(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
صور من حياة الصحابيات القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: صور من حياة الصحابيات
المؤلف: عبد الرحمن رأفت الباشا (ت 1406هـ)
الناشر: دار الأدب الإسلامي
الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1996 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 جُمادَى الآخرة 1436
মহিলা সাহাবীদের জীবনচিত্র বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: মহিলা সাহাবীদের জীবনচিত্র
লেখক: আবদুর রহমান রাফাত আল-পাশা (মৃত্যু ১৪০৬ হিজরি)
প্রকাশনী: দারুল আদাব আল-ইসলামি
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২২ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
صور من حَيَاة الصحابيات
تأليف
الدكتور عبد الرَّحْمَن رأفت الباشا
دَار الْأَدَب الإسلامي
সাহাবিয়াতদের জীবনচিত্র
রচনায়
ডক্টর আবদুর রহমান রাফাত আল-পাশা
দারুল আদাব আল-ইসলামি
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ৭)
حَلِيمةُ السَّعديَّةُأُمُّ الرَّسول الأعظَمِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الرَّضَاعِ
هذه السَّيِّدة الرصان الرزان (1) أثيرة لدى كل مسلم
…عزيزة على كل مؤمنٍ
…فمن ثدييها الطاهرين رضع الغلام السعيد محمد ابن عبد الله صلوات الله وسلامه عليه
…وعلى صدرها المفعم بالمحبة غفا
…وفي حجرها الطافح بالحنان درج
…ومن فصاحتها وفصاحة قومها بني «سعدٍ» نهل
…فكان من أبين الأبيناء (2) كلامًا
…--------------------------------------------
হালিমা আস-সাদিয়াদুগ্ধদানের দিক থেকে মহান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা
এই সুদৃঢ় ও গাম্ভীর্যপূর্ণ (১) মহীয়সী নারী প্রত্যেক মুসলিমের নিকট অত্যন্ত প্রিয়
…প্রত্যেক মুমিনের নিকট অত্যন্ত সম্মানীয়
…তাঁরই পবিত্র স্তন্য থেকে সৌভাগ্যবান বালক মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুগ্ধপান করেছেন
…তাঁর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ বক্ষেই তিনি ঘুমিয়ে পড়তেন
…তাঁর মমতায় পরিপূর্ণ কোলে তিনি বড় হয়েছেন
…তাঁর এবং তাঁর গোত্র বনী সা'দ-এর বাগ্মিতা থেকে তিনি সুধা পান করেছেন
…ফলে তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষীদের মধ্যে বাকপটুতার দিক থেকে শ্রেষ্ঠতম (২)
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ৮)
وأفصح الفصحاء نطقًا.
إنَّها السَّيِّدة الجليلة حليمة السَّعديَّة أمُّ نبيِّنا محمدٍ - صلوات الله وسلامه عليه - من الرَّضاع.
****
ولإرضاع السَّيِّدة السَّعديَّة للطفل المبارك الذي ملأ الدنيا برّاً ومرحمةً
…وأترعها خيرًا وهديًا
…وزانها خلقاً وفضلاً
…قصةٌ من روائع القصص، حكتها حليمة السَّعديَّة ببيانها المشرق الأنيق الجذاب
…وأسلوبها المتألِّق الرَّشيق الممتع.
فتعالوا نستمع إليها
…فخبرها عن النَّبيِّ الكريم صلى الله عليه وسلم من روائع الأخبار.
****
قالت حليمة السَّعديَّة:
এবং উচ্চারণে সর্বাধিক স্পষ্টভাষী।
তিনি হলেন মহীয়সী নারী হালিমা আস-সাদিয়া, আমাদের নবী মুহাম্মদ — তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক — এর দুগ্ধমাতা।
****
আর সেই বরকতময় শিশুকে সায়্যিদা সাদিয়ার দুধ পান করানোর ঘটনা, যিনি দুনিয়াকে পুণ্য ও দয়ায় পরিপূর্ণ করেছেন
…এবং একে কল্যাণ ও হিদায়াত দ্বারা কানায় কানায় পূর্ণ করেছেন
…এবং একে চরিত্র ও শ্রেষ্ঠত্ব দ্বারা সুশোভিত করেছেন
…এটি চমৎকার কাহিনীগুলোর মধ্যে একটি কাহিনী, যা হালিমা আস-সাদিয়া তাঁর উজ্জ্বল, মার্জিত ও আকর্ষণীয় বর্ণনায় ব্যক্ত করেছেন
…এবং তাঁর প্রদীপ্ত, সাবলীল ও আনন্দদায়ক শৈলীতে।
সুতরাং আসুন আমরা তাঁর কথা শুনি
…কেননা সম্মানিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তাঁর এই সংবাদ চমৎকার সংবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
****
হালিমা আস-সাদিয়া বলেন:
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ৯)
خرجت من منازلنا أنا وزوجي (1) وابن لنا صغيرٌ نلتمس الرُّضعاء (2) في مكَّة، وكان معنا نسوةٌ من قومي بني «سعدٍ» قد خرجن لمثل ما خرجت إليه.
وكان ذلك في سنةٍ قاحلةٍ مجدبةٍ (3)
…أيبست الزَّرع
…وأهلكت الضَّرع فلم تبق لنا شيئًا.
وكان معنا دابَّتان عجفاوان (4) مسنَّتان لا ترشحان (5) بقطرة من لبنٍ فركبت أنا وغلامي الصَّغير إحداهما
…أمَّا زوجي فركب الأخرى، وكانت ناقته أكبر سناً وأشدَّ هُزالاً.
--------------------------------------------
আমি, আমার স্বামী (১) এবং আমাদের এক ছোট পুত্র আমাদের ঘর থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলাম দুগ্ধপোষ্য শিশু খোঁজার (২) জন্য। আমাদের সাথে আমার গোত্র বনু সা'দ-এর কিছু মহিলাও ছিল, যারা ঠিক সেই উদ্দেশ্যেই বের হয়েছিল যে উদ্দেশ্যে আমি বের হয়েছিলাম।
আর এটি ছিল এক অত্যন্ত শুষ্ক ও দুর্ভিক্ষপীড়িত (৩) বছরে
…যা ফসল শুকিয়ে দিয়েছিল
…এবং গবাদি পশুকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, ফলে আমাদের জন্য কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।
আমাদের সাথে দুটি অতি দুর্বল (৪) ও বয়োবৃদ্ধ পশু ছিল যেগুলোর স্তন থেকে এক ফোঁটা দুধও ঝরছিল না (৫), ফলে আমি এবং আমার ছোট ছেলে তার একটির উপর আরোহণ করলাম
…আর আমার স্বামী অন্যটির উপর আরোহণ করলেন, তার উটনীটি ছিল অধিক বয়স্ক এবং অনেক বেশি কৃশকায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ১০)
وكنا - والله - ما ننام لحظة في ليلنا كلِّه لشدَّة بكاء طفلنا من الجوع، إذ لم يكن ثديي ما يغنيه
…ولم يكن في ضرعي ناقتنا ما يغذِّيه
…ولقد أبطأنا بالركَّب بسبب هُزال أتاننا (1) وضعفها فضجر رفاقنا منَّا
…وشقَّ عليهم السَّفر بسببنا.
فلمَّا بلغنا مكَّة وبحثنا عن الرُّضعاء وقعت في أمر لم يكن بالحسبان
… ذلك أنه لم تبق امرأةٌ إلَاّ وعرض عليها الغلام الصَّغير محمَّد بن عبد الله
…فكنَّا نأباه لأنَّه يتيم، وكنَّا نقول:
ما عسى أن تنفعنا أمُّ صبيٍّ لا أب له؟!
…وما عسى أن يصنع لنا جدُّه؟!
…****
ثمَّ إنَّه لم يمض علينا غير يومين اثنين حتَّى ظفرت
--------------------------------------------
আর আল্লাহর শপথ—আমাদের সন্তানের ক্ষুধার তাড়নায় তীব্র কান্নার কারণে আমরা সারারাত এক মুহূর্তের জন্যও ঘুমাতে পারতাম না, কেননা আমার স্তনে তাকে তৃপ্ত করার মতো যথেষ্ট দুধ ছিল না
…এবং আমাদের উটনীর ওলানেও তাকে পুষ্ট করার মতো কিছু ছিল না
…আমাদের মাদি গাধাটির কৃশতা (১) ও দুর্বলতার কারণে আমরা কাফেলার গতি ধীর করে দিয়েছিলাম, যার ফলে আমাদের সাথিরা আমাদের প্রতি বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন
…এবং আমাদের কারণে সফর করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল।
অতঃপর যখন আমরা মক্কায় পৌঁছালাম এবং স্তন্যপায়ী শিশুর সন্ধান করলাম, তখন আমি এমন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হলাম যা আমার ধারণাতীত ছিল
… বিষয়টি এই যে, এমন কোনো নারী বাকি ছিল না যার নিকট ছোট বালক মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহকে পেশ করা হয়নি
…আমরা তাঁকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করছিলাম কারণ তিনি ছিলেন এতিম, আর আমরা বলতাম:
এমন এক শিশুর মা আমাদের কী-ইবা উপকার করতে পারবেন যার পিতা নেই?!
…আর তাঁর দাদাই বা আমাদের জন্য কী করতে পারবেন?!
…****
অতঃপর আমাদের ওপর দিয়ে মাত্র দু’টি দিন পার না হতেই আমি সফল হলাম
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ১১)
كلُّ امرأة معنا بواحد من الرُّضعاء
… أما أنا فلم أظفر بأحدٍ
… فلمَّا أزمعنا الرَّحيل قلت لزوجي:
إنِّي لأكره أن أرجع إلى منازلنا وألقى بني قومنا خَاوية الوِفَاض (1) دون أن آخذ رضيعًا، فليس في صُويحباتي امرأةٌ إلَاّ ومعها رضيعٌ.
والله لأذهبنَّ إلى ذلك اليتيم، ولآخذنَّه.
فقال لي زوجي:
لا بأس عليك، خذيه فعسى أن يجعل الله فيه خيرًا فذهبت إلى أمِّه وأخذته
…ووالله ما حملني على أخذه إلَاّ أنِّي لم أجد غلامًا سواه.
****
فلمَّا رجعت به إلى رحلي وضعته في حجري،
--------------------------------------------
আমাদের সাথে থাকা প্রতিটি নারীই একজন করে দুগ্ধপোষ্য শিশু পেয়েছিল
… কিন্তু আমি কাউকেই পেলাম না
… অতঃপর যখন আমরা প্রস্থানের সংকল্প করলাম, তখন আমি আমার স্বামীকে বললাম:
নিশ্চয়ই কোনো দুগ্ধপোষ্য শিশু গ্রহণ না করে রিক্ত হস্তে (১) আমাদের আবাসস্থলে ফিরে যাওয়া এবং নিজ গোত্রের লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করাকে আমি অপছন্দ করছি; অথচ আমার সাথী নারীদের প্রত্যেকের সাথেই একটি করে দুগ্ধপোষ্য শিশু রয়েছে।
আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই সেই এতিম শিশুটির কাছে যাব এবং তাকেই গ্রহণ করব।
অতঃপর আমার স্বামী আমাকে বললেন:
এতে তোমার কোনো ক্ষতি নেই, তুমি তাকে নিয়ে এসো; হতে পারে আল্লাহ তার মাঝে কল্যাণ দান করবেন। অতঃপর আমি তার মায়ের কাছে গেলাম এবং তাকে নিয়ে আসলাম
…
আল্লাহর কসম! তাকে গ্রহণ করার পেছনে কেবল এই কারণটিই ছিল যে, আমি তাকে ছাড়া অন্য কোনো বালক খুঁজে পাইনি।
****
অতঃপর যখন আমি তাকে নিয়ে আমার আস্তানায় ফিরে আসলাম, তখন তাকে আমার কোলে রাখলাম,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ১২)
وألقمته ثديي، فدرَّ عليه من اللَّبن ما شاء الله أن يدرَّ بعد أن كان خاوياً خالياً
…فشرب الغلام حتَّى رَوِي
ثمَّ شرب أخوه حتَّى رَوِي أيضًا، ثمَّ ناما
…فاضَّجعت أنا وزوجي إلى جانبهما لننام بعد أن كنَّا لا نحظى بالنوم إلَاّ غرارًا (1) بسبب صبيِّنا الصغير.
ثمَّ حانت من زوجي التفاتةٌ إلى ناقتنا المسنَّة العجفاء
…فإذا ضرعاها حافلان ممتلئان
…فقام إليها دهِشاً، وهو لا يصدِّق عينيه وحلب منها وشرب.
ثمَّ حلب لي فشربت معه حتَّى امتلأنا ريّاً وشبعاً.
وبتنا في خير ليلةٍ.
--------------------------------------------
এবং আমি তাকে আমার স্তন দান করলাম, অতঃপর আল্লাহ যা চাইলেন সে অনুযায়ী তাতে প্রচুর দুগ্ধ প্রবাহিত হলো, অথচ তা ইতিপূর্বে শুষ্ক ও রিক্ত ছিল
…অতঃপর বালকটি পান করল এমনকি সে তৃপ্ত হলো
তারপর তার ভাইও পান করল এবং সেও তৃপ্ত হলো, অতঃপর তারা উভয়ে ঘুমিয়ে পড়ল
…অতঃপর আমি ও আমার স্বামী তাদের পাশে ঘুমানোর জন্য শুয়ে পড়লাম, অথচ আমাদের ছোট সন্তানের কারণে আমরা ইতিপূর্বে অতি সামান্য সময় ছাড়া ঘুমের সুযোগ পেতাম না (১)।
অতঃপর আমার স্বামী আমাদের সেই বৃদ্ধা ও শীর্ণ উটটির দিকে দৃষ্টিপাত করলেন
…দেখলেন যে সেটির ওলান দুটি দুধে পরিপূর্ণ হয়ে আছে
…তিনি বিস্ময়াভিভূত হয়ে সেটির দিকে এগিয়ে গেলেন, তিনি যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না; অতঃপর তিনি সেটি দোহন করলেন এবং পান করলেন।
অতঃপর তিনি আমার জন্য দোহন করলেন এবং আমিও তাঁর সাথে পান করলাম, এমনকি আমরা পুরোপুরি তৃপ্ত ও পরিতৃপ্ত হলাম।
আর আমরা এক অতি উত্তম রাত অতিবাহিত করলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فلمَّا أصبحنا قال لي زوجي:
أتدرين يا حليمة أنَّك قد ظفرت بطفل مبارك؟!.
فقلت له:
إنَّه لكذلك وإني لأرجو منه خيرًا كثيرًا.
****
ثمَّ خرجنا من مكَّة فركبت أتاننا المسنَّة
…وحملته معي عليها؛ فمضت نشيطة تتقدَّم دوابَّ القوم جميعًا حتَّى ما يلحق بها أيٌّ من دوابِّهم.
فجعلت صواحبي يقلن لي:
ويحك يا ابنة أبي ذُؤيب، تمهَّلي علينا
…أليست هذه أتانك المسنَّة التي خرجتم عليها؟!!.
فأقول لهنَّ: بلى
… والله إنَّها هي.
فيقلن: والله إنَّ لها لشأناً.
****
সকালে আমার স্বামী আমাকে বললেন:
হে হালিমা, তুমি কি জানো যে তুমি এক বরকতময় শিশু লাভ করেছ?!.
আমি তাঁকে বললাম:
নিশ্চয়ই তিনি তাই, আর আমি তাঁর নিকট থেকে প্রভূত কল্যাণের আশা করি।
****
এরপর আমরা মক্কা থেকে বের হলাম এবং আমি আমাদের সেই বৃদ্ধা গাধীটির পিঠে আরোহণ করলাম
…আমি তাঁকে আমার সাথে তার ওপর বহন করলাম; তখন সেটি এতো সজীব ও ক্ষিপ্রতার সাথে চলতে শুরু করল যে কাফেলার সকল পশুকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে লাগল, এমনকি তাদের কোনো পশুই তার নাগাল পাচ্ছিল না।
তখন আমার সঙ্গিনীরা আমাকে বলতে লাগল:
তোমার প্রতি আক্ষেপ হে আবু জুয়াইবের কন্যা! আমাদের জন্য কিছুটা ধীরগতি অবলম্বন করো
…এটি কি তোমার সেই বৃদ্ধা গাধীটি নয় যার ওপর চড়ে তোমরা এসেছিলে?!!.
আমি তাদের বলতাম: হ্যাঁ
… আল্লাহর কসম, এটি সেই গাধীই।
তারা বলত: আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই এর কোনো বিশেষ রহস্য বা ব্যাপার রয়েছে।
****
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ثمَّ قدمنا منازلنا في بلاد بني «سعد»، وما أعلم أرضاً من أرض الله أشدُّ قحطًا منها ولا أقسى جدبًا.
لكنَّ غنمنا جعلت تغدو إليها مع كلِّ صباح، فترعى فيها ثمَّ تعود مع المساء
…فنحلب منها ما شاء الله أن نحلب، ونشرب من لبنها ما طاب لنا أن نشرب، وما يحلب أحدٌ غيرنا من غنمه قطرةً.
فجعل بنو قومي يقولون لرعيانهم:
ويلكم
… اسرحوا بغنمكم حيث يسرح راعي بنت أبي ذُؤيب.
فصاروا يسرحون بأغنامهم وراء غنمنا؛ غير أنَّهم كانوا يعودون بها وهي جائعةٌ ما ترشح لهم بقطرةٍ.
ولم نزل نتلقَّى من الله البركة والخير حتَّى انقضت سنتا رضاع الصَّبيِّ
…وتمَّ فطامه
…
অতঃপর আমরা বনু সাদ গোত্রে আমাদের আবাসস্থলে পৌঁছালাম। আল্লাহর যমিনের মধ্যে এর চেয়ে অধিক দুর্ভিক্ষপীড়িত এবং এর চেয়ে কঠোর অনাবৃষ্টির ভূমি সম্পর্কে আমার জানা নেই।
তবে আমাদের বকরিগুলো প্রতিদিন সকালে চারণভূমির দিকে যেত এবং সেখানে চরে সন্ধ্যায় ফিরে আসত
…আমরা সেগুলো থেকে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী দুধ দোহন করতাম এবং আমাদের পছন্দমতো সেই দুধ পান করতাম। অথচ আমাদের ছাড়া আর কেউ তাদের বকরি থেকে এক ফোঁটা দুধও দোহন করতে পারত না।
ফলে আমার গোত্রের লোকেরা তাদের রাখালদের বলতে লাগল:
তোমাদের ধ্বংস হোক
… তোমরা তোমাদের বকরিগুলো সেখানেই চরাও যেখানে আবু জুয়াইবের কন্যার রাখাল তার বকরিগুলো চরায়।
তখন তারা আমাদের বকরিগুলোর পেছনে পেছনে তাদের বকরিগুলো চরাতে শুরু করল; তা সত্ত্বেও তারা যখন সেগুলো নিয়ে ফিরত, তখন সেগুলো ক্ষুধার্তই থাকত এবং তাদের জন্য এক ফোঁটা দুধও ঝরাত না।
এভাবে আমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবিরত বরকত ও কল্যাণ লাভ করতে থাকলাম, এমনকি শিশুটির দুধ পানের দুই বছর অতিবাহিত হলো
…এবং তার দুধ ছাড়ানোর সময় পূর্ণ হলো
…
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وكان خلال عاميه هذين ينمو نموّاً لا يشبه نمو أقرانه
…فهو ما كاد يتم سنتيه عندنا حتَّى غدا غلامًا قويًا مكتملًا.
****
عند ذلك قدمنا به على أمِّه، ونحن أحرص ما نكون على مكثه عندنا، وبقائه فينا، لما كنَّا نرى في بركته، فلمَّا لقيت أمَّه طمأنتها عليه وقلت:
ليتك تتركين بُنيِّ عندي حتَّى يزداد فُتوَّةً وقُوَّةً
…فإني أخشى عليه وباء مكَّة
…ولم أزل بها أقنعها وأرغِّبها حتَّى ردَّته معنا
…فرجعنا به فرحين مستبشرين.
****
ثمَّ إنه لم يمض على مقدم الغلام معنا غير أشهرٍ معدودات حتَّى وقع له أمر أخافنا
… وأقلقنا
…وهزَّنا هزًّا.
তিনি তাঁর এই দুই বছরে এমনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিলেন যা তাঁর সমবয়সীদের বৃদ্ধির মতো ছিল না
…আমাদের কাছে তাঁর দুই বছর পূর্ণ হতে না হতেই তিনি এক শক্তিশালী ও সুঠাম বালকে পরিণত হলেন।
****
অতঃপর আমরা তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে নিয়ে আসলাম, অথচ তাঁর মধ্যে বরকত অবলোকন করার কারণে তাঁকে আমাদের কাছে রেখে দেওয়ার ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম। যখন তাঁর মায়ের সাথে সাক্ষাৎ হলো, তখন আমি তাঁকে আশ্বস্ত করলাম এবং বললাম:
আপনি যদি আমার এই ছোট সন্তানটিকে আমার কাছেই রেখে দিতেন যাতে সে আরও বেশি সুঠাম ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারত
…কেননা আমি তাঁর ব্যাপারে মক্কার মহামারীর আশঙ্কা করছি
…আমি তাঁকে অনবরত বোঝাতে ও উৎসাহিত করতে থাকলাম, যতক্ষণ না তিনি তাঁকে আমাদের সাথেই ফেরত পাঠালেন
…অতঃপর আমরা আনন্দিত ও প্রফুল্ল চিত্তে তাঁকে নিয়ে ফিরে এলাম।
****
অতঃপর বালকটিকে নিয়ে আমাদের আসার পর মাত্র কয়েক মাস অতিবাহিত হতে না হতেই তাঁর সাথে এমন একটি ঘটনা ঘটল যা আমাদের ভীত করল
… এবং আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলল
…আর আমাদের চরমভাবে বিচলিত করে দিল।
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فلقد خرج ذات صباح مع أخيه في غنيماتٍ لنا يرعيانها خلف بيوتنا؛ فما هو إلَاّ قليلٌ حتَّى أقبل علينا أخوه يعدو، وقال:
الحقا بأخي القرشيِّ، فقد أخذه رجلان عليهما ثيابٌ بيضٌ فأضجعاه
…وشقَّا بطنه
…فانطلقت أنا وزوجي نغدو نحو الغلام، فوجدناه منتقع الوجه (1) مرتجفاً
…فالتزمه زوجي ، وضممته إلى صدري
…وقلت له: مالك يا بُنيَّ؟!!.
فقال: جاءني رجلان عليهما ثيابٌ بيضٌ فأضجعاني، وشقَّا بطني، والتمسا شيئاً فيه، لا أدري ما هو ثمَّ خلَّياني، ومضيا.
فرجعنا بالغلام مضطربين خائفين.
--------------------------------------------
একদা সকালে তিনি তাঁর ভাইয়ের সাথে আমাদের কিছু বকরির পাল নিয়ে আমাদের ঘরের পেছনে চরাতে বের হলেন; কিছুক্ষণ পরই তাঁর ভাই দৌড়ে আমাদের কাছে এল এবং বলল:
আমার কুরাইশী ভাইয়ের সাহায্যে এগিয়ে যান, সাদা পোশাক পরিহিত দুই ব্যক্তি তাঁকে ধরে শুইয়ে দিয়েছে
…এবং তারা তাঁর পেট বিদীর্ণ করেছে
…অতঃপর আমি ও আমার স্বামী দ্রুতবেগে বালকের দিকে ছুটে গেলাম। আমরা তাঁকে বিবর্ণ চেহারা (১) ও কম্পমান অবস্থায় পেলাম
…আমার স্বামী তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং আমিও তাঁকে আমার বুকের সাথে মিশিয়ে নিলাম
…আমি তাঁকে বললাম: তোমার কী হয়েছে হে বৎস?!!.
তিনি বললেন: সাদা পোশাক পরিহিত দুই ব্যক্তি আমার কাছে এল, তারা আমাকে শুইয়ে দিল এবং আমার পেট বিদীর্ণ করল। তারা এর ভেতরে কিছু একটা খুঁজছিল, আমি জানি না সেটা কী। এরপর তারা আমাকে ছেড়ে দিয়ে চলে গেল।
অতঃপর আমরা উদ্বিগ্ন ও ভীত অবস্থায় বালকটিকে নিয়ে ফিরে এলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فلمَّا بلغنا خباءنا التفت إليَّ زوجي وعيناه تدمعان، ثمَّ قال:
إنِّي لأخشى أن يكون هذا الغلام المبارك قد أصيب بأمر لا قبل لنا بردِّه
… .
فألحقيه بأهله، فإنَّهم أقدر منِّا على ذلك.
****
فاحتملنا الغلام ومضينا به حتَّى بلغنا مكَّة، ودخلنا بيت أمِّه، فلمَّا رأتنا حدَّقت في وجه ولدها، ثمَّ بادرتني قائلة:
ما أقدمك بمحمَّد يا حليمة وقد كنتِ حريصةً عليه؟!
… شديدة الرَّغبة في مُكثه عندك!!. فقلت: لقد قوي عوده
… .
واكتملت فتوَّته
… .
وقضيت الذي عليَّ نحوه، وتخوفت عليه من الأحداث؛ فأدَّيته إليك
… .
যখন আমরা আমাদের তাঁবুতে পৌঁছালাম, তখন আমার স্বামী অশ্রুসজল চোখে আমার দিকে ফিরে তাকালেন, অতঃপর বললেন:
নিশ্চয়ই আমি আশঙ্কা করছি যে, এই বরকতময় বালকটি হয়তো এমন কোনো বিষয়ের সম্মুখীন হয়েছে যা প্রতিহত করার শক্তি আমাদের নেই
… ।
সুতরাং তুমি তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দাও, কারণ তারা এ বিষয়ে আমাদের চেয়ে অধিক সক্ষম।
****
অতঃপর আমরা বালকটিকে সাথে নিলাম এবং তাকে নিয়ে পথ চলে মক্কায় পৌঁছালাম। আমরা তার মায়ের ঘরে প্রবেশ করলাম। যখন তিনি আমাদের দেখলেন, তখন নিজ সন্তানের চেহারার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকালেন, অতঃপর আমাকে বললেন:
হে হালিমা, তুমি মুহাম্মদকে নিয়ে কেন ফিরে এলে, অথচ তুমি তো তার প্রতি অত্যন্ত লালায়িত ছিলে?!
… তাকে তোমার কাছে রাখার ব্যাপারে তোমার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল!! আমি বললাম: তার শারীরিক গঠন সুদৃঢ় হয়েছে
… ।
এবং তার অবয়ব পূর্ণতা পেয়েছে
… ।
তার প্রতি আমার যে কর্তব্য ছিল তা আমি পালন করেছি এবং তার ব্যাপারে পারিপার্শ্বিক অঘটনের আশঙ্কা বোধ করেছি; তাই আমি তাকে আপনার নিকট সমর্পণ করেছি
… ।
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فقالت: اصدقيني الخبر فما أنت بالتي ترغب (1) عن الصَّبيِّ لهذا الذي ذكرته
…ثمَّ مازالت تلحُّ عليَّ ولم تدعني حتَّى أخبرتها بما وقع له، فهدأت ثمَّ قالت:
وهل تخوَّفت عليه الشَّيطان يا حليمة؟.
فقلتُ: نعم.
فقالت: كلَاّ، والله ما للشَّيطان عليه من سبيل
…وإنَّ لابني لشأناً
… فهل أخبرك خبره؟.
فقلتُ: بلى
…قالت: رأيت - حين حملت به - أنَّه خرج منِّي نورٌ أضاء لي قصور «بصرى» من أرض الشَّام
…ثمَّ إنِّي حين ولدته نزل واضعًا يديه على الأرض، رافعًا رأسه إلى السَّماء
…ثمَّ قالت: دعيه عنك، وانطلقي راشدةً
…--------------------------------------------
তিনি বললেন: আমাকে সত্য সংবাদটি দাও। তুমি এমন কেউ নও যে কেবল এই কারণেই (১) এই শিশুটির প্রতি বিমুখ হবে
…অতঃপর তিনি আমাকে অনবরত পিড়াপিড়ি করতে থাকলেন এবং আমাকে ছাড়লেন না, যতক্ষণ না আমি তাঁকে তাঁর সাথে যা ঘটেছিল তা জানালাম। তখন তিনি শান্ত হলেন এবং বললেন:
হে হালিমা, তুমি কি তাঁর ব্যাপারে শয়তানের ভয় পেয়েছিলে?
আমি বললাম: হ্যাঁ।
তিনি বললেন: কখনোই নয়, আল্লাহর কসম! শয়তানের তাঁর ওপর কোনো আধিপত্য নেই
…আর নিশ্চয়ই আমার এই পুত্রের এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে
… আমি কি তোমাকে তাঁর সংবাদ দেব?
আমি বললাম: অবশ্যই
…তিনি বললেন: আমি যখন তাঁকে গর্ভে ধারণ করেছিলাম, তখন দেখেছিলাম যে আমার থেকে একটি নূর নির্গত হলো, যা আমার জন্য শাম দেশের ‘বোসরা’র প্রাসাদসমূহকে আলোকিত করে দিয়েছিল
…এরপর যখন আমি তাঁকে প্রসব করলাম, তখন তিনি জমিনের ওপর তাঁর দুই হাত রেখে এবং আকাশের দিকে তাঁর মাথা উঁচু করে অবতীর্ণ হলেন
…অতঃপর তিনি বললেন: তাঁকে আমার কাছে রেখে দাও এবং তুমি সঠিক পথে ফিরে যাও
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وجزيت عنَّا وعنه خيرًا.
فمضيت أنا وزوجي محزونين أشدَّ الحزن على فراقه
… ولم يكن غلامنا بأقلَّ منَّا حزناً عليه، وأسىً ولوعةً على فراقه.
****
وبعدُ
… فلقد عاشت حليمة السَّعديَّة حتَّى بلغت من الكبر عتيّاً (1)
…ثمَّ رأت الطِّفل اليتيم الذي أرضَعتهُ، قد غدا للعرب سيِّداً
… وللإنسانيَّة مرشدًا
… وللبشرية نبيّاً
…ولقد وفدت عليه بعد أن آمنت به وصدَّقت بالكتاب الذي أُنزل عليه
…فما إن رآها حتَّى استطار بها سرورًا، وطفق يقول: «أُمِّي
… أُمِّي
…».
ثمَّ خلع لها رداءه، وبسطه تحتها، وأكرم وِفادتها
--------------------------------------------
আপনি আমাদের ও তাঁর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান লাভ করুন।
অতঃপর আমি ও আমার স্বামী তাঁর বিচ্ছেদে অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে প্রস্থান করলাম
… আর আমাদের কিশোর সন্তানটিও তাঁর বিরহে আমাদের চেয়ে কম শোকাতুর, দুঃখিত ও মর্মাহত ছিল না।
****
অতঃপর
… হালিমা সাদিয়া দীর্ঘকাল জীবিত ছিলেন, এমনকি তিনি অতি বার্ধক্যে উপনীত হয়েছিলেন (১)
…অতঃপর তিনি সেই পিতৃহীন শিশুকে দেখলেন যাকে তিনি স্তন্যদান করেছিলেন, যিনি আরবদের নেতা
… মানবতার দিশারি
… এবং মানবজাতির জন্য নবী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন
…তিনি তাঁর প্রতি ঈমান আনার পর এবং তাঁর ওপর অবতীর্ণ কিতাবকে সত্য বলে বিশ্বাস করার পর তাঁর নিকট উপস্থিত হয়েছিলেন
…তিনি তাঁকে দেখামাত্রই আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠলেন এবং বলতে লাগলেন: "আমার মা
… আমার মা
…"।
এরপর তিনি নিজের চাদরটি খুলে ফেললেন এবং তাঁর নিচে বিছিয়ে দিলেন, আর তাঁর আগমনকে অত্যন্ত সম্মানিত করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ২০)
أبلغ الإكرام، وعيون الصَّحابة تنظر إليه وإليها في غبطةٍ وإجلالٍ
…****
صلوات الله وسلامه على محمَّد البرِّ الوفيِّ
…صاحب الخلق الكريم
…ورضوان الله على السَّيِّدة حليمة السَّعديَّة
…ظئر (1) النَّبيِّ العظيم صلى الله عليه وسلم (2)
…--------------------------------------------
সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছিল, আর সাহাবীগণের চক্ষুসমূহ তাঁর এবং তাঁর (হালীমার) দিকে পরমানন্দ ও শ্রদ্ধার সাথে তাকিয়ে ছিল
…****
সদাচারী ও প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক
…যিনি মহান চরিত্রের অধিকারী
…আর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক সাইয়িদা হালীমা আস-সা'দীয়ার ওপর
…যিনি মহান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্তন্যদাত্রী মা (১) (২)
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ২১)
صفيَّة بِنْتُ عَبْدِ المطَّلب«صفيَّة أَوَّلُ امرَأَةٍ مُسْلِمَةٍ قَتَلَتْ مُشْرِكاً دِفَاعًا عَنْ دِينِ اللهِ»
من هذه السَّيِّدة الجزلة الرَّزان (1) التي كان يحسب لها الرِّجال
… ألف حساب؟
…من هذه الصَّحابيَّة الباسلة التي كانت أوَّل امرأة قتلت مشركًا في الإسلام؟
…من هذه المرأة الحازمة التي أنشأت للمسلمين أوَّل فارسٍ سلَّ سيفاً في سبيل الله؟
…إنَّها صفيَّة بنت عبد المطَّلب الهاشميَّة القرشيَّة عمَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
****
--------------------------------------------
সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব«সাফিয়্যাহ হলেন প্রথম মুসলিম নারী, যিনি আল্লাহর দ্বীনের প্রতিরক্ষায় একজন মুশরিককে হত্যা করেছিলেন»
কে এই বিজ্ঞ ও ধীরস্থির (১) মহীয়সী নারী, যাঁকে পুরুষেরা সহস্রবার সমীহ করে চলতেন?
… …কে এই অকুতোভয় নারী সাহাবী, যিনি ইসলামে প্রথম নারী হিসেবে কোনো মুশরিককে হত্যা করেছিলেন?
…কে এই দৃঢ়চেতা নারী, যিনি মুসলিমদের জন্য এমন প্রথম অশ্বারোহী বীরকে গড়ে তুলেছিলেন, যিনি আল্লাহর পথে প্রথম তলোয়ার কোষমুক্ত করেছিলেন?
…তিনি হলেন হাশেমি কুরাইশ বংশোদ্ভূত সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব, যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ফুফু।
****
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ২২)
اكتنف المجد صفيَّة بنت عبد المطَّلب من كلِّ جانب:
فأبوها، عبد المطَّلب بن هاشم جدُّ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم وزعيم قريش وسيِّدها المطاع.
وأمُّها، هالة بنت وهبٍ أخت آمنة بنت وهب والدة الرَّسول صلى الله عليه وسلم.
وزوجها الأوَّل، الحارث بن حرب أخو أبي سفيان ابن حرب زعيم بني «أميَّة»، وقد توفِّي عنها.
وزوجها الثَّاني، العوَّام بن خويلد أخو خديجة بنت خويلد سيِّدة نساء العرب في الجاهليَّة، وأولى أمَّهات المؤمنين في الإسلام.
وابنها الزُّبير بن العوَّام حواريُّ رسول الله صلى الله عليه وسلم.
أفبعد هذا الشَّرف شرفٌ تطمح إليه النُّفوس غير شرف الإيمان؟!.
****
সাফিয়্যাহ বিনতে আবদুল মুত্তালিবকে সকল দিক থেকে মর্যাদা ও গৌরব পরিবেষ্টন করে রেখেছিল:
তার পিতা আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিতামহ এবং কুরাইশদের কর্ণধার ও তাদের মান্যবর নেতা।
তার মাতা হালা বিনতে ওয়াহাব ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জননী আমিনা বিনতে ওয়াহাবের বোন।
তার প্রথম স্বামী হারিস ইবনে হারব ছিলেন বনু উমাইয়্যার নেতা আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের ভাই; তিনি তাকে বিধবা রেখে মৃত্যুবরণ করেন।
তার দ্বিতীয় স্বামী আওয়াম ইবনে খুওয়াইলিদ ছিলেন জাহেলি যুগে আরব নারীদের নেত্রী এবং ইসলামে প্রথম মুমিন জননী খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ-এর ভাই।
তার পুত্র জুবায়ের ইবনুল আওয়াম ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাওয়ারী।
এই শ্রেষ্ঠত্বের পর ঈমানের মর্যাদা ব্যতীত এমন আর কোন মর্যাদা আছে কি, যার আকাঙ্ক্ষা মানুষের আত্মা করতে পারে?!
****
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
لقد توفِّي عنها زوجها العوَّام بن خويلد وترك لها طفلًا صغيرًا هو ابنها «الزُّبير» فنشَّأته على الخشونة والبأس
…وربَّته على الفروسيَّة والحرب
…وجعلت لعبته في بري السِّهام وإصلاح القسيِّ.
ودأبت على أن تقذفه في كلِّ مخوفةٍ (1) وتقحمه (2) في كلِّ خطرٍ
…فإذا رأته أحجم أو تردَّد ضربته ضربًا مبرِّحًا، حتَّى إنَّها عوتبت في ذلك من قبل أحد أعمامه حيث قال لها:
ما هكذا يُضرب الولد
… إنَّك تضربينه ضرب مبغضةٍ لا ضرب أمٍّ؛ فارتجزت (3) قائلةً:
مَن قَال أبغَضتُهُ فَقَد كَذَب
--------------------------------------------
তাঁর স্বামী আল-আওয়াম ইবন খুওয়াইলিদ ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর কাছে একটি ছোট শিশু রেখে যান, যিনি ছিলেন তাঁর পুত্র «যুবাইর»। তিনি তাঁকে কঠোরতা ও সাহসিকতার ওপর গড়ে তোলেন
...এবং তাঁকে অশ্বারোহণ ও যুদ্ধের জন্য লালন-পালন করেন
...তিনি তাঁর খেলনা নির্ধারণ করেছিলেন তীর চাঁছা ও ধনুক মেরামতের কাজে।
তিনি তাঁকে প্রতিটি ভীতিকর পরিস্থিতিতে (১) নিক্ষেপ করতে এবং প্রতিটি বিপদের মুখে (২) ঠেলে দিতে অভ্যস্ত ছিলেন
...যখনই তিনি দেখতেন যে তিনি পিছু হটছেন বা দ্বিধা করছেন, তখন তিনি তাঁকে অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রহার করতেন। এমনকি এ কারণে তাঁর চাচাদের একজনের পক্ষ থেকে তাঁকে তিরস্কার করা হয়েছিল, যখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন:
সন্তানকে এভাবে প্রহার করা হয় না
... তুমি তাঁকে এমনভাবে প্রহার করছ যেন কোনো বিদ্বেষ পোষণকারী প্রহার করছে, মায়ের মতো নয়; তখন তিনি রাজায ছন্দে (৩) কবিতা আবৃত্তি করে বললেন:
যে বলেছে আমি তাঁকে ঘৃণা করি, সে অবশ্যই মিথ্যা বলেছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وإنَّما أَضربُهُ لِكَي يَلِبْ (1)
وَيَهْزِمَ الجَيشَ وَيَأتِي بِالسَّلَبْ
ولمَّا بعث الله نبيَّه بدين الهدى والحقِّ، وأرسله نذيرًا وبشيرًا للنَّاس، وأمره بأن يبدأ بذوي قُرباه، جمع بني عبد المطَّلب
… نساءهم ورجالهم وكبارهم وصغارهم، وخاطبهم قائلًا:
(يا فاطمة (2) بنت محمَّد، يا صفيَّة بنت عبد المطَّلب، يا بني عبد المطَّلب إنِّي لا أملك لكم من الله شيئًا).
ثمَّ دعاهم إلى الإيمان بالله، وحضَّهم على التصديق برسالته
…فأقبل على النور الإلهيِّ منهم من أقبل، وأعرض عن سَنَاه (3) من أعرض؛ فكانت صفيَّة بنت عبد المطَّلب في
--------------------------------------------
আমি তো তাকে প্রহার করি যেন সে বুদ্ধিমান হয় (১)
এবং সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে আর গনিমতের মাল নিয়ে আসে
আর যখন আল্লাহ তাঁর নবীকে হিদায়াত ও সত্যের দ্বীনসহ প্রেরণ করলেন এবং তাকে মানুষের নিকট সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা হিসেবে পাঠালেন, আর তাঁকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তাঁর নিকটাত্মীয়দের থেকে শুরু করেন, তখন তিনি বনী আব্দুল মুত্তালিবকে সমবেত করলেন
… তাদের নারী, পুরুষ, বড় এবং ছোট সকলকে। অতঃপর তিনি তাদের সম্বোধন করে বললেন:
(হে মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমা (২), হে আব্দুল মুত্তালিবের কন্যা সাফিয়্যাহ, হে বনী আব্দুল মুত্তালিব! আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমাদের বাঁচাতে আমার কোনো ক্ষমতা নেই)।
অতঃপর তিনি তাদের আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত দিলেন এবং তাঁর রিসালাতকে সত্য বলে বিশ্বাস করতে উৎসাহিত করলেন
…ফলে তাদের মধ্যে যারা সেই ঐশী আলোর দিকে অগ্রসর হওয়ার তারা অগ্রসর হলো, আর যারা তার জ্যোতি (৩) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার তারা মুখ ফিরিয়ে নিল। অতঃপর সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব ছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الرَّعيل (1) الأوَّل من المؤمنين المصدِّقين
… عند ذلك جمعت صفيَّة المجد من أطرافه: سُؤدد الحسب، وعِزِّ الإسلام.
****
انضمَّت صفيَّة بنت عبد المطَّلب إلى موكب النُّور هي وفتاها الزُّبير بن العوَّام، وعانت ما عاناه المسلمون السَّابقون من بأس قريش وعنتها وطغيانها.
فلمَّا أذن الله لنبيِّه والمؤمنين معه بالهجرة إلى المدينة خلَّفت السَّيِّدة الهاشميَّة وراءها مكَّة بكل ما لها فيها من طيوب الذِّكريات، وضروب المفاخر والمآثر ويمَّمت وجهها شطر المدينة، مهاجرةً إلى الله ورسوله.
وعلى الرَّغم من أنَّ السَّيِّدة العظيمة كانت يومئذٍ تخطو نحو السِّتِّين من عمرها المديد الحافل
…فقد كان لها في ميادين الجهاد مواقف ما يزال
--------------------------------------------
প্রথম সারির (১) সেই সকল মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত যারা সত্যায়ন করেছিলেন
… সেই সময় সফিয়্যাহ সবদিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদাকে একত্রিত করেছিলেন: বংশীয় আভিজাত্য এবং ইসলামের গৌরব।
****
সফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব ও তাঁর পুত্র জুবায়ের ইবনুল আওয়াম আলোর কাফেলায় শামিল হলেন। পূর্ববর্তী মুসলমানগণ কুরাইশদের যে কঠোরতা, কষ্ট ও অবাধ্যতার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তিনিও সেই সবের সম্মুখীন হলেন।
অতঃপর যখন আল্লাহ তাঁর নবী এবং তাঁর সাথে থাকা মুমিনদের মদিনায় হিজরত করার অনুমতি দিলেন, তখন এই হাশেমী মহীয়সী নারী মক্কার সমস্ত সুমধুর স্মৃতি এবং বিভিন্ন প্রকারের গৌরব ও কীর্তি পেছনে ফেলে মদিনার অভিমুখে যাত্রা করলেন। তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরতকারী ছিলেন।
যদিও সেই মহান নারী তখন তাঁর দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল জীবনের ষাট বছরের কোঠায় পদার্পণ করছিলেন
…জিহাদের ময়দানে তাঁর এমন সব অবস্থান ছিল যা আজও
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يذكرها التَّاريخ بلسانٍ نديٍّ بالإعجاب رطيبٍ بالثَّناء، وحسبنا من هذه المواقف مشهدان اثنان:
كان أولهما يوم «أحدٍ»
…وثانيهما يوم «الخندق».
****
أمَّا ما كان منها في «أحد» فهو أنَّها خرجت مع جند المسلمين في ثلَّةٍ (1) من النِّساء جهادًا في سبيل الله.
فجعلت تنقل الماء، وتروي العطاش، وتبري السِّهام، وتُصلح القِسيَّ (2).
وكان لها مع ذلك غرضٌ آخر هو أن ترقب المعركة بمشاعرها كلِّها
…ولا غرو (3) فقد كان في ساحتها ابن أخيها محمَّدٌ رسول الله صلى الله عليه وسلم
…--------------------------------------------
ইতিহাস তাকে বিস্ময়-বিমুগ্ধ এবং প্রশংসা-সিক্ত জবানে স্মরণ করে। আমাদের জন্য তাঁর জীবনের বহু ঘটনার মধ্য থেকে মাত্র দুটি দৃশ্যই যথেষ্ট:
যার প্রথমটি ছিল ‘উহুদ’ যুদ্ধের দিনে
…এবং দ্বিতীয়টি ছিল ‘খন্দক’ যুদ্ধের দিনে।
****
উহুদ যুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ছিল এই যে, তিনি আল্লাহর পথে জিহাদের লক্ষ্যে একদল (১) মহিলার সাথে মুসলিম বাহিনীর সাথে বেরিয়েছিলেন।
সেখানে তিনি পানি বহন করছিলেন, তৃষ্ণার্তদের পানি পান করাচ্ছিলেন, তীরের অগ্রভাগ ধার দিচ্ছিলেন এবং ধনুকগুলো (২) মেরামত করছিলেন।
এর পাশাপাশি তাঁর অন্য একটি উদ্দেশ্যও ছিল, আর তা হলো নিজের সমস্ত আবেগ-অনুভূতি দিয়ে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা
…আর এতে বিস্ময়ের কিছু নেই (৩), কেননা সেই রণক্ষেত্রে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপস্থিত ছিলেন
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وأخوها حمزة بن عبد المطَّلب أسدُ الله
…وابنها الزُّبير بن العوَّام حواريُّ (1) نبيِّ الله صلى الله عليه وسلم
…وفي المعركة - قبل ذلك كلِّه وفوق ذلك كلِّه - مصير الإسلام الذي اعتنقته راغبةً
…وهاجرت في سبيله محتسبةً
…وأبصرت من خلاله طريق الجنَّة.
****
ولمَّا رأت المسلمين ينكشفون (2) عن رسول الله صلى الله عليه وسلم إلَاّ قليلًا منهم
…ووجدت المشركين يوشكون أن يصلوا إلى النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم ويقضوا عليه؛ طرحت سقاءها أرضاً
…وهبَّت كاللَّبؤة (3) التي هوجم أشبالها وانتزعت من
--------------------------------------------
এবং তাঁর ভাই হামযাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব আল্লাহর সিংহ
…এবং তাঁর পুত্র যুবাইর বিন আওয়াম আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাওয়ারি (১)
…এবং এই যুদ্ধের ময়দানে - এই সবকিছুর আগে এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে - ছিল ইসলামের ভবিষ্যৎ, যা তিনি আগ্রহের সাথে গ্রহণ করেছিলেন
…এবং সওয়াবের আশায় এর পথে হিজরত করেছিলেন
…এবং এর মাধ্যমেই তিনি জান্নাতের পথ প্রত্যক্ষ করেছিলেন।
****
যখন তিনি দেখলেন যে, অল্প কয়েকজন ব্যতীত বাকি মুসলিমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে (২)
…এবং দেখলেন যে মুশরিকরা প্রায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে এবং তাঁকে শেষ করে দেওয়ার উপক্রম করছে; তখন তিনি তাঁর পানির মশকটি মাটিতে নিক্ষেপ করলেন
…এবং তিনি সেই সিংহীর (৩) মতো ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়লেন যার শাবকদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, এবং তিনি ছিনিয়ে নিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يد أحد المنهزمين رُمحه، ومضت تشقُّ به الصُّفوف، وتضرب بسنانه الوجوه، وتزأر في المسلمين قائلةً:
ويحكم، انهزمتم عن رسول الله؟!!.
فلمَّا رآها النَّبيِّ عليه الصلاة والسلام مقبلةً خشي عليها أن ترى أخاها حمزة وهو صريعٌ، وقد مثَّل به المشركون أبشع تمثيلٍ (1) فأشار إلى ابنها الزُّبير قائلًا:
(المرأة يا زبير
… المرأة يا زبير
…).
فأقبل عليها الزُّبير وقال:
يا أمَّه إليك
… إليك يا أمَّه (2).
فقالت: تنحَّ لا أمَّ لك.
فقال: إنَّ رسول الله يأمرك أن ترجعي
…فقالت: ولم؟!
…إنَّه قد بلغني أنه مثِّل بأخي، وذلك في الله
…--------------------------------------------
পরাজিতদের একজনের হাত থেকে বর্শাটি (তিনি কেড়ে নিলেন), এরপর তা নিয়ে কাতারসমূহ ভেদ করে এগিয়ে যেতে লাগলেন, বর্শার অগ্রভাগ দিয়ে (শত্রুদের) মুখে আঘাত করছিলেন এবং মুসলিমদের প্রতি গর্জন করে বলছিলেন:
তোমাদের দুর্ভোগ হোক, তোমরা আল্লাহর রাসূলকে ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছ?!!.
অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে আসতে দেখলেন, তখন তিনি আশঙ্কা করলেন যে তিনি হয়তো তাঁর ভাই হামযাহকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখবেন, অথচ মুশরিকরা তাঁর লাশের সাথে অত্যন্ত বীভৎস বিকৃতি (১) করেছিল। তাই তিনি তাঁর পুত্র যুবাইরকে ইশারা করে বললেন:
(হে যুবাইর, ওই মহিলার দিকে খেয়াল করো... হে যুবাইর, ওই মহিলার দিকে খেয়াল করো...)।
অতঃপর যুবাইর তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন এবং বললেন:
হে মা, আপনি ফিরে যান... ফিরে যান হে মা (২)।
তিনি বললেন: সরে যাও, তোমার কোনো মা নেই!
তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল আপনাকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন...
তিনি বললেন: কেন?!...
নিশ্চয়ই আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে আমার ভাইয়ের দেহ বিকৃত করা হয়েছে, আর তা তো আল্লাহর পথেই হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فقال له الرَّسول: صلى الله عليه وسلم (خلِّ سبيلها يا زُبير).
فخلَّى سبيلها.
****
ولمَّا وضعت المعركة أوزارها
… وقفت صفيَّة على أخيها حمزة فوجدته قد بُقر (1) بطنه، وأُخرجت كبده، وجُدع أنفه (2)، وصُلمت أذناه (3)، وشوِّه وجهه، فاستغفرت له، وجعلت تقول:
إنَّ ذلك في الله
…لقد رضيت بقضاء الله.
والله لأصبرنَّ، ولأحتسبنَّ (4) إن شاء الله.
كان ذلك موقف صفيَّة بنت عبد المطَّلب يوم «أحد»
…--------------------------------------------
অতঃপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: (হে যুবাইর, তার পথ ছেড়ে দাও)।
অতঃপর তিনি তার পথ ছেড়ে দিলেন।
****
আর যখন যুদ্ধের অবসান ঘটল
… সাফিয়্যাহ তার ভাই হামযাহর লাশের পাশে এসে দাঁড়ালেন। তিনি দেখলেন যে তার পেট বিদীর্ণ (১) করা হয়েছে, তার কলিজা বের করে আনা হয়েছে, তার নাক কর্তন (২) করা হয়েছে, তার উভয় কান বিচ্ছিন্ন (৩) করা হয়েছে এবং তার চেহারা বিকৃত করে দেওয়া হয়েছে। তিনি তার জন্য ইস্তিগফার করলেন এবং বলতে লাগলেন:
নিশ্চয়ই তা আল্লাহর পথে
…আমি আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট হয়েছি।
আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই ধৈর্য ধারণ করব এবং ইনশাআল্লাহ প্রতিদানের আশা (৪) রাখব।
উহুদ যুদ্ধের দিনে এটিই ছিল সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিবের অবস্থান
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أمَّا موقفها يوم «الخندق» فله قصَّةٌ قصيرةٌ مثيرةٌ سُداها الدَّهاء والذَّكاء، ولُحمتُها (1) ، البسالةُ والحزم
…فإليك (2) خبرها كما وعته كتب التَّاريخ.
****
لقد كان من عادة رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا عزم على غزوة من الغزوات أن يضع النِّساء والذَّراري في الحصون خشية أن يغدر بالمدينة غادرٌ في غيبة حماتها.
فلمَّا كان يوم «الخندق» جعل نساءه وعمَّته وطائفة من نساء المسلمين في حصن لحسَّان بن ثابت (3) ورثه عن آبائه، وكان من أمنع حصون المدينة مناعةً وأبعدها منالاً.
وبينما كان المسلمون يرابطون على حوافِّ (4)
--------------------------------------------
খন্দকের যুদ্ধের দিন তাঁর যে অবস্থান ছিল, তার একটি সংক্ষিপ্ত ও রোমাঞ্চকর কাহিনী রয়েছে, যার বুননের টানা হলো চাতুর্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং পোড়েন (১) হলো বীরত্ব ও দৃঢ়তা
…ইতিহাসের কিতাবসমূহ যেভাবে এটি সংরক্ষণ করেছে, তাঁর সেই সংবাদটি তোমার সামনে পেশ করা হলো (২)।
****
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এটি রীতি ছিল যে, তিনি যখন কোনো যুদ্ধের সংকল্প করতেন, তখন নারী ও শিশুদের দুর্গের ভেতর রেখে যেতেন, যাতে নগর রক্ষকদের অনুপস্থিতিতে কোনো বিশ্বাসঘাতক মদীনার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করতে না পারে।
অতঃপর খন্দকের যুদ্ধের দিন তিনি তাঁর স্ত্রীদের, তাঁর ফুফুকে এবং একদল মুসলিম নারীকে হাসসান বিন সাবিত (৩)-এর দুর্গে রাখলেন, যা তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। এটি ছিল মদীনার অন্যতম সুরক্ষিত এবং শত্রুর নাগালের বাইরে অবস্থিত একটি দুর্গ।
যখন মুসলিমগণ খন্দকের কিনারায় (৪) প্রহরারত ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الخندق في مواجهة قريش وأحلافها، وقد شُغلوا عن النِّساء والذَّراري بمنازلة العدو.
أبصرت صفيَّة بنت عبد المطَّلب شبحًا يتحرَّك في عتمة الفجر، فأرهفت له السَّمع، وأحدَّت إليه البصر
…فإذا هو يهوديٌّ أقبل على الحصن، وجعل يُطيف به متحسِّساً أخباره متجسِّساً على من فيه.
فأدركت أنَّه عينٌ (1) لبني قومه جاء ليعلم أفي الحصن رجالٌ يدافعون عمَّن فيه، أم إنَّه لا يضمُّ بين جدرانه غير النِّساء والأطفال.
فقالت في نفسها: إنَّ يهود بني «قُريظة» قد نقضوا ما بينهم وبين رسول الله من عهدٍ وظاهروا (2) قريشًا وأحلافها على المسلمين
…وليس بيننا وبينهم أحدٌ من المسلمين يدافع عنَّا،
--------------------------------------------
খন্দকের যুদ্ধে কুরাইশ ও তাদের মিত্রদের মোকাবিলা করার সময়, তাঁরা শত্রুর সাথে লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকায় নারী ও শিশুদের রক্ষণাবেক্ষণ থেকে বিমুখ ছিলেন।
সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব ভোরের অন্ধকারে একটি ছায়ামূর্তিকে নড়াচড়া করতে দেখলেন। তিনি সেদিকে কান খাড়া করলেন এবং তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন
…হঠাৎ দেখলেন সেটি একজন ইহুদি, যে দুর্গের দিকে এগিয়ে আসছে এবং এর খবরাখবর নেওয়ার জন্য ও ভেতরের লোকেদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করার উদ্দেশ্যে এর চারপাশে চক্কর দিচ্ছে।
তিনি বুঝতে পারলেন যে সে তার স্বগোত্রীয়দের একজন গোয়েন্দা (১), যে এটা জানতে এসেছে যে দুর্গের ভেতর কোনো পুরুষ আছে কি না যারা ভেতরের বাসিন্দাদের প্রতিরক্ষা করবে, নাকি এর দেয়ালের অভ্যন্তরে নারী ও শিশু ছাড়া আর কেউ নেই।
তিনি মনে মনে বললেন: বনু কুরাইজার ইহুদিরা আল্লাহর রাসূলের সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে এবং কুরাইশ ও তাদের মিত্রদের মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহায়তা (২) করেছে
…আর আমাদের ও তাদের মাঝে কোনো মুসলিম নেই যে আমাদের রক্ষা করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ورسول الله صلى الله عليه وسلم ومن معه مرابطون في نحور (1) العدوِّ
…فإن استطاع عدوُّ الله أن ينقل إلى قومه حقيقة أمرنا سبى اليهود النِّساء واسترقوا الذَّراري، وكانت الطَّامَّة (2) على المسلمين.
****
عند ذلك بادرت إلى خمارها فلفَّتهُ على رأسها، وعمدت إلى ثيابها فشدَّتها على وسطها، وأخذت عمودًا على عاتقها (3)، ونزلت إلى باب الحصن فشقَّته في أناةٍ وحذقٍ، وجعلت ترقب من خلاله عدوَّ الله في يقظةٍ وحذرٍ، حتَّى إذا أيقنت أنَّه غدا في موقفٍ
… يُمكِّنُها منه
…حملت عليه حملةً حازمةً صارمةً، وضربته بالعمود على رأسه فطرحته أرضًا
…--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সঙ্গীরা শত্রুর সম্মুখভাগে (১) পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন
…যদি আল্লাহর এই শত্রু তার কওমের কাছে আমাদের প্রকৃত অবস্থা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়, তবে ইয়াহুদীরা নারীদের বন্দী করবে এবং সন্তানদের দাসে পরিণত করবে, আর তা হবে মুসলমানদের জন্য এক মহা বিপর্যয় (২)।
****
সেই মুহূর্তে তিনি দ্রুত নিজের ওড়নাটি নিলেন এবং মাথায় জড়ালেন, নিজের কাপড়গুলো কোমরে শক্ত করে বাঁধলেন, কাঁধের (৩) ওপর একটি খুঁটি তুলে নিলেন এবং দুর্গের দরজার দিকে নেমে গেলেন। তিনি অত্যন্ত ধীরস্থির ও নিপুণভাবে দরজাটি সামান্য খুললেন এবং তার মধ্য দিয়ে অতীব সতর্কতা ও হুঁশিয়ারির সাথে আল্লাহর শত্রুর ওপর নজর রাখতে লাগলেন। অবশেষে যখন তিনি নিশ্চিত হলেন যে, শত্রু এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে … যা তাকে বাগে পেতে সক্ষম করবে …
তিনি তার ওপর এক দৃঢ় ও কঠোর আক্রমণ চালালেন এবং খুঁটি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলেন, ফলে তাকে মাটিতে আছড়ে ফেললেন
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ثمَّ عزَّزت الضَّربة الأولى بثانيةٍ وثالثةٍ حتَّى أجهزت عليه، وأخمدت أنفاسه بين جنبيه
…ثمَّ بادرت إليه فاحتزَّت رأسه بسكِّين كانت معها، وقذفت بالرَّأس من أعلى الحصن
…فطفق يتدحرج على سفوحه حتَّى استقرَّ بين أيدي اليهود الذين كانوا يتربَّصون (1) في أسفله.
فلمَّا رأى اليهود رأس صاحبهم؛ قال بعضهم لبعض:
قد علمنا أنَّ محمدًا لم يكن ليترك النِّساء والأطفال من غير
… حُماةٍ
… ثمَّ عادوا أدراجهم
…****
رضي الله عن صفيَّة بنت عبد المطَّلب.
فقد كانت مثلًا فذّاً للمرأة المسلمة
…ربَّت وحيدها فأحكمت تربيته
…--------------------------------------------
তারপর তিনি প্রথম আঘাতটিকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় আঘাতের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করলেন, যতক্ষণ না তাকে শেষ করে দিলেন এবং তার পাঁজরের মাঝে তার শ্বাস রুদ্ধ করে দিলেন
…এরপর তিনি দ্রুত তার দিকে এগিয়ে গিয়ে সাথে থাকা একটি ছুরি দিয়ে তার মাথা কেটে ফেললেন এবং দুর্গের ওপর থেকে মাথাটি নিচে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন
…অতঃপর সেটি পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়াতে লাগল, যতক্ষণ না নিচে অপেক্ষমাণ (১) ইহুদিদের সামনে গিয়ে স্থির হলো।
যখন ইহুদিরা তাদের সঙ্গীর কাটা মাথা দেখতে পেল, তখন তারা একে অপরকে বলতে লাগল:
আমরা নিশ্চিতভাবেই জানতে পারলাম যে, মুহাম্মাদ নারী ও শিশুদের কোনো রক্ষক ছাড়া ... রেখে যাননি ... তারপর তারা যে পথে এসেছিল সেই পথেই ফিরে গেল ...
****
সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিবের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন।
নিশ্চয়ই তিনি মুসলিম নারীদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন ...
তিনি তাঁর একমাত্র সন্তানকে লালন-পালন করেছিলেন এবং তাঁর লালন-পালনকে সুদৃঢ় ও নিপুণ করেছিলেন ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ারুন মিন হায়াতুস সাহাবিয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وأصيبت بشقيقها فأحسنت الصَّبر عليه
…واختبرتها الشَّدائد فوجدت فيها المرأة الحازمة العاقلة الباسلة
…ثمَّ إنَّ التَّاريخ كتب في أنصع صفحاته:
إن صفيَّة بنت عبد المطَّلب كانت أوَّل امرأةٍ قتلت مشركًا في الإسلام (1).
…--------------------------------------------
তিনি তার সহোদর ভাইয়ের শোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তার ওপর উত্তম ধৈর্য ধারণ করেছিলেন
…বিপদ-আপদ তাকে পরীক্ষা করেছিল এবং তাতে তাকে এক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, বুদ্ধিমতী ও বীর সাহসী নারী হিসেবে পাওয়া গিয়েছিল
…অতঃপর ইতিহাস তার উজ্জ্বলতম পাতাসমূহে লিপিবদ্ধ করেছে যে:
নিশ্চয়ই সাফিয়্যা বিনতে আব্দুল মুত্তালিব ছিলেন ইসলামের ইতিহাসে প্রথম নারী, যিনি একজন মুশরিককে হত্যা করেছিলেন (১)।
…--------------------------------------------