(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: -)
لمحات مهمة في الوصية   (سليمان الجاسر)

القسم: الفرائض والوصايا


الكتاب: لمحات مهمة في الوصية

المؤلف: سليمان بن جاسر بن عبد الكريم الجاسر

الناشر: مدار الوطن للنشر، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الثانية، 1434 هـ - 2013 م

عدد الصفحات: 59

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 جُمادَى الآخرة 1436

অসিয়তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত   (সুলাইমান আল-জাসির)

বিভাগ: মিরাস ও অসিয়ত


বই: অসিয়তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত

লেখক: সুলাইমান বিন জাসির বিন আব্দুল কারিম আল-জাসির

প্রকাশক: মাদারুল ওয়াতান পাবলিশিং, রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২২ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة إصدارات مَرْكَز وَاقِف (1)

 

لمحات مهمة فِي الْوَصِيَّة

 

جمع وإعداد

الْفَقِير إِلَى عَفْو ربه

سُلَيْمَان بن جاسر بن عبد الْكَرِيم الجاسر

المشرف على مَرْكَز وَاقِف (خبراء الْوَصَايَا والأوقاف)

 

مدَار الوطن للنشر
ওয়াকিফ সেন্টারের প্রকাশনা সিরিজ (১)

 

অসিয়ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত

 

সংকলন ও প্রস্তুতি

তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী

সুলাইমান বিন জাসির বিন আব্দুল কারীম আল-জাসির

ওয়াকিফ সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক (অসিয়ত ও ওয়াকফ বিশেষজ্ঞগণ)

 

মাদার আল-ওয়াতান প্রকাশনী
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهدِ الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثةٍ بدعة، وكل بدعةٍ ضلالة، وكل ضلالةٍ في النار.

وبعد: فقد أعلم الله سبحانه وتعالى أنه جعل المال قوامًا للأنفس وأمر بحفظه، ونهى أن يؤتى المال السفهاء من النساء والأولاد وغيرهم، وقد مدحه النبي صلى الله عليه وسلم إذا كان من كسب حلال ووضع في حلال فقال: «نعم المال الصالح للمرء الصالح» (1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في الأدب المفرد (1/ 112، رقم 299)، وأحمد في المسند برقم (17763)، وابن حبان في صحيحه (8/ 7، رقم 3210)، من حديث عمرو بن العاص.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই, তাঁরই নিকট হিদায়াত প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} [আল-ইমরান: ১০২]।

{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে অনেক পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা সেই আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট স্বত্ব দাবি করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে।} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হচ্ছে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা আর প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

অতঃপর: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জানিয়েছেন যে, তিনি সম্পদকে জীবনের অবলম্বন বানিয়েছেন এবং তা সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। আর নারী, শিশু ও অন্যদের মধ্যে যারা নির্বোধ তাদের হাতে সম্পদ তুলে দিতে নিষেধ করেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পদের প্রশংসা করেছেন যখন তা হালাল উপায়ে অর্জিত হয় এবং হালাল পথে ব্যয় করা হয়; তিনি বলেছেন: «একজন নেককার ব্যক্তির জন্য হালাল সম্পদ কতই না চমৎকার» (১)।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারী ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’ গ্রন্থে (১/১১২, নং ২৯৯), আহমদ ‘আল-মুসনাদ’ গ্রন্থে (নং ১৭৭৬৩) এবং ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে (৮/৭, নং ৩২১০) আমর ইবনুল আস (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ৬)
وقال سعيد بن المسيب: لا خير في من لا يريد جمع المال من حله، يكف به وجهه عن الناس، ويصل به رحمه، ويعطي حقه (1).

* وهذه مسائل مختصرة في الوصية، أردت بها تسهيل مهمات المسائل فيها على العامة، ولم أُغفل نكاتًا تقود الخواص إلى معرفة دقائق المسائل والتنبيه على مآخذ الخلاف.

أسأل الله عز وجل أن ينفع بها الكاتب والقارئ، وأن يجعلها لوجهه الكريم خالصة صالحة، ولعباده المؤمنين نافعة، وأن يستعمل الجميع في طاعته، ويعصمنا من إهمال العمر وإضاعته، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.

وكتبه الفقير إلى عفو ربه

أبو عبد الرحمن

سليمان بن جاسر الجاسر

غفر الله له ولوالديه وللمسلمين أجمعين

--------------------------------------------

(1) الضوء المنير على التفسير جمع لتفسير ابن القيم (1/ 322،323)
সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেছেন: "ঐ ব্যক্তির মাঝে কোনো কল্যাণ নেই, যে হালাল পন্থায় সম্পদ সঞ্চয় করতে চায় না, যার মাধ্যমে সে মানুষের কাছে নিজের মর্যাদা রক্ষা করবে (হাত পাতা থেকে বাঁচবে), আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং সম্পদের হক আদায় করবে (১)।"

* এগুলো অসিয়ত (ইচ্ছাপত্র) সংক্রান্ত কিছু সংক্ষিপ্ত মাসআলা, যার মাধ্যমে আমি সাধারণ মানুষের জন্য এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ সহজ করতে চেয়েছি; পাশাপাশি আমি এমন কিছু সূক্ষ্ম বিষয়ও বাদ দিইনি যা বিদগ্ধজনদের মাসআলার গূঢ় রহস্যসমূহ অবগত হতে এবং মতপার্থক্যের উৎসসমূহ অনুধাবনে সহায়তা করবে।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে লেখক ও পাঠককে উপকৃত করেন, এবং এটিকে একমাত্র তাঁরই মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ ও নেক আমল হিসেবে কবুল করেন, আর তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য কল্যাণকর করেন। তিনি যেন আমাদের সকলকে তাঁর আনুগত্যে নিয়োজিত রাখেন এবং জীবনের মূল্যবান সময় অবহেলা ও অপচয় করা থেকে আমাদের রক্ষা করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

এটি লিখেছেন তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী অভাবী বান্দা

আবু আবদুর রহমান

সুলাইমান বিন জাসির আল-জাসির

আল্লাহ তাকে, তার পিতা-মাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করে দিন।

--------------------------------------------

(১) আদ-দাওউল মুনীর আলাত তাফসীর, এটি ইবনুল কাইয়্যিমের তাফসীরের একটি সংকলন (১/৩২২, ৩২৩)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تعريف الوصية:

الوصية لغة:

أصل الوصية من الوصل، قال ابن فارس: «الواو والصاد والياء أصل يدل على وصل شيء بشيء، ووصيت الشيء وصلته» (1)

وقال الزمخشري: «وصى الشيء بالشيء: وصله به، وأوصيت إلى زيدٍ لعمرو بكذا، ووصَّيت، وهذا وصييّ، وهم أوصيائي، وهذه وصيتي ووصاتي، وقبل الوصي وصايته» (2). وأوصيت إليه إذا جعلته وصيّاً (3).

ويقال (وصيّة) بالتشديد، و (وصاة) بالتخفيف بغير همز.

الوصية اصطلاحًا:

هي: تمليك مضاف إلى ما بعد الموت عن طريق التبرع، سواء كان ذلك في الأعيان أو في المنافع (4).

سبب التسمية:

وسميت وصية؛ لأن الميت يصل بها ما كان في حياته بعد مماته (5).

--------------------------------------------

(1) مقاييس اللغة (ص: 1055).

(2) أساس البلاغة للزمخشري (ص: 501).

(3) مختار الصحاح، لأبي بكر الرازي، مادة "وصى"، والصحاح (6/ 2525)، والمحكم (8/ 394 - 395)، ولسان العرب، لابن منظور (15/ 394)، والقاموس المحيط للفيروز آبادي (ص: 1731).

(4) تكملة فتح القدير (8/ 416) طبعة بولاق، ومغني المحتاج، للخطيب الشربيني (3/ 39)، وكشاف القناع، للبهوتي (4/ 336)، وتبيين الحقائق، للزيلعي (6/ 181 - 182).

(5) فتح الباري، لابن حجر (5/ 502)، وشرح مسلم للنووي (6/ 77). وكشاف القناع للبهوتي (3/ 2121).
অসিয়তের সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে অসিয়ত:

অসিয়ত শব্দের মূল উৎস হলো 'আল-ওয়াসল' (সংযুক্ত করা)। ইবনে ফারিস বলেন: «ওয়াও, সাদ এবং ইয়া হলো এমন একটি মূল যা একটি বস্তুকে অন্য একটি বস্তুর সাথে যুক্ত করার অর্থ প্রকাশ করে; 'আমি বিষয়টিকে অসিয়ত করেছি' অর্থ হলো আমি সেটিকে যুক্ত করেছি» (১)।

আল-যামাখশারী বলেন: «তিনি এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে অসিয়ত করেছেন: অর্থাৎ সেটিকে তার সাথে যুক্ত করেছেন। আমি যায়দকে আমরের অনুকূলে অমুক বিষয়ের অসিয়ত করেছি, এবং আমি অসিয়ত করেছি। এই ব্যক্তি আমার 'ওসি' (অসিয়ত বাস্তবায়নকারী), আর তারা আমার 'ওসিগণ'। এটি আমার অসিয়ত ও উপদেশ। ওসির নিকট থেকে তার অসিয়তকৃত দায়িত্ব (অসিয়ত পালন) গ্রহণ করা হয়েছে» (২)। যখন আপনি কাউকে ওসি নিযুক্ত করবেন, তখন বলা হয় 'আমি তার প্রতি অসিয়ত করেছি' (৩)।

একে তাশদীদসহ 'অসিয়ত' এবং হামযা ব্যতীত লঘু উচ্চারণে 'ওয়াসাত' বলা হয়।

পারিভাষিক অর্থে অসিয়ত:

এটি হলো: স্বেচ্ছাদানের (তাবাররু) মাধ্যমে মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য মালিকানা প্রদান করা, চাই তা বস্তুগত সম্পদের ক্ষেত্রে হোক কিংবা উপযোগের (বেনিফিট) ক্ষেত্রে হোক (৪)।

নামকরণের কারণ:

একে অসিয়ত নামকরণ করা হয়েছে; কারণ মৃত ব্যক্তি এর মাধ্যমে তার জীবদ্দশার আমলকে মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের সাথে যুক্ত করে দেয় (৫)।

--------------------------------------------

(১) মাক্বায়িসুল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ১০৫৫)।

(২) আল-যামাখশারীর আসাসুল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ৫০১)।

(৩) আবু বকর আর-রাজীর মুখতারুস সিহাহ, 'ওয়াসি' অনুচ্ছেদ; আস-সিহাহ (৬/ ২৫২৫); আল-মুহকাম (৮/ ৩৯৪ - ৩৯৫); ইবনে মানজুরের লিসানুল আরব (১৫/ ৩৯৪); আল-ফিরোজাবাদীর আল-ক্বামুসুল মুহীত (পৃষ্ঠা: ১৭৩১)।

(৪) তাকমিলাতু ফাতহিল ক্বাদীর (৮/ ৪১৬), বুলাক সংস্করণ; খতীব আশ-শিরবীনীর মুগনীল মুহ্তাজ (৩/ ৩৯); আল-বাহুতীর কাশশাফুল ক্বিনা (৪/ ৩৩৬); আয-যাইলায়ীর তাবিঈনুল হাক্বায়িক্ব (৬/ ১৮১ - ১৮২)।

(৫) ইবনে হাজারের ফাতহুল বারী (৫/ ৫০২); ইমাম নববীর শারহু মুসলিম (৬/ ৭৭); আল-বাহুতীর কাশশাফুল ক্বিনা (৩/ ২১২১)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ৮)
وعرَّفها بعضهم: بأنها تمليك مضاف إلى ما بعد الموت بطريق التبرع.

ومن هذا التعريف يتبين الفرق بين الهبة والوصية، فالتمليك المستفاد من الهبة يثبت في الحال، أم التمليك المستفاد من الوصية فلا يكون إلا بعد الموت، هذا من جهة، ومن جهة أخرى فالهبة لا تكون إلا بالعين، والوصية تكون بالعين وبالدَّين وبالمنفعة (1).

 

‌‌الفرق بين الوصية والوقف:

• الوصية تدخلها الأحكام التكليفية الخمسة كما تقدم، أما الوقف فإنه في الأصل مستحب، وقد يكون حرامًا أو مكروهًا.

• الوصية لا يعمل بها إلا بعد الموت، أما الوقف فيعمل به حال العزم عليه.

• الوصية يجوز للموصي الرجوع فيها بعد إنشائها، أما الوقف فلا.

• الوصية لا تجوز إلا بالثلث فأقل، أما الوقف فإنه لا حد لأكثره.

الموصى له بالمنفعة يملك الإجازة والإعارة، والسفر بها، وتورث عنه، أما الوقف فإنا الموقف عليه لا يملك إجارتها ولا إعارتها ولا تورث عنه لا يملكه إجازةً ولا إعارةً ولا يورث عنه (2).

• الوصية لا تجوز للورثة أما الوقف فيجوز عليهم.

• الوصية تجوز بما لا يقدر على تسليمه كجمل شارد وطير في الهواء (أما الوقف فليس كذلك).

--------------------------------------------

(1) فقه السنة، سيد سابق (3/ 284).

(2) نبذة في الوصايا مع بعض النماذج الخاصة بها، للشيخ: عبد العزيز بن إبراهيم بن قاسم.
কেউ কেউ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: এটি দান হিসেবে মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট মালিকানা প্রদান।

এই সংজ্ঞা থেকে হেবা (দান) এবং ওসিয়তের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়; হেবা থেকে অর্জিত মালিকানা তাৎক্ষণিকভাবে সাব্যস্ত হয়, অন্যদিকে ওসিয়ত থেকে অর্জিত মালিকানা কেবল মৃত্যুর পরেই কার্যকর হয়। এটি একদিকের বিষয়; আর অন্যদিকের বিষয় হলো, হেবা কেবল মূল সম্পদের মাধ্যমেই হয়, কিন্তু ওসিয়ত মূল সম্পদ, ঋণ এবং উপযোগের (ব্যবহারিক স্বত্ব) মাধ্যমেও হতে পারে (১)।

 

‌‌ওসিয়ত এবং ওয়াকফের মধ্যে পার্থক্য:

• ওসিয়তের ক্ষেত্রে শরয়ি বিধানের পাঁচটি প্রকারই প্রযোজ্য হতে পারে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, অন্যদিকে ওয়াকফ মূলত মুস্তাহাব, তবে কখনো তা হারাম বা মাকরুহও হতে পারে।

• ওসিয়ত মৃত্যুর আগে কার্যকর করা হয় না, কিন্তু ওয়াকফ তা করার সংকল্প বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় থেকেই কার্যকর হয়।

• ওসিয়ত সম্পন্ন করার পর ওসিয়তকারীর জন্য তা থেকে ফিরে আসার (বাতিল করার) অবকাশ থাকে, কিন্তু ওয়াকফের ক্ষেত্রে তা থাকে না।

• ওসিয়ত এক-তৃতীয়াংশ বা তার কম পরিমাণ সম্পদের ক্ষেত্রেই কেবল বৈধ, কিন্তু ওয়াকফের সর্বোচ্চ পরিমাণের কোনো সীমা নেই।

যাকে উপযোগের ওসিয়ত করা হয়েছে, সে তা ভাড়া দেওয়ার, ধার দেওয়ার এবং তা নিয়ে সফর করার মালিকানা লাভ করে এবং তা তার থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে বণ্টিত হয়। অন্যদিকে ওয়াকফের ক্ষেত্রে, যার জন্য ওয়াকফ করা হয়েছে সে তা ভাড়া দেওয়ার বা ধার দেওয়ার মালিক হয় না এবং তা তার থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে বণ্টিত হয় না; সে এটি ভাড়া দেওয়ার বা ধার দেওয়ার মালিকানা লাভ করে না এবং এটি তার থেকে উত্তরাধিকারসূত্রেও যায় না (২)।

• উত্তরাধিকারীদের অনুকূলে ওসিয়ত করা বৈধ নয়, তবে তাদের অনুকূলে ওয়াকফ করা বৈধ।

• যা হস্তান্তর করতে সক্ষম নয় এমন জিনিসের ওসিয়ত করা বৈধ, যেমন পলায়নকৃত উট বা আকাশের পাখি (তবে ওয়াকফ এমন জিনিসের ক্ষেত্রে বৈধ নয়)।

--------------------------------------------

(১) ফিকহুস সুন্নাহ, সাইয়িদ সাবিক (৩/ ২৮৪)।

(২) ওসিয়ত সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা এবং এর কিছু বিশেষ নমুনা, লেখক: শায়খ আব্দুল আজিজ বিন ইব্রাহিম বিন কাসিম।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الأدلة على مشروعية الوصية:

الوصية مشروعة بالكتاب والسنة والإجماع والمعقول (1).

 

‌‌أولًا: الأدلة من الكتاب:

1 - قوله تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ} [البقرة: 180].

عن بن عباس رضي الله عنهما: {إِنْ تَرَكَ خَيْرًا} يعني مالًا (2)، وقال القرطبي: الخير هنا المال من غير خلاف (3).

والمراد بحضور الموت: حضور أسبابه وأماراته من العلل والأمراض المخوفة، وليس المراد منه معاينة الموت؛ لأنه في ذلك الوقت يعجز عن الإيصاء (4).

2 - قوله تعالى في توزيع الميراث والتركة: {مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَى بِهَا أَوْ دَيْنٍ} [النساء:12]، وقوله عز وجل: {مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ} [النساء:12]، فهذان النصان جعلا الميراث حقًا مؤخرًا عن تنفيذ الوصية وأداء الدين. فدل على مشروعيتها.

3 - وقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ

--------------------------------------------

(1) تكملة فتح القدير (10/ 414)، وكشاف القناع (4/ 371).

(2) رواه ابن جرير الطبري (3/ 134)، وابن أبي حاتم (1/ 299)، وانظر: الدر المنثور، للإمام السيوطي (2/ 161).

(3) الجامع لأحكام القرآن، للقرطبي (2/ 259).

(4) انظر: الوسيط في تفسير القرآن المجيد للواحدي (1/ 268)، والتفسير الكبير، للرازي (5/ 64).
‌‌অসিয়তের বৈধতার প্রমাণাদি:

অসিয়ত কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা এবং যুক্তির দ্বারা বৈধ (১)।

 

‌‌প্রথমত: কিতাব থেকে দলিলসমূহ:

১ - মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের ওপর বিধিবদ্ধ করা হয়েছে যে, যখন তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে ধন-সম্পদ রেখে যায়, তবে পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ইনসাফের সাথে অসিয়ত করা; এটি মুত্তাকীদের জন্য একটি অবশ্য পালনীয় কর্তব্য।} [সূরা আল-বাকারাহ: ১৮০]।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: {যদি সে কোনো কল্যাণ (খায়ের) রেখে যায়} অর্থাৎ সম্পদ (২)। ইমাম কুরতুবী বলেন: এখানে ‘খায়ের’ বলতে কোনো দ্বিমত ছাড়াই সম্পদকে বোঝানো হয়েছে (৩)।

আর মৃত্যু উপস্থিত হওয়া বলতে মৃত্যুর কারণ ও লক্ষণসমূহ যেমন ভয়ানক রোগ ও অসুস্থতা প্রকাশ পাওয়াকে বোঝানো হয়েছে; এর দ্বারা মৃত্যু সরাসরি প্রত্যক্ষ করা উদ্দেশ্য নয়, কারণ সেই মুহূর্তে মানুষ অসিয়ত করতে অক্ষম হয়ে পড়ে (৪)।

২ - মিরাস ও ত্যাজ্য সম্পদ বন্টন প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: {সে যে অসিয়ত করে তা পূরণ করার পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর} [সূরা আন-নিসা: ১২], এবং মহান রবের বাণী: {তারা যে অসিয়ত করে তা পূরণ করার পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর} [সূরা আন-নিসা: ১২]। এই দুটি পাঠ মিরাসকে অসিয়ত কার্যকর করা এবং ঋণ পরিশোধের পরবর্তী হক হিসেবে নির্ধারণ করেছে। যা অসিয়তের বৈধতা প্রমাণ করে।

৩ - এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমাদের কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের মধ্য থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ...}

--------------------------------------------

(১) তাকমিলাতু ফাতহিল কাদির (১০/ ৪১৪), এবং কাশশাফুল কিনা (৪/ ৩৭১)।

(২) এটি ইবনে জারীর তাবারী (৩/ ১৩৪) এবং ইবনে আবি হাতিম (১/ ২৯৯) বর্ণনা করেছেন। আরও দেখুন: ইমাম সুয়ূতী রচিত আদ-দুররুল মানসুর (২/ ১৬১)।

(৩) কুরতুবী রচিত আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন (২/ ২৫৯)।

(৪) দেখুন: আল-ওয়াহিদী রচিত আল-ওয়াসিত ফি তাফসিরিল কুরআনিল মাজীদ (১/ ২৬৮), এবং আর-রাযী রচিত আত-তাফসিরুল কাবীর (৫/ ৬৪)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১০)
حِينَ الْوَصِيَّةِ اثْنَانِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ أَوْ آَخَرَانِ مِنْ غَيْرِكُمْ إِنْ أَنْتُمْ ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَأَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةُ الْمَوْتِ} [المائدة: 106]، ففي الآية مشروعية الوصية، حيث بين سبحانه مشروعية الإشهاد عليها، وعدد شهودها، فدل ذلك على مشروعيتها وأهميتها.

 

‌‌ثانيًا: الأدلة من السنة:

ما رواه ابن عمر رضي الله عنها قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما حق امرئ مسلم له شيء يوصي فيه يبيت ليلتين إلا ووصيته مكتوبة عنده» (1). وفي لفظ عند مسلم: «له شيء يريد أن يوصي فيه» (2).

ومعنى الحديث أن الحزم هو هذا، فقد يفاجؤه الموت.

قال الشافعي: ما الحزم والاحتياط للمسلم إلا أن تكون وصيته مكتوبة عنده، إذا كان له شيء يريد أن يوصي فيه، لأنه لا يدري متى تأتيه منيته فتحول بينه وبين ما يريد من ذلك (3).

زاد مسلم (4) عن ابن عمر رضي الله عنهما: «ما مرت علي ليلة منذ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ذلك إلا وعندي وصيتي».

وأخرج البخاري- ومسلم بنحوه- عن سعد بن أبي وقاص رضي الله عنهما قال: مرضت فعادني النبي صلى الله عليه وسلم، فقلت: يا رسول الله، ادع الله أن لا يردني على

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري: كتاب الوصايا (5/ 419، برقم 2738)، ومسلم: (3/ 1249، برقم 1627).

(2) رواه مسلم (3/ 1249، رقم 1627).

(3) فقه السنة، سيد سابق (30/ 285).

(4) رواه مسلم (3/ 1250، رقم 1627/ 4).
...অসিয়ত করার সময়ে তোমাদের মধ্য থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি (সাক্ষী থাকবে) অথবা তোমাদের ছাড়া অন্য সম্প্রদায় থেকে দুইজন, যদি তোমরা জমিনে সফর অবস্থায় থাকো এবং তোমাদের ওপর মৃত্যুর বিপদ উপস্থিত হয়} [আল-মায়িদাহ: ১০৬]। এই আয়াতে অসিয়তের বৈধতা বর্ণিত হয়েছে, যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এর ওপর সাক্ষী রাখা এবং সাক্ষীদের সংখ্যা বর্ণনা করেছেন। এটি এর বৈধতা এবং গুরুত্বের প্রমাণ বহন করে।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ থেকে দলিলসমূহ:

ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «কোনো মুসলিম ব্যক্তির জন্য, যার অসিয়ত করার মতো কিছু আছে, অসিয়তনামা তার নিকট লিখিত অবস্থায় থাকা ছাড়া দুই রাত অতিবাহিত করা উচিত নয়» (১)। মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: «তার এমন কিছু থাকে যা নিয়ে সে অসিয়ত করতে চায়» (২)।

হাদিসটির অর্থ হলো, বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতা এটাই; কেননা মৃত্যু তাকে অকস্মাৎ পাকড়াও করতে পারে।

ইমাম শাফেঈ বলেন: কোনো মুসলিমের জন্য দূরদর্শিতা ও সতর্কতা এটাই যে, তার নিকট তার অসিয়তনামা লিখিত থাকবে, যদি তার নিকট অসিয়ত করার মতো কিছু থাকে। কারণ সে জানে না কখন তার মৃত্যু চলে আসবে, যা তার এবং তার ইচ্ছার মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে (৩)।

মুসলিম (৪) ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে আরও বর্ণনা করেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই কথা বলতে শোনার পর থেকে আমার ওপর এমন কোনো রাত অতিবাহিত হয়নি, যখন আমার অসিয়তনামা আমার কাছে ছিল না»।

বুখারি—এবং মুসলিম অনুরূপ অর্থে—সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেখতে আসেন। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে ফিরিয়ে না দেন...

--------------------------------------------

(১) বুখারি বর্ণনা করেছেন: কিতাবুল ওয়াসায়া (৫/ ৪১৯, নম্বর ২৭৩৮), এবং মুসলিম: (৩/ ১২৪৯, নম্বর ১৬২৭)।

(২) মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৩/ ১২৪৯, নম্বর ১৬২৭)।

(৩) ফিকহুস সুন্নাহ, সাইয়্যিদ সাবিক (৩০/ ২৮৫)।

(৪) মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৩/ ১২৫০, নম্বর ১৬২৭/ ৪)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১১)
عقبي، قال: «لعل الله أن يرفعك ويرفك بك ناسًا»، قلت: أريد أن أوصي، وإنما لي ابنة، فقلت: أوصي بالنصف؟ قال: «النصف كثير»، قلت: فالثلث؟ قال «الثلث، والثلث كثير- أو كبير-»، قال: فأوصى الناس بالثلث فجاز ذلك لهم (1).

وعن جابر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من مات على وصية مات على سبيل وسنة ومات على تقى وشهادة، ومات مغفورًا له» (2).

وقال الحسن: «المؤمن لا يأكل في كل بطنه، ولا تزال وصيته تحت جنبه» (3).

 

‌‌ثالثًا: الإجماع:

فقد حكاه غير واحد من أهل العلم، قال ابن عبد البر: «واتفق فقهاء الأمصار على أن الوصية مندوب إليها، ومرغوب فيها، وأنها جائزة لمن أوصى في كل ماله، قل أو كثر، ما لم يتجاوز الثلث» (4).

وقال ابن قدامة: «وأجمع العلماء في جميع الأمصار والأعصار على جواز الوصية» (5).

وفي الاستذكار (6): «وأجمع الجمهور على أن الوصية غير واجبة على أحد

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (5/ 434 - 435، ورقم 2744)؛ ومسلم (3/ 1250 - 1251، رقم 1628).

(2) رواه ابن ماجه: باب الحث على الوصية، برقم (2692)، وضعفه الألباني.

(3) رواه الدرامي: كتاب الوصايا برقم (3220)، وهو صحيح.

(4) التمهيد، لابن عبد البر (5/ 507)، (14/ 297)، والإقناع في مسائل الإجماع، ابن القطان الفاسي (3/ 1376، 1377).

(5) المغني (8/ 390).

(6) الاستذكار، لابن عبد البر (7/ 23).
উতবি [হতে বর্ণিত], তিনি বলেন: "হয়তো আল্লাহ তোমাকে উচ্চ মর্যাদা দান করবেন এবং তোমার মাধ্যমে কিছু মানুষকে উপকৃত করবেন।" আমি বললাম: আমি অসিয়ত করতে চাই, অথচ আমার কেবল একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। আমি কি আমার অর্ধেক সম্পদের অসিয়ত করতে পারি? তিনি বললেন: "অর্ধেক তো অনেক বেশি।" আমি বললাম: তাহলে কি এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন: "এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক—বা বড় (অংশ)—।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর মানুষ এক-তৃতীয়াংশ সম্পদের অসিয়ত করতে শুরু করল এবং তা তাদের জন্য বৈধ করা হলো (১)।

আর জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি অসিয়ত করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল, সে সঠিক পথ ও সুন্নাহর ওপর মৃত্যুবরণ করল এবং সে তাকওয়া ও শাহাদাতের ওপর মৃত্যুবরণ করল, আর সে ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল" (২)।

হাসান (বসরী) বলেন: "মুমিন ব্যক্তি তার পেটের পুরোটা ভরে খায় না, আর তার অসিয়ত সর্বদা তার পার্শ্বদেশেই (নিকটেই) থাকে" (৩)।

 

‌‌তৃতীয়ত: ইজমা (ঐক্যমত):

একাধিক আলেম এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্দুল বার বলেন: "বিভিন্ন অঞ্চলের ফকিহগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, অসিয়ত করা মুস্তাহাব এবং এটি একটি পছন্দনীয় কাজ। যে ব্যক্তি তার সমস্ত সম্পদের ক্ষেত্রে অসিয়ত করবে, তা পরিমাণে কম হোক বা বেশি, তা তার জন্য বৈধ হবে যতক্ষণ না তা এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রম করে" (৪)।

ইবনে কুদামা বলেন: "সকল অঞ্চলের এবং সকল যুগের আলেমগণ অসিয়ত বৈধ হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন" (৫)।

আল-ইসতিযকারে বর্ণিত হয়েছে (৬): "জুমহুর (অধিকাংশ আলেম) এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, অসিয়ত করা কারো ওপর ওয়াজিব (আবশ্যক) নয়...

--------------------------------------------

(১) বুখারী (৫/ ৪৩৪ - ৪৩৫, নম্বর ২৭৪৪); এবং মুসলিম (৩/ ১২৫০ - ১২৫১, নম্বর ১৬২৮) কর্তৃক বর্ণিত।

(২) ইবনে মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত: অসিয়তের প্রতি উৎসাহ প্রদান অধ্যায়, নম্বর (২৬৯২), এবং আলবানী এটিকে জয়িফ (দুর্বল) বলেছেন।

(৩) দারেমী কর্তৃক বর্ণিত: অসিয়ত অধ্যায়, নম্বর (৩২২০), এবং এটি সহিহ।

(৪) আত-তামহিদ, ইবনে আব্দুল বার (৫/ ৫০৭), (১৪/ ২৯৭); এবং আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা, ইবনে আল-কাত্তান আল-ফাসি (৩/ ১৩৭৬, ১৩৭৭)।

(৫) আল-মুগনি (৮/ ৩৯০)।

(৬) আল-ইসতিযকার, ইবনে আব্দুল বার (৭/ ২৩)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১২)
إلا أن يكون عليه دين، أو يكون عنده وديعة أو أمانة، وشذَّ أهل الظاهر فأوجبوها فرضا لمن ترك مالًا كثيرًا».

 

‌‌وصية الصحابة رضي الله عنهم:

انتقل الرسول صلى الله عليه وسلم إلى الرفيق الأعلى ولم يوص لأنه لم يترك مالًا يوصي به. روى البخاري عن ابن أبي أوفى أنه صلى الله عليه وسلم لم يوصل، قال العلماء في تعليل ذلك: لأنه لم يترك بعده مالًا. كما صح بذلك الحديث عن عمرو بن الحارث (1)، الحارث (2)، وعائشة (2)، وطلحة بن مصرف (3)، رضي الله عنهم.

وأما الأرض فقد كان سبلها (وقفها)، وأما السلاح والبغلة فقد أخبر أنها لا تورث عنه بل جميع ما يخلفه صدقة ذكره النووي.

أما الصحابة رضي الله عنهم فقد كانوا يوصون ببعض أموالهم تقربًا إلى الله.

وكانت لهم وصية مكتوبة لمن بعدهم من الورثة.

قال النخعي: مات رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يوص، وقد أوصى أبو بكر فإن أوصى فحسن، وإن لم يوص فلا شيء عليه (4).

وأخرج عبد الرازق بسند صحيح أن أنسًا رضي الله عنه قال: كونوا- أي الصحابة- يكتبون في صدور وصاياهم: بسم الله الرحمن الرحيم: هذا ما أوصى به فلان بن فلان، أن يشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، ويشهد

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري (5/ 419، رقم 1739).

(2) صحيح مسلم (3/ 1256، رقم 1635).

(3) صحيح البخاري (5/ 420، رقم 2740)، ومسلم (3/ 1256، 1634).

(4) الجامع لأحكام القرآن، القرطبي (2/ 260).
তবে যদি তার ওপর ঋণ থাকে, অথবা তার কাছে গচ্ছিত কোনো বস্তু বা আমানত থাকে; যাহিরি মাযহাবের অনুসারীরা এক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছেন এবং যারা প্রচুর সম্পদ রেখে যায় তাদের জন্য অসিয়ত করাকে ফরজ সাব্যস্ত করেছেন।

 

‌‌সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অসিয়ত:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহান রফিকের (আল্লাহর) নিকট চলে গেছেন কিন্তু কোনো অসিয়ত করেননি, কারণ তিনি অসিয়ত করার মতো কোনো সম্পদ রেখে যাননি। ইমাম বুখারী ইবনে আবি আওফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো অসিয়ত করেননি। আলেমগণ এর কারণ ব্যাখ্যায় বলেছেন: যেহেতু তিনি তাঁর পরে কোনো সম্পদ রেখে যাননি। যেমনটি আমর বিন হারিস (১), হারিস (২), আয়েশা (২) এবং তালহা বিন মুসাররিফ (৩) রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

আর জমির ব্যাপারটি হলো, তিনি তা আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ (ওয়াকফ) করে গিয়েছিলেন। আর অস্ত্র ও খচ্চর সম্পর্কে তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন যে, এগুলোর উত্তরাধিকার হবে না, বরং তিনি যা কিছু রেখে গেছেন তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে; ইমাম নববী এটি উল্লেখ করেছেন।

তবে সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় তাঁদের সম্পদের কিছু অংশের অসিয়ত করতেন।

এবং তাঁদের পরবর্তী ওয়ারিশদের জন্য তাঁদের লিখিত অসিয়তনামা থাকতো।

নাখয়ী বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন অথচ কোনো অসিয়ত করেননি, আর আবু বকর (রা.) অসিয়ত করেছেন। সুতরাং কেউ যদি অসিয়ত করে তবে তা উত্তম, আর যদি না করে তবে তার ওপর কোনো দায় নেই (৪)।

আব্দুর রাজ্জাক সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, আনাস (রা.) বলেন: তারা—অর্থাৎ সাহাবীগণ—তাঁদের অসিয়তনামার শুরুতে লিখতেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এটি অমুকের পুত্র অমুকের অসিয়ত, সে সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং সে সাক্ষ্য দিচ্ছে...

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী (৫/ ৪১৯, নম্বর ১৭৩৯)।

(২) সহীহ মুসলিম (৩/ ১২৫৬, নম্বর ১৬৩৫)।

(৩) সহীহ বুখারী (৫/ ৪২০, নম্বর ২৭৪০), এবং মুসলিম (৩/ ১২৫৬, ১৬৩৪)।

(৪) আল-জামে লি আহকামিল কুরআন, কুরতুবী (২/ ২৬০)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৩)
أن محمدًا عبده ورسوله، وأن الساعة آتية لا ريب فيها، وأن الله يبعث من في القبور، وأوصى من ترك من أهله أن يتقوا الله، ويصلحوا ذات بينهم، ويطيعوا الله ورسوله إن كانوا مؤمنين، وأوصاهم بما أوصى به إبراهيم بنيه يعقوب {إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [البقرة: 132].

وتبع الصحابة في ذلك من بعدهم السلف الصالح، فقال الضحاك: «من مات ولم يوصِ لذوي قرابته فقد ختم عمله بمعصية» (1)، وقال مسروق: «أوص لذي قرابتك ممكن لا يرثك، ثم دع المال على ما قسمه الله عليه» (2)

 

‌‌رابعًا: المعقول:

هو حاجة الناس إلى الوصية زيادة في القربات والحسنات وتداركًا لما فرط به الإنسان في حياته من أعمال الخير، وقد روي في الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إن الله تصدق عليكم عند وفاتكم بثلث أموالكم زيادة لكم في أعمالكم» (3)

فإن الإنسان مغرور بأمله، مقصر في عمله، فإذا عرض له المرض، وخاف الموت، احتاج إلى تلافي بعض ما فرط منه، من التفريط بماله، على وجه لو مضى فيه يتحقق مقصده المالي.

--------------------------------------------

(1) أخرجه سعيد بن منصور في سنته (1/ 135، رقم 356).

(2) أخرجه سعيد بن منصور في سنته (1/ 136، رقم 360).

(3) رواه ابن ماجه، برقم (2709)، وحسنه العلامة الألباني في الإرواء (1641).
নিশ্চয় মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, এবং কিয়ামত আসবে এতে কোনো সন্দেহ নেই, আর আল্লাহ কবরে শায়িতদের পুনরুত্থিত করবেন। আর তিনি তাঁর পরিবারবর্গের মধ্যে যাদের রেখে যাচ্ছেন তাদেরকে অসিয়ত করছেন যে, তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে, নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে যদি তারা মুমিন হয়ে থাকে। আর তিনি তাদের সেই অসিয়ত করছেন যে অসিয়ত ইব্রাহিম তাঁর সন্তানদের করেছিলেন এবং ইয়াকুবও করেছিলেন যে: {নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বীনকে মনোনীত করেছেন, সুতরাং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আল-বাকারাহ: ১৩২]।

সাহাবায়ে কেরামের পর সলফে সালেহীন এ বিষয়ে তাঁদের অনুসরণ করেছেন। দাহ্হাক বলেন: «যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ তার নিকটাত্মীয়দের জন্য কোনো অসিয়ত করল না, সে তার আমলকে পাপাচারের মাধ্যমে সমাপ্ত করল» (১), এবং মাসরুক বলেন: «তোমার সেই নিকটাত্মীয়দের জন্য অসিয়ত করো যারা তোমার উত্তরাধিকারী নয়, অতঃপর সম্পদকে সেভাবেই ছেড়ে দাও যেভাবে আল্লাহ তা বণ্টন করেছেন» (২)

 

‌‌চতুর্থত: যুক্তি (আল-মাকুল):

তা হলো পুণ্য ও নেক কাজ বৃদ্ধির জন্য এবং মানুষ তার জীবনে সৎকর্মে যে অবহেলা করেছে তা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য অসিয়তের প্রতি মানুষের মুখাপেক্ষিতা। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে তিনি বলেছেন: «নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের মৃত্যুর সময় তোমাদের আমল বৃদ্ধির জন্য তোমাদের সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ তোমাদের প্রতি সদকা হিসেবে দান করেছেন» (৩)

কেননা মানুষ তার আশা-আকাঙ্ক্ষা দ্বারা প্রবঞ্চিত এবং আমলে ত্রুটিপূর্ণ। তাই যখন তার সামনে রোগ-ব্যাধি উপস্থিত হয় এবং সে মৃত্যুর আশঙ্কা করে, তখন সে তার পক্ষ থেকে হওয়া কিছু অবহেলা পুষিয়ে নিতে মুখাপেক্ষী হয়—তার সম্পদের সেই অবহেলার ক্ষেত্রে, এমন এক পন্থায় যাতে তা কার্যকর হলে তার আর্থিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়।

--------------------------------------------

(১) সাঈদ বিন মনসুর তাঁর সুনানে এটি বর্ণনা করেছেন (১/ ১৩৫, নম্বর ৩৫৬)।

(২) সাঈদ বিন মনসুর তাঁর সুনানে এটি বর্ণনা করেছেন (১/ ১৩৬, নম্বর ৩৬০)।

(৩) ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন, নম্বর (২৭০৯), এবং আল্লামা আলবানি আল-ইরওয়া (১৬৪১) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌حكم الوصية:

حكم الوصية له جانبان:

أحدهما: من حيث الفعل أو الترك.

والثاني: من حيث الأثر الشرعي المترتب عليها (1)

وإليك بيان ذلك:

 

‌‌أولًا: حكم الوصية من حيث الفعل أو الترك:

وحكم الوصية من ناحية الفعل أو الترك يراد به الوصف الشرعي لها، والوصف الشرعي من حيث ذاته فيما يتعلق بالوصية لا خلاف بين الفقهاء في أنه يمكن أن يعتريها الأحكام التكليفية الخمسة (2)، حيث يدور حكم الوصية بين الوجوب والاستحباب والكراهية والتحريم والإباحة.

 

‌‌1 - الوصية الواجبة (3):

تجب الوصية على من له مال يوصي فيه (4)، وإذا كان على الإنسان حق لله تعالى ككفارة، أو دين لا بينه فيه أي أن يكون مدينًا ولا أحد يعلم عن دينه إلا الله والموصي وصاحب الدين فهنا تجب الوصية؛ لأن وفاء الدين واجب، وما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب.

--------------------------------------------

(1) فقه المواريث والوصية في الشريعة الإسلامية، د. نصر فريد محمد واصل، (ص:107).

(2) فقه المواريث والوصية في الشريعة الإسلامية، د. نصر فريد محمد واصل، (ص:106).

(3) الإقناع لابن المنذر (2/ 414)، والأحكام الصغرى لابن العربي (1/ 50)، وروضة الطالبين للنووي (5/ 92)، والتذكرة الندية في أحكام الوصية لعبد الرحمن عبد الكريم (ص:29، وما بعدها).

(4) اللباب في فقه السنة والكتاب، محمد حسن حلاق (529).
ওসিয়তের বিধান:

ওসিয়তের বিধানের দুটি দিক রয়েছে:

প্রথমত: কাজ করা বা বর্জনের দিক থেকে।

দ্বিতীয়ত: এর ওপর ভিত্তি করে উদ্ভূত শরয়ি প্রভাবের দিক থেকে (১)।

নিচে এর বিবরণ দেওয়া হলো:

 

‌‌প্রথমত: কাজ করা বা বর্জনের দিক থেকে ওসিয়তের বিধান:

কাজ করা বা বর্জনের দিক থেকে ওসিয়তের বিধান বলতে এর শরয়ি বৈশিষ্ট্যকে বোঝানো হয়েছে। ওসিয়ত সংশ্লিষ্ট শরয়ি বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে ফকিহগণের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই যে, এতে পাঁচটি ‘আহকামে তাকলিফি’ (শরয়ি বিধান) প্রযুক্ত হতে পারে (২)। ফলে ওসিয়তের বিধান ওয়াজিব, মুস্তাহাব, মাকরূহ, হারাম এবং মুবাহ হওয়ার মধ্যে আবর্তিত হয়।

 

‌‌১ - ওয়াজিব ওসিয়ত (৩):

যার কাছে ওসিয়ত করার মতো সম্পদ রয়েছে, তার ওপর ওসিয়ত করা ওয়াজিব (৪)। এছাড়া যদি কোনো ব্যক্তির ওপর মহান আল্লাহর কোনো হক থাকে যেমন কাফফারা, অথবা এমন কোনো ঋণ থাকে যার কোনো দালিলিক প্রমাণ বা সাক্ষী নেই—অর্থাৎ সে ঋণগ্রস্ত কিন্তু আল্লাহ, ওসিয়তকারী এবং পাওনাদার ছাড়া আর কেউ সেই ঋণ সম্পর্কে জানে না—তবে এ ক্ষেত্রে ওসিয়ত করা ওয়াজিব। কারণ ঋণ পরিশোধ করা ওয়াজিব, আর যা ছাড়া ওয়াজিব পূর্ণ হয় না, তাও ওয়াজিব।

--------------------------------------------

(১) ফিকহুল মাওয়ারিছ ওয়াল ওসিয়্যাহ ফিশ শারিয়াতিল ইসলামিয়্যাহ, ড. নাসর ফরিদ মুহাম্মদ ওয়াসিল, (পৃষ্ঠা: ১০৭)।

(২) ফিকহুল মাওয়ারিছ ওয়াল ওসিয়্যাহ ফিশ শারিয়াতিল ইসলামিয়্যাহ, ড. নাসর ফরিদ মুহাম্মদ ওয়াসিল, (পৃষ্ঠা: ১০৬)।

(৩) ইবনুল মুনযিরের আল-ইকনা (২/ ৪১৪), ইবনুল আরাবির আল-আহকামুস সুগরা (১/ ৫০), ইমাম নববীর রওজাতুত তালিবীন (৫/ ৯২), এবং আব্দুর রহমান আব্দুল কারীমের আত-তাযকিরাতুন নাদিয়্যাহ ফি আহকামিল ওসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯ এবং পরবর্তী)।

(৪) আল-লুবাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব, মুহাম্মদ হাসান হাল্লাক (৫২৯)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৫)
وكذا تجب الوصية للأقربين الذين ليس لهم حق في الإرث وكانوا فقرات والموصي غنيا فهنا تجب عليه الوصية لهؤلاء الأقارب.

دليل ذلك قوله تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ} [البقرة: 180].

 

‌‌2 - الوصية المستحبة:

إذا كان الموصي ذا مال وورثته أغنياء وكذا أقاربه لا حاجة لهم بالمال، فهنا يستحب الوصية بما يراه الموصي نفعًا له بعد موته (1)، لحديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له» (2).

 

‌‌3 - الوصية المكروهة (3):

وتكون مكروهة إذا كان مال الموصي قليلًا وورثته محتاجين، لأنه في هذه الحالة ضيق على الورثة، ولذا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لسعد رضي الله عنه: «إنك إن تذر ورثتك أغنياء خير من أن تذرهم عالة يتكففون الناس» (4).

كما تكره لأهل الفسق متى علم أو غلب على ظنه أنهم سيستعينون بها على الفسق والفجور، أما إذا غلب على ظنه صرفها في المباحات وفيما يساعده على البعد عن المعاصي والتوبة الخالصة والرجوع إلى الله فإنها تكون مباحة وقد

--------------------------------------------

(1) انظر: الملخص الفقهي، د. صالح الفوزان (2/ 219).

(2) أخرجه مسلم (3/ 1255، رقم 1631).

(3) انظر: الكافي لابن قدامة (4/ 6)، وكشاف القناع (3/ 2124).

(4) رواه البخاري: (3/ 1007، رقم 2593)، ومسلم (3/ 1252، رقم 1628).
অনুরূপভাবে সেই সকল নিকটাত্মীয়দের জন্য ওসিয়ত করা ওয়াজিব যাদের মিরাসে কোনো অধিকার নেই এবং তারা অভাবগ্রস্ত, আর ওসিয়তকারী সম্পদশালী; এমতাবস্থায় তার ওপর এই নিকটাত্মীয়দের জন্য ওসিয়ত করা ওয়াজিব।

এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের কারো নিকট যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে ধন-সম্পদ রেখে যায়, তবে পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ন্যায়সংগতভাবে ওসিয়ত করা তোমাদের ওপর বিধিবদ্ধ করা হলো; এটি মুত্তাকীদের জন্য একটি কর্তব্য} [আল-বাকারাহ: ১৮০]।

 

‌‌২ - মুস্তাহাব ওসিয়ত:

যদি ওসিয়তকারী সম্পদশালী হয় এবং তার ওয়ারিশরা অভাবমুক্ত হয়, একইভাবে তার নিকটাত্মীয়দের সম্পদের প্রয়োজন না থাকে, তবে এখানে ওসিয়তকারী তার মৃত্যুর পর নিজের উপকারে আসবে এমন বিষয়ে ওসিয়ত করা মুস্তাহাব (১), কেননা আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন: «যখন আদম সন্তান মারা যায়, তখন তিনটি আমল ব্যতীত তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, অথবা এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে» (২)।

 

‌‌৩ - মাকরূহ ওসিয়ত (৩):

ওসিয়ত করা মাকরূহ হবে যখন ওসিয়তকারীর সম্পদ অল্প হয় এবং তার ওয়ারিশরা অভাবগ্রস্ত থাকে; কারণ এই অবস্থায় ওসিয়ত করা ওয়ারিশদের ওপর সংকীর্ণতা সৃষ্টি করে। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ (সা.) সাদ (রা.)-কে বলেছিলেন: «তুমি তোমার ওয়ারিশদের সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া তাদের অভাবগ্রস্ত ও মানুষের কাছে হাত পাতা অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম» (৪)।

একইভাবে পাপাচারী ব্যক্তিদের জন্য ওসিয়ত করা মাকরূহ, যখন জানা যায় বা প্রবল ধারণা হয় যে তারা এটি পাপাচার ও অবাধ্যতার কাজে ব্যয় করবে। তবে যদি তার প্রবল ধারণা হয় যে তারা এটি বৈধ কাজে এবং যা তাকে গুনাহ থেকে দূরে থাকতে, খাঁটি তাওবা করতে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে সাহায্য করবে এমন কাজে ব্যয় করবে, তবে তা বৈধ হবে এবং সম্ভবত

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মুলাখখাস আল-ফিকহী, ড. সালিহ আল-ফাওজান (২/ ২১৯)।

(২) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৩/ ১২৫৫, নম্বর ১৬৩১)।

(৩) দেখুন: ইবনে কুদামাহ প্রণীত আল-কাফি (৪/ ৬) এবং কাশশাফুল কিনা (৩/ ২১২৪)।

(৪) এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন: (৩/ ১০০৭, নম্বর ২৫৯৩), এবং মুসলিম (৩/ ১২৫২, নম্বর ১৬২৮)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৬)
تصل إلى درجة الندب (1).

 

‌‌4 - الوصية المحرمة (2):

وهي الوصية التي لا تجوز ويأثم صاحبها وهي أنواع:

الأول: ما زاد على الثلث بلا إذن من الورثة لورود النهي عنه في حديث سعد رضي الله عنه المتقدم فإن أذنوا فالصحيح جوازها.

الثاني: إذا كانت لوارث، لقوله صلى الله عليه وسلم: «لا وصية لوارث» (3).

الثالث: الوصية لأمر محرم كالوصية للكنيسة- مثلاً- أو بالسلاح لأهل الحرب؛ لأن ذلك لا يجوز في الحياة، فلا يجوز بعد الممات. لقوله تعالى: {وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ} [المائدة: 2].

الرابع: تحرم إذا كان فيها إضرار بالورثة، لما روى عن عبد الرزاق عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «إن الرجل ليعمل بعمل أهل الخير سبعين سنة فإذا أوصى حافٍ في وصيته فيختم له بشر عمله فيدخل النار، وإن الرجل ليعمل بعمل أهل الشر سبعين سنة فيعدل في وصيته فيختم له بخير عمل فيدخل الجنة»، قال أبو هريرة: اقرؤوا إن شئتم {تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا} [البقرة: 229] (4).

--------------------------------------------

(1) فقه السنة، سيد سابق (3/ 287)، وفقه المواريث والوصية في الشريعة الإسلامية، د. نصر فريد محمد واصل، (ص: 107 - 108).

(2) انظر الكافي، لابن قدامة (4/ 7).

(3) أخرجه الدارقطني (4/ 98)، والبيهقي (6/ 236، رقم 12315)؛ وصححه الألباني في صحيح الجامع (7570).

(4) ضعيف سنن الترمذي للألباني.
এটি মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত (১)।

 

‌‌৪ - নিষিদ্ধ অসিয়ত (২):

এটি এমন অসিয়ত যা বৈধ নয় এবং এর সম্পাদনকারী গুনাহগার হয়। এটি কয়েক প্রকার:

প্রথম: ওয়ারিশদের অনুমতি ব্যতীত এক-তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত অসিয়ত করা। কেননা পূর্বে উল্লেখিত সাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। তবে তারা অনুমতি দিলে সহিহ মতানুযায়ী তা জায়েজ।

দ্বিতীয়: যদি কোনো ওয়ারিশের অনুকূলে অসিয়ত করা হয়। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ওয়ারিশের জন্য কোনো অসিয়ত নেই" (৩)।

তৃতীয়: কোনো নিষিদ্ধ কাজের জন্য অসিয়ত করা। যেমন— গির্জার জন্য অসিয়ত করা, কিংবা হারবি বা শত্রুবাহিনীর জন্য অস্ত্রের অসিয়ত করা। কেননা জীবদ্দশায় যা করা জায়েজ নয়, মৃত্যুর পরও তা বৈধ হতে পারে না। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "তোমরা গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না" [সূরা মায়িদাহ: ২]।

চতুর্থ: ওয়ারিশদের ক্ষতিসাধন করার উদ্দেশ্য থাকলে তা হারাম হবে। কারণ আব্দুর রাজ্জাক আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি সত্তর বছর যাবত নেককারদের মতো আমল করে, অতঃপর যখন সে অসিয়ত করে তখন অসিয়তে অন্যায় বা জুলুম করে। ফলে তার আমলনামা মন্দ কাজের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় এবং সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবার কোনো ব্যক্তি সত্তর বছর যাবত পাপাচারীদের মতো আমল করে, অতঃপর অসিয়তের ক্ষেত্রে সে ইনসাফ করে। ফলে তার আমলনামা উত্তম কাজের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করে।" আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: তোমরা চাইলে পাঠ করো: "এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা, সুতরাং তোমরা তা লঙ্ঘন করো না" [সূরা বাকারা: ২২৯] (৪)।

--------------------------------------------

(১) ফিকহুস সুন্নাহ, সাইয়্যিদ সাবিক (৩/ ২৮৭); এবং ফিকহুল মাওয়ারিস ওয়াল ওয়াসিয়্যাহ ফিশ শারীআহ আল-ইসলামিয়্যাহ, ড. নাসর ফরিদ মুহাম্মদ ওয়াসিল, (পৃষ্ঠা: ১০৭ - ১০৮)।

(২) দেখুন আল-কাফি, ইবনু কুদামা (৪/ ৭)।

(৩) দারা কুতনী (৪/ ৯৮) ও বায়হাকী (৬/ ২৩৬, নং ১২৩১৫) এটি বর্ণনা করেছেন; আলবানী একে সহিহুল জামে গ্রন্থে সহিহ বলেছেন (৭৫৭০)।

(৪) যঈফ সুনানে তিরমিযী, আলবানী।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌5 - الوصية المباحة:

وهي ما عدا ذلك من الوصايا المتقدمة كأن يكون الموصي ماله قليل وورثته غير محتاجين، فهنا تباح الوصية.

قيد: وتكون مباحة في الصور السابقة بشرط أن يكون الشيء الموصى به مباحًا أما إذا كان من أفعال القربات فإنها مستحبة.

 

‌‌حكم الوصية المعلقة بشرط:

تصح الوصية المضافة أو المعلقة بشرط أو المقترنة به متى كان الشرط صحيحًا، والشرط الصحيح: هو ما كان فيه مصلحة للموصي أو الموصى له أو لغيرها، ولم يكن منهيًا عنه، ولا منافيًا لمقاصد الشريعة. ومتى كان الشرط صحيحًا وجبت مراعاته ما دامت المصلحة منه قائمة. فإن زالت المصلحة المقصودة منه أو كان غير صحيح لم تجب مراعاته. (1)

 

‌‌حكم الوصية من حيث الصفة الشرعية:

وهو حكمها من حيث صفتها الشرعية ابتداءً، وقد اختلف فيها الفقهاء حسب النصوص الشرعية المتعلقة بها على النحو التالي:

 

‌‌أولًا: أنها فرض على كل من ترك مالًا:

وإلى هذا ذهب ابن حزم الظاهري، واستدل بقوله تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ ....} [البقرة: 180]، وبقوله صلى الله عليه وسلم: «ما حق امرئ

--------------------------------------------

(1) فقه السنة، سيد سابق (3/ 287).
৫ - মুবাহ (বৈধ) অসিয়ত:

আর তা হলো পূর্বে বর্ণিত অসিয়তসমূহ ব্যতীত অন্যান্য অসিয়ত। যেমন অসিয়তকারীর সম্পদ কম এবং তার উত্তরাধিকারীগণ সচ্ছল বা অভাবমুক্ত, এমতাবস্থায় অসিয়ত করা মুবাহ বা বৈধ।

শর্ত: পূর্বোক্ত সুরতসমূহে অসিয়ত তখন মুবাহ হবে যখন অসিয়তকৃত বিষয়টি মুবাহ বা বৈধ হবে। তবে যদি তা নেক আমল বা আল্লাহর নৈকট্য লাভের কাজসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তা মুস্তাহাব।

 

শর্তযুক্ত অসিয়তের বিধান:

ভবিষ্যতের কোনো সময়ের সাথে সম্পর্কিত অথবা কোনো শর্তের ওপর ঝুলন্ত কিংবা শর্তযুক্ত অসিয়ত সহীহ হবে যখন সেই শর্তটি সঠিক হয়। আর সঠিক শর্ত হলো: যাতে অসিয়তকারী বা যার অনুকূলে অসিয়ত করা হয়েছে অথবা অন্য কারো কল্যাণ নিহিত থাকে এবং যা শরীয়তে নিষিদ্ধ নয় এবং শরীয়তের মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যের পরিপন্থী নয়। আর যখন শর্তটি সঠিক হবে, তখন যতক্ষণ পর্যন্ত তার উপযোগিতা বা উদ্দেশ্য অবশিষ্ট থাকবে, ততক্ষণ তা পালন করা ওয়াজিব। যদি সেই কাঙ্ক্ষিত উপযোগিতা নষ্ট হয়ে যায় অথবা শর্তটি সঠিক না হয়, তবে তা পালন করা ওয়াজিব হবে না। (১)

 

শরয়ী বৈশিষ্ট্যের বিচারে অসিয়তের বিধান:

এটি হলো প্রাথমিকভাবে অসিয়তের শরয়ী হুকুম বা বিধান। এ বিষয়ে ফকীহগণ সংশ্লিষ্ট শরয়ী দলীলসমূহের আলোকে নিম্নরূপ মতভেদ করেছেন:

 

প্রথমত: সম্পদ রেখে যাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর এটি ফরয:

ইবনে হাযম আল-জাহিরী এই মত পোষণ করেছেন। তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে দলীল পেশ করেছেন: {তোমাদের ওপর ফরয করা হয়েছে যখন তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয়...} [আল-বাকারা: ১৮০]। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে: "কোনো ব্যক্তির জন্য এটি সংগত নয় যে..."

--------------------------------------------

(১) ফিকহুস সুন্নাহ, সাইয়্যেদ সাবিক (৩/ ২৮৭)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৮)
مسلم له شيء يوصي فيه يبيت ليلتين إلا ووصيته عنده مكتوبة» (1). واستنادًا إلى ما ثبت من وجوبها عن صحابة النبي صلى الله عليه وسلم، فقد روي القول بوجوب الوصية عن ابن عمر وطلحة والزبير، وعبد الله بن أبي أوفى، وبهذا قال كثير من التابعين منهم طلحة بن مصرف، وطاووس، والشعبي (2).

 

‌‌ثانيًا: أنها واجبة للوالدين والأقربين غير الوارثين.

وإلى هذا ذهب داود الظاهري، وحُكي عن مسروق وطاووس، وإياس وقتادة وابن جرير الطبري، واستدل أصحاب هذا المذهب بقوله تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ} [البقرة: 180] وبحديث ابن عمر السابق: «ما حق امرئ مسلم …» الحديث.

ثالثًا: مذهب الأئمة الأربعة:

ذهب الأئمة الأربعة أصحاب المذاهب المشهورة إلى أن الوصية ليست واجبة ولا مفروضة على الموصي بعد آية المواريث التي نسخت وجوبها للوالدين والأقربين، وإنما يمكن أن تعتريها الأحكام التكليفية الخمسة حسبما يتعلق بها من قرائن وأفعال، وتتعلق بالموصي نفسه بناء على ما سبق ذكره وتوضيحه من قبل.

وقال ابن عباس في قوله: {كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ} الآية. إنه منسوخ بقوله: {لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ} الآية، ورووا من طرق أنه صلى الله عليه وسلم قال:

--------------------------------------------

(1) سبق تخريجه.

(2) انظر: المحلى (9/ 213، 322).
কোনো মুসলিম ব্যক্তির, যার নিকট অসিয়ত করার মতো কিছু আছে, তার অসিয়তনামা নিজের কাছে লিখিত না রেখে দুই রাত অতিবাহিত করার কোনো অধিকার নেই (১)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ থেকে এটি ওয়াজিব হওয়া সাব্যস্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে ইবনে উমর, তালহা, জুবাইর এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা থেকে অসিয়ত ওয়াজিব হওয়ার বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে। অনেক তাবেয়ি এই মত পোষণ করেছেন, যাদের মধ্যে তালহা বিন মুসাররিফ, তাউস এবং শাবি অন্যতম (২)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: এটি পিতামাতা এবং উত্তরাধিকারী নয় এমন নিকটাত্মীয়দের জন্য ওয়াজিব।

দাউদ জাহেরি এই মত পোষণ করেছেন এবং এটি মাসরুক, তাউস, ইয়াস, কাতাদা ও ইবনে জারির তবারি থেকে বর্ণিত হয়েছে। এই মতাবলম্বীগণ মহান আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: {তোমাদের কারো নিকট যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে সম্পদ রেখে যায়, তবে পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ন্যায়সঙ্গতভাবে অসিয়ত করা তোমাদের ওপর বিধিবদ্ধ করা হলো; এটি মুত্তাকিদের ওপর একটি আবশ্যকীয় হক} [আল-বাকারা: ১৮০] এবং ইবনে উমর বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসের মাধ্যমে: «কোনো মুসলিম ব্যক্তির কি অধিকার আছে...» হাদিসটি।

তৃতীয়ত: চার ইমামের মাজহাব:

বিখ্যাত মাজহাবসমূহের চার ইমাম এই মত পোষণ করেছেন যে, মিরাছ (উত্তরাধিকার) সংক্রান্ত আয়াতের পর অসিয়তকারী ব্যক্তির ওপর অসিয়ত করা ওয়াজিব বা ফরজ নয়, যা পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য এর আবশ্যকতাকে রহিত করে দিয়েছে। বরং অসিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এতে শরয়ি পাঁচটি বিধান আরোপিত হতে পারে, যা পূর্বে আলোচিত ও স্পষ্টকৃত বিষয়ের ভিত্তিতে স্বয়ং অসিয়তকারীর অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট।

ইবনে আব্বাস মহান আল্লাহর এই বাণী: {তোমাদের কারো নিকট যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়} আয়াতের ব্যাপারে বলেছেন যে, এটি {পুরুষদের জন্য অংশ রয়েছে} আয়াতের মাধ্যমে রহিত হয়ে গেছে। তারা বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) এর সূত্রায়ন পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) দেখুন: আল-মুহাল্লা (৯/ ২১৩, ৩২২)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৯)
«لا وصية لوارث» (1).

وأجابوا عن حديث ابن عمر السابق في لفظ مسلم: «وصية يريد أن يوصي بها»، بأنها: «لو كانت واجبة لم يجعلها إلى إرادة الموصي، ولكان ذلك لازمًا على كل حال» (2).

والمذهب الراجح هو ما ذهب إليه الأئمة الأربعة.

 

‌‌حكم الوصية بالمعنى الثاني وهو الأثر المترتب عليها (3):

لا خلاف بين الفقهاء في أن الحكم الشرعي للوصية بهذا المعنى الثاني إنما هو حدوث الملك للموصى له في الموصى به وقت الموت لا وقت الوصية، لأن الوصية ليست بتمليك في الحال، بل هي تمليك مضاف لما بعد الحياة بدون عوض (4).

كما اتفق الفقهاء على ضرورة الإيجاب بالوصية من الموصى لصحتها لأن إيجاب الموجب ركن في الوصية بالإجماع، ولكنهم اختلفوا في القبول لها هل يعتبر شرطًا في صحتها، أو ركنًا فيها أم لا، على النحو التالي:

1 - جمهور الفقهاء وهم الأئمة الأربعة يذهبون إلى أن الوصية إن كانت لغير معين كالفقراء لزمت بموت الموصي ولا تحتاج إلى قبول الموصى له حيث لا يعتبر القبول هنا ركنًا ولا شرطًا.

--------------------------------------------

(1) حاشية ابن عابدين (5/ 428)، وحاشية الدسوقي (4/ 422)، والحديث سبق تخريجه.

(2) الجامع لأحكام القرآن، القرطبي (2/ 260).

(3) فقه المواريث والوصية في الشريعة الإسلامية، د. نصر فريد محمد واصل، (ص: 112،113).

(4) انظر (ص:5) في تعريف الوصية اصطلاحًا، من هذا البحث.
«উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই» (১)।

তারা ইবনে উমরের পূর্বোক্ত হাদীস যা মুসলিমের শব্দে বর্ণিত হয়েছে: «একটি অসিয়ত যা সে করার ইচ্ছা করে», এর উত্তরে বলেছেন যে: «যদি এটি ওয়াজিব হতো, তবে তা অসিয়তকারীর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো না এবং তা সব অবস্থাতেই অপরিহার্য হতো» (২)।

আর অগ্রগণ্য অভিমত হলো চার ইমাম যেদিকে গিয়েছেন।

 

‌‌দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী অসিয়তের বিধান এবং এর ওপর ভিত্তি করে যে প্রভাব সৃষ্টি হয় (৩):

দ্বিতীয় এই অর্থে অসিয়তের শরয়ী বিধানের ক্ষেত্রে ফকীহগণের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই যে, তা হলো মৃত্যুর সময় অসিয়তকৃত বস্তুর মালিকানা অসিয়তগ্রহীতার জন্য অর্জিত হওয়া, অসিয়ত করার সময় নয়। কারণ অসিয়ত তাৎক্ষণিক মালিকানা প্রদান নয়, বরং এটি কোনো বিনিময় ছাড়াই জীবনের পরবর্তী সময়ের সাথে সম্পৃক্ত মালিকানা প্রদান (৪)।

অনুরূপভাবে ফকীহগণ অসিয়তকারীর পক্ষ থেকে অসিয়তের প্রস্তাব (ইজাব) করা তা সহীহ হওয়ার জন্য আবশ্যক হওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন; কেননা সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব প্রদানকারীর ইজাব অসিয়তের একটি রুকন। কিন্তু তারা এটি কবুল বা গ্রহণের ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন যে, এটি কি সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হিসেবে গণ্য হবে, নাকি এর একটি রুকন হিসেবে গণ্য হবে কি না, তা নিম্নরূপ:

১ - জমহুর ফকীহগণ, আর তারা হলেন চার ইমাম, এই অভিমত পোষণ করেন যে, অসিয়ত যদি অনির্দিষ্ট কারো জন্য হয়, যেমন ফকীর-মিসকীনদের জন্য, তবে তা অসিয়তকারীর মৃত্যুতে আবশ্যক হয়ে যায় এবং অসিয়তগ্রহীতার গ্রহণের (কবুল) প্রয়োজন হয় না, যেহেতু এখানে গ্রহণ করা রুকন বা শর্ত হিসেবে গণ্য নয়।

--------------------------------------------

(১) হাশিয়া ইবনে আবিদিন (৫/ ৪২৮), হাশিয়া আদ-দুসুকি (৪/ ৪২২) এবং হাদীসটির উৎস নির্দেশ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(২) আল-জামি' লি-আহকামিল কুরআন, আল-কুরতুবী (২/ ২৬০)।

(৩) ফিকহুল মাওয়ারিস ওয়াল ওসিয়্যাহ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ, ড. নাসর ফরিদ মুহাম্মদ ওয়াসিল, (পৃষ্ঠা: ১১২, ১১৩)।

(৪) এই গবেষণার (৫ নম্বর পৃষ্ঠা) অসিয়তের পারিভাষিক সংজ্ঞা দেখুন।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ২০)
وأما إذا كانت الوصية لمعين فإنها تحتاج إلى قبول، ويكون القبول ضروريًا لصحتها ولزومها، سواء كان ركنًا أم شرطًا (1).

2 - وذهب نفر من الحنفية إلى أن قبول الموصى له لا يعد ركنًا ولا شرطًا سواء كانت الوصية لمعين كمحمد بن فلان أو لغير معين كالفقراء والمساكين.

وذلك لأن الوصية ركنها الإيجاب فقط ولا تحتاج إلى قبول (2).

ويتفق جميع الفقهاء على أن القبول لا يلزم الفور به بعد الموت وأنه إذا حدث القبول بعد الموت تأكد صحة الوصية ولزومها ودخولها في ملك الموصى له. ولكنهم اختلفوا فيما إذا تأخر القبول بها لفترة ثم تم القبول هل العبرة بوقت القبول في الملك أم بموت الموصي أم هما معًا.

1 - المالكية ولهم في ذلك ثلاثة أقوال:

أحدهما: أن ملكها من حين الموت مطلقًا.

والثاني: من وقت القبول.

والثالث: اعتبارهما معًا (3).

2 - جمهور الفقهاء:

وهو التفريق بين ما إذا كانت الوصية لمعين أو لغير معين، فإن كانت لمعين لزم القبول واعتبر من وقته حتى لا يؤدي التأخير إلى ضرر الورثة، ولحثه

--------------------------------------------

(1) بدائع الصنائع، للكاساني (7/ 230)، وحاشية ابن عابدين (5/ 430)، وحاشية الدسوقي (4/ 424).

(2) بدائع الصنائع (7/ 230).

(3) الميراث المقارن، للكشكشي (ص: 108).
পক্ষান্তরে ওসিয়ত যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য হয়, তবে তা গ্রহণের (কবুল) প্রয়োজন রয়েছে। আর ওসিয়তের সঠিকতা ও অপরিহার্যতার জন্য গ্রহণ করা জরুরি, চাই তা রুকন (মূল উপাদান) হোক বা শর্ত হোক (১)।

২ - হানাফী মাযহাবের একদল ফকীহ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, ওসিয়তগ্রহীতার গ্রহণ করাকে রুকন বা শর্ত কোনোটিই গণ্য করা হবে না, চাই সেই ওসিয়ত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য হোক—যেমন অমুকের পুত্র মুহাম্মদ—অথবা অনির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর জন্য হোক—যেমন দরিদ্র ও মিসকীনগণ।

এর কারণ হলো, ওসিয়তের রুকন হলো কেবল ইজাব (প্রস্তাব প্রদান) এবং এতে গ্রহণের প্রয়োজন নেই (২)।

সকল ফকীহ এ ব্যাপারে একমত যে, মৃত্যুর পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করা আবশ্যক নয়। যদি মৃত্যুর পর গ্রহণ করা হয়, তবে ওসিয়তের সঠিকতা ও অপরিহার্যতা নিশ্চিত হয় এবং তা ওসিয়তগ্রহীতার মালিকানায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে তারা এই বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, যদি গ্রহণ করতে কিছুটা বিলম্ব হয় এবং এরপর গ্রহণ সম্পন্ন হয়, তবে মালিকানার ক্ষেত্রে কি গ্রহণের সময়কে ধর্তব্য ধরা হবে, নাকি ওসিয়তকারীর মৃত্যুকে, নাকি উভয়টিকেই একত্রে ধর্তব্য ধরা হবে?

১ - মালিকী মাযহাব; এ বিষয়ে তাদের তিনটি অভিমত রয়েছে:

প্রথমটি: নিঃশর্তভাবে মৃত্যুর সময় থেকেই এর মালিকানা সাব্যস্ত হবে।

দ্বিতীয়টি: গ্রহণের সময় থেকে।

তৃতীয়টি: উভয়টিকেই ধর্তব্য ধরা (৩)।

২ - জমহুর ফকীহগণ (অধিকাংশ ফকীহ):

তাঁদের অভিমত হলো—ওসিয়ত কি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য, নাকি অনির্দিষ্ট কারও জন্য—এই দুই অবস্থার মধ্যে পার্থক্য করা। যদি তা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য হয়, তবে তা গ্রহণ করা আবশ্যক এবং মালিকানা গ্রহণের সময় থেকে ধর্তব্য হবে, যাতে বিলম্বের কারণে ওয়ারিশদের কোনো ক্ষতি না হয় এবং তাকে উৎসাহিত করার জন্য

--------------------------------------------

(১) বাদায়েউস সানায়ে, কাসানী (৭/ ২৩০); হাশিয়া ইবনে আবিদীন (৫/ ৪৩০) এবং হাশিয়া আদ-দুসুকী (৪/ ৪২৪)।

(২) বাদায়েউস সানায়ে (৭/ ২৩০)।

(৩) আল-মিরাস আল-মুকারান, কুশকুশী (পৃষ্ঠা: ১০৮)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ২১)
على سرعة القبول أو الرد حتى تتحدد الحقوق بالنسبة لآثار المال الناتجة عنه.

أما إن كانت الوصية لغير معين فإنها تلزم بالموت ولا تحتاج إلى قبول هذا يكون المرعى في المالكية هنا وقت الموت. وهو المذهب الراجح.

 

‌‌فضل الوصية (1):

قال الشعبي: «كان يقال: من أوصى بوصية فلم يَجُرْ ولم يحِفْ كان له من الأجر مثل ما إن لو تصدق به في حياته» (2).

 

‌‌نماذج من وصايا السلف:

عن أنس رضي الله عنه قال «هكذا كانوا يوصون: هذا ما أوصى به فلان بن فلان، أنه يشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمدًا عبده ورسوله، وأن الساعة آتية لا ريب فيها وأن الله يبعث من في القبور.

وأوصى من ترك بعده من أهله أن يتقوا الله ويصلحوا ذات بينهم، وأن يطيعوا الله ورسوله إن كانوا مؤمنين، وأوصاهم بما أوصى به إبراهيم بنيه ويعقوب {يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}، وأوصى إن حدث به حدث من وجعه هذا، أن حاجته كذا وكذا …» (3).

وروى الدرامي بسنده وصية الربيع بن خشيم وهي (4): «هذا ما أوصى به

--------------------------------------------

(1) انظر سنن الدرامي (4/ 2028).

(2) رواه الدرامي برقم (2322)، وسعيد بن منصور برقم (345)، وغيرهما وهو صحيح إلى الشعبي، ولم يصح فيها شيء مرفوع فأذكره، والوارد إما صحيح غير صريح أو صريح غير صحيح.

(3) رواه ابن أبي شيبة (11/ 232)، برقم (11078)، وسعيد بن منصور (326)، والدرامي برقم (3227)، وغيرهم وهو صحيح. انظر الإرواء برقم (1647).

(4) أخرجه سعيد بن منصور في سنته (2/ 104)، والدرامي (2/ 2031)، وعبد الرازق في المصنف (9/ 54).
কবুল করা বা প্রত্যাখ্যান করার দ্রুততার ওপর ভিত্তি করে, যাতে এর মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের পরিণাম অনুযায়ী অধিকারসমূহ নির্ধারিত হয়।

তবে অসিয়ত যদি অনির্দিষ্ট কোনো পক্ষের জন্য হয়, তবে তা মৃত্যুর সাথে সাথেই বাধ্যতামূলক হয়ে যায় এবং এর জন্য কবুল করার প্রয়োজন পড়ে না। মালিকী মাযহাবে এখানে বিবেচ্য বিষয় হলো মৃত্যুর সময়। আর এটিই অগ্রগণ্য মত।

 

‌অসিয়তের ফযীলত (১):

শাবী (রহ.) বলেন: «বলা হতো: যে ব্যক্তি কোনো অসিয়ত করল এবং তাতে কোনো অবিচার বা জুলুম করল না, তার জন্য তেমন সওয়াব রয়েছে যেন সে তা নিজের জীবদ্দশায় দান করেছে» (২)।

 

‌সালাফদের অসিয়তের নমুনা:

আনাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, «তাঁরা (সালাফরা) এভাবে অসিয়ত করতেন: এটি অমুকের পুত্র অমুকের অসিয়ত; সে সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল; আর কিয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং আল্লাহ কবরে যারা আছে তাদের পুনরুত্থিত করবেন।

আর সে তার পেছনে রেখে যাওয়া পরিবার-পরিজনকে অসিয়ত করছে যেন তারা আল্লাহকে ভয় করে এবং নিজেদের মধ্যকার বিবাদ মিটিয়ে নেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে যদি তারা মুমিন হয়ে থাকে। সে তাদের সেই অসিয়ত করছে যা ইবরাহীম ও ইয়াকুব তাঁদের সন্তানদের করেছিলেন: {হে আমার সন্তানেরা! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বীনকে মনোনীত করেছেন, সুতরাং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না}। আর সে অসিয়ত করল যে, তার এই অসুস্থতায় যদি কোনো দুর্ঘটনা (মৃত্যু) ঘটে, তবে তার প্রয়োজন এই এই...» (৩)।

দারেমী তাঁর সনদে রাবী ইবনে খুশায়ম-এর অসিয়ত বর্ণনা করেছেন আর তা হলো (৪): «এটি সেই অসিয়ত যা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সুনানে দারেমী (৪/ ২০২৮)।

(২) দারেমী এটি বর্ণনা করেছেন (নং ২৩২২) এবং সাঈদ ইবনে মনসুর (নং ৩৪৫) ও অন্যান্যরা। এটি শাবী পর্যন্ত সহীহ। এ বিষয়ে মারফু সূত্রে (রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে) কোনো কিছু সহীহ নয় যা আমি উল্লেখ করতে পারি; যা বর্ণিত হয়েছে তা হয় সহীহ কিন্তু অস্পষ্ট, অথবা স্পষ্ট কিন্তু সহীহ নয়।

(৩) ইবনে আবী শায়বাহ (১১/ ২৩২, নং ১১০৭৮), সাঈদ ইবনে মনসুর (৩২৬), দারেমী (নং ৩২২৭) ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি সহীহ। দেখুন: আল-ইরওয়া (নং ১৬৪৭)।

(৪) এটি সাঈদ ইবনে মনসুর তাঁর সুনানে (২/ ১০৪), দারেমী (২/ ২০৩১) এবং আব্দুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফে (৯/ ৫৪) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ২২)
الربيع بن خثيم وأشهد الله عليه، وكفى به شهيدًا وجازيًا لعباده الصالحين ومثيبًا فإني رضيت بالله ربًا، وبالإسلام دينًا، وبمحمدٍ صلى الله عليه وسلم نبيًا، وإني آمر نفسي ومن أطاعني أن نعبد الله في العابدين، ونحمده في الحامدين، وأن ننصح لجماعة المسلمين» (1).

 

‌‌الحكمة من الوصية (2):

مما ينبغي التنبيه عليه أن الله -تعالى- حينما تعبدنا بما أمرنا به فقد يبين لنا الحكمة من هذا الأمر أو هذا النهي وهذا موجود في كتاب الله -تعالى- كثير وقد لا يبين الحكمة في بعض الأوامر أو في بعض المنهيات لكن ليس معنى ذلك أننا نتوقف في فعل ما أمرنا به لعدم بيان الحكمة فيه بل نقوم بفعله وإن لم تظهر لنا الحكمة من تشريعه.

1 - ولما كانت الوصية من هذا النوع الأخير التي لم تأت نصوص الكتاب والسنة في بيان الحكمة من تشريعها أحببت أن أنبه على هذا الجانب فلو لم تظهر للبعض الحكمة من تشريعها فإن التشريع لها باقٍ مع العلم بأنه من نظر بعين البصيرة والفقه في الوصية وجد الكثير من جوانب الحكمة في تشريعها؛ فمن هذه الجوانب:

1. قال الله تعالى عن يعقوب عليه السلام: {أَمْ كُنْتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ بَعْدِي قَالُوا نَعْبُدُ إِلَهَكَ وَإِلَهَ آَبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِلَهًا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} [البقرة: 133].

--------------------------------------------

(1) وللزيادة انظر: نماذج من وصايا السلف في مصنف عبد الرزاق (9/ 54).

(2) انظر: الوصايا والتنزيل في الفقه الإسلامي لمحمد التاويل.
রাবী বিন খুসাইম এবং আমি আল্লাহকে এর ওপর সাক্ষী রাখছি; আর তাঁর নেককার বান্দাদের প্রতিদান ও সওয়াব দানকারী সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। নিশ্চয়ই আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছি। আমি নিজেকে এবং যারা আমার আনুগত্য করে তাদের নির্দেশ দিচ্ছি যেন আমরা ইবাদতকারীদের সাথে আল্লাহর ইবাদত করি, প্রশংসাকারীদের সাথে তাঁর প্রশংসা করি এবং মুসলিম জামাতের কল্যাণ কামনা করি। (১)

 

‌‌ওসিয়তের হিকমত (২):

যে বিষয়টি সতর্ক করা প্রয়োজন তা হলো, মহান আল্লাহ যখন আমাদের তাঁর নির্দেশিত বিষয়ের মাধ্যমে ইবাদত করার বিধান দিয়েছেন, তখন তিনি হয়তো আমাদের কাছে সেই আদেশ বা নিষেধের হিকমত বর্ণনা করেছেন—যা মহান আল্লাহর কিতাবে অনেক রয়েছে—আবার হয়তো কোনো কোনো আদেশ বা নিষেধে হিকমত বর্ণনা করেননি। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, হিকমত বর্ণনা না করার কারণে আমরা সেই নির্দেশ পালন থেকে বিরত থাকব; বরং আমরা তা পালন করব, যদিও আমাদের কাছে তার শরয়ি বিধানের হিকমত স্পষ্ট না হয়।

১ - যেহেতু ওসিয়ত এই শেষোক্ত প্রকারের অন্তর্ভুক্ত যার বিধানের হিকমত বর্ণনায় কুরআন ও সুন্নাহর কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা আসেনি, তাই আমি এই দিকটির প্রতি লক্ষ্য আকর্ষণ করতে চেয়েছি। সুতরাং যদি কারো কাছে এর বিধানের হিকমত প্রকাশ না পায়, তবুও এর বিধান বজায় থাকবে। তবে জেনে রাখা প্রয়োজন যে, যে ব্যক্তি অন্তর্দৃষ্টি ও ফিকহী প্রজ্ঞা দিয়ে ওসিয়তের বিধানের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে, সে এর শরয়ি হিকমতের অনেক দিক খুঁজে পাবে। সেই দিকগুলোর কয়েকটি হলো:

১. মহান আল্লাহ ইয়াকুব আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছেন: {তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে যখন ইয়াকুবের নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়েছিল? যখন সে তার সন্তানদের বলেছিল, ‘আমার পর তোমরা কার ইবাদত করবে?’ তারা বলেছিল, ‘আমরা আপনার উপাস্যের এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম, ইসমাইল ও ইসহাকের উপাস্যের ইবাদত করব, যিনি একক উপাস্য; আর আমরা তাঁরই প্রতি আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)।’} [আল-বাকারাহ: ১৩৩]।

--------------------------------------------

(১) বিস্তারিত জানতে দেখুন: মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক (৯/ ৫৪) গ্রন্থে সালাফদের ওসিয়তের নমুনা।

(২) দেখুন: মুহাম্মদ আত-তাবিল রচিত আল-ওয়াসায়া ওয়াত-তানজিল ফিল ফিকহিল ইসলামি।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ২৩)
فهذه وصية من يعقوب لأبنائه بالتمسك بعبادة الله وحده لا شريك له فهذه وصية جامعة للموصي والموصى إليه بل هي من أنفع الوصايا على الإطلاق، وللأسف غفل الكثير عن هذه الوصية ونظروا لما هو دونها في النفع فهي وصية الأولين والآخرين وأتباعهم بل هي وصية رب العالمين لعباده.

فما ينبغي التفطن له أن يوصى أحدنا أولاده إذا حضرته الوفاة بما وصى به يعقوب أولاده لكي يثبتوا عليه حتى يلقوا ربهم سبحانه وتعالى.

2 - ومن الحكمة في تشريعها أنها تبرأ بها ذمة الموصى مما يحدث بعد موته وبخاصة إذا كان في أماكن يكثر فيها الجهل بعقيدة التوحيد فالموصي يوصي أولاده مثلاً وكذا أقاربه ببراءته من الحالقة والشاقة والصالقة كما قال أبو موسى الأشعري رضي الله عنه في مرض موته: «أنا بريء ممن برئ منه رسول الله صلى الله عليه وسلم من الصالقة والحالقة والشاقة» (1) ، وكذا براءته من دعوى الجاهلية الممقوتة فإذا وصي الموصي بعدم شق الجيوب ولطم الخدود وحلق الرؤوس وغيرها من الأمور المنهية شرعاً فإنه ينجو من عذاب القبر فإن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن الميت ليعذب ببكاء أهله عليه» (2) ، والمراد بالبكاء هنا هو المصحوب بما ذكرناه آنفاً فإذا وصى بعدم فعل هذه الأشياء وبراءته منها نجا بلا شك من العذاب المرتب على ذلك.

3 - ومن حكمتها أنها عمل ينتفع به الميت بعد موته فلو أن أحد الموصين

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري رقم (1234) ، ومسلم رقم (104).

(2) أخرجه البخاري رقم (1226) ، ومسلم رقم (928).
এটি ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) এর পক্ষ থেকে তাঁর সন্তানদের প্রতি আল্লাহর একত্ববাদের ইবাদতে অটল থাকার একটি অসিয়ত, যাঁর কোনো শরিক নেই। এটি অসিয়তকারী এবং যাঁদের প্রতি অসিয়ত করা হয়েছে উভয়ের জন্যই একটি ব্যাপক অসিয়ত, বরং এটি সর্বকালের সবচেয়ে উপকারী অসিয়তসমূহের অন্তর্ভুক্ত। পরিতাপের বিষয় যে, অনেকে এই অসিয়ত সম্পর্কে গাফেল হয়ে পড়েছে এবং উপকারের দিক থেকে এর চেয়ে নিম্নমানের বিষয়গুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করেছে। অথচ এটি পূর্ববর্তী, পরবর্তী এবং তাঁদের অনুসারীদের জন্য একটি অসিয়ত, বরং এটি স্বয়ং রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি অসিয়ত।

সুতরাং যে বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত তা হলো, আমাদের কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন সে যেন তার সন্তানদের সেই অসিয়ত করে যা ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) তাঁর সন্তানদের করেছিলেন, যাতে তারা তাঁর ওপর অটল থাকতে পারে যতক্ষণ না তারা তাদের মহান রব সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাথে সাক্ষাৎ করে।

২ - এটি শরয়িভাবে প্রবর্তিত হওয়ার অন্যতম হিকমত হলো, এর মাধ্যমে অসিয়তকারীর দায়মুক্তি অর্জিত হয় সেইসব বিষয় থেকে যা তার মৃত্যুর পর সংঘটিত হয়; বিশেষ করে এমন সব স্থানে যেখানে তাওহিদের আকিদা সম্পর্কে অজ্ঞতা ব্যাপক। উদাহরণস্বরূপ, অসিয়তকারী তার সন্তান এবং আত্মীয়-স্বজনদের কাছে উচ্চস্বরে বিলাপ করা (সালিকাহ), মাথা মুণ্ডন করা (হালিকা) এবং কাপড় ছেঁড়া (শাক্কাহ) থেকে নিজের দায়মুক্তির অসিয়ত করবে। যেমনটি আবু মুসা আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর মৃত্যুশয্যায় বলেছিলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাঁদের থেকে দায়মুক্ত ছিলেন, আমিও তাঁদের থেকে দায়মুক্ত; তাঁরা হলো উচ্চস্বরে বিলাপকারিণী, মাথা মুণ্ডনকারিণী এবং কাপড় ছিন্নকারিণী» (১)। তদ্রূপ জাহিলিয়াতের ঘৃণ্য রীতিনীতি থেকেও দায়মুক্তির ঘোষণা দিবে। সুতরাং অসিয়তকারী যদি কাপড় না ছিঁড়তে, গালে চপেটাঘাত না করতে, মাথা না মুণ্ডাতে এবং এ জাতীয় অন্যান্য শরয়িভাবে নিষিদ্ধ বিষয়গুলো না করার জন্য অসিয়ত করে, তবে সে কবরের আজাব থেকে মুক্তি পাবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে আজাব দেওয়া হয়» (২)। এখানে কান্নাকাটি বলতে উপরে বর্ণিত বিষয়গুলোকেই বোঝানো হয়েছে। সুতরাং যখন কেউ এই কাজগুলো না করার অসিয়ত করবে এবং এর থেকে নিজের নির্দোষিতা ঘোষণা করবে, তখন নিঃসন্দেহে সে এর কারণে হওয়া আজাব থেকে মুক্তি পাবে।

৩ - এর অন্যতম হিকমত হলো, এটি এমন একটি আমল যার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর উপকৃত হয়। যদি কোনো অসিয়তকারী...

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি, হাদিস নং ১২৩৪ এবং মুসলিম, হাদিস নং ১০৪-এ বর্ণিত হয়েছে।

(২) এটি বুখারি, হাদিস নং ১২২৬ এবং মুসলিম, হাদিস নং ৯২৮-এ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ২৪)
أوصى بعمل خيري دائم النفع فهذا بلا شك ينتفع به الميت فهو رصيد دائم يزيد له في حسناته بعد مماته.

كما في حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال صلى الله عليه وسلم: «إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له» (1).

4 - ومن حكمتها أن فيها الحفاظ على مال الدائن وبراءة ذمة المدين وبهذا تظهر الحكمة من أن حقوق الآدميين محفوظة حتى وإن مات من عليه الدين.

5 - ومن حكمتها أنها حماية للأموال ورعاية للقُصَّر، فلو أن رجلاً مات وترك ثروة مالية للورثة وبين هؤلاء الورثة قُصَّر لا يحسنون التصرف في أموالهم وقد أوصى هذا الرجل بأن يكون زيد من الناس وصياً على أولاده، فإن هذا الوصي يقوم مقام والدهم فيحافظ على القصر وعلى أموالهم.

6 - ثم إنها صدقة تصدق الله بها على الموصى بعد وفاته، فينبغي إذا كان صاحب مال ألا يحرم نفسه من الخير.

7 - ثم إن وصية المرء بأقاربه غير الوارثين هو من باب العناية بهم، وصلة رحمهم، و «يعلم الله العليم الحكيم أن بعض الأثرياء أو أكثرهم لهم أجداد محرومون من الميراث بآبائهم، سواء كان جده لأبيه أو لأمه، هل يبقى محروماً من الوصية؟» (2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (3/ 1255، رقم 1631).

(2) صفوة الآثار والمفاهيم من تفسير القرآن العظيم، عبد الرحمن محمد الدوسري (3/ 52).
তিনি যদি এমন কোনো জনকল্যাণমূলক কাজের অসিয়ত করেন যার উপকারিতা স্থায়ী, তবে নিঃসন্দেহে মৃত ব্যক্তি এর মাধ্যমে উপকৃত হবেন। কারণ এটি একটি স্থায়ী সঞ্চয় যা তার মৃত্যুর পর তার নেক আমল বৃদ্ধি করতে থাকে।

যেমনটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যখন আদম সন্তান মারা যায়, তখন তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, অথবা এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে» (১)।

৪ - এর অন্যতম হিকমত বা তাৎপর্য হলো, এতে পাওনাদারের সম্পদের সুরক্ষা হয় এবং দেনাদারের দায়মুক্তি ঘটে। এর মাধ্যমে এই হিকমতটিও প্রকাশ পায় যে, মানুষের অধিকার সংরক্ষিত থাকে, এমনকি যার ওপর ঋণ রয়েছে সে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলেও।

৫ - এর হিকমতের অন্তর্ভুক্ত হলো যে, এটি সম্পদের সুরক্ষা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি মারা যান এবং উত্তরাধিকারীদের জন্য সম্পদ রেখে যান এবং সেই ওয়ারিশদের মধ্যে এমন কিছু অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকে যারা তাদের সম্পদ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম নয়, এমতাবস্থায় ওই ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে তার সন্তানদের অভিভাবক হিসেবে অসিয়ত করে যান, তবে এই অভিভাবক তাদের পিতার স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং সেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের ও তাদের সম্পদের হেফাজত করবেন।

৬ - অধিকন্তু, এটি এমন একটি দান যা আল্লাহ তাআলা অসিয়তকারীর মৃত্যুর পর তার প্রতি অনুগ্রহ হিসেবে প্রদান করেছেন। অতএব, কোনো ব্যক্তি সম্পদশালী হলে তার উচিত নয় নিজেকে এই কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রাখা।

৭ - এরপর, কোনো ব্যক্তির তার উত্তরাধিকারী নয় এমন নিকটাত্মীয়দের জন্য অসিয়ত করা হলো তাদের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার অন্তর্ভুক্ত। আর «মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ জানেন যে, অনেক বা অধিকাংশ ধনবান ব্যক্তিদের এমন সব দাদা বা নানা থাকে যারা (পিতার উপস্থিতির কারণে) উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়; চাই তিনি বাবার দিকের দাদা হোন বা মায়ের দিকের নানা, তারা কি অসিয়ত থেকেও বঞ্চিত থাকবে?» (২)।

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৩/ ১২৫৫, হাদিস নং ১৬৩১)।

(২) সাফওয়াতুল আসার ওয়াল মাফাহিম মিন তাফসিরিল কুরআনিল আজিম, আবদুর রহমান মুহাম্মদ আদ-দাউসারি (৩/ ৫২)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌أركان الوصية (1):

1 - الموصى: وهو صاحب الوصية.

2 - الموصى له: وهو المستفيد من الوصية.

3 - الموصَى به: وهو الشيء المستفاد منه غالباً.

4 - الموصى إليه (الوصي): وهو القائم بتنفيذ الوصية.

وأضاف بعضهم ركناً خامساً، وهو:

الصيغة: وهى الألفاظ المستعملة في الوصية، كأن تقول أوصيت بكذا لفلان، أو جعلت لفلان ثلث مالي بعد موتى ونحو ذلك.

وبيان الأركان كما يلي:

 

‌‌أولا: الموصى: والمراد به صاحب الوصية.

الشروط المعتبرة في الموصي:

1 - كونه أهلاً للتبرع أي كامل الأهلية. ويستثنى من ذلك السفيه وضعيف العقل والصغير المميز، فتصح منهم الوصية إذا كانت تشتمل على نفع لهم بلا ضرر أما الصغير المميز فلما رواه مالك في الموطأ (2) بإسناد حسن (3) " أن عمر رضي الله عنه أجاز وصية غلام من غسان" ، وكان عمره عشر سنين، ولأن

--------------------------------------------

(1) روضة الطالبين للنووي (5/ 93)، وحاشية الجمل (6/ 121، وما بعدها) لسليمان بن عمر المصري المعروف بالجمل والذخيرة للقرافي (7/ 10)، وكشاف القناع (3/ 2131).

(2) الموطأ (2/ 769)، الاستذكار لابن عبد البر (23/ 23، وما بعدها).

(3) الإرواء (6/ 81)، وقوله: «وكان عمره عشر سنين» ليست موصولة
‌‌ওসিয়তের রুকনসমূহ (১):

১ - ওসিয়তকারী: তিনি হলেন ওসিয়তের মালিক।

২ - যার অনুকূলে ওসিয়ত করা হয়েছে: তিনি হলেন ওসিয়ত দ্বারা উপকৃত ব্যক্তি।

৩ - ওসিয়তকৃত বস্তু: এটি সাধারণত সেই বস্তু যা থেকে উপকার লাভ করা হয়।

৪ - ওসিয়ত বাস্তবায়নকারী (অছি): তিনি হলেন ওসিয়ত কার্যকর করার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি।

কেউ কেউ পঞ্চম একটি রুকন যোগ করেছেন, আর তা হলো:

শব্দমালা (সিগাহ): এটি হলো ওসিয়তে ব্যবহৃত শব্দাবলি, যেমন আপনার বলা—আমি অমুকের জন্য এই মর্মে ওসিয়ত করলাম, অথবা আমি আমার মৃত্যুর পর অমুকের জন্য আমার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ নির্ধারণ করলাম এবং এই জাতীয় শব্দ।

রুকনসমূহের বিবরণ নিম্নরূপ:

 

‌‌প্রথমত: ওসিয়তকারী: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ওসিয়তের মালিক।

ওসিয়তকারীর ক্ষেত্রে বিবেচ্য শর্তাবলি:

১ - দান করার যোগ্য হওয়া অর্থাৎ পূর্ণ যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়া। এর থেকে নির্বোধ, দুর্বল মস্তিষ্কসম্পন্ন এবং সমঝদার নাবালককে ব্যতিক্রম ধরা হয়; সুতরাং তাদের পক্ষ থেকে ওসিয়ত বৈধ হবে যদি তাতে তাদের জন্য কোনো ক্ষতি ছাড়া কেবল উপকার নিহিত থাকে। আর সমঝদার নাবালকের বিষয়টি একারণে যে, ইমাম মালিক মুয়াত্তা গ্রন্থে (২) হাসান সনদে (৩) বর্ণনা করেছেন যে, "উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) গাসসান গোত্রের এক বালকের ওসিয়ত অনুমোদন করেছিলেন", যখন তার বয়স ছিল দশ বছর। আর কারণ হলো...

--------------------------------------------

(১) ইমাম নববী রচিত রওদাতুত তালিবীন (৫/৯৩), সুলাইমান বিন উমর আল-মিসরি—যিনি জামাল নামে পরিচিত—রচিত হাশিয়াতুল জামাল (৬/১২১ এবং পরবর্তী অংশ), আল-কারাফি রচিত আয-যাখিরা (৭/১০), এবং কাশশাফুল কিনা (৩/২১৩১)।

(২) মুয়াত্তা (২/৭৬৯), ইবনে আব্দুল বার রচিত আল-ইস্তযকার (২৩/২৩ এবং পরবর্তী অংশ)।

(৩) আল-ইরওয়া (৬/৮১), এবং তাঁর উক্তি: "এবং তার বয়স ছিল দশ বছর" এটি সংযুক্ত সূত্রে বর্ণিত নয়।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ২৬)
الصبي محتاج إلى الثواب، وهذا محض مصلحة من غير ضرورة، وكذلك المحجور عليه لأن علة الحجر تبديد المال وإتلافه وتلك علة مرتفعة عنه بالموت (1).

وكذلك المحجور عليه لحظ غيره، فإن الحجر لحظ الغرماء ولا ضرر عليهم في وصيته، لأنه إنما تنفذ وصيته في ثلثه بعد وفاء دينه.

2 - أن لا يكون معاينًا للموت: فإن عاينه لم تصح، لأنه لا قول له حينئذٍ معتبر شرعًا.

3 - أن يكون مالكًا للمال أو المنفعة.

4 - أن يكون الموصي غير مدين دينًا يستغرق كل ماله: فإن كان كذلك فإن الوصية لا تصح؛ لأن سداد الدين مقدم على الوصية، كما في أثر علي رضي الله عنه «قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم بالدَّين قبل الوصية» (2).

 

‌‌ثانيًا: الموصى له: وهو المستفيد من الوصية:

فإن كانت الوصية لجهة عامة فشرطه أن لا تكون جهة معصية، وإن كانت خاصة فالشروط المعتبرة فيه:

1 - أن لا يكون وارثًا للموِصي: نُسخت الوصية للوارثين بآية المواريث عند جمهور الفقهاء، وبقيت لغير الوارثين من الأقربين بقوله تعالى في المواريث:

--------------------------------------------

(1) الاستذكار (23/ 26)، الإشراف على نكت مسائل الخلاف، لعبد الوهاب البغدادي (2/ 1010)، الإقناع لابن المنذر (2/ 416)، كشاف القناع (3/ 2122).

(2) رواه الترمذي برقم (2094)، وأحمد برقم (595) عن علي وفيه الحارث الأعور، ورواه ابن ماجه (2122).
শিশুটি সওয়াবের মুখাপেক্ষী, এবং এটি কোনো প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই নিছক একটি কল্যাণ। অনুরূপভাবে যার ওপর আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে তার ক্ষেত্রেও একই কথা; কারণ লেনদেনে নিষেধাজ্ঞার কারণ হলো সম্পদ অপচয় ও তা নষ্ট করা, যা তার মৃত্যুর মাধ্যমে অপসারিত হয়ে যায় (১)।

অনুরূপভাবে অপরের স্বার্থে যার ওপর আইনি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তার ক্ষেত্রেও একই কথা। কেননা এই নিষেধাজ্ঞা মূলত পাওনাদারদের স্বার্থে, আর তার অসিয়তের কারণে তাদের কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ তার অসিয়ত কেবল ঋণ পরিশোধের পর তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে কার্যকর হয়।

২ - মৃত্যু প্রত্যক্ষ করার অবস্থায় না থাকা: যদি তিনি মৃত্যুর মুখোমুখি হন তবে তা শুদ্ধ হবে না; কারণ সে সময় শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে তার কোনো বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হয় না।

৩ - সম্পদ অথবা উপযোগের মালিক হওয়া।

৪ - অসিয়তকারীর এমন ঋণ না থাকা যা তার সমস্ত সম্পদকে গ্রাস করে নেয়: যদি তেমন হয় তবে অসিয়ত শুদ্ধ হবে না; কারণ অসিয়ত কার্যকর করার আগে ঋণ পরিশোধ করা অগ্রগণ্য, যেমনটি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছারে রয়েছে: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসিয়ত কার্যকর করার আগে ঋণ পরিশোধের ফয়সালা দিয়েছেন» (২)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: অসিয়ত গ্রহীতা: অর্থাৎ অসিয়ত থেকে উপকৃত ব্যক্তি:

যদি অসিয়ত কোনো সাধারণ খাতের জন্য হয় তবে শর্ত হলো সেটি যেন পাপাচারের কোনো খাত না হয়। আর যদি কোনো বিশেষ ব্যক্তির জন্য হয় তবে তার ক্ষেত্রে বিবেচ্য শর্তগুলো হলো:

1 - অসিয়তকারীর উত্তরাধিকারী না হওয়া: জমহুর ফকীহগণের মতে মিরাসের আয়াতের মাধ্যমে উত্তরাধিকারীদের অনুকূলে অসিয়ত করার বিধান রহিত হয়ে গেছে। আর নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যারা উত্তরাধিকারী নন, তাদের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণীতে মিরাস সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী এটি অবশিষ্ট রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) আল-ইস্তিদকার (২৩/ ২৬), আল-ইশরাফ আলা নুকাত মাসাইলিল খিলাফ, লেখক: আব্দুল ওয়াহহাব আল-বাগদাদী (২/ ১০১০), আল-ইকনা লিবনিল মুনজির (২/ ৪১৬), কাশশাফুল কিনা (৩/ ২১২২)।

(২) তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (২০৯৪), এবং আহমাদ বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৫৯৫) আলী থেকে, আর এতে হারিস আল-আওয়ার রয়েছেন, এবং ইবনু মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন (২১২২)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ২৭)
{مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ}، وهذا مذهب جمهور الفقهاء (1)، لما ثبت عن أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله أعطى كل ذي حق حقه، ألا لا وصية لوارث» (2).

ومذهب الحنفية وهو الأظهر عند الشافعية وظاهر مذهب الإمام أحمد وقول عند المالكية أن الوصية للوارث صحيحة موقوفة على إجازة الورثة (3).

لما رُوي أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا وصية لوارث إلا أن يجيز الورثة» (4). وري بلفظ: «إلا أن يشال الورثة» (5). وقال به الحسن وابن سيرين (6).

2 - كونه الموصَى له معينًا: فإن كان مجهول العين فلا تصح له الوصية، ويكفي العلم بالوصف كقوله أوصي للمساكين والفقراء.

3 - كون الموصى له أهلًا للتملك: فإن كان ممن لا يصح تملكه فلا تصح الوصية له، كالجني والبهيمة والميت (7)، ونحوه.

--------------------------------------------

(1) فقه المواريث والوصية في الشريعة الإسلامية د. نصر محمد فريد واصل (ص: 106).

(2) أخرجه أحمد في المسند (4/ 186)، والترمذي رقم (2120)، وقال: حديث حسن، وأبو داود (3/ 114 برقم 2870)، وابن ماجه رقم (2712)؛ والنسائي رقم (3643 - 3645)، وذكره الحافظ ابن حجر وأفاد أن له شواهد كثيرة، ونقل عن الشافعي أنه متواتر (فتح الباري 5/ 372)، وصححه الألباني في الإرواء برقم (1655).

(3) شرح الترتيب (2/ 4)، وحاشية الدسوقي (4/ 427)، والمغني (6/ 6)، والملخص الفقهي (2/ 218).

(4) أخرجه البيهقي (6/ 246، رقم 12320)؛ والدارقطني (4/ 152).

(5) أخرجه أبو داود في المراسيل (ص:256، رقم 349)، والدارقطني (4/ 98، 152)؛ والبيهقي (6/ 263، رقم 12315) حسنه الحافظ في البلوغ، وقال في الفتح: رجاله ثقات، والصنعاني في سبل السلام (3/ 105، 106).

(6) مصنف ابن أبي شيبة (11/ 150، رقم 31363).

(7) وقيل بجوازها للبهيمة وتصرف في مصالح البهيمة خصوصًا إذا كانت من بهيمة الجهاز والميت تصرف صدقة له في أعمال الخير، رجحه في الشرح الممتع (11/ 168)، وكذا الموصي للميت لقضاء دين عليه، انظر مصنف عبد الرازق (9/ 24).
{তদীয় কৃত অসিয়ত পালন বা ঋণ পরিশোধের পর}, আর এটিই জমহুর (অধিকাংশ) ফকিহগণের মাযহাব (১)। যেহেতু আবু উমামা আল-বাহিলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে প্রমাণিত রয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য হক প্রদান করেছেন; সাবধান, উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই» (২)।

হানাফি মাযহাব এবং শাফেয়ি মাযহাবের অধিকতর স্পষ্ট মত, ইমাম আহমদের মাযহাবের জাহির (সুস্পষ্ট) বর্ণনা এবং মালিকি মাযহাবের একটি বক্তব্য হলো: উত্তরাধিকারীর অনুকূলে অসিয়ত করা সহিহ (বৈধ), তবে তা অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের অনুমতির ওপর স্থগিত থাকবে (৩)।

কেননা বর্ণিত রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই, তবে অন্য উত্তরাধিকারীরা অনুমতি দিলে ভিন্ন কথা» (৪)। এটি এই শব্দেও বর্ণিত হয়েছে: «যদি না উত্তরাধিকারীরা চায়» (৫)। হাসান (বসরি) এবং ইবনে সিরিন এই মতই পোষণ করেছেন (৬)।

২ - যার অনুকূলে অসিয়ত করা হচ্ছে (মুসা-লাহু) তাকে সুনির্দিষ্ট হতে হবে: যদি তার সত্তা অজ্ঞাত থাকে তবে তার জন্য অসিয়ত করা সহিহ হবে না; তবে গুণাগুণ বা বর্ণনার মাধ্যমে পরিচিতিই যথেষ্ট, যেমন তার বলা: "আমি মিসকিন ও ফকিরদের জন্য অসিয়ত করছি।"

৩ - যার অনুকূলে অসিয়ত করা হচ্ছে তার মালিক হওয়ার যোগ্যতা থাকা: সুতরাং যার মালিকানা লাভ করা সহিহ নয়, তার অনুকূলে অসিয়ত করাও সহিহ হবে না, যেমন জিন, চতুষ্পদ জন্তু, মৃত ব্যক্তি (৭) এবং এই জাতীয় বিষয়।

--------------------------------------------

(১) ফিকহুল মাওয়ারিস ওয়াল ওয়াসিয়াহ ফিশ শারিয়াহ আল-ইসলামিয়াহ, ড. নাসর মুহাম্মাদ ফরিদ ওয়াসিল (পৃ. ১০৬)।

(২) আহমদ মুসনাদে (৪/ ১৮৬), তিরমিযি নং (২১২০) এবং তিনি বলেছেন: হাদিসটি হাসান, আবু দাউদ (৩/ ১১৪ নং ২৮৭০), ইবনে মাজাহ নং (২৭১২); নাসায়ি নং (৩৬৪৩ - ৩৬৪৫), হাফিজ ইবনে হাজার এটি উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এর অনেক সমর্থক বর্ণনা রয়েছে, আর তিনি ইমাম শাফেয়ি থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে এটি মুতাওয়াতির (ফাতহুল বারি ৫/ ৩৭২), আলবানী একে 'ইরওয়াউল গালিল'-এ (১৬৫৫ নং) সহিহ বলেছেন।

(৩) শারহুত তারতিব (২/ ৪), হাশিয়াতুদ দাউকি (৪/ ৪২৭), আল-মুগনি (৬/ ৬), আল-মুলাখখাস আল-ফিকহি (২/ ২১৮)।

(৪) বায়হাকি (৬/ ২৪৬, নং ১২৩২০); দারা কুতনি (৪/ ১৫২)।

(৫) আবু দাউদ 'আল-মারাসিল'-এ (পৃ. ২৫৬, নং ৩৪৯), দারা কুতনি (৪/ ৯৮, ১৫২); বায়হাকি (৬/ ২৬৩, নং ১২৩১৫), হাফিজ 'বুলুগুল মারাম'-এ একে হাসান বলেছেন, আর 'ফাতহুল বারি'-তে বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, এবং সানআনি 'সুবুলুস সালাম'-এ (৩/ ১০৫, ১০৬)।

(৬) মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ (১১/ ১৫০, নং ৩১৩৬৩)।

(৭) কেউ কেউ বলেছেন চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রে অসিয়ত জায়েয এবং তা পশুর কল্যাণে ব্যয় করা হবে, বিশেষ করে যদি সেটি মালামাল বহনের পশু হয়। আর মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেটি তার পক্ষ থেকে ভালো কাজে সদকা হিসেবে ব্যয় করা হবে; 'আশ-শারহুল মুমতি' (১১/ ১৬৮) গ্রন্থে এই মতটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তেমনিভাবে মৃত ব্যক্তির জন্য তার ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে অসিয়ত করা; দেখুন মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক (৯/ ২৪)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ২৮)
4 - كون الموصى له حيّاً غير ميت (1): جاء في الكافي: «ولا تصح الوصية لمن لا يملك كالميت، لأنه تمليك فلم يصح لهم»، وقال في المهذب: «ولا تصح الوصية لمن لا يملك، فإن وصى لميت لم تصح الوصية، لأنه تمليك فلم يصح للميت كالهبة».

فإن كان حيّاً حياة تقديرية كالجنين في بطن أمه هل تصح الوصية؟

الصحيح أنها تصح للحمل الذي تحقق وجوده قبل صدور الوصية، أما إن كان غير موجود حينها كما لو قال: أوصيت لحمل فلانة وهي لم تحمل بعد، فلا تصح؛ لأنها وصية لمعدوم (2).

فإن أوصى لحمل تحقق وجوده فنزل ميتًا بطلت الوصية، وتعرف حياته باستهلاله. والاستهلال هو صياح المولود أو عطاسه أو ارتضاعه أو تنفسه ونحو ذلك.

لكن هناك سؤال قد يطرأ على البعض بماذا يتحقق وجود الحمل؟

الجواب: يتحقق تحقيق وجود الحمل إن ولد قبل تمام ستة أشهر من وقت الوصية؛ لأن هذه الفترة أقل مدة تضع فيها المرأة حملها، أما في عصرنا الحاضر فوسائل التقنية الحديثة سهَّلت لنا معرفة مثل ذلك.

--------------------------------------------

(1) انظر: الكافي (2/ 479)، والمهذب للشيرازي (3/ 713)، وروضة الطالبين (6/ 99)، ومغني المحتاج للشربيني (3/ 40).

(2) الوصايل لمحمد التأويل (ص:181، وما بعدها)، وقيل بجوازها للمعدوم؛ لأنها محض تبرع دائرة بين السلامة والغنم ولا غرم فيها فخالفت البيع. وهو الصحيح واختاره شيخ الإسلام كما في الاختيارات، وكذلك قال بصحة الوصية للمعدوم العلامة صالح الفوزان في شرحه المختصر على زاد المستنقع (ص: 316).
৪ - অসিয়তকৃত ব্যক্তি মৃত না হয়ে জীবিত থাকা (১): আল-কাফী গ্রন্থে এসেছে: «মৃত ব্যক্তির ন্যায় যার কোনো মালিকানা সত্তা নেই তার অনুকূলে অসিয়ত সহীহ নয়, কেননা এটি মালিকানা প্রদান করা; তাই তাদের অনুকূলে এটি সহীহ হবে না», আর আল-মুহায্যাব গ্রন্থে বলা হয়েছে: «যার মালিকানা সত্তা নেই তার জন্য অসিয়ত সহীহ নয়। সুতরাং যদি কেউ কোনো মৃত ব্যক্তির অনুকূলে অসিয়ত করে তবে তা সহীহ হবে না, কারণ এটি মালিকানা প্রদান করা; তাই মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি হেবা বা দান করার মতো সহীহ হবে না।»

যদি সে জীবন ধারণের সম্ভাবনাময় হয় যেমন মায়ের জঠরে থাকা গর্ভস্থ সন্তান, তবে কি অসিয়ত সহীহ হবে?

সঠিক মত হলো, সেই গর্ভস্থ সন্তানের জন্য অসিয়ত সহীহ যার অস্তিত্ব অসিয়ত করার পূর্বেই নিশ্চিত হয়েছে। তবে যদি তখন তার অস্তিত্ব না থাকে, যেমন কেউ যদি বলে: আমি অমুক মহিলার গর্ভস্থ সন্তানের জন্য অসিয়ত করলাম অথচ সে তখনও গর্ভবতী হয়নি, তবে তা সহীহ হবে না; কারণ এটি অবিদ্যমান সত্তার অনুকূলে অসিয়ত (২)।

যদি কেউ এমন গর্ভস্থ সন্তানের জন্য অসিয়ত করে যার অস্তিত্ব নিশ্চিত ছিল, অতঃপর সে মৃত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়, তবে অসিয়তটি বাতিল হয়ে যাবে। আর তার জীবিত থাকা জানা যাবে তার ‘ইস্তিহলাল’ (জন্মের পর নবজাতকের জীবনলক্ষণ) দ্বারা। ইস্তিহলাল হলো নবজাতকের চিৎকার বা কান্না, হাঁচি দেওয়া, দুধ পান করা, শ্বাস নেওয়া অথবা এই জাতীয় বিষয়সমূহ।

তবে এখানে একটি প্রশ্ন কারও মনে জাগতে পারে যে, গর্ভস্থ সন্তানের অস্তিত্ব কীসের দ্বারা নিশ্চিত হওয়া যায়?

উত্তর: গর্ভস্থ সন্তানের অস্তিত্ব তখন নিশ্চিত হবে যদি সে অসিয়ত করার সময় থেকে পূর্ণ ছয় মাসের পূর্বে ভূমিষ্ঠ হয়; কারণ এই সময়কালটি হলো একজন নারীর সন্তান প্রসবের নূন্যতম সময়। তবে বর্তমান যুগে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমসমূহ আমাদের জন্য এই জাতীয় বিষয়গুলো জানা সহজ করে দিয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কাফী (২/ ৪৭৯), আশ-শিরাজী রচিত আল-মুহায্যাব (৩/ ৭১৩), রওদাতুত তালিবীন (৬/ ৯৯) এবং আশ-শারবীনী রচিত মুগনী আল-মুহতাজ (৩/ ৪০)।

(২) মুহাম্মাদ আত-তাবীল রচিত আল-ওয়াসায়িল (পৃষ্ঠা: ১৮১ এবং পরবর্তী)। এবং মতান্তর রয়েছে যে অবিদ্যমান সত্তার অনুকূলে অসিয়ত জায়েজ; কারণ এটি নিছক একটি অনুদান যা প্রাপ্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে আবর্তিত হয় এবং এতে কোনো দায়ভার নেই, ফলে তা ক্রয়-বিক্রয়ের বিধানের বিপরীত। আর এটিই সঠিক মত এবং শাইখুল ইসলাম আল-ইখতিয়ারাত গ্রন্থে এটিই পছন্দ করেছেন। একইভাবে আল্লামা সালেহ আল-ফাওজান ‘যাদুল মুসতাকনি’-এর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ৩১৬) অবিদ্যমান সত্তার অনুকূলে অসিয়ত সহীহ হওয়ার কথা বলেছেন।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ২৯)
5 - كون الموصَى له غير قاتل للموصِي: فإذا أوصى شخص لآخر ثم قتله الموصى له بعد الوصية بطلت الوصية إن كان القتل عمدًا قياسًا على الميراث، وللقاعدة الفقهية المشهورة (من تعجل شيئًا قبل أوانه عوقب بحرمانه)، وقال الإمام مالك رحمه الله: تصح لأنها هبة، والقتل لا يمنعها كالحياة (1). والأول أولى.

أما إن أجازها الورثة فهل تصح؟؟

الصحيح أنها لا تصح وعند الأحناف تصح.

 

‌‌قبول الموصَى له الوصية:

فإن لم يقبل بطلت، فلو قال الموصي: أوصيت لفلان بن فلان كذا، وقلنا هذه وصية من فلان لك فقال لا أريدها، فهنا تبطل الوصية ويردها إلى الورثة.

 

‌‌هل يشترط إسلام الموصي والموصى له؟

لا يشترط إسلام الموصي والموصَى له.

فتجوز الوصية من المسلم للكافر لما روى الدرامي: «أن صفية أوصت لنسيب لها يهودي» (2).

قال ابن عبد البر: «لا خلاف علمته في جواز وصية المسلم لقرابته الكفار

--------------------------------------------

(1) شرح الترتيب (2/ 3)، وحاشية الدسوقي (4/ 428)، وبدائع الصنائع (7/ 340)، وكشاف القناع (4/ 358)، والإشراف لعبد الوهاب البغدادي (2/ 1018)، وروضة الطالبين (5/ 102)، وتحفة الطلاب، لزكريا الأنصاري (ص: 385).

(2) رواه الدرامي في سننه (3341)، وهو صحيح، وورد في منار السبيل بلفظ الوقف ولذا لم يخرجه العلامة الألباني، انظر الإرواء (6/ 89).
৫ - অসিয়ত গ্রহীতা অসিয়তকারীর হত্যাকারী না হওয়া: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কারো জন্য অসিয়ত করে, অতঃপর অসিয়ত গ্রহীতা অসিয়ত করার পর তাকে হত্যা করে, তবে হত্যাটি যদি ইচ্ছাকৃত হয়, তবে উত্তরাধিকারের (মিরাস) সাথে তুলনা করে অসিয়তটি বাতিল হয়ে যাবে। এর কারণ হলো প্রসিদ্ধ ফিকহি নীতি (যে ব্যক্তি কোনো কিছু তার সময়ের আগে পাওয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে, তাকে তা থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হয়)। ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এটি বৈধ হবে, কারণ এটি একটি দান (হিবা), আর জীবনাবস্থায় যেমন হত্যা দানকে বাধাগ্রস্ত করে না, তেমনি এখানেও করবে না (১)। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য।

তবে যদি উত্তরাধিকারীরা এটি অনুমোদন করে, তবে কি তা সহিহ হবে??

সঠিক মত হলো তা সহিহ হবে না, তবে হানাফিদের নিকট তা সহিহ হবে।

 

‌‌অসিয়ত গ্রহীতা কর্তৃক অসিয়ত গ্রহণ:

যদি সে গ্রহণ না করে তবে তা বাতিল হয়ে যাবে। সুতরাং অসিয়তকারী যদি বলে: আমি অমুকের পুত্র অমুকের জন্য এই পরিমাণ অসিয়ত করলাম, আর আমরা তাকে বললাম যে এটি অমুক ব্যক্তির পক্ষ থেকে আপনার জন্য অসিয়ত, কিন্তু সে বলে যে আমি এটি চাই না, তবে এখানে অসিয়তটি বাতিল হয়ে যাবে এবং তা উত্তরাধিকারীদের নিকট ফিরে যাবে।

 

‌‌অসিয়তকারী ও অসিয়ত গ্রহীতার কি মুসলিম হওয়া শর্ত?

অসিয়তকারী ও অসিয়ত গ্রহীতার মুসলিম হওয়া শর্ত নয়।

সুতরাং মুসলিমের পক্ষ থেকে অবিশ্বাসী বা কাফেরের জন্য অসিয়ত করা জায়েজ। কেননা দারেমি বর্ণনা করেছেন: «সাফিয়্যাহ (রা.) তাঁর এক ইহুদি আত্মীয়ের জন্য অসিয়ত করেছিলেন» (২)।

ইবনে আব্দুল বার বলেন: «অমুসলিম আত্মীয়-স্বজনের অনুকূলে মুসলিমের অসিয়ত জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে আমার জানামতে কোনো মতপার্থক্য নেই।

--------------------------------------------

(১) শারহুত তারতিব (২/৩), হাশিয়াতুদ দিসুকি (৪/৪২৮), বাদায়েউস সানায়ে (৭/৩৪০), কাশশাফুল কিনা' (৪/৩৫৮), আব্দুল ওয়াহহাব আল-বাগদাদি প্রণীত আল-ইশরাফ (২/১০১৮), রওজাতুত তালিবিন (৫/১০২), জাকারিয়া আল-আনসারি প্রণীত তুহফাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ৩৮৫)।

(২) এটি দারেমি তাঁর সুনানে (৩৩৪১) বর্ণনা করেছেন এবং এটি সহিহ। মানারুস সাবিল-এ এটি ওয়াকফ শব্দে বর্ণিত হয়েছে, যার ফলে আল্লামা আলবানি এটি সেখানে উল্লেখ করেননি, দেখুন: আল-ইরওয়া (৬/৮৯)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ৩০)
لأنهم لا يرثونه» (1) ا. هـ.

بشرط كونه معينا، وأن لا يكون محاربا للمسلمين.

فإن كان مرتداً هل تصح له الوصية؟

قولان لأهل العلم (2):

والصحيح أنها لا تصح له لأن ملكه غير مستقر ولا يرث ولا يورث، ولكون ملكه يزول عن ماله بسبب ردته، فلا يثبت له الملك بالوصية.

أما الوصية من الكافر للمسلم فإذا كانت الوصية تصح من المسلم إلى الكافر فمن باب أولى صحتها من الكافر للمسلم.

 

‌‌ثالثا: الموصَى به (3).

وهي العين التي أوصى بها أو المنفعة.

ويشترط في الموصَى به أمور:

1 - كونه بعد موت الموصي: فإن كان قبله فهو هبة وليس وصية.

2 - أن يكون قابلاً للتمليك: فلو أوصَى بشيء يزول ملك الموصَى له عنه، أو أوصَى بشيء سوف يملكه فمات قبل ملكه له فلا تصح الوصية به. لكن إن أوصى بما لا يقدر على تسليمه صحت الوصية به، وللموصِي السعي في تحصيله.

--------------------------------------------

(1) فتح المالك بتبويب التمهيد على موطأ مالك (8/ 385).

(2) الكافي (4/ 13)، والفروع، لابن مفلح (ص:1165)، وروضة الطالبين (5/ 102)، وحاشية الجمل على شرح المنهج (5/ 586)، والذخيرة للقرافي (7/ 14).

(3) انظر الفروع (ص: 1169)، والروضة للنووي (5/ 111)، وكشاف القناع (3/ 2153).
কেননা তারা তার উত্তরাধিকারী হয় না» (১) সমাপ্ত।

নির্দিষ্ট ব্যক্তি হওয়ার শর্তে, এবং সে যেন মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত না হয়।

যদি সে মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হয়, তবে কি তার অনুকূলে অসিয়ত করা সঠিক হবে?

আহলে ইলমদের (বিদ্বানদের) এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে (২):

সঠিক মত হলো, তার অনুকূলে তা সঠিক হবে না; কারণ তার মালিকানা সুস্থিত নয়, সে কারও উত্তরাধিকারী হয় না এবং কেউ তার উত্তরাধিকারী হয় না। তদুপরি, তার ধর্মত্যাগের কারণে তার সম্পদ থেকে তার মালিকানা বিলুপ্ত হয়ে যায়। অতএব, অসিয়তের মাধ্যমে তার মালিকানা সাব্যস্ত হবে না।

আর কাফেরের পক্ষ থেকে মুসলিমের অনুকূলে অসিয়তের বিষয়টি হলো—যদি মুসলিমের পক্ষ থেকে কাফেরের অনুকূলে অসিয়ত করা সহিহ হয়, তবে কাফেরের পক্ষ থেকে মুসলিমের অনুকূলে তা সহিহ হওয়া আরও বেশি যুক্তিসঙ্গত।

 

‌‌তৃতীয়ত: মুসা-বিহি বা অসিয়তকৃত বস্তু (৩)।

এটি হলো সেই নির্দিষ্ট বস্তু বা উপযোগ (বেনিফিট) যা অসিয়ত করা হয়েছে।

অসিয়তকৃত বস্তুর ক্ষেত্রে কতগুলো বিষয় শর্তযুক্ত:

১ - এটি অসিয়তকারীর মৃত্যুর পর কার্যকর হওয়া: যদি তা মৃত্যুর পূর্বে হয়, তবে তা হেবা (দান) হিসেবে গণ্য হবে, অসিয়ত নয়।

২ - এটি মালিকানা হস্তান্তরের যোগ্য হওয়া: সুতরাং যদি এমন কোনো কিছুর অসিয়ত করা হয় যার মালিকানা অসিয়তগ্রহীতার নিকট থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়, অথবা এমন কিছুর অসিয়ত করা হয় যা সে ভবিষ্যতে মালিক হবে কিন্তু মালিক হওয়ার পূর্বেই মারা যায়, তবে সেই অসিয়ত সহিহ হবে না। কিন্তু যদি সে এমন কোনো কিছুর অসিয়ত করে যা হস্তান্তরে সে অক্ষম, তবে সেই অসিয়ত সহিহ হবে এবং অসিয়তগ্রহীতা তা অর্জনের চেষ্টা করার অধিকার রাখবে।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল মালিক বিতাবউয়িবিত তামহিদ আলা মুয়াত্তায়ে মালিক (৮/ ৩৮৫)।

(২) আল-কাফি (৪/ ১৩), আল-ফুরু, ইবনে মুফলিহ (পৃষ্ঠা: ১১৬৫), রওদাতুত তালিবিন (৫/ ১০২), হাশিয়াতুল জামাল আলা শারহিল মানহাজ (৫/ ৫৮৬), আয-যাখিরা লিল কারাফি (৭/ ১৪)।

(৩) দেখুন আল-ফুরু (পৃষ্ঠা: ১১৬৯), আন-নববীর রওদাহ (৫/ ১১১), কাশশাফুল কিনা (৩/ ২১৫৩)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ৩১)
3 - أن يكون الموصى به مباحاً: فإن كان الموصى به غير مباح الانتفاع به فإنه لا يجوز للموصى له تنفيذه، كما لو أوصى فلان بالتبرع بالمجلات الخليعة المفسدة للدين والدنيا.

 

‌‌رابعا: الموصَى إليه (الوصي):

تعريفه: هو المأمور بالتصرف في الوصية بعد الموت وهو من يسمى بالوكيل على الوصية، أو الوصي على الوصية وغيرها.

الشروط المعتبرة فيه (1):

1 - التكليف: أي كونه مكلفا أي مسلماً بالغاً عاقلاً.

2 - الرشد: والمراد به إحسان التصرف أي كونه ممن يحسن التصرف فيما ينفعه وينفع غيره.

3 - العدالة: فإن كان مخروم العدالة فلا تصح نيابته عن الموصي.

 

‌‌تنبيهات على الوَصِي:

الأول: يتم تحديد التصرف من قبل الموصَى إليه بما أُوصي إليه فقط، فإذا أوصَى إليه أن ينظر في المال فليس له أن يزوج البنات مثلا، وكذا إذا أوصَى إليه بأن ينظر في الوقف الفلاني فلا يحق له أن ينظر في غيره.

الثاني: فيمن يكون وصياً من قبل نفسه للضرورة:

صورة هذا أن الميت لم يوصه بشيء لكن هو الذي تولى مال الميت بعد

--------------------------------------------

(1) كشاف القناع (3/ 2178).
৩ - অসিয়তকৃত বস্তু বৈধ হওয়া: যদি অসিয়তকৃত বস্তুটি এমন হয় যার ব্যবহার বৈধ নয়, তবে অসিয়ত পালনকারীর জন্য তা কার্যকর করা জায়েজ হবে না; যেমন কেউ যদি দ্বীন ও দুনিয়া বিধ্বংসী অশ্লীল ম্যাগাজিন দান করার অসিয়ত করে।

 

‌‌চতুর্থ: আল-মুসা ইলাইহি (অসিয়ত তদারককারী):

সংজ্ঞা: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যাকে মৃত্যুর পর অসিয়ত কার্যকর করার আদেশ প্রদান করা হয়েছে। তাকে অসিয়তের উকিল অথবা অসিয়তের ওয়াসি বা তদারককারী ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়।

তার মধ্যে বিবেচ্য শর্তাবলি (১):

১ - তাকলিফ (শরয়ি দায়িত্বভার অর্পণ): অর্থাৎ তাকে মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ হতে হবে, তথা মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবেকসম্পন্ন হওয়া।

২ - রুশদ (বিচক্ষণতা): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সুন্দরভাবে বিষয়াদি পরিচালনার ক্ষমতা; অর্থাৎ তিনি এমন ব্যক্তি হবেন যিনি নিজের এবং অন্যের উপকারে আসে এমন বিষয়ে সুন্দরভাবে কাজ পরিচালনা করতে সক্ষম।

৩ - আদালত (ন্যায়পরায়ণতা): যদি তার ন্যায়পরায়ণতা ক্ষুণ্ণ হয়, তবে অসিয়তকারীর পক্ষ থেকে তার প্রতিনিধিত্ব করা শুদ্ধ হবে না।

 

‌‌ওয়াসি বা অসিয়ত তদারককারী সংক্রান্ত জ্ঞাতব্য:

প্রথম: অসিয়ত তদারককারীর কর্মকাণ্ডের পরিধি কেবল তাকে প্রদত্ত অসিয়তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। যেমন—যদি তাকে সম্পদ দেখাশোনার অসিয়ত করা হয়, তবে তার জন্য কন্যাদের বিবাহ দেয়ার অধিকার থাকবে না। একইভাবে, যদি তাকে নির্দিষ্ট কোনো ওয়াকফ তদারকির অসিয়ত করা হয়, তবে অন্য কোনো বিষয় তদারকি করার অধিকার তার থাকবে না।

দ্বিতীয়: বিশেষ প্রয়োজনে যে ব্যক্তি স্বপ্রণোদিত হয়ে অসিয়ত তদারককারী হন:

এর উদাহরণ হলো—মৃত ব্যক্তি তাকে কোনো কিছুর অসিয়ত করেননি, কিন্তু তিনিই মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির সম্পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) কাশশাফুল কিনা (৩/ ২১৭৮)।
(খণ্ড: ১) লামহাতুন মুহিম্মাতুন ফিল অসিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ৩২)
موته لأجل الضرورة من خوف إتلاف المال، أو ضياعه بعدم معرفة وجوه التصرف فيه، فيجعل نفسه وصياً لأجل المصلحة فيجوز إن توفرت فيه شروط الوصي (التكليف، والرشد، والعدالة).

الثالث: لا يجوز للموصى إليه عزل نفسه إذا في عزله ضرر على الوصية، كأن يعرف ظلم الحاكم وعدم مبالاته بأوقاف المسلمين ووصاياهم، فيخاف أن يُسند الوصية إلى غير أهل (1).

 

‌‌خامسا: الصيغة:

وهي الألفاظ في الوصية.

لا يشترط في الصيغة التي تنعقد بها الوصية ألفاظ مخصوصة، فتكون بكل لفظ يدل عليها سواء كان لفظا صريحا كقول الموصي أوصيت لفلان بكذا، ونحوه، أو لفظاً غير صريح يفهم منه الوصية بالقرينة كقول الموصِي أعطوا كذا لفلان بعد موتي.

قال الشيخ محمد بن محمد مختار الشنقيطي (2): «قوله: وصَّيت بعشرة آلاف لفلان، فهذا لفظ صريح، ويعتبر إيجاباً واضحاً في الدلالة ليس فيه أي احتمال. والألفاظ الضمنية التي تدل على الوصية ضمناً ما جرى به العرف من الألفاظ المعروفة، كقوله: أعطوا فلانا من ثلثي كذا وكذا، فنعتبرها وصية، رغم أنه ما قال: وصية مني، بل قال: أعطوا فلانا، لكن (أَعطوا) تدل ضمناً

--------------------------------------------

(1) الوصية للشيخ صالح بن عبد الرحمن الأطرم (ص: 135)، وشرح الوقاية للمحبوبي الحنفي (2/ 210 - 212)، وكشاف القناع (3/ 135).

(2) في شرحه لزاد المستنقع (11/ 103).
মৃত্যুর কারণে সম্পদের ক্ষতি হওয়ার ভয়ে, অথবা এর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি না জানার ফলে সম্পদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় প্রয়োজনে তিনি নিজেকে অসিয়তের নির্বাহক (ওয়াসি) নিযুক্ত করেন; সুতরাং যদি তার মধ্যে অসিয়তের নির্বাহক হওয়ার শর্তাবলি (শরয়ি দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা, বিচক্ষণতা এবং ন্যায়পরায়ণতা) বিদ্যমান থাকে, তবে তা বৈধ হবে।

তৃতীয়: যদি অসিয়তের নির্বাহক (ওয়াসি) কর্তৃক পদত্যাগ করার ফলে অসিয়তের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে তার জন্য নিজেকে পদচ্যুত করা বৈধ নয়। যেমন, তিনি যদি শাসকের জুলুম এবং মুসলিমদের ওয়াকফ ও অসিয়তের প্রতি তার উদাসীনতা সম্পর্কে জানেন, তবে তিনি আশঙ্কা করতে পারেন যে, অসিয়তটি কোনো অযোগ্য ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত করা হবে (১)।

 

‌‌পঞ্চম: সিগাহ (বাক্য বা গঠন):

এটি হলো অসিয়তের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দাবলি।

যে সিগাহর মাধ্যমে অসিয়ত সম্পন্ন হয়, তাতে বিশেষ কোনো শব্দ থাকা শর্ত নয়। বরং অসিয়তের অর্থ প্রকাশ করে এমন যেকোনো শব্দের মাধ্যমেই তা সম্পন্ন হতে পারে; চাই তা স্পষ্ট শব্দ হোক—যেমন অসিয়তকারীর এই বলা যে, 'আমি অমুকের জন্য এই পরিমাণ জিনিসের অসিয়ত করলাম' বা এই জাতীয় কিছু—অথবা অস্পষ্ট শব্দ হোক যা প্রাসঙ্গিক প্রমাণের মাধ্যমে অসিয়ত হিসেবে বোঝা যায়—যেমন অসিয়তকারীর এই বলা যে, 'আমার মৃত্যুর পর অমুককে এই জিনিসটি দিও'।

শায়খ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ মুখতার আশ-শানকীতি (২) বলেন: «তার এই উক্তি: 'আমি অমুকের জন্য দশ হাজার (মুদ্রা) অসিয়ত করলাম'—এটি একটি স্পষ্ট শব্দ এবং এটি অর্থের দিক থেকে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব হিসেবে বিবেচিত, যাতে অন্য কোনো সম্ভাবনা নেই। আর যেসব পরোক্ষ শব্দ পরোক্ষভাবে অসিয়তের অর্থ প্রকাশ করে, তা হলো প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী ব্যবহৃত পরিচিত শব্দাবলি; যেমন তার এই বলা: 'আমার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে অমুককে এই পরিমাণ দাও'। আমরা একে অসিয়ত হিসেবে গণ্য করব, যদিও তিনি সরাসরি বলেননি যে 'এটি আমার পক্ষ থেকে অসিয়ত', বরং তিনি বলেছেন 'অমুককে দাও'। কিন্তু 'দাও' শব্দটি পরোক্ষভাবে নির্দেশ করে...

--------------------------------------------

(১) শায়খ সালিহ বিন আবদুর রহমান আল-আতরাম রচিত আল-অসিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৩৫), আল-মাহবুবি আল-হানাফি রচিত শারহুল বিকায়াহ (২/ ২১০ - ২১২), এবং কাশশাফুল কিনা' (৩/ ১৩৫)।

(২) জাদুল মুসতাকনি'-এর ব্যাখ্যা গ্রন্থে (১১/ ১০৩)।