(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: -)
مسند أبي داود الطيالسي القسم: كتب السنة
الكتاب: مسند أبي داود الطيالسي
المؤلف: أبو داود الطيالسي سليمان بن داود بن الجارود (ت 204 هـ)
المحقق: الدكتور محمد بن عبد المحسن التركي
الناشر: دار هجر - مصر
الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1999 م
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو ضمن خدمة التخريج]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুসনাদে আবু দাউদ আত-তায়ালিসি বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
কিতাব: মুসনাদে আবু দাউদ আত-তায়ালিসি
লেখক: আবু দাউদ আত-তায়ালিসি সুলাইমান বিন দাউদ বিন আল-জারুদ (মৃত্যু ২০৪ হিজরি)
সম্পাদক ও গবেষক: ডক্টর মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি
প্রকাশক: দারু হাজার - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি তাখরিজ পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو الْمَكَارِمِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ اللَّبَّانُ - الْمُتَوَفَّى فِي سَابِعَ عَشَرَ ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ (597 هـ) الْمُعَدَّلُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ بِأَصْبَهَانَ فِي سَنَةِ اثْنَتَيْنِ وَتِسْعِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الْحَدَّادُ الْمُقْرِئُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ، فِي مُحَرَّمٍ سَنَةَ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ وَخَمْسِمِائَةٍ، فَأَقَرَّ بِهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْإِمَامُ أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ الْحَافِظُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي الْمُحَرَّمِ مِنْ سَنَةِ اثْنَتَيْنِ وَعِشْرِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ فَارِسٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي سَنَةِ أَرْبَعٍ وَأَرْبَعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، قَالَ:
أَحَادِيثُ أَبِي بَكْرٍ(1) رضي الله عنهوَاسْمُهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ عَامِرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ
(2) سَعْدِ بْنِ تَيْمِ بْنِ مُرَّةَ.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু আল-মাকারিম আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কাইস আল-লাব্বান—যিনি ৫৯৭ হিজরীর ১৭ই জিলহজ ইন্তেকাল করেছেন এবং যিনি ছিলেন একজন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি—তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমি ৫৯২ হিজরীতে ইসফাহানে তা শ্রবণ করছিলাম। তাঁকে বলা হলো: আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে আল-হাসান আল-হাদ্দাদ আল-মুকরি—৫১২ হিজরীর মহররম মাসে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আপনি তা শ্রবণ করছিলেন। অতঃপর তিনি (আবু আল-মাকারিম) তা স্বীকার করলেন। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু নুআইম আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে ইসহাক আল-হাফেজ—৪২২ হিজরীর মহররম মাসে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমি তা শ্রবণ করছিলাম। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আহমাদ ইবনে ফারিস—৩৪৪ হিজরীতে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বললেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বিশর ইউনুস ইবনে হাবীব। তিনি বললেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু দাউদ আত-তায়ালিসি। তিনি বলেন:
আবু বকর(১) (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)-এর বর্ণিত হাদীসসমূহআর তাঁর নাম হলো আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে
(২) সাদ ইবনে তাইম ইবনে মুররাহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ৪)
1 - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ رَبِيعَةَ الْأَسَدِيَّ ، يُحَدِّثُ عَنْ أَسْمَاءَ - أَوْ أَبِي أَسْمَاءَ - الْفَزَارِيِّ ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيًّا رضي الله عنه يَقُولُ: كُنْتُ إِذَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا يَنْفَعُنِي اللهُ عز وجل بِمَا شَاءَ أَنْ يَنْفَعَنِي
(1)، قَالَ عَلِيٌّ: وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ ، وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا مِنْ عَبْدٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللهَ إِلَّا غَفَرَ لَهُ، ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ: {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ} الْآيَةَ، وَالْآيَةَ الْأُخْرَى: {وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ} الْآيَةَ».
--------------------------------------------
১ - শু’বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উসমান ইবনুল মুগীরাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আলী বিন রাবীআহ আল-আসাদীকে আসমা —অথবা আবু আসমা— আল-ফাযারী থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি: আমি যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে কোনো হাদীস শুনতাম, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তা দ্বারা আমাকে যতটুকু ইচ্ছা উপকৃত করতেন।
(১) আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আর আবু বকর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন—এবং আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সত্য বলেছেন—যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «এমন কোনো বান্দা নেই যে কোনো পাপ করে, অতঃপর সে উযু করে এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করে, এরপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেন।» অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: {আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করে, তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে} —আয়াতের শেষ পর্যন্ত, এবং অন্য একটি আয়াত: {আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ করে অথবা নিজের প্রতি জুলুম করে} —আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ৫)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ ، عَنْ أَسْمَاءَ بْنِ الْحَكَمِ الْفَزَارِيِّ ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيًّا رضي الله عنه يَقُولُ: كُنْتُ إِذَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا نَفَعَنِي اللهُ بِمَا شَاءَ أَنْ يَنْفَعَنِي، وَإِذَا حَدَّثَنِي غَيْرُهُ اسْتَحْلَفْتُهُ أَنَّهُ سَمِعَهُ مِنْهُ، ثُمَّ صَدَّقْتُهُ، وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ - وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ
… ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ شُعْبَةَ.
২ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আওয়ানাহ বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনুল মুগীরাহ থেকে, তিনি আলী ইবনে রাবিয়াহ থেকে, তিনি আসমা ইবনুল হাকাম আল-ফাজারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আমি যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে কোনো হাদীস শুনতাম, তখন আল্লাহ আমাকে তা দ্বারা যতটুকু কল্যাণ দান করার ইচ্ছা করতেন ততটুকু দান করতেন। আর যখন তাঁর (রাসূলুল্লাহর) ব্যতীত অন্য কেউ আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন আমি তাকে দিয়ে কসম করিয়ে নিতাম যে তিনি এটি তাঁর নিকট থেকেই শুনেছেন। অতঃপর তিনি কসম করলে আমি তাঁকে সত্য বলে মেনে নিতাম। আর আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন—এবং আবু বকর সত্য বলেছেন—যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন... অতঃপর তিনি শু'বাহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ৫)
3 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ بْنُ السَّبَّاقِ ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ رضي الله عنه، حَدَّثَهُ قَالَ:
⦗ص: 6⦘ «أَرْسَلَ إِلَيَّ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه مَقْتَلَ أَهْلِ الْيَمَامَةِ، وَإِذَا عِنْدَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، فَقَالَ: إِنَّ هَذَا أَتَانِي فَأَخْبَرَنِي أَنَّ الْقَتْلَ قَدِ اسْتَحَرَّ
(1) بِقُرَّاءِ الْقُرْآنِ فِي هَذَا الْمَوْطِنِ - يَعْنِي يَوْمَ الْيَمَامَةِ - وَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَسْتَحِرَّ الْقَتْلُ بِقُرَّاءِ الْقُرْآنِ فِي سَائِرِ الْمَوَاطِنِ فَيَذْهَبَ الْقُرْآنُ، وَقَدْ رَأَيْتُ أَنْ تَجْمَعَهُ، فَقُلْتُ لَهُ - يَعْنِي لِعُمَرَ -: كَيْفَ نَفْعَلُ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لِي عُمَرُ: هُوَ وَاللهِ خَيْرٌ، فَلَمْ يَزَلْ بِي عُمَرُ حَتَّى شَرَحَ اللهُ صَدْرِي لِلَّذِي شَرَحَ لَهُ صَدْرَهُ، وَرَأَيْتُ فِيهِ مِثْلَ الَّذِي رَأَى
(2)»، وَأَنْتَ رَجُلٌ
⦗ص: 7⦘عَاقِلٌ، قَدْ كُنْتَ تَكْتُبُ الْوَحْيَ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَا نَتَّهِمُكَ فَاجْمَعْهُ.
--------------------------------------------
৩ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম ইবন সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উবাইদ ইবন সাব্বাক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, যায়িদ ইবন সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
⦗পৃষ্ঠা: ৬⦘ «ইয়ামামার যুদ্ধে নিহতদের ঘটনার পর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমার নিকট লোক পাঠালেন, এমতাবস্থায় উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার নিকট উপস্থিত ছিলেন। আবু বকর বললেন: এই ব্যক্তি (উমর) আমার নিকট এসে সংবাদ দিলেন যে, এই যুদ্ধক্ষেত্রে—অর্থাৎ ইয়ামামার যুদ্ধে—কুরআনের হাফেজদের মৃত্যুর হার অত্যন্ত বেড়ে গেছে
(১)। আমি আশঙ্কা করছি যে, অন্যান্য রণক্ষেত্রেও কুরআনের হাফেজদের শাহাদাতের হার বেড়ে যেতে পারে, ফলে কুরআন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমি সঙ্গত মনে করছি যে, আপনি কুরআন একত্র করবেন। আমি তাকে—অর্থাৎ উমরকে—বললাম: আমরা এমন একটি কাজ কীভাবে করব যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) করেননি? উমর আমাকে বললেন: আল্লাহর কসম, এটি কল্যাণকর কাজ। উমর অবিরত এ বিষয়ে আমাকে বলতে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ আমার অন্তরকে সেই বিষয়ের জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন যার জন্য তিনি তার (উমরের) অন্তর উন্মুক্ত করেছিলেন। আর এ বিষয়ে আমি তাই দেখলাম যা তিনি (উমর) দেখেছিলেন
(২)», এবং আপনি একজন
⦗পৃষ্ঠা: ৭⦘বুদ্ধিমান ব্যক্তি, আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ওহী লিখতেন, আপনার ব্যাপারে আমাদের কোনো সংশয় নেই, অতএব আপনি কুরআন একত্র করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ৭)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ تَوْبَةَ الْعَنْبَرِيِّ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا السَّوَّارِ الْعَنْبَرِيَّ يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي بَرْزَةَ ، قَالَ: «كُنْتُ عِنْدَ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه وَهُوَ يُوعِدُ رَجُلًا، فَأَغْلَظَ لَهُ، فَقُلْتُ: أَلَا أَضْرِبُ عُنُقَهُ؟ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: إِنَّهُ لَيْسَتْ لِأَحَدٍ بَعْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم».
৪ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু'বা বর্ণনা করেছেন তওবাহ আল-আনবারী থেকে, তিনি বলেন: আমি আবুস সাওয়ার আল-আনবারীকে আবু বারযাহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: «আমি আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি এক ব্যক্তিকে ধমক দিচ্ছিলেন এবং তার প্রতি কঠোর ভাষা প্রয়োগ করছিলেন। তখন আমি বললাম: আমি কি তার গর্দান উড়িয়ে দেব? আবু বকর বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর এটি আর কারো জন্য বৈধ নয়।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ৭)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ،
(1) حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يَزِيدُ بْنُ خُمَيْرٍ ،
⦗ص: 8⦘قَالَ: سَمِعْتُ سُلَيْمَ بْنَ عَامِرٍ ، يُحَدِّثُ عَنْ أَوْسَطَ الْبَجَلِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: «سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ ، رضي الله عنه يَخْطُبُ، فَذَكَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَبَكَى، ثُمَّ قَالَ
(2)» - يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ، فَإِنَّهُ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ، وَهُمَا فِي الْجَنَّةِ، وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّهُ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ، وَهُمَا فِي النَّارِ، وَاسْأَلُوا اللهَ الْيَقِينَ وَالْمُعَافَاةَ، فَإِنَّ النَّاسَ لَمْ يُعْطَوْا شَيْئًا بَعْدَ الْيَقِينِ أَفْضَلَ مِنَ الْمُعَافَاةِ - أَوْ قَالَ: الْعَافِيَةِ - وَلَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَبَاغَضُوا، وَلَا تَقَاطَعُوا، وَلَا تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ إِخْوَانًا.
--------------------------------------------
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ,
(১) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজীদ ইবনে খুমায়র,
⦗পৃষ্ঠা: ৮⦘তিনি বলেন: আমি সুলাইম ইবনে আমিরকে আওসাত আল-বাজালী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: «আমি আবু বকরকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) খুতবা দিতে শুনেছি, এমতাবস্থায় তিনি নবীজিকে (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) স্মরণ করলেন এবং কাঁদলেন। অতঃপর তিনি বললেন
(২)» - অর্থাৎ নবীজি (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) বলেছেন: তোমরা সত্যবাদিতাকে আঁকড়ে ধরো, কারণ তা পুণ্যের দিকে পরিচালিত করে এবং তারা উভয়ই জান্নাতে থাকবে। আর তোমরা মিথ্যাচার থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তা পাপাচারের দিকে পরিচালিত করে এবং তারা উভয়ই জাহান্নামে থাকবে। তোমরা আল্লাহর কাছে ইয়াকীন (সুনিশ্চিত বিশ্বাস) ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করো। কেননা, ইয়াকীনের পর মানুষকে নিরাপত্তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কিছু দেওয়া হয়নি - অথবা তিনি বলেছিলেন: সুস্থতা - এবং তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা করো না, একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না, এবং একে অপরের থেকে বিমুখ হয়ো না। বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ৮)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عِيسَى بْنُ طَلْحَةَ ، عَنْ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ
⦗ص: 9⦘ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: «كَانَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه إِذَا ذَكَرَ يَوْمَ أُحُدٍ بَكَى، ثُمَّ قَالَ: ذَاكَ كُلُّهُ يَوْمُ طَلْحَةَ، ثُمَّ أَنْشَأَ يُحَدِّثُ، قَالَ: كُنْتُ أَوَّلَ مَنْ فَاءَ يَوْمَ أُحُدٍ، فَرَأَيْتُ رَجُلًا يُقَاتِلُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم دُونَهُ - وَأُرَاهُ قَالَ: يَحْمِيهِ -، قَالَ: فَقُلْتُ: كُنْ طَلْحَةَ، حَيْثُ فَاتَنِي مَا فَاتَنِي، فَقُلْتُ: يَكُونُ رَجُلًا مِنْ قَوْمِي أَحَبُّ إِلَيَّ، وَبَيْنِي وَبَيْنَ الْمَشْرِقِ رَجُلٌ لَا أَعْرِفُهُ، وَأَنَا أَقْرَبُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهُ، وَهُوَ يَخْطِفُ الْمَشْيَ خَطْفًا لَا أَخْطِفُهُ، فَإِذَا هُوَ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ، فَانْتَهَيْنَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ كُسِرَتْ رَبَاعِيَتُهُ، وَشُجَّ فِي وَجْهِهِ، وَقَدْ دَخَلَ فِي وَجْنَتَيْهِ حَلْقَتَانِ مِنْ حِلَقِ الْمِغْفَرِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: عَلَيْكُمَا صَاحِبَكُمَا، يُرِيدُ طَلْحَةَ، وَقَدْ نَزَفَ، فَلَمْ يَلْتَفِتْ إِلَى قَوْلِهِ، وَذَهَبْتُ لِأَنْزِعَ ذَاكَ مِنْ وَجْهِهِ، فَقَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ: أَقْسَمْتُ عَلَيْكَ بِحَقِّي لَمَا تَرَكْتَنِي، فَتَرَكْتُهُ، فَكَرِهَ أَنْ يَتَنَاوَلَهُمَا بِيَدِهِ، فَيُؤْذِيَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَأَزَمَ عَلَيْهِمَا بِفِيهِ فَاسْتَخْرَجَ إِحْدَى الْحَلْقَتَيْنِ، وَوَقَعَتْ ثَنِيَّتُهُ مَعَ الْحَلْقَةِ، وَذَهَبْتُ لِأَصْنَعَ مَا صَنَعَ، فَقَالَ: أَقْسَمْتُ عَلَيْكَ بِحَقِّي لَمَا تَرَكْتَنِي، قَالَ: فَفَعَلَ مِثْلَ مَا فَعَلَ فِي الْمَرَّةِ الْأُولَى فَوَقَعَتْ ثَنِيَّتُهُ الْأُخْرَى مَعَ الْحَلْقَةِ، فَكَانَ أَبُو عُبَيْدَةَ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ هَتْمًا، فَأَصْلَحْنَا مِنْ شَأْنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ أَتَيْنَا طَلْحَةَ فِي بَعْضِ تِلْكَ
⦗ص: 10⦘الْجِفَارِ فَإِذَا بِهِ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ - أَوْ أَقَلُّ أَوْ أَكْثَرُ - بَيْنَ طَعْنَةٍ وَرَمْيَةٍ وَضَرْبَةٍ، وَإِذَا قَدْ قُطِعَتْ إِصْبَعُهُ، فَأَصْلَحْنَا مِنْ شَأْنِهِ».
৬ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবন ইয়াহইয়া ইবন তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন: ঈসা ইবন তালহা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, উম্মুল মুমিনীন
⦗পৃষ্ঠা: ৯⦘ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন উহুদ যুদ্ধের দিনের কথা স্মরণ করতেন তখন কাঁদতেন, তারপর বলতেন: "সেই দিনটি পুরোটাই ছিল তালহার।" এরপর তিনি ঘটনা বর্ণনা করতে শুরু করে বলতেন: "আমি ছিলাম উহুদের দিন (রণক্ষেত্র থেকে ফেরার পর পুনরায়) ফিরে আসা প্রথম ব্যক্তি। তখন আমি একজন লোককে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে থেকে তাঁর হয়ে যুদ্ধ করতে দেখলাম — বর্ণনাকারী বলেন: আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন: তাঁকে রক্ষা করছিলেন —। তিনি বলেন: আমি মনে মনে বললাম, 'তুমি যেন তালহাই হও', যেহেতু আমি যা হারিয়েছি তা তো হারিয়েছিই। আমি বললাম: 'লোকটি যদি আমার গোত্রের কেউ হয় তবে তা আমার নিকট অধিক প্রিয় হবে'। আমার এবং পূর্বদিকের মাঝখানে একজন লোক ছিলেন যাঁকে আমি চিনতাম না। আমি তাঁর চেয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অধিক কাছে ছিলাম, কিন্তু তিনি এতো দ্রুত পথ চলছিলেন যে আমি তাঁর সাথে পেরে উঠছিলাম না। হঠাৎ দেখা গেল তিনি হলেন আবু উবায়দুল্লাহ ইবনুল জাররাহ। আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছালাম, তখন তাঁর সামনের দাঁত ভেঙে গিয়েছে এবং তাঁর মুখমণ্ডল আহত হয়েছে। তাঁর গালের হাড়ের ভেতর শিরস্ত্রাণের দুটি আংটা ঢুকে গিয়েছিল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'তোমরা তোমাদের সঙ্গীর দেখাশোনা করো', তিনি তালহাকে উদ্দেশ্য করছিলেন যাঁর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। কিন্তু তিনি (আবু উবায়দুল্লাহ) রাসূলের সে কথার দিকে ভ্রূক্ষেপ করলেন না। আমি রাসূলের চেহারা থেকে আংটাটি বের করার জন্য এগিয়ে গেলাম, তখন আবু উবায়দুল্লাহ বললেন: 'আমি আমার হকের দোহাই দিয়ে আপনাকে কসম দিচ্ছি, আপনি আমাকে সুযোগ দিন'। তখন আমি তাঁকে ছেড়ে দিলাম। তিনি হাত দিয়ে আংটা দুটি ধরা অপছন্দ করলেন পাছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কষ্ট পান, তাই তিনি নিজের দাঁত দিয়ে আংটাটি কামড়ে ধরে হেঁচকা টান দিলেন এবং একটি আংটা বের করে আনলেন। এতে আংটার সাথে তাঁর নিজের একটি সামনের দাঁতও উপড়ে পড়ে গেল। এরপর আমি অন্য আংটাটি বের করার জন্য অগ্রসর হলাম, তখন তিনি বললেন: 'আমি আমার হকের দোহাই দিয়ে আপনাকে কসম দিচ্ছি, আপনি আমাকে ছেড়ে দিন'। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি প্রথমবার যা করেছিলেন এবারও তাই করলেন এবং আংটার সাথে তাঁর অন্য সামনের দাঁতটিও পড়ে গেল। ফলে আবু উবায়দুল্লাহ হলেন সামনের দাঁত ভাঙা মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। এরপর আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অবস্থা পরিচর্যা করলাম। তারপর আমরা তালহার নিকট এলাম, তিনি তখন সেই সব
⦗পৃষ্ঠা: ১০⦘ গর্তের (খাদের) কোনো একটির মধ্যে ছিলেন। দেখা গেল তাঁর শরীরে বর্শার আঘাত, তীরের আঘাত এবং তলোয়ারের কোপ মিলিয়ে সত্তরটিরও বেশি — কম বা বেশি হতে পারে — ক্ষত রয়েছে এবং তাঁর একটি আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এরপর আমরা তাঁর অবস্থা পরিচর্যা করলাম»।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ১০)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ مُوسَى ، وَهَمَّامٌ ، عَنْ فَرْقَدٍ ، عَنْ مُرَّةَ ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «أَوَّلُ مَنْ يَقْرَعُ بَابَ الْجَنَّةِ عَبْدٌ أَدَّى حَقَّ اللهِ وَحَقَّ مَوَالِيهِ».
৭ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাদাকাহ ইবনে মুসা এবং হাম্মাম বর্ণনা করেছেন, ফারকাদ থেকে, তিনি মুররাহ থেকে, তিনি আবু বকর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে বলতে শুনেছি: «জান্নাতের দরজায় সর্বপ্রথম কড়া নাড়বে সেই দাস, যে আল্লাহর হক এবং তার মনিবদের হক আদায় করেছে।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ১০)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ مُوسَى ، وَهَمَّامٌ ، عَنْ فَرْقَدٍ ، عَنْ مُرَّةَ ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا
⦗ص: 11⦘يَدْخُلُ الْجَنَّةَ خَبٌّ وَلَا خَائِنٌ».
৮ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাদাকাহ ইবনে মুসা এবং হাম্মাম বর্ণনা করেছেন ফারকাদ থেকে, তিনি মুররাহ থেকে, তিনি আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কোনো
[পৃষ্ঠা: ১১]প্রতারক এবং খিয়ানতকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না»।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ১১)
9 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ عَاصِمٍ الثَّقَفِيَّ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ، يَقُولُ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رضي الله عنه: «يَا رَسُولَ اللهِ مُرْنِي بِشَيْءٍ أَقُولُهُ إِذَا أَصْبَحْتُ وَإِذَا أَمْسَيْتُ، قَالَ: قُلِ: اللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ، قُلْهُ إِذَا أَصْبَحْتَ، وَإِذَا أَمْسَيْتَ، وَإِذَا أَخَذْتَ مَضْجَعَكَ».
৯ - আবু দাউদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়ালা ইবনে আতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমর ইবনে আসিম আস-সাকাফিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: আবু বকর আস-সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন: «হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছুর নির্দেশ দিন যা আমি সকালে ও সন্ধ্যায় বলব। তিনি বললেন: তুমি বলো: হে আল্লাহ! আপনি গায়েব ও উপস্থিত সবকিছুর পরিজ্ঞাত, আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, প্রতিটি বস্তুর প্রতিপালক ও মালিক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আমি আপনার নিকট আমার নফসের অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানের অনিষ্ট ও তার শিরক থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। সকালে, সন্ধ্যায় এবং যখন তুমি তোমার বিছানায় যাবে, তখন এটি পাঠ করো»।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ১২)
أَحَادِيثُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بْنِ نُفَيْلِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى بْنِ رَبَاحِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ قُرْطِ بْنِ رِزَاحِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ كَعْبٍ رضي الله عنه، عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم
مَا رَوَاهُ عَنْهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ رضي الله عنه
مَا رَوَاهُ عَنْهُ سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رحمه الله (1)--------------------------------------------
উমর ইবনুল খাত্তাব ইবনে নুফায়ল ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে রাবাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুরত ইবনে রিযাহ ইবনে আদী ইবনে কা’ব রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসসমূহ, যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত।
যা তাঁর থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন।
যা তাঁর থেকে সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন (১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ১২)
10 - حَدَّثَنَا يُونُسُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ ، قَالَ: سَمِعْتُ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللهِ ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ ، «أَنَّ عُمَرَ
⦗ص: 13⦘بْنَ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه اسْتَأْذَنَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي عُمْرَةٍ، فَأَذِنَ لَهُ وَقَالَ لَهُ: يَا أَخِي أَشْرِكْنَا فِي دُعَائِكَ أَوْ لَا تَنْسَنَا مِنْ دُعَائِكَ».
১০ - ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি সালিম ইবনে আবদুল্লাহকে তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, ওমর
[পৃষ্ঠা: ১৩]ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উমরার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং তাঁকে বললেন: "হে আমার ভাই! তোমার দোয়ায় আমাদের শরিক করো অথবা তোমার দোয়া থেকে আমাদের ভুলে যেও না।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
11 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ ، عَنْ سَالِمٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، «أَنَّ عُمَرَ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ مَا نَعْمَلُ فِيهِ، أَمْرٌ مُبْتَدَعٌ - أَوْ مُبْتَدَأٌ - أَوْ مَا قَدْ فُرِغَ مِنْهُ؟ قَالَ: مَا قَدْ فُرِغَ مِنْهُ، فَاعْمَلْ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ، فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ
(1)»، مَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ السَّعَادَةِ فَإِنَّهُ يَعْمَلُ بِالسَّعَادَةِ - أَوْ لِلسَّعَادَةِ -، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الشَّقَاءِ فَإِنَّهُ يَعْمَلُ بِالشَّقَاءِ - أَوْ لِلشَّقَاوَةِ -.
--------------------------------------------
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, আসেম ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি সালেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমরা যে আমল করছি সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তা কি নতুনভাবে সূচিত কোনো বিষয়, নাকি এমন বিষয় যার ফয়সালা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে?" তিনি বললেন: "বরং যার ফয়সালা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। অতএব হে খাত্তাবের পুত্র, তুমি কাজ করে যাও; কারণ প্রত্যেকের জন্যই সহজ করে দেওয়া হয়েছে
(১)। যে সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত, সে সৌভাগ্যের কাজ করবে—অথবা সৌভাগ্যের জন্য কাজ করবে—এবং যে দুর্ভাগাদের অন্তর্ভুক্ত, সে দুর্ভাগ্যের কাজ করবে—অথবা দুর্ভাগ্যের জন্য কাজ করবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
12 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَهْرَمَانَ آلِ الزُّبَيْرِ ، عَنْ سَالِمٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ، رَضِيَ اللهُ
⦗ص: 15⦘عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ دَخَلَ سُوقًا مِنْ هَذِهِ الْأَسْوَاقِ فَقَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ حَيٌّ لَا يَمُوتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، كَتَبَ اللهُ عز وجل لَهُ أَلْفَ أَلْفِ حَسَنَةٍ، وَمَحَا عَنْهُ أَلْفَ أَلْفِ سَيِّئَةٍ، وَبَنَى لَهُ قَصْرًا فِي الْجَنَّةِ».
১২ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে যাইদ বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে দিনার কাহরামান আলি যুবাইর থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু)
⦗পৃষ্ঠা: ১৫⦘ আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি এই বাজারগুলোর কোনো একটিতে প্রবেশ করে বলবে: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই, তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু দান করেন, আর তিনি চিরঞ্জীব, যাঁর মৃত্যু নেই, তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ এবং তিনি সকল বিষয়ের ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান’, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তার জন্য দশ লক্ষ নেকি লিখে দেন, তার থেকে দশ লক্ষ গুনাহ মুছে দেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
13 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ ، عَنْ
عَمْرِو بْنِ ⦗ص: 17⦘دِينَارٍ ، عَنْ سَالِمٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، عَنْ عُمَرَ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا مِنْ رَجُلٍ رَأَى مُبْتَلًى فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاهُ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلًا إِلَّا لَمْ يُصِبْهُ ذَلِكَ الْبَلَاءُ كَائِنًا مَا كَانَ».
১৩ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি
আমর ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ১৭⦘দিনার থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে কোনো ব্যক্তি কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখে বলে: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে সেই বিপদ থেকে মুক্ত রেখেছেন যাতে তিনি তোমাকে লিপ্ত করেছেন এবং তাঁর অনেক সৃষ্টির ওপর আমাকে বিশেষভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন", তবে সেই বিপদ তাকে স্পর্শ করবে না, তা যা-ই হোক না কেন»।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَرِيكٌ ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ ، عَنْ رَجُلٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، عَنْ عُمَرَ رضي الله عنه، قَالَ: «رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ».
১৪ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শারীক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করতে দেখেছি»।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
15 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِالنِّيَاحَةِ عَلَيْهِ فِي قَبْرِهِ».
15 - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তিকে তার কবরে তার উপর বিলাপ করার কারণে আযাব দেওয়া হয়»।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
16 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْحَكَمِ السُّلَمِيَّ ، يَقُولُ: «سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ رضي الله عنه
⦗ص: 20⦘عَنِ النَّبِيذِ، فَحَدَّثَ عَنْ عُمَرَ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ».
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি বলেন: আমি আবুল হাকাম আস-সুলামীকে বলতে শুনেছি: «আমি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম
⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘নাবীয সম্পর্কে। তখন তিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাটির কলস, শুকনো লাউয়ের খোল এবং আলকাতরা মাখানো পাত্র (ব্যবহার) করতে নিষেধ করেছেন।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ২০)
17 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ دِينَارٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ ، يَقُولُ: قَالَ عُمَرُ : «يَا رَسُولَ اللهِ تُصِيبُنِي الْجَنَابَةُ مِنَ اللَّيْلِ فَكَيْفَ أَصْنَعُ؟ قَالَ: اغْسِلْ ذَكَرَكَ وَتَوَضَّأْ ثُمَّ ارْقُدْ».
১৭ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শুবা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন দীনার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, উমর (রা.) বললেন: «হে আল্লাহর রাসূল! রাতে আমার জানাবাত (অপবিত্রতা) অবস্থা হয়, এমতাবস্থায় আমি কী করব? তিনি বললেন: তোমার লজ্জাস্থান ধৌত করো এবং অজু করো, তারপর ঘুমাও।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ২১)
18 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا صَخْرُ بْنُ جُوَيْرِيَةَ ، حَدَّثَنَا نَافِعٌ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، «أَنَّ عُمَرَ
(1)» رَأَى حُلَّةَ عُطَارِدٍ التَّمِيمِيِّ مِنْ حَرِيرٍ سِيَرَاءَ تُبَاعُ، فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللهِ اشْتَرِ هَذِهِ الْحُلَّةَ فَالْبَسْهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلِلْوُفُودِ إِذَا جَاءُوكَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذَا مَنْ لَا خَلَاقَ لَهُ فِي الْآخِرَةِ ثُمَّ أُتِيَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِحُلَلٍ مِنْهَا بَعْدَ ذَلِكَ فَأَرْسَلَ إِلَى عُمَرَ مِنْهَا بِحُلَّةٍ، فَأَتَاهُ عُمَرُ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَرْسَلْتَ إِلَيَّ الْيَوْمَ بِحُلَّةٍ، وَقَدْ قُلْتَ فِي حُلَّةِ عُطَارِدٍ مَا قُلْتَ، قَالَ: تَسْتَنْفِقُهَا أَوْ تَكْسُوهَا نِسَاءَكَ.
--------------------------------------------
১৮ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাখর ইবনে জুওয়াইরিয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট নাফি বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, «উমর
(১)» আতারিদ আত-তামিমির একটি রেশমি নকশা করা রেশমি পোশাক বিক্রি হতে দেখলেন। তখন উমর বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এই পোশাকটি ক্রয় করুন এবং জুমআর দিনে ও প্রতিনিধি দল যখন আপনার নিকট আসবে তখন এটি পরিধান করুন। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: এটি কেবল সেই ব্যক্তিই পরিধান করে পরকালে যার কোনো অংশ নেই। এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অনুরূপ কিছু পোশাক নিয়ে আসা হলো, তখন তিনি তার মধ্য থেকে উমরের নিকট একটি পোশাক পাঠালেন। তখন উমর তাঁর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আজ আমার নিকট একটি পোশাক পাঠিয়েছেন, অথচ আতারিদের পোশাক সম্পর্কে আপনি ইতিপূর্বে যা বলার বলেছিলেন। তিনি বললেন: তুমি এটি বিক্রি করে অর্থ কাজে লাগাও অথবা তোমার নারীদের পরিধান করাও।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ২২)
19 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ بْنُ أَسْمَاءَ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنه، قَالَ: «أَتَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى عُمَرَ رضي الله عنه وَهُوَ يَحْلِفُ بِأَبِيهِ، فَنَادَاهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ اللهَ عز وجل يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ، فَمَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ بِاللهِ أَوْ لِيَصْمُتْ».
১৯ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জুওয়ায়রিয়াহ ইবনে আসমা আমাদের নিকট নাফে-এর সূত্রে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আসলেন এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর পিতার নামে শপথ করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে ডেকে বললেন: "নিশ্চয়ই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পিতৃপুরুষদের নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। অতএব, যে ব্যক্তি শপথ করতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামেই শপথ করে অথবা চুপ থাকে।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ، وَهِشَامٌ ، وَشُعْبَةُ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ ، قَالَ: «سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ، فَقَالَ: تَعْرِفُ ابْنَ عُمَرَ فَإِنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ، فَذَكَرَ عُمَرُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يُرَاجِعُهَا».
২০ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, হিশাম ও শু'বাহ আমাদের নিকট কাতাদাহ থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি ইবনে উমরকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে তার স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় তালাক দিয়েছে। তখন তিনি বললেন: তুমি কি ইবনে উমরকে চেনো? সে তার স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় তালাক দিয়েছিল। অতঃপর উমর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন, তখন তিনি বললেন: ‘সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়’।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
21 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ ، عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُرَيْدَةَ الْأَسْلَمِيِّ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنهما، «أَنَّهُ كَانَ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَهُ رَجُلٌ عَلَيْهِ ثَوْبَانِ أَبْيَضَانِ مُقَوَّمٌ، حَسَنُ النَّحْوِ وَالنَّاحِيَةِ، فَقَالَ: أَدْنُو مِنْكَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ فَقَالَ: ادْنُ ثُمَّ قَالَ: أَدْنُو مِنْكَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ فَقَالَ: ادْنُ فَلَمْ يَزَلْ يَدْنُو حَتَّى كَانَتْ رُكْبَتُهُ عِنْدَ رُكْبَةِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ قَالَ: أَسْأَلُكَ؟ قَالَ: سَلْ قَالَ: أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِسْلَامِ، قَالَ: شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنِّي
(1) رَسُولُ اللهِ وَإِقَامُ
⦗ص: 25⦘الصَّلَاةِ وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ وَحَجُّ الْبَيْتِ وَصَوْمُ رَمَضَانَ» قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَنَا مُسْلِمٌ؟ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: نَعَمْ قَالَ لَهُ الرَّجُلُ: صَدَقْتَ، فَجَعَلْنَا نَعْجَبُ مِنْ قَوْلِهِ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: صَدَقْتَ، كَأَنَّهُ أَعْلَمُ مِنْهُ، ثُمَّ قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيمَانِ، قَالَ: الْإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَالْجَنَّةِ، وَالنَّارِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَنَا مُؤْمِنٌ؟ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: نَعَمْ قَالَ: صَدَقْتَ، فَجَعَلْنَا نَعْجَبُ مِنْ قَوْلِهِ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: صَدَقْتَ، ثُمَّ قَالَ: أَخْبِرْنِي مَا الْإِحْسَانُ؟ قَالَ: أَنْ تَخْشَى اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ كُنْتَ لَا تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ قَالَ: صَدَقْتَ، ثُمَّ قَالَ: أَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ، قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ; هُنَّ خَمْسٌ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا اللهُ: {إِنَّ اللهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ} الْآيَةَ، فَقَالَ الرَّجُلُ: صَدَقْتَ.
--------------------------------------------
২১ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাতর আল-ওয়াররাক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ আল-আসলামী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, «তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলেন। তখন তাঁর নিকট একজন লোক আসলেন যার পরনে ছিল অত্যন্ত সাদা দুটি কাপড়, তিনি ছিলেন সুঠামদেহী, সুন্দর অবয়ব ও আকৃতিবিশিষ্ট। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার নিকটবর্তী হতে পারি? তিনি বললেন: নিকটবর্তী হও। অতঃপর তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার নিকটবর্তী হতে পারি? তিনি বললেন: নিকটবর্তী হও। এরপর তিনি নিকটবর্তী হতে থাকলেন যতক্ষণ না তাঁর হাঁটু আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাঁটুর সাথে মিশে গেল। অতঃপর তিনি বললেন: আমি কি আপনাকে প্রশ্ন করতে পারি? তিনি বললেন: প্রশ্ন করো। তিনি বললেন: আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: (ইসলাম হলো) এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি
(১) আল্লাহর রাসূল, আর
⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা।» তিনি বললেন: আমি যদি এসব করি, তবে কি আমি মুসলিম হব? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: হ্যাঁ। লোকটি তাঁকে বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর 'আপনি সত্য বলেছেন' বলা দেখে বিস্মিত হলাম, যেন তিনি তাঁর চেয়েও বেশি জানেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: ঈমান হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাকদিরের ভালো ও মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। তিনি বললেন: আমি যদি এসব করি, তবে কি আমি মুমিন হব? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর 'আপনি সত্য বলেছেন' বলা দেখে বিস্মিত হলাম। অতঃপর তিনি বললেন: আমাকে বলুন, ইহসান কী? তিনি বললেন: আল্লাহকে এমনভাবে ভয় করা যেন তুমি তাঁকে দেখছ; আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে তিনি তোমাকে দেখছেন। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। অতঃপর তিনি বললেন: আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে বলুন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন। এটি পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকটেই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে এবং তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন...} আয়াতটি। তখন লোকটি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
22 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي الْفُرَاتِ ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُرَيْدَةَ ، عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ الدُّؤَلِيِّ ، قَالَ: جَلَسْتُ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه فَقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ رَجُلٍ يَمُوتُ فَيَشْهَدُ لَهُ ثَلَاثَةٌ بِخَيْرٍ إِلَّا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ وَاثْنَانِ، قَالَ: وَاثْنَانِ وَلَمْ يُسْأَلْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْوَاحِدِ».
২২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনুল ফুরাত, আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট বসলাম। তখন তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে মৃত্যুবরণ করে এবং তার সপক্ষে তিনজন লোক কল্যাণের সাক্ষ্য দেয়, তবে তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আর যদি দুইজন হয়? তিনি বললেন: দুইজনের ক্ষেত্রেও। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একজনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়নি।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أَحَادِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عُمَرَ، رضي الله عنهما
উমর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত ইবনে আব্বাসের হাদিসসমূহ
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
23 - حَدَّثَنَا يُونُسُ ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ ، عَنْ عُبَيْدِ
(1) بْنِ حُنَيْنٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: «أَقْبَلْنَا مَعَ عُمَرَ رضي الله عنه حَتَّى انْتَهَيْنَا إِلَى مَرِّ الظَّهْرَانِ، فَدَخَلَ عُمَرُ الْأَرَاكَ يَقْضِي حَاجَتَهُ، وَقَعَدْتُ لَهُ حَتَّى خَرَجَ، فَقُلْتُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَكَ عَنْ حَدِيثٍ مُنْذُ سَنَةٍ فَمَنَعَتْنِي هَيْبَتُكَ أَنْ أَسْأَلَكَ، فَقَالَ: لَا تَفْعَلْ، إِذَا عَلِمْتَ أَنَّ عِنْدِي عِلْمًا فَسَلْنِي، قَالَ: قُلْتُ: أَسْأَلُكَ عَنْ حَدِيثِ الْمَرْأَتَيْنِ، قَالَ: نَعَمْ، حَفْصَةُ وَعَائِشَةُ، كُنَّا فِي الْجَاهِلِيَّةِ لَا نَعْتَدُّ بِالنِّسَاءِ، وَلَا نُدْخِلُهُنَّ فِي شَيْءٍ مِنْ أُمُورِنَا، فَلَمَّا جَاءَ اللهُ عز وجل بِالْإِسْلَامِ وَأَنْزَلَهُنَّ اللهُ تَعَالَى حَيْثُ أَنْزَلَهُنَّ، وَجَعَلَ لَهُنَّ حَقًّا مِنْ غَيْرِ أَنْ يَدْخُلْنَ فِي شَيْءٍ مِنْ أُمُورِنَا، فَبَيْنَا أَنَا يَوْمًا جَالِسٌ فِي بَعْضِ شَأْنِي إِذْ قَالَتْ لِيَ امْرَأَتِي كَذَا وَكَذَا، فَقُلْتُ: مَا لَكِ أَنْتِ وَلِهَذَا؟ وَمَتَى كُنْتِ تَدْخُلِينَ فِي أُمُورِنَا؟ فَقَالَتْ: يَا ابْنَ الْخَطَّابِ، مَا يَسْتَطِيعُ أَحَدٌ أَنْ يُكَلِّمَكَ، وَابْنَتُكُ تُكَلِّمُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يَظَلَّ غَضْبَانَ، فَقُلْتُ: وَإِنَّهَا لَتَفْعَلُ؟ قَالَتْ: نَعَمْ، فَقُمْتُ فَدَخَلْتُ عَلَى
⦗ص: 28⦘حَفْصَةَ، فَقُلْتُ: يَا حَفْصَةُ أَلَا تَتَّقِينَ اللهَ، تُكَلِّمِينَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يَظَلَّ غَضْبَانَ، وَيْحَكِ لَا تَغْتَرِّينَ بِحُسْنِ عَائِشَةَ وَحُبِّ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِيَّاهَا، ثُمَّ أَتَيْتُ أُمَّ سَلَمَةَ أَيْضًا فَقُلْتُ لَهَا مِثْلَ ذَلِكَ، فَقَالَتْ: لَقَدْ دَخَلْتَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ فِي كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى بَيْنَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ نِسَائِهِ، وَكَانَ لِي صَاحِبٌ مِنَ الْأَنْصَارِ يَحْضُرُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا غِبْتُ، وَأَحْضُرُهُ إِذَا غَابَ، وَيُخْبِرُنِي وَأُخْبِرُهُ، وَلَمْ يَكُنْ أَحَدٌ أَخْوَفَ عِنْدَنَا أَنْ يَغْزُوَنَا مِنْ مَلِكٍ مِنْ مُلُوكِ غَسَّانَ، فَلَمَّا هَدَّأَ اللهُ الْأَمْرَ عَنَّا، فَبَيْنَا أَنَا ذَاتَ يَوْمٍ جَالِسٌ فِي بَعْضِ أَمْرِي إِذْ جَاءَ صَاحِبِي فَقَالَ: أَبَا حَفْصٍ أَبَا حَفْصٍ مَرَّتَيْنِ، فَقُلْتُ: وَيْلَكَ مَا لَكَ، أَجَاءَ الْغَسَّانِيُّ؟ أَجَاءَ الْغَسَّانِيُّ؟ قَالَ: لَا، وَلَكِنْ طَلَّقَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم نِسَاءَهُ، فَقُلْتُ: رَغِمَ أَنْفُ حَفْصَةَ، رَغِمَ أَنْفُ حَفْصَةَ، وَانْتَعَلْتُ، وَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَإِذَا فِي كُلِّ بَيْتٍ بُكَاءٌ، وَإِذَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَشْرُبَةٍ
(2)»، وَإِذَا عَلَى الْبَابِ غُلَامٌ أَسْوَدُ، فَقُلْتُ: اسْتَأْذِنْ لِي عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَاسْتَأْذَنَ، فَأَذِنَ لِي، فَإِذَا هُوَ نَائِمٌ عَلَى حَصِيرٍ، تَحْتَ رَأْسِهِ وِسَادَةٌ مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ، وَإِذَا قَرَظٌ وَأُهُبٌ مُعَلَّقَةٌ، فَأَنْشَأْتُ أُخْبِرُهُ بِمَا قُلْتُ لِحَفْصَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَكَانَ آلَى مِنْ نِسَائِهِ
⦗ص: 29⦘شَهْرًا، فَلَمَّا كَانَ لَيْلَةُ تِسْعٍ وَعِشْرِينَ نَزَلَ إِلَيْهِنَّ.
--------------------------------------------
২৩ - ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদ
(১) ইবনে হুনাইন থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমরা উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে আসছিলাম যতক্ষণ না আমরা মার্রুজ জাহরান নামক স্থানে পৌঁছালাম। অতঃপর উমর হাজত পূরণের জন্য আরাক গাছের ঝোপে প্রবেশ করলেন এবং আমি তাঁর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম যতক্ষণ না তিনি বেরিয়ে এলেন। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন, আমি এক বছর যাবৎ আপনাকে একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু আপনার গাম্ভীর্য আমাকে জিজ্ঞাসা করতে বাধা দিচ্ছিল। তিনি বললেন: এমন করো না, যখনই তুমি জানবে যে আমার কাছে কোনো ইলম আছে, আমাকে জিজ্ঞাসা করবে। তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেন: আমি বললাম: আমি আপনাকে (কুরআনে বর্ণিত) সেই দুই নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি। তিনি বললেন: হ্যাঁ, তারা হলেন হাফসা ও আয়েশা। আমরা জাহেলি যুগে নারীদের কোনো গণ্যই করতাম না এবং আমাদের কোনো বিষয়ে তাদের শরিক করতাম না। অতঃপর যখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ইসলাম নিয়ে আসলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাদের যেখানে স্থান দেওয়ার দিলেন এবং তাদের জন্য অধিকার নির্ধারণ করলেন অথচ আমাদের কোনো বিষয়ে তাদের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ ছিল না। একদিন আমি আমার কোনো এক কাজে ব্যস্ত ছিলাম, এমতাবস্থায় আমার স্ত্রী আমাকে এই এই বলল। আমি বললাম: তোমার এসবে কী কাজ? আর তুমি কবে থেকে আমাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে শুরু করলে? তিনি বললেন: হে খাত্তাবের পুত্র, আপনাকে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না, অথচ আপনার কন্যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মুখে মুখে কথা বলে (তর্ক করে) যার ফলে তিনি সারাদিন রাগান্বিত থাকেন। আমি বললাম: সে কি সত্যিই এমন করে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর আমি দাঁড়ালাম এবং প্রবেশ করলাম
⦗পৃ: ২৮⦘হাফসার নিকট। আমি বললাম: হে হাফসা, তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না? তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মুখে মুখে কথা বলো যার ফলে তিনি সারাদিন রাগান্বিত থাকেন! তোমার দুর্ভোগ, আয়েশার সৌন্দর্য এবং তার প্রতি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে। এরপর আমি উম্মে সালামার নিকটও গেলাম এবং তাকেও অনুরূপ কথা বললাম। তিনি বললেন: হে খাত্তাবের পুত্র, আপনি সব কিছুতেই ঢুকে পড়ছেন, এমনকি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর স্ত্রীদের মধ্যকার ব্যক্তিগত বিষয়েও! আনসারদের মধ্য থেকে আমার একজন সঙ্গী ছিল, আমি যখন উপস্থিত থাকতে পারতাম না সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত থাকত, আর সে যখন অনুপস্থিত থাকত আমি উপস্থিত থাকতাম; সে আমাকে সংবাদ দিত এবং আমিও তাকে সংবাদ দিতাম। গাসসানের রাজাদের মধ্য থেকে কোনো এক রাজা আমাদের আক্রমণ করবে - এর চেয়ে বেশি ভয় আমাদের নিকট আর কিছু ছিল না। যখন আল্লাহ আমাদের থেকে সেই আতঙ্ক দূর করে বিষয়টি শান্ত করলেন, তখন একদিন আমি আমার কোনো এক কাজে বসা ছিলাম, হঠাৎ আমার সেই সঙ্গী আসল এবং ডাকল: আবু হাফস! আবু হাফস! - দুইবার। আমি বললাম: তোমার সর্বনাশ হোক, কী হয়েছে? গাসসানিরা কি এসে পড়েছে? গাসসানিরা কি এসে পড়েছে? সে বলল: না, বরং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন। আমি বললাম: হাফসার নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক, হাফসার নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক। এরপর আমি জুতো পরলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম। গিয়ে দেখলাম প্রতিটি ঘরে কান্নার রোল। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি মাশরুবায় (দোতলার কামরায়) অবস্থান করছেন।
(২) দরজার নিকট একজন কৃষ্ণাঙ্গ গোলাম ছিল। আমি বললাম: আমার জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমতি চাও। সে অনুমতি চাইল এবং আমাকে অনুমতি দেওয়া হলো। গিয়ে দেখি তিনি একটি চাটাইয়ের ওপর শুয়ে আছেন, তাঁর মাথার নিচে চামড়ার একটি বালিশ যাতে খেজুর গাছের আঁশ ভরা ছিল। সেখানে বাবুল গাছের পাতা এবং ঝোলানো কিছু কাঁচা চামড়া ছিল। অতঃপর আমি তাঁকে হাফসা ও উম্মে সালামাকে যা বলেছি তা বলতে শুরু করলাম। তিনি তাঁর স্ত্রীদের থেকে এক মাসের জন্য পৃথক থাকার শপথ (ঈলা) করেছিলেন
⦗পৃ: ২৯⦘অতঃপর যখন ঊনত্রিশতম রাত হলো, তখন তিনি তাঁদের নিকট নেমে আসলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
24 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، عَنْ عُمَرَ رضي الله عنهم، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدٌ
(1)» فَقُولُوا: عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ.
--------------------------------------------
২৪ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উমর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা আমার প্রশংসায় তেমন অতিরঞ্জন করো না যেমনটি খ্রিস্টানরা মারইয়াম-পুত্র ঈসার ব্যাপারে করেছে। আমি তো কেবল একজন বান্দা
(১)। সুতরাং তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
25 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ ، قَالَ: «خَطَبَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما عَلَى مِنْبَرِ الْبَصْرَةِ، فَقَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ
⦗ص: 30⦘رضي الله عنه قَامَ فِينَا فَقَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَلَا إِنَّ الرَّجْمَ حَدٌّ مِنْ حُدُودِ اللهِ فَلَا تُخْدَعُنَّ عَنْهُ، فَإِنَّهُ فِي كِتَابِ اللهِ وَسُنَّةِ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم، وَقَدْ رَجَمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَرَجَمَ أَبُو بَكْرٍ وَرَجَمْتُ».
২৫ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ বিন যায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন যায়দ বিন জুদ’আন থেকে, তিনি ইউসুফ বিন মিহরান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বসরার মিম্বরে আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: হে লোকসকল! নিশ্চয়ই উমর বিন খাত্তাব
⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘(রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং বললেন: হে লোকসকল, জেনে রেখো! রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদান) আল্লাহর নির্ধারিত সীমাসমূহের (হুদুদ) একটি সীমা, সুতরাং তোমরা এ বিষয়ে কোনোভাবেই বিভ্রান্ত হয়ো না। কেননা এটি আল্লাহর কিতাবে এবং তোমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাতে বিদ্যমান। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রজম করেছেন, আবু বকর রজম করেছেন এবং আমিও রজম করেছি।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
26 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْأَوْدِيِّ ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: «أَنَا أَوَّلُ النَّاسِ أَتَى عُمَرَ رضي الله عنه حِينَ طُعِنَ فَقَالَ: يَا أَبَا عَبَّاسٍ احْفَظْ عَنِّي ثَلَاثًا، فَإِنِّي أَخَافُ أَلَّا
⦗ص: 31⦘يُدْرِكَنِي النَّاسُ، إِنِّي لَمْ أَقْضِ فِي الْكَلَالَةِ وَلَمْ أَسْتَخْلِفْ عَلَى النَّاسِ خَلِيفَةً، وَكُلُّ مَمْلُوكٍ لِي عَتِيقٌ، فَقِيلَ لَهُ: اسْتَخْلِفْ، قَالَ
(1) : أَيُّ ذَلِكَ فَعَلْتُ فَقَدْ فَعَلَهُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي; إِنْ أَسْتَخْلِفْ فَقَدِ اسْتَخْلَفَ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي
(2)، وَإِنْ أَدَعِ النَّاسَ إِلَى أَمْرِهِمْ فَقَدْ تَرَكَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قُلْتُ: أَبْشِرْ بِالْجَنَّةِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، صَحِبْتَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَطَلْتَ صُحْبَتَهُ، ثُمَّ وَلِيتَ فَعَدَلْتَ، وَأَدَّيْتَ الْأَمَانَةَ، فَقَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: أَمَّا تَبْشِيرُكَ إِيَّايَ بِالْجَنَّةِ فَوَاللهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، لَوْ أَنَّ لِي مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَافْتَدَيْتُ بِهِ مِمَّا هُوَ أَمَامِي قَبْلَ أَنْ أَعْلَمَ الْخَبَرَ، وَأَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ فَوَاللهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي نَجَوْتُ مِنْهَا كَفَافًا لَا عَلَيَّ وَلَا لِي، وَأَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ صُحْبَةِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَذَاكَ».
--------------------------------------------
২৬ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আওদী থেকে, তিনি হুমাইদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-হিমইয়ারী থেকে, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমিই প্রথম ব্যক্তি যে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এসেছিল যখন তিনি ছুরিকাহত হয়েছিলেন। তখন তিনি বললেন: হে আবু আব্বাস! আমার পক্ষ থেকে তিনটি কথা স্মরণ রেখো, কারণ আমি আশঙ্কা করছি যে মানুষ হয়তো আমার নাগাল পাবে না (আমার সময় ফুরিয়ে আসছে)। আমি ‘কালালাহ’ (পিতামাতা ও সন্তানহীন মৃতব্যক্তির মিরাস) বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে যাইনি, আমি মানুষের ওপর কোনো খলিফা মনোনীত করে যাচ্ছি না এবং আমার মালিকানাধীন প্রতিটি গোলাম স্বাধীন।
⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘অতঃপর তাঁকে বলা হলো: আপনি কাউকে স্থলাভিষিক্ত করে যান। তিনি বললেন
(১): আমি যা-ই করি না কেন, তা আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিও করেছেন। যদি আমি কাউকে স্থলাভিষিক্ত করি, তবে আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি (আবু বকর) স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন
(২); আর যদি আমি মানুষকে তাদের বিষয়ের (সিদ্ধান্তের) ওপর ছেড়ে দিয়ে যাই, তবে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা করে গিয়েছেন। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন! জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করুন; আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সান্নিধ্য পেয়েছেন এবং দীর্ঘকাল তা বজায় রেখেছেন, অতঃপর আপনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন এবং ন্যায়বিচার করেছেন, আর আমানত আদায় করেছেন। তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমার প্রতি তোমার জান্নাতের সুসংবাদের বিষয়ে বলছি—সেই আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা যদি আমার হতো, তবে আমার সামনে যা (মৃত্যু পরবর্তী অবস্থা) আছে তার ভয়াবহতা থেকে বাঁচার জন্য আমি তা মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দিতাম, যতক্ষণ না আমি (চূড়ান্ত) সংবাদ জানতে পারি। আর মুসলিমদের শাসনের বিষয়ে যা উল্লেখ করলে—আল্লাহর কসম, আমি এটাই পছন্দ করতাম যে আমি যদি তা থেকে সমান সমান অবস্থায় মুক্তি পেতাম (যেখানে আমার বিপক্ষেও কিছু নেই, পক্ষেও কিছু নেই)। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্যের বিষয়ে যা বললে—তা তো তেমনই ছিল (অর্থাৎ তা মহান মর্যাদা)»।
--------------------------------------------