছি; যাতে পাঠকের জন্য সহজ হয়।

৯ - আমি গ্রন্থটিকে একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি, যা নিম্নরূপ:

ভূমিকা: এতে আমি গ্রন্থটি রচনার কারণ স্পষ্ট করেছি।

প্রথম অধ্যায়: এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের জীবনী।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নতুন সংস্করণে লেখক কর্তৃক সংশোধিত ভুলসমূহ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: 'আর-রাহীকুল মাখতূম' গ্রন্থের ওপর মন্তব্য বা টীকা।

উপসংহার:

আমি গ্রন্থটির নামকরণ করেছি (আর-রাহীকুল মাখতূম গ্রন্থের ওপর মন্তব্য)

১০ - আমি গ্রন্থটির কিছু বিষয় আমাদের শায়খ প্রফেসর ডক্টর: নাসির বিন আব্দুল কারীম আল-আকল—আল্লাহ তাঁকে সংরক্ষণ করুন—এর সামনে পেশ করেছি। এছাড়া আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ: আব্দুল্লাহ বিন মানে আল-রুকী—আল্লাহ তাঁকে সংরক্ষণ করুন—সম্পূর্ণ গ্রন্থটি পর্যালোচনা করার এবং এর ওপর মন্তব্য করার অনুগ্রহ করেছেন। আমি তাঁর মন্তব্যগুলো তাঁর বরাতেই উল্লেখ করেছি। তিনি গ্রন্থটির একটি ভূমিকাও লিখে দিয়েছেন। আমাদের শ্রদ্ধেয় ভাই শায়খ: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আওশান—আল্লাহ তাঁকে সংরক্ষণ করুন—যিনি 'সীরাতে নববীতে যা প্রচলিত কিন্তু প্রমাণিত নয়' গ্রন্থের লেখক, তিনিও গ্রন্থটি পর্যালোচনা করেছেন এবং কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন যা আমি বাস্তবায়ন করেছি। আল্লাহ তাঁদেরকে ইলম ও ইলমের ধারক-বাহকদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ২৫)
ولا يظنن أحد أني بهذا أحذر من قراءة كتاب الرحيق المختوم، أو أني أنتقص من قدر المؤلف- رحمه الله وكتابه، وإنما كتبت ذلك؛ لعلمي بقيمة الكتاب وحرصي على كماله؛ ولأنه من أفضل ما كتب في السيرة في العصر الحاضر، أسأل الله أن يجزي مؤلفه خير الجزاء.

هذا، وما كان من خطأ، أو نسيان، أو زلل فأسال الله أن يعفو عنا، وأن يعاملنا بلطفه، وجزى الله خيراً من دلنا عليه، وما كان من صواب فأسأله سبحانه ألا يحرمنا الأجر، وأن يجعله من العلم النافع، ويكتب له القبول، إنه ولي ذلك والقادر عليه.

وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

كتبه

.. أبوعبدالرحمن

محمود بن محمد الملاح

السعودية، مدينة الرياض

شهر رجب 1430 هـ
কেউ যেন মনে না করেন যে আমি এর মাধ্যমে 'আর-রাহিকুল মাখতুম' গ্রন্থটি পাঠ করার ব্যাপারে সতর্ক করছি, অথবা আমি লেখকের—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—এবং তাঁর গ্রন্থের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছি। বরং আমি এটি লিখেছি গ্রন্থটির গুরুত্ব সম্পর্কে আমার অবগতি এবং এর পূর্ণাঙ্গতার প্রতি আমার প্রবল আকাঙ্ক্ষার কারণে; এবং যেহেতু এটি বর্তমান যুগে সিরাত বিষয়ে রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।

যাই হোক, এতে যা কিছু ভুল, বিস্মৃতি বা বিচ্যুতি রয়েছে, সেগুলোর জন্য আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের ক্ষমা করেন এবং আমাদের সাথে তাঁর অনুগ্রহপূর্ণ আচরণ করেন। আর যে ব্যক্তি আমাদের ভুল ধরিয়ে দেবেন, আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন। আর যা কিছু সঠিক হয়েছে, আমি মহান পবিত্র আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এর সওয়াব থেকে বঞ্চিত না করেন এবং এটিকে উপকারী ইলম হিসেবে কবুল করেন ও এর জন্য গ্রহণযোগ্যতা লিখে দেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর অজস্র দরুদ ও প্রচুর সালাম বর্ষণ করুন।

এটি লিখেছেন

.. আবু আবদুর রহমান

মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আল-মাল্লাহ

সৌদি আরব, রিয়াদ শহর

রজব মাস ১৪৩০ হিজরি
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الباب الأول

وفيه فصلان:

الأول: ترجمة المؤلف.

الثاني: أخطاء عدلها المؤلف في الطبعة الجديدة.
প্রথম অধ্যায়

এতে রয়েছে দুটি পরিচ্ছেদ:

প্রথমটি: লেখকের জীবনী।

দ্বিতীয়টি: নতুন সংস্করণে লেখক কর্তৃক সংশোধিত ভুলসমূহ।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الفصل الأول

ترجمة الشيخ صفي الرحمن المباركفوري-رحمه الله
-

هذه جوانب موجزة من ترجمة علمٍ من أعلام أهل الحديث بالهند، الشيخ العلامة المحدث الفقيه صفي الرحمن المباركفوري رحمه الله وأسكنه فسيح جناته.

 

‌‌نسبه:

هو صفي الرحمن بن عبد الله بن محمد أكبر بن محمد علي بن عبد المؤمن بن فقير الله المباركفوري الأعظمي.

 

‌‌ولادته:

ولد الشيخ في 6 من يونيو 1943 م حسب ما دون في شهادته الصادرة بقرية من ضواحي مباركفور وهي معروفة الآن بقرية حسين آباد، الواقعة في مقاطعة أعظم كده.

 

‌‌أسرته:

تنتسب أسرة الشيخ إلى الأنصار وتعرف بهذا، ومن ينتسب إلى الأنصار كثيرون في الهند، ويزعم عامة هؤلاء ممن ينتمي إلى الأنصار هناك أنهم من ولد الصحابي الجليل أبي أيوب الأنصاري رضي الله عنه والله أعلم.

 

‌‌تعليمه ودراسته:

تعلم في صباه القرآن الكريم، ثم التحق بمدرسة دار التعليم في
প্রথম পরিচ্ছেদ

শায়খ সফিউর রহমান মুবারকপুরী-এর জীবনী—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন
-

এগুলো ভারতের আহলে হাদিসগণের অন্যতম এক বরেণ্য ব্যক্তিত্ব শায়খ আল্লামা মুহাদ্দিস ফকিহ সফিউর রহমান মুবারকপুরী—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁকে জান্নাতের সুপ্রশস্ত স্থানে স্থান দান করুন—তাঁর জীবনীর কিছু সংক্ষিপ্ত দিক।

 

তাঁর বংশপরিচয়:

তিনি হলেন সফিউর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আকবর বিন মুহাম্মাদ আলী বিন আব্দুল মুমিন বিন ফকিরুল্লাহ মুবারকপুরী আজমি।

 

তাঁর জন্ম:

শায়খ ৬ জুন ১৯৪৩ ঈসায়ী সালে জন্মগ্রহণ করেন, যা মুবারকপুরের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে সংগৃহীত তাঁর সনদে লিপিবদ্ধ রয়েছে; গ্রামটি বর্তমানে আজমগড় জেলার হুসাইনাবাদ গ্রাম নামে পরিচিত।

 

তাঁর পরিবার:

শায়খের পরিবার আনসারদের দিকে সম্পৃক্ত এবং এ নামেই পরিচিত। ভারতে আনসার বংশের দাবিদার অনেকেই রয়েছেন। সেখানে যারা আনসার হিসেবে নিজেদের সম্পৃক্ত করেন, তাদের সাধারণ ধারণা হলো তারা মহান সাহাবী আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর; আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

তাঁর শিক্ষা ও অধ্যয়ন:

শৈশবে তিনি কুরআনুল কারীম শিক্ষা করেন, অতঃপর তিনি দারুত তালীম মাদরাসায় ভর্তি হন...
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ৩০)
مباركفور سنة 1948 م وقضى هناك ست سنوات دراسية أكمل فيها دراسة المرحلة الابتدائية.

ثم انتقل إلى مدرسة إحياء العلوم بمباركفور في شهر يونيو سنة 1954 م، حيث بقي هناك خمس سنوات يتعلم اللغة العربية وقواعدها والعلوم الشرعية من التفسير والحديث والفقه وأصوله وغير ذلك من العلوم، حتى تخرج منها في شهر يناير سنة 1961 م، ونال شهادة التخرج بتقدير ممتاز.

كما حصل على الشهادة المعروفة بشهادة «مولوي» في فبراير سنة 1959 م.

ثم حصل على شهادة (عالم) في فبراير سنة 1960 م من هيئة الاختبارات للعلوم الشرقية في مدينة الله أباد بالهند.

ثم حصل على شهادة الفضيلة في الأدب العربي في فبراير سنة 1976 م.

جوانب من سيرة الشيخ العلمية والدعوية:

بعد تخرجه من كلية (فيض عام) اشتغل بالتدريس والخطابة وإلقاء المحاضرات والدعوة إلى الله في مقاطعة (الله آباد) وناغبور.

ثم دعي إلى مدرسة فيض عام بمئو وقضى فيها عامين.

ثم درس سنة واحدة بجامعة الرشاد في أعظم كده.

ثم دعي إلى مدرسة دار الحديث ببلدة مؤ في فبراير سنة 1966 م، وبقى هناك ثلاث سنوات يدرس فيها، ويدير شؤونها الدراسية والداخلية نيابة عن رئيس المدرسين.

ثم نزل ببلدة سيوني في يناير سنة 1969 م يدرس في مدرسة فيض العلوم، ويدبر جميع شؤونها الداخلية والخارجية نيابة عن الأمين العام ويشرف على المدرسين، إضافة إلى الخطابة في جامع سيوني، كما كان
১৯৪৮ সালে মোবারকপুরে এবং সেখানে তিনি ছয়টি শিক্ষাবর্ষ অতিবাহিত করেন, যাতে তিনি প্রাথমিক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।

অতঃপর ১৯৫৪ সালের জুন মাসে তিনি মোবারকপুরের মাদ্রাসা ইহয়াউল উলূমে স্থানান্তরিত হন, যেখানে তিনি পাঁচ বছর অবস্থান করে আরবি ভাষা ও তার ব্যাকরণ এবং তাফসীর, হাদীস, ফিকহ ও উসূলে ফিকহসহ বিভিন্ন শরয়ী জ্ঞান অর্জন করেন। অবশেষে ১৯৬১ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি সেখান থেকে স্নাতক হন এবং বিশেষ কৃতিত্বের সাথে সনদ লাভ করেন।

এছাড়াও তিনি ১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে 'মৌলভী' নামে পরিচিত সনদটি অর্জন করেন।

এরপর তিনি ১৯৬০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের এলাহাবাদ শহরের ওরিয়েন্টাল লার্নিং এক্সামিনেশন বোর্ড থেকে 'আলিম' সনদ লাভ করেন।

অতঃপর তিনি ১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরবি সাহিত্যে 'ফাজিলত' সনদ লাভ করেন।

শাইখের ইলমি ও দাওয়াতী জীবনের কিছু দিক:

'ফয়যে আম' কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি এলাহাবাদ ও নাগপুর জেলায় শিক্ষকতা, খুতবা প্রদান, বক্তৃতা দান এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

এরপর তাঁকে মউ-এর মাদ্রাসা ফয়যে আম-এ আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং তিনি সেখানে দুই বছর অতিবাহিত করেন।

এরপর তিনি আজমগড়ের জামিয়া আর-রশাদে এক বছর শিক্ষকতা করেন।

তারপর ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মউ শহরের মাদ্রাসা দারুল হাদীসে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং তিনি সেখানে তিন বছর অবস্থান করে শিক্ষকতা করেন। প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে তিনি সেখানকার শিক্ষা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলী পরিচালনা করতেন।

অতঃপর ১৯৬৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি সিওনি শহরে আসেন এবং মাদ্রাসা ফয়যুল উলূমে শিক্ষকতা শুরু করেন। সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে তিনি সেখানকার সমস্ত অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিষয়াবলী পরিচালনা করতেন এবং শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান করতেন। এর পাশাপাশি তিনি সিওনি জামে মসজিদে খুতবা দিতেন, এছাড়াও তিনি ছিলেন
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ৩১)
يقوم بجولات في أطرافها وضواحيها لإلقاء المحاضرات بين المسلمين ودعوتهم إلى تعاليم الإسلام وفق الكتاب والسنة ونهج السلف الصالح، ومحذراً من الشرك والمحدثات في الدين، وقضى هناك أربعة أعوام دراسية.

ولما رجع إلى وطنه في أواخر سنة 1972 م، درس في مدرسة دار التعليم، كما تولى إدارة شؤونها التعليمية، وقضى فيها سنتين دراسيتين.

ثم انتقل إلى الجامعة السلفية ببنارس بطلب من الأمين العام للجامعة سنة 1974 م، واستمر في القيام بالمسؤوليات التعليمية والتدريسية والدعوية فيها، لمدة عشر سنوات.

وفي تلك الفترة أعلنت رابطة العالم الإسلامي بمكة المكرمة عن عقد مسابقة عالمية حول السيرة النبوية الشريفة، وذلك في المؤتمر الإسلامي الأول للسيرة النبوية الذي عقد بباكستان سنة 1976 م، فألف الشيخ على إثر ذلك كتاب (الرحيق المختوم) وقدمه للجائزة، ونال به الجائزة الأولى من رابطة العالم الإسلامي.

ثم انتقل إلى الجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية ليعمل باحثاً في مركز خدمة السنة والسيرة النبوية عام 1409 هـ الموافق (1988 م). وعمل فيه إلى نهاية شهر شعبان 1418 هـ الموافق (1997 م) ـ

ويقول الدكتور عاصم القريوتي: وكان أثر الشيخ المباركفوري رحمه الله في مجال السيرة النبوية متميزاً خلال عمله في مركز خدمة السنة والسيرة النبوية، وكان ذلك جلياً في الخطط التي وضعت من قسم السيرة الذي كان ركنه الأساس، ومن خلال نقده وتقاريره للكتب والبحوث التي كانت تحال إليه في السيرة النبوية للتحكيم، كما كان له التقدير والاحترام من الباحثين في المركز المذكور ومن أهل العلم والمسؤولين في الجامعة الإسلامية بالمدينة.

ثم انتقل إلى مكتبة دار السلام بالرياض، وعمل فيها مشرفاً على قسم البحث والتحقيق العلمي إلى أن توفاه الله عز وجل.
তিনি এর প্রান্তিক ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে মুসলমানদের মাঝে বক্তৃতা প্রদান এবং কিতাব, সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের আদর্শ অনুযায়ী ইসলামের শিক্ষার দিকে তাঁদেরকে আহ্বান করার জন্য সফর করতেন। পাশাপাশি তিনি শিরক ও দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ সম্পর্কে সতর্ক করতেন। সেখানে তিনি চারটি শিক্ষাবর্ষ অতিবাহিত করেন।

অতঃপর ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে যখন তিনি নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করেন, তখন তিনি মাদ্রাসা দারুত তালীমে অধ্যাপনা করেন এবং এর শিক্ষা বিষয়ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও পালন করেন। সেখানে তিনি দুটি শিক্ষাবর্ষ অতিবাহিত করেন।

এরপর ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে জামেয়ার মহাসচিবের অনুরোধে তিনি বেনারসের জামেয়া সালাফিয়াতে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে দশ বছর যাবত শিক্ষা, অধ্যাপনা ও দাওয়াহ বিষয়ক দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত থাকেন।

সেই সময় মক্কা মুকাররমার রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামী পবিত্র সীরাতুন্নবী সম্পর্কে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ঘোষণা প্রদান করে। এটি ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সীরাতুন্নবী বিষয়ক প্রথম ইসলামী সম্মেলনে ঘোষিত হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে শায়খ 'আর-রাহীকুল মাখতূম' গ্রন্থটি রচনা করেন এবং পুরস্কারের জন্য তা পেশ করেন। ফলে তিনি রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামী থেকে প্রথম পুরস্কার লাভ করেন।

অতঃপর ১৪০৯ হিজরী মোতাবেক ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি মদীনা মুনাওয়ারার জামেয়া ইসলামিয়াতে 'মারকাজু খিদমাতিস সুন্নাহ ওয়াস সيرةিন নাবাবিয়্যাহ' (সুন্নাহ ও সীরাতুন্নবী বিষয়ক সেবা কেন্দ্র)-তে গবেষক হিসেবে কাজ করার জন্য স্থানান্তরিত হন। সেখানে তিনি ১৪১৮ হিজরীর শাবান মাসের শেষ পর্যন্ত (১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ) কর্মরত ছিলেন।

ডক্টর আসিম আল-কারইউতী বলেন: 'মারকাজু খিদমাতিস সুন্নাহ ওয়াস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ'-তে কাজ করার সময় সীরাতুন্নবীর ক্ষেত্রে শায়খ মুবারকপুরী রহ.-এর অবদান ছিল অত্যন্ত বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এটি সীরাত বিভাগ কর্তৃক প্রণীত পরিকল্পনাসমূহে সুস্পষ্ট ছিল যার তিনি ছিলেন প্রধান ভিত্তি। এছাড়াও সীরাত বিষয়ে তাঁর নিকট পর্যালোচনার জন্য প্রেরিত বিভিন্ন গ্রন্থ ও গবেষণাপত্রের ওপর তাঁর সমালোচনা ও প্রতিবেদনের মাধ্যমেও তা প্রকাশ পেত। পাশাপাশি উক্ত কেন্দ্রের গবেষকবৃন্দের নিকট এবং মদীনাস্থ জামেয়া ইসলামিয়ার আলিম সমাজ ও দায়িত্বশীলদের মাঝে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

এরপর তিনি রিয়াদের মাকতাবাতু দারিস সালামে চলে যান এবং সেখানে ইলমী গবেষণা ও তাহকীক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মরত থাকেন মহান আল্লাহ তাঁর মৃত্যু প্রদান করা পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌من أهم مناصبه:

تولى الشيخ في حياته مناصب عدة أبرزها:

1 - تدريسه في الجامعة السلفية ببنارس الهند.

2 - تعيينه أميناً عاماً لجمعية أهل الحديث المركزية بالهند فترة من الزمن.

3 - تعيينه باحثاً في مركز خدمة السنة والسيرة النبوية بالجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية.

4 - توليته الإشراف على قسم البحث والتحقيق العلمي في مكتبة دار السلام بالرياض.

5 - رئاسته لتحرير مجلة (محدث) الشهرية باللغة الأردية بالهند.

 

‌‌من أخلاق الشيخ:

(والشيخ رحمه الله، كان متواضعاً سهلاً ليناً، يداعب الصغير والكبير، لا يحب الإطراء والمدح بعيداً عن الأضواء. حتى إنه كان ليناً مع خصمه، وأذكر أنه في عام 1420 هـ وفي إحدى محاضراته والحضور بالمئات فسئل الشيخ عن حكم صلاة الوتر على صفة صلاة المغرب؟ فقال الشيخ: إن الصلاة بهذه الصفة منهي عنها كما في حديث: "ولا تشبهوا بصلاة المغرب"(1). فقام رجل من الحاضرين وقاطع كلام الشيخ أمام الملأ وقال: ليس كما قلت بل ثبت عن عائشة أنها صلت مثل المغرب. فسكت الشيخ، وفي قرارة الشيخ أن ما ذكره الرجل خطأ، ثم قال: لا أعلم إلا هذا الحديث والذي ذكرته لم أطلع عليه، ثم التفت إلى والدي وهو بمنزلة طلبته وسأله عن الحديث أمام الحاضرين متثبتاً ......

فقلت متأملاً: كيف يقوم رجل بين مئات الحاضرين وفي مجلس يضم

--------------------------------------------

(1) رواه ابن حبان في صحيحه (2429)، والدار قطني في سننه (2/ 47)، وقال الحافظ ابن حجر في فتح الباري (2/ 558): (روي موقوفاً ومرفوعاً بنحوه بإسناد على شرط الشيخين)، وصححه الألباني في صلاة التراويح (100).
তাঁর অন্যতম প্রধান পদসমূহ:

শায়খ তাঁর জীবনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - ভারতের বেনারসে অবস্থিত জামিয়া সালাফিয়ায় তাঁর শিক্ষকতা।

২ - একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় আহলে হাদীস জামাআতের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর নিয়োগ।

৩ - মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্নাহ ও সيرة নববী (Prophetic Biography) সেবাকেন্দ্রে গবেষক হিসেবে তাঁর নিয়োগ।

৪ - রিয়াদের দারুস সালাম লাইব্রেরির গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান বিভাগের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণ।

৫ - ভারতে উর্দু ভাষায় প্রকাশিত মাসিক ‘মুহাদ্দিস’ সাময়িকীর প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন।

 

‌শায়খের আখলাক ও চরিত্র:

(শায়খ রহিমাহুল্লাহ অত্যন্ত বিনয়ী, অমায়িক ও নম্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তিনি ছোট-বড় সবার সাথেই হাস্যরস করতেন। তিনি তোষামোদ ও অতিরিক্ত প্রশংসা অপছন্দ করতেন এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতে পছন্দ করতেন। এমনকি তিনি তাঁর প্রতিপক্ষের প্রতিও অত্যন্ত কোমল ছিলেন। আমার মনে পড়ছে, ১৪২০ হিজরীর কথা, তাঁর একটি লেকচারে শত শত মানুষের উপস্থিতি ছিল। তখন শায়খকে মাগরিবের নামাজের পদ্ধতিতে বিতর নামাজ পড়ার বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। শায়খ উত্তর দিলেন: ‘এই পদ্ধতিতে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ, যেমনটি হাদীসে এসেছে: “তোমরা মাগরিবের নামাজের সাথে সাদৃশ্য করো না”(১)। তখন উপস্থিতদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সবার সামনে শায়খের কথায় বাধা দিয়ে বললেন: “বিষয়টি আপনি যেমনটি বললেন তেমন নয়, বরং আয়েশা (রা.) থেকে প্রমাণিত আছে যে তিনি মাগরিবের মতো করেই বিতর নামাজ পড়েছেন।” শায়খ চুপ হয়ে গেলেন, যদিও শায়খ মনে মনে জানতেন যে ওই ব্যক্তি যা উল্লেখ করেছেন তা ভুল। এরপর তিনি বললেন: “আমি কেবল এই হাদীসটিই জানি, আর আপনি যা উল্লেখ করলেন তা আমার জানা নেই।” এরপর তিনি আমার পিতার দিকে ফিরলেন—যিনি তাঁর ছাত্রদের সমমর্যাদার ছিলেন—এবং সবার সামনে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাঁকে হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন......

আমি অবাক হয়ে ভাবলাম: কীভাবে শত শত উপস্থিতির মাঝে এবং এমন এক মজলিসে যেখানে...

--------------------------------------------

(১) ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে (২৪২৯) এবং দারা কুতনী তাঁর সুনানে (২/ ৪৭) এটি বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে (২/ ৫৫৮) বলেছেন: (এটি মাওকুফ ও মারফু উভয়ভাবে একই অর্থে এমন সনদে বর্ণিত হয়েছে যা শাইখাইনের শর্তানুযায়ী), আর আলবানী সালাতুত তারাবীহ (১০০) গ্রন্থে এটিকে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
جمعاً من الدعاة وطلبة العلم، ويرد على الشيخ متجاوزاً حدود الأدب والاحترام مع العلماء بل مخالفاً لآداب المجلس وأدب الحديث، ويعترض بجهل، لكن ومع ذلك يرد عليه الشيخ بكل حلم: لا أعلم؛ ثم يبين له أن الحديث ليس بمعروف بين طلبة العلم فيسأل أحد طلبته، ولا يجد فيه غضاضة، فرحم الله الشيخ رحمة واسعة.

كان الشيخ ينصح طلبته والمشايخ باللين والرفق دائماً ففي لقائه المنشور في مجلة الاستقامة لما سئل عن تصدر بعض أنصاف الطلبة للفتوى والقدح في العلماء قال: ما ذكرته في سؤالك من تصدر الأحداث للدعوة والفتوى، وكذلك للجرح والتعديل … إلخ. هذه مصيبة عظيمة وخطورة كبيرة، وتقع المسؤولية المباشرة في ذلك على العلماء المتصدرين للتعليم والفتوى والتربية، فكل عالم عليه مسؤولية توجيه طلبته التوجيه السليم، وإلا فإثمهم عليه، لأنه لم يمنعهم من الوقوع في الأخطاء، لأنهم غير مؤهلين، بل (ترك لهم الحبل على الغارب)، وعلى أبناء الدعوة السلفية الإقبال على إصلاح أنفسهم، وتكميل تربيتهم على الحق والعدل والرحمة، والتأسي بمنهج الرسول _صلى الله عليه وسلم_ في اللين والحكمة والعدل والإنصاف واحترام أهل العلم والدعوة، قال عليه الصلاة والسلام: "ليس منا من لم يرحم صغيرنا ويوقر كبيرنا ويعرف لعالمنا حقه")(1)

 

‌‌من نتاج الشيخ العلمي:

للشيخ أشرطة كثيرة لدروسه ومحاضراته إلا أن الجزء الكبير منها باللغة الأردية وله بالعربية من الأشرطة:

1 - فضل أهل الحديث.

2 - أثر الإيمان في بناء دولة الإسلام.

وهي موجودة في موقع طريق الإسلام.

--------------------------------------------

(1) انظر مقال: المباركفوري .. سقاك الله من الرحيق المختوم كتبه كليم بن مقصود الحسن على موقع المسلم.

http:// www.almoslim.net/ node/ 83645
অনেক দাঈ ও ইলম অন্বেষণকারী ছাত্রদের একটি সমাবেশে, তিনি শাইখকে এমনভাবে উত্তর দিচ্ছিলেন যা আলেমদের প্রতি আদব ও সম্মানের সীমা লঙ্ঘন করছিল, বরং তা ছিল মজলিসের আদব এবং কথা বলার শিষ্টাচার পরিপন্থী। তিনি অজ্ঞতার সাথে আপত্তি জানাচ্ছিলেন, কিন্তু তবুও শাইখ অত্যন্ত ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে তাকে উত্তর দিচ্ছিলেন: ‘আমি জানি না’; এরপর তিনি তাকে বুঝিয়ে দেন যে, এই হাদিসটি ইলম অন্বেষণকারীদের মাঝে পরিচিত নয়। এরপর তিনি তার এক ছাত্রকে জিজ্ঞেস করেন এবং এতে তিনি কোনো সংকোচ বোধ করেননি। আল্লাহ শাইখকে প্রশস্ত রহমত দান করুন।

শাইখ সর্বদা তার ছাত্রদের এবং মাশায়েখদেরকে কোমলতা ও নম্রতার উপদেশ দিতেন। ‘আল-ইসতিকামাহ’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত তার এক সাক্ষাৎকারে যখন তাকে কিছু অপরিপক্ক ছাত্রের ফতোয়া প্রদানে অগ্রণী হওয়া এবং আলেমদের সমালোচনা করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি বলেন: “আপনি আপনার প্রশ্নে দাওয়াত ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তরুণদের এগিয়ে আসা, এবং একইভাবে জারাহ ও তা’দিলের বিষয়ে যা উল্লেখ করেছেন … ইত্যাদি, এটি একটি বড় বিপদ এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়। এর প্রত্যক্ষ দায়ভার বর্তায় সেই আলেমদের ওপর যারা শিক্ষা, ফতোয়া এবং তরবিয়তের দায়িত্বে নিয়োজিত। প্রত্যেক আলেমের দায়িত্ব হলো তার ছাত্রদের সঠিক দিশা প্রদান করা, অন্যথায় তাদের পাপের বোঝা সেই আলেমের ওপরই বর্তাবে; কারণ তিনি তাদেরকে ভুল পথে চলা থেকে বিরত রাখেননি, যেহেতু তারা যোগ্য ছিল না, বরং তিনি তাদেরকে লাগামহীনভাবে ছেড়ে দিয়েছেন। আর সালাফি দাওয়াতের অনুসারীদের উচিত নিজেদের সংশোধন করা এবং সত্য, ন্যায় ও রহমতের ওপর নিজেদের তরবিয়ত পূর্ণ করা। এছাড়া কোমলতা, হিকমত, ন্যায়বিচার, ইনসাফ এবং আলেম ও দাঈদের সম্মানের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মানহাজের অনুসরণ করা। তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: ‘সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না, আমাদের বড়দের সম্মান করে না এবং আমাদের আলেমদের অধিকার সম্পর্কে অবগত নয়’।”)(১)

 

‌‌শাইখের ইলমি অবদানসমূহ:

শাইখের দরস ও লেকচারের অনেক ক্যাসেট রয়েছে, তবে এর বড় একটি অংশ উর্দু ভাষায়। আরবি ভাষায় তার যে ক্যাসেটগুলো রয়েছে তা হলো:

১ - আহলুল হাদিসের শ্রেষ্ঠত্ব।

২ - ইসলামি রাষ্ট্র গঠনে ঈমানের প্রভাব।

এগুলো ‘তারিকুল ইসলাম’ ওয়েবসাইটে বিদ্যমান রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন প্রবন্ধ: আল-মুবারকপুরী .. সাকাকুল্লাহু মিনাল রাহিকিল মাখতুম, লিখেছেন কালিম বিন মাকসুদ আল-হাসান, আল-মুসলিম ওয়েবসাইটে।

http:// www.almoslim.net/ node/ 83645
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌مؤلفاته:

للشيخ مؤلفات عديدة في التفسير والحديث النبوي والمصطلح والسيرة النبوية، والدعوة، وهي تربو على ثلاثين كتاباً باللغتين العربية والأردية،

 

‌‌ومن أشهرها وأهمها باللغة العربية:

1 - الرحيق المختوم: (وقد ترجم هذا الكتاب لأكثر من خمس عشرة لغة مختلفة).

2 - روضة الأنوار في سيرة النبي المختار.

3 - منة المنعم في شرح صحيح مسلم.

4 - إتحاف الكرام في شرح بلوغ المرام.

5 - بهجة النظر في مصطلح أهل الأثر.

6 - إبراز الحق والصواب في مسألة السفور والحجاب.

7 - الأحزاب السياسية في الإسلام، وقد طبع من قبل رابطة الجامعات الإسلامية.

8 - تطور الشعوب والديانات في الهند ومجال الدعوة الإسلامية فيها.

9 - الفرقة الناجية خصائصها وميزاتها في ضوء الكتاب والسنة ومقارنتها مع الفرق الأخرى.

10 - البشارات بمحمد صلى الله عليه وسلم في كتب الهند والبوذيين.

11 - المصباح المنير في تهذيب تفسير ابن كثير.

 

‌‌وأما مؤلفاته باللغة الأردية فمن أهمها ما يلي:

12 - ترجمة كتاب الرحيق المختوم.

13 - علامات النبوة.
তাঁর রচনাবলি:

শাইখের তাফসীর, হাদিস, হাদিসশাস্ত্রের পরিভাষা, সীরাত এবং দাওয়াহ বিষয়ে বহু সংখ্যক গ্রন্থ রয়েছে। আরবি ও উর্দু উভয় ভাষায় তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ত্রিশটিরও বেশি।

 

আরবি ভাষায় তাঁর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - আর-রাহীকুল মাখতূম: (এই গ্রন্থটি পনেরটিরও বেশি ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে)।

২ - রওজাতুল আনোয়ার ফি সীরাতিন নাবিয়্যিল মুখতার।

৩ - মিন্নাতুল মুনইম ফি শারহি সহীহ মুসলিম।

৪ - ইতহাফুল কিরাম ফি শারহি বুলুগিল মারাম।

৫ - বাহজাতুন নাজর ফি মুসতালাহি আহলিল আসার।

৬ - ইবরাযুল হাক্ব ওয়াস সাওয়াব ফি মাসআলাতিস সুফুর ওয়াল হিজাব।

৭ - আল-আহযাবুস সিয়াসিয়্যাহ ফিল ইসলাম (ইসলামে রাজনৈতিক দলসমূহ); এটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংস্থা (রাবিত্বাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ) কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে।

৮ - ভারতে জাতি ও ধর্মসমূহের ক্রমবিকাশ এবং সেখানে ইসলামী দাওয়াতের ক্ষেত্র।

৯ - আল-ফিরক্বাতুন নাজিয়াহ (মুক্তিবাপ্রাপ্ত দল): কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে এর বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য এবং অন্যান্য দলের সাথে এর তুলনা।

১০ - হিন্দু ও বৌদ্ধদের গ্রন্থে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের সুসংবাদ।

১১ - আল-মিসবাহুল মুনীর ফি তাহযীবি তাফসীরি ইবনি কাসীর।

 

আর উর্দু ভাষায় তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:

১২ - আর-রাহীকুল মাখতূম গ্রন্থের অনুবাদ।

১৩ - আলামাতুন নুবুওয়াহ (নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ)।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
14 - سيرة شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب.

15 - نظرة إلى القاديانية. …

16 - فتنة القاديانية والشيخ ثناء الله الأمرتسرى.

17 - لماذا إنكار حجية الحديث؟

18 - إنكار الحديث حق أم باطل؟

19 - المعركة بين الحق والباطل.

20 - الإسلام وعدم العنف.

 

‌‌المقالات:

وقد كتب الشيخ رحمه الله العديد من المقالات في موضوعات إسلامية مختلفة تبلغ المئات، وقد نشرت في مجلات وصحف مختلفة في بلاد متعددة.

تلاميذه:

للشيخ تلاميذ كثيرون من خلال تدريسه في مدارس الهند ومدارسها والجامعة السلفية ببنارس.

كما قرأ عليه عدد من طلبة العلم بالمملكة العربية السعودية كتباً عدة، إبان عمله بمركز خدمة السنة والسيرة النبوية بالمدينة النبوية.

 

‌‌عنايته بالأسانيد:

امتاز علماء الهند بالعناية بالأسانيد والإجازات فيها، وكان للشيح عناية بذلك إقراءً وإجازةً، وممن قرأ عليه بالمدينة الشيخ المقرئ حامد بن أكرم البخاري، وقرأ عليه الدكتور

عبد الله الزهراني أطرافاً من صحيح الإمام البخاري مع أطراف الكتب الستة. وأما من استجازه في الحديث الشريف وعلومه فكثيرون.
১৪ - শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনী।

১৫ - কাদিয়ানীবাদ: একটি পর্যালোচনা। …

১৬ - কাদিয়ানীবাদ ফিতনা এবং শাইখ সানাউল্লাহ অমৃতসরী।

১৭ - হাদিসের প্রামাণিকতা কেন অস্বীকার করা হয়?

১৮ - হাদিস অস্বীকার কি সত্য নাকি বাতিল?

১৯ - সত্য ও বাতিলের মধ্যবর্তী লড়াই।

২০ - ইসলাম এবং অহিংসা।

 

‌‌প্রবন্ধসমূহ:

শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বিভিন্ন ইসলামি বিষয়ের উপর শত শত প্রবন্ধ লিখেছেন, যা বিভিন্ন দেশের নানা সাময়িকী ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।

তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

ভারতের বিভিন্ন মাদরাসায় এবং বেনারসের জামিয়া সালাফিয়্যায় পাঠদানের মাধ্যমে শাইখের অসংখ্য ছাত্র তৈরি হয়েছে।

এছাড়া তিনি যখন মদিনা মুনাওয়ারায় 'মারকাজু খিদমাতিস সুন্নাহ ওয়াস সিরাতিন নববিয়্যাহ'-তে কর্মরত ছিলেন, তখন সৌদি আরবের অনেক ইলম অন্বেষী ছাত্র তাঁর কাছে বেশ কিছু কিতাব পাঠ করেছেন।

 

‌‌সনদসমূহের প্রতি তাঁর যত্ন:

ভারতের উলামায়ে কেরাম সনদ এবং ইজাজতের যত্নের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। শাইখও পাঠদান ও ইজাজত প্রদানের মাধ্যমে এর প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন। মদিনায় তাঁর কাছে যারা পাঠ করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শাইখুল মুকরি হামিদ বিন আকরাম আল-বুখারি। এছাড়া ডক্টর

আবদুল্লাহ আজ-জাহরানি তাঁর কাছে সহিহ আল-বুখারি এবং কুতুবুস সিত্তাহর কিছু অংশ পাঠ করেছেন। আর যারা তাঁর কাছে হাদিস শরিফ ও এর সংশ্লিষ্ট ইলমসমূহের ইজাজত চেয়েছেন, তাঁদের সংখ্যা অনেক।
(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
كما حصل للشيخ ما يعرف في مصطلح الحديث بالتدبيج مع الدكتور عاصم بن

عبد الله القريوتي، وذلك بإجازة كل منهما للآخر، وحصول الرواية لهما بذلك.

 

‌‌أولاده:

وقد ترك الشيخ خلفه ثمانية أولاد: أربعة ذكور وأربع إناث، والذكور هم: طارق، والابن الثاني فيض الرحمن موظف في جدة، والابنان الآخران تخرجا من الجامعة الإسلامية في المدينة النبوية ويقومان بمهمة الدعوة في الهند.

 

‌‌وفاته:

توفي الشيخ عقب صلاة الجمعة 10/ 11/ 1427 هـ الموافق 1/ 12/ 2006 م، في موطنه مباركفور أعظم كر بالهند، بعد مرض ألَمَّ به، جعل الله ذلك كفارة له ورفعاً لدرجته وتغمد الله الشيخ بالرحمة الواسعة، وأدخله فسيح جناته(1)

--------------------------------------------

(1) كتبها: طارق بن صفي الرحمن المباركفوري، وهذبها وأضاف إليها بعض الإضافات د. عاصم بن عبد الله القريوتي.

وانظر مقال: المباركفوري .. سقاك الله من الرحيق المختوم كتبه كليم بن مقصود الحسن على موقع المسلم.

http:// www.almoslim.net/ node/ 83645
ঠিক যেমন শায়খের ক্ষেত্রে হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষায় যা ‘তাদবীজ’ হিসেবে পরিচিত তা ঘটেছে ডক্টর আসিম বিন আব্দুল্লাহ আল-কারইউতির সাথে; আর তা হলো তাদের একে অপরকে ইজাযত প্রদানের মাধ্যমে এবং এর দ্বারা উভয়েরই রেওয়ায়েত বা বর্ণনা লাভের মাধ্যমে।

 

‌‌সন্তানসন্ততি:

শায়খ তাঁর মৃত্যুকালে আটজন সন্তান রেখে গেছেন: চারজন পুত্র এবং চারজন কন্যা। পুত্ররা হলেন: তারিক; দ্বিতীয় পুত্র ফয়জুর রহমান জেদ্দায় কর্মরত; এবং অপর দুই পুত্র মদিনা নববীর ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে ভারতে দাওয়াতের কাজ আঞ্জাম দিচ্ছেন।

 

‌‌মৃত্যু:

শায়খ ১০/১১/১৪২৭ হিজরী মোতাবেক ০১/১২/২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে জুমার নামাজের পর ভারতের আজমগড়ের মোবারকপুরে নিজ জন্মভূমিতে তাঁর ওপর আপতিত এক অসুস্থতার পর ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাআলা এটিকে তাঁর জন্য কাফফারা ও মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যম করুন। আল্লাহ শায়খকে তাঁর প্রশস্ত রহমত দ্বারা আবৃত করুন এবং তাঁকে তাঁর সুপ্রশস্ত জান্নাতে প্রবেশ করান।(১)

--------------------------------------------

(১) এটি লিখেছেন: তারিক বিন সফিউর রহমান মোবারকপুরী, এবং এটি পরিমার্জন ও এতে কিছু বিষয় সংযোজন করেছেন ডক্টর আসিম বিন আব্দুল্লাহ আল-কারইউতি।

এবং দেখুন প্রবন্ধ: মোবারকপুরী... আল্লাহ আপনাকে আর-রাহীকুল মাখতূম থেকে পান করান; এটি লিখেছেন কলিম বিন মাকসুদুল হাসান 'আল-মুসলিম' ওয়েবসাইটে।

http:// www.almoslim.net/ node/ 83645