(খণ্ড: ১) ইন্না আল্লাহা ইয়াযাউ বিস-সুলতানি মা লা ইয়াযাউ বিল-কুরআন - তাখরীজান ওয়া শারহান (পৃষ্ঠা: -)
إن الله يزع بالسلطان ما لا يزع بالقرآن - تخريجا وشرحا   (إبراهيم بن عبد الله المديهش)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: إن الله يزع بالسلطان ما لا يزع بالقرآن - تخريجا وشرحا

المؤلف: إبراهيم بن عبد الله المديهش

النشرة: الأولى، 1439 هـ

عدد الصفحات: 12

[البحث غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 جُمادَى الأولى 1440

নিশ্চয়ই আল্লাহ রাজক্ষমতার মাধ্যমে এমন বিষয় দমন করেন যা তিনি কুরআনের মাধ্যমে করেন না - তখরিজ ও ব্যাখ্যা   (ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-মুদাইহিশ)

বিভাগ: তখরিজ ও আতরাফ


গ্রন্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ রাজক্ষমতার মাধ্যমে এমন বিষয় দমন করেন যা তিনি কুরআনের মাধ্যমে করেন না - তখরিজ ও ব্যাখ্যা

লেখক: ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-মুদাইহিশ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৯ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২

[গবেষণাটি অপ্রকাশিত]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ জুমাদাল উলা ১৪৪০

(খণ্ড: ১) ইন্না আল্লাহা ইয়াযাউ বিস-সুলতানি মা লা ইয়াযাউ বিল-কুরআন - তাখরীজান ওয়া শারহান (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لانبي بعده

أما بعد

فمن الآثار المشتهرة على الألسنة: «إن الله يزع بالسلطان مالا يزع بالقرآن».

 

وإليك‌‌ تخريجه، وألفاظه، وبيان معناه:

روي عن النبي صلى الله عليه وسلم ـ ولم أجده مسنداً ـ، وروي عن عمر، وعثمان، وعمر بن عبدالعزيز، والحسن البصري، وذُكر بأنه من قول أهل العلم والتجربة، والحكماء.

 

بيان ذلك:

 

‌‌1 ـ روي عن النبي صلى الله عليه وسلم ــ ولم أجده مسنداً ــ:

قال ذلك الماورديُّ (ت 450 هـ) في «أدب الدنيا والدين» (ص 135) قال: وروي عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إن الله ليزع بالسلطان أكثر مما يزع بالقرآن».

وقال عدد من العلماء: وفي الحديث، منهم:

ابن السكيت (ت 244 هـ) في «إصلاح المنطق» (ص 185) قال: (ويقال: وَزَعتُهُ أَزَعُهُ وَزْعًا، إذا كففته، وقال الأصمعي: وجاء في الحديث: «من يَزَع السلطان أكثر ممن يَزَع القرآن» ، ويقال: لا بد للناس من وَزَعَةٍ، أي من كَفَفة).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই।

অতঃপর

মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত প্রসিদ্ধ বর্ণনাগুলোর মধ্যে একটি হলো: «নিশ্চয়ই আল্লাহ শাসনের (রাষ্ট্রশক্তি) মাধ্যমে যা দমন করেন, তা কুরআনের মাধ্যমে করেন না»।

 

নিম্নে এর উৎস বিশ্লেষণ (তাহরিজ), শব্দ বিন্যাস এবং অর্থের বর্ণনা তুলে ধরা হলো:

এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে—তবে আমি এটি কোনো মুসনাদ (সনদযুক্ত) সূত্রে পাইনি—এবং এটি উমর, উসমান, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ও হাসান বসরী থেকেও বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া এটি ইলম ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং প্রজ্ঞাবানদের উক্তি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এর বিস্তারিত বর্ণনা:

 

‌‌১ — এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে — তবে আমি এটি মুসনাদ হিসেবে পাইনি —:

ইমাম আল-মাওয়ার্দী (মৃত্যু ৪৫০ হি.) তাঁর «আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ দীন» (পৃষ্ঠা ১৩৫) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ শাসনের মাধ্যমে যা দমন করেন, তা কুরআনের মাধ্যমে করার চেয়েও বেশি»।

একদল আলেমও বলেছেন যে এটি হাদিসের অন্তর্ভুক্ত, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

ইবনুস সিক্কিত (মৃত্যু ২৪৪ হি.) তাঁর «ইসলাহুল মানতিক» (পৃষ্ঠা ১৮৫) গ্রন্থে বলেছেন: (বলা হয়: ‘ওয়াযাতুহু আযাউহু ওয়াযান’, যখন আমি তাকে বিরত রাখলাম বা দমন করলাম। আল-আসমাঈ বলেছেন: হাদিসে এসেছে: «শাসক যাকে দমন করেন সে সংখ্যা কুরআন যাকে দমন করে তার চেয়ে বেশি»। আরও বলা হয়: মানুষের জন্য ‘ওয়াযাআহ’ (দমনকারী/শাসনকর্তা) থাকা আবশ্যক, অর্থাৎ যারা তাদের অন্যায় থেকে বিরত রাখবে)।
(খণ্ড: ১) ইন্না আল্লাহা ইয়াযাউ বিস-সুলতানি মা লা ইয়াযাউ বিল-কুরআন - তাখরীজান ওয়া শারহান (পৃষ্ঠা: ২)
وابن قتيبة (ت 276 هـ) في «أدب الكاتب» (ص 346) قال: (و «وزعت الناقة» كففتها، وجاء في الحديث: «من يزع السلطان أكثر ممن يزع القرآن»، ومنه الوازع في الجيش، ولا بد للناس من «وزعة» أي: من سلطان يكفهم).

ومثله الهروي (ت 401 هـ) في «الغريبين» (6/ 1995)، وعلق عليه بقوله: (أراد من يكف عن ارتكاب العظائم مخافة السلطان أكثر ممن يزع القرآن يكفه خوف الله تعالى).

والطرطوشي (ت 520 هـ) في «سراج الملوك» (ص 61) ولفظه: (إن الله تعالى ليزع بالسلطان مالاً يزع بالقرآن). قال معناه: يدفع.

ونشوان الحميري (ت 573 هـ) في «شمس العلوم ودواء كلام العرب من الكلوم» (11/ 7151)، والمُنَجَّى بن عثمان التنوخي الحنبلي (ت 695 هـ) في «الممتع في شرح المقنع» (2/ 295) كلاهما بمثل لفظ الطرطوشي.

وابن كثير (ت 774 هـ) في «تفسيره» (5/ 111) قال: (وفي الحديث: «إن الله ليزع بالسلطان ما لا يزع بالقرآن». أي: ليمنع بالسلطان عن ارتكاب الفواحش والآثام، ما لا يمتنع كثير من الناس بالقرآن، وما فيه من الوعيد الأكيد، والتهديد الشديد، وهذا هو الواقع).

قلت: يحتمل أنه يريد بالحديث الموقوف لا المرفوع.

وابن الأزرق الأصبحي الأندلسي (ت 896 هـ) في «بدائع السلك في طبائع الملك» (1/ 107) قال: (الْحِكْمَة الرَّابِعَة إِنَّه يدْفع بتخويفه وتهديده مَالا يدْفع بِالْقُرْآنِ بتكرار وعظه وترديده فِي الحَدِيث: «إِن الله ليزع بالسلطان مَالا يَزع بِالْقُرْآنِ»

وَقَالَ الطرطوشي مَعْنَاهُ ليدفع قلت وَذَلِكَ لما فِي الطباع البشرية من الْعدوان والاستعصاء عَن الطَّاعَة وَمن ثمَّ قَالَ ابْن الْمُبَارك:
ইবনে কুতায়বাহ (মৃত্যু ২৭৬ হি.) তাঁর ‘আদাবুল কাতিব’ (পৃ. ৩৪৬) গ্রন্থে বলেছেন: (‘অযাতুন নাকাতা’ অর্থ আমি উটনীকে বিরত রেখেছি। হাদীসে এসেছে: ‘যাকে শাসক বিরত রাখেন, তিনি তার চেয়ে সংখ্যায় অধিক যাকে কুরআন বিরত রাখে’। এখান থেকেই সেনাবাহিনীতে ‘ওয়াযে’ (নিয়ন্ত্রক) শব্দটির উৎপত্তি। আর মানুষের জন্য ‘ওয়াযাআহ’ অর্থাৎ এমন শাসক থাকা অপরিহার্য যিনি তাদের বিরত রাখবেন।)

অনুরূপ বর্ণনা আল-হারাউয়ী (মৃত্যু ৪০১ হি.) ‘আল-গারীবাইন’ (৬/১৯৯৫) গ্রন্থে দিয়েছেন এবং এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: (তিনি বুঝিয়েছেন যে, শাসকের ভয়ে গুরুতর অপরাধ থেকে বিরত থাকা লোকের সংখ্যা কুরআন যাকে বিরত রাখে—অর্থাৎ আল্লাহর ভয়ে—তার চেয়ে বেশি।)

আত-তুরতুশী (মৃত্যু ৫২০ হি.) ‘সিরাজুল মুলুক’ (পৃ. ৬১) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর শব্দগুলো হলো: (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা শাসকের মাধ্যমে এমন কিছু দমন করেন যা তিনি কুরআনের মাধ্যমে দমন করেন না)। তিনি এর অর্থ বলেছেন: প্রতিহত করা।

নাশরওয়ান আল-হিময়ারী (মৃত্যু ৫৭৩ হি.) ‘শামসুল উলুম ওয়া দাওয়াউ কালামিল আরব মিনাল কুলুম’ (১১/৭১৫১) গ্রন্থে এবং আল-মুনাজ্জা বিন উসমান আত-তানুখী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৬৯৫ হি.) ‘আল-মুমতি ফি শারহিল মুকনি’ (২/২৯৫) গ্রন্থে উভয়েই আত-তুরতুশীর শব্দের মতো বর্ণনা করেছেন।

ইবনে কাসীর (মৃত্যু ৭৭৪ হি.) তাঁর ‘তাফসীর’ (৫/১১১) গ্রন্থে বলেছেন: (হাদীসে এসেছে: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ শাসকের মাধ্যমে এমন কিছু দমন করেন যা তিনি কুরআনের মাধ্যমে দমন করেন না’। অর্থাৎ, তিনি শাসকের মাধ্যমে অশ্লীলতা ও পাপাচারে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রাখেন, যা থেকে অনেক মানুষ কুরআনের মাধ্যমে এবং এতে থাকা সুনিশ্চিত সতর্কবাণী ও কঠোর হুমকির মাধ্যমেও বিরত হয় না; আর এটাই বাস্তব)।

আমি বলি: সম্ভবত তিনি ‘হাদীস’ বলতে ‘মাউকুফ’ (সাহাবীর বাণী) বুঝিয়েছেন, ‘মারফু’ (রাসূলের বাণী) নয়।

ইবনে আল-আযরাক আল-আসবাহী আল-আন্দালুসী (মৃত্যু ৮৯৬ হি.) ‘বাদায়েউস সিলক ফি তাবায়েয়িল মূলক’ (১/১০৭) গ্রন্থে বলেছেন: (চতুর্থ হিকমত হলো, তিনি [শাসকের] ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির মাধ্যমে এমন কিছু প্রতিহত করেন যা কুরআনের বারংবার নসীহত ও পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে প্রতিহত হয় না। হাদীসে এসেছে: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ শাসকের মাধ্যমে এমন কিছু দমন করেন যা তিনি কুরআনের মাধ্যমে দমন করেন না’।

এবং আত-তুরতুশী বলেছেন এর অর্থ হলো প্রতিহত করা। আমি বলি, এটা মানুষের স্বভাবজাত আক্রমণাত্মক প্রবণতা এবং আনুগত্যের প্রতি বিমুখতার কারণে। এজন্যই ইবনুল মুবারক বলেছেন:
(খণ্ড: ১) ইন্না আল্লাহা ইয়াযাউ বিস-সুলতানি মা লা ইয়াযাউ বিল-কুরআন - তাখরীজান ওয়া শারহান (পৃষ্ঠা: ৩)
إِن الْجَمَاعَة حَبل الله فَاعْتَصمُوا … بعروته الوثقى لمن دانا

كم يدْفع الله بالسلطان مظْلمَة … فِي ديننَا رَحْمَة مِنْهُ ودنيانا

لَوْلَا الْخَلِيفَة لم تأمن لنا سبل … وَكَانَ أضعفنا نهبا لأقوانا

والزبيدي في «تاج العروس» (22/ 318)، ولفظه: وفي الحديث: «من يزع السلطان أكثر ممن يزع القرآن». أي: من يكف عن ارتكاب الجرائم مخافة السلطان أكثر ممن تكفه مخافة القرآن.

 

‌‌2 ــ روي عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه -:

قال الخطيب البغدادي في «تاريخ بغداد» (5/ 172): أخبرنا أبو بكر البرقاني، قال: أخبرنا أحمد بن الحسين الهمذاني أبو حامد، قال: حدثنا أحمد بن الحارث بن محمد بن عبد الكريم، قال: حدثنا جدي محمد، قال: حدثنا الهيثم بن عدي، قال: حدثنا عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر، قال: سمعت عمر بن الخطاب، يقول: «لما يزع الله بالسلطان أعظم مما يزع بالقرآن».

الهيثم بن عدي الطائي أبو عبد الرحمن المنبجي ثم الكوفي، كذاب. (1)

ونسبه لعمر رضي الله عنه: أبو جعفر النحاس (ت 338 هـ) في «عمدة الكتاب» (ص 117)، ولفظه:

«لما يزع السلطان أكثر مما يزع القرآن».

وابن الطقطقي (ت 709 هـ) في «الفخري في الآداب السلطانية» (ص 61) بلفظ: «يزع الله بالسلطان أكثر مما يزع بالقرآن». قالوا: لأن الناس يخافون من عواجل العقوبة أشدّ مما يخافون من آجلها.

--------------------------------------------

(1) «لسان الميزان» (8/ 361).
নিশ্চয়ই জামাত হলো আল্লাহর রশি, সুতরাং তোমরা আঁকড়ে ধরো … যারা তাঁর আনুগত্য করে তাদের জন্য এটি এক সুদৃঢ় হাতল।

আল্লাহ শাসকের মাধ্যমে কতই না জুলুম প্রতিহত করেন … যা আমাদের দ্বীন ও দুনিয়ায় তাঁর পক্ষ হতে এক রহমতস্বরূপ।

যদি খলীফা না থাকতেন তবে আমাদের পথসমূহ নিরাপদ হতো না … এবং আমাদের মধ্যে যে দুর্বল সে সবলদের লুণ্ঠনের শিকারে পরিণত হতো।

এবং আয-যাবিদী ‘তাজুল আরুস’ (২২/ ৩১৮) গ্রন্থে বলেন, আর তাঁর বর্ণিত শব্দাবলি হলো: এবং হাদিসে এসেছে: “শাসক যা দমন করেন তা কুরআনের মাধ্যমে যা দমন করা হয় তার চেয়েও বেশি।” অর্থাৎ: সুলতানের ভয়ে অপরাধ করা থেকে বিরত থাকা ব্যক্তির সংখ্যা কুরআনের ভয়ে বিরত থাকা ব্যক্তির চেয়েও বেশি।

 

‌‌২ ــ ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত -:

আল-খতীব আল-বাগদাদী ‘তারিখে বাগদাদ’ (৫/ ১৭২) গ্রন্থে বলেন: আবু বকর আল-বারকানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-হামদানী আবু হামিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনুল হারিস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কারিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা মুহাম্মদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাইসাম ইবনে আদি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবায়দুল্লাহ ইবনে ওমর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন নাফে‘ থেকে, তিনি ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি: “নিশ্চয়ই আল্লাহ শাসকের মাধ্যমে যা দমন করেন তা কুরআনের মাধ্যমে যা দমন করেন তার চেয়েও মহান।”

আল-হাইসাম ইবনে আদি আত-তাঈ আবু আব্দুর রহমান আল-মানবিজী অতঃপর আল-কূফী, সে একজন মিথ্যাবাদী। (১)

এবং একে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি হিসেবে নিসবত করেছেন: আবু জাফর আন-নাহহাস (মৃত্যু ৩৩৮ হিজরি) ‘উমদাতুল কুতুব’ (পৃ. ১১৭) গ্রন্থে, এবং তাঁর শব্দাবলি হলো:

“শাসক যা দমন করেন তা কুরআনের মাধ্যমে যা দমন করা হয় তার চেয়েও বেশি।”

এবং ইবনে তিকতাকা (মৃত্যু ৭০৯ হিজরি) ‘আল-ফাখরি ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ’ (পৃ. ৬১) গ্রন্থে এই শব্দাবলিতে বর্ণনা করেছেন: “আল্লাহ শাসকের মাধ্যমে যা দমন করেন তা কুরআনের মাধ্যমে যা দমন করেন তার চেয়েও বেশি।” তাঁরা বলেন: কারণ মানুষ পরকালের শাস্তির চেয়ে ইহকালের তাৎক্ষণিক শাস্তিকে বেশি ভয় পায়।

--------------------------------------------

(১) ‘লিসানুল মিজান’ (৮/ ৩৬১)।
(খণ্ড: ১) ইন্না আল্লাহা ইয়াযাউ বিস-সুলতানি মা লা ইয়াযাউ বিল-কুরআন - তাখরীজান ওয়া শারহান (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌3 ــ روي عن عثمان بن عفان رضي الله عنه -:

أخرجه: ابن شبة (ت 262 هـ) في «تاريخ المدينة» (3/ 988) ـ ط. شلتوت ـ، و (2/ 115) رقم (1704) ـ ط. دا رالكتب العلمية ـ قال: حدثنا موسى بن إسماعيل، قال: حدثنا حماد، قال: حدثنا يحيى بن سعيد: أن عثمان رضي الله عنه قال: «لما يزع السلطان الناس أشد مما يزعهم القرآن».

وأخرجه رزين من طريق يحيى بن سعيد. كما في جامع الأصول» لابن الأثير (4/ 83) رقم (2071).

 

ــ حماد هو ابن سلمة، ويحيى هو ابن سعيد الأنصاري.

وهذا إسناد رجاله ثقات، وهو منقطع، يحيى لم يدرك عثمان، وقال ابن المديني: لا أعلمه سمع من صحابي غير أنس. انظر: «تهذيب الكمال» (31/ 358)

 

وله طريق آخر:

أخرجه: ابن عبدالبر في «التمهيد» (1/ 118) قال: أخبرنا إبراهيم بن شاكر، قال: حدثنا محمد بن إسحاق القاضي، قال: حدثنا محمد بن أحمد بن أبي الأصبغ الإمام بمصر، قال: حدثنا أبو الزنباع روح بن الفرج، قال: حدثنا أبو زيد بن أبي الغمر، قال: حدثنا ابن القاسم، قال: حدثنا مالك أنَّ عثمان بن عفان كان يقول: «ما يزع الإمام أكثر مما يزع القرآن». أي: من الناس.

قال: قلت لمالك: ما يزع؟ قال: يكف.

وذكر الحسن بن علي الحلواني في كتاب «المعرفة» له، قال: حدثنا عفان قال أخبرنا إسماعيل يعني ابن علية عن ابن عون قال سمعت الحسن ــ وهو في مجلس قضائه فلما رأى ما يصنع الناس ــ قال: والله ما يصلح هؤلاء الناس إلا وزعة.
৩ - উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত -:

এটি সংকলন করেছেন: ইবনে শাব্বাহ (মৃত্যু ২৬২ হিজরি) তাঁর 'তারিখুল মদিনা' গ্রন্থে (৩/৯৮৮) - শালতুত সংস্করণ - এবং (২/১১৫) নম্বর (১৭০৪) - দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ সংস্করণ -। তিনি বলেন: মুসা ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন: উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "নিশ্চয়ই শাসক মানুষকে যা দ্বারা নিবৃত্ত করেন, তা কুরআন যা দ্বারা নিবৃত্ত করে তার চেয়েও বেশি কঠোর।"

এবং রাজিন এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। যেমনটি ইবনুল আসিরের 'জামি উল উসুল' গ্রন্থে (৪/৮৩) নম্বর (২০৭১) এ রয়েছে।

 

-- হাম্মাদ হলেন ইবনে সালামাহ, এবং ইয়াহইয়া হলেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী।

এই সনদের বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, তবে এটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি); ইয়াহইয়া উসমানকে পাননি। ইবনুল মাদিনী বলেছেন: আমি জানি না যে তিনি আনাস ব্যতীত অন্য কোনো সাহাবীর কাছ থেকে হাদিস শুনেছেন। দেখুন: 'তাহজিবুল কামাল' (৩১/৩৫৮)।

 

এর আরেকটি সূত্র রয়েছে:

এটি সংকলন করেছেন: ইবনে আব্দুল বার 'আত-তামহিদ' গ্রন্থে (১/১১৮)। তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে শাকির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-কাদি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মিশরের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবিল আসবাগ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু যামবা রুহ ইবনুল ফারজ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু যাইদ ইবনে আবিল গামার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনুল কাসিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, উসমান ইবনে আফফান বলতেন: "ইমাম (শাসক) যা প্রতিহত করেন তা কুরআন যা প্রতিহত করে তার চেয়ে বেশি।" অর্থাৎ মানুষের মধ্য থেকে।

তিনি বলেন: আমি মালিককে বললাম: 'যাযাউ' কী? তিনি বললেন: নিবৃত্ত করা বা প্রতিহত করা।

এবং হাসান ইবনে আলী আল-হুলওয়ানী তাঁর 'আল-মারিফাহ' কিতাবে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আফফান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল অর্থাৎ ইবনে উলিয়্যাহ আমাদের ইবনে আউন থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি হাসানকে—তিনি তখন তাঁর বিচারিক মজলিসে ছিলেন এবং দেখলেন মানুষ কী করছে—বলতে শুনেছি: "আল্লাহর কসম, নিবৃত্তকারী (শাসক) ছাড়া এই মানুষদের আর কিছুই সংশোধন করতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১) ইন্না আল্লাহা ইয়াযাউ বিস-সুলতানি মা লা ইয়াযাউ বিল-কুরআন - তাখরীজান ওয়া শারহান (পৃষ্ঠা: ৫)
قال إسماعيل يزعونهم أي يمنعونهم … إلخ

قلت: وهذا منقطع ـ أيضاً ـ، ومثل هذه الأخبار يحتمل فيها مثل هذه العلل، فتُقبل، لعدم تعلقها بحكم شرعي، خاصة مع صحة معناه، وتتابع العلماء على نسبة هذه المقولة لعثمان رضي الله عنه

 

‌‌نَسَبَه إلى عثمان رضي الله عنه -:

الآبي في «نثر الدر» (2/ 44)، والثعالبي في عدد من كتبه: «الإعجاز والإيجاز» (ص 34)، وفي «التمثيل والمحاضرة» (ص 29)، و «اللطائف والظرائف» (ص 27).

والماوردي في «تفسيره» (4/ 199) ولفظه: «ما وزع الله بالسلطان أكبر مما وزع بالقرآن».

والحصري في «زهر الآداب» (1/ 75)، والميداني (ت 518 هـ) في «مجمع الأمثال» (2/ 453)، والزمخشري في «ربيع الأبرار» (5/ 185)، والسمعاني في «تفسيره» (ت 489 هـ) (4/ 84)، واليفرني (ت 625 هـ) في «الاقتضاب في غريب الموطأ وإعرابه على الأبواب» (1/ 467)، وابن تيمية في «مجموع الفتاوى» (11/ 416)، وعنه ابن القيم في «الطرق الحكمية» (2/ 683)، والنويري في «نهاية الأرب» (3/ 6)، وابن كثير في «البداية والنهاية» (2/ 301)، وغيرهم كثير.

ذكره الغزي العامري (ت 1143 هـ) في «الجد الحثيث في بيان ما ليس بحديث» (ص 60) رقم (57) وقال: (جاء عن عثمان موقوفاً، ونحوه عن عمر موقوف).

ونِسبَتُه إلى عثمان بن عفان رضي الله عنه هو الأكثر في كتب التراث.

 

قال ابن رشد (ت 520 هـ) في «البيان والتحصيل» (17/ 59): (قال مالك: بلغني أَن عثمان بن عفان قال: ما يزع الِإمام الناس أكثر مما يزعهم القرآن، قال: يزعهم يكفهم.
ইসমাইল বলেছেন, তারা তাদের বিরত রাখে অর্থাৎ তারা তাদের প্রতিহত করে … ইত্যাদি।

আমি বলছি: এটিও বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি), আর এই ধরণের বর্ণনার ক্ষেত্রে এই জাতীয় ত্রুটিগুলো গ্রহণযোগ্য হয়, তাই এটি গৃহীত হবে; কারণ এর সাথে কোনো শরয়ী বিধানের সংশ্লিষ্টতা নেই, বিশেষ করে এর অর্থ সঠিক হওয়ার কারণে এবং আলেমগণ ধারাবাহিকভাবে এই উক্তিটি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

 

‌‌উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি এর সম্বন্ধকরণ -:

আল-আবি ‘নাশরুদ দুরার’ (২/ ৪৪) গ্রন্থে, এবং আস-সাআলিবী তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থে: ‘আল-ইজায ওয়াল ইজায’ (পৃ. ৩৪), ‘আত-তামসিল ওয়াল মুহাযারাহ’ (পৃ. ২৯), এবং ‘আল-লাতাইফ ওয়ায যারাতিফ’ (পৃ. ২৭) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

এবং আল-মাওয়ার্দী তাঁর ‘তাফসীর’ (৪/ ১৯৯) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন যার শব্দরূপ হলো: ‘আল্লাহ শাসকের মাধ্যমে যা প্রতিহত করেন, তা কুরআনের মাধ্যমে প্রতিহত করার চেয়েও মহান’।

এবং আল-হুসারী ‘যাহরুল আদাব’ (১/ ৭৫) গ্রন্থে, আল-মাইদানী (মৃত্যু ৫১৮ হি.) ‘মাজমাউল আমসাল’ (২/ ৪৫৩) গ্রন্থে, আয-যামাখশারী ‘রাবিউল আবরার’ (৫/ ১৮৫) গ্রন্থে, আস-সামআনী তাঁর ‘তাফসীর’ (মৃত্যু ৪৮৯ হি.) (৪/ ৮৪) গ্রন্থে, আল-ইফরানী (মৃত্যু ৬২৫ হি.) ‘আল-ইকতিযাব ফি গারিবিল মুয়াত্তা ওয়া ইরাবিহি আলাল আবওয়াব’ (১/ ৪৬৭) গ্রন্থে, ইবনে তাইমিয়া ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ (১১/ ৪১৬) গ্রন্থে, এবং তাঁর থেকে ইবনুল কায়্যিম ‘আত-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ’ (২/ ৬৮৩) গ্রন্থে, আন-নুওয়াইরী ‘নিহায়াতুল আরাব’ (৩/ ৬) গ্রন্থে, ইবনে কাসীর ‘আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ’ (২/ ৩০১) গ্রন্থে এবং আরও অনেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আল-গাযযী আল-আমিরী (মৃত্যু ১১৪৩ হি.) ‘আল-জিদ্দুল হাসিস ফি বায়ানি মা লাইসা বি-হাদিস’ (পৃ. ৬০) নং (৫৭)-এ এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: (এটি উসমান থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, এবং উমর থেকেও অনুরূপ মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত)।

উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকে এর সম্বন্ধ করাই ঐতিহ্যের গ্রন্থসমূহে অধিক প্রচলিত।

 

ইবনে রুশদ (মৃত্যু ৫২০ হি.) ‘আল-বায়ান ওয়াত তাহসিল’ (১৭/ ৫৯) গ্রন্থে বলেছেন: (মালিক বলেছেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, উসমান বিন আফফান বলেছেন: ইমাম বা শাসক মানুষকে যা দ্বারা বিরত রাখেন তা কুরআনের মাধ্যমে তাদের বিরত রাখার চেয়েও অধিক। তিনি বলেন: ‘ইয়াযাঊহুম’ অর্থ ‘ইয়াকুফফুহুম’ বা তাদের বিরত রাখা)।
(খণ্ড: ১) ইন্না আল্লাহা ইয়াযাউ বিস-সুলতানি মা লা ইয়াযাউ বিল-কুরআন - তাখরীজান ওয়া শারহান (পৃষ্ঠা: ৬)
قال محمد بن رشد: المعنى في هذا أن الذين ينتهون من الناس عن محارم الناس مخافة السلطان، أكثر من الذين ينتهون عنها لأمر الله، ففي الِإمام صلاح الدين والدنيا، ولا اختلاف بين الأمة في وجوب الِإمامة ولزوم طاعة الِإمام.

وقال ابن رشد في موضع آخر (18/ 494): (وقال مالك: قال العبد الصالح عثمان بن عفان: ما يزع الإمام أكثر مما يزع القرآن، يعني ما يكف الناس عنه بالحدود.

قال محمد بن رشد: تفسير مالك لقول عثمان صحيح، والمعنى فيه أن الذين ينتهون من الناس عن محارم الله مخافة السلطان أكثر من الذين ينتهون عنها انتهاء لأمر الله عز وجل، ففي الإمام صلاح الدين والدنيا. ولا اختلاف بين أحد من العلماء في وجوب الإمامة ولزوم طاعة الإمام).

قال ابن العربي (ت 543 هـ) في «أحكام القرآن» ـ ط. الكتب العلمية ـ (3/ 474): (روى أشهب قال: قال مالك بن أنس: قال عثمان: ما يزع الناس السلطان أكثر مما يزعهم القرآن. قال مالك: يعني يكفهم. قال ابن وهب مثله، وزاد ثم تلا مالك: {فهم يوزعون} [النمل: 17] أي يكفون.

وقد جهل قوم المراد بهذا الكلام، فظنوا أن المعنى فيه أن قدرة السلطان تردع الناس أكثر مما تردعهم حدود القرآن. وهذا جهل بالله وحكمه وحكمته ووضعه لخلقه، فإن الله ما وضع الحدود إلا مصلحة عامة كافة قائمة بقوام الحق، لا زيادة عليها ولا نقصان معها، ولا يصلح سواها، ولكن الظلمة خاسوا بها، وقصروا عنها، وأتوا ما أتوا بغير نية منها، ولم يقصدوا وجه الله في القضاء بها؛ فلذلك لم يرتدع الخلق بها. ولو حكموا بالعدل؛ وأخلصوا النية، لاستقامت الأمور، وصلح الجمهور؛ وقد شاهدتم منا إقامة العدل والقضاء والحمد لله بالحق، والكف للناس بالقسط، وانتشرت الأمنة، وعظمت المنعة، واتصلت في البيضة الهدنة، حتى غلب قضاء الله
মুহাম্মদ ইবনে রুশদ বলেন: এর অর্থ হলো, আল্লাহর আদেশের কারণে মানুষের হারাম কাজ থেকে বিরত থাকার তুলনায় সুলতানের ভয়ে বিরত থাকা মানুষের সংখ্যা বেশি। সুতরাং ইমামের (শাসকের) মধ্যে দ্বীন ও দুনিয়ার সংশোধন নিহিত। আর ইমামত ওয়াজিব হওয়া এবং ইমামের আনুগত্য আবশ্যক হওয়ার ব্যাপারে উম্মতের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।

ইবনে রুশদ অন্য স্থানে (১৮/ ৪৯৪) বলেছেন: (মালিক বলেন: নেক বান্দা উসমান ইবনে আফফান বলেছেন: কুরআন যা দিয়ে মানুষকে নিবৃত্ত করে না, ইমাম তার চেয়ে বেশি নিবৃত্ত করেন। অর্থাৎ দণ্ডবিধি প্রদানের মাধ্যমে তিনি মানুষকে বিরত রাখেন।

মুহাম্মদ ইবনে রুশদ বলেন: উসমানের বক্তব্যের ব্যাপারে মালিকের ব্যাখ্যা সঠিক। এর অর্থ হলো, মহান আল্লাহর আদেশের কারণে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকা মানুষের তুলনায় সুলতানের ভয়ে বিরত থাকা মানুষের সংখ্যা বেশি। সুতরাং ইমামের মধ্যে দ্বীন ও দুনিয়ার সংশোধন নিহিত। ইমামত ওয়াজিব হওয়া এবং ইমামের আনুগত্য আবশ্যক হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কারো কোনো দ্বিমত নেই)।

ইবনুল আরাবি (মৃত্যু ৫৪৩ হি.) তার «আহকামুল কুরআন» গ্রন্থে — কুতুবুল ইলমিয়্যাহ সংস্করণ — (৩/ ৪৭৪) বলেন: (আশহাব বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস বলেছেন: উসমান বলেছেন: সুলতান মানুষকে যতটুকু নিবৃত্ত করেন, কুরআন ততটুকু করে না। মালিক বলেন: অর্থাৎ তিনি তাদের বিরত রাখেন। ইবনে ওয়াহাবও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং অতিরিক্ত যোগ করেছেন যে, অতপর মালিক তিলাওয়াত করলেন: {তাদেরকে নিবৃত্ত করা হবে} [নমল: ১৭] অর্থাৎ তাদের বিরত রাখা হবে।

একদল লোক এই কথার মর্মার্থ বুঝতে ভুল করেছে। তারা ধারণা করেছে যে, এর অর্থ হলো সুলতানের ক্ষমতা মানুষকে কুরআনের দণ্ডবিধির চেয়ে বেশি বাধা দেয়। এটি আল্লাহ, তাঁর বিধান, তাঁর প্রজ্ঞা এবং তাঁর সৃষ্টির জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থার ব্যাপারে অজ্ঞতা। কেননা আল্লাহ তাআলা দণ্ডবিধিগুলো নির্ধারণ করেছেন একমাত্র ব্যাপক ও সাধারণ জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে যা সত্যের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে কোনো বৃদ্ধি বা ঘাটতি নেই এবং এর বাইরে অন্য কিছু দিয়ে সংশোধন সম্ভব নয়। কিন্তু যালিমরা এর অবমাননা করেছে, এর পালনে ত্রুটি করেছে এবং সঠিক নিয়ত ছাড়াই তা প্রয়োগ করেছে। তারা তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য করেনি; সে কারণেই সৃষ্টিজগত এর দ্বারা নিবৃত্ত হয়নি। যদি তারা ন্যায়বিচার অনুযায়ী শাসন করত এবং নিয়তকে খালেস রাখত, তবে সব বিষয় সুশৃঙ্খল হতো এবং সাধারণ জনগণ সংশোধিত হতো। আপনারা আমাদের পক্ষ থেকে ইনসাফ কায়েম করা এবং আল্লাহর প্রশংসায় সত্যের সাথে বিচার করা ও ন্যায়বিচারের সাথে মানুষকে বিরত রাখা প্রত্যক্ষ করেছেন। ফলে নিরাপত্তা ছড়িয়ে পড়েছে, প্রতিরক্ষা শক্তিশালী হয়েছে এবং ভূখণ্ডে শান্তি ও স্থিতি বজায় রয়েছে, এমনকি আল্লাহর ফয়সালা বিজয়ী হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইন্না আল্লাহা ইয়াযাউ বিস-সুলতানি মা লা ইয়াযাউ বিল-কুরআন - তাখরীজান ওয়া শারহান (পৃষ্ঠা: ৭)
بفساد الحسدة، واستيلاء الظلمة). (1)

وقال ابن العربي ـ أيضاً ـ في «أحكام القرآن» (2/ 208): (ولقد يزع الله بالسلطان ما لا يزع بالقرآن، فالرياسة للسياسة والملك لنفي الملك، وجور السلطان عاما واحدا أقل إذاية من كون الناس فوضى لحظة واحدة، فأنشأ الله الخليقة لهذه الفائدة والمصلحة على الملوك والخلفاء، كلما بان خليفة خلفه آخر، وكلما هلك ملك ملك بعده غيره؛ ليستتب به التدبير، وتجري على مقتضى رأيه الأمور، ويكف الله سبحانه به عادية الجمهور .... إلخ

 

‌‌4 ــ روي عن عمر بن عبدالعزيز رحمه الله -:

ذكر ذلك الشوكاني في رسالته «رفع الأساطين في حكم الاتصال بالسلاطين» (ص 79) =

«الفتح الرباني من فتاوى الإمام الشوكاني» (9/ 4676) قال: (ورحم الله الخليفة العادل عمر بن عبد العزيز فإنه قال: «إن الله ليزع بالسلطان ما لا يزع بالقرآن».

قلت: وأخشى أن يكون نسبته إلى عمر بن عبدالعزيز وهماً ـ والله أعلم ـ

 

‌‌5 ــ روي عن الحسن البصري رحمه الله -:

ذكره أبو الحسن علي بن بسام الشنتريني (ت 542 هـ) في «الذخيرة في محاسن أهل الجزيرة» (1/ 477) قال: قول الحسن بن أبي الحسن البصري: «يزع الله بالسلطان ما لا يزع بالقرآن».

 

‌‌6 ــ قيل: وفي الأثر ــ ولم ينسب لأحد ــ:

ذكره السرخسي (ت 483 هـ) في «شرح السير الكبير» (ص 169).

وكذا في «المبدع في شرح المقنع» (3/ 311)، و «كشاف القناع» (3/ 68).

--------------------------------------------

(1) انظر: «تفسير القرطبي» (13/ 168) و (6/ 325).
হিংসুকদের নষ্টামি এবং যালেমদের আধিপত্যের কারণে)। (১)

ইবনুল আরাবি তাঁর ‘আহকামুল কুরআন’ (২/২০৮) গ্রন্থে আরও বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ কর্তৃত্ব (সুলতান) দ্বারা এমন বিষয় দমন করেন যা কুরআন দ্বারা করেন না। সুতরাং নেতৃত্ব হলো রাজনীতি পরিচালনার জন্য এবং রাজত্ব হলো অরাজকতা দূর করার জন্য। সুলতানের এক বছরের অবিচার মানুষের এক মুহূর্তের বিশৃঙ্খলার চেয়ে কম ক্ষতিকর। আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতকে এই উপকার ও কল্যাণের লক্ষ্যে রাজা ও খলিফাদের অনুগত করে সৃষ্টি করেছেন; যখনই একজন খলিফা বিদায় নেন, অন্যজন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং যখনই একজন রাজা ধ্বংস হন, অন্য কেউ তাঁর পরে রাজত্ব করেন; যাতে এর মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা সুসংহত থাকে, তাঁর সুচিন্তিত মত অনুযায়ী বিষয়াবলী পরিচালিত হয় এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জনসাধারণের সীমালঙ্ঘন প্রতিহত করেন... ইত্যাদি।

 

‌‌৪ — উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে -:

শাওকানি তাঁর ‘রাফউল আসাতীন ফী হুকমিল ইত্তিসাল বিস সালাতীন’ (পৃ. ৭৯) নামক রিসালায় এটি উল্লেখ করেছেন =

‘আল-ফাতহুর রব্বানি মিন ফাতাওয়া আল-ইমাম আশ-শাওকানি’ (৯/৪৬৭৬) গ্রন্থে তিনি বলেছেন: (ন্যায়পরায়ণ খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজের প্রতি আল্লাহ রহম করুন, কেননা তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ কর্তৃত্ব দ্বারা এমন বিষয় দমন করেন যা কুরআন দ্বারা করেন না»।

আমি বলছি: আমার আশঙ্কা হয় যে, এটি উমর ইবনে আবদুল আজিজের সাথে সম্পর্কিত করা একটি ভ্রম হতে পারে — আর আল্লাহই ভালো জানেন —

 

‌‌৫ — হাসান বসরি (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে -:

আবুল হাসান আলি ইবনে বাসসাম আশ-শান্তারিনি (মৃত্যু ৫৪২ হিজরি) ‘আয-যাখিরা ফী মাহাসিনি আহলিল জাযিরা’ (১/৪৭৭) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: হাসান ইবনে আবিল হাসান বসরির উক্তি: «আল্লাহ কর্তৃত্ব দ্বারা এমন বিষয় দমন করেন যা কুরআন দ্বারা করেন না»।

 

‌‌৬ — বলা হয়েছে: এটি একটি বর্ণনা (আছার) — তবে কারো সাথে সম্পর্কিত করা হয়নি —:

সারাখসি (মৃত্যু ৪৮৩ হিজরি) ‘শারহুস সিয়ারিল কাবীর’ (পৃ. ১৬৯) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

অনুরূপভাবে ‘আল-মুবদি ফী শারহিল মুকনি’ (৩/৩১১) এবং ‘কাশশাফুল কিনা’ (৩/৬৮) গ্রন্থেও রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ‘তাফসীরে কুরতুবি’ (১৩/১৬৮) এবং (৬/৩২৫)।
(খণ্ড: ১) ইন্না আল্লাহা ইয়াযাউ বিস-সুলতানি মা লা ইয়াযাউ বিল-কুরআন - তাখরীজান ওয়া শারহান (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌7 ــ نُسب إلى أهل العلم، والحكماء:

قال الجاحظ (ت 255 هـ) كما في «رسائله» (1/ 313): (وقد قال أهل العلم، وأهل التجربة والفهم: «لما يزع الله بالسلطان أكثر مما يزع بالقرآن».

وقد كان يقال: شيئان متباينان، إن صلح أحدهما صلح الآخر: السلطان والرعية.

فقد صلح السلطان، وعلى الله تمام النعمة في صلاح الرعية، حتى يحقق الأثر، وتصدق الشهادة في الخبر).

قال ابن عبدربه (ت 328 هـ) في «العقد» (1/ 9): (قالت الحكماء: إمام عادل، خير من مطر وابل. وإمام غشوم، خير من فتنة تدوم. ولما يزع الله بالسلطان أكثر مما يزع بالقرآن).

قال ابن فارس (ت 395 هـ) في «مقاييس اللغة» (6/ 106): (وفي بعض الكلام: «ما يزع السلطان أكثر مما يزع القرآن»، أي: إن الناس للسلطان أخوف).

 

‌‌8 ــ ذكره دون عزو لأحد:

الجويني (ت 478 هـ) في «غياث الأمم في التياث الظلم» (ص: 24)
৭ — আলেম ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রতি এটি সম্পর্কিত করা হয়েছে:

আল-জাহিজ (মৃত্যু: ২৫৫ হিজরি) তার ‘রাসায়েল’ (১/৩১৩) গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন: (আলেমগণ এবং অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার অধিকারীরা বলেছেন: “আল্লাহ সুলতানের (শাসনক্ষমতার) মাধ্যমে যা দমন করেন, তা কুরআনের মাধ্যমে দমনের চেয়েও অধিক”।

বলা হয়ে থাকতো: দুটি ভিন্নধর্মী বিষয়, যার একটি সংশোধিত হলে অপরটিও সংশোধিত হয়: শাসক ও প্রজাসাধারণ।

শাসক সংশোধিত হয়েছেন, আর প্রজাদের সংশোধনের মাধ্যমে নেয়ামতের পূর্ণতা প্রদান আল্লাহরই কাজ, যাতে এর প্রভাব প্রতিফলিত হয় এবং সংবাদের সত্যতা প্রমাণিত হয়)।

ইবনে আবদে রাব্বিহি (মৃত্যু: ৩২৮ হিজরি) ‘আল-ইকদ’ (১/৯) গ্রন্থে বলেছেন: (প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা বলেছেন: ন্যায়পরায়ণ ইমাম মুষলধারে বৃষ্টির চেয়েও উত্তম। আর যালেম ইমাম দীর্ঘস্থায়ী ফিতনার চেয়েও উত্তম। আর আল্লাহ সুলতানের মাধ্যমে যা দমন করেন, তা কুরআনের মাধ্যমে দমনের চেয়েও অধিক)।

ইবনে ফারিস (মৃত্যু: ৩৯৫ হিজরি) ‘মাকায়িসুল লুগাহ’ (৬/১০৬) গ্রন্থে বলেছেন: (কোনো কোনো উক্তিতে রয়েছে: “সুলতান যা দমন করেন তা কুরআন যা দমন করে তার চেয়ে বেশি”, অর্থাৎ: মানুষ সুলতানকে বেশি ভয় পায়)।

 

৮ — কারো প্রতি সম্বন্ধ করা ছাড়াই এর উল্লেখ:

আল-জুওয়াইনি (মৃত্যু: ৪৭৮ হিজরি) ‘গিয়াসুল উমাম ফি ইলতিয়াসিজ জুলাম’ (পৃষ্ঠা: ২৪) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইন্না আল্লাহা ইয়াযাউ বিস-সুলতানি মা লা ইয়াযাউ বিল-কুরআন - তাখরীজান ওয়া শারহান (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌أقوال العلماء في بيان معناه، وشرحه ــ زيادة على ما سبق من قول ابن العربي، وغيره ــ

قال المبرد (ت 285 هـ) في «الكامل في اللغة والأدب» (1/ 214): (وقال المهلب بن أبي صفرة لبنيه: إذا وليتم فلينوا للمحسن، واشتدوا على المريب، فإن الناس للسلطان أهيب منهم للقرآن.

وقال عثمان بن عفان رضي الله عنه: إن الله ليزع بالسلطان ما لا يزع بالقرآن.

قوله: «يزع» أي يكف، يقال: وزع يزع إذا كف، وكان أصله «يزع» مثل يعد فذهبت الواو لوقوعها بين ياء وكره واتبعت حروف المضارع الياء لئلا يختلف الباب، وهي الهمزة، والنون، والتاء، والياء نحو أعد ونعد، وتعد، ويعد، ولكن انفتحت في «يزع» من أجل العين لأن حروف الحلق إذا كن في موضع عين الفعل أو لامه فتحن في الفعل الذي ماضيه «فعل»، وإن وقعت الواو مما هي فيه فاء في «يفعل» المفتوحة العين في الأصل صح الفعل، نحو: وحل يوحل، ووجل يوجل، ويجوز في هذه المفتوحة ياحل وياجل وييحل وييجل، وكل هذا كراهية للواو بعد الياء، تقول: وزعته: كففته، وأوزعته: حملته على ركوب الشيء وهيأته له، وهو من الله عز وجل توفيق، ويقال: أوزعك الله شكره، أي وفقك له.

وقال الحسن مرة: ما حاجة هؤلاء السلاطين إلى الشرط فلما ولي القضاء كثر عليه الناس، فقال: لا بد للسلاطين من وزعة).

قال أبو جعفر النحاس (ت 338 هـ) في «معاني القرآن» (5/ 120): (أصل وزعته كففته ومنه لا بد للناس من وزعة ومنه لما يزع السلطان أكثر مما يزع القرآن).
এর অর্থ ও ব্যাখ্যায় আলেমদের উক্তি ــ ইবনে আল-আরাবি ও অন্যদের পূর্বে বর্ণিত বক্তব্যের অতিরিক্ত ــ

আল-মুবররাদ (মৃত্যু ২৮৫ হিজরী) তার ‘আল-কামিল ফিল লুগাহ ওয়াল আদব’ (১/২১৪) গ্রন্থে বলেছেন: (আল-মুহাল্লাব বিন আবি সুফরাহ তার সন্তানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: যখন তোমরা শাসনভার গ্রহণ করবে, তখন সৎকর্মশীলদের প্রতি কোমল হবে এবং সন্দেহভাজনদের প্রতি কঠোর হবে; কেননা মানুষ কুরআনের চেয়ে শাসকের প্রতি বেশি ভীত থাকে।

উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: আল্লাহ শাসকের মাধ্যমে যা নিবৃত্ত করেন, তা কুরআনের মাধ্যমে (নিবৃত্ত) করেন না।

তার উক্তি: ‘ইয়াজাউ’ অর্থাৎ নিবৃত্ত করা বা থামিয়ে দেওয়া। বলা হয়: ‘ওয়াযাআ ইয়াজাউ’ যখন কেউ কাউকে নিবৃত্ত করে। এর মূল রূপ ছিল ‘ইয়াওযিউ’ যেমন ‘ইয়াওঈদু’ (ইয়াঈদু), অতঃপর ‘ওয়াও’ বর্ণটি বিলুপ্ত হয়েছে ‘ইয়া’ এবং কাসরার (জের) মাঝে পড়ার কারণে। মুদারে-র (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল বোধক) বর্ণগুলো ‘ইয়া’-কে অনুসরণ করেছে যাতে এই অধ্যায়ের রূপান্তর ভিন্ন না হয়ে যায়, যা হলো হামযাহ, নুন, তা এবং ইয়া; যেমন: ‘আইদু’, ‘নাইদু’, ‘তাইদু’ এবং ‘ইয়াঈদু’। তবে ‘ইয়াজাউ’ শব্দে ‘আইন’ বর্ণের কারণে জবর হয়েছে, কারণ কণ্ঠনালীয় বর্ণগুলো যখন ক্রিয়ার আইন অথবা লাম স্থানে থাকে, তখন সেই ক্রিয়াগুলোর বর্তমানকালে জবর হয় যেগুলোর অতীতকাল ‘ফাআলা’ ওজনে আসে। আর যদি ‘ওয়াও’ বর্ণটি ফা-কালিমায় থাকে এবং বর্তমানকালে মূলগতভাবে আইন-কালিমায় জবর হয়, তবে ক্রিয়াটি তার পূর্ণ রূপে থাকে, যেমন: ‘ওয়াহিলা ইয়াওহালু’ এবং ‘ওয়াজিলা ইয়াওজালু’। এই জবরযুক্ত রূপগুলোতে ‘ইয়াহালু’, ‘ইয়াজালু’, ‘ইইহালু’, ‘ইইজালু’ বলাও জায়েজ। এসবই ‘ইয়া’-র পরে ‘ওয়াও’ আসার কাঠিন্য পরিহারের জন্য। আপনি যখন বলবেন: ‘ওয়াযাতুহু’, তার অর্থ ‘আমি তাকে নিবৃত্ত করেছি’। আর ‘আওযাতুহু’ অর্থ হলো তাকে কোনো কিছু গ্রহণে প্রবৃত্ত করা এবং তাকে সেটির জন্য প্রস্তুত করা। আর এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হলে এর অর্থ হলো ‘তাওফিক’ (সুপথ প্রদর্শন)। বলা হয়: ‘আওযাআকাল্লাহু শুকরাহু’ অর্থাৎ আল্লাহ আপনাকে তাঁর শুকরিয়া আদায়ের তাওফিক দান করেছেন।

হাসান একবার বলেছিলেন: এই সুলতানদের রক্ষীবাহিনীর কী প্রয়োজন! কিন্তু যখন তিনি বিচারকার্যের দায়িত্ব পেলেন এবং মানুষের ভিড় তার ওপর বেশি হয়ে গেল, তখন তিনি বললেন: সুলতানদের জন্য অবশ্যই রক্ষীবাহিনী (বা শৃঙ্খলা রক্ষাকারী) প্রয়োজন)।

আবু জাফর আন-নাহহাস (মৃত্যু ৩৩৮ হিজরী) তার ‘মাআনি আল-কুরআন’ (৫/১২০) গ্রন্থে বলেছেন: (‘ওয়াযাতুহু’ এর মূল অর্থ হলো ‘আমি তাকে নিবৃত্ত করেছি’। এ থেকেই বলা হয়: মানুষের জন্য অবশ্যই রক্ষীবাহিনী থাকতে হবে। আর এ থেকেই এসেছে: সুলতান যা নিবৃত্ত করেন তা কুরআনের চেয়েও বেশি)।
(খণ্ড: ১) ইন্না আল্লাহা ইয়াযাউ বিস-সুলতানি মা লা ইয়াযাউ বিল-কুরআন - তাখরীজান ওয়া শারহান (পৃষ্ঠা: ১০)
وقال أيضاً (6/ 257): (يقال وزعه يزعه ويزعه إذا كفه ومنه لما يزع السلطان أكثر مما يزع القرآن ومنه لا بد للناس من وزعة).

قال الخوارزمي (ت 383 هـ) في الكتاب المنسوب إليه «مفيد العلوم ومبيد الهموم» (ص 407): الباب الأول في بيان حاجة الإنسان إلى السلطان:

اعلم أن السلطنة والإمامة من مهمات الدين، وقد يتعين في رجل فيتقدم على نوافل العبادات، فبقاء الدنيا ونظام الدين بالسلطان، فما يزع الله بالسلطان أكثر مما يزع بالقرآن، ولله حارسان في الأرض وفي السماء، يحرسان الخلائق فحارسه في السماء الملائكة وحارسه في الأرض الملوك! وسِرُّ هذا أن الآدمي جبل مدني الطبع بلدي المأوى لا بد له من مطعم .... إلخ

 

‌‌قال السمعاني في «تفسيره» (ت 489 هـ) (4/ 84): (ومعناه: ما يمتنع الناس منه خوفا من السلطان أكثر مما يمتنع الناس منه خوفا من القرآن).

قال ابن الأثير (ت 606 هـ) في «النهاية في غريب الحديث والأثر» (5/ 180)، وفي ط. الخراط (9/ 4401): («وزع»

(هـ) فيه «من يزع السلطان أكثر ممن يزع القرآن». أي من يكف عن ارتكاب العظائم مخافة السلطان أكثر ممن يكفه مخافة القرآن والله تعالى.

يقال: وزعه يزعه وزعا فهو وازع، إذا كفه ومنعه .... إلخ

قال شيخ الإسلام ابن تيمية كما في «مجموع الفتاوى» (11/ 416): ( … ولكن في بعض فوائد العقوبات المشروعة في الدنيا ضبط العوام. كما قال عثمان بن عفان رضي الله عنه: «إن الله ليزع بالسلطان ما لا يزع بالقرآن» فإن من يكون من المنافقين والفجار فإنه ينزجر بما يشاهده من العقوبات وينضبط عن انتهاك المحرمات فهذا بعض فوائد العقوبات السلطانية المشروعة.
তিনি আরও বলেছেন (৬/ ২৫৭): (বলা হয়, সে তাকে নিবৃত্ত করেছে যখন সে তাকে বিরত রাখে। এর থেকেই উদ্ধৃত হয়েছে যে, সুলতান যা নিবৃত্ত করেন তা কুরআন যা নিবৃত্ত করে তার চেয়ে বেশি। এর থেকেই বলা হয় যে, মানুষের জন্য একজন নিবৃত্তকারী থাকা অপরিহার্য।)

আল-খাওয়ারিজমি (মৃত্যু ৩৮৩ হিজরি) তাঁর প্রতি সোপর্দকৃত গ্রন্থ ‘মুফীদুল উলূম ওয়া মুবীদুল হুমূম’ (পৃষ্ঠা ৪০৭)-এ বলেছেন: প্রথম অধ্যায়: সুলতানের প্রতি মানুষের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনায়:

জেনে রাখুন যে, রাজত্ব এবং ইমামত দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। কখনও এটি কোনো ব্যক্তির ওপর অর্পিত হওয়া নির্ধারিত হয়ে যায়, ফলে তা নফল ইবাদতসমূহের চেয়ে অগ্রগণ্য হয়। দুনিয়ার স্থায়িত্ব এবং দ্বীনের শৃঙ্খলা সুলতানের মাধ্যমেই বজায় থাকে। আল্লাহ সুলতানের মাধ্যমে যা নিবৃত্ত করেন তা কুরআনের মাধ্যমে যা নিবৃত্ত করেন তার চেয়ে বেশি। আসমানে এবং জমিনে আল্লাহর জন্য দুইজন রক্ষক রয়েছেন যারা সৃষ্টিজগতকে রক্ষা করেন। আসমানে তাঁর রক্ষক হলেন ফেরেশতাগণ এবং জমিনে তাঁর রক্ষক হলেন বাদশাহগণ! এর রহস্য হলো এই যে, মানুষকে স্বভাবগতভাবেই সামাজিক এবং আবাসনির্ভর করে সৃষ্টি করা হয়েছে, যার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন রয়েছে... ইত্যাদি।

 

‌আস-সামআনী তাঁর ‘তাফসীর’-এ (মৃত্যু ৪৮৯ হিজরি) (৪/ ৮৪) বলেছেন: (এর অর্থ হলো: মানুষ সুলতানের ভয়ে যা থেকে বিরত থাকে তা কুরআন বা আল্লাহর ভয়ে যা থেকে বিরত থাকে তার চেয়ে বেশি।)

ইবনুল আসীর (মৃত্যু ৬০৬ হিজরি) ‘আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস ওয়াল আসার’ (৫/ ১৮০) গ্রন্থে এবং খারাতি সংস্করণে (৯/ ৪৪০১) বলেছেন: (নিবৃত্ত করা:

হাদীসে এসেছে ‘সুলতান যাকে নিবৃত্ত করেন তা কুরআন যাকে নিবৃত্ত করে তার চেয়ে বেশি’। অর্থাৎ সুলতানের ভয়ে বড় অপরাধ করা থেকে যারা বিরত থাকে তারা কুরআন ও আল্লাহ তাআলার ভয়ে বিরত থাকাদের চেয়ে সংখ্যায় বেশি।

বলা হয়: সে তাকে নিবৃত্ত করেছে, সুতরাং সে হলো নিবৃত্তকারী, যখন সে তাকে বিরত রাখে এবং বাধা প্রদান করে... ইত্যাদি।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ যেমনটি ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’-তে (১১/ ৪১৬) বলেছেন: ( … তবে দুনিয়ায় শরীয়তসম্মত শাস্তির কিছু উপকারিতার মধ্যে রয়েছে সাধারণ জনগণকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। যেমনটি উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ সুলতানের মাধ্যমে তা নিবৃত্ত করেন যা কুরআনের মাধ্যমে করেন না।” কারণ যারা মুনাফিক এবং পাপাচারী, তারা প্রত্যক্ষ শাস্তির মাধ্যমে নিবৃত্ত হয় এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলো লঙ্ঘন করা থেকে বিরত থাকে। এটি হলো শরীয়তসম্মত রাষ্ট্রীয় শাস্তির কিছু উপকারিতা।
(খণ্ড: ১) ইন্না আল্লাহা ইয়াযাউ বিস-সুলতানি মা লা ইয়াযাউ বিল-কুরআন - তাখরীজান ওয়া শারহান (পৃষ্ঠা: ১১)
وقال أيضاً كما في «مجموع الفتاوى» (28/ 107) وعنه: ابن القيم في «الطرق الحكمية» (2/ 683): (فصل: الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر لا يتم إلا بالعقوبات الشرعية؛ فإن الله يزع بالسلطان. ما لا يزع بالقرآن. وإقامة الحدود واجبة على ولاة الأمور؛ وذلك يحصل بالعقوبة على ترك الواجبات وفعل المحرمات).

 

قال الشاطبي (ت 790 هـ) في «الاعتصام» (1/ 293): ( … لأن الإعذار والإنذار الأخروي قد لا يقوم له كثير من النفوس، بخلاف الدنيوي، ولأجل ذلك شرعت الحدود والزواجر في الشرع، وإن الله يزع بالسلطان ما لا يزعه بالقرآن، فالمبتدع إذا لم ينتهض لإجابة دعوته بمجرد الإعذار والإنذار الذي يعظ به، حاول الانتهاض بأولي الأمر، ليكون ذلك أحرى بالإجابة).

 

‌‌ذكر الشيخ ابن باز كما في «فتاويه» (1/ 129): (وفي الأثر المشهور عن عثمان رضي الله عنه وهو مروي عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه ـ أيضا ـ إن الله يزع بالسلطان ما لا يزع بالقرآن).

وذكر ـ أيضاً ـ في «فتاويه» (5/ 67) أنه قد ثبت عن عثمان، فقال: (وقد ثبت عن عثمان بن عفان رضي الله عنه الخليفة الراشد أنه قال: إن الله يزع بالسلطان ما لا يزع بالقرآن.

ويروي عن عمر رضي الله عنه أيضاً).

 

‌‌سئل الشيخ ابن عثيمين في «لقاء الباب المفتوح» لقاء رقم (130):

س: ما معنى هذا الحديث وما مدى صحته: «إن الله لَيَزَعُ بالسلطان ما لا يَزَعُ بالقرآن»؟

فأجاب: لا يحضرني الآن عن صحته شيء؛ لكن معناه: أن من الناس من لا يصلحه إلا قوة السلطان، ومن الناس من يصلحه القرآن، إذا قرأ القرآن اتعظ وانتفع، ومن الناس من هو شرير لا يصلحه إلا السلطان، ويدل لهذا أن الزاني إذا زنا ماذا يُصنع به؟ يُجلد، لا نقول: نأتي به، نقرأ عليه
তিনি আরও বলেছেন, যেমনটি «মাজমু আল-ফাতাওয়া» (২৮/ ১০৭) গ্রন্থে রয়েছে এবং তাঁর থেকে ইবনুল কাইয়্যিম «আত-তুরুক আল-হুকমিয়্যাহ» (২/ ৬৮৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (পরিচ্ছেদ: সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ শারয়ী শাস্তি ব্যতীত সম্পন্ন হয় না; কেননা আল্লাহ সুলতান (শাসক) দ্বারা এমন বিষয় দমন করেন যা কুরআন দ্বারা করেন না। আর হুদুদ কার্যকর করা শাসকদের ওপর ওয়াজিব; আর তা ওয়াজিব বর্জন এবং হারাম কাজ করার শাস্তির মাধ্যমে অর্জিত হয়)।

 

শাতবি (মৃত্যু ৭৯০ হিজরি) «আল-ইতিসাম» (১/ ২৯৩) গ্রন্থে বলেছেন: ( … কারণ পরকালীন ওজর পেশ এবং সতর্কবাণী অনেক মানুষের ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে, যা পার্থিব শাস্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন। আর এই কারণেই শরিয়তে হুদুদ ও প্রতিবন্ধকতামূলক শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। আর আল্লাহ সুলতান দ্বারা এমন বিষয় দমন করেন যা তিনি কুরআন দ্বারা করেন না। সুতরাং বিদআতি ব্যক্তি যদি কেবল উপদেশমূলক ওজর পেশ এবং সতর্কবাণীর মাধ্যমে দাওয়াতে সাড়া না দেয়, তবে শাসনকর্তাদের মাধ্যমে তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করতে হবে, যাতে তা সাড়া দেওয়ার জন্য অধিকতর উপযুক্ত হয়)।

 

‌‌শেখ ইবনে বাজ উল্লেখ করেছেন যেমনটি তাঁর «ফাতাওয়া» (১/ ১২৯) গ্রন্থে রয়েছে: (উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ আছারে এসেছে—যা ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণিত হয়েছে—নিশ্চয়ই আল্লাহ সুলতান দ্বারা এমন বিষয় দমন করেন যা কুরআন দ্বারা করেন না।)

তিনি তাঁর «ফাতাওয়া» (৫/ ৬৭) গ্রন্থে আরও উল্লেখ করেছেন যে, এটি উসমান থেকে প্রমাণিত। তিনি বলেছেন: (খলিফায়ে রাশেদ উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এটি প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ সুলতান দ্বারা এমন বিষয় দমন করেন যা কুরআন দ্বারা করেন না।

এবং এটি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণিত হয়েছে)।

 

‌‌শেখ ইবনে উসাইমীনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল «লিক্বাউল বাবিল মাফতুহ» মজলিস নং (১৩০)-এ:

প্রশ্ন: এই হাদিসটির অর্থ কী এবং এর বিশুদ্ধতা কতটুকু: «নিশ্চয়ই আল্লাহ সুলতান দ্বারা এমন বিষয় দমন করেন যা তিনি কুরআন দ্বারা করেন না»?

তিনি উত্তর দিলেন: এর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে এই মুহূর্তে আমার কিছু স্মরণে নেই; তবে এর অর্থ হলো: মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যাদেরকে শাসকের শক্তি ছাড়া সংশোধন করা যায় না, আবার কিছু মানুষ আছে যাদেরকে কুরআন সংশোধন করে দেয়। যখন সে কুরআন পড়ে, সে উপদেশ গ্রহণ করে এবং উপকৃত হয়। পক্ষান্তরে কিছু মানুষ মন্দ প্রকৃতির, যাদেরকে সুলতান ছাড়া সংশোধন করা সম্ভব নয়। এর প্রমাণ হলো, ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন তার সাথে কী করা হয়? তাকে চাবুক মারা হয়। আমরা এটা বলি না যে: তাকে নিয়ে আসো, আমরা তার ওপর কুরআন তিলাওয়াত করি।
(খণ্ড: ১) ইন্না আল্লাহা ইয়াযাউ বিস-সুলতানি মা লা ইয়াযাউ বিল-কুরআন - তাখরীজান ওয়া শারহান (পৃষ্ঠা: ১২)
القرآن، ونحذره من الزنا، وما أشبه ذلك، نجلده؛ لأن هذا يردعه وأمثالَه عن العودة إليه، فالمعنى صحيح، أن الله تعالى يَزَعُ بالسلطان ما لا يَزَعُ بالقرآن؛ لكن لفظ الحديث لا يحضرني الآن). انتهى.

الخلاصة: أنه صحَّ ـ إن شاء الله ـ عن عثمان بن عفان رضي الله عنه، وأما ضعف إسناده من جهة الانقطاع فيُحتمل، ويُقبَل؛ لمجيئه من طريقين عن اثنين من الأئمة، ولعدم تعلقه بحكم شرعي، ولكثرة العلماء الذين نسبوا هذا القول له، ومعناه صحيح، ومثل هذه المواعظ والحِكم عن الصحابة والسلف لا تتطلب تطبيق القواعد الحديثية النقدية كما في الأحاديث النبوية، وكذا آثار الصحابة المتعلق بها حكم شرعي (1) ـ والله أعلم ـ.

 

كتبه:

إبراهيم بن عبدالله المديهش

مدينة الرياض

22/ 12/ 1439 هـ

--------------------------------------------

(1) كتبت بحثاً في هذه المسألة، تجده في كتابي عن فاطمة رضي الله عنها ــ يسر الله طباعته ـ.
কুরআন, এবং আমরা তাকে ব্যভিচার ও অনুরূপ বিষয় থেকে সতর্ক করি, তাকে বেত্রাঘাত করি; কারণ এটি তাকে এবং তার মতো অন্যদের পুনরায় তাতে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে। সুতরাং মূল বিষয়টি সঠিক যে, মহান আল্লাহ শাসনক্ষমতার মাধ্যমে এমন বিষয় দমন করেন যা তিনি কুরআনের মাধ্যমে করেন না; তবে হাদিসের মূল পাঠ এই মুহূর্তে আমার স্মরণে নেই)। সমাপ্ত।

সারসংক্ষেপ: এটি ইনশাআল্লাহ উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে প্রমাণিত। আর এর সনদে বিচ্ছিন্নতা জনিত যে দুর্বলতা রয়েছে তা সহনীয় এবং গ্রহণযোগ্য; কারণ এটি দুজন ইমামের সূত্রে দুটি পথে বর্ণিত হয়েছে, এবং এটি কোনো শরয়ি বিধানের সাথে সম্পৃক্ত নয়, তদুপরি বহু আলেম এই উক্তিটি তাঁর দিকেই নিসবত করেছেন। এর অর্থ সঠিক, আর সাহাবী ও সালাফদের থেকে বর্ণিত এ ধরনের নসিহত ও হিকমতের ক্ষেত্রে নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের মতো হাদিসশাস্ত্রের কঠোর সমালোচনামূলক নিয়মাবলি প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে না। অনুরূপভাবে সাহাবীদের ঐ সকল আছার বা বর্ণনার ক্ষেত্রেও নয় যা কোনো শরয়ি বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট (১) — আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

লেখক:

ইব্রাহিম বিন আবদুল্লাহ আল-মুতাইহিশ

রিয়াদ শহর

২২/ ১২/ ১৪৩৯ হিজরি

--------------------------------------------

(১) আমি এই বিষয়ে একটি গবেষণা লিখেছি, যা আপনি ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সম্পর্কে আমার বইটিতে পাবেন — আল্লাহ যেন এর মুদ্রণ সহজ করে দেন।