(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: -)
حقوق اليتامى كما جاءت في سورة النساء   (سليمان اللاحم)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: حقوق اليتامى كما جاءت في سورة النساء

المؤلف: سليمان بن إبراهيم بن عبد الله اللاحم

الناشر: دار العاصمة للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م

عدد الصفحات: 119

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 جُمادَى الآخرة 1436

সূরা আন-নিসায় বর্ণিত এতিমদের অধিকারসমূহ   (সুলায়মান আল-লাহিম)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রীয় বিষয়াবলী


গ্রন্থ: সূরা আন-নিসায় বর্ণিত এতিমদের অধিকারসমূহ

লেখক: সুলায়মান বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-লাহিম

প্রকাশক: দারুল আসিমা প্রকাশনা ও বিতরণ, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: -)
السلسلة القرآنية فِي تَفْسِير كتاب الله عز وجل وَبَيَان مَا فِيهِ من الْفَوَائِد وَالْأَحْكَام والدروس التربوية (7)

 

حُقُوق الْيَتَامَى كَمَا جَاءَت فِي سُورَة النِّسَاء

 

إعداد

أ. د. سُلَيْمَان بن إِبْرَاهِيم بن عبد الله اللاحم

الْأُسْتَاذ بقسم الْقُرْآن وعلومه

بجامعة الإِمَام مُحَمَّد بن سعود الإسلامية - القصيم

 

دَار العاصمة للنشر والتوزيع
মহান আল্লাহর কিতাবের তাফসীর (تفسير) এবং তাতে বিদ্যমান উপকারিতা (فوائد), বিধানসমূহ (أحكام) ও শিক্ষামূলক পাঠসমূহের বর্ণনায় কুরআন সিরিজ (৭)

 

সূরা আন-নিসায় বর্ণিত এতিমদের অধিকার

 

প্রস্তুতকরণে

প্রফেসর ড. সুলাইমান বিন ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-লাহিম

অধ্যাপক, কুরআন ও এর উলূম (علوم) বিভাগ

ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় - আল-কাসিম

 

দারুল আসিমাহ প্রকাশনা ও বিতরণ
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمة

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

فإن هذه السورة العظيمة سورة النساء قد عالجت كثيراً من القضايا الاجتماعية الهامة، كقضايا المرأة والأسرة وقضايا المجتمع والدولة، والسلم والحرب، وعالجت أحوال الجاهليين وما كان فيها من جور وظلم واستبداد وعدول عن الحق والعدل، في أمور كثيرة، وأحوال متعددة، من أهمها ما كانت الجاهلية تعامل به اليتامى والنساء وبخاصة اليتيمات منهن، وقد أولت هذه السورة الكريمة هذا الجانب وهو حقوق، اليتامى اهتماماً عظيماً، بل إن أول وصية في السورة بعد الأمر العام بتقوى الله وتقوى الأرحام هي الوصية باليتامى والعناية بهم وحفظ أموالهم، والعدل مع اليتامى، وتوريثهم، وكشف عوار الجاهلية وتعسفها فيما تعامل به اليتامى من ظلم، يتمثل ذلك في أكل أموالهم بغير حق، بل بأكلها إسرافاً ومبادرة خوف كبرهم، ومن منع اليتيمات من الزواج لأجل أكل أموالهن، أو يزوجن من الأوصياء أو الأولياء أو من أقاربهم، ممن لا يعدلون معهن في المهور والنفقات، بل ولا في نصيبهن من الأزواج لأن زواجهم بهن ليس لرغبة فيهن وإنما رغبة في ما لهن كيلا يذهب هذا المال بعيداً في الغرباء.

كما يتمثل هذا الظلم بالجور على الصغار والضعفاء والنساء، فلا يسلم لهم نصيبهم الحقيقي من الميراث، وإنما يستبد بالميراث أو بمعظمه الرجال الأقوياء الذين يحملون السلاح ويكسبون ويكتسبون، ولا ينال منه الضعفاء شيئًا، وإن أعطوا منه شيئًا فقليل لا يذكر، موكول إلى ضمائر قساة القلوب من الرجال الأقوياء. فيا سبحان الله كيف يحرم من هذا الميراث من هم في أشد الحاجة إليه، وهم الضعفاء ويخص به الرجال الأقوياء، إنها النظرات الجاهلية وسفاهات العقول الضالة، والتي لم تهتد بوحي السماء، وإن ذا العقل السليم المتجرد عن العصبية والهوى يلحظ
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুলের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই এই মহান সূরা, সূরা আন-নিসা, নারী ও পরিবারের বিষয়াবলি, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিষয়াবলি এবং শান্তি ও যুদ্ধের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা সমাধান করেছে। এটি জাহিলিয়াত যুগের মানুষের অবস্থা এবং তাতে বিদ্যমান অন্যায়, অবিচার, স্বৈরাচার এবং সত্য ও ন্যায়বিচার থেকে বিচ্যুতিকে বহু বিষয়ে ও বিবিধ অবস্থায় তুলে ধরেছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো জাহিলিয়াত যুগে এতিম ও নারীদের প্রতি আচরণ, বিশেষ করে নারী এতিমদের প্রতি। এই মহিমান্বিত সূরাটি এতিমদের অধিকারের এই দিকটির প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। প্রকৃতপক্ষে, আল্লাহর তাকওয়া এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার সাধারণ নির্দেশের পর এই সূরায় প্রথম উপদেশটি হলো এতিমদের প্রতি সদয় হওয়া, তাদের যত্ন নেওয়া, তাদের সম্পদ সংরক্ষণ করা, এতিমদের সাথে ইনসাফ করা এবং তাদের উত্তরাধিকার প্রদান করা। এটি এতিমদের প্রতি জাহিলিয়াত যুগের আচরণের যে অন্যায় ও অত্যাচার ছিল তার স্বরূপ উন্মোচন করেছে, যা তাদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার মাধ্যমে প্রকাশিত হতো। এমনকি তাদের সম্পদ অপব্যয় করে এবং তারা বড় হয়ে যাবে এই ভয়ে দ্রুত গ্রাস করার মাধ্যমেও তা করা হতো। এছাড়া তাদের সম্পদ গ্রাস করার উদ্দেশ্যে নারী এতিমদের বিবাহে বাধা দেওয়া হতো, অথবা অভিভাবক কিংবা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে বিবাহ দেওয়া হতো, যারা মোহরানা ও ভরণপোষণের ক্ষেত্রে তাদের সাথে ন্যায়বিচার করত না, এমনকি স্ত্রীদের প্রাপ্য অধিকারের ক্ষেত্রেও নয়। কারণ তাদের সাথে এই বিবাহের উদ্দেশ্য তাদের প্রতি অনুরাগ ছিল না, বরং তাদের সম্পদের প্রতি লোভ ছিল, যাতে সেই সম্পদ বাইরের লোকদের কাছে চলে না যায়।

অনুরূপভাবে, এই জুলুম শিশু, দুর্বল এবং নারীদের ওপর অন্যায়ের মাধ্যমেও প্রকাশ পেত। তাদের উত্তরাধিকারের প্রকৃত অংশ তাদের প্রদান করা হতো না; বরং উত্তরাধিকারের সম্পূর্ণ অংশ বা এর অধিকাংশ সেই শক্তিশালী পুরুষরাই দখল করত যারা অস্ত্র বহন করত এবং আয়-উপার্জন করত। আর দুর্বলরা তা থেকে কিছুই পেত না, আর যদি তাদের কিছু দেওয়াও হতো, তবে তা ছিল অতি সামান্য এবং নগণ্য, যা ঐ শক্তিশালী কঠোর হৃদয়ের পুরুষদের মর্জির ওপর নির্ভরশীল ছিল। সুবহানাল্লাহ! যারা এই উত্তরাধিকারের সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী—অর্থাৎ সেই দুর্বল শ্রেণি—কীভাবে তাদের তা থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং শক্তিশালী পুরুষদের জন্য তা নির্দিষ্ট করা হয়? এটি নিছক জাহেলি দৃষ্টিভঙ্গি এবং পথভ্রষ্ট বুদ্ধির মূর্খতা যা আসমানী ওহী দ্বারা হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়নি। পক্ষপাতিত্ব ও প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত সুস্থ বিবেকসম্পন্ন যেকোনো ব্যক্তি এটি লক্ষ্য করবেন যে—
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ৪)
ولأول وهلة هذا التخبط وصدق الله العظيم {وَلَكِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَأكثرهُمْ لَا يَعْقِلُونَ} (1).

ولقد ظل بعض الناس حتى بعد نزول هذه الآيات في توريث عموم الرجال والنساء يترقب ويتحرى أو يتمنى نسخ ميراث الصبيان والنساء، لتأصل هذه النظرة الجأهلية في نفوسهم.

ولقد أنزل الله عز وجل في مطلع هذه السورة وفي ثناياها عدة آيات فيها تشريعات عملية في وجوب حفظ أموال اليتامى وإيتائهم إياها بمد بلوغهم ورشدهم، والعدل مع اليتيمات، وبين النساء عموماً، وتوريثهن مع الرجال والتوكيد على حقوق اليتامى، والوعيد الشديد لمن يعتدي على حقوقهم وأموالهم.

وسأتناول في هذا البحث الكلام عن هذه الحقوق من خلال الكلام على الآيات الواردة في هذا الموضوع في سورة النساء، وبيان ما فيها من الفوائد والأحكام والدروس التربوية. سائلًا الله عز وجل أن يرزقني الإخلاص في القول والعمل. وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين. … المؤلف

--------------------------------------------

(1) سورة المائدة، آية: 103.
প্রথম দর্শনেই এই বিভ্রান্তি পরিলক্ষিত হয় এবং মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন {কিন্তু যারা কুফরি করে তারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা (كذب) আরোপ করে এবং তাদের অধিকাংশই উপলব্ধি করে না} (১)।

পুরুষ ও নারীদের সাধারণ উত্তরাধিকার বিষয়ে এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ হওয়ার পরেও কিছু মানুষ শিশু ও নারীদের উত্তরাধিকার রহিত (نسخ) হওয়ার প্রতীক্ষায় ছিল, তা অনুসন্ধান করত অথবা কামনা করত; কারণ এই জাহেলি দৃষ্টিভঙ্গি তাদের অন্তরে বদ্ধমূল ছিল।

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এই সূরার শুরুতে এবং এর বিভিন্ন অংশে বেশ কিছু আয়াত অবতীর্ণ করেছেন যাতে এতিমদের সম্পদ সংরক্ষণ করা এবং তারা প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান হওয়ার পর তাদের তা বুঝিয়ে দেওয়ার আবশ্যকতা, এতিম নারী ও সাধারণভাবে সকল নারীদের প্রতি সুবিচার করা, পুরুষদের সাথে তাদেরও উত্তরাধিকারী করা, এতিমদের অধিকার সুনিশ্চিত করা এবং যারা তাদের অধিকার ও সম্পদ হরণ করে তাদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি সম্বলিত ব্যবহারিক বিধানাবলি রয়েছে।

আমি এই গবেষণাপত্রে সূরা আন-নিসায় বর্ণিত এই বিষয় সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহের আলোচনার মাধ্যমে এই অধিকারগুলো নিয়ে আলোকপাত করব এবং এতে বিদ্যমান ফায়দা, বিধিবিধান ও শিক্ষণীয় বিষয়গুলো বর্ণনা করব। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাকে কথা ও কাজে নিষ্ঠা দান করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। … লেখক

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ১০৩।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌وجوب حفظ أموال اليتامى وإيتائهم إياها

‌‌قوله تعالى: {وَآَتُوا الْيَتَامَى أموالهُمْ وَلَا تَتَبَدَّلُوا الْخَبِيثَ بِالطَّيِّبِ وَلَا تَأكلوا أموالهُمْ إلى أموالكُمْ إِنَّهُ كَانَ حُوبًا كَبِيرًا} (1).

صلة الآية بما قبلها:

 

قوله تعالى: {وَآَتُوا الْيَتَامَى أموالهُمْ} (2) وما بعده إلى نهاية السورة تفصيل وبيان لما أجمل في الآية السابقة من الأمر بتقوى الله، وتقوى الأرحام، وقد بدأ عز وجل أول وصية بعد هذين الإجمالين بالأمر بإيتاء اليتامى أموالهم مما يدل على وجوب حفظ أموال اليتامى والعناية بهم ورعايتهم نظراً لشدة حاجتهم إلى العناية والرعاية، حيث فقدوا آباءهم الذين يقومون برعايتهم (3).

‌‌معاني المفردات والجمل:

قوله تعالى: {وَآَتُوا الْيَتَامَى أموالهُمْ}.

وآتوا: الخطاب عام لكل من عنده مال لليتامى، سواء كان وصيًّا (4) عليهم أو وليًّا (5)، أو ممن يتولى قسمة الميراث، أو ممن أخذ أموالهم بغيرحق.

(وآتوا) فعل أمر ينصب مفعولين ليس أصلهما المبتدأ والخبر، الأول في هذا الموضع «اليتامى» والثاني «أموالهم».

ومعنى «آتوا» أعطوا.

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، آية: 2.

(2) سورة النساء، آية: 2.

(3) روي عن سعيد بن جبير في سبب نزول قوله {وَآَتُوا الْيَتَامَى أموالهُمْ} أن رجلًا من غطفان كان عنده مال كثير لابن أخ له يتيم، فلما كبر طلب ماله فأبي أن يعطيه إياه، فنزلت هذه الآية. أخرجه ابن أبي حاتم في «تفسيره» 1/ 854، الأثر 4728.

(4) الوصي هو الذي يعهد إليه بالتصرف بعد الموت. وانظر «لسان العرب» مادة «وصي».

(5) الولي هو الذي يتولى مال غيره بغير إذن منه، بل بإذن من الشرع بأن يوليه القاضي ونحو ذلك. وانظر «لسان العرب» مادة «ولي».
‌‌ইয়াতিমদের সম্পদ সংরক্ষণ এবং তা তাদের নিকট অর্পণ করার আবশ্যকতা

‌‌মহান আল্লাহর বাণী: {وَآَتُوا الْيَتَامَى أموالهُمْ وَلَا تَتَبَدَّلُوا الْخَبِيثَ بِالطَّيِّبِ وَلَا تَأكلوا أموالهُمْ إلى أموالكُمْ إِنَّهُ كَانَ حُوبًا كَبِيرًا} (১)।

পূর্ববর্তী আয়াতের সাথে এই আয়াতের সম্পর্ক:

 

মহান আল্লাহর বাণী: {وَآَتُوا الْيَتَامَى أموالهُمْ} (২) এবং এর পর থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত অংশগুলো পূর্ববর্তী আয়াতে আল্লাহভীতি এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার যে সংক্ষিপ্ত নির্দেশ প্রদান করা হয়েছিল, তারই বিস্তারিত বর্ণনা ও ব্যাখ্যা। মহান আল্লাহ এই দুটি সংক্ষিপ্ত বিষয়ের পর প্রথম অসিয়ত বা উপদেশ হিসেবে ইয়াতিমদের সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে শুরু করেছেন। এটি ইয়াতিমদের সম্পদ সংরক্ষণ এবং তাদের প্রতি বিশেষ যত্ন ও মনোযোগ দেওয়ার আবশ্যকতা প্রমাণ করে। যেহেতু তারা তাদের পিতাকে হারিয়েছে যারা তাদের দেখাশোনা করত, তাই তারা বিশেষ যত্ন ও আশ্রয়ের মুখাপেক্ষী (৩)।

‌‌শব্দ ও বাক্যসমূহের অর্থ:

মহান আল্লাহর বাণী: {وَآَتُوا الْيَتَامَى أموالهُمْ}।

وآتوا (এবং তোমরা দিয়ে দাও): এই সম্বোধনটি সেই প্রত্যেকের জন্য প্রযোজ্য যার নিকট ইয়াতিমদের সম্পদ রয়েছে; চাই সে তাদের ওসি (وصي) (৪) হোক কিংবা অভিভাবক (ولي) (৫), অথবা উত্তরাধিকার বন্টনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, অথবা এমন কেউ যে অন্যায়ভাবে তাদের সম্পদ গ্রহণ করেছে।

(وآتوا) এটি একটি অনুজ্ঞাসূচক ক্রিয়া যা এমন দুটি কর্মপদকে নসব প্রদান করে যাদের মূল ভিত্তি মুক্তাদা ও খবর নয়। এই স্থলে প্রথম কর্মপদ হলো «اليتامى» এবং দ্বিতীয়টি হলো «أموالهم»।

আর «آتوا» শব্দের অর্থ হলো 'তোমরা প্রদান করো'।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২।

(৩) সা'ঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এই আয়াতের {وَآَتُوا الْيَتَامَى أموالهُمْ} নাযিলের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে (روي) যে, গাতাফান গোত্রের এক ব্যক্তির নিকট তার এক ইয়াতিম ভাতিজার প্রচুর সম্পদ ছিল। ভাতিজা যখন প্রাপ্তবয়স্ক হলো, তখন সে তার সম্পদ ফেরত চাইল, কিন্তু চাচা তা দিতে অস্বীকার করল। তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়। ইবনে আবি হাতিম এটি তার 'তাফসীর'-এ সংকলন করেছেন (أخرجه), খণ্ড ১/ পৃষ্ঠা ৮৫৪, বর্ণনা (الأثر) নম্বর ৪৭২৮।

(৪) ওসি (الوصي) হলেন তিনি, যাকে মৃত্যুর পর কোনো কার্য সম্পাদনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। দেখুন: 'লিসানুল আরব', মূল ধাতু: 'وصي'।

(৫) অভিভাবক (الولي) হলেন তিনি, যিনি অন্যের অনুমতি ছাড়াই তার সম্পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, বরং শররিয়তের অনুমতিক্রমে বিচারক বা এই জাতীয় কেউ তাকে এই দায়িত্ব প্রদান করেন। দেখুন: 'লিসানুল আরব', মূল ধাতু: 'ولي'।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ৬)
و «اليتامى»: جمه يتيم ويتيمة، والأيتام جمع يتيم (1) واليتيمات جمع يتيمة، وهو مأخوذ من اليُتم وهو الانفراد، فاليتيم: الفرد، ومنه سميت «الدرة اليتيمة» (2).

واليتيم في اصطلاح الشرع: من مات أبوه (3) وهو صغير، دون البلوغ (4)

ذكراً كان أو أنثى، فإذا بلغ زال عنه اليتم واستقل بنفسه، لقوله صلى الله عليه وسلم: «لا يتم بعد احتلام» (5).

قوله: (أموالهم): أموال: جمع مال، وهو كل ما يتمول من نقد أو عين من أثاث

--------------------------------------------

(1) انظر «مدارك التنزيل» 1/ 289.

(2) انظر «أحكام القرآن للجصاص» 1/ 330، «الكشاف» 1/ 242، «أحكام القرآن» لابن العربي 1/ 308، «المحرر الوجيز» 4/ 11، «التفسير الكبير» 9/ 136.

والدرة اليتيمة: في النحو نظم لابن نبهان سعيد بن سعد الحضرمي، طبع مع كتاب الآجرومية في المطبعة الميمنية سنة 1333 هـ، وهناك الدرة اليتيمة في التجويد طبع في الآستانة سنة 1252 هـ لزين الدين محمد بن بير علي محيي الدين المشهور باسم بيركلي أو بركلي أو بركوي (929 - 981) م انظر «العقد المنظوم في ذكر أفاضل الروم» 2/ 430. وهناك الدرة في الأمثال القديمة لإبراهيم بن خطار سركيس اللبناني طبع في بيروت سنة 1871 في 173 صفحة، وهناك الدرة اليتيمة في طاعى الملوك لابن المقفع م 143 هـ طبع عدة طبعات منها طبعة القاهرة بتحقيق شكيب أرسلان وطبعة بيروت سنة 1897 م وغيرهما.

(3) والعجي من ماتت أمه، واللطيم من مات أبوه وأمه قبل بلوغه. واليتيم في البهيمة من ماتت أمه وهو صغير. انظر «المفردات» مادة «يتم»، «المحرر الوجيز» 4/ 11، «لسان العرب» مادة «يتم».

(4) انظر «أحكام القرآن» للجصاص 1/ 330، «معالم التنزيل» 1/ 390، «أحكام القرآن» لابن العربي 1/ 308، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 8.

 

قال شيخ الإسلام ابن تيمية في «مجموع الفتأوى» 14/ 108 - 110: «اليتيم في الآدميين من فقد أباه، لأن أباه هو الذي يهذبه ويرزقه وينصره بموجب الطبع المخلوق، ولهذا كان تابعًا في الدين لوالده، وكانت نفقته عليه، وحضانته عليه، والإنفاق هو الرزق، والحضانة هي النصر، لأنها الإيواء ودفع الأذى، فإذا عدم أبوه طمعت النفوس فيه، لأن الإنسان ظلوم جهول، والمظلوم عاجز ضعيف، فتقوى جهة الفساد من جهة قوة المقتضي ومن جهة ضعف المانع، ولهذا أعظم الله أمر اليتامى في كتابه في آيات كثيرة …»

(5) أخرجه أبو دأود في الوصايا الحديث 2873 من حديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا يتم بعد احتلام، ولا صمات يوم إلى الليل» وصححه الألباني وله شاهد من حديث جابر وأنس رضي الله عنهما. والصمات: السكوت.
এবং «আল-ইয়াতামা» (اليتامى): এটি ‘ইয়াতিম’ (يتيم) এবং ‘ইয়াতিমাহ’ (يتيمة) শব্দের বহুবচন; আর ‘আল-আইতাম’ (الأيتام) হলো ‘ইয়াতিম’ (১) এর বহুবচন এবং ‘আল-ইয়াতিমাত’ (اليتيمات) হলো ‘ইয়াতিমাহ’ এর বহুবচন। এটি ‘আল-ইয়ুতম’ (اليُتم) শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ হলো একাকীত্ব (الانفراد)। সুতরাং ‘ইয়াতিম’ বলতে একক (الفرد) ব্যক্তিকে বোঝায়, আর এ থেকেই ‘আদ-দুররাতুল ইয়াতিমাহ’ (الدرة اليتيمة) নামকরণ করা হয়েছে (২)।

শররিয়তের পরিভাষায় ইয়াতিম হলো: যার পিতা মারা গিয়েছে (৩) এবং সে শিশু অবস্থায় অর্থাৎ বয়ঃসন্ধির (دون البلوغ) নিচে রয়েছে (৪)।

সে পুরুষ হোক বা নারী। যখন সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তখন তার ইয়াতিম অবস্থা দূর হয়ে যায় এবং সে স্বাবলম্বী হয়ে যায়। এর সপক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "স্বপ্নদোষের (احتلام) পর আর কোনো পিতৃহীনতা থাকে না" (৫)।

তাঁর বাণী: (তাদের ধন-সম্পদ): ‘আমওয়াল’ (أموال) হলো ‘মাল’ (مال) এর বহুবচন। নগদ অর্থ বা আসবাবপত্রের ন্যায় এমন প্রতিটি বস্তুকেই মাল বলা হয় যা সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন মাদারিফুত তানজিল ১/ ২৮৯।

(২) দেখুন আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস ১/ ৩৩০, আল-কাশশাফ ১/ ২৪২, আহকামুল কুরআন লি ইবনিল আরাবি ১/ ৩০৮, আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ ৪/ ১১, আত-তাফসীরুল কাবীর ৯/ ১৩৬।

নাহু শাস্ত্রে আদ-দুররাতুল ইয়াতিমাহ হলো ইবনে নাবহান সাঈদ বিন সা’দ আল-হাদরামি রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ, যা ১৩৩৩ হিজরিতে আল-মাতবাআ আল-মাইমানিয়াহ থেকে আজুরুমিয়াহ গ্রন্থের সাথে মুদ্রিত হয়েছে। তাজবিদ শাস্ত্রেও আদ-দুররাতুল ইয়াতিমাহ নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে যা ১২৫২ হিজরিতে আস্তানা থেকে মুদ্রিত হয়েছে। এর লেখক যিনুদ্দীন মুহাম্মদ বিন পীর আলী মুহিউদ্দীন, যিনি পীরকলি বা বারকলি বা বারকুয়ি (৯২৯-৯৮১ খ্রি.) নামে পরিচিত। দেখুন আল-ইকদুন মানজুম ফি যিকরিল আফাদিলির রুম ২/ ৪৩০। ইবরাহীম বিন খাত্তার সারকিস আল-লুবনানি রচিত প্রাচীন প্রবাদ বিষয়ে আদ-দুররাহ নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে যা ১৮৭১ সালে বৈরুতে ১৭৩ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়। ইবনুল মুকাফফা (মৃত্যু ১৪৩ হি.) রচিত বাদশাহদের আনুগত্য বিষয়ে আদ-দুররাতুল ইয়াতিমাহ ফি তায়াতিল মুলুক নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে যা শাকিব আরসলান এর তাহকিকসহ কায়রো থেকে এবং ১৮৯৭ সালে বৈরুত থেকে এবং আরও কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে।

(৩) যার মা মারা যায় তাকে ‘আজি’ (العجي) বলা হয়, আর যার মা-বাবা উভয়েই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে মারা যায় তাকে ‘লাতিম’ (اللطيم) বলা হয়। চতুষ্পদ প্রাণীর ক্ষেত্রে যার মা মারা যায় তাকে শিশু অবস্থায় ইয়াতিম বলা হয়। দেখুন আল-মুফরাদাত ‘يتم’ অধ্যায়, আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ ৪/ ১১, লিসানুল আরব ‘يتم’ অধ্যায়।

(৪) দেখুন আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস ১/ ৩৩০, মাআলিমুত তানজিল ১/ ৩৯০, আহকামুল কুরআন লি ইবনিল আরাবি ১/ ৩০৮, আল-জামি লি আহকামিল কুরআন ৫/ ৮।

 

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ মাজমুউল ফাতাওয়া ১৪/ ১০৮-১১০ এ বলেছেন: “মানুষের মধ্যে ইয়াতিম সেই যে তার পিতাকে হারিয়েছে। কারণ পিতাই স্বভাবজাত প্রবৃত্তি অনুযায়ী তাকে শিষ্টাচার শেখান, রিযিকের ব্যবস্থা করেন এবং সাহায্য করেন। এ কারণে দ্বীনের ক্ষেত্রে সে তার পিতার অনুসারী হয়, তার ভরণপোষণ ও লালন-পালন পিতার ওপর ন্যস্ত থাকে। রিযিক হলো ভরণপোষণ, আর লালন-পালন হলো সাহায্য—যেহেতু এটি আশ্রয় দান ও অনিষ্ট দূরীকরণ। সুতরাং যখন তার পিতা না থাকে, তখন মানুষের প্রবৃত্তি তার প্রতি লালায়িত হয়; কারণ মানুষ অত্যন্ত অবিচারকারী ও অজ্ঞ, আর মজলুম ব্যক্তি হয় অক্ষম ও দুর্বল। ফলে অনিষ্টের দিকটি শক্তিশালী হয় প্রবৃত্তির তাড়না শক্তিশালী হওয়ার কারণে এবং বাধা প্রদানকারীর দুর্বলতার কারণে। এজন্যই আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে অনেক আয়াতে ইয়াতিমদের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন...।”

(৫) এটি আবু দাউদ আল-ওয়াসায়া অধ্যায়ে হাদিস নং ২৮৭৩-এ আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “স্বপ্নদোষের (احتلام) পর আর কোনো পিতৃহীনতা থাকে না এবং সারাদিন রাত পর্যন্ত চুপ থাকা নেই।” আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং জাবির ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস থেকে এর শাহিদ (شاهد) বা সমর্থক বর্ণনা রয়েছে। আর ‘আস-সুমাত’ (الصمات) অর্থ হলো চুপ থাকা (السكوت)।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ৭)
وغيره، وضمير الهاء عائد على اليتامى.

والمعنى أعطوا التيامى أموالهم التي هي ملك لهم، مما عُهد إليكم بحفظه، أو مما توليتم حفظه أو مما يستحقونه من الميراث، أو مما أخذتموه منها بغير حق.

وإذا كان الخطاب للأولياء على اليتامى فالمراد بإيتاء اليتامى أموالهم في هذا الموضع حفظها لهم، لكي تؤدى إليهم كاملة إذا بلغوا ورشدوا (1).

أي: احفظوها لهم لكي تؤدوها إليهم كاملة بعد بلوغهم ورشدهم من غير أكل شيء منها أو كتمانه أو تعريضها للفساد أو الضياع، قال تعالى: {وَابْتَلُوا الْيَتَامَى حَتَّى إذا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آَنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أموالهُمْ} (2).

قوله تعالى: {وَلَا تَتَبَدَّلُوا الْخَبِيثَ بِالطَّيِّبِ}.

قوله: (ولا تتبدلوا): التبدل والاستبدال: أخذ شيء مكان شيء آخر غيره (3).

قوله: (الخبيث بالطيب): الخبث والطيب: وصفان يطلق كل منهما على ما يتصف به من الأشخاص والأقوال والأعمال والأعيان كالأموال وغيرها (4). قال تعالى: {قُلْ لَّا يَسْتَوِي الْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ} (5) أي لا يستوي الخبيث والطيب من كل شيء، وقال تعالى: {الْخَبِيثَاتُ لِلْخَبِيثِينَ}، إلى قوله: {وَالطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَاتِ} (6)، وقال تعالى: {وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ} (7)، وقال تعالى: {أَلَمْ تَرَ كَيْفَ ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ} (8)، وقال تعالى: {وَمَثَلُ كَلِمَةٍ خَبِيثَةٍ

--------------------------------------------

(1) انظر «جامع البيان» 7/ 524، «الكشاف» 1/ 242، «أحكام القرآن» لابن العربي 1/ 308، «المحرر الوجيز» 4/ 11، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 8، «فتح القدير» 1/ 419.

(2) سورة النساء، آية: 6.

(3) انظر «جامع البيان» 7/ 527.

(4) انظر ما نقله الخطابي عن ابن الأعرابي «سنن أبي دأود مع معالم السنن» 1/ 16.

(5) سورة المائدة، آية: 100.

(6) سورة النور، آية: 26.

(7) سورة البقرة، آية: 267.

(8) سورة إبراهيم، آية: 24.
এবং অন্যান্যদের মতে, আর 'হা' সর্বনামটি ইয়াতীমদের দিকে নির্দেশ করছে।

এর অর্থ হলো: ইয়াতীমদের তাদের সেই সম্পদ দিয়ে দাও যা তাদের মালিকানাধীন, যা তোমাদের নিকট সংরক্ষণের জন্য অর্পণ করা হয়েছিল, অথবা যে সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তোমরা গ্রহণ করেছিলে, অথবা মিরাস (উত্তরাধিকার) সূত্রে তারা যার হকদার, অথবা যা তোমরা তাদের নিকট থেকে অন্যায়ভাবে গ্রহণ করেছিলে।

আর যদি এই সম্বোধন ইয়াতীমদের অভিভাবকদের প্রতি হয়ে থাকে, তবে এই স্থানে ইয়াতীমদের সম্পদ প্রদানের উদ্দেশ্য হলো তাদের জন্য তা সংরক্ষণ করা, যাতে তারা প্রাপ্তবয়স্ক ও বিচক্ষণ হলে তা পূর্ণাঙ্গভাবে তাদের নিকট সোপর্দ করা যায় (১)।

অর্থাৎ: তোমরা তাদের জন্য সম্পদটি সংরক্ষণ করো যাতে তাদের সাবালকত্ব ও বিচক্ষণতা অর্জনের পর তাদের কাছে তা পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরিয়ে দিতে পারো; সেই সম্পদ থেকে কোনো কিছু ভক্ষণ না করে, গোপন না করে অথবা তা নষ্ট বা অপচয়ের সম্মুখীন না করে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমরা ইয়াতীমদের পরীক্ষা করো যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছে। অতঃপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে বিচক্ষণতা দেখতে পাও, তবে তাদের সম্পদ তাদের কাছে সোপর্দ করো" (২)।

মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমরা অপবিত্র বস্তুকে পবিত্র বস্তুর দ্বারা পরিবর্তন করো না।"

তাঁর উক্তি: (আর তোমরা পরিবর্তন করো না): 'তাবাদ্দাল' ও 'ইস্তিবদাল' অর্থ হলো এক বস্তুর পরিবর্তে অন্য বস্তু গ্রহণ করা (৩)।

তাঁর উক্তি: (অপবিত্রকে পবিত্রের দ্বারা): 'খুবস' (অপবিত্রতা) ও 'তীব' (পবিত্রতা) হলো দুটি বৈশিষ্ট্য যা ব্যক্তি, কথা, কাজ এবং সম্পদ বা অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় (৪)। মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়" (৫) অর্থাৎ প্রতিটি জিনিসের মন্দ ও ভালো অংশ সমান নয়। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য", তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "আর সচ্চরিত্রবান পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য" (৬)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর তোমরা তা থেকে মন্দ বা অপবিত্র বস্তু ব্যয়ের সংকল্প করো না" (৭)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আপনি কি লক্ষ্য করেননি আল্লাহ কীভাবে উপমা দিয়েছেন? পবিত্র বাক্য একটি পবিত্র বৃক্ষের ন্যায়" (৮)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর অপবিত্র বাক্যের উপমা..."

--------------------------------------------

(১) জামিউল বায়ান ৭/৫২৪, আল-কাশশাফ ১/২৪২, ইবনুল আরাবি রচিত আহকামুল কুরআন ১/৩০৮, আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ ৪/১১, আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন ৫/৮, ফাতহুল কাদির ১/৪১৯ দেখুন।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬।

(৩) জামিউল বায়ান ৭/৫২৭ দেখুন।

(৪) আল-খাত্তাবি ইবনুল আরাবি থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তা দেখুন, 'মাআলিমুস সুনান' সহ 'সুনানে আবু দাউদ' ১/১৬।

(৫) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১০০।

(৬) সূরা আন-নূর, আয়াত: ২৬।

(৭) সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ২৬৭।

(৮) সূরা ইব্রাহীম, আয়াত: ২৪।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ৮)
كَشَجَرَةٍ} (1)، وقال تعالى: {وَالْبَلَدُ الطَّيِّبُ يَخْرُجُ نَبَاتُهُ بِإِذْنِ رَبِّهِ وَالَّذِي خَبُثَ لَا يَخْرُجُ إِلَّا نَكِدًا} (2)، وقال تعالى: {بَلْدَةٌ طَيِّبَةٌ وَرَبٌّ غَفُورٌ} (3).

والمراد بالخبيث والطيب في الآية: الحرام والحلال، أو الرديء والجيد.

أي لا تتبدلوا الخبيث، أي: المحرم عليكم وهو مال اليتامى، بالطيب أي بالحلال الذي أحله الله لكم من أموالكم (4)، أي كلوا من مالكم الذي أحله الله لكم ودعوا مال اليتامى المحرم عليكم، أو لا تتبدلوا الخبيث أي: الرديء من أموالكم بالطيب أي بالجيد من أموال اليتامى (5)، فتأخذوا مالهم الطيب وتعطونهم بدله رديئاً.

وكلا القولين صحيح تحتمله الآية (6)، والأول منهما أعم وأشمل فهو ينتظم القول الثاني لأن استبدال مال اليتيم بغيره منهي عنه، سواء رد بدله جيداً أو رديئاً أو لم يرد بدله شيئاً.

قوله تعالى: {وَلَا تَأكلوا أموالهُمْ إلى أموالكُمْ}.

قوله: {وَلَا تَأكلوا أموالهُمْ}: خص النهي في الآية بالنهي عن أكل أموالهم لأن الهدف من جمع المال غالباً هو الأكل، وهو أوفي أنواع التمتع بالمال (7) لأنه كسوة الباطن، فلو خلا البطن من الأكل مات الإنسان.

لكن غيره من وجوه الانتفاع بأموال اليتامى والتصرف بها لمصلحة الولي مثله في النهي، فلا يجوز للولي مثلًا: أن يشتري له بمال اليتيم سيارة أو عقاراً أو غير ذلك.

--------------------------------------------

(1) سورة إبراهيم، آية: 26.

(2) سورة الأعراف، آية: 58.

(3) سورة سبأ، آية: 15.

(4) انظر «جامع البيان» 7/ 525، «المحرر الوجيز» 4/ 11.

(5) انظر «جامع البيان» 7/ 525، 526، «تفسير ابن أبي حاتم» 1/ 855، 856، «أحكام القرآن» «لابن العربي» 1/ 308، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 9.

(6) انظر «جامع البيان» 7/ 526.

(7) انظر «أحكام القرآن» للكيا الهراسي 1/ 325، «البحر المحيط» 3/ 172.
...একটি বৃক্ষের ন্যায়} (১), এবং মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {উত্তম ভূমির উদ্ভিদ তার রবের নির্দেশে উৎপন্ন হয়, আর যা মন্দ তা থেকে সামান্যই উৎপন্ন হয়} (২), এবং মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {উত্তম শহর এবং ক্ষমাশীল পালনকর্তা} (৩)।

আয়াতে 'খবীস' (মন্দ) ও 'তাইয়্যিব' (উত্তম) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: হারাম ও হালাল, অথবা নিম্নমানের ও উন্নতমানের বস্তু।

অর্থাৎ তোমরা তোমাদের জন্য যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে অর্থাৎ এতিমদের সম্পদকে (খবীস), তোমাদের জন্য আল্লাহ যা বৈধ করেছেন অর্থাৎ তোমাদের নিজস্ব সম্পদের (তাইয়্যিব) সাথে বিনিময় করো না (৪)। এর অর্থ হলো, আল্লাহ তোমাদের জন্য যে সম্পদ বৈধ করেছেন তা থেকে ভক্ষণ করো এবং এতিমদের যে সম্পদ তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা বর্জন করো। অথবা তোমরা তোমাদের নিজস্ব সম্পদের নিম্নমানের অংশকে এতিমদের সম্পদের উন্নতমানের অংশের সাথে বিনিময় করো না (৫), যাতে তোমরা তাদের উন্নতমানের সম্পদ গ্রহণ করো এবং বিনিময়ে তাদের নিম্নমানের সম্পদ প্রদান করো।

উভয় উক্তিই সঠিক (صحيح) যা আয়াতটির অর্থ হিসেবে হওয়ার যোগ্যতা রাখে (৬)। তবে প্রথম উক্তিটি অধিকতর ব্যাপক ও অর্থবহ, যা দ্বিতীয় উক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ এতিমের সম্পদ অন্য কিছুর সাথে বিনিময় করা নিষিদ্ধ, চাই বিনিময়ে ভালো কিছু দেওয়া হোক কিংবা মন্দ, অথবা বিনিময়ে কিছুই না দেওয়া হোক।

মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা তাদের সম্পদ তোমাদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে গ্রাস করো না}।

তাঁর বাণী: {এবং তোমরা তাদের সম্পদ গ্রাস করো না}: আয়াতে নিষেধবাণীকে বিশেষভাবে সম্পদ 'ভক্ষণ' বা খাওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে; কারণ সম্পদ অর্জনের মূল লক্ষ্য সাধারণত ভক্ষণ করা হয়ে থাকে এবং এটি সম্পদের উপযোগিতা গ্রহণের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রকার (৭)। কেননা এটি হচ্ছে শরীরের অভ্যন্তরীণ আবরণ; সুতরাং পাকস্থলী যদি খাদ্যশূন্য হয়ে যায়, তবে মানুষ মৃত্যুবরণ করে।

তবে এতিমদের সম্পদ থেকে অন্য কোনোভাবে উপকৃত হওয়া এবং অভিভাবকের স্বার্থে তা পরিচালনা করাও এই একই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং অভিভাবকের জন্য জায়েজ নয় যে, উদাহরণস্বরূপ: সে এতিমের সম্পদ দিয়ে নিজের জন্য কোনো গাড়ি, স্থাবর সম্পত্তি কিংবা অন্য কিছু ক্রয় করবে।

--------------------------------------------

(১) সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ২৬।

(২) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৫৮।

(৩) সূরা সাবা, আয়াত: ১৫।

(৪) দেখুন: 'জামেউল বায়ান' ৭/৫২৫, 'আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ' ৪/১১।

(৫) দেখুন: 'জামেউল বায়ান' ৭/৫২৫, ৫২৬, 'তাফসীর ইবনে আবি হাতেম' ১/৮৫৫, ৮৫৬, ইবনুল আরাবীর 'আহকামুল কুরআন' ১/৩০৮, 'আল-জামে লি আহকামিল কুরআন' ৫/৯।

(৬) দেখুন: 'জামেউল বায়ান' ৭/৫২৬।

(৭) কিয়া আল-হাররাসীর 'আহকামুল কুরআন' ১/৩২৫, 'আল-বাহরুল মুহীত' ৩/১৭২ দেখুন।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ৯)
قوله: (إلى أموالكم): «إلى» على بابها والفعل «تأكلوا» مضمن معنى «الضم»، أي: لا تأكلوا أموالهم مضمومة إلى أموالكم.

وقيل «إلى» بمعنى «مع». أي: لا تأكلوا أموالهم مع أموالكم (1) والأول أولى (2) لأن تضمين فعل معنى فعل آخر أكثر وروداً في القرآن الكريم من تضمين «إلى» معنى «مع» بل أولى من تضمين حرف معنى حرف آخرمطلقاً (3)،

وحمل الآية على المعنى الكثير في القرآن أولى من حملها على المعنى القليل، لأنها إذا كانت هي الكثير في القرآن صارت هي اصطلاح القرآن وهو قول جمهور النحويين واختيار شيخ الإسلام ابن تيمية (4).

قوله تعالى: {إِنَّهُ كَانَ حُوباً كَبِيراً} أي عند الله، وفي حكمه كما قال تعالى: {فَأولَئِكَ عِنْدَ اللَّهِ هُمُ الْكَاذِبُونَ} (5) والجملة تعليل للنهي في الجملتين

--------------------------------------------

(1) انظر «النكت والعيون» 1/ 39، «أحكام القرآن» لابن العربي 1/ 308، «البحر المحيط» 3/ 160.

(2) انظر «الوجيز» 1/ 251، «المحرر الوجيز» 4/ 12، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 10، «تفسير ابن كثير» 2/ 180، «فتح القدير» 1/ 419.

(3) اختلف أهل العلم في الفعل إذا تعدى إلى ما لا يتعدى به، فذهب جمهور النحويين من البصريين وغيرهم إلى أن الفعل يضمن معنى يناسب الحرف الذي يتعدى به، كقوله تعالى: {عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ} سورة الإنسان الآية: 6 فضمن الفعل «يشرب» معنى «يروى» ولهذا عدي بالباء ولم يقل «يشرب منها» وكقوله تعالى: {سَأَلَ سَائِلٌ بِعَذَابٍ وَاقِعٍ} سورة المعارج الآية: (1) ضمن الفعل «سأل» معنى «أجيب» أي: سأل سائل فأجيب بعذاب واقع، ولهذا عي بالباء ولم يقل «عن عذاب واقع»: وقد ذهب الكوفيون إلى أن الحرف يفسر بمعنى الحرف المناسب، فيقال: «عينا يشرب بها» أي: منها، و (سأل سائل بعذاب واقع) أي: عن عذاب واقع. انظر «مجموعة الفتأوى» 20/ 474، 21/ 124، وانظر «جامع البيان» 12/ 358 طبعة الحلبي، «مغني اللبيب» 1/ 178، «ضياء السالك» 2/ 259 ..

(4) قال شيخ الإسلام ابن تيمية: وباب تضمين الفعل معنى فعل آخر يتعدى بتعديته كقوله: {لَقَدْ ظَلَمَكَ بِسُؤَالِ نَعْجَتِكَ إلى نِعَاجِهِ} وقوله: {وَنَصَرْنَاهُ مِنَ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآَيَاتِنَا} وقوله: {وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ} وأمثال ذلك كثير في القرآن، وهو يغني عند البصريين من النحاة عما يتكلفه الكوفيون من دعوى الاشتراك في الحروف «مجموع الفتأوى» 21/ 123 - 124.

(5) سورة النور، آية: 13.
তাঁর বাণী: (তোমাদের সম্পদের সাথে): এখানে «ইলা» (إلى) তার মৌলিক অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে এবং «তা'কুলু» (تأكلوا) ক্রিয়াটি «যম্ম» (ضم) বা 'মিলিয়ে নেওয়া'র অর্থ অন্তর্ভুক্ত (مضمن) করেছে। অর্থাৎ: তোমরা তাদের সম্পদকে তোমাদের সম্পদের সাথে মিলিয়ে ভক্ষণ করো না।

আর বলা হয়েছে যে, «ইলা» (إلى) শব্দটি «মা'আ» (مع) বা 'সাথে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ: তোমরা তোমাদের সম্পদের সাথে তাদের সম্পদ ভক্ষণ করো না (১)। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য (২)। কারণ একটি ক্রিয়ার মধ্যে অন্য একটি ক্রিয়ার অর্থ অন্তর্ভুক্ত করা (تضمين) পবিত্র কুরআনে «ইলা» (إلى)-এর মধ্যে «মা'আ» (مع)-এর অর্থ অন্তর্ভুক্ত করার (تضمين) চেয়ে বেশি প্রচলিত; বরং এটি সাধারণভাবে একটি অব্যয়ের (حرف) মধ্যে অন্য একটি অব্যয়ের অর্থ অন্তর্ভুক্ত করার (تضمিন) চেয়েও শ্রেয় (৩),

আর আয়াতকে কুরআনে অধিক প্রচলিত অর্থের ওপর প্রয়োগ করা কম প্রচলিত অর্থের ওপর প্রয়োগ করার চেয়ে উত্তম। কেননা সেটি যদি কুরআনে অধিক প্রচলিত হয়, তবে তা কুরআনের নিজস্ব পরিভাষায় (اصطلاح) পরিণত হয়। এটিই অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের (جمهور النحويين) অভিমত এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (৪) এটিই পছন্দ করেছেন।

মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় এটি বড় পাপ} অর্থাৎ আল্লাহর নিকট এবং তাঁর বিধানে; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারাই আল্লাহর নিকট মিথ্যাবাদী} (৫)। আর এই বাক্যটি পূর্ববর্তী দুই বাক্যের নিষেধের কারণ (تعليل) বর্ণনা করছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আন-নুকাত ওয়াল উয়ুন ১/ ৩৯, ইবনুল আরাবির আহকামুল কুরআন ১/ ৩০৮, আল-বাহরুল মুহিত ৩/ ১৬০।

(২) দেখুন: আল-ওয়াজিজ ১/ ২৫১, আল-মুহাররার আল-ওয়াজিজ ৪/ ১২, আল-জামি' লি-আহকামিল কুরআন ৫/ ১০, তাফসিরে ইবনে কাসির ২/ ১৮০, ফাতহুল কাদির ১/ ৪১৯।

(৩) আলেমগণ এমন ক্রিয়ার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন যা এমন অব্যয়ের (حرف) মাধ্যমে ব্যবহৃত হয় যার দ্বারা সাধারণত তা ব্যবহৃত হয় না। বসরাবাসী ও অন্যদের অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ (جمهور النحويين) মনে করেন যে, ক্রিয়াটি এমন একটি অর্থের অন্তর্ভুক্ত (تضمين) হয় যা ওই অব্যয়ের (حرف) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {একটি প্রস্রবণ, যা থেকে আল্লাহর বান্দারা পান করবে} সূরা আল-ইনসান, আয়াত: ৬; এখানে «ইয়াশরাবু» (يشرب) ক্রিয়াটি «ইয়ারওয়া» (يروى) বা 'তৃপ্ত হওয়া'র অর্থ অন্তর্ভুক্ত (ضمن) করেছে, এই কারণেই তা «বা» (ب) অব্যয় দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছে এবং «পান করবে তা থেকে» বলা হয়নি। অনুরূপ মহান আল্লাহর বাণী: {এক আবেদনকারী আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে আবেদন করল} সূরা আল-মাআরিজ, আয়াত: ১; এখানে «সাআলা» (سأل) ক্রিয়াটি «উজিবা» (أجيب) বা 'সাড়া দেওয়া'র অর্থ অন্তর্ভুক্ত (ضمن) করেছে, অর্থাৎ: একজন যাচনা করল এবং তার ওপর আপতিত শাস্তির মাধ্যমে সাড়া দেওয়া হলো। এই কারণেই এটি «বা» (ب) অব্যয় দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছে এবং 'শাস্তি সম্পর্কে' (عن عذاب واقع) বলা হয়নি। পক্ষান্তরে কুফাবাসীরা মনে করেন যে, অব্যয়টি (حرف) অন্য কোনো উপযুক্ত অব্যয়ের (حرف) অর্থে ব্যাখ্যা করা হবে। এমতাবস্থায় বলা হবে: «তার মাধ্যমে পান করবে» অর্থাৎ «তা থেকে পান করবে»; এবং «শাস্তি দ্বারা যাচনা করল» অর্থাৎ «শাস্তি সম্পর্কে যাচনা করল»। দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া ২০/ ৪৭৪, ২১/ ১২৪; আরও দেখুন: জামিউল বায়ান ১২/ ৩৫৮ (হালাবি সংস্করণ), মুগনিল লাবিব ১/ ১৭৮, দিয়াউস সালিক ২/ ২৫৯...।

(৪) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: একটি ক্রিয়ার মধ্যে অন্য একটি ক্রিয়ার অর্থ অন্তর্ভুক্ত করার (تضمين) বিষয়টি এমনভাবে কার্যকর হয় যে, উক্ত ক্রিয়াটি তখন অন্য ক্রিয়াটির অব্যয়ের মাধ্যমেই ব্যবহৃত হয়। যেমন আল্লাহর বাণী: {সে তোমার দুম্বাটিকে তার দুম্বাগুলোর সাথে যুক্ত করার আবেদন করে তোমার ওপর জুলুম করেছে}, এবং তাঁর বাণী: {আমি তাকে সেই কওম থেকে রক্ষা করেছি যারা আমার আয়াতগুলোকে অস্বীকার করেছিল}, এবং তাঁর বাণী: {তাদের থেকে সতর্ক থাকো পাছে তারা তোমাকে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার কিছু থেকে বিচ্যুত করে}; কুরআনে এরুপ উদাহরণ প্রচুর রয়েছে। ব্যাকরণবিদদের মধ্যে বসরাবাসীদের নিকট এটি কুফাবাসীদের দাবিকৃত অব্যয়ের (حروف) অর্থের অংশীদারিত্বের যে কষ্টসাধ্য ব্যাখ্যা রয়েছে তার তুলনায় অধিক গ্রহণযোগ্য। মাজমুউল ফাতাওয়া ২১/ ১২৩-১২৪।

(৫) সূরা আন-নুর, আয়াত: ১৩।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ১০)
السابقتين. فالضمير «إنه» يعود على مصدر الفعلين السابقين وهما تبديل الطيب من أموال اليتامى بالخبيث من أموال المخاطبين، وأكل أموال اليتامى مضمومة إلى أموال المخاطبين (1).

«وكان» مسلوبة الزمن تفيد تحقيق الوصف (2).

(حوباً) أي: ذنباً وإثماً (3).

وروي في الحديث: «اغفر لنا حوبنا وخطايانا» (4).

وفيه «رب تقبل توبتي واغسل حوبتي» (5) أي ذنبي.

--------------------------------------------

(1) انظر «البحر المحيط» 3/ 161.

(2) راجع ص 59 - 60 في الكلام عن الآية {إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} الآية الأولى من هذه السورة.

(3) راجع «جامع البيان» 7/ 529 - 530، «المفردات في غريب القرآن» مادة «حوب»، «المحرر الوجيز» 4/ 12، «تفسير ابن كثير» 2/ 180 - 181 ويطلق الحوب على زجر الإبل وعلى المسكنة وعلى الحاجة ومنه: «إليك أرفع حوبتي» أي: حاجتي. ويطلق الحوب على الوحشة. وفي الأثر «إن طلاق أم أيوب لحوب» انظر «التفسير الكبير» 9/ 139، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 10، «تفسير ابن كثير» 2/ 181، «البحر المحيط» 3/ 150، «فتح القدير» 1/ 419، وانظر مادة «حوب» في «المفردات»، «لسان العرب».

(4) أخرجه أبو دأود في الطب 3892 من حديث أبي الدرداء قال: سمعت رسول صلى الله عليه وسلم يقول: «من اشتكى منكم شيئًا، أو اشتكاه أخ له فليقل: ربنا الله الذي في السماء تقدس اسمك، أمرك في السماء والأرض، كما رحمتك في السماء فاجعل رحمتك في الأرض، اغفر لنا حوبنا وخطايأنا، أنت رب الطيبين، أنزل رحمة من رحمتك، وشفاء من شفائك، على هذا الوجع. فيبرأ» وضعفه الألباني، وقد أخرجه الإمام أحمد في المسند 6/ 21 من حديث فضالة بن عبيد الأنصاري قال: «علمني النبي صلى الله عليه وسلم رقية، وأمرني أن أرقي بها من بدالي قال قل: ربنا الله الذي في السموات تقدس اسمك، أمرك في السماء والأرض، اللهم كما أمرك في السماء فاجعل رحمتك علينا في الأرض، اللهم رب الطيبين اغفر لنا حوبنا وذنوبنا وخطايأنا ونزل رحمة من رحمتك وشفاء من شفائك على ما بفلان من شكوى. فيبرأ. قال: وقيل ذلك ثلاثًا ثم تعوذ بالمعوذتين ثلاث مرات».

(5) أخرجه أبو دأود في الصلاة 1510، والترمذي في الدعوات 3551، وقال: «حديث حسن صحيح»، وابن ماجه في الدعاء 3830، عن ابن عباس قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يدعو: «رب أعني ولا تعن علي، وانصرني ولا تنصر علي، وامكر لي ولا تمكر علي واهدني ويسر هداي إلي، وانصرني على من بغى علي، اللهم اجعلني لك شاكرًا، لك ذاكرًا، لك راهبًا، لك مطواعًا، إليك مخبتًا أو منيبًا، رب تقبل توبتي واغسل حوبتي وأجب دعوتي وثبت حجتي واهد قلبي وسدد لساني واسلل سخيمة قلبي» وصححه الألباني.
পূর্ববর্তী দুটি বিষয়। ‘নিশ্চয়ই এটি’ (إنه) সর্বনামটি পূর্ববর্তী দুটি কাজের মূল তথা উৎসের দিকে ফিরছে; আর তা হলো ইয়াতিমদের সম্পদের মধ্য হতে উত্তম বস্তুকে সম্বোধিত ব্যক্তিদের মন্দ বস্তু দ্বারা পরিবর্তন করা এবং ইয়াতিমদের সম্পদকে সম্বোধিত ব্যক্তিদের নিজেদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে গ্রাস করা (১)।

‘ছিল’ (كان) শব্দটি এখানে কাল বা সময় মুক্ত হয়ে গুণাবলির নিশ্চয়তা প্রদান করছে (২)।

(حوباً) অর্থাৎ: অপরাধ ও গুনাহ (৩)।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: “আমাদের গুনাহ ও আমাদের ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিন” (৪)।

তাতে আরও রয়েছে: “হে আমার রব! আমার তওবা কবুল করুন এবং আমার গুনাহ ধৌত করে দিন” (৫), অর্থাৎ আমার অপরাধ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ‘আল-বাহরুল মুহীত’ ৩/১৬১।

(২) এই সূরার প্রথম আয়াত {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিদানকারী} সম্পর্কিত আলোচনার জন্য ৫৯-৬০ পৃষ্ঠা দেখুন।

(৩) দেখুন: ‘জামিঊল বায়ান’ ৭/৫২৯-৫৩০, ‘আল-মুফরাদাত ফি গারিবিল কুরআন’ ‘হুব’ (حوب) মূলশব্দ, ‘আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ’ ৪/১২, ‘তাফসিরে ইবনে কাসির’ ২/১৮০-১৮১। ‘হুব’ শব্দটি উট তাড়ানো, দরিদ্রতা ও অভাব বুঝাতেও ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়: “আমি আপনার নিকট আমার অভাব পেশ করছি”, অর্থাৎ আমার প্রয়োজন। ‘হুব’ শব্দটি একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আছারে বর্ণিত হয়েছে: “নিশ্চয়ই উম্মে আইয়ুবকে তালাক দেওয়া একটি গুনাহের কাজ”। দেখুন: ‘আত-তাফসিরুল কাবির’ ৯/১৩৯, ‘আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন’ ৫/১০, ‘তাফসিরে ইবনে কাসির’ ২/১৮১, ‘আল-বাহরুল মুহীত’ ৩/১৫০, ‘ফাতহুল কাদির’ ১/৪১৯, এবং ‘আল-মুফরাদাত’ ও ‘লিসানুল আরব’-এ ‘হুব’ (حوب) মূলশব্দটি দেখুন।

(৪) এটি আবু দাউদ ‘চিকিৎসা’ অধ্যায়ে (৩৮৯২) আবু দারদা-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “তোমাদের কেউ যদি কোনো কিছুতে অসুস্থতা বোধ করে বা তার কোনো ভাই অসুস্থ হয়, তবে সে যেন বলে: আমাদের রব সেই আল্লাহ যিনি আসমানে রয়েছেন, আপনার নাম পবিত্র, আসমান ও জমিনে আপনারই নির্দেশ কার্যকর, আসমানে যেমন আপনার রহমত রয়েছে তেমনি জমিনেও আপনার রহমত বর্ষণ করুন। আমাদের অপরাধ ও আমাদের ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করুন। আপনি পবিত্রদের প্রতিপালক। আপনার রহমতসমূহ হতে একটি রহমত এবং আপনার আরোগ্যসমূহ হতে একটি আরোগ্য এই ব্যথার ওপর অবতীর্ণ করুন। ফলে সে সুস্থ হয়ে যাবে।” আলবানি একে দুর্বল (ضعيف) বলে অভিহিত করেছেন। ইমাম আহমাদ তার মুসনাদে (৬/২১) ফাদালাহ ইবনে উবাইদ আল-আনসারি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি দোয়া শিখিয়েছেন এবং আমার সামনে যে অসুস্থ হবে তার ওপর তা পড়ে ঝাড়ফুঁক করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, তুমি বলো: আমাদের রব সেই আল্লাহ যিনি আসমানসমূহে রয়েছেন, আপনার নাম পবিত্র, আসমান ও জমিনে আপনারই নির্দেশ কার্যকর। হে আল্লাহ! আসমানে যেমন আপনার নির্দেশ, তেমনি জমিনেও আমাদের ওপর আপনার রহমত দান করুন। হে পবিত্রদের প্রতিপালক! আমাদের গুনাহ, অপরাধ ও ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করুন। আপনার রহমতসমূহ হতে একটি রহমত এবং আপনার আরোগ্যসমূহ হতে একটি আরোগ্য অমুকের ব্যথার ওপর অবতীর্ণ করুন। এতে সে সুস্থ হয়ে যাবে। তিনি বলেন: এটি তিনবার বলা হবে, এরপর তিনবার মুআওবিজাতাইন দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করা হবে।”

(৫) এটি আবু দাউদ ‘সালাত’ অধ্যায়ে (১৫১০), তিরমিজি ‘দোয়া’ অধ্যায়ে (৩৫৫১) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস বলেছেন। ইবনে মাজাহ ‘দোয়া’ অধ্যায়ে (৩৮৩০) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলে দোয়া করতেন: “হে রব! আমাকে সাহায্য করুন, আমার বিপক্ষে কাউকে সাহায্য করবেন না; আমাকে বিজয় দান করুন, আমার বিপক্ষে কাউকে বিজয় দেবেন না; আমার অনুকূলে কৌশল করুন, আমার প্রতিকূলে কৌশল করবেন না; আমাকে হিদায়াত দিন এবং আমার জন্য হিদায়াতকে সহজ করে দিন; এবং যে আমার ওপর জুলুম করে তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন। হে আল্লাহ! আমাকে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ, আপনার জিকিরকারী, আপনার প্রতি ভীত, আপনার একান্ত অনুগত, আপনার প্রতি বিনয়ী ও প্রত্যাবর্তনকারী হিসেবে কবুল করুন। হে রব! আমার তওবা কবুল করুন, আমার গুনাহ ধৌত করে দিন, আমার দোয়া কবুল করুন, আমার দলিল সুপ্রতিষ্ঠিত করুন, আমার অন্তরকে হিদায়াত দান করুন, আমার জবানকে সঠিক পথে রাখুন এবং আমার অন্তরের কলুষতা দূর করে দিন।” আলবানি একে সঠিক (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ১১)
كبيراً: أي: إثماً كبيراً؛ وذنبا عظيماً (1) من كبائر الذنوب، كما قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَأكلونَ أموال الْيَتَامَى ظُلْمًا إنَّما يَأكلونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا} (2).

 

‌‌الفوائد والأحكام:

1 - رحمة الله تعالى باليتامى ورأفته بهم، حيث أوصى بالعناية بهم وبأموالهم بل جعل سبحانه وتعالى الوصية بهم أول وصية أوصى بها من حقوق الخلق في هذه السورة (3)، بعد أن أجمل سبحانه وتعالى الأمر بتقواه، وتقوى الأرحام.

وذلك لأن اليتيم فقدكافله وكاسبه، فهو مكسور الخاطرمهيض الجناح.

(2) - وجوب إصلاح أموال اليتامى والحفاظ عليها، لأن ذلك من تمام إيتائهم أموالهم (4) الذي أمر الله به في قوله: {وَآَتُوا الْيَتَامَى أموالهُمْ} وقدم الله في هذه الآية الأمر بإيتاء اليتامى أموالهم قبل الأمر باختبارهم وتحقق بلوغهم ورشدهم، تأكيداً على وجوب إصلاحها وحفظها والاحتياط في ذلك.

كما قال تعالى: {وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} (5).

(3) - ثبوت الولاية على اليتيم، لأن من لازم إيتائه ماله ثبوت ولاية المؤتي عليه (6).

(4) - أن اليتيم يملك وملكه تام ثابت، لأن الله أضاف الأموال إلى اليتامى في قوله:

--------------------------------------------

(1) انظر «معاني القرآن» للفراء 1/ 253، «تفسير ابن كثير» 2/ 181.

(2) سورة النساء، آية: 10.

(3) انظر «تيسير الكريم الرحمن» 2/ 7.

(4) انظر المصدر السابق 2/ 8.

(5) سورة الإسراء، آية: 34.

(6) انظر المصدر السابق 2/ 7.
বিশাল: অর্থাৎ: বিশাল পাপ; এবং এটি একটি গুরুতর অপরাধ (১) যা বড় গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয় যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের ধন-সম্পদ গ্রাস করে, তারা নিজেদের পেটে আগুনই ভক্ষণ করে এবং তারা শীঘ্রই প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে} (২)।

 

‌‌শিক্ষা ও বিধিবিধানসমূহ:

১ - এতিমদের প্রতি আল্লাহ তাআলার রহমত ও দয়া, যেহেতু তিনি তাদের যত্ন নেওয়ার এবং তাদের ধন-সম্পদের ব্যাপারে অসিয়ত করেছেন। বরং সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই সূরায় সৃষ্টির অধিকারসমূহের মধ্যে এতিমদের ব্যাপারে অসিয়ত করাকে প্রথম অসিয়ত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন (৩), আল্লাহ তাআলা তাঁর তাকওয়া এবং আত্মীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে তাকওয়া অবলম্বনের আদেশ সংক্ষেপে বর্ণনা করার পর।

এর কারণ হলো, এতিম তার লালনকারী ও উপার্জনকারীকে হারিয়েছে, ফলে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও অসহায়।

(২) - এতিমদের ধন-সম্পদ সংশোধন করা এবং তা সংরক্ষণ করা আবশ্যক, কারণ এটি তাদের সম্পদ পরিপূর্ণভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার (৪) অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীতে আদেশ করেছেন: {এবং তোমরা এতিমদের তাদের ধন-সম্পদ প্রদান করো}। আল্লাহ এই আয়াতে এতিমদের সম্পদ বুঝিয়ে দেওয়ার আদেশকে তাদের পরীক্ষা করা এবং তাদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া ও বিচক্ষণতা যাচাই করার আদেশের পূর্বে উল্লেখ করেছেন, যাতে তা সংশোধন করা, সংরক্ষণ করা এবং এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের আবশ্যকতা জোরালোভাবে প্রকাশ পায়।

যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর তোমরা এতিমের সম্পদের কাছে যেও না, তবে উৎকৃষ্ট পন্থায় ব্যতীত} (৫)।

(৩) - এতিমের উপর অভিভাবকত্ব সাব্যস্ত হওয়া, কারণ তাকে তার সম্পদ প্রদান করার অপরিহার্য দাবি হলো প্রদানকারীর পক্ষ থেকে তার উপর অভিভাবকত্ব সাব্যস্ত হওয়া (৬)।

(৪) - এতিম সম্পদের মালিক এবং তার মালিকানা পূর্ণাঙ্গ ও সুসাব্যস্ত, কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীতে সম্পদকে এতিমদের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন:

--------------------------------------------

(১) দেখুন আল-ফাররা রচিত «মাআনিল কুরআন» ১/ ২৫৩, «তাফসিরে ইবনে কাসির» ২/ ১৮১।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০।

(৩) দেখুন «তাইসিরুল কারিমির রহমান» ২/ ৭।

(৪) দেখুন পূর্বোক্ত উৎস ২/ ৮।

(৫) সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩৪।

(৬) দেখুন পূর্বোক্ত উৎস ২/ ৭।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ১২)
{وَآَتُوا الْيَتَامَى أموالهُمْ}.

وفي هذا دليل على وجوب النفقات التي تتعلق بعين المال في أموال اليتامى كالزكاة والنفقة على من تجب على اليتيم النفقة عليه من أقاربه الفقراء.

خلافًا لمن قال بعدم وجوب ذلك في أموال اليتامى والمجانين لأنهم ي مكلفين.

(5) - جواز إطلاق الخبيث على الرديء على أحد المعنيين في تفسير الآية {وَلَا تَتَبَدَّلُوا الْخَبِيثَ بِالطَّيِّبِ} كما قال تعالى: {وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ} (1) أي: لا تقصدوا الرديء منه تنفقون.

6 - أنه يحرم على الأولياء أن يستبدلوا أموال اليتامى بأموالهم، سواء كان ذلك بأخذ أموال اليتامى دون مقابل والاستغناء بها وتوفير أموالهم، أو بإعطاء اليتامى الرديء وأخذ الجيد من أموالهم أو العكس بإعطائهم الجيد وأخذ الرديء، ومع أن هذا قد يبعد إلا أنه أيضاً لا يجوز لأن مال اليتيم في يد الوصي أو الولي بحكم الأمانة يجب عدم التعرض له وتركه بحاله لقوله: {وَلَا تَتَبَدَّلُوا الْخَبِيثَ بِالطَّيِّبِ}.

(7) - تحريم أكل أموال اليتامى وضمها إلى أموال الأوصياء والأولياء بقصد أكلها، لقوله تعالى: {وَلَا تَأكلوا أموالهُمْ إلى أموالكُمْ}.

وليس في الاية نهي عن الضم (2) إذا كان لقصد الإصلاح، قال تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَى قُلْ إِصْلَاحٌ لَهُمْ خَيْرٌ وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ الْمُفْسِدَ مِنَ الْمُصْلِحِ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَعْنَتَكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} (3).

فدلت هذه الآية على جواز خلط مال اليتيم مع مال الولي إذا كان ذلك لقصد

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، أية: 267.

(2) كما قيل: إن الآية تنهي عن ضم أموال اليتامى إلى أموال الأوصياء والأولياء وأنها نسخت بقوله: {وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ} سورة البقرة الآية (220)، وهذا ليس بصحيح، انظر «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 10.

(3) سورة البقرة، آية: 220.
{এতিমদের তাদের ধন-সম্পদ প্রদান করো।}

এতে এতিমদের সম্পদের সাথে সম্পৃক্ত সেই সকল ব্যয় নির্বাহের আবশ্যিকতার (وجوب) দলিল (دليل) রয়েছে যা মালের সত্তার সাথে জড়িত, যেমন জাকাত এবং এতিমের ওপর যাদের ভরণপোষণ ওয়াজিব (واجب) এমন দরিদ্র আত্মীয়-স্বজনের ব্যয়নির্বাহ।

এটি তাদের মতের বিপরীত যারা এতিম ও উন্মাদদের সম্পদের ক্ষেত্রে তা আবশ্যিক (وجوب) মনে করেন না, কারণ তারা মুকাল্লাফ (مكلف) নন।

(৫) - আয়াতের তাফসীরের (تفسير) দুটি অর্থের একটি অনুযায়ী মন্দ (الرديء) অর্থে 'খবীস' (الخبيث) শব্দটির প্রয়োগ বৈধ হওয়া; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা পবিত্র মালের পরিবর্তে অপবিত্র (الخبيث) মাল গ্রহণ করো না}। যেমন মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন: {তোমরা তা থেকে নিকৃষ্ট (الخبيث) বস্তু ব্যয় করার সংকল্প করো না} (১) অর্থাৎ: তোমরা যা ব্যয় করো তা থেকে মন্দ (الرديء) জিনিসের সংকল্প করো না।

৬ - অভিভাবকদের জন্য তাদের নিজেদের সম্পদের সাথে এতিমদের সম্পদ পরিবর্তন করা হারাম (حرام), চাই তা কোনো বিনিময় ছাড়াই এতিমদের সম্পদ গ্রহণ করে তা দ্বারা অভাবমুক্ত হওয়া ও নিজেদের সম্পদ বাঁচানো হোক, অথবা এতিমদের মন্দ (الرديء) মাল দিয়ে তাদের থেকে উৎকৃষ্ট (الجيد) মাল গ্রহণ করা হোক অথবা এর উল্টোটা অর্থাৎ তাদের উৎকৃষ্ট মাল দিয়ে নিজেদের মন্দ মাল নেওয়া হোক। যদিও এটি ঘটা সুদূরপরাহত, তবুও তা বৈধ নয়; কারণ অভিভাবক বা ওয়াসীর হাতে এতিমের মাল আমানত (أمانة) হিসেবে থাকে, যা হস্তক্ষেপ না করে আপন অবস্থায় রেখে দেওয়া ওয়াজিব (واجب)। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা পবিত্র মালের পরিবর্তে অপবিত্র মাল গ্রহণ করো না}।

(৭) - গ্রাস করার উদ্দেশ্যে ওসী ও অভিভাবকদের সম্পদের সাথে এতিমদের সম্পদ মিশ্রিত করা এবং তা ভক্ষণ করা হারাম (حرام)। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা তাদের সম্পদ তোমাদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে গ্রাস করো না}।

আর এই আয়াতে সম্পদ একত্র করার (ضم) ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই (২) যদি তা সংশোধনের (إصلاح) উদ্দেশ্যে হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা তোমাকে এতিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো, তাদের সংশোধন করা উত্তম। যদি তোমরা তাদের সাথে একত্রে থাকো, তবে তারা তোমাদেরই ভাই। আর আল্লাহ জানেন কে অনিষ্টকারী এবং কে সংশোধনকারী। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদের কষ্টে ফেলতে পারতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়} (৩)।

এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, অভিভাবকের সম্পদের সাথে এতিমের মাল মিশ্রিত করা বৈধ, যদি তা সংশোধনের উদ্দেশ্যে হয়।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৬৭।

(২) যেমনটি বলা হয়েছে: আয়াতটি ওসী ও অভিভাবকদের সম্পদের সাথে এতিমদের সম্পদ একত্র করতে (ضم) নিষেধ করে এবং তা {যদি তোমরা তাদের সাথে একত্রে থাকো, তবে তারা তোমাদেরই ভাই} সূরা আল-বাকারা আয়াত (২২০) দ্বারা রহিত (منسوخ) হয়েছে। কিন্তু এই কথাটি সঠিক নয়। দেখুন আল-জামে লি আহকামিল কুরআন ৫/১০।

(৩) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২২০।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ১৩)
الإصلاح كالاتجار به أو المحافظة عليه ونحو ذلك. بل إن الضم قد يتعين جلباً لمصلحة مال اليتيم ودفعاً للمشقة عن الولي في عزل مال اليتيم عن ماله، ولهذا قال تعالى: {وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَعْنَتَكُمْ} أي لشق عليكم فمنعكم من مخالطتهم. لكن ينبغي على الولي إذا ضم مال اليتيم إلى ماله أن يحتاط بكتابة ذلك والإشهاد عليه (1).

8 - الإشارة إلى ان بعض الأولياء قد يتستر إذا أراد أن يأكل مال يتيمه بضم مال اليتيم إليه، ويأكله مع غناه عنه، لقوله: {إِلَى أموالكُمْ}. وفي ذلك تنبيه على قبح هذا الفعل وشناعته (2).

9 - إن التعدي عل أموال اليتامى باستبدالها بالخبيث أو أكلها أو ضمها إلى أموال الأولياء بقصد أكلها من كبائر الذنوب، لقوله تعالى: {إِنَّهُ كَانَ حُوباً كَبِيراً} (3).

بل ذهب بعض أهل العلم أي ان أكل مال اليتيم بغير حق اكبر الكبائر بعد الشرك بالله.

****

--------------------------------------------

(1) انظر كلام الشيخ محمد بن صالح العثيمين على هذه الآية في دروس التفسير.

(2) انظر «التفسير الكبير» 9/ 138.

(3) انظر «العلل» للإمام أحمد ص 169، «مرويات الإمام أحمد في التفسير» 1/ 332.
সংস্কার বলতে তা দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করা অথবা তা সংরক্ষণ করা এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহকে বোঝায়। বরং ইয়াতীমের সম্পদের কল্যাণ সাধন এবং ইয়াতীমের সম্পদকে নিজের সম্পদ থেকে পৃথক রাখার ক্ষেত্রে অভিভাবকের কষ্ট লাঘবের স্বার্থে কখনো কখনো তা একত্রিত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। একারণেই মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে কষ্টে ফেলতে পারতেন} অর্থাৎ তিনি তোমাদের ওপর বিষয়টি কঠিন করে দিতেন এবং তোমাদেরকে তাদের সাথে মেলামেশা করতে বারণ করতেন। তবে অভিভাবক যখন ইয়াতীমের সম্পদ নিজের সম্পদের সাথে যুক্ত করবেন, তখন তা লিখে রাখা এবং তার ওপর সাক্ষী রাখার মাধ্যমে সতর্কতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয় (১)।

8 - এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা যে, কিছু অভিভাবক যখন তাদের ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করার ইচ্ছা পোষণ করে, তখন তারা ইয়াতীমের সম্পদ নিজের সম্পদের সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে তা গোপন করে থাকে এবং নিজের সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও তা ভক্ষণ করে। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের সম্পদের সাথে}। আর এর মধ্যে এই কার্যের কদর্যতা ও ভয়াবহতার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি রয়েছে (২)।

9 - ইয়াতীমদের সম্পদকে মন্দ বস্তু দ্বারা বিনিময় করা, তা ভক্ষণ করা কিংবা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তা অভিভাবকদের সম্পদের সাথে সংযুক্ত করার মাধ্যমে ইয়াতীমদের সম্পদের ওপর সীমালঙ্ঘন করা কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় এটি ছিল একটি বড় পাপ} (৩)।

বরং কোনো কোনো আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, অন্যায়ভাবে ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণ করা আল্লাহর সাথে শিরক করার পর সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ।

****

--------------------------------------------

(1) তাফসীরের দরসসমূহে এই আয়াতের ওপর শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীনের আলোচনা দেখুন।

(2) দেখুন 'আত-তাফসীর আল-কাবীর' 9/ 138।

(3) ইমাম আহমাদ রহ.-এর 'আল-ইলাল' পৃষ্ঠা 169 দেখুন, এবং 'মারওয়িয়্যাত আল-ইমাম আহমাদ ফিত-তাফসীর' 1/ 332 দেখুন।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌إباحة تعدد الزوجات ووجوب العدل بين النساء

‌‌قال تعالى: {وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أو مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ذَلِكَ أَدْنَى أَلَّا تَعُولُوا}.

صله الآية بما قبلها:

لما امر تعالى بحفظ أموال اليتامى والعناية بها أتبع ذلك بذكر وجوب الإقساط في اليتيمات والعدل بين النساء، فالآية الأولى في أموال اليتامى، والثانية في أبضاع اليتيمات وغيرهن من النساء.

 

‌‌سبب النزول:

عن عروه بن الزبير رضي الله عنهما قال: سألت عائشة- رضي الله عنها عن قول الله تعالى: {وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أو مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ذَلِكَ أَدْنَى أَلَّا تَعُولُوا}.

فقالت: يا ابن أختي هذه اليتيمة تكون في حجر وليها تشركه في ماله ويعجبه مالها وجمالها فيريد وليها أن يتزوجها بغير أن يقسط في صداقها فيعطيها مثل ما يعطيها غيره، فنهوا أن ينكحهوهن إلا أن يقسطوا لهن ويبلغوا لهن أعلى سنتهن في الصداق، فأمروا أن ينكحوا ما طاب لهم من النساء سواهن. قال عروه قالت عائشة: وأن الناس استفتوا رسول الله صلى الله علية وسلم بعد هذه الآية، فأنزل الله: {وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ} (1).

وفي رواية عن عروة عن عائشة رضي الله عنها: «أن رجلًا كانت له يتيمه فنكحها، وكان لها عذق وكان يمسكها عليه، ولم يكن لها من نفسه شئ فنزلت فيه {وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى} (2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في التفسير4574، ومسلم في الفسير3018 وأبو دأود في النكاح2068، والنسائى في النكاح3346، والدارقطني في سننه3/ 265، والطبري الآثار8456 - 8461 والواحدي في أسباب النزول ص123.

(2) أخرجه البخاري في «التفسير» 4573.
বহুগামিতার বৈধতা এবং স্ত্রীদের মধ্যে ইনসাফ করার আবশ্যকতা

‌‌আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, ইয়াতীমদের প্রতি তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্যে যাদের তোমাদের ভালো লাগে তাদের বিয়ে করো—দুই, তিন কিংবা চার জনকে। আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে তোমরা ইনসাফ করতে পারবে না, তবে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের (বিয়ে করো)। এটাই হবে অবিচার না করার নিকটতর পন্থা।}

পূর্ববর্তী আয়াতের সাথে এ আয়াতের যোগসূত্র:

আল্লাহ তাআলা যখন ইয়াতীমদের সম্পদ সংরক্ষণ ও তাদের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ দিলেন, তখন এর পরপরই ইয়াতীম মেয়েদের ক্ষেত্রে সুবিচার করা এবং স্ত্রীদের মধ্যে ইনসাফ করার আবশ্যকতা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং প্রথম আয়াতটি ছিল ইয়াতীমদের সম্পদের বিষয়ে, আর দ্বিতীয়টি হলো ইয়াতীম মেয়েদের এবং অন্যান্য নারীদের দাম্পত্য অধিকারের বিষয়ে।

 

‌‌শানে নুযূল:

উরওয়াহ বিন যুবাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম: {আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, ইয়াতীমদের প্রতি তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্যে যাদের তোমাদের ভালো লাগে তাদের বিয়ে করো—দুই, তিন কিংবা চার জনকে; আর যদি আশঙ্কা করো যে তোমরা ইনসাফ করতে পারবে না, তবে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের। এটাই হবে অবিচার না করার নিকটতর পন্থা।}

তিনি বললেন: হে আমার ভাগ্নে! এই ইয়াতীম মেয়েটি তার অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকে এবং সে তার সম্পদের অংশীদার হয়। অভিভাবক তার সম্পদ ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয় এবং তাকে ইনসাফপূর্ণ মোহর প্রদান না করেই বিয়ে করতে চায়—যা অন্য কেউ বিয়ে করলে তাকে প্রদান করত। ফলে তাদের (অভিভাবকদের) ওই ইয়াতীম মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হলো, যদি না তারা তাদের প্রতি ইনসাফ করে এবং তাদের জন্য মোহরের সর্বোচ্চ প্রচলিত রীতি অনুসরণ করে। তখন তাদের ওইসব মেয়েদের বাদ দিয়ে অন্যান্য পছন্দমতো নারীদের বিয়ে করার নির্দেশ দেওয়া হলো। উরওয়াহ বলেন, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: এই আয়াত নাযিলের পর মানুষ পুনরায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ফতোয়া চাইলে আল্লাহ তাআলা নাযিল করেন: {তারা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে সমাধান চায়} (১)।

উরওয়াহ থেকে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সূত্রে অপর একটি বর্ণনা (رواية) -এ আছে: «এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে একজন ইয়াতীম মেয়ে ছিল, সে তাকে বিয়ে করল। মেয়েটির একটি খেজুর বাগান ছিল। লোকটি শুধু ওই বাগানের জন্যই মেয়েটিকে আটকে রেখেছিল, তার প্রতি লোকটির কোনো আকর্ষণ ছিল না। তখন তার সম্পর্কে এই আয়াত নাযিল হয়: {আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, ইয়াতীমদের প্রতি তোমরা সুবিচার করতে পারবে না} (২)।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) বুখারী তাফসীর অধ্যায়ে (৪৫৭৪), মুসলিম তাফসীর অধ্যায়ে (৩০১৮), আবু দাউদ নিকাহ অধ্যায়ে (২০৬৮), নাসায়ী নিকাহ অধ্যায়ে (৩৩৪৬), দারা কুতনী তাঁর সুনানে (৩/২৬৫), তাবারী তাঁর আসারে (৮৪৫৬ - ৮৪৬১) এবং ওয়াহিদী আসবাবুন নুযূলে (পৃষ্ঠা ১২৩)।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) বুখারী ‘তাফসীর’ অধ্যায়ে (৪৫৭৩)।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌معاني المفردات والجمل:

قوله تعالى: {وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ}.

قوله {وَإِنْ خِفْتُمْ} الوأو للاستئناف.

و «إن» شرطية.

«خفتم» فعل الشرط، وجوابه (فانكحوا).

والخوف هنا على بابه (1)، أي: أن غلب الظن ألا تقسطوا.

وقيل «خفتم» بمعنى علمتم، وأيقنتم (2)، كقوله تعالى: {فَمَنْ خَافَ مِن مُّوصٍ جَنَفًا} (3) أي: من علم من موصٍ حنفاً.

والصحيح أن الخوف هنا على معناه (4) فمتى وجد الخوف من عدم الإقساط مع اليتامى وجب العدول عنهن وترك نكاحهن إلى غيرهن، وإن لم يكن عدم الإقساط أمراً معلوماً متيقناً، لأن هذا في الغالب لا تتم معرفته إلا بعد الزواج بهن، أي: بعد العقد والدخول.

قوله: ألا تقسطوا. أي ألا تعدلوا، من «أقسط» الرباعي. بمعنى «عدل» (5) ومنه قوله تعالى: {كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ} (6). واسم الفاعل منه «مقسط» ومنه قوله

--------------------------------------------

(1) قال الراغب الأصفةاني: «الخوف توقع مكروه عن أماره مظنونة أو معلومة، كما أن الرجاء والطمع توقع محبوب عن أماره مظنونة أو معلومة. ويضاد الخوف الأمن» «المفردات» مادة «خوف».

(2) انظر «مجاز القرآن» 1/ 114.

(3) سورة البقرة، آية: 182.

(4) انظر «أحكام القرآن» لابن العربي1/ 310، «المحرر الوجيز» 4/ 13، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 12.

(5) انظر «معاني القرآن» للأخفش1/ 431، «جامع البيان» 7/ 541، «المفردات» مادة «قسط»، «المحرر الوجيز» 4/ 13، «التفسير الكبير» 9/ 139، الجامع لحكام القرآن» 5/ 12.

(6) سورة النساء، آية: 135.
‌‌শব্দ ও বাক্যের অর্থসমূহ:

মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তোমরা ভয় কর যে, ইয়াতীমদের প্রতি ইনসাফ করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্য থেকে তোমাদের যাকে ভালো লাগে তাকে বিয়ে করে নাও}।

তাঁর বাণী {আর যদি তোমরা ভয় কর} এখানে 'ওয়াও' প্রারম্ভিক ব্যবহারের জন্য।

এবং «ইন» হলো শর্তবাচক।

«খিফতুম» হলো শর্তবাচক ক্রিয়া, আর এর উত্তর হলো (ফ্যানকিহু - তবে বিয়ে কর)।

এখানে 'ভয়' শব্দটি তার সাধারণ অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে (১), অর্থাৎ: যখন প্রবল ধারণা হবে যে তোমরা ইনসাফ করতে পারবে না।

বলা হয়েছে যে, «খিফতুম» অর্থ তোমরা জানলে এবং নিশ্চিত হলে (২), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যে ব্যক্তি কোনো অসিয়তকারীর পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্বের ভয় করে} (৩) অর্থাৎ: যে ব্যক্তি কোনো অসিয়তকারীর বিচ্যুতি সম্পর্কে অবগত হয়।

আর সঠিক (الصحيح) মত হলো যে, এখানে ভয় তার নিজস্ব অর্থেই ব্যবহৃত (৪); সুতরাং যখনই ইয়াতীমদের প্রতি ইনসাফ না করার ভয় পাওয়া যাবে, তখনই তাদের বাদ দেওয়া এবং তাদের বিয়ে করা ছেড়ে অন্যদের বিয়ে করা ওয়াজিব হবে, যদিও ইনসাফ না করা বিষয়টি সুনিশ্চিতভাবে জানা না থাকে। কারণ এটি সাধারণত বিয়ের আগে পুরোপুরি জানা সম্ভব নয়, বরং বিয়ের চুক্তি ও সহবাসের পরেই তা প্রকাশ পায়।

তাঁর বাণী: যাতে তোমরা ইনসাফ করতে না পার। অর্থাৎ যাতে তোমরা ন্যায়বিচার করতে না পার, এটি চার বর্ণবিশিষ্ট ক্রিয়া «আকসাত্বা» থেকে উদ্গত। যার অর্থ «ন্যায়বিচার করা» (৫) এবং এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা ইনসাফের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাক} (৬)। এর কর্তৃবাচক বিশেষ্য হলো «মুকসিত্ব» এবং এ থেকেই তাঁর বাণী...

--------------------------------------------

(১) রাগেব আল-ইসফাহানী বলেছেন: «ভয় হলো কোনো আলামত বা নিছক ধারণার ভিত্তিতে অপ্রীতিকর কিছু ঘটার আশঙ্কা করা, যেমন আশা ও আকাঙ্ক্ষা হলো কোনো আলামত বা ধারণার ভিত্তিতে প্রিয় কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা করা। ভয়ের বিপরীত হলো নিরাপত্তা» «আল-মুফরাদাত» শব্দমূল «খাউফ»।

(২) দেখুন «মাজাযুল কুরআন» ১/১১৪।

(৩) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮২।

(৪) দেখুন ইবনুল আরাবীর «আহকামুল কুরআন» ১/৩১০, «আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ» ৪/১৩, «আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন» ৫/১২।

(৫) দেখুন আল-আখফাশের «মাআনিল কুরআন» ১/৪৩১, «জামি উল বায়ান» ৭/৫৪১, «আল-মুফরাদাত» শব্দমূল «কিসত», «আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ» ৪/১৩, «আত-তাফসীরুল কাবীর» ৯/১৩৯, «আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন» ৫/১২।

(৬) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৩৫।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ১৬)
تعالى: {وَأَقْسِطُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ} (1) وقوله صلى الله عليه وسلم: «المقسطون على منابر من نور» (2).

وأما الفعل الثلاثي «قسط» فمعناه: جار وظلم (3)، واسم الفاعل منه «قاسط» (4) ومنه قوله تعالى: {وَأَمَّا الْقَاسِطُونَ فَكَانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا} (5).

و «اليتامى» جمع يتيم ويتيمه.

والمراد باليتامى هنا اليتامى من النساء (6)، كما قال تعالى: {وَمَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ فِي يَتَامَى النِّسَاءِ} (7).

أي: إن خفتم ألا تعدلوا مع التيمات إذا تزوجتموهن بعدم إعطائهن مثل غيرهن من المهور والنفقات، أو بالإمساك لهن لأجل مالهن من غير حاجه بكم لهن، ومن غير بذل حقوق الزوجية لهن (8)، أو بإجبارهن على الزواج منكموهن كارهات ونحو ذلك (9).

قوله تعالى: {فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ}.

الفاء واقعه في جواب الشرط، والجملة جواب الشرط المتقدم في قوله: {وَإِنْ

--------------------------------------------

(1) سورة الحجرات، آية:9.

(2) أخرجه مسلم في الإماره1827، والنسائي في أداء القضاء5379 من حديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما.

(3) انظر «معاني القرآن» للأخفش2/ 431، «جامع البيان» 7/ 541، «المفردات» مادة «قسط»، «المحرر الوجيز» 4/ 13، «التفسير الكبير» 9/ 139، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 12.

(4) انظر «صحيح البخاري مع الفتح» 13/ 537.

(5) سورة الجن، آية:15.

(6) حمل الطبري في تفسيره7/ 541: «اليتامى» هنا على ما يشمل ذكران اليتامى وإناثهم - والله أعلم - لشمل ذلك الأقوال التي قيلت في معنى الآية كما سيأتي ذكرها في آخر تفسير الآية.

(7) سورة النساء، آية:127.

(8) كما دلت عليه روايتا سبب النزول.

(9) كما كان تفعله أهل الجاهلية، واستر عليه يعض جهله الأعراب وجفاتهم يحجر الواحد منهم ابنة عمه في حياة عمه.
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা ইনসাফ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন} (১) এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: «ইনসাফকারীরা নূরের মিম্বরসমূহের ওপর অবস্থান করবে» (২)।

আর তিন অক্ষরবিশিষ্ট (ثلاثي) ক্রিয়া পদ ‘কাসাতা’ (قسط) এর অর্থ হলো: সে অবিচার করেছে এবং জুলুম করেছে (৩), আর এর কর্তাবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) হলো ‘কাসিত’ (قاسط) (৪)। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা জালেম, তারা তো জাহান্নামের জ্বালানি হবে} (৫)।

আর ‘আল-ইয়াতামা’ (اليتامى) শব্দটি ইয়াতীম (يتيم) এবং ইয়াতীমাহ (يتيمة) এর বহুবচন (جمع)।

আর এখানে ইয়াতীমদের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নারীদের মধ্য থেকে যারা ইয়াতীম (৬), যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং কিতাবে তোমাদের যা পড়ে শুনানো হয় নারীদের মধ্য থেকে ইয়াতীমদের সম্পর্কে} (৭)।

অর্থাৎ: যদি তোমরা ভয় করো যে, ইয়াতীম মেয়েদের বিয়ে করার পর তোমরা তাদের প্রতি ইনসাফ করতে পারবে না—তাদেরকে অন্যান্যদের মতো উপযুক্ত মোহর ও ভরণপোষণ না দেওয়ার মাধ্যমে, অথবা তাদের প্রতি প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তাদের সম্পদের লোভে তাদের আটকে রাখার মাধ্যমে এবং তাদের বৈবাহিক অধিকার প্রদান না করার মাধ্যমে (৮), কিংবা তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তোমাদের সাথে বিয়েতে বাধ্য করার মাধ্যমে এবং এ জাতীয় আচরণের মাধ্যমে (৯)।

মহান আল্লাহর বাণী: {তবে নারীদের মধ্যে তোমাদের যাদের ভালো লাগে তাদের বিয়ে করো}।

এখানে ‘ফা’ (الفاء) অক্ষরটি শর্তের উত্তর (جواب الشرط) হিসেবে এসেছে, আর পুরো বাক্যটি পূর্ববর্তী শর্তের উত্তর যা আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: {আর যদি...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ৯।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ‘ইমারাহ’ অধ্যায়ে (১৮২৭) এবং নাসায়ি ‘আদাউল কাজা’ অধ্যায়ে (৫৩৭৯), যা আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস থেকে সংগৃহীত।

(৩) দেখুন: আখফাশ রচিত ‘মাআনী আল-কুরআন’ ২/৪৩১, ‘জামেউল বায়ান’ ৭/৫৪১, ‘আল-মুফরাদাত’ এর ‘কাসাতা’ (قسط) অনুচ্ছেদ, ‘আল-মুহাররার আল-ওয়াজিজ’ ৪/১৩, ‘আত-তাফসীর আল-কাবীর’ ৯/১৩৯, ‘আল-জামে লি-আহকামিল কুরআন’ ৫/১২।

(৪) দেখুন: ফাতহুল বারীসহ সহীহ বুখারী ১৩/৫৩৭।

(৫) সূরা আল-জিন, আয়াত: ১৫।

(৬) তাবারী তাঁর তাফসীরে (৭/৫৪১) ‘ইয়াতামা’ শব্দটিকে নারী ও পুরুষ উভয় ইয়াতীমদের জন্য ব্যাপক অর্থবোধক হিসেবে গ্রহণ করেছেন—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—যাতে আয়াতের অর্থ সম্পর্কে বর্ণিত সকল অভিমত এর অন্তর্ভুক্ত হয়, যা আয়াতের তাফসীরের শেষে উল্লেখ করা হবে।

(৭) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১২৭।

(৮) যেমনটি অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (سبب النزول) সংক্রান্ত দুটি বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত।

(৯) যেমনটি জাহেলি আমলের লোকেরা করত এবং কিছু মূর্খ ও রূঢ় স্বভাবের বেদুইনরা এটি অব্যাহত রেখেছিল যে, তাদের কেউ তার চাচার জীবদ্দশায় তার চাচাতো বোনকে আটকে রাখত।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ১৭)
خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى}، واقترن الجواب بالفاء لأنه جملة طلبية (1)، ولم يات الجواب بالنهي عن نكاح اليتيمات أو بالأمر بترك نكاحهن إذا خيف عدم الإقساط فيهن - وإنما جاء الأمر بنكاح ما طاب لهم من النساء إرشاداً لهم وتوجيهاً إلى البديل، وأن النساء غير اليتيمات كثير، وأن الأمر واسع ولم يضيق الله عليهم.

قال الحافظ ابن كثير (2) رحمه الله: «أي إذا كانت تحت حجر أحدكم يتيمه، وخاف أن لا يعطيها مهر مثلها، فليعدل إلى ما سواها من النساء، فإنهن كثير ولم يضيق الله عليه (3)».

فالمعنى: فإن خفتم ألا تعدلوا في اليتامى فاتركوهن وجوبًا، وانكحوا ما طاب لكم من النساء سواهن استحباباً، أو جوازًا (4).

قوله (انكحوا) النكاح معناه لغة الضم والجمع، لأنه بعقد النكاح يكون اجتماع الزوج والزوجة، واجتماع الأصهار بعضهم إلى بعض، قال تعالى: {وَهُوَ الَّذِي

--------------------------------------------

(1) يقترن جواب الشرط بالفاء في عدة مواضع قال الناظم:

اسمية طلبية وبجامد … وبما ولن وبقد وبالتنفيس

 

ذكره الخضري في حاشيته 2/ 123، والصبان في حاشيته 4/ 9.

(2) في «تفسيره» 2/ 181.

(3) ومن هذا ومثله يعلم أن الشرع إذا منع من شيء وحرمه لسبب من الأسباب فإنه يبيح ويحل أضعاف أضعافه، ولهذا فإن الأصل في الأشياء الإباحة إلا ما دل الدليل على تحريمه كما قال تعالى: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا} سورة البقرة، آية: 29.

أي: أباحه لكم، لأن اللام في قوله «لكم» للإباحة.

فإذا انغلق باب، فتح الله ألف باب وكما قيل:

وإذا رأيت الرزق ضاق ببلدة … وخشيت فيها أن يضيق المذهب

 

فارحل فأرض الله واسعة الفضا … طولًا وعرضًا شرقها والمغرب

 

وحاشا للشرع الحكيم، الذي وضع الله به عن هذه الأمة الآصار والأغلال أن يغلق الباب على المكلف، فيكون كما قال الحلاج في ديوانه ص 145:

ألقاه في اليم مكتوفًا وقال له … إياك إياك أن تبتل بالماء

 

وصدق الله العظيم {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} سورة الحج الآية (78).

(4) سيأتي في الفوائد والأحكام زيادة بيان لهذا إن شاء الله.
{যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে তোমরা এতিমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না}, আর এখানে উত্তরটি 'ফা' (فاء) অক্ষরের সাথে যুক্ত হয়েছে কারণ এটি একটি আদেশসূচক (طلبية) (১) বাক্য। আর এখানে এতিম মেয়েদের বিয়ে করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কিংবা তাদের বিয়ের বিষয়টি বর্জন করার নির্দেশ হিসেবে উত্তর আসেনি যখন তাদের প্রতি ইনসাফ না করার আশঙ্কা করা হয় - বরং তাদের জন্য পছন্দনীয় নারীদের বিয়ে করার নির্দেশ এসেছে তাদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য এবং বিকল্পের দিকে পথপ্রদর্শনের জন্য। আর এতিম ব্যতীত অন্য নারী অনেক, এবং বিষয়টি প্রশস্ত, আল্লাহ তাদের জন্য কোনো সংকীর্ণতা সৃষ্টি করেননি।

হাফিজ ইবনে কাসির (২) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: «অর্থাৎ যদি তোমাদের কারো অভিভাবকত্বে কোনো এতিম মেয়ে থাকে এবং সে তাকে তার সমমানের মোহর (مهر مثل) প্রদান না করার ভয় করে, তবে সে যেন তাকে বাদ দিয়ে অন্য নারীদের মধ্য থেকে কাউকে গ্রহণ করে। কারণ তারা সংখ্যায় অনেক এবং আল্লাহ তার ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি (৩)»।

সুতরাং অর্থ হলো: যদি তোমরা এতিমদের প্রতি ইনসাফ করতে না পারার ভয় করো, তবে আবশ্যকীয়ভাবে (وجوبًا) তাদের বর্জন করো এবং তোমাদের পছন্দমতো অন্য নারীদের মুস্তাহাব (استحبابًا) বা বৈধ (جوازًا) হিসেবে বিয়ে করো (৪)।

তাঁর উক্তি (বিয়ে করো) - আভিধানিকভাবে (لغة) নিকাহ (النكاح) শব্দের অর্থ হলো একত্র করা ও সম্মিলিত করা। কারণ বিয়ের চুক্তির (عقد النكاح) মাধ্যমে স্বামী ও স্ত্রীর মিলন ঘটে এবং আত্মীয়-স্বজনদের একে অপরের সাথে মিলন ঘটে। মহান আল্লাহ বলেন: {ওয়া হুয়াল্লাজি...

--------------------------------------------

(১) শর্তের উত্তর (جواب الشرط) বেশ কিছু স্থানে 'ফা' (فاء) এর সাথে যুক্ত হয়, যেমনটি ছন্দকার বলেছেন:

বিশেষ্য মূলক (اسمية), আদেশসূচক (طلبية) এবং অপরিবর্তনীয় ক্রিয়া (جامد) এর ক্ষেত্রে … এবং 'মা', 'লান', 'কাদ' ও ভবিষ্যৎবাচক (تنفيس) অক্ষরের ক্ষেত্রে।

 

খুদরি এটি তার হাশিয়া (حاشية) ২/১২৩ এবং সাব্বান তার হাশিয়া (حاشية) ৪/৯-এ উল্লেখ করেছেন।

(২) তার ‘তাফসির’ ২/১৮১ গ্রন্থে।

(৩) এটি এবং এই জাতীয় উদাহরণ থেকে জানা যায় যে, শরিয়ত যখন কোনো বিষয় কোনো কারণে নিষিদ্ধ (حرمه) করে, তখন তার পরিবর্তে বহুগুণ বেশি হালাল ও বৈধ বিষয় প্রদান করে। এই কারণেই মূলনীতি হলো সকল বস্তুর ক্ষেত্রে তা বৈধ (إباحة) হওয়া, যতক্ষণ না তা নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার কোনো দলিল (دليل) পাওয়া যায়। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য জমিনে যা আছে সব সৃষ্টি করেছেন} সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৯।

অর্থাৎ: এটি তোমাদের জন্য বৈধ করেছেন, কারণ তাঁর বাণী ‘লাকুম’ (তোমাদের জন্য)-এর মধ্যে ‘লাম’ (ل) অক্ষরটি বৈধতা (إباحة) বুঝানোর জন্য এসেছে।

সুতরাং যখন একটি দরজা বন্ধ হয়, আল্লাহ হাজারো দরজা খুলে দেন। যেমনটি বলা হয়েছে:

যদি তুমি দেখো কোনো জনপদে রিজিক সংকীর্ণ হয়ে গেছে … এবং সেখানে তোমার চলার পথ রুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা করো,

 

তবে তুমি হিজরত করো, কারণ আল্লাহর জমিন বিশাল ও প্রশস্ত … দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে, এর পূর্ব ও পশ্চিমে।

 

প্রজ্ঞাময় শরিয়ত—যার মাধ্যমে আল্লাহ এই উম্মতের ওপর থেকে বোঝা ও শৃঙ্খলসমূহ অপসারিত করেছেন—তা কখনো কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির (المكلف) ওপর পথ রুদ্ধ করে দিতে পারে না। যেমনটি হাল্লাজ তার দিওয়ানে (পৃ. ১৪৫) বলেছিল:

সে তাকে হাত-পা বেঁধে সমুদ্রে নিক্ষেপ করল এবং তাকে বলল … সাবধান! সাবধান! খবরদার পানিতে ভিজে যেও না!

 

মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন {এবং তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি} সূরা আল-হজ্জ, আয়াত: (৭৮)।

(৪) সামনে শিক্ষণীয় বিষয় ও বিধানসমূহের (الأحكام) বর্ণনায় ইনশাআল্লাহ এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসবে।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ১৮)
خَلَقَ مِنَ الْمَاءِ بَشَراً فَجَعَلَهُ نَسَباً وَصِهْراً} (1).

ويطلق على الوطء، وعلى التزوج (2)، وهو شرعاً: عقد الزوجية الصحيح.

قوله {مَا طَابَ لَكُم} «ما» موصولة، وإنما جاء التعبير بها وهي لغير العاقل أولغير العالم على الأصح (3)، لأنه أريد بها الوصف لأن اختيار الرجل للمرأة لما قام بها من صفات طيبة، والصفات ليست من فصيلة العقلاء،: انكحوا الطيبات من النساء.

قال الزجاج (4): «ما طاب» لم يقل «من طاب» والوجه في الآدميين أن يقال: «من» وفي الصفات لأسماء الأجناس أن يقال: «ما» فالمعنى فانكحوا الطيب الحلال .. لأنه ليس كل النساء طيباً».

وقيل: إن «ما» ليست على معناها، وإنما هي بمعنى «من» التي للعالم، لأنهما يتعاقبان، كما في قوله تعالى: {وَمِنْهُم مَّن يَمْشِي عَلَى أربع} (5) والذي يمشي على أربع ليس بعالم. وقوله تعالى: {وَالسَّمَاءِ وَمَا بَنَاهَا. وَالْأَرْضِ وَمَا طَحَاهَا} (6) (7).

فـ «ما» في قوله (وما بناها) (وما طحاها) بمعنى «من»، أي: والسماء ومن بناها

--------------------------------------------

(1) سورة الفرقان، آية:54.

(2) انظر «اللسان» مادة «نكح».

(3) الأصح أن يقال «ما» لغير العاقل و «من» للعالم، كما قال ابن هشام، انظر «أوضح المسالك» 1/ 134 وانظر «ضياء السالك» 1/ 42. واختار بعض النحاه هذا، لأن الله تعالى وصف نفسه بالعلم و «من» يستعمل في الدلاله عليه سبحانه في مثل قوله تعالى: {ءأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ} سورة الملك الآيتان (16، 17) وصفات الله توقيفيه. كما أن «ما» جاءت للدلالة عليه سبحانه في عدة مواضع، وذلك على سبيل التبادل مع «من» كما في قوله تعالى {وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْأُنْثَى} سورة الليل، الآية (3) أي والذي خلق الذكر والانثى. وانظر «دليل السالك» للفوزان 1/ 129.

(4) في «معاني القرآن وإعرابه» 2/ 504، وانظر «الكاشف» 1/ 244، «المحرر الوجيز» 4/ 15، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 12، «مدارك التنزيل» 1/ 289.

(5) سورة النور، آية:45.

(6) سورة الشمس، الآيتان: 5 - 6.

(7) انظر «التفسير الكبير» 9/ 141، «فتح القدير» 1/ 420.
{তিনিই পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বংশগত ও বৈবাহিক আত্মীয়তায় আবদ্ধ করেছেন} (১)।

এটি সহবাস এবং বিবাহ (২) উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আর শরিয়তের পরিভাষায় এটি হলো: সঠিক (صحيح) বৈবাহিক চুক্তি।

তাঁর বাণী {যা তোমাদের নিকট ভালো লাগে}: এখানে 'মা' শব্দটি একটি সম্বন্ধসূচক অব্যয়। বিশুদ্ধতম (الأصح) মত অনুযায়ী (৩), এখানে 'মা' শব্দটির ব্যবহার বুদ্ধিহীন অথবা জ্ঞানহীন সত্তার ক্ষেত্রে হয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে গুণাবলি বোঝানো উদ্দেশ্য; যেহেতু একজন পুরুষ একজন নারীকে তার মধ্যে বিদ্যমান উত্তম গুণাবলির ভিত্তিতেই পছন্দ করে থাকে, আর গুণাবলি বুদ্ধিমান শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ: নারীদের মধ্য থেকে যারা উত্তম তাদেরকে বিবাহ করো।

আয-যাজ্জাজ (৪) বলেন: "যা ভালো লাগে" (মা তবা) বলা হয়েছে, "যে ভালো লাগে" (মান তবা) বলা হয়নি। মানুষের ক্ষেত্রে "মান" ব্যবহার করা নিয়ম এবং গুণের ক্ষেত্রে বা জাতিবাচক নামের ক্ষেত্রে "মা" ব্যবহার করা নিয়ম। সুতরাং এর অর্থ হলো: তোমরা উত্তম হালালকে বিবাহ করো... কারণ সকল নারী উত্তম নয়।

আরও বলা হয়েছে যে: এখানে 'মা' শব্দটি তার মৌলিক অর্থে ব্যবহৃত হয়নি, বরং এটি জ্ঞানবান সত্তাদের জন্য ব্যবহৃত "মান"-এর অর্থে এসেছে। কারণ এ দুটি শব্দ একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হয়। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তাদের মধ্যে কেউ চারপায়ে ভর দিয়ে চলে} (৫); অথচ যারা চারপায়ে চলে তারা জ্ঞানবান নয়। অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলার বাণী: {শপথ আসমানের এবং যিনি তা নির্মাণ করেছেন। শপথ জমিনের এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন} (৬) (৭)।

সুতরাং "যিনি তা নির্মাণ করেছেন" এবং "যিনি তা বিস্তৃত করেছেন" আয়াতাংশের 'মা' শব্দটি "মান"-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ: শপথ আসমানের এবং তাঁর, যিনি তা নির্মাণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) সুরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৫৪।

(২) দেখুন 'আল-লিসান', 'নাকাহা' মূলশব্দ।

(৩) বিশুদ্ধতম (الأصح) মত হলো—যেমনটি ইবনে হিশাম বলেছেন—'মা' বুদ্ধিহীনদের জন্য এবং 'মান' জ্ঞানবানদের জন্য ব্যবহৃত হয়। দেখুন 'আওদাহুল মাসালিক' ১/১৩৪ এবং 'দিয়াউস সালিক' ১/৪২। কতিপয় ব্যাকরণবিদ এই মতটি গ্রহণ করেছেন কারণ আল্লাহ তাআলা নিজেকে জ্ঞানগুণে গুণান্বিত করেছেন এবং আল্লাহ তাআলার সত্তাকে নির্দেশ করতে 'মান' ব্যবহৃত হয়, যেমন তাঁর বাণী: {তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ তাঁর থেকে যিনি আকাশে আছেন} সুরা আল-মুলক, আয়াত (১৬, ১৭)। আর আল্লাহর গুণাবলি অকাট্য দলীল নির্ভর। আবার বেশ কিছু স্থানে আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে 'মা' শব্দটিও এসেছে, যা 'মান'-এর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {শপথ তাঁর, যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন} সুরা আল-লায়ল, আয়াত (৩); অর্থাৎ যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন। দেখুন ফাউজানের 'দালিলুস সালিক' ১/১২৯।

(৪) 'মাআনিল কুরআন ওয়া ই’রাবিহী' ২/৫০৪-এ দেখুন। আরও দেখুন 'আল-কাশিফ' ১/২৪৪, 'আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ' ৪/১৫, 'আল-জামি’ লি-আহকামিল কুরআন' ৫/১২, 'মাদারিকুত তানজিল' ১/২৮৯।

(৫) সুরা আন-নূর, আয়াত: ৪৫।

(৬) সুরা আশ-শামস, আয়াত: ৫ - ৬।

(৭) দেখুন 'আত-তাফসিরুল কাবীর' ৯/১৪১, 'ফাতহুল কাদীর' ১/৪২০।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ১৯)
والأرض ومن طحاها، وهو الله سبحانه وتعالى العليم بكل شيء.

قالوا: وإنما قلنا بأن «ما» في قوله: (ما طاب) «بمعنى من».

«لقوله» بعد ذلك «من النساء» مبيناً لمبهم، والنساء من فصيله العقلاء (1).

وقال الفراء (2): قوله (ماطاب) ولم يقل «من طاب»، وذلك لأنه ذهب إلى الفعل» وبنحو من هذا قال الطبري حيث قال (3): معناه: انكحوا نكاحًا طيبًا .. فالمعنيُّ بقوله (ما طاب) الفعل دون أعيان النساء وأشخاصهن، فلذلك قيل «ما» ولم يقل «من». والصحيح القول الأول «ما» هنا على معناها لغير العاقل، لأنه أريد بذلك الوصف.

وليست في هذا الموضع (4)، بمعنى «من» ولا بمعنى «الفعل».

قوله (طاب): قرأ حمزة «طاب» بالإمالة (5).

قوله: (من النساء): «من» بيانية (6)، فيها بيان للاسم الموصول «ما» و (من النساء) متعلق بقوله (ما طاب لكم) والتقدير: انكحوا ما يطيب لكم من النساء.

أو متعلق بقوله (فانكحوا)، أي: انكحوا من النساء ما طاب لكم.

والنساء والنسوه: جمع لا واحد له من لفظه، ولكن يقال: امرأة (7).

والمعنى: فانكحوا ما طابت به نفوسكم ورغيتم فيه مما أحل الله لكم (8). من

--------------------------------------------

(1) انظر «معالم التنزيل» 1/ 391، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 12.

(2) في «معاني القرآن» 1/ 253 - 254.

(3) في «تفسيره» 7/ 542، وانظر «مشكل إعراب القرآن» 1/ 189.

(4) لأنها قد تأتي بمعنى «من» لكن في غير هذا الموضع.

(5) انظر «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 15.

(6) انظر «البحر المحيط» 3/ 162.

(7) انظر «اللسان» مادة «نسا» «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 15.

(8) انظر «جامع البيان» 7/ 542، «معاني القرآن وإعرابه» للزجاج2/ 4 - 5، «معالم التنزيل» 1/ 391، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 15.
এবং পৃথিবী ও যিনি তা বিস্তৃত করেছেন; আর তিনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা, যিনি সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।

তারা বলেন: আমরা কেবল একারণেই বলেছি যে, তাঁর বাণী: (যা ভালো লাগে) এর মধ্যে «মা» শব্দটি «মান» (যারা/যাদের) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

«এর কারণ হলো» এরপর তাঁর বাণী «নারীদের মধ্য থেকে» শব্দটি একটি অস্পষ্ট বিষয়ের (مبهم) বর্ণনাকারী (مبين) হিসেবে এসেছে, আর নারীরা বিবেকসম্পন্নদের (العقلاء) শ্রেণিভুক্ত (১)।

আল-ফাররা (২) বলেন: তাঁর বাণী (যা ভালো লাগে), এখানে তিনি «মান তবা» (যে ভালো লাগে) বলেননি; কারণ তিনি শব্দটিকে ‘ক্রিয়া’ (الفعل) অর্থে গ্রহণ করেছেন। ইমাম তাবারীও অনুরূপ কথা বলেছেন (৩): এর অর্থ হলো: তোমরা উত্তম বিবাহে আবদ্ধ হও... সুতরাং (যা ভালো লাগে) কথাটির দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ক্রিয়া (الفعل), নারীদের সত্তা বা ব্যক্তি নয়; একারণেই «মা» বলা হয়েছে, «মান» বলা হয়নি। তবে সঠিক মত হলো প্রথমটি; এখানে «মা» শব্দটি তার মূল অর্থ অর্থাৎ অচেতন বা গুণবাচক বিষয়ের (لغير العاقل) জন্যই ব্যবহৃত হয়েছে, কারণ এর দ্বারা গুণ বা বৈশিষ্ট্যকে বোঝানো হয়েছে।

আর এই স্থানে (৪) এটি «মান» (ব্যক্তি) অর্থে কিংবা «ক্রিয়া» (الفعل) অর্থে ব্যবহৃত হয়নি।

তাঁর বাণী (ভালো লাগে): হামযাহ «তবা» শব্দটি ইমালা (إمالة) যোগে পাঠ করেছেন (৫)।

তাঁর বাণী: (নারীদের মধ্য থেকে): এখানে «মিন» অব্যয়টি বর্ণনামূলক (بيانية) (৬), যা সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (اسم الموصول) «মা»-এর ব্যাখ্যা প্রদান করে। আর (নারীদের মধ্য থেকে) অংশটি তাঁর বাণী (যা তোমাদের জন্য ভালো লাগে) এর সাথে সংশ্লিষ্ট। এর প্রচ্ছন্ন রূপ (تقدير) হলো: নারীদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের পছন্দ হয় তাদের বিবাহ করো।

অথবা এটি (তোমরা বিবাহ করো) এর সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ: নারীদের মধ্য থেকে তাদের বিবাহ করো যারা তোমাদের পছন্দ হয়।

«নিসা» এবং «নিসওয়াহ» শব্দ দুটি এমন বহুবচন যার মূল শব্দ থেকে কোনো একবচন নেই, বরং এর একবচন হিসেবে «ইমরাআহ» (নারী) শব্দ ব্যবহৃত হয় (৭)।

এর অর্থ হলো: আল্লাহ তোমাদের জন্য যা হালাল করেছেন, তার মধ্য থেকে যাদের প্রতি তোমাদের মন সায় দেয় এবং যাদের প্রতি তোমরা আগ্রহী, তাদের বিবাহ করো (৮)। থেকে

--------------------------------------------

(১) দেখুন «মাআলিমুত তানজিল» ১/৩৯১, «আল-জামি লি আহকামিল কুরআন» ৫/১২।

(২) «মাআনিল কুরআন» ১/২৫৩ - ২৫৪-এ।

(৩) তাঁর «তাফসীর»-এ ৭/৫৪২, এবং দেখুন «মুশকিলু ই’রাবিল কুরআন» ১/১৮৯।

(৪) কারণ এটি অন্য ক্ষেত্রে «মান» অর্থে আসতে পারে, কিন্তু এই স্থানে নয়।

(৫) দেখুন «আল-জামি লি আহকামিল কুরআন» ৫/১৫।

(৬) দেখুন «আল-বাহরুল মুহিত» ৩/১৬২।

(৭) দেখুন «আল-লিসান» ‘নাসা’ (نسا) মূলধাতু, «আল-জামি লি আহকামিল কুরআন» ৫/১৫।

(৮) দেখুন «জামি উল বায়ান» ৭/৫৪২, আয-যাজ্জাজ-এর «মাআনিল কুরআন ওয়া ই’রাবুহু» ২/৪ - ৫, «মাআলিমুত তানজিল» ১/৩৯১, «আল-জামি লি আহকামিল কুরআন» ৫/১৫।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ২০)
ذوات الصفات الطيبه من النساء، كالدين والخلق والجمال ونحو ذلك.

قال صلى الله عليه وسلم: «تنكح المرأة لأربع: لمالها وحسبها وجمالها ولدينها، فاظفر بذات الدين تربت يداك» (1).

قوله تعالى: {مَّثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ}.

هذه الألفاظ نكرات (2) في محل نصب على الحال من النساء. أي حال كونهن مثنى وثلاث ورباع (3)، وهي ممنوعة من الصرف لعلتين (4) الوصفيه، لأنها بمعنى الوصف للنساء، أي: نساء مثنى وثلاث ورباع.

والعلة الثانية العدل. ف «مثنى» معدولة من: اثنتين: و «ثلاث» معدولة من ثلاث و «رباع» معدولة من أربع (5).

وهذه الألفاظ مما يستوى فيه المذكر والمؤنث.

فمن المؤنث هذه الآية، ومن المذكر قوله تعالى: {أولِي أَجْنِحَةٍ مَّثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ} فالجناح مذكر (6).

--------------------------------------------

(1) سيأتي تخريجه ص 35.

(2) انظر «معنى القرآن وإعرابه» للزجاج2/ 5، «المحرر الوجيز» 4/ 15.وقال الطبرى7/ 543: «اسم للعدد معرفة ولو كان نكره لدخلته الألف واللام وأضيف: وهو لا تدخله الألف واللام ولا يضاف».

(3) انظر «إملاء ما من به الرحمن» للعكبري 1/ 166.

وقيل هي في موضع نصب على الحال من فاعل «طاب» أو من مرجعه «ما» انظر مشكل إعراب القرآن» 1/ 189 «المحرر الوجيز» 4/ 15، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 15 - 16، «البحر المحيط» 3/ 163.

(4) انظر «جامع البيان» 7/ 543، «معالم التنزيل1/ 391، «المحرر الوجيز» 4/ 15، «الجامع لأحكام القران وإعرابه» للزجاج 2/ 5.

(5) انظر مشكل إعراب القرآن» 1/ 189، «البيان في غريب إعراب القران» 1/ 241.

(6) انظر «جامع البيان» 6/ 543.
উত্তম গুণসম্পন্না নারী, যেমন দ্বীনদারী, সচ্চরিত্র, সৌন্দর্য এবং এই জাতীয় বিষয়াবলী।

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «চারটি গুণের কারণে কোনো নারীকে বিবাহ করা হয়: তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য এবং তার দ্বীনদারী। সুতরাং তুমি দ্বীনদারীকেই প্রাধান্য দাও, অন্যথায় তোমার দুই হাত ধূলিমলিন হোক (অর্থাৎ তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে)» (১)।

মহান আল্লাহর বাণী: {দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার করে}।

এই শব্দগুলো অনির্দিষ্ট (نكرة) (২) হিসেবে 'নিসা' (নারী) শব্দ থেকে অবস্থাবাচক (حال) হওয়ার কারণে নসব-এর স্থলে রয়েছে। অর্থাৎ তাদের অবস্থা হলো—তারা দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার জন (৩)। আর এগুলো দুইটি কারণে রূপান্তরহীন (ممنوع من الصرف) (৪): প্রথমত বিশেষণীয় গুণ (الوصفية), কারণ এগুলো নারীদের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ: দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার জন নারী।

আর দ্বিতীয় কারণটি হলো শব্দ-পরিবর্তন (العدل)। সুতরাং 'মাছনা' শব্দটি 'ইছনাতাইনি' থেকে পরিবর্তিত (معدول), 'ছুলাছা' শব্দটি 'তালাছা' থেকে পরিবর্তিত এবং 'রুবা' শব্দটি 'আরবা' (৫) থেকে পরিবর্তিত।

আর এই শব্দগুলো এমন যা পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে ব্যবহৃত হয়।

স্ত্রীলিঙ্গের উদাহরণ হলো এই আয়াতটি, আর পুংলিঙ্গের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {ডানা বিশিষ্ট—দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চারটি করে}। এখানে ডানা (জুনাহ) শব্দটি পুংলিঙ্গ (৬)।

--------------------------------------------

(১) এর উৎস উদ্ঘাটন বা তাখরিজ (تخريج) সামনে ৩৫ পৃষ্ঠায় আসবে।

(২) দেখুন: আজ-জাজ্জাজ প্রণীত 'মাআনিল কোরআন ওয়া ইরাবুহু' ২/৫; 'আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ' ৪/১৫। আত-তাবারী ৭/৫৪৩-এ বলেন: "এটি সংখ্যার জন্য একটি নির্দিষ্ট (معرفة) বিশেষ্য, যদি এটি অনির্দিষ্ট (نكرة) হতো তবে এতে আলিফ-লাম যুক্ত হতো এবং এটি অন্বয় (إضافة) হতো; অথচ এতে আলিফ-লাম যুক্ত হয় না এবং এটি মুদাফ-ও (مضاف) হয় না।"

(৩) দেখুন: আল-উকবরী প্রণীত 'ইমলাউ মা মান্না বিহির্ রাহমান' ১/১৬৬।

কেউ কেউ বলেছেন, এটি 'ত্ববা' ক্রিয়ার কর্তা (فاعل) অথবা এর নির্দেশিত শব্দ 'মা' থেকে অবস্থাবাচক (حال) হওয়ার কারণে নসব-এর স্থানে রয়েছে; দেখুন: 'মুশকিলু ইরাবিল কোরআন' ১/১৮৯; 'আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ' ৪/১৫; 'আল-জামি লি-আহকামিল কোরআন' ৫/১৫-১৬; 'আল-বাহরুল মুহিত' ৩/১৬৩।

(৪) দেখুন: 'জামিঊল বায়ান' ৭/৫৪৩; 'মাআলিমুত তানজিল' ১/৩৯১; 'আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ' ৪/১৫; আজ-জাজ্জাজ প্রণীত 'আল-জামি লি-আহকামিল কোরআন ওয়া ইরাবুহু' ২/৫।

(৫) দেখুন: 'মুশকিলু ইরাবিল কোরআন' ১/১৮৯; 'আল-বায়ান ফি গারীবি ইরাবিল কোরআন' ১/২৪১।

(৬) দেখুন: 'জামিঊল বায়ান' ৬/৫৪৩।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ২১)
وهي تدل على تكرار العدد مما عدلت منه بلا حصر، أي: إلى غاية المعدود (1).

فيقال: جاء الرجال مثنى أي: اثنين اثنين، وجاءت النساء مثنى، أي: اثنتين اثنتين-وهكذا «ثلاث» و «رباع».

وقوله (مثنى وثلاث ورباع) أسلوب تنويع وتقسيم.

أي: انكحوا على اثنتين اثنتين، وعلى ثلاث ثلاث، وعلى أربع أربع، وفيه معنى التخيير (2) أي: منكم من ينكح اثنتين ومنكم من ينكح ثلاث، ومنكم من ينكح أربعًا. قال تعالى في وصف الملائكة: {جَاعِلِ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا أولِي أَجْنِحَةٍ مَّثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ} (3) أي منهم له جناحان، ومنهم من له ثلاثة، ومنهم من له أربعة (4).

وقد زعم بعضهم (5) أن المعنى: انكحوا اثنتين وثلاثًا وأربعاً، أي: تسعاً؛ مجموع اثنتين وثلاث وأربع تسع، وأباحوا الجمع بين تسع زوجات. استدلالًا بالآية. قالوا: لأن الواو للجمع (6).

وهذا ليس بصحيح من حيث اللغة العربية التي نزل بها القرآن

--------------------------------------------

(1) انظر «الصحاح» للجوهري مادة «ثنى، ثلث، ربع» «مشكل إعراب القرآن» 1/ 189، «المحرر الوجيز» 4/ 15، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 18.

(2) انظر المعجم الوجيز» 1/ 391.

(3) سورة فاطر، آية:1.

(4) انظر «تفسير ابن كثير» 2/ 182 قال ابن كثير بعد هذا: «ولا ينفى ما عدا ذلك بالنسبة للملائكة لدلالة الدليل عليه» يشير رحمه الله إلى ما ثبت في الصحيح: «أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى جبريل على صورته التي خلق عليها له ستمائة جناح» أخرجه البخاري في التفسير4856، ومسلم في الايمان174 والترمذي في التفسير3277 من حديث ابن مسعود رضي الله عنه.

(5) وهم الرافضة وبعض الظاهرية.

(6) بل ذهب بعضم إلى جواز الجمع بين ثمان عشرة زوجة، بناء على أن معنى «مثنى» اثنتين اثنتين أي أربع «وثلاث» ثلاث ثلاث، أي ست، و «رباع» أربع أربع، أي: ثمان. فأربع وست وثمان: ثمان عشرة، بل قال بعضهم بجواز التعدد بلا حد. انظر «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 16 - 18 «البحر المحيط» 3/ 163.
এটি সংখ্যার পুনরাবৃত্তিকে নির্দেশ করে যেখান থেকে এটি কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই পরিবর্তিত হয়েছে, অর্থাৎ: গণনাকৃত বস্তুর শেষ সীমা পর্যন্ত (১)।

সুতরাং বলা হয়: পুরুষেরা দুই দুই করে এসেছে, অর্থাৎ: দুইজন দুইজন করে; এবং নারীরা দুই দুই করে এসেছে, অর্থাৎ: দুইজন দুইজন করে—অনুরূপভাবে ‘তিন তিন’ এবং ‘চার চার’।

আর আল্লাহর বাণী (দুই দুই, তিন তিন এবং চার চার) বৈচিত্র্য প্রদান ও বণ্টনের একটি পদ্ধতি।

অর্থাৎ: তোমরা দুই দুই জন করে, তিন তিন জন করে এবং চার চার জন করে বিবাহ করো। এর মধ্যে ঐচ্ছিকতার অর্থ নিহিত রয়েছে; অর্থাৎ: তোমাদের মধ্যে কেউ দুইজনকে বিবাহ করবে, কেউ তিনজনকে এবং কেউ চারজনকে। মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের বর্ণনায় বলেন: {যিনি ফেরেশতাদেরকে বার্তাবাহক করেন, যারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার পাখা বিশিষ্ট} (৩)। অর্থাৎ তাদের কারো দুইটি পাখা আছে, কারো তিনটি এবং কারো চারটি (৪)।

তাদের কেউ কেউ (৫) ধারণা করেছেন যে, এর অর্থ হলো: তোমরা দুই, তিন ও চারজনকে বিবাহ করো, অর্থাৎ: নয়জন; কারণ দুই, তিন ও চারের সমষ্টি হলো নয়। তারা এই আয়াতের মাধ্যমে দলীল পেশ করে একসাথে নয়জন স্ত্রী রাখার বৈধতা দিয়েছেন। তারা বলেন: কারণ ‘ওয়াও’ অব্যয়টি সমষ্টির জন্য ব্যবহৃত হয় (৬)।

আর এটি আরবি ভাষার দিক থেকে সঠিক (صحيح) নয়, যে ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) জাওহারী প্রণীত ‘আল-সিহাহ’-এর ‘সানা, সালাসা, রাবা’ শব্দমূল দ্রষ্টব্য; ‘মুশকিলু ই’রাবিল কুরআন’ ১/১৮৯, ‘আল-মুহাররার আল-ওয়াজিজ’ ৪/১৫, ‘আল-জামি’ লি-আহকামিল কুরআন’ ৫/১৮।

(২) ‘আল-মু’জাম আল-ওয়াজিজ’ ১/৩৯১ দ্রষ্টব্য।

(৩) সূরা ফাতির, আয়াত: ১।

(৪) ‘তাফসিরে ইবনে কাসির’ ২/১৮২ দ্রষ্টব্য। ইবনে কাসির এরপর বলেছেন: "ফেরেশতাদের ক্ষেত্রে এর অতিরিক্ত সংখ্যাকে নাকচ করা হয় না, যেহেতু এর স্বপক্ষে প্রমাণ বিদ্যমান।" তিনি (রহ.) সহিহ গ্রন্থে যা সাব্যস্ত হয়েছে সেদিকে ইশারা করেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরাঈলকে তাঁর সৃষ্টিগত আকৃতিতে দেখেছিলেন, তাঁর ছয়শটি ডানা ছিল।" ইমাম বুখারি তাফসির অধ্যায়ে (৪৮৫৬), মুসলিম ঈমান অধ্যায়ে (১৭৪) এবং তিরমিযী তাফসির অধ্যায়ে (৩২৭৭) ইবনে মাসউদ (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

(৫) তারা হলেন রাফেযী এবং কতিপয় যাহেরী সম্প্রদায়।

(৬) বরং তাদের কেউ কেউ একসাথে আঠারো জন স্ত্রী রাখার বৈধতার দিকে গিয়েছেন এই ভিত্তিতে যে, ‘দুই দুই’ মানে চার; ‘তিন তিন’ মানে ছয়; এবং ‘চার চার’ মানে আট। সুতরাং চার, ছয় ও আট মিলে আঠারো হয়। এমনকি কেউ কেউ কোনো সীমা ছাড়াই বহুবিবাহ বৈধ বলেছেন। দেখুন: ‘আল-জামি’ লি-আহকামিল কুরআন’ ৫/১৬-১৮, ‘আল-বাহরুল মুহিত’ ৩/১৬৩।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ২২)
الكريم (1)، لأن الخطاب في قوله (فانكحوا) للجماعة، وليس لمفرد، وقوله (مثنى وثلاث ورباع) موزع ومفرق على الجماعة، فيكون المعنى: ينكح بعضكم مثنى، أي على اثنتين اثنتين، وينكح بعضكم ثلاث، أي على ثلاث ثلاث، وينكح بعضكم رباع، أي على أربع أربع (2). وقد جيء بصيغة العدل للدلالة على هذا المعنى، ولئلا يتوهم جواز الجمع بين هذه الأعداد (3).

ولو قال قائل خذ اثنين وثلاثه وأربعة بدل أن يقول: خذ تسعة، لعد هذا في منتهى الضعف عند العرب وأئمة اللغة، فكيف يحمل على هذا الكلام الله تعالى في هذه الآية (4).

وقد جاء العطف بالواو بدل «أو» لئلا يتوهم أنه لا يجوز إلا أحد هذه الأعداد (5).

ولم تذكر الواحدة في هذا المقام، بل قال سبحانه: (مثنى وثلاث ورباع) لأن المقام مقام إقناع وامتنان وتوسعه وتخيير للمخاطبين، - حيث منعوا من نكاح اليتامى عند خوف عدم العدل معهن-في أن ينكحوا ما طاب لهم من النساء سواهن من حيث الكيفيه، وهن ذوات الصفات الطيبة؛ ومن حيث الكمية من اثنتين إلى أربع (6).

قوله تعالى: {فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً}.

الفاء عاطفة.

«إن» شرطية.

خفتم: فعل الشرط.

ألا تعدلوا: «ألا» مكونة من «أن» و «لا».

--------------------------------------------

(1) كما أن القول بإباحة تسع زرجات باطل بدلالة السنة وإجماع الأمة، كما سيأتي في الأحكام.

(2) انظر «معاني القرآن وإعرابه» للزجاج2/ 6، «التفسير الكبير» 9/ 141، 143.

(3) انظر «الكشاف» 1/ 24 قال البغوي «أو التخيير» انظر «معالم التنزيل» 1/ 391.

(4) انظر «معاني القرآن وإعرابه» للزجاج2/ 6.

(5) انظر «التفسير الكبير» 9/ 143، الجامع لأحكام القرآن» 5/ 17، «البحر المحيط» 3/ 126.

(6) انظر كلام شيخنا محمد العثيمين على هذه الآية في دروس التفسير.
আল-কুরআন (১), কারণ "অতঃপর তোমরা বিবাহ করো" (فانكحوا) বাক্যটিতে সম্বোধন করা হয়েছে সমষ্টির প্রতি, কোনো একক ব্যক্তির প্রতি নয়। "দুই দুই জন, তিন তিন জন এবং চার চার জন করে" (مثنى وثلاث ورباع) কথাটি সেই সমষ্টির ওপর বণ্টিত ও বিভক্ত। ফলে এর অর্থ দাঁড়ায়: তোমাদের কেউ কেউ দুইজন করে বিবাহ করো, অর্থাৎ দুই দুই জন করে; কেউ কেউ তিনজন করে, অর্থাৎ তিন তিন জন করে; এবং কেউ কেউ চারজন করে, অর্থাৎ চার চার জন করে (২)। এই অর্থ প্রকাশের জন্যই আদল (عدل) রূপটি ব্যবহার করা হয়েছে, যেন এই সংখ্যাগুলো একত্র করা বৈধ হওয়ার কোনো ধারণা সৃষ্টি না হয় (৩)।

যদি কোনো ব্যক্তি "নয়টি গ্রহণ করো" বলার পরিবর্তে বলত, "দুইটি, তিনটি এবং চারটি গ্রহণ করো", তবে এটি আরবদের নিকট এবং ভাষাবিদ ইমামগণের দৃষ্টিতে চূড়ান্ত পর্যায়ের দুর্বলতা (الضعف) বলে গণ্য হতো। তাহলে মহান আল্লাহর বাণীকে এই আয়াতের ক্ষেত্রে কীভাবে তেমন অর্থে গ্রহণ করা সম্ভব (৪)?

এখানে 'বা' (أو) এর পরিবর্তে 'এবং' (و) অব্যয়টি সংযুক্ত করা হয়েছে যেন এমন কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয় যে, এই সংখ্যাগুলোর মধ্যে কেবল একটিই বৈধ (৫)।

এই স্থানে একজনের কথা উল্লেখ করা হয়নি; বরং মহান আল্লাহ বলেছেন: (দুই দুই জন, তিন তিন জন এবং চার চার জন করে)। কারণ এটি হলো সম্বোধিত ব্যক্তিদের তুষ্ট করা, অনুগ্রহ করা, প্রশস্ততা দান এবং নির্বাচনের সুযোগ দেওয়ার স্থান—যেহেতু যখন তাদের ইয়াতীম মেয়েদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার না করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল তখন তাদের তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে—তারা যেন তাদের পছন্দ অনুযায়ী অন্য নারীদের বিবাহ করতে পারে, যার গুণগত দিক হবে পবিত্র বা উত্তম বৈশিষ্ট্যের অধিকারিণী এবং সংখ্যার দিক থেকে দুইজন থেকে চারজন পর্যন্ত (৬)।

মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে (বিবাহ করো)}।

ফা (الفاء) হলো সংযোজক অব্যয়।

«ইন» (إن) হলো শর্তবাচক।

খিফতুম (خفتم): শর্তের ক্রিয়া।

আল্লা তা'দিলু (ألا تعدلوا): «আল্লা» (ألا) শব্দটি «আন» (أن) এবং «লা» (لا) এর সমন্বয়ে গঠিত।

--------------------------------------------

(১) যেমন নয়জন স্ত্রীকে রাখা বৈধ হওয়ার দাবিটি সুন্নাহ এবং উম্মাহর ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা বাতিল (باطل), যা বিধানাবলি অধ্যায়ে সামনে আসবে।

(২) দেখুন: আজ-জাজ্জাজ প্রণীত 'মাআনিল কুরআন ওয়া ইরাবিহ' ২/৬; 'আত-তাফসির আল-কাবির' ৯/১৪১, ১৪৩।

(৩) দেখুন: 'আল-কাশশাফ' ১/২৪। বাগাবী বলেছেন "নির্বাচনের সুযোগ (التخيير)"। দেখুন: 'মাআলিমুত তানজিল' ১/৩৯১।

(৪) দেখুন: আজ-জাজ্জাজ প্রণীত 'মাআনিল কুরআন ওয়া ইরাবিহ' ২/৬।

(৫) দেখুন: 'আত-তাফসির আল-কাবির' ৯/১৪৩; 'আল-জামি লি আহকামিল কুরআন' ৫/১৭; 'আল-বাহরুল মুহিত' ৩/১২৬।

(৬) এই আয়াতের বিষয়ে আমাদের শাইখ মুহাম্মদ আল-উসাইমীন-এর তাফসিরের দরসগুলো দেখুন।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ২৩)
قوله (فواحدةً) قرأ العشرة عدا أبي جعفر بالنصب «فواحدةً» على أن هذا جواب الشرط، والتقدير: فانكحوا واحدة. واقترن الجواب بالفاء لأنه جملة طلبية.

وقرأ أبو جعفر: «فواحدةٌ» بالرفع، أي فواحدة تكفي، أو تقنع (1) واقترن الجواب بالفاء لأنه جملة اسمية.

والمعنى: وإن خفتم، أي: ظننتم عدم العدل مع الزوجات إذا تعددن فيما يجب لهن عليكم من حقوق النكاح في القسم والنفقة والعشرة ونحو ذلك مما يدخل تحت الاستطاعة. فاكتفوا بنكاح واحدة (2) ..

قوله تعالى: {أو مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ} (3) «أو» عاطفه جملة على جملة، وهي بمعنى الواو، والتقدير: فانكحوا واحدة واستمتعوا بما ملكت أيمانكم (4).

قوله: (ما ملكت ايمانكم) أي: ما ملكتموه من السراري والإماء بملك الرقبة والمنافع. والإيمان جمع يمين، وأسند الملك إليها لأنها المختصة بالمحاسن، بها يأخذ المؤمن كتابه، كما قال عز وجل: {فَأَمَّا مَنْ أوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ} (5) وهي المنفقة قال صلى الله عليه وسلم: «حتى لا تعلم شماله ما تنفق يمينه» (6).

والمعنى: واستمتعوا بوطء ما ملكتموه من السرارى والاماء، حيث لا يجب القسم بينهن (6). وليس المعنى: أو انكحوا ما ملكت أيمانكم من الإماء، لأنه يحرم على الرجل

--------------------------------------------

(1) انظر «المبسوط» ص153، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 20، «النشر» 2/ 247.

(2) انظر «أحكام القران» للجصاص2/ 70، «بحر العلوم» 1/ 332، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 20، «تفسير ابن كثير» 2/ 184.

(3) انظر «تحفه الودود» ص19 - 20، «فتح القدير» 1/ 421.

(4) سورة الانشقاق، آية: 7.

(5) أخرجه البخاري في الأذان660، ومسلم في الزكاة1031، والنسائي في آداب القضاه538، والترمذي في الزهد2391من حديث أبي هريرة رضي الله عنه وانظر «المحرر الوجيز» 4/ 16 - 17، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 20.

(6) انظر «معالم التنزيل» 1/ 392، «المحرر الوجيز» 4/ 16، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 20.
তাঁর বাণী (فواحدةً) সম্পর্কে বক্তব্য: আবু জাফর ব্যতীত দশজন ক্বারী একে নসব (نصب) অবস্থায় 'ফাওয়াহিদাতান' (فواحدةً) পড়েছেন, এই ভিত্তিতে যে এটি শর্তের উত্তর (جواب الشرط); আর এর উহ্য রূপ হলো: 'অতএব তোমরা একজনকে বিবাহ করো'। উত্তরটি 'ফা' (ف) সহযোগে এসেছে কারণ এটি একটি নির্দেশমূলক বাক্য (جملة طلبية)।

আর আবু জাফর একে রফ (رفع) অবস্থায় 'ফাওয়াহিদাতুন' (فواحدةٌ) পড়েছেন, যার অর্থ হলো: 'তবে একজনই যথেষ্ট' অথবা 'একজনেই সন্তুষ্ট থাকো' (১)। এখানে উত্তরটি 'ফা' (ف) সহযোগে এসেছে কারণ এটি একটি বিশেষ্যমূলক বাক্য (جملة اسمية)।

আর মর্মার্থ হলো: আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো, অর্থাৎ তোমাদের যদি মনে হয় যে, একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে তাদের ওপর ওয়াজিব বৈবাহিক অধিকারসমূহ যেমন—পালা বণ্টন (القسم), ভরণপোষণ (النفقة) ও জীবনযাপন বা উত্তম আচরণ (العشرة) এবং সক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত অনুরূপ বিষয়গুলোতে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে তোমরা একজনকে বিবাহ করার মাধ্যমেই তুষ্ট থাকো (২)...

মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীরা} (৩)। এখানে 'আও' (أو) অব্যয়টি একটি বাক্যকে অপর একটি বাক্যের সাথে সংযুক্তকারী (عاطفه), যা 'ওয়াও' (و) বা 'এবং' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর উহ্য রূপ হলো: 'অতএব তোমরা একজনকে বিবাহ করো এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের দ্বারা উপকৃত হও' (৪)।

তাঁর বাণী: (তোমাদের অধিকারভুক্ত যারা) অর্থাৎ তোমরা স্বত্বাধিকার ও ব্যবহারের মালিকানায় যেসকল যুদ্ধবন্দিনী ও দাসীদের লাভ করেছ। 'আইমান' (أيمان) শব্দটি 'ইয়ামিন' (يمين) বা 'ডান হাত'-এর বহুবচন। মালিকানাকে ডান হাতের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে কারণ এটি শ্রেষ্ঠত্বের পরিচায়ক; এই ডান হাত দিয়েই মুমিন ব্যক্তি তার আমলনামা গ্রহণ করবে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর যাকে তার ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে} (৫)। আর এটিই হলো ব্যয়কারী হাত, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এমনকি তার বাম হাতও জানবে না তার ডান হাত (يمينه) কী ব্যয় করেছে" (৬)।

আর মর্মার্থ হলো: আর তোমরা তোমাদের মালিকানাধীন যুদ্ধবন্দিনী ও দাসীদের সাথে সহবাসের মাধ্যমে উপকৃত হও, যেহেতু তাদের ক্ষেত্রে দিন বা রাতের পালা বণ্টন (القسم) করা ওয়াজিব নয় (৬)। এর অর্থ এমন নয় যে: 'অথবা তোমাদের মালিকানাধীন দাসীদের বিবাহ করো', কারণ কোনো ব্যক্তির জন্য (তার নিজের দাসীকে বিবাহ করা) হারাম।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: 'আল-মাবসুত' পৃ. ১৫৩, 'আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন' ৫/২০, 'আন-নাশর' ২/২৪৭।

(২) দেখুন: জাসসাস প্রণীত 'আহকামুল কুরআন' ২/৭০, 'বাহরুল উলুম' ১/৩৩২, 'আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন' ৫/২০, 'তাফসিরে ইবনে কাসির' ২/১৮৪।

(৩) দেখুন: 'তুহফাতুল ওয়াদুদ' পৃ. ১৯-২০, 'ফাতহুল কাদির' ১/৪২১।

(৪) সূরা আল-ইনশিকাক, আয়াত: ৭।

(৫) বুখারি এটি আযান অধ্যায়ে (৬৬০), মুসলিম জাকাত অধ্যায়ে (১০৩১), নাসায়ি আদাবুল কুদাত অধ্যায়ে (৫৩৮) এবং তিরমিজি জুহদ অধ্যায়ে (২৩৯১) আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন। আরও দেখুন: 'আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ' ৪/১৬-১৭, 'আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন' ৫/২০।

(৬) দেখুন: 'মাআলিমুত তানজিল' ১/৩৯২, 'আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ' ৪/১৬, 'আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন' ৫/২০।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ২৪)
أن يتزوج أمته، لأنها لا تحل له بعقد ملك اليمين، وهو أقوى من عقد النكاح (1)، ولا يرد العقد الأضعف على العقد الأقوى بخلاف العكس، فإن العقد الأقوى يرد على العقد الأضعف، فلو تزوج الرجل أمه (2) ثم اشتراها انفسخ نكاحها، وحلت له بملك اليمين، فملك رقبتها ومنافعها، بينما لا يملك بعقد الزواج سوى منفعة البضع.

وقيل: المعنى: التخيير بين نكاح واحدة حرة أو تركها والاكتفاء بالاستمتاع بملك اليمين (3). وهذا ضعيف لأن الرغبة عن نكاح الحرة إلى الاستمتاع بملك اليمين أمر غير محمود شرعاً.

قوله تعالى: {ذَلِكَ أَدْنَى أَلَّا تَعُولُوا}.

قوله: (ذلك) الإشارة إلى مضمون الجملتين السابقتين.

وهما ترك نكاح اليتامى عند خوف عدم الإقساط فيهن ونكاح غيرهن من النساء مثنى وثلاث ورباع، والاكتفاء بنكاح واحدة والاستمتاع بملك اليمين عند خوف عدم العدل مع الزوجات إذا تعددن.

أدنى: أقرب (4).

ألا تعولوا: أي: أن لا تعولوا، والجملة من أن وما بعدها في محل نصب بنزع الخافض والتقدير: ذلك أدنى إلى أن لا تعولوا (5).

والعول لغه الميل، يقال: عال الميزان، إذا مال (6)، وعال السهم عن الهدف إذا مال (7).

--------------------------------------------

(1) انظر «مجموع الفتاوى» 32/ 181، «زاد المعاد» 5/ 130.

(2) لا يجوز للرجل أن يتزوج أمة إلا إذا لم يجد الطول إلى نكاح امرأة حرة وخاف على نفسه العنت كما قال تعالى {وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ مِنْكُمْ طَوْلًا أَنْ يَنْكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ} الآية (25) من سورة النساء.

(3) انظر «جامع البيان» 7/ 540 - 541، 547 - 548.

(4) انظر «معنى القرآن وإعرابه» 2/ 7.

(5) انظر «المحرر الوجيز» 4/ 17.

(6) انظر «الكشاف» 1/ 245، «لسان العرب» مادة «عول».

(7) انظر «أحكام القرآن» لابن العربي1/ 315، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 20.
নিজের দাসীকে বিবাহ করা, কারণ মালিকানা স্বত্বের মাধ্যমে সে তার জন্য বৈধ হয় না, আর এটি বিবাহ চুক্তির চেয়েও শক্তিশালী (১)। শক্তিশালী চুক্তির ওপর অপেক্ষাকৃত দুর্বল চুক্তি কার্যকর হয় না, তবে এর বিপরীতটি হতে পারে; অর্থাৎ শক্তিশালী চুক্তি দুর্বল চুক্তির ওপর কার্যকর হয়। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি কোনো দাসীকে বিবাহ করে (২) এবং পরবর্তীতে তাকে ক্রয় করে নেয়, তবে তার বিবাহ বাতিল হয়ে যাবে এবং সে মালিকানা স্বত্বের মাধ্যমে তার জন্য হালাল হবে। ফলে সে তার সত্তা ও উপযোগিতা উভয়ের মালিক হবে, যেখানে বিবাহ চুক্তির মাধ্যমে কেবল সম্ভোগের অধিকার অর্জিত হয়।

বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো—এক জন স্বাধীন নারীকে বিবাহ করা অথবা তা বর্জন করে কেবল মালিকানা স্বত্বের দাসী সম্ভোগের ওপর তুষ্ট থাকার মধ্যে পছন্দ বা ইখতিয়ার প্রদান করা (৩)। তবে এটি দুর্বল (ضعيف); কারণ স্বাধীন নারীর বিবাহ থেকে বিমুখ হয়ে কেবল মালিকানা স্বত্বের ওপর তুষ্ট থাকা শরয়িভাবে প্রশংসনীয় নয়।

মহান আল্লাহর বাণী: {এটিই অধিকতর নিকটবর্তী যে, তোমরা জুলুম করবে না}।

তাঁর বাণী: (ذلك) এটি পূর্ববর্তী দুই বাক্যের বিষয়বস্তুর দিকে ইঙ্গিত করছে।

আর তা হলো: ইনসাফ করতে না পারার ভয় থাকলে এতিম মেয়েদের বিবাহ পরিহার করা এবং তাদের পরিবর্তে অন্য নারীদের মধ্য থেকে দুই, তিন বা চারজনকে বিবাহ করা; আর একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে ইনসাফ বা সমতা বজায় রাখতে না পারার আশঙ্কা থাকলে এক জন স্ত্রী গ্রহণ করা অথবা মালিকানা স্বত্বের ওপর তুষ্ট থাকা।

আদনা: অর্থাৎ নিকটবর্তী (৪)।

আল্লা তা’উলু: অর্থাৎ যাতে তোমরা জুলুম না করো। 'আন' এবং পরবর্তী অংশটি অব্যয় উহ্য থাকার কারণে নসবের অবস্থায় রয়েছে। আর মূল বাক্যটি হলো: এটি জুলুম না করার অধিকতর নিকটবর্তী (৫)।

আভিধানিক অর্থে ‘আওল’ হলো বিচ্যুতি। বলা হয়: ‘আলান মিযান’, যখন পাল্লাটি হেলে পড়ে বা বিচ্যুত হয় (৬), আর ‘আলাস সাহমু আনিল হাদাফ’, যখন তীরটি লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয় (৭)।

--------------------------------------------

(১) মাজমু আল-ফাতাওয়া ৩২/১৮১, যাদুল মাআদ ৫/১৩০ দেখুন।

(২) কোনো ব্যক্তির জন্য দাসী বিবাহ করা বৈধ নয় যতক্ষণ না সে স্বাধীন নারীকে বিবাহের সামর্থ্য হারায় এবং নিজের চারিত্রিক স্খলনের আশঙ্কা করে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমাদের মধ্যে যে স্বাধীন মুমিন নারীদের বিবাহের সামর্থ্য রাখে না...} (সুরা আন-নিসা: ২৫)।

(৩) জামিউল বায়ান ৭/৫৪০ - ৫৪১, ৫৪৭ - ৫৪৮ দেখুন।

(৪) মাআনিল কুরআন ওয়া ইরাবুহু ২/৭ দেখুন।

(৫) আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ ৪/১৭ দেখুন।

(৬) আল-কাশশাফ ১/২৪৫, লিসানুল আরব ‘আওল’ শব্দমূল দেখুন।

(৭) ইবনুল আরাবির আহকামুল কুরআন ১/৩১৫, আল-জামিউ লি-আহকামিল কুরআন ৫/২০ দেখুন।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ২৫)
قال أبو طالب (1):

بميزان القسط لا يغلُّ شعيرة … له شاهد من نفسه غير عائل

 

أي غير مائل.

ويقال: عال الحاكم: إذا مال وجار وظلم (2).

قال الشاعر (3):

قالو تبعنا رسول الله واطَّرحوا … قول الرسول وعالوا الموازين

 

أي: جاروا، والمعنى: ذلك أي ترك نكاح اليتيمات، وترك تعداد الزوجات إذا خيف عدم العدل معهن أقرب ألا تميلوا وتجوروا في القسم، هذا قول عامة السلف وجمهور العلماء (4).

وقيل: معنى: (ألا تعولوا): ألا تكثر عيالكم فتفتقروا.

قال بهذا بعض أهل العلم منهم االشافعي رحمه الله (5) وبعض أهل اللغة (6) أخذاً من قوله تعالى: {وَإِنْ خِفْتُمْ عَيْلَةً فَسَوْفَ يُغْنِيكُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ} (7)، أي: وإن خفتم فقراً (فسوف يغنيكم الله من فضله). كما قال الشاعر (8):

--------------------------------------------

(1) انظر «جامع البيان» 7/ 550، «السيرة النبوية» لابن هشام1/ 296.

(2) انظر «التفسير الكبير» 9/ 144، «مدارك التنزيل» 1/ 290.

(3) انظر «اللسان» مادة «عول»، «الصحاح» مادة «عول»، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 12.

(4) انظر «معاني القرآن» للفراء1/ 255، «جامع البيان7/ 548 - 552، «معاني القرآن وإعرابه» للزجاج2/ 7، «أحكام القرآن» لابن العربي1/ 314 - 315، «المحرر الوجيز» 4/ 17، «الجامع لأحكام القران» 5/ 20، «مجموع الفتاوى» لابن تيميه32/ 70 «تحفه الودود» ص 19، 20، «بدائع التفسير» 2/ 7، «تفسير ابن كثير» 2/ 185.

(5) انظر «أحكام القرآن» للهراسي 1/ 313 «معالم التنزيل» 1/ 392، «المحرر الوجيز» 4/ 14، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 21 - 22، «تفسير ابن كثير» 2/ 184.

(6) انظر «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 21 - 22.

(7) سورة التوبة، آية: 28.

(8) البيت لأحيحة بن الحلاج الأوسي. انظر «معاني القرآن» للفراء1/ 255، «جامع البيان» 7/ 549، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 21، «تفسير ابن كثير» 2/ 184 «اللسان» مادة «عيل»، «البحر المحيط» 3/ 509.
আবু তালিব বলেছেন (১):

ন্যায়ের তুলাদণ্ডে যা এক তিল পরিমাণও কম হয় না … তার নিজের মধ্যেই এমন সাক্ষী রয়েছে যা বিচ্যুত (عائل) নয়।

 

অর্থাৎ বিচ্যুত (مائل) নয়।

আর বলা হয়: শাসক বিচ্যুত হয়েছে (عال): যখন সে বিচ্যুত (مال), পক্ষপাতদুষ্ট (جار) এবং জুলুম (ظلم) করে (২)।

কবি বলেছেন (৩):

তারা বলেছিল যে আমরা রাসূলুল্লাহর অনুসরণ করেছি অথচ তারা পরিহার করেছে … রাসূলের বাণী এবং তুলাদণ্ডে অবিচার (عالوا) করেছে।

 

অর্থাৎ: তারা অবিচার (جاروا) করেছে। আর এর অর্থ হলো: এটি অর্থাৎ ইয়াতিম মেয়েদের বিবাহ করা পরিহার করা এবং একাধিক স্ত্রী গ্রহণ পরিহার করা যদি তাদের সাথে ইনসাফ না করার আশঙ্কা থাকে, তবে তা তোমাদের বিচ্যুত (تميلوا) না হওয়া এবং বণ্টনে অবিচার (تجوروا) না করার অধিক নিকটবর্তী। এটি অধিকাংশ পূর্বসূরি (سلف) এবং আলেমদের বৃহৎ অংশের (جمهور) অভিমত (৪)।

আর বলা হয়েছে: 'যাতে তোমরা দারিদ্র্যে না পড়ো' (ألا تعولوا) এর অর্থ হলো: তোমাদের পরিবার যেন অধিক না হয় যাতে তোমরা অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ো।

এই মতটি ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) (৫) সহ কিছু আলেম এবং কতিপয় ভাষাবিদ (৬) ব্যক্ত করেছেন। তারা মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে এটি গ্রহণ করেছেন: {আর যদি তোমরা দারিদ্র্যের (عيلة) আশঙ্কা করো, তবে অচিরেই আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তোমাদের অভাবমুক্ত করবেন} (৭)। অর্থাৎ: যদি তোমরা অভাবের (فقراً) আশঙ্কা করো (তবে অচিরেই আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তোমাদের অভাবমুক্ত করবেন)। যেমন কবি (৮) বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) দেখুন জামিউল বয়ান ৭/৫৫০, ইবনে হিশামের আস-সিরাতুন নববীয়াহ ১/২৯৬।

(২) দেখুন আত-তাফসীরুল কাবীর ৯/১৪৪, মাদারিকুত তানযীল ১/২৯০।

(৩) দেখুন আল-লিসান 'আওল' মূলধাতু, আস-সিহাহ 'আওল' মূলধাতু, আল-জামি লি আহকামিল কুরআন ৫/১২।

(৪) দেখুন আল-ফাররার মাআনিল কুরআন ১/২৫৫, জামিউল বয়ান ৭/৫৪৮-৫৫২, আয-যাজ্জাজের মাআনিল কুরআন ওয়া ই'রাবুহু ২/৭, ইবনুল আরাবীর আহকামুল কুরআন ১/৩১৪-৩১৫, আল-মুহাররারুল ওয়াজীয় য ৪/১৭, আল-জামি লি আহকামিল কুরআন ৫/২০, ইবনে তাইমিয়্যাহর মাজমুউল ফাতাওয়া ৩২/৭০, তুহফাতুল ওয়াদুদ পৃষ্ঠা ১৯, ২০, বাদায়িউত তাফসীর ২/৭, তাফসীর ইবনে কাসীর ২/১৮৫।

(৫) দেখুন আল-হারাসীর আহকামুল কুরআন ১/৩১৩, মাআলিমুত তানযীল ১/৩৯২, আল-মুহাররারুল ওয়াজীয় য ৪/১৪, আল-জামি লি আহকামিল কুরআন ৫/২১-২২, তাফসীর ইবনে কাসীর ২/১৮৪।

(৬) দেখুন আল-জামি লি আহকামিল কুরআন ৫/২১-২২।

(৭) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ২৮।

(৮) কবিতাটি উহায়হা বিন আল-হাল্লাজ আল-আউসীর। দেখুন আল-ফাররার মাআনিল কুরআন ১/২৫৫, জামিউল বয়ান ৭/৫৪৯, আল-জামি লি আহকামিল কুরআন ৫/২১, তাফসীর ইবনে কাসীর ২/১৮৪, আল-লিসান 'আইল' মূলধাতু, আল-বাহরুল মুহীত ৩/৫০৯।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ২৬)
وإن الموت يأخذ كل حي … بلا شك وإن أمشى وعالا

 

أي: وان كثرت ماشيته وعياله.

وهذا القول ضعيف من وجوه ثلاثة: الأول نت حيث اللغة، لأنه لو أراد كثرة الأولاد والافتقار لقال: تعيلوا. الثاني: من حيث المعنى، لأن كثرة العيال وكثرة النفقة تحصل بالتسري، كما تحصل بالزوجات (1). الثالث: من حيث منافاة هذا القول لمقصود الشرع، لأن الشرع أمر بتكثير النسل، قال صلى الله عليه وسلم: «تزوجوا الودود الولود، فإني مكاثر بكم الأمم يوم القيامة» (2).

قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله (3): «وظن طائفة من العلماء أن المراد ألا تكثر عيالكم. وغلّط أكثر العلماء من قال ذلك لفظاً ومعنى، أما اللفظ: فلأنه يقال عال يعول إذا جار، وعال يعيل إذا افتقر، وأعال يعيل إذا كثر عياله. وهو سبحانه قال (تعولوا) ولم يقل: تعيلوا. وأما المعنى: فإن كثره النفقة والعيال يحصل بالتسري، كما يحصل بالزوجات ..».

قال ابن القيم رحمه الله (4) «يتعين القول الأول من وجوه»، وذكر رحمه الله عشرة أوجه في هذا: منها أنه المعروف في اللغة، الذي لا يكاد يعرف سواه، ولا يعرف عال يعول إذا كثر عياله إلا في حكاية الكسائي، وسائر أهل اللغة على خلافه، ومنها أن الأحاديث الواردة في استحباب تزوج الودود الولود، وأنه صلى الله عليه وسلم يكاثر بأمته الأمم يوم القيامة ترد هذا التفسير، ومنها أن سياق الآية إنما هو في نقلهم مما يخافون

--------------------------------------------

(1) انظر «معاني القرآن وإعرابه» للزجاج2/ 7، «الكشاف» 1/ 245 «تفسير ابن كثير» 2/ 184.

(2) سيأتي تخرجه ص49.

(3) في «مجموع الفتاوى» 32/ 70 - 71 وانظر «أحكام القرآن» لابن العربي1/ 315.

(4) في «تحفه الودود» ص19 - 20، وانظر «بدائع التفسير» 2/ 8 - 10، وانظر «أحكام القرآن» لابن العربي 1/ 315 وقد ذكر الرازي مجمل الوجوه الثلاثة التي ذكرها أهل العلم لتضعيف قول الشافعي، وأجاب عنها بما لا طائل تحته. انظر «التفسير الكبير» 9/ 144 - 146.
নিশ্চয়ই মৃত্যু প্রতিটি জীবকে গ্রহণ করবে … নিঃসন্দেহে, যদিও সে অনেক গবাদি পশু ও পরিবারের অধিকারী হয়।

 

অর্থাৎ: যদিও তার গবাদি পশু এবং সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি পায়।

এই মতটি তিনটি কারণে দুর্বল (ضعيف): প্রথমত: ভাষাগত দিক থেকে, কারণ তিনি যদি সন্তান-সন্ততির আধিক্য এবং অভাবগ্রস্ত হওয়া বোঝাতে চাইতেন, তবে তিনি 'তা’য়িলু' (تعيلوا) বলতেন। দ্বিতীয়ত: অর্থের দিক থেকে, কারণ পরিবারের আধিক্য এবং ব্যয়ের আধিক্য দাসী গ্রহণের মাধ্যমেও ঘটে, যেমনটি স্ত্রীদের মাধ্যমে ঘটে (১)। তৃতীয়ত: এই মতটি শরীয়তের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হওয়ার কারণে, কারণ শরীয়ত বংশবৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছে; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা এমন নারীকে বিবাহ করো যে অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান প্রসবকারিনী, কারণ আমি কিয়ামতের দিন তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্ব করব» (২)।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৩): «আলেমদের একটি দল ধারণা করেছেন যে, এর উদ্দেশ্য হলো তোমাদের পরিবারের সদস্য যেন বৃদ্ধি না পায়। অধিকাংশ আলেম শব্দগত ও অর্থগত উভয় দিক থেকে এই মত পোষণকারীকে ভুল বলেছেন। শব্দগত দিক থেকে: কারণ বলা হয় ‘আ-লা ইয়া’উলু’ যখন কেউ অবিচার করে, ‘আ-লা ইয়া’ইলু’ যখন কেউ অভাবগ্রস্ত হয় এবং ‘আ-আ-লা ইয়ু’ইলু’ যখন কারো পরিবার বড় হয়। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেন 'তা’উলু' (تعولوا), তিনি 'তা’য়িলু' (تعيلوا) বলেননি। আর অর্থের দিক থেকে: পরিবারের আধিক্য ও ব্যয়ের আধিক্য দাসী গ্রহণের মাধ্যমেও ঘটে, যেমনটি স্ত্রীদের মাধ্যমে ঘটে...»।

ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৪): «প্রথম মতটিই বেশ কিছু কারণে নির্ধারিত হয়», এবং তিনি এই বিষয়ে দশটি কারণ উল্লেখ করেছেন: তার মধ্যে একটি হলো—এটি ভাষাগতভাবে সুপরিচিত, যা ছাড়া অন্য কিছু প্রায় জানাই যায় না; আর ‘আ-লা ইয়া’উলু’ এর অর্থ পরিবার বৃদ্ধি পাওয়া—এটি কিসায়ীর বর্ণনা ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায় না, এবং অন্যান্য ভাষাবিদগণ এর বিপরীত মত পোষণ করেন। অন্য একটি কারণ হলো—অধিক প্রেমময়ী ও সন্তানবতী নারীকে বিয়ে করার মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসসমূহ এবং কিয়ামতের দিন নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মত নিয়ে অন্যান্য উম্মতের ওপর গর্ব করবেন—এই বর্ণনাগুলো উক্ত তাফসীরকে প্রত্যাখ্যান করে। আর একটি কারণ হলো—আয়াতের প্রেক্ষাপট মূলত তাদের ভয় থেকে উত্তরণের বিষয়ে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন 'মা’আনিল কুরআন ওয়া ইরাবুহু' লিজ-জাজাজ ২/৭, 'আল-কাশশাফ' ১/২৪৫, 'তাফসীর ইবনে কাসীর' ২/১৮৪।

(২) এর তাখরীজ (تخريج) পৃষ্ঠা ৪৯-এ আসবে।

(৩) 'মাজমুউল ফাতাওয়া' ৩২/৭০-৭১-এ এবং দেখুন 'আহকামুল কুরআন' লি ইবনিল আরাবি ১/৩১৫।

(৪) 'তুহফাতুল মওদুদ' পৃষ্ঠা ১৯-২০-এ, দেখুন 'বাদাইউত তাফসীর' ২/৮-১০ এবং দেখুন 'আহকামুল কুরআন' লি ইবনিল আরাবি ১/৩১৫। ইমাম রাযী সেই তিনটি কারণের সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছেন যা আলেমগণ ইমাম শাফেয়ীর মতটিকে দুর্বল (تضعيف) করার জন্য উল্লেখ করেছেন এবং তিনি এমন উত্তর দিয়েছেন যার বিশেষ কোনো গুরুত্ব নেই। দেখুন 'আত-তাফসীরুল কাবীর' ৯/১৪৪-১৪৬।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ২৭)
من الظلم والجور فيه إلى غيره، فإنه قال في أولها: {وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ}، فدلهم سبحانه على ما يتخلصون به من ظلم اليتامى، وهو نكاح ما طاب لهم من النساء البوالغ، وأباح لهم منهن أربعاً، ثم دلهم على ما يتخلصون به من الجور والظلم في عدم التسوية بينهن، فقال: {فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أو مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ}، ثو أخبر سبحانه أن الواحدة وملك اليمين أدنى إلى عدم الميل والجور، وهذا صريح في المقصود المهم ..».

والخلاصة في معنى الآية كما دل عليه سبب النزول: وإن خفتم ألاتعدلوا مع اليتامى إذا نكحتموهن فاتركوهن وانكحوا ما طاب لكم من النساء سواهن (مثنى وثلاث ورباع)، فإن خفتم ألا تعدلوا مع الزوجات إذا تعددن فاكتفوا بنكاح واحدة ذلك أي ترك نكاح اليتامى وترك التعدد إذا خفتم عدم العدل أقرب ألا تجوروا وتظلموا (1).

 

‌‌الفوائد والأحكام:

1 - يجب على أولياء اليتامى إذا خافوا عدم العدل معهن في أداء حقوقهن ترك الزواج بهن، وأن ينكحوا ما طاب لهم من النساء سواهن، لقوله: {وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ} (2) الآية.

--------------------------------------------

(1) وقيل: إن المعنى: إن خفتم عدم العدل مع اليتامى والجنوح على أموالهم فاكتفوا بنكاح ما أباحه الله لكم في حدود أربع إلى واحدة، ولا تزيدوا على ذلك، فتضطروا إلى أكل أموال اليتامى بسبب كثرة الزوجات، وقيل: كانوا يتحرجون من عدم العدل مع اليتامى خوفًا من الظلم والجور. فقال الله لهم: وأيضًا خافوا من الوقوع في المحرم وهو الزنا واكتفوا بنكاح ما أحل الله لكم. انظر «جامع البيان» 7/ 534 - 539، «النكت والعيون» 1/ 360 - 361، «معالم التنزيل» 1/ 390 - 391 «المحرر الوجيز» 4/ 14، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 12، «الفوائد المشوق» لابن القيم175، «بدائع التفسير» 2/ 10.

(2) سورة النساء، آية:3.
এক প্রকার যুলুম ও অবিচার (جور) থেকে অন্য দিকে সরে আসা প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ সূরার শুরুতে বলেন: {وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ} (আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্যে তোমাদের পছন্দমতো দুই, তিন বা চারজনকে বিয়ে করো)। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁদের এমন এক পথের দিশা দিয়েছেন যার মাধ্যমে তাঁরা ইয়াতীমদের প্রতি যুলুম করা থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারেন; আর তা হলো সাবালিকা নারীদের মধ্য থেকে পছন্দমতো বিয়ে করা। তিনি তাঁদের জন্য চারজন পর্যন্ত স্ত্রী গ্রহণের বৈধতা দিয়েছেন। এরপর তাঁদের মাঝে সমতা রক্ষা না করার দরুন সৃষ্ট অবিচার (جور) ও যুলুম থেকে বাঁচার পথ নির্দেশ করে তিনি বলেছেন: {فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أو مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ} (কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের গ্রহণ করো)। অতঃপর মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, একজন স্ত্রী গ্রহণ কিংবা দাসী (ملك اليمين) রাখাটাই পক্ষপাতিত্ব ও অবিচার (جور) থেকে বেঁচে থাকার অধিকতর নিকটবর্তী। আর এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যের বর্ণনায় সুস্পষ্ট...।

শানে নুযূল (سبب النزول) যা নির্দেশ করে সেই অনুযায়ী আয়াতের মর্মার্থের সারকথা হলো: যদি তোমরা ইয়াতীম মেয়েদের বিয়ে করলে তাদের প্রতি সুবিচার (عدل) করতে পারবে না বলে আশঙ্কা করো, তবে তাদের ছেড়ে দাও এবং তারা ব্যতীত অন্য নারীদের মধ্য থেকে পছন্দমতো (দুই, তিন বা চার জন) বিয়ে করো। আর যদি একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মাঝে ইনসাফ বা সুবিচার (عدل) করতে পারবে না বলে ভয় করো, তবে কেবল একজনকেই বিয়ে করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকো। অর্থাৎ, সুবিচার (عدل) নিশ্চিত না হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ইয়াতীমদের বিয়ে করা পরিহার করা এবং বহুবিবাহ ত্যাগ করাটাই তোমাদের জন্য যুলুম ও অবিচার (جور) না করার অধিকতর নিকটবর্তী (১)।

 

‌‌শিক্ষা ও বিধানসমূহ:

১ - ইয়াতীমদের অভিভাবকদের যদি তাদের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে সুবিচার (عدل) করতে না পারার আশঙ্কা থাকে, তবে তাদের বিয়ে করা বর্জন করা আবশ্যিক (واجب); বরং তাদের পরিবর্তে অন্য নারীদের মধ্য থেকে পছন্দমতো বিয়ে করা উচিত। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ} (২) - শেষ পর্যন্ত।

--------------------------------------------

(১) কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো—যদি তোমরা ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার (عدل) না করা এবং তাদের সম্পদ আত্মসাৎ করার দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কা করো, তবে আল্লাহ তোমাদের জন্য এক থেকে চার পর্যন্ত যে সীমা বৈধ করেছেন তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকো; এর বেশি করো না। অন্যথায় অধিক স্ত্রীর ভরণপোষণের চাপে তোমরা ইয়াতীমদের সম্পদ ভক্ষণ করতে বাধ্য হতে পারো। আবার কেউ বলেছেন: তারা যুলুম ও অবিচারের (جور) ভয়ে ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার (عدل) না করার বিষয়ে অত্যন্ত সংকুচিত বোধ করত। তখন আল্লাহ তাদের বললেন: তোমরা হারামে লিপ্ত হওয়ার তথা ব্যভিচারের (زنا) ভয়ও করো এবং আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা বিয়ে করার মাধ্যমে সন্তুষ্ট থাকো। দেখুন: 'জামিউল বায়ান' ৭/৫৩৪-৫৩৯, 'আন-নুকাত ওয়াল উয়ুন' ১/৩৬০-৩৬১, 'মাআলিমুত তানযীল' ১/৩৯০-৩৯১, 'আল-মুহাররার আল-ওয়াজিজ' ৪/১৪, 'আল-জামি লি আহকামিল কুরআন' ৫/১২, ইবনুল কাইয়্যিমের 'আল-ফাওয়ায়েদুল মুশাউয়্যিক' ১৭৫, 'বাদায়েউত তাফসির' ২/১০।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ২৮)
فإذا خاف الولي عدم العدل مع اليتيمة في المهر والنفقة، أو في وطئها (1)، أو في غير ذلك من حقوقها فليتركها إلى سواها، وفي هذا سلامه اليتامى من الظلم، والأولياء من الإثم، ولهذا قال في آخر الآية {ذَلِكَ أَدْنَى أَلَّا تَعُولُوا}.

2 - يجب على الإنسان الاحتياط إذا خاف الوقوع في المحرم، لقوله: {وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ} (2).

فإذا كان فعل الشيء قد يؤدي إلى الوقوع في المحرم وجب ترك ذلك الفعل درءاً للمفسدة وإيثاراً للسلامة والعافية (3).

3 - أنه يجوز لأولياء اليتامى الزواج بهن إذا لم يخافوا عدم العدل معهن لمفهوم قوله تعالى: {وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ}، فإذا لم يخافوا اجاز لهم الزواج بهن (4).

4 - جواز نكاح اليتيمة قبل بلوغها لقوله: {وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى} الآية، وجه ذلك ان الله نهى الأولياء عن نكاح اليتامى إذا خافوا عدم العدل فيهن، ومفهوم ذلك جواز نكاحهن وهن يتامى إذا لم يخافوا عدم العدل فيهن، وقد سماهن في الآية يتامى، ولا يسمين يتامى إلا قبل البلوغ. ولو أراد البالغات لما نهى عن حطهن عن صداق مثلهن، لأن البالغة لها الخيار في أن تسقط من مهرها ما شاءت، وترضى بدون صداق المثل (5).

ويدل على هذا ما جاء في حديث عائشة في سبب نزول الآية: «وإن الناس

--------------------------------------------

(1) كما دل على هذا سبب النزول، واختلف في الواجب في الوطء. قال شيخ الإسلام ابن تيميه في «الفتاوى» 32/ 271: «قيل: إنه واجب في كل أربعة أشهر مرة، وقيل بقدر حاجتها وقدرته، كما يطعمها بقدلر حاجتها وقدرته، وهذا أصح القولين» وانظر28 - 383 - 384.

(2) سورة النساء، آية3.

(3) انظر «تيسير الكريم الرحمن» 1/ 9.

(4) انظر «أضواء البيان» 1/ 306.

(5) انظر «أحكام القرآن» «لابن العربي» 1/ 311، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 13، «مجمع الفتاوى» 32/ 46.
অভিভাবক যদি এতিম মেয়ের মোহর, ভরণপোষণ বা সহবাসের ক্ষেত্রে (১) অথবা তার অন্যান্য অধিকারের বিষয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারার ভয় করেন, তবে তিনি যেন তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করেন। এতে এতিমদের জন্য জুলুম থেকে সুরক্ষা এবং অভিভাবকদের জন্য গুনাহ থেকে নিরাপত্তা রয়েছে। এ কারণেই মহান আল্লাহ আয়াতের শেষাংশে বলেছেন: "এটিই অধিকতর সংগত যে তোমরা অবিচার করবে না।"

২ - কোনো ব্যক্তি যদি হারামে লিপ্ত হওয়ার ভয় করেন, তবে তার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক; কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর যদি তোমরা ভয় কর যে, তোমরা এতিম মেয়েদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে তোমরা তোমাদের পছন্দমতো নারীদের মধ্য থেকে বিয়ে কর" (২)।

সুতরাং কোনো কাজ যদি হারামে পতিত হওয়ার দিকে পরিচালিত করে, তবে অনিষ্ট দূর করতে এবং নিরাপত্তা ও সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিতে উক্ত কাজটি বর্জন করা ওয়াজিব বা আবশ্যক (৩)।

৩ - এতিমদের অভিভাবকদের জন্য তাদের বিয়ে করা বৈধ, যদি তারা তাদের প্রতি ন্যায়বিচার না করার ভয় না করেন। এটি মহান আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ থেকে বোঝা যায়: "আর যদি তোমরা ভয় কর যে, তোমরা এতিম মেয়েদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে তোমরা তোমাদের পছন্দমতো নারীদের মধ্য থেকে বিয়ে কর।" অতএব, যদি তারা ভয় না করেন, তবে তাদের জন্য তাদের বিয়ে করা বৈধ করা হয়েছে (৪)।

৪ - এতিম মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বে তাকে বিয়ে করা বৈধ হওয়ার প্রমাণ হলো আল্লাহর এই বাণী: "আর যদি তোমরা ভয় কর যে, তোমরা এতিম মেয়েদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে পারবে না..." (আয়াত)। এর দিক হলো, আল্লাহ তাআলা অভিভাবকদের এতিম মেয়েদের বিয়ে করা থেকে নিষেধ করেছেন যদি তারা তাদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার করতে না পারার ভয় করেন। এর মর্মার্থ হলো, তারা এতিম থাকাবস্থায় তাদের বিয়ে করা বৈধ যদি ন্যায়বিচারের ব্যাপারে ভয় না থাকে। আয়াতে তাদের 'এতিম' বলে নামকরণ করা হয়েছে, আর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্ব পর্যন্তই তাদের এতিম বলা হয়। যদি তিনি প্রাপ্তবয়স্কদের বোঝাতেন, তবে তাদের মোহরে মিছল বা সমপর্যায়ের মোহর থেকে কমিয়ে দিতে নিষেধ করতেন না, কারণ প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নিজের মোহরের যতটুকু ইচ্ছা ছেড়ে দেওয়ার এবং মোহরে মিছল অপেক্ষা কম পরিমাণে সন্তুষ্ট হওয়ার অধিকার রয়েছে (৫)।

আয়েশার একটি হাদিস থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়, যা এই আয়াতের অবতরণের প্রেক্ষাপট (سبب النزول) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে: «আর মানুষ

--------------------------------------------

(১) যেমনটি অবতরণের প্রেক্ষাপট (سبب النزول) দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। সহবাসের ক্ষেত্রে ওয়াজিব বা আবশ্যকতার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ 'ফাতাওয়া'-এর ৩২/২৭১ পৃষ্ঠায় বলেছেন: «বলা হয়েছে যে, এটি প্রতি চার মাসে একবার ওয়াজিব; আবার বলা হয়েছে যে, তার প্রয়োজন এবং স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী ওয়াজিব, যেমনটি তাকে আহার করানো হয় তার প্রয়োজন ও স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী। এটিই দুটি মতের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ (أصح)»। আরও দেখুন: ২৮/৩৮৩-৩৮৪।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত ৩।

(৩) দেখুন: 'তয়সীরুল কারীমিল রহমান' ১/৯।

(৪) দেখুন: 'আদওয়াউল বায়ান' ১/৩০৬।

(৫) দেখুন: ইবনুল আরাবি রচিত 'আহকামুল কুরআন' ১/৩১১, 'আল-জামি লি আহকামিল কুরআন' ৫/১৩, 'মাজমু আল-ফাতাওয়া' ৩২/৪৬।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ২৯)
استفتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم فأنزل الله {وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ وَمَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ فِي يَتَامَى النِّسَاءِ اللَّاتِي لَا تُؤْتُونَهُنَّ مَا كُتِبَ لَهُنَّ وَتَرْغَبُونَ أَن تَنكِحُوهُنَّ} الآية.

وبهذا قال أبو حنيفة (1)، ومالك (2)، وأحمد (3) رحمهم الله، وأكثر السلف والفقهاء (4) واختاره شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذة ابن القيم رحمهما الله.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية (5): «اليتيمة يجوز تزويجهابكفء لها عند أكثر السلف والفقهاء، وهو مذهب أبي حنيفة وأحمد في ظاهر مذهبه وغيرهما. وقد دل على ذلك الكتاب والسنة كقوله تعالى: {وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ ..} الآية.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية (6) بعد ما ذكر دلالة قوله تعالى: {وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ ..} على جواز نكاح اليتيمة قبل بلوغها، وأشار إلى حديث عائشة في تفسيرها، قال: «وهو دليل في اليتيمة وزوجها من يعدل عليها في المهر».

وقال أيضاً (7): «فهذا يدل على أن الله أذن لهم أن يزوجوهن إذا فرض لهن صداق المثل، ولم يأذن لهم في تزويجهن بدونه، لأنها ليست من أهل التبرع».

وهكذا استدل ابن القيم رحمه الله بالآية وحديث عائشة وغيرهما على جواز نكاح اليتيمة قبل البلوغ (8).

واستدل أصحاب هذا القول أيضاً بما يلي:

ما رواه أبو هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اليتيمة تستأمر في نفسها، فإذا

--------------------------------------------

(1) ذكره أبو تيمية في «مجموع الفتاوى» 32/ 42، 44 - 45.

(2) ذكره أبو تيمية في «مجموع الفتاوى» 32/ 43.

(3) انظر «مجموع الفتاوى» 32/ 43، 44 - 45.

(4) انظر «مجموع الفتاوى» 32/ 43.

(5) «مجموع الفتاوى» 32/ 43.

(6) «مجموع الفتاوى» 32/ 43.

(7) في «مجموع الفتاوى» 32/ 44 - 45.

(8) انظر «زاد المعاد» 5/ 100.
তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ফতোয়া চাইল, তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: {তারা আপনার নিকট নারীদের বিষয়ে ফতোয়া চায়। বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন এবং কিতাবে যা তোমাদেরকে শোনানো হয় তা সেই ইয়াতিম নারীদের সম্পর্কে যাদের জন্য যা নির্ধারিত তা তোমরা তাদেরকে প্রদান করো না অথচ তোমরা তাদেরকে বিবাহ করতে চাও...} (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।

ইমাম আবু হানিফা (১), মালিক (২) এবং আহমদ (৩) (রাহিমাহুমুল্লাহ) এই মতই পোষণ করেছেন এবং অধিকাংশ সালাফ ও ফকিহগণও (৪) এটিই বলেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তাঁর ছাত্র ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুমুল্লাহ) এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (৫) বলেন: «অধিকাংশ সালাফ ও ফকিহগণের নিকট ইয়াতিম মেয়েকে তার সমপর্যায়ের (কুফু) পাত্রের নিকট বিবাহ দেওয়া জায়েজ। এটি আবু হানিফার মাযহাব এবং ইমাম আহমদের মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত ও অন্যদেরও অভিমত। কুরআন ও সুন্নাহ এর ওপর প্রমাণ বহন করে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তারা আপনার নিকট নারীদের বিষয়ে ফতোয়া চায়...} (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)»।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (৬) আল্লাহ তাআলার বাণী: {তারা আপনার নিকট নারীদের বিষয়ে ফতোয়া চায়...} এর মাধ্যমে ইয়াতিম মেয়ের বালেগ হওয়ার পূর্বে বিবাহ জায়েজ হওয়ার প্রমাণ উল্লেখ করার পর এবং এর তাফসিরে আয়েশা (রা.)-এর হাদিসের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: «এটি সেই ইয়াতিম মেয়ের ব্যাপারে দলিল, যার স্বামী মোহরের ব্যাপারে তার প্রতি ইনসাফ করবে»।

তিনি আরও বলেন (৭): «এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাদেরকে ইয়াতিম মেয়েদের বিবাহ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন যদি তাদের জন্য সমপর্যায়ের মোহর (মোহরে মিসল) নির্ধারণ করা হয়। আর তা ব্যতীত তাদের বিবাহ দেওয়ার অনুমতি দেননি, কারণ সে (বালিকা হওয়ার কারণে) নিজের হক দান বা মওকুফ করার যোগ্য নয়»।

অনুরূপভাবে ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত আয়াত, আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস এবং অন্যান্য দলিলের মাধ্যমে বালেগ হওয়ার পূর্বে ইয়াতিম মেয়ের বিবাহের বৈধতার স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করেছেন (৮)।

এই মতের প্রবক্তাগণ নিম্নোক্ত দলিলের মাধ্যমেও প্রমাণ পেশ করেছেন:

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «ইয়াতিম মেয়ের নিকট তার নিজের ব্যাপারে অনুমতি নিতে হবে, অতঃপর যখন...

--------------------------------------------

(১) এটি আবু তাইমিয়্যাহ 'মাজমুউল ফাতাওয়া' ৩২/৪২, ৪৪-৪৫ এ উল্লেখ করেছেন।

(২) এটি আবু তাইমিয়্যাহ 'মাজমুউল ফাতাওয়া' ৩২/৪৩ এ উল্লেখ করেছেন।

(৩) দেখুন 'মাজমুউল ফাতাওয়া' ৩২/৪৩, ৪৪-৪৫।

(৪) দেখুন 'মাজমুউল ফাতাওয়া' ৩২/৪৩।

(৫) 'মাজমুউল ফাতাওয়া' ৩২/৪৩।

(৬) 'মাজমুউল ফাতাওয়া' ৩২/৪৩।

(৭) 'মাজমুউল ফাতাওয়া' ৩২/৪৪-৪৫ এ।

(৮) দেখুন 'যাদুল মাআদ' ৫/১০০।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল ইয়াতামা কামা জাআত ফি সুরাতিল নিসা (পৃষ্ঠা: ৩০)
صمتت فهو إذنها، وان أبت فلا جواز عليها» (1).

ما روي عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه قال: زوَّجني خالي قدامة بن مظعون بنت أخيه عثمان بن مظعون، فدخل المغيرة بن شعبة على أمها ورغّبها في المال وخطبها إليه، فرفع شأنها النبي صلى الله عليه وسلم، فقال قدامة: يا رسول الله ابنة أخي وأنا وصي أبيها، ولم أقصِّر بها، زوَّجتها من قد علمت فضله وقرابته، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إنها يتيمة، واليتيمة أولى بأمرها» وفي رواية «لا تنكحوا اليتامى حتى تستأمروهن، فإذا سكتت فهو إذنهن» فنزعت منه وزوجها المغيرة بن شعبة (2).

فعل هذا يجوز نكاح اليتيمة قبل ان تبلغ بإذنها، لكن قال بعضهم كأبي حنيفة: لها الخيار إذا بلغت (3). والراجح أنه لا خيار لها إذا نكحت بإذنها للأدلة السابقة. وهو الظاهر المشهور من مذهب الإمام أحمد رحمه الله (4).

قال شيخ الإسلام ابن تيمية (5): «وقد دل على ذلك الكتاب والسنة».

وقيل: لا تزوج اليتيمة إذا لم يكن لها أب ولاجد إلا بعد بلوغها وإذنها، وبه قال مالك (6)، والشافعي (7)، وأحمد في رواية (8) ونسب إلى

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو دأود في النكاح2093، والنسائي في النكاح3270، والترمذي في النكاح1170 وابن ماجه في النكاح1871، والدارمي في النكاح2186.

وقد حسن هذا الحديث الترمذي، وصححه ابن حبان 1239، والحاكم2/ 166 ووافقه الذهبي وصححه الألباني.

 

وأخرجه أحمد4/ 394، 408، 411 من حديث أبي موسى الأشعري بنحوه وصححه ابن حبان 1138، والحاكم 2/ 162 ووافقه الذهبي. وانظر «زاد المعاد» 5/ 100.

(2) أخرجه أحمد2/ 130، والبيهقي 7/ 113، 120، 121.

قال الألباني: «الحديث حسن «انظر «إرواء الغليل» 6/ 233.

(3) انظر «أحكام القرآن» للجصاص2/ 50 - 53.

(4) انظر «مجموع الفتاوى» 32/ 43، «زاد المعاد» 5/ 100.

(5) في «مجموع الفتاوى» 32/ 43، 48.

(6) انظر «أحكام القرآن» لابن العربي 1/ 310 - 311، «الجامع لأحكام القرآن» 5/ 13.

(7) انظر «أحكام القرآن» للهراساي 1/ 312 - 314، «مجموع الفتاوى» 32/ 47.

(8) انظر «مجموع الفتاوى» 32/ 47.
"(যদি সে) মৌন থাকে তবে সেটিই তার অনুমতি, আর যদি সে অস্বীকার করে তবে তার ওপর জোর খাটানো বৈধ নয়।" (১)।

ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: আমার মামা কুদামা ইবনে মাজউন তার ভাই উসমান ইবনে মাজউনের কন্যার সাথে আমার বিয়ে দিয়েছিলেন। অতঃপর মুগিরা ইবনে শু'বা মেয়েটির মায়ের কাছে আসলেন এবং তাকে সম্পদের প্রতি প্রলুব্ধ করলেন ও তার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে উত্থাপন করা হলে কুদামা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! সে আমার ভাতিজি এবং আমি তার পিতার অসিয়তপ্রাপ্ত অভিভাবক। আমি তার বিষয়ে কোনো ত্রুটি করিনি; আমি এমন একজনের সাথে তার বিয়ে দিয়েছি যার মর্যাদা ও আত্মীয়তা সম্পর্কে আপনি অবগত আছেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সে একজন এতিম, আর এতিম মেয়ে তার নিজের বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিক হকদার।" অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "তোমরা এতিম মেয়েদের বিয়ে দিও না যতক্ষণ না তাদের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করো। যদি সে চুপ থাকে তবে সেটিই তার অনুমতি।" ফলে মেয়েটিকে তার (কুদামার) থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো এবং মুগিরা ইবনে শু'বা তাকে বিয়ে করলেন (২)।

এর ভিত্তিতে, বালেগা হওয়ার পূর্বে এতিম মেয়ের অনুমতি সাপেক্ষে তার বিয়ে জায়েজ। তবে ইমাম আবু হানিফার মতো কেউ কেউ বলেছেন: মেয়েটি যখন বালেগা হবে তখন তার পছন্দ বা প্রত্যাখ্যান করার অধিকার (الخيار) থাকবে (৩)। কিন্তু পূর্ববর্তী দলিলসমূহের ভিত্তিতে অগ্রগণ্য (الراجح) মত হলো, যদি তার সম্মতিতে বিয়ে হয়ে থাকে তবে তার আর কোনো পছন্দ বা প্রত্যাখ্যান করার অধিকার (الخيار) থাকবে না। আর এটিই ইমাম আহমদ (রহ.)-এর মাযহাবের প্রকাশ্য ও প্রসিদ্ধ অভিমত (৪)।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (৫) বলেছেন: "কুরআন ও সুন্নাহ এর ওপর দালিল প্রদান করেছে।"

আর বলা হয়েছে: যদি এতিম মেয়ের পিতা বা দাদা না থাকে, তবে বালেগা হওয়া এবং তার অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে বিয়ে দেওয়া যাবে না। ইমাম মালিক (৬), শাফেয়ী (৭) এবং আহমদ একটি বর্ণনায় (رواية) (৮) এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আর এটি নিসবত করা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদ নিকাহ অধ্যায়ে ২০৯৩, নাসায়ি নিকাহ অধ্যায়ে ৩২৭০, তিরমিজি নিকাহ অধ্যায়ে ১১৭০, ইবনে মাজাহ নিকাহ অধ্যায়ে ১৮৭১ এবং দারেমি নিকাহ অধ্যায়ে ২১৮৬ এ বর্ণনা করেছেন।

ইমাম তিরমিজি এই হাদিসটিকে হাসান (حسن) বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান (১২৩৯), হাকেম (২/১৬৬) এটিকে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং যাহাবি তার সাথে একমত হয়েছেন। আলবানিও একে সহিহ (صحيহ) বলেছেন।

 

আহমদ (৪/৩৯৪, ৪০৮, ৪১১) আবু মুসা আশ'আরি থেকে বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান (১১৩৮) এবং হাকেম (২/১৬২) এটিকে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং যাহাবি তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। দেখুন 'যাদুল মাআদ' ৫/১০০।

(২) আহমদ ২/১৩০ এবং বায়হাকি ৭/১১৩, ১২০, ১২১ এটি বর্ণনা করেছেন। আলবানি বলেছেন: "হাদিসটি হাসান (حسن)"। দেখুন 'ইরওয়াউল গালিল' ৬/২৩৩।

(৩) দেখুন জাসসাস প্রণীত 'আহকামুল কুরআন' ২/৫০-৫৩।

(৪) দেখুন 'মাজমুউল ফাতাওয়া' ৩২/৪৩, 'যাদুল মাআদ' ৫/১০০।

(৫) 'মাজমুউল ফাতাওয়া' ৩২/৪৩, ৪৮।

(৬) দেখুন ইবনুল আরাবি প্রণীত 'আহকামুল কুরআন' ১/৩১০-৩১১, 'আল-জামি লি আহকামিল কুরআন' ৫/১৩।

(৭) দেখুন হারাসায়ি প্রণীত 'আহকামুল কুরআন' ১/৩১২-৩১৪, 'মাজমুউল ফাতাওয়া' ৩২/৪৭।

(৮) দেখুন 'মাজমুউল ফাতাওয়া' ৩২/৪৭।