(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
مجيء (أبو) في موضع نصب أو جر على الحكاية القسم: النحو والصرف
الكتاب: مجيء (أبو) في موضع نصب أو جر على الحكاية
المؤلف: إبراهيم بن عبد الله المديهش
النشرة: الثالثة، 1440 هـ
عدد الصفحات: 77
[البحث غير مطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 جُمادَى الأولى 1440
হিকায়াহ অনুযায়ী নসব বা জর-এর স্থলে (আবু) শব্দের ব্যবহার বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
বই: হিকায়াহ অনুযায়ী নসব বা জর-এর স্থলে (আবু) শব্দের ব্যবহার
লেখক: ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-মুদাইহিশ
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪৪০ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৭
[গবেষণাপত্রটি অপ্রকাশিত]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৭ জুমাদাল উলা ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১)
مجئ (أبو) في موضع نصب
أو جر، على الحكاية
علي بن أبو طالب
معاوية بن أبو سفيان
رضي الله عنهم
«اعْلَمْ أنَّ العَرَبَ قَدْ اخْتَلَفَتْ فِي الحِكَايَة اخْتَلافَاً شَدِيْدَاً
… »
«الفوائد والقواعد» للثمانيني (ت 442 هـ) (ص 837).
كتبه:
إبراهيم بن عبدالله المديهش
নসব (نصب) বা জর (جر)-এর স্থানে ‘আবু’ শব্দের ব্যবহার, হিকায়াহ (حكاية) বা মূল রূপ বর্ণনার ভিত্তিতে
আলী ইবনে আবু তালিব
মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান
আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন
«জেনে রাখুন যে, আরবরা হিকায়াহ (حكاية) বা মূল রূপ বর্ণনার ক্ষেত্রে ব্যাপক মতপার্থক্য করেছে...»
আস-সামানীনী (মৃত্যু ৪৪২ হিজরি) রচিত «আল-ফাওয়ায়িদ ওয়াল-কাওয়ায়িদ» (পৃষ্ঠা ৮৩৭)।
লেখক:
ইব্রাহিম বিন আবদুল্লাহ আল-মুদাইহিশ
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২)
النشرة الثالثة
تقنيَّة لا وَرَقِيَّة
3/ 1440 هـ
তৃতীয় বুলেটিন
কাগজবিহীন প্রযুক্তি
৩/ ১৪৪০ হিজরি
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهداه
أما بعد
فهذه مسألة يسيرة: (مجئ «أبو» في موضع نصب أو جر)، وردت على النحاة، والمفسرين، والمحدِّثين، والمؤرخين، وغيرهم، واختلفت آراؤهم حولها، وقد استدل بعضهم بأدلة حديثية وتاريخية تحتاج لنظر وبحث في ثبوتها وفهمها.
كتبت هذه الأوراق مشاركةً لأهل الاختصاص اللغوي، وحسبي في عملي هذا الوقوف على آراء الأئمة، وجمع ماله صلة بالموضوع، وأما التحليل النحوي، والترجيح المحكم مع التعليل، فهو للمختصين.
الباعث على كتابتها:
أن الشاعر النبيل الغيور على لغة القرآن: أ. د. عبدالله بن سليم الرشيد ـ حفظه الله ورعاه، ورفع قدره ـ (1)،
ذكرها لطلابِه قبل ثلاث عشرة سنة تقريباً، وطلب منهم تتبع هذه المسألة، إذْ إنه لا يعرف أن (أبو) وردت في موضع نصب أو جر.
--------------------------------------------
পরমস করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর।
অতঃপর,
এটি একটি সহজ বিষয়: (নসব বা জরের স্থানে ‘আবু’ শব্দের ব্যবহার), যা ব্যাকরণবিদ, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ঐতিহাসিক এবং অন্যদের নিকট আলোচিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাঁদের মতামত ভিন্ন ভিন্ন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এমন কিছু হাদিস বিষয়ক এবং ঐতিহাসিক দলিল পেশ করেছেন যেগুলোর নির্ভরযোগ্যতা (ثبوت) এবং উপলব্ধির ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
আমি এই পৃষ্ঠাগুলো ভাষাতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের সাথে জ্ঞানীয় অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যে লিখেছি। আমার এই কাজের লক্ষ্য হলো ইমামদের মতামতের সাথে পরিচিত হওয়া এবং এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংগ্রহ করা। আর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ এবং কারণসহ সুদৃঢ় প্রাধান্য প্রদান (ترجيح) বিশেষজ্ঞগণের কাজ।
এটি লেখার মূল প্রেরণা:
কোরআনের ভাষার প্রতি পরম যত্নশীল মহৎ কবি: প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ বিন সুলাইম আল-রাশিদ —আল্লাহ তাঁকে হিফাজত ও রক্ষা করুন এবং তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন— (১),
প্রায় তেরো বছর আগে তাঁর ছাত্রদের কাছে এটি উল্লেখ করেছিলেন এবং তাঁদের এই বিষয়টি অনুসন্ধান করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন; যেহেতু নসব বা জরের স্থানে ‘আবু’ শব্দের ব্যবহার সম্পর্কে তাঁর জানা ছিল না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
نُقلَت لي هذه الفائدة النفيسة، فحفظتُها، وأفدتُ بها، ثم وقفتُ على مواضع وكلام لأهل العلم في المسألة، فقيدتها شيئاً فشيئاً، حتى بلغت النصاب ـ فيما أرى ـ؛ ولأني لم أجد من أفرد هذه المسألة في كتابٍ أو بحثٍ، عزمت على نشرها (1)
أحمد الله تعالى على توفيقه وتيسيره، ثم أشكر الفاضل أ. د. عبدالله الرشيد على مراجعته
--------------------------------------------
এই মূল্যবান তথ্যটি আমার কাছে পৌঁছানো হয়েছিল, অতঃপর আমি তা সংরক্ষণ করেছি এবং এর দ্বারা উপকৃত হয়েছি। এরপর আমি এই বিষয়টি সম্পর্কে আহলে ইলমদের বিভিন্ন আলোচনা ও বক্তব্যের সন্ধান পেয়েছি, তখন আমি ধাপে ধাপে তা লিপিবদ্ধ করেছি, যতক্ষণ না তা—আমার দৃষ্টিতে—পর্যাপ্ত পরিমাণে পৌঁছেছে। যেহেতু আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এই বিষয়টিকে স্বতন্ত্র কোনো বই বা গবেষণায় স্থান দিয়েছেন, তাই আমি এটি প্রকাশের সংকল্প করেছি (১)।
আমি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করছি তাঁর তাওফিক এবং বিষয়টি সহজ করে দেওয়ার জন্য। অতঃপর আমি শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-রাশিদকে তাঁর পর্যালোচনার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وتصحيحاته وتعليقاته، جزاه الله خير الجزاء.
وشكر عاطر للأديب الفاضل د. إبراهيم بن محمد أبانمي ــ وفقه الله ـ على مراجعته ومرئياته الطيبة. والشكر موصول للأساتذة الباحثين الذي أفادوني ببعض النقول ـ وقد نسبتها إليهم في موضعها.
وشكر خاص للأستاذ الفاضل: فيصل بن علي المنصور ــ وفقه الله ـ على تفضله بتعليقات نفيسة، وملحوظات جميلة.
أحسن الله إليهم جميعاً، وجزاهم عني خير الجزاء، ونفع بهم الإسلام والمسلمين.
এবং তাঁর করা সংশোধন (تصحيح) ও মন্তব্যসমূহের (تعليق) জন্য; আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
সুধী সাহিত্যিক ড. ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ আবানমি—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন—তাঁর পর্যালোচনা ও চমৎকার মতামত প্রদানের জন্য তাঁর প্রতি সুগভীর কৃতজ্ঞতা। সেইসাথে ঐ সকল গবেষক শিক্ষকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যারা আমাকে কিছু উদ্ধৃতি (نقل) দিয়ে উপকৃত করেছেন—আমি সেগুলোকে যথাস্থানে তাঁদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছি।
শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ফয়সাল বিন আলী আল-মানসুর—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন—তাঁর বিশেষ অনুগ্রহে প্রদত্ত মূল্যবান মন্তব্য (تعليق) ও সুন্দর পর্যবেক্ষণসমূহের জন্য তাঁর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা।
আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি ইহসান করুন, আমার পক্ষ থেকে তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁদের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করুন।
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
هل ترد (أبو) في موضع نصب أو جر ــ على الحكاية ــ مثل:
علي بن أبو طالب (1)، معاوية بن أبو سفيان رضي الله عنهم؟
نعم، وردت هكذا في مجموعة نصوص لبعض الأعلام (2)، لكن بعض العلماء يرى بأنها تردُ كتابةً لا نطقاً ــ وهو الراجح ـ
وقال بعضهم: كتابة ونطقاً ـ على الحكاية ـ.
والبحث هنا في أعلام غلبت عليهم الكنية حتى أصبحت علماً عليهم، وقد قيل في بعض الأعلام بأن اسمه كنيته. (3)
--------------------------------------------
'আবু' (أبو) কি নসব (نصب) বা জর (جر) এর অবস্থানে — অনুকরণ (حكاية) রীতি অনুযায়ী — ব্যবহৃত হতে পারে? যেমন:
আলী বিন আবু তালিব (১), মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)?
হ্যাঁ, কিছু বিশিষ্ট আলেমদের (২) বেশ কিছু পাঠ্যে এটি এভাবেই বর্ণিত হয়েছে, তবে কিছু আলেম মনে করেন যে এটি কেবল লিখনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, উচ্চারণের ক্ষেত্রে নয় — এবং এটিই অধিক সঠিক (الراجح) —
আবার তাদের কেউ কেউ বলেছেন: লিখন এবং উচ্চারণ উভয় ক্ষেত্রেই — অনুকরণ (حكاية) হিসেবে।
এখানে আলোচনা হচ্ছে সেইসব ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে যাদের ক্ষেত্রে উপনাম বা কুনিয়া (كنية) এমনভাবে প্রাধান্য পেয়েছে যে তা তাদের পরিচায়ক নামে পরিণত হয়েছে। আবার কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, তাদের কুনিয়া (كنية)-ই হলো তাদের আসল নাম। (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ومن أفخاذ القبائل ما يبدأ بِ (أبو): أبو ربَّاع من بني وائل.
--------------------------------------------
গোত্রসমূহের উপশাখাগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা (আবু) দিয়ে শুরু হয়: যেমন বনু ওয়াইল গোত্রের আবু রাব্বা'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وفي زماننا أُسَر أيضاً، مثل: أبو زيد، أبو عباة، أبو معطي (1)، أبو حيمد، وأبو نيَّان، وغيرهم كثير.
ومثل مدينة: أبو ظبي. (2) وجبل: أبو قبيس (3)، وأبو عريش (4)، وغير ذلك. (5)
فلو أعربت أسماء هذه الأسر خاصة، لوقع لبس شديد، فالظاهر ـ وهو ما عليه العمل ـ أنها تحكى كما هي، لأن (أبو) أصبحت اسماً لا كنية، وفي المقابل نجد كنى غلبت على أصحابها مثل: أبي بكر الصديق، وأبي هريرة رضي الله عنهم، ولم نجد في كتب التراث التزام (أبو) مطلقاً في هذه العلمين الكبيرين اللذَيْن تكررا في كتب التراث.
فورود (أبو) في موضع نصب أو جر، وردت قليلاً في الأعلام، وهذا يدلُّ ـ والله أعلم ـ على أنها في الكتابة دون النطق، ومما يدل على ندرة ذلك أن ابن كثير رحمه الله استنكر اللحن كتابةً: (علي بن أبو طالب) وجعله من الأدلة على وضع الحديث الوارد فيه.
--------------------------------------------
আমাদের বর্তমান সময়েও কিছু পরিবার রয়েছে, যেমন: আবু জায়েদ, আবু আবাহ, আবু মুতি (১), আবু হাইমাদ, আবু নাইয়ান এবং আরও অনেকে।
যেমন শহর: আবু ধাবি। (২) এবং পাহাড়: আবু কুবাইস (৩), এবং আবু আরিশ (৪) এবং আরও অন্যান্য। (৫)
যদি বিশেষ করে এই পরিবারগুলোর নামগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাকরণগত পরিবর্তন (إعراب) করা হতো, তবে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতো। তাই স্পষ্টত—এবং এটিই প্রচলিত নিয়ম—যে এগুলো যেভাবে আছে সেভাবেই অপরিবর্তিতভাবে (حكاية) বর্ণিত হবে। কারণ 'আবু' শব্দটি এখানে নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, উপনাম (كنية) হিসেবে নয়। অন্যদিকে, আমরা এমন কিছু উপনাম (كنية) পাই যা তাদের অধিকারীদের পরিচয়ে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে, যেমন: আবু বকর আস-সিদ্দিক এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। ঐতিহ্যবাহী কিতাবসমূহে বারবার উল্লেখিত এই দুই মহান ব্যক্তির নামের ক্ষেত্রে আমরা সর্বদা 'আবু' ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা পাইনি।
নামসমূহের ক্ষেত্রে নসব (نصب) বা জর (جر) এর অবস্থায় 'আবু' শব্দের আগমন খুব কমই দেখা গেছে। এটি নির্দেশ করে—আল্লাহই ভালো জানেন—যে এটি কেবল লেখার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ, উচ্চারণের ক্ষেত্রে নয়। এর বিরলতার প্রমাণ স্বরূপ বলা যায় যে, ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) লিখিতভাবে ব্যাকরণগত ভুল (لحن) হিসেবে '(আলি বিন আবু তালিব)' এর সমালোচনা করেছেন এবং একে সংশ্লিষ্ট বর্ণিত হাদিসটি জাল (موضوع) হওয়ার অন্যতম দলিল হিসেবে গণ্য করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
أقوال العلماء:
1. جاء في «صحيح البخاري» حديث رقم (6204): حدثنا خالد بن مخلد، حدثنا سليمان، قال: حدثني أبو حازم، عن سهل بن سعد، قال: إن كانت أحب أسماء علي رضي الله عنه إليه لأبو تراب، وإن كان ليفرح أن يدعى بها، وما سماه أبو تراب إلا النبي صلى الله عليه وسلم
… ،
قال ابن حجر في «فتح الباري» (10/ 587): (وقوله وما سماه أبو تراب إلا النبي صلى الله عليه وسلم. قال ابن التين: صوابه أبا تراب.
قلت: وليس الذي وقع في الأصل خطأ، بل هو موجه على الحكاية، أو على جعل الكنية اسماً، وقد وقع في بعض النسخ أبا تراب، ونبَّه على اختلاف الروايات في ذلك الإسماعيلي، ووقع في رواية أبي بكر المشار إليها آنفا بالنصب أيضاً.
وقوله: «إن كانت لأحب أسمائه إليه» فيه إطلاق الاسم على الكنية وأنها كانت باعتبار الكنية .. ). انتهى من «الفتح».
2. في «صحيح البخاري» حديث رقم (3904) و (3654) (1): «إِنَّ مِنْ أَمَنِّ النَّاسِ عَلَيَّ فِي صُحْبَتِهِ وَمَالِهِ أَبَا بَكْرٍ
… ». وفي «صحيح البخاري» أيضاً رقم (466) (2)، «صحيح مسلم» رقم (2382): «أبو بكر» بالرفع.
قال الحسين بن محمود الزَّيْدَانيُّ الشِّيرازيُّ الحَنَفيُّ المشهورُ بالمُظْهِري (ت 727 هـ) في
… «المفاتيح في شرح المصابيح» (6/ 290):
(قوله: «أبو بكر»، قياسه: أبا بكر، ليكون اسم «إنَّ»، والجار والمجرور خبره، لكن روي
--------------------------------------------
আলেমদের মতামত:
১. সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হাদিস নং (৬২০৪): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন মাখলাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাযিম, সাহল বিন সা'দ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট তাঁর নামসমূহের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ছিল 'আবু তুরাব' এবং তাঁকে এ নামে ডাকা হলে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হতেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অন্য কেউ তাঁকে 'আবু তুরাব' নামে ভূষিত করেননি
… ,
ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’ (১০/ ৫৮৭) গ্রন্থে বলেছেন: (এবং তাঁর উক্তি: "আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অন্য কেউ তাঁকে আবু তুরাব নামকরণ করেননি।" ইবনুত তীন বলেন: এর ব্যাকরণিক শুদ্ধ রূপ হলো 'আবা তুরাব'।
আমি (ইবনে হাজার) বলছি: মূল পাঠে যা রয়েছে তা ভুল নয়, বরং এটি বর্ণনার হুবহু অনুকরণ (আল-হিকায়াহ) অথবা উপনামকে নাম হিসেবে গণ্য করার ভিত্তিতে সঠিক। কিছু পাণ্ডুলিপিতে 'আবা তুরাব' এসেছে এবং আল-ইসমাঈলি এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন বর্ণনার (روايات) পার্থক্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ইতিপূর্বে নির্দেশিত আবু বকরের বর্ণনায় (رواية) এটি নসব (দ্বিতীয়া বিভক্তি) যোগেও এসেছে।
আর তাঁর উক্তি: "নিশ্চয়ই এটি তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম ছিল" — এতে উপনামের (কুনিয়া) ওপর নামের প্রয়োগ ঘটেছে এবং এটি উপনামের বিচারে ছিল...)। ‘ফাতহুল বারী’ থেকে সমাপ্ত।
২. সহীহ বুখারী হাদিস নং (৩৯০৪) ও (৩৬৫৪) (১): "নিশ্চয়ই সাহচর্য ও সম্পদের দিক থেকে মানুষের মধ্যে আমার প্রতি সবচেয়ে বেশি ইহসানকারী হলো আবা বকর
… "। এছাড়া সহীহ বুখারী নং (৪৬৬) (২) এবং সহীহ মুসলিম নং (২৩৮২)-তে রাফা (পেশ) যোগে 'আবু বকর' বর্ণিত হয়েছে।
হুসাইন বিন মাহমুদ আল-যাইদানী আশ-শিরাজী আল-হানাফী, যিনি আল-মুযহিরী (মৃত্যু ৭২৭ হি.) নামে পরিচিত,
… ‘আল-মাফাতিহ ফি শারহিল মাসাবিহ’ (৬/ ২৯০) গ্রন্থে বলেন:
(তাঁর উক্তি: "আবু বকর", এর ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী এটি 'আবা বকর' হওয়ার কথা ছিল যাতে এটি 'ইন্না'-এর ইসিম (উদ্দেশ্য) হতে পারে এবং জার-মাজরুর তার খবর (বিধেয়) হয়, কিন্তু এটি এভাবেই বর্ণিত (روي) হয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
برفع «أبو»، وفيه أوجه:
الأول: أن تكون «من» زائدة على مذهب الأخفش؛ أي: إنَّ أمنَّ الناس.
الثاني: أن يكون «أبو بكر» جوابَاً عن سؤال، كأنه قيل له: مَنْ أمَنُّ الناس عليك؟ فقال:
… «إن أمنَّهم أبو بكر»، فرفع على الحكاية.
الثالث: أن تكون «إن» بمعنى: نعم، جوابَاً لا تعمل شيئاً).
قال محمد بن أبي بكر الدماميني (ت 827 هـ) في «مصابيح الجامع» (7/ 262):
(«إنَّ من أمن النَّاس عليَّ في صحبته وماله أبو بكر»): المرادُ بـ «أمن»: أَسْمَحُ، وأَبْذَلُ، وليس المراد معنى الامتنان؛ لأن المنَّة تفسد الصَّنيعة، ولا مِنَّةَ لأحدٍ على رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ويروى: «أبا بكر» بالنصب، على أنه اسم إنَّ، وهو واضح.
وأما «أبو بكر» بالرفع؛ قال ابن برِّي: هو خبر «إنَّ»، واسمها محذوف، و «من أمن النَّاس» صفته، والمعنى: أن رجلاً أو إنسانَاً من أمنِّ النَّاس عليَّ، و «من» زائدة على رأي الكسائي. وهو ضعيف، وحملُه على حذف ضمير الشأن حملٌ على الشذوذ، ولو قيل: بأنَّ «إنَّ» بمعنى: نعم، و «أبو بكر» مبتدأ، وما قبله خبره؛ لاستقام من غير شذوذ ولا ضعف).
قال البِرْماوي (ت 831 هـ) في شرحه «اللامع الصبيح» (10/ 233):
(«أبا بكر» اسم «إن»، ويروى: «أبو بكر» بالرفع، إمَّا لأن «من» زائدة على رأي الكسائي، وإما على إضمار الشأن، أي: أنه وما بعده مبتدأ وخبر: خبر «إن»، وإما على تقدير محذوف موصوف بالجار والمجرور، أي: إن رجلًا أو إنسانًا من أمنّ النَّاس؛ قاله ابن بَرِّي، وإما على مذهب من جوَّز أن يقال: علي بن أبو طالب، وإما أن «إنَّ» بمعنى: نعم).
«আবু» শব্দটি পেশ (রফ) সহকারে পড়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিশ্লেষণ রয়েছে:
প্রথমত: ইমাম আখফাশের মাযহাব অনুযায়ী 'মিন' বর্ণটি অতিরিক্ত; অর্থাৎ বাক্যটির অর্থ হলো: নিশ্চয়ই মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি ইহসানকারী (ব্যক্তি হলেন আবু বকর)।
দ্বিতীয়ত: 'আবু বকর' শব্দটি কোনো প্রশ্নের উত্তর হতে পারে, যেন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আপনার প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইহসানকারী কে? উত্তরে তিনি বললেন:
... «নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইহসানকারী হলেন আবু বকর»; এমতাবস্থায় বাক্যটি মূল উচ্চারণের অনুকরণে পেশযুক্ত হয়েছে।
তৃতীয়ত: এখানে 'ইন্না' শব্দটি 'হ্যাঁ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা একটি উত্তরসূচক অব্যয় হিসেবে কোনো আমল করে না।
মুহাম্মদ বিন আবু বকর আদ-দামামিনি (মৃত্যু ৮২৭ হিজরি) 'মাসাবিহুল জামি' (৭/২৬২) গ্রন্থে বলেন:
(«নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে যে ব্যক্তি তার সাহচর্য এবং সম্পদের মাধ্যমে আমার প্রতি সবচেয়ে বেশি ইহসান করেছেন, তিনি হলেন আবু বকর»): এখানে 'আমান্না' (সবচেয়ে বেশি ইহসানকারী) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—সবচেয়ে বেশি দানশীল ও উদার। এখানে অনুগ্রহ জাহিরের অর্থ উদ্দেশ্য নয়; কারণ অনুগ্রহ প্রকাশ করা বা খোঁটা দেওয়া সৎকর্মকে বিনষ্ট করে দেয়, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর কারো কোনো অনুগ্রহ বা খোঁটা নেই।
এটি 'আবা বকর' হিসেবে জবর (নাসব) যোগেও বর্ণিত হয়েছে, যা 'ইন্না'-এর ইসিম হিসেবে অত্যন্ত স্পষ্ট।
আর পেশ (রফ) সহকারে 'আবু বকর' পড়ার ক্ষেত্রে ইবনুল বাররি বলেন: এটি 'ইন্না'-এর খবর, যার ইসিমটি উহ্য রয়েছে এবং 'মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইহসানকারী' অংশটি সেই উহ্য ইসিমের বিশেষণ। এর অর্থ হলো: নিশ্চয়ই এমন এক ব্যক্তি বা মানুষ যিনি মানুষের মধ্যে আমার প্রতি সবচেয়ে বেশি ইহসানকারী। ইমাম কিসায়ির মতে এখানে 'মিন' বর্ণটি অতিরিক্ত। তবে এটি একটি দুর্বল (ضعيف) অভিমত। আর এখানে 'যমিরুশ শান' উহ্য ধরাটি বিরল (شاذ) নিয়মের অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে যদি বলা হয় যে, 'ইন্না' শব্দটি 'হ্যাঁ' অর্থে এবং 'আবু বকর' শব্দটি মুবতাদা আর এর পূর্ববর্তী অংশটি তার খবর, তবে কোনো বিরলতা (شذوذ) বা দুর্বলতা (ضعف) ছাড়াই বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে সঠিক সাব্যস্ত হয়।
আল-বিরমাওয়ি (মৃত্যু ৮৩১ হিজরি) তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-লামি আস-সাবিহ' (১০/২৩৩) এ বলেন:
(«আবা বকর» হলো 'ইন্না'-এর ইসিম। আবার এটি পেশ যোগে «আবু বকর» হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। এর কারণ হতে পারে: হয়তো ইমাম কিসায়ির মতানুযায়ী 'মিন' বর্ণটি অতিরিক্ত; অথবা 'যমিরুশ শান' উহ্য থাকার কারণে—অর্থাৎ সেটি এবং তার পরবর্তী অংশটি মুবতাদা ও খবর হিসেবে 'ইন্না'-এর খবর হবে; অথবা একটি উহ্য বিশেষ্যকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে যা জার-মাজরুর দ্বারা বিশেষিত—অর্থাৎ: নিশ্চয়ই একজন ব্যক্তি বা মানুষ যিনি মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি ইহসানকারী (ইবনুল বাররি এটি উল্লেখ করেছেন); অথবা এটি সেই মাযহাব অনুযায়ী যারা 'আলী বিন আবু তালিব' (পেশ সহকারে) বলা বৈধ মনে করেন; অথবা এখানে 'ইন্না' শব্দটি 'হ্যাঁ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)।
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقال ابن هشام النحوي (ت 761 هـ) في «تذكرته» (1):
[قوله صلى الله عليه وسلم: «إنَّ مِنْ أمَنِّ الناس عليَّ في ماله أبو بكر».
توجيهه أن يكون «مِنْ أمَنِّ الناس» صفة لمحذوف، أي: إن رجلاً أو إنساناً من أَمَنِّ الناس.
وقوله: «أبو بكر» هو الخبر.
قال ابن هشام: يمكن فيه عندي غير ذلك، وهو أن يكون «مِن أَمَنِّ الناس» خبراً تقدَّم،
… و «أبو بكر» اسماً تأخر، وجاز ذلك على الحكاية، أي المشهور بقول الناس له: أبو بكر.
وعلى هذا خُرِّج: «وكتبه علي بن أبو طالب»، و «معاوية بن أبو سفيان»]. انتهى.
قال ابن حجر العسقلاني (ت 852 هـ) في «فتح الباري» (7/ 12):
(قوله: «إن أمَنَّ الناس عليَّ في صحبته وماله أبو بكر»، في رواية مالك كذلك، وفي رواية محمد بن سنان: «إن مِن أمَنِّ الناس علي» بزيادة «مِن»، وقال فيها: «أبا بكر» بالنصب للأكثر، ولبعضهم «أبو بكر» بالرفع.
وقد قيل: إن الرفع خطأٌ، والصواب النصب؛ لأنه اسم إنَّ.
ووجه الرفع بتقدير ضمير الشأن أي: إنه. والجار والمجرور بعده خبر مقدَّم، وأبو بكر مبتدأ مؤخر، أو على أنَّ مجموع الكنية اسمٌ فلا يُعرب ما وقع فيها من الأداة، أو إنَّ بمعنى نعم، أو إنَّ مِن زائدة على رأي الكسائي.
--------------------------------------------
এবং ইবনে হিশাম আন-নাহবী (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি) তাঁর 'তাযকিরা' গ্রন্থে (১) বলেন:
[নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে যে তার সম্পদ দিয়ে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি অনুগ্রহ করেছে সে হলো আবু বকর।»
এর ব্যাখ্যা হলো, 'মিন আমাননিন নাস' অংশটি একটি ঊহ্য পদের গুণ (صفة) হতে পারে। অর্থাৎ: নিশ্চয়ই এমন একজন ব্যক্তি বা মানুষ, যে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুগ্রহকারী।
এবং তাঁর উক্তি: 'আবু বকর' হলো সংবাদ (خبر)।
ইবনে হিশাম বলেন: আমার মতে এখানে অন্য ব্যাখ্যাও সম্ভব। আর তা হলো, 'মিন আমাননিন নাস' হবে অগ্রবর্তী সংবাদ (خبر مقدم),
… এবং 'আবু বকর' হবে পরবর্তী বিশেষ্য (اسم مؤخر)। এটি হিকায়াত (حكاية) বা অনুকরণমূলক বর্ণনার ভিত্তিতে বৈধ হয়েছে, অর্থাৎ মানুষের কাছে তিনি 'আবু বকর' নামে যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন সেই অনুসারেই তা বর্ণিত হয়েছে।
আর এই ভিত্তিতেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে: «এবং এটি লিখেছেন আলী ইবনে আবু তালিব», এবং «মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান»]। সমাপ্ত।
ইবনে হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে (৭/১২) বলেন:
(তাঁর বাণী: «নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে যে তার সাহচর্য ও সম্পদ দিয়ে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি অনুগ্রহ করেছে সে হলো আবু বকর», ইমাম মালিকের বর্ণনাতেও (رواية) অনুরূপ এসেছে। তবে মুহাম্মদ ইবনে সিনানের বর্ণনায় (رواية) এসেছে: «নিশ্চয়ই মানুষের মধ্য থেকে যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি অনুগ্রহ করেছে» - এখানে 'মিন' (مِن) এর আধিক্য রয়েছে। এতে অধিকাংশের বর্ণনায় নসব বা জবর যোগে «আবা বকর» এবং কারও কারও বর্ণনায় রফ' বা পেশ যোগে «আবু বকর» বর্ণিত হয়েছে।
বলা হয়ে থাকে যে, পেশ (رفع) দেওয়া ভুল এবং সঠিক হলো জবর (نصب) দেওয়া; কারণ এটি 'ইন্না'-এর বিশেষ্য (اسم)।
আর পেশ (رفع) হওয়ার কারণ হতে পারে 'দমিরে শান' (ضمير الشأن) এর ঊহ্য থাকা, অর্থাৎ: 'ইন্নাহু'। এবং পরবর্তী যার-মাজরুর (جار ومجرور) অংশটি হবে অগ্রবর্তী সংবাদ (خبر مقدم), আর আবু বকর হবে পরবর্তী মুক্তাদা (مبتدأ مؤخر)। অথবা হতে পারে যে, পুরো উপনামটিই একটি নাম হিসেবে গণ্য, ফলে এর ব্যাকরণিক রূপান্তর (إعراب) হবে না। অথবা 'ইন্না' শব্দটি এখানে 'না'আম' (হ্যাঁ) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অথবা ইমাম কিসায়ীর মতে, এখানে 'মিন' (مِن) অব্যয়টি অতিরিক্ত (زائدة) হিসেবে এসেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقال ابن بري: يجوز الرفع إذا جعلت من صفة لشيء محذوف، تقديره: إنَّ رجلاً أو إنسانا مِن أمَنِّ الناس. فيكون اسم إنَّ محذوفاً، والجار والمجرور في موضع الصفة، وقوله: «أبو بكر» الخبر .. ).
وفي «فتح الباري» لابن حجر (4/ 29) أيضاً عند شرحه حديث البخاري رقم (1824):
(قوله «إلا أبا قتادة» كذا للكُشميهني، ولغيره: «إلا أبو قتادة» (1) بالرفع ووقع بالنصب عند مسلم (2) وغيره من هذا الوجه
… إلى أن قال:
ومن توجيه الرواية المذكورة وهي قوله إلا أبو قتادة أن يكون على مذهب من يقول علي بن أبو طالب).
3. قال سيبويه (ت 180 هـ) رحمه الله في «الكتاب» (2/ 413):
(اعلم أن أهل الحجاز يقولون إذا قال الرجل رأيت زيداً: مَن زيداً؟ وإذا قال: مررتُ بزيدٍ قالوا: مَن زيدٍ؟ وإذا قال: هذا عبدُالله قالوا: مَن عبدُالله؟
وأما بنو تميم فيرفعون على كل حال، وهو أقيسُ القولين.
فأما أهل الحجاز فإنهم حملوا قولهم على أنهم حكَوا ما تكلَّم به المسؤول، كما قال بعض العرب: دعنا من تَمْرتان، على الحكاية لقوله: ما عنده تمرتان.
وسمعتُ عربياً مرَّة يقول لرجل سأله فقال: أليس قُرشياً؟ فقال: ليس بقرشياً، حكاية لقوله.
فجاز هذا في الاسم الذي يكون علَماً غالباً على ذا الوجه، ولا يجوز في غير الاسم الغالب كما
--------------------------------------------
ইবনে বাররি বলেছেন: রফ করা বৈধ হবে যদি একে একটি উহ্য বিষয়ের বিশেষণ হিসেবে গণ্য করা হয়, যার সম্ভাব্য রূপ হলো: ‘নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি বা মানুষ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুগ্রহকারী’। এমতাবস্থায় ‘ইন্না’-র ইসম উহ্য থাকবে এবং জার ও মাজরুর বিশেষণের স্থলাভিষিক্ত হবে, আর তাঁর উক্তি ‘আবু বকর’ হবে খবর...।
এবং ইবনে হাজার-এর ‘ফাতহুল বারি’ (৪/ ২৯) গ্রন্থেও বুখারি-এর ১৮২৪ নম্বর হাদিসটি ব্যাখ্যা করার সময় বর্ণিত হয়েছে:
(তাঁর উক্তি ‘ইল্লা আবা কাতাদাহ’—আল-কুশমিহানির নিকট এভাবেই এসেছে, তবে অন্যদের বর্ণনায় এসেছে: ‘ইল্লা আবু কাতাদাহ’ (১) রফ অবস্থায়। আর মুসলিম (২) এবং অন্যদের বর্ণনায় এই রেওয়ায়েত (رواية) নসব অবস্থায় এসেছে
… পরিশেষে তিনি বলেন:
আর বর্ণিত রেওয়ায়েত (رواية) অর্থাৎ ‘ইল্লা আবু কাতাদাহ’-এর একটি ব্যাখ্যা এই যে, এটি ওই মাযহাবের অনুসারীদের মতানুসারে যারা ‘আলী বিন আবু তালিব’ বলে থাকে)।
৩. সিবওয়াইহ (মৃত্যু ১৮০ হি.) রাহিমাহুল্লাহ তাঁর ‘আল-কিতাব’ (২/ ৪১৩) গ্রন্থে বলেছেন:
(জেনে রাখুন যে, হিজাযবাসীরা বলে থাকে, যখন কোনো ব্যক্তি বলে ‘আমি জায়েদকে দেখেছি’ (রয়াইতু যাইদান): ‘মান যাইদান’ (কোন জায়েদ)? আর যখন সে বলে: ‘আমি জায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’ (মারারতু বি-জাইদিন): তখন তারা বলে: ‘মান যাইদিন’? আর যখন সে বলে: ‘ইনি আব্দুল্লাহ’ (হাযা আব্দুল্লাহ): তখন তারা বলে: ‘মান আব্দুল্লাহ’?
পক্ষান্তরে বনু তামিম গোত্র সব অবস্থাতেই রফ করে থাকে, আর এটিই দুই মতের মধ্যে অধিক কিয়াসযোগ্য বা যৌক্তিক।
আর হিজাযবাসীদের বিষয়টি হলো, তারা তাদের কথাকে প্রশ্নকারীর উচ্চারণের অনুকরণ বা হিকায়াহ হিসেবে গণ্য করেছে; যেমনটি কোনো কোনো আরব বলে থাকে: ‘দা’না মিন তামরাতানি’ (আমাদেরকে দুটি খেজুর থেকে বিরত রাখ), তার ‘মা ইনদাহু তামরাতানি’ (তার কাছে দুটি খেজুর নেই) উক্তির অনুকরণে।
আমি একবার একজন আরবকে বলতে শুনেছি, তাকে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল এবং সে বলল: ‘সে কি কুরাইশি নয়?’ তখন সে উত্তর দিল: ‘লাইসা বি-কুরাইশিয়ান’ (সে কুরাইশি নয়), তার উক্তির অনুকরণে।
সুতরাং এই পদ্ধতিটি এমন বিশেষ্যের ক্ষেত্রে জায়েজ হয়েছে যা সাধারণত নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে সাধারণ বিশেষ্যের ক্ষেত্রে এটি জায়েজ নয় যেমন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
جاز فيه؛ وذلك أنه الأكثرُ في كلامهم، وهو العلَمُ الأول الذي به يتعارفون، وإنما يُحتاج الى الصفة إذا خاف الالتباس من الأسماء الغالبة. وإنما حكى مبادرةً للمسؤول، أو توكيداً عليه أنه ليس يسألُه عن غير هذا الذي تكلَّمَ به. والكُنية بمنزلة الاسم.
وإذا قال: رأيت أخا خالد، لم يجز: مَن أخا خالد، إلا على قول من قال: دعنا مِن تمرتان، وليس بقرشياً.
والوجه الرفع؛ لأنه ليس باسم غالب
… ).
4. قال الفراء (ت 207 هـ) رحمه الله في «معاني القران» (3/ 114): (1)
(«والجار ذا القربى» ولم يقرأ بِهِ أحد، وربما كُتب الحرف على جهة واحدة، وهو فِي ذَلِكَ يقرأ بالوجوه.
وبلغني: أن كتاب عليّ بْن أَبِي طَالِب رحمه الله كَانَ مكتوباً: هَذَا كتاب من عليِّ بن أَبُو طَالِب. كتابها: أَبُو. فِي كل الجهات، وهي تُعرب فِي الكلام إِذَا قرئت).
تأمل قوله: وهو في ذلك يقرأ بالوجوه .... وقوله: وهي تعرب إذا قرئت.
5. قال ابن قتيبة رحمه الله (ت 276 هـ) في «تأويل مشكل القرآن» ــ تحقيق: أحمد صقر ـ (ص 257) (2)
قال: (ولذلك كانوا يكتبون: علي بن أبو طالب ومعاوية بن أبو سفيان، لأن الكنية بكمالها
--------------------------------------------
এতে এটি জায়েজ; কারণ তাদের কথোপকথনে এটিই সর্বাধিক প্রচলিত, এবং এটিই প্রথম পরিচয় যার মাধ্যমে তারা একে অপরকে চিনতে পারে। বিশেষণের প্রয়োজন তখনই হয় যখন সাধারণ নামগুলোর মাঝে অস্পষ্টতার ভয় থাকে। তিনি কেবল প্রশ্নকারীর উত্তর দ্রুত দেওয়ার জন্য অথবা এটি নিশ্চিত করার জন্য উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাকে এটি ছাড়া অন্য কিছু জিজ্ঞেস করছেন না যা তিনি বলছেন। আর কুনিয়াত (كنية) নামের মর্যাদাই রাখে।
এবং যখন কেউ বলে: 'আমি খালেদের ভাইকে দেখেছি', তখন 'খালেদের ভাই কে?' বলা জায়েজ নেই, কেবল তাদের মত ছাড়া যারা বলে: 'আমাদের দুই খেজুর হতে দাও', এবং 'সে কুরাইশ বংশীয় নয়'।
আর অগ্রগণ্য দিক হলো মারফু (رفع) হওয়া; কারণ এটি কোনো প্রচলিত নাম নয়
… )।
৪. আল-ফাররা (ওফাত ২০৭ হি.) রহিমাহুল্লাহ ‘মাআনী আল-কুরআন’ (৩/ ১১৪) গ্রন্থে বলেছেন: (১)
(«নিকটবর্তী প্রতিবেশী» এবং কেউ এটি এভাবে পড়েনি, এবং হয়তো বর্ণটি কেবল একভাবে লেখা হয়েছে, অথচ তিনি সেটি বিভিন্ন পদ্ধতিতে পাঠ করেন।
আর আমার কাছে পৌঁছেছে যে: আলী ইবনে আবি তালিব রহিমাহুল্লাহ-এর কিতাব এভাবে লিখিত ছিল: 'এটি আলী ইবনে আবু তালিবের পক্ষ থেকে একটি কিতাব'। সেখানে সব ক্ষেত্রেই 'আবু' লেখা হয়েছিল, অথচ পড়ার সময় কথা বলার ব্যাকরণ অনুযায়ী সেটি ই'রাব (إعراب) দিয়ে পড়া হয়)।
তার এই বক্তব্যের প্রতি লক্ষ্য করুন: ‘অথচ তিনি সেটি বিভিন্ন পদ্ধতিতে পাঠ করেন’ .... এবং তার কথা: ‘অথচ পড়ার সময় সেটি ই'রাব (إعراب) অনুযায়ী পড়া হয়।’
৫. ইবনে কুতায়বাহ রহিমাহুল্লাহ (ওফাত ২৭৬ হি.) ‘তাউইল মুশকিলাত আল-কুরআন’ —আহমদ সাকার সম্পাদিত— (পৃষ্ঠা ২৫৭) গ্রন্থে বলেছেন: (২)
তিনি বলেন: (আর একারণেই তারা লিখতেন: আলী ইবনে আবু তালিব এবং মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান, কারণ কুনিয়াত (كنية) তার পূর্ণতা বজায় রেখে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
صارت اسماً، وحظُّ كلِّ حرف الرفع ما لم ينصبه أو يجرّه حرف من الأدوات أو الأفعال. فكأنه حين كنّي قيل: أبو طالب، ثم ترك ذلك كهيئته، وجُعل الاسمان واحداً).
6. جاء في «الرسالة» للشافعي (ت 204 هـ) رحمه الله بتعليق أحمد شاكر (ص 89) فقرة (295) قال: أخبرنا سفيان، عن سالم أبو النضْرـ مولى عُمَر بن عبيد الله ـ
…علَّق محققه: أحمد شاكر بما خلاصته: أن بعض القارئين لم يعجبه هذا النص لمخالفته المشهور في استعمال الأسماء الخمسة، فعدَّله، وهو تصرف غير جيد، وذكر أن له وجهاً في العربية، فنقل قول ابن قتيبة من «تأويل مشكل القرآن».
وذكر أن سالماً اشتهر بكنيته وغلبت عليه. ثم ذكر مثالاً آخر من بعض المحققين لكتاب القرطين حيث عدَّلوا ما في المخطوط وهو مكتوب بالواو، ثم أحال لكشاف الزمخشري في تفسير سورة المسد.
7. قال أبو جعفر النحاس (ت 338 هـ) رحمه الله في «عمدة الكتاب» ـ ط. ابن حزم ـ (ص 73) (1):
(أجاز الكوفيون في أبي جادٍ أن تجعل الواو من بناء الاسم وعدد حروفه، وتوقع الإعراب على الدال فلا تجريه، فيقول: أعجبني أبو جاد، وكتبت أبو جاد، ونظرت إلى أبو جاد، واحتجوا بما روي: (وكتب علي بن أبو طالبٍ).
وسمعت علي بن سيلمان (2) يقول: هذا خطأٌ عظيمٌ، وهدمٌ لأصول العربية، أو معنى هذا؛ قال: والقول فيه أن الواو والياء والألف حروف المد واللين عندهم واحدٌ، فيبدلون بعضها من
--------------------------------------------
(এটি একটি নামে পরিণত হয়েছে, এবং প্রতিটি বর্ণের স্বাভাবিক নিয়ম হলো রফ (رفع) হওয়া, যতক্ষণ না কোনো অব্যয় বা ক্রিয়া একে নসব (نصب) বা জর (جر) প্রদান করে। সুতরাং মনে হচ্ছে যখন তার কুনিয়া (كنية - উপনাম) রাখা হয়েছিল, তখন বলা হয়েছিল: আবু তালিব; অতঃপর একে এই অবিকৃত অবস্থাতেই রেখে দেওয়া হয়েছে এবং উভয় অংশকে মিলিয়ে একটি নাম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে)।
৬. ইমাম শাফেয়ী (রহ.) (মৃত্যু ২০৪ হি.)-এর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থে আহমাদ শাকিরের টীকা সহ (পৃষ্ঠা ৮৯, অনুচ্ছেদ ২৯৫) বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সালেম আবু আন-নাদর (سالم أبو النضر) — উমর বিন উবাইদুল্লাহর মুক্তদাস (مولى) — থেকে বর্ণনা করেছেন...
এর মুহাক্কিক (محقق - সম্পাদক/গবেষক) আহমাদ শাকির সারসংক্ষেপে মন্তব্য করেছেন: কিছু পাঠক এই পাঠ্যটি পছন্দ করেননি কারণ এটি 'আসমাউল খামসাহ' (الأسماء الخمسة - পাঁচটি বিশেষ বিশেষ্য) ব্যবহারের প্রসিদ্ধ নিয়মের পরিপন্থী ছিল, ফলে তিনি তা পরিবর্তন করে দিয়েছেন, যা একটি অনুচিত কাজ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আরবি ভাষায় এর একটি ব্যাকরণগত ভিত্তি রয়েছে, এরপর তিনি ইবনে কুতাইবা-এর 'তাউয়িলু মুশকিিলিল কুরআন' থেকে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সালেম তার কুনিয়া (كنية - উপনাম) দ্বারাই প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন এবং এটিই তার নামের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছিল। অতঃপর তিনি 'কিতাবুল কুরতাইন'-এর কিছু সম্পাদকের (محققين) পক্ষ থেকে আরেকটি উদাহরণ উল্লেখ করেছেন, যেখানে তারা পাণ্ডুলিপিতে (مخطوط) যা ছিল তা পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন, অথচ সেটি 'ওয়াও' (و) দিয়ে লেখা ছিল। এরপর তিনি সূরা আল-মাসাদ-এর তাফসিরের ক্ষেত্রে যামাখশারির 'কাশশাফ'-এর উদ্ধৃতি দেন।
৭. আবু জাফর আন-নাহহাস (রহ.) (মৃত্যু ৩৩৮ হি.) 'উমদাতুল কিতাব' (ইবনে হাজম সংস্করণ, পৃষ্ঠা ৭৩) গ্রন্থে বলেছেন (১):
(কুফাবাসী ব্যাকরণবিদগণ 'আবু জাদ' (أبي جاد) শব্দের ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন যে, 'ওয়াও' (و)-কে নামের মূল গঠন এবং অক্ষর সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত করা যাবে এবং ই'রাব (إعراب - কারক বিভক্তি) 'দাল' (د) বর্ণের ওপর প্রদান করা হবে, ফলে একে (আসমাউল খামসাহ হিসেবে) পরিবর্তন করা হবে না। সুতরাং বলা হবে: 'আবু জাদ আমাকে মুগ্ধ করেছে', 'আমি আবু জাদ লিখেছি', এবং 'আমি আবু জাদের দিকে তাকিয়েছি'। তারা এর সপক্ষে বর্ণিত একটি বর্ণনা দিয়ে দলিল পেশ করেছেন: "আলী বিন আবু তালিব (علي بن أبو طالب) লিখেছেন"।)
এবং আমি আলী বিন সুলাইমানকে (২) বলতে শুনেছি: "এটি একটি মারাত্মক ভুল এবং আরবি ব্যাকরণের মূলনীতিসমূহের (أصول العربية) ধ্বংসসাধন," অথবা এই জাতীয় কিছু। তিনি বলেন: "এই বিষয়ে বক্তব্য হলো— ওয়াও, ইয়া এবং আলিফ; তাদের নিকট এই মদ্দ (مد) ও লীন (لين)-এর হরফগুলো অভিন্ন, তাই তারা একটিকে অন্যটি দ্বারা পরিবর্তন করেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بعضٍ في الخط واللفظ على ما يجب في العربية، فيقولون: رأيت أبا محمدٍ، ويكتبونه بالواو؛ وليس يستنكر أن يقال: لهم الفضل والتقدم، وليس لهم علمٌ بالخط وبحقيقته، وقد كتبوا: «كمشكاةٍ» بالواو.
قال الفراء: إذا سمَّيت رجُلاً بأبي جادٍ، قلتَ: هذا أبو جادٍ. قال: وإن نويت أنك سميته بالكلمة التي يتعلمها الناس؛ كان لك الإجراء وتركه، فمن أجرى قال: الاسم في الأب، ومن لم يجْرِ توهم أن الاسم في جاد، أنشدني الكسائي:
فإلى ابنِ أمِّ أنَاسَ تعمَدُ ناقتي *
لم يجر أناس؛ لأنه قدر الاسم فيه.
قال أبو جعفر: الذي أعرفه من قول الكوفيين أنهم يجيزون للشاعر إذا اضطر ترك صرف ما ينصرف، وهم ينشدون هذا البيت:
وإلى ابنِ أمِّ أناسٍ أرحلُ ناقتي *
وهذا خطأٌ عند أكثر البصريين، والرواية: وإلى ابنِ أمِّ أنَاسٍ أرحل ناقتي.
على تخفيف الهمزة
… ).
8. قال الخطابي (ت 388 هـ) رحمه الله في «غريب الحديث» (1/ 152):
(وقوله: إلى المهاجر بن أبُو أُميَّة (1) فقد كان حَقُّه في الإعراب أن يُقالَ ابنُ أَبِي أُمَيَّة لأنه مضاف إلى أبيه، ولكن لاشتهاره تُرِك عَلَى حالِه كما قيلَ علي بن أبو طالب.
--------------------------------------------
লেখার ধরন এবং উচ্চারণের ক্ষেত্রে আরবির যথাযথ নিয়মানুযায়ী কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমন হয় যে, তারা বলে: 'আমি আবু মুহাম্মদকে দেখেছি', কিন্তু তারা তা 'ওয়াও' দিয়ে লেখে। অথচ এ কথা বলা দোষণীয় নয় যে, তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগামিতা রয়েছে, যদিও লিপিকলা ও এর প্রকৃত রূপ সম্পর্কে তাদের গভীর জ্ঞান নেই; যেমন তারা 'কামিশকাতিন' শব্দটি ওয়াও দিয়ে লিখেছে।
আল-ফাররা বলেন: আপনি যদি কোনো ব্যক্তির নাম রাখেন 'আবু জাদ', তবে বলবেন: 'ইনি আবু জাদ'। তিনি আরও বলেন: আপনি যদি সংকল্প করেন যে আপনি তাকে সেই শব্দ দ্বারা নামকরণ করেছেন যা মানুষ শেখে (বর্ণমালা), তবে আপনার জন্য তানভীন যুক্ত করা (الإجراء) বা তা বর্জন করা উভয়ই বৈধ। যে ব্যক্তি তানভীন যুক্ত করেছে সে বলে: নাম মূলত 'আবু' অংশের মধ্যে নিহিত। আর যে ব্যক্তি তানভীন বর্জন করেছে সে ধারণা করে যে নামটি 'জাদ' অংশের মধ্যে রয়েছে। আল-কিসায়ি আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:
অতঃপর ইবনে উম্মে আনাস-এর দিকেই আমার উষ্ট্রী ধাবিত হয়।
এখানে 'আনাস' শব্দটিতে তানভীন ব্যবহৃত হয়নি; কারণ তিনি একে বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করেছেন।
আবু জাফর বলেন: কুফাবাসীদের অভিমত থেকে আমি যা জানি তা হলো, কবি যখন ছন্দ রক্ষার্থে বাধ্য হন তখন তারা তার জন্য পরিবর্তনশীল শব্দের তানভীন বর্জন (ترك الصرف) করাকে বৈধ মনে করেন। তারা এই পংক্তিটি আবৃত্তি করেন:
আর ইবনে উম্মে আনাস-এর অভিমুখে আমি আমার উষ্ট্রীকে চালিত করি।
অধিকাংশ বসরাবাসীর মতে এটি ভুল। বর্ণনাটি হলো: 'ইবনে উম্মে আনাস'-এর দিকে আমি আমার উষ্ট্রীকে চালিত করি। এটি হামজার উচ্চারণ সহজীকরণের (تخفيف الهمزة) ভিত্তিতে
… )।
8. ইমাম খাত্তাবি (মৃত্যু ৩৮৮ হি.) রহিমাহুল্লাহ গারিবুল হাদিস (১/ ১৫২)-এ বলেন:
(তার উক্তি: 'মুহাজির ইবনে আবু উমাইয়াহ-এর দিকে (১)', এখানে ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (إعراب) অনুযায়ী সঠিক রূপটি হওয়া উচিত ছিল 'ইবনে আবি উমাইয়াহ', যেহেতু এটি তার পিতার নামের সাথে সম্বন্ধিত (مضاف); কিন্তু অধিক প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণে এটিকে তার মূল অবস্থাতেই রাখা হয়েছে, যেমনটি 'আলী ইবনে আবু তালিব' বলা হয়ে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وأخبرنا ابن الأعرابي، قال: أخبرنا العباس الدوري، قال: حدثنا يحيى بن معين قال: كان إسماعيل بن أبي خالد (1) يقول: قيس بن أبو حازم). انتهى
أقول: ولفظه في «تاريخ يحيى بن معين» (ت 232 هـ) رواية الدُّوري (3/ 444) رقم
… (2177): (سمعت يحيى يقول: كان إسماعيل بن أبي خالد إذا حدَّث عن قيس يقول: حدثني قيس بن أبو حازم.
قلت ليحيى: كان إسماعيل من العرب؟ قال: كان مولى بجيلة). انتهى.
وجاء في «الكفاية في معرفة أصول علم الرواية» للخطيب البغدادي (ت 463 هـ) تحقيق: د. ماهر الفحل (1/ 428) (2)
باب ذكر الرواية عمن قال: يجب تأدية الحديث على الصواب ، وإن كان المحدِّث قد لحن فيه وتركَ مُوجب الإعراب.
وساق الخطيب نصوصاً كثيرة في الباب، أورد
… منها:
(611) أخبرنا محمد بن الحسين القطان، قال: أخبرنا عبد الله بن جعفر بن درستويه، قال: حدثنا يعقوب بن سفيان (3)، قال: حدثنا الحُمَيدي ، قال: قال سفيان: «كان ابن أبي خالد يقول: سمعتُ المستوردَ أخي بني فهر ، يلحن فيه ، فقلت أنا: أخا بني فهر».
--------------------------------------------
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল আ’রাবি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্বাস আদ-দুরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ (১) বলতেন: কাইস ইবনে আবু হাজিম। (সমাপ্ত)
আমি বলছি: ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (মৃ. ২৩২ হি.) রচিত ‘তারিখ ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন’-এ আদ-দুরি-র বর্ণনা (رواية) (৩/ ৪৪৪) নং
… (২১৭৭) এর শব্দগুলো হলো: (আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি: ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ যখন কাইস থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন: আমার নিকট কাইস ইবনে আবু হাজিম বর্ণনা করেছেন।
আমি ইয়াহইয়াকে বললাম: ইসমাইল কি আরবদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন? তিনি বললেন: তিনি বাজিলা গোত্রের আযাদকৃত দাস (مولى) ছিলেন)। (সমাপ্ত)।
খতিব আল-বাগদাদি (মৃ. ৪৬৩ হি.) রচিত এবং ড. মাহের আল-ফাহল সম্পাদিত ‘আল-কিফায়া ফি মা’রিফাতি উসুল ইলম আর-রিওয়ায়াহ’ (১/ ৪২৮) গ্রন্থে এসেছে (২)
পরিচ্ছেদ: ওই ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা (رواية) সংক্রান্ত আলোচনা যিনি বলেন: হাদিসকে সঠিকভাবে আদায় করা ওয়াজিব, যদিও বর্ণনাকারী (محدث) ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করেন এবং ই’রাব (إعراب)-এর প্রয়োজনীয় নিয়ম বর্জন করেন।
খতিব এই পরিচ্ছেদে অনেকগুলো বক্তব্য (نصوص) উপস্থাপন করেছেন, তার মধ্য থেকে উল্লেখ করেছেন
… :
(৬১১) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-কাত্তান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে দুরুস্তাওয়াইহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান (৩), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুমাইদি, তিনি বলেন: সুফিয়ান বলেছেন: «ইবনে আবি খালিদ বলতেন: আমি মুস্তাওরিদ ‘আখি বনি ফিহর’ (বনু ফিহর গোত্রের ভাই)-কে বলতে শুনেছি—তিনি এতে ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করতেন, তখন আমি (সংশোধন করে) বললাম: ‘আখা বনি ফিহর’»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
(612) أخبرنا محمد بن أحمد بن رزق، قال: أخبرنا محمد بن أحمد الصواف، قال: حدثنا عبد الله بن أحمد (1)، حدثني أبي، ثنا هُشيم ، قال: «كان إسماعيل بن أبي خالد وقد لقي أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فاحشَ اللحن ، كان يقول: حدثني فلان، عن أبوه».
(613) أخبرنا محمد بن عبد الواحد الأكبر، قال: أخبرنا محمد بن العباس، قال: أخبرنا ابن مرابا، قال: حدثنا العباس بن محمد ، قال: سمعت يحيى (2) ، يقول: «كان إسماعيل بن أبي خالد إذا حدَّث عن قيس ، يقول: حدثني قيس بن أبو حازم ، قلت ليحيى: كان إسماعيل من العرب؟ قال: كان مولى بجيلة.
علَّق الخطيب بقوله: لا أعلم أحداً حدَّث عن ابن أبي خالد عن قيس فنسبَه: إلا قال: ابن أبي حازم، وهذا إجماع منهم أن إصلاح اللحن جائز ، والله أعلم).
فائدة: قال ابن عبدالبر (ت 463 هـ) في «جامع بيان العلم وفضله» (1/ 351): (وكان ممن يأبى أن ينصرف عن اللحن فيما روي عنه: نافع مولى ابن عمر رضي الله عنهما، وأبو معمر عبد الله بن صخر الأزدي، وأبو الضحى مسلم بن صبيح، ومحمد بن سيرين.
ذكر أبو بكر بن أبي شيبة، قال: حدثنا سفيان بن عيينة، عن إسماعيل بن أمية قال: «كنا نريد نافعاً على إقامة اللحن في الحديث فيأبى».
ثم ساق ابن عبدالبر بإسناده إلى أبي معمر قوله: «إني لأسمع في الحديث لحناً فألحن اتباعاً لما سمعت»).
--------------------------------------------
(612) মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন রিজক আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আহমাদ আস-সাওয়াফ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন আহমাদ (১) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, হুশাইম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «ইসমাঈল বিন আবি খালিদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, অথচ তিনি অত্যধিক ব্যাকরণগত ভুল (فاحش اللحن) করতেন। তিনি বলতেন: অমুক ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তার পিতা হতে (عن أبوه - ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ)»।
(613) মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-আকবার আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে মুরাবা আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-আব্বাস বিন মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া (২)-কে বলতে শুনেছি: «ইসমাঈল বিন আবি খালিদ যখন কায়স থেকে বর্ণনা করতেন, তখন তিনি বলতেন: কায়স বিন আবু হাজিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আমি ইয়াহইয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম: ইসমাঈল কি আরব বংশোদ্ভূত ছিলেন? তিনি বললেন: তিনি বাজিলাহ গোত্রের মুক্ত দাস বা চুক্তিবদ্ধ মিত্র (مولى) ছিলেন।
আল-খতিব মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: আমি এমন কাউকে জানি না যে ইবনে আবি খালিদ থেকে কায়সের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তার বংশ পরিচয় উল্লেখ করেছেন, অথচ তিনি 'ইবনে আবি হাজিম' (ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ করে) বলেননি। আর এটি তাদের পক্ষ থেকে একটি সর্বসম্মতি (إجماع) যে, ব্যাকরণগত ভুল সংশোধন করা (إصلاح اللحن) বৈধ (جائز), আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
জ্ঞাতব্য: ইবনে আব্দুল বার (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি) তাঁর ‘জামে বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি’ (১/৩৫১) গ্রন্থে বলেন: (যাদের থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে অথচ তারা ব্যাকরণগত ভুল পরিহার করতে অস্বীকার করতেন তাদের মধ্যে ছিলেন: ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মুক্ত দাস (مولى) নাফে', আবু মা'মার আব্দুল্লাহ বিন সাখর আল-আজদি, আবুল দুহা মুসলিম বিন সাবিহ এবং মুহাম্মদ বিন সিরিন।
আবু বকর বিন আবি শায়বা উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল বিন উমাইয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমরা নাফেকে হাদিসের ব্যাকরণগত ভুল সংশোধন করতে অনুরোধ করতাম, কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করতেন»।
অতঃপর ইবনে আব্দুল বার তাঁর সনদ (إسناد) সহকারে আবু মা'মারের এই উক্তিটি উল্লেখ করেন: «আমি হাদিসে কোনো ব্যাকরণগত ভুল শুনলে, আমি যা শুনেছি তার অনুসরণে ভুলভাবেই তা বর্ণনা করি»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
9. قال ابن الأثير (ت 606 هـ) رحمه الله في «النهاية» (1/ 20):
(وفي حديث وائل بن حجر «من محمد رسول الله إلى المهاجر بن أبو أمية» حقه أن يقول ابن أبي أمية، ولكنه لاشتهاره بالكنية، ولم يكن له اسم معروف غيره، لم يُجَرّ، كما قيل: على بن أبو طالب).
10. قال ابن الأثير (ت 606 هـ) أيضاً في «منال الطالب في شرح طوال الغرائب» (1/ 67) (1): («من محمد رسول الله إلى المهاجر بن أبو أمية». قال ابن الأثير: (وأبو أمية هكذا يُروى بالرفع في حال الجر، لأنه اشتُهر بذلك وعُرف به، فجرى مجرى المثل الذي لا يُغيَّر، نحو قولهم: علي بن أبو طالب، بالرفع؛ لأن أباه اشتهر بكنيته، فلا يكاد يُعرف اسمه، واسمُه عبد مناف، واسم أبي أمية: سُهيل).
قال الملا علي قاري الهروي (ت 1014 هـ) في «شرح الشفا» (1/ 193):
(ولما كان أبو أمية مشتهراً؛ تركه رسول الله صلى الله عليه وسلم على حاله، كما يقال: علي بن أبو طالب ـ كرم الله وجهه ـ.
وحكى أبو زيد في «نوادره» عن الأصمعي، عن يحيى بن عمر: أنَّ قريشاً كانت لا تغير الأب في الكنية، تجعله مرفوعاً في كل وجه، من الرفع والجر والنصب). (2)
--------------------------------------------
৯. ইবনুল আসির (মৃ. ৬০৬ হি.) রাহিমাহুল্লাহ ‘আন-নিহায়াহ’ (১/২০) গ্রন্থে বলেছেন:
(ওয়াইল বিন হুজর বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে আল-মুহাজির বিন আবু উমাইয়ার প্রতি’। এখানে ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী ‘ইবনে আবি উমাইয়া’ হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু যেহেতু তিনি তার উপনাম (كنية) দ্বারাই সুপরিচিত ছিলেন এবং এছাড়া তার অন্য কোনো নাম প্রসিদ্ধ ছিল না, তাই একে পরিবর্তন (যের প্রদান) করা হয়নি। যেমনটি বলা হয়ে থাকে: আলী বিন আবু তালিব)।
১০. ইবনুল আসির (মৃ. ৬০৬ হি.) ‘মানালুত তালিব ফি শারহি তাওয়ালিল গারাইব’ (১/৬৭) (১) গ্রন্থেও বলেছেন: (‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে আল-মুহাজির বিন আবু উমাইয়ার প্রতি’। ইবনুল আসির বলেন: আবু উমাইয়া শব্দটি এখানে ‘জর’ বা সম্বন্ধসূচক অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও ‘রফ’ বা পেশ যুক্ত অবস্থায় বর্ণিত হয়েছে। কারণ তিনি এই নামেই প্রসিদ্ধ ও পরিচিত ছিলেন। ফলে এটি প্রবাদের মতো হয়ে গেছে যা পরিবর্তন করা হয় না। যেমন তারা বলে থাকেন: আলী বিন আবু তালিব—পেশ যুক্ত অবস্থায়; কারণ তার পিতা তার উপনাম (كنية) দ্বারাই প্রসিদ্ধ ছিলেন, এমনকি তার আসল নাম প্রায় অপরিচিতই ছিল। তার আসল নাম ছিল আবদে মানাফ, আর আবু উমাইয়ার আসল নাম ছিল সুহাইল)।
মোল্লা আলী কারী আল-হারাউই (মৃ. ১০১৪ হি.) ‘শারহুশ শিফা’ (১/১৯৩) গ্রন্থে বলেছেন:
(যেহেতু আবু উমাইয়া নামটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ছিল, তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে তার মূল অবস্থাতেই রেখে দিয়েছেন। যেমনটি বলা হয়ে থাকে: আলী বিন আবু তালিব —কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু—।
আবু জাইদ তার ‘নাওয়াদির’ গ্রন্থে আল-আসমাঈর সূত্রে এবং তিনি ইয়াহইয়া বিন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে: কুরাইশরা উপনামের (كنية) ক্ষেত্রে পিতার নামের কোনো পরিবর্তন করত না। তারা রফ (رفع), জর (جر) ও নসব (نصب) সর্বাবস্থায় একে রফ বা পেশ যুক্ত রাখত)। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
11. وقال ابن الأثير (ت 606 هـ) ـ أيضاً ـ في «البديع في علم العربية» (2/ 368):
(قد أثبتوا الواو على خلاف النطق بها، قالوا: علي بن أبو طالب، ويتكلمون بالياء، وكتبوا في المصحف: الصلوة، والزكوة، والحيوة، والمشكوة، والربوا، بالواو، (1) واللفظ بالألف).
--------------------------------------------
১১. এবং ইবনুল আসির (মৃত্যু ৬০৬ হিজরি) তাঁর ‘আল-বাদি’ ফি ইলমিল আরাবিয়্যাহ’ (২/ ৩৬৮) গ্রন্থে আরও বলেছেন:
(তারা উচ্চারণের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও ‘ওয়াও’ বর্ণটিকে বহাল রেখেছেন। তারা লিখেছেন: ‘আলী বিন আবু তালিব’, যদিও তারা এটি ‘ইয়া’ দিয়ে উচ্চারণ করেন। আর তারা মুসহাফে ‘ওয়াও’ দিয়ে লিখেছেন: আস-সালাত, আজ-জাকাত, আল-হায়াত, আল-মিশকাত এবং আর-রিবা (১), অথচ এগুলোর উচ্চারণ আলিফ দিয়ে করা হয়)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
12. قرئ: «تبَّتْ يدا أبو لهب وتَبَّ». ولم أجد هذه القراءة في كتب القراءات، وأقدم
… مصدر ذكرها ــ فيما بين يدي من المصادر ـ:
«مختصر في شواذ القرآن من كتاب البديع لابن خالويه ت 370 هـ» (ص 182) قال: حكاه أبو معاذ.
ثم «الكشاف» للزمخشري، ومن جاء بعده نقله منه!
قال الزمخشري (ت 538 هـ) في «الكشاف» (4/ 814): (فإن قلتَ: لم كناه، والتكنية تكرمة؟
قلتُ: فيه ثلاثة أوجه:
أحدها: أن يكون مشتهراً بالكنية دون الاسم، فقد يكون الرجل معروفا بأحدهما، ولذلك تجرى الكنية على الاسم، أو الاسم على الكنية عطف بيان، فلما أريد تشهيره بدعوة السوء وأن تبقى سمة له، ذكر الأشهر من علميه، ويؤيد ذلك قراءة مَن قرأ: يدا أبو لهب، كما قيل، علي بن أبو طالب، ومعاوية بن أبو سفيان، لئلا يغير منه شيء فيشكل على السامع، ولفليتة بن قاسم أمير مكة ابنان، أحدهما: عبدِالله ـ بالجرِّ ـ، والآخر: عبدَ الله ـ بالنصب ـ.
كان بمكة رجل يقال له: عبد الله ـ بجرَّة الدال ـ لا يعرف إلا هكذا.
والثاني: أنه كان اسمه عبد العزى، فعدل عنه إلى كنيته.
والثالث: أنه لما كان من أهل النار ومآله إلى نار ذات لهب، وافقت حاله كنيته، فكان جديراً بأن يُذكر بها).
12. পাঠ করা হয়েছে: «তব্বাত ইয়াদা আবু লাহাব ওয়া তব্বা»। আমি কিরাআত (পাঠরীতি) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে এই পাঠরীতিটি খুঁজে পাইনি। আমার নিকট বিদ্যমান উৎসসমূহের মধ্যে এটি উল্লেখকারী প্রাচীনতম উৎস হলো:
ইবনে খালওয়াইহ (মৃত্যু ৩৭০ হিজরী)-এর 'মুখতাসার ফি শাওয়াযিল কুরআন মিন কিতাবিল বাদি' (পৃষ্ঠা ১৮২); তিনি বলেন: এটি আবু মুয়াজ বর্ণনা করেছেন।
এরপর যামাখশারীর 'আল-কাশশাফ', এবং তাঁর পরবর্তীগণ তাঁর গ্রন্থ থেকেই এটি উদ্ধৃত করেছেন!
যামাখশারী (মৃত্যু ৫৩৮ হিজরী) 'আল-কাশশাফ' (৪/৮১৪)-এ বলেছেন: (যদি আপনি প্রশ্ন করেন: কেন তাকে উপনামে সম্বোধন করা হলো, অথচ উপনাম ব্যবহার করা তো সম্মান প্রদর্শনের পরিচায়ক?
উত্তরে আমি বলব: এর তিনটি দিক রয়েছে:
প্রথমটি হলো: তিনি তাঁর মূল নামের চেয়ে উপনামেই অধিক প্রসিদ্ধ ছিলেন। কোনো ব্যক্তি কখনও একটির মাধ্যমেই সমধিক পরিচিত হয়ে থাকেন, আর এ কারণেই বর্ণনামূলক অনুগামী (আতফ বয়ান) হিসেবে নামের ওপর উপনাম অথবা উপনামের ওপর নাম ব্যবহার করা হয়। যখন তাঁর প্রতি অশুভ প্রার্থনার মাধ্যমে তাঁকে লোকচক্ষুর সামনে তুলে ধরার এবং এটি তাঁর জন্য একটি স্থায়ী পরিচায়ক চিহ্ন হিসেবে রাখার ইচ্ছা পোষণ করা হলো, তখন তাঁর পরিচায়ক নাম দুটির মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধটি উল্লেখ করা হলো। এর সমর্থনে ওই ব্যক্তির পাঠরীতি পাওয়া যায় যিনি পড়েছেন: 'ইয়াদা আবু লাহাব' (ইয়াদা আবি লাহাব-এর পরিবর্তে), যেমনটি বলা হয়ে থাকে: 'আলী ইবনে আবু তালিব' এবং 'মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান', যাতে এর কোনো অংশে পরিবর্তন না ঘটে এবং শ্রবণকারীর নিকট অস্পষ্টতা তৈরি না হয়। মক্কার আমীর ফালাইতাহ ইবনে কাসিমের দুই পুত্র ছিল; তাদের একজন 'আবদিল্লাহ' —জের সহকারে— এবং অন্যজন 'আবদাল্লাহ' —জবর সহকারে।
মক্কায় একজন লোক ছিল যাকে 'আবদিল্লাহ' বলা হতো —দাল বর্ণে জের প্রদান সহকারে— তিনি কেবল এভাবেই পরিচিত ছিলেন।
দ্বিতীয়টি হলো: তাঁর নাম ছিল 'আবদুল উজ্জা', তাই তা বর্জন করে তাঁর উপনামের দিকে ফিরে আসা হয়েছে।
তৃতীয়টি হলো: যেহেতু তিনি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর শেষ পরিণতি হলো লেলিহান শিখাযুক্ত অগ্নি (লাহাব), তাই তাঁর অবস্থা তাঁর উপনামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে গেছে; ফলে তাঁকে এই উপনামে উল্লেখ করাই ছিল যুক্তিযুক্ত)।
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
- قال الشهاب الخفاجي الحنفي (ت 1096 هـ) في «حاشيته على تفسير البيضاوي» (8/ 407): (وقراءة أبو بالواو لحكاية الرفع الذي هو أشرف أحوال اللفظ وأسبقها، ولذا حوفظ عليه، واشتهر الاسم به).
- قال الرازي (ت 606 هـ) في تفسيره «مفاتيح الغيب» (32/ 350): (التكنية قد تكون اسماً، ويؤيده قراءة من قرأ: «تبت يدا أبو لهب» كما يُقال: علي بن أبو طالب، ومعاوية بن أبو سفيان، فإن هؤلاء أسماؤهم كناهم).
- وانظر: «الدر المصون» للسمين الحلبي (ت 756 هـ) (11/ 143).
13. قال ابن مالك (ت 672 هـ) رحمه الله في «شرح الكافية الشافية» (4/ 1721):
(
… ومنه قول الشاعر:
وأجبت قائل: كيف أنت؟ بـ «صالحٌ»
… حتى مللت، وملني عوادي.
أدخل الباء على «صالح» وتركه مرفوعاً كما يكون لو لم تدخل عليه الباء.
ويمكن أن يكون من هذا ما كتب بواو في خط الصحابة رضي الله عنهم أجمعين: «فلان بن أبو فلان».
كأنه قيل: فلان ابن المقول فيه أبو فلان.
والمختار فيه عند المحققين أن يقرأ بالياء، وإن كان مكتوباً بالواو، كما تقرأ «الصلوة» و «الزكوة» بالألف، وإن كانا مكتوبين بالواو تنبيهًا على أن المنطوق به منقلب عن واوٍ.
وإذا نسب إلى حرف أو غيره حكم هو للفظه دون معناه جاز أن يحكى، وجاز أن يعرف بما تقتضيه العوامل .... ).
- শিহাব আল-খাফাজি আল-হানাফি (মৃত্যু ১০৯৬ হি.) তাফসিরে বায়দাবীর ওপর তাঁর হাশিয়া-তে (৮/৪০৭) বলেন: ('আবু' শব্দটিকে 'ওয়াও' (و) সহযোগে পাঠ করা হলো রফ (رفع) বা পেশযুক্ত অবস্থার অনুকরণ (حكاية), যা শব্দের সবচেয়ে মহিমান্বিত এবং প্রাথমিক অবস্থা; এই কারণেই একে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং এই নামেই এটি প্রসিদ্ধ হয়েছে)।
- ইমাম রাযী (মৃত্যু ৬০৬ হি.) তাঁর তাফসির 'মাফাতিহুল গাইব'-এ (৩২/৩৫০) বলেন: (উপনাম বা কুনিয়া (كنية) কখনও নাম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এর সপক্ষে তাঁদের কিরাত বা পাঠরীতি দলীল হিসেবে পেশ করা হয় যারা পাঠ করেছেন: 'তাব্বাত ইয়াদা আবু লাহাব', যেমনটি বলা হয়ে থাকে: 'আলী ইবনে আবু তালিব' এবং 'মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান'। কেননা তাঁদের উপনামগুলোই তাঁদের নাম হিসেবে গণ্য)।
- আরও দেখুন: সামিন আল-হালাবি (মৃত্যু ৭৫৬ হি.) রচিত 'আদ-দুররুল মাসুন' (১১/১৪৩)।
১৩. ইবনে মালিক (মৃত্যু ৬৭২ হি.) রাহিমাহুল্লাহ তাঁর 'শারহুল কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ' (৪/১৭২১) গ্রন্থে বলেন:
(
… কবির এই উক্তিটিও এর অন্তর্ভুক্ত:
আমি প্রশ্নকারীকে উত্তর দিলাম: তুমি কেমন আছো? - "ভালো আছি (صالحٌ)" বলে... এমনকি আমি ক্লান্ত হয়ে পড়লাম এবং আমার সেবাকারীরাও আমার প্রতি বিরক্ত হলো।
এখানে তিনি 'সালিহ' শব্দের পূর্বে 'বা' (ب) হরফটি যুক্ত করেছেন, কিন্তু শব্দটিকে রফ (رفع) বা পেশযুক্ত অবস্থায় অপরিবর্তিত রেখেছেন, যেমনটি এর আগে 'বা' হরফ না থাকলেও হতো।
সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন)-এর লিপিতে যা 'ওয়াও' (و) সহযোগে লেখা হয়েছে, সেটিও সম্ভবত এরই অন্তর্ভুক্ত: "ফুলান ইবনে আবু ফুলান"।
যেন বিষয়টি এমন: 'অমুক ব্যক্তি ওই ব্যক্তির পুত্র যাকে "আবু অমুক" বলে অভিহিত করা হয়'।
গবেষকগণের (المحققين) নিকট এ ক্ষেত্রে পছন্দনীয় মত হলো এটি 'ইয়া' (ي) দিয়ে পড়া হবে, যদিও তা 'ওয়াও' (و) দিয়ে লেখা থাকে। যেমন 'আস-সালাত' এবং 'আয-যাকাত' শব্দ দুটিতে 'ওয়াও' লেখা থাকা সত্ত্বেও আলিফ দিয়ে পড়া হয়, এটি বুঝানোর জন্য যে পঠিত বর্ণটি মূলত 'ওয়াও' থেকে পরিবর্তিত হয়েছে।
যখন কোনো হরফ বা অন্য কিছুর সাথে এমন কোনো বিধান সম্পৃক্ত করা হয় যা কেবল তার বাচনিক রূপের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থের সাথে নয়, তখন তাকে হুবহু অনুকরণ (حكاية) করে উল্লেখ করা জায়েয, আবার ব্যাকরণিক আমিল (العوامل) বা প্রভাবক দ্বারা যা আবশ্যক হয় সে অনুযায়ী উল্লেখ করাও জায়েয... )।
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
علَّق خالد الأزهري (ت 905 هـ) رحمه الله في: «شرح التصريح على التوضيح»
… (4/ 526) على قول ابن مالك فقال:
(وعندي أنه يقرأ بالواو لوجهين:
أحدهما: أن الغرض أنه محكي وقراءته بالياء تفوت ذلك، بخلاف الصلاة والزكاة فإنهما غير محكيتين.
والثاني: أنه يحتمل أن يكون وضع بالواو فيكون من استعمال الاسم في أول أحواله. وذلك لا يغير).
14. قال ابن كثير (ت 774 هـ) رحمه الله في «البداية والنهاية» (18/ 9) في حوادث سنة
… (701 هـ): (وفي هذا الشهر ـ شهر شوال ـ عقد مجلس لليهود الخيابرة، وألزموا بأداء الجزية أسوة أمثالهم من اليهود، فأحضروا كتابا معهم يزعمون أنه من رسول الله صلى الله عليه وسلم بوضع الجزية عنهم، فلما وقف عليه الفقهاء، تبينوا أنه مكذوب مفتعل لما فيه من الألفاظ الركيكة، والتواريخ المخبطة، واللحن الفاحش، وحاققهم عليه شيخ الإسلام ابن تيمية، وبين لهم خطأهم وكذبهم، وأنه مزور مكذوب، فأنابوا إلى أداء الجزية، وخافوا من أن يستعاد عليهم بالسنين الماضية.
قلت: وقد وقفت أنا على هذا الكتاب، فرأيت فيه شهادة سعد بن معاذ عام خيبر، وقد توفي سعد قبل ذلك بنحو من ثلاث سنين، وشهادة معاوية بن أبي سفيان، ولم يكن أسلم إذ ذاك، وإنما أسلم بعد ذلك بنحو من سنتين.
وفيه: وكتب علي بن أبو طالب، وهذا لحن لا يصدر عن أمير المؤمنين علي؛ لأن علم النحو إنما أسند إليه من طريق أبي الأسود الدؤلي عنه، وقد جمعت فيه جزءا مفردا، وذكرت ما جرى فيه
খালিদ আল-আযহারী (ওফাত ৯০৫ হি.) রহিমাহুল্লাহ ‘শারহুত তাসরিহ আলাত তাওদিহ’ গ্রন্থে
… (৪/ ৫২৬) ইবনে মালিকের উক্তির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন:
(আমার মতে, এটি ‘ওয়াও’ সহযোগে পঠিত হবে দুটি কারণে:
প্রথমত: উদ্দেশ্য হলো এটি উদ্ধৃত (محكي), আর ‘ইয়া’ যোগে পাঠ করলে সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়; সালাত ও জাকাতের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ সেগুলো উদ্ধৃত নয়।
দ্বিতীয়ত: এটি সম্ভব যে শব্দটির মূল গঠন ‘ওয়াও’ দিয়ে করা হয়েছে, ফলে এটি শব্দের প্রাথমিক অবস্থার ব্যবহার হিসেবে গণ্য হবে। আর সেটি কোনো পরিবর্তন ঘটায় না)।
১৪. ইবনে কাসীর (ওফাত ৭৭৪ হি.) রহিমাহুল্লাহ ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ (১৮/ ৯) গ্রন্থে
… (৭০১ হি.) সালের ঘটনাবলীতে বলেন: (এই মাসে—শাওয়াল মাসে—খায়বারের ইহুদিদের জন্য একটি সভা আহ্বান করা হয় এবং তাদের সমজাতীয় অন্যান্য ইহুদিদের ন্যায় জিজয়া প্রদানে বাধ্য করা হয়। তখন তারা একটি লিখিত পত্র নিয়ে আসে এবং দাবি করে যে, এটি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে তাদের জিজয়া মওকুফ সংক্রান্ত পত্র। ফকিহগণ যখন সেটি পর্যবেক্ষণ করলেন, তখন তাদের নিকট স্পষ্ট হয়ে গেল যে এটি মিথ্যা (مكذوب) ও উদ্ভাবিত (مفتعل); কারণ এতে ব্যবহৃত শব্দগুলো ছিল অত্যন্ত দুর্বল, তারিখগুলো ছিল বিভ্রান্তিকর এবং এতে ছিল জঘন্য ভাষাগত ভুল (لحن)। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এই বিষয়ে তাদের সাথে বিতর্ক করেন এবং তাদের ভুল ও মিথ্যাচার স্পষ্ট করে দেন যে, এটি জাল (مزور) ও মিথ্যা (مكذوب)। ফলে তারা জিজয়া প্রদানে সম্মত হয় এবং এই ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে যে পাছে বিগত বছরগুলোর পাওনাও তাদের নিকট থেকে উসুল করা হয়।
আমি (ইবনে কাসীর) বলছি: আমি নিজেও এই পত্রটি দেখেছি। তাতে আমি খায়বারের যুদ্ধের বছরে সাদ ইবনে মুআযের সাক্ষ্য দেখতে পাই, অথচ সাদ তার প্রায় তিন বছর পূর্বেই ইন্তেকাল করেছিলেন। তাতে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের সাক্ষ্যও ছিল, অথচ তিনি তখনো ইসলাম গ্রহণ করেননি; বরং তিনি এর প্রায় দুই বছর পর ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
তাতে আরও লিখিত ছিল: ‘আলী ইবনে আবু তালিব লিখেছেন’। এটি এমন এক ভাষাগত ভুল (لحن) যা আমিরুল মুমিনীন আলীর দ্বারা হওয়া অসম্ভব; কারণ নাহু শাস্ত্র তো আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালির মাধ্যমে তাঁর সূত্রেই বর্ণিত। আমি এই বিষয়ে একটি পৃথক পুস্তিকা সংকলন করেছি এবং সেখানে যা যা ঘটেছে তা সবিস্তারে উল্লেখ করেছি)।
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أيام القاضي الماوردي، وكبار أصحابنا في ذلك العصر، وقد ذكره في «الحاوي»، وصاحب
… «الشامل» في كتابه، وغير واحد، وبينوا خطأه، ولله الحمد والمنة.). انتهى
وقال ابن كثير أيضاً في «فضائل القرآن» (ص 88): (فإن علياً لم ينقل عنه مصحف ــ على ما قيل ــ ولا غير ذلك، ولكن قد توجد مصاحف على الوضع العثماني، يقال: إنها بخط عليٍّ رضي الله عنه وفي ذلك نظر؛ فإن في بعضها كتبه علي بن أبو طالب، وهذا لحن من الكلام، وعلي رضي الله عنه من أبعد الناس عن ذلك؛ فإنه ــ كما هو المشهور عنه ــ هو أول من وضع علم النحو، فيما رواه عنه أبو الأسود ظالم بن عمر الدؤلي، وفعل وحرف، وذكر أشياء أُخَر تمَّمها أبو الأسود بعده، ثم أخذ الناس عن أبى الاسود فوسَّعوه ووضَّحوه، وصار علماً مستقلاً).
15. قال أبو حيان الأندلسي (ت 745 هـ) رحمه الله في «إرتشاف الضَّرَب» (2/ 690) في باب الحكاية: (والمجمع عليه من الرواة حكاية العَلَم اسماً وكنيةً (1) ولقباً في لغة الحجاز، وحكى الأخفش أن منهم من يحكي الاسم مطلقاً اسماً كان أو وصفاً أو ما كان
… إلخ).
16. قال السيوطي (ت 911 هـ) رحمه الله في «عقود الزبرجد على مسند أحمد» (2) (3/ 253 ـ 255) رقم (1662) ـ ط. دار الجيل ـ.
[[حديث: (ادعوا لي بعض رفقائي قلت: أبو بكر قال: لا، قلت: ابن عمك عليَّاً قال: لا).
قال أبو البقاء: كذا وقع في هذه الرواية، رفع (أبو بكر) ونصب (عليَّ). ووجهه أن يقدر في
--------------------------------------------
কাজি আল-মাওয়ার্দির সময়কাল এবং সেই যুগের আমাদের মাযহাবের জ্যেষ্ঠ আলেমদের কথা। তিনি এটি ‘আল-হাউয়ি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং ‘আশ-শামিল’ এর লেখকও তাঁর গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, এ ছাড়া আরও অনেকেই। তাঁরা তাঁর ভুলটি স্পষ্ট করেছেন। সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহর জন্য। সমাপ্ত।
ইবনে কাসির তাঁর ‘ফাদায়িলুল কুরআন’ (পৃ. ৮৮) গ্রন্থে আরও বলেছেন: (কেননা আলীর পক্ষ থেকে কোনো মুসহাফ (কুরআনের পাণ্ডুলিপি) বর্ণনা (رواية) করা হয়নি—যেমনটি বলা হয়ে থাকে—আর অন্য কিছুও নয়। তবে উসমানি বিন্যাস অনুযায়ী কিছু মুসহাফ পাওয়া যায়, যেগুলোকে বলা হয় যে, তা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হস্তলিপিতে লিখিত। কিন্তু এই বিষয়ে সংশয় রয়েছে; কারণ সেগুলোর কয়েকটিতে ‘কাতাবাহু আলী বিন আবু তালিব’ (আলী বিন আবু তালিব এটি লিখেছেন) কথাটি লেখা আছে। আর এটি একটি ভাষাগত ভুল (لحن), যেখানে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এই ধরনের ভুল থেকে অনেক ঊর্ধ্বে ছিলেন। কারণ—যেমনটি তাঁর সম্পর্কে সুপ্রসিদ্ধ (مشهور)—তিনিই প্রথম ইলমুন নাহু (ব্যাকরণ শাস্ত্র) প্রবর্তন করেছিলেন, যা তাঁর থেকে আবু আল-আসওয়াদ যালিম বিন আমর আদ-দুওয়ালি বর্ণনা (رواية) করেছেন। তিনি ক্রিয়া ও অব্যয় নির্ধারণ করেন এবং অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করেন যা আবু আল-আসওয়াদ পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ রূপ দান করেন। অতঃপর মানুষ আবু আল-আসওয়াদ থেকে তা গ্রহণ করে এর ব্যাপ্তি ঘটান এবং একে আরও স্পষ্ট করেন, যা পরবর্তীতে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রে পরিণত হয়)।
15. আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৭৪৫ হি.) রহিমাহুল্লাহ ‘ইরতিশাফুদ দারাব’ (২/ ৬৯০) গ্রন্থে ‘হেকায়েত’ অধ্যায়ে বলেন: (হিজাজের ভাষায় নাম, উপনাম (১) এবং পদবি বর্ণনাকারীদের (رواة) নিকট সর্বসম্মত বিষয় হলো—নামটিকে হুবহু বর্ণনা করা। আল-আখফাশ বর্ণনা করেছেন যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ নামটিকে নিঃশর্তভাবে বর্ণনা করেন, সেটি নাম হোক কিংবা গুণবাচক বা অন্য যা কিছুই হোক... ইত্যাদি)।
16. সুয়ুতি (মৃত্যু ৯১১ হি.) রহিমাহুল্লাহ তাঁর ‘উকুদুয যুবরজদ আলা মুসনাদে আহমাদ’ (২) (৩/ ২৫৩-২৫৫) নং (১৬৬২) - দারুল জিল সংস্করণ - এ বলেছেন।
[[হাদিস: (আমার জন্য আমার কিছু সঙ্গীকে ডাকো। আমি বললাম: আবু বকর? তিনি বললেন: না। আমি বললাম: আপনার চাচাতো ভাই আলী? তিনি বললেন: না)।
আবু আল-বাকা বলেছেন: এই বর্ণনা (رواية) এভাবেই এসেছে, যেখানে ‘আবু বকর’ শব্দটিকে রফ বা পেশযুক্ত (رفع) এবং ‘আলী’ শব্দটিকে নসব বা জবরযুক্ত (نصب) করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأول: المدعو أبو بكر أو المطلوب أو هو، وفي الثاني: أدعو. انتهى.
وقال الحاكم في «المستدرك»: قد تواترت الأخبار أن اسم (أبي طالب) كنيته. (1) قال (2): ووجد بخط علي بن أبي طالب الذي لا شك فيه، وكتبه: علي بن أبو طالب.
وقال محمد بن جرير الطبري: وذكر هذا الخط، كان (علي) أفضل وأفصح من أن يلحن، وإن كان كتبه كذلك، فيبقى أن يكون، لأن العرب تغفل ذلك في كتابتها وكلامها، فتجعل مكان الواو ياء، ومكان الياء واواً فتقلب. ولذلك قرأ بعضهم: (الحي القيام)، والصوم والصيام والصوام في أشكال لذلك كثيرة، فقس أن جُعل مكان الياء من أبي واو. وقد فعلوا أكثر من ذلك، فكتبوا الصلاة وهي ألف بواو، وكذا الزكاة. وأما الذين قالوا إن ذلك اسمه فخطأ، فإن اسمه عبد مناة. انتهى. (3)
وقال الزمخشري في «الفائق»: كتب النبي صلى الله عليه وسلم لوائل بن حجر: من محمد رسول الله إلى المهاجر بن أبو أمية، ترك في حال الجر على لفظه في حال الرفع لأنه اشتهر بذلك فجرى مجرى المثل الذي لا يغيّر، وكذلك قولهم: علي بن أبو طالب ومعاوية بن أبو سفيان. انتهى.
وقال أبو بكر بن طلحة، في «شرح الجمل»: إنما كتب بالواو على الأصل، لأن أصل (أب): أبو، والقراءة فيه على غير الخط. ونظيره قوله تعالى: (الذي اؤتمن).
قال: هذا أحسن ما رأيت أن ينزل عليه.
--------------------------------------------
প্রথমটিতে: যাকে সম্বোধন করা হয়েছে তিনি আবু বকর অথবা কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি অথবা তিনি স্বয়ং; আর দ্বিতীয়টিতে: আমি ডাকছি। সমাপ্ত।
ইমাম হাকেম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে বলেন: সংবাদগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (تواترت) হয়েছে যে, 'আবু তালিব' নামটিই ছিল তার উপনাম। (১) তিনি বলেন (২): আর আলী ইবনে আবি তালিবের স্বহস্তে লেখা এমন লিপি পাওয়া গিয়েছে যাতে কোনো সন্দেহ নেই এবং তিনি তা এভাবে লিখেছিলেন: আলী ইবনে আবু তালিব।
মুহাম্মদ ইবনে জারির আত-তবারি এই লিপিটি উল্লেখ করে বলেন: আলী (রা.) ব্যাকরণগত ভুল করার চেয়ে অনেক বেশি শ্রেষ্ঠ ও প্রাঞ্জল ভাষার অধিকারী ছিলেন। তবে তিনি যদি এটি এভাবে লিখেও থাকেন, তবে তা সম্ভব; কারণ আরবরা তাদের লেখা ও কথায় এই বিষয়ে অনেক সময় শিথিলতা প্রদর্শন করত; ফলে তারা 'ওয়াও'-এর স্থলে 'ইয়া' এবং 'ইয়া'-এর স্থলে 'ওয়াও' ব্যবহার করে অক্ষর পরিবর্তন করে ফেলত। এই কারণেই তাদের কেউ কেউ পাঠ করেছেন: 'আল-হাইয়ুল কাইয়াম', এবং 'আস-সওম', 'আস-সিয়াম' ও 'আস-সওয়াম'—এরকম আরও অনেক রূপ প্রচলিত রয়েছে। সুতরাং এটি অনুমান করা যায় যে, 'আবি' শব্দের 'ইয়া'-এর স্থলে 'ওয়াও' বসানো হয়েছে। তারা এর চেয়েও বেশি কিছু করেছে, যেমন তারা 'আস-সালাত' লিখেছে 'ওয়াও' দিয়ে যদিও এটি মূলত 'আলিফ', একইভাবে 'আজ-জাকাত'। আর যারা বলেন যে এটিই তার নাম, তারা ভুল করছেন; কারণ তার নাম ছিল আবদ মানাত। সমাপ্ত। (৩)
আল-জামাশখারি আল-ফাইক গ্রন্থে বলেন: নবী (সা.) ওয়াইল ইবনে হুজর-এর নিকট লিখেছিলেন: "আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদের পক্ষ থেকে মুহাজির ইবনে আবু উমাইয়ার প্রতি"। এখানে 'জার' বা বিভক্তিযুক্ত অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও 'রাফা' বা সাধারণ অবস্থার শব্দরূপটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে কারণ তিনি এই নামেই প্রসিদ্ধ ছিলেন। ফলে এটি একটি অপরিবর্তনীয় প্রবাদের ন্যায় প্রচলিত হয়ে গিয়েছে। একইভাবে তাদের উক্তি: "আলী ইবনে আবু তালিব" এবং "মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান"। সমাপ্ত।
আবু বকর ইবনে তালহা শারহুল জুমাল গ্রন্থে বলেন: এটি মূলত মূল শব্দের ভিত্তিতে 'ওয়াও' দিয়ে লেখা হয়েছে, কারণ 'আব' শব্দের মূল হলো 'আবুউ'; তবে এর পাঠ লিখনশৈলী থেকে ভিন্ন হতে পারে। এর দৃষ্টান্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "যাকে আমানত রাখা হয়েছে"।
তিনি বলেন: আমার দেখা মতে এটিই এই বিষয়ের সর্বোত্তম ব্যাখ্যা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال: وكذا قال ابن خروف في «شرح سيبويه».
قال: وقراءته بالخفض على الأصل.
وقال الأستاذ أبو منصور: تكلم النحاة في رفع كنية أبيه في موضع الإضافة، فقالوا: لما جعلت رسمَاً أجراها مجرى اسم واحد.
وقال ابن هشام في «تذكرته» (1): مَن كتب: وكتبه علي بن أبو طالب، ومعاوية بن أبو سفيان، ففيه أقوال:
أحدها: ما ظهر لي أنه كُتب على أصل لام الكلمة ولا ينطق به، لو تكلم به إلا بالياء، كما كتبت: الصلوة، والربو بالواو.
والثاني: أن الواو في ذلك حشو، وأن الآخر طالب وأن الضمة والفتحة والكسرة تقع على الياء، لاختلاط الأب بما بعده، وكونه غير مضاف، وذلك لأن أبا طالب وأبا سفيان وأبا عمرو بن العلاء ليس لهم اسم غير ذلك. ومن قال: عبد مناة وصخر وزبان فقد غلط.
والثالث: أنه لا أصل للواو خطَّاً و (2) لا لفظاً، إنما هي واو كتبت بخط المصاحف، قائمة منتصبة معرفة تعريف الواو فظن أنها واو. حكى ذلك ابن الأنباري: أي: في كتاب المصاحف.
والرابع: أنه على الحكاية، فكأن الرفع سابق في الأسماء، وهذه يغلب عليها الرفع فكتبت عليه، أي: الشخص الذي يقال له: أبو طالب). انتهى من «عقود الزبرجد».
--------------------------------------------
তিনি বলেছেন: অনুরূপ কথা ইবনে খারুফ ‘শারহু সিবওয়াইহ’ গ্রন্থে বলেছেন।
তিনি বলেছেন: মূল নিয়ম অনুযায়ী এর পাঠ জের (الخفض) সহযোগে হবে।
উস্তাদ আবু মানসুর বলেছেন: ব্যাকরণবিদগণ ইদাফাত বা সম্বন্ধবাচক পদের (الإضافة) স্থলে পিতার কুনিয়াতের পেশ (الرفع) হওয়া নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, যখন এটিকে একটি প্রতীক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তখন এটিকে একটি একক নামের ন্যায় গণ্য করা হয়েছে।
ইবনে হিশাম তাঁর ‘তাযকিরাহ’ (১) গ্রন্থে বলেছেন: যারা ‘এটি লিখেছেন আলি বিন আবু তালিব এবং মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান’—এভাবে লেখেন, তাদের এ পদ্ধতির ব্যাপারে কয়েকটি অভিমত রয়েছে:
প্রথমত: আমার কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে তা হলো, এটি শব্দের শেষ বর্ণের মূল রূপ অনুযায়ী লেখা হয়েছে কিন্তু সেভাবে উচ্চারিত হয় না। কথা বলার সময় এটি কেবল ‘ইয়া’ সহযোগেই উচ্চারিত হয়। যেমন ‘সালাত’ এবং ‘রিবা’ ‘ওয়াও’ বর্ণ দিয়ে লেখা হয়।
দ্বিতীয়ত: এখানে ‘ওয়াও’ বর্ণটি অতিরিক্ত এবং মূল শব্দের শেষ অংশ হলো ‘তালিব’। আর পেশ (الضمة), জবর (الفتحة) ও জের (الكسرة) ‘ইয়া’ বর্ণের উপর আপতিত হয়; কারণ ‘আবু’ শব্দটি পরবর্তী অংশের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে গেছে এবং এটি মুদাফ (مضاف) হিসেবে নেই। এর কারণ হলো, আবু তালিব, আবু সুফিয়ান এবং আবু আমর বিন আল-আলা—তাঁদের এগুলো ছাড়া অন্য কোনো নাম ছিল না। যারা বলেছেন যে তাঁদের নাম ‘আবদ মানাত’, ‘সাখর’ এবং ‘যাব্বান’, তাঁরা ভুল করেছেন।
তৃতীয়ত: লিপি বা উচ্চারণ—কোনো বিচারেই এই ‘ওয়াও’-এর কোনো ভিত্তি নেই। এটি মূলত মুসহাফের লিপিশৈলীতে লেখা একটি চিহ্ন যা ‘ওয়াও’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে, ফলে মনে করা হয়েছে যে এটি ‘ওয়াও’। ইবনুল আম্বারি এটি বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ ‘কিতাবুল মাসাহিফ’ গ্রন্থে।
চতুর্থত: এটি হিকায়াহ (الحكاية) বা অনুকরণ ভিত্তিক। যেন বিশেষ্য পদসমূহে পেশ (الرفع) হওয়াটাই আদি রূপ, এবং এসকল নামে পেশের (الرفع) প্রাধান্য থাকায় সেভাবেই লেখা হয়েছে। অর্থাৎ, সেই ব্যক্তি যাকে ‘আবু তালিব’ বলা হয়। ‘উকুদুয যুবরজাদ’ থেকে উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
17. قال صلاح الدين بن أيبك الصفدي (ت 764 هـ) رحمه الله في «الوافي بالوفيات» (1/ 39): (وبعضهم يكتب «علي بن أبو طالب» رضي الله عنه، ويلفظ به «أبي» بالياء).
18. كتاب النبي صلى الله عليه وسلم لتميم بن أوس الداري رضي الله عنه وجماعته، في إقطاعه المشهور عند المؤرخين وفي آخره كما في «نهاية الأرب في فنون الأدب» للنويري (ت 733 هـ) (18/ 106):
(شهد: عتيق ابن أبو قحافة، وعمر بن الخطاب، وعثمان بن عفَّان، وكتب: علي بن أبو طالب وشهد). (1)
وقد كتبه في السنة التاسعة من الهجرة، في قطعة أدَم أحمر من خُفِّ أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه بخطِّه، وقد رآها بعض العلماء ـ كما سيأتي ـ في منتصف القرن الثامن الهجري، وقد ذهبت معالم الحروف، لم يبق منها كما قيل إلا: (لهم وأعقابهم)، وفي الصندوق الذي فيه هذا
--------------------------------------------
১৭. সালাহউদ্দীন বিন আইবাক আল-সাফাদি (মৃত্যু ৭৬৪ হিজরি) রাহিমাহুল্লাহ 'আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত' (১/ ৩৯) গ্রন্থে বলেন: (কেউ কেউ 'আলি ইবনে আবু তালিব' রাদিয়াল্লাহু আনহু লিখে থাকেন এবং উচ্চারণের সময় 'ইয়া' যোগে 'আবি' উচ্চারণ করেন)।
১৮. তামিইম বিন আউস আদ-দারি রাদিয়াল্লাহু আনহু ও তাঁর গোত্রের অনুকূলে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের লিখিত পত্র, যা ঐতিহাসিকদের নিকট তাঁর প্রসিদ্ধ জায়গির সংক্রান্ত বর্ণনায় পরিচিত। এর শেষাংশ যেমনটি নুওয়াইরি (মৃত্যু ৭৩৩ হিজরি) প্রণীত 'নিহায়াতুল আরাব ফি ফুনুনিল আদাব' (১৮/ ১০৬) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে:
(সাক্ষী ছিলেন: আতিক ইবনে আবু কুহাফা, উমর ইবনুল খাত্তাব, উসমান ইবনে আফফান এবং লিখেছিলেন: আলি ইবনে আবু তালিব এবং তিনি সাক্ষ্যও প্রদান করেছেন)। (১)
আর এটি হিজরি নবম বর্ষে আমিরুল মুমিনিন আলি বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিজ হস্তাক্ষরে তাঁর চামড়ার মোজার লাল রঙের এক টুকরো চামড়ার ওপর লেখা হয়েছিল। জনৈক আলেম এটি প্রত্যক্ষ করেছেন—যেমনটি সামনে বর্ণিত হবে—অষ্টম হিজরি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। তখন অক্ষরের চিহ্নগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, যেমনটি বলা হয়েছে যে, সেখানে কেবল: '(তাদের জন্য এবং তাদের উত্তরসূরিদের জন্য)'—এই অংশটুকু অবশিষ্ট ছিল। আর যে সিন্দুকটিতে এটি রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الكتاب ورقة فيها نَسْخُ الخليفة العبَّاسي: المستنجد بالله، أبو المظفر يوسف بن المقتفي لأمر الله محمد (1) للكتاب بهيئته، رآه وعرف خطَّ المستنجدِ معرفةً تامة: ابنُ فضل الله العُمري، ـ كما سيأتي نصه ـ.
أما النظر حديثياً للإقطاع، (2)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
এই বইটি হলো একটি পাণ্ডুলিপি যাতে আব্বাসীয় খলিফা আল-মুসতানজিদ বিল্লাহ, আবুল মুজাফফর ইউসুফ ইবনুল মুকতাফি লি-আমরিল্লাহ মুহাম্মাদ (১) মূল বিন্যাস অনুযায়ী বইটির প্রতিলিপি করেছিলেন; ইবনে ফজলুল্লাহ আল-উমারি এটি দেখেছেন এবং খলিফা মুসতানজিদের হস্তাক্ষর পূর্ণাঙ্গভাবে শনাক্ত করেছেন—যেমনটি সামনে তাঁর উদ্ধৃতিতে আসবে—।
আর ইকতা (ভূমি বরাদ্দ) সংক্রান্ত হাদিসতাত্ত্বিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে, (২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজিউ (আবু) ফী মাওদিয়ি নাসবিন আও জাররিন আলাল হিকায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------