(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: -)
البراهين المعتبرة في هدم قواعد المبتدعة   (عبد العزيز المديهش)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: البراهين المعتبرة في هدم قواعد المبتدعة

المؤلف: عبد العزيز بن محمد المديهش (ت 1350 هـ)

المحقق: إبراهيم بن عبد الله بن عبد الرحمن المديهش

الناشر: المحقق

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

عدد الصفحات: 565

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 جُمادَى الآخرة 1440

বিদআতিদের মূলনীতিসমূহ ধ্বংসে নির্ভরযোগ্য প্রমাণসমূহ   (আবদুল আজিজ আল-মাদাইহিশ)

বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন


গ্রন্থ: বিদআতিদের মূলনীতিসমূহ ধ্বংসে নির্ভরযোগ্য প্রমাণসমূহ

লেখক: আবদুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-মাদাইহিশ (মৃ. ১৩৫০ হি.)

তাহকীক: ইবরাহিম বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-মাদাইহিশ

প্রকাশক: মুহাক্কিক (সম্পাদক নিজেই)

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ১)
البراهين المعتبرة في هدم قواعد المبتدعة

 

تأليف الشيخ عبد العزيز بن محمد المديهش

توفي سنة (1350 هـ) [*]

 

تحقيق وعناية

إبراهيم بن عبد الله بن عبد الرحمن المديهش

عضو هيئة التدريس في كلية أصول الدين جامعة الإمام محمد بن مسعود

--------------------------------------------

[*] قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: كان بالمطبوع (1351 هـ تقريبا)، وقد أصلحها المحقق - جزاه الله خيرا- بالمثبت أعلاه
বিদআতীদের মূলনীতি চূর্ণ করার নির্ভরযোগ্য প্রমাণাদি

 

শাইখ আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-মদাইহিশের রচনা

মৃত্যু: ১৩৫০ হিজরি [*]

 

তাহকীক ও তত্ত্বাবধান

ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-মদাইহিশ

ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ দীন অনুষদের শিক্ষক মণ্ডলীর সদস্য

--------------------------------------------

[*] আশ-শামেলার জন্য গ্রন্থ প্রস্তুতকারী বলেছেন: মুদ্রিত সংস্করণে ছিল (প্রায় ১৩৫১ হিজরি), এবং গবেষক—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন—উপরে যা সাব্যস্ত হয়েছে সে অনুযায়ী তা সংশোধন করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة للمحقق

الطبعة الأولى

ربيع الأول - 1434 هـ
সম্পাদকের নিকট সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

রবিউল আউয়াল - ১৪৩৪ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ৩)
البراهين المعتبرة في هدم قواعد المبتدعة
বিদআতপন্থীদের মূলনীতিসমূহ ধূলিসাৎকরণে নির্ভরযোগ্য দলিলসমূহ
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة

وتشتمل على:

أهمية الرد على المخالف في أصول الدين

التعريف بالمؤلِّف

التعريف بالمؤلَّف
ভূমিকা

যা নিম্নোক্ত বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত করে:

উসূলে দ্বীন বা ধর্মের মূলনীতিসমূহে বিরোধীদের খণ্ডন করার গুরুত্ব

গ্রন্থকারের পরিচিতি

গ্রন্থ পরিচিতি
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌تنبيه:

أفاد محقق الكتاب أنه تراجع عن بعض ما قاله في مقدمة تحقيقه هنا عن الخلاف العلمي في بريدة في القرن الماضي، وذكر أنه سيبين رأيه في مقدمة تحقيقه لكتاب «منحة العزيز الغفار» للتويجري ــ إن شاء الله ــ

أفاده في 1440 هـ

--------------------------------------------

قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: هذا التنبيه ليس في المطبوع، زاده المحقق - حفظه الله - في النسخة الإلكترونية
সতর্কবার্তা:

গ্রন্থের মুহাক্কিক (গবেষক) জানিয়েছেন যে, গত শতাব্দীতে বুরাইদাহ-তে সংঘটিত ইলমী মতপার্থক্য সম্পর্কে এই গ্রন্থের সম্পাদনার ভূমিকায় তিনি যা বলেছিলেন, তার কিছু অংশ থেকে তিনি প্রত্যাহার করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, আল-তুওয়াইজিরি রচিত «মিনহাতুল আযীযিল গাফফার» গ্রন্থের সম্পাদনার ভূমিকায় তিনি ইনশাআল্লাহ এ বিষয়ে তার মতামত স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।

তিনি এটি ১৪৪০ হিজরিতে জানিয়েছেন।

--------------------------------------------

শামেলা সংস্করণের জন্য গ্রন্থটি প্রস্তুতকারী বলেছেন: এই সতর্কবার্তাটি মুদ্রিত সংস্করণে নেই; মুহাক্কিক —আল্লাহ তাকে সংরক্ষণ করুন— এটি ইলেকট্রনিক সংস্করণে সংযোজন করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد

فَإنَّ مِنَ النَّصِيحةِ لله، ولكتابه، ولرسوله، ولأئمة المسلمين وعامتهم؛ الردَّ على أهل الأهواء والبدع، وبيانَ باطلهم، ومقارعتهم بالحجة والبيان من كتاب الله، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، بفهم سلفِ هذه الأمة خيرِ القرون، ومن اتبعهم بإحسان.

والمخالفُ في أصْلٍ مِن أُصُوْلِ الدِّين ما خَالَف إلا بإعراضِهِ عن ألفاظ النصوص الشرعية، أو معانيها؛ بتأويلها، وتحريفها؛ وما ساء فهمه وعظم غلطه إلا بإعراضه عن فهم خير القرون، ومن اتبعهم على هُدَى وعلم، وتلَقُّفِهِ الدِّيْنَ عَنْ أهْلِ الأهواء والكلام …

ومن أعظم مراصد الشيطان لابن آدم مخالفة الدين بشبهة، يتبعها شبهة أخرى تقول: أختي أختي، والبدعة بريد الكفر ..
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সহচরের ওপর।

অতপর,

নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল এবং মুসলিমদের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের প্রতি কল্যাণকামিতার অন্তর্ভুক্ত হলো—প্রবৃত্তি পূজারি ও বিদআতপন্থীদের সমুচিত জবাব দেওয়া, তাদের বাতুলতা স্পষ্ট করা এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে তাদের মোকাবিলা করা; আর এই সবকিছু হতে হবে এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ যুগের সালফে সালেহীন এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন তাঁদের সঠিক বুঝ ও ব্যাখ্যানুযায়ী।

দ্বীনের কোনো মৌলিক বিষয়ে যে ব্যক্তিই বিরোধিতা করেছে, সে মূলত শরয়ি দলিলের শব্দাবলি কিংবা তার অর্থসমূহ থেকে বিমুখ হওয়ার কারণেই তা করেছে; আর এটি সাধিত হয়েছে অপব্যাখ্যা ও বিকৃতির মাধ্যমে। তার বুঝের এই ভ্রষ্টতা ও ভুলভ্রান্তির ভয়াবহতা মূলত শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের সঠিক অনুধাবন এবং যারা হিদায়াত ও ইলম সহকারে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের থেকে বিমুখ হওয়া এবং প্রবৃত্তি পূজারি ও কালামশাস্ত্রবিদদের কাছ থেকে দ্বীন গ্রহণ করার কারণেই সৃষ্টি হয়েছে …

আদমসন্তানকে বিপথগামী করতে শয়তানের অন্যতম প্রধান রণকৌশল হলো সংশয়ের মাধ্যমে দ্বীনের বিরোধিতা করা, যেখানে একটি সংশয় আরেকটি সংশয়কে টেনে আনে; আর বিদআত হলো কুফরের অগ্রদূত বা বার্তাবাহক...
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
يترصد لابن آدم في هذا الباب؛ بدءاً من تلقفه شبهة المبتدع، وتزيينها، ثم تنميتها، فنشرها نشراً، حتى ليظن العامة أنها الحق الذي لامرية فيه، ولَشُبْهَةٌ واحِدةٌ لِبدعَةٍ ضَلَالَةٍ، أحبُّ إلى الشيطان من آلاف المعاصي الشهوانية؛ لأن الثانية أحرى أن يتوب صاحبها ويؤوب؛ والأُولى يظن صاحبها أنه في قربة وزلفى إلى الله …

فخطر المبتدعة أعظم من خطر أهل الملل؛ من جهة عظم الفتنة بهم، والتباس أمرهم على العامة (1).

لذا، يُعتبَر من «شعائر علماء الأمة الإسلامية، ووظائفهم المِلِّيَّةِ، وأصولهم التعبدية «مشروعية الرد على كل مخالف بمخالفته»، وأخذه بذنبه، وإدانته بجريرته، ولايجني جانٍ إلا على نفسه.

كلُّ هذا؛ لحراسة الدين، وحمايته من العاديات عليه، وعلى أهله من خلال هذه الوظيفة الجهادية التي دأبها: الحنين إلى الدين، والرحمة بالإنسانية، لتعيش تحت مظلته، تكفُّ العدوان، وتصدُّ المعتدين، وتقيمُ سوق الأمر بالمعروف ورأسه «التوحيد»، والنهي عن المنكر، وأصله

--------------------------------------------

(1) ينظر: «دراسة نقدية لقاعدة المعذرة والتعاون» د. حمد العثمان (ص 125)، المطبوعة في ذيل كتابه «الصوارف عن الحق» ـ ط. الدار الأثرية ـ.
এই বিষয়ে সে আদম সন্তানের জন্য ওত পেতে থাকে; বিদআতির সংশয় লুফে নেওয়া, সেটিকে সুশোভিত করা, অতঃপর তা লালন করা এবং এরপর ব্যাপকভাবে প্রচার করার মধ্য দিয়ে; এমনকি সাধারণ মানুষ মনে করতে থাকে যে এটাই অনস্বীকার্য সত্য। একটি গোমরাহীপূর্ণ বিদআতের একটিমাত্র সংশয় শয়তানের কাছে হাজারো কামনাবাসনাজনিত পাপের চেয়ে অধিক প্রিয়; কারণ দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে ব্যক্তির তওবা করা ও ফিরে আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে, আর প্রথমটির ক্ষেত্রে ব্যক্তি মনে করে যে সে আল্লাহর নৈকট্য ও সান্নিধ্য অর্জন করছে …

সুতরাং বিদআতিদের বিপদ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের বিপদের চেয়েও গুরুতর; তাদের মাধ্যমে সৃষ্ট ফিতনার বিশালতা এবং সাধারণ মানুষের কাছে তাদের প্রকৃত স্বরূপ অস্পষ্ট থাকার কারণে (১)।

এই কারণেই, ইসলামী উম্মাহর আলেমগণের অন্যতম নিদর্শন, তাঁদের ধর্মীয় দায়িত্ব এবং ইবাদতগত মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত বিষয় হলো: «প্রত্যেক বিরোধিতাকারীকে তার বিরোধিতার কারণে খণ্ডন করার বৈধতা», তার অপরাধের জন্য তাকে পাকড়াও করা এবং তার অন্যায়ের কারণে তাকে অভিযুক্ত করা; আর কোনো অপরাধী নিজের ওপর ছাড়া অন্য কারো ক্ষতি করে না।

এ সমস্ত কিছুই দ্বীনকে হেফাজত করার জন্য এবং দ্বীন ও এর অনুসারীদের ওপর আক্রমণকারীদের হাত থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে; আর তা এই জিহাদী জিম্মাদারির মাধ্যমে, যার চিরন্তন আদর্শ হলো: দ্বীনের প্রতি মমত্ববোধ এবং মানবতার প্রতি দয়া, যাতে তারা দ্বীনের ছায়াতলে বসবাস করতে পারে, যা অনধিকার চর্চাকে রুখে দেয়, আক্রমণকারীদের প্রতিহত করে এবং ‘সৎ কাজের আদেশ’—যার শীর্ষ হলো «তাওহীদ»—ও ‘অসৎ কাজের নিষেধ’—যার মূল হলো

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: «দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ লি-কায়িদাতিল মা’যিরাতি ওয়াত তা’আউন» ড. হামাদ আল-উসমান (পৃ. ১২৫), যা তাঁর «আস-সাওয়ারিফু আনিল হাক্ক» গ্রন্থের পরিশিষ্টে মুদ্রিত — দারুল আসারিয়্যাহ সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ১১)
«الشرك»؛ وتحافظ على وَحْدَةِ الصفِّ، وجمع الكلمة، تقيم طَوْلَ الإسلام، وَقُوْتَهُ، وظُهُورَه على الدين كلِّه ولو كرِهَ المشركون.

وتحطِّمُ الأهواء ولو كَرِهَ المبتدعون.

والفجور ولو كره الفاسقون.

والجور ولو كره الظالمون» (1).

وهذه الشعيرة العظيمة من أعظم الجهاد في سبيل الله، قال ابن تيمية رحمه الله: (الراد على أهل البدع مُجَاهِدٌ، حتى كان يحيى بن يحيى يقول: الذب عن السنة أفضل من الجهاد) (2). ا. هـ

وقال ابن القيم رحمه الله: (فَجِهَادُ المُنَافِقِينَ أَصْعَبُ مِنْ جِهَادِ الْكُفَّارِ، وَهُوَ جِهَادُ خَوَاصِّ الْأُمَّةِ وَوَرَثَةِ الرُّسُلِ، وَالْقَائِمُونَ بِهِ أَفْرَادٌ فِي الْعَالَمِ، وَالمُشَارِكُونَ فِيهِ وَالمُعَاوِنُونَ عَلَيْهِ، وَإِنْ كَانُوا هُمُ الْأَقَلِّينَ عَدَداً، فَهُمُ الْأَعْظَمُونَ عِنْدَ اللَّه قَدْراً) (3).

--------------------------------------------

(1) بتصرف من كتاب «الرد على المخالف من أصول الإسلام» للشيخ: بكر أبو زيد رحمه الله (ص 5).

(2) «مجموع الفتاوى» (4/ 13).

(3) «زاد المعاد» (3/ 5).
«শিরক»; এবং এটি সংহতি ও ঐক্য রক্ষা করে, ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব, শক্তি ও সকল দ্বীনের ওপর এর বিজয়কে সুপ্রতিষ্ঠিত করে, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।

এটি কুপ্রবৃত্তিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে, যদিও বিদআতিরা তা অপছন্দ করে।

এবং পাপাচারকে (ধ্বংস করে), যদিও পাপাচারীরা তা অপছন্দ করে।

এবং অন্যায়-অবিচারকে (মিটিয়ে দেয়), যদিও জালিমরা তা অপছন্দ করে» (১)।

এই মহান আমলটি আল্লাহর পথে অন্যতম শ্রেষ্ঠ জিহাদ; ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (বিদআতিদের প্রতিবাদকারী হলেন একজন মুজাহিদ, এমনকি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া বলতেন: সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করা জিহাদের চেয়েও উত্তম) (২)। - সমাপ্ত।

ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদের চেয়েও কঠিন। এটি উম্মাহর বিশেষ ব্যক্তিবর্গ ও রাসূলগণের উত্তরসূরিদের জিহাদ। পৃথিবীতে এটি সম্পাদনকারী ব্যক্তিরা সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য। আর এতে অংশগ্রহণকারী ও সাহায্যকারীরা যদিও সংখ্যায় অল্প, আল্লাহর নিকট তারা সম্মানের দিক থেকে অনেক বড়) (৩)।

--------------------------------------------

(১) শায়খ বকর আবু যায়েদ (রহিমাহুল্লাহ) রচিত «আর-রাদ্দু আলাল মুখালিফ মিন উসুলিল ইসলাম» গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপিত (পৃষ্ঠা ৫)।

(২) «মাজমুউল ফাতাওয়া» (৪/ ১৩)।

(৩) «যাদুল মাআদ» (৩/ ৫)।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ১২)
قال ابن تيمية رحمه الله: (فالمُرصِدُونَ لِلْعِلْمِ عَلَيْهِمْ لِلْأُمَّةِ حِفْظُ عِلْمِ الدِّينِ وَتَبْلِيغُهُ؛ فَإِذَا لَمْ يُبَلِّغُوهُمْ عِلْمَ الدِّينِ أَوْ ضَيَّعُوا حِفْظَهُ كَانَ ذَلِكَ مِنْ أَعْظَمِ الظُّلْمِ لِلْمُسْلِمِينَ؛ وَلِهَذَا قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ} (1) فَإِنَّ ضَرَرَ كِتْمَانِهِمْ تَعَدَّى إلَى الْبَهَائِمِ وَغَيْرِهَا فَلَعَنَهُمْ اللَّاعِنُونَ حَتَّى الْبَهَائِمُ. كَمَا أَنَّ مُعَلِّمَ الْخَيْرِ يُصَلِّي عَلَيْهِ اللهُ وَمَلَائِكَتُهُ وَيَسْتَغْفِرُ لَهُ كُلُّ شَيْءٍ حَتَّى الْحِيتَانُ فِي جَوْفِ الْبَحْرِ وَالطَّيْرُ فِي جَوِّ السَّمَاءِ) (2).

وقال رحمه الله: (وإذا كان الرجل مبتدعاً يدعو إلى عقائدَ تخالف الكتاب والسنة، أو يسلك طريقاً يخالف الكتاب والسنة، ويُخافُ أن يُضلَّ الناس بذلك، بُيِّنَ أمرُه للناس ليتقوا ضلاله ويعلموا حاله، وهذا كلُّه يجب أن يكون على وجه النصح وابتغاءِ وجه الله تعالى، لا لهوى الشخص مع الإنسان، مثل أن يكون بينهما عداوة دنيوية، أو تحاسد أو تباغض أو تنازع على الرئاسة، فيتكلم بمساويه، مظهراً للنصح، وقصده في الباطن الغضُّ

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، آية (159).

(2) «مجموع الفتاوى» (28/ 187).
ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (যারা ইলম বা জ্ঞান অর্জনে নিবেদিত, উম্মতের প্রতি তাদের দায়িত্ব হলো দ্বীনি ইলমকে সংরক্ষণ করা এবং তা পৌঁছে দেওয়া; সুতরাং যদি তারা মানুষের কাছে দ্বীনি ইলম না পৌঁছায় কিংবা এর সংরক্ষণে অবহেলা করে, তবে তা হবে মুসলমানদের প্রতি করা চরম জুলুমের অন্তর্ভুক্ত। এই কারণেই মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই যারা গোপন করে আমাদের নাজিলকৃত সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ ও হেদায়েত, আমরা কিতাবে মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পর; আল্লাহ তাদের ওপর অভিশাপ দেন এবং অভিশাপকারীরাও তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করে} (১)। কেননা তাদের সত্য গোপনের অপকারিতা চতুষ্পদ জন্তু ও অন্যান্যদের পর্যন্ত পৌঁছে যায়, ফলে অভিশাপকারীরা এমনকি চতুষ্পদ জন্তুগুলোও তাদের অভিশাপ দেয়। ঠিক তেমনিভাবে, কল্যাণ বা মঙ্গলের শিক্ষাদাতার প্রতি আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা রহমত বর্ষণ করেন এবং প্রতিটি বস্তু এমনকি সমুদ্রের মাছ এবং আকাশের পাখিও তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে) (২)।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: (যদি কোনো ব্যক্তি বিদআতি হয় এবং কিতাব ও সুন্নাহ বিরোধী আকিদাহ-বিশ্বাসের দিকে আহ্বান জানায়, অথবা কিতাব ও সুন্নাহ বিরোধী কোনো পথ অনুসরণ করে, আর এর দ্বারা মানুষের পথভ্রষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে মানুষের কাছে তার বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া আবশ্যক যাতে তারা তার বিভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকতে পারে এবং তার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারে। আর এই সবকিছুই হতে হবে সদুপদেশ প্রদানের খাতিরে এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে; ব্যক্তির প্রতি কোনো ব্যক্তিগত খেয়াল-খুশি বা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে নয়—যেমন তাদের উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থিব শত্রুতা, হিংসা-বিদ্বেষ কিংবা নেতৃত্বের লড়াই বিদ্যমান থাকা, ফলে সে হিতাকাঙ্ক্ষী সেজে তার দোষ-ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করে, অথচ তার অভ্যন্তরীণ উদ্দেশ্য হলো তাকে হেয় করা...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত (১৫৯)।

(২) «মাজমুউল ফাতাওয়া» (২৮/ ১৮৭)।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
من الشخص واستيفاؤه منه، فهذا من عمل الشيطان وإنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى بل يكون الناصح قصده أن يصلح الله ذلك الشخص وأن يكفي المسلمين ضرره في دينهم ودنياهم.) (1) ا. هـ.

وقال رحمه الله:

(وَإِذَا كَانَ النُّصْحُ وَاجِبًا فِي الْمَصَالِحِ الدِّينِيَّةِ الْخَاصَّةِ وَالْعَامَّةِ: مِثْلَ نَقَلَةِ الْحَدِيثِ الَّذِينَ يَغْلَطُونَ أَوْ يَكْذِبُونَ كَمَا قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ: سَأَلْت مَالِكاً وَالثَّوْرِيَّ وَاللَّيْثَ بْنَ سَعْدٍ ـ أَظُنُّهُ ـ وَالْأَوْزَاعِي عَنْ الرَّجُلِ يُتَّهَمُ فِي الْحَدِيثِ أَوْ لَا يَحْفَظُ؟ فَقَالُوا: بَيِّنْ أَمْرَهُ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ لِأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ: أَنَّهُ يَثْقُلُ عَلَيَّ أَنْ أَقُولَ فُلَانٌ كَذَا وَفُلَانٌ كَذَا. فَقَالَ: إذَا سَكَتّ أَنْتَ وَسَكَتّ أَنَا فَمَتَى يُعْرَفُ الْجَاهِلُ الصَّحِيحُ مِنْ السَّقِيمِ. وَمِثْلُ أَئِمَّةِ الْبِدَعِ مِنْ أَهْلِ الْمَقَالَاتِ الْمُخَالِفَةِ لِلْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ أَوْ الْعِبَادَاتِ المُخَالِفَةِ لِلْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ؛ فَإِنَّ بَيَانَ حَالِهِمْ وَتَحْذِيرَ الْأُمَّةِ مِنْهُمْ وَاجِبٌ بِاتِّفَاقِ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى قِيلَ لِأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ: الرَّجُلُ يَصُومُ وَيُصَلِّي وَيَعْتَكِفُ أَحَبُّ إلَيْك أَوْ يَتَكَلَّمُ فِي أَهْلِ الْبِدَعِ؟ فَقَالَ: إذَا قَامَ وَصَلَّى وَاعْتَكَفَ فَإِنَّمَا هُوَ لِنَفْسِهِ وَإِذَا تَكَلَّمَ فِي أَهْلِ الْبِدَعِ فَإِنَّمَا

--------------------------------------------

(1) «مجموع الفتاوى» (28/ 221).
ব্যক্তির ওপর আধিপত্য বিস্তার করা এবং তার থেকে প্রতিশোধ নেওয়া—তবে এটি শয়তানের কাজ। বস্তুত আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই পাবে। বরং নসিহতকারীর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত যেন আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সংশোধন করে দেন এবং মুসলমানদের দ্বীন ও দুনিয়ার ক্ষেত্রে তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন। (১) সমাপ্ত।

তিনি (রহ.) আরও বলেন:

(আর যখন দ্বীনি স্বার্থ রক্ষায় নসিহত করা ওয়াজিব—চাই তা ব্যক্তিগত হোক বা সামষ্টিক—যেমন হাদীস বর্ণনাকারীগণ যারা ভুল করেন অথবা মিথ্যা বলেন; যেমনটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন: আমি মালিক, সাওরী, লাইস ইবনে সা'দ—আমার ধারণা—এবং আওযাঈকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যার ওপর হাদীস বর্ণনায় অভিযোগ আছে অথবা যে মুখস্থ রাখতে পারে না। তারা সকলেই বললেন: তুমি তার অবস্থা বর্ণনা করে দাও। এবং কেউ একজন আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বললেন: 'অমুক এমন' এবং 'অমুক তেমন' বলা আমার কাছে বেশ কঠিন মনে হয়। তিনি বললেন: যদি তুমি চুপ থাকো আর আমিও চুপ থাকি, তবে অজ্ঞ ব্যক্তি বিশুদ্ধ ও ত্রুটিযুক্ত হাদীসের পার্থক্য কখন জানতে পারবে? একইভাবে বিদআতের ইমামগণ যারা কিতাব ও সুন্নাহ বিরোধী মতবাদ পোষণ করে অথবা কিতাব ও সুন্নাহ বিরোধী ইবাদত করে; মুসলমানদের ঐকমত্য অনুযায়ী তাদের প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা করা এবং উম্মাহকে তাদের থেকে সতর্ক করা ওয়াজিব। এমনকি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে জিজ্ঞেস করা হলো: একজন ব্যক্তি রোজা রাখে, নামাজ পড়ে ও ইতিকাফ করে, আপনার কাছে এটি অধিক প্রিয় নাকি সে বিদআতিদের বিরুদ্ধে কথা বলবে? তিনি বললেন: যখন সে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে ও ইতিকাফ করে তখন তা কেবল তার নিজের জন্যই, কিন্তু সে যখন বিদআতিদের বিরুদ্ধে কথা বলে তখন তো...)

--------------------------------------------

(১) 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (২৮/ ২২১)।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
هُوَ لِلْمُسْلِمِينَ هَذَا أَفْضَلُ.

فَبَيَّنَ أَنَّ نَفْعَ هَذَا عَامٌّ لِلْمُسْلِمِينَ فِي دِينِهِمْ مِنْ جِنْسِ الْجِهَادِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؛ إذْ تَطْهِيرُ سَبِيلِ الله وَدِينِهِ وَمِنْهَاجِهِ وَشِرْعَتِهِ وَدَفْعِ بَغْيِ هَؤُلَاءِ وَعُدْوَانِهِمْ عَلَى ذَلِكَ وَاجِبٌ عَلَى الْكِفَايَةِ بِاتِّفَاقِ المُسْلِمِينَ وَلَوْلَا مَنْ يُقِيمُهُ الله لِدَفْعِ ضَرَرِ هَؤُلَاءِ لَفَسَدَ الدِّينُ وَكَانَ فَسَادُهُ أَعْظَمَ مِنْ فَسَادِ اسْتِيلَاءِ الْعَدُوِّ مِنْ أَهْلِ الْحَرْبِ؛ فَإِنَّ هَؤُلَاءِ إذَا اسْتَوْلَوْا لَمْ يُفْسِدُوا الْقُلُوبَ وَمَا فِيهَا مِنْ الدِّينِ إلَّا تَبَعاً وَأَمَّا أُولَئِكَ فَهُمْ يُفْسِدُونَ الْقُلُوبَ ابْتِدَاءً. وَقَدْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إنَّ الله لَا يَنْظُرُ إلَى صُوَرِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ؛ وَإِنَّمَا يَنْظُرُ إلَى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ». وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ يَقُولُ فِي كِتَابِهِ: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ وَأَنْزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ} (1) فَأَخْبَرَ أَنَّهُ أَنْزَلَ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ وَأَنَّهُ أَنْزَلَ الْحَدِيدَ كَمَا ذَكَرَهُ. فَقِوَامُ الدِّينِ بِالْكِتَابِ الْهَادِي وَالسَّيْفِ النَّاصِرِ {وَكَفَى بِرَبِّكَ هَادِيًا وَنَصِيرًا} (2).

--------------------------------------------

(1) سورة الحديد، آية (25).

(2) سورة الفرقان، آية (31).
এটি মুসলমানদের জন্য অধিকতর উত্তম।

তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এর উপকারিতা মুসলমানদের দ্বীনের ক্ষেত্রে ব্যাপক এবং এটি আল্লাহর পথে জিহাদের সমতুল্য; কারণ আল্লাহর পথ, তাঁর দ্বীন, তাঁর আদর্শ ও শরীয়তকে কলুষমুক্ত রাখা এবং এই দ্বীনের ওপর ঐসব লোকদের বিদ্রোহ ও সীমালঙ্ঘন প্রতিহত করা মুসলমানদের সর্বসম্মত ঐকমত্যে ফরজে কিফায়া। যদি আল্লাহ তাদের ক্ষতি দূর করার জন্য কাউকে দণ্ডায়মান না করতেন, তবে দ্বীন কলুষিত হয়ে পড়ত; আর এর ক্ষতি যুদ্ধরত শত্রুদের আধিপত্য বিস্তারের ক্ষতির চেয়েও গুরুতর হতো। কেননা সেই শত্রুরা যখন জয়ী হয়, তখন তারা মানুষের হৃদয় এবং হৃদয়ে প্রোথিত দ্বীনকে কেবল আনুষঙ্গিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করে, কিন্তু ওইসব লোকেরা সরাসরি অন্তরকেই কলুষিত করে ফেলে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের বাহ্যিক আকৃতি ও সম্পদের দিকে তাকান না; বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে তাকান।" আর এটি একারণে যে, আল্লাহ তাঁর কিতাবে ইরশাদ করেছেন: {আমি অবশ্যই আমার রসূলগণকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ পাঠিয়েছি এবং তাঁদের সঙ্গে কিতাব ও মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। আমি লৌহও অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে প্রচণ্ড রণশক্তি এবং মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ; আর যাতে আল্লাহ জেনে নেন কে অদৃশ্যে তাঁকে ও তাঁর রসূলগণকে সাহায্য করে।} (১) অতএব তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি কিতাব ও মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছেন যাতে মানুষ ইনসাফ কায়েম করে এবং তিনি লৌহও অবতীর্ণ করেছেন যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন। সুতরাং দ্বীনের স্থায়িত্ব ও প্রতিষ্ঠা হলো পথপ্রদর্শক কিতাব এবং সাহায্যকারী তলোয়ারের সমন্বয়ে। {আর পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে আপনার প্রতিপালকই যথেষ্ট।} (২)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হাদিদ, আয়াত (২৫)।

(২) সূরা আল-ফুরকান, আয়াত (৩১)।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَالْكِتَابُ هُوَ الْأَصْلُ؛ وَلِهَذَا أَوَّلُ مَا بَعَثَ اللهُ رَسُولَهُ أَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ؛ وَمَكَثَ بِمَكَّةَ لَمْ يَأْمُرْهُ بِالسَّيْفِ حَتَّى هَاجَرَ وَصَارَ لَهُ أَعْوَانٌ عَلَى الْجِهَادِ.

وَأَعْدَاءُ الدِّينِ نَوْعَانِ: الْكُفَّارُ وَالمُنَافِقُونَ، وَقَدْ أَمَرَ الله نَبِيَّهُ بِجِهَادِ الطَّائِفَتَيْنِ فِي قَوْلِهِ: {جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ} (1) فِي آيَتَيْنِ مِنْ الْقُرْآنِ.

فَإِذَا كَانَ أَقْوَامٌ مُنَافِقُونَ يَبْتَدِعُونَ بِدَعًا تُخَالِفُ الْكِتَابَ وَيُلْبِسُونَهَا عَلَى النَّاسِ وَلَمْ تُبَيَّنْ لِلنَّاسِ: فَسَدَ أَمْرُ الْكِتَابِ وَبُدِّلَ الدِّينُ؛ كَمَا فَسَدَ دِينُ أَهْلِ الْكِتَابِ قَبْلَنَا بِمَا وَقَعَ فِيهِ مِنْ التَّبْدِيلِ الَّذِي لَمْ يُنْكَرْ عَلَى أَهْلِهِ. وَإِذَا كَانَ أَقْوَامٌ لَيْسُوا مُنَافِقِينَ لَكِنَّهُمْ سَمَّاعُونَ لِلْمُنَافِقِينَ، قَدْ الْتَبَسَ عَلَيْهِمْ أَمْرُهُمْ حَتَّى ظَنُّوا قَوْلَهُمْ حَقًّا؛ وَهُوَ مُخَالِفٌ لِلْكِتَابِ وَصَارُوا دُعَاةً إلَى بِدَعِ المُنَافِقِينَ كَمَا قال تعالى: {لَوْ خَرَجُوا فِيكُمْ مَا زَادُوكُمْ إِلَّا خَبَالًا وَلَأَوْضَعُوا خِلَالَكُمْ يَبْغُونَكُمُ الْفِتْنَةَ وَفِيكُمْ سَمَّاعُونَ لَهُمْ} (2) فَلَا بُدَّ أَيْضاً مِنْ بَيَانِ حَالِ هَؤُلَاءِ؛ بَلْ الْفِتْنَةُ بِحَالِ هَؤُلَاءِ أَعْظَمُ فَإِنَّ فِيهِمْ إيمَانًا يُوجِبُ مُوَالَاتَهُمْ وَقَدْ

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة، آية (73)، وسورة التحريم، آية (9).

(2) سورة التوبة، آية (47).
কিতাবই হলো মূল ভিত্তি; এ কারণেই আল্লাহ যখন তাঁর রাসূলকে প্রেরণ করলেন, তখন সর্বপ্রথম তাঁর ওপর কিতাব নাযিল করলেন। তিনি মক্কায় অবস্থানকালে তাঁকে তলোয়ার ধারণের নির্দেশ দেননি, যতক্ষণ না তিনি হিজরত করলেন এবং জিহাদের জন্য তাঁর সাহায্যকারী দল তৈরি হলো।

আর দ্বীনের শত্রু দুই প্রকার: কাফির এবং মুনাফিক। আল্লাহ তাঁর নবীকে এই উভয় দলের বিরুদ্ধে জিহাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর এই বাণীতে: "কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন।" (১) এটি কুরআনের দুটি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।

সুতরাং যখন একদল মুনাফিক এমন সব বিদআত বা নবউদ্ভাবন তৈরি করে যা কিতাবের পরিপন্থী এবং সেগুলোকে মানুষের সামনে সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত করে উপস্থাপন করে, আর যদি তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা না করা হয়, তবে কিতাবের শিক্ষা কলুষিত হবে এবং দ্বীন বিকৃত হয়ে যাবে; যেমনটি আমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদের দ্বীন বিনষ্ট হয়েছিল সেই পরিবর্তনের মাধ্যমে, যার প্রতিবাদ তাদের মাঝে করা হয়নি। আর যখন এমন কিছু লোক থাকে যারা নিজেরা মুনাফিক নয়, কিন্তু তারা মুনাফিকদের কথায় অতিমাত্রায় কান দেয়, তাদের অবস্থা এমনভাবে গোলমেলে হয়ে গেছে যে তারা তাদের কথাকে সত্য বলে মনে করে নিয়েছে; অথচ তা কিতাবের বিরোধী। তারা মুনাফিকদের বিদআতের দিকে আহ্বানকারী হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: "যদি তারা তোমাদের সাথে বের হতো, তবে তোমাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করত না এবং তোমাদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ছুটাছুটি করত; আর তোমাদের মাঝে তাদের কথা শোনার লোকও রয়েছে।" (২) তাই এদের স্বরূপ উন্মোচন করাও একান্ত আবশ্যক; বরং এদের মাধ্যমে সৃষ্ট ফিতনা আরও গুরুতর, কারণ তাদের মধ্যে ঈমান বিদ্যমান যা তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা আবশ্যক করে এবং...

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত (৭৩); এবং সূরা আত-তাহরীম, আয়াত (৯)।

(২) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত (৪৭)।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
دَخَلُوا فِي بِدَعٍ مِنْ بِدَعِ المُنَافِقِينَ الَّتِي تُفْسِدُ الدِّينَ فَلَا بُدَّ مِنْ التَّحْذِيرِ مِنْ تِلْكَ الْبِدَعِ وَإِنْ اقْتَضَى ذَلِكَ ذِكْرَهُمْ وَتَعْيِينَهُمْ؛ بَلْ وَلَوْ لَمْ يَكُنْ قَدْ تَلَقَّوْا تِلْكَ الْبِدْعَةَ عَنْ مُنَافِقٍ؛ لَكِنْ قَالُوهَا ظَانِّينَ أَنَّهَا هُدًى وَأَنَّهَا خَيْرٌ وَأَنَّهَا دِينٌ؛ وَلَمْ تَكُنْ كَذَلِكَ لَوَجَبَ بَيَانُ حَالِهَا.

وَلِهَذَا وَجَبَ بَيَانُ حَالِ مَنْ يَغْلَطُ فِي الْحَدِيثِ وَالرِّوَايَةِ وَمَنْ يَغْلَطُ فِي الرَّأْيِ وَالْفُتْيَا وَمَنْ يَغْلَطُ فِي الزُّهْدِ وَالْعِبَادَةِ؛ وَإِنْ كَانَ المُخْطِئُ الْمُجْتَهِدُ مَغْفُورًا لَهُ خَطَؤُهُ وَهُوَ مَأْجُورٌ عَلَى اجْتِهَادِهِ. فَبَيَانُ الْقَوْلِ وَالْعَمَلِ الَّذِي دَلَّ عَلَيْهِ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَاجِبٌ؛ وَإِنْ كَانَ فِي ذَلِكَ مُخَالَفَةٌ لِقَوْلِهِ وَعَمَلِهِ. وَمَنْ عُلِمَ مِنْهُ الِاجْتِهَادُ السَّائِغُ فَلَا يَجُوزُ أَنْ يُذْكَرُ عَلَى وَجْهِ الذَّمِّ وَالتَّأْثِيمِ لَهُ؛ فَإِنَّ اللَّهَ غَفَرَ لَهُ خَطَأَهُ؛ بَلْ يَجِبُ لِمَا فِيهِ مِنْ الْإِيمَانِ وَالتَّقْوَى مُوَالَاتُهُ وَمَحَبَّتُهُ وَالْقِيَامُ بِمَا أَوْجَبَ اللهُ مِنْ حُقُوقِهِ: مِنْ ثَنَاءٍ وَدُعَاءٍ وَغَيْرِ ذَلِكَ؛ وَإِنْ عُلِمَ مِنْهُ النِّفَاقُ كَمَا عُرِفَ نِفَاقُ جَمَاعَةٍ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم مِثْلُ عَبْدِ اللهِ بْنِ أبي وَذَوِيهِ وَكَمَا عَلِمَ المُسْلِمُونَ نِفَاقَ سَائِرِ الرَّافِضَةِ: عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَبَأٍ وَأَمْثَالِهِ: مِثْلَ عَبْدِ الْقُدُّوسِ بْنِ الْحَجَّاجِ، وَمُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْمَصْلُوبِ؛ فَهَذَا يُذْكَرُ بِالنِّفَاقِ. وَإِنْ أَعْلَنَ بِالْبِدْعَةِ وَلَمْ يُعْلَمْ هَلْ كَانَ مُنَافِقًا أَوْ مُؤْمِنًا مُخْطِئًا ذُكِرَ بِمَا يُعْلَمُ مِنْهُ فَلَا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ أَنْ يَقْفُوَ مَا لَيْسَ لَهُ بِهِ عِلْمٌ وَلَا يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَتَكَلَّمَ فِي هَذَا الْبَابِ إلَّا قَاصِداً بِذَلِكَ وَجْهَ الله تَعَالَى وَأَنْ تَكُونَ كَلِمَةُ الله هِيَ الْعُلْيَا وَأَنْ
তারা মুনাফিকদের এমন সব বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা দ্বীনকে কলুষিত করে; সুতরাং সেই বিদআতগুলো সম্পর্কে সতর্ক করা অপরিহার্য, যদিও তাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ ও নির্দিষ্ট করার প্রয়োজন পড়ে। এমনকি যদি তারা সেই বিদআত কোনো মুনাফিকের কাছ থেকে গ্রহণ না-ও করে থাকে, বরং একে হিদায়াত, কল্যাণ ও দ্বীন মনে করে বলে থাকে, অথচ তা আসলে তেমন নয়; তবে এর প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ করা ওয়াজিব।

এই কারণেই হাদীস ও রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে যারা ভুল করেন, রায় (মত) ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে যারা ভুল করেন এবং যুহদ (বৈরাগ্য) ও ইবাদতের ক্ষেত্রে যারা ভুল করেন—তাদের অবস্থা বর্ণনা করা আবশ্যক; যদিও ভুলকারী মুজতাহিদের ভুল ক্ষমাযোগ্য এবং তিনি তার ইজতিহাদের জন্য সওয়াবপ্রাপ্ত হন। সুতরাং কিতাব ও সুন্নাহর দলিলনির্ভর কথা ও কাজ বয়ান করা ওয়াজিব, যদিও তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কথা ও কাজের পরিপন্থী হয়। আর যার পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য ইজতিহাদ প্রকাশ পায়, তাকে নিন্দা করা বা গোনাহগার সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্যে স্মরণ করা জায়েজ নয়; কেননা আল্লাহ তাআলা তার ভুল ক্ষমা করে দিয়েছেন। বরং তার ভেতরে বিদ্যমান ঈমান ও তাকওয়ার কারণে তার সাথে সুসম্পর্ক রাখা, তাকে ভালোবাসা এবং আল্লাহ তার যে সকল হক (অধিকার) আবশ্যক করেছেন—যেমন প্রশংসা ও দোয়া ইত্যাদি—তা আদায় করা ওয়াজিব। পক্ষান্তরে যদি কারও মাঝে নিফাক (কপটতা) প্রমাণিত হয়, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ও তার অনুসারীদের মতো এক দলের নিফাক সম্পর্কে জানা গিয়েছিল; এবং যেমন মুসলমানগণ অন্যান্য রাফেযীদের নিফাক সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন—যথা আবদুল্লাহ ইবনে সাবা ও তার অনুরূপ আব্দুল কুদ্দুস ইবনুল হাজ্জাজ এবং মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-মাসলুব প্রমুখ—তবে তাদেরকে নিফাকের সাথেই উল্লেখ করা হবে। আর যদি কেউ প্রকাশ্য বিদআতে লিপ্ত হয় কিন্তু সে মুনাফিক নাকি ভুলকারী মুমিন—তা নিশ্চিতভাবে জানা না থাকে, তবে তার সম্পর্কে ততটুকুই বলা হবে যতটুকু নিশ্চিতভাবে জানা যায়। কেননা কোনো ব্যক্তির জন্য এমন বিষয়ের অনুসরণ করা বৈধ নয় যে সম্পর্কে তার জ্ঞান নেই। আর এই প্রসঙ্গে কথা বলা কোনো ব্যক্তির জন্য জায়েজ নয় যদি না তার উদ্দেশ্য একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করা হয় এবং...
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
يَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لله.

فَمَنْ تَكَلَّمَ فِي ذَلِكَ بِغَيْرِ عِلْمٍ أَوْ بِمَا يَعْلَمُ خِلَافَهُ كَانَ آثِمًا. وَكَذَلِكَ الْقَاضِي وَالشَّاهِدُ وَالْمُفْتِي كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «الْقُضَاةُ ثَلَاثَةٌ: قَاضِيَانِ فِي النَّارِ وَقَاضٍ فِي الْجَنَّةِ: رَجُلٌ عَلِمَ الْحَقَّ وَقَضَى بِهِ فَهُوَ فِي الْجَنَّةِ وَرَجُلٌ قَضَى لِلنَّاسِ عَلَى جَهْلٍ فَهُوَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ عَلِمَ الْحَقَّ فَقَضَى بِخِلَافِ ذَلِكَ فَهُوَ فِي النَّارِ» وَقَدْ قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُوا وَإِنْ تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا} (1) وَ «اللَّيُّ» هُوَ الْكَذِبُ وَ «الْإِعْرَاضُ» كِتْمَانُ الْحَقِّ.

وَمِثْلُهُ مَا فِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُورِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا؛ وَإِنْ كَذَبَا وَكَتَمَا مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا».

ثُمَّ الْقَائِلُ فِي ذَلِكَ بِعِلْمِ لَا بُدَّ لَهُ مِنْ حُسْنِ النِّيَّةِ فَلَوْ تَكَلَّمَ بِحَقِّ لَقَصَدَ الْعُلُوَّ فِي الْأَرْضِ أَوْ الْفَسَادَ كَانَ بِمَنْزِلَةِ الَّذِي يُقَاتِلُ حَمِيَّةً وَرِيَاءً.

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، آية (135).
যেন দ্বীন (ধর্ম) পুরোপুরি আল্লাহর জন্য হয়।

অতএব, যে ব্যক্তি এ বিষয়ে জ্ঞানহীনভাবে কথা বলবে কিংবা যা সত্য বলে জানে তার বিপরীতে কিছু বলবে, সে পাপিষ্ঠ হিসেবে গণ্য হবে। বিচারক, সাক্ষী এবং মুফতির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "বিচারক তিন প্রকার: দুই প্রকার জাহান্নামী এবং এক প্রকার জান্নাতী। যে ব্যক্তি সত্য জানল এবং সে অনুযায়ী ফয়সালা দিল, সে জান্নাতী। যে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত মানুষের বিচার করল, সে জাহান্নামী। আর যে ব্যক্তি সত্য জানল কিন্তু তার বিপরীত ফয়সালা দিল, সেও জাহান্নামী।" আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সাক্ষ্য প্রদান করো; এমনকি তা যদি তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে কিংবা পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধেও হয়। সে ধনী হোক বা দরিদ্র, আল্লাহ উভয়েরই শ্রেষ্ঠ অভিভাবক। সুতরাং তোমরা ন্যায়বিচার করতে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা পেঁচানো কথা বলো (সত্য বিকৃত করো) কিংবা সত্য এড়িয়ে চলো, তবে জেনে রেখো, তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।} (১) এখানে 'পেঁচানো কথা' (আল-লাই) অর্থ হলো মিথ্যা বলা এবং 'এড়িয়ে চলা' (আল-ইরাজ) অর্থ হলো সত্য গোপন করা।

অনুরূপ একটি বর্ণনা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "ক্রেতা ও বিক্রেতা যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের (চুক্তি বহাল রাখা বা বাতিল করার) ইখতিয়ার থাকে। যদি তারা সত্য বলে এবং পণ্যের অবস্থা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে, তবে তাদের কেনা-বেচায় বরকত দান করা হয়। আর যদি তারা মিথ্যা বলে এবং দোষ গোপন করে, তবে তাদের কেনা-বেচার বরকত বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়।"

অতঃপর, যে ব্যক্তি এ বিষয়ে জ্ঞানের ভিত্তিতে কথা বলে, তার নিয়ত অবশ্যই সৎ হতে হবে। কেননা সে যদি সত্য কথা বলে কিন্তু তার উদ্দেশ্য হয় পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন কিংবা বিপর্যয় সৃষ্টি করা, তবে তার অবস্থা হবে সেই ব্যক্তির মতো যে গোত্রীয় আভিজাত্য বা লোকদেখানোর জন্য লড়াই করে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত (১৩৫)।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَإِنْ تَكَلَّمَ لِأَجْلِ الله تَعَالَى مُخْلِصاً لَهُ الدِّينَ كَانَ مِنْ المُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِ الله مِنْ وَرَثَةِ الْأَنْبِيَاءِ خُلَفَاءِ الرُّسُلِ.

وَلَيْسَ هَذَا الْبَابُ مُخَالِفًا لِقَوْلِهِ: «الْغِيبَةُ ذِكْرُك أَخَاك بِمَا يَكْرَهُ» فَإِنَّ الْأَخَ هُوَ المُؤْمِنُ وَالْأَخُ المؤمِنُ إنْ كَانَ صَادِقًا فِي إيمَانِهِ لَمْ يَكْرَهْ مَا قُلْته مِنْ هَذَا الْحَقِّ الَّذِي يُحِبُّهُ الله وَرَسُولُهُ وَإِنْ كَانَ فِيهِ شَهَادَةٌ عَلَيْهِ وَعَلَى ذَوِيهِ بَلْ عَلَيْهِ أَنْ يَقُومَ بِالْقِسْطِ وَيَكُونُ شَاهِدًا لله وَلَوْ عَلَى نَفْسِهِ أَوْ وَالِدَيْهِ أَوْ أَقْرَبَيْهِ وَمَتَى كَرِهَ هَذَا الْحَقَّ كَانَ نَاقِصًا فِي إيمَانِهِ يَنْقُصُ مِنْ أُخُوَّتِهِ بِقَدْرِ مَا نَقَصَ مِنْ إيمَانِهِ فَلَمْ يَعْتَبِرْ كَرَاهَتَهُ مِنْ الْجِهَةِ الَّتِي نَقَصَ مِنْهَا إيمَانُهُ؛ إذْ كَرَاهَتُهُ لِمَا لَا يُحِبُّهُ اللهُ وَرَسُولُهُ تُوجِبُ تَقْدِيمَ مَحَبَّةِ الله وَرَسُولِهِ كَمَا قال تعالى: {وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَقُّ أَنْ يُرْضُوهُ} (1).

ثُمَّ قَدْ يُقَالُ: هَذَا لَمْ يَدْخُلْ فِي حَدِيثِ الْغِيبَةِ لَفْظًا وَمَعْنًى، وَقَدْ يُقَالُ: دَخَلَ فِي ذَلِكَ الَّذِينَ خَصَّ مِنْهُ كَمَا يَخُصُّ الْعُمُومَ اللَّفْظِيَّ وَالْعُمُومَ المَعْنَوِيَّ وَسَوَاءٌ زَالَ الْحُكْمُ لِزَوَالِ سَبَبِهِ أَوْ لِوُجُودِ مَانِعِهِ فَالْحُكْمُ وَاحِدٌ.

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة، آية (62).
আর যদি সে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এবং তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য বজায় রেখে কথা বলে, তবে সে আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং নবীদের উত্তরসূরি ও রাসূলগণের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে গণ্য হবে।

আর এই বিষয়টি তাঁর (রাসূলুল্লাহর) এই বাণীর পরিপন্থী নয় যে: “গীবত বা পরনিন্দা হলো তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা যা সে অপছন্দ করে।” কেননা ‘ভাই’ বলতে এখানে মুমিনকে বোঝানো হয়েছে; আর মুমিন ভাই যদি তার ঈমানে সত্যবাদী হয়, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যে সত্যকে ভালোবাসেন, তা উচ্চারিত হলে সে অপছন্দ করবে না—যদিও তাতে তার নিজের কিংবা তার স্বজনদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করা হয়। বরং তার কর্তব্য হলো ন্যায়ের ওপর অটল থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সাক্ষ্য দেওয়া, যদিও তা নিজের কিংবা পিতা-মাতা অথবা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়। আর যখনই সে এই সত্যকে অপছন্দ করবে, তখন তার ঈমানে ঘাটতি প্রকাশ পাবে এবং তার ঈমান যতটুকু হ্রাস পাবে, তার ভ্রাতৃত্বের বন্ধনও সেই অনুপাতে শিথিল হবে। সুতরাং ঈমানের যে ঘাটতির কারণে সে সত্যকে অপছন্দ করছে, তার সেই অপছন্দকে ধর্তব্য মনে করা হবে না। কেননা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা ভালোবাসেন না, তা কেউ অপছন্দ করলে সেক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসাকেই প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক। যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: “অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিকতর হকদার যে, তারা তাঁদেরকেই সন্তুষ্ট করবে।” (১)।

তদুপরি বলা যেতে পারে যে: এই বিষয়টি শব্দগত বা অর্থগত কোনো দিক থেকেই গীবত সংক্রান্ত হাদিসের অন্তর্ভুক্ত নয়। আবার এটিও বলা যেতে পারে যে: এটি সেই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে সাধারণ নির্দেশ থেকে বিশেষায়িত করা হয়েছে, যেমনটি শাব্দিক বা অর্থগত ব্যাপকতাকে সুনির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর কোনো বিধান তার কারণ বিলুপ্ত হওয়ার ফলে অপসারিত হোক কিংবা কোনো প্রতিবন্ধকের উপস্থিতির কারণে—উভয় ক্ষেত্রেই মূল সিদ্ধান্ত অভিন্ন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবা, আয়াত (৬২)।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَالنِّزَاعُ فِي ذَلِكَ يُؤَوَّلُ إلَى اللَّفْظِ؛ إذْ الْعِلَّةُ قَدْ يَعْنِي بِهَا التَّامَّةَ وَقَدْ يَعْنِي بِهَا المقْتَضِيَةَ. وَالله أَعْلَمُ وَأَحْكَمُ. وَصَلَّى الله عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ) (1).

 

وقال ابن تيمية رحمه الله: (قال أئمة الإسلام كسفيان الثوري وغيره: إن‌‌ البدعة أحب إلى إبليس من المعصية؛ لأن البدعة لا يُتاب منها، والمعصية يُتاب منها، ومعنى قولهم: إن البدعة لا يتاب منها: أن المبتدع الذي يتَّخِذُ ديناً لم يشرعه اللهُ ولا رسولُه، قد زُيِّنَ له سوءُ عَمَلِهِ فرآه حَسَنًا، فهو لا يتوب ما دام يراه حسناً؛ لأن أول التوبة العلم بأن فعله سيئ ليتوب منه، أو بأنه ترك حسنًا مأمورًا به أمر إيجاب أو استحباب ليتوب ويفعله، فما دام يرى فعله حسنًا وهو سيئ في نفس الأمر؛ فإنه لا يتوب) (2). ا. هـ

وقال ابن القيم رحمه الله في مسألة القول على الله بغير علم، وأنه أصل الشرك والكفر:

--------------------------------------------

(1) «مجموع الفتاوى» (28/ 231).

(2) «مجموع الفتاوى» (10/ 9 - 10)، وانظر: «الداء والدواء» لابن القيم ـ ط. عالم الفوائد ـ (ص 414).
এ ক্ষেত্রে বিতর্কটি শাব্দিক অর্থে পর্যবসিত হয়; কারণ ‘ইল্লত’ (কারণ) দ্বারা কখনও পূর্ণাঙ্গ কারণ বোঝানো হয়, আবার কখনও কেবল প্রভাব সৃষ্টিকারী কারণ বোঝানো হয়। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত এবং প্রজ্ঞাবান। আর আল্লাহ সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীদের ওপর। (১)।

 

ইবন তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: (ইসলামের ইমামগণ যেমন সুফিয়ান আস-সাওরী এবং অন্যান্যগণ বলেছেন: বিদাআত ইবলিসের কাছে পাপের চেয়েও বেশি প্রিয়; কারণ বিদাআত থেকে তাওবাহ করা হয় না, আর পাপ থেকে তাওবাহ করা হয়। তাদের এই কথার অর্থ যে 'বিদাআত থেকে তাওবাহ করা হয় না' তা হলো: যে বিদাআতী এমন বিষয়কে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে যা আল্লাহ বা তাঁর রাসূল শরীয়তসম্মত করেননি, তার কাছে তার মন্দ কাজকে সুশোভিত করা হয়েছে, ফলে সে তাকে উত্তম মনে করে। সুতরাং যতক্ষণ সে একে উত্তম মনে করবে, ততক্ষণ সে তাওবাহ করবে না; কারণ তাওবাহর প্রথম ধাপ হলো—নিজের কাজ যে মন্দ তা জানা যাতে সে তা থেকে তাওবাহ করতে পারে, অথবা কোনো উত্তম আদিষ্ট কাজ (ওয়াজিব বা মুস্তাহাব) বর্জন করেছে তা জানা যাতে সে তাওবাহ করে তা সম্পাদন করতে পারে। সুতরাং যতক্ষণ সে তার কর্মকে উত্তম মনে করবে অথচ প্রকৃতপক্ষে তা মন্দ, ততক্ষণ সে তাওবাহ করবে না)। (২)। সমাপ্ত।

ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহর ব্যাপারে কথা বলার মাসআলায় এবং এটি যে শিরক ও কুফরের মূল ভিত্তি, সে সম্পর্কে বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) «মাজমুউল ফাতাওয়া» (২৮/ ২৩১)।

(২) «মাজমুউল ফাতাওয়া» (১০/ ৯ - ১০), এবং দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিমের «আদ-দাউ ওয়াদ-দাওয়াহ» — আলমুল ফাওয়ায়িদ সংস্করণ — (পৃ. ৪১৪)।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
( … فَذُنُوبُ أَهْلِ الْبِدَعِ كُلُّهَا دَاخِلَةٌ تَحْتَ هَذَا الْجِنْسِ، فَلَا تَتَحَقَّقُ التَّوْبَةُ مِنْهُ إِلَّا بِالتَّوْبَةِ مِنَ الْبِدَعِ.

وَأَنَّى بِالتَّوْبَةِ مِنْهَا لِمَنْ لَمْ يَعْلَمْ أَنَّهَا بِدْعَةٌ، أَوْ يَظُنُّهَا سُنَّةً، فَهُوَ يَدْعُو إِلَيْهَا، وَيَحُضُّ عَلَيْهَا؟ فَلَا تَنْكَشِفُ لِهَذَا ذُنُوبُهُ الَّتِي تَجِبُ عَلَيْهِ التَّوْبَةُ مِنْهَا إِلَّا بِتَضَلُّعِهِ مِنَ السُّنَّةِ، وَكَثْرَةِ الاطِّلَاعِ عَلَيْهَا، وَدَوَامِ الْبَحْثِ عَنْهَا، وَالتَّفْتِيشِ عَلَيْهَا، وَلَا تَرَى صَاحِبَ بِدْعَةٍ كَذَلِكَ أَبَداً.

فَإِنَّ السُّنَّةَ ـ بِالذَّاتِ ـ تَمْحَقُ الْبِدْعَةَ، وَلَا تَقُومُ لَهَا، فَإِذَا طَلَعَتْ شَمْسُهَا فِي قَلْبِ الْعَبْدِ قَطَعَتْ مِنْ قَلْبِهِ ضَبَابَ كُلِّ بِدْعَةٍ، وَأَزَالَتْ ظُلْمَةَ كُلِّ ضَلَالَةٍ؛ إِذْ لَا سُلْطَانَ لِلظُّلْمَةِ مَعَ سُلْطَانِ الشَّمْسِ، وَلَا يَرَى الْعَبْدُ الْفَرْقَ بَيْنَ السُّنَّةِ وَالْبِدْعَةِ، وَيُعِينُهُ عَلَى الْخُرُوجِ مِنْ ظُلْمَتِهَا إِلَى نُورِ السُّنَّةِ، إِلَّا المُتابَعَةُ، وَالْهِجْرَةُ بِقَلْبِهِ كُلَّ وَقْتٍ إِلَى الله، بِالِاسْتِعَانَةِ وَالْإِخْلَاصِ، وَصِدْقِ اللَّجْأِ؛ وَإِلَى رَسُوْلِهِ بِالْحِرْصِ عَلَى الْوُصُولِ إِلَى أَقْوَالِهِ وَأَعْمَالِهِ، وَهَدْيِهِ وَسُنَّتِهِ، «فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى الله وَرَسُولِهِ» وَمَنْ هَاجَرَ إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ فَهُوَ حَظُّهُ وَنَصِيبُهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، فالله المُسْتَعَانُ) (1).

--------------------------------------------

(1) «مدارج السالكين» ـ ط. دار الصميعي ـ (2/ 991).
( ... বিদআতিদের সকল গুনাহ এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত; তাই বিদআত থেকে তওবা না করা পর্যন্ত তা থেকে তওবা পূর্ণতা পায় না।

আর সেই ব্যক্তির তওবা কীভাবে সম্ভব, যে জানেই না যে এটি বিদআত, অথবা সেটিকে সুন্নাহ মনে করে সেদিকে আহ্বান জানায় এবং মানুষকে উৎসাহিত করে? সুতরাং সুন্নাহর গভীর জ্ঞান অর্জন, সুন্নাহ নিয়ে ব্যাপক অধ্যয়ন এবং নিরন্তর অনুসন্ধান ও পর্যালোচনায় নিমগ্ন হওয়া ছাড়া এমন ব্যক্তির নিকট সেই গুনাহসমূহ উন্মোচিত হয় না যা থেকে তওবা করা তার ওপর ওয়াজিব। আর আপনি কোনো বিদআতিকে কখনোই এমন অবস্থায় পাবেন না।

কেননা সুন্নাহ স্বয়ং বিদআতকে বিনাশ করে দেয় এবং বিদআত সুন্নাহর সামনে টিকে থাকতে পারে না। সুতরাং যখন কোনো বান্দার অন্তরে সুন্নাহর সূর্য উদিত হয়, তখন তা তার অন্তর থেকে সকল বিদআতের কুয়াশা ছিন্ন করে দেয় এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার অন্ধকার দূরীভূত করে। কারণ সূর্যের প্রতাপের সামনে অন্ধকারের কোনো আধিপত্য চলে না। আর বান্দা সুন্নাহ ও বিদআতের মধ্যকার পার্থক্য অনুধাবন করতে পারে না এবং বিদআতের অন্ধকার থেকে সুন্নাহর নূরের দিকে বেরিয়ে আসতে তাকে ইত্তিবা (অনুসরণ) এবং সাহায্য প্রার্থনা, ইখলাস ও একনিষ্ঠ আশ্রয়ের মাধ্যমে প্রতিক্ষণ নিজের অন্তরের দ্বারা আল্লাহর দিকে হিজরত ব্যতীত অন্য কিছু সাহায্য করে না; এবং রাসূলের বাণী, কর্ম, হেদায়েত ও সুন্নাহর জ্ঞানে পৌঁছানোর ঐকান্তিক আগ্রহের মাধ্যমে তাঁর দিকে হিজরত ব্যতীত অন্য কিছু তাকে উদ্ধার করে না। "সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে।" আর যে ব্যক্তি এ ছাড়া অন্য কিছুর উদ্দেশ্যে হিজরত করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে সেটিই হবে তার প্রাপ্য ও নসিব। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি। ) (১)।

--------------------------------------------

(১) «মাদারিজুস সালিকিন» — দারুস সুমাই প্রকাশনী — (২/ ৯৯১)।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وَلِتَرْكِ الرَّدِّ عَلى المُخَالِفِ فِي أُصُوْلِ الدِّيْنِ مَضَارٌّ مُتَعَدِّدَةٌ، مِنْهَا (1):

1. نزول أهل السنة درجات بتعطيل عنصر مهم من حياتهم الوظيفية في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، ومجاهدة المبطلين.

2. ارتفاع أهل الأهواء على أهل السُّنَّةِ.

3. مَدُّ المخالفة، وامتداد رُوَاقها، وانتشارها في الاعتقاد، والأقوال، والأعمال.

4. فُشُوُّ الشُّبْهَة ومداخلتها للاعتقاد الحق.

5. وبالتالي تحريك العقيدة الحقَّة عن مكانها بعد ثباتها، فيضعف الاعتقاد السليم، ويضعف سلطانه.

6. ظهور المبطلين في المجامع وعلى درجات المنابر، واحتباؤهم على أفواه السكك؛ لمشاغبة المصلحين، والتحريش بهم، وتحريض العامة عليهم.

7. في السكوت والتخذيل إسقاط للعقوبات الشرعية لأهل الأهواء، وأهل الشهوات.

8. فيهما: إيالة المسلمين إلى أمة مستسلمة منهزمة مخدَّرة يحتضنها

--------------------------------------------

(1) «الرد على المخالف» للشيخ: بكر أبو زيد (ص 79) باختصار وتصرُّف.
দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলীতে (উসূলে দ্বীন) বিরোধিতাকারীদের প্রতিবাদ বা খণ্ডন বর্জন করার বহুবিধ অপকারিতা রয়েছে, তন্মধ্যে (১):

১. সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ এবং বাতিলপন্থীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মতো নিজেদের কর্মময় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গকে নিষ্ক্রিয় করার ফলে আহলে সুন্নাহর মর্যাদার স্তর অবনমিত হওয়া।

২. আহলে সুন্নাহর ওপর প্রবৃত্তি পূজারিদের আধিপত্য ও প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়া।

৩. বিরোধিতার ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পাওয়া, এর পরিধি বিস্তৃত হওয়া এবং বিশ্বাস, কথা ও কর্মের মধ্যে তার বিস্তার ঘটা।

৪. সংশয় ছড়িয়ে পড়া এবং সত্য বিশ্বাসের (আকিদাহর) মধ্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটা।

৫. এর ফলে সত্য আকিদাহ সুদৃঢ় হওয়ার পর স্বস্থান থেকে বিচ্যুত হওয়া, যার দরুন সঠিক বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এর প্রভাব ও কর্তৃত্ব লোপ পায়।

৬. বিভিন্ন সমাবেশ ও মিম্বরের সোপানগুলোতে বাতিলপন্থীদের প্রকাশ ঘটা এবং সংস্কারকদের উত্যক্ত করা, তাদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করা ও সাধারণ মানুষকে তাদের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজপথের মোড়ে মোড়ে অবস্থান গ্রহণ করা।

৭. নীরবতা অবলম্বন ও নিস্পৃহতা প্রদর্শনের ফলে প্রবৃত্তি পূজারি ও নফসপূজারিদের ওপর প্রযোজ্য শরয়ি শাস্তি রহিত হয়ে যাওয়া।

৮. এই উভয় বিষয়ের (নীরবতা ও নিস্পৃহতা) মধ্যে নিহিত রয়েছে: মুসলিমদের এমন এক আত্মসমর্পণকারী, পরাজিত ও সংজ্ঞাহীন জাতিতে পরিণত হওয়া যাকে ঘিরে ধরে...

--------------------------------------------

(১) শায়খ বকর আবু যাইদ রচিত ‘আর-রাদ্দু আলাল মুখালিফ’ (পৃষ্ঠা ৭৯); সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
أهل الأهواء.

9. كسر الحاجز النفسي بين السنة والبدعة، والمعروف والمنكر.

10. في السكوت عن المخالف ومخالفته: تأثيم ذوي القدرة بترك واجب الرد، والتفريط في حراسة الدين.

11. تحجج العامة بالسكوت على نسبة الأهواء والشهوات إلى الدين.

12. من أنباء سقوط الدول وحلول القوارع بها: ظهور أهل البدع والفجور.

13. ترك الرد على المخالف ومخالفته يؤول إلى تبدل الكفر بالإيمان، والبدعة بالسنة، والمعصية بالطاعة، والذل بالعزة.
প্রবৃত্তি পূজারিগণ।

৯. সুন্নাহ ও বিদআত এবং সৎকাজ ও অসৎকাজের মধ্যবর্তী মনস্তাত্ত্বিক দেয়াল ভেঙে ফেলা।

১০. সত্যের বিরোধিতাকারী ও তার ভ্রান্তির বিষয়ে নীরব থাকার পরিণাম: প্রতিবাদ করার আবশ্যিক দায়িত্ব বর্জনের কারণে সামর্থ্যবানদের পাপাচার এবং দ্বীন রক্ষায় শিথিলতা প্রদর্শন।

১১. দ্বীনের সাথে প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনার সংশ্লিষ্টতার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে (আলেমদের) নীরবতাকে অজুহাত হিসেবে পেশ করা।

১২. রাষ্ট্রের পতন এবং বিপর্যয় নেমে আসার লক্ষণসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: বিদআতি ও পাপাচারীদের প্রকাশ ও প্রভাব বৃদ্ধি।

১৩. ভ্রান্তির প্রতিবাদ বর্জন করার চূড়ান্ত পরিণতি হলো—ঈমানের পরিবর্তে কুফর, সুন্নাহর পরিবর্তে বিদআত, আনুগত্যের পরিবর্তে পাপাচার এবং সম্মানের পরিবর্তে লাঞ্ছনা প্রতিষ্ঠিত হওয়া।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَلِلْقِيَامِ بِهِ؛ وِفْقَ شُرُوْطِهِ، وَآدَابِهِ، ثَمَرَاتٌ عَدِيْدَةٌ، مِنْهَا (1):

1. تحقيق خيرية هذه الأمة المحمدية بالقيام بشعيرة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.

2. نشر السنة وإحياء لما اندثر منها.

3. إظهار الحق وتقريره، وإيضاحه وتجليته.

4. هداية المسترشد إن كان طالباً للحق.

5. محق الباطل وتعريته.

6. اتقاء المضار الناجمة عن السكوت.

7. تنقية الساحة من المنكودين بالتعريف عليهم بما خالفوا به أمر الكتاب والسنة، لقطعهم، وكف شرهم عن الناس.

8. كف لبأس المخالفات المذمومة عن المسلمين.

--------------------------------------------

(1) باختصار وتصرف من كتابَي: «الرد على المخالف» للشيخ: بكر أبو زيد رحمه الله (ص 83)، و «فقه الرد على المخالف» د. خالد السبت (ص 158).

وانظر: «أصول الجدل والمناظرة في الكتاب والسنة» د. حمد العثمان (ص 166 ـ 175)، و «آداب الرد على المخالف ومنهج ابن باز في الرد على المخالف» للشيخ: حمد بن عتيق (معاصر).
এবং এর যথাযথ শর্তাবলি ও আদবসমূহ মেনে এটি পালনের বহুবিধ সুফল রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো (১):

১. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের এই মহান বিধান পালনের মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মদীর শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করা।

২. সুন্নাহর প্রচার এবং এর মধ্য থেকে যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে তা পুনরুজ্জীবিত করা।

৩. সত্যকে প্রকাশ ও প্রতিষ্ঠিত করা এবং একে সুস্পষ্ট ও উন্মোচিত করা।

৪. যদি কেউ সত্যান্বেষী ও হেদায়াতপ্রত্যাশী হয়, তবে তাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করা।

৫. বাতিলকে নির্মূল ও অনাবৃত করা।

৬. নীরবতা অবলম্বনের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি থেকে সুরক্ষা লাভ করা।

৭. কিতাব ও সুন্নাহর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণকারীদের স্বরূপ উন্মোচনের মাধ্যমে ময়দানকে কলুষমুক্ত করা, যাতে তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করা যায় এবং মানুষের ওপর থেকে তাদের অনিষ্ট প্রতিহত করা যায়।

৮. মুসলিমদের ওপর নিন্দনীয় বিরুদ্ধাচরণসমূহের প্রভাব প্রতিহত করা।

--------------------------------------------

(১) শেখ বকর আবু যায়দ (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘আর-রাদ্দু আলাল মুখালিফ’ (পৃষ্ঠা ৮৩) এবং ড. খালিদ আস-সাবত রচিত ‘ফিকহুর রাদ্দি আলাল মুখালিফ’ (পৃষ্ঠা ১৫৮) গ্রন্থদ্বয় থেকে সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত।

আরও দেখুন: ড. হামাদ আল-উসমান রচিত ‘উসুলুল জাদালি ওয়াল মুনাজারাতি ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ’ (পৃষ্ঠা ১৬৬-১৭৫) এবং শেখ হামাদ বিন আতিক (সমসাময়িক) রচিত ‘আদাবুর রাদ্দি আলাল মুখালিফ ওয়া মানহাজু ইবনু বায ফির রাদ্দি আলাল মুখালিফ’।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
9. دفع الإثم عن المسلمين بالقيام بهذا الفرض الكفائي.

10. نيل شرف الرتبة بالقيام بهذه الحسبة، للذب عن الشريعة وحملتها.

 

* * *
9. এই ফরযে কিফায়া আদায়ের মাধ্যমে মুসলিমদের ওপর থেকে গুনাহ অপনোদন করা।

10. শরীয়ত ও এর বাহকদের প্রতিরক্ষায় এই ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে উচ্চ মর্যাদার সম্মান অর্জন করা।

 

* * *
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ترجمة‌‌ المؤلف (1):

1) حياته الشخصية:

اسمه ونَسَبُه: الشيخ: عبدالعزيز بن محمد بن مديهش بن محمد بن إبراهيم بن سالم بن الحُمَيدي، من آل هويمل.

(«آل هويمل» أبناء عم ل «آل حمد» أهل حريملاء) كلاهما من آل «أبو رباع»، من السلقا، من الحسني، من بشر، بطن من تغلب بن وائل بن

--------------------------------------------

(1) مصادر ترجمته: مشافهات من كبار السن في الأسرة.

 

وينظر: [«علماء آل سليم وتلامذتهم وعلماء القصيم» (1/ 42)، «تذكرة أولي النهى والعرفان» للشيخ: إبراهيم بن عبيد ـ ط. الأولى ـ (2/ 41)، ـ ط. الرشد ـ (2/ 44)، «الحياة بعد الممات» لفضل حسن مظفر بوري ـ مطبوع بالأردية في الهند ـ سنة (1326 هـ) (ص 376)، وعنه: «جهود مخلصة في خدمة السنة المطهرة» للشيخ د. عبدالرحمن الفريوائي (ص 171)، وعن الفريوائي: [«رابطة ظفر علي خان ومسلمي الهند بالملك عبدالعزيز» د. محمد بن سعد الشويعر (ص 15)]، «معجم أسر بريدة» للعبودي (19/ 337)، «فهارس المخطوطات الأصلية في حائل» للرديعان (ص 58)، «صناعة المخطوطات النجدية» د. عبدالله بن محمد المنيف ـ رسالة دكتوراه في جامعة الملك سعود، لم تُنشر، في (ص 326 ـ 327) في مبحث (النسَّاخ المحترفون في النصف الأول من القرن الرابع عشر) رقم (4)، «الحنابلة خلال ثلاثة عشر قرناً» د. الطريقي (10/ 175) (5049)].
লেখকের জীবনী (১):

১) তাঁর ব্যক্তিগত জীবন:

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়: শায়খ আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন মুদাইহিশ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন সালিম বিন আল-হুমাইদি, আল-হুওয়াইমিল বংশীয়।

(«আলে হুওয়াইমিল» হলো হারিমালা নিবাসী «আলে হামাদ»-এর চাচাতো ভাই) তারা উভয়ই «আবু রুবা’» বংশের অন্তর্ভুক্ত, যা সালকা গোত্রের অন্তর্গত, আল-হাসানি শাখা হতে, বিশর বংশজাত, যা তাগলিব বিন ওয়ায়েল বিন-এর একটি উপগোত্র।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ: পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের থেকে প্রাপ্ত মৌখিক বর্ণনা।

 

আরও দেখুন: [«উলামায়ে আলে সালীম ওয়া তালামিযাতুহুম ওয়া উলামায়ে কাসিম» (১/ ৪২), শায়খ ইব্রাহিম বিন উবাইদ প্রণীত «তাযকিরাতু উলিন নুহা ওয়াল ইরফান» — ১ম সংস্করণ — (২/ ৪১), — আর-রুশদ সংস্করণ — (২/ ৪৪), ফজল হাসান মুজাফফরপুরী রচিত «আল-হায়াতু বা’দাল মামাত» — এটি ১৩২৬ হিজরিতে ভারতে উর্দু ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে — (পৃষ্ঠা ৩৭৬), এবং তাঁর সূত্রে: ড. আব্দুর রহমান আল-ফারিয়াওয়ায়ী রচিত «জুহুদুন মুখলিসাতুন ফী খিদমাতিস সুন্নাতিল মুতাহহিরাহ» (পৃষ্ঠা ১৭১), এবং আল-ফারিয়াওয়ায়ীর সূত্রে: ড. মুহাম্মদ বিন সা’দ আল-শুওয়াই’ইর রচিত [«রাবিতা জাফর আলী খান ওয়া মুসলিমিল হিন্দ বিল মালিক আবদিল আযীয» (পৃষ্ঠা ১৫)], আল-উবুদী রচিত «মু’জামু আসারি বুরাইদাহ» (১৯/ ৩৩৭), আল-রাদি’আন রচিত «ফাহরিসুল মাখতুতাতি আসলিইয়াহ ফী হাইল» (পৃষ্ঠা ৫৮), ড. আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-মুনিফ রচিত «সিনাআতুল মাখতুতাতি নাজদিয়্যাহ» — কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অপ্রকাশিত ডক্টরাল থিসিস, (পৃষ্ঠা ৩২৬-৩২৭)-এ (চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের পেশাদার পাণ্ডুলিপি অনুলিপিকারক) শীর্ষক গবেষণার ৪ নম্বর ভুক্তি, ড. আল-তারিকী রচিত «আল-হানাবিলাহ খিলালা সালাসা আশারা কারনান» (১০/ ১৭৫) (৫০৪৯)]।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
قاسط، القبيلة الوائلية الربيعية المعروفة.

وجدُّه الحُمَيدي انتقل من بلدة «التويم» في منطقة «سدير» إلى بلدة «ضارج» = «الشقة» في شمال غرب «بُريدة»، وذلك سنة (1045 هـ)، وله خمسةُ أولاد، تفرَّع منهم ستٌّ وعشرون أسرة، منها: المديهش، والقصيِّر، والعساف في السماوة في العراق، والسديس، والحضيف، والعقيل، والكِلَيِّة، والجُوعِي، والشويهي، والخَضِيري، والرعُوجي، والسّعُود، والرشيد، والفهدي، والحمودي، والصبحاوي، والخويلدي، والفايزي، والحوَّاس، والطعيسان في بغداد، والغازي، والبعيمي.

مولده: ولد في بلدة «ضارج» (1)

شمال غرب مدينة «بُريدة» سنة (1270 هـ) تقريباً.

--------------------------------------------

(1) المعروفة الآن ب [الشِّقَّة العُليا، ضَارِي، الشِّقَّة السُّفْلَى]، وجميعها كانت تسمى قديماً «ضارج»، وهي في شمال غرب «بريدة» في منطقة القصيم.

قال معالي الشيخ: محمد العبودي ـ وفقه الله ـ: (هي على شكل بَطْنٍ من الأرض، ممتَدٍ من الشمال إلى الجنوب، يتَّسِعُ في جهة الشمال، يحيط به من الشرق: جَالٌ: أي مرتفعٌ صخري مشرف، ومن الغرب: الرمل).

و«ضارج» هي التي ذكرها امروء القيس (ت 80 قبل الهجرة) في «مُعلَّقته» ـ على الصحيح، كما رجَّحه المحققون في معرفة البلدان ـ. =
কাসিত, সুপরিচিত ওয়ায়েলি রাবিয়ি গোত্র।

তাঁর পিতামহ আল-হুমাইদি হিজরি ১০৪৫ সালে ‘সুদাইর’ অঞ্চলের ‘আত-তুওয়াইম’ গ্রাম থেকে ‘বুরাইদাহ’র উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ‘দারেজ’ তথা ‘আশ-শিক্কাহ’ গ্রামে স্থানান্তরিত হন। তাঁর পাঁচজন পুত্র ছিল, যাদের থেকে ছাব্বিশটি পরিবার বিস্তৃত হয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আল-মুদাইহিশ, আল-কুসাইর, ইরাকের সামাওয়াহর আল-আসসাফ, আস-সুদাইস, আল-হুদাইফ, আল-আকিল, আল-কিলাইয়াহ, আল-জুয়ি, আশ-শুওয়াইহি, আল-খাদরি, আর-রুউজি, আস-সাউদ, আর-রাশিদ, আল-ফাহদি, আল-হামুদি, আস-সুবহাউয়ি, আল-খুয়াইলিদি, আল-ফাইজি, আল-হাওওয়াস, বাগদাদের আত-তুআইসান, আল-গাজি এবং আল-বুয়াইমি।

জন্ম: তিনি ‘দারেজ’ (১) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

স্থানটি ‘বুরাইদাহ’ শহরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত, তাঁর জন্ম আনুমানিক ১২৭০ হিজরি সনে।

--------------------------------------------

(১) স্থানটি বর্তমানে [আশ-শিক্কাহ আল-উলইয়া, দারি, আশ-শিক্কাহ আস-সুফলা] নামে পরিচিত, যার সবকটিই প্রাচীনকালে ‘দারেজ’ নামে অভিহিত হতো। এটি কাসিম অঞ্চলের ‘বুরাইদাহ’র উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।

মাননীয় শায়খ মুহাম্মাদ আল-আবুদি—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন—বলেছেন: (এটি ভূখণ্ডের একটি নিচু উপত্যকার মতো, যা উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত এবং উত্তর দিকে প্রশস্ত। এর পূর্ব দিকে রয়েছে ‘জাল’ অর্থাৎ একটি উঁচু ও দীর্ঘ পাথুরে ঢাল এবং পশ্চিম দিকে রয়েছে বালুরাশি)।

আর এই ‘দারেজ’-এর কথাই ইমরুল কায়েস (মৃত্যু: হিজরতের ৮০ বছর পূর্বে) তাঁর ‘মুআল্লাকা’ কাব্যগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—বিশুদ্ধ মতানুসারে, যেমনটি ভূগোল বিশারদ গবেষকগণ প্রাধান্য দিয়েছেন—। =
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= يقول امرؤ القيس في «مُعَلَّقته»: التي مطلعها:

قِفَا نَبْكِ من ذِكرى حَبيبٍ ومَنزِلِ … بسِقْطِ اللِّوى بين الدَّخُولِ فَحَومَل

 

يقول:

أَصَاحِ تَرَى بَرْقَاً أُرِيْكَ وَمِيْضَهُ … كَلَمْعِ اليَدَيْنِ فِي حَبِيٍّ مُكَلَّل

يُضِئُ سَنَاهُ أَوْ مَصَابِيْحُ رَاهِبٍ … أَهَانَ السَّلِيْطَ بِالذُّبَالِ المُفَتَّل

قَعَدْتُ لَهُ وَصُحْبَتِي بَيْنَ ضَارِجٍ … وَبَيْنَ العُذَيْبِ بُعْدَ مَا مُتَأَمَّل

 

ومعناه: لقد شاقنا البرق، وأعجبنا وميضه، فقعدت أنا وأصحابي بين ضارج ـ وهي الشقة في شمال القصيم ـ والعذيب وهو موضع قريب من ضارج، نتأمله، ونشيم مطره، والبرق ليس بالقريب منا فما تأملناه بعيدٌ عن موضعنا كُلَّ البُعْدِ.

وقال في قصيدة أخرى كما في «ديوانه» ـ ط. مركز زايد ـ (2/ 460):

قعدتُ لهَا وصُحبَتِي بين ضَارجِ … وبين تِلاعِ يثْلُث فالعريض

قال ياقوت في «معجم البلدان» (4/ 114) العريض: جبلٌ، وقيل: اسم وادٍ، وقيل: مَوضعٌ بِنَجْدٍ.

قال الشيخ العبودي: الشَّئُ الذي لا أَشُكُّ فِيهِ أنَّ امرأَ القيس يُرِيدُ «ضارج» القصيم، ليس غيره.

وكذا رجَّحَه الباحث الجغرافي: عبدالله بن محمد الشايع في كتابه «نظرات في معاجم البلدان ـ تحقيق مواضع في نجد ـ» (ص 258).

وعارضهما الأستاذُ: سعدُ الجنيدل في كتابه «معجم الأماكن الواردة في المعلقات العشر» (ص 313) ورجح بأنه ليس مراد امرئ القيس «ضارج» القصيم. =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= ইমরুল কায়েস তার «মুআল্লাকা»-য় বলেন, যার প্রারম্ভিক পঙক্তি হলো:

থামো, আমরা প্রিয়তমা ও আবাসের স্মরণে ক্রন্দন করি … লওয়ার বালিয়াড়ির প্রান্তে দাখুল ও হাওমালের মাঝে

 

তিনি বলেন:

হে বন্ধু! তুমি কি সেই বিদ্যুৎ দেখতে পাচ্ছ যার চমক আমি তোমাকে দেখাচ্ছি? … তা মুকুটসদৃশ মেঘমালার মাঝে দুহাতের ইশারার মতো চমকাচ্ছে

তার আভা আলোকিত করছে, অথবা যেন কোনো সন্ন্যাসীর প্রদীপ … যে পাকানো সলতেয় প্রচুর তেল ঢেলে তা প্রজ্বলিত করেছে

আমি এবং আমার সঙ্গীরা তার (বৃষ্টির) অপেক্ষায় বসেছিলাম দারিজ … ও উদাইবের মাঝে, যা আমাদের দৃষ্টিসীমা থেকে অনেক দূরে ছিল

 

এর অর্থ হলো: বিদ্যুতের চমক আমাদের ব্যাকুল করেছে এবং এর দ্যুতি আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমি এবং আমার সঙ্গীরা দারিজ—যা উত্তর কাসিমের একটি অঞ্চল—এবং দারিজের নিকটবর্তী স্থান উদাইবের মধ্যবর্তী স্থানে বসে তা পর্যবেক্ষণ করছিলাম এবং বৃষ্টির প্রতীক্ষা করছিলাম। আর বিদ্যুৎ আমাদের খুব কাছে ছিল না, বরং আমরা যেখান থেকে তা পর্যবেক্ষণ করছিলাম তা আমাদের অবস্থান থেকে বেশ দূরে ছিল।

তিনি তার «দিওয়ান»-এর অন্য এক কবিতায় বলেছেন—জায়েদ সেন্টার সংস্করণ—(২/ ৪৬০):

আমি তার (বৃষ্টির) অপেক্ষায় বসেছিলাম এবং আমার সঙ্গীরা ছিল দারিজ … এবং ইয়াসলুস ও আরীদের উপত্যকার মাঝে

ইয়াকুত ‘মুজামুল বুলদান’ গ্রন্থে (৪/ ১১৪) বলেছেন, আরীদ হলো একটি পাহাড়; কেউ বলেছেন এটি একটি উপত্যকার নাম, আবার কেউ বলেছেন এটি নজদ অঞ্চলের একটি স্থান।

শেখ আল-আবূদী বলেন: যে বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই তা হলো ইমরুল কায়েস কাসিমের «দারিজ» অঞ্চলকেই বুঝিয়েছেন, অন্য কিছু নয়।

ভৌগোলিক গবেষক আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শায়ে তার «নাজরাতুন ফী মুজামিল বুলদান—তাহকীকু মাওয়াদ্বিআ ফী নাজদ» (পৃ. ২৫৮) গ্রন্থে এ মতকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

কিন্তু অধ্যাপক সা’দ আল-জুনাইদিল তার «মুজামুল আমাকিন আল-ওয়ারিদাতু ফিল মুআল্লাকাতিল আশর» (পৃ. ৩১৩) গ্রন্থে তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং মত প্রকাশ করেছেন যে, ইমরুল কায়েস কাসিমের «দারিজ» উদ্দেশ্য করেননি। =
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= والراجح ما ذهب إليه العبودي والشايع ــ والله أعلم ــ.

ومِن أوعَبِ مَن تَكلَّم عن «ضارج» معالي الشيخ: محمد العبودي ـ حفظه الله ـ في «معجم بلاد القصيم» (4/ 1182 ـ 1386) فليُرجع إليه.

ينظر: [«معجم بلاد القصيم» للعبودي (4/ 1182 ـ 1386)، «شرح القصائد السبع الطوال الجاهليات» لأبي بكر الأنباري، تحقيق: العلَاّمة عبدالسلام هارون (ص 102)، «شرح المعلقات العشر» أ. د. عبدالعزيز الفيصل (1/ 66، 115)، «شرح المعلقات السبع» للزوزني (ص 38)، «نهاية الأرب من شرح معلقات العرب» للنعساني ـ ط. السعادة في مصر 1324 هـ ـ (ص 34)]

وأما «الشِّقَّة» فقد سُمِّيَت بذلك لأنها شِقَّتَا وادِي «ضَارِجٍ»، هذا هو الصحيح، وأما القصة المتداولة: أن التسمية لأجل شرائها بشق بيت من شَعَر؛ فهي قِصَّةٌ خُرَافِيَّةٌ، لايقبلها العقل، ولايؤيدها الواقع، ويؤيد تكذيبها: تسمية ضارج من الشق، وكثرة آبارها، مع قدمها من الجاهلية، وكذا وجود بقاع عِدَّة بمسمى «الشقة»، كما «موسوعة أسماء الأماكن في المملكة العربية السعودية» ط. الدارة (3/ 648) وما بعدها.

و«ضارج» من الشق، قال في «القاموس» (ص 252): [ضَرَجَهُ: شَقَّه فانضرج، .. وعينٌ مضروجةٌ: واسعة الشق، وانضرج: اتَّسع .... وضارجٌ: مَوْضِعٌ] انتهى المراد نقله.

وقد كانت في القرن العاشر تقريباً منازل للرباب، وقيل: لبني الصيداء من بني أسد، فخذان من تميم. =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= এবং অধিকতর সঠিক মত হলো সেটিই, যা আল-আবূদী এবং আশ-শায়ি' গ্রহণ করেছেন - আর আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ।

আর 'দারিজ' সম্পর্কে যারা সবিস্তারে আলোচনা করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মাননীয় শায়খ মুহাম্মাদ আল-আবূদী —আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন— তাঁর 'মু'জামু বিলাদিল কাসিম' (৪/১১৮২-১৩৮৬) গ্রন্থে। সুতরাং সেই গ্রন্থের দিকেই প্রত্যাবর্তন করা উচিত।

দ্রষ্টব্য: [আবূদীর 'মু'জামু বিলাদিল কাসিম' (৪/১১৮২-১৩৮৬); আবু বকর আল-আনবারী রচিত 'শারহুল কাসাঈদ আস-সাব'আত তিওয়াল আল-জাহিলিয়াত', সম্পাদনা: আল্লামা আবদুস সালাম হারুন (পৃ. ১০২); প্রফেসর ড. আবদুল আজিজ আল-ফয়সাল রচিত 'শারহুল মু'আল্লাকাতুল আশর' (১/৬৬, ১১৫); আয-যাওযানী রচিত 'শারহুল মু'আল্লাকাতুস সাব'আ' (পৃ. ৩৮); আন-না'সানী রচিত 'নিহায়াতুল আরাব মিন শারহি মু'আল্লাকাতিল আরব' —সা'আদাত প্রকাশনী, মিশর ১৩২৪ হি.— (পৃ. ৩৪)]

আর 'আশ-শিক্কাহ' এর নামকরণ এভাবে করার কারণ হলো এটি 'দারিজ' উপত্যকার দুটি পার্শ্ব বা অংশ; এটাই সঠিক অভিমত। আর প্রচলিত যে কাহিনীর কথা বলা হয় যে, পশম দ্বারা নির্মিত তাঁবুর একটি অংশের বিনিময়ে এটি ক্রয় করার কারণে এমন নামকরণ হয়েছে; তা একটি কাল্পনিক কাহিনী। বিবেক এটি গ্রহণ করে না এবং বাস্তবতাও এর সমর্থন করে না। এর অসারতা আরও প্রমাণিত হয় এই যে, 'দারিজ' নামটি 'শিক্ক' (বিদীর্ণ করা) থেকে উদ্ভূত, আর সেখানে জাহেলিয়াত আমল থেকেই অনেক কূপ বিদ্যমান। তাছাড়া 'আশ-শিক্কাহ' নামে আরও অনেক অঞ্চল রয়েছে, যেমনটি 'মাওসুআতু আসমাইল আমাকিন ফিল মামলাকাতিল আরাবিয়াতিল সাউদিয়া' (দারাহ সংস্করণ ৩/৬৪৮ ও পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে) উল্লেখ করা হয়েছে।

আর 'দারিজ' শব্দটি 'শিক্ক' ধাতু থেকে উৎপন্ন। 'আল-কামুস' গ্রন্থে (পৃ. ২৫২) বলা হয়েছে: [সেটি বিদীর্ণ করেছে ফলে তা বিদীর্ণ হয়ে গেছে... এবং প্রশস্ত চোখের কোণকে 'মাদরুজাহ' বলা হয়, আর 'ইনদারাজা' মানে: প্রশস্ত হওয়া... এবং 'দারিজ' হলো একটি স্থানের নাম]। উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

আর আনুমানিক দশম হিজরি শতকে এটি রিবাব গোত্রের আবাসস্থল ছিল, এবং বলা হয় যে এটি বনু আসাদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত বনু সাইদার আবাসস্থল ছিল, যারা তামীম গোত্রের দুটি শাখা। =
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= وهم يقلبون الجيم ياءً، لذلك قالوا: «ضاري» بدل «ضارج»، ثم سكنها من سنة (1045 هـ) (أُسَرُ الحمادا، والمريزيق) من آل هويمل، من آل أبو رباع، من السلقا، من بني تغلب بن وائل بن قاسط.

من علمائها: مؤلِّف هذا الكتاب: عبدالعزيز بن محمد المديهش، ذهب للهند لطلب الحديث، ومحمد القصيِّر الذي ذهب إلى الهند مع الشيخ: سعد بن عتيق لطلب الحديث، ثم توجه مباشرة إلى اليمن، وتوفي فيها، وعمر الوسيدي، وعبد الرحمن الربعي، وعبدالرحمن الكلية، ومحمد الرشيد، وعلي بن سليمان الضالع، وعلي العامر، وغيرهم.

وانظر: [«معجم البلدان» لياقوت (3/ 355، 450)، «معجم ما استعجم» (3/ 806، 852) وفي الموضع الأول إحالة إلى متقدم ولم أجد كلامَه، «صفة جزيرة العرب» للهمْداني (ص 327، 329)، «القاموس المحيط» (ص 1159)، «الروض المعطار» للحِمْيَري (ص 374)، «صفة جزيرة العرب» للهمْداني (توفي في النصف الثاني من القرن الرابع) (ص 336، 380)، «معجم بلدان القصيم» للعبودي (3/ 1254، 1256)، «صحيح الأخبار» لابن بليهد (1/ 21)، «الأمكنة والمياه والجبال … » لنصر الإسكندري (ت 561 هـ تقريباً) تحقيق: العلَاّمة: حمد الجاسر (ص 183)، كتاب «الجواء» ضمن سلسلة هذه بلادنا د. صالح الوشمي (130 ـ 132)، «معجم الأماكن الواردة في المعلقات العشر» سعد بن جنيدل (ص 310 ـ 314)، «نظرات في معاجم البلدان ـ تحقيق مواضع في نجد» لعبدالله بن محمد الشايع (ص 234 ــ 258)].
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= তারা 'জিম' বর্ণটিকে 'ইয়া' হিসেবে উচ্চারণ করে, এজন্য তারা 'দারিজ'-এর পরিবর্তে 'দারি' বলে থাকে। অতঃপর ১০৪৫ হিজরি সন থেকে সেখানে আল-হুওয়াইমিল বংশের আল-হামাদা এবং আল-মুরাইজিক পরিবারসমূহ বসবাস শুরু করে, যারা আল আবু রাবা' গোত্রভুক্ত, যা আস-সালকা ও বনু তাগলিব বিন ওয়ায়েল বিন কাসিত-এর একটি শাখা।

সেখানকার আলেমদের মধ্যে অন্যতম হলেন: এই গ্রন্থের লেখক আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-মুদাইহিশ, যিনি হাদিস শাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য ভারতে গিয়েছিলেন; এবং মুহাম্মদ আল-কুসাইয়ির, যিনি শায়খ সাদ বিন আতিকের সাথে হাদিস অধ্যয়নের জন্য ভারতে গিয়েছিলেন এবং এরপর সরাসরি ইয়েমেনে গমন করেন ও সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন; এছাড়াও ওমর আল-ওয়াসিদি, আব্দুর রহমান আর-রাবঈ, আব্দুর রহমান আল-কুলিয়্যাহ, মুহাম্মদ আর-রাশিদ, আলী বিন সুলাইমান আদ-দালি', আলী আল-আমির এবং অন্যান্যরা।

আরও দেখুন: [ইয়াকুত আল-হামাভির ‘মু’জামুল বুলদান’ (৩/৩৫৫, ৪৫০), ‘মু’জামু মাসতাজাম’ (৩/৮০৬, ৮৫২)—যেখানে প্রথম স্থানে একজন পূর্বসূরি লেখকের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে কিন্তু আমি তার মূল বক্তব্যটি খুঁজে পাইনি—হামদানি (মৃত্যু চতুর্থ হিজরি শতকের দ্বিতীয়ার্ধ) প্রণীত ‘সিফাতু জাজিরাতিল আরব’ (পৃ. ৩২৭, ৩২৯, ৩৩৬, ৩৮০), ‘আল-কামুসুল মুহিত’ (পৃ. ১১৫৯), হিময়ারির ‘আর-রাওদুল মিতার’ (পৃ. ৩৭৪), আবুদির ‘মু’জামু বুলদানিল কাসিম’ (৩/১২৫৪, ১২৫৬), ইবনে বুলাইহাদের ‘সহিহুল আখবার’ (১/২১), নাসর আল-ইসকান্দারি (মৃত্যু আনুমানিক ৫৬১ হি.) প্রণীত ‘আল-আমকিনাহ ওয়াল মিয়াহ ওয়াল জিবাল …’, আল্লামা হামাদ আল-জাসিরের সম্পাদনায় (পৃ. ১৮৩), ড. সালিহ আল-ওয়াশমি রচিত ‘আল-জিওয়া’ (আমাদের দেশ সিরিজের অন্তর্ভুক্ত, পৃ. ১৩০-১৩২), সাদ বিন জুনাইদিলের ‘মু’জামুল আমাকিনিল ওয়ারিদাহ ফিল মুআল্লাকাতিল আশর’ (পৃ. ৩১০-৩১৪), আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আশ-শায়া প্রণীত ‘নাজারাত ফি মাআজিমিল বুলদান—তাহকিকু মাওয়াদিয়া ফি নাজদ’ (পৃ. ২৩৪-২৫৮)]।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
أسرته: اشتهرت أسرته بالتجارة، فجدُّهُ إبراهيم كان ممن انتقل من «ضارج» إلى «العراق» زمن المجاعة الشديدة في نجد، واشتغل بالتجارة هناك، وكذا أبناؤه، واشتهر جدُّهُ «مديهش» بالتجارة الواسعة، وبعد وفاته، عاد والد الشيخ ـ وقد كان صغيراً ـ إلى بلدة «ضارج»، وله فيها قَصْرٌ كَبِيْرٌ، من أميز المنازل في تلك البلدة.

إخوانه: علي، وصالح، وفهد، حمود.

الاثنان الأولان، ومعهما ابنا أخيهم: (مديهش وعبدالله ابنا فهد)، وسبعة عشر رجلاً من أهل بريدة، كانوا مع «عقيلات» (1)، ذهبوا للتجارة في العراق، وأثناء عودتهم، وقبيل وصولهم إلى «بريدة»، نزلوا للإفطار … ـ وكانوا صائمين ـ، ففجأَهُم الأعراب الجهال المعروفون في نجد باسم «الإخوان» (2)، فقالوا: لقد جئتم من الكفار، ولا بد من قتلكم، وهم يعتقدون كفر من ذهب إلى الكفار! فقتلوهم جميعاً! وكان منهم صغار في السن مثل: علي؛ ثم أخذوا متاعهم غنيمة! وكان ذلك سنة (1345 هـ)، ولم تمض إلا سنتان حتى قتلهم وجماعتَهم الملكُ عبدالعزيز رحمه الله في وقعة

--------------------------------------------

(1) سيأتي التعريف بهم في (ص 161).

(2) سيأتي التعريف بهم في (ص 86).
তাঁর পরিবার: তাঁর পরিবার ব্যবসার জন্য সুপরিচিত ছিল। তাঁর পিতামহ ইব্রাহিম সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা নজদে তীব্র দুর্ভিক্ষের সময় ‘দারিজ’ থেকে ‘ইরাক’-এ হিজরত করেছিলেন এবং সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যে লিপ্ত হন; তাঁর সন্তানগণও অনুরূপ করেন। তাঁর পিতামহ ‘মুদাইহিশ’ বিশাল ব্যবসার জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তাঁর ইন্তেকালের পর শায়খের পিতা—যিনি তখন অল্পবয়সী ছিলেন—‘দারিজ’ জনপদে ফিরে আসেন; সেখানে তাঁর একটি বিশাল প্রাসাদ ছিল, যা ওই জনপদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাড়ি হিসেবে গণ্য হতো।

তাঁর ভ্রাতৃবৃন্দ: আলী, সালেহ, ফাহাদ ও হাম্মুদ।

প্রথম দু’জন এবং তাদের সাথে তাদের ভ্রাতুষ্পুত্রদ্বয়: (ফাহাদের দুই পুত্র মুদাইহিশ ও আবদুল্লাহ) এবং বুরাইদাহর অধিবাসীদের মধ্য থেকে আরও সতেরোজন লোক ‘উকাইলাত’ (১)-এর সাথে ছিলেন। তারা ব্যবসার উদ্দেশ্যে ইরাক গিয়েছিলেন। ফেরার পথে বুরাইদাহ পৌঁছানোর ঠিক আগমুহূর্তে তারা ইফতারের জন্য যাত্রাবিরতি করেন … —সেসময় তারা রোজা ছিলেন—। তখন নজদে ‘আল-ইখওয়ান’ (২) নামে পরিচিত একদল অজ্ঞ বেদুঈন আকস্মিকভাবে তাদের ওপর চড়াও হয়। তারা বলল: ‘তোমরা কাফেরদের নিকট থেকে এসেছ, তাই তোমাদের হত্যা করা অনিবার্য।’ যারা কাফেরদের কাছে যায়, তারা কাফের হয়ে যায়—এমনটিই ছিল তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস! অতঃপর তারা তাদের সবাইকে হত্যা করে! তাদের মধ্যে আলীর মতো অল্পবয়সীও ছিল। এরপর তারা তাদের আসবাবপত্র গনীমত হিসেবে দখল করে নেয়। এই ঘটনাটি ১৩৪৫ হিজরি সালের। এর মাত্র দুই বছর অতিবাহিত হতে না হতেই বাদশাহ আবদুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ) এক যুদ্ধে তাদেরকে এবং তাদের দলকে সমূলে বিনাশ করেন।

--------------------------------------------

(১) ১৬১ পৃষ্ঠায় তাদের পরিচয় প্রদান করা হবে।

(২) ৮৬ পৃষ্ঠায় তাদের পরিচয় আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-বারাহীনুল মুতাবারাহ ফী হাদিমি কাওয়াইদিল মুবতাদিআহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
«السبلة» (1347 هـ)، وانتهت الفتنة والشر في هذه البلاد المباركة.

ذكرتُ هذا، ليُعلم أن الشيخ في كتابه هذا يقرر خلاف ما كان عليه بعض أفراد أسرته في ذلك الوقت، من الذهاب للتجارة مع «عقيلات» …

وأيضاً فإن الشيخ لم يخالف ماعليه علماء الدعوة السلفية من علماء آل الشيخ في الرياض، وآل سليم في بريدة ـ كما سيأتي بيانه ـ.

أولاده: علي، وحصة، وفاطمة، وهيلة.

والموجودون الآن: أحفاده: (فهد، ومحمد، وأحمد، وصالح، ونورة) أولاد علي بن عبدالعزيز. وأولادهم.

وفاته: توفي رحمه الله في «بريدة» سنة (1350 هـ) [*].

2) حياته العلمية:

حفظ مبادئ العلم: من الكتابة والقراءة في «ضارج» = «الشُّقَّة» شمال غرب «بريدة»، ولم تكن بلدته هذه وبيئته بلدة عِلْمٍ، فسعى بجد ونشاط للطلب، فرحل إلى «بريدة» (1) ولازم علماءها الكبار.

ثم رحل إلى «الرياض»، ثم «الهند».

--------------------------------------------

(1) انظر في التعريف بها: «المعجم الجغرافي للبلاد السعودية» ـ القصيم ـ للشيخ: محمد العبودي، و «بريدة داخل الأسوار وخارجها» لأحمد بن حسن المنصور.

[*] قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: كان بالمطبوع (1351 هـ تقريبا)، وقد أصلحها المحقق - جزاه الله خيرا- بالمثبت أعلاه
'সাবিল্লা' (১৩৪৭ হিজরি), এবং এই বরকতময় ভূখণ্ডে ফিতনা ও অনিষ্টের অবসান ঘটে।

আমি এটি উল্লেখ করেছি যাতে জানা যায় যে, শায়খ তাঁর এই গ্রন্থে তৎকালীন তাঁর পরিবারের কিছু সদস্যের অবস্থানের বিপরীতে মত ব্যক্ত করেছেন, যারা 'আকিলাত'-এর সাথে ব্যবসা করতে যেতেন …

তদুপরি, শায়খ রিয়াদের আলুশ শায়খ এবং বুরাইদাহর আলু সুলাইম পরিবারের সালাফি দাওয়াতের আলেমগণ যে মতাদর্শের ওপর ছিলেন, তার কোনো বিরোধিতা করেননি—যেমনটি সামনে বিস্তারিত বর্ণিত হবে।

তাঁর সন্তানসন্ততি: আলী, হিসসাহ, ফাতিমাহ এবং হাইলাহ।

বর্তমানে জীবিত আছেন: তাঁর পৌত্রগণ: (ফাহাদ, মুহাম্মাদ, আহমাদ, সালিহ এবং নূরাহ)—আলী ইবনে আবদুল আজিজের সন্তানগণ এবং তাঁদের সন্তানগণ।

ইন্তেকাল: তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ১৩৫০ হিজরি সনে 'বুরাইদাহ' শহরে ইন্তেকাল করেন [*]।

২) তাঁর ইলমি জীবন:

তিনি প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেন: বুরাইদাহর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত 'দারিজ' তথা 'আশ-শুক্কাহ' এলাকায় লিখন ও পঠন শেখার মাধ্যমে। তাঁর এই শহর এবং পরিবেশ জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র ছিল না, তাই তিনি ইলম অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম ও উদ্দীপনা প্রদর্শন করেন এবং 'বুরাইদাহ' (১) সফরে যান ও সেখানকার বড় বড় আলেমদের সান্নিধ্যে থাকেন।

এরপর তিনি 'রিয়াদ' এবং পরবর্তীতে 'ভারত' সফর করেন।

--------------------------------------------

(১) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: শায়খ মুহাম্মাদ আল-আবুদি রচিত 'আল-মু'জাম আল-জুগরাফি লিল-বিলাদ আস-সাউদিয়্যাহ—আল-কাসিম' এবং আহমাদ ইবনে হাসান আল-মানসুর রচিত 'বুরাইদাহ দাখিল আল-আসওয়ার ওয়া খারিজুহা'।

[*] শামেলা সংস্করণ প্রস্তুতকারী বলেন: মুদ্রিত কপিতে এটি (প্রায় ১৩৫১ হিজরি) ছিল, তবে মুহাক্কিক—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন—উপরে যা উল্লেখ করা হয়েছে সে অনুযায়ী সংশোধন করেছেন।