(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: -)
الرحلة في طلب الحديث - ت أبي أويس القسم: علوم الحديث
الكتاب: الرحلة في طلب الحديث
المؤلف: الخطيب البغدادي
حققه وعلق عليه: أبو أويس الكردي
راجعه وقدم له: مصطفى بن العدوى
الناشر: مكتبة ابن تيمية، القاهرة - مصر
الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م
عدد الصفحات: 74
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 رمضان 1445
আর-রিহলা ফি তলাবিল হাদিস - তাহকিক: আবু উওয়াইস বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
গ্রন্থ: আর-রিহলা ফি তলাবিল হাদিস
লেখক: আল-খাতিব আল-বাগদাদি
তাহকিক ও টীকা: আবু উওয়াইস আল-কুর্দি
পর্যবেক্ষণ ও ভূমিকা: মুস্তাফা বিন আল-আদাওয়ি
প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া, কায়রো - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৪
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ রমজান ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٣)
تقديمالحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وبعد:
فهذا كتاب «الرحلة في طلب الحديث» للخطيب البغدادي رحمه الله، قام أخي في الله/ أبو أويس أشرف بن نصر بن صابر كرد بضبط متنه وتخريج أحاديثه والآثار التي فيه.
وقام أيضا بتذيلين: الأول: في رِحْلات الفضلاء، والثاني: في تراجم شيوخ الخطيب في الرحلة.
وقد نظرت في عمله فألفيته ولله الحمد نافعًا موفقًا بعد مراجعتي له.
فالله أسألُ أن يجازيه خيرًا وأن يسدده.
وصل اللهم على نبينا محمد وسلم
والحمد لله رب العالمين
كتبه/ أبو عبد الله مصطفى العدوي
উপস্থাপনাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। অতঃপর:
এটি খতিব আল-বাগদাদি (রহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘আর-রিহলা ফি তালাবিল হাদিস’ গ্রন্থ; আমার দ্বীনি ভাই আবু উওয়াইস আশরাফ বিন নাসর বিন সাবির কুর্দ এর মূল পাঠ বা মতন (متن) এর নির্ভুলতা যাচাই (ضبط) এবং এতে বর্ণিত হাদিস ও আসার (آثار) সমূহের উৎস নির্দেশ (تخريج) সম্পন্ন করেছেন।
তিনি এতে দুটি পরিশিষ্টও যুক্ত করেছেন: প্রথমটি মহীয়ান ব্যক্তিদের ইলমি সফর সম্পর্কে এবং দ্বিতীয়টি এই সফরে খতিবের উস্তাদগণের জীবনী (تراجم) সম্পর্কে।
আমি তার এই কাজটির প্রতি দৃষ্টিপাত করেছি এবং পর্যালোচনার পর আলহামদুলিল্লাহ এটিকে অত্যন্ত উপকারী ও যথাযথ মনে করেছি।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
হে আল্লাহ, আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন
এবং সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য
লিখেছেন/ আবু আব্দুল্লাহ মুস্তফা আল-আদাউয়ি
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٤)
المقدمةإِنَّ الحَمْدَ لِلهِ تَعَالَى، نَحْمَدُه، وَنَسْتَعِينُهُ، وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بالِلهِ من شُرُور أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْد اللهُ فَلا مُضِلّ لَه، ومَن يُضْلِل فَلا هَادِي لَه، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَه إلا اللهُ، وَحْدَهُ لَا شَريك لَه، وَأَشْهَدُ أَنَّ محمدًا عَبْدُهُ ورسولُهُ.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71].
أما بعد:
فَإنَّ أصدقَ الْحَدِيث كِتَابُ الله، وَخَيْرَ الْهَدْي هَدْي مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَشَرّ الأُمُور مُحْدَثَاتُهَا، وَكل مُحْدَثَةٍ بِدْعَة، وَكل بِدْعَةٍ ضلالة
(1).
--------------------------------------------
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না} [আল ইমরান: ১০২]।
{হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট হক দাবি করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজনের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} [আন নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক ও সত্য কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল} [আল আহযাব: ৭০, ৭১]।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হচ্ছে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই হলো বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই হলো ভ্রষ্টতা
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٥)
وبعد:
فالحديث عن العلم حديث تحبه النفوس المؤمنة، وترغبه الأنفس الطموحة، وتهواه العقول النيرة؛ لأنه من أعظم العبادات، وأجل القربات، وسبيل تحصيله طريق الجنات.
والعلم حياة القلوب، ونور البصائر، وشفاء الصدور، ودليل الحائرين، والحاجة إليه أعظم من الحاجة إلى الطعام والشراب.
فبالعلم يعبدُ اللهَ حقاً، وبه يتبع النبي صلى الله عليه وسلم صدقاً، وبه ترتفع الدرجات والمنازل في الدنيا والآخرة، قال تعالى: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} [المجادلة: 11]، وقال تعالى: {نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مَنْ نَشَاءُ إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيمٌ} [يوسف: 76].
وعَنْ عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ أَنَّ نَافِعَ بْنَ عَبْدِ الْحَارِثِ لَقِيَ عُمَرَ بِعُسْفَانَ - وَكَانَ عُمَرُ يَسْتَعْمِلُهُ عَلَى مَكَّةَ - فَقَالَ: مَنِ اسْتَعْمَلْتَ عَلَى أَهْلِ الْوَادِ ي؟ فَقَالَ: ابْنَ أَبْزَى. قَالَ: وَمَنِ ابْنُ أَبْزَى؟ قَالَ: مَوْلًى مِنْ مَوَالِينَا. قَالَ: فَاسْتَخْلَفْتَ عَلَيْهِمْ مَوْلًى؟ قَالَ: إِنَّهُ قَارِئٌ لِكِتَابِ اللهِ عز وجل، وَإِنَّهُ عَالِمٌ بِالْفَرَائِضِ. قَالَ عُمَرُ: أَمَا إِنَّ نَبِيَّكُمْ صلى الله عليه وسلم قَدْ قَالَ: «إِنَّ اللهِ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ»
(1).
--------------------------------------------
এরপর:
জ্ঞান সম্পর্কে আলোচনা এমন এক আলোচনা যা মুমিন আত্মাসমূহ ভালোবাসে, উচ্চাভিলাষী প্রাণসমূহ কামনা করে এবং আলোকিত বিবেকসমূহ পছন্দ করে; কারণ এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত, অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ নেক আমল এবং তা অর্জনের পথ হলো জান্নাতের পথ।
জ্ঞান হলো হৃদয়ের জীবন, অন্তর্দৃষ্টির জ্যোতি, বক্ষসমূহের আরোগ্য এবং পথভ্রান্তদের পথপ্রদর্শক। জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা খাদ্য ও পানীয়ের প্রয়োজনীয়তার চেয়েও অধিক।
জ্ঞানের মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলার যথাযথ ইবাদত করা হয়, এর মাধ্যমেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রকৃত অনুসরণ করা হয় এবং এর মাধ্যমেই দুনিয়া ও আখিরাতে মর্যাদা ও উচ্চাসন বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন} [আল-মুজাদালা: ১১], আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: {আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নত করি। নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী} [ইউসুফ: ৭৬]।
আমির ইবনে ওয়াসিলা থেকে বর্ণিত যে, নাফি ইবনে আব্দুল হারিস ‘উসফান’ নামক স্থানে উমর (রা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন—আর উমর (রা.) তাকে মক্কার গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। উমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন: আপনি উপত্যকাবাসীদের ওপর কাকে দায়িত্ব দিয়ে এসেছেন? তিনি বললেন: ইবনে আবজাকে। উমর (রা.) বললেন: ইবনে আবজা কে? তিনি উত্তর দিলেন: আমাদের একজন আযাদকৃত দাস (مولى)। উমর (রা.) বললেন: আপনি কি তাদের ওপর একজন আযাদকৃত দাসকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করে এসেছেন? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তিনি মহান আল্লাহর কিতাবের ক্বারী এবং উত্তরাধিকার আইন (فرائض) সম্পর্কে অভিজ্ঞ। উমর (রা.) বললেন: জেনে রেখো, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ এই কিতাবের মাধ্যমে কোনো কোনো জাতির মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং এর মাধ্যমেই অন্যদের নিম্নগামী করেন»
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٦)
وعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ: اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا»
(1).
وقد قال الشافعي رحمه الله
(2):
تَعَلَّمْ، فَلَيْسَ المَرْءُ يُولَدُ عالِماً
… ولَيْسَ أَخُو عِلْمٍ كمَنْ هو جاهِلُ
وإنَّ كَبِيَر القومِ لا عِلْمَ عِنْدَهُ
… صَغِيرٌ إذا الْتَفَّتْ عليه المَحافِلُ
وإِن صغيرَ القومِ إِنْ كانَ عالماً
… كبيرٌ إِذا ردت إِليه المحافلُ
فلهذا الفضل ولغيره رحل الأنبياء والعلماء والطلاب في تحصيل هذا الزاد النفيس.
ولأهمية هذا الموضوع ومكانته قمت بتحقيق هذا الكتاب القيم في بابه، رغم نزول أسانيده ومشقة البحث عنها، إلا أن الله تعالى أعان على خدمة الكتاب خدمة حديثية، ثم جاء دور المخطوط الذي ظل البحث في طلبه زمناً يقارب السنة، وهذا وصفه بين يديك.
--------------------------------------------
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «কুরআনের সাথীকে বলা হবে: তুমি পাঠ করো এবং আরোহণ করো, আর তারতীলের সাথে পাঠ করো যেভাবে তুমি দুনিয়াতে তারতীলের সাথে পাঠ করতে। নিশ্চয়ই তোমার অবস্থান হবে সেই শেষ আয়াতের নিকট যা তুমি পাঠ করবে।»
(১).
ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন
(২):
শিক্ষা অর্জন করো, কেননা কেউ জ্ঞানী হয়ে জন্মগ্রহণ করে না
… আর জ্ঞানী ব্যক্তি অজ্ঞ ব্যক্তির সমান নয়।
গোত্রের প্রধানও যদি জ্ঞানহীন হয়
… তবে সমাবেশ যখন তাকে ঘিরে ধরে তখন সে অতি ক্ষুদ্র (নগণ্য)।
পক্ষান্তরে গোত্রের ছোট কেউ যদি জ্ঞানী হয়
… তবে যখন সমাবেশের দৃষ্টি তার দিকে ফিরে আসে, তখন সে অতি মহান।
এই মর্যাদা এবং অন্যান্য কারণে নবীগণ, ওলামায়ে কেরাম এবং শিক্ষার্থীরা এই মূল্যবান পাথেয় অর্জনে সফর করেছেন।
এই বিষয়ের গুরুত্ব ও মর্যাদার কারণে আমি নিজ শাস্ত্রের এই মূল্যবান কিতাবটি তাহকিক করেছি, যদিও এর সনদগুলো নিম্নমুখী (نزول) এবং সেগুলো অনুসন্ধান করা কষ্টসাধ্য ছিল। তবুও আল্লাহ তাআলা কিতাবটির হাদিস বিষয়ক খিদমতে সাহায্য করেছেন। এরপর পাণ্ডুলিপির সন্ধানের পালা এল, যার অনুসন্ধানে প্রায় এক বছর সময় ব্যয় হয়েছে; আর এর বর্ণনা আপনার সম্মুখে উপস্থাপন করা হলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٧)
عملي في هذا السفر1 - ضبطت نصه على مخطوطتين ومطبوعة، أما المخطوطتان فمن دارالكتب الظاهرية بدمشق وتقع الأولى في (9) ورقات في كل ورقة صفحتان ورمزت لها ب (أ)، والثانية تقع في (35) صحيفة، ورمزت إليها ب (ب)، وأما المطبوعة فمطبوعة نور الدين عتر حفظه الله، وإليها الرمز ب (ط) وهي أفضل طبعة وقفت عليها لهذا الكتاب، وقد استفدت من ضبطه وعلمه كثيراً إلا أنه لا يخلو كتاب من خطأ إلا كتاب الله تعالى، وعند مقابلة الكتاب وقفت على بعض الأخطاء المؤثرة وهي:
| الخطأ | الصواب | الصحيفة |
| أبو الحسين | أبو الحسن | 86 |
| أبو جعفر | أبو حفص | 167 |
| أحمد بن يوسف | أحمد بن يونس | 92 |
| البهراني | الهراني | 86 |
| سقطت كلمة (قلت) | - | 87 |
এই গ্রন্থে আমার কর্মপদ্ধতি১ - আমি এর পাঠ্যলিপি দুটি পাণ্ডুলিপি ও একটি মুদ্রিত কপির আলোকে সুবিন্যস্ত (ضبط) করেছি। পাণ্ডুলিপি দুটির উৎস হলো দামেস্কের দারুল কুতুব আল-জাহিরিয়্যাহ; প্রথমটি ৯টি পত্র (Folio) সংবলিত এবং এর প্রতি পত্রে দুটি করে পৃষ্ঠা রয়েছে, আমি একে (أ) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি। দ্বিতীয়টি ৩৫ পৃষ্ঠার এবং একে আমি (ب) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি। আর মুদ্রিত কপিটি হলো শায়খ নূরুদ্দীন ইতর (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) সম্পাদিত সংস্করণ, যাকে (ط) সংকেত প্রদান করা হয়েছে। এটি আমার দেখা এই গ্রন্থের সর্বোত্তম সংস্করণ। আমি তাঁর পাঠ-সম্পাদনা ও ইলম থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছি; তবে মহান আল্লাহর কিতাব ব্যতীত কোনো কিতাবই ভুলত্রুটিমুক্ত নয়। গ্রন্থটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখার (مقابلة) সময় আমি কিছু উল্লেখযোগ্য ভুলের সম্মুখীন হয়েছি, সেগুলো হলো:
| ভুল | সঠিক | পৃষ্ঠা |
| আবু আল-হুসাইন | আবু আল-হাসান | ৮৬ |
| আবু জা'ফর | আবু হাফস | ১৬৭ |
| আহমাদ বিন ইউসুফ | আহমাদ বিন ইউনুস | ৯২ |
| আল-বাহরানি | আল-হাররানি | ৮৬ |
| 'আমি বলেছি' (قلت) শব্দটি বাদ পড়েছে | - | ৮৭ |
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٨)
2 - حكمت على الأحاديث والآثار الواردة بما تستحقه صحة أو ضعفاً.
3 - بينت بعض مفردات الغريب.
4 - ذيلت الكتاب بتذييلين:
الأول: سميته «الشعلة في شيوخ الخطيب في الرحلة» وذلك أني في بداية تحقيقي لهذا الكتاب طرحت على أخي وابن عمي الشيخ ياسر بن محمود الكردي حفظه الله أن يجمع شيوخ الخطيب في موسوعة علمية فلبى وأوشك على الانتهاء، وأذن لي في تمحيض واقتضاب شيوخ الخطيب في الرحلة من موسوعته حتى تعم الفائدة فجزاه الله خيراً.
والثاني: سميته: «رحلة الفضلاء كما وردت بها الأنباء»؛ وهو مشتمل على صور من رحلات من قبلنا، وأيضاً من رحلات الصحابة والتابعين ومن بعدهم حتى عصر الخطيب البغدادي رحمه الله تعالى.
وقام على نشره فضيلة الشيخ عبد الفتاح الزيني صاحب مكتبة ابن تيمية بمصر - حفظه الله - وهي من أوائل المكتبات التي تقوم على نشر السنةوإحياء التراث، ودائماً مطبوعات كل دار عنوان على منهج صاحبها.
أبو أويس الكردي
أشرف بن نصر بن صابر الكردي
2 - আমি কিতাবে উল্লিখিত হাদিস ও আসারসমূহের বিশুদ্ধতা (صحة) বা দুর্বলতার (ضعف) মানদণ্ডে সেগুলোর ওপর যথাযথ হুকুম প্রদান করেছি।
3 - আমি কিছু অপরিচিত শব্দের (غريب) ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।
4 - আমি কিতাবটির শেষে দুটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেছি:
প্রথমটি: আমি এর নাম দিয়েছি ‘আশ-শু’লাহ ফী শুয়ূখিল খাতিব ফির রিহলাহ’। বিষয়টি হলো, আমি যখন এই কিতাবটির তাহকিক (تحقيق) শুরু করি, তখন আমার ভাই ও চাচাতো ভাই শায়খ ইয়াসির ইবনে মাহমুদ আল-কুর্দি (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন)-এর নিকট প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে, তিনি যেন আল-খাতিব আল-বাগদাদির শায়খদের একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক বিশ্বকোষে সংকলন করেন। তিনি আমার আহ্বানে সাড়া দেন এবং কাজটি প্রায় সমাপ্তির পথে। তিনি আমাকে তাঁর সেই বিশ্বকোষ থেকে ‘আর-রিহলাহ’ কিতাবের শায়খদের তালিকাটি যাচাই-বাছাই ও সংক্ষিপ্তাকারে গ্রহণ করার অনুমতি দিয়েছেন যেন এর দ্বারা ব্যাপক ফায়দা অর্জিত হয়। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
দ্বিতীয়টি: আমি এর নাম দিয়েছি ‘রিহলাতুল ফুদালা কামা ওয়ারাদাত বিহাল আনবা’। এটি আমাদের পূর্ববর্তীদের সফরের কিছু খণ্ডচিত্র সম্বলিত, সেইসাথে সাহাবী (صحابة), তাবিঈ (تابعين) এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম থেকে শুরু করে খতিব বাগদাদি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর যুগ পর্যন্ত তাঁদের জ্ঞানার্জনের সফরের বিবরণ এতে রয়েছে।
এটি প্রকাশের দায়িত্ব পালন করেছেন মিশরের মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর স্বত্বাধিকারী সম্মানিত শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আল-যাইনি (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন)। এটি সুন্নাহর প্রচার ও ঐতিহ্য পুনর্জীবনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী মাকতাবাগুলোর অন্যতম। আর সাধারণত প্রতিটি প্রকাশনীর প্রকাশনা তার স্বত্বাধিকারীর মানহাজের (منهج) পরিচয় বহন করে।
আবু উওয়াইস আল-কুর্দি
আশরাফ ইবনে নাসর ইবনে সাবির আল-কুর্দি
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٩)
بسم الله الرحمن الرحيم
ذكر الرحلة في طلب الحديث والأمر بها والحث عليها وبيان فضلهاأَخْبَرَ
(1) الشَّيْخُ الْأَجَلُّ الثِّقَةُ أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْحَقِّ بْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْقَادِرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، أنبا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ سَعْدُ اللهِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ أَيُّوبَ فِي رَبِيعٍ الْآخرِ سَنَةَ سِتٍ وَخَمْسِمِائَةٍ، أنبا الشَّيْخُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبُ الْبَغْدَادِيُّ [قاَلَ]
(2):
--------------------------------------------
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
হাদিস অন্বেষণে সফরের আলোচনা, এর নির্দেশ, এ বিষয়ে উৎসাহ প্রদান এবং এর ফযিলতের বর্ণনাসবচেয়ে সম্মানিত ও নির্ভরযোগ্য (ثقة) শাইখ আবু আল-হুসাইন আবদুল হক বিন আবদুল খালিক বিন আহমদ বিন আবদুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আমাদের অবহিত করেছেন
(১), [তিনি বলেন:] শাইখ আবু মুহাম্মদ সাদুল্লাহ বিন আলি বিন আল-হুসাইন বিন আইয়ুব পাঁচশ ছয় হিজরির রবিউস সানি মাসে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, [তিনি বলেন:] হাফিজ (حافظ) শাইখ আবু বকর আহমদ বিন আলি বিন সাবিত আল-খাতিব আল-বাগদাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি [বলেন]
(২):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ١٠)
1 - [أَنْبَأَ]
(1) أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ الطَّرَازِيُّ بِنَيْسَابُور، ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ، ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانَ الْعَامِرِيُّ، ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَطِيَّةَ، ثنا أَبُوعَاتِكَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «اطْلُبُوا الْعِلْمَ وَلَوْ بِالصِّينِ، فَإِنَّ طَلَبَ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»
(2).
--------------------------------------------
1 - [সংবাদ দিয়েছেন]
(১) আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন উসমান আত-তরাজি নিশাপুরে, আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম, আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন আলী বিন আফফান আল-আমিরি, আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন আতিয়্যাহ, আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আতিকাহ, আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন: «তোমরা জ্ঞান অন্বেষণ করো যদিও তা চীনে গিয়ে হয়, কেননা জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ»
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ١٢)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْمَتُّوثِيُّ [قال]
(1) ثَنَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ زِيَادٍ الْقَطَّانُ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ التَّمْتَامُ [ح أنبا]
(2) أَبُو الْحَسَنِ الْعَبَّاسُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْعَبَّاسِ الْكَلْوَذَانِيُّ، أَنْبَا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الدَّقَّاقُ، ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ هَاشِمٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ غَالِبِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَا: ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَطِيَّةَ _ زَادَ ابْنُ الْفَضْلِ «الْبَزَّازُ» - ثَنَا أَبُو عَاتِكَةَ - زَادَ ابْنُ الْفَضْلِ - «طَرِيفَ بْنَ سَلْمَانَ» - ثُمَّ اتَّفَقَا [عَلَى]
(3) أَنَسٍ - قَالَ الْعَبَّاسُ -: «ابْنُ مَالِكٍ» أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «اطْلُبُوا الْعِلْمَ وَلَوْ بِالصِّينِ فَإِنَّ طَلَبَ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»
(4).
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ السُّكَّرِيُّ، أنبا يَحْيَى بْنُ وَصِيفٍ الْخَوَّاصُ، ثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْحَسَنِ الْحَرَّانِيُّ، أَنْبَا أَبُو بَكْرٍ الْأَعْيَنُ، ح [وَأَخْبَرَنِيهِ]
(5) أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ أَحْمَدَ الْمُؤَذِّنُ بِالْبَصْرَةِ، ثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ النَّهْرَدِيرِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الرَّاسِبِيُّ، ثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، بِبَغْدَادَ قَالَا: ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي عَاتِكَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «اطْلُبُوا الْعِلْمَ وَلَوْ بِالصِّينِ» زَادَ الْعَبَّاسُ: «فَإِنَّ طَلَبَ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»
(6).
--------------------------------------------
২ - আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল আল-মাত্তুসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) [তিনি বলেছেন]
(১) আবু সাহল আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন যিয়াদ আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুহাম্মদ বিন গালিব আল-তামতাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) [রূপান্তর (ح), আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا)]
(২) আবু আল-হাসান আল-আব্বাস বিন উমর বিন আল-আব্বাস আল-কালওয়াজানি, উসমান বিন আহমদ আদ-দাক্কাক আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأনা), জাফর বিন হাশিম এবং মুহাম্মদ বিন গালিব বিন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তারা উভয়ে বলেছেন: আল-হাসান বিন আতিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) —ইবনুল ফাদল 'আল-বাযযায' শব্দটি বৃদ্ধি করেছেন— আবু আতিকাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) —ইবনুল ফাদল 'তারিফ বিন সালমান' নামটুকু বৃদ্ধি করেছেন— অতঃপর তারা আনাস-এর বর্ণনায় একমত [হয়েছেন]
(৩) —আব্বাস বলেছেন—: 'ইবনে মালিক' থেকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা জ্ঞান অর্জন করো যদিও তা চীনে গিয়ে হয়, কেননা জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যিক কর্তব্য (فريضة)»
(৪).
৩ - আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন আবদুল জাব্বার আস-সুক্কারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), ইয়াহইয়া বিন ওয়াসিফ আল-খাওয়াস আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا), আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-হাররানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবু বকর আল-আ'ইয়ান আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا), রূপান্তর (ح) [এবং তিনি আমাকে তা অবহিত করেছেন (أخبرنيه)]
(৫) আবু আল-হাসান আলী বিন হামজা বিন আহমদ আল-মুআজ্জিন আল-বাসরিতে, আবু বকর আহমদ বিন উবাইদুল্লাহ আন-নাহারদাইরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আর-রাসিবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আল-আব্বাস বিন আবি তালিব বাগদাদে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তারা উভয়ে বলেছেন: আল-হাসান বিন আতিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবু আতিকাহ থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা জ্ঞান অর্জন করো যদিও তা চীনে গিয়ে হয়» আব্বাস অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: «কেননা জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যিক কর্তব্য (فريضة)»
(৬).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ١٣)
4 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَرَشِيُّ بِنَيْسَابُورَ، ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ الْبَصْرِيُّ بِمِصْرَ ح وَ [أَنْبَا]
(1) أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ الْبَزَّازُ، أَنْبَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ زِيَادٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ ح [وَأَنْبا]
(2) أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ بِأَصْبَهَانَ، ثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ خَلَّادٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ بْنِ مُوسَى، قَالَا، ثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ دَاوُدَ الْخُرَيْبِيُّ، عَنْ عَاصِمٍ.
وَفِي حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ يُونُسَ قَالَ: ثَنَا عَاصِمُ بْنُ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، ح وَ [أَنْبَا]
(3) أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْمُقْرِي، أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ، ثَنَا مُعَاذُ بْنُ الْمُثَنَّى، ثَنَا مُسَدَّدٌ، ثَنَا ابْنُ دَاوُدَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَاصِمَ بْنَ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ دَاوُدَ بْنِ جَمِيلٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا مَعَ أَبِي الدَّرْدَاءِ فِي مَسْجِدِ دِمَشْقٍ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ! جِئْتُكَ مِنَ الْمَدِينَةِ؛ مَدِينَةِ الرَّسُولِ؛ لِحَدِيثٍ بَلَغَنِي أَنَّكَ تُحَدِّثُهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: وَلَا جِئْتَ لِحَاجَةٍ، قَالَ: لَا، قَالَ: وَلَا لِتِجَارَةٍ؟ قَالَ: لَا، قَالَ: وَلَا جِئْتَ إِلَّا لِهَذَا الْحَدِيثِ؟ قَالَ: لَا
(4).
--------------------------------------------
4 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) কাজী আবু বকর আহমদ বিন হাসান বিন আহমদ আল-হারাশি নিশাপুরে, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম্ম, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) ইব্রাহিম বিন মারজুক আল-বাসরি মিসরে। বর্ণনাসূত্র পরিবর্তন (ح) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنْبَا)
(1) আবু আলি আল-হাসান বিন আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন শাযান আল-বাজ্জায, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنْبَا) আবু সাহল আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন যিয়াদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) মুহাম্মদ বিন ইউনুস। বর্ণনাসূত্র পরিবর্তন (ح) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنْبَا)
(2) আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-হাফিজ (الحافظ) আসবাহানে, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) আবু বকর আহমদ বিন ইউসুফ বিন খাল্লাদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) মুহাম্মদ বিন ইউনুস বিন মুসা, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) আব্দুল্লাহ বিন দাউদ আল-খুরাইবি, আসিম থেকে।
এবং মুহাম্মদ বিন ইউনুসের হাদিসে তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثনা) আসিম বিন রাজা বিন হাইওয়াহ। বর্ণনাসূত্র পরিবর্তন (ح) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنْبَا)
(3) আবু আল-হাসান আলি বিন আহমদ বিন উমর আল-মুকরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنْبَا) মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আশ-শাফিয়ি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) মুয়ায বিন আল-মুসান্না, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) মুসাদ্দাদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) ইবনে দাউদ, তিনি বলেছেন: আমি আসিম বিন রাজা বিন হাইওয়াহকে দাউদ বিন জামিল থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি কাসীর বিন কাইস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি দামেস্কের মসজিদে আবু দারদা (রা.)-এর সাথে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন: হে আবু দারদা! আমি রাসূলুল্লাহর শহর মদিনা থেকে আপনার নিকট এসেছি এমন একটি হাদিসের জন্য যা আমার কাছে পৌঁছেছে যে আপনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বললেন: আপনি কি অন্য কোনো প্রয়োজনে আসেননি? সে বলল: না। তিনি বললেন: কোনো ব্যবসার জন্যও নয়? সে বলল: না। তিনি বললেন: আপনি কি শুধুমাত্র এই হাদিসটি ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আসেননি? সে বলল: না
(4)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ١٤)
قَالَ: فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَطْلُبُ فِيهِ عِلْمًا سلك بِهِ طَرِيقًا مِنْ طُرُقِ الْجَنَّةِ، وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتهَا رِضًا لِطَالِبِ الْعِلْمِ، وَإِنَّ فَضْلَ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ، وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ، وَكُلُّ شَيْءٍ حَتَّى الْحِيتَانِ فِي جَوْفِ الْمَاءِ، إِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ، إِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا، وَلَا دِرْهَمًا، وَأَوْرَثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍ وَافِرٍ»
(1) وَهَذَا لَفْظُ حَدِيثِ الْأَصَمِّ.
--------------------------------------------
তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথসমূহের একটি পথ সুগম করে দেন। নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর কর্মে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়। আর আলেমের মর্যাদা আবেদের ওপর তেমন, যেমন পূর্ণিমার রাতে চাঁদের মর্যাদা অন্যান্য নক্ষত্রের ওপর। আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা সবাই এমনকি পানির গভীরে থাকা মাছও আলেমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। নিশ্চয়ই ওলামায়ে কেরাম নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীরা কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তারা ইলমকে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক মহা সৌভাগ্য লাভ করল»
(১) এবং এটি আল-আসাম বর্ণিত হাদিসের শব্দ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ١٥)
5 - وَرَوَاهُ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الضَّحَّاكِ الْعُرْضِي، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشِ الْحِمْصِيِّ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، كَرِوَايَةِ ابْنِ دَاوُدَ [أَنَبَاَهُ]
(1) أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْعَتِيقِيُّ، وَأَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ
--------------------------------------------
৫ - আর এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আদ-দাহহাক আল-উরজি, ইসমাইল বিন আইয়াশ আল-হিমসি থেকে, তিনি আসিম বিন রাজা বিন হাইওয়াহ থেকে; যা ইবনে দাউদ-এর বর্ণনা (رواية)-এর অনুরূপ। [তাকে সংবাদ দিয়েছেন (أنبأه)]
(১) আবুল হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আতিকি এবং আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ١٦)
الْجَوْهَرِي، قَالَا: أنبا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُظَفَّرِ الْحَافِظُ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَاغَنْدِيُّ، ثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الضَّحَّاكِ، ثَنَا ابْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ جَمِيلٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ إِلَى أَبِي الدَّرْدَاءِ بِدِمَشْقَ يَسْأَلُهُ عَنْ حَدِيثٍ بَلَغَهُ يُحَدِّثُ بِهِ أَبُو الدَّرْدَاءِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم.
فَقَالَ لَهُ أَبُو الدَّرْدَاءِ: مَا جَاءَ بِكَ تِجَارَةٌ؟ قَالَ: لَا، قَالَ: وَلَا جِئْتَ طَالِبَ حَاجَةٍ؟ قَالَ: لَا، قَالَ: وَمَا جِئْتَ تَطْلُبُ إِلَّا هَذَا الْحَدِيثَ؟ قَالَ: لَا، قَالَ: فَأَبْشِرْ إِنْ كُنْتَ صَادِقًا فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَا مِنْ رَجُلٍ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ يَطْلُبُ عِلْمًا إِلَّا وَضَعَتْ لَهُ الْمَلَائِكَةُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا بِمَا يَطْلُبُ، وَإِلَّا سَلَكَ الله بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ، وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ حَتَّى الْحِيتَانِ فِي الْبَحْرِ؛ وَلَفَضْل الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ. إِنَّ الْعُلَمَاءَ هُمْ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ، إِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا، وَلَا دِرْهَمًا، وَإِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ»
(1).
6 - خَالَفَهُ غَسَّانُ بْنُ الرَّبِيعِ الْكُوفِيُّ عَنِ ابْنِ عَيَّاشٍ، فَقَالَ: مَا [أنبا]
(2) أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ شَاذَانَ، وَأَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، وَأَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْمُحَسِّن التَّنُوخِيُّ، قَالُوا: أنبا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ فَهْدَ الْمَوْصِلِيُّ، ثنا أَبُو يَعْلَى أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، ثَنَا غَسَّانُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ جَمِيلِ بْنِ قَيْسٍ، أَنَّ رَجُلًا، جَاءَ مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى أَبِي الدَّرْدَاءِ، فَسَأَلَهُ عَنْ حَدِيثٍ.
--------------------------------------------
আল-জাওহারী, তাঁরা উভয়ে বলেন: হাফিজ (الحافظ) মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফ্ফর আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا), মুহাম্মদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু সুলাইমান আল-বাগান্দী আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আব্দুল ওয়াহহাব ইবনুয যাহহাক আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইবনু আইয়াশ আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আসিম ইবনু রাজা ইবনু হাইওয়াহ থেকে, তিনি দাউদ ইবনু জামিল থেকে, তিনি কাসীর ইবনু কায়েস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মদীনার অধিবাসীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি দামেস্কে আবু দারদা (রা.)-এর কাছে এলেন। তিনি তাঁকে এমন একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাইলেন যা তাঁর কাছে পৌঁছেছে যে, আবু দারদা (রা.) সেটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন।
অতঃপর আবু দারদা (রা.) তাকে বললেন: "কোনো ব্যবসা কি তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে?" তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন: "তুমি কি অন্য কোনো প্রয়োজনে এসেছ?" তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন: "তুমি কি কেবল এই হাদিসটির অন্বেষণেই এসেছ?" তিনি বললেন: "না (অর্থাৎ অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আসিনি)।" তিনি বললেন: "তবে সুসংবাদ গ্রহণ করো যদি তুমি সত্যবাদী হও, কেননা আমি আল্লাহর রাসূল (সালล์ল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণে স্বীয় ঘর থেকে বের হয়, ফেরেশতারা তার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়। আর আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের একটি পথ সুগম করে দেন। নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, এমনকি সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত জ্ঞানীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। ইবাদতকারীর ওপর জ্ঞানীর শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক তেমনি যেমন পূর্ণিমার রাতের চাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব সমস্ত নক্ষত্ররাজির ওপর। নিশ্চয়ই ওলামায়ে কেরাম হলেন নবীদের উত্তরসূরি। আর নবীগণ উত্তরাধিকার হিসেবে কোনো দিনার বা দিরহাম রেখে যাননি, বরং তাঁরা উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন কেবল ইলম।'"
(১).
৬ - গাসসান ইবনুর রাবী আল-কুফী ইবনু আইয়াশ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তার বিরোধিতা করেছেন (خالفه), তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনু আবী বকর ইবনু শাযান, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল ওয়াহিদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু জাফর এবং আবু আল-কাসিম আলী ইবনুল মুহসিন আত-তানূখী আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا), তাঁরা বলেন: কাজী আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনু আহমদ ইবনু ফাহাদ আল-মাওসিলী আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا), আবু ইয়ালা আহমদ ইবনু আলী ইবনুল মুসান্না আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), গাসসান ইবনুর রাবী আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইসমাইল ইবনু আইয়াশ থেকে, তিনি আসিম ইবনু রাজা ইবনু হাইওয়াহ থেকে, তিনি জামিল ইবনু কায়েস থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি মদীনা থেকে আবু দারদা (রা.)-এর কাছে এলেন এবং তাঁকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ١٧)
فَقَالَ لَهُ أَبُو الدَّرْدَاءِ: مَا جَاءَ بِكَ حَاجَةٌ، وَلَا جِئْتَ فِي طَلَبِ تِجَارَةٍ؟. وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ
(1).
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ هَارُونَ الْوَاعِظُ، وَأَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْعَلَّافُ، قَالَ أَحْمَدُ: ثَنَا، وَقَالَ عُثْمَانُ: أنبا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الشَّافِعِي، ثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ يُوسُفَ الْقَزْوِينِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سَابِقٍ، ثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، قَالَ: أَتَيْتُ صَفْوَانَ بْنَ عَسَّالٍ الْمُرَادِيَّ، فَقَالَ: مَا جَاءَ بِكَ قُلْتُ: ابْتِغَاءَ الْعِلْمِ، قَالَ: فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ ابْتِغَاءَ الْعِلْمِ، وَضَعَتِ الْمَلَائِكَةُ أَجْنِحَتَهَا لَهُ رِضًا بِمَا يَصْنَعُ»
(2).
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ الْوَاعِظُ بِأَصْبَهَانَ، ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ الطَّبَرَانِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا يَحْيَى زَكَرِيَّا بْنَ يَحْيَى السَّاجِيَّ قَالَ: كُنَّا نَمْشِي فِي أَزِقَّةِ الْبَصْرَةِ إِلَى بَابِ بَعْضِ الْمُحَدِّثِينَ فَأَسْرَعْنَا الْمَشْيَ، وَكَانَ مَعَنَا رَجُلٌ مَاجِنٌ مُتَّهَمٌ فِي دِينِهِ، فَقَالَ: «ارْفَعُوا أَرْجُلَكُمْ عَنْ أَجْنِحَةِ الْمَلَائِكَةِ لَا تَكْسِرُوهَا!!» كَالْمُسْتَهْزِئِ، فَمَا زَالَ مِنْ مَوْضِعِهِ حَتَّى جَفَّتْ رِجْلَاهُ وَسَقَطَ
(3).
--------------------------------------------
আবু দারদা তাকে বললেন: "তোমার কি বিশেষ কোনো প্রয়োজন তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে? নাকি তুমি কোনো ব্যবসার সন্ধানে এসেছ?" এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি বর্ণনা করলেন
(১).
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন তালহা বিন আহমদ বিন হারুন আল-ওয়ায়েজ এবং আবু আমর উসমান বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-আল্লাফ। আহমদ বলেন: 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا)', এবং উসমান বলেন: 'আমাদের অবহিত করেছেন (أنبا)' আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আশ-শাফেয়ি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) ইয়াকুব বিন ইউসুফ আল-কাজউইনি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন সাবিক। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثনা) আবু জাফর আর-রাজি, আসিম বিন আবি আন-নাজুদ থেকে, তিনি জির বিন হুবাইশ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি সাফওয়ান বিন আসসাল আল-মুরাদীর নিকট আসলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কী উদ্দেশ্যে এসেছ?" আমি বললাম: "ইলম অর্জনের সন্ধানে।" তিনি বললেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি ইলমের সন্ধানে নিজ ঘর থেকে বের হয়, ফেরেশতারা তার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তার জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়'।"
(২).
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ বিন তালহা আল-ওয়ায়েজ ইসফাহানে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) সুলাইমান বিন আহমদ বিন আইয়ুব আত-তাবারানি। তিনি বলেন: আমি আবু ইয়াহইয়া জাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আস-সাজি-কে বলতে শুনেছি: আমরা বসরার গলিপথ দিয়ে জনৈক মুহাদ্দিসের দরজার দিকে যাচ্ছিলাম, তাই আমরা দ্রুত হাঁটছিলাম। আমাদের সাথে এমন এক বেপরোয়া ব্যক্তি ছিল যে তার দ্বীনের ব্যাপারে অভিযুক্ত (متهم) ছিল। সে উপহাসকারীর মতো বলল: "তোমাদের পা ফেরেশতাদের ডানা থেকে সরিয়ে নাও, পাছে সেগুলো ভেঙে না ফেলো!!" সে তার স্থান থেকে সরার আগেই তার দুই পা অবশ হয়ে গেল এবং সে পড়ে গেল
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ١٨)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحسَنِ
(1) عَلِيُّ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ الْحَسَنِ الشَّاهِدُ بِالْبَصْرَةِ، ثَنَا أَبُو رَوْقٍ [الهرَّاني]
(2)، ثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ الْجَهْمِ الْأَنْمَاطِيُّ، بِالْبَصْرَةِ سَنَةَ تِسْعٍ وَأَرْبَعِينَ وَمِائَتَيْنِ، ثَنَا حَمْزَةُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِي مُطِيعٍ مُعَاوِيَةَ بْنِ يَحْيَى قَالَ: أَوْحَى اللهِ تَعَالَى إِلَى دَاوُدَ عليه السلام: أَنِ اتَّخِذْ نَعْلَيْنِ مِنْ حَدِيدٍ وَعَصًى مِنْ حَدِيدٍ، وَاطْلُبِ الْعِلْمَ حَتَّى تَنْكَسِرَ الْعَصَا وَتَنْخَرِقَ النَّعْلَانِ
(3).
10 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْمُقْرِي، إِجَازَةً، وَحَدَّثَنِيهِ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَلَّالُ، عَنْهُ قِرَاءَةً، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الْقَرْمَنْسِينِيُّ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ وَزِيرٍ الْوَاسِطِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ، يَقُولُ: [قُلْتُ]
(4) لِحَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ: يَا أَبَا إِسْمَاعِيلَ، هَلْ ذَكَرَ اللهِ تَعَالَى أَصْحَابَ الْحَدِيثِ فِي الْقُرْآنِ؟ فَقَالَ: نَعَمْ، أَلَمْ تَسْمَعْ إِلَى قَوْلِهِ عز وجل: {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ
--------------------------------------------
9 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান
(১) আলী ইবনুল কাসিম ইবনুল হাসান আশ-শাহিদ বসরায়, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু রওক [আল-হাররানী]
(২), আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনুল জাহম আল-আনমাতি, বসরায় ২৪৯ হিজরি সনে, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হামজাহ বিন রাবিয়াহ, আবু মুতি মুয়াবিয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা দাউদ আলাইহিস সালামের প্রতি ওহি অবতীর্ণ করেছেন যে: তুমি লোহার এক জোড়া জুতো এবং লোহার একটি লাঠি গ্রহণ করো এবং ইলম অন্বেষণ করো যতক্ষণ না লাঠিটি ভেঙে যায় এবং জুতো জোড়া ছিঁড়ে যায়
(৩).
10 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আহমাদ ইবনে উমর আল-মুকরি, অনুমতি (إجازة) সূত্রে, এবং আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-খাল্লাল তাঁর থেকে পাঠ (قراءة) করার মাধ্যমে, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে আহমাদ ইবনে আল-হাসান আল-কারমানসিনি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আবি হামজাহ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ওয়াজির আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন: আমি ইয়াজিদ ইবনে হারুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: [আমি বললাম]
(৪) হাম্মাদ ইবনে যাইদকে: হে আবু ইসমাইল, আল্লাহ তাআলা কি কুরআনে হাদিসের অনুসারীদের (أصحاب الحديث) কথা উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তুমি কি মহান আল্লাহর এই বাণী শোনোনি: {তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ}
(1) [التوبة: 122] فَهَذَا فِي كُلِّ مَنْ رَحَلَ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ وَالْفِقْهِ، وَرَجَعَ بِهِ إِلَى مَنْ وَرَاءَهَ فَعَلَّمَهُ إِيَّاهُ
(2).
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْأَزْهَرِيُّ، وَالْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَلَّالُ، قَالَا: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْخَزَّازُ، ثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي دَاوُدَ، ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، ثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ، ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {السَّائِحُونَ} [التوبة: 112] قَالَ: «هُمْ طَلَبَةُ الْحَدِيثِ»
(3).
--------------------------------------------
এবং তারা যেন তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করে যখন তারা তাদের নিকট ফিরে আসে।
(১) [আত-তাওবাহ: ১২২] এটি এমন প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে ইলম ও ফিকহ (গভীর জ্ঞান) অন্বেষণে সফর করেছে এবং তা নিয়ে তার পশ্চাতে থাকা লোকদের কাছে ফিরে এসেছে ও তাদেরকে তা শিক্ষা দিয়েছে।
(২) ১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আল-আজহারি এবং আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-খাল্লাল; তাঁরা বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস আল-খাযযায; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি দাউদ; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন জাফর ইবনে আবি সালামা; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে উমর; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-ওয়ালিদ ইবনে বুকাইর; উমর ইবনে নাফে’ থেকে; ইকরিমাহ থেকে; যিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ছিলেন; মহান আল্লাহর বাণী: {ভ্রমণকারীগণ} [আত-তাওবাহ: ১১২] সম্পর্কে তিনি বলেন: «তারা হলেন হাদিস অন্বেষণকারীগণ»
(৩)。
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
12 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْمُقْرِي، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أَنْبَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَلِيٍّ الْخُطَبِيُّ، ثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ: سَأَلْتُ أَبِي رحمه الله
(1) عَمَّنْ طَلَبَ الْعِلْمَ تَرَى لَهُ أَنْ يَلْزَمَ رَجُلًا عِنْدَهُ عِلْمٌ، فَيَكْتُبُ عَنْهُ، أَوْ تَرَى أَنْ يَرْحَلَ إِلَى الْمَوَاضِعِ الَّتِي فِيهَا الْعِلْمُ فَيَسْمَعُ مِنْهُمْ؟، قَالَ: يَرْحَلُ يَكْتُبُ عَنِ الْكُوفِيِّينَ وَالْبَصْرِيِينَ، وَأَهْلِ الْمَدِينَةِ وَمَكَّةَ يُشَامُّ
(2) النَّاسَ يَسْمَعُ
(3) مِنْهُمْ
(4).
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ رِضْوَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الدِّينُّورِي، ثَنَا أَبُو عَلِيٍّ [أَحْمَدُ]
(5) بْنُ عَبْدِ اللهِ الْأَصْبَهَانِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللهِ عُمَرَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الْعَطَّارَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: طَلَبُ عُلْوِ الْإِسْنَادِ مِنَ الدِّينِ
(6).
--------------------------------------------
12 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আহমদ ইবনে উমর আল-মুকরি, তাঁর নিকট পঠনকালে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে আলী আল-খাত্তাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে (রহিমাহুল্লাহ)
(1) এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে ইলম অর্জন করতে চায়; আপনি কি মনে করেন যে সে এমন একজন ব্যক্তির সান্নিধ্যে থাকবে যার নিকট ইলম আছে এবং তাঁর থেকে লিখে নেবে, নাকি আপনি মনে করেন সে ইলমের স্থানগুলোতে সফর করবে এবং তাদের থেকে শ্রবণ করবে? তিনি বললেন: সে সফর করবে, কুফাবাসী, বসরার অধিবাসী এবং মদিনা ও মক্কার অধিবাসীদের থেকে লিখে নেবে; সে মানুষের সাথে মেলামেশা করবে
(2) এবং তাদের থেকে শ্রবণ করবে
(3)।
(4) 13 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম রিজওয়ান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান আদ-দিনাওয়ারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী [আহমদ]
(5) ইবনে আবদুল্লাহ আল-আসফাহানি, তিনি বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহ উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-আত্তারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: উচ্চ সনদ (علو الإسناد) অন্বেষণ করা দ্বীনের অংশ।
(6)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٢١)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الضَّبِّيُّ، فِي كِتَابِهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ الْقُرَشِيُّ، ثَنَا أَبِي، ثَنَا جَعْفَرٌ الطَّيَالِسِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ، يَقُولُ: أَرْبَعَةٌ لَا تُؤْنِسُ مِنْهُمْ رُشْدًا: حَارِسُ الدَّرْبِ، وَمُنَادِي الْقَاضِي، وَابْنُ المحدِّث، وَرَجُلٌ يَكْتُبُ فِي بَلَدِهِ، وَلَا يَرْحَلُ فِي طَلَبِ الْحَدِيثِ
(1).
15 - أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ الْأَزْرَقُ، أَنْبَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ النَّقَّاشُ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عِصَامٍ، حَدَّثَهُمْ بِمَرْوَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ إِبْرَاهِيمَ بْنَ أَدْهَمَ، قَالَ: إِنَّ اللهِ تَعَالَى يَرْفَعُ الْبَلَاءَ عَنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ بِرِحْلَةِ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ
(2).
16 - أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُور أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ السُّكَّرِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْوَرَّاقُ، إِمْلَاءً، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ، ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ يَاسِرٍ، ثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي عَتَّابٍ الْأَعْيُنُ، ثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ، قَالَ: رَأَيْتُ ابْنَ الْمُبَارَكِ فِي النَّوْمِ، فَقُلْتُ: مَا فَعَلَ اللهِ بِكَ، قَالَ: غَفَرَ لِي بِرِحْلَتِي فِي الْحَدِيثِ
(3).
--------------------------------------------
14 - আবু নুআইম আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দাব্বি তাঁর কিতাবে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-কুরাশি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর আত-তায়ালিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি: চার প্রকার ব্যক্তির মাঝে তুমি বিচক্ষণতা আশা করতে পারো না: রাস্তার পাহারাদার, বিচারকের ঘোষক, হাদিস বিশারদের পুত্র এবং সেই ব্যক্তি যে নিজ শহরেই হাদিস লেখে কিন্তু হাদিস অন্বেষণে সফর (رحلة) করে না
(1).
15 - মুহাম্মদ ইবনে আবিল কাসিম আল-আজরাক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আন-নাক্কাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে ইসাম মার্ভ শহরে তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাতিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইবরাহিম ইবনে আদহাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা এই উম্মত থেকে বালা-মসিবত দূর করেন হাদিস অন্বেষণকারীদের সফর (رحلة)-এর বরকতে
(2).
16 - আবু মনসুর আহমাদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ আস-সুক্কারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-ওয়াররাক শ্রুতলিপি হিসেবে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে ইয়াসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আবি আত্তাব আল-আইয়ুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাকারিয়া ইবনে আদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে ইবনুল মুবারককে দেখেছি, তখন আমি বললাম: আল্লাহ আপনার সাথে কী করেছেন? তিনি বললেন: হাদিসের জন্য আমার সফরের (رحلة) কারণে তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন
(3).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
17 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ، أَنْبَا عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ دَرَسْتَوَيْه النَّحْوِيُّ، ثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي الْفَضْلُ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ: قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ رحمه الله
(1): «لَمْ يَكُنْ فِي زَمَانِ ابْنِ الْمُبَارَكِ أَطْلَبَ لِلْعِلْمِ مِنْهُ؛ رَحَلَ إِلَى الْيَمَنِ، وَإِلَى مِصْرَ، وَإِلَى الشَّامِ، وَالْبَصْرَةِ وَالْكُوفَةِ، وَكَانَ مِنْ رُوَاةِ الْعِلْمِ، وَأَهْلِ ذَلِكَ، كَتَبَ عَنِ الصِّغَارِ وَالْكِبَارِ، كَتَبَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ [الْمَهْدِيِّ]
(2)، وَعَنِ الْفَزَارِيِّ، وَجَمَعَ أَمْرًا عَظِيمًا»
(3).
--------------------------------------------
১৭ - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল ফাদল আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে দারাস্তাওয়াইহ আন-নাহবী আমাদের জানিয়েছেন, ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ফাদল ইবনে যিয়াদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)
(১) বলেছেন: «ইবনুল মুবারকের যুগে তাঁর চেয়ে অধিক ইলম অন্বেষণকারী আর কেউ ছিল না; তিনি ইয়ামেন, মিশর, সিরিয়া, বসরা এবং কুফায় সফর করেছেন। তিনি ইলম বর্ণনাকারীদের (رواة) এবং এর যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ছোট ও বড় (উভয় প্রকার শায়খ) থেকে হাদিস লিখে নিয়েছেন। তিনি আবদুর রহমান ইবনে [মাহদী]
(২) এবং আল-ফাযারী থেকে হাদিস লিখেছেন এবং বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার একত্রিত করেছেন»
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
18 - وَقَالَ يَعْقُوبُ: حَدَّثَنِي الْفَضْلُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ، رحمه الله، وَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: عَمَّنْ تَرَى أَنْ يُكْتَبَ الْحَدِيثُ؟ فَقَالَ لَهُ: «اخْرُجْ إِلَى أَحْمَدَ بْنِ يُونسَ]
(1) فَإِنَّهُ شَيْخُ الْإِسْلَامِ»
(2).
19 - أَخْبَرَنَا ابْنُ الْفَضْلِ، [ثَنَا]
(3) عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرٍ، [ثَنَا]
(4) يَعْقُوبُ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، ثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، ثَنَا مَعْمَرٌ، قَالَ: قَالَ لِي
--------------------------------------------
১৮ - ইয়াকুব বলেছেন: ফজল আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আহমদ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি—এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: "আপনি কার নিকট থেকে হাদিস লিখে রাখা সমীচীন মনে করেন?" তিনি তাঁকে বললেন: "তুমি আহমদ বিন ইউনুসের নিকট যাও, কেননা তিনি হলেন শাইখুল ইসলাম।"
১৯ - ইবনুল ফজল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, [আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন] আবদুল্লাহ বিন জাফর, [আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন] ইয়াকুব, তিনি বলেন: আবু বকর বিন আব্দুল মালিক আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন মা'মার, তিনি বলেন: তিনি আমাকে বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
أَيُّوبُ: «إِنْ كُنْتَ رَاحِلًا إِلَى أَحَدٍ فَارْحَلْ إِلَى ابْنِ طَاوُسٍ، وَإِلَّا فَالْزَمْ تِجَارَتَكَ»
(1).
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقٍ الْبَزَّازُ، [أَنْبَا]
(2) إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَلِيٍّ الْخُطَبِيُّ، وَأَبُو عَلِيِّ بْنُ الصَّوَّافِ، وَأَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ، ثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي [رحمه الله وَرَضِيَ عَنْهُ]
(3)، ثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، ثَنَا هَمَّامٌ، ثَنَا عَاصِمُ ابْنُ بَهْدَلَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي زِرُّ بْنُ حُبَيْشٍ، قَالَ: وَفَدْتُ فِي خِلَافَةِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، وَإِنَّمَا حَمَلَنِي عَلَى الْوِفَادَةِ لُقِي أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، وَأَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم
(4).
21 - حَدَّثَنَا ابْنُ الْفَضْلِ، أَنْبَا عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرٍ، ثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي قَطَنٍ، عَنْ أَبِي خَلْدَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، قَالَ: «كُنَّا نَسْمَعُ بِالرِّوَايَةِ عَنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ [و]
(5) بِالْبَصْرَةِ، فَمَا نَرْضَى حَتَّى أَتَيْنَاهُمْ فَسَمِعْنَا مِنْهُمْ»
(6).
--------------------------------------------
আইয়ুব বলেছেন: «যদি তুমি কারো কাছে যাওয়ার জন্য সফর করো, তবে ইবনে তাউসের কাছে সফর করো, অন্যথায় তোমার ব্যবসায় মনোনিবেশ করো»
(১).
২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন রিজক আল-বাজজাজ, [সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ)] ইসমাইল বিন আলী আল-খুতাবী, আবু আলী বিন আস-সাওওয়াফ এবং আহমদ বিন জাফর বিন হামদান; তাঁরা বলেছেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল; তিনি বলেন: আমার পিতা [আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন] আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثني); তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আব্দুস সামাদ; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাম্মাম; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আসিম বিন বাহদালা; তিনি বলেন: জির বিন হুবাইশ আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: «আমি উসমান বিন আফফানের খিলাফতকালে প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিলাম; আর আমার এই আগমনের মূল কারণ ছিল উবাই বিন কাব এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের সাথে সাক্ষাৎ করা»
(৪).
২১ - আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইবনুল ফজল; তিনি সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ) আব্দুল্লাহ বিন জাফরকে; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইয়াকুব বিন সুফিয়ান; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আব্দুর রহমান বিন ইব্রাহিম; তিনি আবু কাতান থেকে, তিনি আবু খালদাহ থেকে, তিনি আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: «আমরা মদিনা এবং বসরায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية) সম্পর্কে শুনতাম, কিন্তু আমরা যতক্ষণ না তাঁদের কাছে উপস্থিত হয়ে সরাসরি তাঁদের থেকে শুনেছি, ততক্ষণ সন্তুষ্ট হতাম না»
(৬).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
22 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ الْفَضْلِ بْنِ شَاذَانَ الصَّيْرَفِيُّ بِنَيْسَابُورَ، [أَنْبَا]
(1) أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّغَّانِيُّ، ثَنَا أَبُو نُوحٍ، قُرَادٌ، [أَنْبَا]
(2) أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، قَالَ: «كُنْتُ أَرْحَلُ إِلَى الرَّجُلِ مَسِيرَةَ أَيَّامٍ؛ لَأَسْمَعَ مِنْهُ فَأَوَّلُ مَا أَتفقدُ مِنْهُ صَلَاتَهُ، فَإِنْ أَجِدْهُ يُقِيمُهَا أَقَمْتُ وَسَمِعْتُ مِنْهُ، وَإِنْ أَجِدْهُ يُضَيِّعْهَا رَجَعْتُ، وَلَمْ أَسْمَعْ مِنْهُ، وَقُلْتُ: هُوَ لِغَيْرِ الصَّلَاةِ أَضْيَعُ»
(3).
23 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْمُحَامِلِيُّ، وَالْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ شَاذَانَ، قَالَا: أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مَالِكٍ الْإِسْكَافِيُّ، ثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ مُحَمَّدُ بْنُ الْهَيْثَمِ الْقَاضِي، ثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْجُعْفِيُّ، ثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: «كُنْتُ أَرَى ابْنَ عَوْنٍ فِي النَّوْمِ مِنْ شَوْقِي إِلَيْهِ، وَأَنَا أَخْتَلِفُ إِلَى الْأَعْمَشِ، فَلَمَّا مَاتَ الْأَعْمَشُ رَحَلْتُ إِلَيْهِ فَسَمِعْتُ مِنْهُ»
(4).
--------------------------------------------
22 - আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনুল ফাদল ইবনে শাযান আস-সাইরাফি নিশাপুরে, [আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ)]
(1) আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম্ম, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানি, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু নুহ কুরাদ, [আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ)]
(2) আবু জাফর আর-রাজি, রাবি ইবনে আনাস থেকে, তিনি আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস শোনার জন্য কয়েক দিনের পথ সফর করতাম; তার কাছে পৌঁছে সর্বপ্রথম আমি তার সালাতের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতাম। যদি দেখতাম যে সে সালাত যথাযথভাবে আদায় করছে, তবে আমি অবস্থান করতাম এবং তার থেকে হাদিস শ্রবণ করতাম। আর যদি দেখতাম সে সালাত বিনষ্ট করছে, তবে আমি ফিরে আসতাম এবং তার থেকে কোনো হাদিস শুনতাম না। আমি বলতাম: সে সালাত ছাড়া অন্য বিষয়গুলোকে আরও বেশি বিনষ্ট করবে»
(3).
23 - আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-মুহামিলি এবং আল-হাসান ইবনে আবি বকর ইবনে শাযান, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ) মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মালিক আল-ইস্কাফি, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আল-আহওয়াস মুহাম্মদ ইবনে আল-হাইসাম আল-কাদি, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু সাঈদ আল-জু'ফি, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ওয়াকি, তিনি বলেন: «ইবনে আউনের প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণে আমি তাঁকে স্বপ্নে দেখতাম, অথচ তখন আমি আল-আ'মাশের নিকট যাতায়াত করতাম। যখন আল-আ'মাশ ইন্তেকাল করলেন, তখন আমি তাঁর উদ্দেশ্যে সফর করলাম এবং তাঁর থেকে হাদিস শ্রবণ করলাম»
(4).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
24 - أَخْبَرَنَا ابْنُ الْفَضْلِ، أَنْبَا عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرٍ، ثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْفَضْلُ - هُوَ ابْنُ زِيَادٍ - قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللهِ، يَقُولُ: «لَيْسَ تَضُمُّ إِلَى مَعْمَرٍ أَحَدًا إِلَّا وَجَدْتَهُ [فَوْقَهُ]
(1). رَحَلَ فِي الْحَدِيثِ إِلَى الْيَمَنِ، وَهُوَ أَوَّلُ مَنْ رَحَلَ، فَقَالَ لَهُ أَبُو جَعْفَرٍ: وَالشَّامَ؟، فَقَالَ: لَا، الْجَزِيرَةَ»
(2).
25 - أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَهْدِيٍّ الْبَزَّازُ، أَنْبَا أَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْعَطَّارُ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ رَاشِدٍ، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ، [أَنْبَا]
(3) أَبُو حَمْزَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللهِ: وَالَّذِي لَا إِلَهَ غَيْرُهُ، لَقَدْ قَرَأْتُ مِنْ فِي
رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِضْعًا وَ [سَبْعِينَ]
(4) سُورَةً، وَلَوْ أَعْلَمُ أَحَدًا أَعْلَمُ بِكِتَابِ اللهِ مِنِّي تُبَّلِّغُنِي الْإِبِلُ إِلَيْهِ لَأَتَيْتُهُ»
(5).
26 - [أَنْبَا]
(6) ابْنُ الْفَضْلِ، أَنْبَا عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرٍ، ثَنَا يَعْقُوبُ، ثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، ثَنَا يَحْيَى بْنُ عِيسَى، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ
--------------------------------------------
২৪ - ইবনুল ফজল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ), ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), তিনি বলেন: আল-ফজল—যিনি ইবনে যিয়াদ—তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: «আপনি মা’মার-এর সাথে কাউকে তুলনা করতে পারবেন না তবে তাকে তার [উর্ধ্বে (فوقه)]
(১) পাবেন। তিনি হাদিসের জন্য ইয়েমেনে সফর (رحل) করেছেন এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি সফর (رحل) করেছেন। তখন আবু জাফর তাকে বললেন: আর শাম? তিনি বললেন: না, আল-জাজিরা।»
(২).
২৫ - আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মাহদী আল-বাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাখলাদ আল-আত্তার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ), আহমদ বিন মনসুর বিন রাশিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আলী বিন আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), [সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ)]
(৩) আবু হামযাহ, আল-আ’মাশ থেকে, তিনি আবু আদ-দুহা থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বলেছেন: সেই সত্তার কসম, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, আমি সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখ থেকে
সত্তরের [সত্তর (سبعين)]
(৪) অধিক সূরা পাঠ করেছি। আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী কেউ আছেন বলে যদি আমার জানা থাকত যার নিকট উট আমাকে পৌঁছে দিতে পারত, তবে আমি অবশ্যই তার নিকট যেতাম।»
(৫).
২৬ - [সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ)]
(৬) ইবনুল ফজল, সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ) আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর, বর্ণনা করেছেন (ثنا) ইয়াকুব, বর্ণনা করেছেন (ثনা) ইবনে নুমাইর, বর্ণনা করেছেন (ثনা) ইয়াহইয়া ইবনে ঈসা, সুফিয়ান থেকে, আল-আ’মাশ থেকে, মুসলিম থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
مَسْرُوقٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللهِ: «مَا أُنْزِلَتْ آيَةٌ إِلَّا، وَأَنَا أَعْلَمُ، فِيمَا أُنْزِلَتْ، وَلَوْ أَنِّي أَعْلَمُ أَنَّ أَحَدًا أَعْلَمُ بِكِتَابِ اللهِ مِنِّي [تُبَلِّغُهُ]
(1) الْإِبِلُ، [وَ]
(2) الْمَطَايَا لَأَتَيْتُهُ»
(3).
27 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَنَانِيُّ، أَنْبَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الزُّبَيْرِ الْكُوفِيُّ، ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانَ، ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، ثَنَا عِيسَى الْحَنَّاطُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: «لَوْ أَنَّ رَجُلًا سَافَرَ مِنْ أَقْصَى الشَّامِ إِلَى أَقْصَى الْيَمَنِ فَحَفِظَ كَلِمَةٍ تَنْفَعُهُ فِيمَا يَسْتَقْبِلُهُ مِنْ عُمُرِهِ رَأَيْتُ أَنَّ سَفَرَهُ لَا يَضِيعُ»
(4).
28 - أَنْشَدَنِي أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْوَخْشِيُّ [الْحَافِظُ]
(5) بِأَصْبَهَانَ قَالَ: أَنْشَدَنِي أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخُرَاسَانِي:
رَحَلْتُ أَطْلُبُ أَصْلَ الْعِلْمِ مُجْتَهِدا
… وَزِينَةُ الْمَرْءِ فِي الدُّنْيَا الْأَحَادِيثُ
لَا يَطْلُبُ الْعِلْمَ إِلَّا بَازِلٌ ذَكَرٌ
… وَلَيْسَ يُبْغِضُهُ إِلَّا الْمَخَانِيثُ
لَا تَعْجَبَنَّ بِمَالٍ سَوْفَ تَتْرُكُهُ
… فَإِنَّمَا هَذِهِ الدُّنْيَا مَوَارِيثُ
--------------------------------------------
মাসরুক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বলেছেন: «এমন কোনো আয়াত নাযিল হয়নি যার সম্পর্কে আমি জানি না যে তা কেন নাযিল হয়েছে। আর আমি যদি জানতাম যে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী এমন কেউ আছেন যার কাছে উট [পৌঁছে দিতে পারে]
(১) [অথবা]
(২) আরোহী পশু (পৌঁছাতে সক্ষম), তবে আমি অবশ্যই তার নিকট আসতাম»
(৩).
২৭ - আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আল-হানানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-জুবাইর আল-কুফি আমাদের অবহিত করেছেন, আল-হাসান ইবন আলী ইবন আফফান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, জাফর ইবন আউন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ঈসা আল-হান্নাত আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আশ-শা’বি থেকে, তিনি বলেন: «যদি কোনো ব্যক্তি সিরিয়ার দূরপ্রান্ত থেকে ইয়ামেনের দূরপ্রান্ত পর্যন্ত সফর করে এমন একটি কথা মুখস্থ করার জন্য যা তার পরবর্তী জীবনে উপকারে আসবে, তবে আমি মনে করি যে তার সফর বৃথা যায়নি»
(৪).
২৮ - আবু আলী আল-হাসান ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ আল-ওয়াখশি [হাফিজ (الحافظ)]
(৫) আসফাহানে আমাকে এই কবিতাটি পাঠ করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ফজল আল-আব্বাস ইবন মুহাম্মদ আল-খুরাসানি আমাকে শুনিয়েছেন:
আমি কঠোর পরিশ্রমে ইলমের মূল অন্বেষণে সফর করেছি
… আর দুনিয়াতে মানুষের অলঙ্কার হলো হাদিসসমূহ
একনিষ্ঠ শক্তিশালী পুরুষ ব্যতীত কেউ ইলম অন্বেষণ করে না
… আর পৌরুষহীন ব্যক্তি ব্যতীত কেউ একে ঘৃণা করে না
এমন সম্পদ দেখে বিস্মিত হয়ো না যা তুমি অচিরেই ছেড়ে যাবে
… কেননা এই দুনিয়া তো নিছকই উত্তরাধিকার (হিসেবে হাতবদল হওয়া বস্তু)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
ذكر رحلة نبي الله موسى صلى الله على نبينا وعليه وسلم وفتاه فى طلب العلم29 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ [بْنِ أَحْمَدَ بْنِ]
(1) غَالِبٍ الْخُوَارِزْمِيُّ الْبَرْقَانِيُّ قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْعَبَّاسِ بْنِ حَمْدَانَ حَدَّثَكُمْ مُحَمَّدُ بْنُ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَنْبَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، يَقُولُ: «قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ: إِنَّ نَوْفًا الْبِكَالِيَّ يَزْعُمُ أَنَّ مُوسَى لَيْسَ بِصَاحِبِ الْخَضِرِ إِنَّمَا هُوَ مُوسَى آخَرُ؟» فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: «كَذَبَ عَدُوُّ اللهِ»، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: حَدَّثَنَا أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَنَّ مُوسَى عليه السلام قَامَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ خَطِيبًا فَسُئِلَ أَيُّ النَّاسِ أَعْلَمُ؟ فَقَالَ: «أَنَا».
فَعَتَبَ اللهِ عَلَيْهِ حَيْثُ لَمْ يَرُدَّ الْعِلْمَ إِلَيْهِ، فَقَالَ: عَبْدٌ لِي عِنْدَ مَجْمَعِ الْبَحْرَيْنِ، [وَ]
(2) هُوَ أَعْلَمُ مِنْكَ، قَالَ: «أَيْ رَبِّ، فَكَيْفَ بِهِ»، قَالَ: «تَأْخُذُ حُوتًا، فَاجْعَلْهُ فِي مِكْتَلٍ، فَحَيْثُ مَا فَقَدْتَ الْحُوتَ فَهُوَ ثَمَّ»، قَالَ: «فَأَخَذَ حُوتًا فَجَعَلَهُ فِي مِكْتَلٍ، ثُمَّ انْطَلَقَا يَمْشِيَانِ مَعَهُ فَتَاهُ يُوشَعُ بْنُ نُونَ حَتَّى أَتَى الصَّخْرَةَ، فَنَامَ وَاضْطَرَبَ الْحُوتُ فِي الْمِكْتَلِ، فَخَرَجَ مِنْهُ، فَسَقَطَ فِي الْبَحْرِ، فَأَمْسَكَ اللهِ عَنِ الْحُوتِ الْمَاءَ مِثْلَ الطَّاقِ
(3)، وَجَاوَزَ مُوسَى، فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ مُوسَى نَسِيَ أَنْ يُخْبِرَهُ بِالْحُوتِ، وَقَالَ لَهُ: إِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ، {وَمَا أَنْسَانِيهُ
--------------------------------------------
আল্লাহর নবী মুসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সহচরের ইলম অন্বেষণে সফরের বিবরণ29 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ [ইবনে আহমাদ ইবনে]
(১) গালিব আল-খাওয়ারিজমি আল-বারকানি। তিনি বলেন: আমি আবুল আব্বাস ইবনে হামদানের কাছে পাঠ করেছি, তিনি বলেন, তোমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثكم) মুহাম্মাদ ইবনে নুয়াইম ইবনে আব্দুল্লাহ। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, আমর ইবনে দিনারের সূত্রে (عن), তিনি সাইদ ইবনে জুবায়েরকে বলতে শুনেছেন (سمع): «আমি ইবনে আব্বাসকে বললাম: নাওফ আল-বিকালি দাবি করেন যে, মুসা (আলাইহিস সালাম) খিজিরের সাথী নন, বরং তিনি অন্য এক মুসা? ইবনে আব্বাস বললেন: ‘আল্লাহর শত্রু মিথ্যা বলেছেন (كذب)’। ইবনে আব্বাস বললেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) উবাই ইবনে কাব, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে (عن): «মুসা (আলাইহিস সালাম) বনী ইসরাঈলের মাঝে ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী কে? তিনি বললেন: ‘আমি’।»
অতঃপর আল্লাহ তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হলেন (বা তাঁকে সংশোধন করলেন), যেহেতু তিনি ইলমকে আল্লাহর দিকে সোপর্দ করেননি। আল্লাহ বললেন: ‘দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে আমার এক বান্দা আছে, সে তোমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী’। তিনি (মুসা) বললেন: ‘হে আমার রব! তাঁর কাছে পৌঁছানোর উপায় কী?’ আল্লাহ বললেন: ‘একটি মাছ নাও এবং সেটি ঝুড়িতে রাখো। যেখানে তুমি মাছটি হারাবে, সেখানেই তাঁকে পাবে’। তিনি (মুসা) একটি মাছ নিলেন এবং তা ঝুড়িতে রাখলেন। অতঃপর তাঁরা চলতে শুরু করলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর সহচর ইউশা ইবনে নুনও চললেন। পরিশেষে তাঁরা একটি পাথরের কাছে পৌঁছালেন। সেখানে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়লেন এবং মাছটি ঝুড়ির মধ্যে নড়াচড়া করতে লাগল। অতঃপর সেটি ঝুড়ি থেকে বের হয়ে সমুদ্রে পড়ে গেল। আল্লাহ মাছটির জন্য সমুদ্রের পানির প্রবাহ আটকে দিলেন এবং তা একটি খিলানের (طاق) মতো হয়ে গেল
(৩)। মুসা (আলাইহিস সালাম) পথ অতিক্রম করে চললেন। যখন তিনি জাগ্রত হলেন, তখন মাছের কথা (সহচরকে) জানাতে ভুলে গেলেন। মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁকে বললেন: ‘আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম, {আর শয়তানই আমাকে তা ভুলিয়ে দিয়েছিল...}’
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
إِلَّا الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ} [الكهف: 63] الآية.، فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ قَالَ لَهُ مُوسَى: {آتِنَا غَدَاءَنَا لَقَدْ لَقِينَا مِنْ سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا} [الكهف: 62]، فَلَمْ يَجِدِ النَّصَبَ حَتَّى جَاوَزَ حَيْثُ أَمَرَهُ اللهِ. {قَالَ ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا} [الكهف: 64]، فَرَجَعَا يَقُصَّانِ آثَارَهُمَا حَتَّى انْتَهَيَا إِلَى الصَّخْرَةِ، وَكَانَ لِلْحُوتِ سَرَبًا، وَلَهُمَا عَجَبًا، فَإِذَا رَجُلٌ مُسَجًّى [نَائِمٌ]
(1)، فَسَلَّمَ مُوسَى، فَقَالَ لَهُ الْخَضِرُ: وَأَنَّى بِأَرْضِكَ السَّلَامُ أَوْ قَالَ بِأَرْضِي السَّلَامُ - الشَّكُّ مِنْ إِسْحَاقَ - فَقَالَ لَهُ مُوسَى: «أَنَا مُوسَى بَنِي إِسْرَائِيلَ، أَتَيْتُكَ لِتُعَلِّمَنِي مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا»، قَالَ: «إِنَّكَ عَلَى عِلْمٍ عَلَّمَكَهُ اللهِ لَا أَعْلَمُهُ، وَأَنَا عَلَى عِلْمٍ عَلَّمَنِيهِ لَا تَعْلَمُهُ أَنْتَ»، قَالَ: فَإِنِّي أتبعك على أن تعلمني مما علمت رشداً {قَالَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا (67) وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلَى مَا لَمْ تُحِطْ بِهِ خُبْرًا (68) قَالَ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا وَلَا أَعْصِي لَكَ أَمْرًا (69) قَالَ فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلَا تَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا} [الكهف: 67 - 70] فَانْطَلَقَا يَمْشِيَانِ إِلَى السَّاحِلِ فَعَرَفَ الْخَضِرُ، فَحَمَلَ بِغَيْرِ نَوْلٍ
(2) فِي السَّفِينَةِ، فَلَمْ يَفْجَأْ إِلَّا وَالْخَضِرُ يُرِيدُ أَنْ يقلعَ لَوْحًا، فَقَالَ مُوسَى: {أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا (71) قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا (72) قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ} [الكهف: 71 - 73]. قَالَ: وَكَانَتِ الْأُولَى نِسْيَانًا، قَالَ: وَجَاءَ عُصْفُورٌ، فَوَقَعَ عَلَى حَرْفٍ مِنَ السَّفِينَةِ، فَنَقَرَ مِنَ الْبَحْرِ، فَقَالَ لَهُ الْخَضِرُ: مَا نقصَ عِلْمِي وَعِلْمُكَ مِنْ عِلْمِ اللهِ إِلَّا مَا نَقُصَ الْعُصْفُورُ مِنْ هَذَا الْبَحْرِ، فَلَمَّا خَرَجَا مِنَ الْبَحْرِ أَبْصَرَ غُلَامًا مِنَ الْغِلْمَانِ يَلْعَبُ فَتَنَاوَلَهُ فَقَطَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ مُوسَى: {أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُكْرًا (74) قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا (75) قَالَ إِنْ سَأَلْتُكَ عَنْ شَيْءٍ بَعْدَهَا فَلَا تُصَاحِبْنِي قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَدُنِّي عُذْرًا (76)
--------------------------------------------
...শয়তানই আমাকে তা ভুলিয়ে দিয়েছিল।" [আল-কাহাফ: ৬৩] আয়াত। অতঃপর যখন পরদিন হলো, মূসা তাকে বললেন: "আমাদের সকালের খাবার নিয়ে এসো, আমরা আমাদের এই সফরে অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।" [আল-কাহাফ: ৬২]। আল্লাহ তাকে যেখানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই স্থানটি অতিক্রম করার আগে তিনি কোনো ক্লান্তি অনুভব করেননি। "তিনি বললেন: আমরা তো সেই স্থানটিই খুঁজছিলাম। অতঃপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে চললেন।" [আল-কাহাফ: ৬৪]। তারা নিজেদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে চললেন যতক্ষণ না সেই পাথরের কাছে পৌঁছালেন। মাছটি সুড়ঙ্গ করে (সমুদ্রে) চলে গিয়েছিল, যা তাদের উভয়ের জন্য ছিল বিস্ময়কর। সেখানে তারা চাদর আবৃত [নিদ্রিত]
(১) একজন ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন। মূসা সালাম দিলেন। খিজির তাকে বললেন: তোমার এই ভূমিতে সালাম কোত্থেকে এল? অথবা বললেন: আমার এই ভূমিতে সালাম কোত্থেকে এল? — এই সন্দেহ (شك) ইসহাকের পক্ষ থেকে হয়েছে। মূসা তাকে বললেন: "আমি বনী ইসরাঈলের মূসা। আমি আপনার কাছে এসেছি যেন আপনি আমাকে সেই সঠিক পথের জ্ঞান শিক্ষা দেন, যা আপনাকে শেখানো হয়েছে।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আপনি এমন এক জ্ঞানের ওপর আছেন যা আল্লাহ আপনাকে শিখিয়েছেন, যা আমি জানি না; আর আমি এমন এক জ্ঞানের ওপর আছি যা তিনি আমাকে শিখিয়েছেন, যা আপনি জানেন না।" তিনি (মূসা) বললেন: আমি কি আপনার অনুসরণ করব এই শর্তে যে, আপনাকে যা শেখানো হয়েছে তা থেকে আপনি আমাকে সঠিক পথের শিক্ষা দেবেন? "তিনি বললেন: আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না। আর আপনি সে বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করবেন কী করে, যা আপনার জ্ঞানায়ত্ত নয়? মূসা বললেন: ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোনো আদেশ অমান্য করব না। তিনি বললেন: তবে আপনি যদি আমার অনুসরণ করেন, তাহলে কোনো বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না যতক্ষণ না আমি নিজেই সে বিষয়ে আপনাকে কিছু বলি।" [আল-কাহাফ: ৬৭-৭০]। অতঃপর তারা সমুদ্রতীর ধরে হাঁটতে লাগলেন। খিজিরকে চেনা গেল, তাই কোনো পারিশ্রমিক
(২) ছাড়াই তাদের নৌকায় তুলে নেওয়া হলো। হঠাৎ দেখা গেল খিজির নৌকার একটি তক্তা উপড়ে ফেলার ইচ্ছা করছেন। মূসা বললেন: "আপনি কি এর আরোহীদের ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য এতে ছিদ্র করে দিলেন? আপনি তো এক গুরুতর কাজ করেছেন! তিনি বললেন: আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না? মূসা বললেন: আমার বিস্মৃতির জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না।" [আল-কাহাফ: ৭১-৭৩]। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: প্রথমবারটি ছিল ভুলবশত। তিনি বললেন: এরপর একটি চড়ুই পাখি এল এবং নৌকার কিনারায় বসে সমুদ্র থেকে এক চঞ্চু পানি পান করল। তখন খিজির তাকে বললেন: আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় আমার এবং আপনার জ্ঞান ঠিক ততটুকুই, যতটুকু এই চড়ুই পাখিটি সমুদ্র থেকে পানি কমিয়ে দিল। যখন তারা সমুদ্র থেকে বের হয়ে এলেন, তখন তিনি বালকদের মধ্যে এক কিশোরকে খেলতে দেখলেন। তিনি তাকে ধরলেন এবং তার মাথা কেটে ফেললেন। মূসা বললেন: "আপনি কি একটি নিষ্পাপ প্রাণকে কোনো প্রাণের বিনিময় ছাড়াই হত্যা করলেন? আপনি তো এক অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছেন! তিনি বললেন: আমি কি আপনাকে বলিনি যে, আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না? মূসা বললেন: এরপর যদি আমি আপনাকে আর কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি, তবে আপনি আমাকে আর সাথে রাখবেন না। নিশ্চয়ই আপনি আমার পক্ষ থেকে ওজর বা কৈফিয়তের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছেন।" [আল-কাহাফ: ৭৪-৭৬]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمَا فَوَجَدَا جِدَارًا يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَّ} [الكهف: 75 - 77]، فَقَالَ الْخَضِرُ: هَكَذَا بِيَدِهِ، فَأَقَامَهُ، فَقَالَ لَهُ مُوسَى: أَتَيْنَا أَهْلَ هَذِهِ الْقَرْيَةِ، فَلَمْ يُضَيِّفُونَا، فَلَوِ اتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا، قَالَ: {هَذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا (78) أَمَّا السَّفِينَةُ} [الكهف: 78، 79] تَلَا الْآيَاتِ.
قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «وَدِدْنَا أَنَّهُ كَانَ صَبَرَ حَتَّى يُقَصَّ عَلَيْنَا مِنْ خَبَرِهِمَا» قَالَ: وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقْرَأُ: «وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ كَافِرًا» قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: «وَكَانَ أَمَامَهُمْ مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ صَالِحَةٍ غَصْبًا»
(1).
--------------------------------------------
অতঃপর তারা চলতে লাগলেন, যতক্ষণ না তারা এক জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌঁছালেন। তারা জনপদবাসীদের কাছে খাবার চাইলেন, কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারি করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা সেখানে একটি প্রাচীর দেখতে পেলেন যা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল [আল-কাহফ: ৭৫-৭৭]। তখন খিজির (আ.) তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করলেন এবং ওটাকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলেন। মূসা (আ.) তাঁকে বললেন: 'আমরা এই জনপদের লোকদের কাছে আসলাম, অথচ তারা আমাদের মেহমানদারি করল না; আপনি চাইলে এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন।' তিনি বললেন: '{এটিই আমার ও তোমার মধ্যে বিচ্ছেদের সময়। যে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধরতে পারোনি, আমি অচিরেই তার ব্যাখ্যা তোমাকে জানিয়ে দিচ্ছি (৭৮)। আর নৌকাটির ব্যাপার ছিল এই যে...} [আল-কাহফ: ৭৮, ৭৯]'—এভাবে তিনি আয়াতগুলো পাঠ করলেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমরা আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম যে, তিনি (মূসা আ.) যদি ধৈর্য ধরতেন, তবে আমাদের কাছে তাদের আরও খবর বর্ণনা করা হতো।» বর্ণনাকারী বলেন: ইবনে আব্বাস (রা.) পাঠ করতেন: «আর বালকটি ছিল কাফির (كافرًا)»। ইবনে আব্বাস (রা.) আরও বলেন: «তাদের সামনে এক বাদশাহ ছিল, যে প্রতিটি ত্রুটিমুক্ত নৌকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিত»
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٣١)
30 - أَخْبَرَنِي أَبُو الْقَاسِمِ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ النَّجَّارُ: ثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَدَّادٍ الْمُطَرَّزُ، ثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، ثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، ثَنَا يَعْقُوبُ الْقُمِّيُّ، ثَنَا هَارُونُ بْنُ عَنْتَرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: سَأَلَ مُوسَى عليه السلام رَبَّهُ، فَقَالَ: أَيْ رَبِّ أَيُّ عِبَادِكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: الَّذِي يَذْكُرُنِي، وَلَا يَنْسَانِي، قَالَ: رَبِّ فَأَيُّ عِبَادِكَ أَعْلَمُ؟ قَالَ: الَّذِي يَبْتَغِي عِلْمَ النَّاسِ إِلَى عِلْمِهِ عَسَى أَنْ يُصِيبَ كَلِمَةً تَهْدِيهِ إِلَى هُدًى أَوْ تَرُدُّهُ عَنْ رَدى، قَالَ: رَبِّ، فَأَيُّ عِبَادِكَ أَقْضَى؟، قَالَ: الَّذِي يَقْضِي بِالْحَقِّ، وَلَا يَتَّبِعُ الْهَوَى، قَالَ: وَمَنْ ذَاكَ يَا رَبِّ؟ قَالَ: ذَاكَ الْخَضِرُ، قَالَ: وَأَيْنَ أَطْلُبُهُ؟ قَالَ: عَلَى السَّاحِلِ عِنْدَ الصَّخْرَةِ الَّتِي يَنْقَلِبُ عِنْدَهَا الْحُوتُ، قَالَ: فَخَرَجَ مُوسَى يَطْلُبُهُ حَتَّى كَانَ مِنْهُ مَا ذَكَرَ اللهِ تَعَالَى، فَانْتَهَى مُوسَى إِلَيْهِ عِنْدَ الصَّخْرَةِ، فَسَلَّمَ كُلُّ وَاحِدٍ [مِنْهُمَا]
(1) عَلَى صَاحِبِهِ، فَقَالَ لَهُ مُوسَى: إِنِّي أُحِبُّ أَنْ تَصْحَبَنِي، قَالَ: إِنَّكَ لَنْ تُطِيقَ صُحْبَتِي، قَالَ: بَلَى، قَالَ: فَإِنْ صَحِبْتَنِي، {فَلَا تَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا (70) فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا رَكِبَا فِي السَّفِينَةِ خَرَقَهَا قَالَ أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا (71) قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا (72) قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ وَلَا تُرْهِقْنِي مِنْ
--------------------------------------------
৩০ - আবু আল-কাসিম উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আন-নাজ্জার আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني): আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাদ্দাদ আল-মুতাররিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আবু আর-রাবী‘ আজ-জাহরানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), ইয়াকুব আল-কুম্মি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), হারুন ইবনে আনতারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), তাঁর পিতা থেকে, ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর রবের নিকট আরজ করলেন এবং বললেন: হে রব! আপনার বান্দাদের মধ্যে আপনার নিকট সবচেয়ে বেশি প্রিয় কে? তিনি বললেন: যে আমাকে স্মরণ করে এবং আমাকে ভুলে যায় না। তিনি বললেন: হে রব! তবে আপনার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্ঞানী কে? তিনি বললেন: যে নিজের জ্ঞানের সাথে মানুষের জ্ঞান অন্বেষণ করে, এই প্রত্যাশায় যে সে এমন কোনো বাক্য পেয়ে যাবে যা তাকে সঠিক পথের দিশা দেবে অথবা তাকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করবে। তিনি বললেন: হে রব! তবে আপনার বান্দাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক কে? তিনি বললেন: যে ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করে এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করে না। তিনি বললেন: হে রব, তিনি কে? তিনি বললেন: তিনি হলেন খিজির। তিনি বললেন: আমি তাঁকে কোথায় তালাশ করব? তিনি বললেন: সমুদ্র উপকূলে সেই পাথরের নিকট যার কাছে মাছটি ফিরে যাবে। তিনি বলেন: অতঃপর মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর সন্ধানে বের হলেন, এমনকি তাঁর সাথে সেই ঘটনা ঘটল যা মহান আল্লাহ উল্লেখ করেছেন। মুসা (আলাইহিস সালাম) সেই পাথরের নিকট তাঁর কাছে পৌঁছালেন। তখন তাঁদের প্রত্যেকে [উভয়ের মধ্য থেকে]
(১) একে অপরকে সালাম দিলেন। মুসা তাঁকে বললেন: আমি পছন্দ করি যে আপনি আমাকে আপনার সঙ্গী করবেন। তিনি বললেন: আপনি আমার সাহচর্যে ধৈর্য ধরতে সমর্থ হবেন না। তিনি বললেন: অবশ্যই (পারব)। তিনি বললেন: যদি আপনি আমার সঙ্গী হন, {তবে আপনি আমাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করবেন না, যতক্ষণ না আমি আপনার কাছে সে বিষয়ে কোনো আলোচনা করি (৭০) অতঃপর তারা উভয়ে চলতে লাগলেন, অবশেষে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করলেন, তিনি সেটি ছিদ্র করে দিলেন। মুসা বললেন: আপনি কি এটি ছিদ্র করলেন যাতে এর আরোহীদের ডুবিয়ে দিতে পারেন? আপনি তো এক গুরুতর কাজ করেছেন (৭১) তিনি বললেন: আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না? (৭২) মুসা বললেন: আমার বিস্মৃতির জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না এবং আমার বিষয়ে আমার ওপর কঠোরতা করবেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস - ত্ব-আবী উওয়াইস
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
أَمْرِي عُسْرًا (73) فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا لَقِيَا غُلَامًا فَقَتَلَهُ قَالَ أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُكْرًا (74) قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا (75) قَالَ إِنْ سَأَلْتُكَ عَنْ شَيْءٍ بَعْدَهَا فَلَا تُصَاحِبْنِي قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَدُنِّي عُذْرًا (76) فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمَا فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارًا يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَّ فَأَقَامَهُ قَالَ لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا (77) قَالَ هَذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا} [الكهف: 70 - 78] قَالَ: فَأَخْبَرَهُ بِمَا قَالَ اللهِ تَعَالَى، فَسَارَ بِهِ فِي الْبَحْرِ حَتَّى انْتَهَى إِلَى مَجْمَعِ [الْبُحُورِ]
(1)، قَالَ: يَا مُوسَى هَلْ تَدْرِي أَيُّ مَكَانٍ هَذَا؟ قَالَ: لَا، قَالَ: هَذَا مَجْمَعُ الْبُحُورِ، لَيْسَ فِي الْأَرْضِ مَكَانٌ أَكْثَرُ مَاءً مِنْ هَذَا، قَالَ: وَبَعَثَ رَبُّكَ الْخُطَّافَ، فَجَعَلَ يُسْتَقَى مِنَ الْمَاءِ بِمِنْقَارِهِ، قَالَ: «يَا مُوسَى، كَمْ تَرَى هَذَا الْخُطَّافَ رُزِئَ مِنْ [هَذَا]
(2) الْمَاءِ»؟ قَالَ: «مَا أَقَلَّ مَا رُزِئَ»، قَالَ: «فَإِنَّ عِلْمِي وَعِلْمَكَ فِي عِلْمِ اللهِ كَقَدْرِ مَا حَمَلَ هَذَا الْخُطَّافُ مِنْ هَذَا الْمَاءِ»
(3).
وَقَدْ كَانَ مُوسَى قَدْ حَدَّثَ نَفْسَهُ بِأَنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ أَعْلَمَ مِنْهُ أَوْ تَكَلَّمَ بِهِ، مِنْ ثَمَّ أُمِرَ أَنْ يَأْتِيَ الْخَضِرَ.
قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ: إَنَّ فِيمَا عَانَاهُ مُوسَى مِنَ الدَّأَبِ وَالسَّفَرِ وَصَبَرَ عَلَيْهِ مِنَ التَّوَاضُعِ وَالْخُضُوعِ لِلْخضرِ بَعْدَ مُعَانَاةِ قَصْدِهِ مَعَ مَحِلِّ مُوسَى مِنَ
--------------------------------------------
...আমার বিষয়ে কঠিন অবস্থার সৃষ্টি করো না (৭৩)। অতঃপর তারা পথ চলতে লাগল, যতক্ষণ না তারা এক বালকের সাক্ষাৎ পেল, তখন সে তাকে হত্যা করল। মুসা বলল: ‘আপনি কি একটি নিষ্পাপ প্রাণের বিনিময় ছাড়াই একটি পবিত্র আত্মাকে হত্যা করলেন? আপনি তো এক অত্যন্ত গর্হিত কাজ করলেন!’ (৭৪) সে বলল: ‘আমি কি আপনাকে বলিনি যে, আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য ধরতে পারবেন না?’ (৭৫) মুসা বলল: ‘এরপর যদি আমি আপনাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে আপনি আমাকে আর সাথে রাখবেন না; আপনি আমার পক্ষ থেকে ওজর লাভ করার পর্যায়ে পৌঁছেছেন।’ (৭৬) অতঃপর তারা চলতে লাগল, যতক্ষণ না তারা এক জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌঁছাল, তারা তাদের কাছে খাবার চাইল, কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারি করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা সেখানে একটি প্রাচীর দেখতে পেল যা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন সে তা সোজা করে দিল। মুসা বলল: ‘আপনি ইচ্ছা করলে এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন।’ (৭৭) সে বলল: ‘এটাই আমার ও আপনার মধ্যে বিচ্ছেদ। আমি আপনাকে সেই বিষয়গুলোর তাৎপর্য জানিয়ে দিচ্ছি, যেগুলোতে আপনি ধৈর্য ধরতে পারেননি।’ (৭৮)} [আল-কাহাফ: ৭০ - ৭৮] তিনি বললেন: অতঃপর তিনি তাকে তা অবহিত করলেন যা আল্লাহ তাআলা বলেছিলেন। তারপর তিনি তাকে নিয়ে সমুদ্রে যাত্রা করলেন যতক্ষণ না তিনি [সমুদ্রসমূহের]
(১) সঙ্গমস্থলে পৌঁছালেন। তিনি বললেন: ‘হে মুসা, আপনি কি জানেন এটি কোন জায়গা?’ তিনি বললেন: ‘না।’ তিনি বললেন: ‘এটি সমুদ্রসমূহের সঙ্গমস্থল, পৃথিবীতে এর চেয়ে বেশি পানি আর কোথাও নেই।’ তিনি বললেন: ‘আর আপনার রব একটি ফিঙ্গে পাখি পাঠালেন, সেটি তার ঠোঁট দিয়ে পানি পান করতে লাগল।’ তিনি বললেন: ‘হে মুসা, আপনি কি দেখছেন এই পাখিটি [এই]
(২) পানি থেকে কতটুকু কমালো?’ তিনি বললেন: ‘খুবই সামান্য যা সে কমিয়েছে।’ তিনি বললেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার জ্ঞানের তুলনায় আমার ও আপনার জ্ঞান ঠিক ততটুকু, যতটুকু এই পাখিটি এই পানি থেকে গ্রহণ করেছে’
(৩)।
মুসা (আ.) মনে মনে ভেবেছিলেন যে, তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কেউ নেই অথবা তিনি তা মুখে প্রকাশ করেছিলেন, এ কারণেই তাকে খিজিরের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
কোনো কোনো আলিম বলেছেন: মুসা (আ.) যে পরিশ্রম ও সফর করেছেন এবং খিজিরের কাছে যে বিনয় ও আনুগত্যের সাথে ধৈর্য ধারণ করেছেন, মুসার সুউচ্চ মাকাম থাকা সত্ত্বেও...
--------------------------------------------