(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: -)
مصطلحات أئمة الحديث الخاصة ويليه القرائن الموصلة إلى فهم مقاصدهم في الجرح والتعديل القسم: علوم الحديث
الكتاب: مصطلحات أئمة الحديث الخاصة ويليه القرائن الموصلة إلى فهم مقاصدهم في الجرح والتعديل
المؤلف: إبراهيم بن عبد الله بن عبد الرحمن المديهش
الطبعة: الأولى، 1428 هـ
عدد الصفحات: 82
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 جُمادَى الأولى 1440
হাদিস ইমামগণের বিশেষ পরিভাষাসমূহ (مصطلحات) এবং এর পরবর্তী অংশ সমালোচনা (جرح) ও নির্ভরযোগ্যতা বর্ণনা (تعديل)-এ তাঁদের উদ্দেশ্য অনুধাবনের সহায়ক সূত্রসমূহ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
বই: হাদিস ইমামগণের বিশেষ পরিভাষাসমূহ (مصطلحات) এবং এর পরবর্তী অংশ সমালোচনা (جرح) ও নির্ভরযোগ্যতা বর্ণনা (تعديل)-এ তাঁদের উদ্দেশ্য অনুধাবনের সহায়ক সূত্রসমূহ
লেখক: ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-মদাইহিশ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৮ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮২
[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ জুমাদাল উলা ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ১)
مُصْطَلَحَاتُ الأَئِمَّةِ الخَاصّة
ويليها
القَرَائِنُ المُوْصِلَةُ
إِلَى فَهْمِ
مَقَاصِدِهم في عِبَاراتِ الجَرْحِ والتَّعْدِيل
كتبه
إبراهيم بن عبد الله بن عبد الرحمن المديهش
ইমামগণের বিশেষ পরিভাষাসমূহ
এবং এর পরবর্তীতে রয়েছে
সহায়ক সূত্রাবলি
উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে
সমালোচনা (الجرح) ও নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (التعديل)-এর অভিব্যক্তিতে তাঁদের উদ্দেশ্যসমূহ
লিখেছেন
ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-মুদাইহিশ
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين
أما بعد
فإني لما التحقتُ بالدراسة المنهجية، لمرحلة الماجستير، في «قسم السنة وعلومها» في جامعة الإمام محمد بن سعود، وكان من المتطلبات العُرفية للدراسة، توزيع مباحث المنهج في أغلب المواد على الدارسين، وقع عليَّ بحثان (المصطلحات الخاصة لأئمة الحديث) و (القرائن الموصلة إلى فهم مقاصدهم في عبارات الجرح والتعديل)، ولم أجد مَن أفرد رسالة في هذين
المبحثين ــ كما سيأتي بيانه ــ فكتبتهما جمعاً وترتيباً، لا دراسةً وتحريراً؛ ولا يخفى على المختصين أن بيان مصطلح لإمام واحد، يتطلب استقراءً شاملاً، ثم فحصاً دقيقاً؛ لذا تجدُ رسائل مفردة في بيان مصطلح واحد.
وحسبي هنا جمعُ الأقوال وتقريبها، مع الإحالة الكافية للمراجع، عند الرغبة في الإستزادة.
قال علي بن عبدالقادر الحسيني الطبري ت 1070 هـ: "من المستحسن عند أهل العلم شرعاً وعقلاً، جمع المتفرق في محل واحد، ليكون أسهل عند المراجعة، وأقرب للتناول، فقد تشتبه مظنات المطلوب، ولو على العالم مثلاً، إذ قد تُذكر مسألة في غير مظنتها، ويكون هناك قيد سابق أو لاحق ملحوظ.
فقاصد الجمع غالباً ما يُمعن النظرَ فيما يريد جمعَه، فيتبعه من مظانه، وينظر إلى سوابق ولواحق ما يتعلق به، وقد يُلحق به ما هو من مناسباته، فتحصل لناظره فوائد:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীর ওপর।
অতঃপর,
আমি যখন ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের 'সুন্নাহ ও তার জ্ঞানসমূহ' বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হই, এবং অধ্যায়নের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অধিকাংশ বিষয়ের পাঠ্যসূচির বিভিন্ন অংশ শিক্ষার্থীদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছিল, তখন আমার ভাগে দুটি গবেষণার বিষয় পড়েছিল: (হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণের বিশেষ পরিভাষাসমূহ) এবং (জারহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) তথা বর্ণনাকারীর সমালোচনা ও প্রশংসার শব্দাবলিতে তাঁদের উদ্দেশ্যসমূহ অনুধাবনে সহায়ক আলামতসমূহ)। আমি এই দুটি বিষয়ে একক কোনো গ্রন্থ খুঁজে পাইনি—যেমনটি সামনে বিস্তারিত আলোচিত হবে—তাই আমি গবেষণামূলক বিশ্লেষণ ও সম্পাদনার পরিবর্তে কেবল সংকলন ও বিন্যাসের লক্ষ্যে এগুলো লিখেছি। আর বিশেষজ্ঞদের কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, কেবল একজন ইমামের ব্যবহৃত কোনো পরিভাষা (مصطلح) ব্যাখ্যা করার জন্য ব্যাপক অনুসন্ধান (استقراء) এবং সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হয়; একারণেই কেবল একটি পরিভাষা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও পৃথক অনেক গ্রন্থ দেখতে পাওয়া যায়।
এখানে আমার কাজ হলো বক্তব্যগুলো সংকলন ও সহজবোধ্য করা এবং অধিক জানার আগ্রহীদের জন্য পর্যাপ্ত তথ্যসূত্র প্রদান করা।
আলী ইবনে আব্দুল কাদির আল-হুসাইনি আত-তাবারী (মৃত্যু ১০৭০ হি.) বলেন: "শরীয়ত ও যুক্তির বিচারে জ্ঞানীদের নিকট এটি একটি প্রশংসনীয় কাজ যে, বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে এক স্থানে একত্রিত করা, যাতে পর্যালোচনার সময় তা সহজতর হয় এবং তা আয়ত্ত করা নিকটতর হয়। কেননা প্রার্থিত বিষয়ের উৎসস্থলগুলো অনেক সময় অস্পষ্ট হতে পারে, এমনকি একজন আলেমের ক্ষেত্রেও। কারণ কোনো একটি মাসআলা এমন স্থানে উল্লেখ করা হতে পারে যেখানে তা সাধারণত থাকার কথা নয়, এবং সেখানে আগের বা পরের কোনো লক্ষণীয় শর্ত (قيد) থাকতে পারে।
সংকলনের সংকল্পকারী সাধারণত যা সংকলন করতে চান সে বিষয়ে গভীর দৃষ্টিপাত করেন, তিনি সম্ভাব্য উৎসস্থলগুলোতে এর অনুসন্ধান করেন এবং এর পূর্বাপর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করেন। অনেক সময় তিনি এর সাথে প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলোও যুক্ত করেন, ফলে এর পাঠকের জন্য প্রভূত উপকার সাধিত হয়:
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ৬)
الأولى: الاستغناء عن التتبع.
الثانية: وقوفه على المقصود في زمن يسير.
الثالثة: الاطلاع على أمر زائد على مطلوبه، مناسب له.
لذا ترى العلماء في كل فن، يفردون أبواباً من العلم في مؤلفات مخصوصة ....... والجمع مختلف المراتب تقدماً وتأخراً" (1)
وهو ــ أعني الجمع والترتيب ــ من مقاصد التأليف الثمانية، التي لاينبغي لعاقل أن يؤلف في غيرها (2)
قال الكاساني: " الغرض الأصلي والمقصود الكلي من التصنيف في كل فن من فنون العلم، هو تيسير سبيل الوصول إلى المطلوب على الطالبين، وتقريبه إلى أذهان المقتبسين " (3)
ومن المتفق عليه عند أهل العلم، والعقلاء بعامّه؛ أن لايُخرج المرءُ مؤلَّفه إلا بعد تمحيصه وتحريره، وتكرير النظرِ فيه، وعرضه على العلماء، واجتلاب النصيحة له،
آخذاً في الاعتبار الحكمة المشهورة: " لايزال المرءُ في فسحةٍ من عقلِه، مالم يقل شعراً أو يصنِّف كتاباً" (4)
--------------------------------------------
প্রথমত: অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার (التتبع) প্রয়োজন থেকে মুক্তি পাওয়া।
দ্বিতীয়ত: স্বল্প সময়ের মধ্যে উদ্দেশ্য পর্যন্ত পৌঁছানো।
তৃতীয়ত: কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের বাইরেও তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ অতিরিক্ত কিছু সম্পর্কে অবগত হওয়া।
এজন্য আপনি প্রতিটি বিদ্যার পণ্ডিতদের দেখবেন যে, তাঁরা নির্দিষ্ট গ্রন্থসমূহে ইলমের বিভিন্ন অধ্যায়কে স্বতন্ত্রভাবে বর্ণনা করেন... আর সংকলনের (الجمع) স্তরসমূহ অগ্রগণ্যতা ও উত্তরকালীনতার বিচারে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।" (১)
আর এটি—অর্থাৎ সংকলন (الجمع) ও বিন্যাস (الترتيب)—রচনার আটটি উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত, যার বাইরে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য গ্রন্থ রচনা করা সমীচীন নয়। (২)
কাসানি বলেন: "জ্ঞানের প্রতিটি শাখায় গ্রন্থ রচনার মূল উদ্দেশ্য এবং সামষ্টিক লক্ষ্য হলো জ্ঞানান্বেষীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে পৌঁছানোর পথ সহজ করা এবং জ্ঞান আহরণকারীদের মেধার কাছাকাছি করে দেওয়া।" (৩)
আলেম সমাজ এবং সাধারণ বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের নিকট এটি সর্বসম্মত বিষয় যে, কোনো ব্যক্তি তার পাণ্ডুলিপিকে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই (تمحيص), সংশোধন (تحرير), বারবার পর্যবেক্ষণ এবং আলেমদের নিকট পেশ করে তাঁদের উপদেশ গ্রহণ করার আগে যেন তা প্রকাশ না করে,
এই বিখ্যাত হিকমতটি বিবেচনায় রাখা উচিত: "মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত তার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশস্ততার মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না সে কোনো কবিতা বলে অথবা কোনো গ্রন্থ রচনা করে।" (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ৭)
وهذا أمرٌ مُوقِنٌ به، قائمٌ عليه، سوى هذا البحث؛ لسببين اثنين:
1. أن البحث كما أشرتُ إليه، ليس فيه ترجيحٌ لرأي، ولاتحقيقٌ لمصطلح، حتى أُنظرهُ للمراجعة والتحقيق. ومعلوم مابين يدي السنة المنهجية، من خِطةٍ أو خِطط ــ يسّر الله الأمور ــ ثم بحوث أكاديمية، تحول بيني وبين النظر في هذا البحث.
2. لم أقف على مَن جمع، على نحوِ ما هو بين يديك.
لهذا أخرجتُ هذا البحث، وأظني قد خرجتُ من تبعةِ النقد، وسلسلة التعقب، ومع ذلك أتمنى متتبعاً يعقبه بإضافه وتقريب، وتعقبٍ لأصحاب النصوص المنقولة، فالعلم رحم بين أهله ........
এটি একটি সুনিশ্চিত বিষয় এবং এর ওপরই ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত, তবে এই গবেষণার বিষয়টি ভিন্ন; আর তা দুটি কারণে:
1. আমি যেমনটি ইঙ্গিত করেছি, এই গবেষণায় কোনো মতের প্রাধান্য প্রদান (ترجيح) নেই এবং কোনো পরিভাষার (مصطلح) তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ (تحقيق) নেই, যাতে আমি একে পুনরায় পর্যালোচনা ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের (تحقيق) জন্য বিবেচনা করতাম। আর সুশৃঙ্খল সুন্নাহ সংক্রান্ত আমার হাতে থাকা কর্মপরিকল্পনাগুলো—আল্লাহ সহজ করুন—এবং একাডেমিক গবেষণাগুলোর কথা সবারই জানা, যা মূলত আমাকে এই গবেষণার দিকে পুনরায় নজর দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
2. আপনার সামনে বর্তমানে যা উপস্থিত আছে, সেই আদলে অন্য কেউ তা সংগ্রহ করেছেন বলে আমার নজরে পড়েনি।
এ কারণেই আমি এই গবেষণাটি প্রকাশ করেছি এবং আমার ধারণা যে আমি সমালোচনার (نقد) দায় এবং ধারাবাহিক পর্যালোচনার (تعقب) ক্ষেত্র থেকে মুক্ত হতে পেরেছি। তা সত্ত্বেও আমি এমন একজন উত্তরসূরি গবেষকের প্রত্যাশা করি, যিনি এর সাথে নতুন কিছু সংযোজন করবেন, বিষয়টিকে আরও সহজবোধ্য করবেন এবং উদ্ধৃত পাঠ্যগুলোর মূল লেখকদের অনুসন্ধান (تعقب) করবেন; কারণ জ্ঞান তার ধারকদের মধ্যে একটি আত্মিক আত্মীয়তার বন্ধন স্বরূপ...
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ৮)
-
الدراسات السابقة:وقفتُ ــ بعد البحث ــ على مجموعةٍ من الكتب الباحثة، في مصطلحات أئمة الحديث، سواءٌ منها ما كان في تحديد مصطلحات الفن، أو مصطلحات الجرح والتعديل، ومنهم من جمعهما. وهي كما يلي:
1) شفاء العليل بألفاظ وقواعد الجرح والتعديل. لأبي الحسن مصطفى بن إسماعيل السليماني المأربي. طبع منه جزء واحد. ط. ابن تيمية القاهرة.
2) معجم مصطلحات الحديث ولطائف الأسانيد. د. محمد ضياء الرحمن الأعظمي. ط. أضواء السلف. ط. الثانية 1425 هـ.
3) معجم مصطلحات توثيق الحديث. د. علي زوين ط. عالم الكتب 1407 هـ.
4) الشرح والتعليل لألفاظ الجرح والتعديل. يوسف محمد صديق ط. ابن تيمية في الكويت. 1410 هـ.
5) معجم المصطلحات الحديثية. نور الدين عتر ط. جامعة دمشق 1396 هـ
6) معجم علوم الحديث النبوي. د. عبد الرحمن الخميسي ط. الأندلس وابن حزم 1421 هـ.
7) شرح ألفاظ التجريح النادرة أو قليلة الاستعمال. د. سعدي الهاشمي.
8) شرح ألفاظ التوثيق والتعديل النادرة أو قليلة الاستعمال. د. سعدي الهاشمي ط. العلوم والحكم، المدينة النبوية 1413 هـ.
9) مصطلحات الجرح والتعديل المتعارضة. د. جمال أسطيري ط. في
-
পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:অনুসন্ধানের পর আমি হাদিসের ইমামগণের পরিভাষা (مصطلحات) সংক্রান্ত একগুচ্ছ গ্রন্থ সম্পর্কে অবগত হয়েছি; চাই তা শাস্ত্রীয় পরিভাষা (مصطلحات الفن) নির্ধারণ বিষয়ক হোক, কিংবা জারহ (الجرح) ও তাদিল (التعديل)-এর পরিভাষা সংক্রান্ত হোক; আর তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই উভয়কে একত্রে সংকলন করেছেন। সেগুলো নিম্নরূপ:
১) শিফা আল-আলিল বি আলফাজ ওয়া কাওয়াইদ আল-জারহ ওয়া আল-তাদিল। লেখক: আবু আল-হাসান মুস্তফা বিন ইসমাইল আস-সুলাইমানি আল-মারিবি। এর কেবল একটি খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশনা: ইবনে তাইমিয়্যাহ, কায়রো।
২) মুজামু মুসতালাহাতিল হাদিস ওয়া লাতাইফুল আসানিদ। ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান আজমি। প্রকাশনা: আদওয়াউস সালাফ। দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪২৫ হিজরি।
৩) মুজামু মুসতালাহাতি তাওসিকিল হাদিস। ড. আলি জুওয়াইন। প্রকাশনা: আলমুল কুতুব ১৪০৭ হিজরি।
৪) আশ-শারহু ওয়াত তা'লিল লি আলফাজিল জারহি ওয়াত তাদিল। ইউসুফ মুহাম্মদ সিদ্দিক। প্রকাশনা: ইবনে তাইমিয়্যাহ, কুয়েত। ১৪১০ হিজরি।
৫) মুজামুল মুসতালাহাতিল হাদিসিয়্যাহ। নুর উদ্দিন ইতর। প্রকাশনা: দামেশক বিশ্ববিদ্যালয় ১৩৯৬ হিজরি।
৬) মুজামু উলুমিল হাদিস আন-নাবাউয়ি। ড. আবদুর রহমান আল-খামিসি। প্রকাশনা: আল-আন্দালুস ও ইবনে হাজম ১৪২১ হিজরি।
৭) শারহু আলফাজিত তাজরিহ আন-নাদিরাহ আও কালিলতিল ইসতিমাল। ড. সাদি আল-হাশেমি।
৮) শারহু আলফাজিত তাওসিক ওয়াত তাদিল আন-নাদিরাহ আও কালিলতিল ইসতিমাল। ড. সাদি আল-হাশেমি। প্রকাশনা: আল-উলুম ওয়াল হিকাম, মদিনা মুনাওয়ারা ১৪১৩ হিজরি।
৯) মুসতালাহাতুল জারহি ওয়াত তাদিল আল-মুতায়ারিদাহ। ড. জামাল আসতিরি। প্রকাশনা: ⎯
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ৯)
مجلدين ط. أضواء السلف 1425 هـ.
10) ألفاظ وعبارات الجرح والتعديل بين الإفراد والتكرير والتركيب ودلالة كل منها على حال الراوي والمروي. د. أحمد معبد عبد الكريم ط. في مجلد أضواء السلف 1425 هـ.
وقفت على هذه الكتب في المصطلحات، وعلى المراجع الأخرى في علم الجرح والتعديل، ودراسة الأسانيد، مما تراه في حواشي البحث.
وللأمانة أقول: أغلب المراجع الأصلية في كتب الرجال كالتاريخ والجرح والسؤلات
… وغيرها. وكذا الميزان واللسان والتهذيب، مما ذُكر منها مثلاً لقاعدة أو فائدة؛ نقلته بواسطة الكتب الحديثة، وغالباً ما أشير إلى ذلك، ولم أسلك هذه الطريقة - عَلِمَ اللهُ - إلا لضيق الوقت ومزاحمة العمل. (1)
--------------------------------------------
দুই খণ্ডে, আদওয়াউস সালাফ প্রকাশনী, ১৪২৫ হিজরি।
১০) জরাহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل)-এর শব্দ ও পরিভাষা: একক, পুনরাবৃত্তি ও যৌগিক ব্যবহার এবং বর্ণনাকারী (الراوي) ও বর্ণিত বিষয় (المروي)-এর অবস্থার ওপর প্রতিটির নির্দেশক গুরুত্ব। ড. আহমাদ মা'বাদ আব্দুল কারিম। আদওয়াউস সালাফ প্রকাশনী থেকে এক খণ্ডে মুদ্রিত, ১৪২৫ হিজরি।
আমি পরিভাষা সংক্রান্ত এই গ্রন্থসমূহ এবং জরাহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্র ও সনদসমূহ (الأسانيد) বিশ্লেষণ বিষয়ক অন্যান্য তথ্যসূত্রগুলো পর্যালোচনা করেছি, যা এই গবেষণার টীকাসমূহে দৃষ্টগোচর হবে।
সততার খাতিরে আমি বলছি: বর্ণনাকারী (الرجال) বিষয়ক গ্রন্থের অধিকাংশ মূল উৎস যেমন আত-তারিখ, আল-জারহ এবং আস-সুয়ালাত
… ইত্যাদি। এবং একইভাবে আল-মিজান, আল-লিসান ও আত-তাহজিব থেকে কোনো মূলনীতি বা উপকারের উদাহরণ হিসেবে যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে; তা আমি আধুনিক গ্রন্থসমূহের মাধ্যমেই উদ্ধৃত করেছি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি সেদিকে ইঙ্গিত দিয়েছি। আল্লাহ জানেন, সময়ের স্বল্পতা এবং কাজের চাপের কারণেই আমি কেবল এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছি। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ১০)
ثم إلى بيان فصول البحث:1) المقدمة: وفيها الدراسات السابقة في المصطلحات.
2) التمهيد: وفيه مبحثان:
1) عظم مكانة الأئمة رحمهم الله.
2) فوائد قبل إيراد القرائن.
3) الفصل الأول: وفيه مبحثان:
1) أهمية معرفة مصطلحات الأئمة.
2) من مصطلحات الأئمة الخاصة.
4) الفصل الثاني: القرائن الموصلة إلى فهم مقاصد الأئمة في عبارات الجرح والتعديل.
5) الخاتمة: وفيها: أهم النتائج.
والله تعالى أعلم، وصلى الله على محمد وآله وصحبه أجمعين.
অতঃপর গবেষণার অধ্যায়সমূহের বিবরণ:১) ভূমিকা (المقدمة): এতে পরিভাষা (المصطلحات) সংক্রান্ত পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ রয়েছে।
২) প্রারম্ভিকা (التمهيد): এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
১) ইমামগণের (আল্লাহ তাঁদের ওপর দয়া করুন) সুউচ্চ মর্যাদা।
২) নির্দেশকসমূহ (القرائن) উপস্থাপনের পূর্ববর্তী কিছু জ্ঞাতব্য বিষয়।
৩) প্রথম অধ্যায়: এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
১) ইমামগণের পরিভাষা (المصطلحات) জানার গুরুত্ব।
২) ইমামগণের বিশেষ কিছু পরিভাষা (المصطلحات) প্রসঙ্গে।
৪) দ্বিতীয় অধ্যায়: জারহ ও তা'দীল বা সমালোচনা ও মূল্যায়ন (الجرح والتعديل)-এর শব্দাবলীতে ইমামগণের উদ্দেশ্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে সহায়ক নির্দেশকসমূহ (القرائن)।
৫) উপসংহার (الخاتمة): এতে রয়েছে: প্রধান ফলাফলসমূহ।
আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক অবগত। আর আল্লাহ সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীদের ওপর।
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ১১)
التمهيد: وفيه مبحثان
المبحث الأول:عِظَمُ مكانة الأئمة رحمهم الله -.
إن من خصائص الأمة المحمدية، وجود الأسانيد (1)، التي جُعلت لمعرفة صحيح الحديث من سقيمه، وأمنة للناس على دينهم.
وقد قيض الله لها رجالاً "من أعظم الناس صدقاً وأمانة وديانة، وأوفرهم عقولاً، وأشدهم تحفظاً وتحرياً للصدق، ومجانبة للكذب، وأن أحداً منهم لا يحابي (2) في ذلك أباه ولا ابنه ولا شيخه ولا صديقه، وأنهم حرروا الرواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم تحريراً لم يبلغه أحدٌ سواهم، لا من الناقلين عن الأنبياء ولا من غير الأنبياء، وهم شاهدوا شيوخهم على هذا الحال وأعظم، وأولئك شاهدوا من فوقهم كذلك وأبلغ، حتى انتهى الأمر إلى مَن أثنى الله عليهم أحسن الثناء، وأخبر برضاه عنهم واختياره لهم، واتخاذه إياهم شهداء على الأمم يوم القيامة" (3).
--------------------------------------------
ভূমিকা: এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে
প্রথম পরিচ্ছেদ:আইম্মায়ে কেরাম (রহিমাহুমুল্লাহ)-এর সুউচ্চ মর্যাদা-।
নিশ্চয়ই উম্মতে মুহাম্মাদীয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সনদসমূহ (الأسانيد) (১)-এর অস্তিত্ব, যা সহিহ (صحيح) হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত (سقيم) থেকে পৃথক করার জন্য এবং মানুষের দ্বীনের নিরাপত্তার মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
আর আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের জন্য এমন কিছু মহান ব্যক্তিকে মনোনীত করেছেন যারা "সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও দ্বীনদারিতে মানুষের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ, প্রজ্ঞায় সর্বাধিক সমৃদ্ধ এবং সত্য সংরক্ষণে ও সত্য অনুসন্ধানে অত্যন্ত কঠোর ও মিথ্যা পরিহারকারী। তাদের কেউ এই ক্ষেত্রে নিজ পিতা, পুত্র, উস্তাদ কিংবা বন্ধুর প্রতিও কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব (محاباة) (২) করতেন না। তারা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বর্ণনাকে এমন সূক্ষ্মভাবে সংকলন ও যাচাই করেছেন যা অন্য কেউ অর্জন করতে সক্ষম হয়নি—চাই তারা নবীদের থেকে বর্ণনাকারী হোক কিংবা অন্য কেউ। তারা তাদের উস্তাদদের এই আদর্শ অবস্থায় এবং এর চেয়েও উচ্চতর গাম্ভীর্যে প্রত্যক্ষ করেছেন, আর সেই উস্তাদগণও তাদের পূর্ববর্তীদের একইভাবে পেয়েছেন। অবশেষে এই ধারা তাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে যাদের প্রশংসা আল্লাহ তাআলা সর্বোত্তম পন্থায় করেছেন এবং তাদের প্রতি নিজ সন্তুষ্টির সংবাদ দিয়েছেন ও তাদের মনোনীত করেছেন এবং কিয়ামতের দিন তাদেরকে সকল উম্মতের ওপর সাক্ষী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومن أنفق " معظم أوقاته وأيامه مشتغلاً بالحديث، والبحث عن سيرة النقلة والرواة؛ وقف على رسوخهم في هذا العلم، وكبير معرفتهم به، وصدق ورعهم في أقوالهم وأفعالهم، وشدة حذرهم من الطغيان والزلل، وما بذلوه من شدة العناية في تمهيد هذا الأمر، والبحث عن أحوال الرواة، والوقوف على صحيح الأخبار وسقيمها، وكانوا بحيث لو قتلوا لم يسامحوا أحداً في كلمةٍ واحدةٍ يتقولها على رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا فعلوا هم بأنفسهم ذلك، وقد نقلوا هذا الدين إلينا كما نُقل إليهم وأدوا كما أُدِّيَ إليهم، وكانوا في صدق العناية والاهتمام بهذا الشأن؛ ما يجل عن الوصف، ويقصر دونه الذكر
… " (1).
وأما عن دقة علمهم، وسعة اطلاعهم، فقد قال ابن رجب رحمه الله: " الحذاق من الحفاظ لكثرة ممارستهم، لهم فهم خاص يفهمون به أن هذا يشبه حديث فلان، ولا يشبه حديث فلان
… " (2).
قال ابن القيم رحمه الله نقلاً عن أبي المظفر السمعاني ت 489 هـ قوله عن تمييز الأحاديث: "
… فأما العلماء بها، فإنهم ينتقدونها انتقاد الجهابذة الدراهم والدنانير، فيميزون زيوفها، ويأخذون خيارها، ولئن دخل في أغمار الرواة مَن وُسِمَ بالغلط في الأحاديث، فلا يروج ذلك على جهابذة أصحاب الحديث وورثة العلماء، حتى إنهم عَدُّوا أغاليط مَن غلط في الإسناد والمتون، بل تراهم يَعُدُّون على كل واحد منهم كم في حديث غلط، وفي كل حرفٍ حَرَّف، وماذا صَحَّف (3)، فإذا لم تَرُج عليهم أغاليط
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি তার "অধিকাংশ সময় ও দিন হাদিস চর্চায় এবং বর্ণনাকারী (النقلة) ও রাবিগণের (الرواة) জীবনী অনুসন্ধানে ব্যয় করেন; তিনি এই বিদ্যায় তাদের দৃঢ়তা, এ বিষয়ে তাদের অগাধ জ্ঞান, তাদের কথা ও কাজে সত্যনিষ্ঠ তাকওয়া এবং সীমালঙ্ঘন ও বিচ্যুতি থেকে তাদের চরম সতর্কতা প্রত্যক্ষ করবেন। এছাড়া এই বিষয়টিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে, রাবিগণের (الرواة) অবস্থা অনুসন্ধান করতে এবং বিশুদ্ধ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) সংবাদসমূহ নিরূপণে তারা যে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তাও তিনি উপলব্ধি করবেন। তারা এমন স্তরের ছিলেন যে, যদি তাদের হত্যাও করা হতো, তবুও তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপ করে বলা একটি শব্দের ব্যাপারেও কাউকে ছাড় দিতেন না, আর তারা নিজেরাও কখনও এমনটি করতেন না। তারা এই দ্বীনকে আমাদের কাছে সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছেন যেভাবে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল এবং সেভাবেই আমানত আদায় করেছেন যেভাবে তাদের কাছে আদায় করা হয়েছিল। এই বিষয়ের প্রতি তাদের যত্ন ও গুরুত্ব প্রদান এতটাই উচ্চ পর্যায়ের ছিল যা বর্ণনাতীত এবং যার মহিমা উল্লেখ করার সাধ্য কারো নেই
… " (১)।
আর তাদের ইলমের সূক্ষ্মতা এবং জ্ঞানের ব্যাপকতা সম্পর্কে ইবনে রজব (রহ.) বলেছেন: "বিজ্ঞ হাফেজগণ (الحفاظ) তাদের অত্যধিক চর্চার কারণে এমন এক বিশেষ প্রজ্ঞা লাভ করেন যার মাধ্যমে তারা বুঝতে পারেন যে, এটি অমুক ব্যক্তির হাদিসের সদৃশ, আর এটি অমুকের হাদিসের সদৃশ নয়
… " (২)।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) আবু মুজাফফর আস-সামআনি (মৃ. ৪৮৯ হি.) থেকে বর্ণনা করে হাদিস যাচাই সংক্রান্ত তার বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন: "
… আর হাদিস বিশারদগণ সেগুলো এমনভাবে যাচাই করেন যেভাবে দক্ষ মুদ্রা বিশারদগণ দিরহাম ও দিনার যাচাই করেন; তারা এগুলোর মধ্য থেকে মেকিগুলো আলাদা করেন এবং উৎকৃষ্টগুলো গ্রহণ করেন। যদি বর্ণনাকারীদের ভিড়ে এমন কেউ অন্তর্ভুক্ত হয় যে হাদিসের ক্ষেত্রে ভুল করার জন্য চিহ্নিত, তবে তা হাদিস বিশারদ (جهابذة أصحاب الحديث) এবং আলেমদের উত্তরসূরিদের কাছে গোপন থাকে না। এমনকি তারা সনদ (الإسناد) ও মতন (المتون) বর্ণনায় ভুলকারীদের ভুলগুলোও গণনা করে রেখেছেন। বরং আপনি দেখবেন তারা তাদের প্রত্যেকের ভুলগুলো গুনে রেখেছেন যে, কে কতটি হাদিসে ভুল করেছে, কোন বর্ণে পরিবর্তন (حرف) করেছে এবং কোথায় শব্দ বিকৃতি (صَحَّف) ঘটিয়েছে (৩)। সুতরাং যদি তাদের নিকট ভুলগুলো গোপন না থাকে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الرواة في الأسانيد والمتون والحروف، فكيف يروج عليهم وضع الزنادقة
…إلى أن ذكر عن حالهم .. أنهم أفنوا أعمارهم في طلب آثار النبي صلى الله عليه وسلم شرقاً وغرباً، براً وبحراً، وارتحل في الحديث الواحد (1) فراسخ، واتهم أباه وأدناه في خبر يرويه عن النبي صلى الله عليه وسلم إذا كان موضع التهمة، ولم يحابه في مقال ولا خطاب؛ غضباً لله وحمية لدينه، ثم ألف الكتب في معرفة المحدثين وأسمائهم وأنسابهم وقدر أعمارهم، وذكر أعصارهم وشمائلهم وأخبارهم، وفصل بين الردئ والجيد، والصحيح والسقيم؛ حباً لله ورسوله وغيرةً على الإسلام والسنة، ثم استعمل آثاره كلها، حتى فيما عدا العبادات، من أكله وطعامه وشرابه ونومه ويقظته وقيامه ..... إلى آخر كلامه (2) رحمه الله.
ومع عظم مكانتهم، وعلو شأنهم، إلا أنهم غير معصومين، فقد يقع من أحدهم الوهم إلا أنه قليل، قال الذهبي رحمه الله: " ونحن لا ندعي العصمة في أئمة الجرح والتعديل، لكن هم أكثر الناس صواباً، وأندرهم خطأً، وأشدهم إنصافاً، وأبعدهم عن التحامل، وإذا اتفقوا على تعديل أو
--------------------------------------------
বর্ণনাকারীগণ (الرواة) সনদসমূহ (الأسانيد), মতনসমূহ (المتون) এবং শব্দের সূক্ষ্ম পার্থক্যের ব্যাপারে এতই সচেতন ছিলেন যে, যিনদিকদের (الزندقة) জালিয়াতি (وضع) কীভাবে তাদের সামনে প্রশ্রয় পেতে পারে?
…তাদের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁরা তাঁদের জীবন অতিবাহিত করেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ও নিদর্শনসমূহ (آثار) অনুসন্ধানে—পূর্বে ও পশ্চিমে, স্থলে ও জলে। একটি একক হাদিসের জন্য তাঁরা মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে বর্ণিত কোনো সংবাদে (خبر) যদি সন্দেহের অবকাশ থাকত, তবে তাঁরা নিজের পিতা বা নিকটাত্মীয়কেও অভিযুক্ত করতে দ্বিধাবোধ করেননি। আল্লাহর প্রতি ক্রোধ এবং তাঁর দ্বীনের প্রতি অগাধ মমতাবোধের কারণে কোনো আলোচনা বা বক্তব্যে তাঁরা কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেননি। এরপর তাঁরা মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) পরিচয়, তাঁদের নাম, বংশধারা, জীবনকাল, যুগ, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং তাঁদের ঘটনাবলি বর্ণনায় অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁরা মন্দ ও উত্তম এবং সহিহ (صحيح) ও ত্রুটিপূর্ণের (سقيم) মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন; যা ছিল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা এবং ইসলাম ও সুন্নাহর প্রতি একনিষ্ঠতার বহিঃপ্রকাশ। এরপর তাঁরা তাঁর সকল সুন্নাহ অনুসরণ করেছেন, এমনকি ইবাদতের বাইরেও; যেমন তাঁর পানাহার, খাদ্য, পানীয়, ঘুম, জাগরণ এবং চলাফেরা সহ সবকিছুতেই... তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত (২) রাহিমাহুল্লাহ।
তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদা ও মহিমা সত্ত্বেও তাঁরা নিষ্পাপ বা ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে (معصومين) ছিলেন না। তাঁদের কারো ক্ষেত্রে কখনও কখনও ভ্রান্তি (وهم) ঘটতে পারত, তবে তা ছিল অত্যন্ত নগণ্য। ইমাম যাহাবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: "আমরা জারহ ও তাদিল বা সমালোচনা ও গুণগানের (الجرح والتعديل) ইমামদের ব্যাপারে অভ্রান্ত হওয়ার দাবি করি না; তবে তাঁরা ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সঠিক বিষয়ের অনুসারী, তাঁদের ভুল হওয়া ছিল অত্যন্ত বিরল, তাঁরা ছিলেন সর্বাপেক্ষা ন্যায়পরায়ণ এবং পক্ষপাতিত্ব থেকে বহু দূরে অবস্থানকারী। আর যখন তাঁরা কোনো বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (تعديل) কিংবা... এর ব্যাপারে একমত হতেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
جرح فتمسك به واعضض عليه بناجذيك، ولا تتجاوزه فتندم، ومن شذ منهم فلا عبرة به، فخل عنك العناء وأعط القوس باريها، فوالله لولا الحفاظ الكبار؛ لخطبت الزنادقة على المنابر، ولئن خطب خاطب من أهل البدع، فإنما هو بسيف الإسلام، وبلسان الشريعة، وبجاه السنة، وبإظهار متابعة ما جاء به رسول الله صلى الله عليه وسلم، فنعوذ بالله من الخذلان" (1).
في عرفهم لا يسمى طالب العلم حافظاً، إلا بعد ضبط (مليون) حديث، ولُقْي مئات الشيوخ، ومُثَافَنَتِهم في الركب، مع كتابة الأجزاء ومدارسة الزملاء.
وفي زماننا مَن قرأ صفحات، ورتل آيات، وأنشد أبياتاً، وأبدى آهاتٍ؛ فالمنبر مكانه، والعلم اختصاصه وشَأْنُهُ، وهو حقيقةً قد شَنَأَه وشَانَه، هو عند العامة كلُّ شيء، وهو حقيقة: لا شيء.
في زماننا يأتي من قرأ متناً في علم المصطلح، ومارس التخريج سُنَيَّاتٍ قليلة؛ ليحاكم الأئمة الأعلام، فهذا أحدهم يقول: ما هكذا تُعَلُّ الأحاديث يا ابن المديني ثم يضع ما شاء الله من علامات التعجب والاستفهام، وآخر يتعقب الإمام عبد الرحمن بن مهدي لأنه أطلق المنكر على الشاذُّ، وآخر يحاكم ابن أبي حاتم في قوله عن إسناد: بأنه منكر تفرد به فلان
… ، وآخر يقول عن مقول ابن أبي حاتم: وحديث عبد الوارث أشبه.
… العلل 2/ 197
يقول: ولا وجه لترجيح إحدى الروايتين على الأخرى
… انظر: تعليق المحققين على مسند أحمد ط. الرسالة 38/ 48.
فإلى الله المشتكى من تطاول الأقزام على الأعلام.
--------------------------------------------
...কোনো সমালোচনা (جرح) করা হয়েছে, তবে তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন এবং তা দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখুন; তা অতিক্রম করবেন না, নতুবা আপনি অনুতপ্ত হবেন। আর তাদের মধ্য থেকে যারা বিচ্যুত হয়েছে তাদের কোনো গুরুত্ব নেই। সুতরাং আপনি নিজের কষ্ট লাঘব করুন এবং ধনুক তার নির্মাতাকে (যোগ্য ব্যক্তি) প্রদান করুন। আল্লাহর কসম, যদি এই মহান হাফেজগণ (الحفاظ) না থাকতেন, তবে জিন্দিকরা (الزنداقة) মিম্বরগুলোতে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিত। আর যদি বিদআতিদের (أهل البدع) মধ্য থেকে কেউ ভাষণ দেয়, তবে তা কেবল ইসলামের তলোয়ার, শরয়ি ভাষা, সুন্নাহর মর্যাদা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণের বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমেই সম্ভব হয়। আমরা আল্লাহর কাছে লাঞ্ছনা ও অসহায়ত্ব থেকে আশ্রয় চাই।" (১)।
তাদের পরিভাষায় একজন জ্ঞানান্বেষীকে (طالب العلم) হাফেজ (حافظ) বলা হয় না, যতক্ষণ না সে (দশ লক্ষ) হাদিস আত্মস্থ করে, শত শত শাইখের (الشيوخ) সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তাদের সান্নিধ্যে হাঁটু গেড়ে বসে শিক্ষা লাভ করে, পাশাপাশি বিভিন্ন জুজ (الأجزاء) রচনা এবং সহপাঠীদের সাথে মুদারাসা (مدارسة) বা পর্যালোচনা করে।
আর আমাদের সময়ে যে ব্যক্তি কয়েক পৃষ্ঠা পড়েছে, কিছু আয়াত তিলাওয়াত করেছে, কিছু পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেছে এবং দীর্ঘশ্বাস ফেলেছে; মিম্বরই তার স্থান এবং ইলমই তার বিশেষত্ব ও বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে সে ইলমের অবমাননা ও কলঙ্ক লেপন করেছে। সাধারণ মানুষের কাছে সে সব কিছু, কিন্তু বাস্তবে সে কিছুই নয়।
আমাদের যুগে এমন লোক আসে যে ইলমে মুসতালাহ-এর (علم المصطلح) কোনো একটি মূলপাঠ (متن) পড়েছে এবং কয়েক বছর হাদিস বিশ্লেষণ ও উৎসের দিকে ফেরার (التخريج) চর্চা করেছে; এরপর সে প্রথিতযশা ইমামদের (الأئمة) বিচার করতে বসে। তাদেরই একজন বলে: "হে ইবনুল মাদিনি! এভাবে হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত (تعل) করা হয় না", এরপর সে আল্লাহ যা চান সেরূপ অনেক বিস্ময়সূচক ও প্রশ্নবোধক চিহ্ন জুড়ে দেয়। অন্যজন ইমাম আব্দুর রহমান ইবনে মাহদির সমালোচনা করে কারণ তিনি শায (الشاذ) হাদিসের ক্ষেত্রে মুনকার (المنكر) শব্দটির প্রয়োগ করেছেন। আরেকজন ইবনে আবি হাতিমের বিচার করতে গিয়ে তাঁর কোনো একটি সনদ (إسناد) সম্পর্কে বলা উক্তির সমালোচনা করে, যেখানে তিনি বলেছেন: "এটি মুনকার (منكر), অমুক ব্যক্তি এতে একক (تفرد) হয়ে গেছে" ... এবং অন্য একজন ইবনে আবি হাতিমের উক্তির প্রেক্ষিতে বলে: "আব্দুল ওয়ারিসের হাদিসটিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ (أشبه)" ... আল-ইলাল ২/১৯৭
সে বলে: "একটিকে অন্য বর্ণনার (الروايتين) ওপর প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়ার কোনো কারণ নেই" ... দেখুন: মুসনাদ আহমাদ (রিসালাহ সংস্করণ) ৩৮/৪৮-এর ওপর মুহাক্কিকদের টীকা।
প্রথিতযশা ইমামদের ওপর বামনদের এই আস্ফালনের অভিযোগ কেবল আল্লাহর কাছেই পেশ করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ورحم الله أبا عمرو بن العلاء ت 154 هـ حيث يقول: (ما نحن فيمن مضى إلا كبقلٍ في أصولِ نخلٍ طوال) (1).
ويقول مجاهد ت 104 هـ رحمه الله: (ذهب العلماء فلم يبق إلا المتعلمون وما المجتهد فيكم اليوم، إلا كاللاعب فيمن كان قبلكم) (2).
ولم يبعد عن الحقيقة د. إبراهيم اللاحم، حينما ذكر بأن عمل المعاصر، هو الموازنة بين كلام الأئمة، وعدم مجاوزته .... (3)
* * *
--------------------------------------------
আল্লাহ আবু আমর ইবনুল আলা (মৃত্যু ১৫৪ হি.)-এর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, তিনি বলেন: "অতীতের মনীষীদের তুলনায় আমরা দীর্ঘকায় খেজুর গাছের গোড়ায় জন্মানো ছোট শাকসবজি ছাড়া আর কিছুই নই" (১)।
মুজাহিদ (মৃত্যু ১০৪ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আলেমগণ চলে গেছেন, ফলে এখন কেবল জ্ঞানান্বেষীরাই অবশিষ্ট আছে। আর আজ তোমাদের মধ্যে যে ইজতিহাদকারী (مجتهد), সে তো তোমাদের পূর্ববর্তীদের তুলনায় কেবল একজন খেলোয়াড় সদৃশ" (২)।
ড. ইবরাহিম আল-লাহিম সত্য থেকে দূরে সরে যাননি যখন তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান সময়ের গবেষকদের কাজ হলো ইমামদের বাণীর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা এবং তা অতিক্রম না করা... (৩)
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الثاني: فوائد قبل إيراد القرائن1) قال الإمام الترمذي رحمه الله: (وقد اختلف الأئمة من أهل العلم، في تضعيف الرجال، كما اختلفوا في سوى ذلك من العلم ..... ثم ذكر أمثلة) (1).
- قال المنذري رحمه الله: (واختلاف المحدثين في الجرح والتعديل، كاختلاف الفقهاء، كل ذلك يقتضي الاجتهاد) (2).
- قال الصنعاني رحمه الله: (قد يختلف كلام إمامين من أئمة الحديث في الراوي الواحد، وفي الحديث الواحد، فيضعف هذا حديثاً، وهذا يصححه، ويرمي هذا رجلاً من الرواة بالجرح، وآخر يعدله؛ وذلك مما يشعر أن التصحيح ونحوه، من مسائل الاجتهاد التي اختلفت فيها الآراء) (3).
2) قال المعلمي رحمه الله: (ينبغي أن يبحث عن معرفة الجارح أو المعدل بمن جرحه أو عدله، فإن أئمة الحديث لا يقتصرون على الكلام فيمن طالت مجالستهم له، وتمكنت معرفتهم به، بل قد يتكلم أحدهم فيمن لقيه مرة واحدة، وسمع منه مجلساً واحداً أو حديثاً واحداً ...... إلى أن قال:
وكان ابن معين إذا لقي في رحلته شيخاً، فسمع منه مجلساً، أو ورد بغداد شيخ فسمع منه مجلساً، فرأى تلك الأحاديث مستقيمة، ثم سئل عن الشيخ؟ وثقه، وقد يتفق أن يكون الشيخ دجالاً، استقبل ابن معين بأحاديث صحيحة،
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নিদর্শনসমূহ উল্লেখ করার পূর্বের কিছু ফায়দা১) ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইলমের অন্যান্য বিষয়ের মতো রাবীদের দুর্বল সাব্যস্ত করার (تضعيف) ক্ষেত্রেও আহলে ইলম ইমামগণ মতভেদ করেছেন... এরপর তিনি কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেছেন।" (১)
- মুনযিরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "জেরাহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) বা রাবীদের সমালোচনা ও সংশাপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের মতপার্থক্য ফকীহগণের মতপার্থক্যের মতোই; এ সব কিছুই ইজতিহাদ দাবি করে।" (২)
- সানিয়ানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "হাদিসের ইমামদের মধ্যে দুইজন ইমামের বক্তব্য একই রাবী এবং একই হাদিসের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে; একজন হয়তো হাদিসটিকে দুর্বল (يضعف) বলেন, আবার অন্যজন সেটিকে সহিহ (يصححه) বলেন। একইভাবে একজন কোনো রাবীকে জেরা বা অযোগ্য (الجرح) সাব্যস্ত করেন, আর অন্যজন তাঁকে নির্ভরযোগ্য (يعدله) বলেন। এটি এই কথাটিই জানান দেয় যে, সহিহ সাব্যস্ত করা (التصحيح) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো ইজতিহাদমূলক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে মতের ভিন্নতা দেখা দেয়।" (৩)
২) মুআল্লিমী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সমালোচনাকারী (الجارح) কিংবা সংশোধনকারী (المعدل) যে রাবী সম্পর্কে সমালোচনা বা প্রশংসা করছেন, তাঁদের উভয়ের মধ্যকার পরিচয় বা সম্পর্কের গভীরতা সম্পর্কে অনুসন্ধান করা উচিত। কেননা হাদিসের ইমামগণ কেবল তাঁদের ব্যাপারেই কথা বলেন না যাদের সাথে দীর্ঘ সাহচর্য ছিল এবং যাদের সম্পর্কে অগাধ জানাশোনা ছিল; বরং কোনো ইমাম এমন কারো সম্পর্কেও মন্তব্য করতে পারেন যার সাথে তাঁর মাত্র একবার দেখা হয়েছে, একটি মাত্র মজলিসে বসা হয়েছে কিংবা কেবল একটি হাদিস শোনা হয়েছে... তিনি আরও বলেন:
ইবনে মাঈন যখন তাঁর সফরকালে কোনো শাইখের সাথে দেখা করতেন এবং তাঁর মজলিস থেকে হাদিস শুনতেন, কিংবা কোনো শাইখ যখন বাগদাদে আসতেন আর তিনি তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতেন, যদি তিনি সেই হাদিসগুলোকে সঠিক দেখতে পেতেন এবং এরপর তাঁকে সেই শাইখ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তবে তিনি তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলতেন। অথচ এমনটিও হতে পারত যে, সেই শাইখ হয়তো একজন বড় প্রতারক (دجالاً), যিনি ইবনে মাঈনের সামনে সহিহ (صحيحة) হাদিসগুলোই পেশ করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ويكون قد خلط قبل ذلك، أو يخلط بعد ذلك.
ذكر ابن الجنيد أنه سأل ابن معين عن محمد بن كثير القرشي الكوفي؟ فقال: ما كان به بأس، فحكى له أحاديث تستنكر، فقال ابن معين: (فإن كان هذا الشيخ روى هذا فهو كذاب، وإلا فإني رأيت حديث الشيخ مستقيماً .... ) (1).
3) مما ينبغي على الدارس لمصطلح أحد الأئمة، أن تكون لديه معرفة تامة في ما ذكره أهل الاصطلاح، من ألفاظ الجرح والتعديل، ومراتبها، فانظر ذلك في: الجرح لابن أبي حاتم 1/ 6، 10، مقدمة ابن الصلاح ط. عائشة بنت الشاطئ ص 307 - 311، فتح المغيث للعراقي ص 171 - 178، فتح المغيث للسخاوي 2/ 108 - 130، المقنع لابن الملقن 1/ 282 - 287، توضيح الأفكار 2/ 261 - 277، تدريب الراوي 1/ 404 - 412، النكت لابن حجر 1/ 482، اليواقيت والدرر للمناوي 2/ 352، مباحث في الجرح والتعديل لقاسم سعد ص 23 - 101، منهج دراسة الأسانيد للعاني ص 39، ضوابط الجرح والتعديل للعبد اللطيف ص 207 ط. العبيكان، الرفع والتكميل ص 132 - 186، المنهج الإسلامي في الجرح والتعديل د. فاروق حمادة ص 399، علم أصول الجرح والتعديل أبو لاوي ص 224 - 269، دراسات في الجرح والتعديل للأعظمي ص 283 - 288، السخاوي وجهوده في الحديث وعلومه د. العماش 2/ 536 - 560 فقد حصر الباحث الألفاظ التي أوردها السخاوي في كتبه وذكر مراتبها عنده، شفاء العليل للسليماني فقد ذكر مراتب التعديل في ص 23 إلى ص 150 ومراتب التجريح ص 151 إلى ص 282 مع ذكره لكثير من الألفاظ وشرحها، التسهيل في علم الجرح والتعديل د. إبراهيم السعيد خليل ص 197.
--------------------------------------------
তিনি হয়তো এর আগে স্মৃতিবিভ্রম (خلط) করেছেন, অথবা এর পরে স্মৃতিবিভ্রম (خلط) করবেন।
ইবনুল জুনায়েদ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইবনে মাঈনকে মুহাম্মদ ইবনে কাসীর আল-কুরাশী আল-কুফী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি (ইবনে মাঈন) উত্তর দিলেন: "তার মধ্যে কোনো সমস্যা ছিল না (ما كان به بأس)"। অতঃপর তাঁর নিকট এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করা হলো যা আপত্তিকর (تستنكر)। তখন ইবনে মাঈন বললেন: "যদি এই শায়খ এটি বর্ণনা করে থাকেন তবে তিনি একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذاب), অন্যথায় আমি এই শায়খের হাদিসকে সঠিক (مستقيماً) হিসেবেই দেখেছি...।" (১)।
৩) কোনো ইমামের ব্যবহৃত পরিভাষা নিয়ে গবেষণাকারীর জন্য এটি আবশ্যক যে, পরিভাষা বিশেষজ্ঞগণ (أهل الاصطلاح) সমালোচনা ও প্রশংসা (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত যে সকল শব্দাবলি এবং সেগুলোর স্তর (مراتب) উল্লেখ করেছেন, সে সম্পর্কে তাঁর পূর্ণ জ্ঞান থাকা। সুতরাং এই বিষয়টি দেখুন: ইবনে আবি হাতিমের আল-জারহ ১/৬, ১০; ইবনুস সালাহ-এর মুকাদ্দিমাহ (আয়েশা বিনতুশ শাতি সম্পাদিত সংস্করণ) পৃষ্ঠা ৩০৭-৩১১; আল-ইরাকির ফাতহুল মুগীস পৃষ্ঠা ১৭১-১৭৮; আস-সাখাবীর ফাতহুল মুগীস ২/১০৮-১৩০; ইবনুল মুলাক্কিনের আল-মুকনি ১/২৮২-২৮৭; তাওদিহুল আফকার ২/২৬১-২৭৭; তাদরীবুর রাবী ১/৪০৪-৪১২; ইবনে হাজারের আন-নুকাত ১/৪৮২; আল-মুনাউয়ীর আল-ইয়াওয়াকীত ওয়াদ-দুরার ২/৩৫২; কাসিম সা'দ-এর মাবাহিস ফীল জারহি ওয়াত তাদীল পৃষ্ঠা ২৩-১০১; আল-আনী-এর মানহাজু দিরাসাতিল আসানীদ পৃষ্ঠা ৩৯; আল-আব্দুল লতিফ-এর দওয়াবিতুল জারহি ওয়াত তাদীল পৃষ্ঠা ২০৭ (উবাইকান সংস্করণ); আর-রাফউ ওয়াত তাকমীল পৃষ্ঠা ১৩২-১৮৬; ড. ফারুক হামাদাহ-এর আল-মানহাজুল ইসলামী ফীল জারহি ওয়াত তাদীল পৃষ্ঠা ৩৯৯; আবু লাওয়ী-এর ইলমু উসূলিল জারহি ওয়াত তাদীল পৃষ্ঠা ২২৪-২৬৯; আল-আজমীর দিরাসাত ফীল জারহি ওয়াত তাদীল পৃষ্ঠা ২৮৩-২৮৮; ড. আল-আম্মাশ-এর আস-সাখাবী ওয়া জুহুদুহু ফিল হাদিসি ওয়া উলুমিহি ২/৫৩৬-৫৬০, কারণ এখানে গবেষক আস-সাখাবী তাঁর কিতাবসমূহে যে সকল শব্দাবলি উল্লেখ করেছেন তা সীমাবদ্ধ করেছেন এবং তাঁর নিকট সেগুলোর স্তরসমূহ বর্ণনা করেছেন; সুলাইমানীর শিফাউল আলীল, যেখানে তিনি ২৩ থেকে ১৫০ পৃষ্ঠায় প্রশংসার স্তরসমূহ (مراتب التعديل) এবং ১৫১ থেকে ২৮২ পৃষ্ঠায় সমালোচনার স্তরসমূহ (مراتب التجريح) আলোচনা করেছেন এবং সেই সাথে অনেক শব্দাবলি ও সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন; ড. ইব্রাহিম সাঈদ খলিল-এর আত-তাসলীল ফী ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল পৃষ্ঠা ১৯৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
4) " ألفاظ الجرح والتعديل تستمد قوتها من منزلة قائلها فهماً واعتدالاً، وكذا من عموم لفظها، فليس قول المتساهل والمتشدد، كقول المعتدل" (1) ، " ومن لم يعرف مذهب الإمام منهم، ومنزلته من التثبت؛ لم يعرف ما تعطيه كلمته" (2)؛ وعليه فيلزم معرفة أحوال المتكلمين في الرجال، من حيث: 1) الشدة والتعنت، 2) التوسط والاعتدال، 3) التساهل.
- فالقسم الأول: ذُكِرَ منهم:
يحيى بن سعيد القطان، ابن معين، أبو حاتم، ابن خراش، " عثمان بن أبي شيبة " (3)، شعبة، النسائي، أبو زرعة، العقيلي.
- والقسم الثاني: ذُكر منهم:
البخاري، مسلم، ابن مهدي، ابن المديني، أحمد، أبو داود، الدارقطني، ابن عدي، أبو زرعة، ابن سعد، الترمذي.
- والقسم الثالث: ذُكر منهم:
العجلي، أحمد بن صالح المصري، الترمذي (4)، ابن حبان، الدارقطني في بعض الأوقات، ابن شاهين، الحاكم، البيهقي (5).
--------------------------------------------
4) "জরাহ ও তাদীল (الجرح والتعديل)-এর শব্দাবলি তাদের বক্তার প্রজ্ঞা ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে শক্তি লাভ করে, পাশাপাশি শব্দের ব্যাপকতার ওপরও তা নির্ভর করে। কেননা শিথিলকারী (المتساهل) এবং কঠোর (المتشدد) ব্যক্তির বক্তব্য মধ্যপন্থী (المعتدل) ব্যক্তির বক্তব্যের মতো নয়" (১), "তাদের মধ্য থেকে যিনি ইমামের মাযহাব (পদ্ধতি) এবং যাচাই-বাছাই (التثبت)-এর ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানেন না, তিনি তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ উপলব্ধি করতে পারবেন না" (২); অতএব, বর্ণনাকারীদের বিষয়ে সমালোচনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক, যেমন: ১) কঠোরতা (الشدة) ও অতি-কঠোরতা (التعنت), ২) ভারসাম্য (التوسط) ও মধ্যপন্থা (الاعتدال), ৩) শিথিলতা (التساهল)।
- প্রথম শ্রেণী: তাঁদের মধ্য থেকে উল্লেখ করা হয়েছে:
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, ইবনে মাঈন, আবু হাতিম, ইবনে খিরাশ, "উসমান ইবনে আবি শাইবাহ" (৩), শু'বাহ, আন-নাসায়ী, আবু যুরআহ, আল-উকায়লী।
- দ্বিতীয় শ্রেণী: তাঁদের মধ্য থেকে উল্লেখ করা হয়েছে:
বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাহদী, ইবনুল মাদীনী, আহমাদ, আবু দাউদ, আদ-দারা কুতনী, ইবনে আদী, আবু যুরআহ, ইবনে সা'দ, তিরমিযী।
- তৃতীয় শ্রেণী: তাঁদের মধ্য থেকে উল্লেখ করা হয়েছে:
আল-ইজলী, আহমাদ ইবনে সালিহ আল-মিসরী, তিরমিযী (৪), ইবনে হিব্বান, কোনো কোনো সময় আদ-দারা কুতনী, ইবনে শাহীন, আল-হাকিম, আল-বায়হাকী (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قال الذهبي في الموقظة: " وقد يكون نَفَس الإمام فيما وافق مذهبه، أو في حال شيخه، ألطف منه فيما كان بخلاف ذلك، والعصمة للأنبياء والصديقين وحُكَّام القسط" (1).
قال المعلمي: (ما اشتهر أن فلاناً من الأئمة مسِّهلٌ، وفلاناً مشدد، ليس على إطلاقه؛ فإن منهم من يسهل تارة، ويشدد تارة أخرى، بحسب أحوال مختلفة، ومعرفة هذا وغيره من صفات الأئمة التي لها أثر في أحكامهم، لا تحصل إلا باستقراء بالغ مع التدبر) (2).
6) ذكر المعلمي رحمه الله من الأمور التي ينبغي مراعاتها عند البحث عن أحوال الرواة:
التأكد من صحة كلمة الجرح أو التعديل، المنسوبة إلى بعض الأئمة قال: " إذا رأى في الترجمة (وثقه فلان) أو (ضعفه فلان) أو (كذبه فلان)، فليبحث عن عبارة فلان، فقد لا يكون قال: (هو ثقة) أو (هو ضعيف) أو (هو كذاب).
ففي مقدمة الفتح في ترجمة إبراهيم بن سويد بن حيان المدني: " وثقه ابن معين وأبو زرعة"، والذي في ترجمته من التهذيب: (قال أبو زرعة: ليس به بأس).
--------------------------------------------
ইমাম আয-যাহাবি আল-মুকিযাহ গ্রন্থে বলেছেন: "কখনও কখনও একজন ইমামের দৃষ্টিভঙ্গি এমন ক্ষেত্রে যেখানে এটি তার নিজস্ব মাযহাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, অথবা তার শাইখের বিষয়ে হয়, তা ভিন্ন ক্ষেত্রে তার দেওয়া মতের চেয়ে অধিকতর নমনীয় হতে পারে। আর নির্ভুলতা (العصمة) কেবল নবী, সিদ্দিকগণ এবং ন্যায়পরায়ণ বিচারকদের (حُكَّام القسط) জন্য নির্দিষ্ট।" (১)।
আল-মুআল্লিমি বলেছেন: (ইমামদের মধ্যে অমুক শৈথিল্য প্রদর্শনকারী (مُسِّهلٌ) এবং অমুক কঠোর (مشدد) হিসেবে যে প্রসিদ্ধি রয়েছে, তা সাধারণভাবে সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; কারণ তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কখনো সহজ করেন আবার কখনো কঠোরতা অবলম্বন করেন। ইমামদের এই বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং অন্যান্য গুণাবলি যা তাদের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলে, তা গভীর অনুধাবন ও ব্যাপক অনুসন্ধানের (استقراء) মাধ্যমেই কেবল অর্জন করা সম্ভব।) (২)।
৬) বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা অনুসন্ধানের সময় যেসব বিষয় বিবেচনা করা উচিত সে সম্পর্কে আল-মুআল্লিমি (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন:
কোনো কোনো ইমামের নামে আরোপিত জারহ (الجرح) বা তাদিল (التعديل) এর শব্দের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন: "যদি জীবনবৃত্তান্তের (الترجمة) আলোচনায় দেখা যায় যে, 'অমুক তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন (وثقه)' বা 'অমুক তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন (ضعفه)' অথবা 'অমুক তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন (كذبه)', তবে তার উচিত সেই নির্দিষ্ট ইমামের মূল বক্তব্যটি খুঁজে বের করা। কেননা তিনি হয়তো বলেননি যে, 'তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)' বা 'তিনি দুর্বল (ضعيف)' কিংবা 'তিনি মিথ্যাবাদী (كذاب)'।"
উদাহরণস্বরূপ, ফাতহুল বারির মুকাদ্দিমায় ইব্রাহিম বিন সুওয়াইদ বিন হাইয়ান আল-মাদানির জীবনবৃত্তান্তে (ترجمة) বলা হয়েছে: "ইবনে মাঈন ও আবু যুরআ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (وثقه)"। অথচ আত-তাহযিব গ্রন্থে তার জীবনবৃত্তান্তের (ترجمة) আলোচনায় রয়েছে: (আবু যুরআ বলেছেন: "তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই" (ليس به بأس))।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ২০)
وفي المقدمة في ترجمة إبراهيم بن المنذر الحزامي: (وثقه ابن معين ..... والنسائي) والذي في ترجمته من التهذيب: (قال عثمان الدارمي: رأيت ابن معين كتب عن إبراهيم بن المنذر أحاديث ابن وهب، ظننتها المغازي، وقال النسائي: ليس به بأس).
إلى أن قال المعلمي:
" أصحاب الكتب كثيراً ما يتصرفون في عبارات الأئمة؛ بقصد الاختصار أو غيره، وربما يخل ذلك بالمعنى، فينبغي أن يُراجع عدة كتب، فإذا وجد اختلافاً بحث عن العبارة الأصلية ليبنى عليها" (1).
قال د. العبد اللطيف رحمه الله: (وقد ترد ألفاظ الجرح والتعديل، منقولة من كتب المتقدمين مختصرة أو محكية بالمعنى في كتب المتأخرين؛ لاضطرارهم إلى جمع أكبر عدد من الرواة في كتاب واحد، فيؤثر ذلك الاختصار، وتلك الحكاية للفظ الجرح والتعديل، في الحكم على الراوي توثيقاً وجرحاً
… ) (2).
وكذا ينبغي التأكد من ثبوت الكلمة عن الإمام، وصحتها، ثم تفهمها (3) على وجهها الذي أراده، قبل الحكم على الراوي بما تقتضيها.
--------------------------------------------
এবং ভূমিকার মধ্যে ইব্রাহিম বিন আল-মুনজির আল-হিযামির জীবনীতে (ترجمة) রয়েছে: (ইবনে মাঈন..... এবং আন-নাসায়ী তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন)। আর 'আত-তাহজীব' গ্রন্থে তার জীবনীতে (ترجمة) যা বর্ণিত হয়েছে: (উসমান আদ-দারিমি বলেন: আমি ইবনে মাঈনকে ইব্রাহিম বিন আল-মুনজিরের সূত্রে ইবনে ওয়াহাবের হাদিসসমূহ লিখতে দেখেছি, আমি ধারণা করেছিলাম সেগুলো মাগাজি (যুদ্ধাভিযান সংক্রান্ত), আর আন-নাসায়ী বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس))।
আল-মুয়াল্লিমি বলেন:
"গ্রন্থকারগণ প্রায়শই ইমামগণের ভাষ্য বা উক্তিতে পরিবর্তন-পরিমার্জন করেন; সংক্ষেপণ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে, আর কখনো কখনো এটি অর্থের বিকৃতি ঘটিয়ে থাকে। তাই একাধিক গ্রন্থ যাচাই করা আবশ্যক। যখন কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, তখন মূল ভাষ্যটি অনুসন্ধান করা উচিত যাতে তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়" (১)।
ড. আল-আব্দুল লতিফ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (পূর্বসূরিদের (المتقدمين) গ্রন্থসমূহ থেকে সংগৃহীত সমালোচনা ও সত্যায়নের শব্দাবলি (ألفاظ الجرح والتعديل) উত্তরসূরিদের (المتأخرين) গ্রন্থসমূহে সংক্ষিপ্ত আকারে অথবা মর্মার্থ বর্ণনা (محكية بالمعنى) হিসেবে উদ্ধৃত হতে পারে; বর্ণনাকারীদের (الرواة) বিশাল সংখ্যাকে একটি গ্রন্থে একত্রিত করার প্রয়োজনীয়তার কারণে। ফলে সেই সংক্ষেপণ এবং সমালোচনা ও সত্যায়নের (الجرح والتعديل) শব্দের সেই বর্ণনা পদ্ধতি বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (توثيق) বা অভিযুক্তকরণের (جرح) ক্ষেত্রে হুকুম বা সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে
… ) (২)।
অনুরূপভাবে, কোনো বর্ণনাকারীর ব্যাপারে তার তাকাযা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে, ইমামের থেকে কথাটি সাব্যস্ত হওয়া এবং তার বিশুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত করা প্রয়োজন, অতঃপর তা ইমামের কাঙ্ক্ষিত মর্ম অনুযায়ী সঠিকভাবে (৩) অনুধাবন করতে হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ২১)
قال السخاوي: (لا يُعتَمد على القول الذي لم يثبت طريقه إلى إمام الجرح والتعديل) (1).
7) هناك ألفاظ معروفة عند أهل الحديث، لكنها قد تطلق أحياناً على معنى غير متبادر إلى الذهن (2).
من ذلك:
(كذاب) تطلق على الخطأ، والوهم، والابتداع (3).
(شيطان) ويراد بها المدح.
قال عبد الرحمن بن مهدي: لما قدم الثوري البصرة، قال: يا عبد الرحمن جئني بإنسان أذاكره، فأتيته بيحيى بن سعيد، فذاكره، فلما خرج قال: قلت لك: جئني بإنسان، فجئتني بشيطان.
قال الذهبي: يعني بهره حفظه (4).
--------------------------------------------
আস-সাখাভী বলেন: (সেই উক্তির ওপর নির্ভর করা যাবে না, যার সূত্র (طريق) জরাহ ও তাদীল (الجرح والتعديل)-এর ইমাম পর্যন্ত প্রমাণিত নয়) (১)।
৭) হাদিস বিশারদ (أهل الحديث)-দের নিকট কিছু পরিচিত পরিভাষা রয়েছে, তবে সেগুলো কখনো কখনো এমন অর্থে ব্যবহৃত হয় যা সাধারণত মনে উদয় হয় না (২)।
তার মধ্যে রয়েছে:
'চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)' শব্দটি ভুল (خطأ), ভ্রান্তি (وهم) এবং বিদআত (ابتداع)-এর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় (৩)।
'শয়তান (شيطان)'—এর দ্বারা প্রশংসা করা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।
আব্দুর রহমান ইবন মাহদী বলেন: আস-সাওরী যখন বসরায় আসলেন, তখন তিনি বললেন: হে আব্দুর রহমান, আমার কাছে এমন একজন মানুষ নিয়ে এসো যার সাথে আমি ইলমি আলোচনা করব। তখন আমি তার কাছে ইয়াহইয়া ইবন সাঈদকে নিয়ে আসলাম এবং তিনি তার সাথে আলোচনা করলেন। ইয়াহইয়া বের হয়ে যাওয়ার পর তিনি বললেন: আমি তোমাকে বলেছিলাম একজন মানুষ নিয়ে আসতে, আর তুমি আমার কাছে নিয়ে আসলে একজন শয়তান (شيطان)!
আয-যাহাবী বলেন: অর্থাৎ তার মুখস্থশক্তি (حفظ) তাকে অভিভূত করেছিল (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقول ابن معين في الأثرم: (كان أحد أبويه جني) يعني لشدة حفظه (1).
(فلان يشتري الكتب) على المتهمين بالكذب (2). تاريخ بغداد 8/ 366 ـ 9/ 456
{(ضعيف) على سبيل المزاح.
… تاريخ بغداد 12/ 267، السير للذهبي 10/ 246
(كذاب) على سبيل المزاح.
… هدي الساري ص 408، تهذيب ابن حجر 4/ 314
(قد عرفته) بمعنى أهلكته.
… العلل للإمام أحمد رواية عبدالله 3/ 485، الضعفاء للعقيلي 3/ 69
(حديثه ضعيف) بمعنى مسلكه في الاستنباط ضعيف. تهذيب ابن حجر 6/ 241، السير 7/ 114
(منكر) بمعنى داهٍ متيقظ فطن} (3). سؤالات الآجري لأبي داود 1/ 430
* * *
--------------------------------------------
আল-আছরাম সম্পর্কে ইবনে মাঈনের উক্তি: "(তার পিতামাতার একজন জিন ছিল)" অর্থাৎ তার প্রখর স্মৃতিশক্তির কারণে (১)।
"(অমুক ব্যক্তি বই ক্রয় করে)"- এটি মিথ্যাচারের (كذب) অভিযোগে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে বলা হয় (২)। তারিখ বাগদাদ ৮/৩৬৬ — ৯/৪৫৬
{দুর্বল (ضعيف) - কৌতুকবশত বলা হয়েছে।
… তারিখ বাগদাদ ১২/২৬৭, আস-সিয়ার লিদ-দাহাবি ১০/২৪৬
চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) - কৌতুকবশত বলা হয়েছে।
… হাদি আস-সারি পৃ. ৪০৮, তাহজিব ইবনে হাজার ৪/৩১৪
"(আমি তাকে চিনেছি)" অর্থাৎ আমি তাকে ধ্বংস করেছি।
… আল-ইলাল লিল ইমাম আহমাদ, আবদুল্লাহর বর্ণনা ৩/৪৮৫, আদ-দুয়াফা লিল উকাইলি ৩/৬৯
"(তার হাদিস দুর্বল (ضعيف))" অর্থাৎ ইস্তিনবাত বা মাসআলা আহরণের ক্ষেত্রে তার পদ্ধতি দুর্বল। তাহজিব ইবনে হাজার ৬/২৪১, আস-সিয়ার ৭/১১৪
বর্জিত (منكر) অর্থাৎ অত্যন্ত চতুর, সদা-সতর্ক ও বিচক্ষণ} (৩)। সুয়ালাত আল-আজুরি লি-আবি দাউদ ১/৪৩০
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصل الأول: وفيه مبحثان:
المبحث الأول:أهمية المصطلحاتإن اتساع اللغة، وتعدد مدلولات الكلمة، يجعل القارئ يقف مع بعضها موقف المتردد في تنزيلها على أي المدلولات التي ظهرت له، فإذا ما كانت الكلمة قد رسخت في ذهنه على مدلولٍ معين؛ سارع في تنزيلها حسب اصطلاحه هو في كلامه، لا على اصطلاح المتكلم.
ولهذا وقع الغلط في الفهم والاستدلال في شتى الفنون؛ بسبب العزوف عن فهم مصطلحات المتكلم، قبل البدء في تفهمه، والاستدلال به.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: ( .... وكذلك الألفاظ المشتركة والمنقولة والمغيرة شرعاً، نقلاً وتغييراً شرعيين أو عرفيين، إنما يريد بها المتكلم في الغالب أحد المعنيين، مع أن المعاني الأخر جائزة الإرادة ولم تُرد
…إلى أن قال:
وهذا باب واسع، فمن تأمل كل لفظ في كلام متكلم، رأى أنه يجوز أن يراد به من المعاني ما شاء الله، والمتكلم لم يُرد إلا واحداً من تلك المعاني
… ) (1).
وقال أيضاً: (ومَنْ لم يعرف لغة الصحابة التي كانوا يتخاطبون بها، ويخاطبهم بها النبي صلى الله عليه وسلم، وعادتهم في الكلام؛ وإلا حرّف
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ:পারিভাষিক শব্দাবলির (اصطلاح) গুরুত্বভাষার প্রশস্ততা এবং শব্দের অর্থ বা দ্যোতনার বহুমাত্রিকতা অনেক সময় পাঠককে দ্বিধাগ্রস্ত করে তোলে যে, শব্দটিকে তার সামনে প্রকাশিত সম্ভাব্য অর্থগুলোর মধ্যে কোনটির ওপর প্রয়োগ করা হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট অর্থ পাঠকের মনে গেঁথে থাকে, তবে সে বক্তার পরিভাষার (اصطلاح) পরিবর্তে নিজ বাচনভঙ্গির পরিভাষা (اصطلاح) অনুযায়ী তা প্রয়োগ করতে তাড়াহুড়ো করে।
এই কারণেই বিভিন্ন শাস্ত্রে অনুধাবন ও দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ভ্রান্তি দেখা দেয়; কারণ বক্তার বক্তব্য বোঝা এবং তা দিয়ে দলিল পেশ করার আগে তার পারিভাষিক শব্দাবলি (اصطلاح) অনুধাবন করার ব্যাপারে বিমুখতা কাজ করে।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ( .... তেমনিভাবে ওইসব শব্দ যা শরয়ি বা প্রথাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সমার্থক (مشتركة), স্থানান্তরিত (منقولة) কিংবা পরিবর্তিত (مغيرة) হয়েছে; বক্তা সাধারণত তার দ্বারা ওই দুটি অর্থের কোনো একটি উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন। যদিও অন্যান্য অর্থ গ্রহণ করার অবকাশ থাকে কিন্তু তা উদ্দেশ্য থাকে না
…এ কথা পর্যন্ত যে:
এটি একটি প্রশস্ত বিষয়। যে ব্যক্তি কোনো বক্তার প্রতিটি শব্দ নিয়ে চিন্তা করবে, সে দেখতে পাবে যে সেসব শব্দের দ্বারা আল্লাহ যতটুকু চান ততোটি অর্থ নেওয়ার সুযোগ থাকে, অথচ বক্তা সেগুলোর মধ্য থেকে কেবল একটি অর্থই উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন
… ) (১)।
তিনি আরও বলেন: (যে ব্যক্তি সাহাবায়ে কিরামের সেই ভাষা সম্পর্কে অবগত নয় যাতে তারা একে অপরের সাথে কথা বলতেন এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সম্বোধন করতেন, এবং তাদের বাচনভঙ্গির সাধারণ রীতি সম্পর্কে যার জ্ঞান নেই; অন্যথায় সে বিকৃত (تحريف) করবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الكلم عن مواضعه، فإن كثيراً من الناس ينشأ على اصطلاح قوم، وعادتهم في الألفاظ، ثم يجد تلك الألفاظ في كلام الله، أو رسوله، أو الصحابة، فيظن أنّ مراد الله، أو رسوله، أو الصحابة بتلك الألفاظ، مايريدُه بذلك أهلُ عادته واصطلاحه، ويكون مرادُ الله ورسوله والصحابة خلاف ذلك؛ وهذا واقع لطوائف من الناس، من أهل الكلام، والفقه، والنحو، والعامة، وغيرهم). (1)
وقال ابن القيم رحمه الله: (والعلم بمراد المتكلم، يُعرف تارة من عموم لفظه، وتارة من عموم علته، والحوالة على الأول أوضح لأرباب الألفاظ، وعلى الثاني لأرباب المعاني والفهم والتدبر ..... وقد يعرض لكل من الفريقين، ما يخل بمعرفة مراد المتكلم، فيعرض لأرباب الألفاظ، التقصير بها عن عمومها، وهضمها تارة، وتحميلها فوق ما أريد بها تارة، ويعرض لأرباب المعاني فيها نظير ما يعرض لأرباب الألفاظ، فهذه أربع آفات هي منشأ غلط الفريقين .. (2).
وقد وقع غلط عظيم في أبواب الشريعة خاصة، ومنشأه: الجهل بمراد الله، ومراد رسوله صلى الله عليه وسلم، وتنزيل الألفاظ الشرعية على المصطلحات الحادثة.
قال ابن تيمية ــ رحمه الله ــ: (ومن أعظم أسباب الغلط في فهم كلام الله ورسوله، أن ينشأ الرجل على اصطلاح حادث، فيريد أن يفسِّر كلام الله بذلك الاصطلاح، ويحمله على تلك اللغة التي اعتادها) (3)
قال ابن القيم رحمه الله: ( ...... تنزيل كلام الله وكلام رسوله، على
--------------------------------------------
শব্দসমূহকে তাদের সঠিক অর্থ হতে বিচ্যুত করা; কেননা অনেক মানুষ কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর পরিভাষা (اصطلاح) এবং তাদের ভাষাগত অভ্যাসের ওপর বেড়ে ওঠে। এরপর তারা যখন আল্লাহ, তাঁর রাসুল অথবা সাহাবায়ে কেরামের কালামে সেই শব্দগুলো পায়, তখন তারা মনে করে যে, আল্লাহ, তাঁর রাসুল অথবা সাহাবায়ে কেরাম এই শব্দগুলো দ্বারা সেটিই বুঝিয়েছেন যা তার অভ্যস্ত সমাজ ও পরিভাষার (اصطلاح) লোকেরা বুঝে থাকে। অথচ আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও সাহাবায়ে কেরামের উদ্দেশ্য এর বিপরীত হয়ে থাকে। এটি বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, যেমন: ইলমে কালামের অনুসারী (أهل الكلام), ফিকহ (فقه), নাহু (نحو) বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষসহ অন্যান্যদের ক্ষেত্রে)। (১)
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (বক্তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জ্ঞান কখনো কখনো শব্দের ব্যাপকতা (عموم) থেকে অর্জিত হয়, আবার কখনো কারণের (علة) ব্যাপকতা (عموم) থেকে অর্জিত হয়। শব্দতাত্ত্বিকদের কাছে প্রথমটির ওপর নির্ভর করা অধিক স্পষ্ট, আর দ্বিতীয়টি অর্থবোধ, অনুধাবন ও গবেষণাকারীদের জন্য... উভয় দলের সামনেই এমন কিছু বিষয় আসতে পারে যা বক্তার উদ্দেশ্য অনুধাবনে ব্যাঘাত ঘটায়। শব্দতাত্ত্বিকদের ক্ষেত্রে কখনো শব্দের ব্যাপকতাকে (عموم) সংকুচিত করার মাধ্যমে ত্রুটি ঘটে, আবার কখনো শব্দের ওপর অতিরিক্ত অর্থ চাপিয়ে দেওয়ার ভুল হয়। অনুরূপভাবে অর্থানুসন্ধানীদের ক্ষেত্রেও শব্দতাত্ত্বিকদের ন্যায় ভুল হতে পারে। এই চারটি আপদই হলো উভয় দলের ভুলের মূল উৎস... (২)।
বিশেষ করে শরীয়তের অধ্যায়গুলোতে এক বিরাট ভুল সংঘটিত হয়েছে, যার উৎস হলো: আল্লাহর উদ্দেশ্য এবং তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং শরয়ী শব্দগুলোকে নবউদ্ভাবিত পরিভাষার (اصطلاح) ওপর প্রয়োগ করা।
ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কালাম বোঝার ক্ষেত্রে ভুলের অন্যতম প্রধান কারণ হলো, কোনো ব্যক্তির নবউদ্ভাবিত কোনো পরিভাষার (اصطلاح) ওপর বেড়ে ওঠা। অতঃপর সে আল্লাহর কালামকে সেই পরিভাষা (اصطلاح) দ্বারা ব্যাখ্যা করতে চায় এবং তাকে সেই ভাষার ওপর প্রয়োগ করতে চায় যাতে সে অভ্যস্ত হয়েছে) (৩)
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ( ...... আল্লাহর কালাম ও তাঁর রাসুলের কালামকে প্রয়োগ করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الاصطلاحات التي أحدثها أرباب العلوم، من الأصوليين، والفقهاء، وعلم أحوال القلوب، وغيرهم، فإن لكل من هؤلاء اصطلاحات حادثة، في مخاطباتهم وتصانيفهم، فيجيء من قد ألف تلك الاصطلاحات الحادثة، وسبقت معانيها إلى قلبه فلم يعرف سواها، فيسمع كلام الشارع فيحمله على ما ألفه من الاصطلاح؛ فيقع بسبب ذلك في الفهم عن الشارع، ما لم يرده بكلامه، ويقع من الخلل في نظره ومناظرته ما يقع، وهذا من أعظم أسباب الغلط عليه .... ) (1).
قال أبو الوليد الباجي: (فعلى هذا يَحمِل ألفاظ الجرح والتعديل، مَن فهم أقوالهم وأغراضهم، ولا يكون ذلك؛ إلا لمن كان من أهل الصناعة والعلم بهذا الشأن، وأما مَن لم يعلم ذلك، وليس عنده من أحوال المحدثين إلا ما يأخذه من ألفاظ أهل الجرح والتعديل، فإنه لا يمكنه تنزيل الألفاظ هذا التنزيل، ولا اعتبارها بشيء مما ذكرنا، وإنما يتبع في ذلك ظاهر ألفاظهم فيما وقع الاتفاق عليه، ويقف عند اختلاف عباراتهم .. ) (2).
والغلط في فهم مصطلح إمام من أئمة الجرح والتعديل، له أثر واضح في الحكم على الراوي جرحاً أو تعديلاً (3) وبالتالي، يظهر الغلط في الحكم على الحديث؛ علماً بأن أهمية تتبع المصطلحات، تظهر أكثر في فن الجرح والتعديل، وذلك لأمور منها:
1) استخدام الأئمة المصطلح لأكثر من معنى (4)
--------------------------------------------
বিভিন্ন শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ, যেমন উসুলবিদ (الأصوليين), ফকিহ (الفقهاء), আধ্যাত্মিক সাধক এবং অন্যান্যদের প্রবর্তিত পরিভাষাগুলোর (الاصطلاحات) ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তাঁদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব আলাপ-আলোচনা ও গ্রন্থাবলিতে কিছু নব্য উদ্ভাবিত পরিভাষা (اصطلاحات) রয়েছে। ফলে যখন এমন কেউ আসে যে ঐ সকল আধুনিক পরিভাষার (الاصطلاحات) সাথে পরিচিত এবং তার হৃদয়ে সেগুলোর অর্থই বদ্ধমূল হয়ে আছে এবং এ ছাড়া সে অন্য কিছু জানে না, তখন সে যখন শরিয়তদাতার বাণী শোনে, তখন সেটিকে তার পরিচিত পরিভাষার আলোকেই ব্যাখ্যা করে। এর ফলে সে শরিয়তদাতার বাণী থেকে এমন কিছু বুঝে নেয় যা তিনি তাঁর কথার দ্বারা উদ্দেশ্য করেননি এবং এর ফলে তার চিন্তাভাবনা ও বিতর্কের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটে। এটি তাঁর ওপর ভুল আরোপ করার অন্যতম প্রধান কারণ...। (১)
আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি বলেন: (অতএব, জারাহ (الجرح) ও তাদিল (التعديل)-এর শব্দাবলিকে কেবল সেই ব্যক্তিই সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারবেন, যিনি তাঁদের বক্তব্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত। আর এটি কেবল এই শিল্পের (الصناعة) বিশেষজ্ঞ এবং এই বিষয়ের জ্ঞানীদের পক্ষেই সম্ভব। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি এই শাস্ত্র সম্পর্কে অবগত নয় এবং হাদিস বিশারদদের অবস্থা সম্পর্কে যার কাছে জারাহ (الجرح) ও তাদিল (التعديل) বিশারদদের বাহ্যিক শব্দাবলি ছাড়া আর কোনো জ্ঞান নেই, তার পক্ষে শব্দগুলোকে এই যথাযথ মর্যাদায় প্রয়োগ করা বা আমাদের আলোচিত কোনো বিষয়ের আলোকে বিবেচনা করা সম্ভব নয়। বরং সে কেবল ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়গুলোতে তাঁদের শব্দের বাহ্যিক অর্থের অনুসরণ করবে এবং তাঁদের অভিব্যক্তির পার্থক্যের ক্ষেত্রে থমকে যাবে...) (২)।
জারাহ (الجرح) ও তাদিল (التعديل) শাস্ত্রের কোনো ইমামের পরিভাষা (مصطلح) বুঝতে ভুল করা কোনো বর্ণনাকারীর (الراوي) ওপর ত্রুটি আরোপ (جرحاً) কিংবা নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের (تعديلاً) সিদ্ধান্তের (الحكم) ওপর স্পষ্ট প্রভাব ফেলে (৩)। ফলস্বরূপ, হাদিসের ওপর সিদ্ধান্ত (الحكم) প্রদানের ক্ষেত্রেও ভুল প্রকাশ পায়। উল্লেখ্য যে, পরিভাষাগুলো পর্যালোচনার গুরুত্ব জারাহ (الجرح) ও তাদিল (التعديل) শাস্ত্রে অধিকতর পরিস্ফুটিত হয়, যার কিছু কারণ নিম্নরূপ:
১) ইমামগণ কর্তৃক কোনো একটি পরিভাষাকে (المصطلح) একাধিক অর্থে ব্যবহার করা (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قال د. خالد الدريس: " وقد لاحظت أن الحفاظ والنقاد المتقدمين، يوجد في مصطلحاتهم ميل للتوسع في مدلولها
… ثم ذكر أمثلة على ذلك .. " (1).
وقد برر الدكتور هذا التوسع بقوله: " ومثل هذه المصطلحات الواسعة، يحتاج إليها كل علم في بداياته، وخاصة إذا كان ذلك العلم في مرحلة نمو وتشكل، ولم تستقر بعدُ قواعده وقوانينه واصطلاحاته، كما هو الحال في مصطلح الحسن، في زمن أولئك الأئمة .. ) (2).
2) أن الغالب على عبارات الأئمة، الاختصار الشديد، لاعتمادهم على فهم السائل والمتلقي (3).
قال د. محمد العمري: " ولذلك جاءت عباراتهم فيها اختصار شديد، في غاية من الدقة، ووضوح الدلالة في كثير منها، وقد روعي فيها المعنى اللغوي، والاصطلاحي، فتأمل الفرق بين عباراتهم: يروي المناكير، وله مناكير، وأحاديثه منكرة، ومنكر الحديث
… " (4).
3) أن بعض عباراتهم، لم تذكر في كتب المصطلح، ولم يُوَضَّح معناها (1).
قال مكي بن إبراهيم: سئل شعبة عن ابن عون؟ فقال: سمن وعسل، قيل: فما تقول في هشام بن حسان؟ قال: خل وزيت. قيل: فما تقول في أبي بكر الهذلي؟ قال: دعني لا أقيء به. ا. هـ. (5)
--------------------------------------------
ড. খালিদ আদ-দারেস বলেন: "আমি লক্ষ্য করেছি যে, প্রাচীন (المتقدمين) হাফেজ (الحفاظ) এবং সমালোচকদের (النقاد) ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর (المصطلحات) অর্থের ক্ষেত্রে সম্প্রসারণের একটি প্রবণতা রয়েছে
… অতঃপর তিনি এর ওপর কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেন..." (১)।
ডক্টর এই সম্প্রসারণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন: "এই ধরণের বিস্তৃত পরিভাষাগুলোর (المصطلحات) প্রয়োজন প্রতিটি শাস্ত্রের শুরুর দিকে দেখা দেয়, বিশেষ করে যখন সেই শাস্ত্রটি বিকাশ ও গঠনের স্তরে থাকে এবং এর নিয়ম, কানুন ও পরিভাষাগুলো তখনও স্থিতিশীল হয় না। যেমনটি সেই যুগের ইমামদের সময়ে হাসান (الحسن) পরিভাষাটির ক্ষেত্রে ঘটেছিল..." (২)।
২) ইমামদের উক্তিগুলোর ক্ষেত্রে প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো চরম সংক্ষিপ্ততা, কারণ তারা প্রশ্নকারী ও শ্রোতার উপলব্ধির ওপর নির্ভর করতেন (৩)।
ড. মুহাম্মদ আল-উমারি বলেন: "তাই তাদের উক্তিগুলো ছিল অতি সংক্ষিপ্ত, অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং অনেক ক্ষেত্রেই অর্থের স্পষ্টতায় পূর্ণ। সেখানে ভাষাগত ও পারিভাষিক (الاصطلاحي) অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তাদের এই উক্তিগুলোর মধ্যকার পার্থক্য লক্ষ্য করুন: 'সে মুনকার/অগ্রহণযোগ্য (المناكير) বর্ণনা করে', 'তার বর্ণনায় মুনকার/অগ্রহণযোগ্যতা (مناكير) রয়েছে', 'তার হাদিসগুলো মুনকার/অগ্রহণযোগ্য (منكرة)', এবং 'মুনকার/অগ্রহণযোগ্য হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث)'
… " (৪)।
৩) তাদের কিছু উক্তি পরিভাষার (المصطلح) কিতাবসমূহে উল্লেখ করা হয়নি এবং সেগুলোর অর্থও স্পষ্ট করা হয়নি (১)।
মাক্কি ইবনে ইব্রাহিম বলেন: শু’বাহকে ইবনে আউন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: 'ঘি এবং মধু' (সমন ওয়া আসাল)। জিজ্ঞাসা করা হলো: হিশাম ইবনে হাসসান সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী? তিনি বললেন: 'সিরকা এবং তেল' (খাল ওয়া যাইত)। জিজ্ঞাসা করা হলো: আবু বকর আল-হুযালি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: 'আমাকে ছাড়ুন, আমি তাকে বমি করে উগরে দিতে চাই না' (লা আকিউ বিহি)। ইতি (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قال السبكي: " ومما ينبغي أن يتفقد عند الجرح أيضاً: حال الجارح في الخبرة بمدلولات الألفاظ، فكثيراً ما رأيت من يسمع لفظة، فيفهمها على غير وجهها؛ والخبرة بمدلولات الألفاظ؛ ولاسيما العرفية التي تختلف باختلاف عرف الناس، وتكون في بعض الأزمنة مدحاً، وفي بعضها ذماً، أمر شديد، لا يدركه إلا قعيدٌ بالعلم" (1).
قال المعلمي: " صيغ الجرح والتعديل، كثيراً ما تطلق على معانٍ مغايرة لمعانيها المقررة في كتب المصطلح، ومعرفة ذلك؛ تتوقف على طول الممارسة، واستقصاء النظر" (2).
وقال رحمه الله: " .... منهم من لا يطلق "ثقة" إلا على من كان في الدرجة العليا من العدالة والضبط؛ ومنهم من يطلقها على كل عدل ضابط، وإن لم يكن في الدرجة العليا، ومنهم من يطلقها على العدل، وإن لم يكن ضابطاً؛ ومنهم من يطلقها على المجهول الذي روى حديثاً واحداً قد توبع عليه؛ ومنهم من يطلقها على المجهول الذي روى حديثاً له شاهد؛ ومنهم من يطلقها على المجهول الذي روى حديثاً لم يستنكره هو؛ ومنهم من يطلقها على المجهول الذي روى عنه ثقة إلى غير ذلك؛ وهم مع ذلك، مختلفون في الاستدلال على أحوال الرواة، فمنهم المبالغ في التثبت، ومنهم المتسامح، ومَن لم يعرف مذهب الإمام منهم، ومنزلته من التثبت؛ لم يعرف ما تعطيه كلمته، وحينئذ فإما أن يتوقف، وإما أن يحملها على ما هو المشهور في كتب المصطلح،
--------------------------------------------
সুবকি বলেন: "সমালোচনার (الجرح) ক্ষেত্রে যে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত তা হলো: শব্দের অর্থগত তাৎপর্য সম্পর্কে সমালোচনাকারীর (الجارح) অভিজ্ঞতার অবস্থা। কারণ আমি প্রায়শই এমন কাউকে দেখি যে একটি শব্দ শোনে, কিন্তু সেটিকে তার সঠিক প্রেক্ষাপট ছাড়া অন্যভাবে বুঝে থাকে। শব্দের অর্থগত তাৎপর্য সম্পর্কে অভিজ্ঞতা—বিশেষ করে প্রথাগত শব্দাবলি (العرفية) যা মানুষের প্রথাভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে এবং যা কোনো কোনো যুগে প্রশংসাসূচক (مدح) ও কোনো কোনো যুগে নিন্দাসূচক (ذم) হিসেবে গণ্য হয়—তা একটি কঠিন বিষয়, যা ইলমে গভীর পাণ্ডিত্যসম্পন্ন (قعيد بالعلم) ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারে না" (১)।
মুয়াল্লিমি বলেন: "সমালোচনা ও সত্যয়নের (الجرح والتعديل) পরিভাষাগুলো প্রায়শই পরিভাষা (المصطلح) বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে নির্ধারিত অর্থের বিপরীতে ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি উপলব্ধি করা দীর্ঘদিনের অনুশীলন এবং গভীর পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল" (২)।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: "....তাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যিনি ‘নির্ভরযোগ্য’ (ثقة) শব্দটি কেবল তখনই প্রয়োগ করেন যখন বর্ণনাকারী ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) ও নির্ভুলতার (الضبط) সর্বোচ্চ স্তরে থাকেন। আবার তাদের মধ্যে কেউ এমন আছেন যিনি প্রত্যেক ন্যায়পরায়ণ (عدল) ও নির্ভুল (ضابط) বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহার করেন, যদিও তিনি সর্বোচ্চ স্তরে না হন। তাদের মধ্যে কেউ কেবল ন্যায়পরায়ণ (عدل) হলেই তাকে ‘নির্ভরযোগ্য’ (ثقة) বলেন, যদিও তিনি নির্ভুল (ضابط) না হন। তাদের মধ্যে এমনও আছেন যিনি ওই অজ্ঞাত (مجهول) বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করেন যিনি মাত্র একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং সেটি অন্য সূত্র দ্বারা সমর্থিত (توبع) হয়েছে। আবার কেউ এটি এমন অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলেন যার বর্ণিত হাদিসের স্বপক্ষে কোনো সাক্ষ্য (شاهد) রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ একে এমন অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন যার বর্ণিত হাদিসকে তিনি নিজে প্রত্যাখ্যান (استنكره) করেননি। আবার কেউ একে এমন অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলেন যার নিকট থেকে কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি হাদিস বর্ণনা করেছেন; এ রকম আরও অনেক ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়। এর পাশাপাশি, বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন পথ অবলম্বন করেন। তাঁদের মধ্যে কেউ যাচাই-বাছাইয়ে অত্যন্ত কঠোর (المبالغ في التثبت), আবার কেউ শিথিলকারী (المتسامح)। ফলে যে ব্যক্তি এই ইমামদের অনুসৃত নীতি (مذهب) এবং যাচাই-বাছাইয়ের (التثبت) ক্ষেত্রে তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে জানবে না, সে তাঁদের ব্যবহৃত শব্দের প্রকৃত তাৎপর্যও বুঝতে পারবে না। এমতাবস্থায় তাকে হয় সিদ্ধান্তহীনতায় থাকতে হবে, নতুবা সেটিকে পরিভাষা (المصطلح) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের প্রসিদ্ধ অর্থের ওপর প্রয়োগ করতে হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ولعل ذلك رفع لها عن درجتها، وبالجملة، فإن لم يتوقف، قال بغير علم، وسار على غير هدى" (1).
والجهل بمدلول المصطلح، ومراد الإمام منه؛ قد يؤدي إلى تجهيل الأئمة، ونسبتهم للتناقض، فمثلاً: أسباط بن نصر الهمْداني، قال عنه ابن معين: ليس بشيء، وقال مرة أخرى: ثقة (2)، فغير العارف بمصطلح الإمام ابن معين قد ينسبه إلى التناقض. (3)
وبعد
فلا يزال هذا الباب، أعني باب ضبط مصطلحات الأئمة، بعد جمعها وتفهمها؛ يعرضه الأئمة، متمنين إتمامه، أو يعرضه بعض أهل العلم ويَعِدُ بإحكامه. (4)
قال الذهبي رحمه الله: " .... ثم نحن نفتقر إلى تحرير عبارات التعديل والجرح، وما بين ذلك من العبارات المتجاذبة، ثم أهم من ذلك، أن نعلم بالاستقراء التام، عُرف ذلك الإمام الجهبذ، واصطلاحه ومقاصده بعباراته الكثيرة" (5).
قال السخاوي رحمه الله: " .... من نظر كتب الرجال، ككتاب ابن أبي حاتم المذكور، والكامل لابن عدي، والتهذيب، وغيرها، ظفر بألفاظ كثيرة،
--------------------------------------------
সম্ভবত এটি তাকে তার স্তরের ঊর্ধ্বে নিয়ে গিয়েছিল। মোদ্দাকথা হলো, যদি কেউ (অনিশ্চিত বিষয়ে) বিরত না থাকে, তবে সে জ্ঞান ছাড়াই কথা বলল এবং সঠিক পথনির্দেশ ব্যতিরেকেই চলল" (১)।
পরিভাষার (اصطلاح) অর্থ এবং তা দ্বারা ইমামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা ইমামগণকে অজ্ঞ প্রতিপন্ন করার এবং তাঁদের বক্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য খোঁজার কারণ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ: আসবাত ইবনে নাসর আল-হামদানি সম্পর্কে ইবনে মাঈন এক স্থানে বলেছেন: "সে নগণ্য (ليس بشيء)", আবার অন্য স্থানে বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য (ثقة)" (২)। সুতরাং ইমাম ইবনে মাঈনের পরিভাষা (اصطلاح) সম্পর্কে যার সম্যক ধারণা নেই, সে সম্ভবত তাঁর বক্তব্যে বৈপরীত্যের দায় চাপাবে। (৩)
অতঃপর
ইমামদের পরিভাষাগুলো (اصطلاحات) সংগ্রহ ও অনুধাবনের পর সেগুলো সুসংজ্ঞায়িত করার এই অধ্যায়টি ইমামগণ ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করে আসছেন এবং এর পূর্ণতা কামনা করছেন, অথবা কোনো কোনো জ্ঞানপিপাসু তা সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার নিয়ে উপস্থাপন করছেন। (৪)
ইমাম আজ-জাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ".... এরপর আমরা প্রশংসা (تعديل) ও সমালোচনা (جرح) এবং এ দুটির মাঝামাঝি দ্বিধাযুক্ত শব্দাবলি বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো—পূর্ণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সেই অভিজ্ঞ ইমামের রীতি-নীতি, পরিভাষা (اصطلاح) এবং তাঁর বহুবিধ বক্তব্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত হওয়া" (৫)।
ইমাম আস-সাখাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ".... যে ব্যক্তি রিজাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করবে—যেমন উল্লিখিত ইবনে আবি হাতিমের কিতাব, ইবনে আদির আল-কামিল, আত-তাহজিব এবং অন্যান্য—সে অনেক পরিভাষা লাভ করবে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ولو اعتنى بارع بتتبعها، ووضع كل لفظة بالمرتبة المشابهة لها، مع شرح معانيها لغةً واصطلاحاً؛ لكان حسناً (1)، ولقد كان شيخنا يلهج بذكر ذلك، فما تيسر؛ والواقف على عبارات القوم، يفهم مقاصدهم بما عرف من عباراتهم في غالب الأحوال، وبقرائن ترشد إلى ذلك" (2).
فظهر بما سبق أهمية دراسة مصطلحات الأئمة، ومراعاتها عند النظر في أحوال الرجال (3).
* * *
--------------------------------------------
যদি কোনো দক্ষ বিশেষজ্ঞ এই শব্দগুলো অনুসরণের ব্যাপারে যত্নবান হতেন এবং ভাষাগত ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থের ব্যাখ্যাসহ প্রতিটি শব্দকে তার সমপর্যায়ের স্তরে বিন্যস্ত করতেন, তবে তা উত্তম হতো (১)। আমাদের শাইখ প্রায়ই এ কথা উল্লেখ করতেন, কিন্তু তা সহজসাধ্য হয়নি। তবে যারা এই শাস্ত্রের ইমামদের পরিভাষা (مصطلحات) সম্পর্কে অবগত, তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের ব্যবহৃত শব্দাবলি থেকে তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন এবং কিছু পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (قرائن) দ্বারা সেই লক্ষ্যে পৌঁছান (২)।
উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে ইমামদের পরিভাষা (مصطلحات) অধ্যয়নের গুরুত্ব এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা (أحوال الرجال) পর্যালোচনার সময় সেগুলো বিবেচনায় রাখার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে (৩)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المبحث الثاني:من مصطلحات الأئمة الخاصة (1).
البخاري (2)
1) منكر الحديث: لا تحل الرواية عنه (3).
2) سكتوا عنه: قال السخاوي وابن كثير: كثيراً ما يريد بها البخاري: تركوا حديثه (4).
3) فيه نظر: كثيراً ما يريد بها: الجرح الشديد (5).
4) في إسناده نظر: أي عدم ثبوت سماع المترجم من شيخه في السند.
انظر مثلا: التاريخ الكبير 2/ 17 - 1/ 444، 3/ 128، 2/ 55، رسالة د. الدميني عن قول البخاري (سكتوا عنه) ص 16، الكامل لابن عدي 2/ 411 ووقع فيه تصحيف (إلا أنه ضعيف) وصوابه (لا أنه ضعيف) كما في مختصر الكامل للمقريزي 2/ 411 وتهذيب ابن حجر 1/ 834
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:ইমামগণের বিশেষ পরিভাষাসমূহ (১)।
আল-বুখারি (২)
১) প্রত্যাখ্যাত হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث): তার থেকে বর্ণনা করা বৈধ নয় (৩)।
২) তারা তার ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন (سكتوا عنه): সাখাভী এবং ইবনে কাসীর বলেন: বুখারি এর মাধ্যমে প্রায়শই উদ্দেশ্য নেন: তারা তার হাদিস বর্জন করেছেন (تركوا حديثه) (৪)।
৩) তার ব্যাপারে আপত্তির অবকাশ রয়েছে (فيه نظر): অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য নেন: কঠোর সমালোচনা (الجرح الشديد) (৫)।
৪) তার সনদে আপত্তির অবকাশ রয়েছে (في إسناده نظر): অর্থাৎ সনদে আলোচিত বর্ণনাকারীর তার শায়খ থেকে সরাসরি শোনার বিষয়টি প্রমাণিত না হওয়া।
উদাহরণস্বরূপ দেখুন: আল-তারিখ আল-কাবীর ২/ ১৭ - ১/ ৪৪৪, ৩/ ১২৮, ২/ ৫৫, বুখারির উক্তি ‘সাকাতু আনহু’ সম্পর্কে ড. আল-দুমাইনির রিসালা পৃ. ১৬, ইবনে আদির আল-কামিল ২/ ৪১১। এতে একটি লিপিকর প্রমাদ (تصحيف) ঘটেছে (তবে তিনি দুর্বল - إلا أنه ضعيف), অথচ এর সঠিক পাঠ হবে (এমন নয় যে তিনি দুর্বল - لا أنه ضعيف), যেমনটি মাকরিজির মুখতাসার আল-কামিল ২/ ৪১১ এবং ইবনে হাজারের তাহজীব ১/ ৮৩৪-এ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতালাহাতু আইম্মাতিল হাদীস আল-খাসসাহ ওয়া ইয়ালিহিল কারাইনুল মুসিলাতু ইলা ফাহমি মাকাসিদিহিম ফিল জারহি ওয়াত-তাদীল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أفاد ما سبق د. محمد الثاني في رسالته (ضوابط الجرح والتعديل عند الذهبي) 2/ 862.
قال الذهبي في ترجمة الإمام البخاري: (من نظر في كلامه في الجرح والتعديل، علم ورعه في الكلام في الناس، وإنصافه فيمن يضعفه، فإن أكثر ما يقول: (منكر الحديث) (سكتوا عنه) (فيه نظر) ونحو هذا، وقَلَّ أن يقول: (فلان كذاب) أو (كان يضع الحديث)، حتى إنه قال: (إذا قلتُ: فلان في حديثه نظر، فهو متهم واهٍ، وهذا معنى قوله: لا يحاسبني الله أني اغتبت أحداً) وهذا - والله - غاية الورع) ا. هـ
سير أعلام النبلاء 12/ 439، وانظر: الميزان 2/ 416 - 3/ 52 والموقظة ص 63
اختصار علوم الحديث 1/ 320، شرح الألفية للعراقي 2/ 11
التقييد والإيضاح ص 139، فتح المغيث للسخاوي 2/ 122
تدريب الراوي 1/ 439، التنكيل 1/ 205 (1).
5) مقارب (2) الحديث: قال عبد الحق الأشبيلي في كتاب (التهجد): يريد أن حديثه يقرب من حديث الثقات، أي لا بأس به ا. هـ، أفاده الألباني في الإرواء 2/ 10.
أبو حاتم (3)
1) ما أرى بحديثه بأساً: قد يريد بها أنه لا يحتج به، والظاهر أنه أراد بالنفي، نوعاً مقصوداً، كتعمد الكذب، أو النكارة الشديدة (4).
--------------------------------------------
ড. মুহাম্মদ আস-সানি তাঁর থিসিস 'যাহাবির নিকট জারহ ও তা'দিলের নীতিমালা'-এর ২/৮৬২ পৃষ্ঠায় পূর্বোক্ত বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
ইমাম বুখারীর জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে ইমাম যাহাবি বলেন: "যে ব্যক্তি সমালোচন ও মূল্যায়নের (الجرح والتعديل) ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য পর্যবেক্ষণ করবে, সে মানুষের সমালোচনায় তাঁর তাকওয়া ও পরহেজগারি এবং যাকে তিনি দুর্বল (يضعفه) সাব্যস্ত করেন তার প্রতি তাঁর ইনসাফ সম্পর্কে জানতে পারবে। কেননা তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে বলেন: 'অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث)', 'তাঁরা তাঁর ব্যাপারে নিশ্চুপ থেকেছেন (سكتوا عنه)', 'তাঁর ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ রয়েছে (فيه نظر)' এবং এই জাতীয় কথা। তিনি খুব কমই বলেন: 'অমুক চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)' অথবা 'সে হাদিস জাল করত (كان يضع الحديث)'। এমনকি তিনি বলেছেন: 'যখন আমি বলি: অমুকের হাদিসের ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ রয়েছে (في حديثه نظر), তখন সে হয় অভিযুক্ত (متهم) ও অত্যন্ত দুর্বল (واهٍ)। আর এটাই তাঁর সেই কথার মর্মার্থ যে: আল্লাহ যেন আমাকে এ ব্যাপারে হিসাব না নেন যে আমি কারো গীবত করেছি।' আল্লাহর কসম, এটিই হলো পরহেজগারির চরম পর্যায়।" (সমাপ্ত)
সিয়ারু আলামিন নুবালা ১২/৪৩৯; এবং দেখুন: আল-মিজান ২/৪১৬ - ৩/৫২ এবং আল-মুয়কিজাহ পৃষ্ঠা ৬৩
ইখতিসার উলূমিল হাদিস ১/৩২০, ইরাকির শারহুল আলফিয়্যাহ ২/১১
আত-তাকিয়িদ ওয়াল ইজাহ পৃষ্ঠা ১৩৯, সাখাবীর ফাতহুল মুগিস ২/১২২
তদরিবুর রাবি ১/৪৩৯, আত-তাঙ্কিল ১/২০৫ (১)।
৫) হাদিস বর্ণনায় কাছাকাছি (مقارب الحديث) (২): আব্দুল হক আল-ইশবিলি 'আত-তাহাজ্জুদ' গ্রন্থে বলেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার বর্ণিত হাদিস নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (الثقات) হাদিসের কাছাকাছি, অর্থাৎ এতে কোনো সমস্যা নেই। (সমাপ্ত)। আলবানী 'আল-ইরওয়া' গ্রন্থের ২/১০ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন।
আবু হাতিম (৩)
১) আমি তাঁর হাদিসে কোনো সমস্যা দেখি না (ما أرى بحديثه بأساً): এর দ্বারা তিনি কখনও উদ্দেশ্য নিতে পারেন যে তাঁর হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (يحتج به) নয়। তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় তিনি নেতিবাচকতার মাধ্যমে বিশেষ একটি বিষয় বুঝিয়েছেন, যেমন উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যা বা চরম আপত্তিকর (النكارة) বর্ণনা। (৪)।
--------------------------------------------