(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: -)
الرحلة في طلب الحديث - ت أبي أويس   (الخطيب البغدادي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الرحلة في طلب الحديث

المؤلف: الخطيب البغدادي

حققه وعلق عليه: أبو أويس الكردي

راجعه وقدم له: مصطفى بن العدوى

الناشر: مكتبة ابن تيمية، القاهرة - مصر

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 74

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 رمضان 1445

আর-রিহলা ফি তলাবিল হাদিস - তাহকিক: আবু উওয়াইস   (আল-খাতিব আল-বাগদাদি)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


গ্রন্থ: আর-রিহলা ফি তলাবিল হাদিস

লেখক: আল-খাতিব আল-বাগদাদি

তাহকিক ও টীকা: আবু উওয়াইস আল-কুর্দি

পর্যবেক্ষণ ও ভূমিকা: মুস্তাফা বিন আল-আদাওয়ি

প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া, কায়রো - মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৪

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ রমজান ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌تقديم

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وبعد:

فهذا كتاب «الرحلة في طلب الحديث» للخطيب البغدادي رحمه الله، قام أخي في الله/ أبو أويس أشرف بن نصر بن صابر كرد بضبط متنه وتخريج أحاديثه والآثار التي فيه.

وقام أيضا بتذيلين: الأول: في رِحْلات الفضلاء، والثاني: في تراجم شيوخ الخطيب في الرحلة.

وقد نظرت في عمله فألفيته ولله الحمد نافعًا موفقًا بعد مراجعتي له.

فالله أسألُ أن يجازيه خيرًا وأن يسدده.

 

وصل اللهم على نبينا محمد وسلم

والحمد لله رب العالمين

 

كتبه/ أبو عبد الله مصطفى العدوي
‌‌উপস্থাপনা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। অতঃপর:

এটি খতিব আল-বাগদাদি (রহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘আর-রিহলা ফি তালাবিল হাদিস’ গ্রন্থ; আমার দ্বীনি ভাই আবু উওয়াইস আশরাফ বিন নাসর বিন সাবির কুর্দ এর মূল পাঠ বা মতন (متن) এর নির্ভুলতা যাচাই (ضبط) এবং এতে বর্ণিত হাদিস ও আসার (آثار) সমূহের উৎস নির্দেশ (تخريج) সম্পন্ন করেছেন।

তিনি এতে দুটি পরিশিষ্টও যুক্ত করেছেন: প্রথমটি মহীয়ান ব্যক্তিদের ইলমি সফর সম্পর্কে এবং দ্বিতীয়টি এই সফরে খতিবের উস্তাদগণের জীবনী (تراجم) সম্পর্কে।

আমি তার এই কাজটির প্রতি দৃষ্টিপাত করেছি এবং পর্যালোচনার পর আলহামদুলিল্লাহ এটিকে অত্যন্ত উপকারী ও যথাযথ মনে করেছি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।

 

হে আল্লাহ, আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন

এবং সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য

 

লিখেছেন/ আবু আব্দুল্লাহ মুস্তফা আল-আদাউয়ি
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌المقدمة

إِنَّ الحَمْدَ لِلهِ تَعَالَى، نَحْمَدُه، وَنَسْتَعِينُهُ، وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بالِلهِ من شُرُور أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْد اللهُ فَلا مُضِلّ لَه، ومَن يُضْلِل فَلا هَادِي لَه، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَه إلا اللهُ، وَحْدَهُ لَا شَريك لَه، وَأَشْهَدُ أَنَّ محمدًا عَبْدُهُ ورسولُهُ.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71].

أما بعد:

فَإنَّ أصدقَ الْحَدِيث كِتَابُ الله، وَخَيْرَ الْهَدْي هَدْي مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَشَرّ الأُمُور مُحْدَثَاتُهَا، وَكل مُحْدَثَةٍ بِدْعَة، وَكل بِدْعَةٍ ضلالة(1).

--------------------------------------------

(1) وزيادة: «وكل ضلالة في النار»: شاذة، وقد تكلمت عليها في حاشية «الاعتصام» للشاطبي. ط دار ابن رجب (ص 57) بتحقيقي. وانظر - غير مأمور - شرحًا لألفاظ خطبة الحاجة في «مجموع الفتاوى» (18/ 285 - 290).

ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না} [আল ইমরান: ১০২]।

{হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট হক দাবি করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজনের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} [আন নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক ও সত্য কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল} [আল আহযাব: ৭০, ৭১]।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হচ্ছে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই হলো বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই হলো ভ্রষ্টতা(১)।

--------------------------------------------

(১) এবং অতিরিক্ত অংশ: «আর প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম»: এটি একটি ব্যতিক্রমী (شاذة) বর্ণনা। আমি শাতীবীর ‘আল-ইতিসাম’ গ্রন্থের টীকায় (দার ইবনে রজব সংস্করণ, পৃষ্ঠা ৫৭) আমার সম্পাদনায় এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। আর (আগ্রহী হলে) ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ (১৮/ ২৮৫ - ২৯০) গ্রন্থে খুতবাতুল হাজাহ-এর শব্দসমূহের ব্যাখ্যা দেখে নিন।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٥)
وبعد:

فالحديث عن العلم حديث تحبه النفوس المؤمنة، وترغبه الأنفس الطموحة، وتهواه العقول النيرة؛ لأنه من أعظم العبادات، وأجل القربات، وسبيل تحصيله طريق الجنات.

والعلم حياة القلوب، ونور البصائر، وشفاء الصدور، ودليل الحائرين، والحاجة إليه أعظم من الحاجة إلى الطعام والشراب.

فبالعلم يعبدُ اللهَ حقاً، وبه يتبع النبي صلى الله عليه وسلم صدقاً، وبه ترتفع الدرجات والمنازل في الدنيا والآخرة، قال تعالى: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} [المجادلة: 11]، وقال تعالى: {نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مَنْ نَشَاءُ إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيمٌ} [يوسف: 76].

وعَنْ عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ أَنَّ نَافِعَ بْنَ عَبْدِ الْحَارِثِ لَقِيَ عُمَرَ بِعُسْفَانَ - وَكَانَ عُمَرُ يَسْتَعْمِلُهُ عَلَى مَكَّةَ - فَقَالَ: مَنِ اسْتَعْمَلْتَ عَلَى أَهْلِ الْوَادِ ي؟ فَقَالَ: ابْنَ أَبْزَى. قَالَ: وَمَنِ ابْنُ أَبْزَى؟ قَالَ: مَوْلًى مِنْ مَوَالِينَا. قَالَ: فَاسْتَخْلَفْتَ عَلَيْهِمْ مَوْلًى؟ قَالَ: إِنَّهُ قَارِئٌ لِكِتَابِ اللهِ عز وجل، وَإِنَّهُ عَالِمٌ بِالْفَرَائِضِ. قَالَ عُمَرُ: أَمَا إِنَّ نَبِيَّكُمْ صلى الله عليه وسلم قَدْ قَالَ: «إِنَّ اللهِ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ»(1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (817). «يرفع» يعني: يُشرف، ويكرم في الدنيا والآخرة، وذلك بسبب الاعتناء به، والعلم به، والعمل بما فيه. «ويضع»: يعني: يحقِّر ويصغِّر في الدنيا والآخرة، وذلك بسبب تركه، والجهل به، وترك العمل به.

এরপর:

জ্ঞান সম্পর্কে আলোচনা এমন এক আলোচনা যা মুমিন আত্মাসমূহ ভালোবাসে, উচ্চাভিলাষী প্রাণসমূহ কামনা করে এবং আলোকিত বিবেকসমূহ পছন্দ করে; কারণ এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত, অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ নেক আমল এবং তা অর্জনের পথ হলো জান্নাতের পথ।

জ্ঞান হলো হৃদয়ের জীবন, অন্তর্দৃষ্টির জ্যোতি, বক্ষসমূহের আরোগ্য এবং পথভ্রান্তদের পথপ্রদর্শক। জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা খাদ্য ও পানীয়ের প্রয়োজনীয়তার চেয়েও অধিক।

জ্ঞানের মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলার যথাযথ ইবাদত করা হয়, এর মাধ্যমেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রকৃত অনুসরণ করা হয় এবং এর মাধ্যমেই দুনিয়া ও আখিরাতে মর্যাদা ও উচ্চাসন বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন} [আল-মুজাদালা: ১১], আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: {আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নত করি। নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী} [ইউসুফ: ৭৬]।

আমির ইবনে ওয়াসিলা থেকে বর্ণিত যে, নাফি ইবনে আব্দুল হারিস ‘উসফান’ নামক স্থানে উমর (রা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন—আর উমর (রা.) তাকে মক্কার গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। উমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন: আপনি উপত্যকাবাসীদের ওপর কাকে দায়িত্ব দিয়ে এসেছেন? তিনি বললেন: ইবনে আবজাকে। উমর (রা.) বললেন: ইবনে আবজা কে? তিনি উত্তর দিলেন: আমাদের একজন আযাদকৃত দাস (مولى)। উমর (রা.) বললেন: আপনি কি তাদের ওপর একজন আযাদকৃত দাসকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করে এসেছেন? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তিনি মহান আল্লাহর কিতাবের ক্বারী এবং উত্তরাধিকার আইন (فرائض) সম্পর্কে অভিজ্ঞ। উমর (রা.) বললেন: জেনে রেখো, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ এই কিতাবের মাধ্যমে কোনো কোনো জাতির মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং এর মাধ্যমেই অন্যদের নিম্নগামী করেন»(১)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন (৮১৭)। «মর্যাদা বৃদ্ধি করেন» অর্থাৎ: দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত ও মর্যাদাবান করেন, আর তা হয় এই কিতাবের প্রতি যত্নশীল হওয়া, এটি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং তদানুযায়ী আমল করার কারণে। «নিম্নগামী করেন» অর্থাৎ: দুনিয়া ও আখিরাতে তুচ্ছ ও হেয় করেন, আর তা হয় এই কিতাব বর্জন করা, এ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা এবং এর ওপর আমল ত্যাগ করার কারণে।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٦)
وعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ: اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا»(1).

وقد قال الشافعي رحمه الله(2):

تَعَلَّمْ، فَلَيْسَ المَرْءُ يُولَدُ عالِماً … ولَيْسَ أَخُو عِلْمٍ كمَنْ هو جاهِلُ

وإنَّ كَبِيَر القومِ لا عِلْمَ عِنْدَهُ … صَغِيرٌ إذا الْتَفَّتْ عليه المَحافِلُ

وإِن صغيرَ القومِ إِنْ كانَ عالماً … كبيرٌ إِذا ردت إِليه المحافلُ

فلهذا الفضل ولغيره رحل الأنبياء والعلماء والطلاب في تحصيل هذا الزاد النفيس.

ولأهمية هذا الموضوع ومكانته قمت بتحقيق هذا الكتاب القيم في بابه، رغم نزول أسانيده ومشقة البحث عنها، إلا أن الله تعالى أعان على خدمة الكتاب خدمة حديثية، ثم جاء دور المخطوط الذي ظل البحث في طلبه زمناً يقارب السنة، وهذا وصفه بين يديك.

--------------------------------------------

(1) إسناده حسن: أخرجه أبو داود (1466)، والترمذي (2914) من طريق عاصم ابن أبى النجود عن زر عن عبد الله بن عمرو به مرفوعاً.

(2) في ديوانه (ص/ 24).

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «কুরআনের সাথীকে বলা হবে: তুমি পাঠ করো এবং আরোহণ করো, আর তারতীলের সাথে পাঠ করো যেভাবে তুমি দুনিয়াতে তারতীলের সাথে পাঠ করতে। নিশ্চয়ই তোমার অবস্থান হবে সেই শেষ আয়াতের নিকট যা তুমি পাঠ করবে।»(১).

ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন(২):

শিক্ষা অর্জন করো, কেননা কেউ জ্ঞানী হয়ে জন্মগ্রহণ করে না … আর জ্ঞানী ব্যক্তি অজ্ঞ ব্যক্তির সমান নয়।

গোত্রের প্রধানও যদি জ্ঞানহীন হয় … তবে সমাবেশ যখন তাকে ঘিরে ধরে তখন সে অতি ক্ষুদ্র (নগণ্য)।

পক্ষান্তরে গোত্রের ছোট কেউ যদি জ্ঞানী হয় … তবে যখন সমাবেশের দৃষ্টি তার দিকে ফিরে আসে, তখন সে অতি মহান।

এই মর্যাদা এবং অন্যান্য কারণে নবীগণ, ওলামায়ে কেরাম এবং শিক্ষার্থীরা এই মূল্যবান পাথেয় অর্জনে সফর করেছেন।

এই বিষয়ের গুরুত্ব ও মর্যাদার কারণে আমি নিজ শাস্ত্রের এই মূল্যবান কিতাবটি তাহকিক করেছি, যদিও এর সনদগুলো নিম্নমুখী (نزول) এবং সেগুলো অনুসন্ধান করা কষ্টসাধ্য ছিল। তবুও আল্লাহ তাআলা কিতাবটির হাদিস বিষয়ক খিদমতে সাহায্য করেছেন। এরপর পাণ্ডুলিপির সন্ধানের পালা এল, যার অনুসন্ধানে প্রায় এক বছর সময় ব্যয় হয়েছে; আর এর বর্ণনা আপনার সম্মুখে উপস্থাপন করা হলো।

--------------------------------------------

(১) এর সনদটি হাসান (حسن): এটি আবু দাউদ (১৪৬৬) এবং তিরমিজি (২৯১৪) আসিম ইবনে আবি নাজুূদ-এর সূত্রে যির থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

(২) তাঁর দিওয়ানে (পৃষ্ঠা: ২৪)।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌عملي في هذا السفر

1 - ضبطت نصه على مخطوطتين ومطبوعة، أما المخطوطتان فمن دارالكتب الظاهرية بدمشق وتقع الأولى في (9) ورقات في كل ورقة صفحتان ورمزت لها ب (أ)، والثانية تقع في (35) صحيفة، ورمزت إليها ب (ب)، وأما المطبوعة فمطبوعة نور الدين عتر حفظه الله، وإليها الرمز ب (ط) وهي أفضل طبعة وقفت عليها لهذا الكتاب، وقد استفدت من ضبطه وعلمه كثيراً إلا أنه لا يخلو كتاب من خطأ إلا كتاب الله تعالى، وعند مقابلة الكتاب وقفت على بعض الأخطاء المؤثرة وهي:

الخطأ الصواب الصحيفة
أبو الحسين أبو الحسن 86
أبو جعفر أبو حفص 167
أحمد بن يوسف أحمد بن يونس 92
البهراني الهراني 86
سقطت كلمة (قلت) - 87
এই গ্রন্থে আমার কর্মপদ্ধতি

১ - আমি এর পাঠ্যলিপি দুটি পাণ্ডুলিপি ও একটি মুদ্রিত কপির আলোকে সুবিন্যস্ত (ضبط) করেছি। পাণ্ডুলিপি দুটির উৎস হলো দামেস্কের দারুল কুতুব আল-জাহিরিয়্যাহ; প্রথমটি ৯টি পত্র (Folio) সংবলিত এবং এর প্রতি পত্রে দুটি করে পৃষ্ঠা রয়েছে, আমি একে (أ) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি। দ্বিতীয়টি ৩৫ পৃষ্ঠার এবং একে আমি (ب) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি। আর মুদ্রিত কপিটি হলো শায়খ নূরুদ্দীন ইতর (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) সম্পাদিত সংস্করণ, যাকে (ط) সংকেত প্রদান করা হয়েছে। এটি আমার দেখা এই গ্রন্থের সর্বোত্তম সংস্করণ। আমি তাঁর পাঠ-সম্পাদনা ও ইলম থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছি; তবে মহান আল্লাহর কিতাব ব্যতীত কোনো কিতাবই ভুলত্রুটিমুক্ত নয়। গ্রন্থটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখার (مقابلة) সময় আমি কিছু উল্লেখযোগ্য ভুলের সম্মুখীন হয়েছি, সেগুলো হলো:

ভুল সঠিক পৃষ্ঠা
আবু আল-হুসাইন আবু আল-হাসান ৮৬
আবু জা'ফর আবু হাফস ১৬৭
আহমাদ বিন ইউসুফ আহমাদ বিন ইউনুস ৯২
আল-বাহরানি আল-হাররানি ৮৬
'আমি বলেছি' (قلت) শব্দটি বাদ পড়েছে - ৮৭
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٨)
2 - حكمت على الأحاديث والآثار الواردة بما تستحقه صحة أو ضعفاً.

3 - بينت بعض مفردات الغريب.

4 - ذيلت الكتاب بتذييلين:

الأول: سميته «الشعلة في شيوخ الخطيب في الرحلة» وذلك أني في بداية تحقيقي لهذا الكتاب طرحت على أخي وابن عمي الشيخ ياسر بن محمود الكردي حفظه الله أن يجمع شيوخ الخطيب في موسوعة علمية فلبى وأوشك على الانتهاء، وأذن لي في تمحيض واقتضاب شيوخ الخطيب في الرحلة من موسوعته حتى تعم الفائدة فجزاه الله خيراً.

والثاني: سميته: «رحلة الفضلاء كما وردت بها الأنباء»؛ وهو مشتمل على صور من رحلات من قبلنا، وأيضاً من رحلات الصحابة والتابعين ومن بعدهم حتى عصر الخطيب البغدادي رحمه الله تعالى.

وقام على نشره فضيلة الشيخ عبد الفتاح الزيني صاحب مكتبة ابن تيمية بمصر - حفظه الله - وهي من أوائل المكتبات التي تقوم على نشر السنةوإحياء التراث، ودائماً مطبوعات كل دار عنوان على منهج صاحبها.

 

أبو أويس الكردي

أشرف بن نصر بن صابر الكردي
2 - আমি কিতাবে উল্লিখিত হাদিস ও আসারসমূহের বিশুদ্ধতা (صحة) বা দুর্বলতার (ضعف) মানদণ্ডে সেগুলোর ওপর যথাযথ হুকুম প্রদান করেছি।

3 - আমি কিছু অপরিচিত শব্দের (غريب) ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।

4 - আমি কিতাবটির শেষে দুটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেছি:

প্রথমটি: আমি এর নাম দিয়েছি ‘আশ-শু’লাহ ফী শুয়ূখিল খাতিব ফির রিহলাহ’। বিষয়টি হলো, আমি যখন এই কিতাবটির তাহকিক (تحقيق) শুরু করি, তখন আমার ভাই ও চাচাতো ভাই শায়খ ইয়াসির ইবনে মাহমুদ আল-কুর্দি (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন)-এর নিকট প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে, তিনি যেন আল-খাতিব আল-বাগদাদির শায়খদের একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক বিশ্বকোষে সংকলন করেন। তিনি আমার আহ্বানে সাড়া দেন এবং কাজটি প্রায় সমাপ্তির পথে। তিনি আমাকে তাঁর সেই বিশ্বকোষ থেকে ‘আর-রিহলাহ’ কিতাবের শায়খদের তালিকাটি যাচাই-বাছাই ও সংক্ষিপ্তাকারে গ্রহণ করার অনুমতি দিয়েছেন যেন এর দ্বারা ব্যাপক ফায়দা অর্জিত হয়। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

দ্বিতীয়টি: আমি এর নাম দিয়েছি ‘রিহলাতুল ফুদালা কামা ওয়ারাদাত বিহাল আনবা’। এটি আমাদের পূর্ববর্তীদের সফরের কিছু খণ্ডচিত্র সম্বলিত, সেইসাথে সাহাবী (صحابة), তাবিঈ (تابعين) এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম থেকে শুরু করে খতিব বাগদাদি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর যুগ পর্যন্ত তাঁদের জ্ঞানার্জনের সফরের বিবরণ এতে রয়েছে।

এটি প্রকাশের দায়িত্ব পালন করেছেন মিশরের মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর স্বত্বাধিকারী সম্মানিত শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আল-যাইনি (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন)। এটি সুন্নাহর প্রচার ও ঐতিহ্য পুনর্জীবনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী মাকতাবাগুলোর অন্যতম। আর সাধারণত প্রতিটি প্রকাশনীর প্রকাশনা তার স্বত্বাধিকারীর মানহাজের (منهج) পরিচয় বহন করে।

 

আবু উওয়াইস আল-কুর্দি

আশরাফ ইবনে নাসর ইবনে সাবির আল-কুর্দি
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌ذكر الرحلة في طلب الحديث والأمر بها والحث عليها وبيان فضلها

أَخْبَرَ(1) الشَّيْخُ الْأَجَلُّ الثِّقَةُ أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْحَقِّ بْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْقَادِرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، أنبا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ سَعْدُ اللهِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ أَيُّوبَ فِي رَبِيعٍ الْآخرِ سَنَةَ سِتٍ وَخَمْسِمِائَةٍ، أنبا الشَّيْخُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبُ الْبَغْدَادِيُّ [قاَلَ](2):

--------------------------------------------

(1) وفي (ب): «وقع الإسناد إلى الخطيب هكذا: «أخبرنا الشيوخ الثقات أبو الحسن محمد بن أحمد بن علي القرطبي، وأبو عبد الله الحسين بن إبراهيم بن الحسين، وأبو محمد عبد العزيز بن عثمان بن أبي طاهر الأربليان، وأبو محمد عبد الرحمن بن أبي الفهم بن عبد الرحمن اليكداني وأبو إسحاق إبراهيم بن بركات ابن إبراهيم الخشوعي قراءة عليهم مجتمعين وأنا أسمع، قيل لهم: أخبركم الشيخ أبو الطاهر بركات بن إبراهيم بن طاهر القرشي الخشوعي قراءة عليه قال: أنبا أبو محمد هبة الله بن أحمد بن محمد الأكفاني، قراءة عليه قال: حدثنا الشيخ الإمام الحافظ أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي من لفظه بدمشق.

قال: ذكر الرحلة في طلب الحديث والأمر بها والحث عليها وبيان فضلها … ».

هكذا في النسخة تأخير العنوان وهو «ذكر الرحلة … » إلى ما بعد السند.

(2) لفظة: «قال» ليست في الأصل؛ وافتتاح الكتاب يقتضيها فلذا أثبتها، وقد قال ابن الصلاح في «مقدمته» (ص/ 227): جرت العادة بحذف (قال)، ونحوه، فيما بين رجال الإسناد خطًا، ولا بد من ذكره حالة القراءة لفظًا.
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

 

‌‌হাদিস অন্বেষণে সফরের আলোচনা, এর নির্দেশ, এ বিষয়ে উৎসাহ প্রদান এবং এর ফযিলতের বর্ণনা

সবচেয়ে সম্মানিত ও নির্ভরযোগ্য (ثقة) শাইখ আবু আল-হুসাইন আবদুল হক বিন আবদুল খালিক বিন আহমদ বিন আবদুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আমাদের অবহিত করেছেন(১), [তিনি বলেন:] শাইখ আবু মুহাম্মদ সাদুল্লাহ বিন আলি বিন আল-হুসাইন বিন আইয়ুব পাঁচশ ছয় হিজরির রবিউস সানি মাসে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, [তিনি বলেন:] হাফিজ (حافظ) শাইখ আবু বকর আহমদ বিন আলি বিন সাবিত আল-খাতিব আল-বাগদাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি [বলেন](২):

--------------------------------------------

(১) এবং (বা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «আল-খাতিব পর্যন্ত সনদের বিন্যাস এভাবে এসেছে: «আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নির্ভরযোগ্য (ثقات) শাইখগণ—আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলি আল-কুরতুবি, আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন ইবরাহিম বিন আল-হুসাইন, আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ বিন উসমান বিন আবু তাহির আল-আরবিলিয়ানদ্বয়, আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন আবিল ফাহম বিন আবদুর রহমান আল-ইয়াকদানি এবং আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন বারাকাত ইবনে ইবরাহিম আল-খুশুয়ি। তাদের নিকট একত্রে পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম। তাদের জিজ্ঞেস করা হলো: শাইখ আবু তাহির বারাকাত বিন ইবরাহিম বিন তাহির আল-কুরাশি আল-খুশুয়ি কি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন যখন তার নিকট পাঠ করা হয়েছিল? তিনি বললেন: আবু মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আকফানি তার নিকট পাঠকালে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: ইমাম, হাফিজ (حافظ) শাইখ আবু বকর আহমদ বিন আলি বিন সাবিত আল-খাতিব আল-বাগদাদি দামেস্কে নিজ মুখে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা (حدثنا) করেছেন।

তিনি বলেন: হাদিস অন্বেষণে সফরের আলোচনা, এর নির্দেশ, এ বিষয়ে উৎসাহ প্রদান এবং এর ফযিলতের বর্ণনা … »।

এই পাণ্ডুলিপিতে শিরোনামটি অর্থাৎ «সফরের আলোচনা … » অংশটি সনদের পরে উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) শব্দ: «বলেন (قال)» মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই; তবে কিতাবের প্রারম্ভিকতা এটি দাবি করে বিধায় আমি তা যুক্ত করেছি। ইবনুস সালাহ তার মুকাদ্দিমা (পৃ. ২২৭)-এ বলেছেন: সনদের বর্ণনাকারীদের মাঝে লিখিতভাবে বলেন (قال) এবং এর সমজাতীয় শব্দগুলো বাদ দেওয়ার প্রচলন রয়েছে, তবে পাঠ করার সময় মৌখিকভাবে তা অবশ্যই উচ্চারণ করতে হবে।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ١٠)
1 - [أَنْبَأَ](1) أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ الطَّرَازِيُّ بِنَيْسَابُور، ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ، ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانَ الْعَامِرِيُّ، ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَطِيَّةَ، ثنا أَبُوعَاتِكَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «اطْلُبُوا الْعِلْمَ وَلَوْ بِالصِّينِ، فَإِنَّ طَلَبَ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»(2).

--------------------------------------------

(1) في (ب): «أخبرنا».

(2) ضعيف: أخرجه ابن عدي في «الكامل» (4/ 118)، وابن عبد البر في «الجامع» (15 - 16)، والبيهقي في «المدخل» (243)، والخطيب هنا (1، 2، 3)، وفي «تاريخ بغداد» (10/ 498)، وغيرهم من طريق أبي عاتكة به. وأبو عاتكة طريف بن سليمان، قال فيه ابن عبد البر: أجمعوا على أنه ضعيف الحديث. بل قال فيه ابن عدي في «الكامل» (5/ 188): منكر الحديث وعامة ما يرويه عن أنس لا يتابعه عليه أحد من الثقات. وقال ابن حبان في «المجروحين» (1/ 382): منكر الحديث جدًّا، يروي عن أنس ما لا يشبه حديثه وربما روى عنه ما ليس من حديثه.

قلت أبو أويس: وقد تابع أبا عاتكة على فرضية طلب العلم أكثر من عشرين راوياً لكنها كلها ضعيفة ولا تقوى بمجموعها، وله شاهد من حديث أبي سعيد، وجابر، وابن عباس، وابن عمر، وابن مسعود، وعلي، وأبي هريرة، وأبي ابن كعب، ولا يثبت منها شيء.

قال الإمام أحمد كما في «المنتخب» (1/ 14): لا يثبت عندنا فيه شيء. وسئل عنه أيضا فأنكره إنكاراً شديداً. وسئل عنه مالك فقال: ما أحسن طلب العلم فأما فريضة فلا. كما في «جامع بيان العلم» (1/ 28).

وقال ابن حبان فى «الثقات» (1/ 141): «وهذا حديث لا أصل له من حديث ابن عمر ولا من حديث نافع ولا من حديث مالك، إنما هو من حديث أنس بن مالك وليس بصحيح».

وقال البزار في «مسنده» (1/ 172): «وكل ما يروى فيها عن أنس، فغير صحيح».

وقال: «لا يعرف أبو العاتكة ولا يدرى من أين هو، فليس لهذا الحديث أصل».

وقال البيهقي في «المدخل» (243): «هذا حديث متنه مشهور، وأسانيده ضعيفة، لا أعرف له إسناداً يثبت بمثله الحديث. والله أعلم».

وقال العقيلي: لا يحفظ: «ولو بالصين»، إلا عن أبي عاتكة، وهو متروك الحديث، و «فريضة على كل مسلم»، الرواية فيها لين أيضا، متقاربة في الضعف في طلب العلم.

وقال ابن عبد البر: هذا حديث يروى عن أنس بن مالك، عن النبي صلى الله عليه وسلم من وجوه كثيرة، كلها معلولة، لا حجة في شيء منها عند أهل العلم بالحديث من جهة الإسناد.

وضعفه أيضاً أبو علي النيسابوري، وابن الجوزي، وابن القطان الفاسي، وابن الصلاح.

وقال السيوطي كما في «فيض القدير» (4/ 353): جمعت له خمسين طريقاً، وحكمت بصحته لغيره ولم أصحح حديثاً لم أسبق لتصحيحه سواه. وحسنه المزي كما في «تدريب الراوي» (1/ 149)، وكذا العلامة الألباني كما في «الضعيفة» (1/ 604)، وأبو الفيض الغماري في رسالته لهذا الحديث «المسهم في طرق حديث طلب العلم فريضة … ». وانظر: «جامع بيان العلم وفضله» رقم (1 - 30). وقد جمع أخونا شادي - حفظه الله - طرق هذا الحديث وأقوال المصححين والمضعفين له في رسالة يسر الله طبعها، آمين.
1 - [সংবাদ দিয়েছেন](১) আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন উসমান আত-তরাজি নিশাপুরে, আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম, আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন আলী বিন আফফান আল-আমিরি, আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন আতিয়্যাহ, আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আতিকাহ, আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন: «তোমরা জ্ঞান অন্বেষণ করো যদিও তা চীনে গিয়ে হয়, কেননা জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ»(২).

--------------------------------------------

(১) (ব) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «আমাদের সংবাদ দিয়েছেন»।

(২) দুর্বল (ضعيف): ইবনে আদি এটি আল-কামিল (৪/ ১১৮) গ্রন্থে, ইবনে আবদিল বার আল-জামি (১৫ - ১৬) গ্রন্থে, আল-বাইহাকি আল-মাদখাল (২৪৩) গ্রন্থে এবং আল-খাতিব এখানে (১, ২, ৩) ও তারিখ বাগদাদ (১০/ ৪৯৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এ ছাড়া আরও অনেকে আবু আতিকাহর সূত্র থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর আবু আতিকাহ হলেন তুরাইফ বিন সুলাইমান, যার সম্পর্কে ইবনে আবদিল বার বলেছেন: তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে তিনি দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণনাকারী। বরং ইবনে আদি আল-কামিল (৫/ ১৮৮) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث), এবং আনাস থেকে তিনি যা বর্ণনা করেন তার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের কেউ তাকে সমর্থন করেন না। ইবনে হিব্বান আল-মাজরুহিন (১/ ৩৮২) গ্রন্থে বলেছেন: অত্যন্ত অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث جدًّا), তিনি আনাস থেকে এমন সব বর্ণনা করেন যা তার হাদিসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয় এবং কখনো কখনো এমন কিছু বর্ণনা করেন যা আদৌ তার হাদিস নয়।

আমি আবু উওয়াইস বলছি: 'জ্ঞান অন্বেষণ করা ফরজ' শীর্ষক বাক্যটিতে বিশজনেরও অধিক বর্ণনাকারী আবু আতিকাহর অনুসরণ করেছেন, কিন্তু সেগুলোর সবই দুর্বল (ضعيفة) এবং সমষ্টিগতভাবে সেগুলো শক্তিশালী হয় না। এর সাক্ষী হিসেবে আবু সাঈদ, জাবির, ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর, ইবনে মাসউদ, আলী, আবু হুরায়রা ও উবাই বিন কাবের হাদিস রয়েছে, কিন্তু এর কোনটিই প্রমাণিত নয়।

ইমাম আহমাদ আল-মুনতাখাব (১/ ১৪) গ্রন্থে যেমনটি এসেছে বলেছেন: আমাদের নিকট এ বিষয়ে কোনো কিছু প্রমাণিত নয়। তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কঠোরভাবে একে প্রত্যাখ্যান (إنكاراً شديداً) করেন। মালিককে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: জ্ঞান অন্বেষণ করা কতই না উত্তম, তবে ফরজ হওয়া- তা নয়। যেমনটি জামিউ বায়ানিল ইলম (১/ ২৮) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

ইবনে হিব্বান আস-সিকাত (১/ ১৪১) গ্রন্থে বলেছেন: «এই হাদিসটির কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل له) ইবনে উমর, নাফে বা মালিকের সূত্রে; এটি মূলত আনাস বিন মালিকের সূত্রে বর্ণিত এবং এটি সহিহ নয় (ليس بصحيح)»।

আল-বাজজার তার মুসনাদ (১/ ১৭২) গ্রন্থে বলেছেন: «আনাস থেকে এ বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার কোনোটিই সহিহ নয় (غير صحيح)»।

তিনি আরও বলেছেন: «আবু আতিকাহ পরিচিত নন এবং তার পরিচয়ও জানা যায় না, সুতরাং এই হাদিসের কোনো ভিত্তি নেই (ليس لهذا الحديث أصل)»।

আল-বাইহাকি আল-মাদখাল (২৪৩) গ্রন্থে বলেছেন: «এই হাদিসের মতন প্রসিদ্ধ (متنه مشهور), তবে এর সনদসমূহ দুর্বল (أسانيده ضعيفة); আমি এমন কোনো সনদ (إسناد) জানি না যার মাধ্যমে এই হাদিস প্রমাণিত হয়। আল্লাহই ভালো জানেন»।

আল-উকিয়ালি বলেছেন: «যদিও তা চীনে গিয়ে হয়» অংশটি আবু আতিকাহ ব্যতীত সংরক্ষিত নয়, আর তিনি পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী (متروك الحديث)। «প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ» শীর্ষক বর্ণনাটিতেও দুর্বলতা (لين) রয়েছে, এবং জ্ঞান অন্বেষণ সম্পর্কিত বর্ণনার ক্ষেত্রে এগুলো দুর্বলতার (الضعف) দিক থেকে কাছাকাছি।

ইবনে আবদিল বার বলেন: এই হাদিসটি আনাস বিন মালিক থেকে নবী (সা.) এর সূত্রে অনেকগুলো পথে বর্ণিত হয়েছে, যার সবগুলোই ত্রুটিপূর্ণ (معلولة); সনদের (الإسناد) দিক থেকে হাদিস বিশারদদের নিকট এগুলোর কোনোটিই দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

একে আরও দুর্বল (ضعفه) বলেছেন আবু আলী আন-নিশাপুরি, ইবনে আল-জাওজি, ইবনে আল-কাত্তান আল-ফাসি এবং ইবনে আস-সালাহ।

সুয়ুতি ফয়জুল কাদির (৪/ ৩৫৩) গ্রন্থে বলেছেন: আমি এর পঞ্চাশটি সূত্র একত্র করেছি এবং একে লি-গাইরিহি সহিহ (بصحته لغيره) হিসেবে হুকুম দিয়েছি; আর এটি ব্যতীত অন্য কোনো হাদিসকে আমি এমন কারো পূর্বে সহিহ বলিনি যিনি একে সহিহ বলেছিলেন। মিজ্জি একে হাসান (حسن) বলেছেন যেমনটি তদবিবুর রাবি (১/ ১৪৯) গ্রন্থে এসেছে, তদ্রূপ আল্লামা আলবানি আদ-দাইফাহ (১/ ৬০৪) গ্রন্থে এবং আবু আল-ফায়জ আল-গুমারি তার রিসালায় এই হাদিসের জন্য «আল-মুসহিম ফি তুরুকি হাদিসি তলাবিল ইলমি ফারিদাহ …»। দেখুন: জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি (১ - ৩০)। আমাদের ভাই শাদি -আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন- এই হাদিসের সূত্রসমূহ এবং একে যারা সহিহ ও দুর্বল বলেছেন তাদের বক্তব্য একটি রিসালায় একত্র করেছেন, আল্লাহ এর প্রকাশনা সহজ করে দিন, আমিন।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ١٢)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْمَتُّوثِيُّ [قال](1) ثَنَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ زِيَادٍ الْقَطَّانُ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ التَّمْتَامُ [ح أنبا](2) أَبُو الْحَسَنِ الْعَبَّاسُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْعَبَّاسِ الْكَلْوَذَانِيُّ، أَنْبَا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الدَّقَّاقُ، ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ هَاشِمٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ غَالِبِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَا: ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَطِيَّةَ _ زَادَ ابْنُ الْفَضْلِ «الْبَزَّازُ» - ثَنَا أَبُو عَاتِكَةَ - زَادَ ابْنُ الْفَضْلِ - «طَرِيفَ بْنَ سَلْمَانَ» - ثُمَّ اتَّفَقَا [عَلَى](3) أَنَسٍ - قَالَ الْعَبَّاسُ -: «ابْنُ مَالِكٍ» أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «اطْلُبُوا الْعِلْمَ وَلَوْ بِالصِّينِ فَإِنَّ طَلَبَ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»(4).

 

3 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ السُّكَّرِيُّ، أنبا يَحْيَى بْنُ وَصِيفٍ الْخَوَّاصُ، ثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْحَسَنِ الْحَرَّانِيُّ، أَنْبَا أَبُو بَكْرٍ الْأَعْيَنُ، ح [وَأَخْبَرَنِيهِ](5) أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ أَحْمَدَ الْمُؤَذِّنُ بِالْبَصْرَةِ، ثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ النَّهْرَدِيرِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الرَّاسِبِيُّ، ثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، بِبَغْدَادَ قَالَا: ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي عَاتِكَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «اطْلُبُوا الْعِلْمَ وَلَوْ بِالصِّينِ» زَادَ الْعَبَّاسُ: «فَإِنَّ طَلَبَ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»(6).

--------------------------------------------

(1) من (ب).

(2) في (ب): «وحدثنا».

(3) في (ب): «عن».

(4) انظر ما قبله، وأبو الحسن العباس بن عمر له ترجمة تأتي في آخر الكتاب.

(5) في (ب): «وأخبرنا»، وفوقها بخط مغاير: «وأخبرنيه».

(6) كسابقه.
২ - আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল আল-মাত্তুসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) [তিনি বলেছেন](১) আবু সাহল আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন যিয়াদ আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুহাম্মদ বিন গালিব আল-তামতাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) [রূপান্তর (ح), আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا)](২) আবু আল-হাসান আল-আব্বাস বিন উমর বিন আল-আব্বাস আল-কালওয়াজানি, উসমান বিন আহমদ আদ-দাক্কাক আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأনা), জাফর বিন হাশিম এবং মুহাম্মদ বিন গালিব বিন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তারা উভয়ে বলেছেন: আল-হাসান বিন আতিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) —ইবনুল ফাদল 'আল-বাযযায' শব্দটি বৃদ্ধি করেছেন— আবু আতিকাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) —ইবনুল ফাদল 'তারিফ বিন সালমান' নামটুকু বৃদ্ধি করেছেন— অতঃপর তারা আনাস-এর বর্ণনায় একমত [হয়েছেন](৩) —আব্বাস বলেছেন—: 'ইবনে মালিক' থেকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা জ্ঞান অর্জন করো যদিও তা চীনে গিয়ে হয়, কেননা জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যিক কর্তব্য (فريضة)»(৪).

 

৩ - আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন আবদুল জাব্বার আস-সুক্কারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), ইয়াহইয়া বিন ওয়াসিফ আল-খাওয়াস আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا), আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-হাররানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবু বকর আল-আ'ইয়ান আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا), রূপান্তর (ح) [এবং তিনি আমাকে তা অবহিত করেছেন (أخبرنيه)](৫) আবু আল-হাসান আলী বিন হামজা বিন আহমদ আল-মুআজ্জিন আল-বাসরিতে, আবু বকর আহমদ বিন উবাইদুল্লাহ আন-নাহারদাইরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আর-রাসিবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আল-আব্বাস বিন আবি তালিব বাগদাদে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তারা উভয়ে বলেছেন: আল-হাসান বিন আতিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবু আতিকাহ থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা জ্ঞান অর্জন করো যদিও তা চীনে গিয়ে হয়» আব্বাস অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: «কেননা জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যিক কর্তব্য (فريضة)»(৬).

--------------------------------------------

(১) (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(২) (খ) পাণ্ডুলিপিতে: «এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)»।

(৩) (খ) পাণ্ডুলিপিতে: «থেকে (عن)»।

(৪) এর পূর্ববর্তী অংশ দেখুন, আর আবু আল-হাসান আব্বাস বিন উমরের একটি পরিচিতি (ترجمة) গ্রন্থের শেষে আসবে।

(৫) (খ) পাণ্ডুলিপিতে: «আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)», এবং এর উপরে ভিন্ন হস্তাক্ষরে: «তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنيه)»।

(৬) পূর্বের ন্যায়।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ١٣)
4 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَرَشِيُّ بِنَيْسَابُورَ، ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ الْبَصْرِيُّ بِمِصْرَ ح وَ [أَنْبَا](1) أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ الْبَزَّازُ، أَنْبَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ زِيَادٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ ح [وَأَنْبا](2) أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ بِأَصْبَهَانَ، ثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ خَلَّادٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ بْنِ مُوسَى، قَالَا، ثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ دَاوُدَ الْخُرَيْبِيُّ، عَنْ عَاصِمٍ.

 

وَفِي حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ يُونُسَ قَالَ: ثَنَا عَاصِمُ بْنُ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، ح وَ [أَنْبَا](3) أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْمُقْرِي، أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ، ثَنَا مُعَاذُ بْنُ الْمُثَنَّى، ثَنَا مُسَدَّدٌ، ثَنَا ابْنُ دَاوُدَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَاصِمَ بْنَ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ دَاوُدَ بْنِ جَمِيلٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا مَعَ أَبِي الدَّرْدَاءِ فِي مَسْجِدِ دِمَشْقٍ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ! جِئْتُكَ مِنَ الْمَدِينَةِ؛ مَدِينَةِ الرَّسُولِ؛ لِحَدِيثٍ بَلَغَنِي أَنَّكَ تُحَدِّثُهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: وَلَا جِئْتَ لِحَاجَةٍ، قَالَ: لَا، قَالَ: وَلَا لِتِجَارَةٍ؟ قَالَ: لَا، قَالَ: وَلَا جِئْتَ إِلَّا لِهَذَا الْحَدِيثِ؟ قَالَ: لَا(4).

--------------------------------------------

(1) في (ب): «أخبرنا».

(2) في (ب): «أخبرنا».

(3) في (ب): «وأخبرنا».

(4) كذا في المخطوطتين و «الجرح والتعديل» (2/ 12)، وفي «شرح مشكل الآثار» (982)، و «المدخل» (255) و «الأربعون الصغرى» (3) كلاهما للبيهقي: «نعم» وهو الأولى.
4 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) কাজী আবু বকর আহমদ বিন হাসান বিন আহমদ আল-হারাশি নিশাপুরে, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম্ম, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) ইব্রাহিম বিন মারজুক আল-বাসরি মিসরে। বর্ণনাসূত্র পরিবর্তন (ح) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنْبَا)(1) আবু আলি আল-হাসান বিন আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন শাযান আল-বাজ্জায, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنْبَا) আবু সাহল আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন যিয়াদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) মুহাম্মদ বিন ইউনুস। বর্ণনাসূত্র পরিবর্তন (ح) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنْبَا)(2) আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-হাফিজ (الحافظ) আসবাহানে, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) আবু বকর আহমদ বিন ইউসুফ বিন খাল্লাদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) মুহাম্মদ বিন ইউনুস বিন মুসা, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) আব্দুল্লাহ বিন দাউদ আল-খুরাইবি, আসিম থেকে।

 

এবং মুহাম্মদ বিন ইউনুসের হাদিসে তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثনা) আসিম বিন রাজা বিন হাইওয়াহ। বর্ণনাসূত্র পরিবর্তন (ح) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنْبَا)(3) আবু আল-হাসান আলি বিন আহমদ বিন উমর আল-মুকরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنْبَا) মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আশ-শাফিয়ি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) মুয়ায বিন আল-মুসান্না, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) মুসাদ্দাদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) ইবনে দাউদ, তিনি বলেছেন: আমি আসিম বিন রাজা বিন হাইওয়াহকে দাউদ বিন জামিল থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি কাসীর বিন কাইস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি দামেস্কের মসজিদে আবু দারদা (রা.)-এর সাথে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন: হে আবু দারদা! আমি রাসূলুল্লাহর শহর মদিনা থেকে আপনার নিকট এসেছি এমন একটি হাদিসের জন্য যা আমার কাছে পৌঁছেছে যে আপনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বললেন: আপনি কি অন্য কোনো প্রয়োজনে আসেননি? সে বলল: না। তিনি বললেন: কোনো ব্যবসার জন্যও নয়? সে বলল: না। তিনি বললেন: আপনি কি শুধুমাত্র এই হাদিসটি ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আসেননি? সে বলল: না(4)।

--------------------------------------------

(1) 'বা' (ب) পাণ্ডুলিপিতে: «আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)»।

(2) 'বা' (ب) পাণ্ডুলিপিতে: «আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)»।

(3) 'বা' (ب) পাণ্ডুলিপিতে: «এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)»।

(4) পাণ্ডুলিপিদ্বয়ে এবং আল-জারহ ওয়াত তাদীল (2/12)-এ এভাবেই রয়েছে, তবে শারহু মুশকিলাল আসার (982) এবং বায়হাকির আল-মাদখাল (255) ও আল-আরবাউন আস-সুগরা (3) উভয় গ্রন্থে: «হ্যাঁ» বর্ণিত হয়েছে এবং এটিই অধিকতর সঠিক।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ١٤)
قَالَ: فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَطْلُبُ فِيهِ عِلْمًا سلك بِهِ طَرِيقًا مِنْ طُرُقِ الْجَنَّةِ، وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتهَا رِضًا لِطَالِبِ الْعِلْمِ، وَإِنَّ فَضْلَ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ، وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ، وَكُلُّ شَيْءٍ حَتَّى الْحِيتَانِ فِي جَوْفِ الْمَاءِ، إِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ، إِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا، وَلَا دِرْهَمًا، وَأَوْرَثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍ وَافِرٍ»(1) وَهَذَا لَفْظُ حَدِيثِ الْأَصَمِّ.

--------------------------------------------

(1) أسانيده ضعيفة ولبعضه شواهد: أخرجه أبو داود في «سننه» رقم (3641)، وابن ماجه رقم (223)، وابن حبان في «صحيحه» رقم (88)، والدارمي في «مسنده» رقم (354) وغيرهم من طريق عاصم بن رجاء بن حيوة عن داود بن جميل عن كثير بن قيس عن أبي الدرداء سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من سلك طريقا … » وفيه: «وإن العلماء ورثة الأنبياء … » إلخ. وأخرجه المحاملي في «أماليه» رقم (3346) على الصواب. وأخرجه ابن عبد البر في «الجامع» رقم (169) من طريق عاصم بن رجاء عن جميل بن قيس عن أبي الدرداء به، فأبدل داود بن جميل بجميل بن قيس وأسقط كثيراً، قال ابن عبد البر: وهذا خطأ.

وأخرج البيهقي في «الشعب» رقم (1574) من طريق سفيان عن الأوزاعي عن كثير بن قيس عن يزيد بن سمرة عن أبي الدرداء به. خالف سفيان ابن االمبارك عن الأوزاعي عن يزيد بن سمرة عن كثير بن قيس به كذا أخرجه البيهقي في «الشعب» (1575)، والسهمي في «تاريخ جرجان» رقم (297) وقال البخاري في «التاريخ الكبير» (8/ 337): «والأول أصح».

وحكى أبو حاتم كما في «الجرح والتعديل» (9/ 268) الخلاف، وقال: وروى عبد الله بن داود الخريبي عن عاصم بن رجاء بن حيوة عن داود بن جميل عن كثير بن قيس عن أبي الدرداء. ترك يزيد بن سمرة من الإسناد.

قال ابن حجر «التلخيص الحبير» (5/ 2300 - 2301): وَضَعَّفَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ فِي «الْعِلَلِ»، وَهُوَ مُضْطَرِبُ الْإِسْنَادِ، قَالَهُ المنذري، وَقَدْ ذَكَرَهُ الْبُخَارِيُّ فِي «صَحِيحِهِ» بِغَيْرِ إسْنَادٍ.

قال الدارقطني في «العلل» (6/ 216): يرويه عاصم بن رجاء بن حيوة واختلف عنه فرواه عنه أبو نعيم عن عاصم بن رجاء بن حيوة عمن حدثه عن كثير بن قيس. ورواه عبد الله بن داود الخريبي عن عاصم فقال: عن داود بن جميل، عن كثير بن قيس، وداود هذا مجهول.

ورواه محمد بن يزيد الواسطي عن عاصم بن رجاء عن كثير بن قيس لم يذكر بينهما أحداً، وعاصم بن رجاء ومن فوقه إلى أبي الدرداء ضعفاء، ولا يثبت.

ورواه الأوزاعي عن كثير بن قيس عن يزيد بن سمرة عن أبي الدرداء وليس بمحفوظ. وأخرجه أبو داود رقم (3642)، والبيهقي في «المدخل» رقم (348) وفي إسناده شبيب بن شيبة مجهول.

وانظر - غير مأمور - كلام الترمذي بعد رقم (2682) وكلام البزار، و «فتح الباري» (1/ 193)، وابن الجوزي في «العلل المتناهية» (81)، وابن عبد البر في «الجامع» بعد رقم (170).

والفقرة الأولى يشهد لها ما أخرجه مسلم (2699) من حديث أبي هريرة وفيه: «وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ الله بِهِ طَرِيقًا إِلَى الجنَّةِ».

وقوله: «العلماء ورثة الأنبياء» يشهد له قوله تعالى: {ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا} [فاطر: 32].
তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথসমূহের একটি পথ সুগম করে দেন। নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর কর্মে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়। আর আলেমের মর্যাদা আবেদের ওপর তেমন, যেমন পূর্ণিমার রাতে চাঁদের মর্যাদা অন্যান্য নক্ষত্রের ওপর। আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা সবাই এমনকি পানির গভীরে থাকা মাছও আলেমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। নিশ্চয়ই ওলামায়ে কেরাম নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীরা কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তারা ইলমকে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক মহা সৌভাগ্য লাভ করল»(১) এবং এটি আল-আসাম বর্ণিত হাদিসের শব্দ।

--------------------------------------------

(১) এর সনদসমূহ দুর্বল (ضعيفة) এবং এর কিছু অংশের জন্য সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে: এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ তার 'সুনান' এ (নং ৩৬৪১), ইবনে মাজাহ (নং ২২৩), ইবনে হিব্বান তার 'সহীহ' এ (নং ৮৮), দারেমী তার 'মুসনাদ' এ (নং ৩৫৪) এবং অন্যরা আসিম ইবনে রাজা ইবনে হাইওয়াহ-এর সূত্রে, তিনি দাউদ ইবনে জামিল থেকে, তিনি কাসির ইবনে কায়স থেকে, তিনি আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে; তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি কোনো পথ অবলম্বন করে...» এবং এতে রয়েছে: «নিশ্চয়ই ওলামায়ে কেরাম নবীদের উত্তরাধিকারী...» ইত্যাদি। মুহামিলী তার 'আমালী' তে (নং ৩৩৪৬) এটি সঠিক পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে আব্দুল বার তার 'আল-জামি' তে (নং ১৬৯) আসিম ইবনে রাজা-এর সূত্রে, তিনি জামিল ইবনে কায়স থেকে, তিনি আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন; এখানে তিনি দাউদ ইবনে জামিলকে জামিল ইবনে কায়স দ্বারা পরিবর্তন করেছেন এবং কাসিরকে বাদ দিয়েছেন। ইবনে আব্দুল বার বলেন: এটি ভুল।

বাইহাকী তার 'শুআবুল ঈমান' এ (নং ১৫৭৪) সুফিয়ান-এর সূত্রে, তিনি আওযায়ী থেকে, তিনি কাসির ইবনে কায়স থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে সামুরাহ থেকে, তিনি আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান এখানে ইবনুল মুবারক-এর বিরোধিতা করেছেন; ইবনুল মুবারক আওযায়ী থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে সামুরাহ থেকে, তিনি কাসির ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেছেন। এভাবেই বাইহাকী 'শুআবুল ঈমান' এ (১৫৭৫) এবং সাহমী 'তারিখে জুরজান' এ (নং ২৯৭) বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী 'তারিখুল কাবীর' এ (৮/ ৩৩৭) বলেন: «প্রথমটি অধিক সঠিক (أصح)»।

আবু হাতিম যেমনটি 'আল-জারহ ওয়াত তাদিল' এ (৯/ ২৬৮) বর্ণিত হয়েছে, সেখানে মতভেদ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে দাউদ আল-খুরাইবী আসিম ইবনে রাজা ইবনে হাইওয়াহ-এর সূত্রে, তিনি দাউদ ইবনে জামিল থেকে, তিনি কাসির ইবনে কায়স থেকে, তিনি আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি সনদ থেকে ইয়াজিদ ইবনে সামুরাহকে বাদ দিয়েছেন।

ইবনে হাজার 'তাকলিসুল হাবীর' এ (৫/ ২৩০০-২৩০১) বলেন: দারা কুতনী 'আল-ইলাল' গ্রন্থে একে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন এবং মুন্দিরী বলেছেন এটি সনদগতভাবে অস্থির (مضطرب الإسناد)। ইমাম বুখারী তার 'সহীহ' এ এটি সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন।

দারা কুতনী 'আল-ইলাল' এ (৬/ ২১৬) বলেন: এটি আসিম ইবনে রাজা ইবনে হাইওয়াহ বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ হয়েছে। আবু নুআইম তার থেকে, তিনি আসিম ইবনে রাজা ইবনে হাইওয়াহ থেকে, তিনি যার থেকে শুনেছেন তার সূত্রে কাসির ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আবদুল্লাহ ইবনে দাউদ আল-খুরাইবী আসিম থেকে বর্ণনা করে বলেছেন: দাউদ ইবনে জামিল থেকে, তিনি কাসির ইবনে কায়স থেকে; আর এই দাউদ হলেন অজ্ঞাত (مجهول)।

মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-ওয়াসিতী আসিম ইবনে রাজা থেকে, তিনি কাসির ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাদের মাঝে কাউকে উল্লেখ করেননি। আসিম ইবনে রাজা এবং তার উপরের রাবীগণ আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু পর্যন্ত সবাই দুর্বল (ضعفاء), আর এটি সাব্যস্ত নয় (لا يثبت)।

আওযায়ী এটি কাসির ইবনে কায়স থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে সামুরাহ থেকে, তিনি আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে এটি সংরক্ষিত নয় (ليس بمحفوظ)। আবু দাউদ (নং ৩৬৪২) এবং বাইহাকী 'আল-মাদখাল' এ (নং ৩৪৮) এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে শাবীব ইবনে শাইবাহ রয়েছেন যিনি অজ্ঞাত (مجهুল)।

দেখুন - নির্দ্বিধায় - তিরমিজীর বক্তব্য (নং ২৬৮২) এর পরে, বাযযার-এর বক্তব্য, 'ফাতহুল বারী' (১/ ১৯৩), ইবনুল জাওযী এর 'আল-ইলালুল মুতানাহিয়্যাহ' (৮১) এবং ইবনে আব্দুল বার এর 'আল-জামি' (নং ১৭০) এর পরে।

প্রথম পরিচ্ছেদটির স্বপক্ষে মুসলিম (২৬৯৯) আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, যাতে রয়েছে: «যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সুগম করে দেন»।

আর তাঁর উক্তি: «ওলামায়ে কেরাম নবীদের উত্তরাধিকারী» এর স্বপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী সাক্ষ্য দেয়: {অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী বানালাম আমার বান্দাদের মধ্যে যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি} [ফাতির: ৩২]।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ١٥)
5 - وَرَوَاهُ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الضَّحَّاكِ الْعُرْضِي، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشِ الْحِمْصِيِّ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، كَرِوَايَةِ ابْنِ دَاوُدَ [أَنَبَاَهُ](1) أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْعَتِيقِيُّ، وَأَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ

--------------------------------------------

(1) في (ب): «أخبرناه».
৫ - আর এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আদ-দাহহাক আল-উরজি, ইসমাইল বিন আইয়াশ আল-হিমসি থেকে, তিনি আসিম বিন রাজা বিন হাইওয়াহ থেকে; যা ইবনে দাউদ-এর বর্ণনা (رواية)-এর অনুরূপ। [তাকে সংবাদ দিয়েছেন (أنبأه)](১) আবুল হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আতিকি এবং আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ।

--------------------------------------------

(১) (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرناه)»।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ١٦)
الْجَوْهَرِي، قَالَا: أنبا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُظَفَّرِ الْحَافِظُ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَاغَنْدِيُّ، ثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الضَّحَّاكِ، ثَنَا ابْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ جَمِيلٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ إِلَى أَبِي الدَّرْدَاءِ بِدِمَشْقَ يَسْأَلُهُ عَنْ حَدِيثٍ بَلَغَهُ يُحَدِّثُ بِهِ أَبُو الدَّرْدَاءِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم.

فَقَالَ لَهُ أَبُو الدَّرْدَاءِ: مَا جَاءَ بِكَ تِجَارَةٌ؟ قَالَ: لَا، قَالَ: وَلَا جِئْتَ طَالِبَ حَاجَةٍ؟ قَالَ: لَا، قَالَ: وَمَا جِئْتَ تَطْلُبُ إِلَّا هَذَا الْحَدِيثَ؟ قَالَ: لَا، قَالَ: فَأَبْشِرْ إِنْ كُنْتَ صَادِقًا فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَا مِنْ رَجُلٍ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ يَطْلُبُ عِلْمًا إِلَّا وَضَعَتْ لَهُ الْمَلَائِكَةُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا بِمَا يَطْلُبُ، وَإِلَّا سَلَكَ الله بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ، وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ حَتَّى الْحِيتَانِ فِي الْبَحْرِ؛ وَلَفَضْل الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ. إِنَّ الْعُلَمَاءَ هُمْ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ، إِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا، وَلَا دِرْهَمًا، وَإِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ»(1).

 

6 - خَالَفَهُ غَسَّانُ بْنُ الرَّبِيعِ الْكُوفِيُّ عَنِ ابْنِ عَيَّاشٍ، فَقَالَ: مَا [أنبا](2) أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ شَاذَانَ، وَأَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، وَأَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْمُحَسِّن التَّنُوخِيُّ، قَالُوا: أنبا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ فَهْدَ الْمَوْصِلِيُّ، ثنا أَبُو يَعْلَى أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، ثَنَا غَسَّانُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ جَمِيلِ بْنِ قَيْسٍ، أَنَّ رَجُلًا، جَاءَ مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى أَبِي الدَّرْدَاءِ، فَسَأَلَهُ عَنْ حَدِيثٍ.

--------------------------------------------

(1) انظر: ما قبله.

(2) في (ب): «أخبرناه».
আল-জাওহারী, তাঁরা উভয়ে বলেন: হাফিজ (الحافظ) মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফ্ফর আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا), মুহাম্মদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু সুলাইমান আল-বাগান্দী আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আব্দুল ওয়াহহাব ইবনুয যাহহাক আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইবনু আইয়াশ আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আসিম ইবনু রাজা ইবনু হাইওয়াহ থেকে, তিনি দাউদ ইবনু জামিল থেকে, তিনি কাসীর ইবনু কায়েস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মদীনার অধিবাসীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি দামেস্কে আবু দারদা (রা.)-এর কাছে এলেন। তিনি তাঁকে এমন একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাইলেন যা তাঁর কাছে পৌঁছেছে যে, আবু দারদা (রা.) সেটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন।

অতঃপর আবু দারদা (রা.) তাকে বললেন: "কোনো ব্যবসা কি তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে?" তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন: "তুমি কি অন্য কোনো প্রয়োজনে এসেছ?" তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন: "তুমি কি কেবল এই হাদিসটির অন্বেষণেই এসেছ?" তিনি বললেন: "না (অর্থাৎ অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আসিনি)।" তিনি বললেন: "তবে সুসংবাদ গ্রহণ করো যদি তুমি সত্যবাদী হও, কেননা আমি আল্লাহর রাসূল (সালล์ল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণে স্বীয় ঘর থেকে বের হয়, ফেরেশতারা তার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়। আর আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের একটি পথ সুগম করে দেন। নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, এমনকি সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত জ্ঞানীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। ইবাদতকারীর ওপর জ্ঞানীর শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক তেমনি যেমন পূর্ণিমার রাতের চাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব সমস্ত নক্ষত্ররাজির ওপর। নিশ্চয়ই ওলামায়ে কেরাম হলেন নবীদের উত্তরসূরি। আর নবীগণ উত্তরাধিকার হিসেবে কোনো দিনার বা দিরহাম রেখে যাননি, বরং তাঁরা উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন কেবল ইলম।'"(১).

 

৬ - গাসসান ইবনুর রাবী আল-কুফী ইবনু আইয়াশ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তার বিরোধিতা করেছেন (خالفه), তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনু আবী বকর ইবনু শাযান, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল ওয়াহিদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু জাফর এবং আবু আল-কাসিম আলী ইবনুল মুহসিন আত-তানূখী আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا), তাঁরা বলেন: কাজী আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনু আহমদ ইবনু ফাহাদ আল-মাওসিলী আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا), আবু ইয়ালা আহমদ ইবনু আলী ইবনুল মুসান্না আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), গাসসান ইবনুর রাবী আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইসমাইল ইবনু আইয়াশ থেকে, তিনি আসিম ইবনু রাজা ইবনু হাইওয়াহ থেকে, তিনি জামিল ইবনু কায়েস থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি মদীনা থেকে আবু দারদা (রা.)-এর কাছে এলেন এবং তাঁকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: এর পূর্ববর্তী অংশ।

(২) (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرناه)"।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ١٧)
فَقَالَ لَهُ أَبُو الدَّرْدَاءِ: مَا جَاءَ بِكَ حَاجَةٌ، وَلَا جِئْتَ فِي طَلَبِ تِجَارَةٍ؟. وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ(1).

 

7 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ هَارُونَ الْوَاعِظُ، وَأَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْعَلَّافُ، قَالَ أَحْمَدُ: ثَنَا، وَقَالَ عُثْمَانُ: أنبا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الشَّافِعِي، ثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ يُوسُفَ الْقَزْوِينِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سَابِقٍ، ثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، قَالَ: أَتَيْتُ صَفْوَانَ بْنَ عَسَّالٍ الْمُرَادِيَّ، فَقَالَ: مَا جَاءَ بِكَ قُلْتُ: ابْتِغَاءَ الْعِلْمِ، قَالَ: فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ ابْتِغَاءَ الْعِلْمِ، وَضَعَتِ الْمَلَائِكَةُ أَجْنِحَتَهَا لَهُ رِضًا بِمَا يَصْنَعُ»(2).

 

8 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ الْوَاعِظُ بِأَصْبَهَانَ، ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ الطَّبَرَانِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا يَحْيَى زَكَرِيَّا بْنَ يَحْيَى السَّاجِيَّ قَالَ: كُنَّا نَمْشِي فِي أَزِقَّةِ الْبَصْرَةِ إِلَى بَابِ بَعْضِ الْمُحَدِّثِينَ فَأَسْرَعْنَا الْمَشْيَ، وَكَانَ مَعَنَا رَجُلٌ مَاجِنٌ مُتَّهَمٌ فِي دِينِهِ، فَقَالَ: «ارْفَعُوا أَرْجُلَكُمْ عَنْ أَجْنِحَةِ الْمَلَائِكَةِ لَا تَكْسِرُوهَا!!» كَالْمُسْتَهْزِئِ، فَمَا زَالَ مِنْ مَوْضِعِهِ حَتَّى جَفَّتْ رِجْلَاهُ وَسَقَطَ(3).

--------------------------------------------

(1) كسابقه.

(2) حسن: أخرجه أحمد (4/ 239)، والترمذي (96، 3878)، والنسائي (127) وابن ماجه (478)، وابن خزيمة (17)، وابن حبان (1100) وغيرهم من طرق عن عاصم به. وعاصمٌ حسن الحديث.

(3) إسناده ضعيف: علي بن محمد بن طلحة شيخ الخطيب ذكره محمد بن عبد الغني في «تكملة تهذيب الكمال» (2/ 559)، ولم يذكر فيه جرحاً ولا تعديلاً.

وأخرجه الدينوري في «المجالسة» (2154)، وغيره من طريق زكريا بن عبد الرحمن البصري عن أحمد بن شعيب نحوه. وزكريا لم أقف له على توثيق.
আবু দারদা তাকে বললেন: "তোমার কি বিশেষ কোনো প্রয়োজন তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে? নাকি তুমি কোনো ব্যবসার সন্ধানে এসেছ?" এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি বর্ণনা করলেন(১).

 

৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন তালহা বিন আহমদ বিন হারুন আল-ওয়ায়েজ এবং আবু আমর উসমান বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-আল্লাফ। আহমদ বলেন: 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا)', এবং উসমান বলেন: 'আমাদের অবহিত করেছেন (أنبا)' আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আশ-শাফেয়ি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) ইয়াকুব বিন ইউসুফ আল-কাজউইনি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন সাবিক। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثনা) আবু জাফর আর-রাজি, আসিম বিন আবি আন-নাজুদ থেকে, তিনি জির বিন হুবাইশ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি সাফওয়ান বিন আসসাল আল-মুরাদীর নিকট আসলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কী উদ্দেশ্যে এসেছ?" আমি বললাম: "ইলম অর্জনের সন্ধানে।" তিনি বললেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি ইলমের সন্ধানে নিজ ঘর থেকে বের হয়, ফেরেশতারা তার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তার জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়'।"(২).

 

৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ বিন তালহা আল-ওয়ায়েজ ইসফাহানে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) সুলাইমান বিন আহমদ বিন আইয়ুব আত-তাবারানি। তিনি বলেন: আমি আবু ইয়াহইয়া জাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আস-সাজি-কে বলতে শুনেছি: আমরা বসরার গলিপথ দিয়ে জনৈক মুহাদ্দিসের দরজার দিকে যাচ্ছিলাম, তাই আমরা দ্রুত হাঁটছিলাম। আমাদের সাথে এমন এক বেপরোয়া ব্যক্তি ছিল যে তার দ্বীনের ব্যাপারে অভিযুক্ত (متهم) ছিল। সে উপহাসকারীর মতো বলল: "তোমাদের পা ফেরেশতাদের ডানা থেকে সরিয়ে নাও, পাছে সেগুলো ভেঙে না ফেলো!!" সে তার স্থান থেকে সরার আগেই তার দুই পা অবশ হয়ে গেল এবং সে পড়ে গেল(৩).

--------------------------------------------

(১) পূর্ববর্তীটির ন্যায়।

(২) হাসান (حسن): এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ (৪/২৩৯), তিরমিজি (৯৬, ৩৮৭৮), নাসায়ি (১২৭), ইবনে মাজাহ (৪৭৮), ইবনে খুজাইমাহ (১৭), ইবনে হিব্বান (১১০০) এবং আসিম থেকে অন্যান্যরা। আর আসিম হলেন হাসানুল হাদিস (حسن الحديث - অর্থাৎ যার বর্ণিত হাদিস হাসান স্তরের)।

(৩) এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف): আল-খতিবের শিক্ষক আলী বিন মুহাম্মদ বিন তালহা, মুহাম্মদ বিন আব্দুল গনি 'তাকমিলাতু তাহজিবিল কামাল' (২/৫৫৯) গ্রন্থে তার উল্লেখ করেছেন, তবে সেখানে তার সম্পর্কে কোনো সমালোচনা (جرح) বা প্রশংসা (تعديل) উল্লেখ করেননি।

আর আদ-দিনাওয়ারি 'আল-মুজালাসাহ' (২১৫৪) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা জাকারিয়া বিন আব্দুর রহমান আল-বসরি এর সূত্রে আহমদ বিন শুআইব থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর জাকারিয়া সম্পর্কে আমি কোনো নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ١٨)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحسَنِ(1) عَلِيُّ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ الْحَسَنِ الشَّاهِدُ بِالْبَصْرَةِ، ثَنَا أَبُو رَوْقٍ [الهرَّاني](2)، ثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ الْجَهْمِ الْأَنْمَاطِيُّ، بِالْبَصْرَةِ سَنَةَ تِسْعٍ وَأَرْبَعِينَ وَمِائَتَيْنِ، ثَنَا حَمْزَةُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِي مُطِيعٍ مُعَاوِيَةَ بْنِ يَحْيَى قَالَ: أَوْحَى اللهِ تَعَالَى إِلَى دَاوُدَ عليه السلام: أَنِ اتَّخِذْ نَعْلَيْنِ مِنْ حَدِيدٍ وَعَصًى مِنْ حَدِيدٍ، وَاطْلُبِ الْعِلْمَ حَتَّى تَنْكَسِرَ الْعَصَا وَتَنْخَرِقَ النَّعْلَانِ(3).

 

10 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْمُقْرِي، إِجَازَةً، وَحَدَّثَنِيهِ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَلَّالُ، عَنْهُ قِرَاءَةً، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الْقَرْمَنْسِينِيُّ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ وَزِيرٍ الْوَاسِطِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ، يَقُولُ: [قُلْتُ](4) لِحَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ: يَا أَبَا إِسْمَاعِيلَ، هَلْ ذَكَرَ اللهِ تَعَالَى أَصْحَابَ الْحَدِيثِ فِي الْقُرْآنِ؟ فَقَالَ: نَعَمْ، أَلَمْ تَسْمَعْ إِلَى قَوْلِهِ عز وجل: {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ

--------------------------------------------

(1) في (ط): «أبو الحسين» وهو خطأ، والصواب المثبت كما في المخطوط وكتب التراجم.

(2) في (ط): «البهراني» وهو خطأ، والصواب المثبت كما في المخطوط وكتب التراجم.

(3) حمزة بن ربيعة لم أقف له على ترجمة، وتلميذه مقبول. قاله الحافظ، فضلاً عن المفاوز التي بين معاوية بن يحيى وداود عليه السلام.

(4) سقط من (ط).
9 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান(১) আলী ইবনুল কাসিম ইবনুল হাসান আশ-শাহিদ বসরায়, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু রওক [আল-হাররানী](২), আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনুল জাহম আল-আনমাতি, বসরায় ২৪৯ হিজরি সনে, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হামজাহ বিন রাবিয়াহ, আবু মুতি মুয়াবিয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা দাউদ আলাইহিস সালামের প্রতি ওহি অবতীর্ণ করেছেন যে: তুমি লোহার এক জোড়া জুতো এবং লোহার একটি লাঠি গ্রহণ করো এবং ইলম অন্বেষণ করো যতক্ষণ না লাঠিটি ভেঙে যায় এবং জুতো জোড়া ছিঁড়ে যায়(৩).

 

10 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আহমাদ ইবনে উমর আল-মুকরি, অনুমতি (إجازة) সূত্রে, এবং আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-খাল্লাল তাঁর থেকে পাঠ (قراءة) করার মাধ্যমে, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে আহমাদ ইবনে আল-হাসান আল-কারমানসিনি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আবি হামজাহ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ওয়াজির আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন: আমি ইয়াজিদ ইবনে হারুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: [আমি বললাম](৪) হাম্মাদ ইবনে যাইদকে: হে আবু ইসমাইল, আল্লাহ তাআলা কি কুরআনে হাদিসের অনুসারীদের (أصحاب الحديث) কথা উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তুমি কি মহান আল্লাহর এই বাণী শোনোনি: {তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে...

--------------------------------------------

(১) (ত) সংস্করণে: «আবু আল-হুসাইন» রয়েছে যা ভুল, আর সঠিক হলো পাণ্ডুলিপি ও জীবনীবিষয়ক গ্রন্থাবলি (كتب التراجم) অনুযায়ী যা উপরে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(২) (ত) সংস্করণে: «আল-বাহরানী» রয়েছে যা ভুল, আর সঠিক হলো পাণ্ডুলিপি ও জীবনীবিষয়ক গ্রন্থাবলি (كتب التراجم) অনুযায়ী যা উপরে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(৩) হামজাহ বিন রাবিয়াহর কোনো জীবনী (ترجمة) আমার নিকট প্রকাশ পায়নি, তবে তাঁর ছাত্র গ্রহণযোগ্য (مقبول)। হাফিজ এটি বলেছেন, তদুপরি মুয়াবিয়া বিন ইয়াহইয়া এবং দাউদ আলাইহিস সালামের মধ্যবর্তী সুদীর্ঘ ব্যবধান তো রয়েছেই।

(৪) (ত) সংস্করণ থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ١٩)
وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ}(1) [التوبة: 122] فَهَذَا فِي كُلِّ مَنْ رَحَلَ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ وَالْفِقْهِ، وَرَجَعَ بِهِ إِلَى مَنْ وَرَاءَهَ فَعَلَّمَهُ إِيَّاهُ(2).

 

11 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْأَزْهَرِيُّ، وَالْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَلَّالُ، قَالَا: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْخَزَّازُ، ثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي دَاوُدَ، ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، ثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ، ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {السَّائِحُونَ} [التوبة: 112] قَالَ: «هُمْ طَلَبَةُ الْحَدِيثِ»(3).

--------------------------------------------

(1) صدر الآية لم يذكر في «أ».

(2) إسناده ضعيف: أخرجه الخطيب في «شرف أصحاب الحديث» (113)، والحاكم في «معرفة أصحاب الحديث» (ص/ 67)، من طريقين عن أحمد بن محمد بن الحسن به. ورجاله ثقات إلا أحمد بن محمد بن الحسن لم أقف له على توثيق.

وأخرجه الهروي في «ذم الكلام» (985) من طريق عبد الله بن موسى السلامي، حدثنا علي بن الحسن البياع الواسطي، حدثنا محمد بن الوزير به. وعبد الله بن موس قال: وكان أبو عبد ى قال فيه الخطيب: وفي رواياته غرائب ومناكير وعجائب … وكان صحيح السماعات إلا أنه كتب عمن دب ودرج من المجهولين وأصحاب الزوايا.

وكان أبو عبد الله بن منده الأصبهاني الحافظ: سيئ الرأي فيه، وما أراه كان يتعمد الكذب في فضله.

(3) إسناده ضعيف: لضعف الوليد بن بكير فقد قال فيه أبو حاتم: شيخ. وذكره ابن حبان في «الثقات»، وقال الدارقطني: متروك الحديث.

صح عن أبي هريرة أنه فسر {السَّائِحُونَ} بالصائمين أخرجه الطبري في تفسير الآية، وأخرج نحوه أيضاً من قول ابن مسعود بإسناد حسن.
এবং তারা যেন তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করে যখন তারা তাদের নিকট ফিরে আসে।(১) [আত-তাওবাহ: ১২২] এটি এমন প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে ইলম ও ফিকহ (গভীর জ্ঞান) অন্বেষণে সফর করেছে এবং তা নিয়ে তার পশ্চাতে থাকা লোকদের কাছে ফিরে এসেছে ও তাদেরকে তা শিক্ষা দিয়েছে।(২)

 

১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আল-আজহারি এবং আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-খাল্লাল; তাঁরা বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস আল-খাযযায; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি দাউদ; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন জাফর ইবনে আবি সালামা; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে উমর; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-ওয়ালিদ ইবনে বুকাইর; উমর ইবনে নাফে’ থেকে; ইকরিমাহ থেকে; যিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ছিলেন; মহান আল্লাহর বাণী: {ভ্রমণকারীগণ} [আত-তাওবাহ: ১১২] সম্পর্কে তিনি বলেন: «তারা হলেন হাদিস অন্বেষণকারীগণ»(৩)。

--------------------------------------------

(১) আয়াতের প্রথমাংশ 'আলিফ' পাণ্ডুলিপিতে উল্লেখ করা হয়নি।

(২) এর সনদ দুর্বল (ضعيف): আল-খাতিব এটি 'শরাফু আসহাবিল হাদিস' (১১৩) গ্রন্থে এবং আল-হাকিম 'মা'রিফাতু আসহাবিল হাদিস' (পৃ. ৬৭) গ্রন্থে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান থেকে দু’টি সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীবৃন্দ নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ব্যতীত; আমি তার ব্যাপারে কোনো নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) খুঁজে পাইনি।

আল-হারাওয়ি এটি 'যাম্মুল কালাম' (৯৮৫) গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে মুসা আস-সালামি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী ইবনুল হাসান আল-বাইয়া’ আল-ওয়াসিতি; তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনুল উযাইর এর সূত্রে। আবদুল্লাহ ইবনে মুসা সম্পর্কে আল-খাতিব বলেন: তার বর্ণনায় বিরল ও অদ্ভুত বিষয় এবং প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مناكير) বর্ণনা ও আশ্চর্যজনক (عجائب) বিষয় রয়েছে... তিনি শ্রবণের (سماعات) ক্ষেত্রে সঠিক ছিলেন, তবে তিনি মৃত এবং অপরিচিত ও নিভৃত কোণে থাকা অজ্ঞাত (مجهولين) ব্যক্তিদের থেকে লিখে নিতেন।

হাফেজ আবু আবদুল্লাহ ইবনে মান্দাহ আল-আসবাহানি তার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণ করতেন; তবে আমি মনে করি না যে তিনি তার ফজিলতের ক্ষেত্রে সজ্ঞানে মিথ্যা (الكذب) বলতেন।

(৩) এর সনদ দুর্বল (ضعيف): আল-ওয়ালিদ ইবনে বুকাইর-এর দুর্বলতার কারণে। আবু হাতিম তার সম্পর্কে বলেছেন: 'শাইখ' (شيخ)। ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আদ-দারাকুতনি বলেছেন: হাদিস বর্জনীয় (متروك الحديث)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বিশুদ্ধভাবে (صح) বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি {ভ্রমণকারীগণ} শব্দের ব্যাখ্যা 'রোজাদারগণ' হিসেবে করেছেন। ইমাম তবারি আয়াতের তাফসিরে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তি থেকেও অনুরূপ একটি বর্ণনা হাসান (حسن) সনদে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٢٠)
12 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْمُقْرِي، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أَنْبَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَلِيٍّ الْخُطَبِيُّ، ثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ: سَأَلْتُ أَبِي رحمه الله(1) عَمَّنْ طَلَبَ الْعِلْمَ تَرَى لَهُ أَنْ يَلْزَمَ رَجُلًا عِنْدَهُ عِلْمٌ، فَيَكْتُبُ عَنْهُ، أَوْ تَرَى أَنْ يَرْحَلَ إِلَى الْمَوَاضِعِ الَّتِي فِيهَا الْعِلْمُ فَيَسْمَعُ مِنْهُمْ؟، قَالَ: يَرْحَلُ يَكْتُبُ عَنِ الْكُوفِيِّينَ وَالْبَصْرِيِينَ، وَأَهْلِ الْمَدِينَةِ وَمَكَّةَ يُشَامُّ(2) النَّاسَ يَسْمَعُ(3) مِنْهُمْ(4).

 

13 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ رِضْوَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الدِّينُّورِي، ثَنَا أَبُو عَلِيٍّ [أَحْمَدُ](5) بْنُ عَبْدِ اللهِ الْأَصْبَهَانِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللهِ عُمَرَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الْعَطَّارَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: طَلَبُ عُلْوِ الْإِسْنَادِ مِنَ الدِّينِ(6).

--------------------------------------------

(1) ليست في (ب).

(2) في (ب): «يشافه».

(3) في (ب): «ليسمع».

(4) إسناده حسن: أخرجه الخطيب في «الجامع» (1695)، إسماعيل وثقه الخطيب، وقال في علي بن أحمد: كَانَ صَدُوْقاً دَيِّناً فَاضِلاً.

(5) في (أ): «حمد» وهو الصواب.

(6) أخرجه الخطيب في «الجامع لأخلاق الراوي» (118) حُدِّثْتُ عن عبد العزيز ابن جعفر الحنبلي.

رجال الإسناد: عمر بن محمد قال في الحافظ في «اللسان» (4/ 326): كان كثير المحدثات، له مخرجات ورحلة إلى العراق والحجاز، وكان حافظاً يعرف هذا الشأن ويفهم فهماً جيداً لكنه تغير عقله وصار ممروراً لا يعده أحد شيئا، ولا يكترث به لاعجابه بنفسه، وكان أكبر من يُذكر له من الحفاظ يقول: صحفي.

وأحمد بن عبد الله لم أتبينه. ورضوان بن محمد: ترجمه الخطيب وقال: وكتبنا عنه وما علمت من حاله إلا خيراً.
12 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আহমদ ইবনে উমর আল-মুকরি, তাঁর নিকট পঠনকালে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে আলী আল-খাত্তাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে (রহিমাহুল্লাহ)(1) এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে ইলম অর্জন করতে চায়; আপনি কি মনে করেন যে সে এমন একজন ব্যক্তির সান্নিধ্যে থাকবে যার নিকট ইলম আছে এবং তাঁর থেকে লিখে নেবে, নাকি আপনি মনে করেন সে ইলমের স্থানগুলোতে সফর করবে এবং তাদের থেকে শ্রবণ করবে? তিনি বললেন: সে সফর করবে, কুফাবাসী, বসরার অধিবাসী এবং মদিনা ও মক্কার অধিবাসীদের থেকে লিখে নেবে; সে মানুষের সাথে মেলামেশা করবে(2) এবং তাদের থেকে শ্রবণ করবে(3)।(4)

 

13 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম রিজওয়ান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান আদ-দিনাওয়ারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী [আহমদ](5) ইবনে আবদুল্লাহ আল-আসফাহানি, তিনি বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহ উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-আত্তারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: উচ্চ সনদ (علو الإسناد) অন্বেষণ করা দ্বীনের অংশ।(6)

--------------------------------------------

(1) এটি (বা) পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(2) (বা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «সরাসরি কথা বলবে (يشافه)»।

(3) (বা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «যাতে শ্রবণ করতে পারে (ليسمع)»।

(4) এর সনদ (إسناد) উত্তম (حسن): আল-খতিব এটি আল-জামি' গ্রন্থে (১৬৯৫) বর্ণনা করেছেন। ইসমাইলকে আল-খতিব নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন, এবং আলী ইবনে আহমদ সম্পর্কে বলেছেন: তিনি সত্যবাদী (صدوق), ধর্মপ্রাণ ও গুণী ছিলেন।

(5) (আ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «হামাদ» এবং এটিই সঠিক।

(6) আল-খতিব আল-জামি' লি আখলাকির রাওয়ি গ্রন্থে (১১৮) এটি বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আজিজ ইবনে জাফর আল-হাম্বলি থেকে আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে।

সনদের (إسناد) বর্ণনাকারীগণ: উমর ইবনে মুহাম্মদ সম্পর্কে হাফেজ (حافظ) ইবনে হাজার আল-লিসান গ্রন্থে (৪/৩২৬) বলেছেন: তিনি প্রচুর হাদিস সংগ্রহকারী ছিলেন, তাঁর সংকলন ও ইরাক ও হিজাজে সফর ছিল। তিনি একজন হাফেজ (حافظ) ছিলেন যিনি এই শাস্ত্র জানতেন এবং খুব ভালোভাবে বুঝতেন; কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর মানসিক পরিবর্তন ঘটে এবং তিনি বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আত্মমুগ্ধতার কারণে তাঁকে কেউ কিছু মনে করত না এবং তাঁর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করত না। তাঁর সামনে বড় বড় হাফেজদের (حفاظ) কথা উল্লেখ করা হলে তিনি বলতেন: তারা সহিফাপন্থী (صحفي)।

আর আহমদ ইবনে আবদুল্লাহকে আমি শনাক্ত করতে পারিনি। আর রিজওয়ান ইবনে মুহাম্মদ: আল-খতিব তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আমরা তাঁর থেকে লিখেছি এবং আমি তাঁর অবস্থা সম্পর্কে কল্যাণ ব্যতীত অন্য কিছু জানি না।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٢١)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الضَّبِّيُّ، فِي كِتَابِهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ الْقُرَشِيُّ، ثَنَا أَبِي، ثَنَا جَعْفَرٌ الطَّيَالِسِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ، يَقُولُ: أَرْبَعَةٌ لَا تُؤْنِسُ مِنْهُمْ رُشْدًا: حَارِسُ الدَّرْبِ، وَمُنَادِي الْقَاضِي، وَابْنُ المحدِّث، وَرَجُلٌ يَكْتُبُ فِي بَلَدِهِ، وَلَا يَرْحَلُ فِي طَلَبِ الْحَدِيثِ(1).

 

15 - أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ الْأَزْرَقُ، أَنْبَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ النَّقَّاشُ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عِصَامٍ، حَدَّثَهُمْ بِمَرْوَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ إِبْرَاهِيمَ بْنَ أَدْهَمَ، قَالَ: إِنَّ اللهِ تَعَالَى يَرْفَعُ الْبَلَاءَ عَنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ بِرِحْلَةِ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ(2).

 

16 - أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُور أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ السُّكَّرِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْوَرَّاقُ، إِمْلَاءً، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ، ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ يَاسِرٍ، ثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي عَتَّابٍ الْأَعْيُنُ، ثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ، قَالَ: رَأَيْتُ ابْنَ الْمُبَارَكِ فِي النَّوْمِ، فَقُلْتُ: مَا فَعَلَ اللهِ بِكَ، قَالَ: غَفَرَ لِي بِرِحْلَتِي فِي الْحَدِيثِ(3).

--------------------------------------------

(1) في سنده عبد الواحد بن أحمد لم أقف له على موثق: وأخرجه الحاكم في «معرفة علوم الحديث» (ص/ 45)، عن عبد الواحد بن أحمد.

(2) إسناده ضعيف: لقوله: بلغني.

(3) إسناده ضعيف: كل رجاله ثقات إلا أحمد بن الحسين السكري قال فيه الخطيب: كتبنا عنه، وكان بعض كتب جده قد ألحق فيه السماع لنفسه بأخرة تسميعاً طريًّا.
14 - আবু নুআইম আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দাব্বি তাঁর কিতাবে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-কুরাশি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর আত-তায়ালিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি: চার প্রকার ব্যক্তির মাঝে তুমি বিচক্ষণতা আশা করতে পারো না: রাস্তার পাহারাদার, বিচারকের ঘোষক, হাদিস বিশারদের পুত্র এবং সেই ব্যক্তি যে নিজ শহরেই হাদিস লেখে কিন্তু হাদিস অন্বেষণে সফর (رحلة) করে না(1).

 

15 - মুহাম্মদ ইবনে আবিল কাসিম আল-আজরাক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আন-নাক্কাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে ইসাম মার্ভ শহরে তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাতিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইবরাহিম ইবনে আদহাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা এই উম্মত থেকে বালা-মসিবত দূর করেন হাদিস অন্বেষণকারীদের সফর (رحلة)-এর বরকতে(2).

 

16 - আবু মনসুর আহমাদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ আস-সুক্কারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-ওয়াররাক শ্রুতলিপি হিসেবে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে ইয়াসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আবি আত্তাব আল-আইয়ুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাকারিয়া ইবনে আদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে ইবনুল মুবারককে দেখেছি, তখন আমি বললাম: আল্লাহ আপনার সাথে কী করেছেন? তিনি বললেন: হাদিসের জন্য আমার সফরের (رحلة) কারণে তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন(3).

--------------------------------------------

(1) এর সনদ (إسناد)-এ আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ রয়েছেন, আমি তাঁর ব্যাপারে কোনো নির্ভরযোগ্যতা প্রদানকারী (موثق) খুঁজে পাইনি। আল-হাকিম এটি 'মারিফাত উলুমিল হাদিস' (পৃ. ৪৫) গ্রন্থে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

(2) এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف): তাঁর "আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে" (بلغني) উক্তির কারণে।

(3) এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف): এর সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقات) তবে আহমাদ ইবনে আল-হুসাইন আস-সুক্কারি ব্যতীত। আল-খতিব তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: আমরা তাঁর থেকে লিখেছি, তবে তাঁর দাদার কিছু কিতাবে পরবর্তী সময়ে তিনি নিজের শ্রবণের বিষয়টি নতুন করে যুক্ত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٢٢)
17 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ، أَنْبَا عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ دَرَسْتَوَيْه النَّحْوِيُّ، ثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي الْفَضْلُ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ: قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ رحمه الله(1): «لَمْ يَكُنْ فِي زَمَانِ ابْنِ الْمُبَارَكِ أَطْلَبَ لِلْعِلْمِ مِنْهُ؛ رَحَلَ إِلَى الْيَمَنِ، وَإِلَى مِصْرَ، وَإِلَى الشَّامِ، وَالْبَصْرَةِ وَالْكُوفَةِ، وَكَانَ مِنْ رُوَاةِ الْعِلْمِ، وَأَهْلِ ذَلِكَ، كَتَبَ عَنِ الصِّغَارِ وَالْكِبَارِ، كَتَبَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ [الْمَهْدِيِّ](2)، وَعَنِ الْفَزَارِيِّ، وَجَمَعَ أَمْرًا عَظِيمًا»(3).

--------------------------------------------

(1) ليست في (ب).

(2) في (ب): «مهدي».

(3) صحيح: محمد بن الحسين: ثقة، وعبد الله بن جعفر وثقه ابن منده وغيره، وسئل البرقاني عنه، فقال: ضعفوه بروايته «تاريخ» يعقوب عنه، وقالوا:

إنما حدث به يعقوب قديما، فمتى سمعه منه؟

قال الخطيب: في هذا نظر، فإن جعفر بن درستويه من كبار المحدثين سمع من علي ابن المديني وطبقته، فلا يستنكر أن يكون بكر بابنه في السماع، مع أن أبا القاسم الأزهري حدثني، قال: رأيت أصل كتاب ابن درستويه بتاريخ يعقوب بن سفيان، ووجدت سماعه فيه صحيحا.

كما في «السير» (15/ 531 - 532)، ويعقوب: ثقة، -والفضل بن زياد من أصحاب أحمد قال فيه أبو بكر الخلال - كما في «طبقات الحنابلة» (1/ 248): كان من المتقدمين عند أبي عبد الله، وكان أبو عبد الله يعرف قدره ويكرمه وكان يصلي بأبي عبد الله، فوقع له عن أبي عبد الله مسائل كثيرة جياد وحدث عن جماعة منهم: يعقوب بن سفيان الفسوي، والحسن بن أبي العنبر، وأحمد الأدمي، وجعفر الصندلي، وأحمد بن عطاء، في آخرين.

وأخرجه ابن أبي حاتم في «الجرح والتعديل» (5/ 180) عبد الرحمن نا محمد بن حمويه بن الحسن قال: سمعت أبا طالب أحمد بن حميد، قال: سمعت أحمد بن حنبل، به.

ومحمد بن حمويه قال فيه الذهبي: الإمام العارف الصوفي كَانَ ذَا تَأَلُّهٍ وَتَعَبُّدٍ وَمُجَاهدَةٍ وَصدقٍ.

ومحمد بن حمويه أبو طالب من أصحاب الإمام أحمد قال فيه أبو بكر الخلال: صحب أحمد قديماً إلى أن مات، وكان أحمد يكرمه ويقدمه وكان رجلا صالحا فقيرا صبورا على الفقر فعلمه أبو عبد الله مذهب القنوع والاحتراف ومات قديما بالقرب من موت أبي عبد الله ولم تقع مسائله إلى الأحداث.
১৭ - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল ফাদল আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে দারাস্তাওয়াইহ আন-নাহবী আমাদের জানিয়েছেন, ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ফাদল ইবনে যিয়াদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)(১) বলেছেন: «ইবনুল মুবারকের যুগে তাঁর চেয়ে অধিক ইলম অন্বেষণকারী আর কেউ ছিল না; তিনি ইয়ামেন, মিশর, সিরিয়া, বসরা এবং কুফায় সফর করেছেন। তিনি ইলম বর্ণনাকারীদের (رواة) এবং এর যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ছোট ও বড় (উভয় প্রকার শায়খ) থেকে হাদিস লিখে নিয়েছেন। তিনি আবদুর রহমান ইবনে [মাহদী](২) এবং আল-ফাযারী থেকে হাদিস লিখেছেন এবং বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার একত্রিত করেছেন»(৩)।

--------------------------------------------

(১) (বি) পাণ্ডুলিপিতে এটি নেই।

(২) (বি) পাণ্ডুলিপিতে: «মাহদী»।

(৩) সহিহ (صحيح): মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন: নির্ভরযোগ্য (ثقة), এবং আবদুল্লাহ ইবনে জাফরকে ইবনে মানদাহ ও অন্যরা নির্ভরযোগ্য (وثقه) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আল-বারকানিকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: ইয়াকুবের 'তারিখ' গ্রন্থটি তাঁর মাধ্যমে বর্ণিত হওয়ার কারণে মুহাদ্দিসগণ তাঁকে দুর্বল (ضعفوه) সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন:

ইয়াকুব এটি অনেক আগে বর্ণনা করেছিলেন, তবে তিনি (ইবনে দারাস্তাওয়াইহ) তা তাঁর থেকে কখন শ্রবণ করলেন?

খতিব আল-বাগদাদি বলেন: এই মন্তব্যে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, কারণ জাফর ইবনে দারাস্তাওয়াইহ বড় মাপের মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি আলী ইবনুল মাদিনী ও তাঁর সমসাময়িক স্তরের মুহাদ্দিসদের থেকে হাদিস শুনেছেন; সুতরাং তাঁর পিতাকে শৈশবকালেই তাঁকে হাদিস শ্রবণের মজলিসে নিয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাছাড়া আবুল কাসিম আল-আযহারী আমাকে বলেছেন: আমি ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ানের 'তারিখ' গ্রন্থের ইবনে দারাস্তাওয়াইহ-এর মূল পাণ্ডুলিপি দেখেছি এবং সেখানে তাঁর শ্রবণ সঠিক (صحيحا) হিসেবে লিপিবদ্ধ পেয়েছি।

যেমনটি 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (১৫/ ৫৩১ - ৫৩২) গ্রন্থে রয়েছে। ইয়াকুব: নির্ভরযোগ্য (ثقة)। আর আল-ফাদল ইবনে যিয়াদ ছিলেন ইমাম আহমাদের বিশিষ্ট শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত। আবু বকর আল-খাল্লাল তাঁর সম্পর্কে বলেন—যেমনটি 'তাবাকাতুল হানাবিলা' (১/ ২৪৮) গ্রন্থে রয়েছে: তিনি আবু আবদুল্লাহর (ইমাম আহমাদ) নিকট অগ্রগণ্য ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। আবু আবদুল্লাহ তাঁর মর্যাদা জানতেন ও তাঁকে সম্মান করতেন এবং তিনি আবু আবদুল্লাহর ইমামতিতে সালাত আদায় করতেন। তাঁর সূত্রে আবু আবদুল্লাহ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও চমৎকার মাসআলা বর্ণিত হয়েছে। তিনি একদল রাবী থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান আল-ফাসাবী, আল-হাসান ইবনে আবিল আনবার, আহমাদ আল-আদামী, জাফর আস-সানদালি, আহমাদ ইবনে আতা প্রমুখ।

ইবনে আবি হাতিম তাঁর 'আল-জারহ ওয়াত তাদিল' (৫/ ১৮০) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন: আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে হামুওয়াইহ ইবনুল হাসান আমাদের বলেছেন: আমি আবু তালিব আহমাদ ইবনে হুমাইদকে বলতে শুনেছি, তিনি আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে এটি শুনেছেন।

মুহাম্মদ ইবনে হামুওয়াইহ সম্পর্কে আয-যাহাবি বলেন: তিনি একজন আরিফ ও সুফি ইমাম, তিনি ইবাদতগুজার, সাধক, সত্যবাদী (صدق) ও নিষ্ঠাবান ছিলেন।

আর আবু তালিব মুহাম্মদ ইবনে হামুওয়াইহ ইমাম আহমাদের শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আবু বকর আল-খাল্লাল তাঁর সম্পর্কে বলেন: তিনি প্রথম দিক থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ইমাম আহমাদের সান্নিধ্যে ছিলেন। আহমাদ তাঁকে সম্মান করতেন ও অগ্রাধিকার দিতেন। তিনি একজন নেককার ও দরিদ্র ব্যক্তি ছিলেন এবং দারিদ্র্যের ওপর পরম ধৈর্যশীল ছিলেন। আবু আবদুল্লাহ তাঁকে অল্পে তুষ্টি ও উপার্জনের পথ শিখিয়েছিলেন। তিনি ইমাম আহমাদের মৃত্যুর অল্প সময়ের ব্যবধানে ইন্তেকাল করেন, ফলে তাঁর বর্ণিত মাসআলাগুলো পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে পারেনি।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٢٣)
18 - وَقَالَ يَعْقُوبُ: حَدَّثَنِي الْفَضْلُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ، رحمه الله، وَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: عَمَّنْ تَرَى أَنْ يُكْتَبَ الْحَدِيثُ؟ فَقَالَ لَهُ: «اخْرُجْ إِلَى أَحْمَدَ بْنِ يُونسَ](1) فَإِنَّهُ شَيْخُ الْإِسْلَامِ»(2).

 

19 - أَخْبَرَنَا ابْنُ الْفَضْلِ، [ثَنَا](3) عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرٍ، [ثَنَا](4) يَعْقُوبُ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، ثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، ثَنَا مَعْمَرٌ، قَالَ: قَالَ لِي

--------------------------------------------

(1) في (ط): «يوسف» وهو خطأ والمثبت من المخطوطتين. وهو أحمد بن عبد الله ابن يونس أبو عبد الله الكوفي ثقة حافظ، وهو آخر من روى عن سفيان الثوري، توفي سنة (227) بالكوفة.

تنبيه: وهذا فيه أن التلقيب بشيخ الإسلام وإن كان قديماً إلا أني لم أقف عليه في خبر مرفوع أو مقطوع.

(2) إسناده حسن: لحال الفضل بن زياد، وقد سبق في: رقم (17).

(3) في (ب): «أنا».

(4) من (ب).
১৮ - ইয়াকুব বলেছেন: ফজল আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আহমদ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি—এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: "আপনি কার নিকট থেকে হাদিস লিখে রাখা সমীচীন মনে করেন?" তিনি তাঁকে বললেন: "তুমি আহমদ বিন ইউনুসের নিকট যাও, কেননা তিনি হলেন শাইখুল ইসলাম।"

 

১৯ - ইবনুল ফজল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, [আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন] আবদুল্লাহ বিন জাফর, [আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন] ইয়াকুব, তিনি বলেন: আবু বকর বিন আব্দুল মালিক আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন মা'মার, তিনি বলেন: তিনি আমাকে বলেছেন...

--------------------------------------------

(১) (ত) সংস্করণে: ‘ইউসুফ’ রয়েছে, যা একটি ভুল; সঠিক পাঠটি পাণ্ডুলিপিদ্বয় থেকে গৃহীত। তিনি হলেন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউনুস আবু আব্দুল্লাহ আল-কুফি, যিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হাফেজ (حافظ); তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে হাদিস বর্ণনাকারীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি। তিনি ২২৭ হিজরি সনে কুফায় মৃত্যুবরণ করেন।

সতর্কবার্তা: এতে প্রতীয়মান হয় যে, ‘শাইখুল ইসলাম’ উপাধিটি প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত থাকলেও কোনো মারফু (مرفوع) বা মাকতু (مقطوع) বর্ণনায় আমি এটি পাইনি।

(২) এর সনদ হাসান (حسن): ফজল বিন জিয়াদের অবস্থার কারণে; যা ইতিপূর্বে ১৭ নম্বর বর্ণনায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৩) (ব) পাণ্ডুলিপিতে: ‘আনা’ (أنا) রয়েছে।

(৪) (ব) পাণ্ডুলিপি থেকে গৃহীত।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٢٤)
أَيُّوبُ: «إِنْ كُنْتَ رَاحِلًا إِلَى أَحَدٍ فَارْحَلْ إِلَى ابْنِ طَاوُسٍ، وَإِلَّا فَالْزَمْ تِجَارَتَكَ»(1).

 

20 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقٍ الْبَزَّازُ، [أَنْبَا](2) إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَلِيٍّ الْخُطَبِيُّ، وَأَبُو عَلِيِّ بْنُ الصَّوَّافِ، وَأَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ، ثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي [رحمه الله وَرَضِيَ عَنْهُ](3)، ثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، ثَنَا هَمَّامٌ، ثَنَا عَاصِمُ ابْنُ بَهْدَلَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي زِرُّ بْنُ حُبَيْشٍ، قَالَ: وَفَدْتُ فِي خِلَافَةِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، وَإِنَّمَا حَمَلَنِي عَلَى الْوِفَادَةِ لُقِي أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، وَأَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم(4).

 

21 - حَدَّثَنَا ابْنُ الْفَضْلِ، أَنْبَا عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرٍ، ثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي قَطَنٍ، عَنْ أَبِي خَلْدَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، قَالَ: «كُنَّا نَسْمَعُ بِالرِّوَايَةِ عَنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ [و](5) بِالْبَصْرَةِ، فَمَا نَرْضَى حَتَّى أَتَيْنَاهُمْ فَسَمِعْنَا مِنْهُمْ»(6).

--------------------------------------------

(1) صحيح: أخرجه الفسوي في «المعرفة والتاريخ» (2/ 104)، وابن أبي خيثمة في «التاريخ» (1183)، وغيرهما حدثني أبو بكر بن عبد الملك به. هو ابن زنجويه ثقة. وانظر ترجمة ابن الفضل وشيخه وشيخ شيخه في رقم (17).

(2) في (ب): «ثنا».

(3) ليست في (ب).

(4) حسن: أخرجه أحمد (4/ 239)، وابن سعد في «الطبقات» (7172)، والطبراني في «المعجم الكبير» (8/ 59)، عن عبد الصمد وعبد الله بن رجاء به.

(5) من (ب).

(6) حسن: أخرجه الفسوي في «المعرفة والتاريخ» (1/ 234) عن عبد الرحمن ابن إبراهيم أبي سعيد به وهو ثقة، وكذا شيخه أبو قطن عمرو بن الهيثم، وأبو خلدة خالد بن دينار صدوق. وانظر: رقم (17).
আইয়ুব বলেছেন: «যদি তুমি কারো কাছে যাওয়ার জন্য সফর করো, তবে ইবনে তাউসের কাছে সফর করো, অন্যথায় তোমার ব্যবসায় মনোনিবেশ করো»(১).

 

২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন রিজক আল-বাজজাজ, [সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ)] ইসমাইল বিন আলী আল-খুতাবী, আবু আলী বিন আস-সাওওয়াফ এবং আহমদ বিন জাফর বিন হামদান; তাঁরা বলেছেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল; তিনি বলেন: আমার পিতা [আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন] আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثني); তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আব্দুস সামাদ; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাম্মাম; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আসিম বিন বাহদালা; তিনি বলেন: জির বিন হুবাইশ আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: «আমি উসমান বিন আফফানের খিলাফতকালে প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিলাম; আর আমার এই আগমনের মূল কারণ ছিল উবাই বিন কাব এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের সাথে সাক্ষাৎ করা»(৪).

 

২১ - আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইবনুল ফজল; তিনি সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ) আব্দুল্লাহ বিন জাফরকে; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইয়াকুব বিন সুফিয়ান; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আব্দুর রহমান বিন ইব্রাহিম; তিনি আবু কাতান থেকে, তিনি আবু খালদাহ থেকে, তিনি আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: «আমরা মদিনা এবং বসরায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية) সম্পর্কে শুনতাম, কিন্তু আমরা যতক্ষণ না তাঁদের কাছে উপস্থিত হয়ে সরাসরি তাঁদের থেকে শুনেছি, ততক্ষণ সন্তুষ্ট হতাম না»(৬).

--------------------------------------------

(১) সহিহ (صحيح): আল-ফাসাবী এটি আল-মারিফাত ওয়াত তারিখ (২/১০৪) গ্রন্থে, ইবনে আবি খাইসামা এটি আত-তারিখ (১১৮৩) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা বের করেছেন (أخرجه)। আবু বকর বিন আব্দুল মালিক আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি হলেন ইবনে জানজুয়াহ, যিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)। ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদে ইবনুল ফজল, তাঁর শিক্ষক এবং তাঁর শিক্ষকের শিক্ষকের জীবনী দেখুন।

(২) (ب) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا)»।

(৩) এটি (ب) পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৪) হাসান (حسن): ইমাম আহমদ (৪/২৩৯), ইবনে সাদ আল-তাবাকাত (৭১৭২) গ্রন্থে এবং তাবারানি আল-মু'জাম আল-কাবির (৮/৫৯) গ্রন্থে আব্দুস সামাদ এবং আব্দুল্লাহ বিন রাজা থেকে এটি বের করেছেন (أخرجه)।

(৫) (ب) পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া হয়েছে।

(৬) হাসান (حسن): ফাসাবী আল-মারিফাত ওয়াত তারিখ (১/২৩৪) গ্রন্থে আব্দুর রহমান বিন ইব্রাহিম আবু সাঈদ থেকে এটি বের করেছেন (أخرجه); তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), তেমনিভাবে তাঁর শিক্ষক আবু কাতান আমর বিন হাইসাম এবং আবু খালদা খালিদ বিন দিনার সত্যবাদী (صدوق)। ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٢٥)
22 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ الْفَضْلِ بْنِ شَاذَانَ الصَّيْرَفِيُّ بِنَيْسَابُورَ، [أَنْبَا](1) أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّغَّانِيُّ، ثَنَا أَبُو نُوحٍ، قُرَادٌ، [أَنْبَا](2) أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، قَالَ: «كُنْتُ أَرْحَلُ إِلَى الرَّجُلِ مَسِيرَةَ أَيَّامٍ؛ لَأَسْمَعَ مِنْهُ فَأَوَّلُ مَا أَتفقدُ مِنْهُ صَلَاتَهُ، فَإِنْ أَجِدْهُ يُقِيمُهَا أَقَمْتُ وَسَمِعْتُ مِنْهُ، وَإِنْ أَجِدْهُ يُضَيِّعْهَا رَجَعْتُ، وَلَمْ أَسْمَعْ مِنْهُ، وَقُلْتُ: هُوَ لِغَيْرِ الصَّلَاةِ أَضْيَعُ»(3).

 

23 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْمُحَامِلِيُّ، وَالْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ شَاذَانَ، قَالَا: أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مَالِكٍ الْإِسْكَافِيُّ، ثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ مُحَمَّدُ بْنُ الْهَيْثَمِ الْقَاضِي، ثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْجُعْفِيُّ، ثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: «كُنْتُ أَرَى ابْنَ عَوْنٍ فِي النَّوْمِ مِنْ شَوْقِي إِلَيْهِ، وَأَنَا أَخْتَلِفُ إِلَى الْأَعْمَشِ، فَلَمَّا مَاتَ الْأَعْمَشُ رَحَلْتُ إِلَيْهِ فَسَمِعْتُ مِنْهُ»(4).

--------------------------------------------

(1) في (ب): «ثنا».

(2) في (ب): «ثنا».

(3) إسناده ضعيف: أخرجه ابن عدي في «الكامل» (1/ 54)، أخبرنا محمد بن إسحاق الصغاني، أخبرنا عبد الرحمن بن غزوان، أخبرنا أبو جعفر الرازي به.

قال ابن حبان في رواية أبي جعفر عن الربيع: الناس يتقون من حديثه ما كان من رواية أبي جعفر عنه؛ لأن في أحاديثه عنه اضطرابا كثيرا.

(4) إسناده ضعيف: المحاملي قال فيه الخطيب: كتبنا عنه وكان سماعه صحيحا في كتب أبي الحسين محمد بن أحمد بن القاسم المحاملي، والإسكافي وثقه الخطيب، ومحمد بن الهيثم هو ابن حماد، قال فيه الدارقطني: كان من الثقات الحفاظ.
22 - আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনুল ফাদল ইবনে শাযান আস-সাইরাফি নিশাপুরে, [আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ)](1) আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম্ম, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানি, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু নুহ কুরাদ, [আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ)](2) আবু জাফর আর-রাজি, রাবি ইবনে আনাস থেকে, তিনি আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস শোনার জন্য কয়েক দিনের পথ সফর করতাম; তার কাছে পৌঁছে সর্বপ্রথম আমি তার সালাতের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতাম। যদি দেখতাম যে সে সালাত যথাযথভাবে আদায় করছে, তবে আমি অবস্থান করতাম এবং তার থেকে হাদিস শ্রবণ করতাম। আর যদি দেখতাম সে সালাত বিনষ্ট করছে, তবে আমি ফিরে আসতাম এবং তার থেকে কোনো হাদিস শুনতাম না। আমি বলতাম: সে সালাত ছাড়া অন্য বিষয়গুলোকে আরও বেশি বিনষ্ট করবে»(3).

 

23 - আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-মুহামিলি এবং আল-হাসান ইবনে আবি বকর ইবনে শাযান, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ) মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মালিক আল-ইস্কাফি, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আল-আহওয়াস মুহাম্মদ ইবনে আল-হাইসাম আল-কাদি, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু সাঈদ আল-জু'ফি, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ওয়াকি, তিনি বলেন: «ইবনে আউনের প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণে আমি তাঁকে স্বপ্নে দেখতাম, অথচ তখন আমি আল-আ'মাশের নিকট যাতায়াত করতাম। যখন আল-আ'মাশ ইন্তেকাল করলেন, তখন আমি তাঁর উদ্দেশ্যে সফর করলাম এবং তাঁর থেকে হাদিস শ্রবণ করলাম»(4).

--------------------------------------------

(1) (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا)»।

(2) (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا)»।

(3) এর সনদ দুর্বল (إسناده ضعيف): ইবনে আদি এটি ‘আল-কামিল’ গ্রন্থে (১/৫৪) বর্ণনা করেছেন; আমাদের অবহিত করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানি, আমাদের অবহিত করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে গাযওয়ান, আমাদের অবহিত করেছেন আবু জাফর আর-রাজি—এই সূত্রে।

ইবনে হিব্বান রাবি' থেকে আবু জাফরের বর্ণনার ব্যাপারে বলেন: মানুষ তার সেই সকল হাদিস থেকে সতর্ক থাকে যা আবু জাফর তার থেকে বর্ণনা করেছেন; কারণ তার থেকে বর্ণিত হাদিসগুলোতে অনেক অসংলগ্নতা (اضطراب) রয়েছে।

(4) এর সনদ দুর্বল (إسناده ضعيف): আল-মুহামিলি সম্পর্কে খতিব বাগদাদি বলেন: আমরা তাঁর থেকে লিখেছি এবং আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল কাসিম আল-মুহামিলির কিতাবসমূহে তাঁর শ্রবণ সঠিক ছিল। খতিব বাগদাদি আল-ইস্কাফিকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) অভিহিত করেছেন। আর মুহাম্মদ ইবনে আল-হাইসাম হলেন ইবনে হাম্মাদ, দারাকুতনি তাঁর সম্পর্কে বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (الثقات) হাফিজদের (الحفاظ) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٢٦)
24 - أَخْبَرَنَا ابْنُ الْفَضْلِ، أَنْبَا عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرٍ، ثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْفَضْلُ - هُوَ ابْنُ زِيَادٍ - قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللهِ، يَقُولُ: «لَيْسَ تَضُمُّ إِلَى مَعْمَرٍ أَحَدًا إِلَّا وَجَدْتَهُ [فَوْقَهُ](1). رَحَلَ فِي الْحَدِيثِ إِلَى الْيَمَنِ، وَهُوَ أَوَّلُ مَنْ رَحَلَ، فَقَالَ لَهُ أَبُو جَعْفَرٍ: وَالشَّامَ؟، فَقَالَ: لَا، الْجَزِيرَةَ»(2).

 

25 - أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَهْدِيٍّ الْبَزَّازُ، أَنْبَا أَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْعَطَّارُ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ رَاشِدٍ، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ، [أَنْبَا](3) أَبُو حَمْزَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللهِ: وَالَّذِي لَا إِلَهَ غَيْرُهُ، لَقَدْ قَرَأْتُ مِنْ فِي

رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِضْعًا وَ [سَبْعِينَ](4) سُورَةً، وَلَوْ أَعْلَمُ أَحَدًا أَعْلَمُ بِكِتَابِ اللهِ مِنِّي تُبَّلِّغُنِي الْإِبِلُ إِلَيْهِ لَأَتَيْتُهُ»(5).

 

26 - [أَنْبَا](6) ابْنُ الْفَضْلِ، أَنْبَا عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرٍ، ثَنَا يَعْقُوبُ، ثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، ثَنَا يَحْيَى بْنُ عِيسَى، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ

--------------------------------------------

(1) من (ب).

(2) سبق في (18).

(3) في (ب): «ثنا».

(4) في (ب): «وستين».

(5) صحيح: أخرجه البخاري (5000، 5002)، ومسلم (2462). وعبد الواحد وثقه الخطيب، والعطار وثقه الدارقطني، وأحمد بن منصور قال فيه أبو حاتم: صدوق. وعلي بن الحسن - هو ابن شقيق - ثقة، وأبو حمزة هو السكري ثقة، وأبو الضحى هو مسلم بن صبيح ثقة.

(6) في (ب): «أخبرنا».
২৪ - ইবনুল ফজল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ), ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), তিনি বলেন: আল-ফজল—যিনি ইবনে যিয়াদ—তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: «আপনি মা’মার-এর সাথে কাউকে তুলনা করতে পারবেন না তবে তাকে তার [উর্ধ্বে (فوقه)](১) পাবেন। তিনি হাদিসের জন্য ইয়েমেনে সফর (رحل) করেছেন এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি সফর (رحل) করেছেন। তখন আবু জাফর তাকে বললেন: আর শাম? তিনি বললেন: না, আল-জাজিরা।»(২).

 

২৫ - আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মাহদী আল-বাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাখলাদ আল-আত্তার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ), আহমদ বিন মনসুর বিন রাশিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আলী বিন আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), [সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ)](৩) আবু হামযাহ, আল-আ’মাশ থেকে, তিনি আবু আদ-দুহা থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বলেছেন: সেই সত্তার কসম, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, আমি সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখ থেকে

সত্তরের [সত্তর (سبعين)](৪) অধিক সূরা পাঠ করেছি। আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী কেউ আছেন বলে যদি আমার জানা থাকত যার নিকট উট আমাকে পৌঁছে দিতে পারত, তবে আমি অবশ্যই তার নিকট যেতাম।»(৫).

 

২৬ - [সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ)](৬) ইবনুল ফজল, সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ) আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর, বর্ণনা করেছেন (ثنا) ইয়াকুব, বর্ণনা করেছেন (ثনা) ইবনে নুমাইর, বর্ণনা করেছেন (ثনা) ইয়াহইয়া ইবনে ঈসা, সুফিয়ান থেকে, আল-আ’মাশ থেকে, মুসলিম থেকে...

--------------------------------------------

(১) (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(২) পূর্বে (১৮) নং-এ বর্ণিত হয়েছে।

(৩) (খ) পাণ্ডুলিপিতে: «আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا)»।

(৪) (খ) পাণ্ডুলিপিতে: «ষাট (ستين)»।

(৫) সহিহ (صحيح): এটি বুখারি (৫০০০, ৫০০২) এবং মুসলিম (২৪৬২) বর্ণনা করেছেন। আব্দুল ওয়াহিদকে আল-খাতিব নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন, আল-আত্তারকে আদ-দারাকুতনি নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন এবং আহমদ বিন মনসুর সম্পর্কে আবু হাতিম বলেছেন: সত্যবাদী (صدوق)। আলী বিন আল-হাসান—যিনি ইবনে শাকিক—নির্ভরযোগ্য (ثقة), আবু হামযাহ—যিনি আস-সুক্কারি—নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং আবু আদ-দুহা—যিনি মুসলিম বিন সাবীহ—নির্ভরযোগ্য (ثقة)।

(৬) (খ) পাণ্ডুলিপিতে: «আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)»।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٢٧)
مَسْرُوقٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللهِ: «مَا أُنْزِلَتْ آيَةٌ إِلَّا، وَأَنَا أَعْلَمُ، فِيمَا أُنْزِلَتْ، وَلَوْ أَنِّي أَعْلَمُ أَنَّ أَحَدًا أَعْلَمُ بِكِتَابِ اللهِ مِنِّي [تُبَلِّغُهُ](1) الْإِبِلُ، [وَ](2) الْمَطَايَا لَأَتَيْتُهُ»(3).

 

27 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَنَانِيُّ، أَنْبَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الزُّبَيْرِ الْكُوفِيُّ، ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانَ، ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، ثَنَا عِيسَى الْحَنَّاطُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: «لَوْ أَنَّ رَجُلًا سَافَرَ مِنْ أَقْصَى الشَّامِ إِلَى أَقْصَى الْيَمَنِ فَحَفِظَ كَلِمَةٍ تَنْفَعُهُ فِيمَا يَسْتَقْبِلُهُ مِنْ عُمُرِهِ رَأَيْتُ أَنَّ سَفَرَهُ لَا يَضِيعُ»(4).

 

28 - أَنْشَدَنِي أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْوَخْشِيُّ [الْحَافِظُ](5) بِأَصْبَهَانَ قَالَ: أَنْشَدَنِي أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخُرَاسَانِي:

رَحَلْتُ أَطْلُبُ أَصْلَ الْعِلْمِ مُجْتَهِدا … وَزِينَةُ الْمَرْءِ فِي الدُّنْيَا الْأَحَادِيثُ

لَا يَطْلُبُ الْعِلْمَ إِلَّا بَازِلٌ ذَكَرٌ … وَلَيْسَ يُبْغِضُهُ إِلَّا الْمَخَانِيثُ

لَا تَعْجَبَنَّ بِمَالٍ سَوْفَ تَتْرُكُهُ … فَإِنَّمَا هَذِهِ الدُّنْيَا مَوَارِيثُ

--------------------------------------------

(1) في (ب): «تبلغني».

(2) في (ب): «أو».

(3) صحيح: انظر ما قبله. وسفيان هو الثوري، ويحيى بن عيسى ضعيف، وابن نمير هو محمد بن عبد الله ثقة، ويعقوب هو ابن سفيان ثقة، وانظر: رقم (17).

(4) إسناده ضعيف جدًّا: لأن عيسى بن أبي عيسى الحناط: متروك.

(5) من (ب).
মাসরুক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বলেছেন: «এমন কোনো আয়াত নাযিল হয়নি যার সম্পর্কে আমি জানি না যে তা কেন নাযিল হয়েছে। আর আমি যদি জানতাম যে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী এমন কেউ আছেন যার কাছে উট [পৌঁছে দিতে পারে](১) [অথবা](২) আরোহী পশু (পৌঁছাতে সক্ষম), তবে আমি অবশ্যই তার নিকট আসতাম»(৩).

 

২৭ - আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আল-হানানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-জুবাইর আল-কুফি আমাদের অবহিত করেছেন, আল-হাসান ইবন আলী ইবন আফফান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, জাফর ইবন আউন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ঈসা আল-হান্নাত আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আশ-শা’বি থেকে, তিনি বলেন: «যদি কোনো ব্যক্তি সিরিয়ার দূরপ্রান্ত থেকে ইয়ামেনের দূরপ্রান্ত পর্যন্ত সফর করে এমন একটি কথা মুখস্থ করার জন্য যা তার পরবর্তী জীবনে উপকারে আসবে, তবে আমি মনে করি যে তার সফর বৃথা যায়নি»(৪).

 

২৮ - আবু আলী আল-হাসান ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ আল-ওয়াখশি [হাফিজ (الحافظ)](৫) আসফাহানে আমাকে এই কবিতাটি পাঠ করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ফজল আল-আব্বাস ইবন মুহাম্মদ আল-খুরাসানি আমাকে শুনিয়েছেন:

আমি কঠোর পরিশ্রমে ইলমের মূল অন্বেষণে সফর করেছি … আর দুনিয়াতে মানুষের অলঙ্কার হলো হাদিসসমূহ

একনিষ্ঠ শক্তিশালী পুরুষ ব্যতীত কেউ ইলম অন্বেষণ করে না … আর পৌরুষহীন ব্যক্তি ব্যতীত কেউ একে ঘৃণা করে না

এমন সম্পদ দেখে বিস্মিত হয়ো না যা তুমি অচিরেই ছেড়ে যাবে … কেননা এই দুনিয়া তো নিছকই উত্তরাধিকার (হিসেবে হাতবদল হওয়া বস্তু)

--------------------------------------------

(১) (ব) পাণ্ডুলিপিতে: «আমাকে পৌঁছে দেয়»।

(২) (ব) পাণ্ডুলিপিতে: «অথবা»।

(৩) সহিহ (صحيح): এর পূর্ববর্তী বর্ণনাটি দেখুন। সুফিয়ান হলেন আস-সাওরি, ইয়াহইয়া ইবনে ঈসা দুর্বল (ضعيف), ইবনে নুমায়র হলেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ নির্ভরযোগ্য (ثقة), ইয়াকুব হলেন ইবনে সুফিয়ান নির্ভরযোগ্য (ثقة), এবং দেখুন: নং (১৭)।

(৪) এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدًّا): কারণ ঈসা ইবনে আবি ঈসা আল-হান্নাত হলেন পরিত্যক্ত (متروك)।

(৫) (ব) পাণ্ডুলিপি হতে।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌ذكر رحلة نبي الله موسى صلى الله على نبينا وعليه وسلم وفتاه فى طلب العلم

29 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ [بْنِ أَحْمَدَ بْنِ](1) غَالِبٍ الْخُوَارِزْمِيُّ الْبَرْقَانِيُّ قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْعَبَّاسِ بْنِ حَمْدَانَ حَدَّثَكُمْ مُحَمَّدُ بْنُ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَنْبَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، يَقُولُ: «قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ: إِنَّ نَوْفًا الْبِكَالِيَّ يَزْعُمُ أَنَّ مُوسَى لَيْسَ بِصَاحِبِ الْخَضِرِ إِنَّمَا هُوَ مُوسَى آخَرُ؟» فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: «كَذَبَ عَدُوُّ اللهِ»، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: حَدَّثَنَا أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَنَّ مُوسَى عليه السلام قَامَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ خَطِيبًا فَسُئِلَ أَيُّ النَّاسِ أَعْلَمُ؟ فَقَالَ: «أَنَا».

فَعَتَبَ اللهِ عَلَيْهِ حَيْثُ لَمْ يَرُدَّ الْعِلْمَ إِلَيْهِ، فَقَالَ: عَبْدٌ لِي عِنْدَ مَجْمَعِ الْبَحْرَيْنِ، [وَ](2) هُوَ أَعْلَمُ مِنْكَ، قَالَ: «أَيْ رَبِّ، فَكَيْفَ بِهِ»، قَالَ: «تَأْخُذُ حُوتًا، فَاجْعَلْهُ فِي مِكْتَلٍ، فَحَيْثُ مَا فَقَدْتَ الْحُوتَ فَهُوَ ثَمَّ»، قَالَ: «فَأَخَذَ حُوتًا فَجَعَلَهُ فِي مِكْتَلٍ، ثُمَّ انْطَلَقَا يَمْشِيَانِ مَعَهُ فَتَاهُ يُوشَعُ بْنُ نُونَ حَتَّى أَتَى الصَّخْرَةَ، فَنَامَ وَاضْطَرَبَ الْحُوتُ فِي الْمِكْتَلِ، فَخَرَجَ مِنْهُ، فَسَقَطَ فِي الْبَحْرِ، فَأَمْسَكَ اللهِ عَنِ الْحُوتِ الْمَاءَ مِثْلَ الطَّاقِ(3)، وَجَاوَزَ مُوسَى، فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ مُوسَى نَسِيَ أَنْ يُخْبِرَهُ بِالْحُوتِ، وَقَالَ لَهُ: إِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ، {وَمَا أَنْسَانِيهُ

--------------------------------------------

(1) من (ب).

(2) المثبت من (ب).

(3) وهو النَّقْب الذي يدخل منه.
‌আল্লাহর নবী মুসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সহচরের ইলম অন্বেষণে সফরের বিবরণ

29 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ [ইবনে আহমাদ ইবনে](১) গালিব আল-খাওয়ারিজমি আল-বারকানি। তিনি বলেন: আমি আবুল আব্বাস ইবনে হামদানের কাছে পাঠ করেছি, তিনি বলেন, তোমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثكم) মুহাম্মাদ ইবনে নুয়াইম ইবনে আব্দুল্লাহ। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, আমর ইবনে দিনারের সূত্রে (عن), তিনি সাইদ ইবনে জুবায়েরকে বলতে শুনেছেন (سمع): «আমি ইবনে আব্বাসকে বললাম: নাওফ আল-বিকালি দাবি করেন যে, মুসা (আলাইহিস সালাম) খিজিরের সাথী নন, বরং তিনি অন্য এক মুসা? ইবনে আব্বাস বললেন: ‘আল্লাহর শত্রু মিথ্যা বলেছেন (كذب)’। ইবনে আব্বাস বললেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) উবাই ইবনে কাব, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে (عن): «মুসা (আলাইহিস সালাম) বনী ইসরাঈলের মাঝে ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী কে? তিনি বললেন: ‘আমি’।»

অতঃপর আল্লাহ তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হলেন (বা তাঁকে সংশোধন করলেন), যেহেতু তিনি ইলমকে আল্লাহর দিকে সোপর্দ করেননি। আল্লাহ বললেন: ‘দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে আমার এক বান্দা আছে, সে তোমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী’। তিনি (মুসা) বললেন: ‘হে আমার রব! তাঁর কাছে পৌঁছানোর উপায় কী?’ আল্লাহ বললেন: ‘একটি মাছ নাও এবং সেটি ঝুড়িতে রাখো। যেখানে তুমি মাছটি হারাবে, সেখানেই তাঁকে পাবে’। তিনি (মুসা) একটি মাছ নিলেন এবং তা ঝুড়িতে রাখলেন। অতঃপর তাঁরা চলতে শুরু করলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর সহচর ইউশা ইবনে নুনও চললেন। পরিশেষে তাঁরা একটি পাথরের কাছে পৌঁছালেন। সেখানে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়লেন এবং মাছটি ঝুড়ির মধ্যে নড়াচড়া করতে লাগল। অতঃপর সেটি ঝুড়ি থেকে বের হয়ে সমুদ্রে পড়ে গেল। আল্লাহ মাছটির জন্য সমুদ্রের পানির প্রবাহ আটকে দিলেন এবং তা একটি খিলানের (طاق) মতো হয়ে গেল(৩)। মুসা (আলাইহিস সালাম) পথ অতিক্রম করে চললেন। যখন তিনি জাগ্রত হলেন, তখন মাছের কথা (সহচরকে) জানাতে ভুলে গেলেন। মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁকে বললেন: ‘আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম, {আর শয়তানই আমাকে তা ভুলিয়ে দিয়েছিল...}’

--------------------------------------------

(১) (খ) পাণ্ডুলিপি হতে।

(২) (খ) পাণ্ডুলিপি হতে গৃহীত।

(৩) আর এটি হলো এমন একটি ছিদ্র বা সুড়ঙ্গ যার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٢٩)
إِلَّا الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ} [الكهف: 63] الآية.، فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ قَالَ لَهُ مُوسَى: {آتِنَا غَدَاءَنَا لَقَدْ لَقِينَا مِنْ سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا} [الكهف: 62]، فَلَمْ يَجِدِ النَّصَبَ حَتَّى جَاوَزَ حَيْثُ أَمَرَهُ اللهِ. {قَالَ ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا} [الكهف: 64]، فَرَجَعَا يَقُصَّانِ آثَارَهُمَا حَتَّى انْتَهَيَا إِلَى الصَّخْرَةِ، وَكَانَ لِلْحُوتِ سَرَبًا، وَلَهُمَا عَجَبًا، فَإِذَا رَجُلٌ مُسَجًّى [نَائِمٌ](1)، فَسَلَّمَ مُوسَى، فَقَالَ لَهُ الْخَضِرُ: وَأَنَّى بِأَرْضِكَ السَّلَامُ أَوْ قَالَ بِأَرْضِي السَّلَامُ - الشَّكُّ مِنْ إِسْحَاقَ - فَقَالَ لَهُ مُوسَى: «أَنَا مُوسَى بَنِي إِسْرَائِيلَ، أَتَيْتُكَ لِتُعَلِّمَنِي مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا»، قَالَ: «إِنَّكَ عَلَى عِلْمٍ عَلَّمَكَهُ اللهِ لَا أَعْلَمُهُ، وَأَنَا عَلَى عِلْمٍ عَلَّمَنِيهِ لَا تَعْلَمُهُ أَنْتَ»، قَالَ: فَإِنِّي أتبعك على أن تعلمني مما علمت رشداً {قَالَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا (67) وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلَى مَا لَمْ تُحِطْ بِهِ خُبْرًا (68) قَالَ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا وَلَا أَعْصِي لَكَ أَمْرًا (69) قَالَ فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلَا تَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا} [الكهف: 67 - 70] فَانْطَلَقَا يَمْشِيَانِ إِلَى السَّاحِلِ فَعَرَفَ الْخَضِرُ، فَحَمَلَ بِغَيْرِ نَوْلٍ(2) فِي السَّفِينَةِ، فَلَمْ يَفْجَأْ إِلَّا وَالْخَضِرُ يُرِيدُ أَنْ يقلعَ لَوْحًا، فَقَالَ مُوسَى: {أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا (71) قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا (72) قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ} [الكهف: 71 - 73]. قَالَ: وَكَانَتِ الْأُولَى نِسْيَانًا، قَالَ: وَجَاءَ عُصْفُورٌ، فَوَقَعَ عَلَى حَرْفٍ مِنَ السَّفِينَةِ، فَنَقَرَ مِنَ الْبَحْرِ، فَقَالَ لَهُ الْخَضِرُ: مَا نقصَ عِلْمِي وَعِلْمُكَ مِنْ عِلْمِ اللهِ إِلَّا مَا نَقُصَ الْعُصْفُورُ مِنْ هَذَا الْبَحْرِ، فَلَمَّا خَرَجَا مِنَ الْبَحْرِ أَبْصَرَ غُلَامًا مِنَ الْغِلْمَانِ يَلْعَبُ فَتَنَاوَلَهُ فَقَطَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ مُوسَى: {أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُكْرًا (74) قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا (75) قَالَ إِنْ سَأَلْتُكَ عَنْ شَيْءٍ بَعْدَهَا فَلَا تُصَاحِبْنِي قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَدُنِّي عُذْرًا (76)

--------------------------------------------

(1) كذا في المخطوط، وانظر: «فتح الباري» (8/ 417).

(2) أي: بلا أجرة.
...শয়তানই আমাকে তা ভুলিয়ে দিয়েছিল।" [আল-কাহাফ: ৬৩] আয়াত। অতঃপর যখন পরদিন হলো, মূসা তাকে বললেন: "আমাদের সকালের খাবার নিয়ে এসো, আমরা আমাদের এই সফরে অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।" [আল-কাহাফ: ৬২]। আল্লাহ তাকে যেখানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই স্থানটি অতিক্রম করার আগে তিনি কোনো ক্লান্তি অনুভব করেননি। "তিনি বললেন: আমরা তো সেই স্থানটিই খুঁজছিলাম। অতঃপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে চললেন।" [আল-কাহাফ: ৬৪]। তারা নিজেদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে চললেন যতক্ষণ না সেই পাথরের কাছে পৌঁছালেন। মাছটি সুড়ঙ্গ করে (সমুদ্রে) চলে গিয়েছিল, যা তাদের উভয়ের জন্য ছিল বিস্ময়কর। সেখানে তারা চাদর আবৃত [নিদ্রিত](১) একজন ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন। মূসা সালাম দিলেন। খিজির তাকে বললেন: তোমার এই ভূমিতে সালাম কোত্থেকে এল? অথবা বললেন: আমার এই ভূমিতে সালাম কোত্থেকে এল? — এই সন্দেহ (شك) ইসহাকের পক্ষ থেকে হয়েছে। মূসা তাকে বললেন: "আমি বনী ইসরাঈলের মূসা। আমি আপনার কাছে এসেছি যেন আপনি আমাকে সেই সঠিক পথের জ্ঞান শিক্ষা দেন, যা আপনাকে শেখানো হয়েছে।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আপনি এমন এক জ্ঞানের ওপর আছেন যা আল্লাহ আপনাকে শিখিয়েছেন, যা আমি জানি না; আর আমি এমন এক জ্ঞানের ওপর আছি যা তিনি আমাকে শিখিয়েছেন, যা আপনি জানেন না।" তিনি (মূসা) বললেন: আমি কি আপনার অনুসরণ করব এই শর্তে যে, আপনাকে যা শেখানো হয়েছে তা থেকে আপনি আমাকে সঠিক পথের শিক্ষা দেবেন? "তিনি বললেন: আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না। আর আপনি সে বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করবেন কী করে, যা আপনার জ্ঞানায়ত্ত নয়? মূসা বললেন: ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোনো আদেশ অমান্য করব না। তিনি বললেন: তবে আপনি যদি আমার অনুসরণ করেন, তাহলে কোনো বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না যতক্ষণ না আমি নিজেই সে বিষয়ে আপনাকে কিছু বলি।" [আল-কাহাফ: ৬৭-৭০]। অতঃপর তারা সমুদ্রতীর ধরে হাঁটতে লাগলেন। খিজিরকে চেনা গেল, তাই কোনো পারিশ্রমিক(২) ছাড়াই তাদের নৌকায় তুলে নেওয়া হলো। হঠাৎ দেখা গেল খিজির নৌকার একটি তক্তা উপড়ে ফেলার ইচ্ছা করছেন। মূসা বললেন: "আপনি কি এর আরোহীদের ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য এতে ছিদ্র করে দিলেন? আপনি তো এক গুরুতর কাজ করেছেন! তিনি বললেন: আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না? মূসা বললেন: আমার বিস্মৃতির জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না।" [আল-কাহাফ: ৭১-৭৩]। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: প্রথমবারটি ছিল ভুলবশত। তিনি বললেন: এরপর একটি চড়ুই পাখি এল এবং নৌকার কিনারায় বসে সমুদ্র থেকে এক চঞ্চু পানি পান করল। তখন খিজির তাকে বললেন: আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় আমার এবং আপনার জ্ঞান ঠিক ততটুকুই, যতটুকু এই চড়ুই পাখিটি সমুদ্র থেকে পানি কমিয়ে দিল। যখন তারা সমুদ্র থেকে বের হয়ে এলেন, তখন তিনি বালকদের মধ্যে এক কিশোরকে খেলতে দেখলেন। তিনি তাকে ধরলেন এবং তার মাথা কেটে ফেললেন। মূসা বললেন: "আপনি কি একটি নিষ্পাপ প্রাণকে কোনো প্রাণের বিনিময় ছাড়াই হত্যা করলেন? আপনি তো এক অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছেন! তিনি বললেন: আমি কি আপনাকে বলিনি যে, আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না? মূসা বললেন: এরপর যদি আমি আপনাকে আর কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি, তবে আপনি আমাকে আর সাথে রাখবেন না। নিশ্চয়ই আপনি আমার পক্ষ থেকে ওজর বা কৈফিয়তের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছেন।" [আল-কাহাফ: ৭৪-৭৬]

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই রয়েছে; দেখুন: ফাতহুল বারী (৮/৪১৭)।

(২) অর্থাৎ: পারিশ্রমিক ছাড়াই।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٣٠)
فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمَا فَوَجَدَا جِدَارًا يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَّ} [الكهف: 75 - 77]، فَقَالَ الْخَضِرُ: هَكَذَا بِيَدِهِ، فَأَقَامَهُ، فَقَالَ لَهُ مُوسَى: أَتَيْنَا أَهْلَ هَذِهِ الْقَرْيَةِ، فَلَمْ يُضَيِّفُونَا، فَلَوِ اتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا، قَالَ: {هَذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا (78) أَمَّا السَّفِينَةُ} [الكهف: 78، 79] تَلَا الْآيَاتِ.

قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «وَدِدْنَا أَنَّهُ كَانَ صَبَرَ حَتَّى يُقَصَّ عَلَيْنَا مِنْ خَبَرِهِمَا» قَالَ: وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقْرَأُ: «وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ كَافِرًا» قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: «وَكَانَ أَمَامَهُمْ مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ صَالِحَةٍ غَصْبًا»(1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (4725)، ومسلم (2380)، نحوه.

محمد بن نعيم بن عبد الله اثنان:

أحدهما: من رجال التهذيب وقال فيه الحافظ: مجهول من السابعة كما في «التقريب».

والثاني: ترجمه الحاكم كما في «تلخيص تاريخ نيسابور» (ص/ 54) وقال فيه: من أعيان المحدثين الثقات الأثبات.

ويفرق بينهما بأمور:

1 - الطبقة: فالأول من السابعة والثاني تقريباً من الحادية عشرة.

2 - الشيوخ: فالأول يروي عن أبيه والثاني عن إسحاق الحنظلي وابن أبي عمر.

3 - الكنية: فالأول أبو عبد الله المدني المجمر والثاني أبو بكر النيسابوري.

4 - الأول مجهول والثاني وثقه الحاكم.

* وأبو العباس هو مُحَمَّدُ بنُ أَحْمَدَ بنِ حَمْدَانَ الحِيرِيُّ روى عنه جمع ونعته الذهبي فقال: الإمام، الحافظ، أبو العباس النيسابوري محدث خوارزم. وكان حافظا للقرآن، عارفا بالحديث، والتاريخ، والرجال، والفقه، كافا عن الفتوى.

وقال: وكان مؤتمنا عند الأمراء والكبراء، يقوم بالأمور الخطيرة، وكانت الأمتعة النفيسة تأتيه من كل جانب، وكان ورعًا في معاملاته، كبير القدر، جعل ناظرًا للجامع، فعمره.

والبرقاني سبقت ترجمته.
অতঃপর তারা চলতে লাগলেন, যতক্ষণ না তারা এক জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌঁছালেন। তারা জনপদবাসীদের কাছে খাবার চাইলেন, কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারি করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা সেখানে একটি প্রাচীর দেখতে পেলেন যা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল [আল-কাহফ: ৭৫-৭৭]। তখন খিজির (আ.) তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করলেন এবং ওটাকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলেন। মূসা (আ.) তাঁকে বললেন: 'আমরা এই জনপদের লোকদের কাছে আসলাম, অথচ তারা আমাদের মেহমানদারি করল না; আপনি চাইলে এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন।' তিনি বললেন: '{এটিই আমার ও তোমার মধ্যে বিচ্ছেদের সময়। যে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধরতে পারোনি, আমি অচিরেই তার ব্যাখ্যা তোমাকে জানিয়ে দিচ্ছি (৭৮)। আর নৌকাটির ব্যাপার ছিল এই যে...} [আল-কাহফ: ৭৮, ৭৯]'—এভাবে তিনি আয়াতগুলো পাঠ করলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমরা আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম যে, তিনি (মূসা আ.) যদি ধৈর্য ধরতেন, তবে আমাদের কাছে তাদের আরও খবর বর্ণনা করা হতো।» বর্ণনাকারী বলেন: ইবনে আব্বাস (রা.) পাঠ করতেন: «আর বালকটি ছিল কাফির (كافرًا)»। ইবনে আব্বাস (রা.) আরও বলেন: «তাদের সামনে এক বাদশাহ ছিল, যে প্রতিটি ত্রুটিমুক্ত নৌকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিত»(১)।

--------------------------------------------

(১) বুখারী (৪৭২৫) এবং মুসলিম (২৩৮০) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মদ বিন নুআইম বিন আবদুল্লাহ নামে দুইজন ব্যক্তি রয়েছেন:

প্রথমজন: তাহজীব-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। আল-হাফিজ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি সপ্তম স্তরের (من السابعة) একজন অপরিচিত (مجهول) রাবী, যেমনটি তাক্বরীব-এ বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয়জন: আল-হাকিম তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন, যেমনটি তালখীস তারিখ নিশাপুর-এ (পৃষ্ঠা: ৫৪) রয়েছে। তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি বিশিষ্ট নির্ভরযোগ্য (الثقات) ও সুদৃঢ় (الأثبات) হাদিস বিশারদদের (المحدثين) অন্তর্ভুক্ত।

তাঁদের উভয়ের মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে পার্থক্য করা হয়:

১ - স্তর (الطبقة): প্রথমজন সপ্তম স্তরের এবং দ্বিতীয়জন আনুমানিক একাদশ স্তরের।

২ - শিক্ষকগণ (الشيوخ): প্রথমজন তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন; আর দ্বিতীয়জন ইসহাক আল-হানজালি এবং ইবনে আবি উমর থেকে বর্ণনা করেন।

৩ - উপনাম (الكنية): প্রথমজনের উপনাম হলো আবু আবদুল্লাহ আল-মাদানি আল-মুজাম্মির; আর দ্বিতীয়জনের উপনাম হলো আবু বকর আন-নিশাপুরি।

৪ - প্রথমজন অপরিচিত (مجهول), আর দ্বিতীয়জনকে আল-হাকিম নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন।

* আর আবু আল-আব্বাস হলেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হামদান আল-হিরি। তাঁর থেকে একদল রাবী বর্ণনা করেছেন। আয-যাহাবী তাঁর গুণাবলি বর্ণনা করে বলেছেন: তিনি ইমাম (الإمام), হাফিজ (الحافظ), আবু আল-আব্বাস আন-নিশাপুরি, খাওয়ারিজমের হাদিস বিশারদ (محدث)। তিনি কুরআনের হাফিজ ছিলেন এবং হাদিস, ইতিহাস, রাবী মূল্যায়ন শাস্ত্র (الرجال) ও ফিকহ (الفقه) বিষয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন এবং ফতোয়া প্রদান থেকে বিরত থাকতেন।

তিনি আরও বলেছেন: তিনি আমীর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে আমানতদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তদারকি করতেন। সবদিক থেকে তাঁর কাছে মূল্যবান উপঢৌকন আসত। তিনি তাঁর লেনদেনে অত্যন্ত তাকওয়াবান (ورعًا) ছিলেন এবং উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তাঁকে জামে মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করা হয়েছিল এবং তিনি তা সংস্কার করেছিলেন।

আর আল-বারকানি-এর জীবনী ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٣١)
30 - أَخْبَرَنِي أَبُو الْقَاسِمِ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ النَّجَّارُ: ثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَدَّادٍ الْمُطَرَّزُ، ثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، ثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، ثَنَا يَعْقُوبُ الْقُمِّيُّ، ثَنَا هَارُونُ بْنُ عَنْتَرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: سَأَلَ مُوسَى عليه السلام رَبَّهُ، فَقَالَ: أَيْ رَبِّ أَيُّ عِبَادِكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: الَّذِي يَذْكُرُنِي، وَلَا يَنْسَانِي، قَالَ: رَبِّ فَأَيُّ عِبَادِكَ أَعْلَمُ؟ قَالَ: الَّذِي يَبْتَغِي عِلْمَ النَّاسِ إِلَى عِلْمِهِ عَسَى أَنْ يُصِيبَ كَلِمَةً تَهْدِيهِ إِلَى هُدًى أَوْ تَرُدُّهُ عَنْ رَدى، قَالَ: رَبِّ، فَأَيُّ عِبَادِكَ أَقْضَى؟، قَالَ: الَّذِي يَقْضِي بِالْحَقِّ، وَلَا يَتَّبِعُ الْهَوَى، قَالَ: وَمَنْ ذَاكَ يَا رَبِّ؟ قَالَ: ذَاكَ الْخَضِرُ، قَالَ: وَأَيْنَ أَطْلُبُهُ؟ قَالَ: عَلَى السَّاحِلِ عِنْدَ الصَّخْرَةِ الَّتِي يَنْقَلِبُ عِنْدَهَا الْحُوتُ، قَالَ: فَخَرَجَ مُوسَى يَطْلُبُهُ حَتَّى كَانَ مِنْهُ مَا ذَكَرَ اللهِ تَعَالَى، فَانْتَهَى مُوسَى إِلَيْهِ عِنْدَ الصَّخْرَةِ، فَسَلَّمَ كُلُّ وَاحِدٍ [مِنْهُمَا](1) عَلَى صَاحِبِهِ، فَقَالَ لَهُ مُوسَى: إِنِّي أُحِبُّ أَنْ تَصْحَبَنِي، قَالَ: إِنَّكَ لَنْ تُطِيقَ صُحْبَتِي، قَالَ: بَلَى، قَالَ: فَإِنْ صَحِبْتَنِي، {فَلَا تَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا (70) فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا رَكِبَا فِي السَّفِينَةِ خَرَقَهَا قَالَ أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا (71) قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا (72) قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ وَلَا تُرْهِقْنِي مِنْ

--------------------------------------------

(1) في (ط): «منها» وهو خطأ.
৩০ - আবু আল-কাসিম উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আন-নাজ্জার আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني): আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাদ্দাদ আল-মুতাররিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আবু আর-রাবী‘ আজ-জাহরানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), ইয়াকুব আল-কুম্মি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), হারুন ইবনে আনতারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), তাঁর পিতা থেকে, ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর রবের নিকট আরজ করলেন এবং বললেন: হে রব! আপনার বান্দাদের মধ্যে আপনার নিকট সবচেয়ে বেশি প্রিয় কে? তিনি বললেন: যে আমাকে স্মরণ করে এবং আমাকে ভুলে যায় না। তিনি বললেন: হে রব! তবে আপনার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্ঞানী কে? তিনি বললেন: যে নিজের জ্ঞানের সাথে মানুষের জ্ঞান অন্বেষণ করে, এই প্রত্যাশায় যে সে এমন কোনো বাক্য পেয়ে যাবে যা তাকে সঠিক পথের দিশা দেবে অথবা তাকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করবে। তিনি বললেন: হে রব! তবে আপনার বান্দাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক কে? তিনি বললেন: যে ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করে এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করে না। তিনি বললেন: হে রব, তিনি কে? তিনি বললেন: তিনি হলেন খিজির। তিনি বললেন: আমি তাঁকে কোথায় তালাশ করব? তিনি বললেন: সমুদ্র উপকূলে সেই পাথরের নিকট যার কাছে মাছটি ফিরে যাবে। তিনি বলেন: অতঃপর মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর সন্ধানে বের হলেন, এমনকি তাঁর সাথে সেই ঘটনা ঘটল যা মহান আল্লাহ উল্লেখ করেছেন। মুসা (আলাইহিস সালাম) সেই পাথরের নিকট তাঁর কাছে পৌঁছালেন। তখন তাঁদের প্রত্যেকে [উভয়ের মধ্য থেকে](১) একে অপরকে সালাম দিলেন। মুসা তাঁকে বললেন: আমি পছন্দ করি যে আপনি আমাকে আপনার সঙ্গী করবেন। তিনি বললেন: আপনি আমার সাহচর্যে ধৈর্য ধরতে সমর্থ হবেন না। তিনি বললেন: অবশ্যই (পারব)। তিনি বললেন: যদি আপনি আমার সঙ্গী হন, {তবে আপনি আমাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করবেন না, যতক্ষণ না আমি আপনার কাছে সে বিষয়ে কোনো আলোচনা করি (৭০) অতঃপর তারা উভয়ে চলতে লাগলেন, অবশেষে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করলেন, তিনি সেটি ছিদ্র করে দিলেন। মুসা বললেন: আপনি কি এটি ছিদ্র করলেন যাতে এর আরোহীদের ডুবিয়ে দিতে পারেন? আপনি তো এক গুরুতর কাজ করেছেন (৭১) তিনি বললেন: আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না? (৭২) মুসা বললেন: আমার বিস্মৃতির জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না এবং আমার বিষয়ে আমার ওপর কঠোরতা করবেন না...

--------------------------------------------

(১) ‘ত’ (ط) পাণ্ডুলিপিতে: «মিনহা» রয়েছে, যা একটি ভুল (خطأ)।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস (পৃষ্ঠা: ٣٢)
أَمْرِي عُسْرًا (73) فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا لَقِيَا غُلَامًا فَقَتَلَهُ قَالَ أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُكْرًا (74) قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا (75) قَالَ إِنْ سَأَلْتُكَ عَنْ شَيْءٍ بَعْدَهَا فَلَا تُصَاحِبْنِي قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَدُنِّي عُذْرًا (76) فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمَا فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارًا يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَّ فَأَقَامَهُ قَالَ لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا (77) قَالَ هَذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا} [الكهف: 70 - 78] قَالَ: فَأَخْبَرَهُ بِمَا قَالَ اللهِ تَعَالَى، فَسَارَ بِهِ فِي الْبَحْرِ حَتَّى انْتَهَى إِلَى مَجْمَعِ [الْبُحُورِ](1)، قَالَ: يَا مُوسَى هَلْ تَدْرِي أَيُّ مَكَانٍ هَذَا؟ قَالَ: لَا، قَالَ: هَذَا مَجْمَعُ الْبُحُورِ، لَيْسَ فِي الْأَرْضِ مَكَانٌ أَكْثَرُ مَاءً مِنْ هَذَا، قَالَ: وَبَعَثَ رَبُّكَ الْخُطَّافَ، فَجَعَلَ يُسْتَقَى مِنَ الْمَاءِ بِمِنْقَارِهِ، قَالَ: «يَا مُوسَى، كَمْ تَرَى هَذَا الْخُطَّافَ رُزِئَ مِنْ [هَذَا](2) الْمَاءِ»؟ قَالَ: «مَا أَقَلَّ مَا رُزِئَ»، قَالَ: «فَإِنَّ عِلْمِي وَعِلْمَكَ فِي عِلْمِ اللهِ كَقَدْرِ مَا حَمَلَ هَذَا الْخُطَّافُ مِنْ هَذَا الْمَاءِ»(3).

وَقَدْ كَانَ مُوسَى قَدْ حَدَّثَ نَفْسَهُ بِأَنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ أَعْلَمَ مِنْهُ أَوْ تَكَلَّمَ بِهِ، مِنْ ثَمَّ أُمِرَ أَنْ يَأْتِيَ الْخَضِرَ.

قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ: إَنَّ فِيمَا عَانَاهُ مُوسَى مِنَ الدَّأَبِ وَالسَّفَرِ وَصَبَرَ عَلَيْهِ مِنَ التَّوَاضُعِ وَالْخُضُوعِ لِلْخضرِ بَعْدَ مُعَانَاةِ قَصْدِهِ مَعَ مَحِلِّ مُوسَى مِنَ

--------------------------------------------

(1) في (ب): «البحرين».

(2) من (ب).

(3) إسناده ضعيف: أخرجه الطبري في «التفسير» (23369)، عن ابن حميد عن يعقوب القمي به. وابن حميد هو محمد بن حميد الرازي ضعيف، وأبو الحسن علي بن محمد بن شداد المطرز ترجمه ابن النجار في «ذيل تاريخ بغداد» (4/ 95) ولم يذكر فيه جرحاً ولا تعديلاً.
...আমার বিষয়ে কঠিন অবস্থার সৃষ্টি করো না (৭৩)। অতঃপর তারা পথ চলতে লাগল, যতক্ষণ না তারা এক বালকের সাক্ষাৎ পেল, তখন সে তাকে হত্যা করল। মুসা বলল: ‘আপনি কি একটি নিষ্পাপ প্রাণের বিনিময় ছাড়াই একটি পবিত্র আত্মাকে হত্যা করলেন? আপনি তো এক অত্যন্ত গর্হিত কাজ করলেন!’ (৭৪) সে বলল: ‘আমি কি আপনাকে বলিনি যে, আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য ধরতে পারবেন না?’ (৭৫) মুসা বলল: ‘এরপর যদি আমি আপনাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে আপনি আমাকে আর সাথে রাখবেন না; আপনি আমার পক্ষ থেকে ওজর লাভ করার পর্যায়ে পৌঁছেছেন।’ (৭৬) অতঃপর তারা চলতে লাগল, যতক্ষণ না তারা এক জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌঁছাল, তারা তাদের কাছে খাবার চাইল, কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারি করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা সেখানে একটি প্রাচীর দেখতে পেল যা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন সে তা সোজা করে দিল। মুসা বলল: ‘আপনি ইচ্ছা করলে এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন।’ (৭৭) সে বলল: ‘এটাই আমার ও আপনার মধ্যে বিচ্ছেদ। আমি আপনাকে সেই বিষয়গুলোর তাৎপর্য জানিয়ে দিচ্ছি, যেগুলোতে আপনি ধৈর্য ধরতে পারেননি।’ (৭৮)} [আল-কাহাফ: ৭০ - ৭৮] তিনি বললেন: অতঃপর তিনি তাকে তা অবহিত করলেন যা আল্লাহ তাআলা বলেছিলেন। তারপর তিনি তাকে নিয়ে সমুদ্রে যাত্রা করলেন যতক্ষণ না তিনি [সমুদ্রসমূহের](১) সঙ্গমস্থলে পৌঁছালেন। তিনি বললেন: ‘হে মুসা, আপনি কি জানেন এটি কোন জায়গা?’ তিনি বললেন: ‘না।’ তিনি বললেন: ‘এটি সমুদ্রসমূহের সঙ্গমস্থল, পৃথিবীতে এর চেয়ে বেশি পানি আর কোথাও নেই।’ তিনি বললেন: ‘আর আপনার রব একটি ফিঙ্গে পাখি পাঠালেন, সেটি তার ঠোঁট দিয়ে পানি পান করতে লাগল।’ তিনি বললেন: ‘হে মুসা, আপনি কি দেখছেন এই পাখিটি [এই](২) পানি থেকে কতটুকু কমালো?’ তিনি বললেন: ‘খুবই সামান্য যা সে কমিয়েছে।’ তিনি বললেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার জ্ঞানের তুলনায় আমার ও আপনার জ্ঞান ঠিক ততটুকু, যতটুকু এই পাখিটি এই পানি থেকে গ্রহণ করেছে’(৩)।

মুসা (আ.) মনে মনে ভেবেছিলেন যে, তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কেউ নেই অথবা তিনি তা মুখে প্রকাশ করেছিলেন, এ কারণেই তাকে খিজিরের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

কোনো কোনো আলিম বলেছেন: মুসা (আ.) যে পরিশ্রম ও সফর করেছেন এবং খিজিরের কাছে যে বিনয় ও আনুগত্যের সাথে ধৈর্য ধারণ করেছেন, মুসার সুউচ্চ মাকাম থাকা সত্ত্বেও...

--------------------------------------------

(১) (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «দুই সমুদ্রের»।

(২) (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(৩) এর ইসনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف): আল-তবারি এটি ‘তফসির’-এ (২৩৩৬৯) বর্ণনা করেছেন, ইবন হুমাইদ থেকে, তিনি ইয়াকুব আল-কুম্মি সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইবন হুমাইদ হলেন মুহাম্মদ ইবন হুমাইদ আল-রাজি, যিনি দুর্বল (ضعيف)। এবং আবু আল-হাসান আলি ইবন মুহাম্মদ ইবন শাদ্দাদ আল-মুতাররিজ-এর জীবনী ইবন আল-নাজ্জার ‘যাইল তারিখ বাগদাদ’ (৪/৯৫) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে তার সম্পর্কে কোনো সমালোচনা (جرح) বা প্রশংসা (تعديل) উল্লেখ করেননি।