(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث الضعيفة والموضوعة التي حكم عليها الحافظ ابن كثير في تفسيره   (محمود الملاح)

القسم: التخريج والأطراف

الكتاب: الأحاديث الضعيفة والموضوعة التي حكم عليها الحافظ ابن كثير في تفسيره

المؤلف: أبو عبد الرحمن محمود بن محمد الملاح

قدم له: فضيلة الشيخ عبد الله بن مانع الروقي

الناشر: مكتبة العلوم والحكم، المدينة المنورة - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1431 هـ - 2010 م

عدد الصفحات: 441

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 جُمادَى الأولى 1436

হাফেজ ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে যে সকল দুর্বল ও জাল হাদিসের ওপর হুকুম দিয়েছেন   (মাহমুদ আল-মাল্লাহ)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ

গ্রন্থ: হাফেজ ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে যে সকল দুর্বল ও জাল হাদিসের ওপর হুকুম দিয়েছেন

লেখক: আবু আব্দুর রহমান মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আল-মাল্লাহ

ভূমিকা প্রদান করেছেন: ফযীলাতুশ শাইখ আবদুল্লাহ বিন মানে আল-রুকী

প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম, মদিনা মুনাওয়ারা - সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৯ জুমাদাল উলা ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: -)
الْأَحَادِيث الضعيفة والموضوعة

الَّتِي حكم عَلَيْهَا الْحَافِظ ابْن كثير فِي تَفْسِيره

 

قدم لَهُ

فَضِيلَة الشَّيْخ عبد الله بن مَانع الروقي - حفظه الله -

 

كتبه

أَبُو عبد الرَّحْمَن/ مَحْمُود بن مُحَمَّد الملاح

 

مكتبة الْعُلُوم وَالْحكم
সেই সকল দুর্বল ও জাল হাদিসসমূহ

হাফেজ ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে যেগুলোর ব্যাপারে হুকুম প্রদান করেছেন

 

ভূমিকা প্রদান করেছেন

মর্যাদাপূর্ণ শায়খ আবদুল্লাহ বিন মানি আল-রুকি - আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন -

 

সংকলনে

আবু আবদুর রহমান/ মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আল-মাল্লাহ

 

মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة فضيلة الشيخ: عبد الله بن مانع الروقي حفظه الله

الحمد لله، وأصلي وأسلم على رسول الله أما بعد:

فإن تفسير الحافظ ابن كثير رحمه الله قد سار في الناس مسير الشمس فقد تداوله العلماء، وطلاب العلم والعوام، بل أصبح يطالعه صغار الطلبة وأحداثهم في السن …

ولعل أسباب ذلك كثيرة منها:

‌‌1 - ما وفق الله المؤلف من حسن النية في ذلك - وهذا هو الظن به رحمه الله فقد كان من العلماء العاملين الربانيين …

‌‌2 - ومنها ما تميز به هذا التفسير من مميزات عديدة جعلته مقبولا سهلا وذلك من حيث:

* سهولة العبارة، وقربها والابتعاد عن الغريب ووحشي الألفاظ، فهي مفهومة ليست لغة خواص بل يفهمها أكثر الناس.

* ومن المميزات أنه تفسير سلفي مأمون لا تأويل فيه لآيات الصفات … وقد نفع الله المؤلف بما أجراه على يد شيخه حبر الأمة شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله فاستفاد منه ومن مؤلفاته كثيرا كما استفاد من صحبته شيخه الإمام الحافظ المزي رحمه الله وقد صاهره على ابنته، فجمع الله له بين هذين الجبلين وغيرهما، فصار تفسيره متقنا.

* ومن المميزات أن هذا التفسير مليء بالآثار المرفوعة والموقوفة؛ فالحديث صناعة مؤلفه وله فيه كعب عال، شهد له بذلك العلماء، ومن طالع كتب الحافظ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সম্মানীয় শায়খ আবদুল্লাহ বিন মানি আল-রুকি (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)-এর ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আমি আল্লাহর রাসূলের উপর সালাত ও সালাম পেশ করছি। অতঃপর:

নিশ্চয়ই হাফেজ ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ)-এর তাফসীর মানুষের মাঝে সূর্যের ন্যায় সুপ্রসিদ্ধ হয়েছে। আলেম সমাজ, তালিবে ইলম এবং সাধারণ মানুষ—সবাই এটি গ্রহণ করেছেন; এমনকি অল্পবয়স্ক ও কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীরাও এটি পাঠ করতে শুরু করেছে …

এর কারণ সম্ভবত অনেক, যার মধ্যে রয়েছে:

‌‌১ - লেখককে আল্লাহ তাআলা এক্ষেত্রে যে সদুদ্দেশ্য দান করেছেন তা—আর তাঁর সম্পর্কে আমাদের এটাই সুধারণা (রহিমাহুল্লাহ), কেননা তিনি ছিলেন আমলকারী রব্বানী আলেমদের অন্তর্ভুক্ত …

‌‌২ - এছাড়া এই তাফসীরটি এমন কিছু অসংখ্য বৈশিষ্ট্যে অনন্য যা একে গ্রহণযোগ্য ও সহজবোধ্য করে তুলেছে, তা নিম্নোক্ত দিক থেকে:

* এর বর্ণনাশৈলী সহজ ও বোধগম্য এবং এটি দুর্বোধ্য ও জটিল শব্দের প্রয়োগ থেকে মুক্ত। তাই এটি কেবল বিশিষ্টজনদের ভাষা নয়, বরং অধিকাংশ মানুষই এটি বুঝতে পারে।

* অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একটি নির্ভরযোগ্য সালাফি তাফসীর যাতে সিফাত বা গুণাবলি বিষয়ক আয়াতগুলোর কোনো অপব্যাখ্যা করা হয়নি … আল্লাহ তাআলা লেখককে তাঁর শায়খ উম্মতের পণ্ডিত শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাধ্যমে উপকৃত করেছেন। তিনি তাঁর কাছ থেকে এবং তাঁর রচনাবলি থেকে প্রচুর ফায়দা হাসিল করেছেন। তেমনিভাবে তিনি তাঁর শায়খ ইমাম হাফেজ আল-মিযযী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সাহচর্য থেকেও উপকৃত হয়েছেন এবং তিনি তাঁর কন্যাকে বিবাহ করে তাঁর জামাতা হয়েছিলেন। এভাবে আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য এই দুই পর্বতসম আলেম ও অন্যদের ইলমকে একত্রিত করে দিয়েছেন, যার ফলে তাঁর তাফসীরটি অত্যন্ত সুসংহত হয়েছে।

* অন্য একটি বৈশিষ্ট্য হলো, এই তাফসীরটি মারফু এবং মাওকুফ বর্ণনায় ভরপুর; কেননা হাদিস শাস্ত্র ছিল এর লেখকের মূল শিল্প এবং এতে তাঁর সুউচ্চ অবস্থান ছিল। ওলামায়ে কেরাম তাঁর এই যোগ্যতার সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং যে ব্যক্তি হাফেজের কিতাবসমূহ পাঠ করবে...
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ৬)
أبي الفداء ابن كثير كالبداية والنهاية لاسيما الأجزاء الأولى علم ذلك جليا، فكيف بما سواه من المؤلفات الأخرى المتنوعة.

وقد تكلم الحافظ ابن كثير في تفسيره هذا على جملة من الأحاديث فضعفها وتكلم على أسانيدها … مع أنه سكت على جملة أخرى فيها ضعف، ويا ليته استقصى الكل، وأتم النصح ولو فعل ذلك لتم كتابه ولكن قدر الله وما شاء فعل.

وقد قام فضيلة الشيخ محمود الملاح - سدده الله وحفظه ونفع به - فجمع ما تكلم عليه الحافظ ابن كثير بالضعف أوالوضع فأفردها، وحشى عليها حتى يكون المطالع لهذا التفسير على علم بها، وفيه تقريب لأحكام الحافظ ابن كثير على الأحاديث؛ للاستفادة منها بسهولة وييسر لجمعها في كتاب واحد … وكنت أتمنى لو أتى على الأخبار التي سكت عنها الحافظ ابن كثير ومحصها وبين حالها، ولعل ذلك يكون له في مستقبل أمره. فأجزل الله مثوبته ونفع بكتابه كما نفع بأصل كتابه - تفسير ابن كثير - وبارك في جهوده.

والحمد لله أولا وآخرا وظاهرا وباطنا.

وكتبه

أبو محمد عبد الله بن مانع الروقي

صبيحة الأحد الرابع من جمادى الأولى لعام 1431هـ
আবুল ফিদা ইবনে কাসীরের 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া', বিশেষ করে এর প্রথম খণ্ডগুলো যারা পাঠ করেছেন তারা বিষয়টি স্পষ্টভাবে অবগত আছেন, তাহলে তাঁর অন্যান্য বিচিত্র রচনার অবস্থা কী হতে পারে (তা সহজেই অনুমেয়)।

হাফিজ ইবনে কাসীর তাঁর এই তাফসীরে একদল হাদীস নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সেগুলোকে দুর্বল বলেছেন ও সেগুলোর সনদ নিয়ে কথা বলেছেন ... যদিও তিনি আরও একদল হাদীসের ব্যাপারে নীরব থেকেছেন যেগুলোতে দুর্বলতা রয়েছে। আফসোস! তিনি যদি সবগুলোর অনুসন্ধান সম্পন্ন করতেন এবং নসিহত পূর্ণ করতেন। তিনি যদি তা করতেন তবে তাঁর কিতাবটি পূর্ণাঙ্গ হতো, কিন্তু আল্লাহর নির্ধারণ এমনই ছিল এবং তিনি যা চেয়েছেন তা-ই করেছেন।

সম্মানিত শাইখ মাহমুদ আল-মাল্লাহ - আল্লাহ তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, তাকে হিফাযত করুন এবং তার দ্বারা উপকৃত হওয়ার তাওফিক দিন - হাফিজ ইবনে কাসীর যে বর্ণনাগুলোকে দুর্বল বা জাল বলেছেন সেগুলো একত্রিত ও পৃথক করেছেন। তিনি এর ওপর টীকা যুক্ত করেছেন যাতে এই তাফসীরের পাঠক এ সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। এতে হাদীসগুলোর ওপর হাফিজ ইবনে কাসীরের সিদ্ধান্তসমূহকে উপস্থাপিত করা হয়েছে; যাতে এক গ্রন্থে সংকলিত হওয়ার কারণে তা থেকে সহজে উপকৃত হওয়া যায় ... আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল তিনি যদি সেই বর্ণনাগুলোর ওপরও কাজ করতেন যেগুলোর ব্যাপারে হাফিজ ইবনে কাসীর নীরব থেকেছেন এবং সেগুলো যাচাই করে সেগুলোর অবস্থা বর্ণনা করতেন। আশা করা যায় ভবিষ্যতে তিনি তা করবেন। আল্লাহ তাকে প্রচুর প্রতিদান দিন এবং তাঁর এই কিতাবের মাধ্যমে উপকৃত করুন যেভাবে তিনি মূল কিতাব 'তাফসীরে ইবনে কাসীর' দ্বারা উপকৃত করেছেন, এবং তাঁর প্রচেষ্টায় বরকত দিন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে, অন্তে, প্রকাশ্যে এবং গোপনে।

এটি লিখেছেন

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন মানি আল-রুকি

১৪৩১ হিজরীর ৪ঠা জুমাদাল উলা, রবিবার সকাল।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين أما بعد:

فلا يخفى على أحد تمكن الحافظ ابن كثير رحمه الله من علوم الشريعة، وخاصة في التفسير والحديث، وليس أدل على ذلك من تلقي العلماء وطلبة العلم كتبه بالقبول، والإقبال عليها قراءة وتدريساً واختصاراً كما في تفسيره المبارك (تفسير القرآن العظيم) الذي لا يكاد يخلو منه بيت كل من له أدنى علاقة بالعلم الشرعي حتى قيل: (بيت فقير الذي يخلو منه تفسير ابن كثير).

يقول العلامة المحدث أحمد شاكر رحمه الله (1):

(فإن تفسير الحافظ (ابن كثير) أحسن التفاسير التي رأينا وأجودها وأدقها، بعد تفسير إمام المفسرين أبي جعفر الطبري. ولسنا نوازن بينهما وبين أي تفسير آخر مما بأيدينا، فما رأينا مثلهما ولا ما يقاربهما.

وقد حرص الحافظ ابن كثير على أن يفسر القرآن بالقرآن أولا، ما وجد إلى ذلك سبيلاً، ثم بالسنة الصحيحة التي هي بيان لكتاب الله، ثم يذكر كثيراً من أقوال السلف في تفسير الآي. وإنه ليذكر الأحاديث - في أكثر المواضع - بأسانيدها من دواوين السنة ومصادرها. وكثيراً ما يذكر تعليل الضعيف منها، ولكنه يحرص أشد الحرص على أن يذكر الأحاديث الصحاح، وإن ذكر معها الضعاف. فكتابه - بجانب أنه تفسير للقرآن - معلم ومرشد لطالب الحديث، يعرف به كيف ينقد الأسانيد والمتون، وكيف يميز الصحيح من غيره. فهوكتاب في هذا المعنى تعليمي عظيم، ونفعه جليل كثير).

--------------------------------------------

(1) عمدة التفسير (1/ 9)، الطبعة الثانية، 1426هـ - 2005م، نشر دار الوفاء، دار ابن حزم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর। অতঃপর:

শরীয়াহর ইলমসমূহে, বিশেষ করে তাফসীর ও হাদীস শাস্ত্রে হাফেজ ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ)-এর পারদর্শিতা কারো কাছেই অজানা নয়। আর আলেম সমাজ এবং ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট তাঁর গ্রন্থসমূহের গ্রহণযোগ্যতা এবং এর পঠন-পাঠন, শিক্ষাদান ও সংক্ষেপায়নের প্রতি আগ্রহের চেয়ে বড় কোনো প্রমাণ আর হতে পারে না, যেমনটি তাঁর বরকতময় তাফসীর গ্রন্থ (তাফসীরুল কুরআনিল আজীম)-এর ক্ষেত্রে দেখা যায়; যার সাথে সামান্যতম শরয়ী ইলমের সম্পর্ক আছে, এমন কারো ঘর এই কিতাব থেকে খালি থাকা দুষ্কর। এমনকি বলা হয়েছে: (সেই ঘরটি দরিদ্র যে ঘরে ইবনে কাসীরের তাফসীর নেই)।

আল্লামা মুহাদ্দিস আহমাদ শাকির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন (১):

(নিশ্চয়ই হাফেজ (ইবনে কাসীর)-এর তাফসীরটি হলো আমাদের দেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্ট এবং সূক্ষ্মতম তাফসীর, যা ইমামুল মুফাসসিরীন আবু জাফর আত-তবারীর তাফসীরের পরেই স্থান লাভ করে। আমরা এই দুটির সাথে আমাদের হাতে থাকা অন্য কোনো তাফসীরের তুলনা করব না, কারণ আমরা এ দুটির সমতুল্য বা এর কাছাকাছি পর্যায়ের অন্য কিছু দেখিনি।

হাফেজ ইবনে কাসীর প্রথমত সাধ্যানুসারে কুরআনের ব্যাখ্যা কুরআনের মাধ্যমেই করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন। এরপর সহীহ সুন্নাহর মাধ্যমে, যা আল্লাহর কিতাবের বর্ণনাস্বরূপ। এরপর তিনি আয়াতের তাফসীরে সালাফদের বহু বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। তিনি অধিকাংশ স্থানে সুন্নাহর মূল উৎস ও সংকলনসমূহ থেকে হাদীসগুলোকে সনদসহ উল্লেখ করেছেন। আর অনেক সময় তিনি দুর্বল হাদীসগুলোর ত্রুটিও বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি সহীহ হাদীসসমূহ উল্লেখ করার ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন, যদিও তার পাশাপাশি তিনি দুর্বল হাদীসও উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তাঁর এই গ্রন্থটি—কুরআনের তাফসীর হওয়ার পাশাপাশি—হাদীসের ছাত্রদের জন্য এক দিকনির্দেশক ও শিক্ষক; এর মাধ্যমে সে জানবে কীভাবে সনদ ও মতন (মূল পাঠ) সমালোচনা ও বিশ্লেষণ করতে হয় এবং কীভাবে সহীহকে অন্যটি থেকে পৃথক করতে হয়। তাই এ দিক থেকে এটি একটি মহান শিক্ষামূলক গ্রন্থ এবং এর উপকারিতা অত্যন্ত ব্যাপক ও মহান)।

--------------------------------------------

(১) উমদাতুত তাফসীর (১/৯), দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪২৬ হি. - ২০০৫ খ্রি., প্রকাশনা: দারুল ওয়াফা, দার ইবনে হাজম।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ৮)
وحتى تدرك القيمة الحديثية لكتاب تفسير ابن كثير فهذه مقارنة بينه وبين كتب الحديث الأخرى من حيث عدد الأحاديث الموجودة بالتكرار (1)

 

الكتاب … تفسير ابن كثير … البخاري … مسلم … أبو داود … الترمذي … النسائي … ابن ماجه

عدد الأحاديث … 7878 … 7563 … 5770 … 5274 … 3956 … 5758 … 4431

 

وأحاول في هذا الكتاب إبراز مكانة ابن كثير الحديثية، وتقريبها للقراء من خلال جمع الأحاديث التي حكم عليها بالضعف والوضع من خلال كتابه تفسير القرآن العظيم؛ حتى يسهل الاستفادة منها.

وقد بين الحافظ ابن كثير الأحاديث الضعيفة والموضوعة في جميع سور القرآن في كتابه، وأن سورة الزخرف هي أول سورة في التفسير تخلو من ذلك ويتبعها سور قليلة هي: الصف والجمعة والقيامة والطارق والعلق والعصر والهمزة والكافرون والمسد؛ أما سورة المرسلات ذكر فيها حديثاً واحداً قد سبق ذكره في سورة البقرة الآية (79)، انظر حديث رقم (44) من هذا الكتاب، وسورة الغاشية ذكر فيها حديثاً واحداً قد سبق ذكره في سورة المؤمنون الآية (87)، انظر حديث رقم (587).

وبهذا يكون الحافظ ابن كثير قد ذكر في تفسيره الأحاديث الضعيفة والموضوعة الواردة في جميع سور القرآن ما عدا السور العشر المذكورة آنفاً؛ مما يدل على تتبع الحافظ ابن كثير وحرصه على بيان حكم هذه الأحاديث في كتابه حتى بلغت قرابة الألف حديث.

--------------------------------------------

(1) الإمام ابن كثير وأثره في علم الحديث رواية ودراية ص (435) للدكتور: عدنان محمد آل شلش، دار النفائس، الأردن، الطبعة الأولى 1425هـ. قلت (الملاح): أعداد الأحاديث المذكورة تقريبية.
তাফসির ইবনে কাসির কিতাবটির হাদিসতাত্ত্বিক গুরুত্ব উপলব্ধি করার জন্য, পুনরাবৃত্তিসহ হাদিসের সংখ্যার বিচারে এটি এবং অন্যান্য হাদিসগ্রন্থের মধ্যে একটি তুলনা নিচে দেওয়া হলো (১)

 

গ্রন্থ … তাফসির ইবনে কাসির … বুখারি … মুসলিম … আবু দাউদ … তিরমিজি … নাসায়ি … ইবনে মাজাহ

হাদিসের সংখ্যা … ৭৮৭৮ … ৭৫৬৩ … ৫৭৭০ … ৫২৭৪ … ৩৯৫৬ … ৫৭৫৮ … ৪৪৩১

 

আমি এই গ্রন্থে ইবনে কাসিরের হাদিসতাত্ত্বিক মর্যাদা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি এবং তাঁর 'তাফসিরুল কুরআনিল আজিম' গ্রন্থে তিনি যেসব হাদিসকে যয়িফ (দুর্বল) ও মাওজু (জাল) বলে হুকুম দিয়েছেন, সেগুলো সংকলন করার মাধ্যমে পাঠকদের নিকট তা সহজবোধ্য করার চেষ্টা করেছি; যাতে এ থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়।

হাফেজ ইবনে কাসির তাঁর কিতাবে কুরআনের সকল সূরার যয়িফ ও মাওজু হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন। আর সূরা আয-যুখরুফ হলো এই তাফসিরের প্রথম সূরা যা এই ধরনের হাদিস থেকে মুক্ত। এরপর আরও অল্প কিছু সূরা রয়েছে, সেগুলো হলো: আস-সাফ, আল-জুমুআহ, আল-কিয়ামাহ, আত-তারিক, আল-আলাক, আল-আসর, আল-হুমাজাহ, আল-কাফিরুন এবং আল-মাসাদ। পক্ষান্তরে সূরা আল-মুরসালাত-এ তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যা ইতিপূর্বে সূরা আল-বাকারার ৭৯ নম্বর আয়াতের অধীনে বর্ণিত হয়েছে (এই গ্রন্থের ৪৪ নম্বর হাদিসটি দেখুন)। এবং সূরা আল-গাশিয়াহ-তে তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যা ইতিপূর্বে সূরা আল-মুমিনুন-এর ৮৭ নম্বর আয়াতের অধীনে বর্ণিত হয়েছে (৫৮৭ নম্বর হাদিসটি দেখুন)।

এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, হাফেজ ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে পূর্বে উল্লেখিত দশটি সূরা ব্যতীত কুরআনের সকল সূরার যয়িফ ও মাওজু হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন। এটি হাফেজ ইবনে কাসিরের গভীর অনুসন্ধান এবং তাঁর কিতাবে এই হাদিসগুলোর হুকুম বর্ণনায় তাঁর ঐকান্তিক আগ্রহের প্রমাণ দেয়, যার সংখ্যা প্রায় এক হাজার হাদিস পর্যন্ত পৌঁছেছে।

--------------------------------------------

(১) আল-ইমাম ইবনে কাসির ওয়া আসারুহু ফি ইলমিল হাদিস রিওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান, পৃষ্ঠা (৪৩৫), ডক্টর: আদনান মুহাম্মদ আল-শালাশ, দারুন নাফাইস, জর্ডান, প্রথম সংস্করণ ১৪২৫ হিজরি। আমি (আল-মাল্লাহ) বলছি: উল্লিখিত হাদিসের সংখ্যাগুলো আনুমানিক।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌عملي في هذا الكتاب:

‌‌1 - قرأت تفسير ابن كثير وجمعت الأحاديث الضعيفة والموضوعة التي حكم عليها الحافظ ابن كثير بنفسه، وكذا الأحاديث التي نقل حكم العلماء عليها بالضعف ورضيه.

‌‌2 - رتبت هذه الأحاديث حسب سور القرآن الكريم ورقمتها ترقيماً تسلسلياً، وبينت مكانها من التفسير بوضع اسم السورة ورقم الآية حتى يسهل الرجوع إليها بالرغم من اختلاف الطبعات، وإذا كان الحديث في مقدمة السورة ذكرت اسم السورة فقط، وأشرت إلى موطن الحديث المكرر في التفسير عند ذكره أول مرة؛ وبهذا يكون الترقيم بدون المكرر.

‌‌3 - قمت باختصار السند إلى الصحابي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا إذا كان كلام الحافظ ابن كثير متعلقاً بالسند فلم أحذفه، وإذا كان الاختصار في غير بداية الحديث وضعت مكان الاختصار النقط بهذاالشكل … ؛ حتى يفهم القاريء. وقد يقتضي حذف الإسناد إضافة كلمة (عن) في بدايته حتى يتضح الكلام.

‌‌4 - قد اعتمدت في النص المذكور على طبعة دار طيبة بالرياض بتحقيق سامي السلامة - وفقه الله -، الإصدر الثاني، الطبعة الأولى 1422هـ، وعلقت عليه ببعض الحواشي وحرصت على الاختصار واستفدت من حواشي السلامة أحياناً. وحرصت على ذكر كلام المحدث أحمد شاكر والعلامة الألباني - رحمهما الله - غالباً.

‌‌5 - ذكرت متن الحديث الذي أشار الحافظ ابن كثير إلى ضعفه ولم يذكره في التفسير.

‌‌6 - كتبت تمهيداً بين يدي الكتاب ذكرت فيه وقفات يسيرة مع الحافظ ابن كثير في تفسيره.
এই গ্রন্থে আমার কর্মপদ্ধতি:

১ - আমি তাফসীরে ইবনে কাসীর পাঠ করেছি এবং সেই সব দুর্বল ও জাল হাদিসগুলো একত্রিত করেছি যেগুলোর ব্যাপারে হাফেজ ইবনে কাসীর নিজেই হুকুম বর্ণনা করেছেন। সেইসাথে এমন হাদিসগুলোও সংগ্রহ করেছি যেগুলোর দুর্বলতার ব্যাপারে তিনি অন্যান্য আলেমদের হুকুম উদ্ধৃত করেছেন এবং তা সমর্থন করেছেন।

২ - আমি এই হাদিসগুলোকে পবিত্র কুরআনের সূরা অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি এবং সেগুলোকে ধারাবাহিকভাবে ক্রমিক নম্বর প্রদান করেছি। বিভিন্ন সংস্করণের ভিন্নতা সত্ত্বেও যাতে সহজে সেগুলোর দিকে ফিরে যাওয়া যায়, সেজন্য তাফসীরে সেগুলোর অবস্থান সূরা ও আয়াতের নম্বর উল্লেখের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছি। যদি হাদিসটি সূরার শুরুতে থাকে, তবে শুধু সূরার নাম উল্লেখ করেছি। তাফসীরে পুনরাবৃত্ত হাদিসগুলোর প্রথম উল্লেখের স্থানেই সেটির পরবর্তী অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত করেছি; ফলে এই ক্রমিক নম্বর হবে পুনরাবৃত্তি মুক্ত।

৩ - আমি হাদিসের সনদকে সংক্ষিপ্ত করে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনাকারী সাহাবী পর্যন্ত নিয়ে এসেছি, তবে হাফেজ ইবনে কাসীরের বক্তব্য যদি সনদের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, সেক্ষেত্রে আমি তা বিলুপ্ত করিনি। যদি হাদিসের শুরুর অংশ ব্যতীত অন্য কোথাও সংক্ষিপ্ত করা হয়ে থাকে, তবে পাঠকের বোঝার সুবিধার্থে সেই স্থানে ফোটা চিহ্নগুলো এইভাবে ... ব্যবহার করেছি। সনদ বিলুপ্ত করার কারণে বাক্যটি স্পষ্ট করার প্রয়োজনে শুরুতে ‘হতে’ শব্দটি যোগ করার প্রয়োজন হতে পারে।

৪ - উল্লেখিত মূলপাঠের ক্ষেত্রে আমি রিয়াদের ‘দার তাইয়্যিবাহ’ থেকে প্রকাশিত এবং সামী আস-সালামাহ্ —আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন— কর্তৃক সম্পাদিত (তাহকীককৃত) দ্বিতীয় মুদ্রণ, প্রথম সংস্করণ ১৪২২ হিজরী এর ওপর নির্ভর করেছি। আমি এর ওপর কিছু টীকা যুক্ত করেছি এবং তা সংক্ষিপ্ত রাখার চেষ্টা করেছি; কখনও কখনও আস-সালামাহ্’র টীকা থেকেও উপকৃত হয়েছি। আমি মুহাদ্দিস আহমাদ শাকির এবং আল্লামা আলবানী —আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন— এর বক্তব্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে উল্লেখ করার ব্যাপারে সচেষ্ট থেকেছি।

৫ - আমি সেই সব হাদিসের মূল পাঠ উল্লেখ করেছি যেগুলোর দুর্বলতার প্রতি হাফেজ ইবনে কাসীর ইঙ্গিত করেছেন কিন্তু তাফসীরে তা উল্লেখ করেননি।

৬ - গ্রন্থের শুরুতে আমি একটি ভূমিকা লিখেছি যেখানে হাফেজ ইবনে কাসীরের তাফসীর সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌7 - عملت فهارس أبجدية لجميع الأحاديث الواردة في هذا الكتاب من خلال:

- ذكر أطرافها، ورقمها في الكتاب.

- اسم السورة ورقم الآية.

- اسم الصحابي.

- حكم الحافظ ابن كثير عليها مختصراً؛ حتى يسهل على القاريء الوصول لحكم الحافظ ابن كثير بسرعة.

‌‌8 - سميت هذا الكتاب (الأحاديث الضعيفة والموضوعة التي حكم عليها الحافظ ابن كثير في تفسيره).

وأسأل الله أن يتقبله مني وأن يوفقنا لما يحب ويرضى، وهذا جهدي فما كان من صواب فمن الله وحده، وإن كانت الأخرى فأسأل الله أن يعفو عني، ورحم الله مسلماً وجد خللاً، أو نقصاً فسدده، وبادر بالنصح فالصدر منشرح، والله الموفق لسواء السبيل.

وصلى الله وسلم على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

كتبه أبو عبد الرحمن

محمود بن محمد الملاح

السعودية - الرياض

بعد عشاء الجمعة 16 من شعبان لعام1430هـ

malmalah@hotmail.com

هاتف رقم 0508457570
‌৭ - আমি এই কিতাবে বর্ণিত সকল হাদিসের বর্ণানুক্রমিক নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছি নিম্নোক্ত উপায়ে:

- সেগুলোর প্রারম্ভিক অংশ এবং কিতাবে সেগুলোর নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে।

- সূরার নাম এবং আয়াতের নম্বর।

- সাহাবীর নাম।

- সেগুলোর ওপর হাফেজ ইবনে কাসীরের মন্তব্য সংক্ষেপে উল্লেখ করা; যাতে পাঠকের জন্য হাফেজ ইবনে কাসীরের সিদ্ধান্তে দ্রুত পৌঁছানো সহজ হয়।

‌‌৮ - আমি এই কিতাবটির নামকরণ করেছি (দুর্বল ও জাল হাদিসসমূহ যেগুলোর ওপর হাফেজ ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে হুকুম দিয়েছেন)।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার নিকট থেকে এটি কবুল করেন এবং আমাদের সেই তাওফীক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। এটিই আমার শ্রম; এতে যা কিছু সঠিক হয়েছে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি অন্যথা হয়ে থাকে তবে আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আল্লাহ সেই মুসলিমের প্রতি দয়া করুন যিনি কোনো বিচ্যুতি বা অপূর্ণতা খুঁজে পেয়ে তা সংশোধন করবেন এবং উপদেশের মাধ্যমে এগিয়ে আসবেন, কারণ আমার অন্তর উন্মুক্ত। আল্লাহই সঠিক পথের তাওফীকদাতা।

আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

লিখেছেন আবু আবদুর রহমান

মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আল-মাল্লাহ

সৌদি আরব - রিয়াদ

১৪৩০ হিজরীর ১৬ই শাবান শুক্রবার এশার সালাতের পর

malmalah@hotmail.com

ফোন নম্বর ০৫০৮৪৫৭৫৭০
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ১১)
تمهيد
ভূমিকা
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌وقفات مع الحافظ ابن كثير

هذه وقفات يسيرة مع الحافظ ابن كثير رحمه الله من خلال تفسيره المبارك للقرآن العظيم أحببت أن ألقي عليها الضوء عسى أن يكون فيها الفائدة لنا جميعا:

الأولى: ورع الحافظ ابن كثير وخوفه من القول على الله بغير علم؛ وذلك من كثرة تكراره لكلمة (والله أعلم) في تفسيره بصورة لا تكاد توجد في كتاب آخر قاربت في مجموع كتابه الألف مرة، (824) مرة بالضبط، وهذا الخلق نحتاج أن يتربى عليه المسلمون الآن، خاصة في هذا الزمن الذي من سماته الجرأة على الفتوى، والقول على الله بغير علم، وأصبح الكلام في الدين كلأ مباحا لكل أحد بغير خوف ولا وجل من الله، ولا حول ولا قوة إلا بالله.

الثانية: تعظيم الحافظ ابن كثير للأحاديث الصحيحة، والعمل بها، والاعتقاد بما تدل عليه، ويتضح ذلك بصورة كبيرة في الكتاب من خلال حرصه على بيان أحكام الأحاديث التي يتعرض لها في التفسير، ومن هذه الأمثلة:

‌‌1 - عن عائشة، قالت: ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يفسر شيئًا من القرآن إلا آيا تُعد، علمهن إيَّاه جبريل، عليه السلام. …

وتكلَّم عليه الإمام أبو جعفر بما حاصله أن هذه الآيات مما لا يعلم إلا بالتوقيف عن الله تعالى، مما وقفه عليها جبريل. وهذا تأويل صحيح لو صح الحديث. انظر الحديث رقم (3) من الكتاب.

* لاحظ أن الحافظ ابن كثير علق قبول التفسير على صحة الحديث فقال: وهذا تأويل صحيح لو صح الحديث.

‌‌2 - وقد ورد في ذلك حديث - لو ثبت لقلنا به على الرأس والعين، ولكن لم يصح سنده -

قال ابن جرير: … عن العباس بن عبد المطلب، عن النبي صلى الله عليه وسلم في حديث ذكره
হাফেজ ইবনে কাসিরের সাথে কিছু প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাফেজ ইবনে কাসির (রহিমাহুল্লাহ)-এর বরকতময় গ্রন্থ 'তাফসীরুল কুরআনিল আযীম'-এর আলোকে তাঁর সম্পর্কে এখানে কিছু সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করা হলো। আমি এগুলোর ওপর আলোকপাত করতে চেয়েছি, যাতে সম্ভবত এটি আমাদের সকলের জন্য কল্যাণকর হয়:

প্রথমত: হাফেজ ইবনে কাসিরের পরহেজগারি এবং জ্ঞান ব্যতীত আল্লাহ সম্পর্কে কোনো কথা বলার ব্যাপারে তাঁর ভীতি। এটি তাঁর তাফসিরে 'আল্লাহই ভালো জানেন' বাক্যটির অত্যধিক পুনরাবৃত্তি থেকে স্পষ্ট হয়, যা অন্য কোনো গ্রন্থে সচরাচর দেখা যায় না। পুরো গ্রন্থে এটি প্রায় এক হাজার বার, সুনির্দিষ্টভাবে ৮২৪ বার এসেছে। এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যটি বর্তমান সময়ের মুসলমানদের মধ্যে গড়ে তোলা প্রয়োজন, বিশেষ করে এই যুগে যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ফতোয়া প্রদানে দুঃসাহস এবং জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলা। দ্বীনের বিষয়ে কথা বলা এখন আল্লাহর ভয় ও শঙ্কা ছাড়াই প্রত্যেকের জন্য উন্মুক্ত চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো সামর্থ্য বা শক্তি নেই।

দ্বিতীয়ত: সহিহ হাদিসের প্রতি হাফেজ ইবনে কাসিরের সম্মান প্রদর্শন, সে অনুযায়ী আমল করা এবং তার নির্দেশিত বিষয়ের ওপর আকিদা পোষণ করা। তাফসিরে উল্লেখিত হাদিসগুলোর হুকুম বর্ণনার ব্যাপারে তাঁর গভীর আগ্রহের মাধ্যমে এটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এর কিছু উদাহরণ হলো:

১ - আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআনের সামান্য কিছু আয়াত ব্যতীত অন্য কিছুর তাফসির করতেন না, যা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁকে শিখিয়েছিলেন। ...

ইমাম আবু জাফর এই হাদিসের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে সারমর্ম হিসেবে বলেছেন যে, এই আয়াতগুলো এমন যা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্দেশনা ব্যতীত জানা সম্ভব নয়, যা জিবরাঈল তাঁকে অবগত করেছিলেন। আর হাদিসটি যদি সহিহ হতো, তবে এটি একটি সঠিক ব্যাখ্যা হতো। গ্রন্থের ৩ নম্বর হাদিসটি দেখুন।

* লক্ষ্য করুন যে, হাফেজ ইবনে কাসির তাফসির কবুল করাকে হাদিসের বিশুদ্ধতার ওপর ঝুলিয়ে রেখেছেন, তাই তিনি বলেছেন: "আর হাদিসটি যদি সহিহ হতো, তবে এটি একটি সঠিক ব্যাখ্যা হতো।"

২ - এ বিষয়ে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে—যদি তা প্রমাণিত হতো তবে আমরা তা সানন্দে গ্রহণ করতাম, কিন্তু এর সনদ সহিহ নয়—

ইবনে জারীর বলেছেন: ... আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে একটি হাদিসে তিনি উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ১৩)
قال: هو (أي الذبيح) إسحاق. (1) (الصافات: 107) انظر حديث رقم (687).

‌‌3 - عن موسى بنُ عُلَيِّ بن رَبَاح، حدثني أبي، عن جدي: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال له: "ما ولد لك؟ " قال: يا رسول الله، ما عسى أن يُولَد لي؟ إما غلام وإما جارية. قال: "فمن يشبه؟ ". قال: يا رسول الله، من عسى أن يشبه؟ إما أباه وإما أمه. فقال النبي صلى الله عليه وسلم عندها: "مه. لا تقولَنَّ هكذا، إن النطفة إذا استقرت في الرحم أحضرها الله كل نسب بينها وبين آدم؟ أما قرأت هذه الآية في كتاب الله: {فِي أَيِّ صُورَةٍ مَا شَاءَ رَكَّبَكَ} " قال: سَلَكك.

وهكذا رواه ابن أبي حاتم والطبراني، من حديث مُطهر بن الهيثم، به وهذا الحديث لو صح لكان فيصلا في هذه الآية، ولكن إسناده ليس بالثابت … (الانفطار: 8) انظر حديث رقم (855).

الثالثة: احترام ابن كثير لشيوخه واستفادته العظيمة منهم سواء من: دروسهم، أو من كتبهم، أو عرض ما يحتاجه عليهم وأخذ مشورتهم في ذلك، وقد اتضح ذلك من خلال شيوخه العظام كالحافظ أبي الحجاج المزي والعلامة شيخ الإسلام ابن تيمية والحافظ أبي عبد الله الذهبي.

وقد تتبعت عدد مرات ذكره لشيوخه الثلاثة في التفسير بلغت ثلاثين مرة تقريبا، تجد توقيره الشديد لهم وتسميتهم بشيخنا، والحافظ، والعلامة … وقد ظهر جليا أثر هؤلاء الثلاثة في التوجه العلمي لابن كثير في نقد الأخبار وتمحيصها، والأخذ في العقيدة بمذهب السلف وبخاصة ما يتعلق بآيات الأسماء والصفات.

انظر الأحاديث رقم (646، 658، 682، 879) من هذا الكتاب.

ونحن نحتاج إلى مثل هذا الآداب مع علمائنا في زمننا الحاضر أكثر مما مضى، مع الحرص على الاستفادة من علمهم، وتوقيرهم، والرجوع إليهم فيما يشكل علينا؛ فالحاجة إليهم أكثر من حاجتنا للطعام والشراب.

--------------------------------------------

(1) قال الألباني في السلسلة الضعيفةح (332): (… وبالجملة فطرق هذا الحديث كلها ضعيفة ليس فيها ما يصلح أن يحتج به، وبعضها أشد ضعفاً من بعض، والغالب أنها إسرائيليات رواها بعض الصحابة ترخصاً أخطأ في رفعها بعض الضعفاء …).
তিনি বললেন: তিনি (অর্থাৎ যবেহকৃত ব্যক্তি) হলেন ইসহাক। (১) (আস-সাফফাত: ১০৭) হাদিস নম্বর (৬৮৭) দেখুন।

‌‌৩ - মুসা ইবনে আলিউ ইবনে রাবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "তোমার কী সন্তান জন্মেছে?" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার কী-ই বা জন্মাবে? হয় পুত্র অথবা কন্যা। তিনি বললেন: "সে কার সদৃশ হয়েছে?" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, সে আর কার সদৃশ হবে? হয় তার পিতার মতো অথবা তার মাতার মতো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "থামো। এমন বলো না। নিশ্চয়ই বীর্য যখন জরায়ুতে স্থিত হয়, তখন আল্লাহ তার এবং আদমের মধ্যবর্তী সকল বংশধারাকে সেখানে উপস্থিত করেন। তুমি কি আল্লাহর কিতাবের এই আয়াতটি পাঠ করোনি: {যে আকৃতিতে চেয়েছেন, তিনি তোমাকে গঠন করেছেন}?" তিনি বললেন: তিনি তোমাকে সুবিন্যস্ত করেছেন।

ইবনে আবি হাতিম এবং তাবারানি মুতাহার বিন আল-হাইসামের হাদিস থেকে এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন। এই হাদিসটি যদি সহিহ হতো, তবে এই আয়াতের ক্ষেত্রে এটি চূড়ান্ত ফয়সালা হতো, কিন্তু এর সনদ বা সূত্রটি সুসাব্যস্ত নয়... (আল-ইনফিতার: ৮) হাদিস নম্বর (৮৫৫) দেখুন।

তৃতীয়ত: ইবনে কাসীরের তাঁর শিক্ষকদের প্রতি সম্মান এবং তাঁদের থেকে তাঁর মহান উপকারিতা অর্জন; চাই তা তাঁদের পাঠদান থেকে হোক, বা তাঁদের কিতাবসমূহ থেকে, অথবা তাঁর প্রয়োজনীয় বিষয়াদি তাঁদের নিকট উপস্থাপন ও এ বিষয়ে তাঁদের পরামর্শ গ্রহণ করার মাধ্যমে হোক। এটি তাঁর মহান শিক্ষকদের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, যেমন হাফেজ আবুল হাজ্জাজ আল-মিজ্জি, আল্লামা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আদ-দাহাবি।

আমি তাফসিরে তাঁর এই তিন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করার সংখ্যা অনুসন্ধান করেছি, যা প্রায় ত্রিশ বারের মতো। আপনি তাঁদের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা লক্ষ্য করবেন এবং তিনি তাঁদেরকে 'আমাদের শায়খ', 'আল-হাফেজ' ও 'আল-আল্লামা' নামে সম্বোধন করেছেন... সংবাদ সমালোচনা ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এবং বিশেষ করে আসমা ওয়া সিফাত (নাম ও গুণাবলী) সংক্রান্ত আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে সালাফদের মাযহাব অনুযায়ী আকিদা গ্রহণের ক্ষেত্রে ইবনে কাসীরের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর এই তিনজনের প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

এই বইয়ের (৬৪৬, ৬৫৮, ৬৮২, ৮৭৯) নম্বর হাদিসগুলো দেখুন।

বর্তমানে আমাদের আলেমদের সাথে আমাদের এই ধরণের শিষ্টাচারের প্রয়োজনীয়তা অতীতের চেয়ে অনেক বেশি। তাঁদের জ্ঞান থেকে উপকৃত হওয়ার প্রতি আগ্রহী হওয়া, তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং আমাদের নিকট যা অস্পষ্ট মনে হয় সে বিষয়ে তাঁদের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক। কেননা খাবারের চাহিদার চেয়েও তাঁদের প্রতি আমাদের মুখাপেক্ষিতা অনেক বেশি।

--------------------------------------------

(১) আলবানী 'সিলসিলাতুদ দয়িফাহ' (৩৩২)-তে বলেছেন: (... সারকথা হলো, এই হাদিসের সকল সূত্রই দুর্বল, এর মধ্যে এমন কিছু নেই যা দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্য। এর কিছু অংশ অন্য অংশের চেয়েও অধিক দুর্বল। সম্ভবত এগুলো ইসরাঈলি বর্ণনা যা কিছু সাহাবী বর্ণনা করেছেন এবং বর্ণনার অনুমতির সুযোগ নিয়ে কিছু দুর্বল বর্ণনাকারী তা রাসূলের (সা.) নামে চালিয়ে দেওয়ার ভুল করেছেন...)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ১৪)
الرابعة: استقلال الحافظ ابن كثير في نقده للأحاديث ويتضح ذلك من تعقباته الكثيرة لمن سبقه، وبيان وجهة نظره بتجرد مع احترامه الشديد للعلماء والأئمة في هذا المجال مع الدعاء لهم بالرحمة، ومن الأمثلة على ذلك:

تعقب القاضي عياض، انظر الحديث رقم (386).

تعقب الترمذي، انظر الأحاديث رقم (399، 879).

تعقب ابن جرير الطبري والحاكم، انظر الأحاديث رقم (29، 406، 502، 666).

تعقب أبي زرعة الرازي، انظر الحديث رقم (527).

تعقب أبي بكر بن شيبة، انظر الحديث رقم (617).

تعقب ابن حزم، انظر الحديث رقم (724).

تعقب الإمام محمد بن نصر، انظر الحديث رقم (841).

وفي هذا تربية عملية على أدب الحوار، والخلاف مع الآخرين، والحرص على بيان الحق مع الحفاظ على مكانة المخالف وعدم إسقاطه وبقاء الود والمحبة وبخاصة إذا كان من أهل السنة والجماعة، وهذا الخلق نحن في أشد الحاجة إليه الآن وبخاصة مع تصاعد (ظاهرة) الجرح والتعديل للعلماء وطلبة العلم، وتصيد أخطائهم والتشهير بهم، بل والتحذير منهم بدعوى النصيحة!

الخامسة: حرص الحافظ ابن كثير على بيان ضعف الحديث، وذكر السبب الذي من أجله حكم عليه بالضعف، سواء كان ذلك في السند أو في المتن، وترى ذلك واضحاً بقراءة مئات الأمثلة من هذا الكتاب.

* أحياناً يفصل تفصيلاً جميلاً بغير تطويل، ومن الأمثلة على ذلك الأحاديث رقم (353، 390).

* أحياناً ينقد المتن ويرده لمخالفته للقرآن، أوالأحاديث الصحيحة، أوالتاريخ ومن الأمثلة على ذلك الأحاديث رقم (411، 506، 507، 512، 517، 686، 729، 737، 879).
চতুর্থ: হাদিস সমালোচনায় হাফেজ ইবনে কাসিরের স্বতন্ত্র অবস্থান। এটি তার পূর্বসূরিদের ওপর তাঁর অসংখ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, যেখানে তিনি অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে এবং এই ক্ষেত্রের আলেম ও ইমামদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শনপূর্বক তাদের জন্য রহমতের দোয়া করে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। এর কিছু উদাহরণ হলো:

কাজী আয়াজের পর্যালোচনা, দেখুন হাদিস নং (৩৮৬)।

তিরমিযীর পর্যালোচনা, দেখুন হাদিস নং (৩৯৯, ৮৭৯)।

ইবনে জারীর তাবারী ও হাকিমের পর্যালোচনা, দেখুন হাদিস নং (২৯, ৪০৬, ৫০২, ৬৬৬)।

আবু জুরআ আল-রাযীর পর্যালোচনা, দেখুন হাদিস নং (৫২৭)।

আবু বকর ইবনে শাইবার পর্যালোচনা, দেখুন হাদিস নং (৬১৭)।

ইবনে হাজমের পর্যালোচনা, দেখুন হাদিস নং (৭২৪)।

ইমাম মুহাম্মদ ইবনে নাসরের পর্যালোচনা, দেখুন হাদিস নং (৮৪১)।

এর মধ্যে রয়েছে সংলাপ ও অন্যের সাথে মতবিরোধের শিষ্টাচারের একটি ব্যবহারিক শিক্ষা এবং প্রতিপক্ষের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না করে ও পারস্পরিক ভালোবাসা বজায় রেখে সত্য প্রকাশে সচেষ্ট থাকা, বিশেষ করে যদি তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত হন। এই উন্নত চরিত্রের প্রয়োজন বর্তমানে আমাদের সবচেয়ে বেশি, বিশেষ করে যখন আলেম ও তলেবে ইলমদের বিরুদ্ধে 'জারহ ওয়া তাদীল' (সমালোচনা ও যাচাই)-এর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তাদের ভুল অনুসন্ধান করা হচ্ছে, তাদের নামে অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে, এমনকি উপদেশের দোহাই দিয়ে তাদের থেকে সতর্কও করা হচ্ছে!

পঞ্চম: হাদিসের দুর্বলতা বর্ণনায় এবং যে কারণে হাদিসটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে—চাই তা সনদে হোক বা মতনে—তা উল্লেখ করার ব্যাপারে হাফেজ ইবনে কাসিরের ঐকান্তিক আগ্রহ। এই গ্রন্থের শত শত উদাহরণ পাঠ করলে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

* কখনও কখনও তিনি দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই চমৎকারভাবে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এর উদাহরণ হলো হাদিস নং (৩৫৩, ৩৯০)।

* কখনও কখনও তিনি হাদিসের মতন (মূল পাঠ) সমালোচনা করেন এবং কুরআন, সহীহ হাদিস অথবা ইতিহাসের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে তা প্রত্যাখ্যান করেন। এর উদাহরণ হলো হাদিস নং (৪১১, ৫০৬, ৫০৭, ৫১২, ৫১৭, ৬৮৬, ৭২৯, ৭৩৭, ৮৭৯)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ১৫)
* تتضح معرفته بالرجال وأحوالهم وما يستحقونه من الجرح والتعديل كما ترى ذلك واضحاً في هذا الكتاب، ومن الأمثلة على ذلك:

‌‌1 - محمد بن السائب الكلبي متروك الحديث. انظرالحديث رقم (4)

‌‌2 - أبو معشر هو نَجِيح بن عبد الرحمن المدني إمام [في] المغازي، والسير، ولكن فيه ضعف. انظر الحديث رقم (74)

‌‌3 - لا يصح هذا الحديث لحال عُمر بن عبد الله هذا فإنه مجمع على ضعفه، وذكروا أنه كان يشرب الخمر. وقال الدارقطني: متروك. انظر الحديث رقم (319)

‌‌4 - تفرد بهذا السياق عبد الغفار بن القاسم أبو مريم، وهو متروك كذاب شيعي، اتهمه علي بن المديني وغيره بوضع الحديث، وضعّفه الأئمة رحمهم الله. انظر الحديث رقم (614).

وبين الحافظ ابن كثير موقفه من الإسرائيليات وروايتها في مقدمة تفسيره، وتتبع الضعيف منها ونبه عليه بصورة تجعله من الرواد في هذا المجال كما شهد بذلك العلامة محمد أبو شهبة حيث يقول (1):

(ومن خصائص هذا التفسير العظيم: أنه يعتبر نسيج وحده في التنبيه على الإسرائيليات والموضوعات في التفسير، تارة يذكرها، ويعقب عليها، وتارة لا يذكرها بل يشير إليها، ويبين رأيها فيها، … وكل من جاء بعد ابن كثير من المفسرين، ممن تنبه إلى الإسرائيليات والموضوعات، وحذر منها، هم عالة عليه في هذا، ومدينون له فيها بهذا الفضل: كالإمام الألوسي، والأستاذ محمد عبده، والسيد محمد رشيد رضا - رحمهم الله تعالى -، ولهذا الكتاب فضل كبير علي في تنبيهي إلى الإسرائيليات والموضوعات في كتب التفسير وهو معتمدي، ومرجعي الأول في هذا الباب، وللإمام ابن كثير حاسية دقيقة، وملكة راسخة في نقد المرويات والتنبيه إلى منشئها ومصدرها، وكيف تدسست إلى الرواية الإسلامية، وقد تعقب ابن جرير - على جلالته وتقدمه - في بعض الإسرائيليات والموضوعات التي ذكرها في تفسيره …).

--------------------------------------------

(1) الإسرائيليات والموضوعات في كتب التفسير ص (129) طبعة دار الجيل، بيروت، 1425هـ.
রাবি এবং তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে এবং কে জারহ (সমালোচনা) ও তাদিল (প্রশংসা) পাওয়ার যোগ্য তা নিয়ে তাঁর জ্ঞান এই কিতাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যার কিছু উদাহরণ হলো:

‌‌১ - মুহাম্মদ বিন সাইব আল-কালবি মাতরুকুল হাদিস (পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী)। দেখুন হাদিস নম্বর (৪)

‌‌২ - আবু মাশার হলেন নাজিহ বিন আব্দুর রহমান আল-মাদানি, তিনি মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) এবং সিরাত শাস্ত্রে একজন ইমাম, কিন্তু তাঁর মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। দেখুন হাদিস নম্বর (৭৪)

‌‌৩ - এই উমর বিন আব্দুল্লাহর অবস্থার কারণে হাদিসটি সহিহ নয়; কারণ তাঁর দুর্বলতার ব্যাপারে ঐক্যমত রয়েছে এবং তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে তিনি মদ্যপান করতেন। আর আদ-দারাকুতনি বলেছেন: মাতরুক (পরিত্যক্ত)। দেখুন হাদিস নম্বর (৩১৯)

‌‌৪ - এই বর্ণনায় আব্দুল গাফফার বিন আল-কাসিম আবু মারিয়াম একক হয়ে গেছেন, তিনি একজন মাতরুক, চরম মিথ্যাবাদী এবং শিয়া। আলী ইবনুল মাদিনি এবং অন্যান্যরা তাঁর ওপর হাদিস জাল করার অভিযোগ এনেছেন এবং ইমামগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) তাঁকে দুর্বল বলেছেন। দেখুন হাদিস নম্বর (৬১৪)।

হাফিজ ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরের মুকাদ্দামায় (উপক্রমণিকা) ইসরাইলি বর্ণনা এবং সেগুলোর বর্ণনার ব্যাপারে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি এগুলোর মধ্য থেকে দুর্বল বর্ণনাগুলো খুঁজে বের করেছেন এবং সেগুলোর ব্যাপারে এমনভাবে সতর্ক করেছেন যা তাঁকে এই ক্ষেত্রে অন্যতম অগ্রগামী ব্যক্তিতে পরিণত করেছে, যেমনটি আল্লামা মুহাম্মদ আবু শাহবাহ সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন (১):

(এই মহান তাফসিরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: এটি তাফসিরের ক্ষেত্রে ইসরাইলি বর্ণনা এবং জাল বর্ণনাসমূহের ব্যাপারে সতর্ক করার ক্ষেত্রে এক অনন্য কিতাব হিসেবে গণ্য হয়। কখনও তিনি সেগুলো উল্লেখ করেন এবং তার ওপর মন্তব্য করেন, আবার কখনও উল্লেখ না করে কেবল সেদিকে ইঙ্গিত করেন এবং সেই বিষয়ে নিজের মতামত স্পষ্ট করেন, … ইবনে কাসিরের পরে যে সকল মুফাসসির ইসরাইলি ও জাল বর্ণনার ব্যাপারে সচেতন হয়েছেন এবং সেগুলো থেকে সতর্ক করেছেন, তাঁরা সকলেই এই ক্ষেত্রে তাঁর কাছে ঋণী এবং এই অনুগ্রহের জন্য তাঁর মুখাপেক্ষী: যেমন ইমাম আলূসী, উস্তাদ মুহাম্মদ আবদুহু এবং সাইয়্যিদ মুহাম্মদ রশিদ রিদা - আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন -। তাফসিরের কিতাবগুলোতে ইসরাইলি ও জাল বর্ণনার ব্যাপারে আমাকে সচেতন করার ক্ষেত্রে এই কিতাবের অনেক বড় অবদান রয়েছে এবং এই বিষয়ে এটিই আমার প্রধান নির্ভরতা ও প্রথম রেফারেন্স। বর্ণনাগুলো যাচাই-বাছাই করা এবং সেগুলোর উৎস ও মূল কোথায় এবং কীভাবে সেগুলো ইসলামি বর্ণনায় প্রবেশ করেছে তা শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ইমাম ইবনে কাসিরের এক সূক্ষ্ম অনুভূতি ও সুদৃঢ় পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি ইবনে জারিরকে - তাঁর মর্যাদা ও অগ্রগামিতা সত্ত্বেও - তাঁর তাফসিরে উল্লিখিত কিছু ইসরাইলি ও জাল বর্ণনার ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন …)।

--------------------------------------------

(১) আল-ইসরাইলিয়াত ওয়াল মাওদুয়াত ফি কুতুবিত তাফসির, পৃষ্ঠা (১২৯), দারুল জিল প্রকাশনী, বৈরুত, ১৪২৫ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ১৬)
انظر بعض الأمثلة من هذا الكتاب:

الأحاديث رقم (11، 385، 527، 544، 692،693، 694).

السادسة: ترك الحافظ ابن كثير لقلمه العنان - أحياناً - فيخرج بعض التحف العلمية التي لا تكاد تجدها في مكان آخر، حيث يجمع الأحاديث الواردة في الموضوع الواحد، ويبين درجة كل حديث بما يناسبه، ومن الأمثلة على ذلك:

- ما فعل في تفسير سورة البقرة الآية (223).

- ما فعل في أول سورة الإسراء في أحاديث الإسراء والمعراج (1).

- في تفسير قوله تعالى: (وما كنا معذبين حتى نبعث رسولا) سورة الإسراء الآية (15).

- في تفسير سورة الأنبياء الآية (104).

- في تفسير سورة الأحزاب الآية (56).

السابعة: حرص الحافظ ابن كثير على الدقة في بيان الألفاظ، ومدى صحتها، وموافقتها للنص الوارد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

انظر لهذا المثال في تفسير الآية (15) من سورة الإسراء حيث يقول:

(إلى غير ذلك من الآيات الدالة على أن الله تعالى لا يدخل أحدًا النار إلا بعد إرسال الرسول إليه، ومن ثم طعن جماعة من العلماء في اللفظة التي جاءت مقحمة في صحيح البخاري عند قوله تعالى: {إِنَّ رَحْمَةَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِنَ الْمُحْسِنِينَ} [الأعراف: 56].

حدثنا عبيد الله بن سعد، حدثنا يعقوب، حدثنا أبي، عن صالح بن كَيْسَان، عن الأعرج بإسناده إلى أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "اختصمت الجنة والنار" فذكر الحديث إلى أن قال: "وأما الجنة فلا يظلم الله من خلقه أحدًا، وأنه ينشئ للنار خلقًا فيلقون فيها، فتقول: هل من مزيد؟ ثلاثا، وذكر تمام الحديث.

--------------------------------------------

(1) قد أفردها الشيخ إسماعيل الأنصاري رحمه الله في رسالة مستقلة وعلق عليها.
এই গ্রন্থ থেকে কিছু উদাহরণ দেখুন:

হাদিস নম্বরসমূহ (১১, ৩৮৫, ৫২৭, ৫৪৪, ৬৯২, ৬৯৩, ৬৯৪)।

ষষ্ঠত: হাফেজ ইবনে কাসির মাঝে মাঝে তার কলমকে অবাধে চলতে দিয়েছেন—যার ফলে তিনি এমন কিছু ইলমি মণি-মুক্তা উপহার দিয়েছেন যা অন্য কোথাও পাওয়া প্রায় দুষ্কর। সেখানে তিনি একটি বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলো একত্রিত করেছেন এবং প্রতিটি হাদিসের মান উপযুক্তভাবে বর্ণনা করেছেন। এর কিছু উদাহরণ হলো:

- সূরা আল-বাকারার ২২৩ নম্বর আয়াতের তাফসিরে তিনি যা করেছেন।

- সূরা আল-ইসরা-এর শুরুতে ইসরা ও মিরাজ সংক্রান্ত হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে তিনি যা করেছেন (১)।

- মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমি রাসুল না পাঠানো পর্যন্ত কাউকে শাস্তি প্রদান করি না" (সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ১৫)-এর তাফসিরে।

- সূরা আল-আম্বিয়ার ১০৪ নম্বর আয়াতের তাফসিরে।

- সূরা আল-আহযাবের ৫৬ নম্বর আয়াতের তাফসিরে।

সপ্তমত: হাফেজ ইবনে কাসির শব্দাবলির সূক্ষ্ম বর্ণনা, তাদের বিশুদ্ধতা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত মূল ভাষ্যের সাথে তাদের সংগতির ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন।

সূরা আল-ইসরা-এর ১৫ নম্বর আয়াতের তাফসিরে এই উদাহরণটি দেখুন যেখানে তিনি বলেন:

(এ ছাড়া অন্যান্য আয়াতসমূহ যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাআলা কোনো রাসুল না পাঠিয়ে কাউকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন না। আর এই কারণেই একদল আলেম সহিহ বুখারিতে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী} [সূরা আল-আরাফ: ৫৬]-এর অধীনে অপ্রাসঙ্গিকভাবে প্রবিষ্ট একটি শব্দের ব্যাপারে আপত্তি তুলেছেন।

ওবায়দুল্লাহ ইবনে সাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা সালেহ ইবনে কায়সান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আরাজ থেকে তাঁর সনদে আবু হুরায়রা সূত্রে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "জান্নাত এবং জাহান্নাম পরস্পর বিতর্ক করল।" অতঃপর তিনি হাদিসটি বর্ণনা করে শেষ পর্যন্ত বলেন: "আর জান্নাতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কাউকেও জুলুম করবেন না, কিন্তু তিনি জাহান্নামের জন্য নতুন এক সৃষ্টি তৈরি করবেন যাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে, তখন জাহান্নাম বলবে: আরো কি কিছু আছে? তিনি এভাবে তিনবার বললেন এবং পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করলেন।

--------------------------------------------

(১) শেখ ইসমাইল আল-আনসারি (রাহিমাহুল্লাহ) এটিকে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকায় পৃথক করেছেন এবং এর ওপর টীকা প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ১৭)
فإن هذا إنما جاء في الجنة لأنها دار فضل، وأما النار فإنها دار عدل، لا يدخلها أحد إلا بعد الإعذار إليه وقيام الحجة عليه.

وقد تكلم جماعة من الحفاظ في هذه اللفظة وقالوا: لعله انقلب على الراوي بدليل ما أخرجاه في الصحيحين واللفظ للبخاري من حديث عبد الرزاق عن مَعْمَر، عن همام، عن أبي هريرة قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "تحاجت الجنة والنار" فذكر الحديث إلى أن قال: "فأما النار فلا تمتلئ حتى يضع فيها قدمه، فتقول: قط، قط، فهنالك تمتلئ ويزوي بعضها إلى بعض، ولا يظلم الله من خلقه أحدًا، وأما الجنة فينشئ الله لها خلقًا".

انظر إلى الأحاديث رقم (375،411، 489، 713).

الثامنة: ذكر الحافظ ابن كثير بعض الفوائد الحديثية التي تدل على تمرسه وتمكنه في هذا العلم، ومنها هذا المثال من حديث رقم (531):

- قول الإمام أحمد: حدثنا سفيان، عن الزهري، عن عروة، عن [زينب بنت أبي سلمة، عن حبيبة بنت أم حبيبة بنت أبي سفيان، عن أمها أم حبيبة، عن] زينب بنت جحش زوج النبي صلى الله عليه وسلم قال سفيان: أربع نسوة - قالت: استيقظ النبي صلى الله عليه وسلم من نومه. وهو محمر وجهه، وهو يقول: "لا إله إلا الله! ويل للعرب من شر قد اقترب! فتح اليوم من ردم يأجوج ومأجوج مثل هذا". وحَلَّق. قلت: يا رسول الله، أنهلك وفينا الصالحون؟ قال: "نعم إذا كثر الخبث".

هذا حديث صحيح، اتفق البخاري ومسلم على إخراجه، من حديث الزهري، ولكن سقط في رواية البخاري ذكر حبيبة، وأثبتها مسلم.

* وفيه أشياء عزيزة نادرة، قليلة الوقوع في صناعة الإسناد:

- منها رواية الزهري عن عروة، وهما تابعيان.

- ومنها اجتماع أربع نسوة في سنده، كلهن يروي بعضهن عن بعض.

- ثم كل منهن صحابية.

- ثم ثنتان ربيبتان.

- وثنتان زوجتان، رضي الله عنهن. (الكهف: 97)
নিশ্চয়ই জান্নাতের ব্যাপারে এটি এসেছে কারণ তা অনুগ্রহের ঘর, আর জাহান্নাম হলো ইনসাফের ঘর; সেখানে কাউকে ততক্ষণ প্রবেশ করানো হবে না যতক্ষণ না তার ওজর পেশ করার সুযোগ শেষ হয় এবং তার বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

একদল হাফিজ (হাদিস বিশারদ) এই শব্দটির ব্যাপারে আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: সম্ভবত বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে এখানে ওলটপালট হয়েছে, যার প্রমাণ হলো সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) এ যা বর্ণিত হয়েছে। বুখারি থেকে বর্ণিত শব্দ অনুযায়ী—আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জান্নাত ও জাহান্নাম বিতর্কে লিপ্ত হলো।" এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করলেন যতক্ষণ না বললেন: "তবে জাহান্নাম ততক্ষণ পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না আল্লাহ তাতে তাঁর পা রাখেন, তখন সেটি বলবে: যথেষ্ট, যথেষ্ট। তখন তা পূর্ণ হয়ে যাবে এবং এর এক অংশ অপর অংশের সাথে কুঁকড়ে যাবে। আর আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কারো প্রতি জুলুম করেন না। পক্ষান্তরে জান্নাতের জন্য আল্লাহ নতুন সৃষ্টি তৈরি করবেন।"

৩৭৫, ৪১১, ৪৮৯, ৭১৩ নং হাদিসগুলো দেখুন।

অষ্টম: হাফিজ ইবনে কাসির এমন কিছু হাদিস বিষয়ক উপকারিতা উল্লেখ করেছেন যা এই শাস্ত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা ও পারদর্শিতার প্রমাণ দেয়, তার মধ্যে ৫৩১ নং হাদিসের এই উদাহরণটি অন্যতম:

- ইমাম আহমদের উক্তি: সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি [জয়নব বিনতে আবি সালামা থেকে, তিনি হাবিবা বিনতে উম্মে হাবিবা বিনতে আবি সুফিয়ান থেকে, তিনি তাঁর মা উম্মে হাবিবা থেকে, তিনি] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী জয়নব বিনতে জাহশ থেকে বর্ণনা করেন। সুফিয়ান বলেন: চারজন নারী—তিনি (জয়নব) বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। তাঁর চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি বলছিলেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই! ধ্বংস আরবদের জন্য সেই অনিষ্টের কারণে যা নিকটে এসে গেছে! আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর থেকে এই পরিমাণ উন্মুক্ত হয়েছে।" আর তিনি আঙুল দিয়ে বৃত্ত তৈরি করলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে নেককার লোক থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যখন পাপাচার বেড়ে যাবে।"

এটি একটি সহীহ হাদিস, বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনার ব্যাপারে একমত হয়েছেন যুহরির হাদিস থেকে, তবে বুখারির বর্ণনায় হাবিবার নাম বাদ পড়েছে, আর মুসলিম তা উল্লেখ করেছেন।

* এতে সনদের শৈল্পিক বিন্যাসে কিছু দুর্লভ ও বিরল বিষয় রয়েছে যা সচরাচর ঘটে না:

- তার মধ্যে একটি হলো উরওয়াহ থেকে যুহরির বর্ণনা, অথচ তাঁরা উভয়েই তাবেয়ি।

- আরেকটি হলো এর সনদে চারজন নারীর একত্র হওয়া, যাদের প্রত্যেকেই একে অপরের থেকে বর্ণনা করেছেন।

- এরপর তাদের প্রত্যেকেই সাহাবীয়া।

- এরপর দুজন হলেন পালিত কন্যা।

- আর দুজন হলেন স্ত্রী, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন। (আল-কাহফ: ৯৭)
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ১৮)
* ومن الفوائد أيضا ما ذكره في تفسير الآية (172) من الأعراف:

(قلت: الظاهر أن الإمام مالكاً إنما أسقط ذكر "نعيم بن ربيعة" عمدًا؛ لما جهل حاله ولم يعرفه، فإنه غير معروف إلا في هذا الحديث، وكذلك يسقط ذكر جماعة ممن لا يرتضيهم؛ ولهذا يرسل كثيرًا من المرفوعات، ويقطع كثيرًا من الموصولات، والله أعلم).

وقد علق العلامة الألباني في السلسلة الضعيفة حديث رقم (3071) قائلا:

(قلت: وهذه فائدة عزيزة هامة من قبل هذا الحافظ النحرير. فعض عليها بالنواجذ).

التاسعة: يرى الحافظ ابن كثير أن الحديث الضعيف يقوى بكثرة الطرق، ولكن ذلك ليس على إطلاقه بل بحسب كل حديث؛ ولذا تجد الحافظ ابن كثير يرد الحديث الضعيف ولو كثرت طرقه.

من الأمثلة على ذلك:

* عن أبي عثمان الفقير؛ أن جبريل علم النبي صلى الله عليه وسلم إذا قام من مجلسه أن يقول: سبحانك اللهم وبحمدك، أشهد أن لا إله إلا أنت، أستغفرك وأتوب إليك. قال معمر: وسمعت غيره يقول: هذا القول كفارة المجالس. (1)

وهذا مرسل، وقد وردت أحاديث مسندة من طرق - يقوي بعضها بعضا - بذلك …

انظر الأحاديث رقم (649،757).

* عن ابن عباس قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "لو لم يقل - يعني: يوسف - الكلمة التي قال: ما لبث في السجن طول ما لبث. حيث يبتغي الفرج من عند غير الله".

وهذا الحديث ضعيف جدا؛ لأن سفيان بن وَكِيع ضعيف، وإبراهيم بن يزيد - هو الخُوزي - أضعف منه أيضا.

وقد رُوي عن الحسن وقتادة مرسلاً عن كل منهما، وهذه المرسَلات هاهنا لا تقبل لو قبل المرسل من حيث هو في غير هذا الموطن، والله أعلم. (يوسف: 42) انظر

--------------------------------------------

(1) المصنف برقم (19796).
* আল-আরাফ সূরার ১৭২ নম্বর আয়াতের তাফসীরে তিনি আরও যে সকল ফায়দা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে:

(আমি বলছি: বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, ইমাম মালিক ইচ্ছা করেই 'নুয়াইম ইবনে রাবিআ'র উল্লেখ বর্জন করেছেন; কারণ তিনি তার অবস্থা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং তাকে চিনতেন না। কেননা তিনি এই হাদীসটি ছাড়া অন্য কোথাও পরিচিত নন। অনুরূপভাবে তিনি এমন একদল লোকের উল্লেখও বর্জন করেন যাদেরকে তিনি পছন্দ করেন না; এই কারণেই তিনি অনেক মারফূ হাদীসকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেন এবং অনেক মুত্তাসিল হাদীসকে মুনকাতি করে ফেলেন। আল্লাহই ভালো জানেন)।

আল্লামা আলবানী 'সিলসিলাতুদ দাঈফাহ' গ্রন্থের ৩০৭১ নম্বর হাদীসের অধীনে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন:

(আমি বলছি: এই বিজ্ঞ হাফিজের পক্ষ থেকে এটি অত্যন্ত মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ফায়দা। সুতরাং একে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরুন)।

নবম বিষয়: হাফিজ ইবনে কাসীর মনে করেন যে, দুর্বল হাদীস তার সনদের আধিক্যের কারণে শক্তিশালী হয়, তবে এটি ঢালাওভাবে নয় বরং প্রতিটি হাদীসের অবস্থা ভেদে হয়; আর এ কারণেই আপনি দেখবেন হাফিজ ইবনে কাসীর দুর্বল হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করেন যদিও তার অনেকগুলো সনদ বিদ্যমান থাকে।

এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে:

* আবু উসমান আল-ফাকীর থেকে বর্ণিত; জিবরাঈল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শিখিয়েছিলেন যে, তিনি যখন কোনো মজলিস থেকে উঠবেন তখন যেন বলেন: হে আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে তওবা করছি। মা'মার বলেন: আমি অন্যকেও বলতে শুনেছি যে: এই দুয়াটি মজলিসের কাফফারা। (১)

এটি একটি মুরসাল হাদীস, তবে এই মর্মে অনেকগুলো মুসনাদ হাদীস বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে - যা একে অপরকে শক্তিশালী করে …

দেখুন হাদীস নম্বর (৬৪৯, ৭৫৭)।

* ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যদি তিনি - অর্থাৎ ইউসুফ - সেই কথাটি না বলতেন যা তিনি বলেছিলেন, তবে তিনি যতদিন (কারাগারে) ছিলেন তার চেয়ে দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করতেন না। যেহেতু তিনি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নিকট মুক্তি কামনা করেছিলেন।"

এই হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল; কারণ সুফিয়ান ইবনে ওয়াকী' দুর্বল, আর ইবরাহীম ইবনে ইয়াযীদ - সে আল-খুযী - তার চেয়েও বেশি দুর্বল।

এটি হাসান এবং কাতাদা থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, আর এখানকার এই মুরসাল বর্ণনাগুলো গ্রহণযোগ্য নয়, যদিও অন্য স্থানে সাধারণভাবে মুরসাল হাদীস গ্রহণ করা হয়ে থাকে, আল্লাহই ভালো জানেন। (ইউসুফ: ৪২) দেখুন

--------------------------------------------

(১) আল-মুসান্নাফ, হাদীস নম্বর (১৯৭৯৬)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ১৯)
الحديث رقم (459).

* قد ذكر كثير من المفسرين هاهنا قصة الغَرَانيق، وما كان من رجوع كثير من المهاجرة إلى أرض الحبشة، ظَنا منهم أن مشركي قريش قد أسلموا. ولكنها من طرق كلها مرسلة، ولم أرها مسندة من وجه صحيح، والله أعلم. انظر الحديث رقم (576).

العاشرة: تسامح الحافظ ابن كثير في ذكر الحديث الضعيف في الترغيب والترهيب مع بيان أنه ضعيف، ومن الأمثلة على ذلك: - عن أبي أمامة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "ما من مسلم ينظر إلى محاسن امرأة [أوّل مَرّة] ثم يَغُضّ بصره، إلا أخلف الله له عبادة يجد حلاوتها". (1)

ورُوي هذا مرفوعًا عن ابن عمر، وحذيفة، وعائشة، رضي الله عنهم ولكن في إسنادها ضعف، إلا أنها في الترغيب، ومثله يتسامح فيه.

وفي الطبراني من طريق عبيد الله بن زَحْر، عن علي بن يزيد، عن القاسم، عن أبي أمامة مرفوعا: "لَتغضُنَّ أبصاركم، ولتحفظن فروجكم، ولتقيمُنّ وجوهكم - أو: لتكسفن وجوهكم".

(النور: 30)

راجع هذه المسألة في كتاب (الحديث الضعيف وحكم الاحتجاج به) ص (245 - 316) لشيخنا الدكتور: عبدالكريم بن عبد الله الخضير - حفظه الله -، طبعة دار المنهاج بالرياض، الطبعة الأولى1425هـ.

هذه بعض الإشارات والوقفات مع الحافظ ابن كثير التي أحببت ذكرها بين يدي هذا الكتاب، نسأل الله أن ينفعنا بها، ونسأله التوفيق والسداد.

--------------------------------------------

(1) المسند (5/ 264). وفي إسناده عبيد الله بن زحر، قال ابن حبان: "يروي الموضوعات عن الأثبات وإذا روى عن علي بن يزيد أتى بالطامات، وإذا اجتمع في إسناد خبر عبيد الله بن زحر وعلي بن يزيد والقاسم أبو عبد الرحمن، لم يكن ذلك الخبر إلا مما عملته أيديهم".
হাদিস নম্বর (৪৫৯)।

* অনেক মুফাসসির এখানে গারানিকের (মূর্তিদের প্রশংসাসূচক কাল্পনিক বর্ণনা) ঘটনা এবং হিজরতকারীদের অনেকের আবিসিনিয়া (হাবশা) থেকে ফিরে আসার কথা উল্লেখ করেছেন, এই ভেবে যে কুরাইশ মুশরিকরা ইসলাম গ্রহণ করেছে। কিন্তু এর সব কটি বর্ণনাধারা মুরসাল, এবং আমি এটি কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হতে দেখিনি। আর আল্লাহই ভালো জানেন। হাদিস নম্বর (৫৭৬) দেখুন।

দশম: হাফেজ ইবনে কাসির নেক কাজের প্রতি উৎসাহ প্রদান (তারগিব) এবং পাপ কাজ থেকে ভীতি প্রদর্শন (তারহিব) সংক্রান্ত দুর্বল হাদিসগুলো সেগুলো যে দুর্বল তা স্পষ্ট করার সাথে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা দেখিয়েছেন। এর একটি উদাহরণ হলো: - আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে কোনো মুসলিম যদি কোনো মহিলার সৌন্দর্যের দিকে [প্রথমবার] তাকানোর পর তার দৃষ্টি অবনত করে নেয়, তবে আল্লাহ তাকে এমন এক ইবাদত দান করবেন যার মিষ্টতা সে অনুভব করবে।" (১)

এটি ইবনে উমর, হুজায়ফা এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর বর্ণনাধারায় দুর্বলতা রয়েছে। তবে এটি যেহেতু তারগিব সংক্রান্ত, তাই এ ধরনের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করা হয়।

এবং তাবারানিতে উবাইদুল্লাহ বিন যাহর-এর সূত্রে, আলী বিন ইয়াজিদ থেকে, কাসেম থেকে, আবু উমামা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের দৃষ্টি নিচু রাখবে, তোমাদের লজ্জাস্থান রক্ষা করবে এবং তোমাদের চেহারা সোজা রাখবে - অথবা: তোমাদের চেহারার তেজ উজ্জ্বল করবে।"

(আন-নূর: ৩০)

আমাদের শায়খ ডক্টর আব্দুল কারিম বিন আব্দুল্লাহ আল-খুদাইর -আল্লাহ তাকে হেফাযত করুন- এর 'আল-হাদিস আল-দাঈফ ওয়া হুকমু আল-ইহতিজাজ বিহি' (দুর্বল হাদিস এবং তা দ্বারা দলিল পেশ করার বিধান) বইটির (২৪৫ - ৩১৬) পৃষ্ঠায় এই বিষয়টি দেখুন। প্রকাশনায়: দারুল মিনহাজ, রিয়াদ, প্রথম সংস্করণ ১৪২৫ হিজরি।

হাফেজ ইবনে কাসিরের ব্যাপারে এগুলোই কিছু ইঙ্গিত এবং পর্যবেক্ষণ যা আমি এই কিতাবটি শুরু করার আগে উল্লেখ করতে চেয়েছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এর মাধ্যমে উপকৃত করেন এবং তাঁর কাছে তাওফিক ও সঠিক পথে চলার সাহায্য চাই।

--------------------------------------------

(১) আল-মুসনাদ (৫/ ২৬৪)। এর বর্ণনাধারায় উবাইদুল্লাহ বিন যাহর রয়েছেন, ইবনে হিব্বান বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে বানোয়াট বর্ণনা দেন, আর যখন তিনি আলী বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন তখন বড় বড় বিপর্যয় নিয়ে আসেন। আর যদি কোনো সংবাদের বর্ণনাসূত্রে উবাইদুল্লাহ বিন যাহর, আলী বিন ইয়াজিদ এবং কাসেম আবু আব্দুর রহমান একত্রে সমবেত হন, তবে সেই সংবাদটি তাদের স্বহস্তে উদ্ভাবিত বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।"
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ২০)
الأحاديث الضعيفة والموضوعة التي حكم عليه الحافظ ابن كثير في تفسيره
হাফেজ ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে যে সকল দুর্বল ও জাল হাদীসের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌مقدمة التفسير

‌‌1 - عن جُنْدب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "من قال في القرآن برأيه فقد أخطأ".

وقد روى هذا الحديث أبو داود، والترمذي، والنسائي من حديث سهيل بن أبي حزم القُطعي (1)، وقال الترمذي: غريب، وقد تكلم بعض أهل العلم في سهيل. وفي لفظ لهم: "من قال في كتاب الله برأيه، فأصاب، فقد أخطأ" أي: لأنه قد تكلف ما لا علم له به، وسلك غير ما أمر به، فلو أنه أصاب المعنى في نفس الأمر لكان قد أخطأ؛ لأنه لم يأت الأمر من بابه، كمن حكم بين الناس على جهل فهو في النار، وإن وافق حكمه الصواب في نفس الأمر، لكن يكون أخف جرمًا ممن أخطأ، والله أعلم. (المقدمة)

‌‌2 - عن إبراهيم التَّيْمِي؛ أن أبا بكر الصديق سئل عن قوله: {وَفَاكِهَةً وَأَبًّا} [عبس: 31]، فقال: أي سماء تظلني، وأي أرض تقلني؟ إذا أنا قلت في كتاب الله ما لا أعلم.

منقطع (2) (المقدمة)

‌‌3 - عن عائشة، قالت: ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يفسر شيئًا من القرآن إلا آيا تُعد، علمهن إيَّاه جبريل، عليه السلام.

--------------------------------------------

(1) قال المحدث أحمد شاكر رحمه الله في تحقيقه للطبري (1/ 79): (في المطبوعة "سهيل بن أبي حزم"، وهو نفسه "سهيل أخو حزم". وإنما قيل "سهيل أخو حزم" تعريفًا له بأخيه "حزم بن أبي حزم القطعي"، إذ كان أوثق منه وأشهر. و "سهيل" هذا قال البخاري في التاريخ الكبير: "ليس بالقوي عندهم"، وروى ابن أبي حاتم في الجرح والتعديل عن أبيه، قال: "سهيل بن أبي حزم: ليس بالقوي، يكتب حديثه ولا يحتج به، وحزم أخوه أتقن منه". وفي المطبوعة أيضًا "أبو عمران الجويني"، وهو خطأ، وأبو عمران هو: عبد الملك بن حبيب الأزدي البصري).وضعفه الألباني رحمه الله في ضعيف الجامع ح (5736).

‌‌(2) قال الحافظ ابن كثير أيضا في تفسير سورة عبس الآية: (31): (وهذا منقطع بين إبراهيم التيمي والصديق). وضعفه ابن تيمية في أصول التفسير (108)، وابن حجر في الفتح (13/ 271). انظر: تفسير ابن كثير تحقيق الحويني (1/ 126)، الإسرائيليات والموضوعات في كتب التفسير لأبي شهبة (77 - 81).
তাফসীরের ভূমিকা

১ - জুনদুব থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআনের ব্যাপারে নিজের মতানুসারে কথা বলে, সে ভুল করল।"

এই হাদীসটি আবু দাউদ, তিরমিযী এবং নাসাঈ সুহাইল ইবন আবি হাযম আল-কুতাঈ (১) এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন: এটি গারীব হাদীস, আর কিছু আলিম সুহাইলের ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন। তাদের একটি শব্দে এসেছে: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের ব্যাপারে নিজের মতানুসারে কথা বলে এবং সঠিক হয়, তবুও সে ভুল করল।" অর্থাৎ: কারণ সে এমন বিষয়ের দায়িত্ব নিয়েছে যার ব্যাপারে তার জ্ঞান নেই এবং সে এমন পথ অবলম্বন করেছে যা তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়নি। সুতরাং সে যদি বাস্তব ক্ষেত্রে সঠিক অর্থও প্রকাশ করে থাকে, তবুও সে ভুল করেছে; কারণ সে সঠিক দ্বার দিয়ে প্রবেশ করেনি। যেমন কোনো ব্যক্তি মানুষের মাঝে অজ্ঞতার সাথে ফয়সালা করে, তবে সে জাহান্নামী হবে, যদিও তার ফয়সালা বাস্তব ক্ষেত্রে সঠিক হয়ে থাকে, তবে সে ভুলকারীর তুলনায় কম অপরাধী হবে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। (ভূমিকা)

২ - ইবরাহীম আত-তাইমী থেকে বর্ণিত; আবু বকর আস-সিদ্দিককে তাঁর বাণী: {এবং ফলমূল ও গবাদি খাদ্য} [আবাসা: ৩১] সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেন: কোন আকাশ আমাকে ছায়া দেবে, আর কোন পৃথিবী আমাকে ধারণ করবে? যদি আমি আল্লাহর কিতাবের ব্যাপারে এমন কিছু বলি যা আমি জানি না।

মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন) (২) (ভূমিকা)

৩ - আয়েশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের অল্প কিছু আয়াত ছাড়া অন্য কোনো কিছুর তাফসীর করতেন না, যা জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁকে শিক্ষা দিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) মুহাদ্দিস আহমাদ শাকির রহিমাহুল্লাহ তাবারীর তাহকীকে (১/ ৭৯) বলেছেন: (মুদ্রিত কপিতে রয়েছে "সুহাইল ইবন আবি হাযম", আর তিনিই "সুহাইল আখু হাযম"। তাকে তার ভাই "হাযম ইবন আবি হাযম আল-কুতাঈ" এর সাথে সম্বন্ধ করে "সুহাইল আখু হাযম" বলা হতো, কারণ তার ভাই তার চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য এবং প্রসিদ্ধ ছিলেন। আর এই "সুহাইল" সম্পর্কে বুখারী 'আত-তারীখুল কাবীর'-এ বলেছেন: "তাদের নিকট তিনি শক্তিশালী নন", এবং ইবনে আবি হাতিম 'আল-জারহু ওয়াত-তাদীল'-এ তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "সুহাইল ইবন আবি হাযম: শক্তিশালী নন, তার হাদীস লেখা হবে তবে তা দ্বারা দলিল গ্রহণ করা যাবে না, এবং তার ভাই হাযম তার চেয়ে অধিক মজবুত বা দক্ষ"। মুদ্রিত কপিতে "আবু ইমরান আল-জুওয়াইনী"ও রয়েছে, যা ভুল; আবু ইমরান হলেন: আব্দুল মালিক ইবন হাবীব আল-আযদি আল-বাসরী)। এবং আলবানী রহিমাহুল্লাহ 'যঈফুল জামে' হাদীস নং (৫৭৩৬)-এ একে দুর্বল বলেছেন।

(২) হাফিয ইবনে কাসীরও সূরা আবাসার ৩১ নং আয়াতের তাফসীরে বলেছেন: (এটি ইবরাহীম আত-তাইমী এবং সিদ্দিকের মাঝে মুনকাতি বা বিচ্ছিন্ন)। ইবনে তাইমিয়্যাহ 'উসূলে তাফসীর' (১০৮) এবং ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী' (১৩/ ২৭১)-তে একে দুর্বল বলেছেন। দেখুন: ইবনে কাসীর তাফসীর, তাহকীক আল-হুওয়াইনী (১/ ১২৬), আবু শাহবাহ রচিত 'আল-ইসরাঈলিয়্যাত ওয়াল মাওদুয়াত ফী কুতুবিত তাফসীর' (৭৭-৮১)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ২২)
ثم رواه عن أبي بكر محمد بن يزيد الطرسوسي، عن مَعْن بن عيسى، عن جعفر بن خالد، عن هشام، به. فإنه حديث منكر غريب، وجعفر هذا هو ابن محمد بن خالد بن الزبير بن العوام القرشي الزبيري، قال البخاري: لا يتابع في حديثه، وقال الحافظ أبو الفتح الأزدي: منكر الحديث.

وتكلَّم عليه الإمام أبو جعفر بما حاصله أن هذه الآيات مما لا يعلم إلا بالتوقيف عن الله تعالى، مما وقفه عليها جبريل. وهذا تأويل صحيح لو صح الحديث. (المقدمة)

‌‌4 - قال ابن جرير: وقد روى نحوه في حديث في إسناده نظر:

عن عبد الله بن عباس: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "أنزل القرآن على أربعة أحرف: حلال وحرام، لا يعذر أحد بالجهالة به. وتفسير تفسره العرب، وتفسير تفسره العلماء. ومتشابه لا يعلمه إلا الله عز وجل، ومن ادعى علمه سوى الله فهو كاذب".

والنظر الذي أشار إليه في إسناده هو من جهة محمد بن السائب الكلبي؛ فإنه متروك الحديث؛ لكن قد يكون إنما وهم في رفعه. ولعله من كلام ابن عباس، كما تقدم، والله أعلم بالصواب. (1) (المقدمة)

--------------------------------------------

(1) قال المحدث أحمد شاكر في تحقيقه للطبري (1/ 76): (إنما قال الطبري: "فيه نظر"؛ لأن الذي رواه هو الكلبي عن أبي صالح عن ابن عباس. وقد رد الطبري آنفًا خبرًا روى بمثل هذا الإسناد فقال: إنه ليس من رواية من يجوز الاحتجاج بنقله. انظر ص (66)). ووافقه الحويني (1/ 134).
এরপর তিনি এটি বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আত-তারসুসি থেকে, তিনি মা’ন ইবনে ঈসা থেকে, তিনি জাফর ইবনে খালিদ থেকে, তিনি হিশাম থেকে, সেই সূত্রে। এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) ও গরিব (একক) হাদিস। আর এই জাফর হলেন মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ইবনে জুবায়ের ইবনুল আওয়াম আল-কুরাশি আজ-জুবাইরি। ইমাম বুখারি বলেছেন: তার হাদিসের অনুসরণ করা হয় না। হাফেজ আবুল ফাতহ আল-আজদি বলেছেন: সে মুনকারুল হাদিস (হাদিসের ক্ষেত্রে বর্জনীয়)।

ইমাম আবু জাফর এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন যার সারমর্ম হলো, এই আয়াতগুলো এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা (তাওকিফ) ব্যতীত জানা যায় না, যার উপর জিবরাঈল তাকে অবগত করেছেন। আর হাদিসটি যদি সহিহ হতো তবে এটি একটি সঠিক ব্যাখ্যা হতো। (ভূমিকা)

৪ - ইবনে জারির বলেছেন: এর অনুরুপ একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে যার সনদে সমস্যা রয়েছে:

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কুরআন চারটি বিষয়ের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে: হালাল ও হারাম—যা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার কোনো ওজর কারও কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এমন তাফসির যা আরবরা ব্যাখ্যা করে, এবং এমন তাফসির যা আলেমরা ব্যাখ্যা করেন। আর মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট বিষয়)—যা মহান আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না; আর আল্লাহ ছাড়া যে কেউ এটি জানার দাবি করবে, সে মিথ্যাবাদী।"

তিনি এর সনদে যে সমস্যার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তা হলো মুহাম্মদ ইবনে সাইব আল-কালবির পক্ষ থেকে; কেননা সে পরিত্যক্ত (মাতরুক) হাদিস বর্ণনাকারী। তবে হতে পারে সে এটিকে রাসুলের হাদিস হিসেবে বর্ণনার ক্ষেত্রে ভুল করেছে। সম্ভবত এটি ইবনে আব্বাসের কথা, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। আর আল্লাহই সঠিক বিষয়ে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত। (১) (ভূমিকা)

--------------------------------------------

(১) মুহাদ্দিস আহমাদ শাকির তাবারির তাহকিকে (১/৭৬) বলেছেন: (তাবারী কেবল একারণেই "এতে সমস্যা রয়েছে" বলেছেন; কারণ এটি কালবি বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে। তাবারী কিছুক্ষণ আগেই এমন একটি বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন যা এই একই সনদে বর্ণিত হয়েছিল এবং বলেছিলেন: এটি এমন কারও বর্ণনা নয় যার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ। দেখুন পৃ. ৬৬)। আল-হুওয়াইনিও তার সাথে একমত পোষণ করেছেন (১/১৩৪)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌سورة الفاتحة

‌‌5 - وسماها يحيى بن أبي كثير: الكافية؛ لأنها تكفي عما عداها ولا يكفي ما سواها عنها، كما جاء في بعض الأحاديث المرسلة: " أم القرآن عوض من غيرها، وليس غيرها عوضا عنها " (1) ويقال لها: سورة الصلاة والكنز، ذكرهما الزمخشري. (الفاتحة)

‌‌6 - وقد وقع في الموطأ للإمام مالك بن أنس، ما ينبغي التنبيه عليه، فإنه رواه مالك عن العلاء بن عبدالرحمن بن يعقوب الحُرَقي: أن أبا سعيد مولى عامر بن كريز أخبرهم، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نادى أبي بن كعب، وهو يصلي في المسجد، فلما فرغ من صلاته لحقه، قال: فوضع النبي صلى الله عليه وسلم يده على يدي، وهو يريد أن يخرج من باب المسجد، ثم قال: " إني لأرجو ألا تخرج من باب المسجد حتى تعلم سورة ما أنزل في التوراة ولا في الإنجيل ولا في الفرقان مثلها ". قال أبيّ: فجعلت أبطئ في المشي رجاء ذلك، ثم قلت: يا رسول الله، ما السورة التي وعدتني؟ قال: " كيف تقرأ إذا افتتحت الصلاة؟ قال: فقرأت عليه: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} حتى أتيت على آخرها، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " هي هذه السورة، وهي السبع المثاني والقرآن العظيم الذي أعطيت ".

فأبو سعيد هذا ليس بأبي سعيد بن المُعَلّى، كما اعتقده ابن الأثير في جامع الأصول ومن تبعه، فإن ابن المعلى صحابي أنصاري، وهذا تابعي من موالي خزاعة، وذاك الحديث متصل صحيح، وهذا ظاهره أنه منقطع، إن لم يكن سمعه أبو سعيد هذا من أبيّ بن كعب، فإن كان قد سمعه منه فهو على شرط مسلم، والله أعلم. (2) (فضل الفاتحة)

--------------------------------------------

(1) ضعفه الألباني في ضعيف الجامع ح (3199)، والإرواء ح (302). وقال الحويني: (الحديث متصل ولكنه منكر). انظر ابن كثير بتحقيقه (1/ 371).

‌‌(2) قال ابن عبدالبر في التمهيد (20/ 217): (أبو سعيد مولى عامر … حديثه هذا مرسل).

وقال الحويني (1/ 379): (ولو سمعه أبو سعيد مولى عامر من أبي بن كعب لم يكن على شرط مسلم، لأنه لم يخرج هذه الترجمة، إنما روى حديثا واحدا لأبي سعيد هذا عن أبي هريرة. والله أعلم).
সূরা আল-ফাতিহা

৫ - ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর একে ‘আল-কাফিয়া’ (পর্যাপ্তকারী) নামে অভিহিত করেছেন; কারণ এটি অন্য সবকিছুর জন্য যথেষ্ট হয়, কিন্তু অন্য কোনো কিছু এর বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট হয় না। যেমন কিছু মুরসাল হাদীসে এসেছে: “উম্মুল কুরআন (কুরআনের জননী) অন্য সূরার স্থলাভিষিক্ত হতে পারে, কিন্তু অন্য কিছু এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না।” (১) একে ‘সূরাতুস সালাত’ (নামাজের সূরা) এবং ‘আল-কানজ’ (ভাণ্ডার) নামেও অভিহিত করা হয়, যা যামাখশারী উল্লেখ করেছেন। (আল-ফাতিহা)

৬ - ইমাম মালিক ইবনে আনাসের ‘মুয়াত্তা’ গ্রন্থে এমন একটি বর্ণনা এসেছে যার ওপর সতর্ক করা প্রয়োজন। কেননা মালিক এটি বর্ণনা করেছেন আল-আলা ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ইয়াকুব আল-হুরাকি থেকে: আমির ইবনে কুরাইযের মুক্তদাস আবু সাঈদ তাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উবাই ইবনে কাবকে ডাকলেন যখন তিনি মসজিদে সালাত আদায় করছিলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হাত আমার হাতের উপর রাখলেন, তখন তিনি মসজিদের দরজা দিয়ে বের হতে চাচ্ছিলেন। এরপর তিনি বললেন: “আমি অবশ্যই আশা করি যে, তুমি মসজিদের দরজা দিয়ে বের হওয়ার পূর্বেই এমন একটি সূরা সম্পর্কে জানতে পারবে, যার সদৃশ তাওরাত, ইঞ্জিল এমনকি ফুরকানেও (কুরআন) অবতীর্ণ হয়নি।” উবাই বলেন: আমি সেই আশায় চলায় ধীরগতি অবলম্বন করলাম। এরপর বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে যে সূরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা কোনটি? তিনি বললেন: “সালাত শুরু করার সময় তুমি কীভাবে পাঠ করো?” উবাই বলেন: আমি তাঁর সামনে ‘আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ শেষ পর্যন্ত পাঠ করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “এটিই সেই সূরা, আর এটিই সাবউল মাসানী (পুনরাবৃত্ত সাতটি আয়াত) এবং মহান কুরআন যা আমাকে দান করা হয়েছে।”

এই আবু সাঈদ কিন্তু আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লা নন, যেমনটি ইবনুল আসীর ‘জামিওল উসুল’ গ্রন্থে এবং তাঁর অনুসারীরা মনে করেছেন। কারণ ইবনুল মুআল্লা ছিলেন একজন আনসারী সাহাবী, আর এই ব্যক্তি হলেন খুযাআ গোত্রের মুক্তদাস একজন তাবিঈ। আর ওই (ইবনুল মুআল্লার) হাদীসটি মুত্তাসিল ও সহীহ, কিন্তু বাহ্যত এটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন), যদি এই আবু সাঈদ উবাই ইবনে কাব থেকে এটি শুনে না থাকেন। আর যদি তিনি তাঁর থেকে শুনে থাকেন তবে তা ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী হবে। আল্লাহই ভালো জানেন। (২) (ফাতিহার ফজিলত)

--------------------------------------------

(১) আলবানী এটিকে ‘যঈফ আল-জামি’ (হাদীস নং ৩১৯৯) এবং ‘ইরওয়াউল গালীল’ (হাদীস নং ৩০২) গ্রন্থে যঈফ বলেছেন। আল-হুওয়াইনী বলেছেন: (হাদীসটি মুত্তাসিল কিন্তু মুনকার)। দেখুন ইবনে কাসীর, তাহকীকসহ (১/৩৭১)।

(২) ইবনে আবদিল বার ‘আত-তামহীদ’ গ্রন্থে (২০/২১৭) বলেছেন: (আমিরের মুক্তদাস আবু সাঈদ... তাঁর এই হাদীসটি মুরসাল)।

আল-হুওয়াইনী বলেছেন (১/৩৭৯): (যদি আমিরের মুক্তদাস আবু সাঈদ এটি উবাই ইবনে কাব থেকে শুনেও থাকেন, তবে তা মুসলিমের শর্তানুযায়ী হবে না। কারণ তিনি এই সূত্রটি বর্ণনা করেননি, বরং তিনি এই আবু সাঈদ থেকে আবু হুরায়রা সূত্রে কেবল একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌7 - عن جابر بن عبد الله، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " قال الله تعالى: قسمت الصلاة بيني وبين عبدي نصفين، وله ما سأل، فإذا قال العبد: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} قال: حمدني عبدي، وإذا قال: {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} قال: أثنى علي عبدي. ثم قال: هذا لي وله ما بقي " وهذا غريب من هذا الوجه. (1) (فضل الفاتحة)

‌‌8 - وقد روى ابن ماجه عن أبي سعيد مرفوعًا: " لا صلاة لمن لم يقرأ في كل ركعة بالحمد وسورة في فريضة أو غيرها ". وفي صحة هذا نظر. (2) (الفاتحة)

رواه الإمام أحمد بن حنبل في مسنده، عن جابر بن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: " من كان له إمام فقراءة الإمام له قراءة " ولكن في إسناده ضعف. ورواه مالك، عن وهب بن كَيْسَان، عن جابر من كلامه. وقد روي هذا الحديث من طرق، ولا يصح شيء منها عن النبي صلى الله عليه وسلم، والله أعلم. (3) (الفاتحة).

‌‌9 - وقد رُوِيَ أن جبريل عليه السلام، أوّل ما نزل بالقرآن على رسول الله صلى الله عليه وسلم أمره بالاستعاذة، عن عبد الله بن عباس، قال: أول ما نزل جبريل على محمد صلى الله عليه وسلم قال: يا محمد، استعذ. قال: " أستعيذ بالله السميع العليم من الشيطان الرجيم " ثم قال: قل: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ. ثم قال: {اقْرَا بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} قال عبد الله: وهي أول

--------------------------------------------

(1) قال أحمد شاكر في تعليقه على تفسير الطبري (1/ 201): (هذا إسناد جيد صالح، ثم نقل قول ابن كثير بالغرابة وقال: ولعله يريد أنه لم يروه أحد من حديث جابر إلا بهذا الإسناد، وليس من ذلك بأس، وقد ثبت معناه من حديث أبي هريرة، فهو شاهد قوي لصحته). انظر أيضا تفسير ابن كثير للحويني (1/ 389)

‌‌(2) سنن ابن ماجه (839)، وضعفه الحافظ ابن حجر في التلخيص الحبير ح (345)، والحديث بهذا السياق منكر، وقد ثبت في الصحيحين من حديث أبي قتادة أن النبي صلى الله عليه وسلم قرأ في الركعتين الأخيرتين من الظهر والعصر بأم الكتاب وحدها. والله أعلم. انظر ضعيف ابن ماجه للألباني ح (178).

‌‌(3) قال الحافظ ابن كثير في تفسير الأعراف: (الآية 204): (وهذا الحديث رواه الإمام أحمد في مسنده عن جابر مرفوعًا، وهو في موطأ مالك عن وهب بن كيسان، عن جابر موقوفًا، وهذا أصح)، وضعفه أيضا البخاري وابن المنذر وابن حجر وغيرهم. وقال الألباني: (وهذا هو الذي تسكن إليه النفس وينشرح له القلب أن الصواب فيه أنه مرسل، ولكنه مرسل صحيح الإسناد) راجعه في الإرواء (2/ 273). ونصب الراية للزيلعي (2/ 6 - 14).
‌৭ - জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মহান আল্লাহ বলেছেন: আমি নামাজকে (সুরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি, আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তা-ই পাবে। যখন বান্দা বলে: {সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য}, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। আর যখন সে বলে: {যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু}, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার গুণগান করল। এরপর তিনি বললেন: এটি আমার জন্য এবং অবশিষ্ট অংশ তার (বান্দার) জন্য।" এই সূত্রে বর্ণনাটি বিরল। (১) (সুরা ফাতিহার ফজিলত)

‌৮ - ইবনে মাজাহ আবু সাঈদ থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "সেই ব্যক্তির কোনো নামাজ নেই, যে ব্যক্তি ফরজ বা অন্য যেকোনো নামাজের প্রতি রাকাতে আল-হামদু (ফাতিহা) ও একটি সুরা পাঠ করেনি।" এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে। (২) (সুরা ফাতিহা)

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল তাঁর মুসনাদে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যার ইমাম রয়েছে, ইমামের পাঠই তার পাঠ হিসেবে গণ্য হবে।" তবে এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে। ইমাম মালিক ওয়াহাব ইবনে কাইসান থেকে এটি জাবিরের নিজস্ব উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই হাদিসটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তবে এর কোনোটিই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়, আর আল্লাহই ভালো জানেন। (৩) (সুরা ফাতিহা)।

‌৯ - বর্ণিত হয়েছে যে, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম যখন প্রথমবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কুরআন নিয়ে অবতীর্ণ হলেন, তখন তাকে আউজুবিল্লাহ পড়ার নির্দেশ দেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিবরাঈল যখন প্রথমবার মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অবতীর্ণ হলেন, তখন তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, আপনি আশ্রয় প্রার্থনা করুন। তিনি বললেন: "আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাতা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" এরপর জিবরাঈল বললেন, আপনি বলুন: পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। এরপর তিনি বললেন: {পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন}। আব্দুল্লাহ (ইবনে আব্বাস) বলেন: এটিই প্রথম

--------------------------------------------

(১) আহমদ শাকির তফসির তাবারির (১/২০১) টিকায় বলেছেন: (এটি একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য সনদ। এরপর তিনি ইবনে কাসিরের 'বিরল' হওয়ার মন্তব্যটি উল্লেখ করে বলেন: সম্ভবত তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে জাবিরের হাদিস হিসেবে এই সনদ ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেনি, আর এতে কোনো সমস্যা নেই। আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে এর অর্থ প্রমাণিত, যা এর বিশুদ্ধতার পক্ষে একটি শক্তিশালী সাক্ষ্য)। ইবনে কাসিরের তফসিরও দেখুন (হাওয়ানি সম্পাদিত) (১/৩৮৯)।

‌‌(২) সুনান ইবনে মাজাহ (৮৩৯)। হাফেজ ইবনে হাজার 'আত-তালখিসুল হাবির' (হাদিস ৩৪৫)-এ একে দুর্বল বলেছেন। এই প্রেক্ষাপটে হাদিসটি মুনকার। বুখারি ও মুসলিমের সহিহ হাদিসে আবু কাতাদাহ থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহর ও আসরের শেষ দুই রাকাতে শুধু উম্মুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) পাঠ করতেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন। আলবানি সংকলিত জয়িফ ইবনে মাজাহ (হাদিস ১৭৮) দেখুন।

‌‌(৩) হাফেজ ইবনে কাসির তফসির আল-আরাফ (আয়াত ২০৪)-এ বলেছেন: (এই হাদিসটি ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে জাবির থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আর এটি মুয়াত্তা মালিকে ওয়াহাব ইবনে কাইসান থেকে জাবিরের মাওকুফ উক্তি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, আর এটিই অধিকতর বিশুদ্ধ)। বুখারি, ইবনুল মুনজির, ইবনে হাজার এবং অন্যান্যরাও একে দুর্বল বলেছেন। আলবানি বলেছেন: (মন এই বিষয়ের প্রতিই আশ্বস্ত হয় যে, এটি মুরসাল হওয়াই সঠিক, তবে এর সনদের ভিত্তি বিশুদ্ধ)। দেখুন: আল-ইরওয়া (২/২৭৩) এবং যায়লায়ির নাসবুর রায়াহ (২/৬-১৪)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ২৫)
سورة أنزلها الله على محمد صلى الله عليه وسلم، بلسان جبريل. وهذا الأثر غريب، وإنما ذكرناه ليعرف، فإن في إسناده ضعفًا وانقطاعًا، والله أعلم. (1) (الفاتحة)

‌‌10 - وفي صحيح ابن خزيمة، عن أم سلمة: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ البسملة في أول الفاتحة في الصلاة وعدّها آية. لكنه من رواية عمر بن هارون البلخي، وفيه ضعف، عن ابن جُرَيْج، عن ابن أبي مُلَيْكَة، عنها. وروى له الدارقطني متابعًا، عن أبي هريرة مرفوعا (2).وروى مثله عن علي وابن عباس وغيرهما. (3) (الفاتحة: 1)

‌‌11 - عن أبي سعيد، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن عيسى ابن مريم أسلمته أمه إلى الكتَّاب ليعلمه، فقال المعلم: اكتب، قال: ما أكتب؟ قال: بسم الله. قال له عيسى: وما بسم الله؟ قال المعلم: ما أدري. قال له عيسى: الباء بَهاءُ الله، والسين سناؤه، والميم مملكته، والله إله الآلهة، والرحمن رحمن الدنيا والآخرة، والرحيم رحيم الآخرة".

وهذا غريب جدًا، وقد يكون صحيحًا إلى من دون رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويكون من الإسرائيليات لا من المرفوعات، والله أعلم. (4) (الفاتحة: 1)

‌‌12 - عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إذا أتيت أهلك فسم الله؛ فإنه إن ولد لك ولد كتب لك بعدد أنفاسه وأنفاس ذريته حسنات"

وهذا لا أصل له، ولا رأيته في شيء من الكتب المعتمد عليها ولا غيرها. (5) (الفاتحة: 1)

--------------------------------------------

(1) سنده ضعيف جدا، وبشر بن عمارة تركه الدارقطني وضعفه النسائي والبخاري وابن حبان، والضحاك بن مزاحم لم يسمع من ابن عباس كما قاله الأئمة المحققون. انظر تفسير الطبري لشاكر (1/ 115).

‌‌(2) سنن الدارقطني (1/ 309 - 310) من ثلاث طرق كلها معلولة.

‌‌(3) أخرجه ابن خزيمة (493)، وعمر بن هارون قال عنه ابن معين وصالح جزرة: كذاب. وزاد ابن معين: خبيث. وتركه ابن مهدي وأحمد والنسائي وأبو علي النيسابوري، وضعفه الدارقطني جدا.

‌‌(4) قال أحمد شاكر (الطبري 1/ 121): (هذا حديث موضوع، لا أصل له).

‌‌(5) قال ابن الجوزي في الموضوعات: (هذا حديث لا أصل له، وفي إسناده جماعة مجاهيل لا يعرفون أصلا …)
একটি সূরা যা আল্লাহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর জিবরাঈলের জবানে অবতীর্ণ করেছেন। এই বর্ণনাটি গরীব (অপ্রসিদ্ধ), আমরা এটি কেবল জানানোর জন্য উল্লেখ করেছি, কারণ এর সনদে দুর্বলতা এবং বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন। (১) (আল-ফাতিহা)

‌‌১০ - এবং সহীহ ইবনে খুযাইমায় উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে সূরা ফাতিহার শুরুতে বিসমিল্লাহ পাঠ করেছেন এবং একে একটি আয়াত হিসেবে গণ্য করেছেন। তবে এটি ওমর ইবনে হারুন আল-বালখির বর্ণনা থেকে এসেছে, এবং তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে; তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আদ-দারা কুতনি আবু হুরায়রা থেকে মারফূ হিসেবে এর একটি সমর্থক বর্ণনা (মুতাবি') বর্ণনা করেছেন (২)। আলী, ইবনে আব্বাস এবং অন্যদের থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (৩) (আল-ফাতিহা: ১)

‌‌১১ - আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই ঈসা ইবনে মারইয়ামকে তাঁর মা শিক্ষা দেওয়ার জন্য মকতব (শিক্ষালয়)-এ সোপর্দ করেছিলেন। তখন শিক্ষক বললেন: লেখ। ঈসা বললেন: আমি কী লিখব? শিক্ষক বললেন: বিসমিল্লাহ। ঈসা তাঁকে বললেন: বিসমিল্লাহ কী? শিক্ষক বললেন: আমি জানি না। ঈসা তাঁকে বললেন: 'বা' হলো আল্লাহর উজ্জ্বলতা, 'সীন' হলো তাঁর জ্যোতি এবং 'মীম' হলো তাঁর রাজত্ব। আর 'আল্লাহ' হলেন ইলাহদের ইলাহ, 'আর-রহমান' হলেন দুনিয়া ও আখিরাতের পরম দয়ালু এবং 'আর-রাহীম' হলেন আখিরাতের অতি দয়ালু।"

এটি অত্যন্ত গরীব (অপ্রসিদ্ধ) বর্ণনা। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত নিচের স্তরের কারো পর্যন্ত সহীহ হতে পারে এবং এটি ইসরাঈলী বর্ণনা হতে পারে, মারফূ (রাসূলের বাণী) নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন। (৪) (আল-ফাতিহা: ১)

‌‌১২ - আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তুমি তোমার স্ত্রীর নিকট আসবে তখন আল্লাহর নাম নাও (বিসমিল্লাহ বলো); কারণ যদি তোমার কোনো সন্তান জন্ম নেয়, তবে তার নিঃশ্বাসের সংখ্যা এবং তার বংশধরদের নিঃশ্বাসের সংখ্যা পরিমাণ নেকি তোমার জন্য লেখা হবে।"

এর কোনো ভিত্তি নেই, এবং আমি নির্ভরযোগ্য বা অন্য কোনো কিতাবে এটি দেখিনি। (৫) (আল-ফাতিহা: ১)

--------------------------------------------

(১) এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। বিশর বিন আমারাকে দারা কুতনি বর্জন করেছেন এবং নাসায়ী, বুখারী ও ইবনে হিব্বান তাকে দুর্বল বলেছেন। আর দাহহাক বিন মুজাহিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা শোনেননি, যেমনটি গবেষক ইমামগণ বলেছেন। দেখুন: তাফসীরে তাবারী (শাকির সম্পাদিত) (১/১১৫)।

‌‌(২) সুনানে দারা কুতনি (১/৩০৯-৩১০), তিনটি সূত্র থেকে যার সবকটিই ত্রুটিযুক্ত (মা'লূল)।

‌‌(৩) ইবনে খুযাইমাহ এটি বর্ণনা করেছেন (৪৯৩)। ওমর ইবনে হারুন সম্পর্কে ইবনে মাঈন এবং সালিহ জাজরাহ বলেছেন: সে মিথ্যাবাদী। ইবনে মাঈন আরও বলেছেন: সে অপবিত্র। ইবনে মাহদী, আহমাদ, নাসায়ী এবং আবু আলী আন-নাইসাবুরী তাকে বর্জন করেছেন এবং দারা কুতনি তাকে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন।

‌‌(৪) আহমাদ শাকির (তাবারী ১/১২১) বলেছেন: (এটি একটি বানোয়াট হাদীস, যার কোনো ভিত্তি নেই)।

‌‌(৫) ইবনুল জাওযী 'আল-মাওদুআত' (বানোয়াট হাদীসসমূহ) গ্রন্থে বলেছেন: (এই হাদীসটির কোনো ভিত্তি নেই এবং এর সনদে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছে যাদের একেবারেই চেনা যায় না...)
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌13 - عن جابر بن عبد الله، قال: قلّ الجراد في سنة من سني عمر التي ولي فيها فسأل عنه، فلم يخبر بشيء، فاغتم لذلك، فأرسل راكبا يضرب إلى اليمن، وآخر إلى الشام، وآخر إلى العراق، يسأل: هل رئي من الجراد شيء أم لا؟ قال: فأتاه الراكب الذي من قبل اليمن بقبضة من جراد، فألقاها بين يديه، فلما رآها كبر، ثم قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "خلق الله ألف أمة، ستمائة في البحر وأربعمائة في البر، فأول شيء يهلك من هذه الأمم الجراد، فإذا هلك تتابعت مثل النظام إذا قطع سلكه".

محمد بن عيسى هذا - وهو الهلالي - ضعيف. (1) (الفاتحة: 2)

‌‌14 - وقد روى أبو بكر بن أبي داود في ذلك شيئًا غريبًا حيث قال: … عن ابن شهاب: أنه بلغه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبا بكر وعمر وعثمان ومعاوية وابنه يزيد بن معاوية كانوا يقرءون: {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} وأول من أحدث "مَلِكِ" مروان.

قلت: مروان عنده علم بصحة ما قرأه، لم يطلع عليه ابن شهاب، والله أعلم. (2) (الفاتحة: 4)

‌‌15 - عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الصراط المستقيم كتاب الله".

وكذلك رواه ابن جرير … رواه أحمد والترمذي من رواية الحارث الأعور، عن علي مرفوعا: "وهو حبل الله المتين، وهو الذكر الحكيم، وهو الصراط المستقيم".وقد روي هذا موقوفا عن علي، وهو أشبه، والله أعلم (3) (الفاتحة: 6)

‌‌16 - وأما حديث: "أنا أفصح من نطق بالضاد" فلا أصل له والله أعلم. (4) (الفاتحة: 7)

--------------------------------------------

(1) قال الهيثمي في مجمع الزوائد (3/ 338): (رواه أبو يعلى في الكبير وفيه عبيد بن واقد القيسي وهو ضعيف)، قال ابن حبان: (موضوع لا شك فيه). وكذلك قال ابن الجوزي، ومحمد بن عيسى ذاهب الحديث تالف.

‌‌(2) سنده ضعيف جدا. انظر تفسير ابن كثير للحويني (1506).

‌‌(3) الحديث ضعيف جدا، ولا يصح موقوفا أيضا؛ لأن مداره على الحارث الأعور، وهو واه. وضعفه الألباني رحمه الله في تخريج الطحاوية ص (71)، وفي ضعيف الترمذي (554).

‌‌(4) الحديث معناه صحيح، وهو لا أصل له. ووافقه على ذلك العجلوني والسيوطي والشوكاني وغيرهم.
১৩ - জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর (রা.)-এর খেলাফতের বছরগুলোর মধ্যে কোনো এক বছর পঙ্গপাল কমে গেল। তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নিলেন, কিন্তু কোনো সংবাদ পেলেন না। এতে তিনি চিন্তিত হলেন। ফলে তিনি এক সওয়ারিকে ইয়ামেনে, একজনকে শামে এবং অন্যজনকে ইরাকে পাঠালেন এই জিজ্ঞাসার জন্য যে, কোথাও পঙ্গপাল দেখা গেছে কি না? তিনি বলেন: ইয়ামেন থেকে আসা সওয়ারি তাঁর কাছে এক মুষ্টি পঙ্গপাল নিয়ে এল এবং তাঁর সামনে তা রাখল। তিনি যখন তা দেখলেন, তখন তাকবীর দিলেন। এরপর বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ তাআলা এক হাজার জাতি সৃষ্টি করেছেন; ছয়শ সমুদ্রে এবং চারশ স্থলে। এই জাতিগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম পঙ্গপাল ধ্বংস হবে। যখন পঙ্গপাল ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন অন্যান্য জাতিগুলো সুতার বাঁধন ছিঁড়ে যাওয়া তসবির দানার মতো একের পর এক ধ্বংস হতে থাকবে।"

এই মুহাম্মদ বিন ঈসা—যিনি আল-হিলালী—তিনি দুর্বল। (১) (আল-ফাতিহা: ২)

১৪ - আবু বকর ইবনে আবি দাউদ এ বিষয়ে একটি অদ্ভুত বর্ণনা করেছেন যেখানে তিনি বলেন: ... ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত: তাঁর কাছে এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর, উমর, উসমান, মুয়াবিয়া এবং তাঁর পুত্র ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া 'মালিকি ইয়াওমিদ দ্বীন' (দীর্ঘ স্বরে 'মা') পাঠ করতেন। আর সর্বপ্রথম মারওয়ান 'মালিকি' (হ্রস্ব স্বরে 'মা') পাঠের সূচনা করেন।

আমি বলছি: মারওয়ানের কাছে এই পাঠের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে এমন জ্ঞান ছিল যা ইবনে শিহাবের জানা ছিল না। আর আল্লাহই ভালো জানেন। (২) (আল-ফাতিহা: ৪)

১৫ - আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সরল পথ (সিরাতুল মুস্তাকিম) হলো আল্লাহর কিতাব।"

অনুরূপভাবে এটি ইবনে জারীর বর্ণনা করেছেন ... আহমাদ ও তিরমিযী হারিস আল-আওয়ারের সূত্রে আলী (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "তা আল্লাহর মজবুত রশি, তা প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং তা-ই সরল পথ।" এটি আলী (রা.) থেকে মাওকুফ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, আর সেটিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর আল্লাহই ভালো জানেন। (৩) (আল-ফাতিহা: ৬)

১৬ - আর এই হাদিসটির কথা: "আমি তাদের মধ্যে সর্বাধিক স্পষ্টভাষী যারা 'দদ' (ض) উচ্চারণ করে", এর কোনো ভিত্তি নেই। আর আল্লাহই ভালো জানেন। (৪) (আল-ফাতিহা: ৭)

--------------------------------------------

(১) হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (৩/৩৩৮) গ্রন্থে বলেন: (এটি আবু ইয়ালা 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে উবাইদ বিন ওয়াকিদ আল-কায়সি রয়েছেন, যিনি দুর্বল)। ইবনে হিব্বান বলেন: (নিঃসন্দেহে এটি জাল)। ইবনুল জাওযিও অনুরূপ বলেছেন এবং মুহাম্মদ বিন ঈসা পরিত্যক্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত বর্ণনাকারী।

(২) এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। দেখুন হুয়াইনীর তাহকীককৃত তাফসীরে ইবনে কাসীর (১৫০৬)।

(৩) হাদিসটি অত্যন্ত দুর্বল এবং মাওকুফ হিসেবেও এটি সহীহ নয়; কারণ এর মাদার (কেন্দ্রীয় বর্ণনাকারী) হলেন হারিস আল-আওয়ার, যিনি অত্যন্ত দুর্বল। আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) 'তাখরীজুত তাহাবিয়া' (পৃ. ৭১) এবং 'যয়ীফুত তিরমিযী' (৫৫৪) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন।

(৪) হাদিসটির অর্থ সঠিক, তবে এর কোনো ভিত্তি নেই। আজলুনী, সুয়ূতী, শাওকানী এবং অন্যান্যরা এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌17 - وحكى القرطبي عن مجاهد وجعفر الصادق وهلال بن يساف:

أن آمين اسم من أسماء الله تعالى وروي عن ابن عباس مرفوعًا ولا يصح،

قاله أبو بكر بن العربي المالكي (1) (الفاتحة: 7)

‌‌18 - عن ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ما حسدتكم اليهود على شيء ما حسدتكم على قول: آمين، فأكثروا من قول: "آمين"

وفي إسناده طلحة بن عمرو، وهو ضعيف. (2) (الفاتحة: 7)

 

‌‌سورة البقرة

‌‌19 - وقد روى الترمذي من حديث حكيم بن جبير، وفيه ضعف، عن أبي صالح، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لكل شيء سنام، وإن سَنَام القرآن البقرة، وفيها آية هي سيدة آي القرآن: آية الكرسي ". (3) (البقرة)

‌‌20 - عن جرير بن زيد: أن أشياخ أهل المدينة حدثوه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قيل له: ألم تر ثابت بن قيس بن شماس؟ لم تزل داره البارحة تزهر مصابيح، قال: " فلعله قرأ سورة البقرة ". قال: فسئل ثابت، فقال: قرأت سورة البقرة.

وهذا إسناد جيد، إلا أن فيه إبهاما، ثم هو مرسل، والله أعلم. (4) (البقرة)

--------------------------------------------

(1) سنن النسائي الكبرى برقم (10825)، وسنن ابن ماجة برقم (2117) وقال البوصيري في الزوائد (1/ 150): "هذا فيه الأجلح بن عبد الله، مختلف فيه".

‌‌(2) أخرجه ابن ماجه في سننه (857) والحديث ضعيف جدا؛ لاتفاقهم على ضعف طلحة بن عمرو. قال الألباني: وهو ثابت دون " فأكثروا … " انظر الصحيحة (691).

‌‌(3) أخرجه الترمذي في سننه (2878) وقال: (هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من حديث حكيم بن جبير. وقد تكلم شعبة في حكيم بن جبير وضعفه).وضعفه الألباني، انظر الضعيفة (1348).

‌‌(4) وعزاه الحافظ ابن حجر في الفتح (9 - 57) لأبي داود وقال: (من طرق مرسلة).
‌১৭ - এবং কুরতুবী মুজাহিদ, জাফর আস-সাদিক এবং হিলাল বিন ইয়াসাফ থেকে বর্ণনা করেছেন:

যে আমীন মহান আল্লাহর নামসমূহের একটি নাম এবং ইবনে আব্বাস থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে কিন্তু তা সহীহ নয়,

আবু বকর ইবনুল আরাবী আল-মালিকি এটি বলেছেন (১) (আল-ফাতিহা: ৭)

‌১৮ - ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইয়াহুদীরা তোমাদের কোনো বিষয়ে এত বেশি হিংসা করে না যতটা তারা তোমাদের 'আমীন' বলার জন্য হিংসা করে, তাই তোমরা বেশি বেশি 'আমীন' বলো।"

এবং এর বর্ণনাসূত্রে তালহা বিন আমর রয়েছে, সে দুর্বল। (২) (আল-ফাতিহা: ৭)

 

‌সূরা আল-বাকারা

‌১৯ - তিরমিযী হাকীম বিন জুবাইর-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তাতে দুর্বলতা রয়েছে, আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক জিনিসের একটি চূড়া থাকে, আর কুরআনের চূড়া হলো আল-বাকারা, এবং এতে এমন একটি আয়াত রয়েছে যা কুরআনের আয়াতসমূহের নেত্রী: আয়াতুল কুরসি।" (৩) (আল-বাকারা)

‌২০ - জারীর বিন যায়েদ থেকে বর্ণিত: মদীনার প্রবীণ ব্যক্তিরা তাকে বর্ণনা করেছেন যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হলো: আপনি কি সাবিত বিন কায়েস বিন শাম্মাসকে দেখেননি? গত রাতে তার ঘর প্রদীপের মতো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছিল, তিনি বললেন: "সম্ভবত সে সূরা আল-বাকারা পাঠ করেছিল।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর সাবিতকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: আমি সূরা আল-বাকারা পাঠ করেছিলাম।

এবং এটি একটি উত্তম বর্ণনাসূত্র, তবে এতে অস্পষ্টতা রয়েছে, উপরন্তু এটি মুরসাল, আল্লাহই ভালো জানেন। (৪) (আল-বাকারা)

--------------------------------------------

(১) সুনানে নাসাঈ কুবরা নম্বর (১০৮২৫), এবং সুনানে ইবনে মাজাহ নম্বর (২১১৭) এবং আল-বুসিরি আল-জাওয়াইদে (১/১৫০) বলেছেন: "এতে আজলাহ বিন আবদুল্লাহ রয়েছে, যার ব্যাপারে মতভেদ আছে।"

‌(২) ইবনে মাজাহ তার সুনানে (৮৫৭) এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল; তালহা বিন আমরের দুর্বলতার ব্যাপারে তাদের ঐকমত্যের কারণে। আলবানী বলেছেন: এটি "তাই তোমরা বেশি বেশি..." অংশটি ছাড়া সাব্যস্ত। দেখুন আস-সহীহা (৬৯১)।

‌(৩) তিরমিযী তার সুনানে (২৮৭৮) এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: (এটি একটি গরীব হাদীস, আমরা এটি হাকীম বিন জুবাইরের হাদীস ছাড়া জানি না। শু'বা হাকীম বিন জুবাইরের সমালোচনা করেছেন এবং তাকে দুর্বল বলেছেন)। আলবানী একে দুর্বল বলেছেন, দেখুন আদ-দঈফা (১৩৪৮)।

‌(৪) এবং হাফেজ ইবনে হাজার আল-ফাতহ-এ (৯ - ৫৭) এটি আবু দাউদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং বলেছেন: (মুরসাল সূত্রসমূহ থেকে)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌21 - عن سعيد بن جبير، قال: قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: من قرأ البقرة وآل عمران في ليلة كان - أو كتب - من القانتين. (1)

فيه انقطاع، ولكن ثبت في الصحيحين (2): أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ بهما في ركعة واحدة. (البقرة)

‌‌22 - عن واثلة بن الأسقع، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " أعطيت السبع الطُّوال مكان التوراة، وأعطيت المئين مكان الإنجيل، وأعطيت المثاني مكان الزبور، وفضلت بالمفصّل ".

هذا حديث غريب، وسعيد بن بشير، فيه لين. وقد رواه أبو عبيد أيضا، عن عبد الله بن صالح، عن الليث، عن سعيد بن أبي هلال، قال: بلغنا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال … فذكره، والله أعلم. (البقرة)

‌‌23 - عن عائشة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " من أخذ السبع فهو حَبْر".

وهذا أيضًا غريب، وحبيب بن هند بن أسماء بن هند بن حارثة الأسلمي، روى عنه عمرو بن أبي عمرو وعبد الله بن أبي بكرة، وذكره أبو حاتم الرازي ولم يذكر فيه جرحا، فالله أعلم.

وقد رواه الإمام أحمد، عن سليمان بن داود، وحسين، كلاهما عن إسماعيل بن جعفر، به. ورواه - أيضًا - عن أبي سعيد، عن سليمان بن بلال، عن حبيب بن هند، عن عروة، عن عائشة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " من أخذ السبع الأوَل من القرآن فهو حَبْر ". (3)

--------------------------------------------

(1) سنده ضعيف ومنقطع؛ لضعف وقاء بن إياس، وسعيد بن جبير لم يدرك عمر.

‌‌(2) في بعض الأصول (الصحيح) والحديث أخرجه مسلم فقط.

‌‌(3) قال الألباني في " السلسلة الصحيحة " (5/ 385): (فالحديث حسن أو قريب منه. والله أعلم.

(فائدة): المقصود من (السبع الأول): السور السبع الطوال من أول القرآن، وهي مع عدد آياتها:

‌‌1 - البقرة (286)، 2 - آل عمران (200)، 3 - النساء (176)، 4 - المائدة (120)، 5 - الأنعام (165)، 6 - الأعراف (206)، 7 - التوبة (129)).
২১ - সাঈদ ইবনুল জুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "যে ব্যক্তি এক রাতে সূরা আল-বাকারাহ ও আলে ইমরান পাঠ করবে, সে কুনুতকারী বা একান্ত অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত হবে - অথবা (তার আমলনামায়) তা লিখে দেওয়া হবে।" (১)

এর সনদে ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা) রয়েছে, তবে সহীহাইন (২)-এ সাব্যস্ত হয়েছে যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাকাআতে এই সূরা দুটি পাঠ করেছেন। (আল-বাকারাহ)

‌২২ - ওয়াসিলা ইবনুল আসকা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমাকে তাওরাতের পরিবর্তে সাতটি দীর্ঘ সূরা (আস-সাবউত তুওয়াল) প্রদান করা হয়েছে, ইনজিলের পরিবর্তে একশ আয়াত বিশিষ্ট সূরাসমূহ (আল-মিঈন) প্রদান করা হয়েছে, যাবূরের পরিবর্তে বারবার পঠিত সূরাসমূহ (আল-মাসানি) প্রদান করা হয়েছে এবং মুফাসসাল সূরাগুলোর মাধ্যমে আমাকে বিশেষ মর্যাদা দান করা হয়েছে।"

এই হাদীসটি গরীব, এবং সাঈদ ইবনে বাশীর-এর বর্ণনায় দুর্বলতা (লাইয়িন) রয়েছে। আবু উবায়েদও একে আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন... অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন। (আল-বাকারাহ)

‌২৩ - আয়েশা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি সাতটি (দীর্ঘ সূরা) গ্রহণ করল, সে একজন মহান পণ্ডিত (হাবর)।"

এটিও গরীব, আর হাবীব ইবনে হিন্দ ইবনে আসমা ইবনে হিন্দ ইবনে হারিসা আল-আসলামী সম্পর্কে আমর ইবনে আবি আমর এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আবি বকরা বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম আর-রাজি তাকে উল্লেখ করেছেন এবং তার ব্যাপারে কোনো সমালোচনা (জারহ) উল্লেখ করেননি, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

ইমাম আহমাদ এটি সুলাইমান ইবনে দাউদ ও হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে ইসমাঈল ইবনে জাফর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে, তিনি হাবীব ইবনে হিন্দ থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআনের প্রথম সাতটি সূরা গ্রহণ করল, সে একজন মহান পণ্ডিত (হাবর)।" (৩)

--------------------------------------------

(১) এর সনদ দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন; কেননা উইকা ইবনে ইয়াস দুর্বল এবং সাঈদ ইবনুল জুবাইর উমর (রা.)-কে পাননি।

‌(২) কোনো কোনো মূল গ্রন্থে (আস-সহীহ) রয়েছে এবং হাদীসটি কেবল মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

‌(৩) আলবানী "আস-সিলসিলাহ আস-সহীহাহ" (৫/৩৮৫) গ্রন্থে বলেছেন: (হাদীসটি হাসান বা এর কাছাকাছি। আল্লাহই ভালো জানেন।)

(ফায়দা): (প্রথম সাতটি) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কুরআনের শুরু থেকে সাতটি দীর্ঘ সূরা, যা তাদের আয়াত সংখ্যাসহ নিম্নরূপ:

‌১ - আল-বাকারাহ (২৮৬), ২ - আলে ইমরান (২০০), ৩ - আন-নিসা (১৭৬), ৪ - আল-মায়িদাহ (১২০), ৫ - আল-আনআম (১৬৫), ৬ - আল-আরাফ (২০৬), ৭ - আত-তাওবাহ (১২৯))।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ২৯)
قال أحمد: وحدثنا حسين، حدثنا ابن أبي الزناد، عن الأعرج، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله.

قال عبد الله بن أحمد: وهذا أرى فيه، عن أبيه، عن الأعرج، ولكن كذا كان في الكتاب فلا أدري، أغفله أبي، أوكذا هو مرسل. (البقرة)

‌‌24 - قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لا تقولوا: سورة البقرة، ولا سورة آل عمران، ولا سورة النساء، وكذا القرآن كله، ولكن قولوا: السورة التي يذكر فيها البقرة، والتي يذكر فيها آل عمران، وكذا القرآن كله ". (1)

هذا حديث غريب لا يصح رفعه، وعبيس بن ميمون هذا هو أبو سلمة الخواص، وهو ضعيف الرواية، لا يحتج به. وقد ثبت في الصحيحين، عن ابن مسعود: أنه رمى الجمرة من بطن الوادي، فجعل البيت عن يساره، ومنى عن يمينه، ثم قال: هذا مقام الذي أنزلت عليه سورة البقرة. أخرجاه. (البقرة)

‌‌25 - وأما من زعم أنها دالة على معرفة المدد، وأنه يستخرج من ذلك أوقات الحوادث والفتن والملاحم، فقد ادعى ما ليس له، وطار في غير مطاره، وقد ورد في ذلك حديث ضعيف، وهو مع ذلك أدل على بطلان هذا المسلك من التمسك به على صحته. وهو ما رواه محمد بن إسحاق بن يسار، صاحب المغازي، حدثني الكلبي، عن أبي صالح، عن ابن عباس، عن جابر بن عبد الله بن رئاب، قال: مر أبو ياسر بن أخطب، في رجال من يهود، برسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو يتلو فاتحة سورة البقرة: {الم * ذَلِكَ الْكِتَابُ لا رَيْبَ فِيهِ} [البقرة: 1، 2] فأتى أخاه حيي بن أخطب في رجال من اليهود، فقال: تعلمون - والله - لقد سمعت محمدا يتلو فيما أنزل الله عليه: {الم * ذَلِكَ الْكِتَابُ لا رَيْبَ فِيهِ} فقال: أنت سمعته؟ قال: نعم. قال: فمشى حيي بن أخطب في أولئك النفر من اليهود إلى رسول الله

--------------------------------------------

(1) قال الهيثمي في مجمع الزوائد (7/ 362): (رواه الطبراني في الأوسط وفيه عبيس بن ميمون وهو متروك)، قال الحافظ في " الفتح " (9/ 88): (في سنده عبيس بن ميمون العطار وهو ضعيف). وقال الذهبي في السير (8/ 277): (قال أحمد: له أحاديث منكرة. وقال ابن معين: متروك. وقال أيضا: ليس بشيء. وقال النسائي: ليس بثقة، وقال أبو داود: ترك. قلت: له في ابن ماجه حديث واحد). وهذا القول (لا تقولوا سورة البقرة ....) منسوب إلى الحجاج بن يوسف.
আহমদ বলেছেন: আমাদের কাছে হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে আবিয যিনাদ থেকে, তিনি আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবদুল্লাহ বিন আহমদ বলেছেন: আমি এতে দেখি, তাঁর পিতা থেকে, তিনি আরাজ থেকে, তবে কিতাবে এভাবেই ছিল, তাই আমি জানি না আমার পিতা এটি কি ভুলে গেছেন নাকি এটি এভাবেই মুরসাল। (আল-বাকারাহ)

‌‌২৪ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা সূরা আল-বাকারাহ বলো না, সূরা আলে ইমরান বলো না, সূরা আন-নিসা বলো না, এবং পুরো কুরআনের ক্ষেত্রেও তাই; বরং বলো: সেই সূরা যাতে 'বাকারাহ' উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেই সূরা যাতে 'আলে ইমরান' উল্লেখ করা হয়েছে, এবং পুরো কুরআনের ক্ষেত্রেও তাই।" (১)

এটি একটি গরীব (অপরিচিত) হাদিস, এটি মারফূ হিসেবে সাব্যস্ত হওয়া সহীহ নয়। আর এই উবাইস বিন মাইমুন হলেন আবু সালামাহ আল-খাওয়াস, তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল, তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। আর বুখারি ও মুসলিমে (সহীহায়নে) ইবনে মাসউদ থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি উপত্যকার তলদেশ থেকে জামরায় পাথর নিক্ষেপ করেন, এরপর বাইতুল্লাহকে তাঁর বাম পাশে এবং মিনাকে তাঁর ডান পাশে রাখেন, তারপর বলেন: এটি সেই ব্যক্তির স্থান যাঁর ওপর সূরা আল-বাকারাহ নাযিল করা হয়েছে। তারা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেছেন। (আল-বাকারাহ)

‌‌২৫ - আর যারা দাবি করে যে, এটি (বিচ্ছিন্ন অক্ষরগুলো) সময়ের ব্যাপ্তি জানার দলিল এবং এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা, ফিতনা ও যুদ্ধ-বিগ্রহের সময় বের করা যায়, তারা এমন কিছু দাবি করেছে যার অধিকার তাদের নেই এবং তারা তাদের আওতা বহির্ভূত বিষয়ে বিচরণ করেছে। এই বিষয়ে একটি দুর্বল হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা এই পথটির অসারতার ওপর বেশি প্রমাণ বহন করে এর সত্যতা প্রমাণের চেয়ে। আর তা হলো যা মাগাযী রচয়িতা মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইয়াসার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার কাছে কালবী বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ বিন রিয়াব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইয়াসির বিন আখতাব একদল ইহুদির সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি সূরা আল-বাকারার শুরু তেলাওয়াত করছিলেন: {আলিফ-লাম-মীম * এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই} [আল-বাকারাহ: ১, ২]। এরপর তিনি একদল ইহুদির সাথে তাঁর ভাই হুয়াই বিন আখতাবের কাছে আসলেন এবং বললেন: তোমরা কি জানো—আল্লাহর কসম—আমি মুহাম্মদকে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর যা নাযিল হয়েছে তা তেলাওয়াত করতে শুনেছি: {আলিফ-লাম-মীম * এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই}। সে (হুয়াই) বলল: তুমি কি নিজে তা শুনেছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন: তখন হুয়াই বিন আখতাব সেই ইহুদিদের দলটিকে নিয়ে রাসূলুল্লাহর কাছে গেলেন...

--------------------------------------------

(১) হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদে (৭/৩৬২) বলেছেন: (তাবারানি এটি আল-আওসাত-এ বর্ণনা করেছেন এবং এতে উবাইস বিন মাইমুন রয়েছেন, যিনি মাতরুক/পরিত্যক্ত), হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে (৯/৮৮) বলেছেন: (এর সনদে উবাইস বিন মাইমুন আল-আত্তার রয়েছেন এবং তিনি দুর্বল)। আর যাহাবী 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে (৮/২৭৭) বলেছেন: (আহমদ বলেছেন: তার বর্ণিত হাদিসগুলো মুনকার। ইবনে মাঈন বলেছেন: মাতরুক/পরিত্যক্ত। তিনি আরও বলেছেন: সে কিছুই নয়। নাসায়ী বলেছেন: সে নির্ভরযোগ্য নয়। আবু দাউদ বলেছেন: তাকে পরিত্যাগ করা হয়েছে। আমি (যাহাবী) বলছি: ইবনে মাজাহ-তে তার একটি হাদিস আছে)। আর এই কথাটি (সূরা আল-বাকারাহ বলো না...) হাজ্জাজ বিন ইউসুফের দিকেও নিসবত করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ৩০)
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فقالوا: يا محمد، ألم يذكر أنك تتلو فيما أنزل الله عليك: {الم * ذلك الكتاب}؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "بلى". فقالوا: جاءك بهذا جبريل من عند الله؟ فقال: "نعم". قالوا: لقد بعث الله قبلك أنبياء ما نعلمه بين لنبي منهم ما مدة ملكه وما أجل أمته غيرك. فقام حيي بن أخطب، وأقبل على من كان معه، فقال لهم: الألف واحدة، واللام ثلاثون، والميم أربعون، فهذه إحدى وسبعون سنة، أفتدخلون في دين نبي، إنما مدة ملكه وأجل أمته إحدى وسبعون سنة؟ ثم أقبل على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: يا محمد، هل مع هذا غيره؟ فقال: "نعم"، قال: ما ذاك؟ قال: "المص"، قال: هذا أثقل وأطول، الألف واحدة، واللام ثلاثون، والميم أربعون، والصاد سبعون، فهذه إحدى وثلاثون ومائة سنة. هل مع هذا يا محمد غيره؟ قال: "نعم" قال: ما ذاك؟ قال: "الر". قال: هذا أثقل وأطول، الألف واحدة، واللام ثلاثون، والراء مائتان. فهذه إحدى وثلاثون ومائتا سنة.

فهل مع هذا يا محمد غيره؟ قال: "نعم"، قال: ماذا؟ قال: "المر". قال: فهذه أثقل وأطول، الألف واحدة، واللام ثلاثون، والميم أربعون، والراء مائتان، فهذه إحدى وسبعون ومائتان، ثم قال: لقد لبس علينا أمرك يا محمد، حتى ما ندري أقليلا أعطيت أم كثيرا. ثم قال: قوموا عنه. ثم قال أبو ياسر لأخيه حيي بن أخطب، ولمن معه من الأحبار: ما يدريكم؟ لعله قد جمع هذا لمحمد كله إحدى وسبعون وإحدى وثلاثون ومائة وإحدى وثلاثون ومائتان وإحدى وسبعون ومائتان، فذلك سبعمائة وأربع سنين. فقالوا: لقد تشابه علينا أمره، فيزعمون أن هؤلاء الآيات نزلت فيهم: {هُوَ الَّذِي أَنزلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ} [آل عمران: 7].

فهذاالحديث مداره على محمد بن السائب الكلبي، وهو ممن لا يحتج بما انفرد به، ثم كان مقتضى هذا المسلك إن كان صحيحًا أن يحسب ما لكل حرف من الحروف الأربعة عشر التي ذكرناها، وذلك يبلغ منه جملة كثيرة، وإن حسبت مع التكرر فأتم وأعظم. والله أعلم. (1) (البقرة: 1)

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في التاريخ الكبير (2/ 208) والطبري في تفسيره، وأطال الشيخ أحمد شاكر في نقده (1/ 218 - 220).
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: তখন তারা বলল: "হে মুহাম্মদ, আপনি কি এ কথা উল্লেখ করেন না যে, আপনার প্রতি আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তাতে আপনি পাঠ করেন: {আলিফ লাম মীম * এটি সেই কিতাব}?" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "হ্যাঁ"। তারা বলল: "আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল কি আপনার নিকট এটি নিয়ে এসেছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। তারা বলল: "আল্লাহ আপনার পূর্বে অনেক নবি পাঠিয়েছেন, কিন্তু আমাদের জানামতে আপনার ব্যতীত অন্য কোনো নবির রাজত্বের মেয়াদ ও তাঁর উম্মতের আয়ুষ্কাল তিনি স্পষ্ট করেননি।" এরপর হুয়াই ইবনে আখতাব উঠে দাঁড়াল এবং তার সঙ্গীদের দিকে ফিরে বলল: "আলিফ হলো এক, লাম হলো ত্রিশ এবং মীম হলো চল্লিশ; সুতরাং এটি হলো একাত্তর বছর। তোমরা কি এমন একজন নবির দ্বীনে প্রবেশ করবে যার রাজত্বের মেয়াদ ও উম্মতের আয়ুষ্কাল মাত্র একাত্তর বছর?" এরপর সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে ফিরে বলল: "হে মুহাম্মদ, এর সাথে কি অন্য কিছু আছে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। সে বলল: "সেটি কী?" তিনি বললেন: "{আলিফ লাম মীম সদ}"। সে বলল: "এটি আরও ভারী ও দীর্ঘ; আলিফ এক, লাম ত্রিশ, মীম চল্লিশ এবং সদ সত্তর। সুতরাং এটি হলো একশ একত্রিশ বছর। হে মুহাম্মদ, এর সাথে কি আরও কিছু আছে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। সে বলল: "সেটি কী?" তিনি বললেন: "{আলিফ লাম রা}"। সে বলল: "এটি আরও ভারী ও দীর্ঘ; আলিফ এক, লাম ত্রিশ এবং রা দুইশ। সুতরাং এটি হলো দুইশ একত্রিশ বছর।"

"হে মুহাম্মদ, এর সাথে কি আরও কিছু আছে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। সে বলল: "সেটি কী?" তিনি বললেন: "{আলিফ লাম মীম রা}"। সে বলল: "এটি আরও ভারী ও দীর্ঘ; আলিফ এক, লাম ত্রিশ, মীম চল্লিশ এবং রা দুইশ। সুতরাং এটি হলো দুইশ একাত্তর বছর।" অতঃপর সে বলল: "হে মুহাম্মদ, আপনার বিষয়টি আমাদের কাছে অস্পষ্ট হয়ে গেছে, এমনকি আমরা বুঝতে পারছি না আপনাকে কি অল্প মেয়াদ দেওয়া হয়েছে নাকি দীর্ঘ।" এরপর সে বলল: "তোমরা এখান থেকে উঠে পড়।" তখন আবু ইয়াসির তার ভাই হুয়াই ইবনে আখতাবকে এবং তার সাথে থাকা পণ্ডিতদের বলল: "তোমরা কী জানো? হতে পারে মুহাম্মদের জন্য এই সবগুলোই একত্রে জমা করা হয়েছে— একাত্তর, একশ একত্রিশ, দুইশ একত্রিশ এবং দুইশ একাত্তর; যার যোগফল হলো সাতশ চার বছর।" তখন তারা বলল: "তার বিষয়টি আমাদের কাছে অস্পষ্ট হয়ে গেছে।" বর্ণনাকারীরা মনে করেন যে, তাদের ব্যাপারেই এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়েছে: {তিনিই আপনার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার কিছু আয়াত সুস্পষ্ট (মুহকাম), সেগুলোই কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো রূপক (মুতাশাবিহ)।} [আল-ইমরান: ৭]।

এই হাদিসটির মূল ভিত্তি হলো মুহাম্মদ ইবনে সায়িব আল-কালবি, আর তিনি এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের একক বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। তদুপরি, এই পদ্ধতিটি যদি সঠিক হতো, তবে আমাদের ইতিপূর্বে উল্লেখিত চৌদ্দটি বিচ্ছিন্ন হরফের প্রত্যেকটির মান হিসাব করা আবশ্যক হতো, যার যোগফল অনেক বড় একটি সংখ্যায় গিয়ে পৌঁছাত; আর যদি পুনরাবৃত্তিসহ হিসাব করা হতো তবে তা আরও বিশাল হতো। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। (১) (আল-বাকারা: ১)

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি এটি 'আত-তারিখুল কাবীর' (২/২০৮) গ্রন্থে এবং তাবারী তাঁর তাফসীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; আর শায়খ আহমদ শাকির এর সমালোচনা করতে গিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন (১/২১৮-২২০)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌26 - عن عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أي الخلق أعجب إليكم إيمانا؟ ". قالوا: الملائكة. قال: "وما لهم لا يؤمنون وهم عند ربهم؟ ". قالوا: فالنبيون. قال: "وما لهم لا يؤمنون والوحي ينزل عليهم؟ ". قالوا: فنحن. قال: "وما لكم لا تؤمنون وأنا بين أظهركم؟ ". قال: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ألا إن أعجب الخلق إليّ إيمانا لَقَوْمٌ يكونون من بعدكم يَجدونَ صحفا فيها كتاب يؤمنون بما فيها". (1)

قال أبو حاتم الرازي: المغيرة بن قيس البصري منكر الحديث.

قلت: ولكن قد روى أبو يعلى في مسنده، وابن مردويه في تفسيره، والحاكم في مستدركه، من حديث محمد بن أبي حميد، وفيه ضعف، عن زيد بن أسلم، عن أبيه، عن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم، بمثله أو نحوه. وقال الحاكم: صحيح الإسناد، ولم يخرجاه (2) وقد روي نحوه عن أنس بن مالك مرفوعًا (3)، والله أعلم (البقرة: 3)

‌‌27 - عن جعفر بن محمود، عن جدته تويلة بنت أسلم، قالت: صليت الظهر أو العصر في مسجد بني حارثة، فاستقبلنا مسجد إيلياء، فصلينا سجدتين، ثم جاءنا من يخبرنا: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد استقبل البيت الحرام، فتحول النساء مكان الرجال، والرجال مكان النساء، فصلينا السجدتين الباقيتين، ونحن مستقبلون البيت الحرام.

قال إبراهيم: فحدثني رجال من بني حارثة: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حين بلغه ذلك قال: "أولئك قوم آمنوا بالغيب". (4)

هذا حديث غريب من هذا الوجه. (البقرة: 3)

‌‌28 - قال [القرطبي]: وقد جاء في الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "كل مؤذ في

--------------------------------------------

(1) جزء الحسن بن عرفة برقم (19).

‌‌(2) مسند أبي يعلى (1/ 147)، والحاكم في المستدرك (4/ 85)، وتعقبه الذهبي وقال: (بل ضعفوه).

‌‌(3) رواه البزار في مسنده (2840) (كشف الأستار) من طريق سعيد بن بشير، عن قتادة، عن أنس رضى الله عنه، وقال: (غريب من حديث أنس).

‌‌(4) تفسير ابن أبي حاتم (1/ 36) وفي إسناده إسحق بن إدريس قال البخاري: "تركه الناس". وقال ابن معين: "يضع الحديث". ورواه الطبراني في المعجم الكبير (24/ 207) من طريق إبراهيم بن حمزة الزبيري، عن إبراهيم بن جعفر عن أبيه به نحوه.
26 - আমর ইবন শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সৃষ্টিজগতের মাঝে ঈমানের দিক থেকে তোমাদের নিকট সবচেয়ে আশ্চর্যজনক কারা?" তারা বললেন: ফেরেশতারা। তিনি বললেন: "তারা কেন ঈমান আনবে না অথচ তারা তাদের রবের নিকট অবস্থান করছে?" তারা বললেন: তাহলে নবীরা। তিনি বললেন: "তারা কেন ঈমান আনবে না অথচ তাদের নিকট ওহী নাজিল হচ্ছে?" তারা বললেন: তাহলে আমরা। তিনি বললেন: "তোমরা কেন ঈমান আনবে না অথচ আমি তোমাদের মাঝে অবস্থান করছি?" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "জেনে রেখো, সৃষ্টিজগতের মাঝে আমার নিকট ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হলো সেই সম্প্রদায়, যারা তোমাদের পরে আসবে; তারা এমন কিছু সহীফা (পাণ্ডুলিপি) পাবে যাতে কিতাব থাকবে, তারা তাতে যা আছে তার প্রতি ঈমান আনবে।" (১)

আবু হাতিম আর-রাজি বলেন: মুগীরা ইবন কায়স আল-বসরী মুনকারুল হাদীস।

আমি বলছি: তবে আবু ইয়ালা তার মুসনাদে, ইবন মারদুইয়াহ তার তাফসীরে এবং হাকিম তার মুস্তাদরাকে মুহাম্মদ ইবন আবু হুমাইদ-এর হাদীস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, আর তাতে দুর্বলতা রয়েছে; তিনি জায়েদ ইবন আসলাম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি উমর থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বা এর কাছাকাছি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেছেন: সনদটি সহীহ, তবে তারা (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি (২)। অনুরূপ বর্ণনা আনাস ইবন মালিক থেকেও মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে (৩), আর আল্লাহই ভালো জানেন। (আল-বাকারা: ৩)

27 - জাফর ইবন মাহমুদ থেকে, তিনি তার দাদী তুওয়াইলা বিনতে আসলাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বনী হারিসা মসজিদে জোহর অথবা আসরের সালাত আদায় করছিলাম, তখন আমরা ইলিয়া মসজিদের (বাইতুল মাকদিস) দিকে মুখ করে ছিলাম। আমরা দুই সিজদা (রাকাত) আদায় করলাম, তারপর একজন এসে আমাদের খবর দিলেন যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল হারামের দিকে মুখ করেছেন। তখন মহিলারা পুরুষদের জায়গায় এবং পুরুষরা মহিলাদের জায়গায় চলে গেল। এরপর আমরা অবশিষ্ট দুই সিজদা (রাকাত) বাইতুল হারামের দিকে মুখ করে আদায় করলাম।

ইব্রাহিম বলেন: বনী হারিসার কিছু লোক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এই খবর পেলেন তখন তিনি বললেন: "তারা এমন এক জাতি যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান এনেছে।" (৪)

এই হাদীসটি এই সূত্রে গারীব। (আল-বাকারা: ৩)

28 - [কুরতুবী] বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসে এসেছে যে তিনি বলেছেন: "প্রত্যেক কষ্টদায়ক..."

--------------------------------------------

(১) জুযউ আল-হাসান ইবন আরাফাহ, হাদীস নং (১৯)।

(২) মুসনাদে আবু ইয়ালা (১/ ১৪৭), এবং হাকিম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে (৪/ ৮৫); আর যাহাবী এর সমালোচনা করে বলেছেন: (বরং তারা তাকে দুর্বল বলেছেন)।

(৩) আল-বাযযার তার মুসনাদে (২৮৪০) (কাশফুল আসতার) গ্রন্থে সাঈদ ইবন বাশীর, ক্বাতাদাহ ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: (আনাস-এর হাদীস হিসেবে এটি গারীব)।

(৪) তাফসীরে ইবন আবি হাতিম (১/ ৩৬) এবং এর সনদে ইসহাক ইবন ইদ্রিস রয়েছে, যার সম্পর্কে বুখারী বলেছেন: "মানুষ তাকে বর্জন করেছে"। ইবন মাঈন বলেছেন: "সে হাদীস জাল করে"। তাবারানী আল-মুজামুল কাবীর (২৪/ ২০৭) গ্রন্থে ইব্রাহিম ইবন হামজাহ আয-যুবাইরী, ইব্রাহিম ইবন জাফর এবং তার পিতার সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুদ দয়ীফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ আল্লাতী হাকামা আলাইহাল হাফিয ইবনু কাছীর ফী তাফসীরিহি (পৃষ্ঠা: ৩২)
النار" (1) وهذا الحديث ليس بمحفوظ ولا معروف ثم قال القرطبي: وقد فسر بمعنيين، أحدهما: أن كل من آذى الناس دخل النار، والآخر: كل ما يؤذي فهو في النار يتأذى به أهلها من السباع والهوام وغير ذلك. (البقرة: 24)

‌‌29 - عن أبي سعيد، عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله تعالى: {وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ} قال: "من الحيض والغائط والنخاعة والبزاق". (2) هذا حديث غريب.

وقد رواه الحاكم في مستدركه وقال: صحيح على شرط الشيخين.

وهذا الذي ادعاه فيه نظر؛ فإن عبد الرزاق بن عمر البزيعي هذا قال فيه أبو حاتم بن حبان البُسْتي: لا يجوز الاحتجاج به.

قلت: والأظهر أن هذا من كلام قتادة، كما تقدم، والله أعلم. (3) (البقرة: 25)

‌‌30 - وقد ذكر ابن أبي حاتم وابن مردويه في تفسير هذه الآية الحديث الذي رواه مسلم والنسائي في التفسير - أيضًا - من رواية ابن جُرَيج قال: أخبرني إسماعيل بن أمية، عن أيوب بن خالد، عن عبد الله بن رافع مولى أم سلمة، عن أبي هريرة، قال: أخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم بيدي فقال: "خلق الله التربة يوم السبت، وخلق الجبال فيها يوم الأحد، وخلق الشجر فيها يوم الاثنين، وخلق المكروه يوم الثلاثاء، وخلق النور يوم الأربعاء، وبث فيها الدواب يوم الخميس، وخلق آدم بعد العصر يوم الجمعة من آخر ساعة من ساعات الجمعة، فيما بين العصر إلى الليل". (4) وهذا الحديث من غرائب

--------------------------------------------

(1) قال الألباني في الضعيفةح (4233): (موضوع: أخرجه الخطيب في تاريخ بغداد (11/ 299) عن المفيد عن الأشج، عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه به مرفوعًا. قلت: وهذا إسناد باطل؛ الأشج هذا هو أبو الدنيا عثمان بن الخطاب البلوي المغربي؛ قال الذهبي: "كذاب، طرقي، كان بعد الثلاثمائة، وادعى السماع من علي بن أبي طالب، حدث عنه محمد بن أحمد المفيد" ..... والمفيد؛ أحد الضعفاء؛ كما قال الحافظ).

‌‌(2) ورواه أبو نعيم في صفة الجنة برقم (363) من طريق عبد الله بن محمد بن يعقوب عن محمد بن عبيد به.

‌‌(3) قال الحافظ في الفتح (6/ 320): (لا يصح إسناده).

‌‌(4) تفسير ابن أبي حاتم (1/ 103) وصحيح مسلم برقم (2789) وسنن النسائي الكبرى برقم (11010).
জাহান্নাম" (১) এবং এই হাদীসটি সংরক্ষিতও নয় এবং পরিচিতও নয়। এরপর আল-কুরতুবী বলেন: এটি দুটি অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়েছে; একটি হলো: যে ব্যক্তি মানুষকে কষ্ট দেয় সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর অন্যটি হলো: যা কিছু কষ্টদায়ক তা জাহান্নামে থাকবে, যার দ্বারা জাহান্নামবাসীরা কষ্ট পাবে, যেমন হিংস্র প্রাণী ও বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ ইত্যাদি। (আল-বাক্বারাহ: ২৪)

‌‌২৯ - আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তাদের জন্য সেখানে থাকবে পবিত্র জোড়া (স্ত্রীগণ)} প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "তারা ঋতুস্রাব, মলমূত্র, কফ ও থুতু থেকে মুক্ত।" (২) এটি একটি গরীব হাদীস।

ইমাম হাকেম এটি তাঁর মুস্তাদরাকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্ত অনুযায়ী সহীহ।

আর তিনি যা দাবি করেছেন তাতে সংশয় রয়েছে; কারণ এই আব্দুর রাজ্জাক ইবনে উমর আল-বাযীঈ সম্পর্কে আবু হাতিম ইবনে হিব্বান আল-বুসতী বলেছেন: তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়।

আমি বলছি: স্পষ্টতর বিষয় হলো এটি কাতাদাহর বক্তব্য, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত। (৩) (আল-বাক্বারাহ: ২৫)

‌‌৩০ - ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে মারদুবাইহ এই আয়াতের তাফসীরে সেই হাদীসটি উল্লেখ করেছেন যা মুসলিম এবং নাসাঈও তাফসীর অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন—ইবনে জুরাইজের সূত্রে। তিনি বলেন: আমাকে ইসমাইল ইবনে উমাইয়াহ সংবাদ দিয়েছেন আইয়ুব ইবনে খালিদ থেকে, তিনি উম্মে সালামার মুক্ত দাস আব্দুল্লাহ ইবনে রাফে থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরলেন এবং বললেন: "আল্লাহ তাআলা শনিবার মাটি সৃষ্টি করেছেন, রবিবার তাতে পাহাড় সৃষ্টি করেছেন, সোমবার গাছপালা সৃষ্টি করেছেন, মঙ্গলবার অপছন্দনীয় বস্তু সৃষ্টি করেছেন, বুধবার নূর (আলো) সৃষ্টি করেছেন, বৃহস্পতিবার তাতে জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং শুক্রবার আসরের পর জুমার সময়ের শেষ মুহূর্তগুলোতে অর্থাৎ আসর থেকে রাতের মধ্যবর্তী সময়ে আদমকে সৃষ্টি করেছেন।" (৪) এই হাদীসটি গরীব পর্যায়ের...

--------------------------------------------

(১) আলবানী আদ-দঈফাহ (৪২৩৩)-তে বলেছেন: (মওজু: খতীব আল-বাগদাদী তারীখে বাগদাদ (১১/ ২৯৯)-এ আল-মুফীদ থেকে তিনি আল-আশাজ থেকে তিনি আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। আমি বলছি: এই সনদটি বাতিল; এই আশাজ হলো আবুদ্দুনিয়া উসমান ইবনে খাত্তাব আল-বালাওয়ী আল-মাগরিবি; আয-যাহাবী বলেন: "সে একজন চরম মিথ্যাবাদী, তরীকার অনুসারী, সে তিনশ হিজরীর পরে ছিল এবং আলী ইবনে আবু তালিব থেকে সরাসরি শোনার দাবি করেছে। তার থেকে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মুফীদ বর্ণনা করেছেন।" ..... আর আল-মুফীদ; তিনিও একজন দুর্বল রাবী; যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন)।

‌‌(২) এবং আবু নুআইম এটি সিফাতুল জান্নাহ গ্রন্থে ৩৬৩ নং ক্রমিকে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব থেকে তিনি মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ থেকে উক্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

‌‌(৩) হাফেজ ইবনে হাজার আল-ফাতহ (৬/ ৩২০)-এ বলেছেন: (এর সনদ সহীহ নয়)।

‌‌(৪) তাফসীরে ইবনে আবি হাতিম (১/ ১০৩), সহীহ মুসলিম নং ২৭৮৯ এবং সুনানে নাসাঈ আল-কুবরা নং ১১০১০।