(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: -)
رحلة الفضلاء كما وردت بها الأنباء القسم: علوم الحديث
الكتاب: رحلة الفضلاء كما وردت بها الأنباء
مطبوع مع: «الرحلة في طلب الحديث» للخطيب البغدادي
المؤلف: أبو أويس الكردي
الناشر: مكتبة ابن تيمية، القاهرة - مصر
الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م
عدد الصفحات: 48
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 رمضان 1445
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহা আল-আনবা বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহা আল-আনবা
যার সাথে মুদ্রিত: খতিব আল-বাগদাদী রচিত «আর-রিহলা ফি তলাবিল হাদিস»
লেখক: আবু উওয়াইস আল-কুর্দি
প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া, কায়রো - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
আল-শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১২ রমজান ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسوله محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد:
فإن الذي يبحث عما دُوِّنَ في رحلات العلماء في طلب العلم يرى أمامه بحراً زاخراً لا ساحل له؛ كيف لا؟
وتراجم العلماء التي دُوِّنَتْ خيرُ شاهد فضلاً عما لم يُدَوَّن.
بل في بطون كتب الحديث تجد في سياق الأحاديث كثيراً من رحلات أسلافنا.
بل وفي كتب الفقه والأصول والعقيدة والسيرة وغيرِ ذلك شيئاً كثيراً.
بل ما تُرِكَ ولم يُدَوَّن من رحلات العلماء لا يحصيه إلا الله تعالى.
فوقف القلم متعجباً من زمان تيسرت فيه سُبُل الرحلة، وقلَّ فيه الراحلون لماذا؟
هل لعدم العلم بفضل العلم!
أم لأنهم ولدوا علماء!
أم لأنهم ركنوا إلى الدنيا!
أم لأنهم لم يبالوا بأمر دينهم أم أم أم
… !!!!
فقطفت هذه الزهور من كتابي الأصل لعلَّ مدكراً أن يتذكرَ وساهياً أن يتنبه، ومأتسياً أن يأتسي.
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসুল মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই ইলম অন্বেষণে আলেমগণের সফরের বিষয়ে যা কিছু লিপিবদ্ধ হয়েছে, সে সম্পর্কে যে ব্যক্তি অনুসন্ধান করবে সে তার সামনে এক বিশাল উপকূলহীন সমুদ্র দেখতে পাবে; আর তা হবেই না কেন?
আলেমগণের যে সকল জীবনী (تراجم) লিপিবদ্ধ হয়েছে তা-ই এর সর্বোত্তম সাক্ষী, আর যা লিপিবদ্ধ হয়নি তা তো বলাই বাহুল্য।
এমনকি হাদিসের কিতাবসমূহের অভ্যন্তরে হাদিস বর্ণনার প্রেক্ষাপটেই আমাদের পূর্বসূরিদের অনেক সফরের ঘটনা পাওয়া যায়।
তদুপরি ফিকহ, উসুল (أصول), আকিদা, সিরাত এবং অন্যান্য কিতাবসমূহেও এর অনেক বিবরণ বিদ্যমান।
বরং আলেমগণের সফরের যে অংশটুকু বাদ পড়েছে এবং লিপিবদ্ধ হয়নি, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কেউ তার ইয়ত্তা করতে পারবে না।
তাই বর্তমান সময়ের অবস্থা দেখে কলম বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেছে; যখন সফরের পথসমূহ সহজতর হয়েছে, অথচ সফরকারীর সংখ্যা কমে গেছে—কেন এমন হলো?
এটি কি ইলমের ফজিলত সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে!
নাকি তারা আলেম হয়েই জন্ম নিয়েছেন!
নাকি তারা দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন!
নাকি তারা তাদের দ্বীনের বিষয়ে উদাসীন হয়ে পড়েছেন! নাকি নাকি নাকি
… !!!!
আমি আমার মূল গ্রন্থ থেকে এই পুষ্পরাজি চয়ন করেছি, যাতে কোনো উপদেশ গ্রহণকারী উপদেশ গ্রহণ করতে পারে, কোনো বিমুখ ব্যক্তি সচেতন হতে পারে এবং কোনো অনুসরণকারী অনুসরণ করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
وكسرتها على خمسة أبواب:
الباب الأول:
1 - فضل العلم.
2 - الرحلة في طلب العلم والعلماء.
3 - الرحلة في الشباب.
4 - الرحلة من أجل التفقه في الدين.
الباب الثاني:
مِنْ رحلات مَنْ قبلنا.
الباب الثالث:
مِنْ رحلات الصحابة للنبي صلى الله عليه وسلم.
الباب الرابع:
مِنْ رحلات
(1) التابعين للصحابة رضي الله عنهم.
الباب الخامس:
نماذج من رحلات التابعين وغيرهم.
ووسمته: ب «رفقة الفضلاء كما وردت بها الأنباء» وأسأل الله الكريم رب العرش العظيم أن ينفع به كاتبه وقارئه وسامعه وأن يجعله في ميزان حسناتي يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم.
كتبه/
أبو أويس الكردي
15/ من المحرم/ عام 1432 هجرية
--------------------------------------------
আমি একে পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায়:
১ - ইলমের মর্যাদা।
২ - ইলম অন্বেষণ এবং উলামায়ে কেরামের সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে সফর।
৩ - যৌবনকালে ইলমি সফর।
৪ - দ্বীনের সঠিক প্রজ্ঞা বা গভীর জ্ঞান (التفقه) অর্জনের উদ্দেশ্যে সফর।
দ্বিতীয় অধ্যায়:
আমাদের পূর্ববর্তীদের কতিপয় সফর।
তৃতীয় অধ্যায়:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সাহাবীগণের (الصحابة) কতিপয় সফর।
চতুর্থ অধ্যায়:
সাহাবী (الصحابة) রাযিয়াল্লাহু আনহুমগণের নিকট তাবিঈগণের
(১) (التابعين) কতিপয় সফর।
পঞ্চম অধ্যায়:
তাবিঈ (التابعين) ও অন্যদের সফরের কতিপয় নমুনা।
এবং আমি এর নামকরণ করেছি: ‘রিফকাতুল ফুদলা কামা ওয়ারদাত বিহাল আনবা’ (বিদ্বানদের সাহচর্য যেভাবে সংবাদে বর্ণিত হয়েছে)। আমি মহান আরশের অধিপতি দয়াময় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে এর লেখক, পাঠক ও শ্রবণকারীকে উপকৃত করেন এবং একে কিয়ামতের দিন আমার নেক আমলের পাল্লায় ভারি করেন, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সে ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট সুস্থ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।
লেখক/
আবু উওয়াইস আল-কুরদি
১৫ই মুহররম, ১৪৩২ হিজরী
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৮০)
الباب الأول: فَضْلُ العلمِقال تعالى: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} [المجادلة: 11].
وقال تعالى: {نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مَنْ نَشَاءُ إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيمٌ} [يوسف: 76].
عَنْ عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ، أَنَّ نَافِعَ بْنَ عَبْدِ الْحَارِثِ، لَقِيَ عُمَرَ بِعُسْفَانَ، وَكَانَ عُمَرُ يَسْتَعْمِلُهُ عَلَى مَكَّةَ، فَقَالَ: مَنِ اسْتَعْمَلْتَ عَلَى أَهْلِ الْوَادِي؟ فَقَالَ: ابْنَ أَبْزَى، قَالَ: وَمَنِ ابْنُ أَبْزَى؟ قَالَ: مَوْلًى مِنْ مَوَالِينَا، قَالَ: فَاسْتَخْلَفْتَ عَلَيْهِمْ مَوْلًى؟ قَالَ: إِنَّهُ قَارِئٌ لِكِتَابِ اللهِ عز وجل، وَإِنَّهُ عَالِمٌ بِالْفَرَائِضِ، قَالَ عُمَرُ: أَمَا إِنَّ نَبِيَّكُمْ صلى الله عليه وسلم قَدْ قَالَ: «إِنَّ اللهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا، وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ»
(1).
وعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ: اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِى الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا»
(2).
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: ইলমের (জ্ঞানের) মর্যাদাআল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের ইলম দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করবেন} [আল-মুজাদালাহ: ১১]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত করি। নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ} [ইউসুফ: ৭৬]।
আমির ইবনে ওয়াসিলাহ থেকে বর্ণিত যে, নাফি ইবনে আব্দুল হারিস ‘উসফান’ নামক স্থানে উমরের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। উমর তাকে মক্কার গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। উমর জিজ্ঞাসা করলেন: “আপনি উপত্যকাবাসীদের ওপর কাকে দায়িত্ব দিয়ে এসেছেন?” তিনি বললেন: “ইবনে আবযাকে।” উমর বললেন: “ইবনে আবযা কে?” তিনি বললেন: “আমাদের আযাদকৃত দাসদের (مولى) মধ্য থেকে একজন।” উমর বললেন: “আপনি তাদের ওপর একজন আযাদকৃত দাসকে (مولى) স্থলাভিষিক্ত করেছেন?” তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই তিনি মহান আল্লাহর কিতাবের একজন কারী এবং তিনি মিরাস বা উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে বিশেষভাবে পারদর্শী।” উমর বললেন: “জেনে রাখুন, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এই কিতাবের মাধ্যমে কোনো কোনো জাতিকে উন্নত করেন এবং এর মাধ্যমে অন্যদের অবনমিত করেন’।”
(১)আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কুরআনের সাথীকে (হাফিজকে) বলা হবে: পাঠ করুন এবং উপরে আরোহণ করুন, আর ঠিক সেভাবেই তারতীলের সাথে তিলাওয়াত করুন যেভাবে দুনিয়াতে তিলাওয়াত করতেন। কেননা আপনার অবস্থান হবে আপনার পঠিত শেষ আয়াতের নিকট।”
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৮১)
وقد قال الشافعي رحمه الله
(1):
تَعَلَّمْ، فَلَيْسَ المَرْءُ يُولَدُ عالِماً
… ولَيْسَ أَخُو عِلْمٍ كمَنْ هو جاهِلُ
وإنَّ كَبِيَر القومِ لا عِلْمَ عِنْدَهُ
… صَغِيرٌ إذا الْتَفَّتْ عليه المَحافِلُ
وإِن صغيرَ القومِ إِنْ كانَ عالماً
… كبيرٌ إِذا رُدَّت إِليه المحافلُ
• ثانيًا:
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا، سَهَّلَ اللهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ»
(2).
وعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، أَنَّ أَهْلَ الْيَمَنِ قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا: ابْعَثْ مَعَنَا رَجُلًا يُعَلِّمْنَا السُّنَّةَ وَالْإِسْلَامَ قَالَ فَأَخَذَ بِيَدِ أَبِي عُبَيْدَةَ فَقَالَ: «هَذَا أَمِينُ هَذِهِ الْأُمَّةِ»
(3).
• ثالثًا:
عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ رضي الله عنه، قَالَ: أَتَيْنَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ، فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً، وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَحِيمًا رَقِيقًا، فَظَنَّ أَنَّا قَدِ اشْتَقْنَا
--------------------------------------------
ইমাম শাফেঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন
(১):
শিক্ষা গ্রহণ করো, কারণ কোনো মানুষই বিদ্বান হিসেবে জন্মগ্রহণ করে না
… আর ইলম অর্জনকারী ব্যক্তি সেই ব্যক্তির সমান নয় যে মূর্খ।
নিশ্চয়ই সম্প্রদায়ের কোনো বড় ব্যক্তি যার কাছে ইলম নেই
… সে ছোট হিসেবে গণ্য হয় যখন মজলিসগুলোতে সবাই তাকে ঘিরে সমবেত হয়।
আর সম্প্রদায়ের ছোট ব্যক্তি যদি বিদ্বান হয়
… তবে মজলিসে তাকে প্রধান করা হলে সে বড় হিসেবে গণ্য হয়।
• দ্বিতীয়ত:
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করবে, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেবেন»
(২)।
আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, ইয়ামেনবাসী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আগমন করে বললেন: আমাদের সাথে এমন একজন ব্যক্তি পাঠান যিনি আমাদের সুন্নাহ ও ইসলাম শিক্ষা দেবেন। তখন তিনি আবু উবায়দার হাত ধরলেন এবং বললেন: «ইনি এই উম্মতের আমানতদার»
(৩)।
• তৃতীয়ত:
মালিক ইবনুল হুয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা সমবয়সী একদল যুবক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাঁর সান্নিধ্যে বিশ দিন অবস্থান করলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অত্যন্ত দয়ালু ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন। তিনি বুঝতে পারলেন যে আমরা পরিবারের নিকট ফিরে যাওয়ার জন্য উৎকণ্ঠিত হয়েছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৮২)
أَهْلَنَا، فَسَأَلَنَا عَنْ مَنْ تَرَكْنَا مِنْ أَهْلِنَا، فَأَخْبَرْنَاهُ، فَقَالَ: «ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ، فَأَقِيمُوا فِيهِمْ وَعَلِّمُوهُمْ، وَمُرُوهُمْ فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ، ثُمَّ لِيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ»
(1).
• رابعًا:
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رضي الله عنه، قَالَ: إِنِّي عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَهُ قَوْمٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ، فَقَالَ: «اقْبَلُوا البُشْرَى يَا بَنِي تَمِيمٍ»، قَالُوا: بَشَّرْتَنَا فَأَعْطِنَا، فَدَخَلَ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ اليَمَنِ، فَقَالَ: «اقْبَلُوا البُشْرَى يَا أَهْلَ اليَمَنِ، إِذْ لَمْ يَقْبَلْهَا بَنُو تَمِيمٍ»، قَالُوا: قَبِلْنَا، جِئْنَاكَ لِنَتَفَقَّهَ فِي الدِّينِ، وَلِنَسْأَلَكَ عَنْ أَوَّلِ هَذَا الأَمْرِ مَا كَانَ، قَالَ: «كَانَ اللهُ وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ قَبْلَهُ، وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى المَاءِ، ثُمَّ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ، وَكَتَبَ فِي الذِّكْرِ كُلَّ شَيْءٍ»، ثُمَّ أَتَانِي رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا عِمْرَانُ أَدْرِكْ نَاقَتَكَ فَقَدْ ذَهَبَتْ، فَانْطَلَقْتُ أَطْلُبُهَا، فَإِذَا السَّرَابُ يَنْقَطِعُ دُونَهَا، وَايْمُ اللهِ لَوَدِدْتُ أَنَّهَا قَدْ ذَهَبَتْ وَلَمْ أَقُمْ
(2).
* * *
--------------------------------------------
...আমাদের পরিবারবর্গ। তিনি আমাদের নিকট জিজ্ঞেস করলেন, আমরা আমাদের পরিবারের কাদের রেখে এসেছি। আমরা তাঁকে তা জানালাম। তিনি বললেন: «তোমরা তোমাদের পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে যাও, তাদের মাঝে অবস্থান করো, তাদের শিক্ষা দাও এবং নির্দেশ প্রদান করো। আর যখন সালাতের সময় হবে, তখন তোমাদের কেউ একজন আজান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় সে তোমাদের ইমামতি করবে»
(১).
• চতুর্থত:
ইমরান ইবনে হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমন সময় বনু তামিম গোত্রের একদল লোক তাঁর নিকট এল। তিনি বললেন: «হে বনু তামিম! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো»। তারা বলল: ‘আপনি আমাদের সুসংবাদ দিয়েছেন, এখন আমাদের কিছু দান করুন’। এরপর ইয়েমেনের কিছু লোক প্রবেশ করল। তখন তিনি বললেন: «হে ইয়েমেনবাসী! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, যেহেতু বনু তামিম তা গ্রহণ করেনি»। তারা বলল: ‘আমরা তা গ্রহণ করলাম। আমরা আপনার নিকট এসেছি দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন (تفقه) করতে এবং এই সৃষ্টিজগতের সূচনা সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে’। তিনি বললেন: «আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর পূর্বে আর কিছুই ছিল না। তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর। অতঃপর তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেন এবং লওহে মাহফুজে (الذكر) সবকিছু লিখে রাখেন’। এরপর এক ব্যক্তি এসে আমাকে বলল: ‘হে ইমরান! তোমার উটনিটি ধরো, সেটি পালিয়ে গেছে’। ফলে আমি সেটির তালাশে বেরিয়ে পড়লাম। অতঃপর দেখলাম যে, মরু-মরীচিকা সেটিকে আমার দৃষ্টির আড়াল করে দিচ্ছে। আল্লাহর কসম! আমি কতই না আকাঙ্ক্ষা করছিলাম যদি উটনিটি চলে যেত আর আমি (নবীজির মজলিস থেকে) উঠে না যেতাম»
(২).
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
الباب الثاني: من رحلات من قبلنا•
أولاً: رحلة موسى عليه السلام:عن أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّهُ بَيْنَمَا مُوسَى عليه السلام، فِي قَوْمِهِ يُذَكِّرُهُمْ بِأَيَّامِ اللهِ، وَأَيَّامُ اللهِ نَعْمَاؤُهُ وَبَلَاؤُهُ، إِذْ قَالَ: مَا أَعْلَمُ فِي الْأَرْضِ رَجُلًا خَيْرًا وَأَعْلَمَ مِنِّي.
قَالَ: فَأَوْحَى اللهُ إِلَيْهِ، إِنِّي أَعْلَمُ بِالْخَيْرِ مِنْهُ، أَوْ عِنْدَ مَنْ هُوَ، إِنَّ فِي الْأَرْضِ رَجُلًا هُوَ أَعْلَمُ مِنْكَ، قَالَ: يَا رَبِّ فَدُلَّنِي عَلَيْهِ.
قَالَ: فَقِيلَ لَهُ: تَزَوَّدْ حُوتًا مَالِحًا، فَإِنَّهُ حَيْثُ تَفْقِدُ الْحُوتَ، قَالَ: فَانْطَلَقَ هُوَ وَفَتَاهُ حَتَّى انْتَهَيَا إِلَى الصَّخْرَةِ، فَعُمِّيَ عَلَيْهِ، فَانْطَلَقَ وَتَرَكَ فَتَاهُ، فَاضْطَرَبَ الْحُوتُ فِي الْمَاءِ، فَجَعَلَ لَا يَلْتَئِمُ عَلَيْهِ، صَارَ مِثْلَ الْكُوَّةِ.
قَالَ: فَقَالَ فَتَاهُ: أَلَا أَلْحَقُ نَبِيَّ اللهِ فَأُخْبِرَهُ؟ قَالَ: فَنُسِّيَ، فَلَمَّا تَجَاوَزَا قَالَ لِفَتَاهُ: آتِنَا غَدَاءَنَا لَقَدْ لَقِينَا مِنْ سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا، قَالَ: وَلَمْ يُصِبْهُمْ نَصَبٌ حَتَّى تَجَاوَزَا، قَالَ: فَتَذَكَّرَ قَالَ أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ وَمَا أَنْسَانِيهُ إِلَّا الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ، وَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ عَجَبًا، قَالَ: ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِي فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا فَأَرَاهُ مَكَانَ الْحُوتِ، قَالَ: هَا هُنَا وُصِفَ لِي.
قَالَ: فَذَهَبَ يَلْتَمِسُ فَإِذَا هُوَ بِالْخَضِرِ مُسَجًّى ثَوْبًا، مُسْتَلْقِيًا عَلَى الْقَفَا، أَوْ قَالَ عَلَى حَلَاوَةِ الْقَفَا. قَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَكَشَفَ الثَّوْبَ عَنْ وَجْهِهِ قَالَ: وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ، مَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَنَا مُوسَى؟ قَالَ: وَمَنْ مُوسَى؟ قَالَ: مُوسَى
দ্বিতীয় অধ্যায়: আমাদের পূর্ববর্তীদের সফরসমূহ থেকে•
প্রথমত: মুসা আলাইহিস সালাম-এর সফর:উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: «একদা মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর কওমের মাঝে অবস্থানকালে তাঁদেরকে আল্লাহর দিবসসমূহ সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন—আর আল্লাহর দিবসসমূহ হলো তাঁর নেয়ামত ও পরীক্ষা—এমতাবস্থায় তিনি বললেন: 'আমি পৃথিবীতে আমার চেয়ে উত্তম ও অধিক জ্ঞানী কোনো ব্যক্তির কথা জানি না।'
তিনি বলেন: তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর নিকট ওহি প্রেরণ করলেন যে, 'আমিই অধিক ভালো জানি কে উত্তম অথবা কার নিকট জ্ঞান রয়েছে। নিশ্চয়ই পৃথিবীতে এমন এক ব্যক্তি রয়েছে যে তোমার চেয়েও অধিক জ্ঞানী।' তিনি বললেন: 'হে আমার রব! আমাকে তাঁর পথ দেখিয়ে দিন।'
তিনি বলেন: তখন তাঁকে বলা হলো: 'পাথেয় হিসেবে একটি লবণাক্ত মাছ সাথে নিন; কেননা যেখানে আপনি মাছটি হারাবেন (সেখানেই তাঁর দেখা পাবেন)।' তিনি বলেন: এরপর তিনি ও তাঁর যুবক সঙ্গী চলতে শুরু করলেন এবং একপর্যায়ে একটি পাথরের নিকট পৌঁছালেন। সেখানে মাছটির বিষয়টি তাঁর নিকট অস্পষ্ট হয়ে গেল (অর্থাৎ তিনি তা লক্ষ্য করলেন না)। এরপর তিনি চলতে থাকলেন এবং তাঁর যুবক সঙ্গীকে (সেখানে) রেখে গেলেন। তখন মাছটি পানিতে নড়াচড়া করতে লাগল এবং তার জন্য পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেল, যা একটি গর্ত বা সুড়ঙ্গের ন্যায় হয়ে রইল।
তিনি বলেন: তখন তাঁর যুবক সঙ্গী বললেন: 'আমি কি আল্লাহর নবীর সাথে সাক্ষাত করে তাঁকে বিষয়টি জানাব না?' তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: কিন্তু তিনি তা ভুলে গেলেন। যখন তাঁরা সেই স্থানটি অতিক্রম করলেন, তখন মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর যুবক সঙ্গীকে বললেন: 'আমাদের দুপুরের খাবার নিয়ে এসো, আমাদের এই সফরে আমরা বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।' তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: অথচ সেই স্থানটি অতিক্রম করার পূর্ব পর্যন্ত তাঁরা ক্লান্ত হননি। তিনি বলেন: তখন তাঁর (যুবক সঙ্গীর) কথাটি মনে পড়ল এবং তিনি বললেন: 'আপনি কি দেখেছেন, যখন আমরা সেই পাথরের নিকট বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? আর শয়তানই আমাকে তা স্মরণ করার কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল। আর মাছটি আশ্চর্যজনকভাবে সমুদ্রে নিজের পথ করে নিল।' তিনি (মুসা) বললেন: 'আমরা তো সেই স্থানটিই খুঁজছিলাম।' এরপর তাঁরা নিজেদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে পুনরায় পেছনে ফিরে চললেন। তখন তিনি তাকে মাছ হারিয়ে যাওয়ার স্থানটি দেখালেন। তিনি (মুসা) বললেন: 'এখানেই আমার জন্য বর্ণনা করা হয়েছিল।'
তিনি বলেন: এরপর তিনি তালাশ করতে লাগলেন এবং হঠাৎ খিজির (আলাইহিস সালাম)-কে একখণ্ড কাপড়ে আবৃত অবস্থায় চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতে দেখলেন। তিনি (মুসা) বললেন: 'আসসালামু আলাইকুম।' তখন তিনি (খিজির) মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে বললেন: 'ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি কে?' তিনি বললেন: 'আমি মুসা।' খিজির বললেন: 'কোন মুসা?' তিনি বললেন: 'মুসা...'
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
بَنِي إِسْرَائِيلَ، قَالَ: مَجِيءٌ مَا جَاءَ بِكَ؟ قَالَ: جِئْتُ لِتُعَلِّمَنِي مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا، قَالَ: إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا، وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلَى مَا لَمْ تُحِطْ بِهِ خُبْرًا، شَيْءٌ أُمِرْتُ بِهِ أَنْ أَفْعَلَهُ إِذَا رَأَيْتَهُ لَمْ تَصْبِرْ، قَالَ: سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللهُ صَابِرًا وَلَا أَعْصِي لَكَ أَمْرًا.
قَالَ: فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلَا تَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا، فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا رَكِبَا فِي السَّفِينَةِ خَرَقَهَا، قَالَ: انْتَحَى عَلَيْهَا، قَالَ لَهُ مُوسَى عليه السلام: أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا، قَالَ: أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِي صَبْرًا؟ قَالَ: لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ وَلَا تُرْهِقْنِي مِنْ أَمْرِي عُسْرًا، فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا لَقِيَا غِلْمَانًا يَلْعَبُونَ، قَالَ: فَانْطَلَقَ إِلَى أَحَدِهِمْ بَادِيَ الرَّأْيِ فَقَتَلَهُ، فَذُعِرَ عِنْدَهَا مُوسَى عليه السلام، ذَعْرَةً مُنْكَرَةً، قَالَ: أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَاكِيَةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُكْرًا».
فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ هَذَا الْمَكَانِ: «رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْنَا وَعَلَى مُوسَى، لَوْلَا أَنَّهُ عَجَّلَ لَرَأَى الْعَجَبَ، وَلَكِنَّهُ أَخَذَتْهُ مِنْ صَاحِبِهِ ذَمَامَةٌ، {قَالَ إِنْ سَأَلْتُكَ عَنْ شَيْءٍ بَعْدَهَا فَلَا تُصَاحِبْنِي قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَدُنِّي عُذْرًا} [الكهف: 76] وَلَوْ صَبَرَ لَرَأَى الْعَجَبَ» - قَالَ: وَكَانَ إِذَا ذَكَرَ أَحَدًا مِنَ الْأَنْبِيَاءِ بَدَأَ بِنَفْسِهِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْنَا وَعَلَى أَخِي كَذَا، رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْنَا.
«فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ لِئَامًا فَطَافَا فِي الْمَجَالِسِ فَاسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا، فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمَا فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارًا يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَّ فَأَقَامَهُ، قَالَ: لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا، قَالَ: هَذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ وَأَخَذَ بِثَوْبِهِ، قَالَ: {سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا (78) أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ يَعْمَلُونَ فِي الْبَحْرِ} [الكهف: 79] إِلَى آخِرِ الْآيَةِ.
বনী ইসরাঈল; তিনি বললেন: "তোমার আগমন ঘটেছে! কিসে তোমাকে নিয়ে এসেছে?" তিনি বললেন: "আমি আপনার নিকট এসেছি যাতে আল্লাহ আপনাকে যে সঠিক নির্দেশিকা শিক্ষা দিয়েছেন, তা থেকে আপনি আমাকে শিক্ষা দান করেন।" তিনি বললেন: "তুমি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য ধারণ করতে পারবে না। আর তুমি এমন বিষয়ে কীভাবে ধৈর্য ধারণ করবে যার পূর্ণ সংবাদ তোমার আয়ত্তে নেই? আমাকে এমন কিছু কাজের আদেশ প্রদান করা হয়েছে যা আমি সম্পন্ন করব, যা দেখলে তুমি ধৈর্য ধরতে পারবে না।" তিনি বললেন: "আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোনো আদেশ অমান্য করব না।"
তিনি বললেন: "তবে তুমি যদি আমার অনুসরণ করোই, তবে আমাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করো না যতক্ষণ না আমি স্বয়ং তোমার নিকট সে বিষয়ে কোনো প্রসঙ্গ উল্লেখ করি।" অতঃপর তারা চলতে লাগলেন, এমনকি যখন তারা নৌকায় আরোহণ করলেন তখন তিনি তা ছিদ্র করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি নৌকার একটি তক্তা উপড়ে ফেললেন। মুসা আলাইহিস সালাম তাকে বললেন: "আপনি কি আরোহীদের ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য এটি ছিদ্র করলেন? আপনি তো এক গুরুতর কাজ করেছেন।" তিনি বললেন: "আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধারণ করতে পারবে না?" মুসা বললেন: "আমার বিস্মৃতির জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না এবং আমার কাজে আমার ওপর কঠোরতা আরোপ করবেন না।" অতঃপর তারা আবার চলতে লাগলেন, এমনকি যখন তারা খেলাধুলা করতে থাকা কয়েকজন কিশোরের দেখা পেলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি প্রথম দৃষ্টিতেই তাদের একজনের দিকে অগ্রসর হলেন এবং তাকে হত্যা করলেন। এতে মুসা আলাইহিস সালাম অত্যন্ত আতঙ্কিত হলেন এবং এক অস্বীকৃত (منكر) ভীতি তাকে গ্রাস করল। তিনি বললেন: "আপনি কি কোনো প্রাণের বিনিময় ছাড়াই একটি নিষ্পাপ প্রাণ সংহার করলেন? আপনি তো এক জঘন্য কাজ করেছেন।"
তখন এই স্থানে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমাদের ওপর এবং মুসার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তিনি যদি তাড়াহুড়ো না করতেন তবে আরও বিস্ময়কর বিষয় দেখতে পেতেন। কিন্তু তিনি তার সঙ্গীর নিকট থেকে একপ্রকার লজ্জাবোধ বা দায়বদ্ধতা অনুভব করলেন। (মুসা) বললেন: {এর পরে যদি আমি আপনাকে কোনো প্রশ্ন করি, তবে আপনি আমাকে আর সাথে রাখবেন না; আপনি আমার পক্ষ থেকে ওজর পেশ করার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছেন} [সূরা কাহাফ: ৭৬]। তিনি যদি ধৈর্য ধরতেন তবে আরও বিস্ময়কর বিষয় দেখতে পেতেন।" বর্ণনাকারী বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোনো নবীর কথা উল্লেখ করতেন, তখন নিজের পক্ষ থেকে দোয়া শুরু করতেন এভাবে: "আমাদের ওপর এবং আমার অমুক ভাইয়ের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, আমাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।"
"অতঃপর তারা চলতে লাগলেন, পরিশেষে যখন তারা এক নীচ জনপদবাসীর নিকট পৌঁছালেন। তারা তাদের বিভিন্ন মজলিসে ঘুরে বেড়ালেন এবং জনপদবাসীর নিকট খাবার চাইলেন। কিন্তু তারা তাদের আতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল। অতঃপর সেখানে তারা একটি প্রাচীর দেখতে পেলেন যা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল, তিনি সেটি সোজা করে দিলেন। মুসা বললেন: 'আপনি চাইলে এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন।' তিনি বললেন: 'এটাই আমার ও তোমার মধ্যে বিচ্ছেদ' এবং তিনি তার কাপড় টেনে ধরলেন। তিনি বললেন: '{যে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধারণ করতে পারোনি, আমি তোমাকে তার তাৎপর্য জানিয়ে দিচ্ছি। ওই নৌকাটি ছিল কয়েকজন দরিদ্র মানুষের যারা সমুদ্রে কাজ করত...}'" [সূরা কাহাফ: ৭৯] আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
فَإِذَا جَاءَ الَّذِي يُسَخِّرُهَا وَجَدَهَا مُنْخَرِقَةً فَتَجَاوَزَهَا فَأَصْلَحُوهَا بِخَشَبَةٍ، وَأَمَّا الْغُلَامُ فَطُبِعَ يَوْمَ طُبِعَ كَافِرًا، وَكَانَ أَبَوَاهُ قَدْ عَطَفَا عَلَيْهِ، فَلَوْ أَنَّهُ أَدْرَكَ أَرْهَقَهُمَا طُغْيَانًا وَكُفْرًا، فَأَرَدْنَا أَنْ يُبَدِّلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيْرًا مِنْهُ زَكَاةً وَأَقْرَبَ رُحْمًا. {وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُ} إِلَى آخِرِ الْآيَةِ
(1).
•
ثانيًا: رحلة رجل من بني إسرائيل:عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه، أَنَّ نَبِيَّ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا، فَسَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَاهِبٍ، فَأَتَاهُ فَقَالَ: إِنَّهُ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا، فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ؟ فَقَالَ: لَا، فَقَتَلَهُ، فَكَمَّلَ بِهِ مِائَةً، ثُمَّ سَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَجُلٍ عَالِمٍ، فَقَالَ: إِنَّهُ قَتَلَ مِائَةَ نَفْسٍ، فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ؟ فَقَالَ: نَعَمْ، وَمَنْ يَحُولُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ التَّوْبَةِ؟ انْطَلِقْ إِلَى أَرْضِ كَذَا وَكَذَا، فَإِنَّ بِهَا أُنَاسًا يَعْبُدُونَ اللهَ فَاعْبُدِ اللهَ مَعَهُمْ، وَلَا تَرْجِعْ إِلَى أَرْضِكَ، فَإِنَّهَا أَرْضُ سَوْءٍ، فَانْطَلَقَ حَتَّى إِذَا نَصَفَ الطَّرِيقَ أَتَاهُ الْمَوْتُ، فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ، فَقَالَتْ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ: جَاءَ تَائِبًا مُقْبِلًا بِقَلْبِهِ إِلَى اللهِ، وَقَالَتْ مَلَائِكَةُ الْعَذَابِ: إِنَّهُ لَمْ يَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ، فَأَتَاهُمْ مَلَكٌ فِي صُورَةِ آدَمِيٍّ، فَجَعَلُوهُ بَيْنَهُمْ، فَقَالَ: قِيسُوا مَا بَيْنَ الْأَرْضَيْنِ، فَإِلَى أَيَّتِهِمَا كَانَ أَدْنَى فَهُوَ لَهُ، فَقَاسُوهُ فَوَجَدُوهُ أَدْنَى إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي أَرَادَ، فَقَبَضَتْهُ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ»، قَالَ قَتَادَةُ: فَقَالَ الْحَسَنُ ذُكِرَ لَنَا، أَنَّهُ لَمَّا أَتَاهُ الْمَوْتُ نَأَى بِصَدْرِهِ
(2).
* * *
--------------------------------------------
অতঃপর যখন সে ব্যক্তি আসবে যে সেটিকে (নৌকাটিকে) কাজে লাগাবে, সে সেটিকে ছিদ্রযুক্ত পাবে এবং তা অতিক্রম করে চলে যাবে। তখন তারা একটি কাঠের টুকরো দিয়ে তা মেরামত করে নিয়েছিল। আর বালকটির ব্যাপার হলো, তাকে সৃষ্টির দিন থেকেই কাফির হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছিল। তার পিতামাতা তার প্রতি অত্যন্ত মমত্বশীল ছিলেন। সে যদি বড় হতো তবে তাদেরকে অবাধ্যতা ও কুফরির মাধ্যমে অতিষ্ঠ করে তুলত। তাই আমরা ইচ্ছা করলাম যে, তাদের প্রতিপালক যেন তাদের তার পরিবর্তে এমন একজন সন্তান দান করেন যে পবিত্রতায় হবে তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ এবং দয়া-মায়ায় হবে অধিক নিকটবর্তী। {আর দেয়ালের ব্যাপারটি হলো, তা ছিল শহরের দুই এতিম বালকের এবং তার নিচে ছিল...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত
(1).
•
দ্বিতীয়ত: বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তির সফর:আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের পূর্ববর্তী কওমের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল যে নিরানব্বই জন মানুষকে হত্যা করেছিল। অতঃপর সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলেমের কথা জিজ্ঞেস করলে তাকে এক সন্ন্যাসীর কথা বলা হলো। সে তার কাছে গিয়ে বলল যে, সে নিরানব্বই জন মানুষকে হত্যা করেছে, তার জন্য কি তওবার কোনো সুযোগ আছে? সে বলল: না। তখন সে তাকেও হত্যা করে একশ পূর্ণ করল। এরপর সে পুনরায় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলেমের খোঁজ করল। তখন তাকে একজন আলেম ব্যক্তির সন্ধান দেওয়া হলো। সে বলল যে, সে একশ মানুষকে হত্যা করেছে, তার কি তওবার কোনো পথ আছে? আলেম বললেন: হ্যাঁ, তার এবং তওবার মাঝে কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে? তুমি অমুক অমুক স্থানে চলে যাও, সেখানে কিছু লোক আল্লাহর ইবাদত করছে, তুমিও তাদের সাথে আল্লাহর ইবাদত করো। আর তোমার নিজ এলাকায় ফিরে যেও না, কারণ সেটি পাপাচারের স্থান। সে রওনা হলো এবং যখন সে পথের অর্ধেক দূরত্ব অতিক্রম করল, তখন তার মৃত্যু উপস্থিত হলো। তখন রহমতের ফেরেশতা ও আযাবের ফেরেশতারা তাকে নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলো। রহমতের ফেরেশতারা বলল: সে তওবাকারী হয়ে একাগ্রচিত্তে আল্লাহর দিকে ফিরে এসেছে। আর আযাবের ফেরেশতারা বলল: সে কখনোই কোনো সৎ কাজ করেনি। তখন মানুষের রূপ ধারণ করে এক ফেরেশতা তাদের কাছে এলেন। তারা তাকে তাদের মধ্যে (বিচারক হিসেবে) গ্রহণ করল। তিনি বললেন: উভয় দিকের ভূমির দূরত্ব পরিমাপ করো, যেদিকের দূরত্ব অধিক নিকটবর্তী হবে সে তার অন্তর্ভুক্ত হবে। তারা পরিমাপ করল এবং তাকে তার কাঙ্ক্ষিত ভূমির অধিক নিকটবর্তী পেল। ফলে রহমতের ফেরেশতারা তার জান কবজ করল।» কাতাদাহ বলেন: হাসান বসরী রহ. বলেছেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, যখন তার মৃত্যু ঘনিয়ে এল, সে তার বুক দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হয়েছিল
(2).
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
الباب الثالثمن رحلات الصحابة للنبي صلى الله عليه وسلم-
•
أولًا: رحلة أهل البادية والأعراب:1 - عَنْ عُقْبَةَ بْنِ الحَارِثِ رضي الله عنه، أَنَّهُ تَزَوَّجَ ابْنَةً لِأَبِي إِهَابِ بْنِ عُزَيْزٍ فَأَتَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ: إِنِّي قَدْ أَرْضَعْتُ عُقْبَةَ وَالَّتِي تَزَوَّجَ، فَقَالَ لَهَا عُقْبَةُ: مَا أَعْلَمُ أَنَّكِ أَرْضَعْتِنِي، وَلَا أَخْبَرْتِنِي، فَرَكِبَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ فَسَأَلَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «كَيْفَ وَقَدْ قِيلَ» فَفَارَقَهَا عُقْبَةُ، وَنَكَحَتْ زَوْجًا غَيْرَهُ
(1).
2 - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: نُهِينَا أَنْ نَسْأَلَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ شَيْءٍ، فَكَانَ يُعْجِبُنَا أَنْ يَجِيءَ الرَّجُلُ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ الْعَاقِلُ، فَيَسْأَلَهُ، وَنَحْنُ نَسْمَعُ، فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَتَانَا رَسُولُكَ فَزَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللهَ أَرْسَلَكَ، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ السَّمَاءَ؟ قَالَ: «اللهُ»، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ الْأَرْضَ؟ قَالَ: «اللهُ»، قَالَ: فَمَنْ نَصَبَ هَذِهِ الْجِبَالَ، وَجَعَلَ فِيهَا مَا جَعَلَ؟ قَالَ: «اللهُ»، قَالَ: فَبِالَّذِي خَلَقَ السَّمَاءَ، وَخَلَقَ الْأَرْضَ، وَنَصَبَ هَذِهِ الْجِبَالَ، اللهُ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِنَا، وَلَيْلَتِنَا، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، اللهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا زَكَاةً فِي أَمْوَالِنَا، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، اللهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا صَوْمَ شَهْرِ رَمَضَانَ فِي سَنَتِنَا، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، اللهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ:
--------------------------------------------
তৃতীয় অধ্যায়সাহাবীগণের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সফরের বিবরণ-
•
প্রথমত: মরুবাসী ও পল্লীবাসীদের সফর:১ - উকবাহ ইবনুল হারিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু ইহাব বিন আজিজ-এর এক কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন। অতঃপর এক নারী তাঁর নিকট এসে বললেন: "আমি উকবাহ এবং যাকে সে বিবাহ করেছে উভয়কেই স্তন্যদান করেছি।" উকবাহ তাকে বললেন: "আপনি আমাকে স্তন্যদান করেছেন তা আমার জানা নেই এবং আপনি আমাকে (পূর্বে) সংবাদও দেননি।" অতঃপর তিনি মদিনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সওয়ার হয়ে আসলেন এবং তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "কীভাবে (তুমি তার সাথে থাকবে) অথচ তা বলা হয়েছে?" অতঃপর উকবাহ তাকে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন এবং সে অন্য একজনকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করল
(১)।
২ - আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করা হতে নিষেধ করা হয়েছিল। তাই আমাদের নিকট এটি পছন্দনীয় ছিল যে, মরুভূমি থেকে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি আসতেন এবং তাঁকে প্রশ্ন করতেন আর আমরা তা শুনতাম। অতঃপর মরুভূমি থেকে এক ব্যক্তি আসলেন এবং বললেন: "হে মুহাম্মদ! আপনার প্রেরিত দূত আমাদের কাছে এসেছিলেন এবং তিনি আমাদের নিকট উল্লেখ করেছেন যে, আপনি নাকি দাবি করেন আল্লাহ আপনাকে পাঠিয়েছেন।" তিনি (রাসূল) বললেন: "সে সত্য বলেছে।" সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল: "তবে আকাশ কে সৃষ্টি করেছেন?" তিনি বললেন: "আল্লাহ।" সে জিজ্ঞাসা করল: "তবে জমিন কে সৃষ্টি করেছেন?" তিনি বললেন: "আল্লাহ।" সে জিজ্ঞাসা করল: "তবে এই পাহাড়গুলো কে স্থাপন করেছেন এবং তাতে যা কিছু সৃষ্টি করার তা করেছেন?" তিনি বললেন: "আল্লাহ।" সে বলল: "তবে সেই সত্তার কসম, যিনি আকাশ সৃষ্টি করেছেন, জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং পাহাড়গুলো স্থাপন করেছেন; আল্লাহ কি আপনাকে পাঠিয়েছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সে বলল: "আপনার প্রেরিত দূত উল্লেখ করেছেন যে, আমাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ।" তিনি বললেন: "সে সত্য বলেছে।" সে বলল: "সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন; আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সে বলল: "আপনার প্রেরিত দূত উল্লেখ করেছেন যে, আমাদের সম্পদে জাকাত রয়েছে।" তিনি বললেন: "সে সত্য বলেছে।" সে বলল: "সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন; আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সে বলল: "আপনার প্রেরিত দূত উল্লেখ করেছেন যে, আমাদের ওপর বছরে রমজান মাসের রোজা রাখা আবশ্যক।" তিনি বললেন: "সে সত্য বলেছে।" সে বলল: "সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন; আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?" তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
«نَعَمْ»، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا حَجَّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: ثُمَّ وَلَّى، قَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ، لَا أَزِيدُ عَلَيْهِنَّ، وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُنَّ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ»
(1).
3 - عن طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ رضي الله عنه، قال: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ ثَائِرُ الرَّأْسِ، نَسْمَعُ دَوِيَّ صَوْتِهِ، وَلَا نَفْقَهُ مَا يَقُولُ حَتَّى دَنَا مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الْإِسْلَامِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «خَمْسُ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ، وَاللَّيْلَةِ» فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُنَّ؟ قَالَ: «لَا، إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ، وَصِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ»، فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُ؟ فَقَالَ: «لَا، إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ»، وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الزَّكَاةَ، فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهَا؟ قَالَ: «لَا، إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ»، قَالَ: فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ، وَهُوَ يَقُولُ: وَاللهِ، لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا، وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ»
(2).
--------------------------------------------
«হ্যাঁ», তিনি বললেন। তিনি (প্রশ্নকারী) বললেন: «আপনার প্রেরিত দূত দাবি করেছেন যে, আমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সক্ষম তার ওপর বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ (فرض) [Note: 'فرض' is a technical status]»। তিনি (নবী ﷺ) বললেন: «তিনি সত্য বলেছেন»। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর সে ফিরে গেল এবং বলল: «যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর কসম! আমি এর ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধি করব না এবং তা থেকে কোনো কিছু হ্রাসও করব না»। তখন নবী ﷺ বললেন: «যদি সে সত্য বলে থাকে তবে অবশ্যই সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»
(১)।
৩ - তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নজদবাসীদের মধ্য থেকে উস্কোখুস্কো চুলে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট আসলেন। আমরা তাঁর আওয়াযের গুঞ্জন শুনছিলাম কিন্তু তিনি কী বলছিলেন তা আমরা বুঝতে পারছিলাম না, যতক্ষণ না তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকটবর্তী হলেন। তখন দেখা গেল তিনি ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: «দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত»। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: «এগুলো ছাড়া আমার ওপর আর কোনো দায়বদ্ধতা আছে কি?» তিনি বললেন: «না, তবে তুমি যদি নফল (تطوع) হিসেবে কিছু আদায় করতে চাও»। এবং রমযান মাসের সিয়াম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: «এটি ছাড়া আমার ওপর আর কি কিছু আছে?» তিনি বললেন: «না, তবে তুমি যদি নফল (تطوع) হিসেবে কিছু আদায় করতে চাও»। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর নিকট যাকাতের কথা উল্লেখ করলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: «এটি ছাড়া আমার ওপর আর কি কিছু আছে?» তিনি বললেন: «না, তবে তুমি যদি নফল (تطوع) হিসেবে কিছু আদায় করতে চাও»। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর লোকটি এই কথা বলতে বলতে পিঠ ফিরিয়ে চলে গেল যে, «আল্লাহর কসম! আমি এর ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধি করব না এবং তা থেকে কোনো কিছু হ্রাস করব না»। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: «সে সফলকাম হবে যদি সে সত্য বলে থাকে»
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
4 - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: «وَمَا أَعْدَدْتَ لِلسَّاعَةِ؟» قَالَ: حُبَّ اللهِ وَرَسُولِهِ، قَالَ: «فَإِنَّكَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ» قَالَ أَنَسٌ: فَمَا فَرِحْنَا، بَعْدَ الْإِسْلَامِ فَرَحًا أَشَدَّ مِنْ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «فَإِنَّكَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ» قَالَ أَنَسٌ: فَأَنَا أُحِبُّ اللهَ وَرَسُولَهُ، وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ، فَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ مَعَهُمْ، وَإِنْ لَمْ أَعْمَلْ بِأَعْمَالِهِمْ
(1).
5 - عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رضي الله عنه قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، عَلِّمْنِي عَمَلًا يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ، فَقَالَ: «لَئِنْ كُنْتَ أَقْصَرْتَ الْخُطْبَةَ، لَقَدْ أَعْرَضْتَ الْمَسْأَلَةَ، أَعْتِقِ النَّسَمَةَ، وَفُكَّ الرَّقَبَةَ». فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَوَلَيْسَتَا بِوَاحِدَةٍ؟ قَالَ: «لَا، إِنَّ عِتْقَ النَّسَمَةِ أَنْ تَفَرَّدَ بِعِتْقِهَا، وَفَكَّ الرَّقَبَةِ أَنْ تُعِينَ فِي عِتْقِهَا، وَالْمِنْحَةُ الْوَكُوفُ، وَالْفَيْءُ عَلَى ذِي الرَّحِمِ الظَّالِمِ، فَإِنْ لَمْ تُطِقْ ذَلِكَ، فَأَطْعِمِ الْجَائِعَ، وَاسْقِ الظَّمْآنَ، وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ، وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ، فَإِنْ لَمْ تُطِقْ ذَلِكَ، فَكُفَّ لِسَانَكَ إِلَّا مِنَ الْخَيْرِ»
(2).
6 - عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الجُهَنِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَسَأَلَهُ عَمَّا يَلْتَقِطُهُ، فَقَالَ: «عَرِّفْهَا سَنَةً، ثُمَّ احْفَظْ عِفَاصَهَا وَوِكَاءَهَا، فَإِنْ جَاءَ أَحَدٌ يُخْبِرُكَ بِهَا، وَإِلَّا فَاسْتَنْفِقْهَا» قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَضَالَّةُ الغَنَمِ؟ قَالَ: «لَكَ أَوْ لِأَخِيكَ أَوْ لِلذِّئْبِ»، قَالَ: ضَالَّةُ الإِبِلِ؟ فَتَمَعَّرَ وَجْهُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «مَا لَكَ وَلَهَا، مَعَهَا حِذَاؤُهَا وَسِقَاؤُهَا تَرِدُ المَاءَ، وَتَأْكُلُ الشَّجَرَ»
(3).
--------------------------------------------
4 - আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: «তুমি কিয়ামতের জন্য কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ?» সে বলল: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই তুমি তারই সাথে থাকবে যাকে তুমি ভালোবাসো»। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: ইসলাম গ্রহণের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই কথা—«নিশ্চয়ই তুমি তারই সাথে থাকবে যাকে তুমি ভালোবাসো»—এর চেয়ে বেশি আনন্দিত আমরা আর কোনো কিছুতে হইনি। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে এবং আবু বকর ও উমরকে ভালোবাসি, তাই আমি তাদের সাথে থাকার আশা রাখি, যদিও আমি তাদের আমলের মতো আমল করতে পারিনি
(1).
5 - বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে এমন একটি আমল শিখিয়ে দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিনি বললেন: «তুমি যদিও সংক্ষেপে কথা বলেছ, কিন্তু এক অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করেছ; কোনো প্রাণীকে মুক্তি দাও এবং দাসত্ব থেকে ঘাড় মুক্ত করো»। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, এ দুটি কি একই বিষয় নয়? তিনি বললেন: «না, কোনো প্রাণীকে মুক্তি দেওয়ার অর্থ হলো তাকে একাকী স্বাধীন করে দেওয়া, আর দাসত্ব থেকে ঘাড় মুক্ত করার অর্থ হলো তার মুক্তির জন্য অন্যকে সাহায্য করা। এছাড়া দুধালো পশু দান করা এবং অন্যায়কারী আত্মীয়ের প্রতি সদাচরণ করা। যদি তুমি এগুলোর সামর্থ্য না রাখো, তবে ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও, তৃষ্ণার্তকে পান করাও, সৎ কাজের আদেশ দাও এবং মন্দ কাজে বাধা (منكر) প্রদান করো। আর যদি এরও সামর্থ্য না থাকে, তবে ভালো কথা ছাড়া তোমার জিহ্বাকে বিরত রাখো»
(2).
6 - যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন: «এক বছর পর্যন্ত তার ঘোষণা দাও, তারপর তার থলি ও বাঁধন চিনে রাখো। এরপর যদি কেউ এসে তোমাকে তার বর্ণনা দেয় (তবে দিয়ে দাও), অন্যথায় তা খরচ করো»। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, পথহারা বকরি সম্পর্কে কী হুকুম? তিনি বললেন: «সেটি তোমার, অথবা তোমার ভাইয়ের, নতুবা নেকড়ের»। সে বলল: পথহারা উট সম্পর্কে কী হুকুম? এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে গেল এবং তিনি বললেন: «তার সাথে তোমার কী প্রয়োজন? তার তো নিজের ক্ষুর ও পানাধার রয়েছে, সে নিজেই পানির ঘাটে পৌঁছাতে পারে এবং গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারে»
(3).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
7 - عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِىِّ {أَنَّهُمَا قَالَا: إِنَّ رَجُلاً مِنَ الأَعْرَابِ أَتَى رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَنْشُدُكَ اللَّهَ إِلاَّ قَضَيْتَ لِي بِكِتَابِ اللَّهِ. فَقَالَ الْخَصْمُ الآخَرُ وَهُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ: نَعَمْ فَاقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللهِ وَائْذَنْ لِي. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «قُلْ». قَالَ: إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا فَزَنَى بِامْرَأَتِهِ وَإِنِّي أُخْبِرْتُ أَنَّ عَلَى ابْنِي الرَّجْمَ فَافْتَدَيْتُ مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَوَلِيدَةٍ، فَسَأَلْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّمَا عَلَى ابْنِي جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ، وَأَنَّ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا الرَّجْمَ. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللهِ الْوَلِيدَةُ وَالْغَنَمُ رَدٌّ وَعَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ، وَاغْدُ يَا أُنَيْسُ إِلَى امْرَأَةِ هَذَا فَإِنِ اعْتَرَفَتْ فَارْجُمْهَا». قَالَ: فَغَدَا عَلَيْهَا فَاعْتَرَفَتْ فَأَمَرَ بِهَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَتْ
(1).
8 - عن عَبْد اللهِ بْن بُسْرٍ رضي الله عنه قال: جَاءَ أَعْرَابِيَّانِ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ أَحَدُهُمَا: يَا رَسُولَ اللهِ، أَيُّ النَّاسِ خَيْرٌ؟ قَالَ: «مَنْ طَالَ عُمْرُهُ، وَحَسُنَ عَمَلُهُ» وَقَالَ الْآخَرُ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ شَرَائِعَ الْإِسْلَامِ قَدْ كَثُرَتْ عَلَيَّ، فَمُرْنِي بِأَمْرٍ أَتَثَبَّتُ بِهِ، فَقَالَ: «لَا يَزَالُ لِسَانُكَ رَطْبًا مِنَ ذكر اللهِ»
(2).
* * *
--------------------------------------------
৭ - আবু হুরায়রা ও যায়েদ বিন খালিদ আল-জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা উভয়ই বলেন: জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর দোহাই দিয়ে আপনার নিকট আবেদন করছি, আপনি যেন আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী আমার ফয়সালা করেন। তখন অপর বিবাদী (প্রতিপক্ষ), যে তার চেয়ে অধিক সমঝদার ছিল, বলল: হ্যাঁ, আপনি আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব মোতাবেক ফয়সালা করুন এবং আমাকে (কথা বলার) অনুমতি দিন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: «বলো»। সে বলল: আমার ছেলে এই ব্যক্তির নিকট শ্রমিক হিসেবে কাজ করত, এরপর সে তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে। আমাকে জানানো হয়েছিল যে, আমার ছেলের ওপর রজম (رجم) কার্যকর হবে। তাই আমি তার পক্ষ থেকে একশটি ছাগল ও একটি দাসী মুক্তিপণ হিসেবে দিয়েছি। এরপর আমি আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা আমাকে জানান যে, আমার ছেলের সাজা হলো একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন; আর এই ব্যক্তির স্ত্রীর ওপর রজম (رجم) কার্যকর হবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: «সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি অবশ্যই তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করব। দাসী এবং ছাগলগুলো তোমাকে ফেরত দেওয়া হলো। আর তোমার ছেলের সাজা হলো একশ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। হে উনাইস! তুমি আগামীকাল সকালে এই ব্যক্তির স্ত্রীর কাছে যাও, যদি সে অপরাধ স্বীকার করে তবে তাকে রজম (رجم) করো»। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি পরদিন সকালে তার কাছে গেলেন এবং সে স্বীকার করল। ফলে রাসূলুল্লাহ (সা.) আদেশ দিলেন এবং তাকে রজম (رجم) করা হলো
(১)。
৮ - আবদুল্লাহ বিন বুসর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: দুই জন গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট আসলেন। তাঁদের একজন বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম কে? তিনি বললেন: «যার আয়ু দীর্ঘ হয়েছে এবং আমল সুন্দর হয়েছে»। এবং অন্যজন বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ইসলামের বিধানগুলো আমার জন্য অনেক বেশি হয়ে গেছে, তাই আমাকে এমন একটি আমলের আদেশ দিন যা আমি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে পারি। তিনি বললেন: «তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লাহর জিকিরে সিক্ত থাকে»
(২)。
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৯০)
•
ثانيًا: رحلة سفراء الأقوام والبلاد:1 - عن ابْنِ عَبَّاسٍ {قال: إِنَّ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ أَتَوْا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنِ الْوَفْدُ؟ أَوْ مَنِ الْقَوْمُ؟»، قَالُوا: رَبِيعَةُ، قَالَ: «مَرْحَبًا بِالْقَوْمِ، أَوْ بِالْوَفْدِ، غَيْرَ خَزَايَا، وَلَا النَّدَامَى»، قَالَ: فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّا نَأْتِيكَ مِنْ شُقَّةٍ بَعِيدَةٍ، وَإِنَّ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ هَذَا الْحَيَّ مِنْ كُفَّارِ مُضَرَ، وَإِنَّا لَا نَسْتَطِيعُ أَنْ نَأْتِيكَ إِلَّا فِي شَهْرِ الْحَرَامِ، فَمُرْنَا بِأَمْرٍ فَصْلٍ نُخْبِرْ بِهِ مَنْ وَرَاءَنَا نَدْخُلُ بِهِ الْجَنَّةَ، قَالَ: فَأَمَرَهُمْ بِأَرْبَعٍ، وَنَهَاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ، قَالَ: «أَمَرَهُمْ بِالْإِيمَانِ بِاللهِ وَحْدَهُ»، وَقَالَ: «هَلْ تَدْرُونَ مَا الْإِيمَانُ بِاللهِ؟» قَالُوا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ، وَأَنَّ تُؤَدُّوا خُمُسًا مِنَ الْمَغْنَمِ»، وَنَهَاهُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ، وَالْحَنْتَمِ، وَالْمُزَفَّتِ - قَالَ شُعْبَةُ: وَرُبَّمَا قَالَ: - النَّقِيرِ، قَالَ شُعْبَةُ: وَرُبَّمَا قَالَ: الْمُقَيَّرِ، وَقَالَ: «احْفَظُوهُ، وَأَخْبِرُوا بِهِ مَنْ وَرَاءكُمْ» وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ فِي رِوَايَتِهِ: «مَنْ وَرَاءَكُمْ»
(1).
2 - عن لَقِيطِ بْنِ صَبْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: كُنْتُ وَافِدَ بَنِي الْمُنْتَفِقِ - أَوْ فِي وَفْدِ بَنِي الْمُنْتَفِقِ - إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: فَلَمَّا قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ نُصَادِفْهُ فِي مَنْزِلِهِ وَصَادَفْنَا عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ. قَالَ: فَأَمَرَتْ لَنَا بِخَزِيرَةٍ فَصُنِعَتْ لَنَا، قَالَ: وَأُتِينَا بِقِنَاعٍ - وَلَمْ يَقُلْ قُتَيْبَةُ: الْقِنَاعَ، وَالْقِنَاعُ: الطَّبَقُ فِيهِ تَمْرٌ.
ثُمَّ جَاءَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «هَلْ أَصَبْتُمْ شَيْئًا أَوْ أُمِرَ لَكُمْ بِشَىْءٍ».
قَالَ: قُلْنَا: نَعَمْ يَا رَسُولَ الله. قَالَ: فَبَيْنَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم جُلُوسٌ إِذْ دَفَعَ الرَّاعِى غَنَمَهُ إِلَى الْمُرَاحِ وَمَعَهُ سَخْلَةٌ تَيْعَرُ، فَقَالَ: «مَا وَلَّدْتَ يَا فُلَانُ».
قَالَ: بَهْمَةً. قَالَ: «فَاذْبَحْ لَنَا مَكَانَهَا شَاةً». ثُمَّ قَالَ: لَا تَحْسِبَنَّ - وَلَمْ يَقُلْ لَا تَحْسَبَنَّ - أَنَّا مِنْ أَجْلِكَ ذَبَحْنَاهَا، لَنَا غَنَمٌ مِائَةٌ لَا نُرِيدُ أَنْ تَزِيدَ، فَإِذَا وَلَّدَ الرَّاعِى
--------------------------------------------
•
দ্বিতীয়ত: বিভিন্ন জাতি ও জনপদের প্রতিনিধিদের সফর:১ - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত {তিনি বলেন: আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «এই প্রতিনিধি দলটি কারা? অথবা এই কওমটি কারা?», তারা বললেন: রাবীআ গোত্র। তিনি বললেন: «এই কওম বা প্রতিনিধি দলের প্রতি মোবারকবাদ, যারা অপদস্থ না হয়ে এবং অনুতপ্ত না হয়েই এসেছে।» তিনি বলেন: অতঃপর তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনার নিকট অনেক দূর-দূরান্ত থেকে এসেছি। আমাদের ও আপনার মাঝে কাফের মুযার গোত্রের এই জনপদটি অবস্থিত। আমরা 'হারাম মাস' (নিষিদ্ধ মাস) ছাড়া অন্য সময়ে আপনার নিকট আসতে পারি না। অতএব আমাদের এমন কিছু সুস্পষ্ট ফয়সালাকারী নির্দেশ দিন, যা আমরা আমাদের পেছনের লোকদের জানাব এবং যার মাধ্যমে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তাদের চারটি বিষয়ে আদেশ দিলেন এবং চারটি বিষয়ে নিষেধ করলেন। তিনি তাদের একমাত্র আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: «তোমরা কি জানো আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী?» তারা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করা।» আর তিনি তাদের 'দুব্বা' (লাউয়ের পাত্র), 'হানতাম' (মাটির সবুজ পাত্র), 'মুজাফফাত' (আলকাতরা মাখানো পাত্র) — শু'বা বলেন: সম্ভবত তিনি 'নাকীর' (কাঠের খোদাই করা পাত্র) এর কথাও বলেছেন — শু'বা আরও বলেন: সম্ভবত তিনি 'মুকাইয়ার' (পিচ মাখানো পাত্র) এর কথা বলেছেন — ব্যবহার করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন: «এগুলো মনে রেখো এবং তোমাদের পেছনের লোকদের এগুলো জানিও।» আবু বকর তাঁর বর্ণনায় বলেছেন: «যারা তোমাদের পেছনে রয়েছে (তাদের জানিও)»
(১)।
২ - লাকীত ইবনে সাবরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বনু মুনতাফিক গোত্রের প্রতিনিধি হিসেবে — অথবা বনু মুনতাফিক গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে — রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসেছিলাম। তিনি বলেন: যখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছালাম, তখন তাঁর ঘরে তাঁর দেখা পেলাম না, তবে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর দেখা পেলাম। তিনি বলেন: আয়েশা (রা.) আমাদের জন্য 'খাযিরা' (গোশত ও আটার তৈরি খাবার) তৈরির নির্দেশ দিলেন এবং তা আমাদের জন্য প্রস্তুত করা হলো। তিনি বলেন: আমাদের সামনে একটি 'কিনা' আনা হলো — কুতাইবা 'কিনা' শব্দটি বলেননি — আর 'কিনা' হলো এমন একটি পাত্র যাতে খেজুর থাকে।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং বললেন: «তোমরা কি কিছু খেয়েছ? অথবা তোমাদের জন্য কি কোনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে?»
তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমরা বললাম: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বসেছিলাম, এমন সময় রাখাল তার ছাগলগুলো নিয়ে বিশ্রামের জায়গায় (খোয়াড়ে) নিয়ে এল, তার সাথে একটি ছাগলছানা চিৎকার করছিল। তিনি বললেন: «হে অমুক, কী জন্ম হয়েছে?»
রাখাল বলল: একটি মেষশাবক। তিনি বললেন: «তাহলে তার পরিবর্তে আমাদের জন্য একটি বকরি জবাই করো।» অতঃপর তিনি বললেন: «তুমি যেন মনে করো না — (রাবী বলেন) তিনি 'তুমি মনে করো না' বলেননি — যে আমরা তোমার খাতিরে এটি জবাই করেছি। আমাদের একশটি ছাগল আছে, আমরা চাই না এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাক। তাই যখনই রাখাল (নতুন শাবক) পায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৯১)
بَهْمَةً ذَبَحْنَا مَكَانَهَا شَاةً. قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ لِي امْرَأَةً وَإِنَّ فِى لِسَانِهَا شَيْئًا - يَعْنِي الْبَذَاءَ. قَالَ: «فَطَلِّقْهَا إِذًا».
قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ لَهَا صُحْبَةً وَلِى مِنْهَا وَلَدٌ. قَالَ: «فَمُرْهَا - يَقُولُ عِظْهَا - فَإِنْ يَكُ فِيهَا خَيْرٌ فَسَتَفْعَلُ وَلَا تَضْرِبْ ظَعِينَتَكَ كَضَرْبِكَ أُمَيَّتَكَ». فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَخْبِرْنِي عَنِ الْوُضُوءِ. قَالَ «أَسْبِغِ الْوُضُوءَ وَخَلِّلْ بَيْنَ الأَصَابِعِ وَبَالِغْ فِى الاِسْتِنْشَاقِ إِلاَّ أَنْ تَكُونَ صَائِمًا»
(1).
3 - عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رضي الله عنه، أَنَّ وَفْدَ ثَقِيفٍ سَأَلُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا: إِنَّ أَرْضَنَا أَرْضٌ بَارِدَةٌ فَكَيْفَ بِالْغُسْلِ؟ فَقَالَ: «أَمَّا أَنَا فَأُفْرِغُ عَلَى رَأْسِي ثَلَاثًا»
(2).
4 - عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي فَزَارَةَ إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: إِنَّ امْرَأَتِى وَلَدَتْ غُلَامًا أَسْوَدَ. فَقَالَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم: «هَلْ لَكَ مِنْ إِبِلٍ». قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: «فَمَا أَلْوَانُهَا». قَالَ: حُمْرٌ. قَالَ: «هَلْ فِيهَا مِنْ أَوْرَقَ». قَالَ: إِنَّ فِيهَا لَوُرْقًا. قَالَ: «فَأَنَّى أَتَاهَا ذَلِكَ». قَالَ: عَسَى أَنْ يَكُونَ نَزَعَهُ عِرْقٌ. قَالَ: «وَهَذَا عَسَى أَنْ يَكُونَ نَزَعَهُ عِرْقٌ»
(3).
--------------------------------------------
...একটি ছোট বকরি, আমরা তার পরিবর্তে একটি ছাগল জবেহ করেছি। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমার একজন স্ত্রী আছে যার জিহ্বায় সমস্যা আছে - অর্থাৎ সে কটুভাষী। তিনি বললেন: «তাহলে তাকে তালাক দিয়ে দাও»।
তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! দীর্ঘকাল তার সাথে আমার সাহচর্য রয়েছে এবং তার গর্ভে আমার সন্তান রয়েছে। তিনি বললেন: «তবে তাকে আদেশ করো - অর্থাৎ তাকে উপদেশ দাও - যদি তার মাঝে কোনো কল্যাণ থাকে তবে সে তা গ্রহণ করবে। আর তুমি তোমার স্ত্রীকে সেভাবে মেরো না যেভাবে তোমার দাসীকে প্রহার করো»। এরপর আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অযু সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: «পরিপূর্ণভাবে অযু করো, আঙুলসমূহের মাঝে খিলাল করো এবং নাকে পানি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আধিক্য করো, যদি না তুমি রোজা অবস্থায় থাকো»
(১)।
৩ - জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, সাকীফ গোত্রের এক প্রতিনিধি দল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রশ্ন করে বললেন: আমাদের এলাকা অত্যন্ত শীতল, এমতাবস্থায় আমরা কীভাবে গোসল করব? তিনি বললেন: «আমি তো নিজের মাথায় তিনবার পানি ঢালি»
(২)।
৪ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বনু ফাজারা গোত্রের এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: আমার স্ত্রী একটি কালো রঙের পুত্রসন্তান জন্ম দিয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «তোমার কি উট আছে?» সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «সেগুলোর রঙ কী?» সে বলল: লাল। তিনি বললেন: «সেগুলোর মধ্যে কি ধূসর রঙের কোনো উট আছে?» সে বলল: সেগুলোর মধ্যে ধূসর রঙের উটও রয়েছে। তিনি বললেন: «তা কোত্থেকে এলো?» সে বলল: সম্ভবত কোনো বংশীয় প্রভাবের (عِرْقٌ) কারণে এমন হয়েছে। তিনি বললেন: «এই সন্তানটিও সম্ভবত কোনো বংশীয় প্রভাবের (عِرْقٌ) কারণে এমন হয়েছে»
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৯২)
5 - عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه، أَنَّ رَجُلًا قَدِمَ مِنْ جَيْشَانَ، وَجَيْشَانُ مِنَ الْيَمَنِ، فَسَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ شَرَابٍ يَشْرَبُونَهُ بِأَرْضِهِمْ مِنَ الذُّرَةِ، يُقَالُ لَهُ: الْمِزْرُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَوَ مُسْكِرٌ هُوَ؟» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ، إِنَّ عَلَى اللهِ عز وجل عَهْدًا لِمَنْ يَشْرَبُ الْمُسْكِرَ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ طِينَةِ الْخَبَالِ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَمَا طِينَةُ الْخَبَالِ؟ قَالَ: «عَرَقُ أَهْلِ النَّارِ» أَوْ «عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ»
(1).
6 - عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ رضي الله عنها قَالَتْ: دَخَلَ أَعْرَابِيٌّ وفي رواية: أَنَّ رَجُلاً مِنْ بَنِى عَامِرِ بْنِ صَعْصَعَةَ عَلَى نَبِيِّ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ فِي بَيْتِي، فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللهِ، إِنِّي
كَانَتْ لِي امْرَأَةٌ، فَتَزَوَّجْتُ عَلَيْهَا أُخْرَى، فَزَعَمَتِ امْرَأَتِي الْأُولَى أَنَّهَا أَرْضَعَتِ امْرَأَتِي الْحُدْثَى رَضْعَةً أَوْ رَضْعَتَيْنِ، فَقَالَ نَبِيُّ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تُحَرِّمُ الْإِمْلَاجَةُ وَالْإِمْلَاجَتَانِ»
(2).
7 - عَنْ وَائِل بن حجر رضي الله عنه قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ حَضْرَمَوْتَ وَرَجُلٌ مِنْ كِنْدَةَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ الْحَضْرَمِيُّ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ هَذَا قَدْ غَلَبَنِي عَلَى أَرْضٍ لِي كَانَتْ لِأَبِي، فَقَالَ الْكِنْدِيُّ: هِيَ أَرْضِي فِي يَدِي أَزْرَعُهَا لَيْسَ لَهُ فِيهَا حَقٌّ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِلْحَضْرَمِيِّ: «أَلَكَ بَيِّنَةٌ؟» قَالَ: لَا، قَالَ: «فَلَكَ يَمِينُهُ»، قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ الرَّجُلَ فَاجِرٌ لَا يُبَالِي عَلَى مَا حَلَفَ عَلَيْهِ، وَلَيْسَ يَتَوَرَّعُ مِنْ شَيْءٍ، فَقَالَ: «لَيْسَ لَكَ مِنْهُ إِلَّا ذَلِكَ»، فَانْطَلَقَ لِيَحْلِفَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا أَدْبَرَ: «أَمَا لَئِنْ حَلَفَ عَلَى مَالِهِ لِيَأْكُلَهُ ظُلْمًا، لَيَلْقَيَنَّ اللهَ وَهُوَ عَنْهُ مُعْرِضٌ»
(3).
* * *
--------------------------------------------
5 - জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি ইয়েমেনের জাইশান থেকে আগমন করল—আর জাইশান ইয়েমেনের একটি এলাকা—অতঃপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের এলাকায় ভুট্টা থেকে তৈরি এক প্রকার পানীয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, যাকে 'মিজর' বলা হয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «এটি কি নেশাজাতীয়?» সে বলল: হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্য হারাম (حرام)। নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে সে ব্যক্তির জন্য প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করবে, তাকে তিনি 'ত্বিনাতুল খাবাল' পান করাবেন।» সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, 'ত্বিনাতুল খাবাল' কী? তিনি বললেন: «জাহান্নামীদের ঘাম» অথবা «জাহান্নামীদের দেহনিঃসৃত নির্যাস»
(1).
6 - উম্মুল ফজল রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি প্রবেশ করল—অন্য বর্ণনায়: বনু আমির বিন সা’সা’আ গোত্রের এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন, তখন তিনি আমার ঘরে ছিলেন। সে বলল: হে আল্লাহর নবী, আমি
একজনকে বিবাহ করেছিলাম, অতঃপর আমি তার ওপর অন্য একজনকে বিবাহ করি। তখন আমার প্রথমা স্ত্রী দাবি করল যে, সে আমার দ্বিতীয়া স্ত্রীকে একবার বা দুবার দুধপান করিয়েছে। তখন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «একবার বা দুবার চুষে দুধপান করা (বিবাহ) হারাম (حرام) করে না»
(2).
7 - ওয়াইল বিন হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হাজরামাউতের এক ব্যক্তি এবং কিনদাহ গোত্রের এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। তখন হাজরামি ব্যক্তিটি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, এই ব্যক্তিটি আমার একখণ্ড জমির ওপর আমাকে পরাভূত করে জবরদখল করেছে, যা আমার পিতার ছিল। তখন কিন্দি ব্যক্তিটি বলল: এটি আমার ভূমি যা আমার দখলেই রয়েছে, আমি এতে চাষাবাদ করি, এতে তার কোনো অধিকার নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরামি ব্যক্তিকে বললেন: «তোমার কি কোনো প্রমাণ (بينة) আছে?» সে বলল: না। তিনি বললেন: «তাহলে তোমার জন্য তার শপথ (يمين) রয়েছে»। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, লোকটি পাপিষ্ঠ (فاجر), সে কিসের ওপর শপথ করছে সে বিষয়ে কোনো পরোয়া করে না এবং কোনো কিছু থেকেই সে বিরত থাকে না। তিনি বললেন: «তার থেকে তোমার জন্য এটি ছাড়া আর কিছুই নেই»। অতঃপর সে শপথ করার জন্য উদ্যত হলো। যখন সে পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «জেনে রেখো, সে যদি তার সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার জন্য শপথ করে, তবে সে অবশ্যই আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার থেকে বিমুখ থাকবেন»
(3).
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
•
ثالثًا: رحلة بعض الصحابة في البحث عن الإسلام:
1 - رحلة سلمان الفارسي رضي الله عنه-:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ {قَالَ: حَدَّثَنِي سَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ حَدِيثَهُ مِنْ فِيهِ، قَالَ: كُنْتُ رَجُلًا فَارِسِيًّا مِنْ أَهْلِ أَصْبَهَانَ مِنْ أَهْلِ قَرْيَةٍ مِنْهَا يُقَالُ لَهَا: جَيٌّ، وَكَانَ أَبِي دِهْقَانَ قَرْيَتِهِ، وَكُنْتُ أَحَبَّ خَلْقِ اللهِ إِلَيْهِ، فَلَمْ يَزَلْ بِهِ حُبُّهُ إِيَّايَ حَتَّى حَبَسَنِي فِي بَيْتِهِ كَمَا تُحْبَسُ الْجَارِيَةُ، واَجْتهَدْتُ فِي الْمَجُوسِيَّةِ حَتَّى كُنْتُ قَطَنَ النَّارِ الَّذِي يُوقِدُهَا لَا يَتْرُكُهَا تَخْبُو سَاعَةً، قَالَ: وَكَانَتْ لِأَبِي ضَيْعَةٌ عَظِيمَةٌ.
قَالَ: فَشُغِلَ فِي بُنْيَانٍ لَهُ يَوْمًا، فَقَالَ لِي: يَا بُنَيَّ، إِنِّي قَدْ شُغِلْتُ فِي بُنْيَانٍ هَذَا الْيَوْمَ عَنْ ضَيْعَتِي، فَاذْهَبْ فَاطَّلِعْهَا، وَأَمَرَنِي فِيهَا بِبَعْضِ مَا يُرِيدُ، فَخَرَجْتُ أُرِيدُ ضَيْعَتَهُ، فَمَرَرْتُ بِكَنِيسَةٍ مِنْ كَنَائِسِ النَّصَارَى، فَسَمِعْتُ أَصْوَاتَهُمْ فِيهَا وَهُمْ يُصَلُّونَ، وَكُنْتُ لَا أَدْرِي مَا أَمْرُ النَّاسِ لِحَبْسِ أَبِي إِيَّايَ فِي بَيْتِهِ، فَلَمَّا مَرَرْتُ بِهِمْ، وَسَمِعْتُ أَصْوَاتَهُمْ، دَخَلْتُ عَلَيْهِمْ أَنْظُرُ مَا يَصْنَعُونَ.
قَالَ: فَلَمَّا رَأَيْتُهُمْ أَعْجَبَنِي صَلَاتُهُمْ، وَرَغِبْتُ فِي أَمْرِهِمْ، وَقُلْتُ: هَذَا وَاللهِ خَيْرٌ مِنَ الدِّينِ الَّذِي نَحْنُ عَلَيْهِ، فَوَاللهِ مَا تَرَكْتُهُمْ حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ، وَتَرَكْتُ ضَيْعَةَ أَبِي وَلَمْ آتِهَا، فَقُلْتُ لَهُمْ: أَيْنَ أَصْلُ هَذَا الدِّينِ؟
قَالُوا: بِالشَّامِ، قَالَ: ثُمَّ رَجَعْتُ إِلَى أَبِي، وَقَدْ بَعَثَ فِي طَلَبِي وَشَغَلْتُهُ عَنْ عَمَلِهِ كُلِّهِ، قَالَ: فَلَمَّا جِئْتُهُ، قَالَ: أَيْ بُنَيَّ، أَيْنَ كُنْتَ؟ أَلَمْ أَكُنْ عَهِدْتُ إِلَيْكَ مَا عَهِدْتُ؟ قَالَ: قُلْتُ: يَا أَبَتِ، مَرَرْتُ بِنَاسٍ يُصَلُّونَ فِي كَنِيسَةٍ لَهُمْ فَأَعْجَبَنِي مَا رَأَيْتُ مِنْ دِينِهِمْ، فَوَاللهِ مَازِلْتُ عِنْدَهُمْ حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ.
قَالَ: أَيْ بُنَيَّ، لَيْسَ فِي ذَلِكَ الدِّينِ خَيْرٌ، دِينُكَ وَدِينُ آبَائِكَ خَيْرٌ مِنْهُ، قَالَ: قُلْتُ: كَلَّا وَاللهِ إِنَّهُ لَخَيْرٌ مِنْ دِينِنَا، قَالَ: فَخَافَنِي، فَجَعَلَ فِي رِجْلَيَّ قَيْدًا، ثُمَّ
তৃতীয়ত: ইসলামের সন্ধানে কিছু সাহাবীর সফর:
১ - সালমান আল-ফারসি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সফর-:
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত {তিনি বলেন: সালমান আল-ফারসি তার কাহিনী (হাদিস) আমার কাছে নিজের মুখেই বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি ইসফাহান অঞ্চলের এক গ্রামের পারসিক লোক ছিলাম, গ্রামটির নাম ছিল 'জাই'। আমার পিতা ছিলেন সেই গ্রামের প্রধান। আমি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ছিলাম। আমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা এতই প্রবল ছিল যে, তিনি আমাকে ঘরে বন্দি করে রাখতেন যেভাবে দাসীদের বন্দি রাখা হয়। আমি অগ্নিপূজায় (মাজুসিয়্যাত) এতই কঠোর সাধনা করেছিলাম যে, আমি সেই আগুনের রক্ষক হয়ে গিয়েছিলাম যা সর্বদা জ্বালিয়ে রাখা হতো এবং এক মুহূর্তের জন্যও নিভতে দেওয়া হতো না। তিনি বলেন: আমার পিতার একটি বিশাল ভূসম্পত্তি ছিল।
তিনি বলেন: একদিন তিনি তাঁর এক নির্মাণকাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। তিনি আমাকে বললেন: হে প্রিয় বৎস, আজ আমি এই নির্মাণকাজের কারণে আমার ভূসম্পত্তির তদারকি করতে পারছি না, তাই তুমি সেখানে যাও এবং তার দেখাশোনা করো। সেখানে যা করণীয় সে ব্যাপারে তিনি আমাকে কিছু নির্দেশ দিলেন। আমি তাঁর ভূসম্পত্তির উদ্দেশ্যে বের হলাম। পথিমধ্যে আমি খ্রিস্টানদের গির্জাগুলোর একটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের প্রার্থনার আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমার পিতা আমাকে ঘরে বন্দি করে রাখার কারণে আমি মানুষের বাহ্যিক বিষয়াদি সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। যখন আমি তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম এবং তাদের আওয়াজ শুনতে পেলাম, তখন তারা কী করছে তা দেখার জন্য আমি তাদের কাছে প্রবেশ করলাম।
তিনি বলেন: আমি যখন তাদের দেখলাম, তাদের প্রার্থনা আমার কাছে চমৎকার লাগল এবং তাদের জীবনপদ্ধতির প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হলো। আমি বললাম: আল্লাহর শপথ, আমরা যে ধর্মের ওপর আছি এটি তার চেয়েও উত্তম। আল্লাহর শপথ, সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমি তাদের ছেড়ে আসিনি এবং আমার পিতার ভূসম্পত্তিতেও যাওয়া হয়নি। আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম: এই ধর্মের মূল উৎস কোথায়?
তারা বলল: শাম (সিরিয়া) দেশে। তিনি বলেন: তারপর আমি আমার পিতার কাছে ফিরে এলাম। এদিকে তিনি আমাকে খোঁজার জন্য লোক পাঠিয়েছিলেন এবং আমার কারণে তাঁর সমস্ত কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তিনি বলেন: যখন আমি তাঁর কাছে পৌঁছালাম, তিনি বললেন: হে প্রিয় বৎস, তুমি কোথায় ছিলে? আমি কি তোমাকে যা করার নির্দেশ দিয়েছিলাম তা করোনি? তিনি বলেন: আমি বললাম: হে প্রিয় পিতা, আমি এমন কিছু মানুষের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যারা তাদের একটি গির্জায় প্রার্থনা করছিল। তাদের ধর্মের যা কিছু আমি দেখলাম তা আমার খুব ভালো লেগেছে। আল্লাহর শপথ, আমি সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাদের কাছেই ছিলাম।
তিনি বললেন: হে প্রিয় বৎস, ওই ধর্মে কোনো কল্যাণ নেই; তোমার ও তোমার পিতৃপুরুষদের ধর্মই তার চেয়ে উত্তম। তিনি (সালমান) বলেন: আমি বললাম: কদাচ নয়, আল্লাহর শপথ, নিশ্চয়ই এটি আমাদের ধর্মের চেয়ে উত্তম। তিনি বলেন: তখন তিনি আমার ব্যাপারে শঙ্কিত হয়ে পড়লেন এবং আমার পায়ে বেড়ি পরিয়ে দিলেন, অতঃপর...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
حَبَسَنِي فِي بَيْتِهِ، قَالَ: وَبَعَثَتُ إِلَى النَّصَارَى فَقُلْتُ لَهُمْ: إِذَا قَدِمَ عَلَيْكُمْ رَكْبٌ مِنَ الشَّامِ تُجَّارٌ مِنَ النَّصَارَى فَأَخْبِرُونِي بِهِمْ، قَالَ: فَقَدِمَ عَلَيْهِمْ رَكْبٌ مِنَ الشَّامِ تُجَّارٌ مِنَ النَّصَارَى، قَالَ: فَأَخْبَرُونِي بِهِمْ.
قَالَ: فَقُلْتُ لَهُمْ: إِذَا قَضَوْا حَوَائِجَهُمْ وَأَرَادُوا الرَّجْعَةَ إِلَى بِلَادِهِمْ فَآذِنُونِي بِهِمْ، قَالَ: فَلَمَّا أَرَادُوا الرَّجْعَةَ إِلَى بِلَادِهِمْ أَخْبَرُونِي بِهِمْ، فَأَلْقَيْتُ الْحَدِيدَ مِنْ رِجْلَيَّ، ثُمَّ خَرَجْتُ مَعَهُمْ حَتَّى قَدِمْتُ الشَّامَ، فَلَمَّا قَدِمْتُهَا، قُلْتُ: مَنْ أَفْضَلُ أَهْلِ هَذَا الدِّينِ؟ قَالُوا: الْأَسْقُفُّ فِي الْكَنِيسَةِ، قَالَ: فَجِئْتُهُ، فَقُلْتُ: إِنِّي قَدْ رَغِبْتُ فِي هَذَا الدِّينِ، وَأَحْبَبْتُ أَنْ أَكُونَ مَعَكَ أَخْدُمُكَ فِي كَنِيسَتِكَ، وَأَتَعَلَّمُ مِنْكَ وَأُصَلِّي مَعَكَ، قَالَ: فَادْخُلْ فَدَخَلْتُ مَعَهُ، قَالَ: فَكَانَ رَجُلَ سَوْءٍ يَأْمُرُهُمْ بِالصَّدَقَةِ وَيُرَغِّبُهُمْ فِيهَا، فَإِذَا جَمَعُوا إِلَيْهِ مِنْهَا أَشْيَاءَ، اكْتَنَزَهُ لِنَفْسِهِ، وَلَمْ يُعْطِهِ الْمَسَاكِينَ، حَتَّى جَمَعَ سَبْعَ قِلَالٍ مِنْ ذَهَبٍ وَوَرِقٍ.
قَالَ: وَأَبْغَضْتُهُ بُغْضًا شَدِيدًا لِمَا رَأَيْتُهُ يَصْنَعُ، ثُمَّ مَاتَ، فَاجْتَمَعَتْ إِلَيْهِ النَّصَارَى لِيَدْفِنُوهُ، فَقُلْتُ لَهُمْ: إِنَّ هَذَا كَانَ رَجُلَ سَوْءٍ يَأْمُرُكُمْ بِالصَّدَقَةِ وَيُرَغِّبُكُمْ فِيهَا فَإِذَا جِئْتُمُوهُ بِهَا اكْتَنَزَهَا لِنَفْسِهِ، وَلَمْ يُعْطِ الْمَسَاكِينَ مِنْهَا شَيْئًا، قَالُوا: وَمَا عِلْمُكَ بِذَلِكَ؟ قَالَ: قُلْتُ أَنَا أَدُلُّكُمْ عَلَى كَنْزِهِ، قَالُوا: فَدُلَّنَا عَلَيْهِ، قَالَ: فَأَرَيْتُهُمْ مَوْضِعَهُ، قَالَ: فَاسْتَخْرَجُوا مِنْهُ سَبْعَ قِلَالٍ مَمْلُوءَةٍ ذَهَبًا وَوَرِقًا، قَالَ: فَلَمَّا رَأَوْهَا قَالُوا: وَاللهِ لَا نَدْفِنُهُ أَبَدًا، فَصَلَبُوهُ، ثُمَّ رَجَمُوهُ بِالْحِجَارَةِ، ثُمَّ جَاءُوا بِرَجُلٍ آخَرَ، فَجَعَلُوهُ بِمَكَانِهِ.
قَالَ: يَقُولُ سَلْمَانُ رضي الله عنه: فَمَا رَأَيْتُ رَجُلًا لَا يُصَلِّي الْخَمْسَ، أَرَى أَنَّهُ أَفْضَلُ مِنْهُ، أَزْهَدُ فِي الدُّنْيَا، وَلَا أَرْغَبُ فِي الْآخِرَةِ، وَلَا أَدْأَبُ لَيْلًا وَنَهَارًا مِنْهُ، قَالَ: فَأَحْبَبْتُهُ حُبًّا لَمْ أُحِبَّهُ مَنْ قَبْلَهُ، فَأَقَمْتُ مَعَهُ زَمَانًا، ثُمَّ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ، فَقُلْتُ لَهُ: يَا فُلَانُ إِنِّي كُنْتُ مَعَكَ وَأَحْبَبْتُكَ حُبًّا لَمْ أُحِبَّهُ مَنْ قَبْلَكَ وَقَدْ حَضَرَكَ مَا تَرَى مِنْ
তিনি আমাকে তার বাড়িতে বন্দি করে রাখলেন। তিনি (সালমান) বললেন: আর আমি খ্রিস্টানদের কাছে লোক পাঠালাম এবং তাদের বললাম: যখন সিরিয়া থেকে তোমাদের কাছে কোনো খ্রিস্টান বণিক কাফেলা আসবে, তখন তোমরা আমাকে সংবাদ দিও। তিনি বললেন: অতঃপর সিরিয়া থেকে একটি খ্রিস্টান বণিক কাফেলা তাদের কাছে এল। তিনি বললেন: তখন তারা আমাকে সংবাদ দিল।
তিনি বললেন: অতঃপর আমি তাদের বললাম: যখন তারা তাদের প্রয়োজন পূরণ করবে এবং নিজেদের দেশে ফেরার ইচ্ছা করবে, তখন আমাকে জানিয়ে দিও। তিনি বললেন: যখন তারা নিজেদের দেশে ফেরার ইচ্ছা করল, তখন তারা আমাকে সংবাদ দিল। তখন আমি আমার পা থেকে লোহার বেড়ি খুলে ফেললাম এবং তাদের সাথে বেরিয়ে পড়লাম, শেষ পর্যন্ত আমি সিরিয়ায় পৌঁছালাম। যখন আমি সেখানে পৌঁছালাম, আমি বললাম: এই ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি কে? তারা বলল: গির্জার বিশপ। তিনি বললেন: অতঃপর আমি তার কাছে গেলাম এবং বললাম: আমি এই ধর্মের প্রতি অনুরাগী হয়েছি এবং আমি আপনার সান্নিধ্যে থাকতে চাই যাতে আপনার গির্জায় আপনার সেবা করতে পারি এবং আপনার নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারি ও আপনার সাথে প্রার্থনা করতে পারি। তিনি বললেন: তবে ভেতরে প্রবেশ কর। ফলে আমি তার সাথে প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন: সে ব্যক্তি ছিল অত্যন্ত মন্দ; সে তাদেরকে সদকা করার আদেশ দিত এবং এর প্রতি উৎসাহিত করত, কিন্তু যখন তারা তার কাছে প্রচুর সম্পদ জমা করত, তখন সে তা নিজের জন্য পুঞ্জীভূত করে রাখত এবং অভাবীদের তা প্রদান করত না। এমনকি সে সোনা ও রূপার সাতটি বড় কলসি পূর্ণ করে ফেলল।
তিনি বললেন: তার এই কর্মকাণ্ড দেখে আমি তাকে তীব্রভাবে ঘৃণা করতে লাগলাম। অতঃপর সে মারা গেল এবং খ্রিস্টানরা তাকে দাফন করার জন্য সমবেত হলো। তখন আমি তাদের বললাম: নিশ্চয়ই এ ছিল এক মন্দ লোক; সে আপনাদের সদকা করার আদেশ দিত এবং এর প্রতি উৎসাহিত করত, কিন্তু যখন আপনারা তার কাছে তা নিয়ে আসতেন, তখন সে তা নিজের জন্য পুঞ্জীভূত করে রাখত এবং অভাবীদের কিছুই দিত না। তারা বলল: আপনি এটি কীভাবে জানলেন? তিনি বললেন: আমি বললাম যে, আমি আপনাদের তার গুপ্তধনের সন্ধান দিতে পারি। তারা বলল: তবে আমাদের তার সন্ধান দিন। তিনি বললেন: আমি তাদের জায়গাটি দেখিয়ে দিলাম। তিনি বললেন: অতঃপর তারা সেখান থেকে সোনা ও রূপা ভর্তি সাতটি বড় কলসি বের করল। তিনি বললেন: যখন তারা সেটি দেখল, তখন তারা বলল: আল্লাহর কসম, আমরা একে কখনোই দাফন করব না। এরপর তারা তাকে ক্রুশবিদ্ধ করল এবং পাথর নিক্ষেপ করল। অতঃপর তারা অন্য একজনকে নিয়ে এল এবং তাকে তার স্থলাভিষিক্ত করল।
তিনি বলেন: সালমান (রা.) বলতেন: আমি এমন কোনো ব্যক্তি যে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে না (অর্থাৎ অমুসলিমদের মধ্যে), তাকে তার অপেক্ষা অধিক শ্রেষ্ঠ, দুনিয়াবিমুখ, পরকালের প্রতি অধিক আগ্রহী এবং দিন-রাত ইবাদতে তার চেয়ে বেশি পরিশ্রমী আর কাউকে দেখিনি। তিনি বললেন: ফলে আমি তাকে এমনভাবে ভালোবাসলাম যা ইতিপূর্বে আর কাউকে বাসিনি। আমি তার সাথে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলাম। অতঃপর যখন তার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন আমি তাকে বললাম: হে অমুক! আমি আপনার সাথে ছিলাম এবং আপনাকে এমনভাবে ভালোবেসেছি যা এর আগে কাউকে বাসিনি, আর এখন আপনার সামনে যা উপস্থিত হয়েছে তা আপনি দেখতেই পাচ্ছেন...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
أَمْرِ اللهِ، فَإِلَى مَنْ تُوصِي بِي، وَمَا تَأْمُرُنِي؟ قَالَ: أَيْ بُنَيَّ وَاللهِ مَا أَعْلَمُ أَحَدًا الْيَوْمَ عَلَى مَا كُنْتُ عَلَيْهِ، لَقَدْ هَلَكَ النَّاسُ وَبَدَّلُوا وَتَرَكُوا أَكْثَرَ مَا كَانُوا عَلَيْهِ، إِلَّا رَجُلًا بِالْمَوْصِلِ، وَهُوَ فُلَانٌ، فَهُوَ عَلَى مَا كُنْتُ عَلَيْهِ، فَالْحَقْ بِهِ، قَالَ: فَلَمَّا مَاتَ وَغَيَّبَ، لَحِقْتُ بِصَاحِبِ الْمَوْصِلِ، فَقُلْتُ لَهُ: يَا فُلَانُ، إِنَّ فُلَانًا أَوْصَانِي عِنْدَ مَوْتِهِ أَنْ أَلْحَقَ بِكَ، وَأَخْبَرَنِي أَنَّكَ عَلَى أَمْرِهِ، قَالَ: فَقَالَ لِي: أَقِمْ عِنْدِي فَأَقَمْتُ عِنْدَهُ، فَوَجَدْتُهُ خَيْرَ رَجُلٍ عَلَى أَمْرِ صَاحِبِهِ، فَلَمْ يَلْبَثْ أَنْ مَاتَ، فَلَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ، قُلْتُ لَهُ: يَا فُلَانُ، إِنَّ فُلَانًا أَوْصَى بِي إِلَيْكَ، وَأَمَرَنِي بِاللُّحُوقِ بِكَ، وَقَدْ حَضَرَكَ مِنَ اللهِ عز وجل مَا تَرَى، فَإِلَى مَنْ تُوصِي بِي، وَمَا تَأْمُرُنِي؟
قَالَ: أَيْ بُنَيَّ، وَاللهِ مَا أَعْلَمُ رَجُلًا عَلَى مِثْلِ مَا كُنَّا عَلَيْهِ إِلَّا بِنَصِيبِينَ، وَهُوَ فُلَانٌ، فَالْحَقْ بِهِ، قَالَ: فَلَمَّا مَاتَ وَغَيَّبَ لَحِقْتُ بِصَاحِبِ نَصِيبِينَ، فَجِئْتُهُ فَأَخْبَرْتُهُ خَبَرِي، وَمَا أَمَرَنِي بِهِ صَاحِبِي، قَالَ: فَأَقِمْ عِنْدِي، فَأَقَمْتُ عِنْدَهُ، فَوَجَدْتُهُ عَلَى أَمْرِ صَاحِبَيْهِ، فَأَقَمْتُ مَعَ خَيْرِ رَجُلٍ، فَوَاللهِ مَا لَبِثَ أَنْ نَزَلَ بِهِ الْمَوْتُ، فَلَمَّا حَضَرَ، قُلْتُ لَهُ: يَا فُلَانُ، إِنَّ فُلَانًا كَانَ أَوْصَى بِي إِلَى فُلَانٍ، ثُمَّ أَوْصَى بِي فُلَانٌ إِلَيْكَ، فَإِلَى مَنْ تُوصِي بِي، وَمَا تَأْمُرُنِي؟ قَالَ: أَيْ بُنَيَّ، وَاللهِ مَا نَعْلَمُ أَحَدًا بَقِيَ عَلَى أَمْرِنَا آمُرُكَ أَنْ تَأْتِيَهُ إِلَّا رَجُلًا بِعَمُّورِيَّةَ، فَإِنَّهُ عَلَى مِثْلِ مَا نَحْنُ عَلَيْهِ، فَإِنْ أَحْبَبْتَ فَأْتِهِ، قَالَ: فَإِنَّهُ عَلَى أَمْرِنَا.
قَالَ: فَلَمَّا مَاتَ وَغَيَّبَ لَحِقْتُ بِصَاحِبِ عَمُّورِيَّةَ، وَأَخْبَرْتُهُ خَبَرِي، فَقَالَ: أَقِمْ عِنْدِي، فَأَقَمْتُ مَعَ رَجُلٍ عَلَى هَدْيِ أَصْحَابِهِ وَأَمْرِهِمْ، قَالَ: وَاكْتَسَبْتُ حَتَّى كَانَ لِي بَقَرَاتٌ وَغُنَيْمَةٌ.
قَالَ: ثُمَّ نَزَلَ بِهِ أَمْرُ اللهِ، فَلَمَّا حَضَرَ قُلْتُ لَهُ: يَا فُلَانُ، إِنِّي كُنْتُ مَعَ فُلَانٍ، فَأَوْصَى بِي فُلَانٌ إِلَى فُلَانٍ، وَأَوْصَى بِي فُلَانٌ إِلَى فُلَانٍ، ثُمَّ أَوْصَى بِي فُلَانٌ إِلَيْكَ، فَإِلَى مَنْ تُوصِي بِي، وَمَا تَأْمُرُنِي؟ قَالَ: أَيْ بُنَيَّ، وَاللهِ مَا أَعْلَمُهُ أَصْبَحَ عَلَى مَا كُنَّا
আল্লাহর ফয়সালা (মৃত্যু) নিকটবর্তী, এমতাবস্থায় আপনি আমার জন্য কার কাছে অসিয়ত করবেন এবং আমাকে কী আদেশ দেবেন? তিনি বললেন: হে প্রিয় বৎস! আল্লাহর কসম, আজ আমি এমন কাউকে জানি না যে সেই আদর্শের ওপর অটল আছে যার ওপর আমি ছিলাম। মানুষ তো ধ্বংস হয়ে গেছে, তারা সত্য পথ পরিবর্তন করেছে এবং তারা যার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল তার অধিকাংশ বর্জন করেছে। তবে মসুলের এক ব্যক্তি ব্যতীত; তিনি হলেন অমুক। তিনি আমার আদর্শের ওপরই আছেন, সুতরাং তুমি তাঁর সাথে মিলিত হও। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: অতঃপর যখন তিনি মৃত্যুবরণ করলেন এবং তাঁকে সমাহিত করা হলো, আমি মসুলের সেই ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করলাম। আমি তাঁকে বললাম: হে অমুক, অমুক ব্যক্তি তাঁর মৃত্যুর সময় আমার ব্যাপারে আপনার নিকট অসিয়ত করেছিলেন এবং আমাকে জানিয়েছিলেন যে আপনি তাঁর আদর্শের ওপর অবিচল আছেন। তিনি আমাকে বললেন: তুমি আমার নিকট অবস্থান করো। ফলে আমি তাঁর নিকট অবস্থান করলাম এবং তাঁকে তাঁর সঙ্গীর আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত এক শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পেলাম। অতঃপর অচিরেই তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। যখন তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, আমি তাঁকে বললাম: হে অমুক, অমুক ব্যক্তি আমার ব্যাপারে আপনার কাছে অসিয়ত করেছিলেন এবং আমাকে আপনার সাথে যুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এখন আপনার নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই অবধারিত বিষয়টি উপস্থিত হয়েছে যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন। এমতাবস্থায় আপনি আমার জন্য কার কাছে অসিয়ত করবেন এবং আমাকে কী আদেশ দেবেন?
তিনি বললেন: হে প্রিয় বৎস! আল্লাহর কসম, আজ আমি নাসিবিনের এক ব্যক্তি ছাড়া আর কাউকে জানি না যে আমাদের এই আদর্শের ওপর অটল আছে। তিনি হলেন অমুক, তুমি তাঁর সাথে গিয়ে দেখা করো। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: অতঃপর যখন তিনি মারা গেলেন এবং তাঁকে সমাহিত করা হলো, আমি নাসিবিনের সেই ব্যক্তির কাছে গেলাম। আমি তাঁকে আমার সংবাদ (خبر) এবং আমার সাথী আমাকে যা নির্দেশ দিয়েছিলেন তা জানালাম। তিনি বললেন: তুমি আমার কাছেই থাকো। আমি তাঁর কাছে থাকলাম এবং তাঁকে তাঁর পূর্ববর্তী দুই সঙ্গীর আদর্শের ওপরই অবিচল পেলাম। আমি এক শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সান্নিধ্যে অবস্থান করলাম। আল্লাহর কসম, এরপর অল্প সময় পার হতেই তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলো। যখন তাঁর অন্তিম সময় ঘনিয়ে এলো, আমি তাঁকে বললাম: হে অমুক, অমুক ব্যক্তি অমুকের নিকট আমার ব্যাপারে অসিয়ত করেছিলেন, এরপর সেই ব্যক্তি আপনার নিকট আমার অসিয়ত করেছিলেন। এখন আপনি কার কাছে আমার অসিয়ত করবেন এবং আমাকে কী নির্দেশ দেবেন? তিনি বললেন: হে প্রিয় বৎস! আল্লাহর কসম, আম্মুরিয়ার এক ব্যক্তি ছাড়া আর কাউকে আমাদের জানা নেই যিনি আমাদের এই আদর্শের ওপর অবশিষ্ট আছেন যার কাছে যাওয়ার নির্দেশ আমি তোমাকে দিতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি আমাদের মতাদর্শের ওপরই আছেন। যদি তুমি পছন্দ করো তবে তাঁর কাছে যেতে পারো; কেননা তিনি আমাদের আদর্শের ওপরই অটল আছেন।
তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: অতঃপর যখন তিনি মৃত্যুবরণ করলেন এবং তাঁকে সমাহিত করা হলো, আমি আম্মুরিয়ার সেই ব্যক্তির নিকট পৌঁছালাম এবং তাঁকে আমার সংবাদ (خبر) অবহিত করলাম। তিনি বললেন: আমার কাছেই থাকো। আমি এমন এক ব্যক্তির সাথে অবস্থান করলাম যিনি তাঁর সঙ্গীদের হেদায়েত ও আদর্শের ওপর অটল ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমি সেখানে জীবিকা অর্জন শুরু করলাম, এমনকি আমার কিছু গাভী ও ছোট একপাল বকরি অর্জিত হলো।
তিনি বললেন: অতঃপর তাঁর ওপর আল্লাহর নির্দেশ (মৃত্যু) অবতীর্ণ হলো। যখন তাঁর অন্তিম মুহূর্ত উপস্থিত হলো, আমি তাঁকে বললাম: হে অমুক, আমি অমুকের সাথে ছিলাম, তিনি আমার ব্যাপারে অমুকের কাছে অসিয়ত করেছিলেন, এরপর তিনি অমুকের কাছে, তারপর সেই ব্যক্তি আপনার কাছে আমার ব্যাপারে অসিয়ত করেছিলেন। এখন আপনি আমার জন্য কার কাছে অসিয়ত করবেন এবং আমাকে কী নির্দেশ দেবেন? তিনি বললেন: হে প্রিয় বৎস! আল্লাহর কসম, আমি আজ এমন কাউকে জানি না যে আমরা যে বিষয়ের ওপর ছিলাম তার ওপর অটল আছে...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
عَلَيْهِ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ آمُرُكَ أَنْ تَأْتِيَهُ، وَلَكِنَّهُ قَدْ أَظَلَّكَ زَمَانُ نَبِيٍّ هُوَ مَبْعُوثٌ بِدِينِ إِبْرَاهِيمَ يَخْرُجُ بِأَرْضِ الْعَرَبِ، مُهَاجِرًا إِلَى أَرْضٍ بَيْنَ حَرَّتَيْنِ بَيْنَهُمَا نَخْلٌ، بِهِ عَلَامَاتٌ لَا تَخْفَى: يَأْكُلُ الْهَدِيَّةَ، وَلَا يَأْكُلُ الصَّدَقَةَ، بَيْنَ كَتِفَيْهِ خَاتَمُ النُّبُوَّةِ، فَإِنْ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَلْحَقَ بِتِلْكَ الْبِلَادِ فَافْعَلْ.
قَالَ: ثُمَّ مَاتَ وَغَيَّبَ، فَمَكَثْتُ بِعَمُّورِيَّةَ مَا شَاءَ اللهُ أَنْ أَمْكُثَ، ثُمَّ مَرَّ بِي نَفَرٌ مِنْ كَلْبٍ تُجَّارًا، فَقُلْتُ لَهُمْ: تَحْمِلُونِي إِلَى أَرْضِ الْعَرَبِ، وَأُعْطِيكُمْ بَقَرَاتِي هَذِهِ وَغُنَيْمَتِي هَذِهِ؟ قَالُوا: نَعَمْ فَأَعْطَيْتُهُمُوهَا وَحَمَلُونِي، حَتَّى إِذَا قَدِمُوا بِي وَادِي الْقُرَى ظَلَمُونِي فَبَاعُونِي مِنْ رَجُلٍ مِنْ يَهُودَ عَبْدًا، فَكُنْتُ عِنْدَهُ، وَرَأَيْتُ النَّخْلَ، وَرَجَوْتُ أَنْ تَكُونَ الْبَلَدَ الَّذِي وَصَفَ لِي صَاحِبِي، وَلَمْ يَحِقْ لِي فِي نَفْسِي، فَبَيْنَمَا أَنَا عِنْدَهُ، قَدِمَ عَلَيْهِ ابْنُ عَمٍّ لَهُ مِنَ الْمَدِينَةِ مِنْ بَنِي قُرَيْظَةَ فَابْتَاعَنِي مِنْهُ، فَاحْتَمَلَنِي إِلَى الْمَدِينَةِ، فَوَاللهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُهَا فَعَرَفْتُهَا بِصِفَةِ صَاحِبِي، فَأَقَمْتُ بِهَا، وَبَعَثَ اللهُ رَسُولَهُ، فَأَقَامَ بِمَكَّةَ مَا أَقَامَ لَا أَسْمَعُ لَهُ بِذِكْرٍ مَعَ مَا أَنَا فِيهِ مِنْ شُغْلِ الرِّقِّ.
ثُمَّ هَاجَرَ إِلَى الْمَدِينَةِ، فَوَاللهِ إِنِّي لَفِي رَأْسِ عَذْقٍ لِسَيِّدِي أَعْمَلُ فِيهِ بَعْضَ الْعَمَلِ، وَسَيِّدِي جَالِسٌ، إِذْ أَقْبَلَ ابْنُ عَمٍّ لَهُ حَتَّى وَقَفَ عَلَيْهِ، فَقَالَ: فُلَانُ، قَاتَلَ اللهُ بَنِي قَيْلَةَ، وَاللهِ إِنَّهُمُ الْآنَ لَمُجْتَمِعُونَ بِقُبَاءَ عَلَى رَجُلٍ قَدِمَ عَلَيْهِمْ مِنْ مَكَّةَ الْيَوْمَ، يَزْعُمُونَ أَنَّهُ نَبِيٌّ، قَالَ: فَلَمَّا سَمِعْتُهَا أَخَذَتْنِي الْعُرَوَاءُ، حَتَّى ظَنَنْتُ سَأَسْقُطُ عَلَى سَيِّدِي.
قَالَ: وَنَزَلْتُ عَنِ النَّخْلَةِ، فَجَعَلْتُ أَقُولُ لِابْنِ عَمِّهِ ذَلِكَ: مَاذَا تَقُولُ؟ مَاذَا تَقُولُ؟ قَالَ: فَغَضِبَ سَيِّدِي فَلَكَمَنِي لَكْمَةً شَدِيدَةً، ثُمَّ قَالَ: مَا لَكَ وَلِهَذَا أَقْبِلْ عَلَى عَمَلِكَ، قَالَ: قُلْتُ: لَا شَيْءَ، إِنَّمَا أَرَدْتُ أَنْ أَسْتَثْبِتَهُ عَمَّا قَالَ: وَقَدْ كَانَ عِنْدِي شَيْءٌ قَدْ جَمَعْتُهُ، فَلَمَّا أَمْسَيْتُ أَخَذْتُهُ ثُمَّ ذَهَبْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بِقُبَاءَ، فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ، فَقُلْتُ لَهُ: إِنَّهُ قَدْ بَلَغَنِي أَنَّكَ رَجُلٌ صَالِحٌ، وَمَعَكَ أَصْحَابٌ لَكَ
তাঁর (সেই পাদ্রীর) জানামতে মানুষের মধ্যে এমন কেউ অবশিষ্ট নেই যার নিকট যাওয়ার জন্য আমি আপনাকে নির্দেশ দিতে পারি। তবে আপনার ওপর এমন এক নবীর আগমনের সময় ঘনিয়ে এসেছে যিনি ইব্রাহিম (আ.)-এর ধর্মাদর্শ নিয়ে প্রেরিত হবেন। তিনি আরব ভূখণ্ড থেকে আবির্ভূত হবেন এবং এমন এক ভূমিতে হিজরত করবেন যা দুই পাহাড়বেষ্টিত প্রস্তরময় অঞ্চলের মধ্যবর্তী এবং সেখানে প্রচুর খেজুর বাগান রয়েছে। তাঁর মধ্যে এমন কিছু নিদর্শন থাকবে যা গোপন থাকবে না: তিনি উপহার গ্রহণ করবেন কিন্তু দান বা সাদাকা ভক্ষণ করবেন না, তাঁর দুই কাঁধের মধ্যস্থলে নবুওয়তের মোহর থাকবে। আপনি যদি সেই ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম হন, তবে তা করবেন।
সালমান (রা.) বললেন: তারপর তিনি ইন্তেকাল করলেন এবং তাঁকে সমাহিত করা হলো। আমি আম্মুরিয়াহ অঞ্চলে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কিছুদিন অবস্থান করলাম। এরপর বনু কালব গোত্রের একদল বণিক আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, আমি তাঁদের বললাম: আপনারা কি আমাকে আরব ভূখণ্ডে নিয়ে যাবেন? বিনিময়ে আমি আপনাদের আমার এই গাভীগুলো এবং এই ছাগলগুলো দিয়ে দেব। তাঁরা বললেন: হ্যাঁ, আমরা রাজি। অতঃপর আমি তাঁদের সেগুলো দিয়ে দিলাম এবং তাঁরা আমাকে সঙ্গে নিলেন। কিন্তু যখন তাঁরা আমাকে নিয়ে ওয়াদিউল কুরা নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন তাঁরা আমার প্রতি জুলুম করলেন এবং এক ইহুদি ব্যক্তির নিকট দাস হিসেবে আমাকে বিক্রি করে দিলেন। আমি তাঁর অধীনে থাকলাম এবং খেজুর বাগান দেখতে পেলাম। আমি আশা পোষণ করলাম যে এটিই সেই শহর হতে পারে যার বর্ণনা আমার সাথী আমাকে দিয়েছিলেন, কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে আমি মনে মনে নিশ্চিত হতে পারছিলাম না। এমতাবস্থায় বনু কুরাইজা গোত্রের মদিনাবাসী এক ব্যক্তি, যিনি তাঁর (মালিকের) চাচাতো ভাই ছিলেন, তাঁর নিকট আসলেন এবং আমাকে ক্রয় করে নিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে মদিনায় নিয়ে গেলেন। আল্লাহর কসম! শহরটি দেখার সাথে সাথেই আমার সাথীর বর্ণনা অনুযায়ী আমি তা চিনে ফেললাম। আমি সেখানে অবস্থান করতে লাগলাম। ইতোমধ্যে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে প্রেরণ করলেন। তিনি মক্কায় যতদিন অবস্থান করার করলেন, কিন্তু দাসত্বের ব্যস্ততার কারণে আমি তাঁর সম্পর্কে কোনো সংবাদ শুনতে পাইনি।
এরপর তিনি মদিনায় হিজরত করলেন। আল্লাহর কসম! আমি তখন আমার মালিকের একটি খেজুর গাছের মাথায় কাজ করছিলাম এবং আমার মালিক নিচে বসে ছিলেন। এমন সময় তাঁর এক চাচাতো ভাই আসলেন এবং তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বললেন: ওহে অমুক! আল্লাহ বনু কায়লাদের ধ্বংস করুন! আল্লাহর কসম, তারা এখন মক্কা থেকে আজ আগত এক ব্যক্তির নিকট কুবায় একত্রিত হয়েছে, তারা দাবি করছে যে তিনি একজন নবী। সালমান (রা.) বলেন: যখন আমি এ কথা শুনলাম, তখন আমার ওপর এক প্রবল কম্পন সওয়ার হলো, এমনকি আমার আশঙ্কা হচ্ছিল যে আমি বোধহয় আমার মালিকের ওপর পড়ে যাব।
তিনি বললেন: আমি খেজুর গাছ থেকে নেমে আসলাম এবং তাঁর সেই চাচাতো ভাইকে বলতে লাগলাম: আপনি কী বলছেন? আপনি কী বলছেন? এতে আমার মালিক অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন এবং আমাকে সজোরে এক ঘুষি মারলেন। অতঃপর বললেন: তোমার এ নিয়ে কী কাজ? তুমি তোমার কাজে মন দাও। সালমান (রা.) বলেন: আমি বললাম: কিছুই না, তিনি যা বললেন আমি কেবল তা নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম। আমার নিকট সঞ্চিত কিছু খাবার ছিল। যখন সন্ধ্যা হলো, আমি তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট গেলাম যখন তিনি কুবায় অবস্থান করছিলেন। আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করে বললাম: আমি সংবাদ পেয়েছি যে আপনি একজন সৎ (صالح) ব্যক্তি এবং আপনার সাথে আপনার কিছু সঙ্গী (أصحاب) রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
غُرَبَاءُ ذَوُو حَاجَةٍ، وَهَذَا شَيْءٌ كَانَ عِنْدِي لِلصَّدَقَةِ، فَرَأَيْتُكُمْ أَحَقَّ بِهِ مِنْ غَيْرِكُمْ قَالَ: فَقَرَّبْتُهُ إِلَيْهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِأَصْحَابِهِ: «كُلُوا» وَأَمْسَكَ يَدَهُ فَلَمْ يَأْكُلْ.
قَالَ: فَقُلْتُ فِي نَفْسِي: هَذِهِ وَاحِدَةٌ، ثُمَّ انْصَرَفْتُ عَنْهُ فَجَمَعْتُ شَيْئًا، وَتَحَوَّلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَدِينَةِ، ثُمَّ جِئْتُهُ بِهِ، فَقُلْتُ: إِنِّي رَأَيْتُكَ لَا تَأْكُلُ الصَّدَقَةَ، وَهَذِهِ هَدِيَّةٌ أَكْرَمْتُكَ بِهَا، قَالَ: فَأَكَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا وَأَمَرَ أَصْحَابَهُ فَأَكَلُوا مَعَهُ، قَالَ: فَقُلْتُ فِي نَفْسِي: هَاتَانِ اثْنَتَانِ، قَالَ: ثُمَّ جِئْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بِبَقِيعِ الْغَرْقَدِ، قَالَ: وَقَدْ تَبِعَ جَنَازَةً مِنْ أَصْحَابِهِ، عَلَيْهِ شَمْلَتَانِ لَهُ، وَهُوَ جَالِسٌ فِي أَصْحَابِهِ، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، ثُمَّ اسْتَدَرْتُ أَنْظُرُ إِلَى ظَهْرِهِ، هَلْ أَرَى الْخَاتَمَ الَّذِي وَصَفَ لِي صَاحِبِي؟ فَلَمَّا رَآنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَدَبَرْتُهُ، عَرَفَ أَنِّي أَسْتَثْبِتُ فِي شَيْءٍ وُصِفَ لِي.
قَالَ: فَأَلْقَى رِدَاءَهُ عَنْ ظَهْرِهِ، فَنَظَرْتُ إِلَى الْخَاتَمِ فَعَرَفْتُهُ، فَانْكَبَبْتُ عَلَيْهِ أُقَبِّلُهُ وَأَبْكِي، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «تَحَوَّلْ» فَتَحَوَّلْتُ، فَقَصَصْتُ عَلَيْهِ حَدِيثِي كَمَا حَدَّثْتُكَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ: فَأَعْجَبَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَسْمَعَ ذَلِكَ أَصْحَابُهُ، ثُمَّ شَغَلَ سَلْمَانَ الرِّقُّ حَتَّى فَاتَهُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَدْرٌ، وَأُحُدٌ، قَالَ: ثُمَّ قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «كَاتِبْ يَا سَلْمَانُ» فَكَاتَبْتُ صَاحِبِي عَلَى ثَلَاثِ مِائَةِ نَخْلَةٍ أُحْيِيهَا لَهُ بِالْفَقِيرِ، وَبِأَرْبَعِينَ أُوقِيَّةً، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِأَصْحَابِهِ: «أَعِينُوا أَخَاكُمْ» فَأَعَانُونِي بِالنَّخْلِ: الرَّجُلُ بِثَلَاثِينَ وَدِيَّةً، وَالرَّجُلُ بِعِشْرِينَ، وَالرَّجُلُ بِخَمْسَ عَشْرَةَ، وَالرَّجُلُ بِعَشْرٍ، يَعْنِي: الرَّجُلُ بِقَدْرِ مَا عِنْدَهُ، حَتَّى اجْتَمَعَتْ لِي ثَلَاثُ مِائَةِ وَدِيَّةٍ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «اذْهَبْ يَا سَلْمَانُ فَفَقِّرْ لَهَا، فَإِذَا فَرَغْتَ فَأْتِنِي أَكُونُ أَنَا أَضَعُهَا بِيَدَيَّ».
قَالَ: فَفَقَّرْتُ لَهَا، وَأَعَانَنِي أَصْحَابِي، حَتَّى إِذَا فَرَغْتُ مِنْهَا جِئْتُهُ فَأَخْبَرْتُهُ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَعِي إِلَيْهَا فَجَعَلْنَا نُقَرِّبُ لَهُ الْوَدِيَّ وَيَضَعُهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم
তারা ছিলেন অভাবগ্রস্ত মুসাফির, আর এটি এমন কিছু যা আমার নিকট সদকা (الصدقة) হিসেবে ছিল। আমি মনে করলাম যে অন্যদের তুলনায় আপনারাই এর অধিক হকদার। তিনি (সালমান) বলেন: অতঃপর আমি তা তাঁর নিকট পেশ করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের বললেন: «তোমরা ভক্ষণ করো», আর তিনি নিজ হাত গুটিয়ে নিলেন এবং আহার করলেন না।
তিনি বলেন: আমি মনে মনে বললাম, এটি একটি (নিদর্শন)। অতঃপর আমি তাঁর নিকট থেকে চলে গেলাম এবং কিছু জিনিস সংগ্রহ করলাম। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় হিজরত করলেন। এরপর আমি পুনরায় তা নিয়ে তাঁর নিকট আসলাম এবং বললাম: আমি লক্ষ্য করেছি যে আপনি সদকা (الصدقة) গ্রহণ করেন না, আর এটি একটি উপহার যা দিয়ে আমি আপনাকে সম্মানিত করছি। তিনি বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা থেকে আহার করলেন এবং তাঁর সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন, ফলে তাঁরাও তাঁর সাথে আহার করলেন। তিনি বলেন: আমি মনে মনে বললাম, এই হলো দুটি (নিদর্শন)। তিনি বলেন: অতঃপর আমি পুনরায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম যখন তিনি বাকী আল-গারকাদে অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন: তখন তিনি তাঁর এক সাহাবীর জানাজার পশ্চাতে যাচ্ছিলেন, তাঁর অঙ্গে দুটি চাদর ছিল এবং তিনি তাঁর সাহাবীদের মাঝে উপবিষ্ট ছিলেন। আমি তাঁকে সালাম পেশ করলাম, অতঃপর আমি ঘুরে তাঁর পিঠের দিকে দৃষ্টিপাত করার চেষ্টা করলাম যেন আমার সেই সাথী আমাকে যে মোহরের বিবরণ দিয়েছিলেন তা দেখতে পাই। যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে তাঁর পেছনে ঘুরতে দেখলেন, তিনি বুঝতে পারলেন যে আমাকে যে গুণাবলির কথা বলা হয়েছে আমি তা যাচাই (أستثبت) করতে চাইছি।
তিনি বলেন: তখন তিনি তাঁর পিঠ থেকে চাদরটি সরিয়ে দিলেন। আমি সেই মোহরটি প্রত্যক্ষ করলাম এবং তা চিনে ফেললাম। তখন আমি সেটির ওপর ঝুঁকে পড়ে চুম্বন করতে লাগলাম এবং কাঁদতে থাকলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন: «সামনে ঘুরে বসো»। তখন আমি ঘুরে বসলাম এবং তাঁর নিকট আমার হাদিস বর্ণনা করলাম যেমনটি হে ইবনে আব্বাস, আমি তোমার নিকট বর্ণনা করেছি। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পছন্দ করলেন যেন তাঁর সাহাবীরাও বিষয়টি শ্রবণ করেন। অতঃপর দাসত্বের (الرق) কারণে সালমান (রা.) ব্যস্ত হয়ে পড়লেন, যার ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে তাঁর বদর ও উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন: «হে সালমান! তুমি মুক্তির চুক্তিতে (كاتب) আবদ্ধ হও»। ফলে আমি আমার মনিবের সাথে তিনশ খেজুর গাছ রোপণ করে দেওয়ার শর্তে—যা আমি তার জন্য গর্ত খনন করে রোপণ করব—এবং চল্লিশ উকিয়া স্বর্ণের বিনিময়ে মুক্তির চুক্তিতে (كاتبت) আবদ্ধ হলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের বললেন: «তোমরা তোমাদের ভাইকে সাহায্য করো»। তারা আমাকে খেজুরের চারা দিয়ে সাহায্য করলেন; কেউ ত্রিশটি চারা, কেউ বিশটি, কেউ পনেরোটি এবং কেউ দশটি—অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তি তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করলেন—পর্যন্ত আমার নিকট তিনশ চারা একত্রিত হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন: «হে সালমান! যাও এবং এগুলোর জন্য গর্ত তৈরি করো। যখন তোমার কাজ শেষ হবে, তখন আমার নিকট আসো, আমি নিজ হাতে সেগুলো রোপণ করব»।
তিনি বলেন: অতঃপর আমি গর্ত খনন করলাম এবং আমার সাথীরা আমাকে সাহায্য করলেন। যখন আমি কাজ শেষ করলাম, তখন তাঁর নিকট এসে খবর দিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার সাথে সেখানে গেলেন এবং আমরা তাঁর নিকট চারাগুলো এগিয়ে দিতে থাকলাম আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা নিজ হাতে রোপণ করতে থাকলেন।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
بِيَدِهِ، فَوَالَّذِي نَفْسُ سَلْمَانَ بِيَدِهِ، مَا مَاتَتْ مِنْهَا وَدِيَّةٌ وَاحِدَةٌ، فَأَدَّيْتُ النَّخْلَ، وَبَقِيَ عَلَيَّ الْمَالُ، فَأُتِيَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ بَيْضَةِ الدَّجَاجَةِ مِنْ ذَهَبٍ مِنْ بَعْضِ الْمَغَازِي، فَقَالَ: «مَا فَعَلَ الْفَارِسِيُّ الْمُكَاتَبُ؟» قَالَ: فَدُعِيتُ لَهُ، فَقَالَ: «خُذْ هَذِهِ فَأَدِّ بِهَا مَا عَلَيْكَ يَا سَلْمَانُ» فَقُلْتُ: وَأَيْنَ تَقَعُ هَذِهِ يَا رَسُولَ اللهِ مِمَّا عَلَيَّ؟ قَالَ: «خُذْهَا، فَإِنَّ اللهَ سَيُؤَدِّي بِهَا عَنْكَ» قَالَ: فَأَخَذْتُهَا فَوَزَنْتُ لَهُمْ مِنْهَا، وَالَّذِي نَفْسُ سَلْمَانَ بِيَدِهِ، أَرْبَعِينَ أُوقِيَّةً، فَأَوْفَيْتُهُمْ حَقَّهُمْ، وَعَتَقْتُ، فَشَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْخَنْدَقَ، ثُمَّ لَمْ يَفُتْنِي مَعَهُ مَشْهَدٌ
(1).
2 - رحلة زيد بن عمرو بن نفيل رضي الله عنه-:
عَنْ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنه: «أَنَّ زَيْدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ خَرَجَ إِلَى الشَّأْمِ يَسْأَلُ عَنِ الدِّينِ، وَيَتْبَعُهُ، فَلَقِيَ عَالِمًا مِنَ اليَهُودِ فَسَأَلَهُ عَنْ دِينِهِمْ، فَقَالَ: إِنِّي لَعَلِّي أَنْ أَدِينَ دِينَكُمْ، فَأَخْبِرْنِي، فَقَالَ: لَا تَكُونُ عَلَى دِينِنَا حَتَّى تَأْخُذَ بِنَصِيبِكَ مِنْ غَضَبِ اللَّهِ، قَالَ زَيْدٌ: مَا أَفِرُّ إِلَّا مِنْ غَضَبِ اللَّهِ، وَلَا أَحْمِلُ مِنْ غَضَبِ اللهِ شَيْئًا أَبَدًا، وَأَنَّى أَسْتَطِيعُهُ فَهَلْ تَدُلُّنِي عَلَى غَيْرِهِ، قَالَ: مَا أَعْلَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ حَنِيفًا، قَالَ زَيْدٌ: وَمَا الحَنِيفُ؟ قَالَ: دِينُ إِبْرَاهِيمَ لَمْ يَكُنْ يَهُودِيًّا، وَلَا نَصْرَانِيًّا، وَلَا يَعْبُدُ إِلَّا اللَّهَ، فَخَرَجَ زَيْدٌ فَلَقِيَ عَالِمًا مِنَ النَّصَارَى فَذَكَرَ مِثْلَهُ، فَقَالَ: لَنْ تَكُونَ عَلَى دِينِنَا حَتَّى تَأْخُذَ بِنَصِيبِكَ مِنْ لَعْنَةِ اللَّهِ، قَالَ: مَا أَفِرُّ إِلَّا مِنْ لَعْنَةِ اللَّهِ، وَلَا أَحْمِلُ مِنْ لَعْنَةِ اللَّهِ، وَلَا مِنْ غَضَبِهِ شَيْئًا أَبَدًا، وَأَنَّى أَسْتَطِيعُ فَهَلْ تَدُلُّنِي عَلَى غَيْرِهِ، قَالَ: مَا أَعْلَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ حَنِيفًا، قَالَ: وَمَا الحَنِيفُ؟ قَالَ: دِينُ إِبْرَاهِيمَ لَمْ يَكُنْ يَهُودِيًّا وَلَا
--------------------------------------------
তার হাতে; সেই সত্তার শপথ যার হাতে সালমানের প্রাণ, সেগুলোর একটি চারাগাছও মারা যায়নি। আমি খেজুর গাছগুলো পরিশোধ করলাম, কিন্তু আমার ওপর অর্থ বাকি রয়ে গেল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে কোনো এক যুদ্ধ থেকে মুরগির ডিমের মতো একখণ্ড সোনা আনা হলো। তিনি বললেন: «সেই চুক্তিবদ্ধ (مكاتب) পারস্যবাসী কোথায়?» তিনি বলেন: এরপর আমাকে তাঁর নিকট ডাকা হলো। তিনি বললেন: «হে সালমান, এটি নাও এবং এর মাধ্যমে তোমার দেনা পরিশোধ করো।» আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমার ঋণের তুলনায় এটি কতটুকুই বা হবে? তিনি বললেন: «এটি নাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ এর মাধ্যমেই তোমার পক্ষ থেকে ঋণ শোধ করে দেবেন।» তিনি বলেন: এরপর আমি তা গ্রহণ করলাম এবং তাদের জন্য তা থেকে ওজন করলাম—সেই সত্তার শপথ যার হাতে সালমানের প্রাণ—চল্লিশ উকিয়া। আমি তাদের পাওনা পূর্ণ করে দিলাম এবং মুক্ত হলাম। এরপর আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে খন্দক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি, এরপর তাঁর সাথে কোনো যুদ্ধক্ষেত্রই আমার হাতছাড়া হয়নি
(১).
২ - যায়িদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়িল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সফর-:
ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: «যায়িদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়িল দ্বীনের সন্ধানে এবং তার অনুসরণের উদ্দেশ্যে সিরিয়ার পথে বের হলেন। সেখানে তিনি ইহুদিদের একজন পণ্ডিতের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাদের দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: আমি সম্ভবত তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করতে পারি, তাই আমাকে এ সম্পর্কে বলুন। সে বলল: তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দ্বীন গ্রহণ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তুমি আল্লাহর ক্রোধ থেকে তোমার অংশ গ্রহণ করো। যায়িদ বললেন: আমি তো আল্লাহর ক্রোধ থেকেই পলায়ন করছি এবং আমি কখনোই আল্লাহর ক্রোধের কোনো কিছু বহন করব না; আর আমি কি তা বহন করতে সক্ষম? আপনি কি আমাকে অন্য কোনো দ্বীনের পথ দেখাতে পারেন? সে বলল: আমি একে ‘হানিফ’ ছাড়া আর কিছু হিসেবে জানি না। যায়িদ বললেন: হানিফ কী? সে বলল: ইবরাহিমের দ্বীন; তিনি ইহুদি ছিলেন না, নাসারাও ছিলেন না এবং তিনি আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করতেন না। এরপর যায়িদ বের হলেন এবং খ্রিস্টানদের একজন পণ্ডিতের সাথে সাক্ষাৎ করে অনুরূপ আলোচনা করলেন। সে বলল: তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দ্বীন গ্রহণ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তুমি আল্লাহর লানতের মধ্য থেকে তোমার অংশ গ্রহণ করো। তিনি বললেন: আমি তো আল্লাহর লানত থেকেই পলায়ন করছি এবং আমি কখনোই আল্লাহর লানত কিংবা তাঁর ক্রোধের কোনো কিছু বহন করব না; আর আমি কি তা বহন করতে সক্ষম? আপনি কি আমাকে অন্য কোনো দ্বীনের পথ দেখাতে পারেন? সে বলল: আমি একে ‘হানিফ’ ছাড়া আর কিছু হিসেবে জানি না। তিনি বললেন: হানিফ কী? সে বলল: ইবরাহিমের দ্বীন; তিনি ইহুদিও ছিলেন না এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
نَصْرَانِيًّا، وَلَا يَعْبُدُ إِلَّا اللَّهَ، فَلَمَّا رَأَى زَيْدٌ قَوْلَهُمْ فِي إِبْرَاهِيمَ عليه السلام خَرَجَ، فَلَمَّا بَرَزَ رَفَعَ يَدَيْهِ فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَشْهَدُ أَنِّي عَلَى دِينِ إِبْرَاهِيمَ»
(1).
3 - رحلة أبي ذر رضي الله عنه-:
عن ابن عباس {قَالَ: قال أَبُو ذَرٍّ: كُنْتُ رَجُلًا مِنْ غِفَارٍ، فَبَلَغَنَا أَنَّ رَجُلًا قَدْ خَرَجَ بِمَكَّةَ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ، فَقُلْتُ لِأَخِي
(2): انْطَلِقْ إِلَى هَذَا الرَّجُلِ كَلِّمْهُ وَأْتِنِي بِخَبَرِهِ، فَانْطَلَقَ فَلَقِيَهُ، ثُمَّ رَجَعَ، فَقُلْتُ مَا عِنْدَكَ؟ فَقَالَ: وَاللهِ لَقَدْ رَأَيْتُ رَجُلًا يَأْمُرُ بِالخَيْرِ وَيَنْهَى عَنِ الشَّرِّ، فَقُلْتُ لَهُ: لَمْ تَشْفِنِي مِنَ الخَبَرِ، فَأَخَذْتُ جِرَابًا وَعَصًا، ثُمَّ أَقْبَلْتُ إِلَى مَكَّةَ، فَجَعَلْتُ لَا أَعْرِفُهُ، وَأَكْرَهُ أَنْ أَسْأَلَ عَنْهُ، وَأَشْرَبُ مِنْ مَاءِ زَمْزَمَ وَأَكُونُ فِي المَسْجِدِ، قَالَ: فَمَرَّ بِي عَلِيٌّ فَقَالَ: كَأَنَّ الرَّجُلَ غَرِيبٌ؟
قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: فَانْطَلِقْ إِلَى المَنْزِلِ، قَالَ: فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ، لَا يَسْأَلُنِي عَنْ شَيْءٍ وَلَا أُخْبِرُهُ، فَلَمَّا أَصْبَحْتُ غَدَوْتُ إِلَى المَسْجِدِ لِأَسْأَلَ عَنْهُ، وَلَيْسَ أَحَدٌ يُخْبِرُنِي عَنْهُ بِشَيْءٍ، قَالَ: فَمَرَّ بِي عَلِيٌّ، فَقَالَ: أَمَا نَالَ لِلرَّجُلِ يَعْرِفُ مَنْزِلَهُ بَعْدُ؟ قَالَ: قُلْتُ: لَا، قَالَ: انْطَلِقْ مَعِي، قَالَ: فَقَالَ: مَا أَمْرُكَ، وَمَا أَقْدَمَكَ هَذِهِ البَلْدَةَ؟ قَالَ: قُلْتُ لَهُ: إِنْ كَتَمْتَ عَلَيَّ أَخْبَرْتُكَ، قَالَ: فَإِنِّي أَفْعَلُ.
قَالَ: قُلْتُ لَهُ: بَلَغَنَا أَنَّهُ قَدْ خَرَجَ هَا هُنَا رَجُلٌ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ، فَأَرْسَلْتُ أَخِي لِيُكَلِّمَهُ، فَرَجَعَ وَلَمْ يَشْفِنِي مِنَ الخَبَرِ، فَأَرَدْتُ أَنْ أَلْقَاهُ، فَقَالَ لَهُ: أَمَا إِنَّكَ قَدْ رَشَدْتَ، هَذَا وَجْهِي إِلَيْهِ فَاتَّبِعْنِي، ادْخُلْ حَيْثُ أَدْخُلُ، فَإِنِّي إِنْ رَأَيْتُ أَحَدًا أَخَافُهُ عَلَيْكَ، قُمْتُ إِلَى الحَائِطِ كَأَنِّي أُصْلِحُ نَعْلِي وَامْضِ أَنْتَ، فَمَضَى وَمَضَيْتُ مَعَهُ، حَتَّى دَخَلَ وَدَخَلْتُ مَعَهُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ لَهُ: اعْرِضْ عَلَيَّ الإِسْلَامَ،
--------------------------------------------
খ্রিস্টান ছিলেন না এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করতেন না। অতঃপর যায়েদ যখন ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে তাদের বক্তব্য দেখলেন, তখন তিনি বেরিয়ে পড়লেন। যখন তিনি উন্মুক্ত স্থানে আসলেন, তখন হাত তুলে বললেন: "হে আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি ইব্রাহিমের দ্বীনের ওপর রয়েছি।"
(১).
৩ - আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সফর-:
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত {তিনি বলেন: আবু যর বলেছেন: আমি গিফার গোত্রের একজন লোক ছিলাম। আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, মক্কায় এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছে যিনি নিজেকে নবী বলে দাবি করেন। তখন আমি আমার ভাইকে
(২) বললাম: তুমি এই লোকটির কাছে যাও, তাঁর সাথে কথা বলো এবং তাঁর সংবাদ নিয়ে আমার কাছে এসো। অতঃপর সে রওনা হলো এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করল, তারপর ফিরে এল। আমি বললাম: তোমার কাছে কী সংবাদ আছে? সে বলল: আল্লাহর কসম, আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি যিনি সৎকাজের আদেশ দেন এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেন। আমি তাকে বললাম: তোমার খবরে আমার সংশয় দূর হলো না। অতঃপর আমি একটি চামড়ার থলে ও একটি লাঠি নিলাম এবং মক্কার দিকে রওনা হলাম। আমি তাঁকে চিনতাম না এবং তাঁর সম্পর্কে কাউকে জিজ্ঞেস করাও অপছন্দ করছিলাম। আমি যমযমের পানি পান করতাম এবং মসজিদে অবস্থান করতাম। তিনি বলেন: আলী আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন: লোকটিকে দেখে কি বিদেশি মনে হচ্ছে?
তিনি বলেন: আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে বাসস্থানে চলুন। তিনি বলেন: আমি তাঁর সাথে চললাম, তিনি আমাকে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলেন না এবং আমিও তাঁকে কিছু বললাম না। যখন সকাল হলো, আমি তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য মসজিদে গেলাম, কিন্তু কেউই আমাকে এ ব্যাপারে কোনো কিছু বলছিল না। তিনি বলেন: আলী পুনরায় আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন: লোকটির কি এখনো তাঁর গন্তব্য চেনার সময় হয়নি? তিনি বলেন: আমি বললাম: না। তিনি বললেন: আমার সাথে চলুন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনার বিষয়টি কী এবং কোন উদ্দেশ্যে এই শহরে আপনার আগমন? তিনি বলেন: আমি তাঁকে বললাম: আপনি যদি আমার বিষয়টি গোপন রাখেন তবে আমি আপনাকে জানাতে পারি। তিনি বললেন: আমি অবশ্যই তা করব।
তিনি বলেন: আমি তাঁকে বললাম: আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, এখানে জনৈক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছে যিনি নিজেকে নবী দাবি করেন। তাই আমি আমার ভাইকে তাঁর সাথে কথা বলতে পাঠিয়েছিলাম, সে ফিরে এসেছে কিন্তু তার সংবাদে আমার তৃপ্তি হয়নি। তাই আমি নিজেই তাঁর সাথে দেখা করতে চেয়েছি। তখন আলী তাঁকে বললেন: নিশ্চয়ই আপনি সঠিক পথ পেয়েছেন। এই তো আমি তাঁর দিকেই যাচ্ছি, আপনি আমাকে অনুসরণ করুন। আমি যেখানে প্রবেশ করব আপনিও সেখানে প্রবেশ করবেন। যদি আমি এমন কাউকে দেখি যার ব্যাপারে আপনার জন্য ভয় রয়েছে, তবে আমি দেয়ালের কাছে দাঁড়িয়ে যাব যেন আমি আমার জুতো ঠিক করছি, আর আপনি চলতে থাকবেন। আলী চলতে থাকলেন এবং আমিও তাঁর সাথে চলতে লাগলাম। পরিশেষে তিনি প্রবেশ করলেন এবং আমিও তাঁর সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলাম। অতঃপর আমি তাঁকে বললাম: আমার নিকট ইসলাম পেশ করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ১০০)
فَعَرَضَهُ، فَأَسْلَمْتُ مَكَانِي، فَقَالَ لِي: «يَا أَبَا ذَرٍّ، اكْتُمْ هَذَا الأَمْرَ، وَارْجِعْ إِلَى بَلَدِكَ، فَإِذَا بَلَغَكَ ظُهُورُنَا فَأَقْبِلْ»
… الحديث
(1).
4 - رحلة أبي رفاعة العدوي رضي الله عنه-:
قَالَ أَبُو رِفَاعَةَ العدوي رضي الله عنه: «انْتَهَيْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَخْطُبُ، قَالَ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ رَجُلٌ غَرِيبٌ، جَاءَ يَسْأَلُ عَنْ دِينِهِ، لَا يَدْرِي مَا دِينُهُ، قَالَ: فَأَقْبَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَتَرَكَ خُطْبَتَهُ حَتَّى انْتَهَى إِلَيَّ، فَأُتِيَ بِكُرْسِيٍّ، حَسِبْتُ قَوَائِمَهُ حَدِيدًا، قَالَ: فَقَعَدَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَجَعَلَ يُعَلِّمُنِي مِمَّا عَلَّمَهُ اللهُ، ثُمَّ أَتَى خُطْبَتَهُ، فَأَتَمَّ آخِرَهَا»
(2).
5 - رحلة عمرو بن عبسة رضي الله عنه-:
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ السُّلَمِيُّ: كُنْتُ وَأَنَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَظُنُّ أَنَّ النَّاسَ عَلَى ضَلَالَةٍ، وَأَنَّهُمْ لَيْسُوا عَلَى شَيْءٍ وَهُمْ يَعْبُدُونَ الْأَوْثَانَ، فَسَمِعْتُ بِرَجُلٍ بِمَكَّةَ يُخْبِرُ أَخْبَارًا، فَقَعَدْتُ عَلَى رَاحِلَتِي، فَقَدِمْتُ عَلَيْهِ، فَإِذَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مُسْتَخْفِيًا جُرَآءُ عَلَيْهِ قَوْمُهُ، فَتَلَطَّفْتُ حَتَّى دَخَلْتُ عَلَيْهِ بِمَكَّةَ، فَقُلْتُ لَهُ: مَا أَنْتَ؟
قَالَ: «أَنَا نَبِيٌّ»، فَقُلْتُ: وَمَا نَبِيٌّ؟ قَالَ: «أَرْسَلَنِي اللهُ»، فَقُلْتُ: وَبِأَيِّ شَيْءٍ أَرْسَلَكَ، قَالَ: «أَرْسَلَنِي بِصِلَةِ الْأَرْحَامِ، وَكَسْرِ الْأَوْثَانِ، وَأَنْ يُوَحَّدَ اللهُ لَا يُشْرَكُ بِهِ شَيْءٌ»، قُلْتُ لَهُ: فَمَنْ مَعَكَ عَلَى هَذَا؟ قَالَ: «حُرٌّ، وَعَبْدٌ»، قَالَ: وَمَعَهُ يَوْمَئِذٍ أَبُو بَكْرٍ، وَبِلَالٌ مِمَّنْ آمَنَ بِهِ، فَقُلْتُ: إِنِّي مُتَّبِعُكَ، قَالَ: «إِنَّكَ لَا تَسْتَطِيعُ ذَلِكَ يَوْمَكَ هَذَا، أَلَا تَرَى حَالِي وَحَالَ النَّاسِ، وَلَكِنِ ارْجِعْ إِلَى أَهْلِكَ فَإِذَا سَمِعْتَ بِي
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি তা পেশ করলেন, আর আমি তৎক্ষণাৎ ইসলাম গ্রহণ করলাম। তারপর তিনি আমাকে বললেন: «হে আবু যার, এই বিষয়টি গোপন রাখো এবং তোমার দেশে ফিরে যাও। অতঃপর যখন আমাদের বিজয়ের সংবাদ তোমার কাছে পৌঁছাবে, তখন এসো»
… হাদিস
(১).
৪ - আবু রিফা'আ আল-আদাউয়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সফর-:
আবু রিফা'আ আল-আদাউয়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: «আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলাম যখন তিনি খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন: তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! একজন আগন্তুক ব্যক্তি, তার দীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছে, সে জানে না তার দীন কী। তিনি বলেন: তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার দিকে অগ্রসর হলেন এবং খুতবা ছেড়ে দিয়ে আমার নিকট আসলেন। অতঃপর একটি চেয়ার আনা হলো, যার পায়াগুলো লোহার তৈরি বলে আমি মনে করলাম। তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাতে বসলেন এবং আল্লাহ তাঁকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে আমাকে শিক্ষা দিতে লাগলেন। এরপর তিনি তাঁর খুতবায় ফিরে এলেন এবং তার শেষ অংশ পূর্ণ করলেন»
(২).
৫ - আমর ইবনে আবাসাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সফর-:
আবু উমামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমর ইবনে আবাসাহ আস-সুলামী বলেছেন: জাহেলিয়াতের যুগে আমি মনে করতাম যে মানুষ পথভ্রষ্টতার (ضلالة) ওপর রয়েছে এবং তারা সঠিক কোনো কিছুর ওপর নেই, কারণ তারা মূর্তিপূজা করত। অতঃপর আমি মক্কায় এক ব্যক্তি সম্পর্কে শুনলাম যিনি কিছু সংবাদ দিচ্ছেন। তখন আমি আমার বাহনে আরোহণ করলাম এবং তাঁর নিকট আসলাম। সেখানে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গোপনে অবস্থানরত অবস্থায় পেলাম, তাঁর কওম তাঁর ওপর চড়াও হয়েছিল। আমি কৌশলে অগ্রসর হলাম এবং মক্কায় তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। আমি তাঁকে বললাম: আপনি কে?
তিনি বললেন: «আমি একজন নবী», আমি বললাম: নবী কী? তিনি বললেন: «আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন», আমি বললাম: কী বিষয় দিয়ে তিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: «তিনি আমাকে আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা, মূর্তিসমূহ ভেঙে ফেলা এবং আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দিয়ে পাঠিয়েছেন যাতে তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করা হয়», আমি তাঁকে বললাম: এই পথে আপনার সাথে কে আছে? তিনি বললেন: «একজন স্বাধীন ব্যক্তি এবং একজন দাস», বর্ণনাকারী বলেন: সেদিন যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিলেন তাদের মধ্যে তাঁর সাথে আবু বকর ও বিলাল ছিলেন। তখন আমি বললাম: আমি আপনার অনুসরণ করব। তিনি বললেন: «তুমি বর্তমান সময়ে তা করতে পারবে না, তুমি কি আমার এবং মানুষের অবস্থা দেখছ না? তবে তুমি তোমার পরিবারের নিকট ফিরে যাও, অতঃপর যখন আমার সম্পর্কে শুনবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ১০১)
قَدْ ظَهَرْتُ فَأْتِنِي»، قَالَ: فَذَهَبْتُ إِلَى أَهْلِي وَقَدِمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ، وَكُنْتُ فِي أَهْلِي فَجَعَلْتُ أَتَخَبَّرُ الْأَخْبَارَ، وَأَسْأَلُ النَّاسَ حِينَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ، حَتَّى قَدِمَ عَلَيَّ نَفَرٌ مِنْ أَهْلِ يَثْرِبَ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةَ، فَقُلْتُ: مَا فَعَلَ هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي قَدِمَ الْمَدِينَةَ؟
فَقَالُوا: النَّاسُ إِلَيْهِ سِرَاعٌ وَقَدْ أَرَادَ قَوْمُهُ قَتْلَهُ فَلَمْ يَسْتَطِيعُوا ذَلِكَ، فَقَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَتَعْرِفُنِي؟ قَالَ: «نَعَمْ، أَنْتَ الَّذِي لَقِيتَنِي بِمَكَّةَ»، قَالَ: فَقُلْتُ: بَلَى
فَقُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللهِ أَخْبِرْنِي عَمَّا عَلَّمَكَ اللهُ وَأَجْهَلُهُ، أَخْبِرْنِي عَنِ الصَّلَاةِ.
قَالَ: «صَلِّ صَلَاةَ الصُّبْحِ، ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلَاةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ حَتَّى تَرْتَفِعَ، فَإِنَّهَا تَطْلُعُ حِينَ تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَيْ شَيْطَانٍ، وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ، ثُمَّ صَلِّ فَإِنَّ الصَّلَاةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتَّى يَسْتَقِلَّ الظِّلُّ بِالرُّمْحِ، ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلَاةِ، فَإِنَّ حِينَئِذٍ تُسْجَرُ جَهَنَّمُ، فَإِذَا أَقْبَلَ الْفَيْءُ فَصَلِّ، فَإِنَّ الصَّلَاةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتَّى تُصَلِّيَ الْعَصْرَ، ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلَاةِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ، فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَيْ شَيْطَانٍ، وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ».
قَالَ: فَقُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللهِ فَالْوُضُوءَ حَدِّثْنِي عَنْهُ، قَالَ: «مَا مِنْكُمْ رَجُلٌ يُقَرِّبُ وَضُوءَهُ فَيَتَمَضْمَضُ، وَيَسْتَنْشِقُ فَيَنْتَثِرُ إِلَّا خَرَّتْ خَطَايَا وَجْهِهِ، وَفِيهِ وَخَيَاشِيمِهِ، ثُمَّ إِذَا غَسَلَ وَجْهَهُ كَمَا أَمَرَهُ اللهُ، إِلَّا خَرَّتْ خَطَايَا وَجْهِهِ مِنْ أَطْرَافِ لِحْيَتِهِ مَعَ الْمَاءِ، ثُمَّ يَغْسِلُ يَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ، إِلَّا خَرَّتْ خَطَايَا يَدَيْهِ مِنْ أَنَامِلِهِ مَعَ الْمَاءِ، ثُمَّ يَمْسَحُ رَأْسَهُ، إِلَّا خَرَّتْ خَطَايَا رَأْسِهِ مِنْ أَطْرَافِ شَعْرِهِ مَعَ الْمَاءِ، ثُمَّ يَغْسِلُ قَدَمَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ، إِلَّا خَرَّتْ خَطَايَا رِجْلَيْهِ مِنْ أَنَامِلِهِ مَعَ الْمَاءِ، فَإِنْ هُوَ قَامَ فَصَلَّى، فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَمَجَّدَهُ بِالَّذِي هُوَ لَهُ أَهْلٌ، وَفَرَّغَ قَلْبَهُ لِلَّهِ، إِلَّا انْصَرَفَ مِنْ خَطِيئَتِهِ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ».
"আমি আত্মপ্রকাশ করেছি, সুতরাং তুমি আমার কাছে এসো।" তিনি বললেন: অতঃপর আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে গেলাম। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনায় পৌঁছালেন। তখন আমি আমার পরিবারের মাঝেই অবস্থান করছিলাম এবং খবরাখবর সংগ্রহ করছিলাম। যখন তিনি মদীনায় এলেন, তখন আমি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলাম। অবশেষে ইয়াসরিব তথা মদীনার অধিবাসীদের মধ্য থেকে একদল লোক আমার নিকট এলে আমি জিজ্ঞাসা করলাম: মদীনায় যে লোকটির আগমন ঘটেছে, তিনি কী করছেন?
তারা বলল: মানুষ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তাঁর দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাঁর নিজ সম্প্রদায় তাঁকে হত্যা করার ইচ্ছা পোষণ করেছিল, কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হয়নি। অতঃপর আমি মদীনায় এসে তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তুমিই সেই ব্যক্তি যে মক্কায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলে।" তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: আমি বললাম: জ্বি হ্যাঁ।
আমি আরজ করলাম: হে আল্লাহর নবী! আল্লাহ আপনাকে যা শিখিয়েছেন এবং যা আমি জানি না সে সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন; আমাকে সালাত সম্পর্কে বলুন।
তিনি বললেন: "তুমি ফজরের সালাত আদায় করো। এরপর সূর্য উদিত হয়ে উপরে উঠা পর্যন্ত সালাত আদায় করা থেকে বিরত থাকো। কেননা তা শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে উদিত হয় এবং সেই সময়ে কাফেররা তাকে সিজদাহ করে। এরপর তুমি সালাত আদায় করো, কারণ এই সালাত প্রত্যক্ষকৃত এবং এতে ফেরেশতারা উপস্থিত থাকেন—যতক্ষণ না বর্শার ছায়া সোজা হয়। এরপর সালাত আদায় থেকে বিরত থাকো, কেননা সে সময় জাহান্নাম উত্তপ্ত করা হয়। অতঃপর যখন ছায়া ঢলে পড়বে তখন সালাত আদায় করো, কারণ এই সালাত প্রত্যক্ষকৃত এবং এতে ফেরেশতারা উপস্থিত থাকেন—যতক্ষণ না তুমি আসরের সালাত আদায় করো। এরপর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত থাকো। কারণ তা শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝে অস্ত যায় এবং সেই সময়ে কাফেররা তাকে সিজদাহ করে।"
তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী! ওযু সম্পর্কে আমাকে বলুন। তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে ওযুর পানি নিকটে নিয়ে কুলি করে, নাকে পানি দেয় এবং নাক পরিষ্কার করে, অথচ তার মুখমণ্ডল, মুখগহ্বর এবং নাসারন্ধ্রের পাপসমূহ ঝরে পড়ে না। এরপর যখন সে আল্লাহ তাআলার নির্দেশ অনুযায়ী মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন তার দাড়ির প্রান্ত দিয়ে পানির সাথে তার চেহারার পাপসমূহ ঝরে পড়ে। অতঃপর সে যখন কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করে, তখন তার আঙুলের ডগা দিয়ে পানির সাথে তার হাতের পাপসমূহ ঝরে পড়ে। এরপর সে যখন মাথা মাসাহ করে, তখন তার চুলের অগ্রভাগ দিয়ে পানির সাথে তার মাথার পাপসমূহ ঝরে পড়ে। এরপর সে যখন টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত করে, তখন তার পায়ের আঙুলের ডগা দিয়ে পানির সাথে তার পায়ের পাপসমূহ ঝরে পড়ে। অতঃপর সে যদি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে এবং আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা, স্তুতি ও মহিমা বর্ণনা করে যার তিনি যোগ্য এবং নিজের অন্তরকে আল্লাহর জন্য একাগ্র করে নেয়, তবে সে তার পাপসমূহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয়ে ফিরে আসে যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ১০২)
فَحَدَّثَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ بِهَذَا الْحَدِيثِ أَبَا أُمَامَةَ صَاحِبَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لَهُ أَبُو أُمَامَةَ: «يَا عَمْرَو بْنَ عَبَسَةَ، انْظُرْ مَا تَقُولُ فِي مَقَامٍ وَاحِدٍ يُعْطَى هَذَا الرَّجُلُ»، فَقَالَ عَمْرٌو: «يَا أَبَا أُمَامَةَ، لَقَدْ كَبِرَتْ سِنِّي، وَرَقَّ عَظْمِي، وَاقْتَرَبَ أَجَلِي، وَمَا بِي حَاجَةٌ أَنْ أَكْذِبَ عَلَى اللهِ وَلَا عَلَى رَسُولِ اللهِ، لَوْ لَمْ أَسْمَعْهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا مَرَّةً، أَوْ مَرَّتَيْنِ، أَوْ ثَلَاثًا حَتَّى عَدَّ سَبْعَ مَرَّاتٍ، مَا حَدَّثْتُ بِهِ أَبَدًا، وَلَكِنِّي سَمِعْتُهُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ»
(1).
* * *
--------------------------------------------
আমর ইবনে আবাসা এই হাদিসটি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবী আবু উমামার নিকট বর্ণনা করলেন। তখন আবু উমামা তাঁকে বললেন: «হে আমর ইবনে আবাসা! আপনি কী বলছেন তা ভেবে দেখুন, কেবল এক অবস্থানের বিনিময়ে কি এই ব্যক্তিকে এত কিছু দেওয়া হবে?» আমর বললেন: «হে আবু উমামা! আমার বয়স হয়েছে, আমার হাড় জীর্ণ হয়েছে এবং আমার মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে; এমতাবস্থায় আল্লাহ কিংবা তাঁর রাসূলের ওপর মিথ্যা বলার কোনো প্রয়োজন আমার নেই। আমি যদি এই কথাটি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট থেকে মাত্র একবার, দুইবার কিংবা তিনবার—এভাবে তিনি সাতবার পর্যন্ত গণনা করলেন—না শুনতাম, তবে আমি তা কখনোই বর্ণনা করতাম না। বরং আমি এটি তাঁর নিকট থেকে এর চেয়েও অধিকবার শুনেছি।»
(১).
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
الباب الرابعمن رحلات التابعين للصحابة
1 - الرحلة لأبي بن كعب رضي الله عنه-:
عن زِرِّ بن حُبَيْشٍ، قَالَ: وَفَدْتُ فِي خِلَافَةِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، وَإِنَّمَا حَمَلَنِي عَلَى الْوِفَادَةِ لُقْيُ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، وَأَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم
(1).
عن جندب بن عبد الله البجلي رضي الله عنه قال: أتيت المدينة ابتغاء العلم فدخلت مسجد رسول الله، صلى الله عليه وسلم، فإذا الناس فيه حلق يتحدثون، فجعلت أمضي الحلق حتى أتيت حلقة فيها رجل شاحب عليه ثوبان كأنما قدم من سفر، قال: فسمعته يقول: هلك أصحاب العقدة ورب الكعبة ولا آسى عليهم، أحسبه قال مرارا. قال: فجلست إليه فتحدث بما قضي له، ثم قام، قال: فسألت عنه بعدما قام، قلت: من هذا؟ قالوا: هذا سيد المسلمين أبي بن كعب. قال فتبعته حتى أتى منزله، فإذا هو رث المنزل رث الهيئة، فإذا رجل زاهد منقطع يشبه أمره بعضه بعضًا، فسلمت عليه فرد علي السلام، ثم سألني: ممن أنت؟ قلت: من أهل العراق، قال: أكثر مني سؤالا، قال: لما قال ذلك غضبت، قال: فجثوت على ركبتي ورفعت يدي - هكذا وصف - حيال وجهه، فاستقبلت القبلة، قال: قلت: اللهم نشكوهم إليك إنا ننفق نفقاتنا وننصب أبداننا ونرحل مطايانا ابتغاء العلم فإذا لقيناهم تجهموا لنا. وقالوا لنا.
--------------------------------------------
চতুর্থ অধ্যায়সাহাবীগণের (صحابة) কাছে তাবেঈগণের (تابعين) সফরের বর্ণনা প্রসঙ্গে
১ - উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর উদ্দেশ্যে সফর-:
যির ইবনে হুবাইশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উসমান ইবনে আফফানের খিলাফতকালে (মদিনায়) এসেছিলাম। মূলত উবাই ইবনে কাব এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবীগণের (صحابة) সাথে সাক্ষাৎ করার আকাঙ্ক্ষাই আমাকে এই সফরে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
(১).
জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে মদিনায় আসলাম। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং দেখলাম সেখানে মানুষ বিভিন্ন মণ্ডলী বা হালকা (حلق) হয়ে কথাবার্তা বলছে। আমি একের পর এক মজলিস অতিক্রম করতে লাগলাম, অবশেষে এমন একটি মজলিসে পৌঁছালাম যেখানে বিবর্ণ চেহারার একজন লোক বসা ছিলেন, তাঁর পরনে ছিল দুটি সাধারণ কাপড় এবং তাকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন তিনি সফর থেকে এসেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাকে বলতে শুনলাম: "কাবার রবের কসম! অঙ্গীকার ভঙ্গকারীরা ধ্বংস হয়েছে, আর আমি তাদের জন্য আক্ষেপ করি না।" আমার মনে হয় তিনি কথাটি কয়েকবার বললেন। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আমি তাঁর কাছে বসলাম। তিনি তাঁর নির্ধারিত কথাবার্তা বললেন এবং তারপর উঠে দাঁড়ালেন। তিনি উঠে যাওয়ার পর আমি তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম: "ইনি কে?" তারা বললেন: "ইনি মুসলমানদের নেতা উবাই ইবনে কাব।" বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাঁর অনুসরণ করলাম এবং তাঁর বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছালাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম তাঁর বাড়িটি জীর্ণ এবং তাঁর বেশভূষাও অতি সাধারণ। তিনি ছিলেন একজন জাহিদ (দুনিয়াবিমুখ) ও নির্জনতাপ্রিয় ব্যক্তি, যাঁর জীবনের সকল দিক ছিল সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং তিনি সালামের উত্তর দিলেন। এরপর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কোত্থেকে এসেছ?" আমি বললাম: "আমি ইরাকবাসী।" তিনি বললেন: "(প্রয়োজনীয় বিষয়ে) আমার কাছে বেশি বেশি প্রশ্ন করো।" বর্ণনাকারী বলেন: তিনি যখন একথা বললেন, তখন আমি রাগান্বিত হলাম। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আমি হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে বসলাম এবং আমার দুই হাত তুললাম—বর্ণনাকারী এভাবেই বর্ণনা করেছেন—মুখের সমান্তরালে, এরপর কিবলামুখী হয়ে বললাম: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে তাদের সম্পর্কে অভিযোগ করছি; আমরা সম্পদ ব্যয় করি, শরীরকে ক্লান্ত করি এবং ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে সওয়ারী নিয়ে সফর করি, অথচ যখন আমরা তাদের দেখা পাই, তখন তারা আমাদের প্রতি রূঢ়তা প্রদর্শন করেন এবং আমাদের সাথে কঠোর ভাষায় কথা বলেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
قال: فبكى أبي وجعل يترضاني ويقول: ويحك لم أذهب هناك، لم أذهب هناك. قال: ثم قال: اللهم إني أعاهدك لئن أبقيتني إلى يوم الجمعة لأتكلمن بما سمعت من رسول الله لا أخاف فيه لومة لائم. قال: لما قال ذلك انصرفت عنه وجعلت أنتظر الجمعة، فلما كان يوم الخميس خرجت لبعض حاجتي فإذا السكك عاصة من الناس لا أجد سكة إلا يلقاني فيها الناس. قال: قلت: ما شأن الناس؟ قالوا: إنا نحسبك غريبا، قال: قلت: أجل، قالوا: مات سيد المسلمين أبي بن كعب. قال جندب: فلقيت أبا موسى بالعراق فحدثته حديث أبي قال: والهفاه! لو بقي حتى تبلغنا مقالته
(1).
2 - صفوان بن عسال رضي الله عنه-:
عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، قَالَ: أَتَيْتُ صَفْوَانَ بْنَ عَسَّالٍ الْمُرَادِيَّ، أَسْأَلُهُ عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الخُفَّيْنِ، فَقَالَ: مَا جَاءَ بِكَ يَا زِرُّ؟ فَقُلْتُ: ابْتِغَاءَ العِلْمِ، فَقَالَ: إِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ العِلْمِ رِضًا بِمَا يَطْلُبُ، فَقُلْتُ: إِنَّهُ حَكَّ فِي صَدْرِي الْمَسْحُ عَلَى الخُفَّيْنِ بَعْدَ الغَائِطِ وَالبَوْلِ، وَكُنْتَ امْرَأً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَجِئْتُ أَسْأَلُكَ هَلْ سَمِعْتَهُ يَذْكُرُ فِي ذَلِكَ شَيْئًا، قَالَ: نَعَمْ، كَانَ يَأْمُرُنَا إِذَا كُنَّا سَفرًا أَوْ مُسَافِرِينَ أَنْ لَا نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ إِلاَّ مِنْ جَنَابَةٍ، لَكِنْ مِنْ غَائِطٍ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍ
(2).
--------------------------------------------
তিনি বললেন: তখন আমার পিতা কেঁদে ফেললেন এবং আমাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করতে লাগলেন এবং বললেন: তোমার দুর্ভোগ হোক! আমি সেখানে যাইনি, আমি সেখানে যাইনি। তিনি বললেন: এরপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অঙ্গীকার করছি যে, যদি আপনি আমাকে জুমুআ দিন পর্যন্ত জীবিত রাখেন, তবে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে যা শুনেছি তা অবশ্যই বর্ণনা করব, এতে আমি কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় করব না। তিনি বললেন: তিনি যখন এ কথা বললেন, আমি তাঁর নিকট থেকে ফিরে আসলাম এবং জুমুআর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। যখন বৃহস্পতিবার এল, আমি আমার কোনো প্রয়োজনে বের হলাম। তখন দেখলাম রাস্তাঘাট মানুষের ভিড়ে ঠাসা, আমি এমন কোনো পথ পাচ্ছিলাম না যেখানে মানুষের ভিড় ছিল না। তিনি বললেন: আমি বললাম: মানুষের কী হয়েছে? তারা বলল: আমরা আপনাকে আগন্তুক মনে করছি। তিনি বললেন: আমি বললাম: হ্যাঁ। তারা বলল: মুসলিমদের নেতা উবাই ইবনে কাব ইন্তেকাল করেছেন। জুনদুব বললেন: এরপর আমি ইরাকে আবু মুসার সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে উবাইয়ের হাদিসটি শোনালাম। তিনি বললেন: হায় আফসোস! যদি তিনি জীবিত থাকতেন যাতে তাঁর বক্তব্য আমাদের নিকট পৌঁছাত
(১).
২ - সাফওয়ান ইবনে আসসাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-:
যির ইবনে হুবাইশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সাফওয়ান ইবনে আসসাল আল-মুরাদির নিকট এলাম তাঁর কাছে মোজার ওপর মাসেহ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য। তিনি বললেন: হে যির! কোন জিনিস তোমাকে নিয়ে এসেছে? আমি বললাম: ইলম অন্বেষণ। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেয় তার অন্বেষণ করা বিষয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে। আমি বললাম: মলমূত্র ত্যাগের পর মোজার ওপর মাসেহ করার বিষয়টি আমার মনে খটকা সৃষ্টি করেছে, আর আপনি নবী (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি। তাই আমি আপনার কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে এসেছি যে, আপনি কি তাঁকে এ সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি আমাদের আদেশ করতেন যখন আমরা সফরে থাকতাম বা মুসাফির হতাম, তখন যেন আমরা তিন দিন এবং তিন রাত আমাদের মোজা না খুলি, কেবল অপবিত্রতা (জানাবাত) ব্যতীত; তবে মলমূত্র ত্যাগ, প্রস্রাব এবং ঘুমের কারণে (খুলতে হতো না)
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
3 - الرحلة لزيد بن ثابت رضي الله عنه-:
عن مسروق قَال: أتيت المدينة فسألت عن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فإذا زيد من الراسخين في العلم
(1).
عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ عَمْرِو بْنِ غَزِيَّةَ، أَنَّهُ كَانَ جَالِساً عِنْدَ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، فَجَاءَهُ ابْنُ فهْدٍ - رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ - فَقَالَ: يَا أَبَا سَعِيدٍ، إِنَّ عِنْدِي جَوَارِيَ لِي، لَيْسَ نِسَائِي اللاَّتِي أُكِنُّ بِأَعْجَبَ إِلَيَّ مِنْهُنَّ، وَلَيْسَ كُلُّهُنَّ يُعْجِبُنِي أَنْ تَحْمِلَ مِنِّي، أَفَأَعْزِلُ؟ فَقَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ: أَفْتِهِ يَا حَجَّاجُ. قَالَ: فَقُلْتُ: يَغْفِرُ اللهُ لَكَ، إِنَّمَا نَجْلِسُ عِنْدَكَ لِنَتَعَلَّمَ مِنْكَ. قَالَ: أَفْتِهِ، قَالَ: فَقُلْتُ: هُوَ حَرْثُكَ، إِنْ شِئْتَ سَقَيْتَهُ، وَإِنْ شِئْتَ أَعْطَشْتَهُ. قَالَ: وَكُنْتُ أَسْمَعُ ذَلِكَ مِنْ زَيْدٍ، فَقَالَ زَيْدٌ: صَدَقَ
(2).
4 - الرحلة لا بن عمر رضي الله عنه-:
عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، قَالَ: كَانَ أَوَّلَ مَنْ قَالَ فِي الْقَدَرِ بِالْبَصْرَةِ مَعْبَدٌ الْجُهَنِيُّ، فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيُّ حَاجَّيْنِ - أَوْ مُعْتَمِرَيْنِ - فَقُلْنَا: لَوْ لَقِينَا أَحَدًا مَنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَسَأَلْنَاهُ عَمَّا يَقُولُ هَؤُلَاءِ فِي الْقَدَرِ، فَوُفِّقَ لَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ دَاخِلًا الْمَسْجِدَ، فَاكْتَنَفْتُهُ أَنَا وَصَاحِبِي، أَحَدُنَا عَنْ يَمِينِهِ، وَالْآخَرُ عَنْ شِمَالِهِ، فَظَنَنْتُ أَنَّ صَاحِبِي سَيَكِلُ الْكَلَامَ إِلَيَّ، فَقُلْتُ: أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّهُ قَدْ ظَهَرَ قِبَلَنَا نَاسٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ، وَيَتَقَفَّرُونَ الْعِلْمَ، وَذَكَرَ مِنْ
--------------------------------------------
৩ - জায়েদ বিন সাবিত (রা.)-এর নিকট সফর-:
মাসরুক (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মদীনায় আসলাম এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি দেখলাম যে, জায়েদ ইলমে সুগভীর পণ্ডিতদের (الراسخين في العلم) অন্তর্ভুক্ত।
হাজ্জাজ ইবনে আমর ইবনে গাজিয়্যাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি জায়েদ বিন সাবিত (রা.)-এর নিকট বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় ইবনে ফাহদ নামক ইয়েমেনের এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বললেন: হে আবু সাঈদ! আমার কিছু দাসী রয়েছে, যারা আমার নিকট আমার পর্দানশীন স্ত্রীদের চেয়ে কম পছন্দনীয় নয়। কিন্তু আমি চাই না যে তাদের প্রত্যেকেই আমার থেকে গর্ভবতী হোক। এমতাবস্থায় আমি কি আজল (عزل) করতে পারি? তখন জায়েদ বিন সাবিত (রা.) বললেন: হে হাজ্জাজ! তাকে ফতোয়া দাও। হাজ্জাজ বলেন: আমি বললাম, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, আমরা তো আপনার নিকট বসি আপনার কাছ থেকে শেখার জন্য। তিনি বললেন: তাকে ফতোয়া দাও। তখন আমি বললাম: সে তোমার শস্যক্ষেত্র; তুমি চাইলে তাতে পানি সেচন করতে পারো, আর চাইলে তাকে তৃষ্ণার্ত রাখতে পারো। হাজ্জাজ বলেন: আমি ইতিপূর্বে জায়েদ (রা.)-এর নিকট থেকেও এরূপ কথা শুনতাম। তখন জায়েদ (রা.) বললেন: সে সত্য বলেছে।
৪ - ইবনে ওমর (রা.)-এর নিকট সফর-:
ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বাসরায় প্রথম যে ব্যক্তি তাকদির (القدر) সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর কথা বলেছিল সে হলো মাবাদ আল-জুহানি। ফলে আমি এবং হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান আল-হিময়ারি হজ অথবা ওমরাহ আদায়ের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। আমরা বললাম: যদি আমাদের সাথে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো সাহাবীর সাক্ষাৎ হতো, তবে আমরা তাঁদেরকে এই লোকেরা তাকদির সম্পর্কে যা বলে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতাম। সৌভাগ্যবশত আমরা আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনে আল-খাত্তাব (রা.)-কে মসজিদে প্রবেশ করতে দেখলাম। তখন আমি এবং আমার সাথী তাঁর দুই পাশ থেকে তাঁকে ঘিরে ধরলাম; একজন তাঁর ডান পাশে এবং অন্যজন বাম পাশে। আমি ধারণা করলাম যে, আমার সাথী কথা বলার দায়িত্ব আমার ওপরই অর্পণ করবেন। তখন আমি বললাম: হে আবু আবদুর রহমান! আমাদের অঞ্চলে এমন কিছু লোকের উদ্ভব হয়েছে যারা কুরআন পাঠ করে এবং অতি সূক্ষ্মভাবে জ্ঞান অন্বেষণ করে (ويتقفرون العلم)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুল ফুদোলা কামা ওয়ারদাত বিহান আনবা
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
شَأْنِهِمْ، وَأَنَّهُمْ يَزْعُمُونَ أَنْ لَا قَدَرَ، وَأَنَّ الْأَمْرَ أُنُفٌ، قَالَ: «فَإِذَا لَقِيتَ أُولَئِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنِّي بَرِيءٌ مِنْهُمْ، وَأَنَّهُمْ بُرَآءُ مِنِّي»، وَالَّذِي يَحْلِفُ بِهِ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ «لَوْ أَنَّ لِأَحَدِهِمْ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا، فَأَنْفَقَهُ مَا قَبِلَ اللهُ مِنْهُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ».
ثُمَّ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ، إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ، شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعَرِ، لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ، وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ، حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ، وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ، وَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِسْلَامِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «الْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلًا»، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ، وَيُصَدِّقُهُ، قَالَ: «فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيمَانِ»، قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ»، قَالَ: «صَدَقْتَ»، قَالَ: «فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِحْسَانِ»، قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ»، قَالَ: «فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ»، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ» قَالَ: «فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَتِهَا»، قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ»، قَالَ: ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَبِثْتُ مَلِيًّا، ثُمَّ قَالَ لِي: «يَا عُمَرُ أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟» قُلْتُ: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ»
(1).
عبد العزيز بن حكيم يقول: شهدت ابن عمر وأتاه رجل من أهل البصرة فقال: إني جئت من عند قوم يصرفون الدراهم الصغار فيأخذون بها كبارًا،
--------------------------------------------
...তাদের অবস্থা সম্পর্কে, এবং তারা দাবি করে যে তাকদির বলে কিছু নেই এবং সবকিছুই আকস্মিকভাবে ঘটে। তিনি বললেন: "যখন তুমি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তাদের জানিয়ে দিও যে আমি তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার থেকে মুক্ত।" যার নামে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর শপথ করেন, তাঁর কসম! যদি তাদের কারো নিকট উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং সে তা ব্যয় করে ফেলে, তবুও আল্লাহ তার থেকে তা গ্রহণ করবেন না যতক্ষণ না সে তাকদিরে বিশ্বাস করবে।
অতঃপর তিনি বললেন: আমার পিতা ওমর ইবনুল খাত্তাব আমাকে বর্ণনা (حدثني) করেছেন, তিনি বলেন: একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, এমতাবস্থায় আমাদের সামনে অত্যন্ত সাদা পোশাকধারী এবং অত্যন্ত কালো চুল বিশিষ্ট এক ব্যক্তি উপস্থিত হলেন। তাঁর মাঝে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের কেউ তাঁকে চিনতও না। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসলেন এবং নিজের হাঁটু তাঁর হাঁটুর সাথে ঠেকালেন এবং নিজের দুহাত তাঁর দুই উরুর ওপর রাখলেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "ইসলাম হলো এই যে, তুমি সাক্ষ্য দেবে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, রমজান মাসে সিয়াম পালন করবে এবং সামর্থ্য থাকলে বাইতুল্লাহর হজ করবে।" তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। আমরা তাঁর প্রতি বিস্মিত হলাম যে, তিনি নিজেই প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তা সত্যায়ন করছেন। তিনি বললেন: এবার আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: "তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং তাকদিরের ভালো-মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে।" তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: এবার আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: "তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে না-ও দেখ, তবে তিনি নিশ্চয়ই তোমাকে দেখছেন।" তিনি বললেন: এবার আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: "যাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে, তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক কিছু জানেন না।" তিনি বললেন: তবে আমাকে এর আলামতসমূহ সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: "দাসী যখন তার মালিককে প্রসব করবে এবং নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, অভাবী মেষপালকদের বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করতে দেখবে।" এরপর তিনি চলে গেলেন। আমি বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: "হে ওমর! তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন?" আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: "তিনি জিবরাঈল ছিলেন, তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।"
(১).
আব্দুল আজিজ বিন হাকিম বলেন: আমি ইবনে ওমরের নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় বসরার এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল: আমি এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট থেকে এসেছি যারা ছোট দিরহাম ভাঙিয়ে তার পরিবর্তে বড় দিরহাম গ্রহণ করে।
--------------------------------------------